(খণ্ড: ১) আল-আহাদীস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الستة العراقية   (النابلسي، أبو المظفر)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأحاديث الستة العراقية

المؤلف: شرف الدين أبو المظفر يوسف بن الحسن بن بدر بن الحسن بن مفرج النابلسي الدمشقي الشافعي (ت 671هـ)

تحقيق: أبي عمار عبد الله بن ضيف الله الشمراني

الناشر: الريان - الإمارات العربية المتحدة

الطبعة: الأولى، 1413هـ-1992م

عدد الصفحات: 8

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আহাদিস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়া   (আন-নাবুলুসি, আবু আল-মুজাফফর)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-আহাদিস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়া

লেখক: শরাফ উদ্দিন আবু আল-মুজাফফর ইউসুফ বিন আল-হাসান বিন বদর বিন আল-হাসান বিন মুফাররিজ আন-নাবুলুসি আদ-দিমাশকি আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু ৬৭১ হিজরি)

সম্পাদনা: আবু আম্মার আবদুল্লাহ বিন দাইফুল্লাহ আশ-শামরানি

প্রকাশক: আর-রাইয়ান - সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরি-১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির সাথে মিল নেই]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আহাদীস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم لا إله إلا الله أعدها للِّقاء به
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আমি এটি প্রস্তুত রেখেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا شَيْخُنَا شَيْخُ الإِسْلامِ شَرْقًا وَغَرْبًا شِهَابُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّهْرَوَرْدِيُّ الْبَكْرِيُّ رضي الله عنه، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ تِجَاهَ الْكَعْبَةِ، زَادَهَا اللَّهُ تَشْرِيفًا وَتَكْرِيمًا وَتَعْظِيمًا، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْمُظَفَّرِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الشِّبْلِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةَ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْمُخَلِّصُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةَ تِسْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ وَهُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلِ بْنِ هِلالِ بْنِ أَسَدٍ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو حَمْزَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَيَّاشٍ، يَقُولُ: " قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَمَرَهُمْ بِالإِيمَانِ بِاللَّهِ عز وجل، قَالَ: "‌‌ تَدْرُونَ مَا الإِيمَانُ بِاللَّهِ عز وجل؟ قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: شَهَادَةُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَأَنْ تُعْطُوا الْخُمُسَ مِنَ الْمَغْنَمِ ".

رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ، عَنِ الإِمَامِ أَحْمَدَ، فَوَقَعَ مُوَافَقَةً
১ - আমাদের শাইখ, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শাইখুল ইসলাম শিহাবুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সুহরাওয়ার্দী আল-বাকরী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন— মসজিদে হারামে কাবার সম্মুখে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, আল্লাহ একে আরও সম্মান, মর্যাদা ও মহিমা দান করুন। আমি তাঁকে বললাম: আবু আল-মুজাফফর হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আশ-শিবলী আপনাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন— পাঁচশত ছাপ্পান্ন হিজরিতে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বললেন: আশ-শরীফ আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আজ-যাইনাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন— চারশত আটানব্বই হিজরিতে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। তিনি বললেন: আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্বাস আল-মুখলিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন— তিনশত নব্বই হিজরিতে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ (যিনি ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাবী) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ আশ-শায়বানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বা থেকে, তিনি বলেন: আবু হামজা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আইয়াশকে বলতে শুনেছি: "আব্দুল কায়েসের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-এর নিকট আসলেন। তিনি তাঁদেরকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি ঈমান কী? তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং তোমরা গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করবে।"

এটি আবু দাউদ ইমাম আহমদ থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি মুওয়াফাকাহ (ঐক্যসূত্রে মিলিত হওয়া) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ كَرَمِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الدِّينَوَرِيُّ، قَرَأْتُهُ عَلَيْهِ فِي مَنْزِلِهِ بِالْجَعْفَرِيَّةِ مِنْ بَغْدَادَ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْقَاسِمِ نَصْرُ بْنُ نَصْرِ بْنِ يُونُسَ الْعُكْبَرِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي رَجَبَ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَهْدِيٍّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ الْخَضِيبُ الدُّورِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ يَوْمَ الثُّلاثَاءِ لِلَيْلَتَيْنِ خَلَتَا مِنْ صَفَرَ سَنَةَ ثَلاثِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلالٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نِمْرٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ اللَّهَ عز وجل، قَالَ: ‌‌«مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنَنِي بِالْحَرْبِ، وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ، فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كَنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ، وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ، وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي عَلَيْهَا، فَلَئِنْ سَأَلَنِي عَبْدِي لأُعْطِيَنَّهُ، وَلَئِنِ اسْتَعَاذَ بِي لأُعِيذَنَّهُ، وَمَا تَرَدَّدْتُ عَنْ شَيْءٍ أَنَا فَاعِلُهُ تَرَدُّدِي عَنْ نَفْسِ الْمُؤْمِنِ، يَكْرَهُ الْمَوْتَ وَأَكْرَهُ مُسَاءَتَهُ، وَلا بُدَّ لَهُ مِنْهُ» .

رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، عَنِ ابْنِ كَرَامَةَ، فَوَقَعَ مُوَافَقَةً
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শায়খ আবু হাফস উমর ইবন কারাম ইবন আবিল হাসান আদ-দিনাওয়ারী; আমি বাগদাদের জাফরিয়ায় তাঁর বাসভবনে তাঁর নিকট এটি পাঠ করেছি। আমি তাঁকে বললাম: আবুল কাসিম নাসর ইবন নাসর ইবন ইউনুস আল-উকবারী কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন—যা তাঁর নিকট ৫৫২ হিজরীর রজব মাসে পাঠ করা হয়েছিল এবং তিনি তা স্বীকার করে নিয়েছেন—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ রিযকুল্লাহ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব ইবন আব্দুল আজিজ আত-তামিমী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মাহদী—যা তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন মাখলাদ আল-আত্তার আল-খাদিব আদ-দুরী; ৩৩০ হিজরীর সফর মাসের দুই দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার দিন তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হয়েছিল। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন উসমান ইবন কারামাহ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবন মাখলাদ, সুলাইমান ইবন বিলাল থেকে, তিনি শারীক ইবন আবু নিম্র থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর (বন্ধুর) সাথে শত্রুতা করবে, আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছি। আমার বান্দা আমার ওপর যা ফরজ করেছি তার চেয়ে প্রিয় অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করে না। আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি হই তার শ্রবণ যার মাধ্যমে সে শোনে, তার দৃষ্টি যার মাধ্যমে সে দেখে, তার হাত যার মাধ্যমে সে পাকড়াও করে এবং তার পা যার মাধ্যমে সে চলে। সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তবে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে আমি তাকে অবশ্যই আশ্রয় দিই। আমি যা করব তাতে আমি তেমন দ্বিধাবোধ করি না, যেমন দ্বিধাবোধ করি মুমিন বান্দার জান কবজের সময়; সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তাকে কষ্ট দেওয়া অপছন্দ করি, অথচ মৃত্যু তার জন্য অবধারিত।»

এটি ইমাম বুখারী ইবন কারামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি ‘মুয়াফাকাত’ (সনদগত উচ্চতর সামঞ্জস্য) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّطِيفِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْغَنِيِّ الطَّبَرِيُّ، بِبَغْدَادَ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ الْمَادِحِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي شَوَّالَ سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيِّ الْهَاشِمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ زُنْبُورٍ الْوَرَّاقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَجَدِّي، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَسُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، وَابْنُ الْمُقْرِئِ، قَالُوا: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: " مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم:‌‌ الْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ ".

جَدُّ الْبَغَوِيُّ الْمَذْكُورُ فِي الإِسْنَادِ هُوَ أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ
.

أَخْرَجَ هَذَا الْحَدِيثَ مُسْلِمٌ، عَنْ زُهَيْرٍ، وَالتِّرْمِذِيِّ، عَنِ ابْنِ مَنِيعٍ، وَالْقَزْوِينِيُّ، عَنِ ابْنِ الْمُقْرِئِ، فَوَقَعَ مُوَافَقَةً لِثَلاثَتِهِمْ، وَهَذَا مِنْ أَعَزِّ أَنْوَاعِ الْمُوَافَقَاتِ وَأَغْرَبِهَا
৩ - আমি বাগদাদে শাইখ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল গনি আত-তবারির নিকট পাঠ করেছি। আমি তাঁকে বললাম: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন আব্দুল কারিম বিন আল-মাদিহ—৫৫৬ হিজরির শাওয়াল মাসে তাঁর নিকট পাঠকালে তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শারিফ আবু নাসর মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি আজ-জায়নাবি আল-হাশেমি। তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন উমর বিন আলি বিন জুনবুর আল-ওয়াররাক। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাভি। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন হাম্বল, আমার দাদা, জুহাইর বিন হারব, সুরাইজ বিন ইউনুস এবং ইবনুল মুকরি। তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি তাঁর ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে নসিহত করছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‌ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। "

সনদে উল্লিখিত বাগাভির দাদা হলেন আহমদ বিন মানি'
।

ইমাম মুসলিম জুহাইরের সূত্রে, তিরমিজি ইবনে মানি'র সূত্রে এবং কাজভিনি ইবনুল মুকরির সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি তাঁদের তিনজনের সাথে মুওয়াফাকাত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আর এটি মুওয়াফাকাত-এর প্রকারসমূহের মধ্যে সবচেয়ে দুর্লভ এবং বিস্ময়কর।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْمُسْنِدُ أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ السَّلامِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ بَكْرَانَ الدَّاهِرِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي مَنْزِلِهِ بِدَارِ الْخِلافَةِ مِنْ مَدِينَةِ السَّلامِ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ نَصْرِ بْنِ الزَّاغَوَنِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ سَنَةَ اثْنَتَينِ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِيِّ الْمُخَلِّصُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ سَنَةَ تِسْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ غَيْلانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ «إِنَّمَا‌‌ سَمَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَعْيُنَهُمْ لأَنَّهُمْ سَمَلُوا أَعْيُنَ الرِّعَاءِ» .

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ سَهْلٍ، هَذَا فَوَقَعَ مُوَافَقَةً
৪ - শায়খ আল-মুসনিদ আবুল ফজল আবদুস সালাম বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন বাকরান আদ-দাহিরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মদিনাতুস সালামের (শান্তির শহর) দারুল খিলাফাহ-তে অবস্থিত তাঁর নিজ বাসভবনে আমার পাঠের মাধ্যমে; আমি তাঁকে বললাম: আবু বকর মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন নাসর বিন আয-যাগুনি কি আপনাকে পাঁচশ বায়ান্ন হিজরি সালে পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যখন আপনি তা শুনছিলেন? তিনি তা স্বীকার করলেন। তিনি বললেন: আশ-শরিফ আবু নাসর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আয-যাইনাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বললেন: আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আল-আব্বাসি আল-মুখলিস তিনশ নব্বই হিজরি সালে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বললেন: ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: ফজল বিন সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: ইয়াহইয়া বিন গাইলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: ইয়াজিদ বিন জুরাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: সুলাইমান আত-তাইমি আমাদের নিকট আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল এজন্যই তাদের চোখ উপড়ে ফেলেছিলেন, কারণ তারা রাখালদের চোখ উপড়ে ফেলেছিল।”

মুসলিম, তিরমিজি ও নাসাঈ হাদিসটি এই ফজল বিন সাহল থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি মুওয়াফাকাত হিসেবে গণ্য হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْعَالِمُ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ بْنِ خَلَفٍ الْقَطِيعِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ وَذَلِكَ فِي مَنْزِلِهِ بِبَغْدَادَ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الشَّرِيفُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْعَبَّاسِيُّ الْمَكِّيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ، فِي جُمَادَى الآخِرَةَ سَنَةَ إِحْدَى وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّافِعِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ بِمَكَّةَ، حَرَسَهَا اللَّهُ فِي مَنْزِلِهِ، فِي جُمَادَى الآخِرَةِ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ فِرَاسٍ الْعَبْقَسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ الْمَكِّيُّ الدَّيْبُلِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ كِتَابِهِ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الأَزْهَرِ الْمَكِّيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ زُنْبُورٍ مَوْلَى بَنِي قَاسِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلا يَحْلِفْ إِلا بِاللَّهِ، وَكَانَتْ قُرَيْشٌ تَحْلِفُ بِآبَائِهَا، فَقَالَ: لا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ ".

أَخْرَجَهُ
مُسْلِمٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ، وَعَلِيِّ بْنِ حُجْرٍ، أَرْبَعَتِهِمْ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، فَوَقَعَ بَدَلا.

وَأَخْرَجَهُ أَيْضًا مُسْلِمٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ.

فَبِاعْتِبَارِ هَذَا الإِسْنَادِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَأَنِّي سَمِعْتُهُ مِنْ مُسْلِمٍ نَفْسِهِ وَصَافَحْتُهُ بِهِ، وَهُوَ مُسَاوَاةً لِشَيْخِنَا، وَقَلَّ مَا يَقَعُ فِي عَصْرِنَا مَثَلُ هَذَا.
৫ - আলেম শায়খ আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উমর বিন খালাফ আল-ক্বাতীঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমি বাগদাদে তাঁর বাসভবনে তাঁর নিকট পাঠ করেছি—আমি তাঁকে বললাম: আশ-শরীফ আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-আব্বাসী আল-মাক্কী আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন, ৫৫১ হিজরী সনের জুমাদাল আখিরাহ মাসে যখন আপনি শুনছিলেন তখন তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে; অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন। তিনি বলেন: আবু আলী আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ৪৭২ হিজরী সনের জুমাদাল আখিরাহ মাসে মক্কায়—আল্লাহ তা রক্ষা করুন—তাঁর বাসভবনে যখন আমি শুনছিলাম তখন তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আবুল হাসান আহমদ বিন ইবরাহীম বিন আহমদ বিন আলী বিন ফিরাস আল-আবক্বাসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু জাফর মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-ফাদল আল-মাক্কী আদ-দাইবুলী ৩২১ হিজরী সনের জিলহজ মাসে তাঁর কিতাব থেকে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু সালেহ মুহাম্মদ বিন আবিল আজহার আল-মাক্কী, যিনি ইবনে জুনবুর নামে পরিচিত এবং বনু কাসিমের মুক্তদাস, তিনি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইসমাঈল বিন জাফর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন দীনার আমাকে ইবনে উমর থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কসম করতে চায়, সে যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে কসম না করে। কুরাইশরা তাদের বাপ-দাদাদের নামে কসম করত, তাই তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের বাপ-দাদাদের নামে কসম করো না।"

এটি বর্ণনা করেছেন
মুসলিম—ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব, কুতাইবা বিন সাঈদ এবং আলী বিন হুজর, এই চারজনের সূত্রে ইসমাঈল থেকে। ফলে এটি উচ্চতর সনদে ‘বাদাল’ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

মুসলিম এটি আরও বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন শুআইব বিন আল-লাইস বিন সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি উকাইল থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এই সনদের বিবেচনায় আমি যেন এটি স্বয়ং ইমাম মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছি এবং তাঁর সাথে মুসাফাহা করেছি। এটি আমাদের শায়খের সমপর্যায়ভুক্ত (মুসাওয়াত), আর বর্তমান যুগে এই ধরনের সনদ খুব কমই পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَحْيَى زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي الْحَسَنِ بْنُ حَسَّانٍ الْعَلْبِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِبَغْدَادَ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى بْنِ شُعَيْبٍ السِّجْزِيُّ فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْهَرَوِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْجَرَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ اللَّيْثِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«مَنْ تَرَكَ الْكَذِبَ وَهُوَ بَاطِلٌ، بُنِيَ لَهُ فِي رِيَاضِ الْجَنَّةِ، وَمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَهُوَ مُحِقٌّ، بُنِيَ لَهُ فِي وَسَطِهَا، وَمَنْ حَسُنَ خُلُقُهُ، بُنِيَ لَهُ فِي أَعْلاهَا» أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ فِي الْبِرِّ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ مُكْرَمٍ الْبَصْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ، وَمِنْ طَرِيقِهِ سُقْنَاهُ كَمَا تَرَى.

وَأَخْرَجَهُ الْقَزْوِينِيُّ فِي السُّنَّةِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ دُحَيْمٍ، وَهَارُونَ بْنِ سُلَيْمَانَ، جَمِيعًا، عَنِ ابْنِ أَبِي فُدَيْكٍ
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া ইবনে আবিল হাসান ইবনে হাসান আল-আলবি, বাগদাদে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তাঁকে বলা হলো: আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াক্ত আবদুল আউয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুআইব আস-সিজজি, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-হারাবি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল জাব্বার ইবনুল জাররাহ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মাহবুব। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা আত-তিরমিযী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উকবা ইবনে মুকরাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আবি ফুদাইক। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সালামা ইবনে ওয়ারদান আল-লাইসি, তিনি আনাস ইবনে মালিক হতে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি মিথ্যা বর্জন করবে যা বাতিল, তার জন্য জান্নাতের প্রান্তদেশে গৃহ নির্মাণ করা হবে। আর যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও বিতর্ক বর্জন করবে, তার জন্য জান্নাতের মধ্যভাগে গৃহ নির্মাণ করা হবে। আর যার চরিত্র সুন্দর হবে, তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ চূড়ায় গৃহ নির্মাণ করা হবে।’ তিরমিযী এটি ‘আল-বির’ (সদাচরণ) অধ্যায়ে উকবা ইবনে মুকরাম আল-বাসরি হতে, তিনি ইবনে আবি ফুদাইক হতে বর্ণনা করেছেন; এবং তাঁর সূত্রেই আমরা এটি বর্ণনা করেছি যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন।

আর আল-কাজউইনি এটি ‘আস-সুন্নাহ’ অধ্যায়ে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম দুহাইম এবং হারুন ইবনে সুলায়মান উভয়ের সূত্রে, ইবনে আবি ফুদাইক হতে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীস আস-সিত্তাহ আল-ইরাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - وَبِالإِسْنَادِ قَالَ الْهَرَوِيُّ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْجَارُودِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْقَرَّابُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى السَّاجِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ السِّجْزِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّافِعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ عَجْلانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:‌‌ إِذَا أَغْفَلَ الْعَالِمُ لا أَدْرِي، أُصِيبَتْ مَقَاتِلُهُ

قَالَ مُخَرِّجُ هَذِهِ الأَحَادِيثِ: لَمَّا اعْتَبَرْتُ هَذَا الأَثَرَ، وَمَا
اجْتَمَعَ فِيهِ مِنَ الأَئِمَّةِ وَالْحُفَّاظِ وَحَسُنَ مَعْنَاهُ مَعَ وَجِيزِ لَفْظِهِ، قُلْتُ فِيهِ:

أَرى أَثَرًا عَلَيْهِ النُّورُ بادِ … فَدُونَكَهُ سِراجٌ في الظَّلامِ

تَجَمَّعَ فيهِ حُفَّاظٌ عَلاهُمْ … إِمامٌ عَنْ إِمامٍ عَنْ إِمامِ

وَمِمَّا كَتَبْتُ بِهِ إِلَى بَعْضِ الإِخْوَانِ الْمُجَاوِرِينَ بِمَكَّةَ حَرَسَهَا اللَّهُ: الطَّوِيلُ

عَلى قَدْرِ أَشْوَاقِي إِليكَ سَلامي … وإنْ بَعُدَتْ دَارِي وعَزَّ لمامي

تَرُوحُ تَحِيَّاتي عَلَيْكَ وتَغْتَدي … كأَرْوَاحِ مِسْكٍ عِنْدَ فَضِّ خِتامِي

إليكَ ارْتِياحِي كُلَّ حينٍ ولَحْظَةٍ … كَما الوَجْدُ وَجْدِي والغَرامُ غَرامِي

إِلا هَلْ يَعُودُ الشَّمْلُ مُجْتَمِعًا بِكُمْ … وأَنْظُرُكُمْ مِنْ قَبْلِ يَوْمِ حِمامِي

وأَغْفِرُ زَلاتِ الزَّمانِ الَّتي قَضَتْ … بِطولِ تَنائِيكُمْ وفَوْتِ مَرامي

وأُرْتِعُ طَرْفي في رِياضِ جَمالِكُمْ … فَيا نَيْلَ آمالِي وبَلَّ أُوامي
৭ - এবং উল্লিখিত সনদে আল-হারাউয়ী বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-জারুদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আল-কাররাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া আস-সাজি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আস-সিজিজি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আশ-শাফিঈ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আজলান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:‌‌ যখন কোনো আলেম "আমি জানি না" (বলা) ছেড়ে দেন, তখন তিনি তাঁর ধ্বংসের স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

এই হাদিসসমূহের সংকলক বলেন: যখন আমি এই বর্ণনাটি বিবেচনা করলাম, এবং এতে
যে সমস্ত ইমাম ও হাফেজগণ সমবেত হয়েছেন তা এবং সংক্ষিপ্ত শব্দের সাথে এর চমৎকার অর্থ দেখলাম, তখন আমি এর সম্পর্কে বললাম:

আমি এমন এক বর্ণনা দেখছি যাতে নূর প্রকাশিত হচ্ছে … অতএব তুমি একে গ্রহণ করো অন্ধকারের প্রদীপ হিসেবে।

এতে সমবেত হয়েছেন হাফেজগণ, যাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে … এক ইমাম হতে অন্য ইমাম, অতঃপর অন্য ইমাম।

মক্কায় (আল্লাহ একে রক্ষা করুন) অবস্থানরত আমার এক ভাইয়ের কাছে আমি যা লিখেছি তার মধ্য থেকে এটিও একটি (তওয়ীল ছন্দে):

আপনার প্রতি আমার আকাঙ্ক্ষার গভীরতা অনুযায়ী আমার সালাম … যদিও আমার আবাসস্থল দূরে এবং আপনার সাথে সাক্ষাৎ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

আমার অভিবাদনসমূহ আপনার নিকট সকাল-সন্ধ্যা বয়ে যায় … যেন তা মোহর খোলার পর কস্তুরীর সুঘ্রাণ।

প্রতিটি মুহূর্ত ও পলকে আমার চিত্ত আপনার দিকেই ধাবিত হয় … যেমনটি আমার গভীর আবেগ ও প্রগাঢ় ভালোবাসা।

হায়! আমাদের কি আবারও আপনাদের সাথে একত্রিত হওয়া সম্ভব হবে … এবং আমার মৃত্যুর দিনের আগে আপনাদের দেখা পাব?

তবেই আমি সময়ের সেই বিচ্যুতিগুলোকে ক্ষমা করে দেব যা নির্ধারণ করেছিল … আপনাদের দীর্ঘ বিচ্ছেদ এবং আমার বাসনা অপূর্ণ থাকা।

আমি আমার দৃষ্টিকে আপনাদের সৌন্দর্যের উদ্যানে বিচরণ করাব … হে আমার আশা পূরণকারী এবং আমার তৃষ্ণা নিবারণকারী।