(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
التوسعة على العيال لأبي زرعة   (العراقي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: التوسعة على العيال لأبي زرعة

المؤلف: أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم العراقي (ت 806هـ)

تحقيق: مسعد عبد الحميد السعدني

(مخطوط مصدره المحقق جزاه الله خيرا)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু যুরআ রচিত পরিবারের প্রতি বদান্যতা   (আল-ইরাকি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু যুরআ রচিত ‘পরিবারের প্রতি বদান্যতা’

লেখক: আবু আল-ফজল যাইনুদ্দীন আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইবরাহীম আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি)

সম্পাদনা: মুসআদ আব্দুল হামীদ আস-সাদানি

(পাণ্ডুলিপিটির উৎস গবেষক নিজেই, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলাম ওয়েব সাইটের অন্তর্গত বিনামূল্যে বিতরিত ‘জাওয়ামে আল-কালিম’ প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[বইটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ.

الْحَمْدُ لِلَّهِ الْوَاسِعِ عَطَاؤُهُ، الْوَاقِعِ قَضَاؤُهُ.

يُحِبُّ مَعَالِيَ الأَخْلاقِ، وَيَكْرَهُ سَفْسَافَهَا، وَيَحْمَدُ مَصَانِعَ الْمَعْرُوفِ وَيُبْغِضُ خِلائَهَا.

مَنْ أَيْقَنَ مِنْهُ بِالْخَلَفِ لَمْ يَخْشَ الضَّيْعَةَ وَلَمْ يَخَفْ.

أَحْمَدُهُ عَلَى حَمْدِهِ بِالإِنْفَاقِ، وَهُوَ الْمُعْطِي، وَأَشْكُرُهُ عَلَى عَوْدِهِ بِالإِرْفَاقِ غَيْرَ مُبْطِي.

وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، شَهَادَةَ مَنْ عَرَفَ رَبَّهُ بِالْغِنَى فَابْتَهَلَ إِلَيْهِ وَضَرَعَ، وَعَرَفَ نَفْسَهُ بِالْفَاقَةِ فَاسْتَكَانَ وَخَضَعَ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الَّذِي كَانَ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ، وَأَعَوْدَ بِالْمِيرِ مِنَ السَّنَةِ الْمُخْضَلَةِ.

صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَشَرَفِهِ وَحَمْدِهِ.

وَبَعْدُ. . . فَقَدْ تَكَرَّرَ السُّؤَالُ مِنْ جَمَاعَةٍ مِنَ الْعَوَامِّ فِي عِدَّةٍ مِنَ الأَعْوَامِ عَنْ أَكْلِ الدَّجَاجِ وَالْحُبُوبِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، هَلْ هُوَ مُبَاحٌ أَمْ مُحَرَّمٌ عِنْدَ الْعُلَمَاءِ؟ .

فَأَجَبْتُ: بِأَنَّهُ مِنْ جُمْلَةِ الْمُبَاحَاتِ، وَإِنِ اقْتُرِنَ بِنِيَّةٍ صَالِحَةٍ فَهُوَ الطَّاعَاتُ.

فَذُكِرَ لِي أَنَّ بَعْضَ الْعَصْرِيِّينَ أَفْتَى بِتَحْرِيمِ ذَلِكَ فِي هَذَا الْيَوْمِ، وَأَنَّهُ لا يُسْتَحَبُّ فِيهِ شَيْءٌ غَيْرُ الصَّوْمِ.

فَسَأَلْتُ عَنْهُ فَإِذَا هُوَ مِمَّنْ يَنْتَحِلُ فَتَاوَى الشَّيْخِ تَقِيِّ الدِّينِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْحَلِيمِ بْنِ تَيْمِيَةَ الْمُتَعَلِّقَةَ بِهَذَا الْمَعْنَى الْمَسْئُولِ عَنْهُ عَلَى التَّعْيِينِ، فَوَجَدْتُهُ قَدْ سُئِلَ عَنْ أَشْيَاءٍ تَتَعَلَّقُ بِيَوْمِ عَاشُورَاءَ.

وَمِنَ الْمَسْئُولِ عَنْهُ: ذَبْحُ الدَّجَاجِ، وَطَبْخُ الْحُبُوبِ فِي هَذَا الْيَوْمِ؟ فَأَجَابَ: «لَيْسَ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ سُنَّةً فِي هَذَا الْيَوْمِ بَلْ هُوَ بِدْعَةٌ، لَمْ يُشِرْ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلا فَعَلَهُ هُوَ وَلا أَصْحَابُهُ» .

ثُمَّ ذَكَرَ حَدِيثَ أَبِي هُرَيْرَةَ الآتِي وَضَعَّفَهُ كَمَا سَيَأْتِي.

ثُمَّ قَالَ: وَقَدْ عُلِمَ أَنَّهُ لَمْ يَسْتَحْسِنْ أَحَدٌ مِنْ أَئِمَّةِ الإِسْلامِ وَلا رَوَى أَحَدٌ مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ مَا فِيهِ اسْتِحْبَابُ الاغْتِسَالِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَلا الْكُحْلِ، وَالْخِضَابِ، وَتَوْسِيعِ النَّفَقَةِ، وَلا الصَّلاةِ الْمَذْكُورَةِ، وَلا إِحْيَاءِ لَيْلَةِ عَاشُورَاءَ، وَلا أَمْثَالِ ذَلِكَ مِمَّا تَضَمَّنَهُ هَذَا الْحَدِيثُ، وَلا ذَكَرُوا فِي ذَلِكَ سُنَّةً عَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَأَعْلَى مَا بَلَغَنِي فِي ذَلِكَ مَا ذَكَرَهُ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى أَهْلِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهِ» ، قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْتَشِرِ: «جَرَّبْنَاهُ مِنْ سِتِّينَ سَنَةً فَوَجَدْنَاهُ حَقًا» ، ثُمَّ قَالَ: وَابْنُ الْمُنْتَشِرِ هُوَ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ، وَلَمْ يَكُنْ فِي مَدَائِنِ الإِسْلامِ مَدِينَةٌ أَكْثَرُ كَذِبًا مِنَ الْكُوفَةِ، وَفِيهَا الطَّائِفَتَانِ الْمُتَقَدِّمَتَانِ: الرَّافِضَةُ أَصْحَابُ الْمُخْتَارِ بْنِ عُبَيْدٍ، وَالنَّاصِبَةُ أَصْحَابُ الْحَجَّاجِ بْنِ يُوسُفَ، وَكِلاهُمَا ثَقَفِيٌّ، وَهُمَا اللَّذَانِ قَالَ فِيهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فِي ثَقِيفٍ كَذَّابٌ وَمُبِيرٌ» .

ثُمَّ قَالَ: وَإِذَا كَانَ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ، فَلَعَلَّ هَذَا قَدْ سَمِعَهُ مِنْ شِيعَةِ قَتَلَةِ الْحُسَيْنِ أَتْبَاعِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ.

وَأَمَّا قَوْلُهُ: جَرَّبْنَاهُ سِتِّينَ سَنَةً فَوَجَدْنَاهُ حَقًا، فَإِنَّ اللَّهَ إِذَا وَسَّعَ عَلَى عَبْدٍ رِزْقَهُ طَوَّلَ عُمْرَهُ لَمْ يَعْلَمْ بِذَلِكَ أَنَّ سَبَبَ التَّوْسِيعِ مَا كَانَ فَعَلَهُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، بَلْ هَذَا قَوْلٌ بِلا عِلْمٌ، وَظَنٌّ مُخْطِئٌ، وَالظَّنُّ لا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا.

وَقَدْ رَوَى عَنِ الرَّافِضَةِ الَّذِينَ يَفْعَلُونَ الْمَأْتَمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ: مَنْ يُوَسِّعُ اللَّهُ عَلَيْهِ أَكْثَرَ مِمَّا يُوَسِّعُ عَلَى مَنْ وَسَّعَ عَلَى أَهْلِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، إِلَى آخِرِ كَلامِهِمْ.

وَلَقَدْ تَعَجَّبْتُ مِنْ وُقُوعِ هَذَا الْكَلامِ مِنْ هَذَا الإِمَامِ الَّذِي يَقُولُ أَصْحَابُهُ أَنَّهُ أَحَاطَ بِالسُّنَّةِ عِلْمًا وَخِبْرَةً.

فَأَمَّا قَوْلُهُ: «أَنَّهُ لَمْ يَسْتَحِبَّ أَحَدٌ مِنْ أَئِمَّةِ الإِسْلامِ تَوْسِيعَ النَّفَقَةِ عَلَى الأَهْلِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ» ، فَلَيْسَ كَذَلِكَ.

فَقَدْ قَالَ بِذَلِكَ: عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ.

وَجَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ.

وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْتَشِرِ.

وَابْنُهُ إِبْرَاهِيمُ.

وَأَبُو الزُّبَيْرِ.

وَشُعْبَةُ.

يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ.

وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ.

وَغَيْرُهُمْ مِنَ الْمُتَأَخِّرِينَ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর দান অত্যন্ত ব্যাপক এবং যাঁর ফয়সালা অনিবার্য।

তিনি উন্নত চরিত্রের গুণাবলি পছন্দ করেন এবং নিচু আচরণ অপছন্দ করেন। তিনি সৎকর্মের প্রশংসা করেন এবং এর অনুপস্থিতিকে ঘৃণা করেন।

যে ব্যক্তি তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিদানের সুনিশ্চিত বিশ্বাস রাখে, সে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয় বা কোনো আশঙ্কা করে না।

আমি তাঁর প্রশংসা করি ব্যয়ের মাধ্যমে অর্জিত প্রশংসার জন্য, আর তিনিই প্রকৃত দাতা। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাঁর বিলম্বহীন ও ক্রমাগত অনুগ্রহের জন্য।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই—এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য যে তার পালনকর্তাকে অমুখাপেক্ষিতার মাধ্যমে চিনেছে, ফলে সে তাঁর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা ও বিনয় করেছে; এবং নিজেকে চরম অভাবী হিসেবে চিনেছে, ফলে সে নতি স্বীকার ও আত্মসমর্পণ করেছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি কল্যাণ বিতরণে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন এবং অভাবের বছরে সিক্ত শস্যের চেয়েও অধিক কল্যাণ বয়ে আনতেন।

তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সঙ্গীসাথী, তাঁর মর্যাদা ও প্রশংসার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

অতঃপর... বহু বছর ধরে একদল সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে আশুরার দিনে মুরগির মাংস এবং শস্যদানা রান্না করে খাওয়া সম্পর্কে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে যে, আলেমদের নিকট এটি কি বৈধ নাকি হারাম?

আমি উত্তর দিয়েছি: এটি বৈধ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, আর যদি এর সাথে নেক নিয়ত বা সৎ উদ্দেশ্য যুক্ত হয়, তবে তা ইবাদত ও পুণ্য হিসেবে গণ্য হবে।

অতঃপর আমাকে জানানো হলো যে, বর্তমান যুগের কিছু ব্যক্তি এই দিনে এটি হারাম হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে, এই দিনে রোজা রাখা ছাড়া অন্য কোনো কিছু করা মুস্তাহাব নয়।

আমি এ সম্পর্কে অনুসন্ধান করলাম এবং দেখলাম যে, তিনি শায়খ তাকিউদ্দীন আহমদ বিন আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়াহর সেই ফতোয়াগুলো গ্রহণ করেছেন, যা বিশেষভাবে এই জিজ্ঞাসিত বিষয়ের সাথে নির্দিষ্টভাবে সম্পর্কিত। আমি দেখলাম যে, তাঁকে আশুরার দিন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

তাঁকে যে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার মধ্যে ছিল: এই দিনে মুরগি জবাই করা এবং শস্য রান্না করা কি বৈধ? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: “এই দিনে এর কোনো কিছুই সুন্নাহ নয়, বরং এটি বিদআত; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ সম্পর্কে কোনো নির্দেশ দেননি এবং তিনি বা তাঁর সাহাবীগণও এমন কিছু করেননি।”

এরপর তিনি সামনে আসতে যাওয়া আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং সেটিকে দুর্বল আখ্যা দেন, যা সামনে আলোচিত হবে।

অতঃপর তিনি বলেন: এটি সুনিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে, ইসলামের কোনো ইমামই আশুরার দিনে গোসল করা, সুরমা লাগানো, মেহেদি লাগানো, পরিবার-পরিজনের জন্য সচ্ছলভাবে ব্যয় করা, নির্দিষ্ট নামাজ আদায় করা বা আশুরার রাত জেগে ইবাদত করা এবং এই হাদিসে উল্লেখিত অনুরূপ কাজগুলোকে উত্তম বলেননি। আর তাঁরা এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ থেকে কোনো সুন্নাহর কথা উল্লেখ করেননি।

এ বিষয়ে আমার কাছে সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের যা পৌঁছেছে তা হলো সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, ইব্রাহিম ইবনুল মুনতাশির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “যে ব্যক্তি আশুরার দিন তার পরিবার-পরিজনের জন্য সচ্ছলভাবে ব্যয় করবে, আল্লাহ সারা বছর তার ওপর সচ্ছলতা দান করবেন।” ইব্রাহিম ইবনুল মুনতাশির বলেন: “আমরা ষাট বছর ধরে এটি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং একে সত্য পেয়েছি।” অতঃপর তিনি (ইবনে তাইমিয়াহ) বলেন: ইবনুল মুনতাশির কুফার অধিবাসী ছিলেন, আর ইসলামের শহরগুলোর মধ্যে কুফার চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী শহর আর ছিল না। সেখানে পূর্ববর্তী দুটি দল ছিল: মুখতার ইবনে উবাইদের অনুসারী রাফেজি দল এবং হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের অনুসারী নাসিবি দল; তারা উভয়ই সাকিফ গোত্রীয় ছিল এবং তাদের সম্পর্কেই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: “সাকিফ গোত্রে একজন বড় মিথ্যাবাদী ও একজন ধ্বংসকারী আসবে।”

এরপর তিনি বলেন: যেহেতু তিনি কুফার অধিবাসী ছিলেন, তাই সম্ভবত তিনি এটি হোসাইন (রা.)-এর হত্যাকারী ও উবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদের অনুসারী শিয়াদের কাছ থেকে শুনেছেন।

আর তাঁর এই কথা— “আমরা এটি ষাট বছর ধরে পরীক্ষা করেছি এবং সত্য পেয়েছি”— এর উত্তরে বলা যায়, আল্লাহ যখন কোনো বান্দার রিজিক প্রশস্ত করেন বা হায়াত দীর্ঘ করেন, তখন এটি নিশ্চিত হওয়া যায় না যে এই প্রাচুর্যের কারণ সেই আমলটিই ছিল যা সে আশুরার দিনে করেছিল। বরং এটি জ্ঞানহীন কথা এবং একটি ভুল ধারণা; আর ধারণা সত্যের মোকাবেলায় কোনো কাজেই আসে না।

আর রাফেজিদের পক্ষ থেকে যারা আশুরার দিনে শোক পালন করে, তাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে: “আল্লাহ যার ওপর সচ্ছলতা দান করেন, তা সেই ব্যক্তির চেয়েও অধিক যিনি আশুরার দিন পরিবারের জন্য ব্যয় করেন”— তাদের বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

এই ইমামের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসায় আমি সত্যিই বিস্মিত হয়েছি, যাঁর অনুসারীরা দাবি করেন যে তিনি সুন্নাহর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় পূর্ণ পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন।

তাঁর এই কথা— “ইসলামের কোনো ইমামই আশুরার দিনে পরিবারের জন্য সচ্ছলভাবে ব্যয় করাকে মুস্তাহাব মনে করেননি”— এটি সঠিক নয়।

কেননা এটি মুস্তাহাব বলেছেন: উমর ইবনুল খাত্তাব।

এবং জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ।

এবং মুহাম্মদ ইবনুল মুনতাশির।

এবং তাঁর পুত্র ইব্রাহিম।

এবং আবু যুবাইর।

এবং শুবা।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ।

এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ।

এবং পরবর্তী যুগের অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
1 - كَمَا أَخْبَرَنِي أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُمَرَ الدِّمَشْقِيُّ مُشَافَهَةً بِهَا، أنا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيُّ، أنا الْعَلامَةُ أَبُو الْيَمَنِ زَيْدُ بْنُ الْحَسَنِ الْكِنْدِيُّ، أنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَبْهَانَ الْغَنَوِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ، حَدَّثَنِي أَبِي طَاهِرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، حَدَّثَنِي أَبِي عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ نَبَاتَةَ، قَالَ: «التَّوْسِعَةُ فِي عَاشُورَاءَ عَلَى الْعِيَالِ سُنَّةٌ غَيْرُ مَجْهُولَةٍ»

وَأَمَّا قَوْلُهُ: إِنَّ أَعْلَى مَا بَلَغَهُ فِي ذَلِكَ قَوْلُ ابْنِ الْمُنْتَشِرِ، فَقَدْ أَنْصَفَ مَنْ وَقَفَ عِنْدَمَا بَلَغَهُ، وَلَكِنْ لا يَنْبَغِي لَمِنْ لَمْ يَبْلُغْهُ أَنْ يَنْفِيَ وَجُودَ مَا لَمْ يَبْلَغْهُ كَمَا فَعَلَ فِي أَوَّلِ كَلامِهِ، وَمَا لَمْ يَبْلُغْهُ فَهُوَ أَوْلَى وَأَعْلَى مِمَّا بَلَغَهُ.

فَفِي الْبَابِ أَحَادِيثُ مَرْفُوعَةٌ، بَعْضُهَا صَحِيحٌ، أَوْ حَسَنٌ، وَفِي الْبَابِ: قَوْلُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَالْمَرْفُوعُ وَالْمَوْقُوفُ أَعْلَى مِنَ الْمَقْطُوعِ الَّذِي ذَكَرَهُ.

وَأَمَّا قَوْلُهُ: وَابْنُ الْمُنْتَشِرِ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ، ثُمَّ أَخَذَ يَذُمُّهَا بِكَثْرَةِ الْكَذِبِ، وَأَنَّ فِيهَا الرَّافِضَةُ، وَالنَّاصِبَةُ.

فَكَلامٌ عَجِيبٌ.

أَيَرُدُّ كَلامَ رَجُلٍ ثِقَةٍ لِكَوْنِهِ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ؟ وَإِنْ كَانَ فِيهَا الرَّافِضَةُ، وَالنَّاصِبَةُ؟ فَفِيهَا أَيْضًا الْفُقَهَاءُ الْمَرْضِيُّونَ أَصْحَابُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ: كَإِبْرَاهِيمَ النَّخْعِيِّ، وَالأَسْوَدِ، وَالأَعْمَشِ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ الأَئِمَّةِ. . . . . وَلَوْ تَرَكْنَا حَدِيثَ أَهْلِ الْكُوفَةِ لَسَقَطَ كَثِيرٌ مُنَ السُّنَنِ الصَّحِيحَةِ.

وَقَوْلُهُ: فَلَعَلَّهُ سَمِعَهُ مِنْ شِيعَةِ قَتَلَةِ الْحُسَيْنِ.

فَهَذَا هُوَ الَّذِي هُوَ قَوْلٌ بِلا عِلْمٌ، وَظَنُّ مُخْطِئٍ، وَلَيْسَ هَذَا بِأَوْلَى مِنْ قَوْلِنَا، لَعَلَّهُ سَمِعَهُ مِنَ الثِّقَاتِ الْمَأْمُونِينَ الَّذِينَ سَمِعَ مِنْهُمُ بِالْكُوفَةِ: كَمَسْرُوقِ بْنِ الأَجْدَعِ، وَعَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ، أَوْ سَمِعَهُ مِمَّنْ سَمِعَ مِنْهُمْ مِنَ الصَّحَابَةِ: كَعَائِشَةَ، وَابْنِ عُمَرَ، وَرِوَايَتُهُ عَنْهَا فِي الصَّحِيحِ، وَهُوَ ثِقَةٌ احْتَجَّ بِهِ الأَئِمَّةُ السِّتَّةُ، وَتَبِعَهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَابْنُ حِبَّانَ وَغَيْرُهُمَا.

وَأَمَّا قَوْلُهُ: «جَرَّبْنَاهُ سِتِّينَ سَنَةً، فَإِنَّ اللَّهَ إِذَا وَسَّعَ عَلَى عَبْدٍ طَوَّلَ عُمْرَهُ» .

لَمْ يَعْلَمْ بِذَلِكَ إِنَّ سَبَبَهُ مَا فَعَلَهُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَهَذَا لَوْ لَمْ يَرِدْ عَلَى الصَّادِقِ الْمَصْدُوقِ لَكَانَ أَمْرًا مَظْنُونًا يَحْتَمِلُ الْوُقُوعُ وَلَكِنْ لَمَّا وَرَدَ عَنِ الصَّادِقِ تَبَيَّنَ أَنَّ سَبَبَ التَّوَسُّعِ مَا فَعَلَهُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَكَانَ هَذَا ظَنًا مُصِيبًا مُسْتَنِدًا إِلَى أَمْرٍ وَرَدَتْ بِهِ السُّنَّةُ.

وَأَمَّا قَوْلُهُ: وَقَدْ رَوَى عَنِ الرَّافِضَةِ: وَمَنْ يُوَسِّعُ اللَّهُ عَلَيْهِ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، فَهَذَا لا يُحْسَنُ الاعْتِرَاضُ بِهِ، لأَنَّهُ لَمْ يَقُلْ فِي الْحَدِيثِ وَلا فِي قَوْلِ ابْنِ الْمُنْتَشِرِ أَنَّهُ: «لا يُوَسِّعُ إِلا عَلَى مَنْ وَسَّعَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ» .

وَإِنَّمَا هُمَا إِثْبَاتُ التَّوْسِيعِ لِمَنْ وَسَّعَ فِي هَذَا الْيَوْمِ فَقَطْ، وَقَدْ يُوَسِّعُ عَلَى غَيْرِهِ لأَمْرٍ آخَرِ، أَوْ مَكْرًا، أَوِ اسْتِدْرَاجًا، أَوْ لِيُجْزَى بِمَا عَمِلَ فِي الدُّنْيَا وَلا يُؤَخَّرُ لَهُ إِلَى آخِرِهِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

وَمِنْ هُنَا نُورِدُ الأَحَادِيثَ الْوَارِدَةَ فِي اسْتِحْبَابِ التَّوَسُّعِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَقَدْ وَرَدَ ذَلِكَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ طَرِيقِ جَمَاعَةٍ مِنَ الصَّحَابَةِ مِنْهُمْ: جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ.

وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ.

وَأَبُو هُرَيْرَةَ.

وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ.

وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ.
১ - যেমন আমাকে আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন উমর আদ-দিমাশকি মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন, তিনি আলী বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি থেকে, তিনি আল্লামা আবু আল-ইয়ামান যায়দ বিন আল-হাসান আল-কিন্দি থেকে, তিনি ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন নাবহান আল-গানাভি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন তাহির বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাহিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা তাহির বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাহিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা আব্দুর রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন নাবাতাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আশুরার দিনে পরিবার-পরিজনের ওপর উদারভাবে ব্যয় করা একটি সুপরিচিত সুন্নাত।»

আর তাঁর এই উক্তির বিষয়ে যে: এ বিষয়ে তাঁর কাছে পৌঁছানো সর্বোচ্চ পর্যায় হলো ইবনুল মুনতাশিরের উক্তি; তবে যে ব্যক্তি নিজের কাছে পৌঁছানো তথ্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন তিনি ইনসাফই করেছেন। কিন্তু যার কাছে (উচ্চতর দলিল) পৌঁছেনি, তার জন্য উচিত নয় এমন কিছুর অস্তিত্ব অস্বীকার করা যা তার কাছে পৌঁছেনি, যেমনটি তিনি তাঁর আলোচনার শুরুতে করেছেন। আর যা তাঁর কাছে পৌঁছেনি, তা তাঁর কাছে পৌঁছানো তথ্যের চেয়ে অধিকতর উত্তম ও উচ্চপর্যায়ের।

কেননা এই অধ্যায়ে অনেকগুলো ‘মরফূ’ (রাসূলুল্লাহ ﷺ পর্যন্ত পৌঁছানো) হাদীস রয়েছে, যার কিছু সহীহ বা হাসান। এই বিষয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর উক্তিও রয়েছে। আর মরফূ ও মাওকৃষ্ণ বর্ণনা সেই ‘মাকতূ’ (তাবেয়ীর উক্তি) অপেক্ষা উচ্চতর যা তিনি উল্লেখ করেছেন।

আর তাঁর এই উক্তি: ইবনুল মুনতাশির কুফাবাসী, অতঃপর তিনি কুফাকে অধিক মিথ্যাচার এবং সেখানে রাফেজি ও নাসিবিদের উপস্থিতির কারণে নিন্দা করতে শুরু করেছেন।

এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর কথা!

কুফাবাসী হওয়ার কারণে কি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ব্যক্তির কথা প্রত্যাখ্যান করা হবে? যদিও সেখানে রাফেজি ও নাসিবি ছিল, কিন্তু সেখানে সন্তোষভাজন ফকীহগণও ছিলেন, যারা আলী ইবনে আবি তালিব এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের সঙ্গী ছিলেন: যেমন ইবরাহীম নাখয়ী, আসওয়াদ, আ’মাশ এবং অন্যান্য ইমামগণ। . . . . আমরা যদি কুফাবাসীদের হাদীস বর্জন করতাম, তবে অনেক সহীহ সুন্নাতই বিলুপ্ত হয়ে যেত।

আর তাঁর এই উক্তি: সম্ভবত তিনি এটি হুসাইন (রা.)-এর হত্যাকারী শিয়াদের কাছ থেকে শুনেছেন।

এটিই হলো ইলম ছাড়া কথা বলা এবং ভুল ধারণা করা। তাঁর এই ধারণার চেয়ে আমাদের এই কথা অধিক যুক্তিসঙ্গত যে: সম্ভবত তিনি এটি সেই সকল বিশ্বস্ত ও আমানতদার ব্যক্তিদের নিকট থেকে শুনেছেন যাদের নিকট থেকে তিনি কুফায় শুনেছেন: যেমন মাসরুক বিন আল-আজদা এবং আমর বিন শুরাহবিল; অথবা তিনি এটি তাঁদের নিকট থেকে শুনেছেন যারা সাহাবীদের নিকট থেকে শুনেছেন: যেমন আয়েশা এবং ইবনে উমর। আর তাঁদের থেকে তাঁর বর্ণনা ‘সহীহ’ গ্রন্থে বিদ্যমান। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী যার দ্বারা ছয়টি প্রধান হাদীস গ্রন্থের ইমামগণ দলিল গ্রহণ করেছেন এবং আহমাদ বিন হাম্বল, ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা তাঁর অনুসরণ করেছেন।

আর তাঁর এই উক্তি: «আমরা ষাট বছর ধরে এটি পরীক্ষা করে দেখেছি, নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো বান্দার ওপর প্রশস্ততা দান করেন, তখন তার আয়ু দীর্ঘ করে দেন।»

তিনি জানতেন না যে এর কারণ হলো আশুরার দিনে তাঁর কৃত আমল। এই বিষয়টি যদি সত্যবাদী ও প্রত্যাদিষ্ট রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত না হতো, তবে এটি কেবল একটি ধারণাপ্রসূত বিষয় হতো যাতে ঘটার সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু যখন এটি সত্যবাদী রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তখন স্পষ্ট হয়ে গেল যে এই সচ্ছলতার কারণ হলো আশুরার দিনে তাঁর কৃত আমল। এটি ছিল একটি সঠিক ধারণা যা সুন্নাহর দলীলের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আর তাঁর এই উক্তি: ‘এটি রাফেজিদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে: আল্লাহ কার ওপর এর চেয়ে বেশি প্রশস্ততা দান করবেন?’—এই আপত্তিটি সঠিক নয়। কারণ হাদীসে বা ইবনুল মুনতাশিরের উক্তিতে এমন কথা বলা হয়নি যে: «যিনি আশুরার দিনে প্রশস্ততা করবেন তিনি ব্যতীত আল্লাহ আর কাউকে প্রশস্ততা দান করবেন না»।

বরং এই দুটিতে কেবল সেই ব্যক্তির জন্য প্রশস্ততার বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে যে এই দিনে উদারতা দেখাবে। আল্লাহ অন্য কোনো কারণে, অথবা কৌশল হিসেবে, কিংবা অবকাশ (ইসতিদরাজ) হিসেবে অথবা দুনিয়াতে তাঁর কাজের প্রতিদান স্বরূপ অন্যকেও প্রশস্ততা দিতে পারেন এবং তা আখিরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করেন না। আল্লাহই ভালো জানেন।

এখান থেকেই আমরা আশুরার দিনে প্রশস্ততা বা উদারভাবে ব্যয় করার মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো উল্লেখ করছি। নবী করীম (সা.) থেকে একদল সাহাবীর সূত্রে এটি বর্ণিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ।

আবু হুরায়রা।

আবু সাঈদ আল-খুদরী।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌حَدِيثُ جَابِرٍ رضي الله عنه

أَمَّا حَدِيثُ جَابِرٍ:
জাবির (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণিত হাদিস

জাবিরের হাদিসের বিষয়ে:
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
2 - فَأَخْبَرَنِي بِهِ: أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَكْرِيُّ مُشَافَهَةً، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ القَسْطَلانِيِّ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ قَاضِي الْجَمَاعَةِ: أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ مُحَمَّدٍ اللّخْمِيُّ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهُوبٍ، عَنِ الْحَافِظِ أَبِي عُمَرَ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النُّمَرِيِّ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ قَاسِمٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الحكم، قَالُوا: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، ثنا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، ثنا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى نَفْسِهِ وَأَهْلِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، أَوْسَعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهِ»

قَالَ جَابِرٌ: جَرَّبْنَاهُ فَوَجَدْنَاهُ كَذَلِكَ.

وَقَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ مِثْلَهُ، وَقَالَ شُعْبَةُ مِثْلَهُ.

رَوَاهُ أَبُو عُمَرَ بْنُ عَبْدِ الْبَرِّ فِي الاسْتِذْكَارِ بِهَذَا الإِسْنَادِ.

وَرِجَالُهُ كَمَا تَرَى رِجَالُ الصَّحِيحِ، لَيْسَ فِيهِ مَحَلُّ نَظَرٍ غَيْرُ أَنَّهُ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ مُعَنْعَنًا.

وَقَدْ أَخْرَجَ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ أَكْثَرَ مِنْ مِائَةٍ وَأَرْبَعِينَ حَدِيثًا، رِوَايَةَ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ بَعْضُهَا مُعَنْعَنْ، وَبَعْضُهَا يُحَدِّثُنَا، أَوْ أَخْبَرَنَا.

وَأَمَّا الْبُخَارِيُّ فَلَمْ يُخْرِجْ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ إِلا حَدِيثَيْنِ: حَدِيثٌ فِي الْمُخَابَرَةِ، وَحَدِيثٌ فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الثَّمَرِ قَبْلَ بَدْوِ الصَّلاحِ.

وَكُلا مِنَ الْحَدِيثَيْنِ فِيهِ أَبُو الزُّبَيْرِ مَقْرُونٌ بِغَيْرِهِ، وَقَدْ ذَكَرَ لَهُ الْبُخَارِيُّ حَدِيثًا آخَرَ لَمْ يَقْرِنْ مَعَهُ غَيْرُهُ، وَلَكِنَّهُ ذَكَرَهُ تَعْلِيقًا مَجْزُومًا بِهِ، وَهُوَ حَدِيثٌ يَعْنِي جَابِرًا.

وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي أَبِي الزُّبَيْرِ، فَضَعَفَّهُ قَوْمٌ مُطْلَقًا، وَوَثَّقَهُ ابْنُ مَعِينٍ وَالنِّسَائِيُّ، وَاحْتَجَّ بِهِ مُسْلِمٌ وَالتَّرْمِذِيُّ وَابْنُ خُزَيْمَةَ وَابْنُ حِبَّانَ.

وَقَالَ أَبُو أَحْمَدَ بْنِ عَدِّيٍّ: لا أَعْلَمُ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ يَخْلِفُ عَنِ الرِّوَايَةِ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ.

وَأَمَّا أَبُو مُحَمَّدِ بْنِ حَزْمٍ فَإِنَّهُ إِنَّمَا يَقْبَلُ مِنْ حَدِيثِهِ عَنْ جَابِرٍ مَا صَرَّحَ فِيهِ بِالتَّحْدِيثِ، أَوْ مَا كَانَ مِنْ رِوَايَةِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنْهُ، وَإِنْ كَانَ مُعَنْعَنًا، فَإِنَّ اللَّيْثَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ إِلا مَا سَمِعَهُ مِنْ جَابِرٍ.

وَكَذَلِكَ فَعَلَ أَبُو الْحَسَنِ الْقَطَّانِ أَيْضًا.

وَمَا لَنَا وَتَعَنُّتُ ابْنِ حَزْمٍ فِي حَدِيثِ فَضَائِلِ الأَعْمَالِ، وَهُوَ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ، وَجَمَاعَةٍ مِنَ الأَئِمَّةِ فِي الأَحْكَامِ، فَضْلا عَنِ الْفَضَائِلِ.

وَأَقَلُّ أَحْوَالِ هَذَا الطَّرِيقِ أَنْ يَكُونَ حَسَنًا، وَحُكْمُهُ حُكْمُ الصَّحِيحِ فِي الاحْتِجَاجِ بِهِ.

وَأَمَّا بَقِيَّةُ إِسْنَادِ ابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ: فَشَيْخُهُ الأَوَّلُ هُوَ: أَحْمَدُ بْنُ قَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّمِيَمِيُّ.

قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: كَانَ ثِقَةً فَاضِلا، وَشَيْخُهُ الثَّانِي: مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْقَرَاهَنْدِ.

قَالَ الْحُمَيْدِيِّ فِي تَارِيخِ الأَنْدَلُسِ: كَانَ مِنْ أَضْبَطِ النَّاسِ لِكُتُبِهِ وَأَفْهَمِهِمْ لِمَعَانِي الرِّوَايَةِ، وَلِيَ الْقَضَاءَ بِمَدِينَةِ سَالِمٍ.

وَشَيْخُهُ الثَّالِثُ: مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَكَمٍ الأُمَوِيُّ الْقُرْطُبِيُّ.

وَثَّقَهُ ابْنُ حَزْمٍ فِيمَا نَقَلَهُ الْحُمَيْدِيُّ.

وَأَمَّا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ فَهُوَ ابْنُ الأَحْمَرِ أَحَدُ رَوَاةُ السُّنَنِ لِلْنِسَائِيِّ عَنْهُ.

وَثَّقَهُ ابْنُ حَزْمٍ وَغَيْرُهُ.

وَأَمَّا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ أَبُو خَلِيفَةَ، فَوَثَّقَهُ ابْنُ حِبَّانَ وَغَيْرُهُ، وَاحْتَجَّ بِهِ هُوَ وَالْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ.

وَقَالَ أَبُو يَعْلَى الْخَلِيلِيِّ: «احْتَرَقَتْ كُتُبُهُ، مِنْهُمْ مَنْ وَثَقَّهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَكَلَّمَ فِيهِ، وَهُوَ إِلَى التَّوْثِيقِ أَقْرَبُ» .

قَالَ: وَالْمُتَأَخِّرُونَ أَخْرَجُوهُ فِي الصَّحِيحِ، وَنَسَبَهُ السُّلَيْمَانِيُّ إِلَى الرَّفْضِ وَهُوَ غَيْرُ صَحِيحٍ.

أَنْكَرَهُ الذَّهَبِيُّ فِي الْمِيزَانِ.

وَهِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الطَّيَالِسِيُّ احْتَجَّ بِهِ الشَّيْخَانِ، وَوَثَّقَهُ أَبُو حَاتِمٍ وَغَيْرُهُ.

وَشُعْبَةُ.

ذِكْرُ طَرِيقٍ آخَرِ لِلْحَدِيثِ وَمَعَ هَذَا فَلَمْ يَنْفَرِدْ بِهِ أَبُو الزُّبَيْرِ بَلْ قَدْ رُوِيَ مِنْ طَرِيقِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرٍ.
২ - আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-বাকরি মৌখিকভাবে আমাকে অবহিত করেছেন আবু আল-হাসান আলি বিন আহমাদ বিন আল-কাসতালানি থেকে, তিনি বলেন: জামাআতের বিচারক আবু জাফর আহমাদ বিন আবদুর রহিম বিন মুহাম্মদ আল-লাখমি আমার নিকট লিখেছেন আবু আল-হাসান আলি বিন আবদুল্লাহ বিন মাওহুব থেকে, তিনি হাফিজ আবু উমর ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ আন-নামারি থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন কাসিম, মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম এবং মুহাম্মদ বিন আল-হাকাম। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফাদল বিন আল-হুবাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন আব্দুল মালিক আত-তায়ালিসি, তিনি বলেন: আমার নিকট শু'বা বর্ণনা করেছেন আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (জাবির) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আশুরার দিনে নিজের ও নিজের পরিবারের জন্য প্রশস্ততা (উদার হস্তে ব্যয়) করবে, আল্লাহ সারা বছর তার জন্য প্রশস্ততা দান করবেন।"

জাবির বলেন: আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং একে এমনই পেয়েছি।

আবু যুবাইরও অনুরূপ বলেছেন এবং শু'বাও অনুরূপ বলেছেন।

আবু উমর বিন আব্দুল বার তার 'আল-ইসতিযকার' গ্রন্থে এই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

এর বর্ণনাকারীগণ, আপনি যেমনটি দেখতে পাচ্ছেন, সহীহ্ গ্রন্থের বর্ণনাকারী; এতে আপত্তির কোনো অবকাশ নেই, তবে এটি আবু যুবাইরের সূত্রে জাবির থেকে 'আন'আনা' (অস্পষ্টভাবে) বর্ণিত।

ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে আবু যুবাইরের সূত্রে জাবির থেকে একশ চল্লিশটিরও বেশি হাদীস সংকলন করেছেন, যার কিছু 'আন'আনা' পদ্ধতিতে এবং কিছু 'তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন' অথবা 'আমাদের অবহিত করেছেন' শব্দে বর্ণিত।

পক্ষান্তরে ইমাম বুখারী আবু যুবাইরের সূত্রে জাবির থেকে মাত্র দুটি হাদীস বর্ণনা করেছেন: একটি বর্গা চাষ সংক্রান্ত হাদীস এবং অন্যটি পরিপক্ক হওয়ার পূর্বে ফল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাদীস।

এই উভয় হাদীসেই আবু যুবাইর অন্য বর্ণনাকারীর সাথে যুক্তভাবে এসেছেন; তবে বুখারী তাঁর সূত্রে অন্য একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি একাই বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সেটি তিনি 'তা'লীক' হিসেবে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন, যা জাবির থেকেই বর্ণিত।

আবু যুবাইর সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; একদল তাঁকে ঢালাওভাবে দুর্বল বলেছেন, পক্ষান্তরে ইবনে মাঈন ও আন-নাসায়ী তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইমাম মুসলিম, আত-তিরমিযী, ইবনে খুযাইমাহ ও ইবনে হিব্বান তাঁর বর্ণিত হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।

আবু আহমাদ বিন আদি বলেন: আমি এমন কাউকে জানি না যে আবু যুবাইরের বর্ণনা পরিত্যাগ করেছে।

আর আবু মুহাম্মদ বিন হাযম জাবির থেকে বর্ণিত তাঁর হাদীসসমূহের মধ্যে কেবল সেগুলোই গ্রহণ করেন যাতে সরাসরি শ্রবণের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, অথবা যা লাইস বিন সা'দ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; যদিও তা 'আন'আনা' পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়, কারণ লাইস তাঁর থেকে কেবল তা-ই শুনেছেন যা তিনি জাবির থেকে সরাসরি শুনেছেন।

আবু আল-হাসান আল-কাত্তানও অনুরূপ করেছেন।

আমলের ফযীলত সংক্রান্ত হাদীসে ইবনে হাযমের কঠোরতার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই; অথচ এই হাদীসটি বিধান সংক্রান্ত হাদীসসমূহের ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিম ও একদল ইমামের শর্তানুযায়ী উত্তীর্ণ, ফযীলতের ক্ষেত্রে তো বটেই।

এই সূত্রের নিম্নতম অবস্থা হলো এটি 'হাসান' (উত্তম), এবং দলিল হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি 'সহীহ'র পর্যায়ভুক্ত।

ইবনে আব্দুল বারের সনদের বাকি বর্ণনাকারীগণ হলেন: তাঁর প্রথম উস্তাদ আহমাদ বিন কাসিম বিন আব্দুর রহমান আত-তামিমি।

ইবনে আব্দুল বার বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও গুণী ছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় উস্তাদ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সাঈদ বিন আবু আল-কারাহান্দ।

হুমাইদি 'তারিখে আন্দালুস'-এ বলেন: তিনি তাঁর সংগৃহীত কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন এবং বর্ণনার অর্থ অনুধাবনে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন; তিনি 'মদিনাতু সালিম'-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর তৃতীয় উস্তাদ: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাকাম আল-উমায়ি আল-কুরতুবি।

হুমাইদি যা উদ্ধৃত করেছেন সেই অনুযায়ী ইবনে হাযম তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

আর মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া হলেন ইবনুল আহমার, যিনি তাঁর সূত্রে নাসায়ীর 'সুনান' বর্ণনাকারীদের একজন।

ইবনে হাযম ও অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

ফাদল বিন আল-হুবাব আবু খলিফা সম্পর্কে ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তিনি ও হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক'-এ তাঁর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।

আবু ইয়ালা আল-খলিলি বলেন: "তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, আবার কেউ তাঁর সমালোচনা করেছেন; তবে তিনি নির্ভরযোগ্যতার অধিক নিকটবর্তী।"

তিনি বলেন: পরবর্তীকালের আলেমগণ তাঁকে 'সহীহ'র বর্ণনাকারী হিসেবে গণ্য করেছেন। সুলাইমানি তাঁকে রাফেজি মতবাদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যা সঠিক নয়।

আয-যাহাবি 'আল-মিযান' গ্রন্থে এটি অস্বীকার করেছেন।

হিশাম বিন আব্দুল মালিক আত-তায়ালিসি থেকে বুখারী ও মুসলিম দলিল গ্রহণ করেছেন এবং আবু হাতিম ও অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এবং শু'বা।

হাদীসের অন্য একটি সূত্রের উল্লেখ: এতদসত্ত্বেও আবু যুবাইর এই বর্ণনায় একক নন, বরং এটি ইবনুল মুনকাদির-এর সূত্রে জাবির থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
3 - أَخْبَرَنِي بِهِ أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْهَادِي فِيمَا أَذِنَ لِي مُشَافَهَةً أَنْ أَرْوِيَهُ عَنْهُ، قَالَ: أنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الدَّائِمِ، أنا. . . . ابْنُ مَحْمُودٍ الثَّقَفِيُّ، أنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَمْرِو بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ الْهَجْمِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ السَّامِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَمْرٍو الْغَفَّارِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهَ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سنَتِهِ» .

وَمُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ السَّامِيُّ بِالْمُهْمَلَةِ هُوَ الْكُدَيْمِيُّ أَحَدُ الضُّعَفَاءِ، وَكَذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الغِفَارِيُّ ضَعَّفَهُمَا أَبُو دَاوُدَ وَالدَّارَقُطْنِيُّ.

نَعَمْ إِسْمَاعِيلُ الْخَطْبِيُّ وَثَّقَ الْكُدَيْمِيَّ.

ذِكْرُ بَعْضِ الْمُتَابَعَاتِ لِلْرَاوِي: مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَجْمِيُّ وَقَدْ رَوَاهُ عَنِ الْكُدَيْمِيِّ أَيْضًا: أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ.

وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَمَرِيُّ.

أَمَّا حَدِيثُ الْعُمَرِيُّ: فَقَرَأْتُهُ عَلَى سِتِّ الْعَرَبِ بِنْتِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، أنا الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ سَمَاعًا عَلَيْهِ، أنا أَبُو الْعَلاءِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْوَرَّاقُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْمُنْكَدِرِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ مِثْلَهُ سَوَاءً.

وَأَمَّا حَدِيثُ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ: أَخْبَرَنِي بِهِ: مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَنْبَلِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِالْقَاهِرَةِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ، أنا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الشِّعْرِيُّ كِتَابَهُ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، أَوْ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرٍ، أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، أنا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، فَذَكَرَهُ بِنَحْوِهِ، وَقَالَ: هَذَا إِسْنَادٌ ضَعِيفٌ، وَقَالَ: وَرُوِيَ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ
৩ - আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল হাদী আমাকে এটি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে যা তিনি আমাকে তাঁর থেকে বর্ণনা করার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আবদুল দায়িম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন... ইবনে মাহমুদ আল-সাকাফী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আমর বিন ইব্রাহিম বিন আলী আল-হাজমী, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস আস-সামি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন আবি আমর আল-গিফারী, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আবি বকর, ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য প্রশস্ততা অবলম্বন করবে (উদারহস্তে ব্যয় করবে), আল্লাহ সারা বছর তার ওপর প্রশস্ততা দান করবেন»।

আর মুহাম্মদ বিন ইউনুস আস-সামি—সিন বর্ণটি নুকতাহীন—তিনি হলেন আল-কুদাইমি, যিনি দুর্বল বর্ণনাকারীদের একজন। অনুরূপভাবে আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-গিফারীও; আবু দাউদ এবং দারা কুতনী তাঁদের উভয়কে দুর্বল বলেছেন।

হ্যাঁ, ইসমাইল আল-খাতবি কুদাইমিকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

বর্ণনাকারী মুহাম্মদ বিন আলী আল-হাজমীর কিছু সমর্থনমূলক বর্ণনার উল্লেখ: আহমদ বিন উবায়েদ আস-সাফফারও কুদাইমি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আমরি।

আল-আমরীর হাদিস প্রসঙ্গে: আমি তা সিত্তুল আরব বিনতে মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ বিন আবদুল মালিকের নিকট পাঠ করেছি; হাফিজ আবু বকর আল-খতিব তাঁর কাছে শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আলা মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আমরী, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আবিল মুনকাদির, মুহাম্মদ বিন মুনকাদির থেকে ঠিক অনুরূপ হাদিস।

আর আহমদ বিন উবায়েদ আস-সাফফারের হাদিস প্রসঙ্গে: কায়রোতে আমার পাঠের মাধ্যমে মুহাম্মদ বিন আবি উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-হাম্বলি আমাকে এটি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আলী বিন আহমদ বিন আবদুল ওয়াহিদ থেকে, আবদুর রহিম বিন আবদুর রহমান আশ-শারি তাঁর লিখিত পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আল-মুফাদদাল অথবা জাহির বিন তাহির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন আহমদ বিন আবদান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন উবায়েদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস, অতঃপর তিনি এর সমরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «এই সনদটি দুর্বল», এবং বলেছেন: «এটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে»।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌حَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه

أَمَّا حَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস

আর ইবনে মাসউদের হাদীসের বিষয়টি হলো
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
4 - فَأَخْبَرَنِي بِهِ: مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عِيسَى الأَيُّوبِيُّ مُشَافَهَةً، أنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ الْحِرَّانِيُّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ رَوْحٍ، وَعَفِيفَةَ بِنْتَ أَحْمَدَ وَاللَّفْظُ لَهَا، قَالا: أَخْبَرَتْنَا فَاطِمَةُ بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوزْدَانِيَّةُ، قَالَتْ: أنا أَبُو بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَيْذَةَ، أنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ، ثنا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَبُو عُبَيْدَةَ الْعَسْكَرِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ الْبَزَّازُ، ثنا الْهَيْصَمُ بْنُ الشَّدَّاخِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، لَمْ يَزَلْ فِي سِعَةٍ سَائِرَ سَنَتِهِ» .

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ هَكَذَا فِي الْمُعْجَمِ الْكَبِيرِ.

وَقَدْ تَابَعَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ عَلَيْهِ عَلِيَّ بْنَ مُهَاجِرٍ الْمِصْرِيَّ
৪ - এটি আমার নিকট মৌখিকভাবে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন ঈসা আল-আইয়ুবী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল মুনইম আল-হাররানি, সা’দ বিন সাঈদ বিন রুহ এবং আফিফাহ বিনতে আহমাদ থেকে—আর বর্ণনার শব্দগুলো আফিফাহর—তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জুযদানিয়্যাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রাইজাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমাদ আত-তাবারানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল ওয়ারিস বিন ইবরাহিম আবু উবায়দাহ আল-আসকারি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী বিন আবি তালিব আল-বাযযার, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাইসাম বিন আশ-শাদ্দাখ, আ’মাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য অবারিত বা উদারভাবে ব্যয় করবে, সে তার পুরো বছর সচ্ছলতার মধ্যে থাকবে।»।

তাবারানি এভাবেই এটি আল-মু’জামুল কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

আলী বিন আবি তালিবের এই বর্ণনার সমর্থনে আলী বিন মুহাজির আল-মিসরিও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
5 - أَخْبَرَنِي بِهِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَنْبَلِيُّ، بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ، مِنْ كِتَابِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيِّ، قَالَ: أنا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الشِّعْرِيُّ إِذْنًا، قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ، أَوْ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرٍ، أنا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيُّ، أنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْحَافِظُ، أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ البَّزَارُ بِبَغْدَادَ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَذَالٍ، ثنا عَلِيُّ بْنُ مُهَاجِرٍ الْمِصْرِيُّ، ثنا هَيْصَمٌ الْجُرْجَانِيُّ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ رَجَاءَ، ثنا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، ثنا هَيْصَمُ بْنُ شَدَّاخَ الوَّرَاقُ.

ح قَالَ الْبَيْهَقِيُّ: وَأَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ حَشِيشَ التَّمِيمِيُّ الْمُقْرِئُ بِالْكُوفَةِ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَاصِمٍ الْجُرْجَانِيُّ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ رَجَاءَ، ثنا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، ثنا هَيْصَمُ بْنُ شَدَّاخَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي سَائِرِ سَنَتِهِ» ، رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ هَكَذَا فِي شُعَبِ الإِيمَانِ مِنَ الطَّرِيقَيْنِ، وَقَالَ: تَفَرَّدَ بِهِ هَيْصَمٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، وَكَذَلِكَ أَبُو حَاتِمٍ حِبَّانُ فِي تَارِيخِ الضُّعَفَاءِ فِي تَرْجَمَةِ هَيْصَمَ، وَقَالَ: يَرْوِي الطَّامَّاتِ غَيْرَ مَحْفُوظَةٍ
৫ - আমাকে এটি মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-হাম্বলি সংবাদ দিয়েছেন, তার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, আবু আল-হাসান আলী ইবন আহমদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসির কিতাব থেকে। তিনি বলেন: আব্দুর রাহিম ইবন আব্দুর রহমান আশ-শি'রি আমাকে অনুমতি প্রদানের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল ফজল অথবা জহির ইবন তাহির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বাইহাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আল-হাসান আলী ইবন আহমদ ইবন আলী আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: বাগদাদে আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-বাজ্জার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। জাফর ইবন মুহাম্মাদ ইবন কাযাল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। আলী ইবন মুহাজির আল-মিসরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। হাইসাম আল-জুরজানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। উসমান ইবন রাজা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। আলী ইবন আবি তালিব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। হাইসাম ইবন শাদ্দাক আল-ওয়াররাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন।

(সনদ পরিবর্তন) বাইহাকি বলেন: এবং আমাকে কুফার কারী আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ ইবন হাশিশ আত-তামিমি সংবাদ দিয়েছেন। আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন দুহায়ম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। মুহাম্মাদ ইবন আহমদ ইবন আসিম আল-জুরজানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। উসমান ইবন রাজা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। আলী ইবন আবি তালিব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। হাইসাম ইবন শাদ্দাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আ'মাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য প্রশস্ত মনে ব্যয় করবে, আল্লাহ তার সারা বছরের জন্য প্রশস্ততা দান করবেন»। বাইহাকি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে উভয় সূত্রে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাইসাম এটি আ'মাশ থেকে বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। একইভাবে আবু হাতিম হিব্বান 'তারিখুজ জুয়াফা' (দুর্বল বর্ণনাকারীদের ইতিহাস) গ্রন্থে হাইসামের জীবনীতে বলেছেন: তিনি অসংরক্ষিত ও ভিত্তিহীন বর্ণনা প্রদান করে থাকেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌ذِكْرُ طَرِيقٍ آخَرِ لِلْحَدِيثِ

وَلِحَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ طَرِيقٌ آخَرُ
‌হাদিসের অন্য একটি সূত্রের বর্ণনা

ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিসটির অন্য একটি সূত্র রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
6 - رَوَاهُ الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ عَسَاكِرَ فِي جُزْءٍ لَهُ فِي فَضْلِ عَاشُورَاءَ، مِنْ رِوَايَةِ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ الْجُرْجَانِيُّ، عَنْ أَبِي طِيبَةَ، عَنْ كَرْزِ بْنِ وَبْرَةَ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ خَيْثَمٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى عِيَالِهِ إِلَى مِثْلِهَا مِنَ السَّنَّةِ الْمُقْبِلَةِ، وَأَنَا الضَّامِنُ لَهُ، وَكُلُّ دِرْهَمٍ سَيُنْفَقُ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ يُرِيدُ بِهِ مَا عِنْدَ اللَّهِ ، يُحْسَبُ بِسَبْعِ مِائَةِ أَلْفٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَكَانَ عِنْدَ اللَّهِ أَكْثَرُ ثَوَابًا مَنْ فِي السِّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، وَمَنْ تَصَدَّقَ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ فَكَأَنَّمَا تَصَدَّقَ عَلَى ذُرِّيَةِ آدَمَ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» .

قَالَ ابْنُ عَسَاكِرَ: غَرِيبٌ جِدًّا.

قُلْتُ: وَهُوَ حَدِيثٌ مُنْكَرٌ، وَأَحْسَبُ آفَتَهُ مِنْ مُتَأَخِّرِي رُوَاتِهِ.

فَإِنَّ الرَّبَيعَ بْنَ خَيْثَمٍ ثِقَةٌ لا يُسْأَلُ عَنْهُ كَمَا قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ: احْتَجَّ بِهِ الشَّيْخَانِ.

كَرْزُ بْنُ وَبْرَةَ أَحَدُ الزُّهَادِ الْعُبَّادِ ذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ.

وَأَبُو طِيبَةَ اسْمُهُ عِيسَى بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ دِينَارٍ الدَّارَمِيُّ.

ذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ، وَقَالَ: يُخْطِئُ.

وَقَالَ حَمْزَةُ السَّهْمِيُّ: كَانَ مِنَ الْعُلَمَاءِ الزُّهَادِ.

نَعَمْ قَالَ ابْنُ مَعِينٍ: ضَعِيفٌ.

وَأَمَّا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ الْجُرْجَانِيُّ وَلَقَبُهُ سَعْدَوَيْهِ، قَالَ فِيهِ الْبُخَارِيُّ: لا يَصِحُّ حَدِيثُهُ.

وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: رَجُلٌ صَالِحٌ لَهُ عَنِ الثَّوْرِيِّ مَا لا يُتَابَعُ عَلَيْهِ.

تَنْبِيهٌ وَاعْلَمْ أَنَّ حَدِيثَ ابْنَ مَسْعُودٍ فِي التَّوْسِعَةِ لَيْسَ فِي شَيْءٍ مِنَ الْكُتُبِ السِّتَّةِ، وَلا تَغْتَرُ بِذِكْرِ أَبِي السَّعَادَاتِ الْمُبَارَكِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الأَثِيرِ الْجِزْرِيِّ لَهُ فِي جَامِعِ الأُصُولِ، فَإِنَّ ذَلِكَ وَهْمٌ عَجِيبٌ.

وَهَذَا الْكِتَابُ كَأَنَّهُ لَيْسَ بِمُجَرَّدٍ، فَإِنَّ فِيهِ عِدَّةَ أَوْهَامٍ.

وَأَعْجَبُ مِنْ ذَلِكَ أَنَّ أَخَاهُ أَبَا الْفَتْحِ نَصْرَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ الأَثِيرِ الْجِزْرِيَّ ذَكَرَهُ فِي اخْتِصَارِهِ لِجَامِعِ الأُصُولِ.

وَهَذَا الْحَدِيثُ وَزَادَ مِنْ عِنْدِهِ أَنْ عَلَّمَ عَلَيْهِ صُورَةَ خ م يَعْنِي أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ.

وَهَذَا غَلَطٌ فَاحِشٌ مِنْهُمَا جَمِيعًا.

وَالْحَدِيثُ لَيْسَ فِي شَيْءٍ مِنَ الْكُتُبِ السِّتَّةِ الْبَتَّةَ
৬ - হাফিজ আবুল কাসিম ইবন আসাকির আশুরার ফজিলত বিষয়ক তাঁর একটি পুস্তিকায় সা'দ ইবন সাঈদ আল-জুরজানি থেকে, তিনি আবু তিবাহ থেকে, তিনি কুরয ইবন ওয়াবরাহ থেকে, তিনি রাবী ইবন খায়সাম থেকে এবং তিনি ইবন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য উদারহস্তে ব্যয় করবে, আল্লাহ তাআলা আগামী বছরের এই দিন পর্যন্ত তার এবং তার পরিবারের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করবেন। আমি তার জন্য জামিনদার। আর আশুরার দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে দিরহামই ব্যয় করা হবে, আল্লাহর পথে তা সাত লক্ষ দিরহামের সমান হিসেবে গণ্য করা হবে। আল্লাহর কাছে এর সওয়াব আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের আমলের চেয়েও বেশি হবে। আর যে ব্যক্তি আশুরার দিনে সদকা করবে, সে যেন আদম আলাইহিস সালামের সকল বংশধরের ওপর সদকা করল»।

ইবন আসাকির বলেন: এটি অত্যন্ত বিরল (গারীব)।

আমি বলি: এটি একটি বর্জিত (মুনকার) হাদিস। আমার মনে হয় এর ত্রুটি পরবর্তী বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে এসেছে।

কেননা রাবী ইবন খায়সাম অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তাঁর সম্পর্কে প্রশ্ন করার অবকাশ নেই; যেমনটি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ বলেছেন: বুখারি ও মুসলিম উভয়ে তাঁর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।

কুরয ইবন ওয়াবরাহ ছিলেন সংসারবিরাগী ইবাদতকারীগণের (জাহিদ) অন্যতম; ইবন হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আর আবু তিবাহ-এর নাম হলো ঈসা ইবন সুলাইমান ইবন দিনার আদ-দারিমি।

ইবন হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ভুল করেন।

হামজা আস-সাহমি বলেন: তিনি সংসারবিরাগী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

হ্যাঁ, তবে ইবন মায়ীন বলেছেন: তিনি দুর্বল (জয়ীফ)।

আর সা'দ ইবন সাঈদ আল-জুরজানি, যার উপাধি সা'দাওয়াইহ; তাঁর সম্পর্কে ইমাম বুখারি বলেছেন: তাঁর বর্ণিত হাদিস বিশুদ্ধ নয়।

ইবন আদি বলেন: তিনি একজন সৎ ব্যক্তি, তবে সুফিয়ান সাওরি থেকে তিনি এমন সব বর্ণনা করেছেন যার কোনো সমর্থন পাওয়া যায় না।

সতর্কবার্তা: জেনে রাখুন যে, পরিবারের ওপর উদারহস্তে ব্যয় করা সংক্রান্ত ইবন মাসউদের এই হাদিসটি কুতুবে সিত্তাহর (বিখ্যাত ছয়টি কিতাব) কোনোটিতেই নেই। আবুস সাআদাত মুবারক ইবন মুহাম্মদ ইবনুল আসির আল-জাযারি তাঁর 'জামেউল উসুল' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করায় বিভ্রান্ত হবেন না; কেননা এটি একটি বিস্ময়কর বিভ্রম।

মনে হচ্ছে এই কিতাবটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয়, কারণ এতে বেশ কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে।

এর চেয়েও আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তাঁর ভাই আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবনুল আসির আল-জাযারি 'জামেউল উসুল'-এর সংক্ষিপ্তসারে এটি উল্লেখ করেছেন।

তিনি এই হাদিসটির বর্ণনায় নিজের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত হিসেবে এর ওপর 'খা' ও 'মিম' চিহ্ন দিয়েছেন—যার অর্থ হলো এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

এটি তাঁদের উভয়ের পক্ষ থেকে একটি মারাত্মক ভুল।

এই হাদিসটি মূলত কুতুবে সিত্তাহর কোনো কিতাবেই বিদ্যমান নেই।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه

وَأَمَّا حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস

আর আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস সম্পর্কে:
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
7 - فَأَخْبَرَنِي بِهِ: أَبُو الْحَرَمِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَلانِسِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أنا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ فِيمَا أَذِنَ لِي أَنْ أَرْوِيَهُ عَنْهُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحِيمِ بِهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ الشِّعْرِيُّ، أنا زَاهِرُ بْنُ طَاهِرٍ الشِّحَامِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَوِ الْفَضْلُ الْعَرَاوِيُّ، أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيُّ، أنا أَبُو سَعِيدٍ الْمَالِينِيُّ، أنا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الأَهْوَازِيُّ، ثنا مَعْمَرُ بْنُ سَهْلٍ، ثنا حَجَّاجُ بْنُ نُصَيْرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ ذَكْوَانَ، عَنْ يَعْلِي بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ أَوْسَعَ عَلَى عِيَالِهِ وَأَهْلِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، أَوْسَعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهِ» .

أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الإِيمَانِ هَكَذَا مِنْ طَرِيقِ ابْنِ عَدِيٍّ.

وَأَوْرَدَهُ ابْنُ عَدِيٍّ فِي تَرْجَمَةِ مُحَمَّدِ بْنِ ذَكْوَانَ الطَّاجِيِّ، وَقَدْ ضَعَّفَهُ الْبُخَارِيُّ، وَأَبُو حَاتِمٍ، وَالْعِجْلِيُّ، وَالنِّسَائِيُّ، وَوَثَّقَهُ ابْنُ مَعِينٍ، وَابْنُ حِبَّانَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ شُعْبَةُ، فَقَالَ: كَانَ كَأَخِيرِ الرِّجَالِ.

وَأَمَّا الْعُقَيْلِيُّ فَأَعَلَّ الْحَدِيثَ بِسُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، وَأَفْرَدَهُ فِي تَرْجَمَتِهِ فِي الضُّعَفَاءِ، وَقَالَ: حَدَّثَنَا جَدِّي، ثنا حَجَّاجُ بْنُ نُصَيْرٍ. . . .، فَذَكَرَهُ، وَقَالَ: سُلَيْمَانُ مَجْهُولٌ، وَالْحَدِيثُ غَيْرُ مَحْفُوظٍ.

قَالَ: وَلا يَثْبُتُ هَذَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيثٍ مُسْنَدٍ، انْتَهَى.

قُلْتُ: سُلَيْمَانُ هَذَا رَوَى عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ الصَّحَابَةِ: سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، وَصُهَيْبُ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ.

قَالَ الْبُخَارِيُّ فِي التَّارِيخِ: أَدْرَكَ الْمُهَاجِرِينَ.

وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ: لَيْسَ بِالْمَشْهُورِ، فَيَعْتَبِرُ حَدِيثَهُ.

وَذِكْرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ.

وَقَدْ ذَكَرَهُ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ الْقَطَّانِ فِي كِتَابِ بَيَانِ الْوَهْمِ وَالإِبْهَامِ، أَنَّ الرَّاوِي إِذَا وُثِّقَ زَالَتْ جَهَالَتُهُ وَإِنْ لَمْ يَرْوِ عَنْهُ إِلا وَاحِدٌ، وَقَدْ رَوَى لَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي سُنَنِهِ: أَنَّهُ رَأَى سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ أَخَذَ رَجُلا قَصِيرًا فِي حَرَمِ الْمَدِينَةِ. . . . . . الْحَدِيثُ.

وَسَكَتَ عَلَيْهِ فَهُوَ عَنْهُ صَحِيحٌ أَوْ حَسَنٌ.

وَلَكِنَّ الْحَجَّاجَ بْنَ نُصَيْرٍ ضَعَّفَهُ ابْنُ الْمَدِينِيِّ، وَالْبُخَارِيُّ، وَأَبُو حَاتِمٍ، وَالْعِجْليُّ، وَأَبُو دَاوُدَ، وَالنِّسَائِيُّ، وَالدَّارَقُطْنِيُّ.

نَعَمْ قَالَ يَعْقُوبُ بْنُ شَيْبَةَ، عَنِ ابْنِ مَعِينٍ: صَدُوقٌ، وَلَكِنَّهُمْ أَخَذُوا عَلَيْهِ أَشْيَاءَ فِي حَدِيثِ شُعْبَةَ.

وَقَالَ صَاحِبُ الْمِيزَانِ: لَمْ يَأْتِ بِمَتْنٍ مُنْكَرٍ.

وَذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ.

وَعَلَى هَذَا فَالْحَدِيثُ صَحِيحٌ عَلَى رَأْيِ ابْنِ حِبَّانَ، فَإِنَّهُ ذَكَرَ الْحَجَّاجَ بْنَ نُصَيْرٍ، وَمُحَمَّدَ بْنَ ذَكْوَانَ، وَسُلَيْمَانَ بْنَ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ فِي الثِّقَاتِ، وَبَاقِي رِجَالِهِ مَعْرُوفُونَ بِالثِّقَةِ
৭ - এটি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: আবু আল-হারাম মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-কালানিসি, তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন, আলী ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যা তিনি আমাকে তাঁর থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন; তিনি আব্দুর রহিম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান আশ-শি'রি থেকে; তিনি জাহির ইবন তাহির আশ-শিহামি ইবন মুহাম্মাদ থেকে অথবা আল-ফাদল আল-আরাউয়ি থেকে; তিনি আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকি থেকে; তিনি আবু সাঈদ আল-মালিনি থেকে; তিনি আবু আহমাদ ইবন আদি থেকে; হাসান ইবন আলী আল-আহওয়াজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; মা'মার ইবন সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; হাজ্জাজ ইবন নুসায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মাদ ইবন যাকওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; ইয়া'লি ইবন হাকিম থেকে; সুলাইমান ইবন আবি উবাইদুল্লাহ থেকে; আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবার-পরিজনের জন্য উদারভাবে খরচ করবে, আল্লাহ তাআলা সারা বছর তার প্রতি সচ্ছলতা দান করবেন।"

আল-বায়হাকি একে 'শুআবুল ঈমান'-এ এভাবেই ইবন আদি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইবন আদি একে মুহাম্মাদ ইবন যাকওয়ান আত-তাজি-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারি, আবু হাতিম, আল-ইজলি এবং আন-নাসায়ি তাকে দুর্বল বলেছেন। তবে ইবন মাঈন ও ইবন হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন। শু'বাহ তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: তিনি ছিলেন সর্বোত্তম ব্যক্তিদের মতো।

আর আল-উকায়লি সুলাইমান ইবন আবি আব্দুল্লাহর কারণে হাদীসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন এবং তাঁর 'আদ-দুয়াফা' (দুর্বল বর্ণনাকারী) গ্রন্থে স্বতন্ত্র শিরোনামে তাকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবন নুসায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন... এরপর তিনি এটি উল্লেখ করে বলেন: সুলাইমান অজ্ঞাত (মাজহুল), এবং হাদীসটি সংরক্ষিত (মাহফুজ) নয়।

তিনি বলেন: এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো মুসনাদ হাদীসে প্রমাণিত নয়। (সমাপ্ত)

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই সুলাইমান একদল সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন: সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস, সুহাইব এবং আবু হুরায়রা।

বুখারি 'আত-তারিখ'-এ বলেছেন: তিনি মুহাজিরদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

আবু হাতিম বলেন: তিনি প্রসিদ্ধ নন, তবে তাঁর হাদীসটি (অন্যান্য হাদীসের সমর্থনে) গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইবন হিব্বান তাকে তাঁর 'আত-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আবু আল-হাসান ইবনুল কাত্তান তাঁর 'বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহয়াম' কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো বর্ণনাকারীকে যদি নির্ভরযোগ্য বলা হয়, তবে তাঁর অজ্ঞাত পরিচয় হওয়ার বিষয়টি দূর হয়ে যায়, যদিও তাঁর থেকে মাত্র একজনই বর্ণনা করে থাকেন। আর আবু দাউদ তাঁর 'সুনান'-এ তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাসকে মদিনার হারামে এক খাটো ব্যক্তিকে পাকড়াও করতে দেখেছিলেন... হাদীসটি শেষ পর্যন্ত।

তিনি (আবু দাউদ) এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, সুতরাং তাঁর মতে এটি সহিহ অথবা হাসান।

তবে হাজ্জাজ ইবন নুসায়েরকে ইবনুল মাদিনি, বুখারি, আবু হাতিম, আল-ইজলি, আবু দাউদ, আন-নাসায়ি এবং আদ-দারা কুতনি দুর্বল বলেছেন।

হ্যাঁ, ইয়াকুব ইবন শায়বাহ ইবন মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি সত্যবাদী, তবে শু'বাহ-এর বর্ণিত হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁর কিছু ভুল ধরেছেন।

মিজান (আল-ইতিদাল)-এর লেখক বলেছেন: তিনি কোনো প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) মূলপাঠ (মতন) নিয়ে আসেননি।

ইবন হিব্বান তাকে 'আত-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আর এ ভিত্তিতে হাদীসটি ইবন হিব্বানের মতানুসারে সহিহ। কেননা তিনি হাজ্জাজ ইবন নুসায়ের, মুহাম্মাদ ইবন যাকওয়ান এবং সুলাইমান ইবন আবি আব্দুল্লাহকে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এর বাকি বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য হিসেবে সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌ذِكْرُ طَرِيقٍ آخَرِ لِلْحَدِيثِ

وَلِحَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ طَرِيقٌ آخَرُ رِجَالُهُ ثِقَاتٌ وَلَكِنَّهُ مُنْكَرٌ
হাদিসের অন্য একটি সূত্রের বর্ণনা

আবু হুরায়রার হাদিসের অন্য একটি সূত্র রয়েছে যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, কিন্তু সেটি মুনকার (অস্বীকৃত)।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
8 - أَخْبَرَنِي بِهِ: مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَارِضِ، بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ الْمُنَعْمِ الْحَرَّانِيُّ، أَنْبَأَ الْحَافِظُ أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْجَوْزِيِّ، ثنا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرٍ مِنْ لَفْظِهِ وَكِتَابِهِ مَرَّتَيْنِ، أنا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ قُرَيْشٍ، أنا أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ الْعُشَارِيُّ.

ح وَقَالَ ابْنُ الْجَوْزِيُّ: وَقَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْقَاسِمِ الْحَرِيرِيِّ، عَنْ أَبِي طَالِبٍ الْعُشَارِيِّ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْبَرْسَرِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النَّجَّادُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ، ثنا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، ثنا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل افْتَرَضَ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ صَوْمَ يَوْمٍ فِي السَّنَةِ، يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَهُوَ الْيَوْمُ الْعَاشِرُ مِنَ الْمُحَرَّمِ، فَصُومُوهُ، وَوَسِّعُوا عَلَى أَهَالِيكُمْ فِيهِ، فَإِنَّهُ مَنْ وَسَّعَ عَلَى أَهْلِهِ مِنْ مَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهِ فَصُومُوهُ فَإِنَّهُ الْيَوْمُ الَّذِي تَابَ اللَّهُ عَلَى آدَمَ» فَذَكَرَ حَدِيثًا طَوِيلا نَحْوَ وَرَقَةٍ وَفِيهِ «مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ لَمْ يَمْرَضْ مَرَضًا إِلا مَرَضَ الْمَوْتِ، وَمَنِ اكْتَحَلَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ لَمْ تَرْمَدْ عَيْنَيْهِ تِلْكَ السَّنَةِ كُلِّهَا» الْحَدِيثُ.

قَالَ الْحَافِظُ أَبُو الْفَضْلِ بْنِ نَاصِرٍ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ عَزِيزٌ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ، وَقَدْ أُخْرِجَ عَنْ أَكْثَرِهِمْ فِي الصَّحِيحَيْنِ.

قَالَ: وَهَذَا أَحْسَنُ مِنَ الْحَدِيثِ الَّذِي يَرْوَيَهُ أَبُو بَكْرٍ النَّقَّاشُ الْمُقْرِئُ فِي فَضَائِلِ عَاشُورَاءَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نُجَيْحٍ، عَنْ مُجَاهِرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: وَمَا سَمِعْنَا بِإِسْنَادٍ أَصَحَّ مِنْ هَذَا الإِسْنَادِ الْمَذْكُورِ.

وَمَنْ عَمِلَ بِهِ أُعْطِيَ ثَوَابُ مَنْ صَدَّقَ وَلَمْ يُكَذِّبْ.

وَذَكَرَ أَبُو الْفَرَجِ بْنُ الْجَوْزِيِّ فِي فَضَائِلِ الشُّهُورِ، عَنِ ابْنِ نَاصِرٍ أَيْضًا، أَنَّهُ قَالَ: هَذَا إِسْنَادٌ صَحِيحٌ، وَإِسْنَادُهُ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ انْتَهَى.

هَكَذَا أَقْتَصِرُ عَلَى حِكَايَةِ كَلامِ ابْنِ نَاصِرٍ فِي هَذَا الْكِتَابِ.

وَأَمَّا فِي الْمَوْضُوعَاتِ، فَرَوَاهُ بِسَنَدِهِ كَمَا تَقَدَّمَ، ثُمَّ قَالَ: هَذَا حَدِيثٌ لا يَشُكُّ عَاقِلٌ فِي وَضْعِهِ، وَلَقَدْ أَبْدَعَ مَنْ وَضَعَهُ، وَكَشَفَ الْقِنَاعَ وَلَمْ يَسْتَحِي، وَأَتَى فِيهِ بِالْمُسْتَحِيلِ وَهُوَ قَوْلُهُ: وَأَوَّلُ يَوْمٍ خَلَقَ اللَّهُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ.

وَهَذَا تَغْفِيلٌ مِنْ وَاضِعِهِ لأَنَّهُ إِنَّمَا يُسَمَّى عَاشُورَاءُ إِذَا سَبَقَهُ تِسْعَةٌ، وَقَالَ فِيهِ: خَلَقَ اللَّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَالْجِبَالِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ.

وَفِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ: «أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ التُّرْبَةَ يَوْمَ السَّبْتِ، وَخَلَقَ الْجِبَالَ يَوْمَ الأَحَدِ. . .» ، وَفِيهِ مِنَ التَّحْرِيفِ فِي مَقَادِيرِ الثَّوَابِ الَّذِي لا يَلِيقُ بِمَحَاسِنِ الشَّرِيعَةِ.

قَالَ: «وَكَيْفَ يُحْسِنُ أَنْ يَصُومَ الرَّجُلُ يَوْمًا فَيُعْطَى ثَوَابُ مَنْ حَجَّ وَاعْتَمَرَ وَقُتِلَ شَهِيدًا، وَهَذَا مُخَالِفٌ لأُصُولِ الشَّرْعِ» .

قَالَ: وَلَوْ نَاقَشْنَاهُ عَلَى شَيْءٍ بَعْدَ شَيْءٍ لَطَالَ، وَمَا أَظُنُّهُ إِلا دُسَّ فِي أَحَادِيثِ الثِّقَاتِ.

وَكَانَ مَعَ الَّذِي رَوَاهُ نَوْعُ تَغْفِيلٍ، وَلا أُحِبُّ ذَلِكَ إِلا فِي الْمُتَأَخِّرِينَ، وَإِنْ كَانَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ قَدْ قَالَ فِي ابْنِ أَبِي الزِّنَادِ: لَيْسَ بِشَيْءٍ وَلا يُحْتَجُّ بِحَدِيثِهِ، وَاسْمُ أَبِي الزِّنَادِ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ذَكَوَانَ، وَاسْمُ ابْنِهِ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ.

كَانَ ابْنُ مَهْدِيٍّ لا يُحَدِّثُ عَنْهُ.

وَقَالَ أَحْمَدُ: مُضْطَرِبُ الْحَدِيثِ.

وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ لا يُحْتَجُّ بِهِ، فَلَعَلَّ بَعْضَ أَهْلِ الزَّيْغِ وَالإِلْحَادِ قَدْ أَدْخَلَهُ فِي حَدِيثِهِ، انْتَهَى كَلامُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ.

وَقَالَ الشَّيْخُ تَقِيِّ الدِّينِ بْنِ تَيْمِيَةَ فِي الْفَتْوَى الَّتِي تَقَدَّمَ نَقْلُ بَعْضِهَا " وَهَذَا هُوَ الَّذِي يَجِبُ الْقَطْعُ بِهِ فَإِنَّهُ لا يَسْتَرِيبُ مِنْ تَدَبُّرِ هَذَا الْكَلامِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّ هَذَا لا يَجُوزُ أَنْ يَقُولُهُ مُؤْمِنٌ فَضْلا عَنْ أَنْ يَقُولَ مِثْلَ هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَإِنَّ فِيهِ مِنَ الْمُجَازَفَاتِ وَالْفِرْيَةِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى وَخَلْقِهِ مَا لا يَجُوزُ أَنْ يُذْكَرَ إِلا عَلَى وَجْهِ الإِنْكَارِ.

وَذَكَرَ كَلامًا طَوِيلا، ثُمَّ قَالَ: وَمَا ذَكَرَهُ ابْنُ نَاصِرٍ قَالَهُ بِنَاءً عَلَى أَنْ رَأَى ظَاهِرَ حَالِ رِجَالِهِ السَّلامَةَ عِنْدَهُ، وَلَكِنْ هُوَ مِنْ رِوَايَةِ الشُّيُوخِ الْمُتَأَخِّرِينَ لَيْسَ لَهُ ذِكْرٌ فِي شَيْءٍ مِنْ كُتُبِ الْحَدِيثِ الْمَعْرُوفَةِ، وَلا هُوَ مَعْرُوفٌ مِنْ رِوَايَةِ عُلَمَاءِ الْحَدِيثِ الْمُتَقَدِّمِينَ، وَأَكْثَرُ الشُّيُوخِ الْمُتَأَخِّرِينَ لا يُحْتَجُّ بِمُجَرَّدِ رِوَايَتِهِمْ، لَكِنَّهُمْ لا يَضْبِطُونَ حَدِيثَهُمْ، حِفْظًا وَلا كِتَابًا، وَلَكِنْ يُؤْتَى الرَّجُلُ بِجُزْءٍ فِيهِ سَمَاعِهِ فَيَقْرَأُ عَلَيْهِ، وَالْعُمْرَةُ عَلَى مَنْ قَرَأَهُ، وَعَلَى سَمَاعِهِ الْمَوْجُودِ بِخَطِّ مَنْ تُعْرَفُ ثِقَتُهُ، فَإِذَا زِيدَ عَلَيْهِ أَحَادِيثُ لَمْ يَعْرِفْهَا كَمَا فَعَلَ عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يُوسُفَ بِرِجَالٍ مِنَ الشُّيُوخِ الَّذِينَ أَدْرَكَهُمُ ابْنُ نَاصِرٍ انْتَهَى كَلامُهُ.

وَالْحَقُّ مَا قَالَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ، وَابْنُ تَيْمِيَةَ مِنْ مَوْضُوعٍ لِمَا فِيهِ مِنَ الرَّكَةِ وَالْمُجَازَفَاتِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ
৮ - আমাকে এটি সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ বিন আবি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফারিদ, তাঁর কাছে আমার পাঠের মাধ্যমে, আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল মুনইম আল-হাররানি থেকে, হাফিজ আবু আল-ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আলি বিন আল-জাওজি আমাদের জানিয়েছেন, আবু আল-ফাদল মুহাম্মদ বিন নাসির তাঁর নিজ মুখে এবং তাঁর কিতাব থেকে দুইবার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন কুরাইশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তালিব মুহাম্মদ বিন আলি বিন আল-ফাতহ আল-উশারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

(রূপান্তর) এবং ইবনুল জাওজি বলেছেন: আমি আবু আল-কাসিম আল-হারিরির কাছে পাঠ করেছি, তিনি আবু তালিব আল-উশারি থেকে, আবু বকর আহমাদ বিন মানসুর আল-বারসারি আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আহমাদ বিন সুলাইমান আল-নাজ্জাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম আল-হারবি আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুরাইজ বিন আল-নুমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি আল-জিনাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ বনী ইসরাঈলের ওপর বছরে একদিনের রোজা অর্থাৎ আশুরার রোজা ফরজ করেছিলেন, আর তা হলো মহররমের দশম দিন। অতএব তোমরা সেদিন রোজা রাখো এবং সেদিন তোমাদের পরিবারের জন্য প্রশস্ততা (উদার হস্তে খরচ) করো। কেননা যে ব্যক্তি আশুরার দিন নিজের সম্পদ থেকে তার পরিবারের জন্য প্রশস্ততা করবে, আল্লাহ সারা বছর তার ওপর প্রশস্ততা দান করবেন। অতএব তোমরা সেদিন রোজা রাখো, কেননা এটি সেই দিন যেদিন আল্লাহ আদমের তাওবা কবুল করেছিলেন» এরপর তিনি এক পৃষ্ঠার মতো দীর্ঘ একটি হাদিস উল্লেখ করেন এবং তাতে রয়েছে «যে ব্যক্তি আশুরার দিন গোসল করবে সে মৃত্যু ব্যাধি ছাড়া অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হবে না, এবং যে ব্যক্তি আশুরার দিন সুরমা লাগাবে পুরো বছর তার চোখ উঠবে না» - হাদিসটি সমাপ্ত।

হাফিজ আবু আল-ফাদল বিন নাসির বলেছেন: এটি একটি হাসান আজিজ হাদিস, এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, এবং তাঁদের অধিকাংশের হাদিস বুখারি ও মুসলিম (সহিহাইন)-এ বর্ণিত হয়েছে।

তিনি বলেন: এটি সেই হাদিসের চেয়েও উত্তম যা আবু বকর আল-নাক্কাশ আল-মুকরি আশুরার ফজিলত সম্পর্কে সুফিয়ান থেকে, তিনি ইবন আবি নুজাইহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা উল্লিখিত এই সনদের চেয়ে অধিক সহিহ আর কোনো সনদ শুনিনি।

আর যে ব্যক্তি এর ওপর আমল করবে, তাকে এমন ব্যক্তির সওয়াব দেওয়া হবে যে একে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনি।

আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওজি 'ফাদাইলুশ শুহুর' গ্রন্থে ইবন নাসির থেকেও উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: এই সনদটি সহিহ, এবং এর সনদ শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী। (সমাপ্ত)

এই কিতাবে আমি ইবন নাসিরের কথার বর্ণনার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকছি।

আর 'আল-মাউদুআত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে তিনি এটি তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন যেভাবে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তিনি বলেছেন: এটি এমন এক হাদিস যার জাল হওয়ার ব্যাপারে কোনো বিবেকবান ব্যক্তির সন্দেহ নেই। যে এটি জাল করেছে সে এক অদ্ভুত কাজ করেছে এবং লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে পর্দা উন্মোচন করে দিয়েছে। সে এতে এমন অসম্ভব কথা নিয়ে এসেছে যা হলো তাঁর কথা: আল্লাহ যেদিন প্রথম সৃষ্টি করেছেন তা হলো আশুরার দিন।

আর এটি জালকারীর মূর্খতা, কারণ আশুরা তখনই বলা হয় যখন এর পূর্বে নয়টি দিন অতিবাহিত হয়। সে এতে বলেছে: আল্লাহ আশুরার দিন আসমানসমূহ, জমিন এবং পাহাড়সমূহ সৃষ্টি করেছেন।

অথচ সহিহ হাদিসে এসেছে: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শনিবার মাটি সৃষ্টি করেছেন, রবিবার পাহাড়সমূহ সৃষ্টি করেছেন...»। আর এতে সওয়াবের পরিমাণের ক্ষেত্রে এমন বিকৃতি রয়েছে যা শরীয়তের সৌন্দর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন: «একজন মানুষ একদিন রোজা রাখবে আর তাকে হজ, উমরা ও শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণকারীর সওয়াব দেওয়া হবে—এটি কীভাবে শোভন হতে পারে? এটি শরীয়তের মূলনীতির পরিপন্থী»।

তিনি বলেন: যদি আমরা একে একে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম তবে দীর্ঘ হয়ে যেত। আমার মনে হয় এটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আর যিনি এটি বর্ণনা করেছেন তাঁর মধ্যে এক প্রকার অসতর্কতা ছিল, এবং আমি পরবর্তী যুগের (মুতাআখখিরিন) বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেই এটি পছন্দ করি। যদিও ইয়াহইয়া বিন মাইন ইবন আবি আল-জিনাদ সম্পর্কে বলেছেন: সে কিছুই নয় এবং তাঁর হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু আল-জিনাদের নাম হলো আব্দুল্লাহ বিন যাকওয়ান, আর তাঁর ছেলের নাম আব্দুর রহমান।

ইবন মাহদী তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন না।

আহমাদ বলেছেন: তিনি হাদিস বর্ণনায় বিপর্যস্ত (মুততারিবুল হাদিস)।

আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন: তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। সম্ভবত কোনো কোনো বিভ্রান্ত ও ধর্মহীন লোক তাঁর হাদিসের মধ্যে এটি প্রবেশ করিয়েছে। - আল-মাউদুআত গ্রন্থে ইবনুল জাওজির বক্তব্য সমাপ্ত।

শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ সেই ফতোয়ায়, যার কিছু অংশ পূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে, বলেছেন: "এটিই সেই বিষয় যার ওপর অটল থাকা ওয়াজিব। কেননা মুমিনদের মধ্যে যারা এই কথাটি নিয়ে চিন্তা করবেন তাদের মনে কোনো সংশয় থাকবে না যে, কোনো মুমিনের পক্ষে এমন কথা বলা জায়েজ নয়, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এমন কথা বলার তো প্রশ্নই আসে না। কারণ এতে মহান আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির ওপর এমন অতিরঞ্জন ও মিথ্যাচার রয়েছে যা কেবল প্রত্যাখ্যান করার উদ্দেশ্যেই উল্লেখ করা জায়েজ।"

তিনি অনেক দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, অতঃপর বলেছেন: ইবন নাসির যা উল্লেখ করেছেন তা তিনি বর্ণনাকারীদের প্রকাশ্য অবস্থা তাঁর কাছে সঠিক মনে হওয়ার ভিত্তিতেই বলেছেন। কিন্তু এটি পরবর্তী যুগের শাইখদের বর্ণনা থেকে এসেছে, প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থসমূহের কোথাও এর উল্লেখ নেই এবং পূর্ববর্তী যুগের হাদিস বিশারদদের বর্ণনার মাধ্যমেও এটি পরিচিত নয়। আর অধিকাংশ পরবর্তী যুগের শাইখদের শুধুমাত্র বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে দলিল পেশ করা যায় না, কারণ তাঁরা হেফজ বা লেখনীর মাধ্যমে তাঁদের হাদিস সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারেননি। বরং কোনো ব্যক্তির কাছে এমন একটি পাণ্ডুলিপি আনা হতো যাতে তাঁর শ্রবণের কথা লেখা থাকত এবং তিনি তা পাঠ করতেন। আর এর দায়ভার তাঁর ওপর বর্তাত যে এটি পাঠ করত এবং সেই শ্রবণের ওপর যা কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির হাতের লেখায় পাওয়া যেত। সুতরাং যখন এতে এমন সব হাদিস বাড়িয়ে দেওয়া হতো যা তিনি চিনতেন না—যেমনটি আব্দুল খালেক বিন আহমাদ বিন ইউসুফ সেই সব শাইখদের সাথে করেছিলেন যাদের ইবন নাসির পেয়েছিলেন। - তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।

আর সত্য হলো তাই যা ইবনুল জাওজি 'আল-মাউদুআত' গ্রন্থে বলেছেন এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন যে এটি একটি জাল হাদিস; কারণ এতে দুর্বলতা ও অতিরঞ্জন রয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ رضي الله عنه

وَأَمَّا حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ:
আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস

আর আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বর্ণিত হাদীসের বিষয়ে:
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
9 - فَأَخْبَرَنِي بِهِ: مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، قَالَ: كَتَبَ لِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيُّ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحِيمِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَخْبَرَهُمْ فِي إِذْنِهِ وَكِتَابِهِ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ أَوْ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرٍ، أنا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ، ثنا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا، ثنا خَالِدُ بْنُ خَرَّاسٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نافع، ثنا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى أَهْلِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَنَتِهِ» .

رَوَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَافِظُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ رَاهَوَيْهِ فِي مُسْنَدِهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ مِينَاءَ 26، أَنَّهُ حَدَّثَهُ الثَّقَةُ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، فَذَكْرُهُ.

لا يَصِحُّ لِجَهَالَةِ الرَّجُلِ الَّذِي لَمْ يُسَمِّ.

وَأَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ مِينَاءَ، رَوَى عَنْهُ أَيْضًا عُمَرُ بْنُ بَانِي الْعُمَرِيُّ.

وَذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ، وَقَالَ: يَرْوِي الْمَقَاطِيعَ.

وَعَبْدُ اللَّهِ بَانِي هُوَ الصَّائِغُ الْمَدَنِي، احْتَجَّ بِهِ مُسْلِمٌ، وَوَثَّقَهُ ابْنُ مَعِينٍ النِّسَائِيِّ.

وَقَالَ الْبُخَارِيُّ: فِي حِفْظِهِ شَيْءٌ
৯ - আমাকে এটি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু তালিব, তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেছেন: আবুল হাসান আলি বিন আহমাদ আল-মাকদিসি আমাকে লিখেছেন যে, আব্দুর রহিম বিন আব্দুর রহমান তাঁদের তাঁর অনুমতি ও কিতাবের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, (বলেছেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল অথবা জহির বিন তাহির, (বলেছেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকি, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন আহমাদ বিন আবদান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন উবাইদ আস-সাফফার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনুল আবিদ দুনইয়া, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন খালিদ বিন খাররাস, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন নাফে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আইয়ুব বিন সুলাইমান বিন মিনা, জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবার-পরিজনের ওপর প্রশস্ততা অবলম্বন করবে, আল্লাহ সারা বছর তার ওপর প্রশস্ততা দান করবেন»।

হাফেজ ইসহাক বিন ইব্রাহিম, যিনি ইবনে রাহাওয়াইহ নামে পরিচিত, এটি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন নাফে থেকে, তিনি আইয়ুব বিন সুলাইমান বিন মিনা (২৬) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর নিকট একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ থেকে, অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

এটি সহিহ নয়, কারণ সেই ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করার কারণে তাঁর পরিচয় অজ্ঞাত।

আর আইয়ুব বিন সুলাইমান বিন মিনা, তাঁর থেকে ওমর বিন বানি আল-উমারিও বর্ণনা করেছেন।

এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্যদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি মাকাতী' (বিচ্ছিন্ন হাদিসসমূহ) বর্ণনা করেন।

আর আব্দুল্লাহ বানি হলেন আস-সাইগ আল-মাদানি, ইমাম মুসলিম তাঁর দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে মাঈন ও নাসায়ি তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এবং ইমাম বুখারি বলেছেন: তাঁর মুখস্থ শক্তিতে কিছু (দুর্বলতা) আছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌ذِكْرُ طَرِيقٍ آخَرِ لِلْحَدِيثِ

وَلِحَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ طَرِيقٌ أُخْرَى مِنْ رِوَايَةِ ابْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ:

قَرَأْتُ بِخَطِّ الْحَافِظِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَلَفِ بْنِ رَافِعٍ الْمَشْكِيِّ، وَكَتَبَ إِلَيَّ مِنْ ثَغْرِ الإِسْكَنْدَرِيَّةِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ الْفُرَاتِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْهُ، قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ ظَفَانِ بْنِ أَبِي الْوَفَاءِ، أنا نَاصِرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْحَسَنِيُّ إِجَازَةً، أنا يَحْيَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَرَجِ الْخَشَّابِ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامَةَ الْقُضَاعِيُّ، أنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَزَّارُ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي سَعِيدِ بْنِ الأَعْرَابِيِّ بِمَكَّةَ، وَأَنَا أَسْمَعُ، حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ كَلْحَةَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْجَعْفَرِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَمَةَ الْجَهْنِيُّ، عَنِ ابْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ.

بِنَحْوِهِ.

وَلَمْ يَقُلْ: سَنَتِهِ.

وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْجَعْفَرِيُّ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ.

قَالَهُ أَبُو حَاتِمٍ.

وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَمَةَ أَيْضًا مُنْكَرُ الْحَدِيثِ.

قَالَهُ أَبُو زَرْعَةَ
হাদিসের অন্য একটি সূত্রের বর্ণনা

এবং আবু সাঈদের হাদিসের জন্য ইবনে আবি সা’সা’আহ-এর বর্ণনা থেকে অন্য একটি সূত্র রয়েছে:

আমি হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন খালাফ বিন রাফি আল-মাশকি-এর হস্তলিপিতে পড়েছি, এবং ইস্কান্দারিয়ার সীমান্ত থেকে আলী বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-ফুরাত তার পিতার সূত্রে তার নিকট থেকে আমার কাছে লিখেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন জাফান বিন আবিল ওয়াফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, নাসির বিন ইসমাইল আল-হাসানি ইজাযাহ সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন আলী বিন আল-ফারাজ আল-খাশশাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন সালামাহ আল-কুদাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-বাযযার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মক্কায় আবু সাঈদ বিন আল-আরাবির সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শুনছিলাম যে, মুহাম্মদ বিন সালিহ কালহাহ আপনাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-জাফারি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন সালামাহ আল-জুহানি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি সা’সা’আহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপ হাদিস।

এবং তিনি "তার বছর" কথাটি বলেননি।

আর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-জাফারি হলেন মুনকারুল হাদিস (প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাকারী)।

আবু হাতিম এটি বলেছেন।

এবং আবদুল্লাহ বিন সালামাহ-ও মুনকারুল হাদিস।

আবু যুরআ এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما

وَأَمَّا حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ
ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) বর্ণিত হাদীস

আর ইবনে উমরের হাদীসটি
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
10 - فَرَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي الأَفْرَادِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ سَهْلٍ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ خُرَّةَ الدَّبَّاغُ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهِ» .

قَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ: مُنْكَرٌ مِنْ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، وَإِنَّمَا يُرْوَى هَذَا مِنْ قَوْلِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، وَيَعْقُوبُ بْنُ خُرَّةَ ضَعِيفٌ
১০ - এটি ইমাম দারাকুতনী ‘আল-আফরাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন মুসা বিন সাহল আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব বিন খুররাহ আদ-দাববাগ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তাঁর পরিবারের ওপর সচ্ছলতা বা প্রশস্ততা অবলম্বন করবে, আল্লাহ সারা বছর তাঁর ওপর সচ্ছলতা দান করবেন»।

ইমাম দারাকুতনী বলেন: সালিম থেকে বর্ণিত যুহরীর হাদীস হিসেবে এটি ‘মুনকার’ (অস্বীকৃত)। এটি মূলত ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুনতাশিরের উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আর ইয়াকুব বিন খুররাহ হলেন দুর্বল।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
11 - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ غُلامِ اللَّهِ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ عِمَادٍ، أنا يَحْيَى بْنُ ثَابِتِ بْنِ بُنْدَارَ، أنا أَبِي، أنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الصَّيْرَفِيُّ، أنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الدَّارَقُطْنِيُّ، قَالَ: «يَعْقُوبُ بْنُ خُرَّةَ الدَّبَّاغُ بِالْخَاءِ الْمُعْجَمَةِ شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ فَارِسٍ يُحَدِّثُ، عَنْ أَزْهَرَ بْنِ سَعْدٍ السَّمَّانِ، وَسُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ وَغَيْرِهِمَا، لَمْ يَكُنْ بِالْقَوِيِّ فِي الْحَدِيثِ» ثنا عَنْهُ أَبُو بَكْرٍ البَرْقَهَارِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ سَهْلٍ انْتَهَى
১১ - মুহাম্মাদ ইবনে আবি তালিব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে গুলামুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইমাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাবিত ইবনে বুন্দার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আস-সাইরাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে আহমাদ আদ-দারা কুতনি। তিনি বলেন: «ইয়াকুব ইবনে খুররাহ আদ-দাব্বাগ—'খা' বর্ণটি নুক্তাযুক্ত—তিনি পারস্যের অধিবাসীদের একজন শায়খ, যিনি আজহার ইবনে সাদ আস-সাম্মান, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ এবং অন্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেন; তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ছিলেন না।» তাঁর থেকে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-বারকাহারি মুহাম্মাদ ইবনে মুসা ইবনে সাহল। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌ذِكْرُ طَرِيقٍ آخَرِ لِلْحَدِيثِ

وَلِحَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ طَرِيقٌ أُخْرَى: قَالَ الْخَطِيبُ فِي الرُّوَاةِ عَنْ مَالِكٍ.
হাদিসটির অন্য একটি সূত্রের বর্ণনা

ইবনে উমরের হাদিসের আরেকটি সূত্র রয়েছে: আল-খতিব 'আর-রুওয়াত আন মালিক' গ্রন্থে বলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الدَرْبَنْدِيُّ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْحَافِظُ بِبُخَارَى، أنا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي حَامِدٍ الْبَاهِلِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حُفَيْفِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ زَيْنٍ، أنا أَسْبَاطُ بْنُ الْيَسَعَ، أنا سَهْلُ بْنُ أَبِي عِيسَى بْنِ صَالِحٍ الْفَرَاهَانِيُّ الْمَرُوزِيُّ، أنا خَطَّابُ بْنُ أَسْلَمَ مِنْ أَهْلِ أَبِيوَرْدَ، ثنا هِلالُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ ذَا جِدَّةٍ وَمَيْسَرَةٍ فَوَسَّعَ عَلَى نَفْسِهِ وَعِيَالِهِ يَعْنِي يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ إِلَى رَأْسِ السَّنَةِ الْمُقْبِلَةِ» .

قَالَ الْخَطِيبُ: فِي إِسْنَادِهِ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْمَجَاهِيلَ، وَلا يَثْبُتَا عَنْ مَالِكٍ.

هَذَا مَا وَقَعَ لَنَا مِنَ الأَحَادِيثِ الْمَرْفُوعَةِ فِي الْبَابِ، وَأَصَحُّهَا حَدِيثُ جَابِرٍ مِنَ الطَّرِيقِ الأَوَّلِ، وَفِي بَعْضِ طُرُقِهِ الْمُتَقَدِّمَةِ مَا يَصْلُحُ أَنْ يَكُونَ شَاهِدًا لَهُ

وَرَوَيْنَا عَنِ الْبَيْهَقِيِّ بِالإِسْنَادِ الْمُتَقَدِّمِ إِلَيْهِ غَيْرَ مَرَّةٍ بَعْدَ أَنْ رُوِيَ الْحَدِيثُ مِنْ طَرِيقِ الصَّحَابَةِ الْمُتَقَدِّمَةِ قَالَ: «هَذِهِ الأَسَانِيدُ وَإِنْ كَانَتْ ضَعِيفَةٌ فَهِي إِذَا ضُمَّ بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ أَحْدَثَتْ قَوَّةً، وَاللَّهُ أَعْلَمُ» انْتَهَى كَلامُهُ.

هَذَا مَعَ قُوَّتِهِ لَمْ يَقَعْ لَهُ رِوَايَةُ ابْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ الَّتِي هِيَ أَصَحُّ طُرُقِ الْحَدِيثِ وَمَعَ هَذَا فَقَدْ قَالَ: «إِنَّ مَجْمَوعَ الطُّرُقِ أَحْدَثَتْ لَهُ قُوَّةً» .

ذِكْرُ الأَثَرِ الْمَوْقُوفِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه وَأَمَّا أَثَرُ عُمَرَ الْمَوْقُوفُ عَلَيْهِ:
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়ালীদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আদ-দারবান্দি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-হাফিজ বুখারায়, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমদ ইবনে আবি হামিদ আল-বাহিলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হুফাইফ ইবনে জাফর ইবনে জাইন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসবাত ইবনে আল-ইয়াসা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাহল ইবনে আবি ঈসা ইবনে সালিহ আল-ফারাহানি আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খাত্তাব ইবনে আসলাম আবীওয়ারদ নিবাসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিলাল ইবনে খালিদ, তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যার সামর্থ্য ও সচ্ছলতা আছে এবং সে নিজের ও নিজের পরিবারের জন্য খরচ বা ব্যয়ের প্রশস্ততা অবলম্বন করে—অর্থাৎ আশুরার দিনে—আল্লাহ তাআলা আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত তার জন্য প্রশস্ততা দান করবেন।»

আল-খতিব বলেন: এর সনদে একাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন এবং এটি মালিক থেকে প্রমাণিত নয়।

এই অধ্যায়ে মারফু হাদীসসমূহের মধ্যে যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে তা এই, এবং এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো প্রথম সূত্রের জাবিরের হাদীসটি। এর পূর্ববর্তী কিছু সূত্রের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা এর জন্য সমর্থক হওয়ার যোগ্য।

আমরা আল-বায়হাকী থেকে তার দিকে নির্দেশিত পূর্ববর্তী সনদে একাধিকবার বর্ণনা করেছি, সাহাবীগণের পূর্বোক্ত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করার পর তিনি বলেছেন: «এই সনদগুলো যদিও দুর্বল, তবে যখন এগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত হয় তখন তা শক্তি লাভ করে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।» তার বক্তব্য সমাপ্ত।

এটি শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও ইবনুল জুবাইর থেকে জাবিরের বর্ণনাটি তার নিকট পৌঁছেনি, যা এই হাদীসের সর্বাধিক বিশুদ্ধ সূত্র। তবুও তিনি বলেছেন: «সূত্রের সমষ্টি একে শক্তি প্রদান করেছে।»

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মওকুফ আছারের উল্লেখ। আর উমরের যে আছারটি তার ওপর মওকুফ হয়েছে তা হলো:
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
13 - فَأَخْبَرَنِي أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخَطِيبُ فِيمَا شَافَهَنِي بِهِ غَيْرَ مَرَّةٍ، عَنْ كِتَابِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الْقَسْطَلانِيِّ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُضَاءَ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْبَرِّ، ثنا سَعِيدُ بْنُ نَصْرٍ، ثنا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ، ثنا ابْنُ وَضَّاحٍ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْعَابِدُ، عَنْ بُهْلُولِ بْنِ رَاشِدٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى أَهْلِهِ لَيْلَةَ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ السَّنَةِ» .

قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ: جَرَّبْنَا ذَلِكَ فَوَجَدْنَاهُ حَقًّا.

وَإِسْنَادُهُ جَيِّدٌ.

سَعِيدُ بْنُ نَصْرٍ، وَقَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ ثِقَتَانِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ صَدُوقٌ تَكَلَّمَ فِيهِ، وَأَبُو مُحَمَّدٍ الْعَابِدُ اسْمُهُ خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ مِنْ أَهْلِ أَفْرِيقِيَّةَ.

قَالَ ابْنُ يُونُسَ: وَهُوَ رَجُلٌ مَعْرُوفٌ بِالْمَغْرِبِ.

وَبُهْلُولُ بْنُ رَاشِدٍ رَوَى عَنْهُ جَمَاعَةٌ.

وَقَالَ أَبُو زَرْعَةَ: ثِقَةٌ لا بَأْسَ بِهِ.

وَقَالَ ابْنُ يُونُسَ: كَانَتْ لَهُ عِبَادَةٌ وَفَضْلٌ.

وَذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ.

وَبَاقِيهِمْ رِجَالُ الصَّحِيحِ.

نَعَمْ فِي سَمَاعِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ مِنْ عُمَرَ خِلافٌ.

فَقَالَ أَحْمَدُ: رَآهُ وَسَمِعَ مِنْهُ.

وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ: لا يَصِحُّ لَهُ سَمَاعٌ مِنْهُ إِلا رُؤْيَةً.

وَرِوَايَتُهُ عَنْهُ فِي السُّنَنِ الأَرْبَعَةِ
১৩ - আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-খতিব আমাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সংবাদ দিয়েছেন, যা তিনি আলি ইবনে আহমদ আল-কাসতালানির কিতাব থেকে প্রাপ্ত হয়েছেন, তিনি আবু জাফর আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুদা থেকে, তিনি আবুল হাসান ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আবু উমর ইবনে আব্দুল বার থেকে, তিনি বলেন— সাঈদ ইবনে নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন— কাসিম ইবনে আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন— ইবনে ওয়াদদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন— আবু মুহাম্মদ আল-আবিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বুহলুল ইবনে রাশিদ থেকে, তিনি লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: "যে ব্যক্তি আশুরার রাতে তার পরিবার-পরিজনের জন্য অঢেল খরচ করবে, আল্লাহ সারা বছর তার উপর সচ্ছলতা দান করবেন।"

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেন: আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং একে সত্য পেয়েছি।

এর সনদটি উত্তম।

সাঈদ ইবনে নাসর এবং কাসিম ইবনে আসবাগ উভয়ই নির্ভরযোগ্য, আর মুহাম্মদ ইবনে ওয়াদদাহ সত্যবাদী কিন্তু তাঁর ব্যাপারে কিছু সমালোচনা রয়েছে, আর আবু মুহাম্মদ আল-আবিদের নাম হলো খালাফ ইবনে মুহাম্মদ, যিনি আফ্রিকা অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।

ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) অঞ্চলে একজন সুপরিচিত ব্যক্তি।

আর বুহলুল ইবনে রাশিদ থেকে একদল রাবী বর্ণনা করেছেন।

আবু জুরআহ বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই।

ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ও মর্যাদাবান ছিলেন।

ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীরা হলেন সহিহ গ্রন্থের রাবী।

হ্যাঁ, উমর থেকে ইবনে আল-মুসায়্যিবের সরাসরি শ্রবণের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

ইমাম আহমদ বলেন: তিনি তাঁকে দেখেছেন এবং তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন।

আবু হাতিম বলেন: তাঁর দর্শন পাওয়া ব্যতিরেকে তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ করা প্রমাণিত নয়।

আর উমর থেকে তাঁর বর্ণনা চার সুনান গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌ذِكْرُ قَوْلِ ابْنِ الْمُنْتَشِرِ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى

وَأَمَّا قَوْلُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ فَرَوَيْنَاهُ مِنْ قَوْلِ ابْنِهِ إِبْرَاهِيمَ أَيْضًا:
ইবনুল মুনতাশির (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর বক্তব্যের উল্লেখ

আর মুহাম্মদ ইবনুল মুনতাশিরের বক্তব্যের ব্যাপারে কথা হলো, আমরা তা তাঁর পুত্র ইবরাহীমের বক্তব্য থেকেও বর্ণনা করেছি:
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
14 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِالسَّنَدِ الْمُتَقَدِّمِ إِلَى الْبَيْهَقِيِّ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، ثنا شَاذَانُ، ثنا جَعْفَرٌ الأَحْمَرُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، قَالَ: كَانَ يُقَالُ: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ لَمْ يَزَالُوا فِي سِعَةٍ مِنْ رِزْقِهِمْ سَائِرَ سَنَتِهِمْ»

وَرَوَيْنَا عَنْ أَبِي عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْبَرِّ بِالإِسْنَادِ الْمُتَقَدِّمِ إِلَيْهِ قَالَ: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى أَهْلِهِ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ السَّنَةِ» .

قَالَ سُفْيَانُ: جَرَّبْنَا ذَلِكَ فَوَجَدْنَاهُ كَذَلِكَ.
১৪ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি তালিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তার নিকট আমার পাঠ করার মাধ্যমে, বায়হাক্বী পর্যন্ত পূর্বোক্ত সনদে; আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস বিন ইয়াকুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্বাস বিন মুহাম্মদ আদ-দুরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, শাযান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, জাফর আল-আহমার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি ইবরাহীম বিন আল-মুনতাশির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বলা হতো: «যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য প্রশস্ততা (উদারভাবে খরচ) করবে, সারা বছর তাদের রিজিকে প্রশস্ততা বজায় থাকবে»।

এবং আমরা আবু উমর বিন আব্দুল বার থেকে তার পূর্বোক্ত সনদে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য প্রশস্ততা করবে, আল্লাহ সারা বছর তার ওপর প্রশস্ততা দান করবেন»।

সুফিয়ান বলেন: "আমরা এটি পরীক্ষা করেছি এবং একে এমনই পেয়েছি।"
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
15 - وَأَخْبَرَنَا بِذَلِكَ الْحَافِظُ أَبُو سَعِيدٍ الْعَلائِيُّ إِذْنًا مُشَافَهَةً، أَنَّ أَحْمَدَ بْنَ نَعْمَةَ أَخْبَرَهُمْ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْمُبَارَكِ بْنِ الْحَسَيْنِ الْمُطَرِّزِ، أَنَّ أَحْمَدَ بْنَ عُمَرَ بْنِ نُعْمَانَ أَخْبَرَهُمْ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ السَّلامِ الأَنْصَارِيُّ، أنا أَبُو عَلِيِّ بْنِ شَاذَانَ، أنا أَبُو عَمْرِو بْنِ السَّمَّاكِ إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، ثنا الْحَسَنُ بْنُ سَلامٍ السَّوَّاقُ، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، ثنا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّهُ «مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَنَتَهُ»
১৫ - এবং হাফিজ আবু সাঈদ আল-আলাই মৌখিক অনুমতিক্রমে আমাদের এ সংবাদ দিয়েছেন যে, আহমাদ বিন নিমাহ তাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু আলী আল-মুবারক বিন আল-হুসাইন আল-মুতাররিজ থেকে, যে আহমাদ বিন উমর বিন নুমান তাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম আল-আনসারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন শাযান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর বিন আস-সাম্মাক—যদি তা শ্রবণের মাধ্যমে না হয়ে থাকে তবে অনুমতিক্রমে—হাসান বিন সালাম আস-সাওওয়াক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আল-মাদীনী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন যিয়াদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুনতাশির থেকে, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, “যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবার-পরিজনের জন্য অঢেল ব্যয় করবে, আল্লাহ পুরো বছর তার জন্য রিজিক প্রশস্ত করে দেবেন।”
(খণ্ড: ১) আত-তাওসিআতু আলাল ইয়াল লি আবি যুরআহ (পৃষ্ঠা: -)
16 - وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَّهُ: «مَنْ وَسَّعَ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ السَّنَةِ» .

أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مُشَافَهَةً، أنا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ أَبْنَاهُ، أنا سَعْدُ بْنُ المسني، أنا أَبُو الْعَبَّاسِ، أنا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَكِّيُّ، أنا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ فِرَاسٍ، أنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، أنا جَدِّي، فَذَكَرَهُ.

وَلَمْ يَذْكُرْ جَعْفَرًا، وَكَانَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ دَلَّسَهُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، فَإِنَّ ابْنَ الْمُقْرِئِ أَوْرَدَهُ فِي جَامِعِ سُفْيَانَ فِي تَرْجَمَةِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

وَقَدِ انْتَهَى الْكَلامُ عَلَى هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ
১৬ - এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুকরি, সুফিয়ান থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুন্তাশির থেকে, তিনি শুনেছেন যে: "যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবার-পরিজনের জন্য উদারভাবে ব্যয় করবে, আল্লাহ সারা বছর তার প্রতি প্রশস্ততা দান করবেন।"

আমাদের এ সম্পর্কে সরাসরি অবহিত করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম; আলি ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; সাদ ইবনুল মুসানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবুল আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; হাসান ইবনে আবদুর রহমান আল-মাক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ফিরাাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আমার দাদা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

তিনি জাফরের নাম উল্লেখ করেননি। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা এটি ইব্রাহিম থেকে তাদলীস করেছেন। কারণ ইবনুল মুকরি এটি সুফিয়ানের 'জামে' গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুন্তাশিরের জীবনী অংশে উল্লেখ করেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এই বিষয়ের ওপর আলোচনা এখানেই সমাপ্ত হলো।