(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: -)
أمالي الأذكار في فضل صلاة التسبيح   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أمالي الأذكار في فضل صلاة التسبيح

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)

تحقيق: كيلاني محمد خليفة

الناشر: مؤسسة قرطبة - بيروت

عدد الصفحات: 43

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সালাতুত তাসবীহ-এর ফযীলত বিষয়ক যিকরসমূহের স্মৃতিলিপি   (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: সালাতুত তাসবীহ-এর ফযীলত বিষয়ক যিকরসমূহের স্মৃতিলিপি

লেখক: আবু আল-ফজল আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃ. ৮৫২ হি.)

তাহকীক: কীলানি মুহাম্মাদ খলীফা

প্রকাশক: মুআসসাসাতু কুরতুবা - বৈরুত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌الْمَجْلِسُ الْأَوَّلُ

قَوْلُهُ: بَابُ أَذْكَارِ صَلَاةِ التَّسْبِيحِ، رُوِّينَا فِي كِتَابِ التِّرْمِذِيِّ. . . إِلَى آخِرِهِ.

حَدَّثَنِي الشَّيْخُ أَبُو الْحَقِّ التَّنُوخِيُّ رحمه الله، أَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْحَلِيمِ الْحَرَّانِيُّ، أَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، أَنَا عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَا نَصْرُ بْنُ سَيَّارٍ، أَنَا مَحْمُودُ بْنُ الْقَاسِمِ، أَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ مَحْبوبٍ، ثَنَا أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ، قَالَ: رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ حَدِيثٍ فِي صَلَاةِ التَّسْبِيحِ، وَلَا يَصِحُّ مِنْهَا كَبِيرُ شَيْءٍ، وَقَدْ رَأَى ابْنُ الْمُبَارَكِ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ صَلَاةَ التَّسْبِيحِ وَذَكَرُوا الْفَضْلَ فِيهِ.
প্রথম মজলিস

তাঁর উক্তি: সালাতুত তাসবীহের যিকরসমূহের পরিচ্ছেদ, আমরা তিরমিযীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছি... শেষ পর্যন্ত।

আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন শায়খ আবুল হক আত-তানুখী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল হালীম আল-হাররানী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আবী মানসূর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল কাদির বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাসর বিন সাইয়্যার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাহমুদ বিন আল-কাসিম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল জাব্বার বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস বিন মাহবুব, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ঈসা আত-তিরমিযী। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তবে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছুই সহীহ নয়। আর ইবনুল মুবারক এবং একাধিক আহলে ইলম সালাতুত তাসবীহ (আদায় করাকে) সমর্থন করেছেন এবং এতে ফযীলতের কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২)
⦗ص: 24⦘ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، ثَنَا أَبُو وَهْبٍ هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ مُزَاحِمٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْمُبَارَكِ: عَنِ الصَّلَاةِ الَّتِي يُسَبَّحُ فِيهَا؟ فَقَالَ: " يُكَبِّرُ، ثُمَّ يَقُولُ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، تَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ، ثُمَّ يَقُولُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً: سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ يَتَعَوَّذُ وَيَقْرَأُ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَفَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةً،. . . إِلَى آخِرِهِ "

قَوْلُهُ: وَفِي رِوَايَةٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، أَنَّهُ قَالَ: «يَبْدَأُ فِي الرُّكُوعِ بِسُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ. . . . إِلَى آخِرِهِ»
⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আবদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ওয়াহাব—যিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুজাহিম আল-মারওয়াযী, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে ঐ সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যাতে তাসবীহ পাঠ করা হয়? তিনি বললেন: "তিনি তাকবীর দেবেন, অতঃপর বলবেন: হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। এরপর পনের বার বলবেন: আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। এরপর তিনি আউজুবিল্লাহ পাঠ করবেন এবং পাঠ করবেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, এবং সূরা ফাতিহা ও একটি সূরা... শেষ পর্যন্ত।"

তাঁর উক্তি: এবং আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, তিনি বলেছেন: «তিনি রুকুতে 'আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি' পাঠের মাধ্যমে শুরু করবেন... শেষ পর্যন্ত»
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ৩)
⦗ص: 25⦘ وَبِهِ إِلَى التِّرْمِذِيِّ: ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، ثَنَا أَبُو وَهْبٍ، أَني عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رِزْمَةَ بِكَسْرِ الرَّاءِ وَسُكُونِ الزَّايِ الْمَنْقُوطَةِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ: «يَبْدَأُ فِي الرُّكُوعِ بِسُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ، وَفِي السُّجُودِ بِسُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى، ثَلَاثًا، ثُمَّ يُسَبِّحُ التَّسْبِيحَاتِ» ، قُلْتُ: مُرَادُهُ أَنَّ التَّسْبِيحَاتِ الْمَذْكُورَةَ لَا يُسْتَغْنَى بِهَا عَنْ ذِكْرِ الِافْتِتَاحِ، وَلَا ذِكْرِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، بَلْ تَكُونُ زَائِدَةً عَلَى ذَلِكَ

قَوْلُهُ: وَقِيلَ لِابْنِ الْمُبَارَكِ. . . . إِلَى آخِرِهِ
⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ এবং একই সনদে ইমাম তিরমিযী পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে: আহমাদ ইবনে আবদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল আযীয ইবনে আবি রিযমাহ (রা বর্ণে কাসরা এবং নুকতাযুক্ত যা বর্ণে সুকুন সহযোগে) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "সালাত আদায়কারী রুকুতে 'সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম' (আমার মহান প্রতিপালক অতি পবিত্র) এবং সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা' (আমার সর্বোচ্চ প্রতিপালক অতি পবিত্র) পাঠের মাধ্যমে তিনবার শুরু করবে, অতঃপর অন্যান্য তাসবীহগুলো পাঠ করবে।" আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তাঁর উদ্দেশ্য হলো এই যে, উল্লিখিত তাসবীহসমূহ পাঠ করার দ্বারা প্রারম্ভিক যিকর (সানা) এবং রুকু ও সিজদার যিকর থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যাবে না, বরং এগুলো হবে সেই যিকরের অতিরিক্ত অংশ।

তাঁর উক্তি: "এবং ইবনুল মুবারককে বলা হলো..." শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ৪)
⦗ص: 25⦘ وَبِهِ، إِلَى أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَةَ، ثَنَا وَهْبُ بْنُ زَمْعَةَ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رِزْمَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ: " إِنْ سَهَا فِي صَلَاةِ التَّسْبِيحِ، يُسَبِّحُ فِي سَجْدَتَيِ السَّهْوِ عَشْرًا عَشْرًا؟ قَالَ: لَا، إِنَّمَا هِيَ ثَلاثُ مِائَةِ تَسْبِيحَةٍ "
⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ এবং উক্ত সনদে আহমাদ ইবনে আবদাহ পর্যন্ত (বর্ণিত), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াহব ইবনে জামআহ, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রিজমাহ, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞাসা করেছি, "যদি কেউ তাসবিহ নামাজে ভুল করে, তবে সে কি সাহু সিজদাহর উভয় সিজদাহয় দশ বার করে তাসবিহ পাঠ করবে?" তিনি বললেন: "না, এটি তো সর্বমোট তিনশত তাসবিহ মাত্র।"
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌حَدِيثُ أَبِي رَافِعٍ رضي الله عنه

قَوْلُهُ: وَرُوِّينَا فِي كِتَابَيِ التِّرْمِذِيِّ، وَابْنِ مَاجَهْ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ. . . . إِلَى آخِرِهِ،
আবু রাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস

তাঁর বক্তব্য: আমরা তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ-এর গ্রন্থদ্বয়ে আবু রাফি থেকে বর্ণনা করেছি . . . শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ৬)
⦗ص: 26⦘ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْمَعَالِي الْأَزْهَرِيِّ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ الْكَمَالِ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ خَلِيلٍ الْحَافِظِ، ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ الْجَمَّالُ، أَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَدَّادُ، أَنَا أَبُو نُعَيْمٍ فِي كِتَابِ قُرْبَانُ الْمُتَّقِينِ، ثَنَا أَبُو بَكْرِ الطَّلَحِيُّ، ثَنَا عُبَيْدُ بْنُ غَنَّامٍ، ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُبَيْدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعيِدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ لِلْعَبَّاسِ رضي الله عنه: «يَا عَمُّ، أَلَا أَنْفَعُكَ؟ !» ، قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: " يَا عَمُّ، صَلِّ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ، فَإِذَا انْقَضَتِ الْقِرَاءَةُ، فَقُلْ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً قَبْلَ أَنْ تَرْكَعَ، ثُمَّ ارْكَعْ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ اسْجُدْ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ اسْجُدِ الثَّانِيَةَ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا قَبْلَ أَنْ تَقوُمَ، فَتِلْكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، وَهِيَ ثَلاثُ مِائَةٍ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ، فَلَوْ كَانَتْ ذُنُوبُكَ مِثْلَ رَمْلِ عَالِجٍ غَفَرَهَا اللَّهُ لَكَ "، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَنْ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُولَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ؟ قَالَ: «فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقُلْهَا فِي جُمُعَةٍ، فَقُلْهَا فِي شَهْرٍ، فَقُلْهَا فِي سَنَةٍ» ، هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ، أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ، عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ، وَابْنُ مَاجَهْ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَسْرُوقِيِّ: كِلَاهُمَا، عَنْ زَيْدِ بْنِ الْحُبَابِ، فَوَقَعَ لَنَا مُوَافَقَةً فِي شَيْخِ شَيْخِيهِمَا، وَمُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ هُوَ الرَّبَذِيُّ بِفَتْحِ الرَّاءِ وَالْمُوَحَّدَةِ، وَالذَّالِ الْمُعْجَمَةِ ضَعِيفٌ جِدًّا، تَرَكَهُ أَحْمَدُ وَغَيْرُهُ، وَلَكِنْ لِلْحَدِيثِ طُرُقٌ أُخْرَى يَأْتِي بَيَانُهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.

ذَكَرَ الْإِسْنَوِيُّ فِي الْمُهِمَّاتِ: أَنَّ النَّوَوِيَّ ذَكَرَ الْكَيْفِيَّةَ فِي الْأَذْكَارِ، لَكِنَّهُ لَمْ يَذْكُرِ الْقَوْلَ بَعْدَ السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ، بَلْ ذَكَرَ عِوَضَهَا عَشْرًا قَبْلَ الْقِرَاءَةِ، كَذَا قَالَ وَهُوَ عَجِيبٌ، فَإِنَّهُ ذَكَرَ الْكَيْفِيَّتَيْنِ
⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ আমি আবু আল-মাআলি আল-আজহারির নিকট পাঠ করেছি, তিনি জয়নব বিনতে আল-কামাল থেকে, তিনি হাফিজ ইউসুফ বিন খলিল থেকে, আবু আল-হাসান আল-জাম্মাল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু আলি আল-হাদ্দাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নুআইম তার 'কুরবানুল মুত্তাকিন' গ্রন্থে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আত-তালাহি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, উবাইদ বিন গান্নাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু বকর বিন আবি শাইবাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, জাইদ বিন আল-হুবাব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসা বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি বলেন: আবু বকর বিন মুহাম্মাদ বিন আমর বিন হাজমের মুক্তদাস সাঈদ বিন আবি সাঈদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন আবু রাফি (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে যে, আল্লাহর রাসুল (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আব্বাস (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে বললেন: «হে চাচা! আমি কি আপনার উপকার করব না?» তিনি বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন: "হে চাচা! আপনি চার রাকাত সালাত আদায় করবেন, প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা ও একটি সুরা পাঠ করবেন। যখন কিরাত শেষ হবে, তখন রুকু করার আগে পনেরবার বলবেন: 'আল্লাহু আকবার, আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। এরপর রুকু করবেন এবং তাতে দশবার এগুলো বলবেন। এরপর আপনার মাথা তুলবেন এবং দশবার এগুলো বলবেন। এরপর সিজদাহ করবেন এবং তাতে দশবার এগুলো বলবেন। এরপর আপনার মাথা তুলবেন এবং দশবার এগুলো বলবেন। এরপর দ্বিতীয় সিজদাহ করবেন এবং তাতে দশবার এগুলো বলবেন। এরপর দাঁড়ানোর আগে (বসা অবস্থায়) দশবার এগুলো বলবেন। এভাবে প্রতি রাকাতে পঁচাত্তরবার হবে এবং চার রাকাতে মোট তিনশতবার। আপনার গুনাহ যদি আলিজের বালুকণার সমানও হয়, আল্লাহ তা আপনার জন্য ক্ষমা করে দেবেন।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! প্রতিদিন এই আমল করার সামর্থ্য কার আছে? তিনি বললেন: «যদি প্রতিদিন না পারেন তবে সপ্তাহে একবার করবেন, তাও না পারলে মাসে একবার করবেন, তাও না পারলে বছরে একবার করবেন।» এটি একটি বিরল (গারিব) হাদিস। ইমাম তিরমিজি এটি আবু কুরাইব থেকে এবং ইবনে মাজাহ মুসা বিন আবদুর রহমান আল-মাসরুকি থেকে বর্ণনা করেছেন—তারা উভয়েই জাইদ বিন আল-হুবাব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে আমাদের বর্ণনাসূত্র তাদের উস্তাদের উস্তাদের স্তরে মিলেছে। আর মুসা বিন উবাইদাহ হলেন আর-রাবাজি (রা এবং বা অক্ষরের ফাতহ তথা জবর এবং নুকতাযুক্ত যাল সহযোগে); তিনি অত্যন্ত দুর্বল, ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা তাকে বর্জন করেছেন। তবে এই হাদিসের অন্যান্য সূত্র রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে বর্ণনা করা হবে।

আল-ইসনাভি 'আল-মুহিম্মাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: ইমাম নববী 'আল-আযকার' গ্রন্থে এই পদ্ধতিটি উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি দ্বিতীয় সিজদার পরের তাসবিহগুলোর কথা উল্লেখ করেননি, বরং তার পরিবর্তে কিরাতের আগে দশবার পাঠ করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি এমনটিই বলেছেন যা আশ্চর্যজনক, কারণ তিনি (নববী) উভয় পদ্ধতিই উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الْمَجْلِسُ الثَّانِي

قَالَ التِّرْمِذِيُّ بَعْدَ أَنْ أَخْرَجَ حَدِيثَ أَنَسٍ الْآتِيَ ذِكْرُهُ: وَفِي الْبَابِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، وَالْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ، وَأَبِي رَافِعٍ، وَزَادَ شَيْخُنَا فِي شَرْحِهِ: وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ، قُلْتُ: وَفِيهِ أَيْضًا، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، وَأُمِّ سَلَمَةَ، وَالْأَنْصَارِيِّ غَيْرَ مُسَمًّى، وَقَدْ قِيلَ: إِنَّهُ جَابِرٌ.
দ্বিতীয় মজলিস

ইমাম তিরমিযী সামনে উল্লিখিত আনাস (রা.)-এর হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: এই পরিচ্ছেদে ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে আমর, ফাদল ইবনে আব্বাস এবং আবু রাফে (রা.) থেকেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে। আমাদের শায়খ তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণনাটিও যুক্ত করেছেন। আমি বলছি: এই বিষয়ে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব, আলী ইবনে আবি তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, উম্মে সালামা এবং নাম উল্লেখ না করা জনৈক আনসারী (রা.) থেকেও বর্ণনা রয়েছে; আর বলা হয়েছে যে তিনি হলেন জাবির (রা.)।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌حَدِيثُ أَنَسٍ رضي الله عنه
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদিস
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ৯)
⦗ص: 30⦘ أَمَّا حَدِيثُ أَنَسٍ، فَفِيمَا قَرَأْتُ عَلَى الْعِمَادِ أَبِي بَكْرِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّالِحِيِّ بِهَا، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزَّرَّادِ، أَنَا الْحَافِظُ أَبُو عَلِيٍّ الْبَكْرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمُعِزِّ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنَا زَاهِدُ بْنُ طَاهِرٍ، أَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، ثَنَا جَدِّي، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَاشِمٍ، قَالَا: ثَنَا وَكِيعٌ.

ح وَقَرَأْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنَجَّا، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَمْزَةَ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْحَافِظُ، أَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الصَّيْدَلَانِيُّ، أَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَدَّادُ، وَمَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ الْأَوَّلُ: أَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، وَقَالَ الثَّانِي: أَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ شَاذَانَ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ الْقَبَّابُ، قَالَ: ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي عَاصِمٍ، ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، كِلَاهُمَا، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ رضي الله عنها إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلِّمْنِي كَلِمَاتٍ أَدْعُو بِهِنَّ فِي صَلَاتِي، فَقَالَ: " سَبِّحِي اللَّهَ عَشْرًا، وَاحْمَدِيهِ عَشْرًا، وَكَبِّرِيهِ عَشْرًا، ثُمَّ سَلِي حَاجَتَكِ، يَقُولُ: نَعَمْ نَعَمْ "، هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ الْمَرْوَزِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ وَكِيعٍ، عَنْ أَبِيهِ، فَوَقَعَ لَنَا مُوَافَقَةً فِي شَيْخَيْ شَيْخِيهِمَا، وَأَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ، مِنْ طَريِقِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ شَيْخُنَا: فِي إِيرَادِ التِّرْمِذِيِّ حَدِيثُ أَنَسٍ هَذَا فِي بَابِ صَلَاةِ التَّسْبِيحِ نَظَرٌ، لِمَا فِي حَدِيثِ صَلَاةِ التَّسْبِيحِ مِنَ الزِّيَادَاتِ الَّتِي لَيْسَتْ فِيهِ، قُلْتُ: فَإِنَّهُ نَظَرٌ إِلَى أَصْلِ الْمَشْرُوعِيَّةِ فِي عَدَدِ الذِّكْرِ، وَقَدْ وَافَقَهُ الْحَاكِمُ، فَأَوْرَدَ حَدِيثَ أَنَسٍ هَذَا قَبْلَ حَدِيثِ أَبِي رَافِعٍ، وَعَلَى هَذَا فَيُزَادُ فِي الْبَابِ، عَنْ أُمِّ رَافِعٍ، فَإِنَّهُ بِمَعْنَى حَدِيثِ أَنَسٍ هَذَا، وَقَدْ أَمْلَيْتُهُ فِي أَوَائِلِ الْمِائَةِ الثَّانِيَةِ مِنْ تَخْرِيجِ الْأَذْكَارِ، وَلَهُ شَاهِدٌ مِنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ رضي الله عنها، عِنْدَ النَّسَائِيِّ
⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ আনাসের হাদিসের ব্যাপারে যা আমি সেখানে আল-ইমাদ আবু বকর বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ আস-সালিহির নিকট পাঠ করেছি, আবু আব্দুল্লাহ বিন আয-যাররাদ থেকে, আল-হাফিয আবু আলী আল-বাকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মুইয বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যাহেদ বিন তাহির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ বিন মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আল-ফাদল বিন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুজায়মাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আবান ও আব্দুল্লাহ বিন হাশিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ওয়াকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

এবং আমি ফাতিমা বিনত আল-মুনাজ্জার নিকট পাঠ করেছি, সুলায়মান বিন হামযাহ থেকে, আল-হাফিয মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর আস-সায়দালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আল-হাদ্দাদ ও মাহমুদ বিন ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, প্রথমজন বলেন: আবু নুয়াইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন মুকাতিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এবং দ্বিতীয়জন বলেন: আবু বকর বিন শাযান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-কাব্বাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আবি আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে ইকরিমা বিন আম্মার থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উম্মু সুলায়ম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে কিছু শব্দ শিখিয়ে দিন যা দিয়ে আমি আমার সালাতে দোয়া করতে পারি।" তিনি বললেন: "তুমি দশবার আল্লাহর তাসবিহ (পবিত্রতা ঘোষণা) করো, দশবার তাঁর তাহমিদ (প্রশংসা) করো এবং দশবার তাঁর তাকবির (বড়ত্ব ঘোষণা) করো, তারপর তোমার প্রয়োজনের কথা চাও। তিনি (আল্লাহ) বলেন: হ্যাঁ, হ্যাঁ।" এটি একটি সহিহ হাদিস। ইমাম তিরমিযি এটি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মারওয়াযি থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসাঈ এটি উবাইদ বিন ওয়াকি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন; ফলে তাঁদের উভয়ের উস্তাদের উস্তাদগণের সাথে আমাদের সনদ মিলে গেছে। ইমাম হাকিম এটি ইবনুল মুবারকের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন। আমাদের শায়খ বলেন: ইমাম তিরমিযি এই আনাসের হাদিসটিকে সালাতুত তাসবিহর অধ্যায়ে উল্লেখ করার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে, কারণ সালাতুত তাসবিহর হাদিসে এমন কিছু অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যা এতে নেই। আমি বলি: ইমাম তিরমিযি জিকিরের সংখ্যার দিক থেকে এর মূল শরয়ি বিধানের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন। ইমাম হাকিম তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, তাই তিনি আবু রাফির হাদিসের আগে আনাসের এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। এর ওপর ভিত্তি করে এই অধ্যায়ে উম্মু রাফির হাদিসটিও যুক্ত করা যায়, কারণ এটিও আনাসের এই হাদিসের অর্থই বহন করে। আমি এটি তাখরিজুল আযকারের দ্বিতীয় শতকের শুরুর দিকে বর্ণনা করেছি। ইমাম নাসাঈর নিকট আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এর একটি সমর্থিত (শাহিদ) হাদিস রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ
ইবনে আব্বাসের হাদিস
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الطَّرِيقُ الْأَوَّلُ

:
প্রথম পদ্ধতি

:
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১২)
⦗ص: 34⦘ وَأَمَّا حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَأَخْبَرَنِي الْمُسْنِدُ الْخَيِّرُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُدَسِيُّ السُّوَيْدَائِيُّ، فِيمَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَيُّوبَ سَمَاعًا أَنَا النَّجِيبُ الْحَرَّانِيُّ، أَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَشِّقٍ بِفَتْحِ الْمِيمِ وَتَشْدِيدِ الْمُعْجَمَةِ الْمَكْسُورَةِ بَعْدَهَا قَافٌ، أَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ الْخَطِيبُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ إِمْلَاءً، قَالَ: ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ إِمْلَاءً.

ح وَقَرَأْتُ عَلَى الْعِمَادِ فِي السَّنَدِ الْمَذْكُورِ آنِفًا إِلَى زَاهِدٍ، قَالَ: أَنَا أَبُو سَعْدِ الْكَنْجَرُودِيُّ، أَنَا أَبُو طَاهِرِ بْنُ الْفَضْلِ، ثَنَا جَدِّي، قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ: ثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانِ، عَنْ عِكْرَمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلْعَبَّاسِ رضي الله عنه: " يَا عَمَّاهُ، أَلَا أُعْطِيكَ، أَلَا أَحْبُوكَ، أَلَا أَمْنَحُكَ عَشْرَ خِصَالٍ إِذَا أَنَتْ فَعَلْتَ ذَلِكَ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذَنْبَكَ: أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، قَدِيمَهُ وَحَدِيثَهُ، خَطَأَهُ وَعَمْدَهُ، صَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ، سِرَّهُ وَعَلَانِيَتَهُ، تُصَلِّي أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ، فَإِذَا فَرَغْتَ مِنَ الْقِرَاءَةِ، قُلْتَ وَأَنْتَ قَائِمٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً، ثُمَّ تَرْكَعُ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ فَتَقُولْهَا عَشْرًا، فَذَلِكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، تَقُولُ ذَلِكَ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تُصَلِّيَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ فَافْعَلْ، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَصَلِّيَهَا فِي كُلِّ جُمْعَةٍ، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي عُمْرِكَ مَرَّةً "، هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ، أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ، وَابْنُ مَاجَهْ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ الْمِعْمَرِيُّ فِي كِتَابِ الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بِشْرٍ، فَوَقَّعَ لَنَا مُوَافَقَةً عَالِيَّةً، وَزَادَ الْحَاكِمُ أَنَّ النَّسَائِيَّ أَخْرَجَهُ فِي كِتَابِهِ الصَّحِيحِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَلَمْ نَرَ ذَلِكَ فِي شَيْءٍ مِنْ كِتَابِهِ السُّنَنِ لَا الصُّغْرَى وَلَا الْكُبْرَى، وَكَذا قَوْلُ ابْنِ الصَّلَاحِ أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ، فَإِنَّ التِّرْمِذِيَّ اقْتَصَرَ عَلَى الْإِشَارَةِ إِلَيْهِ دُونَ التَّخْرِيجِ، وَأَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ وَالْمَعْمَرِيُّ أَيْضًا، مِنْ طَرِيقِ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ وَالِدِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُوسَى بِالسَّنَدِ الْمَذْكُورِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ
⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ আর ইবনে আব্বাসের হাদিসের ব্যাপারে: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন নেককার মুসনিদ আবুল আব্বাস আহমাদ বিন হাসান বিন মুহাম্মদ আল-কুদসি আস-সুওয়াইদায়ী, আমি তাঁর নিকট যা পাঠ করেছি তাতে, তিনি আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আলি বিন আইয়ুব থেকে শ্রবণ করেছেন, তিনি নাজিব আল-হাররানি থেকে, তিনি আবু বকর বিন মাশশিক (মীম বর্ণে ফাতহা এবং পরবর্তী কাসরাযুক্ত মু'জামাহ বর্ণে তাশদিদসহ, এরপর ক্বাফ), তিনি আবু বকর বিন আলি বিন আব্দুল ওয়াহিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-খাতিব থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আব্বাস থেকে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে।

বর্ণনাপদ্ধতি পরিবর্তন (হা) এবং আমি ইমাদ-এর নিকট পূর্বে উল্লিখিত সনদে যাহিদ পর্যন্ত পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আল-কানজারুদি, তিনি আবু তাহের বিন আল-ফজল থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আমার দাদার থেকে, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন বিশর বিন আল-হাকাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন আব্দুল আজিজ, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাকাম বিন আবান থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আব্বাস (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে বললেন: "হে চাচাজান! আমি কি আপনাকে দেব না? আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে দশটি বিশেষ গুণের সংবাদ দেব না? যখন আপনি তা করবেন, আল্লাহ আপনার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন: এর শুরু ও শেষ, পুরাতন ও নতুন, ভুলবশত ও ইচ্ছাকৃত, ছোট ও বড়, এবং গোপন ও প্রকাশ্য। আপনি চার রাকাত নামাজ পড়বেন, প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা ও একটি সুরা পাঠ করবেন। যখন আপনি কিরাত সম্পন্ন করবেন, তখন দণ্ডায়মান অবস্থায় বলবেন: 'আল্লাহ পবিত্র ও সুমহান, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ' পনেরো বার। তারপর রুকু করবেন এবং সেখানে এটি দশবার বলবেন। তারপর রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে দশবার বলবেন। তারপর সিজদায় গিয়ে দশবার বলবেন। তারপর সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে দশবার বলবেন। পুনরায় সিজদা করবেন এবং দশবার বলবেন। তারপর সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে দশবার বলবেন। এভাবে প্রতি রাকাতে মোট পঁচাত্তর বার। আপনি চার রাকাতেই অনুরূপ করবেন। আপনি যদি প্রতিদিন একবার এই নামাজ পড়তে পারেন তবে পড়ুন। যদি তা না করেন তবে প্রতি জুমায় একবার পড়ুন। যদি তাও না করেন তবে প্রতি মাসে একবার পড়ুন। যদি তাও না করেন তবে বছরে একবার পড়ুন। আর যদি তাও না করেন তবে আপনার সারাজীবনে অন্তত একবার পড়ুন।" এটি একটি হাসান হাদিস। আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং হাসান বিন আলি আল-মামারি তাঁর 'কিতাবুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে আব্দুর রহমান বিন বিশর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে আমাদের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের সনদ অর্জিত হয়েছে। হাকিম অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নাসাঈ এটি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আমরা তাঁর সুনান গ্রন্থের ছোট বা বড় কোনো সংস্করণেই এটি দেখিনি। অনুরূপভাবে ইবনুস সালাহ-এর উক্তি যে, চার ইমাম (সুনান চতুষ্টয়) এটি বর্ণনা করেছেন; কিন্তু তিরমিজি এটি বিস্তারিত বর্ণনা না করে শুধুমাত্র এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। হাকিম এবং মামারিও এটি বিশর বিন আল-হাকাম (আব্দুর রহমানের পিতা)-এর সূত্রে মুসা থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الْمَجْلِسُ الثَّالِثُ

وَأَخْرَجَاهُ أَيْضًا، وَابْنُ شَاهِينَ فِي كِتَابِ التَّرْغِيبُ مِنْ طَرِيقِ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي إِسْرَائِيلَ، عَنْ مُوسَى، وَأَخْرَجَهُ ابْنُ شَاهِينَ، عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ الْبَغْوِيِّ وَغَيْرُهُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بِشْرٍ، وَقَالَ: سَمِعْتُ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي دَاوُدَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبِي، يَقُولُ: أَصَحُّ حَدِيثٌ فِي صَلَاةِ التَّسْبِيحِ حَدِيثُ ابْنُ عَبَّاسٍ هَذَا، وَقَالَ الْحَاكِمُ: وَمِمَّا يُسْتَدَلُّ بِهِ عَلَى صِحَّتِهِ اسْتِعْمَالُ الْأَئِمَّةِ لَهُ كَابْنِ الْمُبَارَكِ، ثُمَّ سَاقَ بِسَنَدِهِ إِلَيْهِ مَا تَقَدَّمَ تَخْرِيجُهُ مِنْ رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ، وَقَالَ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ: أَصَحُّ طُرُقِهِ مَا صَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ، قُلْتُ: وَكَذَا أَطْلَقَ جَمَاعَةٌ أَنَّ ابْنَ خُزَيْمَةَ صَحَّحَهُ مِنْهُمُ: ابْنُ الصَّلَاحِ، وَالْمُصَنِّفُ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ، وَمِنَ الْمُتَأَخِّرِينَ: السُّبْكِيُّ، وَشَيْخُنَا الْبُلْقِينِيُّ فِي التَّدْرِيبِ، لَكِنَّ ابْنَ خُزَيْمَةَ، قَالَ لَمَّا أَخْرَجَهُ: إِنْ ثَبَتَ الْخَبَرُ فَإِنَّ فِي الْقَلْبِ مِنْ هَذَا الْإِسْنَادِ.
তৃতীয় মজলিস

তাঁরা উভয়েও এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে শাহীন ‘আত-তারগীব’ গ্রন্থে ইসহাক ইবনে আবি ইসরাঈলের সূত্রে মূসা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে শাহীন এটি আবুল কাসেম আল-বাগাওয়ী ও অন্যান্যদের সূত্রে আবদুর রহমান ইবনে বিশর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আবু বকর ইবনে আবি দাউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, সালাতুত তাসবীহ বিষয়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিস হলো ইবনে আব্বাসের এই হাদিসটি। ইমাম হাকেম বলেন: এর বিশুদ্ধতার স্বপক্ষে একটি প্রমাণ হলো ইবনুল মুবারাকের মতো ইমামদের এর ওপর আমল করা। অতঃপর তিনি স্বীয় সনদে তাঁর পর্যন্ত পৌঁছে সেই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন যা তিরমিযীর রেওয়ায়েত থেকে পূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: এর সূত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো সেটি যা ইবনে খুজাইমাহ বিশুদ্ধ বলেছেন। আমি বলি: একইভাবে একদল আলেম এটি ব্যক্ত করেছেন যে ইবনে খুজাইমাহ একে বিশুদ্ধ বলেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনুস সালাহ, ‘শারহুল মুহাযযাব’-এর লেখক এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে সুবকী ও ‘আত-তাদরীব’ গ্রন্থে আমাদের শায়খ আল-বুলকিনী। তবে ইবনে খুজাইমাহ যখন এটি বর্ণনা করেন তখন বলেছিলেন: "যদি খবরটি সাব্যস্ত হয়, তবে প্রকৃতপক্ষে এই সনদটি সম্পর্কে অন্তরে সংশয় রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الطَّرِيقُ الثَّانِي

وَبِالسَّنَدِ الْمَاضِي قَرِيبًا إِلَى ابْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَكَمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عِكْرِمَةَ. . . . فَذَكَرَهُ مُرْسَلًا.
দ্বিতীয় সূত্র

এবং ইবনে খুজাইমাহ পর্যন্ত পূর্বোক্ত নিকটবর্তী সনদে, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন রাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন আল-হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমা থেকে... অতঃপর তিনি এটি মুরসাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الطَّرِيقُ الثَّالِثُ

وَأَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ مِنْ طَرِيقِهِ، وَقَالَ: هَذَا لَا يَقْدَحُ فِي الْمَوْصُولِ، مَعَ أَنَّ إِمَامَ عَصْرِهِ إِسْحَاقَ بْنَ رَاهَوَيْهِ، أَخْرَجَهُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَكَمِ مَوْصُولًا بِذِكْرِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيهِ، ثُمَّ سَاقَهُ بِسَنَدِهِ إِلَيْهِ.

قُلْتُ: السَّبَبُ فِي التَّوَقُّفِ مِنْ جِهَةِ مُوسَى بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَإِنَّهُمُ اتَّفَقُوا عَلَى أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْعُبَّادِ الصُّلَحَاءِ، وَاخْتَلَفُوا فِيهِ، فَقَالَ ابْنُ مَعِينٍ، وَالنَّسَائِيُّ: لَا بَأْسَ بِهِ، وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ: ضَعِيفٌ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ، وَقَالَ الْعُقَيْلِيُّ: مَجْهُولٌ، قُلْتُ: وَقَدْ جَاءَ الْمَتْنُ مِنْ طُرُقٍ أُخْرَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، مِنْهَا رِوَايَةُ عَطَاءٍ، وَزَادَ فِي أَوَّلِهَا بَيَانَ السَّبَبِ.
তৃতীয় সূত্র

আর ইমাম আল-হাকিম এটি তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি মারফু (সংযুক্ত) হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না, যদিও তাঁর যুগের ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ একে ইব্রাহিম ইবনুল হাকামের সূত্রে ইবনে আব্বাসের উল্লেখসহ মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি একে তাঁর নিজের সনদসহ বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: দ্বিধার কারণ হলো মুসা ইবনে আব্দুল আজিজ নামক বর্ণনাকারী, কারণ তাঁরা একমত যে তিনি একজন সৎকর্মশীল ইবাদতগুজার ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু তাঁর বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইবনে মাঈন এবং আন-নাসায়ী বলেছেন: তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন: তিনি দুর্বল এবং মুনকারুল হাদীস। উকায়লী বলেছেন: তিনি অপরিচিত (মাজহুল)। আমি বলছি: হাদীসের মূল পাঠটি (মতন) ইবনে আব্বাসের সূত্রে অন্যান্য পথ থেকেও বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে আতার বর্ণনাটি অন্যতম এবং তিনি এর শুরুতে হাদীসটি বর্ণিত হওয়ার কারণ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الطَّرِيقُ الرَّابِعُ
চতুর্থ পদ্ধতি
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
⦗ص: 41⦘

7 - أَنَا الْإِمَامُ الْمُسْنِدُ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ عُقَيْلٍ، أَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ، أَنَا عَبْدُ الدَّايِمِ، أَنَا يَحْيَى بْنُ مَحْمُودٍ، أَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ الْحَافِظُ، أَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَافِظُ، أَنَا أَبُو بَكْرِ بْنِ مَرْدَوَيْهِ الْحَافِظُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مِهْرَانَ.

ح وَأَخْبَرَنيِ أَبُو الْمَعَالِي الْأَزْهَرِيُّ، عَنْ زِينَبَ الصَّالِحِيَّةِ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ خَلِيلٍ، قَالَ: أَنَا مَسْعُودُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، أَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ الْمُقْرِئُ، أَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَا: ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ، ثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، ثَنَا نَافِعٌ أَبُو هُرْمُزٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: جَاءَ الْعَبَّاسُ رضي الله عنه إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَاعَةٍ لَمْ يَكُنْ يَأْتِيَّهُ فِيهَا، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَذَا عَمُّكَ عَلَى الْبَابِ، فَقَالَ: «ائْذَنُوا لَهُ، فَقَدْ جَاءَ لِأَمْرٍ» ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ، قَالَ: «مَا جَاءَ بِكَ يَا عَمَّاهُ فِي هَذِهِ السَّاعَةِ، وَلَيْسَتْ سَاعَتَكَ الَّتِي كُنْتَ تَجِيءُ فِيهَا؟» ، قَالَ: يَا ابْنَ أَخِي! ذَكَرْتُ الْجَاهِلِيَّةَ وَجَهْلَهَا، فَضَاقَتْ عَلَيَّ الدُّنْيَا بِمَا رَحَبَتْ، فَقُلْتُ: مَنْ يَفْرِجُ عَنِّي؟ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ لَا يَفْرِجُ عَنِّي إِلَّا اللَّهُ، ثُمَّ أَنْتَ، قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَوْقَعَ هَذَا فِي قَلْبِكَ، وَوَدَدْتُ أَنَّ أَبَا طَالِبٍ أَخَذَ بِنَصِيبِهِ، وَلَكِنَّ اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ» ، ثُمَّ قَالَ: «أَلَا أَجِيزُكَ! أَلَا أَحْبُوكَ؟ !» ، قَالَ: بَلَى، قَالَ: " إِذَا كَانَ وَقْتُ سَاعَةٍ يُصَلَّى فِيهَا لَيْسَ قَبْلُ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلَا بَعْدُ الْعَصْرِ لَكِنْ بَيْنَ ذَلِكَ، فَأَسْبُغْ طُهُورَكَ، ثُمَّ قُمْ إِلَى اللَّهِ، فَاقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ، وَإِنْ شِئْتَ جَعَلْتَهَا مِنْ أَوَّلِ الْمُفَصَّلِ، فَإِذَا فَرَغْتُ، فَقُلْ: سُبْحَانَ اللَّهِ. . . "، فَذَكَرَ نَحْوَ الْحَدِيثِ الْمُتَقَدِّمِ، إِلَى أَنْ قَالَ: «فَإِذَا رَفَعْتَ رَأْسَكَ يَعْنِي مِنَ السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ وَجَلَسْتَ، فَقُلْهَا عَشْرَ مِرَارٍ، فَهَذِهِ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ، ثُمَّ قُمْ فَارْكَعْ رَكْعَةً أُخْرَى، فَاصْنَعْ فِيهَا مَا صَنَعْتَ فِي الْأُولَى، ثُمَّ قُلْ قَبْلَ التَّشَهُّدِ عَشْرَ مِرَارٍ، فَهَذِهِ مِائَةٌ وَخَمْسُونَ، ثُمَّ ارْكَعْ رَكْعَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ مِثْلَ ذَلِكَ، فَهَذِهِ ثَلاثُ مِائَةٍ، فَإِذَا فَرَغْتَ، فَلَوْ كَانَتْ ذُنُوبُكَ مِثْلَ عَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ مَحَاهَا اللَّهُ، وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ رَمْلِ عَالِجٍ، وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ فَافْعَلْهَا كُلَّ يَوْمٍ مَرَّةً، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ جُمُعَةٍ، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ سَنَةٍ مَا دُمْتَ حَيًّا» ، فَقَالَ: فَرَّجَ اللَّهُ عَنْكَ مِثْلَمَا فَرَّجْتَ عَنِّي يَا ابْنَ أَخِي، فَقَدْ سَوَّيْتَ ظَهْرِي، هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ، أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْمُعْجَمِ الْكَبِيرِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَائِلَةَ، عَنْ شَيْبَانَ، وَرُوَاتُهُ ثِقَاتٌ، إِلَّا الرَّاوِيَ عَنْ عَطَاءٍ فَإِنَّهُ مَتْرُوكٌ، وَقَدْ كَذَّبَهُ بَعْضُهُمْ، لَكِنْ لَهُ شَاهِدٌ يَأْتِي فِي حَدِيثِ أُمِّ سَلَمَةَ، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقِ
⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘

৭ - আমি ইমাম, মুসনিদ আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল হাসান ইবনে উকাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল হামিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল দায়িম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ সুলাইমান ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ আবু বকর ইবনে মারদাওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মিহরান।

(হাদিসের অন্য সূত্র): আর আমাকে আবু আল-মাআলি আল-আযহারি অবহিত করেছেন যয়নব আস-সালিহিয়্যাহ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে খলিল থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাসউদ ইবনে আবি মানসুর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আহমদ আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হারিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইবান ইবনে ফাররুখ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফে' আবু হুরমুয, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এমন এক সময়ে আসলেন যখন তিনি সচরাচর আসতেন না। তখন সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার চাচা দরজায় দাঁড়িয়ে। তিনি বললেন: «তাঁকে ভেতরে আসার অনুমতি দাও, কারণ তিনি কোনো বিশেষ প্রয়োজনে এসেছেন», যখন তিনি প্রবেশ করলেন, তখন তিনি বললেন: «হে চাচাজান, এই সময়ে আপনি কী মনে করে আসলেন? এটি তো আপনার আসার সময় নয় যখন আপনি আসতেন?» তিনি বললেন: হে ভাতিজা! আমি জাহেলিয়াত এবং তার অজ্ঞতার কথা স্মরণ করলাম, ফলে পৃথিবী তার বিশালতা সত্ত্বেও আমার ওপর সংকীর্ণ হয়ে গেল। তখন আমি বললাম: কে আমার এই কষ্ট দূর করবে? তখন আমি উপলব্ধি করলাম যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তা দূর করতে পারবে না, আর তারপর আপনি। তিনি বললেন: «সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আপনার অন্তরে এই অনুভূতি জাগ্রত করেছেন। আমার বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল যে আবু তালিবও যদি তার অংশ গ্রহণ করতেন! কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন», তারপর তিনি বললেন: «আমি কি আপনাকে কোনো পুরস্কার দেব না? আমি কি আপনাকে কোনো উপহার প্রদান করব না?!» তিনি বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: "যখন এমন এক সময় হবে যাতে নামাজ পড়া বৈধ—সূর্যোদয়ের পূর্বে নয় এবং আসরের পরেও নয়, বরং এর মাঝামাঝি কোনো সময়ে—তখন আপনি পূর্ণাঙ্গরূপে পবিত্রতা অর্জন (ওজু) করবেন। তারপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে (নামাজে) দাঁড়াবেন। অতঃপর সূরা ফাতিহা ও একটি সূরা পড়বেন; আপনি চাইলে মুফাসসাল সূরাসমূহের শুরু থেকেও পড়তে পারেন। যখন কিরাত শেষ করবেন, তখন বলবেন: সুবহানাল্লাহ..." এরপর তিনি পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন, যতক্ষণ না তিনি বললেন: «অতঃপর যখন আপনি মাথা তুলবেন অর্থাৎ দ্বিতীয় সিজদাহ থেকে এবং বসবেন, তখন এটি দশবার বলবেন। এতে মোট পঁচাত্তর হবে। তারপর দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাত আদায় করবেন এবং প্রথম রাকাতে যা করেছেন এতেও তা-ই করবেন। অতঃপর তাশাহহুদের পূর্বে এটি দশবার বলবেন। এতে মোট একশ পঞ্চাশ হবে। এরপর একইভাবে আরও দুই রাকাত পড়বেন, ফলে মোট তিনশ হবে। যখন আপনি নামাজ শেষ করবেন, তখন আপনার গুনাহসমূহ যদি আকাশের নক্ষত্ররাজির সমানও হয়, আল্লাহ তা মিটিয়ে দেবেন; এমনকি যদি তা 'আালিজ' অঞ্চলের বালুকা রাশি বা সমুদ্রের ফেনার সমানও হয়। যদি সম্ভব হয় তবে প্রতিদিন একবার এটি করবেন, যদি তা সম্ভব না হয় তবে প্রতি জুমুয়াবার, যদি তাও সম্ভব না হয় তবে প্রতি মাসে একবার, আর যদি তাও সম্ভব না হয় তবে আপনার জীবনকালে প্রতি বছর একবার তা করবেন», তখন তিনি (আব্বাস) বললেন: হে ভাতিজা, আপনি যেভাবে আমার দুঃখ লাঘব করলেন, আল্লাহ আপনার দুঃখ সেভাবেই লাঘব করুন; আপনি তো আমার পিঠ সোজা করে দিয়েছেন। এটি একটি 'গরীব' (বিরল) হাদিস। ইমাম তাবারানী এটি আল-মু'জাম আল-কবীর গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবনে নাইলাহ থেকে, তিনি শাইবান থেকে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, কেবল আতা থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তি (নাফে' আবু হুরমুয) পরিত্যক্ত (মাতরুক)। মুহাদ্দিসগণের কেউ কেউ তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। তবে উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসে এর একটি সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে যা সামনে আসবে। আর আল্লাহর তাওফীকেই যাবতীয় সাফল্য অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الْمَجْلِسُ الرَّابِعُ
চতুর্থ মজলিস
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الطَّرِيقُ الْخَامِسُ

وَلَهُ طُرُقٌ أُخْرَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ:
পঞ্চম সূত্র

এবং ইবনে আব্বাস থেকে এর আরও অন্যান্য সূত্র রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২০)
⦗ص: 44⦘

8 - أَنِّي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فِيمَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ فِي الْمُعْجَمِ الْأَوْسَطِ، عَنْ أُمِّ عَبْدِ اللَّهِ بِنْتِ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَتْ: أَنَا يُوسُفُ بْنُ خَلِيلٍ فِي كِتَابِهِ، أَنَا خَلِيلُ بْنُ بَدْرٍ، أَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ هُوَ ابْنُ هَاشِمِ الْبَغَوِيُّ، ثَنَا مِحْرَزُ بْنُ عَوْنَ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ عُقْبَةَ بْنِ أَبِي الْعَيْزَارِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَحَادَةَ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، قَالَ: قَالَ لِي ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: يَا أَبَا الْجَوْزَاءِ، أَلَا أَحْبُوكَ؟ أَلَا أَعْطِيَكَ؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " مَنْ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، يَقْرَأَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ، فَإِذَا فَرَغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ، قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ. . . . "، فَذَكَرَ مَا تَقَدَّمَ، وَفِي آخِرِهِ: «حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ» ، قَالَ الطَّبَرَانِيُّ: لَمْ يَرْوِهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَحَادَةَ إِلَّا يَحْيَى، تَفَرَّدَ بِهِ مِحْرَزٌ، قُلْتُ: كُلُّهُمْ ثِقَاتٌ إِلَّا يَحْيَى بْنُ عُقْبَةَ: فَإِنَّهُ مَتْرُوكٌ
⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘

৮ - আমি আব্দুল্লাহ বিন উমর, যা আমি তাঁর নিকট আল-মু'জাম আল-আওসাত-এ পাঠ করেছি, তিনি উম্মু আব্দুল্লাহ বিনতে আহমাদ বিন আব্দুর রাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইউসুফ বিন খলীল তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, খলীল বিন বদর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান বিন আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলাইমান বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম (তিনি হলেন ইবনে হাশিম আল-বাগাভী) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মিহরায বিন আওন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন উকবাহ বিন আবিল আইযার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন জাহাদাহ থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) আমাকে বললেন: হে আবুল জাওযা, আমি কি তোমাকে একটি উপহার দেব না? আমি কি তোমাকে কিছু প্রদান করব না? আমি বললাম: অবশ্যই। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি চার রাকাত সালাত আদায় করবে, প্রতি রাকাতে ফাতিহাতুল কিতাব ও একটি সূরা পাঠ করবে, অতঃপর যখন কিরাত শেষ করবে, তখন বলবে: সুবহানাল্লাহ...", অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত বিষয় উল্লেখ করলেন এবং এর শেষে রয়েছে: «যতক্ষণ না চার রাকাত সালাত থেকে অবসর হয়»। তাবারানী বলেন: ইয়াহইয়া ছাড়া আর কেউ মুহাম্মাদ বিন জাহাদাহ থেকে এটি বর্ণনা করেননি, আর মিহরায এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। আমি বলছি: ইয়াহইয়া বিন উকবাহ ছাড়া তাঁরা সকলেই নির্ভরযোগ্য; কেননা সে (ইয়াহইয়া) পরিত্যক্ত।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الطَّرِيقُ السَّادِسُ

وَقَدْ ذَكَرَ أَبُو دَاوُدَ فِي الْكَلَامِ عَلَى حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَوْحَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، وَجَعْفَرَ بْنَ سُلَيْمَانَ رَوَيَاهُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ مَوْقُوفًا عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ.

قُلْتُ: رِوَايَةُ رَوْحِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَصَلَهَا الدَّارَقُطْنِيُّ فِي كِتَابِ: صَلَاةُ التَّسْبِيحِ، مِنْ طَرِيقِ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيِّ عَنْهُ، وَلَفْظُهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ تُصَلِّيهِنَّ مِنَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ تُكَبِّرُ، ثُمَّ تَقْرَأُ. . . .» ، فَذَكَرَهُ، وَقَالَ فِي آخِرِهِ: «خَرَجْتَ مِنْ ذُنُوبِكَ كَيَوْمِ وَلَدَتْكَ أُمُّكَ» .
ষষ্ঠ পথ

আবু দাউদ আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর হাদিসের ওপর আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, রাওহ ইবনুল মুসাইয়্যাব এবং জাফর ইবনে সুলাইমান তা আমর ইবনে মালিক থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে ইবনে আব্বাসের ওপর মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: রাওহ ইবনুল মুসাইয়্যাবের বর্ণনাটি আদ-দারাকুতনী তাঁর 'সালাতুত তাসবীহ' গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আন-নাইসাবুরীর সূত্রে তাঁর থেকে সংযুক্ত (মুত্তাসিল) করেছেন। এর শব্দবিন্যাস ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «চার রাকাত যা তুমি রাতে ও দিনে আদায় করবে; তুমি তাকবীর দিবে, অতঃপর পাঠ করবে...» এরপর তিনি পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করেন এবং এর শেষে বলেন: «তুমি তোমার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে নিষ্পাপ হয়ে বের হবে, যেন আজই তোমার মা তোমাকে জন্ম দিয়েছেন।»
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الطَّرِيقُ السَّابِعُ
সপ্তম পদ্ধতি
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
⦗ص: 47⦘

9 - وَجَاءَ مِنْ رِوَايَةِ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَرْفُوعًا، وَفِيهِ زِيَادَةُ دُعَاءٍ فِي آخَرَ هَذِهِ الصَّلَاةِ: أَنِّي الْمُنَيْرُ الْخَيِّرُ أَبُو الْفَرَجِ بْنُ حَمَّادٍ، أَنَا مُوسَى بْنُ عَلِيِّ الْقَطَبِيُّ، أَنَا عَبْدُ اللَّطِيفِ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ، عَنْ أَبِي الْمَكَارِمِ اللَّبَّانِ، أَنَا أَبُو عَلِيِّ الْحَدَّادِ، أَنَا أَبُو نُعَيْمِ الْأَصْبَهَانِيُّ فِي مُقَدِّمَةِ كِتَابِ الْحُلْيَةِ، ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ إِمْلَاءً وَقِرَاءَةً، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الصَّنْعَانِيُّ، ثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَخْزُومِيُّ، ثَنَا مُوسَى بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ الْقُدُّوسِ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ: «يَا غُلَامُ، أَلَا أَحْبُوكَ؟ أَلَا أَنْحُلُكَ؟ أَلَا أَجِيزُكَ؟ أَلَا أَعْطِيَكَ؟» ، قَالَ: قُلْتُ: بَلَى، بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: فَظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيَقْطَعُ لِي قِطْعَةً مِنْ مَالٍ، فَقَالَ: " أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ تُصَلِّيهِنَّ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ جُمُعَةٍ، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي دَهْرِكَ مَرَّةً: تَقْرَأُ أُمَّ الْقُرْآنِ وَسُورَةً، ثُمَّ تَقُولُ: سُبْحَانَ اللَّهِ. . .، فَذَكَرَ نَحْوَ مَا تَقَدَّمَ، ثُمَّ قَالَ: " فَإِذَا فَرَغْتَ قُلْتَ بَعْدَ التَّشَهُّدِ وَقَبْلَ التَّسْلِيمِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ تَوْفِيقَ أَهْلِ الْهُدَى، وَأَعْمَالَ أَهْلِ الْيَقِينِ، وَعَزْمَ أَهْلِ الصَّبْرِ، وَجِدَّ أَهْلِ الْخَشْيَةِ، وَمُنَاصَحَةَ أَهْلِ التَّقْوَى، وَطَلَبَ أَهْلِ الرَّغْبَةِ، وَتَعَبُّدَ أَهْلِ الْوَرَعِ، وَعِرْفَانَ أَهْلِ الْعِلْمِ، حَتَّى أَخَافَكَ مَخَافَةً تَحْجِزُنِي عَنْ مَعَاصِيكَ، وَحَتَّى أَعْمَلَ بِطَاعَتِكَ عَمَلًا أَسْتَحِقُّ بِهِ رِضَاكَ، وَحَتَّى أُنَاصِحَكَ فِي التَّوْبَةِ خَوْفًا مِنْكَ، وَحَتَّى أُخْلِصَ لَكَ النَّصِيحَةَ حُبًّا لَكَ، وَحَتَّى أَتَوَكَّلَ عَلَيْكَ فِي الْأُمُورِ، حَسِّنْ ظَنِّي بِكَ، سُبْحَانَ خَالِقِ النُّورِ، فَإِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذُنُوبَكَ: صَغِيرَهَا وَكَبِيرَهَا، وَقَدِيمَهَا وَحَدِيثَهَا، وَسِرَّهَا وَعَلَانِيَتَهَا، وَعَمْدَهَا وَخَطَأَهَا "
⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘

৯ - মুজাহিদের বর্ণনা হতে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে মারফূ’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, এবং এতে এই নামাযের শেষে অতিরিক্ত একটি দুআ রয়েছে: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-মুনাইর আল-খাইর আবু আল-ফারাজ বিন হাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মূসা বিন আলী আল-কাতবী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল মুনইম, আবু আল-মাকারিম আল-লাব্বান হতে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাদ্দাদ, তিনি বলেন আবু নুআইম আল-আসফাহানি তাঁর 'হিলইয়া' কিতাবের ভূমিকায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলাইমান বিন আহমদ শ্রুতলিপি প্রদান ও পাঠের মাধ্যমে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবরাহীম বিন আহমদ আস-সানআনী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আল-ওয়ালীদ হিশাম বিন ইবরাহীম আল-মাখযূমী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মূসা বিন জাফর বিন আবু কাসীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আব্দুল কুদ্দুস বিন হাবীব হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন: «হে যুবক, আমি কি তোমাকে কিছু প্রদান করব না? আমি কি তোমাকে দান করব না? আমি কি তোমাকে উপহার দেব না? আমি কি তোমাকে দান করব না?» তিনি বলেন: আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার চরণে আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক। তিনি বলেন: আমি মনে করেছিলাম যে তিনি হয়তো আমাকে সম্পদের কোনো অংশ কেটে দেবেন। তখন তিনি বললেন: "চার রাকাত নামায যা তুমি প্রতিদিন ও রাতে পড়বে; যদি সক্ষম না হও তবে প্রতি জুমুআয়; যদি সক্ষম না হও তবে প্রতি মাসে; যদি সক্ষম না হও তবে বছরে একবার; আর যদি সক্ষম না হও তবে তোমার জীবনে অন্তত একবার: তুমি উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) ও একটি সূরা পড়বে, অতঃপর বলবে: সুবহানাল্লাহ... এরপর তিনি পূর্বের ন্যায় উল্লেখ করলেন। তারপর বললেন: "অতঃপর যখন তুমি অবসর হবে, তখন তাশাহহুদের পর এবং সালাম প্রদানের পূর্বে বলবে: হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি হেদায়েতপ্রাপ্তদের তাওফীক, ইয়াকীনপন্থীদের আমল, ধৈর্যশীলদের দৃঢ় সংকল্প, আল্লাহভীরুদের প্রচেষ্টা, তাকওয়াবানদের নিষ্ঠা, আগ্রহীদের অন্বেষণ, পরহেজগারদের ইবাদত এবং জ্ঞানীদের পরিচয়; যাতে আমি আপনাকে এমনভাবে ভয় করি যা আমাকে আপনার অবাধ্যতা হতে বিরত রাখে, এবং যাতে আমি আপনার আনুগত্যে এমন আমল করি যার দ্বারা আমি আপনার সন্তুষ্টির যোগ্য হই, এবং যাতে আপনার ভয়ে তওবায় আপনার প্রতি একনিষ্ঠ হই, এবং যাতে আপনার ভালোবাসায় আপনার প্রতি আনুগত্যকে নিখাদ করি, আর যাতে সকল বিষয়ে আপনার ওপর ভরসা করি; আপনার প্রতি আমার ধারণাকে সুন্দর করুন, পবিত্র সেই সত্তা যিনি নূরের স্রষ্টা। হে ইবনে আব্বাস, যখন তুমি এটি করবে তখন আল্লাহ তোমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন: তার ছোট ও বড়, পুরাতন ও নতুন, গোপন ও প্রকাশ্য এবং ইচ্ছাকৃত ও ভুলবশত কৃত গুনাহসমূহ।"
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
⦗ص: 48⦘

10 - وَبِالسَّنَدِ الْمَذْكُورِ آنِفًا إِلَى يُوسُفَ، أَنَا مَسْعُودُ بْنُ الْجَمَّالِ، أَنَا أَبُو عَلِيِّ الْحَدَّادُ، بِهَذَا السَّنَدِ الثَّانِي إِلَى أَبِي الْوَلِيدِ الْمَخْزُومِيِّ، قَالَ: سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ نَافِعٍ رِوَايَةَ مَالِكٍ، عَنِ: التَّسْبِيحِ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى وَالثَّالِثَةِ فِي هَذِهِ الصَّلَاةِ، فَقَالَ: «تَقْعُدُ فِيهَا كَمَا تَقْعُدُ لِلتَّشَهُّدِ، وَتُسَبِّحُ فِي الثَّانِيَةِ وَالرَّابِعَةِ قَبْلَ التَّشَهُّدِ، ثُمَّ تَدْعُو بَعْدَ التَّشَهُّدِ الْأَخِيرِ» ، قَالَ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ: لَمْ يَرْوِهِ عَنْ مُجَاهِدٍ، إِلَّا عَبْدُ الْقُدُّوسِ، وَلَا عَنْهُ إِلَّا مُوسَى، تَفَرَّدَ بِهِ أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامٌ، قُلْتُ: عَبْدُ الْقُدُّوسِ شَدِيدُ الضَّعْفِ، وَكَذَّبَهُ بَعْضُ الْأَئِمَّةِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ
⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘

১০ - এবং ইউসুফ পর্যন্ত ইতিপূর্বে বর্ণিত সনদে, মাসউদ বিন আল-জাম্মাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আল-হাদ্দাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ওয়ালিদ আল-মাখযুমি পর্যন্ত এই দ্বিতীয় সনদে তিনি বলেন: আমি ইমাম মালেকের বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন নাফিকে এই সালাতের প্রথম ও তৃতীয় রাকাতে তাসবীহ পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: «তুমি এতে ঠিক সেভাবেই বসবে যেভাবে তাশাহহুদের জন্য বসো এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ রাকাতে তাশাহহুদের পূর্বে তাসবীহ পাঠ করবে, অতঃপর শেষ তাশাহহুদের পর দোয়া করবে»। তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে বলেছেন: মুজাহিদ থেকে আব্দুল কুদ্দুস ব্যতীত কেউ এটি বর্ণনা করেননি এবং তার থেকে মূসা ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি; আবু আল-ওয়ালিদ হিশাম এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। আমি বলছি: আব্দুল কুদ্দুস অত্যন্ত দুর্বল এবং কোনো কোনো ইমাম তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الْمَجْلِسُ الْخَامِسُ
পঞ্চম মজলিস
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌حَدِيثُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو
আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের হাদিস
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الطَّرِيقُ الْأَوَّلُ
প্রথম পথ
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
⦗ص: 50⦘

11 - أَمَّا حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، فَأَنْبَأَنَا بِهِ أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الشَّهْرُزُورِيُّ مُشَافَهَةً، عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ الْمُقَيَّرِ أَبُو الْكَرَمِ عَنْ أَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ الْمَهْدِيِّ، أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الْحَافِظُ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثِ، ثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ الثِّقَةِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ لِجَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: «أَلَا أَهِبُ لَكَ؟ أَلَا أَحْبُوكَ. . .» ، فَذَكَرَ نَحْوَ مَا تَقَدَّمَ، وَقَالَ فِيهِ: «تُصَلِّي كُلَّ يَوْمٍ، أَوْ كُلَّ لَيْلَةٍ، أَوْ كُلَّ جُمْعَةٍ، أَوْ كُلَّ شَهْرٍ، أَوْ كُلَّ سَنَةٍ. . .» ، الْحَدِيثَ، وَقَالَ فِيهِ: «تُكَبِّرُ وَتَحْمَدُ، وَتُسَبِّحُ وَتُهَلِّلُ. . . .» ، إِلَى آخِرِهِ، هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، أَخْرَجَهُ ابْنُ شَاهِينَ فِي كِتَابِ التَّرْغِيبُ، مِنْ وَجْهٍ آخَرَ ضَعِيفٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، وَقَالَ فِيهِ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلْعَبَّاسِ. . . . .، فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ
⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘

১১ - আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের হাদীসটি প্রসঙ্গে বলা যায় যে, আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আশ-শাহরুযূরী মৌখিকভাবে আমাদের এটি অবহিত করেছেন; তিনি ইউনুস ইবনে আবী ইসহাক থেকে, তিনি আবুল হাসান ইবনুল মুকাইয়্যির আবু আল-কারাম থেকে, তিনি আবু আল-হুসাইন ইবনুল মাহদী থেকে, তিনি আবু আল-হাসান আলী ইবনে উমর আল-হাফিয থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনুল আশআস থেকে, তিনি মাহমুদ ইবনে খালিদ থেকে, তিনি জনৈক নির্ভরযোগ্য রাবী থেকে, তিনি উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ থেকে, তিনি ইবনে সাওবান থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) জাফর ইবনে আবী তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে বলেছিলেন: «আমি কি তোমাকে কিছু দান করব না? আমি কি তোমাকে কিছু উপহার দেব না?...» এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং তাতে বলেন: «তুমি প্রতিদিন, অথবা প্রতি রাতে, অথবা প্রতি জুমাবারে, অথবা প্রতি মাসে, অথবা প্রতি বছরে (এটি পড়বে)...», হাদীসটির শেষ পর্যন্ত। তিনি তাতে আরও বলেছেন: «তুমি তাকবীর বলবে, হামদ বলবে, তাসবীহ পাঠ করবে এবং তাহলীল করবে...» শেষ পর্যন্ত। এই সূত্রে হাদীসটি গরীব (একক)। ইবনে শাহীন তাঁর কিতাবুত তারগীব-এ আমর ইবনে শুআইব থেকে অন্য একটি দুর্বল সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আল-আব্বাসকে লক্ষ্য করে এটি বলেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে..., এভাবে তিনি ইবনে আব্বাসের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালিল আযকার ফী ফাদলি সালাতিত তাসবীহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الطَّرِيقُ الثَّانِي

: وَلِلْحَدِيثِ طُرُقٌ أُخْرَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَخْرَجَهَا أَبُو دَاوُدَ، مِنْ رِوَايَةِ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ كَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ يَرَوْنَ أَنَّهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «ائْتِنِي غَدًا أَحْبُوكَ وَأَثِيبُكَ. . .» ، فَذَكَرَ الْحَدِيثُ، وَقَالَ فِيهِ: «إِذَا زَالَ النَّهَارُ فَصَلِّ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ. . . . .» ، نَحْوَ رِوَايَةِ عِكْرَمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَقَالَ فِيهِ: «فَإِنَّ لَمْ تَسْتَطِعْ أَنْ تُصَلِّيَهَا تِلْكَ السَّاعَةَ فَصَلِّهَا مِنَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ» الطَّرِيقُ الثَّالِثُ قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ الْمُسْتَمِرُّ بْنُ الرَّيَّانِ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو مَوْقُوفًا انْتَهَى، وَهَذِهِ الرِّوَايَةُ وَصَلَهَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ النَّسَائِيُّ فِي أَسْئِلَتِهِ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ، فَقَالَ: حَدَّثَنِيهِ مُسْلِمٌ يَعْنِي: ابْنَ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْمُسْتَمِرِّ، قَالَ الْمُنْذِرِيُّ: رُوَاةُ هَذَا الْحَدِيثِ ثِقَاتٌ، قُلْتُ: لَكِنِ اخْتُلِفَ فِيهِ عَلَى أَبِي الْجَوْزَاءِ، فَقِيلَ عَنْهُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، وَقِيلَ عَنْهُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْهُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، مَعَ الِاخْتِلَافِ عَلَيْهِ فِي رَفْعِهِ وَوَقْفِهِ، وَفِي الْمَقُولِ لَهُ فِي الْمَرْفُوعِ، قِيلَ: هُوَ الْعَبَّاسُ، أَوْ جَعْفَرٌ، أَوْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، أَوْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، وَهَذَا اضْطِرَابٌ شَدِيدٌ، وَقَدْ أَكْثَرَ الدَّارَقُطْنِيُّ مِنْ تَخْرِيجِ طُرُقِهِ عَلَى اخْتِلَافِهَا.

حَدِيثُ الْفَضَلُ ابْنُ الْعَبَّاسِ: وَأَمَّا حَدِيثُ الْفَضْلُ بْنُ الْعَبَّاسِ فَذَكَرَهُ أَبُو نُعَيْمٍ فِي كِتَابِ الْقُرْبَانُ، مَنْ رِوَايَةِ مُوسَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطَّائِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ لَهُ: «أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ إِذَا فَعَلْتَهُنَّ. . .» ، فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي رَافِعِ الْمُبْتَدَأُ بِذِكْرِهِ أَوَّلَ كِتَابِنَا، وَالطَّائِيُّ الْمَذْكُورُ لَا أَعْرِفَهُ وَلَا أَبَاهُ، وَأَظُنُّ أَنَّ أَبَا رَافِعٍ شَيْخُ الطَّائِي لَيْسَ أَبَا رَافِعٍ الصَّحَابِيَّ، بَلْ هُوَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ رَافِعٍ أَحَدُ الضُّعَّفَاءِ فِيمَا أَظُنُّ، فَقَدْ أَخْرَجَهُ سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ فِي السُّنَنِ، وَالْخِطِيبُ فِي كِتَابِ صَلَاةِ التَّسْبِيحِ مِنْ رِوَايَةِ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ، كِلَاهُمَا، عَنْ أَبِي مِعْشَرٍ نُجَيْحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ رَافِعِ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ لِجَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ. . . . . .، وَفِي رِوَايَةِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي مِعْشَرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَافِعٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَأَخْرَجَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ لَهُ: «أَلَا أَحْبُوكَ؟ . . .» ، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ، وَقَالَ فِيهِ بَعْدَ قَوْلِهِ: «فَفِي كُلِّ شَهْرٍ» ، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ سِتَّةِ أَشْهُرٍ "، وَقَالَ فِيهِ عِنْدَ ذِكْرِ الذُّنُوبِ: «وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ عَدَدِ أَيَّامِ الدُّنْيَا» ، وَفِي آخِرِهِ: «أَوْ فَرَرْتَ مِنَ الزَّحْفِ، غَفَرَ لَكَ بِذَلِكَ» ، هَذَا لَفْظُ سَعِيدِ بْنِ مَنْصُورٍ، وَأَبُو مَعْشَرٍ ضَعِيفٌ، وَكَذَا شَيْخُهُ أَبُو رَافِعٍ، وَقَدِ اضْطَرَبَ فِيهِ، وَأَمَّا حَدِيثُ أَبِي رَافِعٍ فَقَدْ تَقَدَّمَ أَوَّلَ الْبَابِ حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: وَأَمَّا حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، فَأَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرِكِ بَعْدَ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: وَقَدْ صَحَّتِ الرِّوَايَةُ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَجَّهَ جَعْفَرَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ إِلَى بِلَادِ الْحَبَشَةِ، فَلَمَّا قَدِمَ اعْتَنَقَهُ وَقَبَّلَ مَا بَيْنَ عَيْنِيهِ، وَقَالَ: «أَلَا أُبَشِّرُكَ؟ . . .» ، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ، وَسَاقَهُ مِنْ طَرِيقِ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ يَزيِدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَقَالَ: صَحِيحُ الْإِسْنَادِ لَا غُبَارَ عَلَيْهِ، وَتَعَقَّبَهُ شَيْخُنَا، لِأَنَّهُ ضَعِيفُ الْإِسْنَادِ جِدًّا لَا نُورَ عَلَيْهِ، وَكَذَا تَعَقَّبَهُ الذَّهَبِيُّ فِي تَلْخِيصِهِ، وَقَالَا: إِنَّ فِي سَنَدِهِ أَحْمَدَ بْنَ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ الْغَفَّارِ الْحَرَّانِيَّ، ثُمَّ الْمَصْرِيَّ، كَذَّبَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ، قُلْتُ: وَلِحَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ طَرِيقٌ آخَرُ تَقَدَّمَتِ الْإِشَارَةُ إِلَيْهَا قَرِيبًا، وَتَأْتِي لَهُ طُرُقٌ أُخْرَى فِي الْكَلَامِ عَلَى هَذِهِ الصَّلَاةِ، وَأُخْرَى رَابِعَةٌ أَخْرَجَهَا الطَّيْبِيُّ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ الْمَجْلِسُ السَّادِسُ حَدِيثُ الْعَبَّاسِ الطَّرِيقُ الْأَوَّلُ
দ্বিতীয় পথ

: এই হাদিসের আরও কিছু সূত্র রয়েছে; আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, যা আবু দাউদ সংকলন করেছেন আমর বিন মালিকের সূত্রে, তিনি আবু আল-জাওজা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার কাছে এমন একজন ব্যক্তি হাদিস বর্ণনা করেছেন যিনি নবীজির সাহচর্য পেয়েছিলেন, বর্ণনাকারীরা মনে করেন যে তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আগামীকাল আমার কাছে এসো, আমি তোমাকে একটি উপহার দেব এবং তোমাকে পুরস্কৃত করব...» এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং তাতে বলেন: «যখন দুপুর গড়িয়ে যাবে (সূর্য ঢলে পড়বে), তখন তুমি চার রাকাত নামাজ পড়বে...» এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত ইকরিমার বর্ণনার অনুরূপ। আর তাতে তিনি বলেন: «যদি তুমি সেই সময়ে এই নামাজ পড়তে সক্ষম না হও, তবে রাত বা দিনের যেকোনো সময় তা পড়ে নিও।» তৃতীয় পথ: আবু দাউদ বলেন: এটি মুস্তামির বিন রাইয়ান, আবু আল-জাওজা থেকে, আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে ‘মাওকুফ’ (সাহাবীর বক্তব্য) হিসেবে বর্ণনা করেছেন—এখানেই সমাপ্ত। আর এই বর্ণনাটি আলী বিন সাঈদ আন-নাসায়ী, আহমদ বিন হাম্বলকে করা তাঁর প্রশ্নাবলীতে ‘মাওসুল’ (সংযুক্ত সূত্র) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: এটি আমার কাছে মুসলিম—অর্থাৎ ইবনে ইব্রাহিম—মুস্তামির থেকে বর্ণনা করেছেন। মুনজিরি বলেছেন: এই হাদিসের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য। আমি বলছি: কিন্তু আবু আল-জাওজার সূত্রে এর বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে; কেউ কেউ তাঁর সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, আবার কেউ তাঁর সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে, আবার কেউ তাঁর সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি এটি ‘মারফু’ (রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো) নাকি ‘মাওকুফ’ (সাহাবী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ) তা নিয়েও মতভেদ আছে। আবার মারফু বর্ণনায় যাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলা হয়েছে, তার ব্যাপারেও মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন তিনি হলেন আব্বাস, কেউ বলেছেন জাফর, কেউ আব্দুল্লাহ বিন আমর, আবার কেউ বলেছেন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস। এটি একটি তীব্র অসংলগ্নতা (ইজতিরাব)। দারা কুতনী এই হাদিসের বিভিন্ন সূত্র ও তার মধ্যকার মতভেদগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

ফজল ইবনে আব্বাসের হাদিস: আর ফজল বিন আব্বাসের হাদিসটি আবু নুয়াইম তাঁর ‘কিতাবুল কুরবান’-এ মুসা বিন ইসমাইলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল হামিদ বিন আব্দুর রহমান আত-তায়ী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু রাফে থেকে, তিনি ফজল বিন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: «চারটি রাকাত, যখন তুমি তা আদায় করবে...» এরপর তিনি আবু রাফে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ উল্লেখ করেন যা আমরা এই কিতাবের শুরুতে আলোচনা করেছি। বর্ণিত এই ‘তায়ী’ এবং তার পিতাকে আমি চিনি না। আমার ধারণা, তায়ী’র উস্তাদ আবু রাফে সেই প্রসিদ্ধ সাহাবী আবু রাফে নন; বরং তিনি ইসমাইল বিন রাফে, যিনি আমার জানামতে একজন দুর্বল (যঈফ) বর্ণনাকারী। সাঈদ বিন মানসুর তাঁর ‘সুনান’-এ এবং খতিব বাগদাদী তাঁর ‘সালাতুত তাসবীহ’ গ্রন্থে এটি ইয়াজিদ বিন হারুনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে আবু মা’শার নুজাইহ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু রাফে ইসমাইল বিন রাফে আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর বিন আবি তালিবকে বলেছিলেন...। ইয়াজিদের বর্ণনায় আবু মা’শার থেকে, তিনি ইসমাইল বিন রাফে থেকে বর্ণনা করেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...। আব্দুর রাজ্জাক এটি দাউদ বিন কায়সের সূত্রে ইসমাইল বিন রাফে থেকে এবং তিনি জাফর বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: «আমি কি তোমাকে একটি উপহার দেব না?...» এরপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করেন। তাতে «প্রতি মাসে একবার» কথাটির পর বর্ণিত হয়েছে: «যদি সক্ষম না হও, তবে প্রতি ছয় মাসে একবার।» আর পাপের বর্ণনায় সেখানে বলা হয়েছে: «তা যদি দুনিয়ার দিনগুলোর সংখ্যার সমানও হয়।» এর শেষে আছে: «কিংবা যদি তুমি রণক্ষেত্র থেকে পালিয়েও থাকো, তবুও এর দ্বারা তোমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ এটি সাঈদ বিন মানসুরের শব্দ। আবু মা’শার দুর্বল, তেমনি তাঁর উস্তাদ আবু রাফেও; আর এতে অসংলগ্নতাও (ইজতিরাব) রয়েছে। আবু রাফে-এর হাদিস তো এই অধ্যায়ের শুরুতেই অতিবাহিত হয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন উমরের হাদিস: আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.)-এর হাদিসটি হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’-এ ইবনে আব্বাসের হাদিসের পর উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: ইবনে উমর থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর বিন আবি তালিবকে হাবাশা (আবিসিনিয়া) দেশে পাঠিয়েছিলেন; তিনি যখন ফিরে এলেন, নবীজি তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তাঁর কপালে (দুই চোখের মাঝে) চুম্বন করলেন এবং বললেন: «আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দেব না?...» এরপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি বর্ণনা করেন। তিনি এটি হাইওয়া বিন শুরাইহ-এর সূত্রে, ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন: এর সনদ সহীহ, এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। কিন্তু আমাদের শাইখ একে খণ্ডন করেছেন; কারণ এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল এবং এতে কোনো নূর (নির্ভরযোগ্যতা) নেই। একইভাবে যাহাবী তাঁর ‘তালখিস’-এ একে খণ্ডন করেছেন। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: এর সনদে আহমদ বিন দাউদ বিন আব্দুল গাফফার আল-হাররানী আল-মিসরী রয়েছে, যাকে দারা কুতনী মিথ্যাবাদী বলেছেন। আমি বলছি: ইবনে উমরের হাদিসের আরও একটি সূত্র রয়েছে যার দিকে আমি সম্প্রতি ইঙ্গিত করেছি এবং এই নামাজের আলোচনায় এর সামনে আরও কিছু সূত্র আসবে। তায়বি আরও একটি চতুর্থ সূত্র ভিন্নভাবে আবু আল-জাওজা থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর কাছেই সাহায্য কামনা করছি। ষষ্ঠ মজলিস: আব্বাসের হাদিস; প্রথম পথ।