(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: -)
السير لأبي إسحاق الفزاري (أبو إسحاق الفزاري)
القسم: السيرة النبوية
الكتاب: السير لأبي إسحاق الفزاري
المؤلف: أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن الحارث بن أسماء بن خارجة بن حصن الفزاري (ت 188هـ)
تحقيق: فاروق حمادة
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الأولى، 1987
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 284
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু ইসহাক আল-ফাযারির আস-সিয়ার (আবু ইসহাক আল-ফাযারি)
বিভাগ: সীরাতুন্নবী
কিতাব: আবু ইসহাক আল-ফাযারির আস-সিয়ার
লেখক: আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হারিস ইবনে আসমা ইবনে খারিজা ইবনে হিসন আল-ফাযারি (মৃত্যু ১৮৮ হি.)
তাহকীক: ফারুক হামাদা
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৮৭
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৪
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
السِّيَرُ لِأَبِي إِسْحَاقَ الْفَزَارِيِّ 1 - أَخْبَرَنَا. . . . . . .، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ،. . . . . . . قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ. . . . . . . الشَّعْبِيَّ عَنْ رَجُلٍ سَيَّبَ دَابَّتَهُ فِي. . . . . . فَأَخَذَهَا رَجُلٌ. . . . . . إِلَيْهَا، ثُمَّ جَاءَ وَصَاحِبُهَا، فَقَالَ: هَذَا شَيْءٌ. . . . . . فَهُوَ أَحَقَّ بِهَا. 2 - قُلْتُ لِسُفْيَانَ: أَرَأَيْتَ الْحَدِيثَ الَّذِي جَاءَ. . . . . . فَهُوَ لَهُ؟ قال: الْمُسْلِمُ يَرُدُّ عَلَى الْمُسْلِمِ. . . . . . .
আবু ইসহাক আল-ফাযারি রচিত আস-সিয়ার ১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন . . . . . . . , মুহাম্মদ বিন ওয়াজ্জাহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, . . . . . . . তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন . . . . . . . আশ-শা'বী হতে এক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, সে তার পশুটিকে . . . . . . ছেড়ে দিয়েছিল, অতঃপর এক ব্যক্তি তা ধরে নিল . . . . . . তার নিকট, তারপর তার মালিক আসল, তখন তিনি বললেন: এটি এমন এক বস্তু . . . . . . সুতরাং সে-ই এর অধিক হকদার। ২ - আমি সুফিয়ানকে বললাম: আপনি কি সেই হাদীসটি দেখেছেন যা বর্ণিত হয়েছে . . . . . . তবে কি তা তারই হবে? তিনি বললেন: এক মুসলিম অপর মুসলিমকে (তা) ফেরত দিবে . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১০০)
3 - الْفَزَارِيُّ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ فَرُّوخَ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ سَأَلَ أُمَّ سَلَمَةَ عَنِ السَّوْطِ يَجِدُهُ الرَّجُلُ، قَالَتْ: مَا أَرَى بِهِ بَأْسًا، فَيَأْخُذُهُ أَخُوهُ فَيَصِلُ بِهِ يَدَهُ، مَا أَرَى بِهِ بَأْسًا قَالَ: وَالْحَبْلُ؟ قَالَتْ: وَالْحَبْلُ، قَالَ: وَالْحِذَاءُ؟ قَالَتْ: وَالْحِذَاءُ، قَالَ: وَالْوِعَاءُ؟ قَالَتْ: «لَا أُحِلُّ مَا حَرَّمَ اللَّهُ، الْوِعَاءُ تَكُونُ فِيهِ النَّفَقَةُ، وَالْوِعَاءُ يَكُونُ فِيهِ الْمَتَاعُ، لَا أُحِلُّ مَا حَرَّمَ اللَّهُ»
3 - আল-ফাজারি, তালহা ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে ফাররুখ আমাকে অবহিত করেছেন যে, ইরাকবাসীদের এক ব্যক্তি উম্মে সালামাহ (রা.)-কে এমন একটি চাবুক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যা কোনো ব্যক্তি (কুড়িয়ে) পায়। তিনি বললেন: আমি এতে কোনো দোষ দেখি না; তার কোনো ভাই সেটি গ্রহণ করতে পারে এবং তা দিয়ে নিজের কাজ চালিয়ে নিতে পারে, আমি এতে কোনো দোষ দেখি না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আর রশি? তিনি বললেন: রশিও। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আর জুতো? তিনি বললেন: জুতোও। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আর পাত্র? তিনি বললেন: «আল্লাহ যা হারাম করেছেন আমি তা হালাল করি না। পাত্রের ভেতর অর্থ-কড়ি থাকে এবং পাত্রের ভেতর মালপত্র থাকে; আল্লাহ যা হারাম করেছেন আমি তা হালাল করি না»।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১০১)
بَابُ نَبْشِ قُبُورِهِمْ وَالرِّكَازِ
তাদের কবরসমূহ খনন করা এবং গুপ্তধন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১০১)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو مَرْوَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَزَارِيُّ قَالَ: سَأَلْتُ الْأَوْزَاعِيَّ، عَنْ نَبْشِ الْقُبُورِ، إِذَا دُلُّوا فِيهَا عَلَى الشَّيْءِ؟ قَالَ: هَذَا عَمَلُ سُوءٍ. ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام لَمَّا مَرَّ بِالْحِجْرِ سَجَّى ثَوْبَهُ عَلَى رَأْسِهِ، وَاسْتَحَثَّ رَاحِلَتَهُ، ثُمَّ قَالَ: «لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ الَّذِينَ ظَلَمُوا إِلَّا أَنْ تَدْخُلُوهَا وَأَنْتُمْ بَاكِينَ، مَخَافَةَ أَنْ يُصِيبَكُمْ مَا أَصَابَهُمْ» . ⦗ص: 102⦘ قَالَ الْأَوْزَاعِيُّ: فَقَدْ نَهَى النَّبِيُّ عليه السلام أَنْ يَدْخُلُوهَا عَلَيْهِمْ وَهِيَ بُيُوتُهُمْ، فَكَيْفَ يَدْخُلُونَ قُبُورَهُمْ؟ 5 - قَالَ: وَاحْتَجَّ بَعْضُهُمْ بِقَبْرِ أَبِي رِغَالٍ، وَإِنَّمَا كَانَ قَبْرُ أَبِي رِغَالٍ صَنَمًا ظَاهِرًا، أَرَى قَالَ: مِنْ ذَهَبٍ ⦗ص: 104⦘ 6 - قَالَ: وَقَدْ كُنَّا مَعَ مَسْلَمَةَ فِي جَيْشٍ فِي أَرْضِ التُّرْكِ فَدُلَّ عَلَى بَيْتِ شَيْءٍ لَيْسَ بِقَبْرٍ فِيهِ مَيِّتٌ، وَفِيهِ سِلَاحٌ، فَاسْتَخْرَجُوا مِنْهُ سِلَاحًا كَثِيرًا، وَآنِيَةً مَوْضُوعَةً عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، فَأَمَرَ فَبِيعَ بِنَحْوٍ مِنْ سَبْعِينَ وَمِائَةِ أَلْفٍ، فَمَا عُرِفَ ذَلِكَ مِنْ صَنِيعِهِمْ
৪ - আবু মারওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-ফাযারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আওযাঈকে কবর খনন করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যখন সেখানে কোনো জিনিসের সন্ধান পাওয়া যায়? তিনি বললেন: এটি একটি মন্দ কাজ। অতঃপর তিনি বললেন: ইউনুস আমাদের নিকট যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আল-হিজর এলাকা অতিক্রম করছিলেন তখন তিনি তাঁর চাদর দিয়ে নিজের মাথা ঢেকে নিলেন এবং তাঁর সওয়ারিকে দ্রুত চালিত করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: «তোমরা সেই সব জালিমদের গৃহে প্রবেশ করো না, যদি না তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থায় প্রবেশ করো; এই ভয়ে যে পাছে তোমাদের ওপর তা-ই আপতিত হয় যা তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল»। ⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘ আওযাঈ বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ঘরগুলোতে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন, অথচ সেগুলো ছিল তাদের বসবাসের ঘর; তাহলে তারা তাদের কবরে কীভাবে প্রবেশ করবে? ৫ - তিনি বলেন: তাদের কেউ কেউ আবু রিগালের কবর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, অথচ আবু রিগালের কবরটি ছিল মূলত একটি দৃশ্যমান মূর্তি, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন: তা স্বর্ণের তৈরি ছিল। ⦗পৃষ্ঠা: ১০৪⦘ ৬ - তিনি বলেন: আমরা মাসলামার সাথে তুর্কিদের ভূমিতে এক সৈন্যবাহিনীতে ছিলাম, তখন এমন একটি কক্ষের সন্ধান পাওয়া গেল যা মৃত ব্যক্তি সম্বলিত কোনো কবর ছিল না, বরং তাতে ছিল অস্ত্রশস্ত্র। ফলে তারা সেখান থেকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র এবং ভূপৃষ্ঠে রাখা পাত্রাদি বের করে আনল। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলে তা প্রায় এক লক্ষ সত্তর হাজারে বিক্রি করা হলো; আর তাদের সেই কাজে কোনো প্রকার আপত্তি দেখা যায়নি।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
7 - الْفَزَارِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: لَمَّا مَرَّ النَّبِيُّ بِالْحِجْرِ قَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام: «لَا تَدْخُلُوا عَلَى هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ الْمُعَذَّبِينَ، إِلَّا أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ أَنْ يُصِيبَكُمْ مَا أَصَابَهُمْ»
৭ - আল-ফাজারি বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি বলেন: যখন নবী হিজর এলাকা অতিক্রম করছিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (আলাইহিস সালাম) তাদের বললেন: «তোমরা এই আজাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের নিকট প্রবেশ করো না, যদি না তোমরা ক্রন্দনরত থাকো; পাছে তোমাদের ওপর সেই বিপদ আপতিত হয় যা তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল»
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
8 - الْفَزَارِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: نَزَلَ أُنَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ عليه السلام عَلَى بِئْرِ ثَمُودَ، فَاسْتَقَوْا وَاعْتَجَنُوا مِنْهَا فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ، فَأَمَرَهُمْ أَنْ يُهَرِيقُوا مَا فِي أَسْقِيَتِهِمْ، وَيَعْلِفُوا عَجِينَهُمُ الْإِبِلَ، وَيَنْزِلُوا عَلَى بِئْرٍ صَالِحٍ، فَيَسْتَقُوا مِنْهَا 9 - الْفَزَارِيُّ قَالَ: سَأَلْتُ سُفْيَانَ عَنْ نَبْشِ الْقُبُورِ يُدَلُّونَ فِيهَا عَلَى الشَّيْءِ، قَالَ: يُكْرَهُ. قُلْتُ: وَمَا يُكْرَهُ مِنْهُ؟ قَالَ: هَلْ بَلَغَكَ أَنَّ أَحَدًا فَعَلَهُ مِمَّنْ مَضَى؟ قُلْتُ: لَا، قَالَ: فَلَا يُعْجِبُنِي. ⦗ص: 106⦘ 10 - قُلْتُ: فَمَا حَالُ مَا أُصِيبَ فِي الْخَرِبِ أَوْ غَيْرِهِ مِنْ ذَلِكَ؟ قَالَ: مَا أُصِيبَ فِي أَرْضِ الْمُسْلِمِينَ، مِمَّا أَحْرَزُوا مِنْ بِلَادِ الْعَدُوِّ، فَمَنْ أَصَابَهُ وَهُوَ وَحْدَهُ، أَوْ مَعَ جَيْشٍ، أَوْ رِكَازٍ يُعْلَمُ أَنَّهُ رِكَازٌ، فَهُوَ لَهُ خَاصَّةً بَعْدَ الْخُمُسِ، وَمَا أَصَابُوا مِنْ ذَلِكَ فِي بِلَادِ الْعَدُوِّ تَحْتَ الْأَرْضِ أَوْ فَوْقَهَا، مِنْ رِكَازٍ أَوْ غَيْرِهِ، فَهُوَ مَغْنَمٌ بَيْنَ أَصْحَابِهِ، وَبَيْنَ الْجَيْشِ هُمْ فِيهِ شُرَكَاءُ بَعْدَ الْخُمُسِ. 11 - وَمَا وُجِدَ مِنْ شَيْءٍ فِي بِلَادِ الْعَدُوِّ، وَلَا يُدْرَى لِلْمُسْلِمِينَ هُوَ أَوْ لِلْعَدُوِّ؟ فَلْيُعَرِّفْهُ، فَإِنْ عُرِفَ وَإِلَّا جُعِلَ فِي الْمَقْسَمِ. وَمَا وُجِدَ فِي بِلَادِ الْعَدُوِّ، وَيُعْرَفُ أَنَّهُ لِمُسْلِمٍ فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ اللُّقَطَةِ، فَإِنْ وُجِدَ صَاحِبُهُ وَإِلَّا تُصُدِّقَ بِهِ عَنْهُ. 12 - قَالَ: سَأَلْتُ الْأَوْزَاعِيَّ عَمَّا وُجِدَ فِي الْقُبُورِ إِذَا نُبِشَتْ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ فِيمَا الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ أَغْلَبُ، قَالَ: هُوَ لِمَنْ وَجَدَهُ، هُوَ رِكَازٌ فِيهِ الْخُمُسُ قُلْتُ: ذَلِكَ فِي بِلَادِ الْعَدُوِّ، وَهُوَ مَعَ جَيْشٍ، قَالَ: هُوَ مَغْنَمٌ بِمَنْزِلَةِ أَمْوَالِ الْعَدُوِّ وَفِيهِ الْخُمُسُ. وَالَّذِي أَصَابَهُ وَالْجَيْشُ فِيهِ شُرَكَاءُ؛ لِأَنَّهُ إِنَّمَا أَصَابَهُ بِقُوَّةِ الْجَيْشِ، وَإِنْ شَاءَ الْإِمَامُ نَفَّلَهُ مِنْهُ ⦗ص: 107⦘ وَفِيهِ الْخُمُسُ 13 - قُلْتُ: شَيْءٌ وُجِدَ فِي الْبَحْرِ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ مِنْ جَوْهَرٍ أَوْ لُؤْلُؤٍ؟ قَالَ: هُوَ لِمَنْ وَجَدَهُ دُونَ الْجَيْشِ بَعْدَ الْخُمُسِ، وَلَيْسَ بِمَنْزِلَةِ الرِّكَازِ 14 - قُلْتُ: فَمَا وُجِدَ مِنْهُ مِنْ حُلِيٍّ مُصَاغٍ؟ قَالَ: هُوَ بِمَنْزِلَةِ أَمْوَالِ الْعَدُوِّ قُلْتُ: فَمَا يَمْنَعُ مَا وُجِدَ فِي الْقُبُورِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ مِمَّا لَيْسَ مِنْ أَمْوَالِ الْعَدُوِّ أَنْ يَكُونَ بِمَنْزِلَةِ مَا وُجِدَ فِي الْبَحْرِ مِنَ اللُّؤْلُؤِ وَالْجَوْهَرِ، وَإِنَّمَا هُوَ شَيْءٌ لِمَنْ كَانَ قَبْلَهُمْ فِي الْقُبُورِ؟ قَالَ: لَيْسَ هَذَا مِثْلَ هَذَا؛ لِأَنَّ هَذَا مِنْ أَمْوَالِهِمْ، وَلَيْسَ ذَاكَ مِنْ أَمْوَالِهِمْ. 15 - قُلْتُ: أَرَأَيْتَ الرِّكَازَ مَا هُوَ؟ قَالَ: مَا وُجِدَ تَحْتَ الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ مِمَّا لَمْ يَكُنْ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ، فَهُوَ رِكَازٌ، وَفِيهِ الْخُمُسُ. ⦗ص: 108⦘ 16 - وَإِنَّمَا مَضَتِ السُّنَّةُ أَنَّ الرِّكَازَ فِي الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، ثُمَّ أَخَذُوا بَعْدُ مِنَ الْحَدِيدِ وَالنُّحَاسِ وَالرَّصَاصِ. قُلْتُ: أَفَتَرَى أَنْ يُؤْخَذَ مِنْهُ؟ قَالَ: مَا أَرَى بِهِ بَأْسًا. 17 - قُلْتُ: فَالْفَخَّارُ، وَالزُّجَاجُ الْفِرْعَوْنِيُّ، وَنَحْوُ مَا يُوجَدُ مِنْ ذَلِكَ؟ قَالَ: مَا أُعِدُّ هَذَا رِكَازًا. 18 - قُلْتُ: فَمَا وُجِدَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، وَفِي التُّلُولِ فَجَرَتْ عَلَيْهِ السُّيُولُ أَوْ حَسِرَتْ عَنْهُ الرِّيَاحُ وَيَظْهَرُ؟ قَالَ: هُوَ رِكَازٌ قَالَ: مَا كَانَ ظَاهِرًا لِلنَّاسِ فَتُرِكَ عَلَى حَالِهِ نَحْوَ الْأَصْنَامِ الْمُذَهَّبَةِ، وَالْعُمُدِ فِيهِ الرَّصَاصُ الظَّاهِرُ، هَذَا كُلُّهُ لَيْسَ بِرِكَازٍ، إِنَّمَا هُوَ شَيْءٌ لِعَامَّةِ الْمُسْلِمِينَ، وَفِيهِمْ يُجْعَلُ فِي بَيْتِ مَالِهِمْ، لَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يَأْخُذَ مِنْهُ شَيْئًا إِلَّا لِأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، بِمَنْزِلَةِ الْأَرْضِ لَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يَأْخُذَ مِنْهَا شَيْئًا إِلَّا بِإِذْنِهِ، فَإِذَا أَذِنَ فِيهِ لِأَحَدٍ فَهُوَ لَهُ، لَا خَمْسَ عَلَيْهِ فِيهِ
৮ - আল-ফাজারি, আবু ইসমাইল থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী আলাইহিস সালামের সাহাবীদের মধ্যে কিছু লোক সামুদের কূপের কাছে অবতরণ করলেন। তারা সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করলেন এবং আটা খামির করলেন। নবী আলাইহিস সালাম তাদের তা করতে নিষেধ করলেন এবং তাদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা তাদের মশকসমূহে যা পানি আছে তা ঢেলে দেয় এবং তাদের খামির করা আটা উটদের খাইয়ে দেয়; আর তারা যেন সালেহ (আলাইহিস সালাম)-এর কূপের কাছে অবতরণ করে এবং সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করে। ৯ - ফাজারি বলেন: আমি সুফিয়ানকে কবর খনন করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যখন সেখানে কোনো কিছুর সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি বললেন: এটি অপছন্দনীয়। আমি বললাম: এর মধ্যে কোনটি অপছন্দনীয়? তিনি বললেন: তোমার কাছে কি এমন কোনো খবর পৌঁছেছে যে, পূর্ববর্তীদের মধ্যে কেউ এমনটি করেছেন? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে এটি আমার কাছে পছন্দনীয় নয়। ⦗পৃষ্ঠা: ১০৬⦘ ১০ - আমি বললাম: ধ্বংসাবশেষ বা অন্য কোথাও যা পাওয়া যায় তার অবস্থা কী? তিনি বললেন: মুসলমানদের ভূমিতে যা পাওয়া যায়, যা তারা শত্রুর দেশ থেকে জয় করে আয়ত্তে এনেছে—তা যদি কেউ একাকী পায় অথবা সেনাবাহিনীর সাথে থাকাবস্থায় পায়, কিংবা তা যদি রিকাজ (গুপ্তধন) হিসেবে পরিচিত হয়, তবে তা খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) প্রদানের পর বিশেষভাবে তারই হবে। আর শত্রুর দেশে মাটির নিচে বা উপরে রিকাজ বা অন্য যা কিছু তারা লাভ করে, তা তাদের সাথীদের এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে গণিমত হিসেবে গণ্য হবে এবং খুমুস প্রদানের পর তারা এতে অংশীদার হবে। ১১ - শত্রুর দেশে এমন কিছু পাওয়া গেল যা জানা নেই যে এটি মুসলমানদের নাকি শত্রুদের? তবে সে যেন তা প্রচার (উদ্ধারকারী হিসেবে ঘোষণা) করে; যদি পরিচয় নিশ্চিত হয় তবে ভালো, অন্যথায় তা বণ্টনযোগ্য মালের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যা শত্রুর দেশে পাওয়া যায় এবং জানা যায় যে তা কোনো মুসলমানের, তবে তা কুড়িয়ে পাওয়া মালের মর্যাদাপ্রাপ্ত হবে; যদি তার মালিক পাওয়া যায় তবে ভালো, অন্যথায় তার পক্ষ থেকে তা সদকা করে দেওয়া হবে। ১২ - তিনি বলেন: আমি আওজায়িকে সেই সোনা বা রুপা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যা কবর খনন করার পর পাওয়া যায় এমন স্থানে যেখানে মুসলমানদের আধিপত্য রয়েছে। তিনি বললেন: যে ব্যক্তি তা পেয়েছে তা তারই, এটি রিকাজ এবং এতে খুমুস রয়েছে। আমি বললাম: যদি তা শত্রুর দেশে হয় এবং সে সেনাবাহিনীর সাথে থাকে? তিনি বললেন: এটি শত্রুর মালের ন্যায় গণিমত হিসেবে গণ্য হবে এবং এতে খুমুস রয়েছে। যে ব্যক্তি তা পেয়েছে এবং সেনাবাহিনী—তারা এতে অংশীদার; কারণ সে সেনাবাহিনীর শক্তির মাধ্যমেই তা লাভ করেছে। আর ইমাম যদি চান তবে তাকে সেখান থেকে অতিরিক্ত পুরস্কার দিতে পারেন ⦗পৃষ্ঠা: ১০৭⦘ এবং এতে খুমুস প্রযোজ্য হবে। ১৩ - আমি বললাম: শত্রুর ভূমিতে সমুদ্র থেকে কোনো মণি-মুক্তা পাওয়া গেলে তার বিধান কী? তিনি বললেন: খুমুস প্রদানের পর তা সেনাবাহিনীর পরিবর্তে কেবল অনুসন্ধানকারীর জন্যই হবে, এবং এটি রিকাজের মর্যাদাপ্রাপ্ত নয়। ১৪ - আমি বললাম: আর যদি সেখান থেকে তৈরি করা অলঙ্কার পাওয়া যায়? তিনি বললেন: এটি শত্রুর মালের ন্যায় গণ্য হবে। আমি বললাম: কবরে পাওয়া সোনা-রুপা যা শত্রুর মাল নয়, তা সমুদ্রের মণি-মুক্তার ন্যায় হতে বাধা কোথায়? অথচ তা তো কেবল তাদের পূর্ববর্তীদেরই সম্পদ ছিল যারা কবরে আছে? তিনি বললেন: এটি সেটির মতো নয়; কারণ এটি হলো তাদের ধন-সম্পদ, আর সেটি তাদের ধন-সম্পদ নয়। ১৫ - আমি বললাম: আপনি কি মনে করেন রিকাজ আসলে কী? তিনি বললেন: মাটির নিচে এমন যা কিছু পাওয়া যায় যা এই উম্মতের ছিল না, তাই রিকাজ; এবং এতে খুমুস রয়েছে। ⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘ ১৬ - সুন্নাহ অনুযায়ী রিকাজ কেবল সোনা ও রুপার ক্ষেত্রে প্রচলিত ছিল, পরবর্তীতে তারা লোহা, তামা ও সিসা থেকেও তা গ্রহণ করেছে। আমি বললাম: আপনি কি মনে করেন যে এসব থেকেও তা গ্রহণ করা হবে? তিনি বললেন: আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না। ১৭ - আমি বললাম: মাটির পাত্র, ফেরাউনি কাঁচ এবং এই জাতীয় যা কিছু পাওয়া যায় তার বিধান কী? তিনি বললেন: আমি এগুলোকে রিকাজ হিসেবে গণ্য করি না। ১৮ - আমি বললাম: ভূপৃষ্ঠে এবং পাহাড়ের টিলায় যা পাওয়া যায়, যা স্রোতের কারণে ভেসে এসেছে অথবা বাতাসের কারণে দৃশ্যমান হয়েছে? তিনি বললেন: এটি রিকাজ। তিনি আরও বললেন: যা মানুষের কাছে প্রকাশ্য এবং তার নিজ অবস্থায় পরিত্যক্ত—যেমন স্বর্ণখচিত মূর্তি এবং স্তম্ভ যাতে সিসা দৃশ্যমান, এই সমস্ত কিছুই রিকাজ নয়। বরং এটি সাধারণ মুসলমানদের সম্পদ এবং তা তাদের বায়তুল মালে রাখা হবে। আমীরুল মুমিনীন ব্যতীত অন্য কারো জন্য এখান থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা বৈধ নয়। এটি ভূমির মর্যাদাপ্রাপ্ত; তার অনুমতি ব্যতীত কারো পক্ষে সেখান থেকে কিছু নেওয়া বৈধ নয়। যখন তিনি কাউকে তা নেওয়ার অনুমতি দেবেন, তখন তা তারই হবে এবং তাতে কোনো খুমুস থাকবে না।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
بَابُ الرِّكَازِ يُصَابُ فِي بِلَادِ الْعَدُوِّ وَالدَّوَابُّ 19 - قُلْتُ: فَمَا أُصِيبَ بَيْنَ الْمِصِّيصَةِ إِلَى دَرْبِ الرُّومِ مِنْ هَذَا وَنَحْوِهِ، وَالْفُسَيْفِسَاءُ وَالرُّخَامُ وَالرَّصَاصُ وَالْحَدِيدُ؟ قَالَ: مَا أُصِيبَ مِنْ ذَلِكَ مِمَّا أَنْتُمْ عَلَيْهِ أَغْلَبُ، مِمَّا لَهُ ثَمَنٌ، وَهُوَ ظَاهِرٌ فَهُوَ لِعَامَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَمَا أُصِيبَ مِنْ ذَلِكَ مِمَّا لَا ثَمَنَ لَهُ، وَلَمْ يُمْنَعْ مِنْهُ أَحَدٌ فَهُوَ لِمَنْ أَخَذَهُ لَا خُمُسَ عَلَيْهِ فِيهِ، إِنْ أَصَابَهُ وَحْدَهُ، أَوْ كَانَ مَعَ جَيْشٍ قُلْتُ: إِنَّهُ رُبَّمَا أَصَابَ الرَّجُلُ مِنْ ذَلِكَ فِيمَا نَحْنُ عَلَيْهِ أَغْلَبُ، وَهُوَ مَعَ الْجَيْشِ، وَلَيْسَ لَهُ عِنْدَهُمْ ثَمَنٌ، وَإِنْ جَاءَ بِهِ كَانَ لَهُ ثَمَنٌ. قَالَ: لَا أَعْلَمُ عَلَيْهِ فِيهِ شَيْءٌ، إِنَّمَا هُوَ بِمَنْزِلَةِ رَجُلٍ أَصَابَ حَجَرًا، لَا يُمْنَعُ مِنْهُ، فَبَاعَهُ بِمَنْزِلَةِ الْحَطَبِ قُلْتُ: أَرَأَيْتَ مَا كَانَ مِنَ الْعُمُدِ مِنَ الرَّصَاصِ وَنَحْوِهِ، قَدْ ظَهَرَ بَعْضُهُ؟ قَالَ: مَا كَانَ مِنْهُ يُدْرِكُهُ الْبَصَرُ فَلَيْسَ بِرِكَازٍ. 20 - قُلْتُ: الْمُعَاهَدُ يَجِدُ الرِّكَازَ؟ قَالَ: هُوَ لَهُ بَعْدَ الْخُمُسِ
শত্রুর ভূখণ্ডে প্রাপ্ত গুপ্তধন এবং পশু সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ ১৯ - আমি জিজ্ঞেস করলাম: মাস্সিসা থেকে রুমের প্রবেশপথ (দারব আর-রুম) পর্যন্ত এলাকায় প্রাপ্ত এই জাতীয় বস্তু এবং মোজাইক, মার্বেল পাথর, সিসা ও লোহা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: যেসব স্থানে তোমাদের প্রাধান্য বিদ্যমান, সেখান থেকে প্রাপ্ত মূল্যবান ও প্রকাশ্য বস্তুসমূহ সাধারণ মুসলিমদের প্রাপ্য। আর যেসব বস্তু মূল্যহীন এবং যা সংগ্রহ করতে কাউকে বাধা দেওয়া হয় না, তা যে ব্যক্তি সংগ্রহ করবে এটি তারই; এতে কোনো খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) নেই, চাই সে একাকী সংগ্রহ করুক বা সেনাবাহিনীর সাথে থাকাকালীন সংগ্রহ করুক। আমি বললাম: কোনো ব্যক্তি হয়তো এমন কোনো এলাকা থেকে এসবের কিছু সংগ্রহ করল যেখানে আমাদের প্রাধান্য রয়েছে এবং সে সেনাবাহিনীর সাথে আছে, আর সেখানে ওই বস্তুর কোনো মূল্য নেই; কিন্তু সেটি বয়ে নিয়ে আসলে তার মূল্য পাওয়া যায়। তিনি বললেন: আমি মনে করি না এতে তার ওপর কোনো দায় আছে; এটি এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যে একটি পাথর পেল যা সংগ্রহে কাউকে বাধা দেওয়া হয় না, অতঃপর সে তা বিক্রি করল; এটি জ্বালানি কাঠের সমপর্যায়ভুক্ত। আমি বললাম: সিসা ও অনুরূপ ধাতুর তৈরি যেসব স্তম্ভের কিছু অংশ প্রকাশ্য রয়েছে, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: যা দৃষ্টিগোচর হয়, তা রিকাজ (গুপ্তধন) নয়। ২০ - আমি জিজ্ঞেস করলাম: কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম (মুয়াহাদ) যদি রিকাজ বা গুপ্তধন পায়? তিনি বললেন: খুমুস প্রদানের পর তা তারই হবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১০)
21 - قُلْتُ: فَالْمَرْأَةُ وَالْغُلَامُ؟ قَالَ: هُوَ لَهُمَا بَعْدَ الْخُمُسِ قُلْتُ: فَالْعَبْدُ؟ قَالَ: لَا يَكُونُ لَهُ، إِلَّا أَنْ يُرْضِخَ لَهُ الْإِمَامُ؛ لِأَنَّهُ لَوْ صَارَ لَهُ، لَكَانَ لِمَوْلَاهُ، وَلَيْسَ مَوْلَاهُ وَجَدَهُ. قُلْتُ: فَلَوْ قُلْتُ لِعَبْدِي: احْتَفِرْ فِي مَكَانِ كَذَا وَكَذَا، فَإِنِّي أَرْجُو أَنْ تَجِدَ رِكَازًا، فَاحْتَفَرَ، فَوَجَدَ؟ قَالَ: إِذَا كَانَ كَذَلِكَ فَإِنَّ مَا وَجَدَ لَكَ قُلْتُ فَإِنِ اسْتَأْجَرْتُ رَجُلًا يَحْفِرُ لِي فِي دَارِي فَوَجَدَ كَنْزًا؟ قَالَ: هُوَ لَهُ قُلْتُ: فَإِنْ قُلْتُ لَهُ: أَسْتَأْجِرُكَ تَحْفِرُ لِي هَاهُنَا رَجَاءَ أَنْ أَجِدَ كَنْزًا، وَسَمَّيْتُ لَهُ؟ قَالَ: يَكُونُ لَهُ أَجْرُهُ، وَلَكَ مَا وَجَدَ قُلْتُ: فَإِنْ قُلْتُ لَهُ: أَسْتَأْجِرُكَ تَحْفِرُ لِي فِي دَارِي عَلَى أَنْ مَا وَجَدْتَ فَهُوَ لِي؟ قَالَ: يَكُونُ لَكَ قُلْتُ: اسْتَعَنْتُ رَجُلًا يَحْفِرُ لِي فِي دَارِي فَوَجَدَ رِكَازًا؟ قَالَ: هُوَ لَهُ بَعْدَ الْخُمُسِ 22 - قِيلَ لَهُ: الْقَوْمُ يَأْتُونَ فَيَجِدُ الرَّجُلُ الرِّكَازَ فِيهَا؟ قَالَ: يُؤْخَذُ خُمْسُهُ، فَيَكُونُ نِصْفُهُ لَهُمْ، وَنِصْفُهُ فِي بَيْتِ الْمَالِ: وَبَقِيَّتُهُ لِمَنْ وَجَدُوهُ وَبَيْنَ الْجَيْشِ. 23 - نا الْفَزَارِيُّ قَالَ: سَأَلْتُ سُفْيَانَ عَنِ الْمُعَاهِدِ يَجِدُ الرِّكَازَ؟ قَالَ: هُوَ لَهُ بَعْدَ الْخُمُسِ
21 - আমি বললাম: তবে নারী ও বালকের হুকুম কী? তিনি বললেন: খুমুস (পঞ্চমাংশ) প্রদানের পর তা তাদেরই। আমি বললাম: তবে দাসের ক্ষেত্রে কী হবে? তিনি বললেন: তা তার হবে না, যদি না ইমাম তাকে সামান্য কিছু প্রদান করেন; কারণ যদি তা তার হতো, তবে তা তার মনিবের প্রাপ্য হতো, অথচ তার মনিব তা খুঁজে পায়নি। আমি বললাম: যদি আমি আমার দাসকে বলি: ‘অমুক অমুক স্থানে খনন করো, আমি আশা করছি তুমি সেখানে রিকায (গুপ্তধন) পাবে’, অতঃপর সে খনন করল এবং তা খুঁজে পেল? তিনি বললেন: এমতাবস্থায় সে যা পেয়েছে তা আপনারই। আমি বললাম: যদি আমি কোনো ব্যক্তিকে আমার বাড়িতে খনন করার জন্য মজুরি দিয়ে নিয়োগ করি এবং সে কোনো গুপ্তধন খুঁজে পায়? তিনি বললেন: তা তারই হবে। আমি বললাম: যদি আমি তাকে বলি: ‘আমি তোমাকে এখানে খনন করার জন্য নিয়োগ করছি এই আশায় যে আমি গুপ্তধন পাব’, এবং আমি তার কাছে বিষয়টি নির্দিষ্ট করে বলি? তিনি বললেন: সে তার মজুরি পাবে এবং যা পাওয়া গেছে তা আপনার হবে। আমি বললাম: যদি আমি তাকে বলি: ‘আমি তোমাকে আমার বাড়িতে খনন করার জন্য এই শর্তে নিয়োগ করছি যে, তুমি যা পাবে তা আমার হবে’? তিনি বললেন: তা আপনারই হবে। আমি বললাম: আমি আমার বাড়িতে খনন করার জন্য একজনের সাহায্য নিলাম এবং সে রিকায খুঁজে পেল? তিনি বললেন: খুমুস প্রদানের পর তা তারই হবে। 22 - তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: একদল লোক আসলো এবং তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি সেখানে রিকায পেল? তিনি বললেন: তার খুমুস (পঞ্চমাংশ) গ্রহণ করা হবে, অতঃপর তার অর্ধেক হবে তাদের জন্য এবং অর্ধেক বাইতুল মালের জন্য; আর তার অবশিষ্ট অংশ যিনি পেয়েছেন তার এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে বণ্টিত হবে। 23 - ফাযারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে সেই মুয়াহিদ (চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে রিকায খুঁজে পায়? তিনি বললেন: খুমুস প্রদানের পর তা তারই হবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১১)
24 - قُلْتُ: فَالْعَبْدُ؟ قَالَ: لَمْ يَجْعَلْ لَهُ عُمَرُ شَيْئًا قُلْتُ: فَالْغُلَامُ وَالْمَرْأَةُ؟ فَلَمْ يَرَ لَهُمَا شَيْئًا قُلْتُ: فَإِنِ اسْتَأْجَرْتَ رَجُلًا أَوِ اسْتَعَنْتَهَ يَحْفِرُ لَكَ فِي دَارِكَ، فَوَجَدَ رِكَازًا فَهُوَ لَهُ بَعْدَ الْخُمُسِ ، 25 - قِيلَ لِلْأَوْزَاعِيِّ: أَرَأَيْتَ أَرْضَ الْمِصِّيصَةِ، وَقَطَائِعَ السُّلْطَانِ بِهَا، يُقْطِعُهُمْ أَمِيرُ قِنَّسْرِينَ؟ قَالَ: أَمَّا فِي الْمَدِينَةِ لِمَنَازِلِهِمْ، فَلَا أَرَى بِهِ بَأْسًا؛ وَأَمَّا أَرْضُ الْمَزَارِعِ، فَأَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ يَلِي ذَلِكَ قُلْتُ: فَأَمِيرُ الْمِصِّيصَةِ يُقْطِعُ فِي الْمَدِينَةِ الْمَنَازِلَ؟ قَالَ: هَذَا أَضْعَفُ قُلْتُ: مَا حَالُ مَزَارِعِهِمْ، وَمَا أَحْيَوْهُ مِنْ أَرْضٍ؟ قَالَ: لَوْ كَانَ بِهَا أَهْلُ الذِّمَّةِ رَأَيْتُ أَنْ تُدْفَعَ إِلَيْهِمْ لِأَنَّهَا مِنْ فَيْءِ الْمُسْلِمِينَ، فَإِذَا لَمْ يَكُونُوا، فَالْعُشْرُ يُؤْخَذُ مِنْهُمْ، وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهُمُ الْجِزْيَةُ. 26 - وَلَيْسَ بِالْمِصِّيصَةِ، وَلَا فِي دَارِ الْإِسْلَامِ مَوَاتٌ يُحْيَى، إِنَّمَا الْمَوَاتُ فِي بِلَادِ الْأَعْرَابِ وَكَذَلِكَ قَالَ سُفْيَانُ: لَا يُقْطِعُ صَاحِبُ أَمْرٍ النَّاسَ
24 - আমি বললাম: দাসের ক্ষেত্রে কী বিধান? তিনি বললেন: উমর তার জন্য কিছুই নির্ধারণ করেননি। আমি বললাম: বালক ও নারীর ক্ষেত্রে কী বিধান? তিনি তাদের জন্যও কোনো কিছু সাব্যস্ত করেননি। আমি বললাম: আপনি যদি কোনো ব্যক্তিকে ভাড়া করেন অথবা আপনার বাড়িতে খনন কার্যে কারো সাহায্য গ্রহণ করেন এবং সে গুপ্তধন (রিকাজ) পায়, তবে পঞ্চমাংশ (খুমুস) আদায়ের পর সেটি তারই হবে। 25 - ইমাম আওযায়ীকে বলা হলো: মাসিসাহ অঞ্চলের ভূমি এবং সেখানে সুলতানের বরাদ্দকৃত জায়গাসমূহ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী, যা কিননাসরিনের আমির তাদের প্রদান করেন? তিনি বললেন: শহরের ভেতরে তাদের ঘরবাড়ির স্থানের ব্যাপারে আমি কোনো সমস্যা দেখি না; কিন্তু কৃষিভূমির বিষয়টি আমিরুল মুমিনীনের ইখতিয়ারাধীন। আমি বললাম: মাসিসার আমির কি শহরের অভ্যন্তরে ঘরবাড়ি বরাদ্দ দিতে পারেন? তিনি বললেন: এটি আরও দুর্বল (কর্তৃত্ব)। আমি বললাম: তাদের খামার এবং তারা যে ভূমি আবাদ করেছে তার হুকুম কী? তিনি বললেন: সেখানে যদি জিম্মি প্রজারা থাকত, তবে আমি মনে করতাম যে ভূমি তাদেরই প্রদান করা হোক, কারণ তা মুসলিমদের 'ফায়' (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এর অন্তর্ভুক্ত। আর যদি তারা না থাকে, তবে তাদের কাছ থেকে 'উশর' (দশমাংশ) গ্রহণ করা হবে এবং তাদের থেকে 'জিযিয়া' গ্রহণ করা হবে না। 26 - মাসিসায় কিংবা দারুল ইসলামের অন্য কোথাও আবাদ করার মতো কোনো 'মাওয়াত' (পতিত ভূমি) নেই; পতিত ভূমি কেবল বেদুঈনদের মরু-অঞ্চলেই থাকতে পারে। অনুরূপভাবে সুফিয়ান বলেছেন: কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি যেন (ইচ্ছামাফিক) মানুষকে ভূমি বরাদ্দ না দেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১২)
بَابُ كَرَاهِيَةِ أَخْذِ الرَّجُلِ عَلَى الْمَقَاسِمِ وَالْقَضَاءِ أَجْرًا
সম্পদ বণ্টন ও বিচারকার্য সম্পাদনের বিনিময়ে কোনো ব্যক্তির পারিশ্রমিক গ্রহণ করার অপছন্দনীয়তা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১২)
27 - أَخْبَرَنِي أَبُو مَرْوَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَزَارِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَكْرَهُ أَنْ يَأْخُذَ الرَّجُلُ عَلَى مَقَاسِمِ الْمُسْلِمِينَ، أَوْ قَضَائِهِمْ أَجْرًا
২৭ - আবু মারওয়ান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ফাযারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি কাসেম ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব অপছন্দ করতেন যে, কোনো ব্যক্তি মুসলমানদের সম্পদ বণ্টন বা তাদের বিচারকার্য পরিচালনার বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
28 - الْفَزَارِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَرِيفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَسَمَ عَلِيٌّ بَيْنَ قَوْمٍ قَسْمًا، ثُمَّ أَمَرَ رَجُلًا يَحْسِبُهُ، فَقِيلَ لَهُ: لَوْ أَعْطَيْتَهِ عِمَالَتَهُ؟ قَالَ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ أَعْطَيْتُهُ، وَهُوَ سُحْتٌ
২৮ - আল-ফাজারী, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবনে রুফাই থেকে, তিনি মুসা ইবনে তারিফ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (রা.) এক সম্প্রদায়ের মাঝে কিছু বণ্টন করলেন, তারপর এক ব্যক্তিকে তা হিসাব করার নির্দেশ দিলেন। তখন তাঁকে বলা হলো: আপনি কি তাকে তার পারিশ্রমিক দেবেন না? তিনি বললেন: ইনশাআল্লাহ আমি তাকে দেব, অথচ তা হলো অবৈধ সম্পদ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
29 - الْفَزَارِيُّ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ لِلرَّجُلِ الَّذِي يَقْسِمُ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ يَأْخُذَ عَلَيْهِ أَجْرًا
২৯ - আল-ফাজারী, আশ‘আস থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ওই ব্যক্তির জন্য অপছন্দ করতেন যে মানুষের মাঝে (সম্পদ) বণ্টন করে দেয় এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
30 - الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: " أَرْبَعٌ يُكْرَهُ أَنْ يُؤْخَذَ عَلَيْهِنَّ أَجْرٌ: الْمَقَاسِمُ، وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ، وَالْقَضَاءُ، وَالْآذَانُ " قَالَ: وَكَانَ شُرَيْحٌ لَا يَأْخُذُ عَلَى الْقَضَاءِ أَجْرًا
৩০ - আল-ফাজারি, আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "চারটি বিষয় এমন যেগুলোর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা অপছন্দনীয়: বণ্টনকার্য, কুরআন পাঠ, বিচারকার্য এবং আজান।" তিনি বলেন: শুরাইহ বিচারকার্যের জন্য কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন না।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
31 - الْفَزَارِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " قُتِلَ يَوْمَ الْأَحْزَابِ مِنْ عُظَمَاءِ الْمُشْرِكِينَ رَجُلٌ، فَأَرَادُوا أَنْ يَبْتَاعُوا جَسَدَهُ، فَكَرِهَ ذَلِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
৩১ - আল-ফাযারী, সুফিয়ান থেকে, তিনি ইবন আবী লায়লা থেকে, তিনি আল-হাকাম থেকে, তিনি মিকসাম থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আহযাব যুদ্ধের দিন মুশরিকদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের একজন নিহত হয়েছিল। তখন তারা তার মৃতদেহটি ক্রয় করতে চাইল, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অপছন্দ করলেন।"
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
32 - الْفَزَارِيُّ، عَنْ أَبِي، قَالَ: سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ، يَقُولُ: " حَمَلَ نَوْفَلَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُغِيرَةِ فَرَسُهُ يَوْمَ الْخَنْدَقِ لِيَعْبُرَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَبَطَحَهُ اللَّهُ عَلَى وَجْهِهِ قَتِيلًا، فَسَأَلَ الْمُشْرِكُونَ النَّبِيَّ أَنْ يَدْفَعَ إِلَيْهِمْ جَسَدَهُ، وَيَدْفَعُوا إِلَيْهِ دِيَتَهُ، قَالَ: «لَا حَاجَةَ لَنَا فِي دِيَتِهِ، فَإِنَّهُ خَبِيثُ الدِّيَةِ، خَبِيثُ اللَّحْمِ، خَبِيثُ الْجَسَدِ»
৩২ - আল-ফাজারী, তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যুহরীকে বলতে শুনেছি: "খন্দকের যুদ্ধের দিন নাওফাল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুগীরার ঘোড়া তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে পার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছুটেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় উপুড় করে আছাড় দিলেন। তখন মুশরিকরা নবীর নিকট আবেদন জানাল যেন তিনি তার মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করেন এবং তারা এর বিনিময়ে তাঁকে রক্তপণ প্রদান করবে। তিনি বললেন: 'আমাদের তার রক্তপণের কোনো প্রয়োজন নেই, কেননা সে অপবিত্র রক্তপণের অধিকারী, অপবিত্র মাংসের অধিকারী এবং অপবিত্র দেহের অধিকারী'।"
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
بَابُ بَيْعِ الْآنِيَةِ، وَكَيْفَ تُفَتَّشُ السَّبَايَا
পাত্র বিক্রয় এবং যুদ্ধবন্দিনী নারীদের পরীক্ষার পদ্ধতি সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
33 - أَخْبَرَنِي أَبُو مَرْوَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَزَارِيُّ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ عليه السلام يَوْمَ خَيْبَرَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَبِحْتُ الْيَوْمَ رِبْحًا لَمْ يَرْبَحْ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْوَادِي مِثْلَهُ. قَالَ: «وَيْحَكَ وَمَا رَبِحْتَ؟» . ⦗ص: 116⦘ قَالَ: لَمْ أَزَلْ أَبِيعُ وَأَشْتَرِي حَتَّى رَبِحْتُ اثْنَيْ عَشَرَ أَلْفًا. فَقَالَ: «وَيْحَكَ، أَوَلَا أَدُلُّكَ عَلَى خَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ؟ رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الصَّلَاةِ»
৩৩ - আবু মারওয়ান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ফাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওজায়ি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি খয়বরের দিন নবী আলাইহিস সালাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আজ আমি এমন মুনাফা অর্জন করেছি যা এই উপত্যকার অধিবাসীদের মধ্যে অন্য কেউ অর্জন করতে পারেনি। তিনি বললেন: «তোমার কল্যাণ হোক! তুমি কী মুনাফা অর্জন করেছ?» ⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘ তিনি বললেন: আমি অনবরত ক্রয়-বিক্রয় করেছি যতক্ষণ না আমি বারো হাজার মুনাফা অর্জন করেছি। তখন তিনি বললেন: «তোমার কল্যাণ হোক! আমি কি তোমাকে এর চেয়েও উত্তম কিছুর সন্ধান দেব না? (তা হলো) নামাজের পর দুই রাকাত নামাজ পড়া।»
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
34 - الْفَزَارِيُّ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ أُمِّ مُوسَى، قَالَتْ: أَصَابَ عَلِيٌّ آنِيَةً مِنْ فِضَّةٍ مُحَوَّصَةٍ بِالْجَوْهَرِ، فَأَرَادَ أَنْ يَكْسِرَهَا فَيَبِيعَهَا، ثُمَّ يَقْسِمَهَا بَيْنَ النَّاسِ، فَأَتَاهُ نَاسٌ مِنَ الْأَعَاجِمِ فَقَالُوا: إِنَّكَ إِنْ كَسَرْتَهَا أَفْسَدْتَهَا، وَنَحْنُ نُغْلِي لَكَ بِهَا. قَالَ: لَمْ أَكُنْ لِأَرُدَّ إِلَيْكُمْ شَيْئًا نَزَعَهُ اللَّهُ مِنْكُمْ
৩৪ - আল-ফাজারি, আল-মুগিরাহ থেকে, তিনি উম্মে মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী রত্নখচিত রূপার একটি পাত্র লাভ করেন। তিনি সেটি ভেঙে বিক্রি করে দিতে চাইলেন, যাতে তা মানুষের মাঝে বণ্টন করে দিতে পারেন। তখন কতিপয় অনারব লোক তাঁর নিকট এসে বলল: “আপনি যদি এটি ভেঙে ফেলেন তবে এর উপযোগিতা নষ্ট করে ফেলবেন, বরং আমরা আপনাকে এর জন্য উচ্চমূল্য দেব।” তিনি বললেন: “আল্লাহ তোমাদের নিকট থেকে যা কেড়ে নিয়েছেন, আমি তা তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারি না।”
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
35 - الْفَزَارِيُّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: أَصَبْنَا بِالْأَهْوَازِ آنِيَةً مِنْ فِضَّةٍ فَبِعْنَاهَا مِنْ أُنَاسٍ مِنْ أَهْلِ الْحِيرَةِ مَنَاكِيرَ بِأَكْثَرَ مِنْ وَزْنِهَا، ثُمَّ ذَكَرْنَا ذَلِكَ لِعُمَرَ، ⦗ص: 117⦘ فَقَالَ: " رُدُّوا الْبَيْعَ، وَخُذُوا الْآنِيَةَ، وَبِيعُوهَا بِذَهَبٍ. فَأَرَدْنَاهُمْ عَلَى ذَلِكَ فَأَبَوْا فَرَدَدْنَا عَلَيْهِمُ الْفَضْلَ 36 - قَالَ: قُلْتُ لِلْأَوْزَاعِيِّ: أَرَأَيْتَ السَّبَايَا إِذَا خِيفَ مِنْهُنَّ أَنْ يَكُنَّ قَدْ خَبَّأْنَ مَعَهُنَّ شَيْئًا، كَيْفَ يُفَتَّشْنَ؟ قَالَ: فَوْقَ الثِّيَابِ، هَذِهِ ضَرُورَةٌ 37 - الْفَزَارِيُّ، وَسُئِلَ الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ بَيْعِ السُّيُوفِ، وَالْمَنَاطِقِ، وَالسُّرُجِ الْمُحَلَّاةِ، مِمَّنْ لَهُ فِيهَا نَصِيبٌ بِالنَّسِيئَةِ؟ فَكَرِهَ ذَلِكَ، وَقَالَ: مَنِ اشْتَرَى مِنَ الْفَيْءِ شَيْئًا مِمَّنْ لَهُ فِيهِ نَصِيبٌ، ثُمَّ أَرَادَ بَيْعَهُ فَلَا يَبِعْهُ مُرَابَحَةً، وَلَكِنْ يَبِيعُهُ مُسَاوَمَةً
৩৫ - আল-ফাজারি, হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আহওয়াজে রূপার কিছু পাত্র পেয়েছিলাম, অতঃপর আমরা তা হীরাহ-বাসীদের মধ্য হতে কিছু অপরিচিত লোকের কাছে তাদের ওজনের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করেছিলাম। এরপর আমরা বিষয়টি উমর (রা.)-এর কাছে উল্লেখ করলাম, ⦗পৃষ্ঠা: ১১৭⦘ তিনি বললেন: "তোমরা বিক্রয়টি বাতিল করো, পাত্রগুলো ফিরিয়ে নাও এবং সেগুলো স্বর্ণের বিনিময়ে বিক্রি করো।" আমরা তাদের কাছে বিষয়টি প্রস্তাব করলাম কিন্তু তারা অস্বীকার করল, ফলে আমরা অতিরিক্ত অংশটুকু তাদের ফেরত দিয়ে দিলাম। ৩৬ - তিনি বলেন: আমি আওযাঈকে বললাম: যুদ্ধবন্দিনী নারীদের ব্যাপারে আপনার মতামত কী, যদি আশঙ্কা করা হয় যে তারা নিজেদের সাথে কোনো কিছু লুকিয়ে রেখেছে, তবে কীভাবে তাদের তল্লাশি করা হবে? তিনি বললেন: কাপড়ের উপর দিয়ে, এটি একটি প্রয়োজনীয়তা। ৩৭ - আল-ফাজারি বর্ণনা করেন, আওযাঈকে অলংকৃত তলোয়ার, কোমরবন্ধনী এবং জিন বিক্রি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যার এতে অংশ রয়েছে তার পক্ষ থেকে বাকিতে বিক্রয় প্রসঙ্গে। তিনি তা অপছন্দ করলেন এবং বললেন: যে ব্যক্তি 'ফাই' (লব্ধ সম্পদ) থেকে এমন কোনো কিছু ক্রয় করে যাতে তার অংশ রয়েছে, এরপর সে তা বিক্রি করতে চায়, তবে সে যেন তা 'মুরাবাহা' (লাভসহ বিক্রয়) পদ্ধতিতে বিক্রি না করে, বরং সে যেন তা 'মুসাওয়ামা' (দর কষাকষির মাধ্যমে সাধারণ বিক্রয়) পদ্ধতিতে বিক্রি করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
38 - الْفَزَارِيُّ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ رَجُلٍ، قَالَ: كُنْتُ خَامِسَ خَمْسَةٍ فِيمَنْ وَلِيَ قَبَضَ تُسْتَرَ فَجَاءَ إِنْسَانٌ مُرْتَدِيًا عَلَى شَيْءٍ، فَقَالَ: أَتَبِيعُونِي مَا مَعِي بِعِشْرِينَ دِرْهَمًا. قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ، إِنْ لَمْ يَكُنْ ذَهَبًا أَوْ فِضَّةً، أَوْ كِتَابَ اللَّهِ ⦗ص: 118⦘ قَالَ: فَإِنَّهُ بَعْضُ مَا قَدْ سَمَّيْتُمْ، وَلَكِنْ لَا تَقْرَءُونَهُ، وَأَنَا أَقْرَؤُهُ، فَأَخْرَجَ جَوْنَةً فِيهَا كِتَابٌ مِنَ التَّوْرَاةِ، فَوَهَبْنَاهُ لَهُ، وَأَخَذْنَا الْجَوْنَةَ فَأَلْقَيْنَاهَا فِي الْقَبْضِ فَابْتَاعَهَا مِنَّا بِدِرْهَمَيْنِ
৩৮ - আল-ফাজারি হিশাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে এবং তিনি এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি তুস্তার অঞ্চলের সম্পদ সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত পাঁচজন ব্যক্তির মধ্যে পঞ্চম ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি কোনো কিছু আবৃত করে আসলেন এবং বললেন: আমার নিকট যা আছে তা কি তোমরা বিশ দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করবে? তিনি বলেন, আমি বললাম: হ্যাঁ, যদি তা সোনা, রূপা কিংবা আল্লাহর কিতাব না হয়। ⦗পৃষ্ঠা: ১১৮⦘ তিনি বললেন: এটি তোমাদের উল্লেখিত বিষয়গুলোরই একটি, তবে তোমরা এটি পড়তে পারবে না কিন্তু আমি এটি পড়তে পারি। অতঃপর তিনি একটি ক্ষুদ্র পেটিকা বের করলেন যার মধ্যে তাওরাতের একটি কিতাব ছিল। তখন আমরা কিতাবটি তাকে দিয়ে দিলাম এবং পেটিকাটি গ্রহণ করলাম। অতঃপর আমরা সেটি সংগৃহীত সম্পদের অন্তর্ভুক্ত করলাম এবং তিনি আমাদের নিকট থেকে সেটি দুই দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করলেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
بَيْعُ الْكَلْبِ وَالْبَازِ 39 - نا الْفَزَارِيُّ قَالَ: سَأَلْتُ الْأَوْزَاعِيَّ قُلْتُ: مُصْحَفٌ مِنْ مَصَاحِفِ الرُّومِ، أَصَبْنَاهُ فِي بِلَادِهِمْ أَيُبَاعُ، أَوْ يُحْرَقُ؟ قَالَ: يُدْفَنُ أَحَبُّ إِلَيَّ
কুকুর এবং বাজপাখি বিক্রয় ৩৯ - আল-ফাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল-আওজায়িকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: রোমকদের মুসহাফসমূহের মধ্য হতে একটি মুসহাফ যা আমরা তাদের দেশে পেয়েছি; এটি কি বিক্রি করা হবে, নাকি পুড়িয়ে ফেলা হবে? তিনি বললেন: এটি দাফন করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
قُلْتُ: وَلَا تَرَى أَنْ يُبَاعَ؟ قَالَ: وَكَيْفَ وَفِيهِ شِرْكُهُمْ وَسَأَلْتُ سُفْيَانَ عَنْهُ، فَقَالَ: تَعْلَمُ مَا فِيهِ؟ قُلْتُ: لَا، وَلَكِنْ لَعَلَّ فِيهِ شِرْكَهُمْ قَالَ: فَكَيْفَ يُبَاعُ؟ 40 - وَسَأَلْتُ سُفْيَانَ وَالْأَوْزَاعِيَّ وَغَيْرَهُمْ عَنْ مُصْحَفٍ مِنْ مَصَاحِفِ الْمُسْلِمِينَ، أَصَبْنَاهُ فِي بِلَادِ الْعَدُوِّ؟
আমি বললাম: আপনি কি মনে করেন না যে এটি বিক্রি করা যাবে? তিনি বললেন: কীভাবে, অথচ এতে তাদের শিরক রয়েছে? আমি সুফিয়ানকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: তুমি কি জানো এতে কী আছে? আমি বললাম: না, তবে সম্ভবত এতে তাদের শিরক রয়েছে। তিনি বললেন: তাহলে এটি কীভাবে বিক্রি করা যায়? ৪০ - এবং আমি সুফিয়ান, আওযাঈ ও অন্যদেরকে মুসলমানদের মুসহাফসমূহের মধ্য থেকে একটি মুসহাফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যা আমরা শত্রুদের ভূখণ্ডে পেয়েছিলাম?
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১২০)
فَقَالُوا: إِنْ لَمْ يَجِئْ صَاحِبُهُ جُعِلَ فِي الْمَقْسَمِ، فَبِيعَ 41 - قُلْتُ لِلْأَوْزَاعِيِّ: فَرَسٌ أَصَبْنَاهُ فِي بِلَادِ الْعَدُوِّ، وَهُوَ يَقُومُ عَلَيْهِ حُبِسَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ فَقَالَ: أَحَبُّ إِلَيَّ أَنْ يَحْمِلَ عَلَيْهِ الْإِمَامُ رَجُلًا فَيَكُونَ عِنْدَهُ حَبْسٌ كَمَا كَانَ. وَقَدْ كَانَ سُئِلَ قَبْلَ ذَلِكَ عَنْهُ، فَقَالَ: يُقْسَمُ. وَقَالَ سُفْيَانُ: يُقْسَمُ مَا لَمْ يَجِئْ صَاحِبُهُ، فَإِنْ جَاءَ وَقَدْ قُسِمَ، أَخَذَهُ بِالثَّمَنِ 42 - قِيلَ لِلْأَوْزَاعِيِّ: فَعَبْدٌ مِنَ الْخُمُسِ أَبَقَ إِلَى الْعَدُوِّ، فَأَصَابَهُ الْمُسْلِمُونَ؟ قَالَ: يُقْسَمُ، لَيْسَ هَذَا مِثْلَ الْفَرَسِ
তারা বললেন: যদি তার মালিক না আসে, তবে তা বণ্টনযোগ্য মালের অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং বিক্রি করা হবে। ৪১ - আমি আওযায়ীকে বললাম: একটি ঘোড়া যা আমরা শত্রুর ভূখণ্ডে পেয়েছি এবং সেটি আল্লাহর পথে উৎসর্গকৃত (হাবস) হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো (সেটির বিধান কী)? তিনি বললেন: আমার নিকট এটিই অধিক পছন্দনীয় যে, ইমাম এর ওপর কোনো ব্যক্তিকে আরোহণ করাবেন, ফলে এটি তার নিকট পূর্বের মতোই উৎসর্গকৃত হিসেবে থাকবে। ইতিপূর্বে তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: এটি বণ্টন করা হবে। সুফিয়ান বললেন: যতক্ষণ মালিক না আসে ততক্ষণ তা বণ্টন করা হবে; তবে যদি তা বণ্টন হয়ে যাওয়ার পর মালিক আসে, তবে সে মূল্যের বিনিময়ে তা গ্রহণ করবে। ৪২ - আওযায়ীকে বলা হলো: খুমুস (গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ) থেকে প্রাপ্ত কোনো গোলাম যদি শত্রুপক্ষের কাছে পালিয়ে যায় এবং পরে মুসলমানরা তাকে পুনরায় ফিরে পায়? তিনি বললেন: তাকে বণ্টন করা হবে, এটি ঘোড়ার মতো নয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১২১)
43 - قِيلَ: فَأَصَابُوا سَيْفًا؟ وَقَالَ: وَلَيْسَ السَّيْفُ مِثْلَ الْفَرَسِ، لِأَنَّ السَّيْفَ رُبَّمَا تَبَايَعَهُ الْقَوْمُ، وَهُوَ كَذَلِكَ. 44 - قُلْتُ: وَالْحَرِيرُ، وَالْقِلَادَةُ فِيهَا الصُّلُبُ وَالْأَصْنَامُ وَالدَّرَاهِمُ، وَالدَّنَانِيرُ فِيهَا الصُّلُبُ وَالشِّرْكُ، وَالصَّلِيبُ يَكُونُ مِنْ فِضَّةٍ أَوْ ذَهَبٍ؟ قَالَ: قَدْ كَانُوا يُصِيبُونَهُ فَيَأْتُونَ بِهِ الْمَقْسَمَ فَيَبِيعُونَهُ، وَأَمَّا الصَّلِيبُ فَيُكْسَرُ ثُمَّ يُبَاعُ أَحَبُّ إِلَيَّ. وَإِنَّمَا كَانَتِ الدَّنَانِيرُ قَبْلَ الْيَوْمِ عَلَى هَذَا فَيَتَبَايَعُونَ بِهَا بَيْنَهُمْ 45 - قُلْتُ: فَأَصَابُوا كَلْبًا؟ قَالَ: لَا يَصْلُحُ ثَمَنُ الْكَلْبِ، وَإِنْ كَانَ كَلْبَ صَيْدٍ يُقْسَمُ، وَلَا يُخَمَّسُ. قُلْتُ: فَأَصَابُوا فَهْدًا؟ قَالَ: هُوَ بِمَنْزِلَةِ الْكَلْبِ. قُلْتُ: فَأَصَابُوا هِرًّا؟
৪৩ - জিজ্ঞাসা করা হলো: তারা যদি একটি তলোয়ার লাভ করে? তিনি বললেন: তলোয়ার ঘোড়ার মতো নয়; কারণ লোকেরা সম্ভবত তলোয়ার যেভাবে আছে সেভাবেই কেনাবেচা করে। ৪৪ - আমি বললাম: রেশম, এবং এমন হার যাতে ক্রুশ ও মূর্তি রয়েছে এবং দিরহাম ও দিনার যাতে ক্রুশ ও শিরক রয়েছে, আর ক্রুশ যা রূপা বা সোনার তৈরি? তিনি বললেন: তারা এগুলো পেত এবং গনীমত বণ্টনের স্থানে নিয়ে আসত, তারপর তারা তা বিক্রি করে দিত। আর ক্রুশের ব্যাপারে তা ভেঙে ফেলা এবং তারপর বিক্রি করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আর ইতিপূর্বে দিনারগুলো এমনই ছিল এবং তারা নিজেদের মধ্যে তা দিয়ে কেনাবেচা করত। ৪৫ - আমি বললাম: তারা যদি একটি কুকুর লাভ করে? তিনি বললেন: কুকুরের মূল্য বৈধ নয়; আর যদি তা শিকারি কুকুর হয় তবে তা বণ্টন করা হবে, তবে তা থেকে এক-পঞ্চমাংশ নেওয়া হবে না। আমি বললাম: যদি তারা একটি চিতা লাভ করে? তিনি বললেন: এটি কুকুরের সমপর্যায়ের। আমি বললাম: যদি তারা একটি বিড়াল লাভ করে?
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১২২)
قَالَ: لَا يُبَاعُ؛ لِأَنَّ ثَمَنَهُ مَكْرُوهٌ، وَلَا أَرَى لِأَحَدٍ أَنْ يَأْخُذَهُ لِنَفْسِهِ. 46 - قُلْتُ: فَأَصَابُوا بَازًا، أَوْ عُقَابًا أَوْ صَقْرًا مِمَّا أَحْرَزُوا فِي بُيُوتِهِمْ، بِيعَ فِي الْفَيْءِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مِمَّا أَحْرَزُوا فِي بُيُوتِهِمْ فَهُوَ لِمَنْ أَخَذَهُ. وَقَالَ سُفْيَانُ فِي الصَّقْرِ، وَالْبَازِ، وَالْعُقَابِ مِثْلَهُ 47 - قِيلَ لِلْأَوْزَاعِيِّ: فَجُلُودُ السِّبَاعِ؟ قَالَ: لَا تُبَاعُ، وَلَا يَأْخُذُهَا أَحَدٌ لِنَفْسِهِ. قِيلَ: لَهُ فَأَصَابَ بَازًا فَأَرْسَلَهُ عَلَى صَيْدٍ، فَأَخَذَ صَيْدَهُ أَوْ ذَهَبَ الْبَازُ؟ قِيلَ: إِنْ شَاءَ الْإِمَامُ ضَمَّنَهُ ثَمَنَهُ، وَإِنْ شَاءَ تَرَكَهُ، وَقَدْ أَسَاءَ حِينَ أَرْسَلَهُ، وَأَمَّا مَا صَادَهُ فَيُؤْكَلُ 48 - قُلْتُ لِلْأَوْزَاعِيِّ: أَرَأَيْتَ لَوْ نَزَلَ بِنَا عَدُوٌّ عَلَى مَدِينَتِنَا، فَأَصَبْنَا مِنْهُمْ غَنِيمَةً، أَيَشْتَرِكُ الَّذِينَ أَصَابُوا الْغَنِيمَةَ، وَأَهْلُ الْمَدِينَةِ فِيهَا؟ قَالَ: إِنْ كَانَ الْعَدُوُّ نَزَلُوا بِنَهَرِ الذِّيبِ وَنَحْوِهِ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ أَهْلُ الْمَدِينَةِ، فَأَصَابُوا مِنْهُمْ غَنِيمَةً، كَانَتْ لَهُمْ دُونَ أَهْلِ الْمَدِينَةِ بَعْدَ الْخُمُسِ. وَإِنْ كَانَ الْعَدُوُّ نَزَلُوا عَلَى الْمَدِينَةِ قَرِيبًا فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ أَهْلُ الْمَدِينَةِ يَعْقُبُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، فَمِنْهُمْ مَنْ يَحْرُسُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَحْمِلُ إِلَيْهِمُ الطَّعَامَ، وَيَأْتِيهِمُ الْمَدَدُ مِنْهَا فَهُمْ شُرَكَاءُ جَمِيعًا فِيمَا أَصَابُوا مِنَ الْغَنِيمَةِ بَعْدَ الْخُمُسِ. وَمَنْ كَانَ خَرَجَ إِلَى الَّذِينَ نَزَلُوا عَلَى نَهْرِ الذِّيبِ نُفِّلُوا وَسُلِّبُوا 49 - قُلْتُ: أَرَأَيْتَ لَوْ رَحَلَ الْعَسْكَرُ عَنِ الْمَدِينَةِ، فَتَبِعَتْهُمْ خَيْلٌ أَوْ مَسْلَحَةٌ، فَأَصَابُوا مِنْهُمْ شَيْئًا مِمَّا يَخْلُفُونَ مِنْ دَابَّةٍ أَوْ مَتَاعٍ؟ قَالَ: كَأَنَّ هَذَا أَمْرٌ وَاحِدٌ بَعْدُ، أَرَاهُمْ وَأَهْلَ الْمَدِينَةِ شُرَكَاءَ فِيمَا أَصَابُوا. قُلْتُ: فَلَوْ جَاءَ عَسْكَرٌ لَهُمْ يُرِيدُ أَنْ يَنْزِلَ عَلَى الْمَدِينَةِ، وَخَرَجَتْ إِلَيْهِمْ خَيْلٌ أَوْ مَسْلَحَةٌ فَأَصَابُوا مِنْهَا شَيْئًا عَلَى مِيلَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ، فَقَاتَلُوهُمْ فَأَصَابُوا مِنْهُمْ شَيْئًا؟
তিনি বললেন: এটি বিক্রি করা যাবে না; কারণ এর মূল্য অপছন্দনীয় (মাকরূহ), এবং আমি মনে করি না যে কারো জন্য এটি নিজের জন্য গ্রহণ করা সংগত। ৪৬ - আমি বললাম: তারা যদি বাজপাখি, ঈগল বা শিকরা পায় যা তারা (শত্রুরা) তাদের ঘরে পালন করত, তবে তা 'ফায়' (লব্ধ সম্পদ) হিসেবে বিক্রি করা হবে। আর যদি সেগুলো তাদের ঘরে লালিত সম্পদ না হয়ে থাকে, তবে তা যে পেয়েছে তার হবে। সুফিয়ানও শিকরা, বাজপাখি এবং ঈগলের ক্ষেত্রে অনুরূপ মত দিয়েছেন। ৪৭ - আওযায়ীকে জিজ্ঞেস করা হলো: হিংস্র পশুর চামড়ার বিধান কী? তিনি বললেন: সেগুলো বিক্রি করা যাবে না এবং কেউ তা নিজের জন্য নিতে পারবে না। তাঁকে বলা হলো: যদি কেউ একটি বাজপাখি পায় এবং সেটিকে শিকারের জন্য ছেড়ে দেয়, ফলে সেটি শিকার ধরে আনে অথবা বাজপাখিটি চলে যায় (তবে কী হবে)? বলা হলো: ইমাম চাইলে তাকে এর মূল্য পরিশোধের জন্য দায়ী করতে পারেন, আবার চাইলে ছেড়েও দিতে পারেন; তবে সে যখন বাজপাখিটি ছেড়ে দিয়েছিল তখন সে অন্যায় করেছিল। আর সে যা শিকার করেছে তা খাওয়া যাবে। ৪৮ - আমি আওযায়ীকে বললাম: আপনার রায় কী যদি শত্রু আমাদের শহরে আক্রমণ করে এবং আমরা তাদের থেকে গণিমত লাভ করি, তবে যারা গণিমত অর্জন করেছে তারা এবং শহরের অধিবাসীরা কি এতে অংশীদার হবে? তিনি বললেন: শত্রু যদি 'নাহরুদ দিব' (নেকড়ের নদী) বা এই জাতীয় দূরবর্তী স্থানে অবস্থান নেয় এবং শহরের লোকেরা তাদের বিরুদ্ধে বের হয়ে যায় এবং গণিমত লাভ করে, তবে খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) বের করার পর তা তাদেরই হবে, শহরের অন্যদের নয়। কিন্তু শত্রু যদি শহরের খুব কাছে অবস্থান নেয় এবং শহরের অধিবাসীরা পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে বের হয়—যাদের কেউ পাহারা দিচ্ছে, কেউ খাবার পৌঁছে দিচ্ছে এবং শহর থেকে সাহায্য আসছে—তবে খুমুস বের করার পর তারা সবাই সেই অর্জিত গণিমতে অংশীদার হবে। আর যারা 'নাহরুদ দিব'-এ অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হয়েছে, তারা অতিরিক্ত পুরস্কার (নুফল) এবং শত্রুর ব্যক্তিগত সরঞ্জাম (সালব) পাবে। ৪৯ - আমি বললাম: আপনার রায় কী যদি শত্রু সৈন্যবাহিনী শহর ত্যাগ করে চলে যায় এবং কোনো অশ্বারোহী দল বা সেনাদল তাদের পিছু নেয় এবং তারা তাদের ফেলে যাওয়া কোনো গবাদি পশু বা আসবাবপত্র লাভ করে? তিনি বললেন: এটিও পরবর্তী একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয় হিসেবে গণ্য হবে; আমি মনে করি তারা এবং শহরের অধিবাসীরা যা পাওয়া গেছে তাতে অংশীদার হবে। আমি বললাম: যদি তাদের কোনো সৈন্যবাহিনী শহরে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে আসে এবং একটি অশ্বারোহী দল বা সেনাদল তাদের বিরুদ্ধে বের হয়ে যায় এবং দুই বা তিন মাইল দূরে থাকতেই তাদের থেকে কিছু লাভ করে, অর্থাৎ তাদের সাথে যুদ্ধ করে কিছু গনীমত পায় (তবে তার বিধান কী)?
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
قَالَ: يَكُونُ لَهُمْ خَاصَّةً بَعْدَ الْخُمُسِ، وَيُسَلَّبُ هَؤُلَاءِ، وَيُنَفَّلُونَ وَإِنْ نَزَلُوا أَيْضًا عَلَى الْمَدِينَةِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَيْهِمْ قَوْمٌ فَقَاتَلُوهُمْ سُلِّبُوا وَنُفِّلُوا. 50 - قِيلَ لَهُ: فَالْحَرَسُ يَخْرُجُونَ مِنَ الْمَدِينَةِ عُسَّاسًا، فَيُخْرِجُونَ مَعَهُمْ فَارِسَانِ يَحْرُسَانِ وَيَسِيرَانِ، وَلَهُمْ عُقْبٌ عِنْدَ بَابِ الْمَدِينَةِ، فَيُصِيبُ الْفَارِسَانِ مِنَ الْعَدُوِّ شَيْئًا؟ قَالَ: هُوَ لِلْفَارِسَيْنِ بَعْدَ الْخُمُسِ، فَإِنْ كَانَ الْفَارِسَانِ لَوِ اسْتَغَاثَا أَغَاثَهُمَا الْعُقْبُ وَأَهْلُ الْمَدِينَةِ، فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ. 51 - قُلْتُ: أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ مَرْكَبًا لِلْعَدُوِّ أَلْقَاهُ الْبَحْرُ عَلَى السَّاحِلِ مَكْسُورًا فَأَصَابَهُ قَوْمٌ؟ قَالَ: هُوَ لَبَيْتِ الْمَالِ، فَإِنْ كَانَ فِيهِ عَدُوٌّ مَعَهُمْ شَيْءٌ أَوْ مَتَاعٌ، فَجَدَّدُوا لَهُمْ بِقِتَالٍ، فَهُوَ لِلَّذِينَ أَصَابُوهُ بَعْدَ الْخُمُسِ، وَإِنْ كَانَ الْعَدُوُّ عُرَاةً، وَلَا يَمْتَنِعُونَ، وَلَا يُجَدِّدُونَ لَهُمْ بِقِتَالٍ فَهُوَ لَبَيْتِ مَالِ الْمُسْلِمِينَ. قُلْتُ: وَيُنَفِّلُهُمُ الْإِمَامُ مِنْهُ إِنْ شَاءَ؟ قَالَ: مَا نَعْلَمُ النَّفْلَ يَكُونُ إِلَّا فِي أَرْضِ الْحَرْبِ، وَإِنْ شَاءَ رَضَخَ لَهُمْ جَعَائِلَ مَرَاكِبَ لَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ. قُلْتُ: فَإِنْ جَاءَتْ جَعَائِلُ لِلْعَدُوِّ، وَخَرَجَ إِلَيْهِمْ سُفُنٌ فَطَلَبُوهُمْ وَأَصَابُوا مِنْهُمْ؟ قَالَ: هُوَ لَهُمْ بَعْدَ الْخُمُسِ 52 - قُلْتُ: مُسْتَأْمَنٌ كَانَ يَمْشِي مَعَنَا فِي الْعَسْكَرِ، فَأَبْصَرَ النَّاسُ رَمَكًا، لَا يُرِيدُونَ طَلَبَهَا فَقَالَ الْمُسْتَأْمَنُ لِلْإِمَامِ: أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَنْطَلِقَ إِلَى هَذِهِ الرَّمَكِ، وَأَجِيءَ
তিনি বললেন: এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) বাদ দেওয়ার পর এটি বিশেষভাবে তাদের জন্যই হবে। এই লোকদের থেকে মালামাল কেড়ে নেওয়া হবে এবং তাদের নফল (অতিরিক্ত পুরস্কার) প্রদান করা হবে। এমনকি তারা যদি মদীনার উপরেও চড়াও হয় এবং অতঃপর একদল লোক তাদের বিরুদ্ধে বেরিয়ে এসে যুদ্ধ করে, তবে তাদের থেকে মালামাল কেড়ে নেওয়া হবে এবং তাদের নফল প্রদান করা হবে। 50 - তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: পাহারাদাররা শহর থেকে টহলদার হিসেবে বের হয় এবং তারা নিজেদের সাথে দুইজন অশ্বারোহীকে নিয়ে বের হয় যারা পাহারা দেয় ও টহল দেয়, আর শহরের ফটকে তাদের জন্য একটি সাহায্যকারী দল (উকব) প্রস্তুত থাকে। এমতাবস্থায় ঐ অশ্বারোহী দুইজন যদি শত্রুর থেকে কোনো কিছু লাভ করে তবে তার বিধান কী? তিনি বললেন: এক-পঞ্চমাংশ বাদ দেওয়ার পর তা ঐ অশ্বারোহী দুইজনের জন্য। তবে যদি অশ্বারোহী দুইজন সাহায্যের ডাক দিলে সেই সাহায্যকারী দল এবং শহরের অধিবাসীরা তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসার অবস্থায় থাকে, তবে তারা (অশ্বারোহীগণ) শহরের অধিবাসীদের মর্যাদায় গণ্য হবে। 51 - আমি বললাম: আপনার কী অভিমত যদি শত্রুদের কোনো জাহাজ সমুদ্রে ভেঙে উপকূলে আছড়ে পড়ে এবং কিছু লোক তা হস্তগত করে? তিনি বললেন: তা বায়তুল মালের জন্য। তবে যদি তাতে শত্রু থাকে এবং তাদের কাছে কোনো মালামাল বা আসবাবপত্র থাকে, আর তারা যুদ্ধের মাধ্যমে তা জয় করে, তবে এক-পঞ্চমাংশ বাদ দেওয়ার পর তা বিজয়ীদের জন্য। কিন্তু যদি শত্রুরা নিরস্ত্র হয়, প্রতিরোধ গড়ে না তোলে এবং তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধের প্রয়োজন না হয়, তবে তা মুসলিমদের বায়তুল মালের জন্য গণ্য হবে। আমি বললাম: ইমাম কি চাইলে তাদের সেখান থেকে নফল দিতে পারেন? তিনি বললেন: আমাদের জানামতে নফল কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই (দারুল হারব) হয়ে থাকে। তবে ইমাম চাইলে মালপত্রহীন জাহাজের বিনিময়ে তাদের জন্য কিছু পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে পারেন। আমি বললাম: যদি শত্রুদের কোনো রসদবাহী নৌকা আসে এবং তাদের উদ্দেশ্যে জাহাজ নিয়ে বের হয়ে তাদের ধাওয়া করা হয় ও কিছু লাভ করা হয়? তিনি বললেন: এক-পঞ্চমাংশ বাদ দেওয়ার পর তা তাদের জন্য। 52 - আমি বললাম: একজন মুস্তামিন (নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তি) আমাদের সাথে সৈন্যদলে পথ চলছিল। তখন লোকজন কিছু মাদি ঘোড়া দেখতে পেল কিন্তু তারা তা হস্তগত করার ইচ্ছা করল না। তখন মুস্তামিন ব্যক্তি ইমামকে বললেন: আপনি কি আমাকে অনুমতি দেবেন যাতে আমি এই মাদি ঘোড়াগুলোর কাছে যাই এবং নিয়ে আসি...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
مِنْهَا بِرَمَكَةٍ فَأَرْكَبَهَا وَتَكُونَ لِي دُونَ النَّاسِ، فَإِنِّي لَا أُطِيقُ الْمَشْيَ مَعَكُمْ؟ قَالَ: لَا أَرَى بِهِ بَأْسًا أَنْ يُنَفِّلَهَا إِيَّاهُ بَعْدَ الْخُمُسِ، هَذِهِ ضَرُورَةٌ 53 - قُلْتُ: نَزَلْنَا قَرْيَةً فَجَاءَنَا مُسْتَأْمَنٌ، فَدَخَلَ مَعَنَا، ثُمَّ جَعَلَ يَخْرُجُ إِلَى الْقُرَى الَّتِي نَفَى الْمُسْلِمُونَ عَنْهَا الْعَدُوَّ، فَيَجِئُ بِالْمَتَاعِ فَيَقُولُ: هَذَا مَتَاعٌ كَانَ لِي؟ قَالَ: إِنْ كَانَ حِينَ أَرَادَ الْخُرُوجَ قَالَ لِلْإِمَامِ: إِنَّهُ قَدْ بَقِيَ لِي مَتَاعٌ، فَأَخْرُجُ فَأَجِيءُ بِهِ، فَأَذِنَ لَهُ، فَهُوَ لَهُ، وَإِنْ كَانَ خَرَجَ بِغَيْرِ إِذْنِهِ فَجَاءَ بِشَيْءٍ نَفَّلَهُ مِنْهُ مَا أَرَى بَعْدَ الْخُمُسِ، وَبَقِيَّتُهُ فِي الْمَقْسَمِ. 54 - قُلْتُ: فَإِنْ قَالَ لِلْإِمَامِ: أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَخْرُجَ، فَمَا جِئْتُ بِهِ فَلِي نِصْفُهُ، لَا خُمُسَ عَلَيَّ فِيهِ فَفَعَلَ؟ قَالَ: بِئْسَ مَا صَنَعَ حِينَ شَرَطَ لَهُ أَلَّا يُخَمِّسَهُ، وَأَرَى أَنْ يَفِيَ لَهُ بِمَا جَعَلَ لَهُ. 55 - قُلْتُ: إِمَامٌ قَالَ لِرَجُلٍ مِمَّنْ مَعَهُ وَهُوَ فِي سَرِيَّةٍ انْطَلِقْ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِكَ إِلَى رُمْكٍ دُلِلْنَا عَلَيْهَا، وَلَكُمْ فِيهَا مِنَ النَّفْلِ كَذَا وَكَذَا، قَالَ: لَا إِلَّا أَنْ تَجْعَلَ لِي مِنْهَا دَابَّةً تَكُونُ لِي دُونَ أَصْحَابِي، فَفَعَلَ. قَالَ: بِئْسَ مَا صَنَعَ الْإِمَامُ حِينَ جَعَلَ لَهُ دُونَ أَصْحَابِهِ شَيْئًا؛ لِأَنَّهُ إِنَّمَا أَصَابَ مَا أَصَابَ بِقُوَّتِهِمْ، وَأَرَى أَنْ يَفِيَ لَهُ بِمَا جَعَلَ لَهُ. 56 - قِيلَ: الْإِمَامُ يَبْعَثُ السَّرِيَّةَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهَا الرَّجُلُ، وَلَهُ نِيَّةٌ فِي فَضْلِ ذَلِكَ، وَلَكِنَّهُ أَيْضًا قَدْ رَغَّبَهُ النَّفْلَ؟ قَالَ: إِنْ لَمْ يُخْرِجْهُ إِلَّا النَّفْلُ، فَأَكْرَهُ ذَلِكَ لَهُ. قُلْتُ: فَإِنْ كَانَ خَارِجًا عَلَى كُلِّ حَالٍ، وَإِنْ لَمْ يُنَفَّلُوا، وَقَدْ زَادَهُ النَّفْلُ نَشَاطًا؟
...এর মধ্য থেকে একটি ঘোড়ি যাতে আমি আরোহণ করতে পারি এবং তা অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল আমার জন্য হবে? কারণ আমি আপনাদের সাথে হেঁটে চলার সামর্থ্য রাখি না। তিনি বললেন: এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) বের করার পর তাকে সেটি অতিরিক্ত পুরস্কার (নফল) হিসেবে প্রদানে আমি কোনো সমস্যা দেখি না; এটি একটি প্রয়োজনীয়তা। 53 - আমি বললাম: আমরা একটি গ্রামে অবস্থান করলাম, তখন আমাদের কাছে একজন নিরাপত্তা প্রার্থনাকারী এল এবং আমাদের সাথে প্রবেশ করল। এরপর সে সেই গ্রামগুলোতে যেতে লাগল যেখান থেকে মুসলিমরা শত্রুদের বিতাড়িত করেছিল। সে সেখান থেকে কিছু মালামাল নিয়ে আসত এবং বলত: এগুলো আমার মাল ছিল। তিনি বললেন: যদি সে বের হওয়ার সময় ইমামকে বলে থাকে যে, 'আমার কিছু মালামাল রয়ে গেছে, আমি গিয়ে তা নিয়ে আসি', আর ইমাম তাকে অনুমতি দেন, তবে তা তারই। কিন্তু যদি সে অনুমতি ছাড়া বের হয় এবং কোনো কিছু নিয়ে আসে, তবে আমি মনে করি এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) বের করার পর তাকে সেখান থেকে কিছু নফল হিসেবে প্রদান করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ বণ্টনযোগ্য মালের অন্তর্ভুক্ত হবে। 54 - আমি বললাম: যদি সে ইমামকে বলে, 'আপনি কি আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেবেন? আমি যা নিয়ে আসব তার অর্ধেক আমার হবে এবং তাতে আমার ওপর কোনো খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) থাকবে না', আর ইমাম যদি তাই করেন? তিনি বললেন: ইমাম যখন তার জন্য খুমুস না নেওয়ার শর্তারোপ করেছেন, তখন তিনি অত্যন্ত মন্দ কাজ করেছেন। তবে আমি মনে করি ইমাম তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা যেন পূর্ণ করেন। 55 - আমি বললাম: জনৈক ইমাম একটি ছোট সেনাদলে থাকা এক ব্যক্তিকে বললেন, 'তুমি তোমার কয়েকজন সাথীকে নিয়ে সেই ঘোড়াশালের দিকে যাও যার সন্ধান আমাদের দেওয়া হয়েছে, আর তোমাদের জন্য তাতে নফল হিসেবে এত এত পরিমাণ পুরস্কার থাকবে।' তখন সে বলল, 'না, যতক্ষণ না আপনি সেখান থেকে আমার জন্য এমন একটি পশু নির্দিষ্ট করেন যা আমার সাথীদের বাদ দিয়ে কেবল আমার জন্য হবে।' এরপর ইমাম তাই করলেন। তিনি বললেন: ইমাম যখন তার সাথীদের বাদ দিয়ে তাকে এককভাবে কোনো কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তখন তিনি অত্যন্ত মন্দ কাজ করেছেন; কারণ সে যা কিছু অর্জন করেছে তা তো তাদের শক্তির সাহায্যেই করেছে। তবে আমি মনে করি ইমাম তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা যেন পূর্ণ করেন। 56 - বলা হলো: ইমাম একটি ছোট সেনাদল পাঠালেন এবং এক ব্যক্তি তাতে বের হলো। তার নিয়ত হলো ওই কাজের পুণ্য লাভ করা, কিন্তু পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষাও তাকে উৎসাহিত করেছে? তিনি বললেন: যদি তাকে কেবল পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষাই বের হতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে, তবে আমি তা তার জন্য অপছন্দ করি। আমি বললাম: যদি সে সব অবস্থাতেই বের হতে প্রস্তুত থাকে, এমনকি যদি কোনো পুরস্কার ঘোষণা করা না হতো তবুও, কিন্তু পুরস্কারের ঘোষণার কারণে তার উদ্দীপনা বৃদ্ধি পেয়েছে?
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়ার লি আবি ইসহাক আল-ফাযারী
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
قَالَ: أَرْجُو أَنْ لَا يَكُونَ بِهِ بَأْسٌ
তিনি বললেন: আমি আশা করি এতে কোনো দোষ নেই।