(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: -)
معرفة السنن والآثار   (أبو بكر البيهقي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: معرفة السنن والآثار

المؤلف: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى الخُسْرَوْجِردي الخراساني، أبو بكر البيهقي (ت 458هـ)

المحقق: عبد المعطي أمين قلعجي

الناشرون: جامعة الدراسات الإسلامية (كراتشي - باكستان)، دار قتيبة (دمشق -بيروت)، دار الوعي (حلب - دمشق)، دار الوفاء (المنصورة - القاهرة)

الطبعة: الأولى، 1412هـ - 1991م

عدد الأجزاء: 15

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 صفر 1433

মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার   (আবু বকর আল-বায়হাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

গ্রন্থ: মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার

লেখক: আহমাদ ইবনুল হুসাইন বিন আলী বিন মুসা আল-খুসরাউজিরদী আল-খুরাসানী, আবু বকর আল-বায়হাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরী)

তাহকীক: আব্দুল মু'তী আমীন কাল'আজী

প্রকাশকবৃন্দ: জামিয়াতুদ দিরাসাতিল ইসলামিয়া (করাচি - পাকিস্তান)، দারু কুতায়বা (দামেস্ক - বৈরুত)، দারুল ওয়ায়ি (আলেপ্পো - দামেস্ক)، দারুল ওয়াফা (মানসুরা - কায়রো)

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১২ হিজরী - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ডের সংখ্যা: ১৫

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ সফর ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ৯৭)
مَعْرِفَةُ السُّنَنِ وَالْآثَارِ لِلْبَيْهَقِيِّ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَهُوَ حَسْبِي

وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّمَ

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ أَجْمَعِينَ

‌‌1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُسَيْنِ الشَّافِعِيُّ ، بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ بِدِمِشْقَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا
ইমাম বায়হাক্বী রচিত মা‘রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট

আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ ও তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত বর্ষণ করুন

‌‌১ - শাইখ, ইমাম, হাফিয আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আশ-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—দামেস্কে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ৯৮)
الشَّيْخُ الْفَقِيهُ أَبُو مُحَمَّدُ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَيْهَقِيُّ الْخَوَارِيُّ بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ بِنَيْسَابُورَ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْبَيْهَقِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ، رحمه الله فِيمَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ مِنْ كُتُبِ الْإِمَامِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيِّ الْمُطَّلِبِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
শায়খ আল-ফকিহ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল জাব্বার ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-বায়হাকি আল-খাওয়ারি নিসাবুরে আমার তাঁর নিকট পাঠকালে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আল-ইমাম আল-হাফিজ আবু বকর আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলি আল-বায়হাকি, তাঁর নিকট চারশত তিপ্পান্ন হিজরি সনে পাঠকালে, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে মুসা ইবনে আল-ফদল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), যা আমি তাঁর নিকট ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিয়ি আল-মুত্তালিবির (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কিতাবসমূহ থেকে পাঠ করেছি।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ৯৯)
فِي الْأُصُولِ أَنَّ أَبَا الْعَبَّاسِ مُحَمَّدَ بْنَ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ رحمه الله حَدَّثَهُمْ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُرَادِيُّ رحمه الله قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رحمه الله قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى جَمِيعِ نِعَمِهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ وَكَمَا يَنْبَغِي لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ ‌‌⦗ص: 100⦘ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ،
উসুলশাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইউসুফ (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু মুহাম্মদ আল-রাবি বিন সুলাইমান আল-মুরাদি (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর সকল নিআমতের ওপর, তিনি যার যোগ্য এবং তাঁর জন্য যেরূপ শোভনীয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য ⦗পৃষ্ঠা: ১০০⦘ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই,
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১০০)
وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ بَعَثَهُ بِكِتَابٍ عَزِيزٍ لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ

 

‌‌2 - فَهَدَى بِكِتَابِهِ ثُمَّ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَنْعَمَ عَلَيْهِ وَأَقَامَ الْحُجَّةَ عَلَى خَلْقِهِ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ فَقَالَ: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [سورة: النحل، آية رقم: 44].

 

‌‌3 - وَقَالَ: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً} [سورة: النحل، آية رقم: 89]

 

‌‌4 - وَفَرَضَ عَلَيْهِمُ اتِّبَاعَ مَا أَنْزَلَ إِلَيْهِمْ وَسَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَهُمْ فَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [سورة: الأحزاب، آية رقم: 36].

 

‌‌5 - فَاعْلَمْ أَنَّ مَعْصِيَتَهُ فِي تَرْكِ أَمْرِهِ وَأَمْرِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُمْ إِلَّا اتِّبَاعَهُ،

 

‌‌6 - ثُمَّ سَاقَ الْكَلَامَ إِلَى أَنْ قَالَ وَقَالَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم {اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكِ} [سورة: الأنعام، آية رقم: 106].

 

‌‌7 - وَقَالَ {وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ} [سورة: المائدة، آية رقم: 49].

 

‌‌8 - وَقَالَ يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ.

 

‌‌9 - وَقَالَ: وَلَيْسَ يُؤْمَرُ أَحَدٌ أَنْ يَحْكُمَ بِحَقٍّ إِلَّا وَقَدْ أُعْلِمَ الْحَقَّ، وَلَا يَكُونُ الْحَقُّ مَعْلُومًا إِلَّا عَنِ اللَّهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ نَصًّا أَوْ دَلَالَةً
এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তিনি তাঁকে এক সম্মানিত কিতাবসহ পাঠিয়েছেন, যাতে কোনো মিথ্যা সামনে বা পেছন থেকে আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

 

‌‌২ - অতঃপর তিনি তাঁর কিতাবের মাধ্যমে এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবানে তাকে হেদায়েত দান করেছেন যার ওপর তিনি অনুগ্রহ করেছেন। আর তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত করেছেন যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। তিনি বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।" [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৪৪]

 

‌‌৩ - এবং তিনি বলেছেন: "আর আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে এবং হেদায়েত ও রহমত হিসেবে।" [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৮৯]

 

‌‌৪ - আর তিনি তাদের ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন তার অনুসরণ করা ফরজ করেছেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য সুন্নাত নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো।" [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৬]

 

‌‌৫ - সুতরাং জেনে রাখুন যে, তাঁর অবাধ্যতা হলো তাঁর আদেশ এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ বর্জন করার মধ্যে। আর তিনি তাদের জন্য কেবল তাঁর অনুসরণকেই নির্ধারিত করেছেন।

 

‌‌৬ - অতঃপর তিনি আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করে বলেন যে, তিনি তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যা ওহী করা হয়েছে আপনি তার অনুসরণ করুন।" [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১০৬]

 

‌‌৭ - এবং তিনি বলেছেন: "আর আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা দ্বারা ফয়সালা করুন।" [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৪৯]

 

‌‌৮ - এবং তিনি বলেছেন: "হে দাউদ! নিশ্চয় আমি আপনাকে পৃথিবীতে খলীফা বানিয়েছি, সুতরাং আপনি মানুষের মাঝে সত্যের সাথে ফয়সালা করুন।"

 

‌‌৯ - এবং তিনি বলেছেন: কাউকেই সত্যের সাথে ফয়সালা করার নির্দেশ দেওয়া হয় না যতক্ষণ না তাকে সত্য অবগত করা হয়। আর সত্য কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই জ্ঞাত হওয়া সম্ভব, স্পষ্ট ভাষ্য অথবা দলিলের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১০১)
‌‌10 - وَقَدْ جَعَلَ اللَّهُ الْحَقَّ فِي كِتَابِهِ ثُمَّ سُنَّةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَيْسَتْ تَنْزِلُ بِأَحَدٍ نَازِلَةٌ إِلَّا وَالْكِتَابُ يَدُلُّ عَلَيْهَا نَصًّا أَوْ جُمْلَةً،

 

‌‌11 - فَالنَّصُّ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَأَحَلَّ نَصًّا، حَرَّمَ الْأُمَّهَاتِ وَالْبَنَاتِ وَالْأَخَوَاتِ وَالْعَمَّاتِ وَالْخَالَاتِ، وَمَنْ ذَكَرَ مَعَهُنَّ فِي الْآيَةِ، وَأَبَاحَ مَنْ سِوَاهُنَّ،

 

‌‌12 - وَحَرَّمَ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَالْفَوَاحِشَ مَا ظَهْرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ،

 

‌‌13 - وَأَمَرَ بِالْوُضُوءِ فَقَالَ {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ} [سورة: المائدة، آية رقم: 6].

 

‌‌14 - فَكَانَ مُكْتَفِيًا بِالتَّنْزِيلِ فِي هَذَا عَنِ الِاسْتِدْلَالِ فِيمَا نَزَلَ فِيهِ مَعَ أَشْبَاهٍ لَهُ.

 

‌‌15 - قَالَ: وَالْجُمَلُ مَا فَرَضَ اللَّهُ مِنْ صَلَاةٍ وَزَكَاةٍ وَحَجٍّ فَدَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ الصَّلَاةُ، وَعَدَدُهَا، وَوَقْتُهَا، وَالْعَمَلُ فِيهَا، وَكَيْفَ الزَّكَاةُ وَفِي أَيِّ الْمَالِ هِيَ، وَفِي أَيِّ وَقْتٍ هِيَ، وَكَمْ قَدْرُهَا، وَبَيَّنَ كَيْفَ الْحَجُّ، وَالْعَمَلُ فِيهِ وَمَا يَدْخُلُ بِهِ فِيهِ وَمَا يَخْرُجُ بِهِ مِنْهُ،

 

‌‌16 - فَإِنْ قِيلَ: فَهَلْ يُقَالُ لِهَذَا كَمَا قِيلَ لِلْأَوَّلِ قُبِلَ عَنِ اللَّهِ تبارك وتعالى؟ قِيلَ: نَعَمْ، قُبِلَ عَنِ اللَّهِ عز وجل بِكَلَامِهِ جُمْلَةً، وَقُبِلَ تَفْسِيرُهُ عَنِ اللَّهِ بِأَنَّ اللَّهَ فَرَضَ طَاعَةَ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [سورة: الحشر، آية رقم: 7]، وَقَالَ: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [سورة: النساء، آية رقم: 80]. مَعَ مَا فَرَضَ مِنْ طَاعَةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم.
১০ - আল্লাহ সত্যকে তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নতে নিহিত রেখেছেন। সুতরাং কারও ওপর এমন কোনো সমস্যা বা ঘটনা আপতিত হয় না, যার সমাধান কিতাব স্পষ্টভাবে অথবা সামগ্রিকভাবে নির্দেশ করে না।

 

১১ - স্পষ্ট বিধান (নস) হলো আল্লাহ যা স্পষ্টভাবে হারাম বা হালাল করেছেন। যেমন তিনি মা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা এবং যাদের কথা আয়াতে তাঁদের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের (বিবাহ করা) হারাম করেছেন এবং তাঁদের ব্যতীত অন্যদের হালাল করেছেন।

 

১২ - এবং তিনি মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস এবং প্রকাশ্য ও গোপন সকল অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন।

 

১৩ - তিনি ওযুর নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন: "যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং হাতসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত করো।" [সূরা: আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬]

 

১৪ - সুতরাং এই বিষয়গুলো এবং এর সদৃশ নাযিলকৃত বিধানের ক্ষেত্রে দলীল অন্বেষণের পরিবর্তে নাযিলকৃত ওহির বর্ণনাই যথেষ্ট হয়েছে।

 

১৫ - তিনি বলেন: সামগ্রিক বিধানসমূহ (জুমাল) হলো আল্লাহ যা ফরজ করেছেন—যেমন সালাত, জাকাত এবং হজ। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ করেছেন সালাত কীভাবে আদায় করতে হয়, তার সংখ্যা কত, তার সময় কী এবং তাতে কী আমল করতে হয়; জাকাত কীভাবে দিতে হয়, কোন ধরণের সম্পদে তা দিতে হয়, কোন সময়ে দিতে হয় এবং তার পরিমাণ কত; আর তিনি বর্ণনা করেছেন হজ কীভাবে করতে হয়, হজের আমলসমূহ কী এবং কিসের মাধ্যমে হজে প্রবেশ করতে হয় ও কিসের মাধ্যমে তা থেকে বের হতে হয়।

 

১৬ - যদি প্রশ্ন করা হয়: প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে যেমন বলা হয়েছিল, এগুলোর ক্ষেত্রেও কি বলা যাবে যে তা মহান বরকতময় আল্লাহর পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে? উত্তর দেওয়া হবে: হ্যাঁ, সামগ্রিকভাবে এগুলো আল্লাহর বাণী হিসেবেই তাঁর পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। আর এর ব্যাখ্যাও আল্লাহর পক্ষ থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে, কারণ আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য করাকে ফরজ করেছেন। তিনি বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" [সূরা: আল-হাশর, আয়াত: ৭]। তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করলো, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করলো।" [সূরা: আন-নিসা, আয়াত: ৮০]। তাঁর রাসূলের আনুগত্যের যে বাধ্যবাধকতা তিনি আরোপ করেছেন, এটি তারই অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১০২)
‌‌17 - فَإِنْ قِيلَ: فَهَلْ سُنَّةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِوَحْيٍ؟ قِيلَ: اللَّهُ أَعْلَمُ
‌১৭ - যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ ওহীর মাধ্যমে? উত্তরে বলা হবে: আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১০২)
‌‌18 - قَالَ الشَّافِعَيُّ، أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ، أَحْسَبُهُ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عِنْدَهُ كِتَابًا مِنَ الْعُقُولِ نَزَلَ بِهِ الْوَحْيُ، وَمَا فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ صَدَقَةٍ وَعُقُولٍ فَإِنَّمَا نَزَلَ بِهِ الْوَحْيُ.

 

‌‌19 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: وَقِيلَ: لَمْ يَسُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا قَطُّ إِلَّا بِوَحْيِ اللَّهِ عز وجل فَمِنَ الْوَحْيِ مَا يُتْلَى، وَمِنْهُ مَا يَكُونُ وَحْيًا إِلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم فَيَسْتَنُّ بِهِ
১৮ - শাফিঈ বলেন, মুসলিম ইবনে খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমি মনে করি তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে—তিনি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর নিকট রক্তপণ সংক্রান্ত একটি কিতাব ছিল যা ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত ও রক্তপণ সংক্রান্ত যা কিছু ফরয করেছেন, তা মূলত ওহীর মাধ্যমেই অবতীর্ণ হয়েছে।

 

১৯ - শাফিঈ বলেন: বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওহী ব্যতীত কখনো কোনো বিধান বা সুন্নাহ প্রদান করেননি। ওহীর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা তিলাওয়াত করা হয় (কুরআন), আবার এমন কিছু রয়েছে যা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহী হিসেবে অবতীর্ণ হয় এবং তিনি সে অনুযায়ী সুন্নাহ নির্ধারণ করেন।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১০২)
‌‌20 - قَالَ الشَّافِعِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ حَنْطَبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا تَرَكْتُ شَيْئًا مِمَّا أَمَرَكُمُ اللَّهُ بِهِ إِلَّا وَقَدْ أَمَرْتُكُمْ بِهِ، وَلَا شَيْئًا مِمَّا نَهَاكُمُ اللَّهُ عَنْهُ إِلَّا وَقَدْ نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ، وَإِنَّ الرُّوحَ الْأَمِينَ قَدْ أَلْقَى فِي رَوْعِي أَنَّهُ لَنْ تَمُوتَ نَفْسٌ حَتَّى تَسْتَوْفِيَ رِزْقَهَا، فَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ» ‌‌⦗ص: 103⦘

 

‌‌21 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: فَقَدْ قِيلَ مَا لَمْ يُتْلَ بِهِ قَرْآنًا فَإِنَّمَا أَلْقَاهُ جِبْرِيلُ عليه السلام فِي رَوْعِهِ بِأَمْرِ اللَّهِ عز وجل، فَكَانَ وَحْيًا إِلَيْهِ،

 

‌‌22 - وَقَدْ قِيلَ: جَعَلَ اللَّهُ إِلَيْهِ لَمَّا شَهِدَ لَهُ بِهِ مِنْ أَنَّهُ يَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ أَنْ يَسُنَّ،

 

‌‌23 - وَأَيُّهُمَا كَانَ فَقَدْ أَلْزَمَهُ اللَّهُ خَلْقَهُ، وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُمُ الْخِيَرَةَ مِنْ أَمْرِهِمْ فِيمَا سَنَّ وَفَرَضَ عَلَيْهِمُ اتِّبَاعَ سُنَّتِهِ.

 

‌‌24 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْدَوَيْهِ الْحَافِظُ رحمه الله فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ مِنْ كُتُبِ الشَّافِعِيِّ رحمه الله فِي الْأُصُولِ أَنَّ أَبَا الْعَبَّاسِ مُحَمَّدَ بْنَ يَعْقُوبَ حَدَّثَهُمْ قَالَ ‌‌⦗ص: 104⦘: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رحمه الله قَالَ: وَقَدْ وَضَعَ اللَّهُ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم مِنْ دِينِهِ وَفَرْضِهِ وَكِتَابِهِ الْمَوْضِعَ الَّذِي أَبَانَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ أَنَّهُ جَعَلَهُ عَلَمًا لِدِينِهِ بِمَا افْتَرَضَ مِنْ طَاعَتِهِ وَحَرَّمَ مِنْ مَعْصِيَتِهِ، وَأَبَانَ مِنْ فَضِيلَتِهِ بِمَا قَرَنَ مِنَ الْإِيمَانِ بِرَسُولِهِ مَعَ الْإِيمَانِ بِهِ

 

‌‌25 - فَقَالَ تبارك وتعالى: {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ انْتَهُوا خَيْرًا لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ} [النساء: 171]،

 

‌‌26 - وَقَالَ {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ} [النور: 62]

 

‌‌27 - فَجَعَلَ كَمَالَ ابْتِدَاءِ الْإِيمَانِ الَّذِي مَا سِوَاهُ تَبَعٌ لَهُ الْإِيمَانَ بِاللَّهِ ثُمَّ بِرَسُولِهِ
‌‌20 - শাফিয়ী বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ, আমর বিন আবি আমর থেকে, তিনি মুত্তালিব বিন হানতাব থেকে, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ তোমাদের যা কিছু আদেশ করেছেন, তার কোনোটিই আমি তোমাদের আদেশ না করে ছাড়িনি। আর আল্লাহ তোমাদের যা কিছু নিষেধ করেছেন, তার কোনোটিই আমি তোমাদের নিষেধ না করে ছাড়িনি। নিশ্চয়ই রুহুল আমিন (জিবরাঈল) আমার হৃদয়ে এই কথাটি ঢেলে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণ ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না যতক্ষণ না সে তার রিজিক পূর্ণরূপে গ্রহণ করবে। অতএব, তোমরা (রিজিক) অন্বেষণে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো।» ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১০৩⦘

 

‌‌21 - শাফিয়ী বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, যা কুরআন হিসেবে তিলাওয়াত করা হয়নি, তা জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশে তাঁর হৃদয়ে ঢেলে দিয়েছেন, ফলে তা তাঁর প্রতি ওহী হিসেবে গণ্য হয়েছে।

 

‌‌22 - আবার বলা হয়ে থাকে: আল্লাহ তাঁর ব্যাপারে যখন এই সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি সরল পথের দিশা দেন, তখন সুন্নাহ প্রবর্তনের দায়িত্ব আল্লাহ তাঁর ওপরেই অর্পণ করেছেন।

 

‌‌23 - আর এর মধ্যে যেটিই হোক না কেন, আল্লাহ তা তাঁর সৃষ্টির ওপর আবশ্যক করেছেন। তিনি যা সুন্নাহ হিসেবে প্রবর্তন করেছেন এবং তাদের ওপর তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ ফরজ করেছেন, সে ব্যাপারে তাদের জন্য কোনো ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা রাখেননি।

 

‌‌24 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হামদুয়াহ আল-হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহ), শাফিয়ীর উসূল বিষয়ক কিতাবসমূহ থেকে যা তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে তার মধ্য থেকে; নিশ্চয়ই আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১০৪⦘: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাবি বিন সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাঁর দ্বীন, ফরজ বিধান এবং কিতাবের মধ্যে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই মর্যাদায় স্থাপন করেছেন, যা তিনি স্পষ্ট করেছেন—তাঁর প্রশংসা সুমহান—যে, তিনি তাঁকে তাঁর দ্বীনের আলোকবর্তিকা (নিশান) করেছেন; তাঁর আনুগত্যকে ফরজ করেছেন এবং তাঁর অবাধ্যতাকে হারাম করেছেন। আর তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে স্পষ্ট করেছেন নিজের প্রতি ঈমানের সাথে তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানকে যুক্ত করার মাধ্যমে।

 

‌‌25 - অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনো এবং বলো না যে, আল্লাহ তিনের একজন। এ থেকে বিরত থাকো, তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। নিশ্চয়ই আল্লাহই একমাত্র ইলাহ, তিনি পবিত্র—সন্তান গ্রহণ করা থেকে।} [নিসা: ১৭১],

 

‌‌26 - এবং তিনি বলেছেন {মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে। আর যখন তারা কোনো সমষ্টিগত কাজে রাসূলের সাথে থাকে, তখন তাঁর অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না।} [নূর: ৬২]

 

‌‌27 - সুতরাং তিনি ঈমানের সেই প্রাথমিক পূর্ণতাকে—যার অধীনস্থ অন্য সবকিছু—আল্লাহর প্রতি এবং তারপর তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানের ওপর স্থাপন করেছেন।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১০৪)
‌‌28 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ فِي قَوْلِهِ عز وجل {وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ} [الشرح: 4] قَالَ: لَا أُذْكَرُ إِلَّا ذُكِرْتَ مَعِي، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ

 

‌‌29 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: وَفَرَضَ اللَّهُ عَلَى النَّاسِ اتِّبَاعَ وَحْيِهِ وَسُنَنِ رَسُولِهِ فَقَالَ فِي كِتَابِهِ: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [آل عمران: 164] مَعَ آيٍ سِوَاهَا ذَكَرَ فِيهِنَّ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ

 

‌‌30 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: فَذَكَرَ اللَّهُ الْكِتَابَ وَهُوَ الْقُرْآنُ وَذَكَرَ الْحِكْمَةَ ‌‌⦗ص: 105⦘ فَسَمِعْتُ مَنْ أَرْضَى مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْقُرْآنِ يَقُولُ: الْحِكْمَةُ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم،

 

‌‌31 - وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59]

 

‌‌32 - فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ: أُولُو الْأَمْرِ أُمَرَاءُ سَرَايَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ، وَهَكَذَا أُخْبِرْنَا

 

‌‌33 - وَهُوَ يُشْبِهُ مَا قَالَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ؛ لِأَنَّ كُلَّ مَنْ كَانَ حَوْلَ مَكَّةَ فِي الْعَرَبِ لَمْ يَكُنْ يَعْرِفُ إِمَارَةً، وَكَانَتْ تَأْنَفُ أَنْ يُعْطِيَ بَعْضُهَا بَعْضًا طَاعَةَ الْإِمَارَةِ، فَلَمَّا دَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالطَّاعَةِ لَمْ تَكُنْ تَرَى ذَلِكَ يَصْلُحُ لِغَيْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُمِرُوا أَنْ يُطِيعُوا أُولِي الْأَمْرِ الَّذِينَ أَمَّرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا طَاعَةً مُطْلَقَةً، بَلْ طَاعَةً مُسْتَثْنَاةً فِيمَا لَهُمْ وَعَلَيْهِمْ. فَقَالَ: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ} [النساء: 59] يَعْنِي إِنِ اخْتَلَفْتُمْ فِي شَيْءٍ، يَعْنِي - وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ - هُمْ وَأُمَرَاؤُهُمُ الَّذِينَ أُمِرُوا بِطَاعَتِهِمْ {فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59] يَعْنِي - وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ - إِلَى مَا قَالَ اللَّهُ وَالرَّسُولُ،

 

‌‌34 - ثُمَّ سَاقَ الْكَلَامَ إِلَى أَنْ قَالَ وَأَعْلَمَهُمْ أَنَّ طَاعَةَ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم طَاعَتُهُ فَقَالَ: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65]

‌‌⦗ص: 106⦘.

 

‌‌35 - قَالَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله: نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِيمَا بَلَغَنَا - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - فِي رَجُلٍ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ فِي أَرْضٍ فَقَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِهَا لِلزُّبَيْرِ
২৮ - আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আর-রাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আশ-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে উইয়াইনাহ ইবনে আবি নাজিহ থেকে এবং তিনি মুজাহিদ থেকে মহান আল্লাহর বাণী "আর আমি আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি" [আশ-শারহ: ৪] সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি (মুজাহিদ) বলেন: "আমাকে স্মরণ করা হবে না যতক্ষণ না আমার সাথে আপনাকেও স্মরণ করা হয়: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।"

 

‌২৯ - আশ-শাফিঈ বলেন: আল্লাহ মানুষের ওপর তাঁর ওহি এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহর অনুসরণ করা ফরজ করেছেন। তিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন: "আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ (প্রজ্ঞা) শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল" [আল-ইমরান: ১৬৪]। এর পাশাপাশি আরও অনেক আয়াত রয়েছে যেগুলোতে তিনি কিতাব ও হিকমাহর কথা উল্লেখ করেছেন।

 

‌৩০ - আশ-শাফিঈ বলেন: আল্লাহ কিতাব উল্লেখ করেছেন যা হলো কুরআন, এবং তিনি হিকমাহর কথা উল্লেখ করেছেন। ‌⦗পৃষ্ঠা: ১০৫⦘ অতঃপর কুরআন সম্পর্কে ইলম রাখেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের প্রতি আমি সন্তুষ্ট, তাদের আমি বলতে শুনেছি যে: হিকমাহ হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ।

 

‌৩১ - এবং তিনি বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো রাসূলের আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদের। যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও" [আন-নিসা: ৫৯]।

 

‌৩২ - ইলম অন্বেষণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন: উলুল আমর হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রেরিত ক্ষুদ্র সেনাদলের (সারায়াহ) আমিরগণ; আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন, আর এভাবেই আমাদের সংবাদ দেওয়া হয়েছে।

 

‌৩৩ - এবং তিনি যা বলেছেন তা যৌক্তিক বলেই মনে হয়, আল্লাহ ভালো জানেন; কারণ মক্কার আশেপাশে বসবাসরত আরবদের কেউই তখন পর্যন্ত প্রশাসনিক নেতৃত্ব (ইমারত) সম্পর্কে জানত না এবং তারা নেতৃত্বের আনুগত্য করতে বা একে অপরের বশ্যতা স্বীকার করতে অহংবোধের কারণে বিমুখ থাকত। অতঃপর যখন তারা আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগত হলো, তখন তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া আর কাউকেই এই আনুগত্যের যোগ্য মনে করত না। তাই তাদেরকে আদেশ দেওয়া হলো যেন তারা সেই 'উলুল আমর' বা নেতৃত্বের আনুগত্য করে যাদেরকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমির নিযুক্ত করেছেন; তবে তা নিরঙ্কুশ আনুগত্য ছিল না, বরং তাদের অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট আনুগত্য ছিল। অতঃপর তিনি বললেন: "যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়" [আন-নিসা: ৫৯] অর্থাৎ তোমরা যদি কোনো বিষয়ে মতবিরোধ করো—অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—তারা (সাধারণ লোকজন) এবং তাদের আমিরগণ যাদের আনুগত্য করার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়েছিল, "তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও" [আন-নিসা: ৫৯] অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—আল্লাহ ও রাসূল যা বলেছেন সেদিকে।

 

‌৩৪ - অতঃপর তিনি আলোচনা এগিয়ে নিয়ে বললেন যে, আল্লাহ তাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা মূলত তাঁরই আনুগত্য। তাই তিনি বলেছেন: "না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করবে, অতঃপর আপনি যা ফয়সালা করবেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেবে" [আন-নিসা: ৬৫]।

‌⦗পৃষ্ঠা: ১০৬⦘.

 

‌৩৫ - আশ-শাফিঈ রহিমাহুল্লাহ বলেন: আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে—আল্লাহ ভালো জানেন—এই আয়াতটি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল যে এক খণ্ড জমি নিয়ে যুবাইরের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইরের পক্ষে সেই জমির ফয়সালা প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১০৬)
‌‌36 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ دَاسَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ رَجُلًا خَاصَمَ الزُّبَيْرَ فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا، فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ: سَرِّحَ الْمَاءَ يَمُرُّ فَأَبَى عَلَيْهِ الزُّبَيْرُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلزُّبَيْرِ: «اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلْ إِلَى جَارِكَ»، قَالَ: فَغَضِبَ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ: يَا رَسُولُ اللَّهِ: أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ، فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ: «اسْقِ ثُمَّ احْبِسْ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ»، فَقَالَ الزُّبَيْرُ: فَوَاللَّهِ إِنِّي لَأَحْسَبُ هَذِهِ الْآيَةَ نَزَلَتْ فِي ذَلِكَ: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ} [النساء: 65]‌‌⦗ص: 107⦘ أَخْرَجَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ وَأَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ النَّيْسَابُورِيُّ فِي الصَّحِيحِ مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ،

 

‌‌37 - وَفِي رِوَايَةِ مَعْمَرٍ وَشُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ أَنَّهُ قَالَ: وَاسْتَوْعَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلزُّبَيْرِ حَقَّهُ فِي صَرِيحِ الْحُكْمِ حِينَ أَحْفَظَهُ الْأَنْصَارِيُّ، وَكَانَ أَشَارَ عَلَيْهِمَا قَبْلَ ذَلِكَ بِأَمْرٍ كَانَ لَهُ فِيهِ سَعَةٌ، وَقَدْ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ.

 

‌‌38 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: وَهَذَا الْقَضَاءُ سُنَّةٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا حُكْمٌ مَنْصُوصٌ فِي الْقُرْآنِ ‌‌⦗ص: 108⦘،

 

‌‌39 - وَاحْتَجَّ أَيْضًا فِي فَرْضِ اتِّبَاعِ أَمْرِهِ بِقَوْلِهِ عز وجل: {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذًا فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63]

 

‌‌40 - وَذَكَرَ غَيْرَ ذَلِكَ مِنَ الْآيَاتِ الَّتِي دَلَّتْ عَلَى مِثْلِ مَا دَلَّتْ عَلَيْهِ هَذِهِ الْآيَاتُ

 

‌‌41 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رحمه الله قَالَ: وَكَانَ فَرْضُهُ عَلَى مَنْ عَايَنَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَاحِدًا فِي أَنَّ عَلَى كُلٍّ طَاعَتَهُ، وَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ غَابَ عَنْ رُؤْيَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْلَمُ أَمْرَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا بِالْخَبَرِ عَنْهُ،

 

‌‌42 - قَالَ: وَالْخَبَرُ عَنْهُ خَبَرَانِ: خَبَرُ عَامَّةٍ عَنْ عَامَّةٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِجُمَلِ مَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَأْتُوا بِهِ بِأَلْسِنَتِهِمْ وَأَفْعَالِهِمْ وَيُؤْتُوهُ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ، وَهَذَا مَا لَا يُسَعُ جَهْلُهُ. وَخَبَرُ خَاصَّةٍ فِي خَاصِّ الْأَحْكَامِ لَمْ تُكَلَّفْهُ الْعَامَّةُ، وَلَمْ يَأْتِ أَكْثَرُهُ كَمَا جَاءَ الْأَوَّلُ، وَكُلِّفَ عِلْمَ ذَلِكَ مَنْ فِيهِ الْكِفَايَةُ لِلْقِيَامِ بِهِ دُونَ الْعَامَّةِ، وَسَاقَ الشَّافِعِيُّ الْكَلَامَ فِي شَرْحِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا
৩৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আর-রূজবারী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে দাসাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-লায়স, যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, আর আবদুল্লাহ ইবনে আয-যুবাইর তাকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি হাররার নালা নিয়ে আয-যুবাইর-এর সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল যা দিয়ে তারা সেচ দিতেন। আনসারী লোকটি বলল: পানি ছেড়ে দাও যেন তা প্রবাহিত হতে পারে, কিন্তু আয-যুবাইর তা করতে অস্বীকার করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয-যুবাইরকে বললেন: «হে যুবাইর, তুমি সেচ দাও, তারপর তোমার প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দাও।» বর্ণনাকারী বলেন: এতে আনসারী লোকটি রাগান্বিত হয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! সে আপনার ফুফাতো ভাই বলে কি এমন বললেন? এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল, অতঃপর তিনি বললেন: «তুমি সেচ দাও, তারপর পানি আটকে রাখো যতক্ষণ না তা দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছে ফিরে আসে।» আয-যুবাইর বলেন: আল্লাহর শপথ, আমি মনে করি এই আয়াতটি এ ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে: {কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫] ⦗পৃষ্ঠা: ১০৭⦘ এটি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আন-নাইসাবুরী তাদের সহীহ গ্রন্থে আল-লায়স ইবনে সা'দ-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

৩৭ - আর মা'মার ও শুআইব ইবনে আবু হামযাহ-এর বর্ণনায় যুহরী থেকে উরওয়াহ-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয-যুবাইরকে তার পূর্ণ হক প্রদান করে স্পষ্ট ফয়সালা দিয়েছিলেন যখন আনসারী লোকটি তাঁকে রাগান্বিত করেছিল। এর আগে তিনি তাদের উভয়কে এমন একটি বিষয়ের পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে উভয়ের জন্য সুযোগ ছিল। আর এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।

 

৩৮ - ইমাম শাফিঈ বলেন: এই ফয়সালাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি সুন্নাহ, এটি কুরআনে সরাসরি বর্ণিত কোনো বিধান নয় ⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘।

 

৩৯ - তাঁর আদেশ অনুসরণ করা ফরয হওয়ার বিষয়ে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন: {রাসূলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ অবশ্যই তাদের জানেন যারা তোমাদের মধ্য থেকে চুপিচুপি সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব আপতিত হবে।} [আন-নূর: ৬৩]

 

৪০ - এবং তিনি আরও অনেক আয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন যা এই আয়াতসমূহের ন্যায় একই অর্থ নির্দেশ করে।

 

৪১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আর-রাবী', তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ (রহ.), তিনি বলেন: যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সচক্ষে দেখেছেন এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পরে আসবেন—সবার জন্যই তাঁর আনুগত্য করার ফরয বিধান অভিন্ন। আর যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখার সুযোগ পাননি, তারা তাঁর আদেশ সম্পর্কে কেবল তাঁর থেকে বর্ণিত খবরের মাধ্যমেই জানতে পারেন।

 

৪২ - তিনি বলেন: আর তাঁর থেকে বর্ণিত খবর দুই প্রকার: জনসাধারণের বর্ণিত সাধারণ খবর, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর ঐ সকল ফরয বিধানের মূল বিষয়গুলো বর্ণনা করে যা বান্দাদের মৌখিকভাবে স্বীকার করা ও কাজের মাধ্যমে পালন করা এবং জান ও মালের মাধ্যমে আদায় করা আবশ্যক। এটি এমন বিষয় যা না জানা কারো জন্য বৈধ নয়। দ্বিতীয়টি হলো বিশেষ বিধান সম্পর্কিত বিশেষ খবর, যা সাধারণ মানুষের ওপর অপরিহার্য করা হয়নি এবং এর অধিকাংশ প্রথম প্রকারের মতো ব্যাপকভাবে পৌঁছায়নি। এটি জানার দায়িত্ব কেবল তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে যারা সাধারণ মানুষ ব্যতিরেকে এর দায়িত্ব পালনে সক্ষম। অতঃপর ইমাম শাফিঈ এই দুই প্রকারের প্রত্যেকটির ব্যাখ্যায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১০৯)
‌‌الْحُجَّةُ فِي تَثْبِيتِ خَبَرِ الْوَاحِدِ
খবরে ওয়াহিদ সাব্যস্তকরণের পক্ষে প্রমাণ
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১০৯)
‌‌43 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله: قَالَ لِي قَائِلٌ: اذْكُرِ الْحُجَّةَ فِي تَثْبِيتِ خَبَرِ الْوَاحِدِ بِنَصِّ خَبَرٍ أَوْ دِلَالَةٍ فِيهِ أَوْ إِجْمَاعٍ

 

‌‌44 - قُلْتُ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَحَفِظَهَا وَوَعَاهَا وَأَدَّاهَا فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، ثَلَاثٌ لَا يُغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ: إِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ، وَالنَّصِيحَةُ لِلْمُسْلِمِينَ، وَلُزُومُ جَمَاعَتِهِمْ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مَنْ وَرَائِهِمْ " ‌‌⦗ص: 110⦘

 

‌‌45 - قَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: فَلَمَّا نَدَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى اسْتِمَاعِ مَقَالَتِهِ وَحِفْظِهَا وَأَدَائِهَا امْرَأً يُؤَدِّيهَا، وَالِامْرُؤُ وَاحِدٌ، دَلَّ عَلَى أَنَّهُ لَا يَأْمُرُ أَنْ يُؤَدَّى عَنْهُ إِلَّا مَا تَقُومُ الْحُجَّةُ بِهِ عَلَى مَنْ أُدِّيَ إِلَيْهِ، وَبَسَطَ الْكَلَامَ فِيهِ،

 

‌‌46 - قَالَ الشَّيْخُ: وَقَدْ رَوَاهُ هُرَيْمُ بْنُ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، وَقَالَ فِيهِ: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَأَدَّاهُ كَمَا سَمِعَ».

 

‌‌47 - وَبِمَعْنَاهُ رُوِيَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، وَالنُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‌‌⦗ص: 111⦘،

 

‌‌48 - وَفِي الْحَدِيثِ الثَّابِتِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي خُطْبَتِهِ بِمِنًى يَوْمَ النَّحْرِ: «أَلَا لِيُبْلِغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ فَلَعَلَّ بَعْضَ مَنْ يُبَلَّغَهُ أَنْ يَكُونَ أَوْعَى لَهُ مِنْ بَعْضِ مَنْ سَمِعَهُ»،

 

‌‌49 - وَفِي حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «تَسْمَعُونَ وَيُسْمَعُ مِنْكُمْ، وَيُسْمَعُ مِمَّنْ يَسْمَعُ مِنْكُمْ»
‌৪৩ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: রাবী' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: জনৈক ব্যক্তি আমাকে বলল: কোনো নস (সুস্পষ্ট বর্ণনা) বা তার ইঙ্গিত অথবা ইজমার ভিত্তিতে 'খবরে ওয়াহিদ' (একক ব্যক্তির সংবাদ) সাব্যস্ত হওয়ার দলিল উল্লেখ করুন।

 

‌‌৪৪ - আমি বললাম, ইবনে উয়াইনাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও হাস্যোজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ করল, হৃদয়ে গেঁথে নিল এবং তা পৌঁছে দিল। কেননা অনেক ফিকহ (জ্ঞানের কথা) বহনকারী নিজে ফকীহ নন, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী তা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও বেশি সমঝদার। তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যাতে কোনো মুসলিমের অন্তর খিয়ানত করে না: আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, মুসলিমদের প্রতি সদুপদেশ প্রদান করা এবং তাদের জামাতকে আঁকড়ে ধরা; কেননা তাদের দোয়া তাদের পশ্চাদবর্তীদেরও বেষ্টন করে থাকে।" ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১১০⦘

 

‌‌৪৫ - শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তার কথা শোনা, মুখস্থ করা এবং তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে প্রতি আহ্বান জানালেন—আর 'ব্যক্তি' বলতে এখানে একক ব্যক্তিই বোঝায়—তখন এটি প্রমাণ করে যে, তিনি তার পক্ষ থেকে এমন কিছু পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেননি যার দ্বারা ওই ব্যক্তির ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না যার কাছে তা পৌঁছানো হয়েছে। তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

 

‌‌৪৬ - শাইখ বলেন: হুরাইম ইবনে সুফিয়ান এটি আব্দুল মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিয়েছে।"

 

‌‌৪৭ - অনুরূপ অর্থে এটি জায়েদ ইবনে সাবিত এবং নুমান ইবনে বশির থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১১১⦘

 

‌‌৪৮ - আর আবু বাকরা থেকে বর্ণিত সাব্যস্ত হাদিসে রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোরবানির দিন মিনায় প্রদত্ত খুতবায় বলেছিলেন: "সাবধান! উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। কেননা যাকে এটি পৌঁছানো হবে সে হয়তো শ্রবণকারী কারও চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হতে পারে।"

 

‌‌৪৯ - আর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিসে রয়েছে: "তোমরা শুনছ, আর তোমাদের থেকেও শোনা হবে, আবার যারা তোমাদের থেকে শুনবে তাদের থেকেও শোনা হবে।"
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১১১)
‌‌50 - أَخْبَرَنَا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ فِي آخَرِينَ قَالُوا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ: أَخْبَرَنِي سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي رَافِعٍ يُخْبِرُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَا أَلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَأْتِيهِ الْأَمْرُ مِنْ ‌‌⦗ص: 112⦘ أَمْرِي مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ "

 

‌‌51 - قَالَ سُفْيَانُ: وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ مُرْسَلًا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ

 

‌‌52 - قالَ الشَّافِعِيُّ: وَفِي هَذَا تَثْبِيتُ الْخَبَرِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِعْلَامِهِمْ أَنَّهُ لَازِمٌ لَهُمْ، وَإِنْ لَمْ يَجِدُوا لَهُ نَصَّ حُكْمٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل.

 

‌‌53 - قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ رحمه الله: وَرُوِّينَا فِي حَدِيثِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ، أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ يَسْتَلْقِي عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ حَلَالًا فَأَحِلُّوهُ، وَمَا وَجَدْتُمْ حَرَامًا فَحَرِّمُوهُ، أَلَا لَا يَحِلُّ أَكْلُ حِمَارٍ أَهْلِيٍّ، وَلَا ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ ". وَذَكَرَ الْحَدِيثَ ‌‌⦗ص: 113⦘

 

‌‌54 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ: كَانَ النَّاسُ مُسْتَقْبِلِي بَيْتَ الْمَقْدِسِ ثُمَّ حَوَّلَهُمُ اللَّهُ إِلَى الْبَيْتِ الْحَرَامِ، فَأَتَى أَهْلَ قُبَاءٍ آتٍ وَهُمْ فِي الصَّلَاةِ فَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى أَنْزَلَ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم كِتَابًا، وَأَنَّ الْقِبْلَةَ حُوِّلَتْ إِلَى الْبَيْتِ الْحَرَامِ، فَاسْتَدَارُوا إِلَى الْكَعْبَةَ وَهُمْ فِي الصَّلَاةِ، وَأَنَّ أَبَا طَلْحَةَ وَجَمَاعَةً كَانُوا يَشْرَبُونَ شَرَابَ فَضِيخٍ وَبُسْرٍ وَلَمْ يُحَرَّمْ ‌‌⦗ص: 114⦘ يَوْمَئِذٍ مِنَ الْأَشْرِبَةِ شَيْءٌ، فَأَتَاهُمْ آتٍ فَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ الْخَمْرَ قَدْ حُرِّمَتْ، فَأَمَرُوا أَنَسًا بِكَسْرِ جِرَارِ شَرَابِهِمْ،

 

‌‌55 - وَذَلِكَ لَا أَشُكُّ أَنَّهُمْ لَا يُحْدِثُونَ مِثْلَ هَذَا إِلَّا ذَكَرُوهُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنْ شَاءَ اللَّهُ،

 

‌‌56 - وَيُشْبِهُ أَنْ لَوْ كَانَ قَبُولُ خَبَرِ مَنْ أَخْبَرَهُمْ وَهُوَ صَادِقٌ عِنْدَهُمْ مِمَّا لَا يَجُوزُ لَهُمْ قَبُولُهُ أَنْ يَقُولَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم،

 

‌‌57 - وَبَسَطَ الْكَلَامَ فِي وَجْهِ الدَّلِيلِ مِنْهُ، قَالَ: وَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُمَّ سَلَمَةَ أَنْ تُعْلِمَ امْرَأَةً أَنْ تُعْلِمَ زَوْجَهَا أَنَّ قُبْلَتَهَا وَهُوَ صَائِمٌ لَا تُحَرَّمُ عَلَيْهِ ‌‌⦗ص: 115⦘.

 

‌‌58 - وَلَوْ لَمْ يَرَ الْحُجَّةَ تَقُومُ عَلَيْهِ بِخَبَرِهَا إِذَا صَدَّقَهَا لَمْ يَأْمُرْهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِهِ،

 

‌‌59 - وَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُنَيْسًا الْأَسْلَمِيَّ أَنْ يَغْدُوَ عَلَى امْرَأَةِ رَجُلٍ فَإِنِ اعْتَرَفَتْ رَجَمَهَا، فَاعْتَرَفَتْ، فَرَجَمَهَا،

 

‌‌60 - وَفِي ذَلِكَ إِفَاتَةُ نَفْسِهَا بِاعْتِرَافِهَا عِنْدَ أُنَيْسٍ، وَهُوَ وَاحِدٌ،

 

‌‌61 - وَأَمَرَ عَمْرَو بْنَ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيَّ أَنْ يَقْتُلَ أَبَا سُفْيَانَ، وَقَدْ سَنَّ أَنَّ عَلَيْهِ إِنْ عَلِمَهُ أَسْلَمَ لَمْ يَحِلَّ لَهُ قَتْلُهُ، وَقَدْ يُحْدِثُ الْإِسْلَامَ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَهُ عَمْرُو بْنُ أُمَيَّةَ،

 

‌‌62 - وَأَمَرَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُنَيْسٍ أَنْ يَقْتُلَ خَالِدَ بْنَ سُفْيَانَ الْهُذَلِيَّ فَقَتَلَهُ، وَمِنْ سُنَّتِهِ لَوْ أَسْلَمَ أَنْ لَا يَقْتُلَهُ،

 

‌‌63 - فَكُلُّ هَؤُلَاءِ فِي مَعَانِي وُلَاتِهِ وَهُمْ وَاحِدٌ وَاحِدٌ يَمْضُونَ الْحُكْمَ بِأَخْبَارِهِمْ،

 

‌‌64 - وَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُمَّالَهُ وَاحِدًا وَاحِدًا، وَرُسُلَهُ وَاحِدًا وَاحِدًا، وَإِنَّمَا بَعَثَ عُمَّالَهُ لِيُخْبِرُوا النَّاسَ بِمَا أَخْبَرَهُمْ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ شَرَائِعِ دِينِهِمْ وَيَأْخُذُوا مِنْهُمْ مَا أَوْجَبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَيُعْطُوهُمْ مَا لَهُمْ، وَيُقِيمُوا عَلَيْهِمُ الْحُدُودَ ‌‌⦗ص: 116⦘، وَيُنَفِّذُوا فِيهِمُ الْأَحْكَامَ، وَلَوْ لَمْ تَقُمِ الْحُجَّةُ عَلَيْهِمْ بِهِمْ إِذْ كَانُوا فِي كُلِّ نَاحِيَةٍ وَجَّهَهُمْ إِلَيْهَا أَهْلَ صِدْقٍ عِنْدَهُمْ لَمَا بَعَثَهُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى

 

‌‌65 - وَسَاقَ الْكَلَامَ فِي بَعْثِ أَبِي بَكْرٍ وَالِيًا عَلَى الْحَجِّ، وَبَعَثَ عَلِيًّا بِأَوَّلِ سُورَةِ بَرَاءَةَ، وَبَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ، وَبَسَطَ الْكَلَامَ فِيهِ. ثُمَّ قَالَ:

 

‌‌66 - فَإِنْ زَعَمَ أَنَّ مَنْ جَاءَهُ مُعَاذٌ وَأُمَرَاءُ سَرَايَاهُ مَحْجُوجٌ بِخَبَرِهِمْ فَقَدْ زَعَمَ أَنَّ الْحُجَّةَ تَقُومُ بِخَبَرِ الْوَاحِدِ،

 

‌‌67 - وَإِنْ زَعَمَ أَنْ لَمْ تَقُمْ عَلَيْهِمُ الْحُجَّةُ فَقَدْ أَعْظَمَ الْقَوْلَ، وَإِنْ قَالَ: لَمْ يَكُنْ هَذَا أَنْكَرَ خَبَرِ الْعَامَّةِ عَمَّنْ وَصَفْتَ، وَصَارَ إِلَى طَرْحِ خَبَرِ الْخَاصَّةِ وَالْعَامَّةِ،

 

‌‌68 - وَبَسَطَ الشَّافِعِيُّ الْكَلَامَ فِي هَذَا

 

‌‌69 - وَبِهَذَا الْإِسْنَادِ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ فَقَالَ: هَذَا عِنْدِي كَمَا وَصَفْتَ فَتَجِدُ حُجَّةً عَلَى مَنْ رَوَى أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا جَاءَكُمْ عَنِّي فَاعْرِضُوهُ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا وَافَقَهُ فَأَنَا قُلْتُهُ، وَمَا خَالَفَهُ فَلَمْ أَقُلْهُ» ‌‌⦗ص: 117⦘

 

‌‌70 - قَالَ الشَّافِعِيُّ فَقُلْتُ لَهُ: مَا رَوَى هَذَا أَحَدٌ يُثْبَتُ حَدِيثُهُ فِي شَيْءٍ صَغِيرٍ وَلَا كَبِيرٍ، فَيُقَالُ لَنَا: قَدْ ثَبَتُّمْ حَدِيثَ مَنْ رَوَى هَذَا فِي شَيْءٍ،

 

‌‌71 - قَالَ: وَهَذِهِ أَيْضًا رِوَايَةٌ مُنْقَطِعَةٌ عَنْ رَجُلٍ مَجْهُولٍ، وَنَحْنُ لَا نَقْبَلُ مِثْلَ هَذِهِ الرِّوَايَةِ فِي شَيْءٍ

 

‌‌72 - وَكَأَنَّهُ أَرَادَ
50 - আমাদের খবর দিয়েছেন আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ এবং অন্যান্যগণ, তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আর-রাবী, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন ইমাম শাফিয়ী, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, তিনি বলেন: আমাকে খবর দিয়েছেন সালিম আবু আন-নাদর যে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি রাফিকে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ কিংবা ⦗পৃষ্ঠা: ১১২⦘ কোনো নিষেধ পৌঁছাল যা আমি প্রদান করেছি, আর সে তখন বলে: আমি জানি না, আল্লাহর কিতাবে আমরা যা পেয়েছি কেবল তারই অনুসরণ করেছি।"

 

51 - সুফিয়ান বলেন: এবং আমাকে মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির মুরসাল সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

52 - ইমাম শাফিয়ী বলেন: এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আসা সংবাদ বা হাদিসের প্রামাণ্যতা সাব্যস্ত হয়েছে এবং তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এটি মেনে চলা তাদের জন্য আবশ্যক, যদিও তারা মহান আল্লাহর কিতাবে এর কোনো সুস্পষ্ট বিধান না পায়।

 

53 - শায়খ আহমদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: মিকদাম বিন মাদী কারিব বর্ণিত হাদিসে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরেকটি জিনিস (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকে আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল মানবে এবং এতে যা হারাম পাবে তাকেই হারাম মানবে। জেনে রেখো, গৃহপালিত গাধা এবং হিংস্র দাঁতাল পশু ভক্ষণ করা তোমাদের জন্য হালাল নয়।" এবং তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১১৩⦘

 

54 - আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আর-রাবী, তিনি বলেন: ইমাম শাফিয়ী বলেছেন: মানুষ প্রথমে বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ত, এরপর আল্লাহ তাদের কাবার দিকে ফিরিয়ে দেন। বনু কুবায় অবস্থানরত সাহাবীদের নিকট জনৈক ব্যক্তি এলেন যখন তারা নামাজে ছিলেন। তিনি তাদের জানালেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং কিবলা কাবার দিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। তখন তারা নামাজের মধ্যেই কাবার দিকে ঘুরে গেলেন। অনুরূপভাবে আবু তালহা ও একদল সাহাবী যখন 'ফাযীখ' এবং কাঁচা খেজুরের রস দিয়ে তৈরি পানীয় পান করছিলেন এবং তখনো ⦗পৃষ্ঠা: ১১৪⦘ কোনো পানীয় হারাম করা হয়নি, জনৈক ব্যক্তি এসে তাদের জানালেন যে মদ হারাম করা হয়েছে। তখন তারা আনাসকে তাদের মদের মটকাগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন।

 

55 - আর এ ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উল্লেখ না করে ইনশাআল্লাহ এমন কোনো নতুন কাজ করতেন না।

 

56 - আর যদি সত্যবাদী ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করা তাদের জন্য জায়েজ না হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তাদের তা জানিয়ে দিতেন।

 

57 - তিনি এর স্বপক্ষে দলীলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন এক নারীকে জানিয়ে দেন, যে নারী তার স্বামীকে জানাবে যে রোজা রাখা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা তার জন্য হারাম নয় ⦗পৃষ্ঠা: ১১৫⦘।

 

58 - আর যদি সেই নারী সত্য বললে তার সংবাদের মাধ্যমে দলীল প্রতিষ্ঠিত না হতো, তবে ইনশাআল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এ নির্দেশ দিতেন না।

 

59 - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাইস আসলামীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এক ব্যক্তির স্ত্রীর কাছে যেতে, যদি সে স্বীকার করে তবে তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) করতে। সে স্বীকারোক্তি দিয়েছিল এবং তিনি তাকে রজম করেছিলেন।

 

60 - আর এতে কেবল উনাইস নামক এক ব্যক্তির কাছে তার স্বীকারোক্তি দেওয়ার মাধ্যমেই তার প্রাণদণ্ড কার্যকর হয়েছিল।

 

61 - তিনি আমর বিন উমাইয়াহ আদ-দামরিকে আবু সুফিয়ানকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অথচ তিনি সুন্নাহ বা নিয়ম করেছিলেন যে, যদি সে ইসলাম গ্রহণ করেছে বলে জানা যায় তবে তাকে হত্যা করা হালাল হবে না। আমর বিন উমাইয়াহ পৌঁছানোর আগেই সে ইসলাম গ্রহণ করতে পারত।

 

62 - তিনি আবদুল্লাহ বিন উনাইসকে খালিদ বিন সুফিয়ান আল-হুযালীকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাকে হত্যা করেন। অথচ তাঁর সুন্নাহ হলো যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে তবে তাকে হত্যা করা যাবে না।

 

63 - এঁরা সকলেই তাঁর নিযুক্ত প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁরা একক ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সংবাদের মাধ্যমেই বিধান কার্যকর হয়েছিল।

 

64 - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিনিধিদের এবং দূতদের এককভাবে পাঠাতেন। তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের পাঠাতেন যাতে তাঁরা মানুষকে তাঁদের দ্বীনের বিধি-বিধান সম্পর্কে অবহিত করেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের জানিয়েছেন এবং তাঁদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যা ফরজ করা হয়েছে তা গ্রহণ করেন এবং তাঁদের প্রাপ্য তাঁদের বুঝিয়ে দেন, এবং তাঁদের ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করেন ⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘ ও তাঁদের মধ্যে বিচারিক ফয়সালা বাস্তবায়ন করেন। যদি তাঁদের মাধ্যমে মানুষের ওপর দলীল প্রতিষ্ঠিত না হতো—যেহেতু তাঁরা যেখানেই যেতেন সেখানকার মানুষের কাছে বিশ্বস্ত ছিলেন—তবে ইনশাআল্লাহ তায়ালা তিনি তাঁদের পাঠাতেন না।

 

65 - এরপর তিনি আবু বকরকে হজ্জের আমীর হিসেবে পাঠানো, আলীকে সূরা বারাআতের প্রথম অংশ দিয়ে পাঠানো এবং মুয়াযকে ইয়ামেনে পাঠানোর কথা আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন:

 

66 - যদি কেউ দাবি করে যে, মুয়ায এবং সেনাপতিরা যাদের কাছে গিয়েছিলেন তাদের ওপর তাঁদের সংবাদের মাধ্যমে দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবে সে মূলত একক সংবাদের (খবরুল ওয়াহিদ) প্রামাণ্যতাকেই অস্বীকার করল।

 

67 - আর যদি সে দাবি করে যে তাঁদের ওপর এর মাধ্যমে দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবে সে এক ভয়ংকর কথা বলল। আর যদি সে বলে: এটি সাধারণ মানুষের সংবাদের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়, তবে সে সাধারণ এবং বিশেষ উভয় প্রকার সংবাদকেই বর্জন করল।

 

68 - ইমাম শাফিয়ী এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

 

69 - এই একই সনদে ইমাম শাফিয়ী বলেন: এটি আমার কাছে তেমনই যেমনটি আপনি বর্ণনা করেছেন। আপনি কি ওই ব্যক্তির বিপক্ষে কোনো প্রমাণ পান যে বর্ণনা করে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা পৌঁছাবে তা আল্লাহর কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখো; যা তার সাথে মিলবে তা আমি বলেছি, আর যা তার পরিপন্থী হবে তা আমি বলিনি"? ⦗পৃষ্ঠা: ১১৭⦘

 

70 - ইমাম শাফিয়ী বলেন: আমি তাকে বললাম: এমন কোনো ব্যক্তি এই হাদিস বর্ণনা করেনি যার হাদিস ছোট বা বড় কোনো বিষয়েই প্রমাণিত বা স্বীকৃত। সুতরাং আমাদের বলা হবে: আপনারা কি এই বর্ণনাকারীর হাদিস কোনো বিষয়ে সাব্যস্ত করেছেন?

 

71 - তিনি বলেন: এটি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বর্ণিত একটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) বর্ণনা, আর আমরা এমন বর্ণনা কোনো বিষয়েই গ্রহণ করি না।

 

72 - এবং যেন তিনি চেয়েছেন—
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১১৭)
مَا أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ ‌‌⦗ص: 118⦘ أَبِي عَمْرٍو فِي كِتَابِ السِّيَرِ قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ، قَالَ أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: قَالَ أَبُو يُوسُفَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ أَبِي كَرِيمَةَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ دَعَا الْيَهُودَ فَسَأَلَهُمْ فَحَدَّثُوهُ حَتَّى كَذَبُوا عَلَى عِيسَى عليه السلام، فَصَعِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ: «إِنَّ الْحَدِيثَ سَيَفْشُو عَنِّي فَمَا أَتَاكُمْ عَنِّي يُوَافِقُ الْقُرْآنَ فَهُوَ عَنِّي وَمَا أَتَاكُمْ عَنِّي يُخَالِفُ الْقُرْآنَ فَلَيْسَ عَنِّي»

 

‌‌74 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: لَيْسَ يُخَالِفُ الْحَدِيثُ الْقُرْآنَ وَلَكِنَّ حَدِيثَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُبَيِّنُ مَعْنَى مَا أَرَادَ خَاصًّا وَعَامًّا وَنَاسِخًا وَمَنْسُوخًا، ثُمَّ يُلْزِمُ النَّاسَ مَا سَنَّ بِفَرْضِ اللَّهِ، فَمَنْ قَبِلَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَنِ اللَّهِ قَبِلَ.

 

‌‌75 - قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ: هَذِهِ الرِّوَايَةُ مُنْقَطِعَةٌ كَمَا قَالَ الشَّافِعِيُّ فِي كِتَابِ الرِّسَالَةِ، وَكَأَنَّهُ أَرَادَ بِالْمَجْهُولِ حَدِيثَ خَالِدِ بْنِ أَبِي كَرِيمَةَ، وَلَمْ يُعْرَفْ مِنْ حَالِهِ مَا يَثْبُتُ بِهِ خَبَرُهُ ‌‌⦗ص: 119⦘،

 

‌‌76 - وَقَدْ رُوِيَ مِنْ أَوْجُهٍ أُخَرَ كُلِّهَا ضَعِيفٌ، قَدْ بَيَّنْتُ ضَعْفَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهَا فِي كِتَابِ الْمَدْخَلِ
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু সাঈদ বিন ‌⦗পৃষ্ঠা: ১১৮⦘ আবু আমর 'কিতাবুস সিয়ার'-এ আমাদের অবহিত করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের আবু আল-আব্বাস অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের আর-রাবি অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের আশ-শাফিঈ অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইউসুফ বলেছেন: আমাদের নিকট খালিদ বিন আবি কারিমাহ বর্ণনা করেছেন আবু জাফর থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইহুদিদের ডাকলেন এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তারা তাঁর কাছে বর্ণনা করতে থাকল যতক্ষণ না তারা ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে মিথ্যা বলল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে উঠলেন এবং লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমার পক্ষ থেকে হাদীস ছড়িয়ে পড়বে। সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা আসবে এবং তা কুরআনের সাথে মিলবে, তা আমার পক্ষ থেকেই। আর যা আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে আসবে কিন্তু কুরআনের পরিপন্থী হবে, তা আমার পক্ষ থেকে নয়।"

 

‌‌৭৪ - ইমাম শাফিঈ বলেন: হাদীস কুরআনের বিরোধিতা করে না; বরং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস আল্লাহর উদ্দেশ্য তথা খাস (বিশেষ), আম (সাধারণ), নাসিখ (রহিতকারী) এবং মানসুখ (রহিত)-এর অর্থ স্পষ্ট করে দেয়। অতঃপর তিনি আল্লাহর নির্দেশিত ফরয হিসেবে যা সুন্নাত সাব্যস্ত করেছেন তা মেনে চলা মানুষের জন্য অপরিহার্য করে দেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহর নিকট থেকেই গ্রহণ করল।

 

‌‌৭৫ - শাইখ আহমাদ বলেন: এই বর্ণনাটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন সূত্রবিশিষ্ট), যেমনটি ইমাম শাফিঈ তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে বলেছেন। সম্ভবত তিনি 'মাজহুল' (অজ্ঞাত) বলতে খালিদ বিন আবি কারিমাহ-এর হাদীসকে বুঝিয়েছেন। তার অবস্থা সম্পর্কে এমন কিছু জানা যায়নি যার দ্বারা তার বর্ণনাটি প্রমাণিত হতে পারে ‌⦗পৃষ্ঠা: ১১৯⦘,

 

‌‌৭৬ - এটি আরও অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই যঈফ (দুর্বল)। আমি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে সেগুলোর প্রত্যেকটির দুর্বলতা বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১১৯)
‌‌77 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ بِإِسْنَادٍ عَنْ طَاوُسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يُمْسِكَنَّ النَّاسُ عَلَيَّ بِشَيْءٍ؛ فَإِنِّي لَا أُحِلُّ لَهُمْ إِلَّا مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَهُمْ، وَلَا أُحَرِّمُ عَلَيْهِمْ إِلَّا مَا حَرَّمَ اللَّهُ»

 

‌‌78 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: هَذَا مُنْقَطِعٌ وَقَدْ أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِاتِّبَاعِ مَا أَمَرَ بِهِ وَاجْتِنَابِ مَا نَهَى عَنْهُ، وَفَرَضَ اللَّهُ ذَلِكَ فِي كِتَابِهِ عَلَى خَلْقِهِ، وَمَا فِي أَيْدِي النَّاسِ مِنْ هَذَا إِلَّا مَا تَمَسَّكُوا بِهِ عَنِ اللَّهِ ثُمَّ عَنْ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ عَنْ دَلَالَتِهِ، وَلَكِنَّ قَوْلَهُ إِنْ كَانَ قَالَهُ: «لَا يُمْسِكَنَّ النَّاسُ عَلَيَّ بِشَيْءٍ» يَدُلُّ عَلَى أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ كَانَ بِمَوْضِعِ الْقُدْوَةِ فَقَدْ كَانَتْ لَهُ خَوَاصٌّ أُبِيحَ لَهُ فِيهَا مَا لَمْ يُبَحْ لِلنَّاسِ، وَحُرِّمَ عَلَيْهِ فِيهَا مَا لَمْ يُحَرِّمْ عَلَى النَّاسِ. فَقَالَ: «لَا يُمْسِكَنَّ النَّاسُ عَلَيَّ بِشَيْءٍ مِنَ الَّذِي لِي أَوْ عَلَيَّ دُونَهُمْ» ‌‌⦗ص: 120⦘

 

‌‌79 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: وَأَمَّا قَوْلُهُ: «فَإِنِّي لَا أُحِلُّ لَهُمْ إِلَّا مَا أَحَلَّ اللَّهُ وَلَا أُحَرِّمُ إِلَّا مَا حَرَّمَ اللَّهُ»، فَكَذَلِكَ صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَبِذَلِكَ أَمَرَ وَافْتَرَضَ عَلَيْهِ أَنْ يَتَّبِعَ مَا أُوحِيَ إِلَيْهِ، وَنَشْهَدُ أَنْ قَدِ اتَّبَعَهُ، فَمَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ وَحْيٌ فَقَدْ فَرَضَ اللَّهُ فِي الْوَحْيِ اتِّبَاعَ سُنَّتِهِ فِيهِ، فَمَنْ قَبِلَ عَنْهُ فَإِنَّمَا قَبِلَ بِفَرْضِ اللَّهِ، قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا، وَبَسَطَ الْكَلَامَ فِي بَيَانِ ذَلِكَ

 

‌‌80 - قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ وَرُوِّينَا عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنَّهُ أَخَذَ بِرِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ، وَالْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ فِي مِيرَاثِ الْجَدَّةِ.

 

‌‌81 - وَرَوَى الشَّافِعِيُّ حَدِيثَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي حُكْمِهِ بِدِيَةِ الْأَصَابِعِ مُخْتَلِفَةً؛ لِاخْتِلَافِهَا فِي الْمَنَافِعِ وَالْجَمَالِ، وَأَنَّ ذَلِكَ تُرِكَ حِينَ وُجِدَ فِي كِتَابِ ‌‌⦗ص: 121⦘ آلِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «وَفِي كُلِّ إِصْبَعٍ مِمَّا هُنَالِكَ عَشْرٌ مِنَ الْإِبِلِ»

 

‌‌82 - وَرَوَى الشَّافِعِيُّ أَيْضًا حَدِيثَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: الدِّيَةُ لِلْعَاقِلَةِ، وَلَا تَرِثُ الْمَرْأَةُ مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا شَيْئًا، حَتَّى أَخْبَرَهُ الضَّحَّاكُ بْنُ سُفْيَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ إِلَيْهِ أَنْ يُوَرِّثَ امْرَأَةَ أَشْيَمَ الضِّبَابِيِّ مِنْ دِيَتِهِ، فَرَجَعَ إِلَيْهِ عُمَرُ.

 

‌‌83 - وَرَوَى الشَّافِعِيُّ أَيْضًا حَدِيثَ عُمَرَ فِي الْجَنِينِ، وَقَبُولَهُ خَبَرَ حَمَلِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّابِغَةِ، وَقَوْلَهُ: لَوْ لَمْ نَسْمَعْ هَذَا لَقَضَيْنَا فِيهِ بِغَيْرِ هَذَا ‌‌⦗ص: 122⦘

 

‌‌84 - وَرَوَى أَيْضًا حَدِيثَ عُمَرَ فِي جِزْيَةِ الْمَجُوسِ وَقَبُولَهُ خَبَرَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ فِي ذَلِكَ.

 

‌‌85 - وَقَدْ ذَكَرْنَا أَسَانِيدَ هَذِهِ الْآثَارِ فِي مَوْضِعِهَا مِنَ الْكِتَابِ
৭৭ - আবু সাঈদ বিন আবি আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাবি’ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে উয়াইনাহ একটি সনদে তাউস থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মানুষ যেন আমার বিরুদ্ধে কোনো কিছু ধরে না রাখে; কেননা আমি তাদের জন্য কেবল তা-ই হালাল করি যা আল্লাহ তাদের জন্য হালাল করেছেন, আর আমি তাদের জন্য কেবল তা-ই হারাম করি যা আল্লাহ তাদের জন্য হারাম করেছেন।”

 

‌ ৭৮ - শাফিঈ বলেন: এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন সূত্রবিশিষ্ট)। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নির্দেশ দিয়েছেন তা অনুসরণ করার এবং যা নিষেধ করেছেন তা পরিহার করার আদেশ দিয়েছেন। আর আল্লাহ তাঁর কিতাবে স্বীয় সৃষ্টির ওপর তা ফরজ করেছেন। মানুষের হাতে এ সংক্রান্ত যা কিছু আছে তা কেবল আল্লাহ থেকে, অতঃপর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, অতঃপর তাঁর নির্দেশনা থেকে যা তারা আঁকড়ে ধরেছে। তবে তাঁর বাণী—যদি তিনি তা বলে থাকেন: “মানুষ যেন আমার বিরুদ্ধে কোনো কিছু ধরে না রাখে”—তা নির্দেশ করে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু অনুকরণের আদর্শ ছিলেন, তাই তাঁর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল যাতে তাঁর জন্য এমন কিছু বৈধ করা হয়েছিল যা মানুষের জন্য বৈধ ছিল না, এবং তাঁর জন্য এমন কিছু হারাম করা হয়েছিল যা মানুষের জন্য হারাম করা হয়নি। তাই তিনি বলেছেন: “মানুষ যেন তাদের ব্যতীত আমার জন্য যা (বৈধ) বা আমার ওপর যা (আবশ্যক) তার কোনো কিছু আমার বিরুদ্ধে ধরে না রাখে।” ‌ ⦗পৃষ্ঠা: ১২০⦘

 

‌ ৭৯ - শাফিঈ বলেন: আর তাঁর বাণী: “কেননা আমি তাদের জন্য কেবল তা-ই হালাল করি যা আল্লাহ হালাল করেছেন এবং কেবল তা-ই হারাম করি যা আল্লাহ হারাম করেছেন”, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপই করেছেন। আর এরই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর প্রতি যা ওহি করা হয়েছে তা অনুসরণ করা তাঁর ওপর ফরজ করা হয়েছে। আমরা সাক্ষ্য দিই যে, তিনি তা অনুসরণ করেছেন। সুতরাং যাতে কোনো ওহি ছিল না, সেখানে তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করাকে আল্লাহ ওহির মাধ্যমে ফরজ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি তাঁর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করল, সে আল্লাহর ফরজের কারণেই গ্রহণ করল। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেছেন: “রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।” আর তিনি এর বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

 

‌ ৮০ - শাইখ আহমদ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, আবু বকর সিদ্দিক দাদীর মিরাসের ব্যাপারে মুহাম্মদ বিন মাসলামাহ ও মুগীরাহ বিন শু’বার বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।

 

‌ ৮১ - শাফিঈ উমর বিন খাত্তাবের হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, আঙ্গুলের দিয়াতের (রক্তপণ) ক্ষেত্রে তার উপযোগিতা ও সৌন্দর্যের ভিন্নতার কারণে তিনি ভিন্ন ভিন্ন ফয়সালা দিয়েছিলেন। পরে তা পরিত্যাগ করা হয় যখন আমর বিন হাজমের বংশধরদের কিতাবে পাওয়া যায় যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এবং সেখানের প্রতিটি আঙ্গুলের জন্য দশটি উট (দিয়াত)।” ‌ ⦗পৃষ্ঠা: ১২১⦘

 

‌ ৮২ - শাফিঈ উমর বিন খাত্তাবের আরও একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: দিয়াত ‘আকিলা’র (পিতার বংশীয় আত্মীয়দের) জন্য, আর স্ত্রী তার স্বামীর দিয়াত থেকে কিছুই পাবে না; যতক্ষণ না দাহহাক বিন সুফিয়ান তাকে সংবাদ দিলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লিখেছিলেন যেন তিনি আশয়াম আদ-দিবাবির স্ত্রীকে তার দিয়াত থেকে মিরাস প্রদান করেন। অতঃপর উমর তাঁর পূর্বের মত থেকে ফিরে আসেন।

 

‌ ৮৩ - শাফিঈ ভ্রূণের ব্যাপারেও উমরের হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং হামাল বিন মালিক বিন আন-নাবিগাহর বর্ণনা তাঁর গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেছেন, আর তাঁর (উমরের) কথা: “যদি আমরা এটি না শুনতাম, তবে আমরা এ বিষয়ে অন্যরকম ফয়সালা দিতাম।” ‌ ⦗পৃষ্ঠা: ১২২⦘

 

‌ ৮৪ - তিনি অগ্নিপূজকদের (মাজুস) জিজিয়ার ব্যাপারে উমরের হাদিস এবং এ বিষয়ে আবদুর রহমান বিন আউফের বর্ণনা তাঁর গ্রহণ করার কথা বর্ণনা করেছেন।

 

‌ ৮৫ - এবং আমরা এই আসারসমূহের সনদসমূহ কিতাবের যথাস্থানে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১২২)
‌‌86 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ أَنَّ عُمَرَ إِنَّمَا رَجَعَ بِالنَّاسِ عَنْ خَبَرِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ

 

‌‌87 - قَالَ الشَّافِعِيُّ يَعْنِي حِينَ خَرَجَ إِلَى الشَّامِ فَبَلَغَهُ وُقُوعُ الطَّاعُونِ بِهَا
‌‌৮৬ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আর-রাবী‘, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর কেবল আব্দুর রহমান বিন আউফ-এর সংবাদের ভিত্তিতেই লোকদের নিয়ে ফিরে এসেছিলেন।

 

‌‌৮৭ - আশ-শাফিঈ বলেন, অর্থাৎ যখন তিনি শামের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন এবং সেখানে প্লেগ মহামারি প্রাদুর্ভাবের সংবাদ তাঁর নিকট পৌঁছেছিল।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১২২)
‌‌88 - قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ: وَالْخَبَرُ فِيمَا رَوَاهُ مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ أَنَّ عُمَرَ خَرَجَ إِلَى الشَّامِ فَلَمَّا جَاءَ سَرْغَ بَلَغَهُ أَنَّ الْوَبَاءَ قَدْ وَقَعَ بِالشَّامِ، فَأَخْبَرَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‌‌⦗ص: 123⦘: «إِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ فَلَا تَقْدَمُوا عَلَيْهِ، وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوا فِرَارًا مِنْهُ» فَرَجَعَ عُمَرُ مِنْ سَرْغَ،

 

‌‌89 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيَّ، عَنْ مَالِكٍ،

 

‌‌90 - ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ الطَّرَائِفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، فِيمَا قَرَأَ عَلَى مَالِكٍ فَذَكَرَاهُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنِ الْقَعْنَبِيِّ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ وَأَرْدَفَاهُ بِحَدِيثِ سَالِمٍ،

 

‌‌91 - وَقَدْ رَوَاهُ يُونُسُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَا: إِنَّ عُمَرَ إِنَّمَا رَجَعَ بِالنَّاسِ مِنْ سَرْغَ عَنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ ‌‌⦗ص: 125⦘

 

‌‌92 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله: فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ فَقَدْ طَلَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَعَ مُخْبِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُخْبِرًا آخَرَ غَيْرَهُ،

 

‌‌93 - قِيلَ لَهُ: إِنَّ قَبُولَ عُمَرَ خَبَرَ وَاحِدٍ عَلَى الِانْفِرَادِ يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَا يَجُوزُ عَلَيْهِ أَنْ يَطْلُبَ مَعَ مُخْبِرٍ مُخْبِرًا غَيْرَهُ إِلَّا اسْتِظْهَارًا، لَا أَنَّ الْحُجَّةَ تَقُومُ عِنْدَهُ بِوَاحِدٍ مَرَّةً وَلَا تَقُومُ أُخْرَى، وَقَدْ يَسْتَظْهِرُ الْحَاكِمُ فَيَسْأَلُ الرَّجُلَ قَدْ شَهِدَ لَهُ عِنْدَهُ الشَّاهِدَانِ الْعَدْلَانِ زِيَادَةَ شُهُودٍ، فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ قَبِلَ الشَّاهِدَيْنِ، وَإِنْ فَعَلَ كَانَ أَحَبَّ إِلَيْهِ،

 

‌‌94 - أَوْ أَنْ يَكُونَ عُمَرُ جَهِلَ الْمُخْبِرَ، وَهُوَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَا يَقْبَلُ خَبَرَ مَنْ جَهِلَهُ، وَكَذَلِكَ لَا نَقْبَلُ خَبَرَ مِنْ جَهِلْنَاهُ، وَمَنْ لَمْ نَعْرِفْهُ بِالصِّدْقِ وَعَمَلِ الْخَيْرِ.

 

‌‌95 - فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَإِلَى أَيِّ الْمَعَانِي ذَهَبَ عُمَرُ عِنْدَكُمْ؟

 

‌‌96 - قُلْنَا: أَمَّا فِي خَبَرِ أَبِي مُوسَى فَإِلَى الِاحْتِيَاطِ؛ لِأَنَّ أَبَا مُوسَى ثِقَةٌ أَمِينٌ عِنْدَهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى،

 

‌‌97 - فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: مَا دَلَّ عَلَى ذَلِكَ؟

 

‌‌98 - قُلْنَا: قَدْ رَوَى مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ رَبِيعَةَ، عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ عُلَمَائِهِمْ حَدِيثَ أَبِي مُوسَى، وَأَنَّ عُمَرَ قَالَ لِأَبِي مُوسَى: أَمَا إِنِّي لَمْ أَتَّهِمْكَ، وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَتَقَوَّلَ النَّاسُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‌‌⦗ص: 126⦘،

 

‌‌99 - قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ: وَالْحَدِيثُ فِي الِاسْتِئْذَانِ، وَهُوَ أَنَّهُ جَاءَ يَسْتَأْذِنُ عَلَى عُمَرَ فَاسْتَأْذَنَ ثَلَاثًا ثُمَّ رَجَعَ، فَأَرْسَلَ عُمَرُ فِي أَثَرِهِ فَقَالَ: مَا لَكَ لَمْ تَدْخُلْ؟ فَقَالَ أَبُو مُوسَى: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الِاسْتِئْذَانُ ثَلَاثٌ، فَإِنْ أُذِنَ لَكَ فَادْخُلْ وَإِلَّا فَارْجِعْ» فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَنْ يَعْلَمُ هَذَا؟ فَشَهِدَ لَهُ بِهِ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ - وَقِيلَ: أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ - فَقَالَ عُمَرُ لِأَبِي مُوسَى مَا ذَكَرَهُ الشَّافِعِيُّ فِي حَدِيثِ مَالِكٍ،

 

‌‌100 - وَقَدْ رُوِيَ ذَلِكَ مَوْصُولًا فِي حَدِيثِ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي مُوسَى قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ لِأَبِي مُوسَى إِنِّي لَمْ أَتَّهِمْكَ، وَلَكِنَّ الْحَدِيثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَدِيدٌ

 

‌‌101 - وَفِي حَدِيثِ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي مُوسَى، أَنَّ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ: يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، فَلَا تَكُونَنَّ عَذَابًا عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَقَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ، إِنَّمَا سَمِعْتُ شَيْئًا فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَتَثَبَّتَ ‌‌⦗ص: 127⦘.

 

‌‌102 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ: وَأَخْبَرَتِ الْفُرَيْعَةُ بِنْتُ مَالِكٍ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهَا أَنْ تَمْكُثَ فِي بَيْتِهَا وَهِيَ مُتَوَفًّى عَنْهَا زَوْجُهَا حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ، فَاتَّبَعَهُ وَقَضَى بِهِ،

 

‌‌103 - وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُخَابِرُ الْأَرْضَ بِالثُّلُثِ وَالرُّبُعِ وَمَا يَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا، فَأَخْبَرَهُ رَافِعٌ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا، فَتَرَكَ ذَلِكَ لِخَبَرِ رَافِعٍ،

 

‌‌104 - وَكَانَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا يَصْدُرَنَّ أَحَدٌ مِنَ الْحَاجِّ حَتَّى يَطُوفَ بِالْبَيْتِ» يَعْنِي طَوَافَ الْوَدَاعِ بَعْدَ طَوَافِ الزِّيَارَةِ، فَخَالَفَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ: تَصْدُرُ الْحَائِضُ دُونَ غَيْرِهَا، فَأَنْكَرَ زَيْدٌ ذَلِكَ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: سَلْ أُمَّ سُلَيْمٍ، فَسَأَلَهَا فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرْخَصَ لِلْحَائِضِ فِي أَنْ تَصْدُرَ وَلَا تَطُوفَ بِالْبَيْتِ، فَرَجَعَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَقَالَ: وَجَدْتُ الْأَمْرَ كَمَا قُلْتَ ‌‌⦗ص: 128⦘.

 

‌‌105 - وَأَخْبَرَ أَبُو الدَّرْدَاءِ مُعَاوِيَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعٍ بَاعَهُ مُعَاوِيَةُ، فَقَالَ مُعَاوِيَةُ: مَا أَرَى بِهَذَا بَأْسًا. فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: مَنْ يَعْذِرُنِي مِنْ مُعَاوِيَةَ، أُخْبِرُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَيُخْبِرُنِي عَنْ رَأْيِهِ لَا أُسَاكِنُكَ بِأَرْضٍ،

 

‌‌106 - وَجَرَى فِي مَبْسُوطِ كَلَامِ الشَّافِعِيِّ مَا فِي هَذِهِ الْآثَارِ مِنَ الدَّلَالَةِ عَلَى أَنَّهُ كَانَ يَعْزُبُ عَنِ الْمُتَقَدِّمِ الصُّحْبَةِ، الْوَاسِعِ الْعِلْمِ، الشَّيْءُ يَعْلَمُهُ غَيْرُهُ.

 

‌‌107 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: وَلَمْ أَعْلَمْ مِنَ التَّابِعِينَ أَحَدًا أَخْبَرَ عَنْهُ إِلَّا قَبِلَ خَبَرَ الْوَاحِدِ، وَأَفْتَى بِهِ وَانْتَهَى إِلَيْهِ،

 

‌‌108 - وَبَسَطَ الْكَلَامَ فِيهِ، وَفِي ذِكْرِ أَسَامِيهِمْ

 

‌‌109 - قَالَ: وَصَنَعَ ذَلِكَ الَّذِينَ بَعْدَ التَّابِعِينَ الْمُتَقَدِّمِينَ، وَالَّذِينَ لَقِينَاهُمْ كُلُّهُمْ يُثْبِتُ خَبَرَ وَاحِدٍ عَنْ وَاحِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَجَعَلَهُ سُنَّةً حَمِدَ مَنْ تَبِعَهَا، وَعَابَ مَنْ خَالَفَهَا

 

‌‌110 - . وَقَدْ ذَكَرَ الشَّافِعِيُّ أَسَانِيدَ هَذِهِ الْأَخْبَارِ فِي كِتَابِ الرِّسَالَةِ، وَذَكَرْنَاهَا فِي مَوَاضِعِهَا مِنَ الْكِتَابِ،

 

‌‌111 - وَمِمَّا لَمْ نَذْكُرْهُ فِي الْكِتَابِ
‌‌৮৮ - শায়খ আহমাদ বলেন: মালেক, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিআহ থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) শাম অভিমুখে বের হলেন। তিনি যখন সারগ নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তাঁর কাছে সংবাদ এল যে শামে মহামারি দেখা দিয়েছে। তখন আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) তাঁকে জানালেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১২৩⦘: “তোমরা যখন কোনো স্থানে মহামারির কথা শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি তোমরা যেখানে আছ সেখানে মহামারি দেখা দেয়, তবে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বের হয়ো না।” তখন উমর (রা.) সারগ থেকে ফিরে এলেন।

 

‌‌৮৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে গালিব, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসলামাহ আল-কা’নবী, তিনি মালেক থেকে...

 

‌‌৯০ - (হাদিসের অন্য সূত্র) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাকারিয়া ইবনে আবি ইসহাক, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আত-তরাইফি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কা’নবী। তিনি মালেকের কাছে যা পাঠ করেছেন তাতে তাঁরা উভয়ে এটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারি সহিহ গ্রন্থে আল-কা’নবী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি মালেক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা এর সাথে সালিমের হাদিসটিও যুক্ত করেছেন।

 

‌‌৯১ - ইউনুস ইবনে জাইদ এটি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিআহ বলেছেন: উমর (রা.) মূলত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর হাদিসের ভিত্তিতেই সারগ থেকে লোকদের নিয়ে ফিরে এসেছিলেন। ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১২৫⦘

 

‌‌৯২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আর-রাবি’, তিনি বলেন ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে একজন সংবাদদাতার সাথে অন্য একজন সংবাদদাতাকেও চেয়েছিলেন।

 

‌‌৯৩ - তাকে বলা হবে: এককভাবে একজনের সংবাদ উমরের গ্রহণ করা একথারই প্রমাণ দেয় যে, সংবাদদাতার সাথে অন্য কাউকে তলব করা তাঁর জন্য কেবল অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার (ইস্তিযহার) জন্য ছিল। এমন নয় যে, দলিল কখনো একজনের দ্বারা সাব্যস্ত হয় আর কখনো হয় না। বিচারক কখনো অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তির কাছে অতিরিক্ত সাক্ষী চাইতে পারেন যদিও তার নিকট দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছে। যদি তিনি তা না করেন তবে দুইজন সাক্ষীর সাক্ষ্যই গ্রহণ করবেন, আর যদি করেন তবে সেটিই তাঁর নিকট অধিক পছন্দনীয় হবে।

 

‌‌৯৪ - অথবা এমন হতে পারে যে উমর (রা.) সেই সংবাদদাতা সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন, আর ইনশাআল্লাহ তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করতেন না। একইভাবে আমরাও অজ্ঞাত ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করি না, যাকে আমরা সত্যবাদিতা ও নেক আমলের দ্বারা চিনি না।

 

‌‌৯৫ - যদি কেউ প্রশ্ন করে: তাহলে আপনাদের মতে উমর (রা.) কোন অর্থ গ্রহণ করেছিলেন?

 

‌‌৯৬ - আমরা বলি: আবু মুসার সংবাদের ক্ষেত্রে তা ছিল সতর্কতা (ইহতিয়াত) স্বরূপ; কেননা ইনশাআল্লাহ তাআলা আবু মুসা তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার ছিলেন।

 

‌‌৯৭ - যদি কেউ প্রশ্ন করে: এর দলিল কী?

 

‌‌৯৮ - আমরা বলি: মালেক ইবনে আনাস, রাবিআহ থেকে এবং তাঁদের উলামায়ে কেরামদের অনেকের থেকে আবু মুসার হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে আছে যে উমর (রা.) আবু মুসাকে বলেছিলেন: “জেনে রেখো, আমি তোমাকে অভিযুক্ত করিনি, তবে আমি ভয় পেয়েছিলাম যে মানুষ যেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে মিথ্যা কথা না বলে।” ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১২৬⦘

 

‌‌৯৯ - শায়খ আহমাদ বলেন: হাদিসটি অনুমতি গ্রহণের (ইস্তি’যান) বিষয়ে। তা হলো তিনি উমরের কাছে প্রবেশের জন্য তিনবার অনুমতি চাইলেন কিন্তু সাড়া না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। উমর তাঁর পেছনে লোক পাঠালেন এবং বললেন: “তুমি প্রবেশ করলে না কেন?” আবু মুসা বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “অনুমতি প্রার্থনা তিনবার, যদি তোমাকে অনুমতি দেওয়া হয় তবে প্রবেশ করো, অন্যথায় ফিরে যাও।” তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: “এ সম্পর্কে কে জানে?” তখন আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.)—মতান্তরে উবাই ইবনে কা’ব (রা.)—তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন। তখন উমর আবু মুসাকে তাই বলেছিলেন যা ইমাম শাফেঈ মালেকের হাদিসে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌১০০ - এটি মুত্তাসিল সনদে হুমাইদ ইবনে হিলাল, আবু বুরদাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উমর আবু মুসাকে বলেছিলেন, “আমি তোমাকে অভিযুক্ত করিনি, তবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে হাদিস বর্ণনা করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।”

 

‌‌১০১ - তালহা ইবনে ইয়াহইয়ার হাদিসে আবু বুরদাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন যে, উবাই ইবনে কা’ব (রা.) বলেছেন: “হে খাত্তাবের পুত্র! আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এটি বলতে শুনেছি। আপনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের জন্য আযাব (কষ্টদায়ক) হবেন না।” তখন তিনি (উমর) বললেন: “সুবহানাল্লাহ! আমি কেবল একটি বিষয় শুনেছিলাম এবং তা যাচাই করে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম।” ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১২৭⦘

 

‌‌১০২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আর-রাবি’, তিনি বলেন ইমাম শাফেঈ বলেছেন: ফুরাইআহ বিনতে মালেক (রা.) উসমান ইবনে আফফান (রা.)-কে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে তাঁর নিজ ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যখন তাঁর স্বামী মারা গিয়েছিলেন, যতক্ষণ না নির্ধারিত সময় (ইদ্দত) পূর্ণ হয়। উসমান (রা.) এটি অনুসরণ করেন এবং সেই অনুযায়ী ফয়সালা দেন।

 

‌‌১০৩ - ইবনে উমর (রা.) এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ ফসলের বিনিময়ে জমি বর্গা (মুখাবারাহ) দিতেন এবং এতে কোনো অসুবিধা মনে করতেন না। অতঃপর রাফে’ (রা.) তাঁকে সংবাদ দিলেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি নিষেধ করেছেন। তখন তিনি রাফে’-এর সংবাদের কারণে তা বর্জন করেন।

 

‌‌১০৪ - জাইদ ইবনে সাবিত (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিলেন: “কোনো হাজি যেন বিদায়ি তাওয়াফ না করে প্রস্থান না করে।” অর্থাৎ যিয়ারতের তাওয়াফের পর বিদায়ি তাওয়াফ। ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর বিরোধিতা করে বললেন: ঋতুবতী নারী অন্য সবার বিপরীতে (বিদায়ি তাওয়াফ ছাড়াই) প্রস্থান করতে পারবে। জাইদ (রা.) ইবনে আব্বাসের এই মত অস্বীকার করলেন। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: “উম্মে সুলাইমকে জিজ্ঞাসা করুন।” তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে উম্মে সুলাইম তাঁকে জানালেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঋতুবতী নারীকে বিদায়ি তাওয়াফ না করেই ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তখন তিনি ইবনে আব্বাসের নিকট ফিরে এলেন এবং বললেন: “বিষয়টি আপনি যেমন বলেছিলেন তেমনই পেয়েছি।” ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১২৮⦘

 

‌‌১০৫ - আবু দারদা (রা.) মুআবিয়া (রা.)-কে সংবাদ দিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন একটি কেনাবেচা নিষেধ করেছেন যা মুআবিয়া করেছিলেন। মুআবিয়া (রা.) বললেন: “আমি এতে কোনো সমস্যা দেখছি না।” তখন আবু দারদা (রা.) বললেন: “মুআবিয়ার ব্যাপারে আমাকে কে মাফ করবে? আমি তাকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা বলছি আর সে আমাকে নিজের রায়ের কথা বলছে! আমি তোমার সাথে একই এলাকায় থাকব না।”

 

‌‌১০৬ - ইমাম শাফেঈর বিস্তারিত আলোচনায় এই আসারগুলো (বর্ণনাগুলো) থেকে এটিই দলীল হিসেবে পাওয়া যায় যে, অনেক সময় প্রাচীন সাহাবী এবং অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারীদের নিকট এমন কিছু অস্পষ্ট থাকতে পারত যা অন্য কেউ জানতেন।

 

‌‌১০৭ - ইমাম শাফেঈ বলেছেন: আমি তাবেঈদের মাঝে এমন কাউকে পাইনি যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে অথচ তিনি একক ব্যক্তির সংবাদ (খবরে ওয়াহিদ) গ্রহণ করেননি, তদানুযায়ী ফতোয়া দেননি এবং তাতেই ক্ষান্ত হননি।

 

‌‌১০৮ - তিনি এ বিষয়ে এবং তাঁদের নাম উল্লেখ করে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

 

‌‌১০৯ - তিনি বলেছেন: প্রবীণ তাবেঈদের পরবর্তী প্রজন্ম এবং যাদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে তাঁরা সবাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত একক ব্যক্তির ধারা অনুযায়ী সংবাদ সাব্যস্ত করতেন। তাঁরা একে সুন্নাহ সাব্যস্ত করেছেন এবং যারা এর অনুসরণ করেছে তাদের প্রশংসা করেছেন, আর যারা বিরোধিতা করেছে তাদের নিন্দা করেছেন।

 

‌‌১১০ - ইমাম শাফেঈ এই সংবাদগুলোর সনদসমূহ তাঁর ‘আর-রিসালাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং আমরাও কিতাবটির যথাযথ স্থানে তা উল্লেখ করেছি।

 

‌‌১১১ - এবং যা আমরা কিতাবে উল্লেখ করিনি...
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১২৯)
مَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ الْعَبَّاسِ: إِنَّ نَوْفًا الْبِكَالِيَّ يَزْعُمُ أَنَّ مُوسَى صَاحِبَ الْخَضِرِ لَيْسَ بِمُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: كَذَبَ عَدُوُّ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ ذَكَرَ حَدِيثَ مُوسَى وَالْخَضِرِ بِشَيْءٍ يَدُلُّ أَنَّ مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ صَاحِبُ الْخَضِرِ

 

‌‌112 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: فَابْنُ عَبَّاسٍ مَعَ فِقْهِهِ وَوَرَعِهِ يُثْبِتُ خَبَرَ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ وَحْدَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى يُكَذِّبَ امْرَأً مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِذْ حَدَّثَهُ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَا فِيهِ دَلَالَةٌ عَلَى أَنَّ مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ صَاحِبُ الْخَضِرِ
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আর-রাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আশ-শাফিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর ইবনে দীনার থেকে, সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: নাওফ আল-বিকালি দাবি করে যে, খিযিরের সঙ্গী মুসা বনী ইসরাঈলের মুসা নন। তখন ইবনে আব্বাস বললেন: আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে; আমাকে উবাই ইবনে কাব অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করলেন, এরপর তিনি মুসা ও খিযিরের হাদিসটি এমন কিছু সহকারে বর্ণনা করলেন যা নির্দেশ করে যে বনী ইসরাঈলের মুসাই ছিলেন খিযিরের সঙ্গী।

 

‌‌১১২ - শাফিয়ী বলেন: সুতরাং ইবনে আব্বাস তাঁর ফিকহ ও তাকওয়া থাকা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে উবাই ইবনে কাবের একক বর্ণনাকে সাব্যস্ত করেছেন, এমনকি তিনি একজন মুসলিম ব্যক্তিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন যখন উবাই ইবনে কাব তাঁর কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যাতে এই প্রমাণ রয়েছে যে বনী ইসরাঈলের মুসাই ছিলেন খিযিরের সঙ্গী।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১২৯)
‌‌113 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ، وَعَبْدُ الْمَجِيدِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ مُصْعَبٍ أَنَّ طَاوُسًا أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ، فَنَهَاهُ عَنْهُمَا، قَالَ طَاوُسٌ: فَقُلْتُ لَهُ: مَا أَدَعُهُمَا، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب: 36]

 

‌‌⦗ص: 130⦘

‌‌114 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: فَرَأَى ابْنُ عَبَّاسٍ الْحُجَّةَ قَائِمَةً عَلَى طَاوُسٍ بِخَبَرِهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَدَلَّهُ بِتِلَاوَةِ كِتَابِ اللَّهِ عَلَى أَنَّ فَرْضًا عَلَيْهِ أَنْ لَا تَكُونَ لَهُ الْخِيَرَةُ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا،

 

‌‌115 - وَذَكَرَ الشَّافِعِيُّ حَدِيثَ مَخْلَدِ بْنِ خُفَافٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنَّ الْخَرَاجَ بِالضَّمَانِ، وَأَنَّهُ ذَكَرَ ذَلِكَ لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَكَانَ قَدْ قَضَى بِرَدِّ الْغَلَّةِ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: فَمَا أَيْسَرَ عَلَيَّ مِنْ قَضَاءٍ قَضَيْتُهُ وَاللَّهُ تَعَالَى يَعْلَمُ أَنِّي لَمْ أَرِدْ فِيهِ إِلَّا الْحَقَّ، فَبَلَغَنِي فِيهِ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَرُدُّ قَضَاءَ عُمَرَ وَأُنْفِذُ سُنَّةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

 

‌‌116 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ أَخْبَرَنِي، مَنْ لَا أَتَّهِمُ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ مَخْلَدِ بْنِ خُفَافٍ، فَذَكَرَهُ

 

‌‌117 - قَالَ وَأَخْبَرَنِي مَنْ لَا أَتَّهِمُ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ قَالَ: قَضَى سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَلَى رَجُلٍ بِقَضِيَّةٍ بِرَأْيِ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَأَخْبَرْتُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِخِلَافِ مَا قَضَى بِهِ، فَقَالَ سَعْدٌ لِرَبِيعَةَ: هَذَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، وَهُوَ عِنْدِي ثِقَةٌ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِخِلَافِ مَا قَضَيْتَ بِهِ، فَقَالَ لَهُ رَبِيعَةُ: قَدِ اجْتَهَدْتَ، وَمَضَى حُكْمُكَ. فَقَالَ سَعْدٌ: وَاعَجَبًا، أُنْفِذُ قَضَاءَ سَعْدِ ابْنِ أُمِّ سَعْدٍ وَأَرُدُّ قَضَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‌‌⦗ص: 131⦘ بَلْ أَرُدُّ قَضَاءَ سَعْدِ ابْنِ أُمِّ سَعْدٍ وَأُنْفِذُ قَضَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَدَعَا سَعْدٌ بِكِتَابِ الْقَضِيَّةِ فَشَقَّهُ وَقَضَى لِلْمَقْضِيِّ عَلَيْهِ
‌‌১১৩ - আবু আব্দুল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আর-রাবী‘ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আশ-শাফি‘ঈ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মুসলিম বিন খালিদ ও আব্দুল মাজীদ আমাদের ইবন জুরাইজ থেকে জানিয়েছেন, তিনি আমির বিন মুস‘আব থেকে বর্ণনা করেন যে, তাউস তাঁকে জানিয়েছেন যে তিনি ইবন আব্বাসকে আসরের পরের দুই রাকাত (নামাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। ইবন আব্বাস তাঁকে তা করতে নিষেধ করেন। তাউস বলেন: তখন আমি তাঁকে বললাম: আমি তা বর্জন করব না। তখন ইবন আব্বাস (কুরআনের এই আয়াতটি) তিলাওয়াত করলেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো পছন্দ বা ইখতিয়ার রাখার অধিকার নেই।" [আল-আহযাব: ৩৬]

 

‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৩০⦘

‌‌১১৪ - ইমাম শাফি‘ঈ বলেন: ইবন আব্বাস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সংবাদের মাধ্যমে তাউসের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করলেন। আর তিনি আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করার মাধ্যমে তাঁকে এ নির্দেশ দিলেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো ফয়সালা দিলে সেখানে কোনো ইখতিয়ার না রাখা তাঁর ওপর ফরজ।

 

‌‌১১৫ - ইমাম শাফি‘ঈ মাখলাদ বিন খুফাফ-এর হাদীস উল্লেখ করেছেন, যা উরওয়াহ হয়ে আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফয়সালা দিয়েছেন যে, "লাভ বা আয় হবে দায়বদ্ধতা বা ঝুঁকি গ্রহণ অনুযায়ী।" (শাফি‘ঈ বলেন) বিষয়টি উমর বিন আব্দুল আযীযের কাছে উল্লেখ করা হয়েছিল, আর তিনি ইতিপূর্বে অর্জিত লভ্যাংশ বা ফসল ফেরত দেওয়ার ফয়সালা করেছিলেন। তখন উমর বিন আব্দুল আযীয বললেন: "আমার দেওয়া কোনো ফয়সালা পরিবর্তন করা আমার জন্য কতই না সহজ - আর আল্লাহ তাআলা জানেন যে আমি তাতে সত্য ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি - এমতাবস্থায় যে আমার কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ পৌঁছেছে। তাই আমি উমরের ফয়সালা বাতিল করছি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ কার্যকর করছি।"

 

‌‌১১৬ - আবু আব্দুল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আর-রাবী‘ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আশ-শাফি‘ঈ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মদীনার অধিবাসীদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যাকে আমি নির্ভরযোগ্য মনে করি, তিনি ইবন আবি যিব থেকে, তিনি মাখলাদ বিন খুফাফ থেকে এটি উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌১১৭ - তিনি (শাফি‘ঈ) বলেন: মদীনার অধিবাসীদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যাকে আমি নির্ভরযোগ্য মনে করি, তিনি ইবন আবি যিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সা‘দ বিন ইবরাহীম রাবী‘আ বিন আবি আব্দুর রহমানের রায়ের ভিত্তিতে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি ফয়সালা দিয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে তাঁর সেই ফয়সালার বিপরীতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে অবহিত করলাম। সা‘দ রাবী‘আকে বললেন: "ইনি ইবন আবি যিব, তিনি আমার কাছে নির্ভরযোগ্য এবং তিনি আপনার ফয়সালার বিপরীতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনা করছেন।" তখন রাবী‘আ তাঁকে বললেন: "আপনি তো ইজতিহাদ করেছেন এবং আপনার রায় কার্যকর হয়ে গেছে (তা আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই)।" তখন সা‘দ বললেন: "আশ্চর্যের বিষয়! আমি কি সা‘দ ইবনে উম্মে সা‘দ-এর ফয়সালা কার্যকর রাখব আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ফয়সালা প্রত্যাখ্যান করব? ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৩১⦘ বরং আমি সা‘দ ইবনে উম্মে সা‘দ-এর ফয়সালাই প্রত্যাখ্যান করব এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ফয়সালা কার্যকর করব।" এরপর সা‘দ মামলার নথিটি তলব করলেন এবং তা ছিঁড়ে ফেললেন, আর যার বিপক্ষে রায় দিয়েছিলেন (সুন্নাহর ভিত্তিতে) তার পক্ষেই ফয়সালা দিলেন।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩১)
‌‌118 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبُو زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ الْمُزَكِّي، وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْقَاضِي قَالُوا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو حَنِيفَةَ بْنُ سِمَاكِ بْنِ الْفَضْلِ الشِّهَابِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي، ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْكَعْبِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ عَامَ الْفَتْحِ: «مَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ، إِنْ أَحَبَّ أَخَذَ الْعَقْلَ، وَإِنْ أَحَبَّ فَلَهُ الْقَوَدُ»

 

‌‌119 - قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ بْنُ سِمَاكٍ: فَقُلْتُ لِابْنِ أَبِي ذِئْبٍ: أَتَأْخُذُ بِهَذَا يَا أَبَا الْحَارِثِ؟ فَضَرَبَ صَدْرِي وَصَاحَ عَلَيَّ صِيَاحًا كَثِيرًا وَنَالَ مِنِّي، وَقَالَ: أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَقُولُ: أَتَأْخُذُ بِهِ؟ نَعَمْ آخُذُ بِهِ، وَذَلِكَ الْفَرْضُ عَلَيَّ وَعَلَى مَنْ سَمِعَهُ، إِنَّ اللَّهَ عز وجل اخْتَارَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم مِنَ النَّاسِ فَهَدَاهُمْ بِهِ وَعَلَى يَدَيْهِ، وَاخْتَارَ لَهُمْ مَا اخْتَارَ لَهُ عَلَى لِسَانِهِ، فَعَلَى الْخَلْقِ أَنْ يَتَّبِعُوهُ طَائِعِينَ أَوْ دَاخِرِينَ، لَا مَخْرَجَ لِمُسْلِمٍ عَنْ ذَلِكَ، قَالَ: وَمَا سَكَتَ حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنْ يَسْكُتَ
১১৮ - আমাদের অবহিত করেছেন আবু আব্দুল্লাহ, আবু জাকারিয়া ইবনে আবি ইসহাক আল-মুজাক্কি এবং আবু বকর আহমদ ইবনুল হাসান আল-কাজী; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব; তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আর-রাবি ইবনে সুলাইমান; তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আশ-শাফিঈ; তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু হানিফা ইবনে সিমাক ইবনুল ফাদল আশ-শিহাবি; তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি দি'ব, তিনি মাকবুরি থেকে, তিনি আবু শুরাইহ আল-কাবি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের বছর বলেছিলেন: "যার কোনো আপনজন নিহত হয়, তার জন্য দুটি বিকল্পের মধ্যে উত্তমটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে; সে চাইলে রক্তপণ গ্রহণ করতে পারে, আর যদি চায় তবে তার জন্য প্রতিশোধ (কিসাস) গ্রহণের অধিকার রয়েছে।"

 

১১৯ - আবু হানিফা ইবনে সিমাক বলেন: আমি ইবনে আবি দি'বকে জিজ্ঞেস করলাম: হে আবু আল-হারিস, আপনি কি এই হাদিসটি গ্রহণ করেন (এর ওপর আমল করেন)? তখন তিনি আমার বুকে আঘাত করলেন এবং আমার ওপর অত্যন্ত উচ্চস্বরে চিৎকার করলেন ও আমাকে ভর্ৎসনা করলেন। তিনি বললেন: "আমি তোমার কাছে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করছি, আর তুমি বলছ: আপনি কি তা গ্রহণ করেন? হ্যাঁ, আমি তা গ্রহণ করি; আর এটি আমার ওপর এবং যে ব্যক্তি এটি শুনেছে তার ওপর ফরয। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মানবজাতির মধ্য থেকে মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মনোনীত করেছেন, অতঃপর তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর হাতের দ্বারা তাদের হেদায়েত করেছেন; আর তাঁর রসনায় (জিহ্বায়) তাদের জন্য তা-ই পছন্দ করেছেন যা তিনি তাঁর জন্য পছন্দ করেছেন। অতএব সৃষ্টির কর্তব্য হলো অনুগত হয়ে কিংবা বশীভূত হয়ে তাঁর অনুসরণ করা; এ থেকে কোনো মুসলিমের বেরিয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই।" বর্ণনাকারী বলেন: তিনি থামছিলেনই না, এমনকি একপর্যায়ে আমি কামনা করছিলাম যে তিনি যেন এবার থামেন।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩২)
‌‌مَنْ يُقْبَلُ خَبَرُهُ
যাঁর সংবাদ গ্রহণযোগ্য
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩২)
‌‌120 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله: وَلَا تَقُومُ الْحُجَّةُ بِخَبَرِ الْخَاصَّةِ حَتَّى يَجْمَعَ أُمُورًا

 

‌‌121 - مِنْهَا: أَنْ يَكُونَ مَنْ حَدَّثَ بِهِ ثِقَةً فِي دِينِهِ، مَعْرُوفًا بِالصِّدْقِ فِي حَدِيثِهِ، عَاقِلًا لِمَا يُحَدِّثُ بِهِ، عَالِمًا بِمَا يُحِيلُ مَعَانِي الْحَدِيثِ مِنَ اللَّفْظِ، وَأَنْ يَكُونَ مِمَّنْ يُؤَدِّي الْحَدِيثَ بِحُرُوفِهِ كَمَا سَمِعَهُ، وَلَا يُحَدِّثُ بِهِ عَلَى الْمَعْنَى؛ لِأَنَّهُ إِذَا حَدَّثَ بِهِ عَلَى الْمَعْنَى وَهُوَ غَيْرُ عَالِمٍ بِمَا يُحِيلُ مَعْنَاهُ لَمْ يَدْرِ، لَعَلَّهُ يُحِيلُ الْحَلَالَ إِلَى الْحَرَامِ وَالْحَرَامَ إِلَى الْحَلَالِ، وَإِذَا أَدَّى بِحُرُوفِهِ لَمْ يَبْقَ وَجْهٌ يُخَافُ فِيهِ إِحَالَةُ الْحَدِيثِ،

 

‌‌122 - حَافِظًا إِنْ حَدَّثَ مِنْ حِفْظِهِ، حَافِظًا لِكِتَابِهِ إِنْ حَدَّثَ بِهِ مِنْ كِتَابِهِ، إِذَا شَرَكَ أَهْلَ الْحِفْظِ فِي الْحَدِيثِ وَافَقَ حَدِيثَهُمْ،

 

‌‌123 - بَرِيئًا مِنْ أَنْ يَكُونَ مُدَلِّسًا، يُحَدِّثُ عَمَّنْ لَقِيَ مَا لَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ، أَوْ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَا لَمْ يُحَدِّثُ الثِّقَاتُ خِلَافَهُ،

 

‌‌124 - وَيَكُونُ هَكَذَا مَنْ فَوْقَهُ مِمَّنْ حَدَّثَهُ حَتَّى يَنْتَهِيَ بِالْحَدِيثِ مَوْصُولًا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَوْ إِلَى مَنْ يَنْتَهِي بِهِ إِلَيْهِ دُونَهُ؛ لِأَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ مُثْبِتٌ لِمَنْ حَدَّثَهُ، وَمُثْبِتٌ عَلَى مَنْ حَدَّثَ عَنْهُ. قَالَ:

 

‌‌125 - وَمَنْ كَثُرَ غَلَطُهُ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ أَصْلُ كِتَابٍ ‌‌⦗ص: 133⦘ صَحِيحٍ لَمْ يُقْبَلْ حَدِيثُهُ، كَمَا يَكُونُ مِنْ أَكْثَرِ الْغَلَطِ فِي الشَّهَادَاتِ لَمْ تُقْبَلْ شَهَادَتُهُ.

 

‌‌126 - قَالَ: وَأَقْبَلُ فِي الْحَدِيثِ: حَدَّثَنِي فُلَانٌ عَنْ فُلَانٍ إِذَا لَمْ يَكُنْ مُدَلِّسًا، وَمَنْ عَرَفْنَاهُ دَلَّسَ مَرَّةً فَقَدْ أَبَانَ لَنَا عَوْرَتَهُ فِي رِوَايَتِهِ، وَلَيْسَتْ تِلْكَ الْعَوْرَةُ بِكَذِبٍ فَيُرَدُّ بِهَا حَدِيثُهُ، وَلَا عَلَى النَّصِيحَةِ فِي الصِّدْقِ فَنَقْبَلُ مِنْهُ مَا قَبِلْنَا مِنْ أَهْلِ النَّصِيحَةِ فِي الصِّدْقِ، فَقُلْنَا: لَا نَقْبَلُ مِنْ مُدَلِّسٍ حَدِيثًا حَتَّى يَقُولَ: حَدَّثَنِي أَوْ سَمِعْتُ.

 

‌‌127 - قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ: الْأَمْرُ فِي شَرْطِ مَنْ يُقْبَلُ خَبَرُهُ عِنْدَ كَافَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ عَلَى مَعْنَى مَا ذَكَرَهُ الشَّافِعِيُّ رحمه الله،

 

‌‌128 - وَمَنْ كَانَ غَيْرَ عَالِمٍ بِمَا يُحِيلُ مَعَانِي الْحَدِيثِ مِنَ الْأَلْفَاظِ فَلَا يَجُوزُ لَهُ أَدَاءُ الْحَدِيثِ إِلَّا عَلَى اللَّفْظِ الَّذِي سَمِعَهُ،

 

‌‌129 - وَفِي مِثْلِ ذَلِكَ وَرَدَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ حَدِيثُ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «نَضَّرَ اللَّهُ رَجُلًا سَمِعَ مِنَّا كَلِمَةً فَبَلَّغَهَا كَمَا سَمِعَ، فَإِنَّهُ رُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ» ‌‌⦗ص: 134⦘

 

‌‌130 - أَخْبَرَنَاهُ، أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّزَّازُ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُنَادِي، قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، فَذَكَرَهُ

 

‌‌131 - فَأَمَّا مَنْ كَانَ عَالِمًا بِمَا يُحِيلُ مَعْنَاهُ فَقَدْ
১২০ - মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আর-রাবি' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইমাম শাফি'ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: বিশেষ ব্যক্তিবর্গের সংবাদ বা একক ব্যক্তির সংবাদের (খবরুল খাসসাহ) মাধ্যমে ততক্ষণ পর্যন্ত দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না, যতক্ষণ না তাতে কয়েকটি বিষয় একত্রিত হয়—

 

১২১ - তন্মধ্যে রয়েছে: যে ব্যক্তি হাদীসটি বর্ণনা করবেন তাকে তার দ্বীনের ব্যাপারে বিশ্বস্ত হতে হবে, তার হাদীস বর্ণনায় সত্যবাদিতার জন্য সুপরিচিত হতে হবে, তিনি যা বর্ণনা করছেন তা অনুধাবন করার মতো বোধশক্তি সম্পন্ন হতে হবে, শব্দের যে পরিবর্তনের কারণে হাদীসের অর্থ বদলে যায় সে সম্পর্কে তাকে বিজ্ঞ হতে হবে। এছাড়া তাকে এমন ব্যক্তি হতে হবে যিনি হাদীসটি যেভাবে শুনেছেন ঠিক সেভাবেই অক্ষরে অক্ষরে বর্ণনা করেন এবং এর মর্মার্থ বা অর্থের ভিত্তিতে হাদীস বর্ণনা করেন না। কারণ, হাদীসের অর্থ পরিবর্তনকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান না রেখে যদি তিনি মর্মার্থের ভিত্তিতে বর্ণনা করেন, তবে তিনি হয়তো জানবেনই না যে, সম্ভবত তিনি হালালকে হারামে কিংবা হারামকে হালালে রূপান্তরিত করে ফেলছেন। আর যখন তিনি অক্ষরে অক্ষরে হাদীসটি পৌঁছে দেবেন, তখন হাদীসের অর্থ বদলে যাওয়ার কোনো আশঙ্কার অবকাশ থাকবে না।

 

১২২ - যদি তিনি নিজের স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেন তবে তাকে তা যথাযথভাবে মুখস্থ রাখতে হবে, আর যদি নিজের কিতাব থেকে বর্ণনা করেন তবে সেই কিতাব যথাযথভাবে সংরক্ষণকারী হতে হবে। তিনি যখন হাদীস বর্ণনায় অন্যান্য হাফেজদের সাথে শরিক হবেন, তখন তার বর্ণনা যেন তাদের বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।

 

১২৩ - তাকে 'তাদলিস' (তথ্য গোপন) করা থেকে মুক্ত হতে হবে—অর্থাৎ এমন ব্যক্তি থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যা তিনি তার থেকে শোনেননি অথচ তার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যার বিপরীতে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেননি।

 

১২৪ - এবং তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারীগণও যেন এমন হন যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন, এভাবে হাদীসের সনদ যেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে যায়, অথবা তাঁর আগে যার কাছে গিয়ে এটি শেষ হয়েছে তার পর্যন্ত। কারণ তাদের প্রত্যেকেই যার থেকে হাদীস বর্ণনা করছেন তার নির্ভরযোগ্যতা সত্যায়ন করছেন এবং যার কাছে বর্ণনা করছেন তার কাছে দায়বদ্ধ থাকছেন। তিনি বলেন:

 

১২৫ - বর্ণনাকারীদের মধ্যে যার ভুলের পরিমাণ বেশি এবং যার কাছে কোনো সঠিক মূল পাণ্ডুলিপি বা কিতাব নেই, তার হাদীস গ্রহণযোগ্য হবে না; ঠিক যেমন সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে যার ভুল বেশি হয় তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় না।⦗পৃষ্ঠা: ১৩৩⦘

 

১২৬ - তিনি বলেন: হাদীসের ক্ষেত্রে আমি "অমুক আমাকে অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন" কথাটি গ্রহণ করি যদি বর্ণনাকারী মুদাল্লিস না হন। আর আমরা যাকে একবারও 'তাদলিস' করতে দেখেছি, তিনি আমাদের কাছে তার বর্ণনার দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছেন। সেই দুর্বলতা মিথ্যার পর্যায়ের নয় যে তার কারণে তার হাদীস বর্জন করা হবে, আবার তা সত্যবাদিতার ব্যাপারে সেই সততার স্তরেরও নয় যার কারণে আমরা অন্যান্য সত্যবাদী ও একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের হাদীস গ্রহণ করি। তাই আমরা বলেছি: আমরা কোনো মুদাল্লিসের হাদীস ততক্ষণ গ্রহণ করব না যতক্ষণ না তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, "আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন" অথবা "আমি শুনেছি"।

 

১২৭ - শাইখ আহমদ বলেন: হাদীস বিশারদগণের নিকট যাদের সংবাদ গ্রহণযোগ্য তাদের শর্তাবলির বিষয়টি ইমাম শাফি'ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন তার মর্মার্থ অনুসারেই সাব্যস্ত।

 

১২৮ - আর যিনি শব্দের পরিবর্তনের ফলে হাদীসের অর্থ বদলে যাওয়ার বিষয়ে অবগত নন, তার জন্য হাদীসটি যেভাবে শুনেছেন ঠিক সেই শব্দে বর্ণনা করা ব্যতীত অন্যভাবে বর্ণনা করা বৈধ নয়।

 

১২৯ - এই প্রেক্ষাপটেই—আল্লাহই ভালো জানেন—সিমাঁক ইবনে হারব, আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল ও সজীব রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো কথা শুনেছে এবং তা যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে। কারণ অনেক সময় যাকে সংবাদ পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও বেশি সমঝদার ও সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৪⦘

 

১৩০ - আবুল হুসাইন ইবনে বিশরান আমাদের এর সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর আর-রাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আল-মুনাদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সিমাঁক থেকে, অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেন।

 

১৩১ - তবে যিনি হাদীসের অর্থ পরিবর্তনকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত, তিনি...
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ. وَقَالَ بَعْضُ التَّابِعِينَ: لَقِيتُ أُنَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاجْتَمَعُوا فِي الْمَعْنَى وَاخْتَلَفُوا عَلَيَّ فِي اللَّفْظِ. فَقُلْتُ لِبَعْضِهِمْ ذَلِكَ، فَقَالَ: لَا بَأْسَ مَا لَمْ يَحِلْ مَعْنَاهُ

 

‌‌132 - قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ: وَرُوِّينَا عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ أَنَّهُ قَالَ: حَسْبُكُمْ إِذَا حَدَّثْنَاكُمْ بِالْحَدِيثِ عَلَى الْمَعْنَى،

 

‌‌133 - وَرُوِّينَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ أَنَّهُ قَالَ: كُنْتُ أَسْمَعُ الْحَدِيثَ مِنَ عَشَرَةٍ، الْمَعْنَى وَاحِدٌ وَاللَّفْظُ مُخْتَلِفٌ

 

‌‌134 - وَرُوِّينَا عَنِ ابْنِ عَوْنٍ أَنَّهُ قَالَ: كَانَ الْحَسَنُ، وَالشَّعْبِيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ يَأْتُونَ بِالْحَدِيثِ عَلَى الْمَعَانِي، وَكَانَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ، وَرَجَاءُ بْنُ حَيْوَةَ يُقَيِّدُونَ الْحَدِيثَ بِحُرُوفِهِ.

‌‌⦗ص: 135⦘

‌‌135 - وَرُوِّينَا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ أَنَّهُ قَالَ: كَانَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ يُحَدِّثُ بِالْحَدِيثِ عَلَى الْمَعْنَى،

 

‌‌136 - وَكَانَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَيْسَرَةَ لَا يُحَدِّثُ إِلَّا عَلَى مَا سَمِعَ.

 

‌‌137 - قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ: فَذَهَبَ فِيمَا بَلَغَنَا جَمَاعَةٌ مِنَ السَّلَفِ إِلَى أَدَاءِ الْحَدِيثِ عَلَى اللَّفْظِ الْمَسْمُوعِ وَإِنْ كَانَ عَالِمًا بِمَا يُحِيلُ مَعْنَاهُ،

 

‌‌138 - وَهُوَ أَحَبُّ إِلَيْنَا لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ»
আবু আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-রাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: শাফিঈ বলেছেন। এবং জনৈক তাবেঈ বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাঁরা অর্থের দিক দিয়ে একমত ছিলেন কিন্তু শব্দের দিক দিয়ে আমার নিকট ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁদের একজনকে বিষয়টি বললে তিনি বললেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই যতক্ষণ না এর অর্থ পরিবর্তিত হয়।

 

‌‌১৩২ - শায়খ আহমদ বলেছেন: ওয়াসিলা ইবনে আসকা থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমরা যখন তোমাদের কাছে অর্থের ভিত্তিতে হাদিস বর্ণনা করি, তখন সেটিই তোমাদের জন্য যথেষ্ট।

 

‌‌১৩৩ - এবং মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি দশজনের কাছ থেকে হাদিস শুনতাম, যাদের বর্ণিত হাদিসের অর্থ ছিল এক কিন্তু শব্দ ছিল ভিন্ন ভিন্ন।

 

‌‌১৩৪ - এবং ইবনে আউন থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: হাসান বসরী, শাবী এবং ইবরাহিম নখঈ অর্থের ভিত্তিতে হাদিস বর্ণনা করতেন, আর কাসিম ইবনে মুহাম্মদ, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন এবং রাজা ইবনে হাইওয়াহ হাদিসকে এর মূল শব্দে বা বর্ণে সীমাবদ্ধ রাখতেন।

‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৩৫⦘

‌‌১৩৫ - এবং ইবনে উয়াইনা থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমর ইবনে দিনার অর্থের ভিত্তিতে হাদিস বর্ণনা করতেন।

 

‌‌১৩৬ - এবং ইবরাহিম ইবনে মাইসারা যা শুনেছেন ঠিক তেমনটি ব্যতীত বর্ণনা করতেন না।

 

‌‌১৩৭ - শায়খ আহমদ বলেছেন: আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তা অনুযায়ী সালাফদের একটি দল শ্রুত শব্দানুসারেই হাদিস বর্ণনা করার পথ অবলম্বন করেছেন, যদিও বর্ণনাকারী অর্থ পরিবর্তনকারী বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত থাকেন।

 

‌‌১৩৮ - আর এটিই আমাদের নিকট অধিক পছন্দনীয়, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অনেক সময় জ্ঞানের বাহক এমন ব্যক্তির কাছে তা বহন করে নিয়ে যায় যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার।"
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
‌‌إِثْمُ مَنْ كَذَبَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যে ব্যক্তি মিথ্যা আরোপ করে তার পাপ
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
‌‌139 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»
১৩৯ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাবি‘ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আযীয আদ-দারাওয়ার্দী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলক্বামাহ থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।»
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
‌‌140 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ وَهُوَ ابْنُ سَالِمٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الَّذِي يَكْذِبُ عَلَيَّ يُبْنَى لَهُ بَيْتٌ فِي النَّارِ»
‌১৪০ - এবং আবু আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আর-রাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আশ-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি আবু বকর (যিনি ইবনে সালিম) থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে»
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
‌‌141 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ قَالَ: أَخْبَرَنَا ‌‌⦗ص: 137⦘ الرَّبِيعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ بُخْتٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ النَّصْرِيِّ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ أَفْرَى الْفِرَى مَنْ قَوَّلَنِي مَا لَمْ أَقُلْ، وَمَنْ أَرَى عَيْنَيْهِ فِي الْمَنَامِ مَا لَمْ تَرَيَا، وَمَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ»
১৪১ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৭⦘ রাবী', তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাফেঈ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল আজীজ ইবনে মুহাম্মদ আদ-দারওয়ারদী, মুহাম্মাদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহহাব ইবনে বুখত থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহিদ আন-নাসরি থেকে, তিনি ওয়াসিলাহ ইবনে আসকা' থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা বড় মিথ্যা হলো—যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কথা বলে যা আমি বলিনি, এবং যে ব্যক্তি তার দুই চোখে স্বপ্নে এমন কিছু দেখার দাবি করে যা সে দেখেনি, আর যে ব্যক্তি নিজের পিতা ব্যতীত অন্য কারো সাথে নিজের বংশের সম্বন্ধ দাবি করে।»
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
‌‌142 - وَبِإِسْنَادِهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ التِّنِّيسِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدِ، عَنْ أُسَيْدِ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ، عَنْ أُمِّهِ قَالَتْ: قُلْتُ لِأَبِي قَتَادَةَ: مَا لَكَ لَا تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا يُحَدِّثُ عَنْهُ النَّاسُ؟ قَالَتْ: فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَلْتَمِسْ لِجَنْبِهِ مَضْجَعًا مِنَ النَّارِ» فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ وَيَمْسَحُ الْأَرْضَ بِيَدِهِ "
১৪২ - এবং তাঁরই সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাফিঈ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবন আবু সালামাহ আত-তিননিসি, আবদুল আজিজ ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি উসাইদ ইবন আবু উসাইদ থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি আবু কাতাদাহকে বললাম: আপনার কী হলো যে আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সেভাবে হাদীস বর্ণনা করেন না যেভাবে অন্য মানুষ তাঁর থেকে বর্ণনা করে? তিনি বলেন: তখন আবু কাতাদাহ বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন আগুনের মধ্যে নিজের পাঁজরের জন্য একটি শয্যা তালাশ করে নেয়।» তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই কথাটি বলছিলেন এবং নিজের হাত দিয়ে জমিন মুছছিলেন।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
‌‌انْتِقَادُ الرِّوَايَةِ وَمَا يُسْتَدَلُّ بِهِ عَلَى خَطَأِ الْحَدِيثِ
বর্ণনার সমালোচনা এবং যা দ্বারা হাদিসের ভুলের ওপর প্রমাণ পেশ করা হয়