(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: -)
كلمات السداد على متن الزاد القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: كلمات السداد عَلى مَتنِ الزّاد
المؤلف: فيصل بن عبد العزيز آل مبارك (ت 1376 هـ)
عُنِي به: محمد بن حسن بن عبد الله آل مبارك
الناشر: كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2007 م
عدد الصفحات: 395
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 شعبان 1438
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিজ জাদ বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
গ্রন্থ: কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিজ জাদ
লেখক: ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক (মৃত্যু ১৩৭৬ হিজরি)
সম্পাদনায়: মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল মুবারক
প্রকাশক: কুনুজ ইশবিলিয়া পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ শাবান ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ১)
كلمات السداد عَلى مَتنِ «الزّاد»
تأليف
العَلَاّمَة فَيْصَلَ بِنَ عَبدِ العَزِيزِ آل مُبَارَك
المتَوفَى عَام 1376 هـ
عُني به
محمد بن حسن بن عبد الله آل مبارك
كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع
‘যাদ’ এর মূল পাঠের ওপর সঠিক ব্যাখ্যা
গ্রন্থনায়
আল্লামা ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক
মৃত্যু: ১৩৭৬ হিজরি
সম্পাদনায়
মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল মুবারক
কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও পরিবেশনা
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২)
كلمات السداد عَلى مَتنِ «الزّاد»
تأليف
العَلَاّمَة فَيْصَلَ بِنَ عَبدِ العَزِيزِ آل مُبَارَك
المتَوفَى عَام 1376 هـ
عُني به
محمد بن حسن بن عبد الله آل مبارك
كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع
'যাদ'-এর মূলপাঠের ওপর সঠিক কথামালা
গ্রন্থনায়
আল্লামা ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক
মৃত্যু ১৩৭৬ হিজরী
তত্ত্বাবধানে
মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল মুবারক
কুনুয ইশবিলিয়া প্রকাশনী ও পরিবেশনী
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع، 1427 هـ
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر
آل مبارك، فيصل بن عبد العزيز
كلمات السداد على متن الزاد/ فيصل بن عبد العزيز آل مبارك؛
محمد حسن المبارك - الرياض، 1426 هـ
420 ص؛ 17 × 24 سم
ردمك: 4 - 03 - 701 - 9960
1 - الفقه الحنبلي
أ. المبارك، محمد حسن (محقق)
ب. العنوان
ديوى 258.4
1121/ 1426
رقم الإيداع: 1121/ 1426
ردمك: 4 - 03 - 701 - 9960
جميع حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
1427 هـ - 2007 م
دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع
المملكة العربية السعودية ص. ب 27261 الرياض 11417
هاتف: 4742458 - 4773959 - 4794354 فاكس: 4787140
E-mail: eshbelia@hotmail.com
দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ, ১৪২৭ হিজরি
প্রকাশনাকালীন কিং ফাহাদ জাতীয় লাইব্রেরি ক্যাটালগিং তথ্য
আল-মুবারক, ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিজ জাদ/ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল-মুবারক;
মুহাম্মদ হাসান আল-মুবারক - রিয়াদ, ১৪২৬ হিজরি
৪২০ পৃষ্ঠা; ১৭ × ২৪ সেমি
আইএসবিএন: ৪ - ০৩ - ৭০১ - ৯৯৬০
১ - হাম্বলি ফিকহ
ক. আল-মুবারক, মুহাম্মদ হাসান (সম্পাদক)
খ. শিরোনাম
ডিউই ২৫৮.৪
১১২১/ ১৪২৬
আমানত নম্বর: ১১২১/ ১৪২৬
আইএসবিএন: ৪ - ০৩ - ৭০১ - ৯৯৬০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৭ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
দার কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ
সৌদি আরব রাজ্য, ডাক বাক্স ২৭২৬১, রিয়াদ ১১৪১৭
টেলিফোন: ৪৭৪২৪৫৮ - ৪৭৭৩৯৫৯ - ৪৭৯৪৩৫৪ ফ্যাক্স: ৪৭৮৭১৪০
ই-মেইল: eshbelia@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة الشارحهو الشيخ العالم الورع الزاهد فيصل بن عبدالعزيز بن فيصل بن حمد المبارك العلَاّمة المحدث الفقيه المفسِّر الأصولي النحوي الفرضي.
- ولد رحمه الله في حريملاء عام 1313 هـ، فحفظ القرآن صغيراً، ثمَّ طلب العلم على علماء حريملاء في وقته.
1 ـ ومنهم جدُّه لأُّمِّه الشيخ العالم الورع ناصر بن محمد الراشد.
2 ـ وعمُّه العلَاّمة الشيخ محمد بن فيصل المبارك.
ثمَّ طلب العلم بعد ذلك على علماء الرياض، ثمَّ غيرها من البلدان.
مكانته العلمية ونبوغه المبكر:- تصف المراجع العلمية الشيخ فيصل بأنه العالم الجليل والفقيه المحقق، والعلاّمة المدقق، وتتجلّى منزلة الشيخ فيصل العلمية في كثرة وعلو مشايخه الذين تلقى العلم على يديهم، حيث إنَّه قرأ على كثيرٍ من أفذاذ العلماء وأساطين العلم في ذلك الوقت، بل كاد أن يستوعبهم، رحمهم الله أجمعين.
3 ـ فقد أخذ عن عالم عصره وفريد دهره الشيخ عبدالله بن عبداللطيف.
4 ـ وأخذ الفرائض عن أفرض أهل زمانه الشيخ عبدالله بن راشد الجلعود.
5 ـ وأخذ علم النحو عن سيبويه العصر الشيخ حمد بن فارس.
6 ـ وأخذ علم الحديث عن محدث الديار النجديَّة الشيخ المحدث سعد بن حمد بن عتيق.
7 ـ وكذلك عن الشيخ المحدِّث الرُّحَلَة محمد بن ناصر المبارك الحمد.
8 ـ وأخذ أيضاً عن الشيخ عبدالله بن عبدالعزيز العنقري.
9 ـ والشيخ محمد بن عبدالعزيز بن مانع رحمهم الله.
ব্যাখ্যাকারকের পরিচিতিতিনি হলেন শায়খ, আলিম, মুত্তাকি ও পরহেযগার ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ বিন ফয়সাল বিন হামাদ আল-মুবারক; যিনি ছিলেন একাধারে বরেণ্য পণ্ডিত, মুহাদ্দিস, ফকিহ, মুফাসসির, উসূলবিদ, ব্যাকরণবিদ এবং ফারায়িয (উত্তরাধিকার আইন) বিশেষজ্ঞ।
- তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ১৩১৩ হিজরি সনে হুরাইমিলাতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি কুরআন মুখস্থ করেন, অতঃপর তৎকালীন হুরাইমিলার ওলামায়ে কেরামের নিকট ইলম অন্বেষণ করেন।
১ ـ তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তাঁর মাতামহ, প্রাজ্ঞ আলিম ও পরহেযগার শায়খ নাসির বিন মুহাম্মদ আল-রাশিদ।
২ ـ এবং তাঁর চাচা বরেণ্য পণ্ডিত শায়খ মুহাম্মদ বিন ফয়সাল আল-মুবারক।
অতঃপর তিনি রিয়াদের ওলামায়ে কেরামের নিকট এবং পরবর্তীতে অন্যান্য অঞ্চলের আলিমদের কাছে ইলম অর্জন করেন।
তাঁর ইলমি মর্যাদা ও প্রখর মেধা:- বিভিন্ন ইলমি তথ্যসূত্রে শায়খ ফয়সালকে একজন মহান আলিম, গবেষক ফকিহ এবং সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। শায়খ ফয়সালের ইলমি মর্যাদা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে তাঁর শিক্ষকদের আধিক্য এবং তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদার মাধ্যমে যাদের নিকট থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি তৎকালীন সময়ের বহু অনন্য আলিম এবং ইলমের সুউচ্চ স্তম্ভদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন, বরং তিনি তাঁদের প্রায় সকলকেই আয়ত্ত করে ফেলেছিলেন; আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
৩ ـ তিনি তাঁর যুগের অনন্য আলিম ও অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
৪ ـ তিনি ফারায়িয শাস্ত্র শিখেছেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ফারায়িয বিশেষজ্ঞ শায়খ আব্দুল্লাহ বিন রাশিদ আল-জালউদের নিকট থেকে।
৫ ـ এবং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র শিখেছেন সমসাময়িক যুগের সিবওয়াইহি শায়খ হামাদ বিন ফারিসের নিকট থেকে।
৬ ـ তিনি হাদিস শাস্ত্র গ্রহণ করেছেন নজদ অঞ্চলের মুহাদ্দিস শায়খ মুহাদ্দিস সা’দ বিন হামাদ বিন আতিকের নিকট থেকে।
৭ ـ তদ্রূপ দেশভ্রমণকারী প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-মুবারক আল-হামাদের নিকট থেকেও।
৮ ـ তিনি আরও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-আনকারির নিকট থেকে।
৯ ـ এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মানি’র নিকট থেকে, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
10 ـ وممَّا يدلُّ على علو كعب الشيخ فيصل في العلوم الشرعية أنَّ الشيخ عبدالعزيز النمر أجازه إجازة الفتوى عام 1333 هـ وكان الشيخ فيصل حينذاك في العشرين من عمره.
- وقد ترجم له الشيخ عبدالرحمن بن عبداللطيف في كتابه "مشاهير علماء نجد" ـ والذي اقتصر فيه على كبار علماء نجد ـ ترجمة حافلة تليق بمكانته العلميَّة.
- وكذلك تتجلى مكانته العلمية في آثاره الجليلة والكثيرة التي سطَّرها، قال الشيخ عبدالمحسن أبا بطين رحمه الله: "وقد ألف كتباً كثيرة صار لها رواجٌ في جميع أقطار المملكة العربية السعودية".
- وكذلك فإنَّ للشيخ رحمه الله تلامذة نابغين في كثيرٍ من الأقطار التي أقام ها، وبعضهم اقتصر في تحصيله العلمي على استفادته من الشيخ رحمه الله، والبعض منهم وصل إلى درجاتٍ علميَّة متميِّزة، كعضوية هيئة كبار العلماء، وهيئة التمييز، وكثيرٌ منهم قد تأهَّل للقضاء.
إجازاته العلميَّة:(أ) أجازَهُ الشيخُ سعدُ بنُ حَمَدٍ بنِ عَتِيقٍ محدث الديار النجدية:
- بتدريس أمهات كتب الحديث.
- وكذلك تدريس أمهات كتب مذهب الإمام أحمد.
- ثمَّ أجازه الشيخ سعد إجازة خاصَّة في علم التفسير.
(ب) وكذلك أجازه الشيخ عبدالله بن عبدالعزيزالعنقري بجميع مرويَّاته.
(جـ) وقد أجازه الشيخ عبدالعزيز النمر إجازةَ الفتوى عام 1333 هـ.
تلاميذه:تخرَّج على يدي الشيخ رحمه الله أجيالٌ من طلبة العلم، وليَ كثيرٌ منهم القضاء في عدَّة جهات.
১০ — শারঈ জ্ঞান-বিজ্ঞানে শাইখ ফয়সালের সুউচ্চ মর্যাদার অন্যতম প্রমাণ হলো এই যে, শাইখ আবদুল আজিজ আন-নামির তাকে ১৩৩৩ হিজরি সনে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেছিলেন, আর তখন শাইখ ফয়সালের বয়স ছিল মাত্র বিশ বছর।
- শাইখ আবদুর রহমান ইবনে আবদুল লতিফ তার 'মাশাহিরে উলামায়ে নাজদ' গ্রন্থে—যেখানে তিনি কেবল নাজদ অঞ্চলের বড় আলেমদের জীবনী বর্ণনা করেছেন—তার একটি বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ জীবনী উল্লেখ করেছেন যা তার ইলমি মর্যাদার উপযুক্ত।
- অনুরূপভাবে তার ইলমি মাকাম তার রচিত বহু ও মহান গ্রন্থসমূহের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। শাইখ আবদুল মুহসিন আবা বাতিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি অনেক কিতাব রচনা করেছেন যা সৌদি আরব রাজ্যের সকল প্রান্তে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।"
- এছাড়াও শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর অনেক মেধাবী ছাত্র রয়েছে সে সকল অঞ্চলে যেখানে তিনি অবস্থান করেছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট হতেই শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, আবার কেউ কেউ অনন্য উচ্চতর ইলমি মর্যাদায় পৌঁছেছেন, যেমন হাইআতু কিবারিল উলামা (জেষ্ঠ্য আলেম পরিষদ) এবং হাইআতুত তামিইজ-এর সদস্যপদ লাভ করা। তাদের মধ্যে অনেকে বিচারক (কাযী) হিসেবেও যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন।
তার শিক্ষাগত সনদ বা ইজাজাহসমূহ:(ক) নাজদ অঞ্চলের মুহাদ্দিস শাইখ সাদ ইবনে হামাদ ইবনে আতিক তাকে ইজাজাহ প্রদান করেছেন:
- হাদিসের মূল কিতাবসমূহ পাঠদানের অনুমতি।
- অনুরূপভাবে ইমাম আহমদের মাযহাবের মূল কিতাবসমূহ পাঠদানের অনুমতি।
- এরপর শাইখ সাদ তাকে তাফসির শাস্ত্রে বিশেষ ইজাজাহ প্রদান করেন।
(খ) অনুরূপভাবে শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ আল-আনকারি তাকে তার বর্ণিত সকল বিষয়ের (মাকবুল বর্ণনা ও কিতাবসমূহ) ইজাজাহ প্রদান করেছেন।
(গ) আর শাইখ আবদুল আজিজ আন-নামির তাকে ১৩৩৩ হিজরি সনে ফতোয়া প্রদানের ইজাজাহ প্রদান করেছেন।
তার ছাত্রবৃন্দ:শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট থেকে কয়েক প্রজন্মের ইলম অন্বেষণকারী ছাত্রগণ শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন এবং তাদের অনেকেই বিভিন্ন অঞ্চলে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
من أبرزهم:1 - الشيخ إبراهيم بن سليمان الراشد رحمه الله قاضي الرياض ووادي الدواسر.
2 - الشيخ عبدالرحمن بن سعد بن يحيى رحمه الله قاضي الرياض وحريملاء.
3 - الشيخ فيصل بن محمد المبارك رحمه الله رئيس هيئة الحسبة وعضو مجلس الشورى بجدة.
4 - الشيخ سعد بن محمد بن فيصل المبارك رحمه الله قاضي وادي الدواسر ثم الوشم.
5 - الشيخ محمد بن مهيزع رحمه الله قاضي الرياض.
6 - الشيخ ناصر بن حمد الراشد رحمه الله رئيس ديوان المظالم.
مؤلفاته:
(أ) في العقيدة:1 - (القصد السديد شرح كتاب التوحيد) في مجلد، وقد طبع مؤخراً عام 1426 هـ عن دار الصميعي بتحقيق الأخ الشيخ عبد الإله الشايع وفَّقه الله.
2 - (التعليقات السنية على العقيدة الواسطية) في مجلد صغير، وقد طبع مؤخراً عام 1426 هـ عن دار الصميعي بتحقيق الأخ الشيخ عبد الإله الشايع وفَّقه الله.
(ب) علم التفسير:3 - (توفيق الرحمن في دروس القرآن) في أربعة أجزاء، وقد طبُع هذا التفسير مرتين، وآخرهما عام 1416 هـ عن دار العاصمة بالرياض، بعناية وتحقيق الشيخ الدكتور عبدالعزيز بن عبدالله الزير.
4 - (القول في الكرة الجسيمة الموافق للفطرة السليمة)، مخطوط، في مجلد (1).
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ হলেন:১ - শাইখ ইবরাহীম বিন সুলাইমান আর-রাশিদ (রহিমাহুল্লাহ), রিয়াদ ও ওয়াদি আদ-দাওয়াসিরের বিচারক।
২ - শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদ বিন ইয়াহইয়া (রহিমাহুল্লাহ), রিয়াদ ও হারিমেলার বিচারক।
৩ - শাইখ ফয়সাল বিন মুহাম্মদ আল-মুবারক (রহিমাহুল্লাহ), হাইআতুল হিসবাহর প্রধান এবং জেদ্দার শুরা কাউন্সিলের সদস্য।
৪ - শাইখ সাদ বিন মুহাম্মদ বিন ফয়সাল আল-মুবারক (রহিমাহুল্লাহ), ওয়াদি আদ-দাওয়াসির এবং পরবর্তীতে আল-ওয়াশমের বিচারক।
৫ - শাইখ মুহাম্মদ বিন মুহাইজা (রহিমাহুল্লাহ), রিয়াদের বিচারক।
৬ - শাইখ নাসির বিন হামাদ আর-রাশিদ (রহিমাহুল্লাহ), দিওয়ানুল মাজালিমের প্রধান।
তাঁর রচনাবলি:(ক) আকীদা বিষয়ে:১ - (আল-কাসদুস সাদিদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ), এক খণ্ডে; এটি সম্প্রতি ১৪২৬ হিজরিতে দারুস সুমাইয়ি থেকে শাইখ আব্দুল ইলাহ আশ-শায়ি -আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন- এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।
২ - (আত-তালিকাতুস সানিয়্যাহ আলাল আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ), ছোট এক খণ্ডে; এটি সম্প্রতি ১৪২৬ হিজরিতে দারুস সুমাইয়ি থেকে শাইখ আব্দুল ইলাহ আশ-শায়ি -আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন- এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।
(খ) তাফসীর শাস্ত্র:৩ - (তাওফিকুর রহমান ফি দুরুসিল কুরআন), চার খণ্ডে; এই তাফসীরটি দুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এর সর্বশেষ সংস্করণটি ১৪১৬ হিজরিতে রিয়াদের দারুল আসিমাহ থেকে শাইখ ডক্টর আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আজ-জিরের তত্ত্বাবধানে ও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।
৪ - (আল-কাওলু ফিল কুরাহ আল-জাসিমাহ আল-মুওয়াফিক লিল ফিতরাহ আস-সালিমা), পাণ্ডুলিপি, এক খণ্ডে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
(جـ) علم الحديث:5 - (لذة القارئ مختصر فتح الباري) في ثمانية مجلدات (1)، ذكر الشيخ عبدالمحسن أبا بطين أنه تحت الطبع، والشيخ عبدالمحسن من أعرف الناس بكتب الشيخ فيصل لأنه طَبع أكثرها في مكتبته الأهلية، وبعضها طُبعت بواسطته في غيرها من المكتبات (2)، وقال الزركلي: "شرع بعض الفضلاء بطبعه" (3)، إلَاّ أنَّه وللأسف الشديد فإن هذا الكتاب النفيس (4) في حكم المفقود.
6 - (نَقْعُ الأُوام (5) بشرح أحاديث عمدة الأحكام)، خمسة أجزاء كبار، في إحدى عشر مجلَّداً، مخطوط (6).
7 - (أقوال العلماء الأعلام على أحاديث عمدة الأحكام)، في مجلدين ضخمين - في سبعة ملازم-، وهو مختصرٌ عن سابقِه (7).
--------------------------------------------
(গ) হাদিস শাস্ত্র:৫ - (লযযাতুল ক্বারি মুখতাসার ফাতহুল বারি) এটি আট খণ্ডে (১), শাইখ আবদুল মুহসিন আবা বাতিন উল্লেখ করেছেন যে এটি বর্তমানে মুদ্রণাধীন রয়েছে। শাইখ আবদুল মুহসিন হলেন শাইখ ফয়সালের কিতাবসমূহ সম্পর্কে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তিনি তার অধিকাংশ কিতাব নিজের মাকতাবায়ে আহলিয়্যাহ-তে মুদ্রণ করেছেন এবং কিছু বই তার মাধ্যমে অন্যান্য লাইব্রেরিতে মুদ্রিত হয়েছে (২)। যিরিকলি বলেছেন: "জনৈক গুণী ব্যক্তি এটি মুদ্রণের কাজ শুরু করেছেন" (৩), তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই মূল্যবান কিতাবটি (৪) বর্তমানে নিখোঁজ হিসেবে গণ্য।
৬ - (নাক্বউল উওয়াম (৫) বি-শারহি আহাদিসি উমদাতিল আহকাম), পাঁচটি বড় খণ্ড, যা এগারোটি খণ্ডে বিন্যস্ত, এটি একটি পাণ্ডুলিপি (৬)।
৭ - (আকওয়ালুল উলামাইল আলাম আলা আহাদিসি উমদাতিল আহকাম), দুটি বিশাল খণ্ডে - সাতটি সংকলনগুচ্ছে (মালায়িম) - এবং এটি পূর্বোক্ত কিতাবটির সংক্ষিপ্তসার (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - (خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام) للمقدسي، مجلد في أربعمائة صفحة، طبع مراراً.
9 - (مختصر الكلام شرح بلوغ المرام) لابن حجر، طبع ضمن (المجموعة الجليلة)، ثم طبع مفرداً عن المجموعة في الرياض عن دار إشبيليا عام 1419 هـ.
10 - (بستان الأحبار (1) باختصار نيل الأوطار) للشوكاني، في مجلدين، وقد طبع مرتين، آخرهما عن دار إشبيليا عام 1419 هـ.
11 - (تجارة المؤمنين في المرابحة مع رب العالمين) مجلد في 271 صفحة، طبع مرتين.
12 - (تطريز رياض الصالحين)، في مجلَّدٍ ضخم، طبع في عام 1423 هـ - عن دار العاصمة - بتحقيق الشيخ الدكتور عبدالعزيز الزير.
13 - (محاسن الدين على متن الأربعين) طبع ضمن المجموعة الجليلة، ثمَّ طبع مفرداً عن دار إشبيليا بالرياض عام 1420 هـ.
14 - (تعليم الأحبّ أحاديث النووي وابن رجب) وقد طبع قديماً ضمن (المختصرات النافعة).
15 - (نصيحة المسلمين) وهي رسالة لطيفة طبعت في الكويت في أواخر حياة الشيخ تحت اسم: "نصيحة دينية"، على نفقة الشيخ عطا الشايع الكريع الجوفي رحمهما الله.
16 - (وصية لطلبة العلم) رسالة لطيفة، وقد قام بتحقيق هذه الرسالة مع (نصيحة المسلمين) (2) الشيخ الدكتور عبدالعزيز الزير عام 1424 هـ.
--------------------------------------------
৮ - (খুলাসাতুল কালাম শারহু উমদাতিল আহকাম) আল-মাকদিসি প্রণীত, চারশ পৃষ্ঠার এক খণ্ডে এটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে।
৯ - (মুখতাসারুল কালাম শারহু বুলুগিল মারাম) ইবনে হাজার প্রণীত, এটি (আল-মাজমুআতুল জালিল্লাহ) এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছিল, পরবর্তীতে ১৪১৯ হিজরিতে রিয়াদের দারু ইশবিলিয়া থেকে স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত হয়েছে।
১০ - (বুস্তানুল আহবার (১) বি-ইখতিসারি নাইলিল আওতার) আশ-শাওকানি প্রণীত, দুই খণ্ডে, এটি দুইবার মুদ্রিত হয়েছে, যার শেষ সংস্করণটি ১৪১৯ হিজরিতে দারু ইশবিলিয়া থেকে প্রকাশিত হয়।
১১ - (তিজারাতুল মুমিনিন ফিল মুরাবাহাতি মাআ রাব্বিল আলামিন) ২৭১ পৃষ্ঠার এক খণ্ডে এটি দুইবার মুদ্রিত হয়েছে।
১২ - (তাতরিজু রিয়াদিস সালিহীন), এক বিশাল খণ্ডে এটি ১৪২৩ হিজরিতে - দারুল আসিমা থেকে - শায়খ ডক্টর আব্দুল আজিজ আল-যাইর-এর তাহকিকসহ মুদ্রিত হয়েছে।
১৩ - (মাহাসিনুদ দিন আলা মাতনিল আরবাঈন) এটি আল-মাজমুআতুল জালিল্লাহ-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে, এরপর ১৪২০ হিজরিতে রিয়াদের দারু ইশবিলিয়া থেকে স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত হয়েছে।
১৪ - (তালিমুল আহাব্ব আহাদিসুন নাবাবি ওয়াবনু রাজাব) এটি পূর্বে (আল-মুখতাসারাতুন নাফিয়াহ)-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে।
১৫ - (নাসিহাতুল মুসলিমিন) এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যা শায়খের জীবনের শেষ দিকে কুয়েতে "নাসিহাতুন দ্বীনিইয়্যাহ" নামে শায়খ আতা আশ-শায়ি আল-কুরাই আল-জাউফি (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন)-এর অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছিল।
১৬ - (ওয়াসিইয়াতুন লি-তালাবাতিল ইলম) এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, শায়খ ডক্টর আব্দুল আজিজ আল-যাইর ১৪২৪ হিজরিতে (নাসিহাতুল মুসলিমিন) (২) এর সাথে এই পুস্তিকাটিরও তাহকিক সম্পন্ন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
17 - (غِذاءُ القلوب ومفرِّجُ الكروب) وقد طُبِع قديماً ضمن مجموع: (المختصرات النافعة).
(د) جهود الشيخ فيصل الفقهية:اعتنى الشيخ رحمه الله بالتصنيف في علم الفقه لا سيما في أخريات حياته رحمه الله.
18 - فشرَحَ "زاد المستقنع" بكتابه: (كلمات السداد على متن زاد المستقنع)، مطبوع، وهو كتابنا هذا، وهو شرحٌ لطيف ميسَّر، ومنه مخطوطةٌ اطلعتُ عليها في مكتبة الملك فهد، تصنيف/ مكتبة حريملاء، وقد أفدتُ من المخطوطة المذكورة في تصويب بعض الأخطاء واستدراك بعض السقط، مع الرجوع -غالباً- إلى الأصول التي نقل عنها الشارح، وقد طُبِع هذا الكتابُ مرتين دون تحقيق، آخرهما عام 1405 هـ عن مكتبة النهضة.
- ثمَّ شرحَ الشيخ رحمه الله"الروض المربع" عِدَّة شروح، هي:
19 - (المرتع المشبع شرح مواضع من الروض المربع) في أربعة أجزاء، وست مجلدات كبيرة، وهو تحت الطبع.
20 - (مختصر المرتع المشبع) مخطوط في مجلد، ولم يكمله.
21 - (مجمَع الجوادِّ (1) حاشية شرح الزاد) مخطوط، وصلنا منه شرحُ "كتاب البيوع".
22 - ثمَّ وضع عليه فهرساً أسماه: (زبدة المراد فهرس مجمع الجواد) مخطوط.
23 - وألَّف الشيخ رسالة فقهية صغيرة باسم: (القول الصائب في حكم بيع اللحم بالتمر الغائب)، مخطوطة.
24 - كما ألَّف الشيخ رحمه الله في علم أصول الفقه - رسالةً قيِّمةً بعنوان: (مقام الرشاد بين التقليد والاجتهاد)، مطبوع.
--------------------------------------------
১৭ - (গিজাউল কুলুব ওয়া মুফাররিজুল কুরুব - হৃদয়ের খাদ্য এবং কষ্টের মুক্তিদাতা) এবং এটি প্রাচীনকালে 'আল-মুখতাসারাতুন নাফিআহ' নামক সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছিল।
(ঘ) ফিকহ শাস্ত্রে শায়খের অবদানসমূহ:শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেছিলেন, বিশেষ করে তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে।
১৮ - তিনি তাঁর 'কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনি যাদিল মুসতাকনি' গ্রন্থটির মাধ্যমে 'যাদুল মুসতাকনি'-এর ব্যাখ্যা করেছেন। এটি মুদ্রিত এবং এটিই আমাদের বর্তমান গ্রন্থটি। এটি একটি চমৎকার ও সহজবোধ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ। কিং ফাহাদ লাইব্রেরিতে (হারাইমিলা লাইব্রেরি শাখা) এর একটি পাণ্ডুলিপি আমি দেখেছি। উক্ত পাণ্ডুলিপি থেকে আমি কিছু ভুল সংশোধন ও বিচ্যুতি পুনরুদ্ধারে উপকৃত হয়েছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাকার যে মূল উৎসগুলো থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেগুলোর দিকেও ফিরে গিয়েছি। এই বইটি তাহকীক (সম্পাদনা) ছাড়াই দুইবার মুদ্রিত হয়েছে, যার শেষটি ছিল ১৪০৫ হিজরীতে মাকতাবাতুন নাহদাহ থেকে।
- অতঃপর শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) 'আর-রাওদুল মুরবি'-এর বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন, সেগুলো হলো:
১৯ - (আল-মারতাউল মুশবি শরহু মাওয়াযি মিন আর-রাওদিল মুরবি); এটি চার খণ্ডে এবং ছয়টি বড় বড় জিলদে বিন্যস্ত, যা বর্তমানে মুদ্রণাধীন রয়েছে।
২০ - (মুখতাসারুল মারতাউল মুশবি); এটি এক জিলদে থাকা একটি পাণ্ডুলিপি, তবে তিনি এটি সম্পন্ন করতে পারেননি।
২১ - (মাজমাউল জাওয়াদ (১) হাশিয়া শারহুয যাদ); এটি একটি পাণ্ডুলিপি, যার মধ্য থেকে 'কিতাবুল বুয়ু' (ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়)-এর ব্যাখ্যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে।
২২ - অতঃপর তিনি এর উপর একটি সূচিপত্র তৈরি করেন যার নামকরণ করেন: (যুবদাতুল মুরাদ ফিহরিসু মাজমাউল জাওয়াদ); এটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে।
২৩ - শায়খ একটি সংক্ষিপ্ত ফিকহী পুস্তিকা রচনা করেন যার নাম: (আল-কাউলুস সায়িব ফি হুকমি বায়িল লাহমি বিত-তামরিল গায়িব); এটি একটি পাণ্ডুলিপি।
২৪ - এছাড়া শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে একটি মূল্যবান পুস্তিকা রচনা করেছেন যার শিরোনাম: (মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাকলীদি ওয়াল ইজতিহাদ); এটি মুদ্রিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
25 - وكذلك ألَّف الشيخ رحمه الله في الفقه الحديثي: (الغرر النقية شرح الدرر البهيَّة) مطبوع بتحقيقي عام 1426 هـ.
- أمَّا في علم الفرائض فقد ألَّف الشيخ فيصل رحمه الله في هذا الباب من علم الفقه رسالتين هما:
26 - (الدلائل القاطعة في المواريث الواقعة)، مطبوع.
27 - (السبيكة الذهبية على متن الرحبية)، مطبوع.
(هـ) في علم النحو:28 - (صلة الأحباب شرح ملحة الإعراب)، وهو - فيما يظهر لي- من كُتُب الشيخ المفقودة.
29 - وألَّف الشيخ أيضاً كتابه: (مفاتيح العربية (على متن الآجرومية)، وهو شرحٌ ممتع متوسِّط على متن "الآجرُوميَّة" طُبِع قديماً ضمن مجموعة الشيخ المسمَّاة: (المختصرات الأربع النافعة)، ثم طبع عام 1426 هـ -عن دار الصميعي ـ بتحقيق الشيخ عبدالعزيز بن سعد الدغيثر.
30 - رسالة مختصرة بعنوان: (لُباب الإعراب في تيسير علم النحو لعامَّة الطلاب)، وقد طبعت بتحقيقي عام 1425 هـ (1).
--------------------------------------------
২৫ - একইভাবে শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) হাদিসভিত্তিক ফিকহ বা ফিকহুল হাদিস শাস্ত্রে রচনা করেছেন: (আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ), যা ১৪২৬ হিজরীতে আমার সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।
- আর উত্তরাধিকার আইন বা ফারায়েজ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে শায়খ ফয়সাল (রহিমাহুল্লাহ) ফিকহ শাস্ত্রের এই অধ্যায়ে দুটি পুস্তিকা রচনা করেছেন, সেগুলো হলো:
২৬ - (আদ-দালাইলুল ক্বতি'আহ ফিল মাওয়ারিছিল ওয়াকি'আহ), এটি মুদ্রিত।
২৭ - (আস-সাবীকাতুয যাহাবিয়্যাহ আলা মাতনির রাহবিয়্যাহ), এটি মুদ্রিত।
(ঙ) নাহু (আরবি ব্যাকরণ) শাস্ত্রে:২৮ - (সিলাতুল আহবাব শারহু মুলহাতিল ই'রাব), এটি—আমার কাছে যতটুকু স্পষ্ট হয়েছে—শায়খের হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
২৯ - শায়খ আরও একটি কিতাব রচনা করেছেন: (মাফাতিহুল আরাবিয়্যাহ আলা মাতনিল আজরুমিয়্যাহ), এটি "আজরুমিয়্যাহ" মতনের ওপর একটি চমৎকার ও মধ্যম মানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি পূর্বে শায়খের (আল-মুখতাসারাতুল আরবা'আন নাফি'আহ) নামক সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি ১৪২৬ হিজরীতে শায়খ আব্দুল আজিজ বিন সাদ আদ-দুগাইছিরের সম্পাদনায় 'দারুস সুমাইয়ি' থেকে মুদ্রিত হয়।
৩০ - একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যার শিরোনাম: (লুবাবুল ই'রাব ফী তায়সীরি ইলমিন নাহবি লি-আম্মাতিত তুল্লাব), যা ১৪২৫ হিজরীতে আমার সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وفاته:ولي الشيخ فيصل القضاء في عِدَّة بلدان، كان آخِرها منطقة الجوف، والتي توفي بها في السادس عشر من ذي القعدة من عام 1376 هـ، عن ثلاثةٍ وستين عاماً قضاها في الدعوة إلى الله، وفي العلم والتعليم والتصنيف رحمه الله (1).
والله المستعان، وعليه التكلان، وصلى الله وسلَّم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু:শায়খ ফয়সাল বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, যার সর্বশেষ ছিল আল-জাওফ অঞ্চল। সেখানে তিনি ১৩৭৬ হিজরীর ১৬ই জিলকদ তেষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। এই দীর্ঘ সময় তিনি আল্লাহর পথে দাওয়াত, জ্ঞানচর্চা, শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনায় ব্যয় করেছেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন (১)।
আল্লাহই সাহায্যকারী এবং তাঁর ওপরই ভরসা। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كلمات في التعريف بهذا الكتابالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتاب (زاد المستقنع) تصنيف الإمام العلامة شرف الدين أبي النجا موسى بن أحمد بن موسى بن سالم المقدسي الحجاوي المتوفى عام 968 من الهجرة، وهو مختصر كتاب (المقنع) الذي صنفه شيخ الإسلام موفق الدين بن عبد بن أحمد بن قدامة المتوفى عام 620 من الهجرة - هو كتاب مفيد في موضوعه، وقد شرحه شرحاً لطيفاً فضيلة الأستاذ العلامة المحقق الشيخ فيصل بن عبد العزيز آل مبارك ليتم النفع به، وسماه (كلمات السداد على متن الزاد) فجزاه الله أحسن الجزاء (1).
--------------------------------------------
এই কিতাব পরিচিতি প্রসঙ্গে কিছু কথাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি, আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
(যাদুল মুসতাকনি‘) কিতাবটি ইমাম আল্লামা শরাফউদ্দীন আবু নাজা মুসা বিন আহমদ বিন মুসা বিন সালিম আল-মাকদিসি আল-হাজ্জাউয়ি (মৃত্যু ৯৬৮ হিজরী) এর রচনা। এটি শাইখুল ইসলাম মুওয়াফফাকুদ্দীন বিন আবদ বিন আহমদ বিন কুদামা (মৃত্যু ৬২০ হিজরী) রচিত (আল-মুকনি‘) কিতাবের একটি সংক্ষিপ্তসার। এটি এর বিষয়বস্তুর ওপর একটি অত্যন্ত উপকারী কিতাব। ফযীলাতুশ শাইখ উস্তায আল্লামা মুহাক্কিক ফয়সাল বিন আব্দুল আজীজ আল-মুবারক এর দ্বারা অর্জিত উপকারকে পূর্ণতা দেওয়ার লক্ষ্যে এর একটি সুন্দর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন (কালিমাতোস সাদাদ আলা মাতনিজ যাদ)। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وبه نستعين
الحمد لله حمداً لا ينفد، أفضل ما ينبغي أن يُحْمد، وصلى الله وسلم على أفضل المُصْطَفَيْنَ محمد، وعلى آله وصحبه ومن تعبَّد.
أما بعد: فهذا مختصرٌ (*) في الفقه من مُقْنِع الإمام الموفَّق أبي محمد على قولٍ واحد، وهو الراجحُ في مذهبِ أحمد، وربما حذفتُ منه مسائلَ نادرةَ الوقوع، وزدتُ ما على مثله يُعْتَمد، إذ الهممُ قد قَصُرتْ، والأسبابُ قد كَثُرَتْ، ومع صِغَرِ عن التطويل، ولا حولَ ولا قوةَ إلا بالله، وهو حسبُنا ونعم الوكيل.
ــ
(*) هذا المختصرُ صغير الحجمِ، كبيرُ الفائدةِ كثيرُ المسائل النافعةِ، يَعرف قَدْرَه من حَفِظَه، ولكن ينبغي لطالب العلم أن يحفظ قبله (عُمْدَةَ الأحكام) في الحديث لأنه الأصلُ، وكذلك (بلوغ المرام) فإذا حفظ ذلك وقد رزقه الله تعالى فَهْماً في كتابه واتِّباعاً لسنة رسوله صلى الله عليه وسلم والإنصافَ والعدلَ في القولِ والحُكْمِ، فقد استحقَّ الفُتيا والقضاءَ وبالله التوفيق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা কখনো শেষ হওয়ার নয়, যেভাবে তাঁর প্রশংসা করা উচিত। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীবৃন্দ ও ইবাদতকারীদের ওপর।
অতঃপর: এটি ইমাম মুওয়াফফাক আবু মুহাম্মদ-এর 'আল-মুকনি' গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত সার, যা একটি নির্ভরযোগ্য মতের ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং এটিই আহমাদ-এর মাযহাবের অগ্রগণ্য মত। আমি এখান থেকে বিরল মাসআলাগুলো বাদ দিয়েছি এবং এমন কিছু বিষয় যোগ করেছি যার ওপর নির্ভর করা যায়। যেহেতু মানুষের সংকল্প বা হিম্মত কমে গেছে এবং ব্যস্ততার কারণসমূহ বেড়ে গেছে, তাই কলেবর বৃদ্ধি না করে একে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
--
(*) এই সংক্ষিপ্ত সারটি কলেবরে ছোট হলেও এর উপকারিতা অনেক এবং এতে রয়েছে বহু কল্যাণকর মাসআলা। যে এটি মুখস্থ করবে সে-ই এর মর্যাদা বুঝতে পারবে। তবে জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য উচিত হবে এর আগে হাদীস শাস্ত্রের 'উমদাতুল আহকাম' মুখস্থ করা, কেননা তা-ই মূল ভিত্তি। অনুরূপভাবে 'বুলুগুল মারাম' মুখস্থ করা উচিত। অতঃপর যদি সে এগুলো মুখস্থ করে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর কিতাবের সঠিক বুঝ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণ এবং কথা ও বিচারে ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতা দান করেন, তবে সে ফতোয়া প্রদান ও বিচারকার্যের জন্য উপযুক্ত হবে। আর আল্লাহর তাওফীকেই সব সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
كتاب الطهارةوهي: ارتفاعُ الحدث وما في معناه، وزوالُ الخَبَث.
والمياه ثلاثة: طهور لا يرفع الحدث، ولا يزيلُ النجسَ الطارئَ غيرُه، وهو الباقي على خِلْقته، فإن تغيَّر بغير ممازج كقطع كافور أو دهن أو بملح مائي (*) أو سُخِّنَ بنجس كُرِه، وإن تغير بمكثه أو بما يَشُقُّ صَوْنُ الماء عنه من نابت كُفِرَ وورق شجر، أو بمجاورة مَيْتَةٍ، أو سخن بالشمس أو بطاهر لم يكره، وإن استعمل في طهارة مستحبَّة كتجديد وضوء، وغسل جمعة، وغَسْلةٍ ثانية وثالثة كُرِه.
وإن بلغ قُلَّتين (*) - وهو الكثير وهما خمسمائة رطل عراقي تقريباً -
ــ
(*) قوله: (أو بملح مائي) يعني إذا تغيَّر الماءُ بالملح المائي كُره، ولم يسلبه الطهورية؛ لأن أصله الماء كالملح البحري الذي ينعقد من الماء يسلبه الطهورية وأما الملح المعدني، فيسلبه الطهوريةَ إذا غيَّر أحدَ أوصافه في الإنصاف: هو المذهب وعليه جماهير الأصحاب، وقيل: حكمُه حكمُ البحري، اختاره الشيخ تقي الدين.
(*) قوله: (وإن بَلَغ قُلَّتَين) إلى آخره، هذا ظاهرُ المذهب لحديث "إذا كان الماءُ قُلَّتَيْن لم يُنَجِّسْه شيءٌ" (1) وعنه لا يَنْجُسُ إلا بالتَّغَيُّر لحديث "الماء طهور لا يُنَجِّسُه شيءٌ إلا ما غَلَب على ريحِه أو طعمِه أو لونِه" (2)، اختاره الشيخ تقي الدين.
--------------------------------------------
পবিত্রতা অধ্যায়আর তা হলো: অপবিত্রতা (হাদাস) দূর হওয়া এবং যা এর সমার্থবোধক, আর নাপাকি (খাবাস) দূরীভূত হওয়া।
পানি তিন প্রকার: (১) পবিত্রকারী পানি (তাহুর), যা ছাড়া অন্য কোনো কিছু অপবিত্রতা দূর করে না এবং আপতিত নাপাকিও বিদূরিত করে না; আর তা হলো যা তার আদি প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট রয়েছে। অতঃপর যদি তা এমন কোনো অমিশ্রণীয় বস্তুর কারণে পরিবর্তিত হয় যা পানির সাথে মিশে যায় না—যেমন কর্পূরের টুকরো, তেল অথবা জলজ লবণ (*)—কিংবা যদি নাপাকি দ্বারা উত্তপ্ত করা হয়, তবে তা ব্যবহার করা অপছন্দনীয় (মাকরুহ)। আর যদি তা দীর্ঘকাল স্থির থাকার কারণে পরিবর্তিত হয়, অথবা এমন কিছুর কারণে যা থেকে পানি রক্ষা করা কঠিন—যেমন জন্মানো শৈবাল ও গাছের পাতা—কিংবা মৃত প্রাণীর সান্নিধ্যের কারণে পরিবর্তিত হয়, অথবা সূর্যের তাপে কিংবা পবিত্র বস্তুর মাধ্যমে উত্তপ্ত করা হয়, তবে তা মাকরুহ হবে না। আর যদি ওজু নবায়ন, জুমার গোসল এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করার মতো মুস্তাহাব পবিত্রতার কাজে তা ব্যবহৃত হয়, তবে তা মাকরুহ।
আর যদি তা দুই কুল্লা (*) পরিমাণ হয়—যা প্রচুর পানি হিসেবে গণ্য এবং এর পরিমাণ প্রায় পাঁচশত ইরাকি রতল—
ــ
(*) তাঁর কথা: (অথবা জলজ লবণের মাধ্যমে) অর্থাৎ যদি জলজ লবণের কারণে পানি পরিবর্তিত হয় তবে তা মাকরুহ হবে, কিন্তু তা পানির পবিত্রকারী গুণকে ছিনিয়ে নেবে না; কারণ এর মূল উৎস হলো পানি, যেমন সামুদ্রিক লবণ যা পানি থেকেই জমাট বাঁধে এবং তা পানির পবিত্রকারী গুণ বজায় রাখে। পক্ষান্তরে খনিজ লবণের ক্ষেত্রে বিধান হলো, যদি তা পানির কোনো একটি গুণকে পরিবর্তিত করে দেয় তবে তা পানির পবিত্রকারী গুণ ছিনিয়ে নেবে। ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটিই মাযহাবের সিদ্ধান্ত এবং অধিকাংশ ফকিহগণ এর ওপর রয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন: এর বিধান সামুদ্রিক লবণের বিধানের মতোই, যা শাইখ তাকীউদ্দীন পছন্দ করেছেন।
(*) তাঁর কথা: (আর যদি তা দুই কুল্লা পরিমাণ হয়) শেষ পর্যন্ত। এটি মাযহাবের প্রকাশ্য অভিমত, কারণ হাদীসে এসেছে: "যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন কোনো কিছুই তাকে নাপাক করে না" (১)। আর ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা মতে, (স্বাদ, ঘ্রাণ বা বর্ণ) পরিবর্তন হওয়া ছাড়া পানি নাপাক হয় না; কারণ হাদীসে এসেছে: "পানি পবিত্রকারী, কোনো কিছুই তাকে নাপাক করে না, তবে যা তার ঘ্রাণ, স্বাদ অথবা বর্ণের ওপর প্রবল হয়ে যায় তা ব্যতীত" (২)। শাইখ তাকীউদ্দীন এটিই পছন্দ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فخالطتْه نجاسةُ غير بول آدميٍّ أو عَذِرتِهِ المائعةِ (*)، فلم تُغَيِّرْه، أو خالطه البولُ أو العَذِرَةُ ويَشُقُّ نَزْحُه كماءِ مصانع طريق مكة فطَهُور.
ولا يَرْفع حَدَثَ رجلٍ طَهُورٌ يسيرٌ خَلَتْ به امرأةٌ لطهارةٍ كاملةٍ عن حَدَث (*).
ــ
(*) قوله: (فخالطتْه نجاسةُ غيرِ بولِ آدمي أو عَذِرتِه المائعة) يعني: أنه يَنْجُسُ بالبول أو العَذِرةِ ولو كان كثيراً، وعنه لا يَنْجُس، اختارها أبو الخطاب وابن عقيل لخبر القُلَّتين، ولأن نجاسة الآدمي لا تزيد على نجاسة بول الكلب، قال في الإنصاف: وهذا المذهب، وهو قول الجمهور.
(*) قوله: (ولا يرفع حدث رجل طهورٌ يسيرٌ خَلَتْ به امرأةٌ لطهارةٍ كاملةٍ عن حَدثٍ). قال في امرأةٌ فهو طهور، ولا يجوز للرجل الطهارة به في ظاهر المذهب، قال في الإنصاف: قال ابن رزين: لم يجز لغيرها أن يَتَوضَّأَ به في أضعفِ الروايتين، وعنه يَرْتفعُ الحَدَثُ مطلقاً كاستعمالهما معاً في أصح الوجهين فيه، في الفروع: اختارها ابن في الشرح الكبير: وهو أقيس إن شاء الله تعالى.
قلتُ: وهذا قول الجمهور وهو الصحيح، لأن بعض أزواج النبي - صلى في جَفْنة، فجاء ليغتسل منها فقالت له: إني كنت جُنُباً. قال: (إن الماء لا يجنب) وأما الحديث الآخر: (نهى النبي الله عليه وسلم - أن يغتسل الرجلُ بفضل المرأة أو المرأةُ بفضل الرجل وليغترفا جميعاً) (1)، فهو محمول على التنزيه والله أعلم.
--------------------------------------------
যদি তাতে মানুষের প্রস্রাব বা তরল মল ব্যতীত অন্য কোনো অপবিত্রতা মিশ্রিত হয় এবং তা পানির কোনো বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন না করে, অথবা যদি তাতে প্রস্রাব বা মল মিশ্রিত হয় কিন্তু তা সেঁচে পরিষ্কার করা কষ্টসাধ্য হয়—যেমন মক্কার রাস্তার ধারের জলাধারগুলোর পানি—তবে তা পবিত্রতা অর্জনকারী।
এমন সামান্য পরিমাণ ‘তাহুর’ (পবিত্রতা অর্জনকারী) পানি দ্বারা কোনো পুরুষের অপবিত্রতা দূর হবে না, যা কোনো নারী নির্জনে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য ব্যবহার করেছে।
--
(*) তাঁর উক্তি: (যদি তাতে মানুষের প্রস্রাব বা তরল মল ব্যতীত অন্য কোনো অপবিত্রতা মিশ্রিত হয়) অর্থাৎ: প্রস্রাব বা মলের মাধ্যমে পানি অপবিত্র হয়ে যাবে যদিও তা পরিমাণে অধিক হয়। ইমাম আহমাদ থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, তা অপবিত্র হবে না; আবুল খাত্তাব ও ইবনে আকীল এই মতটি পছন্দ করেছেন ‘কুল্লাহ্’ (দুই মটকা) সম্পর্কিত হাদিসের ভিত্তিতে এবং একারণে যে, মানুষের অপবিত্রতা কুকুরের প্রস্রাবের অপবিত্রতার চেয়ে বেশি নয়। ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটিই মাযহাব এবং এটিই জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মত।
(*) তাঁর উক্তি: (এমন সামান্য পরিমাণ ‘তাহুর’ পানি দ্বারা কোনো পুরুষের হাদাস বা অপবিত্রতা দূর হবে না যা কোনো নারী নির্জনে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য ব্যবহার করেছে)। নারীর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে তা পবিত্রতা অর্জনকারী, কিন্তু মাযহাবের প্রকাশ্য বর্ণনা অনুযায়ী পুরুষের জন্য তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা জায়েয নয়। ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইবনে রাযীন বলেছেন, দুটি বর্ণনার মধ্যে দুর্বলতর বর্ণনা অনুযায়ী অন্য কারো জন্য তা দিয়ে ওযু করা জায়েয নয়। ইমাম আহমাদ থেকে অপর বর্ণনায় আছে যে, এর মাধ্যমে সাধারণভাবে হাদাস দূর হয়ে যাবে, যেমনটি দুই মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী উভয়ে একত্রে পানি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। ‘আল-ফুরু’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইবনে [জনৈক আলিম] এটি পছন্দ করেছেন। ‘আশ-শারহুল কাবীর’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইনশাআল্লাহ এটিই কিয়াস বা যুক্তি অনুযায়ী অধিক সংগত।
আমি বলছি: এটিই জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং এটিই সঠিক। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জনৈক স্ত্রী একটি বড় পাত্র থেকে গোসল করেছিলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা থেকে গোসল করতে এলে তিনি বললেন: আমি অপবিত্র ছিলাম। তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই পানি অপবিত্র হয় না।’ আর অন্য হাদিসটি: ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষের বেঁচে যাওয়া পানি দিয়ে নারীর গোসল করা অথবা নারীর বেঁচে যাওয়া পানি দিয়ে পুরুষের গোসল করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন তারা যেন উভয়ে একত্রে আজলা ভরে পানি নেয়’ (১), এটি মাকরূহে তানযীহ বা সাধারণ অপছন্দনীয় অর্থে গণ্য, আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وإن تغيَّر لونُه أو طعمُه أو ريحُه بطبخٍ أو ساقطٍ فيه (*)، أو رُفع بقليله حَدَثٌ، أو غُمِسَ فيه يدُ قائم من نوم ليلٍ ناقضٍ كان آخرَ غَسْلةٍ زالت النجاسة بها فَظَاهِرٌ.
ــ
(*) قوله: (وإن تغير طعمه أو ريحه أو لونه بطبخٍ أو ساقطٍ في المقنع: القسم الثاني: ماء طاهر غير مطهر، وهو ما خالطه طاهر فغيَّر اسْمَه أو غلب على أو طبخ فيه فغيَّره، فإن أو طعمه أو ريحه أو استعمل في رفع حدث أو طهارة أو غمس فيه يد قائم من نوم الليل قبل غسلها ثلاثاً فهل يسلب طهوريته؟ على روايتين. قال في الإنصاف: قوله: فإن غير أو طعمه أو ريحه فهل يَسْلبه طهوريته؟ على روايتين (إحداهما): يسلبه الطهورية وهو المذهب، وعليه جماهير الأصحاب، (والرواية في الكافي نقلها الأكثر، واختارها الآجري والمجد والشيخ تقي الدين، وعنه أنه طهور مع عدم طهور غيره، اختارها ابن أبي موسى.
قلتُ: وهذا أقرب لقول الله تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16].
قال في الإنصاف: قوله: (أو غُمِسَ فيه يدُ قائمٍ من نومِ الليل قبل غسلها ثلاثاً) (1)، فهل يَسْلُب طهوريَّتَه؟ على روايتين:
(إحداهما): يسلبه الطهورية، وهو المذهب، وهو من المفردات.
(والرواية الثانية): لا يسلبه الطهورية، جزم به في الوجيز، واختاره المصنِّف، والشارح والشيخ تقي الدين، قال في الشرح: وهو الصحيح إن الله تعالى، لأن الماء قبل الغمس كان طهوراً، فيبقى على الأصل.
ونَهْيُ النبي صلى الله عليه وسلم عن غمس اليدين كان لوهم النجاسة، فالوهم لا يزيل الطهورية، كما لم يُزِل الطهارة، وإن كان تعبُّداً وهو مشروعية الغسل.
--------------------------------------------
এবং যদি রান্নার কারণে বা তাতে কোনো কিছু পড়ার কারণে তার বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হয় (*), অথবা যদি সেই অল্প পানির মাধ্যমে কোনো হাদাস (অশুচিতা) দূর করা হয়, অথবা রাতে ঘুমের পর জাগ্রত ব্যক্তি যার অজু ভেঙে গেছে তার হাত তাতে ডুবিয়ে দেয়, যা ছিল নাপাকি দূর করার শেষ ধৌতকরণ, তবে তা পবিত্র।
--
(*) তাঁর কথা: (এবং যদি রান্নার কারণে বা তাতে কোনো কিছু পড়ার মাধ্যমে তার স্বাদ, গন্ধ বা বর্ণ পরিবর্তিত হয়): আল-মুকনি গ্রন্থে রয়েছে: দ্বিতীয় প্রকার: পবিত্র পানি যা অন্যকে পবিত্রকারী নয়; আর তা হলো সেই পানি যার সাথে কোনো পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয়ে তার নাম পরিবর্তন করে ফেলেছে অথবা তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে অথবা তাতে তা রান্না করা হয়েছে ফলে তা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। অতএব যদি তার স্বাদ বা গন্ধ বা বর্ণ (পরিবর্তিত হয়), অথবা যদি তা হাদাস দূর করতে বা পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহৃত হয়, অথবা তাতে যদি রাত জাগরণকারী ব্যক্তি তিনবার হাত ধোয়ার পূর্বে তার হাত ডুবিয়ে দেয়, তবে কি তা পানির পবিত্রকারী গুণ (তাহুরিয়াত) ছিনিয়ে নেবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। আল-ইনসাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাঁর কথা: (যদি তার স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হয়, তবে কি তা তার পবিত্রকারী গুণ ছিনিয়ে নেবে?) এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। (প্রথমটি): তা পানির পবিত্রকারী গুণ ছিনিয়ে নেয় এবং এটিই মাযহাব, আর অধিকাংশ ফকিহগণ এর ওপরই রয়েছেন। (দ্বিতীয় বর্ণনাটি) আল-কাফি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং অধিকাংশজন তা বর্ণনা করেছেন; আর আল-আজুরি, আল-মাজদ এবং শাইখ তাকীউদ্দীন এটি পছন্দ করেছেন। আর তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত অন্য মতে, অন্য কোনো পবিত্রকারী পানি না থাকা অবস্থায় এটি পবিত্রকারী হিসেবেই গণ্য হবে; ইবনে আবি মুসা এই মতটি গ্রহণ করেছেন।
আমি বলছি: এটি মহান আল্লাহর বাণীর অধিক নিকটবর্তী: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসম্ভব ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬]।
আল-ইনসাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাঁর কথা: (অথবা তাতে যদি রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তি তিনবার হাত ধোয়ার পূর্বে তার হাত ডুবিয়ে দেয়) (১), তবে কি তা পানির পবিত্রকারী গুণ ছিনিয়ে নেবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে:
(প্রথমটি): তা পবিত্রকারী গুণ ছিনিয়ে নেয় এবং এটিই মাযহাব ও মুফরাদাত (হাম্বলি মাযহাবের একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মাসয়ালাগুলোর) অন্তর্ভুক্ত।
(দ্বিতীয় বর্ণনাটি): তা পানির পবিত্রকারী গুণ ছিনিয়ে নেয় না। আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে। গ্রন্থকার, ব্যাখ্যাকার এবং শাইখ তাকীউদ্দীন এটিই পছন্দ করেছেন। ব্যাখ্যাকার আল-শারহ গ্রন্থে বলেছেন: এটিই সঠিক ইনশাআল্লাহ, কারণ হাত ডুবানোর পূর্বে পানি পবিত্রকারী ছিল, সুতরাং তা মূল অবস্থার ওপরই বহাল থাকবে।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক দুই হাত ডুবানো থেকে নিষেধ করা হয়েছিল নাপাকির আশঙ্কার কারণে; সুতরাং নিছক আশঙ্কা পানির পবিত্রকারী গুণকে দূর করে না, যেমন তা পবিত্রতাকে নষ্ট করে না; যদিও এটি একটি ইবাদতগত বিধান হিসেবে হাত ধোয়ার নির্দেশ দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
والنَّجَسُ: ما تغيَّر بنجاسة، أو لاقاها وهو يسير، أو انفصل عن محل نجاسة قبل زوالها، فإن أضيف إلى الماء النَّجِس طَهُورٌ كثيرٌ غير تراب ونحوه، أو زال تغيُّر النَّجِس الكثير بنفسِهِ أو نُزِحَ منه فبقي بعده كثير غير متغير طَهُرَ.
وإن شكَّ في نجاسة أو غيره أو طهارتهِ بنى على اليقين، وإن اشتبه طهورٌ بنجسٍ حرُم استعمالُهما، ولم يتحرَّ، ولا يشترط للتيمم إراقتُهما ولا خَلْطُهما، وإن اشتبه بطاهر توضَّأ منهما وضوءاً واحداً: من هذا غرفة ومن هذا غرفة، وصلى صلاةً واحدةً، وإن اشتبهت ثيابٌ طاهرةٌ بنجسةٍ أو بمحرمةٍ صلَّى في كل أو المُحَرَّم وزاد صلاةً (*).
ــ
(*) قال في الإنصاف: يعني إن علم عدد الثياب النجسة، وهذا المذهب وعليه جماهير الأصحاب، وهو من المفردات، وقيل: يتحرَّى مع كثرة الثياب النجسة للمَشَقَّة، اختاره ابن عقيل، وقيل: يتحرَّى سواء قَلَّتْ الثيابُ أو كثرت، اختارها الشيخ تقي الدين.
নাপাক পানি হলো: যা নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে, অথবা তা অল্প থাকা অবস্থায় নাপাকির সংস্পর্শে এসেছে, অথবা নাপাকি দূর হওয়ার পূর্বেই নাপাকির স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অতঃপর যদি নাপাক পানির সাথে মাটি বা অনুরূপ কিছু ব্যতীত প্রচুর পরিমাণে পবিত্র-কারী পানি যোগ করা হয়, অথবা অধিক পরিমাণ নাপাক পানির পরিবর্তন আপনা-আপনি দূরীভূত হয়, অথবা তা থেকে কিছু অংশ সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এরপর প্রচুর পরিমাণে অপরিবর্তিত পানি অবশিষ্ট থাকে, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে।
যদি কেউ পানির অপবিত্রতা বা অন্য কিছু নিয়ে অথবা তার পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহে ভোগে, তবে সে নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করবে। আর যদি পবিত্র-কারী পানি ও নাপাক পানির মধ্যে সংশয় দেখা দেয়, তবে উভয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং সে অনুসন্ধান করবে না। তায়াম্মুমের জন্য সেগুলো ঢেলে দেওয়া বা মিশ্রিত করা শর্ত নয়। আর যদি পবিত্র-কারী পানি ও পবিত্র পানির মধ্যে সংশয় দেখা দেয়, তবে সে উভয়টি থেকে একবার ওযু করবে: এটা থেকে এক অঞ্জলি এবং ওটা থেকে এক অঞ্জলি নিয়ে; এবং এক ওয়াক্ত নামাজ পড়বে। যদি পবিত্র পোশাকের সাথে নাপাক বা হারাম পোশাক মিশে যায়, তবে সে প্রত্যেকটি পোশাকে অথবা হারাম পোশাকের সংখ্যার অতিরিক্ত একটি নামাজ পড়বে (*)।
—
(*) 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: অর্থাৎ যদি নাপাক পোশাকের সংখ্যা জানা থাকে। এটিই মাযহাব এবং এর ওপরই অধিকাংশ অনুসারীগণ রয়েছেন, আর এটি মুফরাদাত-এর (মাযহাবের একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মাসআলা) অন্তর্ভুক্ত। কেউ কেউ বলেছেন: কষ্টের কারণে নাপাক পোশাক অধিক হলে সে অনুসন্ধান করবে; ইবনু আকীল এই মতটি গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: পোশাক কম হোক বা বেশি, সে অনুসন্ধান করবে; শাইখ তাকিউদ্দীন এটি পছন্দ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
باب الآنيةكل إناء طاهرٍ -ولو ثميناً-، يباح اتخاذُه واستعمالُه، إلا آنيةَ ذهبٍ وفضَّة ومُضَبَّباً بهما، فإنه يَحْرُم اتخاذُها واستعمالُها ولو على أُنثى، وتصحُّ الطهارةُ منها (*)، إلا ضَبَّةً يسيرةً من فضَّة لحاجة، وتُكره مباشرتُها لغير حاجة، وتُباح آنيةُ الكفار ـ ولو لم تحلَّ ذبائحُهم وثيابُهم ـ إن جهل حالُها (*).
ولا يَطْهر جِلْدُ مَيْتةٍ بدباغ (*)، ويباح استعمالُه بعد الدبغ في يابس من حيوان طاهر في الحياة، وعظمُ الميتةِ ولبنُها وكلُّ أجزائِها نجسةٌ من حيٍّ فهو كميتته.
ــ
(*) قوله: (وتصح الطهارة منها) أي من الآنية المحرمة. هذا المذهب، وعنه لا تصح، اختاره الشيخ تقي الدين.
(*) قوله: (وتباح آنيةُ الكفار -ولو لم تحلَّ ذبائحُهم وثيابهُم- إن جُهل حالها) قال في المقنع: وثياب الكفار وأوانيهم طاهرةٌ مباحةُ الاستعمال ما لم تُعْلَم نجاستُها، قال في الإنصاف: هذا المذهب، وعنه: ما ولِي عوراتهم كالسراويل ونحوه لا يصلي لا تحلُّ ذبيحتهم كالمجوس وعبدة كُفِرَ لا يستعمل إلا بعد غَسْله، من يأكل الخنزير من أهل الكتاب في موضع يمكنهم أكله.
(*) قوله: (ولا يطهر جلد ميته بدباغ)، هذا المذهب وهو من المفردات وعنه يطهر منها ما كان في حال الحياة، وهو الصحيح لقول النبي صلى الله عليه وسلم في الشاة الميتة: (ألا انتفعتم بإهابها) قالوا: إنها ميته قال: (يطهرها الماء والقرض) وفي الحديث الآخر: (دباغ جلود الميتة طهورها).
পাত্র অধ্যায়প্রতিটি পবিত্র পাত্র—তা মূল্যবান হলেও—তা গ্রহণ করা এবং ব্যবহার করা বৈধ। তবে সোনা ও রূপার পাত্র এবং যা এ দুটি দ্বারা প্রলেপ দেওয়া হয়েছে বা জোড়া দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণ করা ও ব্যবহার করা হারাম, এমনকি কোনো নারীর জন্যও। তবে এ থেকে পবিত্রতা অর্জন করা সঠিক হবে (*), তবে প্রয়োজনে রূপার সামান্য প্রলেপ বা জোড়া লাগানো হলে তা বৈধ। প্রয়োজন ছাড়া তা সরাসরি স্পর্শ করা মাকরুহ। আর কাফেরদের পাত্র বৈধ—এমনকি যদি তাদের যবাই করা পশু হালাল না হয় এবং তাদের পোশাকও বৈধ—যদি সেগুলোর অবস্থা (পবিত্রতা) অজানা থাকে (*)।
মৃত প্রাণীর চামড়া পাকা (ট্যানিং) করার মাধ্যমে পবিত্র হয় না (*)। তবে জীবনে পবিত্র ছিল এমন প্রাণীর চামড়া পাকা করার পর শুকনো জিনিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা জায়েয। আর মৃত প্রাণীর হাড়, দুধ এবং এর সমস্ত অঙ্গ নাপাক। জীবিত কোনো প্রাণী থেকে বিচ্ছিন্ন অংশ তার মৃতদেহের মতোই (নাপাক)।
—
(*) তাঁর বক্তব্য: (এবং তা থেকে পবিত্রতা অর্জন সঠিক হবে) অর্থাৎ হারাম পাত্র থেকে। এটিই মযহাবের প্রধান মত। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে আরেকটি বর্ণনা রয়েছে যে, তা সঠিক হবে না; শাইখ তাকিউদ্দীন এই মতটিই পছন্দ করেছেন।
(*) তাঁর বক্তব্য: (কাফেরদের পাত্র বৈধ—এমনকি যদি তাদের যবাই করা পশু হালাল না হয় এবং তাদের পোশাকও—যদি সেগুলোর অবস্থা অজানা থাকে)। 'আল-মুকনি' কিতাবে বলা হয়েছে: কাফেরদের পোশাক ও পাত্র পবিত্র এবং ব্যবহার করা বৈধ যতক্ষণ না সেগুলোর অপবিত্রতা নিশ্চিত হওয়া যায়। 'আল-ইনসাফ' কিতাবে বলা হয়েছে: এটিই মযহাব। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে আরেকটি বর্ণনা আছে: যা তাদের লজ্জাস্থানের সংস্পর্শে থাকে যেমন পায়জামা বা তদ্রূপ কিছু, তাতে সালাত আদায় করা যাবে না এবং তা ব্যবহার করা যাবে না যতক্ষণ না ধৌত করা হয়, যদি তারা এমন কাফের হয় যাদের যবাইকৃত পশু হালাল নয়, যেমন অগ্নিউপাসক ও মূর্তিপূজারী। আর আহলে কিতাবের মধ্যে যারা এমন স্থানে শুকর খায় যেখানে তাদের পক্ষে তা খাওয়া সম্ভব, তাদের ক্ষেত্রেও একই বিধান।
(*) তাঁর বক্তব্য: (মৃত প্রাণীর চামড়া পাকা করার মাধ্যমে পবিত্র হয় না)। এটিই মযহাব এবং এটি এই মযহাবের একক বৈশিষ্ট্যগুলোর (মুফরাদাত) অন্তর্ভুক্ত। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে আরেকটি বর্ণনা আছে যে, যা জীবনে পবিত্র ছিল তা (পাকা করার মাধ্যমে) পবিত্র হয়; আর এটিই সঠিক মত। কেননা মৃত ছাগল সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা কেন এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হলে না?" তারা বলল: "এটি মৃত।" তিনি বললেন: "পানি এবং কারায (এক প্রকার গাছের পাতা/ফল) একে পবিত্র করে।" অন্য হাদিসে আছে: "মৃত প্রাণীর চামড়া পাকা করাই তার পবিত্রতা।"
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
باب الاستنجاءيُستحب عند دخولِ الخلاء قولُ: (بسم الله، أعوذ بالله من الخبث والخبائث) (1) وعند الخروج منه: (غُفرانَك (2). الحمد لله الذي أذهب عنِّي الأذى وعافاني) (3)، وتقديمُ رِجْلِه اليُسرى دُخولاً واليُمنى خُروجاً، عكس مسجد ونعل، واعتمادُه على رجله اليسرى، وبعدُه في فضاء واستتارُه، وارتيادُه لبوله موضعاً رخواً، ومسحُهُ بيده اليسرى إذا فَرَغَ من بوله من أصل ذَكَرِه إلى رأسه ثلاثاً، ونَثْرُه ثلاثاً، وتحوُّلُه من موضعه ليستنجي في غيره إن خاف تلوثاً.
ويكره دخوله بشيء فيه ذكر الله تعالى، إلا لحاجة، ورفعُ ثوبه قبل دُنُوِّه من الأرض، وكلامُهُ فيه، وبولُه في شَقٍّ ونحوِه، ومسُّ فرجه بيمينه
ــ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
ইস্তিঞ্জা বা শৌচকার্য বিষয়ক পরিচ্ছেদশৌচাগারে প্রবেশের সময় বলা মুস্তাহাব: (আল্লাহর নামে শুরু করছি, আমি আল্লাহর নিকট অপবিত্র পুরুষ ও নারী জিনদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি) (১) এবং তা থেকে বের হওয়ার সময় বলা: (হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি) (২)। (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন) (৩)। আর প্রবেশের সময় বাম পা আগে বাড়ানো এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে বাড়ানো মুস্তাহাব, যা মসজিদে প্রবেশ এবং জুতা পরিধানের নিয়মের বিপরীত। এছাড়া বসার সময় বাম পায়ের ওপর ভর দেওয়া, নির্জন স্থানে গেলে আড়ালে যাওয়া এবং লোকালয় থেকে দূরে সরে যাওয়া, প্রস্রাবের জন্য নরম স্থান তালাশ করা এবং প্রস্রাব শেষ করার পর বাম হাত দিয়ে পুরুষাঙ্গের গোড়া থেকে অগ্রভাগ পর্যন্ত তিনবার মুছে নেওয়া ও তিনবার ঝাড়া মুস্তাহাব। আর যদি নাপাকি লেগে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে ইস্তিঞ্জা করার জন্য উক্ত স্থান থেকে সরে অন্য স্থানে যাওয়া মুস্তাহাব।
বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আল্লাহর নাম সম্বলিত কোনো কিছু নিয়ে শৌচাগারে প্রবেশ করা মাকরুহ। অনুরূপভাবে মাটির কাছাকাছি হওয়ার আগে কাপড় উঠানো, সেখানে কথা বলা, গর্ত বা অনুরূপ স্থানে প্রস্রাব করা এবং ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা মাকরুহ।
--
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
واستنجاؤُه واستجمارُه بها، واستقبال النَّيِّريْن (*).
ويَحْرُم استقبالُ القبلة واستدبارُها في غير بنيان، ولُبْثُه فوق حاجته، وبولُهُ في طريق وظِلٍّ نافع وتحت شجرة عليها ثمرة.
ويستجمر (بحجر) ثم يستنجي بالماء، ويجزئه الاستجمار إن لم يَعْدُ الخارجُ موضعَ العادة.
ويشترط لاستجمارٍ بأحجارٍ ونحوِها أن يكون طاهراً منقياً غير عظمٍ وروثٍ وطعامٍ ومحترمٍ ومتصلٍ بحيوان، ويشترط ثلاثُ مسحات منقية فأكثر، ولو بحجر ذي شُعَب، ويسنُّ قطعُه على وَتْرٍ، ويجب الاستنجاءُ لكلِّ خارجٍ إلا الرِّيحَ، ولا يصحُّ قبلَه وضوءٌ ولا تيمُّم.
ــ
(*) قوله: (واستقبال النيِّرين) قال في الإنصاف: قوله: ولا يستقبل الشمس ولا القمر، الصحيح من المذهب كراهة ذلك، قال في الفروع: وقيل: لا يكره التوجه إليهما كبيت المقدس انتهى. والصحيح عدم الكراهة لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تستقبلوا القِبْلةَ بغائطٍ ولا بولٍ ولا تستدبروها ولكن شَرِّقوا أو غربوا) (1).
(فائدة) لو استجْمر بما لا يجوز الاستجْمارُ به ثم استنجى بعده بالماء أجزأه بلا نزاع، وإن استجمر بغير المُنقي جاز الاستجمار بعده بُمنقٍ. في الإنصاف.
--------------------------------------------
এবং তার (ডান হাত দিয়ে) শৌচকার্য ও কুলুখ গ্রহণ করা এবং সূর্য ও চন্দ্রের দিকে মুখ করা (মাকরূহ)।
স্থাপনা ব্যতীত খোলা স্থানে কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দিয়ে বসা, প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা, এবং চলাচলের রাস্তায়, উপকারী ছায়ায় ও ফলবান বৃক্ষের নিচে প্রস্রাব করা হারাম।
সে (পাথর দিয়ে) কুলুখ গ্রহণ করবে অতঃপর পানি দিয়ে শৌচকার্য করবে। আর কুলুখ গ্রহণই যথেষ্ট হবে যদি নির্গত নাপাকি স্বাভাবিক নির্গমন স্থান অতিক্রম না করে।
পাথর বা তদ্রূপ বস্তু দ্বারা কুলুখ গ্রহণের জন্য শর্ত হলো তা পবিত্র ও পরিষ্কারকারী হওয়া; হাড়, গোবর, খাদ্যবস্তু, সম্মানীয় বস্তু বা প্রাণীর দেহের সাথে লেগে থাকা বস্তু না হওয়া। এবং পরিষ্কারকারী কমপক্ষে তিনটি মোছা শর্ত, যদিও তা একাধিক ধার বা দিক বিশিষ্ট একটি পাথর দিয়ে হয়। আর বেজোড় সংখ্যায় শেষ করা সুন্নত। বায়ু ব্যতীত প্রতিটি নির্গত বস্তুর জন্যই শৌচকার্য করা ওয়াজিব, এবং এর পূর্বে ওযু বা তায়াম্মুম করা সঠিক হবে না।
--
(*) তাঁর কথা: (এবং সূর্য ও চন্দ্রের দিকে মুখ করা) 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাঁর উক্তি: "সূর্য বা চন্দ্রের দিকে মুখ করবে না"; মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটি মাকরূহ। 'আল-ফুরূ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: বলা হয়ে থাকে যে, বায়তুল মুকাদ্দাসের ন্যায় এ দুটির দিকে মুখ করা মাকরূহ নয়। সমাপ্ত। আর বিশুদ্ধ মত হলো মাকরূহ না হওয়া, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করো না এবং তার দিকে পিঠ দিও না, বরং তোমরা পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করো।" (১)।
(উপকারিতা) যদি কেউ এমন বস্তু দিয়ে কুলুখ গ্রহণ করে যা দিয়ে কুলুখ গ্রহণ করা জায়েয নয়, অতঃপর পানি দিয়ে শৌচকার্য করে, তবে সর্বসম্মতভাবে তা যথেষ্ট হবে। আর যদি অপরিষ্কারকারী বস্তু দিয়ে কুলুখ নেয়, তবে এরপর পরিষ্কারকারী বস্তু দিয়ে কুলুখ নেওয়া জায়েয। এটি 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
باب السواك وسنن الوضوءالتَّسَوُّك بعود لَيِّن، مُنْقٍ، غير مُضِر، لا يتفتَّت، لا بإصبع وخرقة (*) مسنونٌ كلَّ وقت، لغير صائم بعد الزوال (*)، متأكِّدٌ عند صلاة، وانتباه، وتغيُّر فمٍ.
ويستاك عَرضاً مبتدئاً بجانب فمه الأيمن (*)، ويدَّهنُ غِبًّا، ويكتحل في الوضوء مع الذِّكْر، ويجب الخِتَانُ ما لم يَخَفْ على نَفْسِه، ويُكْرَه القَزَع.
ــ
(*) قولُه: (لا بإصبع أو خرقة). قال في المقنع: فإن استاك بإصبعه أو بخرقة فهل يصيب السُّنة؟ على وجهين. قال في مجمع البحرين أصح الوجهين إصابة السنة بالخرقة وعند الوضوء بالإصبع، وقال الموفق: يصيب بقدر إزالته وقيل: يصيب السُّنَّة عند عدم السواك، قال في الإنصاف: وما هو ببعيد.
(*) قوله: (مسنونٌ كلَّ وقت لغير صائم بعد الزوال). أي فلا يستحب، هذا المشهور من المذهب، وعنه يباح لحديث عامر بن ربيعة "رأيت النبي صلى الله عليه وسلم ما لا أحصي يتسوك وهو صائم" (1). رواه أحمد وغيره، وعنه يستحب مطلقا، واختاره الشيخ تقي الدين لحديث: (خير فعال الصائم السواك) [رواه ابن ماجه].
(*) قوله: (ويستاك عرضاً مبتدئاً بجانب فمه الأيمن) لحديث: (كان النبي صلى الله عليه وسلم في تنعله وترجله وطهوره وسواكه وفي شأنه كله). رواه أبو داود وقال الحافظ ابن حجر: وفي الحديث البداءة بشِقِّ الرأس الأيمن في التَّرجل والغسل والحَلْق ولا يقال: هو من باب الإزالة فيبدأ فيه بالأيسر، بل هو من باب العبادة والتزين، وقد ثبت الابتداءُ بالشِّق الأيمنِ في الحَلْق قال النووي: قاعدة الشرع المستمرة: استحباب البداءة باليمين في كل ما كان من باب التكريم والتزيين، وما كان بضدهما استُحِبَّ فيه التياسُر.
--------------------------------------------
মেসওয়াক এবং ওযুর সুন্নাতসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়নরম, পরিষ্কারকারী, ক্ষতিহীন এবং যা ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায় না এমন কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে মেসওয়াক করা—আঙুল বা ন্যাকড়া দিয়ে নয় (*)—সব সময়ের জন্য সুন্নাত, তবে রোযাদারের জন্য দ্বিপ্রহরের পর ব্যতীত (*)। নামাযের সময়, ঘুম থেকে জাগলে এবং মুখের গন্ধ পরিবর্তিত হলে এটি বিশেষভাবে তাকিদপূর্ণ।
মেসওয়াক আড়াআড়িভাবে করতে হয় এবং মুখের ডান দিক থেকে শুরু করতে হয় (*)। বিরতি দিয়ে (মাঝে মাঝে) তেল ব্যবহার করা, যিকিরের সাথে ওযুর সময় সুরমা লাগানো সুন্নাত। নিজের জীবনের ওপর আশঙ্কা না থাকলে খতনা করা ওয়াজিব, এবং কাযা (মাথার চুলের কিছু অংশ মুণ্ডানো ও কিছু অংশ রাখা) মাকরূহ।
—
(*) তাঁর বক্তব্য: (আঙুল বা ন্যাকড়া দিয়ে নয়)। আল-মুকনি গ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি কেউ তার আঙুল বা ন্যাকড়া দিয়ে মেসওয়াক করে তবে কি সে সুন্নাত পালনকারী হবে? এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে। মাজমাউল বাহরাইন গ্রন্থে বলা হয়েছে, বিশুদ্ধতম মতানুসারে ন্যাকড়া দিয়ে করলে সুন্নাত অর্জিত হবে এবং ওযুর সময় আঙুল দিয়ে করলে সুন্নাত অর্জিত হবে। আল-মুয়াফফাক বলেন: যতটুকু ময়লা দূর হবে সে অনুযায়ী সে সওয়াব পাবে। কেউ কেউ বলেছেন: মেসওয়াক (কাষ্ঠখণ্ড) না থাকলে সুন্নাত অর্জিত হবে। আল-ইনসাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই মতটি সত্য থেকে দূরবর্তী নয়।
(*) তাঁর বক্তব্য: (রোযাদার ব্যতীত সব সময়ের জন্য সুন্নাত দ্বিপ্রহরের পর)। অর্থাৎ তখন আর এটি মুস্তাহাব নয়। এটিই মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত অন্য এক মতে এটি জায়েয, আমির ইবনে রাবিয়াহর হাদীসের কারণে: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রোযা অবস্থায় অগণিতবার মেসওয়াক করতে দেখেছি" (১)। এটি আহমাদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় এটি সব সময়ের জন্য মুস্তাহাব বলা হয়েছে এবং শায়খ তাকীউদ্দিন একেই পছন্দ করেছেন হাদীসের কারণে: "রোযাদারের সর্বোত্তম কাজ হলো মেসওয়াক করা" [ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন]।
(*) তাঁর বক্তব্য: (আড়াআড়িভাবে মেসওয়াক করবে এবং মুখের ডান দিক থেকে শুরু করবে) হাদীসের কারণে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুতো পরা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন এবং মেসওয়াক করা সহ তাঁর সকল কাজে ডান দিককে প্রাধান্য দিতে পছন্দ করতেন।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: হাদীসটিতে চুল আঁচড়ানো, গোসল ও মাথা মুণ্ডানোর ক্ষেত্রে মাথার ডান দিক থেকে শুরু করার কথা এসেছে। একে ময়লা দূর করার পর্যায়ভুক্ত গণ্য করে বাম দিক থেকে শুরু করা হবে না, বরং এটি ইবাদত ও সৌন্দর্যবর্ধনের অন্তর্ভুক্ত। মাথা মুণ্ডানোর ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করার বিষয়টি প্রমাণিত। ইমাম নববী বলেন: শরীয়তের স্থায়ী মূলনীতি হলো—সম্মান ও সৌন্দর্য প্রকাশ পায় এমন প্রতিটি কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা মুস্তাহাব, আর এর বিপরীত বিষয়গুলোতে বাম দিক থেকে শুরু করা মুস্তাহাব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومِن سُنن الوضوء السواك، وغسل الكفين ثلاثاً، ويجب من نوم ليل ناقضٍ لوضوء، والبَداءة بمضمضة، ثم استنشاق، والمبالغة فيهما لغير صائم، وتخليل اللحية الكثيفة والأصابع، والتيامن، وأخذ ماء جديد للأذنين، والغسلة الثانية والثالثة.
ــ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ওযুর সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মিসওয়াক করা, উভয় কবজি তিনবার ধৌত করা—তবে ওযু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর তা ধৌত করা ওয়াজিব—কুলি করার মাধ্যমে আরম্ভ করা, অতঃপর নাকে পানি দেওয়া এবং রোযাদার না হলে এই উভয় ক্ষেত্রে আধিক্য করা, ঘন দাড়ি ও আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা, ডান দিক থেকে শুরু করা, কানের জন্য নতুন পানি নেওয়া এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করা।
—
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
باب فروض الوضوء وصفتهفروضه ستة: غسل الوجه -والفمُ والأنفُ منه- وغسلُ اليدين، ومَسْحُ الرأس و (منه الأذنان)، وغسلُ الرِّجْلين، والترتيب، والموالاة وهي: أن لا يؤخر غسل عضو حتى ينشفَ الذي قبله.
والنية شرط لطهارة الأحداث كلها (*) (1)، فينوي رفع الحدث أو الطهارة لما لا يباح إلا بها، فإن نوى ما تسن له الطهارة كقراءة، أو تجديدًا مسنونًا ناسيًا حدثه ارتفع، وإن نوى غسلًا مسنونًا أجزأ عن واجب، وكذا عكسه، وإن اجتمعت أحداث توجب وضوءًا أو غسلًا فنوى بطهارته أحدَها ارتفع سائرُها، ويجب الإتيان بها عند أول واجبات الطهارة، وهو التسمية، وتسن
ــ
(*) قال في الاختيارات: ولا يمسح العنق، وهو قول جمهور العلماء، ولا أخذه ماءً جديداً للأذنين، وهو أصح الروايتين عن أحمد، وهو قول أبي حنيفة وغيره.
(*) قال في الإنصاف: مفهوم قوله: (والنيةُ شرطٌ لطهارة الحدث) أنها لا تشترط لطهارة الخبث، وهو صحيح وهو المذهب، وعليه أكثر الأصحاب، قال: في الاختيارات: ولا يجب نطق بها سراً باتفاق الأئمة الأربعة وقولين في مذهب أحمد، وغيره في استحباب النطق بها، والأقوى عدمه، واتفقت الأئمة على أنه لا يشرع الجهر بها ولا تكرارها.
--------------------------------------------
অজুর ফরজসমূহ ও এর পদ্ধতি পরিচ্ছেদএর ফরজ ছয়টি: মুখমণ্ডল ধৌত করা—মুখ এবং নাক এর অন্তর্ভুক্ত—এবং দুই হাত ধৌত করা, এবং মাথা মাসেহ করা (কান দুটি মাথার অন্তর্ভুক্ত), এবং দুই পা ধৌত করা, এবং ক্রম অনুসরণ করা এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করা; আর ধারাবাহিকতা হলো: একটি অঙ্গ ধৌত করতে এতটুকু বিলম্ব না করা যাতে তার আগেরটি শুকিয়ে যায়।
আর সকল প্রকার হাদাস (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিয়ত একটি শর্ত (*) (১)। সুতরাং সে হাদাস দূর করার অথবা এমন কাজের জন্য পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করবে যা পবিত্রতা ব্যতীত বৈধ নয়। অতঃপর যদি সে এমন কিছুর নিয়ত করে যার জন্য পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নত—যেমন তিলাওয়াত অথবা নিজের হাদাসের কথা ভুলে গিয়ে সুন্নত হিসেবে অজু নবায়ন করা—তবে তার হাদাস দূর হয়ে যাবে। আর যদি সে সুন্নত গোসলের নিয়ত করে তবে তা ওয়াজিব গোসলের জন্য যথেষ্ট হবে, তদ্রূপ এর বিপরীতটিও। আর যদি এমন একাধিক হাদাস একত্রিত হয় যা অজু বা গোসল ওয়াজিব করে, আর সে তার পবিত্রতার মাধ্যমে সেগুলোর কোনো একটির নিয়ত করে, তবে তার অন্য সব হাদাসও দূর হয়ে যাবে। আর পবিত্রতার প্রথম ওয়াজিব কাজের সময় নিয়ত করা ওয়াজিব, আর তা হলো বিসমিল্লাহ বলা; আর এটি সুন্নত...
--
(*) 'আল-ইখতিয়ারাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ঘাড় মাসেহ করা হবে না, আর এটিই জুমহুর (অধিকাংশ) আলিমের অভিমত। আর কানের জন্য নতুন পানি গ্রহণ করা হবে না, এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ এবং এটি ইমাম আবু হানিফা ও অন্যদেরও অভিমত।
(*) 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাঁর এই উক্তি—(হাদাস থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিয়ত শর্ত)—এর মর্মার্থ হলো এই যে, খবিস (নাজাসাত) দূর করার জন্য নিয়ত শর্ত নয়। আর এটিই সঠিক এবং এটিই মাযহাবের সিদ্ধান্ত, এবং অধিকাংশ সহযোগী আলিম (আসহাব) এর ওপরই রয়েছেন। তিনি বলেন: 'আল-ইখতিয়ারাত' গ্রন্থে রয়েছে: চার ইমামের ঐকমত্যে মনে মনে নিয়ত উচ্চারণ করা ওয়াজিব নয়। আর ইমাম আহমাদের মাযহাবে এর মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে, তবে অধিক শক্তিশালী মত হলো এটি মুস্তাহাব না হওয়া। আর ইমামগণ একমত হয়েছেন যে, সশব্দে নিয়ত করা এবং এর পুনরাবৃত্তি করা শরিয়তসম্মত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عند أول مسنوناتها إن وُجدَ قبل واجبِ، واستصحابُ ذكرِها في جميعها، ويجب استصحابُ حكمها.
وصفة الوضوء أن ينوي، ثم يسمي، ويغسل كفيه ثلاثاً، ثم يتمضمض، ويستنشق، ويغسل وجهه من منابت شعر الرأس إلى ما انحدر من اللَّحْيَيْن والذَّقَن طولاً، ومن الأذن إلى الأذن عرضاً، وما فيه من شعر خفيف، والظَّاهرَ الكثيفَ مع ما استرسل منه، ثم يديه مع المرفقين، ثم يمسح كل رأسه مع الأذنين مرة واحدة، ثم يغسل رجليه مع الكعبين، ويغسلُ الأَقْطَعُ بقيَّةَ المفروض، فإن قُطع من المَفْصِل غَسَلَ رأسَ العَضُدِ منه، ثم يرفعُ بصرَهُ إلى السماء، ويقول ما ورد، وتباح معونتُه وتنشيفُ أعضائه.
ــ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ওয়াজিব কাজের পূর্বে যদি কোনো সুন্নাত কাজ বিদ্যমান থাকে তবে তার শুরুতে (নিয়ত করা), আর ওজু চলাকালীন পূর্ণ সময় নিয়তের কথা স্মরণে রাখা মুস্তাহাব এবং এর হুকুম বা কার্যকারিতা বজায় রাখা ওয়াজিব।
ওজুর পদ্ধতি হলো—নিয়ত করা, অতঃপর বিসমিল্লাহ বলা, কবজি পর্যন্ত দুই হাত তিনবার ধোয়া, এরপর কুলি করা ও নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা। এরপর মুখমণ্ডল ধোয়া—দৈর্ঘ্যে মাথার চুলের স্বাভাবিক জন্মস্থান থেকে চোয়ালের দুই অস্থির নিম্নভাগ ও থুতনি পর্যন্ত এবং প্রস্থে এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত; সেই সাথে মুখের পাতলা দাড়ি এবং ঘন দাড়ির উপরিভাগ ও যা ঝুলে থাকে তা ধোয়া। অতঃপর কনুইসহ দুই হাত ধোয়া, এরপর কানসহ পুরো মাথা একবার মাসেহ করা, তারপর টাখনুসহ দুই পা ধোয়া। অঙ্গহানি হওয়া ব্যক্তি ফরজের অবশিষ্ট অংশ ধোবেন; আর যদি তা জোড় (সন্ধিস্থল) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে বাহুর অগ্রভাগ ধোবেন। এরপর আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করবেন এবং বর্ণিত দোয়া পাঠ করবেন। ওজুতে অন্য কারো সাহায্য গ্রহণ করা এবং ওজুর অঙ্গসমূহ মুছে শুকানো বৈধ।
—
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
باب مسح الخُفَّيِنْيجوز يوماً وليلة، والمسافر ثلاثة بلياليها، مِنْ حَدَثٍ بعد لُبْسٍ، على طاهرٍ، مباحٍ، ساترٍ للمفروض (*)، يَثْبُتُ بنفسه (*) من خُفٍّ وجوربٍ صفيقٍ ونحوهِما، وعلى عِمامةٍ لرجل، محنكةٍ أو ذاتِ ذُؤابةٍ، وعلى خُمر نساءٍ مدارةٍ تحت حلوقهن، في حدث أصغر، وعلى جَبيرةٍ لم تتجاوز قدر الحاجة (*) - ولو (في) أَكْبَرَ - إلى حَلِّها، إذا لَبِس ذلك بعد كمال الطهارة. ومَنْ مسحَ في سفر ثم أقام أو عَكَسَ، أو شكَّ في ابتدائه، فمَسْح مقيمٍ، وإن أحدث ثم سافر قبل مَسْحِه، فمسحَ مسافر. ولا يمسح قَلانِسَ ولا لُفَافةً، ولا ما يسقط من القدم أو يُرى منه بعضُه (*)، فإن لبس خفّاً على خُفٍّ قبل الحدث فالحُكْم للفَوْقَانيِّ، ويمسح أكثر العمامة، وظاهر قدم الخُفِّ من أصابعه إلى ساقه، دون أسفله وعَقِبِه، وعلى جميعِ الجبيرةٍ. ومتى ظهر بعضُ محلِّ الفرض بعد الحدث أو تَمَّتْ مُدَّتُه استأنف الطهارة.
ــ
(*) قوله: (ساتر للمفروض)، قال في الاختيارات: ويجوز المسح على الخُفِّ المُخَرَّق ما دام اسمه باقياً، والمشي فيه ممكن، قال في الإنصاف: واختاره أيضاً جَدُّه من العلماء، لكن من شَرْطِ الخَرْقِ أن لا يَمْنَعَ متابعةَ المشي.
(*) قوله: (يثبت بنفسه)، اختار شيخ الإسلام عدم اشتراطه، وجواز المسح على الزربول الذي لا يثبت إلا بِسَيْرٍ يشدُّه به متَّصلاً أو منفصلاً عنه، قال: وأما اشتراط الثبات بنفسه فلا أصل له في كلام أحمد.
(*) قوله: (وجبيرة لم تتجاوز قدر الحاجة) قال في الإنصاف: إذا تجاوز قدر الحاجة نزعه إن لم يخف التَّلَف، فإن خاف التلف سقط عنه بلا نزاع، وكذا إن خاف الضرر على الصحيح من المذهب.
(*) قوله: من القدم أو يُرَى منه بعضُهُ)، تقدم اختيار شيخ الإسلام، ومال المجد إلى العفو عن خرق لا يمنع متابعة المشي ظراً إلى ظاهر خفاف الصحابة.
মোজাদ্বয়ের ওপর মাসেহ করার অধ্যায়এটি একদিন ও একরাত জায়েয, আর মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত; (এই সময়কাল গণনা করা হবে) পবিত্র অবস্থায় পরার পর অপবিত্র (হাদাস) হওয়ার সময় থেকে। (শর্ত হলো মোজা দুটি) পবিত্র, বৈধ এবং ফরযের স্থানকে (গোড়ালি পর্যন্ত পা) আবৃতকারী হতে হবে, যা নিজে নিজেই (পায়ের সাথে) স্থির থাকে; যেমন চামড়ার মোজা, স্থুল সাধারণ মোজা এবং এই জাতীয় বস্তু। আর পুরুষের জন্য এমন পাগড়ির ওপর (মাসেহ করা জায়েয) যা থুতনির নিচ দিয়ে ঘোরানো অথবা যার পেছনে ঝুলন্ত অংশ (শিমলা) রয়েছে। আর নারীদের এমন ওড়নার ওপর যা তাদের গলার নিচ দিয়ে প্যাঁচানো থাকে; এটি কেবল ছোট অপবিত্রতার (হাদাসে আসগার) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এছাড়া এমন ব্যান্ডেজ বা জবিরাহ্-র ওপর মাসেহ করা যাবে যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থান আবৃত করেনি—এমনকি বড় অপবিত্রতার (হাদাসে আকবার) ক্ষেত্রেও—যতক্ষণ না তা খোলার উপযুক্ত হয়, যদি তা পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর পরিধান করা হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি সফরে মাসেহ করার পর মুকিম হলো অথবা এর উল্টোটা ঘটল, কিংবা মাসেহ শুরুর সময় সম্পর্কে সন্দেহে পড়ল, তবে সে মুকিমের ন্যায় মাসেহ করবে। আর যদি সে অপবিত্র হওয়ার পর মাসেহ করার পূর্বেই সফরে বের হয়, তবে সে মুসাফিরের ন্যায় মাসেহ করবে। টুপির ওপর বা পায়ের পট্টির ওপর মাসেহ করা যাবে না, আর এমন কিছুর ওপরও নয় যা পা থেকে খুলে পড়ে যায় অথবা যা থেকে (পায়ের ফরয স্থানের) কোনো অংশ দেখা যায়। যদি অপবিত্র হওয়ার আগে মোজার ওপর মোজা পরিধান করে, তবে বিধান ওপরের মোজাটির জন্য প্রযোজ্য হবে। পাগড়ির অধিকাংশ স্থানে মাসেহ করতে হবে এবং মোজার ওপরের অংশে আঙুল থেকে নলা পর্যন্ত মাসেহ করবে; মোজার নিচের অংশ এবং গোড়ালি মাসেহ করবে না। তবে ব্যান্ডেজের সম্পূর্ণ অংশে মাসেহ করতে হবে। যখন অপবিত্র হওয়ার পর ফরয স্থানের কোনো অংশ প্রকাশ হয়ে পড়বে অথবা মাসেহ এর সময়সীমা শেষ হয়ে যাবে, তখন তাকে পুনরায় নতুন করে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।
—
(*) তাঁর উক্তি: (ফরযের স্থানকে আবৃতকারী), ‘আল-ইখতিয়ারাতে’ বলা হয়েছে: ছেঁড়া মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েয যতক্ষণ পর্যন্ত তা মোজা হিসেবে গণ্য হয় এবং তাতে হাঁটা সম্ভব হয়। ‘আল-ইনসাফ’-এ বলা হয়েছে: তাঁর দাদাও (মাজদ উদ্দীন) আলেমগণের মধ্য থেকে এটিই পছন্দ করেছেন, তবে শর্ত হলো ছিদ্রটি যেন ক্রমাগত হাঁটাতে বাধা না দেয়।
(*) তাঁর উক্তি: (যা নিজে নিজেই স্থির থাকে), শাইখুল ইসলাম এটি শর্ত না করার মতকে বেছে নিয়েছেন এবং এমন জুতোর ওপর মাসেহ জায়েয বলেছেন যা ফিতে দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছাড়া স্থির থাকে না, সেই ফিতে জুতোর সাথে সংযুক্ত হোক বা আলাদা। তিনি বলেন: নিজে নিজে স্থির থাকার শর্ত করার ব্যাপারে ইমাম আহমাদের বক্তব্যে কোনো ভিত্তি নেই।
(*) তাঁর উক্তি: (ব্যান্ডেজ যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থান আবৃত করেনি), ‘আল-ইনসাফ’-এ বলা হয়েছে: যদি ব্যান্ডেজ প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থান আবৃত করে, তবে অঙ্গহানির ভয় না থাকলে তা খুলে ফেলবে। আর যদি অঙ্গহানির ভয় থাকে তবে কোনো মতভেদ ছাড়াই তা না খুলেই মাসেহ করা জায়েয হবে। তেমনি মাযহাবের বিশুদ্ধ মতানুসারে ক্ষতির ভয় থাকলেও একই বিধান।
(*) তাঁর উক্তি: (পা থেকে বা যা থেকে কোনো অংশ দেখা যায়), ইতিপূর্বে শাইখুল ইসলামের পছন্দনীয় মত উল্লেখ করা হয়েছে। আর আল-মাজদ সাহাবায়ে কেরামের মোজাগুলোর বাহ্যিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে এমন ছিদ্র ক্ষমাযোগ্য হওয়ার দিকে ঝুঁকেছেন যা ক্রমাগত হাঁটাতে বাধা প্রদান করে না।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
باب نواقض الوضوءينقض ما خرج من سبيل، وخارجٌ من بقية البدن إن كان بولاً أو غائطاً أو كثيراً نجساً غيرَهما، وزوالُ العقل إلا يسيرَ نومٍ من قاعدٍ أو قائمٍ (*)، ومسُّ ذَكَرٍ مُتَّصلٍ أو قُبُلٍ بظَهْر كَفّه أو بطنِه، ولمسُهُما من خُنْثَى مُشْكلٍ، ولمسُ ذكر ذَكَرَهُ أو أنثى قُبُلهَا لشهوةٍ فيهما، ومسُّه امرأةً بشهوةٍ أو تمسُّه بها (*)، ومسُّ حلقةِ دُبُرٍ، لا مَسُّ شعر وظفرٍ وأَمْردَ، ولامع حائل، ولا ملموسٍ بدنُهُ ولو وجد منه شهوَةً. وينقضُ غسلُ ميتٍ، وأكلُ اللحم خاصةً من الجَزُور (*)، وكلُّ ما أوجب غسلاً أوجب وضوءاً إلا الموتَ، ومن تيقن الطهارة وشَكَّ في الحدث أو بالعكس بنى على اليقين، فإن تيقنهما وجهل السابق فهو بضد حالهِ قَبْلَهُمَا. ويَحْرُم على المحدث مسُّ المصحف، والصلاةُ، والطوافُ.
ــ
(*) قوله: (وزوال العقل إلا يسير نوم من قاعد وقائم) هذا المذهب، وعنه أن نوم الراكع والساجد لا ينقض يسيره، قال في الاختيارات: والنوم لا ينقض مطلقاً إن ظن بقاء طهارته، وهو أخص من رواية حكيت عن أحمد: أن النوم لا ينقض بحال.
(*) قوله: (ومسه امرأة بشهوة أو تمسه بها) هذا المذهب، وعنه: لا ينقض، قال في الاختيارات: ومال أبو العباس أخيراً إلى من مسِّ النساء والأمرد إذا كان لشهوة، قال: إذا مسَّ المرأةَ لغير شهوة فهذا مما عُلم بالضرورة أن الشارع لم يوجبْ منه الوضوء، ولا يستحب الوضوء منه.
(*) قوله: (وأكل اللحم خاصة من الجزور)، قال في المقنع: وإن أكل من كبدها أو طحالها فعلى وجهين، قال في الإنصاف: أحدهما: لا ينقض وهو المذهب، وعليه أكثر الأصحاب، والثاني: ينقض. انتهى، واختار شيخ الإسلام في الفتاوى جميع أجزاء الجزور حكمُها واحد، قال في الاختيارات: ويستحب الوضوء من أكل لحم الإبل.
ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়পস্রাব ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে যা কিছু বের হয় তা ওযূ ভঙ্গ করে। এছাড়া শরীরের অবশিষ্ট অংশ দিয়ে যদি পস্রাব বা পায়খানা বের হয় অথবা পস্রাব ও পায়খানা ব্যতীত অন্য কোনো অপবিত্র বস্তু নির্গত হয় যা পরিমাণে অধিক, তবে তাও ওযূ ভঙ্গকারী। জ্ঞান লোপ পাওয়া ওযূ ভঙ্গ করে, তবে বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সামান্য ঘুম ব্যতীত। শরীরের সাথে যুক্ত লিঙ্গ অথবা লজ্জাস্থান হাতের তালুর ওপরের পিঠ বা ভেতরের অংশ দিয়ে স্পর্শ করা ওযূ ভঙ্গকারী। কোনো ‘খুনছা মুশকিলে’র (লিঙ্গ নির্ধারণে জটিলতা আছে এমন ব্যক্তি) ক্ষেত্রে উক্ত অঙ্গদ্বয় স্পর্শ করাও ওযূ ভঙ্গকারী। কোনো পুরুষ কর্তৃক কামোত্তেজনা সহকারে নিজের লিঙ্গ স্পর্শ করা অথবা কোনো নারী কর্তৃক কামোত্তেজনা সহকারে নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ করাও ওযূ ভঙ্গকারী। কোনো পুরুষ কর্তৃক কোনো নারীকে কামোত্তেজনা সহকারে স্পর্শ করা অথবা কোনো নারী কর্তৃক কোনো পুরুষকে কামোত্তেজনা সহকারে স্পর্শ করা ওযূ ভঙ্গকারী। মলদ্বারের বৃত্ত স্পর্শ করা ওযূ ভঙ্গকারী; তবে চুল, নখ বা শ্মশ্রুহীন (দাড়িবিহীন) বালক স্পর্শ করলে ওযূ ভঙ্গ হবে না। স্পর্শের ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় বা পর্দা থাকলেও ওযূ ভঙ্গ হবে না। আর যার শরীর স্পর্শ করা হয়েছে তার ওযূ ভঙ্গ হবে না, যদিও সে কামোত্তেজনা অনুভব করে। মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া ওযূ ভঙ্গ করে এবং বিশেষ করে উটের মাংস ভক্ষণ করা ওযূ ভঙ্গ করে। মৃত্যু ব্যতীত যা কিছু গোসল ওয়াজিব করে তা ওযূও ওয়াজিব করে। যে ব্যক্তি পবিত্র থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত কিন্তু অপবিত্র হওয়ার (ওযূ ভঙ্গের) ব্যাপারে সন্দিহান, অথবা এর বিপরীত (অর্থাৎ অপবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত কিন্তু ওযূ করার ব্যাপারে সন্দিহান), সে তার নিশ্চিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করবে। আর যদি সে পবিত্রতা ও অপবিত্রতা উভয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে কিন্তু কোনটি আগে ঘটেছে তা না জানে, তবে সে ওই উভয় অবস্থার পূর্ববর্তী অবস্থার বিপরীত অবস্থা গ্রহণ করবে। ওযূহীন ব্যক্তির জন্য মুসহাফ (কুরআন) স্পর্শ করা, সালাত আদায় করা এবং তওয়াফ করা হারাম।
--
(*) লেখকের উক্তি: (এবং জ্ঞান লোপ পাওয়া, তবে বসে থাকা ও দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির সামান্য ঘুম ব্যতীত) এটিই মাযহাবের (হাম্বলী) সিদ্ধান্ত। ইমাম আহমাদ থেকে অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, রুকু ও সেজদারত ব্যক্তির সামান্য ঘুমে ওযূ ভঙ্গ হবে না। ‘আল-ইখতিয়ারাতে’ বলা হয়েছে: যদি পবিত্রতা অবশিষ্ট থাকার ব্যাপারে প্রবল ধারণা থাকে তবে ঘুম সাধারণভাবে ওযূ ভঙ্গ করে না; এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত ওই বর্ণনার চেয়েও সুনির্দিষ্ট যাতে বলা হয়েছে যে, ঘুম কোনো অবস্থাতেই ওযূ ভঙ্গ করে না।
(*) লেখকের উক্তি: (এবং তার কোনো নারীকে কামোত্তেজনা সহকারে স্পর্শ করা অথবা নারীর তাকে স্পর্শ করা) এটিই মাযহাবের সিদ্ধান্ত। ইমাম আহমাদ থেকে অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, এতে ওযূ ভঙ্গ হবে না। ‘আল-ইখতিয়ারাতে’ বলা হয়েছে: আবু আল-আব্বাস (ইবনে তাইমিয়্যাহ) পরবর্তী সময়ে ওই মতের দিকে ঝুঁকেছেন যে, নারী ও শ্মশ্রুহীন বালককে কামোত্তেজনা সহকারে স্পর্শ করলে ওযূ ভঙ্গ হয়। তিনি বলেন: যদি কেউ কামোত্তেজনা ব্যতীত নারীকে স্পর্শ করে, তবে এটি অকাট্যভাবে জানা আছে যে শরীয়তদাতা এতে ওযূ ওয়াজিব করেননি এবং এ থেকে ওযূ করা মুস্তাহাবও নয়।
(*) লেখকের উক্তি: (এবং উটের মাংস বিশেষ করে ভক্ষণ করা)। ‘আল-মুকনি’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি কেউ উটের কলিজা বা প্লীহা ভক্ষণ করে তবে এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে। ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: প্রথম মতটি হলো এতে ওযূ ভঙ্গ হবে না এবং এটিই মাযহাব এবং অধিকাংশ ফকীহ এই মতের ওপর রয়েছেন। দ্বিতীয় মতটি হলো এতে ওযূ ভঙ্গ হবে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আর শাইখুল ইসলাম তাঁর ‘ফাতাওয়া’ গ্রন্থে এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, উটের শরীরের সকল অংশের হুকুম একই। ‘আল-ইখতিয়ারাতে’ বলা হয়েছে: উটের মাংস ভক্ষণ করলে ওযূ করা মুস্তাহাব।
(খণ্ড: ১)
কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
باب الغسلموجبُه خروجُ المَني دَفْقاً بلذَّةٍ لا بدونها، من غير نائمٍ: وإن انتقل ولم يخرجْ اغتسل له (*)، فإن خَرج بعد لم يُعِدْه، وتغييبُ في فَرْجٍ أَصْليٍ قُبُلاً كان أو دُبُراً ولو من بهيمة أو ميت، وإسلامُ كافرٍ، وموتٌ، وحيضٌ، ونِفَاسٌ، لا ولادةٌ عاريةٌ عن دم (*).
ومن لزمه الغسل حرم عليه قراءةُ القرآن، ويَعْبُر المسجدَ لحاجةٍ، ولا يَلْبَثُ فيه بغير وضوء.
ومن غَسل ميتاً، أو أفاق من جنونٍ أو إغماءٍ، بلا حُلم، سُنَّ له الغسلُ. والغسلُ الكاملُ: أن ينويَ، ثم يُسَمِّي، ويغسل كفَّيه ثلاثاً وما لوَّثَه، ويتوضأ، ويَحْثي على رأسه ثلاثاً تُرَوِّيه، ويَعُمُّ بدنَه غُسْلاً ثلاثاً، ويدلكه، ويتيامن، ويغسل قدميه مكاناً آخَرَ.
والمُجْزِئُ: أن ينويَ، ثم يُسَمِّي، ويَعُم بدنَه بالغُسْلِ مرةً، ويتوضأ بمُدٍّ، ويغتسل بصاع، أو نوى بغسله الحدثين أجزأ.
ويسن لجنُبٍ غسلُ فرجِه، والوضوءُ: لأكلٍ ونوم ومعاودةِ وطءٍ.
ــ
(*) قوله: (وإن انتقل ولم يخرج اغتسل له). هذا من مفردات المذهب، وعنه لا يجب الغسل حتى يخرج، وهو قول أكثر العلماء، قال في الشرح وهو الصحيح إن شاء الله.
(*) قوله: (لا ولادة عَارِيَة عن دم) قال في المقنع: وفي الولادة العاَرِيَّةِ عن الدم وجهان، قال في الإنصاف: أحدهما: لا يجب، وهو المذهب إلى أن قال: والثاني: يجب، وهو رواية في الكافي، واختاره ابن أبي موسى، وجزم به القاضي في الجامع الصغير.
গোসলের অধ্যায়এর কারণসমূহ হলো—ঘুমন্ত ব্যক্তি ব্যতীত বীর্য সজোরে উত্তেজনার সাথে নির্গত হওয়া; উত্তেজনা ব্যতীত নির্গত হলে গোসল ওয়াজিব হবে না। যদি বীর্য স্বস্থান থেকে স্থানান্তরিত হয় কিন্তু নির্গত না হয়, তবে এর জন্যও গোসল করতে হবে (*)। এরপর যদি তা নির্গত হয়, তবে পুনরায় গোসল করতে হবে না। আর লিঙ্গমুণ্ডু আসল লজ্জাস্থানে প্রবিষ্ট করা, তা সম্মুখ বা পশ্চাৎ পথ যে কোনোটিই হোক না কেন এবং তা কোনো পশু বা মৃতদেহের হলেও। আর কাফিরের ইসলাম গ্রহণ, মৃত্যু, হায়েয (ঋতুস্রাব) এবং নিফাস (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব)। তবে রক্তহীন সন্তান প্রসবের কারণে গোসল ওয়াজিব নয় (*)।
যার ওপর গোসল ফরয হয়েছে, তার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা হারাম। তবে প্রয়োজনে সে মসজিদের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে, কিন্তু ওযু ছাড়া সেখানে অবস্থান করতে পারবে না।
যে ব্যক্তি মৃতদেহকে গোসল দেয়, অথবা পাগলামি বা মূর্ছা যাওয়া থেকে সুস্থ হয় (স্বপ্নদোষ ব্যতীত), তার জন্য গোসল করা সুন্নাত। পূর্ণাঙ্গ গোসলের নিয়ম হলো: নিয়ত করা, এরপর বিসমিল্লাহ বলা, দুই কবজি তিনবার ধৌত করা এবং শরীর থেকে অপবিত্রতা দূর করা। এরপর ওযু করা এবং মাথায় তিনবার এমনভাবে পানি ঢালা যাতে তা মাথার চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর তিনবার পুরো শরীরে পানি প্রবাহিত করা, শরীর মলা, ডান দিক থেকে শুরু করা এবং সবশেষে অন্য স্থানে গিয়ে দুই পা ধৌত করা।
পর্যাপ্ত বা ন্যূনতম গোসল হলো: নিয়ত করা, এরপর বিসমিল্লাহ বলা এবং পুরো শরীরে একবার পানি প্রবাহিত করা। ওযুর জন্য এক মুদ্দ এবং গোসলের জন্য এক সা’ পরিমাণ পানি ব্যবহার করবে। অথবা যদি কেউ তার গোসলের মাধ্যমে উভয় প্রকার নাপাকি (বড় ও ছোট) দূর করার নিয়ত করে, তবে তা যথেষ্ট হবে।
জুনুব (অপবিত্র) ব্যক্তির জন্য তার লজ্জাস্থান ধৌত করা এবং খাবার গ্রহণ, ঘুমানো ও পুনরায় সহবাসের জন্য ওযু করা সুন্নাত।
--
(*) তাঁর উক্তি: (যদি স্থানান্তরিত হয় কিন্তু নির্গত না হয়, তবে এর জন্য গোসল করবে)। এটি মাযহাবের একক অভিমতসমূহের (মুফরাদাত) অন্তর্ভুক্ত। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত অপর এক বর্ণনায় আছে যে, নির্গত না হওয়া পর্যন্ত গোসল ওয়াজিব হবে না; এটিই অধিকাংশ আলিমের অভিমত। 'শরহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, ইনশাআল্লাহ এটিই সঠিক।
(*) তাঁর উক্তি: (রক্তহীন প্রসবের কারণে নয়)। 'আল-মুকনি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: রক্তহীন প্রসবের বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: একটি হলো ওয়াজিব নয়, আর এটিই মাযহাব। দ্বিতীয় অভিমত হলো—ওয়াজিব; এটি 'আল-কাফি' গ্রন্থের একটি বর্ণনা। ইবন আবি মুসা একে পছন্দ করেছেন এবং আল-কাযী 'আল-জামি আস-সাগীর' গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন।