(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الظاهرة القرآنية   (مالك بن نبي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الظاهرة القرآنية

المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)

المحقق: (إشراف ندوة مالك بن نبي)

الناشر: دار الفكر - دمشق سورية

الطبعة: الرابعة، 1420 هـ -2000م

عدد الصفحات: 328

أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-জাহিরাতুল কুরআনিয়া   (মালেক বিন নবী)

বিভাগ: কুরআনের জ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


গ্রন্থ: আল-জাহিরাতুল কুরআনিয়া

লেখক: মালেক বিন আল-হাজ ওমর বিন আল-খিজর বিন নবী (মৃত্যু ১৩৯৩ হিজরি)

গবেষক/সম্পাদক (المحقق): (মালেক বিন নবী সিম্পোজিয়ামের তত্ত্বাবধানে)

প্রকাশক: দারুল ফিকর - দামেস্ক, সিরিয়া

সংস্করণ: চতুর্থ، ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৮

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজায়িরি

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي

مشكلات الحضارة

***************

الظاهرة القرآنية

دار الفكر المعاصر- بيروت لبنان

دار الفكر-دمشق سورية
মালিক বিন নবী

সভ্যতার সংকটসমূহ

***************

আল-জাহিরাতুল কুরআনিয়া (কুরআনিক ফিনোমেনা)

দারুল ফিকর আল-মুয়াসির — বৈরুত, লেবানন

দারুল ফিকর — দামেস্ক, সিরিয়া
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الظاهرة القرآنية
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

কুরআনিক প্রপঞ্চ
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
مالك بن نبي

مشكلات الحضارة

 

الظاهرة القرآنية

ترجمة عبد الصبور شاهين

تقديم محمد عبد الله دراز - محمود محمد شاكر

بإشراف ندوة مالك بن نبي

 

دار الفكر

دمشق-سورية
মালেক বিন নবী

সভ্যতার সংকটসমূহ

 

আল-জাহিরআহ আল-কুরআনিইয়াহ (কুরআনিক ফিনোমেনন)

অনুবাদ: আবদুস সবুর শাহীন

উপস্থাপনা: মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ - মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির

মালেক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে

 

দারুল ফিকর

দামেস্ক-সিরিয়া
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
جميع الحقوق محفوظة

1420 هـ =2000م

ط4: 1987م
সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

১৪২০ হিজরি = ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

৪র্থ সংস্করণ: ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

في عام 1971م ترك أستاذنا مالك بن نبي- رحمه الله في المحكة الشرعية في طرابلس لبنان، وصية سجلت تحت رقم 275/ 67 في 16 ربيع الثاني 1391 هـ الموافق 10 حزيران 1971م، وقد حملني فيها مسؤولية كتبه المعنوية والادبية. وتحملا مني لهذه الرسالة، ووفاء لندوات سقتنا على ظمأ صافي الرؤية، رأيت تسمية ما يصدر تنفيذا لوصية المؤلف " ندوة مالك بن نبي ".

والتسمية هذه دعوة إلى أصدقاء مالك بن نبي وقارئيه، ليواصلوا نهجا في دراسة المشكلات، كان قد بدأه.

وهي مشروع نطرحه بوصفه نواة لعلاقات فكرية، كان رحمه الله يرغب في توثيقها.

وإنني لأرجو من أصدقاء مالك وقارئيه، مساعدتنا على حفظ حقوق المؤلف في كل ما ينشر بالعربية أو غيرها مترجما من قبل المترجمين أوغير مترجم. فقد حملني- رحمه الله مسؤولية حفظ هذه الحقوق والإذن بنشر كتبه. فإن وجدت طبعات لم تذكر فيها إشارة إلى إذن صادرمن قبلنا، فهذه طبعات غير مشروعة، ونرجو إبلاغنا عنها.

 

طرابلس لبنان 18 ربيع الأول 1399هـ

15 شباط (فبراير) 1979م

عمر مسقاوي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে আমাদের উস্তাদ মালিক বিন নবী—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—লেবাননের ত্রিপোলির শরীয়াহ আদালতে একটি অসিয়তনামা রেখে গেছেন, যা ১৬ই রবিউস সানি ১৩৯১ হিজরি মোতাবেক ১০ই জুন ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ২৭৫/৬৭ নম্বরে নিবন্ধিত হয়েছে। এতে তিনি আমাকে তাঁর বইপত্রের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যিক দায়ভার অর্পণ করেছেন। এই দায়িত্ব পালনার্থে এবং তাঁর সেই সেমিনারগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ, যা আমাদের পিপাসার্ত হৃদয়ে স্বচ্ছ দৃষ্টির সঞ্চার করেছিল, আমি লেখকের অসিয়ত বাস্তবায়নে প্রকাশিতব্য উদ্যোগটির নাম "মালিক বিন নবী সেমিনার" রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এই নামকরণটি মালিক বিন নবীর বন্ধু ও পাঠকদের প্রতি একটি আহ্বান, যাতে তারা সমস্যাসমূহ পর্যালোচনার সেই ধারাটি অব্যাহত রাখেন, যা তিনি শুরু করেছিলেন।

এটি এমন একটি প্রকল্প যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করছি, যা তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।

আমি মালিকের বন্ধু ও পাঠকদের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন আরবি বা অন্য যেকোনো ভাষায় অনুবাদকদের মাধ্যমে অনূদিত বা অনূদিত নয় এমনভাবে প্রকাশিত লেখকের সমুদয় স্বত্ব সংরক্ষণে আমাদের সহায়তা করেন। কেননা তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—আমাকে এই স্বত্বসমূহ সংরক্ষণ এবং তাঁর বইসমূহ প্রকাশের অনুমতি প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। যদি এমন কোনো সংস্করণ পাওয়া যায় যেখানে আমাদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত অনুমতির উল্লেখ নেই, তবে সেগুলো অবৈধ সংস্করণ বলে গণ্য হবে; আমরা অনুরোধ করছি যেন এ ব্যাপারে আমাদের জানানো হয়।

 

ত্রিপোলি, লেবানন, ১৮ই রবিউল আউয়াল ১৩৯৯ হিজরি

১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

ওমর মিসকাউই
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الإهداء

 

إلى روح أمي …

إلى أبي …

الوالدين اللذين قدما لي في المهد أثمن الهدايا … هدية الإيمان

مالك
উৎসর্গ

 

আমার মায়ের আত্মার প্রতি …

আমার পিতার প্রতি …

সেই পিতামাতা, যাঁরা দোলনায় থাকাকালীন আমাকে সবচাইতে মূল্যবান উপহার প্রদান করেছিলেন … ঈমানের উপহার

মালেক
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
تلبية لرغبة العديد من القراء، عمدنا إلى ترجمة المقدمة، التي صدر بها المرحوم فضيلة الدكتور الشيخ محمد عبد الله دراز، الطبعة الفرنسية من كتاب (الظاهرة القرآنية) عام 1947م.

وحينما ننشر "لأول مرة" مقدمة الشيخ دراز للطبعة الفرنسية، نكون قد أتممنا نشر وثائق هذا الكتاب، الذي استقبله قراء العربية بالاهتهام والتقدير.

والأستاذ الدكتور دراز من كبار العلماء الذين خدموا القرآن والفلسفة وعلم الأخلاق، ومن الرواد الأزهريين الأوائل، الذين اتصلوا بالثقافة الغربية، وأوسعوا لها فسيحاً من علمهم وعميقا من تأملهم. وهو من الذين بلغوا الفكر الإسلامي بوسائل الحضارة الحديثة لغة ومنهجا.

لذا تبدو مقدمة الدكتور دراز، صدى لذلك التكوين الفكري المتأثر بالديكارتية بوصفها منهج تفكير. وهي من هذا الجانب، تبرز لنا ما للثقافة الغربية وما لفلاسفتها من نفوذ على مناهج التفكير ذي الأصول الأزهرية في تلك الفترة من الزمن.

على أن أهمية هذه المقدمة تبدو في تلك الإيضاحات التاريخية، على هامش الفكرة الأساسية، التي تنتظم كتاب الظاهرة، وفي تلك الدعوة إلى تطوير وسائل تفكيرنا كلما تطورت وسائل العلم، وفي إبراز المنهج القرآني خطة موضوعية تستهدف الحقيقة المطلقة. وهي إذا أضفناها إلى مقدمة الأستاذ الكبير محمود محمد شاكر استقام لنا كتاب الظاهرة القرآنية خطة في إرساء العقيدة عن طريق العقل والإيمان معاً.

 

عمر مسقاوي
অনেক পাঠকের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে, আমরা সেই ভূমিকাটি অনুবাদের উদ্যোগ নিয়েছি যা প্রয়াত ফযীলাতুশ শাইখ ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ ১৯৪৭ সালে 'আল-জাহেরাতুল কুরআনিয়্যাহ' গ্রন্থের ফরাসি সংস্করণের শুরুতে লিখেছিলেন।

আমরা যখন "প্রথমবারের মতো" শাইখ দরাজের ফরাসি সংস্করণের ভূমিকাটি প্রকাশ করছি, তখন আমরা মূলত এই গ্রন্থের নথিপত্রগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করছি, যা আরবি ভাষার পাঠকদের নিকট গভীর আগ্রহ ও সমাদর লাভ করেছে।

অধ্যাপক ড. দরাজ সেই সকল মহান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত যারা কুরআন, দর্শন ও নীতিশাস্ত্রের ব্যাপক খিদমত করেছেন। তিনি আল-আযহারের সেই সকল প্রথম সারির অগ্রজদের অন্যতম যারা পশ্চিমা সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন এবং তাকে নিজেদের জ্ঞান ও গভীর চিন্তালব্ধ প্রজ্ঞা দ্বারা সমৃদ্ধ করেছিলেন। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি আধুনিক সভ্যতার ভাষা ও মানহাজ (منهج) ব্যবহারের মাধ্যমে ইসলামি চিন্তাধারাকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

তাই ড. দরাজের ভূমিকাটি চিন্তার মানহাজ (منهج) হিসেবে 'দেকার্তীয় দর্শন' (Cartesianism) দ্বারা প্রভাবিত সেই বুদ্ধিবৃত্তিক গঠনেরই প্রতিধ্বনি বলে প্রতীয়মান হয়। এই দিক থেকে এটি আমাদের সামনে সেই সময়ে আল-আযহারের মূলনীতি ভিত্তিক চিন্তা-পদ্ধতির ওপর পশ্চিমা সংস্কৃতি ও দার্শনিকদের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

তবে এই ভূমিকাটির গুরুত্ব প্রকাশ পায় মূল ধারণার পাশাপাশি সেই ঐতিহাসিক ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে যা 'আল-জাহেরা' গ্রন্থটিকে সুসংবদ্ধ করেছে; একইসাথে বিজ্ঞানের উৎকর্ষের সাথে সাথে আমাদের চিন্তা-পদ্ধতিরও উন্নয়নের আহ্বানে এবং কুরআনীয় মানহাজ (منهج)-কে পরম সত্য অনুসন্ধানের এক বস্তুনিষ্ঠ পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে। এই ভূমিকাটিকে যদি আমরা মহান উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ শাকিরের ভূমিকার সাথে যুক্ত করি, তবে 'আল-জাহেরাতুল কুরআনিয়্যাহ' গ্রন্থটি আমাদের সামনে আকল (বিবেক) ও ঈমান—উভয় মাধ্যমেই আকিদা (عقيدة) সুদৃঢ় করার এক সুবিন্যস্ত রূপরেখা হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়।

 

ওমর মেসকাউয়ি
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة الطبعة الفرنسية

للمرحوم الدكتور الشيخ محمد عبد الله دراز

عزيزي السيد بن نبي

فرغت لتوي من قراءة كتابك القيم (الظاهرة القرآنية)، ومما أعطى لموضوعك أهمية كبرى أنه قديم وحديث معاً.

ففي ضوء العلم الحديث، ولجت قضية رئيسية ما فتئت تشغل المفسرين في كل زمن. ولعلي أنا لامستها في دراسات عديدة سابقة، سواء ما كان منها بالعربية أو الفرنسية.

إن الغبطة التي شعرت بها وأنا أقرؤه، لهي من العمق بقدر ما أتاحت لي هذه القراءة أن أدرك من جديد، ذلك الجهد الجاد المستقل والمتجرد، يقود الباحثين عن الحقيقة إلى نتائج متماثلة بل موحدة على الرغم من المسافة التي يمكن أن تفصل بينهم في الم كان والزمان.

وإذا نحينا جانباً أسلوبك الفني في الكتابة، وطريقتك الرائعة في عرض الأشياء، فإننا نجد طرقنا في الدراسة متشابهة بصورة بارزة.

ليس هذا فحسب، بل من غير النادر أن يحمل تفحصنا للأمر المثل نفسه وأن يشير إلى المعنى ذاته.

إن المسألة هي في البحث عن المصدر الحقيقي للقرآن. وأن نعرف ما إذا كان يمكن أن يكون هذا الكتاب قد استخرج من علم أو إدراك من أرسل به. أو من
ফরাসি সংস্করণের ভূমিকা

মরহুম ডক্টর শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ-এর পক্ষ থেকে

প্রিয় জনাব বিন নবী

আমি এইমাত্র আপনার মূল্যবান গ্রন্থ 'কুরআনীয় ঘটনাপ্রবাহ' (আল-জাহিরাতুল কুরআন) পাঠ শেষ করেছি। আপনার আলোচিত বিষয়টি যে কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তা হলো, এটি একই সাথে প্রাচীন ও আধুনিক।

আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে আপনি একটি মৌলিক বিষয়ে প্রবেশ করেছেন যা সর্বযুগের মুফাসসিরদের ব্যাপৃত রেখেছে। সম্ভবত আমি নিজেও আমার পূর্ববর্তী বিভিন্ন গবেষণায় বিষয়টি স্পর্শ করেছি, চাই তা আরবিতে হোক বা ফরাসিতে।

এটি পাঠ করার সময় আমি যে তৃপ্তি অনুভব করেছি তা এতটাই গভীর ছিল যে, এই পাঠ আমাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে—কীভাবে সত্যের সন্ধানে নিয়োজিত গবেষকদের ঐকান্তিক, স্বতন্ত্র ও নিরাসক্ত প্রচেষ্টা তাঁদের একই রকম এমনকি অভিন্ন ফলাফলের দিকে নিয়ে যায়, যদিও স্থান ও কালের দিক থেকে তাঁদের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান থাকতে পারে।

আমরা যদি আপনার শৈল্পিক লিখনশৈলী এবং বিষয় উপস্থাপনের চমৎকার পদ্ধতিটি সরিয়ে রাখি, তবে আমরা দেখব যে আমাদের গবেষণার পদ্ধতিগুলো স্পষ্টভাবে সদৃশ।

শুধু তাই নয়, এটা মোটেও বিরল নয় যে কোনো বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ একই দৃষ্টান্ত বহন করছে এবং একই অর্থের দিকে ইঙ্গিত করছে।

মূল বিষয়টি হলো কুরআনের প্রকৃত উৎস অনুসন্ধান করা। এবং এটি জানা যে, এই কিতাবটি কি তাঁর জ্ঞান বা উপলব্ধি থেকে নিঃসৃত হওয়া সম্ভব যাঁকে এটি দিয়ে পাঠানো হয়েছে? নাকি...
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
معرفة بشرية على وجه العموم، أم أنه على العكس من ذلك، هنالك أسباب لا يمكن دفعها تحدونا للأعتقاد بمصدره العلوي الإلهي.

تلك هي المسألة التي جئتَ بدورك تلزم نفسك بالعمل على حلها، بإيجاد الأسس الثابتة والعقلية، للإيمان بالمصدر الإلهي لهذا الكتاب، وتسليط الأضواء عليها.

وإذا كان المفسرون التقليديون، توصلاً إلى الهدف نفسه، قد أكدوا بصورة خاصة على الجانب الأدبي من المسألة، فإن هذا الموقف على كل حال يجد تفسيره وما يسوغه في المسلمة الأعم للقرآن. تلك المسلمة التي تميز بها الأسلوب القرآني في جمال لا يضاهى وجلال مميز، وبالاعتراف الفوري بالعجز عن الإتيان بمثله، وهو الوجه الأقرب منالاً لسائر البلغاء من البدو. على أنه من الصحيح أيضاً أن هؤلاء المفسرين، وهم ينظرون في محتوى القرآن، قد رأوا في اتساع وعمق المعرفة التي يحملها للإنسانية، دليلاً في ذاته على خصائصه التي تتجاوز طاقة البشر، وأن التعارض بين توجيه بعض الآيات، كآية {وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ} [الأحزاب 33/ 37] مثلاً، والمشاعر الشخصية للرسول صلى الله عليه وسلم، لشهادة لا تُرَدُّ على استقلالية القرآن عن النبي.

فهل يمكن أن يقال إن هذه النتائج المستخلصة من قبل أجدادنا، تجعل كل محاولة لتفسير جديد عديمة الجدوى؟.

هل يقال إن واجبنا يتحدد من الآن فصاعداً، بتدوين هذه النتائج الجاهزة، وبالنظر إليها كأنها الكلمة الأخيرة حول حقيقة الأشياء؟.

كلا، ثم كلا.

إذ أنه بقدر ما تتطور معارفنا حول الطبيعة والنفس الإنسانية، وكلما اكتسبنا سبباً جديداً يحملنا على أن نرى الأشياء من زاوية مختلفة، فإن ذلك
এটি কি সাধারণভাবে মানবীয় জ্ঞান, নাকি এর বিপরীতে এমন কিছু অখণ্ডনীয় কারণ রয়েছে যা আমাদের এর সুউচ্চ খোদায়ী উৎসে বিশ্বাস করতে পরিচালিত করে?

এটিই সেই প্রশ্ন যা সমাধানে আপনি নিজ থেকে ব্রতী হয়েছেন; এই কিতাবের ঐশ্বরিক উৎসের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের জন্য সুদৃঢ় ও যৌক্তিক ভিত্তি খুঁজে বের করা এবং সেগুলোর ওপর আলোকপাত করাই আপনার লক্ষ্য।

যদি ঐতিহ্যবাহী মুফাসসিরগণ একই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বিশেষভাবে এই প্রসঙ্গের সাহিত্যিক দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করে থাকেন, তবে এই অবস্থানটি কুরআনের সাধারণ সর্বজনীন স্বতঃসিদ্ধতার মধ্যেই এর ব্যাখ্যা ও যৌক্তিকতা খুঁজে পায়। সেই স্বতঃসিদ্ধতা, যা কুরআনের শৈলীকে অতুলনীয় সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত মহিমায় ভাস্বর করেছে; এবং এর অনুরূপ কিছু আনতে তাৎক্ষণিক অক্ষমতা স্বীকারের মাধ্যমেই তা প্রতিভাত হয়েছে, যা ছিল মরুবাসী বাগ্মীদের জন্য সবচেয়ে সহজবোধ্য দিক। এটাও সত্য যে, এই মুফাসসিরগণ কুরআনের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করার সময় মানবতার জন্য এতে বিদ্যমান জ্ঞানের ব্যাপকতা ও গভীরতার মাঝে এমন প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন যা এর মানবীয় সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে থাকা বৈশিষ্ট্যের পরিচায়ক। এবং কিছু আয়াতের নির্দেশনার সাথে যেমন— "আর স্মরণ করো, যখন তুমি তাকে বলছিলে যাকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং তুমিও তার প্রতি অনুগ্রহ করেছ যে, 'তুমি তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো'; আর তুমি তোমার অন্তরে গোপন করছিলে যা আল্লাহ প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন এবং তুমি মানুষকে ভয় করছিলে, অথচ আল্লাহই অধিকতর হকদার যে তুমি তাঁকে ভয় করবে" [আল-আহজাব ৩৩/৩৭]—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যক্তিগত অনুভূতির যে বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়, তা নবী থেকে কুরআনের স্বতন্ত্র অস্তিত্বের এক অকাট্য সাক্ষ্য।

তবে কি বলা যেতে পারে যে, আমাদের পূর্বসূরিদের আহরিত এই ফলাফলগুলো নতুন কোনো ব্যাখ্যার প্রচেষ্টাকে অর্থহীন করে দিয়েছে?

এমনটি কি বলা যায় যে, এখন থেকে আমাদের দায়িত্ব কেবল এই প্রস্তুতকৃত ফলাফলগুলো সংকলন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং সেগুলোকে পরম সত্য হিসেবে গণ্য করা উচিত?

কখনই নয়, আবারও বলছি কখনই নয়।

কারণ প্রকৃতি ও মানবাত্মা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান যতই বিকশিত হচ্ছে এবং যখনই আমরা কোনো নতুন কারণ খুঁজে পাচ্ছি যা আমাদের বিষয়গুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে উদ্বুদ্ধ করছে, তখনই এটি...
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
يدعونا إلى أن نضع المشكلات حين ندرسها بما يتفق وهذا الجديد من واقع العلم.

والمسألة القرآنية لا ينبغي لها أن تخرج عن هذه القاعدة.

فإذا كان صحيحاً أن القرآن معجزة مستمرة، وإذا كانت علائم صدقه من ناحية أخرى لا تنحصر في عبارته فحسب، بل في عالمي الطبيعة والنفس أيضاً كما يقول القرآن نفسه {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ} [فصلت 41/ 53].

إذا كان الأمر كذلك فإن واجباً يقع على كل مؤمن متصل بمعطيات العلم.

إنه التقريب بين جانبي روحه: بين معتقده وعلمه. حين يواجه النصوص المنزلة، لا أقول بفرضيات العلماء التي لم تتحقق أو التي لا تقبل التحقيق، ولكن بالنتائج الثابتة والمستخرجة من تجاربهم، وأن يأخذ من تلك الواجهة ما ينتج عنها من دروس.

وإذا كان في الواقع هنالك حقيقتان، فإنه لا يحق لواحدة منهما أن تنكر الأخرى، بل على العكس من ذلك، عليها أن تؤكدها وتشد من أزرها.

وإذا اتفق لمؤمن متعلم أن ملك موهبة الكتابة فوق هاتين الصفتين من الإيمان والعلم، فإن واجباً آخر يقع على عاتقه: إنه إخراج ثمار علمه بلغة عصره، كما يفعل نبي يخاطب قومه بلغتهم.

إنني أستطيع أن أؤكد بأنك قمت بكلا الواجبين.

فقد تأملت بنضج، ذلك الاتصال بالعقل والتراث، بالعلم والعقيدة ة وأفرغت في عرض جميل واضح ومتماسك شرارة ما تفجر من ذلك اللقاء.

فسداد حكمك، وحرارة عقيدتك، وحداثة مصطلحاتك، وجمال أسلوبك؛ هذه كلها ميزات بارزة لا أستطيع أن أفيك ما تستحق من تهنئة عليها.
এটি আমাদের এমনভাবে সমস্যাগুলো উপস্থাপনের আহ্বান জানায় যা বিজ্ঞানের বাস্তবতার এই নতুনত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।

আর কুরআনের বিষয়টিও এই নিয়মের বাইরে থাকা উচিত নয়।

যদি এটি সঠিক হয় যে কুরআন একটি চিরন্তন মুজিজা, এবং অন্যদিকে এর সত্যতার লক্ষণসমূহ কেবল এর ভাষাশৈলীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃতি এবং আত্মার জগতেও বিদ্যমান—যেমনটি কুরআন নিজেই বলে: "আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে এটিই সত্য" [ফুসসিলাত ৪১:৫৩]।

বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে বিজ্ঞানের তথ্যাদির সাথে যুক্ত প্রত্যেক মুমিনের ওপর একটি দায়িত্ব অর্পিত হয়।

আর তা হলো তার সত্তার দুই দিকের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা: তার আকিদা (العقيدة) এবং তার ইলমের মধ্যে। যখন সে অবতীর্ণ মূল পাঠসমূহ (النصوص) এর সম্মুখীন হয়—আমি বিজ্ঞানীদের এমন প্রকল্পগুলোর কথা বলছি না যা প্রমাণিত হয়নি বা যা প্রমাণের যোগ্য নয়, বরং তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত অকাট্য ও নিষ্কাশিত ফলাফলগুলোর কথা বলছি—এবং সে যেন সেই প্রেক্ষাপট থেকে অর্জিত শিক্ষা গ্রহণ করে।

যদি বাস্তবে দুটি সত্য বিদ্যমান থাকে, তবে একটির জন্য অন্যটিকে অস্বীকার করা সমীচীন নয়; বরং এর বিপরীতে একটির উচিত অন্যটিকে সত্যায়ন করা এবং শক্তিশালী করা।

আর যদি একজন শিক্ষিত মুমিনের ঈমান ও ইলমের এই দুটি গুণের পাশাপাশি রচনার প্রতিভা অর্জিত হয়, তবে তার কাঁধে আরও একটি দায়িত্ব অর্পিত হয়: আর তা হলো তার ইলমের নির্যাসকে তার সমসাময়িক ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করা, ঠিক যেমন একজন নবী তার কওমকে তাদের নিজস্ব ভাষায় সম্বোধন করেন।

আমি এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, আপনি উভয় দায়িত্বই পালন করেছেন।

আপনি অত্যন্ত পরিপক্কতার সাথে বুদ্ধি ও ঐতিহ্য (التراث) এবং ইলম ও আকিদা (العقيدة) এর সেই সংযোগ নিয়ে চিন্তা করেছেন এবং সেই মিলনের ফলে যে স্ফুরণ ঘটেছে, তা একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও সুসংহত উপস্থাপনায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

আপনার সিদ্ধান্তের সঠিকতা, আপনার আকিদার (العقيدة) ঐকান্তিকতা, আপনার পরিভাষাসমূহের আধুনিকতা এবং আপনার শৈলীর সৌন্দর্য—এই সবগুলিই অনন্য বৈশিষ্ট্য যার জন্য আমি আপনাকে প্রাপ্য অভিনন্দন জানাতে সক্ষম নই।
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ولكني أرى من الواجب أن أوجه كلمة إلى الشباب المثقف كيما يتفادى التباساً يمكن أن يقع فيه حول الهدف الحقيقي من هذه الدراسة.

أريد أن أقول لهؤلاء الشباب: إن الأمر لا يعني هنا نشرة لجمع المعلومات وتخزينها في الذاكرة، ولكن نموذجاً حياً من نقاش جدلي، فائدته الحيوية الكبرى بما يذكي من الطاقة الروحية لسائر القراء القادرين على التفكير بمنهجية، كما يضع كل منهم بدوره قضية (الحقيقة) ويبحث بوسائله الذاتية عما يتعين عليه اتخاذه في سبيلها.

فإذا استطاعت نشرة من هذا النوع أن تخدم بوصفها علاجاً للتشكك الديني فتلك زيادة في الخير، إنما يبقى الهدف الأساسي قبل كل شيء محاربة اللامبالاة حول مسألة (الحقيقة العلوية).

على كل حال فإن دراسة كهذه، لا تفكر في أن تفرض نفسها على أنها نوع من العقيدة، نقبله بعيون مغمضة وبغير نقاش. فهذا على ما يبدو لي أبعد ما يكون عن فكر المؤلف، فضلاً عن أنه يتنافى مع المبادئ القرآنية التي يدافع عنها.

فالقرآن لم يعلن فحسب بأن الإيمان لا يفرض من الخارج، ولكنه أدان بقوة كل اتباع أعمى يلقي بزمامه إلى سلطة لا تستند إلى العقل. وقد دعا دائماً باستمرار إلى التأمل الفردي المنسحب من تأثير الوسط الخارجي والأفكار المسبقة، ومن كل فكرة مستقاة بعفوية دون تمحيص.

إن (ديكارت) لم يفعل غير ذلك، حينما رفض أسلوب الهيمنة، مطالباً بحق العقل، مؤكداً واجب كل امرئ بألا يأخذ بغير الثابت والبديهي الذي لامراء فيه.

أكثر من هذا؛ ففي هذا الإطار يبدو لنا المذهب الديكارتي من هذه الناحية، أقل تشدداً وتمسكاً من القرآن.
কিন্তু আমি শিক্ষিত যুবসমাজের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা প্রদান করাকে দায়িত্ব বলে মনে করছি, যাতে এই গবেষণার প্রকৃত লক্ষ্য সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সম্ভাব্য বিভ্রান্তি সৃষ্টির অবকাশ না থাকে।

আমি এই যুবকদের বলতে চাই: বিষয়টি এখানে কেবল তথ্য সংগ্রহ ও স্মৃতিতে জমা করার মতো কোনো সাধারণ প্রকাশনা নয়, বরং এটি যুক্তিনির্ভর বিতর্কের একটি জীবন্ত আদর্শ। এর প্রধান প্রাণশক্তি ও উপকারিতা হলো এটি সেই সকল পাঠকের আত্মিক শক্তিকে শাণিত করে যারা পদ্ধতিগতভাবে চিন্তা করতে সক্ষম। পাশাপাশি এটি তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে 'সত্য'-এর বিষয়টি উপস্থাপন করতে এবং নিজস্ব উপায়ে এর পথে কী করা উচিত তা অনুসন্ধান করতে উদ্বুদ্ধ করে।

যদি এই ধরণের কোনো প্রকাশনা ধর্মীয় সংশয়ের প্রতিকার হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে তা হবে একটি অতিরিক্ত প্রাপ্তি। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে এর মূল লক্ষ্য হলো 'পরম সত্য' সংক্রান্ত বিষয়ে উদাসীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করা।

যাহোক, এই ধরণের গবেষণা নিজেকে এমন কোনো আকিদা (عقيدة) বা বিশ্বাস হিসেবে চাপিয়ে দিতে চায় না, যা আমাদের চোখ বন্ধ করে বিচার-বিশ্লেষণহীনভাবে গ্রহণ করতে হবে। লেখকের চিন্তাধারা থেকে এটি অনেক দূরে বলেই আমার মনে হয়, তাছাড়া এটি সেই সকল কুরআনিক মূলনীতিরও পরিপন্থী যা তিনি সমর্থন করেন।

কেননা কুরআন কেবল এটাই ঘোষণা করেনি যে, ঈমান বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি সেই সকল অন্ধ অনুসরণকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে যা বিচারবুদ্ধিহীন কোনো কর্তৃত্বের কাছে নিজেকে সঁপে দেয়। কুরআন সর্বদা নিরন্তর ব্যক্তিগত চিন্তাশীলতার আহ্বান জানিয়েছে, যা বাহ্যিক পরিবেশের প্রভাব ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত এবং যাচাই-বাছাই (تمحيص) ছাড়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে গৃহীত সব ধরণের ধারণা থেকে পবিত্র।

(দেকার্ত) ভিন্ন কিছু করেননি যখন তিনি আধিপত্যের পদ্ধতিকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং বিচারবুদ্ধির অধিকারের দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি প্রতিটি মানুষের জন্য এই কর্তব্যটি সুনিশ্চিত করেছিলেন যে, সুনিশ্চিত (الثابت) এবং স্বতঃসিদ্ধ বিষয়—যা নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই—তা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করা যাবে না।

এর চেয়েও বড় কথা; এই প্রেক্ষাপটে দেকার্তীয় মতবাদ এই দিক থেকে কুরআনের তুলনায় কম দৃঢ় ও অনমনীয় বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়।
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فمن المعروف بأية عناية أوضح الفيلسوف الفرنسي تأملاته، وهو يضع تلك القاعدة المنهجية التي لا تقبل غير الأفكار الواضحة والمحددة. فهو لم يشأ بذلك التكلم عن الأمور التي تنظر إلى الإيمان والمثل، ولكن عن الحقائق المجردة التي لا يمكن معرفتها إلا بالضوء الطبيعي وحده.

فإذا كان (ديكارت) قد اضطر إلى مثل هذا التحفظ، لأنه يعد الإيمان المسيحي تكتنفه أمور غامضة بوصفه موضوعاً، فمنذا الذي لا يرى أن هذا التحفظ لا محل له في العقيدة القرآنية؟.

مهما يكن من أمر فإنني لا أرى جيداً السبب الذي يستطيع أن يسوغ التقليل من شأن الفكر الديكارتي. فهناك انطباع بأنك تضعف بطريقة منهجية من شأن هذا الفكر، كما لو أن ديكارت ذلك الوجه الكبير في الفلسفة الحديثة، كان كافراً أو متشككاً أو رجلاً يعتقد بسذاجة، بكمال الفكر الإنساني واستقلاليته المطلقة تجاه كل تحسس خارجي، مستمد من الطبيعة أو مما هو فوق الطبيعة.

ولهذا أتمنى أن تحمل الطبعات القادمة ما يبدد بعناية هذا الالتباس.

وهناك ملاحظة أخرى صغيرة.

إنها تتعلق بحياة محمد صلى الله عليه وسلم.

يبدو لي أنك أخذاً بتأكيدات بعض المستشرقين، قبلت بدون صعوبة افتراضهم حول مدة اعتكاف النبي قبل نزول الوحي.

فنحن نعلم موضوعهم المفضل في هذا الإطار.

إنه يرتكز على القول إنها فترة احتضان وتخمر للأفكار الدينية التي سبقت وضوح القرآن في الوعي المحمدي.

وبما أن فكرة تهدف لعمل واسع عظيم كالقرآن، لا يمكن التصور بأن تتحدد
ফরাসি দার্শনিক তার ধ্যানের বিষয়গুলো কতখানি সতর্কতার সাথে স্পষ্ট করেছেন তা সর্বজনবিদিত। তিনি এমন এক পদ্ধতিগত মূলনীতি স্থাপন করেছেন যা স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ধারণা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করে না। এর মাধ্যমে তিনি ঈমান ও আদর্শিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাননি, বরং কেবল সেই বিمূর্ত সত্যগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছেন যা শুধুমাত্র প্রাকৃতিক প্রজ্ঞার আলোকেই জানা সম্ভব।

যদি (দেকার্ত) এই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য হয়ে থাকেন কারণ তিনি খ্রিস্টীয় বিশ্বাসকে বিষয়বস্তু হিসেবে অস্পষ্টতায় ঘেরা মনে করতেন, তবে এমন কে আছেন যিনি দেখছেন না যে কুরআনিক আকীদা (العقيدة)-র ক্ষেত্রে এই সতর্কতার কোনো অবকাশ নেই?

বিষয়টি যা-ই হোক না কেন, দেকার্তের চিন্তাধারার গুরুত্বকে খাটো করার স্বপক্ষে কোনো সঠিক কারণ আমি দেখছি না। এমন একটি ধারণা জন্মাচ্ছে যেন আপনি পদ্ধতিগতভাবে এই চিন্তাধারার গুরুত্বকে ম্লান করছেন; যেন আধুনিক দর্শনের সেই মহান ব্যক্তিত্ব দেকার্ত একজন কাফের (كافر) বা সংশয়বাদী ছিলেন, অথবা এমন এক সরলমনা ব্যক্তি যিনি মানুষের চিন্তার পূর্ণতা এবং প্রকৃতি বা অতিপ্রাকৃত থেকে প্রাপ্ত বাহ্যিক যেকোনো প্রভাবের বিপরীতে তার নিরঙ্কুশ স্বাধীনতার ওপর বিশ্বাস রাখতেন।

তাই আমি আশা করি পরবর্তী সংস্করণগুলোতে এই অস্পষ্টতা দূর করার জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া হবে।

এখানে আরেকটি ছোট পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

এটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনচরিত সংক্রান্ত।

আমার কাছে মনে হয় আপনি কিছু প্রাচ্যবিদের দাবির প্রেক্ষিতে ওহি (الوحي) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে নবীর নির্জনবাস (اعتكاف)-এর সময়কাল সম্পর্কে তাদের অনুমানগুলো কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই গ্রহণ করেছেন।

আমরা এই ক্ষেত্রে তাদের প্রিয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।

এটি এই দাবির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যে, এটি ছিল ধর্মীয় ভাবনার এমন এক লালন ও পরিপক্কতার সময়কাল, যা মুহাম্মদী চেতনায় কুরআনের স্পষ্ট রূপ পরিগ্রহ করার আগে ঘটেছিল।

যেহেতু কুরআনের মতো একটি বিশাল ও মহান কাজের উদ্দেশ্যে গৃহীত কোনো পরিকল্পনা এভাবে নির্ধারিত হওয়া অসম্ভব...
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
معالمها بين ليلة وضحاها، ويقتضي لها الوقت الضروري والطبيعي لتحضيرها، فإن هؤلاء الكتاب قد التزموا جانب الافتراض، وافترضوا لهذا الاعتزال مدة تمتد عبر سنين عديدة.

وهكذا تحتم على محمد أن يختفي منذ زواجه في سن الخامسة والعشرين، ليفرغ إلى تأملاته، ولا يعود للظهور إلا وهو يحمل رسالته ذات صباح.

وعلى الرغم من أنك جهدت في تفنيد ورفض فكرة الاعتكاف هذه، فإنك تبدو مع ذلك قد أفسحت المجال لوجود خلفية وسند مادي لها، أعني بذلك انطواء الرسول لمدة خمسة عشر عاماً.

إن فرضية غياب كهذا، ليست فحسب مجانبة لا سند لها، بل إنها غير صحيحة على الإطلاق من الوجهة التاريخية.

فالمصادر الوثيقة جداً تحدد في الواقع تاريخ هذا الاعتكاف بالضبط بشهر قبل نزول القرآن. كما تحدد بدقة أكثر أن هذا الشهر تخللته عودة إلى منزله مرات عدة كليما يتزود. وقد سبقت هذا الشهر أيضاً رؤى واضحة كان يراها الرسول في منامه ثم ما يلبث أن يجدها حقيقة كفلق الصبح.

لقد حدثت هذه الإرهاصات جميعها في الأربعين من عمره، أي في عام هبوط الوحي.

وإذا ذهبنا بعيداً، وافترضنا جدلاً أن هذا الشهر من الاعتكاف، قد داوم عليه الرسول في كل عام، منذ زواجه وحتى نزول الوحي؛ يبقى أن نلاحظ بأن أحد عشر من اثني عشر شهراً من سني حياته في هذه الفترة قد قضاها في محيط اجتماعي، وأمام أعين مواطنيه.

والقرآن الكريم في قوله تعالى: {قُلْ لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلَا أَدْرَاكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِنْ قَبْلِهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} [يونس 16/ 10] إنما يستخرج
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ রাতারাতি তৈরি হয়নি, বরং এর প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় ও স্বাভাবিক সময়ের প্রয়োজন ছিল। এই লেখকরা নিছক অনুমানের পথ বেছে নিয়েছেন এবং এই নির্জনবাসের জন্য দীর্ঘ কয়েক বছরব্যাপী একটি সময়কাল কল্পনা করে নিয়েছেন।

এভাবে পঁচিশ বছর বয়সে তাঁর বিবাহের পর থেকেই মুহাম্মাদের জন্য লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছিল, যাতে তিনি তাঁর ধ্যান-চিন্তায় মগ্ন হতে পারেন এবং কোনো এক সকালে তাঁর নবুওয়াতের বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হওয়ার আগে আর ফিরে না আসেন।

যদিও আপনি এই ইতিকাফের ধারণাটি খণ্ডন ও প্রত্যাখ্যান করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন, তবুও মনে হচ্ছে আপনি এর জন্য একটি বস্তুগত পটভূমি ও ভিত্তি (سند)-এর অবকাশ রেখেছেন; এর দ্বারা আমি রাসূলের পনের বছরব্যাপী নিভৃতবাসকে বোঝাচ্ছি।

এই ধরনের দীর্ঘ অনুপস্থিতির অনুমান কেবল ভিত্তিহীনই (سند) নয়, বরং ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সম্পূর্ণ ভুল।

প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ এই ইতিকাফের সময়কালকে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ঠিক এক মাস পূর্বের সময় হিসেবে সুনির্দিষ্ট করে। তারা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, এই এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহের জন্য তিনি বেশ কয়েকবার নিজ বাড়িতে ফিরেছিলেন। এই মাসের পূর্বে রাসূলের নিকট কিছু সুস্পষ্ট স্বপ্ন আসত, যা পরে সুবহে সাদিকের ন্যায় বাস্তব হয়ে দেখা দিত।

এই সমস্ত অলৌকিক নিদর্শনসমূহ তাঁর চল্লিশ বছর বয়সে অর্থাৎ ওহী অবতীর্ণ হওয়ার বছরেই সংঘটিত হয়েছিল।

আমরা যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে, রাসূল তাঁর বিবাহের পর থেকে ওহী নাযিল হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছরই এই এক মাসের ইতিকাফ পালন করতেন, তবুও আমাদের লক্ষ্য করা উচিত যে, সেই সময়কালের বারো মাসের মধ্যে এগারো মাসই তিনি সামাজিক পরিবেশে এবং তাঁর দেশবাসীদের চোখের সামনে অতিবাহিত করেছেন।

আর পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {বলুন, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমি তোমাদের কাছে তা তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনি তোমাদেরকে তা জানাতেন না। এর পূর্বেও তো আমি তোমাদের মাঝে দীর্ঘকাল অবস্থান করেছি; তবে কি তোমরা বুঝতে পারছ না?} [ইউনুস ১০:১৬] এর মাধ্যমে মূলত এই সত্যই তুলে ধরে।
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
بالضبط، حجة من استمرار إقامة الرسول بين قومه فترة واسعة وكافية، ليدرك الناس جميعاً ميزاته واهتماماته، وعجزه الشخصي عن القيام بوضع آيات القرآن.

فماذا كانت أعماله في تلك المرحلة الانتقالية؟.

هناك حدث محدد وأكيد على الأقل. ففي نحو الثلاثين من عمره شارك في إعادة بناء الكعبة. ومن المعلوم من ناحية أخرى أنه تحمل بكفاءة ونشاط أعباءه العائلية؛ إذ رزق أكثر أولاده قبل قيامه بالرسالة.

وإذا كنا لا نملك تفاصيل أكبر حول أعماله اليومية قبل البعثة، فمرد ذلك بدون شك، إلى أنه فيما عدا المسلمة البارزة لعظيم أخلاقه، لا نجد في تلك الفترة من الزمن أمراً منفصلاً عن مألوف وسطه يمكن التحدث عنه.

فسكوت سائر رجال السيرة، عن التفصيلات الإضافية في هذا الخصوص، نقطة نسجلها كما لاحظت بحق، لصالح التراث الإسلامي الذي تحلى دائماً بأمانة تاريخية متشددة إلى أقصى حد، حين عزف عن كل توسيع أو تقليص، للمعطيات الثابتة التي يجدها في متناوله، سواء كانت هذه المعطيات لصالح قضيته أو في غير صالحها.

بعد هذا كله، أعود لأهنئك مرة أخرى على واسع الجهد، الذي به نجحت في إلقاء ضوء جميل حول المسألة الدينية في عمومها، وحول الفكر القرآني خاصة، كيما تسهم في دعم الأساس العقلاني للإيمان.

فعساك تجد أعظم ثوابك في ذلك النجاح المعنوي الذي يستحقه كتابك. وعسى نداؤك المنطقي والشاعري الذي أطلقته ليلامس أصحاب العقول النيرة، يتسرب إلى عميق نفوسهم فيبعث فيهم من جديد حياة القلب والعقل معاً.

 

باريس 15 أيلول (سبتمبر) 1946م

محمد عبد الله دراز

أستاذ في الأزهر الشريف
সুনির্দিষ্টভাবে, এটি একটি দলিল (حجة) যে রাসূল তাঁর কওমের মাঝে দীর্ঘ ও পর্যাপ্ত সময় অবস্থান করেছিলেন, যাতে সকল মানুষ তাঁর বৈশিষ্ট্য ও অভিরুচি এবং কুরআনের আয়াতসমূহ রচনায় তাঁর ব্যক্তিগত অক্ষমতা সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারে।

সেই ক্রান্তিকালে তাঁর কার্যাবলি কী ছিল?

সেখানে অন্তত একটি সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত ঘটনা বিদ্যমান। প্রায় ত্রিশ বছর বয়সের দিকে তিনি কাবা পুনর্নির্মাণে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অন্যদিকে এটিও জানা যায় যে, তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও কর্মতৎপরতার সাথে তাঁর পারিবারিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন; কারণ তাঁর অধিকাংশ সন্তানই নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

নবুওয়াত-পূর্বকালীন তাঁর দৈনন্দিন কার্যাবলি সম্পর্কে যদি আমাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য না থাকে, তবে তার কারণ নিঃসন্দেহে এই যে, তাঁর মহান চরিত্রের সর্বজনবিদিত সত্যটি ছাড়া সেই সময়ে তাঁর পারিপার্শ্বিক প্রথার বাইরে এমন কোনো ভিন্নতর বিষয় ছিল না যা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

এই প্রসঙ্গে অন্যান্য সীরাত (السيرة) রচয়িতাদের নীরবতা একটি উল্লেখযোগ্য দিক যা আপনি যথার্থই লক্ষ্য করেছেন। এটি ইসলামি ঐতিহ্য (التراث)-এর সপক্ষে যায়, যা সর্বদা চরম পর্যায়ের ঐতিহাসিক আমানত (أمانة) দ্বারা সুশোভিত ছিল; কেননা তারা তাদের হস্তগত প্রমাণিত (ثابتة) তথ্যের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সংযোজন বা বিয়োজন থেকে বিরত থেকেছে, চাই সেই তথ্যগুলো তাদের অনুকূলে হোক বা প্রতিকূলে।

এই সবকিছুর পর, আমি আপনাকে পুনরায় অভিনন্দন জানাই আপনার সেই বিশাল প্রচেষ্টার জন্য, যার মাধ্যমে আপনি সাধারণ ধর্মীয় বিষয়াবলী এবং বিশেষ করে কুরআনিক চিন্তাধারার ওপর চমৎকার আলোকপাত করতে সক্ষম হয়েছেন, যাতে ঈমানের যৌক্তিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে আপনি অবদান রাখতে পারেন।

আশা করি আপনার গ্রন্থটি যে আত্মিক সাফল্যের দাবিদার, তার মাধ্যমেই আপনি আপনার শ্রেষ্ঠ প্রতিদান লাভ করবেন। আপনার সেই যৌক্তিক ও কাব্যিক আহ্বান—যা আপনি প্রদীপ্ত হৃদয়ের অধিকারীদের স্পর্শ করার জন্য ব্যক্ত করেছেন—তা যেন তাদের অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে এবং তাদের মাঝে পুনরায় হৃদয় ও মস্তিকের সমন্বিত প্রাণের সঞ্চার করে।

 

প্যারিস, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ

মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ

আল-আযহার আল-শরিফের অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌شكر وتنبيه

كان من فضل الله أن تولى أستاذنا الكبير (محمود محمد شاكر) تقديم كتاب (الظاهرة القرآنية) إلى القراء، هذا التقديم الثمين، الذي يعد بحق من أروع ما كتب في مسألة اتصال بيان العرب في الجاهلية بقضية (إعجاز القرآن).

وإني لأرجو الله مخلصاً أن يتولى عنا جزاء أستاذنا بقدر ما بذل من جهده، وما ضحى من وقته على عظيم تبعاته وخطر مسؤولياته.

وإني لأتقدم بالشكر هنا إلى الأستاذ الدكتور (محمود قاسم) رئيس قسم الدراسات الفلسفية بكلية دار العلوم في جامعة القاهرة، على توجيهاته التي أفدت منها كثيراً، وإلى الأستاذ المحدث (محمد فؤاد عبد الباقي) على تفضله بتحقيق ما عسر علي تحقيقه من أحاديث الكتاب، وهي التي رمزنا إليها في الهامش بحرف (ف).

والحمد لله الذي هدانا لهذا. وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله.

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

المترجم
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সতর্কতা

এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ছিল যে, আমাদের মহান উস্তাদ (মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির) পাঠকদের নিকট ‘আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়া’ গ্রন্থটির ভূমিকা প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই মূল্যবান ভূমিকাটি জাহেলি যুগের আরবদের অলঙ্কারশাস্ত্রের সাথে কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز القرآن) বিষয়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে রচিত শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধগুলোর অন্যতম হিসেবে গণ্য।

আমি আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের উস্তাদকে আমাদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করেন; কেননা তিনি তাঁর বিশাল দায়িত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততা সত্ত্বেও এই কাজে অনেক শ্রম দিয়েছেন এবং নিজের মূল্যবান সময় উৎসর্গ করেছেন।

আমি এখানে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের দর্শন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডক্টর (মাহমুদ কাসিম)-এর প্রতি তাঁর দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যা থেকে আমি প্রভূত উপকৃত হয়েছি। সেইসাথে হাদিস বিশারদ (المحدث) (মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এই কিতাবের হাদিসগুলোর মধ্যে যেগুলোর তাহকিক (تحقيق) করা আমার জন্য কঠিন ছিল, সেগুলো তিনি অনুগ্রহপূর্বক সম্পাদন করে দিয়েছেন। এই হাদিসগুলোকে আমরা পাদটীকায় (ফ) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই কাজে পথপ্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনোই সঠিক পথ পেতাম না।

আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর।

অনুবাদক
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌تقديم

فصل في إعجاز القرآن

للأستاذ محمود محمد شاكر

الحمد لله وحده لا شريك له، حمدا يقربنا إلى رضوانه، وصلاة الله وسلامه على نبيه المصطفى من أبناء الرسولين الكريمين إبراهيم وإسماعيل، صلاة تزلفنا إلى جنته.

…

هذا كتاب (الظاهرة القرآنية)

وكفى، فليس عدلا أن أقدم كتاباً هو يقدم نفسه إلى قارئه. وبحسب أخي الأستاذ مالك بن نبي وبحسب كتابه أن يشار إليه، وإنه لعسير أن أقدم كتاباً هو نهج مستقل، أحسبه لم يسبقه كتاب مثله من قبل. وهو منهج متكامل يفسره تطبيق أصوله، كما يفسره حرص قارئه على تأمل مناحيه. ولا أقول هذا ثناء، فأنا أعلم أن رجلا أثنى على رجل عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال له: " ويلك! قطعت عنق صاحبك "، قالها ثلاثا. ومالك أعزُّ عليَّ من أن أقطع عنقه بثنائي أو أهلكه بإطرائي.

ولكن أحسبني من أعرف الناس بخطر هذا الكتاب، فإن صاحبه قد كتبه لغاية بيّنها، ولأسباب فصّلها. وقد صهرتني المحن دهراً طويلاً، فاصطليت
ভূমিকা

কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

অধ্যাপক মাহমুদ মুহাম্মদ শাকের কর্তৃক

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য যাঁর কোনো শরিক নেই। এমন প্রশংসা যা আমাদের তাঁর সন্তুষ্টির নিকটবর্তী করে। আর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত (المصطفى) নবীর ওপর, যিনি দুই সম্মানিত রাসূল ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধর; এমন দরুদ যা আমাদের তাঁর জান্নাতের নিকটবর্তী করবে।

…

এটি হচ্ছে ‘আয-যাহিরা আল-কুরআনিয়া’ (আল-কুরআন বিষয়ক প্রপঞ্চ) গ্রন্থ

এবং এতটুকুই যথেষ্ট; কেননা এমন কোনো গ্রন্থের ভূমিকা পেশ করা ইনসাফ নয় যা নিজেই নিজের পাঠকের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরে। আমার ভাই অধ্যাপক মালিক বিন নবী এবং তাঁর এই গ্রন্থের পরিচয়ের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুরুহ কাজ যে, আমি এমন একটি গ্রন্থের ভূমিকা লিখব যা একটি স্বতন্ত্র পথ (نهج); আমার মনে হয় ইতিপূর্বে এর সদৃশ কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি (منهج), যার মূলনীতিসমূহের (أصول) প্রয়োগই একে ব্যাখ্যা করে, যেমনভাবে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে পাঠকের নিবিড় অভিনিবেশ একে স্পষ্ট করে তোলে। আমি প্রশংসার আতিশয্যে একথা বলছি না; কারণ আমি জানি যে, জনৈক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট অন্য এক ব্যক্তির প্রশংসা করলে তিনি তাকে বলেছিলেন: "দুর্ভোগ তোমার! তুমি তো তোমার সাথীর গর্দান কেটে দিলে", তিনি এটি তিনবার বলেছিলেন। আর মালিক আমার নিকট এতই প্রিয় যে, আমি প্রশংসার দ্বারা তাঁর গর্দান কর্তন করি বা স্তুতিবাদের মাধ্যমে তাঁকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিই—এমনটি হতে পারে না।

তবে আমি মনে করি, আমি এই গ্রন্থের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে সর্বাপেক্ষা অবগত ব্যক্তিদের একজন। কারণ এর লেখক এটি এমন এক লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে রচনা করেছেন যা তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এমন কিছু কারণের ভিত্তিতে যা তিনি সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘকাল ধরে নানাবিধ পরীক্ষা ও সংকট আমাকে দগ্ধ করেছে, যার দহনে আমি পুড়েছি...
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
بالأسباب التي دعته إلى اتخاذ منهجه في تأليف هذا الكتاب ثم أفضيت إلى الغاية التي أرادها، بعد أن سلكت إليها طرقاً موحشة مخوفة. وقد قرأت الكتاب وصاحَبتُه، فكنت كما قرأت منه فصلا وجدت نفسي كالسائر في دروب قد طال عهدي بها، وخيل إليَّ أن مالكاً يؤلف هذا الكتاب إلا بعد أن سقط في مثل الفتن التي سقطتُ فيها من قبل، ثم أقال الله عثرته بالهداية فكان طريقه إلى المذهب الصحيح، هو ما ضمنه كتابه من بعض دلائل إثبات إعجاز القرآن، وأنه كتاب منزّل، أنزله الذي يعلم الخبء في المسلموات والأرض، وأن مبلغه إلى الناس، صلى الله عليه وسلم، رسول صادق قد بلغ عن ربه ما أمره بتبليغه، وأن بين هذا الرسول الصادق وبين الكلام الذي بلّغه حجازاً فاصلاً، وأن هذا الحجاز الفاصل بين القرآن وبين مبلغه حقيقة ظاهرة، لا يخطئها من درس سيرة رسول الله فاحصاً متأملاً، ثم درس كتاب الله بعقل يقظ غير غافل.

وهذا المنهج الذي سلكه مالك، منهج يستمد أصوله من تأمل طويل في طبيعة النفس الإنسانية، وفي غريزة التدين في فطرة البشر، وفي تاريخ المذاهب والعقائد التي توسم بالتناقض أحياناً، ولكنها تكشف عن مستور التدين في كل إنسان. ثم هو يستمد أصوله من الفحص الدائب في تاريخ النبوة وخصائصها، ثم في سيرة رسول الله، بأبي هو وأمي، منذ نشأته إلى أن لحق بالرفيق الأعلى. ثم في هذا البلاغ الذي جاء ليكون بنفسه، دليلاً على صدق نفسه، أنه كلام الله، الفارق لكلام البشر من جميع نواحيه.

وخلال هذا المنهج تستعلن لك المحنة التي عاناها مالك، كما عانيتها أنا، وكما عاناها جيل من المسلمين في هذا القرن. بل إنك لتجد المحنة ماثلة في (مدخل الدراسة) وهو الفصل الذي استفتح به كتابه، فقد صور لك مشكلة الشباب المسلم المتعلم في هذا العصر، وما كان قاساه وما يزال يقاسيه، من العنت في إدراك إعجاز القرآن، إدراكاً يرضاه ويطمئن إليه.

যেসব কারণে তিনি এই গ্রন্থ রচনায় নির্দিষ্ট পদ্ধতি (منهج) গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন, তা ব্যাখ্যার মাধ্যমে আমি তাঁর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে উপনীত হয়েছি, যদিও সেখানে পৌঁছাতে আমাকে অত্যন্ত নির্জন ও ভয়াবহ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। আমি বইটি পড়েছি এবং এর সাহচর্যে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি। আমি যখনই এর কোনো অধ্যায় পড়েছি, নিজেকে সেইসব পথে বিচরণকারী পথিকের মতো মনে হয়েছে যা আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত। আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, মালিক এই গ্রন্থটি তখনই রচনা করেছেন যখন তিনি আমার মতোই কিছু ফিতনার (فتنة) সম্মুখীন হয়েছিলেন। অতঃপর আল্লাহ হেদায়েতের (هداية) মাধ্যমে তাঁর পদস্খলন রোধ করেছেন এবং সঠিক মতাদর্শের (المذهب الصحيح) দিকে তাঁর সেই পথটিই ছিল যা তিনি কুরআনের অলৌকিকতা (إعجاز القرآن) প্রমাণের কিছু দলিলের (دليل) মাধ্যমে তাঁর গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছেন। আর এটি একটি অবতীর্ণ কিতাব, যা তিনি অবতীর্ণ করেছেন যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সমস্ত গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত। আর মানুষের কাছে এর বার্তাবাহক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন একজন সত্যবাদী রসূল (رسول صادق), যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা প্রচারের আদেশ পেয়েছেন তা যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। এই সত্যবাদী রসূল (رسول صادق) এবং তিনি যে কালাম পৌঁছে দিয়েছেন তার মধ্যে এক সুস্পষ্ট বিচ্ছেদরেখা রয়েছে। এই বিচ্ছেদরেখাটি যে একটি প্রকাশ্য বাস্তবতা, তা সেই ব্যক্তির কাছে অস্পষ্ট থাকে না যে রাসূলুল্লাহর সীরাত (سيرة) অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং আল্লাহর কিতাবকে সজাগ ও সচেতন হৃদয়ে অধ্যয়ন করেছে।

মালিক যে পদ্ধতি (منهج) অবলম্বন করেছেন, তা মানবীয় স্বভাবের প্রকৃতি, মানুষের ফিতরাতগত (فطرة) ধর্মীয় প্রবৃত্তি এবং বিভিন্ন মতবাদ ও আকিদার (العقائد) ইতিহাসের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ থেকে এর মূল উৎস গ্রহণ করেছে; যে আকিদাগুলো (العقائد) কখনও কখনও স্ববিরোধী মনে হলেও প্রত্যেক মানুষের অন্তরে লুকায়িত ধর্মীয় চেতনাকে উন্মোচন করে। তদুপরি, এটি নবুওয়াতের ইতিহাস ও তার বৈশিষ্ট্য এবং রাসূলুল্লাহর (আমার পিতা-মাতা তাঁর ওপর উৎসর্গিত হোন) শৈশব থেকে রফীকে আ’লার (الرفيق الأعلى) সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত তাঁর সীরাত (سيرة) সংক্রান্ত নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা থেকে এর মূলনীতিগুলো সংগ্রহ করে। পরিশেষে, এই যে বাণী যা নিজেই নিজের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে এসেছে—এটি আল্লাহর কালাম, যা সর্বদিক থেকে মানুষের কথা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক।

এই পদ্ধতির মাঝেই আপনার কাছে মালিক যে কঠিন পরীক্ষার (محنة) মধ্য দিয়ে গিয়েছেন তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে, যেমনিভাবে আমি গিয়েছি এবং এই শতাব্দীর একদল মুসলিম যে সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। এমনকি আপনি এই পরীক্ষাটি (محنة) গ্রন্থের প্রারম্ভিক অধ্যায় ‘অধ্যয়নের প্রবেশদ্বার’ (مدخل الدراسة)-এই সজীব দেখতে পাবেন। সেখানে তিনি বর্তমান যুগের শিক্ষিত মুসলিম যুবকদের সমস্যার চিত্র তুলে ধরেছেন এবং কুরআনের অলৌকিকতা (إعجاز القرآن) সম্পর্কে এমন একটি উপলব্ধি লাভে তারা যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিল এবং এখনও হচ্ছে, যা তাদের মনকে তুষ্ট ও শান্ত করে।
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وهذا (العقل) الحديث الذي يفكر به شباب العالم الإسلامي، والذي يريد أن يدرك ما يرضيه ويطمئن إليه من دلائل إعجاز القرآن، هو لب المشكلة، فإن (العقل) هبة الله لكل حي، ولكن أساليب تفكيره كسب يكتسبه من معالجة النظر ومن التربية ومن التعليم، ومن الثقافة ومن آلاف التجارب التي يحياها المرء في هذه الحياة. فينبغي، قبل كل شيء، أن نتدبر أمر هذا (العقل) الحديث في العالم الإسلامي، لأن فهم هذا (العقل)، هو الذي يحدد لنا طريقنا ومنهجنا في كل دراسة صحيحة، نحب أن نقدمها إليه حتى يطمئن ويرضى.

فمنذ أول الإسلام، خاضت الجيوش الإسلامية معارك الحرب في جميع أنحاء الدنيا، وخاض معها العقل الإسلامي معارك أشد هولاً حيث نزل الإنسان المسلم. وتقوضت أركان الدول تحت وطأة الجند المظفر، وتقوضت معها أركان الثقافات المتباينة تحت نور العقل المسلم المنصور، وظلت الملاحم دائرة الرحى قروناً متطاولة، في ميادين الحرب وميادين الثقافة، حتى كان هذا العصر الأخير.

انبعثت الحضارة الأوربية، ثم انطلقت بكل سلاحها لتخوض في قلب العالم الإسلامي، أكبر معركة في تاريخنا وتاريخهم. وهي معركة لم يحط بأساليبها وميادينها أحد بعد في هذا العالم الإسلامي ولم يتقص أحد آثارها فينا. ولم يتكفل بدراستها من جميع نواحيها من يطيق أن يدرس، ولست أزعم أني سأدرسها في هذا الموضع، ولكن سأدل على طرف منها، ينفع قارئ هذا الكتاب، إذا صح عزمه على معاناة دراسته دراسة الحريص المتغلغل.

لم تكن المعركة الجديدة بين العالم الأوربي المسيحي، وبين العالم الإسلامي، معركة في ميدان واحد، بل كانت معركة في ميدانين: ميدان الحرب، وميدان الثقافة. ولم يلبث العالم الإسلامي أن ألقى السلاح في ميدان الحرب، لأسباب
এই আধুনিক (বিবেচনাশক্তি), যার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের যুবসমাজ চিন্তা করে এবং যা আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি থেকে এমন কিছু অনুধাবন করতে চায় যা তাকে তুষ্ট ও আশ্বস্ত করবে, তা-ই হলো সমস্যার মূল নির্যাস। কেননা (বিবেচনাশক্তি) প্রতিটি জীবিত প্রাণীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার, কিন্তু চিন্তার পদ্ধতিসমূহ হলো এক প্রকার অর্জন, যা মানুষ পর্যবেক্ষণ, লালন-পালন, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জীবনে যাপিত হাজারো অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে লাভ করে। তাই সর্বপ্রথম আমাদের মুসলিম বিশ্বের এই আধুনিক (বিবেচনাশক্তি) সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন। কারণ এই (বিবেচনাশক্তি)-কে অনুধাবন করাই আমাদের প্রতিটি সঠিক (صحيحة) গবেষণার পথ ও পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেবে, যা আমরা তার কাছে উপস্থাপন করতে চাই যাতে সে আশ্বস্ত ও সন্তুষ্ট হতে পারে।

ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই মুসলিম বাহিনী পৃথিবীর সকল প্রান্তে যুদ্ধ পরিচালনা করেছে এবং যেখানেই কোনো মুসলিমের পদচারণা ঘটেছে, সেখানে মুসলিম মেধা বা বিবেচনাশক্তি আরও ভয়াবহ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। বিজয়ী বাহিনীর প্রবল চাপে যেমন রাষ্ট্রসমূহের ভিত্তি ভেঙে পড়েছে, তেমনি বিজয়ী মুসলিম মেধার আলোয় বিচিত্র সব সংস্কৃতির ভিত্তিও ধসে পড়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘ শতাব্দীকাল ধরে এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের চাকা ঘূর্ণায়মান ছিল, এমনকি এই বর্তমান যুগ পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে।

ইউরোপীয় সভ্যতার অভ্যুদয় ঘটে এবং এরপর তা তার সর্বশক্তি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে আঘাত হানে, যা আমাদের ও তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এক যুদ্ধ। এটি এমন এক যুদ্ধ যার রণকৌশল ও ক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে মুসলিম বিশ্বের কেউ এখনও পুরোপুরি অবগত হতে পারেনি এবং আমাদের ওপর এর প্রভাবসমূহ কেউ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেনি। এর সকল দিক নিয়ে অধ্যয়নের দায়িত্ব এমন কেউ গ্রহণ করেনি যার তা করার সামর্থ্য রয়েছে। আমি এই দাবি করছি না যে আমি এই স্থানে তা বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করব, তবে আমি এর একটি দিকের প্রতি ইঙ্গিত করব, যা এই বইয়ের পাঠকের উপকারে আসবে যদি তার মধ্যে অত্যন্ত একাগ্রতা ও গভীরতার সাথে এটি অধ্যয়নের দৃঢ় সংকল্প থাকে।

ইউরোপীয় খ্রিস্টান জগত এবং মুসলিম জগতের মধ্যকার এই নতুন লড়াইটি কেবল একটি ময়দানে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল দুটি ময়দানে: যুদ্ধের ময়দান এবং সংস্কৃতির ময়দান। অচিরেই মুসলিম বিশ্ব যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্র ত্যাগ করল, বিবিধ কারণে...
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
معروفة. أما ميدان الثقافة، فقد بقيت المعارك فيه متتابعة جيلاً بعد جيل، بل عاماً بعد عام، بل يوماً بعد يوم. وكانت هذه المعركة أخطر المعركتين، وأبعدهما أثراً، وأشدهما تقو يضاً للحياة الإسلامية والعقل الإسلامي. وكان عدونا يعلم ما لا نعلم، كان يعلم أن هذه هي معركته الفاصلة بيننا وبينه، وكان يعلم من خباياها ما لا نعلم، ويدرك من أسرارها ووسائلها ما لا ندرك، ويعرف من ميادينها ما لا نعرف، ويصطنع لها من الأسلحة ما لا نصطنع، ويتحرى لها من الأسباب المفضية إلى هلاكنا ما لا نتحرى أو نلقي إليه بالاً. وأعانه وأيده أن سقطت الدول الإسلامية جميعاً هزيمة في ميدان الحرب. فسقطت في يده مقاليد أمورها في كل ميدان من ميادين الحياة، وصار مهيمناً على سياستها واقتصادها وصحافتها، أي سقطت في يده مقاليد التوجيه الكامل للحياة الإسلامية، والعقل الإسلامي.

وميادين معركة الثقافة والعقل ميادين لا تعد، بل تشمل المجتمع كله في حياته وفي تربيته وفي معايشه، وفي تفكيره وفي عقائده وفي آدابه وفي فنونه وفي سياسته، بل كل ما تصبح به الحياة حياة إنسانية، كما عرفها الإنسان منذ كان على الأرض. والأساليب التي يتخذها العدو للقتال في معركة الثقافة، أساليب لا تعد ولا تحصى، لأنها تتغير وتتبدل وتتجدد على اختلاف الميادين وتراحبها وكثرتها، وأسلحة القتال فيها أخفى الأسلحة، لأن عقل المثقف يتكون يوماً بعد يوم، بل ساعة بعد ساعة، وهو يتقبل بالتربية والتعليم والاجتماع، أشياء يُسَلَّمها بالإلف الطويل وبالعرض المتواصل وبالمكر الخفي، وبالجدل المضلل وبالمراد المتلون وبالهوى المتغلب، وبضروب مختلفة من الكيد الذي يعمل في تحطيم البناء القائم، لكي يقيم العدو على أنقاضه بناء كالذي يريد ويرجو.

وقد كان ما أراد الله أن يكون، وتتابعت هزائم العالم الإسلامي في ميدان الثقافة جيلا بعد جيل، وكما بقيت معارك الحرب متتابعة سراً مكتوماً
সুপরিচিত। তবে সংস্কৃতির ময়দানে একের পর এক প্রজন্মের পর প্রজন্ম, এমনকি বছরের পর বছর, বরং দিনের পর দিন যুদ্ধ চলতেই থাকে। আর এই যুদ্ধটি ছিল দুই যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক, যার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী এবং যা ইসলামী জীবন ও মুসলিম চিন্তাধারাকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। আমাদের শত্রু যা জানত তা আমরা জানতাম না; সে জানত যে এটিই আমাদের ও তার মধ্যে এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। সে এর এমন সব রহস্য জানত যা আমরা জানতাম না, এর গোপন রহস্য ও উপায়গুলো অনুধাবন করত যা আমরা করতাম না, এর ময়দানগুলো সম্পর্কে অবগত ছিল যা আমরা ছিলাম না। সে এর জন্য এমন সব অস্ত্র তৈরি করেছিল যা আমরা করিনি এবং আমাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় এমন সব কারণ অনুসন্ধান করত যা আমরা করতাম না বা যেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপও করতাম না। আর রণক্ষেত্রে সমস্ত মুসলিম রাষ্ট্রের পরাজয় তাকে সাহায্য ও শক্তিশালী করেছিল। ফলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমস্ত কিছুর চাবিকাঠি তার হাতে চলে যায় এবং সে মুসলিম বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংবাদপত্রের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। অর্থাৎ, ইসলামী জীবন ও মুসলিম চিন্তাধারাকে পূর্ণভাবে পরিচালিত করার নিয়ন্ত্রণ তার কবজায় চলে যায়।

সংস্কৃতি ও চিন্তার যুদ্ধের ময়দানগুলো অগণিত; বরং তা সমাজ জীবনের প্রতিটি স্তর—তার লালন-পালন, জীবনযাত্রা, চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস (عقائد), সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিল্পকলা ও রাজনীতি—সবকিছুকেই পরিবেষ্টন করে থাকে। এমনকি পৃথিবীতে মানুষের পদচারণার শুরু থেকে জীবন বলতে যা বোঝায়, তার সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। সাংস্কৃতিক যুদ্ধে শত্রু যে কৌশলগুলো অবলম্বন করে তা অগণিত, কারণ ময়দান ও পরিস্থিতির ভিন্নতা ও ব্যাপকতার সাথে সাথে এই কৌশলগুলো পরিবর্তিত ও নবায়িত হয়। এই যুদ্ধের অস্ত্রগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গোপন, কারণ একজন শিক্ষিত ব্যক্তির চিন্তা গড়ে ওঠে দিনের পর দিন, এমনকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। শিক্ষা-দীক্ষা ও সামাজিকতার মাধ্যমে সে এমন কিছু বিষয় গ্রহণ করে নেয় যা দীর্ঘদিনের অভ্যাস, নিরবচ্ছিন্ন উপস্থাপনা, গোপন চক্রান্ত, বিভ্রান্তিকর তর্ক-বিতর্ক, পরিবর্তনশীল উদ্দেশ্য, প্রবৃত্তিগত তাড়না এবং বিভিন্ন ধরনের কূটকৌশলের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এসবের উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান কাঠামোকে ধ্বংস করা, যাতে শত্রু তার ধ্বংসাবশেষের ওপর নিজের ইচ্ছামতো নতুন ইমারত গড়তে পারে।

অবশেষে আল্লাহর ইচ্ছাই পূর্ণ হলো এবং সংস্কৃতির ময়দানে মুসলিম বিশ্ব প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরাজয়ের সম্মুখীন হতে থাকল। ঠিক যেমন রণক্ষেত্রের যুদ্ধগুলো এক গোপন রহস্য হিসেবে অব্যাহত ছিল।
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
لا يتدارسه قادة الجيوش الإسلامية وجندها حتى هذا اليوم، بقيت أيضاً معارك الثقافة على تطاولها، سراً خافياً لا يتدارسه قادة الثقافة الإسلامية وجندها؛ بل أكبر من ذلك: فقد أصبح أكثر قادة الثقافة في العالم الإسلامي وأصبح جنودها أيضاً، تبعاً يأتمرون بأمر القادة من أعدائهم، عارفين أو جاهلين أنهم هم أنفسهم قد انقلبوا عدواً للعقل الإسلامي الذي ينتسبون إليه، بل الذي يدافعون عنه أحياناً دفاع غيرة وإخلاص.

لم يكن غرض العدو أن يقارع ثقافة بثقافة، أو أن ينازل ضلالاً بهدى، أو أن يصارع باطلاً بحق، أو أن يمحو أسباب ضعف بأسباب قوة؛ بل كان غرضه الأول والأخير أن يترك في ميدان الثقافة في العالم الإسلامي، جرحى وصرعى لا تقوم لهم قائمة، وينصب في أرجائه عقولاً لا تدرك إلا ما يريد لها هو أن تعرف، ف كانت جرائمه في تحطيم أعظم ثقافة إنسانية عرفت إلى هذا اليوم، كجرائمه في تحطيم الدول وإعجازها مثلاً بمثل. وقد كان ما أراد الله أن يكون، وظفر العدو فينا بما كان يبغي ويريد.

وقد فصل مالك في (مدخل الدراسة) محنة (العقل) الحديث في العالم الإسلامي، على يد أمضى أسلحة العدو في تهديم بعض جوانب الثقافة، بل أهم جوانبها، وهو سلاح (الاستشراق)، سلاح لم يدرسه المسلمون بعد، ولم يتتبعوا تاريخه، ولم يكشفوا عن مكايده وأضاليله، ولم يقفوا على الخفي من أسرار مكره، ولم يستقصوا أثره في نواحي حياتهم الثقافية؛ بل في أكثر نواحي حياتهم الإنسانية، كيف؟ بل كان الأمر عكس ما كان ينبغي أن يكون، فهم يتدارسون ما يلقيه إليهم على أنه علم يتزوده المتعلم، وثقافة تتشربها النفوس، ونظر تقتفيه العقول، حتى كان كما قال مالك: ((إن الأعمال الأدبية لهؤلاء المستشرقين، قد بلغت درجة خطيرة من الإشعاع لا نكاد نتصورها)) وتفصيل أثر هذا الإشعاع في تاريخنا الحديث، وفي سياستنا وفي عقائدنا، وفي كتبنا وفي
ইসলামী সেনাবাহিনীর সেনাপতি ও সৈন্যদল আজ অবধি এটি নিয়ে পর্যালোচনায় লিপ্ত হয়নি; তেমনি দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক লড়াইগুলোও এক নিভৃত রহস্য হয়ে রয়ে গেছে যা ইসলামী সংস্কৃতির অগ্রপথিক ও অনুসারীরা চর্চা করেন না। বরং এর চেয়েও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো: মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও তাদের অনুসারীরা আজ শত্রুপক্ষীয় নেতাদের অনুগামী হয়ে তাদের আদেশ পালন করছেন; তারা সচেতনভাবে হোক কিংবা অবচেতনভাবে, নিজেরাই সেই ইসলামী চিন্তাধারার শত্রুতে রূপান্তরিত হয়েছেন যার প্রতি তারা নিজেদের সম্বন্ধযুক্ত করেন, এমনকি যার পক্ষে তারা কখনো কখনো অত্যন্ত আবেগ ও একনিষ্ঠার সাথে লড়াইও করে থাকেন।

শত্রুর উদ্দেশ্য সংস্কৃতির মোকাবিলায় সংস্কৃতি দাঁড় করানো, হিদায়াতের মাধ্যমে ভ্রষ্টতাকে চ্যালেঞ্জ করা, সত্যের মাধ্যমে মিথ্যার সংঘাত ঘটানো কিংবা শক্তির দ্বারা দুর্বলতার কারণসমূহ নির্মূল করা ছিল না। বরং তার প্রথম ও শেষ লক্ষ্য ছিল মুসলিম বিশ্বের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এমন কিছু আহত ও নিথর দেহ ফেলে রাখা যাদের পুনরায় উঠে দাঁড়ানোর কোনো সক্ষমতা থাকবে না এবং সর্বত্র এমন কিছু মগজ তৈরি করা যারা কেবল তা-ই অনুধাবন করবে যা শত্রু তাদের জানাতে চায়। মানব সভ্যতার ইতিহাসে পরিচিত সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে তার অপরাধগুলো ছিল রাষ্ট্রসমূহকে পর্যুদস্ত ও পঙ্গু করে দেওয়ার মতো অপরাধের অনুরূপ। আর আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন তা-ই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং শত্রু আমাদের বিষয়ে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে জয়লাভ করেছে।

মালেক (মাদখালুদ দিরাসাহ) গ্রন্থে মুসলিম বিশ্বের আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক সংকটের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন, যা সংস্কৃতির কিছু দিক, বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ ধ্বংস করার ক্ষেত্রে শত্রুর সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র তথা 'প্রাচ্যতত্ত্ব'-এর মাধ্যমে সাধিত হয়েছে। এটি এমন এক অস্ত্র যা মুসলিমরা এখনো যথাযথভাবে অধ্যয়ন করেনি, এর ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি অনুসরণ করেনি, এর কূটকৌশল ও বিভ্রান্তিগুলো উন্মোচন করেনি এবং এর গূঢ় চাতুর্য সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়নি। তারা তাদের সাংস্কৃতিক জীবনে, এমনকি মানবিক জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব অনুসন্ধান করেনি। কেন এমন হলো? বরং বিষয়টি হওয়া উচিত ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত; তারা প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের প্রদত্ত বিষয়াদি এমনভাবে চর্চা করছে যেন তা কোনো জ্ঞানপিপাসুর অর্জনীয় জ্ঞান, অন্তরে লালনযোগ্য সংস্কৃতি এবং মেধা দিয়ে অনুসৃত কোনো দৃষ্টিভঙ্গি। পরিশেষে মালেক যেমনটি বলেছেন: "এই প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের সাহিত্যকর্মগুলো প্রভাব বিস্তারের এমন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।" আমাদের আধুনিক ইতিহাস, রাজনীতি, আকীদা, গ্রন্থাবলী এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে এই প্রভাবের বিস্তারিত বিবরণ...
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ديننا وفي أخلاقنا وفي مدارسنا وفي صحافتنا، وفي كل أقوالنا وأعمالنا، شيء لا يكاد يحيط به أحد.

وهذا الإشعاع كما سماه مالك، كان من أعظم الأسباب وأبعدها خطراً في (العقل) الحديث، الذي يريد أن يدرك دلائل إعجاز القرآن إدراكاً يرضى عنه ويطمئن إليه. وهو الذي أوقع الشك في الأصول القديمة التي قامت عليها أدلة إعجاز القرآن، بل أكبر من ذلك، فإنه قد أتى أساليب غاية في الدهاء والخفاء، أفضت إلى تدمير الوسائل الصحيحة التي ينبغي أن يتذرع بها كل من درس نصاً أدبياً، حتى يتاح له أن يحكم على جودته أو رداءته، فضلاً عن بلاغته أو إعجازه.

وقد ذكر مالك في (مدخل الدراسة) تلك القضية الغريبة التي عرفت بقضية (الشعر الجاهلي)، والتي أثارها المستشرق (مرجليوث) في بعض مجلات المستشرقين، ثم تولى كبرها (طه حسين) في كتابه (في الشعر الجاهلي)، يوم كان أستاذاً للأدب العربي بالجامعة المصرية. ولن أذكر هنا تلك المعارك التي أثارها كتاب (في الشعر الجاهلي)، ولكني أذكر، كما ذكر مالك، أن هذه القضية بأدلتها ومناهجها، قد تركت في (العقل) الحديث في العالم الإسلامي، أثراً لا يمحى إلا بعد جهد جهيد؛ والعجب أن (مرجليوث) قد أتى في بحثه بزيف كثير، كان هو الأساس الذي بنى عليه هذا (العقل)، وقد حاول مئات من رجال الفكر أن يزيفوا الأدلة والمناهج، ولكن هذا الزيف بقي بعد ذلك طابعاً مميزاً لأكثر ما ينشره الطلبة والأساتذة إلى يومنا هذا. ولا تحاكم مرجليوث وأشياعه إلى رأيك ونظرك، بل دع محاكمته إلى مستشرق مثله، هو (آربري)، يقول في خاتمة كتابه (المعلقات السبع) وقد ذكر أقوال مرجليوث وفندها: ((إن السفسطة- وأخشى أن أقول: الغش- في بعض الأدلة التي ساقها الأستاذ (مرجليوث)، أمر بيِّن جداً، ولا تليق البتة برجل كان، ولا ريب من أعظم أئمة العلم في عصره)).
আমাদের দ্বীন, আমাদের নৈতিকতা, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আমাদের সংবাদমাধ্যম এবং আমাদের প্রতিটি কথা ও কাজের মধ্যে এমন কিছু মিশে আছে যা কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা প্রায় অসম্ভব।

মালেক যাকে ‘বিকিরণ’ বলে অভিহিত করেছেন, তা ছিল আধুনিক মনস্তত্বের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান এবং সুদূরপ্রসারী ঝুঁকিপূর্ণ কারণ, যা কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণসমূহকে এমনভাবে উপলব্ধি করতে চায় যা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সন্তোষজনক ও আশ্বস্ত হওয়ার মতো হয়। এটিই সেই প্রাচীন মূলনীতি (أصول) সমূহের প্রতি সংশয় তৈরি করেছে যার ওপর কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত। শুধু তা-ই নয়, এটি অত্যন্ত ধূর্ত ও প্রচ্ছন্ন কিছু পদ্ধতির অবতারণা করেছে, যা কোনো সাহিত্যিক পাঠ বিশ্লেষণকারীর জন্য অবলম্বনযোগ্য সঠিক (صحيحة) মাধ্যমগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে কোনো রচনার মান বা ত্রুটি বিচার করা তো দূরের কথা, তার অলঙ্কারশৈলী বা অলৌকিকত্ব নিয়ে মন্তব্য করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মালেক তার ‘মাদখালুদ দিরাসাহ’ গ্রন্থে সেই অদ্ভুত বিতর্কের কথা উল্লেখ করেছেন যা ‘জাহেলি কাব্য’ বিতর্ক নামে পরিচিত। প্রাচ্যবিদ মারগোলিউথ প্রাচ্যবিদদের কিছু সাময়িকীতে এটি উত্থাপন করেছিলেন, পরবর্তীতে ত্বহা হোসেন যখন মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন, তখন তিনি তার ‘ফিল শিরিল জাহেলি’ গ্রন্থে এর মূল প্রচারকের দায়িত্ব পালন করেন। আমি এখানে ‘ফিল শিরিল জাহেলি’ গ্রন্থটি কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সেই লড়াইগুলোর কথা উল্লেখ করব না। তবে মালেক যেমনটি বলেছেন, আমি কেবল তা-ই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, এই বিষয়টি তার প্রমাণাদি ও কর্মপদ্ধতিসহ মুসলিম বিশ্বের আধুনিক মননে এমন এক ছাপ রেখে গেছে যা কঠোর শ্রম ব্যতীত মুছে ফেলা সম্ভব নয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মারগোলিউথ তার গবেষণায় প্রচুর অসারতা নিয়ে এসেছিলেন, যা ছিল এই আধুনিক চিন্তার মূল ভিত্তি। যদিও শত শত চিন্তাবিদ সেই প্রমাণ ও পদ্ধতিগুলোর অসারতা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সেই মিথ্যাচারের ছাপ আজও ছাত্র ও শিক্ষকদের অধিকাংশ প্রকাশনার মধ্যে এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে রয়ে গেছে। মারগোলিউথ ও তার অনুসারীদের বিচার আপনি আপনার নিজস্ব বিচারবুদ্ধি দিয়ে করবেন না, বরং তার বিচার তার মতোই একজন প্রাচ্যবিদ আরবেরি-র ওপর ছেড়ে দিন। তিনি তার ‘আল-মুআল্লাকাতুস সাব’ গ্রন্থের শেষে মারগোলিউথের উক্তিগুলো উল্লেখ করে তা খণ্ডন করেছেন এবং বলেছেন: “অধ্যাপক মারগোলিউথ যেসব প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন তার কয়েকটির মধ্যে কুতর্ক—এবং আমি ‘প্রতারণা’ বলতেও দ্বিধা করছি না—একেবারে স্পষ্ট। নিঃসন্দেহে তিনি তার সময়ের একজন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন, তবে তার মতো মানুষের পক্ষে এ ধরনের কাজ মোটেও শোভনীয় নয়।”
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذا حكم شنيع، لا على (مرجليوث) وحده، بل على كل أشياعه وكهنته وعلى ما جاؤوا به من حطام الفكر.

ولكن العجب عندي بعد ذلك أن مالكاً ارتكز على ذكر هذه القضية، وعلى أثرها في العقل الحديث، ثم انطلق منها إلى نتيجة أخرى فقال: ((وعلى هذا فالمشكلة بوضعها الراهن تتجاوز في مداها نطاق الأدب والتاريخ، وتهم مباشرة منهج التفسير القديم كله، ذلك التفسير القائم على الموازنة الأسلوبية، معتمداً على الشعر الجاهلي بوصفه حقيقة لا تقبل الجدل؛ وعلى أية حال فقد كان من الممكن أن تثور هذه المشكلة تبعاً للتطور الجديد في الفكر الإسلامي، وإنما بصورة أقل ثورية، فمنهج التفسير القديم يجب أن يتعدل في حكمة وروية، لكي يتفق مع مقتضيات الفكر الحديث)).

ثم قال: ((لقد قام إعجاز القرآن حتى الآان على البرهان الظاهر على سمو كلام الله فوق البشر. وكان لجوء التفسير إلى الدراسة الأسلوبية لكي يضع لإعجاز القرآن أساساً عقلياً. فلو أننا طبقنا نتائج فرض (مرجليوث)، لانهار ذلك الأساس، ومن هنا توضع مشكلة التفسير على أساس هام بالنسبة لعقيدة المسلم، أعني: برهان إعجاز القرآن في نظره)).

ثم أفضى إلى هذا الحكم: ((والحق أنه لا يوجد مسلم، وخاصة في البلاد غير العربية- يمكنه أن يوازن موضوعياً بين آية قرآنية، وفقرة موزونة أو مقفاة من أدب العصر الجاهلي. فمنذ وقت طويل، لم نعد نملك في أذواقنا عبقرية اللغة العربية، ليمكننا أن نستنبط من موازنة أدبية نتيجة عادلة حكيمة)).

وأنا أحب أن أناقش هذه المقالة حتى أعين القارئ على أن يضع كتاب (الظاهرة القرآنية) في مكانه الذي ينبغي له، وحتى تتبين له معالم الطريق الذي يسير فيه وهو يقرأ هذا الكتاب، وحتى يستفيد من أدلته وبراهينه قوة تعينه على أن يضع أساساً يقيم عليه عقيدته وإيمانه.
এটি একটি জঘন্য ফয়সালা (حكم), শুধু মারগোলিয়াথের জন্যই নয়, বরং তার সকল অনুসারী ও পুরোহিতদের ওপর এবং তারা চিন্তার যে আবর্জনা নিয়ে এসেছে তার ওপরও।

কিন্তু আমার কাছে আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে, মালিক এই বিষয়টি উল্লেখ করার ওপর এবং আধুনিক চিন্তাধারায় এর প্রভাবের ওপর নির্ভর করেছেন; অতঃপর তা থেকে অন্য একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে বলেছেন: ((আর এর ওপর ভিত্তি করে বর্তমান অবস্থায় সমস্যাটি তার পরিধির দিক থেকে সাহিত্য ও ইতিহাসের সীমানা অতিক্রম করে যায় এবং সরাসরি সমগ্র প্রাচীন তাফসির পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে, যা শৈল্পিক তুলনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং জাহিলি কবিতাকে একটি অবিসংবাদিত সত্য হিসেবে গণ্য করে এর ওপর নির্ভর করে। যাই হোক, ইসলামি চিন্তাধারার নতুন বিকাশের ফলে এই সমস্যাটি আরও কম বৈপ্লবিক রূপ নিয়ে উত্থাপিত হওয়া সম্ভব ছিল; সুতরাং প্রাচীন তাফসির পদ্ধতিকে প্রজ্ঞা ও বিবেচনার সাথে সংস্কার করা উচিত, যাতে তা আধুনিক চিন্তাধারার দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়))।

অতঃপর তিনি বলেন: ((কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) আজ পর্যন্ত মানুষের ঊর্ধ্বে আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ্য প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি স্থাপনের জন্য তাফসির শাস্ত্র শৈল্পিক অধ্যয়নের আশ্রয় নিয়েছিল। যদি আমরা মারগোলিয়াথের অনুমানের ফলাফলগুলো প্রয়োগ করি, তবে সেই ভিত্তি ধসে পড়বে। আর এখান থেকেই একজন মুসলিমের আকিদা (عقيدة)-এর ক্ষেত্রে তাফসিরের সমস্যাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির ওপর স্থাপিত হয়, অর্থাৎ তার দৃষ্টিতে কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) প্রমাণ))।

অতঃপর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন: ((আর সত্য কথা এই যে, কোনো মুসলিমই—বিশেষ করে অনারব দেশগুলোতে—কুরআনের কোনো আয়াত এবং জাহিলি যুগের সাহিত্যের কোনো ছন্দোবদ্ধ বা অন্ত্যমিলযুক্ত অনুচ্ছেদের মধ্যে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলনা করতে সক্ষম নয়। কেননা দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের রুচিতে আরবি ভাষার সেই প্রখরতা নেই, যা দিয়ে আমরা কোনো সাহিত্যিক তুলনা থেকে একটি ন্যায়সংগত ও প্রাজ্ঞ ফলাফল আহরণ (استنباط) করতে পারি))।

আমি এই প্রবন্ধটি নিয়ে আলোচনা করতে চাই যাতে পাঠককে আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ বইটি এর যথাযথ স্থানে রাখতে সাহায্য করতে পারি, এবং যাতে এই বইটি পড়ার সময় তিনি যে পথে চলছেন তার বৈশিষ্ট্যগুলো তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়, আর তিনি যেন এর দলিল (أدلة) ও প্রমাণাদি থেকে এমন শক্তি অর্জন করতে পারেন যা তাকে তার আকিদা (عقيدة) ও বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপনে সহায়তা করবে।
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولا أدري ما الذي ألجأ أخي مالكاً إلى ذكر (تفسير القرآن) ومنهجه القديم في هذا الوضع .. ؟ .. إنه إقحام لباب من علوم الإسلام قائم برأسه لا يمسه فرض (مرجليوث) من قريب أو بعيد. وعلم تفسير القرآن كما أسسه القدماء، لا يقوم على موازنة الأساليب، اعتماداً على شعر الجاهلية أو شعر غير الجاهلية، وإذا اقتضتنا الحاجة أن ندخل تعديلاً على منهج التفسير القديم، فإنه عندئذ تعديل لا علاقة له البتة بالشعر الجاهلي، لا من قبل الشك في صحته، ولا من قبل موازنة الأساليب الجاهلية بأسلوب القرآن. وكل ما عند القدماء من ذكر الشعر الجاهلي في تفسيرهم، فهو أنهم يستدلون به على معنى حرف في القرآن، أو بيان خاصة من خصائص التعبير العربي، كالتقديم والتأخير والحذف وما إلى ذلك، وهذا أمر يصلح له شعر الجاهلية، كما يصلح له شعر الإسلام؛ وغاية علم تفسير القرآن- كما ينبغي أن يعلم- إنما هي بيان معاني ألفاظه مفردة، وجمله مجتمعة، ودلالة هذه الألفاظ والجمل على المباني، سواء في ذلك آيات الخبر والقصص، وآيات الأدب وآيات الأحكام، وسائر ما اشتملت عليه معاني القرآن. وهو أمر عن (إعجاز القرآن) بمعزل.

أما الأمر المرتبط بالشعر الجاهلي، أو بقضايا الشعر جميعاً، والمتصل بأساليب الجاهلية وغير الجاهلية، وأساليب العربية وغير العربية وموازنتها بأسلوب القرآن، فهو علم (إعجاز القرآن)، ثم (علم البلاغة).

ولا مناص لمتكلم في (إعجاز القرآن)، من أن يتبين حقيقتين عظيمتين قبل النظر في هذه المسألة، وأن يفصل بينهما فصلاً ظاهراً لا يلتبس، وأن يميز أوضح التمييز بين الوجوه المشتركة التي تكون بينهما:

أولاهما: أن (إعجاز القرآن) كما يدل عليه لفظه وتاريخه، وهو دليل النبي صلى الله عليه وسلم على صدق نبوته، وعلى أنه رسول الله يوحى إليه هذا القرآن، وأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يعرف (إعجاز القرآن) من الوجه الذي عرفه منه سائر من آمن به
আমি জানি না কোন বিষয়টি আমার ভাই মালিককে এই পরিস্থিতিতে (কুরআনের তাফসির) এবং এর প্রাচীন পদ্ধতির উল্লেখ করতে বাধ্য করল... ? এটি ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের এমন একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ের অনাহূত প্রবেশ যা (মারগোলিয়াথের) অনুমানের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয়। প্রাচীনরা কুরআনের তাফসির শাস্ত্রের যে ভিত্তি স্থাপন করেছেন, তা জাহেলি বা অন্য কোনো যুগের কাব্যের ওপর ভিত্তি করে শৈলীগত তুলনার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; এবং যদি আমাদের প্রাচীন তাফসির পদ্ধতিতে কোনো সংশোধনের প্রয়োজনও হয়, তবে সেই সংশোধনের সাথে জাহেলি কাব্যের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক থাকবে না; তার বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেও নয়, আবার জাহেলি শৈলীর সাথে কুরআনের শৈলীর তুলনার দিক থেকেও নয়। প্রাচীনদের তাফসিরে জাহেলি কাব্যের উল্লেখের বিষয়টি কেবল এই যে, তারা এর মাধ্যমে কুরআনের কোনো শব্দের অর্থ অথবা আরবি প্রকাশভঙ্গির কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করার জন্য প্রমাণ পেশ করেন, যেমন- শব্দক্রমের অগ্রপশ্চাৎ (তাকদিম ও তাখির), বিলোপ (হাফয) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়; আর এটি এমন একটি বিষয় যার জন্য জাহেলি কাব্য যেমন সংগতিপূর্ণ, তেমনি ইসলামি যুগের কাব্যও সংগতিপূর্ণ। কুরআনের তাফসির শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো—যা অবগত হওয়া প্রয়োজন—এর একক শব্দাবলি এবং সামগ্রিক বাক্যগুলোর অর্থ এবং এই শব্দ ও বাক্যগুলোর কাঠামোগত তাৎপর্য বর্ণনা করা; চাই তা সংবাদ ও কাহিনী সংক্রান্ত আয়াত হোক, কিংবা শিষ্টাচার ও বিধান সংক্রান্ত আয়াত হোক, অথবা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য অর্থ হোক। আর এটি (কুরআনের অলৌকিকতা) থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়।

পক্ষান্তরে, জাহেলি কাব্যের সাথে বা কাব্যের সামগ্রিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, এবং জাহেলি ও জাহেলি-উত্তর যুগের এবং আরবি ও অনারবি শৈলীর সাথে কুরআনের শৈলীর তুলনামূলক আলোচনার বিষয়টি হলো (কুরআনের অলৌকিকতা) এবং এরপর (অলঙ্কারশাস্ত্র)।

কুরআনের অলৌকিকতা নিয়ে আলোচনাকারীর জন্য এই বিষয়টি পর্যালোচনার পূর্বে দুটি মহান সত্যকে অনুধাবন করা এবং তাদের মধ্যে একটি স্পষ্ট ও দ্বিধাহীন পার্থক্য বজায় রাখা অপরিহার্য। সেইসাথে তাদের মধ্যকার সাধারণ দিকগুলোর মাঝে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পার্থক্য নিরূপণ করা প্রয়োজন:

প্রথমটি হলো: (কুরআনের অলৌকিকতা)—যা এর শব্দ এবং ইতিহাস দ্বারা প্রমাণিত—তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ, এবং এটিই প্রমাণ করে যে তিনি আল্লাহর রসূল যাঁর ওপর এই কুরআন ওহি হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের অলৌকিকতা সম্পর্কে সেভাবেই অবগত ছিলেন, যেভাবে তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী অন্য সকলে তা উপলব্ধি করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
من قومه العرب، وأن التحدي الذي تضمنته آيات التحدي، من نحو قوله تعالى: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [هود 11/ 13 و 14]. وقوله: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} [الإسراء17/ 88]. إنما هو تحدٍّ بلفظ القرآن ونظمه وبيانه لا بشيء خارج عن ذلك. فما هو بتحدٍّ بالإخبار بالغيب المكنون، ولا بالغيب الذي يأتي تصديقه بعد دهر من تنزيله، ولا بعلم ما لا يدركه علم المخاطبين به من العرب، ولا بشيء من المعاني مما لا يتصل بالنظم والبيان.

ثانيهما: أن إثبات دليل النبوة، وتصديق دليل الوحي، وأن القرآن تنزيل من عند الله، كما نزلت التوراة والإنجيل والزبور وغيرها من كتب الله سبحانه، لا يكون منها شيء يدل على أن القرآن معجز، ولا أظن أن قائلاً يستطيع أن يقول إن التوراة والإنجيل والزبور كتب معجزة، بالمعنى المعروف في شأن إعجاز القرآن، من أجل أنها كتب منزلة من عند الله. ومن البين أن العرب قد طولبوا بأن يعرفوا دليل نبوة رسول الله، ودليل صدق الوحي الذي يأتيه، بمجرد سماع القرآن نفسه، لا بما يجادلهم به حتى يلزمهم الحجة في توحيد الله، أو تصديق نبوته، ولا بمعجزة كمعجزات إخوانه من الأنبياء مما آمن على مثله البشر، وقد بيّن الله في غير آية من كتابه أن سماع القرآن يقتضيهم إدراك مباينته لكلامهم، وأنه ليس من كلام بشر، بل هو كلام رب العالمين وبهذا جاء الأمر في قوله تعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَعْلَمُونَ} [التوبة 9/ 6].

فالقرآن المعجز هو البرهان القاطع على صحة النبوة، أما صحة النبوة فليست برهاناً على إعجاز القرآن.
তাঁর স্বজাতি আরবদের নিকট হতে; আর চ্যালেঞ্জের আয়াতসমূহে যে চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নাকি তারা বলে যে, সে এটি নিজে উদ্ভাবন করেছে? আপনি বলুন, তবে তোমরা এর মতো দশটি সূরা নিয়ে আস যা উদ্ভাবন করা হয়েছে এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার তাকে ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। অতঃপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রেখ যে, এটি আল্লাহর ইলম বা জ্ঞান দ্বারাই অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। তবে কি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হবে?} [হুদ ১১/ ১৩ ও ১৪]। এবং তাঁর বাণী: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।} [আল-ইসরা ১৭/ ৮৮]। এটি মূলত কুরআনের শব্দ, শব্দবিন্যাস এবং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বর্ণনার মাধ্যমে এক চ্যালেঞ্জ, এর বাইরের অন্য কিছু দিয়ে নয়। সুতরাং এটি কোনো গোপন অদৃশ্যের (غيب) সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ নয়, আর না এমন অদৃশ্যের (غيب) মাধ্যমে যার সত্যায়ন এর অবতীর্ণ হওয়ার দীর্ঘকাল পরে সংঘটিত হয়, আর না এমন জ্ঞান দ্বারা যা আরব সম্বোধিতদের বোধশক্তির বাইরে, এবং শব্দবিন্যাস ও বর্ণনার সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কোনো অর্থের দ্বারাও এটি নয়।

দ্বিতীয়ত: নবুওয়তের প্রমাণ সাব্যস্ত করা এবং ওহির প্রমাণের সত্যায়ন করা, আর কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ—যেমন তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর এবং আল্লাহর অন্যান্য কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে—এসবের মধ্যে এমন কিছু নেই যা নির্দেশ করে যে কুরআন অলৌকিক (معجز)। আমি মনে করি না যে কোনো বক্তা এ কথা বলতে সক্ষম হবেন যে তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবুর হলো অলৌকিক (معجز) কিতাব, কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) ক্ষেত্রে সুপরিচিত অর্থের ভিত্তিতে; কেবল এজন্য যে সেগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কিতাব। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, আরবদের নিকট দাবি করা হয়েছিল যেন তারা রাসূলুল্লাহর নবুওয়তের প্রমাণ এবং তাঁর নিকট আসা ওহির সত্যতা কেবল কুরআন শ্রবণ করার মাধ্যমেই অনুধাবন করে; সেই সব বিষয়ের মাধ্যমে নয় যা নিয়ে তিনি তাদের সাথে বিতর্ক করতেন যাতে করে আল্লাহর তাওহিদ বা তাঁর নবুওয়তের সত্যতার বিষয়ে তাদের ওপর অকাট্য দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়। আর না তাঁর ভাই নবীদের অলৌকিক নিদর্শনের (معجزة) মতো কোনো নিদর্শনের মাধ্যমে, যার ভিত্তিতে মানুষ ঈমান এনে থাকে। আল্লাহ তাঁর কিতাবের একাধিক আয়াতে স্পষ্ট করেছেন যে, কুরআন শ্রবণ করা তাদের জন্য অপরিহার্য করে দেয় যে তারা যেন তাদের কথার সাথে এর বৈসাদৃশ্য উপলব্ধি করে, এবং এটি যে কোনো মানুষের কথা নয় বরং এটি জগতসমূহের রবের কথা। আর এ নির্দেশই এসেছে মহান আল্লাহর বাণীতে: {আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দিন যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিন। এটি এজন্য যে তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা জানে না।} [আত-তাওবাহ ৯/ ৬]।

অতএব, অলৌকিক (معجز) কুরআনই হলো নবুওয়তের সত্যতার ওপর অকাট্য প্রমাণ (برهان), পক্ষান্তরে নবুওয়তের সত্যতা কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) ওপর কোনো অকাট্য প্রমাণ (برهان) নয়।
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
والخلط بين هاتين الحقيقتين، وإهمال الفصل بينهما في التطبيق والنظر، وفي دراسة (إعجاز القرآن)، قد أفضى إلى تخليط شديد في الدراسة قديماً وحديثاً، بل أدى هذا الخلط إلى تأخير علم (إعجاز القرآن) و (علم البلاغة)، عن الغاية التي كان ينبغي أن ينتهيا إليها.

وحسن أن أزيل الآن لبساً قد يقع فيه الدارس لكتاب (الظاهرة القرآنية)، ففي (مدخل الدراسة)؛ وفي بعض فصول الكتاب ما يوهم أن من مقاصده تثبيت قواعد في (علم إعجاز القرآن)، من الوجه الذي يسمى به القرآن معجزاً. وهو خطأ، فإن منهج مالك في تأليفه دالّ أوضح الدلالة على أنه إنما عني بإثبات صحة دليل النبوة، وبصدق دليل الوحي، وأن القرآن تنزيل من عند الله، وأنه كلام الله لا كلام بشر، وليس هذا هو (إعجاز القرآن) كما أسلفت، بل هو أقرب إلى أن يكون باباً من (علم التوحيد)، استطاع مالك أن يبلغ فيه غايات بعيدة، قصر عنها أكثر من كتب من المحدثين وغير المحدثين: فجزاه الله عن كتابه ونبيه أحسن الجزاء.

أما مسألة (إعجاز القرآن)، فقد بقيت خارج هذا الكتاب، وهي عندي أعقد مشكلة يمكن أن يعانيها (العقل) الحديث، كما يسمونه، حتى بعد أن يتمكن من إرساء كل دعامة يقوم عليها إيمانه بصدق نبوة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبصدق الوحي وبصدق التنزيل. وأيضاً فهي المسألة التي ترتبط ارتباطاً وثيقاً بقضية الشعر الجاهلي، وبالكيد الخفي الذي اشكلت عليه هذه القضية، بل إنها لترتبط ارتباطاً لا فكاك له بثقافتنا كلها، وبما ابتلي به العرب في جميع دور العلم، من فرض منهاج خال من كل فضيلة في تدريس اللغة وآدابها. بل إنها لتشمل ما هو أرحب من ذلك، تشمل بناء الإنسان العربي أو المسلم، من حيث هو إنسان قادر على تذوق الجمال في الصورة والفكر جميعاً.

ومعرفة معنى (إعجاز القرآن)، وما هو وكيف كان، أمر لا غنى عنه لمسلم
এই দুই বাস্তবতাকে গুলিয়ে ফেলা এবং প্রয়োগ ও তাত্ত্বিক আলোচনার ক্ষেত্রে এবং 'কুরআনের অলৌকিকতা' (إعجاز القرآن) অধ্যয়নে এ দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে অবহেলা করা—প্রাচীন ও আধুনিক গবেষণায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। বরং এই সংমিশ্রণ 'কুরআনের অলৌকিকতা' (إعجاز القرآن) এবং 'অলঙ্কারশাস্ত্র' (علم البلاغة)-কে সেই চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিলম্বিত করেছে, যেখানে পৌঁছানো তাদের জন্য বাঞ্ছনীয় ছিল।

'আল-জাহির আল-কুরআনিয়্যাহ' গ্রন্থের পাঠকের মনে যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, তা এখন নিরসন করা সমীচীন হবে। গ্রন্থের 'গবেষণার ভূমিকা' এবং কিছু অধ্যায়ে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা এই ধারণা দেয় যে, এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো 'কুরআনের অলৌকিকতা' (إعجاز القرآن) শাস্ত্রের নিয়মাবলি সুপ্রতিষ্ঠিত করা—যে দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনকে 'মুজিজা' বা অলৌকিক বলা হয়। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। মালেক বিন নবীর রচনার পদ্ধতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল নবুওয়াতের প্রমাণের (دليل النبوة) সত্যতা এবং ওহীর (وحي) প্রমাণের সত্যতা প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করেছেন। আর এটি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বাণী (تنزيل) এবং এটি আল্লাহর কালাম, কোনো মানুষের কথা নয়। যেমনটি আমি আগে বলেছি, এটি 'কুরআনের অলৌকিকতা' (إعجاز القرآن) নয়; বরং এটি 'তাওহিদ শাস্ত্রের' (علم التوحيد) একটি পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী। মালেক এতে এমন এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, যা আধুনিক ও অ-আধুনিক লেখকদের অধিকাংশই অর্জন করতে পারেননি। সুতরাং আল্লাহ তাঁকে তাঁর কিতাব ও নবীর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

পক্ষান্তরে, 'কুরআনের অলৌকিকতা' (إعجاز القرآن)-এর বিষয়টি এই গ্রন্থের আলোচনার বাইরে থেকে গেছে। আমার মতে এটি বর্তমান 'আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তি' (العقل الحديث), তারা যেমনটি নামকরণ করে থাকে, তার জন্য সবচেয়ে জটিল সমস্যা। এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের সত্যতা, ওহীর (وحي) সত্যতা এবং অবতীর্ণ বাণীর (تنزيل) সত্যতার ওপর ঈমান যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রতিটি স্তম্ভ সুদৃঢ় করার পরেও এই জটিলতা থেকে যায়। এছাড়াও এটি এমন এক বিষয় যা জাহেলি কবিতার সাথে এবং এর আড়ালে থাকা গোপন ষড়যন্ত্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বরং এটি আমাদের সমগ্র সংস্কৃতির সাথে এবং জ্ঞানচর্চার প্রতিটি ক্ষেত্রে আরবরা যে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে—ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষাদানে প্রতিটি গুণবিবর্জিত একটি পাঠ্যক্রম চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে—তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। বরং এর পরিধি আরও বিস্তৃত; এটি আরব বা মুসলিম মানস গঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট—যাতে সে ভাব ও চিন্তার জগতের সৌন্দর্য আস্বাদনে সক্ষম একজন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

আর 'কুরআনের অলৌকিকতা' (إعجاز القرآن)-এর অর্থ অনুধাবন করা, এটি কী এবং কেমন ছিল—তা একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য বিষয়।
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولا لدارس، وشأنه أعظم من أن يتكلم فيه أمرؤ بغير تثبت من معناه، وتمكن من تاريخه، وتتبع للآيات الدالة على حقيقته. وأنا لا أزعم أني مستقصيه في هذا الوضع، ولكني مستعين بالله، فذاكر طرفاً مما يعين المرء على معرفته.

وذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، بأبي هو وأمي، حين فجأه الوحي في غار حراء، وقال له: ((اقرأ))، فقال: ((ما أنا بقارئ))، ثم لم يزل حتى قرأ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ (3) الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق 96/ من الآية 1 - 5].

رجع بها وهو يرجُف فؤاده، فدخل على خديجة فقال: ((زملوني زملوني))، فزملوه حتى ذهب عنه الروع. وذلك أنه قد أتاه أمر لا قِبَل له به، وسمع مقالاً لا عهد له بمثله، وكان رجلاً من العرب، يعرف من كلامها ما تعرف، وينكر منه ما تنكر؛ كان هذا الروع الذي أخذه، بأبي هو وأمي، أول إحساس في تاريخ البشر، بمباينة هذا الذي سمع، للذي كان يسمع من كلام قومه، وللذي كان يعرف من كلام نفسه. ثم حمي الوحي وتتابع، وأمره ربه أن يقرأ ما أنزل عليه على الناس على مُكثِ. فتتبع الأفراد من عشيرته وقومه، يقرأ عليهم هذا الذي نزل إليه. ولم يكن من برهانه ولا مما أُمِر به أن يلزمهم الحجة بالجدال حتى يؤمنوا أنما هو إله واحد، وأنه هو نبي الله، بل طالبهم بأن يؤمنوا بما دعاهم إليه، ويقروأ له بصدق نبوته، بدليل واحد هو هذا الذي يتلوه عليهم من قرآن يقرؤه. ولا معنى لمثل هذه المطالبة بالإقرار لمجرد التلاوة، إلا أن هذا المقروء عليهم، كان هو في نفسه آية فيها أوضح الدليل على أنه ليس من كلامه هو، ولا من كلام بشر مثله. ثم أيضاً لا معنى لها البتة إلا أن يكون وكان في طاقة هؤلاء السامعين أن يميزوا تمييزاً واضحاً بين الكلام الذي هو من نحو كلام البشر، والكلام الذي ليس من نحو كلامهم.
না কোনো গবেষকের জন্য; এর মর্যাদা এত মহৎ যে কোনো ব্যক্তির পক্ষে এর মর্মার্থ সম্পর্কে নিশ্চিতকরণ (تثبت) না করে, এর ইতিহাস আয়ত্ত না করে এবং এর প্রকৃত স্বরূপের নির্দেশক নিদর্শনগুলোর যথাযথ অনুসরণ না করে এ বিষয়ে কথা বলা সমীচীন নয়। আমি দাবি করছি না যে আমি এই স্থানে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছি, তবে আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং সেই সব বিষয়ের কিঞ্চিৎ উল্লেখ করছি যা একজন ব্যক্তিকে তা অনুধাবনে সহায়তা করবে।

আর বিষয়টি হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোন—যখন হেরা গুহায় ওহি (وحي) তাঁর কাছে অতর্কিতে এলো এবং তাঁকে বলা হলো: "পড়ুন", তখন তিনি বললেন: "আমি তো পাঠ করতে জানি না।" অতঃপর তিনি পড়তে থাকলেন: "পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার পালনকর্তা মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না" [আল-আলাক ৯৬: ১-৫]।

তিনি তা নিয়ে ফিরে আসলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর হৃদয় কাঁপছিল। তিনি খাদিজার নিকট প্রবেশ করে বললেন: "তোমরা আমাকে চাদর আবৃত করো, আমাকে চাদর আবৃত করো।" তারা তাঁকে আবৃত করে রাখলেন যতক্ষণ না তাঁর ভীতি দূর হলো। আর এটি ছিল একারণে যে, তাঁর নিকট এমন এক বিষয় এসেছিল যা মোকাবেলার সক্ষমতা তাঁর ছিল না এবং তিনি এমন এক বাণী শুনেছিলেন যার সদৃশ ইতিপূর্বে শোনেননি। তিনি আরবদেরই একজন ব্যক্তি ছিলেন, তাদের ভাষার যা তারা বুঝত তা তিনিও বুঝতেন এবং যা তারা অপছন্দ করত তিনিও তা করতেন। তাঁর মধ্যে সঞ্চারিত এই ভীতি—আমার পিতা-মাতা তাঁর প্রতি উৎসর্গিত হোন—মানব ইতিহাসে ছিল এমন এক বিষয়ের প্রথম অনুভূতি, যা তিনি শুনছিলেন এবং যা তিনি তাঁর গোত্রের ভাষা থেকে শুনতেন কিংবা নিজ অন্তরের ভাষা হিসেবে জানতেন, তার মধ্যকার সুস্পষ্ট পার্থক্যের কারণে। অতঃপর ওহি (وحي) তীব্রতর ও ধারাবাহিক (تتابع) হতে লাগল এবং তাঁর প্রতিপালক তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাঁর প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা মানুষের কাছে ধীরস্থিরভাবে পাঠ করেন। ফলে তিনি তাঁর বংশ ও গোত্রের ব্যক্তিদের নিকট গিয়ে তাদের কাছে যা নাযিল হয়েছিল তা পাঠ করে শোনাতেন। এটি তাঁর প্রমাণের (برهان) অংশ ছিল না এবং তাঁকে এ নির্দেশও দেওয়া হয়নি যে তিনি বিতর্কের মাধ্যমে তাদের ওপর দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত করবেন যাতে তারা বিশ্বাস করে যে আল্লাহ এক এবং তিনি আল্লাহর নবী; বরং তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা যেন সেই বিষয়ের প্রতি ঈমান আনে যেদিকে তিনি দাওয়াত দিচ্ছেন এবং তাঁর নবুয়তের সত্যতা স্বীকার করে নেয়। আর এর জন্য একটিই প্রমাণ (دليل) ছিল, তা হলো সেই কুরআন যা তিনি তাদের নিকট তিলাওয়াত করতেন। কেবলমাত্র তিলাওয়াতের মাধ্যমেই এমন স্বীকৃতির দাবির আর কোনো অর্থ হয় না, যদি না তাদের কাছে যা পাঠ করা হচ্ছে তা নিজেই একটি নিদর্শন (آية) হতো, যাতে অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণ (دليل) রয়েছে যে এটি তাঁর নিজের কথা নয় এবং তাঁর মতো কোনো মানুষের কথাও নয়। এছাড়া এর আর কোনো তাৎপর্য হতে পারে না যদি না এই শ্রোতাদের মাঝে এমন সক্ষমতা থাকত যার মাধ্যমে তারা মানুষের বাচনভঙ্গি এবং যা মানুষের বাচনভঙ্গির সদৃশ নয়—তার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য করতে সক্ষম হতো।
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وكان هذا القرآن يُنَزَّل عليه منجماً، وكان الذي نزل عليه يومئذ قليلاً كما تعلم، فكان هذا القليل من التنزيل هو برهانه الفرد على نبوته. وإذن، فقليل ما أوحي إليه من الآيات يومئذ، وهو على قلته وقلة ما فيه من المعاني التي تتامَّت وتجمعت في القرآن جملة كما نقرؤه اليوم، منطوٍ على دليل مستبين قاهر، يحكم له بأنه ليس من كلام البشر. وبذلك يكون دليلا على أن تاليه عليهم، وهو بشر مثلهم، نبي من عند الله مرسل.

فإذا صح هذا، وهو صحيح لا ريب فيه، ثبت ما قلناه أولاً من أن الآيات القليلة من القرآن، ثم الآيات الكثيرة، ثم القرآن كله، أياً ذلك كان، في تلاوته على، سامعه من العرب، هو الدليل الذي يطالبه بأن يقطع بأن هذا الكلام مفارق لجنس كلام البشر، وذلك من وجه واحد، وهو وجه البيان والنظم.

وإذا صح أن قليل القرآن وكثيره سواء من هذا الوجه، ثبت أن ما في القرآن جملة- من حقائق الأخبار عن الأمم السالفة، ومن أنباء الغيب ومن دقائق التشريع، ومن عجائب الدلالات على ما لم يعرفه البشر من أسرار الكون إلا بعد القرون المتطاولة من تنزيله- كل ذلك بمعزل عن الذي طولب به العرب، وهو أن يستبينوا في نظمه وبيانه انفكاكه من نظم البشر وبيانهم، من وجه يحسم القضاء بأنه كلام رب العالمين. وههنا معنى زائد، فإنهم إذا أقروا أنه كلام رب العالمين بهذا الدليل، كانوا مطالبين بأن يؤمنوا بأن ما جاء فيه من أخبار الأمم وأنباء الغيب ودقائق التشريع، وعجائب الدلالات على أسرار الكون، هو كله حق لا ريب فيه، وإن ناقض ما يعرفون، وإن باين ما اتفقوا على أنه عندهم أو عند غيرهم حق لا يشكون فيه. وإذن فإقرارهم من وجه النظم والبيان أن هذا القرآن كلام رب العالمين، دليل يطالبهم بالإقرار بصحة ما جاء فيه من كل ذلك، أما صحة ما جاء فيه، فليست هي الدليل الذي يطالبهم بالإقرار بأن
এই কুরআন তাঁর প্রতি পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছিল। আপনি যেমন জানেন, সেই সময়ে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল তার পরিমাণ ছিল সামান্য। অবতীর্ণ এই সামান্য অংশই ছিল তাঁর নবুওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর একক প্রমাণ। অতএব, সেই দিনগুলোতে তাঁর প্রতি যে অল্প সংখ্যক আয়াত ওহি করা হয়েছিল, তা পরিমাণে কম হওয়া সত্ত্বেও এবং বর্তমানে আমরা পুরো কুরআন যেভাবে পাঠ করি তাতে বিদ্যমান পূর্ণাঙ্গ ও একত্রিত অর্থসমূহের তুলনায় কম হওয়া সত্ত্বেও, এমন এক সুস্পষ্ট ও অকাট্য দলিলের ধারক ছিল যা অকাট্যভাবে প্রমাণ করত যে, এটি মানুষের বাণী নয়। এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে, যিনি তাদের সামনে এটি তিলাওয়াত করছেন, অথচ তিনি তাদের মতোই একজন মানুষ, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত (مرسل) একজন নবী।

যদি এই বিষয়টি সঠিক (صحيح) হয়—আর এটি নিঃসন্দেহে সঠিক (صحيح)—তবে আমরা শুরুতে যা বলেছি তা সাব্যস্ত হলো যে, কুরআনের অল্প সংখ্যক আয়াত হোক, কিংবা অধিক সংখ্যক আয়াত, অথবা পুরো কুরআন—যাই হোক না কেন—আরব শ্রোতাদের নিকট এর তিলাওয়াতই ছিল সেই দলিল যা তাকে এই বিষয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করত যে, এই বাণী মানবীয় বাণীর প্রকার থেকে সম্পূর্ণ বিযুক্ত। আর তা ছিল একটি মাত্র দিক থেকে, যা হলো এর প্রকাশভঙ্গি ও রচনাশৈলী।

আর যদি এটি সঠিক (صحيح) হয় যে, কুরআনের অল্প বা অধিক অংশ এই দিক থেকে সমান, তবে এটিও সাব্যস্ত হলো যে, সামগ্রিকভাবে কুরআনের মাঝে বিদ্যমান—পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদসমূহের হাকিকত, অদৃশ্যের সংবাদ, শরয়ি বিধানের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি এবং মহাবিশ্বের রহস্যসমূহের বিস্ময়কর প্রমাণাদি (যা মানুষ এর অবতীর্ণ হওয়ার দীর্ঘ শতাব্দীকাল অতিবাহিত হওয়ার আগে জানতে পারেনি)—এই সবকিছুই ছিল সেই দাবি থেকে পৃথক যা আরবদের নিকট করা হয়েছিল। তাদের নিকট দাবি ছিল যে, তারা যেন এর রচনাশৈলী ও প্রকাশভঙ্গির মাঝে মানবীয় রচনা ও প্রকাশভঙ্গি থেকে এর ভিন্নতা স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করে, এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যা চূড়ান্তভাবে ফয়সালা করে দেয় যে এটি রাব্বুল আলামীনের কালাম। এখানে একটি অতিরিক্ত অর্থ রয়েছে; তারা যখন এই দলিলের ভিত্তিতে এটি রাব্বুল আলামীনের কালাম বলে স্বীকার করে নিল, তখন তারা এতে বর্ণিত জাতিসমূহের সংবাদ, অদৃশ্যের খবর, বিধানের সূক্ষ্ম রূপরেখা এবং মহাবিশ্বের রহস্যরাজির বিস্ময়কর নির্দশনাবলি—সবকিছুই সত্য বলে বিশ্বাস করতে বাধ্য হলো, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এমনকি যদি তা তাদের জানা বিষয়ের পরিপন্থীও হয়, কিংবা তাদের বা অন্যদের নিকট যা নিঃসন্দেহে সত্য বলে সর্বসম্মত, তার থেকে ভিন্নও হয়। সুতরাং, রচনাশৈলী ও প্রকাশভঙ্গির দিক থেকে এই কুরআন যে রাব্বুল আলামীনের কালাম—এই মর্মে তাদের স্বীকৃতিই এমন এক দলিল যা তাদের এতে বর্ণিত সকল বিষয়ের বিশুদ্ধতা (صحة) স্বীকার করে নিতে বাধ্য করে। আর এতে বর্ণিত বিষয়াদির বিশুদ্ধতা (صحة) কিন্তু সেই দলিল নয় যা তাদের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করে যে—
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
نظم القرآن وبيانه، مباين لنظم البشر وبيانهم، وأنه بهذا من كلام رب العالمين. وهذا أمر في غاية الوضوح.

فمن هذا الوجه كما ترى طولب العرب بالإقرار والتسليم، ومن هذا الوجه تحيرت العرب فيما تسمع من كلام يتلوه عليهم رجل منهم، تجده من جنس كلامها لأنه نزل بلسانهم، لسان عربي مبين؛ ثم تجده مبايناً لكلامها، فما تدري ما تقول فيه من طغيان اللدد والخصومة. وإنه لخبر مشهور، خبر تحير النفر من قريش فيه وعلى رأسهم (الوليد بن الغيرة). لقد ائتمرت قريش يومئذ حين حضر الموسم، لكي يقولوا في هذا الذي يتلى عليهم وعلى الناس قولاً واحداً لا يختلفون فيه، وأداروا الرأي بينهم في تاليه على أهل المواسم، وتشاوروا أن يقولوا: كاهن، أو مجنون، أو شاعر أو ساحر، فلما آلت المشورة إلى ذي رأيهم وسنهم وهو (الوليد بن المغيرة)، رد كل ذلك بالحجة عليهم، ثم قال: ((والله إن لقوله لحلاوة، وإن أصله لعذق، وإن فرعه لجناة؛ وما أنتم بقائلين من هذا شيئاً إلا عرف أنه باطل، وإن أقرب القول فيه لأن تقولوا: ساحر جاء بقول يفرق بين المرء وأبيه، وبين المرء وأخيه، وبين المرء وزوجه، وبين المرء وعشيرته)).

فهذا التحير المظلم الذي غشَّاهم وأخذ منهم بالكظم، والذي نعته الوليد فاستجاد النعت، كان تحيراً لما يسمعون من نظمه وبيانه، لا لما يدركون من دقائق التشريع، وخفي الدلالات، وما لا يؤمنون به من الغيب، وما لا يعرفون من أنباء القرون التي خلت من قبل.

وحمي الوحي وتتابع عاماً بعد عام، وأقبل صلى الله عليه وسلم يلح جهرة فيقرأ القرآن عليهم وعلى من طاف بهم من العرب في بطن مكة، وفي مواسم الحج والأسواق؛ وهبت قريش تناوئه وتنازعه، وتلج في اللدد والخصومة، وفي الإنكار والتكذيب، وفي العداوة والأذى؛ فلما طال تكذيبهم وإنكارهم، على ما يجدون
কুরআনের বিন্যাস ও বর্ণনাশৈলী মানবীয় বিন্যাস ও বর্ণনাশৈলী হতে সম্পূর্ণ পৃথক, আর এ কারণেই এটি রাব্বুল আলামীনের বাণী। এই বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

এই দিকটি বিবেচনার ফলেই, যেমনটি আপনি দেখছেন, আরবদেরকে সত্যতা স্বীকার ও আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এই কারণেই আরবরা তাদেরই মধ্য থেকে আগত জনৈক ব্যক্তির নিকট থেকে শ্রুত বাণীর বিষয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। তারা একে তাদের নিজেদের ভাষার সমগোত্রীয় মনে করছিল, কারণ এটি তাদেরই পরিচিত সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল; কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা একে তাদের নিজেদের কথা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও স্বতন্ত্র দেখতে পাচ্ছিল। ফলে শত্রুতা ও চরম বিতণ্ডার বশবর্তী হয়ে তারা এর সম্পর্কে কী বলবে তা ভেবে পাচ্ছিল না। এটি একটি প্রসিদ্ধ (مشهور) সংবাদ যে, কুরাইশদের একটি দল এবং তাদের নেতৃত্বে থাকা আল-ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরা একে নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছিল। হজের মৌসুম উপস্থিত হলে কুরাইশরা সেদিন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল, যাতে তারা মানুষের সামনে এই পঠিত বাণী সম্পর্কে একটি অভিন্ন বক্তব্য প্রদান করতে পারে যে বিষয়ে তাদের মাঝে কোনো মতভেদ থাকবে না। তারা হজের মৌসুমে আগত লোকদের নিকট এই বাণী পাঠকারী সম্পর্কে কী বলা যায় তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ করল। তারা প্রস্তাব করল: গণক, উন্মাদ, কবি কিংবা জাদুকর। যখন এই পরামর্শ তাদের বিজ্ঞ ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি আল-ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরার নিকট পেশ করা হলো, তখন সে যুক্তির মাধ্যমে তাদের প্রতিটি দাবি প্রত্যাখ্যান করল। অতঃপর সে বলল: "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই এই বাণীর মধ্যে এক বিশেষ মিষ্টতা রয়েছে, এর শিকড় অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং এর উপরিভাগ ফলদায়ক। তোমরা এর সম্পর্কে যা-ই বলবে, তা যে ভিত্তিহীন তা সহজেই ধরা পড়বে। এর সম্পর্কে সবচেয়ে নিকটতর বক্তব্য হতে পারে এটি যে, তোমরা বলো—সে একজন জাদুকর; যে এমন এক কথা নিয়ে এসেছে যা পিতা ও পুত্রের মধ্যে, ভাই ও ভাইয়ের মধ্যে, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে এবং ব্যক্তি ও তার গোত্রের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয়।"

এই যে অন্ধকারাচ্ছন্ন বিভ্রান্তি যা তাদের আচ্ছন্ন করেছিল এবং তাদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল, যার বর্ণনা ওয়ালিদ অত্যন্ত চমৎকারভাবে দিয়েছিল—তা ছিল তাদের শ্রুত কুরআনের বিন্যাস ও বর্ণনাশৈলীর কারণে। এটি শরীয়তের সূক্ষ্ম বিধান কিংবা নিগূঢ় তাৎপর্য অনুধাবন করার কারণে ছিল না, কিংবা অদৃশ্যের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে অথবা পূর্ববর্তী গত হয়ে যাওয়া জাতিসমূহের সংবাদ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণেও ছিল না।

অতঃপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার ধারা প্রবল ও বেগবান হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকাশ্যে মক্কার অভ্যন্তরে কুরাইশদের সামনে এবং তাদের নিকট আগত আরবদের মাঝে হজের মৌসুমে ও বাজারগুলোতে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগলেন। কুরাইশরা তাঁর বিরোধিতা ও বিবাদে লিপ্ত হলো এবং চরম হঠকারিতা, শত্রুতা, অস্বীকার, মিথ্যা প্রতিপন্নকরণ ও নির্যাতনে মেতে উঠল। তাদের এই অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ধারা যখন দীর্ঘায়িত হলো, অথচ তারা (মনে মনে) যা অনুভব করছিল...
(খণ্ড: ১) আয-যাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
في أنفسهم من مثل الذي وجد الوليد، ومن مثل الذي آمن عليه مَن آمن مِن قومه العرب، صب الله عليهم من الوحي ما هالهم وأفزعهم؛ كانوا يتحيرون في هذا الذي يتلى عليهم، وظل رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة ثلاثة عشر عاماً والمسلمون قليل مستضعفون في أرض مكة، وظل الوحي يتتابع وهو يتحداهم أن يأتوا بمثل هذا القرآن، ثم بعشر سور مثله مفتريات. فلما انقطعت قواهم، قطع الله عليهم وعلى الثقلين جميعاً منافذ اللدد والعناد، فقال: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} [الإسراء 17/ 88]. وكذلك كان!

فكان هذا البلاغ القاطع الذي لا معقب له، هو الغاية التي انتهى إليها أمر هذا القرآن، وأمر النزاع فيه، لا بين رسول الله وبين قومه من العرب فحسب، بل بينه وبين البشر جميعاً على اختلاف ألسنتهم وألوانهم، لا .. بل بينه وبين الإنس والجن مجتمعين متظاهرين. وهذا البلاغ الحق الذي لا معقب له من بين يديه ولا من خلفه، هو الذي اصطلحنا عليه فيما بعد، وسميناه (إعجاز القرآن).

وهذا الذي اقتصصته لك، تاريخ مختصر أشد الاختصار، ولكنه مجزئ في الدلالة على تحديد معنى (إعجاز القرآن) بالمعنى الذي يفهم من هذا اللفظ على إطلاقه، ومجزئ في الدلالة على هذا (الإعجاز). من أي وجوه الإعجاز كان إعجازاً، وإنه ليكشف عن أمور لا غنى لدارس عن معرفتها:

الأول: أن قليل القرآن وكثيره في شأن (الإعجاز) سواء.

الثاني: أن الإعجاز كائن في رصف القرآن وبيانه ونظمه، ومباينة خصائصه للمعهود من خصائص كل نظم وبيان في لغة العرب، ثم في سائر لغات البشر، ثم بيان الثقلين جميعاً، إنسهم وجنهم متظاهرين.
ওয়ালিদ যা অনুভব করেছিল এবং তার সম্প্রদায়ের যারা ঈমান এনেছিল তারাও যা অনুভব করেছিল, তাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলা ওহির এমন প্রভাব বর্ষণ করেছিলেন যা তাদের বিচলিত ও আতঙ্কিত করে তুলেছিল; তারা তাদের সামনে যা তিলাওয়াত করা হতো তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছিলেন এবং মক্কার জমিনে মুসলমানরা ছিল সংখ্যায় অল্প ও দুর্বল; ওহি ধারাবাহিকভাবে নাজিল হতে থাকে এবং তিনি তাদের এই কুরআনের মতো কিছু আনার চ্যালেঞ্জ দিচ্ছিলেন, অতঃপর এর মতো দশটি বানোয়াট (مفتريات) সূরা আনার চ্যালেঞ্জ দিলেন। অতঃপর যখন তাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেল, তখন আল্লাহ তাদের এবং মানব ও জিন—উভয় জগতের ওপর বিতর্ক ও হঠকারিতার সমস্ত পথ রুদ্ধ করে দিলেন। তিনি বললেন: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} [আল-ইসরা ১৭/৮৮]। আর বাস্তবেও তাই হয়েছিল!

সুতরাং এই অকাট্য ঘোষণা—যার কোনো পরবর্তী খণ্ডনকারী নেই—তা-ই ছিল এই কুরআনের চূড়ান্ত গন্তব্য এবং একে ঘিরে চলমান বিরোধের পরিসমাপ্তি। এই বিরোধ কেবল রাসুলুল্লাহ এবং তাঁর আরব সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর এবং সমগ্র মানবজাতির মধ্যে, তাদের ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা সত্ত্বেও। না... বরং তা ছিল তাঁর এবং মানুষ ও জিন জাতির সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে। আর এই মহাসত্য ঘোষণা, যার সামনে বা পেছনে কোনো খণ্ডনকারী নেই, তাকেই আমরা পরবর্তীতে পারিভাষিক রূপ দিয়েছি এবং একে ই'জাযুল কুরআন বা কুরআনের অলৌকিকত্ব হিসেবে অভিহিত করেছি।

আমি আপনার কাছে যা বর্ণনা করলাম, তা ইতিহাসের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি রূপরেখা, তবে তা ই'জাযুল কুরআন পরিভাষাটির সাধারণ অর্থ এবং এর স্বরূপ নির্দেশ করার জন্য যথেষ্ট। কোন কোন দিক থেকে এটি অলৌকিক ছিল, তা স্পষ্ট করার পাশাপাশি এটি এমন কিছু গূঢ় রহস্য উন্মোচন করে যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য জানা অপরিহার্য:

প্রথমত: কুরআনের অল্প অংশ হোক বা বেশি, অলৌকিকত্বের ক্ষেত্রে উভয়ই সমান।

দ্বিতীয়ত: অলৌকিকত্ব নিহিত রয়েছে কুরআনের গাঁথুনি, বর্ণনাভঙ্গি এবং বিন্যাসের মাঝে, এবং আরবদের পরিচিত প্রতিটি বিন্যাস ও বর্ণনাশৈলীর বৈশিষ্ট্য থেকে এর বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার মধ্যে; অতঃপর মানবজাতির অন্যান্য সমস্ত ভাষার ক্ষেত্রে এবং সর্বশেষ মানুষ ও জিন—উভয় জগতের সম্মিলিত বর্ণনাভঙ্গির বিপরীতে এর শ্রেষ্ঠত্বের মাঝে।