(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: -)
شفاء العليل في اختصار إبطال التحليل القسم: مسائل فقهية
الكتاب: شفاء العليل في اختصار إبطال التحليل لشيخ الإسلام ابن تيمية [آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لحقها من أعمال (10)]
اختصره: محمد بن علي بن محمد البعلي الحنبلي (ت 778 هـ)
تحقيق: علي بن محمد العمران
راجعه: سليمان بن عبد الله العمير - جديع بن محمد الجديع
الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)
الطبعة: الثالثة، 1440 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)
عدد الصفحات: 163
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 شوّال 1442
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর "ইবতালুত তাহলীল"-এর সংক্ষিপ্তসার "শিফাউল আলীল" [আসারু শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া মা লাহিকাহা মিন আমাল (১০)]
সংক্ষেপকারী: মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-বালী আল-হানবালী (মৃত্যু ৭৭৮ হিজরি)
তাহকীক: আলী বিন মুহাম্মাদ আল-উমরান
পর্যবেক্ষণকারী: সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর - জুদাই বিন মুহাম্মাদ আল-জুদাই
প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দারু ইবনে হাযম (বৈরুত)
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দারু ইবনে হাযম-এর প্রথম সংস্করণ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৩
শামেলা-তে সরবরাহ করেছে: «আতাআতুল ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৬ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ১)
آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لحقها من أعمال (10)
شفاء العليل في اختصار إبطال التحليل
لشيخ الإسلام ابن تيمية
اختصره
العلامة محمد بن علي بن محمد البعلي الحنبلي (المتوفى 778 هـ)
تحقيق
علي بن محمد العمران
إشراف
بكر بن عبد الله أبو زيد
دار عطاءات العلم - دار ابن حزم
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসমূহ (১০)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচিত
সংক্ষেপায়নে
আল্লামা মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-বালী আল-হাম্বলী (মৃত্যু (المتوفى) ৭৭৮ হিজরি)
সম্পাদনা ও গবেষণায় (تحقيق)
আলী বিন মুহাম্মাদ আল-উমরান
তত্ত্বাবধানে (إشراف)
বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ
দার আতাআতিল ইলম - দার ইবনে হাজম
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ৩)
راجَع هذا الجُزْء
سليمان بن عَبد الله العمير
جديع بن محمَّد الجديع
এই খণ্ডটি (الجزء) পর্যালোচনা করেছেন
সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর
জুদাই বিন মুহাম্মাদ আল-জুদাই
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
مقدمة التحقيقالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله نبينا محمد وعلى آله وصحبه، ومن اهتدى بهداه.
أما بعد؛ فهذا هو المختصر الثالث الذي وعدنا بإخراجه في هذه السلسلة المباركة - إن شاء الله - من آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لحقها من أعمال، وهو مختصر كتاب "بيان الدليل على بطلان التحليل"، المسمَّى: "شفاء العليل في اختصار بطلان التحليل".
ومما ينبغي أن يقال - هنا -: إن هذا الكتاب - أعني: بيان الدليل - من أجلّ كتب شيخ الإسلام وأكثرها فوائد، بل فيه من الفوائد والبحوث ما لا يوجد في غيره من كتب الشيخ
(1) = ومع هذا كلِّه لم ينل مكانته اللائقة به لدى الباحثين والمشتغلين بالعلم!.
ولعل ذلك يعود إلى أسباب؛ منها: عنوان الكتاب؛ إذ هو
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, আর যারা তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করে চলেছেন।
অতঃপর; এটি হলো সেই তৃতীয় সংক্ষিপ্তসার (مختصر) যার প্রকাশের প্রতিশ্রুতি আমরা এই বরকতময় ধারাবাহিকে—ইনশাআল্লাহ—শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর রচনাবলি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যাবলি থেকে দিয়েছিলাম। এটি হলো ‘বায়ানুদ দালীল আলা বুতলানিত তাহলীল’ গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার (مختصر), যার নাম দেওয়া হয়েছে: ‘শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার বুতলানি তাহলীল’।
এবং এখানে যা বলা আবশ্যক তা হলো: এই বইটি—অর্থাৎ: বায়ানুদ দালীল—শাইখুল ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং অত্যন্ত তথ্যবহুল গ্রন্থগুলোর একটি; বরং এতে এমন সব ফায়দা ও গবেষণা রয়েছে যা শাইখের অন্যান্য গ্রন্থে পাওয়া যায় না
(১) = আর এতসব সত্ত্বেও, গবেষক ও জ্ঞানচর্চাকারীদের কাছে এটি তার উপযুক্ত মর্যাদা লাভ করেনি!
সম্ভবত এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে; যার মধ্যে একটি হলো: বইটির শিরোনাম; যেহেতু এটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ৬)
مُشعر بأنه خاصٌّ بمسألة التحليل، أو يعود إلى طبعة الكتاب؛ إذ طُبِع - أول ما طبع - ضمن "الفتاوى المصرية": (3/ 97 - 405) سنة 1327، وهو ليس منها، بل هو كتاب مستقلٌّ برأسه، ولم يُطبع مفردًا إلا سنة 1412 هـ عن مكتبة لينة بمصر، ولم تفلح هذه الطبعة في إماطة اللثام عن قيمة الكتاب العلمية، لا في مقدمتها، ولا في فهارسها، ولا في العناية بالكتاب
(1)!!.
ولقد كان من الجدير حقًّا أن يتقدم تحقيق الأصل - بيان الدليل - على مختصره هذا من باب تقديم الأصول على فروعها، لكن حصل العكس، ولعل في ذلك من الخير المخبوء ما فيه من التمهيد للعناية بالأصل، ليبلغ الغاية في الكمال، يسّر الله ذلك بمنه وكرمه، وقد عكف على تحقيقه الآن أحد طلبة العلم، وسيطبع ضمن هذه السلسلة - إن شاء الله -.
ثم إن القول في هذا المختصر كالقول في سابِقَيْه؛ من حيث ترجمة المؤلف، ووصف النسخة، ومنهج المؤلف، والعمل في الكتاب
… انظر مقدمة تحقيق "مختصر الصارم": (ص/ 15 - 24).
وبقي أن نقول: إن هذا المختصر يقع من ذلك المجموع في الأوراق: (142 - 176) أي في ثلاثٍ وثلاثين ورقة، فهو يساوي مختصر الاقتضاء تمامًا.
--------------------------------------------
এটি ইঙ্গিত দেয় যে এটি হালালকরণ (تحليل) সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট, অথবা এটি কিতাবটির মুদ্রণের সাথে সম্পর্কিত; কারণ এটি ১৩২৭ হিজরি সনে সর্বপ্রথম "আল-ফাতাওয়া আল-মিসরিয়্যাহ" (৩/ ৯৭-৪০৫)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছিল, যদিও এটি তার অংশ নয়; বরং এটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ। এটি ১৪১২ হিজরি সনের আগে মিশরের মাকতাবাতু লায়নার মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত হয়নি। তবে এই সংস্করণটি কিতাবটির ইলমি মর্যাদা উন্মোচন করতে সফল হয়নি—না এর ভূমিকায়, না এর নির্ঘণ্টে, আর না কিতাবটির প্রতি যথাযথ যত্নে।
(১)!!.
প্রকৃতপক্ষে মূল গ্রন্থ (أصل)—বায়ান আল-দালিল—এর সম্পাদনা (تحقيق) এর এই সারসংক্ষেপ (مختصر)-এর আগে সম্পন্ন হওয়া উচিত ছিল, যাতে শাখা (فرع)-এর উপরে মূল (أصل)-কে প্রাধান্য দেওয়ার নীতি বজায় থাকে। কিন্তু এর বিপরীতটি ঘটেছে। সম্ভবত এর মধ্যে কোনো কল্যাণ লুকায়িত আছে যা মূল গ্রন্থের (أصل) প্রতি যত্ন নেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে, যাতে তা পূর্ণতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তা সহজ করুন। বর্তমানে ইলম অন্বেষণকারীদের (طلبة العلم) মধ্যে একজন এর সম্পাদনার (تحقيق) কাজে নিয়োজিত আছেন এবং ইনশাআল্লাহ এটি এই সিরিজের অধীনেই প্রকাশিত হবে।
উপরন্তু, এই সারসংক্ষেপ (مختصر) সম্পর্কে বক্তব্য পূর্ববর্তী দুটির মতোই; লেখকের জীবনী (ترجمة), পাণ্ডুলিপির (نسخة) বিবরণ, লেখকের পদ্ধতি (منهج) এবং কিতাবটির কাজের ধরন ইত্যাদি ক্ষেত্রে... দেখুন "মুখতাসার আস-সারিম" এর সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকা: (পৃষ্ঠা ১৫ - ২৪)।
পরিশেষে বলা প্রয়োজন যে, এই সারসংক্ষেপটি (مختصر) সেই সংকলনের ১৪২ থেকে ১৭৬ নম্বর পত্র পর্যন্ত বিস্তৃত, অর্থাৎ এটি ৩৩টি পত্রে বিন্যস্ত; ফলে এটি "মুখতাসার আল-ইকতিদা"-এর সমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ৭)
وكان فراغ المؤلف من اختصاره - كما أثبته في آخره - سنة خمسٍ وخمسين وسبع مئة.
ويزيد هذا المختصر على سابقيه بأن له نسخة أخرى محفوظة في مكتبة برلين برقم (2583)، مكتوبة سنة (1100)، وتقع في (23 ق)، وقد حصلنا على صورة منها عن طريق مركز الملك فيصل للدراسات والبحوث الإسلامية، وهي نسخة جيدة، قريبة الشبه جدًّا بالأصل، لكن الجزم بأنها منسوخة عنه يُعكّر عليه وجود خلافات في بعض المواضع، وفيها بعض البياضات، وغالبها لكلمات عَسُر على الناسخ قراءتها.
وقد قابلنا هذه النسخة، وأثبتنا الفروق المهمة - على قلتها - في الهوامش ورمزنا لها بـ (م).
وقد كان اعتمادنا في الإحالة على أصل الكتاب - "بيان الدليل
… " - على طبعة المكتب الإسلامي سنة 1418، بتحقيق حمدي السلفي، وهي أحسن طبعات الكتاب حتى الآن، على ما وقع فيها من هناتٍ!. وأشرنا إليه بـ "الإبطال" اختصارًا.
والحمد لله حق حمده.
وكتب
علي بن محمد العمران
29/ شوال/ 1423 هـ
في مكة المكرمة حرسها الله
লেখকের এই সংক্ষেপন (مختصر) সমাপ্ত করার সময় ছিল—যেমনটি তিনি এর শেষে উল্লেখ করেছেন—সাতশ পঞ্চান্ন হিজরি সাল।
এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি তার পূর্ববর্তীদের তুলনায় অধিক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হওয়ার কারণ হলো, বার্লিন লাইব্রেরিতে ২৫৮৩ নম্বরে এর আরেকটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) সংরক্ষিত আছে, যা ১১০০ হিজরি সালে লিখিত এবং ২৩টি ফোলিও (ق) সম্বলিত। আমরা কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের মাধ্যমে এর একটি অনুলিপি সংগ্রহ করেছি। এটি একটি উন্নতমানের পাণ্ডুলিপি (نسخة), যা মূল কপির সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ; তবে এটি নিশ্চিতভাবে মূল কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অন্তরায় হলো কিছু স্থানে বিদ্যমান পাঠভেদ এবং কিছু শূন্যস্থান, যার অধিকাংশ হলো এমন সব শব্দ যা লিপিকারের পক্ষে পাঠ করা দুঃসাধ্য ছিল।
আমরা এই পাণ্ডুলিপিটির (نسخة) মোকাবিলা (مقابلة) করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো—তা সংখ্যায় অল্প হওয়া সত্ত্বেও—টীকায় উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোকে (ম) চিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করেছি।
মূল কিতাব—"বায়ানুদ দালিল
… "—এর উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা ১৪১৮ হিজরি সালে আল-মাকতাবুল ইসলামি থেকে প্রকাশিত এবং হামদি আস-সালাফি কর্তৃক সম্পাদিত (تحقيق) সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি। কিছু বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও এটিই এখন পর্যন্ত বইটির সর্বোত্তম সংস্করণ। আমরা সংক্ষেপে একে "আল-ইবতাল" নামে অভিহিত করেছি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য, যেমনটি তাঁর প্রশংসার হক।
লিখেছেন
আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান
২৯/ শাওয়াল/ ১৪২৩ হিজরি
মক্কা মুকাররমা, আল্লাহ একে হিফাযত করুন।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ৮)
الورقة الأولى من نسخة المؤلف (الأصل)
লেখকের পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা (মূল (الأصل))
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
الورقة الأخيرة من نسخة المؤلف (الأصل)
লেখকের পাণ্ডুলিপির (نسخة) শেষ পৃষ্ঠা (মূল (الأصل))
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
الورقة الأولى من نسخة ألمانيا
জার্মানি পাণ্ডুলিপির (نسخة) প্রথম পৃষ্ঠা (الورقة)
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
الورقة الأخيرة من نسخة ألمانيا
জার্মানি পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(143/ ب) بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
وبه نستعين
الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين.
والحمد لله الذي لا يُحْصِي الخلقُ ثناءً عليه، بل هو كما أثنى على نفسِه، لا يبلغ العارفون كُنْه معرفته، ولا يُقدِّر الواصفون قدرَ صفته.
والحمد لله الذي لا تُشْكَر نعمتُه إلا بنعمتِه، ولا تُنال كرامتُه إلا برحمتِه، فهو الأول والآخر والظاهر والباطن، وهو بكلِّ شيءٍ عليم.
وهو الله لا إله إلا هو، له الحَمْد فى الأولى والآخِرة، وله الحكم وإليه ترجعون.
والحمد لله الذي جَعَلَنا من خير أمةٍ أُخْرِجت للناس، يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر ويؤمنون بالله.
والحمد لله الذي أَكمل لنا ديننا، وأتمَّ علينا نعمتَه، ورضيَ لنا الإسلام دينًا.
والحمد لله الذي بيَّن لنا آياته، ونهانا أن نتَّخِذَها هُزْوًا، وأمرنا أن نذكر نعمته علينا، وما أنزلَ علينا من الكتاب والحكمة يَعِظنا به،
(১৪৩/ খ) পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক।
এবং সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, সৃষ্টিজগত যাঁর যথাযথ প্রশংসা নিরূপণ করতে সক্ষম নয়; বরং তিনি তেমনই, যেমন তিনি স্বয়ং নিজের প্রশংসা করেছেন। তত্ত্বজ্ঞানীরা তাঁর পরিচয়ের মূল হাকিকত (كنه) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না এবং বর্ণনাকারীরা তাঁর গুণাবলির প্রকৃত মাহাত্ম্য নিরূপণ করতে পারে না।
এবং সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া তাঁরই দানকৃত অন্য নিয়ামত ব্যতীত আদায় করা সম্ভব নয় এবং যাঁর রহমত ব্যতীত তাঁর সম্মান লাভ করা যায় না। তিনিই আদি, অন্ত, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।
তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। ইহকাল ও পরকালে সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই; বিধান প্রদানের পূর্ণ কর্তৃত্ব তাঁরই এবং তাঁরই নিকট আপনারা প্রত্যাবর্তিত হবেন।
এবং সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সেই শ্রেষ্ঠ উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা মানবজাতির কল্যাণে আবির্ভূত হয়েছে; তারা সৎকাজের আদেশ দেয়, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে।
এবং সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য আমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন, আমাদের ওপর তাঁর নিয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং ইসলামকে আমাদের জন্য দীন হিসেবে মনোনীত করেছেন।
এবং সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নিকট তাঁর নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোকে উপহাসের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করতে আমাদের নিষেধ করেছেন। আর তিনি আমাদের আদেশ দিয়েছেন যেন আমরা আমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহসমূহ স্মরণ করি এবং আমাদের প্রতি তিনি যে কিতাব ও হিকমত (حكمة) অবতীর্ণ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি আমাদের উপদেশ প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأن نتَّقِيه، وأن نعلم أنه بكل شيءٍ عليم.
فإنه من تدبَّر هذه الأوامر = تبيَّن له أن فيها جِماع أمر الدين كلِّه، وعلمَ أن من هو بكلِّ شيء عليم لا يخفى عليه الذين يُلْحدون في آياته، ولا الذين يتخذونها هزوًا، ولا يخفى عليه من أظهر خلافَ ما في باطنه، فإن السرائرَ لديه بادية، والسِّرُّ عنده علانية.
فله الحمد كما يُحبه ويرضاه، وكما ينبغي لكريم وجهه وعِزّ جلاله، أحمده حمدًا موافيًا لِنِعَمه، مكافيًا لمزيده، وأستعينه استعانةَ مخلصٍ في توكله، صادق في توحيده، واستهديه إلى صراطه المستقيم صراطِ الذين أنعم عليهم من صفوة عبيده، وأستغفره استغفار من يعلم أنه لا ملجأ من الله إلا إليه في صدره
(1) ووروده.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادةَ مُقِرٍّ بأن الدين عند الله الإسلام، وأشهد أن محمدًا عبدُه ورسولُه، خاتم النبيين وسيِّد الأنام، صلى الله عليه وعلى آله الصفوة الكرام، وسلَّم عليهم سلامًا باقيًا بقاء دار السلام.
أما بعد؛ فإن الله بعثَ محمدًا بالحق، وأنزلَ عليه الكتاب، وهدى به أمته إلى الصراط المستقيم صراط الذين أنعم عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين، ولما كان العبدُ مفتقرًا إلى هذه الهداية في جميع أموره مما يأتيه ويذره؛ من أمور قد أتاها على غير الهداية، فهو محتاجٌ إلى التوبة منها، وأمور هُدِيَ إلى
--------------------------------------------
এবং আমরা যেন তাঁর তাকওয়া (تَقْوَى) অবলম্বন করি এবং যেন অবগত হই যে, তিনি সর্ববিষয়ে মহাজ্ঞানী।
নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি এই নির্দেশগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, তার নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এর মধ্যেই দ্বীনের যাবতীয় বিষয়ের পূর্ণ সমাবেশ রয়েছে। সে জানতে পারবে যে, যিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত, তাঁর কাছে তারা গোপন নয় যারা তাঁর আয়াতের ব্যাপারে সত্যবিচ্যুতি (إِلْحَاد) অবলম্বন করে, আর তারাও নয় যারা সেগুলোকে উপহাসের বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে। এমনকি তাঁর কাছে সেই ব্যক্তিও গোপন নয় যে তার অন্তরের বিপরীত বিষয় প্রকাশ করে; কেননা সকল গোপন রহস্যই তাঁর কাছে দৃশ্যমান এবং যাবতীয় গোপন বিষয়ই তাঁর কাছে প্রকাশ্য।
সুতরাং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য, যেমনটি তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, এবং যেমনটি তাঁর মহান সত্তা ও গরিমান্বিত মর্যাদার জন্য শোভনীয়। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করছি যা তাঁর নেয়ামতসমূহের পূর্ণ শোকর আদায় করে এবং তাঁর পক্ষ থেকে নেয়ামতের উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত হয়। আমি তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি এমন একনিষ্ঠ ব্যক্তির ন্যায় যে তাঁর ওপর ভরসা (تَوَكُّل) রাখে এবং তাঁর তাওহিদে (تَوْحِيد) সত্যনিষ্ঠ। আমি তাঁর কাছে তাঁর সরল পথ (صِرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ)-এর দিশা চাচ্ছি—সেই পথ যার ওপর তাঁর মনোনীত বান্দাদের তিনি নেয়ামত দান করেছেন। আর আমি তাঁর কাছে এমন ব্যক্তির ন্যায় ক্ষমা প্রার্থনা করছি যে জানে যে, আল্লাহ ব্যতীত তাঁর পাকড়াও থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো আশ্রয়স্থল নেই, চাই তা কোনো বিষয়ের প্রারম্ভে
(1) কিংবা পরিসমাপ্তিতে হোক।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এই সাক্ষ্য এমন এক ব্যক্তির যে এই মর্মে স্বীকৃতি (إِقْرَار) প্রদান করে যে, আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন কেবল ইসলাম। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, সর্বশেষ নবী এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব। তাঁর ওপর এবং তাঁর মর্যাদাবান ও মনোনীত বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও চিরস্থায়ী শান্তি বর্ষিত হোক—যতদিন জান্নাত (دَارُ السَّلَام) বিদ্যমান থাকবে।
অত:পর (أَمَّا بَعْدُ); নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে তাঁর উম্মতকে সরল পথ (صِرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ)-এর দিশা দিয়েছেন; সেই পথ যার ওপর তিনি নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ (صِدِّيقِين), শহীদগণ ও পুণ্যবানদের (صَالِحِين) নেয়ামত দান করেছেন। যেহেতু বান্দা তার যাবতীয় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে এই হিদায়াতের মুখাপেক্ষী; সে যেসব কাজ হিদায়াত ব্যতিরেকে করেছে সেগুলো থেকে তার তওবা (تَوْبَة) করা প্রয়োজন, আর যেসব বিষয়ে সে হিদায়াত পেয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أصلها دون تفصيلها، أو هُدِيَ إليها من وجهٍ دون وجه، فهو محتاج إلى تمام الهداية ليزاد
(1) هدًى، وأمورٍ هو (144/ أ) محتاج إلى أن يحصل له من الهداية فيها في المستقبل، مثل ما حصل له في الماضي، وأمورٍ هو خالٍ عن اعتقادٍ فيها، هو محتاج إلى الهداية فيها، وأمورٍ لم يفعلْها، هو محتاج إلى فعلها على وجه الهداية، إلى غير ذلك من أنواع الحاجات إلى أنواع الهدايات = فُرِضَ
(2) عليه أن يسأل اللهَ هذه الهداية في أفضل أحواله - وهي الصلاة - مراتٍ متعددة في اليوم والليلة، وهذه نعمة مغايرة للمغضوب عليهم - اليهود -، وللضالين - النصارى -.
وكان الرسول الرؤوف الرحيم يحذِّر أُمَّتَه سلوكَ سبيل أهل الغضب والضلال، ويلعنهم
(3) تحذيرًا للأمة أن يرتكبوا ما ارتكبوه من أنواع المِحال
(4)، وينهى عن التشبُّه بهم في استحلال المحرَّم
(5) بالاحتيال، لما علمه صلى الله عليه وسلم مما أوقعه الله بهم على ذلك من الخِزْي والنكال.
ولما انتهى الكلامُ بنا في المدارسة في الفقه إلى مسائل الشروط في النكاح، وبُيِّن
(6) ما كان منها مؤثِرًا في العقد، مُلْحِقًا له بالسِّفاح،
--------------------------------------------
ইহার মূলনীতি বিস্তারিত জানা ব্যতিরেকে, অথবা কোনো এক দিক থেকে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে কিন্তু অন্য দিক থেকে নয়; এমতাবস্থায় সে পূর্ণ হিদায়াতের মুখাপেক্ষী যাতে তার হিদায়াত বৃদ্ধি পায়
(১), এবং এমন সব বিষয়ে (১৪৪/ ক) সে ভবিষ্যতে হিদায়াত লাভের মুখাপেক্ষী যেমনটি অতীতে তার অর্জিত হয়েছে, এবং এমন সব বিষয় যাতে সে বিশ্বাস স্থাপনের ক্ষেত্রে রিক্ত—সেগুলোতে হিদায়াতের মুখাপেক্ষী, এবং এমন সব আমল যা সে সম্পাদন করেনি—সেগুলো হিদায়াতের পন্থায় সম্পাদন করার ক্ষেত্রে সে মুখাপেক্ষী, এইরূপ বিভিন্ন প্রকার হিদায়াতের প্রতি বহুমুখী মুখাপেক্ষীতার কারণে তার ওপর বিধান করা হয়েছে
(২) যে, সে যেন তার সর্বোত্তম অবস্থায়—যা হলো সালাত—দিবা-রাত্রিতে বহুবার আল্লাহর নিকট এই হিদায়াত প্রার্থনা করে। আর এটি অভিশপ্তদের (ইয়াহুদি) এবং পথভ্রষ্টদের (খ্রিস্টান) পথ হতে ভিন্নতর এক নিয়ামত।
পরম দয়ালু ও করুণাময় রাসূল তাঁর উম্মতকে অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের পথে চলা সম্পর্কে সতর্ক করতেন এবং উম্মতকে সাবধান করার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর অভিসম্পাত
(৩) করতেন যাতে তারা তাদের মতো বিভিন্ন প্রকার অসম্ভব কারসাজি
(৪) না করে। আর তিনি অপকৌশলের মাধ্যমে নিষিদ্ধ বিষয়কে
(৫) বৈধ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করতেন; কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানতেন যে, আল্লাহ তাআলা এই আচরণের জন্য তাদের ওপর কী লাঞ্ছনা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবতীর্ণ করেছিলেন।
ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যয়নে যখন আমাদের আলোচনা নিকাহ-এর শর্তাবলি সংক্রান্ত মাসআলা পর্যন্ত পৌঁছাল এবং এর মধ্যে কোনটি চুক্তির ওপর প্রভাব ফেলে সেটিকে ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত করে দেয় তা যখন স্পষ্ট করা হলো
(৬),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وجرى الكلامُ في مسألتي المتعة والتحليل، وتبين حكمهما بأرشد دليل، وظهرت الخاصَّةُ التي استحقَّ بها المحلِّل اللعنة، ولِمَ سمَّاه الرسول من بين الأزواج بالتيس المستعار، وتبيَّنَتْ مآخِذُ الأئمة تأصيلًا وتفصيلًا على وجه الاستبصار.
فانتبه بعضُ من كان غافلًا من رَقْدَته، وشكى ما بالناس من الحاجة إلى ظهور هذا الحكم ومعرفته؛ لعموم البلوى بهذه القضيَّة الشنيعة، وغَلَبَة الجهل بدلائل المسألة على أكثر المنتسبين إلى علم الشريعة، وسأَلَ أن أُعَلِّق في ذلك ما يكون تَبْصِرةً للمسترشد وحجة للمستنجد، فأجبتُه إجابةَ المتحرِّج من كتمان العلم المسئول، الخائف من نَقْض الميثاق المأخوذ على الذين أوتوا الكتاب وخَلَفُوا الرسولَ، والتمس بعضُ الجماعة مكررًا
(1) الالتماس بتقرير القاعدة التي هي للمسألة المذكورة أساس
(2)، وهي: بيان حكم الاحتيال على سقوط الحقوق والواجبات، وحل العقود وحل المحرَّمات، بإظهار صورةٍ ليس لها حقيقة عند المحتال، لكن جنسها مشروع لمن قَصَد به ما قصده الشارع من غير اعتلال.
فاعتذرتُ بأن الكلام المفصَّل في هذا يحتاج إلى كتابٍ طويل، ولكن سأدرج في ضمن هذا من الكلامِ الجُمْلي ما يوْصِل إلى معرفة التفصيل، بحيث يتبين للبيب موقع الحيل من دين الإسلام، ومتى حدثت، وكيف كان حال ذلك عند السلف الكرام، وما بلغني من
--------------------------------------------
মুতআ এবং তাহলীল (التحليل) সংক্রান্ত মাসআলাদ্বয় নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং সবলতম দলিলের মাধ্যমে সেগুলোর বিধান সুস্পষ্ট হয়েছে। মুহাল্লিল (المحلل) যে বৈশিষ্ট্যের কারণে অভিশাপের যোগ্য হয়েছে তা প্রকাশিত হয়েছে এবং কেন রাসূল স্বামীদের মধ্য থেকে তাকে 'ভাড়ায় আনা পাঠা' (التيس المستعار) হিসেবে অভিহিত করেছেন তাও স্পষ্ট হয়েছে। ইমামগণের মূলনীতিগত ও বিস্তারিত দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্দৃষ্টির সাথে প্রতিভাত হয়েছে।
এতে যারা গাফেল ছিল তাদের কেউ কেউ সজাগ হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে এই বিধানটি প্রকাশ ও জানার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে; কারণ এই জঘন্য বিষয়টি এখন 'সাধারণের মাঝে ব্যাপকতা' (عموم البلوى) লাভ করেছে এবং শরীআহ্ বিজ্ঞানের অনুসারীদের অধিকাংশের মধ্যেই এই মাসআলার দলিলসমূহ সম্পর্কে মূর্খতা প্রবল হয়ে উঠেছে। তারা অনুরোধ করেছে যেন আমি এ বিষয়ে এমন কিছু লিপিবদ্ধ করি যা সত্যানুসন্ধানীদের জন্য আলোকবর্তিকা এবং সাহায্যপ্রার্থীদের জন্য 'দলিল' (حجة) স্বরূপ হয়। সুতরাং ইলম গোপন করার পাপের ভয়ে এবং আহলে কিতাব ও রাসূলের উত্তরসূরিদের নিকট থেকে গৃহীত অঙ্গীকার ভঙ্গের আশঙ্কায় আমি সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছি। জামাতের কয়েকজন সদস্য সেই মূলনীতি নির্ধারণের জন্য বারবার
(১) অনুরোধ জানিয়েছেন যা উল্লিখিত মাসআলার মূল ভিত্তি
(২); আর তা হলো: অধিকার ও ওয়াজিবসমূহ রহিত করা এবং নিষিদ্ধ বিষয় ও বৈবাহিক সম্পর্ককে হালাল করার উদ্দেশ্যে যে প্রতারণামূলক কৌশলের (الحيلة) আশ্রয় নেওয়া হয় তার বিধান বর্ণনা করা। এটি এমন এক বাহ্যিক রূপ প্রদর্শনের মাধ্যমে করা হয় যার কোনো প্রকৃত বাস্তবতা চাতুর্য অবলম্বনকারীর কাছে নেই, যদিও এর প্রকৃতি সেই ব্যক্তির জন্য বৈধ যে বিধানদাতার প্রকৃত উদ্দেশ্য হাসিলের সংকল্প করে।
আমি ওজর পেশ করেছি যে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দীর্ঘ গ্রন্থের প্রয়োজন। তবে আমি এই আলোচনার মধ্যে এমন কিছু মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করব যা বিস্তারিত জ্ঞান লাভের পাথেয় হবে। ফলে একজন বুদ্ধিমান মানুষের কাছে ইসলাম ধর্মে চাতুর্যের (الحيل) অবস্থান স্পষ্ট হবে, কখন এর উদ্ভব হয়েছে, সালাফে সালেহীনদের নিকট এর অবস্থা কেমন ছিল এবং এ সম্পর্কে আমার কাছে যা পৌঁছেছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الحجة، بكلامٍ فيه اختصار، واللهُ المسئول أن يوفِّقنا وإخواننا المسلمين لما يحبُّه ويرضاه، وما توفيقي إلا بالله عليه توكَّلت وإليه أُنِيب، ولا حولَ ولا قوة إلا بالله العليِّ العظيم.
(144/ ب) مسألةٌ
(1)نكاح المحلِّل باطل حرام، لا يُفيد الحِل، وذلك أن الرجل إذا طلَّق امرأته ثلاثًا، فإنها تحرم عليه حتى تنكح زوجًا غيرَه، كما ذكره الله في كتابه، وكما جاءت به سنةُ نبيِّه محمد صلى الله عليه وسلم، وأجمعت عليه الأمة.
فإذا تزوَّجها رجلٌ بِنيَّة أن يطلِّقها لتحلَّ لزوجها الأول؛ كان هذا النكاح حرامًا باطلًا، سواءٌ عزم بعد ذلك على إمساكها أو فارقَها، وسواءٌ شرط عليه في العقد أو قبل العقد أو لم يشرط عليه لفظًا، بل كان ما بينهما من الخطبة وحال الرجل والمرأة والمهر نازلًا بينهم منزلةَ اللفظ بالشرط، أو لم يكن شيءٌ من ذلك، بل أراد الرجل أن يتزوَّجها ثم يطلقها لِتَحلَّ للمطلِّق ثلاثًا من غير أن تعلم المرأةُ ولا وليُّها شيئًا من ذلك، وسواءٌ عَلِم الزوج المطلِّق أو لم يعلم، مثل أن يظن المحلِّل أن هذا فِعْل خير ومعروف مع المطلِّق ومع امرأته بإعادتها إليه، لمَّا أن الطلاق أضرَّ بهما وبأولادهما وعشيرتهما، ونحو ذلك، بل لا تحل للمطلِّق ثلاثًا إلا أن ينكحها رجلٌ مرتغبًا لنفسه نكاح رغبةٍ لا نكاحَ دُلْسة، ويدخل بها بحيث
--------------------------------------------
প্রমাণ বা দলিলসমূহ, সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে; আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন আমাদের এবং আমাদের মুসলিম ভাইদের তাঁর পছন্দের ও সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করেন। আমার সাফল্য কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব, আমি তাঁর ওপরই ভরসা করি এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করি। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
(১৪৪/ খ) মাসয়ালা
(১)মুহাল্লিল বিবাহ (হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ) বাতিল (باطل) ও হারাম (حرام); এটি বৈধতা বা হালাল হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। আর তা এ কারণে যে, কোনো ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেয়, তখন সে তার জন্য হারাম (حرام) হয়ে যায় যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামীকে বিবাহ করে, যেমনটি আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং যেমনটি তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহয় এসেছে এবং উম্মাহ এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছে।
যদি কোনো ব্যক্তি এই নিয়তে তাকে বিবাহ করে যে সে তাকে তালাক দেবে যেন সে তার প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়, তবে এই বিবাহ হারাম (حرام) ও বাতিল (باطل) হবে; চাই সে এরপর তাকে নিজ বিবাহে রেখে দেওয়ার সংকল্প করুক কিংবা তাকে পরিত্যাগ করুক। আর বিবাহের চুক্তিতে (আকদ) তার ওপর শর্তারোপ করা হোক বা চুক্তির আগে হোক কিংবা মৌখিকভাবে কোনো শর্ত করা না হয়ে থাকুক; বরং তাদের মধ্যকার বিয়ের প্রস্তাব (খুতবা), নারী-পুরুষের অবস্থা এবং মোহরানা যদি তাদের মাঝে মৌখিক শর্তের স্থলাভিষিক্ত হয়, অথবা এগুলোর কিছুই না থাকে; বরং ঐ ব্যক্তি এই ইচ্ছায় বিবাহ করল যে সে তাকে তালাক দেবে যাতে সে তিন তালাকদাতার জন্য হালাল হয় এমতাবস্থায় যে নারী বা তার অভিভাবক এর কিছুই জানে না—তা সমান। আবার তালাকদাতা স্বামী বিষয়টি জানুক বা না জানুক তাও সমান। যেমন মুহাল্লিল (হালালকারী) যদি মনে করে যে এটি তালাকদাতা ও তার স্ত্রীর প্রতি একটি সওয়াব ও সৌজন্যের কাজ যাতে তাদের পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া যায়, যেহেতু তালাক তাদের জন্য, তাদের সন্তানদের জন্য এবং তাদের গোত্রের জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে এবং এই জাতীয় কিছু; বরং তিন তালাকদাতার জন্য সেই নারী ততক্ষণ হালাল হবে না যতক্ষণ না কোনো ব্যক্তি নিজের আগ্রহে তাকে বিবাহ করবে, যা হবে স্বাভাবিক আগ্রহের বিবাহ, প্রতারণামূলক (دلسة) বিবাহ নয় এবং তার সাথে এমনভাবে সহবাস করবে যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تذوق عُسَيْلته ويذوق عُسَيلتها، ثم بعد هذا إذا حدثت فُرْقة لموتٍ أو طلاق أو فَسْخ جازَ للأول أن يتزوَّجها.
بل لو أراد هذا المحلِّل أن يقيم معها استأنف النكاح؛ لأن ما مضى عقد فاسد.
هذا هو الذي دلَّ عليه الكتابُ والسنة، وهو المأثور عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وعامة التابعين، وعامة فقهاء الإسلام؛ مثل: سعيد بن المسيّب والحسن والنخعي وعطاء، وهؤلاء الأربعة هم أركان التابعين. ومثل: أبي الشعثاء والشعبي وقَتادَة وبكر بن عبد الله المزني، وهو مذهب مالك بن أنس وجميع أصحابه، والأوزاعي والليث بن سعد والثوري، وهؤلاء الأربعة أركان تابعي التابعين، وهو مذهب الإمام أحمد بن حنبل في فقهاء الحديث، منهم: إسحاق بن راهويه وأبو عبيد وسليمان بن داود الهاشمي وأبو خيثمة وأبو بكر بن أبي شيبة وغيرهم. وهو قول للشافعي.
قال
(1) الإمام أحمد في رواية أبي بكر الأثرم: إذا تزوَّجها يريد التحليل ثم طلَّقها بعد أن دخل بها فرجعت إلى الأول؛ يُفَرَّق بينهما، ليس هذا بنكاحٍ صحيح.
وفي روايته - أيضًا - في الذي يطلِّق ثلاثًا: لا تحلُّ له حتى تنكح زوجًا غيرَه نكاحًا صحيحًا، نكاح رغبة ليس فيه دُلْسة.
وهذا قول عامة أصحابه ومحققيهم، قطعوا بأن المسألة رواية
--------------------------------------------
তিনি তার (স্বামীর) মধুর স্বাদ গ্রহণ করবেন এবং স্বামী তার (স্ত্রীর) মধুর স্বাদ গ্রহণ করবেন। এরপর মৃত্যু, তালাক বা বিচ্ছেদ (فسخ) এর মাধ্যমে যদি বিচ্ছিন্নতা ঘটে, তবে প্রথম স্বামীর জন্য তাকে বিয়ে করা বৈধ হবে।
বরং এই মোহাল্লিল (হালালকারী) যদি তার সাথে ঘর-সংসার চালিয়ে যেতে চায়, তবে তাকে নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে; কারণ পূর্ববর্তী চুক্তিটি ছিল একটি ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) চুক্তি।
এটিই সেই বিষয় যা কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশ করেছে এবং এটিই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ, সাধারণ তাবেয়ী (التابعين) এবং ইসলামের সাধারণ ফকীহগণের নিকট থেকে বর্ণিত। যেমন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, হাসান, নাখাঈ এবং আতা; এই চারজন হলেন তাবেয়ীদের স্তম্ভ। আরও রয়েছেন: আবুশ শা’সা, শাবী, কাতাদাহ এবং বকর বিন আবদুল্লাহ আল-মুযানী। এটিই মালিক ইবনে আনাস ও তাঁর সকল অনুসারী, আওযাঈ, লাইস বিন সা’দ এবং সাওরী-এর মাযহাব; এই চারজন হলেন তাবে-তাবেয়ীগণের (تابعي التابعين) স্তম্ভ। এটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলেরও মাযহাব এবং হাদিসের ফকীহগণেরও পথ, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, আবু উবাইদ, সুলাইমান বিন দাউদ আল-হাশিমী, আবু খাইসামা, আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ ও অন্যান্য। ইমাম শাফেঈরও একটি মত এটি।
আবু বকর আল-আছরাম বর্ণিত রেওয়ায়াতে (رواية) ইমাম আহমাদ বলেন
(১): যদি কেউ তাকে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিয়ে করে এবং সহবাসের পর তালাক দেয়, অতঃপর সে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যায়; তবে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হবে। এটি সঠিক (صحيح) বিবাহ নয়।
তাঁর অপর এক রেওয়ায়াতে (رواية) - তিন তালাক দাতার বিষয়ে বলা হয়েছে: সে তার জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামীকে সঠিক (صحيح) পন্থায় বিয়ে করবে, যা হবে আগ্রহ থেকে হওয়া প্রকৃত বিবাহ এবং যাতে কোনো প্রকার প্রতারণা (دلسة) থাকবে না।
এটিই তাঁর অধিকাংশ অনুসারী এবং গবেষকগণের (محققين) অভিমত, তাঁরা দৃঢ়তার সাথে একে রেওয়ায়াত (رواية) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
واحدة. وهذا الذي استقرَّ عليه قول القاضي
(1) في كتبه المتأخرة، مثل "الجامع" و"الخلاف".
ومنهم من جعل في المذهب خلافًا، وسنذكر أصله إن شاء الله تعالى.
وقال عبدُ الملك بن حبيب (145/ أ) المالكي: ولو تزوَّجها فإن أعجبته أمسكها وإلا كان قد احتسب في تحليلها
(2) للأول؛ لم يَجُز، ولا يُحلِّها ذلك؛ لما خالط نكاحه من نية التحليل.
وقياس قول أكثر أصحابنا أن هذا نكاح صحيح؛ لأنه إنما نوى فراقها إذا لم تعجبه وصار التحليل ضِمْنًا.
فأما من سوَّى من أصحابنا بين نكاح المتعة والتحليل وبين قوله: إن جِئتني بالمهر إلى وقت كذا وإلا فلا نكاح بيننا، فإن قولهم يوافقَ قولَ ابنِ حبيب، فإن هؤلاء يسوُّون بين أن يشترط الفُرْقة في النكاح عينًا أو يشترطها بتقدير عدم المهر.
وللشَّافعي فيما إذا نوى الزوج التحليل ولم يشترط عليه قولان:
أحدهما: مثل قول مالك
(3).
والقول الثاني: أن النكاح صحيح
(4).
--------------------------------------------
একই অভিমত। আর কাজী
(১) তাঁর পরবর্তী গ্রন্থসমূহ, যেমন "আল-জামে" এবং "আল-খিলাফ"-এ এই মতের ওপরই স্থির হয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মাযহাবের ভেতরে মতপার্থক্য থাকার কথা উল্লেখ করেছেন, আর ইনশাআল্লাহ আমরা শীঘ্রই এর মূল ভিত্তি বর্ণনা করব।
মালেকি ফকিহ আব্দুল মালিক ইবনে হাবিব (১৪৫/ আ) বলেন: যদি কেউ তাকে বিয়ে করে এবং সে তাকে পছন্দ করলে রেখে দেয়, অন্যথায় সে তাকে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল করার (تحليل) নিয়ত করে; তবে তা জায়েজ হবে না এবং এর মাধ্যমে সে (প্রথম স্বামীর জন্য) হালাল হবে না; কারণ তার এই বিয়ের সাথে হালাল করার নিয়ত মিশে আছে।
আমাদের অধিকাংশ সহচরদের অভিমতের কিয়াস অনুযায়ী এটি একটি সঠিক (صحيح) নিকাহ; কেননা সে কেবল তখনই তাকে বিচ্ছেদ করার নিয়ত করেছিল যদি সে তাকে পছন্দ না করে, আর হালাল হওয়ার বিষয়টি এখানে আনুষঙ্গিকভাবে এসেছে।
কিন্তু আমাদের সহচরদের মধ্যে যারা মুতআ নিকাহ ও তাহলিল (تحليل) নিকাহ এবং এই উক্তির মধ্যে সমতা বিধান করেছেন যে: "যদি তুমি অমুক সময়ের মধ্যে মোহরানা নিয়ে আসো তবে ভালো, অন্যথায় আমাদের মাঝে কোনো নিকাহ নেই", তাদের বক্তব্য ইবনে হাবিবের বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। কেননা তারা সরাসরি বিয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের শর্ত করা অথবা মোহরানা আদায় না করার প্রেক্ষিতে বিচ্ছেদের শর্ত করার মাঝে কোনো পার্থক্য করেন না।
ইমাম শাফেয়ির নিকট যদি স্বামী হালাল করার (تحليل) নিয়ত করে কিন্তু কোনো শর্তারোপ না করা হয়, তবে সে বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:
একটি হলো: ইমাম মালেকের
(৩) অভিমতের অনুরূপ।
আর দ্বিতীয় অভিমতটি হলো: নিকাহটি সঠিক (صحيح)
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
ورُوي عن القاسم وسالم ويحيى بن سعيد وربيعة وأبي الزِّناد، حكاه عنهم ابنُ عبد البر
(1)، وفي القلب من حكاية هذا عنهم حزازة
(2)؛ فإن مالكًا أعلمُ الناس بمذاهب المدنيين وأتبعُهم لها، ومذهبه في ذلك شدة المنع، وهؤلاء من أعيان المدنيين، والمعروف عن المدنيين التغليظ في التحليل، قالوا: هو عملهم وعليه اجتماع ملئهم.
وهذا القول الثاني هو مذهب أبي حنيفة وأصحابه، وداود بن علي، وقد خرَّج ذلك طائفة من أصحابنا، منهم القاضي في "المجرَّد" وابن عقيل في "الفصول" وغيرهما على وجهين:
أحدهما: أن العقد صحيح مع أنه مكروه، قالوا: لأن أحمد قال: أكرهه، والكراهةُ المطلقةُ منه هل تحمل على التحريم أو على التنزيه؟ على وجهين. وجعلَ الشريفُ أبو جعفر وأبو الخطاب وطائفةٌ المسألةَ على روايتين
(3). وقطع ابن البنّا بالصحة مع الكراهة.
وهذا التخريج ضعيف على المذهب من وجهين:
أحدهما: أن الكراهة المنقولة نَقَلها حَرْب: أن أحمد سئل عن الرجل يتزوج المرأة وفي نفسِه طلاقها، فكرهَه، وليس هذا
--------------------------------------------
কাসিম, সালিম, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, রাবিআ এবং আবুয যিনাদ থেকে এটি বর্ণিত (روي) হয়েছে, যা ইবনে আবদিল বার তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন
(১)। তবে তাদের থেকে বর্ণিত এই বর্ণনার ব্যাপারে অন্তরে কিছুটা সংশয় রয়েছে
(২); কেননা ইমাম মালিক মদীনার ফকীহদের মাযহাব সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত এবং তাদের সবচেয়ে বেশি অনুসরণকারী ছিলেন। আর এই বিষয়ে তার মাযহাব অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষেধ করার পক্ষে। অথচ উল্লিখিত ব্যক্তিগণ মদীনার বিশিষ্ট ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত এবং মদীনাবাসীদের সম্পর্কে এটি প্রসিদ্ধ যে, তারা হালাল করার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। তারা বলেন: এটিই তাদের আমল এবং এর ওপরই তাদের জামাতের ঐকমত্য।
এই দ্বিতীয় মতটি হলো ইমাম আবু হানীফা ও তার অনুসারীদের এবং দাউদ ইবনে আলীর মাযহাব। আমাদের একদল আলেম এটি উদ্ভাবন করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-মুজাররাদ' গ্রন্থে আল-কাজী এবং 'আল-ফুসুল' গ্রন্থে ইবনে আকীল ও অন্যান্যরা। এটি দুটি পদ্ধতিতে (وجهين) বর্ণিত হয়েছে:
প্রথমটি: অপছন্দনীয় (مكروه) হওয়া সত্ত্বেও চুক্তিটি সহিহ (صحيح)। তারা বলেন: কারণ ইমাম আহমাদ বলেছেন: 'আমি এটি অপছন্দ করি'। আর তার পক্ষ থেকে এই নিঃশর্ত অপছন্দ কি হারাম (تحريم) অর্থে নাকি তানজিহ (تنزيه) অর্থে—তা নিয়ে দুটি মত (وجهين) রয়েছে। শরীফ আবু জাফর, আবুল খাত্তাব এবং একদল আলেম এই মাসআলাটিকে দুটি বর্ণনা (روايتين) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ইবনে আল-বান্না অপছন্দনীয় (مكروه) হওয়া সত্ত্বেও এটি সহিহ (صحيح) হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত মত দিয়েছেন।
আর এই উদ্ভাবিত মাসআলাটি মাযহাবের ভিত্তিতে দুটি কারণে দুর্বল (ضعيف):
প্রথমটি: বর্ণিত অপছন্দনীয়তাটি হারব বর্ণনা করেছেন: ইমাম আহমাদকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে কোনো নারীকে বিবাহ করে অথচ তার অন্তরে তাকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা থাকে; তিনি তা অপছন্দ করেছেন। আর এটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
في
(1) نية التحليل، وإنما هو في نية الاستمتاع، وبينهما فَرْق؛ لأن المحلل لا رغبة له في النكاح أصلًا وإنما غرضه إعادتها إلى المطلِّق، والمستمتع له رغبة في النكاح إلى أَمَد، ولهذا أُبيح نكاحُ المتعة في بعض الأوقات ثم حُرِّم، ولم يُبَح التحليلُ قط.
الوجه الثاني: أن أحمد قال: إذا تزوَّجها ومن نِيَّته أن يُطلِّقها: أكرهه، هذا متعة، نقله عبد الله
(2).
ونقل أبو داود
(3) إذا تزوَّجها على أن يحملها إلى خراسان ثم يخلِّي سبيلها؟ فقال: لا، هذا يُشبه المتعة، حتى يتزوجها على أنها امرأته ما حَيِيَت.
وهذا يُبين أَنَّ هذا كراهة تحريم وأنه جعله متعة، والمتعة حرام عنده، ففي الجملة إذا تزوَّجها ونوى أن يُحِلِّها فلم يُنقل عن أحمد (145/ ب) فيه لفظ محتمل لعدم التحريم.
وأما إذا نوى أن يطلِّقها في وقت، فقد نقل عنه التحريم في روايةٍ تقدمت، وفي الرواية الأُخرى - وهو قوله: "هذا يُشبه المتعة" - يحتمل التحريم ويحتمل الكراهة، لأن المشبَّه دون المشبَّه به.
وأما إذا تواطآ على التحليل قبل العقد، فهو كالمشروط في
--------------------------------------------
(১) হালাল করার (تحليل) নিয়তে নয়, বরং তা কেবল উপভোগের (استمتاع) নিয়তে, আর এ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কারণ যে ব্যক্তি হালালকারী (محلل), বিবাহের প্রতি মূলত তার কোনো আগ্রহ নেই, বরং তার উদ্দেশ্য হলো তাকে (স্ত্রীকে) তালাকদাতার নিকট ফিরিয়ে দেওয়া। আর যে ব্যক্তি উপভোগকারী (مستمتع), একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিবাহের প্রতি তার আগ্রহ থাকে। এই কারণেই মুতআ বিবাহ (نكاح المتعة) কোনো কোনো সময়ে বৈধ ছিল, অতঃপর তা হারাম করা হয়েছে; কিন্তু হালাল করার (التحليل) বিষয়টি কখনোই বৈধ করা হয়নি।
দ্বিতীয় দিক: ইমাম আহমাদ বলেছেন: যদি কেউ তাকে এই নিয়তে বিবাহ করে যে সে তাকে তালাক দিয়ে দেবে, তবে আমি একে অপছন্দ করি; এটি মুতআ (متعة)। এটি আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন
(২)।
আবু দাউদ
(৩) বর্ণনা করেছেন, যখন জিজ্ঞাসা করা হলো: যদি কেউ তাকে এই শর্তে বিবাহ করে যে তাকে খোরাসানে নিয়ে যাবে এবং তারপর তাকে ছেড়ে দেবে? তিনি বললেন: না, এটি মুতআ-র (متعة) সদৃশ, যতক্ষণ না সে তাকে আজীবনের জন্য স্ত্রী হিসেবে বিবাহ করে।
এটি স্পষ্ট করে যে, এটি তাহরিমি মাকরূহ (كراهة تحريم) এবং তিনি একে মুতআ (متعة) হিসেবে গণ্য করেছেন, আর মুতআ (متعة) তাঁর নিকট হারাম (حرام)। সুতরাং সারকথা হলো, যদি কেউ তাকে বিবাহ করে এবং হালাল করার (تحليل) নিয়ত করে, তবে ইমাম আহমাদ থেকে (১৪৫/ ব) এতে হারাম না হওয়ার সম্ভাবনাময় কোনো শব্দ বর্ণিত হয়নি।
আর যদি সে কোনো এক সময় তাকে তালাক দেওয়ার নিয়ত করে, তবে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত একটি বর্ণনায় (رواية) তাঁর থেকে হারামের (تحريم) কথা বর্ণিত হয়েছে। আর অন্য বর্ণনায় (رواية) — যা হলো তাঁর কথা: "এটি মুতআ-র (متعة) সদৃশ" — এতে হারামের (تحريم) সম্ভাবনাও আছে আবার মাকরূহ (كراهة) হওয়ার সম্ভাবনাও আছে, কারণ যাকে তুলনা করা হয় (মেশাব্বাহ) তা যার সাথে তুলনা করা হয় (মেশাব্বাহ বিহি) তার চেয়ে নিম্নস্তরের হয়ে থাকে।
আর যদি তারা বিবাহের চুক্তির আগে হালাল করার (تحليل) বিষয়ে একমত হয়, তবে তা চুক্তিতে শর্তযুক্ত (مشروط) করার মতোই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
العقد عند كثير من هؤلاء، وهو أشْبَه بأَصْلِنا إذا قلنا: إن النية المجرَّدة لا تؤثِّر، فإن الغالب على المذهب: أن الشروط المتقدمة على العقد بمنزلة المقارنة، وهو مفهوم ما خرَّجه أبو الخطاب وغيره؛ لأنه خصَّ الخلاف فيما إذا نوى التحليل ولم يشترطه، وهو أحد الوجهين لأصحاب الشافعي، وهو قول هؤلاء التابعين الذين نقل عنهم الرُّخصة في مجرَّد نيَّة التحليل.
فرُوي عن القاسم وأبي الزناد وسالم: لا بأس إذا لم يعلم الزوجان، وهو مأجور، حكاه الطحاوي
(1). وكذلك قال ربيعة ويحيى بن سعيد: هو مأجور
(2).
وعلى هذا
(3)؛ فليس عن أحدٍ من التابعين رخصة في نكاح المحلِّل إذا علمت به المرأة أو الزوج المطلِّق، فضلًا عن اشتراطه. والمشهور في مذهب الشافعي: أن الشرط المتقدم غير مؤثِّر، وكذا ذكره القاضي في "المجرَّد": أنه عندنا كنية التحليل من غير شرط، وخرَّج فيهما وجهين.
وأما إذا شَرَط التحليل في العقد، فهو باطل، سواء قال: زوَّجتك إلى أن تحلَّها، أو إلى أن تطأها، أو بشرط أنك إذا وَطِئتها فلا نكاح بينكما، أو على أن لا نكاح بينكما إذا أحْلَلْتها، ونحو ذلك من الألفاظ التي أوجبت ارتفاع النكاح إذا تحلَّلت. أو قال:
--------------------------------------------
এদের অনেকের নিকট চুক্তির বিধান ঠিক তেমনই, এবং এটি আমাদের সেই মূলনীতির সমরূপ যেখানে আমরা বলি: নিছক নিয়ত কোনো প্রভাব ফেলে না। মাযহাবের প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো: চুক্তির আগের শর্তগুলো চুক্তিকালীন শর্তের পর্যায়ভুক্ত। এটি আবু আল-খাত্তাব এবং অন্যদের নির্দেশিত মর্মের অনুরূপ; কারণ তিনি মতভেদকে কেবল সেই বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন যেখানে সে হালাল করার (تحليل) নিয়ত করেছে কিন্তু শর্তারোপ করেনি। এটি শাফিঈর অনুসারীদের জন্য বর্ণিত দুটি অভিমতের একটি, এবং এটি সেই তাবেঈদের (تابعين) বক্তব্য যাদের পক্ষ থেকে নিছক হালাল করার (تحليل) নিয়তের ক্ষেত্রে ছাড় বর্ণিত হয়েছে।
কাসেম, আবু আয-যিনাদ এবং সালেম থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি স্বামী-স্ত্রী না জানে তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই, এবং সে সওয়াব পাবে। তহাবি এটি উল্লেখ করেছেন
(১)। অনুরূপভাবে রবিআ এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: সে সওয়াব পাবে
(২)।
এর ভিত্তিতে
(৩); কোনো তাবেঈ (تابعي) থেকে হিল্লা বিবাহকারীর (محلل) বিবাহের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই যখন নারী বা তালাকদাতা স্বামী এ সম্পর্কে অবগত থাকে, শর্তারোপের বিষয়টি তো আরও দূরের কথা। শাফিঈ মাযহাবে প্রসিদ্ধ মত হলো: পূর্ববর্তী শর্ত কোনো প্রভাব ফেলে না। তদ্রূপ কাজী "আল-মুজাররাদ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের নিকট এটি শর্তহীনভাবে হালাল করার (تحليل) নিয়ত করার মতো, এবং তিনি উভয় বিষয়ে দুটি অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
কিন্তু যদি চুক্তির মধ্যে হালাল করার (تحليل) শর্ত করা হয়, তবে তা বাতিল (باطل); চাই সে বলুক: আমি তোমাকে বিয়ে দিলাম যতক্ষণ না তুমি তাকে হালাল করবে, অথবা যতক্ষণ না তুমি তার সাথে সহবাস করবে, অথবা এই শর্তে যে তুমি যদি তার সাথে সহবাস করো তবে তোমাদের মাঝে আর কোনো বিবাহ থাকবে না, অথবা এই ভিত্তিতে যে তুমি যখন তাকে হালাল করবে তখন তোমাদের মাঝে কোনো বিবাহ থাকবে না—এবং এই জাতীয় শব্দাবলি যা হালাল হওয়ার সাথে সাথে বিবাহ বিচ্ছেদকে আবশ্যক করে। অথবা সে বলল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
على أنك تطلِّقها إذا أحللتها، أو على أن يُحلِّها فقط
(1).
وهو ظاهر مذهب الشافعي، ويروى عن أبي يوسف.
وقال أبو حنيفة وأصحابُه: النكاحُ صحيحٌ والشرطُ فاسد.
وخرَّج القاضي في موضع من "الخلاف" وأبو الخطَّاب روايةً بصحة العقد وفساد الشرط، كقول أبي حنيفة، ومن أصحابنا من طَرَد التخريج في الصور الثلاث
(2)، وهو في غاية الفساد! بل لا يجوز نِسبة مثل هذا إلى أحمد.
ثم عامة هؤلاء الذين لا يُبْطلون العقد يكرهون نكاح المحلل، وهو مذهب أبي حنيفة والشافعي وغيرهما، ولم يبلغنا عن أحدٍ خلاف ذلك فيما إذا ظهر من الزوج أنه يريد التحليل.
وزعم داود: أنه لا يبعد أن يكون مرِيد نكاح المطلَّقة ليُحلها لزوجها مأجورًا إذا لم يظهر ذلك باشتراطه حين العقد. واخْتُلِف عن أبي حنيفة وأصحابه إذا صحَّحوا النكاح؛ هل يُفيد الحل أم لا يُفيده وإن كان صحيحًا
(3)؛ لأنه استعجل ما أخَّره الشارع فجوزي بنقيض قصده.
فإذا ظهرت المقالات في هذه المسألة؛ فقد تقدَّم أن الذي
--------------------------------------------
এই শর্তে যে, যখন আপনি তাকে হালাল করবেন তখন তাকে তালাক দিয়ে দেবেন, অথবা শর্ত কেবল তাকে হালাল করা
(১)।
এটি ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবের প্রকাশ্য মত এবং এটি আবু ইউসুফ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীগণ বলেছেন: বিবাহ সহিহ (صحيح) এবং শর্তটি ফাসেদ (فاسد)।
কাজী (আবু ইয়ালা) তাঁর 'আল-খিলাফ' গ্রন্থের এক স্থানে এবং আবু আল-খাত্তাব একটি বর্ণনা (رواية) উদ্ধৃত করেছেন যাতে আকদ বা চুক্তিটি সহিহ (صحة) হওয়া এবং শর্ত ফাসেদ (فساد) হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা আবু হানিফার মতের অনুরূপ। আমাদের একদল আলেম এই বিশ্লেষণটি তিনটি সুরতের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করেছেন; আর এটি চূড়ান্ত পর্যায়ের ত্রুটিপূর্ণ! বরং ইমাম আহমদের দিকে এ ধরনের বক্তব্য নিসবত করাও জায়েজ নয়।
এরপর, সাধারণত যারা এই আকদ বা চুক্তিটিকে বাতিল করেন না, তারা মুহাল্লিল (তথা হালালকারী) এর বিবাহকে অপছন্দ করেন। এটি আবু হানিফা, শাফেয়ী এবং অন্যদেরও মাযহাব। যখন স্বামীর পক্ষ থেকে এই বিষয়টি প্রকাশ পায় যে সে কেবল হালাল করার ইচ্ছা পোষণ করছে, তখন এর বিপরীতে অন্য কোনো মত আমাদের কাছে পৌঁছেনি।
দাউদ (জাহেরি) দাবি করেছেন: তালাকপ্রাপ্তা নারীকে তার পূর্বের স্বামীর জন্য হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করার ইচ্ছাকারী ব্যক্তি সাওয়াব পেতে পারেন বলে মনে করা অমূলক নয়, যদি বিয়ের সময় শর্তারোপের মাধ্যমে সেটি প্রকাশ না পায়। আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তারা বিবাহ সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেন; তখন কি তা (পূর্ব স্বামীর জন্য) হালাল হওয়ার ফায়দা দেবে নাকি সহিহ (صحيح) হওয়া সত্ত্বেও হালাল হওয়ার ফায়দা দেবে না—তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে
(৩); কারণ তিনি (স্বামী) এমন একটি বিষয় ত্বরান্বিত করতে চেয়েছেন যা শরিয়ত প্রণেতা বিলম্বিত করেছিলেন, ফলে তাকে তার উদ্দেশ্যের বিপরীত ফলাফল প্রদানের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং যখন এই মাসআলায় (مسألة) বিভিন্ন মতামত স্পষ্ট হলো; তখন ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عليه الصحابة وعامة السلف التحريم مُطلقًا، ونحن نذكر
الأدلة على تحريم نكاح المحلِّل وبطلانه، سواء قَصَدَه فقط، أو قَصَدَه واتفقوا عليه قبل العقد، أو شرط مع ذلك في العقد، ونبين الدلائل على المسألة الأولى، فإن ذلك تنبيه على المسألتين الآخرتين. وهنا طريقان:
أحدهما: الإشارة إلى بطلان الحيل عمومًا.
والثاني: الكلام في خصوصية هذه المسألة.
(146/ أ) الطريق الأولى: أن نقول: إن الله - سبحانه - حرَّم أشياء إما تحريمًا مطلقًا، كتحريم الزنا، أو تحريمًا مقيَّدًا إلى أن يتغيَّر حالٌ من الأحوال، كتحريم نكاح المطلَّقة ثلاثًا، وكتحريم [وطء]
(1) المحلوف بطلاقها عند الحنث.
وأوجب أشياء إيجابًا معلَّقًا بأسباب، إما لله كالزكاة ونحوها، أو حقًّا للعباد كالشفعة.
ثم إنه شرع أسبابًا تُفْعل لتحصيل مقاصد، كما شرع العبادات لابتغاء فضله، وكما شرع عقد البيع لنقل الملك بالعِوَض، وعقد القرض لإرفاق المقترض، وعقد النكاح للازدواج والسَّكن والأُلفة بين الزوجين، والخُلْع لحصول البينونة المتضمِّنة لافتداء المرأة من رقِّ بَعْلها، وغير ذلك.
--------------------------------------------
সাহাবীগণ এবং সাধারণ পূর্বসূরিদের (السلف) নিকট এর বিধান হলো চূড়ান্তভাবে (مطلقًا) হারাম হওয়া। আমরা
মুহাল্লিল-এর (তথা হিল্লা) বিবাহের নিষিদ্ধতা ও তার অসারতার (بطلانه) দলিলসমূহ উল্লেখ করব; চাই সে কেবল একাই এই সংকল্প করুক, অথবা সংকল্প করার পাশাপাশি চুক্তির আগে তারা এই বিষয়ে একমত হোক, কিংবা বিবাহের চুক্তিতেই তা শর্ত হিসেবে রাখা হোক। আমরা প্রথম মাসআলার দলিলগুলো বর্ণনা করব, কারণ তা পরবর্তী দুটি মাসআলার ব্যাপারেও সচেতন করবে। এখানে দুটি পদ্ধতি রয়েছে:
প্রথমটি: সাধারণভাবে হিলা বা অপকৌশলের (الحيل) অসারতার প্রতি ইঙ্গিত করা।
দ্বিতীয়টি: বিশেষভাবে এই মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করা।
(১৪৬/ ক) প্রথম পদ্ধতি: আমরা বলি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কোনো কোনো বিষয়কে হয় চূড়ান্তভাবে (مطلقًا) হারাম করেছেন, যেমন ব্যভিচারের (الزنا) নিষেধাজ্ঞা; অথবা কোনো অবস্থা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে (مقيَّدًا) হারাম করেছেন, যেমন তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিবাহের নিষেধাজ্ঞা এবং শপথ ভঙ্গের কারণে যার ওপর তালাক কার্যকর হয়েছে তার সাথে [সহবাসের (وطء)]
(১) নিষেধাজ্ঞা।
আবার তিনি কতিপয় বিষয়কে বিভিন্ন কারণের সাথে সংশ্লিষ্ট করে আবশ্যক করেছেন। তা হয় আল্লাহর হক হিসেবে, যেমন জাকাত (الزكاة) ও এই জাতীয় বিধান; অথবা বান্দার হক হিসেবে, যেমন অগ্রক্রয় বা শুফআ (الشفعة)।
অতঃপর তিনি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য কিছু মাধ্যম (أسبابًا) বিধিবদ্ধ করেছেন; যেমন তিনি তাঁর অনুগ্রহ লাভের আশায় ইবাদতসমূহ বিধিবদ্ধ করেছেন, বিনিময়ের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের জন্য ক্রয়-বিক্রয়ের (البيع) চুক্তি প্রবর্তন করেছেন, ঋণগ্রহীতাকে সহযোগিতার জন্য ঋণ প্রদানের (القرض) চুক্তি প্রবর্তন করেছেন, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দাম্পত্য জীবন, প্রশান্তি ও হৃদ্যতা তৈরির জন্য বিবাহের (النكاح) চুক্তি প্রবর্তন করেছেন এবং স্বামীর বন্ধন থেকে স্ত্রীর মুক্তিপণ দিয়ে নিজেকে মুক্ত করার বিধান সম্বলিত বিচ্ছেদ (البينونة) হাসিলের জন্য খুলআ (الخلع) বিধিবদ্ধ করেছেন, ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فالحيلةُ: أن يقصد سقوطَ الواجب أو حلَّ الحرام بفعلٍ لم يقصد به ما جُعِل ذلك الفعل له أو ما شُرِع له، فهو يريد تغيير الأحكام الشرعية بأسبابٍ لم يقصد بها ما جُعِلت تلك الأسباب لأجله، بل يفعل تلك الأسباب لأجل ما هو تابع لها، لا لأجل ما هو المتبوع المقصود بها، بل يفعل السببَ لما ينافي قصدَه = قَصْدَ حكم السبب، فيصير بمنزلة من طلب ثمرةَ الفعل الشرعيّ ونتيجته وهو لم يأت بقوامه وحقيقته. وهذا خداعٌ لله واستهزاءٌ بآيات الله، وتلاعُب بحدود الله.
وقد دلَّ على تحريم ذلك الكتابُ والسنةُ وإجماعُ السلف الصالح، وعامةُ دعائم الإيمان ومباني الإسلام، ودلائله لا تكاد تنضبط؛ لكن ننبِّه على بعضها، مع أن القول بإبطال الحِيَل في الجملة مأثور عن عمر، وعثمان، وعلي، وعبد الله بن مسعود، وعبد الله بن سلام، وأُبي بن كعب، وعبد الله بن عمر، وعبد الله بن عباس، وعائشة، وأنس بن مالك.
ومن التابعين: عن سعيد بن المسيب، والقاسم بن محمد، وسالم بن عبد الله بن عمر، وعبيد الله بن عبد الله
(1)، وعروة، وسليمان بن يسار، وخارجة بن زيد، وعطاء بن أبي رَبَاح، وغيره من فقهاء المكيين، وجابر بن زيد أبي الشعثاء، والحسن، ومحمد بن سيرين، وبكر بن عبد الله
(2)، وقتادة، وأصحاب عبد الله بن مسعود، وإبراهيم
--------------------------------------------
হীলা (حيلة) বা কৌশল হলো: এমন কোনো কার্যের মাধ্যমে ওয়াজিব (واجب) বিলোপ করা বা হারামকে (حرام) হালাল (حلال) করার উদ্দেশ্য করা, যে কার্যের দ্বারা সেই লক্ষ্য উদ্দেশ্য নয় যার জন্য তা নির্ধারিত বা শরিয়তসম্মত করা হয়েছে। মূলত সে এমন সব কারণ বা উপায়ের মাধ্যমে শরয়ি বিধানসমূহ পরিবর্তন করতে চায়, যার দ্বারা সেই উদ্দেশ্য করা হয় না যার জন্য সেই কারণগুলো প্রণীত হয়েছে। বরং সে সেই কারণগুলো সম্পাদন করে তার আনুসঙ্গিক বিষয়ের জন্য, মূল উদ্দিষ্ট বিষয়ের জন্য নয়। বরং সে সেই কারণটি এমনভাবে সম্পাদন করে যা তার মূল লক্ষ্য তথা বিধানের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী; ফলে সে এমন ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যায় যে শরয়ি কর্মের ফল ও ফলাফল প্রত্যাশা করে অথচ তার মূল ভিত্তি ও হাকিকত (حقيقة) পালন করে না। এটি আল্লাহর সাথে প্রতারণা, আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাস এবং আল্লাহর সীমারেখা নিয়ে খেলা করার শামিল।
পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনদের ইজমা (إجماع), ঈমানের সাধারণ স্তম্ভসমূহ এবং ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়াবলি এর হারাম (تحريم) হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে। এর স্বপক্ষে দলিলাদি বলে শেষ করা যাবে না; তবে আমরা এর কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করব। যদিও সামগ্রিকভাবে হীলা (حيلة) বাতিল হওয়ার বিষয়টি উমর, উসমান, আলী, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, উবাই ইবনে কাব, আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আয়েশা এবং আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে।
আর তাবেয়ীদের (تابعين) মধ্যে রয়েছেন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, কাসিম ইবনে মুহাম্মদ, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ
(১), উরওয়া, সুলাইমান ইবনে ইয়াসার, খারিজা ইবনে যায়েদ, আতা ইবনে আবি রাবাহ এবং মক্কাবাসী অন্যান্য ফকিহগণ (فقهاء), জাবির ইবনে যায়েদ আবুশ শা’সা, হাসান, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, বকর ইবনে আবদুল্লাহ
(২), কাতাদাহ, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের ছাত্রগণ এবং ইব্রাহিম (নাখয়ী)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
النخعي، والشعبي، وحماد بن أبي سليمان
(1).
وهو قول أيوب السختياني، وعَمْرو بن دينار، ومالك بن أنس وأصحابه، والأوزاعي، والليث بن سعد، والقاسم بن مَعْن، وسفيان الثوري، وشريك بن عبد الله، وابن عُيينة، وابن المبارك، والفضيل بن عِياض، وحَفْص بن غِياث، ويزيد بن هارون، وأحمد بن حنبل وأصحابه، وأبي عبيد، وإسحاق بن راهويه، ومن لا يُحْصَى (146/ ب) من العلماء، وكلامهم في ذلك يطول.
قال الإمام أحمد في رواية موسى بن سعيد: لا يجوز شيءٌ من الحيل.
وإذا حلف على شيءٍ ثم احتال بحيلةٍ فصار إليه فقد صار إلى ذلك بعينه، رواه الحكم
(2).
وقال: ما أخبثهم - يعني: أصحاب الحيل -.
وقال: لا يجوز شيءٌ من الحيل في إبطال حق مسلم - يعني: الشُّفعة -.
وقال: نحن لا نرى الحيل إلا بما يجوز.
قال الميموني: قلت لأحمد في رجلٍ حلف على امرأته وهي على درجة: إن صَعِدْتِ أو نَزَلْتِ فأنت طالق، قالوا: تُحمل حملًا. قال: هذا هو الحِنْث بعينه، ليس هذا حيلة هذا هو الحنث. وقالوا:
--------------------------------------------
নাখায়ি, শাবি এবং হাম্মাদ বিন আবি সুলায়মান
(১)।
এটিই আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি, আমর বিন দিনার, মালিক বিন আনাস ও তাঁর অনুসারীগণ, আওযায়ি, আল-লাইস বিন সাদ, আল-কাসিম বিন মান, সুফিয়ান আল-সাওরি, শারিক বিন আব্দুল্লাহ, ইবনে উয়াইনাহ, ইবনুল মুবারক, আল-ফুদাইল বিন ইয়াদ, হাফস বিন গিয়াস, ইয়ায়িদ বিন হারুন, আহমাদ বিন হাম্বল ও তাঁর অনুসারীগণ, আবু উবাইদ, ইসহাক বিন রাহওয়াইহি এবং অগণিত (১৪৬/ খ) আলেমদের বক্তব্য; এ বিষয়ে তাঁদের আলোচনা অনেক দীর্ঘ।
ইমাম আহমাদ মুসা বিন সাঈদের বর্ণনা (رواية)-এ বলেছেন: কোনো প্রকার কৌশল (حيل) অবলম্বন করা বৈধ নয়।
যদি কেউ কোনো বিষয়ে শপথ করে, অতঃপর কোনো কৌশলের (حيلة) আশ্রয় নিয়ে তা সম্পাদন করে, তবে সে প্রকৃতপক্ষে সরাসরি সেই কাজটিই করল (যা থেকে সে শপথ করেছিল)। এটি আল-হাকাম বর্ণনা (رواه) করেছেন
(২)।
তিনি বলেছেন: তারা কতই না জঘন্য! —অর্থাৎ: কৌশলের (حيل) আশ্রয় গ্রহণকারীরা।
তিনি বলেছেন: কোনো মুসলমানের অধিকার—অর্থাৎ: প্রাক-ক্রয়াধিকার (شفعة)—বাতিল করার জন্য কোনো প্রকার কৌশল (حيل) অবলম্বন করা বৈধ নয়।
তিনি বলেছেন: আমরা কেবল সেই কৌশলকেই (حيل) বৈধ মনে করি যা শরিয়তসম্মত।
আল-মায়মুনি বলেন: আমি আহমাদকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে শপথ করেছে—এমতাবস্থায় সে (স্ত্রী) সিঁড়িতে অবস্থান করছিল—যে: 'তুমি যদি উপরে ওঠো অথবা নিচে নামো তবে তুমি তালাক'। লোকেরা বলল: তাকে পাঁজাকোলা করে বহন করে সরিয়ে নেয়া হোক। তিনি (ইমাম আহমাদ) বললেন: এটিই সরাসরি শপথ ভঙ্গ (حنث), এটি কোনো কৌশল (حيلة) নয়; এটিই হলো শপথ ভঙ্গ (حنث)। তারা বলল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
حَلَف لا يطأ بساطًا، يُجْعل بساطين. وحَلَف لا يدخل الدار، يُحْمل. فجعل يعجبُ من ذلك؟!.
قلتُ: أليس حيلتنا فيها أن نتبع ما قالوا؟ قال: بلى هكذا هو. قلت: وليس هذا مِنَّا حِيْلة؟ قال: نعم
(1).
فبيَّنَ الإمامُ أحمد أن من اتبع ما شُرِع له، وجاء عن السلف في معاني الأسماء التي علَّق بها الأحكام، ليس بمحتالٍ الحيلةَ المذمومة، وإن سُمِّيت حِيلة، وغرضه: الفرقُ بين سلوك الطريق المشروعة التي شُرِعت لحصول ذلك المقصود وبين غيرها، كما سيأتي بيانُه، وسيأتي تشديده في سائر أنواع الحِيل واحتجاجه على ردها في أثناء الأدلَّة، فنقول:
الدليل على تحريمها وإبطالها وجوه:
أحدها: أن الله سبحانه وتعالى قال في صفة أهل النفاق من مُظهري الإسلام: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ (8) يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ (9)} إلى قوله: {وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ (14) اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ (15)} [البقرة: 8 - 15].
وقال: {إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ} [النساء: 142]،
--------------------------------------------
কেউ শপথ করল যে সে কার্পেটে পা রাখবে না, তখন (তা নিরসনের জন্য) দুটি কার্পেট বিছিয়ে দেওয়া হলো। আবার কেউ শপথ করল যে সে ঘরে প্রবেশ করবে না, তখন তাকে (অন্যের মাধ্যমে) বহন করে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি (ইমাম আহমাদ) এতে বিস্ময় প্রকাশ করতে লাগলেন?!
আমি বললাম: "এই বিষয়ে আমাদের কৌশল (حيلة) কি এটাই নয় যে, তাঁরা যা বলেছেন আমরা তা অনুসরণ করব?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, বিষয়টি এমনই।" আমি বললাম: "আর এটি কি আমাদের পক্ষ থেকে কোনো কৌশল (حيلة) নয়?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ"
(1).
সুতরাং ইমাম আহমাদ স্পষ্ট করেছেন যে, যে ব্যক্তি তার জন্য নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে এবং বিধি-বিধান সংশ্লিষ্ট পারিভাষিক শব্দাবলির অর্থের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (سلف) নিকট থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা মেনে চলে, সে নিন্দনীয় কৌশল (حيلة) অবলম্বনকারী নয়, যদিও একে কৌশল (حيلة) হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁর উদ্দেশ্য হলো: সেই উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রবর্তিত শরয়ি পথ এবং অন্যান্য পথের মধ্যে পার্থক্য করা, যা সামনে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হবে। তেমনিভাবে সামনে অন্যান্য সকল প্রকার কৌশলের (حيلة) ব্যাপারে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে সেগুলো প্রত্যাখ্যানের বিবরণ আসবে। সুতরাং আমরা বলছি:
এর (কৌশলের) নিষিদ্ধতা ও অসারতার সপক্ষে প্রমাণসমূহ কয়েক প্রকার:
প্রথমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশকারী মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছেন: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর ওপর ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান এনেছি’, অথচ তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহ এবং মুমিনদের সাথে প্রতারণা করে, কিন্তু তারা কেবল নিজেদেরকেই প্রতারিত করছে এবং তারা তা অনুভব করতে পারে না।} ... {আর যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন তারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আর যখন তারা নিভৃতে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি; আমরা তো কেবল উপহাসকারী’। আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন এবং তাদের অবাধ্যতায় তাদের বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেন।} [সুরা আল-বাকারা: ৮ - ১৫]।
এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, অথচ তিনি তাদের সেই প্রতারণার শাস্তি প্রদানকারী।} [সুরা আন-নিসা: ১৪২]،
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال في صفة أهل النفاق من أهل العهد: {وَإِنْ يُرِيدُوا أَنْ يَخْدَعُوكَ فَإِنَّ حَسْبَكَ اللَّهُ} الآية [الأنفال: 62].
فأخبر - سبحانه - أن هؤلاء المخادعين يُخدعون
(1) وهم لا يشعرون بذلك، وأن الله خادع من يخادعه، وأن المخدوع يكفيه الله شرَّ من خَدَعه.
والمخادعة هي: الاحتيال والمراوغة بإظهار الخير مع إبطان خلافه لتحصيل المقصود. يقال: طريق خَيْدَع، إذا كان مخالفًا للقصد، لا يُفطن له. ويقال: غُوْل خَيْدَع، ويقال للسَّراب: الخيدع، وضَبٌّ خَدِع، أي: مراوغ، وفي المثل: "أخدع من ضب"
(2)، وخُلُق خادع، وسوق خادعة، أي: متلوِّنة (147/ أ) والحرب خدعة.
وأصله: الإخفاء والستر. ومنه قيل للخزانة: مُخدع ومِخدع
(3)، فلما كان قول القائل: {آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ} إنشاءً للإيمان وإخبارًا به، وحقيقته أن يكون صادقًا في هذا الإنشاء والإخبار، بحيث يكون قلبه مطمئنًّا بذلك، وحكمه أن يعصم دمه وماله في الدنيا، وأن يكون له ما للمؤمنين، كان من قال هذه الكلمة غير مُبطن لحقيقتها، بل مريدًا لحكمها وثمرتها فقط = مخادعًا لله ورسوله، وكان جزاؤه أن يُظهر الله له ما يظن أنه كرامة، وفيه عذاب أليم، كما أظهر هو للمؤمنين ما ظنوا أنه إيمان وفي ضمنه الكفر.
--------------------------------------------
আর তিনি চুক্তিবদ্ধ মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছেন: {আর যদি তারা আপনাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট}—আয়াত [আল-আনফাল: ৬২]।
অতঃপর তিনি—সুবহানাহু—সংবাদ দিয়েছেন যে, এই প্রতারকরা নিজেরাই প্রতারিত হয়
(১) অথচ তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকেই প্রতারিত করেন যে তাঁর সাথে প্রতারণা করতে চায়; আর যাকে প্রতারণা করা হয়েছে, আল্লাহ তাকে সেই প্রতারকের অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট।
আর প্রতারণা হলো: উদ্দেশ্য হাসিলের নিমিত্তে অন্তরে বিপরীত কিছু গোপন রেখে বাহ্যিকভাবে কল্যাণ প্রকাশ করার মাধ্যমে ধোঁকাবাজি ও চাতুর্য অবলম্বন করা। বলা হয়ে থাকে: 'প্রতারক পথ' (তারেক খাইদা), যখন তা লক্ষ্যপথের পরিপন্থী হয় এবং মানুষ তা বুঝতে পারে না। আরও বলা হয়: 'প্রতারক দানব' (গুল খাইদা), মরীচিকাকেও 'খাইদা' বলা হয়। আর 'প্রতারক গুঁইসাপ' (দববুন খাদি)—অর্থাৎ ধূর্ত; প্রবাদে আছে: "গুঁইসাপের চেয়েও বড় প্রতারক"
(২)। আরও ব্যবহৃত হয়: 'প্রতারণাপূর্ণ চরিত্র' এবং 'প্রতারণাপূর্ণ বাজার'—অর্থাৎ অস্থিতিশীল বা পরিবর্তনশীল (১৪৭/ক); আর যুদ্ধ হলো এক প্রকার কৌশল।
এর মূল উৎস হলো: কোনো কিছু গোপন করা এবং আবৃত রাখা। এ থেকেই সিন্দুক বা ছোট কক্ষকে 'মুখদা' বা 'মিখদা'
(৩) বলা হয়। যেহেতু কোনো ব্যক্তির উক্তি: {আমরা আল্লাহর ওপর এবং শেষ দিবসের ওপর ঈমান এনেছি} ঈমানের একটি দাবি ও ঘোষণা হিসেবে গণ্য হয়, আর এর প্রকৃত দাবি হলো এই স্বীকারোক্তি ও সংবাদ প্রদানে সত্যনিষ্ঠ হওয়া—যাতে তার অন্তর তাতে প্রশান্ত থাকে; আর এর বিধান হলো দুনিয়াতে তার রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ থাকা এবং মুমিনদের ন্যায় অধিকার লাভ করা—এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি এই কালিমা উচ্চারণের সময় অন্তরে এর প্রকৃত সত্যকে পোষণ করে না, বরং কেবল এর বাহ্যিক বিধান ও পার্থিব সুফল পেতে চায়, সে মূলত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে প্রতারণা করে। আর তার প্রতিদান হবে এই যে, আল্লাহ তার সামনে এমন কিছু প্রকাশ করবেন যাকে সে সম্মান ও অনুগ্রহ মনে করবে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি; ঠিক যেমন সে মুমিনদের সামনে এমন কিছু প্রকাশ করেছিল যাকে তারা ঈমান মনে করেছিল অথচ তার অন্তরালে কুফর নিহিত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهكذا قول القائل: بعتُ واشتريتُ وأقرضت وأنكحت ونكحت إنشاء للعقد أو إخبارًا به، فإذا لم يكن مقصوده انتقال الملك الذي وُضِعت له هذه الصيغة، ولا ثبوت النكاح الذي جُعِلت له هذه الكلمة، بل مقصوده بعض أحكامها التي قد تحصل ضمنًا وقد لا تحصل. أو قصده ما يُنافي قصد العقد، أو قصده بالعقد شيءٌ آخر خارج عن أحكام العقد، وهو: أن تعود المرأةُ إلى زوجها، أو أن تعود السلعة إلى البائع بأكثر من ذلك الثمن، أو أن تنحلّ يمينه التي حَلَفها، ونحو ذلك. فيكون مخادعًا لله بمباشرته للكلمات التي جُعلت لها حقائق ومقاصد، وهو لا يريد مقاصدها وحقائقها، وهذا ضَرْب من النفاق في آيات الله وحدوده، كما أن الأول نفاق في أصل الدين.
يؤيد ذلك من الأثر ما روي عن ابن عباس أنه جاءه رجلٌ فقال: إن عمِّي طلق امرأته ثلاثًا، أَيُحلها له رجلٌ؟ فقال: "من يُخادع اللهَ يخدعه" رواه سعيد
(1).
وحُكِي
(2) عن ابن عباس وأنسٍ: أن كلًّا منهما سُئل عن العينة، فقال: إن الله لا يُخدع، هذا مما حرَّمه الله ورسوله
(3).
ورُوِيَ عن عثمان وابن عمر وغيرهما: أنهما قالا: لا نكاح إلا نكاح رغبة لا نكاح دُلْسة
(4).
--------------------------------------------
অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তির এই উক্তি: "আমি বিক্রি করেছি", "আমি ক্রয় করেছি", "আমি ঋণ দিয়েছি", "আমি বিয়ে দিয়েছি" এবং "আমি বিয়ে করেছি"—এগুলো কোনো চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে বলা হয় অথবা সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের জন্য। সুতরাং যদি তার উদ্দেশ্য সেই মালিকানা হস্তান্তর না হয় যার জন্য এই শব্দচয়ন নির্ধারণ করা হয়েছে, কিংবা সেই বিয়ে সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য না হয় যার জন্য এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়, বরং তার উদ্দেশ্য হয় এমন কিছু বিধান যা কখনো আনুষঙ্গিকভাবে অর্জিত হয় আবার কখনো হয় না; অথবা সে এমন কিছু ইচ্ছা করে যা চুক্তির উদ্দেশ্যের পরিপন্থী, কিংবা চুক্তির মাধ্যমে সে চুক্তির বিধান বহির্ভূত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে—যেমন: মহিলাটি যেন তার (পূর্বের) স্বামীর নিকট ফিরে যেতে পারে, অথবা পণ্যটি যেন সেই মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রেতার নিকট ফিরে আসে, অথবা যেন তার করা শপথটি ভঙ্গ না হয়, কিংবা অনুরূপ কিছু—তবে সে আল্লাহর সাথে প্রতারণা করল এমন সব বাক্য ব্যবহারের মাধ্যমে যেগুলোর সুনির্দিষ্ট বাস্তবতা ও উদ্দেশ্য রয়েছে, অথচ সে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও বাস্তবতা চায় না। এটি আল্লাহর আয়াত ও তাঁর সীমারেখা নিয়ে এক ধরনের নিফাক (نفاق), যেমনটি পূর্বের বিষয়টি ছিল দ্বীনের মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে নিফাক।
আছার (الأثر) থেকে এর সমর্থন মেলে ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত (روي) বর্ণনায় যে, এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল: "আমার চাচা তাঁর স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছেন, এখন অন্য কোনো ব্যক্তি কি তাকে তাঁর জন্য হালাল করতে পারে?" তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, আল্লাহও তাকে প্রতারিত করেন।" এটি সাঈদ বর্ণনা করেছেন (رواه)
(১)।
ইবনে আব্বাস ও আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে (حُكِي) যে, তাঁদের প্রত্যেককে 'ঈনা' ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহকে ধোঁকা দেওয়া যায় না; এটি এমন বিষয় যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন"
(৩)।
উসমান ও ইবনে উমর (রা.) এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণিত (رُوِيَ) হয়েছে যে, তাঁরা বলেছেন: "আগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ততা ছাড়া কোনো নিকাহ নেই, প্রতারণা বা জালিয়াতি (دُلْسة) যুক্ত কোনো নিকাহ নেই"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد قال أهل اللغة: المدالسة: المخادعة.
قال أيوب السختياني - وناهيك به - في هؤلاء المحتالين: يخادعون الله كأنما يُخادعون الصِّبيان، فلو أتوا الأمرَ على وجهه عيانًا كان أهون عَلَيَّ.
وقال شَريك في "كتاب الحِيَل": هو كتاب المخادعة.
فالمعاهدون [إذا] أظهروا للرسول أنهم يريدون سِلْمه ومقصودهم المكر به من حيث لا يشعر، بأن يظهروا الأمان وهم يعتقدون أنه ليس بأمان، فقد ابطنوا خلافَ مقصود المعاهدة، كما يُظْهِر (147/ ب) المحلِّل للمسلمين وللمرأة أنه إنما يريد نكاحها وأنه راغبٌ فيها، ومقصوده طلاقها بعد استفراشها، لا ما هو مقصود النكاح، بل عكس ذلك، فَعُلِم أن مخالفة ما يدلُّ عليه العقد لفظًا أو عرفًا خديعة، وأنه حرام.
وتلخيص هذا الوجه: أن مخادعة الله حرام، والحِيل مخادعة، وقد سمَّى ابنُ عباس وغيره ذلك مخادعة - كما تقدم -، والرجوع إليهم في معاني الألفاظ متعيِّن، سواء كانت لغوية أو عرفية أو شرعية.
الوجه الثاني: قوله - سبحانه - لما قال المنافقون: {إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ (14)}: {اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ (15)} [البقرة: 15]، وقوله: {وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا} [البقرة: 231]، بعد أن ذكر الطلاق والرجعة والخلع والنكاح المحلِّل والنكاح بعده، وغير ذلك، إلى غيره من المواضع؛ فيه دليلٌ على أن الاستهزاء
ভাষা বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন: মুদালাসাহ (المدالسة) হলো প্রতারণা করা।
আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি—যাঁর উচ্চ মর্যাদা আপনার অবিদিত নয়—এই প্রতারকদের সম্পর্কে বলেছেন: তারা আল্লাহর সাথে এমনভাবে প্রতারণা করে যেন তারা শিশুদের সাথে প্রতারণা করছে। তারা যদি বিষয়টি স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে নিয়ে আসত, তবে তা আমার কাছে সহজতর মনে হতো।
শারিক 'কিতাবুল হিয়াল' গ্রন্থে বলেছেন: এটি হলো প্রতারণার (المخادعة) কিতাব।
সুতরাং চুক্তি সম্পাদনকারীরা [যখন] রাসুলের সামনে প্রকাশ করে যে তারা তাঁর সাথে শান্তি বজায় রাখতে চায়, অথচ তাদের উদ্দেশ্য থাকে তাঁর অগোচরে তাঁর সাথে চক্রান্ত করা—অর্থাৎ তারা নিরাপত্তার ভাব দেখায় অথচ তারা বিশ্বাস করে যে এটি নিরাপত্তা নয়—তবে তারা চুক্তির মূল উদ্দেশ্যের বিপরীত বিষয়টিই অন্তরে গোপন রেখেছে। যেমন (১৪৭/খ) একজন হালালাকারী (المحلل) মুসলিমদের এবং মহিলার সামনে প্রকাশ করে যে সে তাকে বিবাহ (نكاح) করতে চায় এবং সে তার প্রতি আগ্রহী, অথচ তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো সহবাসের পর তাকে তালাক (طلاق) প্রদান করা; এটি বিবাহের প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়, বরং তার বিপরীত। এর দ্বারা জানা গেল যে, চুক্তির শব্দ বা প্রথা যা নির্দেশ করে তার বিরোধিতা করা একটি প্রতারণা এবং তা হারাম।
এই বিষয়ের সারসংক্ষেপ হলো: আল্লাহর সাথে প্রতারণা করা হারাম এবং হিলা বা কৌশল (الحيل) অবলম্বন করাও প্রতারণা। ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যরা একে প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর শব্দসমূহের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিমত গ্রহণ করাই অবধারিত, তা ভাষাগত (لغوية), প্রথাগত (عرفية) কিংবা শরয়ি (شرعية) যাই হোক না কেন।
দ্বিতীয় দিক: মহান আল্লাহর বাণী, যখন মুনাফিকরা বলেছিল: {নিশ্চয়ই আমরা উপহাসকারী (১৪)}: {আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন এবং তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানোর অবকাশ দেন (১৫)} [আল-বাকারা: ১৫]। এবং তাঁর বাণী: {তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসের বস্তু হিসেবে গ্রহণ করো না} [আল-বাকারা: ২৩১]। এখানে তালাক (طلاق), পুনরায় গ্রহণ (الرجعة), খুলা (الخلع), হালালা বিবাহ ও পরবর্তী বিবাহ এবং অন্যান্য বিষয় আলোচনার পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দলীল রয়েছে যে উপহাস...
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بدين الله من الكبائر.
والاستهزاء هو السُّخرية، وهو: حَمْل الأقوال والأفعال على الهزل واللعب، لا على الجدِّ والحقيقة. والذي يسخر بالناس هو الذي يذمُّ صفاتهم وأفعالَهم ذمًّا يخرجها به عن درجة الاعتبار، كما سَخِرْوا بالمطَّوِّعين من المؤمنين في الصدقات والذين لا يجدون إلا جهدهم، بأن قالوا: هذا مُرائي، ولقد كان الله غنيًّا عن صاع فلان
(1).
فمن تكلَّم بالأقوال التي جعل الشارعُ لها حقائق ومقاصد، مثل كلمة الإيمان، وكلمة الله التي تُسْتَحلُّ بها الفروج، والعهود والمواثيق التي بين المتعاقدين، وهو لا يريد بها حقيقتها المقومة لها، ولا مقاصدها التي جُعِلت هذه الألفاظ محصِّلة لها، بل يريد أن يرتجع المرأة ليضرها ولا حاجةَ له في نكاحها، أو ينكحها ليحلها، أو يخلعها ليلبِسها = فهو مُسْتهزئٌ بآيات الله، فإن العهود والمواثيق من آيات الله، وسيأتي تقرير ذلك إن شاء الله بالأدلة الخاصة.
وإذا كان الاستهزاء بها حرامًا وجبَ إبطالُه وإبطال التصرفات = عدم ترتُّب أثرها عليها، فإذا كان المستهزئ بها غَرضه إنما يتم بصحَّتها وَجَب إبطال هذه الصحة، والحكم ببطلان تلك التصرفات، وإن كان غرضه اللعب بها دون لزوم حكمها، وجب إبطال لعبه بإلزامه أحكامَها، كما سيأتي إن شاء الله تعالى إيضاحُه.
--------------------------------------------
আল্লাহর দ্বীনকে নিয়ে উপহাস করা কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
উপহাস (الاستهزاء) হলো বিদ্রূপ করা; আর তা হলো: কথা ও কাজকে কৌতুক ও খেলার ছলে গ্রহণ করা, গুরুত্ব ও বাস্তবতার নিরিখে নয়। আর যারা মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, তারা মূলত তাদের গুণাবলি ও কর্মকাণ্ডকে এমনভাবে নিন্দা করে যা সেগুলোকে গুরুত্বহীন করে দেয়। যেমন তারা (মুনাফিকরা) মুমিনদের মধ্যে যারা স্বেচ্ছায় দানকারী এবং যাদের নিজেদের শ্রম ব্যতীত আর কিছুই নেই, তাদের নিয়ে উপহাস করে বলেছিল: "এ ব্যক্তি প্রদর্শনকারী (مرائي); আর অমুকের এই এক 'সা' (খাদ্যদ্রব্য) থেকে আল্লাহ তো অমুখাপেক্ষী।"
(1)সুতরাং শরিয়ত প্রণেতা যেসব বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট বাস্তবতা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন—যেমন ঈমানের বাণী, আল্লাহর সেই বাণী যার মাধ্যমে লজ্জাস্থান হালাল হয় এবং চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয়ের মধ্যকার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিসমূহ—কেউ যদি এমন কোনো কথা উচ্চারণ করে অথচ সেটির মূল বাস্তবতা সে চায় না এবং শব্দগুলোর মাধ্যমে অর্জিতব্য লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও তার কাম্য নয়, বরং সে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে (রুজু করতে) চায় তাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য অথচ তার সাথে দাম্পত্যের কোনো প্রয়োজন নেই, অথবা তাকে (অন্যের জন্য) হালাল করার উদ্দেশ্যে বিয়ে করে, কিংবা তাকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলার জন্য বিচ্ছিন্ন করে—তবে সে আল্লাহর নিদর্শনাবলি নিয়ে উপহাসকারী। কেননা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিসমূহ আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই সুনির্দিষ্ট দলিলের মাধ্যমে এ বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত করা হবে।
আর যেহেতু এগুলো নিয়ে উপহাস করা হারাম, তাই তা বাতিল করা এবং সেই আচরণসমূহকে অকার্যকর সাব্যস্ত করা ওয়াজিব; অর্থাৎ সেগুলোর কোনো প্রভাব বা ফলাফল যেন তার ওপর না বর্তায়। সুতরাং উপহাসকারীর উদ্দেশ্য যদি কেবল সেই কাজটি শুদ্ধ হওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়, তবে সেই শুদ্ধতাকে বাতিল করা এবং উক্ত কর্মকাণ্ডগুলোকে বাতিল (باطل) হিসেবে ফয়সালা দেওয়া ওয়াজিব। আর যদি তার উদ্দেশ্য হয় বিধানের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই কেবল তা নিয়ে খেলা করা, তবে তার ওপর উক্ত বিধানসমূহ বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ করার মাধ্যমে তার সেই খেলাকে পণ্ড করে দেওয়া ওয়াজিব, যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শিফাউল আলীল ফী ইখতিসার ইবতালিত তাহলীল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الوجه الثالث: أن الله - سبحانه - أخبر عن أهل الجنة الذين بلاهم بما بلاهم به في "سورة نون" وهم قوم كان للمساكين حقٌّ في (148/ أ) أموالهم إذا جذُّوا نهارًا بأن يلتقط المساكين ما يتساقط من الثَّمَر، فأرادوا أن يجذُّوا ليلًا ليسقط ذلك الحق ولئلّا يأتيهم مسكين، فأرسل الله على جنتهم طائفًا وهم نائمون، فأصبحت كالصريم، عقوبةً لهم على احتيالهم على منع حق الله تعالى الذي كان للمساكين، ففي ذلك عبرة لكل محتال على منع حق الله أو لعباده؛ من زكاة أو شُفعة.
وقصة هؤلاء معروفة - كما ذكرناه -.
على أنَّ في التنزيل ما يكفي في الدلالة، فإن هؤلاء لو لم يكونوا أرادوا منع واجب لم يعاقبوا بمنع التطوّع؛ لأن الذَّمَّ والعقوبة إنما تكون على فعل المحرَّم أو ترك الواجب.
ثم لو
(1) كانوا عوقبوا على الاحتيال على منع المستحبِّ، ففيه تنبيه على العقوبة على ترك الواجب، ولا يجوز أن تكون العقوبة على ترك الاستثناء وحدَه، فإن هذا إنما يُعاقَب صاحبه بمنع الفعل، بأن يُبتلى بما يشغله عنه، أما عقوبته بإهلاك ماله؛ فلا.
وأيضًا: فإنه - سبحانه - قال: {إِنَّا بَلَوْنَاهُمْ كَمَا بَلَوْنَا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ} [القلم: 17] بعد أن قال: {وَلَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَهِينٍ (10) هَمَّازٍ مَشَّاءٍ بِنَمِيمٍ (11) مَنَّاعٍ لِلْخَيْرِ} [القلم: 10 - 12]؛ ولأن الله قصَّ عنهم أنهم: {أَقْسَمُوا
--------------------------------------------
তৃতীয় দিক: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ‘সুরা নুন’-এ সেই বাগানের মালিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, যাদের তিনি পরীক্ষা করেছিলেন। তারা এমন এক সম্প্রদায় ছিল, যাদের সম্পদে (১৪৮/ আ) অভাবীদের অধিকার ছিল; যখন তারা দিনের বেলা ফল সংগ্রহ করত, তখন অভাবীরা ঝরে পড়া ফলগুলো কুড়িয়ে নিত। কিন্তু তারা রাতে ফল সংগ্রহের সংকল্প করল যাতে অভাবীদের সেই প্রাপ্য অধিকার রহিত হয়ে যায় এবং কোনো অভাবী যেন তাদের নিকট আসতে না পারে। অতঃপর তারা যখন নিদ্রামগ্ন ছিল, তখন আল্লাহ তাদের বাগানের ওপর এক বিপর্যয় প্রেরণ করলেন। ফলে তা কর্তিত ফসলের ন্যায় বিরান হয়ে গেল। অভাবীদের জন্য নির্ধারিত আল্লাহর হক আদায়ে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা যে অপকৌশল অবলম্বন করেছিল, এটি ছিল তারই শাস্তি। এতে ওই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য শিক্ষা রয়েছে, যে আল্লাহর হক কিংবা বান্দার হক—যেমন জাকাত বা অগ্রক্রয়াধিকার—প্রদান না করার জন্য কোনো রূপ প্রতারণা বা অপকৌশলের আশ্রয় নেয়।
তাদের এই কাহিনী সুবিদিত—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।
তাছাড়া পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ বিদ্যমান। কেননা তারা যদি কোনো ওয়াজিব বিষয় আদায়ে বাধা দেওয়ার সংকল্প না করত, তবে কেবল নফল কাজ ত্যাগের কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হতো না। কারণ নিন্দা ও শাস্তি কেবল কোনো হারাম কাজ করা কিংবা ওয়াজিব কাজ বর্জনের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।
অতঃপর, তারা যদি কোনো মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য অপকৌশল অবলম্বন করার কারণে শাস্তির সম্মুখীন হয়, তবে তা ওয়াজিব বর্জনের ক্ষেত্রে শাস্তির ব্যাপারে আরও জোরালো সতর্কবার্তা প্রদান করে। আর কেবল ‘ইনশাআল্লাহ’ (ইস্তিসনা) না বলার কারণে এই শাস্তি হওয়া সম্ভব নয়; কারণ এর জন্য বড়জোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেই কাজ থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়—যেমন তাকে এমন কোনো কাজে লিপ্ত করে দেওয়া যা তাকে ওই কাজ থেকে বিমুখ রাখে। কিন্তু তার সম্পদ ধ্বংস করে শাস্তি প্রদান করার বিষয়টি কেবল এর কারণে হতে পারে না।
পাশাপাশি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {আমি তাদের পরীক্ষা করেছি যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদের} [সুরা কলম: ১৭]। এই আয়াতের আগে তিনি বলেছেন: {আর আপনি আনুগত্য করবেন না এমন প্রত্যেক ব্যক্তির যে অধিক কসম করে এবং যে লাঞ্ছিত, যে পশ্চাতে নিন্দা করে ও একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়, যে কল্যাণের কাজে বাধা দানকারী} [সুরা কলম: ১০-১২]। তদুপরি আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে: {তারা শপথ করেছিল
--------------------------------------------