(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: -)
ذكر المصافحة - الضياء المقدسي   (ضياء الدين المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: ذكر المصافحة لضياء الدين المقدسي

المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت 643هـ)

تحقيق: عمرو عبد المنعم سليم

الناشر: الضياء - طنطا

الطبعة: الأولى، 1424هـ-2003م

عدد الصفحات: 21

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসাফাহার আলোচনা - দিয়া আল-দিন আল-মাকদিসি   (দিয়া আল-দিন আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: দিয়া আল-দিন আল-মাকদিসি রচিত মুসাফাহার আলোচনা

লেখক: দিয়া আল-দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি)

তাহকীক: আমরু আব্দুল মুনয়িম সালীম

প্রকাশক: আদ-দিয়া - তান্তা

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি-২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌الرِّسَالَةُ الأُولَى: ذِكْرُ الْمُصَافَحَةِ وَمَا وَرَدَ فِيهَا مِنَ الأَخْبَارِ عَنِ النَّبِيِّ الْمُصْطَفَى الْمُخْتَارِ

:
প্রথম পুস্তিকা: মুসাফাহা এবং মনোনীত ও নির্বাচিত নবী থেকে এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহের আলোচনা

(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَجْدِ زَاهِرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَامِدٍ الثَّقَفِيُّ الضَّرِيرُ رحمه الله بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِأَصْبَهَانَ، قُلْتُ لَهُ: أخَبْرَكُمْ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الأَدِيبُ الْخَلالُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ، فَأَقَرَّ بِهِ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَنْصُورٍ سِبْطُ بَحْرَوَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى الْمَوْصِلِيُّ، حَدَّثَنَا هُدْبَةُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ: قُلْنَا لأَنَسٍ: " أَكَانَتِ الْمُصَافَحَةُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: نَعَمْ " ، هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، أَخْرَجَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلُ الْبُخَارِيُّ، فِي صَحِيحِهِ فِي الاسْتِئْذَانِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ يَحْيَى ، وَوَقَعَ لَنَا بِحَمْدِ اللَّهِ وَمَنِّهِ عَالِيًا، مِنْ رِوَايَةِ هُدْبَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ هَمَّامٍ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ
১ - আবু আল-মাজদ যাহির বিন আহমাদ বিন হামিদ আস-সাকাফী আদ-দারীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আস্পাহানে আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আমি তাঁকে বললাম: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আব্দুল মালিক আল-আদীব আল-খাল্লাল কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন—যখন তাঁর সামনে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আপনি তা শুনছিলেন? তিনি তা স্বীকার করলেন। তিনি বললেন: ইব্রাহীম বিন মানসুর সিবত বাহরাওয়াইহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বললেন: আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম বিন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বললেন: আবু ইয়ালা আহমাদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না আল-মাওসিলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বললেন: হুদবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আনাসকে জিজ্ঞেস করলাম: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কি করমর্দন (মুসাফাহা) প্রচলিত ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ।” এটি একটি সহীহ হাদীস। আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থের ‘অনুমতি প্রার্থনা’ (আল-ইস্তিযান) অধ্যায়ে আমর বিন আসিম-এর সূত্রে হাম্মাম বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে এটি আমাদের নিকট হুদবাহ বিন খালিদ-এর বর্ণনায় হাম্মাম থেকে উচ্চ (আলী) সনদে পৌঁছেছে। সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহরই জন্য।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَجْدِ زَاهِرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَامِدٍ الثَّقَفِيُّ بِأَصْبَهَانَ، أَنَّ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ الأَدِيبَ أَخْبَرَهُمْ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَنْصُورٍ سِبْطُ بَحْرَوَيْهِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُقْرِئ، أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى الْمَوْصِلِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ السَّدُوسِيُّ، حَدَّثَنَا مَيْمُونُ بْنُ عَجْلانَ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ سِيَاهٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، وَأَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْمُبَارَكُ بْنُ أَبِي الْمَعَالِي، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِبَغْدَادَ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ هِبَةُ اللَّهِ ابْنُ مُحَمَّدٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، فَأَقَرَّ بِهِ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا مَيْمُونُ الْمَرَئِيُّ، حَدَّثَنَا مَيْمُونُ بْنُ سِيَاهٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، عَنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ الْتَقَيَا، فَأَخَذَ أَحَدُهُمَا بِيَدِ صَاحِبِهِ، إِلا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَحْضُرَ دُعَاءَهُمَا، وَلا يُفَرِّقُ بَيْنَ أَيْدِيهِمَا حَتَّى يَغْفِرَ لَهُمَا» ، اللَّفْظُ وَاحِدٌ، كَذَا رَوَاهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাজদ যাহির ইবনে আহমাদ ইবনে হামিদ আস-সাকাফী আসবাহানে, যে আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আবদুল মালিক আল-আদিব তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে মানসুর সিবত বাহরাওয়াইহি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আরআরাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আস-সাদুসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাইমুন ইবনে আজলান, মাইমুন ইবনে সিয়াহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আল-মুবারক ইবনে আবুল মাআলি—বাগদাদে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—আমি তাঁকে বললাম: হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ পাঠের মাধ্যমে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে বাকর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাইমুন আল-মারাঈ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাইমুন ইবনে সিয়াহ, আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «যখনই দুজন মুসলিম পরস্পর সাক্ষাৎ করে এবং তাদের একজন তার সাথীর হাত ধরে, তখন আল্লাহর ওপর এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে তিনি তাদের দোয়ায় উপস্থিত হবেন, এবং তাদের হাত পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই তিনি তাদের ক্ষমা করে দেবেন», শব্দ বিন্যাস একই, ইমাম আহমাদ এভাবেই তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ الصَّيْدَلانِيُّ بِأَصْبَهَانَ، أَنَّ الْحَسَنَ بْنَ أَحْمَدَ الْحَدَّادُ أَخْبَرَهُمْ، وَهُوَ حَاضِرٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ سَمُّوَيْهِ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٍ، عَنْ أَبِي بَلْجٍ، عَنْ زَيْدٍ أَبِي الْحَكَمِ ، عَنِ الْبَرَاءِ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ، وَتَصَافَحَا، وَحَمِدَا اللَّهَ، وَاسْتَغْفَرَاهُ، غُفِرَ لَهُمَا» ، رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ ،فِي كِتَابِهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَوْنٍ، وَوَقعَ لَنَا مُوَافَقَةً فِي شَيْخِهِ
৩ - ইসফাহানে আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে নাসর আস-সাইদালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আল-হাসান ইবনে আহমদ আল-হাদ্দাদ তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে তিনি উপস্থিত ছিলেন; আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আবদুল্লাহ সাম্মুওয়াইহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আউন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বালজ থেকে, তিনি যায়েদ আবু আল-হাকাম থেকে, তিনি বারা (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «যখন দুইজন মুসলিমের সাক্ষাৎ হয় এবং তারা পরস্পর করমর্দন করে, আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেওয়া হয়», আবু দাউদ এটি তাঁর কিতাবে আমর ইবনে আউন থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি আমাদের নিকট তাঁর শায়খের (উস্তাদের) সূত্রে 'মুওয়াফাকাহ' হিসেবে উচ্চ সনদে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌رِوَايَةُ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ
বারা থেকে আবু ইসহাকের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৬)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْمَجْدِ الْحَرْبِيُّ بِالْحَرْبِيَّةِ، أَنَّ هِبَةَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَهُمْ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ ، أَخْبَرَنَا الأَجْلَحُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَلْتَقِيَانِ، فَيَتَصَافَحَانِ، إِلا غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَتَفَرَّقَا» ، رَوَاهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ، وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ، وَابْنُ مَاجَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ، وَابْنِ نُمَيْرٍ
4 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আবিল মাজদ আল-হারবী হারবিয়্যাহ নামক স্থানে, হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ তাদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে নুমাইর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আজলাহ, আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখনই দুইজন মুসলিম পরস্পর সাক্ষাৎ করে এবং করমর্দন (মুসাফাহা) করে, তখন তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেওয়া হয়», এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ, এবং আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি শায়বাহ থেকে, তিনি আবু খালিদ ও ইবনে নুমাইর থেকে।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৭)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفُتُوحِ يُوسُفُ بْنُ الْمُبَارَكِ بْنِ كَامِلٍ الْخَفَّافُ بِبَغْدَادَ، أَنَّ الْحُسَيْنَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الْخَيَّاطَ أَخْبَرَهُمْ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النَّقُّورِ، قَالَ: أَمْلَى. . . أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ إِمْلاءً، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَكِيمُ بْنُ خُذَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الرَّبِيعُ بْنُ لُوطٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: لَقِيتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَخَذَ بِيَدِي، فَصَافَحَنِي، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا كُنْتُ أَرَى هَذَا إِلا مِنْ أَخْلاقِ الأَعَاجِمِ، قَالَ: «كُلَّ مَنْ لَقِيَ أَخَاهُ، فَصَافَحَهُ لُطْفًا وَمَوَدَّةً، لَمْ يَفْتَرِقَا حَتى يُغفَرَ لَهُمَا»
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফুতুহ ইউসুফ ইবনুল মুবারাক ইবনে কামিল আল-খাফফাফ বাগদাদে, যে হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আহমদ আল-খাইয়াত তাদের নিকট এটি পাঠ করে শুনিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আন-নাক্কুর, তিনি বলেন: আমাদের ইমলা করিয়েছেন... আবুল কাসিম ঈসা ইবনে আলী ইবনে ঈসা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইমলা হিসেবে, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারীরী, তিনি বলেন: আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন হাকীম ইবনে খুযাম, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আর-রাবী ইবনে লুত, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম, অতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমার সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো মনে করতাম এটি কেবল অনারবদের স্বভাব-চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন: «যে ব্যক্তিই তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং মমতা ও ভালোবাসার সাথে তার সাথে মুসাফাহা করে, তারা পরস্পর পৃথক হওয়ার আগেই তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেওয়া হয়»
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌رِوَايَةُ أَبِي الْعَلاءِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشَّخِّيرِ عَنِ الْبَرَاءِ
আল-বারা থেকে বর্ণিত আবুল আলা ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীরের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৯)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو زُرْعَةَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبُي نَصْرٍ اللَّفْتُوَانِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِأَصْبَهَانَ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْخَلالُ فَأَقَرَّ بِهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَعْقُوبَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ الرُّويَانِيُّ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا الْمُنْذِرُ بْنُ ثَعْلَبَةَ، عَنْ أَبِي الْعَلاءِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنِ الْبَرَاءُ، قَالَ: لَقِيتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَافَحَنِي، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كُنْتُ أَحْسَبُ أَنَّ هَذَا مِنْ زِيِّ الْعَجَمِ؟ ! فَقَالَ: «نَحْنُ أَحَقُّ بِالْمُصَافَحَةِ مِنْهُمْ، مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ الْتَقَيَا، فَتَصَافَحَا، إِلا تَسَاقَطَتْ ذُنُوبُهُمَا بَيْنَهُمَا»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যুরআ উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি নাসর আল-লাফতুয়ানি, আসফাহানে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; আমি তাঁকে বললাম: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আব্দুল মালিক আল-খাল্লাল আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন—অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আর-রাজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম জাফর বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকুব আর-রাজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রুয়ানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাসর বিন আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন হামজাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুনজির বিন সালাবাহ, আবু আল-আলা বিন আশ-শিখখীর থেকে, তিনি বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তিনি আমার সাথে মুসাফাহা করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো মনে করতাম যে এটি অনারবদের রীতি? তিনি বললেন: «আমরা তাদের চেয়ে মুসাফাহা করার অধিক হকদার; যখনই দুইজন মুসলিম একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং মুসাফাহা করে, তখন তাদের মধ্য থেকে তাদের পাপসমূহ ঝরে পড়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌رِوَايَةُ أَبِي بَحْرٍ عَنِ الْبَرَاءِ
আল-বারা থেকে আবু বাহরের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১১)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الصَّيْدَلانِيُّ بِأَصْبَهَانَ، أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ الْحَدَّادَ أَخْبَرَهُمْ وَهُوَ حَاضِرٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بَلْجٍ يَحْيَى بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحَكَمِ، عَنْ أَبِي بَحْرٍ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيُّمَا مُسْلِمَيْنِ الْتَقَيَا، فَأَخَذَ أَحَدُهُمَ بِيَدِ صَاحِبِهِ، فَتَصَافَحَا، وَحَمِدَا اللَّهَ جَمِيعًا، تَفَرَّقَا وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا خَطِيئَةٌ»
৭ - আসবাহানে আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সাইদালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আলী আল-হাদ্দাদ তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন যখন তিনি উপস্থিত ছিলেন; (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ; (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন জাফর; (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ; (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আন-নুফাইলি; (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহাইর; (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বালজ ইয়াহইয়া বিন আবু সুলাইম; (তিনি বলেন) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-হাকাম; তিনি আবু বাহর থেকে এবং তিনি বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখনই দুইজন মুসলিমের সাক্ষাৎ ঘটে এবং তাদের একজন তার সঙ্গীর হাত ধরে মুসাফাহা করে এবং তারা উভয়ে আল্লাহর প্রশংসা করে, তবে তারা এমন অবস্থায় পৃথক হয় যে তাদের মাঝে কোনো পাপ অবশিষ্ট থাকে না।»
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌رِوَايَةُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْبَرَاءِ
বারা হতে আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লার বর্ণনা
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১৩)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُظَفَّرِ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ السَّمْعَانِيُّ بِمَرْوٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ سَعِيدَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ مَسْعُودٍ الْشَّجَاعِيَّ أَخْبَرَهُمْ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النَّوْقَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُنْدَارِ الْقَزْوِينِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ: صَافَحَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَغَمَزَ عَلَى كَفِّي، فَقَالَ لِي: «يَا بَرَاءُ، أَتَدْرِي لِمَ غَمَزْتُ عَلَى كَفِّكَ؟» ، قَالَ: قَلْتُ: لا يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: «إِذَا صَافَحَ الْمُؤْمِنُ الْمُؤْمِنَ، نَزَلَتْ عَلَيْهِمَا مِائَةُ رَحْمَةٍ، تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ لأَبَشِّهِمَا وَأَحْسَنِهِمَا خُلُقًا»
৮ - মার্ভে আবু আল-মুজাফফার আব্দুর রাহিম ইবনে আব্দুল কারীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মনসুর আস-সামআনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর সাঈদ ইবনে আলী ইবনে মাসউদ আশ-শুজাঈ পাঠের মাধ্যমে তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবনে জাহির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাওকানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বুন্দার আল-কাযভীনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে শাযান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাবিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরীস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে মুসাফাহা করলেন এবং আমার হাতের তালুতে চাপ দিলেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন: “হে বারা! তুমি কি জানো কেন আমি তোমার হাতের তালুতে চাপ দিলাম?” তিনি বলেন: আমি বললাম: “না, হে আল্লাহর রাসূল।” তিনি বললেন: “যখন একজন মুমিন অন্য মুমিনের সাথে মুসাফাহা করে, তখন তাদের উভয়ের ওপর একশটি রহমত বর্ষিত হয়, যার মধ্যে নিরানব্বইটিই হলো তাদের দুজনের মধ্যে যে অধিক প্রফুল্ল ও আচরণের দিক থেকে বেশি উত্তম তার জন্য।”
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১৪)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الأَصْبَهَانِيُّ بِهَا، أَنَّ الْحَسَنَ بْنَ أَحْمَدَ أَخْبَرَهُمْ، وَهُوَ حَاضِرٌ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ رِشْدِينَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بَكِيرٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ سُوَيْدٍ الْجُمَحِيِّ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي الْوَلِيدِ، عَنْ يَعْقُوبَ الْحُرَقِيِّ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا لَقِيَ الْمُؤْمِنَ، فَسَلّمَ عَلَيْهِ، وَأَخَذَ بِيَدِهِ، فَصَافَحَهُ تَنَاثَرَتْ خَطَايَاهُمَا، كَمَا يَتَنَاثَرُ وَرَقُ الشَّجَرِ»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-আসবাহানি সেখানে, হাসান ইবনে আহমদ তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে রুশদিন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে বাকির, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুসা ইবনে রাবিয়াহ, মুসা ইবনে সুওয়াইদ আল-জুমাহি থেকে বর্ণিত, ওয়ালিদ ইবনে আবি ওয়ালিদ থেকে বর্ণিত, ইয়াকুব আল-হুর্‌কি থেকে বর্ণিত, হুযাইফা ইবনে ইয়ামান থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুমিন যখন অপর মুমিনের সাথে সাক্ষাৎ করে, তাকে সালাম দেয় এবং তার হাত ধরে তার সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করে, তখন তাদের উভয়ের গুনাহসমূহ এমনভাবে ঝরে পড়ে যেমনভাবে গাছের পাতা ঝরে পড়ে।»
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১৫)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بِأَصْبَهَانَ، أَنَّ الْحَسَنَ بْنَ أَحْمَدَ، أَخْبَرَهُمْ وَهُوَ حَاضِرٌ، وأَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْمُبَارَكُ بْنُ أَبِي الْمَعَالِي يُعْرَفُ بِابْنِ الْمَعْطُوشِ بِالْجَانِبِ الْغَرْبِيِّ مِنْ بَغْدَادَ، أَنَّ أَبَا الْقَاسِمِ هِبَةَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَهُمْ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ بَشِيرِ بْنِ كَعْبٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ عَنْزٍ، أَنَّهُ قَالَ لأَبِي ذَرٍّ حِينَ سَيَّرَ مِنَ الشَّامِ، قَالَ: إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْ حَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: إِذًا أُخْبِرُكَ بِهِ إِلا أَنْ يَكُونَ، فَقُلْتُ: إِنَّهُ لَيْسَ بِسِرٍّ، هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَافِحُكُمْ إِذَا لَقِيتُمُوهُ؟ فَقَالَ: «مَا لَقِيتُهُ قَطُّ إِلا صَافَحَنِي، وَبَعَثَ إِليَّ يَوْمًا وَلَسْتُ فِي الْبَيْتِ، فَلَمَّا جِئْتُ، أُخْبِرْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ عَلَى سَرِيرٍ لَهُ، فَالْتَزَمَنِي، فَكَانَتْ أَجْوَدَ وَأَجْوَدَ» ، كَذَا أَخْرَجَهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ، وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ فِي سُنَنِهِ، عَنْ مُوسَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ أَبِي الْحُسَيْنِ خَالِدِ بْنِ ذَكْوَانَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ بَشِيرٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ عَنْزَةَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، بِنَحْوِهِ
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইসফাহানে, যে হাসান ইবনে আহমদ তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর উপস্থিতিতে; এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আল-মুবারক ইবনে আবিল মাআলি—যিনি বাগদাদের পশ্চিম পার্শ্বে ইবনুল মা’তুশ নামে পরিচিত—যে আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ তাঁদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আলী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ; তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; ইবনে আবি হুসাইন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আইয়ুব ইবনে বশির ইবনে কাব আল-আদাওয়ি থেকে; তিনি ‘আনজ’ গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু যার (রা.)-কে বলেছিলেন যখন তাঁকে সিরিয়া থেকে পাঠানো (নির্বাসিত করা) হয়েছিল; তিনি বললেন: আমি আপনাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ হতে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই। আবু যার (রা.) বললেন: তবে আমি আপনাকে তা বলব, যদি না সেটি (গোপন কিছু) হয়। আমি বললাম: এটি কোনো গোপন বিষয় নয়; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি আপনাদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করতেন যখন আপনারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন? তিনি বললেন: ‘আমি যখনই তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তখনই তিনি আমার সাথে মুসাফাহা করেছেন। একদিন তিনি আমার কাছে লোক পাঠালেন অথচ আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। যখন আমি ফিরে এলাম এবং আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সংবাদ দেওয়া হলো, তখন আমি তাঁর কাছে আসলাম; তিনি তখন তাঁর একটি খাটিয়ার ওপর ছিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন (আলিঙ্গন করলেন), আর তা ছিল অত্যন্ত চমৎকার ও অতীব উত্তম।’ এভাবেই ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি উদ্ধৃত করেছেন। আর আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি আবুল হুসাইন খালিদ ইবনে যাকওয়ান থেকে, তিনি আইয়ুব ইবনে বশির থেকে, তিনি ‘আনজাহ’ গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে এবং তিনি আবু যার (রা.) থেকে—অনুরূপ হাদিস।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১৬)
11 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْمَجْدِ الْحَرْبِيُّ بِهَا، أَنَّ هِبَةَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَهُمْ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الْمُذْهِبِ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْقَطِيعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ ذَكْوَانَ، حَدَّثَنِي أَيُّوبُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ فُلانٍ الْعَنْزِيِّ، وَلَمْ يَقُلِ الْغُبَرِيَّ، أَنَّهُ أَقَلَّ مَعَ أَبِي ذَرٍّ، فَلَمَّا رَجَعَ تَقَطَّعَ النَّاسُ عَنْهُ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا ذَرٍّ، إِنِّي أَسْأَلُكَ عَنْ بَعْضِ أَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: إِنْ كَانَ سِرًّا مِنْ سِرِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، لَمْ أُحَدِّثْكَ بِهِ، قُلْتُ: لَيْسَ بِسِرٍّ، وَلَكِنْ كَانَ إِذَا لَقِيَ الرَّجُلَ يَأْخُذُ بِيَدِهِ، يُصَافِحُهُ؟ قَالَ: عَلَى الْخَبِيرِ سَقَطْتَ، «لَمْ يَلْقَنِي قَطُّ إِلا أَخَذَ بِيَدِي غَيْرَ مَرَّةٍ وَاحِدَةٍ، وَكَانَتْ تِلْكَ آخِرَهنَّ، أَرْسَلَ إِلَيَّ، فَأَتَيْتُهُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، فَوَجَدْتُهُ مُضْطَجِعًا، فَأَكْبَبْتُ عَلَيْهِ، فَرَفَعَ يَدَهُ، فَالْتَزَمَنِي صلى الله عليه وسلم»
১১ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আবিল মাজদ আল-হারবী সেখানে, যে হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবনুল মুযহিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে জাফর আল-কাতিয়ী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমার পিতা (ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল, খালিদ ইবনে যাকওয়ান থেকে, আইয়ুব ইবনে বাশীর আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন জনৈক আল-আনজী থেকে — এবং তিনি 'আল-গুবায়ী' বলেননি — যে তিনি আবু যার-এর সাথে সফরসঙ্গী ছিলেন। অতঃপর যখন তিনি ফিরে এলেন এবং মানুষ তাঁর নিকট থেকে চলে গেল, তখন আমি বললাম: হে আবু যার, আমি আপনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই। তিনি বললেন: যদি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন বিষয়সমূহের কোনো গোপন বিষয় হয়, তবে আমি আপনার কাছে তা বর্ণনা করব না। আমি বললাম: এটি কোনো গোপন বিষয় নয়; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন কি তিনি তার হাত ধরতেন এবং তার সাথে মুসাফাহা করতেন? তিনি বললেন: তুমি একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছেই এসেছ। তিনি যতবারই আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, ততবারই তিনি আমার হাত ধরেছেন, কেবল একবার ব্যতীত; আর সেটিই ছিল তাদের মধ্যে সর্বশেষবার। তিনি আমার কাছে সংবাদ পাঠিয়েছিলেন, তাই আমি তাঁর সেই অসুস্থতার সময় তাঁর কাছে আসলাম যে রোগে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমি তাঁকে শোয়া অবস্থায় পেলাম এবং আমি তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়লাম, তখন তিনি তাঁর হাত উঠালেন এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১৭)
12 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِأَصْبَهَانَ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ مَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الصَّيْرَفِيُّ، وَأَنْتَ حَاضِرٌ فَأُقِرُّ بِهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فَاذْشَاهْ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْحَارِثِ الْعَدَوِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ الأَسْوَدِ السُّوَائِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَاوِلْنِي يَدَكَ، فَنَاوَلَنِي، فَإِذَا هِيَ أَبْرَدُ مِنَ الثَّلْجِ، وَأَطْيَبُ رِيحًا مِنَ الْمِسْكِ "
১২ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন নাসর আসফাহানে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, আমি তাঁকে বললাম: মাহমুদ বিন ইসমাঈল আস-সাইরাফী আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আপনি তখন উপস্থিত ছিলেন, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ফাযশাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ইসমাঈল বিন আল-হারিস আল-আদাউয়ি আল-বাসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন মারযুক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, তিনি ইয়ালা বিন আতা হতে, তিনি জাবির বিন ইয়াযিদ বিন আল-আসওয়াদ আস-সুওয়ায়ি হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার হাত আমাকে দিন, অতঃপর তিনি তা আমাকে দিলেন; আমি দেখলাম তা বরফের চেয়েও শীতল এবং মিশকের চেয়েও অধিক সুগন্ধযুক্ত।"
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১৮)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَجْدِ زَاهِرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَامِدٍ بِأَصْبَهَانَ، أَنَّ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الخَلالَ أَخْبَرَهُمْ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى الْمَوْصِلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ: سَمِعْتُ حَنْظَلَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، " أَيَنْحَنِي بَعْضُنَا لِبَعْضٍ إِذَا الْتَقَيْنَا؟ قَالَ: لا ، قَالَ: فَيَلْزَمُ بَعْضُنَا بَعْضًا؟ قَالَ: لا ، قَالَ: فَيُصَافِحُ بَعْضُنَا بَعْضًا؟ قَالَ: نَعَمْ " ، رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ نَصْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، كِلاهُمَا عَنْ حَنْظَلَةَ ، وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَدِيثٌ حَسَنٌ
১৩ - অসবাহানে আবু মাজদ যাহির বিন আহমদ বিন হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আব্দুল মালিক আল-খাল্লাল তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন মানসুর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু রাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমি হানযালা বিন উবাইদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো: "হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কেউ যখন একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করব, তখন কি আমাদের একজন অন্যজনের সামনে মাথা নত করবে? তিনি বললেন: না। সে বলল: তবে কি একজন অন্যজনকে জড়িয়ে ধরবে? তিনি বললেন: না। সে বলল: তবে কি একে অপরের সাথে করমর্দন করবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ বিন নাসর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে; এবং এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন আলী বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি ওয়াকি থেকে, তিনি জারীর বিন হাযিম থেকে, তাঁরা উভয়ই হানযালা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান হাদিস।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১৯)
14 - وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْعَفِيفُ أَبُو الْقَاسِمِ مَحْمُودُ بْنُ الْوَاثِقِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ الْبَيْهَقِيُّ وَعُرِفَ بِزَنْكَنَ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِمَرْوٍ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو عَامِرٍ سَعْدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي سَعْدٍ الْجُرْجَانِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْغَيْثِ الْمُغِيرَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ الثَّقَفِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ السَّهْمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْقَاضِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الأَصْبَهَانِيُّ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْخَزَّازُ، حَدَّثَنَا مَسْعُودُ بْنُ مَسْرُورٍ الْمُبَارَكِيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ هَارُونُ: سَمِعَ وَكِيعٌ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ هَذَا الرَّجُلَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ الأَلْهَانِيِّ، عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمُعَانَقَةِ؟ فَقَالَ: " أَوَّلُ مَنْ عَانَقَ خَلِيلُ اللَّهِ عليه السلام إِبْرَاهِيمُ، وَأَنَّهُ خَرَجَ يَرْتَادُ لِمَاشِيَتِهِ فِي بَعْضِ جِبَالِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَسَمِعَ مُقَدِّسًا يُقَدِّسُ اللَّهَ تبارك وتعالى، فَذُهِلَ عَنْ حَاجَتِهِ، وَأَقْبَلَ نَحْوَ الصَّوْتِ، فَإِذَا هُوَ بِشَيْخٍ هَلِبٍ، طُولُهُ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ ذِرَاعًا، فَقَالَ: يَا شَيْخٌ، مَا رَبُّكَ؟ قَالَ: رَبِّي رَبُّ مَنْ فِي السَّمَاءِ، قَالَ: فَمَنْ رَبُّ مَنْ فِي الأَرْضِ؟ قَالَ: هُوَ رَبُّ مَنْ فِي الأَرْضِ وَرَبُّ مَنْ فِي السَّمَاءِ، وَمَا فِيهِمَا إِلَهٌ غَيْرُهُ، قَالَ: فَهَلْ بَقِيَ هَاهُنَا مِنْ قَوْمِكَ غَيْرُكَ؟ ، قَالَ: مَا عَلِمْتُ بَقِيَ مِنْ قَوْمِي غَيْرِي، قَالَ: فَأَيْنَ قِبْلَتُكَ؟ فَأَوْمَأَ إِلَى الْقِبْلَةِ، قَالَ: فَأَيْنَ بَيْتُكَ؟ قَالَ: فِي هَذَا الْكَهْفِ، وَبَيْنِي وَبَيْنَهُ وَادٍ لا يُخَاضُ، قَالَ: فَكَيْفَ تَعْبُرُهُ؟ قَالَ: عَلَى الْمَاءِ ذَاهِبًا، وَعَلَى الْمَاءِ رَاجِعًا، قَالَ: فَلَعَلَّ الَّذِي ذَلَّلَهُ لَكَ يُذَلِّلُهُ لَنَا، قَالَ: فَأَخَذَ بِيَدِهِ وَجَعَلا يَمْشِيَانِ عَلَى الْمَاءِ، وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا يَعْجَبُ مِمَّا أَعْطَى اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ صَاحِبَهُ " ، قَالَ: " فَدَخَلا الْكَهْفَ، فَإِذَا لَهُ قِبْلَةٌ عَلَى قِبْلَةِ إِبْرَاهِيمَ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا شَيْخٌ، أَيُّ يَوْمٍ أَعْظَمُ؟ قَالَ: يَوْمَ يَأْمُرُ اللَّهُ تبارك وتعالى لِجَهَنَّمَ، فَتَزْفُرُ زَفْرَةً لا يَبْقَى مَلَكٌ وَلا نَبِيٌّ وَلا صِدِّيقٌ وَلا شَهِيدٌ وَلا مُؤْمِنٌ إِلا خَرَّ لِوَجْهِهِ، تَهُمُّهُ نَفْسُهُ، فَقَالَ: وَمَا تَصْنَعُ بِدَعْوَتِي؟ ! وَإِنَّ لِي دَعْوَةً مَحْبُوسَةً مُنْذُ ثَلاثَ سِنِينَ لَمْ أَرَهَا، قَالَ: تُرِيدُ أُعَلِّمُكَ لِمَ حَبَسَهَا عَنْكَ؟ قَالَ: وَلِمَ حَبَسَهَا عَنِّي؟ ، قَالَ: إِنَّهُ إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا، أَخَّرَ مَسْأَلَتَهُ لِحُبِّ صَوْتِهِ، وَإِذَا أَبْغَضَ عَبْدًا، عَجَّلَ مَسْأَلَتَهُ لِبُغْضِ صَوْتِهِ، أَوْ أَلْقَى الْيَأْسَ فِي صَدْرِهِ، فَمَا مَسْأَلَتُكَ هَذِهِ الَّتِي لَمْ تَرَهَا مُنْذُ ثَلاثَ سِنِينَ؟ قَالَ: مَرَّ بِي هَاهُنَا غُلامٌ فِي رَأْسِهِ ذُؤَابَةٌ، وَمَعَهُ غَنَمٌ كَأَنَّمَا حُشِيَتْ، وَبَقَرٌ كَأَنَّمَا دُهِنَتْ، فَقُلْتُ: يَا غُلامٌ لِمَنْ هَذَا؟ قَالَ: لِخَلِيلِ اللَّهِ إِبْرَاهِيمَ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ لَكَ فِي الأَرْضِ خَلِيلٌ، فَلا تُخْرِجْ نَفْسِي مِنَ الدُّنْيَا حَتَّى تُرِنِيهِ، قَالَ: فَقَامَ إِلَيْهِ إِبْرَاهِيمُ صلى الله عليه وسلم فَعَانَقَهُ، وَقَالَ: قَدِ اسْتُجِبْتَ، أَنَا خَلِيلُ اللَّهِ.

يَا تَمِيمٌ، وَكَانَ قَبْلَ ذَلِكَ إِنَّمَا هُوَ الإِيمَاءُ، هَذَا لِهَذَا، وَهَذَا لِهَذَا إِذَا هُوَ لَقِيَهُ، ثُمَّ جَاءَ اللَّهُ جَلَّ ذِكْرُهُ بِالإِسْلامِ، فَإِنَّمَا هِيَ الْمُصَافَحَةُ، فَمَا مِنْ رَجُلَيْنِ يَلْتَقِيَانِ، يَتَصَافَحَانِ، فَمَا يَتَفَرَّقَانِ حَتَّى يُغْفَرَ لَهُمَا، فَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ الآصَارَ " ، وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ طَرِيقٍ آخَرَ إِلَى تَمِيمٍ الدَّارِيُّ، وَفِيهِ: «يَا تَمِيمٌ الدَّارِيُّ، إِنَّ الْمُسْلِمِينَ إِذَا الْتَقَيَا وَتَصَافَحَا وَسَلَّمَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ، تَحَاتَتْ ذُنُوبُهُمَا عَنْهُمَا كَمَا تَحَاتُّ وَرَقُ الشَّجَرِ يَوْمَ الرِّيحِ الْعَاصِفِ» ، وَسَمِعْنَا هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ رِوَايَةِ أَبَانَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ، وَفِيهِ: " فَقَالَ إِبْرَاهِيمُ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يُنَجِّيَنَا مِنْ شَرِّ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَشِدَّتِهِ، قَالَ: وَمَا تَرْجُو بِدَعَوَاتِي، فَوَاللَّهِ إِنَّ لِي فِي السَّمَوَاتِ لَدَعَوَاتٌ مُنْذُ أَرْبَعِينَ عَامًا مَا اسْتُجِيبَتْ، فَقَالَ إِبْرَاهِيمُ: وَمَا كَانَ دَعْوَتُكَ؟ قَالَ: بَيْنَمَا أَنَا فِي جِبَالِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ أُمَجِّدُ اللَّهَ تَعَالَى، فَإِذَا أَنَا بِغُلامٍ كَأَنَّمَا وَجْهُهُ الْقَمَرُ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، قُصَّةٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَذُؤَابَةٌ مَرْخِيَّةٌ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، وَعَلَيْهِ مُدْرَعَةٌ لَهُ مَنْ صُوفٍ أَبْيَضَ، وَبِيَدِهِ عَنْزَةٌ، وَمَعَهُ غَنَمٌ، فَقُلْتُ: يَا غُلامٌ، مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلِ الرَّحْمَنِ، فَسَأَلْتُ اللَّهَ تَعَالَى إِنْ كَانَ لَهُ خَلِيلٌ، أَنْ يُرِيَنِي ذَلِكَ الْخَلِيلَ، فَمَا رَأَيْتُهُ بَعْدُ فَعَانَقَهُ إِبْرَاهِيمُ، وَقَالَ: أَنَا ذَلِكَ الْخَلِيلُ "
১৪ - শেখ আফিফ আবু আল-কাসিম মাহমুদ বিন আল-ওয়াসিক বিন আবি আল-কাসিম আল-বাইহাকী —যিনি জানকান নামে পরিচিত— মার্ভে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আমি তাঁকে বলেছি: আবু আমির সাদ বিন আলী বিন আবি সাদ আল-জুরজানী আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-গাইস আল-মুগীরাহ বিন মুহাম্মাদ আস-সাকাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-কাসিম হামজাহ বিন ইউসুফ আস-সাহমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ আল-কাদী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-আসবাহানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারুন বিন সুলাইমান আল-খাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাসউদ বিন মাসরুর আল-মুবারকী আবু আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। হারুন বলেন: ওয়াকী‘ এই ব্যক্তির নিকট থেকে এই হাদীসটি শুনেছেন। সুলাইমান বিন আর-রাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন আতা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান আল-আলহানী থেকে, তিনি তামীম আদ-দারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কোলাকুলি (মুয়ানাকাহ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "সর্বপ্রথম যিনি কোলাকুলি করেছেন তিনি হলেন আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)। তিনি বাইতুল মাকদিসের কোনো এক পাহাড়ে তাঁর গবাদি পশুর চারণভূমি খুঁজতে বের হয়েছিলেন। তখন তিনি এক পবিত্র আত্মাকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করতে শুনলেন। তিনি নিজের প্রয়োজনের কথা ভুলে গিয়ে সেই শব্দের দিকে এগিয়ে গেলেন। হঠাৎ তিনি সেখানে একজন দীর্ঘকেশী বৃদ্ধকে দেখতে পেলেন, যার উচ্চতা ছিল আঠারো হাত। তিনি বললেন: হে বৃদ্ধ, আপনার রব কে? তিনি বললেন: আমার রব তিনি, যিনি আসমানে আছেন। তিনি বললেন: তবে জমিনে যারা আছে তাদের রব কে? তিনি বললেন: তিনি জমিনে যারা আছে তাদেরও রব এবং আসমানে যারা আছে তাদেরও রব, আর এই উভয়ের মাঝে তিনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আপনার কওমের মধ্য থেকে আপনি ছাড়া আর কেউ কি এখানে অবশিষ্ট আছে? তিনি বললেন: আমার জানা মতে আমার কওমের আমি ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট নেই। তিনি বললেন: আপনার কিবলা কোথায়? তখন তিনি কিবলার দিকে ইশারা করলেন। তিনি বললেন: আপনার ঘর কোথায়? তিনি বললেন: এই গুহায়, তবে আমার ও তার মাঝে এমন এক উপত্যকা রয়েছে যা হেঁটে পাড়ি দেওয়া যায় না। তিনি বললেন: তবে আপনি এটি কীভাবে পার হন? তিনি বললেন: যাওয়ার সময় পানির উপর দিয়ে এবং ফেরার সময়ও পানির উপর দিয়ে। তিনি (ইবরাহীম) বললেন: যিনি আপনার জন্য এটাকে সহজ করে দিয়েছেন, সম্ভবত তিনি আমাদের জন্যও এটাকে সহজ করে দেবেন। তখন তিনি তাঁর হাত ধরলেন এবং তাঁরা উভয়ে পানির উপর দিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন। তাঁদের প্রত্যেকেই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা তাঁর সাথীকে যা দান করেছেন তা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছিলেন।" তিনি বললেন: "অতঃপর তাঁরা গুহায় প্রবেশ করলেন। সেখানে ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর কিবলার অনুরূপ একটি কিবলা ছিল। ইবরাহীম বললেন: হে বৃদ্ধ, কোন দিনটি সবচেয়ে মহান? তিনি বললেন: যেদিন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা জাহান্নামকে নির্দেশ দেবেন, তখন সেটি এমন এক গর্জন করবে যে, কোনো ফেরেশতা, কোনো নবী, কোনো সিদ্দিক, কোনো শহীদ বা কোনো মুমিন অবশিষ্ট থাকবে না যে তার চেহারার ওপর লুটিয়ে পড়বে না, প্রত্যেকেই নিজ আত্মা নিয়ে চিন্তিত থাকবে। অতঃপর তিনি বললেন: আপনি আমার দোয়ার কী করবেন? আমার একটি দোয়া তিন বছর ধরে আটকে আছে, আমি তার প্রতিফলন দেখিনি। ইবরাহীম বললেন: আপনি কি চান আমি আপনাকে জানাই কেন তিনি তা আপনার থেকে আটকে রেখেছেন? তিনি বললেন: কেন তিনি তা আমার থেকে আটকে রেখেছেন? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তিনি যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তার আওয়াজ শোনার ভালোবাসায় তার প্রার্থনা বিলম্বিত করেন। আর যখন তিনি কোনো বান্দাকে অপছন্দ করেন, তখন তার আওয়াজ অপছন্দ করার কারণে তার প্রার্থনা দ্রুত কবুল করেন অথবা তার অন্তরে নিরাশা ঢেলে দেন। তো আপনার সেই প্রার্থনাটি কী যা আপনি তিন বছর ধরে দেখছেন না? তিনি বললেন: এখান দিয়ে আমার পাশ দিয়ে একটি বালক অতিক্রম করেছিল যার মাথায় চুলের ঝুঁটি ছিল, তার সাথে এমন কিছু ভেড়া ছিল যা মনে হচ্ছিল চর্বিতে পরিপূর্ণ, আর এমন কিছু গরু ছিল যা মনে হচ্ছিল তেল মাখানো। আমি বললাম: হে বালক, এগুলো কার? সে বলল: আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহ, যদি জমিনে আপনার কোনো বন্ধু থেকে থাকে, তবে তাকে আমাকে না দেখানো পর্যন্ত আমার জান কবজ করবেন না। তখন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তাঁর দিকে উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁকে কোলাকুলি করলেন এবং বললেন: আপনার দোয়া কবুল হয়েছে, আমিই আল্লাহর বন্ধু।

হে তামীম, এর আগে দেখা হলে কেবল ইশারার মাধ্যমে একে অপরকে অভিবাদন জানানো হতো। অতঃপর আল্লাহ জাল্লা যিকরুহু ইসলাম নিয়ে আসলেন, আর তা হলো মুসাফাহা (করমর্দন)। যখনই দুজন লোক সাক্ষাৎ করে এবং মুসাফাহা করে, তারা পৃথক হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বোঝাগুলো দূর করে দিয়েছেন।" এই হাদীসটি তামীম আদ-দারী থেকে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, যাতে রয়েছে: "হে তামীম আদ-দারী, নিশ্চয়ই দুজন মুসলিম যখন সাক্ষাৎ করে এবং মুসাফাহা করে এবং একে অপরকে সালাম দেয়, তখন তাদের গুনাহগুলো ঝরে পড়ে যেমন প্রবল বাতাসের দিনে গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে।" আমরা এই হাদীসটি আবান থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই মর্মে শুনেছি, যাতে রয়েছে: "তখন ইবরাহীম বললেন: আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের সেই দিনের অনিষ্ট ও কঠোরতা থেকে রক্ষা করেন। তিনি (বৃদ্ধ) বললেন: আপনি আমার দোয়ার মাধ্যমে কী আশা করেন? আল্লাহর কসম, আসমানে আমার কিছু প্রার্থনা চল্লিশ বছর ধরে রয়েছে যা কবুল করা হয়নি। ইবরাহীম বললেন: আপনার সেই প্রার্থনাটি কী ছিল? তিনি বললেন: আমি যখন বাইতুল মাকদিসের পাহাড়ে আল্লাহ তায়ালার মহিমা ঘোষণা করছিলাম, হঠাৎ আমি একটি বালককে দেখলাম যার মুখমণ্ডল যেন পূর্ণিমার রাতের চাঁদ, তার দুই চোখের মাঝে ললাট এবং দুই কাঁধের মাঝে চুলের ঝুঁটি ঝুলছে। তার গায়ে সাদা পশমের একটি জুব্বা ছিল, হাতে একটি লাঠি এবং সাথে কিছু ভেড়া ছিল। আমি বললাম: হে বালক, তুমি কে? সে বলল: আমি ইসহাক বিন ইবরাহীম, রহমানের বন্ধু। তখন আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করলাম যে, যদি তাঁর কোনো বন্ধু থাকে তবে যেন তিনি আমাকে সেই বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করান। এর পর আমি আর তাকে দেখিনি। তখন ইবরাহীম তাকে কোলাকুলি করলেন এবং বললেন: আমিই সেই বন্ধু।"
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ২০)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُظَفَّرِ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ السَّمْعَانِيُّ بِمَرْوٍ، أَنَّ أَبَا الطَّيِّبِ طَاهِرَ بْنَ عُثْمَانَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ الزُّهْرِيَّ أَخْبَرَهُمْ بِبُخَارَى، أَخْبَرَنَا جَدِّي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الأَبِيوَرْدِيُّ، حَدَّثَنَا الإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَلِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ رَيْحَانَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَهْلٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَوْحٍ الرَّقَاشِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ الْهِلالِيُّ، قَالَ: كُنْتُ بِالْمَدِينَةِ، فَدَخَلْتُ عَلَى قَبْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا رَجُلٌ يُوضَعُ عَلَى بَعِيرِهِ حَتَّى أَنَاخَهُ وَعَقَدَهُ، ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ، فَسَلَّمَ سَلامًا حَسَنًا، وَدَعَا دُعَاءً جَمِيلا، ثُمَّ قَالَ: " بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَصَّكَ بِوَحْيِهِ، وَأَنْزَلَ عَلَيْكَ كِتَابًا، جَمَعَ لَكَ فِيهِ ذِكْرَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ، وَقَالَ فِي كِتَابِهِ، وَقَوْلُهُ الْحَقُّ: {وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا} [النساء: 64] ، وَقَدْ أَتَيْتُكَ مُقِرًّا بِالذُّنُوبِ، مُسْتَشْفِعًا بِكَ إِلَى رَبِّكَ، وَهُوَ مُنْجِزٌ مَا وَعَدَكَ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى الْقَبْرِ، فَقَالَ:

يَا خَيْرَ مَنْ دُفِنَتْ فِي الأَرْضِ أَعْظُمُهُ … وَطَابَ مِنْ طِيبِهِنَّ الْقَاعُ وَالأَكَمُ

نَفْسِي الْفِدَاءُ لِقَبْرٍ أَنْتَ سَاكِنُهُ … فِيهِ الْعَفَافُ، وَفِيهِ الْجُودُ وَالْكَرَمُ "
১৫ - মার্ভ শহরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মুজাফ্ফর আবদুর রাহিম বিন আব্দুল কারীম আস-সামআনি, যে বুখারা শহরে আবু আল-তাইয়িব তাহির বিন উসমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল হামিদ বিন আবদুর রহমান বিন ইয়াকুব আজ-জুহরি তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, (তিনি বলেছেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা আবু বকর মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাহল আহমদ বিন আলী আল-আবিওয়ার্দি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-হালিমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফদল মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন রায়হান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন ইয়াজিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন সাহল আল-ওয়াসিতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রাওহ আর-রাকাশি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হারব আল-হিলালি। তিনি বলেন: আমি মদিনায় ছিলাম, এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরে উপস্থিত হলাম। তখন দেখলাম জনৈক ব্যক্তি তার উটের ওপর থেকে নামল এবং সেটিকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে বাঁধল। তারপর সে মসজিদে প্রবেশ করল এবং অত্যন্ত সুন্দরভাবে সালাম পেশ করল ও অতি চমৎকারভাবে দোয়া করল। অতঃপর সে বলল: "হে আল্লাহর রাসুল! আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক। আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাঁর ওহি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং আপনার ওপর এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি আপনার জন্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের আলোচনা একত্র করেছেন। তিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন, আর তাঁর কথা চিরন্তন সত্য: {আর যদি তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত আর রাসুলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে তারা অবশ্যই আল্লাহকে পরম তওবা কবুলকারী ও দয়ালু হিসেবে পেত} [সূরা নিসা: ৬৪]। আর আমি আপনার নিকট আমার গুনাহসমূহ স্বীকার করে এবং আপনার রবের নিকট আপনার মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করে উপস্থিত হয়েছি; আর তিনি আপনার সাথে কৃত ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ করবেন।" অতঃপর সে কবরের দিকে ফিরে তাকাল এবং আবৃত্তি করল:

হে সেই শ্রেষ্ঠতম সত্তা, জমিনের নিচে যাঁর পবিত্র অস্থিসমূহ দাফন করা হয়েছে, … আর যাঁদের সুঘ্রাণে সমতল ভূমি ও পাহাড়-পর্বত সুবাসিত হয়েছে।

আমার প্রাণ উৎসর্গিত হোক সেই কবরের জন্য, যাতে আপনি অবস্থান করছেন, … যাতে রয়েছে পবিত্রতা এবং যাতে রয়েছে দানশীলতা ও মহানুভবতা।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মুসাফাহাহ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ২১)
أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَاسِمُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ الدِّمَشْقِيُّ، فِي كِتَابِهِ، أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ، قَالَ: أَنْشَدَنَا أَبُو الطَّيِّبِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَقْدِسِيُّ الْوَاعِظُ لِنَفْسِهِ بِالرَّافِقَةِ، وَسَأَلَهُ بَعْضُهُمُ الزِّيَادَةَ عَلَى هَذَيْنِ الْبَيْتَيْنِ اللَّذَيْنِ تَقَدَّمَ ذِكْرُهُمَا وَتَضْمِينُهُمَا، فَأَجَابَهُ إِلَى ذَلِكَ، فَقَالَ: أَقُولُ وَالدَّمْعُ مِنْ عَيْنَيَّ مُنْسَجِمٌ … لَمَّا رَأَيْتُ جِدَارَ الْبَيْتِ يُسْتَلَمُ

فَالنَّاسُ يَغشَوْنَهُ بَاكٍ وَمُنْقَطِعٌ … مِنَ الْمَهَابَةِ أَوْ دَاعٍ فَمُلْتَزِمُ

يَا خَيْرَ مَنْ دُفِنَتْ بِالْقَاعِ أَعْظُمُهُ … فَطَابَ مِنْ طِيبِهِنَّ الْقَاعُ وَالأَكَمُ

نَفْسِي الْفِدَاءُ لِقَبْرٍ أَنْتَ سَاكِنُهُ … فِيهِ الْعَفَافُ وَفِيهِ الْجُودُ وَالْكَرَمُ

وَفِيهِ شَمْسُ النُّهَى وَالدِّينِ قَدْ غَرُبَتْ … مِنْ بَعْدِ مَا أَشْرَقَتْ مِنْ نُورِهَا الظُّلَمُ

حَاشَى لِوَجْهِكَ أَنْ يَبْلَى وَقَدْ هُدِيَتْ … فِي الشَّرْقِ وَالْغَرْبِ مِنْ أَنْوَارِهِ الأُمَمُ

وَإِنْ تَمَسَّكَ أَيْدِي التُّرْبِ لامِسَةً … وَأَنْتَ بَيْنَ السَّمَوَاتِ الْعُلَا عَلَمُ

لَقِيتَ رَبَّكَ وَالإِسْلامُ صَارِمُهُ … مَاضٍ وَقَدْ كَانَ بَحْرُ الْكُفْرِ يَلْتَطِمُ

فَقُمْتَ فِيهِ مَقَامَ الْمُرْسَلِينَ إِلَى … أَنْ عَزَّ فَهُوَ عَلَى الأَدْيَانِ يَحْتَكِمُ

لَئِنْ رَأَيْنَاهُ قَبْرًا إِنَّ بَاطِنَهُ … لَرَوْضَةٍ مِنْ رِيَاضِ الْخُلْدِ تَبْتَسِمُ

طَافَتْ بِهِ مِنْ نَوَاحِيهِ مَلائِكَةٌ … تَغْشَاهُ فِي كُلِّ مَا يَوْمٍ وَتَزْدَحِمُ

لَوْ كُنْتُ أَبْصَرْتُهُ حَيًّا، لَقُلْتُ لَهُ … لا تَمْشِ إِلا عَلَى خَدِّي لَكَ الْقَدَمُ

هَدَى بِهِ اللَّهُ قَوْمًا قَالَ قَائِلُهُمْ … بِبَطْنِ يَثْرِبَ، لَمَّا ضَمَّهُ الرَّحِمُ

إِنْ مَاتَ أَحْمَدُ فَالرَّحْمَنُ خَالِقُهُ … حَيٌّ وَنَعْبُدُهُ مَا أَوْرَقَ
আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে আলী ইবনুল হাসান আদ-দিমাশকী তাঁর গ্রন্থে আমাদের অবহিত করেছেন যে, তাঁর পিতা তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুুত তাইয়িব আহমদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাকদিসি আল-ওয়ায়েজ রাফিকা নামক স্থানে নিজের রচিত এই কবিতাটি আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিপূর্বে উল্লিখিত ও অন্তর্ভুক্ত করা ওই দুটি চরণের সাথে আরও কিছু যুক্ত করার অনুরোধ জানালে তিনি তাতে সাড়া দেন এবং বলেন: আমি বলছি এবং আমার দুচোখ থেকে অশ্রু ঝরছে … যখন আমি দেখলাম বায়তুল্লাহর দেয়াল স্পর্শ করা হচ্ছে।

লোকেরা সেখানে ভিড় করছে; কেউ ক্রন্দনরত, কেউবা গাম্ভীর্যের কারণে বাকরুদ্ধ … অথবা কেউ প্রার্থনারত আবার কেউবা দেয়াল আঁকড়ে ধরে আছে।

হে সেই সর্বোত্তম সত্তা, সমতল ভূমিতে যাঁর অস্থিসমূহ দাফন করা হয়েছে … ফলে সেগুলোর সুবাসে সমতল ভূমি ও টিলাসমূহ সুবাসিত হয়েছে।

আমার প্রাণ সেই কবরের জন্য উৎসর্গিত হোক যার অধিবাসী আপনি … যাতে পবিত্রতা, দানশীলতা ও মহানুভবতা বিদ্যমান।

আর সেখানে প্রজ্ঞা ও দ্বীনের সূর্য অস্তমিত হয়েছে … যার নূর থেকে অন্ধকারসমূহ আলোকিত হওয়ার পর।

আপনার পবিত্র চেহারা জীর্ণ হওয়া অসম্ভব, অথচ যাঁর নূরে … পূর্ব ও পশ্চিমের জাতিসমূহ হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে।

যদিও মাটির হাত আপনাকে স্পর্শ করে আঁকড়ে ধরেছে … অথচ আপনি উচ্চ আসমানসমূহের মাঝে এক সুউচ্চ নিশান।

আপনি আপনার রবের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এমতাবস্থায় যে ইসলাম ছিল এক ক্ষুরধার তলোয়ার … যা কার্যকর ছিল যখন কুফরীর সমুদ্র উত্তাল হয়ে আছড়ে পড়ছিল।

আপনি সেখানে রাসূলগণের অবস্থানে দণ্ডায়মান ছিলেন যতক্ষণ না … ইসলাম শক্তিশালী হয়েছে এবং সকল ধর্মের ওপর তার হুকুম জারি হয়েছে।

যদি আমরা একে কবর হিসেবে প্রত্যক্ষ করি, তবে এর অভ্যন্তরভাগ … চিরস্থায়ী জান্নাতের বাগানসমূহের একটি হাস্যোজ্জ্বল বাগান।

এর চারপাশ দিয়ে ফেরেশতারা তওয়াফ করছে … তারা প্রতিদিন সেখানে ভিড় করে আপনাকে পরিবেষ্টন করে থাকে।

আমি যদি আপনাকে জীবিতাবস্থায় দেখতাম, তবে অবশ্যই বলতাম … আপনার পা যেন কেবল আমার গালের ওপর দিয়েই পরিচালিত হয়।

আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে এমন এক জাতিকে হেদায়েত করেছেন যাদের মধ্য থেকে একজন বলেছিল … ইয়াসরিবের অভ্যন্তরে, যখন কবরের গর্ভ তাঁকে ধারণ করেছিল।

যদি আহমদ মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁর স্রষ্টা রহমান চিরঞ্জীব এবং আমরা তাঁরই ইবাদত করি যতদিন বৃক্ষরাজি পল্লবিত থাকে।