(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: -)
اختلاف الفقهاء = اختلاف العلماء للمروزي القسم: الفقه العام
الكتاب: اختلاف الفقهاء
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن نصر بن الحجاج المَرْوَزِي (ت 294هـ)
المحقق: الدُّكْتُوْر مُحَمَّد طَاهِر حَكِيْم، الأستاذ المساعد بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
الناشر: أضواء السلف- الرياض
الطبعة: الطبعة الأولى الكاملة، 1420هـ =2000م
عدد الصفحات: 582
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইখতিলাফুল ফুকাহা = আল-মারওয়াযী কর্তৃক আলেমগণের মতভেদ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: ইখতিলাফুল ফুকাহা
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন নাসর বিন আল-হাজ্জাজ আল-মারওয়াযী (মৃত্যু ২৯৪ হি.)
সম্পাদক: ডক্টর মুহাম্মদ তাহের হাকিম, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ- রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ, ১৪২০ হি. = ২০০০ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: -)
اخْتِلَافُ الْفقَهَاءِ لِلْمَرْوَزِيِّتَأْلِيْف
الْإِمَام أَبِيْ عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرالْمَرْوَزِيّ
وُلِدَ سَنَةَ 202هـ وتُوُفِّيَ سَنَةَ 294هـ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى
دِرَاسَة وَتَحْقِيق
الدُّكْتُوْر مُحَمَّد طَاهِر حَكِيْم
الأستاذ المساعد بجامعة الْإِمَام مُحَمَّد بْن سعود الإسلامية
الطبعة الأولى الكاملة
1420هـ =2000م
أضواء السلف-الرياض
আল-মারওয়াযী কৃত ইখতিলাফুল ফুকাহারচনা
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী
জন্ম ২০২ হিজরি এবং মৃত্যু ২৯৪ হিজরি, আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন
গবেষণা ও যাচাইকরণ (تحقيق)
ডক্টর মুহাম্মদ তাহের হাকিম
ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ
১৪২০ হিজরি = ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
আদওয়াউস সালাফ-রিয়াদ
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: -)
وقد ذكر ابْن عساكر (في تاريخ دمشق لابن عساكر37/193-194) في ترجمة عبد المنعم بن محمد الكندي الصائغ (الترجمة:4292) ما يفيد أن أبا محمد ابْن الأشعث اقتنى كتاب المروزي في اختلاف الفقهاء وذلك أَنَّهُ رأى عنده كتاب اختلاف العلمَاء للمروزي كُلّ ورقة منه مصلب بالحبر من الناحيتين.
فقال: ما شأن هَذَا الْكِتَاب؟
فقال: هَذَا كَانَ لأبي محمد ابْن الأشعث فلما اتصل عمد إِلَى كتبه فصلبها وباعها.
ইবনে আসাকির (ইবনে আসাকিরের তারিখু দামেশক ৩৭/১৯৩-১৯৪) আব্দুল মুনয়িম বিন মুহাম্মদ আল-কিন্দী আস-সাইগের জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত আলোচনায় (জীবনী নং: ৪২৯২) এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে, আবু মুহাম্মদ ইবনুল আশআস ফকিহগণের মতভেদ (ইখতিলাফুল ফুকাহা) সংক্রান্ত আল-মারওয়াযীর কিতাবটি সংগ্রহ করেছিলেন। আর তা এই কারণে যে, তিনি তাঁর নিকট আল-মারওয়াযীর ইখতিলাফুল উলামা কিতাবটি দেখেছিলেন যার প্রতিটি পাতার উভয় পাশে কালির আড়াআড়ি চিহ্ন টানা ছিল।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এই কিতাবটির কী অবস্থা?
তিনি উত্তরে বললেন: এটি আবু মুহাম্মদ ইবনুল আশআসের ছিল; অতঃপর যখন তিনি (একটি বিশেষ মতাদর্শের সাথে) যুক্ত হলেন, তখন তিনি তাঁর কিতাবগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করলেন এবং সেগুলোকে আড়াআড়ি দাগ দিয়ে কেটে দিলেন ও বিক্রি করে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَبِاللهِ التَّوْفِيْق
أَبْوَابُ الطَّهَارَةِبَاب الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق
[الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق فِي الطَّهَارَتَيْنِ]حَدَّثَنَا أَبُوالْفَضْل صَالِح بْن مُحَمَّد بْن شَاذَان الْأَصْبَهَانِيّ قَالَ: حَدَّثَنِيْ إِبْرَاهِيْم بْن محمود النَّيْسَابُوْرِيّ قَالَ: سمعت أبا عَبْد اللهِ مُحَمَّد بْن نصر المروزي قَالَ: [1/أ]
1- أما الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق فإن أَهْل العلم اخْتَلَفُوْا فِي تاركها
فقَالَ سُفْيَان الثوري
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহর তাওফীকই একমাত্র ভরসা।
পবিত্রতার অধ্যায়সমূহকুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার অনুচ্ছেদ
[উভয় প্রকার পবিত্রতার ক্ষেত্রে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া]আমাদের নিকট আবুল ফজল সালিহ বিন মুহাম্মাদ বিন শাযান আল-আসবাহানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবরাহিম বিন মাহমুদ আন-নাইসাবুরি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন নাসর আল-মারওয়াযিকে বলতে শুনেছি: [১/আ]
১- কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার বিষয়ে আলেমগণ এর বর্জনকারীর বিধান সম্পর্কে মতভেদ করেছেন।
সুফিয়ান আস-সাওরি বলেছেন
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
والْكُوْفِيُّوْنَ: إِذَا تركهما فِي الْوُضُوْء فلا شَيْء عَلَيْهِ وإِذَاتركهما فِي الجنابة ناسيا أَوْ متعمدا حَتَّى يُصَلِّي مضمض واستنشق وأعاد الصَّلَاة.
وَقَالَ مَالِكٌ وَأَهْلُ الْمَدِيْنَةِ والشَّافِعِيُّ: لَيْسَ عَلَى تاركهما فِي الجنابة
والْوُضُوْء ولا يوجبوها فِي وضوء ولا غسل
وَقَالَ طَائِفَة أُخْرَى من أَهْل العلم: الْمَضْمَضَة وَالِاسْتِنْشَاق واجبان فِي الْوُضُوْء والغسل من الجنابة جميعا وَعَلَى من تركهما الإعادة.
يروى هَذَا الْقَوْل عَن عَطَاء بْن أبي رباح وحماد بْن أبي سليمان وابن جريج وكَانَ ابْن الْمُبَارَك
কুফাবাসীগণ (الكوفيون): যদি কেউ ওজুর মধ্যে এই দুটি (কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া) বর্জন করে তবে তার ওপর কোনো দায় নেই; কিন্তু যদি জানাবাত (جنابة) অবস্থায় ভুলে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে তা বর্জন করে নামাজ আদায় করে ফেলে, তবে সে কুলি করবে (مضمض), নাকে পানি দেবে (استنشق) এবং নামাজ পুনরায় পড়বে।
মালিক, মদিনাবাসীগণ এবং শাফেয়ি বলেছেন: জানাবাত (جنابة) এর ক্ষেত্রে এগুলো বর্জনকারীর ওপর কোনো দায় নেই
এবং ওজুর ক্ষেত্রেও; তারা ওজু বা গোসলে এগুলোকে আবশ্যক (واجب) মনে করেন না।
আলেমদের অন্য একটি দল বলেছেন: ওজু এবং জানাবাত (جنابة) থেকে গোসল—উভয় ক্ষেত্রেই কুলি করা (المضمضة) এবং নাকে পানি দেওয়া (الاستنشاق) আবশ্যক (واجب), আর যে এগুলো বর্জন করবে তাকে পুনরায় (নামাজ) আদায় করতে হবে।
এই অভিমতটি আতা ইবনে আবি রাবাহ, হাম্মাদ ইবনে আবি সুলায়মান এবং ইবন জুরাইজ থেকে বর্ণিত (يروى) হয়েছে এবং ইবনুল মুবারক...
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
وإِسْحَاق يذهبان إليه
وَقَالَتْ طَائِفَةٌ أُخْرَى: الِاسْتِنْشَاق واجب فِي الْوُضُوْء والغسل جميعا والْمَضْمَضَة لَيْسَت بواجبة فِي واحد منهما.
وممن قَالَ ذَلِكَ: أَحْمَد بْن حَنْبَلٍ وأَبُوْ ثَوْرٍ وطَائِفَة من أَصْحَاب الْحَدِيْث؛ لِحَدِيْثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الِاسْتِنْشَاق قَالَ: إِذَاتوضأت فانتثر.
وَقَالَ: من توضأ فلينتثر "
এবং ইসহাক এই মত পোষণ করেন
অন্য এক দল বলেছেন: ওযু এবং গোসল উভয় ক্ষেত্রেই নাকে পানি দেওয়া আবশ্যিক (واجب), তবে এই দুটির কোনোটিতেই কুলি করা আবশ্যিক (واجب) নয়।
যারা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আহমদ বিন হাম্বল, আবু সাওর এবং হাদিস বিশারদগণের (أصحاب الحديث) একটি দল; নাকে পানি দেওয়ার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: "যখন তুমি ওযু করবে, তখন নাক ঝাড়বে।"
এবং তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওযু করবে, সে যেন নাক ঝাড়ে।" "
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০০)
ولم يثبت عنه أمر بالْمَضْمَضَة فلذَلِكَ أوجبوا الِاسْتِنْشَاق ولم يوجبوا الْمَضْمَضَة.
[بَابُ نَوَاقِضِ الْوُضُوْءِ]
[الْوُضُوْء من لحم الإبل]2-قَالَ سُفْيَان: ولا وضوء من طعام ولا شراب لبنا كَانَ أَوْ غيره ولا من طعام مسته النار من لحم جزور أَوْ بقرة أَوْ شاة.
وهكَذَا قَالَ الْكُوْفِيُّوْنَ وكذَلِكَ قَالَ مَالِكٌ والشَّافِعِيُّ
وَقَالَتْ طَائِفَةٌ من أَصْحَاب الْحَدِيْث: لَا يتوضأ من شَيْء مسته النار أَوْ لم تمسه من طعام ولا شراب إِلَّا من لحم الجزور وممن
আর তাঁর থেকে কুলি করার কোনো নির্দেশ প্রমাণিত (ثبت) হয়নি, এ কারণেই তাঁরা নাকে পানি দেওয়াকে আবশ্যক করেছেন এবং কুলি করাকে আবশ্যক করেননি।
[অজু ভঙ্গের অধ্যায়]
[উটের গোশত খাওয়ার কারণে অজু]2-সুফিয়ান বলেন: কোনো খাদ্য বা পানীয়ের কারণে অজু করতে হবে না, তা দুধ হোক বা অন্য কিছু। আর আগুনের স্পর্শ পাওয়া কোনো খাবারের কারণেও অজু নেই, চাই তা উটের গোশত হোক বা গরু কিংবা বকরির।
কুফাবাসী আলেমগণও অনুরূপ বলেছেন এবং মালেক ও শাফেয়িও তদ্রূপ বলেছেন।
হাদিস বিশারদগণের (أصحاب الحديث) একটি দল বলেছেন: আগুনের স্পর্শ পাওয়া বা না পাওয়া কোনো খাদ্য বা পানীয়ের কারণে অজু করতে হয় না, কেবল উটের গোশত ব্যতীত। আর যাঁদের থেকে...
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০১)
قَالَ ذَلِكَ أَحْمَد بْن حَنْبَلٍ وإِسْحَاق وأَبُوْثَوْرٍ وغيرهم من أَصْحَاب الْحَدِيْث ذهبوا إِلَى حَدِيْث البراء وجابر بْن سمرة
আহমাদ ইবন হাম্বল, ইসহাক, আবু সাওর এবং হাদিসের অন্যান্য পণ্ডিতগণ (أصحاب الحديث) এটিই বলেছেন; তারা আল-বারা এবং জাবির ইবন সামুরার বর্ণিত হাদিসের অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০২)
بَاب بول ما أكل لحمه [وسؤره]3-قَالَ سُفْيَان: لَا بَأْسَ ببول ما أكل لحمه وسؤره
أما سؤر ما أكل لحمه فلا اختلاف فِي أَنَّهُ لَا بَأْسَ به
وأما بوله فقد اخْتَلَفُوْا فيه
فقَالَ طَائِفَة من أَهْل الْحَدِيْث مثل قَوْل سُفْيَان [2/أ] واحتجوا بحَدِيْث أَنَس بْن مَالك فِي قصة أمر النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أن يخرجوا فِي إبله فيشربوا من أَبُوْالها وألبانها وكَانَ إِسْحَاق يذهب إِلَى ذَلِكَ.
পরিচ্ছেদ: যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তার পেশাব [ও উচ্ছিষ্ট] প্রসঙ্গে৩-সুফিয়ান বলেন: যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তার পেশাব ও উচ্ছিষ্ট ব্যবহারে কোনো দোষ নেই।
যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তার উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, তা ব্যবহারে কোনো অসুবিধা নেই।
তবে সেগুলোর পেশাবের বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন।
আহলে হাদিসগণের (أهل الحديث) একটি দল সুফিয়ানের মতের অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন [২/আ] এবং তাঁরা আনাস ইবনে মালিক বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন—সেই ঘটনায় যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদেরকে তাঁর উটের পালের কাছে গিয়ে সেগুলোর পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইসহাকও এই মত পোষণ করতেন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
وقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَل: لَا يشرب بول الإبل وغير الإبل مما يؤكل لحمه إِلَّا عِنْدَ الضرورة.
وكذَلِكَ قَالَ الشَّافِعِيُُّ وَأَبُوْ ثَوْرٍ وذهبوا إِلَى أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إنما أذن ذَلِكَ للمرض الذي كَانَ بهم.
[الْوُضُوْء بسؤر البغل والحمار]4-قَالَ سُفْيَان: إِذَا لم يجد مَاء إِلَّا سؤر البغل والحمار وَأَحَبُّ إِلَيَّ أن يتوضأ بِهِ ثُمَّ يتيمم فأكون قد استوثقت.
وَقَالَ
আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: উটের প্রস্রাব এবং উট ব্যতীত অন্যান্য যেসব পশুর গোশত খাওয়া হয়, সেগুলোর প্রস্রাব পান করা যাবে না, কেবল বিশেষ প্রয়োজনের (ضرورة) মুহূর্ত ছাড়া।
অনুরূপ কথা শাফিঈ এবং আবু সাওরও বলেছেন। তাঁরা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল তাঁদের অসুস্থতার কারণেই এর অনুমতি দিয়েছিলেন।
[খচ্চর ও গাধার উচ্ছিষ্ট (سؤر) পানি দ্বারা অজু করার বিধান]4-সুফিয়ান বলেছেন: যদি কেউ খচ্চর এবং গাধার উচ্ছিষ্ট (سؤر) ব্যতীত অন্য কোনো পানি না পায়, তবে সে যেন তা দিয়ে অজু করে এবং এরপর তায়াম্মুম করে নেয়—এটিই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়; যাতে আমি (পবিত্রতার বিষয়ে) নিশ্চিত (استوثقت) হতে পারি।
এবং তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
أَهْل الْمَدِيْنَة منهم ربيعة ويحيى بْن سعيد وأَبُوْ الزناد: لَا بَأْسَ بسؤر البغل والحمار. وأما الشافعي وأصحابه فإنهم قالوا: لا بأس بسؤر البغل والحمار وجميع السباع إِلَّا الكلب والخنزير.
وَقَالَ أَحْمَدُ: لَا بَأْسَ بسؤر السباع كلها ما خلا الكلب والخنزير مثل قَوْل الشَّافِعِيّ.
وقد أكره سؤر الحمار لحَدِيْث
মদিনাবাসীগণ, যাদের মধ্যে রয়েছেন রবিআহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং আবুয যিনাদ: খচ্চর ও গাধার উচ্ছিষ্ট ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس)। আর শাফিঈ ও তাঁর অনুসারীরা বলেছেন: কুকুর ও শুকর ব্যতীত খচ্চর, গাধা এবং সকল হিংস্র প্রাণীর উচ্ছিষ্ট ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس)।
এবং আহমাদ বলেছেন: শাফিঈর মতের ন্যায় কুকুর ও শুকর ব্যতিরেকে সকল হিংস্র প্রাণীর উচ্ছিষ্ট ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس)।
আর একটি হাদিসের কারণে গাধার উচ্ছিষ্টকে অপছন্দনীয় (أكره) মনে করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
ابن عُمَر أَنَّهُ كره سؤر الحمار.
في الصَّلَاة
[كتاب الصَّلَاة][بَابُ الْجَمَاعَةِ وَالْإِمَامَةِ]
[في الجهر بآمين]5-قَالَ سُفْيَانُ: آمين يخفيها
قَالَ الشَّافِعِيُُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ وَعَامَّةُ أَصْحَاب الْحَدِيْث: يجهر الْإِمَام بآمين ومن خلفه.
ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি গাধার উচ্ছিষ্ট অপছন্দ করতেন।
সালাত প্রসঙ্গে
[সালাত অধ্যায়][জামাত ও ইমামত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]
[উচ্চস্বরে ‘আমিন’ বলা প্রসঙ্গে]৫-সুফিয়ান (রহ.) বলেছেন: ‘আমিন’ নিচু স্বরে বলতে হবে।
ইমাম শাফিঈ, আহমাদ, ইসহাক এবং সাধারণ হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) বলেছেন: ইমাম এবং তাঁর পেছনে যারা রয়েছেন তারা উচ্চস্বরে ‘আমিন’ বলবেন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
[بَاب صفة الصَّلَاة]
[الأذكار فِي الرُّكُوْع والسجود]6-قَالَ سُفْيَانُ: إن لم تقل فِي ركوعك ولا سجودك سبحان ربي العظيم فقد أجزأك.
وكذلك [2/ب] قَالَ الشَّافِعِيُُّ إِذَا تركه عمدا أَوْ ناسيا أجزأه.
وكَانَ إِسْحَاق يقول: إِذَا تَرَكَ التسبيح والتكبيرات ناسيا والتَّشَهُّد ناسيا أجزأه وإن تَرَكَ من ذَلِكَ شيئا متعمدا لم تجزئه صلاته.
[সালাতের (صلاة) পদ্ধতি বিষয়ক অধ্যায়]
[রুকু (ركوع) ও সিজদার (سجود) জিকিরসমূহ (أذكار)]6-সুফিয়ান (রাহ.) বলেন: যদি তুমি তোমার রুকু (ركوع) অথবা সিজদাতে (سجود) 'সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম' না-ও বলো, তবে তা তোমার জন্য যথেষ্ট (أجزأ) হবে।
একইভাবে [২/খ] ইমাম শাফিয়ী (রাহ.) বলেন, যখন কেউ এটি ইচ্ছাকৃতভাবে (عمدا) অথবা ভুলবশত (ناسيا) বর্জন করে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট (أجزأ) হবে।
ইসহাক (রাহ.) বলতেন: যদি কেউ ভুলবশত (ناسيا) তাসবিহ (تسبيح), তাকবিরসমূহ (تكبيرات) এবং তাশাহহুদ (تشهد) বর্জন করে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট (أجزأ) হবে। আর যদি সে এর কোনো কিছু ইচ্ছাকৃতভাবে (متعمدا) বর্জন করে, তবে তার সালাত (صلاة) যথেষ্ট (تجزئ) হবে না।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
[تَرَكَ أحد التَّشَهُّدين عمدًا أو ناسيًا]7- وَقَالَ الشَّافِعِيُُّ: إِذَا تَرَكَ التَّشَهُّد فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُوْلَيَيْنِ عمدًا أو ناسيًا لم يعد الصَّلَاة.
[ইচ্ছাকৃতভাবে বা বিস্মৃতিবশত দুই তাশাহহুদের কোনো একটি বর্জন করা]7- ইমাম শাফিঈ বলেছেন: যদি কেউ প্রথম দুই রাকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বা বিস্মৃতিবশত তাশাহহুদ বর্জন করে, তবে সে সালাত পুনরায় আদায় করবে না।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
وَإِنْ تَرَكَهُ فِيْ آخِرِ صَلَاتِهِ لَمْ تُجْزِئْهُ صَلَاتُهُ.
আর যদি তিনি তা সালাতের শেষাংশে বর্জন করেন, তবে তাঁর সালাত যথেষ্ট হবে না।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
[قِرَاءَة الفاتحة في الرَّكْعَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ]8- قَالَ سُفْيَانُ: وإن شئت فسبح فِي الْأُخْرَيَيْنِ من الصَّلَاة بَعْد فاتحة الْكِتَاب أي ذَلِكَ فعلت أجزأك.
وَقَالَ أَحْمَدُ: لَا يجزئه حَتَّى يقرأ فِي كُلّ ركعة فاتحة الْكِتَاب وكذَلِكَ قَالَ الشَّافِعِيُُّ وأَصْحَابه.
[শেষ দুই রাকাআতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা]৮- সুফিয়ান (রহ.) বলেন: “তুমি চাইলে সালাতের শেষ দুই রাকাআতে সূরা ফাতিহা পাঠের পর তাসবিহ পাঠ করতে পারো; এর মধ্যে যা-ই করো না কেন, তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।”
ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন: “প্রত্যেক রাকাআতে সূরা ফাতিহা পাঠ না করা পর্যন্ত তা যথেষ্ট হবে না।” অনুরূপ অভিমত ইমাম শাফিঈ (রহ.) এবং তাঁর অনুসারীরাও ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১১০)
[بَاب صَلَاة الوتر]
[موضع القنوت فِي الوتر]9- قَالَ سُفْيَانُ: يقنت قبل الركوع
وَقَالَ أَحْمَدُ: يقنت بَعْد الرُّكُوْع ويسلم فِي الرَّكْعَتَيْنِ من الوتر.
وكذَلِكَ قَالَ الشَّافِعِيُُّ وإِسْحَاق فِي التسليم.
وَهُوَ قَوْل مَالِكٍ فِي التسليم.
[বিতর সালাতের অধ্যায়]
[বিতর সালাতে কুনুতের স্থান]9- সুফিয়ান বলেন: রুকুর আগে কুনুত পড়তে হবে।
আহমাদ বলেন: রুকুর পরে কুনুত পড়তে হবে এবং বিতরের দুই রাকাতের পর সালাম ফেরাতে হবে।
সালাম ফেরানোর বিষয়ে শাফিঈ এবং ইসহাকও অনুরূপ বলেছেন।
সালাম ফেরানোর বিষয়ে এটিই মালিকের অভিমত।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১১১)
................
হাদিসশাস্ত্রে বর্ণনাকারীগণের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হওয়া অন্যতম প্রধান শর্ত। যদি কোনো বর্ণনাকারী দুর্বল (ضعيف) কিংবা পরিত্যক্ত (متروك) হন, তবে তার বর্ণনাকে সহিহ (صحيح) হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। মিথ্যুক (كذاب) বর্ণনাকারীর বর্ণনাকে জাল (موضوع) হিসেবে অভিহিত করা হয়। পক্ষান্তরে, যে হাদিসের সনদ নিরবচ্ছিন্ন (متصل) এবং যা শায (شاذ) বা ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয়, তাকে সহিহ (صحيح) বলা হয়। এছাড়া বর্ণনার প্রকারভেদে হাদিস মুরসাল (مرسل) কিংবা মুদাল্লাস (مدلس) হতে পারে। বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারীর মাধ্যমে প্রাপ্ত বর্ণনাকে নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) এবং এর বিপরীত অবস্থাকে একক বর্ণনা (آحاد) হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১১২)
[وقت الوتر]10- قَالَ سُفْيَانُ: إنه أوتر ما بَعْد طلوع الفجر فلَا بَأْسَ والليل أحب إليهم.
وَقَالَ أَحْمَدُ: إِذَا نام عَن الوتر أَوْ نسيه فَإِنَّهُ يوتر ما لم يصل الْغَدَاة فَإِذَاصلى الْغَدَاة لم يوتر بَعْد ذَلِكَ.
وَقَالَ الْكُوْفِيُّوْنَ: مَتَى ما ذكر أوتر.
بَاب الصَّلَاة خلف الصف وحده11- قَالَ أَحْمَدُ وإِسْحَاق: عَلَيْهِ أن يعيد الصَّلَاة
[বিতরের সময়]10- সুফিয়ান বলেন: যদি কেউ ফজর উদিত হওয়ার পর বিতর আদায় করেন তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই, তবে রাত (রাতের শেষভাগ) তাদের নিকট অধিক পছন্দনীয় ছিল।
আহমাদ বলেন: যদি কেউ বিতর না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা তা ভুলে যায়, তবে সে ফজরের সালাত আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত তা আদায় করবে; কিন্তু যখন সে ফজরের সালাত আদায় করে ফেলবে, তখন আর বিতর পড়বে না।
কুফাবাসীগণ বলেন: যখনই স্মরণ হবে তখনই সে বিতর পড়বে।
অধ্যায়: কাতারের (صف) পেছনে একাকী সালাত আদায়11- আহমাদ এবং ইসহাক বলেন: তার ওপর সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
واحتجا بحَدِيْث وابصة بْن معبد.
قَالَ الشَّافِعِيُُّ: صلاته جائزة.
واحتج بحَدِيْث أَنَس: صليت خلف
النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أَنَا ويتيم وأم سليم خلفنا"
এবং তাঁরা উভয়ে ওয়াবিসা ইবনে মা'বাদের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ (احتجاج) করেছেন।
ইমাম শাফিঈ বলেন: তাঁর সালাত বৈধ (جائز)।
এবং তিনি আনাসের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ (احتجاج) করেছেন: আমি পেছনে সালাত আদায় করেছি
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের; আমি এবং একজন ইয়াতিম, আর উম্মে সুলাইম ছিলেন আমাদের পেছনে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
قَالَ الشَّافِعِيُُّ: الرَّجُل والْمَرْأَة فِي ذَلِكَ سواء.
وفرق أَحْمَد وإِسْحَاق بين الرَّجُل والْمَرْأَة فقالا للمرأة أن تصلي خلف الصف وحدها لحَدِيْث أَنَس: ولَيْسَ الرَّجُل أن يُصَلِّي خلف الصف وحده. وكذَلِكَ قَالَ إِسْحَاق.
[الْوُضُوْء من الْقَهْقَهَة في الصَّلَاة]12- قَالَ سُفْيَانُ: إِذَا قهقه الرَّجُل فِي الصلة أعاد الْوُضُوْء والصَّلَاة. كذَلِكَ قَالَ الْكُوْفِيُّوْنَ.
وَقَالَ مَالِكٌ وَأَهْلُ الْمَدِيْنَةِ وَالشَّافِعِيُّ وأَصْحَابه وأَحْمَد وإِسْحَاق: لَا وضوء فِي الضحك فِي الصَّلَاة ولا غيرها وعَلَيْهِ أن يعيد الصَّلَاة إِذَا ضحك فيها ولا يعيد الْوُضُوْء أثبتوا
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: এ বিষয়ে নারী ও পুরুষ উভয়ই সমান।
আহমদ এবং ইসহাক নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করেছেন; তাঁরা বলেছেন যে, আনাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে একজন নারী একাকী কাতারের পেছনে সালাত আদায় করতে পারবেন, কিন্তু কোনো পুরুষের জন্য একাকী কাতারের পেছনে সালাত আদায় করার বিধান নেই। ইসহাকও অনুরূপ বলেছেন।
[সালাতে উচ্চস্বরে হাসির (قهقهة) কারণে অজু করা প্রসঙ্গে]12- সুফিয়ান বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি সালাতে উচ্চস্বরে হাসেন (قهقهة), তবে তিনি অজু ও সালাত পুনরায় আদায় করবেন। কুফাবাসীরাও (কুফার ফকিহগণ) অনুরূপ বলেছেন।
ইমাম মালিক, মদিনাবাসীগণ, শাফেঈ ও তাঁর অনুসারীগণ এবং আহমদ ও ইসহাক বলেছেন: সালাতে বা অন্য কোথাও হাসির কারণে কোনো অজু নেই। তবে সালাতের মধ্যে হাসলে তাকে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে, কিন্তু অজু পুনরায় করতে হবে না; এটিই তাঁরা সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
حَدِيْث أبي العالية واحتجوا بحَدِيْث جابر وأبي موسى الأشعري أَنَّهُما لم يريا فِي الضحك فِي الصَّلَاة وضوءا.
আবু আল-আলিয়ার হাদিস; এবং তারা জাবির ও আবু মুসা আল-আশআরির হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, তারা উভয়ে সালাতে হাসির কারণে অজু করার কোনো বিধান দেখতেন না।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
[من نسي القِرَاءَة في الرَّكْعَتَيْنِ الْأُوْلَيَيْنِ]13- قَالَ سُفْيَانُ: أذا نسي الرَّجُل القِرَاءَة فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُوْلَيَيْنِ من الظهر أَوْ الْعَصْرَ أَوْ العشاء قرأ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ وسجد سجدتي السَّهْو
قَالَ أَحْمَدُ: لَا يجزئه حتي يقرأ فِي كُلّ ركعة بفاتحة الْكِتَاب
وكذَلِكَ قَالَ الشَّافِعِيُّ.
واحتج أَحْمَد بحَدِيْث جابر بْن عَبْد اللهِ: من صلى ركعة لم يقرأ فيها بفاتحة الْكِتَاب لم يصل إِلَّا أن يكون وراء الْإِمَام.
[إعادة صَلَاة الْجَمَاعَةفي المسجد]14- قَالَ سُفْيَانُ: إن دخل القوم المسجد وقد صلوا جماعة فلا يصلوا جماعة
[প্রথম দুই রাকাতে কিরাত (القراءة) ভুলে যাওয়া প্রসঙ্গে]১৩- সুফিয়ান বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি যোহর, আসর অথবা এশার প্রথম দুই রাকাতে কিরাত (القراءة) পাঠ করতে ভুলে যায়, তবে সে শেষ দুই রাকাতে তা পাঠ করবে এবং ভুল সংশোধনের সিজদা (سجدتي السهو) প্রদান করবে।
আহমাদ বলেন: এটি তার জন্য যথেষ্ট (يجزئه) হবে না যতক্ষণ না সে প্রত্যেক রাকাতে (ركعة) সূরা ফাতিহা (بفاتحة الكتاب) পাঠ করে।
অনুরূপ কথা শাফিঈও বলেছেন।
আহমাদ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ (واحتج) করেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো রাকাত (ركعة) আদায় করল যাতে সে সূরা ফাতিহা (بفاتحة الكتاب) পাঠ করেনি, তার সালাত হয়নি (لم يصل); তবে সে যদি ইমামের (الإمام) পেছনে থাকে (তবে ভিন্ন কথা)।"
[মসজিদে পুনরায় জামাতে (جماعة) সালাত আদায় প্রসঙ্গে]১৪- সুফিয়ান বলেন: যদি একদল লোক মসজিদে প্রবেশ করে এবং দেখে যে (পূর্বেই) জামাতে (جماعة) সালাত আদায় হয়ে গেছে, তবে তারা যেন পুনরায় জামাতে (جماعة) সালাত আদায় না করে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
قَالَ أَحْمَدُ وإِسْحَاقُ: يصلون جماعة أفضل لحَدِيْث أبي سعيد الخدري وحَدِيْث أبي أمامة فقال: ألا رجل يتصدق عَلَى هَذَا؟.
আহমাদ ও ইসহাক বলেন: জামাআতে (جماعة) সালাত আদায় করা অধিক উত্তম (أفضل); আবু সাঈদ আল-খুদরি এবং আবু উমামা বর্ণিত হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেছেন: “এমন কোনো লোক কি নেই যে একে সদকা (صدقة) করবে?”
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
بَاب [مَنْ صَلَّى ثُمَّ أدرك جماعة]
[حكم إعادة الصَّلَاة]15- قَالَ سُفْيَانُ: إِذَا أَنْتَ قد صليت المكتوبة ثُمَّ دخلت المسجد فأقيمت الصَّلَاة فصلي معهم تطوعا الصَّلَوَات كلها إِلَّا المغرب فَإِذَاسلم الْإِمَام فقم فاشفع بركعة
وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ: إِذَا أقيمت الصَّلَاة وأنت فِي المسجد فلا تخرج حَتَّى يُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا.
পরিচ্ছেদ: [যে ব্যক্তি সালাত আদায় করেছে, অতঃপর জামাত পেয়েছে]
[সালাত পুনরায় আদায়ের বিধান (حكم)]15- সুফিয়ান বলেন: আপনি যখন নির্ধারিত ফরজ (المكتوبة) সালাত আদায় করেছেন, অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং সালাতের ইকামত দেওয়া হলো, তখন তাদের সাথে নফল (تطوعا) হিসেবে সব সালাতই আদায় করুন, কেবল মাগরিব ব্যতীত। ইমাম যখন সালাম ফেরাবেন, তখন আপনি দাঁড়িয়ে এক রাকাত পড়ার মাধ্যমে (সালাতটিকে) জোড় করে নেবেন।
আহমাদ এবং ইসহাক বলেন: যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হয় আর আপনি মসজিদে উপস্থিত থাকেন, তখন সব সালাত আদায় না করা পর্যন্ত সেখান থেকে বের হবেন না।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
وَقَالَ أَصْحَابُ الرَّأْيِ: لَا يُصَلِّي الْغَدَاةَ ولا الْعَصْرَ.
এবং আসহাবুর রায় (أصحاب الرأي) বলেছেন: তিনি ফজরের সালাত এবং আসরের সালাত আদায় করবেন না।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১২০)
بَاب صَلَاة الْمُسَافِر
[السفر الموجب للقصر]16- قَالَ سُفْيَانُ: إِذَا سافرت سفرا يكون ثلاثة أيام فاقصر الصَّلَاة وإن قدم صوم فيه إن شئت فصم والصَّوْم أحب إلى
وَقَالَ مَالِكٌ وَأَهْلُ الْمَدِيْنَةِ يقصر فِي مسيرة ستة عشر فرسخا.
.
মুসাফিরের সালাত অধ্যায়[সালাত সংক্ষিপ্তকরণ (قصر) ওয়াজিব হওয়ার মতো সফর]16- সুফিয়ান (রহ.) বলেন: যখন তুমি এমন কোনো সফর করবে যা তিন দিন সময়কাল ব্যাপী হয়, তবে সালাত সংক্ষিপ্ত (قصر) করো। আর যদি তাতে সিয়ামের সময় উপস্থিত হয়, তবে তুমি চাইলে সিয়াম পালন করতে পারো; তবে সিয়াম পালন করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
ইমাম মালিক (রহ.) এবং মদিনাবাসীগণ বলেন, ষোলো ফারসাখ পরিমাণ পথ অতিক্রমের সফরে সালাত সংক্ষিপ্ত (قصر) করা হবে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১২১)
وكذَلِكَ قَالَ الشَّافِعِيُّ وأَحْمَدُ وإِسْحَاقُ.
واحتجوا بحَدِيْث ابْن عُمَر وابن عَبَّاس أَنَّهُما كانا يقصران فِي مسيرة أربعة برد وهي ستة عشر فرسخا.
وأما الصَّوْم فإن مَالكًا قَالَ مثل قَوْلِ سُفْيَانَ.
وكذَلِكَ قَالَ الشَّافِعِيُُّ قَالَ أَحْمَد وَإِسْحَاقُ: الفطر أفضل وإن صام فَهُوَ جائز.
অনুরূপভাবে শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও বলেছেন।
তাঁরা ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাসের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, তাঁরা চার বারিদ (برد)—যা ষোলো ফারসাখ (فرسخ) এর সমান—পরিমাণ পথ অতিক্রমকালে সালাত কসর করতেন।
আর রোযার ব্যাপারে মালিক সুফিয়ানের মতের অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
অনুরূপভাবে শাফিঈও বলেছেন; আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন: রোযা ভঙ্গ করাই উত্তম, তবে কেউ রোযা রাখলে তা বৈধ (جائز) হবে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১২২)
[مَتَى يتم الْمُسَافِر الصَّلَاة؟]
17- قَالَ سُفْيَانُ: إِذَا قدمت أرضا وأنت مسافر فأزمعت أن تقيم خمس عشرة فأتم الصَّلَاة.
وكذَلِكَ [4/أ] قَالَ الْكُوْفِيُّوْنَ.
وَقَالَ مَالِكٌ وَأَهْلُ الْمَدِيْنَةِ إِذَا أزمع عَلَى إقامة أربعة أيام أتم الصَّلَاة. وكذَلِكَ قَالَ الشَّافِعِيُُّ: إِذَا أزمع عَلَى إقامة أربعة أيام سِوَى اليوم الذي يدخل فيه واليوم الذي يخرج منه فَإِنَّهُ يتم صلاته.
وَقَالَ أَحْمَدُ: إِذَا أزمع عَلَى مقام أكثر من
[মুসাফির কখন নামাজ পূর্ণ (إتمام) করবেন?]
১৭- সুফিয়ান বলেন: আপনি যখন মুসাফির অবস্থায় কোনো ভূখণ্ডে পৌঁছাবেন এবং সেখানে পনের দিন অবস্থানের সংকল্প (أزمع) করবেন, তখন নামাজ পূর্ণ (إتمام) আদায় করবেন।
কুফাবাসীগণও [৪/অ] অনুরূপ কথা বলেছেন।
মালিক ও মদিনাবাসীগণ বলেন, যখন কেউ চার দিন অবস্থানের সংকল্প (أزمع) করবেন, তখন নামাজ পূর্ণ (إتمام) করবেন। শাফেঈ-ও অনুরূপ বলেছেন: প্রবেশের দিন এবং প্রস্থানের দিন ব্যতিরেকে যখন কেউ চার দিন অবস্থানের সংকল্প (أزمع) করবেন, তখন তিনি তাঁর নামাজ পূর্ণ (إتمام) করবেন।
আহমাদ বলেন: যখন কেউ এর চেয়ে অধিক সময় অবস্থানের সংকল্প (أزمع) করেন...
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা - ইখতিলাফুল উলামা লিল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
أربعة أيام فَإِنَّهُ يتم الصَّلَاة واحتج أَحْمَد بحَدِيْث جابر وعَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ عليه الصلاة والسلام قدم مكة صبح رابعة من ذي الحجة فقَالَ أَحْمَدُ: أزمع النَّبِيّ عَلَى مقام أربعة أيام فقصر فما زاد عَلَى هَذَا فَإِنَّهُ يتم
وأما إِسْحَاق فَكَانَ يَقُوْلُ: لَا أفتي فِي هَذِهِ المسألة
[إِمَامَة الصَّبِيّ]18- قَالَ سُفْيَانُ: لَا يَؤُمّ الْغُلَام القوم حَتَّى يحتلم
قال
চার দিন, এমতাবস্থায় তিনি সালাত পূর্ণ (يتم) করবেন। আহমাদ জাবির ও আয়িশাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ (احتج) করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিলহজ মাসের চতুর্থ তারিখ সকালে মক্কায় পদার্পণ করেছিলেন। আহমাদ বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চার দিন অবস্থানের সংকল্প করেছিলেন এবং সালাত সংক্ষেপ (قصر) করেছিলেন; সুতরাং এর অতিরিক্ত হলে তিনি সালাত পূর্ণ (يتم) করবেন।
আর ইসহাক বলতেন: আমি এই মাসআলায় কোনো ফতোয়া প্রদান করি না।
[নাবালকের ইমামতি (إمامة الصبي)]১৮- সুফিয়ান বলেন: কোনো বালক সাবালক (يحتلم) না হওয়া পর্যন্ত লোকজনের ইমামতি করবে না।
তিনি বলেন