(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
جواب الاعتراضات المصرية على الفتيا الحموية القسم: الفرق والردود
الكتاب: جواب الاعتراضات المصرية على الفتيا الحموية
[آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لحقها من أعمال (16)]
المؤلف: شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية (661 - 728 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: سعود بن عبد العزيز العريفي - جديع بن محمد الجديع
الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)
الطبعة: الثالثة، 1440 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)
عدد الصفحات: 177
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 شوّال 1442
আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ-র ওপর মিশরীয় আপত্তিসমূহের জবাব বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন
বই: আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ-র ওপর মিশরীয় আপত্তিসমূহের জবাব
[শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসমূহ (১৬)]
লেখক: শাইখুল ইসলাম আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ (৬৬১ - ৭২৮ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ উযাইর শামস
নিরীক্ষক: সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-আরিফি - জুদাই বিন মুহাম্মদ আল-জুদাই
প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দারু ইবনু হাযম (বৈরুত)
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দারু ইবনু হাযম-এর জন্য প্রথম সংস্করণ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৭
শামেলা-র জন্য পেশ করেছেন: «আতাআতিল ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৬ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١)
آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لَحِقَها من أعمال (16)
جَوابُ الاعتراضاتِ المصريَّة على الفُتْيَا الحَمَويَّة (قطعةٌ منهُ تُطْبَعُ لأوَّلِ مَرَّةِ)
تأليف: شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية (661 - 728 هـ)
تحقيق: محمد عزير شمس
إشراف: بكر بن عبد الله أبو زيد
دار عطاءات العلم - دار ابن حزم
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলি ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট কাজসমূহ (১৬)
আল-ফুতওয়া আল-হামাউয়্যাহর ওপর মিসরীয় আপত্তিসমূহের জবাব (এর একটি অংশ যা প্রথমবার মুদ্রিত হচ্ছে)
রচনায়: শাইখুল ইসলাম আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুল সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৬৬১ - ৭২৮ হিজরি)
সম্পাদনায়: মুহাম্মদ উযাইর শামস
তত্ত্বাবধানে: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ
দারু আত্বায়াতিল ইলম - দারু ইবনে হাযম
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
راجَعَ هذا الجزء
سعود بن عبد العزيز العريفي
جديع بن محمد الجديع
এই অংশটি পর্যালোচনা করেছেন
সউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-আরিফী
জুদাই বিন মুহাম্মাদ আল-জুদাই
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيقالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد، فنقدِّم اليوم جزءًا من كتاب من أهم كتب شيخ الإسلام ابن تيمية، كان في عداد المفقود، فلم يعثر عليه الباحثون والمهتمون بآثار الشيخ من قبل. وقد منَّ الله علينا بالعثور على قطعةٍ منه مصوَّرةٍ عن إحدى مكتباتِ باكستان، ووجدَ أخونا المحقق أبو الفضل القونوي قطعة أخرى منه في إحدى مكتبات تركيا، ولا نعرف عن بقية الكتاب شيئًا في مكتبات العالم، على كثرة البحث والتنقيب عنها في الفهارس، وزيارة مكتبات بلدانٍ عديدة والاطلاع على محتوياتها.
وقد قمنا بتحقيق ما وصل إلينا منه، على المنهج الذي ارتضيناه وسرنا عليه في سائر ما أخرجناه من تراث شيخ الإسلام في هذا المشروع المبارك. ولكثرة الأخطاء والتحريفات الموجودة في القطعتين لم نُشِر إليها جميعًا في الهوامش، واستدركنا بعض السقط بمراجعة كتب الشيخ الأخرى أو بالتأمل في سياق الكلام.
وهذه بعض الفصول التي تتحدث عن أصل الكتاب ومناسبة تأليفه، وتحقيق عنوانه، وبيان محتوياته وأهميته، ووصف النسختين اللتين عثرنا عليهما، أرجو أن تكون نافعةً إن شاء الله.
*
الفتيا الحموية وأثرها:في أوائل سنة 698 ورد على الشيخ سؤال من أهل حماة، يسألونه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর, আজ আমরা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বইয়ের অংশবিশেষ উপস্থাপন করছি, যা ইতিপূর্বে হারানো বইগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইতিপূর্বে গবেষক এবং শাইখের রচনার প্রতি আগ্রহীরা এর সন্ধান পাননি। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, পাকিস্তানের একটি লাইব্রেরি থেকে এর একটি ছায়ালিপি আমরা খুঁজে পেয়েছি। আমাদের ভাই গবেষক আবু আল-ফজল আল-কুনাবি তুরস্কের একটি লাইব্রেরিতে এর আরেকটি অংশ খুঁজে পেয়েছেন। ক্যাটালগগুলোতে ব্যাপক অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন দেশের লাইব্রেরি পরিদর্শন ও তাদের বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ করা সত্ত্বেও পৃথিবীর অন্য কোনো লাইব্রেরিতে এই বইটির অবশিষ্ট অংশ সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
আমাদের কাছে যতটুকু পৌঁছেছে, আমরা এই বরকতময় প্রকল্পে শাইখুল ইসলামের অন্যান্য ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি পছন্দ করেছি এবং যার ওপর ভিত্তি করে কাজ করেছি, সেই অনুযায়ী এটি সম্পাদনা করেছি। উভয় অংশে প্রচুর ভুল এবং বিকৃতি থাকার কারণে আমরা পাদটীকায় সেগুলোর সব উল্লেখ করিনি। শাইখের অন্যান্য বই পর্যালোচনা করে অথবা আলোচনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে আমরা কিছু বাদ পড়া অংশ সংশোধন করেছি।
এখানে এমন কিছু পরিচ্ছেদ রয়েছে যা বইটির উৎস, এটি রচনার প্রেক্ষাপট, এর শিরোনাম যাচাই, এর বিষয়বস্তু ও গুরুত্বের বর্ণনা এবং আমরা যে দুটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি তার বিবরণ প্রদান করে। আমি আশা করি এটি ইনশাআল্লাহ উপকারী হবে।
*
আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ এবং এর প্রভাব:৬৯৮ হিজরির শুরুর দিকে হামাতবাসীদের পক্ষ থেকে শাইখের কাছে একটি প্রশ্ন আসে, তারা তাঁর কাছে জানতে চান...
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
فيه عن الآيات والأحاديث الواردة في الصفات، فكتب جوابًا ذكر فيه مذهب السلف ورجحه على مذهب المتكلمين، وكتب هذا الجواب في جلسةٍ بين الظهر والعصر، كما ذكر ذلك الشيخ نفسه في مقدمة بيان تلبيس الجهمية (1/ 4): "كنتُ سئلتُ من مدة طويلةٍ، بُعيدَ سنة تسعين وستمئة
(1) عن الآيات والأحاديث الواردة في صفات الله، في فتيا قدمتْ من حماة، فأحلتُ السائلَ على غيري، فذكر أنهم يريدون الجواب مني لابدَّ، فكتبتُ الجوابَ في قعدةٍ بين الظهر والعصر، وذكرتُ فيه مذهب السلف والأئمة المبني على الكتاب والسنة".
سُمِّيت هذه الفتيا بالحموية نسبةً إلى حماة، وانتشرت في البلاد، واشتهر أمرها، وأثارت ضجة في أوساط المتكلمين، وامتُحِن الشيخ بسببها محنةً عظيمة في دمشق، وكانت من أوائل المحن التي تعرَّض لها في حياته. وكان الشيخ قبل ذلك بقليل أنكر أمر المنجمين
(2)، واجتمع بسيف الدين جاغان في ذلك في حال نيابته بدمشق وقيامه مقام نائب السلطة، فامتثل أمره وقبِلَ قوله، والتمس منه كثرةَ الاجتماع به، فحصل بسبب ذلك ضيقٌ لجماعة، مع ما كان عندهم قبل ذلك من كراهية الشيخ وتألُّمهم لظهوره وذكرِه الحسن. فانضاف شيء إلى أشياء، ولم يجدوا مساغًا إلى الكلام فيه لزهده وعدمِ إقباله على الدنيا، وترك المزاحمة على المناصب، وكثرة علمه، وحُسْن أجوبته وفتاويه، وما يظهر فيها من
--------------------------------------------
এতে সিফাত (আল্লাহর গুণাবলী) সংক্রান্ত অবতীর্ণ আয়াত ও হাদিসসমূহ সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। তিনি একটি উত্তর লিখেছিলেন যাতে তিনি সালাফদের মাযহাব উল্লেখ করেছিলেন এবং ইলমুল কালামবিদদের মাযহাবের ওপর তাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। শাইখ এই উত্তরটি যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী এক বৈঠকে লিখেছিলেন, যেমনটি শাইখ নিজেই ‘বিয়ান তালবিস আল-জাহমিয়্যাহ’ (১/ ৪) এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন: "দীর্ঘদিন আগে, ৬৯০ হিজরির কিছুকাল পরে
(১) হামাহ থেকে আসা একটি ফতোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সিফাত সংক্রান্ত অবতীর্ণ আয়াত ও হাদিসসমূহ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। আমি প্রশ্নকারীকে অন্য কারো নিকট পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু সে উল্লেখ করল যে তারা অবশ্যই আমার পক্ষ থেকেই উত্তর চায়। ফলে আমি যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী এক বৈঠকে উত্তরটি লিখলাম এবং এতে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে সালাফ ও ইমামগণের মাযহাব উল্লেখ করলাম।"
হামাহ শহরের দিকে সম্বোধন করে এই ফতোয়াটি ‘হামাবিয়্যাহ’ নামে পরিচিতি পায় এবং এটি বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ে ও প্রসিদ্ধি লাভ করে। এটি ইলমুল কালামবিদদের মাঝে একটি আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং এর কারণে শাইখ দামেস্কে এক কঠিন পরীক্ষার (মিহনা) সম্মুখীন হন। এটি ছিল তাঁর জীবনের শুরুর দিকের পরীক্ষাগুলোর অন্যতম। এর কিছুকাল আগে শাইখ জ্যোতিষীদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন
(২) এবং দামেস্কে সাইফউদ্দীন জাগান যখন নায়েবে সুলতানের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তাঁর সাথে এই বিষয়ে সাক্ষাৎ করেন। তিনি শাইখের নির্দেশ পালন করেন, তাঁর কথা গ্রহণ করেন এবং তাঁর সাথে অধিক সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। এর ফলে একদল লোকের মনে সংকীর্ণতা সৃষ্টি হয়, যদিও আগে থেকেই শাইখের প্রতি তাদের বিদ্বেষ ছিল এবং শাইখের সুখ্যাতি ও প্রভাব বৃদ্ধিতে তারা ব্যথিত ছিল। ফলে পূর্বের অনেক বিষয়ের সাথে নতুন বিষয় যুক্ত হলো, কিন্তু শাইখের দুনিয়াবিমুখতা, দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি, পদের প্রতিযোগিতা ত্যাগ, ইলমের প্রাচুর্য এবং তাঁর উত্তর ও ফতোয়াসমূহের শ্রেষ্ঠত্ব ও তাতে যে বিষয়গুলো প্রকাশ পেত, সেগুলোর কারণে তারা তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার কোনো সুযোগ পাচ্ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
غزارة العلم وجودة الفهم.
فعمدوا إلى الكلام في العقيدة لكونهم يرجّحون مذهب المتكلمين في الصفات والقرآن على مذهب السلف، ويعتقدونه الصواب، فأخذوا الجواب الذي كتبه الشيخ، وعملوا عليه أوراقًا في ردّه، ثم سعوا السعي الشديد إلى القضاة والفقهاء واحدًا واحدًا، وأغروا خواطرهم، وحرَّفوا الكلام، وكذبوا الكذب الفاحش، وجعلوه يقول بالتجسيم - حاشاه من ذلك - وأنه قد أوعزَ ذلك المذهب إلى أصحابه، وأن العوامّ قد فسدت عقائدهم بذلك. ولم يقع من ذلك شيء والعياذ بالله. وسعوا في ذلك سعيًا شديدًا، فوافقهم جلال الدين الحنفي قاضي الحنفية يومئذٍ على ذلك، ومشى معهم إلى دار الحديث الأشرفية، وطلب حضورَه، وأرسل إليه فلم يحضر، بل أجابه الشيخ بقوله: إن العقائد ليس أمرُها إليك، وإن السلطان إنما ولّاك لتحكم بين الناس، وإن إنكار المنكرات ليس مما يختصُّ به القاضي.
فلما وصل إلى القاضي هذا الجواب غضب، وأمر بأن ينادى في البلد ببطلان عقيدته، لكن الأمير سيف الدين جاغان أرسل طائفةً إلى المنادي، فضُرِب ومن كان معه، وأمر الأمير بطلب من سعى في ذلك فاختفوا.
ولما هدأت الأمور جلس الشيخ يوم الجمعة ثالث عشر ربيع الأول، وكان تفسيره في درسه لقوله تعالى: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)} [القلم: 4]، وذكر الحلم وما ينبغي استعماله، وكان درسًا عظيمًا.
ثم اجتمع الشيخ بعد ذلك بالقاضي الشافعي إمام الدين القزويني، وواعده لقراءة جزئه الذي أجاب فيه، أي "الحموية"، فاجتمعوا يوم
জ্ঞানের প্রগাঢ়তা এবং অনুধাবনের উৎকর্ষতা।
অতঃপর তারা আকিদার বিষয়ে কথা বলার উদ্যোগ নেয়, যেহেতু তারা গুণাবলি ও কুরআনের ক্ষেত্রে সালাফদের মাযহাবের তুলনায় মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদদের) মাযহাবকে প্রাধান্য দিত এবং সেটিকে সঠিক বলে বিশ্বাস করত। তারা শাইখের লেখা জবাবটি সংগ্রহ করল এবং এর খণ্ডনে কিছু লিখনী তৈরি করল। এরপর তারা বিচারক ও ফকিহদের দ্বারে দ্বারে অত্যন্ত তৎপরতা চালাল, তাদের মনকে প্ররোচিত করল, কথার বিকৃতি ঘটাল এবং জঘন্য মিথ্যাচার করল। তারা প্রচার করল যে শাইখ সাকারত্বে (তাজসিম) বিশ্বাস করেন—আল্লাহ তাকে তা থেকে পবিত্র রাখুন—এবং তিনি তাঁর অনুসারীদের এই মাযহাবের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের আকিদা কলুষিত হয়েছে। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, প্রকৃতপক্ষে এমন কিছুই ঘটেনি। তারা এ বিষয়ে কঠোর প্রচেষ্টা চালাল, ফলে তৎকালীন হানাফি বিচারক জালালুদ্দিন আল-হানাফি তাদের সাথে একমত হলেন এবং তাদের সাথে দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়াতে গেলেন। তিনি শাইখকে তলব করলেন এবং লোক পাঠালেন, কিন্তু শাইখ উপস্থিত হলেন না। বরং শাইখ এই বলে উত্তর দিলেন: "আকিদার বিষয়গুলো আপনার এখতিয়ারভুক্ত নয়। সুলতান আপনাকে কেবল মানুষের মধ্যে বিচার করার জন্য নিযুক্ত করেছেন। আর অন্যায় প্রতিরোধ করা কেবল বিচারকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নয়।"
যখন এই উত্তর বিচারকের কাছে পৌঁছাল, তিনি রাগান্বিত হলেন এবং শহরে ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন যে শাইখের আকিদা বাতিল। কিন্তু আমির সাইফুদ্দিন জাগান ঘোষণাকারীর কাছে একদল সৈন্য পাঠালেন; ফলে ঘোষণাকারী ও তাঁর সঙ্গীদের প্রহার করা হলো। আমির তাদের তলব করার আদেশ দিলেন যারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, ফলে তারা আত্মগোপন করল।
যখন পরিস্থিতি শান্ত হলো, শাইখ রবিউল আউয়াল মাসের তেরো তারিখ জুমার দিনে বসলেন। তাঁর পাঠদানে তিনি মহান আল্লাহর বাণীর তাফসির করছিলেন: "আর অবশ্যই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী" [আল-কালাম: ৪]। তিনি ধৈর্য ও সহনশীলতা এবং এর প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করলেন; এটি ছিল এক অসাধারণ পাঠ।
এরপর শাইখ শাফেয়ি বিচারক ইমামুদ্দিন আল-কাযউইনির সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁর সেই পুস্তিকাটি পড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন যাতে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, অর্থাৎ "আল-হামাউইইয়াহ"। অতঃপর তারা সেই দিনে একত্রিত হলেন
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
السبت رابع عشر الشهر - من الصباح إلى الثلث من الليل - ميعادًا طويلًا مستمرًّا، وقُرئت فيه جميع العقيدة، وبيَّن مرادَه من مواضع أشكلت. ولم يحصل إنكار عليه من الحاكم ولا ممن حضر المجلس، بحيث انفصلَ عنهم والقاضي يقول: كلُّ من تكلَّم في الشيخ يُعزَّر. ورجع الشيخ إلى داره في ملأ كثير من الناس، وعندهم استبشار وفرح به. وهو في كل ذلك ثابت الجأش قوي القلب، واثق بالنصر الإلهي، لا يلتفت إلى نصر مخلوق، ولا يُعوِّل عليه.
وكان سعيهم في حقه أتمَّ السعي، لم يبقوا ممكنًا من الاجتماع بمن يرتجون منه أدنى نصر لهم، وتكلموا في حقه بأنواع الأذى وبأمور يستحي الإنسان من الله أن يحكيها فضلًا عن أن يختلقها ويُلفِّقها. فلا حول ولا قوة إلّا بالله
(1).
ولما لم ينجح المخالفون للشيخ في هذه المعركة، بل زادت منزلته لدى الخاصة والعامة، لجأوا إلى التأليف في الردَّ عليه وعلى فتياه "الحموية"، فألَّف شهاب الدين أحمد بن يحيى المعروف بابن جَهْبَل الحلبي الشافعي (ت 733) رسالةً
(2) في ذلك قصد بها الرد على "الحموية"، وقد كانت رسالته هذه عمدة من جاء بعده، مثل محمد سعيد المدراسي الهندي الشافعي (ت 1314) في كتابه "التنبيه بالتنزيه" الذي أدرج فيه رسالة ابن جَهْبل الحلبي بتمامها. وقد ردَّ عليها الشيخ أحمد بن إبراهيم بن عيسى النجدي (ت 1327) في كتابه "تنبيه النبيه
--------------------------------------------
মাসের চৌদ্দ তারিখ শনিবার—সকাল থেকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত—একটি দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন সময় নির্ধারিত ছিল, এবং তাতে পূর্ণ আকিদাহ পাঠ করা হয়। তিনি অস্পষ্ট স্থানগুলোর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। শাসক বা মজলিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর কোনো আপত্তি আসেনি, এমনকি তিনি যখন তাঁদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন তখন কাজী বলছিলেন: "যে ব্যক্তিই শাইখের সমালোচনা করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।" শাইখ বিপুল জনসমাগম নিয়ে তাঁর ঘরে ফিরলেন, আর তাঁদের মাঝে তাঁকে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দ ও উল্লাস ছিল। তিনি এই সবকিছুর মধ্যে ছিলেন অটল ও দৃঢ়চিত্ত, আল্লাহর সাহায্যের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল; তিনি কোনো সৃষ্টির সাহায্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি এবং তার ওপর নির্ভরও করেননি।
তাঁর ব্যাপারে তাদের প্রচেষ্টা ছিল চূড়ান্ত; তারা এমন কোনো ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতের সুযোগ বাকি রাখেনি যার থেকে সামান্যতম সাহায্যের আশা করা যায়। তারা তাঁর সম্পর্কে নানা ধরণের মানহানিকর কথা বলেছে এবং এমন সব বিষয় নিয়ে চর্চা করেছে যা বর্ণনা করতেও একজন মানুষ আল্লাহর কাছে লজ্জা বোধ করে, সেগুলো বানিয়ে বলা বা রটনা করা তো দূরের কথা। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই
(১)।
যখন শাইখের বিরোধীরা এই লড়াইয়ে সফল হলো না, বরং বিশেষ ও সাধারণ মানুষের নিকট তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পেল, তখন তারা তাঁর এবং তাঁর "হামাউইয়্যাহ" ফতোয়ার খণ্ডনে গ্রন্থ রচনার আশ্রয় নিল। অতঃপর শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া, যিনি ইবনে জাহবাল আল-হালাবি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি) নামে পরিচিত, এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা
(২) রচনা করেন যার উদ্দেশ্য ছিল "হামাউইয়্যাহ"-র জবাব দেওয়া। তাঁর এই পুস্তিকাটি পরবর্তী লেখকদের জন্য মূল অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়, যেমন মুহাম্মাদ সাঈদ আল-মাদরাসি আল-হিন্দি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ১৩১৪ হিজরি) তাঁর "আত-তানবিহ বিত-তানজিহ" গ্রন্থে করেছেন, যেখানে তিনি ইবনে জাহবালের পুরো পুস্তিকাটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর শাইখ আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ঈসা আন-নাজদি (মৃত্যু ১৩২৭ হিজরি) তাঁর "তানবিহুন নাবিহ" গ্রন্থে এর জবাব দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
والغبي في الردّ على المدراسي والحلبي".
وممن ألف في الردِّ على "الحموية": القاضي شمس الدين أحمد بن إبراهيم بن عبد الغني السَّرُوجي المصري الحنفي (ت 710)، وهو الذي أشار إليه الشيخ في بيان تلبيس الجهمية (1/ 6 - 7) ووصفه بأفضل القضاة المعارضين. ولم يصل إلينا كتابه. وقد ردَّ عليه شيخ الإسلام بالكتاب الذي بين أيدينا قطعة منه، وسماه "جواب الاعتراضات المصرية على الفتيا الحموية"، وقد كان كتابًا كبيرًا في أربعة مجلدات.
*
عنوان هذا الكتاب وموضوعه:ذكره ابن رشيق
(1) وابن عبد الهادي
(2) بعنوان "جواب الاعتراضات المصرية على الفتيا الحموية"، وبحذف كلمة "جواب" عند الصفدي
(3) وابن شاكر الكتبي
(4). وذكره ابن رجب
(5) بالعنوان المعروف ولكنه قال "
… الفتاوى الحموية"، وتابعه العليمي
(6). وحذفُ كلمة "جواب" من العنوان الكامل يوهم أنه مجرد سرد للاعتراضات على الفتيا دون الجواب المفصل عنها، كما أن "الفتاوى" بصيغة الجمع خلاف الواقع، فإن "الحموية" فتوى مفردة وليست فتاوى متعددة. ولذا فالعنوان الكامل
--------------------------------------------
এবং মাদ্রাসী ও হালাবীর খণ্ডনে নির্বোধের অবস্থা।"
যারা "হামাবিয়্যাহ"-এর খণ্ডনে বই লিখেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: কাজী শামসুদ্দিন আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবদুল গনি আস-সারুজি আল-মিসরি আল-হানাফি (মৃত্যু: ৭১০ হিজরি)। শাইখুল ইসলাম "বিয়ানু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ" (১/ ৬ - ৭) গ্রন্থে তার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং তাকে বিরোধিতাকারী বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তার বইটি আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। শাইখুল ইসলাম তার সেই বইটির প্রতিবাদে একটি কিতাব লিখেছেন যার একটি অংশ বর্তমানে আমাদের হাতে আছে, এবং তিনি এর নাম দিয়েছেন "জওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফাতওয়াহ আল-হামাবিয়্যাহ", এটি চার খণ্ডের একটি বিশাল কিতাব ছিল।
*
এই বইটির শিরোনাম ও বিষয়বস্তু:ইবনে রশীক
(১) এবং ইবনে আব্দুল হাদি
(২) বইটিকে "জওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফাতওয়াহ আল-হামাবিয়্যাহ" শিরোনামে উল্লেখ করেছেন। তবে আস-সাফাদি
(৩) এবং ইবনে শাকির আল-কুতুবি
(৪)-এর বর্ণনায় "জওয়াব" শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ইবনে রাজাব
(৫) এটি প্রসিদ্ধ শিরোনামেই উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি বলেছেন " ... ফাতাওয়া আল-হামাবিয়্যাহ", এবং আল-উলাইমি
(৬) তাকে অনুসরণ করেছেন। পূর্ণ শিরোনাম থেকে "জওয়াব" শব্দটি বাদ দেওয়া হলে এমন ধারণা হতে পারে যে, এটি কেবল ফতোয়ার ওপর আপত্তিসমূহের একটি তালিকা মাত্র, তার বিস্তারিত উত্তর নয়। তেমনিভাবে "ফাতাওয়া" শব্দটি বহুবচনে ব্যবহার করাও বাস্তবের পরিপন্থী, কারণ "হামাবিয়্যাহ" একটি একক ফতোয়া, একাধিক ফতোয়া নয়। অতএব পূর্ণ শিরোনামটি হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
للكتاب هو الذي ذكره ابن رشيق وابن عبد الهادي.
وقد ذكر شيخ الإسلام مناسبة تأليفه وعنوانه وبعض الموضوعات التي تناولها فيه في عدد من مؤلفاته، فقال في "بيان تلبيس الجهمية" (1/ 6 - 7): "اعترض قولم عليَّ في
(1) هذه الفتيا [الحموية] بشبهاتٍ مقرونة بشهوات، وأوصل إليَّ بعض الناس مصنَّفًا لأفضل القضاة المعارضين، وفيه أنواع من الأسئلة والمعارضات، فكتبتُ جواب ذلك وبسطتُه في مجلدات". وسماه (1/ 8) "الجواب عن الاعتراضات المصرية الواردة على الفتيا الحموية"، واعتبر "بيان تلبيس الجهمية" تتمة له في هذا الباب.
ويفيدنا هذا النصّ أن الكتاب جواب لتأليف أحد القضاة الذي يصفه المؤلف بأفضل القضاة المعارضين، وتدلُّنا مخطوطة القطعة الثانية أن المقصود به القاضي السَّروجي، وهو شمس الدين أبو العباس أحمد بن إبراهيم بن عبد الغني السَّرُوجي الحنفي، قاضي القضاة بمصر، المتوفى سنة 710، ويؤكِّد ذلك ابن كثير فيقول
(2): "له اعتراضات على الشيخ تقي الدين بن تيمية في علم الكلام أضحك فيها على نفسه، وقد ردَّ الشيخ تقي الدين عليه في مجلدات، وأبطل حججه". وأشار إليه المقريزي وابن حجر والتميمي وابن تغري بردي في ترجمة السَّروجي
(3). فكتاب السَّرُوجي هذا كان في الرد والمناقشة وإيراد
--------------------------------------------
বইটির ব্যাপারে সেটিই যা ইবনে রাশিক এবং ইবনে আব্দুল হাদি উল্লেখ করেছেন।
শাইখুল ইসলাম তাঁর বেশ কয়েকটি রচনায় এটি রচনার প্রেক্ষাপট, শিরোনাম এবং এতে আলোচিত কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনি "বায়ান তালবিসুল জাহমিয়্যাহ" (১/ ৬-৭) গ্রন্থে বলেছেন: "এই ফতোয়ার [হামাবিয়্যাহ] ব্যাপারে একদল লোক প্রবৃত্তি-মিশ্রিত সংশয়ের মাধ্যমে আমার ওপর আপত্তি তুলেছে। জনৈক ব্যক্তি বিরোধিতাকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এক বিচারকের লেখা একটি গ্রন্থ আমার কাছে পৌঁছে দেন, যাতে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন ও আপত্তি ছিল। আমি এর উত্তর লিখেছি এবং তা কয়েক খণ্ডে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।" তিনি (১/ ৮) একে "আল-জওয়াবু আনিল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আল-ওয়ারিদাহ আলাল ফাতওয়াহ আল-হামাবিয়্যাহ" নামে অভিহিত করেছেন এবং "বায়ান তালবিসুল জাহমিয়্যাহ" গ্রন্থটিকে এই বিষয়ে তাঁর পরিশিষ্ট হিসেবে গণ্য করেছেন।
এই পাঠ্যটি আমাদের জানান দেয় যে, বইটি জনৈক বিচারকের রচনার উত্তর, যাকে লেখক বিরোধিতাকারী বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে বর্ণনা করেছেন। পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় অংশের মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন বিচারক সারুজি। তিনি হলেন শামসুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল গনি আস-সারুজি আল-হানাফি, মিশরের প্রধান বিচারপতি, যিনি ৭১০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে কাসির এটি নিশ্চিত করে বলেছেন: "ইলমুল কালামের বিষয়ে শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর ওপর তাঁর কিছু আপত্তি ছিল, যার মাধ্যমে তিনি নিজেকেই হাস্যাস্পদ করেছেন। শাইখ তাকিউদ্দীন কয়েক খণ্ডে তাঁর প্রতিবাদ করেছেন এবং তাঁর যুক্তিগুলোকে বাতিল করে দিয়েছেন।" মাকরিজি, ইবনে হাজার, তামিমি এবং ইবনে তাগরি বারদি সারুজির জীবনীতে এই প্রসঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সারুজির এই বইটি ছিল মূলত প্রতিবাদ, আলোচনা এবং আপত্তি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
الأسئلة والاعتراضات على الفتيا الحموية، فردَّ عليه شيخ الإسلام في مجلدات. ووصفه ابن رشيق وابن عبد الهادي وغيرهما بأنه في أربع مجلدات، وزاد في العقود الدرية (ص 29): "وبعض النسخ منه في أقلّ، وهو كتاب غزير الفوائد سهل التناول".
ونظرًا إلى كثرة فوائده وغزارة مادته أحال عليه المؤلف في كتبه الأخرى للبسط والتفصيل، وهذه بعض النصوص التي اطلعت عليها:
قال في كتاب "الاستقامة" (1/ 139) بعد ما ذكر مسألة قرب الربّ من عباده ومسألة علوّه: "هذه المسألة والتي قبلها كبيرتان، ذكرناهما في غير هذا الموضع، مثل "جواب الاعتراضات المصرية" وغير ذلك.
وذكر في "التسعينية" مسألة القرآن وما وقع فيها بين السلف والخلف من الاضطراب والنزاع، وما كتب المؤلف حولها في عددٍ من مؤلفاته، وقال (1/ 230): "وقد كتبتُ جملًا من الكلام في ذلك في جواب الاعتراضات المصرية على الفتيا الحموية".
وبعد ما ذكر نصوص الكتاب والسنة في موضوع علو الربّ وقربه من داعيه قال في "مجموع الفتاوى" (5/ 240): "وقد بسطنا الكلام على هذه الأحاديث ومقالات الناس في هذا المعنى في جواب الأسئلة المصرية على الفتيا الحموية".
وقد أحال عليه كثيرًا في بيان تلبيس الجهمية
(1)، فبالإضافة إلى مقدمته وبيان مناسبة تأليفه التي سبق نقل عبارته فيها، يذكر أن جميع السلف من القرون الثلاثة والأئمة المتبوعين وغيرهم "كلهم يقولون
--------------------------------------------
'আল-হামাউইয়্যাহ' ফতোয়ার ওপর প্রশ্নাবলি ও আপত্তিগুলো, যার উত্তর শায়খুল ইসলাম কয়েক খণ্ডে প্রদান করেছেন। ইবনে রশীক, ইবনে আব্দুল হাদি এবং অন্যান্যরা এটিকে চার খণ্ডে বর্ণনা করেছেন। 'আল-উকুদ আদ-দুররিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা: ২৯) গ্রন্থে আরও বলা হয়েছে: "এর কিছু পাণ্ডুলিপি আরও কম (খণ্ডে) রয়েছে, এবং এটি বিপুল উপকারী ও সহজবোধ্য একটি কিতাব।"
এর উপযোগিতা ও উপাদানের প্রাচুর্যের কারণে লেখক বিস্তারিত আলোচনার জন্য তাঁর অন্যান্য কিতাবে এর রেফারেন্স দিয়েছেন। আমি যে সকল উদ্ধৃতি দেখেছি তার কিছু নিচে দেওয়া হলো:
তিনি তাঁর 'আল-ইস্তিকামাহ' (১/১৩৯) কিতাবে তাঁর বান্দাদের প্রতি রবের নৈকট্য এবং তাঁর সমুন্নত হওয়ার মাসআলা উল্লেখ করার পর বলেন: "এই মাসআলা এবং এর আগেরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা আমরা অন্য স্থানে আলোচনা করেছি, যেমন 'জওয়াবুল ইতিরাদাত আল-মিসরিয়্যাহ' এবং অন্যান্য স্থানে।"
তিনি 'আত-তিসয়িনিইয়্যাহ' কিতাবে কুরআনের মাসআলা এবং এটি নিয়ে সালাফ ও খালাফদের মধ্যে যে অস্থিরতা ও বিরোধ দেখা দিয়েছিল তা উল্লেখ করেছেন এবং লেখক তাঁর বিভিন্ন কিতাবে এই প্রসঙ্গে যা লিখেছেন তা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন (১/২৩০): "আমি 'আল-হামাউইয়্যাহ ফতোয়ার ওপর মিসরীয় আপত্তিগুলোর উত্তরে' এ সম্পর্কে অনেক কথা লিখেছি।"
রবের সমুন্নত হওয়া এবং তাঁর আহ্বানকারীর নিকটে থাকা বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ উল্লেখ করার পর তিনি 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (৫/২৪০) গ্রন্থে বলেন: "আমরা এই হাদিসগুলো এবং এই মর্মে মানুষের বক্তব্যের ওপর 'আল-হামাউইয়্যাহ ফতোয়ার ওপর মিসরীয় প্রশ্নাবলির উত্তরে' বিস্তারিত আলোচনা করেছি।"
তিনি 'বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ'
(১) কিতাবে এর অনেক রেফারেন্স দিয়েছেন। এর ভূমিকা এবং এটি রচনার প্রেক্ষাপট (যার বর্ণনা পূর্বে দেওয়া হয়েছে) উল্লেখ করার পাশাপাশি তিনি বর্ণনা করেন যে, প্রথম তিন প্রজন্মের সকল সালাফ, অনুসৃত ইমামগণ এবং অন্যান্যরা "তাঁরা সবাই বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
بإثبات العلو لله على العرش واستوائه عليه دون ما سواه، ويضللون من يفسِّر ذلك بالاستيلاء والقهر ونحوه، كما حكينا بعض أقوالهم في جواب الاستفتاء، وفي جواب هذه المسائل المُورَدة عليه" (1/ 234).
أراد بجواب الاستفتاء "الفتوى الحموية"، وبجواب المسائل الموردَة عليه: "جواب الاعتراضات المصرية .. " الذي نحن بصدده.
وقال في (5/ 457): "ونحن لا نقصد الكلام في إثبات التأويل في الجملة ولا نفيه، ولا وجوب موافقة الظاهر مطلقًا ولا مخالفته، إذ في هذا تفصيل وكلام على الألفاظ المشتركة، كما قد تكلمنا على ذلك في جواب الاعتراضات المصرية على الفتوى الحموية وفي غير ذلك".
وأشار إلى هذا الكتاب في بعض المواضع بقوله: "الأجوبة المصرية"، قال (6/ 111): "وهذا الكلام الذي نقله عن أبي حامد، ذكره لما تكلَّم عن مراتب التأويلات واختلاف الناس فيها، وقد تكلمنا على ما ذكره في ذلك في الأجوبة المصرية وغيرها".
وقال (6/ 119): "وقد تكلمنا على هذا الكلام وما فيه من مردود ومقبول، وما فيه من عزل الرسول صلى الله عليه وسلم عزلًا معنويًّا، وإحالة الخلائق على الخيالات والمجهولات، وفتح باب النفاق، وبيَّنَّاه في الأجوبة المصرية".
وفي أثناء الكلام في مسألة قرب الربّ من عبده قال (6/ 265): "وقد بسطنا الكلام على هذا في الأجوبة المصرية".
وقال (6/ 480): "وهذا الكلام قد نبهنا عليه غير مرة في هذا وفي الأجوبة المصرية وفي جواب المسألة الصرخدية وغير ذلك، في بيان
"আরশের উপর আল্লাহর উচ্চতা এবং তাঁর আরশের উপর উঠাকে সাব্যস্ত করার মাধ্যমে, যা অন্য কিছুর জন্য নয়। যারা এর ব্যাখ্যা বিজয় লাভ বা আধিপত্য ইত্যাদি দ্বারা করে, তারা তাদেরকে বিভ্রান্ত মনে করেন, যেমনটি আমরা ফতোয়া যাঞ্চার উত্তর এবং তার নিকট উত্থাপিত এই মাসআলাগুলোর উত্তরে তাদের কিছু উক্তি বর্ণনা করেছি" (১/ ২৩৪)।
তিনি ফতোয়া যাঞ্চার উত্তর দ্বারা "আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ" এবং তার নিকট উত্থাপিত মাসআলাগুলোর উত্তর দ্বারা "জাওয়াবুল ইতিরাদাত আল-মিসরিয়্যাহ..." বুঝিয়েছেন, যা নিয়ে আমরা বর্তমানে আলোচনা করছি।
তিনি (৫/ ৪৫৭) পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আমাদের উদ্দেশ্য সাধারণভাবে তাবিল (ব্যাখ্যা) সাব্যস্ত করা বা তা অস্বীকার করা নয়, কিংবা ঢালাওভাবে শাব্দিক অর্থের অনুগামী হওয়া বা তার বিরোধিতা করাও নয়। কেননা এতে বিস্তারিত আলোচনা এবং দ্ব্যর্থবোধক শব্দাবলি নিয়ে কথা রয়েছে, যেমনটি আমরা ফাতওয়া হামাউইয়্যাহর উপর মিশরীয় আপত্তিগুলোর উত্তর এবং অন্যান্য স্থানে আলোচনা করেছি।"
তিনি কোনো কোনো স্থানে এই কিতাবটিকে "আল-আজউইবা আল-মিসরিয়্যাহ" বলে সংকেত দিয়েছেন। তিনি (৬/ ১১১) বলেন: "আর আবু হামিদ থেকে তিনি যে কথাটি উদ্ধৃত করেছেন, তা তিনি তাবিলের স্তরসমূহ এবং এ বিষয়ে মানুষের মতপার্থক্য সম্পর্কে আলোচনার সময় উল্লেখ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে যা উল্লেখ করেছেন, তা নিয়ে আমরা মিশরীয় উত্তরসমূহ ও অন্যান্য স্থানে আলোচনা করেছি।"
তিনি (৬/ ১১৯) বলেন: "আমরা এই বক্তব্যের উপর এবং এতে যা কিছু বর্জনীয় ও গ্রহণীয় আছে তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আর এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অর্থগতভাবে দায়িত্বচ্যুত করা, সৃষ্টিজগতকে কল্পনাপ্রসূত ও অজ্ঞাত বিষয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং মুনাফিকির দরজা উন্মুক্ত করার যে বিষয়গুলো রয়েছে, তা আমরা মিশরীয় উত্তরসমূহে বর্ণনা করেছি।"
বান্দার প্রতি রবের নৈকট্যের মাসআলা আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি (৬/ ২৬৫) বলেন: "আমরা এ বিষয়ে মিশরীয় উত্তরসমূহে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।"
তিনি (৬/ ৪৮০) বলেন: "এই কথাটি সম্পর্কে আমরা বারবার এতে, মিশরীয় উত্তরসমূহে, সারখাদিয়া মাসআলার উত্তরে এবং অন্যান্য স্থানে সজাগ করেছি, যার বর্ণনায়
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
شبهة التركيب والتجسيم، وشبهة التشبيه، والاتفاق والاشتراك بين الموجودين يكون في مراتب الوجود الأربعة
… ".
وقال (6/ 487): "وقد بسطنا الكلام على هذا في الأجوبة المصرية، وبينا أن الله ليس كمثله شيء بوجه من الوجوه، فيجب أن ينفى عنه المثل مطلقًا ومقيدًا، وكذلك الندّ والكفو والشريك ونحو ذلك من الأسماء التي جاء القرآن بنفيها
… ".
والموضع الأخير الذي أشار إليه عندما تحدث عن التركيب والتجسيم والمعنى الصحيح لهما، فقال (7/ 571): "ولولا أنا قدَّمنا أصل هذا الكلام في الحجج العقلية لبسطناه هنا، وقد بسطناه أيضًا في جواب المعارضات المصرية".
رأينا في النصوص السابقة أن المؤلف تناول في الكتاب موضوعات عديدة تتعلق بصفات الله سبحانه وتعالى، وفصَّل فيها كلَّ تفصيل، حتى بلغ الكتاب أربع مجلدات. وهو من الكتب المهمة لشيخ الإسلام، ولذا أكثر من الإحالة عليه كلّما جاءت مناسبة. وذكره بعنوانِه أو وصفَه بما يقاربه ويدلُّ على موضوعه، فتارةً سماه بالعنوان المعروف، وتارةً قال: "جواب الأسئلة المصرية" أو "جواب المعارضات المصرية" أو "الأجوبة المصرية"، وأشار به إلى الكتاب الذي بين أيدينا جزء منه. وهذا منهجه المعروف في تسمية كتبه والإشارة إليها، فلا غرابة في ذلك.
*
محتوياته وأهميته:ذكرنا فيما سبق أن الكتاب كان في أربعة مجلدات، ويُعدّ من المؤلفات الكبار للشيخ، وقد أحال عليه في كتبه الأخرى، ويعتبر "بيان تلبيس الجهمية" تتمة لمباحثه. وكتابٌ هذا شأنه لابدّ أن يكون من أهمّ
সংমিশ্রণ ও দেহধারী সাব্যস্ত করার সংশয়, এবং সৃষ্টির সাদৃশ্য প্রদানের সংশয়, এবং বিদ্যমান বস্তুসমূহের মধ্যে সাদৃশ্য ও অংশীদারিত্ব অস্তিত্বের চারটি স্তরে হয়ে থাকে
…।
এবং তিনি (৬/৪৮৭) বলেছেন: "আমরা 'আল-আজউয়িবাতুল মিসরীয়্যাহ' গ্রন্থে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং বর্ণনা করেছি যে, আল্লাহ কোনো দিক থেকেই তাঁর সদৃশ কেউ নেই। সুতরাং তাঁর থেকে নিঃশর্ত ও শর্তযুক্ত সকল প্রকার উপমা বা সাদৃশ্য অস্বীকার করা ওয়াজিব; অনুরূপভাবে সমকক্ষ, সমমর্যাদা সম্পন্ন, অংশীদার এবং এই জাতীয় সকল নাম যা কুরআন অস্বীকার করেছে
…।"
আর সর্বশেষ স্থানটি হলো যেখানে তিনি সংমিশ্রণ ও দেহধারী সাব্যস্তকরণ এবং এ দুটির সঠিক অর্থ সম্পর্কে আলোচনা করার সময় ইঙ্গিত করেছেন। তিনি (৭/৫৭১) বলেন: "যদি আমরা যুক্তিগত প্রমাণাদির ক্ষেত্রে এই আলোচনার মূল ভিত্তি আগে উপস্থাপন না করতাম, তবে আমরা এখানে তা বিস্তারিত আলোচনা করতাম; আর আমরা এটি 'জাওয়াবুল মুয়ারাদাতিল মিসরীয়্যাহ' গ্রন্থেও বিস্তারিত আলোচনা করেছি।"
পূর্বোক্ত পাঠ্যগুলোতে আমরা দেখেছি যে, লেখক এই গ্রন্থে মহান আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত অসংখ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোর প্রতিটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, এমনকি গ্রন্থটি চার খণ্ডে পৌঁছেছে। এটি শাইখুল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর অন্যতম, তাই যখনই সুযোগ এসেছে তিনি এর দিকে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তিনি এটি তাঁর নির্ধারিত শিরোনামে বা এর বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। কখনো তিনি একে পরিচিত শিরোনামে নামকরণ করেছেন, আবার কখনো বলেছেন: "জাওয়াবুল আসইলাতিল মিসরীয়্যাহ" বা "জাওয়াবুল মুয়ারাদাতিল মিসরীয়্যাহ" অথবা "আল-আজউয়িবাতুল মিসরীয়্যাহ"। এর মাধ্যমে তিনি সেই গ্রন্থটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন যার একটি অংশ আমাদের হাতে রয়েছে। তাঁর গ্রন্থসমূহের নামকরণ এবং সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করার ক্ষেত্রে এটিই তাঁর পরিচিত পদ্ধতি, তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
*
এর বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব:আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে গ্রন্থটি চার খণ্ডে ছিল এবং এটি শাইখের বৃহৎ রচনাগুলোর মধ্যে গণ্য। তিনি তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং "বায়ান তালবিসুল জাহমিয়্যাহ" গ্রন্থটি এর আলোচনার পরিশিষ্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। যে গ্রন্থের মর্যাদা এমন, তা অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এর মধ্যে হবে।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
مؤلفاته في باب العقيدة، وبيان مذهب السلف في الصفات، والدفاع عنه. ويُستنبط من الإحالات العديدة عليه تنوعُ مباحثه وتوسُّع الشيخ في تناولها.
ولا يمكن لنا الآن وصفه وبيان جميع محتوياته، لأن أغلب الكتاب لا زال في عداد المفقود، وإنما نستعرض هنا محتويات القطعتين اللتين حصلنا عليهما، ونبين أهمية المباحث التي توجد فيهما.
أما القطعة الأولى فتبدأ بذكر جواب المعترض عن الأحاديث التى يُحتج بها في إثبات الصفات، من أربعة وجوه:
أحدها: أنها أخبار آحادٍ، لا تُفيد العلمَ بل تُفيد الظن.
الثاني: أنها ليست نصوصًا في ذلك، بل هي ظاهرة قابلةٌ للتأويل.
الثالث: أن السلف تأوَّلوا كثيرًا منها، ومنهم ابن عباس الذي روي عنه تأويل عدد من الآيات.
الرابع: أن الأدلة العقلية عارضتْها، فيجب تأويلها.
قام المؤلف بعد ذلك بالردَّ على كل وجه بتفصيل. أما قوله: "أخبار آحاد لا تُفيد العلمَ" فكان جوابه من ثلاثة طرق:
1) بيان موافقة الأحاديث والآثار للقرآن وتفسيرها له.
2) بيان وجوب قبولها.
3) بيان صحة الاعتقاد الراجح بها.
وقد توسع في الجواب عن الشبهة السابقة وبيَّن اتفاق القرآن مع الحديث، وضرورة الاستدلال على معاني القرآن بما رواه الثقات
আকিদাহ অধ্যায়ে তাঁর রচনাবলি, সিফাত বা গুণাবলি বিষয়ে সালাফদের মাযহাবের বর্ণনা এবং তার সপক্ষে প্রতিরক্ষা। এর প্রতি অসংখ্য উদ্ধৃতি থেকে এর আলোচনার বৈচিত্র্য এবং শায়খ কর্তৃক সেগুলো বিস্তারিতভাবে গ্রহণের বিষয়টি অনুমিত হয়।
বর্তমানে আমাদের পক্ষে এর বর্ণনা দেওয়া এবং এর সকল বিষয়বস্তু স্পষ্ট করা সম্ভব নয়, কারণ বইটির অধিকাংশ অংশ এখনও নিখোঁজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তবে আমরা এখানে আমাদের হস্তগত হওয়া দুটি খণ্ডের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করব এবং সেগুলোতে বিদ্যমান আলোচনার গুরুত্ব বর্ণনা করব।
প্রথম খণ্ডটি শুরু হয়েছে সিফাত বা গুণাবলি প্রমাণের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে পেশকৃত হাদিসসমূহের ব্যাপারে আপত্তিকারীদের জবাবের বর্ণনার মাধ্যমে, যা চারটি দিক থেকে দেওয়া হয়েছে:
প্রথমত: এগুলো হলো আখবারে আহাদ (একক বর্ণনা), যা অকাট্য জ্ঞান প্রদান করে না বরং কেবল ধারণা প্রদান করে।
দ্বিতীয়ত: এগুলো এই বিষয়ে অকাট্য পাঠ নয়, বরং এগুলো বাহ্যিক অর্থ বহন করে যা রূপক ব্যাখ্যার যোগ্য।
তৃতীয়ত: সালাফগণ এগুলোর অনেকটির রূপক ব্যাখ্যা করেছেন, আর তাদের মধ্যে ইবনে আব্বাসও রয়েছেন, যাঁর থেকে বেশ কিছু আয়াতের রূপক ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থত: বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলসমূহ এগুলোর বিরোধী, তাই এগুলোর রূপক ব্যাখ্যা করা আবশ্যক।
এরপর লেখক প্রতিটি দিকের বিস্তারিত উত্তর দিয়েছেন। আর তাদের এই কথা: "আখবারে আহাদ অকাট্য জ্ঞান প্রদান করে না" - এর উত্তর ছিল তিনটি উপায়ে:
১) কোরআনের সাথে হাদিস ও আসারসমূহের সামঞ্জস্য এবং সেগুলোর মাধ্যমে কোরআনের তাফসিরের বর্ণনা।
২) সেগুলো গ্রহণ করার আবশ্যকতা বর্ণনা।
৩) সেগুলোর মাধ্যমে সঠিক ও অগ্রগণ্য আকিদাহর বিশুদ্ধতা বর্ণনা।
তিনি পূর্বোক্ত সংশয়ের জবাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং কোরআনের সাথে হাদিসের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন, এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে কোরআনের অর্থের ওপর দলিল পেশ করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الأثبات بدلًا من الأخذ عن أهل البدع أو بعض أهل العربية الذين يتكلمون بنوع من الظن والهوى، وقارنَ بين الاستشهاد على معاني القرآن بألفاظ الرسول صلى الله عليه وسلم وألفاظ الصحابة والتابعين وبين الاستشهاد بشعرٍ لم يُروَ بإسناد ولم يُعرف قائله. وتوصَّل إلى بيان استقامة هذه الطريق (طريق الاحتجاج بالآثار) وأنه لا طريق يقوم مقامها. وأطال في بيان ذلك من وجوه متعددة، وبيانِ فساد الطرق الأخرى في فهم معاني القرآن وتفسيره. وذكر أن من عَدَل عن التفسير المأثور فأحد الأمرين لازمٌ له: إما أن يَعدِل إلى تفسيره بما هو دون ذلك، فيكون محرِّفًا للكلم عن مواضعه، وإما أن يبقى أصمَّ أبكم لا يسمع من كلام الله ورسوله إلَّا الصوتَ المجرد، وكل من هذين باطل. ثم بيَّن وجهَ بطلانهما.
ثم انتقل إلى النقطة الثانية، وهي بيان وجوب قبول الأخبار الصحيحة، فقسَّم الأخبار ثلاثة أقسام: متواتر لفظًا ومعنىً، ومستفيض متلقًّى بالقبول، وخبر الواحد العدل الذي يجب قبوله. وتكلَّم عن كل قسم بتفصيل، وبيَّن إفادته العلم.
ثم انتقل إلى بيان صحة الاعتقاد الراجح بها، وأنه لا فرق فيها بين المسائل العلمية والخبرية، ولا يُردُّ الخبر في باب من الأبواب سواءً كانت أصولًا أو فروعًا بكونه خبرَ واحد.
إلى هنا كان الجواب عن السؤال الأول الوارد في أول الكتاب. ثم بدأ (ص 54) في الجواب عن السؤال الثاني، وهو قوله: "ليست الأحاديث نصوصًا في ذلك، بل هي ظاهرة قابلة للتأويل". وقد أجاب عنه أولًا بجواب مجمل ثم بجواب مفصل. وأنكر أن يكون في القرآن أو الأحاديث الثابتة ما ظاهره ممتنعٌ في العقل، ولا يقدر أحدٌ أن يأتي
নির্ভরযোগ্য সূত্রসমূহের ওপর নির্ভর করা—বিদআতিদের অথবা কতিপয় ভাষাবিদদের কাছ থেকে গ্রহণের পরিবর্তে, যারা ধারণা ও খেয়াল-খুশির বশবর্তী হয়ে কথা বলে। তিনি কুরআনের অর্থের সপক্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী ও তাবিঈগণের বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করা এবং এমন কবিতার মাধ্যমে দলিল পেশ করার মধ্যে তুলনা করেছেন, যার কোনো সনদ বর্ণিত হয়নি এবং যার রচয়িতাও অজ্ঞাত। তিনি এই পদ্ধতির (আসার বা বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করার পদ্ধতি) সঠিকতা বর্ণনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, অন্য কোনো পদ্ধতি এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। তিনি বিভিন্ন দিক থেকে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং কুরআনের অর্থ অনুধাবন ও এর তাফসীরের ক্ষেত্রে অন্যান্য পদ্ধতির অসারতা বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি তাফসীরে মাসুর (বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর) থেকে বিমুখ হয়, তার জন্য দুটি বিষয়ের একটি অনিবার্য হয়ে পড়ে: হয় সে এর চেয়ে নিম্নমানের কোনো তাফসীরের দিকে ধাবিত হবে, যার ফলে সে আল্লাহর কালামকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুতকারী হিসেবে গণ্য হবে; নতুবা সে বধির ও বোবা হয়ে থাকবে, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালাম থেকে কেবল নিছক শব্দই শ্রবণ করে। আর এ দুটির প্রতিটিই বাতিল। অতঃপর তিনি এ দুটির অসারতার কারণ বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর তিনি দ্বিতীয় বিষয়ের দিকে অগ্রসর হয়েছেন, যা হলো সহীহ খবর বা বর্ণনা গ্রহণ করা ওয়াজিব হওয়ার বর্ণনা। তিনি বর্ণনাকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে মুতাওয়াতির, মুস্তাফীয যা উম্মতের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য একক ব্যক্তির বর্ণনা (খবরে ওয়াহেদ), যা গ্রহণ করা ওয়াজিব। তিনি প্রতিটি প্রকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এগুলো যে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে তা স্পষ্ট করেছেন।
অতঃপর তিনি সেগুলোর মাধ্যমে প্রাধান্যপ্রাপ্ত আকিদা বা বিশ্বাসের সঠিকতা বর্ণনার দিকে অগ্রসর হয়েছেন। আর এতে ইলমি (তাত্ত্বিক) ও খবরী (সংবাদ সংক্রান্ত) মাসআলার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কোনো অধ্যায়েই বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না—তা উসুল (মূলনীতি) হোক বা ফুরু (শাখা-প্রশাখা) হোক—কেবল সেটি একক বর্ণনা (খবরে ওয়াহেদ) হওয়ার কারণে।
বইয়ের শুরুতে উল্লিখিত প্রথম প্রশ্নের উত্তর এখানেই শেষ হলো। অতঃপর তিনি ৫৪ পৃষ্ঠায় দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শুরু করেন, যা হলো তাঁর এই কথা: "হাদিসসমূহ এ বিষয়ে অকাট্য দলিল (নস) নয়, বরং এগুলো আপাত অর্থবোধক (জাহির), যা ব্যাখ্যার (তাবিল) অবকাশ রাখে।" তিনি প্রথমে এর একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েছেন এবং পরে বিস্তারিত উত্তর দিয়েছেন। তিনি এটি অস্বীকার করেছেন যে, কুরআন বা প্রমাণিত হাদিসসমূহে এমন কিছু থাকতে পারে যার আপাত অর্থ বিবেক-বুদ্ধির নিকট অসম্ভব। আর কেউ সক্ষম হবে না...
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
بحديثين صحيحين متعارضين، والذين ردُّوا بعض الأحاديث الثابتة أو أوَّلوها في زمن الصحابة اجتهدوا في طلب الحق وإن أخطأهم، فنوسع لهم الاعتذار والاستغفار. ثم ذكر بعض الأمثلة على ذلك، منها حديث: "إن الميت يُعذَّب ببكاء أهله عليه" (ص 59 - 74)، وحديث عمار في التيمم (ص 74 - 75)، وبعض أحاديث أبي هريرة وفاطمة بنت قيس وبَرْوع بنت واشق وغيرها. وقال في آخره: ما علمنا أحدًا من الصحابة والتابعين ردُّوا حديثًا صحيحًا وتأوَّلوه على خلاف مقتضاه، لمخالفة ظاهر القران في فهمهم أو لمخالفة المعقول أو القياس، إلّا كان الصواب مع الحديث ومن اتبعه، فكيف بمن بعدَهم؟ !
ثم تحدث عن خاصية أبي بكر الصديق، فإنه لم يُعرف له فتوى ولا كلام يخالف شيئًا من الأحاديث، وكان يبيِّن للصحابة معاني النصوص إذا اعتقدوا في ظاهرها ما لا يدلّ عليه، وذكر أمثلة على ذلك. وفي أثنائه تكلم عن علاقة القرآن بالسنة، والتحديث لأهل الأهواء والبدع، ومعنى العبادة وكيف تختلف عن العادة.
ثم عقد فصلًا تكلم فيه عن معنى التأويل عند السلف وعند المتأخرين، وبيان المذموم منه، وذكر أن من اعترض على السنة والجماعة بنوعِ تأويل: قياس أو ذوق أو تأويل منه خالف به سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ففيه شوبٌ من الخوارج.
أما الاعتراض الثالث: "أن السلف تأولوا كثيرًا من الأحاديث والآيات" فذكر الجواب عنه من وجوه، منها: أنه إذا كان المراد بالسلف الصحابة فهذا النقل عنهم باطل، لم يتأوَّل أحدٌ من الصحابة قطّ شيئًا من آيات القرآن التي ظاهرها أنها صفة لله تعالى. وكذلك الأمر في التابعين.
দুটি সহীহ হাদীসের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে; যারা সাহাবীদের যুগে কিছু সাব্যস্ত হাদীস প্রত্যাখ্যান করেছেন বা সেগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন, তারা সত্য অন্বেষণে ইজতিহাদ করেছেন যদিও তারা সত্য লাভে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আমরা তাদের জন্য ওজর পেশ করি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করি। অতঃপর তিনি এর কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: “নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে আযাব দেওয়া হয়” (পৃষ্ঠা ৫৯ - ৭৪), তায়াম্মুম সম্পর্কে আম্মারের হাদীস (পৃষ্ঠা ৭৪ - ৭৫), এবং আবু হুরায়রা, ফাতিমা বিনতে কাইস, বারওয়া বিনতে ওয়াশিক ও অন্যদের বর্ণিত কিছু হাদীস। তিনি এর শেষে বলেছেন: আমাদের জানা মতে সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্য থেকে কেউ কোনো সহীহ হাদীস প্রত্যাখ্যান করেননি এবং এর বাহ্যিক দাবির বিপরীতে এমন কোনো ব্যাখ্যা করেননি—যা তাদের বুঝে কুরআনের বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী হওয়ার কারণে কিংবা যুক্তি বা কিয়াসের পরিপন্থী হওয়ার কারণে—বরং সর্বদা সত্য সেই হাদীস এবং যারা তা অনুসরণ করেছে তাদের সাথেই ছিল। তাহলে তাদের পরবর্তী লোকদের অবস্থা কী হবে?!
অতঃপর তিনি আবু বকর সিদ্দিকের বিশেষত্বের কথা আলোচনা করেছেন যে, তার পক্ষ থেকে এমন কোনো ফতোয়া বা কথা জানা নেই যা কোনো হাদীসের পরিপন্থী। তিনি সাহাবীদের নিকট নস বা দলীলের অর্থ স্পষ্ট করে দিতেন যখন তারা এর বাহ্যিক শব্দ থেকে এমন কিছু মনে করতেন যা সেটি নির্দেশ করে না; তিনি এর কিছু উদাহরণও উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে তিনি কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক, প্রবৃত্তি পূজারি ও বিদআতিদের নিকট হাদীস বর্ণনা করা এবং ইবাদতের অর্থ ও সাধারণ অভ্যাসের সাথে এর পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এরপর তিনি একটি অধ্যায় রচনা করেন যাতে তিনি সালাফদের নিকট এবং পরবর্তীকালের লোকদের নিকট ‘তাভীল’-এর অর্থ নিয়ে আলোচনা করেন এবং এর মধ্যকার নিন্দনীয় দিকগুলো বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যে ব্যক্তি কোনো প্রকার ব্যাখ্যার মাধ্যমে—তা কিয়াস হোক, আধ্যাত্মিক স্বাদ হোক বা এমন কোনো ব্যাখ্যা হোক যার দ্বারা সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বিরোধিতা করে—সুন্নাহ ও জামাতের ওপর আপত্তি তোলে, তার মধ্যে খাওয়ারিজদের কিছুটা প্রভাব রয়েছে।
আর তৃতীয় আপত্তি হলো: “সালাফগণ অনেক হাদীস ও আয়াতের তাভীল করেছেন।” তিনি এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দিয়েছেন, যার একটি হলো: যদি সালাফ বলতে সাহাবীদের বোঝানো হয়, তবে তাদের সম্পর্কে এই বর্ণনাটি ভিত্তিহীন। সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ কখনো কুরআনের এমন কোনো আয়াতের তাভীল করেননি যার বাহ্যিক অর্থ মহান আল্লাহর গুণাবলী (সিফাত) সাব্যস্ত করে। তাবিঈদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রূপ।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ولا يصحُّ في ذلك عن ابن عباس أو غيره شيء.
وفي الأخير جاء إلى الأمر الرابع وهو قوله: "عارضتها الأدلة القطعية فيجب تأويلها"، وردَّ عليه من وجوه عديدة، منها: أنه لم يعارضها دليلٌ قطعيٌّ قطُّ، وأن ما هو مدلولها لم ينفِه العقل، والذي نفاه العقلُ ليس مدلولَها. ثم تكلَّم على قولهم: إن إثبات الصفات ظاهرها التجسيم، وبيَّن أن نفي المثل عنه والسميّ والمساوي يقتضي نفيَ ذلك في كل شيء، وذكر ما بين الأسماء من التواطؤ والافتراق، وما بين مدلولها من التباين والاشتباه.
وأما القطعة الثانية: فهي خاصة بالكلام على حديث "خلق آدم على صورته" و"على صورة الرحمن"، فذكر أنه مروي بألفاظ متنوعة، ولم يكن في السلف من تأوله، ولكن بعض علماء أهل السنة تأولوه، أو تركوا روايته لأسباب أخرى، كما يُذكر عن الإمام مالك. ثم ذكر طرق الحديث ومن رواه من الأئمة مثل الليث بن سعد ويحيى بن سعيد القطّان ومعمر وعبد الرحمن بن مهدي وسفيان الثوري وسفيان بن عيينة، وذكر قول الإمام أحمد والحميدي وغيرهما في تصحيحه، وإنكارهم على أبي ثور وابن خزيمة وأبي الشيخ ممن تأوَّل هذا الحديث، ونقل نصوصًا مهمة من "مناقب الإمام إسماعيل بن محمد التيمي" لأبي موسى المديني و"الفصول من الأصول عن الأئمة الفحول" لأبي الحسن بن الكرجي و"تأويل مختلف الحديث" لابن قتيبة، وردَّ على التأويلات الباطلة للحديث.
هذا عرض موجز لأهمّ الأبحاث التي توجد فيما وصل إلينا من هذا الكتاب، ونظرًا إلى أهميته وما فيه من مناقشات قوية اعتمد عليه تلميذ
এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস বা অন্য কারো থেকে কোনো কিছুই বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়।
পরিশেষে তিনি চতুর্থ বিষয়ের অবতারণা করেছেন, আর তা হলো তাঁর কথা: "অকাট্য প্রমাণসমূহ এর পরিপন্থী, তাই এর রূপক ব্যাখ্যা (তাকবিল) করা ওয়াজিব।" তিনি এর উত্তর দিয়েছেন বহু দিক থেকে, তার মধ্যে রয়েছে: কোনো অকাট্য প্রমাণ কখনোই এর পরিপন্থী হয়নি, আর এর দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা বিবেক অস্বীকার করে না, বরং বিবেক যা অস্বীকার করে তা এর দ্বারা উদ্দেশ্য নয়। এরপর তিনি তাদের এই কথার ওপর আলোচনা করেছেন যে: সিফাত বা গুণাবলি সাব্যস্ত করার বাহ্যিক অর্থ হলো দেহবাদ (তাজসিম)। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহর সমতুল্য, সমনামধারী ও সমকক্ষ হওয়ার অস্বীকৃতি প্রতিটি বিষয়েই তা অস্বীকার করাকে আবশ্যক করে। তিনি নামসমূহের মধ্যকার সামঞ্জস্য ও ভিন্নতা এবং তাদের অর্থের মধ্যকার পার্থক্য ও সাদৃশ্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আর দ্বিতীয় অংশটি: এটি মূলত "আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" এবং "রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" সংক্রান্ত হাদিসের আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে এবং সালাফদের মধ্যে কেউ এর রূপক ব্যাখ্যা করেননি, তবে আহলে সুন্নাহর কিছু আলেম এর রূপক ব্যাখ্যা করেছেন অথবা অন্য কোনো কারণে এর বর্ণনা ত্যাগ করেছেন, যেমনটি ইমাম মালেক সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়। অতঃপর তিনি হাদিসটির সূত্রসমূহ এবং লাইস ইবনে সাদ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, মা’মার, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি, সুফিয়ান সাওরি ও সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার মতো যে সকল ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন তাদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ইমাম আহমদ, হুমাইদি ও অন্যদের পক্ষ থেকে হাদিসটি বিশুদ্ধ (সহিহ) বলার বিষয়টি এবং আবু সাওর, ইবনে খুজাইমা ও আবুশ শায়খের মতো যারা এই হাদিসের রূপক ব্যাখ্যা করেছেন তাদের প্রতি তাদের আপত্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আবু মুসা আল-মাদিনির "মানাকিবে ইমাম ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আত-তাইমি", আবুল হাসান বিন আল-কারাজির "আল-ফুসুল মিনাল উসুল আনিল আইম্মাতিল ফুহুল" এবং ইবনে কুতাইবার "তাউয়িলু মুখতালিফ আল-হাদিস" থেকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং হাদিসটির বাতিল ব্যাখ্যাসমূহের খণ্ডন করেছেন।
এই কিতাবটির যে অংশ আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তাতে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাসমূহের এটি একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা। এর গুরুত্ব এবং এতে থাকা শক্তিশালী পর্যালোচনাসমূহের কারণে এর ওপর তাঁর ছাত্র নির্ভর করেছেন...
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
المؤلف الإمام ابن القيم في "الصواعق المرسلة"، فهو ينقل عنه نصوصًا عديدة من القطعة الأولى
(1)، وينسبها أحيانًا إلى شيخه ويُغفِل نسبتها أخرى، على طريقة استفادته من كتب شيخ الإسلام.
*
وصف النسخة الخطية:وصلت إلينا قطعتان من الكتاب، وفيما يلي وصفهما:
الأولى: في مكتبة الشيخ محب الله شاه الراشدي في السند بباكستان، وقد كتب على صفحة العنوان: "من كلام الشيخ الإمام العالم العلامة شيخ الإسلام تقي الدين أبي العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية الحراني في أثناء كتابه المسمى بالأسولة المصرية في الاعتراضات على الفتيا الحموية، فيما يتعلق ببيان الحق الصريح في الاستدلال بأحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، حيث أشار المعترض في اعتراضاته إلى القدح في ذلك الموطن بأنها أخبار لا تفيد العلم بل تفيد الظن، وذكر وجوهًا من الاعتراضات بمقتضى علمه واجتهاده في هذا الموضع. ولا حول ولا قوة إلّا بالله العلي العظيم".
وهذه القطعة في 45 ورقة، وفي كل صفحة منها 27 سطرًا، وقد كُتبت في القرن الثاني عشر، كما جاء في آخرها بخط الناسخ: "كتب هذه الأحرفَ العبدُ الفقير الراجي الشفاعةَ من سيد الأنام عليه أفضل الصلاة والسلام عبد الغني بن خليل اللطفي الحسيني المقدسي، غفر الله له ولوالديه ولمن نظر في هذا الكتاب ودعا له ولوالديه وللمسلمين
--------------------------------------------
লেখক ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর "আস-সাওয়াইকুল মুরসালাহ" গ্রন্থে এটির প্রথম অংশ থেকে অনেকগুলো পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন
(১)। তিনি মাঝে মাঝে সেগুলো তাঁর শিক্ষকের প্রতি নিসবত (আরোপ) করেছেন এবং অন্য সময় নিসবত করা পরিহার করেছেন, যেমনটি তিনি শায়খুল ইসলামের কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে সচরাচর করে থাকেন।
*
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:এই কিতাবটির দুইটি অংশ আমাদের নিকট পৌঁছেছে, নিম্নে সেগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো:
প্রথমটি: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে শায়খ মুহিব্বুল্লাহ শাহ আল-রাশিদীর গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত। এর শিরোনাম পাতায় লেখা রয়েছে: "শায়খ ইমাম আলিম আল্লামা শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানীর বক্তব্য থেকে সংগৃহীত, যা আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ-এর ওপর উত্থাপিত আপত্তির জবাবে তাঁর লিখিত 'আল-আস’িলাহ আল-মিসরিয়্যাহ' নামক কিতাবের অন্তর্ভুক্ত। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসসমূহ থেকে দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সত্য বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট। সেখানে প্রতিবাদকারী তার আপত্তিগুলোতে এই মর্মে নিন্দা করেছেন যে, এগুলো এমন সংবাদ যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না বরং ধারণা প্রদান করে। তিনি তাঁর জ্ঞান ও ইজতিহাদ অনুযায়ী সেই স্থানে বিভিন্ন ধরণের আপত্তি উল্লেখ করেছেন। সুউচ্চ মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।"
এই অংশটি ৪৫টি পত্র বিশিষ্ট, এবং এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২৭টি লাইন রয়েছে। এটি দ্বাদশ শতাব্দীতে অনুলিখিত হয়েছে, যেমনটি এর শেষে অনুলিপিকারের হস্তাক্ষরে এসেছে: "এই অক্ষরগুলো লিখেছেন সৃষ্টিজগতের সরদারের পক্ষ থেকে সুপারিশ প্রত্যাশী অভাবী বান্দা—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—আব্দুল গনি বিন খলিল আল-লুতফি আল-হুসাইনি আল-মাকদিসি। আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে এবং যারা এই কিতাবটি দেখবে ও তাঁর জন্য, তাঁর পিতা-মাতার জন্য ও মুসলিমদের জন্য দোয়া করবে, তাদের সকলকে ক্ষমা করুন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
بالمغفرة. وذلك في اليوم الثامن عشر من شهر شوال سنة ثمانية (كذا) وعشرين ومائة وألف من الهجرة النبوية، على صاحبها أفضل الصلاة والتحية. تمَّ ذلك بعون الله وحسن توفيقه، والله أعلم".
والنسخة بخط نسخي جيّد، ويبدو أنها مقابلةٌ على الأصل، لوجود التصحيحات في الهوامش، ولكن فيها أخطاء وتحريفات في مواضع كثيرة، وفيها سقط للكلمات في بعض المواضع لا يستقيم الكلام بدونها. والنسخة المصورة التي عندي كانت ضمن مصوَّرات أخي الفاضل المحقق حافظ ثناء الله الزاهدي، وفي بعض صفحاتها طمس واهتزاز عند التصوير، فلم تتضح الكلمات وبعض الأسطر ولم تُقرأ إلّا بصعوبة بالغة.
وكانت هذه النسخة في ملك الإمام المحدث الأثري صالح بن محمد الفُلَّاني
(1) (ت 1218)، كما أثبتَ ذلك بخطه على صفحة العنوان، حيث كتب: "ملكَه الفقير صالح بن محمد الفلّاني العمري المسوفي". وربما تكون بعض التصحيحات على النسخة بقلمه.
وبعد انتهاء الكتاب توجد في آخر النسخة بعض الفوائد والنقول المتعلقة بشيخ الإسلام ابن تيمية، نقلها الناسخ من بعض المصادر أو من الأصل المنقول عنه.
الثانية: في مكتبة قره حصار بتركيا، برقم 17517/ 4 (الورقة 70 - 71)، كتبت سنة 736
(2)، وقد اطلع عليها أخونا البحاثة
--------------------------------------------
ক্ষমার মাধ্যমে। আর তা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের এক হাজার একশত আটাশ (এরূপই আছে) সালের শাওয়াল মাসের আঠারোতম দিনে, তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। আল্লাহর সাহায্য এবং তাঁর উত্তম তাওফিকের মাধ্যমে এটি সমাপ্ত হলো, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
পাণ্ডুলিপিটি চমৎকার নাসখ্ লিপিতে লিখিত। পার্শ্বটীকায় সংশোধনী থাকার কারণে প্রতীয়মান হয় যে, এটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। তবে অনেক স্থানে ভুল ও বিকৃতি রয়েছে এবং কিছু জায়গায় শব্দ বাদ পড়েছে যা ব্যতীত বক্তব্য সঠিক হয় না। আমার নিকট থাকা ছায়াচিত্রটি (ফটোকপি) আমার শ্রদ্ধেয় ভাই মুহাক্কিক হাফেয সানাউল্লাহ আয-যাহিদী-এর পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর কিছু পৃষ্ঠায় ছবি তোলার সময় ঝাপসা ও অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয়েছিল, ফলে শব্দ এবং কিছু পঙক্তি স্পষ্ট ছিল না এবং অত্যন্ত কষ্টসাধ্যভাবে তা পাঠ করা হয়েছে।
এই পাণ্ডুলিপিটি ইমাম মুহাদ্দিস আসারি সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-ফুল্লানি
(১) (মৃত্যু ১২১৮ হি)-এর মালিকানাধীন ছিল, যেমনটি তিনি শিরোনাম পৃষ্ঠায় নিজের হাতের লেখায় নিশ্চিত করেছেন: "এর মালিক মিসকিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-ফুল্লানি আল-উমারি আল-মাসুফি।" পাণ্ডুলিপিতে থাকা কিছু সংশোধনী সম্ভবত তাঁর নিজের কলমেই করা হয়েছে।
গ্রন্থটি সমাপ্ত হওয়ার পর পাণ্ডুলিপির শেষে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সংক্রান্ত কিছু ফায়দা এবং উদ্ধৃতি রয়েছে, যা অনুলিপিকারক বিভিন্ন উৎস থেকে অথবা যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে তিনি নকল করেছেন তা থেকে সংগ্রহ করেছেন।
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: তুরস্কের কারাহিসার লাইব্রেরিতে ১৭৫১৭/ ৪ নম্বরে (পত্র ৭০ - ৭১) সংরক্ষিত। এটি ৭৩৬
(২) হিজরিতে অনুলিখিত হয়েছে। আমাদের গবেষক ভাই এটি পর্যবেক্ষণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أبو الفضل القونوي ووصفها بقوله: (وقفتُ عليها في مجموع نُسِخَ بعضُه سنة 736، وهي نسخة مكتبة كديك أحمد باشا في مدينة أفيون رقم 17517، وقد نُقِلت هي وبقية محتوى المكتبة إلى المكتبة الوطنية بأنقرة. وفي هذا المجموع من كتب شيخ الإسلام: الفتيا الحموية، ومسائل عن آيات الصفات وأحاديثها، مثل قول السائل: هل في آيات الصفات ناسخٌ ومنسوخ؟ وفيه شرح حديث النزول، وهو مطبوع، ومسألة القبح والحسن العقليين، ومسألة في الاستواء وغيره، ودعوة ذي النون، ومسألة عصمة الأنبياء
… ).
قلت: وقد اطلعتُ على مصورتها، فوجدتها بخط نسخي جيد، وهذه القطعة خمس ورقات (ق 70 ب - 75 أ)، وعدد الأسطر في كل صفحة 27 سطرًا. والنسخة مصححة ومقابلة على الأصل، وقد نُقِلت من خط شيخ الإسلام، كما صرَّح به الناسخ في آخر النسخة، فقال: "نقلتُه من خط شيخ الإسلام مؤلفه رحمه الله ورضي عنه - وبقي منه قائمة ووجه وقليل من الوجه الآخر، في ثالث شهر جمادى
… ".
أما ناسخ هذه القطعة ورسائل أخرى ضمن هذا المجموع فقد وصلت إلينا بخطه رسائل عديدة من مؤلفات الشيخ، يذكر فيها اسمه ونسبه. وقد ذكر أخونا أبو الفضل القونوي أنه تلميذ لشيخ الإسلام وإن لم تذكره المصادر، ثم قال ما يلي:
يبدو أن ناسخ هذا المجموع - وفيه خط ناسخ غيره - كان من تلاميذه الذين اضطروا لضعف جانبهم وفقرهم إلى الانكفاء على
--------------------------------------------
আবু আল-ফজল আল-কুনাবি একে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: (আমি এটি ৭৩৬ হিজরি সালে অনুলিখিত একটি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের মধ্যে পেয়েছি, এটি আফিয়ন শহরের গেদিক আহমেদ পাশা গ্রন্থাগারের ১৭৫১৭ নং পাণ্ডুলিপি। এটি এবং গ্রন্থাগারের অবশিষ্ট বিষয়বস্তু আঙ্কারার জাতীয় গ্রন্থাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। শাইখুল ইসলামের বইসমূহের এই সংগ্রহে রয়েছে: আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ, সিফাত বা গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াত ও হাদিসসমূহ নিয়ে বিভিন্ন মাসআলা, যেমন প্রশ্নকারীর প্রশ্ন: সিফাতের আয়াতসমূহে কি নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) আছে? এতে আরও রয়েছে হাদিসুন নুযুল (আল্লাহর নেমে আসা সংক্রান্ত হাদিস)-এর ব্যাখ্যা যা মুদ্রিত হয়েছে, বুদ্ধিগতভাবে ভালো ও মন্দের মাসআলা, আরশের উপর আল্লাহর উঠা ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত মাসআলা, যুন্নুন (আ.)-এর দোয়া এবং নবীদের নিষ্পাপ হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা
… )।
আমি বলছি: আমি এর ফটোকপি দেখেছি এবং এটি উত্তম নাসখ লিপিতে লিখিত পেয়েছি। এই অংশটি পাঁচ পৃষ্ঠার (৭০ খ - ৭৫ ক), এবং প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা ২৭টি। পাণ্ডুলিপিটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে এবং এটি শাইখুল ইসলামের নিজের হাতের লেখা থেকে অনুলিপি করা হয়েছে, যেমনটি অনুলিপিকারক পাণ্ডুলিপির শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমি এটি এর লেখক শাইখুল ইসলাম—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর হাতের লেখা থেকে অনুলিপি করেছি; এবং এর একটি পাতা, এক পৃষ্ঠা এবং অন্য পৃষ্ঠার সামান্য অংশ বাকি রয়ে গেছে, জুমাদা মাসের তিন তারিখে
… "।
এই অংশ এবং এই সংগ্রহের অন্যান্য রিসালার অনুলিপিকারকের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, শাইখের রচিত অনেক রিসালা তাঁর হাতের লেখায় আমাদের কাছে পৌঁছেছে, যেখানে তিনি তাঁর নাম ও বংশপরিচয় উল্লেখ করেছেন। আমাদের ভাই আবু আল-ফজল আল-কুনাবি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শাইখুল ইসলামের একজন ছাত্র ছিলেন, যদিও উৎসগ্রন্থসমূহে তাঁর কথা উল্লেখ করা হয়নি। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত কথাগুলো বলেছেন:
মনে হচ্ছে যে, এই সংগ্রহের অনুলিপিকারক—এবং এতে অন্য একজন অনুলিপিকারকের লেখাও রয়েছে—তাঁর এমন ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তাদের দুর্বল অবস্থা ও দারিদ্র্যের কারণে নিভৃতে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
أنفسهم.
واسمه كما كتبه في موضع: (ووافق الفراغ من تعليقه يوم الخميس سادس عشري شهر رجب من شهور سنة اثنتين وثلاثين وسبعمئة، كتبه الفقير إلى رحمة ربه الكبير العبد الضعيف المقصر المخطئ المسيء: أيوب
(1) بن أيوب بن صخر بن أيوب بن صخر بن خالد بن وثيق بن أبي الحسن بن بقاء بن مساور العامري .. ) ثُمَّ ذكر تاريخ مقابلتها فقال: (قوبلت على أصلها فصحت على حسب الطاقة في مجالس آخرهن رابع عشر شهر شعبان سنة اثنتين وثلاثين وسبعمئة). فقد نسخها بعد وفاة شيخ الإسلام سنة 728.
ويفهم من اسمه أنه عربي المحتِدِ، فهو عامري، ومن ذكرِه مكان النسخ حمص أنه من أهلها، ولا يعلم متى توفي، غير أنه كان حيًا سنة 736.
ويبدو أنه كان صديقًا لابن رشيق، الذي ذكره في موضع وقال: (نقل من خط الشيخ الإمام شيخ الإسلام تقي الدين أحمد بن تيمية، بحضور ترجمانه ولسان قلمه الشيخ شمس الدين أبي عبد الله بن رشيق، والمقابلة عليه، وهو ممسك بأصل الشيخ رحمه الله والشيخ سليمان يقرأ، وذلك في ثالث شهر جمادي الأولى من سنة ست وثلاثين وسبعمئة).
ويفهم من بيتين كتبهما أنه كان فقيرًا مثله، والبيتان قوله:
--------------------------------------------
নিজেদের।
এবং তার নাম যেমন তিনি এক স্থানে লিখেছেন: (এর টীকা সম্পন্ন করার বিষয়টি মিলে গেছে সাতশো বত্রিশ হিজরি সনের রজব মাসের ছাব্বিশ তারিখ বৃহস্পতিবার। এটি লিখেছেন মহান রবের রহমতের মুখাপেক্ষী নিঃস্ব, দুর্বল, ত্রুটিপূর্ণ, ভুলকারী ও গুনাহগার বান্দা: আইয়ুব
(১) বিন আইয়ুব বিন সাখর বিন আইয়ুব বিন সাখর বিন খালিদ বিন ওয়াসিক বিন আবুল হাসান বিন বাকা বিন মুসাভির আল-আমিরি...)। অতঃপর তিনি এটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার তারিখ উল্লেখ করে বলেন: (এটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং সাধ্যানুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে কয়েকটি মজলিসে, যার শেষটি ছিল সাতশো বত্রিশ হিজরি সনের শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ)। সুতরাং তিনি এটি শায়খুল ইসলামের ওফাতের (৭২৮ হিজরি) পর অনুলিপি করেছেন।
তার নাম থেকে বোঝা যায় যে তিনি আরব বংশোদ্ভূত, কারণ তিনি ‘আমিরি’। আর অনুলিপি করার স্থান হিসেবে হিমস শহরের কথা উল্লেখ করায় প্রতীয়মান হয় যে তিনি সেখানকার অধিবাসী ছিলেন। তিনি কবে মৃত্যুবরণ করেছেন তা জানা যায়নি, তবে তিনি ৭৩৬ হিজরি সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
এবং মনে হয় তিনি ইবনুর রশিকের বন্ধু ছিলেন, যিনি এক স্থানে তাকে উল্লেখ করে বলেছেন: (শায়খ ইমাম শায়খুল ইসলাম তাকীউদ্দীন আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহর পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে তাঁর ব্যাখ্যাকারী ও কলমের মুখপাত্র শায়খ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ ইবনুর রশিকের উপস্থিতিতে এবং তাঁর সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। সে সময় তিনি শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মূল পাণ্ডুলিপিটি ধরে রেখেছিলেন এবং শায়খ সুলাইমান পাঠ করছিলেন। আর এটি ছিল সাতশো ছত্রিশ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসের তিন তারিখে)।
তার লেখা দুটি কাব্য-পঙ্ক্তি থেকে বোঝা যায় যে তিনি তাঁর মতোই দরিদ্র ছিলেন, পঙ্ক্তি দুটি হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
أيا قارئًا خطي سألتك دعوة
… إلى الله في عبدٍ مقرٍّ بذنبهِ
عساه يسامحني ويغفر زلتي
… ويرزقني رزقًا مقيمًا بأهلهِ
ويزيد المتأمل من كونه تلميذًا لأبي العباس بن تيمية ما كتبه في نسخته من (الحموية الكبرى) التي عنون لها بالقول: (المعارج الروحية، القاصدة لمعرفة رب البرية، بالأدلة والنصوص القطعية، والآثار السلفية، المودعة في الفتيا الحموية، إملاء الشيخ الإمام شيخ الإسلام تقي الدين أحمد بن تيمية) وتاريخ الفراغ من نسخها السابع والعشرون من رجب 730، وقوله: (
… غفر الله له ولمن أجاب بها، ولمن تأملها، وأنصف فيها، وامتثل منها ما يجب، وأعرض عن الأهواء والريب، ولسائر المسلمين آمين آمين)، وما قاله قبل شرح حديث النزول الإلهي، من تعبيرات المديح التي يغلب على الظن أنها كلمات هذا التلميذ المحب لشيخه، إذ كانت النسخة التي استنسخ منها هي بخط المؤلف، قال: مسألة سئلها الشيخ الإمام شيخ الإسلام بقية السلف الكرام، قدوة الخلف، فريد عصره ووحيد دهره العالم الرباني المقذوف في قلبه النور الإلهي، موضح المشكلات، مزيل الشبهات بما أيده الله من فهم الآيات البينات والبراهين القاطعات، تقي الدين
… فأجاب عن أسرار الحديث، وأقوال العلماء، وأزاح كل مشكل، وأبان الحق في ذلك من الكتاب والسنة وأقوال الجهابذة الأئمة، وبين في ذلك غلط الغالطين، وحذر فيه من زيغ الزائغين، ونفَّر من تشكيك الشاكين، وحث على سلوك طريق السلف الصالح، من الصحابة ومن بعدهم من التابعين، وقوَّى جانب الاتباع، وزيف أقوال أهلى الأهواء والابتداع، في سائر الأزمان والدهور {وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ} [النور/ 40].
হে আমার লিপির পাঠক, আমি আপনার কাছে আল্লাহর নিকট একটি দুআ প্রার্থনা করছি
… এমন এক বান্দার জন্য যে নিজের পাপ স্বীকার করছে।
হয়তো তিনি আমাকে ক্ষমা করবেন ও আমার পদস্খলন মার্জনা করবেন
… এবং আমাকে ও আমার পরিবারকে স্থায়ী জীবিকা দান করবেন।
আবু আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহর ছাত্র হিসেবে তাঁর পরিচয় অনুধাবনকারীর নিকট আরও স্পষ্ট হয় ‘আল-হামাউয়িয়্যাহ আল-কুবরা’-র একটি পাণ্ডুলিপিতে তাঁর লেখা থেকে। তিনি এর শিরোনাম দিয়েছিলেন এভাবে: (সৃষ্টিজগতের রবের পরিচিতি লাভের অভিমুখে আধ্যাত্মিক আরোহণসমূহ; চূড়ান্ত দলিল ও অকাট্য বর্ণনা এবং সালাফদের সেই সব ঐতিহ্যের আলোকে যা আল-ফাতাওয়া আল-হামাউয়িয়্যাহ-তে সংরক্ষিত রয়েছে; এটি শেখ, ইমাম, শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহর নির্দেশনায় অনুলিখিত)। এবং এটি নকল করার সমাপ্তিকাল ছিল ৭৩০ হিজরির ২৭শে রজব। এবং তাঁর উক্তি: (
… আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তাকেও যিনি এর উত্তর দিয়েছেন, আর তাকেও যিনি এটি অনুধাবন করেছেন, এতে ন্যায়বিচার করেছেন, যা আবশ্যক তা মেনে চলেছেন এবং প্রবৃত্তি ও সন্দেহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, আর সমস্ত মুসলিমকে। আমিন, আমিন)। এবং আল্লাহর অবতরণ (নুযুল) সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যা প্রদানের পূর্বে তিনি যে প্রশংসাসূচক অভিব্যক্তিগুলো ব্যবহার করেছেন, প্রবল ধারণা করা হয় যে সেগুলো তাঁর শাইখের প্রতি এই অনুরক্ত ছাত্রেরই কথা। কেননা যে পাণ্ডুলিপি থেকে তিনি এটি নকল করেছিলেন তা ছিল স্বয়ং লেখকের হস্তলিখিত। তিনি বলেন: এটি একটি মাসআলা যা জিজ্ঞাসা করা হয়েছে শেখ, ইমাম, শাইখুল ইসলাম, সম্মানিত সালাফদের উত্তরসূরি, পরবর্তী প্রজন্মের আদর্শ, তাঁর সময়ের অনন্য ও অদ্বিতীয় ব্যক্তি, সেই রব্বানি আলেম যার অন্তরে ঐশী নূর প্রক্ষিপ্ত হয়েছে, জটিল বিষয়সমূহের বিশদ ব্যাখ্যাদানকারী, সংশয় নিরসনকারী—আল্লাহ যাকে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহের বুঝ এবং অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন—তাকিউদ্দীন
… অতঃপর তিনি হাদিসের রহস্যসমূহ এবং আলেমদের মতামত নিয়ে উত্তর দিয়েছেন, সকল জটিলতা দূর করেছেন, এবং কুরআন, সুন্নাহ ও অভিজ্ঞ ইমামদের বক্তব্যের আলোকে সত্য উন্মোচিত করেছেন। সেখানে তিনি ভুলকারীদের ভুল স্পষ্ট করেছেন, বিচ্যুতদের বিচ্যুতি থেকে সতর্ক করেছেন, সংশয়বাদীদের সংশয় থেকে বিমুখ করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত সালাফে সালেহীনের পথ অনুসরণে উৎসাহিত করেছেন। তিনি অনুসরণের দিককে শক্তিশালী করেছেন এবং সকল যুগ ও কালের প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের বক্তব্যকে অসার প্রমাণ করেছেন। {আর আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না, তার জন্য কোনো আলো নেই} [আন-নূর/ ৪০]।
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
* وفي الختام:
أحمد الله على أن يسَّر لي إخراجَ هذه القطعة من هذا الأثر النادر من تراث شيخ الإسلام، وأدعوه سبحانه أن يوفقنا للعثور على بقيته، إنّه ولي ذلك والقادر عليه، وصلَّى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
كتبه
محمد عزير شمس
পরিশেষে:
আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যে তিনি শাইখুল ইসলামের এই বিরল ঐতিহ্যের এই অংশটি প্রকাশ করা আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর অবশিষ্টাংশ খুঁজে পেতে আমাদের তাওফিক দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং তিনি এর ওপর পূর্ণ সক্ষম। আমাদের নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
মুহাম্মদ উযাইর শামস
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
جواب الاعتراضات المصرية على الفتيا الحموية القسم: الفرق والردود
الكتاب: جواب الاعتراضات المصرية على الفتيا الحموية
[آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لحقها من أعمال (16)]
المؤلف: شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية (661 - 728 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: سعود بن عبد العزيز العريفي - جديع بن محمد الجديع
الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)
الطبعة: الثالثة، 1440 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)
عدد الصفحات: 177
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 شوّال 1442
ফাতওয়া হামাউইয়ার উপর মিশরীয় আপত্তিগুলোর জওয়াব বিভাগ: দল-উপদল এবং খণ্ডন
বই: ফাতওয়া হামাউইয়ার উপর মিশরীয় আপত্তিগুলোর জওয়াব
[শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার রচনাবলি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসমূহ (১৬)]
লেখক: শায়খুল ইসলাম আহমদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ (৬৬১ - ৭২৮ হি.)
গবেষক/সম্পাদক: মুহাম্মাদ উযায়ের শামস
পর্যালোচনা করেছেন: সাউদ বিন আব্দুল আযীয আল-আরীফী - জুদাই বিন মুহাম্মাদ আল-জুদাই
প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দারু ইবনি হাযম (বৈরুত)
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪৪০ হি. - ২০১৯ খ্রি. (দারু ইবনি হাযমের জন্য প্রথম)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৭
শামেলার জন্য পেশ করেছে: ‘আতাআতিল ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
فصل
قال المعترض: وأما الجواب
(1) عن الأحاديث بعد المطالبة بصحتها فمن وجوهٍ:
أحدها: أنها أخبار آحاد، لا تُفيد العلم بل تفيد الظن، لما عُرِف في الأصول.
والثاني: أنها ليست نصوصًا في ذلك، بل هي ظاهرة قابلة للتأويل.
والوجه الثالث: قد تأوَّل السلفُ كثيرًا منها ومن الآيات، وأذِنَ لنا في التأويل ابنُ عباس - وهو حبر هذه الأمة وترجمان القرآن - في غيرِ ما آيةٍ، وقال
(2): إذا خَفِيَ عليكم شيء من القرآن فابتغوه في الشعر، فإنه ديوان العرب. قال في قوله: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ} [القلم/ 42]: أما سمعتم قول العرب: قامتِ الحربُ [بنا] على ساق
(3).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও কোনো শক্তি নেই।
পরিচ্ছেদ
প্রতিবাদকারী বলেছেন: আর হাদীসগুলোর বিশুদ্ধতা দাবি করার পর সেগুলোর জবাব
(১) কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে:
এক: এগুলো 'আخبارু আহাদ' (একক বর্ণনা), যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না বরং ধারণা প্রদান করে, যেমনটি উসুলশাস্ত্রে সুপরিচিত।
দুই: এগুলো এই বিষয়ে অকাট্য বর্ণনা নয়, বরং এগুলো বাহ্যিক অর্থ প্রকাশ করে যা ব্যাখ্যার যোগ্য।
তিন: পূর্বসূরিগণ এগুলোর অনেকগুলোর এবং অনেক আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। আর ইবনে আব্বাস—যিনি এই উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত এবং কুরআনের ভাষ্যকার—তিনি একাধিক আয়াতের ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাখ্যার অনুমতি দিয়েছেন এবং বলেছেন
(২): "কুরআনের কোনো কিছু যদি তোমাদের কাছে অস্পষ্ট থাকে, তবে তা কবিতায় তালাশ করো; কেননা তা আরবদের জীবনচরিত।" তিনি আল্লাহর বাণী: {যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত করা হবে} [আল-কালাম: ৪২] সম্পর্কে বলেছেন: "তোমরা কি আরবদের কথা শোনোনি: যুদ্ধ আমাদের মাঝে পায়ের গোছার উপর দাঁড়িয়ে গেছে।"
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
والوجه الرابع: عارضتْها الأدلةُ العقلية فيجب تأويلُها، والله لا يُشبِهه شيء من مخلوقاته، ولا يَحلُّ فيه حادثٌ ولا يَحلُّ هو في حادثٍ، وعند ذلك يستحيلُ وصفُه بالتحيُّز والاتصال بالمحدودات. وقال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُولَا} [فاطر/ 41]، {وَيُمْسِكُ السَّمَاءَ أَن تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ} [الحج/ 65] وفي الطير {مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ} [النحل/ 79]. فإذا ثبت أن الإمساك الحسّي غير مرادٍ إجماعًا فكذلك الإصبع والإصبعان التي وردت، فإن صَمَّموا وادَّعَوا التعميمَ فقد جَسَّموا.
الجواب
أما قوله: "أخبار آحاد، لا تُفيد العلمَ"، فجوابه من ثلاثة طرق: بيان موافقة الآثار للقرآن وتفسيرها له، وبيان وجوب قبولها، وبيان صحة الاعتقاد الراجح بها.
الطريق الأول
أن نقول: الأحاديث الواردة الصحيحة في هذا الباب توافق القرآن ويطابقها، ويدل على ما دلت عليه، وإنما الحديث مع القرآن بمنزلة الحديث مع الحديث الموافق له، والآية مع الآية الموافقة لها، وبمنزلة موافقة القرآن للتوراة، حتى قال النجاشي لما سمع القرآن قال: إنّ هذا والذي جاء به موسى ليخرجُ من مشكاةٍ واحدةٍ
(1). وكذلك قال ورقة بن
--------------------------------------------
চতুর্থ দিক: বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলসমূহ এগুলোর বিরোধিতা করে, তাই এগুলোর ব্যাখ্যা (তাবিল) করা আবশ্যক। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, কোনো নশ্বর বিষয় তাঁর মধ্যে প্রবিষ্ট হয় না এবং তিনিও কোনো নশ্বর বিষয়ের মধ্যে অবস্থান করেন না। এমতাবস্থায় তাঁকে স্থান পরিগ্রহ করা এবং সীমাবদ্ধ বস্তুর সাথে সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে গুণান্বিত করা অসম্ভব। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও জমিনকে ধরে রাখেন যাতে সে দুটি বিচ্যুত না হয়} [ফাতির/ ৪১], {এবং তিনি আকাশকে ধরে রাখেন যাতে তা তাঁর অনুমতি ব্যতীত জমিনের ওপর পড়ে না যায়} [হজ/ ৬৫] এবং পাখির ক্ষেত্রে বলেছেন: {আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ সেগুলোকে ধরে রাখেন না} [নাহল/ ৭৯]। সুতরাং যখন সর্বসম্মতিক্রমে প্রমাণিত হলো যে, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ‘ধরে রাখা’ এখানে উদ্দেশ্য নয়, তখন বর্ণিত আল্লাহর আঙ্গুল এবং দুই আঙ্গুলের বিষয়টিও তদ্রূপ। যদি তারা এর ওপর জেদ ধরে এবং এর ব্যাপকতার দাবি করে, তবে তারা আল্লাহকে দেহধারী সাব্যস্ত করল।
উত্তর
তাঁর এই উক্তি—"আখবারে আহাদ (একক বর্ণনা) নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না"—এর উত্তর তিনটি পদ্ধতিতে দেওয়া যায়: কুরআনের সাথে আসার (বর্ণনা) সমূহের সামঞ্জস্য ও সেগুলোর মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা হওয়া স্পষ্ট করা, সেগুলো গ্রহণ করার আবশ্যকতা বর্ণনা করা এবং সেগুলোর মাধ্যমে অর্জিত প্রবল বিশ্বাসের সঠিকতা বর্ণনা করা।
প্রথম পদ্ধতি
আমরা বলি: এই বিষয়ে বর্ণিত সহিহ হাদিসগুলো কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর অনুকূল; যা কুরআন নির্দেশ করে এগুলোও তা-ই নির্দেশ করে। কুরআনের সাথে হাদিসের সম্পর্ক হলো যেমন একটি হাদিসের সাথে তার অনুকূল অপর একটি হাদিসের সম্পর্ক, অথবা একটি আয়াতের সাথে তার অনুকূল অন্য আয়াতের সম্পর্ক, কিংবা তাওরাতের সাথে কুরআনের সামঞ্জস্যের মতো। এমনকি নাজ্জাশি যখন কুরআন শুনলেন, তখন বললেন: "নিশ্চয় এই বাণী এবং মুসা যা নিয়ে এসেছিলেন তা একই প্রদীপ থেকে নির্গত"
(১)। তদ্রূপ ওয়ারাকা ইবনে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
نوفل لما ذكرتْ له خديجةُ أمرَ النبي صلى الله عليه وسلم قال: هذا الناموس الذي كان يأتي موسى
(1).
فإذا كان في القرآن أن لله علمًا وقدرةً لذكرنا قولَ النبي صلى الله عليه وسلم في حديث الاستخارة الصحيح
(2): "اللهمَّ إني أستخيرُك بعلمك وأستقدِرُك بقدرتك وأسألك من فضلك العظيم"، وقوله في حديث السنن
(3): "اللهمَّ بعلمِك الغيبَ وقدرتك على الخلق" ونحو ذلك، فهذا موافق. وكذلك إذا ذكرنا قوله الصحيح
(4) لأهل الجنة: "ألا أُعطِيكم ما هو أفضل من ذلك؟ أُحِلُّ عليكم رضواني فلا أسخَطُ عليكم أبدًا"، وقول الأنبياء في حيث الشفاعة الصحيح
(5): "إن ربّي قد غضبَ اليوم غضبًا لم يَغضَب قبلَه مثلَه ولن يغضب بعده مثلَه"، أو ذكرنا قوله: "إن الله يحبُّ العبد التقى الغنِي الخفي"
(6) و "إن الله يحبُّ العبد المفتَّن التواب"
(7) و "إن الله يَعجب من راعي غنمٍ على رأسِ جبل شَظِيَّة"
(8)، و "عَجِبَ ربنا
--------------------------------------------
নওফেল—খাদিজা যখন তাঁর কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিষয়টি উল্লেখ করলেন—বললেন: "ইনি হলেন সেই বার্তাবাহক (নামুস), যিনি মুসার কাছে আসতেন
(১)।
সুতরাং কুরআনে যদি এই কথা থেকে থাকে যে আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতা আছে, তবে আমরা সহিহ ইসতিখারার হাদিসে
(২) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী উল্লেখ করব: "হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে সামর্থ্য প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ ভিক্ষা করছি", এবং সুনান গ্রন্থের হাদিসে
(৩) তাঁর বাণী: "হে আল্লাহ, গায়েব সম্পর্কে আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে এবং সৃষ্টির ওপর আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে" এবং এই জাতীয় উদ্ধৃতিসমূহ; যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনুরূপভাবে, জান্নাতবাসীদের উদ্দেশ্যে তাঁর সহিহ বাণীটি
(৪) যদি আমরা উল্লেখ করি: "আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম কিছু দান করব না? আমি তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি অবতীর্ণ করছি, এরপর আমি আর কখনো তোমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হব না", এবং শাফায়াতের সহিহ হাদিসে
(৫) নবীদের উক্তি: "নিশ্চয়ই আমার রব আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন যার মতো রাগ তিনি ইতিপূর্বে কখনো হননি এবং এরপরেও কখনো এমন রাগান্বিত হবেন না", অথবা তাঁর এই বাণী যদি আমরা উল্লেখ করি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই বান্দাকে ভালোবাসেন যে মুত্তাকি, অমুখাপেক্ষী ও আত্মগোপনকারী"
(৬) এবং "নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই বান্দাকে ভালোবাসেন যে বিপদগ্রস্ত হয়েও অধিক তাওবাকারী"
(৭) এবং "নিশ্চয়ই আল্লাহ পাহাড়ের চূড়ায় বকরি চড়ানো সেই মেষপালককে দেখে বিস্মিত হন"
(৮), এবং "আমাদের রব বিস্মিত হন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
من قُنوطِ عبادِه وقُرْبِ غيرِه"
(1)، أو ذكرنا قوله: "لا تقولوا: ما شاء الله وشاءَ محمد، ولكن قولوا: ما شاء الله ثم شاء محمد"
(2) ونحو ذلك = فإنما نذكر هذه الأحاديث موافقةً لكتاب الله تعالى، من غضبه ورضوانه ومحبته وعَجَبه ومشيئته وغير ذلك.
ولهذا كان أئمة السلف يذكرون الآيات وما يناسبها من الأحاديث في هذا الباب وسائرِ أبواب العلم، مثل ذكر آية الطهارة والصيام والحج والجهاد وما يناسب ذلك من الأحاديث، التي
(3) تُقرِّر معناه وتُفسِّر مجملَه، وكذلك إذا ذُكِرت الآيات في محبة العبد لربّه وتوكُّلِه عليه وإخلاصِه له وخوفِه ورجائه ونحو ذلك ذُكِرَ
(4) معه الأحاديث الموافقة للقرآن في ذلك، وكذلك إذا ذُكِرَ ما في القرآن من صفة المعاد والجنة والنار [ذُكِرَ]
(5) ما في الأحاديث مما يوافق ذلك، أو ذُكِرَ ما في القرآن من قصص الأولين وتذكيرِ الله لسلفنا المؤمنين بآلائِه عليهم في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم في مغازيهم وغيرها ذُكِرَ الأحاديث المبيِّنة لقصص المتقدمين والمبيِّنة لصفة مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم وسيرته، وكذلك إذا ذُكِرت الآياتُ ذُكِرت الأحاديثُ المبيِّنة لسبب نزولها وما أريد بها.
ومعلوم بالضرورة أن هذا مما اتفق عليه المسلمون، وهو أحسن ما
--------------------------------------------
"তাঁর বান্দাদের হতাশা এবং অবস্থার পরিবর্তন বিষয়ে তাঁর নৈকট্য"
(১), অথবা আমরা তাঁর এই বাণী উল্লেখ করি: "তোমরা বলো না: 'যা আল্লাহ চান এবং মুহাম্মাদ চান', বরং বলো: 'যা আল্লাহ চান, অতঃপর মুহাম্মাদ চান'"
(২) এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি = নিশ্চয়ই আমরা এই হাদিসগুলো মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে মিল রেখে উল্লেখ করি, যেমন তাঁর ক্রোধ, সন্তুষ্টি, ভালোবাসা, বিস্ময়, ইচ্ছা এবং অন্যান্য বিষয়।
এ কারণেই সালাফগণের ইমামগণ এই অধ্যায়ে এবং ইলমের অন্যান্য সকল অধ্যায়ে আয়াতসমূহ এবং তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিসসমূহ উল্লেখ করতেন, যেমন পবিত্রতা, সিয়াম, হজ ও জিহাদের আয়াত উল্লেখ করা এবং তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিসগুলো উল্লেখ করা, যা
(৩) আয়াতের অর্থকে সুদৃঢ় করে এবং এর সংক্ষিপ্ততার ব্যাখ্যা প্রদান করে। অনুরূপভাবে যখন রবের প্রতি বান্দার ভালোবাসা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল, তাঁর জন্য ইখলাস, ভয় ও আশা এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ উল্লেখ করা হয়, তখন তার সাথে কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিসগুলোও উল্লেখ করা হয়
(৪)। একইভাবে যখন কুরআনে বর্ণিত পরকাল, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ উল্লেখ করা হয়, তখন হাদিসের ঐসব বর্ণনাও [উল্লেখ করা হয়]
(৫) যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথবা কুরআনে বর্ণিত পূর্ববর্তীদের কাহিনীসমূহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় তাঁর যুদ্ধবিগ্রহ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের পূর্বসূরি মুমিনদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহসমূহের কথা যখন স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন পূর্ববর্তীদের ঘটনাবলি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধবিগ্রহ ও সীরাতের বিবরণ সম্বলিত হাদিসসমূহ উল্লেখ করা হয়। তদ্রূপ যখন আয়াতসমূহ উল্লেখ করা হয়, তখন তার অবতীর্ণ হওয়ার কারণ এবং তা দ্বারা কী উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে তার বর্ণনামূলক হাদিসসমূহও উল্লেখ করা হয়।
আর এটি স্বতঃসিদ্ধভাবে জানা যে, এটি এমন একটি বিষয় যার ওপর মুসলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন, আর এটিই হলো সর্বোত্তম যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
يكون من بيان اتفاق القرآن والحديث، فهذا نافع في تفسير القرآن الذي هو تأويله الصحيح، ونافعٌ في إثبات ما دلَّ عليه القرآن والحديث من الأحكام الخبرية العلمية الاعتقادية والأحكام العملية الإرادية. ثم
الآية قد تكون نصًّا، وقد تكون ظاهرة، وقد يكون فيها إجمال، فالحديث يُقرِّر النصَّ ويَكشِف معناه كشفًا مفصَّلًا، ويُقرِّب المراد بالظاهر ويَدفع عنه الاحتمالاتِ، ويُفسِّر المجملَ ويُبيِّنه ويُوضِّحه، لتقوم حجةُ الله به، ولتبيينِ أن الرسول بيَّن ما أنزِل إليه من ربه، بيَّنَ معناه وحروفَه جميعًا، وأنه لم يترك البيان لا لمجملٍ ولا لظاهرٍ، ولم يُؤخِّره عن وقتِ الحاجة، بل قد بيَّن ذلك أحسنَ البيان وأجملَه.
وبهذا جَرتْ عادةُ أئمة السلف وأتباعهم المصنفين في الأبواب أن يذكروا الآيات والأحاديث المناسبة في هذه الأبواب وغيرها، كما فعلَ البخاري ومَن قبلَه ومَن بعدهم من سائر الأئمة، فإن الإمام أحمد وإسحاق بن راهويه وغيرهما يحتجون على أحاديث النزول وصحة معانيها بما في القرآن من آيات المجيء والإتيان ونحو ذلك. وهل يُنكِر ذلك من له أدنى عقلٍ وإيمان؟
وأيُّما أحسنُ: الاستدلالُ على معاني الكتاب بما رواه الثقات الأثباتُ ورثةُ الأنيباءِ وخلفاءُ الرسلِ عن رسولِ الله المبلِّغِ عن الله المبيِّن لما أنزل الله عليه، وبما قاله الصحابة والتابعون وأئمة الهدى، وتأويلُ القرآن الذي هو تفسيره بهذه الطرق؟ أم يُؤخذ تفسيرُ القرآن وتأويلُه وبيانُ معانيه من أئمةِ الضلال وشيوخِ التجهُّم والاعتزال كالعلَّاف والنظَّام والمَرِيْسي ونحوهم؟ فإن هذه التفسيرات والتأويلات عنهم وعن أمثالهم، أو يُنقَل ذلك عن بعض أهلِ العربية الذي يتكلم فيه بنوعٍ من
এটি কুরআন ও হাদীসের ঐকমত্যের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, যা কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ এবং এটাই এর সঠিক ব্যাখ্যা। এটি কুরআন ও হাদীস যে সকল সংবাদমূলক জ্ঞানগত আকিদাগত বিধান এবং ইচ্ছামূলক আমলগত বিধানের ওপর প্রমাণ পেশ করে, তা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রেও উপকারী। তারপর
আয়াত কখনো অকাট্য (নস), কখনো সুস্পষ্ট (যাহির) এবং কখনো তাতে সংক্ষিপ্ততা (ইজমাল) থাকতে পারে, হাদীস অকাট্য অর্থকে সুদৃঢ় করে এবং এর মর্মার্থ বিস্তারিতভাবে উন্মোচন করে, সুস্পষ্ট অর্থের নিকটবর্তী মর্মকে স্পষ্ট করে এবং তা থেকে অন্যান্য সম্ভাবনা দূর করে। এটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের তাফসীর করে এবং একে সুস্পষ্ট ও ব্যক্ত করে, যাতে এর মাধ্যমে আল্লাহর হুজ্জত (প্রমাণ) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি স্পষ্ট করার জন্য যে, রাসূল তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা বয়ান করেছেন; তিনি এর অর্থ এবং শব্দ সবটুকুই বর্ণনা করেছেন। তিনি কোনো সংক্ষিপ্ত কিংবা সুস্পষ্ট বিষয়ের বয়ান বাদ দেননি এবং প্রয়োজনের সময় থেকে একে বিলম্বিত করেননি। বরং তিনি তা সর্বোত্তম ও সুন্দরতম পন্থায় বর্ণনা করেছেন।
আর এভাবেই সালাফ ইমামগণ এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গ্রন্থ রচনা করা তাঁদের অনুসারীদের রীতি চলে আসছে যে, তাঁরা এই অধ্যায়গুলোতে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক আয়াত ও হাদীসসমূহ উল্লেখ করেন; যেমনটি ইমাম বুখারী এবং তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য সকল ইমামগণ করেছেন। কেননা ইমাম আহমাদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি এবং অন্যান্যগণ আল্লাহর অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ এবং সেগুলোর অর্থের বিশুদ্ধতার সপক্ষে কুরআনের আগমন ও উপস্থিত হওয়া এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেন। যার সামান্যতম বুদ্ধি ও ঈমান আছে, সে কি তা অস্বীকার করতে পারে?
আর কোনটি অধিক উত্তম: কিতাবুল্লাহর অর্থসমূহের ওপর এমন সব নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের বর্ণিত হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করা—যারা নবীদের উত্তরাধিকারী এবং রাসূলগণের স্থলাভিষিক্ত—যা তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রচারকারী এবং তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার বর্ণনাকারী আল্লাহর রাসূলের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং সাহাবী, তাবিঈ ও হিদায়াতের ইমামগণ যা বলেছেন তার মাধ্যমে এবং এই পদ্ধতিগুলোর সাহায্যে কুরআনের তাবিল তথা তাফসীর সম্পন্ন করা? নাকি ভ্রষ্টতার ইমাম এবং জাহমিয়্যা ও মুতাযিলাদের শাইখদের নিকট থেকে কুরআনের তাফসীর, তাবিল ও এর অর্থের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা—যেমন আল্লাফ, নাযযাম, মারীসী এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিরা? কেননা এই তাফসীর ও তাবিলসমূহ তাদের ও তাদের মতাদর্শীদের পক্ষ থেকে এসেছে, অথবা এটি এমন কিছু ভাষাবিদদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যারা এ বিষয়ে এক প্রকারের...
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
الظن والهوى، وإن كان أئمة العربية وعلماؤها على خلافه.
وأيُّما أحسنُ: الاستشهاد على معاني القرآن بنفس ألفاظِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم وألفاظ الصحابة والتابعين التي يُستفاد بها معنى الآيات على الخصوص وهو المطلوب، ويُعلَم بها اللغةُ التي نزل بها القرآنُ، وبها خاطبَ النبي صلى الله عليه وسلم بالنقل الصحيح الثابت؟ أو الاستشهاد على ذلك ببيتٍ من شعرٍ، كقوله
(1):
إن الكلامَ لفي الفؤادِ وإنما
… جُعِلَ اللسانُ على الفؤاد دليلَا
وكقوله
(2):
ثم استوى بِشْرٌ على العراقِ
… من غيرِ سيفٍ ودمٍ مُهراقِ
وكقوله
(3):
وجوهٌ يومَ بدرٍ ناظراتٌ
… إلى الرحمن تنتظرُ الفلاحَا
وأمثال ذلك من الشعر الذي قد يقال فيه: إنه لم يُروَ بإسنادٍ صحيح عن قائله، بل كثيرٌ من أهل صنعة الشعر يُكذِّبه، ولو رُوِي بإسنادٍ فمن المعلوم أن أسانيدَ الحديثِ والآثارِ أكثر وأكبرُ، والعلماء بها أعلمُ
--------------------------------------------
ধারণা এবং প্রবৃত্তি, যদিও আরবি ভাষার ইমাম এবং আলেমগণ এর বিপরীতে ছিলেন।
আর কোনটি অধিক উত্তম: কুরআনের অর্থসমূহের ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শব্দাবলি এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের শব্দাবলি দ্বারা দলিল পেশ করা, যার মাধ্যমে বিশেষভাবে আয়াতসমূহের অর্থ বোঝা যায় এবং যা মূলত কাঙ্ক্ষিত, আর যার মাধ্যমে কুরআন যে ভাষায় নাজিল হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহ ও সাব্যস্ত বর্ণনার মাধ্যমে যে ভাষায় সম্বোধন করেছেন তা জানা যায়? নাকি এর ওপর কোনো কাব্যগ্রন্থের পঙক্তি দিয়ে দলিল পেশ করা, যেমন তার উক্তি:
নিশ্চয়ই কথা অন্তরের মাঝেই থাকে, আর জিহ্বাকে তো কেবল অন্তরের পরিচায়ক করা হয়েছে।
এবং যেমন তার উক্তি:
তারপর বিশ্র ইরাকের উপর উঠল, কোনো তলোয়ার কিংবা রক্তপাত ছাড়াই।
এবং যেমন তার উক্তি:
বদরের দিনে কতগুলো চেহারা করুণাময় আল্লাহর দিকে তাকিয়ে ছিল, তারা সফলতার প্রতীক্ষা করছিল।
এবং অনুরূপ সে সব কবিতা যার ব্যাপারে বলা হতে পারে যে, তা তার রচয়িতার পক্ষ থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়নি, বরং অনেক কাব্য-বিশারদ একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন। আর যদি তা সনদের সাথে বর্ণিতও হয়, তবে এটি সুবিদিত যে, হাদিস ও আছারের সনদসমূহ সংখ্যায় অনেক বেশি ও অধিক শক্তিশালী এবং আলেমগণ সে বিষয়ে অধিক বিজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জাওয়াবুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফুতইয়াল হামাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
وأصدقُ، وهم أعدادٌ لا يُحصِيهم إلَّا الله.
فإذا لم يَجُزْ تفسيرُ القرآن وتأويلُه بالألفاظ والمعاني التي هي بينَ
(1) محفوظةٍ منقولةٍ من إمامٍ إلى إمام ومن عددٍ إلى عددٍ، أفيجوزُ أن يُرجَعَ في معاني القرآن إلى بيتٍ من الشعر أو كلمةٍ من الغريب أحسنُ أحوالِها أن يَرويَها واحدٌ عدلٌ عن بعض الشعراء؟! وإذا كانت الأخبارُ لا تُفيد علمًا فجميعُ ما يذكرونه من اللغة الغربية والشعر المنقولة بمثل ذلك دونه، ولم نعلم أنه قاله عربي، بل يجوز أن يكون كذبًا، فإذا حملنا عليه كلام الله فقد قلنا على الله ما لا نعلم.
وهذا معلومٌ بالضرورة والاتفاق من المثبتةِ والنافيةِ أن اللغة المستفادة من الشعر والغريب الذي يعلمه الآحاد دُونَ ما يُستفاد من نَقْلِ أهلِ الحديث، فإذًا لا يُفيد العلم بأن العربيَّ قالَه، ولو عَلِمْنا أن العربي قالَه لم يكن عِلْمنا بمرادِ العربي منه إلَّا دون عِلْمِنا بمرادِ الرسول والصحابة والتابعين من ألفاظهم. فإذا كان هذا دونَ الحديث في النقل والدلالة لم يكن حملُ معاني القرآنِ عليه بأولى من حَمْلِها على معنى الحديث والآثار، بل تلك أولى من وجوهٍ كثيرة، بل لا يجوز أن يقال: هذا معنى الآية لمجرد إسناد الشعر والغريب ودلالة ذلك، إذ هما لا يُفِيدانِ العلمَ به، فيكون تفسير القرآن بهذه الطريق قولًا على الله بلا علم.
وإذا لم يكن هذا معلومًا، وغيرُه ليسَ معلومًا، بطلتْ دلالةُ الكتابِ والسنة، وسقطَ الاستدلالُ به وفهمُ معانيه، والله أمرَنا بتدبُّرِه وعَقْلِه، فإذا لم يكن لنا طريقٌ إلى العلم بمعناه، لا من جهة نَقْلِ الشعر والغريب، ولا
--------------------------------------------
এবং অধিক সত্যবাদী, আর তারা এমন এক গোষ্ঠী যাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ গণনা করতে পারে না।
সুতরাং যদি ইমাম থেকে ইমাম এবং একদল থেকে অন্য দলের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষিত ও বর্ণিত শব্দ ও অর্থসমূহ—যা সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে বিদ্যমান—তা দ্বারা কুরআনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা বৈধ না হয়, তবে কি কুরআনের অর্থের ক্ষেত্রে কোনো কবিতার পংক্তি বা কোনো বিরল শব্দের দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ হবে, যার সর্বোত্তম অবস্থা হলো এই যে, কোনো একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি কোনো কবি থেকে তা বর্ণনা করেছেন?! আর যদি এই বর্ণনাগুলো নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান না করে, তবে তারা বিরল ভাষা ও কবিতার যে বিষয়গুলো উল্লেখ করে তা তো এর চেয়েও নিম্নমানের। আমরা তো জানিও না যে কোনো আরব ব্যক্তি এটি বলেছে কি না; বরং এটি মিথ্যা হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। অতএব, যদি আমরা আল্লাহর কালামকে তার ওপর চাপিয়ে দিই, তবে আমরা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বললাম যা আমরা জানি না।
এটি সাব্যস্তকারী এবং অস্বীকারকারী—উভয় পক্ষের নিকট অকাট্যভাবে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে জানা যে, কবিতা ও বিরল শব্দাবলি থেকে অর্জিত ভাষা যা হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তি জানেন, তা হাদিস বিশারদগণের বর্ণনার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের চেয়ে নিম্নমানের। সুতরাং এটি কোনো আরব ব্যক্তি বলেছে—এমন নিশ্চিত জ্ঞান তা প্রদান করে না। আর যদি আমরা জানিও যে কোনো আরব তা বলেছে, তবুও সেই আরবের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান রাসূল, সাহাবী ও তাবেয়ীদের ব্যবহৃত শব্দের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের চেয়ে কমই হবে। সুতরাং এটি যদি বর্ণনা ও প্রমাণের দিক থেকে হাদিসের চেয়ে নিম্নমানের হয়, তবে কুরআনের অর্থকে তার ওপর প্রয়োগ করা হাদিস ও আসার-এর অর্থের ওপর প্রয়োগ করার চেয়ে অধিক যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। বরং হাদিস ও আসার-এর ওপর প্রয়োগ করাই বহু দিক থেকে অধিক সংগত। প্রকৃতপক্ষে, কেবল কবিতা ও বিরল শব্দের সনদ ও প্রমাণের ভিত্তিতে ‘এটিই আয়াতের অর্থ’—এমনটি বলা বৈধ নয়। যেহেতু এই উভয়টিই নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না, তাই এই পদ্ধতিতে কুরআনের তাফসীর করা হবে আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীন কথা বলা।
আর যদি এটি নিশ্চিতভাবে জানা না যায় এবং অন্যটিও জানা না থাকে, তবে কিতাব ও সুন্নাহর প্রমাণযোগ্যতা বাতিল হয়ে যাবে এবং এর দ্বারা দলিল গ্রহণ ও এর অর্থ অনুধাবন করার সুযোগ থাকবে না। অথচ আল্লাহ আমাদের তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও অনুধাবন করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং যদি কবিতা বা বিরল শব্দের বর্ণনার মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনোভাবে এর অর্থ জানার পথ আমাদের না থাকে...
--------------------------------------------