(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: -)
الانتصار لسيبويه على المبرد   (ابن ولاد)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: الانتصار لسيبويه على المبرد

المؤلف: أبو العباس، أحمد بن محمد بن ولاد التميمي النحوي (ت 332 هـ)

دراسة وتحقيق: د. زهير عبد المحسن سلطان

الناشر: مؤسسة الرسالة

الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1996 م

عدد الصفحات: 271

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 شعبان 1438

আল-ইন্তিসার লি-সিবওয়াইহি আলাল মুবাররাদ   (ইবনে ওয়াল্লাদ)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আল-ইন্তিসার লি-সিবওয়াইহি আলাল মুবাররাদ

লেখক: আবু আল-আব্বাস, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ওয়াল্লাদ আল-তামিমি আল-নাহবি (মৃ. ৩৩২ হি.)

গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. জুহাইর আব্দুল মুহসিন সুলতান

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হি. - ১৯৯৬ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭১

শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর তত্ত্বাবধানে রাবিতা আল-নুসসাখ দল

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ১)
الانتصار لسيبويه على المبرد

لأبي العباس أحمد بن محمد بن ولاد التميمي النحوي المتوفى 332 هـ

دراسة وتحقيق

الدكتور

زهير عبد المحسن سلطان

مؤسسة الرسالة
আল-ইনতিসার লি-সিবাহওয়াইহ আলাল মুবররাদ (আল-মুবররাদের বিপক্ষে সিবাহওয়াইহ-এর সপক্ষে সমর্থন)

আবু আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ওয়াল্লাদ আত-তামিমী আন-নাহবী (মৃত্যু ৩৩২ হিজরি) রচিত

গবেষণা ও সম্পাদনা

ডক্টর

যুহায়ের আব্দুল মুহসিন সুলতান

মুআসসাসাতুর রিসালাহ
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى

1416 هـ - 1996 م
প্রথম সংস্করণ (الطبعة الأولى)

১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
كتاب الانتصار، أو كتاب نقض ابن ولاد على المبرد

في رده على سيبويه "في الكتاب"

بسم الله الرحمن الرحيم

قال أبو العباس أحمد بن محمد بن ولاد النحوي: هذا كتاب نذكر فيه المسائل التي زعم أبو العباس محمد بن يزيد أن سيبويه غلط فيها، ونبينها، ونرد الشبه التي لحقت فيها، ولعل بعض من يقرأ كتابنا هذا ينكر ردنا على أبي العباس، وليس ردنا عليه بأشنع من رده على سيبويه، فإنه رد عليه برأي نفسه ورأي من دون سيبويه، ومع ردنا عليه فنحن معترفون بالانتفاع به لأنه نبه على وجوه السؤال ومواضع الشك، إلا أنه إذا تبين الحق كان أولى بنا وأعود بالنفع علينا، وبالله التوفيق.

 

‌‌مسألة [1]

قال محمد بن يزيد: من ذلك قوله في باب مجاري أواخر الكلم: قال سيبويه: (وإنما ذكرت ثمانية مجار لا فرق بين ما يدخله ضرب من هذه الأربعة لما يحدث فيه العامل- وليس شيء منها إلا وهو يزول عنه- وبين ما يبنى عليه الحرف بناء لا يزول عنه لغير شيء أحدث ذلك فيه من العوامل.

قال محمد بن يزيد: هذا تمثيل رديء، وذلك أن الذي يدخله ضرب من هذه الأربعة هو الحرف، نحو الدال من زيد، والذي يبنى عليه الحرف هو الحركة، نحو الضمة التي يبنى عليها ثاء (حيث)، والفتحة التي يبنى عليها نون (أين)، فعدل حركة بحرف، وإنما كان ينبغي أن يعدل الحركة بالحركة والحرف بالحرف.
কিতাব আল-ইনতিসার, অথবা আল-মুব্বারাদ-এর ওপর ইবনে ওয়াল্লাদ-এর খণ্ডনমূলক গ্রন্থ

সিবাওয়াইহ-এর "আল-কিতাব"-এর ওপর তার আপত্তির প্রত্যুত্তরে

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ওয়াল্লাদ আন-নাহবী বলেন: এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমরা সেইসব মাসআলা বা বিষয়সমূহ উল্লেখ করব যেগুলোতে আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ দাবি করেছেন যে সিবাওয়াইহ ভুল (غلط) করেছেন; এবং আমরা সেগুলো ব্যাখ্যা করব এবং সেগুলোতে আসা সংশয় (شبه) নিরসন করব। আমাদের এই গ্রন্থ পাঠকারী কেউ কেউ হয়তো আবু আল-আব্বাসের ওপর আমাদের এই প্রত্যুত্তরকে অপছন্দ করতে পারেন, তবে তার ওপর আমাদের এই প্রত্যুত্তর সিবাওয়াইহ-এর ওপর তার করা আপত্তির চেয়ে বেশি আপত্তিকর নয়। কারণ তিনি সিবাওয়াইহ-এর ওপর নিজ অভিমত এবং সিবাওয়াইহ-এর চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে আপত্তি করেছেন। তার ওপর আমাদের এই প্রত্যুত্তর সত্ত্বেও আমরা তার থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করি, কারণ তিনি প্রশ্নের বিভিন্ন দিক এবং সন্দেহের স্থানগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবে যখন সত্য স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন সেটি গ্রহণ করাই আমাদের জন্য অধিক শ্রেয় এবং অধিক উপকারী। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক বা সাহায্য প্রার্থনা করছি।

 

‌‌মাসআলা [১]

মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বলেন: এর মধ্যে একটি হলো শব্দের শেষাংশের অবস্থা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে সিবাওয়াইহের বক্তব্য। সিবাওয়াইহ বলেছেন: (আমি কেবল আটটি অবস্থার কথা উল্লেখ করেছি; আমিল বা কারক-এর প্রভাবে এই চার প্রকারের মধ্যে যা প্রবেশ করে—এবং এর প্রতিটিই পরিবর্তনশীল—এবং যার ওপর বর্ণটি এমনভাবে স্থির (بناء) হয় যা কোনো প্রভাবক বা আমিল-এর কারণে পরিবর্তিত হয় না, এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই)।

মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বলেন: এটি একটি নিকৃষ্ট (رديء) তুলনা। কারণ এই চার প্রকারের যে বিষয়টি প্রবেশ করে তা হলো বর্ণ বা হরফ, যেমন ‘জাইদ’ শব্দের ‘দাল’ বর্ণটি। আর যার ওপর বর্ণটি স্থির (بناء) হয় তা হলো হরকত বা স্বরচিহ্ন, যেমন ‘হাইসু’ শব্দের ‘সা’ বর্ণের ওপর দম্মা বা পেশ, এবং ‘আইনা’ শব্দের ‘নুন’ বর্ণের ওপর ফাতহা বা জবর। সুতরাং তিনি স্বরচিহ্ন বা হরকতকে বর্ণের সাথে তুলনা করেছেন। অথচ স্বরচিহ্নকে স্বরচিহ্নের সাথে এবং বর্ণকে বর্ণের সাথে তুলনা করা উচিত ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
قال أحمد بن محمد: هذا الرد يحكى عن المازني، وقد رد أيضا مسألة أخرى في هذا الباب، إلا أنا نقتصر على المسائل التي جمعها محمد بن يزيد وألفها في كتابه، وأما الحكايات فنحن نذكرها في مواضع من تفاسير الكتاب.

أما قوله: عدل بين حركة وحرف، فهذا جائز في اللفظ من غير وجه، أحدها، يكون أراد لأفرق بين حركة ما يدخله ضرب من هذه الأربعة وبين ما يبنى عليه الحرف بناء، فحذف/3/ المضاف وأقام المضاف إليه مقامه، واجتزأ بذلك لعلم المخاطب بما يعني، وهذا شائع، ومنه قول الله عز وجل: {إنه عمل غير صالح}، {وسئل القرية}، وما أشبه ذلك، وقولك: الفرق بين الحجاز وأهل الشرق كيت وكيت، تحذف أهل من أول الكلام، لأن المخاطب (قد) علم أنك مفرق بين الأهلين، وكذلك إذا قلت: الفرق بين الفرات وماء دجلة، وبين الفرات وطعم دجلة كذا وكذا، علم أنك مفرق بين الطعمين، ولا نعلم أحدا منع من إجازة ذلك ما لم يكن لبس في الحذف، فهذا على وجه المجاز.

ووجه آخر على غير هذا الطريق، وهو أن يكون سمى الحركة حرفا في قوله: (يبنى عليه الحرف)، يريد بالحرف الحركة كما قال النحويون: العربية على أربعة أحرف: على الرفع والنصب فجعلوا وجوه الإعراب حروفا، وكذلك: هو يقرأ بحرف فلان، فأما الحركة
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ বলেন: এই প্রত্যুত্তরটি আল-মাজিনী থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি এই অধ্যায়ে অন্য একটি মাসআলাও খণ্ডন করেছেন; তবে আমরা কেবল সেই মাসআলাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব যা মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ তার কিতাবে সংকলন ও রচনা করেছেন। আর বিবরণসমূহ সম্পর্কে আমরা কিতাবের ব্যাখ্যাসমূহের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা করব।

আর তার এই উক্তি: "হরকত ও হরফের মধ্যে সমতা বিধান করা", এটি ভাষাগতভাবে একাধিক কারণে বৈধ। তার একটি হলো, তিনি এই চার প্রকারের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের হরকত এবং যার ওপর হরফটি ভিত্তি করে গঠিত হয়, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে চেয়েছেন। ফলে তিনি মুদাফ বিলুপ্ত করেছেন এবং মুদাফ ইলাইহিকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন, /3/ এবং শ্রোতা উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত থাকায় তিনি এটুকুতেই যথেষ্ট মনে করেছেন। এটি একটি প্রচলিত রীতি। মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় এটি অসৎ কাজ}, {গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসা করুন} এবং এই জাতীয় উদাহরণগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন আপনার কথা: "হিজাজ এবং প্রাচ্যবাসীদের মধ্যে পার্থক্য হলো এই এই", এখানে আপনি বাক্যের প্রারম্ভ থেকে 'অধিবাসী' শব্দটি বিলুপ্ত করেছেন, কারণ শ্রোতা জানেন যে আপনি দুই অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে পার্থক্য করছেন। অনুরূপভাবে যখন আপনি বলেন: "ফোরাত এবং দজলার পানির মধ্যে পার্থক্য" অথবা "ফোরাত এবং দজলার স্বাদের মধ্যে পার্থক্য হলো এই এই", তখন এটি স্পষ্ট যে আপনি দুটি স্বাদের মধ্যে পার্থক্য করছেন। আমাদের জানামতে এমন কেউ নেই যিনি এটি বৈধ করা থেকে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না বিলুপ্তির ফলে কোনো অস্পষ্টতা তৈরি হয়। সুতরাং এটি রূপক (مجاز) প্রয়োগের একটি দিক।

অন্য একটি দিক যা এই পদ্ধতির বাইরে, তা হলো তিনি তার উক্তি: "(যার ওপর হরফটি ভিত্তি করে গঠিত হয়)"-তে হরকতকে 'হরফ' নামে অভিহিত করেছেন। এখানে হরফ দ্বারা তিনি হরকতকে বুঝিয়েছেন, যেমন নাহুবিদগণ বলেন: "আরবি ভাষা চারটি হরফের ওপর ভিত্তি করে: রাফ এবং নাসব-এর ওপর।" তারা ইরাবের অবস্থাসমূহকে হরফ হিসেবে গণ্য করেছেন। অনুরূপভাবে বলা হয়: "সে অমুক ব্যক্তির পঠন রীতি (حرف) অনুযায়ী পাঠ করে।" আর হরকত প্রসঙ্গে...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
فهي حرف على الحقيقة، لأن الضمة واو صغرى، كأنه قال: لأفرق بين ما يدخله ضرب من هذه الأربعة يعني الدال من زيد، وبين ما يبنى عليه الحرف، يعني الثاء من (حيث)، فهي التي يبنى عليها الحرف، والحرف الضمة، هذا على حقيقة اللفظ لا على وجه المجاز، لأنه عدل بين حرف الإعراب وحرف البناء في اللفظ وفي المعنى، وفي التأويل الأول فرق بين الحركتين، وحذف أحدهما) من اللفظ.

ووجه آخر، [وهو] أن يكون فرق بين الاسم المعرب والاسم المبني، فكأنه قال: لأفرق بين ما يدخله ضرب من هذه الأربعة، يعني زيداً، وما أشبهه من الأسماء المتمكنة، وبين ما يبنى عليه الحرف، يعني (حيث) وما أشبهه من الأسماء المبنية كما في الثاء بنيت بضمتها على حيث.

فهذه ثلاثة أوجه: أولها، أنه فرق بين حركة الإعراب وحركة البناء، وحذف (حركة) من الأول واجتزأ بذكر الثانية، والوجه الثاني، فرق (فيه) بين حرف الإعراب وحرف البناء، كالدال من زيد والثاء من (حيث) على التأويل الذي ذكرناه، والوجه الثالث، فرق فيه بين الاسم المعرب والاسم المبني، وكل هذه الوجوه إلى معنى واحد ترجع، لأن الذي قصده في هذا القول معنى تؤدي هذه الوجوه إليه.

مسألة [2]

ومن ذلك قوله في هذا الباب: (واعلم أنك إذا ثنيت الواحد لحقته زائدتان: الأولى /4/ منهما حرف المد واللين، وهو حرف الإعراب).

قال محمد بن يزيد: فزعم أن الألف والياء في الاثنين، والواو والياء في الجميع حروف
এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বর্ণ, কারণ পেশ (ضمة) হলো একটি ক্ষুদ্র 'ওয়াও' (و)। তিনি যেন বলতে চেয়েছেন: আমি পার্থক্য করতে চাই এমন কিছুর মধ্যে যাতে এই চারটির কোনো একটি প্রকার প্রবেশ করে—অর্থাৎ 'যাইদ' শব্দের 'দাল'—এবং যার ওপর বর্ণটি ভিত্তি করে গঠিত হয় অর্থাৎ 'হাইসু' (حيث) শব্দের 'সা' (ث)। কারণ সেই বর্ণটির ওপরই শব্দটি ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে এবং বর্ণটি হলো পেশ (ضمة)। এটি শব্দের প্রকৃত অর্থের ভিত্তিতে, রূপক অর্থে নয়। কারণ তিনি শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে ব্যাকরণিক পরিবর্তনের বর্ণ (حرف الإعراب) এবং অপরিবর্তনীয় গঠনের বর্ণের (حرف البناء) মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখেছেন। আর প্রথম ব্যাখ্যা অনুযায়ী তিনি দুটি হরকতের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং শব্দ থেকে একটিকে (অর্থাৎ প্রথমটিকে) বিলোপ করেছেন।

আরেকটি দিক হলো, এটি পরিবর্তনশীল বিশেষ্য (اسم معرب) এবং অপরিবর্তনীয় বিশেষ্য (اسم مبني)-এর মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে। তিনি যেন বলতে চেয়েছেন: আমি পার্থক্য করতে চাই এমন কিছুর মধ্যে যাতে এই চারটির কোনো একটি প্রবেশ করে—অর্থাৎ 'যাইদ' এবং তার সদৃশ অন্যান্য পরিবর্তনশীল বিশেষ্যসমূহ—এবং যার ওপর বর্ণটি ভিত্তি করে গঠিত হয় অর্থাৎ 'হাইসু' (حيث) এবং তার সদৃশ অন্যান্য অপরিবর্তনীয় বিশেষ্য (اسم مبني) সমূহ, যেমন 'হাইসু' শব্দে 'সা' বর্ণটি তার পেশ (ضمة)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে।

সুতরাং এগুলো হলো তিনটি দিক: প্রথমটি হলো, তিনি ব্যাকরণিক পরিবর্তনের হরকত (حركة الإعراب) এবং অপরিবর্তনীয় গঠনের হরকত (حركة البناء)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং প্রথমটি থেকে 'হরকত' (حركة) শব্দটি বিলোপ করে দ্বিতীয়টি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় দিকটি হলো, এতে ব্যাকরণিক পরিবর্তনের বর্ণ (حرف الإعراب) এবং অপরিবর্তনীয় গঠনের বর্ণ (حرف البناء)-এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে 'যাইদ'-এর 'দাল' এবং 'হাইসু'-এর 'সা'-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছি। তৃতীয় দিকটি হলো, এতে পরিবর্তনশীল বিশেষ্য (اسم معرب) এবং অপরিবর্তনীয় বিশেষ্য (اسم مبني)-এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। এই সকল দিকই একটি মূল অর্থের দিকে ফিরে যায়, কারণ তিনি এই বক্তব্যের মাধ্যমে এমন একটি অর্থ বুঝাতে চেয়েছেন যা এই ব্যাখ্যাসমূহ প্রকাশ করে।

মাসআলা [২]

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো এই অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: (জেনে রেখো যে, তুমি যখন একবচনকে দ্বিবচন করবে, তখন তার শেষে দুটি অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হবে: তার প্রথমটি হলো দীর্ঘায়িত বর্ণ (حرف المد) ও কোমল বর্ণ (حرف اللين), আর সেটিই হলো ব্যাকরণিক পরিবর্তনের বর্ণ (حرف الإعراب))।

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেছেন: তিনি দাবি করেছেন যে, দ্বিবচনের ক্ষেত্রে আলিফ ও ইয়া এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে ওয়াও ও ইয়া হলো বর্ণসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
الإعراب، وهذا محال، لأنها لو كانت حروف الإعراب كان الإعراب لازما لها وهو غيرها، نحو دال زيد، لما كانت حرف الإعراب هي وما أشبهها، كان ما يعتورها من الضم والكسر والفتح هو الإعراب، وليست الألف في التثنية وما ذكرنا معها إعرابا، لأن الإعراب حركة في حرف إعراب، ولكنها دلائل على الإعراب، وهذا قول أبي الحسن الأخفش وأبي عثمان المازني، وكذلك تاء مسلمات [ … ].

 

‌‌مسألة [3]

[ … ] إلا بحرف جر، كما أن ذهبت أصله ألا يتعدى إلا بحرف، ويدل على ذلك أن مصدره مصدر ما لا يتعدى، وهو فعلو، تقول: دخل دخولا كما تقول: قعد قعودا، وجلس جلوسا، وذهب ذهوبا، ففعول مصدر ما لا يتعدى من الأفعال، ألا ترى أن سيبويه قال في باب بناء الأفعال التي هي أعمال تعداك إلى غيرك ومصادرها: إن فعولا إنما يكون لما لا يتعدى نحو: قعد قعودا، وجلس جلوسا، وثبت ثبوتا، وذهب ذهوبا، وقد قالوا: الذهاب
ই’রাব (الإعرাব), এবং এটি অসম্ভব, কারণ এগুলো যদি ই’রাব (الإعرাব)-এর বর্ণ হতো, তবে ই’রাব (الإعرাব) এগুলোর জন্য অপরিহার্য হতো, অথচ ই’রাব (الإعرাব) এগুলো ছাড়া অন্য কিছু। যেমন যায়েদ শব্দের ‘দাল’ বর্ণটি; যখন এটি এবং এর অনুরূপ বর্ণগুলো ই’রাব (الإعرাব)-এর বর্ণ হয়, তখন এগুলোতে যে পেশ (الضم), যের (الكسر) এবং যবর (الفتح) আবর্তিত হয়, তাই হলো ই’রাব (الإعرাব)। দ্বিবচন (التثنية) এবং এর সাথে আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে বিদ্যমান আলিফ কোনো ই’রাব (الإعرাব) নয়, কারণ ই’রাব (الإعرাব) হলো ই’রাব (الإعرাব)-এর বর্ণের মধ্যকার একটি হরকত (الحركة), কিন্তু এগুলো ই’রাব (الإعرাব)-এর নিদর্শন মাত্র। এটি আবুল হাসান আল-আখফাশ এবং আবু উসমান আল-মাযিনির অভিমত, আর অনুরূপভাবে মুসলিমাত শব্দের ‘তা’ [ … ]।

 

‌‌মাসয়ালা [৩]

[ … ] কেবল হরফে জর (حرف جر) যোগে; যেমন ‘যাহাবতু’-এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো কোনো হরফ (অব্যয়) ব্যতীত সকর্মক (تعدي) না হওয়া। এর প্রমাণ হলো, এর মাসদার (مصدر) হলো অকর্মক (لا يتعدى) ক্রিয়ার মাসদারের ন্যায়, আর তা হলো ‘ফুউল’ ওজনে। আপনি বলেন: ‘দাখালা দুখুলান’, যেমন আপনি বলেন: ‘কা’য়াদা কু’উদান’, ‘জালাসা জুলুসান’ এবং ‘যাহাবা যুহুবান’। সুতরাং ‘ফুউল’ হলো অকর্মক (لا يتعدى) ক্রিয়াগুলোর মাসদার (مصدر)। আপনি কি দেখেননি যে, সিবওয়াইহ ক্রিয়া গঠন—যা আপনার কাজকে অন্যের দিকে চালিত করে—এবং সেগুলোর মাসদার (مصدر) সম্পর্কিত অধ্যায়ে বলেছেন: ‘ফুউল’ কেবল অকর্মক (لا يتعدى) ক্রিয়ার ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে; যেমন: ‘কা’য়াদা কু’উদান’, ‘জালাসা জুলুসান’, ‘সাবাতা সুবুতান’ এবং ‘যাহাবা যুহুবান’। আর তারা ‘আয-যাহাব’ শব্দটিও ব্যবহার করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
والثبات، قال: وأما قولهم: دخلته دخولا، وولجته ولوجا، فكان الأصل ولجت فيه ودخلت فيه، إلا أنهم حذفوا (في) كما قالوا: نبئت زيدا، يريدون عن زيد، فحذفوا (عن) ها هنا.

هذا معني قول سيبويه: إن ذهبت الشام مثل دخلت البيت، أراد به أن حرف الجر حذفت مع ذهبت كما أنه حذف مع دخلت، وليس بين واحد من الأمرين وغيره فرق في الأصل، إلا أن العرب ربما استعملت الحذف في بعض الأشياء أكثر من بعض، فيتوهم بذلك المتوهم أن ما استعمل فيه الحذف أكثر أصله التعدي، وليس الأمر كذلك، وإنما يكون كثرة الحذف على قدر كثرة الاستعمال، وربما استعمل الشيء محذوفا، ولم يتكلم بالأصل البتة، فأما ذهب ودخل فقد استعمل معهما الوجهان، أعني حذف حرف الجر وإثباته كقولهم: دخلت في الدار، [ودخلت الدار]، وذهبت إلى الشام، وذهبت الشام واستعمالهم /5/ حرف الجر في جميع المواضع مع فعلت وأنه غير ممتنع معها على حال يدل على أنه الأصل وأن الحذف فرع.

وأما قوله: إن كل ما كان مثل البيت فهو بيت، وليس كل ما كان مثل الشام فهو شام، فلا وجه له، لأن تعدي الفعل يأتي في النكرة والمعرفة سواء بكرف أو بغير حرف، تقول: دخلت مكة، ودخلت في مكة، ودخلت بيتا حسنا، ودخلت في بيت حسن،
এবং স্থায়িত্ব; তিনি বলেছেন: আর তাদের উক্তি: "আমি তাতে প্রবেশ করেছি (دخلته)" এবং "আমি তাতে ঢুকেছি (ولجته)", এর মূল রূপ ছিল "আমি তাতে ঢুকেছি (ولجت فيه)" এবং "আমি তাতে প্রবেশ করেছি (دخلت فيه)"। তবে তারা "في" বর্ণটি বিলোপ (حذف) করেছে, যেমন তারা বলে: "আমাকে জায়েদ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে (نبئت زيدا)", যেখানে তারা "জায়েদ হতে (عن زيد)" বুঝাতে চায়, তাই তারা এখানে "عن" বর্ণটি বিলোপ (حذف) করেছে।

সিবওয়াইহ-এর উক্তির অর্থ এটাই যে: "আমি সিরিয়া গিয়েছি (ذهبت الشام)" বাক্যটি "আমি ঘরে প্রবেশ করেছি (دخلت البيت)" এর মতো। তিনি এর মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে, 'ذهبت' এর সাথে পদান্বয়ী অব্যয় (حرف الجر) বিলোপ (حذف) করা হয়েছে, যেমনটি 'دخلت' এর সাথে বিলোপ (حذف) করা হয়েছে। মূল (الأصل) বিচারে এই দুই বিষয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে আরবরা কখনো কখনো কিছু ক্ষেত্রে অন্য ক্ষেত্রের তুলনায় অধিক পরিমাণে বিলোপ (الحذف) ব্যবহার করে থাকে। এর ফলে কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তি মনে করতে পারেন যে, যেখানে বিলোপ (الحذف) বেশি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটির মূল (الأصل) প্রকৃতিই হলো সকর্মক (المتعدي), কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। বরং ব্যবহারের আধিক্যের ওপর ভিত্তি করেই বিলোপের (الحذف) আধিক্য ঘটে থাকে। কখনো কখনো কোনো শব্দ কেবল বিলোপকৃত (محذوفا) রূপেই ব্যবহৃত হয় এবং মূল (الأصل) রূপে মোটেও বলা হয় না। আর 'ذهب' ও 'دخل' এর ক্ষেত্রে উভয় পদ্ধতিই ব্যবহৃত হয়েছে—অর্থাৎ পদান্বয়ী অব্যয় (حرف الجر) বিলোপ (حذف) করা এবং তা বহাল রাখা। যেমন তাদের কথা: "আমি বাড়িতে প্রবেশ করেছি (دخلت في الدار)" এবং "[আমি বাড়িতে প্রবেশ করেছি (دخلت الدار)]", এবং "আমি সিরিয়ায় গিয়েছি (ذهبت إلى الشام)" ও "আমি সিরিয়া গিয়েছি (ذهبت الشام)"। সব স্থানে ক্রিয়ার সাথে পদান্বয়ী অব্যয়ের (حرف الجر) ব্যবহার এবং কোনো অবস্থাতেই তা নিষিদ্ধ না হওয়া প্রমাণ করে যে, অব্যয় থাকাটাই হলো মূল (الأصل) আর বিলোপ (الحذف) হলো গৌণ (الفرع)।

আর তার বক্তব্য: "যা কিছু ঘরের মতো তা ঘরই, কিন্তু যা সিরিয়ার মতো তা সিরিয়া নয়"—এর কোনো ভিত্তি নেই। কারণ ক্রিয়ার সকর্মক (تعدي) হওয়া নির্দিষ্ট (المعرفة) এবং অনির্দিষ্ট (النكرة) উভয় বিশেষ্যের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য, অব্যয় যোগে হোক বা অব্যয় ছাড়া। আপনি বলেন: "আমি মক্কায় প্রবেশ করেছি (دخلت مكة)" এবং "আমি মক্কায় প্রবেশ করেছি (دخلت في مكة)", এবং "আমি একটি সুন্দর ঘরে প্রবেশ করেছি (دخلت بيتا حسنا)" ও "আমি একটি সুন্দর ঘরে প্রবেশ করেছি (دخلت في بيت حسن)"।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
وكذلك ما كان مثله.

 

‌‌مسألة [4]

قال: ومن ذلك قوله في باب الفاعل الذي يتعداه فعله إلى مفعولين ويقتصر على أحدهما إن شاء، قال: ومما حذف فيه حرف الجر قول المتلمس:

آليت حب العراق الدهر أطعمه … والحب يأكله في القرية السوس

قال: يريد، على حب العراق)

قال محمد بن يزيد: وهذا خطأ، إنما هو آليت أطعم حب العراق، أي لا أطعم حب العراق، كما تقول: والله أبرح من هنا، أي: لا أبرح.

وقال في هذا الموضع: (نبئت زيدا، أي: عن زيد)، وليس كذلك، لأن نبأت زيدا معناه أعلمت زيدا ونبئت زيدا أعلمت زيدا، وإن قال قائل: نبئت عن زيد قائما، وضع موضع حدثت، فمبني على ضربين لا يحمل الكلام إلا على وجهه.

قال أحمد بن محمد بن ولاد، آليت وحلفت وأقسمت أفعال تتعدى إلى المحلوف عليه بحرف الجر، فتقول: حلفت على زيد لا أكلمه، وإن شئت قلت: حلفت على زيد، ولم
এবং অনুরূপ যা কিছু আছে।

 

‌‌মাসআলা [৪]

তিনি বলেন: এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সেই ফায়েল (কর্তা) সংক্রান্ত অধ্যায়ে তাঁর বক্তব্য, যার ফেয়েল (ক্রিয়া) দুটি মাফউলের (কর্ম) দিকে ধাবিত হয় এবং ইচ্ছা করলে যে কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা যায়। তিনি বলেন: যে সব স্থানে হরফে জর (অব্যয়) উহ্য রাখা হয়েছে, তার উদাহরণ হলো মুতালাম্মিসের কবিতা:

আমি শপথ করেছি আজীবন ইরাকের শস্য ভক্ষণ করব … অথচ গ্রামের শস্য তো উইপোকা খেয়ে ফেলে।

তিনি বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ইরাকের শস্যের ওপর (শপথ করা)।

মুহাম্মদ ইবন ইয়াজিদ বলেন: এটি ভুল; মূলত এটি হলো 'আমি শপথ করেছি ইরাকের শস্য খাব (না)', অর্থাৎ 'আমি ইরাকের শস্য খাব না', যেমনটি আপনি বলে থাকেন: 'আল্লাহর কসম, আমি এখান থেকে সরব (না)', অর্থাৎ 'আমি সরব না'।

তিনি এই স্থানে বলেছেন: (আমি যায়েদ সম্পর্কে সংবাদ প্রাপ্ত হয়েছি, অর্থাৎ যায়েদ হতে), কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। কারণ 'নাব্বাতু যায়দান' এর অর্থ হলো 'আমি যায়েদকে সংবাদ দিয়েছি' এবং 'নুব্বিয়াতু যায়দান' এর অর্থ 'যায়েদকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে'। আর যদি কেউ বলে: 'যায়েদ দণ্ডায়মান থাকা অবস্থায় তার পক্ষ হতে আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে', তবে তা 'হাদ্দাসতু' (আমি বর্ণনা করেছি) এর স্থলাভিষিক্ত হবে। সুতরাং এটি দুই প্রকারের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যা তার প্রকৃত অর্থ ব্যতিরেকে অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ওয়াল্লাদ বলেন: 'আলইতু' (আমি শপথ করেছি), 'হালাফতু' (আমি হলফ করেছি) এবং 'আকসামতু' (আমি কসম করেছি) এমন সব ক্রিয়া যা হরফে জরের (অব্যয়) মাধ্যমে মাহলুফ আলাইহির (যার নামে শপথ করা হয়) দিকে ধাবিত হয়। সুতরাং আপনি বলবেন: 'আমি যায়েদের নামে শপথ করেছি যে আমি তার সাথে কথা বলব না', আর আপনি চাইলে বলতে পারেন: 'আমি যায়েদের নামে শপথ করেছি', কিন্তু...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
تأت بجواب، لأن حلفت جملة مكتفى بها غير محتاجة إلى سواها، وإذا قلت: حلفت لا أفعل، فهو كقولك: والله لا أفعل، إلا أنك إذا قلت: والله، فلا بد من جواب القسم، وإلا لم يكن كلاما، فلو جاز أن تقول: إذا حذفنا حرف الجر من حلفت وآليت وما أشبههما، إن الاسم الذي يليهما انتصب أو ارتفع بفعل يفسره جواب القسم، وجواب القسم مع هذه الأفعال لا يلزم الإتيان به، لأنه جملة تامة غير الجملة الأولى، لأن الكلام قد تم دونه، لكان الإضمار مع ما يلزم الكلام أوجب، فيلزمه على هذا في المجازاة أن نقول إذا حذف حرف الجر للضرورة: إن تمرر أخوك يكرمك/6/. فرفع الأخ بفعل يفسره جواب المجازاة، كأنه قال: إن تمرر يكرمك أخوك، ويكون يكرمك مفسرا، وهو يريد (معنى) إن تمرر بأخيك يكرمك، فيبطل عمل يمرر ومفعوله يليه، ويرفع مفعوله بفعل مضمر.

ويلزمه أن يقول فيما يتعدى بغير حرف كما يلزمه فيما يتعدى بحرف، فيجوز، إن تضرب زيد ينته، وإن تزر عمرو يكرمك، فيبطل عمل تضرب وتزور، ولا تعملها في مفعوليهما وهما يليانهما بغير حائل، وتضمر لهما فعلين يرفعانهما، لأن لهما في آخر الكلام ضميرين فاعلين، وهذا لا يجوز من قول آخر.

ويجوز أيضا على قوله، رأيت زيد يضرب، على أن ترفع زيدا بفعل يفسره (يضرب)، ولا تنصبه برأيت، وتبطل عمل (رأيت) كما أبطل عمل (آليت)، ونصب (حب العراق) بفعل يفسره لا أطعم، ولا فرق بينهما، إلا أن هذا فعل يتعدى بحرف، وذاك بلا حرف، فإذا حذفنا الحرف استويا جميعا وتعدى الفعل، فنصب ما كان مجرورا.

وكذلك لو اضطر شاعر إلى أن يقول مثل: مررت زيدا يضربه عمرو للزم على قوله أن ينصب زيدا بفعل مضمر يفسره (يضرب)، فإن قال: ليس بمنساغ في اللفظ أن تقول: مررت يضرب زيدا عمرو، قيل له: وهو منساغ في المجازاة أن تقول: في مثل: إن تمرر بزيد يكرمك، أن تقول: إن تمرر يكرمك زيد، فأجز إن تمرر زيد يكرمك، على أن ترفع
আপনি কোনো উত্তর নিয়ে আসবেন না, কারণ "আমি শপথ করেছি" একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাক্য যা অন্য কোনো বিষয়ের মুখাপেক্ষী নয়। আর যখন আপনি বলেন: "আমি শপথ করেছি যে আমি করব না", তবে এটি আপনার এই কথার মতো: "আল্লাহর কসম, আমি করব না"; তবে পার্থক্য হলো যখন আপনি "আল্লাহর কসম" বলেন, তখন শপথের উত্তর থাকা অনিবার্য, অন্যথায় তা পূর্ণাঙ্গ বাক্য হিসেবে গণ্য হবে না। সুতরাং যদি এটি জায়েজ হতো যে—যখন আমরা "আমি শপথ করেছি" এবং "আমি কসম খেয়েছি" ও এই জাতীয় ক্রিয়াগুলো থেকে অব্যয় বিলুপ্ত করি, তখন তাদের পরবর্তী বিশেষ্যটি এমন একটি ক্রিয়া দ্বারা জবর (নসব) বা পেশ (রফা) প্রাপ্ত হবে যা শপথের উত্তর দ্বারা ব্যাখ্যাত হয়—তবে এই ক্রিয়াগুলোর সাথে শপথের উত্তর নিয়ে আসা আবশ্যক হতো না। কারণ এটি প্রথম বাক্যটি থেকে ভিন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য এবং এই উত্তর ছাড়াও বক্তব্যটি পূর্ণতা পায়। যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে যে ক্ষেত্রে বাক্য পূর্ণ হওয়া অনিবার্য, সেখানে উহ্য রাখা আরও বেশি জরুরি হতো। এমতাবস্থায় শর্ত ও প্রতিদানমূলক বাক্যের ক্ষেত্রেও তার জন্য এটি বলা আবশ্যক হয়ে পড়ত যে, যখন কাব্যিক প্রয়োজনে অব্যয় বিলুপ্ত করা হয়: "যদি তুমি তোমার ভাইয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করো তবে সে তোমাকে সম্মান করবে/৬/"। এখানে 'ভাই' শব্দটিকে এমন একটি ক্রিয়া দ্বারা পেশ প্রদান করা হয়েছে যা প্রতিদানমূলক অংশ দ্বারা ব্যাখ্যাত হয়। যেন সে বলেছে: "যদি তুমি অতিক্রম করো, তবে তোমার ভাই তোমাকে সম্মান করবে"; এখানে 'সম্মান করবে' অংশটিকে ব্যাখ্যাকারী হিসেবে ধরা হয়েছে। অথচ সে মূলত "যদি তুমি তোমার ভাইয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করো তবে সে তোমাকে সম্মান করবে" এরূপ অর্থই উদ্দেশ্য করেছে। এর ফলে 'অতিক্রম করা' ক্রিয়াটির আমল বা ব্যাকরণিক প্রভাব বাতিল হয়ে যায় অথচ তার কর্মপদটি তার সাথেই রয়েছে, এবং তার কর্মপদকে একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা পেশ প্রদান করা হয়।

আর তার জন্য এটি বলাও আবশ্যক হয়ে পড়ে যা অব্যয় ব্যতীতই কর্মে সংক্রামিত হয়, যেমনটি তার জন্য আবশ্যক হয় যা অব্যয়সহ সংক্রামিত হয়। ফলে এটি বৈধ হয়ে যায় যে: "যদি তুমি জায়েদকে প্রহার করো তবে সে নিবৃত্ত হবে" এবং "যদি তুমি আমরের সাথে সাক্ষাৎ করো তবে সে তোমাকে সম্মান করবে"। এতে 'প্রহার করা' এবং 'সাক্ষাৎ করা' ক্রিয়া দুটির আমল বাতিল হয়ে যায় এবং তাদের কর্মপদ দুটির ওপর তারা কোনো আমল করে না, যদিও তাদের মাঝে কোনো অন্তরায় নেই। আর তখন ওই কর্মপদ দুটির জন্য দুটি উহ্য ক্রিয়া ধরতে হয় যা তাদের পেশ প্রদান করে; কারণ বাক্যের শেষে তাদের জন্য দুটি কর্তৃবাচক সর্বনাম রয়েছে। আর অন্য কারো মতে এটি জায়েজ নয়।

তার মতানুসারে এটিও বৈধ যে: "আমি জায়েদকে দেখেছি সে প্রহার করছে", যেখানে 'যায়েদ' শব্দটিকে এমন একটি ক্রিয়া দ্বারা পেশ প্রদান করা হবে যা পরবর্তী ক্রিয়া (সে প্রহার করছে) দ্বারা ব্যাখ্যাত হয়, এবং 'দেখেছি' ক্রিয়া দ্বারা তাকে জবর প্রদান করা হবে না। এভাবে 'দেখেছি' ক্রিয়াটির আমল বাতিল করা হবে যেমনটি 'আমি কসম খেয়েছি' ক্রিয়াটির আমল বাতিল করা হয়েছিল। আর "ইরাকের ভালোবাসা" শব্দটিকে এমন একটি ক্রিয়া দ্বারা জবর প্রদান করা হবে যা "আমি স্বাদ গ্রহণ করব না" বাক্যটি দ্বারা ব্যাখ্যাত হয়। এই দুইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, কেবল পার্থক্য হলো একটি অব্যয় যোগে কর্মে সংক্রামিত হয় আর অন্যটি অব্যয় ছাড়া। সুতরাং যখন আমরা অব্যয়টি বিলুপ্ত করি, তখন উভয়টি সমান হয়ে যায় এবং ক্রিয়াটি কর্মে সংক্রামিত হয়, ফলে যা আগে জের অবস্থায় ছিল তা জবর প্রাপ্ত হয়।

অনুরূপভাবে, যদি কোনো কবি এমনটি বলতে বাধ্য হন যেমন: "আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি এমতাবস্থায় যে আমর তাকে প্রহার করছে", তবে তার মতানুসারে 'যায়েদ' শব্দটিকে একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা জবর দেওয়া আবশ্যক হবে যা 'প্রহার করছে' ক্রিয়াটি দ্বারা ব্যাখ্যাত হয়। যদি বলা হয়: এটি উচ্চারণে সাবলীল নয় যে আপনি বলবেন: "আমি অতিক্রম করেছি যায়েদকে আমর প্রহার করছে", তবে তাকে বলা হবে: শর্তমূলক বাক্যের ক্ষেত্রে কি এটি সাবলীল যে আপনি বলবেন যেমন: "যদি তুমি জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করো সে তোমাকে সম্মান করবে"—এর স্থলে "যদি তুমি অতিক্রম করো যায়েদ তোমাকে সম্মান করবে"? সুতরাং আপনি "যদি তুমি যায়েদ অতিক্রম করো সে তোমাকে সম্মান করবে" বাক্যটিকে জায়েজ মনে করুন এই ভিত্তিতে যে আপনি পেশ প্রদান করবেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৫০)
زيدا بفعل يفسره (يكرمك)، لأنه منساغ.

وجميع ما يجوز من هذا الباب فيما ينتصب ويرتفع على إضمار فعل يفسره الظاهر مبني من جملة واحدة، كقولك: أزيدا ضربته؟ فول حذفت الهاء لتسلط الفعل فعمل فقلت: أزيدا ضربت؟ ولا يكون ذلك من جملتين، ولو جاز إعمار الاسم الآخر في الاسم المعرض للفعل الأول لجاز إدخال عامل على عامل، ولجاز على هذا أن تقول: حلفت بزيد لأمرن، على أن تكون "الباء" معلقة بـ (لأمرن) وهذا خطأ من غير وجه، ولا يكون حينئذ ها هنا فرق بين المحلوف به والمحلوف عليه، لأن الباء يحتمل أن تكون متعلقة بحلفت، فيكون /7/ ما يليها مقسما به لا عليه، ألا ترى أنك تقول: حلفت على زيد وحلفت بزيد، فيختلف المعنى.

ومن الدليل على أن الباء متعلقة بحلفت لا بمررت، قولك: حلفت بزيد (لأمرن به)، وحلفت على زيد لأمرن به، فلو كانت الباء معلقة بمررت لم تقل: به، لأن الفعل لا يتعدى بباءين، ألا ترى أنك إذا قلت: بزيد مررت، استغنيت عن أن تقول: به، وكذلك إذا قلت: أزيدا مررت به؟ لم تأت بالباء في زيد.

قال أحمد: وأما قول أبي العباس: إن معنى نبئت عن زيد غير معنى نبئت زيدا، وقال: لأن نبأت زيدا معناه أعلمت زيدا.

(قال أحمد): فهذا المفعول إذا رد الفعل إلى ما لم يسم فاعله قام مقام الفاعل، وتعدى عن أن يدخل في المفعول الثاني إذا سميت الفاعل، وفي المفعول الأول إذا لم يسم الفاعل، فتقول: نبأت زيدا عن عمرو وبكذا وكذا، ونبئت عن زيد بكذا وكذا.
যায়েদকে এমন একটি ক্রিয়ার মাধ্যমে মানসুব (منصوب) করা হয়েছে যা পরবর্তী 'সে তোমাকে সম্মান করবে' (يكرمক) ক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করছে; কারণ এটি ব্যাকরণগতভাবে গ্রহণযোগ্য।

এই পরিচ্ছেদের যা কিছু এমন ক্রিয়ার উহ্য রাখার (إضمار) ভিত্তিতে মানসুব (منصوب) বা মারফু (مرفوع) হওয়া বৈধ যা দৃশ্যমান ক্রিয়া দ্বারা ব্যাখ্যাত হয়, তা মূলত একটি বাক্য (جملة واحدة) হিসেবে গঠিত। যেমন আপনার উক্তি: 'আমি কি যায়েদকে প্রহার করেছি?' (أزيدا ضربته؟)। এখানে যদি আপনি 'হা' (هاء) সর্বনামটি বিলুপ্ত করেন যাতে ক্রিয়াটি সরাসরি আমল (عمل) করতে পারে, তবে আপনি বলবেন: 'আমি কি যায়েদকে প্রহার করেছি?' (أزيدا ضربت؟)। এটি দুটি বাক্য থেকে হতে পারে না। যদি প্রথম ক্রিয়ার সম্মুখীন ইসমের ক্ষেত্রে পরবর্তী ইসমের আমল (عمل) কার্যকর করা বৈধ হতো, তবে এক আমেল (عامل) বা প্রভাবকের ওপর অন্য আমেলের (عامل) অনুপ্রবেশ বৈধ হয়ে যেত। সেই হিসেবে আপনার এটি বলাও বৈধ হতো: 'আমি যায়েদের কসম খেয়েছি যে আমি অবশ্যই যাব' (حلفت بزيد لأمرن), এই শর্তে যে 'বা' (الباء) হরফটি 'আমি অবশ্যই যাব' (لأمرن) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلقة) হবে। এটি বিভিন্ন দিক থেকে ভুল। সেক্ষেত্রে তখন যার নামে কসম খাওয়া হয়েছে (المحلوف به) এবং যার উদ্দেশ্যে কসম করা হয়েছে (المحلوف عليه)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না। কারণ 'বা' (الباء) হরফটি 'আমি কসম খেয়েছি' (حلفت) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلقة) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, ফলে পরবর্তী অংশটি হবে যার নামে কসম খাওয়া হয়েছে (مقسما به), যার উদ্দেশ্যে কসম করা হয়েছে তা নয়। আপনি কি দেখছেন না যে আপনি বলেন: 'আমি যায়েদের ব্যাপারে কসম খেয়েছি' (حلفت على زيد) এবং 'আমি যায়েদের নামে কসম খেয়েছি' (حلفت بزيد), ফলে অর্থ ভিন্ন হয়ে যায়?

'বা' (الباء) হরফটি যে 'আমি কসম খেয়েছি' (حلفت) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلقة), 'আমি অতিক্রম করেছি' (مررت) ক্রিয়ার সাথে নয়, তার একটি প্রমাণ হলো আপনার উক্তি: 'আমি যায়েদের নামে কসম খেয়েছি যে আমি অবশ্যই তার পাশ দিয়ে যাব' (حلفت بزيد لأمرن به), এবং 'আমি যায়েদের ব্যাপারে কসম খেয়েছি যে আমি অবশ্যই তার পাশ দিয়ে যাব' (حلفت على زيد لأمرن به)। যদি 'বা' (الباء) হরফটি 'অতিক্রম করা' (مررت) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلقة) হতো, তবে আপনি 'তার সাথে' (به) বলতে পারতেন না; কারণ একটি ক্রিয়া দুটি 'বা' (باء) যোগে সকর্মক (متعدي) হয় না। আপনি কি দেখছেন না যে, যখন আপনি বলেন: 'আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি' (بزيد مررت), তখন আপনি 'তার সাথে' (به) বলা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যান? তদ্রূপ আপনি যখন বলেন: 'যায়েদ কি? আমি কি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি?' (أزيدا مررت به؟), তখন আপনি 'যায়েদ' (زيد) শব্দের সাথে 'বা' (الباء) হরফটি আনেন না।

আহমদ রহ. বলেন: আর আবুল আব্বাসের এই বক্তব্যের ব্যাপারে যে— 'আমি যায়েদ সম্পর্কে অবহিত হয়েছি' (نبئت عن زيد)-এর অর্থ 'আমি যায়েদকে অবহিত করেছি' (نبئت زيدا)-এর অর্থের চেয়ে ভিন্ন; তিনি আরও বলেছেন: কারণ 'যায়েদকে অবহিত করেছি' (نبأت زيدا)-এর অর্থ হলো 'আমি যায়েদকে জানিয়েছি' (أعلمت زيدا)।

(আহমদ রহ. বলেন): সুতরাং এই কর্মপদ (مفعول) টি যখন ক্রিয়াকে কর্মবাচ্যে (ما لم يسم فاعله) রূপান্তর করা হয়, তখন তা কর্তা (فاعل)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়। যখন আপনি কর্তার নাম উল্লেখ করেন, তখন এটি দ্বিতীয় কর্মপদে (مفعول ثاني) প্রবেশের ক্ষেত্রে সকর্মক (متعدي) হয়; আর যখন কর্তার নাম উল্লেখ করা হয় না, তখন তা প্রথম কর্মপদে (مفعول أول) সকর্মক (متعدي) হয়। যেমন আপনি বলেন: 'আমি যায়েদকে আমর সম্পর্কে এবং অমুক অমুক বিষয়ে অবহিত করেছি' (نبأت زيدا عن عمرو وبكذا وكذا), এবং 'আমি যায়েদ সম্পর্কে অমুক অমুক বিষয়ে অবহিত হয়েছি' (نبئت عن زيد بكذا وكذا)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৫১)
وكذلك إذا عديتها، وحذفت (عن) قلت: نبئت زيدا كذا وكذا، ونبأت زيدا عمرا يفعل كذا وكذا، وأعلمت زيدا يفعل كذا وكذا.

فإن كان دخول الحرف مع أعلمت يجعل لها وجها غير وجهها إذا تعددت بغير حف، كان الأمر كذلك في نبئت، لأنه قد زعم أن معناها واحد، وإن كان معناهما واحدا في وجهيهما، أعني في دخول الحرف وخروجه منهما، فكذلك هو في نبئت، فلا تجد لها معنى غير ما ذكره سيبويه، لأن الإنباء هو الإخبار ونحوه، ولم يوجدنا محمد غير قوله في معنى حدثت إذا جئت بالحرف، أعني حرف الجر، فهل حدثت وأخبرت وخبرت وأنبئت وأعلمت، إلا متقاربة المعاني، وإن كانت العرب قد خالفت بين ألفاظها، وعدت بعضها بغير حرف وبعضها بحرف، وكيفما صرفت هذه الكلمة، أعني نبئت، فلا وجه للإنباء غير الإخبار والإعلام، فقولك: نبئت زيدا يفعل، ونبئت عن زيد أ، هـ يفعل، واحدا في المعنى وإن اختلف اللفظ والتقدير، وكذلك أعلمت عن زيد أن يفعل /8/ وأعلمت زيدا يفعل.

 

‌‌مسألة [5]

[قال محمد: ] ومن ذلك قوله في باب كان وأخواتها، قال سيبويه: (وقد يكون لكان موضع آخر يقتصر فيه على الاسم، فتقول: قد كان عبد الله، أي: خلق، وقد كان الأمر، أي: وقع.

قال محمد بن يزيد: واحتج بقوله:

بني أسد هل تعلمون بلاءنا … إذا كان يوم ذو كواكب أشنعا
একইভাবে যখন আপনি একে সকর্মক (متعدي) করবেন এবং 'আন' (عن) অব্যয়টি বিলোপ করবেন, তখন আপনি বলবেন: 'আমি জায়েদ সম্পর্কে এমন এমন সংবাদ পেয়েছি' (نبئت), 'আমি জায়েদকে আমরের এমন এমন করার সংবাদ দিয়েছি' (نبأت), এবং 'আমি জায়েদকে অবগত করেছি সে এমন করছে' (أعلمت)।

যদি 'অবহিত করেছি' (أعلمت) শব্দের সাথে অব্যয় যুক্ত হওয়ার কারণে এর অর্থ অব্যয়হীন অবস্থার চেয়ে ভিন্ন কোনো রূপ পরিগ্রহ করে, তবে 'আমি সংবাদ পেয়েছি' (نبئت) শব্দটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হবে। কারণ, দাবি করা হয়েছে যে এগুলোর অর্থ অভিন্ন। আর যদি উভয় অবস্থাতেই—অর্থাৎ অব্যয় যুক্ত হওয়া বা না হওয়ার ক্ষেত্রে—এগুলোর অর্থ এক হয়, তবে 'আমি সংবাদ পেয়েছি' (نبئت) শব্দটির ক্ষেত্রেও তাই হবে। সিবাওয়াইহ যা উল্লেখ করেছেন তার বাইরে আপনি এর অন্য কোনো অর্থ পাবেন না। কেননা সংবাদ প্রদান (الإنباء) হলো খবর প্রদান (الإخبار) বা অনুরূপ কিছু। 'আমি হাদিস বর্ণনা করেছি' (حدثت) শব্দের সাথে যখন আপনি অব্যয়—অর্থাৎ হরফে জার (حرف الجر)—যুক্ত করেন, তখন মুহম্মদ (ইবনে ইয়াজিদ আল-মুবররাদ) আমাদের সামনে এর কোনো ভিন্ন অর্থ উপস্থাপন করেননি। সুতরাং, 'আমি হাদিস বর্ণনা করেছি' (حدثت), 'আমি সংবাদ দিয়েছি' (أخبرت), 'আমি খবর দিয়েছি' (خبرت), 'আমি সংবাদ পেয়েছি' (نبئت) এবং 'আমি অবহিত করেছি' (أعلمت)—এগুলো কি অর্থগতভাবে কাছাকাছি নয়? যদিও আরবরা এগুলোর শব্দ চয়নে ভিন্নতা এনেছে এবং কোনোটি অব্যয়সহ আর কোনোটি অব্যয় ছাড়া ব্যবহার করেছে। আপনি 'আমি সংবাদ পেয়েছি' (نبئت) শব্দটিকে যেভাবেই রূপান্তর করুন না কেন, এর অর্থ সংবাদ প্রদান (الإنباء) এবং অবহিতকরণ (الإعلام) ব্যতিরেকে অন্য কিছু হতে পারে না। সুতরাং আপনার উক্তি: 'আমি জায়েদ সম্পর্কে সংবাদ পেয়েছি যে সে এটি করছে' এবং 'আমি জায়েদ হতে সংবাদ পেয়েছি যে সে এটি করছে'—শব্দ ও কাঠামোগত ভিন্নতা থাকলেও অর্থগতভাবে অভিন্ন। একইভাবে 'আমি জায়েদ সম্পর্কে অবহিত করেছি' এবং 'আমি জায়েদকে অবহিত করেছি' একই অর্থ বহন করে।

 

‌‌মাসআলা [৫]

[মুহম্মদ বলেন:] আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো 'কানা' (كان) এবং এর সমজাতীয় শব্দাবলির অধ্যায়ে তাঁর (সিবাওয়াইহর) উক্তি। সিবাওয়াইহ বলেছেন: "কখনো কখনো 'কানা' (كان) এমন স্থানে ব্যবহৃত হয় যেখানে এটি কেবল বিশেষ্য (الاسم) দিয়েই পূর্ণতা পায়। তখন আপনি বলবেন: 'আবদুল্লাহ ছিল' অর্থাৎ সে সৃষ্টি হয়েছে (خلق), এবং 'ঘটনাটি ছিল' অর্থাৎ তা ঘটেছে (وقع)।

মুহম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেন: তিনি এই কবিতাটি দ্বারা দলিল (احتج) পেশ করেছেন:

হে বনী আসাদ! তোমরা কি আমাদের বীরত্ব সম্পর্কে জানো... যখন নক্ষত্রখচিত একটি ভয়ংকর দিনের উদ্ভব হয়েছিল?
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৫২)
ولا حجة له في هذا لو رفع، لأن أشنعا يكون خبرا، وتكون (كان) متعدية.

قال أحمد: روى سيبويه هذا البيت على وجهين:

إذا كان يوما ذا كواكب أشنعا

أضمر اليوم في (كان)، كأنه قال: إذا كان اليوم يوما ذا كواكب، وزعم أ، بعضهم يرويه:

إذا كان يوم ذو كواكب أشنعا

ومعنى (كان) في الوجهين معنى وقع، و (يوما) منصوب على الحال، لأن الاسم المنكور لما كان يجوز أن يكون حالا صلح أ، يقع في موضع الحال، تقول: جاء زيد رجلا صالحا، ومثله قول الله عز وجل: {كبرت كلمة تخرج من أفواههم}، التقدير، كبرت الكلمة كلمة خارجة.

والوجه الآخر الذي وقع فيه يوم ذو كواكب، فهو أيضا على وقع، وأشنع حال.

فأما قول محمد: إنه ينصب (أشنع) على [أنه] خبر كان فهو غلط، لأنه لم يخبر بكان ها هنا عن أمر ثابت مستقر به، ألا ترى أنك إذا قلت: كان اليوم الذي تعلم عظيما، فقد أخبرت عن يوم (واقع) معلوم، قال: والشاعر لم يرد هذا، إنما أراد به، إذا وقع يوم هذه حاله فعل وصنع، ولم يخبرنا عن أمر واقع، لأن (إذا) في معنى الجزاء، ويوم زمان يحدث.

ولم يخالفه محمد في أن هذا الوجه قسم من أقسام كان، ولا في أن الشاهد يحتمل ذلك، وإنما فسر البيت على ما رآه محتملا غيره، وعلى أنه ليس بشاهد قاطع على المعنى الذي أراده سيبويه دون غيره، لما رأى (أشنعا) منصوبا، وكان غيره محتملا أن يكون خبرا
যদি তিনি রাফা (رفع) বা পেশযুক্ত করে পাঠ করতেন তবে এতে তাঁর জন্য কোনো প্রমাণ থাকত না; কারণ তখন ‘আশনাআ’ শব্দটি খবর (خبر) হিসেবে গণ্য হতো এবং ‘কানা’ শব্দটি সকর্মক (متعدية) হতো।

আহমদ বলেন: সিবওয়াইহ এই কাব্যংশটি দুইভাবে বর্ণনা (روى) করেছেন:

‘ইযা কানা ইয়াওমান যা কাওয়াকিবা আশনাআ’ (যখন নক্ষত্রখচিত একটি দিবস অত্যন্ত ভয়াবহ হবে)

তিনি ‘কানা’-এর মধ্যে ‘আল-ইয়াওম’ শব্দটিকে উহ্য রেখেছেন, যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: ‘যখন দিনটি নক্ষত্রখচিত একটি দিবস হবে’; আর তিনি দাবি করেছেন যে, তাদের কেউ কেউ এভাবে বর্ণনা (روى) করেন:

‘ইযা কানা ইয়াওমুন যু কাওয়াকিবা আশনাআ’

উভয় বর্ণনাতেই ‘কানা’-এর অর্থ হলো ‘সংঘটিত হওয়া’, এবং ‘ইয়াওমান’ শব্দটি হাল (حال) হিসেবে নসবযুক্ত (منصوب); কারণ নাকেরা বা অনির্দিষ্ট বিশেষ্য যখন হাল (حال) হওয়ার যোগ্যতা রাখে, তখন সেটি হালের স্থানে বসা শুদ্ধ হয়। যেমন আপনি বলেন: ‘যা-আ যায়দুন রাজুলান সালিহান’ (জায়েদ একজন নেককার লোক হিসেবে এসেছে)। এর অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {কতই না বড় কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হয়}, এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: ‘কথাটি একটি নির্গত কথা হিসেবে বড় হয়েছে’।

আর অন্য যে রূপটিতে ‘ইয়াওমুন যু কাওয়াকিবা’ এসেছে, সেখানেও এটি ‘সংঘটিত হওয়া’ অর্থে ব্যবহৃত এবং ‘আশনা’ শব্দটি হাল (حال)।

মুহাম্মাদের উক্তি—অর্থাৎ তিনি ‘আশনা’ শব্দটিকে ‘কানা’-এর খবর (خبر) হিসেবে নসব (نصب) দিয়েছেন—তা ভুল। কেননা তিনি এখানে ‘কানা’ দিয়ে কোনো সাব্যস্ত ও স্থিতিশীল বিষয় সম্পর্কে সংবাদ বা খবর (خبر) দেননি। আপনি কি দেখছেন না যে, যখন আপনি বলেন: ‘তোমার জানা দিনটি মহৎ ছিল’, তখন আপনি একটি বাস্তব ও পরিচিত দিন সম্পর্কে খবর (خبر) দিচ্ছেন। তিনি বলেন: কবি এটি উদ্দেশ্য করেননি, বরং তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন যে, ‘যখন এমন অবস্থাসম্পন্ন কোনো দিন সংঘটিত হবে, তখন অমুক কাজ করা হবে’; তিনি আমাদের কোনো বাস্তব ঘটনা সম্পর্কে খবর (خبر) দিচ্ছেন না, কারণ ‘ইযা’ এখানে প্রতিদানের অর্থে ব্যবহৃত এবং ‘ইয়াওম’ হচ্ছে একটি সময় যা ভবিষ্যতে ঘটবে।

মুহাম্মদ তাঁর সাথে এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি যে এই বিষয়টি ‘কানা’-এর প্রকারভেদগুলোর একটি প্রকার, আর এ বিষয়েও দ্বিমত করেননি যে এই উদ্ধৃতি বা শাহিদ (شاهد) এমন সম্ভাবনা রাখে। বরং তিনি কাব্যংশটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা তিনি অন্যভাবে সম্ভাব্য মনে করেছেন এবং এ ভিত্তিতে যে, এটি সিবওয়াইহ যে অর্থটি উদ্দেশ্য করেছেন তার ওপর অকাট্য শাহিদ (شاهد) বা প্রমাণ নয়, বরং অন্য অর্থের সম্ভাবনাও রাখে; কারণ তিনি যখন ‘আশনাআ’ শব্দটিকে নসবযুক্ত (منصوب) দেখেছেন, তখন অন্য কারো পক্ষে সেটিকে খবর (خبر) হিসেবে গণ্য করার সম্ভাবনাও ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
لا حالا، ولعمري لو أخبر به عن أمر مستقر ثابت، ولكنه أخبر به عن أمر يمكن حدوثه وفيه حرف الشركة، فمن ها هنا جعله سيبويه حالا ولم يجعله خبرا.

 

‌‌مسألة [6]

ومن ذلك قوله في باب ما يخبر فيه عن النكرة بالنكرة، قال سيبويه: (ولا يجوز لأحد أن تضعه في موضع واجب، لأن وقع /9/ في كلامهم نفيا عاما.

قال محمد: وليس كما قال، إنما خلا أحد أن يقع موقع الجميع، فإن كان في الإيجاب موضع يكون الواحد فيه على معنى الجميع وقع أحد فيه كما يقع في النفي نحو قولك: جاءني اليوم كل أحد، وأول أحد لقيت زيد، وعلى هذا قال الأخطل:

حتى بهرت فما تخفى على أحد … إلا على أحد لا يعرف القمرا

قال أحمد: قول محمد: إن أحدا يقع في الإيجاب إذا كان واحدا في معنى جميع يلزمه أن يقول: جاءني مئة أحد، ولقيت عشرين أحدا، فهذا واحد في معنى جميع، وليس يجيزه أحد، فقد دل (ذلك) على فساد قوله.

فأما ما استشهد به في الجوار، وهو أول أحد لقيت زيد، فلا يجوز هذا الكلام إلا أن يجعل أحدا في معنى واحد كما قال الله: {قل هو الله أحد} وليس أحد ها هنا هو
অবস্থাজ্ঞাপক (حال) হিসেবে নয়; আমার জীবনের শপথ, যদি তিনি একে একটি স্থিতিশীল ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিতেন, কিন্তু তিনি একে এমন একটি বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যার ঘটা সম্ভব এবং এতে অংশীদারিত্বের অর্থ রয়েছে। এই কারণেই সিবওয়াইহ একে অবস্থাজ্ঞাপক (حال) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং একে সংবাদ বা বিধেয় (خبر) হিসেবে গণ্য করেননি।

 

‌‌মাসআলা [৬]

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর সেই বক্তব্য যা অনির্দিষ্ট (نكرة) বিশেষ্য দ্বারা অনির্দিষ্ট (نكرة) বিশেষ্য সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের অধ্যায়ে রয়েছে। সিবওয়াইহ বলেছেন: (কারও জন্য এটি বৈধ নয় যে, সে 'আহাদ' (أحد) শব্দটিকে হাঁ-বোধক (إيجاب) স্থানে ব্যবহার করবে; কারণ এটি তাদের কথোপকথনে সাধারণ না-বোধক (نفي) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মুহাম্মাদ বলেন: বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তিনি বলেছেন। মূলত 'আহাদ' (أحد) শব্দটি সমষ্টির স্থলে ব্যবহৃত হতে বাধা নেই। সুতরাং হাঁ-বোধক (إيجাব) বাক্যে যদি এমন কোনো স্থান থাকে যেখানে 'এক' শব্দটি 'সকল' বা সমষ্টির অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে সেখানে 'আহাদ' (أحد) শব্দটি ব্যবহৃত হবে, যেভাবে তা না-বোধক (نفي) বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনার কথা: 'আজ আমার কাছে প্রত্যেক ব্যক্তি (كل أحد) এসেছে', এবং 'প্রথম যে ব্যক্তির (أحد) সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে সে হলো জায়েদ'। এরই ভিত্তিতে আল-আখতাল বলেছেন:

এমনকি সে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করল যে সে কারও (أحد) কাছেই গোপন নয় … কেবল সেই ব্যক্তি (أحد) ছাড়া যে চাঁদকে চেনে না।

আহমাদ বলেন: মুহাম্মাদের এই বক্তব্য—'আহাদ' (أحد) শব্দটি হাঁ-বোধক (إيجাব) বাক্যে ব্যবহৃত হয় যদি তা সমষ্টির অর্থে 'এক' বুঝায়—তবে এটি তাকে এ কথা বলতে বাধ্য করবে যে: 'আমার কাছে একশ জন ব্যক্তি (مئة أحد) এসেছে' অথবা 'আমি বিশ জন ব্যক্তির (عشرين أحدا) সাথে সাক্ষাৎ করেছি'। অথচ এটি সমষ্টির অর্থে 'এক' হওয়া সত্ত্বেও কেউ তা বৈধ বলেননি। সুতরাং এটি তাঁর বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করে।

আর তিনি সান্নিধ্যের বিষয়ে যা প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন, অর্থাৎ 'প্রথম যে ব্যক্তির (أحد) সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে সে হলো জায়েদ', তবে এই বাক্যটি বৈধ নয় যতক্ষণ না 'আহাদ' (أحد) শব্দটিকে 'এক' (واحد) অর্থে গ্রহণ করা হয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক (أحد)}। আর এখানে 'আহাদ' শব্দটি সেই অর্থে নয় যা...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
الذي يقع في النفي، وإن كان اشتقاقهما واحدا، لأن العرب وضعتهما وضعا مختلفا لمعنى، وكذلك قول الأخطل، معناه إلا على واحد لا يعرف القمر.

هذا الوجه الجيد، وقد يجوز فيه وجه آخر، وهو أن يضع لفظ الإيجاب على لفظ النفي، لأنه إيجاب لذلك المنفي، وهذا تقابل اللفظ، ولو ابتدأه موجبا على غير نفي يقدمه لم يجز، ألا ترى أنه لو قال: خفيت على أحد لا يعرف القمر لم يجز.

وكذلك المسألة الأخرى، جاءني اليوم كل أحد، لا يجوز هذا الكلام إلا أن يكون جوابا لقول قائل: ما جاءني اليوم أحد، فيقول المخبر: بل جاءني اليوم كل أحد، فيفسر القائل لفظه، والتفسير الأول الذي جاء به القرآن أجود.

 

‌‌مسألة [7]

ومن ذلك قوله في باب (ما): إن الخبر جاء في التقديم منصوبا في قول الفرزدق:

فأصبحوا قد أعاد الله نعمتهم … إذ هم قريش وإذا ما مثلهم بشر

قال محمد: وليس هذا موضع ضرورة، والفرزدق لغته الرفع في التأخير، ومن نصب الخبر مؤخرا رفعه مقدما، ولكنه نصبه على قوله: فيها قائما رجل، وهو قول أبي عثمان المازني، والخبر مضمر.

قال أحمد: قول محمد: (وليس هذا موضع ضرورة)، لا حجة فيه على سيبويه، إنما هي رواية عن العرب، والمحاجة في [مثل] هذا على العرب، أن يقول لهم /10/: لم أعربتم
যা নেতিবাচকতা (النفي) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যদিও শব্দদ্বয়ের বুৎপত্তিগত উৎস এক; কেননা আরবরা সুনির্দিষ্ট অর্থের জন্য সেগুলোকে ভিন্ন ভিন্নভাবে বিন্যস্ত করেছে। অনুরূপভাবে আল-আখতালের উক্তি; এর অর্থ হলো কেবল এমন এক ব্যক্তি ছাড়া যে চাঁদ চেনে না।

এটি একটি উত্তম দিক, তবে এতে অন্য একটি দিকও সম্ভব; আর তা হলো নেতিবাচক শব্দের অবস্থানে ইতিবাচক (الإيجاب) শব্দ প্রয়োগ করা, কারণ এটি সেই নেতিবাচক বিষয়েরই ইতিবাচক রূপ। এটি মূলত শব্দের পারস্পরিক বৈপরীত্য। যদি বাক্যটি ইতিবাচকভাবে শুরু হতো এবং পূর্বে কোনো নেতিবাচকতা না থাকত, তবে তা বৈধ হতো না। আপনি কি দেখছেন না যে, যদি বলা হতো: 'এটি এমন এক ব্যক্তির কাছে অস্পষ্ট ছিল যে চাঁদ চেনে না', তবে তা বৈধ হতো না?

অনুরূপভাবে অন্য মাসআলাটি: 'আজ আমার কাছে প্রত্যেকেই এসেছে'। এ কথাটি বলা তখনই বৈধ হবে যখন তা কোনো বক্তার এই উক্তির উত্তর হিসেবে আসে: 'আজ আমার কাছে কেউ আসেনি'। তখন সংবাদ প্রদানকারী বলেন: 'বরং আজ আমার কাছে প্রত্যেকেই এসেছে'। এর মাধ্যমে তিনি বক্তার শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তবে পবিত্র কুরআনে যে প্রথম ব্যাখ্যাটি এসেছে, সেটিই অধিকতর উত্তম।

 

‌‌মাসআলা [৭]

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'মা' (ما) অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: আল-ফারাজদাকের কবিতায় খবর (الخبر) শুরুতে এসে মানসুব (منصوبًا) হয়েছে:

অতঃপর তারা এমন অবস্থায় উপনীত হলো যে আল্লাহ তাদের নেয়ামত ফিরিয়ে দিয়েছেন … যখন তারা ছিল কুরাইশ এবং যখন তাদের সমতুল্য কোনো মানুষ ছিল না

মুহাম্মদ বলেন: এটি কাব্যিক বাধ্যবাধকতার (الضرورة) ক্ষেত্র নয়। আল-ফারাজদাকের ভাষারীতি হলো শেষে রাফ’ (الرفع) করা। আর যে খবরকে (الخبر) শেষে আসার কারণে নাসব করে, সে এটিকে শুরুতে আসার কারণে রাফ’ (رفع) করে থাকে। তবে তিনি একে 'সেখানে একজন লোক দণ্ডায়মান (قائمًا)'—এই উক্তির আদলে নাসব করেছেন। এটি আবু উসমান আল-মাযিনির অভিমত, আর খবর (الخبر) এখানে উহ্য (مضمر)।

আহমাদ বলেন: মুহাম্মদের বক্তব্য—'এটি কাব্যিক বাধ্যবাধকতার (الضرورة) ক্ষেত্র নয়'—সিবওয়াইহ-এর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নয়। বরং এটি আরবদের থেকে একটি বর্ণনা (رواية)। আর এ জাতীয় বিষয়ে আরবদের সাথেই বিতর্ক করা সাজে যে, তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে: কেন তোমরা একে এভাবে রূপান্তর (أعربتم) করলে?
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
الكلام هكذا من غير ضرورة لحقتكم؟ أو يكذب سيبويه في روايته، وهو عنده بخلاف هذه الحال، وإذا كان غير مكذب عنده فيما يرويه، وكانت العرب غير مدفوعة عما تقوله مضطرة بالوزن أو غير مضطرة، فعلى النحوي أن ينظر في علته وقياسه، فإن وافق قياسه وإلا رواه على أنه شاذ عن القياس، ولم يكن للاحتجاج بالضرورة وغيرها معنى، إذا كان الناقل ثقة.

فأما قوله: والفرزدق لغته رفع الخبر مؤخرا فكيف ينصب مقدما؟ فليس ذلك بحجة، لأن الرواة عن الفرزدق وغيره من الشعراء قد تغير البيت على لغتها، وترويه على مذاهبها مما يوافق لغة الشاعر ويخالفها، ولذلك كثرت الروايات في البيت الواحد، ألا ترى أن سيبويه قد يستشهد ببيت واحد لوجوه شتى، وإنما كذلك على حسب ما غيرته العرب بلغاتها، لأن لغة الراوي من العرب شاهد كما أن قول الشاعر شاهد إذا كانا فصيحين، فمن ذلك ما أنشده سيبويه لزهير:

بدا لي أني لست مدرك ما مضى … ولا سابق شيئا إذا كان جائيا

ورواه أيضا، ولا سابقا شيئا، في مواضع أخر، وكذلك أنشد قول الأعور الثني:

فليس بآتيك منهيها … ولا قاصر عنك مأمورها
কি কোনো আবশ্যকতা ছাড়াই কথাটি আপনাদের কাছে এভাবে পৌঁছেছে? অথবা সিবওয়াই কি তার বর্ণনায় (رواية) মিথ্যা বলছেন, অথচ তার নিকট বিষয়টি এর বিপরীত? যদি তিনি যা বর্ণনা করছেন সে ক্ষেত্রে তিনি মিথ্যা প্রতিপন্ন না হন এবং আরবরা তাদের কথার ক্ষেত্রে ছন্দের প্রয়োজনে হোক বা অন্য কারণে হোক বিচ্যুত না হয়ে থাকে, তবে বৈয়াকরণিকের উচিত এর কারণ এবং কিয়াস বা অনুমানপদ্ধতি যাচাই করা। যদি তা তার কিয়াসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে ভালো, অন্যথায় তিনি তা কিয়াসের পরিপন্থী বা ব্যতিক্রমী (شاذ) হিসেবে বর্ণনা করবেন। বর্ণনাকারী যদি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন, তবে সেখানে কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা বা অন্য কিছুর দোহাই দেওয়ার কোনো অর্থ থাকে না।

আর তার এই কথা: "ফারাযদাকের ভাষা হলো ‘খবর’-কে শেষে পেশ প্রদান করা, তবে তা আগে আসলে কীভাবে যবর প্রাপ্ত হয়?" - এটি কোনো অকাট্য দলিল (حجة) নয়। কারণ ফারাযদাক ও অন্যান্য কবিদের থেকে বর্ণনাকারীরা (رواة) পঙ্ক্তিগুলোকে নিজেদের ভাষা অনুযায়ী পরিবর্তন করে থাকে এবং তারা তা এমন পদ্ধতিতে বর্ণনা করে যা কবির ভাষার সাথে সংগতিপূর্ণ হতে পারে আবার বিরোধীও হতে পারে। এ কারণেই একটি একক পঙ্ক্তির বর্ণনায় (روايات) আধিক্য দেখা যায়। আপনি কি দেখেন না যে, সিবওয়াই একই পঙ্ক্তিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন? এটি আরবরা তাদের ভাষা অনুযায়ী পরিবর্তন করার কারণেই ঘটে থাকে। কেননা আরবের একজন বর্ণনাকারীর (راوي) ভাষাও প্রমাণ হিসেবে গণ্য, ঠিক যেমন কবির বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়, যদি তারা উভয়েই বিশুদ্ধভাষী হন। সিবওয়াই যুহাইরের পঙ্ক্তি থেকে যা আবৃত্তি করেছেন তা এর অন্তর্ভুক্ত:

আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, যা অতীত হয়েছে আমি তা প্রাপ্ত হব না … এবং কোনো কিছু আসার থাকলে তা আমি এড়িয়ে যেতে পারব না।

তিনি অন্য স্থানে "ولا سابقا شيئا" হিসেবেও এটি বর্ণনা করেছেন। একইভাবে তিনি আল-আওয়ার আশ-শান্নীর এই পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করেছেন:

যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা তোমার কাছে আসবে না … এবং যা আদেশ করা হয়েছে তা তোমার থেকে বিচ্যুত হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
بالرفع والجر، وهذا كثير.

وأما قول أبي عثمان، إنه على الحال المقدمة على النكرة، فلا يجوز، والذي ذهب إليه شر مما هرب منه، لأنه ليس بجائز عند النحويين: قائما رجل، على إضمار الخبر، ولأن يكون الخبر منصوبا مقدما كما كان مؤخرا أقرب إلى الجواز على ضعفه مما قال المازني، لأنه أتى بحال ولم يأت بعامل فيها، وأتى بمبتدأ ولم يأت بخبر له، وحذف في موضع لا يعلم المخاطب به ما حذف منه، ولا دلالة فيه على المحذوف، وهذا لا يجوز، لأن فيه إلباسا، وذلك وإن كان ضعيفا فلا إلباس فيه، أعني تقدم الخبر منصوبا، وما كان (ضعيفا) ولا لبس فيه فهو أجود مما جمع الضعف والإلباس.

قال محمد بن يزيد: واحتج أبو الحسن الأخفش في هذا الباب في /11/ جواز العطف على عاملين بآيتين ليس في واحدة منهما عطف على عاملين، وذلك قوله عز وجل: {وفي خلقكم وما يبث من دابة} وقوله: {لعلي هدى أو في ضلال مبين}، قال فعطف على (في) وعلى اللام، واللام ليست عاملة، ولكن قرأ بعض القراء: {واختلاف الليل والنهار وما أنزل الله من السماء من رزق فأحيا به الأرض بعد موتها وتصريف الرياح آيات} فنصب آيات، وعطف على عاملين.

قال أحمد: القول في هاتين الآيتين ما قال محمد بن يزيد، ليس فيهما عطف على
রফ এবং জর সহকারে, আর এটি প্রচুর প্রচলিত।

আর আবু উসমানের বক্তব্য যে, এটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের পূর্বে আগত অবস্থা হিসেবে গণ্য হবে, তা বৈধ নয়। তিনি যে মতটির দিকে গিয়েছেন তা সেই ত্রুটি অপেক্ষা নিকৃষ্টতর যা থেকে তিনি পলায়ন করতে চেয়েছিলেন। কারণ বৈয়াকরণদের নিকট বিধেয় উহ্য রেখে ‘ক্বায়িমান রাজুলুন’ (দণ্ডায়মান একজন ব্যক্তি) বলা বৈধ নয়। আর বিধেয়টি পশ্চাৎবর্তী হওয়ার ন্যায় অগ্রবর্তী অবস্থায় নসবযুক্ত হওয়া—তার দুর্বল (ضعيف) হওয়া সত্ত্বেও—মাজিনি যা বলেছেন তার তুলনায় বৈধতার অধিক নিকটবর্তী। কেননা তিনি অবস্থা উল্লেখ করেছেন কিন্তু তার প্রভাবক উল্লেখ করেননি, এবং উদ্দেশ্য উল্লেখ করেছেন কিন্তু তার বিধেয় উল্লেখ করেননি। তদুপরি তিনি এমন এক স্থানে উহ্য করেছেন যেখানে সম্বোধিত ব্যক্তি কী উহ্য করা হয়েছে সে সম্পর্কে অবগত নয় এবং সেখানে উহ্য বিষয়টির ওপর কোনো প্রমাণও নেই। এটি জায়েজ নয়, কারণ এতে অস্পষ্টতা রয়েছে। আর সেটি যদিও দুর্বল (ضعيف) হয় তবুও তাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই—আমি বুঝাতে চাচ্ছি বিধেয় নসবযুক্ত অবস্থায় অগ্রবর্তী হওয়া। আর যা দুর্বল (ضعيف) অথচ তাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই, তা সেই বিষয়ের চেয়ে উত্তম যা দুর্বলতা (الضعف) ও অস্পষ্টতা উভয়কে একত্রিত করেছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেন: আবু আল-হাসান আল-আখফাশ এই অধ্যায়ে একই সাথে দুটি প্রভাবকের ওপর সংযুক্তির বৈধতার বিষয়ে এমন দুটি আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যার কোনোটিতেই দুটি প্রভাবকের ওপর সংযুক্তি করা হয়নি। তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন তার মধ্যে} এবং তাঁর বাণী: {হয়তো আমি হিদায়াতের ওপর আছি অথবা স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে}। তিনি বলেছেন, এখানে ‘ফি’ এবং ‘লাম’-এর ওপর সংযুক্তি করা হয়েছে, অথচ ‘লাম’ এখানে প্রভাবক নয়। কিন্তু কোনো কোনো ক্বারী পাঠ করেছেন: {আর রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে এবং আল্লাহ আকাশ থেকে যে রিযিক নাযিল করেছেন আর তার মাধ্যমে পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন এবং বায়ুর পরিবর্তনের মধ্যে নিদর্শনসমূহ রয়েছে}। এতে তিনি ‘নিদর্শনসমূহ’ শব্দটিকে নসব দিয়েছেন এবং দুটি প্রভাবকের ওপর সংযুক্তি করেছেন।

আহমদ বলেন: এই আয়াত দুটির ব্যাপারে বক্তব্য সেটিই যা মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেছেন, এগুলোতে কোনো প্রকার সংযুক্তি নেই...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
عاملين، ولكن الشاهد في الآية التي جاء بها محمد بن يزيد، وهو قوله عز وجل: {وتصريف الرياح آيات}، لأن (آيات) عطف على اسم إن، وتصريف عطف على ما عملت فيه (في) وهو مخفوض، فقد عطف بالواو على منصوب ومخفوض، والعاملان (إن) و (في)، والمعطوفان (تصريف) و (آيات).

فأما قول الأخفش: إنه عطف على (في) وعلى اللام في قوله عز وجل {لعلى هدى أو في ضلال مبين} فظاهر الفساد، لأن (في) لم يعطف علها شيء يلي حرف العطف، وهي معطوفة على ما قبلها.

 

‌‌مسألة [8]

ومن ذلك قول سيبويه في باب ما يجرى مما يكون ظرفا مجرى زيد ضربته، قال: ويجوز في الشعر، زيد ضربت، وهو ضعيف، ثم احتج بأبيات ليس في واحد منها ضرورة، والجواز فيها بمنزلته في الكلام، لأنه لا يكسر الشعر، وذكر في الكلام مثل ذلك ووثقه، على أن الشعر في هذا والكلام واحد، والأبيات:

قد أصبحت أم الخيار تدعي … علي ذنبا كله لم أصنع

وقوله:

فأقبلت زحفا على الركبتين … فثوبا نسيت وثوبا أجر

وقوله:
দুইজন আমেল (আমলকারী), কিন্তু মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ যে আয়াতটি পেশ করেছেন তাতে প্রামাণ্য বিষয় হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং বায়ুর পরিবর্তন হলো নিদর্শনাবলি}, কারণ (নিদর্শনাবলি) শব্দটি 'ইন্না' এর ইসিমের ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে, আর 'পরিবর্তন' শব্দটি যার ওপর 'ফি' আমল করেছে তার ওপর আতফ হয়েছে এবং তা মাজরুর (জেরযুক্ত)। ফলে 'ওয়াও' অক্ষরের মাধ্যমে মানসুব (যবরযুক্ত) এবং মাজরুর (জেরযুক্ত) উভয়ের ওপর আতফ করা হয়েছে। এখানে আমেল (পরিবর্তনকারী) দুটি হলো 'ইন্না' ও 'ফি', আর আতফকৃত শব্দ দুটি হলো 'পরিবর্তন' ও 'নিদর্শনাবলি'।

আর আখফাশের বক্তব্য যে, এটি মহান আল্লাহর বাণী {হয় হিদায়াতের ওপর অথবা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে}-এর মধ্যে 'ফি' এবং 'লাম' অক্ষরের ওপর আতফ হয়েছে—তা স্পষ্টতই ত্রুটিপূর্ণ। কারণ 'ফি' এর ওপর এমন কিছু আতফ করা হয়নি যা আতফকারী অক্ষরের পরে এসেছে, বরং এটি তার পূর্ববর্তী বিষয়ের ওপর আতফ হয়েছে।

 

‌‌মাসআলা [৮]

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সিবওয়াইহ-র বক্তব্য সেই অনুচ্ছেদে যেখানে জ়রফ বা ক্রিয়াবিশেষণকে 'যাইদুন দরাবতুহু' এর ন্যায় প্রয়োগ করা হয়। তিনি বলেছেন: কবিতায় 'যাইদুন দরাবতু' বলা জায়েয (বৈধ), তবে এটি দুর্বল (ضعيف)। এরপর তিনি এমন কিছু কাব্যিক পঙক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যার একটিতেও কোনো কাব্যিক বাধ্যবাধকতা ছিল না। সাধারণ কথোপকথনের ক্ষেত্রে এর বৈধতা কবিতার মতোই, কারণ এটি কবিতার ছন্দ ভঙ্গ করে না। তিনি সাধারণ কথোপকথনেও অনুরূপ বিষয়ের উল্লেখ করেছেন এবং তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলে গণ্য করেছেন; অথচ এই ক্ষেত্রে কবিতা এবং সাধারণ কথা একই পর্যায়ের। পঙক্তিগুলো হলো:

উম্মুল খিয়ার আজ অভিযোগ করতে শুরু করেছে … আমার বিরুদ্ধে এমন এক অপরাধের যা আমি মোটেও করিনি।

এবং তাঁর উক্তি:

আমি হাঁটু গেড়ে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেলাম … ফলে একটি কাপড় আমি ভুলে ফেলে এলাম এবং অন্যটি টেনে নিয়ে চললাম।

এবং তাঁর উক্তি:
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
ثلاث كلهن قتلت عمدا … فأخزى الله رابعة تعود

وفي الكلام، شهر ثرى، وشهر ترى، وشهر مرعى، وخبرنا أبو عمر الجرمي بهذا كله منصوبا، وسمعنا بعض ذلك منصوبا من الرواة.

قال أحمد: لم يزد محمد في هذه /12/ المسألة على أن حكى قول سيبويه، وجعل حكايته لقوله ردا عليه، ذلك أن سيبويه قال في إثر بيت أبي النجم: (وهو ضعيف، وهو بمنزلته في غير الشعر، لأن النصب لا يكسر البيت، ولا يخل به ترك إظهار الهاء).

وهذا الذي قاله محمد ورأى أنه رد عليه إذ قال: وليس في هذه الأبيات ضرورة، وإنها في الكلام والشعر واحد، هو قول سيبويه، وإنما زعم سيبويه أنه سمع ذلك مرفوعا في الشعر، ولم يقل: إنه لا يجوز إلا في الشعر، وسماعه إياه مرفوعا في الشعر من الرواة كسماعه شهر ثرى، وشهر ترى، وشهر مرعى، مرفوعا في الكلام الذي جاء مثلا، وإنما يحتج لمثل هذا الشاذ بمثل مشهور أو شعر مروي، ولو جاء به مسألة محكية لم تقبل، بل قد رد عليه محمد بن يزيد ومعه هذه الشواهد المشهورة، والشعر قبيح به في الضرورة وغير الضرورة.
তিনটিই আমি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছি … আল্লাহ সেই চতুর্থটিকে লাঞ্ছিত করুন যে ফিরে আসে।

আর সাধারণ কথাবার্তায় বলা হয়: 'মাটির মাস, দেখার মাস এবং চারণভূমির মাস'। আবু উমর আল-জারমি আমাদের এই সবকটিই নাসব (যবর) অবস্থায় জানিয়েছেন এবং আমরা বর্ণনাকারীগণ (الرواة)-দের নিকট থেকে এর কিছু অংশ নাসব অবস্থায় শুনেছি।

আহমদ বলেন: মুহাম্মদ এই /১২/ মাসআলায় সিবওয়াইহ-এর উক্তি বর্ণনা করার বাইরে অতিরিক্ত কিছু করেননি এবং তিনি তাঁর এই বর্ণনাকেই সিবওয়াইহ-এর বিরুদ্ধে খণ্ডন হিসেবে গণ্য করেছেন। কারণ, সিবওয়াইহ আবু আল-নাজমের কাব্যপংক্তির পর বলেছিলেন: (এটি দুর্বল (ضعيف) এবং কবিতার বাইরেও এটি একই পর্যায়ের; কেননা নাসব কবিতার ছন্দ ভঙ্গ করে না এবং ‘হা’ (هاء) অক্ষরটি প্রকাশ না করাতেও কোনো ত্রুটি সৃষ্টি হয় না)।

মুহাম্মদ যা বলেছেন এবং যা তিনি সিবওয়াইহ-এর খণ্ডন বলে মনে করেছেন—যখন তিনি বলেছিলেন: 'এই পংক্তিগুলোতে কোনো কাব্যিক বাধ্যবাধকতা নেই এবং গদ্য ও কবিতায় এর বিধান একই'—তা মূলত সিবওয়াইহ-এরই বক্তব্য। সিবওয়াইহ কেবল এটি দাবি করেছেন যে, তিনি কবিতায় তা রাফ’ (পেশ) যুক্ত অবস্থায় শুনেছেন; তিনি এটি বলেননি যে এটি কবিতা ছাড়া অন্য কোথাও বৈধ নয়। বর্ণনাকারীগণ (الرواة)-দের নিকট থেকে কবিতায় তাঁর এই রাফ’ অবস্থায় শোনা ঠিক তেমনি, যেমনটি প্রবাদ হিসেবে প্রচলিত বাক্যে 'মাটির মাস, দেখার মাস এবং চারণভূমির মাস' রাফ’ অবস্থায় শোনা যায়। এ ধরণের শায বা অসংগতিপূর্ণ (الشاذ) বিষয়ের স্বপক্ষে কেবল কোনো প্রসিদ্ধ প্রবাদ বা বর্ণিত (مروي) কবিতার মাধ্যমেই দলিল পেশ করা হয়। যদি এটি কোনো বর্ণিত মাসআলা হিসেবে আসত তবে তা গ্রহণযোগ্য হতো না। বরং মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ এই সমস্ত প্রসিদ্ধ সাক্ষ্য-প্রমাণসহ তাঁর বক্তব্য খণ্ডন করেছেন; আর কাব্যিক বাধ্যবাধকতা থাকুক বা না থাকুক, কবিতায় এটি ব্যবহার করা কদর্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
وأما قول محمد بن زيد: إن الجرمي سمع ذلك نصبا، فقد قال سيبويه: إن النصب أكثر وأعرف، وأغنى بذلك عن الاحتجاج عليه بقول الجرمي، ألا ترى إلى قوله: إن الرفع ضعيف، إلا أنه سمعه من العرب، شبهوه بالذي رأيت زيد، في حذف الهاء من الصلة، وحذفها من الصلة أجود، ويتلوها في الجودة حذفها من الصفة كقولك: الناس رجلان رجل أكرمت ورجل أهنت، وحذفها من الخبر وهي تنوي أضعف الوجوه، وقد روى أهل الكوفة والبصرة هذه الشواهد رفعا كما رواها سيبويه، فهذا وجه الرواية.

وأما طريق المقايسة، فإذا أجازت العرب أن تنصب المفعول إذا تقدم وقد شغلت الفعل عنه بالهاء كقولهم: زيدا ضربته، فعديل هذا في الحاشية الأخرى أن تجيز زيد ضربت، فترفعه ولم تشغل الفعل عنه بالهاء في اللفظ كما نصبته وقد شغلت الفعل بالهاء، لأنهما حاشيتان متحاذيتان في الجواز، وإن كانت إحداهما أكثر في كلام العرب من الأخرى.

فأما في المقايسة فهما سواء، لأن سبيل الكلام ووجهه أن يرفع المفعول إذا تقدم وقد شغلت عنه الفعل، ونصبه ليس بالوجه، وكذلك وجه /13/ الكلام أن تنصب المفعول المقدم إذا لم تشغل عنه الفعل، ورفعه ضعيف على نية الهاء.

 

‌‌مسألة [9]

ومن ذلك قوله في باب ترجمته: هذا باب يحمل فيه الاسم على اسم يبنى عليه الفعل
আর মুহাম্মদ ইবনে যাইদ-এর উক্তি প্রসঙ্গে: আল-জারমি তা নাসব (نصبا) হিসেবে শুনেছেন; এ সম্পর্কে সিবওয়াইহ বলেছেন: নাসব (النصب) অধিক প্রচলিত ও সুপরিচিত এবং আল-জারমির উক্তি দ্বারা এর সপক্ষে দলিল পেশ করার চেয়ে এটি অধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ। আপনি কি তাঁর এই উক্তিটি দেখেন না যে, রাফ (الرفع) দুর্বল (ضعيف), তবে তিনি তা আরবদের থেকে শুনেছেন? তারা একে 'রাআইতু যাইদ'-এর সদৃশ গণ্য করেছে, যেখানে সিলাহ (الصلة) থেকে 'হা' (الهاء) বর্ণটি হজফ (حذف) করা হয়েছে। আর সিলাহ (الصلة) থেকে তা হজফ (حذف) করা অধিকতর উত্তম। আর উত্তমের দিক থেকে এর পরের অবস্থানে রয়েছে সিফাত (الصفة) থেকে তা হজফ (حذف) করা, যেমন আপনার উক্তি: 'মানুষ দুই প্রকার—এক ব্যক্তি যাকে আমি সম্মান করেছি এবং অন্য ব্যক্তি যাকে আমি অপমান করেছি'। আর খবর (الخبر) থেকে তা হজফ (حذف) করা এবং এর অর্থ মনে মনে পোষণ করা দুর্বলতম (أضعف) পদ্ধতি। কুফাবাসী এবং বসরার আলেমগণ সিবওয়াইহের বর্ণনার ন্যায় এই শাহিদ বা প্রমাণগুলো রাফ (رفعا) হিসেবেই বর্ণনা করেছেন; সুতরাং বর্ণনার রূপ এটাই।

আর কিয়াস বা মাকায়িসাহ (المقايسة) পদ্ধতির বিষয় হলো, আরবরা যদি মাফউল (المفعول)-কে নাসব (تنصب) করা বৈধ মনে করে যখন তা অগ্রবর্তী হয় এবং 'হা' (الهاء) ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রিয়াটি তার থেকে অন্য দিকে ব্যাপৃত থাকে—যেমন তাদের উক্তি: 'যাইদান দরাবতুহু'—তবে এর বিপরীতে অন্য প্রান্তে 'যাইদুন দরাবতু' বৈধ হওয়া সমীচীন। সুতরাং আপনি একে রাফ (ترفعه) করবেন এবং শব্দে ক্রিয়াটিকে 'হা' (الهاء) দ্বারা ব্যাপৃত করবেন না, ঠিক যেমন আপনি একে নাসব (نصبته) করেছিলেন যখন ক্রিয়াটিকে 'হা' (الهاء) দ্বারা ব্যাপৃত করেছিলেন। কারণ বৈধতার ক্ষেত্রে এই উভয় দিকই পরস্পরের সমান্তরাল, যদিও আরবদের ভাষার ব্যবহারে একটি অপরটির চেয়ে অধিক প্রচলিত।

মাকায়িসাহ (المقايسة)-এর বিচারে উভয়ই সমান; কারণ বাক্যের নিয়ম ও পদ্ধতি হলো মাফউল (المفعول)-কে রাফ (يرفع) করা যখন তা অগ্রবর্তী হয় এবং ক্রিয়াটি তা থেকে ব্যাপৃত থাকে, এমতাবস্থায় একে নাসব (نصبه) করা মূল নিয়ম নয়। অনুরূপভাবে, বাক্যের রীতি হলো অগ্রবর্তী মাফউল (المفعول)-কে নাসব (تنصب) করা যখন ক্রিয়াটি তা থেকে ব্যাপৃত না হয়; এক্ষেত্রে 'হা' (الهاء)-এর নিয়ত রেখে তাকে রাফ (رفعه) করা দুর্বল (ضعيف)।

 

‌‌মাসআলা [৯]

আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর শিরোনাম অধ্যায়ে আলোচিত উক্তি: এটি এমন একটি অধ্যায় যেখানে একটি ইসিম (الاسم)-কে অন্য একটি ইসিম (اسم)-এর ওপর আরোপ করা হয় যার ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়া গঠিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৬০)
مرة ويحمل مرة أخرى على اسم مبني على الفعل، قال: تقول: زيد ضربته وعمرو كلمته، إن حملت عمرا على زيد، وإن حملته على الهاء نصبته، قال: وعلى هذا يقول: القائل: من رأيت؟ فتقول: زيدا رأيته، تحمله على كلام المبتدئ ليكون العمل من وجه واحد، واحتج بأن القائل يقول: من رأيت؟ فتقول: زيدا، على كلامه، فهذا ها هنا نظير العطف فيما صدر به، وزعم أن القائل إذا قال: من رأيته؟ لم يجز أن تقول في الجواب إلا بالرفع، فتقول: زيد رأيته، إلا في قول من قال في الابتداء: زيدا رأيته، وقد نقض قوله في العطف: إن حملته على الهاء نصبت، والقول إن حملته على الهاء أن تقول: زيدا رأيته كما قلت: زيد ضربته وعمرا كلمته حين حملته على الهاء، وهذا قول أبي الحسن الأخفش، وهذا قياس قول سيبويه في العطف.

وقال سيبويه: قولك: من رأيته؟ إنما هو بمنزلة قولك: من منطلق؟ ومن رسول؟ فلذلك أجري ما بعده مجرى ما ليس قبله مفعول، وهذا يلزمه في الأول، لأن قولك: زيد ضربته وعمرو كلمته، ضربته في موضع منطلق وما أشبهه، وقد طعن في هذا الموضع أبو إسحاق الزيادي وأبو الحسن الأخفش، وزعما أنه لا يجوز زيد ضربته وعمرا كلمته، ولا يكون في عمرو إلا الرفع، لأن قوله: زيد ضربته جملة لها موضع، ويريد إذا أضمر قبل عمرو فعلا أن يعطفه، وهي جملة لا موضع لها على تلك، وإنما صار لقولك: ضربته موضع، لأنها في موضع خبر الابتداء، فموضعها الرفع، والمعطوف لا موضع له، لأنه بمنزلة زيد لقيته، ولا موضع للجملة، والقياس الذي لا يجوز غيره ما قالا، لأنه لا يجوز أن تعطف جملة لا
এটি কখনো কখনো ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে গঠিত কোনো বিশেষ্যের ওপর আরোপিত হয়। তিনি বলেন: আপনি বলবেন, 'যায়েদকে আমি প্রহার করেছি এবং আমরকে আমি সম্বোধন করেছি'। যদি আপনি 'আমর' শব্দটিকে 'যায়েদ'-এর ওপর আরোপ করেন, তবে তাকে পেশ প্রদান করবেন, আর যদি তাকে সর্বনামের ওপর আরোপ করেন তবে তাকে নসব (نصب) প্রদান করবেন। তিনি বলেন: এরই ওপর ভিত্তি করে কোনো বক্তা যখন প্রশ্ন করে, 'তুমি কাকে দেখেছ?', তখন আপনি উত্তরে বলেন, 'যায়েদকে, আমি তাকে দেখেছি'। আপনি একে প্রারম্ভিক ব্যক্তির কথার ওপর আরোপ করেন যাতে ব্যাকরণিক আমল বা প্রভাব একমুখী হয়। তিনি যুক্তি প্রদান করেন যে, যখন কেউ প্রশ্ন করে, 'তুমি কাকে দেখেছ?', তখন আপনি তার কথার প্রেক্ষিতে বলেন, 'যায়েদকে'। সুতরাং এটি এখানে প্রারম্ভিক বিষয়ের সাথে আতফ বা সংযোজনের (العطف) অনুরূপ। তিনি দাবি করেন যে, প্রশ্নকারী যখন বলে, 'তুমি কাকে দেখেছ?', তখন উত্তরে রফ (رفع) ব্যতীত অন্য কিছু বলা বৈধ নয়; ফলে আপনি বলবেন, 'যায়েদ, আমি তাকে দেখেছি'। তবে যারা সূচনালগ্নেই বলেন, 'যায়েদকে আমি দেখেছি', তাদের বিষয়টি ভিন্ন। তিনি আতফ বা সংযোজন (العطف) সংক্রান্ত তাঁর পূর্বের বক্তব্য খণ্ডন করেছেন যে, 'যদি তাকে সর্বনামের ওপর আরোপ করেন তবে নসব (نصب) প্রদান করবেন'। সঠিক মত হলো, যদি তাকে সর্বনামের ওপর আরোপ করেন তবে বলবেন: 'যায়েদকে আমি দেখেছি', যেমনটি আপনি 'যায়েদকে আমি প্রহার করেছি এবং আমরকে আমি সম্বোধন করেছি' বলার সময় তাকে সর্বনামের ওপর আরোপ করে বলেছিলেন। এটি আবু আল-হাসান আল-আখফাশের অভিমত এবং আতফ বা সংযোজনের (العطف) ক্ষেত্রে সিবওয়াইহ-এর কিয়াস বা নিয়মতান্ত্রিক অনুমানের (قياس) অনুরূপ।

সিবওয়াইহ বলেন: আপনার উক্তি 'তুমি কাকে দেখেছ?' মূলত আপনার উক্তি 'কে প্রস্থানকারী?' এবং 'কে রসূল?'-এর সমপর্যায়ের। এই কারণেই এর পরবর্তী অংশকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে যেন এর পূর্বে কোনো মাফউল (مفعول) বা কর্ম নেই। এটি প্রথম ক্ষেত্রেও তার জন্য আবশ্যক হয়, কারণ আপনার উক্তি 'যায়েদকে আমি প্রহার করেছি এবং আমরকে আমি সম্বোধন করেছি'-তে 'আমি তাকে প্রহার করেছি' অংশটি 'প্রস্থানকারী' বা এই জাতীয় শব্দের স্থলাভিষিক্ত। এই স্থানে আবু ইসহাক আল-জিয়াদি এবং আবু আল-হাসান আল-আখফাশ আপত্তি তুলেছেন। তাঁরা উভয়ে দাবি করেছেন যে, 'যায়েদকে আমি প্রহার করেছি এবং আমরকে আমি সম্বোধন করেছি' বলা বৈধ নয় এবং 'আমর' শব্দটিতে রফ (رفع) ব্যতীত অন্য কিছু হবে না। কারণ তাঁর উক্তি 'যায়েদকে আমি প্রহার করেছি' এমন একটি জুমলাহ বা বাক্য (جملة) যার একটি ব্যাকরণিক অবস্থান (موضع) রয়েছে। যখন তিনি 'আমর'-এর পূর্বে একটি ক্রিয়াকে উহ্য রেখে তাকে আতফ বা সংযোজন (العطف) করতে চান, তখন সেটি এমন একটি জুমলাহ বা বাক্য (جملة) হয়ে যায় যার আগেরটির ওপর কোনো অবস্থান (موضع) থাকে না। মূলত 'আমি তাকে প্রহার করেছি' অংশটির একটি অবস্থান (موضع) তৈরি হয়েছে কারণ এটি মুবতাদা বা উদ্দেশ্যের (مبتدأ) খবর বা বিধেয় (خبر) হিসেবে এসেছে; ফলে এর অবস্থান (موضع) হলো রফ (رفع)। আর আতফকৃত বা সংযোজিত (المعطوف) অংশের কোনো অবস্থান (موضع) নেই, কারণ এটি 'যায়েদ, আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করেছি' বাক্যের অনুরূপ যেখানে জুমলাহ বা বাক্যটির (جملة) কোনো অবস্থান (موضع) নেই। কিয়াস বা নিয়মতান্ত্রিক অনুমান (قياس) যা ব্যতীত অন্য কিছু বৈধ নয়, তা হলো যা তাঁরা উভয়ে বলেছেন। কারণ এমন কোনো জুমলাহ বা বাক্যকে (جملة) আতফ বা সংযোজন করা বৈধ নয় যার কোনো অবস্থান নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৬১)
موضع لها على جملة لها موضع، والمعطوف على الشيء في مثل حاله.

قال أحمد: أما قول محمد: إنه لا يجوز أن تعطف جملة لا موضع لها فهذه دعوى لم يأت معها /14/ بحجة تبينها، وليس الأمر في ذلك على ما ذكر، ونحن نجد في الكلام جملة لا موضع لها معطوفة على جملة لها موضع، يجمع النحويون على إجازتها، ولا يمتنع الراد من ذلك فيها، وهو قولك: مررت برجل قام أبوه وقعد عمرو، فقام أبوه جملة في موضع جر لأنها نعت لرجل، وقد عمرو معطوفة عليها وليست في موضع جر، لأنك لا تقول: مررت برجل قعد عمرو، إذ ليس في الجملة الثانية ضمير يعود على رجل فيكون نعتا له، وكذلك، إذا قلت: زيد يضرب غلامه فيغضب عمرو، فيضرب غلامه رفع لأنه خبر المبتدأ، ويغضب عمرو معطوف عليه، وليس في موضع رفع، لأنه لا عائد فيه على المبتدأ، وليس سبيل عطف الجمل أن يكون الثاني محمولا على الأول في لفظ ولا موضع بالواجب على كل حال، ألا ترى أن الجملتين قد تختلفان فتكون إحداهما مبنية من اسمين والأخرى "مبنية" من اسم وفعل، فتقول: أخطأ زيد والله المستعان، فالأولى من اسم وفعل، والثانية من اسمين، وتعطف المبني على المعرب والمعرب على المبني في الجمل، فتقول: قم وليقم زيد، وتقول: ليقم زيد وقم وتعطف الأمر على الخبر والخبر على الأمر كقولك: قام زيد فقم، وقم فقد قام زيد. فالجمل تعطف على الجمل مع اختلاف أحوالها وتباين مجاريها في معانيها، فكيف لا تعطف مع اختلاف مواضعها، وإذا كانت الجملة لا يلزم فيها أن تتبعها الجملة في لفظها، كذلك لا يلزم في كل حال أن تتبعها في موضعها، ألا ترى أنك تقول: إن زيدا قائم وعمرا جالس، فتأتي بلفظ الجملة الثانية كلفظ الأولى وتحملها عليها، وإن شئت لم تفعل ذلك، فتقول: إن زيدا قائم وعمرو جالس، فأنت فيما ينساغ لك أن تحمله على الأول، مخير في حمله عليه،
ব্যাকরণগত অবস্থানসম্পন্ন বাক্যের ওপর অবস্থানহীন বাক্যের সংযোজন, আর কোনো বিষয়ের ওপর যা সংযোজিত হয় তা সাধারণত তার অনুরূপ অবস্থাপ্রাপ্ত হয়।

আহমদ বলেন: মুহাম্মাদের এই উক্তি—যে বাক্যের কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই তার সংযোজন বৈধ নয়—এটি নিছক একটি দাবি যার সপক্ষে তিনি কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। বিষয়টি আসলে তেমন নয় যা তিনি উল্লেখ করেছেন। আমরা আরবি কথোপকথনে এমন বাক্য খুঁজে পাই যার কোনো অবস্থান নেই অথচ তা অবস্থানসম্পন্ন বাক্যের ওপর সংযোজিত হয়েছে; ব্যাকরণবিদগণ এর বৈধতার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন এবং কোনো প্রতিবাদকারী এক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেন না। যেমন আপনার উক্তি: 'আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যার পিতা দণ্ডায়মান ছিলেন এবং আমর উপবিষ্ট ছিলেন'। এখানে 'তার পিতা দণ্ডায়মান ছিলেন' বাক্যটি জার-এর অবস্থানে রয়েছে কারণ এটি 'ব্যক্তি' শব্দের বিশেষণ। পক্ষান্তরে 'আমর উপবিষ্ট ছিলেন' বাক্যটি তার ওপর সংযোজিত হওয়া সত্ত্বেও তা জার-এর অবস্থানে নেই। কারণ আপনি বলতে পারেন না: 'আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যার ক্ষেত্রে আমর উপবিষ্ট ছিলেন', যেহেতু দ্বিতীয় বাক্যটিতে এমন কোনো সর্বনাম নেই যা প্রথম বিশেষ্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করে যেন তা তার বিশেষণ হতে পারে। একইভাবে যখন আপনি বলেন: 'জায়েদ তার ভৃত্যকে প্রহার করছে ফলে আমর রাগান্বিত হচ্ছে', তখন 'তার ভৃত্যকে প্রহার করছে' বাক্যটি রাফ-এর অবস্থানে রয়েছে কারণ তা মুবতাদার খবর। আর 'আমর রাগান্বিত হচ্ছে' বাক্যটি তার ওপর সংযোজিত, কিন্তু তা রাফ-এর অবস্থানে নেই; কারণ এতে মুবতাদার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী কোনো সর্বনাম নেই। বাক্যের সংযোজনের নিয়ম এটি নয় যে, দ্বিতীয় বাক্যটি শব্দগতভাবে বা অবস্থানের দিক থেকে সর্বদা প্রথমটির অনুগামী হতে হবে। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে দুটি বাক্য পরস্পর ভিন্ন হতে পারে; যেমন একটি বাক্য দুটি বিশেষ্য দ্বারা গঠিত এবং অন্যটি বিশেষ্য ও ক্রিয়া দ্বারা গঠিত? উদাহরণস্বরূপ আপনি বলেন: 'জায়েদ ভুল করেছে এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি'। এখানে প্রথম বাক্যটি ক্রিয়া ও বিশেষ্য দ্বারা গঠিত এবং দ্বিতীয়টি দুটি বিশেষ্য দ্বারা গঠিত। আপনি বাক্যের ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয় (মাবনি) রূপকে পরিবর্তনশীল (মু’রাব) রূপের ওপর এবং পরিবর্তনশীলকে অপরিবর্তনীয়র ওপর সংযোজন করতে পারেন। যেমন আপনি বলেন: 'তুমি দাড়াও এবং জায়েদ যেন দাঁড়ায়' অথবা 'জায়েদ যেন দাঁড়ায় এবং দাড়াও'। আপনি বিবৃতির ওপর নির্দেশের এবং নির্দেশের ওপর বিবৃতির সংযোজন করতে পারেন, যেমন আপনার উক্তি: 'জায়েদ দাঁড়িয়েছে অতএব তুমি দাড়াও' অথবা 'তুমি দাড়াও কারণ জায়েদ দাঁড়িয়েছে'। সুতরাং বাক্যসমূহ তাদের অবস্থার ভিন্নতা এবং অর্থের বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও একে অপরের ওপর সংযোজিত হয়; তবে অবস্থানের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও কেন তা সংযোজিত হবে না? আর যদি বাক্যের ক্ষেত্রে এটি জরুরি না হয় যে তা পূর্ববর্তী বাক্যের শব্দরূপকে অনুসরণ করবে, তবে একইভাবে সবক্ষেত্রে তার অবস্থানকেও অনুসরণ করা আবশ্যক নয়। আপনি কি দেখেন না যে আপনি বলেন: 'নিশ্চয় জায়েদ দণ্ডায়মান এবং আমর উপবিষ্ট', এখানে আপনি দ্বিতীয় বাক্যের শব্দরূপ প্রথমটির মতো এনেছেন এবং তার ওপর ন্যস্ত করেছেন। আবার চাইলে আপনি তা না-ও করতে পারেন এবং বলতে পারেন: 'নিশ্চয় জায়েদ দণ্ডায়মান এবং আমর উপবিষ্ট'। সুতরাং যা প্রথমটির ওপর ন্যস্ত করা আপনার জন্য সম্ভবপর, সে ক্ষেত্রে আপনি তা অনুসরণ করার ব্যাপারে স্বাধীনতা রাখেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৬২)
أو ترك ذلك، فكيف فيما لا ينساغ لك البتة أن تحمله على الأول، فقياس ما تحمله من الجمل على الموضع كقياس ما تحمله على اللفظ، فتكون مخيرا فيما يجوز وينساغ حمله على الموضع أو ترك ذلك، نحو قولك: زيد ضربت أباه ثم ضربت عمرا، فهذا معطوف على ضربت، ولا يجوز حمله على موضعه في الإعراب، فأما /15/ ما يجوز فقولك: زيد ضربت أباه ثم ضربت أخاه، فقولك: ضربت أخاه، فيجوز أن تحمله على موضع زيد ضربت أباه ثم ضربت أخاه، فقولك: ضربت يجوز أن تحمله على موضع ضربت أباه في الإعراب، وقد اتفقوا جميعا- والراد معهم- على أنه يجوز زيد ضربته وعمرا كلمته، فينصبون عمرا على ما كان يجوز في الابتداء، والذي يضمرونه في العطف هو الذي يضمرونه في الابتداء، وليس يذهب سيبويه إلى أن يعطف عمرا على الهاء، وإنما مذهبه أن يكون بناء الجملة الثانية كبناء الجملة التي قبلها، فهم منفقون على جواز ذلك، وإنما الفرق بينهم قول سيبويه: إن جواز النصب فيها إذا كانت معطوفة أحسن من جوازه في الابتداء، ولم يرد أن يحمل اسما على اسم ولا إعرابا على إعراب، ألا ترى أنه يقول: قام زيد وعمرا كلمته، أحسن في الإعراب، لأنه يجعل الاسم محمولا على الفعل في الجملة الثانية كما جعله في الأولى، وإن كان الفعل الأول رافعا والثاني ناصبا.

وأما إلزامه في قولك: من رأيته؟ أن تحمل الجواب مرة على (من) فترفع وتقول: زيد، ومرة على الهاء، فننصب وتقول: زيدا، فإن هذا [وإن لم يكن] قياس قوله في العطف، فهو لعمري يشبه العطف في حال ويخالفه في أخرى، وكذلك جعله سيبويه شبه العطف، فلأنك تحمل الجواب على ما حمل عليه السائل كلامه كما تحمل المعطوف (على المعطوف) عليه، وذلك قول سيبويه: إذا قال القائل: من رأيت؟ قلت: زيداً رأيته، فحملت زيدا على
অথবা তা বর্জন করা; এমতাবস্থায় এমন বিষয়ে আপনার অবস্থান কী হবে যা আদ্যন্ত প্রথমটির ওপর আরোপ করা আপনার জন্য কোনোভাবেই সম্ভব নয়? সুতরাং বাক্যের ক্ষেত্রে আপনি যা স্থানের (موضع) ওপর আরোপ করেন তার কিয়াস (قياس) হলো শব্দের (لفظ) ওপর আরোপ করার কিয়াসের ন্যায়। ফলে আপনি সেই বিষয়ে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত হবেন যেখানে স্থানের (موضع) ওপর আরোপ করা বৈধ ও সংগত হয় অথবা তা বর্জন করা হয়। যেমন আপনার কথা: 'যায়েদ, আমি তার পিতাকে প্রহার করেছি, অতঃপর আমরকে প্রহার করেছি'; এখানে এটি 'প্রহার করেছি' ক্রিয়ার ওপর সংযুক্ত (معطوف), এবং ব্যাকরণিক পরিবর্তনের (إعراب) ক্ষেত্রে একে এর স্থানের ওপর আরোপ করা বৈধ নয়। আর যা /১৫/ বৈধ তার উদাহরণ হলো আপনার কথা: 'যায়েদ, আমি তার পিতাকে প্রহার করেছি, অতঃপর তার ভাইকে প্রহার করেছি'; এখানে আপনার বক্তব্য 'তার ভাইকে প্রহার করেছি'-কে 'যায়েদ আমি তার পিতাকে প্রহার করেছি' এর স্থানের ওপর আরোপ করা বৈধ। সুতরাং ব্যাকরণিক পরিবর্তনের (إعراب) ক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য 'প্রহার করেছি'-কে 'তার পিতাকে প্রহার করেছি'-র স্থানের ওপর আরোপ করা বৈধ। তারা সকলে—এবং যারা তাদের প্রতিবাদ করেন তারাও—এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, 'যায়েদ আমি তাকে প্রহার করেছি এবং আমরের সাথে কথা বলেছি' (زيد ضربته وعمرا كلمته) বলা বৈধ। সেক্ষেত্রে তারা প্রারম্ভিক অবস্থায় (ابتداء) যা বৈধ ছিল সেই ভিত্তিতে 'আমর' শব্দটিকে নসব (نصب) প্রদান করেন। আর তারা অনুবন্ধের (عطف) ক্ষেত্রে যা উহ্য (مضمر) রাখেন, তা-ই প্রারম্ভিক অবস্থার (ابتداء) ক্ষেত্রেও উহ্য রাখেন। সিবওয়াইহ-র অভিমত এটি নয় যে 'আমর' শব্দটিকে 'হা' (هاء) সর্বনামের ওপর সংযুক্ত (عطف) করা হবে; বরং তার মাযহাব (مذهب) হলো দ্বিতীয় বাক্যের গঠন যেন তার পূর্ববর্তী বাক্যের গঠনের অনুরূপ হয়। সুতরাং তারা এর বৈধতার ব্যাপারে একমত। তাদের মধ্যকার পার্থক্য কেবল সিবওয়াইহ-র এই বক্তব্যে যে: এটি যখন সংযুক্ত (معطوفة) অবস্থায় থাকে তখন তাতে নসব (نصب) প্রদান করা প্রারম্ভিক অবস্থার (ابتداء) চেয়ে অধিক উত্তম। তিনি কোনো ইসমকে (اسم) অন্য ইসমের ওপর কিংবা কোনো ব্যাকরণিক পরিবর্তনকে (إعراب) অন্য ব্যাকরণিক পরিবর্তনের ওপর আরোপ করতে চাননি। আপনি কি দেখছেন না যে তিনি বলেন: 'যায়েদ দাঁড়াল এবং আমরের সাথে আমি কথা বললাম' (قام زيد وعمرا كلمته)—এটি ব্যাকরণিক পরিবর্তনের (إعراب) দিক থেকে অধিক উত্তম; কেননা তিনি দ্বিতীয় বাক্যে ইসমকে (اسم) ক্রিয়ার ওপর আরোপযোগ্য করেছেন যেমনটি তিনি প্রথম বাক্যে করেছিলেন, যদিও প্রথম ক্রিয়াটি রফ (رفع) প্রদানকারী এবং দ্বিতীয়টি নসব (نصب) প্রদানকারী।

আর আপনার বক্তব্য 'আপনি কাকে দেখেছেন?' (من رأيته؟)—এর ক্ষেত্রে তার আবশ্যকীয় সিদ্ধান্ত হলো—আপনি উত্তরটিকে একবার 'মান' (من)-এর ওপর আরোপ করবেন এবং রফ (رفع) প্রদান করে বলবেন: 'যায়েদ', আর একবার 'হা' (هاء) সর্বনামের ওপর আরোপ করবেন এবং নসব (نصب) প্রদান করে বলবেন: 'যায়েদান'। এটি যদিও অনুবন্ধের (عطف) ক্ষেত্রে তার কিয়াসের (قياس) অনুরূপ নয়, তবুও আমার জীবনের কসম, এটি একদিক থেকে অনুবন্ধের (عطف) সদৃশ এবং অন্য দিক থেকে তার বিপরীত। অনুরূপভাবে সিবওয়াইহ একে অনুবন্ধের (عطف) সদৃশ গণ্য করেছেন। কেননা আপনি উত্তরটিকে সেই ভিত্তির ওপর আরোপ করছেন যে ভিত্তির ওপর প্রশ্নকারী তার কথাকে আরোপ করেছিলেন, যেমনটি আপনি অনুবন্ধযুক্ত শব্দকে (معطوف) যার সাথে অনুবন্ধ করা হয়েছে (معطوف عليه) তার ওপর আরোপ করে থাকেন। আর এটিই সিবওয়াইহ-র বক্তব্য: যখন কোনো বক্তা বলে: 'আপনি কাকে দেখেছেন?' তখন আপনি বলেন: 'যায়েদকে আমি দেখেছি'; এভাবে আপনি যায়েদকে আরোপ করেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
إعراب (من)، لأنه جواب عنها.

وأما مخالفته لباب العطف، فإنك إذا قلت: زيد ضربته وعمرو كلمته، فأنت مخير في الحمل على أي الجملتين شئت، فجاز الوجهان، والمجيب فإنما يجتهد في إعراب ما بنى عليه المبتدئ كلامه، فالسائل مانع له من أن يكون مخيرا.

فإن قال: فإذا قال السائل: من رأيته؟ فقد أتى بجملتين: إحداهما محمول فيها الاسم على الفعل، وهي الهاء في رأيته، والأخرى محمول فيها الفعل على الاسم، لأن (من) هو الاسم المبتدأ، والفعل خبر عنه.

قيل له: سبيل الاسم الذي في الجواب أن يكون إعرابه كإعراب الاسم المستفهم به /16/، فإن قال السائل: من قام؟ قلت في الجواب: زيد، وإن قال: من ضربت؟ قلت في الجواب: زيدا، وكذلك إذا قال: من رأيته وأيهم رأيته؟ قلت: زيد في الجواب، فتحمله على إعراب (من) لا إعراب الهاء، لأن زيدا مفسر لـ (من)، فهذا وجه الكلام.

وكذلك إذا قلت: أي الرجلين لقيته أزيدا أم عمرو؟ وأي الرجلين لقيت أزيدا أم عمرا؟ فها هنا جملتان لعمري كالعطف في المسألة الأولى، إلا أن الحمل على إحداهما أولى من [الحمل على] الأخرى، بسبب ما ذكرنا من أن الجواب والتفسير محمول على الاسم المستفهم به، وهو أولى من الهاء، وإن كانت الهاء عائدة عليه، فأما العطف على الجملتين فليست إحداهما أولى من الأخرى بحال تزيد بها عليها.

وأما قول الأخفش: إن الهاء هي (من) في المعني، فلم تكن بهذا تستوجب الحمل عليها دون (من) يستفهم بها والجواب عنها، والهاء لا يستفهم بها، ومع هذا فقد يجوز النصب في قول سيبويه على ما كان يجوز في الابتداء، فهو حمل ما ذكره الأخفش وليس بالوجه عنده ولا عند غيره.
(মান (من)) এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب), কারণ এটি সেই প্রশ্নের উত্তর।

আর সংযোজন (عطف) সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে এর বৈপরীত্যের কারণ হলো, আপনি যখন বলেন: "জায়েদকে আমি প্রহার করেছি এবং আমরকে আমি সম্বোধন করেছি", তখন আপনি যে কোনো একটি বাক্যের ওপর ভিত্তি করার ক্ষেত্রে স্বাধীন। ফলে উভয় পদ্ধতিই বৈধ। কিন্তু উত্তরদাতা মূলত সেই ভিত্তির ওপর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) করার চেষ্টা করেন যার ওপর প্রশ্নকর্তা তার বক্তব্যের সূচনা করেছেন। সুতরাং, প্রশ্নকর্তা উত্তরদাতাকে স্বাধীন থাকার সুযোগ দেন না।

যদি বলা হয়: প্রশ্নকারী যখন বলেন, "কাকে তুমি দেখেছ?", তখন তিনি মূলত দুটি বাক্য নিয়ে এসেছেন: একটিতে বিশেষ্যকে (اسم) ক্রিয়ার (فعل) ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা হলো 'রায়াইতাহু' শব্দের 'হা (هاء)' সর্বনাম। অন্যটিতে ক্রিয়াকে (فعل) বিশেষ্যের (اسم) ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, কারণ (মান (من)) হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং ক্রিয়াটি (فعل) হলো তার বিধেয় (خبر)।

উত্তরে বলা হবে: উত্তরের অন্তর্ভুক্ত বিশেষ্যটির (اسم) ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) এমন হওয়া বাঞ্ছনীয় যেমনটি প্রশ্নবোধক বিশেষ্যের (اسم المستفهم به) বিশ্লেষণ হয়েছিল। যদি প্রশ্নকারী বলেন: "কে দাঁড়িয়েছে?", তবে উত্তরে আপনি বলবেন: "জায়েদ"। আর যদি তিনি বলেন: "কাকে তুমি প্রহার করেছ?", তবে উত্তরে বলবেন: "জায়েদকে"। একইভাবে যদি বলা হয়: "কাকে তুমি দেখেছ?" অথবা "তাদের মধ্যে কাকে তুমি দেখেছ?", তবে উত্তরে বলবেন: "জায়েদ"। এক্ষেত্রে আপনি শব্দটিকে (মান (من)) এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) ওপর ভিত্তি করবেন, 'হা (هاء)' সর্বনামের বিশ্লেষণের ওপর নয়। কারণ 'জায়েদ' শব্দটি এখানে (মান (من)) এর ব্যাখ্যা প্রদানকারী (مفسر)। এটিই হলো বক্তব্যের সঠিক দিক।

একইভাবে যখন আপনি বলেন: "দুই ব্যক্তির মধ্যে কার সাথে তোমার দেখা হয়েছে, সে কি জায়েদ নাকি আমর?" এবং "দুই ব্যক্তির মধ্যে কাকে তুমি দেখেছ, জায়েদকে না আমরকে?" এখানে আমার জীবনের শপথ, প্রথম মাসআলার সংযোজনের (عطف) মতো দুটি বাক্য বিদ্যমান। তবে একটির ওপর ভিত্তি করা অন্যটির চেয়ে উত্তম। এর কারণ আমরা যা উল্লেখ করেছি যে, উত্তর এবং ব্যাখ্যাকে প্রশ্নবোধক বিশেষ্যের (اسم المستفهم به) ওপর ভিত্তি করা হয় এবং এটি 'হা (هاء)' সর্বনামের চেয়ে অধিকতর যোগ্য, যদিও 'হা (هاء)' সর্বনামটি তারই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। আর দুটি বাক্যের ওপর সংযোজনের (عطف) ক্ষেত্রে এমন কোনো অবস্থা নেই যার কারণে একটি অন্যটির ওপর প্রাধান্য পেতে পারে।

আর আল-আখফাশের বক্তব্য যে: 'হা (هاء)' সর্বনামটি অর্থের দিক থেকে (মান (من))-ই; তো এই কারণে এটি 'মান (من)'-কে বাদ দিয়ে আমল বা ভিত্তি হওয়ার উপযুক্ত হয়ে যায় না, যার মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয় এবং উত্তর দেওয়া হয়; অথচ 'হা (هاء)' সর্বনামের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয় না। তা সত্ত্বেও, সিবওয়াইহ-এর মতে প্রারম্ভিকতার (ابتداء) ক্ষেত্রে যা বৈধ ছিল, সেই অনুযায়ী এখানেও কর্মকারক অবস্থা (نصب) বৈধ হতে পারে। এটি মূলত আল-আখফাশের উল্লেখ করা একটি দিক মাত্র, যা তার কাছে বা অন্য কারো কাছেই সর্বোত্তম পদ্ধতি নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌مسألة [10]

ومن ذلك قوله في باب الاستفهام: أأنت زيد ضربته؟ فيختار في زيد الرفع، ولا يجوز النصب إلا على قول من قال: زيدا ضربته.

قال محمد: وهذا خلاف قوله أجمع في هذا الباب، لأنه إنما يستفهم عن الفعل، فينبغي له ها هنا أن يضمر فعلا يرتفع (أنت) عليه، وهو الذي ينصب زيدا كأنه قال: أضربت أنت زيدا؟ وكذلك تقول: أأنت تقول زيدا منطلقا؟ كما تقول: أتقول زيدا منطلقا؟ وكذلك ما أنت زيد ضربت في باب النفي، وهذا قول أبي الحس الأخفش وغيره.

قال أحمد: قوله: قد كان ينبغي له ها هنا أن يضمر فعلا يرتفع به (أنت) ويكون ناصبا لزيد، فليس يلزمه هذا، لأن الكلام مبني من جملتين، والجملة الأخرى مبنية من اسم وفعل، والأولى التي فيها حرف الاستفهام ليست مبنية من اسم وفعل، وإنما يكون ما قال في الجملة إذا كانت من اسم وفعل، /17/ نحو قولك: زيد ضربته، وإذا أتيت بحرف الاستفهام كان أولى أن يليه الفعل، فإذا قلت: لزيد أبوه قائم، أو زيد قائم أبوه، ثم أتيت بحرف الاستفهام، لم يكن ها هنا شيء هو أولى بأن يلي حرف الاستفهام، "وكذلك إذا قلت: هند أبوها ضربته، ثم أتيت بحرف الاستفهام" في الجملة الأولى، وإنما هو خبر في الجملة الأخيرة، لم يكن لك أن تضمر فعلا بعد الألف.

ومثل ذلك أأنت زيد ضربته؟ لأن (أنت) ابتداء وخبره الجملة، وهي الابتداء الثاني وخبره، فلم يقع الفعل مبنيا على (أنت)، فيكون الألف بالفعل أولى، إنما يكون به أولى إذا كان خبرا عن الاسم الذي يليها، فأما إذا كان خبرا عن اسم آخر وفي جملة أخرى فليس الأمر على ذلك، وإلى هذا ذهب سيبويه، وكذلك ما أنت زيد ضربته، القول فيه كالقول فيما قدمناه ذكره.
মাসআলা [১০]

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো প্রশ্নবোধক (الاستفهام) পরিচ্ছেদে তাঁর বক্তব্য: "তুমি কি সেই জায়েদ যাকে তুমি প্রহার করেছ?" এখানে তিনি 'জায়েদ' শব্দের ক্ষেত্রে রফা (الرفع) হওয়াকে পছন্দ করেছেন। আর নসব (النصب) হওয়া বৈধ নয়, কেবল তাদের অভিমত ব্যতীত যারা বলে: "আমি জায়েদকে প্রহার করেছি।"

মুহাম্মদ বলেন: এটি এই পরিচ্ছেদে তাঁর সামগ্রিক বক্তব্যের পরিপন্থী। কারণ, প্রশ্ন মূলত ক্রিয়া (فعل) সম্পর্কেই করা হয়। সুতরাং এখানে তাঁর জন্য উচিত ছিল এমন একটি ক্রিয়া (فعل) উহ্য রাখা যার মাধ্যমে 'আনতা' (أنت) শব্দটি রফা (الرفع) প্রাপ্ত হবে এবং সেই ক্রিয়াই 'জায়েদ' শব্দটিকে নসব (النصب) প্রদান করবে; যেন তিনি বলেছেন: "তুমি কি জায়েদকে প্রহার করেছ?" অনুরূপভাবে আপনি বলবেন: "তুমি কি বলছ যে জায়েদ প্রস্থানকারী?", যেমন আপনি বলে থাকেন: "তুমি কি বলছ যে জায়েদ প্রস্থানকারী?"। না বোধক পরিচ্ছেদেও অনুরূপ নিয়ম: "তুমি তো সেই নও যাকে জায়েদ প্রহার করেছে।" এটি আবুল হাসান আল-আখফাশ ও অন্যান্যদের অভিমত।

আহমদ বলেন: তাঁর (মুহাম্মদের) এই বক্তব্য যে—এখানে তাঁর জন্য উচিত ছিল এমন একটি ক্রিয়া (فعل) উহ্য রাখা যার দ্বারা 'আনতা' (أنت) শব্দটি রফা (الرفع) প্রাপ্ত হবে এবং যা 'জায়েদ'কে নসব (النصب) দান করবে—এটি তাঁর (সিবাওয়াইহ) ওপর অপরিহার্য নয়। কারণ, বক্তব্যটি দুটি বাক্য (جملة) দ্বারা গঠিত। দ্বিতীয় বাক্যটি একটি বিশেষ্য (اسم) এবং ক্রিয়া (فعل) দ্বারা গঠিত। কিন্তু প্রথম বাক্যটি, যাতে প্রশ্নবোধক (الاستفهام) অব্যয় রয়েছে, সেটি বিশেষ্য (اسم) ও ক্রিয়া (فعل) দ্বারা গঠিত নয়। তিনি যা বলেছেন তা কেবল তখনই বাক্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যখন বাক্যটি বিশেষ্য (اسم) এবং ক্রিয়া (فعل) দ্বারা গঠিত হয়, /১৭/ যেমন আপনার কথা: "জায়েদ, তাকে আমি প্রহার করেছি।" যখন আপনি প্রশ্নবোধক (الاستفهام) অব্যয় নিয়ে আসবেন, তখন তার পরে ক্রিয়া (فعل) থাকাই অধিকতর উপযোগী হবে। সুতরাং আপনি যখন বলেন: "জায়েদের পিতা দণ্ডায়মান" অথবা "জায়েদ, তার পিতা দণ্ডায়মান", অতঃপর আপনি প্রশ্নবোধক (الاستفهام) অব্যয় নিয়ে আসেন, তবে এখানে এমন কোনো উপাদান নেই যা প্রশ্নবোধক অব্যয়ের পরে আসার ক্ষেত্রে অধিকতর উপযোগী। "অনুরূপভাবে যখন আপনি বলেন: 'হিন্দ, তার পিতা তাকে প্রহার করেছে', অতঃপর প্রথম বাক্যে প্রশ্নবোধক অব্যয় নিয়ে আসেন", তবে সেটি শেষ বাক্যের সংবাদ বা বিধেয় (خبر) মাত্র; এমতাবস্থায় আলিফ (প্রশ্নবোধক চিহ্ন)-এর পরে আপনার পক্ষে কোনো ক্রিয়া (فعل) উহ্য রাখার অবকাশ নেই।

অনুরূপভাবে "তুমি কি সেই জায়েদ যাকে তুমি প্রহার করেছ?" বাক্যটির উদাহরণও ঠিক তদ্রূপ। কারণ, 'আনতা' (أنت) হলো প্রারম্ভিক উদ্দেশ্য (ابتداء), আর তার বিধেয় (خبر) হলো পরবর্তী বাক্যটি। সেই বাক্যটি আবার দ্বিতীয় উদ্দেশ্য (ابتداء) ও তার বিধেয় (خبر) দ্বারা গঠিত। সুতরাং ক্রিয়া (فعل) সরাসরি 'আনতা' (أنت)-এর ওপর ভিত্তি করে (مبنيا) গঠিত হয়নি যে আলিফ-এর পরে ক্রিয়া (فعل) আসাই অধিকতর উপযোগী হবে। ক্রিয়া (فعل) কেবল তখনই অধিকতর উপযোগী হয় যখন তা পরবর্তী বিশেষ্যের বিধেয় (خبر) হয়। কিন্তু যখন তা অন্য কোনো বিশেষ্যের বিধেয় (خبر) হয় এবং ভিন্ন কোনো বাক্যের অন্তর্ভুক্ত থাকে, তখন বিষয়টি সেরূপ থাকে না। সিবাওয়াইহ এই মতই পোষণ করেছেন। অনুরূপভাবে "তুমি তো সেই নও যাকে জায়েদ প্রহার করেছে" বাক্যের ক্ষেত্রেও বক্তব্য তা-ই যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
"وأما" أأنت تقول زيدا منطلقا؟ فزعم سيبويه أن القياس في (تقول) ألا تعمل، وأن يكون ما بعدها محكيا، ولم تدخل في باب ظننت بأكثر مما ذكر من عملها في المخاطبة والاستفهام، وشبهها بـ (ما) إذا لم تقو قوة (ليس) في كل مواضعها، فلما فصل بين ألف الاستفهام وبينها تغيرت وعادت إلى أصلها في القياس كما أن (ما) لما قدم خبرها رفع، وكذلك إذا كان الخبر موجبا كقولك: ما زيد إلا ظريف، فهذا هو القياس، ومن أجاز غير ما في القياس لزمه أن يأتي بحجة من كلام لاسيما وقد اجتمع لسيبويه أن العرب ترفع ما بعد القول من الكلام على كل حال في كل المواضع، وإنما ينصب به بعضهم في بعض المواضع وأنه القياس، ومن خالف القياس وأكثر الكلام العرب فعليه أن يأتي بحجة فيما خالف فيه.

 

‌‌مسألة [11]

ومن ذلك قوله في هذا الباب: والرفع بعد إذا وحيث جائز في مثل، حيث زيد لقيته فأكرمه، وإذا زيد تلقاه فأكرمه.

قال محمد: أما حيث فلا بأس بابتداء الاسم بعدها، لأنك قد تقول: جلست حيث عبد الله جالس، وأما (إذا) هذه فابتداء الاسم بعدها محال، وذلك أنك [لا] تقول: اجلس إذا عبد الله جالس، وقد نقض هذا قوله: إذا كانت لظروف الزمان في معنى الماضي فأضفها إلى الفعل إن شئت، وإن شئت /18/ فإلى الابتداء والخبر، لأنها في معنى إذ، وإذ تضاف إلى
আর "তুমি কি যায়েদকে প্রস্থানকারী বলছ?"—এটির ক্ষেত্রে সিবওয়াইহ্ দাবি করেছেন যে, ব্যাকরণগত নিয়ম (القياس) অনুযায়ী 'বলা' (تقول) ক্রিয়াটি আমল (تعمل) করবে না এবং এর পরবর্তী অংশটি কেবল হুবহু উদ্ধৃত (محكيا) হবে। এটি 'আমি মনে করেছি' (ظننت) পরিচ্ছেদে সম্বোধন (المخاطبة) ও প্রশ্নবোধক (الاستفهام) অবস্থায় আমল করার বিষয়ে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাইরে অন্য কোনো ক্ষেত্রে প্রবেশ করবে না। তিনি ইহাকে 'মা' (ما) এর সাথে তুলনা করেছেন যখন এটি সকল ক্ষেত্রে 'লাইসা' (ليس) এর মতো শক্তিশালী হয় না। অতঃপর যখন প্রশ্নবোধক আলিফ এবং ক্রিয়াটির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে, তখন এটি পরিবর্তিত হয়ে ব্যাকরণগত নিয়মের (القياس) মূলে ফিরে যায়; যেমন 'মা' (ما) এর সংবাদ বা খবর (الخبر) যখন আগে আসে তখন তা রফ্ বা পেশযুক্ত (رفع) হয়। তদ্রূপ সংবাদটি যখন ইতিবাচক (موجبا) হয়, যেমন আপনার উক্তি: "যায়েদ কেবল একজন মার্জিত ব্যক্তি"। এটাই হলো ব্যাকরণগত নিয়ম (القياس)। আর যে ব্যক্তি ব্যাকরণগত নিয়মের (القياس) বাইরে অন্য কিছু বৈধ মনে করেন, তাকে আরবদের বক্তব্য থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। বিশেষ করে যেখানে সিবওয়াইহ্ একমত হয়েছেন যে, আরবরা সকল অবস্থায় এবং সকল ক্ষেত্রে 'বলা' (القول) ক্রিয়ার পরবর্তী অংশকে রফ্ (ترفع) প্রদান করে। কিছু মানুষ কেবল নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে একে নসব বা যবর প্রদান করে এবং দাবি করে যে এটাই ব্যাকরণগত নিয়ম (القياس)। সুতরাং যে ব্যক্তি ব্যাকরণগত নিয়ম (القياس) এবং অধিকাংশ আরবদের বক্তব্যের বিরোধিতা করে, তাকে তার বিরোধিতার সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

 

‌‌মাসআলা [১১]

এই অধ্যায়ে তাঁর উক্তির অন্তর্ভুক্ত হলো: "ইযা" (إذا) এবং "হাইসু" (حيث) এর পরে রফ্ (الرفع) বা পেশযুক্ত হওয়া বৈধ, যেমন- "যেখানে যায়েদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে সেখানে বসো, তাকে সম্মান করো" এবং "যখন যায়েদের সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে, তখন তাকে সম্মান করো।"

মুহাম্মাদ বলেছেন: "হাইসু" (حيث) এর পরে ইসম বা বিশেষ্য (الاسم) দিয়ে বাক্য শুরু করাতে কোনো দোষ নেই, কারণ আপনি বলতে পারেন: "আমি বসেছি যেখানে আব্দুল্লাহ বসা"। কিন্তু এই "ইযা" (إذا) এর পরে ইসম বা বিশেষ্য (الاسم) দিয়ে বাক্য শুরু করা অসম্ভব (محال)। আর সেটি এই কারণে যে, আপনি বলতে পারেন না: "বসো যখন আব্দুল্লাহ বসা"। অথচ তাঁরই অন্য একটি উক্তি এটিকে খণ্ডন করে: যখন এটি সময়ের আধার (ظروف الزمان) হিসেবে অতীতকালের (الماضي) অর্থ প্রদান করে, তখন আপনি চাইলে একে ফেল বা ক্রিয়ার (الفعل) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতে পারেন, আর চাইলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় বা ইবতিদা ও খবর (الابتداء والخبر)-এর দিকেও; কারণ তখন এটি "ইয" (إذ) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়, আর "ইয" (إذ) সম্বন্ধযুক্ত হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
ما ذكرت، وإذا كانت في معنى (إذا) فلا تضفها إلا إلى الفعل، لأن (إذا) لا تضاف إلا إليه.

فأما (إذا) التي تكون للمفاجأة فتلك تقع بعدها الأسماء، وهي وهي غير هذه وذلك قولك: خرجت فإذا عبد الله قائم، وإن شئت قلت: فإذا عبد الله، وتسكت ولا تحتاج إلى جواب، لأنها للمفاجأة لا التي وصف، وقد أجاز في غير هذا الباب الرفع في هذا البيت:

إذا ابن أبي موسى بلال بلغته … فقام بفأس بين وصليك جازر

ولا يجوز الرفع على ما ذكر، لأنه يرفعه بالابتداء، ولكن يجوز على أن تضمر بلغ، وتفسيره بقوله: بلغته، ومثل إجازته الرفع في (إن) قوله:

لا تجزعي إن منفسا أهلكته … فإذا هلكت فعند ذلك فاجزعي

والقول فيه متى رفع أن يكون على إضمارك هلك، أي: إن هلك منفس، وتفسيره بقوله:

أهلكته، ، وهذا التفسير في البيتين قول أبي عثمان.

قال أحمد: قوله: ابتداء الاسم بعد (إذا) محال، لأنك لا تقول: اجلس إذا عبد الله جالس، فهذا لا يجوز بهذا اللفظ، ولا هو الذي أجازه سيبويه، وإنما يجيز مثل قولك: اجلس إذا عبد الله جلس، فتكون الجملة بعد (إذا) مبنية من اسم وفعل، إلا أنه قدم الاسم على الفعل، فقبح من جهة الترتيب، فأما أن يكون محالا فلا، ولكنه عند سيبويه
আপনি যা উল্লেখ করেছেন, এবং এটি যদি 'যখন' (إذا) এর অর্থে হয়, তবে একে ক্রিয়া (فعل) ব্যতীত অন্য কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করবেন না; কারণ 'যখন' (إذا) কেবল ক্রিয়া (فعل) এর সাথেই সম্বন্ধযুক্ত হয়।

পক্ষান্তরে 'আকস্মিকতা' (مفاجأة) অর্থ প্রদানকারী 'যখন' (إذا) এর ক্ষেত্রে, সেটির পরে বিশেষ্যসমূহ (أسماء) আসে। এটি পূর্বে বর্ণিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন আপনার উক্তি: "আমি বের হলাম এবং হঠাৎ আব্দুল্লাহ দাঁড়িয়ে আছে (فإذا عبد الله قائم)"। আপনি চাইলে বলতে পারেন: "হঠাৎ আব্দুল্লাহ (فإذا عبد الله)" এবং সেখানে কথা শেষ করতে পারেন; এর জন্য কোনো জবাব (جواب) বা প্রতিদানের প্রয়োজন হয় না। কারণ এটি আকস্মিকতা (مفاجأة) বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, যা বর্ণিত বিষয়ের বিপরীত। তিনি এই অধ্যায় ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এই কবিতাংশটিতে রফ বা কর্তৃপদীয় অবস্থা (رفع) প্রদান বৈধ বলেছেন:

যখন আবু মুসার পুত্র বিলাল, তুমি তার নিকট পৌঁছাবে … তখন কসাই যেন তোমার দুই সংযোগস্থলের মাঝে কুঠার নিয়ে দাঁড়িয়েছে

উল্লিখিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এখানে রফ (رفع) প্রদান বৈধ নয়, কারণ তিনি একে প্রারম্ভিক পদ (ابتداء) হিসেবে রফ (رفع) প্রদান করছেন। তবে এটি একটি উহ্য (إضمار) রাখা ক্রিয়া 'পৌঁছেছ' (بلغ) এর ভিত্তিতে বৈধ হতে পারে, যার ব্যাখ্যা (تفسير) হলো তার উক্তি: 'তুমি তার নিকট পৌঁছেছ' (بلغته)। যেভাবে তিনি 'যদি' (إن) এর ক্ষেত্রে রফ (رفع) জায়েজ বলেছেন, যেমন কবির উক্তি:

তুমি বিচলিত হয়ো না যদি কোনো মূল্যবান সম্পদ ধ্বংস করো … তবে তুমি যখন ধ্বংস হবে তখনই কেবল বিচলিত হয়ো

এখানে যখন রফ (رفع) করা হবে, তখন বক্তব্যটি হবে 'ধ্বংস হয়েছে' (هلك) শব্দটিকে উহ্য (إضمار) রাখার ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ: 'যদি কোনো মূল্যবান সম্পদ ধ্বংস হয়'। আর এর ব্যাখ্যা (تفسير) হলো কবির উক্তি:

'আমি তা ধ্বংস করেছি'। এই দুই কবিতাংশের এই ব্যাখ্যা (تفسير) হলো আবু উসমানের বক্তব্য।

আহমাদ বলেন: 'যখন' (إذا) এর পরে বিশেষ্যের (اسم) প্রারম্ভিক ব্যবহার (ابتداء) অসম্ভব (محال)। কারণ আপনি বলতে পারেন না: "বসুন যখন আব্দুল্লাহ উপবিষ্ট (اجلس إذا عبد الله جالس)"। এই শব্দবিন্যাসটি বৈধ নয় এবং সিবওয়াইহি যা বৈধ বলেছেন এটি তা নয়। বরং তিনি এরুপ বলা বৈধ মনে করেন: "বসুন যখন আব্দুল্লাহ বসবে (اجلس إذا عبد الله جلس)"। এক্ষেত্রে 'যখন' (إذا) এর পরের বাক্যটি বিশেষ্য (اسم) ও ক্রিয়া (فعل) দ্বারা গঠিত হবে, কেবল ক্রিয়া (فعل) এর পূর্বে বিশেষ্যকে (اسم) অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলে বিন্যাসগত দিক থেকে এটি ত্রুটিযুক্ত (قبح) হয়েছে। তবে এটি যে অসম্ভব (محال) তা নয়, বরং সিবওয়াইহির মতে এটি...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
في قياسه من باب المستقيم القبيح، فاستقامته من جهة معناه ولفظه، وقبحه من جهة ترتيبه، لأنه أولا قدم الاسم وأخر الفعل، وهذا مثل قوله:

................. وقلما … وصال على طول الصدود يدوم

وحكم (قلما) أن يليها الفعل.

فأما قوله: إنه ناقض، لأنه ذكر أن ظروف الزمان إذا كانت في معنى الاستقبال لم تضفها [إلا] إلى الفعل، لأن الفعل لا يضاف إلا إليه، فلم تضف (إذا) إلا إلى الفعل في المسألة التي ردها، وهي قوله: إذا عبد الله تلقاه فأكرمه، لأن الإضافة إلى الفعل إنما هي إضافة إلى الجملة، والمعنى سواء قدمت الاسم على الفعل أو [الفعل] على الاسم، فالمعنى في ذلك واحد غير متغير ولا منتقض، وإنما يقبح تقديم /19/ الاسم من جهة الترتيب لا أن المعنى مختلف، فهو إذا قدم الاسم أو أخره، إنما يضيف إلى تلك الجملة بعينها، لأنه لا فرق بين قولنا في المعنى: زيد قام، وقام زيد، وكذلك إذا زيد تلقاه، وإذا تلقى زيدا، هما واحد في المعنى، ولو كانت (إذا) مضافة إلى الفعل دون الفاعل لكنا إذا قدمنا الاسم وأضفنا إليه دون الفعل أيضا خفضنا الاسم، ولما لم يكن ذلك كذلك كانت الإضافة إلى الجملة المبنية من اسم وفعل، وكان المعنى في الوجهين- أعني تقديم الاسم وتقديم الفعل
তাঁর কিয়াসের (قياس) ক্ষেত্রে এটি 'সুসংগত অথচ অশোভন' (المستقيم القبيح) অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। এর সুসংগতি বা সঠিকতা এর অর্থ ও শব্দের দিক থেকে, আর এর অশোভনতা এর বিন্যাসের দিক থেকে। কারণ তিনি প্রথমে বিশেষ্যকে (اسم) এনেছেন এবং ক্রিয়াকে (فعل) পরে দিয়েছেন। এটি তাঁর এই উক্তির মতো:

................. এবং বিচ্ছেদের দীর্ঘতার পর মিলন খুব কমই … (قلما) স্থায়ী হয়।

আর 'কাল্লামা' (قلما)-এর বিধান (حكم) হলো এর অব্যবহিত পরেই ক্রিয়া (فعل) আসা।

তাঁর এই বক্তব্যের ব্যাপারে যে এটি 'পরিপন্থী' (ناقض); কেননা তিনি উল্লেখ করেছেন যে কালবাচক অব্যয়গুলো (ظروف الزمان) যদি ভবিষ্যৎ অর্থ প্রদান করে, তবে সেগুলোকে কেবল ক্রিয়ার (فعل) দিকেই সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) করা যায়। কারণ ক্রিয়া কেবল সেদিকেই সম্বন্ধযুক্ত হয়। সুতরাং তিনি যে মাসয়ালাটি প্রত্যাখ্যান (رد) করেছেন, তাতে 'ইযা' (إذا) কেবল ক্রিয়ার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। আর তা হলো তাঁর উক্তি: "যদি আবদুল্লাহর সাথে তোমার সাক্ষাৎ হয় তবে তাকে সম্মান করো।" কারণ ক্রিয়ার দিকে সম্বন্ধ করা মূলত বাক্যের (جملة) দিকেই সম্বন্ধ করার নামান্তর। আর বিশেষ্যকে (اسم) ক্রিয়ার আগে আনা হোক কিংবা ক্রিয়াকে (فعل) বিশেষ্যের আগে, অর্থ উভয় ক্ষেত্রে একই থাকে এবং তাতে কোনো পরিবর্তন বা বৈপরীত্য (منتقض) তৈরি হয় না। মূলত বিশেষ্যকে আগে আনা বিন্যাসের দিক থেকে অশোভন /১৯/, অর্থের ভিন্নতার কারণে নয়। সুতরাং তিনি বিশেষ্যকে আগে উপস্থাপন করুন বা পরে, তিনি মূলত সেই নির্দিষ্ট বাক্যটির (جملة) দিকেই সম্বন্ধ করছেন। কারণ অর্থের বিচারে আমাদের এই কথার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই যে: 'যাইদুন ক্বামা' এবং 'ক্বামা যাইদুন'। তদ্রূপ 'ইযা যাইদুন তালাক্কাহু' এবং 'ইযা তালাক্কা যাইদান' অর্থের দিক থেকে অভিন্ন। যদি 'ইযা' (إذا) কর্তার (فاعل) পরিবর্তে কেবল ক্রিয়ার (فعل) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مضافة) হতো, তবে আমরা যখন বিশেষ্যকে আগে আনতাম এবং ক্রিয়ার পরিবর্তে তার প্রতি সম্বন্ধ করতাম, তখন আমরা বিশেষ্যটিকেও যেরযুক্ত (خفض) করতাম। যেহেতু বিষয়টি তেমন নয়, সেহেতু প্রমাণিত হয় যে এই সম্বন্ধ মূলত বিশেষ্য ও ক্রিয়া দ্বারা গঠিত বাক্যের (جملة) প্রতি। আর উভয় অবস্থাতেই অর্থ অভিন্ন—অর্থাৎ বিশেষ্যকে আগে আনা এবং ক্রিয়াকে আগে আনা...
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৬৮)
لأنهما قبل دخولهما (إذا) متساويان في جودة المعنى والترتيب- وبعد دخول (إذا) متساويان في المعنى غير متساويين في جودة الترتيب.

فأما ما حكاه عن أبي عثمان في تأويل البيتين على قول من رفعهما:

إذا ابن أبي موسى بلال بلغته

لا تجزعي إن منفس أهلكته

من أنه يضمر إذا بلغ ابن أبي موسى، وإن هلك منفس، فهذا الذي تأوله قبيح، لأنه أضمر ما يرفع وفسره بما ينصب، وإنما يضمر مثل ما يظهر ليكون ما ظهر مفسرا لما أضمر، وهذا قول جميعهم، ولو جاز ما ذكره للزمه أن يضمر فعلا ناصبا ويفسره بفعل رافع، فيقول: أزيدا ضرب أبوه، على معنى أهنت زيدا ضرب أبوه، فإن أجاز ذلك فهو نقض لجميع مذهبهم ولهذه الأبواب التي وافقوه عليها وسلموها إليه وعملوا مسائلهم بها.

 

‌‌مسألة [12]

ومن ذلك قول سيبويه في باب ما جرى من أسماء الفاعلين (في الاستفهام) مجرى الفعل، احتج في تعدي (فعل) بقوله:

أو مسحل شنج عضادة سمحج … بسرائه ندب لها وكلوم

وعضادة سمحج إنما هي منتصبة انتصاب هو حسن وجه عبد، وكان أبو عمرو بن العلاء يزعم أن عضادة سمحج ظرف، واحتج بقوله:
কারণ (إذا) প্রবেশের পূর্বে উভয়ে অর্থের উৎকর্ষতা এবং বিন্যাসের ক্ষেত্রে সমান- আর (إذا) প্রবেশের পর উভয়ে অর্থের দিক থেকে সমান হলেও বিন্যাসের উৎকর্ষতার ক্ষেত্রে সমান নয়।

পক্ষান্তরে কবিতা দুটির ব্যাখ্যায় যারা শব্দ দুটিকে রফ (رفع) সহকারে পড়েছেন তাদের মতানুসারে তিনি আবু উসমান থেকে যা বর্ণনা করেছেন:

যখন ইবনে আবি মুসা বিলাল-এর কাছে তুমি পৌঁছাবে

আক্ষেপ করো না, যদি কোনো মূল্যবান সম্পদ তুমি বিনষ্ট করো

তিনি যে ধারণা করেছেন যে এখানে ‘যখন ইবনে আবি মুসা পৌঁছাবে’ এবং ‘যদি সম্পদ বিনষ্ট হয়’ উহ্য রয়েছে, তার এই ব্যাখ্যাটি অশোভন; কারণ তিনি এমন বিষয় উহ্য রেখেছেন যা রফ (رفع) প্রদান করে আর তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এমন বিষয় দিয়ে যা নসব (نصب) প্রদান করে। অথচ দৃশ্যমান বিষয়টি যেন উহ্য বিষয়ের ব্যাখ্যাকারী হয়, সেজন্য দৃশ্যমান বিষয়ের অনুরূপই উহ্য রাখতে হয়; আর এটিই সকলের অভিমত। যদি তার উল্লিখিত বিষয়টি বৈধ হতো, তবে তার জন্য নসব (نصب) প্রদানকারী একটি ক্রিয়া উহ্য ধরা এবং তাকে রফ (رفع) প্রদানকারী ক্রিয়া দিয়ে ব্যাখ্যা করা আবশ্যক হয়ে পড়ত; যেমন তিনি বলতেন: ‘জায়েদকে কি তার পিতা প্রহার করেছে?’, যার অর্থ দাঁড়াত ‘আমি জায়েদকে অপমান করেছি, তার পিতা তাকে প্রহার করেছে’। যদি তিনি এটি বৈধ মনে করেন, তবে তা তাদের সমগ্র মাযহাব বা মতাদর্শের পরিপন্থী হবে এবং সেই সকল পরিচ্ছেদেরও বিরোধী হবে যেগুলোতে তারা তার সাথে একমত পোষণ করেছেন, তার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং তাদের মাসআলাগুলো সে অনুযায়ী সমাধান করেছেন।

 

‌‌মাসআলা [১২]

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সিবাওয়াইহ-এর উক্তি সেই পরিচ্ছেদে যেখানে ইসমে ফায়েল বা কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) (প্রশ্নবোধক বাক্যে) ক্রিয়ার ন্যায় আমল করে। তিনি ‘ফাউলা’ (فعل) ছাঁচের ক্রিয়ার সকর্মক হওয়ার স্বপক্ষে এই কবিতাংশটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন:

অথবা বন্য গাধা যার কুঁচকি সংকুচিত ও দীর্ঘাকার … তার পিঠে রয়েছে আঁচড় এবং ক্ষতচিহ্নসমূহ

আর ‘আদাদাতু সামহাজ’ শব্দটি ‘হুসনুন ওয়াজহু আবদিন’ (حسن وجه عبد) এর ন্যায় নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়েছে। আবু আমর ইবনুল আলা দাবি করতেন যে ‘আদাদাতু সামহাজ’ একটি জরফ বা অধিকরণ (ظرف) এবং তিনি তার উক্তি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইনতিসার লি সিবওয়াইহি আলাল মুবাররিদ (পৃষ্ঠা: ৬৯)
حتى شآها كليل موهنا عمل … باتت طرابا وبات الليل لم ينم

وأما موهن فهو ظرف.

ومن ذلك قوله في هذا الباب: فعيل يتعدى، مثل رحيم وعليم، فيجيز هذا رحيم زيدا وسميع كلامك، ويذكر أنه إنما وضع للمبالغة /20/، ولم يأت فيه بحجة من شعر ولا غيره، والدليل على أنه غير متعد أن باب فعيل في الأصل إنما هو للفعل غير المتعدي نحو: كرم وملح وظرف، فلما بنوه هذا البناء ضارعوا به مالا يتعدى إذا أرادوا ألا يتعدى.

فإن قال قائل: فأنت لا تقول: رحيم، إلا لمن كثر ذلك منه، وكذلك عليم. قيل له: نظيره كريم، لا يقال إلا لمن استقر ذلك فيه، وقد يوجب الاسم تكثير الفعل ولا يجري مجرى الفاعل، لأنه ليس باسمه، ولكنه مشتق، فمن ذلك قولك: رجل صديق وشريب وفسيق، وأنت لا تقول: هو شريب الخمر، ولكنك تقول: للخمر، كما تقول: عليم بالناس، ورحيم بهم، فمن أجاز تعدي (فعيل) فليجز تعدي (فعيل)، وإنما لم يتعد هذا أجمع، لأنه مستقر فيه، فمعناه ما قد مضى من الأفعال وصار اسما لازما كاليد والرجل، وباب (فعيل) أجمع إنما هو للكثرة والمبالغة.

وقد ذكر في هذا الباب بعينه، أزيد أنت له عديل، وأزيد أنت له جليس، ويقول: لأن جليسا وعديلا اسمان، ولو أراد اسم الفاعل لقال: جالس، فيقال له: وكذلك اسم الفاعل، إنما هو في باب فعل، إنما هو عالم وراحم، وفعيل في باب فاعل أيضا كثير "نحو": عادلته فأنا عديل، وجالسته فأنا جليس، وعاشرته فأنا عشير، وخالطته فأنا خليط، وشاركته فأنا
এমনকি ক্লান্তি তাকে ছাপিয়ে গেল, গভীর রাতের আমল … সে আনন্দের সাথে রাত যাপন করল এবং রাত পার হলো কিন্তু সে ঘুমাল না।

আর 'মওহিন' (موهن) শব্দটির কথা বললে এটি একটি কালবাচক বিশেষ্য (ظرف)।

এরই অন্তর্ভুক্ত এই অধ্যায়ে তাঁর কথা: 'ফাঈল' (فعيل) ছাঁচটি সকর্মক (متعدى) হয়, যেমন 'রাহীম' ও 'আলীম'। ফলে তিনি একে 'রাহীমুন জাইদান' (জায়েদের প্রতি দয়ালু) এবং 'সামিউন কালামাকা' (তোমার কথার শ্রবণকারী) হিসেবে বৈধ মনে করেন। এবং তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি মূলত অতিশয়োক্তি (مبالغة) এর জন্য গঠন করা হয়েছে /২০/, তবে এ বিষয়ে তিনি কবিতা বা অন্য কোনো উৎস থেকে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। আর এটি সকর্মক (متعدى) না হওয়ার প্রমাণ হলো, মূলত 'ফাঈল' (فعيل) অধ্যায়টি অকর্মক (غير متعدي) ক্রিয়ার জন্যই নির্ধারিত, যেমন: 'কারুমা' (كرم), 'মালুহা' (ملح) এবং 'জারুফা' (ظرف)। সুতরাং যখন তারা এটিকে এই ছাঁচে গঠন করেছে, তখন তারা একে অকর্মকের সদৃশ করেছে যখন তারা চেয়েছে যে এটি সকর্মক না হোক।

যদি কেউ বলে: আপনি তো 'রাহীম' কেবল তার ক্ষেত্রেই বলেন যার মধ্যে এর আধিক্য রয়েছে, তেমনিভাবে 'আলীম'। তাকে বলা হবে: এর দৃষ্টান্ত হলো 'কারীম', এটি কেবল তার ক্ষেত্রেই বলা হয় যার মধ্যে এই গুণটি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কখনো কখনো বিশেষ্যটি ক্রিয়ার আধিক্যকে আবশ্যক করে কিন্তু তা কর্তা (فاعل) এর স্থলাভিষিক্ত হয় না; কারণ এটি তার আসল নাম নয়, বরং এটি একটি ব্যুৎপন্ন (مشتق) শব্দ। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আপনার কথা: 'সিদ্দীক' (صديق), 'শাররীব' (شريب) এবং 'ফাস্সীক' (فسيق) ব্যক্তি। কিন্তু আপনি বলেন না যে: 'সে মদ পানকারী' (هو شريب الخمر), বরং আপনি বলেন: 'মদের জন্য' (للخمر), যেমনটি আপনি বলেন: 'মানুষ সম্পর্কে পরিজ্ঞাত' (عليم بالناس) এবং 'তাদের প্রতি দয়ালু' (رحيم بهم)। সুতরাং যে ব্যক্তি 'ফাঈল' (فعيل) এর সকর্মকতা বৈধ মনে করেন, তিনি যেন 'ফুয়াইল' (فعيل) এর সকর্মকতাকেও বৈধ মনে করেন। মূলত এই সবগুলিই সকর্মক হয় না, কারণ এটি তার মধ্যে স্থায়ী গুণ। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায় এমন সব কাজ যা অতীতে ঘটে গেছে এবং হাত বা পায়ের মতো একটি অপরিহার্য নামে পরিণত হয়েছে। আর সমগ্র 'ফাঈল' (فعيل) অধ্যায়টি মূলত আধিক্য ও অতিশয়োক্তি (مبالغة) বুঝানোর জন্য।

এবং ঠিক এই অধ্যায়টিতেই উল্লেখ করা হয়েছে: 'আ-জাইদুন আন্তা লাহু আদীল' (জায়েদের জন্য তুমি কি সমকক্ষ?) এবং 'আ-জাইদুন আন্তা লাহু জালীস' (জায়েদের জন্য তুমি কি সঙ্গী?)। তিনি বলেন: কারণ 'জালীস' ও 'আদীল' হলো দুটি বিশেষ্য। আর যদি তিনি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) বুঝাতে চাইতেন তবে তিনি 'জালিস' বলতেন। তাকে বলা হবে: তদ্রূপ কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) কেবল 'ফায়ালা' (فعل) অধ্যায় থেকেই আসে, যা হলো 'আলিম' ও 'রাহিম'। আর 'ফায়িল' (فاعل) এর অর্থে 'ফাঈল' (فعيل) এর ব্যবহারও প্রচুর, যেমন: "আমি তার সমকক্ষ হয়েছি তাই আমি আদীল (সমকক্ষ)", "আমি তার সাথে বসেছি তাই আমি জালীস (সঙ্গী)", "আমি তার সাথে বসবাস করেছি তাই আমি আশীর (সহচর)", "আমি তার সাথে মিশেছি তাই আমি খালীত (বন্ধু)", এবং "আমি তার সাথে শরিক হয়েছি তাই আমি..."