(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: -)
هذا نبيك يا ولدي القسم: كتب عامة
الكتاب: هَذَا نَبِيُّكَ يَا وَلَدِي
المؤلف: محمود محمد غريب
الناشر: دار الأنصار - القاهرة
الطبعة: الثانية، 1401 هـ - 1981 م
عدد الصفحات: 216
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1432
এই তোমার নবী হে আমার সন্তান বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
বই: হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী (এই তোমার নবী হে আমার সন্তান)
লেখক: মাহমুদ মুহাম্মদ গারীব
প্রকাশক: দারুল আনসার - কায়রো
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
ـ[هَذَا نَبِيُّكَ يَا وَلَدِي]ـ
المؤلف: العلامة الشيخ / محمود غريب
(أسلم على يدي المؤلف خمسةٌ من علماء أوربا في فترة السبعينيات)
الناشر: دار الأنصار - القاهرة
الطبعة: الثانية، 1401 هـ - 1981 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ـ[হে বৎস, ইনিই তোমার নবী]ـ
লেখক: আল্লামা শায়খ মাহমুদ গারিব
(সত্তরের দশকে লেখকের হাতে ইউরোপের পাঁচজন আলেম ইসলাম গ্রহণ করেন)
প্রকাশক: দারুল আনসার - কায়রো
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
আল্লাহ তাআলা এর লেখক এবং যিনি এর লিখন ও প্রকাশনার ব্যয়ভার বহন করেছেন তাদেরকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، وسلام على النبي صلى الله عليه وسلم المصطفى:
أما بعد:
فهذه السطور ليست كتابا في السيرة النبوية الشريفة، لأن مكتبة السيرة غنية ببحارها الزاخرة عن الندى.
ولكنها دراسة في العقيدة الإسلامية تكمل الرسالة السابقة
" هذه عقيدتك يا ولدي "
والتي تقبلها القراء قبولا حسناً، والحمد لله.
وقد حاولت - في هذه الرسالة - تحليل بعض الأحداث بمقدار ما يثبت العقيدة، ويدفع عنها أباطيل الطاعنين وشبهات الحاقدين على نبي الإسلام وعلى دعوته.
إن العطاء الكبير - الذي قدمه نبي الإسلام صلى الله عليه وسلم -
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ভূমিকাবিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম; আর সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি:
অতঃপর:
এই পঙক্তিগুলো পবিত্র সিরাতে নববীর ওপর রচিত কোনো কিতাব নয়; কারণ সিরাতের কুতুবখানা বা গ্রন্থাগারসমূহ এর উত্তাল সমুদ্রের প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ।
বরং এটি ইসলামি আকিদা (عقيدة) বিষয়ক একটি গবেষণা যা পূর্ববর্তী রিসালাতের পরিপূরক—
"হে বৎস, এটি তোমার আকিদা (عقيدة)"
যা পাঠকমহল অত্যন্ত সমাদরে গ্রহণ করেছেন, সকল প্রশংসা আল্লাহর।
আমি এই রিসালাতে কিছু ঘটনার এমন বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি যা আকিদাকে (عقيدة) সুদৃঢ় করবে এবং ইসলামের নবী ও তাঁর দাওয়াতের বিরুদ্ধে সমালোচকদের অসারতা ও বিদ্বেষীদের সংশয়সমূহ (شبهات) খণ্ডন করবে।
নিশ্চয়ই ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মহান অবদান রেখেছেন—
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৬)
لا حدود له.
- جاء الحياة فأعطى
… وجاهد
… وأنفق.
- جعل غرم الدعوة عليه وعلى آل بيته وعلى المقربين من صحابته.
- وجعل غنم الدعوة تركة مشاعة بين الناس.
- أنفق مال السيدة خديجة على الدعوة،
- وأنفق مال عثمان بن عفان - صهره - على الدعوة.
- فلما شرعت الزكاة حرَّمها على نفسه وعلى آل بيته.
- وجعل من نفسه وأهله ميدانا لتطبيق ما يصعب على الناس قبوله من أحكام الشريعة - فقد زوج زينب بنت جحش - ابنة عمته - لزيد بن حارثة - العبد الذي تبناه - وما كان في العرب أسرة تقبل مثل هذا الزواج. ولما طلقها زيد تزوجها النبي صلى الله عليه وسلم وهذا أمر في الشريعة أصعب على النفس - لأنها مطلقة متبناه (1).
--------------------------------------------
এর কোনো সীমা নেই।
- তিনি পৃথিবীতে আগমন করলেন এবং দান করলেন
… জিহাদ করলেন
… এবং ব্যয় করলেন।
- তিনি দাওয়াতের যাবতীয় দায়ভার বা ত্যাগ নিজের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গের ওপর এবং তাঁর নিকটতম সাহাবীদের (صحابة) ওপর ন্যস্ত করেছেন।
- আর দাওয়াতের সুফলকে মানুষের মাঝে একটি সাধারণ উত্তরাধিকার হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
- তিনি সাইয়্যেদাহ খাদিজার সম্পদ দাওয়াতের পথে ব্যয় করেছেন,
- এবং তাঁর জামাতা উসমান ইবনে আফফানের সম্পদও দাওয়াতের পথে ব্যয় করেছেন।
- অতঃপর যখন জাকাত বিধিবদ্ধ করা হলো, তখন তিনি তা নিজের জন্য এবং নিজের পরিবারবর্গের জন্য হারাম করে দিলেন।
- তিনি নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে শরীয়তের এমন সব বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে পেশ করেছেন যা গ্রহণ করা মানুষের পক্ষে কঠিন ছিল। তিনি তাঁর ফুফাতো বোন যয়নব বিনতে জাহাশকে যায়েদ বিন হারিসার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন—যিনি ছিলেন তাঁর পালকপুত্র—অথচ আরবদের কোনো পরিবার তখন এই ধরনের বিবাহ মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। অতঃপর যখন যায়েদ তাঁকে তালাক দিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করলেন। শরীয়তের এই বিষয়টি মনের ওপর অত্যন্ত কঠিন ছিল—কারণ তিনি ছিলেন তাঁর পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقد حرصت على عمق الفكرة، وسهولة العرض، وقوة البرهان، وأمانة النقل.
واللَّهَ أسأل أن ينفع بها وأن يجعلها في صحيفة عملي يوم ألقاه. إنه نعم المعطي ونعم المجيب.
* * *
محمود غريب
بغداد الكرخ - جامع ومعهد البنية
كتبت المقدمة في الروضة الشريفة
أمام قبر النبي صلى الله عليه وسلم -
আমি চিন্তার গভীরতা, উপস্থাপনার সাবলীলতা, প্রমাণের (البرهان) শক্তি এবং বর্ণনা হস্তান্তরের বিশ্বস্ততা (أمانة النقل) বজায় রাখতে সচেষ্ট হয়েছি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন এবং যেদিন আমি তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করব, সেদিন যেন তিনি এটিকে আমার আমলনামায় (صحيفة عملي) অন্তর্ভুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম দাতা এবং শ্রেষ্ঠ উত্তরদানকারী (المجيب)।
* * *
মাহমুদ গারিব
বাগদাদ আল-কারখ - জামি ও মা’হাদ আল-বুনিয়াহ
ভূমিকাটি রওজায়ে শরীফে (الروضة الشريفة) রচিত হয়েছে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের সম্মুখে -
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৯)
الباب الأولالفصل الأول
حاجة العالم إلى الرسل.
إخفاق العقل البشري في محاولة إدراك ما وراء الطبيعة.
رسل الله تحول الأخلاق إلى سلوك عملي، وتبلغ شريعة الله.
إرسال الرسل يقطع حجة العباد على الله.
প্রথম অধ্যায়প্রথম পরিচ্ছেদ
রাসুলগণের প্রতি বিশ্বজগতের প্রয়োজনীয়তা।
অতীন্দ্রিয় জগত উপলব্ধির প্রচেষ্টায় মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির ব্যর্থতা।
আল্লাহর রাসুলগণ নৈতিকতাকে ব্যবহারিক আচরণে রূপান্তর করেন এবং আল্লাহর শরিয়ত (شريعة) পৌঁছে দেন।
রাসুলগণের প্রেরণ আল্লাহর সমীপে বান্দাদের দলিল (حجة) পেশ করার পথ রুদ্ধ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ১১)
اللقاء الأول
عاد وائل إلى بيت الشيخ عارف بعد غيبة طويلة قضاها في شمال العراق حيث جمال الطبيعة، وبرودة الجو، وعذوبة الماء.
عاش هناك بين أقوام عكست الطبيعة الجميلة نفسها عليهم، فاستقام سلوكهم، وصفت سرائرهم.
ودار الحديث في شوق بين الأستاذ وتلميذه، وتذاكرا حلو الماضي، وجمال الأيام.
* * *
وائل: حدثني كثيرا يا فضيلة الشيخ عن الإيمان بالله - من الناحية العقلية -.
وقلت لي: إن الإيمان بالله مسألة فطرية.
ولكن السؤال الذي يشغلني: لماذا أرسل الله الرسل؟ لماذا
প্রথম সাক্ষাৎ
দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর ওয়ায়েল শায়খ আরিফের বাড়িতে ফিরে এলেন। তিনি এই দীর্ঘ সময় উত্তর ইরাকে অতিবাহিত করেছেন, যেখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য, আবহাওয়ার শীতলতা এবং পানির মিষ্টতা বিদ্যমান।
সেখানে তিনি এমন এক জনগোষ্ঠীর মাঝে বসবাস করেছেন যাদের ওপর প্রকৃতির এই স্নিগ্ধতা প্রতিফলিত হয়েছে; ফলে তাদের আচরণ হয়েছে সুসংহত এবং তাদের অন্তর হয়েছে পরিশুদ্ধ।
শিক্ষক ও ছাত্রের মাঝে গভীর অনুরাগের সাথে কথোপকথন চলল এবং তারা অতীতের মধুর স্মৃতি ও দিনগুলোর সৌন্দর্য রোমন্থন করলেন।
* * *
ওয়ায়েল: হে মান্যবর শায়খ, আল্লাহর প্রতি ঈমান সম্পর্কে আমাকে বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিস্তারিত বলুন।
আপনি আমাকে বলেছিলেন যে, আল্লাহর প্রতি ঈমান একটি স্বভাবজাত বিষয়।
কিন্তু যে প্রশ্নটি আমাকে ভাবিয়ে তুলছে তা হলো: আল্লাহ কেন রাসুলগণকে প্রেরণ করলেন? কেন?
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ১২)
فرض الله علينا اتباع الأنبياء، مع أن الإسلام يحترم عقولنا؟
الشيخ: يا وائل: إرسال الرسل نعمة عظيمة من الله.
لقد أرسلهم الله ليبلغوا الناس ما يصعب على العقل البشري أن يصل إليه.
فالعقل البشري يا وائل مهيئ لدراسة المادة، وعمار الأراضي. وهذا مجاله.
فإذا حاول أن يخترق الكون ليدرك ما وراء المادة فقد عرض نفسه للخطر.
العقل البشري - يا وائل - كراكب سفينة، من حقه أن يسير في داخلها كما يريد .. ولكن إذا عزم على الخروج من السفينة إلى الماء فقد عرض نفسه للهلاك.
وائل: لكن بعض الناس يجيد السباحة.
الشيخ: البحر أكبر منهم.
فمن هم الذين يجيدون السباحة يا وائل؟
আল্লাহ কি আমাদের ওপর নবীদের অনুসরণ অপরিহার্য করেছেন, যদিও ইসলাম আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে সম্মান করে?
শেখ: হে ওয়ায়েল, রাসূলগণের প্রেরণ আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত।
আল্লাহ তাঁদের প্রেরণ করেছেন মানুষের নিকট এমন সব বিষয় পৌঁছে দেওয়ার জন্য যা মানব বুদ্ধিবৃত্তির পক্ষে অর্জন করা দুঃসাধ্য।
হে ওয়ায়েল, মানব বুদ্ধিবৃত্তি মূলত বস্তুগত গবেষণা এবং ভূখণ্ড আবাদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। আর এটাই তার বিচরণক্ষেত্র।
সুতরাং এটি যদি মহাবিশ্বের রহস্য ভেদ করে বস্তুজগতের ঊর্ধ্বে কোনো কিছু উপলব্ধি করার চেষ্টা করে, তবে সে নিজেকে বিপদের মুখে ঠেলে দেবে।
হে ওয়ায়েল, মানব বুদ্ধিবৃত্তি হলো জাহাজের একজন আরোহীর মতো; তার অধিকার আছে জাহাজের অভ্যন্তরে নিজের ইচ্ছামতো বিচরণ করার... কিন্তু সে যদি জাহাজ থেকে বেরিয়ে পানিতে নামার সংকল্প করে, তবে সে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিল।
ওয়ায়েল: কিন্তু কিছু মানুষ তো সাঁতার কাটতে পারদর্শী।
শেখ: সমুদ্র তাদের সামর্থ্যের চেয়ে অনেক বেশি বিশাল।
তবে হে ওয়ায়েল, সেই পারদর্শী সাঁতারু আসলে কারা?
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هل تعني الفلاسفة؟
وائل: نعم
… إنهم أصحاب عقول كبيرة، ويمكنهم أن يدرسوا ما وراء البحار.
أعني بحار المعيبات، ويمكنهم أن يصلوا إلى الحقيقة وحدهم.
الشيخ: هؤلاء الفلاسفة
…فماذا يفعل بقية الناس؟
طبعا ليس كل الناس فلاسفة
… يا وائل
…وائل: بقية الناس يتبعون الفلاسفة.
الشيخ: أردت أن تفر من الاتباع .. فوقعت في الاتباع. ولكنك تركت طريقا معبدا آمنا، وهو طريق الوحي.
وعزمت على السير في صحراء واسعة ..
ماؤها سراب، وأمانها خوف.
يا وائل.
আপনি কি দার্শনিকদের কথা বোঝাচ্ছেন?
ওয়ায়েল: হ্যাঁ
… তাঁরা প্রখর প্রজ্ঞার অধিকারী এবং তাঁরা অতীন্দ্রিয় বিষয়াদি নিয়েও গবেষণা করতে পারেন।
আমি বলতে চাচ্ছি অদৃশ্যের (المغيبات) অতল সমুদ্রের কথা, এবং তাঁরা নিজেরাই সত্যে (الحقيقة) উপনীত হতে পারেন।
শায়খ: এই দার্শনিকগণ
…তাহলে অবশিষ্ট মানুষ কী করবে?
নিশ্চয়ই সকল মানুষ দার্শনিক নয়
… হে ওয়ায়েল
…ওয়ায়েল: অবশিষ্ট মানুষ দার্শনিকদের অনুসরণ (اتباع) করে।
শায়খ: তুমি অনুসরণ (اتباع) থেকে পলায়ন করতে চেয়েছিলে .. অথচ তুমি সেই অনুসরণেই (اتباع) নিপতিত হলে। কিন্তু তুমি একটি সুপ্রশস্ত ও নিরাপদ পথ পরিত্যাগ করেছ, আর তা হলো ওহীর (وحي) পথ।
এবং তুমি এক বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে চলার সংকল্প করেছ ..
যার বারিধারা মরীচিকা, আর যার নিরাপত্তা হলো কেবলই শঙ্কা।
হে ওয়ায়েল।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
السراب لا يروي الظمآن.
وائل: تعني أن انتاج الفلاسفة العقلي سراب
الشيخ: فيما وراء الطبيعة كل فلسفة عقلية سراب.
التجربة تقول هذا ....
هل سمعت عن أرسطو؟
وائل: قرأت عنه
… وقرأت له.
إنه المعلم الأول .. وهو الذي وضع علم المنطق - الذي يعصم الذهن من الخطأ في الفكر - وقد توصل أرسطو إلى الإيمان بالله عن طريق العقل ..
الشيخ: كل هذا صحيح.
ولكن أرسطو عندما أراد أن يخترق بعقله ما وراء الطبيعة هوى منهجه، وتهافت فكره.
لقد آمن بالله إيمانا رياضيا، ليصل بهذا الإيمان إلى تفسير عقلي للحركة الميكانيكية في الكون.
فإيمانه بالله أشبه ما يكون بالمعطيات الهندسية - التي يعطيها المدرس للتلاميذ ليتوصلوا بها إلى حل تمرين هندسي
মরীচিকা তৃষ্ণার্তের তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে না।
ওয়ায়েল: এর অর্থ কি এই যে, দার্শনিকদের বুদ্ধিবৃত্তিক সৃষ্টিসমূহ মরীচিকা মাত্র?
শেখ: পরাবিদ্যার ক্ষেত্রে সকল বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শনই মরীচিকা।
অভিজ্ঞতা এমনটাই বলে ....
তুমি কি এরিস্টটল সম্পর্কে শুনেছ?
ওয়ায়েল: আমি তাঁর সম্পর্কে পড়েছি
… এবং তাঁর রচনাবলি পাঠ করেছি।
তিনি ছিলেন ‘প্রথম শিক্ষক’.. এবং তিনিই যুক্তিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেছেন—যা চিন্তার ক্ষেত্রে মস্তিষ্ককে ভুলভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে—আর এরিস্টটল বিচারবুদ্ধির মাধ্যমেই আল্লাহর প্রতি ঈমানে উপনীত হয়েছিলেন..
শেখ: এ সবই সত্য।
কিন্তু এরিস্টটল যখন তাঁর বিচারবুদ্ধি দিয়ে পরাবিদ্যার গূঢ় রহস্য উন্মোচন করতে চাইলেন, তখন তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি ব্যর্থ হলো এবং তাঁর চিন্তাধারা অসারতায় পর্যবসিত হলো।
তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিলেন গাণিতিক বিশ্বাসের ন্যায়, যাতে এই ঈমানের মাধ্যমে মহাবিশ্বের যান্ত্রিক গতির একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যায় পৌঁছানো যায়।
ফলে আল্লাহর প্রতি তাঁর ঈমান ছিল অনেকটা জ্যামিতিক উপাত্তের মতো—যা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রদান করেন যেন তারা এর মাধ্যমে কোনো জ্যামিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فهو يفترض وجود الله ليحل بهذا الفرض لغز الحركة الميكانيكية في الكون.
ولم يثبت وجود الله إثباتاً برهانياً.
وائل: ألهم أنه توصل للحقيقة بطريق أو بآخر.
الشيخ: لا يا وائل ..
لم يصل أرسطو إلى الحقيقة.
لأنه تصور أن العالم قديم - لم يكن معدوماً ثم وجد - وتصور أن الله لم يخلق العالم، ولم يحرك فيه ساكنا.
وائل: في قصوره كيف وجد العالم؟ وكيف تحرك؟
الشيخ: يعتقد أرسطو أن الكون كان في حالة خمول، ثم رغب في الحركة فتحرك وحده
…وائل: "متعجباً"
هذه فلسفة أرسطو؟
তিনি আল্লাহর অস্তিত্বের অনুমান করেন যাতে এই অনুমানের মাধ্যমে মহাবিশ্বের যান্ত্রিক গতির রহস্যের সমাধান করতে পারেন।
এবং তিনি কোনো অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করেননি।
ওয়ায়েল: তার কি এমন কোনো অনুপ্রেরণা হয়েছিল যে তিনি কোনো না কোনোভাবে সত্যে উপনীত হয়েছেন?
শায়খ: না ওয়ায়েল ..
অ্যারিস্টটল সত্যে পৌঁছাতে পারেননি।
কারণ তিনি ধারণা করেছিলেন যে জগত অনাদি—এটি অস্তিত্বহীন থাকার পর অস্তিত্ব লাভ করেনি—এবং তিনি কল্পনা করেছিলেন যে আল্লাহ জগত সৃষ্টি করেননি এবং এর কোনো কিছুতে গতি সঞ্চার করেননি।
ওয়ায়েল: তার সীমাবদ্ধ ধারণায় জগত কীভাবে অস্তিত্ব লাভ করল? আর এটি কীভাবে গতিশীল হলো?
শায়খ: অ্যারিস্টটল বিশ্বাস করতেন যে মহাবিশ্ব জড় অবস্থায় ছিল, তারপর এটি গতিশীল হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করল এবং নিজেই গতিশীল হয়ে উঠল
…ওয়ায়েল: "বিস্মিত হয়ে"
এটিই কি অ্যারিস্টটলের দর্শন?
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الكون قديم! - والله لم يخلق العالم؟ .. ولم يحرك ساكنه؟
الشيخ: نعم يا وائل
…هذه فلسفة المعلم الأول.
يتصور أن الله كمال مطلق، والعمل - في تصوره - طلب لحدوث شيء، والله غني عن الخلق.
وأرسطو يعتقد أن الله - كما إنه لم يخلق شيئاً - فهو أيضاً لا إرادة له.
لأن الإرادة - في تصوره - اختيار أمر من أمرين، والله غني عن الأمرين.
أرسطو يتصور أن الله يعيش سعيدا بنعمة بقائه فقط، لا علم له بالكون، ولا سلطان له عليه.
وائل: أرسطو؟!!
الشيخ: إنه بشر
… وعقل البشر مهيئ لدراسة المادة فقط لأن فيها حياته.
মহাবিশ্ব অনাদি! - তবে কি আল্লাহ বিশ্বজগত সৃষ্টি করেননি? .. এবং তিনি কি এর স্থবিরতাকে গতিশীল করেননি?
শেখ: হ্যাঁ হে ওয়ায়েল
…এটি ‘প্রথম শিক্ষকের’ দর্শন।
তিনি ধারণা করেন যে আল্লাহ হলেন পরম পূর্ণতা; আর কাজ—তাঁর ভাবনায়—কোনো কিছু সংঘটিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা মাত্র, অথচ আল্লাহ সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী।
আর আরস্তু বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ যেমন কোনো কিছু সৃষ্টি করেননি, তেমনি তাঁর কোনো ইচ্ছাশক্তিও নেই।
কারণ তাঁর ধারণায় ইচ্ছাশক্তি হলো দুটি বিষয়ের মধ্য থেকে একটিকে বেছে নেওয়া, অথচ আল্লাহ উভয় বিষয় থেকেই অমুখাপেক্ষী।
আরস্তু কল্পনা করেন যে আল্লাহ কেবল তাঁর চিরন্তন অস্তিত্বের অনুগ্রহে সুখী হয়ে অবস্থান করেন; মহাবিশ্ব সম্পর্কে তাঁর কোনো জ্ঞান নেই এবং এর ওপর তাঁর কোনো কর্তৃত্বও নেই।
ওয়ায়েল: আরস্তু?!!
শেখ: তিনি তো একজন মানুষ
… আর মানুষের বুদ্ধি কেবল জড়বস্তু নিয়ে গবেষণার উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে, কারণ এর মধ্যেই তার জীবন নিহিত।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عباقرة اليونان - يا وائل - آمنوا بآلهة متعددة - وهم أرقى الشعوب حضارة فكرية -.
إله للخير، وإله للشر، وإله للمطر، و
… و .... حتى الخمر .. جعلوا لها إلهاً.
وكانوا يحتفلون بمولد إله الخمر عند ظهور العنب، ويقيمون المآتم عندما ينتهي موسم العنب.
وكانوا يعتقدون أن أكثرهم طاعة لإله الخمر هو أكثرهم إدمانا لشرب الخمر.
هذه حقيقة العقل البشري، وهذا إنتاج الفلسفة في عصر الحضارة اليونانية.
فكيف بعصور الظلام؟
يدخل هشام ولد الشيخ عارف بطبق فيه عنب.
فيضحكون جميعاً، وينشغلون بالطعام.
গ্রিসের প্রতিভাবানরা—হে ওয়ায়েল—বহু ঈশ্বরে বিশ্বাস করত—অথচ তারা ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক সভ্যতায় সবচেয়ে উন্নত জাতি।
কল্যাণের জন্য একজন ইলাহ, অকল্যাণের জন্য একজন ইলাহ, বৃষ্টির জন্য একজন ইলাহ এবং
… এমনকি মদের জন্যও তারা একজন ইলাহ নির্ধারণ করেছিল।
আঙুর পরিপক্ক হওয়ার সময় তারা মদের ইলাহের জন্মোৎসব পালন করত এবং আঙুরের মৌসুম শেষ হলে তারা শোক পালন করত।
তারা বিশ্বাস করত যে, মদের ইলাহের প্রতি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুগত সেই ব্যক্তি, যে মদ্যপানে সবচেয়ে বেশি আসক্ত।
এটাই হলো মানবীয় বিবেকের বাস্তবতা এবং গ্রিক সভ্যতার যুগে দর্শনের উৎপাদন।
তাহলে অন্ধকার যুগগুলোর অবস্থা কেমন ছিল?
শায়খ আরিফের ছেলে হিশাম এক থালা আঙুর নিয়ে প্রবেশ করল।
তখন তারা সবাই হাসতে লাগল এবং খাবার খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
اللقاء الثانيوائل: كنت أعتقد أن العقل البشري هو كل شيء.
عارف: كل مَن في سنك يرى عقله وعلمه.
فإذا تقدم به السن يدرك الحقيقة، فيتضاءل أمامه اليوم ما رآه عظيما بالأمس.
العلم كالبحر، من نزل في أوله يتصور أنه يمكنه أن يعبره بأمان، ولكن كلما بعد عن الشاطئ يدرك ضعفه ويشعر بعمق البحر.
والدنيا بحاجة إلى قوة الشباب، وحكمة الشيوخ.
وهناك أسباب أخرى لإرسال الرسل.
وائل: لا أظنك تبخل علينا يا فضيلة الشيخ.
عارف: هل تصلح الدنيا بلا أخلاق؟
وائل: لا
দ্বিতীয় সাক্ষাৎওয়ায়েল: আমি মনে করতাম যে মানব বুদ্ধিই সবকিছু।
আরিফ: তোমার বয়সী প্রত্যেকেই নিজের বুদ্ধি ও জ্ঞানকে বড় করে দেখে।
অতঃপর যখন তার বয়স বৃদ্ধি পায় তখন সে সত্য উপলব্ধি করে; ফলে গতকাল যা তার নিকট মহান মনে হয়েছিল, আজ তা তার সামনে তুচ্ছ হয়ে যায়।
জ্ঞান সমুদ্রের ন্যায়; যে এর শুরুতে অবতরণ করে সে ধারণা করে যে সে এটি নিরাপদে পাড়ি দিতে পারবে। কিন্তু সে যতবেশি উপকূল থেকে দূরে সরে যায়, ততই সে নিজের দুর্বলতা উপলব্ধি করে এবং সমুদ্রের গভীরতা অনুভব করে।
আর এই পৃথিবী যুবকদের শক্তি এবং প্রবীণদের প্রজ্ঞার মুখাপেক্ষী।
আর রাসূলগণকে প্রেরণের আরও কিছু কারণ রয়েছে।
ওয়ায়েল: হে সম্মানিত শায়খ, আমার মনে হয় না যে আপনি আমাদের জ্ঞান দানে কার্পণ্য করবেন।
আরিফ: নৈতিকতা ব্যতিরেকে কি পৃথিবী সুসংগঠিত হতে পারে?
ওয়ায়েল: না
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ২০)
فالأخلاق أمان للمجتمع، ثمارها حب، وغايتها سعادة.
إنما الأمم الأخلاق ما بقيت
… فإن هموا ذهبت أخلاقهم ذهبوا
عارف: الأنبياء وحدهم هم الذين يستطيعون وضع قانون أخلاقي كامل. ويعملون على تحويله إلى سلوك.
فدور الأنبياء لا يقف على تعليم الناس قضية الحلال والحرام ولكنه يتعدى هذا الأمر إلى أمر أجل - وهو تحويل الأخلاق من فكرة نظرية إلى سلوك عملي.
ولولا الأنبياء لأصبحت الأخلاق مجرد شعارات جوفاء وأناشيد تردد في الصباح والمساء.
لقد كان النبي صلى الله عليه وسلم قرآنا - يمشي بين الناس.
كان يهدي بفعله كما يهدي بقوله. حتى كان فعله نموذجا حيا للإسلام، وكان فعله تصديقا لقوله، لأن الانفصال الذي يقع بين الفعل والقول ببطل الدعوة إلى الخير، ويذهب أثرها.
চরিত্র বা নৈতিকতা সমাজের জন্য নিরাপত্তা, এর ফল হলো ভালোবাসা এবং এর লক্ষ্য হলো সুখ।
নিশ্চয়ই জাতিসমূহ টিকে থাকে তাদের নৈতিকতার মাধ্যমে
… যদি তাদের নৈতিকতা বিলীন হয়ে যায় তবে জাতিও বিলীন হয়ে যায়।
আরিফ: কেবল নবীরাই একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক বিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম। এবং তাঁরা সেটিকে আচরণে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কাজ করেন।
নবীদের ভূমিকা কেবল মানুষকে বৈধ (حلال) ও অবৈধ (حرام) এর বিধান শিক্ষা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তার চেয়েও মহত্তর একটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে—আর তা হলো নৈতিকতাকে একটি তাত্ত্বিক ধারণা থেকে বাস্তব আচরণে রূপান্তর করা।
যদি নবীরা না থাকতেন, তবে নৈতিকতা কেবল কিছু অন্তঃসারশূন্য স্লোগান এবং সকাল-সন্ধ্যায় আবৃত্তি করা সঙ্গীতে পরিণত হতো।
নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মাঝে বিচরণকারী এক জীবন্ত কুরআন।
তিনি তাঁর বাণীর মাধ্যমে যেমন পথপ্রদর্শন করতেন, তেমনি তাঁর কর্মের মাধ্যমেও পথপ্রদর্শন করতেন। এমনকি তাঁর কর্ম ছিল ইসলামের এক জীবন্ত আদর্শ এবং তাঁর কর্ম ছিল তাঁর বাণীরই সত্যায়ন (تصديق); কেননা কথা ও কাজের মাঝে যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়, তা কল্যাণের পথে আহ্বানকে বাতিল (باطل) করে দেয় এবং এর প্রভাব বিলীন করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الإسلام - يا وائل - لا يعرف الأخلاق النظرية ولا يقبل انفصال الكلمة عن الفعل. قال تعالى:
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ}؟ {كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ}
وكان النبي صلى الله عليه وسلم يقدر هذا ويعلم أنه أسوة للمسلمين، ويعلم أن أفعاله حجة وأنه منظور إليه لذلك كان يتجنب مواطن الشبه.
عَنْ عَلِيِّ بْنِ الحُسَيْنِ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي المَسْجِدِ وَعِنْدَهُ أَزْوَاجُهُ فَرُحْنَ، فَقَالَ لِصَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ لَا تَعْجَلِي حَتَّى أَنْصَرِفَ مَعَكِ، وَكَانَ بَيْتُهَا فِي دَارِ أُسَامَةَ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَهَا، فَلَقِيَهُ رَجُلَانِ مِنَ الأَنْصَارِ فَنَظَرَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ أَجَازَا، وَقَالَ لَهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «تَعَالَيَا إِنَّهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَيٍّ»، قَالَا: سُبْحَانَ اللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ، وَإِنِّي خَشِيتُ أَنْ يُلْقِيَ فِي أَنْفُسِكُمَا شَيْئًا.
رواه البخاري (2038)
* * *
হে ওয়াইল, ইসলাম কোনো তাত্ত্বিক নৈতিকতা চেনে না এবং কথা ও কাজের বিচ্ছিন্নতাকে গ্রহণ করে না। মহান আল্লাহ বলেন:
{হে মুমিনগণ, তোমরা যা করো না, তা কেন বলো? তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়।}
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি উপলব্ধি করতেন এবং জানতেন যে তিনি মুসলিমদের জন্য এক আদর্শ (أسوة)। তিনি জানতেন যে তাঁর কর্মসমূহ দলিল (حجة) এবং তাঁর প্রতি সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে, তাই তিনি সন্দেহজনক (شبه) পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতেন।
আলী বিন হুসাইন থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে ছিলেন এবং তাঁর নিকট তাঁর স্ত্রীগণ ছিলেন। অতঃপর তাঁরা প্রস্থান করার উপক্রম করলে তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াইকে বললেন, "তাড়াহুড়ো করো না, যাতে আমি তোমার সাথে যেতে পারি।" তাঁর ঘরটি ছিল উসামার বাসভবনের সন্নিকটে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাথে বের হলেন। এমতাবস্থায় আনসারদের দুই ব্যক্তির সাথে তাঁর দেখা হলো। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে তাকালো এবং দ্রুত চলে যেতে উদ্যত হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেন, "তোমরা শোনো, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই।" তারা বলল, "সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রক্ত চলাচলের পথে বিচরণ করে। আর আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে তোমাদের অন্তরে কোনো কুধারণার উদ্রেক করতে পারে।"
বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) (২০৩৮)
* * *
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ২২)
كان الله يجول الأخلاق إلى سلوك عملي، ويضع القدوة للناس.
كان رحيما بأمته ليعلمهم الرحمة، فقد كان يشعر بألمها، ويشق عليه ما يشق عليها.
{لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ} فعنتهم يشق عليه. آخر التوبة
وكان يدع للعمل وهو يحب أن يعمل به خشية أن يفرض على أمته. أو خشية أن يقلده الناس فيشق ذلك عليهم. بل كان ينهاهم عن بعض الأعمال التي يعملها هو - كصوم الوصال (1) رحمة بهم.
وقد استطاع صلى الله عليه وسلم أن يحول قاموس الأخلاق إلى مجتمع أخلاقي، فاقَتْ واقعيته مثالية الفلاسفة.
ــ
(1) صوم الوصال - هو أن يواصل الصوم أكثر من يوم بدون إفطار - وكان النبي صلى الله عليه وسلم يصومه. ونهى أمته عنه وقال لهم: "إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ، إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي".
আল্লাহ চরিত্রকে বাস্তব আচরণে রূপান্তরিত করতেন এবং মানুষের জন্য আদর্শ স্থাপন করতেন।
তিনি তাঁর উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন যাতে তাদেরকে দয়া শিক্ষা দিতে পারেন; তিনি উম্মতের ব্যথা অনুভব করতেন এবং যা উম্মতের জন্য কষ্টকর, তা তাঁর কাছেও অত্যন্ত কঠিন মনে হতো।
{তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে কোনো কষ্ট তাঁর জন্য অত্যন্ত অসহনীয়} সুতরাং তাদের কষ্ট পাওয়া তাঁর ওপর ভারি হয়ে দাঁড়াত। (সূরা আত-তাওবাহ-এর শেষাংশ)
তিনি কোনো আমল করতে পছন্দ করা সত্ত্বেও তা ছেড়ে দিতেন এই ভয়ে যে, পাছে তা তাঁর উম্মতের ওপর আবশ্যিক (فرض) হয়ে যায়। অথবা এই আশঙ্কায় যে, মানুষ তাঁর অনুকরণ করবে এবং তা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। বরং তিনি তাদেরকে এমন কিছু কাজ থেকে নিষেধ করতেন যা তিনি নিজে করতেন—যেমন: বিরতিহীন রোজা (صوم الوصال) (১)—তাদের প্রতি দয়াবশত।
রাসূলুল্লাহ (সা.) নৈতিকতার অভিধানকে একটি নৈতিক সমাজে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যার বাস্তবতা দার্শনিকদের কাল্পনিক আদর্শবাদকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
ــ
(১) বিরতিহীন রোজা (صوم الوصال) — তা হলো ইফতার ব্যতীত টানা একদিনের বেশি রোজা রাখা — আর নবী (সা.) এই রোজা রাখতেন। তিনি তাঁর উম্মতকে এ থেকে নিষেধ করেছেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: "আমি তোমাদের মতো নই, আমি আমার রবের নিকট এমন অবস্থায় রাত যাপন করি যে, তিনি আমাকে আহার করান এবং পান করান।"
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وائل: لكن الضمير الأخلاقي منهج سليم، وهو فطري في النفس، فهل يكفي لتقويم السلوك؟
عارف: الضمير الأخلاقي، والدعوة إلى الاكتفاء به، فكرة ابتدعها علماء الغرب لتحل مكان الدين في نفوس الشباب بعد أن ثارت أوربا على الكنيسة، وأضاعوا سلطانها من النفوس.
وهذا لا يمنع أن الإسلام عرف هذا النداء الداخلي في الإنسان منذ عهد الوحي؛ وسماه القرآن {النَّفْسِ اللَّوَّامَةِ} وأقسم بها الله - سبحانه - تكريما.
ولكن الضمير الأخلاقي لا يعني أبداً الاستغناء عن دعوة الرسل عليهم السلام.
لأن الضمير - يا وائل - يتأثر بالبيئة التي يتربى فيها. ولون الثقافة التي يجمعها الإنسان.
والمذهب الاقتصادي والاجتماعي الذي ينتمي إليه.
ওয়ায়েল: কিন্তু নৈতিক বিবেক একটি সঠিক পদ্ধতি এবং এটি মানুষের স্বভাবজাত; তবে তা কি আচরণ সংশোধনের জন্য যথেষ্ট?
আরিফ: নৈতিক বিবেক এবং এর ওপর নির্ভর করার আহ্বান হলো এমন একটি ধারণা যা পশ্চিমা পণ্ডিতরা উদ্ভাবন করেছেন। ইউরোপে গির্জার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং মানুষের অন্তর থেকে গির্জার কর্তৃত্ব বিলুপ্ত হওয়ার পর যুবসমাজের অন্তরে ধর্মের বিকল্প হিসেবে তারা এটি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।
তবে এটি ইসলাম যে ওহীর যুগ থেকেই মানুষের এই অভ্যন্তরীণ আহ্বান সম্পর্কে অবগত ছিল তাকে অস্বীকার করে না; কুরআন একে ‘তিরস্কারকারী আত্মা’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্মানের নিদর্শনস্বরূপ এর শপথ করেছেন।
কিন্তু নৈতিক বিবেকের উপস্থিতি কখনোই রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়াকে বোঝায় না।
কেননা হে ওয়ায়েল, বিবেক সেই পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয় যেখানে সে বেড়ে ওঠে এবং সেই সংস্কৃতির ধরন দ্বারাও যা মানুষ অর্জন করে।
আর সেই অর্থনৈতিক ও সামাজিক মতাদর্শ দ্বারাও যার সাথে সে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فالرجل المسلم كم يشعر بالسعادة عندما يقسم تركة ميت حسب الشريعة الإسلامية.
يعطي كل مصاب بالميت ما يعزيه ويسد بعض حاجته.
بينما يتألم الرجل الشيوعي عندما يرى تقسيم التركة، لأنه لا يؤمن الميراث، فيراه تفتيتاً للتركة. (1)
فالضمير يختلف باختلاف المذهب الاقتصادي والاجتماعي كما يختلف بالعقيدة التي يؤمن بها صاحبه.
والرجل المسلم يذوب من الأسى عندما يتذكر يوماً انحرف فيه وشرب كأساً من الخمر
…بينما لا يتحرك ضمير رجل الغرب لو شرب خمر الدنيا كلها.
--------------------------------------------
একজন মুসলিম ব্যক্তি কতই না সুখ অনুভব করেন যখন তিনি ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোনো মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন করেন।
তিনি মৃতের শোকসন্তপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে এমন কিছু প্রদান করেন যা তাকে সান্ত্বনা দেয় এবং তার কিছু অভাব পূরণ করে।
অন্যদিকে, একজন সাম্যবাদী ব্যক্তি যখন পরিত্যক্ত সম্পত্তির এই বণ্টন দেখেন তখন তিনি ব্যথিত হন, কারণ তিনি মিরাসে বিশ্বাস করেন না; ফলে তিনি একে সম্পত্তির খণ্ডবিখণ্ডকরণ হিসেবে দেখেন। (১)
সুতরাং অর্থনৈতিক ও সামাজিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে মানুষের বিবেকবোধেরও ভিন্নতা ঘটে, যেমনটি ঘটে ব্যক্তির পোষণকৃত আকিদার ভিন্নতার কারণে।
একজন মুসলিম ব্যক্তি যখন এমন কোনো দিনের কথা স্মরণ করেন যখন তিনি পথবিচ্যুত হয়েছিলেন এবং এক পাত্র মদ পান করেছিলেন, তখন তিনি অনুশোচনায় দগ্ধ হন
…বিপরীতে, একজন পাশ্চাত্য ব্যক্তির বিবেক সামান্যতম বিচলিত হয় না যদি সে জগতের সমস্ত মদও পান করে ফেলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فالضمير لا يكفي لوضع منهج أخلاقي ثابت، لأن الضمير نشكله باللون الذي نرتاح له.
فبمقدار حاجة الدنيا إلى الأخلاق تتجلى حاجتها لدعوة الرسل.
* * *
والناس - يا وائل - بحاجة إلى شريعة الله، كحاجتهم إلى رزقه.
لأن النفس الإنسانية متعددة الملكات، متشبعة الغرائز ولا يستطيع البشر أن يضع لها تشريعا يشبع كل ملكاتها. فمقدار حاجة الناس إلى قانون ثابت يحكمهم، ويشبع كل جوانبهم النفسية، نراهم بحاجة إلى شريعة الله.
وتحارب التشريعات الأرضية تثبت أن التشريع الذي يصلح لليوم لا يصلح لغد.
لأن المشرع - من الناس - يعلم ما مضى ولا يعلم المستقبل. فكيف يضع تشريعاً لحل مشاكل الغد - وهو لا علم له بها؟
একটি শাশ্বত ও সুসংহত নৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে কেবল বিবেকই যথেষ্ট নয়; কারণ বিবেককে আমরা আমাদের সুবিধাজনক রঙে রঞ্জিত করে থাকি।
পৃথিবীর জন্য নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা যতটুকু অনিবার্য, রাসূলগণের দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তাও ঠিক ততটুকুই সুস্পষ্ট।
* * *
হে ওয়ায়েল! মানুষ আল্লাহর প্রদত্ত রিজিকের প্রতি যতটুকু মুখাপেক্ষী, তাঁর শরয়ি বিধানের প্রতিও ঠিক ততটুকুই মুখাপেক্ষী।
কেননা মানবাত্মা বহুমুখী অনুষঙ্গ ও বিচিত্র প্রবৃত্তি দ্বারা পরিব্যাপ্ত; কোনো মানুষের পক্ষে এমন এক বিধান রচনা করা অসম্ভব যা তার আত্মার যাবতীয় দাবির পূর্ণ পরিতৃপ্তি ঘটাবে। মানুষকে শাসন করার জন্য এবং তাদের সামগ্রিক মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো চরিতার্থ করার জন্য একটি শাশ্বত বিধানের যতটুকু আবশ্যকতা রয়েছে, আমরা দেখতে পাই যে তাদের আল্লাহর শরয়ি বিধানের আবশ্যকতাও ঠিক ততটুকুই।
মানবরচিত আইনসমূহের সংঘাত ও টানাপোড়েন এটাই প্রমাণ করে যে, আজ যে বিধানটি কার্যকর, আগামীকাল তা অচল হয়ে পড়ে।
কারণ মানব আইনপ্রণেতা কেবল অতীত সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নয়। সুতরাং, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে আগামীর সমস্যা সমাধানের তরে কোনো বিধান প্রণয়ন করবেন?
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
كما أنه يضع القانون للجماعة التي تحيط به فقط، لأن ما يصلح لرجل الشرق لا يصلح لرجل الغرب، وهذا يتنافى مع إقامة مجتمع عالمي يعيش في سلام.
ولا يفوتني أن أذكر لك فارقا أخيراً، وهو أن التشريع الأرضي يوضع لحكم الناس فقط.
أما شريعة الله فتهدف إلى تربية النفوس وتساميها، مع دورها في حكمهم وتأديبهم.
فالمسلم لا يسرق ولو أمن من قطع اليد. لأن الشريعة مزجت بين المحرمات وبين الخوف من الله. مزجت بين قطع اليد وبين النكال من الله.
قال تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} "38 المائدة" فلو نجا من القطع فلن ينجو من النكال.
والمقارنة بغير الشريعة والقانون تعني المقارنة بين حارس مسلح، وبين نصب يضعه الفلاح في الحقل على صورة رجل لتخافه الطيور فلا تسقط على الحب.
তদুপরি, তিনি কেবলমাত্র তাঁর পরিবেষ্টিত জনগোষ্ঠীর জন্যই আইন প্রণয়ন করেন; কারণ যা প্রাচ্যের মানুষের জন্য উপযোগী, তা পাশ্চাত্যের মানুষের জন্য উপযোগী নয়। আর এটি শান্তিতে বসবাসকারী একটি বিশ্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী।
আমার আরও একটি পার্থক্যের কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন, তা হলো পার্থিব বিধান কেবল মানুষকে শাসনের লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়।
পক্ষান্তরে, আল্লাহর শরিয়ত মানুষের শাসন ও শৃঙ্খলার পাশাপাশি আত্মার পরিশুদ্ধি ও তার উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
ফলে একজন মুসলিম চুরি করে না, যদিও সে হস্তকর্তনের শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকে। কারণ শরিয়ত নিষিদ্ধ বিষয়াবলি এবং আল্লাহর ভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে। এটি হস্তকর্তনের বিধান এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেন: "আর চোর পুরুষ ও চোর নারী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়" (সূরা আল-মায়েদাহ: ৩৮)। সুতরাং যদি সে হস্তকর্তন থেকে বেঁচেও যায়, তবে আল্লাহর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না।
শরিয়ত ও পার্থিব আইনের তুলনা মূলত একজন সশস্ত্র প্রহরী এবং কৃষকের ফসলের মাঠে মানুষের আদলে স্থাপিত একটি কাঠামোর (কাকতাড়ুয়া) মধ্যে তুলনার নামান্তর, যা দেখে পাখিরা ভীত হয় যেন তারা শস্যদানার ওপর না বসে।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فالناس بحاجة إلى شريعة الله بمقدار حاجتهم إلى شريعة عالية المساحة، خالدة الثبوت، حية العطاء مؤدبة وحاكمة.
وائل: كنا نعتقد أن العقل البشري كل شيء
… وكنا نتصور أن الشريعة جاءت لفترة ثم أتت أكلها واستغنى الناس عنها .. فما أحوجنا إلى منهج السماء.
* * *
عارف: هناك سبب رابع لإرسال الرسل:
وهو تطبيق عدل الله ورحمته بالناس.
إن الله لا يسوي بين الطائع والعاصي. ولا بين أهل الخير والأشرار.
ولو حاسب الناس في محكمة العدل المطلق - من غير أن يرسل إليهم رسلا لكان الناس حق الاعتراض.
وكان من حقهم أن يقولوا: {رَبَّنَا لَوْلَا أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَنَتَّبِعَ آيَاتِكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَذِلَّ وَنَخْزَى} 134 طه
সুতরাং মানুষের আল্লাহর শরীয়তের প্রতি প্রয়োজন ততটাই, যতটা তাদের প্রয়োজন এমন এক শরীয়তের যা ব্যাপক পরিসরসম্পন্ন, শাশ্বতভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত, প্রাণবন্ত দানে সমৃদ্ধ, শিষ্টাচার দানকারী এবং শাসনকারী।
ওয়ায়েল: আমরা মনে করতাম যে মানব বুদ্ধিই সবকিছু
… আর আমরা ধারণা করতাম যে শরীয়ত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসেছিল, তারপর তা ফলপ্রসূ হয়ে শেষ হয়েছে এবং মানুষ তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে গিয়েছে.. আসমানি পদ্ধতির প্রতি আমাদের কতই না মুখাপেক্ষীতা।
* * *
আরিফ: রসূল প্রেরণের একটি চতুর্থ কারণ রয়েছে:
আর তা হলো মানুষের মাঝে আল্লাহর ন্যায়বিচার ও তাঁর রহমত বাস্তবায়ন করা।
নিশ্চয়ই আল্লাহ অনুগত এবং অবাধ্যের মধ্যে সমতা করেন না। আর না সৎকর্মশীল ও মন্দলোকদের মধ্যে।
আর যদি তিনি তাদের কাছে কোনো রসূল না পাঠিয়ে পরম ন্যায়বিচারের আদালতে মানুষের হিসাব নিতেন, তবে মানুষের আপত্তির অধিকার থাকত।
এবং তাদের অধিকার থাকত একথা বলার: "হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি কেন আমাদের কাছে একজন রসূল পাঠালেন না? তাহলে আমরা লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হওয়ার পূর্বেই আপনার আয়াতসমূহ অনুসরণ করতাম।" ১৩৪ ত্বোয়া-হা
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وائل: هذا صحيح
… فلا جريمة بلا نص.
عارف: من أجل ذلك أرسل الله الرسل ليقطع حجج الناس. {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} 165 النساء
وائل: لا حجة لنا على الله.
فالرسل شهود علينا، وكتاب الله بيننا، ومع ذلك فالله قد احترم عقولنا، لأن الرسل لم تحرم شيئاً يقول العقل إنه حلال، ولم تحل شيئا يقول العقل إنه حرام.
آمنت أن تقليد الأنبياء عصمة من الضلال، ومنهجهم سلامة من الزيغ. واستودعك الله على أمل اللقاء.
ওয়ায়েল: এটি সঠিক
… কেননা অকাট্য পাঠ (نص) ব্যতীত কোনো অপরাধ সাব্যস্ত হয় না।
আরিফ: এই উদ্দেশ্যেই আল্লাহ রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন যাতে মানুষের ওজর-আপত্তি খণ্ডন করা যায়। {সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন, যাতে রাসূলদের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত (حجة) না থাকে} ১৬৫ আন-নিসা
ওয়ায়েল: আল্লাহর বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অজুহাত (حجة) নেই।
রাসূলগণ আমাদের ওপর সাক্ষী এবং আল্লাহর কিতাব আমাদের মাঝে বিদ্যমান; তা সত্ত্বেও আল্লাহ আমাদের বিচারবুদ্ধিকে সম্মান করেছেন। কারণ রাসূলগণ এমন কোনো বিষয়কে নিষিদ্ধ (حرام) করেননি যা বিবেক বৈধ (حلال) বলে গণ্য করে, আর এমন কোনো বিষয়কে বৈধ (حلال) করেননি যা বিবেক নিষিদ্ধ (حرام) বলে গণ্য করে।
আমি বিশ্বাস করি যে, নবীদের অনুসরণই হলো পথভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষা এবং তাঁদের কর্মপন্থা (منهج) হলো বিচ্যুতি থেকে নিরাপত্তা। পুনরায় সাক্ষাতের প্রত্যাশায় আপনাকে আল্লাহর নিকট সঁপে দিচ্ছি।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثانيحاجة العالم الإسلامي في القرن السادس الميلاديالفرس: الهدى في غير معابدهم.
الروم: ترومت النصرانية. ولم يتنصر الرومان.
اليهود: حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا.
العرب: حاجتهم للرسالة تعدل حاجة العالم كله.
দ্বিতীয় অধ্যায়ষষ্ঠ খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে ইসলামি বিশ্বের প্রয়োজনীয়তাপারস্যবাসী: হেদায়েত ছিল তাদের উপাসনালয়গুলোর বাইরে।
রোমান: খ্রিষ্টধর্ম রোমানিকৃত হয়েছিল, কিন্তু রোমানরা প্রকৃত খ্রিষ্টান হতে পারেনি।
ইহুদি: তাদের তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে বহন করেনি।
আরব: ঐশী বার্তার প্রতি তাদের প্রয়োজনীয়তা ছিল সমগ্র বিশ্বের প্রয়োজনীয়তার সমতুল্য।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
في صباح يوم من أيام الربيع جلس الشيخ عارف بعد صلاة الصبح يرقل بعض آيات القرآن. بينما انشغلت "ساجدة" زوجته بإعداد الطعام.
وطرق الباب طارق من الجزيرة، تناولوا جميعاً، ودار حلو الكلام.
* * *
الشيخ: كيف حال الناس في الجزيرة يا شيخ سرحان؟
سرحان: الحمد لله. نزل الغيث من بعدما قنطوا، ونشر الله رحمته.
الشيخ: هذه سنة الله في الكون.
المطر يأتي بعد الظمأ، والنصر بعد الصبر، والفرج بعد الكرب
…كل هذه نماذج للرحمة الخاصة ..
أما الرحمة العامة - التي أشرق نورها بعد طول الظلام فهو محمد صلى الله عليه وسلم -
বসন্তের এক সকালে ফজরের সালাতের পর শেখ আরিফ বসে কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর স্ত্রী "সাজিদা" খাবার প্রস্তুত করতে ব্যস্ত ছিলেন।
এমতাবস্থায় জাজিরা (উপদ্বীপ) থেকে এক আগন্তুক দরজায় কড়া নাড়লেন, তাঁরা সকলে মিলে আহার গ্রহণ করলেন এবং মনোমুগ্ধকর আলাপচারিতা চলল।
* * *
শেখ: হে শেখ সারহান, জাজিরার মানুষেরা কেমন আছে?
সারহান: আলহামদুলিল্লাহ। তারা নিরাশ হওয়ার পর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে এবং আল্লাহ তাঁর রহমত বিস্তৃত করেছেন।
শেখ: এটি সৃষ্টিজগতে আল্লাহর একটি চিরাচরিত নিয়ম (سنة)।
তৃষ্ণার পরে বৃষ্টি আসে, ধৈর্যের পরে বিজয় আসে এবং কষ্টের পরে মুক্তি আসে
…এই সবই হলো বিশেষ রহমতের উদাহরণ...
আর সাধারণ রহমত—দীর্ঘ অন্ধকারের পর যাঁর নূর উদ্ভাসিত হয়েছে—তিনি হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
لقد عاش العالم قرونا طويلة يبحث عن النور.
فالدارس للتاريخ - يا شيخ سرحان - يرى أن القرن السادس الميلادي ومطلع القرن السابع كان الظلام قد وصل فيهما إلى كل بقعة في الأرض - وضعف نور الأديان السماوية فلم تستطع أن تهب الناس هديا على الطريق.
سرحان: الفرس كانت تعبد النار، واستولى رهبانها على أرزاق الناس مما جعل عقلاء الشباب يخرج منها ويبحث عن الهدى في غير معابدها كسلمان الفارسي رضي الله عنه.
سرحان: فماذا عن الروم يا شيخ عارف؟
عارف: الروم دخلت الديانة النصرانية وهي محملة بأوزار الوثنية، وعقائدها الفاسدة، والأناء القذر لو وضعنا فيه حليبا يفسد الحليب، فاستطاعت الروم أن تروم النصرانية ولم تستطع النصرانية أن تنصر الروم.
ولو درست مجتمع (نيقية) الذي عقد في عام 325 لمعالجة
পৃথিবী দীর্ঘ শতাব্দী ধরে আলোর সন্ধানে অতিবাহিত করেছে।
হে শেখ সারহান, ইতিহাসের ছাত্র মাত্রই দেখতে পান যে, খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী এবং সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে অন্ধকার পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল - আর আসমানি ধর্মসমূহের আলো ক্ষীণ হয়ে পড়েছিল, ফলে তা মানুষকে পথের দিশা দিতে পারছিল না।
সারহান: পারস্যবাসী অগ্নির উপাসনা করত এবং তাদের পুরোহিতরা মানুষের জীবিকার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল, যা বুদ্ধিমান যুবকদের সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তাদের উপাসনালয়ের বাইরে হিদায়াতের সন্ধান করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যেমন সালমান আল-ফারসি (রা.)।
সারহান: তাহলে রোমানদের অবস্থা কেমন ছিল, হে শেখ আরিফ?
আরিফ: রোমানরা খ্রিস্টধর্মে প্রবেশ করেছিল পৌত্তলিকতার বোঝা এবং তাদের ভ্রান্ত আকিদা সাথে নিয়ে। একটি নোংরা পাত্রে যদি দুধ রাখা হয় তবে সেই দুধ যেমন নষ্ট হয়ে যায়, তেমনিভাবে রোমানরা খ্রিস্টধর্মকে নিজেদের ছাঁচে ঢালতে সক্ষম হলেও খ্রিস্টধর্ম রোমানদেরকে সত্যিকারের পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়নি।
আর আপনি যদি ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে আয়োজিত 'নিসিয়া' সভা নিয়ে পড়াশোনা করেন যা মূলত সমাধানের জন্য...
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الخلافات التي ظهرت في الديانة النصرانية بسبب دخول طوائف وثنية من الرومان واليونان والمصريين فيها.
وقد ناقش هذا المجمع قضية ألوهية السيد المسيح، وبعد صراع طويل يمكن أن تقرأه في كتب تاريخ الرومان.
استطاع المجمع أن يتخذ أول قرار بألوهية المسيح بعد أن كانت المسيحية ديانة توحيد لمدة 325 سنة.
* * *
وفي عام 381 اتخذ القرار الثاني بألوهية روح القدس في المجمع القسطنطيني وأصبحت الآلهة ثلاثاً بعد أن كان المسيح يدعو إلى التوحيد الخالص.
فالديانة النصرانية الجديدة لم يصبح لديها من القدرة ما تضيء به الناس الطريق.
--------------------------------------------
রোমান, গ্রিক এবং মিশরীয়দের মধ্য থেকে পৌত্তলিক সম্প্রদায়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে খ্রিস্টধর্মে যে সকল মতবিরোধের উদ্ভব হয়েছিল।
এই কাউন্সিল মসীহ-এর উপাস্যত্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিল; এক দীর্ঘ লড়াইয়ের পর যার বিবরণ আপনি রোমান ইতিহাসের গ্রন্থাবলীতে পাঠ করতে পারেন।
খ্রিস্টধর্ম দীর্ঘ ৩২৫ বছর একেশ্বরবাদী ধর্ম থাকার পর, এই কাউন্সিল মসীহ-এর উপাস্যত্বের ব্যাপারে প্রথম সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয়।
* * *
এবং ৩৮১ খ্রিস্টাব্দে কনস্টান্টিনোপল কাউন্সিলে পবিত্র আত্মার উপাস্যত্ব সম্পর্কে দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং মসীহ যেখানে বিশুদ্ধ একত্ববাদের দিকে আহ্বান করতেন, সেখানে উপাস্য তিনে পরিণত হয়।
ফলে এই নতুন খ্রিস্টীয় ধর্মমতের নিকট মানুষের পথকে আলোকিত করার মতো কোনো সামর্থ্য আর অবশিষ্ট ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
اليهود:
حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ
… ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا.
كلفوا بتوصيل النور إلى الناس فأطفأوا مصابيح قلوبهم، فماذا يمكن أن يقدموا للناس؟
حرفوا من دينهم ما لا يتفق مع مصالحهم الوضيعة. وشوهوا صورة أصحاب الرسالات - من الأنبياء الكرام - ليبطلوا جانب الأسوة والمثل الأعلى.
كما جعلوا البيع مثل الربا وفرَّ رجال الدين من معابدهم ليسيروا في الركب المادي بعد أن فلتت القيادة من أيديهم.
ولم يبق لهم من دين الله إلا شعارات كاذبة استباحوا بها دماء الناس وأموالهم.
فاليهودية أيضا عجزت عن مد العالم بشعاع من نور الله.
* * *
ইহুদি জাতি:
তাদের ওপর তাওরাতের ভার অর্পণ করা হয়েছিল
… অতঃপর তারা তা বহন করেনি।
মানুষের নিকট হিদায়াতের আলো পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তাদের প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের অন্তরের প্রদীপসমূহ নিভিয়ে ফেলেছে; ফলে মানুষের নিকট তারা আর কী-ই বা পেশ করতে পারে?
তারা তাদের দ্বীন থেকে এমন সব বিষয় বিকৃত (تحريف) করেছে যা তাদের হীন স্বার্থের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল না। আর তারা রিসালাতের বাহক—সম্মানিত নবীগণের—মর্যাদাপূর্ণ ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করেছে, যেন তারা অনুসরণীয় আদর্শ ও সর্বোত্তম নিদর্শনের দিকটিকে অকার্যকর করে দিতে পারে।
অনুরূপভাবে তারা ক্রয়-বিক্রয়কে সুদের (ربا) ন্যায় সাব্যস্ত করেছে এবং তাদের ধর্মযাজকরা নেতৃত্ব হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর বস্তুবাদী কাফেলায় শামিল হতে নিজেদের উপাসনালয় ছেড়ে পলায়ন করেছে।
আল্লাহর দ্বীন থেকে তাদের নিকট কেবল কিছু মিথ্যা শ্লোগানই অবশিষ্ট ছিল, যার মাধ্যমে তারা মানুষের জান ও মাল লুণ্ঠন করাকে বৈধ (استباحة) করে নিয়েছিল।
সুতরাং ইহুদি ধর্মও বিশ্বকে আল্লাহর নূরের বিকিরণ দানে অক্ষম হয়ে পড়েছে।
* * *
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
سرحان: والعرب يا شيخ عارف؟
لماذا لم تتكلم عنهم؟
عارف: العرب حجبهم عن الهدى السماوي البعد السحيق بين إبراهيم عليه السلام وبين محمد صلى الله عليه وسلم والذي يقدر بآلاف السنين.
سرحان: لكن سلسلة من الأنبياء بشرا في وسط هذه المدة موسى وداود وسليمان وعيسى وغيرهم.
عارف: هؤلاء جميعا بعثوا لبني إسرائيل فقط.
فدعوتهم خاصة بأقوامهم.
{وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ لِمَ تُؤْذُونَنِي وَقَدْ تَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ} 5 الصف
فرسالة موسى لقومه فقط - كذلك رسالة المسيح: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ} 6 الصف
সারহান: আর আরবদের বিষয়টি কেমন, হে শায়খ আরিফ?
কেন আপনি তাদের ব্যাপারে আলোচনা করেননি?
আরিফ: ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মধ্যবর্তী সুদীর্ঘ সময়ের ব্যবধান, যা কয়েক হাজার বছর বলে পরিগণিত, আরবদের ঐশী হেদায়েত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সারহান: কিন্তু এই মধ্যবর্তী সময়ে তো মুসা, দাউদ, সুলাইমান, ঈসা এবং তাঁদের ন্যায় একদল নবীর পরম্পরা বিদ্যমান ছিল।
আরিফ: তাঁরা সকলেই কেবল বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন।
সুতরাং তাঁদের দাওয়াত ছিল তাঁদের স্বীয় কওমের জন্য নির্দিষ্ট।
{আর স্মরণ করো, যখন মুসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিল: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ, অথচ তোমরা অবগত আছো যে আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল?} (সূরা আস-সাফ: ৫)
সুতরাং মুসার রিসালাত ছিল কেবল তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য—অনুরূপভাবে মাসীহের রিসালাতও: {আর স্মরণ করো, যখন মারইয়াম-পুত্র ঈসা বলেছিল: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।} (সূরা আস-সাফ: ৬)
(খণ্ড: ১)
হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أما العرب فقال عنهم القرآن: {لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أَتَاهُمْ مِنْ نَذِيرٍ مِنْ قَبْلِكَ} 46 القصص
{لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أُنْذِرَ آبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ} 6 (يس)
لقد كانت الأمة العربية أسوأ العالم حالا، وأحوجه إلى رسول.
لقد عبدوا الحجر، وأكلوا القذر، وسفكوا الدماء، ووأدوا البنات، ولعب الخمر بعقولهم، فاستعبدوا الأحرار، وأكلوا القمار، واستباحوا الربا، فماذا بقي لهم؟
يا شيخ سرحان: لقد كان العالم كله بحاجة إلى نبي يخلصه من الضلال، وينقذه من الهاوية.
وكانت حاجة الأمة العربية وحدها كانت تعدل حاجة العالم كله. فمن الناحية الدينية:
سجد الإنسان للصنم - الذي صنعه بيده، وطلب منه جلب الخير ودفع الضر، مع أن الذباب إن يسلب آلهتهم شيئاً لَا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ.
ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ.
আরবদের সম্পর্কে কুরআন বলেছে: {যাতে আপনি এমন এক কওমকে সতর্ক করতে পারেন, যাদের কাছে আপনার পূর্বে কোনো সতর্ককারী আসেনি} ৪৬ (আল-কাসাস)
{যাতে আপনি এমন এক কওমকে সতর্ক করেন যাদের পূর্বপুরুষদের সতর্ক করা হয়নি, ফলে তারা গাফেল} ৬ (ইয়াসীন)
নিশ্চয়ই আরব জাতি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় ছিল এবং একজন রাসূলের সর্বাধিক মুখাপেক্ষী ছিল।
তারা পাথরের পূজা করত, অপবিত্র বস্তু ভক্ষণ করত, রক্তপাত ঘটাত, কন্যা সন্তানদের জীবন্ত সমাহিত করত এবং মদ তাদের বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল; ফলে তারা স্বাধীন মানুষদের দাসে পরিণত করেছিল, জুয়া খেলে সম্পদ গ্রাস করত এবং সুদকে বৈধ করে নিয়েছিল। এমতাবস্থায় তাদের আর কী অবশিষ্ট ছিল?
হে শায়খ সারহান: সমগ্র বিশ্ব এমন একজন নবীর মুখাপেক্ষী ছিল যিনি তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্তি দেবেন এবং ধ্বংসের অতল গহ্বর থেকে উদ্ধার করবেন।
আর কেবলমাত্র আরব জাতির প্রয়োজনই ছিল সমগ্র বিশ্বের প্রয়োজনের সমতুল্য। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে:
মানুষ নিজ হাতে তৈরি মূর্তির সামনে সিজদাবনত হত এবং তার কাছে কল্যাণ লাভ ও অমঙ্গল দূর করার প্রার্থনা করত; অথচ মাছি যদি তাদের এই উপাস্যদের কাছ থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নিত, তবে তারা তা উদ্ধার করতে সক্ষম ছিল না।
অন্বেষণকারী এবং অন্বেষিত—উভয়ই কতই না দুর্বল!