(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الغرر النقية على الدرر البهية   (فيصل آل مبارك)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الغُرَرُ النَقِيَّةُ على الدُّرَر البَهيَّة

المؤلف: فيصل بن عبد العزيز آل مبارك (ت 1376 هـ)

عُنِي به: محمد بن حسن بن عبد الله آل مبارك

الناشر: دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 113

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 شعبان 1438

আল-গুরার আন-নাকিয়্যাহ আলা আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ   (ফয়সাল আল মুবারক)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: আল-গুরার আন-নাকিয়্যাহ আলা আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ

লেখক: ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক (ওফাত ১৩৭৬ হিজরি)

সম্পাদনায়: মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল মুবারক

প্রকাশক: দার কুনুজ ইশবিলিয়া ফর পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৪ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
الغُرَرُ النَقِيَّةُ على الدُّرَر البَهيَّة

للشيخ العلَّامة

فيصل بن عبد العزيز آل مبارك رحمه الله

المتوفي عام 1376 هـ

(يُطبَعُ لأوَّلِ مرَّةٍ)

عُني به

محمد بن حسن بن عبد الله آل مبارك

كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع
আল-গুরারুন নাকিইয়্যাহ ‘আলা আদ-দুরারিল বাহিয়্যাহ

শাইখুল আল্লামাহ

ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ)

মৃত্যু: ১৩৭৬ হিজরি

(প্রথমবারের মতো মুদ্রিত)

তত্ত্বাবধানে ও সম্পাদনায়

মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল মুবারক

কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও পরিবেশনা
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
الغُرَرُ النَقِيَّةُ على الدُّرَر البَهيَّة
আল-গুরারুন নাকিইয়াহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الغُرَرُ النَقِيَّةُ على الدُّرَر البَهيَّة

للشيخ العلَّامة

فيصل بن عبد العزيز آل مبارك رحمه الله

المتوفي عام 1376 هـ

(يُطبَعُ لأوَّلِ مرَّةٍ)

عُني به

محمد بن حسن بن عبد الله آل مبارك

كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع
আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ-এর ওপর আল-গুরার আন-নাকিয়্যাহ

প্রাজ্ঞ শায়খ

ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক (রহিমাহুল্লাহ)

মৃত্যু ১৩৭৬ হিজরী

(প্রথমবারের মতো মুদ্রিত)

সম্পাদনায়

মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল মুবারক

কুনুজ ইশবিলিয়া প্রকাশনী
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
دار كنوز إشبيليا للنشر والتوريع 1425 هـ

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر

المبارك، فيصل عبدالعزيز

الغرر النقية على الدرر البهية/ فيصل عبدالعزيز المبارك؛ محمد حسن المبارك. - الرياض 1426 هـ

113 ص؛ 17×24 سم

ردمك: 5 - 08 - 701 - 9960

1 - العبادات (فقه إسلامي)

أ. المبارك، محمد حسن (محقق)

ب- العنوان

ديوي 252

1598/ 1426

رقم الإيداع: 1598/ 1426

ردمك: 5 - 08 - 701 - 9960

جميع حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الأولى

1426 هـ - 2005 م

دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع

المملكة العربية السعودية ص. ب 27261 الرياض 11417

هاتف: 4742458 - 4773959 - 4794354 فاكس: 4787140

E-mail: eshbelia@hotmail.com
দার কুনুজে ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ ১৪২৫ হিজরি

প্রকাশনাধীন কিং ফাহদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাটালগিং-ইন-পাবলিকেশন ডেটা

আল-মুবারক, ফয়সাল আব্দুল আজিজ

আল-গুরারুন নাকিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ/ ফয়সাল আব্দুল আজিজ আল-মুবারক; মুহাম্মদ হাসান আল-মুবারক। - রিয়াদ ১৪২৬ হিজরি

১১৩ পৃষ্ঠা; ১৭×২৪ সেমি

আইএসবিএন: ৫ - ০৮ - ৭০১ - ৯৯৬০

১ - ইবাদাতসমূহ (ইসলামি ফিকহ)

ক. আল-মুবারক, মুহাম্মদ হাসান (গবেষক-সম্পাদক/محقق)

খ- শিরোনাম

ডিউই ২৫২

১৫৯৮/ ১৪২৬

ডিপোজিট নম্বর: ১৫৯৮/ ১৪২৬

আইএসবিএন: ৫ - ০৮ - ৭০১ - ৯৯৬০

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

দার কুনুজে ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ

সৌদি আরব রাজ্য, ডাক বক্স ২৭২৬১, রিয়াদ ১১৪১৭

ফোন: ৪৭৪২৪৫৮ - ৪৭৭۳৯৫৯ - ৪৭৯৪৩৫৪ ফ্যাক্স: ৪৭৮৭১৪০

E-mail: eshbelia@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌التعريف بالشارح

هو: الشيخُ العالِمُ الورِعُ الزاهدُ فيصل بن عبد العزيز بن فيصل بن حمد آل مبارك، العلَّامةُ المحدِّثُ الفقيهُ المفسِّرُ الأصولِيُّ النَّحْوِيُّ الفَرَضِيُّ.

- وُلِدَ رحمه الله في حُرَيْمِلاءَ عام 1313 هـ، فحفظ القرآن صغيرًا، ثمَّ طَلَبَ العلمَ على عُلماءِ حُرَيْمِلاءَ في وقْتِهِ، ومِنهُم:

1 - جدُّه لأُمِّه الشيخُ العالمُ الورِعُ ناصرُ بنُ محمدٍ الراشد.

2 - وعمُّه العلَّامةُ الشيخ محمدُ بنُ فيصلٍ المبارك.

- ثمَّ طلب العلم على علماء الرياض، فأخذ الفقه عن فقهاءِ عَصْرِه، مِثل:

3 - الشيخ العلَّامةِ عبدِ الله بن عبد اللطيف آل الشيخ رحمه الله "مفتي الديار النجدية".

4 - والشيخ العلَّامةِ المُفْتي محمدٍ بنِ ابراهيم آل الشيخ رحمه الله.

5 - ثم العلامة الفقيه محمد بن عبد العزيز بن مانع رحمه الله.

6 - وأخذ علم الحديث عن محدِّث الوقت العلَّامة الشيخ سعد بن حمد بن عتيق رحمه الله.

7 - وأخذ علم النحو عن سيبويه عصره الشيخ حمد بن فارس رحمه الله.

8 - وعلم الفرائض عن أفرض أهل زمانه الشيخ عبد الله بن راشد الجلعود رحمه الله.

وأخذ عن كثيرٍ غيرهم من أفذاذ العلماء رحمهم الله أجمعين.

إجازاتُه العلميَّة:

أجازَهُ الشيخُ سعدُ بنُ حَمَدٍ بنِ عَتِيقٍ محدث الديار النجدية بتدريس أمهات كتب الحديث، وكذلك أمهات كتب مذهب الإمام أحمد.
ব্যাখ্যাকারকের পরিচিতি

তিনি হলেন: শায়খ, আলিম, পরহেজগার (ورع), দুনিয়াবিমুখ (زاهد) ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ বিন ফয়সাল বিন হামদ আল মুবারক; প্রাজ্ঞ পণ্ডিত (علامة), হাদিস বিশারদ (محدث), ফকিহ (فقيه), মুফাসসির (مفسر), উসুলবিদ (أصولي), ব্যাকরণবিদ (نحوي) এবং ফারায়েজবিদ (فرضي)।

- তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ১৩১৩ হিজরিতে হুরাইমিলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই কুরআন হিফজ করেন, অতঃপর তিনি তৎকালীন হুরাইমিলার উলামায়ে কিরামের নিকট ইলম অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - তাঁর মাতামহ, আলিম, পরহেজগার (ورع) শায়খ নাসের বিন মুহাম্মদ আর-রাশিদ।

২ - তাঁর চাচা, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত (علامة) শায়খ মুহাম্মদ বিন ফয়সাল আল মুবারক।

- অতঃপর তিনি রিয়াদের উলামায়ে কিরামের নিকট ইলম অর্জন করেন এবং তাঁর সমসাময়িক ফকিহদের (فقهاء) নিকট থেকে ফিকহ (فقه) শিক্ষা করেন, যেমন:

৩ - প্রাজ্ঞ পণ্ডিত (علامة) শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফ আল আশ-শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি "নজদ অঞ্চলের মুফতি" ছিলেন।

৪ - প্রাজ্ঞ পণ্ডিত (علامة) ও মুফতি শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল আশ-শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)।

৫ - অতঃপর প্রাজ্ঞ পণ্ডিত (علامة) ও ফকিহ (فقيه) মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মানি' (রাহিমাহুল্লাহ)।

৬ - এবং তিনি তৎকালীন সময়ের হাদিস বিশারদ (محدث), প্রাজ্ঞ পণ্ডিত (علامة) শায়খ সা'দ বিন হামদ বিন আতিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট থেকে হাদিস শাস্ত্রের ইলম গ্রহণ করেন।

৭ - আর তিনি তাঁর যুগের সিবওয়াইহি হিসেবে পরিচিত শায়খ হামদ বিন ফারিস (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট থেকে ব্যাকরণ শাস্ত্রের (نحو) ইলম গ্রহণ করেন।

৮ - এবং তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ফারায়েজ বিশেষজ্ঞ (أفرض) শায়খ আব্দুল্লাহ বিন রাশিদ আল-জালউদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট থেকে ফারায়েজ শাস্ত্রের (فرائض) ইলম অর্জন করেন।

তিনি তাঁদের ছাড়াও আরও অনেক অসামান্য প্রতিভাধর উলামায়ে কিরামের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।

তাঁর ইলমি ইজাজত (إجازات) সমূহ:

নজদ অঞ্চলের হাদিস বিশারদ (محدث) শায়খ সা'দ বিন হামদ বিন আতিক তাঁকে হাদিসের মূল গ্রন্থাবলি এবং ইমাম আহমদের মাজহাবের মূল কিতাবসমূহ পাঠদানের অনুমতি বা ইজাজত (أجاز) প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
- وكذلك أجازه الشيخ سعد إجازة خاصَّة في علم التفسير.

- وأجازه كذلك الشيخ عبد الله بن عبد العزيز العنقري يحميع مرويَّاته.

- وقد أجازه الشيخ عبد العزيز النمر إجازةَ الفتوى عام 1333 هـ، وكان إذ ذاك في العشرين من عمره.

 

‌‌تلاميذه:

تخرَّج على يدي الشيخ رحمه الله أجيالٌ من طلبة العلم، وليَ كثيرٌ منهم القضاء في عدَّة جهات.

 

‌‌من أبرزهم:

1 - الشيخ إبراهيم بن سليمان الراشد رحمه الله قاضي الرياض ووادي الدواسر.

2 - الشيخ عبد الرحمن بن سعد بن يحيى رحمه الله قاضي الرياض وحريملاء.

3 - الشيخ فيصل بن محمد المبارك رحمه الله رئيس هيئة الحسبة وعضو مجلس الشورى بجدة.

4 - الشيخ سعد بن محمد بن فيصل المبارك رحمه الله قاضي وادي الدواسر ثم الوشم.

5 - الشيخ محمد بن مهيزع رحمه الله قاضي الرياض.

6 - الشيخ ناصر بن حمد الراشد رحمه الله رئيس ديوان المظالم.

7 - الشيخ محمد بن عبد الرحمن العباد رحمه الله صاحب كتاب (دواء القلوب).

8 - الشيخ حمود بن مترك البليهد حفظه الله قاضي دومة الجندل.

9 - الشيخ عارف بن مفضي المسعر حفظه الله مدير التعليم ثم مساعد وكيل الأمارة بمنطقة الجوف.

10 - الشيخ سعد بن عبد الرحمن المحارب رحمه الله القاضي بساجر.
- একইভাবে শায়খ সাদ তাঁকে তাফসির শাস্ত্রে বিশেষ অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছেন।

- এবং শায়খ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-আনকারিও তাঁকে তাঁর সকল বর্ণিত রেওয়ায়াতের (مرويات) জন্য অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছেন।

- শায়খ আব্দুল আজিজ আন-নামির তাঁকে ১৩৩৩ হিজরি সনে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল বিশ বছর।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তত্ত্বাবধানে ইলম অন্বেষণকারীদের বহু প্রজন্ম গড়ে উঠেছে এবং তাদের অনেকেই বিভিন্ন অঞ্চলে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

‌‌তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

১ - শায়খ ইব্রাহিম বিন সুলাইমান আল-রাশিদ (রাহিমাহুল্লাহ), রিয়াদ ও ওয়াদি আদ-দাওয়াসিরের বিচারক।

২ - শায়খ আব্দুর রহমান বিন সাদ বিন ইয়াহইয়া (রাহিমাহুল্লাহ), রিয়াদ ও হারাইমালার বিচারক।

৩ - শায়খ ফয়সাল বিন মুহাম্মদ আল-মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ), হাইআতুল হিসবাহর প্রধান এবং জেদ্দার মজলিসে শুরার সদস্য।

৪ - শায়খ সাদ বিন মুহাম্মদ বিন ফয়সাল আল-মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ), ওয়াদি আদ-দাওয়াসির এবং পরবর্তীতে আল-ওয়াশমের বিচারক।

৫ - শায়খ মুহাম্মদ বিন মুহাইজা (রাহিমাহুল্লাহ), রিয়াদের বিচারক।

৬ - শায়খ নাসির বিন হামাদ আল-রাশিদ (রাহিমাহুল্লাহ), দিওয়ান আল-মাজালিমের প্রধান।

৭ - শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-আব্বাদ (রাহিমাহুল্লাহ), 'দাওয়াউল কুলুব' গ্রন্থের লেখক।

৮ - শায়খ হামুদ বিন মাত্রুক আল-বুলাইহিদ (হাফিজাহুল্লাহ), দুমাতুল জানদালের বিচারক।

৯ - শায়খ আরিফ বিন মুফদি আল-মাসআর (হাফিজাহুল্লাহ), শিক্ষা পরিচালক এবং পরবর্তীতে আল-জাওফ অঞ্চলের আমিরের সহকারী প্রতিনিধি।

১০ - শায়খ সাদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুহারিব (রাহিমাহুল্লাহ), সাজিরের বিচারক।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
11 - الشيخ محمد بن سليمان المهنا رحمه الله القاضي بالدوادمي سابقًا.

12 - الشيخ سليمان الربيش حفظه الله القاضي بمحكمة الرياض سابقًا.

- وُيلاحظ أن تلامذة الشيخ رحمه الله وبالأخص في الجوف لم يدرسوا إلا على يد الشيخ فيصل رحمه الله، ومع ذلك تعيَّن الكثير منهم بإجازات خطية من الشيخ قضاةً ودُعاةً في البلدان، وذلك لحسن ثقة الدولة -حفظها الله- في الشيخ رحمه الله وتلامذته.

* * *

 

‌‌مؤلفاته:

للشيخ رحمه الله عِدَّة مؤلفات في جميع العلوم الشرعيَّة - تصل إلى ثلاثين مؤلفاً، فمن كتبه المطبوعة:

1. توفيق الرحمن في دروس القرآن في (أربع مجلدات).

2. بستان الأحبار باختصار نيل الأوطار في (مجلدين).

3. تطريز رياض الصالحين في علم الحديث.

4. السبيكة الذهبية في علم الفرائض.

5. كلمات السداد على متن الزاد في علم الفقه.

6. مفاتيح العربية شرح الآجرُّوميَّة في علم النحو.

وله رحمه الله الكثير من المؤلفات التي لم تطبع بعد.

 

‌‌الشيخ فيصل وجهوده الفقهية:

اعتنى الشيخ فيصلُ بالتصنيف في علم الفقه لا سيما في أُخريات حياته رحمه الله.

أ- فألَّف الشيخ رحمه الله في علم أصول الفقه رسالةً قيِّمةً بعنوان:
11 - শেখ মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আল-মুহান্না (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), যিনি পূর্বে দাওয়াদমি-র বিচারক ছিলেন।

12 - শেখ সুলাইমান আল-রুবাইশ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন), যিনি পূর্বে রিয়াদ আদালতের বিচারক ছিলেন।

- লক্ষ্যণীয় যে, শেখের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ছাত্ররা, বিশেষ করে আল-জাওফ অঞ্চলের ছাত্ররা, শেখ ফয়সাল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ব্যতীত আর কারো কাছে পাঠ গ্রহণ করেননি। তা সত্ত্বেও, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচারক এবং দায়ী (আহ্বায়ক) হিসেবে তাদের অনেকের নিয়োগ শেখের লিখিত অনুমতি (إجازات خطية) পত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এটি ছিল শেখ এবং তাঁর ছাত্রদের প্রতি রাষ্ট্রের (আল্লাহ রাষ্ট্রকে হিফাযত করুন) সুগভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

* * *

 

‌‌তাঁর রচনাবলী:

শরয়ী বিজ্ঞানের সকল শাখায় শেখের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বেশ কিছু রচনা রয়েছে - যার সংখ্যা প্রায় ত্রিশটি। তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:

1. তৌফিকুর রহমান ফি দুরুসিল কুরআন (চার খণ্ডে)।

2. বুস্তানুল আহবার বি-ইখতিসার নাইলুল আওতার (দুই খণ্ডে)।

3. তাতরিযু রিয়াদিস সালিহীন ফি ইলমিল হাদিস।

4. আস-সাবিকাতুজ জাহাবিয়্যাহ ফি ইলমিল ফারাইদ (উত্তরাধিকার বিজ্ঞান)।

5. কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিজ জাদ ফি ইলমিল ফিকহ (الفقه)।

6. মাফাতিহুল আরাবিয়্যাহ শারহুল আজুররুমিয়্যাহ ফি ইলমিন নাহু (النحو)।

তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আরও অনেক রচনা রয়েছে যা এখনও প্রকাশিত হয়নি।

 

‌‌শেখ ফয়সাল এবং তাঁর ফিকহী প্রচেষ্টা:

শেখ ফয়সাল ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন, বিশেষ করে তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) জীবনের শেষভাগে।

ক- শেখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রে একটি মূল্যবান রিসালাহ (رسالة) রচনা করেছেন যার শিরোনাম:
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
1 - (مقام الرشاد بين التقليد والاجتهاد).

ب- أمَّا في الفروع فقد ألَّف الشيخ رحمه الله:

2 - (كلمات السداد على متن زاد المستقنع) للحجاوي.

3 - (المرتع المشبع شرح مواضع من الروض المربع) مخطوطٌ في أربع مجلدات كبيرة.

4 - (مختصر المرتع المشبع) مخطوط، في مجلد.

5 - (مجمع الجوادِّ (1) شرح الزاد) وهو مخطوط.

ج- أمَّا في باب الفرائض من علم الفقه فقد ألَّف الشيخ فيصل رحمه الله رسالتين هما:

6 - (الحجج القاطعة في المواريث الواقعة)، وقد طبع قديمًا ضمن مجموع (المختصرات النافعة) للشيخ فيصل، تحت اسم (الدلائل القاطعة)، ومنه مخطوطة في مكتبة الملك فهد - تصنيف رقم: (252/ 3).

7 - (السبيكة الذهبية على متن الرحبية)، وقد طبعت عام 1379 هـ عن المكتبة الأهلية، ثم عن دار العليان عام 1406 هـ، ثم طبعت مؤخرًا بتحقيق الأستاذ عبد الله الزاحم، كما أنَّ الرسالة قد طُبِعت قديمًا ضمن مجموعة "الرسائل الكمالية"، وهاتان الرسالتان -ولله الحمد- قد يُسِّرَ لي تحقيقُهما على نسخٍ خَطِيَّة.

د- وكذلك ألف الشيخ رحمه الله في الفقه الحديثي:

8 - (شرح الدار البهيَّة)، وهُو كتابُنا هذا.

--------------------------------------------

(1) الجوادُّ بتشديد الدال: جمع جادَّة، وهي الطريق الواضح.
1 - (মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ)।

খ- আর ফুরু (শাখা-প্রশাখা) শাস্ত্রে শেখ (রহিমাহুল্লাহ) রচনা করেছেন:

2 - হিজ্জাউয়ী রচিত 'যাদুল মুস্তাক্বনি' এর মূল পাঠের ওপর (কালিমাতুস সাদাদ্দ আলা মাতনি যাদিল মুস্তাক্বনি)।

3 - (আল-মারতাউল মুশবি শারহু মাওয়াদি' মিনাল রওদিল মুরবি') এটি চারটি বিশাল খণ্ডে একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط)।

4 - (মুখতাসারুল মারতাউল মুশবি) এক খণ্ডে একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط)।

5 - (মাজমাউল জাওয়াদ্দ (১) শারহুয যাদ) এবং এটি একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط)।

গ- আর ফিকহ শাস্ত্রের ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) অধ্যায়ে শেখ ফয়সাল (রহিমাহুল্লাহ) দুটি পুস্তিকা রচনা করেছেন, সেগুলো হলো:

6 - (আল-হুজাজুল ক্বতি'আহ ফিল মাওয়ারিসিল ওয়াক্বি'আহ), এটি ইতিপূর্বে শেখ ফয়সালের 'আল-মুখতাসারাতুন নাফি'আহ' নামক সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে 'আদ-দালাইলুল ক্বতি'আহ' নামে মুদ্রিত হয়েছে। এর একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط) বাদশাহ ফাহদ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে - যার শ্রেণিবিন্যাস নম্বর: (২৫২/৩)।

7 - (আস-সাবিকাতুয যাহাবিয়্যাহ আলা মাতনির রাহবিয়্যাহ), এটি ১৩৭৯ হিজরিতে মাকতাবাতুল আহলিয়্যাহ থেকে, অতঃপর ১৪০৬ হিজরিতে দারুল উলায়ান থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এরপর সম্প্রতি উস্তাদ আবদুল্লাহ আয-যাহিমের সম্পাদনায় (تحقيق) এটি মুদ্রিত হয়েছে। এছাড়াও পুস্তিকাটি ইতিপূর্বে 'আর-রাসাইলুল কামালিয়্যাহ' সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে। আল্লাহর প্রশংসা যে, আমার জন্য এই দুটি পুস্তিকা হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (نسخ خطية) কপির ভিত্তিতে সম্পাদনা (تحقيق) করা সহজসাধ্য হয়েছে।

ঘ- অনুরূপভাবে শেখ (রহিমাহুল্লাহ) ফিকহুল হাদিস (الفقه الحديثي) বিষয়ে রচনা করেছেন:

8 - (শারহুদ দারিল বাহিয়্যাহ), যা আমাদের এই বর্তমান কিতাবটি।

--------------------------------------------

(১) 'আল-জাওয়াদ্দ' শব্দটি 'দাল' বর্ণে তাশদীদসহ: এটি 'জাদ্দাহ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ স্পষ্ট পথ।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌وفاته:

ولي الشيخ فيصل القضاء في عِدَّة بلدان، كان آخِرها منطقة الجوف، والتي توفي بها في ذي القعدة من عام 1376 هـ، عن ثلاثةٍ وستين عامًا قضاها في الدعوة إلى الله وفي الجهاد، وفي العلم والتعليم والتصنيف رحمه الله (1).

 

‌‌وصف المخطوط:

هذا الكتابُ -وهو "شرح الدرر البهيَّة"- يُوجَدُ ضِمنَ مجموعٍ خطِّيٍّ باسم: (زُبدةُ الكلامِ في الأصولِ والآدابِ والأحكامِ)، بخطِّ الشيخِ فيصلٍ المبارك، في ثلاث مجلَّدات في:

1 - مكتبة الملك فهد - تصنيف: مكتبة حريملاء/ رقم: (258/ 3) - (229/ 3) تاريخ الإيداع 10/ 7/ 95 م.

--------------------------------------------

(1) انظر في مصادر ترجمة الشيخ فيصل رحمه الله:

(علماء نجد خلال ثمانية قرون) للشيخ عبد الله البسام رحمه الله ج 5 ص 392 إلى 402.

والأعلام للزركلي: ج 5 / ص 168.

و(مشاهير علماء نجد) للشيخ عبد الرحمن بن عبداللطيف آل الشيخ.

و(روضة الناظرين) للقاضي.

و(العلامة المحقق والسلفي المدقق: الشيخ فيصل المبارك) لفيصل بن عبد العزيز البديوي.

و(المتدارك من تاريخ الشيخ فيصل بن عبد العزيز المبارك) لمحمد بن حسن المبارك.
তাঁর ইন্তেকাল:

শেখ ফয়সাল বিভিন্ন জনপদে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, যার সর্বশেষ ছিল আল-জাওফ অঞ্চল। সেখানেই তিনি ১৩৭৬ হিজরি সনের জিলকদ মাসে তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁর জীবন আল্লাহর পথে দাওয়াত, জিহাদ, জ্ঞানচর্চা, শিক্ষাদান এবং গ্রন্থ রচনায় (تصنيف) অতিবাহিত করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন (১)।

 

পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

এই বইটি—যা হলো "শারহু আদ-দুরারিল বাহিয়্যাহ"—শেখ ফয়সাল আল-মুবারকের স্বহস্তে লিখিত "জুবদাতুল কালাম ফিল উসুল ওয়াল আদাব ওয়াল আহকাম" নামক একটি পাণ্ডুলিপি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:

১ - কিং ফাহাদ লাইব্রেরি - শ্রেণিবিন্যাস: হুরাইমিলা লাইব্রেরি/ নম্বর: (২৫৮/ ৩) - (২২৯/ ৩), জমাদানের তারিখ ১০/ ৭/ ৯৫ খ্রিষ্টাব্দ।

--------------------------------------------

(১) শেখ ফয়সাল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী সংক্রান্ত উৎসসমূহের জন্য দেখুন:

শেখ আবদুল্লাহ আল-বাসসাম (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত "উলামাউ নাজদ খিলালা সামানিয়া কুরুনি", ৫ম খণ্ড, ৩৯২ থেকে ৪০২ পৃষ্ঠা।

এবং আয-যিরিকলি রচিত "আল-আলাম": ৫ম খণ্ড / ১৬৮ পৃষ্ঠা।

এবং শেখ আবদুর রহমান বিন আব্দুল লতিফ আলুশ শেখ রচিত "মাশাহিরু উলামাই নাজদ"।

এবং আল-কাদি রচিত "রাওদাতুন নাযিরিন"।

এবং ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ আল-বুদাইউয়ি রচিত "আল-আল্লামাহ আল-মুহাক্কিক ওয়াস সালাফি আল-মুদাক্কিক: আশ-শাইখ ফয়সাল আল-মুবারক"।

এবং মুহাম্মদ বিন হাসান আল-মুবারক রচিত "আল-মুতাদারাক মিন তারিখিশ শাইখ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ আল-মুবারক"।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
2 - كما توجدُ عنهُ مصوُّرةٌ في دارَة الملك عبد العزيز - تصنيف: مكتبة الشيخِ: فيصلٍ آل مُبارك.

* معلمةُ الشَّيخِ: "فيصل بن عبد العزيز آل مبارك" في العلومِ الإسلَاميَّة:

عندما أقامَ الشيخُ فيصلُ رحمه الله في مدينة سكاكا بمنطقةِ الجوفِ -في أُخرَيَاتِ حيَاتِهِ -ألَّف رحمه الله مَعلمةً-: (موسوعةً) -مُصغَّرة في العُلومِ الإسلامِيَّة ضمَّت بعضَ شُرُوحَهُ رحمه الله على جُملةٍ من المتون العلميَّة، سمَّاها المؤلِّفُ: (زُبدةُ الكلامِ في الأصولِ والآدابِ والأحكامِ).

- قال رحمه الله في أوَّلِهَا:

(أمَّا بعد، فإنَّ كتبَ العِلم قَدْ كثُرَتْ وانتَشَرَتْ، وبُسِطَت واختُصرت، فرأيتُ أن أجمَعَ منها ما يحفظُه الطالبُ ويعْتمِدُ عَليه، ونقَلتُ من كلامِ أهل العِلم ما يبيِّن بعضَ معَانيِه، ليكُونَ أصلًا يَرجِعُ إليه، وجسرًا يعبُرُ منهُ إلى غيرِه إن شاءَ اللهُ تعَالى، والعالِمُ الربَّانِيُّ هُو: الذي يرِّبِّي الناس بأصُولِ العِلم ووَاضِحاتِه، قبل فُروعِه ومُشْكِلاتِه.

ورَتَّبتُ الكتب التي أردتُ، فبدأتُ:

1. بـ (الأربعين النووية).

2. ثمَّ بـ (عمدة الأحكام) للحافظ عبد الغني المقدسي في الحديث.

3. ثمَّ (كتاب التوحيد).

4. ثمَّ (العقيدة الواسطية).

5. ثمَّ (بلوغ المرام).

6. ثمَّ (الدرر البهيَّة).
২ - একইভাবে কিং আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশনে (দারাতুল মালিক আব্দুল আজিজ) এর একটি অনুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে - শ্রেণিবিভাগ: শাইখ ফয়সাল আল মুবারক লাইব্রেরি।

* ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানে শাইখ "ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক"-এর অবদান (معلمة):

যখন শাইখ ফয়সাল (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের শেষ দিকে জাওফ অঞ্চলের সাকাকা শহরে অবস্থান করছিলেন, তখন তিনি ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যকোষ (معلمة) বা বিশ্বকোষ (موسوعة) রচনা করেন। এতে তাঁর বেশ কিছু তাত্ত্বিক মূলপাঠের (متون) ওপর কৃত ব্যাখ্যা সংকলিত হয়েছে। লেখক এর নামকরণ করেছেন: 'জুবদাতুল কালাম ফিল উসুল ওয়াল আদাব ওয়াল আহকাম'।

- তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এর শুরুতে বলেন:

(অতঃপর, ইলমের কিতাবসমূহ সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিস্তৃত হয়েছে; এগুলোর বিশদ ব্যাখ্যা ও সংক্ষিপ্তসার উভয়ই রচিত হয়েছে। তাই আমি সমীচীন মনে করলাম যে, এমন কিছু বিষয় এতে একত্রিত করব যা ছাত্ররা মুখস্থ করতে পারবে এবং যার ওপর নির্ভর করতে পারবে। আমি বিজ্ঞ আলিমদের বক্তব্য থেকে এর কিছু অর্থ স্পষ্টকারী অংশ উদ্ধৃত করেছি, যাতে এটি একটি মূল ভিত্তি (أصل) হিসেবে গণ্য হয় যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায় এবং ইনশাআল্লাহ এটি একটি সেতু হিসেবে কাজ করবে যা দিয়ে অন্যান্য বিষয়ের দিকে যাওয়া যাবে। আর 'রব্বানি' আলিম তিনিই, যিনি মানুষকে ইলমের শাখা-প্রশাখা (فروع) এবং জটিল বিষয়াবলির আগে এর মূলনীতি (أصول) ও সুস্পষ্ট বিষয়গুলো শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলেন।

আমি যে কিতাবগুলো সংকলন করতে চেয়েছি সেগুলো বিন্যস্ত করেছি এবং শুরু করেছি:

১. আল-আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ দিয়ে।

২. অতঃপর হাদিস শাস্ত্রে হাফিজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসি রচিত উমদাতুল আহকাম দিয়ে।

৩. অতঃপর কিতাবুত তাওহিদ।

৪. অতঃপর আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ।

৫. অতঃপর বুলুগুল মারাম।

৬. অতঃপর আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
7. ثمَّ (نبذة في أصول الفقه).

8. وختمتُها بـ (غذاء القلوب ومفرج الكروب).

وسمَّيتُه: (زبدة الكلام في الأصول والآداب والأحكام)، وأَسْأَلُ اللهَ أنْ ينفَعَنِي بِه، وجَميع مَن قرأَهُ أوْ سَمِعَهُ، إنَّه لطيفٌ خبيرٌ، آمين).

عملي في الكتاب:

1 - اعتمدتُ لَدى تحقيقي لنصِّ المتن المشروح على متن "الدرر البهيَّة" المشروح في ثنايا هذا الكتاب ضمنَ المجموع المذكورِ بِخَطِّ الشيخ فيصل بن عبد العزيز المبارك رحمه الله، فجعلتُهُ الأصلَ.

2 - قارنتُ بين نصِّ المتن المشروح وبيَن بعض طبعاتِه السابقة وهي كُثُر، ومن ثمَّ انتخبتُ من أجل ذلك النصَّ الذي أخرجَهُ أخي الدكتور محمدِ بن عبدِ العزيزِ الخضيريِّ أثابَه الله، وذلك عام 1420 هـ -عن دار الوطن بالرياض-، لكونِ تلك الطبعة محرَّرةً ومتقنَةً، ومقابَلةً على نُسَخ خطيَّةٍ، إحداهنَّ بخط الإمام الشوكانيِّ مؤلِّفِ "الدُّرَر" رحِمه الله تعالى.

3 - أُشِيرُ إلى زيادات المطبوعة على الأصل بِجَعْل تلك الزيادات بين قوسَين: ( … ).

- كما تابعتُ محقِّقَ المطبوعةِ في إثبات العناوين الفرعيَّةِ التي أضافَها على المتنِ إتمامًا للفائدة أثابَه الله، وأُشِيرُ إلى ذلك بجعلها بين معقوفتَين: [ … ].

4 - لا أُشيرُ إلى زيادات الأصل على المطبوعةِ، وهِيَ كثيرةٌ، وذلك لكوْنِ الأُولَى هي: الأصلُ المعتَمَدُ.

5 - -ولذَلِكَ أيضًا- أعتَمِد نَصَّ الأصل المخطوطِ عند اختلافِ الألفاظ.

- وبالنسبَةِ إلى الشَّرْح:
৭. অতঃপর (উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এর সংক্ষিপ্ত সার)।

৮. এবং আমি এটি সমাপ্ত করেছি (গিজাউল কুলুব ওয়া মুফাররিজুল কুরুব)-এর মাধ্যমে।

আর আমি এর নামকরণ করেছি: (জুবদাতুল কালাম ফিল উসুল ওয়াল আদাব ওয়াল আহকাম), এবং আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা আমাকে এবং যারা এটি পাঠ করবে বা শ্রবণ করবে তাদের সকলকে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও সর্বজ্ঞাতা, আমিন।

কিতাবটিতে আমার কাজ:

১ - বর্ণিত সংকলনের অন্তর্ভুক্ত শায়খ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল-মুবারক (রহিমাহুল্লাহ)-এর হস্তাক্ষরে লিখিত "আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ"-এর ব্যাখ্যা (شرح) সম্বলিত মূল পাঠের (متن) তাহকিক (تحقيق) করার সময় আমি সেটির ওপর নির্ভর করেছি এবং তাকেই মূল পাণ্ডুলিপি হিসেবে গ্রহণ করেছি।

২ - আমি ব্যাখ্যা (شرح) সম্বলিত মূল পাঠের (متن) সাথে এর পূর্ববর্তী অনেকগুলো ছাপানো সংস্করণের তুলনা করেছি। অতঃপর সেই উদ্দেশ্যে আমি আমার ভাই ডক্টর মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খুদাইরি (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন) কর্তৃক ১৪২০ হিজরিতে রিয়াদের দারুল ওয়াতান থেকে প্রকাশিত সংস্করণটি নির্বাচন করেছি; কারণ সেই সংস্করণটি ছিল সম্পাদিত ও সুসংহত এবং তা একাধিক পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ছিল "আদ-দুরার"-এর লেখক ইমাম শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর স্বহস্তে লিখিত।

৩ - মূল পাণ্ডুলিপির তুলনায় ছাপানো সংস্করণের অতিরিক্ত অংশগুলোকে আমি প্রথম বন্ধনীর ( … ) মধ্যে রেখে চিহ্নিত করেছি।

- এছাড়া আমি ছাপানো সংস্করণের মুহাক্কিক (محقق) কর্তৃক উপকারের পূর্ণতার জন্য মূল পাঠে (متن) সংযোজিত উপ-শিরোনামগুলো অনুসরণের চেষ্টা করেছি (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন), এবং সেগুলোকে তৃতীয় বন্ধনীর [ … ] মধ্যে রেখে নির্দেশ করেছি।

৪ - ছাপানো সংস্করণের তুলনায় মূল পাণ্ডুলিপির অতিরিক্ত অংশগুলোকে আমি আলাদাভাবে চিহ্নিত করিনি, আর সেগুলো অনেক; কারণ প্রথমটিই হলো নির্ভরযোগ্য (معتمد) মূল।

৫ - আর সেই কারণেই শব্দগত পার্থক্যের ক্ষেত্রে আমি হাতে লেখা মূল পাণ্ডুলিপির পাঠের ওপরই নির্ভর করেছি।

- আর ব্যাখ্যার (شرح) ক্ষেত্রে:
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
5 - فقد اعتمدتُ على المخطوطةِ سالفَةِ الذكرِ، والتي أورَدَ فيها الشارحُ تعليقاتٍ موجَزةً مفيدةً، وتنبيهاتٍ مختصرةً فريدةً، وتعقُّباتٍ مقتَضبةً سديدةً، على مَتْنِ "الدرر البهيَّة" للإمام الشوكاني رحِمَهُما الله.

6 - لدَى تحقِيقِي للشَّرح وجَّهْتُ اهتمامِي إلى العِنايةِ بضَبطِ الشَّرحِ وتحريرِ عِباراتِه، وسَلامةِ مفرَداتِه كما أنشأها المُؤَلِّفُ، وذلكَ حسب الحاجة وقدر الإمكان.

وعلى الله قَصْدُ السَّبيل، وهو المستَعان، وعليه التُّكلان، وصلَّى الله وباركَ على نبيِّنا محمد، وعلى آلِه وصَحبِه أجمعين.

محمد بن حسن المبارك

22/ 8/ 1425 هـ
5 - আমি পূর্বে উল্লিখিত সেই পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যাতে ব্যাখ্যাকার ইমাম শাওকানি (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) রচিত "আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ"-এর মূল পাঠ (متن)-এর ওপর সংক্ষিপ্ত ও উপকারী টিকা, অনন্য সংক্ষিপ্ত সতর্কতা এবং সংক্ষিপ্ত ও সঠিক পর্যালোচনা প্রদান করেছেন।

6 - ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পাদনার (تحقيق) সময় আমি এর শুদ্ধতা নিশ্চিতকরণ (ضبط), বাক্যগুলোর পরিমার্জন এবং লেখক যেভাবে তা রচনা করেছিলেন সে অনুযায়ী শব্দগুলোর নির্ভুলতা বজায় রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি; আর তা প্রয়োজন অনুযায়ী এবং যথাসম্ভব সাধ্যমতো করা হয়েছে।

আল্লাহর নিকটই সঠিক পথের প্রার্থনা, তিনিই সাহায্যস্থল এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

মুহাম্মদ বিন হাসান আল-মুবারক

২২/ ০৮/ ১৪২৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الصورة الأولى من مخطوطة شرح الدرر البهية
শারহুদ্ দুরারিল বাহিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির প্রথম চিত্র।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الصورة الأخيرة من مخطوطة شرح الدرر البهية
শারহু আদ-দুরারিল বাহিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

أحْمَدُ من أمرَنا بالتفقُّهِ في الدِّينِ، وأشكُرُ من أرشَدَنا إلى إتِّباعِ سنن سيِّد المرسلين، وأصلِّي وأسلِّم على الرسولِ الأميِن، وآلِه الطاهرين، وأصحابِه الأكرمين (1).

 

‌‌كتاب الطهارة

‌‌باب المِياه

- الماء طاهرٌ مُطَهِّرٌ.

- لا يُخرِجُه عن الوصفَين إلا: ما غَيَّرَ ريحَه، أو لونَه، أو طعمَه من النجاسات.

- وعن الثاني: ما أخرجَه عن اسمِ الماءِ المُطلق مِن المغيِّراتِ الطَّاهِرة.

- ولا فرقَ بين:

1 - قليلٍ وكثيرٍ.

2 - وما فَوق القُلَّتَيِن وما دُونَهُما.

3 - ومُتحَرِّكٍ وساكِنٍ.

4 - ومُستَعْمَلٍ وغيِر مُستَعْمَلِ.

--------------------------------------------

(1) - هذا الكتابُ من أحسنِ المُختَصراتِ في الفِقْهِ وأوضَحِها وأصَحِّها، ومُؤَلِّفُه هو: الإمامُ العالمُ المجتهدُ محمدُ بنُ عليٍّ الشوكانيِّ، المولودِ سنَةَ اثنتيَنِ وسَبعِيَن ومِائةٍ بعدَ الألفِ، المتوَفىَ سنَةَ خَمْسِيَن مِن القرنِ الثالثِ عشَرَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমি সেই সত্তার প্রশংসা করছি যিনি আমাদের দ্বীনের প্রজ্ঞা (تفقه) অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাদের রাসুলদের সরদারের সুন্নাহ অনুসরণের দিশা দিয়েছেন; আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি আমানতদার রাসুলের ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবার এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীদের ওপর (১)।

 

‌‌পবিত্রতা বিষয়ক অধ্যায়

‌‌পানি বিষয়ক পরিচ্ছেদ

- পানি পবিত্র (طاهر) এবং পবিত্রকারী (مطهر)।

- নাপাকি (نجاسة) যদি পানির ঘ্রাণ, বর্ণ অথবা স্বাদ পরিবর্তন না করে, তবে কোনো কিছুই পানিকে এই দুটি বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে না।

- আর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য (পবিত্রকারী হওয়া) থেকে তাকে সেই বস্তু বিচ্যুত করতে পারে, যা কোনো পবিত্র পরিবর্তনকারী দ্রব্যের সংমিশ্রণে পানিকে সাধারণ পানি (الماء المطلق) নামক পরিধি থেকে বের করে দেয়।

- এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই:

১ - অল্প ও অধিকের মধ্যে।

২ - দুই কুল্লা (قلتين) এর অধিক এবং তার কমের মধ্যে।

৩ - প্রবহমান ও স্থিরের মধ্যে।

৪ - ব্যবহৃত ও অব্যবহৃতের মধ্যে।

--------------------------------------------

(১) - এই কিতাবটি ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের অন্যতম উত্তম, প্রাঞ্জল ও বিশুদ্ধ সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ। এর রচয়িতা হলেন: ইমাম, বিজ্ঞ আলেম ও মুজতাহিদ (مجتهد) মুহাম্মদ ইবনে আলী আশ-শাওকানি; যিনি ১১৭২ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৫০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌فصل

 

والنَّجَاساتُ هي:

1 - غائِطُ الإنسانِ مطلقاً.

2 - وبولُهُ، إلا الذَكَر الرَّضِيع (1).

3 - ولُعابُ كَلْبٍ.

4 - ورَوْثٌ.

5 - ودَمُ حَيْضٍ.

6 - ولَحْمُ خِنزِيرٍ.

- وفيما عدا ذلك خلاف.

--------------------------------------------

(1) - قَولُه: (إلا الذَّكَر الرَّضِيع)، الأكثرُ على أنَّ بولَهُ نجِسٌ لكنَّها نجاسةٌ خفيفةٌ، يكفِي فيها الرشُّ والنَّضْحُ، وذلِكَ قبل أن يأكُلَ الطعامَ، فإذا أكَلَهُ غُسِل بولُه كَغَيرِه.

- قَولُه: (وروثٌ)، قالَ في " الإفصَاحِ ": (اختَلفُوا في رَوْثِ ما يُؤْكَلُ لَحْمُه، وبَوْلِه، فقالَ مالكٌ وأحمدُ في المشهورِ عَنْهُ: أنَّهُ طاهِرٌ، وقال: " الباقِي نجس "، وقال أبو حنيفة: " ذَرْقُ الحمامِ والعصافيِر طاهِرٌ، والباقي نجِسٌ "، وقال الشافعيُّ: " هو نجِسٌ على الإطلاق ".

 

واتفقُوا على أنَّ: روثَ ما لا يُؤكَلُ لَحْمُه نجسٌ، إلا أبا حنيفةَ فإنَّه يرَى أنَّ ذرْقَ سِباعِ الطيرِ كالبازيِّ والصقرِ والباشَقِ ونحوِه طاهرٌ). انتهى.

قُلْتُ: والراجِحُ: أنَّ رَوثَ ما يُؤكلُ لحمُه وبولَهُ طاهرٌ، لأنَّ النبَّي صلى الله عليه وسلم كان يُصلِّي في مرابِضِ الغَنَمِ، وأمَرَ العُرنيِّين أن يشرَبُوا مِنْ أبوالِ الإبِلِ وألبانِها.
পরিচ্ছেদ

 

এবং নাজাসাতসমূহ (অপবিত্র বস্তুসমূহ) হলো:

১ - মানুষের মল, নিঃশর্তভাবে।

২ - এবং তার প্রস্রাব, তবে দুগ্ধপোষ্য ছেলে শিশু ব্যতীত (১)।

৩ - এবং কুকুরের লালা।

৪ - এবং বিষ্ঠা বা গোবর।

৫ - এবং ঋতুস্রাবের রক্ত।

৬ - এবং শূকরের মাংস।

- এবং এ ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) - তাঁর বক্তব্য: (দুগ্ধপোষ্য ছেলে শিশু ব্যতীত), অধিকাংশ আলিমের মতে তার প্রস্রাব অপবিত্র (نجس), তবে তা লঘু অপবিত্রতা (نجاسة خفيفة); যা দূর করতে পানি ছিটিয়ে দেয়া বা সিঞ্চন করাই যথেষ্ট। আর এটি সে খাবার গ্রহণ শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত; যখন সে খাবার খাওয়া শুরু করবে, তখন অন্যদের ন্যায় তার প্রস্রাবও ধৌত করতে হবে।

- তাঁর বক্তব্য: (এবং বিষ্ঠা বা গোবর), 'আল-ইফসাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: (যেসব পশুর গোশত খাওয়া হয় তাদের বিষ্ঠা ও প্রস্রাব নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক ও ইমাম আহমাদ—তাঁর থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী—বলেছেন যে: তা পবিত্র (طاهر)। তিনি আরও বলেছেন: "অবশিষ্টাংশ অপবিত্র (نجس)"। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: "কবুতর ও চড়ুইয়ের বিষ্ঠা পবিত্র (طاهر), এবং অবশিষ্টাংশ অপবিত্র (نجس)"। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: "তা নিঃশর্তভাবে অপবিত্র (نجس)")।

 

এবং তাঁরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে: যেসব পশুর গোশত খাওয়া হয় না তাদের বিষ্ঠা অপবিত্র (نجس), তবে ইমাম আবু হানিফা মনে করেন যে, শিকারি পাখি যেমন—বাজ, ঈগল, শিকরে এবং অনুরূপ পাখির বিষ্ঠা পবিত্র (طاهر)।)। সমাপ্ত।

আমি বলছি: অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো: যেসব পশুর গোশত খাওয়া হয় তাদের বিষ্ঠা ও প্রস্রাব পবিত্র (طاهر); কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভেড়ার খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করতেন এবং তিনি উরাইনাহ গোত্রের লোকদের উটের প্রস্রাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌فصل

 

[في تطهير النجاسات]

- ويَطهُرُ ما تنجَّسَ بغَسْلِه، حَتَّى لا يبقَى عَينٌ (1)، ولا لونٌ، ولا رِيحٌ، ولا طَعْمٌ.

- والنَّعلُ بالمسحِ.

- والاسْتِحالَة مطهِّرةٌ لعدمِ وجُودِ الوَصْفِ المحكومِ علَيه.

- وما لا يُمْكِنُ غَسْلُه فبالصبِّ عليه.

- أو النَّزْحِ مِنْهُ، حَتَّى لا يَبْقَى للنجاسةِ أثَرٌ.

- والماءُ هُوَ الأصْلُ في التطهيِر، فَلا يقُومُ غيرُه مقامَهُ إلا بإذنٍ مِن الشارِع.

 

‌‌باب قضاء الحاجة

- على المتُخَلِّي:

1 - الاستتار حتَّى يدنُو مِن الأرضِ.

2 - والبُعْدُ، أو دخول الكنيف.

3 - وتَرك الكلام.

4 - والملابسة لما له حُرمة.

5 - وتجَنُّب الأمكنة التي مَنَعَ عن التخلي فيها شرعٌ أو عُرفٌ.

6 - وعدم الاستقبال والاستدبار للقبلة.

7 - وعليه الاستجمار بثلاثة أحجار طاهرة، أو ما يقوم مقامها.

- ويُندَب:

--------------------------------------------

(1) - قولُه: (حَتَّى لا يبقَى عَينٌ)، أي أَثَرُ النجاسةِ، بَلْ يُبالِغُ في إزالتِها وتغييرِها، فإنْ بَقِيَ مِن العينِ بقيَّةٌ لم يضُرَّه ذلِكَ، لِحَديثِ خَوْلةَ: قالت: (يا رسولَ اللهِ، فإنْ لمْ يذهَبْ الدمُ) قال: «يكفِيكِ الماءُ، ولا يَضُرُّكِ أثرُه».
পরিচ্ছেদ

 

[অপবিত্রতা দূরীকরণ প্রসঙ্গে]

- কোনো বস্তু অপবিত্র হলে তা ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্র হয়, যতক্ষণ না তার মূল সত্তা (عين) (১), রঙ, গন্ধ বা স্বাদ অবশিষ্ট থাকে।

- আর জুতা পবিত্র হয় মোছার মাধ্যমে।

- এবং রূপান্তর বা অবস্থার পরিবর্তন (استحالة) পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য, যেহেতু তখন অভিযুক্ত বৈশিষ্ট্যটি আর বিদ্যমান থাকে না।

- যা ধৌত করা সম্ভব নয়, তার ওপর পানি ঢেলে দেওয়ার মাধ্যমে (পবিত্র করতে হবে)।

- অথবা তা থেকে পানি ছেঁচে ফেলার মাধ্যমে, যতক্ষণ না অপবিত্রতার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে।

- পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে পানিই হলো মূল মাধ্যম, তাই শারিয়াত প্রণেতার (الشارع) অনুমতি ব্যতীত অন্য কিছু পানির স্থলাভিষিক্ত হবে না।

 

অধ্যায়: শৌচকার্য সম্পাদন

- শৌচকার্য সম্পাদনকারীর কর্তব্য:

১ - মাটির কাছাকাছি না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে আড়াল রাখা।

২ - লোকালয় থেকে দূরে যাওয়া অথবা শৌচাগারে প্রবেশ করা।

৩ - কথাবার্তা বর্জন করা।

৪ - সম্মানজনক বস্তু সাথে রাখা পরিহার করা।

৫ - শরয়ি বিধান বা লোকজ প্রথা অনুযায়ী যেসব স্থানে শৌচকার্য নিষিদ্ধ, তা বর্জন করা।

৬ - কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ না রাখা।

৭ - তার ওপর তিনটি পবিত্র পাথর বা তার স্থলাভিষিক্ত অন্য কিছু দিয়ে পাথর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন (استجمار) করা আবশ্যক।

- এবং মুস্তাহাব হলো:

--------------------------------------------

(১) - লেখকের কথা: (যতক্ষণ না মূল সত্তা (عين) অবশিষ্ট থাকে), অর্থাৎ অপবিত্রতার চিহ্ন; বরং তা দূর করতে ও অপসারিত করতে সচেষ্ট হবে। এরপরও যদি মূল বস্তুর সামান্য অবশিষ্ট থাকে তবে তা ক্ষতিকর হবে না, খাওলাহ বর্ণিত হাদিসের কারণে: তিনি বললেন: (হে আল্লাহর রাসূল, যদি রক্ত না যায়?) তিনি বললেন: "তোমার জন্য পানিই যথেষ্ট, এর চিহ্ন তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
1 - الاستعاذةُ عند الشروع.

2 - والاستغفار.

3 - والحمد بعد الفراغ.

 

‌‌باب الوضوء

يجب على كل مُكَلَّفٍ أن:

1 - يسمِّيَ إذا ذَكَرَ.

2 - ويتمضمضُ

3 - ويستنشِقُ.

4 - ثم يغسِلُ جميعَ وجهِه.

5 - ثم يدَيه مع مِرفقَيه.

6 - ثم يمسَحُ رأسَه مع أذنيه، ويجزئ مسح بعضه، والمسح على العمامة.

7 - ثم يغسلُ رجليه مع الكعبين، وله المسح على الخفين.

8 - ولا يكون وضوءاً شرعياً إلا بالنية لاستباحة الصلاة.

 

‌‌فصل

 

مُستَحَبَّاتُ الوضُوءِ

ويُستحَبُّ:

1 - التثليثُ في غير الرأس.

2 - وإطالةُ الغُرَّة والتحجيل.

3 - وتقديمُ السِّواك.

4 - وغسلُ اليدين إلى الرسغين ثلاثاً، قبل الشروع في غسل الأعضاء المتقدمة.

 

‌‌فصل

 

[في نواقض الوضوء]

ويَنتقضُ:
১ - শুরুতে আউযুবিল্লাহ পাঠ করা।

২ - এবং ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা।

৩ - এবং সমাপ্তির পর আল্লাহর প্রশংসা করা।

 

‌‌অজু অধ্যায়

প্রত্যেক মুকাল্লাফ ব্যক্তির ওপর আবশ্যক যে:

১ - স্মরণ হলে সে বিসমিল্লাহ পাঠ করবে।

২ - এবং কুলি করবে।

৩ - এবং নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করবে।

৪ - অতঃপর তার পূর্ণ মুখমণ্ডল ধৌত করবে।

৫ - অতঃপর কনুইসহ তার উভয় হাত ধৌত করবে।

৬ - অতঃপর কানসহ তার মাথা মাসেহ করবে; মাথার কিছু অংশ মাসেহ করা যথেষ্ট হবে এবং পাগড়ির ওপর মাসেহ করাও বৈধ।

৭ - অতঃপর টাখনুসহ তার উভয় পা ধৌত করবে; এবং তার জন্য মোজার ওপর মাসেহ করার অবকাশ রয়েছে।

৮ - সালাত বৈধ হওয়ার নিয়ত ব্যতীত তা শরয়ী অজু হিসেবে গণ্য হবে না।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

 

অজুর মুস্তাহাবসমূহ

এবং মুস্তাহাব হলো:

১ - মাথা ব্যতীত অন্যান্য অঙ্গ ধৌত করার ক্ষেত্রে তিনবার করে ধৌত করা।

২ - মুখমণ্ডল ও হাত-পা ধোয়ার সময় সীমানা বাড়িয়ে ধৌত করা।

৩ - মিসওয়াক করাকে অগ্রগণ্য করা।

৪ - উল্লিখিত অঙ্গসমূহ ধৌত করা শুরু করার আগে উভয় হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

 

[অজু ভঙ্গের কারণসমূহ প্রসঙ্গে]

এবং অজু ভঙ্গ হয়:
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
1 - بِما خرج من الفرجين من عين أو ريح.

2 - وبِما يوجب الغسل.

3 - ونوم المضطجع.

4 - وأكل لحم الإبل.

5 - والقيء ونحوه.

6 - ومسِّ الذكر.

 

‌‌باب الغسل

يجِبٌ:

1 - بخروج المني بشهوة، ولو بتفكر.

2 - وبالتقاء الختانين.

3 - وبالحيض.

4 - وبالنفاس.

5 - وبالاحتلام مع وجود بلل.

6 - وبالموت.

7 - وبالإسلام.

 

‌‌فصل

 

[صفة الغسل]

… والغُسل الواجب هو:

1 - أن يفيض الماء على جميع بدنه، أو ينغمس فيه.

2 - مع المضمضة والاستنشاق.

3 - والدلك لما يمكن دلكه.

4 - ولا يكون شرعياً إلا بالنية لرفع موجبه.

- ونُدِب:

1 - تقديم غسل أعضاء الوضوء إلا القدمين.

2 - ثم التيامن.
1 - দুই রাস্তা (প্রস্রাব ও পায়খানার পথ) দিয়ে যা নির্গত হয়, তা কোনো বস্তু হোক কিংবা বায়ু।

2 - এবং যা গোসল (غسل) আবশ্যিক (واجب) করে।

3 - আর কাত হয়ে শায়িত অবস্থায় ঘুমানো।

4 - এবং উটের মাংস ভক্ষণ করা।

5 - আর বমি ও তদ্রূপ বিষয়।

6 - এবং লিঙ্গ স্পর্শ করা।

 

‌‌গোসলের (غسل) অধ্যায়

ওয়াজিব (واجب) হয়:

1 - কামভাবের সাথে বীর্য নির্গত হওয়ার মাধ্যমে, যদিও তা কেবল চিন্তার কারণে হয়।

2 - এবং খতনাকৃত অঙ্গদ্বয়ের মিলনের ফলে।

3 - এবং ঋতুস্রাবের (حيض) কারণে।

4 - এবং প্রসবোত্তর রক্তস্রাবের (نفاس) কারণে।

5 - এবং সিক্ততা প্রাপ্তি সাপেক্ষে স্বপ্নদোষের (احتلام) ফলে।

6 - এবং মৃত্যুর কারণে।

7 - এবং ইসলাম (إسلام) গ্রহণের মাধ্যমে।

 

‌‌অনুচ্ছেদ

 

[গোসলের (غسل) পদ্ধতি]

… আর ওয়াজিব (واجب) গোসল হলো:

1 - সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করা অথবা পানিতে অবগাহন করা।

2 - কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার সাথে।

3 - এবং যা মর্দন করা সম্ভব তা মর্দন (دلك) করা।

4 - আর তা নিয়ত (نية) ব্যতীত শরয়ি (شرعي) হবে না, যা ওই কারণটি দূর করার উদ্দেশ্যে করা হয়।

- এবং মুস্তাহাব (ندب):

1 - উভয় পা ব্যতিরেকে ওজুর (وضوء) অঙ্গসমূহ ধৌত করাকে প্রাধান্য দেওয়া।

2 - অতঃপর ডান দিক থেকে শুরু করা।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌فصل

 

[في الأغسال المشروعة]

ويُشرَعُ:

1 - لصلاة الجمعة.

2 - وللعيدين.

3 - ولمن غسَّل ميتاً.

4 - وللإحرام.

5 - ولدخول مكة.

 

‌‌باب التيمم

- يستباح به ما يستباح بالوضوء والغسل:

1 - لمن لا يجد الماء.

2 - أو خشي الضرر من استعماله.

- وأعضاوه:

1 - الوجْهُ.

2 - ثم الكَفَّان.

- يَمسَحُهما:

1 - مَرَّةً.

2 - بضربةٍ واحدةٍ.

3 - ناوياً.

4 - مُسَمِّياً.

- ونواقضُه: نواقض الوضوء.

 

‌‌باب الحيض

- لم يأت في تقدير أقله وأكثره ما تقوم به الحجة.

- وكذلك الطُّهر.

- فذاتُ العادةِ المتقرِّرةِ تعملُ عليها.

- وغيرُها ترجع إلى القرائن، فدمُ الحيضِ يتميَّزُ عَن غيِره، فتكُونُ:
পরিচ্ছেদ

 

[শরীয়তসম্মত গোসলসমূহ প্রসঙ্গে]

আর যা যা শরীয়তসম্মত:

১ - জুমার সালাতের জন্য।

২ - দুই ঈদের জন্য।

৩ - যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তিকে গোসল করায় তার জন্য।

৪ - ইহরাম পরিধানের জন্য।

৫ - মক্কায় প্রবেশের জন্য।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: তায়াম্মুম

- অযু ও গোসলের মাধ্যমে যা কিছু বৈধ হয়, তায়াম্মুমের মাধ্যমেও তা বৈধ হবে:

১ - যে ব্যক্তি পানি পায় না তার জন্য।

২ - অথবা পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা করলে।

- আর এর অঙ্গসমূহ:

১ - মুখমণ্ডল।

২ - অতপর উভয় হাতের কব্জি।

- সে এই দুই অঙ্গ মাসেহ করবে:

১ - একবার।

২ - এক আঘাতে।

৩ - নিয়তের সাথে।

৪ - বিসমিল্লাহ পাঠের সাথে।

- এবং এর ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ: অযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: হায়েজ

- হায়েজের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যার মাধ্যমে দলীল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়।

- পবিত্রতার (তুহর) ক্ষেত্রেও অনুরূপ।

- সুতরাং যার নির্ধারিত অভ্যাস (মাসিক চক্র) রয়েছে, তিনি সে অনুযায়ী আমল করবেন।

- আর অন্যরা আলামত বা নিদর্শনের দিকে প্রত্যাবর্তন করবেন, কারণ হায়েজের রক্ত অন্যান্য রক্ত থেকে পৃথকভাবে চেনা যায়; সুতরাং সে হবে:
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
1 - حائضاً: إذا رأتْ دمَ الحيضِ. …

2 - ومستحاضةً: إذا رأتْ غيرَه، وهي كالطاهرة، وتغسِلُ أثرَ الدمِ وتتوضأُ لكلِّ صلاةٍ.

- والحائض:

1 - لا تُصَلِّي.

2 - ولا تصُومُ.

3 - ولا تُوطَأُ حتى تغتسِلَ بعدَ الطُّهر.

4 - وتَقضِي الصيامَ.

 

‌‌فصل

 

[في أحكام النفاس]

… - والنفاسُ:

1 - أكثرُه أربعون يوماً.

2 - ولا حَدَّ لأقَلِّه.

3 - وهو كالحَيضِ.
1 - ঋতুবর্তী (حائض): যখন সে ঋতুস্রাবের (حيض) রক্ত দেখে। …

2 - এবং দীর্ঘস্থায়ী রক্তস্রাবগ্রস্তা (مستحاضة): যখন সে ঋতুস্রাব ব্যতীত অন্য রক্ত দেখে; এমতাবস্থায় সে পবিত্রা (طاهرة) মহিলার ন্যায় গণ্য হবে, সে রক্তের চিহ্ন ধৌত করবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করবে।

- এবং ঋতুবর্তী (حائض) মহিলা:

1 - সালাত আদায় করবে না।

2 - এবং রোজা রাখবে না।

3 - এবং পবিত্রতা (طهر) অর্জনের পর গোসল করার পূর্ব পর্যন্ত তার সাথে সহবাস করা যাবে না।

4 - এবং সে রোজার কাজা আদায় করবে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

 

[নিফাসের (نفاس) বিধান প্রসঙ্গে]

… - এবং নিফাস (نفاس):

1 - এর সর্বোচ্চ সময়সীমা চল্লিশ দিন।

2 - এর সর্বনিম্ন সীমার কোনো নির্দিষ্ট মাত্রা নেই।

3 - আর এটি ঋতুস্রাবের (حيض) মতোই।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌كتاب الصلاة

‌‌[باب مواقيت الصلاة]

- أوَّلُ وقتِ الظهرِ: الزَّوالُ.

- وآخرُه: مصيُر ظِلِّ الشيءِ مثلَه - سِوَى فَيْءِ الزَّوالِ -.

- وهو: أول وقتِ العصرِ.

- وآخرُه: ما دامت الشمسُ بيضاءَ نقيةً.

- وأولُ وقتِ المغربِ: غروب الشمس.

- وآخرُه: ذهاب الشفق الأحمر.

- وهو: أولُ العِشاء.

- وآخرُه: نصف الليل.

- وأولُ وقت الفجر: إذا انشق الفجر.

- وآخرُه: طلوع الشمس.

- ومَنْ نامَ عن صلاتِهِ أو سَها عنها؛ فوقتُها حيَن يذكُرُها.

- ومَنْ كانَ معذوراً وأدرك من الصلاة ركعة فقد أدرك الصلاة.

- والتوقيتُ: واجبٌ.

- والجَمعُ لعذرٍ: جائزٌ.

- والمتيمِّمُ وناقصُ الصلاة - أو الطهارة - يُصَلُّون كغيرهم من غيِر تأخيرٍ.

- وأوقات الكراهة:

1 - بعد الفجرِ حتى ترتفعَ الشمسُ.

2 - وعندَ الزوالِ.

3 - وبعدَ العصرِ حتى تغربَ (الشمسُ).
‌‌সালাত অধ্যায়

‌‌[সালাতের ওয়াক্তসমূহ পরিচ্ছেদ]

- জোহরের ওয়াক্তের শুরু: সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া।

- এবং এর শেষ সময়: কোনো বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া—সূর্য ঢলে পড়ার সময়কার ছায়া ব্যতীত—।

- আর এটিই আসরের ওয়াক্তের শুরু।

- এবং এর শেষ সময়: যতক্ষণ সূর্য উজ্জ্বল ও নির্মল থাকে।

- মাগরিবের ওয়াক্তের শুরু: সূর্যাস্ত।

- এবং এর শেষ সময়: পশ্চিমাকাশের লাল আভা অদৃশ্য হওয়া।

- আর এটিই এশার ওয়াক্তের শুরু।

- এবং এর শেষ সময়: মধ্যরাত।

- ফজরের ওয়াক্তের শুরু: যখন সুবহে সাদিক উদিত হয়।

- এবং এর শেষ সময়: সূর্যোদয়।

- যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকে অথবা ভুলে যায়; তার সালাতের ওয়াক্ত হলো যখনই তা তার স্মরণে আসে।

- যে ব্যক্তি ওজরগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও সালাতের এক রাকাত পেল, সে সালাত পেল।

- ওয়াক্ত পালন করা আবশ্যক।

- ওজরের কারণে দুই সালাত একত্রে আদায় করা জায়েজ।

- তায়াম্মুমকারী এবং যাদের সালাত বা পবিত্রতায় কোনো অসম্পূর্ণতা রয়েছে, তারা বিলম্ব ছাড়াই অন্যদের মতো সালাত আদায় করবেন।

- সালাত আদায়ের মাকরূহ সময়সমূহ:

১ - ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।

২ - সূর্য যখন ঠিক মাথার উপরে থাকে।

৩ - আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌‌‌باب الأذان

- يُشرَعُ لأهل كل بلد:

1 - أن يتخذوا مؤذناً (أو أكثر).

2 - ينادي بألفاظ الأذان المشروعة.

3 - عند دخول وقت الصلاة.

- ويُشرَع للسامع أن يتابع المؤذن.

- ثم تُشرَع الإقامة على الصفة الواردة.

 

باب

 

ويجب على المصلِّي:

1 - تطهيُر ثوبِه وبدنه ومكانه من النجاسة.

2 - وسترُ عورته.

3 - ولا يشتمِلُ الصمَّاء (1).

4 - ولا يَسدُلُ (2).

5 - ولا يُسبِلُ (3).

6 - ولا يكفِتُ (4).

--------------------------------------------

(1) - قوله: (ولا يشتَمِلُ الصمَّاءَ)، اشتمالُ الصمَّاء هُو أنْ يجلِّلَ جسدَه بالثوب، لا يرفعُ منه جانباً ولا يُبقِي ما يُخرِجُ منهُ يدَهُ، كما في الصحيحين عن أبي هريرة: (أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم نَهى أن يشتمِل الصمَّاء)، وفي لفظٍ (وأن يشتمِلَ في إزاره إذا ما صلَّى إلا أن يخالفَ بطرفَيه على عاتقِه).

(2) - قوله: (ولا يَسدِلُ)، السدْلُ هُو: إسبالُ الرجُلِ ثوبَه على يديه من غير أن يضُمَّ جانبَيْه بين يديه، بل يلتحِفُ بِه، ويُدخِل يدَيه من داخل، فيركَعُ ويسجُدُ وهو كذلك.

(3) - قوله: (ولا يُسبِلُ)، الإسبال مجاوزة الثوب الكعبين.

(4) - قوله: (ولا يكفِتُ)، الكَفتُ: غَرزُ الثوبِ في حُجْزَتِه، ونحو ذلك، وربطُ شعرِ رأسِه لئلَاّ يقَع في الأرض.
‌আযান পরিচ্ছেদ

- প্রত্যেক জনপদের অধিবাসীদের জন্য বিধিবদ্ধ (مشروع):

1 - একজন (অথবা একাধিক) মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করা।

2 - আযানের বিধিবদ্ধ (مشروع) শব্দাবলীর মাধ্যমে আহ্বান করা।

3 - সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর।

- আর শ্রোতার জন্য মুয়াজ্জিনের পদাঙ্ক অনুসরণ করা বিধিবদ্ধ (مشروع)।

- অতঃপর বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী একামত প্রদান করা বিধিবদ্ধ (مشروع)।

 

পরিচ্ছেদ

 

সালাত আদায়কারীর জন্য ওয়াজিব (واجب):

1 - নিজের পোশাক, শরীর এবং স্থানকে নাপাকি থেকে পবিত্র করা।

2 - সতর (عورة) আবৃত করা।

3 - ইশতিমালুস সাম্মা (اشتمال الصماء) না করা (১)।

4 - সাদল (سدل) না করা (২)।

5 - ইসবাল (إسبال) না করা (৩)।

6 - কাফত (كفت) না করা (৪)।

--------------------------------------------

(১) - তাঁর উক্তি: (ইশতিমালুস সাম্মা না করা); ইশতিমালুস সাম্মা হলো—ব্যক্তি তার পুরো শরীরকে কাপড় দিয়ে এমনভাবে আবৃত করে ফেলবে যে, এর কোনো পাশ সে উপরে তুলতে পারবে না এবং হাত বের করার মতো কোনো জায়গা অবশিষ্ট রাখবে না। যেমনটি সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশতিমালুস সাম্মা করতে নিষেধ করেছেন), এবং অন্য শব্দে এসেছে (সালাত আদায়ের সময় কেউ যেন তার পরিধেয় বস্ত্রে নিজেকে এমনভাবে আবৃত না করে, যদি না সে তার উভয় প্রান্ত বিপরীতমুখী করে কাঁধের ওপর রাখে)।

(২) - তাঁর উক্তি: (সাদল না করা); সাদল হলো: ব্যক্তি তার দুই হাতকে কাপড়ের ভেতরে রেখে কাপড়টি তার ওপর ঝুলিয়ে দেবে, সামনের দুই প্রান্ত একত্রিত করবে না, বরং তা দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে রাখবে এবং হাত কাপড়ের ভেতরেই থাকবে; এমতাবস্থায় সে রুকু ও সিজদা করবে।

(৩) - তাঁর উক্তি: (ইসবাল না করা); ইসবাল (إسبال) হলো কাপড় টাখনুর নিচে চলে যাওয়া।

(৪) - তাঁর উক্তি: (কাফত না করা); কাফত (كفت) হলো: কাপড়কে কোমরের বন্ধনী বা অনুরূপ কিছুর সাথে গুজে রাখা এবং মাথার চুল বেঁধে রাখা যাতে তা মাটিতে না পড়ে।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
7 - ولا يُصلِّي:

- في ثوبِ حريرٍ.

- ولا ثوبِ شُهرَةٍ.

- ولا مَغصوبٍ.

8 - وعليه استقبالُ الكعبة - إن كان مشاهداً لها أو في حكم المشاهد -، وغير المشاهد يستقبل الجهة بعد التحرِّي.

 

‌‌باب كيفية الصلاة

- لا تكون شرعية إلا بالنية.

وأركانها كلها مفترضة؛ إلا:

1 - قعود التشهد الأوسط.

2 - والاستراحة.

- ولا يجب من أذكارها إلا:

1 - التكبير.

2 - و (قراءة) الفاتحة في كل ركعة - ولو كان مؤتمَّاً -.

3 - والتشهد الأخير.

4 - والتسليم.

- وما عدا ذلك فسنن، وهي:

1 - الرفع في المواضع الأربعة.

2 - والضم.

3 - والتوجه بعد التكبيرة.

4 - والتعوذ.

5 - والتأمين.

6 - وقراءة غير الفاتحة معها.

7 - والتشهد الأوسط.

8 - (والاستراحة).

9 - والأذكار الواردة في كل ركن.

10 - والاستكثار من الدعاء بخيري الدنيا والآخرة؛ بما ورد وبما لم يرد.
৭ - আর সালাত আদায় করা যাবে না:

- রেশমি পোশাকে।

- প্রসিদ্ধি বা লোকদেখানো পোশাকে।

- এবং জবরদখলকৃত পোশাকে।

৮ - কাবার অভিমুখী হওয়া ব্যক্তির জন্য আবশ্যক—যদি সে তা সরাসরি প্রত্যক্ষকারী হয় অথবা প্রত্যক্ষকারীর হুকুমে (সমপর্যায়ে) থাকে। আর যে ব্যক্তি সরাসরি প্রত্যক্ষকারী নয়, সে অনুসন্ধানের পর কাবার দিক নির্ধারণ করে সেদিকে মুখ করবে।

 

‌‌সালাতের পদ্ধতির অধ্যায়

- নিয়ত ব্যতীত সালাত শরয়িভাবে গণ্য হবে না।

এর সকল স্তম্ভ (রুকন) ফরজ হিসেবে নির্ধারিত; তবে এগুলো ব্যতীত:

১ - মধ্যবর্তী তাশাহহুদের বৈঠক।

২ - এবং বিশ্রামের বৈঠক।

- সালাতের জিকিরসমূহের মধ্যে কেবল নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ব্যতীত অন্যগুলো ওয়াজিব নয়:

১ - তাকবির।

২ - এবং প্রত্যেক রাকাতে ফাতিহা (পাঠ করা)—যদিও সে মুক্তাদি হয়।

৩ - এবং শেষ তাশাহহুদ।

৪ - এবং সালাম।

- এগুলো ছাড়া বাকি বিষয়গুলো সুন্নত, আর সেগুলো হলো:

১ - চার স্থানে হাত উত্তোলন করা।

২ - এবং হাত বাঁধা।

৩ - এবং তাকবিরের পর অভিমুখ হওয়ার দোয়া (তাওয়াজ্জুহ) পাঠ করা।

৪ - এবং আউজুবিল্লাহ (তাআউয়ুজ) পাঠ করা।

৫ - এবং আমিন বলা।

৬ - এবং ফাতিহার সাথে অন্য সুরা পাঠ করা।

৭ - এবং মধ্যবর্তী তাশাহহুদ।

৮ - (এবং বিশ্রামের বৈঠক)।

৯ - এবং প্রত্যেক স্তম্ভে (রুকনে) বর্ণিত জিকিরসমূহ।

১০ - এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনায় প্রচুর দোয়া করা; চাই তা বর্ণিত (وارد) হয়েছে এমন দোয়া হোক বা না হোক।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌فصل

 

[في مبطلات الصلاة]

وتَبطُلُ الصلاةُ:

1 - بالكلامِ.

2 - وبالاشتغالِ بما ليس منها.

3 - وبتركِ شرطٍ أوْ رُكنٍ عَمداً.

 

‌‌فصل

 

[فيمن تسقط عنه الصلاة، وصلاة المريض]

- ولا تجب على غير مكلف.

- وتسقط عمَّن:

1 - عجز عن الإشارة.

2 - أو أُغمِيَ عليه حتى خرجَ وقتُها.

- ويصلِّي المريضُ قائماً، ثَّم قاعداً، ثَّم على جَنْبٍ.

 

‌‌باب صلاة التطوع

1 - وهي أربع قبل الظهر.

2 - وأربع بعدها.

3 - وأربع قبل العصر.

4 - وركعتان بعد المغرب.

5 - وركعتان بعد العشاء.

6 - وركعتان قبل صلاة الفجر.

7 - وصلاة الضحى.

8 - وصلاة الليل - وأكثرها ثلاث عشرة ركعة؛ يوتر في آخرها -.

9 - وتحية المسجد.

10 - والاستخارة.

11 - وركعتان بين كل أذان وإقامة.
‌‌পরিচ্ছেদ

 

[সালাত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ প্রসঙ্গে]

আর সালাত বাতিল হয়ে যায়:

১ - কথা বলার দ্বারা।

২ - এবং এমন কাজে লিপ্ত হওয়ার দ্বারা যা সালাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।

৩ - এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো শর্ত (شرط) অথবা রুকন (ركن) পরিত্যাগ করার দ্বারা।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

 

[যাদের ওপর থেকে সালাত রহিত হয়ে যায় এবং অসুস্থ ব্যক্তির সালাত প্রসঙ্গে]

- মুকাল্লাফ (مكلف) নয় এমন ব্যক্তির ওপর সালাত ওয়াজিব (واجب) নয়।

- এবং সালাত রহিত হয়ে যায় তার থেকে যে:

১ - ইশারা করতে অক্ষম।

২ - অথবা যে বেহুঁশ হয়ে পড়েছে এবং সেই অবস্থায় সালাতের ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেছে।

- অসুস্থ ব্যক্তি সালাত আদায় করবে দাঁড়িয়ে, অতঃপর বসে, অতঃপর পার্শ্বদেশে শুয়ে।

 

‌‌অধ্যায়: নফল (تطوع) সালাত

১ - আর তা হলো যোহরের পূর্বে চার রাকাত।

২ - এবং যোহরের পরে চার রাকাত।

৩ - এবং আসরের পূর্বে চার রাকাত।

৪ - এবং মাগরিবের পরে দুই রাকাত।

৫ - এবং এশার পরে দুই রাকাত।

৬ - এবং ফজর সালাতের পূর্বে দুই রাকাত।

৭ - এবং চাশত বা দুহা (ضحى) সালাত।

৮ - এবং রাতের সালাত - যার সর্বোচ্চ হলো তেরো রাকাত; যার শেষে বিতর (يوتر) আদায় করা হয় -।

৯ - এবং তাহিয়্যাতুল মসজিদ (تحية المسجد)।

১০ - এবং ইস্তিখারা (استخارة) সালাত।

১১ - এবং প্রত্যেক আজান ও ইকামতের (إقامة) মধ্যবর্তী দুই রাকাত।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌باب صلاة الجماعة

- هي مِنْ آكَدِ السُّنَنِ (1).

- وتنعَقِدُ باثنَينِ.

- وإذا كَثُرَ الجَمْعُ كان الثوابُ أكثَرَ.

- وتصحُّ بعدَ المفضُولِ.

- والأَوْلى أنْ يكونَ الإمامُ من الخِيار.

- ويؤمُّ الرجلُ بالنساءِ - لا العَكْس -.

- والمفترِضُ بالمتنفِّلِ - والعَكْس -.

- (وتَجِبُ المتابَعَةُ في غَيرِ مبطِلٍ).

- ولا يؤُمُّ الرجلُ قوماً هُمْ لَهُ كارِهون.

- ويصلِّي بهم صلاةَ أخَفِّهم.

--------------------------------------------

(1) - قوله: (هي من آكد السنن)، أي سُنَنِ الهدى، والتخَلُّف عن الجماعةِ مِن علاماتِ النفاقِ … والخُسرانِ، ورَوَى مسلمٌ عَن ابنِ مسعود رضي الله عنه قال: (مَنْ سَرَّه أنْ يلقَى اللهَ غَداً مسلِماً فليحافِظ على هؤلاء الصلواتِ حَثُ يُنادى بهِنَّ، فإنَّ الله شرَعَ لنبيكم صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الهُدى، وإنَّهنَّ من سُنَنِ الهدى، ولو أنَّكُمْ صلَّيتُم في بيوتِكم كما يصلِّي هذا المتخلِّفُ في بيتِه لتركتُم سنَّةَ نبيِّكم، ولو تركتُم سنَّة نبيكم لضللتُم، ولقد رأيتُنا وما يتخلَّف عنها إلا منافقٌ معلومُ النفاقِ، ولقد كان الرجلُ يُؤتَى بِه يُهَادَى بَينَ الرجُلَينِ حتى يُقامَ في الصفِّ).

وفي رواية: (إنَّ رسول الله عَلَّمَنا سنن الهدى، وإنَّ مِن سُننِ الهدى الصلاةَ في المسجِدِ الذي يُؤَذَّنُ فيه).
জামায়াতে সালাত অধ্যায়

- এটি অন্যতম তাকিদপূর্ণ সুন্নাহ (سنة) (১)।

- এটি দুইজনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।

- জামায়াত যত বড় হবে, সওয়াব তত বেশি হবে।

- অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদাবান ব্যক্তির (مفضول) পেছনেও সালাত বৈধ হয়।

- ইমাম উত্তম ব্যক্তিদের মধ্য থেকে হওয়া শ্রেয়।

- পুরুষ নারীদের ইমামতি করতে পারে - কিন্তু এর বিপরীত নয়।

- ফরয আদায়কারী নফল আদায়কারীর পেছনে সালাত আদায় করতে পারে - এবং এর বিপরীতও (অর্থাৎ নফল আদায়কারী ফরয আদায়কারীর পেছনে)।

- (সালাত বাতিল করে না এমন বিষয়ে ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব)।

- কোনো ব্যক্তি এমন সম্প্রদায়ের ইমামতি করবে না যারা তাকে অপছন্দ করে।

- তিনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির সাধ্য অনুযায়ী সালাত আদায় করবেন।

--------------------------------------------

(১) - লেখকের উক্তি: (এটি অন্যতম তাকিদপূর্ণ সুন্নাহ), অর্থাৎ হেদায়াতের সুন্নাতসমূহ (سنن الهدى)। জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা মুনাফিকি (نفاق) ও ক্ষতির লক্ষণ … ইমাম মুসলিম ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি আগামীকাল (কিয়ামতের দিন) মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করে, সে যেন এই সালাতগুলোর প্রতি যত্নশীল হয় যেখানে এগুলোর জন্য আহ্বান (আযান) জানানো হয়। কেননা আল্লাহ তোমাদের নবী (সা.)-এর জন্য হেদায়াতের সুন্নাতসমূহ (سنن الهدى) বিধিবদ্ধ করেছেন, আর এগুলো হেদায়াতের সুন্নাতসমূহের (سنন الهدى) অন্তর্ভুক্ত। যদি তোমরা জামায়াত ত্যাগকারী এই ব্যক্তির মতো তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো, তবে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাহ (سنة) পরিত্যাগ করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাহ (سنة) পরিত্যাগ করো তবে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে। আমি আমাদের (সাহাবীদের) দেখেছি যে, প্রকাশ্য মুনাফিক (منافق) ছাড়া আর কেউ জামায়াত থেকে পেছনে থাকত না। এমনকি অসুস্থ ব্যক্তিকে দুই ব্যক্তির কাঁধে ভর দিয়ে নিয়ে আসা হতো যতক্ষণ না তাকে কাতারে দাঁড় করানো হতো।"

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের হেদায়াতের সুন্নাতসমূহ (سنن الهدى) শিক্ষা দিয়েছেন, আর হেদায়াতের সুন্নাতসমূহের (سنن الهدى) অন্তর্ভুক্ত হলো সেই মসজিদে সালাত আদায় করা যাতে আযান দেওয়া হয়।"
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
- ويقَدَّم: السلطانُ، وربُّ المنزل، والأقرأُ، ثُمَّ الأعلمُ، ثم الأسَنُّ.

- وإذا اختلَّتْ صلاةُ الإمامِ؛ كان ذلك عليه لا على المؤتَمِّين.

- وموقِفُهُم خَلفَهُ؛ إلا الواحِد فعن يَمِينِه.

- وإمامةُ النساءِ وسَطَ الصفِّ.

- ويُقدَّم: صفوفُ الرجالِ، ثم الصبيانُ، ثم النساءُ.

- والأحقُّ بالصفِّ الأولِ أولو الأحلام والنهى.

- وعلى الجماعةِ أن يُسَوُّوا صفوفَهم.

- وأن يسُدُّوا الخلل.

- وأن يُتمُّوا الصفَّ الأولَ، ثم الذي يليه، ثم كذلك.

 

‌‌باب سجود السهو

وهو سجدتان قبل التسليم أو بعده (1)؛ بإحرام، وتشهد، وتحليل.

- ويشرع:

1 - لترك مسنون.

2 - وللزِّيادةِ - ولو ركعةً - سَهواً.

3 - وللشك في العدد.

- وإذا سَجَدَ الإمامُ تابعَهُ المُؤْتَمُّ.

--------------------------------------------

(1) - قولُه: (أو بعده)، قال في الاختيارات: (وهل يتشَهَّدُ ويُسَلِّمُ إذا سجَدَ بعد السلامِ؟ فيه ثلاثةُ أقوال، ثالثُها: يُسَلِّم ولا يتشَهَّدُ، وهو قولُ ابنِ سيرين ووجهٌ في مذهبِ أحمدَ، والأحاديثُ الصحيحةُ تدلُّ على ذلك). انتهى.
- অগ্রাধিকার পাবেন: সুলতান বা শাসক, গৃহকর্তা, সর্বাধিক কুরআন পাঠকারী, অতঃপর সর্বাধিক জ্ঞানী, অতঃপর বয়োজ্যেষ্ঠ।

- যদি ইমামের সালাতে কোনো বিভ্রাট ঘটে, তবে তার দায়ভার ইমামের ওপরই বর্তাবে, মুক্তাদিদের ওপর নয়।

- মুক্তাদিদের দাঁড়ানোর স্থান হলো ইমামের পেছনে; তবে মুক্তাদি একজন হলে তিনি ইমামের ডানে দাঁড়াবেন।

- নারীদের ইমামতি হবে কাতারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে।

- অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: পুরুষদের কাতার, অতঃপর বালকদের কাতার, অতঃপর নারীদের কাতার।

- প্রথম কাতারের জন্য সবচেয়ে বেশি হকদার হলেন প্রাপ্তবয়স্ক বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ।

- জামাতের সদস্যদের কর্তব্য হলো তাদের কাতারগুলো সোজা করা।

- এবং ফাঁকা স্থানগুলো বন্ধ করা।

- এবং প্রথম কাতার পূর্ণ করা, অতঃপর তার পরবর্তীটি, এভাবেই পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা।

 

‌সিজদায়ে সাহু (ভুলের সিজদা) অধ্যায়

আর তা হলো সালামের পূর্বে অথবা পরে (১) দুটি সিজদা; যা তাকবিরে তাহরিমা (إحرام), তাশাহহুদ (تشهد) এবং সালামের (تحليل) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

- আর এটি বিধিবদ্ধ হয়:

1 - সুন্নাত (مسنون) কোনো আমল ছেড়ে দিলে।

2 - ভুলবশত অতিরিক্ত করলে—এমনকি তা এক রাকাত (ركعة) হলেও।

3 - রাকাত সংখ্যার ব্যাপারে সন্দেহের ক্ষেত্রে।

- যখন ইমাম সিজদা করবেন, মুক্তাদিও তাঁর অনুসরণ করবেন।

--------------------------------------------

(১) - তাঁর বক্তব্য: (অথবা তার পরে), তিনি আল-ইখতিয়ারাতে বলেছেন: (সালামের পর সিজদা করলে কি সে তাশাহহুদ পড়বে এবং সালাম ফিরাবে? এ বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে; তৃতীয়টি হলো: সালাম ফিরাবে কিন্তু তাশাহহুদ পড়বে না। এটি ইবনে সিরিনের মত এবং আহমদের মাযহাবের একটি অভিমত (وجه); আর সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহ এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে)। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-গুরারুন নাক্বিয়্যাহ আলাদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌باب القضاء للفوائت

- إن كان الترك عمداً لا لعذر؛ فدَيْنُ الله أحق أن يُقضى.

- وإن كان (الترك لعذرِ)؛ فليس بقضاء؛ بل أداء في وقت زوال العذر

- إلا صلاة العيد؛ ففي ثانية.

 

‌‌باب صلاة الجمعة

تجِبُ على كل مكلَّف؛ إلا:

1 - المرأة.

2 - والعبد.

3 - والمسافر.

4 - والمريض.

- وهي كسائر الصلوات؛ لا تخالِفُها إلا في مشروعية الخطبتين قبلها.

- ووقتُها وقتُ الظهر.

وعلى من حضرها:

1 - أن لا يتخطى رقاب الناس.

2 - وأن ينصت حال الخطبتين.

- ونُدِبَ له:

1 - التبكيرُ.

2 - والتطيُّبُ.

3 - والتجمُّل.

4 - والدُّنُوُّ من الإمام.

- ومن أدرك ركعةً منها؛ فقد أدرَكَها.

- وهي في يومِ العيدِ رخصةٌ.

 

‌‌باب صلاة العيدين

هي ركعتان.
‌‌ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা (قضاء) পরিচ্ছেদ

- যদি নামাজ বর্জন ইচ্ছাকৃত হয় এবং কোনো ওজরের কারণে না হয়; তবে আল্লাহর ঋণই কাজা (قضاء) করার অধিক দাবিদার।

- আর যদি নামাজ বর্জন ওজরের কারণে হয়; তবে তা কাজা (قضاء) নয়; বরং তা ওজর দূর হওয়ার সময়ের আদায় (أداء) হিসেবে গণ্য হবে।

- তবে ঈদের নামাজ ব্যতীত; কারণ তা দ্বিতীয় দিনে আদায় করতে হয়।

 

‌‌জুমার নামাজের পরিচ্ছেদ

প্রত্যেক মুকাল্লাফ (مكلف) ব্যক্তির ওপর এটি আবশ্যক (واجب); তবে নিচের ব্যক্তিরা ব্যতীত:

1 - নারী।

2 - দাস।

3 - মুসাফির।

4 - অসুস্থ ব্যক্তি।

- জুমার নামাজ অন্যান্য সাধারণ নামাজের মতোই; কেবল এর পূর্বে দুটি খুতবা বিধিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি ব্যতীত এটি অন্য নামাজ থেকে ভিন্ন নয়।

- এর সময় হলো জোহরের নামাজের সময়।

আর যে ব্যক্তি জুমায় উপস্থিত হবে, তার কর্তব্য হলো:

1 - মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে না যাওয়া।

2 - খুতবা চলাকালীন নীরব থাকা।

- আর তার জন্য মুস্তাহাব (مندوب) হলো:

1 - দ্রুত আসা।

2 - সুগন্ধি ব্যবহার করা।

3 - সুসজ্জিত হওয়া।

4 - ইমামের নিকটবর্তী হওয়া।

- যে ব্যক্তি জুমার এক রাকাত পেল, সে জুমার নামাজই পেল।

- আর ঈদের দিনে জুমার নামাজ পড়া একটি বিশেষ ছাড় বা অনুমতি (رخصة)।

 

‌‌দুই ঈদের নামাজের পরিচ্ছেদ

ঈদের নামাজ দুই রাকাত।