(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: -)
العين حق القسم: مسائل فقهية
الكتاب: العين حق
جمع وترتيب: محمد بن سنجاب الأثري
الناشر: دار التقوى للنشر والتوزيع - مصر
الطبعة: بدون
عدد الصفحات: 125
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 شعبان 1438
আল-আইন হাক্ক (নজর লাগা সত্য) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আল-আইন হাক্ক (নজর লাগা সত্য)
সংকলন ও বিন্যাস: মুহম্মদ বিন সিনজাব আল-আসারী
প্রকাশক: দারুত তাকওয়া প্রকাশনী ও বিতরণ - মিশর
সংস্করণ: নেই
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ শাবান ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১)
العين حق
جمع وترتيب: محمد بن سنجاب الأثرى
دار التقوى للنشر والتوزيع
কুদৃষ্টির প্রভাব সত্য
সংকলন ও বিন্যাস: মুহাম্মদ বিন সানজাব আল-আসারী
দারুত তাকওয়া প্রকাশনী ও পরিবেশনী
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২)
دار التقوى للنشر والتوزيع - شبرا الخيمة
দারুত তাকওয়া প্রকাশনা ও বিতরণী - শুবরা আল-খাইমা
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يأيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته، ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون}
يأيها الناس إتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها، وبث منهما رجالاً كثيراً ونساء، واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام، إن الله كان عليكم رقيباً}. {يأيها الذين آمنوا اتقوا الله، وقولوا قولاً سديداً، يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم، ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيما}.
أما بعد فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار. ثم أما بعد.
فهذا بحث أعددته منذ سنوات لحاجتى إليه وهو يتناول مسألة من المسائل المشهورة بين المسلمين جميعهم. علمائهم وعوامهم. صغيرهم وكبيرهم. إنسهم وجنهم دائمة الحدوث. ثابتة بالكتاب والسنة والإجماع. بينها الشارع الحكيم وقبلها العقل السليم لاينكرها إلامبتدع ضال صاحب هوى أعمى الله بصيرته. وهذا لا يعنينا فى قليل ولا كثير لأن المسألة كما قلت ثابتة شاء من شاء وأبى من أبى والواقع يشهد بهذا.
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহের অকল্যাণ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।}
অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মদের হিদায়াত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة), আর প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপর।
এটি একটি গবেষণা যা আমি কয়েক বছর আগে নিজের প্রয়োজনে প্রস্তুত করেছিলাম। এটি এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যা সকল মুসলিমের নিকট সুপরিচিত; তাদের আলেম সমাজ ও সাধারণ জনগণ, ছোট ও বড়, মানুষ ও জিন—সবার মাঝেই এর প্রাসঙ্গিকতা বিদ্যমান। বিষয়টি কিতাব, সুন্নাহ (سنة) এবং ঐক্যমত্য (إجماع) দ্বারা সুপ্রমাণিত। প্রজ্ঞাময় শরীয়ত একে সুস্পষ্ট করেছে এবং সুস্থ বিবেক একে গ্রহণ করেছে। কোনো পথভ্রষ্ট (ضال) বিদআতি (مبتدع), যার অন্তর্দৃষ্টিকে আল্লাহ অন্ধ করে দিয়েছেন, সে ব্যতীত অন্য কেউ এটি অস্বীকার করে না। আর এটি আমাদের জন্য সামান্যতম উদ্বেগের কারণ নয়, কারণ বিষয়টি আমি যেমনটি বলেছি—চাই কেউ তা পছন্দ করুক বা না করুক—তা ধ্রুব সত্য এবং বাস্তবতা এর সাক্ষ্য প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৪)
وأحكامها باقية إلى ما شاء الله تعالى.
وما أردت بهذا البحث إثبات أصل الحسد لأن الأمر كما قيل:
وليس يصح فى الأذهان شئ
… إذا احتاج النهار إلى دليل.
وإنما أردت أن أكشف عما فى المسألة من أحكام قد تخفى على بعض الناس ليكون المسلم على بصيرة من أمور دينه فى زمان الغربة المتجددة. بعيدا عن حديث خرافة. أو بدعة محدثة. أو شرك يشوب المعتقد. يوم ضل من ضل وغفل من غفل.
وأنبه هنا إلى أن بعض العوام قد يفرطون فى تعليق كثير من الحوادث على الحسد وبعضهم يعتقد أن الذى يكل ذلك إلى الحسد عنده شئ من قبيل الوساوس ونحوها والحق وسط بين الفريقين وبعضم يسلك فى العلاج مسالك المبتدعة والكهان وطوائف الشرك والردة أعاذنا الله وأهلنا من ذلك والبعض أيضا ينكر علاج الحسد بالرقى ويرى أن ذلك كله من الشعوزة وهذا منتشر بين الماديين والعقلانيين - زعموا - وكلاهما طرفى نقيض والحق خلافهما كذلك ولعلى أبين فى هذه الرسالة المتواضعة عقيدة أهل السنة ومنهج الحق فى الإيمان بوجود الحسد وتأثير العين فى المحسود وكيف يقى المسلم منها نفسه وأهله وماله وصديقه وكيف يكون العلاج على منهاج وسنة بعيدا عن المجربات والمبتدعات ووصفات العطارين ودجل المشعوزين بل من غير الذهاب إلى راق أو معالج مع جمع لكلام أهل العلم مما هو مفرق فى كتبهم كما قال محمد بن سيرين رحمه الله: ذهبَ العلم وبقيت منه شذراتٌ في أوعيةٍ شتى. ونقله عنه الذهبى فى كتابه الماتع سير أعلام النبلاء.
وإن اتسع المقام بينت من الأحاديث والأخبار والحكايات ممالم يثبت والعامة تعتقد ثبوته ونبهت عليه وعلى ما يتعلق بالمسألة من بدع ومحدثات مما لا تراه
এবং এর বিধানসমূহ আল্লাহ তাআলা যতদিন ইচ্ছা করেন ততদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
আর আমি এই গবেষণার মাধ্যমে হিংসার মূল বিষয়টি প্রমাণ করার ইচ্ছা করিনি, কারণ বিষয়টি যেমন বলা হয়েছে:
মনের মধ্যে কোনো কিছুই সঠিক বলে গণ্য হয় না
… যদি দিনের আলোর জন্য প্রমাণের প্রয়োজন হয়।
বরং আমি কেবল এই বিষয়ের সেই সকল বিধান উন্মোচন করতে চেয়েছি যা হয়তো কিছু মানুষের কাছে অস্পষ্ট, যাতে একজন মুসলিম তার দ্বীনি বিষয়াবলি সম্পর্কে এই নবায়িত প্রবাসের যুগে সুস্পষ্ট জ্ঞানের ওপর থাকতে পারে। যা রূপকথার গল্প, কিংবা নব উদ্ভাবিত বিদআত (بدعة), অথবা আকিদাকে কলুষিতকারী শিরক থেকে মুক্ত থাকবে। এমন এক দিনে যখন পথভ্রষ্টরা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং গাফেলরা গাফিলতিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
আমি এখানে সতর্ক করতে চাই যে, সাধারণ মানুষের অনেকে অনেক ঘটনাকে হিংসার ওপর চাপিয়ে দিয়ে বাড়াবাড়ি করে থাকে, আবার কেউ কেউ মনে করে যারা এসব বিষয় হিংসার দিকে সোপর্দ করে তাদের বিষয়টি কুসংস্কার বা এজাতীয় কিছু। অথচ সত্য এই দুই পক্ষের মাঝখানে। আবার কেউ কেউ চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিদআতি, গণক এবং শিরক ও ধর্মত্যাগী গোষ্ঠীর পথ অনুসরণ করে—আল্লাহ আমাদের ও আমাদের পরিবারকে তা থেকে রক্ষা করুন। আবার কেউ কেউ রুকইয়াহ (الرقى) এর মাধ্যমে হিংসার প্রতিকার অস্বীকার করে এবং মনে করে যে এ সবটাই জাদুটোনা বা ভেলকিবাজি; এটি বস্তুবাদী এবং স্বঘোষিত যুক্তিবাদীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এই দুই দলই দুই চরম প্রান্তে অবস্থান করছে, আর সত্য এর বিপরীত। সম্ভবত আমি এই বিনম্র রিসালায় হিংসার অস্তিত্বে বিশ্বাস এবং হিংসাক্রান্ত ব্যক্তির ওপর কুদৃষ্টির প্রভাব সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহর আকিদা ও সত্যের মানহাজ বর্ণনা করব; আরও বর্ণনা করব কীভাবে একজন মুসলিম তা থেকে নিজেকে, পরিবারকে, সম্পদকে ও বন্ধুকে রক্ষা করবে এবং কীভাবে পরীক্ষিত টোটকা, বিদআত (بدعة), কবিরাজদের ব্যবস্থাপত্র এবং জাদুকরদের প্রতারণা থেকে দূরে থেকে মানহাজ ও সুন্নাহ অনুযায়ী চিকিৎসা করা সম্ভব হবে—এমনকি কোনো ঝাড়ফুঁককারী বা চিকিৎসকের কাছে না গিয়েই। সেই সাথে আমি বিদ্বানদের কথাগুলো একত্রিত করব যা তাদের বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে আছে, যেমনটি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জ্ঞান চলে গেছে এবং বিভিন্ন আধারে তার কিছু অবশিষ্টাংশ রয়ে গেছে।" ইমাম যাহাবি তার চমৎকার গ্রন্থ সিয়ারু আলামিন নুবালা-তে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর যদি পরিসর অনুমতি দেয়, তবে আমি এমন কিছু হাদিস, বর্ণনা ও কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা করব যা প্রমাণিত (ثابت) নয়, অথচ সাধারণ মানুষ তা প্রমাণিত (ثبوت) বলে বিশ্বাস করে। আমি সেই বিষয়ে এবং এই সংশ্লিষ্ট নব উদ্ভাবিত বিদআত (بدعة) ও কুসংস্কার সম্পর্কে সতর্ক করব যা সচরাচর দেখা যায় না।
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৫)
بفضل الله فى غير هذه الرسالة وهى جهد المقل فى الدفاع عن دين الله تعالى والنصيحة له وكتابه ورسوله وأئمة المسلمين وعامتهم عسى الله تعالى أن ينفع بها وأسأل الله تعالى التوفيق والسداد والقبول. إنه سبحانه ولى ذلك والقادر عليه. آمين.
وكتبه
محمد بن عبد المعطى بن على بن أحمد بن سنجاب الأثرى
صعيد مصر. أبوتشت. السليمات. نجع بكار.
شهر صفر عام 1423 من الهجرة
الموافق 14 مايو (آيار) 2002 للميلاد.
আল্লাহর অনুগ্রহে এই গবেষণাপত্র ব্যতিরেকে অন্যান্য স্থানেও (তা বর্ণিত হয়েছে), যা আল্লাহর দ্বীন রক্ষার নিমিত্তে এবং আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের প্রতি কল্যাণকামিতার এক সামান্য সামর্থ্যের প্রচেষ্টা; আশা করি আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে উপকৃত করবেন। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট তাওফিক, সঠিকতা ও কবুলিয়াত প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র ও মহিমান্বিত, এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ সক্ষম। আমিন।
লিখেছেন
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মু'তি বিন আলী বিন আহমাদ বিন সিনজাব আল-আসারি
ঊর্ধ্ব মিসর, আবু তিশত, আস-সুলাইমাত, নাজ' বাকার।
হিজরি ১৪২৩ সালের সফর মাস
যা ঈসায়ী ২০০২ সালের ১৪ মে (আইয়ার) এর সমসাময়িক।
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيد عن منهج البحثالحمد لله على فضله وامتنانه وجميل إحسانه. حمدا يليق بجلال وجهه وعظيم سلطانه. وصلى اللهم وسلم على محمد وآله. وبعد.
فهذا منهج البحث أستخلصه بين يدى القارئ حيث أنى أذكر الترجمة فأعرفها بما يزيل عجمتها ثم أذكر الأدلة من الكتاب أو السنة أو أثر عن السلف أو بيان معناه المعقول. والأخير هذا نادرا. وقد رأيت جماعة من المصنفين فى مجال العلاج إن صح التعبير ذلك أنهم كما يظهر من كثرة تصانيفهم يجوزون الإجتهاد الجزئى ومذهيهم فى هذا مذهب الجمهور لكنهم يخالفون الجمهور فى الإحتجاج بالضعيف والموضوع أو على الأقل يوردونها دون تمييز زيفها. فقد رأيت الكثيرين يوردون أخباراً، وحكايات، هى من جنس المنخنقة والموقوذة والمتردية والنطيحة، مع أشياء أخرى لا يعول عليها من شم ريح العلم ولو مرة فى حياته، فكم من مؤلف حاطب ليل، وجارف سيل، لا يميز بين الصحيح والضعيف، ويظن كل مدور رغيفاً! ! (1) وليس لهؤلاء مثل عندى إلا هذا المثل القاسى: ليست الثكلى كالمستأجرة فلو كان الأمر يهمهم لأتعبوا أنفسهم فى البحث والاختيار والنقد فلهذا عمدت إلى جمعت طرق الأحاديث التى وردت فى العين والحسد والغبطة بل فى كل ما له علاقة بالمسألة ونقدتها نقدا علميا وفق أصول المصطلح بمنهج المتقدمين من علماء الحديث وبينت زيفها من صحيحها وربما أطلت النفس فى بعض هذا أعنى ما هو من صلب الموضوع. مع قلة المصادر وبعدى عن دور أهل العلم واشتغال
--------------------------------------------
গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর অনুগ্রহ, অনুদান এবং উত্তম ইহসানের জন্য। এমন প্রশংসা যা তাঁর সত্তার গাম্ভীর্য ও মহান রাজত্বের জন্য উপযুক্ত। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর।
পাঠকের সামনে আমি আমার গবেষণা পদ্ধতি সংক্ষেপে তুলে ধরছি। আমি যখন কোনো জীবনী বা প্রসঙ্গের অবতারণা করি, তখন এমনভাবে তার পরিচয় প্রদান করি যা তার অস্পষ্টতা দূর করে। এরপর আমি কুরআন, সুন্নাহ অথবা পূর্বসূরিগণের (سلف) কোনো বর্ণনা (أثر) থেকে দলিল পেশ করি অথবা তার যুক্তিগ্রাহ্য অর্থের ব্যাখ্যা প্রদান করি। শেষের বিষয়টি খুবই বিরল। আমি চিকিৎসার ক্ষেত্রে—যদি এই শব্দটি সঠিক হয়—একদল লেখককে দেখেছি, যারা তাদের অধিক পরিমাণ রচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তারা আংশিক ইজতিহাদ বৈধ মনে করেন। এক্ষেত্রে তাদের মতাদর্শ জমহুর বা সংখ্যাধিক্য আলিমদের অনুরূপ; কিন্তু তারা দুর্বল (ضعيف) ও জাল (موضوع) বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে জমহুরদের বিরোধিতা করেন, অথবা অন্ততপক্ষে সেগুলোর অসারতা স্পষ্ট না করেই উল্লেখ করেন। আমি অনেককে দেখেছি যারা এমন সব সংবাদ ও কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা করেন যা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরা, আঘাত লেগে মরা, ওপর থেকে পড়ে মরা এবং অন্য পশুর গুতোয় মরা পশুর মাংসের ন্যায়; এছাড়া তারা এমন সব বিষয়ের ওপর নির্ভর করেন যা জীবনে একবারও ইলমের ঘ্রাণ পেয়েছে এমন কেউ গ্রহণ করবে না। কত লেখকই তো আছেন যারা রাতের আঁধারে কাষ্ঠ সংগ্রহকারীর মতো এবং প্রচণ্ড প্লাবনের মতো, যারা সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না এবং প্রতিটি গোলাকার বস্তুকেই রুটি মনে করেন! ! (১) আমার কাছে তাদের জন্য এই কঠোর প্রবাদটি ছাড়া আর কোনো উপমা নেই: "সন্তানহারা জননী আর ভাড়াটে বিলাপকারিনী সমান নয়।" যদি বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতো, তবে তারা গবেষণা, চয়ন এবং পর্যালোচনার ক্ষেত্রে নিজেদের নিয়োজিত করতেন। তাই আমি কুদৃষ্টি, হিংসা ও ঈর্ষা এবং এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহের সূত্রসমূহ (طرق) সংগ্রহ করার সংকল্প করেছি। আমি হাদিস শাস্ত্রের প্রাচীন বিশেষজ্ঞগণের (متقدمين) মানদণ্ড অনুযায়ী পরিভাষার (مصطلح) মূলনীতি (أصول) অনুসরণ করে সেগুলোর ইলমি পর্যালোচনা করেছি এবং সহিহ (صحيح) বর্ণনা থেকে ভিত্তিহীন বর্ণনাগুলোকে পৃথক করে দেখিয়েছি। অনেক ক্ষেত্রে আমি আলোচনার ব্যাপ্তি দীর্ঘ করেছি, বিশেষ করে যা মূল বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। যদিও তথ্যের উৎসের স্বল্পতা এবং ইলমের কেন্দ্রগুলো থেকে দূরে অবস্থান ও অন্যান্য ব্যস্ততা সত্ত্বেও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮)
البال وتوالى الهموم وأنا طويلب علم صغير أقرأ وأجمع وأبلغ عن الله ورسوله ولو آية قدر ما أستطيع ليس لى نظر المحدثين ولا طول اشتغالهم.
ولا يظنن أحد أنى بانتقاد بعض الأحاديث أو الجرأة فى الحكم عليها ومخالفة من مضى من علمائنا لا يظن من ذلك انتقاصهم ولا هضم حقهم أو مكانتهم بل والله ما دفعنى إلى ذلك إلا النصيحة وما توصلت إليه فبأصولهم التى وضعوها ونقحها من بعدهم وما زال الآخر يتعلم من الأول وينفرد عنه وهذا عين الإتباع أما الموافقة فى كل نتيجة فهذا هو التقليد وهو مالم يقل به أولئك العلماء ولا يعيب الأول أن يستدرك عليه من جاء بعده واعدد ما تفردنا فيه عنهم إلى جنب ما وافقناهم فيه تعلم مدى فضلهم ومبلغ علمهم ولا جرم فقد كان علماء يهود والنصارى شرارهم وامتن الله علينا بأن جعل علماءنا خيارنا نسأل الله تعالى أن يلحقنا بهم ويجعلنا من الذين اتبعوهم بإحسان وما أحوجنا إلى أن نعرف أننا كما قال أبو عمرو ابن العلاء: ما نحن فيمن مضى إلا كبقل فى أصول نخل طوال (1) وأنا فى نقدى للأحاديث وحكمي عليها وفق المنهج العلمى المعروف لكل مشتغل بعلم الحديث رواية ودراية لا أخلو أن أكون أحد رجلين لا ثالث لهما إما مصيب وإما مخطئ فإن كنت مصيبا فما المانع أن يقبل منى. وإن كنت مخطئا فجزى الله خيرا من أوقفنى على خطإ زللت فيه ويبين لى ذلك بالأدلة ولسوف يجد صدري واسعا في قبول ذلك منه نسأل الله العلم النافع. والكلام على الأحاديث صحة وضعفا من المسائل الإجتهادية يصيب فيها الرجل ويخطئ والعبرة بمن ندر خطؤه فى جنب صوابه ورحم الله من أوقفنى على خطإ لأتداركه لاسيما وأنى لا أتبنى القول بالتساهل فى إيراد الضعيف ولا القول بالتجربة فى العلاج. وأعوذ بالله أن أقول قولا وأنحى غيره وحسبى أن لا أتكلم إلا بدليل أو أنطق إلا بحجة. إذ الخطب جليل والناقد بصير وهذا الأمر دين.
--------------------------------------------
মনের স্থিরতা ও দুশ্চিন্তার আধিক্যের মাঝে আমি ইলমের একজন ক্ষুদ্র শিক্ষার্থী; আমি পাঠ করি, সংকলন করি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি। মুহাদ্দিসগণের মতো সূক্ষ্ম দৃষ্টি কিংবা তাঁদের মতো দীর্ঘকাল এই কাজে ব্যাপৃত থাকার সুযোগ আমার হয়নি।
আর কেউ যেন মনে না করেন যে, কিছু হাদিসের সমালোচনা (نقد) করার মাধ্যমে অথবা সেগুলোর ওপর হুকুম (حكم) প্রদানের ধৃষ্টতা দেখিয়ে এবং আমাদের পূর্ববর্তী আলেমদের বিরোধিতা করে আমি তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছি কিংবা তাঁদের অধিকার বা অবস্থান খাটো করছি। বরং আল্লাহর কসম! কল্যাণকামিতা (نصيحة) ছাড়া অন্য কিছু আমাকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেনি। আমি যা কিছুতে উপনীত হয়েছি, তা তাঁদেরই প্রণীত মূলনীতি এবং পরবর্তীতে তাঁদের অনুসারীদের দ্বারা পরিমার্জিত পদ্ধতির সাহায্যেই সম্ভব হয়েছে। পরবর্তী প্রজন্ম সর্বদা পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে—আর এটিই হলো প্রকৃত অনুসরণ (إتباع)। পক্ষান্তরে প্রতিটি সিদ্ধান্তে একমত হওয়া হলো অন্ধ অনুকরণ (تقليد), যা ওই সকল আলেমগণ কখনও বলেননি। পূর্ববর্তীদের কোনো ভুল পরবর্তী কেউ সংশোধন করলে তাতে পূর্ববর্তীদের কোনো অমর্যাদা হয় না। তাঁদের সাথে আমার ঐকমত্যের পাশাপাশি যেসব বিষয়ে আমি ভিন্নমত পোষণ করেছি, সেগুলোর তুলনা করলে আপনি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও ইলমের গভীরতা বুঝতে পারবেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের আলেমরাই ছিল তাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম, অথচ আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে আমাদের আলেমদের করেছেন আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং তাঁদের ইহসানের সাথে অনুসরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আমাদের জন্য এটি জানা খুবই জরুরি যে, আমরা হলাম ঠিক যেমন আবু আমর ইবনুল আলা বলেছিলেন: "পূর্ববর্তীদের তুলনায় আমরা দীর্ঘ খেজুর গাছের গোড়ায় জন্মানো ছোট ঘাসের মতো।" (১) আর আমি হাদিস পর্যালোচনা (نقد) এবং সেগুলোর ওপর হুকুম (حكم) প্রদানের ক্ষেত্রে হাদিস বর্ণনা (رواية) এবং হাদিসের তত্ত্ব (دراية) সংক্রান্ত ইলমের চর্চাকারীদের কাছে সুপরিচিত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুসরণ করি। এমতাবস্থায় আমি দুই ধরনের ব্যক্তির একজন হতে পারি, তৃতীয় কেউ নই: হয় আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত, না হয় আমি ভুলকারী। আমি যদি সঠিক হই, তবে তা গ্রহণ করতে বাধা কোথায়? আর যদি আমি ভুল করি, তবে আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উত্তম প্রতিদান দিন যিনি আমাকে আমার বিচ্যুতি সম্পর্কে অবগত করবেন এবং দলিলের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করবেন। আমি অত্যন্ত উদারচিত্তে তা গ্রহণ করব। আমরা আল্লাহর কাছে উপকারী ইলম প্রার্থনা করি। হাদিস সহিহ (صحة) হওয়া বা জইফ (ضعف) হওয়া সংক্রান্ত আলোচনা ইজতিহাদি বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে আবার ভুলও করতে পারে। গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে যার ভুলের তুলনায় সঠিকের মাত্রা অনেক বেশি তার ওপর। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি আমাকে আমার ভুল সংশোধন করার সুযোগ করে দেবেন; বিশেষ করে যেহেতু আমি জইফ (ضعيف) হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শনের পক্ষপাতী নই এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির পক্ষপাতী নই। আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এমন কথা বলা থেকে যার বিপরীত কাজ আমি করি। আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে আমি দলিল ছাড়া কোনো কথা বলি না অথবা প্রমাণ ছাড়া কোনো মত ব্যক্ত করি না। কারণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুগম্ভীর, আর সমালোচক (ناقد) অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী; আর এই বিষয়টি হলো দ্বীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهذا شرطى فيما أكتب وحسب امرئ أن ينتهى إلى ما سمع.
ولم أذكر فى صفة علاج الحسد مجربات ولا أذكار مبتدعات بل ولا ما ورد بسند ضعيف أو شديد الضعف فضلا عن الموضوع الساقط وإنما آثرت أن أورد ما ثبت عن النبى صلى الله عليه وسلم وعن سلف الأمة ألحقنا الله بهم وما دام فى المسألة أحاديث صحاح ففيها إن شاء الله لباغى الخير غنية ولمعة للمحتاج ورشد للمسترشد والأمر كما جاء عن سفيان الثورى رحمه الله قال: إن استطعت ألا تحك رأسك إلا بأثر فافعل. (1)
وقال سعيد بن جبير رحمه الله: قد أحسن من انتهى إلى ما سمع. (2) وأيا ما كان الأمر فى مسألة العلاج بالقرءان والرقى والدعوات. هل الأصل فيها التجربة -وهذا باب واسع جدا - أو التوقف شأن بقية العبادات والسنن. فلا ريب أن اتباع السنة أولى بكثير من الخضوع لأمور مجربات ذلك أن النبى محمد صلى الله عليه وسلم أعلمنا بالله وأعرفنا به وأتقانا له فما من خير إلا وقد دلّنا عليه وخير الهدى هديه صلى الله عليه وسلم. وفى النفس من جهة التجربة فى باب العلاج شئ. وقد روينا عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه قال "إذا حاك فى نفسك شئ فدعه" (3) فمن لم يرض منا بهذا فليرض بذكر الفاضل فى العلاج دون المفضول -وهذا عين الإنصاف - على الرغم من أنى لا أتبنى مذهب المجربات فى مسألة العلاج بالرقى وإنما العلاج بما جرب وعرف منفعته
--------------------------------------------
আমি যা লিখি সে বিষয়ে এটিই আমার শর্ত। আর একজন মানুষের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনেছে (জেনেছে) সেখানেই যেন সে সীমাবদ্ধ থাকে।
আমি হিংসার চিকিৎসার বর্ণনায় কোনো পরীক্ষিত পদ্ধতি কিংবা কোনো নবউদ্ভাবিত জিকির উল্লেখ করিনি; এমনকি আমি এমন কিছুও উল্লেখ করিনি যা দুর্বল (ضعيف) সনদ বা অত্যন্ত দুর্বল (شديد الضعف) সনদে বর্ণিত হয়েছে, আর পরিত্যক্ত জাল (الموضوع الساقط) তো বহু দূরের কথা। বরং আমি সেই বিষয়গুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছি যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উম্মাহর সালফে সালেহীন থেকে প্রমাণিত হয়েছে—আল্লাহ আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন। যতক্ষণ এই বিষয়ে সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ বিদ্যমান রয়েছে, ততক্ষণ ইনশাআল্লাহ এতেই কল্যাণকামী ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট উপকরণ, অভাবী ব্যক্তির জন্য আলোকবর্তিকা এবং পথনির্দেশ অন্বেষণকারীর জন্য সঠিক নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি ঠিক তেমনি যেমন সুফিয়ান সাওরি (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "যদি সম্ভব হয় যে একটি আছার (أثر) ছাড়া তুমি তোমার মাথাও চুলকাবে না, তবে তাই করো।" (১)
সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) বলেন: "যে ব্যক্তি যা শুনেছে (জেনেছে) সে অনুযায়ী সীমাবদ্ধ থাকল, সে উত্তম কাজ করল।" (২) কুরআন, রুকইয়াহ এবং দোয়ার মাধ্যমে চিকিৎসার বিষয়টি যেমনই হোক না কেন—এক্ষেত্রে মূল ভিত্তি কি কেবল অভিজ্ঞতা (তাজরিবা)—যা অত্যন্ত বিস্তৃত একটি বিষয়—নাকি অন্যান্য ইবাদত ও সুন্নাহর মতো দালিলিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করা (তাওয়াক্কুফ)? এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নিছক পরীক্ষিত বিষয়ের অনুগত হওয়ার চেয়ে সুন্নাহর অনুসরণ করা অনেক বেশি উত্তম। কারণ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ সম্পর্কে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত ও তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয়কারী। এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে তিনি আমাদের পথনির্দেশ করেননি এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো তাঁরই হেদায়েত। চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয়ে মনে কিছুটা দ্বিধা রয়েছে। আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যখন তোমার মনে কোনো কিছু খটকা সৃষ্টি করে, তখন তা বর্জন করো।" (৩) আমাদের মধ্যে যারা এতে সন্তুষ্ট নয়, তারা চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনুত্তম বিষয়ের পরিবর্তে উত্তম বিষয়টি বেছে নেওয়াতেই যেন সন্তুষ্ট থাকে—আর এটিই হলো ইনসাফের দাবি—যদিও আমি রুকইয়ার মাধ্যমে চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিছক পরীক্ষিত মতবাদ গ্রহণ করি না, বরং চিকিৎসা হতে হবে তার মাধ্যমে যা প্রমাণিত এবং যার উপকারিতা সুনিশ্চিতভাবে জানা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১০)
يكون فى العاديات المحضة أما مسألتنا فهى من الأمور العادية التعبدية فلو كانت عادية محضة لكان القول فيها للعلاج المجرب إذ الناس أعلم بأمور دنياهم ولعل هذا هو محز الخلاف وأنا والله أخشى على من يدع السنة إلى الشئ المجرب أن يدخل فى وعيد النبى صلى الله عليه وسلم حيث قال .. فمن رغب عن سنتى فليس منى (1) وفى هذه المسألة كذا وكذا حديثا. لست أدع ذلك كله لذكر استحسنوه أو أمر جربوه.
مع العلم بأن النبى صلى الله عليه وسلم أوتى جوامع الكلم وفواتحه والدعاء بالمأثور لا شك أنفع وتجد من النور على الدعاء المأثور عنه صلى الله عليه وسلم ما لا تجد على كل من جاء بعده صلى الله عليه وسلم قال الشافعى رحمه الله: أجمع المسلمون على أن من استبانت له السنة لم يكن له أن يدعها لقول أحد من الناس. (2) والكلام على هذا الأصل يحتمل البسط فى مجلدات. وإنما أشرت إليه أدنى إشارة يعلم منها المقصود ولعلى أشبعته بحثا فى غير هذا الموضع. وأشرع الآن فى ذكر ما كنت سطرته فى مسألة الحسد وعلاجه وبالله التوفيق.
--------------------------------------------
এটি নিছক অভ্যাসগত (العاديات المحضة) বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে আমাদের আলোচ্য বিষয়টি ইবাদত-সংশ্লিষ্ট অভ্যাসগত (العادية التعبدية) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। যদি এটি নিছক অভ্যাসগত হতো, তবে এর ক্ষেত্রে পরীক্ষিত চিকিৎসার কথাই অগ্রগণ্য হতো; কারণ মানুষ তাদের দুনিয়াবি বিষয়ে অধিক অভিজ্ঞ। সম্ভবত এটিই মতপার্থক্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আল্লাহর শপথ, যে ব্যক্তি সুন্নাহ বর্জন করে কোনো পরীক্ষিত বিষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে, আমি তার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই সতর্কবাণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা করি যেখানে তিনি বলেছেন— "যে আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়।" (১) এই মাসআলায় বহু সংখ্যক হাদিস রয়েছে। মানুষের পছন্দ করা কোনো জিকির বা তাদের পরীক্ষিত কোনো বিষয়ের জন্য আমি এই সব হাদিস পরিত্যাগ করতে পারি না।
এটি সুবিদিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য (جوامع الكلم) এবং সূচনামূলক বাক্য (فواتحه) দান করা হয়েছে। আর বর্ণিত (المأثور) দোয়া নিঃসন্দেহে অধিক উপকারী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (المأثور) দোয়ার মধ্যে আপনি এমন এক নূর বা জ্যোতি খুঁজে পাবেন, যা তাঁর পরে আসা অন্য কারো দোয়ায় পাওয়া সম্ভব নয়। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেছেন: "মুসলিমগণ এই বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন (أجمع) যে, যার কাছে সুন্নাহ স্পষ্ট হয়ে গেছে, অন্য কারো কথার খাতিরে তা বর্জন করা তার জন্য বৈধ নয়।" (২) এই মূলনীতি (الأصل) সংক্রান্ত আলোচনা কয়েক খণ্ড পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। আমি কেবল সামান্য ইঙ্গিত দিয়েছি যাতে মূল উদ্দেশ্য বোঝা যায়; সম্ভবত আমি অন্য কোনো স্থানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখন আমি হিংসা ও তার প্রতিকার সম্পর্কে যা লিখেছিলাম তা উল্লেখ করতে শুরু করছি। আল্লাহর কাছেই তৌফিক কাম্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحسد هو مصطلح على معنى معين عند الناس قد يتفق مع المعنى اللغوى وقد يفترق ولبيان هذا أذكر أمورا دائرة فى معنى الحسد لكن بينها بعض الفروق من جهة الأصل والنتائج والكيفية والجهة الواقعة منها وهى الحسد والعين والغبطة والأضم والغل والحقد.
تعريف الحسدهو تمنى ملك الشئ المستحسن مع تمنى زوال الشئ من الغير يعنى من صاحبه. ويحصل الحسد برؤية الشئ غالبا وقد يقع من غير رؤية. ولا يكون الحسد إلا من نفس شريرة - مسلمة أوغير ذلك - ولما كانت رؤية الشئ مصاحبة للحسد ارتبط الحسد بالعين فقيل للمحسود أصابته عين وفى الحديث الصحيح "العين حق "متفق عليه. ولا يذكر الحسد إلا والذم لازم له لما يلحق المحسود من أضرار أو فساد بقدر ما فى نفس الحاسد من شر على ما قدره الله تعالى له.
قال ابن منظور: الحسد معروف حسده يحسده إذا تمنى أن تتحول إليه نعمته وفضيلته أو يسلبهما هو وترى اللبيب محسدا لم يجترمشتم الرجال وعرضه مشتوم قال الجوهرى: الحسد أن تتمنى زوال نعمة المحسود إليك. اهـ (1)
وقال الفيروزآبادى: حسده تمنى أن تتحول إليه نعمته وفضيلته أو يسلبهما وهو حاسد من حسد وحساد وحسدة وحسود من حسد وحسدنى الله إن كنت أحسدك أي عاقبنى على الحسد وتحاسدوا حسد بعضهم بعضا. اهـ (2)
وقال فى المصباح المنير: حسدته على النعمة وحسدته النعمة حسدا بفتح السين أكثر من سكونها يتعدى إلى الثاني بنفسه وبالحرف إذا كرهتها عنده وتمنيت زوالها عنه وأما الحسد على الشجاعة ونحو ذلك فهو الغبطة وفيه معنى التعجب وليس فيه تمني زوال ذلك عن المحسود فإن تمناه فهو القسم الأول وهو حرام والفاعل
--------------------------------------------
হাসাদ (حسد) বা হিংসা মানুষের কাছে একটি নির্দিষ্ট অর্থবোধক পরিভাষা, যা কখনো আভিধানিক অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় আবার কখনো ভিন্ন হয়। এটি স্পষ্ট করার জন্য আমি হাসাদ (حسد)-এর অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় উল্লেখ করছি, যেগুলোর মূল উৎস, ফলাফল, পদ্ধতি ও প্রয়োগক্ষেত্রের বিচারে কিছু পার্থক্য রয়েছে; আর সেগুলো হলো: হাসাদ (حسد), কুদৃষ্টি (عين), ঈর্ষা (غبطة), আযাম (أضم), বিদ্বেষ (غل) এবং ঘৃণা (حقد)।
হাসাদ (حسد)-এর সংজ্ঞাহাসাদ (حسد) হলো কোনো পছন্দনীয় বস্তুর মালিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করার সাথে সাথে অন্যের নিকট থেকে অর্থাৎ তার প্রকৃত মালিকের নিকট থেকে সেই বস্তুটি চলে যাওয়ার কামনা করা। হাসাদ (حسد) সাধারণত কোনো বস্তু দেখার মাধ্যমে ঘটে থাকে, তবে কখনো দেখা ছাড়াও হতে পারে। হাসাদ (حسد) কেবল কলুষিত আত্মা (নফস)—তা মুসলিম হোক বা অন্য কিছু—থেকেই উৎসারিত হয়। যেহেতু কোনো বস্তু দেখা হাসাদ (حسد)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই হাসাদ (حسد)-কে কুদৃষ্টি (عين)-এর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে; ফলে যাকে হিংসা করা হয় তার সম্পর্কে বলা হয় যে সে কুদৃষ্টি (عين) আক্রান্ত হয়েছে। সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "কুদৃষ্টি (العين) সত্য", যা মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)। হাসাদ (حسد)-এর আলোচনা মানেই তার সাথে নিন্দা অনিবার্যভাবে যুক্ত, কারণ হাসাদকারীর অন্তরে বিদ্যমান অনিষ্টের মাত্রা অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত ফয়সালা মোতাবেক যাকে হিংসা করা হচ্ছে তার ক্ষতি বা বিপর্যয় ঘটে থাকে।
ইবনুল মানজুর বলেন: হাসাদ (حسد) একটি সুপরিচিত বিষয়। যখন কেউ অন্যের নিয়ামত ও শ্রেষ্ঠত্ব নিজের দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার তামান্না করে অথবা অন্য ব্যক্তি যেন তা থেকে বঞ্চিত হয় এমন ইচ্ছা করে, তখন বলা হয় সে তাকে হাসাদ (حسد) করেছে। জনৈক কবি বলেছেন: "আপনি বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে হিংসার শিকার হতে দেখবেন, অথচ সে মানুষকে গালি দেয়নি কিন্তু তার সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।" আল-জাওহারী বলেন: হাসাদ (حسد) হলো যাকে হিংসা করা হচ্ছে (المحسود) তার নিয়ামত আপনার নিকট চলে আসার আকাঙ্ক্ষা করা। (সমাপ্ত) (১)
আল-ফিরোজাবাদি বলেন: তাকে হাসাদ (حسد) করার অর্থ হলো—তার নিয়ামত ও শ্রেষ্ঠত্ব নিজের দিকে চলে আসার আকাঙ্ক্ষা করা অথবা সে যেন তা থেকে বঞ্চিত হয় এমন কামনা করা। হাসাদ (حسد) যে করে সে হলো হাসিদুল (حاسد), এর বহুবচন হলো হুসসাদ (حساد), হাসাদাহ (حسدة) এবং হাসুদ (حسود)। 'আল্লাহ আমাকে শাস্তি দিন যদি আমি তোমার প্রতি হাসাদ (حسد) করি'—অর্থাৎ হাসাদ (حسد)-এর কারণে আল্লাহ আমাকে আজাব দিন। 'তাহাসাদু' অর্থ তারা একে অপরের প্রতি হাসাদ (حسد) করেছে। (সমাপ্ত) (২)
আল-মিসবাহুল মুনীর গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'হাসাদতুহু আলান নি'মাহ' এবং 'হাসাদতুহুন নি'মাহ' (আমি তাকে নেয়ামতের বিষয়ে হিংসা করেছি); এখানে হাসাদান (حسدا) শব্দটিতে সীন বর্ণের যবর হওয়া সাকিন হওয়ার চেয়ে অধিক প্রচলিত। এটি দ্বিতীয় পদের দিকে সরাসরি অথবা অব্যয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়—যখন আপনি অন্যের কাছে থাকা নেয়ামতকে অপছন্দ করেন এবং তা তার কাছ থেকে চলে যাওয়ার তামান্না করেন। আর বীরত্ব বা এ জাতীয় বিষয়ের প্রতি হাসাদ (حسد) করাকে ঈর্ষা (غبطة) বলা হয়, যাতে আশ্চর্যের অর্থ থাকে এবং যাকে হিংসা করা হচ্ছে তার থেকে নেয়ামত চলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে না। কিন্তু যদি কেউ তা চলে যাওয়ার কামনা করে, তবে তা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে যা হারাম (حرام), এবং সম্পাদনকারী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১২)
حاسد وحسود والجمع حساد وحسده. (1)
واعلم أن الحسد من أمراض القلوب نعوذ بالله من ذلك وأصله من الغضب والحقد وعدم الرضا بالقضاء والقدر والرزق وهو يفسد ذات البين ويضر بالدين ويذهب بالمودة وينشر البغضاء بين المسلمين ويصد عن العمل والذكر والعبادة حتى عده الغزالى من الأسباب المانعة من قيام الليل ولا حول ولا قوة إلا بالله.
تعريف الأضم.
إذا تمنى الرجل (أو المرأة أو الصبى سواء كانوا من الإنس أو من الجن) حصول النعمة له وزوالها من الغير من غير أن يضر ذلك بالمحسود يعنى لا يضر كما يضر الحسد ولا يقع هذا فهو الأضم وهذا من مظاهر رحمة الله تعالى بعباده ومن دفعه للقضاء السئ عن العباد فلو أنفذ الله تعالى كل حسد لخربت الدنيا وفسدت معايش الناس ولا حولا ولا قوة إلا بالله.
قال فى العين: الأضم الحسد والحقد في القلب لا يقدر على أن يمضيه. اهـ (2)
والأضم لايؤثر كالعين وإن كان هو منها لكن هو أشبه بالحقد الحامل على الكبر وبطر الحق وغمط الناس كالذى يكون بين الأقران فى كل عمل ومكان كطلبة العلم يحمل بعضهم الحسد على تسفيه الآخر وانتقاص قدره وهضم حقه والتهوين من أمره والإستخفاف بمكانته وربما النيل من عرضه بسسبب مقالة أو رأى ونحو ذلك وهذا ليس من الغبطة المحمودة التى وردت فى الحديث ولا هى أيضا من العين التى تضر بل هى من قراع الأقران وجدالهم مما هو ظاهر معلوم والله تعالى أعلم. ومنه قول الشاعر:
حسدوا الفتى إذ لم ينالوا سعيه
… فالناس أعداء لهم وخصومُ
كضرائر الحسناء قلن لوجهها
… ظلماً وزوراً إنه لذميمُ
--------------------------------------------
হাচিদ (حاسد) ও হাসুদ (حسود); এর বহুবচন হলো হুস্সাদ (حساد) ও হাসাদাহ (حسده)। (১)
জেনে রাখুন যে, ঈর্ষা (حسد) হলো অন্তরের ব্যাধিগুলোর অন্তর্ভুক্ত; আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এর মূল উৎস হলো ক্রোধ, বিদ্বেষ এবং তকদির ও রিজিকের ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্টি। এটি পারস্পরিক সুসম্পর্ক নষ্ট করে, দ্বীনের ক্ষতিসাধন করে, সৌহার্দ্য দূর করে এবং মুসলিমদের মাঝে শত্রুতা ছড়িয়ে দেয়। এটি নেক আমল, জিকির ও ইবাদত থেকে বিমুখ করে রাখে, এমনকি ইমাম গাজালি একে তাহাজ্জুদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অন্যতম প্রতিবন্ধক কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।
'আদাম' (الأضم)-এর সংজ্ঞা.
যখন কোনো ব্যক্তি (পুরুষ, নারী বা শিশু এবং তারা মানুষ হোক বা জিন) নিজের জন্য নেয়ামত প্রাপ্তি এবং অন্যের থেকে তা বিলুপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, অথচ এর দ্বারা যাকে ঈর্ষা করা হচ্ছে তার কোনো ক্ষতি হয় না—অর্থাৎ এটি ঈর্ষা (حسد)-র মতো সরাসরি কোনো ক্ষতি করে না এবং বাস্তবে কার্যকর হয় না—তবে তাকে 'আদাম' (الأضم) বলা হয়। এটি বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর দয়ার একটি বহিঃপ্রকাশ এবং তাদের ওপর থেকে মন্দ ফয়সালা প্রতিহত করার একটি মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা যদি প্রতিটি ঈর্ষা (حسد) কার্যকর করতেন, তবে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত এবং মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হতো। আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।
আল-আইন গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আদাম' (الأضم) হলো অন্তরের এমন ঈর্ষা (حسد) ও বিদ্বেষ যা কার্যকর করার সামর্থ্য ব্যক্তির থাকে না। সমাপ্ত। (২)
'আদাম' (الأضم) বদনজর (عين)-এর মতো কোনো প্রভাব ফেলে না, যদিও এটি তার একটি প্রকারভেদ। তবে এটি সেই বিদ্বেষের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ যা অহংকার, সত্যকে অস্বীকার এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করতে প্ররোচিত করে। যেমনটি প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ও স্থানে সমসাময়িক ব্যক্তিদের (أقران) মধ্যে দেখা যায়; উদাহরণস্বরূপ, ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থীদের একদল অপরজনের প্রতি ঈর্ষার (حسد) বশবর্তী হয়ে তাকে নির্বোধ সাব্যস্ত করে, তার মর্যাদা খাটো করে, তার প্রাপ্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করে, তার বিষয়গুলোকে তুচ্ছ করে দেখায়, তার অবস্থানকে অবজ্ঞা করে এবং কোনো বক্তব্য বা মতামতের কারণে হয়তো তার সম্মানে আঘাত হানে। এটি সেই প্রশংসনীয় ঈর্ষা (غبطة) নয় যা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আর এটি সেই ক্ষতিকারক বদনজর (عين)-ও নয়। বরং এটি সমসাময়িকদের পারস্পরিক রেষারেষি (قراع الأقران) ও বিবাদের অন্তর্ভুক্ত যা অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুবিদিত। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। এ প্রসঙ্গে কবির উক্তি:
তারা যুবকটির প্রতি ঈর্ষা করল যেহেতু তারা তার সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি
… ফলে মানুষ তাদের শত্রু ও প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াল।
ঠিক যেমন রূপবতী নারীর সতীনরা তার চেহারা সম্পর্কে বলেছিল
… অন্যায় ও মিথ্যা অপবাদ দিয়ে যে, নিশ্চয়ই সে কুৎসিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومنه أيضا قول بعضهم:
لولا التخوف للعواقب لم تزل
… للحاسد النعمى على المحسود
وإذا أراد الله نشر فضيلة
… طويت أتاح لها لسان حسود
لولا اشتعال النار فيما جاورت
… ماكان يعرف طيب عرف العود
تعريف الغبطة.
هى تمنى حصول النعمة للعبد مع عدم تمنى زوالها من صاحبها ولا تكون إلا فى الفضائل والأمور المستحسنة فى الشريعة كالقراءة والعلم والشجاعة والقوة وكثرة الصدقة والإنفاق فى سبيل الله ..
قال ابن منظور: والغبط أن يتمنى أن يكون له مثلها ولا يتمنى زوالها عنه. اهـ (1) وقال أيضا: غبطه، حسده وقيل الحسد أن تتمنى نعمته على أن تتحول عنه والغبطة أن تتمنى مثل حال المغبوط من غير أن تريد زوالها ولا أن تتحول عنه وليس بحسد. (2)
وقال فى المصباح المنير: الغبطة حسن الحال وهي اسم من غبطته غبطا من باب ضرب إذا تمنيت مثل ما ناله من غير أن تريد زواله عنه لما أعجبك منه وعظم عندك وفى حديث " أقوم مقاما يغبطني فيه الأولون والآخرون ". وهذا جائز فإنه ليس بحسد فإن تمنيت زواله فهو الحسد. اهـ (3)
وقال الأصفهانى: فمجرد تمني مثل خير يصل إلى غيره فهو غبطة، وإن زاد على التمنى بالسعى لبلوغ مثل ذلك الخير أو ما فوقه فمنافسة. (4)
تعريف الغل والحقد.
الغل والحقد من مرادفات الحسد ولها نفس المعنى وإن كانت هى المقدمة للحسد فهى بدايته والحسد يقع لها فى النهاية وهى أمور متلازمة فلا يقع الحسد
--------------------------------------------
ومنه أيضا قول بعضهم:
পরিণতির ভয় না থাকলে, হিংসুক (حاسد) সর্বদা (যাকে হিংসা করা হয়) তার ওপর অনুগ্রহপ্রাপ্ত হতে থাকত।
…আল্লাহ যখন কোনো অপ্রকাশিত মর্যাদা (فضيلة) প্রচার করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তার জন্য হিংসুক (حسود) ব্যক্তির রসনাকে সুযোগ করে দেন।
…আগুনের দহন যদি তার চারপাশের বস্তুকে স্পর্শ না করত, তবে আগর কাঠের সুগন্ধের মাহাত্ম্য কেউ জানতে পারত না।
…
গিবত (الغبطة) এর সংজ্ঞা.
এটি হলো কোনো বান্দার জন্য নিয়ামত প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা করা কিন্তু তার মূল অধিকারীর থেকে তা বিলীন হয়ে যাওয়ার কামনা না করা। এটি কেবল মর্যাদা (فضائل) এবং শরিয়তে প্রশংসনীয় বিষয়সমূহের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে; যেমন কিরাত, ইলম, বীরত্ব, শক্তি, অধিক সাদাকাহ এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করা...
ইবনে মঞ্জুর বলেছেন: আল-গিবত (والغبط) হলো নিজের জন্যও অন্যের অনুরূপ নিয়ামত কামনা করা এবং তার থেকে তা বিলীন হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা না করা। (১) তিনি আরও বলেন: গিবত করল, হিংসা করল; আর বলা হয়েছে: হিংসা (الحسد) হলো অন্যের নিয়ামতটি তার থেকে আপনার দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা, আর গিবত (والغبطة) হলো যার প্রতি ঈর্ষা করা হচ্ছে (المغبوط) তার ন্যায় অবস্থা কামনা করা, সেটি বিলীন হয়ে যাওয়ার বা আপনার দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ না করে। এটি হিংসা (حسد) নয়। (২)
আল-মিসবাহুল মুনির গ্রন্থে বলা হয়েছে: গিবত (الغبطة) হলো অবস্থার উৎকর্ষতা; এটি ‘গাবাততুহু গিবতান’ (غبطته غبطا) থেকে আগত একটি বিশেষ্য যা ‘দারাবা’ (ضرب) বাব বা অধ্যায়ভুক্ত। এর অর্থ হলো যখন আপনি অন্যের প্রাপ্ত নিয়ামতের মতো বিষয় কামনা করেন আপনার কাছে তা চমৎকার ও মহান মনে হওয়ার কারণে, তবে তার থেকে তা বিলীন হওয়ার ইচ্ছা করেন না। হাদিসে এসেছে: "আমি এমন এক স্থানে দণ্ডায়মান হব যেখানে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ আমার প্রতি ঈর্ষা (يغبطني) করবে।" আর এটি বৈধ, কারণ এটি হিংসা (حسد) নয়। তবে যদি আপনি তা বিলীন হওয়ার কামনা করেন, তবে তা-ই হলো হিংসা (الحسد)। (৩)
আল-আসফাহানি বলেছেন: অন্যের কাছে পৌঁছানো কল্যাণের মতো কল্যাণ কেবল কামনা করা হলো গিবত (غبطة)। আর যদি সেই কামনার সাথে সেই কল্যাণ বা তার চেয়ে বেশি কিছু অর্জনের প্রচেষ্টা যোগ হয়, তবে তা হলো প্রতিযোগিতা (منافسة)। (৪)
বিদ্বেষ (الغل) ও ঘৃণা (الحقد) এর সংজ্ঞা.
বিদ্বেষ (الغل) ও ঘৃণা (الحقد) হলো হিংসার (حسد) সমার্থক শব্দ এবং এগুলোর অর্থ একই, যদিও এগুলো হিংসার প্রারম্ভিকা বা শুরু এবং হিংসা (حسد) এর চূড়ান্ত পরিণতি। এগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিষয়, তাই হিংসা (حسد) সঙ্ঘটিত হয় না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
من غير حقد ولا ينتج الحقد غير الحسد والواقع يشهد بذلك ولا يقولن قائل قد يستشكل ههنا أن يحسد الرجل رغما عنه ولا يحقد كالذى يحسد ماله وولده وقريبه فنقول هذه عين وليست بحسد والله تعالى أعلم قال ابن منظور: والغل بالكسر والغليل الغش والعداوة والضغن والحقد والحسد وفي التنزيل العزيز: ونزعنا ما في صدورهم من غل. قال الزجاج حقيقته والله أعلم أنه لا يحسد بعض أهل الجنة بعضا في علو المرتبة لأن الحسد غل. (1)
تعريف العين.
العين هى وقوع الحسد بالقوة التى أودعها الله تعالى فى بعض أعين عباده من غير حقد وتكون من رجل صالح ليست نفسه بالخبيثة فهذا لايقال فيه حاسد وإنما هو عائن. وإن جاز الأول تعميما لكن التفصيل أصح ومنه قصة عامر بن ربيعة رضى الله عنه لما حسد سهل بن حنيف رضى الله عنه وقدر الله تعالى أن تقع مثل هذه القصة فى الزمن الأول لنستفيد من أحكامها مع ما كان يسود مجتمع الصحابة رضى الله عنهم من أخوة وحب ومودة وإيثار ما عهدناها فى عصر بعدهم.
هل هناك فرق بين الحسد والعين أو هما سواء؟
نعم هناك فرق بينهما وإن اتفق تأثيرهما. فقد اشتهر عند الناس ذم الحسد والحاسد -وهذا صحيح - ومعلوم أن الحسد إنما يقع من نفس حاسدة. لكن قد صح فى السنة أن العين قد تقع من الرجل الصالح كما حدث مع عامر بن ربيعة لما رأى سهل بن حنيف الأنصارى رضى الله عنهمافوعك سهل واشتد به فهل هذا يقدح فى عامر رضى الله عنه؟ اللهم لا. وإنما كان عليه أن يدعو لسهل رضى الله عنه بالبركة لما رأى منه ما أعجبه.
فمن هنا كان فى المسألة تفصيل لا ينفك عن فهم المسألة ووهم من سوى بينهما.
--------------------------------------------
বিদ্বেষ (حقد) ছাড়া কেবল ঈর্ষা (حسد) থেকেই বিদ্বেষ (حقد) জন্মায় না, আর বাস্তবও এর সাক্ষ্য দেয়। কেউ যেন এখানে এই সংশয় প্রকাশ না করে যে, একজন ব্যক্তি অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঈর্ষা (حسد) করতে পারে কিন্তু বিদ্বেষ (حقد) পোষণ না-ও করতে পারে—যেমন কেউ তার সম্পদ, সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের প্রতি ঈর্ষা (حسد) করে। আমরা এর উত্তরে বলব, এটি হলো কুদৃষ্টি (عين), ঈর্ষা (حسد) নয়। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। ইবনে মঞ্জুর বলেন: ‘গিল’ (غل) শব্দের অর্থ হলো প্রতারণা (الغش), শত্রুতা (العداوة), চরম ঘৃণা (الضغن), বিদ্বেষ (حقد) এবং ঈর্ষা (حسদ)। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন: “আর আমি তাদের অন্তর থেকে বিদ্বেষ (غل) দূর করে দেব।” আল-যাজ্জাজ বলেন, এর প্রকৃত অর্থ—আর আল্লাহই ভালো জানেন—হলো জান্নাতবাসীদের একজন অন্যজনের উচ্চ মর্যাদার জন্য ঈর্ষা (حسد) করবে না, কারণ ঈর্ষা (حسদ) হলো এক প্রকার বিদ্বেষ (غل)। (১)
কুদৃষ্টির (عين) সংজ্ঞা.
কুদৃষ্টি (عين) হলো সেই ঈর্ষার (حسد) প্রভাব, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিছু বান্দার চোখের মধ্যে এক বিশেষ শক্তিরূপে আমানত রেখেছেন, যা কোনো বিদ্বেষ (حقد) ছাড়াই প্রকাশ পায়। এটি একজন নেককার ব্যক্তির পক্ষ থেকেও হতে পারে যার আত্মা কলুষিত নয়। এমতাবস্থায় তাকে হিংসুক (حاسد) বলা হয় না, বরং তাকে কুদৃষ্টিদানকারী (عائن) বলা হয়। যদিও ব্যাপক অর্থে প্রথমটি (হিংসুক) বলা জায়েজ, তবে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করাই অধিক সঠিক। এর উদাহরণ হলো আমির ইবনে রাবিআহ (রা.)-এর ঘটনা, যখন তিনি সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.)-এর প্রতি ঈর্ষা (حسد) পোষণ করেছিলেন (অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃত কুদৃষ্টি দিয়েছিলেন)। আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেছিলেন যে, এই ঘটনাটি ইসলামের প্রথম যুগে ঘটবে যাতে আমরা এর বিধানগুলো থেকে উপকৃত হতে পারি; অথচ সাহাবীদের (রা.) সমাজে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ত্যাগের এমন এক পরিবেশ বিদ্যমান ছিল যা পরবর্তী কোনো যুগে দেখা যায়নি।
ঈর্ষা (حسد) ও কুদৃষ্টির (عين) মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে নাকি উভয়ই সমান?
হ্যাঁ, এ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে যদিও তাদের প্রভাব অভিন্ন হতে পারে। মানুষের মাঝে ঈর্ষা (حسد) ও হিংসুককে (حاسد) নিন্দা করার বিষয়টি সুপরিচিত—এবং এটি সঠিক। এটি সুবিদিত যে ঈর্ষা (حسد) কেবল একজন হিংসুক (حاسد) ব্যক্তির আত্মা থেকেই উৎপন্ন হয়। তবে সুন্নাহতে এটি বিশুদ্ধ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত যে, কুদৃষ্টি (عين) একজন নেককার মানুষের পক্ষ থেকেও হতে পারে, যেমনটি আমির ইবনে রাবিআহর ক্ষেত্রে ঘটেছিল যখন তিনি সাহল ইবনে হুনাইফ আনসারিকে (রা.) দেখেছিলেন। ফলে সাহল অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর অসুস্থতা তীব্র হয়। তবে এটি কি আমিরের (রা.) মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে? কক্ষনো না। বরং তাঁর উচিত ছিল যখনই তিনি সাহলের কোনো পছন্দনীয় বিষয় দেখেছিলেন, তখন তাঁর জন্য বরকতের (البركة) দোয়া করা।
সুতরাং, এই মাসআলায় এমন এক বিস্তারিত বিশ্লেষণ রয়েছে যা ছাড়া বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়; আর যারা এই দুই বিষয়কে একই মনে করেন তারা বিভ্রান্তিতে রয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فالحسد مغاير للعين. وما يهمنا من الفرق بينهما هو أن الحسد يقع من نفس حاقدة. والعين قد تقع من الرجل الصالح. وليس فى العين تمن زوال النعمة من الغير. والله أعلم وأنت تجد أن الله عز وجل لما ذكر الحاسد فى كتابه ذكره مقرونا بالشر فقال تعالى {ومن شر حاسد إذا حسد}
لكن لما ذكر النبى صلى الله عليه وسلم العين ذكر تأثيرها وحدوثها ونبه على الغفلة التى تلحق العائن إذا رأى ما يعجبه فأمر هـ بالدعاء بالبركة. وإن كان فيها أذى.
ومجمل القول فى الفرق بين العين والحسد أن:* الحاسد أعم من العائن. فالعائن حاسد خاص -إن صح التعبير - فكل حاسد عائن. وليس كل عائن حاسدا. ولذلك جاء ذكر الإستعاذة فى سورة الفلق من الحاسد فإذا استعاذ المسلم من شر الحاسد دخل فيه العائن. وهذا من شمول القرءان الكريم وإعجازه وبلاغته. (1)
* الحسد يتأتى عن الحقد والبغض وتمن زوال النعمة أما العين فيكون سببها الإعجاب والاستعظام والاستحسان.
* الحسد والعين يشتركان فى الأثر حيث يسببان ضررا للمعين والمحسود ويختلفان فى المصدر. فمصدر الحسد تحرق القلب واستكثار النعمة على المحسود وتمنى زوالها عنه أما العائن فمصدره انقداح نظرة العين. لذا فقد يصيب من لا يحسده من جماد أو حيوان أو زرع أو مال وربما أصابت عينه نفسه فرؤيته للشئ رؤية تعجب وتحديق مع تكيف نفسه بتلك الكيفية تؤثر فى المعين.
* الحاسد يمكن أن يحسد فى الأمر المتوقع قبل وقوعه بينما العائن لا يعين إلا الموجود بالفعل.
--------------------------------------------
হিংসা (الحسد) কুদৃষ্টি (العين) থেকে ভিন্ন। আমাদের নিকট উভয়ের পার্থক্যের যে দিকটি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—হিংসা (الحسد) সর্বদা বিদ্বেষপরায়ণ আত্মা থেকে উৎপন্ন হয়; পক্ষান্তরে কুদৃষ্টি (العين) কখনো কখনো নেককার ব্যক্তির পক্ষ থেকেও হতে পারে। কুদৃষ্টির (العين) ক্ষেত্রে অন্যের নিয়ামত বিলুপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে না। আল্লাহ-ই ভালো জানেন। আপনি লক্ষ্য করবেন যে, মহান আল্লাহ যখন তাঁর কিতাবে হিংসুক (حاسد) ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তাকে অকল্যাণের সাথে যুক্ত করে বলেছেন: "এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে।"
কিন্তু যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুদৃষ্টি (العين) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি এর প্রভাব ও সংঘটিত হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন এবং কুদৃষ্টি প্রদানকারী (العائن) যখন নিজের পছন্দনীয় কোনো কিছু দেখে তখন তার মধ্যে যে অসতর্কতা কাজ করে সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাই তিনি তাতে বরকতের দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও তাতে ক্ষতির (অনিষ্টের) দিক বিদ্যমান থাকে।
কুদৃষ্টি ও হিংসার পার্থক্যের সারসংক্ষেপ হলো:* হিংসুক (حاسد) শব্দটির অর্থ কুদৃষ্টি প্রদানকারী (العائن) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। প্রকাশভঙ্গি সঠিক হলে বলা যায়—কুদৃষ্টি প্রদানকারী (العائن) হলো এক প্রকার বিশেষ হিংসুক (حاسد)। সুতরাং প্রত্যেক হিংসুকই (حاسد) কুদৃষ্টি প্রদানকারী (عائن) হতে পারে, কিন্তু প্রত্যেক কুদৃষ্টি প্রদানকারীই (عائن) হিংসুক (حاسد) নয়। এ কারণেই সুরা আল-ফালাকে হিংসুক (حاسد) থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলা হয়েছে; ফলে যখন কোনো মুসলিম হিংসুকের (حاسد) অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তখন তার মধ্যে কুদৃষ্টি প্রদানকারীও (العائن) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এটি পবিত্র কুরআনের ব্যাপকতা, অলৌকিকত্ব ও ভাষাশৈলীরই বহিঃপ্রকাশ। (১)
* হিংসা (الحسد) সৃষ্টি হয় বিদ্বেষ, ঘৃণা এবং নিয়ামত বিলুপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে। অন্যদিকে কুদৃষ্টির (العين) কারণ হলো কোনো কিছুর প্রতি অতিশয় মুগ্ধতা, সেটিকে অনেক বড় করে দেখা এবং পছন্দ করা।
* হিংসা (الحسد) ও কুদৃষ্টি (العين) উভয়ই প্রভাবের ক্ষেত্রে একীভূত, কারণ উভয়ই কুদৃষ্টির শিকার (المعين) ও হিংসার শিকার (المحسود) ব্যক্তির ক্ষতি সাধন করে। তবে তাদের উৎসের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। হিংসার (الحسد) উৎস হলো হৃদয়ের দহন এবং অন্যের নিয়ামতকে অতিরিক্ত মনে করা ও তা বিলুপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা। পক্ষান্তরে কুদৃষ্টি প্রদানকারীর (العائن) উৎস হলো চোখের দৃষ্টির বিচ্ছুরণ। এজন্য কুদৃষ্টি এমন বস্তু বা প্রাণীর ওপরও পড়তে পারে যাকে হিংসা করা হয় না; যেমন—জড় পদার্থ, পশু, ফসল কিংবা সম্পদ। এমনকি অনেক সময় নিজের কুদৃষ্টি নিজের ওপরেও পড়তে পারে। কেননা কোনো কিছুর প্রতি মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা এবং মনের সেই বিশেষ অবস্থার সংমিশ্রণ আক্রান্ত বস্তুর ওপর প্রভাব ফেলে।
* হিংসুক (حاسد) ব্যক্তি কোনো বিষয় ঘটার আগেই তার প্রতি হিংসা করতে পারে, কিন্তু কুদৃষ্টি প্রদানকারী (العائن) কেবল উপস্থিত ও বিদ্যমান বিষয়ের ওপরই কুদৃষ্টি দিতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
* لا يحسد الإنسان نفسه ولكن قد يعينها.
* لا يقع الحسد إلا من نفس خبيثة حاقدة. ولكن العين قد تقع من رجل صالح من جهة إعجابه بالشئ دون إرادة منه إلى زواله. كما حدث من عامر رضى الله عنه فهو من السابقين إلى الإسلام شهد بدرا. وناهيك بفضل الصحبة. أنعم به وأكرم.
وممن فرق بين العين والحسد. ابن الجوزى والنووى وابن القيم وابن حجر العسقلانى، وغيرهم. رحمهم الله جميعا. (1)
--------------------------------------------
* মানুষ নিজেকে হিংসা (حسد) করে না, তবে সে নিজের ওপর নজর (عين) লাগাতে পারে।
* হিংসা (حসد) কেবল এক কুটিল ও বিদ্বেষপরায়ণ আত্মা থেকেই উদ্ভূত হয়। তবে নজর (عين) একজন নেককার ব্যক্তির পক্ষ থেকেও লাগতে পারে—কোনো বিষয়ের প্রতি তাঁর মুগ্ধতার কারণে, তা বিলুপ্ত হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই। যেমনটি ঘটেছিল আমির (রা.)-এর মাধ্যমে; তিনি ছিলেন ইসলামের পথে অগ্রবর্তীদের (السابقين) অন্তর্ভুক্ত এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সাহচর্য (صحبة)-এর মর্যাদাই তাঁর জন্য যথেষ্ট; কতই না অনুগ্রহভাজন ও সম্মানিত তিনি!
যাঁরা নজর (عين) ও হিংসা (حسد)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল জাওজি, নববী, ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানি ও অন্যান্যগণ। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الأدلة على تأثير العين فى المحسود:
أولا: من القرآن الكريم.
قال تعالى عن اليهود {وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَابٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ بِئْسَمَا اشْتَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ أَنْ يَكْفُرُوا بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ بَغْيًا أَنْ يُنَزِّلَ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ فَبَاءُوا بِغَضَبٍ عَلَى غَضَبٍ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُهِينٌ} البقرة (89 - 90)
فبين الله تعالى أن اليهود حملهم الحسد والبغى على الكفر برسالة النبى صلى الله عليه وسلم لأنهم كانوا يرون أن النبوة ستكون فيهم وسيقاتلون مع النبى صلى الله عليه وسلم فيغلبون الذين كفروا فلما جاءت النبوة كما عرفوا لكنها كانت النبوة فى العرب حسدوهم فلم يؤمنوا. فالآية حجة فى إثبات الحسد وبيان سوء عاقبته. قال أبوعبيد القاسم بن سلام: (بغيا) حسدا بلغة تميم. (1)
وقال القرطبى: قوله تعالى: {بَغْياً} معناه حسداً قاله قتادة والسّدّى، وهو مفعول من أجله، وهو على الحقيقة مصدر. الأصمعيّ: وهو مأخوذ من قولهم: قد بَغَى الجرح إذا فسد. وقيل: أصله الطلب، ولذلك سُمّيت الزانية بَغِيّا. {أَن يُنَزّلُ اللهُ} في موضع نصب أى لأن ينزّل، أي لأجل إنزال الله الفضل على نبيّه صلى الله عليه وسلم. وقرأ ابن كَثير وأبو عمرو ويعقوب وابن مُحَيْصِن «أن يُنْزِل» مخفّفاً، وكذلك سائر ما في القرآن، إلا «وَمَا نُنَزّلُه» في «الحجر» ، وفي «الأنعام» «عَلَى أنْ يُنَزّلَ آيةً».اهـ (2)
--------------------------------------------
যাদেরকে হিংসা করা হয় তাদের ওপর নজর লাগার (العين) প্রভাবের প্রমাণসমূহ:
প্রথমত: পবিত্র কুরআন থেকে.
আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের সম্পর্কে বলেন: {আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক কিতাব আসল যা তাদের সাথে থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী, অথচ ইতিপূর্বে তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত; অতঃপর যখন তাদের কাছে তা আসল যা তারা চিনতে পেরেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করল। অতএব কাফিরদের ওপর আল্লাহর লানত। কতই না মন্দ সেই বিষয় যার বিনিময়ে তারা নিজেদের প্রাণকে বিক্রি করেছে, তা হলো আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা কেবল এই জেদ বা হিংবসত অস্বীকার করা যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার ওপর ইচ্ছা তাঁর অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। ফলে তারা ক্রোধের ওপর ক্রোধের অধিকারী হলো। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।} আল-বাকারাহ (৮৯ - ৯০)
আল্লাহ তাআলা এখানে স্পষ্ট করেছেন যে, ইহুদিদের হিংসা (حسد) ও বিদ্বেষই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের প্রতি কুফরি করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কারণ তারা মনে করত যে, নবুওয়াত তাদের বংশধারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তারা নবীর সাথে মিলে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হবে। কিন্তু যখন নবুওয়াত তাদের পরিচিত নির্দশনসহ আগমন করল, তবে তা ছিল আরবদের মাঝে, তখন তারা তাদের প্রতি হিংসা (حسد) পোষণ করল এবং ঈমান আনল না। সুতরাং এই আয়াতটি হিংসার (حسد) অস্তিত্ব প্রমাণ এবং এর অশুভ পরিণতির বর্ণনায় একটি দলিল (حجة)। আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনুল সাল্লাম বলেন: তামিমি গোত্রের ভাষায় 'বাঘইয়ান' (بغيا) অর্থ হলো হিংসা (حسدا)। (১)
আর ইমাম কুরতুবী বলেন: মহান আল্লাহর বাণী: {بَغْياً} এর অর্থ হলো হিংসা (حسداً); কাতাদাহ ও সুদ্দী এমনই বলেছেন। এটি একটি 'মাফউলুন লাহু' (مفعول من أجله) এবং প্রকৃতপক্ষে এটি একটি 'মাসদার' (مصدر)। আসমাঈ বলেন: এটি তাদের এই কথা থেকে গৃহীত— 'ক্ষতটি পচে নষ্ট (بغى) হয়ে গেছে'। আবার বলা হয়েছে, এর মূল অর্থ হলো 'অন্বেষণ বা তলব করা', একারণেই ব্যভিচারিণীকে 'বাঘিয়্যাহ' (بغيّا) বলা হয়। {أَن يُنَزّلُ اللهُ} এখানে 'নসব' (نصب) অবস্থায় রয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর নবীর ওপর অনুগ্রহ নাজিল করার কারণে। ইবনে কাসির, আবু عمرو, ইয়াকুব ও ইবনে মুহাইসিন 'أن يُنْزِل' (আন ইউনযিলা) অর্থাৎ 'তাখফিফ' বা হালকাভাবে পাঠ করেছেন এবং কুরআনের অন্যান্য সকল স্থানেও তারা এমনই পড়েছেন, কেবল সূরা হিজরের 'وَمَا نُنَزّلُه' এবং সূরা আনআমে 'عَلَى أنْ يُنَزّلَ آيةً' এর ব্যতিক্রম। সমাপ্ত। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
* وقال الله تعالى: (وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِنْ عِنْدِ أَنفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ الْحَقُّ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِىَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ) (البقرة - 109).
قال الحافظ ابن كثير الدمشقى رحمه الله: يحذر تعالى عباده المؤمنين عن سلوك الكفار من أهل الكتاب ويعلمهم بعداوتهم لهم في الباطن وما هم مشتملون عليه من الحسد للمؤمنين مع علمهم بفضلهم وفضل نبيهم. اهـ (1)
وقال ابن تيميه رحمه الله فى هذه الآية: فذم اليهود على ما حسدوا المؤمنين على الهدى والعلم. وقد يبتلى بعض المنتسبين إلى العلم وغيرهم بنوع من الحسد لمن هداه الله بعلم نافع أو عمل صالح، وهو خلق مذموم مطلقا وهو في هذا الموضع من أخلاق المغضوب عليهم. (2)
وقال الشيخ العثيمين رحمه الله: من فوائد الآية: بيان شدة عداوة اليهود، والنصارى للأمة الإسلامية؛ وجه ذلك أن كثيراً منهم يودون أن يردوا المسلمين كفاراً حسداً من عند أنفسهم ..
ومنها: أن الحسد من صفات اليهود، والنصارى.
ومنها: تحريم الحسد؛ لأن مشابهة الكفار بأخلاقهم محرمة؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "من تشبه بقوم فهو منهم"؛ واعلم أن الواجب على المرء إذا رأى أن الله أنعم على غيره نعمة أن يسأل الله من فضله، ولا يكره ما أنعم الله به على الآخرين، أو يتمنى زواله؛ لقوله تعالى: {ولا تتمنوا ما فضل الله به بعضكم على بعض للرجال نصيب مما اكتسبوا وللنساء نصيب مما اكتسبن واسألوا الله من فضله} [النساء: 32]؛ والحاسد لا يزداد بحسده إلا ناراً تتلظى في جوفه؛ وكلما ازدادت نعمة الله على عباده ازداد حسرة؛ فهو مع كونه كارهاً لنعمة الله على هذا الغير مضاد لله في حكمه؛ لأنه يكره
--------------------------------------------
* মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: (আহলে কিতাবদের অনেকেই তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তাদের অন্তরের হিংসার বশবর্তী হয়ে আকাঙ্ক্ষা করে যে, তোমাদের ঈমান আনার পর যদি তারা তোমাদের পুনরায় কাফিরে পরিণত করতে পারত। সুতরাং তোমরা ক্ষমা করো ও উপেক্ষা করো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান) (আল-বাকারাহ: ১০৯)।
হাফিজ ইবনে কাসির আদ-দিমাশকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের আহলে কিতাব কাফিরদের পথ অনুসরণ করা থেকে সতর্ক করেছেন এবং তাদের অন্তরে লুকায়িত শত্রুতা ও মুমিনদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের নবির শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও মুমিনদের প্রতি তাদের মনে যে হিংসা রয়েছে, সে সম্পর্কেও তাদের জ্ঞাত করেছেন। [সমাপ্ত] (১)
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: মুমিনরা হিদায়াত ও জ্ঞান লাভের কারণে ইয়াহুদিরা যে হিংসা করেছিল, এতে তাদের সেই নিন্দা করা হয়েছে। অনেক সময় ইলমের সাথে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি বা অন্যরাও এমন হিংসায় আক্রান্ত হতে পারে, যাকে আল্লাহ কোনো উপকারী জ্ঞান বা নেক আমলের মাধ্যমে হিদায়াত দান করেছেন। এটি সর্বতোভাবে একটি নিন্দনীয় (مذموم) চরিত্র এবং এই ক্ষেত্রে এটি অভিশপ্তদের (المغضوب عليهم) চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। (২)
শাইখ উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই আয়াতের শিক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইসলামি উম্মাহর প্রতি ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের চরম শত্রুতার বর্ণনা; এর কারণ হলো তাদের অনেকেই নিজেদের অন্তরের হিংসার বশবর্তী হয়ে মুসলমানদের কাফিরে পরিণত করতে চায়...
তন্মধ্যে একটি হলো: হিংসা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আরও একটি হলো: হিংসা হারাম হওয়া; কারণ কাফিরদের চরিত্রের সাথে সাদৃশ্য রাখা নিষিদ্ধ; যেহেতু নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত"; জেনে রাখুন, কোনো ব্যক্তি যখন দেখবে যে আল্লাহ অন্য কাউকে কোনো নেয়ামত দান করেছেন, তখন তার জন্য আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করা; আল্লাহ অন্যদের যা দান করেছেন তা অপছন্দ না করা অথবা তা বিলুপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা না করা। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা সেই জিনিসের আকাঙ্ক্ষা করো না যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষদের জন্য অংশ রয়েছে তারা যা উপার্জন করে তা থেকে এবং নারীদের জন্যও অংশ রয়েছে তারা যা উপার্জন করে তা থেকে। আর তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো} [আন-নিসা: ৩২]; হিংসুক ব্যক্তি তার হিংসার মাধ্যমে কেবল নিজের অন্তরে প্রজ্বলিত আগুনই বৃদ্ধি করে; আল্লাহর বান্দাদের ওপর নেয়ামত যত বৃদ্ধি পায়, তার আক্ষেপও তত বাড়ে; অন্যের ওপর আল্লাহর নেয়ামতকে অপছন্দ করার কারণে সে মূলত আল্লাহর ফয়সালারই বিরোধিতা করে; কারণ সে অপছন্দ করে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أن ينعم الله على هذا المحسود؛ ثم إن الحاسد أو الحسود. مهما أعطاه الله من نعمة لا يرى لله فضلاً فيها؛ لأنه لابد أن يرى في غيره نعمة أكثر مما أنعم الله به عليه، فيحتقر النعمة؛ حتى لو فرضنا أنه تميز بأموال كثيرة، وجاء إنسان تاجر، وكسب مكسباً كبيراً في سلعة معينة تجد هذا الحاسد يحسده على هذا المكسب بينما عنده ملايين كثيرة؛ وكذلك أيضاً بالنسبة للعلم: بعض الحاسدين إذا برز أحد في مسألة من مسائل العلم تجده. وإن كان أعلم منه. يحسده على ما برز به؛ وهذا يستلزم أن يحتقر نعمة الله عليه؛ فالحسد أمره عظيم، وعاقبته وخيمة؛ والناس في خير، والحسود في شر: يتتبع نعم الله على العباد؛ وكلما رأى نعمة صارت جمرة في قلبه؛ ولو لم يكن من خُلُق الحسد إلا أنه من صفات اليهود لكان كافياً في النفور منه ..
ومن فوائد الآية: علم اليهود، والنصارى أن الإسلام منقبة عظيمة لمتبعه؛ لقوله تعالى: {حسداً}؛ لأن الإنسان لا يحسد إلا على شيء يكون خيراً، ومنقبة؛ ويدل لذلك قوله تعالى: {ما يود الذين كفروا من أهل الكتاب ولا المشركين أن ينزل عليكم من خير من ربكم} [البقرة: 105] .. ومنها: بيان خبث طوية هؤلاء الذين يودون لنا الكفر؛ لقوله تعالى: {من عند أنفسهم}؛ ليس من كتاب، ولا من إساءة المسلمين إليهم؛ ولكنه من عند أنفسهم: أنفس خبيثة تود الكفر للمسلمين حسدا. اهـ (1)
أقول: وقد يستشكل هنا أن الله تعالى مدح التنافس فى الخير فقال تعالى {وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ}. وقال النبى صلى الله عليه وسلم " لا حَسدَ إلا في اثنتين رجلٍ آتاه الله القرآن فهو يقوم به آناء الليلِ وآناء النهارِ ورجلٍ آتاه الله مالاً فهن ينفقه آناء الليلِ وآناء النهارِ ". وترجم عليه البخارى " باب الاغتباط في العلم والحكمة " فكيف يذم الله تعالى فعل اليهود ويسوقه فى معرض الإنكار مع أنهم حسدوا المسلمين على الخير
--------------------------------------------
আল্লাহ যেন এই ঈর্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে (محسود) নেয়ামত দান করেন; অতঃপর হিংসুক বা ঈর্ষাকাতর ব্যক্তি—আল্লাহ তাকে যত নেয়ামতই দান করুন না কেন—সে তাতে আল্লাহর কোনো অনুগ্রহ দেখতে পায় না; কারণ সে অন্যের মাঝে সর্বদা তার নিজের ওপর আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের চেয়ে অধিক কিছু দেখতে পায়, ফলে সে নেয়ামতকে তুচ্ছজ্ঞান করে। এমনকি যদি আমরা ধরে নিই যে, সে বিপুল অর্থ-সম্পদের অধিকারী হয়েছে এবং কোনো একজন ব্যবসায়ী কোনো নির্দিষ্ট পণ্যে প্রচুর মুনাফা অর্জন করল, তখন আপনি দেখবেন এই হিংসুক ব্যক্তিটি তার সেই মুনাফার ওপর হিংসা (حسد) করছে, অথচ তার নিজের কাছে রয়েছে লক্ষ লক্ষ সম্পদ। তদ্রূপ ইলমের ক্ষেত্রেও: কিছু হিংসুক ব্যক্তি যখন দেখে যে কেউ ইলমের কোনো মাসআলায় পারদর্শী হয়ে উঠেছে, তখন সে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও তার সেই পারদর্শিতার কারণে তাকে হিংসা (حسد) করে; এর অনিবার্য দাবি হলো আল্লাহর নেয়ামতকে তুচ্ছজ্ঞান করা। সুতরাং হিংসার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষ থাকে কল্যাণের মাঝে, আর হিংসুক থাকে অনিষ্টের মধ্যে: সে বান্দাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহ খুঁজে বেড়ায়; আর যখনই কোনো নেয়ামত দেখে, তা তার অন্তরে এক জ্বলন্ত অঙ্গারে পরিণত হয়। হিংসার স্বভাবের মধ্যে যদি কেবল এটিই থাকত যে এটি ইহুদিদের বৈশিষ্ট্য, তবে তা এ থেকে বিমুখ হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতো...
এই আয়াতের শিক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইহুদি ও নাসারাদের এই জ্ঞান ছিল যে, ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য এক মহান গুণ বা বৈশিষ্ট্য (منقبة); মহান আল্লাহর বাণী: {হিংসাবশত}; কারণ মানুষ কেবল কল্যাণকর এবং গুণগত (منقبة) বিষয়ের ওপরই হিংসা (حسد) করে। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে, তারা চায় না যে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর কোনো কল্যাণ নাজিল হোক} [আল-বাকারা: ১০৫]। এর মধ্যে আরও রয়েছে: যারা আমাদের জন্য কুফরি কামনা করে, তাদের অন্তরের কলুষতার বর্ণনা; মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে}; এটি কোনো কিতাব থেকে নয়, কিংবা মুসলমানদের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কোনো অন্যায়ের কারণেও নয়; বরং এটি তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে: কলুষিত আত্মা যা হিংসাবশত মুসলমানদের জন্য কুফরি কামনা করে। সমাপ্ত (১)
আমি বলছি: এখানে একটি সংশয় দেখা দিতে পারে যে, আল্লাহ তাআলা তো কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতার প্রশংসা করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন: {আর এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক}। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "দুইটি বিষয় ছাড়া অন্য কিছুতে হিংসা (حسد) নেই: এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন এবং সে তা নিয়ে রাত-দিন ইবাদতে লিপ্ত থাকে, আর এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা রাত-দিন দান-সদকায় ব্যয় করে।" ইমাম বুখারি এর ওপর শিরোনাম দিয়েছেন "ইলম ও হিকমতের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ঈর্ষা (الاغتباط) পরিচ্ছেদ"। তবে কীভাবে আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের কাজকে নিন্দা করলেন এবং তা প্রত্যাখ্যানের সুরে উল্লেখ করলেন, অথচ তারা তো মুসলমানদের কল্যাণের ওপরই হিংসা (حسد) করেছিল?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২০)
والإسلام والحسد فى الخير مشروع؟
فنقول: إن الحسد أو الغبطة هنا معناها تمنى النعمة وهى الإسلام أو العلم أو العمل الصالح مع عدم رجاء زوالها من صاحبها فهى بهذا القيد ممدوحة لكن هذا الشرط منعدم عند اليهود فهم يتمنون زوال نعمة الإسلام عن المسلمين ويتمنون أن لو لم تكن النبوة فى العرب أصلا بدليل قوله تعالى {وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا} فهم يتمنون ردتهم عز وجل الإسلام والعياذ بالله وهذا القيد فاصل بين الغبطة المحمودة والحسد المذموم. والله تعالى أعلم.
*
… وقال تعالى: {أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا ءاتاهمْ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ فَقَدْ ءاتَيْنَا ءالَ إِبْرَاهِيمَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وءاتَيْنَاهُمْ مُلْكًا عَظِيمًا} (النساء - الآية 54) قال ابن كثير: يعني بذلك حسدهم النبى صلى الله عليه وسلم على ما رزقه الله النبوة العظيمة، ومنعهم من تصديقهم إياه حسدهم له لكونه من العرب وليس من بني إسرائيل. اهـ (1)
* وقال تعالى: {إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنْ الأخَرِ قَالَ لأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنْ الْمُتَّقِينَ} (المائدة - الآية 27).
قال ابن كثير: يقول تعالى مبينا عاقبة البغي والحسد والظلم في خبر ابني آدم لصلبه في قول الجمهور وهما قابيل وهابيل كيف عدا أحدهما على الآخر فقتله بغيا عليه وحسدا له فيما وهبه الله من النعمة وتقبل القربان الذي أخلص فيه لله عز وجل ففاز المقتول بوضع الآثام والدخول إلى الجنة وخاب القاتل ورجع بالصفقة الخاسرة في الدارين. اهـ (2)
* وقال تعالى: {إِذْ قَالَ يُوسُفُ لأَبِيهِ يَاأَبَتِ إِنِّى رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِى سَاجِدِينَ. قَالَ يَابُنَىَّ لا تَقْصُصْ رء يَاكَ عَلَى إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا إِنَّ الشَّيْطَانَ لِلإِنسَانِ عَدُوٌّ مُبِينٌ} (سورة يوسف عليه السلام الآيتان 4 - 5).
--------------------------------------------
এবং ইসলাম ও কল্যাণের ক্ষেত্রে হিংসা (حسد) কি বৈধ?
আমরা বলি: এখানে হিংসা (حسد) বা ঈর্ষা (غبطة) এর অর্থ হলো নেয়ামত লাভের আকাঙ্ক্ষা করা—যা হলো ইসলাম, জ্ঞান অথবা নেক আমল—আর তা হবে তার অধিকারীর নিকট হতে সেই নেয়ামত বিলুপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই। এই শর্তের (قيد) ভিত্তিতে এটি প্রশংসনীয়, তবে এই শর্তটি ইহুদিদের নিকট অনুপস্থিত। তারা মুসলিমদের নিকট থেকে ইসলামের নেয়ামত অপসারিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে এবং তারা মূলত আরবদের মধ্যে নবুওয়াত আদতে না হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {কিতাবধারীদের মধ্যে অনেকেই তাদের নিকট সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তাদের অন্তরের হিংসা (حسد) বশত তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় কাফির অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চায়}। সুতরাং তারা তাদের ইসলামের পরিবর্তে ধর্মত্যাগ কামনা করে (আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় চাই)। আর এই শর্তটিই প্রশংসনীয় ঈর্ষা (غبطة) এবং নিন্দনীয় হিংসার (حسد) মধ্যে পার্থক্যকারী। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
*
… মহান আল্লাহ বলেন: {নাকি আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, সেজন্য তারা তাদের হিংসা (حسد) করে? অথচ আমি তো ইব্রাহিমের বংশধরদের কিতাব ও হিকমত দান করেছি এবং তাদের বিশাল সাম্রাজ্য দান করেছি} (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৫৪)। ইবনে কাসির বলেন: এর অর্থ হলো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ যে সুমহান নবুওয়াত দান করেছেন, সে জন্য তাদের হিংসা (حسد) করা। আর তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করা হতে তাদের বিরত রাখার কারণ ছিল তাঁর প্রতি তাদের হিংসা (حسد), যেহেতু তিনি আরবদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং বনী ইসরাঈলের কেউ ছিলেন না। সমাপ্ত (১)
* মহান আল্লাহ বলেন: {যখন তারা উভয়ে কুরবানি পেশ করল, তখন তাদের একজনের পক্ষ থেকে তা কবুল করা হলো এবং অন্যজনের পক্ষ থেকে কবুল করা হলো না। সে বলল, ‘আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব।’ অপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন’} (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ২৭)।
ইবনে কাসির বলেন: মহান আল্লাহ এখানে অধিকাংশের (جمهور) মতানুযায়ী আদমের নিজ ঔরসজাত দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের সংবাদের মাধ্যমে বিদ্রোহ, হিংসা (حسد) ও জুলুমের পরিণাম বর্ণনা করেছেন; কীভাবে তাদের একজন অপরজনের ওপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করল—বিদ্রোহ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে যে নেয়ামত দান করা হয়েছে ও যার কুরবানি তিনি একনিষ্ঠভাবে কবুল করেছেন সেই বিষয়ে তার প্রতি হিংসার (حسد) বশবর্তী হয়ে। ফলে নিহত ব্যক্তি পাপ মোচন ও জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যমে সফল হলো এবং হত্যাকারী ব্যর্থ হলো ও উভয় জগতে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ফিরে এল। সমাপ্ত (২)
* মহান আল্লাহ বলেন: {স্মরণ করো যখন ইউসুফ তাঁর পিতাকে বলেছিল, ‘হে আমার পিতা! আমি এগারোটি নক্ষত্র, সূর্য ও চাঁদ দেখেছি; আমি তাদের আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায় দেখেছি।’ তিনি বললেন, ‘হে বৎস! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের নিকট বর্ণনা করো না, করলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু’} (সূরা ইউসুফ, আয়াত ৪-৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال ابن كثير: (يقول تعالى مخبرا عن قول يعقوب لابنه يوسف حين قص عليه ما رأى من هذه الرؤيا التي تعبيرها خضوع إخوته له وتعظيمهم إياه تعظيما زائدا بحيث يخرون له ساجدين إجلالا واحتراما وإكراما فخشي يعقوب عليه السلام أن يحدث بهذا المنام أحدا من إخوته فيحسدونه على ذلك فيبغون له الغوائل حسدا منهم له.
ولهذا قال له: (لا تقصص رؤياك على إخوتك فيكيدوا لك كيدا) أى يحتالون لك حيلة يردونك فيها. اهـ (1)
* وقال تعالى: {وَقَالَ يَبَنِيّ لَا تَدْخُلُوا مِن بَابٍ وَاحِدٍ وَادْخُلُوا مِنْ أَبْوَابٍ مّتَفَرّقَةٍ وَمَا أُغْنِي عَنكُمْ مّنَ اللهِ مِن شَيْءٍ إِنِ الْحُكْمُ إِلاّ للهِ عَلَيْهِ تَوَكّلْتُ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكّلِ الْمُتَوَكّلُونَ وَلَمّا دَخَلُوا مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُم مّا كَانَ يُغْنِي عَنْهُمْ مّنَ اللهِ مِن شَيْءٍ إِلاّ حَاجَةً فِي نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَاهَا وَإِنّهُ لَذُو عِلْمٍ لّمَا عَلّمْنَاهُ وَلَكِنّ أَكْثَرَ النّاسِ لَا يَعْلَمُونَ}. سورة يوسف عليه السلام الآيتان (67 - 68)
قال القرطبى - صاحب التفسير رحمه الله: لما عزموا على الخروج خشي عليهم العين فأمرهم ألا يدخلوا مصر من باب واحد، وكانت مصر لها أربعة أبواب وإنما خاف عليهم العين لكونهم أحد عشر رجلاً لرَجُل واحد وكانوا أهل جَمال وكمال وبَسْطة قاله ابن عباس والضّحاك وقَتَادة وغيرهم. اهـ (2)
وقال الحافظ بن كثير رحمه الله: يقول تعالى إخباراً عن يعقوب عليه السلام، إنه أمر بنيه لما جهزهم مع أخيهم بنيامين إلى مصر أن لا يدخلوا كلهم من باب واحد، وليدخلوا من أبواب متفرقة، فإنه كما قال ابن عباس ومحمد بن كعب ومجاهد والضحاك وقتادة والسدي وغير واحد إنه: خشي عليهم العين، وذلك أنهم كانوا ذوي جمال وهيئة حسنة، ومنظر وبهاء، فخشي عليهم أن يصيبهم الناس بعيونهم، فإن العين حق تستنزل الفارس عن فرسه ، وروى ابن أبي حاتم عن إبراهيم النخعي في قوله
--------------------------------------------
ইবনে কাসির বলেছেন: (মহান আল্লাহ ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর উক্তি সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যখন তিনি তাঁর পুত্র ইউসুফকে তাঁর দেখা সেই স্বপ্নের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। যে স্বপ্নের ব্যাখ্যা ছিল তাঁর ভাইদের তাঁর প্রতি অনুগত হওয়া এবং তাঁকে এমন অতিরিক্ত সম্মান প্রদর্শন করা যে, তাঁরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও মর্যাদাবোধ থেকে সিজদাবনত হবেন। তখন ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) আশঙ্কা করলেন যে, ইউসুফ যদি এই স্বপ্নের কথা তাঁর কোনো ভাইয়ের কাছে বর্ণনা করেন, তবে তাঁরা তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন এবং হিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক চক্রান্তে লিপ্ত হবেন।
এই কারণেই তিনি তাকে বলেছিলেন: (তোমার এই স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের নিকট বর্ণনা করো না; নচেৎ তারা তোমার বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত করবে)। অর্থাৎ তারা তোমার বিরুদ্ধে এমন কৌশল অবলম্বন করবে যার মাধ্যমে তোমাকে বিপদগ্রস্ত করবে। সমাপ্ত। (১)
* আর মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনি বললেন, 'হে আমার পুত্রগণ, তোমরা সকলে একই প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করো না; বরং ভিন্ন ভিন্ন প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করো। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর আসা কোনো বিপদ থেকে আমি তোমাদের রক্ষা করতে পারি না। বিধান কেবল আল্লাহরই। তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁর ওপরই যেন সকল ভরসাকারী ভরসা করে।' অতঃপর যখন তারা সেভাবেই প্রবেশ করল যেভাবে তাদের পিতা তাদের আদেশ করেছিলেন, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত কোনো বিষয় তাদের থেকে প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখত না; তা ছিল ইয়াকুবের মনের একটি ইচ্ছা যা তিনি পূরণ করেছিলেন। আর নিশ্চয়ই তিনি আমাদের শেখানো জ্ঞান অনুযায়ী পরম জ্ঞানী ছিলেন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না}। সূরা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম), আয়াত (৬৭ - ৬৮)
তাফসিরকারক ইমাম কুরতুবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যখন তাঁরা বের হওয়ার সংকল্প করলেন, তখন তিনি তাঁদের প্রতি কুনজরের আশঙ্কা করলেন। তাই তিনি তাঁদের আদেশ দিলেন যেন তাঁরা মিসরে একই দরজা দিয়ে প্রবেশ না করেন। তৎকালে মিসরের চারটি প্রবেশদ্বার ছিল। তিনি তাঁদের ওপর কুনজরের ভয় করেছিলেন কারণ তাঁরা একই পিতার এগারোজন সন্তান ছিলেন এবং তাঁরা অত্যন্ত সুন্দর, সুঠাম ও আকর্ষণীয় দেহের অধিকারী ছিলেন। ইবনে আব্বাস, দাহহাক, কাতাদাহ ও অন্যান্যগণ এ কথা বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত। (২)
হাফিজ ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলছেন যে, তিনি যখন তাঁর পুত্রদের তাঁদের ভাই বিন ইয়ামিনের সাথে মিসরের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করলেন, তখন তিনি তাঁদের আদেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁরা সকলে একই প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ না করেন, বরং ভিন্ন ভিন্ন প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করেন। কেননা ইবনে আব্বাস, মুহাম্মদ বিন কাব, মুজাহিদ, দাহহাক, কাতাদাহ, সুদ্দী ও আরও অনেকের বর্ণনা মতে: তিনি তাঁদের প্রতি কুনজরের আশঙ্কা করেছিলেন। আর তা এজন্য যে, তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত সৌন্দর্যমন্ডিত, চমৎকার শারীরিক গঠন এবং উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী। ফলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে মানুষ যেন তাঁদের প্রতি কুনজর না দেয়। কেননা কুনজর সত্য, যা একজন অশ্বারোহীকে তার ঘোড়া থেকে ফেলে দিতে পারে। ইবনে আবি হাতিম ইব্রাহিম নাখয়ি থেকে আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২২)
{وادخلوا من أبواب متفرقة} قال: علم أنه سيلقى إخوته في بعض تلك الأبواب. وقوله {وما أغني عنكم من الله من شيء} أي إن هذا الاحتراز لا يرد قدر الله وقضاءه، فإن الله إذا أراد شيئاً لا يخالف ولا يمانع، {إن الحكم إلا لله عليه توكلت وعليه فليتوكل المتوكلون. ولما دخلوا من حيث أمرهم أبوهم ما كان يغني عنهم من الله من شيء إلا حاجة في نفس يعقوب قضاها} قالوا: هي دفع إصابة العين لهم {وإنه لذو علم لما علمناه} قال قتادة والثوري: لذو عمل بعلمه. وقال ابن جرير: لذو علم لتعليمنا إياه {ولكن أكثر الناس لا يعلمون}.اهـ (1)
وذكر اسم بنيامين لعله مأخوذ من الإسرائيليات التى لاتصدق ولا تكذب كما فى الحديث - والله تعالى أعلم-
* وقال تعالى: {وَلَوْلا إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ ما شَاءَ اللَّهُ لا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ إِنْ تُرَنِ أَنَا أَقَلَّ مِنْكَ مَالا وَوَلَدًا} الكهف الآية (39) والآية فيها تحصين من العين والحسد.
* وقال تعالى {وَإِن يَكَادُ الّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمّا سَمِعُوا الذّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنّهُ لَمَجْنُونٌ} القلم آية (51)
قال الحافظ بن كثير: قال ابن عباس ومجاهد وغيرهما {ليزلقونك} لينفذونك {بأبصارهم} أي يعينونك بأبصارهم بمعنى يحسدونك لبغضهم إياك لولا وقاية الله لك وحمايته إياك منهم، وفي هذه الَاية دليل على أن العين إصابتها وتأثيرها حق بأمر الله عز وجل، كما وردت بذلك الأحاديث المروية من طرق متعددة كثيرة. اهـ تفسير ابن كثير عند تفسير الآية.
*
… وقال الله تعالى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الفَلَقِ. مِن شَرِّ مَا خَلَقَ. وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ. وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي العُقَدِ. وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ} سورة الفلق (1 - 6)
فقوله تعالى {وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ.} أصرح ما يكون دلالة على تأثير العين
--------------------------------------------
{এবং তোমরা ভিন্ন ভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ করো} তিনি বলেন: তিনি জানতেন যে তিনি তাঁর ভাইদের সাথে সেই সব প্রবেশপথের কোনোটিতে সাক্ষাৎ করবেন। আর তাঁর বাণী {এবং আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না} অর্থাৎ, এই সতর্কতা আল্লাহর তাকদির ও ফয়সালাকে রদ করতে পারে না; কেননা আল্লাহ যখন কিছু চান, তখন তা লঙ্ঘন বা প্রতিরোধ করা যায় না। {বিধান কেবল আল্লাহরই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং ভরসাকারীদের উচিত তাঁরই ওপর ভরসা করা। এবং তারা যখন সেভাবেই প্রবেশ করল যেভাবে তাদের পিতা তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের কোনো উপকারে আসল না, তবে ইয়াকুবের মনের একটি অভিপ্রায় ছিল যা তিনি পূর্ণ করেছিলেন।} মুফাসসিরগণ বলেন: তা ছিল তাদের ওপর থেকে কুদৃষ্টি (العين) প্রতিহত করা। {এবং নিশ্চয়ই তিনি মহাজ্ঞানী ছিলেন, যেহেতু আমি তাঁকে শিক্ষা দিয়েছিলাম।} কাতাদাহ এবং সাওরি বলেন: তিনি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী আমলকারী ছিলেন। আর ইবনে জারির বলেন: আমাদের শেখানোর কারণে তিনি জ্ঞানসম্পন্ন ছিলেন। {কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।} সমাপ্ত। (১)
আর বেনিয়ামিন নামটির উল্লেখ সম্ভবত ইসরাঈলি বর্ণনা (الإسرائيليات) থেকে নেওয়া হয়েছে, যা সত্য বলে বিশ্বাসও করা হয় না আবার মিথ্যাও প্রতিপন্ন করা হয় না, যেমনটি হাদিসে এসেছে—আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
* এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন কেন বললে না—আল্লাহ যা চেয়েছেন (তাই হয়েছে), আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই? তুমি যদি আমাকে ধনে ও সন্তানে তোমার চেয়ে কম দেখে থাকো।} (সুরা কাহাফ, আয়াত ৩৯)। এই আয়াতে কুদৃষ্টি (العين) ও হিংসা থেকে সুরক্ষার বিষয়টি রয়েছে।
* এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর কাফিররা যখন কুরআন শোনে, তখন তারা যেন তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়ে ফেলবে, আর তারা বলে—নিশ্চয়ই সে তো এক পাগল।} (সুরা কলম, আয়াত ৫১)
হাফিজ ইবনে কাসির বলেন: ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ এবং অন্যান্যের মতে {তারা যেন তোমাকে আছড়ে ফেলবে} এর অর্থ হলো তারা তাদের দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে বিদ্ধ করবে, অর্থাৎ তারা তোমাকে কুদৃষ্টি (العين) দেবে; যার অর্থ হলো—তোমার প্রতি তাদের বিদ্বেষের কারণে তারা তোমাকে হিংসা করবে, যদি না আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য সুরক্ষা ও হিফাজত থাকত। এই আয়াতে এই বিষয়ে দলিল রয়েছে যে, আল্লাহর নির্দেশে কুদৃষ্টির (العين) প্রভাব সত্য (حق), যেমনটি বহু সূত্রে বর্ণিত (المروية من طرق متعددة) বিভিন্ন হাদিসে এসেছে। সমাপ্ত—আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে ইবনে কাসির।
*
… এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলো, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে। আর অন্ধকার নিশীথিনীর অনিষ্ট থেকে যখন তা সমাগত হয়। আর গিরায় ফুঁকদানকারিনীদের অনিষ্ট থেকে। আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।} সুরা ফালাক (১ - ৬)
মহান আল্লাহর বাণী {আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে}—এটি কুদৃষ্টির (العين) প্রভাবের ওপর সবচেয়ে স্পষ্ট দলিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فى المحسود ولولا ذلك لما ندبنا إلى الإستعاذة منها.
قال الفخر الرازى: من المعلوم أن الحاسد هو الذي تشتدّ محبته لإزالة نعمة الغير إليه، ولا يكاد يكون كذلك إلا ولو تمكن من ذلك بالحيل لفعل، فلذلك أمر الله بالتّعوّذ منه، وقد دخل في هذه السورة كل شر يتوقّى كمه ديناً ودنيا، فلذلك لما نزلت هذه السورة فرح رسول الله صلى الله عليه وسلم بنزولها، لكونها مع ما يليها - يعني سورة الناس - جامعة فى التعوّذ لكل أمر. (1)
--------------------------------------------
হিংসা আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি ঘটে থাকে; আর যদি তা না হতো, তবে আমাদেরকে তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হতো না।
ফখর রাযী বলেন: এটি সুবিদিত যে, হিংসুক সেই ব্যক্তি যার মধ্যে অন্যের নেয়ামত দূর হওয়ার প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে। আর বিষয়টি এমন যে, সে যদি কোনো কূটকৌশলের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করতে সক্ষম হতো, তবে সে অবশ্যই তা করত। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তার থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সূরার মধ্যে দ্বীন ও দুনিয়ার এমন প্রতিটি অনিষ্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা থেকে আত্মরক্ষা করা প্রয়োজন। এজন্যই যখন এই সূরা অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অবতরণে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন; কারণ এই সূরা এবং এর পরবর্তী সূরা—অর্থাৎ সূরা নাস—যেকোনো বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনার ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأدلة على تأثير العين من السنة.
*
حديث أنس بن مالك رضي الله عنه.
عن أنس رضى الله عنه قال: رَخَّصَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الرُّقْيَةِ مِنْ الْعَيْنِ وَالْحُمَةِ وَالنَّمْلَةِ. (1)
وفى رواية " قال رخص فى الحمة والنملة والعين ". (2) و (رخص) بضم أوله. وكسر الثانى مشددا مبنيا للمجهول.
وعن أنس أيضا رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا رقية إلا من عين أو حمة أو دم يرقأ. (3)
*
حديث أم سلمة رضى الله عنها.
عن أم سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم ثم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لجارية في بيت أم سلمة زوج النبى صلى الله عليه وسلم رأى بوجهها سفعة فقال بها نظرة فاسترقوا لها يعني بوجهها صفرة. (4)
--------------------------------------------
সুন্নাহ থেকে বদনজরের প্রভাবের প্রমাণসমূহ.
*
আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস.
আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদনজর, বিষাক্ত দংশন এবং চর্মরোগের (পিঁপড়াবাহিত ক্ষতের ন্যায়) ক্ষেত্রে রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁক করার অনুমতি দিয়েছেন। (১)
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, "তিনি বিষাক্ত দংশন, চর্মরোগ এবং বদনজরের ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন।" (২) এবং (رخص) শব্দটি প্রথম বর্ণে পেশ এবং দ্বিতীয় বর্ণে তাশদীদসহ যের সহযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে গঠিত।
আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: বদনজর, বিষাক্ত প্রাণীর দংশন অথবা বিরামহীন রক্তপাত ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে রুকইয়াহর বিশেষ গুরুত্ব নেই। (৩)
*
উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে সালামাহর ঘরে এক বালিকার চেহারায় কালো দাগ দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন: একে বদনজর লেগেছে, সুতরাং তোমরা তার জন্য রুকইয়াহর ব্যবস্থা করো; অর্থাৎ তার চেহারায় ফ্যাকাসে ভাব ছিল। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
*
حديث أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهَاعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ بَنِى جَعْفَرٍ تُصِيبُهُمُ الْعَيْنُ أَفَأَسْتَرْقِى لَهُمْ، فَقَالَ: نَعَمْ لَوْ كَانَ شَىْءٌ سَابَقَ الْقَدَرَ لَسَبَقَهُ الْعَيْنُ. (1)
*
حديث عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ رضى الله عنه.
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: انْطَلَقْتُ أَنَا وَسَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ نَلْتَمِسُ الْخَمْرَ فَوَجَدْنَا خَمْرًا وَغَدِيرًا ، وَكَانَ أَحَدُنَا يَسْتَحِي أَنْ يَغْتَسِلَ وَأَحَدٌ يَرَاهُ ، فَاسْتَتَرَ مِنِّي حَتَّى إذَا رَأَى أَنْ قَدْ فَعَلَ نَزَعَ جُبَّةً عَلَيْهِ مِنْ كِسَاءٍ، ثُمَّ دَخَلَ الْمَاءَ ، فَنَظَرْتُ إلَيْهِ فَأَعْجَبَنِي خَلْقُهُ ، فَأَصَبْتُهُ مِنْهَا بِعَيْنٍ ، فَأَخَذَتْهُ قَعْقَعَةٌ وَهُوَ فِي الْمَاءِ ، فَدَعَوْتُهُ فَلَمْ يُجِبْنِي ، فَانْطَلَقْتُ إلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: قُومُوا ، فَأَتَاهُ فَرَفَعَ، عَنْ سَاقِهِ، ثُمَّ أَدْخَلَ إلَيْهِ الْمَاءَ، فَلَمَّا أَتَاهُ ضَرَبَ صَدْرَهُ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ أَذْهِبْ حَرَّهَا وَبَرْدَهَا وَوَصَبَهَا، ثُمَّ قَالَ: قُمْ ، فَقَامَ: فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مِنْ نَفْسِهِ، أَوْ مَالِهِ، أَوْ أَخِيهِ مَا يُعْجِبُهُ فَلْيَدْعُ بِالْبَرَكَةِ فَإِنَّ الْعَيْنَ حَقٌّ. (2)
--------------------------------------------
আসমা বিনতে উমাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসআসমা বিনতে উমাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জাফর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সন্তানদের কুদৃষ্টি (নজর) লেগে যায়, আমি কি তাদের জন্য ঝাড়ফুঁক (রুকইয়াহ) করাব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যদি কোনো কিছু তকদিরকে অতিক্রম করতে পারত, তবে কুদৃষ্টিই তাকে অতিক্রম করত।" (১)
আমির বিন রাবিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস.
আব্দুল্লাহ বিন আমির বিন রাবিয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি এবং সাহল বিন হুনাইফ ঝোপঝাড়ের খোঁজে বের হলাম। আমরা একটি বন ও জলাশয় খুঁজে পেলাম। আমাদের কেউ কাউকে গোসল করতে দেখলে সে লজ্জা পেত। ফলে সে আমার থেকে আড়ালে গেল। যখন সে মনে করল যে আড়ালে চলে গেছে, সে তার পশমী জুব্বা খুলে পানিতে নামল। আমি তার দিকে তাকালাম এবং তার দেহের গঠন আমাকে মুগ্ধ করল। ফলে আমি তাকে নজর লাগালাম। এতে সে পানির মধ্যেই শব্দ করে লুটিয়ে পড়ল। আমি তাকে ডাকলাম কিন্তু সে উত্তর দিল না। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে তাকে বিষয়টি জানালাম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা দাঁড়াও।" এরপর তিনি তার কাছে এলেন এবং তার পায়ের নলা থেকে কাপড় সরালেন, অতঃপর তাকে পানি ব্যবহার করালেন। তিনি যখন তার কাছে আসলেন, তখন তার বুকে হাত মারলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! এর উত্তাপ, শীতলতা এবং কষ্ট দূর করে দাও।" অতঃপর বললেন: "দাঁড়াও।" তখন সে দাঁড়িয়ে গেল। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমাদের কেউ যখন নিজের মাঝে, নিজের সম্পদে কিংবা তার ভাইয়ের মাঝে এমন কিছু দেখে যা তাকে মুগ্ধ করে, তখন সে যেন বরকতের দোয়া করে। কেননা কুদৃষ্টি সত্য।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
*
حديث عبد الله بن عامر بن ربيعة رضى الله عنه.
عن عبد الله بن عامر قال: انطلق عامر بن ربيعة وسهل بن حنيف يريدان الغسل، قال فانطلقا يلتمسان الخمر. قال فوضع عامر جبة كانت عليه من صوف فنظرت إليه فأصبته بعيني فنزل الماء يغتسل، قال فسمعت له في الماء فرقعة فأتيته فناديته ثلاثاً فلم يجبني، فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فأخبرته، قال فجاء يمشي فخاض الماء فكأني أنظر إلى بياض ساقيه، قال فضرب صدره بيده ثم قال: اللهم اصرف عنه حرها وبردها ووصبها. قال: فقام، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا رأى أحدكم من أخيه أو من نفسه أو من ماله ما يعجبه فليبرك فإن العين حق. (1)
*
حديث أبي هريرة رضى الله عنه.
عن أبي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: العين حق (ونهى عن الوشم). (2)
وعنه أيضا رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا بأس فى الهام ، والعين حق وأصدق الطيرة الفأل. (3)
--------------------------------------------
*
আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিআ (রা.) বর্ণিত হাদিস.
আব্দুল্লাহ ইবনে আমির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমির ইবনে রাবিআ এবং সাহল ইবনে হুনাইফ গোসল করার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি বলেন, তারা দুজনে আড়াল খোঁজার জন্য রওনা হলেন। তিনি বলেন, আমির তার পরনে থাকা একটি পশমী জুব্বা খুলে রাখলেন। তখন আমি তার দিকে তাকালাম এবং আমার দৃষ্টি তাকে আক্রান্ত করল (নজর লাগল), আর সে গোসলের জন্য পানিতে নামল। তিনি বলেন, আমি পানিতে তার ছটফটানির শব্দ শুনতে পেলাম। আমি তার কাছে এসে তাকে তিনবার ডাকলাম কিন্তু সে আমাকে কোনো উত্তর দিল না। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বলেন, এরপর তিনি হেঁটে আসলেন এবং পানির ভেতর নামলেন, আমি যেন এখনও তাঁর দুই নলার শুভ্রতার দিকে তাকিয়ে আছি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার (সাহলের) বুকে নিজের হাত দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ, এর উত্তাপ, শীতলতা এবং কষ্ট দূর করে দিন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে দাঁড়িয়ে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের মাঝে অথবা নিজের মাঝে অথবা নিজের সম্পদের মাঝে পছন্দনীয় কিছু দেখে, সে যেন বরকতের দোয়া করে, কারণ নজর লাগা সত্য। (১)
*
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস.
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নজর লাগা সত্য (এবং তিনি উলকি আঁকতে নিষেধ করেছেন)। (২)
তার থেকেই আরও বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: পেঁচা বা মৃত ব্যক্তির হাড় সংক্রান্ত কুসংস্কারে কোনো ভিত্তি নেই, আর নজর লাগা সত্য এবং শুভ লক্ষণ বা ফাল হলো সবচেয়ে সত্য। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وعنه أيضا رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: العين حق ويحضرها الشيطان وحسد ابن آدم. (1)
وعن محمد بن قيس: سئل أبوهريرة هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: الطيرة في ثلاث: في المسكن والفرس والمرأة؟ قال: قلت إذاً أقول على رسول الله صلى الله عليه وسلم مالم يقل، ولكني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: أصدق الطيرة الفأل، والعين حق. (2)
*
حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله عنهما.
عن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا عدوى ولا طيرة ولا هامة ولا حسد والعين حق. (3)
*
حديث أبى ذر جندب بن جنادة رضي الله عنه … .
عن أبى ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن العين لتولع الرجل بإذن الله حتى يصعد حالقاً ثم يتردى منه. (4)
--------------------------------------------
তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কুনজর সত্য, আর এতে শয়তান এবং আদমসন্তানের হিংসা উপস্থিত থাকে। (১)
মুহাম্মদ ইবনে কায়স থেকে বর্ণিত: আবু হুরায়রাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন যে: অশুভ লক্ষণ তিনটি জিনিসের মধ্যে—বাসস্থান, ঘোড়া এবং নারী? তিনি বললেন: আমি যদি এমনটি বলি তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এমন কিছু আরোপ করা হবে যা তিনি বলেননি। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: সবচেয়ে সত্য শুভ লক্ষণ হলো ফাল (উত্তম প্রত্যাশা), আর কুনজর সত্য। (২)
*
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস.
আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই, অশুভ লক্ষণ নেই, পেঁচা বা প্রেতাত্মা কেন্দ্রিক কুসংস্কার নেই, হিংসা নেই এবং কুনজর সত্য। (৩)
*
আবু যার জুনদুব ইবনে জুনাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস… .
আবু যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই কুনজর আল্লাহর নির্দেশে মানুষকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, এমনকি সে কোনো উঁচু স্থানে আরোহণ করে এবং সেখান থেকে নিচে পড়ে যায়। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
*
حديث سهل بن حنيف رضي الله عنه.
عن أبي أمامة بن سهل بن حنيف، أن أباه حدثه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج وساروا معه نحو مكة حتى إذا كانوا بشعب الخرار من الجحفة، اغتسل سهل بن حنيف، وكان رجلاً أبيض حسن الجسم والجلد، فنظر إليه عامر بن ربيعة أخو بني عدي بن كعب وهو يغتسل فقال: ما رأيت كاليوم ولا جلد مخبأة، فلبط سهل فأتي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقيل له: يا رسول الله هل لك في سهل! والله ما يرفع رأسه ولا يفيق، قال: هل تتهمون فيه من أحد؟ قالوا: نظر إليه عامر بن ربيعة فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عامراً فتغيظ عليه وقال: علام يقتل أحدكم أخاه، هلا إذا رأيت ما يعجبك بركت؟ ثم قال اغتسل له فغسل وجهه ويديه ومرفقيه وركبتيه وأطراف رجليه وداخلة إزاره في قدح، ثم صب ذلك الماء عليه فصبه رجل على رأسه وظهره من خلفه ، ثم يكفأ القدح وراءه ، ففعل ذلك فراح سهل مع الناس ليس به بأس.
وفى رواية: فأمر عامرا فغسل وجهه في الماء وأطراف يديه وركبتيه وأطراف قدميه ثم أخذ النبي صلى الله عليه وسلم ضبعي إزار عامر وداخلته فغمرها في الماء ثم أفرغ الإناء على رأس سهل وأكفأ الإناء من دبره فأطلق سهل لا بأس به. (1)
--------------------------------------------
সহল বিন হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস.
আবু উমামা বিন সহল বিন হুনাইফ থেকে বর্ণিত যে, তার পিতা তাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার অভিমুখে বের হলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর সাথে চললেন। যখন তারা জুহফার শিয়াব আল-খাররার নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন সহল বিন হুনাইফ গোসল করলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত গৌরবর্ণ এবং সুন্দর দেহ ও ত্বকের অধিকারী একজন ব্যক্তি। বনু আদি বিন কাব গোত্রের আমের বিন রাবিয়াহ তাকে গোসল করতে দেখে বললেন, "আমি আজকের মতো দৃশ্য এবং পর্দানশীন কুমারীর ত্বকের ন্যায় সুন্দর ত্বক আর কখনো দেখিনি।" অমনি সহল জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লেন। তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হলো এবং বলা হলো, "হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি সহলের কোনো ব্যবস্থা করবেন? আল্লাহর কসম, সে মাথা তুলছে না এবং তার জ্ঞানও ফিরছে না।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা কি এই বিষয়ে কাউকে সন্দেহ করো?" তারা বললেন, "আমের বিন রাবিয়াহ তাকে দেখেছিলেন।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমেরকে ডাকলেন এবং তার ওপর রাগান্বিত হয়ে বললেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ কেন তার ভাইকে হত্যা করতে উদ্যত হও? তুমি যখন এমন কিছু দেখলে যা তোমার ভালো লেগেছে, তখন কেন তার বরকতের দোয়া করলে না?" এরপর তিনি আমেরকে সহলের জন্য গোসল করতে বললেন। আমের একটি পাত্রে তার মুখমণ্ডল, দুই হাত, দুই কনুই, দুই হাঁটু, দুই পায়ের প্রান্তভাগ এবং লুঙ্গির ভেতরের অংশ ধৌত করলেন। এরপর সেই পানি সহলের ওপর ঢেলে দেওয়া হলো; এক ব্যক্তি তার মাথার ওপর এবং পেছন থেকে পিঠের ওপর তা ঢাললেন এবং পাত্রটি তার পেছনে উপুড় করে রাখা হলো। আমের এটি করার পর সহল মানুষের সাথে রওনা হলেন এবং তার আর কোনো কষ্ট রইল না।
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: তিনি আমেরকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি পানিতে তার মুখমণ্ডল, দুই হাতের অগ্রভাগ, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের অগ্রভাগ ধৌত করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমেরের লুঙ্গির দুই পাশ ও ভেতরের অংশ ধরলেন এবং তা পানিতে চুবালেন। এরপর সেই পানি সহলের মাথায় ঢাললেন এবং পাত্রটি তার পেছন থেকে উপুড় করে দিলেন। ফলে সহল সুস্থ হয়ে গেলেন এবং তার আর কোনো সমস্যা রইল না। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
*
حديث أبى أمامة أسعد بن سهل بن حنيف رحمه الله.
عن أبي أمامة أسعد بن سهل بن حنيف قال: مر عامر بن ربيعة بسهل بن حنيف وهو يغتسل فقال: لم أر كاليوم ولا جلد مخبأة، فما لبث أن لبط به فأتي به رسول الله صلى الله عليه وسلم فقيل له أدرك سهلاً صريعاً قال: من تتهمون به قالوا: عامر بن ربيعة قال: علام يقتل أحدكم أخاه؟ إذا رأى أحدكم من أخيه ما يعجبه فليدع له بالبركة ثم دعا بماء فأمر عامراً أن يتوضأ فيغسل وجهه ويديه إلى المرفقين وركبتيه وداخلة إزاره، وأمره أن يصب عليه، قال سفيان قال معمر عن الزهري وأمر أن يكفأ الإناء من خلفه. وفى رواية: ثم أمره فغسل له فغسل وجهه وظاهر كفيه ومرفقيه وغسل صدره وداخلة إزاره وركبتيه وأطراف قدميه في الإناء ظاهرهما ثم أمر به فصب على رأسه وكفأ الإناء من خلفه حسبته قال وأمره فحسا منه حسوات فأمره فقام فراح مع الركب. (1)
وأخرجه الطبرانى من طريق يونس بن يزيد عن بن شهاب عن أبى أمامة بن سهل بن حنيف الأنصارى أن عامر بن ربيعة العدوي مر على سهل وهو يغتسل في الخرار فقال والله ما رأيت كاليوم ولا جلد مخبأة فلبط سهل فأتي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقيل
--------------------------------------------
আবু উমামা আসআদ ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিস.
আবু উমামা আসআদ ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমির ইবনে রাবিআ সাহল ইবনে হুনাইফের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি গোসল করছিলেন। তখন তিনি (আমির) বললেন, "আজকের মতো এমন সুন্দর দৃশ্য আমি আর কখনও দেখিনি, এমনকি অন্দরমহলের পর্দানশীন কুমারীর ত্বকও এত সুন্দর হয় না।" এর অল্পক্ষণ পরেই তিনি (সাহল) সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে আসা হলো এবং বলা হলো, "সাহলকে বাঁচান, তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে আছেন।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এ ব্যাপারে তোমরা কাকে অভিযুক্ত করছো?" তারা বললেন, "আমির ইবনে রাবিআকে।" তিনি বললেন, "কেন তোমাদের কেউ তার ভাইকে হত্যা করছে? তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের মাঝে পছন্দনীয় কিছু দেখে, তখন সে যেন তার জন্য বরকতের দোয়া করে।" অতঃপর তিনি পানি চাইলেন এবং আমিরকে ওজু করার নির্দেশ দিলেন। ফলে তিনি তার মুখমণ্ডল, দুই হাত কনুই পর্যন্ত, দুই হাঁটু এবং লুঙ্গির ভেতরের অংশ ধৌত করলেন এবং তিনি (নবীজি) সেই পানি তার ওপর ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। সুফিয়ান বলেন, মা'মার জুহরি থেকে বর্ণনা (رواية) করেছেন: "এবং পাত্রটি তার পেছন থেকে উপুড় করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।" অন্য এক বর্ণনা (رواية)-তে আছে: অতঃপর তিনি তাকে ধৌত করার নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি তার মুখমণ্ডল, হাতের তালুর উপরিভাগ, দুই কনুই, বুক, লুঙ্গির ভেতরের অংশ, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের পাতার উপরিভাগ পাত্রের ভেতরে ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলে তা তার মাথায় ঢেলে দেওয়া হলো এবং পেছন থেকে পাত্রটি উপুড় করে দেওয়া হলো। রাবী বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন যে, নবীজি তাকে তা থেকে কয়েক ঢোক পান করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তাকে নির্দেশ দিলে তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং কাফেলার সাথে চলতে লাগলেন। (১)
তাবারানি ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ সূত্রে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু উমামা ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ আল-আনসারি থেকে বর্ণনা (رواية) করেছেন যে, আমির ইবনে রাবিআ আল-আদাবি খাররার নামক স্থানে সাহলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি গোসল করছিলেন। তখন তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম! আজকের মতো দৃশ্য আমি কখনও দেখিনি, এমনকি পর্দানশীন কুমারীর ত্বকও এমন নয়।" অতঃপর সাহল লুটিয়ে পড়লেন এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে আসা হলো। তখন বলা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আইনু হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
يا رسول الله هل لك في سهل بن حنيف والله ما يرفع رأسه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هل تتهمون به من أحد قالوا نعم يا رسول الله مر عليه عامر بن ربيعة وهو يغتسل فقال والله ما رأيت كاليوم قط ولا جلد مخبأة فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم عامر بن ربيعة فتغيظ عليه وقال علام يقتل أحدكم أخاه ان لا تبرك اغسل له فغسل له عامر فراح سهل مع الركب.
قال بن شهاب الغسل الذي أدركنا علماءنا يصنعون أن يؤتى بالرجل بالذي يعين صاحبه بالقدح فيه الماء ويمسك له مرفوعا من الأرض فيدخل الذي يعين يده اليمنى في الماء فيصب على وجهه صبة واحدة في القدح ثم يدخل اليسرى في الماء فيغسل يده اليمنى صبة واحدة في القدح ثم يدخل يده اليمنى فيغسل يده اليسرى صبة واحدة إلى المرفقين ثم يدخل يديه جميعا في الماء فيغسل صدره صبة واحدة في القدح ثم يدخل يده اليسرى فيغرف من الماء فيصبه على ظهر كفه اليمنى صبة واحدة في القدح ثم يدخل يده اليسرى فيصب على مرفق يده اليمنى صبة واحدة في القدح وهو في يده الى عنقه ثم يفعل مثل ذلك في مرفق يده اليسرى ثم يفعل مثل ذلك في ظهر قدمه اليمنى من ثم أصول الأصابع واليسرى كذلك ثم يدخل يده اليسرى فيصب على ظهر ركبته اليمنى ثم يفعل باليسرى مثل ذلك ثم يغمس داخلة إزاره اليمنى ثم يقوم الذي في يده القدح بالقدح فيصبه على ظهر ركبته اليمنى ثم يقوم الذي في يده القدح بالقدح فيصبه على رأس المعيون من ورائه ثم يكفأ القدح على وجه الأرض من ورائه. (1)
ويونس من أعرف الناس برأى الزهرى وهو هنا جعل صفة الغسل من قول الزهرى وتابعه على هذا ابن أبى ذئب فى المصنف.
--------------------------------------------
হে আল্লাহর রাসুল! সাহল বিন হুনাইফ সম্পর্কে কি আপনার কিছু জানা আছে? আল্লাহর কসম, সে তো তার মাথাও তুলতে পারছে না। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “তোমরা কি এই ব্যাপারে কাউকে অভিযুক্ত বা সন্দেহ করছ?” তারা বলল: “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল! আমির বিন রাবিয়াহ তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন সে গোসল করছিল। তখন তিনি (আমির) বলেছিলেন: ‘আল্লাহর কসম, আজকের মতো (সুন্দর দৃশ্য) আমি কখনও দেখিনি, এমনকি পর্দানশীন কুমারী মেয়ের গায়ের চামড়াও এমন নয়’।” তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমির বিন রাবিয়াহকে ডাকলেন এবং তার ওপর রাগান্বিত হলেন। তিনি বললেন: “তোমাদের মধ্যে কেউ কেন তার ভাইকে হত্যা করতে চায়? তুমি কেন বরকতের দোয়া করলে না? তার জন্য গোসল করো।” অতঃপর আমির তার জন্য গোসল করলেন এবং সাহল কাফেলার সাথে রওনা হলেন।
ইবনে শিহাব বলেন: “গোসলের যে পদ্ধতি আমরা আমাদের আলেমদের পালন করতে দেখেছি তা হলো—যে ব্যক্তি নজর (কুপ্রভাব) লাগিয়েছে, তার কাছে একটি পানির পাত্র আনা হবে। পাত্রটি তার জন্য মাটি থেকে উঁচুতে ধরে রাখা হবে। নজর দেওয়া ব্যক্তি তার ডান হাত পানিতে প্রবেশ করাবে এবং পাত্রের মধ্যেই এক আজলা পানি নিয়ে তার মুখের ওপর ছিটিয়ে দেবে। এরপর সে বাম হাত পানিতে প্রবেশ করাবে এবং পাত্রের মধ্যে এক আজলা পানি দিয়ে তার ডান হাত ধুয়ে নেবে। এরপর সে তার ডান হাত প্রবেশ করাবে এবং কনুই পর্যন্ত তার বাম হাত ধুয়ে নেবে। এরপর সে তার উভয় হাত পানিতে প্রবেশ করাবে এবং পাত্রের মধ্যে এক আজলা পানি দিয়ে তার বুক ধুয়ে নেবে। এরপর সে তার বাম হাত প্রবেশ করাবে এবং পানি নিয়ে পাত্রের ভেতরেই তার ডান হাতের কবজির পিঠের ওপর এক আজলা পানি ঢালবে। এরপর সে তার বাম হাত প্রবেশ করাবে এবং পাত্রের মধ্যে এক আজলা পানি তার ডান হাতের কনুইয়ের ওপর ঢালবে, যা তার হাত থেকে ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছাবে। এরপর সে তার বাম হাতের কনুইয়ের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করবে। এরপর সে তার ডান পায়ের পাতার ওপর আঙুলের গোড়া থেকে একইভাবে করবে এবং বাম পায়ের ক্ষেত্রেও তাই করবে। এরপর সে তার বাম হাত প্রবেশ করিয়ে ডান হাঁটুর পিঠের ওপর পানি ঢালবে এবং বাম হাঁটুর ক্ষেত্রেও অনুরূপ করবে। এরপর সে তার লুঙ্গির ভেতরের অংশ পানিতে ডুবিয়ে দেবে। এরপর যার হাতে পাত্রটি ছিল, সে দাঁড়িয়ে নজর লাগা ব্যক্তির মাথার পেছন দিক থেকে তা ঢেলে দেবে, তারপর পাত্রটি তার পেছনে ভূমিতে উপুড় করে রেখে দেবে।” (১)
ইউনুস হলেন জুহরি-র মতামতের ব্যাপারে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি এখানে গোসলের পদ্ধতিকে জুহরি-র বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে ইবনে আবি জিবও এ ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন।
--------------------------------------------