(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: -)
الرد على من قال بفناء الجنة والنار   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: الرد على من قال بفناء الجنة والنار وبيان الأقوال في ذلك

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: محمد بن عبد الله السمهري

الناشر: دار بلنسية - الرياض

الطبعة: الأولى، 1415، هـ - 1995م

عدد الصفحات: 116

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জান্নাত ও জাহান্নাম বিলীন হওয়ার প্রবক্তাদের খণ্ডন   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: জান্নাত ও জাহান্নাম বিলীন হওয়ার প্রবক্তাদের খণ্ডন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন মতের বর্ণনা

লেখক: তাক্বীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসেম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বালী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হি.)

গবেষক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সামহারী

প্রকাশক: দার বালানসিয়্যাহ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫, হিজরী - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১)
بيانات الكتاب

عنوان الكتاب: الرد على من قال بفناء الجنة والنار وبيان الأقوال في ذلك

تأليف: أحمد بن عبد الحليم بن تيمية الحراني (728هـ)

دراسة وتحقيق: محمد بن عبد الله السمهري

الناشر: دار بلنسية الرياض

الطبعة: الأولى1415هـ - 1995م

عدد المجلدات: [1]

مصدر الكتاب: موقع المكتبة الرقمية

(*) تم الحفاظ على ترتيب الصفحات

اعتنى به أسامة بن الزهراء - عفا الله عنه - عضو في ملتقى أهل الحديث
বইয়ের বিবরণ

বইয়ের শিরোনাম: জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হওয়ার প্রবক্তাদের প্রতিবাদ এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন মতামতের বর্ণনা

রচনা: আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (৭২৮ হিজরী)

গবেষণা ও তাহকীক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সামহারী

প্রকাশক: দার বালানসিয়াহ, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরী - ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: [১]

বইয়ের উৎস: ডিজিটাল লাইব্রেরি ওয়েবসাইট

(*) পৃষ্ঠার ক্রমধারা বজায় রাখা হয়েছে

এটি সম্পাদনা করেছেন উসামা বিন আয-যাহরা —আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন— মুলতাকা আহলে হাদীসের সদস্য
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة المحقق:

الحمد لله رب العالمين الرحمن الرحيم مالك يوم الدين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد …

فقد شاع واشتهر على ألسنة كثير من الدارسين لمسائل العقيدة القول بأن شيخ الإسلام ابن تيمية يميل إلى القول بفناء النار، وأن له في ذلك رسالة، وأن ما كتبه تلميذه العلامة ابن القيم في كتابه: "حادي الأرواح إلى بلاد الأفراح" في الباب السابع والستين حول هذه المسألة -مسألة فناء النار - قد استقاه من كلام شيخه ابن تيمية في تلك الرسالة (1) .

وأثناء بحثي في مخطوطات دار الكتب المصرية عثرت على نسخة خطية لرسالة مخطوطة في هذا الموضوع وقد تبيين لي - كما سيأتي - أنها هي رسالة شيخ الإسلام المشار إليها (2) ، وقد رغبت في تحقيقها وإخراجها وذلك لعدة أسباب أجملها فيما يلي:

أولا: أن هذه الرسالة لم تنتشر حتى الآن ضمن مؤلفات الشيخ المطبوعة.

ثانيا: أن هذه النسخة نادرة، مع أن بعض العلماء حرصوا على الحصول عليها، يقول الشيخ محمد ناصر الدين الألباني: "ولقد كان أملي كبيرا أن أجد

--------------------------------------------

(1) انظر "ص15" من هذا البحث.

(2) انظر "ص12".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু এবং বিচার দিবসের অধিপতি। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মোহর, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর ...

আকিদাহর মাসআলাসমূহ নিয়ে গবেষণাকারীদের অনেকের মুখে এই কথাটি বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ যে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ জাহান্নাম নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার মতের দিকে ঝুঁকেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রয়েছে। আরও প্রচলিত যে, তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘হাদিউল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ’ গ্রন্থের সাতষট্টিতম অধ্যায়ে এই মাসআলাটি সম্পর্কে—অর্থাৎ জাহান্নাম নিঃশেষ হওয়ার মাসআলাটি সম্পর্কে—যা কিছু লিখেছেন, তা তিনি উক্ত পুস্তিকায় বর্ণিত তাঁর শাইখ ইবনে তাইমিয়াহর বক্তব্য থেকেই গ্রহণ করেছেন (১)।

মিসরের ‘দারুল কুতুব’-এর পাণ্ডুলিপিসমূহ নিয়ে অনুসন্ধান করার সময় আমি এই বিষয়ে একটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাই। আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে—যেমনটি সামনে আলোচিত হবে—যে এটিই হলো শাইখুল ইসলামের সেই নির্দেশিত পুস্তিকা (২)। আমি এটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যা আমি নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি:

প্রথমত: এই পুস্তিকাটি এখন পর্যন্ত শাইখের মুদ্রিত গ্রন্থাবলির অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়নি।

দ্বিতীয়ত: এই পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত বিরল, যদিও অনেক আলেম এটি পাওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী বলেন: “আমার প্রবল আশা ছিল যে আমি খুঁজে পাব...

--------------------------------------------

(১) এই গবেষণার “পৃষ্ঠা ১৫” দেখুন।

(২) দেখুন “পৃষ্ঠা ১২”।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ৬)
رسالة ابن تيمية هذه مطبوعة في "مجموع الفتاوى" التي جمعها الشيخ عبد الرحمن بن محمد بن قاسم في خمسة وثلاثين مجلدا، ولكني - مع الأسف - لم أجد لها أثرا في شيء منها، بعد تقليبي لها كلها، والاستعانة بالفهارس التفصيلية الموضوعة لها … " (1) .

ثالثا: كثرة السائلين عن رأي شيخ الإسلام ابن تيمية في مسألة فناء النار، فلعل في نشر هذه الرسالة إجابة لذلك.

رابعا: أن خصوم شيخ الإسلام جعلوا من هذه الرسالة ذريعة للنيل منه والطعن فيه منذ عصره، وعلى رأس هؤلاء الشيخ علي بن عبد الكافي السبكي المتوفى سنة 756هـ، فقد ألف رسالة بعنوان "الاعتبار ببقاء الجنة والنار" (2) وهي رد على رسالة الشيخ التي هي موضوع البحث، وقد تحامل السبكي في هذه الرسالة في الرد على شيخ الإسلام ولم ينصفه، ثم شقت رسالته تلك طريقها إلى عالم المطبوعات، وصارت منشورة بسعي خصوم شيخ الإسلام المعاصرين ومن سار في ركابهم، فكان لابد من وضع الأمر في نصابه، كما سيأتي إن شاء الله (3) .

خامسا: أن ندرة نسخ هذه الرسالة جعلت الآراء تتضارب في إثباتها ونفيها بالنسبة لشيخ الإسلام كما نراه في كلام الدكتور علي الحربي، في رسالة له مطبوعة متداولة (4) .

--------------------------------------------

(1) مقدمة كتاب: "رفع الأستار لإبطال أدلة القائلين بفناء النار" للصنعاني تحقيق وتعليق الشيخ الألباني "ص14".

(2) طبع هذا الكتاب بمطبعة الترقي بدمشق عام 1347هـ وتوجد منه نسخة خطبة، مكتبة جستريتي بدبلن بهلوندا ضمن مجموعة برقم 3405/6.

(3) "19-23".

(4) هي رسالة بعنوان: "كشف الأستار لإبطال ادعاء فناء النار" طبع سنة 1410هـ وسيأتي مناقشة بعض ما فيها عند دراسة الكتاب إن شاء الله "ص19-25".
ইবনে তাইমিয়ার এই রিসালাটি 'মাজমুউল ফাতাওয়া'য় মুদ্রিত আছে যা শেখ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসেম পঁয়ত্রিশ খণ্ডে সংগ্রহ করেছেন, কিন্তু আমি - আফসোসের সাথে - এর সবকটি খণ্ড উল্টেপাল্টে দেখার পর এবং এর জন্য প্রস্তুতকৃত বিস্তারিত নির্ঘণ্টের সাহায্য নেওয়ার পরও এর কোনো চিহ্ন সেখানে খুঁজে পাইনি … " (১) ।

তৃতীয়ত: জাহান্নাম শেষ হয়ে যাওয়ার মাসআলায় শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার অভিমত সম্পর্কে প্রশ্নকারীদের আধিক্য, তাই সম্ভবত এই রিসালাটি প্রকাশের মাধ্যমে তার উত্তর পাওয়া যাবে।

চতুর্থত: শায়খুল ইসলামের বিরোধীরা তাঁর যুগ থেকেই এই রিসালাটিকে তাঁর সমালোচনা ও নিন্দার অসিলা বানিয়েছে, আর তাদের শীর্ষে রয়েছেন ৭৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী শেখ আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকি। তিনি "আল-ইতিবার বি-বাকাউল জান্নাতি ওয়ান নার" (২) শিরোনামে একটি রিসালা রচনা করেছেন যা শায়খুল ইসলামের আলোচ্য রিসালাটির একটি খণ্ডন। সুবকি এই রিসালায় শায়খুল ইসলামের খণ্ডন করতে গিয়ে তাঁর প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করেছেন এবং ইনসাফ করেননি। অতঃপর তাঁর সেই রিসালাটি মুদ্রণ জগতে স্থান করে নেয় এবং শায়খুল ইসলামের সমসাময়িক বিরোধীদের ও তাদের অনুসারীদের প্রচেষ্টায় সেটি প্রকাশিত হয়। ফলে বিষয়টিকে তার সঠিক অবস্থানে রাখা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে (৩)।

পঞ্চমত: এই রিসালাটির পাণ্ডুলিপির দুষ্প্রাপ্যতা শায়খুল ইসলামের প্রতি এর সম্পৃক্ততা সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মতামতের মধ্যে বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে, যেমনটি আমরা ডক্টর আলী আল-হারবির বক্তব্যে দেখতে পাই, যা তাঁর একটি মুদ্রিত ও প্রচলিত রিসালায় (৪) বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আস-সানআনি রচিত 'রাফউল আস্তার লি-ইবতালে আদিল্লাতিল কায়িলিনা বি-ফানাউন নার' নামক গ্রন্থের ভূমিকা, শেখ আলবানীর তাহকীক ও তালীকসহ "পৃষ্ঠা ১৪"।

(২) এই কিতাবটি ১৩৪৭ হিজরিতে দামেস্কের মাতবাতুত তারাক্কিতে মুদ্রিত হয়েছে এবং ডাবলিনের চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে ৩৪০৫/৬ নম্বর সংগ্রহের অধীনে এর একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান।

(৩) "১৯-২৩"।

(৪) এটি 'কাশফুল আস্তার লি-ইবতালে ইদ্দিয়া ফানাউন নার' শিরোনামের একটি রিসালা যা ১৪১০ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ কিতাবটি অধ্যয়নের সময় এর কিছু প্রসঙ্গের আলোচনা আসবে "পৃষ্ঠা ১৯-২৫"।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ৭)
هذا، وقد جعلت‌‌ خطة البحث بعد تلك المقدمة على النحو التالي:

القسم الأول: دراسة الكتاب ومنهجي في تحقيقه، والتعليق عليه، ووصف ما اعتمدت عليه من نسخ الكتاب ويشمل على المباحث التالية:

1 - المبحث الأول: تسمية الكتاب.

2 - المبحث الثاني: نسبته للمؤلف.

3 - المبحث الثالث: موقف شيخ الإسلام من مسألة فناء النار وآراء العلماء في ذلك وموقفهم من نسبة هذه المسألة إلى شيخ الإسلام.

4 - المبحث الرابع: بيان منهجي في تحقيق الكتاب والتعليق عليه.

5 - المبحث الخامس: وصف ما اعتمدت عليه من نسخ الكتاب.

القسم الثاني: نص الكتاب محققا ومعلقا عليه ثم الفهارس.
এর পর, এই ভূমিকার পর আমি গবেষণার পরিকল্পনা নিম্নোক্তভাবে সাজিয়েছি:

প্রথম বিভাগ: গ্রন্থ সংক্রান্ত আলোচনা এবং এটি সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি, এর ওপর টীকা প্রদান এবং আমি গ্রন্থের যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি সেগুলোর বর্ণনা। এটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নামকরণ।

২ - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধযুক্ততা।

৩ - তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাহান্নাম শেষ হয়ে যাওয়ার মাসআলায় শায়খুল ইসলামের অবস্থান, এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মতামত এবং এই মাসআলাটি শায়খুল ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান।

৪ - চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটি সম্পাদনা ও এর ওপর টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতির বর্ণনা।

৫ - পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আমি গ্রন্থের যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি তার বর্ণনা।

দ্বিতীয় বিভাগ: সম্পাদিত ও টীকাসহ গ্রন্থের মূল পাঠ এবং এরপর নির্ঘণ্টসমূহ।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول: أسباب تحقيق الرسالة

‌‌القسم الأول: "دراسة الكتاب، ومنهجي في تحقيقه والتعليق عليه، ووصف ما اعتمدته في التحقيق من نسخه" ويشمل عدة مباحث:

‌‌المبحث الأول: تسمية الكتاب.

لم أقف لهذه الرسالة على تسمية معينة من مؤلفها شيخ الإسلام ابن تيمية.

نعم قال تلميذه العلامة ابن القيم: "وكنت سألت شيخ الإسلام - قدس الله روحه - فقال لي هذه مسألة عظيمة كبيرة ولم يجب فيها بشيء، فمضى على ذلك زمن، فكتب فيها مصنفه المشهور - عليه رحمة الله (1) ".

لكن هذه ليست تسمية اصطلاحية كما ترى … ولهذا تعدد عنوانها، فنسخة المكتب الإسلامي جاء في بدايتها ما نصه: "قال شيخ الإسلام أبو العباس أحمد بن تيمية - رحمه الله تعالى - في رسالته في "الرد على من قال بفناء الجنة والنار" "ما نصه … " (2) .

وهذا العنوان يوافق ما ذكره الإمام ابن عبد الهادي حيث ذكر من مؤلفات الشيخ "قاعدة في الرد على من قال بفناء الجنة والنار" (3) .

أمَّا نسخة دار الكتب المصرية (4) فكتب فوق بدايتها من الجهة اليمنى

--------------------------------------------

(1) شفاء العليل "435".

(2) صورة الصفحة الأولى من نسخة المكتب الإسلامي كما في مقدمة "رفع الأستار" "53".

(3) انظر: "العقود الدرية" "67".

(4) سيأتي التعريف بها "ص29".
প্রথম পরিচ্ছেদ: রিসালাহটি সম্পাদনার কারণসমূহ

‌‌প্রথম অংশ: "গ্রন্থ পরিচিতি, এটি সম্পাদনা ও এর ওপর টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি এবং সম্পাদনার কাজে আমি যেসকল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি সেগুলোর বিবরণ" এবং এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটির নামকরণ.

আমি এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটির জন্য এর লেখক শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট নাম পাইনি।

হ্যাঁ, তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: "আমি শাইখুল ইসলামকে—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, 'এটি একটি মহান ও বড় মাসয়ালা' এবং তিনি এ বিষয়ে তখন কিছু উত্তর দেননি। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো এবং তিনি এ বিষয়ে তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থটি রচনা করলেন—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক (১)।"

কিন্তু আপনি যেমনটি দেখছেন, এটি কোনো পারিভাষিক নামকরণ নয়... এই কারণেই এর শিরোনামে বৈচিত্র্য দেখা যায়। আল-মাকতাব আল-ইসলামী এর পাণ্ডুলিপির শুরুতে নিম্নোক্ত পাঠটি এসেছে: "শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—'জান্নাত ও জাহান্নাম বিলীন হয়ে যাওয়ার প্রবক্তাদের খণ্ডনে' রচিত তাঁর রিসালাহতে যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ..." (২)।

এই শিরোনামটি ইমাম ইবনে আব্দুল হাদি যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তিনি শাইখের রচনাবলির তালিকায় উল্লেখ করেছেন: "জান্নাত ও জাহান্নাম বিলীন হওয়ার প্রবক্তাদের খণ্ডনে মূলনীতি" (৩)।

আর দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহর পাণ্ডুলিপি (৪) সম্পর্কে বলা যায়, এর শুরুর ডান দিকের উপরিভাগে লেখা আছে

--------------------------------------------

(১) শিফাউল আলীল "৪৩৫"।

(২) আল-মাকতাব আল-ইসলামী সংস্করণের প্রথম পৃষ্ঠার ছবি, যেমনটি "রাফউল আস্তার"-এর ভূমিকায় রয়েছে "৫৩"।

(৩) দেখুন: "আল-উকুদ আদ-দুররিয়্যাহ" "৬৭"।

(৪) এ সম্পর্কে বিস্তারিত পরিচয় সামনে আসবে "২৯ পৃষ্ঠায়"।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১০)
للصفحة ما نصه: "فصل في فناء الجنة والنار، وقد تنازع الناس في ذلك على ثلاثة أقوال". وذكر الثلاثة (1) .

وهذا العنوان مطابق لمضمون الكتاب.

ولكن جاء في بداية الرسالة بعد البسملة والحمدَلَة ما نصه "مسألة في الرد على من قال بفناء الجنة والنار وعلى من قال (2) . كالفارابية وذكر اختلاف الناس".

وجاء مقابل هذا الهامش الأيسر للنسخة ما نصه "حاشية" "مسألة في الرد على من قال بفناء الجنة والنار وبقائها، وبيان الصواب من ذلك" ثم كتب عقب ذلك ما نصه: "هذا في نسخة". ومقتضى ذلك أن هذه الرسالة اختلفت عناوين نسخها بناء على فهم لمضمون الرسالة عند نسخها.

وأما أحد خصوم الشيخ ومعاصره وهو: الشيخ علي بن عبد الكافي السُبكي المتوفى سنة 756 هجرية، فقد ألف رسالة بعنوان "الاعتبار ببقاء الجنة والنار" وهي رد على رسالة شيخ الإسلام ابن تيمية قال فيها: "وبدأنا بالنار، لأنا وقفنا على تصنيف لبعض أهل العصر في فنائها" (3) .

وقال الدكتور علي الحربي: إن الرسالة "رد على من قال بفناء النار" وإنها لهذا لا يصح استدلال الخصوم بها على أن ابن تيمية يقول بفناء النار، لأنها حجة عليهم لا لهم، كما هو صريح عنوان الرسالة المزعومة (4) .

ومما تقدم يظهر لنا أن الكتاب تعددت تسميته فيما توفر لدينا من نسخة الخطية، وفي بيان بعض العلماء والباحثين لموضوعه.

--------------------------------------------

(1) نسخة دار الكتب المصرية 1/أ.

(2) بياض في النسخة.

(3) "ص67" من رسالة المذكورة.

(4) "كشف الأستار" "ص82".
পৃষ্ঠার পাঠ্য ছিল: "জান্নাত ও জাহান্নামের বিলুপ্তি বিষয়ক পরিচ্ছেদ, এবং এ বিষয়ে মানুষ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছে।" তিনি সেই তিনটি মত উল্লেখ করেছেন (১)।

এবং এই শিরোনামটি বইয়ের মূল বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে রিসালাহর শুরুতে বিসমিল্লাহ এবং হামদ-এর পরে যা এসেছে তা হলো: "জান্নাত ও জাহান্নামের বিলুপ্তির প্রবক্তাদের খণ্ডন এবং যারা বলেছে (২) - যেমন আল-ফারাবিয়া, এবং মানুষের মতভেদ বিষয়ক মাসআলা।"

পাণ্ডুলিপির বাম দিকের মার্জিনের বিপরীতে "টীকা" হিসেবে লেখা ছিল: "জান্নাত ও জাহান্নামের বিলুপ্তি ও স্থায়িত্বের প্রবক্তাদের খণ্ডন এবং এ বিষয়ে সঠিক মতের বর্ণনা সংক্রান্ত মাসআলা", এরপর লেখা ছিল: "এটি একটি পাণ্ডুলিপিতে আছে"। এর অর্থ হলো, অনুলিপি করার সময় এই রিসালাহর মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে বোঝার ওপর ভিত্তি করে এর পাণ্ডুলিপিগুলোর শিরোনামে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

আর শাইখের অন্যতম বিরোধী ও সমসাময়িক আলিম, অর্থাৎ: শাইখ আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকি (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরী), তিনি "আল-ইতিবার বি-বাকাউল জান্নাতি ওয়ান নার" শিরোনামে একটি রিসালাহ রচনা করেছেন, যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রিসালাহর একটি খণ্ডন। তাতে তিনি বলেছেন: "আমরা জাহান্নাম দিয়ে শুরু করেছি, কারণ আমরা বর্তমান যুগের কারো একটি রচনার সন্ধান পেয়েছি যেখানে এর বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে" (৩)।

ডক্টর আলী আল-হারবী বলেছেন: রিসালাহটি "জাহান্নামের বিলুপ্তির প্রবক্তাদের খণ্ডন" সংক্রান্ত এবং এই কারণেই বিরোধীদের পক্ষে এটি দিয়ে ইবনে তাইমিয়া জাহান্নামের বিলুপ্তির প্রবক্তা হওয়ার দলিল দেওয়া সঠিক নয়, কারণ এটি তাদের পক্ষে নয় বরং তাদের বিরুদ্ধেই একটি প্রমাণ, যেমনটি কথিত রিসালাহর শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট (৪)।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, আমাদের কাছে উপলব্ধ পাণ্ডুলিপিগুলোতে এবং কিছু আলিম ও গবেষকদের বর্ণনায় বইটির বিভিন্ন নাম পাওয়া যায়।

--------------------------------------------

(১) মিশরীয় দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপি ১/আ।

(২) পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান।

(৩) উল্লিখিত রিসালাহর পৃষ্ঠা ৬৭।

(৪) "কাশফুল আস্তার" পৃষ্ঠা ৮২।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১১)
وخلاصة ذلك: أنه تارة أطلق على الكتاب أنه "رد على من قال بفناء الجنة والنار".

وتارة أطلق عليه أنه: "تصنيف في فناء النار".

وتارة أطلق عليه "فصل في فناء الجنة والنار، وقد تنازع الناس في ذلك على ثلاثة أقوال".

وهذا الإطلاق الأخير هو المطابق لمضمون الكتاب فعلا.

أما الإطلاق الأول: وما رتب عليه الدكتور الحربي فغير مسلَّم، لأن هذا العنوان ليس من صنع المؤلف وهو شيخ الإسلام ابن تيمية، وليس متفقا فيما توفر لدينا من نسخ الكتاب الخطية، كما أنه ليس مطابقا لواقع مضامين الكتاب كما تقدم.

أما الإطلاق الثاني: فهو صادر من خصم في معرض الرد والانتقاد لشيخ الإسلام، فاقتصر في عنونة الكتاب على بعض مضامينه، التي يريد الرد عليها، مع أن مضامين الكتاب أعم من ذلك، كما صرح به السُبكي نفسه في كتابه المتقدم الإشارة إليه فقال: "وقد وقفت على تصنيف المذكور وذكر - يعني شيخ الإسلام - فهي ثلاثة أقوال في فناء الجنة والنار" (1) .

وعلى ذلك يكون العنوان المطابق لواقع الكتاب هو: "الرد على من قال بفناء الجنة والنار، وبيان الأقوال في ذلك".

وهو أقرب شيء لأحد عناوين نسخة دار الكتب المصرية كما سبق ذكره.

ولهذا جعلته عنوانا للكتاب، والله الموفق للصواب.

--------------------------------------------

(1) الاعتبار ببقاء الجنة والنار للسبكي "ص67 ".
এর সারসংক্ষেপ হলো: কখনও এই কিতাবটিকে "জান্নাত ও জাহান্নামের বিনাশের প্রবক্তাদের খণ্ডন" বলে অভিহিত করা হয়েছে।

আবার কখনও একে "জাহান্নামের বিনাশ বিষয়ক রচনা" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

আবার কখনও একে "জান্নাত ও জাহান্নামের বিনাশ বিষয়ক পরিচ্ছেদ, যাতে মানুষ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছে" বলে অভিহিত করা হয়েছে।

আর এই শেষোক্ত অভিধাটিই মূলত কিতাবের বিষয়বস্তুর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

তবে প্রথম অভিধাটি এবং এর ওপর ভিত্তি করে ডক্টর আল-হারবি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ এই শিরোনামটি কিতাবের লেখক শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কর্তৃক প্রদত্ত নয় এবং আমাদের কাছে থাকা কিতাবের পাণ্ডুলিপিগুলোতেও এ ব্যাপারে ঐকমত্য নেই। সেই সাথে এটি ইতিপূর্বে বর্ণিত কিতাবের প্রকৃত বিষয়বস্তুর সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আর দ্বিতীয় অভিধাটি এসেছে একজন প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে শাইখুল ইসলামের খণ্ডন ও সমালোচনার উদ্দেশ্যে। তাই তিনি কিতাবের শিরোনাম প্রদানের ক্ষেত্রে কেবল সেই বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন যার তিনি উত্তর দিতে চেয়েছেন, যদিও কিতাবের মূল বিষয়বস্তু এর চেয়েও ব্যাপক। যেমনটি সুবকী নিজেই তার পূর্বোল্লিখিত কিতাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমি উল্লিখিত রচনাটি দেখেছি এবং তিনি—অর্থাৎ শাইখুল ইসলাম—উল্লেখ করেছেন যে, জান্নাত ও জাহান্নামের বিনাশের ব্যাপারে তিনটি মত রয়েছে।" (১)

এর ওপর ভিত্তি করে কিতাবের প্রকৃত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিরোনামটি হলো: "জান্নাত ও জাহান্নামের বিনাশের প্রবক্তাদের খণ্ডন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন মতের বর্ণনা"।

ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, এটি মিশরের 'দারুল কুতুব' এর পাণ্ডুলিপির অন্যতম শিরোনামের সবচাইতে কাছাকাছি।

এই কারণে আমি এটিকে কিতাবের শিরোনাম হিসেবে নির্ধারণ করেছি। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।

--------------------------------------------

(১) সুবকী কৃত 'আল-ইতিবার বি-বাকাউল জান্নাতি ওয়ান নার', পৃষ্ঠা ৬৭।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الثاني: نسبة الكتاب إلى المؤلف

تعتبر نسبة هذا الكتاب إلى مؤلفه شيخ الإسلام ابن تيمية أمرا هاما، نظرا لما وقع في ذلك من اختلاف بين الباحثين والمفهرسين، وشمل الخلاف المؤيدين للشيخ والمعارضين له، ووصل الأمر إلى حد إنكار وجود هذا التأليف لشيخ الإسلام، والحكم بوهم من نسبه إليه، وإن كان الذي نسبه من ألصق الناس وأخبرهم به، وهو تلميذه ابن القيم وبيان ذلك:

أن النسخة التي وجدت من هذا الكتاب في دار الكتاب المصرية (1) لم يذكر فيها نسبتها إلى شيخ الإسلام، وبناء على ذلك تردد المفهرسون في نسبتها للمؤلف، فقالوا عند فهرستها: يظن أنها لشيخ الإسلام ابن تيمية (2) .

وتبعا لذلك ذكر الدكتور عوض الله حجازي في كتابه "ابن القيم وموقفه من التفكير الإسلامي" (3) أن تلك الرسالة مجهولة المؤلف، لكنه اتبع ذلك بقوله: "ويظهر أنها من مؤلفات ابن تيمية".

أما الدكتور علي بن علي جابر الحربي، فتعدد إنكاره لوجود قول لشيخ الإسلام بفناء النار، أو وجود تأليفه له في هذا الموضوع، وذكر أن ابن القيم وابن الوزير قد وهما في نسبة ذلك إلى شيخ الإسلام، ثم راح يلمتس لهما عذرا بأن

--------------------------------------------

(1) سيأتي التعريف بها "ص29".

(2) كذا في بطاقة فهرسة النسخة بدار الكتب المصرية.

(3) "ص310".
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধযুক্তকরণ

এই কিতাবটি এর লেখক শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করার বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত, কারণ গবেষক এবং সূচিপত্র প্রণয়নকারীদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে। এই মতভেদ শাইখের সমর্থক এবং বিরোধী উভয় পক্ষকেই শামিল করেছে। বিষয়টি এমনকি শাইখুল ইসলামের এই রচনার অস্তিত্ব অস্বীকার করা এবং যারা একে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন তাদের ধারণাকে ভুল সাব্যস্ত করার পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে; যদিও যিনি একে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন তিনি তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর সম্পর্কে অধিক অবগত ব্যক্তি, অর্থাৎ তাঁর ছাত্র ইবনে আল-কাইয়্যিম। এর ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:

মিসরীয় কিতাবখানায় (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ) এই কিতাবের যে পাণ্ডুলিপিটি পাওয়া গেছে (১), তাতে শাইখুল ইসলামের প্রতি এর সম্বন্ধের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এর ওপর ভিত্তি করে সূচিপত্র প্রণয়নকারীরা এটি লেখকের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করার ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। তারা এর তালিকাভুক্ত করার সময় বলেছেন: "ধারণা করা হয় এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনা" (২)।

এরই ধারাবাহিকতায় ডক্টর আওয়াদুল্লাহ হিজাজি তাঁর "ইবনুল কাইয়্যিম ও ইসলামী চিন্তাধারায় তাঁর অবস্থান" (৩) কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, উক্ত রিসালাটির লেখক অজ্ঞাত, তবে তিনি এর পরপরই বলেছেন: "এবং প্রতীয়মান হয় যে এটি ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত।"

পক্ষান্তরে ডক্টর আলী বিন আলী জাবির আল-হারবি জাহান্নাম নিঃশেষ হয়ে যাওয়া সম্পর্কে শাইখুল ইসলামের কোনো বক্তব্য থাকা বা এই বিষয়ে তাঁর কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ থাকার বিষয়টিকে বারবার অস্বীকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনুল ওয়াযীর এটিকে শাইখুল ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁদের জন্য অজুহাত খুঁজতে শুরু করেছেন যে—

--------------------------------------------

(১) সামনে "পৃষ্ঠা ২৯"-এ এর পরিচয় আসবে।

(২) মিসরীয় কিতাবখানার (দারুল কুতুব) পাণ্ডুলিপি সূচি কার্ডে এরূপ রয়েছে।

(৩) "পৃষ্ঠা ৩১০"।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১৩)
الكمال لله وحده وأن ذلك من الوهم اليسير الذي لا يخرج العالم عن حد الثقة (1) .

وفي بعض المرات ذكر أن ما صرح به ابن القيم من أن شيخه شيخ الإسلام صنف في هذه المسألة مصنفه المشهور لكنه لم يصل إلينا -حسب علمي - ولو نشر لأقام الدنيا وأقعدها خصومه (2) .

وفي موضع ثان قال: "ويغلب على ظني عدم وجوده" (3) .

وفي موضع آخر قال: "إن الرسالة المزعومة" (4) .

فلما رأى الدكتور الحربي أن الشيخ الألباني ذكر قطعة من نسخة خطية، وجدت لدى المكتب الإسلامي ومصرح فيها بنسبة الكتاب إلى شيخ الإسلام كما سيأتي توضيحه (5) لما رأى الدكتور ذلك وحاول دفع نسبتها لشيخ الإسلام فقال: "وأما الورقات الثلاث التي ذكر الألباني أنه وجدها في دشت ضمن مخطوطات المكتب الإسلامي، وصورها في مقدمته لكتاب "رفع الأستار" للصنعاني، وأنها لكاتب مجهول من خطوط القرن الحادي عشر الهجري من رسالة لابن تيمية في الرد على من قال بفناء الجنة والنار، فلا تعتبر من مصنفات ابن تيمية، لانتفاء الشروط المتبعة في مناهج البحث والتحقيق المعروفة عند أهل هذا الشأن، ومن ذلك جهالة الكاتب" (6) .

--------------------------------------------

(1) "كشف الأستار لإبطال ادعاء فناء النار" للدكتور علي الحربي "16-17-28-30-31-34-41-58-59-69-70-71-77-82-83.

(2) المرجع السابق "ص82".

(3) المرجع السابق "ص45".

(4) المرجع السابق "ص59".

(5) المرجع السابق "ص82".

(6) المرجع السابق "ص82".
পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং এটি একটি সামান্য ভ্রান্তি যা আলেমকে নির্ভরযোগ্যতার সীমা থেকে বের করে দেয় না (১)।

এবং কোনো কোনো সময় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইবনুল কায়্যিম যা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে তার উস্তাদ শায়খুল ইসলাম এই বিষয়ে তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থটি রচনা করেছেন, কিন্তু আমার জানামতে তা আমাদের কাছে পৌঁছেনি; আর যদি এটি প্রকাশিত হতো তবে তা দুনিয়া কাঁপিয়ে দিত এবং তার বিরোধীদের নাজেহাল করত (২)।

দ্বিতীয় এক স্থানে তিনি বলেছেন: "এবং আমার প্রবল ধারণা হলো এটি অস্তিত্বহীন" (৩)।

অন্য এক স্থানে তিনি বলেছেন: "কথিত সেই রিসালাটি" (৪)।

যখন ডক্টর আল-হারবী দেখলেন যে শায়খ আলবানী একটি পাণ্ডুলিপির অংশ বিশেষ উল্লেখ করেছেন, যা আল-মাকতাব আল-ইসলামীর কাছে পাওয়া গেছে এবং তাতে কিতাবটিকে শায়খুল ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে—যেমনটি সামনে ব্যাখ্যা করা হবে (৫)—যখন ডক্টর এটি দেখলেন এবং শায়খুল ইসলামের প্রতি এর সম্বন্ধকে খণ্ডন করার চেষ্টা করলেন, তখন তিনি বললেন: "আর আলবানী যে তিনটি পৃষ্ঠার কথা উল্লেখ করেছেন যা তিনি আল-মাকতাব আল-ইসলামীর পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে একটি স্তূপের ভেতর পেয়েছেন এবং সান'আনীর 'রাফ'উল আসতার' কিতাবের ভূমিকায় সেটির ছবি প্রকাশ করেছেন, এবং যা হিজরি একাদশ শতাব্দীর লিপিতে কোনো এক অজ্ঞাত লেখকের হাতে লেখা ইবনে তাইমিয়ার একটি রিসালার অংশ—যারা জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের খণ্ডনস্বরূপ—সেটি ইবনে তাইমিয়ার রচনা হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে পরিচিত গবেষণা ও তাহকীক পদ্ধতির শর্তাবলি সেখানে অনুপস্থিত, যার মধ্যে একটি হলো লেখকের পরিচয় অজ্ঞাত থাকা" (৬)।

--------------------------------------------

(১) ডক্টর আলী আল-হারবী রচিত "কাশফুল আসতার লি ইবতাল ইদ্দিয়া ফানাউন নার" ১৬-১৭-২৮-৩০-৩১-৩৪-৪১-৫৮-৫৯-৬৯-৭০-৭১-৭৭-৮২-৮৩।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৮২।

(৩) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪৫।

(৪) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫৯।

(৫) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৮২।

(৬) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৮২।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال: "شهادته - يعني ابن القيم - بأن شيخه في هذه المسألة مصنفه المشهور الذي لم يظهر منه شيء سوى لصفحات الثلاث المشار إليها سابقا بأنها مجهولة الناسخ والتاريخ، مفتقرة للشروط المتبعة في مناهج البحث والتحقيق، ومعلوم عند أهل هذا الشأن ما يترتب على ذلك من عدم الثبوت" (1) .

ويمكن الجواب عن هذا بما يلي:

أولا: أنه طالما صرح في هذه القطعة بنسبة الكتاب لشيخ الإسلام، فلا يطعن في ذلك جهالة تاريخ النسخة، ولا جهالة ناسخها، محاولة الاستناد في دفع الثبوت إلى الشروط المتبعة في مناهج البحث والتحقيق، بناء على جهالة الناسخ وتاريخ النسخ، فهذا غير مُسَلَّم، حيث لم يعرف في تلك المناهج والقواعد أن جهالة الناسخ، وجهالة التاريخ للنسخة مما يقدح أيُّ منهما في نسبتها لمؤلفها المصرح به في صدر النسخة (2) .

ثانيا: أننا لو جعلنا جهالة الناسخ وتاريخ النسخ يقدحان في النسبة المصرح بها للمؤلف لترتب على ذلك أن نقدح في نسبة كثير من المؤلفات المخطوطة مما لم يوجد عليها اسم الناسخ، ولا تاريخ النسخ، كما يعرف ذلك من مراجعة فهارس المخطوطات، على أنه قد توفرت نسخة ثانية كاملة للكتاب وأثبت في آخرها اسم الناسخ، ومقابلته لها بأصلها.

ثالثا: ومما يؤيد صحة نسبة هذه الرسالة لشيخ الإسلام ابن تيمية ما تضمنه من نصوص وإحالات. تتطابق مع النقول والمؤلفات التي تثبت نسبتها لشيخ الإسلام كما يتضح ذلك من مراجعة النص المحقق وتوثيقه والتعليق عليه (3) .

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق "ص58".

(2) "رفع الأستار" للصنعاني تحقيق الألباني "ص8-9-53"

(3) انظر من أمثلة ذلك "ص44" هامش 5، "ص45" هامش 3، "ص49"، هامش 1"هامش 4.
এবং তিনি বলেছেন: "তার সাক্ষ্য—অর্থাৎ ইবনুল কাইয়্যিমের—এই মাসআলায় তার শাইখের বিখ্যাত কিতাব সম্পর্কে, যার কেবল পূর্বোল্লিখিত তিনটি পৃষ্ঠা প্রকাশ পেয়েছে; এটি অনুলিপিকারক এবং তারিখের দিক থেকে অজ্ঞাত, যা গবেষণা ও যাচাই-বাছাই পদ্ধতির অনুসৃত শর্তাবলির পরিপন্থী। আর এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট এটি জানা কথা যে, এর ফলে সেটি অপ্রমাণিত সাব্যস্ত হয়" (১)।

এবং এর উত্তর নিম্নোক্তভাবে দেওয়া সম্ভব:

প্রথমত: যেহেতু এই পাণ্ডুলিপির অংশে কিতাবটি শাইখুল ইসলামের বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকরণের তারিখ বা অনুলিপিকারক অজ্ঞাত হওয়া তার সত্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। অনুলিপিকারক এবং অনুলিপির তারিখ অজ্ঞাত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গবেষণা ও যাচাই-বাছাই পদ্ধতির অনুসৃত শর্তাবলির দোহাই দিয়ে এর প্রামাণ্যতাকে অস্বীকার করার প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, পাণ্ডুলিপির শুরুতে লেখকের নাম স্পষ্ট থাকা অবস্থায় অনুলিপিকারক বা তারিখ অজ্ঞাত হওয়াটা লেখকের দিকে কিতাবটির সম্বন্ধের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে বলে সেই সকল পদ্ধতি ও নিয়মে জানা যায় না (২)।

втоরয়ত: যদি আমরা অনুলিপিকারক এবং তারিখ অজ্ঞাত হওয়াকে লেখকের দিকে স্পষ্টভাবে করা সম্বন্ধের ক্ষেত্রে ত্রুটি হিসেবে গণ্য করি, তবে এর ফলে বহু পাণ্ডুলিপি বা রচনার সম্বন্ধও প্রশ্নবিদ্ধ হবে যেখানে অনুলিপিকারকের নাম বা তারিখ পাওয়া যায় না, যেমনটি পাণ্ডুলিপি সমূহের তালিকা পর্যালোচনা করলে জানা যায়। উপরন্তু, কিতাবটির একটি দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে যার শেষে অনুলিপিকারকের নাম এবং মূল কপির সাথে তার তুলনামূলক সংশোধনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

তৃতীয়ত: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি এই রিসালাহটির সম্বন্ধ সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি সহায়ক বিষয় হলো এতে থাকা উদ্ধৃতি ও রেফারেন্সসমূহ। এগুলো শাইখুল ইসলামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত অন্যান্য উদ্ধৃতি ও কিতাবসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমনটি সম্পাদিত পাঠ্য পর্যালোচনা, এর প্রমাণীকরণ এবং এর ওপর টীকা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় (৩)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র "পৃ. ৫৮"।

(২) সানআনি রচিত "রাফউল আস্তার", আলবানী কর্তৃক সম্পাদিত "পৃ. ৮-৯-৫৩"।

(৩) এর উদাহরণস্বরূপ দেখুন "পৃ. ৪৪" টীকা ৫, "পৃ. ৪৫" টীকা ৩, "পৃ. ৪৯", টীকা ১ এবং টীকা ৪।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১৫)
رابعا: أنه قد صرح بنسبة هذا الكتاب للمؤلف من لا يشك في خبرته بالشيخ، وولائه له ولاعتقاده السلفي، ألا وهو العلامة ابن القيم.

فقد قرر أن لشيخه ابن تيمية تصنيفا مشهورا في مسألة فناء النار (1) وشهادته دليل قاطع.

بل إن ما ذكره في كتابه "حادي الأرواح" حول هذه المسألة قد اعتمد فيه على رسالة شيخه ابن تيمية التي هي بصدد التحقيق، فإنه أحيانا يصرح بالنقل وأحيانا ينقل بتصرف وقد أشرت إلى ذلك في الهامش أثناء التحقيق.

خامسا: هذه الرسالة قد نسبها إلى شيخ الإسلام من خصومه المعاصرين له الشيخ: علي بن عبد الكافي السبكي، حيث ألف رسالة بعنوان "الاعتبار ببقاء الجنة والنار" وفي أثنائها قال: "وبدأنا بالنار لأنا وقفنا على تصنيف لبعض أهل العصر في فنائها" (2) .

ثم قال: "وقد وقفت على التصنيف المذكور، وذكر فيه ثلاثة أقوال في فناء الجنة والنار" (3) :

أحدها: أنهما تفنيان وقال إنه لم يقل به أحد من السلف.

والثاني: أنهما لا تفنيان.

والثالث: أن الجنة تبقى والنار تفنى (4) .

وجميع النصوص التي ساقها السُبكي في رسالته موجودة في رسالة شيخ الإسلام ابن تيمية التي هي موضوع التحقيق.

وبكل حال، فإن الناظر في هذه الرسالة يلحظ سمة بارزة لمنهج شيخ

--------------------------------------------

(1) شفاء العليل "ص435".

(2) "ص66" من الرسالة المذكورة. ضمن مجموع.

(3) المرجع السابق "ص67".

(4) المرجع السابق نفسه.
চতুর্থত: এমন এক ব্যক্তি এই কিতাবটি লেখকের প্রতি নিসবত করেছেন যাঁর শাইখের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা, তাঁর প্রতি আনুগত্য এবং তাঁর সালাফী আকিদা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই; তিনি হলেন আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম।

তিনি সাব্যস্ত করেছেন যে, তাঁর শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহর জাহান্নাম বিলীন হয়ে যাওয়া (ফানা) প্রসঙ্গে একটি প্রসিদ্ধ রচনা রয়েছে (১) এবং তাঁর সাক্ষ্য একটি অকাট্য দলিল।

বরং তিনি তাঁর 'হাদিউল আরওয়াহ' কিতাবে এই মাসআলা সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তাতে তিনি তাঁর শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহর সেই রিসালাহর (পুস্তিকা) ওপর নির্ভর করেছেন যা বর্তমানে তাহকীক করা হচ্ছে। কেননা তিনি কখনো কখনো সরাসরি উদ্ধৃতি দিয়েছেন, আবার কখনো সারসংক্ষেপ বা পরিবর্তনসহ বর্ণনা করেছেন; আমি তাহকীকের সময় টীকায় সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।

পঞ্চমত: এই রিসালাহটিকে শাইখুল ইসলামের সমসাময়িক প্রতিপক্ষদের একজন শাইখ আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকী তাঁর (ইবনে তাইমিয়্যাহর) দিকে নিসবত করেছেন। তিনি 'আল-ইতিবার বি-বাকাউল জান্নাতি ওয়ান নার' শিরোনামে একটি রিসালাহ রচনা করেছেন এবং সেখানে বলেছেন: "আমরা জাহান্নাম দিয়ে শুরু করেছি কারণ আমরা বর্তমান যুগের একজনের একটি রচনার সন্ধান পেয়েছি যেখানে এর বিলুপ্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে" (২)।

এরপর তিনি বলেছেন: "আমি উল্লিখিত রচনাটি দেখেছি, তাতে জান্নাত ও জাহান্নামের সমাপ্তি (ফানা) সম্পর্কে তিনটি অভিমত উল্লেখ করা হয়েছে" (৩):

প্রথমটি: উভয়টিই বিলীন হয়ে যাবে; এবং তিনি (লেখক) বলেছেন যে সালাফদের কেউ এমন কথা বলেননি।

দ্বিতীয়টি: উভয়টির কোনটিই বিলীন হবে না।

তৃতীয়টি: জান্নাত অবশিষ্ট থাকবে কিন্তু জাহান্নাম বিলীন হয়ে যাবে (৪)।

সুবকী তাঁর রিসালাহতে যে সকল উদ্ধৃতি পেশ করেছেন, তার সবগুলিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর এই রিসালাহতে বিদ্যমান রয়েছে যা বর্তমানে তাহকীকের বিষয়বস্তু।

যেকোনো বিচারেই, এই রিসালাহটির পাঠক শাইখের মানহাজের একটি প্রোজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করবেন

--------------------------------------------

(১) শিফাউল আলীল "পৃষ্ঠা ৪৩৫"।

(২) উল্লিখিত রিসালাহর "পৃষ্ঠা ৬৬"। একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র "পৃষ্ঠা ৬৭"।

(৪) পূর্বোক্ত একই সূত্র।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১৬)
الإسلام من حيث الأسلوب ومناقشة القضايا ولا يختلف أسلوب هذه الرسالة عن سائر مؤلفاته.

وهذا مما يؤيد صحة نسبة هذه الرسالة لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله -
পদ্ধতি এবং বিষয়বস্তু পর্যালোচনার দিক থেকে এই রিসালাহটির শৈলী তাঁর অন্যান্য সকল রচনাবলির চেয়ে ভিন্ন নয়।

আর এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি এই রিসালাহটির সম্বন্ধের বিশুদ্ধতাকে সমর্থনকারী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত -
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الثالث:

ويتضمن الآتي:

1 - من تناول مسألة فناء النار غير ابن تيمية.

2 - موقف شيخ الإسلام من مسألة فناء النار، وآراء العلماء في ذلك ومناقشتها.

وإليك تفصيل:

أولا: من تناول مسألة فناء النار غير ابن تيمية:

قبل الشروع في التعرف على موقف شيخ الإسلام من مسألة فناء النار يجدر معرفة أمر مهم، ألا وهو: بيان من تكلم في هذه المسألة غير ابن تيمية، فإن المتتبع لها في مظانها يجد العلماء السابقين على ابن تيمية واللاحقين له، قد تكلموا فيها تارة بذكر الروايات الواردة عن السلف فيها، وأحيانا بالإشارة إلى هذا القول وذكر الخلاف فيه، وقد أشار إلى ذلك جمع من العلماء منهم:

عبد بن حميد فقد ذكر الروايات في "تفسيره" (1) وعبد الحق بن عطية الأندلسي في تفسيره (2) والفخر الرازي في تفسيره (3) ، والقرطبي في "التذكرة" (4) ، وابن أبي العز الحنفي في "شرح الطحاوية" (5) ، وابن القيم في "حادي الأرواح" (6) وهو أوسعهم كلاما، ومحمد الأمين الشنقيطي في كتابه: "دفع إيهام الاضطراب

--------------------------------------------

(1) أورده ابن القيم في "شفاء العليل" "ص435".

(2) "المحرر الوجيز في تفسير الكتاب العزيز" 7/402 ط. قطر.

(3) "التفسير الكبير" للرازي 18/63.

(4) "526".

(5) "ص480-486".

(6) "ص340-379".
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

এতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

১ - ইবনে তাইমিয়া ব্যতীত অন্য যারা জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

২ - জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার মাসআলায় শায়খুল ইসলামের অবস্থান এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতামত ও সেগুলোর পর্যালোচনা।

বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

প্রথমত: ইবনে তাইমিয়া ব্যতীত অন্য যারা জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করেছেন:

জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার মাসআলায় শায়খুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে জানার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া সমীচীন; আর তা হলো: ইবনে তাইমিয়া ব্যতীত আর কারা এই মাসআলাটি নিয়ে কথা বলেছেন তা স্পষ্ট করা। কেননা যে ব্যক্তি এর উৎসগুলোতে অনুসন্ধান করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে, ইবনে তাইমিয়ার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আলেমগণ এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন; কখনও এ সম্পর্কিত সালাফদের থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে, আবার কখনও এই মতের দিকে ইঙ্গিত করে এবং এ সংক্রান্ত মতভেদগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে। একদল আলেম এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

আবদ ইবনে হুমাইদ, তিনি তাঁর "তাফসীর"-এ (১) এই বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন; আব্দুল হক ইবনে আতিয়্যাহ আল-আন্দালুসী তাঁর তাফসীরে (২); ফখরুদ্দীন আল-রাযী তাঁর তাফসীরে (৩); আল-কুরতুবী তাঁর "আত-তাযকিরাহ"-এ (৪); ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী "শারহুত তাহাবিয়্যাহ"-এ (৫); ইবনে আল-কাইয়্যিম তাঁর "হাদিল আরওয়াহ"-এ (৬), যা এ বিষয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত আলোচনা; এবং মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকীতী তাঁর কিতাব: "দাফউ ইহামিল ইদতিরাব"

--------------------------------------------

(১) ইবনে আল-কাইয়্যিম এটি "শিফাউল আলীল" এর ৪৩৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

(২) "আল-মুহাররার আল-ওয়াজীয় ফি তাফসীরিল কিতাবিল আযীয" ৭/৪০২, কাতার সংস্করণ।

(৩) রাযীর "আত-তাফসীর আল-কাবীর" ১৮/৬৩।

(৪) "৫২৬"।

(৫) "পৃষ্ঠা ৪৮০-৪৮৬"।

(৬) "পৃষ্ঠা ৩৪০-৩৭৯"।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১৮)
عن آيات الكتاب" (1) ، وأبو حامد الغزالي في كتابه: "المقصد الأسنى في شرح أسماء الله الحسنى" (2) ، وابن الوزير في كتابه: "إيثار الحق على الخلق" (3) ، والإمام الذهبي له مصنف في "صفة النار" يقع في جزأين (4) ، والحافظ بن رجب في كتاب "التخويف من النار" (5) ، والشيخ مرعي بن يوسف له كتاب: "توقيف الفريقين على خلود أهل الدارين" (6) . والشيخ الصنعاني في كتابه … رفع الأستار لإبطال أدلة القائلين بفناء النار" (7) .

هذا وبناءً على ما تقدم تبيين لي أن الكلام في مسألة فناء النار معروف لدى العلماء قبل عصر ابن تيمية وفي عصره، وبعده كما في عصره، وبعد كما في المصادر السابقة، وعليه ما موقفه من هذه المسألة؟

ثانيا: موقف شيخ الإسلام من مسألة فناء النار، وآراء العلماء في ذلك ومناقشتها:

لا يوجد لشيخ الإسلام - فيما أعلم - نص واضح جلي في هذه المسألة، ولكن له هذه الرسالة التي ألَّفها جوابا عن سؤال وجه إليه، فأجاب بذكر آراء غيره من العلماء في ذلك، وبين الفرق بين الدوام الجنة والنار، وفنائهما، ولم يعقب على ما ذكر من الآراء بقول خاص له هو، ومن هنا اختلفت الآراء والمفاهيم حول موقف شيخ الإسلام ابن تيمية من المسألة، وذلك على ثلاثة أقسام:

القسم الأول: تحاملوا على ابن تيمية وجعلوه حامل لواء هذه المسألة، وجعلوا منها غرضا للنيل منه وتضليله، وعلى رأس هذا القسم الشيخ علي بن عبد الكافي

--------------------------------------------

(1) "ص122-128".

(2) "ص62-63".

(3) "ص219".

(4) "رفع الأستار" للصنعاني "ص62".

(5) وهو مطبوع مشهور

(6) وهو مطبوع.

(7) وهو مطبوع بتحقيق الشيخ محمد الألباني.
"...কিতাবের আয়াতসমূহ থেকে" (১), এবং আবু হামিদ আল-গাজালি তাঁর কিতাব: "আল-মাকসাদুল আসনা ফি শারহি আসমাইল্লাহিল হুসনা" (২)-এ, এবং ইবনুল উজির তাঁর কিতাব: "ইছারুল হাক্কি আলাল খালক্ব" (৩)-এ, এবং ইমাম আয-যাহাবির 'সিফাতুন নার' (জাহান্নামের বর্ণনা) বিষয়ক একটি রচনা রয়েছে যা দুই খণ্ডে বিভক্ত (৪), এবং হাফেজ ইবনে রজব 'আত-তাখউইফ মিনান নার' কিতাবে (৫), এবং শেখ মারয়ি বিন ইউসুফের একটি কিতাব রয়েছে: "তাওকিফুল ফারিকাইনি আলা খুলুদি আহলিদ দারাইন" (৬)। এবং শেখ আস-সানআনি তাঁর কিতাব … 'রাফউল আস্তার লি ইবত্বালি আদিল্লাতিল ক্বায়িলিনা বি ফানাউন নার' (জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার প্রবক্তাদের দলিলসমূহ বাতিলের লক্ষ্যে পর্দা উন্মোচন) (৭)-এ।

পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার মাসআলাটি ইবনে তায়মিয়্যাহর যুগের পূর্ববর্তী আলেমদের নিকট, তাঁর যুগে এবং তাঁর পরবর্তী সময়েও সুপরিচিত ছিল, যেমনটি পূর্ববর্তী উৎসসমূহে দেখা যায়। এমতাবস্থায়, এই মাসআলায় তাঁর অবস্থান কী ছিল?

দ্বিতীয়ত: জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার মাসআলায় শায়খুল ইসলামের অবস্থান এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতামত ও সেগুলোর পর্যালোচনা:

আমার জানামতে এই মাসআলায় শায়খুল ইসলামের কোনো সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য নেই। তবে তাঁর এই রিসালাটি (পুস্তিকা) রয়েছে যা তিনি তাঁর নিকট প্রেরিত একটি প্রশ্নের উত্তরে রচনা করেছিলেন। সেখানে তিনি এ বিষয়ে অন্যান্য আলেমদের মতামত উল্লেখ করে উত্তর দিয়েছেন এবং জান্নাত ও জাহান্নামের স্থায়িত্ব ও বিলুপ্তির মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করেছেন। তিনি বর্ণিত মতামতগুলোর ওপর নিজস্ব কোনো বিশেষ মন্তব্য করেননি। এখান থেকেই শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যাহর অবস্থানের ব্যাপারে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণার সৃষ্টি হয়েছে, যা তিন ভাগে বিভক্ত:

প্রথম অংশ: যারা ইবনে তায়মিয়্যাহর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছেন এবং তাঁকে এই মাসআলার পতাকাবাহী সাব্যস্ত করেছেন। তারা একে তাঁর সমালোচনা করার এবং তাঁকে পথভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়ার লক্ষ্যে পরিণত করেছেন। এই শ্রেণির শীর্ষে রয়েছেন শেখ আলী বিন আব্দুল কাফি

--------------------------------------------

(১) "পৃষ্ঠা ১২২-১২৮"।

(২) "পৃষ্ঠা ৬২-৬৩"।

(৩) "পৃষ্ঠা ২১৯"।

(৪) আস-সানআনি রচিত "রাফউল আস্তার" পৃষ্ঠা ৬২।

(৫) এটি একটি সুপরিচিত মুদ্রিত গ্রন্থ।

(৬) এটি মুদ্রিত।

(৭) এটি শেখ মুহাম্মদ আলবানী কর্তৃক সম্পাদিত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ১৯)
السُبكي المتوفي سنة 756هـ، فإن له رسالة بعنوان "الاعتبار ببقاء الجنة والنار" ألفها ردا على رسالة شيخ الإسلام التي أقوم بتحقيقها، لكن بالمقارنة بين الرسالتين، رسالة ابن تيمية ورسالة السُبكي، نجد أن رسالة السبكي في رسالته تلك قد تحامل على ابن تيمية، سيأتي بيان أوجه ذلك.

القسم الثاني: من أنكر نسبة القول بفناء النار إلى شيخ لإسلام ابن تيمية، وقال إنه بريء منه براءة الذئب من دم يوسف بن يعقوب، ومن هؤلاء الدكتور علي بن علي الحربي اليماني، مؤلف كتاب "كشف الأستار لإبطال ادعاء فناء النار"، المنسوب لشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن قيم الجوزية" وسأعرض وجهة نظره في ذلك (1) .

القسم الثالث: تأملوا النصوص الواردة عن ابن تيمية في هذه المسألة وقالوا: إنه يميل فقط إلى القول بفناء النار انطلاقا من سعة رحمة الله وسيأتي ذكر هؤلاء.

وهذا أوان عرض تلك الآراء ومناقشتها:

أولا: ما كتبه السبكي في رسالته "الاعتبار ببقاء الجنة والنار" فبعد استعراض ما ذكره السبكي في هذه الرسالة التي هي رد على رسالة ابن تيمية، لاحظت أمورا سأشير إلى بعضها بإيجاز:

أولا: عنوان الرسالة "الاعتبار ببقاء الجنة والنار" فهو يشعر بأن ابن تيمية يقول بفناء كل من الجنة والنار كما هو مذهب الجهمية والمعتزلة، وليس الأمر كذلك بدليل أنه يرد على هؤلاء القائلين بفناء الجنة والنار، وإنما الذي نسب إليه مسألة فناء النار فقط.

ثانيا: في هذه الرسالة تطاول السبكي على أن ابن تيمية، وصفه بأوصاف

--------------------------------------------

(1) "ص22".
আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি), তাঁর 'আল-ইতিবার বি-বাকাউল জান্নাহ ওয়ান নার' শিরোনামে একটি পুস্তিকা রয়েছে যা তিনি শাইখুল ইসলামের সেই পুস্তিকার জবাবে রচনা করেছেন যা আমি বর্তমানে সম্পাদনা করছি। তবে এই দুই পুস্তিকা—ইবনে তাইমিয়্যাহর পুস্তিকা এবং সুবকীর পুস্তিকা—এর মধ্যে তুলনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, সুবকী তাঁর সেই পুস্তিকায় ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি আক্রমণাত্মক ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, যার দিকগুলো সামনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যারা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর দিকে জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার মতটি সম্বন্ধ করাকে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি এ থেকে ইউসুফ বিন ইয়াকুবের রক্তে নেকড়ের নির্দোষিতার মতোই নির্দোষ। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ডক্টর আলী বিন আলী আল-হারবী আল-য়ামানী, যিনি "কাশফুল আস্তার লি-ইবতাল ইদদিআ ফানাউল নার" (জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার দাবির অসারতা প্রমাণের পর্দা উন্মোচন) নামক গ্রন্থের রচয়িতা, যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর দিকে সম্বন্ধিত। এ বিষয়ে আমি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করব (১)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যারা এই বিষয়ে ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে বর্ণিত পাঠ্যসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করেছেন এবং বলেছেন: তিনি কেবল আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততার দিক বিবেচনা করে জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার মতের দিকে ঝুঁকেছেন। তাঁদের আলোচনাও সামনে আসবে।

আর এটাই হলো সেই সব মতামত উপস্থাপনা এবং পর্যালোচনার উপযুক্ত সময়:

প্রথমত: সুবকী তাঁর "আল-ইতিবার বি-বাকাউল জান্নাহ ওয়ান নার" পুস্তিকায় যা লিখেছেন। ইবনে তাইমিয়্যাহর পুস্তিকার জবাবে লিখিত সুবকীর এই পুস্তিকায় যা উল্লেখ করা হয়েছে তা পর্যালোচনার পর আমি কিছু বিষয় লক্ষ্য করেছি যা সংক্ষেপে নির্দেশ করব:

প্রথমত: পুস্তিকাটির শিরোনাম হলো "আল-ইতিবার বি-বাকাউল জান্নাহ ওয়ান নার" (জান্নাত ও জাহান্নামের স্থায়িত্বের ওপর বিচার-বিশ্লেষণ)। এটি এমন ধারণা দেয় যে, ইবনে তাইমিয়্যাহ জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়েরই বিলুপ্ত হওয়ার কথা বলেন, যেমনটি জাহমিয়্যাহ ও মুতাযিলাদের অভিমত। অথচ বিষয়টি এমন নয়; এর প্রমাণ হলো তিনি স্বয়ং জান্নাত ও জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার প্রবক্তাদের খণ্ডন করেছেন। তাঁর দিকে কেবল জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়টিই সম্বন্ধ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: এই পুস্তিকায় সুবকী ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন এবং তাঁকে এমন কিছু বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন—

--------------------------------------------

(১) "পৃষ্ঠা ২২"।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ২০)
بشعة. حيث إن من يطلع على رسالة السبكي يفهم أن ابن تيمية هو أول من تكلم في هذه المسألة، والحال أنه مسبوق إلى ذلك، والواجب على السبكي وغيره الإنصاف والعدل وهذا اللائق بمقام العلماء، لكن السبكي أغفل كلام العلماء السابقين على الشيخ وجعل ابن تيمية مبتدعا لها.

وقد ذكر الفخر الرازي المتوفى سنة 606هـ القائلين بذلك وساق في "تفسيره" أدلة القائلين بفناء النار من القرآن والمعقول" (1) .

ثالثا: عزى السبكي لابن تيمية أنه يختار القول بفناء النار، وأنه ينسبه للسلف (2) . بالرجوع إلى رسالة ابن تيمية، نجد أن ما ذكره السبكي ليس مسلما له، وذلك من وجهين:

أ - زعمه أن القول بفناء النار اختيار ابن تيمية، فإن هذا الاختيار لا يوجد في هذه الرسالة ولا غيرها من كتبه - فيما أعلم -.

ب - قوله: "إنه قول السلف"، ليس بصحيح فإن عبارة الشيخ هكذا "وأما القول بفناء النار ففيها قولان معروفان عن السلف والخلف" (3) .

رابعا: عرض السبكي في رسالته أكبر قدر من أدلة الكتاب والسنة الدالة على بقاء النار، وابن تيمية لم يكن يجهل هذه الآيات والأحاديث وحاشاه رحمه الله أن ينكر ثبوتها ودلالتها على البقاء، وبالتالي فإن اهتمام السبكي باستقصاء ذكر الأدلة لا يضيف شيئا جديدا غاب عن ابن تيمية بل هو تجاهل منه لمعرفة شيخ الإسلام بها ملاحظته والتسليم بها.

وعليه فالإشارة أو التلميح من السبكي بنسبة شيخ الإسلام للتضليل.

--------------------------------------------

(1) "التفسير الكبير" للفخر الرازي 18/63-66.

(2) الاعتبار ببقاء لجنة والنار" "67".

(3) انظر "ص52".
কুৎসিত। কেননা, সুবকির রিসালা বা পত্রটি পাঠ করলে কেউ বুঝবে যে, ইবনে তাইমিয়াই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই বিষয়ে কথা বলেছেন। অথচ বাস্তবতা হলো তাঁর আগেও অনেকে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। সুবকি এবং অন্যদের জন্য অপরিহার্য ছিল ইনসাফ ও ন্যায়বিচার করা, যা আলেমদের মর্যাদার সাথে মানানসই। কিন্তু সুবকি শায়খের পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্য উপেক্ষা করেছেন এবং ইবনে তাইমিয়াকে এর উদ্ভাবক হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

ফখর রাযী (মৃত্যু ৬০৬ হি.) এটি প্রবক্তাদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর 'তাফসীর'-এ কুরআন ও যুক্তির আলোকে জাহান্নাম নিঃশেষ হওয়ার প্রবক্তাদের দলিলসমূহ উপস্থাপন করেছেন (১)।

তৃতীয়ত: সুবকি ইবনে তাইমিয়ার প্রতি এটি আরোপ করেছেন যে, তিনি জাহান্নাম নিঃশেষ হওয়ার মতটি গ্রহণ করেছেন এবং তিনি একে সালাফদের অভিমত হিসেবে বর্ণনা করেন (২)। ইবনে তাইমিয়ার রিসালার দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, সুবকি যা উল্লেখ করেছেন তা প্রশ্নাতীত নয়, আর তা দুটি কারণে:

ক - তাঁর দাবি যে জাহান্নাম নিঃশেষ হওয়ার কথাটি ইবনে তাইমিয়ার পছন্দ বা বাছাইকৃত অভিমত; অথচ এই পছন্দটি এই রিসালা বা তাঁর অন্য কোনো কিতাবে পাওয়া যায় না—যতদূর আমি জানি।

খ - তাঁর উক্তি: "এটি সালাফদের বক্তব্য", এটি সঠিক নয়। কারণ শায়খের বক্তব্য ছিল এইরূপ: "আর জাহান্নাম নিঃশেষ হওয়ার ব্যাপারে সালাফ এবং খালাফদের থেকে দুটি সুপরিচিত বক্তব্য রয়েছে" (৩)।

চতুর্থত: সুবকি তাঁর রিসালায় কিতাব ও সুন্নাহ থেকে জাহান্নামের স্থায়িত্ব প্রমাণকারী সর্বাধিক পরিমাণ দলিল উপস্থাপন করেছেন। ইবনে তাইমিয়া এই আয়াত ও হাদিসগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন না এবং—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—তিনি এগুলোর সাব্যস্ত হওয়া বা স্থায়িত্বের ওপর এগুলোর প্রমাণের বিষয়টিকে অস্বীকার করবেন, এমনটি কল্পনাও করা যায় না। ফলে, সুবকি কর্তৃক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দলিলগুলো উল্লেখ করা নতুন কিছু যোগ করে না যা ইবনে তাইমিয়ার অজানা ছিল, বরং এটি শায়খুল ইসলামের এ সংক্রান্ত জ্ঞান, তাঁর পর্যবেক্ষণ ও এগুলোর প্রতি তাঁর স্বীকৃতির প্রতি সুবকির পক্ষ থেকে এক প্রকার উপেক্ষা মাত্র।

অতএব, সুবকির পক্ষ থেকে শায়খুল ইসলামকে বিভ্রান্তির দিকে ইঙ্গিত করা বা অভিযুক্ত করা একটি বিভ্রান্তি বা ভ্রান্তি মাত্র।

--------------------------------------------

(১) ফখর রাযীর "আত-তাফসীরুল কাবীর" ১৮/৬৩-৬৬।

(২) "আল-ইতিবার বি-বকাউল জান্নাতি ওয়ান নার" পৃষ্ঠা ৬৭।

(৩) দেখুন "পৃষ্ঠা ৫২"।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ২১)
والتبديع مردود عليه وفي هذا المعنى يقول العلامة ابن القيم "فقولكم إنه من أقوال أهل البدع كلام من لا خبرة له بمقالات بني آدم وآرائهم واختلافهم.." (1) .

ويقول: الشيخ صالح الفوزان حفظه الله: " … وغاية ما يقال إنه قول خطأ، أو رأي غير صواب، ولا يقال بدعة، وليس قصدي الدفاع عن هذا القول ولكن قصدي ببيان أنه ليس بدعة ولا ينطبق عليه ضابط البدعة وهو أنه من المسائل القديمة" (2) التي وقع الخلاف فيها قبل ابن تيمية.

خامسا: ابن تيمية رحمه الله نظرا في أدلة بقاء الجنة ودوامها، وأدلة النار ودوامها، فلاحظ أن بعض أدلة النار لا تصرح ببقاء ولكن تكل الأمر إلى مشيئة الله وما يريده بعباده وبعضها تقيده بحد كما في قوله تعالى: {النَّارُ مَثْوَاكُمْ خَالِدِينَ فِيهَا إِلا مَا شَاءَ اللَّهُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ} (3) .

وكما في قوله تعالى: {فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُوا فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ إِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ} (4) ، وقوله تعالى: {لابِثِينَ فِيهَا أَحْقَاباً} (5) .

وعند ذلك رأى أن هذه الأدلة تصلح أن تكون مقيدة لما أطلق من أدلة البقاء الدائم، وأن في تقييد المطلق جمعا بين الأدلة وهو أولى.

وكون تلك الأدلة أقل عددا من أدلة البقاء لا يؤثر، لأن العبرة بالثبوت، ولم

--------------------------------------------

(1) "حادي الأرواح" "ص356".

(2) "نظرات وتعقيبات على ما في كتاب السلفية من الهفوات" لمحمد سعيد رمضان "ص50" بقلم فضيلة الشيخ صالح الفوزان، حفظه الله.

(3) سورة الأنعام، الآية رقم:128.

(4) سورة هود، الآية رقم: 107.

(5) سورة النبأ، الآية رقم:23.
তাকে বিদআতি আখ্যা দেওয়া তাঁর ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানযোগ্য। এই অর্থেই আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, "তোমাদের এই দাবি যে এটি বিদআতিদের কথা—তা এমন ব্যক্তির বক্তব্য যার মানুষের মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের মতপার্থক্য সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই..." (১)।

শায়খ সালিহ আল-ফাওজান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন: " … বড়জোর যা বলা যেতে পারে তা হলো এটি একটি ভুল কথা বা সঠিক নয় এমন একটি মতামত, কিন্তু একে বিদআত বলা যাবে না। আমার উদ্দেশ্য এই মতের পক্ষ নেওয়া নয়, বরং আমার উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে এটি বিদআত নয় এবং বিদআতের সংজ্ঞাও এর ওপর প্রযোজ্য হয় না। কারণ এটি এমন একটি প্রাচীন মাসআলা (২) যা নিয়ে ইবনে তাইমিয়্যাহর অনেক আগেই মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল।"

পঞ্চম: ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) জান্নাতের স্থায়িত্ব ও চিরন্তনতা এবং জাহান্নামের স্থায়িত্ব ও চিরন্তনতা সংক্রান্ত দলিলসমূহ পর্যালোচনা করেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে, জাহান্নাম বিষয়ক কিছু দলিল স্পষ্টভাবে চিরস্থায়ী হওয়ার কথা বলে না, বরং বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছা এবং বান্দাদের বিষয়ে তাঁর ইচ্ছার ওপর ন্যস্ত করে। আবার কোনো কোনো দলিল একে সীমাবদ্ধ করে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আগুন তোমাদের আবাসস্থল, সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে আল্লাহ যা চান তা ছাড়া। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাবান, সর্বজ্ঞ।} (৩)।

এবং যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর যারা হতভাগ্য হয়েছে তারা তো আগুনের মধ্যে থাকবে, সেখানে তাদের জন্য থাকবে চিৎকার ও আর্তনাদ। তারা সেখানে স্থায়ী হবে যতদিন আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালক যা চান তা ছাড়া। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন।} (৪), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা সেখানে যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে।} (৫)।

এমতাবস্থায় তিনি দেখেন যে, এই দলিলগুলো চিরস্থায়ী হওয়ার সাধারণ দলিলগুলোকে নির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করার যোগ্যতা রাখে। আর সাধারণ দলিলকে নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে দলিলগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হয়, যা অধিক উত্তম।

আর এই দলিলগুলো সংখ্যার দিক থেকে স্থায়িত্বের দলিলগুলোর চেয়ে কম হওয়া কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ মূল বিবেচ্য বিষয় হলো প্রামাণিকতা। এবং...

--------------------------------------------

(১) "হাদিউল আরওয়াহ" "পৃ. ৩৫৬"।

(২) শায়খ সালিহ আল-ফাওজান (হাফিযাহুল্লাহ) কর্তৃক লিখিত মুহাম্মাদ সাঈদ রামাদানের "নাজরাত ওয়া তা’কিবাত আলা মা ফি কিতাবিস সালাফিয়্যাহ মিনাল হাফাওয়াত", "পৃ. ৫০"।

(৩) সূরা আল-আনআম, আয়াত নং: ১২৮।

(৪) সূরা হুদ, আয়াত নং: ১০৭।

(৫) সূরা আন-নাবা, আয়াত নং: ২৩।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ২২)
يكن ابن تيمية هو الوحيد في هذا الفهم فقد أورده بعض المفسرين عند الآيات السابقة.

سادسا: لاحظ السبكي على ابن تيمية استدلاله ببعض الآثار الدالة على فناء النار وكونها متكلما فيها، ويمكن الجواب عنه:

بأنه ربما لم يكن ابن تيمية وقف على علتها حينذاك، ولهذا اعتذر عنه العلامة الألباني بقوله: "ولعل ذلك كان منه إبان طلبه للعلم، وقبل توسعه في دراسة الكتاب والسنة، وتضلعه معرفة الأدلة الشرعية" (1) وأيضا فلم تكن هذه الآثار هي دليله الوحيد بل استدل كما تقدم بالآيات المقيدة (2) .

سابعا: علل ابن تيمية ما ذكره في رسالته بأمر مقرر بأصل الشرع وهو سعة رحمة الله تعالى قال الله عنها: {وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ} (3) . وعلق على ذلك الشيخ الألباني بقوله: "إلا أن الحامل له على ذلك إنما كان ثقته البالغة في رحمة ربه وعفوه، وأنها وسعت كل شيء دون ما استثناء، ووافق ذلك منه خلقا كريما وطبعا رحيما جبله الله عليه، عرف به بين أصحابه" (4) .

وكما سبق شيخ الإسلام إلى ذلك من بعض السلف فقد وافقه في ذلك بعض العلماء كالإمام ابن القيم وابن الوزير وغيرهما، بل ذكر مؤلف "كشف الأستار لإبطال ادعاء فناء النار" بأنه نوقشت رسالة ماجستير مقدمة من الباحث: فيصل عبد الله لجامعة أم القرى بمكة بعنوان "الجنة والنار والآراء فيهما" رجح صاحبها القول بفناء النار، وعلل ذلك بأنه يتفق مع رحمة الله الواسعة وكرمه الشامل وعفوه

--------------------------------------------

(1) مقدمة "رفع الأستار" "ص25".

(2) انظر "ص21"..

(3) سورة الأعراف، الآية 156.

(4) مقدمة رفع الأستار للعلامة الألباني "ص22".
এই উপলব্ধির ক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়্যাহ একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন না; বরং কতিপয় মুফাসসির পূর্বোক্ত আয়াতগুলোর আলোচনায় এটি উল্লেখ করেছেন।

ষষ্ঠত: সুবকী ইবনে তাইমিয়্যাহর বিরুদ্ধে জাহান্নাম নিঃশেষ হওয়ার ওপর প্রমাণবাহী কিছু বর্ণনার (আসার) মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন, যে বর্ণনাগুলো বিতর্কিত। এর উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব:

সম্ভবত ইবনে তাইমিয়্যাহ সেই সময়ে সেগুলোর ত্রুটি (ইল্লাত) সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এজন্য আল্লামা আলবানী তাঁর পক্ষ থেকে এই বলে ওজর পেশ করেছেন: "সম্ভবত এটি তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের শুরুর দিকে ছিল, কিতাব ও সুন্নাহর গবেষণায় ব্যাপকতা লাভ করার এবং শরয়ী দলিলসমূহের জ্ঞানে পারদর্শী হওয়ার পূর্বের ঘটনা।" (১) তাছাড়া, এই বর্ণনাগুলোই তাঁর একমাত্র দলিল ছিল না, বরং তিনি ইতিপূর্বে আলোচিত শর্তযুক্ত আয়াতসমূহ দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন (২)।

সপ্তমত: ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর রিসালায় যা উল্লেখ করেছেন তার কারণ হিসেবে শরীয়তের একটি প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি পেশ করেছেন, আর তা হলো আল্লাহ তাআলার রহমতের প্রশস্ততা। আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে বলেছেন: {আর আমার রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে} (৩)। এ বিষয়ে শেখ আলবানী মন্তব্য করে বলেন: "তবে তাঁকে এই মত গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল তাঁর রবের রহমত ও ক্ষমার ওপর সুগভীর আস্থা, এবং এই বিশ্বাস যে এটি কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। আর এটি তাঁর মহান চরিত্র ও দয়ালু স্বভাবের সাথেও সংগতিপূর্ণ ছিল যার ওপর আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সঙ্গীদের মাঝে পরিচিত ছিলেন" (৪)।

শাইখুল ইসলাম যেমন এ বিষয়ে পূর্বসূরিদের (সালাফ) কয়েকজনের অনুসরণ করেছেন, তেমনি পরবর্তী কিছু আলেমও তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, যেমন ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনুল ওয়াযীর এবং অন্যান্যরা। এমনকি 'কাশফ আল-আস্তার লি-ইবতাল ইদদিআ ফানা আন-নার' গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক ফয়সাল আবদুল্লাহ কর্তৃক 'জান্নাত ও জাহান্নাম এবং এ সংক্রান্ত মতামত' শিরোনামে একটি মাস্টার্স থিসিস উপস্থাপিত হয়েছে, যার লেখক জাহান্নাম নিঃশেষ হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি আল্লাহর প্রশস্ত রহমত, ব্যাপক মহানুভবতা ও ক্ষমার সাথে সংগতিপূর্ণ।

--------------------------------------------

(১) "রফউল আস্তার"-এর ভূমিকা "পৃ. ২৫"।

(২) দেখুন "পৃ. ২১"..

(৩) সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৫৬।

(৪) আল্লামা আলবানী রচিত রফউল আস্তার-এর ভূমিকা "পৃ. ২২"।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ২৩)
الفياض، وحكمته ولكنه لم يتعرض لما نسب إلى شيخ الإسلام ابن تيمية لا نفيا ولا إثباتا" (1) .

القسم الثاني: من أنكر نسبة القول بفناء النار إلى شيخ الإسلام ابن تيمية، من هؤلاء الدكتور علي الحربي اليماني مؤلف كتاب "كشف الأستار لإبطال ادعاء فناء النار" حيث ادعى فيه أولية السبق في الذب عن شيخ الإسلام في هذه المسألة العظيمة" (2) .

وقرر في خاتمة البحث "براءة شيخ الإسلام ابن تيمية من القول بفناء النار براءة الذئب من دم يوسف عليه السلام" (3) .

هذا، وباستعراض كتابه نجد أن حجته فيما توصل إليه من نتيجة تتلخص في الآتي:

أولا: قام باستقراء وتتبع كتب ابن تيمية فأخرج منها نصوصا من ردود الشيخ على مذهب الجهمية والمعتزلة القائلين بفناء الجنة والنار، علق على تلك النصوص بقوله: "فهل يصح القول بعد هذا أن شيخ الإسلام ابن تيمية يقول بفناء النار" (4) .

والجواب: أنه ينبغي أن يعلم أن هذه النصوص منصبَّة في الرد على مذهب الجهمية والمعتزلة القائلين بفناء الجنة والنار وهذا لا خلاف فيه ومحل النزاع في المذهب القائل ببقاء الجنة وفناء النار وحدها.

--------------------------------------------

(1) كشف الأستار "ص22".

(2) "ص10-840".

(3) "ص84".

(4) "ص71".
আল-ফায়্যাদ এবং তাঁর প্রজ্ঞা; তবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার দিকে যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নেতিবাচক বা ইতিবাচক কোনো কিছুই উল্লেখ করেননি" (১)।

দ্বিতীয় অংশ: যারা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার দিকে জাহান্নাম বিলীন হয়ে যাওয়ার মতবাদ আরোপ করাকে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডক্টর আলি আল-হারবি আল-ইয়ামানি, যিনি ‘কাশফুল আস্তার লি-ইবতালি ইদ্দিআ’ই ফানা ইন-নার’ (জাহান্নাম বিলীন হওয়ার দাবি বাতিলের লক্ষ্যে পর্দা উন্মোচন) নামক গ্রন্থের রচয়িতা। সেখানে তিনি এই মহান মাসআলায় শায়খুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা করার ক্ষেত্রে নিজের অগ্রগামিতার দাবি করেছেন" (২)।

এবং তিনি গবেষণার শেষে এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, “জাহান্নাম বিলীন হওয়ার মতবাদ থেকে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার নির্দোষিতা ঠিক তেমনই, যেমন ইউসুফ আলাইহিস সালামের রক্তের ব্যাপারে নেকড়ে বাঘটি নির্দোষ ছিল” (৩)।

তাঁর কিতাবটি পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তার স্বপক্ষে প্রদত্ত দলিলসমূহের সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

প্রথমত: তিনি ইবনে তাইমিয়ার কিতাবসমূহ ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সেখান থেকে জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টি বিলীন হওয়ার প্রবক্তা জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের মতবাদের খণ্ডনে শায়খের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন। ঐ সকল বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেছেন: “এর পরেও কি এই কথা বলা সঠিক হবে যে, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া জাহান্নাম বিলীন হওয়ার কথা বলেন?” (৪)।

উত্তর হলো: এটি জানা থাকা আবশ্যক যে, এই উদ্ধৃতিগুলো মূলত জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের মতবাদের খণ্ডনে করা হয়েছে যারা জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টি বিলীন হওয়ার কথা বলে। আর এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো সেই মতবাদটি, যা জান্নাত চিরস্থায়ী হওয়া এবং কেবল জাহান্নাম বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা বলে।

--------------------------------------------

(১) কাশফুল আস্তার “পৃ. ২২”।

(২) “পৃ. ১০-৮৪০”।

(৩) “পৃ. ৮৪”।

(৪) “পৃ. ৭১”।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد حكى شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم هذه الأقوال (1) .

وعليه فتكون النصوص المذكورة في غير محل النزاع، وبالتالي لا يدفع بها نسبة تلك الرسالة إلى شيخ الإسلام كما سيأتي بيان ذلك.

ثانيا: قال الدكتور الحربي ولو صح إسناده يعني رسالة القول بفناء النار إلى ابن تيمية لأقام الدنيا وأقعدها خصومه واقتطفوا منها الكلام الذي يحتجون به على شيخ الإسلام، ولصاحوا وما سكتوا عن إلزامه من كلامه مع كثرة الخصوم قديما وحديثا (2) .

والجواب: أن ما نفاه الدكتور الحربي هو ما وقع فعلا فإن خصوم الشيخ أقاموا الدنيا وأقعدوها وذلك في عصر الشيخ وبعده، فالسبكي وهو ممن عاصر الشيخ ونسب إليه تلك الرسالة وتتبع الشيخ - كما سيأتي - وتعقبه فيما جاء بها وراح من خلال ما جاء فيها يلزمه بإلزامات هو منها براء، ورسالة السبكي بعنوان "الاعتبار ببقاء الجنة والنار" كذلك جاء بعده من خصوم الشيخ ممن نسج على منواله وقد ساق الدكتور الحربي في رسالته أمثلة على ذلك" (3) .

ثالثا: أن الدكتور الحربي تردد موقفه فمرة يقول أن ما ذكره ابن القيم في كتابه: "حادي الأرواح" عن شيخه وهم منه أو أنه رجع عنه (4) .

وفي موضع آخر قال عن شيخ الإسلام "أنه كان في أول الأمر يميل إلى

--------------------------------------------

(1) وسيأتي ما ذكره شيخ الإسلام "ص42" ضمن الرسالة من هذا البحث، أما ما ذكره ابن القيم فهو في حادي الأرواح "ص340" الباب 67.

(2) المرجع السابق نفسه "ص58".

(3) المرجع السابق نفسه "ص15 16"

(4) المرجع السابق نفسه "ص70".
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম এই বক্তব্যগুলো বর্ণনা করেছেন (১)।

সুতরাং উল্লিখিত বক্তব্যসমূহ বিতর্কের বিষয়ের বাইরে, ফলস্বরূপ এর মাধ্যমে শাইখুল ইসলামের প্রতি সেই পুস্তিকাটির সম্বন্ধ অস্বীকার করা যায় না, যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে।

দ্বিতীয়ত: ডক্টর আল-হারবী বলেছেন, যদি ইবনে তাইমিয়ার প্রতি জাহান্নাম বিলীন হওয়ার মতবাদ শীর্ষক পুস্তিকাটির সম্বন্ধের সনদ বিশুদ্ধ হতো, তবে তাঁর বিরোধীরা তোলপাড় সৃষ্টি করত এবং তারা সেখান থেকে এমন সব কথা সংগ্রহ করত যা দিয়ে তারা শাইখুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করত। প্রাচীন ও বর্তমানকালের অসংখ্য বিরোধীরা শোরগোল করত এবং তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে অভিযুক্ত করতে তারা মোটেও নীরব থাকতো না (২)।

উত্তর হলো: ডক্টর আল-হারবী যা অস্বীকার করেছেন তা প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত হয়েছে। কেননা শাইখের বিরোধীরা তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল এবং সেটি শাইখের যুগে এবং তাঁর পরেও অব্যাহত ছিল। সুবকী—যিনি শাইখের সমসাময়িক ছিলেন এবং শাইখের প্রতি সেই পুস্তিকাটির সম্বন্ধ করেছেন এবং শাইখের পিছু নিয়েছেন—যেমনটি সামনে আসবে—এবং পুস্তিকাটিতে যা এসেছে সে বিষয়ে তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং তাতে যা বর্ণিত হয়েছে তার মাধ্যমে তাঁকে এমন সব বিষয়ে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করেছেন যা থেকে তিনি (ইবনে তাইমিয়া) মুক্ত ছিলেন। সুবকীর পুস্তিকাটির শিরোনাম হলো "আল-ইতিবার বি-বাকাউল জান্নাতি ওয়ান নার" (জান্নাত ও জাহান্নামের স্থায়িত্বের শিক্ষা)। একইভাবে শাইখের পরবর্তী বিরোধীরাও তাঁর পথ অনুসরণ করেছে এবং ডক্টর আল-হারবী তাঁর গবেষণাপত্রে এর কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন (৩)।

তৃতীয়ত: ডক্টর আল-হারবীর অবস্থানে দোদুল্যমানতা লক্ষ্য করা যায়; তিনি কখনো বলেন যে, ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'হাদিউল আরওয়াহ' গ্রন্থে তাঁর শাইখ থেকে যা উল্লেখ করেছেন তা তাঁর ভুল ধারণা অথবা তিনি (ইবনে তাইমিয়া) তা থেকে ফিরে এসেছিলেন (৪)।

অন্য এক স্থানে তিনি শাইখুল ইসলাম সম্পর্কে বলেছেন যে, "তিনি শুরুর দিকে ঝুঁকে ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) শাইখুল ইসলাম যা উল্লেখ করেছেন তা এই গবেষণার অন্তর্গত পুস্তিকার ৪২ নং পৃষ্ঠায় সামনে আসবে। আর ইবনুল কাইয়্যিম যা উল্লেখ করেছেন তা 'হাদিউল আরওয়াহ', পৃষ্ঠা ৩৪০, অধ্যায় ৬৭-তে রয়েছে।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৫৮।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৫-১৬।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৭০।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ২৫)
القول بفناء النار فعليه تحمل شهادة تلميذه العلامة ابن القيم فيما حكاه عنه (1) ، فهذا هو المناسب لثبوت نسبة الرسالة للشيخ ولتبرئة الشيخ ابن القيم وغيره من الوهم، كما سأوضحه فيما يلي:

وفي موضع آخر قال: "وأما شيخ الإسلام ابن تيمية وإن شهد أخص تلاميذه بأنه صنف مصنفه المشهور في هذه المسألة العظيمة، الذي لم يبين فيه ابن القيم نفيا ولا إثباتا - فلم يصل إلينا شيء من مؤلفات ابن تيمية في هذه المسألة العظيمة الخطيرة (2) وكذا ما ذكره ابن الوزير (3) والصنعاني (4) ، قال إن مخطوطة المكتب الإسلامي التي ذكرها الألباني في مقدمة كتاب "رفع الأستار" لا تصح نسبتها إلى شيخ الإسلام ابن تيمية" (5) .

وتقدم الجواب عن هذا أثناء الكلام عن نسبة الكتاب للمؤلف (6) .

القسم الثالث: ذهبت طائفة من العلماء إلى أن شيخ الإسلام ابن تيمية يميل إلى القول بفناء النار، ومن هؤلاء السفاريني في "لوامع الأنوار" (7) والشيخ صديق حسن خان في كتابه "يقظة أولي الاعتبار مما ورد في ذكر النار وأصحاب النار" (8) .

والشيخ الألوسي في "جلاء العينين في محاكمة الأحمدين" (9) .

--------------------------------------------

(1) كشف الأستار "ص45".

(2) المرجع السابق نفسه "ص 82"

(3) المرجع السابق نفسه "ص28"

(4) المرجع السابق نفسه "ص30"

(5) المرجع السابق نفسه "ص32-33"

(6) المرجع السابق نفسه "ص7"

(7) 2/235.

(8) "ص42".

(9) "488".
জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার বক্তব্যের ব্যাপারে তার ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম তার থেকে যা বর্ণনা করেছেন (১), সেই সাক্ষ্যটিই এর ওপর বর্তাবে। এটিই শাইখের প্রতি এই রিসালার সম্বন্ধ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এবং শাইখ ইবনুল কাইয়্যিম ও অন্যদেরকে বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে অধিক সংগতিপূর্ণ, যেমনটি আমি নিচে স্পষ্ট করব:

অন্য এক স্থানে তিনি বলেন: "আর শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সম্পর্কে যদিও তার বিশেষ ছাত্রগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি এই মহান মাসআলায় তার প্রসিদ্ধ কিতাবটি সংকলন করেছেন—যাতে ইবনুল কাইয়্যিম কোনো নেতিবাচক বা ইতিবাচক মত ব্যক্ত করেননি—তবে ইবনে তাইমিয়্যাহর কোনো লেখা এই মহান ও গুরুতর মাসআলা সম্পর্কে আমাদের কাছে পৌঁছেনি (২)। অনুরূপভাবে ইবনুল উজির (৩) এবং সানআনিও (৪) যা উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন যে আল-মাকতাবুল ইসলামীর পাণ্ডুলিপিটি—যা আলবানী 'রাফউল আস্তার' বইয়ের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন—তা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি সম্বন্ধ করা সঠিক নয়" (৫)।

লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধ নিয়ে আলোচনার সময় এর উত্তর পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে (৬)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: একদল আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ জাহান্নাম বিলুপ্ত হওয়ার মতের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন 'লাওয়ামিউল আনোয়ার' গ্রন্থে আস-সাফারিনি (৭) এবং শাইখ সিদ্দিক হাসান খান তার 'ইয়াকজাতু উলিল ইতিবার মিম্মা ওরাদা ফি জিকরিন নার ওয়া আসহাবিন নার' গ্রন্থে (৮)।

এবং শাইখ আলুসি তার 'জালাউল আইনাইন ফি মুহাকামাতিল আহমাদাইন' গ্রন্থে (৯)।

--------------------------------------------

(১) কাশফুল আস্তার, পৃষ্ঠা ৪৫।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৮২

(৩) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২৮

(৪) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩০

(৫) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩২-৩৩

(৬) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৭

(৭) ২/২৩৫।

(৮) পৃষ্ঠা ৪২।

(৯) ৪৮৮।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ২৬)
مع أن هذا قول وسط بين القولين السابقين، إلا أن هنا حقائق يمكن ذكرها وهي على النحو التالي:

أولا: أن ميل الشخص إلى قول من الأقوال لا يدل على أنه يجزم به ويقطع به، بل ظن لديه فمال إليه.

ثانيا: الميل نوعان:

1 - ميل ناشئ عن اجتهاد ونظر وموازنة بين الأدلة الشرعية، فهذا صاحبه مأجور، لكونه مجتهدا وإن أخطأ.

2 - ميل ناشئ عن الهوى وتعصب وشهوة النفس ونفي للدليل فهذا ميل مذموم قد ذم الله فاعله، قال تعالى: {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوا مَيْلاً عَظِيماً} (1) .

ثالثا: أن شيخ الإسلام وإن مال إلى هذا القول فهو مسبوق إليه، بقول الشيخ الألوسي أثناء كلامه عن شيخ الإسلام في هذه المسألة "ولئن سلم أنه - أي شيخ الإسلام - مال إلى ذلك فقد ذهب إليه بعض السلف وأفراد من الخلف … " (2) .

وبالتالي لا يكون مبتدعا في ذلك كما تقدمت الإشارة إلى هذا (3) .

رابعا: أن ابن تيمية كتب هذه الرسالة بناء على سؤال وجه إليه من تلميذه ابن القيم، وذكر له في السؤال أن هذه المسألة تشكل عليه كما في نص السؤال.

إذن فلا عجب أن الشيخ يستقصيها من جميع جوانبها ويوازن بين أدلتها، وعند ذلك ظن من ظن بأنه يقول بفناء النار أو يميل إلى القول به.

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية: 27.

(2) جلاء العينين للألوسي "ص488".

(3) راجع "ص21".
যদ্যপি এই মতটি পূর্ববর্তী দুটি মতের মধ্যে একটি মধ্যপন্থী অবস্থান, তবুও এখানে কিছু বাস্তবতা রয়েছে যা উল্লেখ করা যেতে পারে এবং সেগুলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: কোনো একটি মতের প্রতি কোনো ব্যক্তির ঝোঁক বা প্রবণতা এই নির্দেশ করে না যে তিনি সে বিষয়ে অকাট্য ও চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পোষণ করেন; বরং তার নিকট বিষয়টি প্রবল ধারণা হয়েছিল বিধায় তিনি সেদিকে ঝুঁকেছেন।

দ্বিতীয়ত: ঝোঁক বা প্রবণতা দুই প্রকার:

১ - এমন ঝোঁক যা ইজতিহাদ, গবেষণা এবং শরয়ি দলিলসমূহের তুলনামূলক পর্যালোচনার ফলে সৃষ্টি হয়; এই ব্যক্তি সওয়াব বা পুরস্কারের অধিকারী, কারণ তিনি একজন মুজতাহিদ, যদিও তিনি ভুল করে থাকেন।

২ - এমন ঝোঁক যা খেয়াল-খুশি, গোঁড়ামি, প্রবৃত্তির চাহিদা এবং দলিল প্রত্যাখ্যানের ফলে সৃষ্টি হয়; এটি একটি নিন্দনীয় ঝোঁক যার কর্তাকে আল্লাহ নিন্দা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে তোমরা যেন ভীষণভাবে সত্য থেকে বিচ্যুত হও} (১)।

তৃতীয়ত: শাইখুল ইসলাম যদিও এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন, তবে এই মত প্রকাশে তিনি প্রথম ব্যক্তি নন; শাইখ আলুসি এই বিষয়ে শাইখুল ইসলাম সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেন: "যদি মেনেও নেওয়া হয় যে তিনি—অর্থাৎ শাইখুল ইসলাম—এর প্রতি ঝুঁকেছেন, তবে সালাফদের কেউ কেউ এবং খালাফদের কতিপয় ব্যক্তি ইতিপূর্বে এই মত গ্রহণ করেছেন..." (২)।

ফলশ্রুতিতে, এই ক্ষেত্রে তিনি বিদআতি বা নতুন কিছুর উদ্ভাবক হবেন না, যেমনটি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে (৩)।

চতুর্থত: ইবনে তাইমিয়্যাহ এই রিসালা বা পত্রটি লিখেছিলেন তার ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের পক্ষ থেকে তার নিকট প্রেরিত একটি প্রশ্নের ভিত্তিতে। ইবনুল কাইয়্যিম তার প্রশ্নে উল্লেখ করেছিলেন যে, এই বিষয়টি তার নিকট জটিল মনে হচ্ছে, যেমনটি প্রশ্নের পাঠ্যে বিদ্যমান।

অতএব, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে শাইখ বিষয়টি সমস্ত দিক থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করেছেন এবং এর দলিলগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেছেন। এমতাবস্থায়, যারা মনে করার তারা মনে করেছেন যে তিনি জাহান্নাম নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলছেন অথবা এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৭।

(২) আলুসি রচিত জ্বালাউল আইনাইন "পৃ. ৪৮৮"।

(৩) দ্রষ্টব্য "পৃ. ২১"।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ২৭)
يقول العلامة ابن القيم: "كنت سألت شيخ الإسلام - قدس الله روحه - فقال لي هذه المسألة عظيمة كبيرة، ولم يجب فيها بشيء، فمضى على ذلك زمن حتى رأيت في "تفسير عبد الحميد الكشي" بعض تلك الآثار - الدالة على فناء النار - فأرسلت إليه كتاب وهو في مجلسه الأخير، وعلَّمت على ذلك الموضع، وقلت للرسول: قل له: هذا الموضع يشكل عليه، ولا يدري ما هو. فيكتب فيه مصنفه المشهور - رحمة الله عليه" (1) .

خامسا: أن هذا الميل الذي فهم من تلك المسألة غير مشهور في كتب الشيخ المتداولة، بل المشهور عنه فيها تقرير عقيدة أهل السنة والجماعة عموما والذب عنها، ومن ذلك الرد على الجهمية والمعتزلة القائلين بفناء الجنة والنار.

وقد تتبع الشيخ العلامة محمد ناصر الدين الألباني ما جاء عنه في ذلك فذكرها في مقدمة تحقيق الكتاب "رفع الأستار لإبطال أدلة القائلين بفناء النار" (2) .

سادساً: يحتمل عدم ذكر الشيخ رحمه الله رأيا خاصا له في هذه المسألة سببه بقاؤه على الأصل وهو القول بما عليه أهل السنة والجماعة من دوام النار وعدم فنائها.

وعليه فلا ضير من نسبة هذه الرسالة إلى الشيخ ونشرها لإظهار موقفه من المسألة في حجمه الطبيعي دون إفراط في الإنكار، ولا تفريط في الثبوت.

--------------------------------------------

(1) شفاء العليل في مسائل القضاء والقدر والحكمة والتعليل"ص435".

(2) انظر "ص20-22-46".
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "আমি শায়খুল ইসলামকে - আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন - জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন এই বিষয়টি অনেক বড় ও গুরুতর, এবং তিনি এতে কোনো উত্তর দেননি। এরপর বেশ কিছুকাল অতিবাহিত হওয়ার পর আমি 'আবদুল হামিদ আল-কাশশি-র তাফসির'-এ জাহান্নাম বিলীন হওয়ার নির্দেশক কিছু বর্ণনা দেখতে পাই। তখন আমি তাঁর নিকট একটি কিতাব পাঠালাম যখন তিনি তাঁর জীবনের শেষ মজলিসে ছিলেন, এবং সেই স্থানটি চিহ্নিত করে দিলাম। আমি বার্তাবাহককে বললাম: তাকে বলো: এই বিষয়টি তার নিকট অস্পষ্ট ঠেকছে এবং সে জানে না এটি কী। এরপর তিনি এতে তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থটি রচনা করেন - তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।" (১) .

পঞ্চমতঃ এই বিষয়ের ওপর যে ঝোঁকটি বোঝা গিয়েছে তা শায়খের প্রচলিত কিতাবসমূহে প্রসিদ্ধ নয়, বরং তাঁর থেকে এতে যা প্রসিদ্ধ তা হলো সাধারণভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার স্বীকৃতি প্রদান এবং তার পক্ষে প্রতিরক্ষা করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো জান্নাত ও জাহান্নাম বিলীন হওয়ার প্রবক্তা জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের খণ্ডন করা।

আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী এই বিষয়ে তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুসন্ধান করেছেন এবং "রাফউল আস্তার লি-ইবত্বালি আদিল্লাতিল কা-য়িলীনা বি-ফানা-ইন নার" কিতাবটির তাহকিকের ভূমিকায় তা উল্লেখ করেছেন (২) .

ষষ্ঠতঃ শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক এই বিষয়ে তাঁর কোনো বিশেষ মতামত উল্লেখ না করার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে তাঁর মূলনীতির ওপর অটল থাকা, আর তা হলো জাহান্নামের স্থায়িত্ব ও তা বিলীন না হওয়ার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতের ওপর থাকা।

সুতরাং, এই পুস্তিকাটি শায়খের দিকে সম্বন্ধ করতে এবং এই বিষয়ে তাঁর অবস্থানকে অতিরঞ্জন বা অবমূল্যায়ন ছাড়াই তার প্রকৃত অবয়বে প্রকাশের উদ্দেশ্যে তা প্রচার করতে কোনো বাধা নেই।

--------------------------------------------

(১) শিফাউল আলীল ফী মাসাইলিল কাজা ওয়াল কদর ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তা'লীল, পৃষ্ঠা ৪৩৫।

(২) দেখুন পৃষ্ঠা ২০-২২-৪৬।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ২৮)
استشكال وجوابه:

إن قال قائل على فرض أن شيخ الإسلام يميل إلى القول بفناء النار، فهل لأحد - بناء على ذلك الميل - أن يقول بهذا القول وينتصر له؟

فالجواب: أن الواجب على المسلم أن ينتصر للقول الذي دل عليه كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وكان عليه جمهور سلف الأمة، وهو: أن النار لا تفنى ولا تبيد أبدا، والقول بفنائها بعد بقائها مددا متطاولة قول مرجوح، وإذا كان بعض العلماء المشهورين بإمامتهم في الدين له اجتهاد في مسألة - كهذه - وهذا الاجتهاد ناشئ عن حسن نية وسلامة قصد، ونظر في الأدلة الشرعية وتجرد من الهوى والتعصب، فأخطأ فيها فهو مأجور على اجتهاده.

لكن هذا لا يجيز لأحد متابعة ذلك، وللإمام الحافظ ابن رجب كلام بناسب هذا المقام، قال رحمه الله.

"وها هنا أمر خفي ينبغي التفطن له، وهو: أن كثيرا من أئمة الدين قد يقول قولا مرجوحا ويكون مجتهدا فيه مأجورا على اجتهاده فيه، موضوعا عنه خطؤه فيه ولا يكون المنتصر لمقالته تلك بمنزلته في هذه الدرجة، لأنه قد لا ينتصر لهذا القول إلا لكون متبوعه قد قاله، بحيث لو أنه قد قاله غيره من أئمة الدين لما قبله، ولا انتصر له ولا إلى من يوافقه، ولا عادى من خلفه، ولا هو مع هذا يظن انه إنما انتصر للحق وإن أخطأ في اجتهاد وأما هذا التابع فقد شاب انتصاره لما يظنه الحق إرادة علو متبوعه وظهور كلمته، وأنه لا ينسب إلى الخطأ، وهذه دسيسة تقدح في قصد الانتصار للحق فافهم هذا فإنه مهم عظيم، والله يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم" (1) .

--------------------------------------------

(1) جامع العلوم والحكم للإمام ابن رجب الحنبلي حديث رقم 35ص 289.
একটি সমস্যা এবং এর সমাধান:

যদি কেউ বলে, শায়খুল ইসলাম জাহান্নাম বিলীন হয়ে যাওয়ার মতের প্রতি ঝুঁকেছেন—এমনটা ধরে নিলেও—সেই ঝুঁকে থাকার ওপর ভিত্তি করে কারো জন্য কি এই কথা বলা এবং এর সপক্ষে অবস্থান নেওয়া বৈধ হবে?

উত্তর: একজন মুসলিমের ওপর আবশ্যক হলো সেই মতের সপক্ষে থাকা যেটির প্রতি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ নির্দেশ করে এবং উম্মতের সালাফে সালেহীনদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যার ওপর অটল ছিলেন। আর সেই মতটি হলো: জাহান্নাম কখনো শেষ হবে না এবং তা কখনো চিরতরে বিলীন হবে না। দীর্ঘকাল স্থায়ী হওয়ার পর তা বিলীন হয়ে যাওয়ার কথাটি একটি দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য মত। যদি দ্বীনের ইমাম হিসেবে প্রসিদ্ধ কোনো আলেম এই ধরণের কোনো মাসআলায়—যেমন এটি—নিজস্ব ইজতিহাদ বা গবেষণা পেশ করেন এবং সেই ইজতিহাদ যদি সৎ নিয়ত, সঠিক উদ্দেশ্য, শরয়ী দলিলের প্রতি গভীর দৃষ্টি এবং প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত হয়ে করা হয়, আর এরপরও তিনি তাতে ভুল করেন, তবে তিনি তাঁর সেই ইজতিহাদের জন্য সওয়াব বা পুরস্কার পাবেন।

কিন্তু এটি কারো জন্য সেই ভুলের অনুসরণ করা বৈধ করে না। আর ইমাম হাফেজ ইবনে রজবের এই প্রসঙ্গের উপযোগী একটি বক্তব্য রয়েছে, তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন:

“এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে যা লক্ষ্য করা উচিত, আর তা হলো: দ্বীনের অনেক ইমাম হয়তো কোনো একটি দুর্বল (মারজুহ) মত প্রদান করতে পারেন এবং তিনি তাতে মুজতাহিদ হিসেবে গণ্য হন ও তাঁর ইজতিহাদের জন্য সওয়াব পান এবং তাঁর ভুলটি ক্ষমা করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর সেই বক্তব্যের সপক্ষে অবস্থান গ্রহণকারী ব্যক্তি এই মর্তবায় তাঁর সমপর্যায়ের হবেন না। কারণ, তিনি এই মতের সপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কেবল তাঁর অনুসরণীয় ইমাম সেটি বলেছেন বলে; অবস্থা এমন যে, যদি দ্বীনের অন্য কোনো ইমাম এটি বলতেন তবে তিনি তা গ্রহণ করতেন না, তার পক্ষে অবস্থান নিতেন না, যারা এর সাথে একমত তাদের প্রতি ঝুঁঁকতেন না এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের সাথে শত্রুতা করতেন না। অথচ তিনি এর সাথে মনে করছেন যে তিনি কেবল হকের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন, যদিও তিনি ইজতিহাদে ভুল করেছেন। পক্ষান্তরে এই অনুসারী ব্যক্তি যেটিকে হক মনে করছেন তার সপক্ষে তাঁর অবস্থান নেওয়ার মধ্যে তাঁর অনুসরণীয় ইমামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ এবং তাঁর কথাকে বিজয়ী করার ইচ্ছা মিশে আছে, এবং এই ইচ্ছা কাজ করছে যে তাঁকে যেন ভুলের দিকে নিসবত করা না হয়। এটি একটি গোপন ত্রুটি যা হকের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার উদ্দেশ্যকে কলুষিত করে। সুতরাং এটি অনুধাবন করুন, কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন।” (১) ।

--------------------------------------------

(১) ইমাম ইবনে রজব হাম্বলীর জামিউল উলূমি ওয়াল হিকাম, হাদিস নং ৩৫, পৃষ্ঠা ২৮৯।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الرابع: منهجي في تحقيق الكتاب والتعليق عليه

ويتلخص في النقاط التالية:

أولا: كتابه النص، وقد راعيت فيه قواعد إملاء الحديثة، وعلامات الترقيم كالفواصل، وعلامات الاستفهام، والتنصيص.

ثانيا: تحقيق النص وضبطه وذلك بمقابلة النسخة الخطية، وإثبات أهم الفروق بين النسخ في الهامش.

ثالثا: الرجوع إلى بعض المصادر التي نقل منها المؤلف سواء كان حرفيا أو بتصرف.

رابعا: تخريج الأحاديث والآثار من مصادرها الأصلية حسب الاستطاعة، أما الحكم عليها فإني أبذل الجهد في ذلك معتمدا على ما قاله أئمة هذا الشأن.

خامسا: التعليق على بعض المسائل التي تحتاج إلى تعليق.

سادسا: ترقيم آيات القرآن الكريم.

سابعا: الفهارس وهي على النحو التالي:

1 - فهرس الآيات القرآنية.

2 - فهرس الأحاديث النبوية والآثار مرتبة على حروف الهجاء.

3 - فهرس الأعلام.

4 - فهرس الفرق والقبائل.

5 - فهرس أسماء الكتب الواردة في الرسالة.

6 - فهرس مراجع ومصادر البحث.

7 - فهرس الموضوعات.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি

যা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের মাধ্যমে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

প্রথমত: মূল পাঠ লিপিবদ্ধকরণ; এতে আমি আধুনিক বানানরীতি এবং বিরামচিহ্ন যেমন কমা, প্রশ্নবোধক চিহ্ন ও উদ্ধৃতি চিহ্নের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করেছি।

দ্বিতীয়ত: মূল পাঠের সম্পাদনা ও বিন্যাস; আর তা পাণ্ডুলিপিসমূহের পারস্পরিক তুলনার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন কপির মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ পাঠভেদসমূহ পাদটীকায় উল্লেখ করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

তৃতীয়ত: লেখক যে সকল উৎস থেকে হুবহু কিংবা ভাবানুসারে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, সে সকল মূল উৎসের সহায়তা গ্রহণ।

চতুর্থত: সাধ্যানুসারে মূল উৎসসমূহ থেকে হাদীস ও আছারসমূহের তাখরীজ (সূত্র নির্দেশ) করা; আর এগুলোর মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমি এই শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

পঞ্চমত: প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহের ওপর টীকা প্রদান।

ষষ্ঠত: পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান।

সপ্তমত: নির্ঘণ্টসমূহ, যা নিম্নরূপ:

১ - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

২ - বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হাদীস ও আছারসমূহের নির্ঘণ্ট।

৩ - ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।

৪ - দল ও গোত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।

৫ - গবেষণাপত্রে উল্লিখিত গ্রন্থনামের নির্ঘণ্ট।

৬ - গবেষণার তথ্যসূত্র ও মূল উৎসসমূহের নির্ঘণ্ট।

৭ - বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌المبحث الخامس: وصف ما اعتمدت عليه من نسخ الكتاب

لقد تيسر لي - بحمد الله - من نسخ الكتاب ما يلي:

1 - صورة نسخة المكتب الإسلامي: وهي عبارة عن ثلاث صفحات فقط، مكتوبة بخط نسخ مقرؤ، ما عدا عدة كلمات في أعلا الصفحة الأخيرة مطموسة، عدد سطور تلك الصفحات مختلفة.

فالصفحة الأولى عدد سطورها 23، والصفحة الثانية 31، والصفحة الثالثة 17 سطرا، والكلام في الصفحات الثلاثة متصل من أولها إلى آخرها.

وتعتبر تلك الصفحات من أواخر الكتاب، كما ظهر لي ذلك من مقابلتها بنسخة دار الكتب المصرية، الآتي التعريف بها، وليس عليها علامة مقابلة النسخة بالأصل المنقولة عنه ولا بغيره، ولم يبين فيها اسم الناسخ ولا تاريخ النسخ، ولكن هذا لا يقدح في نسبتها للمؤلف كما قدمت ذكره (1) .

وقد ذكر الشيخ الألباني - حفظه الله - أن خطها لعله من خطوط القرن الحادي عشر الهجري (2) ، وأهم ميزة لتلك النسخة التصريح في بدايتها بنسبة الكتاب لشيخ الإسلام كما مر ذكره (3) .

2 - نسخة دار الكتب المصرية: هذه النسخة تقع ضمن مجموعة بدار الكتب المصرية تحت رقم 1899، من علم الكلام.

وخطها نسخ جيد، وعدد صفحاتها 12 صفحة، وعدد السطور 21 سطراً

--------------------------------------------

(1) "ص14".

(2) رفع الأستار بتحقيق الشيخ الألباني "ص8".

(3) "ص9".
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কিতাবটির যে সকল পাণ্ডুলিপির ওপর আমি নির্ভর করেছি তার বিবরণ

আল্লাহর প্রশংসায়, কিতাবটির নিম্নোক্ত পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করা আমার জন্য সহজ হয়েছে:

১ - আল-মাকতাব আল-ইসলামী পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি: এটি মাত্র তিনটি পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত, যা পাঠযোগ্য নাসখ লিপিতে লিখিত। তবে শেষ পৃষ্ঠার উপরিভাগের কয়েকটি শব্দ অস্পষ্ট বা মুছে গেছে। এই পৃষ্ঠাগুলোর লাইনের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন।

প্রথম পৃষ্ঠার লাইনের সংখ্যা ২৩, দ্বিতীয় পৃষ্ঠার ৩১ এবং তৃতীয় পৃষ্ঠার লাইনের সংখ্যা ১৭। এই তিনটি পৃষ্ঠার আলোচনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন।

এই পৃষ্ঠাগুলোকে কিতাবটির শেষদিকের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পরবর্তীতে পরিচিতি দেওয়া হবে এমন ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’ পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিতে মূল কপির সাথে বা অন্য কোনো কপির সাথে মিলিয়ে দেখার কোনো চিহ্ন নেই এবং এতে লিপিকারের নাম বা লিপির তারিখও উল্লেখ নেই। তবে এটি লেখকের দিকে কিতাবটির সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না, যেমনটি আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি (১)।

শায়খ আলবানী -আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন- উল্লেখ করেছেন যে, এর লিপি সম্ভবত হিজরি একাদশ শতাব্দীর (২)। এই পাণ্ডুলিপিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর শুরুতে শায়খুল ইসলামের দিকে কিতাবটির নিসবত বা সম্বন্ধ করার স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে (৩)।

২ - দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপি: এই পাণ্ডুলিপিটি দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর ইলমুল কালাম বিভাগের ১৮৯৯ নম্বর সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।

এর লিপি উন্নত মানের নাসখ। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২ এবং প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা ২১।

--------------------------------------------

(১) "পৃষ্ঠা ১৪"।

(২) শায়খ আলবানীর তাহকীককৃত ‘রাফউল আস্তার’, পৃষ্ঠা ৮।

(৩) "পৃষ্ঠা ৯"।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ৩১)
وبعضها 22سطرا، وقد سبق ذكر تعدد عنوانها (1) ، وهي تبدأ بعد البسملة والحمد له والصلاة والتسليم على النبي صلى الله عليه وسلم بما نصه "مسألة في الرد على من قال بفناء الجنة والنار، وعلى من قال بفناء (2) كالفارابية، وذكر اختلاف الناس في دار الجزاء بالعقاب، ودار الثواب بالإنعام، للناس في ذلك ثلاثة أقوال …

ولم يذكر في النسخة اسم المؤلف، ولا تاريخ النسخ، برغم هذا وجدت في النسخة علامات أخرى تدل على توثيقها وسلامة مضمونها، فقد كتب بهوامشها عدة تصحيحات لما في الصلب، وجاء بالهامش الأيمن وبالهامش الأسفل للصفحة 3/أعبارة "بلغ" وكلا الأمرين يدلان على مقابلة هذه النسخة بأصلها المنقولة عنه، وقد صرح بهذا في آخرها كما سيأتي، كما أنه جاء بهامش الصفحة الأولى ذكر عنوان للرسالة وكتب في آخره، "كذا في نسخة" وكتب بهوامشها أيضا عدة عبارات يختلف نصها عن نص العبارات المقابلة لها في صلب النسخة باختلافات دقيقة، ووضع فوق تلك العبارات حرف "خ" إشارة إلى أن العبارة جاءت هكذا في نسخة أخرى.

وهذا يدل على مقابلة النسخة، ليس بأصلها فقط، ولكن بنسخة أخرى للكتاب (3) وعلى هذا يمكن القول: إن هذه النسخة بمثابة نسختين للكتاب، كما أن ذلك يعطيها توثيقا هاما، بحيث يجعلها صالحة للاعتماد عليها في تحقيق نص الكتاب، وتعتبر هذه النسخة أيضا كاملة وبذلك تتميز عن النسخة السابقة التي بلغت ثلاث صفحات فقط كما سبق بيانه، وجاء في نهايتها ما نصه" بلغ مقابلة وتصحيحا حسب الإمكان، كتبه أحمد بن سعد الله الحراني، عفا الله عنه برحمته، آخرها، والحمد لله رب العالمين وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم وحسبنا الله ونعم الوكيل".

--------------------------------------------

(1) "ص9".

(2) بياض قدر كلمتين

(3) وقد أثبت هذه العبارات في مواضعها من التعليق على النص بإثبات الفروق بين النسختين.
এবং সেগুলোর কোনোটিতে ২২টি লাইন রয়েছে, আর এর শিরোনামের সংখ্যাধিক্যের কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে (১)। আর এটি বিসমিল্লাহ, আল্লাহর প্রশংসা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ ও সালামের পর এই পাঠ দিয়ে শুরু হয়েছে: "জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার প্রবক্তাদের এবং (২) ধ্বংস হওয়ার প্রবক্তাদের—যেমন ফারাবিয়া সম্প্রদায়—খণ্ডন সংক্রান্ত মাসআলা। আর শাস্তির আবাসস্থল ও পুরস্কারের আবাসস্থল সম্পর্কে মানুষের মতভেদের উল্লেখ, এ বিষয়ে মানুষের তিনটি মত রয়েছে …

এই পাণ্ডুলিপিতে লেখকের নাম বা অনুলিপির তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, তা সত্ত্বেও পাণ্ডুলিপিটিতে এর নির্ভরযোগ্যতা এবং বিষয়বস্তুর সঠিকতা নির্দেশকারী অন্যান্য চিহ্ন পাওয়া গেছে। কেননা এর পার্শ্বটীকায় মূল পাঠের বেশ কিছু সংশোধন লেখা হয়েছে, এবং ৩/ক পৃষ্ঠার ডান দিকের ও নিচের পার্শ্বটীকায় "বালাগা" (পৌঁছেছে) শব্দটি এসেছে। এই উভয় বিষয়টিই নির্দেশ করে যে, এই পাণ্ডুলিপিটি যে মূল কপি থেকে নকল করা হয়েছে তার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এর শেষে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যেমনটি সামনে আসবে। একইভাবে প্রথম পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকায় পুস্তিকাটির একটি শিরোনাম এসেছে এবং তার শেষে লেখা হয়েছে, "অন্য অনুলিপিতে এভাবেই আছে"। এর পার্শ্বটীকাগুলোতে আরও বেশ কিছু বাক্য লেখা হয়েছে যেগুলোর পাঠ মূল পাণ্ডুলিপির বিপরীত পাঠ থেকে সূক্ষ্মভাবে ভিন্ন, এবং সেই বাক্যগুলোর উপরে "খা" অক্ষরটি বসানো হয়েছে এটি নির্দেশ করতে যে, বাক্যটি অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই এসেছে।

এটি প্রমাণ করে যে, পাণ্ডুলিপিটি কেবল তার মূল কপির সাথেই নয়, বরং বইটির অন্য একটি অনুলিপির সাথেও মিলিয়ে দেখা হয়েছে (৩)। এর ভিত্তিতে বলা যায়: এই পাণ্ডুলিপিটি বইটির দুটি অনুলিপির সমতুল্য। তদুপরি এটি একে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করে, যা একে বইটির পাঠ সম্পাদনার ক্ষেত্রে নির্ভর করার যোগ্য করে তোলে। এই পাণ্ডুলিপিটি পূর্ণাঙ্গ হিসেবেও বিবেচিত, আর এভাবেই এটি পূর্বোক্ত পাণ্ডুলিপি থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে যা মাত্র তিন পৃষ্ঠা সম্বলিত ছিল, যেমনটি আগে বর্ণিত হয়েছে। আর এর শেষে এই পাঠটি এসেছে: "সাধ্যানুযায়ী পাঠ-মিলন ও সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে। এটি লিখেছেন আহমদ বিন সাদুল্লাহ আল-হাররানি, আল্লাহ তাঁর রহমতে তাকে ক্ষমা করুন। সমাপ্ত। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।"

--------------------------------------------

(১) "পৃষ্ঠা ৯"।

(২) দুই শব্দের সমপরিমাণ ফাঁকা জায়গা।

(৩) আমি এই বাক্যগুলোকে মূল পাঠের টীকা প্রদানের সময় দুই অনুলিপির মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্থানে যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌القسم الثاني: النص محققا ومعلقا عليه

"1/أ" بسم الله الرحمن الرحيم (1)

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم.

مسألة في الرد على من قال: بفناء الجنة والنار، وعلى من قال بفناء (2) كالفارابية (3) وذكر اختلاف الناس في دار الجزاء بالعقاب، ودار الثواب بالإنعام، وللناس في ذلك ثلاثة أقوال:

قوم قالوا بفنائهما جميعا، وقوم قالوا ببقائهما جميعا، وقوم قالوا: بفناء دار الجزاء، وبقاء دار الإفضال، والإنعام، والإكرام.

--------------------------------------------

(1) "جاء بالهامش الأعلى الأيمن للصفحة الأولى من النسخة الأصل ما نصه: "فصل في فناء الجنة والنار، وقد تنازع الناس في ذلك على ثلاثة أقوال: قيل ببقائهما، وقيل بفنائها، وقيل بقاء الجنة دون النار" وبعدها بخط صغير كلمة "مكرر".

وجاء بالهامش الأعلى الأيسر ما نصه: "أي حاشية" مسألة في … * الرد على من قال بفناء الجنة والنار، وبقائهما، وبيان الصواب من ذلك، هذا في نسخة".

* بعدها كلمة "فناء" ومضروب عليها.

(2) بياض في الأصل.

(3) لم أقف على فرقة بهذا الاسم، لكن لعلها نسبة إلى الفيلسوف المشهور أبي نصر الفارابي المتوفى سنة 339هـ، فإن له فلسفة في مسائل العقيدة تتلمذ عليها خلق كثير، انظر "كتاب الفارابي" تأليف: سعيد زايد، و"دروس في تاريخ الفلسفة" تأليف الأستاذين: إبراهيم بيومي مدكور ويوسف كرم "ص73"، و"تاريخ الفلسفة" للأستاذين: محمد علي مصطفى وأحمد عبده خير الدين "ص208".
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্পাদিত এবং টীকাকৃত মূল পাঠ

"১/ক" পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি (১)

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।

জান্নাত ও জাহান্নামের বিলুপ্তি যারা দাবি করে তাদের খণ্ডন প্রসঙ্গে একটি মাসআলা, এবং যারা (২) আল-ফারাবিয়্যাহদের (৩) মতো বিলুপ্তির কথা বলে তাদের খণ্ডন; এবং শাস্তির প্রতিফল স্বরূপ আবাসন এবং অনুগ্রহ ও পুরস্কার স্বরূপ আবাসন নিয়ে মানুষের মতভেদের উল্লেখ। এই বিষয়ে মানুষের তিনটি অভিমত রয়েছে:

একদল লোক বলেছে যে, উভয়টিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। একদল বলেছে যে, উভয়টিই চিরস্থায়ী থাকবে। আর একদল বলেছে যে, প্রতিফল প্রদানের আবাসন বিলুপ্ত হবে এবং অনুগ্রহ, নেয়ামত ও সম্মানের আবাসন অবশিষ্ট থাকবে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার উপরের ডান পাশের মার্জিনে যা লিখিত আছে তা হলো: "জান্নাত ও জাহান্নামের বিলুপ্তি বিষয়ক পরিচ্ছেদ, আর এ ব্যাপারে মানুষ তিনটি মতভেদে বিভক্ত হয়েছে: বলা হয়েছে যে উভয়টিই চিরস্থায়ী থাকবে, বলা হয়েছে যে উভয়টিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে, এবং বলা হয়েছে যে জাহান্নাম ব্যতীত জান্নাত অবশিষ্ট থাকবে।" এরপর ছোট অক্ষরে "মুকরার" (পুনরাবৃত্তি) শব্দটি রয়েছে।

এবং উপরের বাম পাশের মার্জিনে যা আছে তা হলো: "অর্থাৎ পার্শ্বটীকা" জান্নাত ও জাহান্নামের বিলুপ্তি ও স্থায়িত্ব নিয়ে যারা কথা বলে তাদের খণ্ডন প্রসঙ্গে মাসআলা … *, এবং এ বিষয়ে সঠিক মতের বর্ণনা; এটি একটি কপিতে রয়েছে।"

* এরপর 'ফানা' (বিলুপ্তি) শব্দটি রয়েছে এবং তা কেটে দেয়া হয়েছে।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান।

(৩) আমি এই নামে কোনো ফেরকার সন্ধান পাইনি, তবে সম্ভবত এটি ৩৩৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী বিখ্যাত দার্শনিক আবু নসর আল-ফারাবির সাথে সম্পর্কিত, কেননা আকিদার বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর এমন দর্শন রয়েছে যা থেকে বহু লোক শিক্ষা গ্রহণ করেছে। দেখুন: সাঈদ জায়েদ রচিত "কিতাবুল ফারাবি", এবং অধ্যাপক ইবরাহিম বায়ুমি মাদাকুর ও ইউসুফ কারাম রচিত "দুরুস ফি তারিখিল ফালসাফাহ" (পৃষ্ঠা ৭৩), এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ আলি মুস্তফা ও আহমদ আবদু খায়রুদ্দিন রচিত "তারিখুল ফালসাফাহ" (পৃষ্ঠা ২০৮)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিফানায়িল জান্নাতি ওয়ান নার (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌رد شيخ الإسلام على مذهب الجهمية

وقد تكلم الشيخ (1) رحمه الله على الجهمية (2) ، والهذيلية (3) ، الفارابية، ورجح أدلة أهل السنة، وهدم شبه أهل البدعة، وأشار إلى بعض أدلة غلبة الرضا على الغضب، فقال رحمه الله:

وقد تنازع الناس في ذلك على ثلاثة أقوال (4) :

قيل: ببقائهما، وقيل: بفنائهما، وقيل: ببقاء الجنة، دون النار.

أما القول بفنائها (5) : فما رأينا أحدا حكاه عن أحد من السلف، من الصحابة، والتابعين لهم بإحسان، وإنما حكوه عن الجهم بن صفوان، وأتباعه الجهمية.

وهذا مما أنكر عليه أئمة الإسلام، بل ذلك مما أكفروهم به، كما ذكره

--------------------------------------------

(1) مراده: شيخ الإسلام ابن تيمية، وقد جاء مصرحا به في نسخة "س" كما سيأتي "ص52" هامش 6.

(2) هم أتباع جهم بن صفوان الضال المبتدع المقتول سنة 128هـ أنكر أسماء الله وصفاته وزعم أن الإيمان هو المعرفة بالله فقط وأن الكفر هو الجهل به، وزعم أن الجنة والنار تبيدان وتفنيان، وزعم أن الإنسان مجبور إلى غير ذلك من انحرافاته وانظر "الملل والنحل" للشهرستاني 1/86، و"الفرق بين الفرق" للبغدادي "ص211"، و"التبصير في الدين" لأبي المظفر الأسفرايني "ص63".

(3) هم أتباع الهذيل العلاف أحد شيوخ المعتزلة، اختلف في سنة 235هـ وله في الدين فضائح قام العلماء بنشرها تحذيرا للأمة منها - انظر الفرق بين الفرق "ص121" والملل والنحل 1/49، والتبصير في الدين "ص42".

(4) ذكر هذه الأقوال العلامة ابن القيم في كتابه "حادي الأرواح" الباب 67 "ص340" بتصرف يسير نقلا عن شيخه ابن تيمية.

(5) مقابلة بالأصل عنوان جانبي نصه: "القول بفناء الجنة والنار" ولم يشر لدخوله في الصلب.
জাহমিয়া মতবাদের ওপর শাইখুল ইসলামের খণ্ডন

শাইখ (১) রাহিমাহুল্লাহ জাহমিয়া (২), হুযাইলিয়া (৩) ও ফারাবিয়াদের বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং আহলুস সুন্নাহর দলিলসমূহকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, আর বিদআতিদের সংশয়গুলো ধূলিসাৎ করেছেন। তিনি রাগের ওপর সন্তুষ্টির প্রাবল্যের কিছু দলিলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, অতঃপর তিনি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:

আর এ বিষয়ে মানুষ তিনটি মতের ওপর ইখতিলাফ করেছে (৪):

বলা হয়েছে: উভয়টি অবশিষ্ট থাকবে; বলা হয়েছে: উভয়টি ধ্বংস হয়ে যাবে; আর বলা হয়েছে: জান্নাত অবশিষ্ট থাকবে, জাহান্নাম ব্যতীত।

আর জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বক্তব্যের (৫) ক্ষেত্রে আমরা দেখিনি যে, সাহাবী এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের মধ্য থেকে কোনো সালাফ এটি কারো থেকে বর্ণনা করেছেন। বরং তাঁরা এটি জহাম ইবনে সাফওয়ান ও তার অনুসারী জাহমিয়াদের থেকেই বর্ণনা করেছেন।

আর এটি এমন একটি বিষয় যার কারণে ইসলামের ইমামগণ তার প্রতিবাদ করেছেন, বরং এটি এমন একটি বিষয় যার কারণে তাঁরা তাদের কাফির সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) তাঁর উদ্দেশ্য হলো: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, এবং 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যেমনটি সামনে আসবে "পৃষ্ঠা ৫২" টীকা ৬।

(২) তারা হলো জহাম ইবনে সাফওয়ানের অনুসারী, যে ছিল পথভ্রষ্ট বিদআতি এবং ১২৮ হিজরীতে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। সে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করত এবং দাবি করত যে ঈমান কেবল আল্লাহর পরিচয় জানা; আর কুফর হলো তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা। সে দাবি করত জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস ও নিঃশেষ হয়ে যাবে। আরও দাবি করত যে মানুষ কর্মে বাধ্য, এছাড়াও তার আরও অনেক বিচ্যুতি রয়েছে। দেখুন আশ-শাহরাস্তানির "আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল" ১/৮৬; আল-বাগদাদীর "আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক" পৃষ্ঠা ২১১; আবু মুযাফফর আল-ইসফরাইনির "আত-তাবসীর ফিদ-দীন" পৃষ্ঠা ৬৩।

(৩) তারা হলো মুতাযিলাদের অন্যতম শাইখ হুযাইল আল-আল্লাফের অনুসারী, যার মৃত্যু ২৩৫ হিজরীতে। দ্বীনের ক্ষেত্রে তার কিছু জঘন্য বিষয় রয়েছে যা উম্মাহকে সতর্ক করার জন্য উলামায়ে কেরাম প্রকাশ করেছেন - দেখুন আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক পৃষ্ঠা ১২১, আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল ১/৪৯ এবং আত-তাবসীর ফিদ-দীন পৃষ্ঠা ৪২।

(৪) আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর "হাদিউল আরওয়াহ" কিতাবের ৬৭ অধ্যায়, ৩৪০ পৃষ্ঠায় সামান্য পরিবর্তনসহ তাঁর উস্তাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে উদ্ধৃত করে এই মতগুলো উল্লেখ করেছেন।

(৫) পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনামূলক পাঠে এটি একটি পার্শ্ব-শিরোনাম যার পাঠ হলো: "জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বক্তব্য"; তবে মূল পাঠে এটি প্রবেশের কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।