(খণ্ড: ১)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام ط المكتبة الإسلامية القسم: شروح الحديث
الكتاب: فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام
المؤلف: محمد بن صالح العثيمين
تحقيق وتعليق: صبحي بن محمد رمضان، أم إسراء بنت عرفة بيومي
الناشر: المكتبة الإسلامية للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م
عدد الأجزاء: 6
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 3 شعبان 1438
বুলুগুল মারাম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: ফাতহ যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ সংস্করণ বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: বুলুগুল মারাম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: ফাতহ যিল জালালি ওয়াল ইকরাম
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন
সম্পাদনা ও টীকা: সুবহি বিন মুহাম্মদ রামাদান, উম্মু ইসরা বিনতে আরাফাহ বায়ূমি
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৬
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মারকাযুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ-এর সৌজন্যে (রাবিতাতুন নুসসাখ বা লেখক সংঘের দল)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩ শাবান ১৪৩৮
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
شرح مقدمة ابن حجر رحمه اللهيقول رحمه الله: "الحمد لله على نعمه الظاهرة والباطنة قديما وحديثا".
ابتدأ الكتاب بـ "الحمد لله" اقتداء بكتاب الله عز وجل، فإن القرآن الكريم جعل الصحابة رضي الله عنهم أوله فاتحة الكتاب وهي - كما تعلمون- مبدوءة بالحمد لله، وليست فاتحة الكتاب أول ما نزل كما هو معلوم، لكنها أول ما وقع في ترتيب المصحف باتفاق الصحابة، لذلك كان العلماء رحمهم الله من بعد ذلك يبدءون كتبهم بـ {الحمد لله رب العالمين} اقتداء بعمل الصحابة رضي الله عنهم في كتاب الله عز وجل هذا من وجه.
ومن وجه آخر: أن الرسول صلى الله عليه وسلم كان يعلم أصحابه خطبة الحاجة التي يخطبونها في مقدمة كل حاجة وهي مبدوءة بماذا؟ بالحمد لله.
ثالثا: أن الرسول عليه الصلاة والسلام كان يبدأ خطبته بالحمد والثناء، فلذلك ابتدأ العلماء- رحمهم الله كتبهم بذلك.
يقول رحمه الله: "الحمد لله على نعمه الظاهرة والباطنة".
أولا: نتكلم على "أل" في قوله: "الحمد لله" يقول العلماء: "إن "أل" هنا للاستغراق، و "أل" التي للاستغراق علامتها أن يحل محلها "كل" بتشديد اللام، وعليه يكون معنى: "الحمد لله": كل حمد لله، وما هو الحمد؟ الحمد: هو وصف المحمود بالكمال مع المحبة والتعظيم، فخرج بقولنا مع المحبة والتعظيم: المدح؛ لأن المدح وصف للممدود بالكمال لكن ليس مقرونا بالمحبة والتعظيم.
ثم الله تعالى يحمد على كمال صفاته، ويحمد على كمال إنعامه، قال الله سبحانه وتعالى: {وقل الحمد لله الذي لم يتخذ ولدا ولم يكن له شريك في الملك ولم يكن له ولي من الذل}. وهذا حمد على ماذا؟ على صفات الله عز وجل الكاملة؛ وكذلك أيضا يحمد الله تعالى على إنعامه، ومن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর ভূমিকার ব্যাখ্যাতিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, পূর্ববর্তী ও বর্তমান সকল নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা।"
তিনি আল্লাহর কিতাব মহিমান্বিত কুরআনের অনুসরণ করে "আলহামদুলিল্লাহ" (আল্লাহর প্রশংসা) দিয়ে গ্রন্থটি শুরু করেছেন। কেননা সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) পবিত্র কুরআনের শুরুতে ফাতিহাতুল কিতাবকে স্থান দিয়েছেন, যা—আপনারা জানেন যে—আলহামদুলিল্লাহ দিয়ে শুরু হয়েছে। ফাতিহাতুল কিতাব সর্বপ্রথম নাযিল হওয়া সূরা নয়, কিন্তু সাহাবীগণের ঐকমত্যে এটি মুসহাফের বিন্যাসে প্রথমে অবস্থিত। তাই পরবর্তী যুগের উলামায়ে কিরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) আল্লাহর কিতাবে সাহাবীগণের কর্মের অনুসরণস্বরূপ তাঁদের গ্রন্থসমূহ {সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর} দিয়ে শুরু করতেন—এটি একটি দিক।
অন্য একটি দিক হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদেরকে খুত্বাতুল হাজাহ (প্রয়োজনীয় প্রারম্ভিক ভাষণ) শিক্ষা দিতেন, যা তাঁরা যে কোনো প্রয়োজনে আলোচনার শুরুতে পাঠ করতেন। আর এটি কী দিয়ে শুরু হতো? আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে।
তৃতীয়ত: রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর ভাষণ আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতির মাধ্যমে শুরু করতেন। এ কারণেই উলামায়ে কিরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) তাঁদের গ্রন্থসমূহ এর মাধ্যমে শুরু করেছেন।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা।"
প্রথমত: "আলহামদুলিল্লাহ" বাক্যে "আল" (নির্ধারক অব্যয়) সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। উলামায়ে কিরাম বলেন: "এখানে 'আল' হলো 'ইসতিগরাক' (সমষ্টিবাচকতা) বুঝানোর জন্য।" আর সমষ্টিবাচক "আল"-এর চিহ্ন হলো এর স্থলে লাম-এ তাশদীদযুক্ত "কুল্লু" (সমস্ত/প্রত্যেক) শব্দটিকে প্রতিস্থাপন করা যায়। সেই অনুযায়ী "আলহামদুলিল্লাহ"-এর অর্থ হবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আর প্রশংসা (হামদ) কী? হামদ হলো: ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের সাথে প্রশংসিত সত্তাকে তাঁর পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা। আমাদের উক্তি "ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের সাথে" বলার মাধ্যমে "মাদহ" (সাধারণ প্রশংসা) পৃথক হয়ে গেল; কারণ মাদহ হলো প্রশংসিত সত্তাকে তাঁর পূর্ণতা দ্বারা গুণান্বিত করা, তবে তা ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে সম্পৃক্ত নয়।
অতঃপর আল্লাহ তাআলার প্রশংসা তাঁর গুণাবলীর পূর্ণতার জন্য করা হয় এবং তাঁর নিআমত বা অনুগ্রহের পূর্ণতার জন্যও করা হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {এবং বলো, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, যাঁর সার্বভৌমত্বে কোনো অংশীদার নেই এবং যিনি হীনতাগ্রস্ত নন যে তাঁর কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারীর প্রয়োজন হবে।} আর এটি কিসের ওপর প্রশংসা? এটি আল্লাহ তাআলার পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীর ওপর প্রশংসা। একইভাবে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা তাঁর নিআমত বা অনুগ্রহের জন্যও করা হয়, আর...
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
ذلك قول النبي عليه الصلاة والسلام: "إن الله ليرضى عن العبد أن يأكل الأكلة فيحمده عليها أو يشرب الشربة فيحمده عليها". هذا حمد على ماذا؟ على الإنعام.
المؤلف رحمه الله هنا حمد الله على إنعامه وقوله: "لله" ماذا نقول في اللام؟ نقول في اللام أنها تحمل معنيين:
المعنى الأول: الاختصاص.
والمعنى الثاني: الاستحقاق.
أما المعنى الأول: فإن المختص بالحمد الكامل من جميع الوجوه هو الله عز وجل، يحمد غير اله لكن حمدا مقيدا وليس على كل حال، أما الرب عز وجل فيحمد على كل حال، لأنه كامل الصفات والإنعام.
كذلك أيضا للاستحقاق يعني: أن تخصيصنا الرب عز وجل بكامل الحمد لأنه مستحق له وهو أهل له سبحانه وتعالى أما "الله" فيقال: إن أصلها "إله"، ولكن لكثرة الاستعمال فحذفت الهمزة تخفيفا، وذكروا لذلك مثالا آخر وهو "الناس" وأصلها الأناس، وحذفت الهمزة تخفيفا لكثرة الاستعمال، وعلى هذا إذا كانت "الله" بمعنى الإله أصلا فإنها فعال بمعنى مفعول فإله بمعنى: مألوه، أي: معبود محبب محبوب معظم، وليست إله بمعنى: آله كما زعم ذلك المتكلمون؛ لأنهم يفسرون الإله بأنه القادر على الاختراع وهذا خطأ عظيم، ولكن معنى الإله: المعبود حقا.
وقوله: "على نعمه الظاهرة". "نعمه" هذه مفرد مضاف فيشمل جميع نعمه الدينية والدنيوية، الظاهرة والباطنة.
الظاهر: ما يظهر للناس.
والباطن: ما يخفى على الناس، ونعم الله سبحانه وتعالى لا تعد هي كما قال المؤلف ظاهرة وباطنة كما قال عز وجل: {وأسبغ عليكم نعمه ظهرة وباطنة} [لقمان: 20]. فالظاهرة: ما يظهر للعيان ويشاهدها الناس. والباطنة: ما دون ذلك.
فمن الظاهرة: الأمن والرخاء والقوة، والأكل والشرب وما أشبه ذلك، ومن النعم الباطنة: نعم الدين تحقيقا لما في القلب من الإنابة إلى الله، والتوكل على الله والإخلاص وما أشبه ذلك، هذه نعم لا يعلمها الناس، لا يعلمها إلا الله عز وجل، هذه هي النعم الباطنة.
وقوله: "قديما" أي: سابقا، "حديثا" أي: لاحقا، وفي قوله: "حديثا" براعة استهلال وهي
এটি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সেই বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন যে আহার গ্রহণের পর তাঁর প্রশংসা করে অথবা পানীয় পান করার পর তাঁর প্রশংসা করে।" এটি কিসের ওপর প্রশংসা? নেয়ামত লাভের ওপর।
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এখানে আল্লাহর নেয়ামত প্রদানের জন্য তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর উক্তি: "লিল্লাহ" (আল্লাহর জন্য)-তে 'লাম' অক্ষরটি সম্পর্কে আমরা কী বলব? আমরা বলব যে, এই 'লাম' দুটি অর্থ বহন করে:
প্রথম অর্থ: বিশিষ্টতা।
দ্বিতীয় অর্থ: প্রাপ্যতা।
প্রথম অর্থের ক্ষেত্রে: সর্বদিক থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রশংসার জন্য একমাত্র আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাই নির্দিষ্ট। আল্লাহ ছাড়া অন্যেরও প্রশংসা করা হয়, তবে তা সীমাবদ্ধ প্রশংসা এবং সব অবস্থায় নয়। কিন্তু রব আযযা ওয়া জাল্লা সব অবস্থাতেই প্রশংসিত, কারণ তিনি গুণাবলি ও নেয়ামত দানে পরিপূর্ণ।
একইভাবে প্রাপ্যতার ক্ষেত্রেও, অর্থাৎ: আমরা রব আযযা ওয়া জাল্লাকে পূর্ণাঙ্গ প্রশংসার জন্য নির্দিষ্ট করি কারণ তিনি এর প্রাপ্য এবং তিনি এর যোগ্য, সুবহানাহু ওয়া তাআলা। আর "আল্লাহ" শব্দটির ব্যাপারে বলা হয় যে, এর মূল হলো "ইলাহ", কিন্তু ব্যবহারের আধিক্যের কারণে সহজ করার উদ্দেশ্যে 'হামজা' বিলুপ্ত করা হয়েছে। তারা এর আরেকটি উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, যা হলো "আন-নাস" (মানুষ), যার মূল ছিল "আল-উনাস", সেখানেও ব্যবহারের আধিক্যের কারণে সহজ করতে 'হামজা' বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই ভিত্তিতে যদি "আল্লাহ" শব্দটি মূলত "ইলাহ" এর অর্থে হয়, তবে তা 'ফি'আল' ওজনে 'মাফ'উল' এর অর্থ প্রদান করে। অতএব, "ইলাহ" অর্থ হলো "মা'লুহ", অর্থাৎ: এমন মাবুদ যাকে ভালোবাসা হয় এবং সম্মান করা হয়। এটি "আলিহ" (সৃজনে সক্ষম) অর্থে নয়, যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদগণ দাবি করেছেন; কারণ তারা "ইলাহ" এর ব্যাখ্যা করেন "উদ্ভাবনে সক্ষম" হিসেবে, যা এক বিরাট ভুল। বরং "ইলাহ" এর প্রকৃত অর্থ হলো: সত্য মাবুদ।
এবং তাঁর উক্তি: "তাঁর প্রকাশ্য নেয়ামতসমূহের ওপর"। এখানে "নেয়ামত" শব্দটি একবচন যা সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে, ফলে এটি দ্বীনি ও দুনিয়াবি, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল নেয়ামতকে অন্তর্ভুক্ত করে।
প্রকাশ্য: যা মানুষের সামনে দৃশ্যমান হয়।
অপ্রকাশ্য: যা মানুষের কাছে গোপন থাকে। আর আল্লাহর নেয়ামতসমূহ গণনা করা সম্ভব নয়, লেখক যেমনটি বলেছেন সেগুলো প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য। যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এবং তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন} [লুকমান: ২০]। সুতরাং প্রকাশ্য হলো: যা চাক্ষুষ দেখা যায় এবং মানুষ পর্যবেক্ষণ করে। আর অপ্রকাশ্য হলো: যা এর বিপরীত।
প্রকাশ্য নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: নিরাপত্তা, সচ্ছলতা, শক্তি, পানাহার এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। আর অপ্রকাশ্য নেয়ামতের অন্তর্ভুক্ত হলো: দ্বীনি নেয়ামতসমূহ, যা হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি অনুরাগী হওয়া, আল্লাহর ওপর ভরসা ও একনিষ্ঠতা এবং এই জাতীয় বিষয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এগুলো এমন নেয়ামত যা মানুষ জানে না, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ছাড়া কেউ তা জানে না; এগুলোই হলো অপ্রকাশ্য নেয়ামত।
এবং তাঁর উক্তি: "কদিমান" অর্থাৎ: পূর্বে, "হাদীসান" অর্থাৎ: পরে। তাঁর "হাদীসান" উক্তির মধ্যে চমৎকার বিষয়ভিত্তিক সূচনা রয়েছে, আর তা হলো—
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
معروفة في علم البديع، وبراعة الاستهلال: أن يأتي المتكلم في أول كلامه بما يدل على موضزع كلامه فتسمى براعة استهلال، يعني: أنه استهل كلامه بما يدل على موضوع الكلام لكن بغير تصريح، وذلك يسمى براعة أي: فطنة وذكاء، فما هي براعة الاستهلال هنا؟ هو أن هذا الكتاب في الحديث قديما وحديثا.
"والصلاة والسلام على نبيه ورسوله محمد وآله وصحبه
… " إلخ.
"الصلاة والسلام على" هذه جملة خبرية لكن معناها الدعاء كأنك تقول: اللهم صل وسلم، فما هي الصلاة على الرسول؟ الصلاة على الرسول أحسن ما قيل فيها، ما قاله أبو العالية الرياحي: أنها ثناء الله على عبده في الملأ الأعلى عند الملائكة يعني: ذكر الله تعالى عبده بالذكر الحسن عند الملائكة. هذا ما اختاره كثير من العلماء، ولا سيما المتأخرون منهم، لكن في النفس من هذا شيء: وهو أن أبا العالية رحمه الله من التابعين ومثل هذا لا يقال بالرأي، لأن من يقول: إن الله يثني عليه فيحتاج إلى دليل من السنة يتبين به الأمر ويتضح ولكن فسره بعضهم قال: إن الصلاة من الله تعني: الرحمة، وهذا ليس بصحيح أيضا؛ لأن الله تعالى قال في الكتاب العزيز: {أولئك عليهم صلوات من ربهم ورحمة} [البقرة: 157]. والعطف يقتضي المغايرة، وأن الرحمة غير الصلوات وأيضا الرحمة يدعى بها لكل واحد، كل إنسان تقول: اللهم ارحمه، لكن الصلاة لا يدعى بها لكل واحد بل فيها خلاف وتفصيل عند العلماء
إذن فالصلاة لا نستطيع أن نجزم بأنها ثناء الله على عبده في الملأ الأعلى، ولا نقول: إنها الرحمة لفساد هذا المعنى، بل نقول: الصلاة فيها رحمة خاصة فوق الرحمة التي تكون لكل أحد ولا ندري معناها، وحينئذ نسلم من الشبهة، لكن القول بأنها ثناء الله على عبده في الملأ الأعلى فسره كثير من المحققين رحمهم الله.
أما السلام فهو السلامة من كل آفة، والرسول عليه الصلاة والسلام بعد موته سالم، أما في حياته فنعم معرض للأمراض، معرض للأذايا، معرض لكل ما يعرض للبشر، لكن بعد موته هو سالم من هذا، فما الفائدة بالدعاء له بالسلامة؟ نقول: وراء الموت أهوال ما هي؟ أهوال يوم القيامة؛ ولهذا كان دعاء الرسل يوم القيامة عند الصراط "اللهم سلم سلم". فهنالك أهوال، ثم إنه - صلوات الله سلامه عليه- سلام مما يحدث من الآفات الجسدية للأحياء، لكن ألا يمكن أن يسلط عليه من يأخذ جسمه مثلا؟ يمكن وقد وقع هذا لكن الله حماه؛ فإنه نزل المدينة غريبان أن يأخذا جسده الشريف عليه الصلاة والسلام، فنزلا في المسجد
অলঙ্কারশাস্ত্রে এটি সুপরিচিত; আর বারাআতুল ইস্তিহলাল হলো: বক্তা তাঁর বক্তব্যের শুরুতে এমন বিষয় নিয়ে আসা যা তাঁর মূল আলোচনার বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে, তাকেই বারাআতুল ইস্তিহলাল বলা হয়। অর্থাৎ তিনি তাঁর বক্তব্য এমন কিছু দিয়ে শুরু করেছেন যা আলোচনার মূল বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে কিন্তু সরাসরি তা উল্লেখ না করে। একেই বারাআত বা নৈপুণ্য বলা হয় যার অর্থ প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা। তাহলে এখানে বারাআতুল ইস্তিহলাল কী? তা হলো, এই কিতাবটি প্রাচীন ও আধুনিক হাদিস শাস্ত্রের ওপর রচিত।
"এবং তাঁর নবী ও রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক..." ইত্যাদি।
"দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক" এই বাক্যটি একটি তথ্যমূলক বাক্য হলেও এর অর্থ হলো দুআ; যেন আপনি বলছেন: হে আল্লাহ! আপনি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। তাহলে রাসূলের ওপর সালাত বা দরুদ পাঠের অর্থ কী? রাসূলের ওপর সালাত পাঠের বিষয়ে সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হলো সেটিই যা আবুল আলিয়াহ আর-রিয়াহি বলেছেন: সালাত হলো ফেরেশতাদের উচ্চ মজলিসে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার প্রশংসা করা; অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে তাঁর বান্দার সুখ্যাতি করা। অনেক আলেম এটিই পছন্দ করেছেন, বিশেষ করে পরবর্তী যুগের আলেমগণ। তবে এ বিষয়ে মনে কিছুটা সংশয় জাগে: তা হলো, আবুল আলিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) একজন তাবিঈ ছিলেন এবং এই ধরনের বিষয় নিছক যুক্তিনির্ভর হতে পারে না। কারণ যিনি বলবেন যে আল্লাহ প্রশংসা করেন, তাঁর বর্ণনার পক্ষে সুন্নাহ থেকে এমন দলিলের প্রয়োজন যা বিষয়টি স্পষ্ট ও বিশদ করবে। তবে কেউ কেউ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত মানে হলো রহমত বা দয়া; এটিও সঠিক নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা পবিত্র কিতাবে বলেছেন: {তাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাত ও রহমত বর্ষিত হয়} [আল-বাকারা: ১৫৭]। আর ব্যাকরণগতভাবে সংযোজক অব্যয়টি ভিন্নতা নির্দেশ করে; অর্থাৎ রহমত এবং সালাত ভিন্ন বিষয়। এছাড়া রহমতের দুআ তো প্রত্যেকের জন্যই করা হয়; আপনি যে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলতে পারেন: হে আল্লাহ! তাকে রহমত করুন। কিন্তু সালাত বা দরুদের দুআ সবার জন্য করা যায় না বরং এতে আলেমদের মাঝে দ্বিমত ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ রয়েছে।
সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে সালাত মানেই উচ্চ মজলিসে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার প্রশংসা করা, আবার আমরা একে রহমতও বলতে পারি না কারণ এই অর্থের ভিত্তি দুর্বল। বরং আমরা বলি: সালাত হলো এমন এক বিশেষ রহমত যা সাধারণ রহমতের ঊর্ধ্বে এবং এর প্রকৃত স্বরূপ আমাদের জানা নেই; আর এতে আমরা সংশয় থেকে মুক্ত থাকতে পারি। তবে উচ্চ মজলিসে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রশংসা করার মতটিই অনেক গবেষক আলেম (রাহিমাহুমুল্লাহ) ব্যাখ্যা করেছেন।
আর সালাম হলো সকল আপদ-বিপদ থেকে নিরাপত্তা। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ইন্তিকালের পর নিরাপদ; যদিও তাঁর পার্থিব জীবনে তিনি রোগব্যাধি, নানা কষ্ট এবং মানুষের ওপর আপতিত স্বাভাবিক বিষয়গুলোর সম্মুখীন হয়েছিলেন, কিন্তু ইন্তিকালের পর তিনি এসব থেকে নিরাপদ। তাহলে তাঁর জন্য নিরাপত্তার দুআ করার ফায়দা কী? আমরা বলব: মৃত্যুর পরেও অনেক ভয়াবহতা রয়েছে, আর তা হলো কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা। একারণেই পুলসিরাতের ওপর কিয়ামতের দিন রাসূলগণের দুআ হবে: "হে আল্লাহ! নিরাপত্তা দিন, নিরাপত্তা দিন।" সুতরাং সেখানে ভয়াবহতা রয়েছে। তদুপরি তিনি—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—জীবিতদের ওপর আপতিত শারীরিক বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত। তবে এমন কি হতে পারে না যে, কেউ তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়ার মতো ধৃষ্টতা দেখাবে? এটি সম্ভব এবং তা ঘটেছিলও, কিন্তু আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করেছেন। মদিনায় দুজন আগন্তুক এসেছিল তাঁর পবিত্র শরীর মোবারক নিয়ে যাওয়ার অশুভ উদ্দেশ্যে এবং তারা মসজিদে অবস্থান নিয়েছিল।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
وصارا يحفران خندقا من بعيد من أجل أن يصلا إلى الجسد الشريف، فقيد الله عز وجل السلطان أو أحد الولاة في ذلك الوقت فرأى رؤيا أن الرسول عليه الصلاة والسلام قال: "أنقذني من الأزغرين"، والظاهر - والله أعلم- أن صورتهما كشفت لهذا الرائي عنهما، فقدم المدينة فزعا وأقام مأدبة عظيمة، ودعا كل أهل المدينة مرتين أو ثلاثة ولم ير الرجلين اللذين وصفا له فسأل، قال: أين أهل المدينة؟ قالوا: كلهم جاءوا إلا رجلان اثنان في المسجد جاءا من حين مجيئهما وهما معتكفان في المسجد فدعا بهما، فإذا هما الرجلان اللذان نبه عليهما في الرؤيا، سبحان الله! حماية الجسد الشريف من العبث، واطلع على ما صنعا، ثم أمر بهما فقتلا، ثم أمر أن يحفر إلى الجبل من حول القبر الشريف حفرة وصبها بالرصاص والنحاس حتى لا يستطيع أحد أن يصل إلى جسد النبي صثلى الله عليه وسلم وهذا من حماية الله وإذا كان الله حمى أجساد الأنبياء أن تأكلها الأرض المسلطة على كل الجسد، فهو سبحانه يحمي الجسد الشريف من شياطين الإنس.
المهم أن السلام على الرسول عليه الصلاة والسلام وارد أو غير وارد؟ وارد في الدنيا والآخرة، أما في حياته فوروده واضح، وأما بعد موته فبأي شيء تكون السلامة؟ سلامة جسده من أن يعبث به.
وقوله: "على نبيه ورسوله" هذا من باب عطف الصفات المترادفة أو المتغايرة، وبدأ بوصف النبوة؛ نبئ بأول سورة "اقرأ" وأرسل بأول سورة "المدثر"؛ فلهذا عطف المؤلف رحمه الله الرسالة على وصف النبوة.
فمن هو النبي؟ النبي يقال النبيء، ويقال: النبي؛ فالنبيء بالهمز من النبأ أي: الخبر، وهل هو فعيل بمعنى فاعل أو فعيل بمعنى مفعول؟ كلاهما فهو فعيل بمعنى فاعل لأنه منبئ عن الله عز وجل وبمعنى مفعول؛ لأنه منبأ، أما على قراءة التسهيل - النبي بالياء- فهو إما مشتق من النبأ لكن حذفت الهمزة تخفيفا يعني: سهلت الهمزة تخفيفا، وإما من النبوة وهي الشيء المرتفع لرفعه مقام النبي صلى الله عليه وسلم بما أحظاه الله به من الوحي.
فإذا قال قائل: ألا يمكن أن يكون من هذا وهذا؟ بلى؛ لأن لدينا قاعدة ينبغي لطالب العلم أن يعلمها: "كل لفظ يحتمل معنيين على السواء - يعني في الدلالة عليه ولا منافاة بينهما- فإنه يحمل عليهما جميعا؛ لأن تعدد المعاني واتحاد اللفظ كثير في اللغة العربية".
وقوله: "ورسوله"؛ أي: مرسله إلى من؟ إلى الثقلين الإنس والجن، فالنبي - عليه الصلاة
তারা পবিত্র শরীর পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য দূর থেকে একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়ছিল। এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ সেই সময়ের সুলতান বা কোনো এক শাসককে তৌফিক দান করলেন। তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন: "এই নীল চক্ষুবিশিষ্ট দুই ব্যক্তি থেকে আমাকে উদ্ধার করো।" আপাতদৃষ্টিতে—আল্লাহই ভালো জানেন—স্বপ্নদ্রষ্টার নিকট তাদের অবয়ব উন্মোচিত হয়েছিল। তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় মদিনায় আসলেন এবং এক বিশাল ভোজের আয়োজন করলেন। তিনি মদিনার সকল অধিবাসীকে দুই বা তিনবার দাওয়াত দিলেন, কিন্তু বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের সেই দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: মদিনার আর কেউ কি বাকি আছে? তারা বলল: সকলেই এসেছে, শুধু মসজিদে অবস্থানরত দুই ব্যক্তি ছাড়া; তারা আসার পর থেকেই মসজিদে ইতিকাফে মগ্ন রয়েছে। তিনি তাদের ডেকে আনলেন, দেখা গেল তারাই সেই দুই ব্যক্তি যাদের ব্যাপারে স্বপ্নে সতর্ক করা হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র শরীরকে লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করার কী অপূর্ব ব্যবস্থাপনা! তিনি তাদের অপকর্ম সম্পর্কে অবগত হলেন, অতঃপর তাদের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন যেন পবিত্র কবরের চারদিকে পাহাড় পর্যন্ত একটি পরিখা খনন করা হয় এবং সেটি সিসা ও তামা দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র শরীর পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুরক্ষারই অংশ। আল্লাহ যদি নবীদের দেহকে মাটির গ্রাস থেকে রক্ষা করেন—যা সাধারণ সব মৃতদেহের ওপর প্রভাব বিস্তার করে—তবে তিনি অবশ্যই তাঁর প্রিয় নবীর পবিত্র দেহকে মানুষরূপী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।
মূল কথা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাম বা শান্তি বর্ষণের বিষয়টি কি প্রমাণিত? এটি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই প্রমাণিত। তাঁর জীবদ্দশায় এর তাৎপর্য তো সুস্পষ্ট, কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর এই 'সালামত' বা নিরাপত্তার অর্থ কী? এর অর্থ হলো তাঁর পবিত্র দেহ যেন কোনো প্রকার অবমাননা বা অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে।
আর লেখকের উক্তি: "তাঁর নবী ও রাসূলের ওপর"—এটি সমার্থবোধক বা ভিন্ন অর্থবোধক গুণাবলির সমন্বয়। তিনি নবুওয়াতের গুণ দিয়ে বর্ণনা শুরু করেছেন; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'ইকরা' সূরার প্রথম দিকের মাধ্যমে নবুওয়াত লাভ করেছেন এবং 'আল-মুদ্দাসসির' সূরার প্রথম দিকের মাধ্যমে রিসালাত লাভ করেছেন। একারণেই লেখক (রহিমাহুল্লাহ) নবুওয়াতের গুণের সাথে রিসালাতের গুণকে যুক্ত করেছেন।
নবী কে? নবী শব্দটিকে 'নাবি' (হামজাসহ) এবং 'নাবী' (হামজা ছাড়া) উভয়ভাবেই পড়া হয়। হামজাসহ শব্দটি 'নাবা' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সংবাদ। এখন এটি কি 'ফায়িল' (কর্তা) অর্থে নাকি 'মাফউল' (কর্ম) অর্থে? এটি উভয় অর্থই বহন করে। তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সংবাদ দানকারী হিসেবে 'ফায়িল' এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদপ্রাপ্ত হিসেবে 'মাফউল'। আর হামজা ছাড়া উচ্চারণে এটি হয় 'নাবা' থেকে এসেছে যেখানে সহজ করার জন্য হামজা বিলুপ্ত করা হয়েছে, অথবা এটি 'নাবুওয়াহ' থেকে এসেছে যার অর্থ সুউচ্চ স্থান; কারণ আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছেন, এটি তারই প্রতিফলন।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: শব্দটি কি এই উভয় অর্থ থেকেই নির্গত হতে পারে না? উত্তর হলো: হ্যাঁ, হতে পারে। কারণ আমাদের একটি নীতি রয়েছে যা জ্ঞানান্বেষীদের জানা আবশ্যক: "যদি কোনো শব্দ সমভাবে দুটি অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে—অর্থাৎ অর্থের নির্দেশনায় যদি কোনো বৈপরীত্য না থাকে—তবে শব্দটি সেই উভয় অর্থেই গণ্য হবে। কারণ আরবি ভাষায় শব্দের একত্ব এবং অর্থের বহুত্ব একটি অতি পরিচিত বিষয়।"
আর তাঁর উক্তি: "তাঁর রাসূল"; অর্থাৎ যাকে প্রেরণ করা হয়েছে। কার কাছে? মানব ও জিন—এই উভয় জাতির নিকট। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি...
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
والسلام - مرسل إلى الإنس والجن، أرسله الله تعالى إلى الإنس والجن منذ بعث إلى يوم القيامة، ولا يخفى علينا ما في الإضافة إلى ضمير الله عز وجل قال: "نبيه ورسوله" من الشريف والتكريم.
وقوله: "محمد"، كيف نعربه؟ عطف بيان؛ لأن البدل غالبا يساوي المبدل منه في الدلالة، وعطف البيان يزيد بيان معنى، وهنا زاد بيان معنى وهو أنه دل على الاسم العلم لرسول الله صلى الله عليه وسلم محمد وهو اسم المفعول؛ لأنه صلى الله عليه وسلم قد حمده ربه سبحانه وتعالى وحمده الأولون والآخرون، وسيظهر الحمد الكامل يوم القيامة كما قال عز وجل: {عسى أن يبعثك ربك مقاما محمودا}.
قال حسان بن ثابت صلى رضي الله عنه: [الطويل]
وشق له من اسمه ليجله
… فذو العرش محمود وهذا محمد
اسم محمد ورد في القرآن كم مرة؟ أربع مرات، وورد ذكر أحمد مرة واحدة، فما هي الحكمة أن الله ألهم عيسى أن يقول أحمد دون أن يقول محمدا؟
الحكمة: أن أجمد اسم تفضيل، وهو اسم تفضيل مطلق يعني: لم يذكر فيه اسم المفضل عليه فيكون أحمد الخلق على الإطلاق، وهل هو من باب اسم الفاعل أو اسم المفعول؟ أو هما؟ هل المعنى: أحمد يعني: أنه أحمد الناس لله، أو المعنى أحمد أي: أنه أحمد من يحمده الناس؟ كلاهما لا شك، وإنما جاء بصيغة أحمد إقامة للحجة على بني إسرائيل؛ حيث إن عيسى أقر بهذا الاسم أم محمدا أفضل الخلق لأنه سماه أحمد.
يقول: "وآله وصحبه
… " إلخ.
آله وصحبه هل هو من عطف الخاص على العام أو العام على الخاص أم ماذا؟ هو من باب عطف العام على الخاص؛ لأنه جاء بعده وعلى أتباعه، فهو من باب عطف العام على الخاص. فمن هم آله؟ من المعلوم أنه لا يصلح أن نقول: إن آله قرابته؛ لأننا لو قلنا إن آله قرابته شمل ذلك أبا لهب وغيره من كفار قرابة الرسول عليه الصلاة والسلام وهذا غير مراد، ونحن لا نصلي على آل الرسول الذين ليسو بمؤمنين إذن ماذا نقول؟ نقول: آله هم المؤمنون من قرابته، وبهذا يندفع اعتراض الشاعر في قوله: [البسيط]
آل النبي هم أتباع ملته
… من الأعاجم والسودان والعرب
لو لم يكن آله إلا قرابته
… صل المصل على الطاغي أبي لهب
...এবং সালাম — তিনি মানব ও জিন জাতির প্রতি প্রেরিত। আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মানব ও জিন জাতির নিকট প্রেরণ করেছেন। আর মহান আল্লাহর নামের সর্বনামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে "তাঁর নবী ও তাঁর রাসূল" বলার মধ্যে যে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান নিহিত রয়েছে, তা আমাদের নিকট অস্পষ্ট নয়।
এবং তাঁর উক্তি: "মুহাম্মাদ", এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ আমরা কীভাবে করব? এটি 'আতফে বায়ান' (ব্যাখ্যামূলক অন্বয়); কারণ 'বাদাল' (স্থলাভিষিক্ত) সাধারণত 'মুবদাল মিনহু' (যার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে) এর সমার্থক হয়, কিন্তু 'আতফে বায়ান' অর্থের স্পষ্টতা বৃদ্ধি করে। এখানে এটি অর্থের অধিকতর স্পষ্টতা দান করেছে, আর তা হলো—এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মূল নাম 'মুহাম্মাদ'-কে নির্দেশ করছে। এটি একটি 'ইসমে মাফউল' (কর্মবাচক বিশেষ্য); কেননা মহান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল সৃষ্টি তাঁর প্রশংসা করেছে। আর কিয়ামত দিবসে তাঁর পূর্ণাঙ্গ প্রশংসা প্রকাশ পাবে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আশা করা যায় আপনার প্রতিপালক আপনাকে মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে) প্রতিষ্ঠিত করবেন।"
হাসসান বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: [তবীল ছন্দ]
আর তিনি (আল্লাহ) তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত করার জন্য নিজ নাম হতে তাঁর একটি নাম নির্গত করেছেন;
… সুতরাং আরশের অধিপতি হলেন 'মাহমুদ' (প্রশংসিত) আর ইনি হলেন 'মুহাম্মাদ' (প্রশংসিত)।
'মুহাম্মাদ' নামটি কুরআনে কতবার এসেছে? চারবার। আর 'আহমাদ' নামের উল্লেখ এসেছে একবার। আল্লাহ তাআলা ঈসা আলাইহিস সালাম-কে 'মুহাম্মাদ' না বলে 'আহমাদ' বলার অনুপ্রেরণা কেন দিয়েছিলেন, তার হিকমত বা রহস্য কী?
রহস্যটি হলো: 'আহমাদ' শব্দটি 'ইসমে তাফদীল' (আতিশয্যবোধক বিশেষ্য)। আর এটি একটি নিরঙ্কুশ 'ইসমে তাফদীল', অর্থাৎ এখানে কার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে (মুফাদ্দাল আলাইহি) তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তিনি সৃষ্টিজগতের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক প্রশংসাকারী বা প্রশংসিত। এখন প্রশ্ন হলো, এটি কি 'ইসমে ফায়েল' (কর্তৃবাচক) নাকি 'ইসমে মাফউল' (কর্মবাচক) এর অর্থ প্রদান করে? নাকি উভয়টিই? এর অর্থ কি 'আহমাদ'—অর্থাৎ তিনি আল্লাহর নিকট মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রশংসাকারী? নাকি এর অর্থ 'আহমাদ' অর্থাৎ তিনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রশংসিত? নিঃসন্দেহে উভয় অর্থই সঠিক। মূলত বনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য 'আহমাদ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে; যেহেতু ঈসা আলাইহিস সালাম এই নামেই তাঁর স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, তা প্রমাণিত হয় কারণ আল্লাহ তাঁকে 'আহমাদ' নামে নামকরণ করেছেন।
তিনি বলেন: "এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরগণের প্রতি..." ইত্যাদি।
এখানে 'পরিবারবর্গ' (আল) এবং 'সহচরগণ' (সাহাব)—এটি কি সাধারণের ওপর বিশেষের অন্বয়, নাকি বিশেষের ওপর সাধারণের অন্বয়, নাকি অন্য কিছু? এটি বিশেষের ওপর সাধারণের অন্বয়; কারণ এর পরে 'এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর' কথাটি এসেছে। সুতরাং এটি বিশেষের ওপর সাধারণের অন্বয়। এখন প্রশ্ন হলো, তাঁর 'আল' বা পরিবারবর্গ কারা? এটি সুবিদিত যে, তাঁর 'আল' বলতে কেবল তাঁর বংশীয় আত্মীয়দের বোঝানো সঠিক হবে না; কারণ যদি আমরা বলি যে তাঁর 'আল' হলো তাঁর বংশীয় আত্মীয়রা, তবে এর মধ্যে আবু লাহাব এবং রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর আত্মীয়দের মধ্য থেকে অন্যান্য কাফেররাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, যা কাঙ্ক্ষিত নয়। আর আমরা রাসূলের সেই পরিজনদের ওপর দরুদ পাঠ করি না যারা মুমিন নন। তাহলে আমরা কী বলব? আমরা বলব: তাঁর 'আল' হলো তাঁর বংশীয় আত্মীয়দের মধ্যে যারা মুমিন। আর এর মাধ্যমেই কবির সেই আপত্তির খণ্ডন হয়ে যায় যেখানে তিনি বলেছেন: [বাসীত ছন্দ]
নবীর প্রকৃত পরিজন হলো তাঁর আদর্শের অনুসারীরা,
… চাই তারা অনারব হোক, কৃষ্ণাঙ্গ হোক কিংবা আরব।
যদি তাঁর পরিজন কেবল তাঁর বংশীয় আত্মীয়রাই হতো,
… তবে সালাত পাঠকারীকে অবাধ্য আবু লাহাবের ওপরও সালাত পাঠ করতে হতো।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
ندفع هذا الإيراد بماذا؟ بأن نقول: "آله" هم المؤمنون من قرابته، "وصحبه" أحسن ما نقول فيهم ما قاله أهل المصطلح: أنهم كل من اجتمع بالنبي صلى الله عليه وسلم مؤمنا به ومات على ذلك وهذا من خصائص الرسول عليه الصلاة والسلام غير الرسول لابد للصحبة من طول زمان يعني لو اجتمعت بواحد في مجلس من المجالس وتفرقتما هل يقال أنه صاحب لك؟ لا، لكن من خصائص الرسول عليه الصلاة والسلام: أن الإنسان إاذ اجتمع به لحظة واحدة مؤمنا به فهو من أصحابه، لكن لا شك أن الصحابة يختلفون اختلافا كبيرا في الصحبة والإيمان والتقوى والعمل وغير ذلك. هل آله من صحبه؟ الذين اجتمعوا به يعني: آل الرسول الذين جاءوا من بعده هم آله وليسوا من صحبه، لكن آله الذين كانوا في حياته من صحبه، وبهذا قلنا صحبه من باب عطف العام على الخاص، هذا إذا لم ترد "آل" وحدها فإن وردت "آل" وحدها، فهي قطعا أتباعه على دينه، مثل قوله صلى الله عليه وسلم حين علمهم الصلاة عليه: "قولوا: اللهم صل على محمد وعلى آل محمد". هذا المراد به: جميع الأتباع.
"وعلى آله وصحبه الذين ساروا في نصرة دينه سيرا حثيثا" أصحاب الرسول يجب على الأمة من بعدهم أن يشكروهم؛ لأنهم ساروا في نصرة دينه سيرا حثيثا، لم يكن أحد مثلهم أبدا في سير النصرة؛ وذلك لأنهم جاهدوا في الله وهاجروا في سبيل الله وقاتلوا وقتلوا وأخرجوا من ديارهم وأموالهم وكان شأنهم ذلك ولم يوجد أحد مثلهم من بعدهم أبدا؛ ولهذا قال: ساروا في نصرة دينه سيرا حثيثا.
قال: "وعلى أتباعه"، أتباع من؟ أتباع كل من سبق، فيدخل في هذا: أتباع الرسول صلى الله عليه وسلم وأتباع الآل، وأتباع الصحب.
"وعلى أتباعهم الذين ورثوا علمهم" نعم من بعدهم ورث عليهم فلمن الفضل؟ للأول الفضل، الأول هو الذي أعطى من بعده العلم تاما ناضجا، فالأول مورود والثاني وارد.
قال: "والعلماء ورثة الأنبياء" كأنه رحمه الله خاف أن يظن ظان أن قوله: "أتباعهم" أتباع الصحب فقال: "الذين ورثوا علمهم" يدخل في ذلك: علم النبي عليه الصلاة والسلام ولهذا قال: "العلماء ورثة الأنبياء". جعلنا الله وإياكم منهم، لكن من العلماء الذين هم ورثة؟ العلماء الموصوفون بالعلم الصحيح النقي، العلماء العاملون بعلمهم، العلماء الناشرون لشريعة الله، العلماء الداعون لدين الله، العلماء المجاهدون في سبيل الله لأنه لابد أن يكون الوارد مماثلا
আমরা এই আপত্তির খণ্ডন করব কীভাবে? আমরা বলব যে: তাঁর "পরিবার" হলেন তাঁর আত্মীয়দের মধ্যে যারা মুমিন, আর তাঁর "সঙ্গীগণ" সম্পর্কে পরিভাষা শাস্ত্রবিদগণ (মুহাদ্দিসগণ) যা বলেছেন তাই সর্বোত্তম: তারা হলেন এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যারা মুমিন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত; রাসূল ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে সাহচর্য বা বন্ধুত্বের জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, আপনি যদি কোনো এক মজলিসে কারো সাথে মিলিত হন এবং এরপর আপনারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান, তবে কি বলা হবে যে তিনি আপনার সঙ্গী? না। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য হলো: কোনো মানুষ যদি মুমিন অবস্থায় এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তবেই তিনি তাঁর সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাহাবীগণ তাঁদের সাহচর্য, ঈমান, তাকওয়া, আমল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যে অনেক মর্যাদাগত পার্থক্যের অধিকারী। তাঁর পরিবার কি তাঁর সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত? রাসূলের পরিবারের যারা তাঁর ইন্তেকালের পরে এসেছেন তারা তাঁর "পরিবার" হিসেবে গণ্য কিন্তু তারা সাহাবী নন। তবে তাঁর পরিবারের যারা তাঁর জীবদ্দশায় ছিলেন তারা সাহাবীগণেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই প্রেক্ষিতেই আমরা বলেছি যে, এখানে "পরিবার"-এর পর "সঙ্গীগণ" উল্লেখ করা হয়েছে বিশেষের পর সাধারণকে যুক্ত করার (আতফুল আম আলাল খাস) নিয়ম অনুযায়ী। এটি তখন প্রযোজ্য যখন "আল" (পরিবার) শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয় না। কিন্তু যদি "আল" শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবে তাঁর দ্বীনের অনুসারীদের বোঝায়। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁদেরকে তাঁর ওপর দরূদ পড়ার নিয়ম শিখিয়েছিলেন তখন বলেছিলেন: "তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।" এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সকল অনুসারী।
"এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীগণের ওপর, যারা তাঁর দ্বীনের সাহায্যে অত্যন্ত ঐকান্তিকভাবে অগ্রসর হয়েছেন।" পরবর্তী উম্মতের ওপর রাসূলের সাহাবীগণের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা অপরিহার্য; কারণ তাঁরা তাঁর দ্বীনের সাহায্যে এমনভাবে অগ্রসর হয়েছিলেন যার কোনো তুলনা নেই। দ্বীনের সাহায্যের ক্ষেত্রে তাঁদের মতো আর কেউ ছিল না। কারণ তাঁরা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করেছেন, লড়াই করেছেন এবং শাহাদাত বরণ করেছেন। তাঁদেরকে তাঁদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এটিই ছিল তাঁদের ত্যাগ এবং তাঁদের পরে তাঁদের মতো কাউকে আর কখনো পাওয়া যায়নি। এই কারণেই তিনি বলেছেন: তাঁরা তাঁর দ্বীনের সাহায্যে ঐকান্তিকভাবে অগ্রসর হয়েছিলেন।
তিনি বলেছেন: "এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর", কাদের অনুসারী? পূর্ববর্তী সবার অনুসারী। ফলে এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীগণ, তাঁর পরিবারের অনুসারীগণ এবং সাহাবীগণের অনুসারীগণ।
"এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপর যারা তাঁদের জ্ঞানের উত্তরাধিকার লাভ করেছেন।" হ্যাঁ, তাঁদের পরবর্তীগণ তাঁদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে জ্ঞান লাভ করেছেন। সুতরাং শ্রেষ্ঠত্ব কার? শ্রেষ্ঠত্ব হলো পূর্ববর্তীদের জন্য। পূর্ববর্তীগণই হলেন তাঁরা যারা পরবর্তীদের কাছে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপক্ক জ্ঞান দান করেছেন। সুতরাং পূর্ববর্তীগণ হলেন জ্ঞানের উৎস এবং পরবর্তীগণ হলেন সেখান থেকে আহরণকারী।
তিনি বলেছেন: "আর উলামায়ে কেরাম হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী।" লেখক রহমাতুল্লাহি আলাইহি সম্ভবত এই আশঙ্কা করেছিলেন যে, কেউ হয়তো মনে করতে পারে যে "অনুসারী" দ্বারা কেবল সাহাবীগণের অনুসারীদের বোঝানো হয়েছে। তাই তিনি বললেন: "যারা তাঁদের জ্ঞানের উত্তরাধিকার লাভ করেছেন", যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জ্ঞানও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এই কারণেই তিনি বলেছেন: "উলামায়ে কেরাম নবীদের উত্তরাধিকারী।" আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তবে আলেমদের মধ্যে কারা প্রকৃত উত্তরাধিকারী? তাঁরা হলেন সেই সকল আলেম যারা বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ জ্ঞানে গুণান্বিত, যারা নিজেদের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেন, যারা আল্লাহর শরীয়ত প্রচার করেন, যারা আল্লাহর দ্বীনের দিকে আহ্বান জানান এবং যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেন। কারণ উত্তরাধিকারীকে অবশ্যই তার মূল উৎসের অনুরূপ হতে হয়।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
للمورود وإلا لنقص علمه، فليس كل عالم وارثا للنبي لكنه له من إرث النبي نصيب، إذا كان عنده علم وعنده تقصير في العبادة، أو عنده علم وعنده تقصير في نشر العلم، أو عنده علم ونده تقصير في الدعوة إلى الله، أو عنده علم وعنده تقصير في الجهاد ونقول: له من إرثهم نصيب، والوراثة لا تتحقق إلا بإرث جميع الموروث، ابن وأم كم للأم؟ السدس، هل هي ورثت من ابتنها أو في بعض ماله؟ في بعض ماله، كذلك إرث الأنبياء إذا لم يكن على شكل ما جاءت به الأنبياء فإن الإرث يكون ناقصا بحسب ما نقص من العلم.
ثم قال: "أكرم بهم وارثا وموروثا" هذه صيغة تعجب؛ لأن "أكرم بهم" بمعنى: ما أكرمهم وارثا وموروثا، لكن التعجب يكون ب "ما أفعل" ويكون ب "أفعل به". أكرم بهم وارثا وموروثا يقولون: إن "أكرم" تخالف الصيغ العادية لكونها على صيغة أفعل، وكون فاعلها ظاهرا؛ لأن "بهم" الهاء في الحقيقة هل الفاعل وإن كانت جارا ومجرورا.
وقوله: "وارثا" إما أن تكون حالا من الضمير في "بهم"؛ لأنها اسم مشتق، ويمكن أن تكون تمييزا على حد قولهم: لله دره فارسا، بحيث قال: إنه تمييز مع أنه مشتق، على كل حال مسألة الإعراب أمرها هين. "وموروثا" من الموروث؟ الأنبياء - عليهم الصلاة والسلام- مورثون؛ والوارث من بعدهم من ورث العلم.
قال: "أما بعد"، أما بعد قال بعض المصنفين إنها كلمة يؤتى بها للانتقال من أسلوب إلى آخر لكن هذا فيه نظر ولكنها كلمة يؤتى بها للانتقال من المقدمة إلى الموضوع، ما هو من أسلوب إلى آخر لو تغير الأسلوب ما نجيء ب "أما بعد" لكن نأتي بها للانتقال من المقدمة إلى الموضوع.
سبق لنا أن أصل أدلة الأحكام هو القرآن وأن السنة متممة له، وسبق لنا أن الناظر في أدلة القرآن لا يحتاج إلى البحث عن سنده، لأنه متواتر معلوم علما يقينيا، وأما الناظر في السنة فيحتاج إلى أمرين:
الأمر الأول: ثبوت ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم.
والثاني: الدلالة، دلالة النص على الحكم، وعلى هذا فإذا استدل عليك مستدل بآية من القرآن فماذا تطالبه؟ أقول: ما وجه الدلالة، وإذا استدل عليك مستدل بالسنة أطالبه أولا بصحة النقل؛ فإذا صح النقل حينئذ أناقشه في صحة الدلالة، ومن ثم احتاج العلماء رحمهم الله إلى أن ينظروا في الرواية من وجهين:
الوجه الأول: من حيث الثقة، وذلك يعود إلى الحفظ والأمانة.
الوجه الثاني: ومن حيث الاتصال؛ وذلك يعود إلى العلم بتواريخ حياتهم ولادة ووفاة لئلا
যিনি উত্তরাধিকার লাভ করবেন তাঁর জন্য এটি প্রযোজ্য, অন্যথায় তাঁর জ্ঞান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সুতরাং প্রত্যেক আলেমই নবীর পূর্ণাঙ্গ উত্তরাধিকারী নন, তবে নবীর মিরাস থেকে তাঁর একটি অংশ রয়েছে; যদি তাঁর নিকট জ্ঞান থাকে কিন্তু ইবাদতে ত্রুটি থাকে, অথবা জ্ঞান থাকে কিন্তু জ্ঞান প্রচারে অবহেলা থাকে, কিংবা তাঁর নিকট জ্ঞান থাকে কিন্তু আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি থাকে, অথবা জ্ঞান থাকে কিন্তু জিহাদের ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকে। এমতাবস্থায় আমরা বলব: নবীদের উত্তরাধিকার থেকে তাঁর একটি অংশ রয়েছে। আর উত্তরাধিকার ততক্ষণ পূর্ণাঙ্গ হয় না যতক্ষণ না ত্যাজ্য বিষয়ের সবকিছু অর্জন করা হয়। যেমন সন্তান ও মা; এখানে মায়ের অংশ কতটুকু? এক-ষষ্ঠাংশ। তিনি কি তাঁর সন্তানের পূর্ণ সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়েছেন নাকি সম্পদের কিয়দাংশের? অবশ্যই সম্পদের কিয়দাংশের। তদ্রূপ, নবীদের উত্তরাধিকার যদি নবীদের আনীত পূর্ণ আদর্শ অনুযায়ী না হয়, তবে জ্ঞানের সেই ঘাটতি অনুযায়ী উত্তরাধিকারও অসম্পূর্ণ হবে।
অতঃপর তিনি বললেন: "উত্তরাধিকারী এবং যাঁর থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হওয়া গেছে, তাঁরা কতই না চমৎকার!" এটি একটি বিস্ময়সূচক বাক্য; কারণ "আকরিম বিহিম" এর অর্থ হলো—উত্তরাধিকারী ও মওরূস (যাঁর থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যায়) হিসেবে তাঁরা কতই না মহান। বিস্ময় প্রকাশের বাক্য সাধারণত "মা আফয়ালা" এবং "অাফয়িল বিহি"—এই দুই ছন্দে হয়ে থাকে। "আকরিম বিহিম ওয়ারিছান ওয়া মাওরূছান" এর ক্ষেত্রে ভাষাবিদগণ বলেন যে, "আকরিম" শব্দটি সাধারণ ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী, কারণ এটি আদেশসূচক রূপে এসেছে অথচ এর ফায়েল বা কর্তাটি প্রকাশ্য। মূলত "বিহিম" এর "হা" সর্বনামটিই এখানে ফায়েল বা কর্তা, যদিও তা বাহ্যিকভাবে অব্যয়যুক্ত শব্দ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
আর তাঁর উক্তি "ওয়ারিছান" (উত্তরাধিকারী হিসেবে)—এটি "বিহিম" এর অন্তর্ভুক্ত সর্বনাম থেকে "হাল" বা অবস্থা হতে পারে; কারণ এটি একটি উদ্ভূত বিশেষ্য (ইসমে মুশতাক)। আবার এটি "তাময়িয" বা বিশিষ্টতা জ্ঞাপক শব্দ হওয়াও সম্ভব, যেমনটি আরবদের এই প্রবাদে দেখা যায়: "লিল্লাহি দাররুহু ফারিসান" (অশ্বারোহী হিসেবে সে কতই না চমৎকার!)। এখানে শব্দটিকে মুশতাক হওয়া সত্ত্বেও "তাময়িয" হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যাই হোক, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের বিষয়টি অত্যন্ত সহজ। আর "মাওরূছান" তথা যাঁর থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হওয়া গেছে তিনি কে? তিনি হলেন নবীগণ (তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক); তাঁরা হলেন মিরাস প্রদানকারী। আর তাঁদের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হলেন তাঁরাই, যাঁরা তাঁদের ইলম বা জ্ঞানের উত্তরাধিকার লাভ করেছেন।
তিনি বললেন: "আম্মা বা'দু" (অতঃপর)। কিছু গ্রন্থকার মনে করেন যে, এটি এক রচনাশৈলী থেকে অন্য শৈলীতে উত্তরণের জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দ। তবে এই মতটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। মূলত এটি ভূমিকা থেকে মূল বিষয়ে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দ। এটি কেবল এক শৈলী থেকে অন্য শৈলীতে পরিবর্তনের জন্য নয়; কারণ কেবল রচনাশৈলী পরিবর্তিত হলেই আমরা "আম্মা বা'দু" বলি না, বরং এটি ভূমিকা থেকে মূল বক্তব্যে যাওয়ার জন্যই ব্যবহার করি।
ইতিপূর্বে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, শরয়ী বিধানাবলির দলিলের মূল উৎস হলো কুরআন এবং সুন্নাহ তার পরিপূরক। আরও অতিক্রান্ত হয়েছে যে, কুরআনের দলিলের প্রতি দৃষ্টিপাতকারীর জন্য তার সনদ বা সূত্র অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই, কারণ কুরআন মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত) এবং অকাট্য নিশ্চিত জ্ঞান দ্বারা সাব্যস্ত। কিন্তু সুন্নাহর দিকে দৃষ্টিপাতকারীর জন্য দুটি বিষয় জরুরি:
প্রথম বিষয়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তা প্রমাণিত হওয়া।
দ্বিতীয় বিষয়: দালালাত বা নির্দেশকতা; অর্থাৎ বিধানের ওপর উক্ত পাঠ্যের নির্দেশকতার ধরন। এমতাবস্থায় যদি কেউ কুরআনের কোনো আয়াত দ্বারা আপনার নিকট দলিল পেশ করে, তবে আপনি তার কাছে কী দাবি করবেন? আমি বলব: এর নির্দেশকতার ধরণ বা দিক কী? আর যদি কেউ সুন্নাহ দ্বারা দলিল পেশ করে, তবে আমি প্রথমে তার নিকট বর্ণনার বিশুদ্ধতা দাবি করব। যদি বর্ণনাটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়, তখন আমি তার সাথে এর নির্দেশকতার যাথার্থ্য নিয়ে আলোচনা করব। একারণেই ওলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) বর্ণনাকে দুটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন:
প্রথম দিক: নির্ভরযোগ্যতার (সিকাহ) দিক থেকে। এটি বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তি ও আমানতদারিতার সাথে সংশ্লিষ্ট।
দ্বিতীয় দিক: সংযোগের (ইত্তিসাল) দিক থেকে। এটি বর্ণনাকারীদের জন্ম ও মৃত্যুর ইতিহাস এবং জীবনকাল সম্পর্কে জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট, যাতে...
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
يكون منقطعا؛ فصار النظر في أحوال الرواة من وجهين: من جهة الثقة وهو يعود إلى شيئين العدالة والحفظ ويدخل فيهما أشياء كثيرة مما يخالف ذلك من أسباب الطعن في الحديث، والثاني من حيث اتصال السند، وعلى هذا فلابد من العلم بمواليدهم ووفياتهم حتى نعرف المتصل من غير المتصل.
قول المؤلف رحم الله: "أما بعد، فهذا مختصر" المختصر قال العلماء: هو الذي قل لفظه وكثر معناه، هذا المختصر "يشتمل على أصول الأدلة الحديثية للأحكام الشرعية" أصول الأدلة، أفادنا المؤلف رحمه الله أنه لم يستوعب جميع الأدلة الحديثية، وإنما انتخب الأصول فقط يعني التي تدل على ما يكثر من الناس وقوعه في عباداتهم.
وقوله: "الحديثية" نسبة للحديث احترازا من الأدلة القرآنية؛ لأن هذا الكتاب لم يذكر المؤلف فيه شيئا من الأدلة القرآنية، فمثلا "صحيح البخاري" يذكر البخاري رحمه الله شيئا من الأدلة القرآنية وكذلك الأدلة الحديثية؛ أما مسلم مثلا فلا يذكر شيئا من الأدلة القرآنية. المؤلف لم يذكر شيئا من الأدلة القرآنية وإنما اقتصر على الأدلة الحديثية.
وقوله: "للأحكام الشرعية" الأحكام: جمع حكم، وهو - أي: الحكم- إثبات شيء لشيء نفيا أو إيجابا، فإذا قلنا مثلا: لا يحل أكل الميتة فهذا إثبات حكم نفي أو إيجاب؟ نفي. وإذا قال: أحل الله البيع، فهذا حكم إيجابي، فالحكم إذن إثبات شيء لشيء نفيا أو إيجابا.
وقوله: "الشرعية" خرج به ثلاثة أحكام: العادية، والعقلية، وبقيت الشرعية، الأحكام الشرعية هي المتلقاة من الشرع: الكتاب، والسنة، والإجماع، والقياس، الأحكام العقلية: هي المتلقاة من العقل، والأحكام العادية: هي المتلقاة من التجارب.
فالأحكام الشرعية مثل: الحلال، والحرام، والوجوب، والاستحباب، والكراهة هذه مأخوذة من الشرع، كون الجزء أقل من الكل والكل أكبر، هذه أحكام عقلية، والأحكام العادية هي ما وصف من العادة مثل أن يكون " السكنجبين" مسهل للبطن مثلا أو ما أشبهه هذا من العادة يعني: اعتاد الناس أنهم إذا تناولوا هذا الشيء سهلت بطونهم أو تسهلت فالأحكام إذن ثلاثة أقسام: شرعية، وعقلية، وعادية؛ ثم الشرعية: إما عملية، أو علمية؛ فما كان أساسه الاعتقاد فهو علمي، وما كان أساسه العمل قولا أو فعلا فهو عملي.
يقول: "حررته تحريرا بالغا". حررته يعني: نفيت عنه كل تعقيد؛ لأنه من تحرير الشيء أي: تخليصه، "تحريرا بالغا" حسب قدرته رحمه الله.
"ليصير من يحفظه من بين أقرانه نابغا". أشار المؤلف بهذه الكلمة إلى أنه ينبغي لنا أن نحفظ هذا المؤلف؛ لأنه مختصر على أصول الأدلة الحديثية مبينا فيه أحكام ودرجات الأحاديث.
এটি বিচ্ছিন্ন হতে পারে; ফলে বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ দুই দিক থেকে হয়ে থাকে: প্রথমত নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে, যা মূলত দুটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়—সততা ও ন্যায়নিষ্ঠতা এবং ধারণক্ষমতা; আর এই দুটির মধ্যে এমন অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি উত্থাপনের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। দ্বিতীয়ত, সনদের নিরবচ্ছিন্নতার দিক থেকে। আর এই ভিত্তিতে বর্ণনাকারীদের জন্ম ও মৃত্যু সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক, যাতে আমরা নিরবচ্ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারি।
লেখকের বক্তব্য (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন): "অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত সার"। আলেমগণ বলেছেন: সংক্ষিপ্ত সার হলো এমন সংকলন যার শব্দ সংখ্যা অল্প কিন্তু অর্থ অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক। এই সংক্ষিপ্ত সারটি "শরয়ী বিধানসমূহের মৌলিক হাদিস ভিত্তিক দলিলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে"। 'মৌলিক দলিলসমূহ' উল্লেখ করে লেখক আমাদের বুঝিয়েছেন যে, তিনি হাদিসের সকল দলিল এখানে সংকলন করেননি, বরং কেবল মৌলিক দলিলগুলোই নির্বাচন করেছেন; অর্থাৎ যা মানুষের ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে সচরাচর প্রয়োজন হয়।
তাঁর উক্তি: "হাদিস ভিত্তিক"; এটি হাদিসের সাথে সম্পর্কিত করার মাধ্যমে কুরআনের দলিলসমূহ থেকে পৃথক করা হয়েছে; কারণ লেখক এই গ্রন্থে কুরআনের কোনো দলিল উল্লেখ করেননি। উদাহরণস্বরূপ, "সহিহ আল-বুখারী"তে ইমাম বুখারী (রহ.) কুরআনের কিছু দলিল এবং সেই সাথে হাদিসের দলিলও উল্লেখ করেন; কিন্তু ইমাম মুসলিম সাধারণত কুরআনের দলিল উল্লেখ করেন না। লেখক এখানে কুরআনের কোনো দলিল উল্লেখ না করে কেবল হাদিসের দলিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।
তাঁর উক্তি: "শরয়ী বিধানের জন্য"। বিধানসমূহ হলো হুকুমের বহুবচন; আর হুকুম হলো—কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা, তা নেতিবাচক হোক বা ইতিবাচক। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা বলি: "মৃত জন্তু ভক্ষণ হালাল নয়", তবে এটি কি নেতিবাচক না ইতিবাচক বিধানের স্বীকৃতি? এটি নেতিবাচক। আর যদি বলা হয়: "আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন", তবে এটি একটি ইতিবাচক বিধান। সুতরাং বিধান হলো কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের জন্য নেতিবাচক বা ইতিবাচকভাবে সাব্যস্ত করা।
তাঁর উক্তি: "শরয়ী"; এর মাধ্যমে তিনটি বিধান পৃথক হয়ে গেল: অভ্যাসগত, যুক্তিগত এবং বাকি থাকল শরয়ী। শরয়ী বিধানসমূহ সেগুলোই যা শরীয়ত থেকে গৃহীত: কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস। যুক্তিগত বিধানসমূহ হলো সেগুলো যা বুদ্ধি বা বিবেকপ্রসূত। আর অভ্যাসগত বিধানসমূহ হলো যা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে লব্ধ।
শরয়ী বিধান যেমন: হালাল, হারাম, ওয়াজিব, মুস্তাহাব এবং মাকরুহ; এগুলো শরীয়ত থেকে গৃহীত। কোনো অংশ তার সমষ্টির চেয়ে ছোট হওয়া এবং সমষ্টি অংশের চেয়ে বড় হওয়া—এগুলো যুক্তিগত বিধান। আর অভ্যাসগত বিধান হলো যা অভ্যাসের মাধ্যমে বর্ণিত; যেমন "সেকাঞ্জাবিন" পেট পরিষ্কারকারক হওয়া বা এই জাতীয় বিষয়গুলো অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ মানুষ অভ্যস্ত যে, তারা যখন এটি গ্রহণ করে তখন তাদের পেট পরিষ্কার হয়। সুতরাং বিধান তিন প্রকার: শরয়ী, যুক্তিগত এবং অভ্যাসগত। পুনরায় শরয়ী বিধান দুই প্রকার: ব্যবহারিক অথবা তাত্ত্বিক। যেটির ভিত্তি বিশ্বাস তা তাত্ত্বিক, আর যেটির ভিত্তি কথা বা কাজের মাধ্যমে সম্পাদিত আমল তা হলো ব্যবহারিক।
তিনি বলেন: "আমি একে অত্যন্ত নিপুণভাবে পরিমার্জন করেছি"। পরিমার্জন করেছি অর্থ: আমি একে সকল জটিলতা থেকে মুক্ত করেছি; কারণ কোনো কিছুকে পরিমার্জন করা মানে হলো তাকে পরিচ্ছন্ন ও ত্রুটিমুক্ত করা। "অত্যন্ত নিপুণভাবে" বলতে তিনি তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার কথা বুঝিয়েছেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)।
"যাতে এটি মুখস্থকারী তার সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য প্রতিভাধর হয়ে উঠতে পারে"। লেখক এই বাক্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আমাদের এই গ্রন্থটি মুখস্থ করা উচিত; কারণ এটি হাদিসের মৌলিক দলিলসমূহের এমন একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন যেখানে হাদিসের বিধান ও মানসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥١)
وقوله: "من بين أقرانه" جمع قرن وهو الزميل، و "نابغا" أي: ذا نبوغ وعلوم وكفاء على غيره، وهذا لا شك أن الإنسان إذا حفظ هذا المتن أنه سوف يستغني عن كثير من الأدلة؛ لأنه مستوعب لغالب الأدلة التي يحتاج الناس إليها لكنه يحتاج إلى تعاهد؛ لأنه رحمه الله يذكر التخريج أحيانا بكلمات مطولة يحتاج الإنسان إلى أن يتعاهدها وإلا نسيها.
"ويستعين به الطالب المبتدي" "ويستعين بها" أي: يجعلها عونا له، أي: الطالب للعلم المبتدئ.
"ولا يستغني عنه الراغب المنتهي". إذن يحتاج الناس إليه سواء كانوا مبتدئين أو منتهين، أما الطالب المبتدئ فإنه يستعين به، وأما المنتهي فإنه يرجع إليه.
"وقد بينت عقب كل حديث من أخرجه من الأئمة؛ لإرادة نصح الأمة". كلما ذكر حديثا ذكر من أخرجه من الأئمة أي: أئمة الحديث كالإمام أحمد، والبخاري، ومسلم، ومن أشبههم.
"لإرادة نصح الأمة" يعني: قاصدا بذلك النصيحة؛ وذلك أن الإنسان إذا ذكر الحديث ولم يذكر من رواه فقد يظن السامع أنه حديث صحيح لاسيما إذا قاله على وجه الاستدلال، لكن إذا ذكر من خرجه فهذا تمام النصح، إلا أنه أيضا يحتاج إلى شيء آخر والمؤلف سيذكره رحمه الله، وهو أن يصحح الحديث حتى لو ذكر من خرجه إذا كان من خرجه لا يستلزم إخراج الصحيح ولهذا كان النص الذي في تفسير ابن جرير رحمه الله على أنه مستوعب جميع الأقاويل والآثار في التفسير الخلل في هذا النص واضح؛ لأنه لا يتكلم على الأثر ولا على درجته، ولذلك كان يحتاج إلى تخريج حتى يعرف الإنسان درجة هذا الأثر في تفسير الآية، إذن لا يكفي أن نقول: رواه فلان إذا كان فلان ممن لم يلتزم بإخراج الصحيح، لكن المؤلف رحمه الله أحيانا - يذكر- يتكلم على أنه سند صحيح أو قوي أو ضعيف.
قال: "فالمراد بالسبعة" يعني: إذا قلت أخرجه السبعة: أحمد، والبخاري، ومسلم، وأبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجة، إذا قال السبعة ولا يذكر غيرهم، فإذا قال: أخرجه السبعة فإنه يراد بذلك هؤلاء، واعلم أن من عيب التخريج، أن يذكر الإنسان الأدنى مرتبة مع أنه رواه من هو أعلى منه مرتبة، يعني مثلا يقول: رواه أبو داود والحديث رواه البخاري مع أبي داود، هذا من العيب عند المحدثين؛ لأنك إذا أهملت الأقوى أوهنت الحديث وصار ضعيفا في نظر القارئ أو في نظر السامع، فإذا كان حديث مثلا رواه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه إما أن يقول: أخرجه السبعة، وإما أن يقول: أخرجه البخاري ومسلم وغيرهما من أئمة الحديث، أما أن تقول: أخرجه أبو داود وتقتصر؛ فهذا عيب عند المحدثين وهو ظاهر لأنه يوهن درجة الحديث.
এবং তার বক্তব্য: "তার সমসাময়িকদের মধ্য থেকে", এখানে 'আকরান' শব্দটি 'কারন' এর বহুবচন, যার অর্থ সহকর্মী। আর "নাবিগান" অর্থ: প্রতিভাধর, জ্ঞানী এবং অন্যের তুলনায় অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো ব্যক্তি যদি এই মূলপাঠটি (মাতন) মুখস্থ করে, তবে সে অনেক দলিলের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্তি পাবে; কারণ এটি মানুষের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ দলিলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে এটি নিয়মিত চর্চার দাবি রাখে; কারণ গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) কখনো কখনো দীর্ঘ বাক্যে হাদিসের উৎস বর্ণনা (তাখরিজ) করেছেন, যা নিয়মিত চর্চা না করলে মানুষ ভুলে যেতে পারে।
"এবং এর মাধ্যমে শিক্ষানবিশ ছাত্র সাহায্য লাভ করবে", অর্থাৎ: সে এটিকে নিজের সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করবে, অর্থাৎ ইলম অন্বেষণকারী প্রাথমিক স্তরের ছাত্র।
"এবং উচ্চতর জ্ঞান অন্বেষণকারীও এর মুখাপেক্ষীহীন হতে পারে না।" সুতরাং, মানুষ এর প্রয়োজন বোধ করবে, তারা প্রাথমিক স্তরের হোক বা উচ্চতর স্তরের। প্রাথমিক স্তরের ছাত্র এর মাধ্যমে সাহায্য লাভ করবে, আর উচ্চতর স্তরের বিজ্ঞজন এর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।
"এবং উম্মাহর কল্যাণ কামনার্থে আমি প্রত্যেক হাদিসের শেষে তা সংকলনকারী ইমামদের বর্ণনা করেছি।" তিনি যখনই কোনো হাদিস উল্লেখ করেছেন, তখনই তা কোন ইমাম বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন; অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণ যেমন ইমাম আহমাদ, বুখারি, মুসলিম এবং তাদের সমপর্যায়ের অন্যান্য ইমামগণ।
"উম্মাহর কল্যাণ কামনার্থে" অর্থাৎ: এর মাধ্যমে উপদেশের উদ্দেশ্য পোষণ করা হয়েছে। কেননা মানুষ যদি হাদিস উল্লেখ করে কিন্তু তার বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ না করে, তবে শ্রোতা মনে করতে পারে যে এটি একটি সহিহ হাদিস, বিশেষ করে যখন এটি দলিলের প্রেক্ষাপটে বলা হয়। কিন্তু যখন হাদিসের বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করা হয়, তখন তা পূর্ণাঙ্গ উপদেশ বা কল্যাণকামিতা হিসেবে গণ্য হয়। তবে এর সাথে আরও একটি বিষয়ের প্রয়োজন রয়েছে যা লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করবেন, আর তা হলো হাদিসের বিশুদ্ধতা নিরূপণ করা। এমনকি যদি বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখও করা হয়, তবুও যদি সেই বর্ণনাকারী কেবল সহিহ হাদিস সংকলনের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে থাকেন, তবে তা যথেষ্ট নয়। একারণেই ইবনে জারির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাফসিরের ক্ষেত্রে যে কথাটি বলা হয় যে এটি তাফসির বিষয়ক সকল উক্তি ও বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে—সেখানে একটি স্পষ্ট ত্রুটি বিদ্যমান; কারণ তিনি বর্ণনা বা এর মান নিয়ে আলোচনা করেন না। ফলে কোনো আয়াতের তাফসিরে সেই বর্ণনার মান কতটুকু তা জানার জন্য এর উৎস বিশ্লেষণের (তাخরিজ) প্রয়োজন পড়ে। অতএব, শুধুমাত্র এটুকু বলাই যথেষ্ট নয় যে, 'অমুক ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন', যদি সেই ব্যক্তি কেবল সহিহ হাদিস বর্ণনার নীতি অনুসরণ না করে থাকেন। তবে লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) মাঝে মাঝে এটি সহিহ, শক্তিশালী নাকি দুর্বল সনদ—সে বিষয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন: "সাতজন বলতে উদ্দেশ্য হলো"—অর্থাৎ আমি যখন বলব যে এটি সাতজন ইমাম বর্ণনা করেছেন, তখন তারা হলেন: আহমাদ, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ। যদি তিনি 'সাতজন' বলেন এবং অন্য কারো নাম উল্লেখ না করেন, তবে এর দ্বারা তারাই উদ্দেশ্য। আর জেনে রাখুন যে, হাদিসের উৎস বর্ণনার একটি ত্রুটি হলো উচ্চ পর্যায়ের বর্ণনাকারী থাকা সত্ত্বেও নিম্ন পর্যায়ের বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা। যেমন উদাহরণস্বরূপ কেউ বলল: 'এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন', অথচ হাদিসটি আবু দাউদের পাশাপাশি বুখারিও বর্ণনা করেছেন। মুহাদ্দিসগণের নিকট এটি একটি ত্রুটি; কারণ আপনি যখন শক্তিশালী উৎসকে অবহেলা করবেন, তখন হাদিসটিকে দুর্বল করে ফেলবেন এবং পাঠক বা শ্রোতার দৃষ্টিতে তা দুর্বল হিসেবে প্রতীয়মান হবে। সুতরাং যদি কোনো হাদিস বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ সকলে বর্ণনা করে থাকেন, তবে হয় বলতে হবে: 'এটি সাতজন ইমাম বর্ণনা করেছেন', অথবা বলতে হবে: 'এটি বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ বর্ণনা করেছেন'। কিন্তু আপনি যদি কেবল বলেন: 'এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন' এবং সেখানেই থেমে যান, তবে মুহাদ্দিসগণের নিকট এটি একটি স্পষ্ট ত্রুটি; কারণ এটি হাদিসের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
يقول: "وبالستة: من عدا أحمد" فيكون خ، م، د، ت، ن، ق.
"وبالخمسة: من عدا البخاري ومسلما" يكون: حم، د، ت، ن، ق.
"وقد أقول: الأربعة وأحمد" ولم يبين المؤلف لماذا كان يقول هذا والظاهر أنه يقول ذلك تفننا في العبارة، وقد يكون اطلع على أنه رواه الأربعة ثم بعد ذلك اطلع على أن الإمام أحمد رواه أيضا فأضافه.
"وبالأربعة: من عدا الثلاثة الأول" وهم: حم، خ، م، فيكون هؤلاء: د، ت، ن، ق.
"وبالثلاثة: من عداهم وعدا الأخير" من الأخير؟ ابن ماجه، فيكون إذا قال: أخرجه الثلاثة: د، ت، ن.
"وبالمتفق عليه: البخاري ومسلم". وهذا الذي اصطلح عليه في المتفق عليه هو الذي عليه عامة الناس الآن يعني: عامة الكتب المؤلفة إذا قال: "متفق عليه" فالمراد: أخرجه البخاري ومسلم، لكن المجد - مجد الدين عبد السلام ابن تيمية رحمه الله جد شيخ الإسلام- في "المنتقى" إذا قال: متفق عليه؛ فالمراد: أحمد والبخاري ومسلم، لكن هذا اصطلاح خاص.
"وقد لا أذكر معهما غيرهما" مع من؟ البخاري ومسلم وغيرهما؛ وذلك لأن العلماء تلقوا ما روياه بالقبول، وإذا كان العلماء تلقوا ذلك بالقبول فإضافة شيء آخر من باب النشر فقط.
"وما عدا ذلك" يعني: ما عدا هؤلاء السبعة "فهو مبين" وسيتبين لك إن شاء الله تعالى مما يأتي.
"وسميته: بلوغ المرام من أدلة الأحكام"، نقول: بلوغ، أو بلوغ؟ إن قلنا: "بلوغ المرام من أدلة الأحكام" فإن بلوغ خبر لمبتدأ محذوف، والتقدير: هذا بلوغ المرام، وعليه فتكون الجملة هي المفعول الثاني ل "سميته" على سبيل الحكاية، وإن قلنا: "سميته بلوغ المرام" كما تقول: سميت ابني عبد الله، فإن "بلوغ" تكون هي المفعول الثاني ولا حاجة إلى التقدير.
وقوله: "المرام" يعني: المطلب، أي: أن الإنسان يبلغ مطلبه من أدلة الأحكام بهذا الكتاب.
"والله أسأله ألا يجعل ما علمنا علينا وبالا". "الله" بالنصب على أنه معمول لأسأل مقدم، وتقديم المعمول يفيد الحصر أي: "لا أسأل إلا الله ألا يجعل ما علمنا علينا وبالا" وذلك بأن نعمل به؛ لأن ما علمنا إما أن يكون حجة لنا أو يكون حجة علينا لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "والقرآن حجة لك أو عليك". فإن علمت به فهو لك، وإن لم تعمل به فهو عليك "وبال" أي: إثم وعقوبة.
"وأن يرزقنا العمل بما يرضيه سبحانه وتعالى". يرزقنا الرزق والعطاء، "والعمل بما يرضيه" أي: من قول، وعمل، وعقيدة سبحانه وتعالى.
তিনি বলেন: "ছয়জন বলতে: আহমাদ ব্যতীত বাকিরা", তখন এর অর্থ দাঁড়ায়: বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ।
"পাঁচজন বলতে: বুখারি ও মুসলিম ব্যতীত বাকিরা", তখন এর অর্থ দাঁড়ায়: আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ।
"কখনো আমি বলি: চারজন ও আহমাদ।" লেখক কেন এটি বলতেন তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তবে বাহ্যত মনে হয় তিনি ভাষাশৈলীতে বৈচিত্র্য আনার জন্য এমনটি করেছেন। অথবা এমনও হতে পারে যে, প্রথমে তিনি জানতে পেরেছিলেন যে হাদিসটি চারজন (সুনান গ্রন্থকার) বর্ণনা করেছেন, পরে অবগত হয়েছেন যে ইমাম আহমাদও তা বর্ণনা করেছেন, তাই পরবর্তীতে তাঁকে যুক্ত করেছেন।
"চারজন বলতে: প্রথম তিনজন ব্যতীত বাকিরা।" সেই তিনজন হলেন: আহমাদ, বুখারি ও মুসলিম। সুতরাং চারজন বলতে উদ্দেশ্য হলো: আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ।
"তিনজন বলতে: তারা ব্যতীত এবং শেষোক্ত ব্যক্তি ব্যতীত।" এই শেষোক্ত ব্যক্তি কে? তিনি হলেন ইবনে মাজাহ। সুতরাং যখন তিনি বলেন: "এটি তিনজন বর্ণনা করেছেন", তখন তার অর্থ হলো: আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়ি।
"মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) বলতে: বুখারি ও মুসলিম।" মুত্তাফাকুন আলাইহি পরিভাষাটি বর্তমানে সাধারণ আলেম ও গবেষকদের নিকট এই অর্থেই সুপরিচিত। অর্থাৎ সংকলিত গ্রন্থসমূহে যখন বলা হয় "মুত্তাফাকুন আলাইহি", তখন তার অর্থ দাঁড়ায়: এটি ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন। তবে আল-মাজদ—অর্থাৎ মাজদুদ্দিন আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি শাইখুল ইসলামের দাদা—তিনি তাঁর "আল-মুনতাকা" গ্রন্থে যখন "মুত্তাফাকুন আলাইহি" বলেন, তখন তাঁর উদ্দেশ্য হয়: আহমাদ, বুখারি ও মুসলিম। তবে এটি একটি বিশেষ পারিভাষিক ব্যবহার মাত্র।
"কখনো কখনো আমি তাঁদের সাথে অন্য কারো কথা উল্লেখ করি না।" কাদের সাথে? বুখারি ও মুসলিমের সাথে। কারণ আলেম সমাজ তাঁদের বর্ণিত হাদিসকে গ্রহণ করে নিয়েছেন। আর যখন আলেমগণ কোনো বিষয়কে গ্রহণ করে নেন, তখন অন্য কারো নাম উল্লেখ করা কেবল প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে।
"আর যা এর বাইরে" অর্থাৎ এই সাতজন ইমাম ব্যতীত অন্য কারো বর্ণনা হলে "তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।" ইনশাআল্লাহ সামনের আলোচনা থেকে এটি আপনার কাছে স্পষ্ট হবে।
"আর আমি এর নাম রেখেছি: 'বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম' (বিধিবদ্ধ বিধানের দলিলাদি হতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো)।" আমরা কি 'বুলুগু' (পেশ দিয়ে) বলব নাকি 'বুলুগা' (যবর দিয়ে)? যদি আমরা 'বুলুগু' বলি, তবে এটি একটি উহ্য মুক্তাদার খবর (বিধেয়) হবে, যার বিশ্লেষণ হলো: এটি হলো 'বুলুগুল মারাম'। এমতাবস্থায় বাক্যটি একটি উদ্ধৃতি হিসেবে 'সাম্মাইতুহু' ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম হবে। আর যদি আমরা 'বুলুগা' বলি, যেমনটি বলা হয়: 'আমি আমার ছেলের নাম রেখেছি আব্দুল্লাহ', তবে 'বুলুগা' সরাসরি দ্বিতীয় কর্ম হবে এবং এক্ষেত্রে কোনো উহ্য শব্দ ধরার প্রয়োজন হবে না।
তাঁর উক্তি: "আল-مرাম" অর্থাৎ গন্তব্য বা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ মানুষ এই কিতাবে বর্ণিত বিধানের দলিলসমূহের মাধ্যমে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
"আর আমি আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের অর্জিত জ্ঞানকে আমাদের জন্য বিপদের কারণ না করেন।" এখানে 'আল্লাহ' শব্দটি কর্ম (মাফউল) হিসেবে ক্রিয়ার আগে আসার কারণে এটি সীমাবদ্ধতা বা আধিক্য (হসর) বোঝায়। অর্থাৎ: "আমি একমাত্র আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করি যেন আমাদের অর্জিত জ্ঞান আমাদের জন্য 'ওয়াবাল' (অভিশাপ বা শাস্তি) না হয়।" আর এটি সম্ভব জ্ঞান অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে। কারণ আমাদের অর্জিত জ্ঞান হয় আমাদের স্বপক্ষে দলিল হবে অথবা বিপক্ষে দলিল হবে; যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল-কুরআন তোমার স্বপক্ষে অথবা বিপক্ষে দলিল।" সুতরাং আপনি যদি জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেন তবে তা আপনার স্বপক্ষে থাকবে, আর আমল না করলে তা আপনার বিপক্ষে 'ওয়াবাল' অর্থাৎ পাপ ও শাস্তির কারণ হবে।
"এবং তিনি যেন আমাদের সেই আমল করার তাওফিক দান করেন যা মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে।" তিনি যেন আমাদের দান ও রিযিক প্রদান করেন। "তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী আমল" বলতে কথা, কাজ এবং আকিদা বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাকে বোঝায়।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
هذه هي خطبة الكتاب ومقدمته، واعلم أن المؤلف قال في الأول: "أما بعد فهذا مختصر" فالمشار إليه هل هو ما قام في ذهنه أو ما حضر بين يديه؟
الجواب: هذا يوجد كثيرا في المؤلفات أما بعد، فهذا وتخريجه كما يأتي إن كان الكتاب قد ألف قبل هذه الإشارة فهو إشارة إلى ما حضر بين يديه وإن كان لم يؤلف وهو الغالب فهو إشارة إلى ما قام في ذهن المؤلف، فهذا يعني ما تصوره في ذهنه
… إلخ ما سيأتي.
এটি হলো কিতাবের প্রারম্ভিক ভাষণ ও এর ভূমিকা। জেনে রাখুন যে, লেখক শুরুতে বলেছেন: "অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত সার"; এখানে 'এটি' দ্বারা যা নির্দেশ করা হয়েছে, তা কি লেখকের মানসপটে যা ছিল তা, নাকি যা তাঁর সামনে লিখিত আকারে উপস্থিত ছিল তা?
উত্তর: গ্রন্থসমূহে 'অতঃপর, এটি' বাক্যটির প্রয়োগ প্রচুর পাওয়া যায়। এর ব্যাখ্যা নিম্নরূপ: যদি এই ইঙ্গিতের পূর্বেই কিতাবটি সংকলিত হয়ে থাকে, তবে তা সামনে উপস্থিত পাণ্ডুলিপির প্রতি ইঙ্গিত। আর যদি কিতাবটি তখনো সংকলিত না হয়ে থাকে—যা সচরাচর হয়ে থাকে—তবে তা লেখকের মানসপটে যা বিদ্যমান ছিল তার প্রতি ইঙ্গিত। সুতরাং 'এটি' বলতে তিনি মনে যা কল্পনা করেছেন তা-ই বোঝায়
… ইত্যাদি যা সামনে আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
كتاب الطهارة
ويشتمل على:
1 - باب المياه
2 - باب الآنية
3 - باب إزالة النجاسة وبيانها
4 - باب الوضوء
5 - باب المسح على الخفين
6 - باب نواقض الوضوء
7 - باب آداب قضاء الحاجة
8 - باب الغسل وحكم الجنب
9 - باب التيمم
10 - باب الحيض
পবিত্রতা অধ্যায়
এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
১ - পানি বিষয়ক পরিচ্ছেদ
২ - পাত্র বিষয়ক পরিচ্ছেদ
৩ - নাপাকি দূরীকরণ এবং এর বর্ণনা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
৪ - অযু বিষয়ক পরিচ্ছেদ
৫ - চামড়ার মোজার উপর মাসেহ করা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
৬ - অযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ বিষয়ক পরিচ্ছেদ
৭ - শৌচকার্য সম্পাদনের আদব বিষয়ক পরিচ্ছেদ
৮ - গোসল এবং জুনুবী ব্যক্তির বিধান বিষয়ক পরিচ্ছেদ
৯ - তায়াম্মুম বিষয়ক পরিচ্ছেদ
১০ - ঋতুস্রাব বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
كتاب الطهارةثم قال المؤلف: "كتاب الطهارة": بدأ المؤلفون رحمهم الله الفقهاء والمحدثون الذين يرتبون كتبهم على أبواب الفقه بدءوا بالطهارة لوجهين:
الوجه الأول: أن الطهارة من آكد شروط الصلاة لقوله تعالى: {يا أيها الذين ءامنوا إذا قمتم إلى الصلاة فاغسلوا وجوهكم وأيديكم إلى المرافق} [المائدة: 6].
ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: "لا يقبل الله صلاة أحدكم إذا أحدث حتى يتوضأ".
والأمر الثاني: أن الطهارة تخلية لأنها تنظيف للمكان فهي تخلية، والتخلية - كما يقال- قبل التحلية، مثلا: اكنس البيت أولا ثم افرشه ثانيا، نظف الأواني عن الأذى أولا ثم اغسلها ثانيا؛ فلذلك بدءوا بكتاب الطهارة.
ثم اعلم أن الطهارة نوعان: طهارة معنوية، وطهارة حسية، وكلام الفقهاء رحمهم الله على الطهارة الحسية، أما كلام الذين يتكلمون في التوحيد والعقائد فالطهارة عندهم من الطهارة المعنوية وهي الأصل، وهي طهارة القلب من الشرك، والنفاق، والغل، والحقد، والحسد
… وغير ذلك من الصفات الذميمة، وهذه أهم من الطهارة الحسية، لكن مع ذلك الإنسان محتاج إلى الطهارتين جميعا ونقف على هذا.
سؤال: هل أحد من العلماء الذين ألفوا في الحديث على كتب الفقه خالف ابن حجر اصطلاحا في المتفق عليه؟ المجد ابن تيمية في كتاب "المنتقى".
الطهارة بدأنا فيها وقلنا: إن الطهارة تنقسم إلى قسمين: طهارة باطن، وطهارة ظاهر.
طهارة الباطن: تعني طهارة القلب من الشرك، والشك، والنفاق، والحقد، والغل
… وغير ذلك من مساوئ الأخلاق.
وطهارة الظاهر: تشمل الطهارة من الحدث والطهارة من النجاسة، وذكرنا أيضا فيما سبق: أن العلماء بدءوا بالطهارة لأنها مفتاح الصلاة، والصلاة آكد أركان الإسلام بعد الشهادتين،
পবিত্রতা অধ্যায়অতঃপর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "পবিত্রতা অধ্যায়": ফকীহ ও মুহাদ্দিস লেখকগণ, যারা ফিকহী অধ্যায়ের বিন্যাসে তাঁদের কিতাবসমূহ রচনা করেন, তাঁরা দুটি কারণে পবিত্রতা দিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন:
প্রথম কারণ: পবিত্রতা হলো সালাতের অন্যতম সুনিশ্চিত শর্ত। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "তোমাদের কেউ অপবিত্র হলে সে অযু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না।"
দ্বিতীয় বিষয়: পবিত্রতা হলো বর্জন বা পরিশোধন (তাখলিয়া), কারণ এটি স্থান পরিষ্কার করা। আর যেমন বলা হয়ে থাকে—পরিগ্রহ বা সুশোভিতকরণের (তাহলিয়া) পূর্বে পরিশোধন করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ: প্রথমে ঘর ঝাড়ু দিন, তারপর কার্পেট বিছান; প্রথমে পাত্র থেকে ময়লা পরিষ্কার করুন, তারপর তা ধৌত করুন। একারণেই তাঁরা পবিত্রতা অধ্যায় দিয়ে শুরু করেছেন।
অতঃপর জেনে রাখুন যে, পবিত্রতা দুই প্রকার: আধ্যাত্মিক পবিত্রতা ও বাহ্যিক পবিত্রতা। ফকীহগণের (রহিমাহুমুল্লাহ) আলোচনা হলো বাহ্যিক পবিত্রতা নিয়ে। পক্ষান্তরে যারা তাওহীদ ও আকিদা নিয়ে আলোচনা করেন, তাঁদের নিকট পবিত্রতা বলতে আধ্যাত্মিক পবিত্রতা উদ্দেশ্য এবং এটিই হলো মূল। আর তা হলো শিরক, নিফাক (কপটতা), বিদ্বেষ, হিংসা, ঘৃণা
… এবং অন্যান্য নিন্দনীয় গুণাবলী থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখা। এটি বাহ্যিক পবিত্রতার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তবে তা সত্ত্বেও মানুষের উভয় প্রকার পবিত্রতারই প্রয়োজন রয়েছে। আমরা এখানেই ইতি টানছি।
প্রশ্ন: হাদিসকে ফিকহী বিন্যাসে সংকলনকারী আলেমদের মধ্যে কেউ কি 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' পরিভাষার ক্ষেত্রে ইবনে হাজারের পরিভাষার বিরোধিতা করেছেন? উত্তর: আল-মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে।
পবিত্রতা নিয়ে আমরা আলোচনা শুরু করেছি এবং বলেছি যে: পবিত্রতা দুই ভাগে বিভক্ত: অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা ও বাহ্যিক পবিত্রতা।
অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা: এর অর্থ হলো শিরক, সন্দেহ, নিফাক, হিংসা, বিদ্বেষ
… এবং অন্যান্য চারিত্রিক মন্দ দিক থেকে অন্তরকে পবিত্র করা।
বাহ্যিক পবিত্রতা: এটি হদস (অদৃশ্য নাপাকি) থেকে পবিত্র হওয়া এবং নাজাতাস (দৃশ্যমান অপবিত্রতা) থেকে পবিত্র হওয়া উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা পূর্বে আরও উল্লেখ করেছি যে: উলামায়ে কেরাম পবিত্রতা দিয়ে শুরু করেছেন কারণ এটি সালাতের চাবিকাঠি, আর শাহাদাতাইনের (দুই সাক্ষ্যবাণী) পর সালাত হলো ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
ولهذا ذكروا الطهارة، ثم الصلاة، ثم الزكاة، ثم الصيام، ثم الحج على الترتيب الذي جاء في حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه حين سأل جبريل النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام.
1 - باب المياهثم قال المؤلف: "باب المياه" جمعها باعتبار مصادرها؛ لأن المياه إما مياه بحار، أو غمام، أو آبار، فلهذا جمع، فمياه الأمطار التي تأتي من المطر كالأودية والغدران وما أشبه ذلك، مياه البحار معروفة وكذلك مياه الآبار، وربما نضيف أيضا مياه الأنهار فجمعها المؤلف وإلا فالأصل أن الماء جنس واحد لا يجمع لكن باعتبار مصادره وأنواعه ذكرها بالجمع، (والمياه)؛ هي ذلك الجوهر الساكن، وهو من أسهل الأمور تناولا، وهي أغلاها عند الحاجة إليه، ربما يكون الفنجان الواحد عند الحاجة إليه يساوي مئات الدراهم؟ إذن هو غال رخيص؛ ولهذا قال العلماء: لو أن إنسانا أتلف قربة من الماء في مفازة قيمتها هناك خمسمائة درهم وقيمتها في البلد درهمان فهل يضمن خمسمائة درهم أو درهمين؟ يضمن بالأول؛ لأنها غالية في مكانها.
طهارة مياه البحر:1 - عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في البحر:
أبو هريرة هو أكثر الصحابة رواية عن النبي صلى الله عليه وسلم لأنه اعتنى بالحديث وحفظه وصار متفرغا وإلا فإننا نعلم أن أبا بكر رضي الله عنه أكثر تلقيا من أبي هريرة بالنسبة لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: لأنه أكثر ملازمة منه، لكن أبا بكر رضي الله عنه في حياة النبي صلى الله عليه وسلم التحديث عنه قليل؛ لأن الناس يأخذون عن النبي صلى الله عليه وسلم مباشرة بدون واسطة، وبعد موته تعلمون أن أبا بكر رضي الله عنه اشتغل بأعباء الخلافة وتدبير الدولة، والناس أيضا يهابون أن يشغلوه بالتلقي عنه وهو لا يتفرغ لهم؛ فلهذا كان أقل بكثير مما نقل عن أبي هريرة؛ ولهذا لو سئلنا أيهما أكثر حديثا أب هريرة أو أبو بكر؟ نقول: أما بالنسبة للتلقي عن الرسول صلى الله عليه وسلم فهو أبو بكر لا شك عندنا في هذا، أما بالنسبة لنقل الحديث عن الرسول صلى الله عليه وسلم فهو أبو هريرة رضي الله عنه.
"قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في البحر": "في البحر" هذا من كلام ابن حجر رحمه الله ليس من كلام أبي هريرة، ولا من كلام النبي صلى الله عليه وسلم، لكن المؤلف - كما تعلمون- جعل هذا كتابا مختصرا
এজন্য তারা পবিত্রতা, এরপর সালাত, এরপর জাকাত, এরপর সিয়াম, অতঃপর হজ—এই ক্রম অনুসারে উল্লেখ করেছেন, যা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এসেছে, যখন জিবরাঈল (আ.) নবী (সা.)-কে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
১ - পানি পরিচ্ছেদঅতঃপর লেখক বলেছেন: "পানির পরিচ্ছেদ"। তিনি শব্দটিকে এর উৎসের বিবেচনায় বহুবচনে উল্লেখ করেছেন; কারণ পানি হয় সমুদ্রের পানি, অথবা মেঘের (বৃষ্টির) পানি, কিংবা কূপের পানি। একারণেই তিনি বহুবচন ব্যবহার করেছেন। বৃষ্টির পানি যা বৃষ্টি থেকে আসে যেমন উপত্যকা, জলাশয় এবং এই জাতীয় উৎস। সমুদ্রের পানি ও কূপের পানিও সুপরিচিত। সম্ভবত আমরা নদীর পানিকেও এর সাথে যুক্ত করতে পারি। মূলত পানি শব্দটি একটি জাতিবাচক শব্দ যা সাধারণত বহুবচন হয় না, কিন্তু লেখক এর উৎস ও প্রকারভেদের বিবেচনায় বহুবচনে উল্লেখ করেছেন। আর 'পানি' হলো সেই শান্ত পদার্থ, যা সংগ্রহ করা সবচাইতে সহজ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, আবার প্রয়োজনের সময় এটি সবচাইতে মূল্যবান। হতে পারে প্রয়োজনের সময় এক পেয়ালা পানি শত শত দিরহামের সমান মূল্যবান হয়ে ওঠে। সুতরাং এটি একইসাথে মূল্যবান ও সস্তা। একারণেই ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি মরুভূমিতে এক মশক পানি নষ্ট করে ফেলে যেখানে তার মূল্য পাঁচশত দিরহাম, অথচ লোকালয়ে তার মূল্য মাত্র দুই দিরহাম; তবে সে কি পাঁচশত দিরহাম জরিমানা দেবে নাকি দুই দিরহাম? সে প্রথমটিই (পাঁচশত দিরহাম) জরিমানা দেবে; কারণ ওই স্থানে এর মূল্য অনেক বেশি।
সমুদ্রের পানির পবিত্রতা:১ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) সমুদ্র সম্পর্কে বলেছেন:
আবু হুরায়রা (রা.) নবী (সা.) থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীদের মধ্যে সবচাইতে অগ্রগণ্য; কারণ তিনি হাদিসের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন, তা মুখস্থ করতেন এবং নিজেকে এই কাজে উৎসর্গ করেছিলেন। অন্যথায় আমরা জানি যে, আবু বকর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে আবু হুরায়রা (রা.) অপেক্ষা অনেক অগ্রগামী ছিলেন; কারণ তিনি তাঁর সাথে অধিক সময় অতিবাহিত করতেন। কিন্তু নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় আবু বকর (রা.) থেকে হাদিস বর্ণনার পরিমাণ ছিল কম; কারণ মানুষ সরাসরি নবী (সা.) থেকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই হাদিস গ্রহণ করত। আর তাঁর ইন্তেকালের পর আপনারা জানেন যে, আবু বকর (রা.) খিলাফতের গুরুদায়িত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মানুষও তাঁকে হাদিস শ্রবণের জন্য ব্যস্ত করতে সংকোচ বোধ করত, আর তিনিও তাদের জন্য অবসর পেতেন না। একারণেই তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিসের পরিমাণ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের তুলনায় অনেক কম। সুতরাং আমাদের যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আবু হুরায়রা নাকি আবু বকর—কে অধিক হাদিসের অধিকারী? আমরা বলব: রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে হাদিস সরাসরি শ্রবণের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে আবু বকর (রা.) অগ্রগণ্য, আর রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে আবু হুরায়রা (রা.) অগ্রগণ্য।
"তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) সমুদ্র সম্পর্কে বলেছেন": এখানে "সমুদ্র সম্পর্কে" কথাটি ইবনে হাজার (রহ.)-এর বক্তব্য, এটি আবু হুরায়রা (রা.) কিংবা নবী (সা.)-এর বক্তব্য নয়। তবে লেখক—যেমনটি আপনারা জানেন—এই গ্রন্থটিকে একটি সংক্ষিপ্তসার হিসেবে সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
فقال في البحر، قال: "هو الطهور ماؤه الحل ميتته". وللحديث سبب، سببه: أن قوما أتوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم وقالوا: إننا يا رسول الله نركب البحر وليس معنا ماء - يعني: يتوضئون به-، أفنتوضأ بماء البحر؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم فيه: "هو الطهور ماؤه الحل ميتته". لم يقل: نعم، بل قال: "هو الطهور ماؤه الحل ميتته"، مع أن الرسول عليه الصلاة والسلام إذا سئل عن مثل هذا السؤال يقول: نعم، سأله رجل أنتوضأ مع لحوم الإبل، قال: "نعم"، لكن هنا عدل عن كلمة "نعم" إلى قوله: "الطهور ماؤه"؛ ليكون ذلك أشمل وأعم فيتطهر به ولا يتطهر منه؛ بمعنى: أنه لو أصاب الثوب والبدن فإنه لا يجب أن يتطهر منه؛ لأنه طهور، وأيضا يتطهر به من الحدث الأصغر والأكبر والنجاسة، وهذا من حسن جواب الرسول عليه الصلاة والسلام.
فكلمة "الطهور ماؤه" أعم من كلمة "نعم"؛ لأنه لو قال: نعم؛ لكان المعنى: تطهروا به، أو توضئوا به، لكن قال: "هو الطهور ماؤه".
أيضا زادهم على ذلك قال: "الحل ميتته". "الحل"؛ يعني: الحلال، ميتته، والمراد ب "ميتته": ميتة ما لا يعيش إلا فيه إلا في البحر، وليس المراد: ما مات في البحر؛ ولهذا إذا سقطت شاة في البحر وماتت فهي حرام ميتة، لكن المراد ب "ميتته": مضاف إلى البحر؛ يعني: ميتة ما لا يعيش إلا في البحر حلال، هكذا كان جواب النبي - صلى الله عليه وعلى آله وسلم-.
وكلمة "الطهور" بفتح الطاء وهو اسم لما يتطهر به كالسحور اسم لما يسحر به، والوجور اسم لما يوجر به المريض وهلم جرا، أما الطهور بالضم فهو مصدر أو اسم مصدر وهو عبارة عن الفعل، فمثلا إذا قرب الإنسان ماء يتوضأ به، فالماء يسمى طهورا أو يسمى وضوءا ونفس الفعل الوضوء يسمى طهورا، أو وضوءا، فالفرق إذن بين فتح أوله وضمه هو أنه أريد الفعل فهو مضموم، وإن أريد ما يتطهر به فهو بالفتح، ونظيره السحور اسم لما يؤكل في السحر، والسحور اسم للأكل.
সমুদ্র সম্পর্কে তিনি বলেন: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।" এই হাদিসের একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। প্রেক্ষাপটটি হলো: একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সমুদ্রে ভ্রমণ করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি থাকে—অর্থাৎ যা দিয়ে তারা অজু করতেন—আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করতে পারি? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে বললেন: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।" তিনি কেবল "হ্যাঁ" বলেননি, বরং বলেছেন: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।" যদিও রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামকে যখন এই জাতীয় প্রশ্ন করা হতো, তখন তিনি "হ্যাঁ" বলতেন। যেমন জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমরা কি উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করব? তিনি বলেছিলেন: "হ্যাঁ"। কিন্তু এখানে তিনি "হ্যাঁ" শব্দের পরিবর্তে "এর পানি পবিত্র" কথাটি ব্যবহার করেছেন; যাতে এটি আরও ব্যাপক ও অর্থবহ হয়। ফলে এটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যাবে এবং এটি শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা থেকে পবিত্র হওয়ার (ধোয়ার) প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ, যদি এই পানি কাপড় বা শরীরে লাগে তবে তা ধোয়া আবশ্যক নয়; কারণ এটি নিজেই পবিত্র। এছাড়া এটি দ্বারা ছোট নাপাকি, বড় নাপাকি এবং অপবিত্রতা থেকেও পবিত্রতা অর্জন করা যায়। এটি রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামের চমৎকার উত্তর প্রদানের একটি উদাহরণ।
সুতরাং "এর পানি পবিত্র" কথাটি "হ্যাঁ" শব্দের চেয়ে অধিক ব্যাপক; কারণ তিনি যদি কেবল "হ্যাঁ" বলতেন, তবে তার অর্থ হতো: এটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করো বা অজু করো। কিন্তু তিনি বলেছেন: "এর পানি পবিত্র।"
পাশাপাশি তিনি তাদের জন্য অতিরিক্ত তথ্য যোগ করে বলেছেন: "এর মৃত প্রাণী হালাল।" "আল-হিল" মানে হলো হালাল। আর "এর মৃত" বলতে এমন প্রাণীকে বোঝানো হয়েছে যা সমুদ্র ছাড়া অন্য কোথাও বাঁচতে পারে না। এর অর্থ এই নয় যে, যা কিছু সমুদ্রে পড়ে মারা যায় তা-ই হালাল। একারণেই যদি কোনো ভেড়া সমুদ্রে পড়ে মারা যায়, তবে তা হারাম বা মৃত হিসেবে গণ্য হবে। বরং "এর মৃত" বলতে সমুদ্রের সাথে সম্পৃক্ত প্রাণীকে বোঝানো হয়েছে; অর্থাৎ এমন প্রাণীর মৃতদেহ যা কেবল সমুদ্রেই বাস করে, তা হালাল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের উত্তরটি এমনই ছিল।
"আত-তাহুর" শব্দটি শুরুতে জবর সহকারে এমন বস্তুর নাম যা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয়। যেমন "আস-সাহুর" বলতে সেই খাদ্যবস্তুকে বোঝায় যা দ্বারা সাহরি করা হয়, এবং "আল-ওয়াজুর" বলতে সেই ওষুধকে বোঝায় যা রোগীকে পান করানো হয়, ইত্যাদি। অন্যদিকে, শুরুতে পেশ সহকারে "আত-তুহুর" হলো একটি ক্রিয়ামূল যা পবিত্রতা অর্জনের কাজটিকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ, যখন কোনো ব্যক্তি অজু করার জন্য পানি সংগ্রহ করে, তখন সেই পানিকে বলা হয় "তাহুর" বা "ওয়াদু"। আর অজুর কাজটিকে বলা হয় "তুহুর" বা "উদু"। সুতরাং শব্দের শুরুতে জবর এবং পেশের মধ্যে পার্থক্য হলো: যদি কাজটিকে বোঝানো উদ্দেশ্য হয় তবে তা পেশ যোগে হবে, আর যদি যা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয় তাকে বোঝানো হয় তবে তা জবর যোগে হবে। এর অনুরূপ হলো "আস-সাহুর" যা সাহরিতে গ্রহণকৃত খাবারের নাম, আর "আস-সুহুর" হলো সাহরি খাওয়ার কাজটি।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
في هذا الحديث فوائد:
منها: حرص الصحابة: رضي الله عنهم على تلقي العلم، وذلك بمعرفة سبب الحديث وهو سؤالهم النبي صلى الله عليه وسلم، والصحابة لا شك أنهم أحرص الناس على العلم؛ ولهذا كل ما ورد عليك من الأشياء التي لم يسأل عنها الصحابة وهي مما ينقدح في الذهن، فاعلم أن سؤالك عنها بدعة كما قال العلماء رحمهم الله فيمن سأل عن كيفية صفات الله، فقالوا: إن هذا السؤال بدعة؛ لأن الصحابة لم يسألوا عنه.
ومن فوائد هذا الحديث: أن ماء البحر طهور بدون استثناء إلا ما يقيده في الأحاديث الآتية؛ يعني: إلا إذا ما تغير بنجاسة، وإلا فإنه طهور، حتى لو فرض أنه لو طفا على سطحه شيء من الأذى، أو من الدهن، أو من البنزين، أو ما أشبه ذلك، فإنه طهور؛ لأن هذا لم يغيره.
ومن فوائد هذا الحديث أيضا: حسن تعليم الرسول عليه الصلاة والسلام وإجابته حيث يعمد إلى الأشياء الجامعة العامة، "وقد أعطي صلى الله عليه وسلم جوامع الكلم واختصر له الكلام اختصتارا"، وجه ذلك: أنه قال: "الطهور ماؤه".
ومن فوائد هذا الحديث: جواز زيادة الجواب على السؤال إذا دعت الحاجة إلى ذلك، وجهه: أن الرسول عليه الصلاة والسلام زاد على سؤال السائلين ببيان حكم ميتة البحر، فقال: "الحل ميتته" لماذا؟ لأن هؤلاء إذا كان أشكل عليهم الوضوء في ماء البحر فالظاهر أنه سيشكل عليهم ميتة البحر، إذا وجدوا سمكا طافيا على الماء ميتا فسوف يشكل عليهم من باب أولى؛ فلهذا أعلمهم النبي صلى الله عليه وسلم بحكم ميتة البحر مع أنهم لم يسألوا عنها.
ومن فوائد هذا الحديث: أن جميع الأسماك والحيتان حلال لعموم قوله: "ميتته"، وميتة هنا مفرد مضاف فيعم، فكل ميتة البحر من أسماك وحيتان فإنه حلال، وطاهر أو غير طاهر؟ طاهر، من أين علمنا أنه طاهر، من أنه حلال، لأن لدينا قاعدة مفيدة وهي: "أن كل حلال فهو طاهر وليس كل طاهر حلالا، وكل نجس فهو حرام وليس كل حرام نجسا".
كل حلال طاهر واضح وليس كل طاهر حلالا مثل الأشياء الضارة كالسم والدخان، والحشيشة، وما أشبه ذلك، فهذه طاهرة وهي حرام على خلاف في مسألة الحشيشة والخمر، لكن القول الراجح أنها طاهرة.
ثانيا: كل نجس حرام، الدليل: {قل لا أجد ما أوحى إلي محرما على طاعم يطعمه إلا أن
এই হাদিসে কিছু শিক্ষা ও উপকারিতা রয়েছে:
তন্মধ্যে অন্যতম হলো: ইলম বা জ্ঞান অর্জনে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর গভীর আগ্রহ। এর প্রমাণ হলো হাদিসের প্রেক্ষাপট তথা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁদের প্রশ্ন করা। সাহাবায়ে কেরাম নিঃসন্দেহে জ্ঞান অর্জনে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। আর এই কারণেই এমন কোনো বিষয় যা সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করেননি অথচ তা মনে উদিত হয়, তবে জেনে রাখুন যে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত; যেমনটি উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর গুণাবলির ধরন সম্পর্কে প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রে বলেছেন। তাঁরা বলেছেন: এই প্রশ্নটি বিদআত; কারণ সাহাবায়ে কেরাম এ বিষয়ে প্রশ্ন করেননি।
এই হাদিসের অন্যতম শিক্ষা হলো: সমুদ্রের পানি ব্যতিক্রমহীনভাবে পবিত্র ও পবিত্রকারী, তবে পরবর্তী হাদিসসমূহে যা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে তা ব্যতিরেকে; অর্থাৎ যদি অপবিত্রতা দ্বারা পানির গুণাগুণ পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্রকারী। এমনকি যদি ধরে নেওয়া হয় যে পানির উপরিভাগে কোনো ময়লা, তেল, পেট্রোল বা এই জাতীয় কিছু ভাসমান থাকে, তবুও তা পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য হবে; কারণ এগুলো পানির মূল প্রকৃতি পরিবর্তন করে না।
এই হাদিসের আরও একটি শিক্ষা হলো: রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর উত্তম শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং তাঁর উত্তর প্রদান শৈলী। তিনি এমন শব্দ চয়ন করতেন যা অত্যন্ত ব্যাপক ও অর্থবোধক। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা) দান করা হয়েছিল এবং তাঁর জন্য বক্তব্যকে অত্যন্ত সংক্ষেপ করা হয়েছিল। এর প্রমাণ হলো তাঁর এই উক্তি: "এর পানি পবিত্রকারী"।
এই হাদিসের অন্যতম শিক্ষা হলো: প্রয়োজন দেখা দিলে প্রশ্নের অতিরিক্ত উত্তর প্রদান করা জায়েয। এর দিক হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অতিরিক্ত হিসেবে সমুদ্রের মৃত প্রাণীর হুকুম বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "এর মৃত প্রাণী হালাল"। কেন? কারণ সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করার বিষয়ে যাদের সংশয় ছিল, এটি স্পষ্ট যে সমুদ্রের মৃত প্রাণী সম্পর্কেও তাদের মনে সংশয় তৈরি হবে। যখন তারা পানির উপর কোনো মৃত মাছ ভাসতে দেখবে, তখন স্বভাবতই তাদের মনে এ নিয়ে অধিকতর সংশয় জাগবে। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সমুদ্রের মৃত প্রাণীর বিধান জানিয়ে দিয়েছেন, যদিও তারা সে সম্পর্কে প্রশ্ন করেনি।
এই হাদিসের আরও একটি শিক্ষা হলো: সকল প্রকার মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী হালাল; কারণ "এর মৃত প্রাণী" কথাটি সাধারণ ও ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে। এখানে ‘মৃত’ শব্দটি একবচন এবং সম্বন্ধযুক্ত (মুদাফ), যা ব্যাপকতা বুঝায়। সুতরাং সমুদ্রের সকল মৃত প্রাণী—তা মাছ হোক বা অন্য কোনো সামুদ্রিক প্রাণী—তা হালাল। আর তা কি পবিত্র নাকি অপবিত্র? তা অবশ্যই পবিত্র। আমরা কীভাবে জানলাম যে তা পবিত্র? তা হালাল হওয়ার কারণে। কারণ আমাদের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি রয়েছে: "প্রত্যেক হালাল বস্তু পবিত্র, কিন্তু প্রত্যেক পবিত্র বস্তু হালাল নয়। তদ্রূপ প্রত্যেক অপবিত্র বস্তু হারাম, কিন্তু প্রত্যেক হারাম বস্তু অপবিত্র নয়।"
প্রত্যেক হালাল বস্তু যে পবিত্র তা স্পষ্ট, কিন্তু প্রত্যেক পবিত্র বস্তু হালাল নয়—যেমন বিষ, তামাক, গাঁজা বা এ জাতীয় ক্ষতিকারক বিষয়সমূহ। এগুলো বস্তুগতভাবে পবিত্র (নাজিস নয়), কিন্তু গ্রহণ করা হারাম। অবশ্য গাঁজা এবং মদের পবিত্রতার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে শক্তিশালী মত হলো এগুলো বস্তুগতভাবে পবিত্র।
দ্বিতীয়ত: প্রত্যেক অপবিত্র বস্তু হারাম। এর দলিল হলো: {বলুন, আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে আমি এমন কিছু পাই না যা কোনো আহারকারীর জন্য হারাম করা হয়েছে, তবে যদি তা...} [আয়াতের অবশিষ্টাংশ]।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦١)
يكون ميتة أو دما مسفوحا أو لحم خنزير فإنه رجس} [الأنعام: 145]. فعلل الله تعالى التحريم بالنجاسة، فدل ذلك على أن كل نجس فهو حرام، هذا من جهة الأثر - الدليل الأثري-، الدليل النظري: إذا كان يجب علينا أن نزيل أثر هذا الشيء من ظواهرنا فكيف ندخله إلى بواطننا وليس كل حرام نجسا، صحيح وهو كذلك كالدخان والسم وشبهه فإنه حرام وليس بنجس، إذن نستفيد من هذا الحديث: ان جميع ميتات البحر حلال، وجميع حيتانه وأسماكه حلال حيها وميتها.
فإن قال قائل: ما تقولون فيما كان من جنس السباع من الحيتان أحلال هو أم لا؟
الجواب: الأصل حلال يوجد حيوانات - أسماك وحيتان- في البحر تعدو على الإنسان وتأكله كما يعدو السبع في البر ويأكل الإنسان، فهل هذه حرام؟ الجواب: لا، حتى لو كانت على صورة حية، أو على صورة إنسان، أو على صورة كلب فإنها حلال لعموم الأدلة.
فإن قال قائل: هل في القرآن ما يدل على حل ميتة البحر؟
قلنا: نعم وهو قوله تعالى: {أحل لكم صيد البحر وطعامه متاعا لكم} [المائدة: 96]. قال ابن عباس رضي الله عنه في تفسير قوله: "طعامه": إنه ما أخذ ميتا.
[مسألة]:
لو أن الماء تغير بسمك ميت فهل يكون طهورا؟ نعم يكون طهورا؛ لأنه تغير بشيء طاهر حلال فلا يضر.
ثم قال: أخرجه الأربعة، وابن أبي شيبة، واللفظ له، وصححه ابن خزيمة، والترمذي، ورواه مالك، والشافعي، وأحمد. الأئمة الثلاثة رووا الحديث.
وقوله: "اللفظ له" اعلم أن العلماء رحمهم الله الذين ينقلون من الأصول كصاحب البلوغ وغيره قد يختارون أحد الألفاظ ولو ممن دون غيره رتبة في الصحة؛ لأنه أشمل وأوسع، فيختارون هذا اللفظ وإن كان قد رواه من هو أشد تحريا منه للصحيح؛ لكنه يكون بلفظ مختصر، أو سياق ليس بجيد، أو ما أشبه ذلك، المهم أنهم قد يختارون اللفظ المخرج وإن كان أقل رتبة من الآخر لحسن سياق اللفظ.
وقوله: "صححه" أي: حكم بصحته. واعلم أن الحديث الصحيح عند العلماء هو ما اجتمع فيه خمسة شروط:
الأول: أن يكون الراوي له عدلا
… والثاني: أن يكون تام الضبط.
{তা মৃত জন্তু হোক কিংবা প্রবহমান রক্ত অথবা শুকরের মাংস; কেননা তা অপবিত্র} [আল-আনআম: ১৪৫]। আল্লাহ তাআলা এখানে অপবিত্রতার কারণে হারাম হওয়ার কারণ দর্শিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে প্রতিটি নাপাক বস্তুই হারাম। এটি হলো উদ্ধৃতিগত দলিলের (দলিল আসারী) দিক থেকে। আর তাত্ত্বিক দলিল (দলিল নযরী) হলো: যদি আমাদের বাহ্যিক অঙ্গ থেকে এই জিনিসের চিহ্ন দূর করা ওয়াজিব হয়, তবে কীভাবে তা আমরা আমাদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করাব? তবে প্রতিটি হারাম বস্তু নাপাক নয়—এটি সঠিক কথা; যেমন ধূমপান, বিষ এবং অনুরূপ বস্তু, যা হারাম হলেও নাপাক নয়। সুতরাং, আমরা এই হাদিস থেকে এই শিক্ষা লাভ করি যে: সমুদ্রের সকল মৃত প্রাণী হালাল, এবং এর সকল প্রকার জলজ প্রাণী ও মাছ জীবিত বা মৃত অবস্থায় হালাল।
যদি কেউ প্রশ্ন করেন: সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে যে মাছগুলো হিংস্র প্রকৃতির, সেগুলো কি হালাল হবে কি না?
উত্তর: মূল বিধান হলো হালাল। সমুদ্রে এমন কিছু প্রাণী বা মাছ রয়েছে যা মানুষের ওপর আক্রমণ করে এবং তাকে ভক্ষণ করে, যেমন স্থলের হিংস্র পশু মানুষের ওপর আক্রমণ করে এবং তাকে ভক্ষণ করে; তবে এগুলো কি হারাম? উত্তর: না। এমনকি যদি তা সাপের আকৃতিতে হয়, কিংবা মানুষের আকৃতিতে অথবা কুকুরের আকৃতিতে হয়, তবুও সাধারণ দলিলের ভিত্তিতে তা হালাল।
যদি কেউ প্রশ্ন করেন: পবিত্র কুরআনে কি এমন কিছু আছে যা সমুদ্রের মৃত প্রাণী হালাল হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে?
আমরা বলব: হ্যাঁ, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও তার খাদ্য হালাল করা হয়েছে তোমাদের ভোগের সামগ্রী হিসেবে} [আল-মায়েদাহ: ৯৬]। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াতের "তার খাদ্য" (তয়ামুহু) অংশের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
[মাসয়ালা]:
যদি মৃত মাছের কারণে পানি পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে কি তা পবিত্রকারী (তহুর) থাকবে? হ্যাঁ, তা পবিত্রকারী হিসেবেই গণ্য হবে; কারণ তা একটি পবিত্র ও হালাল বস্তুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, তাই তা কোনো ক্ষতি করবে না।
অতঃপর তিনি বলেন: হাদিসটি চারজন (সুনান গ্রন্থকার) এবং ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই, আর ইবনে খুজাইমা ও তিরমিজি একে সহিহ বলেছেন। ইমাম মালিক, শাফেয়ি এবং আহমদও এটি বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ তিন ইমামই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
আর তাঁর উক্তি: "শব্দবিন্যাস তাঁরই"—জেনে রাখুন যে, উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুল্লাহ) যাঁরা মূল উৎস থেকে হাদিস উদ্ধৃত করেন, যেমন 'বুলুগুল মারাম' এর লেখক ও অন্যান্যগণ, তাঁরা অনেক সময় কোনো একটি শব্দবিন্যাসকে বেছে নেন যদিও তা বিশুদ্ধতার স্তরে অন্যের তুলনায় নিম্নমানের হয়; কারণ তা অধিক তথ্যবহুল ও বিস্তৃত। তাই তাঁরা এই শব্দবিন্যাসটি নির্বাচন করেন যদিও তা এমন কেউ বর্ণনা করেছেন যিনি সহিহ বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক সাবধানী ছিলেন; কিন্তু তাঁর বর্ণিত পাঠটি হয়তো সংক্ষিপ্ত, অথবা বাক্যরীতি ততটা সাবলীল নয় অথবা অনুরূপ কিছু। মূল কথা হলো, তাঁরা অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট পাঠকে গ্রহণ করেন যদিও তা অন্যটির তুলনায় নিম্ন স্তরের হয়, কেবল সেই পাঠের চমৎকার বর্ণনাভঙ্গির কারণে।
আর তাঁর উক্তি: "একে সহিহ বলেছেন"—অর্থাৎ এর বিশুদ্ধতার পক্ষে রায় দিয়েছেন। জেনে রাখুন যে, মুহাদ্দিসগণের নিকট সহিহ হাদিস হলো যাতে পাঁচটি শর্তের সমন্বয় ঘটে:
প্রথম: এর বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ হওয়া
... দ্বিতীয়: বর্ণনাকারী পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন হওয়া।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
والثالث: أن يكون إسناده متصلا.
… والرابع: أن يكون سالما من الشذوذ.
والخامس: أن يكون سالما من العلة القادحة.
خمسة شروط هذا هو الصحيح، فإن اختل بتمام الضبط- بأن كانت الشروط تامة إلا تمام الضبط- فيكون الرواة أو أحدهم عنده خفة في الضبط انتقل من الصحة إلى الحسن وصار حسنا، فإن اختلت العدالة فهو ضعيف، وإن اختل الضبط كله فهو ضعيف، وإن اختل اتصال السند فهو ضعيف، وإن اختلت السلامة من الشذوذ فهو ضعيف، وإن اختلت السلامة من العلة القادحة فهو ضعيف، حتى لو فرض أن الحديث روي في كتاب يعتبر من الكتب الصحيحة، ومن ذلك مثلا ما رواه مسلم في صفة صلاة الكسوف أن الرسول صلى الله عليه وسلم "صلى ثلاث ركعات في كل ركعة". فهذا وإن كان في صحيح مسلم فإنه شاذ لعدول البخاري عنه، واتفاق البخاري ومسلم على أن في كل ركعة ركوعين، وقد أجمع المؤرخون على أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يصل صلاة الكسوف إلا مرة واحدة، وعلى هذا فيحكم على ما سوى الركوعين في كل ركعة بأنه شاذ.
ومن ذلك أيضا ما رواه مسلم في حديث المعراج حيث إنه رواه عن شريك، وقدم فيه وأخر فيعتبر هذا المخالف لما اتفق عليه الإمام البخاري ومسلم شاذا؛ ومن ذلك - على القول الراجح- "أفلح وأبيه إن صدق". فإن قوله: "وأبيه" لم ترد في البخاري إنما وردت في إحدى روايات مسلم وعلى هذا فتكون شاذة.
على كل حال: الشذوذ في الحقيقة وإن كان مخرجا في كتاب صحيح، فإن الوهم وارد على كل إنسان ليس كل أحد معصوما من كل وهم. لابد أيضا أن يسلم من العلة القادحة وهي التي تقدح في أصل الحديث أو في سند الحديث، وأما غير القادحة فإنها لا تضر، ومن غير القادحة: اختلاف الرواة في مقدار ثمن جمل جابر، واختلافهم أيضا في مقدار ثمن القلادة التي في حديث فضالة بن عبيد هل هو اثنا عشر دينارا أو أقل أو أكثر، هذا لا يضر؛ لأن العلة غير قادحة، المهم الصحيح إذا قيل ما هو الصحيح في اصطلاح المحدثين؟ قلنا: ما رواه عدل تام الضبط بسند متصل وسلم من الشذوذ ومن العلة القادحة، فإذا اختل تمام الضبط وباقي الشروط موجودة فهو الحسن، وإن اختلت بقية الشروط فهو الضعيف.
তৃতীয় শর্ত হলো: এর সনদ বা সূত্র নিরবচ্ছিন্ন হওয়া।
… চতুর্থ শর্ত হলো: হাদীসটি 'শায' বা নিয়মবহির্ভূত হওয়া থেকে মুক্ত হওয়া।
পঞ্চম শর্ত হলো: হাদীসটি ক্ষতিকারক ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া।
সহীহ হাদীসের জন্য এই পাঁচটি শর্ত। যদি স্মৃতিশক্তির পূর্ণাঙ্গতার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি দেখা দেয়—অর্থাৎ অন্যান্য সব শর্ত বিদ্যমান থাকলেও বর্ণনাকারীদের একজনের বা সবার স্মৃতিশক্তিতে সামান্য দুর্বলতা থাকে—তবে হাদীসটি 'সহীহ' থেকে 'হাসান' স্তরে নেমে যায় এবং তা হাসান হাদীসে পরিণত হয়। আর যদি বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতায় ত্রুটি থাকে, তবে হাদীসটি যঈফ বা দুর্বল হবে। যদি স্মৃতিশক্তি একেবারেই না থাকে, তবে সেটি যঈফ। যদি সনদের নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষিত না হয়, তবে সেটি যঈফ। যদি শায হওয়া থেকে মুক্ত না থাকে, তবে সেটি যঈফ। আর যদি ক্ষতিকারক ত্রুটি থেকে মুক্ত না থাকে, তবে সেটিও যঈফ বলে গণ্য হবে। এমনকি যদি ধরে নেওয়া হয় যে, হাদীসটি এমন একটি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যা সহীহ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত, তাতেও কোনো পার্থক্য হবে না। উদাহরণস্বরূপ, ইমাম মুসলিম সূর্যগ্রহণের নামাযের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "প্রতি রাকাতে তিনটি করে রুকু করেছিলেন"। এটি সহীহ মুসলিম-এ থাকলেও তা 'শায' বা অসংগতিপূর্ণ। কারণ ইমাম বুখারী এটি এড়িয়ে গিয়েছেন এবং বুখারী ও মুসলিম উভয়েই এই বিষয়ে একমত যে, প্রতি রাকাতে দুটি করে রুকু ছিল। উপরন্তু, ইতিহাসবিদগণ এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে মাত্র একবারই সূর্যগ্রহণের নামায পড়েছেন। সুতরাং, প্রতি রাকাতে দুই রুকুর অতিরিক্ত বর্ণনাটি 'শায' হিসেবে গণ্য হবে।
অনুরূপভাবে, ইমাম মুসলিম মি'রাজ সংক্রান্ত হাদীসে শরীক নামক বর্ণনাকারী থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তাতে কিছু বিষয়ের আগে-পরে বর্ণনা করা হয়েছে। ইমাম বুখারী ও মুসলিম যে বিষয়ে একমত হয়েছেন তার বিপরীতে হওয়ার কারণে এই অসংগতিপূর্ণ বর্ণনাটি 'শায' হিসেবে গণ্য হবে। এমনিভাবে—অধিক গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী—"সে সফল হয়েছে তার পিতার কসম, যদি সে সত্য বলে থাকে" কথাটিও শায। কারণ, "তার পিতার কসম" অংশটি বুখারীতে নেই, বরং তা মুসলিমের একটি বর্ণনায় এসেছে; তাই এটিও শায হিসেবে বিবেচিত হবে।
যা হোক, শায হওয়া বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হাদীসের ক্ষেত্রেও হওয়া সম্ভব। কারণ ভুল-ভ্রান্তি মানুষের সহজাত, কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নন। এছাড়া হাদীসটিকে অবশ্যই ক্ষতিকারক ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে, যা হাদীসের মূল পাঠ বা সনদে ত্রুটি সৃষ্টি করে। তবে যে ত্রুটি ক্ষতিকারক নয়, তা হাদীসের কোনো ক্ষতি করে না। অ-ক্ষতিকারক ত্রুটির উদাহরণ হলো: জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর উটের দাম নিয়ে বর্ণনাকারীদের মতভেদ, কিংবা ফাদালাহ ইবনে উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে হারটির দাম বারো দিনার ছিল নাকি তার চেয়ে কম বা বেশি ছিল—এসব নিয়ে মতপার্থক্য। এগুলো কোনো সমস্যা নয়, কারণ এই ত্রুটিগুলো ক্ষতিকারক নয়। মূল কথা হলো, মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় 'সহীহ' হাদীস কাকে বলে? আমরা বলি: যা একজন ন্যায়পরায়ণ ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী বর্ণনাকারী নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন এবং যা শায ও ক্ষতিকারক ত্রুটি থেকে মুক্ত। যদি স্মৃতিশক্তির পূর্ণতায় ঘাটতি থাকে কিন্তু বাকি শর্তগুলো বিদ্যমান থাকে, তবে তা 'হাসান'। আর যদি বাকি শর্তগুলোর কোনোটি লঙ্ঘিত হয়, তবে তা 'যঈফ'।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
طهارة الماء:2 - وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الماء طهور لا ينجسه شيء". أخرجه الثلاثة وصححه أحمد.
"إن الماء" أي: جنس الماء، ف"أل" هنا للجنس فيشمل كل أنواع المياه، "طهور": أي مطهر؛ لأننا قلنا: الطهور ما يتطهر به. "إن الماء طهور لا ينجسه شيء". كلمة "شيء" نكرة في سياق النفي فتعم، كل شيء يقع في الماء فإنه لا ينجسه، ومن المعلوم أن هذا العموم غير مراد بلا شك، لأنه لو وقع في الماء نجاسة فغيرته؛ فإنه يكون نجسا بالإجماع، وعلى هذا فيكون هذا العموم مخصوصا بما تغير بالنجاسة؛ فإنه يكون نجسا بالإجماع، وعلى هذا فيكون هذا العموم مخصوصا بما تغير بالنجاسة؛ فإنه يكون نجسا بالإجماع، ولهذا قال النبي عليه الصلاة والسلام في السمن تقع فيه الفأرة قال: "ألقوها وما حولها". لأنها هي وما حولها ستكون نجسة؛ لأنها إذا ماتت أنتنت رائحتها وأنتن معها السمن.
في هذا الحديث من الفوائد: أن الماء طهور مطهر من كل نجاسة سواء كانت نجاسة مغلظة كنجاسة الكلب، أو مخففة كنجاسة الصبي الذي لم يأكل الطعام، أو بين ذلك، وسواء كانت الطهارة حدث أو طهارة خبث، فالماء يطهرها.
ومن فوائد هذا الحديث: أن الأصل في الماء الطهارة لقوله: "إن الماء طهور". وعلى هذا فإذا شككنا في ماء هل هو طهور أو نجس؟ فهو طهور.
ومن فوائد هذا الحديث: أن الماء إذا تغير بطاهر فإنه طهور لقوله: "لا ينجسه شيء".
ومن فوائد الحديث: طهارة الماء إذا غمس الإنسان يده فيه بعد قيامه من نوم الليل مع أن الرسول نهى الرجل إذا قام من النوم من الليل أن يغمس يده في الإناء حتى يغسلها ثلاثا، لكن الرسول عليه الصلاة والسلام لم يقل: إن الماء نجس، وإنما نهى عن الغمس فقط، وإذا كان لم يقل: إنه ينجس دخل في عموم هذا الحديث أنه يكون طهورا باقيا على طهوريته.
ومن فوائد هذا الحديث: جواز تخصيص السنة بالإجماع لقوله: "لا ينجسه شيء". قلنا: إن هذا مخصوص بالإجماع؛ لأن الماء إذا تغير بالنجاسة فإنه يكون نجسا على أن هذا التخصيص قد يعارض في كونه ثابتا بالإجماع؛ لأن هناك نصوصا تومئ إلى أن ما تغير بالنجاسة فهو نجس كما سنذكره - إن شاء الله- فيما بعد. اه
পানির পবিত্রতা:২ - আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই পানি পবিত্রকারী, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।" এটি তিনজন (ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদ একে সহীহ বলেছেন।
"নিশ্চয়ই পানি" অর্থাৎ পানির জাতি বা শ্রেণী। এখানে 'আল' (আলিফ-লাম) বর্ণটি জাতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা সব ধরণের পানিকে অন্তর্ভুক্ত করে। "তহুর" অর্থ হলো পবিত্রকারী; কারণ আমরা বলেছি যে, 'তহুর' হলো তা-ই যা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা হয়। "নিশ্চয়ই পানি পবিত্রকারী, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।" এখানে 'কোনো কিছু' শব্দটি নেতিবাচক প্রসঙ্গে অনির্দিষ্ট হিসেবে আসায় এটি ব্যাপক অর্থ প্রদান করে; অর্থাৎ পানিতে যা-ই পড়ুক না কেন তা পানিকে অপবিত্র করে না। তবে এটি সুনিশ্চিত যে, এই ব্যাপকতা এখানে আক্ষরিকভাবে উদ্দেশ্য নয়। কারণ যদি পানিতে কোনো নাপাকি পড়ে এবং তা পানির রঙ, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন করে দেয়, তবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) অনুযায়ী তা নাপাক হয়ে যায়। অতএব, এই সাধারণ হুকুমটি ঐ বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট যা নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে; কারণ তা ইজমা অনুযায়ী নাপাক। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘিয়ে ইঁদুর পড়ার ব্যাপারে বলেছিলেন: "সেটিকে এবং তার চারপাশের অংশকে ফেলে দাও।" কারণ ইঁদুরটি এবং তার চারপাশের অংশ নাপাক হয়ে যাবে; যেহেতু সেটি মারা গেলে দুর্গন্ধ ছড়াবে এবং তার সাথে ঘি-কেও দুর্গন্ধযুক্ত করে ফেলবে।
এই হাদীসের শিক্ষাসমূহ: পানি সব ধরণের নাপাকি থেকে পবিত্র করার মাধ্যম, চাই তা 'নাজাসাতে মুগাল্লাজাহ' (গুরুতর নাপাকি) যেমন কুকুরের নাপাকি হোক, অথবা 'নাজাসাতে মুখাফফাহাহ' (হালকা নাপাকি) যেমন ঐ শিশুর নাপাকি যে এখনো খাবার খাওয়া শুরু করেনি, অথবা এই দুইয়ের মধ্যবর্তী কোনো নাপাকি হোক। আর পবিত্রতা অর্জন কি অদৃশ্য অপবিত্রতা থেকে হোক বা দৃশ্যমান নাপাকি থেকে হোক, পানি তা পবিত্র করে।
এই হাদীসের অন্যতম শিক্ষা হলো: পানির মূল অবস্থা হলো পবিত্রতা, যেহেতু রাসূল (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই পানি পবিত্রকারী।" এর ভিত্তিতে, যদি আমরা কোনো পানি সম্পর্কে সন্দেহ করি যে এটি পবিত্র নাকি নাপাক? তবে তা পবিত্র হিসেবেই গণ্য হবে।
এই হাদীসের আরও একটি শিক্ষা হলো: পানি যদি কোনো পবিত্র জিনিসের সংমিশ্রণে পরিবর্তিত হয়, তবুও তা পবিত্রকারী হিসেবেই গণ্য হবে; যেহেতু বলা হয়েছে: "কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।"
হাদীসটির আরেকটি শিক্ষা: রাতের ঘুম থেকে ওঠার পর পাত্রে হাত ডুবালে পানির পবিত্রতা বজায় থাকে। যদিও রাসূল (সা.) রাতের ঘুম থেকে ওঠার পর হাত তিনবার ধোয়ার আগে পাত্রে ডুবাতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেননি যে পানি নাপাক হয়ে যাবে; বরং তিনি কেবল হাত ডুবানো থেকে নিষেধ করেছেন। যেহেতু তিনি বলেননি যে এটি নাপাক হয়ে যায়, তাই এটি এই হাদীসের ব্যাপক অর্থের অন্তর্ভুক্ত থাকবে যে পানি তার পবিত্রতা হারাবে না।
এই হাদীসের আরেকটি শিক্ষা হলো: ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা সুন্নাহর সাধারণ নিয়মকে নির্দিষ্ট করা জায়েজ। যেমন রাসূল (সা.) বলেছেন: "কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।" আমরা বলেছি যে, এই সাধারণ নিয়মটি ইজমা দ্বারা নির্দিষ্ট; কারণ পানি যদি নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায় তবে তা নাপাক হয়ে যাবে। যদিও এই নির্দিষ্টকরণটি ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিমত থাকতে পারে; কারণ এমন কিছু সরাসরি বর্ণনা রয়েছে যা ইঙ্গিত দেয় যে নাপাকির কারণে পরিবর্তিত পানি নাপাক হয়ে যায়, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে উল্লেখ করব। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
3 - وعن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الماء لا ينجسه شيء". المؤلف هنا يقول: "صلى الله عليه وسلم" وهذا هو المشهور عند العلماء في نقل الأحاديث، ولكن لو قال قائل: لماذا لا نكمل فنقول: على آله؟ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم لما قيل: كيف نصلي عليك؟ قال: "قولوا: اللهم صل على محمد، وعلى آل محمد"، ونأتي بكلمة "على" للفرق بين هذا وبين صلاة الرافضة؛ لأن الرافضة يقولون: صل على محمد وآله، بدون ذكر "على"، فإذا أتيت بها حصلت موافقة الحديث الذي علم الرسول عليه الصلاة والسلام أمته بذلك، وحصلت مخالفة الرافضة في صيغة الصلاة، وإن اقتصرت على ما عليه العلماء فهذا شيء لا ينكر، مشى عليه العلماء وفيه خير إن شاء الله.
"إن الماء لا ينجسه شيء إلا ما غلب على ريحه وطعمه، ولونه". أخرجه ابن ماجه، وضعفه أبو حاتم.
يقول: "إن الماء لا ينجسه شيء" قارن بينه وبين الحديث الأول حيث قال: "إنه طهور لا ينجسه شيء"، وعلى هذا فيكون المعنى: إن الماء لا ينجسه شيء هو معنى: إن الماء طهور لا ينجسه شيء؛ لأنه إذا كان لا ينجسه شيء فهو طهور؛ إذ ليس عندنا إلا طهور ونجس كما يتبين من الأحاديث.
كيف ينتقل الماء من الطهورية إلى النجاسة:قال: "إلا ما غلب على ريحه وطعمه، ولونه". "غلب"، أي: تغير الماء به؛ لأنه إذا تغير الماء به فقد غلب بالريح بأن غلبت رائحة النجاسة وبانت من الماء.
ولكن هل يشترط أن تكون هذه الغلبة ظاهرة لكل أحد، أو يكفي إذا ظهرت ولو لبعض الناس إذا كان غير موسوس؟ الظاهر: الثاني؛ إذا ظهرت ولو لبعض الناس، إذن شرط ألا يكون موسوسا؛ لأن الموسوس يتوهم ما لم يتغير متغيرا، لكن إذا ظهر ولو لبعض الناس ثبت الحكم، كما أن الناس إذا رأى واحد منهم الهلال في رمضان ثبت الحكم كذلك هذا إذا وجدنا اثنين أحدهما شمه ضعيف والآخر شمه قوي، فقال الثاني: إنه تغير بالنجاسة- كفى.
والحديث يقول: "إلا ما غلب على ريحه وطعمه"، وهذا أيضا المذاق يختلف الناس فيه اختلافا عظيما: من الناس من هو دقيق في مذاقه لو يتغير الشيء أدنى تغير لعلم به، ومن الناس من يكون مذاقه ضعيف لا يميز ولا يفرق إلا إذا كان التغير قويا، فالعبرة بماذا؟ . بوسط الناس أو
৩ - আবু উমামাহ আল-বাহিলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না।" লেখক এখানে বলেছেন: "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম"। হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে আলেমদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ। তবে যদি কেউ প্রশ্ন করেন: কেন আমরা একে পূর্ণ করে 'তাঁর পরিবারের ওপর' (ওয়া আলা আলিহি) বলি না? কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আমরা আপনার ওপর কীভাবে দরুদ পাঠ করব? তিনি বলেছিলেন: "তোমরা বলো: হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।" আর আমরা এখানে 'আলা' (ওপর) শব্দটি নিয়ে আসি রাফেজিদের দরুদের সাথে পার্থক্য করার জন্য; কেননা রাফেজিরা 'আলা' শব্দ উল্লেখ না করে বলে: 'মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন'। সুতরাং আপনি যদি 'আলা' শব্দটি পুনরায় যুক্ত করেন, তবে রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর উম্মতকে যা শিখিয়েছেন তার অনুসরণ হবে এবং দরুদের শব্দশৈলীতে রাফেজিদের বিরোধিতা করা হবে। তবে আলেমদের মাঝে যা প্রচলিত তাতেই যদি আপনি সীমাবদ্ধ থাকেন, তবে সেটিও অনস্বীকার্য নয়; আলেমরা এভাবেই চলেছেন এবং ইনশাআল্লাহ এতেও কল্যাণ রয়েছে।
"নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না, কেবল তা ব্যতীত যা এর ঘ্রাণ, স্বাদ ও বর্ণের ওপর প্রবল হয়ে যায় (অর্থাৎ পরিবর্তন করে দেয়)।" ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু হাতিম একে দুর্বল (যয়ীফ) বলেছেন।
তিনি বলছেন: "নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না"। একে প্রথম হাদিসটির সাথে তুলনা করুন যেখানে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই তা পবিত্রকারী, তাকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না।" এর ভিত্তিতে অর্থ দাঁড়ায়: 'পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না' এর অর্থ হলো 'পানি পবিত্রকারী তাকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না'; কারণ যখন কোনো কিছু তাকে অপবিত্র করতে পারে না তখন তা পবিত্রকারী; কেননা হাদিসসমূহ থেকে যেমনটি স্পষ্ট হয় যে, আমাদের নিকট পবিত্রকারী (তহুর) এবং অপবিত্র (নাজিস) ছাড়া আর কিছু নেই।
পানি কীভাবে পবিত্রতা থেকে অপবিত্রতায় স্থানান্তরিত হয়:তিনি বলেছেন: "কেবল তা ব্যতীত যা এর ঘ্রাণ, স্বাদ ও বর্ণের ওপর প্রবল হয়ে যায়।" 'প্রবল হওয়া' মানে হলো তার দ্বারা পানি পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া; কারণ পানির ঘ্রাণ যদি তার দ্বারা পরিবর্তিত হয়, তবে ঘ্রাণটি প্রবল হয়েছে বলে গণ্য হবে—অর্থাৎ অপবিত্রতার ঘ্রাণ প্রবল হয়ে পানির ওপর প্রকাশ পেয়েছে।
কিন্তু এই প্রবলতা কি প্রত্যেকের কাছেই প্রকাশমান হওয়া শর্ত, নাকি তা অন্তত কিছু লোকের কাছে প্রকাশ পেলেই যথেষ্ট হবে—যদি সেই ব্যক্তি ওয়াসওয়াসাগ্রস্ত (সন্দেহপ্রবণ) না হন? প্রকাশ্য মত হলো: দ্বিতীয়টি; অর্থাৎ অন্তত কিছু মানুষের কাছে যদি তা প্রকাশ পায়। তবে শর্ত হলো তাকে ওয়াসওয়াসাগ্রস্ত হওয়া চলবে না; কারণ ওয়াসওয়াসাগ্রস্ত ব্যক্তি যা পরিবর্তিত হয়নি তাকেও পরিবর্তিত বলে কল্পনা করে। কিন্তু যদি অন্তত কিছু মানুষের কাছে তা প্রকাশ পায় তবে হুকুম সাব্যস্ত হবে। যেমন রমজানের চাঁদ যদি কোনো একজন দেখে তবে হুকুম সাব্যস্ত হয়, তেমনিভাবে যদি আমরা এমন দুজনকে পাই যাদের একজনের ঘ্রাণশক্তি দুর্বল এবং অন্যজনের ঘ্রাণশক্তি প্রবল, আর দ্বিতীয়জন যদি বলে যে এটি অপবিত্রতায় পরিবর্তিত হয়েছে—তবে তা-ই যথেষ্ট।
হাদিসে বলা হয়েছে: "কেবল তা ব্যতীত যা এর ঘ্রাণ ও স্বাদের ওপর প্রবল হয়"। এই স্বাদের বিষয়েও মানুষের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে: কোনো কোনো মানুষ স্বাদের ব্যাপারে অত্যন্ত সূক্ষ্ম রুচির অধিকারী, সামান্যতম পরিবর্তন হলেও তারা তা বুঝে ফেলে। আবার কোনো কোনো মানুষের স্বাদ আস্বাদন ক্ষমতা দুর্বল, তারা বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়া পার্থক্য করতে পারে না। এমতাবস্থায় মাপকাঠি কী হবে? সাধারণ মধ্যম মানের মানুষের বিচার অথবা...
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
كتاب الطهارة
بأقوى الناس ذوقا إذا لم يكن موسوسا، ولونه واضح: أيضا إدراك اللون يختلف الناس فيه، أليس كذلك من الناس من نراه قويا، ومن الناس من نراه غير قوي، فإذا أثبت أحدهم أنه تغير بشرط ألا يكون ذا وسواس؛ فإنه يحكم به.
هذا الحديث إذا نظرنا إليه وجدنا أنه لابد أن يتغير الماء بالأوصاف الثلاثة وهي: الريح، والطعم، واللون فهل هذا المراد؟ استمع إلى المؤلف ماذا يقول:
-وللبيهقي: "الماء طهور إلا أن تغير ريحه، أو طعمه، أو لونه بنجاسة تحدث فيه".
فبين في هذه الرواية أنه إذا تغير أحد الأوصاف ثبت الحكم، دليل ذلك قوله: "أو"، و "أو" هنا للتنويع بخلافها في رواية ابن ماجة؛ فإنه ذكره بالواو الدالة على الجمع، وعلى هذا فنقيد رواية ابن ماجه برواية البيهقي، ونقول إذا تغير الريح أو الطعم أو اللون بالنجاسة حكم بنجاسته.
في هذا الحديث فوائد، منها: أن الأصل في الماء الطهارة، وأنه لا يحكم بنجاسته إلا بالتغير.
ومنها: تقييد حديث أبي سعيد السابق؛ لأن حديث أبي سعيد مطلق، وهذا مقيد بماذا؟ بما إذا تغير طعمه أو لونه أو ريحه.
ومنها: أن الأدلة من الكتاب والسنة يحمل بعضها على بعض؛ لأنها خرجت من مشكاة واحدة، ولا يمكن أن نجعلها متفرقة متوزعة، فنكون ممن جعل القرآن عضين، بل نقول: إن القرآن يقيد بعضه بعضا ويخصص بعضه بعضا، وكذلك السنة، وهذا أمر متفق عليه، لكن قد يختلف العلماء في بعض الأشياء لسبب من الأسباب، وإلا فإن العلماء مجمعون على أن الشريعة واحدة، وما أطلق منها في موضع وقيد في موضع وجب اعتباره مقيدا.
ومن فوائد هذا الحديث: أن الماء إذا تغير طعمه أو لونه أو ريحه تغيرا ظاهرا بينا، انتقل من الطهورية إلى النجاسة.
ومن فوائده: أن الماء ينقسم إلى قسمين فقط: طهور، ونجس، وليس ثمت قسم ثالث يسمى طاهرا خلافا لما عليه كثير من الفقهاء من أن الماء إما طهور أو طاهر أو نجس، فإن كان طاهرا بنفسه مطهرا لغيره فهو طهور، وإن كان نجسا بنفسه منجسا لغيره فهو نجس، وإن كان طاهرا بنفسه ولكنه لا يطهر فإنه يكون طاهرا غير مطهر، ولكن هذا التقسيم أمر مهم لو كان من شريعة الله لكان مبينا في كتاب الله أو سنة رسوله صلى الله عليه وسلم: لأن هذا يترتب عليه أمور عظيمة، ماذا يترتب
পবিত্রতা অধ্যায়
রুচিবোধে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির মাধ্যমে (বিবেচিত হবে), যদি সে শুচিবায়ুগ্রস্ত না হয়। রঙের বিষয়টিও স্পষ্ট: রঙের উপলব্ধির ক্ষেত্রেও মানুষের মধ্যে ভিন্নতা থাকে, তাই নয় কি? আমাদের মধ্যে এমন মানুষ আছে যাদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর, আবার এমনও আছে যাদের প্রখর নয়। সুতরাং তাদের কেউ যদি পানির রঙের পরিবর্তন নিশ্চিত করে—এই শর্তে যে সে শুচিবায়ুগ্রস্ত নয়—তবে সে অনুযায়ীই ফয়সালা করা হবে।
আমরা যদি এই হাদিসটির দিকে লক্ষ্য করি তবে দেখব যে, পানিকে অবশ্যই তিনটি গুণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে হবে, আর তা হলো: ঘ্রাণ, স্বাদ এবং বর্ণ। কিন্তু এটাই কি মূল উদ্দেশ্য? লেখক কী বলছেন তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন:
বায়হাকিতে বর্ণিত হয়েছে: "পানি পবিত্র, যতক্ষণ না তাতে কোনো নাপাকি প্রবেশের ফলে তার ঘ্রাণ, স্বাদ অথবা বর্ণ পরিবর্তিত হয়।"
এই বর্ণনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি কোনো একটি গুণ পরিবর্তিত হয় তবেই হুকুম সাব্যস্ত হবে। এর প্রমাণ হলো তাঁর উক্তি: "অথবা", আর এখানে "অথবা" শব্দটি বিভিন্ন প্রকার বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ইবনে মাজাহ-র বর্ণনার বিপরীত; সেখানে "এবং" ব্যবহারের মাধ্যমে সমষ্টি বুঝানো হয়েছে। এর ভিত্তিতে আমরা ইবনে মাজাহ-র বর্ণনাকে বায়হাকির বর্ণনার আলোকে নির্দিষ্ট করব এবং আমরা বলব: যদি নাপাকির কারণে ঘ্রাণ অথবা স্বাদ অথবা বর্ণ পরিবর্তিত হয়, তবেই তা নাপাক বলে গণ্য হবে।
এই হাদিসে কিছু শিক্ষা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: পানির মূল অবস্থা হলো পবিত্রতা, আর পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত একে নাপাক বলা যাবে না।
আরেকটি শিক্ষা হলো: পূর্বে উল্লেখিত আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসকে এটি সীমাবদ্ধ করে দেয়; কারণ আবু সাঈদের হাদিসটি ছিল সাধারণ, আর এটি কিসের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ? স্বাদ, বর্ণ অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তনের মাধ্যমে।
আরেকটি শিক্ষা হলো: কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ একে অপরের পরিপূরক; কারণ এগুলো একই উৎস থেকে উৎসারিত। আমরা এগুলোকে বিচ্ছিন্ন বা বিক্ষিপ্ত করতে পারি না, কারণ তেমনটি করলে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হব যারা কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে। বরং আমরা বলব: কুরআনের এক অংশ অন্য অংশকে সীমাবদ্ধ করে এবং এক অংশ অন্য অংশকে নির্দিষ্ট করে, সুন্নাহর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। এটি একটি সর্বসম্মত বিষয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ কারণে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য হতে পারে; অন্যথায় আলেমগণ এই বিষয়ে একমত যে শরীয়ত অভিন্ন। যা এক স্থানে সাধারণ বা শর্তহীনভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং অন্য স্থানে সীমাবদ্ধ বা শর্তযুক্তভাবে বর্ণিত হয়েছে, তাকে শর্তযুক্ত হিসেবেই গণ্য করা আবশ্যক।
এই হাদিসের অন্যতম শিক্ষা হলো: পানির স্বাদ, বর্ণ অথবা ঘ্রাণ যদি স্পষ্টভাবে পরিবর্তিত হয়, তবে তা পবিত্র অবস্থা থেকে নাপাকিতে রূপান্তরিত হয়।
এর আরেকটি শিক্ষা হলো: পানি কেবল দুই ভাগে বিভক্ত: পবিত্র ও নাপাক। এখানে 'তাহার' (যা নিজে পবিত্র কিন্তু অন্যকে পবিত্র করতে পারে না) নামক তৃতীয় কোনো প্রকার নেই, যদিও অনেক ফকিহ মনে করেন যে পানি হয় 'তহুর' (পবিত্র ও পবিত্রকারী), নয়তো 'তাহার' (পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়), অথবা 'নাজিস' (নাপাক)। যদি পানি স্বয়ং পবিত্র হয় এবং অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম হয় তবে তা 'তহুর'; যদি স্বয়ং নাপাক হয় এবং অন্যকে নাপাক করে তবে তা 'নাজিস'; আর যদি পানি স্বয়ং পবিত্র হয় কিন্তু অন্যকে পবিত্র করতে না পারে তবে তা পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়। তবে এই বিভাজন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; যদি এটি আল্লাহর শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত হতো তবে তা অবশ্যই আল্লাহর কিতাব অথবা তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহতে বর্ণিত হতো। কারণ এর ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভর করে, আর এর ওপর কী কী নির্ভর করে—
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
عليه؟ يترتب عليه الصلاة التي هي من أعظم الأشياء، ولو كان هذا من شريعة الله ليبينه الله ورسوله بيانا شافيا كافيا، فلما لم يقع ذلك بل قال: "إن الماء لا ينجسه شيء"، "إن الماء طهور لا ينجسه شيء"، علمنا بأن ليس هناك قسم يسمى الطاهر، وهذا الذي دلت عليه الأحاديث هو ما اختاره شيخ الإسلام ابن تيمية رحم الله وقال: إن الماء إما طهور وإما نجس وليس ثمت قسم ثالث.
عرفنا أن الماء ينقسم إلى قسمين لا ثالث لهما وعرفتم وجه الدلالة.
ثانيا: أن الماء لا ينجس إلا بالتغير لقوله: "لا ينجسه شيء إلا ما غلب على ريحه وطعمه ولونه". ورواية البيهقي بالتنويع: ريحه، أو طعمه، أو لونه، فإذا وقعت فيه نجاسة ولم تغيره فبناء على هذه القاعدة المبنية على الحديث يكون طهورا، قل أو كثر.
القاعدة الثالثة: أنه إذا تغير أحد أوصافه: الطعم أو اللون أو الريح بالنجاسة صار نجسا لقوله: "إلا أن تغير ريحه، أو طعمه، أو لونه".
القاعدة الرابعة: أن النجاسة التي تؤثر في الماء هي التي تحدث فيه، وعلى هذا فلة تغير ريح الماء بميتة حوله فإن الماء يكون طهورا؛ لأن في حديث البيهقي: "بنجاسة تحدث فيه"، وما كان خارج الماء فإنها ليست حادثة فيه، وقد حكى بعضهم إجماع العلماء على ذلك؛ أي: على أن الماء إذا تغير بالمجاورة من غير أن تحدث النجاسة فيه؛ فإنه يكون طهورا.
القاعدة الخامسة: أن الأصل في الماء الطهارة لقوله: "تحدث فيه" والحادث ليس قديما بل هو متأخر، وعلى هذا فإذا وجدت ماء وشككت هل هو طهور أو نجس؟ فهو طهور؛ لأنه لا يمكن أن ينتقل من الطهورية إلا بنجاسة تحدث فيه، والحدث يكون متأخرا عن القديم.
فإن قال قائل: بماذا نطهر الماء؛ يعني: إذا عرفنا أنه صار نجسا فبماذا يطهر؟
قلنا: يطهر بأي مزيل للنجاسة؛ أي مزيل للنجاسة فإنه يطهر به، لماذا؟ لأن الحكم يدور مع علته وجودا وعدما، فما دام الشارع قد علق نجاسة الماء بتغير الطعم أو اللون أو الريح، فإنه متى زال ذلك صار طهورا بأي سبب، فمثلا لو أنا أضفنا إلى هذا الماء موادا كيماوية حتى زالت النجاسة لا طعم ولا لون ولا ريح؛ فإنه يكون طهورا يجوز الوضوء به، ويجوز سقي النخل والزرع، ويجوز شربه إذا لم يكن على الإنسان ضرر في ذلك؛ لأن الحكم يدور مع علته، كذلك أيضا لو كان مع الريح والشمس زالت النجاسة بنفسها بدون أي عمل يكون أيضا
এর ওপর কী নির্ভর করে? এর ওপর নির্ভর করে সালাত, যা মহানতম ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যদি এটি আল্লাহর শরিয়তের অংশ হতো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা স্পষ্টভাবে এবং পর্যাপ্তরূপে বর্ণনা করতেন। যেহেতু তা ঘটেনি, বরং তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছু অপবিত্র করে না," "নিশ্চয়ই পানি পবিত্র এবং কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করে না," এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, 'তাহার' (পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়) নামক তৃতীয় কোনো প্রকার নেই। হাদিসসমূহ যে বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) সেটিই গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: পানি হয় পবিত্র ও পবিত্রকারী (তাহুর) হবে অথবা অপবিত্র (নাজিস) হবে, এর বাইরে তৃতীয় কোনো প্রকার নেই।
আমরা জানতে পারলাম যে পানি দুই ভাগে বিভক্ত এবং এর তৃতীয় কোনো ভাগ নেই, আর আপনারা এর দালিলিক ভিত্তিও বুঝতে পেরেছেন।
দ্বিতীয়ত: গুণাগুণের পরিবর্তন ব্যতীত পানি অপবিত্র হয় না। এর সপক্ষে দলীল হলো তাঁর বাণী: "কোনো কিছুই পানিকে অপবিত্র করে না, তবে যা তার ঘ্রাণ, স্বাদ এবং রঙের ওপর প্রবল হয়ে যায়।" বায়হাকীর বর্ণনায় ঘ্রাণ, অথবা স্বাদ, অথবা রঙের ভিন্ন ভিন্ন উল্লেখ এসেছে। সুতরাং যদি পানিতে কোনো অপবিত্রতা পতিত হয় কিন্তু তার পরিবর্তন না ঘটায়, তবে হাদিস ভিত্তিক এই মূলনীতির আলোকে সেটি পবিত্র (তাহুর) বলে গণ্য হবে, পানির পরিমাণ কম হোক বা বেশি।
তৃতীয় মূলনীতি: অপবিত্রতার কারণে যদি পানির গুণাবলির কোনো একটি অর্থাৎ স্বাদ, রঙ অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়, তবে তা অপবিত্র হয়ে যাবে। এর সপক্ষে দলীল হলো তাঁর বাণী: "তবে যদি তার ঘ্রাণ, স্বাদ অথবা রঙ পরিবর্তিত হয়ে যায়।"
চতুর্থ মূলনীতি: পানিতে প্রভাব বিস্তারকারী অপবিত্রতা সেটিই যা পানির ভেতরেই ঘটে বা উৎপন্ন হয়। এই ভিত্তিতে, যদি পানির আশেপাশে পড়ে থাকা কোনো মৃতদেহের দুর্গন্ধে পানির ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়, তবে পানি পবিত্রই থাকবে। কারণ বায়হাকীর হাদিসে এসেছে: "তাতে (পানির ভেতরে) উৎপন্ন নাপাকির মাধ্যমে।" আর যা পানির বাইরে থাকে তা পানির ভেতরে উৎপন্ন বা পতিত বিষয় নয়। কেউ কেউ এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের ঐক্যমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন; অর্থাৎ পানির ভেতরে সরাসরি নাপাকি না পড়ে কেবল পার্শ্ববর্তী প্রভাবে যদি পানির পরিবর্তন ঘটে, তবে তা পবিত্রই থাকে।
পঞ্চম মূলনীতি: পানির মূল অবস্থা হলো পবিত্রতা। কেননা হাদিসে "তাতে উৎপন্ন হওয়া" শব্দটি এসেছে, আর আগন্তুক বা নতুন কোনো বিষয় স্থায়ী নয় বরং তা পরবর্তী ঘটনা। এ ভিত্তিতে, আপনি যদি পানি পান এবং সন্দেহ করেন যে তা পবিত্র নাকি অপবিত্র, তবে সেটি পবিত্রই গণ্য হবে। কারণ পানির ভেতরে সৃষ্ট নাপাকি ছাড়া তার পবিত্রতার অবস্থা পরিবর্তিত হওয়া সম্ভব নয়, আর যেকোনো পরিবর্তন বা নতুন ঘটনা পূর্বাবস্থার পরবর্তী বিষয়।
এখন যদি কেউ প্রশ্ন করে: আমরা পানিকে কীভাবে পবিত্র করব? অর্থাৎ আমরা যদি জানতে পারি যে পানি অপবিত্র হয়ে গেছে, তবে তা কিসের মাধ্যমে পবিত্র হবে?
আমরা বলব: অপবিত্রতা দূরকারী যেকোনো কিছুর মাধ্যমেই তা পবিত্র হবে। যেকোনো কিছুর মাধ্যমেই নাপাকি অপসারিত হোক না কেন, তার দ্বারা পানি পবিত্র হয়ে যাবে। কেন? কারণ বিধান (হুকুম) তার কারণের (ইল্লত) উপস্থিত ও অনুপস্থিতির ওপর আবর্তিত হয়। যেহেতু শরিয়ত প্রণেতা পানির অপবিত্রতাকে স্বাদ, রঙ অথবা ঘ্রাণের পরিবর্তনের সাথে যুক্ত করেছেন, তাই যেকোনো কারণে যখন সেই পরিবর্তন দূর হয়ে যাবে, তখন তা পুনরায় পবিত্র হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি এই পানিতে এমন কোনো রাসায়নিক দ্রব্য যোগ করি যার ফলে অপবিত্রতা দূর হয়ে যায় এবং তার স্বাদ, রঙ বা ঘ্রাণ আর অবশিষ্ট না থাকে, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে। তখন তা দিয়ে ওজু করা, খেজুর গাছ ও ফসলে পানি দেওয়া এবং পান করাও বৈধ হবে যদি তাতে মানুষের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে। কারণ বিধান তার কারণের সাথে আবর্তিত হয়। একইভাবে যদি বাতাস ও সূর্যের প্রভাবে অপবিত্রতা কোনো প্রচেষ্টা ছাড়াই নিজ থেকেই দূর হয়ে যায়, তবে সেটিও একইভাবে পবিত্র হবে।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
طهورا؛ لأن الحكم يدور مع علته، كذلك أيضا لو كانت النجاسة في جانب نرى أثرها في هذا الجانب اللون أو الطعم أو الريح لكن بقية الجوانب لم تتغير ثم أخذناها وما حولها مما تغير؛ بقي الباقي طهورا.
وهذا يكون إذا كان الماء فاترا بعض الشيء لا طبيعيا؛ لأن النجاسة لم تمتد إليه في هذه الحال، ويدل لهذا أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل عن الفأرة تموت في السمن فقال: "ألقوها وما حولها، وكلوا سمنكم"، والحديث الذي فيه التفصيل: "إن كان مائعا فلا تقربوه، وإن كان جامدا فألقوها وما حولها" حديث لا يصح، فالذي في الصحيحين أنه قال: "ألقوها وما حولها وكلوا سمنكم"، ثم إن الغالب في السمن في الحجاز أنه لا يكون جامدا؛ لأن الحجاز منطقة حارة.
على كل حال: القاعدة في تطهير ما تنجس ما هي؟ أنه متى زالت النجاسة بأي مزيل أو زالت بنفسها فإنه يكون طهورا يطهر من الأحداث والأنجاس، أما مسألة الشرب إذا كانت طهورته بالمعالجة بالكيماويات فهذا يرجع إلى نظر الأطباء إذا قالوا: إنه لا يضر فليشرب لأنه زالت نجاسته.
4 - "وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنه".
أنا كنت بالأول أعلق تعليقا مفيدا جدا على الرواة والصحابة؛ مثلا عبد الله بم عمر أقول: توفي بمكة ودفن بذي طوى سنة (73) عن (87) سنة هذا شيء مختصر لو أنكم فعلتم هذا يكون جيدا، أنا فعلتها أيام الطلب؛ يعني: يبين الطالب ولو أدنى شيء الوفاة والولادة والعمر.
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا كان الماء قلتين لم يحمل الخبث". وفي لفظ: "لم ينجس" أخرجه الأربعة، وصححه ابن خزيمة، والحاكم، وابن حبان.
يقول: "إذا كان الماء قلتين"، القلتان: تثنية قلة، فما هي القلة؟ القلة تحمل على ما ذكره الرسول عليه الصلاة والسلام في حديث المعراج؛ حيث قال: "إن ورقها كآذان الفيلة".
وأظنه قال: "كقلال هجر". وهي تشبه ما يسمى عندنا بالجابية يوضع فيها الماء، وكانوا بالأول يبردون الماء في هذه الجابية؛ أي: يضعونه وهي شيء يشبه البرميل المصنوع من الطوب يبرد الماء، إذن القلتان تثنية: "قلة"، والمراد بها: قلال هجر، وذكر العلماء أن القلة تسع قربتين وشيئا، "الشيء" قالوا: يحمل على النصف؛ لأنهم لم يبنوا فيحمل على المناصفة كما لو قلت لاثنين: هذا
পবিত্র হবে; কারণ হুকুম বা বিধান তার কারণের (ইল্লত) ওপর আবর্তিত হয়। একইভাবে যদি নাপাকি একদিকে থাকে এবং আমরা সেই দিকেই তার রঙ, স্বাদ বা গন্ধের প্রভাব দেখতে পাই, কিন্তু বাকি অংশগুলো পরিবর্তিত না হয়, অতঃপর আমরা সেই নাপাকি এবং তার চারপাশের পরিবর্তিত অংশটুকু সরিয়ে ফেলি; তবে অবশিষ্ট অংশ পবিত্র হিসেবেই গণ্য হবে।
এটি তখন হয় যখন পানি কিছুটা স্থির থাকে, স্বাভাবিক প্রবাহমান না হয়; কারণ এই অবস্থায় নাপাকি সেখানে ছড়িয়ে পড়ে না। এর প্রমাণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘি-এর মধ্যে ইঁদুর মারা যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "তোমরা সেটি (ইঁদুরটি) এবং তার চারপাশের অংশ ফেলে দাও এবং তোমাদের ঘি খাও।" আর যে হাদিসে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে যে: "যদি তা তরল হয় তবে তার নিকটে যেও না, আর যদি জমাটবদ্ধ হয় তবে সেটি ও তার চারপাশ ফেলে দাও"—এই হাদিসটি সহিহ নয়। বুখারি ও মুসলিম শরিফে যা এসেছে তা হলো, তিনি বলেছেন: "সেটি এবং তার চারপাশ ফেলে দাও এবং তোমাদের ঘি খাও।" তাছাড়া হিজাজ অঞ্চলে ঘি সাধারণত জমাটবদ্ধ থাকে না; কারণ হিজাজ একটি উত্তপ্ত অঞ্চল।
যাই হোক, অপবিত্র বস্তু পবিত্র করার মূলনীতি কী? তা হলো: যখনই কোনো অপবিত্রতা কোনো দূরীকরণ মাধ্যম দ্বারা অপসারিত হয় অথবা নিজে থেকেই দূর হয়ে যায়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায় এবং তা অপবিত্রতা ও নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের যোগ্য হয়। আর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পবিত্র করার পর সেই পানি পানের বিষয়টি চিকিৎসকদের মতামতের ওপর নির্ভর করে; যদি তারা বলেন যে এটি ক্ষতিকারক নয়, তবে তা পান করা যাবে, কারণ এর অপবিত্রতা দূর হয়ে গেছে।
৪ - "আর আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।"
আমি পূর্বে রাবী ও সাহাবীদের সম্পর্কে অত্যন্ত দরকারী টীকা প্রদান করতাম; যেমন আবদুল্লাহ ইবনে উমর সম্পর্কে বলতাম: তিনি ৭৩ হিজরিতে ৮৭ বছর বয়সে মক্কায় ইন্তেকাল করেন এবং যি-তুওয়া নামক স্থানে সমাহিত হন। এটি একটি সংক্ষিপ্ত তথ্য, তোমরা যদি এমনটি করো তবে তা ভালো হবে। আমি আমার ছাত্রজীবনে এটি করতাম; অর্থাৎ ছাত্রের উচিত জন্ম, মৃত্যু এবং বয়স সম্পর্কে ন্যূনতম কিছু তথ্য হলেও উল্লেখ করা।
তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন পানির পরিমাণ দুই কুল্লা (একটি বিশেষ পরিমাপ) হয়, তখন তা নাপাকি বহন করে না (অর্থাৎ অপবিত্র হয় না)।" অন্য শব্দে এসেছে: "তা অপবিত্র হয় না।" এটি চারজন ইমাম (সুনান গ্রন্থকারগণ) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুজাইমাহ, হাকেম ও ইবনে হিব্বান একে সহিহ বলেছেন।
তিনি বলছেন: "যখন পানি দুই কুল্লা হবে।" 'কুল্লাতানি' শব্দটি 'কুল্লা' এর দ্বিবচন। তাহলে কুল্লা কী? কুল্লা বলতে সেই জিনিসকে বোঝানো হয় যা রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম মিরাজের হাদিসে উল্লেখ করেছেন; যেখানে তিনি বলেছিলেন: "তার পাতাগুলো হাতির কানের মতো।"
আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন: "হাজর অঞ্চলের মটকার (কুল্লা) মতো।" এটি আমাদের দেশে 'জাবিয়া' (পানির হাউজ বা বড় পাত্র) নামে পরিচিত জিনিসের সদৃশ যাতে পানি রাখা হয়। আগেকার দিনে তারা এই জাবিয়ায় পানি ঠান্ডা করত; অর্থাৎ তারা এতে পানি রাখত এবং এটি ইট দিয়ে তৈরি ড্রামের মতো একটি বস্তু যা পানিকে ঠান্ডা রাখত। সুতরাং 'কুল্লাতানি' হলো 'কুল্লা'র দ্বিবচন; আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাজর অঞ্চলের মটকা। উলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন যে, এক কুল্লায় দুই মশক এবং আরও কিছু পরিমাণ পানি ধরে। এই "কিছু পরিমাণ" বলতে তারা অর্ধেক বুঝিয়েছেন; কারণ তারা যেহেতু নির্দিষ্ট করেননি, তাই একে অর্ধেকের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যেমন আপনি যদি দুই ব্যক্তিকে বলেন: এটি...
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
الطعام بينكما؛ يكون بينهما مناصفة، فإذا لم يتبين القسط فإنه يجعل على المناصفة، إذا كانت تسع قربتين وشيئا وجعلنا الشيء بمعنى النصف"، كم تكون القلتان؟ خمس قرب متوسطة. "لم يحمل الخبث". وفي لفظ: "لم ينجس". "لم يحمل الخبث" يعني: لم يتبين فيه أثره، هذا المراد بقوله: "لم يحمل الخبث"، ويفسره اللفظ الثاني: "لم بنجس" يعني: إذا بلغ هذا المقدار فإنه وإن سقطت نجاسته لم ينجس؛ لأنه بلغ حدا كبيرا لا تؤثر به النجاسة.
وهذا الحديث اختلف العلماء في متنه وفي سنده، وقد ذكر ابن القيم رحمه الله في تهذيب السنن كلاما طويلا حول هذا الحديث، وفيه فوائد عظيمة حديثية لا تجدها في غيره، فمن أراد أن يراجعه ففيه فائدة كبيرة، وذكر تضعيف هذا الحديث من ستة عشر وجها، وكما تعرفون ابن القيم رحمه الله إذا تكلم في مسألة نفسه طويل، فهذا الحديث ضعيف وإن صححه من صححه من الأئمة لكن الكلام على الواقع.
فلننظر الآن: "إذا كان الماء قلتين لم يحمل الخبث" يعني: لم ينجس فهل هذا على عمومه؟ لا شك أنه ليس على عمومه بالإجماع، لأننا لو أخذنا بعمومه لكان ظاهره أنه لا ينجس سواء تغير أم لم يتغير وهذا خلاف الإجماع، فإن العلماء مجمعون على أن الماء إذا تغير بالنجاسة فهو نجس، وعلى هذا فلا يصح الأخذ بعمومه، ف "لم ينجس" لنا مفهومه وهو أنه إذا لم يبلغ قلتين صار نجسا، وظاهره - ظاهر المفهوم- أنه سواء تغير أم لم يتغير، وحينئذ يكون مخالفا لحديث أبي أمامة السابق الدال على أنه لا ينجس الماء إلا بالتغير، ودلالة حديث أبي أمامة على أن الماء لا ينجس إلا بالتغير دلالة منطوق، ودلالة حديث ابن عمر هذا دلالة مفهوم، والعلماء يقولون: إذا تعارضت الدلالتان المنطوقية والمفهومية؛ فإنه يقدم على أن المفهوم يكتفى بالعمل به في صورة واحدة إذا صدق المفهوم في صورة واحدة كفى، فمثلا نقول: مفهومه إذا لم يبلغ قلتين لم يحمل الخبث؛ أي: إذا بلغ قلتين صار نجسا. فنقول: هذا يعم ما تغير وما لم يتغير، ويكفي أن نقول: إنه محمول على المتغير، وحينئذ نكون قد عملنا بالمفهوم، والمفهوم كما قال أهل الأصول يكفي في العمل به صورة واحدة.
على كل حال: ما دام الحديث ضعيفا وعندنا حديث سابق أثري ويؤيده الدليل النظري؛ فإنه لا يعمل به، ويقال: إنه إذا بلغ قلتين وحدثت فيه نجاسية، فإن غيرته فهو نجس مطلقا، وإن لم تغيره فهو طهور إذا لم يبغ قلتين، فالحكم كذلك إذا حدثت فيه نجاسة إن غيرته فهو نجس، وإن لم تغيره فهو طهور، ولكن لا شك أنه كلما قل الماء وكبرت النجاسة كان تغير الماء بها أقرب، وحينئذ لابد أن تسلك سبيل الاحتياط؛ لأننا لا شك أنه لو نزل نقطة صغيرة
তোমাদের মধ্যবর্তী খাবার; এটি উভয়ের মাঝে সমানভাবে বণ্টিত হবে। যদি পরিমাণ স্পষ্ট না হয় তবে তা আধাআধি করা হবে। যদি তা দুই মশক এবং সামান্য পরিমাণ হয় এবং আমরা সেই সামান্যকে অর্ধেক ধরি, তবে দুই কুল্লা কতটুকু হবে? মাঝারি আকারের পাঁচটি মশক। "সেটি নাপাকি বহন করে না।" অন্য শব্দে এসেছে: "তা অপবিত্র হয় না।" "নাপাকি বহন করে না" মানে হলো: তাতে অপবিত্রতার প্রভাব প্রকাশ পায় না। এটাই "নাপাকি বহন করে না" কথাটির উদ্দেশ্য। দ্বিতীয় শব্দটি এর ব্যাখ্যা করে: "তা অপবিত্র হয় না" অর্থাৎ যখন পানি এই পরিমাণে পৌঁছে যায়, তখন এতে নাপাকি পড়লেও তা অপবিত্র হয় না; কারণ এটি এমন এক বিশাল পরিমাণে পৌঁছেছে যে নাপাকি তাতে প্রভাব ফেলে না।
এই হাদিসটির মতন ও সনদের ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাহযীবুস সুনান গ্রন্থে এই হাদিস সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তাতে হাদিস শাস্ত্রের এমন মহান কিছু উপকারিতা রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। কেউ যদি তা দেখতে চায় তবে তাতে বড় ধরনের ফায়দা রয়েছে। তিনি ষোলোটি দিক থেকে এই হাদিসটিকে দুর্বল হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আপনারা জানেন যে, ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) যখন কোনো বিষয়ে আলোচনা করেন তখন তিনি অত্যন্ত দীর্ঘ ও গভীর আলোচনা করেন। সুতরাং এই হাদিসটি দুর্বল, যদিও একদল ইমাম একে সহীহ বলেছেন, তবে বাস্তবতা হলো এই আলোচনার দাবি।
এখন আমরা বিষয়টি দেখি: "যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয় তখন তা নাপাকি বহন করে না" অর্থাৎ তা অপবিত্র হয় না—এটি কি তার ব্যাপক অর্থে প্রযোজ্য? কোনো সন্দেহ নেই যে ইজমা বা ঐক্যমত্য অনুযায়ী এটি ব্যাপক অর্থে নয়। কারণ আমরা যদি এর ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করি তবে এর বাহ্যিক অর্থ দাঁড়াবে যে, পানির পরিবর্তন হোক বা না হোক তা অপবিত্র হবে না, যা ইজমার পরিপন্থী। কেননা আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, পানি যদি নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায় তবে তা নাপাক। এ ভিত্তিতে এর ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করা সঠিক হবে না। "তা অপবিত্র হয় না" বাক্যটির একটি মাফহুম বা অন্তর্নিহিত অর্থ রয়েছে, আর তা হলো: পানি যখন দুই কুল্লা পরিমাণ না হবে তখন তা নাপাক হয়ে যাবে। এর বাহ্যিক মাফহুম হলো—তা পরিবর্তিত হোক বা না হোক (উভয় ক্ষেত্রেই নাপাক)। এমতাবস্থায় এটি আবু উমামাহ বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদিসের বিরোধী হবে যা প্রমাণ করে যে, পরিবর্তন ছাড়া পানি নাপাক হয় না। পানি পরিবর্তন ছাড়া নাপাক হয় না—আবু উমামাহর হাদিসের এই দালালাত বা প্রমাণ হচ্ছে 'মানতুক' (সুস্পষ্ট বক্তব্য), আর ইবনে উমরের এই হাদিসের দালালাত হলো 'মাফহুম' (অন্তর্নিহিত অর্থ)। উসূলে ফিকহের আলেমগণ বলেন: যখন মানতুক ও মাফহুমের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তখন মানতুককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আর মাফহুমের ক্ষেত্রে কোনো একটি অবস্থার ওপর আমল করাই যথেষ্ট। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলি: এর মাফহুম হলো যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণে না পৌঁছাবে তখন তা নাপাকি বহন করবে; অর্থাৎ তা নাপাক হয়ে যাবে। তখন আমরা বলব: এটি পরিবর্তিত হওয়া এবং না হওয়া উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। তবে এটি কেবল 'পরিবর্তিত' হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বললেই যথেষ্ট হবে, আর এর মাধ্যমেই মাফহুমের ওপর আমল হয়ে যাবে। উসূলবিদগণ যেমনটি বলেছেন, মাফহুমের ওপর আমল করার জন্য কেবল একটি চিত্র বা উদাহরণই যথেষ্ট।
যাই হোক, যতক্ষণ পর্যন্ত হাদিসটি দুর্বল এবং আমাদের কাছে পূর্ববর্তী একটি দালীলিক হাদিস রয়েছে যা যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত, ততক্ষণ এই দুর্বল হাদিসটির ওপর আমল করা হবে না। বলা হবে যে: পানি যদি দুই কুল্লা পরিমাণ হয় এবং তাতে নাপাকি পতিত হয়, তবে তা যদি পানিকে পরিবর্তিত করে দেয় তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে নাপাক। আর যদি তা পরিবর্তিত না করে তবে তা পবিত্র। অনুরূপভাবে যদি পানি দুই কুল্লা পরিমাণ না হয় এবং তাতে নাপাকি পড়ে, তবে তা যদি পরিবর্তন করে ফেলে তবে নাপাক, আর পরিবর্তন না করলে তা পবিত্র। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পানির পরিমাণ যত কম হবে এবং নাপাকির পরিমাণ যত বেশি হবে, পানি পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা তত প্রবল হবে। এমতাবস্থায় অবশ্যই সতর্কতার পথ অবলম্বন করতে হবে; কারণ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে যদি সামান্য এক ফোঁটা ছোট...
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
بقدر عين الجرادة في ماء يبلغ مثلا قربة كاملة فهذا لا يغير على مقتضى هذا الحديث إذا أخذنا بعموم المفهوم يكون نجسا ولكنه لا يكون نجسا، ولو سقطت نجاسة كبيرة فيما دون ذلك لكان تغير الماء بها قويا.
فأنت أيها المسلم احتط لنفسك الذي يغلب على ظنك أن النجاسة تكثر فيه؛ لا تستعمله إلا لحاجة، وأما الذي يغلب على ظنك أن النجاسة لا تؤثر فيه أو تأكدت أنها لم تؤثر فيه؛ فلا يهمك أن يكون قليلا أو كثيرا، هذا هو الذي تدل عليه الأدلة والقواعد العامة في الشريعة، ولا يكلف الله نفسا إلا وسعها.
حكم اغتسال الجنب في الماء الدائم:5 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يغتسل أحدكم في الماء الدائم وهو جنب". أخرجه مسلم.
"لا يغتسل" "لا" ناهية، والدليل على أنها ناهية جزم الفعل بها؛ لأن "لا" الناهية تعمل الجزم فيما تدخل عليه من الأفعال، وهي لا تدخل إلا على المضارع، فهي من علامات المضارع، وكذلك "لم" لا تدخل إلا على المضارع، فإذا وجدت كلمة دخلت عليها "لم" فهي للمضارع.
"أحدكم في الماء الدائم" أحدكم هذا خطاب للرجال، واعلم أن أكثر خطابات القرآن والسنة موجهة للرجال؛ لأن الرجال هم رعاة العلم، وهم رعاة الأمة، فلهذا تجد أكثر الخطابات في القرآن والسنة موجهة إلى الرجال.
وقوله: "في الماء الدائم"، الدائم سيأتي في الحديث الذي بعده أنه الذي لا يجري؛ لأنه ساكن لا يتحرك فهو دائم.
وقوله: "وهو جنب" الجملة هذه حال؛ يعني: في موضع نصب على الحال من "أحدكم"؛ أي: من فاعل يغتسل يعني والحال أنه جنب لماذا؟ لأن الجنب وإن كان طاهر البدن لكن قد يكون هناك إفرازات خفيفة بسبب الجنابة لا ندري ما هي فتؤثر في الماء توسخه وتقذره؛ فلهذا نهي أن يغتسل في الماء الدائم وهو جنب.
في هذا الحديث فوائد كثيرة؛ منها: رعاية الشريعة للصحة؛ لأن كون الإنسان يغتسل وهو جنب في ماء راكد لا يدخل عليه شيء ولا يخرج منه شيء لا شك أنه سيلوثه وسيكون علة له ولغيره.
ومنها: شمول الشريعة التي جاء بها محمد صلى الله عليه وسلم فهي شاملة لمصالح الناس في المعاد والمعاش خلافا لمن قال: إن الشريعة هي تنظيم العبادة فيما بين الإنسان وبين ربه، والباقي موكول إلى الناس، وهذا يخشى أن يكون من باب الكفر ببعض الشريعة والإيمان ببعضها.
উদাহরণস্বরূপ, একটি পূর্ণ মশকের সমপরিমাণ পানিতে যদি পঙ্গপালের চোখের ন্যায় সামান্য নাপাকি পতিত হয়, তবে তা পানির কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। এই হাদিসের সাধারণ অর্থ গ্রহণ করলে তা অপবিত্র হওয়ার কথা, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা অপবিত্র হবে না। অন্যদিকে, এর চেয়ে কম পরিমাণ পানিতে যদি বড় কোনো অপবিত্রতা পতিত হতো, তবে তাতে পানির পরিবর্তন হতো অত্যন্ত প্রবল।
হে মুসলিম! আপনি নিজের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করুন। যে পানি সম্পর্কে আপনার প্রবল ধারণা হয় যে তাতে অপবিত্রতা বেশি রয়েছে, তা প্রয়োজন ব্যতীত ব্যবহার করবেন না। আর যে পানি সম্পর্কে আপনার প্রবল ধারণা হয় যে অপবিত্রতা তাতে কোনো প্রভাব ফেলেনি, কিংবা আপনি নিশ্চিত হন যে তা প্রভাবিত হয়নি, তবে সেটি পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি—তা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার অবকাশ নেই। শরিয়তের দলীলসমূহ ও সাধারণ মূলনীতিসমূহ এই দিকনির্দেশনাই প্রদান করে। আর আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না।
আবদ্ধ পানিতে অপবিত্র ব্যক্তির গোসলের বিধান:৫ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে গোসল না করে।" (মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন)।
"সে যেন গোসল না করে" বাক্যে "না" হলো নিষেধসূচক। এটি নিষেধসূচক হওয়ার প্রমাণ হলো এর কারণে ক্রিয়াটি জজম (নিশ্চল) অবস্থায় রয়েছে। কেননা নিষেধসূচক "লা" বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (মুদারে) ওপর প্রবেশ করে সেটিকে জজম প্রদান করে। এটি মুদারে ক্রিয়ার অন্যতম আলামত। অনুরূপভাবে "লাম"-ও কেবল মুদারে ক্রিয়ার ওপর প্রবেশ করে। সুতরাং যে শব্দের শুরুতে "লাম" পাওয়া যাবে, সেটি মুদারে ক্রিয়া।
"তোমাদের কেউ আবদ্ধ পানিতে"—এখানে "তোমাদের কেউ" কথাটি পুরুষদের প্রতি সম্বোধন। জেনে রাখুন যে, কুরআন ও সুন্নাহর অধিকাংশ সম্বোধনই পুরুষদের প্রতি নির্দেশিত। কারণ পুরুষরাই ইলম ও উম্মতের অভিভাবক। এই কারণেই কুরআন ও সুন্নাহর অধিকাংশ সম্বোধন পুরুষবাচক শব্দে পাওয়া যায়।
আর তাঁর বাণী: "আবদ্ধ পানিতে"; আবদ্ধ পানি সম্পর্কে পরবর্তী হাদিসে আসবে যে, এটি এমন পানি যা প্রবাহিত হয় না; কারণ তা স্থির ও গতিহীন, তাই একে আবদ্ধ বলা হয়।
আর তাঁর বাণী: "সে অবস্থায় সে অপবিত্র"—এই বাক্যটি 'হাল' বা অবস্থা বর্ণনা করছে। অর্থাৎ "তোমাদের কেউ" তথা কর্তা বা গোসলকারীর অবস্থা বর্ণনাকারী হিসেবে এটি নসব অবস্থায় রয়েছে। কেন এমন নিষেধ করা হয়েছে? কারণ, অপবিত্র ব্যক্তি যদিওবা বাহ্যিকভাবে পবিত্র দেহের অধিকারী, তবুও জানাবাত বা অপবিত্রতার কারণে সেখানে এমন কিছু সূক্ষ্ম নিঃসরণ থাকতে পারে যা আমরা জানি না এবং যা পানিকে নোংরা ও দূষিত করতে পারে। এই কারণেই অপবিত্র অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে গোসল করতে নিষেধ করা হয়েছে।
এই হাদিসে অনেক শিক্ষা ও উপকারিতা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: জনস্বাস্থ্যের প্রতি শরিয়তের যত্নশীলতা। কারণ, একজন মানুষ আবদ্ধ পানিতে অপবিত্র অবস্থায় গোসল করলে, যে পানিতে নতুন কিছু প্রবেশ করে না এবং যা থেকে কিছু বের হয় না, তা নিঃসন্দেহে পানিকে দূষিত করবে এবং সেটি তার নিজের ও অন্যের জন্য রোগব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যটি হলো: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদত্ত শরিয়তের ব্যাপকতা ও পূর্ণতা। এই শরিয়ত পরকাল ও ইহকালীন জীবন—উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের কল্যাণের জন্য পূর্ণাঙ্গ। এটি তাদের মতামতের বিপরীত যারা মনে করে যে, শরিয়ত কেবল স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার ইবাদত-বন্দেগি সংক্রান্ত বিষয়সমূহ নিয়ন্ত্রণের জন্য, আর অবশিষ্ট বিষয়সমূহ মানুষের ওপর ন্যস্ত। এরূপ ধারণা শরিয়তের কিছু অংশ বিশ্বাস করা এবং কিছু অংশ অস্বীকার করার নামান্তর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
الشريعة شاملة لكن الناس يختلفون في العلم والفهم، قد يقصر علم الإنسان عن الإحاطة بالشريعة وهذا كثير، وقد يقصر فهمه عما أحاط به من الشريعة فيظن أن الشريعة مقصرة أو قاصرة في هذا الباب.
ومن فوائد هذا الحديث: تحريم أو كراهة اغتسال الإنسان وهو جنب في الماء الدائم، من أين يؤخذ؟ من النهي، وقد اختلف الأصوليون في النهي هل هو للكرامة أو التحريم، أو يفرق بين ما كان مبناه العبادة وما كان مبناه الأدب والنظافة، فالأول محرم، والثاني للكراهة.
قالوا: إنما كان النهي للتحريم؛ لأنه في جانب العبادة، والإنسان إنما خلق للعبادة، فلابد أن يحققها فعلا للمأمور وتركا للمحظور، أما العادات وما يعود للصحة والنظافة وما أشبه ذلك فيحمل على الكراهة، والمتأمل للأحاديث التي ورد فيها النهي يرى أن هذا القول أقرب ما يكون؛ لأنه يمر بك أحاديث فيها نهي ولم تكن للتحريم ولا يمكن أن تقول إنها للتحريم، ويمر بك أحاديث تقول إنها للتحريم فإذا وجد نهي مطلق غير مقرون بما يدل على أنه للتحريم، فأقرب الأقوال في ذلك الوسط أن ما كان شأنه شأن العبادة فهو للتحريم، وما كان للنظافة والعبادات وما أشبه ذلك فهو للكراهة.
ومن فوائد هذا الحديث: فوائد الاغتسال في الماء غير الدائم، والماء غير الدائم ينقسم إلى قسمين:
قسم: الآن يجري، كالأنهار والسواقي. السواقي التي تجري هذه تطهر منها الإنسان ولا إشكال في ذلك سواء [كان جنبا] أو غير جنب فينوي الاغتسال ويغتسل ينغمس فيها، ولكن لا شك أن الذي يجري سوف يتجدد الماء على البدن فهل نقول كل جرية تجزئ عن غسله؟
الجواب: نعم، كل جرية تجزئ عن غسله، ولهذا قال الموفق رحمه الله في "المغني": إن الرجل إذا حرك يده في الماء ثلاث مرات فقد غسلها ثلاثا؛ لأن الماء يتجدد بالحركة، إذا كان الماء يجري فكل جرية تغمر البدن تعتبر غسلة.
والقسم الثاني من الماء غير الدائم: الذي هو الآن راكد، لكن نعلم أنه سوف بفتح له بعد ساعة أو ساعتين ويمشي ويجري كما يوجد هذا في البرك - برك البساتين- تجد البركة الآن مملوكة لا تجري هي الآن لكنه سوف يفتحها من يلوث الماء ويوزعها على الحائط ويأتي ماء جديد، هل نجعل هذا من الدائم أو من الجاري؟ هذا من الجاري، هذا لا شك أنه من الجاري: لأن هذا الماء سوف يذهب.
إذن ما هو الماء الدائم؟ الماء الدائم: ما يكون في الغدران. أتعرفون الغدران؟ مستنقعات الأمطار، نعم هي دائمة؛ لأن المطر قد ينزل وقد لا ينزل، وقد يبقى الغدير دائما على هذا الوضع فهذا هو الذي ينطبق عليه الحديث.
শরীয়ত ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ, তবে মানুষের জ্ঞান ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে তারতম্য রয়েছে। অনেক সময় মানুষের জ্ঞান শরীয়তের সামগ্রিক বিষয় অনুধাবনে অপূর্ণ থেকে যায় এবং এমনটি প্রায়শই ঘটে। আবার কখনও শরীয়তের যে অংশটুকু সে জেনেছে, তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে তার বোধগম্যতা কম হতে পারে, ফলে সে মনে করে বসে যে শরীয়ত হয়তো এই ক্ষেত্রে অপূর্ণ বা অপর্যাপ্ত।
এই হাদীসের শিক্ষণীয় দিকগুলোর মধ্যে একটি হলো: জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল করা হারাম নাকি মাকরূহ। এই বিধানটি কোথা থেকে গৃহীত হয়েছে? এটি মূলত নিষেধাজ্ঞার শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার বিধানটি কি হারামের অর্থ প্রদান করে নাকি মাকরূহের, এ বিষয়ে উসুলবিদগণ (মূলনীতি বিশারদগণ) মতপার্থক্য করেছেন। কেউ কেউ ইবাদত সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং আদব ও পরিচ্ছন্নতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। এমতাবস্থায় প্রথমটি (ইবাদত সংশ্লিষ্ট) হারামের বিধান দেয় এবং দ্বিতীয়টি (আদব ও পরিচ্ছন্নতা সংশ্লিষ্ট) মাকরূহের বিধান দেয়।
তাঁরা বলেছেন: নিষেধাজ্ঞাটি হারামের জন্য প্রযোজ্য; কারণ এটি ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। আর মানুষকে তো সৃষ্টিই করা হয়েছে ইবাদতের জন্য, তাই আদেশ পালন এবং নিষিদ্ধ বিষয় বর্জনের মাধ্যমেই ইবাদত পূর্ণ করতে হবে। পক্ষান্তরে অভ্যাসগত বিষয় অথবা যা স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার সাথে সম্পৃক্ত, সেগুলোকে মাকরূহ হিসেবে গণ্য করা হবে। নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদীসসমূহ নিয়ে যে ব্যক্তি চিন্তা-গবেষণা করবে, সে দেখতে পাবে যে এই অভিমতটিই সত্যের অধিক নিকটবর্তী। কেননা এমন অনেক হাদীস রয়েছে যেখানে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা হারামের পর্যায়ভুক্ত নয় এবং সেগুলোকে হারাম বলাও সম্ভব নয়। আবার এমন কিছু হাদীস রয়েছে যা স্পষ্টত হারামের অর্থ বহন করে। সুতরাং যদি কোনো শর্তহীন নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় এবং তার সাথে হারামের অর্থ সাব্যস্ত করার মতো অন্য কিছু না থাকে, তবে এক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা ও নিকটতম মত হলো—যা ইবাদত সংশ্লিষ্ট তা হারামের জন্য এবং যা পরিচ্ছন্নতা ও সাধারণ অভ্যাসের সাথে সংশ্লিষ্ট তা মাকরূহের জন্য প্রযোজ্য হবে।
এই হাদীসের আরেকটি উপকারিতা হলো: প্রবহমান বা অস্থায়ী পানিতে গোসল করার বিধান। আর অস্থায়ী পানি দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: যা বর্তমানে প্রবহমান, যেমন নদী ও নালা। এই প্রবহমান নালাগুলো দিয়ে মানুষ পবিত্রতা অর্জন করতে পারে এবং এতে কোনো সংশয় নেই, চাই সে জুনুবী হোক বা না হোক। সে গোসলের নিয়ত করবে এবং তাতে ডুব দিয়ে গোসল করবে। তবে নিঃসন্দেহে প্রবহমান পানি শরীরে বারবার নতুনভাবে আসতে থাকে, এমতাবস্থায় আমরা কি বলব যে পানির প্রতিটি প্রবাহ এক একটি ধৌতকরণ হিসেবে গণ্য হবে?
উত্তর হলো: হ্যাঁ, প্রতিটি প্রবাহই এক একটি ধৌতকরণ হিসেবে গণ্য হবে। এই কারণেই ইমাম মুয়াফফাক (ইবনে কুদামাহ) রাহিমাহুল্লাহ তাঁর 'আল-মুগনী' গ্রন্থে বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি যদি পানির মধ্যে তার হাত তিনবার নাড়াচাড়া করে, তবে তা তিনবার ধোয়ার সমতুল্য হবে; কারণ নড়াচড়ার ফলে পানি নতুনভাবে সঞ্চারিত হয়।" সুতরাং পানি যদি প্রবহমান হয়, তবে পুরো শরীরকে আবৃতকারী প্রতিটি প্রবাহকে এক একটি স্বতন্ত্র ধৌতকরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
দ্বিতীয় প্রকারের অস্থায়ী পানি: যা বর্তমানে স্থির রয়েছে, কিন্তু আমরা জানি যে ঘণ্টাখানেক পর তা খুলে দেওয়া হবে এবং প্রবাহিত হবে। যেমনটি বাগানের চৌবাচ্চাগুলোতে দেখা যায়। আপনি দেখবেন যে চৌবাচ্চাটি বর্তমানে পূর্ণ এবং প্রবহমান নয়, কিন্তু মালি অচিরেই তা খুলে দিয়ে বাগানে পানি বণ্টন করবে এবং সেখানে নতুন পানি আসবে। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি একে স্থির পানি বলব নাকি প্রবহমান? নিঃসন্দেহে এটি প্রবহমান পানির অন্তর্ভুক্ত; কারণ এই পানিটি অচিরেই সরে যাবে।
তাহলে স্থির পানি কোনটি? স্থির পানি হলো যা গাদীর বা ডোবায় থাকে। আপনারা কি 'গাদীর' চেনেন? বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হওয়া জলাশয়। হ্যাঁ, এগুলোই হলো স্থির পানি; কারণ বৃষ্টি হতেও পারে আবার নাও হতে পারে, আর ডোবাটি হয়তো দীর্ঘকাল এই অবস্থাতেই পড়ে থাকবে। মূলত এই ধরণের পানির ক্ষেত্রেই আলোচ্য হাদীসের বিধানটি প্রযোজ্য হবে।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧١)
من فوائد هذا الحديث - وهو من مفهومه-: أنه يجوز الاغتسال في الماء الدائم عن غير جنابة كما لو اغتسل للتنظيف أو اغتسل غسلا مستحبا كما لو أفاق من إغماء واغتسل غسلا فهذا مستحب.
فهل نقول بهذا المفهوم أو نقول: المفهوم فيه تفصيل؟ نقول: المفهوم فيه التفصيل؛ لأن الإنسان إذا اغتسل في الماء الدائم من غير جناية قد يكون جسده ملوثا بأذى يؤذي الناس برائحته وإن لم ينغمس في الماء؛ فهذا نقول: إنه ينهى عن أن يغتسل في الماء الدائم، لكن نأخذ هذا من الحديث أو من القواعد العامة؟
القواعد العامة في أن الإنسان لا يجوز أن يؤذي المسلمين، وهذا يؤذي المسلمين؛ لأن المقصود: أنه في غدير، كل يأتي ويغتسل منها ويشرب منها، فإذا كان في الإنسان وسخ كثير يتغير به الماء حتى يطفو على سطح الماء ما يكون كالدهن من الأذى الذي يكون بالجلد؛ فهذا لا شك أنه ينهي عنه من أجل أنه يقذره ويكون هذا داخلا في القواعد العامة. أما لو كان البدن نظيفا واغتسل فيه من غير جنابة فالحديث يدل على الجواز.
ومن فوائد هذا الحديث: ذكر الجنب، فما هو الجنب؟ الجنب: من لزمه الغسل عن جماع أو إنزال. هذا الجنب، وقد كان كثير من الناس ولا سيما السباب الذي تزوج أخيرا يظن أنه لا غسل بالجماع المجرد، وهذا خطأ وينبغي لطالب العلم أن ينشر بين الناس أن الجماع يوجب الغسل وإن لم يحصل إنزال، بعض الناس يسألنا له شهر أو شهران أو أكثر لا يغتسل من الجنابة إلا إذا كان هناك إنزال وهذا خطأ.
لماذا أتى المؤلف بهذا الحديث في هذا الباب؟ إشارة إلى قول بعض العلماء رحمهم الله أنه إذا اغتسل في الماء الدائم وهو جنب فإنه يكون نجسا، وبعضهم يقول: إنه يكون طاهرا وغير مطهر، ونحن نقول: الحديث لا يدل لا على هذا لا على هذا، أما الأول: فما أبعد دلالته عليه كيف يكون نجسا والجنب طاهر، إن أبا هريرة كان مع النبي صلى الله عليه وسلم في بعض الطريق فانخنس - يعني: انسل في خفية- واغتسل ثم حضر، فقال له الرسول صلى الله عليه وسلم: "أين كنت يا أبا هريرة؟ " قال: كنت جنبا فكرهت أن أجالسك على غير طهارة، فقال: "سبحان الله! إن المؤمن لا ينجس".
فقال: "إن المؤمن" إشارة إلى أن أبا هريرة لما فهم أن الجنب لا يجالس الشرفاء والعظماء بين له أنه لا ينجس وهو جنب، فالقول بأن الماء ينجس قول ضعيف جدا، وأما القول بأنه يكون طاهرا غير مطهر فهو غير مسلم به لأمرين:
এই হাদীসের শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি হলো—এবং এটি এর পরোক্ষ অর্থ (মাফহুম) থেকে গৃহীত—যে, জানাবত বা বড় অপবিত্রতা ব্যতীত অন্য কোনো কারণে আবদ্ধ পানিতে গোসল করা জায়েজ। যেমন কেউ যদি পরিচ্ছন্নতার জন্য গোসল করে অথবা মুস্তাহাব গোসল করে, যেমন মূর্ছা যাওয়ার পর জ্ঞান ফিরে পেয়ে গোসল করা; এটি মুস্তাহাব গোসল।
এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই পরোক্ষ অর্থটি নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করব, নাকি এর মধ্যে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে? আমরা বলব: এর মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে; কারণ একজন মানুষ যদি জানাবত ছাড়াও অন্য কোনো অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে গোসল করে, তবে হতে পারে তার শরীর এমন কোনো ময়লায় লিপ্ত যা তার দুর্গন্ধের কারণে মানুষকে কষ্ট দেয়, যদিও সে পানিতে পুরোপুরি নিমজ্জিত না হয়। এমতাবস্থায় আমরা বলব: তাকে আবদ্ধ পানিতে গোসল করতে নিষেধ করা হবে। তবে আমরা কি এই সিদ্ধান্তটি হাদীস থেকে গ্রহণ করব নাকি শরীয়তের সাধারণ মূলনীতি থেকে?
সাধারণ মূলনীতি হলো—কোনো মানুষের জন্য মুসলিমদের কষ্ট দেওয়া জায়েজ নেই। আর এই কাজটি মুসলিমদের কষ্ট দেয়; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন জলাশয়, যেখানে সবাই গোসল করতে আসে এবং যেখান থেকে পানি পান করে। সুতরাং মানুষের শরীরে যদি প্রচুর পরিমাণে ময়লা থাকে যার কারণে পানির গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়ে যায়, এমনকি পানির উপরে চামড়ার ময়লা চর্বির মতো ভেসে ওঠে, তবে নিঃসন্দেহে এটি নিষিদ্ধ হবে। কারণ এটি পানিকে নোংরা করে দেয় এবং এটি সাধারণ মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে শরীর যদি পরিষ্কার থাকে এবং জানাবত ছাড়া অন্য কোনো কারণে সেখানে গোসল করা হয়, তবে হাদীসটি এর বৈধতার প্রমাণ দেয়।
এই হাদীসের আরেকটি শিক্ষা হলো: ‘জুনুব’ ব্যক্তির উল্লেখ। এখন ‘জুনুব’ কে? জুনুব হলো সেই ব্যক্তি, যার ওপর সহবাস বা বীর্যপাতের কারণে গোসল ফরজ হয়েছে। এটিই জুনুবের সংজ্ঞা। অনেক মানুষ, বিশেষ করে সেই সব যুবক যারা নতুন বিয়ে করেছে, তারা মনে করে যে কেবল সহবাসে (বীর্যপাত না হলে) গোসল ফরজ হয় না। এটি একটি ভুল ধারণা। জ্ঞান অন্বেষণকারীদের উচিত মানুষের মধ্যে এটি প্রচার করা যে, বীর্যপাত না হলেও কেবল সহবাসের মাধ্যমেই গোসল ফরজ হয়ে যায়। কোনো কোনো লোক আমাদের কাছে প্রশ্ন করে যে, এক বা দুই মাস বা তারও বেশি সময় ধরে তারা জানাবতের গোসল করছে না যতক্ষণ না বীর্যপাত হচ্ছে; এটি একটি ভুল।
লেখক কেন এই অধ্যায়ে এই হাদীসটি নিয়ে এসেছেন? এটি মূলত কিছু আলেমদের (আল্লাহ তাঁদের রহমত দান করুন) সেই মতের দিকে ইঙ্গিত করার জন্য যে, জুনুব ব্যক্তি যদি আবদ্ধ পানিতে গোসল করে তবে সেই পানি নাজিস বা অপবিত্র হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ বলেন: পানিটি নিজে পবিত্র হলেও অন্যকে পবিত্র করার ক্ষমতা হারায়। আমরা বলি: হাদীসটি এই দুই মতের কোনোটিরই প্রমাণ দেয় না। প্রথম মতটির কথা যদি বলি, তবে হাদীসের বর্ণনা থেকে এর দূরত্ব অনেক; জুনুব ব্যক্তি তো নিজেই পবিত্র, তবে পানি কেন নাজিস হবে? আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কোনো এক পথে ছিলেন, অতঃপর তিনি চুপিচুপি সরে পড়লেন এবং গোসল করে পুনরায় ফিরে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "হে আবু হুরায়রা, তুমি কোথায় ছিলে?" তিনি বললেন: "আমি জুনুব অবস্থায় ছিলাম, তাই আপনার সাথে অপবিত্র অবস্থায় বসাটা অপছন্দ করলাম।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "সুবহানাল্লাহ! মুমিন কখনো নাজিস বা অপবিত্র হয় না।"
তিনি যখন বললেন: "নিশ্চয়ই মুমিন"—এর মাধ্যমে ইঙ্গিত করলেন যে, আবু হুরায়রা যখন মনে করেছিলেন জুনুব ব্যক্তি সম্মানিত ও মহান ব্যক্তিদের সাথে বসতে পারে না, তখন নবীজি তাকে স্পষ্ট করে দিলেন যে, জুনুব অবস্থায় থাকলেও মুমিন অপবিত্র হয় না। সুতরাং পানি নাজিস হয়ে যাওয়ার কথাটি অত্যন্ত দুর্বল একটি মত। আর পানি নিজে পবিত্র কিন্তু অন্যকে পবিত্র করার যোগ্য নয়—এই মতটিও দুটি কারণে গ্রহণযোগ্য নয়:
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
أولا: أننا لا نسلم بوجود قسم من الماء يسمى طاهرا ليس فيه دليل.
وثانيا: لو سلمنا بهذا أو كان فيه دليل عليه؛ فإن هذا الحديث لا يدل عليه؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يتعرض لحكم الماء إطلاقا وإنما وجه الخطاب لمن اغتسل، أما الماء فلم يتعرض له الرسول صلى الله عليه وسلم.
النهي عن البول في الماء الدائم:قال: وللبخاري: "لا يبولن أحدكم في الماء الدائم الذي لا يجري، ثم يغتسل فيه".
هذا فيه خصوص وعموم بالنسبة لما سبق، هنا قال: "ثم يغتسل فيه"، ولم يقل: "من الجنابة"، لكنه قيد هذا النهي عن الاغتسال بماء إذ بال فيه: فقوله: "لا يبولن": البول معروف، وقوله: "في الماء الدائم" فسره بقوله: "الذي لا يجري"، وقوله: "ثم يغتسل فيه" أي: ينغمس؛ لأن "في" للظرفية، والظرف يكون عاما للمظروف، فإذا جعلنا الماء ظرفا لزم من ذلك أن الإنسان ينغمس فيه، إذن هذا الحديث ليس الحديث الأول؛ لأن الحديث الأول نهى الرجل أن يغتسل وهو جنب، أما هذا فهو نهي الرجل أن يبول في الماء ثم يغتسل فيه، ولا شك أن هذا النهي موافق للحكمة؛ لأنه كيف تبول فيه والبول نجس، ثم تذهب لتطهر به أو تتنظف به، هذا غير لائق حتى الفطرة والطبيعة تنافي ذلك.
প্রথমত: আমরা পানির এমন কোনো প্রকারের অস্তিত্ব স্বীকার করি না যাকে 'তাহার' (পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়) বলা হয়, যার সপক্ষে কোনো দলিল নেই।
দ্বিতীয়ত: যদি আমরা এটি মেনেও নিই অথবা এর সপক্ষে কোনো দলিল থেকেও থাকে, তবুও এই হাদিসটি তা প্রমাণ করে না; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানির বিধান সম্পর্কে মোটেও কোনো আলোচনা করেননি, বরং তিনি কেবল গোসলকারীর প্রতি সম্বোধন করেছেন। আর পানির ব্যাপারে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো কিছু উল্লেখ করেননি।
স্থির পানিতে প্রস্রাব করার নিষেধাজ্ঞা:তিনি বলেন: বুখারির বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের কেউ যেন এমন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর সেখানে গোসল করে।"
পূর্বোক্ত বিষয়ের তুলনায় এতে বিশেষত্ব ও সাধারণত্ব (খাস ও আম) রয়েছে। এখানে বলা হয়েছে: "অতঃপর সেখানে গোসল করে", এবং "জানাবাত (নাপাকি) থেকে" কথাটি বলা হয়নি। তবে তিনি প্রস্রাব করা হয়েছে এমন পানিতে গোসলের নিষেধাজ্ঞাটিকে শর্তযুক্ত করেছেন। তাঁর বাণী "তোমাদের কেউ যেন প্রস্রাব না করে": প্রস্রাব বিষয়টি সুপরিচিত। তাঁর বাণী "স্থির পানিতে": তিনি নিজেই এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন "যা প্রবাহিত হয় না" কথাটি দ্বারা। তাঁর বাণী "অতঃপর সেখানে গোসল করে": অর্থাৎ অবগাহন করে; কারণ "ফি" (মধ্যে) শব্দটি পাত্র বা আধার (জারফিয়াত) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, আর আধার সাধারণত আধেয়কে পরিবেষ্টন করে থাকে। সুতরাং যদি আমরা পানিকে আধার হিসেবে গণ্য করি, তবে এর অনিবার্য অর্থ হলো মানুষ তাতে অবগাহন করবে। অতএব, এই হাদিসটি প্রথম হাদিসের মতো নয়; কারণ প্রথম হাদিসে জানাবাত অবস্থায় গোসল করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর এটি হলো পানিতে প্রস্রাব করে পুনরায় সেখানে গোসল করার নিষেধাজ্ঞা। নিঃসন্দেহে এই নিষেধাজ্ঞা হিকমত বা প্রজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ কীভাবে আপনি সেখানে প্রস্রাব করবেন অথচ প্রস্রাব অপবিত্র, আবার সেখানে পবিত্রতা অর্জন বা পরিচ্ছন্ন হওয়ার জন্য যাবেন? এটি অনুচিত, এমনকি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি ও স্বভাবও এর পরিপন্থী।
(খণ্ড: ١)
ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলুগিল মারাম ত্বা আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧٣)
يبولن أحدكم في الماء الدائم"، فسره بقوله: "الذي لا يجري" "ثم يغتسل فيه": ذكر المحدثون أن هذه الجملة الأخيرة رويت على ثلاثة أوجه: على الرفع، والنصب، والجزم:
فعلى رواية الجزم نقرؤها هكذا: "لا يبولن أحدكم في الماء الدائم الذي لا يجري، ثم يغتسل فيه" وتكون معطوفة على "يبولن" لكنها جزمت؛ لأنه لم يتصل بها نون التوكيد، ويكون معنى الحديث: لا يبولن أحدكم في الماء الدائم الذي لا يجري ولا يغتسل فيه. فيكون هذا الحديث مشتملا على مسألتين كل واحدة مستقلة عن الأخرى:
الأولى: النهي عن البول.
والثانية: النهي عن الاغتسال في الماء الدائم الذي لا يجري.
على رواية النصب: تكون "ثم" هنا ملحقة بواو المعية، وواو المعية بعد النهي يكون الفعل بعدها منصوبا. نقول: "لا تأكل السمك وتشرب اللبن"؛ أي: مع شرب اللبن، حملوا "ثم" هنا في العمل على الواو، فقالوا: لا يبولن ثم يغتسل، وعلى هذا فيكون المعنى: لا يجمع بين البول والاغتسال.
وعلى رواية الرفع: يكون النهي في مسألة واحدة وهي: البول، ويكون "يغتسل" مستأنفة غير معطوفة على "يبولن" ب "ثم" أي: ثم هو يغتسل فيه، المعنى: أنه من أقبح الأشياء أن شخصا يبول بماء ثم يذهب يغتسل منه، هذا مناف للفطرة؛ لأن المفروض أن الماء إما أن يتنجس بالبول أو تتقذر منه النفس فكيف تبول في شيء ثم تهذب تتطهر به، هذا مناف للفطرة.
ونظيره أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يجلد الرجل امرأته جلد العبد ثم يضاجعها. المعنى: ثم هو يضاجعها؛ لأن هذا ينافي الفطرة والنفوس، كيف في الصباح تجلدها جلد العبد وتأتي آخر الليل تضاجعها لتستمتع بها، هذا تأباه النفوس في الواقع، وعلى هذا كأنه يقول: لا يبولن أحدكم بالماء الدائم، ثم بعد ذلك يحتاج فيغتسل فيه، وهذا مما تأباه النفوس وتنفر منه.
على كل حال لنجعلها على المعنى الأول: يغتسل فيه؛ فيكون هذا يتضمن النهي عن مسألتين: الأول: البول في الماء الدائم الذي لا يجري؛ لأنه إذا بال فيه استقذرته النفوس، وربما مع كثرة البول وقلة الماء يتغير الماء بالنجاسة فيفسد.
والمسألة الثانية: لا يغتسل في الماء الدائم، وظاهره لا يغتسل لا من جنابة ولا للنظافة بل النهي عام، سيأتي في بعض ألفاظ الحديث التقييد بالجنابة ليوافق حديث أبي هريرة الذي رواه مسلم، إذن يكون في هذا الحديث نهي عن مسألتين: عن البول في الماء الدائم، وعن
"তোমাদের কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে", তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "যা প্রবাহিত হয় না" "অতঃপর তাতে গোসল করে": হাদীস বিশারদগণ উল্লেখ করেছেন যে, এই শেষ বাক্যটি তিনটি পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে: রাফ' (পেশ), নাসব (যবর) এবং জাযম (সাকিন) অবস্থায়:
জাযমের বর্ণনা অনুযায়ী আমরা একে এভাবে পড়ব: "তোমাদের কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর তাতে গোসল না করে।" এখানে এটি 'প্রস্রাব করা' শব্দের ওপর সংযুক্ত হয়েছে, কিন্তু এটি জাযমযুক্ত হয়েছে কারণ এর সাথে তাকিদসূচক 'নুন' যুক্ত হয়নি। হাদীসটির অর্থ হবে: তোমাদের কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে এবং তাতে গোসলও না করে। ফলে এই হাদীসটি দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে, যার প্রতিটি একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র:
প্রথমত: প্রস্রাব করা থেকে নিষেধ করা।
দ্বিতীয়ত: আবদ্ধ পানিতে গোসল করা থেকে নিষেধ করা যা প্রবাহিত হয় না।
নাসবের বর্ণনা অনুযায়ী: এখানে "অতঃপর" শব্দটি "ওয়াও আল-মায়িয়্যাহ" (সহগামী অব্যয়)-এর অর্থ প্রদান করবে; আর নিষেধের পরে "ওয়াও আল-মায়িয়্যাহ"-এর পরবর্তী ক্রিয়াটি নাসব বা যবর যুক্ত হয়। যেমন আমরা বলি: "তুমি মাছ খেও না এবং দুধ পান করো না"; অর্থাৎ দুধ পানের সাথে মাছ খেও না। তারা এখানে ব্যাকরণিক আমলের ক্ষেত্রে "অতঃপর" শব্দটিকে "ওয়াও"-এর সমার্থক ধরেছেন এবং বলেছেন: প্রস্রাব করে যেন আবার গোসল না করে। এ অনুযায়ী অর্থ দাঁড়াবে: প্রস্রাব এবং গোসলকে যেন একত্রে না করা হয়।
রাফ' বা পেশের বর্ণনা অনুযায়ী: নিষেধাজ্ঞাটি কেবল একটি বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হবে, আর তা হলো: প্রস্রাব করা। এক্ষেত্রে "গোসল করা" শব্দটি হবে একটি নতুন বাক্য যা পূর্ববর্তী প্রস্রাব করার সাথে যুক্ত নয়। অর্থাৎ: অতঃপর সে তাতে গোসল করবে। এর অর্থ হলো: এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট বিষয় যে, কোনো ব্যক্তি একটি পানিতে প্রস্রাব করবে এবং পরে আবার তাতেই গোসল করতে যাবে; এটি মানুষের স্বভাবজাত রুচি বা ফিতরাতের পরিপন্থী। কারণ স্বাভাবিকভাবেই পানিটি প্রস্রাবের দ্বারা নাপাক হয়ে যাবে অথবা মনের কাছে তা ঘৃণ্য হয়ে উঠবে। সুতরাং কীভাবে তুমি কোনো কিছুতে প্রস্রাব করবে এবং পরে আবার তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে যাবে? এটি ফিতরাতের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এর সদৃশ দৃষ্টান্ত হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে দাসের মতো প্রহার করতে এবং অতঃপর তার সাথে শয্যাশায়ী হতে নিষেধ করেছেন। এর অর্থ হলো: সে তার সাথে শয্যাশায়ী হবে (তা অসম্ভব বা অনুচিত); কারণ এটি মানুষের স্বভাব ও রুচির পরিপন্থী। কীভাবে তুমি সকালে তাকে দাসের মতো প্রহার করবে এবং রাতের শেষে তার সাথে উপভোগের জন্য শয্যাশায়ী হবে? বাস্তবে মানুষের সুস্থ রুচি একে প্রত্যাখ্যান করে। এর ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি এমন যেন তিনি বলছেন: তোমাদের কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে, যার ফলে পরবর্তীতে প্রয়োজনে তাকে আবার তাতেই গোসল করতে হয়; আর এটি এমন বিষয় যা মানুষের রুচি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
যাহোক, আমরা যদি প্রথম অর্থের ওপর ভিত্তি করি—অর্থাৎ তাতে গোসল করা—তবে এটি দুটি বিষয়ের নিষেধাজ্ঞাকে অন্তর্ভুক্ত করবে: প্রথমত: আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা যা প্রবাহিত হয় না; কারণ এতে প্রস্রাব করলে মানুষের মনে ঘৃণার উদ্রেক হবে এবং সম্ভবত অধিক প্রস্রাব ও অল্প পানির কারণে পানিটি নাপাক হয়ে পরিবর্তিত হয়ে যাবে ও নষ্ট হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত: আবদ্ধ পানিতে গোসল না করা। এর বাহ্যিক অর্থ হলো সে গোসল করবে না—চাই তা অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য হোক বা কেবল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য হোক, বরং এই নিষেধাজ্ঞা সাধারণ। হাদীসের কিছু শব্দে অচিরেই 'জানাবাত' বা অপবিত্রতার বিষয়ের উল্লেখ আসবে, যাতে তা ইমাম মুসলিম বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সুতরাং এই হাদীসে দুটি বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে: আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা এবং তাতে গোসল করা সম্পর্কে।