(খণ্ড: ১)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب الأربعين في فضل الدعاء والداعين - جـ 5 القسم: كتب السنة
الكتاب: الجزء الخامس من كتاب الأربعين في فضل الدعاء والداعين
المؤلف: شرف الدين، أبو الحسن، علي بن المفضل المقدسي (544 - 611 هـ)
مطبوع بذيل: الأربعين على مذهب المتحققين من الصوفية، لأبي نعيم الأصبهاني [وهو منشور بالمكتبة الشاملة على حدة]
حققهما وخرج أحاديثهم: بدر بن عبد الله البدر
الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1993 م
عدد الصفحات: 48 بترقيم الشاملة
[تنبيه]: طبع الكتاب لاحقًا طبعة كاملة بتحقيق د. حسن محمد عبه جي، عن دار جامعة الملك سعود للنشر بالرياض 1434 هـ= 2013 م
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দুআ এবং দুআকারীদের ফযীলত বিষয়ক চল্লিশ হাদীসের কিতাব - ৫ম খণ্ড বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: দুআ এবং দুআকারীদের ফযীলত বিষয়ক চল্লিশ হাদীস গ্রন্থের পঞ্চম অংশ
গ্রন্থকার: শারফুদ্দীন, আবুল হাসান, আলী বিন আল-মুফাযযাল আল-মাকদিসী (৫৪৪ - ৬১১ হিজরী)
পরিশিষ্ট হিসেবে মুদ্রিত: আবু নুআইম আল-আসফাহানী রচিত ‘আল-আরবাঊন আলা মাযহাবিল মুতাহাক্কিকীন মিনাস সূফিয়্যাহ’ এর সাথে [যা মাকতাবাতুশ শামিলাতে আলাদাভাবে প্রকাশিত হয়েছে]
তাহকীক ও হাদীস তাখরীজ করেছেন: বদর বিন আব্দুল্লাহ আল-বদর
প্রকাশক: দার ইবনে হাযম, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরী - ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮ (শামিলা নাম্বারিং অনুযায়ী)
[দ্রষ্টব্য]: কিতাবটি পরবর্তীতে রিয়াদের কিং সউদ ইউনিভার্সিটি পাবলিশিং হাউস থেকে ১৪৩৪ হিজরী = ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে ড. হাসান মুহাম্মদ আবাজাহ-এর তাহকীকে পূর্ণাঙ্গ সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে।
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١)
قَالَ الذَّهَبِيُّ: عَلِيُّ بْنُ الْمُفَضَّلِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُفَرِّجِ بْنِ حَاتِمِ بْنِ حَسَنِ بْنِ جَعْفَرٍ، الشَّيْخُ الإِمَامُ الْمُفْتِي الْحَافِظُ الْكَبِيرُ الْمُتْقِنُ شَرَفُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ ابْنُ الْقَاضِي الأَنْجَبِ أَبِي الْمَكَارِمِ، الْمَقْدِسِيُّ ثُمَّ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ الْمَالِكِيُّ.
مَوْلِدُهُ فِي سَنَةِ أَرْبَعٍ وَأَرْبَعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ.
وَتَفَقَّهَ بِالثَّغْرِ عَلَى الْفَقِيهِ صَالِحِ ابْنِ بِنْتِ مُعَافًى، وَأَبِي الطَّاهِرِ بْنِ عَوْفٍ الزُّهْرِيِّ، وَعَبْدِ السَّلامِ بْنِ عَتِيقٍ السَّفَاقُسِيِّ، وَأَبِي طَالِبٍ أَحْمَدَ بْنِ الْمُسَلَّمِ اللَّخْمِيِّ، وَبَرَعَ فِي الْمَذْهَبِ، وَسَمِعَ مِنْهُمْ، وَمِنَ الْحَافِظِ أَبِي طَاهِرٍ السِّلَفِيِّ، وَلَزِمَهُ سَنَوَاتٍ، وَأَكْثَرَ عَنْهُ، وَانْقَطَعَ إِلَيْهِ، وَأَسْمَعَ وَلَدَهُ مُحَمَّدًا مِنْهُ، وَسَمِعَ أَيْضًا مِنَ الْقَاضِي أَبِي عُبَيْدٍ نِعْمَةَ بْنِ زِيَادَةِ اللَّهِ الْغِفَارِيِّ، حَدَّثَهُ بِأَكْثَرَ صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ، عَنْ عِيسَى بْنِ أَبِي ذَرٍّ الْهَرَوِيِّ، ثُمَّ السَّرَوِيِّ، وَسَمَاعُهُ مِنْه لِلصَّحِيحِ سِوَى قِطْعَةٍ مِنْ آخِرِهِ فِي سَنَةِ ثَمَانٍ وَخَمْسِينَ، وَسَمِعَ مِنْ بَدْرٍ الْخُذَادَاذِيِّ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَلَفِ اللَّهِ الْمُقْرِئِ، وَأَبِي مُحَمَّدٍ الْعُثْمَانِيِّ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَرِّيٍّ النَّحْوِيِّ، وَعَلِيِّ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ الْكَامِلِيِّ، وَمُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الرَّحْبِيِّ، وَخَلْقٍ كَثِيرٍ بِالثَّغْرِ، وَمِصْرَ، وَالْحَرَمَيْنِ.
وَجَمَعَ وَصَنَّفَ وَتَصَدَّرَ لِلاشْتِغَالِ، وَنَابَ فِي الْحُكْمِ بِالإِسْكَنْدَرِيَّةِ مُدَّةً، ثُمَّ دَرَّسَ بِمَدْرَسَتِهِ الَّتِي هُنَاكَ مُدَّةً، ثُمَّ إِنَّهُ تَحوَّلَ إِلَى الْقَاهِرَةِ، وَدَرَّسَ بِالْمَدْرَسَةِ الَّتِي أَنْشَأَهَا الصَّاحِبُ ابْنُ شُكْرٍ وَإِلَى أَنْ مَاتَ، وَكَانَ مُقَدَّمًا فِي الْمَذْهَبِ، وَفِي الْحَدِيثِ، لَهُ تَصَانِيفٌ مُحَرَّرَةٌ، رَأَيْتُ لَهُ فِي سَنَةِ سِتٍّ وَثَمَانِينَ كِتَابَ الصِّيَامِ بِالأَسَانِيدِ، وَلَهُ الأَرْبَعُونَ فِي طَبَقَاتِ الْحُفَّاظِ، وَلَمَّا رَأَيْتُهَا تَحَرَّكَتْ هِمَّتِي إِلَى جَمْعِ الْحُفَّاظِ وَأَحْوَالِهِمْ.
وَكَانَ ذَا دِينٍ وَوَرَعٍ وَتَصَوُّنٍ وَعَدَالَةٍ وَأَخْلاقٍ رَضِيَّةٍ وَمُشَارَكَةٍ فِي الْفَضْلِ قَوِيَّةٍ.
ذَكَرَهُ تِلْمِيذُهُ الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْمُنْذِرِيُّ، وَبَالَغَ فِي تَوْقِيرِهِ وَتَوْثِيقِهِ، وَقَالَ: رَحَلَ إِلَى مِصْرَ فِي سَنَةِ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ، فَسَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيٍّ الرَّحَبِيَّ، وَسَمَّى جَمَاعَةً، وَكَانَ مُتَوَرِّعًا حَسَنَ الأَخْلاقِ جَامِعًا لِفُنُونٍ، انْتَفَعْتُ بِهِ كَثِيرًا.
قُلْتُ: لَوْ كَانَ ارْتَحَلَ إِلَى بَغْدَادَ وَالْمَوْصِلِ، لَلَحِقَ جَمَاعَةً مُسْنِدِينَ، وَمَتَى خَرَّجَ عَنِ السِّلَفِيِّ نَزَلَتْ رِوَايَتُهُ وَقَلَّتْ.
أَجَازَ لَهُ مِنَ الْمَغْرِبِ مُسْنِدُ وَقْتِهِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حُنَيْنٍ وَجَمَاعَةٌ.
وَلَمَّا تُوُفِّيَ، قَالَ بَعْضُ الْفُضَلاءِ لَمَّا مَرُّوا بِنَعْشِهِ: رَحِمَكَ اللَّهُ أَبَا الْحَسَنِ، قَدْ كُنْتَ أَسْقَطْتَ عَنِ النَّاسِ فُرُوضًا، يُرِيدُ لِنُهُوضِهِ بِفُنُونٍ مِنَ الْعِلْمِ.
حَدَّثَ عَنْهُ: الْمُنْذِرِيُّ، وَالرَّشِيدُ الأُرْمَوِيُّ، وَزَكِيُّ الدِّينِ الْبِرْزَالِيُّ، وَمَجْدُ الدِّينِ عَلِيُّ بْنُ وَهْبٍ الْقُشَيْرِيُّ، وَالْعَلَمُ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ الرَّصَّاصِ، وَالشَّرَفُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ نَصْرٍ الْفِهْرِيُّ اللُّغَوِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ بَلْكَوَيْهِ الصُّوفِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ عُثْمَانَ الْقَابِسِيُّ الْمُحْتَسِبُ، وَالْجَمَالُ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْهَوَارِيُّ، وَالْقَاضِي شَرَفُ الدِّينِ أَبُو حَفْصٍ السُّبْكِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مُرْتَضَى بْنِ أَبِي الْجُودِ، وَالشِّهَابُ إِسْمَاعِيلُ الْقُوصِيُّ، وَالنَّجِيبُ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السَّفَاقُسِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ طَرْخَانَ الأَرْمَوِيُّ، وَالْمُحَيَّي عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ الدُّمَيْرِيِّ، وَعِدَّةٌ.
وَرَوَى لِي عَنْهُ بِالإِجَازَةِ يُوسُفُ بْنُ الْقَابِسِيِّ: لَمْ أُدْرِكْ أَحَدًا سَمِعَ مِنْهُ فِي رِحْلَتِي.
قَالَ زَكِيُّ الدِّينِ الْمُنْذِرِيُّ: تُوُفِّيَ فِي مُسْتَهَلِّ شَعْبَانَ سَنَةَ إِحْدَى عَشْرَةَ وَسِتِّ مِائَةٍ وَدُفِنَ بِسَفْحِ الْمُقَطَّمِ.
وَمِنْ نَظْمِ ابْنِ الْمُفَضَّلِ:
أَيَا نَفْسُ بِالْمأْثُورِ عَنْ خَيْرِ مُرْسَلٍ
… وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِينَ تَمَسَّكِي
عَسَاكِ إِذَا بَالَغْتِ فِي نَشْرِ دِينِهِ
… بِمَا طَابَ مِنْ نَشْرٍ لَهُ أَنْ تُمْسِكِي
وَخَافِي غَدًا يَوْمَ الْحِسَابِ جَهَنَّمًا
… إِذَا نَفَخَتْ نِيرَانُهَا أَنْ تَمَسَّكِ
আয-যাহাবী বলেন: আলী বিন আল-মুফায্যাল বিন আলী বিন মুফাররিজ বিন হাতিম বিন হাসান বিন জাফর; তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, মুফতি, হাফিযুল কাবির (বিখ্যাত হাফিজ), মুতকিন (সুদৃঢ় জ্ঞানের অধিকারী), শরফুদ্দীন আবুল হাসান ইবনুল কাযী আল-আনজাব আবি আল-মাকারিম, আল-মাকদিসী অতঃপর আল-ইসকানদারানী আল-মালিকী।
তার জন্ম পাঁচশত চুয়াল্লিশ হিজরি সনে।
তিনি উপকূলীয় সীমান্ত অঞ্চলে (আলেকজান্দ্রিয়ায়) ফকিহ সালিহ ইবনে বিনতে মুআফা, আবু তাহির বিন আওফ আয-যুহরী, আবদুস সালাম বিন আতীক আস-সাফাকুসী এবং আবু তালিব আহমাদ বিন আল-মুসাল্লাম আল-লাখমীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। তিনি মাযহাবে পারদর্শী হন এবং তাদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি হাফিয আবু তাহির আস-সিলাফীর নিকট থেকেও শ্রবণ করেন এবং দীর্ঘ বছর তার সান্নিধ্যে থাকেন, তার থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেন এবং তার জ্ঞান অর্জনে একনিষ্ঠভাবে আত্মনিয়োগ করেন। এমনকি তিনি তার পুত্র মুহাম্মদকেও তার নিকট হাদিস শ্রবণ করান। তিনি কাযী আবু উবাইদ নি'মাহ বিন যিয়াদাতুল্লাহ আল-গিফারীর নিকট থেকেও শ্রবণ করেন; তিনি তাকে ঈসা বিন আবি যার আল-হারাভী অতঃপর আস-সারাভীর সূত্রে সহীহ বুখারীর অধিকাংশ হাদিস বর্ণনা করেন। ৫৮ হিজরি সনে সহীহ বুখারীর শেষ দিকের সামান্য অংশ ব্যতীত সম্পূর্ণটি তার শ্রবণে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়াও তিনি বদর আল-খুদাদাযী, আবদুর রহমান বিন খালাফুল্লাহ আল-মুকরী, আবু মুহাম্মদ আল-উসমানী, আবদুল্লাহ বিন বাররী আন-নাহবী, আলী বিন হিবাতুল্লাহ আল-কামিলী, মুহাম্মদ বিন আলী আর-রাহবী এবং উপকূলীয় সীমান্ত অঞ্চল, মিশর ও হারামাইন শরীফাইনের বহু সংখ্যক আলিমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
তিনি বিভিন্ন হাদিস সংকলন ও গ্রন্থ রচনা করেন এবং জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় কিছুদিন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, এরপর সেখানকার তার মাদরাসায় কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে তিনি কায়রোতে চলে আসেন এবং আস-সাহিব ইবনে শুকর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায় আমৃত্যু শিক্ষকতা করেন। তিনি ফিকহ মাযহাব ও হাদিস শাস্ত্রে অগ্রগামী ছিলেন। তার পরিমার্জিত বহু রচনা রয়েছে। আমি ৫৮৬ হিজরি সনে সনদসহ তার রচিত ‘কিতাবুস সিয়াম’ (রোজার কিতাব) দেখেছি। হাফিযদের স্তর বিন্যাস নিয়ে তার ‘আল-আরবাউন’ নামক গ্রন্থ রয়েছে। আমি যখন এটি দেখি, তখন আমার মাঝে হাফিযদের জীবনী ও অবস্থা সংকলন করার আগ্রহ জাগ্রত হয়।
তিনি দ্বীনদার, মুত্তাকী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, ন্যায়পরায়ণ এবং সন্তোষজনক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলীতে তার বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ ছিল।
তার ছাত্র হাফিয আবু মুহাম্মদ আল-মুনযিরী তার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাকে অত্যন্ত সম্মান ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন: তিনি ৫৭৪ হিজরি সনে মিশরে সফর করেন এবং মুহাম্মদ বিন আলী আর-রাহবীর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি একদল উলামার নাম উল্লেখ করেন। তিনি পরহেযগার, উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। আমি তার দ্বারা অনেক উপকৃত হয়েছি।
আমি (যাহাবী) বলছি: তিনি যদি বাগদাদ ও মসুলে সফর করতেন, তবে উচ্চ সনদধারী একদল বর্ণনাকারীর সাক্ষাৎ পেতেন। যখনই তিনি আস-সিলাফীর সূত্রে বর্ণনা করতেন, তার বর্ণনা নিচু স্তরের (দীর্ঘ সনদযুক্ত) হয়ে যেত এবং সংখ্যায় কমে যেত।
মরক্কো থেকে তার সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ মুসনিদ আবু হাসান আলী বিন আহমাদ বিন হুনাইন এবং আরও একদল আলিম তাকে হাদিস বর্ণনার অনুমতি (ইজাযত) প্রদান করেন।
যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন তার জানাজার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু গুণী ব্যক্তি বলেছিলেন: হে আবুল হাসান, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন, আপনি মানুষের পক্ষ থেকে ফরযসমূহ (ফরযে কিফায়া) হালকা করে দিয়েছিলেন। এর দ্বারা তারা বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে তার পারদর্শিতা ও অবদানের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
তার থেকে যারা হাদিস বর্ণনা করেছেন তারা হলেন: আল-মুনযিরী, আর-রাশীদ আল-উরমাভী, যাকীউদ্দীন আল-বিরযালী, মাজদুদ্দীন আলী বিন ওয়াহাব আল-কুশায়রী, আল-আলাম আব্দুল হক বিন আর-রাসসাস, আশ-শারাফ আব্দুল মালিক বিন নাসর আল-ফিহরী আল-লুগাবী, ইসহাক বিন বালকাওয়াইহ আস-সূফী, আল-হাসান বিন উসমান আল-কাবেসী আল-মুহতাসিব, আল-জামাল মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-হাওয়ারী, কাযী শরফুদ্দীন আবু হাফস আস-সুবকী, মুহাম্মদ বিন মুরতাযা বিন আবি আল-জুদ, আশ-শিহাব ইসমাঈল আল-কুসী, আন-নাজীব আহমাদ বিন মুহাম্মদ আস-সাফাকুসী, মুহাম্মদ বিন আব্দুল খালিক বিন তারখান আল-উরমাভী, আল-মুহাইয়ি আব্দুর রহীম বিন আদ-দুমাইরী এবং আরও অনেকে।
ইউসুফ বিন আল-কাবেসী ইজাযত বা অনুমতির মাধ্যমে তার থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: আমার সফরে তার থেকে সরাসরি শ্রবণ করেছেন এমন কাউকে আমি পাইনি।
যাকীউদ্দীন আল-মুনযিরী বলেন: তিনি ৬১১ হিজরি সনের শাবান মাসের শুরুতে ইন্তেকাল করেন এবং তাকে মুকাত্তাম পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়।
ইবনে আল-মুফায্যাল-এর কাব্য থেকে সংগৃহীত:
হে নফস, তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, তার সাহাবীগণ এবং তাবিঈগণের বর্ণিত নির্দেশের ওপর সুদৃঢ় থাকো।
… হয়তো তার দ্বীন প্রচারে তুমি যখন পূর্ণ শ্রম ব্যয় করবে, তখন তার সেই সুগন্ধিময় প্রসারে তুমি মুক্তি খুঁজে পাবে।
আর বিচার দিবসের দিনে জাহান্নামকে ভয় করো,
… যখন তার অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হয়ে তোমাকে স্পর্শ করতে চাইবে।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢)
الْبَابُ الْحَادِي وَالثَّلاثُونَ فِيمَا يُسْتَحَبُّ مِنَ الْكَلامِ بَعْدَ الْفَرَاغِ مِنَ الطَّعَامِ
একত্রিশতম অধ্যায়: আহার সমাপ্ত করার পর যে সকল কথা বলা মুস্তাহাব সেই প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٣)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الأَصْبَهَانِيُّ الْحَافِظُ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، وَأَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الطُّوسِيُّ الْخَطِيبُ فِي كِتَابِهِ إِلَيَّ، قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْخَطَّابِ نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَغْدَادِيُّ الْقَارِئُ بِمَدِينَةِ السَّلامِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقَوَيْهِ الْبَزَّازُ، قَالَ أَبُو طَاهِرٍ: قُرِئَ عَلَى إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الصَّفَّارِ، وَقَالَ أَبُو الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ثَوْرٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رُفِعَتِ الْمَائِدَةُ، قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مُكْفًى وَلا مُوَدَّعٍ وَلا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا» .
أَخْبَرَنَاهُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ الدِّمَشْقِيُّ الْحَافِظُ فِي كِتَابِهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الشَّيْبَانِيُّ بِبَغْدَادَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حِمْدَانَ الْقَطِيعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ ثَوْرٍ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ.
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ ثَابِتٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي خَالِدٍ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ الْكِلاعِيُّ الْحِمْصِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ الْكِلاعِيِّ الشَّامِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الصُدَيُّ بْنُ عَجْلانَ بْنِ وَهْبِ بْنِ عَمْرٍو الْبَاهِلِيُّ صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ مِنْ قَيْسِ بْنِ غَيْلانَ، وَعِدَادُهُ فِي أَهْلِ حِمْصَ، تُوُفِّيَ سَنَةَ سِتٍّ وَثَمَانِينَ وَهُوَ ابْنُ إِحْدَى وَتِسْعِينَ سَنَةٍ، انْفَرَدَ بِهِ الْبُخَارِيُّ دُونَ مُسْلِمٍ، فَرَوَاهُ فِي صَحِيحِهِ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، عَنْ سُفْيَانَ، وَهُوَ الثَّوْرِيُّ، عَنْ ثَوْرٍ، وَرَوَاهُ فِيهِ أَيْضًا عَالِيًا، عَنْ أَبِي عَاصِمٍ، عَنْ ثَوْرٍ، وَأَوْرَدَهُ التِّرْمِذِيُّ فِي سُنَنِهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ ثَوْرٍ أَيْضًا كَمَا أَوْرَدْنَاهُ، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ.
وَثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ هَذَا شَامِيٌّ، وَثَوْرُ بْنُ زَيْدٍ مَدِينِيٌّ، يَرْوِي عَنْهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَعَصْرُهُمَا مُتَقَارِبٌ، وَقَدْ رَوَاهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنِ الصَّبَاحِ الْمِسْمَعِيُّ الْبَصْرِيُّ، عَنْ ثَوْرٍ، وَرَوَاهُ عَنْهُ عُقْبَةُ بْنُ مُكْرِمٍ الْعَمِّيُّ الْبَصْرِيُّ
১ - হাফেজ আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আসবাহানি তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে এবং আবুল ফজল আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আত-তুসি আল-খতিব আমাকে লেখা তাঁর পত্রের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: মদিনাতুস সালামে আবুল খাত্তাব নাসর বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদি আল-ক্বারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিজক্বাওয়াইহ আল-বাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু তাহির বলেন: ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সাফফারের নিকট পাঠ করা হয়েছে, আর আবুল ফজল বলেন: ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর আল-হারিসি আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাইদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, সাওর আমাদের বর্ণনা করেছেন খালেদ থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দস্তরখান উঠিয়ে নিতেন তখন বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যে প্রশংসা প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময়; যে প্রশংসা অপর্যাপ্ত নয়, যা পরিত্যক্ত হয় না এবং যা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায় না, হে আমাদের রব।"
হাফেজ আবুল কাসিম আলি বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আদ-দিমাশকি তাঁর লিখিত কিতাবে আমাদের তা সংবাদ দিয়েছেন, বাগদাদে আবু কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শাইবানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলি আল-হাসান বিন আলি বিন মুহাম্মদ আত-তামিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, ওকি আমাদের বর্ণনা করেছেন সাওর থেকে তাঁর সনদ সূত্রে তদ্রূপ।
এটি একটি সহিহ ও সুপ্রতিষ্ঠিত হাদিস, যা আবু খালিদ সাওর বিন ইয়াজিদ আল-কিলায়ি আল-হিমসির হাদিস হতে বর্ণিত, তিনি আবু আব্দুল্লাহ খালেদ বিন মা'দান আল-কিলায়ি আশ-শামি থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আবু উমামাহ সুুদাই বিন আজলান বিন ওয়াহাব বিন আমর আল-বাহিলি থেকে। তিনি কায়েস বিন গাইলান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং হিমসিবাসীদের মধ্যে গণ্য। তিনি ছিয়াশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল একানব্বই বছর। ইমাম বুখারি মুসলিম ব্যতীত এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু নুয়াইম থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে—যিনি সাওরি—তিনি সাওর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে এটি উচ্চতর সনদে আবু আসিম থেকে, তিনি সাওর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন বাশশার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাইদ থেকে, তিনি সাওর থেকে তদ্রূপ বর্ণনা করেছেন যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
এই সাওর বিন ইয়াজিদ হলেন শামি, আর সাওর বিন জাইদ হলেন মাদানি, যাঁর থেকে মালেক বিন আনাস বর্ণনা করেন; তাঁদের উভয়ের যুগ কাছাকাছি। আর আব্দুল মালেক বিন সাবাহ আল-মিসমায়ি আল-বাসরি এটি সাওর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে ওকবা বিন মুকরিম আল-আম্মি আল-বাসরি এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٤)
2 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَحْيَى الأُمَوِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُثْمَانَ الشِّبْلِيُّ بِالإِسْكَنْدَرِيَّةِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُثْمَانَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ وَرْقَاءَ الأَصْبَهَانِيُّ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الشِّيرَازِيُّ الصُّوفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الْبَالِسِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ حَرْبٍ الْقَاضِي، فِي مَنْزِلِهِ بِالرِّقَّةِ سَنَةَ ثَلاثَ عَشْرَةَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الْمَلِكِ عُقْبَةُ بْنُ مُكْرِمٍ الْبَصْرِيُّ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الصَّبَاحِ، عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَفَعَ مَائِدَتَهُ، قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مُكَافِئٍ وَلا مُؤَدِّي وَلا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا»
فِي رِوَايَتِنَا هَذِهِ: مُؤَدِّي بِالْيَاءِ، أَيْ: لا نُؤَدِّي شُكْرَهُ قَرِيبًا مِنْ مَعْنَى قَوْلِهِ: غَيْرَ مُكَافِئٍ، وَالَّذِي ذَكَرَهُ الْبُخَارِيُّ وَالتِّرْمِذِيُّ: غَيْرَ مُوَدِّعٍ، بِالْعَيْنِ كَمَا ذَكَرْنَاهُ فِي رِوَايَتِنَا الأُولَى لِمَعْنَى الْمُفَارَقَةِ وَهُوَ الْمَشْهُورُ، أَيْ: غَيْرَ تَارِكٍ طَاعَةَ رَبِّي عز وجل، وَقِيلَ: غَيْرُ مُوَدِّعٍ رَبِّي، وسُمِّيَ الْوَدَاعُ وَدَاعًا، لأَنَّهُ مُفَارَقَةٌ وَمُتَارَكَةٌ، وَمِنْهُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَى} [الضحى: 3] عَلَى قِرَاءَةِ الْجَمَاعَةِ بِالتَّشْدِيدِ، فَأَمَّا مَنْ قَرَأَ: وَدَعَكَ بِتَخْفِيفِ الدَّالِ فَهُوَ ظَاهِرٌ فِي مَعْنَاهُ إِلا أَنَّهُ ضَعِيفٌ فِي الْعَرَبِيَّةِ، فَإِنَّهُ لَمْ يُسْمَعْ لِمُضَارِعِ يَدَعُ مَاضٍ وَلا مَصْدَرٌ، إِلا شَاذًّا اسْتِغْنَاءً عَنْهَا بِالتَّرْكِ وَفعلية، وَكَذَلِكَ يَذَرُ لَمْ يُسْمَعْ لَهُ مَاضٍ وَلا مَصْدَرٌ عَلَى مَا تَقَدَّمَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
২ - আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-উমাবী তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইয়াহইয়া ইবনে ইব্রাহিম ইবনে উসমান আল-শিবলী ইস্কান্দারিয়ায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উসমান মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে ওয়ারকা আল-আসবাহানি বাইতুল মুকাদ্দাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান আল-শিরাজি আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হাসান ইসমাইল ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব আল-বালিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ফাদল মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আল-হাসান ইবনে হারব আল-কাদি ৩১৩ হিজরি সনে রিক্কায় তাঁর বাসভবনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল মালিক উকবা ইবনে মুকরাম আল-বাসরি আল-আম্মি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে আস-সাবাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি সাওর থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর দস্তরখান উঠাতেন, তখন বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা; যা পর্যাপ্ত নয়, যা আদায় করা যায় না এবং যা থেকে বিমুখ হওয়া যায় না; হে আমাদের রব!"
আমাদের এই বর্ণনায় 'মুয়াদ্দি' শব্দটি 'ইয়া' বর্ণের সাথে এসেছে, অর্থাৎ: আমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা পুরোপুরি আদায় করতে পারি না; যা 'গাইরা মুকাফি' (অপর্যাপ্ত নয়) কথাটির অর্থের কাছাকাছি। আর ইমাম বুখারি ও তিরমিজি যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: 'গাইরা মুওয়াদ্দি', 'আইন' বর্ণের সাথে, যেমনটি আমরা আমাদের প্রথম বর্ণনায় বিচ্ছেদ বা বিদায়ের অর্থে উল্লেখ করেছি এবং এটিই প্রসিদ্ধ; অর্থাৎ: আমার মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী রবের আনুগত্য বর্জনকারী নই। আবার বলা হয়েছে: আমার রবকে বিদায়কারী নই। 'বিদা' (বিদায়)-কে 'বিদা' বলা হয় কারণ এটি বিচ্ছেদ ও বর্জন করা। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "আপনার রব আপনাকে ত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্টও হননি" [আদ-দুহা: ৩]—এটি জুমহুর বা অধিকাংশের কিরাত অনুযায়ী তাশদীদসহ। আর যারা 'ওয়াদাআকা' দাল বর্ণে তাশদীদ ছাড়া পড়েছেন, তার অর্থ স্পষ্ট হলেও আরব্য ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী তা দুর্বল। কারণ 'ইয়াদা'উ' বর্তমান কালের জন্য কোনো অতীত কাল বা মাসদার (ক্রিয়ামূল) শোনা যায়নি, কেবল বিরল ক্ষেত্র ছাড়া; বরং এগুলোর পরিবর্তে 'তারক' শব্দ ও এর রূপান্তরসমূহ ব্যবহৃত হয়। একইভাবে 'ইয়াদারু' শব্দেরও কোনো অতীত কাল বা মাসদার শোনা যায়নি যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٥)
3 - وَقَد رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ أَحَادِيثُ كَثِيرَةٌ: مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي سَعِيدٍ، وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَأَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، وَمُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ، وَمِنْ أَتَمِّهَا حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ أَخْبَرَنَاهُ أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيِّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي ثَابِتٌ، وَأَبُو يَاسِرٍ أَحْمَدُ، ابنا بندار بن إبراهيم البغداديان بها، قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْعَبَّاسِ النِّعَالِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي غَيْلانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مَنْصُورٍ السُّلَيْمِيُّ، عَنْ زُهَيْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: دَعَا رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ مِنْ أَهْلِ قِبَاءٍ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَانْطَلَقْنَا مَعَهُ، فَلَمَّا طَعِمَ وَغَسَلَ يَدَهُ، قَالَ: «الْحَمْدُ للَّهِ الَّذِي يُطْعِمُ، وَلا يُطْعَمُ، مَنَّ عَلَيْنَا فَهَدَانَا وَأَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكُلَّ بَلاءٍ حَسَنٍ أَبْلانَا، الْحَمْدُ لِلَّهِ غَيْرَ مُوَدَّعٍ، وَلا مُكَافًى وَلا مَكْفُورٍ وَلا مُسْتَغْنًى عَنْهُ، الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَ مِنَ الطَّعَامِ، وَسَقَى مِنَ الشَّرَابِ، وَكَسَى مِنَ الْعُرْيِ، وَهَدَى مِنَ الضَّلالَةِ، وَبَصَّرَ مِنَ الْعَمَى، وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِنْ خَلْقِهِ تَفْضِيلًا»
৩ - এই অধ্যায়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে: আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ, আনাস বিন মালিক, আবু আইয়ুব আল-আনসারী এবং মুয়ায বিন আনাস থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ। আর সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসটি। সেটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আস-সিলাফি তাঁর সামনে আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মা'আলি সাবিত এবং আবু ইয়াসির আহমাদ—যারা বাগদাদের বুন্দার বিন ইব্রাহিমের দুই পুত্র, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আল-হুসাইন বিন আল-আব্বাস আন-নিআলী, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আশ-শাফেয়ী, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন ইসমাইল বিন আবি গাইলান, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আলা বিন হাম্মাদ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন মানসুর আস-সুলাইমি, যুহাইর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুবাবাসী একজন আনসারী ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। অতঃপর যখন তিনি আহার করলেন এবং হাত ধৌত করলেন, তখন বললেন: «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আহার করান কিন্তু তাঁকে আহার করানো হয় না। তিনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, ফলে আমাদের হেদায়েত দিয়েছেন, আমাদের আহার করিয়েছেন এবং পান করিয়েছেন এবং প্রতিটি উত্তম পরীক্ষার মাধ্যমে আমাদের পরীক্ষা করেছেন। আল্লাহর জন্য এমন প্রশংসা যা অপরিত্যাজ্য, যার প্রতিদান দেওয়া সম্ভব নয়, যা অস্বীকার করা যায় না এবং যা থেকে বিমুখ হওয়া যায় না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি খাদ্য থেকে আহার করিয়েছেন, পানীয় থেকে পান করিয়েছেন, উলঙ্গতা থেকে বস্ত্র দান করেছেন, পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত দিয়েছেন, অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির অনেকের ওপর আমাকে বিশেষভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন»
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٦)
الْبَابُ الثَّانِي وَالثَّلاثُونَ فِيمَا يَقُولُهُ عِنْدَ إِتْيَانِ أَهْلِهِ لِيَأْمَنَ مِنَ الشَّيْطَانِ عَلَى نَسْلِهِ
বত্রিশতম অধ্যায়: নিজ বংশধরকে শয়তান থেকে নিরাপদ রাখতে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার সময় যা পাঠ করবে সে বিষয়ে।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٧)
4 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سِلَفَةَ الأَصْبَهَانِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْبَصْرِيُّ بِأَصْبَهَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَاشَاذَهْ الْفَرَضِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا حَاضِرٌ سَنَةَ خَمْسٍ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أُسَيْدُ بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ، قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ "، فِيمَا يَرَى مَنْصُورٌ: «اللَّهُمَّ، جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَيُولَدُ بَيْنَهُمَا مَوْلُودٌ لَمْ يَضُرُّهُ الشَّيْطَانُ أَبَدًا»
৪ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সিলাফাহ আল-আসবাহানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-বাসরী আসবাহানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাশাযাহ আল-ফারাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, আর আমি সেখানে চারশ পাঁচ হিজরি সনে উপস্থিত ছিলাম; আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; উসাইদ বিন আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আল-হুসাইন বিন হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মানসুর থেকে, তিনি সালিম বিন আবিল জাদ থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর নিকট আসে, তখন সে যদি বলে: 'আল্লাহর নামে'", মানসুরের বর্ণনা অনুযায়ী: «হে আল্লাহ, আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যা দান করবেন তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন; ফলে তাদের উভয়ের মাঝে যদি কোনো সন্তান জন্ম লাভ করে, তবে শয়তান কখনো তার ক্ষতি করতে পারবে না»
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٨)
5 - أَخْبَرَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَحْيَى الْعُثْمَانِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الرَّازِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْفَارِسِيُّ بِمِصْرَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَصْرِ بْنِ بُجَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَالِحِ بْنِ أُسَامَةَ الذُّهْلِيُّ، بِانْتِقَاءِ أَبِي الْحَسَنِ الدَّارَقُطْنِيِّ الْحَافِظِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدُوسٍ، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَالأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، يَرْفَعُهُ مَنْصُورٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يَرْفَعْهُ الأَعْمَشُ، قَالَ: " لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ، أَوْ أَحَدَكُمْ، إِذَا أَتَى أَهْلَهُ، قَالَ: اللَّهُمَّ جَنِّبْنِي الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنِي، فَإِنْ كَانَ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ لَمْ يَضُرُّهُ الشَّيْطَانُ أَوْ لَمْ يُسَلَّطْ عَلَيْهِ ".
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنُ صَحِيحٌ ثَابِتٌ، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَتَّابٍ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ السَّلَمِيِّ الْكُوفِيِّ الْفَقِيهُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ الأَشْجَعِيِّ، مَوْلاهُمُ الْكُوفِيُّ، وَهُوَ أَخُو عُبَيْدٍ، وَزِيَادٍ، وَعِمْرَانَ، وَمُسْلِمٍ بَنِي أَبِي الْجَعْدِ، وَاسْمُ أَبِي الْجَعْدِ رَافِعٌ، سَمِعَ سَالِمًا، وَعَبْدَ اللَّهِ ابْنَيْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَجَابِرًا، وَالنُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، وَأَنَسًا، وَكُرَيْبًا، وَأُمَّ الدَّرْدَاءِ، رَوَى عَنْهُ قَتَادَةَ، وَعَمْرُو بْنُ مُرَّةَ، وَمَنْصُورٌ، وَالأَعْمَشُ، وَحُصَيْنٌ، تُوُفِّيَ نَحْوَ سَنَةِ مِائَةٍ، عَنْ أَبِي رِشْدِينٍ كُرَيْبِ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ الْهَاشِمِيِّ الْمَدِينِيِّ، عَنْ مَوْلاهُ أَبِي الْعَبَّاسِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
اتَّفَقَ الْبُخَارِيُّ، وَمُسْلِمٌ عَلَى إِخْرَاجِهِ، فَأَمَّا الْبُخَارِيُّ فَرَوَاهُ فِي الطَّهَارَةِ عَنْ عَلِيٍّ، وَفِي التَّوْحِيدِ عَنْ قُتَيْبَةَ، وَفِي الدَّعَوَاتِ عَنْ عُثْمَانَ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَفِي النِّكَاحِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ حَفْصٍ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَفِي صِفَةِ إِبْلِيسَ، عَنْ آدَمَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَقَالَ بِعَقِبِهِ: وَحَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مِثْلَهُ، لَمْ يَرْفَعْهُ الأَعْمَشُ، وَرَفَعَهُ مَنْصُورٌ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي النِّكَاحِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى، وَإِسْحَاقَ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَعَنْ أَبِي مُوسَى، وَبُنْدَارٍ، عَنْ غُنْدَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَعَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَعَنْ عَبْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، فَوَافَقْنَا الْبُخَارِيَّ فِي حَدِيثِ شُعْبَةَ، وَمُسْلِمًا فِي حَدِيثِ سُفْيَانَ، وَهُوَ الثَّوْرِيُّ، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ
৫ - আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন ইয়াহইয়া আল-উসমানী তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন ইবরাহিম আর-রাজি তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবন মুহাম্মদ ইবন আলি আল-ফারিসি মিসরে, তিনি বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নাসর ইবন বুজাইর ইবন আবদুল্লাহ ইবন সালিহ ইবন উসামা আজ-জুহলি, হাফিজ আবু আল-হাসান আদ-দারা কুতনির নির্বাচনের মাধ্যমে, তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আবদুস, তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আলি, তিনি বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বা, তিনি মানসুর ও আমাশ থেকে, তাঁরা সালিম ইবন আবি আল-জাদ থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। মানসুর এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আমাশ মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি। তিনি বলেন: "যদি তাদের কেউ, অথবা তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর নিকট আসে (সহবাসের ইচ্ছা করে), তখন সে বলে: হে আল্লাহ! আমাকে শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং শয়তানকে দূরে রাখুন আপনি আমাদের যা দান করেছেন তা থেকে। অতঃপর যদি তাদের উভয়ের মাঝে কোনো সন্তান নির্ধারিত থাকে, তবে শয়তান কখনো তার ক্ষতি করতে পারবে না অথবা তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।"
এটি একটি হাসান সহিহ সাব্যস্ত হাদিস, যা আবু আত্তাব মানসুর ইবনুল মুতামির আস-সুলামি আল-কুফি আল-ফকিহ্-এর হাদিস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)। তিনি বর্ণনা করেছেন সালিম ইবন আবি আল-জাদ আল-আশজায়ি থেকে, যিনি তাদের মুক্তদাস এবং কুফাবাসী। তিনি উবাইদ, জিয়াদ, ইমরান ও মুসলিম—আবি আল-জাদের এই সন্তানদের ভাই। আর আবি আল-জাদের নাম হলো রাফি। তিনি (সালিম) শুনেছেন আবদুল্লাহ ইবন উমরের দুই পুত্র সালিম ও আবদুল্লাহ থেকে এবং জাবির, নুমান ইবন বাশির, আনাস, কুরাইব ও উম্মুদ দারদা থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন কাতাদা, আমর ইবন মুররা, মানসুর, আমাশ ও হুসাইন। তিনি আনুমানিক ১০০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আবু রিশদিন কুরাইব ইবন আবি মুসলিম আল-হাশেমি আল-মাদানি থেকে, তিনি তাঁর মনিব আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
বুখারি ও মুসলিম এটি উদ্ধৃত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বুখারি এটি পবিত্রতা অধ্যায়ে আলি থেকে, তাওহিদ অধ্যায়ে কুতাইবা থেকে, এবং দোয়া অধ্যায়ে উসমান থেকে, তিনি জারির থেকে, তিনি মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া বিবাহ অধ্যায়ে সাদ ইবন হাফস থেকে, তিনি শাইবান থেকে, তিনি মানসুর থেকে; এবং ইবলিসের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায় আদম থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এর পরপরই বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমাশ, তিনি সালিম থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে অনুরূপভাবে। আমাশ এটি মারফু করেননি, কিন্তু মানসুর মারফু করেছেন। মুসলিম এটি বিবাহ অধ্যায়ে ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ও ইসহাক থেকে, তাঁরা জারির থেকে, তিনি মানসুর থেকে; এবং আবু মুসা ও বুন্দার থেকে, তাঁরা গুন্দার থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি মানসুর থেকে; এবং ইবন নুমাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে; এবং আবদ থেকে, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং আমরা শু'বার হাদিসের ক্ষেত্রে বুখারির সাথে এবং সুফিয়ানের হাদিসের ক্ষেত্রে মুসলিমের সাথে একমত হয়েছি, আর তিনি হলেন আস-সাওরি। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক (সাফল্য) আসে।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٩)
الْبَابُ الثَّالِثُ وَالثَّلاثُونَ فِيمَا يُسْتَحَبُّ مِنَ الدُّعَاءِ لِمَنْ أَرَادَ دُخُولَ الْخَلاءِ
তেত্রিশতম অধ্যায়: শৌচাগারে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব দুআসমূহ প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١٠)
6 - أَخْبَرَنَا الإِمَامَانِ أَبُو الطَّاهِرِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَكِّيِّ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الزُّهْرِيُّ، وَأَبُو طَالِبٍ صَالِحُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَنَدٍ الزِّنَّارِيُّ وَالْمَشَايِخُ أَبُو الْحَجَّاجِ يُوسُفُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْقَرَوِيُّ، وَأَبُو مَنْصُورٍ طَاهِرُ بْنِ عَطِيَّةَ بْنِ فَائِدٍ اللَّخْمِيُّ، وَأَبُو الْمُفَضَّلِ عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ دَلِيلٍ الْكِنْدِيُّ، قَالُوا: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْفِهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ بَحْرٍ التُّسْتَرِيُّ بِالْبَصْرَةِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْعَبَّاسِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَمْرٍو اللُّؤْلُئِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاءَ، قَالَ: عَنْ حَمَّادٍ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ» ، وَقَالَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ: «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই ইমাম আবু তাহির ইসমাইল ইবনে মাক্কী ইবনে ইসমাইল আয-যুহরী এবং আবু তালিব সালিহ ইবনে ইসমাইল ইবনে সানাদ আয-যিন্নারী, এবং শাইখগণ: আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-কারাবী, আবু মানসুর তাহির ইবনে আতিয়্যাহ ইবনে ফায়িদ আল-লাখমী, এবং আবু আল-মুফাদদাল আব্দুল মাজীদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে দালীল আল-কিনদী। তাঁরা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আল-ওয়ালীদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিহরী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবনে আহমাদ ইবনে আলী ইবনে বাহর আত-তুস্তারি বসরার মধ্যে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আল-কাসিম ইবনে জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-আব্বাসী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আমর আল-লু'লুয়ী। আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি। আমাদের বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ। আমাদের বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ ও আব্দুল ওয়ারিস, তাঁরা আব্দুল আযীয থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: হাম্মাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে (তিনি বলতেন): «হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি», এবং আব্দুল আযীয থেকে বর্ণিত হয়েছে যে (তিনি বলতেন): «আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি অপবিত্র নর ও নারী শয়তান হতে।»
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١١)
7 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الزِّنْجَانِيُّ بِزِنْجَانَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الْقَاهِرِ بْنُ طَاهِرٍ الْبَغْدَادِيُّ بِنَيْسَابُورَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدَةَ السَّلِيطِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيٍّ الذُّهْلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَخَلَ الْكَنِيفَ، قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ»
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ثَابِتٌ، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي حَمْزَةَ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ الْبُنَانِيِّ الْبَصْرِيِّ الأَعْمَى، وَهُوَ مِنَ الثِّقَاتِ الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِمْ، رَوَى عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَأَبي نَضْرَةَ، وَرَوَى عَنْهُ شُعْبَةُ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ، وَوُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ، وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَأَخُوهُ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عُلِيَّةَ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ طِهْمَانَ، وَهِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ الأَنْصَارِيِّ الْبُخَارِيِّ، خَادِمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، وَمُسْلِمٌ جَمِيعًا مِنْ حَدِيثِ جَمَاعَةٍ عَنْهُ، فَأَمَّا مُحَمَّدٌ فَرَوَاهُ فِي الطَّهَارَةِ عَنْ آدَمَ، وَفِي الدَّعَوَاتِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ، كِلَيْهِمَا عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ.
قَالَ الْبُخَارِيُّ: وَقَالَ غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ: إِذَا أَتَى الْخَلاءَ.
وَقَالَ مُوسَى عَنْ حَمَّادٍ: إِذَا دَخَلَ.
وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ: إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْخُلَ.
وَأَمَّا مُسْلِمٌ فَرَوَاهُ فِي الطَّهَارَةِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى، عَنْ حَمَّادٍ، وَهُشَيْمِ بْنِ بَشِيرٍ كليهما، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَرَوَاهُ أَيْضًا فِي الطَّهَارَةِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ.
وَأَمَّا قَوْلُهُ عليه السلام «مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ» ، فَالْخُبُثُ جَمْعُ الْخَبِيثِ، وَالْخَبَائِثُ جَمْعُ خَبِيثَةٍ، مَعْنَاهُ التَّعَوُّذُ مِنْ مَرَدَةِ الْجِنِّ ذُكْرَانِهِمْ وَإِنَاثِهِمْ، وَأَكْثَرُ أَهْلِ الْحَدِيثِ يُسَكِّنُونَ الْبَاءَ مِنَ الْخُبُثِ، وَهُوَ خَطَأٌ إِنْ أُرِيدَ بِهِ مَصْدَرُ خَبُثَ الشَّيْئُ خُبْثًا لِعَدَمِ تَجَانُسِ الْكَلامِ، وَلَكِنَّهُ إِنْ أُرِيدَ بِهِ تَخْفِيفَ الْخُبُثِ فَلَهُ وَجْهُهُ مِنَ الْعَرَبِيَّةِ، وَالضَّمُّ أَجْوَدُ، وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَنَسٍ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ، وَزَادَ فِيهِ: إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مُحْتَضَرةٌ، وَالْحُشُوشُ هِيَ الْكُنُفُ، وَاحِدُهَا حَشٌّ وَحُشٌّ، وَأَصْلُ الْحُشِّ جَمَاعَةُ النَّخْلِ الْكَثِيفَةُ، وَكَانُوا يَقْضُونَ حَوَائِجَهُمْ إِلَيْهَا فَسُمِّيَتِ الْكُنُفُ.
৭ - এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আস-সিলাফি তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আজ-জিনজানি জিনজানে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর আবদুল কাহির বিন তাহির আল-বাগদাদি নিশাপুরে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদাহ আস-সালিতি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন আলি আজ-জুহলি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন হুশাইম, তিনি আবদুল আজিজ বিন সুহাইব থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, বলতেন: "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।"
এটি একটি হাসান সহিহ সাব্যস্ত হাদিস, যা আবু হামজাহ আবদুল আজিজ বিন সুহাইব আল-বুনানি আল-বাসরি আল-আ’মার হাদিস থেকে সর্বসম্মত (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। তিনি সর্বসম্মত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আনাস বিন মালিক এবং আবু নাদরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে শু’বাহ, আবদুল ওয়ারিস, উহাইব বিন খালিদ, হাম্মাদ বিন যায়েদ, তাঁর ভাই সাঈদ বিন যায়েদ, ইসমাইল বিন উলাইয়া, ইবরাহিম বিন তাহমান এবং হিশাম বিন হাসসান বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু হামজাহ আনাস বিন মালিক আল-আনসারি আল-বুখারি, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাদেম থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বুখারি ও মুসলিম উভয়েই একদল বর্ণনাকারীর সূত্রে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ (ইমাম বুখারি) এটি তাহারাত (পবিত্রতা) অধ্যায়ে আদম থেকে এবং দাওয়াত (দুআ) অধ্যায়ে মুহাম্মদ বিন আর’আরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই শু’বাহ থেকে, তিনি আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বুখারি বলেন: গুন্দার শু’বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: "যখন তিনি শৌচাগারে আসতেন।"
আর মুসা হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন: "যখন তিনি প্রবেশ করতেন।"
আর সাঈদ বিন যায়েদ বলেন: আবদুল আজিজ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন: "যখন তিনি প্রবেশ করার ইচ্ছা করতেন।"
আর ইমাম মুসলিম এটি তাহারাত অধ্যায়ে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি হাম্মাদ ও হুশাইম বিন বাশির উভয়ের সূত্রে আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি এটি তাহারাত অধ্যায়ে আবু বকর বিন আবি শায়বাহ থেকে, তিনি ইবনুল উলাইয়া থেকে, তিনি আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী "পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে" প্রসঙ্গে বলা যায়—'খুবুছ' হলো 'খাবিছ' (পুরুষ শয়তান) এর বহুবচন এবং 'খাবাইছ' হলো 'খাবিছাহ' (নারী শয়তান) এর বহুবচন। এর অর্থ হলো অবাধ্য জিনদের পুরুষ ও নারীদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া। অধিকাংশ হাদিস বিশারদ 'খুবুছ' শব্দের 'বা' বর্ণটিকে সাকিন (জযম) দিয়ে পড়েন, কিন্তু যদি এর দ্বারা অপবিত্রতা অর্থ উদ্দেশ্য হয় তবে বাক্যের সংগতি না থাকার কারণে এটি ভুল। তবে যদি একে 'খুবুছ' এর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে আরবি ব্যাকরণে এর ভিত্তি রয়েছে। তবে পেশ (দম্মাহ) দিয়ে পড়া অধিকতর উত্তম। আনাস (রা.) থেকে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত বর্ণিত আছে যে: "নিশ্চয়ই এই শৌচাগারগুলোতে শয়তানরা উপস্থিত থাকে।" আর 'হুশুশ' হলো শৌচাগার, যার একবচন হলো 'হাশ' বা 'হুশ'। মূলত 'হাশ' বলতে ঘন খেজুর বাগানকে বোঝাতো; যেহেতু তারা সেখানে গিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করত, তাই পরবর্তীতে শৌচাগারকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١٢)
8 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الأَصْبَهَانِيُّ الْحَافِظُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ يُوسُفَ النَّصْرِيُّ السِّمْسَارُ بِأَصْبَهَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَعْفَرٍ الْجُرْجَانِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَمْزَةَ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُوَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: وَحَدَّثَنِيهِ عَبْدُ الْعَزِيزِ مَوْلَى أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مَحْتَضَرَةٌ، فَإِذَا دَخَلَهَا أَحَدُكُمْ، فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ ".
عَبْدُ الْعَزِيزِ هَذَا لَعَلَّهُ ابْنُ صُهَيْبٍ إِنْ كَانَ، لا شَيْءَ عَلَيْهِ، وَلا يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ غَيْرُهُ، وَقَدْ رُوِيَ أَيْضًا بِنَحْوِ هَذَا اللَّفْظِ مِنْ حَدِيثِ ،النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ ،عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي سُنَنِهِ أَيْضًا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، فَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ النَّضْرُ بْنُ أَنَسٍ سَمِعَهُ مِنْ أَبِيهِ، وَمِنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ جَمِيعًا، وَاللَّهُ أَعْلَمُ
৮ - হাফেজ আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-আসবাহানি আমাদের কাছে তা বর্ণনা করেছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আবু নাসর আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইউসুফ আন-নাসরি আস-সিমসার আসবাহানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন জাফর আল-জুরজানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামজাহ আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন সুওয়াইদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আন-নাদর থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। (ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ) বলেন: এবং আনাসের মুক্তদাস আবদুল আজিজও আমার কাছে আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই শৌচাগারগুলোতে (জ্বিন ও শয়তানরা) উপস্থিত থাকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন সেখানে প্রবেশ করবে, সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পুরুষ ও নারী শয়তানের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
এই আবদুল আজিজ সম্ভবত ইবনে সুহাইব; যদি তিনি হন, তবে তাঁর ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই এবং তিনি ছাড়া অন্য কেউ হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। আন-নাদর বিন আনাস সূত্রে জায়েদ বিন আরকাম থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রায় একই শব্দে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু দাউদও তাঁর সুনান গ্রন্থে এই সূত্র থেকে হাদীসটি সংকলন করেছেন। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে, আন-নাদর বিন আনাস এটি তাঁর পিতা এবং জায়েদ বিন আরকাম—উভয়ের নিকট থেকেই শুনেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الْبَابُ الرَّابِعُ وَالثَّلاثُونَ فِيمَا يَقُولُهُ فِي لَيْلِهِ وَنَهَارِهِ حِينَ يَخْرُجُ مِنْ دَارِهِ
চতুস্ত্রিংশ অধ্যায়: দিন ও রাতে নিজের ঘর হতে বের হওয়ার সময় যা পাঠ করতে হয়
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١٤)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الأَصْبَهَانِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ أَحْمَدَ الصَّيْرَفِيُّ بِبَغْدَادَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ الْبَزَّازُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُوسَى بْنِ هَارُونَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَرْبِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الشَّعْبِيَّ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ، يَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ أَوْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ، أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ، أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ»
৯ - আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-আসবাহানি তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার বিন আহমদ আস-সায়রাফি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আল-হাসান বিন আহমদ বিন ইবরাহিম বিন শাযান আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন মুসা বিন হারুন আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন ইসহাক আল-হারবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুদাইল বিন ইয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি আশ-শাবি থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর ঘর থেকে বের হতেন, তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমি পদস্খলিত না হই অথবা আমাকে পদস্খলিত করা না হয়, আমি পথভ্রষ্ট না হই অথবা আমাকে পথভ্রষ্ট করা না হয়, আমি যেন কারো ওপর জুলুম না করি অথবা আমার ওপর যেন জুলুম করা না হয়, এবং আমি যেন কারো সাথে অজ্ঞতাসূলভ আচরণ না করি অথবা আমার সাথে যেন অজ্ঞতাসূলভ আচরণ করা না হয়»
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١٥)
10 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سِلَفَةَ الأَصْبَهَانِيُّ، فِيمَا أَذِنَ لَنَا فِيهِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ بْنِ سَوْسَنَ الْبَغْدَادِيُّ بِهَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَاذَانَ الدَّوْرَقِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ نُجَيْحٍ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْهَيْثَمِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْكُوفِيِّ الأَعْمَى، أَنَّ مَنْصُورَ بْنَ الْمُعْتَمِرِ، حَدَّثَهُ عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: حِينَ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ أَوْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ» .
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ثَابِتٌ عَلَى شَرْطِ أَبِي عِيسَى مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى بْنِ سَوْرَةَ السُّلَمِيِّ التِّرْمِذِيِّ، أَخْرَجَهُ فِي جَامِعِهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَتَّابٍ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ الْفَقِيهُ عَنْ أَبِي عَمْرٍو عَامِرِ بْنِ شَرَاحِيلَ الشَّعْبِيِّ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَمَا أَخْرَجْنَاهُ، فَرَوَاهُ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ غَيْلانَ، عَنْ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ، عَنْ سُفْيَانَ وَهُوَ الثَّوْرِيُّ، عَنْ مَنْصُورٍ، ثُمَّ قَالَ عُقَيْبَةُ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَخْرَجَ قَبْلَهُ فِي مَعْنَاهُ حَدِيثُ أَنَسٍ ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: يَعْنِي مَنْ قَالَ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ: " بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ، يُقَالُ لَهُ: كُفِيتَ وَوُقِيتَ وَتَنَحَّى عَنْهُ الشَّيْطَانُ "، رَوَاهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَحْيَى الأُمَوِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسٍ، ثُمّ قَالَ عُقَيْبَهُ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ، لا نَعْرِفُهُ إِلا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ
১০ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সিলাফাহ আল-আসফাহানি, তিনি আমাদের জন্য যা অনুমতি দিয়েছেন তাতে তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন আল-মুজাফফর বিন সাওসান আল-বাগদাদি, তিনি সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হাসান বিন আহমদ বিন শাযান আদ-দাওরাকি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস বিন নুজাইহ আল-বাযযায, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-হাইসাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আবি শুআইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন আ’ইয়ান, আবু ইদ্রিস আল-কুফি আল-আ’মা থেকে, মানসুর বিন আল-মুতামির তাঁকে আমির আশ-শা’বি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন তাঁর ঘর থেকে বের হতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমি পদচ্যুত না হই অথবা আমাকে পদচ্যুত করা না হয়, অথবা আমি পথভ্রষ্ট না হই অথবা আমাকে পথভ্রষ্ট করা না হয়, অথবা আমি জুলুম না করি অথবা আমার ওপর জুলুম করা না হয়, অথবা আমি মূর্খতা না করি অথবা আমার সাথে মূর্খতাসুলভ আচরণ করা না হয়»।
এই হাদিসটি হাসান, সহিহ ও সুসাব্যস্ত, যা আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ আস-সুলামি আত-তিরমিযীর শর্ত অনুযায়ী। তিনি এটি তাঁর জামি’ গ্রন্থে আবু আত্তাব মানসুর বিন আল-মুতামির আল-ফকিহ-এর হাদিস থেকে আবু আমর আমির বিন শারাহিল আশ-শা’বি আল-হামদানি হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামাহ হতে বর্ণনা করেছেন, যেভাবে আমরা এটি বর্ণনা করেছি। তিনি এটি মাহমুদ বিন গায়লান থেকে, তিনি ওয়াকি বিন আল-জাররাহ থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি এর পরপরই বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ। এবং এর পূর্বে তিনি একই অর্থে আনাস থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলবে: "আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই", তাকে বলা হয়: "তোমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে, তুমি সুরক্ষিত হয়েছ" এবং শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়। এটি তিনি সাঈদ বিন ইয়াহইয়া আল-উমাবি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি এর পরপরই বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান গারিব, এই সূত্র ব্যতীত এটি আমাদের জানা নেই।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١٦)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ الصَّيْرَفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ شَاذَانَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَرْبِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ قَالَ حِينَ يَخْرُجُ مِنْ مَنْزِلِهِ: بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ، يُقَالُ لَهُ: وُقِيتَ وَكُفِيتَ ".
وَقَدْ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ عِدَّةُ أَحَادِيثَ مِنْهَا حَدِيثُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আস-সিলাফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আস-সাইরাফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি বিন শাযান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আর-রাজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন ইসহাক আল-হারবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ, ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে বর্ণিত, আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে: আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই; তাকে বলা হয়: তোমাকে রক্ষা করা হয়েছে এবং তোমার জন্য যথেষ্ট হওয়া হয়েছে।"
এই অধ্যায়ে বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস অন্যতম।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١٧)
13 - وَأَخْبَرَنَاهُ أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ غَيْرَ مَرَّةٍ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْخَطَّابِ نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَطْرِ الْبَغْدَادِيُّ بِهَا أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْبَيِّعِ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ، يَعْنِي الرَّازِيَّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ يُرِيدُ سَفَرًا أَوْ غَيْرَهُ، فَقَالَ حِينَ يَخْرُجُ: بِسْمِ اللَّهِ، آمَنْتُ بِاللَّهِ، اعْتَصَمْتُ بِاللَّهِ، تَوَكّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ، إِلا رُزِقَ خَيْرَ ذَلِكَ الْمَخْرَجِ، وَصُرِفَ عَنْهُ شَرُّ ذَلِكَ الْمَخْرَجِ ".
هَكَذَا قَالَ: عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانٍ، وَصَالِحٌ لَمْ يُدْرِكْ عُثْمَانَ، وَهُوَ مُؤَدِّبُ وَلَدِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَلَكِنْ كَذَا كَانَ فِي أَصْلِ شَيْخِنَا، وَكَذَا سَمِعْنَاهُ مِنْهُ، وَالْمَعْرُوفُ فِيهِ، عَبْدِ الْعَزِيزِ عُمَرَ بْنِ صَالِحٍ ،عَنِ ابْنٍ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانٍ ،عَنْ عُثْمَانَ
১৩ - আর আমাদের কাছে এটি আবু তাহির আস-সিলাফি একাধিকবার বর্ণনা করেছেন তার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল খাত্তাব নাসর বিন আহমদ বিন আল-বাত্র আল-বাগদাদি সেখানে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আল-বায়্যি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মানসুর; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাশিম বিন আল-কাসিম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু জাফর—অর্থাৎ আর-রাজি—তিনি আব্দুল আজিজ বিন উমর বিন আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি সালিহ বিন কায়সান থেকে, তিনি উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে কোনো মুসলিম যখন সফর বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তার ঘর থেকে বের হয় এবং বের হওয়ার সময় বলে: 'আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম, আমি আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করলাম, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই'—তখন তাকে সেই যাত্রার কল্যাণ দান করা হয় এবং সেই যাত্রার অনিষ্ট তার থেকে দূর করা হয়।"
তিনি এভাবেই বলেছেন: সালিহ বিন কায়সান থেকে, তিনি উসমান বিন আফফান থেকে। অথচ সালিহ উসমানকে পাননি; তিনি ছিলেন উমর বিন আব্দুল আজিজের সন্তানদের শিক্ষক। তবে আমাদের শাইখের মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই ছিল এবং আমরা তার নিকট থেকে এভাবেই শুনেছি। আর এ ক্ষেত্রে যা প্রসিদ্ধ তা হলো: আব্দুল আজিজ উমর বিন সালিহ থেকে, তিনি উসমান বিন আফফানের এক পুত্র থেকে, তিনি উসমান থেকে।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١٨)
14 - أَخْبَرَنَا بِصَوَابِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الرَّحَبِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو صَادِقٍ مُرْشِدُ بْنُ أَبِي الْحُسَيْنِ الْحِجَازِيُّ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَارِسِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُفَسِّرُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا سَلَمُ بْنُ قَادِمٍ، وَدَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، قَالا: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنٍ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانٍ، عَنْ عُثْمَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ يُرِيدُ سَفرًا، فَقَالَ حِينَ يَخْرُجُ: بِسْمِ اللَّهِ، آمَنْتُ بِاللَّهِ، اعْتَصَمْتُ بِاللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، إِلا رُزِقَ خَيْرَ ذلِكَ الْمَخْرَجِ، وَصُرِفَ عَنْهُ شَرُّ ذَلِكَ الْمَخْرَجِ ".
أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ اسْمُهُ: عِيسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَاهَانَ التَّمِيمِيُّ، أَصْلُهُ مَرْوَزِيٌّ وَوُلِدَ بِالْبَصْرَةِ ثُمَّ سَكَنَ الرِّيَّ، فَغَلَبَ عَلَيْهِ الرَّازِيُّ، قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: هُوَ ثِقَةٌ، وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هُوَ ثِقَةٌ صَدُوقٌ، وَمِنْهَا حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ
১৪ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিল হাসান আর-রাহাবী আমাদের তাঁর নিকট সঠিক হওয়ার সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাদিক মুরশিদ ইবনে আবিল হুসাইন আল-হিজাজি আমাদের জানিয়েছেন, আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফারিসি আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুফাসসির আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ ইবনে আলী আল-কাজী আমাদের বর্ণনা করেছেন, সালাম ইবনে কাদিম এবং দাউদ ইবনে রুশাইদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: বাকিয়্যাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আর-রাজি আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি সালিহ ইবনে কায়সান থেকে, তিনি উসমান ইবনে আফফানের এক পুত্র থেকে, তিনি উসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সফরের উদ্দেশ্যে নিজ গৃহ থেকে বের হয় এবং বের হওয়ার সময় বলে: 'আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম, আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করলাম, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই', তবে তাকে অবশ্যই সেই যাত্রার কল্যাণ দান করা হবে এবং সেই যাত্রার অনিষ্ট তার থেকে দূর করে দেওয়া হবে।"
আবু জাফর আর-রাজি-এর নাম হলো: ঈসা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাহান আত-তামিমি; তাঁর আদি নিবাস ছিল মার্ভে, তিনি বসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে রায়-এ বসবাস করেন, ফলে তিনি 'আর-রাজি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। আবু হাতিম বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও অত্যন্ত সত্যবাদী। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আবু হুরায়রার হাদিস।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ١٩)
15 - أَخْبَرَنَاهُ السِّلَفِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْبَطْرِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْيَشْكُرِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حُسَيْنِ بْنِ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ، قَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ، لا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ، التُّكْلانُ عَلَى اللَّهِ»
১৫ - সিলাফী আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল বাতির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বিশরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে ইবরাহীম আল-ইয়াশকারী আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ আয-যুহরী আমাদের বর্ণনা করেছেন, হাতিম ইবনে ইসমাঈল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবি হুসাইন ইবনে আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁর ঘর থেকে বের হতেন, তখন বলতেন: «আল্লাহর নামে, আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই, আল্লাহর ওপরই ভরসা»
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الْبَابُ الْخَامِسُ وَالثَّلاثُونَ فِيمَا يُسْتَحَبُّ مِنْ ذِكْرِ نِعَمِ اللَّهِ وَشُكْرِهَا لِرَاكِبِ الدَّابَّةِ إِذَا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا
পঁয়ত্রিশতম অধ্যায়: বাহন আরোহী যখন তার পিঠের উপর উঠে, তখন আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ এবং তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢١)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الأَنْصَارِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو شُجَاعٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَلْخِيُّ بِمَكَّةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الزِّيَادِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخُزَاعِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْهَيْثَمُ بْنُ كُلَيْبِ بْنِ سُرَيْجٍ الشَّاسِيُّ بِبُخَارَي، حَدَّثَنَا أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنُ سَوْرَةَ السُّلَمِيُّ التِّرْمِذِيُّ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: شَهِدْتُ عَلِيًّا رضي الله عنه أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا، فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ، قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا، قَالَ: الْحَمْدُ للَّهِ.
ثُمَّ قَالَ: " سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ، ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، ثَلاثًا، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، ثَلاثًا، سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّه لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ "، ثُمَّ ضَحِكَ، فَقُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيءٍ ضَحكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ ثُمَّ ضَحِكَ، فَقُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: " إِنَّ رَبَّكَ لَيَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ، إِذَا قَالَ: رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي يَعْلَمُ أَنَّه لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ أَحَدُ غَيْرِي ".
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الأَحْوَصِ سَلامِ بْنِ سُلَيْمٍ الْحَنَفِيِّ الْكُوفِيِّ، وَهُوَ مِنَ الثِّقَاتِ الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِمْ، سَمِعَ أَبَا إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيَّ، وَأَبَا حُصَيْنٍ، وَمَنْصُورًا، وَالأَعْمَشَ، رَوَى عَنْهُ مُسَدَّدٌ، وَيَحْيَى بْنُ آدَمَ، وَقُتَيْبَةُ، وَالْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ.
مَاتَ سَنَةَ تِسْعٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَةٍ.
عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمْدَانِيِّ السَّبِيعِيِّ الْكُوفِيِّ، وَهُوَ أَيْضًا مِنَ الثِّقَاتِ الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِمْ، سَمِعَ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، وَزَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ، وَحَارِثَةَ بْنَ وَهْبٍ، وَالنُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، وَسُلَيْمَانَ بْنَ صُرَدٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ الْخَطْمِيَّ، وَعَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ رَوَى عَنْهُ شُعْبَةُ، وَالثَّوْرِيُّ، وَزُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، وَإِسْرَائِيلُ وَابْنُ ابْنِهِ يُوسُفُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ.
قَالَ شَرِيكٌ: سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، يَقُولُ: وُلِدْتُ فِي سَنَتَيْنِ مِنْ إِمَارَةِ عُثْمَانَ رضي الله عنه.
وَقَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ: دَفَنَّا أَبَا إِسْحَاقَ سَنَةَ سِتٍّ أَوْ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ، وَمَاتَ وَهُوَ ابْنُ مِائَةِ سَنَةٍ، أَوْ مِائَةٍ إِلا سَنَةً.
وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ: مَاتَ سَنَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ.
وَقَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: مَاتَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَعِشْرِينَ.
وَقَالَ يَحْيَى الْقَطَّانُ: سَنَةَ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ.
عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ الْوَالِبِيِّ الأَسَدِيِّ الْكُوفِيِّ، وَهُوَ ثِقَةٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، رَوَى عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَالْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، وَلَمْ يُخَرِّجْ لَهُ الْبُخَارِيُّ وَلا مُسْلِمٌ عَنْ عَلِيٍّ شَيْئًا، وَإِنَّمَا أَخْرَجَا لَهُ عَنِ الْمُغِيرَةِ، رَوَى عَنْهُ أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمَدَانِيُّ، وَعُثْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، وَسَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّائِيُّ.
قَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ: قَالَ أَبِي: عَلِيُّ بْنُ رَبِيعَةَ هَذَا هُوَ الْبَجَلِيُّ الَّذِي رَوَى عَنْهُ الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ وَهُمَا وَاحِدٌ، وَسَأَلْتُهُ عَنْهُ، فَقَالَ: هُوَ صَالِحُ الْحَدِيثِ.
وَذَكَرَ أَبُو حَاتِمٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْصُورٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ، قَالَ: عَلِيُّ بْنُ رَبِيعَةَ ثِقَةٌ.
أَخْرَجَهُ أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ هَكَذَا عَنْ قُتَيْبَةَ، ثُمَّ قَالَ عُقَيْبَهُ: وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ.
قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، انْتَهَى كَلامُهُ.
وَقَدْ رَوَاهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ جَمَاعَةٌ مِنَ الأَعْلامِ وَأَئِمَّةُ الإِسْلامِ، مِنْهُمْ سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّوْرِيُّ، وَمَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ السَّلَمِيُّ، وَالْحَكَمُ بْنُ عُتَيْبَةُ الْكِنْدِيُّ، وَشَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ اللَّيْثِيُّ، وَمَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ الأَزْدِيُّ، وَالأَجْلَحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْكِنْدِيُّ، وَالْمِنْهَالُ بْنُ عَمْرٍو الأَسَدِيُّ، وَغَيْرُهُمْ، وَكَتَبْنَاهُ مِنْ حَدِيثِهِمْ فَلَمْ نَرَ التَّطْوِيلَ بِتَكْرَارِهِ.
وَقَدْ رَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الصُّفَيْرَاءِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ ، فَزَادَ فِيهِ: ضَحِكْتُ مِنْ ضَحِكِ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ আল-আনসারী, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু শুজা উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বালখী মক্কায়, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-জিয়াদী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আলী ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-خuzai (খুজাই), তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আল-হায়সাম ইবনে কুলাইব ইবনে সুরাইজ আশ-শাশী বুখারায়, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আস-সুলামী আত-তিরমিযী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আহওয়াস, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আলী ইবনে রাবিআহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছি যে, তাঁর নিকট একটি আরোহণের পশু আনা হলো আরোহণ করার জন্য। যখন তিনি তাঁর পা রেকাবে রাখলেন, তখন বললেন: আল্লাহর নামে (বিসমিল্লাহ)। অতঃপর যখন তিনি তার পিঠের উপর উঠলেন, তখন বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য (আলহামদুলিল্লাহ)।
অতঃপর তিনি বললেন: "পবিত্র সেই সত্তা যিনি একে আমাদের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা একে আয়ত্ত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর আমরা অবশ্যই আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।" তারপর তিনি তিনবার বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য", এবং তিনবার বললেন: "আল্লাহ সবচেয়ে মহান"। এরপর বললেন: "আপনি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর জুলুম করেছি, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা আপনি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।" এরপর তিনি হাসলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি কেন হাসলেন? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি তেমনই করেছেন যেমনটি আমি করলাম, অতঃপর তিনি হেসেছিলেন। তাই আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কেন হাসলেন? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আপনার রব তাঁর বান্দার প্রতি আশ্চর্যান্বিত হন যখন সে বলে: হে আমার রব, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন; তিনি জানেন যে আমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।"
এটি আবু আল-আহওয়াস সালাম ইবনে সুলাইম আল-হানাফী আল-কুফীর হাদিস হতে একটি হাসান সহীহ হাদিস। তিনি সর্বসম্মত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবু ইসহাক আল-হামদানী, আবু হুসাইন, মানসুর এবং আল-আমাশ থেকে শুনেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ, ইয়াহইয়া ইবনে আদম, কুতাইবাহ এবং আল-হাসান ইবনুর রাবী।
তিনি একশত উনআশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
আবু ইসহাক আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হামদানী আস-সাবীঈ আল-কুফী থেকে বর্ণিত, তিনিও সর্বসম্মত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আল-বারা ইবনে আযিব, যাইদ ইবনে আরকাম, হারিসাহ ইবনে ওয়াহাব, নুমান ইবনে বাশীর, সুলাইমান ইবনে সুরাদ, আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-খাতমী এবং আমর ইবনে মাইমুন থেকে শুনেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন শু'বা, সাওরী, যুহাইর ইবনে মুআবিয়া, ইসরাঈল এবং তাঁর নাতি ইউসুফ ইবনে আবু ইসহাক।
শারীক বলেন: আমি আবু ইসহাককে বলতে শুনেছি: আমি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের দুই বছর বাকি থাকতে জন্মগ্রহণ করেছি।
আবু বকর ইবনে আইয়াশ বলেন: আমরা আবু ইসহাককে একশত ছাব্বিশ বা সাতাশ হিজরিতে দাফন করেছি, এবং তিনি যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল একশত বছর অথবা একশ বছর হতে এক বছর কম।
ইবনে উইয়াইনাহ বলেন: তিনি একশত সাতাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
আবু নুয়াইম বলেন: তিনি একশত আটাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেন: একশত ঊনত্রিশ হিজরিতে।
আবু ইসহাক আলী ইবনে রাবিআহ আল-ওয়ালিবি আল-আসাদী আল-কুফী থেকে বর্ণিত, তিনি নির্ভরযোগ্য এবং সর্বসম্মত। তিনি আলী ইবনে আবু তালিব এবং মুগীরা ইবনে শু'বা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে তাঁর কোনো বর্ণনা গ্রহণ করেননি, বরং তাঁরা তাঁর মাধ্যমে মুগীরা থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। তাঁর থেকে আবু ইসহাক আল-হামদানী, উসমান ইবনুল মুগীরা এবং সাঈদ ইবনে উবাইদ আত-তাঈ বর্ণনা করেছেন।
ইবনে আবু হাতিম বলেন: আমার পিতা বলেছেন: এই আলী ইবনে রাবিআহ হলেন সেই বাজালী যার থেকে হাসান ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা উভয়ই একই ব্যক্তি। আমি তাঁর সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য।
আবু হাতিম, ইসহাক ইবনে মানসুরের মাধ্যমে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: আলী ইবনে রাবিআহ নির্ভরযোগ্য।
আবু ঈসা আত-তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থে কুতাইবাহ থেকে এভাবেই হাদিসটি বের করেছেন, অতঃপর এর পরপরই বলেছেন: এ বিষয়ে ইবনে উমর থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
আবু ঈসা বলেন: এই হাদিসটি হাসান সহীহ। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।
প্রসিদ্ধ ইমাম ও ইসলামের আলেমদের একটি দল আলী ইবনে রাবিআহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরী, মানসুর ইবনুল মু'তামির আস-সুলামী, হাকাম ইবনে উতাইবাহ আল-কিন্দী, শারীক ইবনে আব্দুল্লাহ আল-লাইসী, মা'মার ইবনে রাশিদ আল-আযদী, আজলাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কিন্দী, মিনহাল ইবনে আমর আল-আসাদী এবং আরও অনেকে। আমরা তাঁদের হাদিস থেকে এটি লিখেছি এবং পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে দীর্ঘ করার প্রয়োজন মনে করিনি।
ইসমাঈল ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আবু আস-সুফাইরা এটি আলী ইবনে রাবিআহ থেকে বর্ণনা করেছেন, সেখানে তিনি অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: আমি আমার রবের হাসির কারণে হেসেছি।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
17 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ الأَصْبَهَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْخَطَّابِ ابْنُ الْبَطِرِ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنِ الْبَيِّعِ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَشْكَابٍ، وَغَيْرُهُمَا، قَالُوا: حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الصُّفَيْرَاءِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: حَمَلَنِي عَلِيُّ رضي الله عنه خَلْفَهُ ثُمَّ سَارَ بِي فِي جَبَّانَةِ الْكُوفَةِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، إِنَّهُ لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ، ثُمَّ الْتَفَتَ فَضَحِكَ، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، اسْتِغْفَارُكَ رَبَّكَ وَالْتِفَاتُكَ إِلَيَّ؟ فَضَحِكَ.
فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَمَلَنِي خَلْفَهُ، ثُمَّ سَارَ بِي فِي جَانِبِ الْحَرَّةِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ، وَقَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، إِنَّهُ لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ أَحَدٌ غَيْرَكَ» ، ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيَّ فَضَحِكَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اسْتِغْفَارُكَ رَبَّكَ، وَالْتِفَاتُكَ إِلَيَّ تَضْحَكُ؟ ! فَقَالَ: «ضَحِكْتُ مِنْ ضَحِكِ رَبِّي عز وجل، يَعْجَبُ لِعَبْدِهِ أَنَّهُ يَعْلَمُ أَنَّهُ لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ أَحَدٌ غَيْرَهُ»
১৭ - আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আস-সিলাফি আল-আসবাহানি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-খাত্তাব ইবনুল বাতির থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ ইবনুল বায়্যি' থেকে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে মুসা ও মুহাম্মদ ইবনে আশকাব এবং তারা ব্যতীত আরও অনেকে, তারা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফাদল ইবনে দুকাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আবদিল মালিক ইবনে আবি আস-সুফাইরা, আলি ইবনে রাবিয়াহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে তাঁর পেছনে আরোহন করালেন, এরপর কুফার উন্মুক্ত প্রান্তরের মধ্য দিয়ে আমাকে নিয়ে পথ চললেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুললেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! আমার পাপসমূহ ক্ষমা করে দিন, নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করে না।" এরপর তিনি আমার দিকে ফিরে তাকিয়ে হাসলেন। আমি বললাম: "হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি আপনার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন আবার আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন?" তিনি হাসলেন।
অতঃপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তাঁর পেছনে আরোহন করিয়েছিলেন, এরপর হাররাহ-এর এক পাশ দিয়ে আমাকে নিয়ে পথ চললেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুললেন এবং বললেন: 'হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন, নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করে না।' এরপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন। আমি বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন আবার আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন?' তিনি বললেন: 'আমি আমার মহান রবের হাসির কারণে হাসলাম। তিনি তাঁর বান্দার প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করেন যে, সে (বান্দা) জানে যে নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করে না।'"
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
18 - وَأَمَّا حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ الَّذِي أَشَارَ أَبُو عِيسَى إِلَيْهِ فَهُوَ مَا أَخْبَرَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ الْقَارِئُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْبَيِّعُ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَارِقِيُّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنهما: أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَافَرَ فَرَكِبَ رَاحِلَتَهُ كَبَّرَ ثَلاثًا، ثُمَّ قَالَ: «سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّر لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ» ، ثُمَّ يَقُولُ: «اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِي سَفَرِي هَذَا التَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا السَّفَرَ، وَاطْوِ لَنَا الأَرْضَ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ، اللَّهُمَّ اصْحَبْنَا فِي سَفَرِنَا، وَاخْلُفْنَا فِي مَالِنَا»
১৮ - আর ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর যে হাদিসের দিকে আবু ঈসা ইঙ্গিত করেছেন, তা হলো সেটি যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাসর ইবনে আহমদ আল-ক্বারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-বাইয়ি‘, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আদ-দব্বি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মানসুর, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বারিক্বী থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফরে বের হতেন এবং তাঁর সওয়ারিতে আরোহণ করতেন, তখন তিনবার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করতেন। অতঃপর বলতেন: «পবিত্র সেই সত্তা যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আর আমরা অবশ্যই আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী»। অতঃপর তিনি বলতেন: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার এই সফরে তাকওয়া এবং আপনার পছন্দনীয় আমল প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এই সফরকে সহজ করে দিন এবং আমাদের জন্য জমিনের দূরত্বকে সংকুচিত করে দিন। হে আল্লাহ! আপনিই সফরের সঙ্গী এবং পরিবার-পরিজনের রক্ষণাবেক্ষণকারী। হে আল্লাহ! আমাদের সফরে আমাদের সাথী হোন এবং আমাদের সম্পদের হিফাযতে আমাদের স্থলাভিষিক্ত হোন»।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الْبَابُ السَّادِسُ وَالثَّلاثُونَ فِيمَا يَتَعَوَّذُ بِهِ اللَّهَ جَلَّ وَعَلا إِذَا نَزَلَ مَنْزِلا
ছয়ত্রিশতম অধ্যায়: কোনো স্থানে অবতরণ করলে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট যার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
19 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سِلَفَةَ، أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَطْرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْبَيِّعِ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هَانِئٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ، أَنَّ يَعْقُوبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِع بِشْرَ بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ خَوْلَةَ بِنْتَ حَكِيمٍ السُّلَمِيَّةَ، تَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " مَنْ نَزَلَ مَنْزِلا، ثُمَّ قَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرُّهُ شَيْئٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ ".
قَالَ الْمَحَامِلِيُّ: حَدَّثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هَانِئٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ صَالِحٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، وَالْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ حَكِيمٍ السُّلَمِيَّةَ، أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَهُ.
كَذَا فِي كِتَابِ الْقَاضِي الْمَحَامِلِيِّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، وَالْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সিলাফাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাসর বিন আহমদ বিন আল-বাতর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আল-বায়্যি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন হানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন সালিহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-লাইস, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন আবি হাবিব, হারিস বিন ইয়াকুব থেকে বর্ণিত যে, ইয়াকুব বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আশাজ্জ তাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বিশর বিন সাঈদকে বলতে শুনেছেন: আমি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি খাওলাহ বিনতে হাকিম আস-সুলামিয়্যাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে এবং বলে: 'আমি আল্লাহর সৃষ্টি জগতের অনিষ্ট হতে তাঁর পরিপূর্ণ কালামসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি', তবে সেই স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।"
আল-মাহামিলি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন হানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন সালিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল ওয়াহাব, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনুল হারিস, ইয়াযিদ বিন আবি হাবিব এবং হারিস বিন ইয়াকুব বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তারা বুসর বিন সাঈদ থেকে, তিনি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি খাওলাহ বিনতে হাকিম আস-সুলামিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন, অতঃপর তিনি অনুরুপ বর্ণনা করেন।
কাযি আল-মাহামিলির কিতাবে ইয়াযিদ বিন আবি হাবিব এবং হারিস বিন ইয়াকুব বিন আব্দুল্লাহ থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
20 - وَأَخْبَرَنَاهُ أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ، أَيْضًا أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمَدِ بْنِ الْحَسَنِ الدُّونِيُّ، وَأَبُو النَّجْمِ بَدْرُ بْنُ دُلَفَ بْنِ يُوسُفَ الْفَرْكِيُّ، قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الدِّينَوَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَعْنِي أَحْمَدَ بْنَ شُعَيْبٍ النَّسَائِيَّ، أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ حَكِيمٍ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا، ثُمَّ قَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرُّهُ شَيْئٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ ".
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الْحَارِثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ الْفَهْمِيِّ فَقِيهِ مِصْرَ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ الْقُرَشِيِّ مَوْلاهُمُ الْمِصْرِيُّ، وَاسْمُ أَبِي حَبِيبٍ سُوَيْدٌ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ الْمِصْرِيِّ، مَوْلَى قَيْسِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، وَهُوَ وَالِدُ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، سَمِعَ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، وَهُوَ مِمَّنِ انْفَرَدَ مُسْلِمٌ بِإِخْرَاجِ حَدِيثِهِ دُونَ الْبُخَارِيِّ، حَدَّثَ عَنْهُ يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، وَحَيْوةُ بْنُ شُرَيْحٍ، وَابْنُهُ عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ الْقَاسِمِ، وَبَكْرُ بْنُ مُضَرٍ وَغَيْرُهُمْ، تُوُفِّيَ سَنَةَ ثَلاثِينَ وَمِائَةٍ، حَدَّثَ شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ بَيْنَ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ وَبَيْنَ أَبِيهِ الْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ فِي الْفَضْلِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، كَانَ يَعْقُوبُ أَفْضَلَ مِنَ الْحَارِثِ، وَكَانَ الْحَارِثُ أَفْضَلَ مِنْ عَمْرٍو.
وَقَالَ يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ: حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ رَبِيعَةَ، قَالَ: كَانَ الْحَارِثُ بْنُ يَعْقُوبَ يَنْصَرِفُ بَعْدَ الْعَتَمَةِ فَيُؤْتَى بِفِطْرِهِ، فَيَقُولُ: دَعُونِي أَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَقُولُ: رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، فَلا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُؤّذَّنَ بِالصُّبْحِ، فَيَكُونُ فِطْرُهُ وَسَحُورُهُ وَاحِدًا.
عَنْ أَبِي يُوسُفَ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، وَهُوَ أَخُو بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، قُتِلَ شَهِيدًا فِي الْبَحْرِ سَنَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ، وَيُقَالُ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَعِشْرِينَ، وَهُوَ مِمَّنِ انْفَرَدَ مُسْلِمٌ بِإِخْرَاجِ حَدِيثِه دُونَ الْبُخَارِيِّ، رَوَى عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ، وَبُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، رَوَى عَنْهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، وَجَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ.
قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ ثِقَةٌ.
عَنْ بِشْرِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَدَائِنِيِّ مَوْلَى ابْنِ الْحَضْرَمِيِّ وَهُوَ ثِقَةٌ، سَمِعَ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ وَزَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، وَأَبَا جُهَيْمٍ، وَأَبَا هُرَيْرَةَ، رَوَى عَنْهُ أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ، وَسَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ، مَاتَ سَنَةَ مِائَةٍ، وَلَهُ ثَمَانٍ وَسَبْعُونَ سَنَةً، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ الزُّهْرِيِّ صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ حَكِيمِ بْنِ أُمَيَّةَ بْنِ حَارِثَةَ بْنِ الأَوْقَصِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ هِلالٍ السُّلَمِيَّةَ، وَيُقَالُ لَهَا: خُوَيْلَةَ، وَهِيَ امْرَأَةُ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ، تُكَنَّى: أُمُّ شَرِيكٍ، وَكَانَتِ امْرَأَةً صَالِحَةً فَاضِلَةً، وَقِيلَ: أَنَّهَا الَّتِي وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، رَوَى عَنْهَا سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ حِبَّانَ، وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ.
أَخْرَجَهُ أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ عَنْ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ كَمَا أَخْرَجْنَاهُ، ثُمَّ قَالَ عُقَيْبَهُ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ، وَرَوَى مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ هَذَا الْحَدِيثَ أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ يَعْقُوبِ بْنِ الأَشَجِّ، فَذَكَرَ نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ، وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عَجْلانَ هَذَا الْحَدِيثُ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، وَيَقُولُ: عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ خَوْلَةَ، وَحَدِيثُ اللَّيْثِ أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَجْلانَ.
انْتَهَى كَلامُ أَبِي عِيسَى.
وَقَدْ رُوِيَ هَذَا التَّعَوُّذُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غَيْرِ هَذَا الْمَعْنَى وَهُوَ مِمَّا يَقْرُبُ مِنْهُ
২০ - আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আস-সিলাফী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন হামাদ বিন আল-হাসান আদ-দুনী এবং আবু নাজদ বদর বিন দুলাফ বিন ইউসুফ আল-ফারকি, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আদ-দিনাওয়ারী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন ইসহাক আল-হাফিয, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান অর্থাৎ আহমদ বিন শুআইব আন-নাসাঈ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুতায়বাহ বিন সাঈদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-লাইস বিন সাঈদ, তিনি ইয়াযীদ বিন আবি হাবীব থেকে, তিনি আল-হারিস বিন ইয়াকুব থেকে, তিনি ইয়াকুব বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি বুসর বিন সাঈদ থেকে, তিনি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে এবং তিনি খাওলাহ বিনতে হাকিম থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে এবং বলে: 'আমি আল্লাহর সকল পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি', তবে সেই স্থান থেকে প্রস্থান করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।"
এই হাদীসটি হাসান সহীহ, যা মিশরের ফকীহ আবু আল-হারিস আল-লাইস বিন সাঈদ আল-ফাহমী বর্ণনা করেছেন আবু রাজা ইয়াযীদ বিন আবি হাবীব আল-কুরাশী আল-মিসরী থেকে। আবু হাবীবের নাম ছিল সুয়াইদ। তিনি বর্ণনা করেছেন আবু আমর আল-হারিস বিন ইয়াকুব বিন আবদুল্লাহ আল-আনসারী আল-মিসরী থেকে, যিনি কায়স বিন সাদ বিন উবাদাহ-এর মুক্তদাস ছিলেন এবং তিনি আমর বিন আল-হারিসের পিতা। তিনি সাহল বিন সাদ আস-সাঈদী থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি সেই সকল রাবীদের অন্তর্ভুক্ত যাদের হাদীস ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন, ইমাম বুখারী করেননি। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ বিন আবি হাবীব, হাইওয়াহ বিন শুরাইহ, তাঁর পুত্র আমর বিন আল-হারিস, আল-লাইস বিন সাঈদ, সুলাইমান বিন আল-কাসিম, বকর বিন মুদার এবং অন্যান্যরা। তিনি ১৩০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। শুআইব বিন আল-লাইস তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন: শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে আমর বিন আল-হারিস এবং তাঁর পিতা আল-হারিস বিন ইয়াকুবের মধ্যে ব্যবধান ছিল আসমান ও যমীনের মতো। ইয়াকুব আল-হারিসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন এবং আল-হারিস আমরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন।
ইয়াহইয়া বিন বুকাইর বলেন: মুসা বিন রাবীআহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হারিস বিন ইয়াকুব এশার পর ফিরে আসতেন এবং তাঁর ইফতার আনা হতো। তখন তিনি বলতেন: আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়তে দাও। এরপর তিনি বলতেন: আরও দুই রাকাত, এরপর আরও দুই রাকাত। সুবহে সাদিকের আযান হওয়া পর্যন্ত তিনি এভাবেই নামাজ পড়তেন, ফলে তাঁর ইফতার এবং সাহরী একই হয়ে যেত।
আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আবদুল্লাহ বিন আল-আশাজ্জ থেকে বর্ণিত, যিনি বুকাইর বিন আবদুল্লাহ বিন আল-আশাজ্জ-এর ভাই। তিনি ১২১ হিজরীতে (মতান্তরে ১২২ হিজরীতে) সমুদ্রে শহীদ হন। তিনিও সেই রাবীদের অন্তর্ভুক্ত যাদের হাদীস ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন, ইমাম বুখারী করেননি। তিনি আবু উমামাহ বিন সাহল এবং বুসর বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে মুহাম্মদ বিন ইসহাক এবং জাফর বিন রাবীআহ বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: ইয়াকুব বিন আবদুল্লাহ বিন আল-আশাজ্জ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।
বিশর বিন সাঈদ আল-মাদায়িনী থেকে বর্ণিত, যিনি ইবনুল হাদরামীর মুক্তদাস এবং তিনি নির্ভরযোগ্য। তিনি যায়েদ বিন খালিদ, যায়েদ বিন সাবিত, আবু জুহাইম এবং আবু হুরায়রা থেকে হাদীস শুনেছেন। তাঁর থেকে আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান, যায়েদ বিন আসলাম, মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আত-তৈমী এবং সালিম আবু আন-নাদর বর্ণনা করেছেন। তিনি ১০০ হিজরীতে ৭৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবী আবু ইসহাক সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস আয-যুহরী থেকে এবং তিনি খাওলাহ বিনতে হাকিম বিন উমাইয়া বিন হারিসাহ বিন আল-আওকাস বিন মুররাহ বিন হিলাল আস-সুলামিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁকে খুওয়াইলাহ-ও বলা হয়। তিনি উসমান বিন মাজউন-এর স্ত্রী ছিলেন, তাঁর উপনাম ছিল উম্মু শারীক। তিনি একজন নেককার ও মহীয়সী নারী ছিলেন। বলা হয় যে, তিনিই সেই নারী যিনি নিজেকে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য নিবেদন (হিবাহ) করেছিলেন। তাঁর থেকে সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন হিব্বান এবং উমর বিন আবদুল আযীয বর্ণনা করেছেন।
আবু ঈসা আত-তিরমিযী তাঁর জামে’ গ্রন্থে কুতায়বাহ বিন সাঈদ থেকে, তিনি আল-লাইস বিন সাঈদ থেকে আমাদের বর্ণনার মতোই এটি বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি এর শেষে বলেছেন: "এই হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।" মালিক বিন আনাস এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর কাছে ইয়াকুব বিন আল-আশাজ্জ থেকে হাদীসটি পৌঁছেছে এবং তিনি এই হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। ইবনে আজলান থেকেও ইয়াকুব বিন আবদুল্লাহ বিন আল-আশাজ্জ থেকে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, তবে তিনি বলেন: সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব থেকে, তিনি খাওলাহ থেকে। কিন্তু আল-লাইসের বর্ণনা ইবনে আজলানের বর্ণনার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ।
আবু ঈসার বক্তব্য এখানেই শেষ।
এই আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়টি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূত্রে ভিন্ন অর্থেও বর্ণিত হয়েছে, যা এই অর্থের কাছাকাছি।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
21 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَتْنَا أُمُّ الرَّجَاءِ فَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُظَفَّرِ بْنِ مَاجَهْ الأَصْبَهَانِيَّةُ بِأَصْبَهَانَ، قَالَتْ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَسْنَوَيْهِ الْكَاتِبُ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مَعْبَدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى أَحْمَدُ بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَسْلَمَ: قَالَ: " مَا نِمْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ.
فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ؟ قَالَ: لَدَغَتْنِي عَقْرَبٌ.
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَمَا إِنَّكَ لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرَّكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ".
أَخْبَرَنَاهُ السِّلَفِيُّ أَيْضًا بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْفِرْسَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدَكَوَيْهِ الشَّرَابِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ بُنْدَارٍ، حَدَّثَنَا عُمَيرُ بْنُ مِرْدَاسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ
২১ - আবু তাহির আস-সিলাফি তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে এটি আমাদের জানিয়েছেন; উম্মুর রাজা ফাতিমা বিনত আব্দুল্লাহ বিন আল-মুজাফ্ফার বিন মাজাহ আল-ইসফাহানিয়্যাহ ইসফাহানে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসনওয়াইহ আল-কাতিব আমাদের জানিয়েছেন, আবু জাফর আহমাদ বিন জাফর বিন মাবাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু ইয়াহইয়া আহমাদ বিন আসিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, রাওহ বিন উবাদাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মালিক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বললেন: "আমি এই রাতে ঘুমাতে পারিনি।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "কী কারণে?" তিনি বললেন: "আমাকে একটি বিচ্ছু দংশন করেছে।"
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "জেনে রাখো! তুমি যদি সন্ধ্যায় উপনীত হওয়ার সময় বলতে: 'আমি আল্লাহর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে তাঁর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি', তবে আল্লাহ চাইলে তা তোমার কোনো ক্ষতি করত না।"
আস-সিলাফি পুনরায় তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে এটি আমাদের জানিয়েছেন; মুহাম্মদ বিন আব্দুল জব্বার আল-ফিরসানি আমাদের জানিয়েছেন, আলী বিন ইয়াহইয়া বিন আবদাকওয়াইহ আশ-শরাবি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমাদ বিন বুন্দার আমাদের জানিয়েছেন, উমাইর বিন মিরদাস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন নাফি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মালিক তাঁর পূর্বোক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
22 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْعُثْمَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْحَضْرَمِيُّ، وَأَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الأَنْصَارِيُّ، قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ نَفِيسٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْغَافِقِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بَهْزَادَ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ سَعِيدِ بْنِ عُفَيْرٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ " أَنَّ رَجُلا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: مَا نِمْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ.
فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ؟ قَالَ: لَدَغَتْنِي عَقْرَبٌ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ: " أَمَا إِنَّكَ لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرُّكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ".
قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ: وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ بِمِثْلِهِ.
صَحِيحٌ، رَوَاهُ مَالِكٌ فِي مُوَطَّئِهِ هَكَذَا، وَيُلْزِمُ مُسْلِمًا إِخْرَاجُهُ، فَقَدْ أَخْرَجَ مِنْ هَذِهِ التَّرْجَمَةِ عِدَّةَ أَحَادِيثَ
২২ - আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-উসমানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মানসুর আল-হাদরামি এবং আবু আল-ফজল জাফর বিন ইসমাইল আল-আনসারী, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস বিন নাফিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আল-গাফেকি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন বাহজাদ, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ—অর্থাৎ ইবনে সাইদ বিন উফাইর—আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মালিক, সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: "আমি আজ রাতে ঘুমাতে পারিনি।"
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "কী কারণে?" সে বলল: "আমাকে একটি বিচ্ছু দংশন করেছিল।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "জেনে রেখো, তুমি যদি সন্ধ্যাবেলায় বলতে: 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি', তবে আল্লাহর ইচ্ছায় তা তোমার কোনো ক্ষতি করত না।"
আবু আল-কাসিম বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-মাক্কি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী—অর্থাৎ ইবনে আব্দুল আজিজ—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-কানাবি, তিনি মালিক থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এটি সহীহ, মালিক তাঁর মুওয়াত্তায় এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিমের জন্য এটি বর্ণনা করা আবশ্যক ছিল, কেননা তিনি এই বর্ণনাসূত্র থেকে একাধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٥)
কিতাবুল আরবাঈন ফী ফাদলিদ দুয়া ওয়াল দায়ীন - জুয ৫
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الْبَابُ السَّابِعِ وَالثَّلاثُونَ فِي الرُّقْيَةِ لِمَنْ عَرَضَ لَهُ عَارِضٌ مِنْ مَرَضٍ
সাঁইত্রিশতম অধ্যায়: যে ব্যক্তি কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছে তার জন্য ঝাড়ফুঁক প্রসঙ্গে