0/0
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: -)
الدروس المهمة لعامة الأمة   (ابن باز)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الدروس المهمة لعامة الأمة

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 32

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সাধারণ উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঠসমূহ   (ইবনে বাজ)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: সাধারণ উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঠসমূহ

লেখক: আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (মৃত্যু: ১৪২০ হিজরি)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[مقدمة]

الدروس المهمة

لعامة الأمة
[ভূমিকা]

গুরুত্বপূর্ণ পাঠসমূহ

উম্মতের সাধারণ মানুষের জন্য
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، وصلى الله وسلم على عبده ورسوله نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين.

أما بعد:

فهذه كلمات موجزة في بيان بعض ما يجب أن يعرفه العامة عن دين الإسلام، سميتها: (الدروس المهمة لعامة الأمة) .

وأسأل الله أن ينفع بها المسلمين، وأن يتقبلها مني، إنه جواد كريم.

عبد العزيز بن عبد الله بن باز
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর:

ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জনসাধারণের জন্য যা জানা আবশ্যক, তার কতিপয় বিষয়ের বর্ণনায় এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। আমি এর নামকরণ করেছি: (উম্মতের সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঠসমূহ)।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও পরম দয়ালু।

আব্দুল আজীজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[الدرس الأول سورة الفاتحة وقصار السور]

الدروس المهمة لعامة الأمة (1) الدرس الأول: سورة الفاتحة وقصار السور سورة الفاتحة وما أمكن من قصار السور، من سورة الزلزلة إلى سورة الناس، تلقينا، وتصحيحًا للقراءة، وتحفيظًا، وشرحًا لما يجب فهمه.

 

‌‌[الدرس الثاني أركان الإسلام]

الدرس الثاني: أركان الإسلام بيان أركان الإسلام الخمسة، وأولها وأعظمها: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله بشرح

--------------------------------------------

(1) نشرت في كتاب سماحته (مجموع فتاوى ومقالات متنوعة) الجزء الثالث، ص (288- 298) .
[প্রথম পাঠ: সূরা আল-ফাতিহা ও ছোট সূরাসমূহ]

সাধারণ উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঠসমূহ (১) প্রথম পাঠ: সূরা আল-ফাতিহা ও ছোট সূরাসমূহ। সূরা আল-ফাতিহা এবং সূরা আয-যিলযাল থেকে সূরা আন-নাস পর্যন্ত সাধ্যমতো ছোট সূরাসমূহ; যা সরাসরি শ্রবণ ও গ্রহণের (تلقيا) মাধ্যমে তিলাওয়াত সংশোধন, মুখস্থকরণ এবং যা অনুধাবন করা আবশ্যক তার ব্যাখ্যাসহ।

 

[দ্বিতীয় পাঠ: ইসলামের রুকনসমূহ]

দ্বিতীয় পাঠ: ইসলামের রুকনসমূহ। ইসলামের পাঁচটি রুকনের বর্ণনা; যার প্রথম এবং সর্বপ্রধান হলো: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল—এর ব্যাখ্যাসহ।

--------------------------------------------

(১) এটি তাঁর মহোদয়ের গ্রন্থ ‘মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ’, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা (২৮৮-২৯৮)-এ প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
معانيها، مع بيان شروط لا إله إلا الله، ومعناها: (لا إله) نافيا جميع ما يعبد من دون الله، (إلا الله) مثبتا العبادة لله وحده لا شريك له. وأما شروط (لا إله إلا الله) فهي: العلم المنافي للجهل، واليقين المنافي للشك، والإخلاص المنافي للشرك، والصدق المنافي للكذب، والمحبة المنافية للبغض، والانقياد المنافي للشرك، والقبول المنافي للرد، والكفر بما يعبد من دون الله. وقد جمعت في البيتين الآتيين:

علم يقين وإخلاص وصدقك مع … محبة وانقياد والقبول لها

وزيد ثامنها الكفران منك بما … سوى الإله من الأشياء قد ألها

مع بيان شهادة أن محمدا رسول الله، ومقتضاها: تصديقه فيما أخبر، وطاعته فيما أمر، واجتناب ما نهى عنه وزجر، وألا يعبد الله إلا بما شرعه الله عز وجل، ورسوله صلى الله عليه وسلم.
এর অর্থসমূহ, সাথে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর শর্তাবলির বর্ণনা। আর এর অর্থ হলো: (লা ইলাহা) যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল উপাস্যকে অস্বীকারকারী, (ইল্লাল্লাহ) যা কোনো শরিক ব্যতীত একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে সাব্যস্তকারী। আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর শর্তাবলি হলো: জ্ঞান যা অজ্ঞতার পরিপন্থী, দৃঢ় বিশ্বাস যা সন্দেহের পরিপন্থী, একনিষ্ঠতা যা শিরকের পরিপন্থী, সত্যবাদিতা (الصدق) যা মিথ্যার (الكذب) পরিপন্থী, ভালোবাসা যা ঘৃণার পরিপন্থী, আনুগত্য যা শিরকের পরিপন্থী, গ্রহণ (القبول) যা প্রত্যাখ্যানের (الرد) পরিপন্থী এবং আল্লাহ ব্যতীত যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা অস্বীকার করা। এগুলো নিম্নোক্ত দুটি পঙ্ক্তিতে সংকলিত হয়েছে:

জ্ঞান, দৃঢ় বিশ্বাস, একনিষ্ঠতা ও তোমার সত্যবাদিতা (الصدق) সাথে … ভালোবাসা, আনুগত্য ও তা গ্রহণ (القبول)

আর অষ্টম শর্ত হিসেবে তোমার পক্ষ থেকে সেই সব বিষয়কে অস্বীকার করা যুক্ত হয়েছে … যা ইলাহ ব্যতীত অন্যান্য বস্তু থেকে উপাস্য সাব্যস্ত করা হয়েছে

সাথে 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' সাক্ষ্যের বর্ণনা এবং এর দাবি হলো: তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, যা আদেশ করেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা, যা থেকে নিষেধ ও বারণ করেছেন তা পরিহার করা এবং আল্লাহ তাআলার ইবাদত কেবল সেই পন্থায় করা যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিধিবদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ثم يبين للطالب بقية أركان الإسلام الخمسة، وهي: الصلاة، والزكاة، وصوم رمضان، وحج بيت الله الحرام لمن استطاع إليه سبيلا.

 

‌‌[الدرس الثالث أركان الإيمان]

الدرس الثالث: أركان الإيمان أركان الإيمان، وهي ستة: أن تؤمن بالله وملائكته، وكتبه، ورسله، وباليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره من الله تعالى.

 

‌‌[الدرس الرابع أقسام التوحيد وأقسام الشرك]

الدرس الرابع: أقسام التوحيد وأقسام الشرك بيان أقسام التوحيد، وهي ثلاثة: توحيد الربوبية، وتوحيد الألوهية، وتوحيد الأسماء والصفات.

أما توحيد الربوبية: فهو الإيمان بأن الله سبحانه
এরপর শিক্ষার্থীর নিকট ইসলামের অবশিষ্টাংশ পাঁচটি রুকন (أركان) বর্ণনা করা হবে, আর সেগুলো হলো: সালাত, যাকাত, রমজানের সিয়াম (صوم) এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ করা।

 

‌‌[তৃতীয় পাঠ: ঈমানের রুকনসমূহ (أركان الإيمان)]

তৃতীয় পাঠ: ঈমানের রুকনসমূহ (أركান الإيمان)। ঈমানের রুকনসমূহ হলো ছয়টি: আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস (اليوم الآخر) এবং ভাগ্যের (القدر) ভালো ও মন্দের প্রতি যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত।

 

‌‌[চতুর্থ পাঠ: তাওহীদের (توحيد) প্রকারভেদ এবং শিরকের (شرك) প্রকারভেদ]

চতুর্থ পাঠ: তাওহীদের (توحيد) প্রকারভেদ এবং শিরকের (شرك) প্রকারভেদ। তাওহীদের (توحيد) প্রকারসমূহের বর্ণনা, যা তিনটি: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ (توحيد الربوبية), তাওহীদে উলুহিয়্যাহ (توحيد الألوهية) এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত (توحيد الأسماء والصفات)।

আর তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ (توحيد الربوبية) হলো: এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত...
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الخالق لكل شيء، والمتصرف في كل شيء، لا شريك له في ذلك.

وأما توحيد الألوهية: فهو الإيمان بأن الله سبحانه هو المعبود بحق لا شريك له في ذلك، وهو معنى لا إله إلا الله، فإن معناها: لا معبود حق إلا الله، فجميع العبادات من صلاة وصوم وغير ذلك يجب إخلاصها لله وحده، ولا يجوز صرف شيء منها لغيره.

وأما توحيد الأسماء والصفات: فهو الإيمان بكل ما ورد في القرآن الكريم، أو الأحاديث الصحيحة من أسماء الله وصفاته، وإثباتها لله وحده على الوجه اللائق به سبحانه من غير تحريف، ولا تعطيل، ولا تكييف، ولا تمثيل؛ عملا بقول الله سبحانه: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 1 - 4] وقوله عز وجل: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] وقد جعلها بعض أهل العلم نوعين، وأدخل توحيد الأسماء والصفات في توحيد الربوبية،
তিনি প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং প্রত্যেক বস্তুর নিয়ন্ত্রক, এতে তাঁর কোনো অংশীদার নেই।

আর তাওহিদে উলুহিয়্যাহ হলো: এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই একমাত্র সত্য উপাস্য, এতে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর এটাই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ। কেননা এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। অতএব সালাত, সিয়াম এবং অন্যান্য সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্যই একনিষ্ঠভাবে পালন করা আবশ্যক এবং এর কোনো অংশই অন্য কারো জন্য নিবেদন করা বৈধ নয়।

আর তাওহিদুল আসমা ওয়াস-সিফাত হলো: পবিত্র কুরআন অথবা সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহে আল্লাহর যে সকল নাম ও গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা এবং কোনো প্রকার বিকৃতি, অকার্যকরকরণ, ধরন নির্ধারণ কিংবা সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য তাঁর শানের সাথে সংগতিপূর্ণ পন্থায় তা সাব্যস্ত করা; যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এই বাণীর ওপর আমলস্বরূপ: {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} [সূরা আল-ইখলাস: ১-৪] এবং তাঁর বাণী: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [সূরা আশ-শুরা: ১১]। কোনো কোনো আলেম একে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং তাওহিদুল আসমা ওয়াস-সিফাতকে তাওহিদে রুবুবিয়্যাহ-র অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ولا مشاحة في ذلك؛ لأن المقصود واضح في كلا التقسيمين.

وأقسام الشرك ثلاثة: شرك أكبر، وشرك أصغر، وشرك خفي.

فالشرك الأكبر: يوجب حبوط العمل والخلود في النار لمن مات عليه، كما قال الله تعالى: {وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأنعام: 88] وقال سبحانه: {مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَنْ يَعْمُرُوا مَسَاجِدَ اللَّهِ شَاهِدِينَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ} [التوبة: 17] وأن من مات عليه فلن يغفر له، والجنة عليه حرام، كما قال الله عز وجل: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48] وقال سبحانه: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ} [المائدة: 72]

ومن أنواعه: دعاء الأموات، والأصنام، والاستغاثة بهم، والنذر لهم، والذبح لهم، ونحو ذلك.

أما الشرك الأصغر: فهو ما ثبت بالنصوص من
এতে কোনো বিবাদ বা মতবিরোধ নেই; কারণ উভয় প্রকার বিভাজনেই উদ্দেশ্য স্পষ্ট।

আর শিরকের প্রকারভেদ তিনটি: বড় শিরক (شرك أكبر), ছোট শিরক (شرك أصغر) এবং গোপন শিরক (شرك خفي)।

বড় শিরক (الشرك الأكبر): এটি আমল বাতিল হওয়া এবং যারা এর ওপর মৃত্যুবরণ করবে তাদের জন্য চিরকাল জাহান্নামে থাকা অবধারিত করে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তারা যদি শিরক করত, তবে তারা যা আমল করত তা অবশ্যই তাদের থেকে নিষ্ফল হয়ে যেত} [আল-আনআম: ৮৮]। এবং পবিত্র ও মহান সত্তা বলেন: {মুশরিকদের জন্য এটা সংগত নয় যে, তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফুরীর সাক্ষ্য দিচ্ছে। এদেরই আমলসমূহ নিষ্ফল হয়েছে এবং আগুনেই তারা চিরকাল অবস্থান করবে} [আত-তাওবা: ১৭]। আর যে ব্যক্তি এর ওপর মৃত্যুবরণ করবে তাকে কখনোই ক্ষমা করা হবে না এবং জান্নাত তার জন্য হারাম; যেমন মহামহিম ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন} [আন-নিসা: ৪৮]। এবং পবিত্র ও মহান সত্তা বলেন: {নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার ওপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম; আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই} [আল-মায়িদা: ৭২]।

এর প্রকারভেদের মধ্যে রয়েছে: মৃত ব্যক্তিদের ডাকা, মূর্তির নিকট প্রার্থনা করা, তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা (الاستغاثة) করা, তাদের নামে মানত (النذر) করা, তাদের উদ্দেশ্যে যবেহ (الذبح) করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।

আর ছোট শিরক (الشرك الأصغر): এটি হলো যা দলিলসমূহ (النصوص) থেকে প্রমাণিত...
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الكتاب أو السنة تسميته شركا، ولكنه ليس من جنس الشرك الأكبر؛ كالرياء في بعض الأعمال، والحلف بغير الله، وقول: ما شاء الله وشاء فلان، ونحو ذلك؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «أخوف ما أخاف عليكم الشرك الأصغر» فسئل عنه، فقال: «الرياء» رواه الإمام أحمد، والطبراني، والبيهقي، عن محمود بن لبيد الأنصاري رضي الله عنه بإسناد جيد، ورواه الطبراني بأسانيد جيدة، عن محمود بن لبيد، عن رافع بن خديج، عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وقوله صلى الله عليه وسلم: «من حلف بشيء دون الله ففد أشرك» رواه الإمام أحمد بإسناد صحيح، عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ورواه أبو داود، والترمذي بإسناد صحيح، من حديث ابن عمر رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من حلف بغير الله فقد كفر أو أشرك» وقوله صلى الله عليه وسلم: «لا تقولوا: ما شاء الله وشاء فلان، ولكن قولوا: ما شاء الله ثم شاء فلان» أخرجه أبو داود بإسناد صحيح، عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه.
কিতাব বা সুন্নাহতে যাকে শিরক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, কিন্তু তা বড় শিরক (الشرك الأكبر) এর পর্যায়ভুক্ত নয়; যেমন কোনো কোনো আমলে রিয়া বা লোক দেখানো (الرياء), আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কসম করা এবং এ কথা বলা: "আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং অমুক যা চেয়েছেন" ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি তোমাদের ব্যাপারে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি তা হলো ছোট শিরক (الشرك الأصغر)।" তখন তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "রিয়া বা লোক দেখানো (الرياء)।" এটি ইমাম আহমাদ, তাবারানি এবং বায়হাকি মাহমুদ বিন লাবিদ আল-আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একটি উত্তম সনদ (إسناد جيد) সহ বর্ণনা করেছেন। তাবারানি এটি মাহমুদ বিন লাবিদের সূত্রে রাফে ইবনে খাদিজ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক উত্তম সনদসমূহের (أسانيد جيدة) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম করল সে শিরক করল।" এটি ইমাম আহমাদ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একটি সহিহ সনদ (إسناد صحيح) সহ বর্ণনা করেছেন। আর আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে একটি সহিহ সনদ (إسناد صحيح) সহ বর্ণনা করেছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করল সে কুফরি করল অথবা শিরক করল।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা বলো না: 'আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং অমুক যা চেয়েছেন', বরং বলো: 'আল্লাহ যা চেয়েছেন এরপর অমুক যা চেয়েছেন'।" এটি আবু দাউদ হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একটি সহিহ সনদ (إسناد صحيح) সহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وهذا النوع لا يوجب الردة، ولا يوجب الخلود في النار، ولكنه ينافي كمال التوحيد الواجب.

أما النوع الثالث: وهو الشرك الخفي، فدليله قول النبي صلى الله عليه وسلم: «ألا أخبركم بما هو أخوف عليكم عندي من المسيح الدجال؟ قالوا: بلى يا رسول الله، قال: الشرك الخفي، يقوم الرجل فيصلي فيزين صلاته لما يرى من نظر الرجل إليه» رواه الإمام أحمد في مسنده، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.

ويجوز أن يقسم الشرك إلى نوعين فقط: أكبر وأصغر، أما الشرك الخفي فإنه يعمهما.

فيقع في الأكبر، كشرك المنافقين؛ لأنهم يخفون عقائدهم الباطلة، ويتظاهرون بالإسلام رياء، وخوفا على أنفسهم.

ويكون في الشرك الأصغر، كالرياء، كما في حديث محمود بن لبيد الأنصاري المتقدم، وحديث أبي سعيد المذكور. والله ولي التوفيق.
এই প্রকারটি ধর্মত্যাগ আবশ্যক করে না এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়াও অবধারিত করে না, তবে এটি ওয়াজিব তাওহীদের পূর্ণতার পরিপন্থী।

আর তৃতীয় প্রকার হলো: গোপন শিরক (الشرك الخفي); এর প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি কি তোমাদের এমন বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেব না, যা আমার নিকট তোমাদের জন্য মাসীহ দাজ্জালের চেয়েও অধিক ভীতিপ্রদ? তাঁরা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: গোপন শিরক (الشرك الخفي); কোনো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে এবং তার সালাতকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার প্রয়াস পায় যখন সে লক্ষ্য করে যে কোনো ব্যক্তি তার দিকে তাকিয়ে আছে।" এটি ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর শিরককে কেবল দুই প্রকারে বিভক্ত করা বৈধ: বড় (أكبر) এবং ছোট (أصغر); আর গোপন শিরক (الخفي) এই উভয় প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

সুতরাং এটি বড় শিরকের (الأكبر) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যেমন মুনাফিকদের শিরক; কারণ তারা তাদের বাতিল আকিদা গোপন রাখে এবং লোকদেখানো (رياء) মানসিকতা ও নিজেদের প্রাণের ভয়ে বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করে।

আবার এটি ছোট শিরকের (الأصغر) অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন লোকদেখানো ইবাদত (الرياء); যেমনটি মাহমুদ ইবনে লাবীদ আল-আনসারী বর্ণিত পূর্বোল্লিখিত হাদিসে এবং আবু সাঈদের উল্লিখিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌[الدرس الخامس الإحسان]

الدرس الخامس: الإحسان ركن الإحسان، وهو: أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك.

 

‌‌[الدرس السادس شروط الصلاة]

الدرس السادس: شروط الصلاة شروط الصلاة، وهي تسعة:

الإسلام، والعقل، والتمييز، ورفع الحدث، وإزالة النجاسة، وستر العورة، ودخول الوقت، واستقبال القبلة، والنية.
‌‌[পঞ্চম পাঠ: ইহসান (الإحسان)]

পঞ্চম পাঠ: ইহসান (الإحسان)। ইহসানের রুকন (ركن) হলো: আপনি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।

 

‌‌[ষষ্ঠ পাঠ: সালাতের শর্তাবলি (شروط الصلاة)]

ষষ্ঠ পাঠ: সালাতের শর্তাবলি (شروط الصلاة)। সালাতের শর্তাবলি (شروط الصلاة), আর তা নয়টি:

ইসলাম (الإسلام), বিবেক (العقل), বিচক্ষণতা (التمييز), অপবিত্রতা দূরীকরণ (رفع الحدث), নাপাকি দূর করা (إزالة النجاسة), সতর ঢাকা (ستر العورة), ওয়াক্ত শুরু হওয়া (دخول الوقت), কিবলামুখী হওয়া (استقبال القبلة) এবং নিয়ত (النية)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌[الدرس السابع أركان الصلاة]

الدرس السابع: أركان الصلاة أركان الصلاة، وهي أربعة عشر:

القيام مع القدرة، وتكبيرة الإحرام، وقراءة الفاتحة، والركوع، والاعتدال بعد الركوع، والسجود على الأعضاء السبعة، والرفع منه، والجلسة بين السجدتين، والطمأنينة في جميع الأفعال، والترتيب بين الأركان، والتشهد الأخير، والجلوس له، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، والتسليمتان.

 

‌‌[الدرس الثامن واجبات الصلاة]

الدرس الثامن: واجبات الصلاة واجبات الصلاة، وهي ثمانية:

جميع التكبيرات غير تكبيرة الإحرام، وقول: (سمع الله لمن حمده) للإمام والمنفرد، وقول: (ربنا ولك
[সপ্তম পাঠ: সালাতের রোকনসমূহ]

সপ্তম পাঠ: সালাতের রোকনসমূহ। সালাতের রোকনসমূহ চৌদ্দটি:

সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা, তাকবিরে তাহরিমা, সূরা ফাতিহা পাঠ করা, রুকু করা, রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, শরীরের সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদাহ করা, সিজদাহ থেকে ওঠা, দুই সিজদাহর মাঝে বসা, সমস্ত কার্যাবলিতে স্থিরতা বজায় রাখা, রোকনসমূহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, শেষ তাশাহহুদ, শেষ তাশাহহুদের জন্য বসা, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা এবং দুই দিকে সালাম ফিরানো।

 

[অষ্টম পাঠ: সালাতের ওয়াজিবসমূহ]

অষ্টম পাঠ: সালাতের ওয়াজিবসমূহ। সালাতের ওয়াজিবসমূহ আটটি:

তাকবিরে তাহরিমা ব্যতীত অন্যান্য সকল তাকবির বলা, ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলা এবং ‘রব্বানা ওয়া লাকাল...’ বলা
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الحمد) للكل، وقول: (سبحان ربي العظيم) في الركوع، وقول: (سبحان ربي الأعلى) في السجود، وقول: (رب اغفر لي) بين السجدتين، والتشهد الأول، والجلوس له.

 

‌‌[الدرس التاسع بيان التشهد]

الدرس التاسع: بيان التشهد بيان التشهد، وهو أن يقول:

(التحيات لله، والصلوات، والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد ألا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله) .

ثم يصلي على النبي صلى الله عليه وسلم ويبارك عليه، فيقول: (اللهم صل على محمد، وعلى آل محمد، كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، إنك حميد مجيد، وبارك على محمد، وعلى آل محمد، كما باركت على
(আল-হামদু) সকলের জন্য; এবং রুকুতে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ (আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি) বলা; সিজদায় ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ (আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি) বলা; দুই সিজদার মাঝখানে ‘রাব্বিগফির লি’ (হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন) বলা; এবং প্রথম তাশাহহুদ ও তার জন্য বসা।

 

‌‌[নবম পাঠ: তাশাহহুদের বর্ণনা]

নবম পাঠ: তাশাহহুদের বর্ণনা; আর তা হলো এই বলা যে:

(যাবতীয় অভিবাদন আল্লাহর জন্য, সমস্ত সালাত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল)।

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে এবং তাঁর ওপর বরকত কামনায় দোয়া করবে; ফলে সে বলবে: (হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর দরুদ বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেভাবে আপনি বরকত নাজিল করেছেন...
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
إبراهيم، وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد) .

ثم يستعيذ بالله في التشهد الأخير من عذاب جهنم، ومن عذاب القبر، ومن فتنة المحيا والممات، ومن فتنة المسيح الدجال، ثم يَتَخير من الدعاء ما شاء، ولا سيما المأثور من ذلك، ومنه:

(اللهم أَعِني على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك، اللهم إني ظلمت نفسي ظلما كثيرا، ولا يغفر الذنوب إلا أنت، فاغفر لي مغفرة من عندك، وارحمني إنك أنت الغفور الرحيم) .

أما في التشهد الأول فيقوم بعد الشهادتين إلى الثالثة في الظهر والعصر والمغرب والعشاء، وإن صلى على النبي صلى الله عليه وسلم فهو أفضل؛ لعموم الأحاديث في ذلك، ثم يقوم إلى الثالثة.
ইবরাহিম এবং ইবরাহিমের বংশধরদের উপর; নিশ্চয়ই আপনি পরম প্রশংসিত ও মহিমান্বিত)।

অতঃপর তিনি শেষ তাশাহহুদ (تشهد)-এ জাহান্নামের আজাব, কবরের আজাব, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবেন। এরপর তিনি পছন্দমতো যেকোনো দোয়া পাঠ করবেন, বিশেষ করে বর্ণিত (مأثور) দোয়াগুলো; যার মধ্যে রয়েছে:

(হে আল্লাহ, আপনার জিকির, আপনার শুকরিয়া এবং আপনার সুন্দর ইবাদত পালনে আমাকে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ, আমি নিজের নফসের ওপর অনেক জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া অন্য কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। অতএব, আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে মার্জনা দান করুন এবং আমার প্রতি রহম করুন; নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু)।

পক্ষান্তরে প্রথম তাশাহহুদ (تشهد)-এর ক্ষেত্রে তিনি জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজে সাক্ষ্যদ্বয় (شهادتين) পাঠের পর তৃতীয় রাকাতের জন্য দণ্ডায়মান হবেন। যদি তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করেন তবে তা উত্তম; এই সংক্রান্ত হাদিসসমূহের ব্যাপকতার কারণে। অতঃপর তিনি তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌[الدرس العاشر سنن الصلاة]

الدرس العاشر: سنن الصلاة سنن الصلاة، ومنها:

1 - الاستفتاح.

2 - جعل كف اليد اليمنى على اليسرى فوق الصدر حين القيام، قبل الركوع وبعده.

3 - رفع اليدين مضمومتي الأصابع ممدودة حذو المنكبين أو الأذنين عند التكبير الأول، وعند الركوع، والرفع منه، وعند القيام من التشهد الأول إلى الثالثة.

4 - ما زاد عن واحدة في تسبيح الركوع والسجود.

5 - ما زاد على قول: (ربنا ولك الحمد) بعد القيام من الركوع، وما زاد عن واحدة في الدعاء بالمغفرة بين السجدتين.

6 - جعل الرأس حيال الظهر في الركوع.

7 - مجافاة العضدين عن الجنبين، والبطن عن الفخذين، والفخذين عن الساقين في السجود.

8 - رفع الذراعين عن الأرض حين السجود.
[দশম পাঠ: নামাজের সুন্নাতসমূহ (سنن)]

দশম পাঠ: নামাজের সুন্নাতসমূহ (سنن)। নামাজের সুন্নাতসমূহ (سنن), যার মধ্যে রয়েছে:

1 - ইস্তিফতাহ (الاستفتاح) বা প্রারম্ভিক দোয়া।

2 - কিয়ামের অবস্থায় (দাঁড়িয়ে থাকাকালীন), রুকুর পূর্বে এবং পরে ডান হাতের তালু বাম হাতের ওপর বুকের উপরে রাখা।

3 - প্রথম তাকবিরের সময়, রুকুতে যাওয়ার সময়, রুকু থেকে উঠার সময় এবং প্রথম তাশাহহুদ থেকে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর সময় আঙ্গুলগুলো মিলিত ও প্রসারিত অবস্থায় কাঁধ বা কান বরাবর উভয় হাত উত্তোলন করা।

4 - রুকু ও সিজদার তাসবিহ (تسبيح) একবারের বেশি পাঠ করা।

5 - রুকু থেকে দাঁড়ানোর পর 'রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ' বলার অতিরিক্ত অংশ পাঠ করা এবং দুই সিজদার মাঝখানে ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া একবারের বেশি পাঠ করা।

6 - রুকু করার সময় মাথাকে পিঠের সমান্তরালে রাখা।

7 - সিজদার সময় দুই বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে, পেটকে দুই উরু থেকে এবং দুই উরুকে দুই নলা থেকে পৃথক রাখা।

8 - সিজদার সময় উভয় বাহু (কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত অংশ) মাটি থেকে উপরে রাখা।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
9 - جلوس المصلي على رجله اليسرى مفروشة، ونصب اليمنى في التشهد الأول وبين السجدتين.

10 - التورك في التشهد الأخير في الرباعية والثلاثية وهو: الجلوس على مقعدته وجعل رجله اليسرى تحت اليمنى ونصب اليمنى.

11 - الإشارة بالسبابة في التشهد الأول والثاني من حين جلس إلى نهاية التشهد وتحريكها عند الدعاء.

12 - الصلاة والتبريك على محمد، وآل محمد، وعلى إبراهيم، وآل إبراهيم في التشهد الأول.

13 - الدعاء في التشهد الأخير.

14 - الجهر بالقراءة في صلاة الفجر، وصلاة الجمعة، وصلاة العيدين، والاستسقاء، وفي الركعتين الأوليين من صلاة المغرب والعشاء.

15 - الإسرار بالقراءة في الظهر، والعصر، وفي الثالثة من المغرب، والأخيرتين من العشاء.

16 - قراءة ما زاد عن الفاتحة من القرآن، مع مراعاة بقية ما ورد من السنن في الصلاة سوى ما ذكرنا، ومن ذلك:
9 - প্রথম তাশাহহুদ এবং দুই সিজদার মাঝখানে নামায আদায়কারীর বাম পা বিছিয়ে তার ওপর বসা এবং ডান পা খাড়া রাখা।

10 - চার রাকাআত এবং তিন রাকাআত বিশিষ্ট নামাযের শেষ তাশাহহুদে তাওয়াররুক (التورك) করা; আর তা হলো: নিজের নিতম্বের ওপর বসা এবং বাম পা-কে ডান পায়ের নিচ দিয়ে বের করে দেওয়া ও ডান পা খাড়া রাখা।

11 - প্রথম ও দ্বিতীয় তাশাহহুদে বসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তর্জনী আঙুল দিয়ে ইশারা করা এবং দোয়ার সময় তা নাড়ানো।

12 - প্রথম তাশাহহুদে মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ এবং ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ ও বরকত পাঠ করা।

13 - শেষ তাশাহহুদে দোয়া করা।

14 - ফজর, জুমুআ, দুই ঈদ ও ইস্তিসকার নামাযে এবং মাগরিব ও এশার প্রথম দুই রাকাআতে উচ্চস্বরে (الجهر) কিরাত পাঠ করা।

15 - জোহর ও আসর নামাযে এবং মাগরিবের তৃতীয় রাকাআত ও এশার শেষ দুই রাকাআতে নিচুস্বরে (الإسرار) কিরাত পাঠ করা।

16 - সূরা ফাতিহার অতিরিক্ত অংশ কুরআন থেকে পাঠ করা; এর সাথে নামাযের উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়াও বর্ণিত অন্যান্য সুন্নাতগুলোর (السنن) প্রতি লক্ষ্য রাখা, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ما زاد على قول المصلي: (ربنا ولك الحمد) ، بعد الرفع من الركوع في حق الإمام، والمأموم، والمنفرد، فإنه سنة، ومن ذلك أيضا: وضع اليدين على الركبتين مفرجتي الأصابع حين الركوع.

 

‌‌[الدرس الحادي عشر مبطلات الصلاة]

الدرس الحادي عشر: مبطلات الصلاة مبطلات الصلاة، وهي ثمانية:

1 - الكلام العمد مع الذكر والعلم، أما الناسي والجاهل فلا تبطل صلاته بذلك.

2 - الضحك.

3 - الأكل.

4 - الشرب.

5 - انكشاف العورة.

6 - الانحراف الكثير عن جهة القبلة.

7 - العبث الكثير المتوالي في الصلاة.

8 - انتقاض الطهارة.
রুকু থেকে ওঠার পর ইমাম, মুক্তাদি এবং একাকী নামাজ আদায়কারীর জন্য 'রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ' বলার অতিরিক্ত যা কিছু পাঠ করা হয় তা সুন্নত (سنة); আর রুকুর সময় আঙুলগুলো ফাঁকা রেখে দুই হাত হাঁটুর ওপর রাখাও এর অন্তর্ভুক্ত।

 

‌‌[একাদশ পাঠ: নামাজ ভঙ্গের কারণসমূহ]

একাদশ পাঠ: নামাজ ভঙ্গের কারণসমূহ। নামাজ ভঙ্গের কারণসমূহ, আর তা হলো আটটি:

১ - স্মরণ থাকা এবং বিধান জানা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলা। তবে বিস্মৃত ব্যক্তি এবং অজ্ঞ ব্যক্তির নামাজ এর মাধ্যমে বাতিল হবে না।

২ - হাসাহাসি করা।

৩ - আহার করা।

৪ - পান করা।

৫ - সতর উন্মুক্ত হওয়া।

৬ - কিবলার দিক থেকে অত্যধিক বিচ্যুত হওয়া।

৭ - নামাজে ক্রমাগত অত্যধিক অনর্থক কাজ বা নড়াচড়া করা।

৮ - পবিত্রতা নষ্ট হওয়া।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌[الدرس الثاني عشر شروط الوضوء]

الدرس الثاني عشر: شروط الوضوء شروط الوضوء، وهي عشرة:

الإسلام، والعقل، والتمييز، والنية، واستصحاب حكمها بأن لا ينوي قطعها حتى تتم طهارته، وانقطاع موجب الوضوء، واستنجاء أو استجمار قبله، وطهورية ماءه وإباحته، وإزالة ما يمنع وصوله إلى البشرة، ودخول وقت الصلاة في حق من حدثه دائم.

 

‌‌[الدرس الثالث عشر فروض الوضوء]

الدرس الثالث عشر: فروض الوضوء فروض الوضوء، وهي ستة:

غسل الوجه ومنه المضمضة والاستنشاق، وغسل اليدين مع المرفقين، ومسح جميع الرأس ومنه الأذنان، وغسل الرجلين مع الكعبين، والترتيب، والموالاة.
‌‌[দ্বাদশ পাঠ: ওজুর শর্তাবলি]

দ্বাদশ পাঠ: ওজুর শর্তাবলি। ওজুর শর্তাবলি দশটি:

ইসলাম, আকল (العقل) বা বিচারবুদ্ধি, তাময়িজ (التمييز) বা বিচক্ষণতা, নিয়ত (النية), এবং নিয়তের হুকুম অব্যাহত রাখা (استصحاب حكمها)—অর্থাৎ পবিত্রতা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ওজু ভঙ্গের নিয়ত না করা; ওজু ওয়াজিবকারী অবস্থা বন্ধ হওয়া; ওজুর পূর্বে ইস্তিনজা (استنجاء) অথবা ইস্তিজমার (استجمار) করা; পানির পবিত্রতা ও তার বৈধতা; চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু দূর করা; এবং যার স্থায়ী অপবিত্রতা (حدث دائم) রয়েছে তার জন্য নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়া।

 

‌‌[ত্রয়োদশ পাঠ: ওজুর ফরজসমূহ]

ত্রয়োদশ পাঠ: ওজুর ফরজসমূহ। ওজুর ফরজসমূহ ছয়টি:

মুখমণ্ডল ধৌত করা—যার অন্তর্ভুক্ত কুলি করা (المضمضة) ও নাকে পানি দেওয়া (الاستنشاق); কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা; কানসহ সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ করা; টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করা; ধারাবাহিকতা (الترتيب) ও বিরতিহীনতা (الموالاة)।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ويستحب تكرار غسل الوجه، واليدين، والرجلين ثلاث مرات، وهكذا المضمضة، والاستنشاق، والفرض من ذلك مرة واحدة، أما مسح الرأس فلا يستحب تكراره كما دلت على ذلك الأحاديث الصحيحة.

 

‌‌[الدرس الرابع عشر نواقض الوضوء]

الدرس الرابع عشر: نواقض الوضوء نواقض الوضوء، وهي ستة:

الخارج من السبيلين، والخارج الفاحش النجس من الجسد، وزوال العقل بنوم أو غيره، ومس الفرج باليد قبلا كان أو دبرا من غير حائل، وأكل لحم الإبل، والردة عن الإسلام، أعاذنا الله والمسلمين من ذلك.

تنبيه هام: أما غسل الميت: فالصحيح أنه لا ينقض الوضوء، وهو قول أكثر أهل العلم؛ لعدم الدليل على ذلك، لكن لو أصابت يد الغاسل فرج الميت من غير حائل وجب عليه الوضوء.
মুখমণ্ডল, দুই হাত এবং দুই পা তিনবার করে ধৌত করা মুস্তাহাব, অনুরূপভাবে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়াও। এগুলোর মধ্যে একবার ধৌত করা ফরজ, তবে মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি মুস্তাহাব নয়; যেমনটি সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।

 

‌‌[চতুর্দশ পাঠ: অজু ভঙ্গের কারণসমূহ]

চতুর্দশ পাঠ: অজু ভঙ্গের কারণসমূহ। অজু ভঙ্গের কারণ ছয়টি:

দুই পথ (মল ও মূত্রদ্বার) দিয়ে যা নির্গত হয়, শরীর থেকে নির্গত অধিক পরিমাণ অপবিত্র বস্তু, ঘুম বা অন্য কোনো কারণে জ্ঞান লোপ পাওয়া, কোনো অন্তরায় ব্যতীত সরাসরি হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা—তা সামনের পথ হোক বা পেছনের, উটের গোশত খাওয়া এবং ইসলাম ধর্ম থেকে বিচ্যুত হওয়া (মুরতাদ হওয়া); আল্লাহ আমাদের এবং সকল মুসলিমকে তা থেকে রক্ষা করুন।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা: মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর ক্ষেত্রে সঠিক (الصحيح) মত হলো এতে অজু ভঙ্গ হয় না। এটি অধিকাংশ ইলম অন্বেষী আলেমদের অভিমত; কারণ এর সপক্ষে কোনো (বিপরীত) দলিল নেই। তবে যদি গোসলদাতার হাত কোনো অন্তরায় ব্যতীত মৃতের লজ্জাস্থানে লাগে, তবে তার ওপর অজু করা ওয়াজিব হবে।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
والواجب عليه ألا يمس فرج الميت إلا من وراء حائل، وهكذا مس المرأة لا ينقض الوضوء مطلقا، سواء كان ذلك عن شهوة، أو غير شهوة في أصح قولي العلماء ما لم يخرج منه شيء، لأن النبي صلى الله عليه وسلم قبل بعض نسائه ثم صلى ولم يتوضأ.

أما قول الله سبحانه في آيتي النساء، والمائدة: {أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ} [النساء: 43] فالمراد به: الجماع، في الأصح من قولي العلماء، وهو قول ابن عباس رضي الله عنهما، وجماعة من السلف والخلف. والله ولي التوفيق.

 

‌‌[الدرس الخامس عشر التحلي بالأخلاق المشروعة لكل مسلم]

الدرس الخامس عشر: التحلي بالأخلاق المشروعة لكل مسلم التحلي بالأخلاق المشروعة لكل مسلم، ومنها: الصدق، والأمانة، والعفاف، والحياء، والشجاعة، والكرم، والوفاء، والنزاهة عن كل ما حرم الله، وحسن
মৃত ব্যক্তির লজ্জাস্থান অন্তরাল (حائل) ব্যতিরেকে স্পর্শ না করা তার ওপর আবশ্যক (واجب)। অনুরূপভাবে, নারীকে স্পর্শ করা একেবারেই ওযু ভঙ্গ করে না, চাই তা কামভাবের সাথে হোক বা কামভাব ছাড়া, আলেমদের বিশুদ্ধতর (أصح) মতানুযায়ী, যতক্ষণ না কোনো কিছু নির্গত হয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জনৈক স্ত্রীকে চুম্বন করেছিলেন, অতঃপর সালাত আদায় করেছিলেন এবং ওযু করেননি।

আর সূরা আন-নিসা ও আল-মায়িদাহর দুই আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করেছ}, আলেমদের বিশুদ্ধতর (الأصح) মতানুযায়ী এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সহবাস (الجماع)। এটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং সালাফ (السلف) ও খালাফ (الخلف) গণের এক জামাআতের অভিমত। আর আল্লাহই তাওফিক দাতা।

 

‌‌[পঞ্চদশ পাঠ: প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শরীয়তসম্মত চরিত্রে অলঙ্কৃত হওয়া]

পঞ্চদশ পাঠ: প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শরীয়তসম্মত চরিত্রে অলঙ্কৃত হওয়া। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শরীয়তসম্মত চরিত্রে অলঙ্কৃত হওয়া, যার অন্তর্ভুক্ত হলো: সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, পবিত্রতা, লজ্জা, সাহসিকতা, উদারতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা থেকে পবিত্র থাকা এবং উত্তম...
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الجوار، ومساعدة ذوي الحاجة حسب الطاقة، وغير ذلك من الأخلاق التي دل الكتاب أو السنة على شرعيتها.

 

‌‌[الدرس السادس عشر التأدب بالآداب الإسلامية]

الدرس السادس عشر: التأدب بالآداب الإسلامية التأدب بالآداب الإسلامية، ومنها:

السلام، والبشاشة، والأكل باليمين والشرب بها، والتسمية عند الابتداء، والحمد عند الفراغ، والحمد بعد العطاس، وتشميت العاطس إذا حمد الله، وعيادة المريض، واتباع الجنائز للصلاة والدفن، والآداب الشرعية عند دخول المسجد، أو المنزل والخروج منهما، وعند السفر، ومع الوالدين، والأقارب والجيران، والكبار والصغار والتهنئة بالمولود، والتبريك بالزواج، والتعزية في المصاب، وغير ذلك من الآداب الإسلامية في اللبس والخلع والانتعال.
প্রতিবেশী সুলভ সদাচরণ, সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবগ্রস্তদের সহায়তা করা এবং এ ছাড়া অন্যান্য নৈতিক গুণাবলী যার বৈধতার প্রমাণ কিতাব অথবা সুন্নাহ (السنة) প্রদান করেছে।

 

‌‌[ষোড়শ পাঠ: ইসলামী শিষ্টাচারসমূহ অবলম্বন করা]

ষোড়শ পাঠ: ইসলামী শিষ্টাচারসমূহ অবলম্বন করা। ইসলামী শিষ্টাচারসমূহ অবলম্বন করা, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

সালাম প্রদান, প্রফুল্লতা, ডান হাতে আহার ও পান করা, শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, সমাপ্তিতে আলহামদুলিল্লাহ বলা, হাঁচি দেওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা, হাঁচিদাতা আল্লাহর প্রশংসা করলে তার উত্তর প্রদান করা (تشميت), অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, জানাজার সালাত ও দাফনের জন্য অনুসরণ করা, মসজিদে ও বাড়িতে প্রবেশ এবং তা থেকে বের হওয়ার শরয়ি আদবসমূহ, সফরের আদব, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বড় ও ছোটদের সাথে আচরণের আদব, নবজাতকের আগমনে অভিনন্দন জানানো, বিবাহে বরকত ও কল্যাণ কামনা করা, বিপদে সমবেদনা জানানো এবং পোশাক পরিধান করা, খোলা ও জুতা পরিধানের ক্ষেত্রে অন্যান্য ইসলামী শিষ্টাচারসমূহ।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[الدرس السابع عشر التحذير من الشرك وأنواع المعاصي]

الدرس السابع عشر: التحذير من الشرك وأنواع المعاصي الحذر والتحذير من الشرك وأنواع المعاصي، ومنها: السبع الموبقات (المهلكات) وهي: الشرك بالله، والسحر، وقتل النفس التي حَرم الله إلا بالحق، وأكل الربا، وأكل مال اليتيم، والتولي يوم الزحف، وقذف المحصنات الغافلات المؤمنات.

ومنها: عقوق الوالدين، وقطيعة الرحم، وشهادة الزور، والأيمان الكاذبة، وإيذاء الجار، وظلم الناس في الدماء، والأموال، والأعراض، وشرب المسكر، ولعب القمار- وهو: الميسر- والغيبة، والنميمة، وغير ذلك مما نهى الله عز وجل عنه، أو رسوله صلى الله عليه وسلم.
[সপ্তদশ পাঠ: শিরক ও বিভিন্ন প্রকার পাপাচার সম্পর্কে সতর্কীকরণ]

সপ্তদশ পাঠ: শিরক ও বিভিন্ন প্রকার পাপাচার সম্পর্কে সতর্কীকরণ। শিরক ও বিভিন্ন প্রকার পাপাচার থেকে বেঁচে থাকা এবং তা থেকে সতর্ক করা; এর অন্তর্ভুক্ত হলো: সাতটি ধ্বংসাত্মক (বিনাশকারী) মহাপাপ, আর সেগুলো হলো: আল্লাহর সাথে শিরক করা, জাদু, আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো প্রাণ যথার্থ কারণ ব্যতীত হত্যা করা, সুদ ভক্ষণ করা, এতিমের সম্পদ গ্রাস করা, রণক্ষেত্র থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং সচ্চরিত্রা, সরলমনা মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করা।

আরও এর অন্তর্ভুক্ত হলো: পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান, মিথ্যা শপথ করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া এবং মানুষের রক্ত, সম্পদ ও সম্মানের ক্ষেত্রে জুলুম করা। মাদক দ্রব্য পান করা, জুয়া খেলা—যা হলো আল-মাইসির—গিবত (পরনিন্দা), নামিমা (চোগলখোরি) এবং এ ছাড়া মহান আল্লাহ (আযযা ওয়া জাল্লা) অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[الدرس الثامن عشر تجهيز الميت والصلاة عليه ودفنه]

‌‌[أولا تلقين المحتضر]

الدرس الثامن عشر: تجهيز الميت والصلاة عليه ودفنه وإليك تفصيل ذلك:

أولا: يشرع تلقين المحتضر: (لا إله إلا الله) ؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لقنوا موتاكم: لا إله إلا الله» رواه مسلم في صحيحه، والمراد بالموتى في هذا الحديث: المحتضرون، وهم من ظهرت عليهم أمارات الموت.

 

‌‌[ثانيا إذا تيقن موته أغمضت عيناه وشد لحياه]

ثانيا: إذا تيقن موته أغمضت عيناه وشد لحياه؛ لورود السنة بذلك.

 

‌‌[ثالثا يجب تغسيل الميت المسلم إلا أن يكون شهيدا مات في المعركة]

ثالثا: يجب تغسيل الميت المسلم، إلا أن يكون شهيدا مات في المعركة فإنه لا يغسل ولا يصلى عليه، بل يدفن في ثيابه؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يغسل قتلى أحد ولم يصل عليهم.

 

‌‌[رابعا صفة غسل الميت]

أنه تستر عورته، ثم يرفع قليلا ويعصر بطنه عصرا
‌‌[অষ্টাদশ পাঠ: মৃত ব্যক্তির সৎকার, জানাযার সালাত এবং দাফন]

‌‌[প্রথমত: মুমূর্ষু (محتضر) ব্যক্তিকে তালকিন (تلقين) করা]

অষ্টাদশ পাঠ: মৃত ব্যক্তির সৎকার, জানাযার সালাত এবং দাফন; এর বিস্তারিত বিবরণ নিচে প্রদান করা হলো:

প্রথমত: মুমূর্ষু (محتضر) ব্যক্তিকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তালকিন (تلقين) করা বিধিবদ্ধ; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: «তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর তালকিন (تلقين) প্রদান করো» এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর এই হাদিসে ‘মৃত’ বলতে মুমূর্ষু ব্যক্তিদের (محتضرون) বোঝানো হয়েছে, যাদের মধ্যে মৃত্যুর লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেয়েছে।

 

‌‌[দ্বিতীয়ত: যখন মৃত্যু নিশ্চিত হবে, তখন তার চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে দেওয়া এবং চোয়াল বেঁধে দেওয়া]

দ্বিতীয়ত: যখন মৃত্যু নিশ্চিত হবে, তখন তার চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং চোয়াল দুটি বেঁধে দেওয়া হবে; যেহেতু সুন্নাহ (سنة)-তে এর নির্দেশনা এসেছে।

 

‌‌[তৃতীয়ত: মুসলিম মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো ওয়াজিব (واجب), তবে রণক্ষেত্রে নিহত শহীদ (شهيد) ব্যতীত]

তৃতীয়ত: মুসলিম মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো ওয়াজিব (واجب), তবে এমন শহীদ (شهيد) ব্যতীত যিনি রণক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করেছেন; কেননা তাকে গোসল করানো হয় না এবং তার জানাযার সালাতও আদায় করা হয় না, বরং তাকে তার পরিহিত কাপড়েই দাফন করা হয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদদের গোসল করাননি এবং তাদের জানাযার সালাত আদায় করেননি।

 

‌‌[চতুর্থত: মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পদ্ধতি]

তার সতর বা লজ্জাস্থান আবৃত রাখা হবে, অতঃপর তাকে সামান্য উপরে তোলা হবে এবং তার পেটে আলতোভাবে চাপ প্রয়োগ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
رفيقا، ثم يلف الغاسل على يده خرقة أو نحوها فينجيه بها، ثم يوضئه وضوء الصلاة، ثم يغسل رأسه ولحيته بماء وسدر أو نحوه، ثم يغسل شقه الأيمن، ثم الأيسر، ثم يغسله كذلك مرة ثانية وثالثة، يمر في كل مرة يده على بطنه، فإن خرج منه شيء غسله، وسد المحل بقطن أو نحوه، فإن لم يستمسك فبطين حر، أو بوسائل الطب الحديثة؛ كاللزق ونحوه.

ويعيد وضوءه، وإن لم ينق بثلاث زِيد إلى خمس، أو إلى سبع، ثم ينشفه بثوب، ويجعل الطيب في مغابنه، ومواضع سجوده، وإن طيبه كله كان حسنا، ويجمر أكفانه بالبخور، وإن كان شاربه أو أظفاره طويلة أخذ منها، وإن ترك ذلك فلا حرج، ولا يسرح شعره، ولا يحلق عانته، ولا يختنه؛ لعدم الدليل على ذلك، والمرأة يضفر شعرها ثلاثة قرون، ويسدل من ورائها.

 

‌‌[خامسا تكفين الميت]

الأفضل أن يكفن الرجل في ثلاثة أثواب بيض ليس فيها قميص ولا عمامة، كما فعل بالنبي صلى الله عليه وسلم، يدرج فيها
কোমলভাবে, অতঃপর গোসলদানকারী তার হাতে একটি নেকড়া বা অনুরূপ কিছু জড়িয়ে তা দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করবেন। তারপর তাকে নামাজের ওজুর ন্যায় ওজু করাবেন। এরপর তার মাথা ও দাড়ি পানি এবং বরই পাতা বা অনুরূপ কিছু দিয়ে ধৌত করবেন। এরপর তার ডান পাশ, অতঃপর বাম পাশ ধৌত করবেন। এরপর একইভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করবেন এবং প্রতিবার তার পেটের ওপর হাত বুলাবেন। যদি কিছু বের হয় তবে তা ধুয়ে ফেলবেন এবং স্থানটি তুলা বা অনুরূপ কিছু দিয়ে বন্ধ করে দেবেন। যদি তাতেও না থামে, তবে আঠালো মাটি অথবা আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম যেমন প্লাস্টার বা অনুরূপ কিছু ব্যবহার করবেন।

এবং তার ওজু পুনরায় করাবেন। যদি তিনবার ধৌত করায় পরিষ্কার না হয়, তবে পাঁচ বা সাতবার পর্যন্ত বৃদ্ধি করবেন। এরপর একটি কাপড় দিয়ে তাকে মুছে শুকাবেন এবং তার শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থানগুলোতে ও সিজদার অঙ্গগুলোতে সুগন্ধি লাগাবেন। আর যদি তার পুরো শরীরেই সুগন্ধি লাগানো হয় তবে তা উত্তম (حسن) হবে। তার কাফনগুলোতে ধূপের ধোঁয়া দেবেন। যদি তার গোঁফ বা নখ লম্বা হয় তবে তা ছেঁটে দেবেন, আর যদি তা ছেড়ে দেন তবে কোনো অসুবিধা নেই। তার চুল আঁচড়ানো হবে না, নাভির নিচের লোম মুণ্ডন করা হবে না এবং তার খতনাও করা হবে না; কারণ এই বিষয়ে কোনো দলীল (دليل) নেই। আর মহিলার চুল তিনটি বেণীতে বিন্যস্ত করা হবে এবং তার পিছনের দিকে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।

 

‌‌[পঞ্চম: মৃত ব্যক্তিকে কাফন পরানো]

সর্বোত্তম (أفضل) হলো পুরুষকে তিনটি সাদা কাপড়ে কাফন দেওয়া, যাতে কোনো জামা বা পাগড়ি থাকবে না, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। তাকে এগুলোতে জড়িয়ে দেওয়া হবে
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
إدراجا، وإن كفن في قميص وإزار ولفافة فلا بأس.

والمرأة تكفن في خمسة أثواب: درع، وخمار، وإزار، ولفافتين. ويكفن الصبي في ثوب واحد إلى ثلاثة أثواب، وتكفن الصغيرة في قميص ولفافتين.

والواجب في حق الجميع ثوب واحد يستر جميع الميت، لكن إذا كان الميت محرما فإنه يغسل بماء وسدر، ويكفن في إزاره وردائه أو في غيرهما، ولا يغطى رأسه ولا وجهه، ولا يطيب؛ لأنه يبعث يوم القيامة ملبيا، كما صح بذلك الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإن كان المحرم امرأة كفنت كغيرها، ولكن لا تطيب، ولا يغطى وجهها بنقاب، ولا يداها بقفازين، ولكن يغطى وجهها ويداها بالكفن الذي كفنت فيه، كما تقدم بيان صفة تكفين المرأة.

 

‌‌[سادسا أحق الناس بغسله والصلاة عليه ودفنه]

سادسا: أحق الناس بغسله والصلاة عليه ودفنه: وصيه في ذلك، ثم الأب، ثم الجد، ثم الأقرب فالأقرب من العصبات في حق الرجل.

والأولى بغسل المرأة: وصيتها، ثم الأم، ثم
পেঁচিয়ে কাফন দেয়া (إدراجا), এবং যদি কামিস, ইজার ও লেফাফার মাধ্যমে কাফন পরানো হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

আর নারীকে পাঁচটি কাপড়ে কাফন দেয়া হবে: দির’ (জামা), খিমার (ওড়না), ইজার (লুঙ্গি) এবং দুটি লেফাফা (চাদর)। আর বালক শিশুকে একটি থেকে তিনটি কাপড় পর্যন্ত কাফন দেয়া যাবে এবং বালিকা শিশুকে একটি কামিস ও দুটি লেফাফায় কাফন দেয়া হবে।

আর সকলের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো এমন একটি কাপড় যা মৃত ব্যক্তির পুরো শরীরকে আবৃত করে। তবে মৃত ব্যক্তি যদি ইহরাম অবস্থায় (محرم) থাকেন, তবে তাকে পানি ও সিদর (কুল পাতা) দিয়ে গোসল দেয়া হবে এবং তাকে তার ইজার ও চাদরে অথবা অন্য কোনো কাপড়ে কাফন দেয়া হবে। তার মাথা ও মুখমণ্ডল ঢাকা হবে না এবং তাকে সুগন্ধি মাখানো হবে না; কারণ কিয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠরত (ملبيا) অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস সহিহ (صح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আর ইহরাম গ্রহণকারী যদি নারী হন, তবে তাকে অন্যান্য নারীদের মতোই কাফন দেয়া হবে, কিন্তু তাকে সুগন্ধি মাখানো হবে না এবং নেকাব (نقاب) দিয়ে তার মুখমণ্ডল ও দাস্তানা (قفازين) দিয়ে তার হাত ঢাকা হবে না। তবে যে কাফন দিয়ে তাকে কাফন পরানো হয়েছে, তা দিয়ে তার মুখ ও হাত ঢেকে দেওয়া হবে, যেমনটি ইতিপূর্বে নারীর কাফন পরানোর পদ্ধতির বিবরণে অতিবাহিত হয়েছে।

 

[ষষ্ঠত: মৃত ব্যক্তিকে গোসল দান, জানাজার সালাত ও দাফনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক হকদার ব্যক্তি]

ষষ্ঠত: মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া, তার জানাজার সালাত পড়ানো এবং দাফন করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক হকদার ব্যক্তি হলেন: এই বিষয়ে তার অসিয়তপ্রাপ্ত ব্যক্তি (وصيه), তারপর পিতা, তারপর দাদা, তারপর পুরুষের ক্ষেত্রে আসাবা (عصبات) আত্মীয়দের মধ্যে যে ক্রমান্বয়ে অধিক নিকটবর্তী।

আর নারীকে গোসল দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগণ্য হলেন: তার অসিয়তপ্রাপ্ত নারী, তারপর মা, তারপর...
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الجدة، ثم الأقرب فالأقرب من نسائها، وللزوجين أن يغسل أحدهما الآخر؛ لأن الصديق رضي الله عنه غسلته زوجته، ولأن عليا رضي الله عنه غسل زوجته فاطمة رضي الله عنها.

 

‌‌[سابعا صفة الصلاة على الميت]

يكبر أربعا، ويقرأ بعد الأولى: الفاتحة، وإن قرأ معها سورة قصيرة أو آية أو آيتين فحسن؛ للحديث الصحيح الوارد في ذلك عن ابن عباس رضي الله عنهما، ثم يكبر الثانية ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم كصلاته في التشهد، ثم يكبر الثالثة، ويقول: (اللهم اغفر لِحينا وميتِنا، وشاهدنا وغائبنا، وصغيرنا وكبيرنا، وذَكَرِنا وأنثانَا، اللهم من أحيَيتَهُ منا فأحيه على الإسلام، ومن توفيته منا فَتَوَفهُ على الإيمان، اللهَم اغفر له، وارحمه، وعافه، واعف عنه، وأكرِم نُزُلَه، وَوَسع مُدخَلَه، واغسله بالماء والثلج وِالبرد، ونقه من الخطايا كما ينقى الثوب الأبيض من الدَنس، وأبدلهُ دارا خيرا من داره، وأهلا خيرا من أهله، وأدخله الجنة، وأعذه من عذاب
দাদি/নানি, এরপর নারী আত্মীয়দের মধ্যে যে অধিক নিকটবর্তী সে ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার পাবে। আর স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে একে অপরকে গোসল করাতে পারে; কারণ সিদ্দিক (রা.)-কে তাঁর স্ত্রী গোসল করিয়েছিলেন এবং আলী (রা.) তাঁর স্ত্রী ফাতিমা (রা.)-কে গোসল করিয়েছিলেন।

 

‌‌[সপ্তম: জানাজার নামাজের পদ্ধতি]

চারটি তাকবির দিবে এবং প্রথম তাকবিরের পর সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। আর যদি এর সাথে ছোট কোনো সূরা বা এক বা দুটি আয়াত পাঠ করে তবে তা উত্তম; কারণ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এ বিষয়ে বর্ণিত বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে তা এসেছে। এরপর দ্বিতীয় তাকবির দিবে এবং নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে যেমনটি তাশাহহুদে পাঠ করা হয়। এরপর তৃতীয় তাকবির দিবে এবং বলবে: (হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃতদের, আমাদের উপস্থিত ও অনুপস্থিতদের, আমাদের ছোট ও বড়দের এবং আমাদের নারী ও পুরুষদের ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে আপনি যাকে জীবিত রাখেন তাকে ইসলামের ওপর জীবিত রাখুন এবং যাকে মৃত্যু দান করেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, তার প্রতি দয়া করুন, তাকে নিরাপত্তা দিন এবং তাকে মার্জনা করুন। তার মেহমানদারিকে সম্মানজনক করুন, তার প্রবেশপথ প্রশস্ত করুন এবং তাকে পানি, বরফ ও শীতল পানি দ্বারা ধৌত করুন। তাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। তাকে তার গৃহের চেয়ে উত্তম গৃহ এবং তার পরিবারের চেয়ে উত্তম পরিবার দান করুন। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান এবং তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করুন...)
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
القبر، وعذاب النار، وافسح له في قبره، ونور له فيه، اللهم لا تَحرمنَا أجره ولا تُضِلنا بعده) ، ثم يكبر الرابعة، ويسلم تسليمة واحدة عن يمينه.

ويستحب أن يرفع يديه مع كل تكبيرة، وإذا كان الميت امرأة يقال: (اللهم اغفر لها. .) إلخ، وإذا كانت الجنائز اثنتين يقال: (اللهم اغفر لهما. . .) الخ، وإن كانت الجنائز أكثر من ذلك قال: (اللهم اغفر لهم. .) الخ، أما إذا كان فرطا فيقال بدل الدعاء له بالمغفرة: (اللهم اجعله فرطا وذُخْرَا لوالديه، وشفيعاَ مُجَابا، اللهم ثقل به موازينهما، وأعظم به أجورهما، وألحقه بصالح سلف المؤمنين، واجعله في كفالة إبراهيم عليه الصلاة والسلام، وَقِهِ برحمتك عذاب الجحيم) .

والسنة أن يقف الإمام حذاء رأس الرجل، ووسط المرأة، وأن يكون الرجل مما يلي الإمام إذا اجتمعت الجنائز، والمرأة مما يلي القبلة، وإن كان معهم أطفال قدم الصبي على المرأة، ثم المرأة، ثم الطفلة، ويكون رأس الصبي حيال رأس الرجل، ووسط المرأة حيال
কবর এবং আগুনের আজাব হতে। তার কবরকে প্রশস্ত করে দিন এবং তাতে আলো দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের তার সওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং তার পরে আমাদের পথভ্রষ্ট করবেন না)। অতঃপর চতুর্থ তকবির দেবেন এবং ডান দিকে একটি সালাম ফেরাবেন।

প্রত্যেক তকবিরের সাথে হাত তোলা মুস্তাহাব (مستحب)। যদি মৃত ব্যক্তি নারী হন তবে বলা হবে: (হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন...) ইত্যাদি। যদি জানাজা দুইজনের হয় তবে বলা হবে: (হে আল্লাহ! তাদের উভয়কে ক্ষমা করুন...) ইত্যাদি। যদি জানাজা এর চেয়ে অধিক হয় তবে বলা হবে: (হে আল্লাহ! তাদের সবাইকে ক্ষমা করুন...) ইত্যাদি। তবে যদি মৃত ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক অগ্রগামী (فرط) হয়, তবে তার জন্য ক্ষমার দোয়ার পরিবর্তে বলা হবে: (হে আল্লাহ! তাকে তার পিতামাতার জন্য অগ্রগামী পাথেয় (فرط) ও গচ্ছিত সম্পদ স্বরূপ করুন এবং তাকে এমন সুপারিশকারী বানান যার সুপারিশ কবুল করা হয়। হে আল্লাহ! এর মাধ্যমে তাদের মিজানের পাল্লা ভারী করুন, তাদের প্রতিদানকে মহান করুন এবং তাকে মুমিনদের নেককার পূর্বসূরীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তাকে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের জিম্মায় রাখুন এবং আপনার রহমতে তাকে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন)।

সুন্নত (سنة) হলো ইমাম পুরুষের মাথার সমান্তরালে এবং নারীর মাঝ বরাবর দাঁড়াবেন। আর যখন একাধিক জানাজা একত্রিত হবে, তখন পুরুষকে ইমামের নিকটবর্তী রাখা হবে এবং নারীকে কিবলার দিকে রাখা হবে। যদি তাদের সাথে শিশু থাকে তবে বালককে নারীর আগে রাখা হবে, তারপর নারী, তারপর বালিকা। বালকের মাথা পুরুষের মাথার সোজাসুজি থাকবে এবং নারীর মাঝখান সোজাসুজি...
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
رأس الرجل، وهكذا الطفلة يكون رأسها حيال رأس المرأة، ويكون وسطها حيال رأس الرجل، ويكون المصلون جميعا خلف الإمام، إلا أن يكون واحدا لم يجد مكانا خلف الإمام فإنه يقف عن يمينه.

 

‌‌[ثامنا صفة دفن الميت]

المشروع تعميق القبر إلى وسط الرجل، وأن يكون فيه لحد من جهة القبلة، وأن يوضع الميت في اللحد على جانبه الأيمن، وتحل عقد الكفن، ولا تنزع بل تترك، ولا يكشف وجهه سواء كان الميت رجلا أو امرأة، ثم ينصب عليه اللَبِن، ويطين حتى يثبت ويقيه التراب، فإن لم يتيسر اللَبِن فبغير ذلك من ألواح، أو أحجار، أو خشب يقيه التراب، ثم يهال عليه التراب، ويستحب أن يقال عند ذلك: (باسم الله، وعلى ملة رسول الله) ، ويرفع القبر قدر شبر، ويوضع عليه حصباء إن تيسر ذلك، ويرش بالماء.

ويشرع للمشيعين أن يقفوا عند القبر ويدعوا للميت؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا فرغ من دفن الميت وقف عليه،
পুরুষের মাথার কাছে (ইমাম দাঁড়াবেন), অনুরূপভাবে মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে তার মাথা থাকবে মহিলার মাথার সমান্তরালে এবং তার শরীরের মধ্যভাগ থাকবে পুরুষের মাথার সমান্তরালে। সকল মুসল্লি ইমামের পেছনে দাঁড়াবেন, তবে যদি কেউ একা হয় এবং ইমামের পেছনে জায়গা না পায়, তবে সে ইমামের ডান পাশে দাঁড়াবে।

 

‌‌[অষ্টম: মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পদ্ধতি]

কবরকে একজন সাধারণ মানুষের শরীরের মধ্যভাগ পর্যন্ত গভীর করা এবং কিবলার দিকে তাতে একটি পার্শ্ব-খাত বা লাহাদ (لحد) তৈরি করা বিধিসম্মত (مشروع)। মৃত ব্যক্তিকে লাহাদের (لحد) ভেতরে তার ডান পাশে শোয়াতে হবে এবং কাফনের বাঁধনগুলো খুলে দিতে হবে; তবে তা শরীর থেকে সরিয়ে ফেলা যাবে না বরং রেখে দিতে হবে। মৃত ব্যক্তি পুরুষ হোক বা নারী, তার মুখমণ্ডল উন্মুক্ত করা যাবে না। এরপর তার ওপর কাঁচা ইট স্থাপন করতে হবে এবং কাদা দিয়ে লেপে দিতে হবে যাতে তা মজবুত হয় এবং মৃত ব্যক্তিকে মাটি থেকে রক্ষা করে। যদি কাঁচা ইট সহজলভ্য না হয়, তবে তক্তা, পাথর বা কাঠ যা মাটি থেকে রক্ষা করে তা ব্যবহার করা যাবে। অতঃপর তার ওপর মাটি ঢেলে দিতে হবে। মাটি দেওয়ার সময় বলা মুস্তাহাব (مستحب): (আল্লাহর নামে এবং রাসূলুল্লাহর আদর্শের ওপর)। কবরকে এক বিঘত পরিমাণ উঁচু করতে হবে এবং সম্ভব হলে তার ওপর কঙ্কড় বিছিয়ে দিতে হবে ও পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।

দাফনকারীদের জন্য কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা বিধিসম্মত (مشروع); কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করতেন, তখন তার কবরের পাশে দাঁড়াতেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال: «استغفروا لأخيكم، واسألوا له التثبيت، فإنه الآن يسأَل» .

 

‌‌[تاسعا ويشرع لمن لم يُصَل عليه أن يصلي عليه بعد الدفن]

تاسعا: ويشرع لمن لم يُصَل عليه أن يصلي عليه بعد الدفن؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم فعل ذلك، على أن يكون ذلك في حدود شهر فأقل، فإن كانت المدة أكثر من ذلك لم تشرع الصلاة على القبر؛ لأنه لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه صلى على قبر بعد شهر من دفن الميت.

 

‌‌[عاشرا لا يجوز لأهل الميت أن يصنعوا طعاما للناس]

عاشرا: لا يجوز لأهل الميت أن يصنعوا طعاما للناس؛ لقول جرير بن عبد الله البجلي الصحابي الجليل رضي الله عنه: (كنا نعد الاجتماع إلى أهل الميت وصنعة الطعام بعد الدفن من النياحة) رواه الإمام أحمد بسند حسن، أما صنع الطعام لهم، أو لضيوفهم فلا بأس، ويشرع لأقاربه وجيرانه أن يصنعوا لهم الطعام؛ لأن النبي-صلى الله عليه وسلم لما جاءه الخبر بموت جعفر بن أبي طالب رضي الله عنه في الشام أمر أهله أن يصنعوا طعاما لأهل جعفر، وقال: «إنه أتاهم ما يشغلهم» .

ولا حرج على أهل الميت أن يدعوا جيرانهم، أو
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার দৃঢ়তার জন্য দোয়া করো, কেননা এখনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে»।

 

‌‌[নবম: যে ব্যক্তি জানাজা পড়েনি, তার জন্য দাফনের পর জানাজা পড়া বিধিবদ্ধ (يشرع)]

নবম: যে ব্যক্তি জানাজা পড়েনি, তার জন্য দাফনের পর জানাজা পড়া বিধিবদ্ধ (يشرع); কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ করেছেন। তবে শর্ত হলো তা এক মাস বা তার কম সময়ের মধ্যে হতে হবে। যদি সময়কাল এর চেয়ে বেশি হয়, তবে কবরের ওপর জানাজা পড়া বিধিবদ্ধ (يشرع) হবে না; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণিত হয়নি যে, তিনি মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার এক মাস পর কবরের ওপর জানাজা পড়েছেন।

 

‌‌[দশম: মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য মানুষের খাবারের আয়োজন করা বৈধ (يجوز) নয়]

দশম: মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য মানুষের খাবারের আয়োজন করা বৈধ (يجوز) নয়; মহান সাহাবী (صحابي) জারির বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তির কারণে: (আমরা মৃত ব্যক্তির বাড়িতে একত্রিত হওয়া এবং দাফনের পর খাবারের আয়োজন করাকে বিলাপ (النياحة)-এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম) এটি ইমাম আহমাদ হাসান (حسن) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের জন্য অথবা তাদের মেহমানদের জন্য খাবার তৈরি করায় কোনো অসুবিধা নেই। আর তাদের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য তাদের উদ্দেশ্যে খাবার তৈরি করা বিধিবদ্ধ (يشرع); কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট যখন সিরিয়ায় জাফর বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি তাঁর পরিবারকে জাফরের পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করতে নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: «নিশ্চয়ই তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদেরকে ব্যস্ত করে রেখেছে»।

আর মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য তাদের প্রতিবেশীদের দাওয়াত দেওয়াতে কোনো বাধা নেই, অথবা
(খণ্ড: ১) আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
غيرهم للأكل من الطعام المهْدَى إليهم، وليس لذلك وقت محدود فبما نعلم من الشرع.

 

‌‌[حادي عشر لا يجوز للمرأة الإحداد على ميت أكثر من ثلاثة أيام إلا على زوجها أو تكون حاملا]

حادي عشر: لا يجوز للمرأة الإحداد على ميت أكثر من ثلاثة أيام إلا على زوجها فإنه يجب عليها أن تحد عليه أربعة أشهر وعشرا، إلا أن تكون حاملا فعلى وضع الحمل؛ لثبوت السنة الصحيحة عن النبي صلى الله عليه وسلم بذلك.

أما الرجل فلا يجوز له أن يحد على أحد من الأقارب أو غيرهم.

 

‌‌[ثاني عشر يشرع للرجال زيارة القبور بين وقت وآخر للدعاء لهم والترحم عليهم وتذكر الموت وما بعده]

ثاني عشر: يشرع للرجال زيارة القبور بين وقت وآخر للدعاء لهم، والترحم عليهم، وتذكر الموت وما بعده؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «زوروا القبور، فإنها تذكركم الآخرة» خرجه الإمام مسلم في صحيحه، وكان صلى الله عليه وسلم يعلم أصحابه إذا زاروا القبور أن يقولوا: «السلام عليكم أهل الديار من المؤمنين والمسلمين، وإنا إن شاء الله بكم لاحقون، نسأل الله لنا ولكم العافية، يرحم الله المتقدمين منا والمستأخرين» أما النساء فليس لهن زيارة القبور؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم
উপহারস্বরূপ পাঠানো খাবার থেকে তাদের সাথে অন্যদেরও আহার করার বিষয়টি; আর শরিয়তের আলোকে আমাদের জানা মতে এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই।

 

‌‌[একাদশ: স্বামীর মৃত্যু ব্যতীত অথবা গর্ভবতী হওয়া ব্যতীত অন্য কোনো মৃতের জন্য কোনো মহিলার পক্ষে তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়]

একাদশ: স্বামীর মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো মৃতের জন্য কোনো মহিলার পক্ষে তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়। কারণ স্বামীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার ওপর চার মাস দশ দিন শোক পালন করা ওয়াজিব; তবে সে যদি গর্ভবতী হয়, তবে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত। কেননা এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ প্রমাণিত রয়েছে।

তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে কোনো আত্মীয় বা অন্য কারোর মৃত্যুতে শোক পালন করা বৈধ নয়।

 

‌‌[দ্বাদশ: মৃতদের জন্য দোয়া করা, রহমত কামনা করা এবং মৃত্যু ও পরকালের কথা স্মরণ করার উদ্দেশ্যে পুরুষদের জন্য সময়ে সময়ে কবর জিয়ারত করা বিধিসম্মত]

দ্বাদশ: মৃতদের জন্য দোয়া করা, তাদের ওপর রহমত প্রার্থনা করা এবং মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী জীবনের কথা স্মরণ করার জন্য পুরুষদের জন্য সময়ে সময়ে কবর জিয়ারত করা বিধিসম্মত; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «তোমরা কবর জিয়ারত করো, কেননা তা তোমাদের পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়» এটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবিদের শিক্ষা দিতেন যেন তারা কবর জিয়ারতের সময় বলে: «হে মুমিন ও মুসলিম গৃহবাসীগণ! আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই আপনাদের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য এবং আপনাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। আল্লাহ আমাদের মধ্যকার অগ্রবর্তীদের এবং পরবর্তীদের ওপর রহম করুন» তবে নারীদের জন্য কবর জিয়ারত করা বৈধ নয়; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম