0/0
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المداخل إلى آثار شيخ الإسلام ابن تيمية   (بكر أبو زيد)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: المداخل إلى آثار شيخ الإسلام ابن تيمية

[آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لحقها من أعمال (1)]

المؤلف: بكر بن عبد الله أبو زيد

الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)

الطبعة: الرابعة، 1440 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)

عدد الصفحات: 103

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 شوّال 1442

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলির ভূমিকা   (বকর আবু যায়দ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলির ভূমিকা

[শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলি ও তৎসংশ্লিষ্ট কাজসমূহ (১)]

লেখক: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়দ

প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দারু ইবনু হাযম (বৈরুত)

সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪৪০ হি. - ২০১৯ খ্রি. (দারু ইবনু হাযমের প্রথম সংস্করণ)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৩

শামেলায় উপস্থাপন করেছে: «আতাআতুল ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
آثَارُ شَيْخِ الإِسْلامِ ابْنِ تَيميَّةَ وَمَا لَحِقَهَا مِن أَعْمَال (1)

الَمَدَاخِلُ إلَى آثَارُ شَيْخِ الإِسْلامِ ابْنِ تَيميَّةَ وَمَا لَحِقَهَا مِن أَعْمَال

 

تَأْلِيف: بَكْر بن عَبْدِ الله أبو زَيْد (رَئيس المَجْمَع)

 

دار عطاءات العلم - دار ابن حزم
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলি এবং তৎসংশ্লিষ্ট কর্ম (১)

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলি এবং তৎসংশ্লিষ্ট কর্মের উপক্রমণিকা

 

রচনা: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ (মাজমা-এর সভাপতি)

 

দারু আতাআতিল ইলম - দারু ইবনে হাযম
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.

أما بعد:

فيسر مجمع الفقه الإسلامي بجدة المنبثق عن منظمة المؤتمر الإسلامي أن تكون طباعة هذه الأعلاق النفيسة من آثار هذا الإمام شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى- في سلسلة مطبوعاته؛ لأن ما فيها من العلم والتحقيق يلتقي مع أهداف المجمع الذي أسس من أجلها، ويبدي الشكر خالصًا لسعادة الشيخ سليمان بن عبد العزيز الراجحي على مبادرته الثمينة في الموافقة على تمويل هذا المشروع -أجزل الله له الأجر والثواب-.

 

أمين المجمع - رئيس المجمع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।

অতপর:

ওআইসি (অর্গানাইজেশন অফ দ্য ইসলামিক কনফারেন্স)-এর অঙ্গসংগঠন জেদ্দাস্থ আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি এই মহান ইমাম, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—এর জ্ঞানগর্ভ রচনার এই অমূল্য সম্পদসমূহকে তাদের প্রকাশনা সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরে আনন্দিত; কারণ এতে বিদ্যমান জ্ঞান ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ একাডেমির সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ যার জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া এই প্রকল্পে অর্থায়নের সম্মতির মাধ্যমে মূল্যবান উদ্যোগ গ্রহণের জন্য একাডেমি মাননীয় শাইখ সুলাইমান বিন আব্দুল আজিজ আর-রাজহির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে—আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন।

 

একাডেমির সেক্রেটারি - একাডেমির প্রেসিডেন্ট
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
- أ -

 

‌‌مقدمة الطبعة الثانية لمشروع آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لحقها من أعمال

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه أجمعين.

أما بعد: فهذه الطبعة الثانية للمشروع المبارك "آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لحقها من أعمال 1 - 8" نخرجها بعد مضيّ بضع سنوات على صدور طبعته الأولى، وقد لقي المشروع - بفضل الله تعالى - قبولًا واسعًا وثناءً حميدًا، ونَفِدَت نسخُه في نحو شهر واحد، واشتد الطلب عليه جدًّا، لكن تأنينا في طباعته أَمَلًا في المزيد من التصحيح والتنقيح، وقد حصل ولله الحمد والمنة.

فمما أُضيف إلى "المداخل": (المدخل الثالث: أمثلة من أقواله السائرة)، وبعض الإضافات اليسيرة، وصححنا جملة من الأخطاء المطبعية ونحوها.

أما بقية الكُتب فقد صُحِّحت وروجعت كما هو مشروح في مقدماتها، والحمد لله رب العالمين.

 

بكر بن عبد الله أبو زيد

16/ 4/ 1427 هـ
- অ -

 

‌‌শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলি এবং তৎসংশ্লিষ্ট কাজসমূহ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরদের ওপর।

অতঃপর: এটি হচ্ছে বরকতময় প্রকল্প "শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলি এবং তৎসংশ্লিষ্ট কাজসমূহ ১ - ৮"-এর দ্বিতীয় সংস্করণ, যা আমরা এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশের কয়েক বছর পর প্রকাশ করছি। আল্লাহর অনুগ্রহে প্রকল্পটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও উত্তম প্রশংসা লাভ করেছে এবং এর কপিগুলো প্রায় এক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং এর চাহিদা অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে আমরা অধিকতর সংশোধন ও পরিমার্জনের আশায় এর মুদ্রণে কিছুটা বিলম্ব করেছি, আর আল্লাহর সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহে তা সম্পন্ন হয়েছে।

"ভূমিকা" (আল-মাদাখিল) সমূহে যা যোগ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে: (তৃতীয় ভূমিকা: তাঁর প্রচলিত কিছু বাণীর উদাহরণ) এবং কিছু সামান্য সংযোজন। এছাড়াও আমরা বেশ কিছু মুদ্রণজনিত ও অনুরূপ ত্রুটি সংশোধন করেছি।

অবশিষ্ট বইগুলো সংশোধন ও পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়েছে যেমনটি সেগুলোর ভূমিকায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়দ

১৬/ ৪/ ১৪২৭ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى صحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يومِ الدِّين.

أمَّا بَعْدُ: فأقول أَنا الفقيرُ إِلى عفو الله/ بكر بن عبد الله أَبو زيد آل غيهب القضاعي، ستر الله عيوبه، وغفر له ذنوبه: لقد بعثني باعث الوفاء لدين الله نشرًا له وذبًّا عنه، على وَصْلِ جهود المصلحين في نشرِ الآثارِ الغَرَّاء لمن أُلقِيَتْ إِليه مقاليد العُلوم الإسلامية والآلية شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى- وكَفَى باسمه غُنية عن الإشادة بذكره -سَقى الله عَهْدَه- وذلك في إِنشاء هذا المشروع العلمي المبارك: "آثار شيخ الإسلام ابن تيمية وما لحقها من أعمال" أَعظم مُجدِّد للملة الحنيفية بعد القرون المفضلة الزكية، التي تنتهي على رأس المائة الثالثة للهجرة النبوية؛ إِذْ كان سيفًا ماضيًا، وشهابًا ثاقبًا على كل ما يُخالف دين الله وشريعته، فخضد شوكة الوثنية بعد استشرائها، واكتسح الأهواء المضلة كَفِرَقِ سُبَّاب الصحابة بعد انتشارها، ومضى إلى الملل الكفرية كالنصرانية فَدَكَّ عُروشها، وَهَدَمَ بمِعْوَلِ تَبَخُّرِهِ شُبَه المبتدعة وأزالها، وقارع متعصبة المقلدة وإلى الدَليل رَدَّها، وبعد دعوة الأمة إِلى التخلِّي عن هذه العِمايات والتحذير منها، أَخذَ يُشَيِّدُ فيها صَرْح التحفي بأحكام الملة الإسلامية ونشر لوائها.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মোহর আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর সকল সহচরদের ওপর, আর যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন।

অতঃপর: আল্লাহর ক্ষমার মুখাপেক্ষী আমি বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ আল-গাইহাব আল-কুদায়ী—আল্লাহ তাঁর দোষত্রুটি গোপন রাখুন এবং তাঁর গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন—বলছি: আল্লাহর দ্বীনের প্রতি বিশ্বস্ততার তাগিদে এবং এর প্রচার ও প্রতিরক্ষার লক্ষ্যে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি, যাতে সেই মহান সংস্কারকদের প্রচেষ্টার সাথে সংযোগ স্থাপন করা যায় যারা সেই ব্যক্তির উজ্জ্বল কীর্তিসমূহ প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন যার নিকট ইসলামী ও সহায়ক জ্ঞানসমূহের চাবিকাঠি অর্পণ করা হয়েছিল, তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তাঁর গুণকীর্তন করার জন্য কেবল তাঁর নামটিই যথেষ্ট—আল্লাহ তাঁর সময়কালকে সিক্ত করুন—আর তা হলো এই বরকতময় ইলমি প্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে: "শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনাবলী এবং তৎসংশ্লিষ্ট কর্মসমূহ"। তিনি হিজরী তৃতীয় শতাব্দীর শেষে সমাপ্ত হওয়া শ্রেষ্ঠ ও পবিত্র যুগসমূহের পর দ্বীনে হানিফের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক; কেননা তিনি ছিলেন আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়তের বিরোধী সবকিছুর বিরুদ্ধে এক ধারালো তলোয়ার এবং এক উজ্জ্বল অগ্নিপিণ্ড। তিনি মূর্তিপূজার প্রাদুর্ভাব ঘটার পর এর দম্ভ চূর্ণ করেছিলেন, এবং সাহাবীগণকে গালি প্রদানকারী দলগুলোর মতো পথভ্রষ্ট প্রবৃত্তিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর তা সমূলে উৎপাটন করেছিলেন। তিনি খ্রিস্টধর্মের মতো কুফরি মতবাদগুলোর মোকাবিলা করেছিলেন এবং সেগুলোর সিংহাসন ধূলিসাৎ করে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের কুঠার দ্বারা বিদআতিদের সংশয়গুলো ধ্বংস ও দূরীভূত করেছিলেন, গোঁড়া মুকাল্লিদদের মোকাবিলা করেছিলেন এবং তাদের দলিলের দিকে ফিরিয়ে এনেছিলেন। উম্মতকে এই সব অন্ধত্ব ত্যাগ করার আহ্বান জানানো ও এ বিষয়ে সতর্ক করার পর, তিনি তাদের মাঝে ইসলামী শরীয়তের বিধানসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ এবং এর বিজয় নিশান উড্ডীন করতে শুরু করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وإلى ما ذُكِر أَشار تلميذه الحافظ ابن القيم -رحمه الله تعالى- في "النونية" فقال في وصف شيخه:

وله المقامات الشهيرة في الورى … قد قامها لله غير جبان

نصر الإله ودينَه وكتابَه … ورسولَه بالسيف والبرهان

أَبدى فضائحهم وبيَّن جهلَهم … وأَرى تناقضهم بكل زمان

وأَصارهم والله تحت نوال أَهـ … ـل الحق بعد ملابس التيجان

وأَصارهم تحت الحضيض وطالما … كانوا هم الأعلام للبلدان

ومن العجائب أَنه بسلاحهم … أَرداهمُ تحت الحضيض الدانِ

كانت نواصينا بأيَديهم فَمَا … مِنَّا لهم إِلا أَسير عانِ

فغدت نواصيهم بأَيدينا فلا … يلقوننا إِلا بحبل أَمان

ولهذا حُكي عن أبي عبد الله محمد بن قوَّام كما في: "الذيل لابن رجب: 2/ 393" مقولته: "ما أسْلَمت معارفُنا إلا على يد ابن تيمية" انتهى. وهذه تصلح سلفًا لما شاع في عصرنا من قولهم: "أسلمة العلوم".

وهذا يذكِّرنا بالمقام المحمود لأبي عبد الرحمن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه في حق أخيه في الصحبة والإسلام معاذ بن جبل رضي الله عنه إذ كان في مجلس عُطِّر بذكر معاذ، فقال ابن مسعود: "إنّ معاذًا كان أمة قانتًا لله حنيفًا" فقال بعضهم الآية: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ} فقال: "إنّ الأمة: معلم الخير، والقانت: المطيع، وإن معاذًا كان كذلك "كما في "السير: 1/ 451" للذهبي.
উল্লিখিত বিষয়ের প্রতি তাঁর ছাত্র হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- "নুনিয়া" কাব্যে ইঙ্গিত করেছেন; তিনি তাঁর শাইখের বর্ণনায় বলেছেন:

সৃষ্টিজগতে তাঁর সুপ্রসিদ্ধ মর্যাদা ও অবস্থান রয়েছে … তিনি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভীরুতা ছাড়াই আঞ্জাম দিয়েছেন।

তিনি আল্লাহকে, তাঁর দ্বীনকে, তাঁর কিতাবকে … এবং তাঁর রাসূলকে তরবারি ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন।

তিনি তাদের কেলেঙ্কারিগুলো প্রকাশ করেছেন, তাদের মূর্খতা বর্ণনা করেছেন … এবং সব যুগে তাদের পারস্পরিক বৈপরীত্য দেখিয়ে দিয়েছেন।

আল্লাহর কসম, তিনি মুকুট পরিধান করার পর (অর্থাৎ প্রভাবশালী হওয়ার পর) … তাদের সত্যপন্থীদের অনুদান ও কর্তৃত্বের অধীনে নিয়ে এসেছেন।

তিনি তাদের চরম অবমাননার নিচে নিক্ষেপ করেছেন, অথচ দীর্ঘকাল যাবত … তারাই ছিল ভূখণ্ডের দিকপাল।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, তিনি তাদেরই অস্ত্রের মাধ্যমে … তাদের নিম্নতম গভীর গহ্বরে পর্যুদস্ত করেছেন।

আমাদের কপালগুলো তাদের হাতে ছিল (অর্থাৎ আমরা তাদের অধীনে ছিলাম), ফলে … তাদের কাছে আমরা বন্দি ও অভাবী ছাড়া কিছুই ছিলাম না।

এখন তাদের কপালগুলো আমাদের হাতে চলে এসেছে, ফলে … নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি ছাড়া তারা আমাদের মোকাবিলা করতে পারে না।

একারণেই আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল কাওয়াম থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি ইবনে রজবের "আয-যাইল" (২/৩৯৩) গ্রন্থে রয়েছে, তাঁর বক্তব্য: "ইবনে তাইমিয়ার হাতের মাধ্যমেই আমাদের জ্ঞানসমূহ ইসলাম গ্রহণ করেছে (অর্থাৎ সংশোধিত হয়েছে)।" সমাপ্ত। আর এটি আমাদের যুগে প্রচলিত "জ্ঞানের ইসলামায়ন" পরিভাষার জন্য একটি সলফ বা পূর্বসূরি উদাহরণ হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

এটি আমাদের আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই প্রশংসনীয় অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা তিনি সাহচর্য ও ইসলামের ভ্রাতৃত্বের খাতিরে মুয়ায ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রে গ্রহণ করেছিলেন। এক মজলিসে যখন মুয়াযের আলোচনায় সুগন্ধি ছড়াচ্ছিল, তখন ইবনে মাসউদ বললেন: "নিশ্চয় মুয়ায ছিলেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অনুগত একজন উম্মাহ (আদর্শ নেতা)।" তখন কেউ কেউ কুরআনের আয়াতটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন: {নিশ্চয় ইব্রাহিম...}। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই 'উম্মাহ' মানে কল্যাণের শিক্ষক, আর 'কানিত' মানে অনুগত; আর মুয়াযও তেমনি ছিলেন।" যেমনটি যাহাবীর "আস-সিয়ার" গ্রন্থে (১/৪৫১) বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ورحم الله الأستاذ محمد كُرْد علي المتوفى سنة 1372 إِذْ قال في ترجمته من: "كنوز الأجداد. ص/ 350":

"لو عمَّت دعوة ابن تيمية - ولدعوته ما يماثلها في المذاهب الإسلامية ولكنها عنده كانت حارة وعند غيره فاترة- لَسَلِمَ هذا الدِّين من تخريف المخرِّفين على الدهر، وَلَمَا سمعنا أحدًا في الديار الإسلامية يدعو لغير الله، ولا ضريحًا تُشدُّ إليه الرِّحال بما يخالف الشرع، ولا يُعتقد بالكرامات على ما ينكره دين، أتى للتوحيد لا للشرك، ولسلامة العقول لا للخبال والخيال.

كان ابن تيمية في النصف الثاني من عمره سراجًا وهَّاجًا، أطفأ بعلمه وعمله شهرة أرباب المظاهر من القضاة والعلماء، وكان الصَّدْر المُقَدَّم كُلَّما دخل في موضوع ديني أو سياسي … " انتهى.

إذًا فكيف يطيب لأهل العلم أَن لا يصلوا جهود المصلحين في نشر آثار هذا الإمام وإِخراجها بيانًا للناس، وقد فعلوا، ولا أَعلم عالمًا في الإِسلام حظي بترجمته، ونشر آثاره، ودراسة اختياراته العلمية مثل ما حظي به هذا الإمام. وما هذا المشروع إِلا لبنة في تشييد هذا الصرح الكبير.

ولئن كان لكل كتاب أو مشروع علمي مدخل، فإن هذا العمل له مداخل رأيت أن أُصدِّره بها:
আল্লাহ উস্তাদ মুহাম্মদ কুর্দ আলীর (মৃত্যু ১৩৭২ হিজরী) ওপর রহম করুন, যিনি তাঁর জীবনীতে 'কুনুযুল আজদাদ' (পৃষ্ঠা ৩৫০) গ্রন্থে বলেছেন:

"যদি ইবনে তাইমিয়ার দাওয়াত ব্যাপকতা লাভ করত — আর তাঁর দাওয়াতের সমতুল্য দাওয়াত অন্যান্য ইসলামি মাযহাবেও রয়েছে, তবে তাঁর নিকট এটি ছিল জোরালো আর অন্যদের নিকট ছিল শিথিল — তবে এই দীন চিরকালের জন্য বিভ্রান্তকারীদের বিকৃতি থেকে রক্ষা পেত। আমরা ইসলামি ভূখণ্ডে এমন কাউকে শুনতাম না যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকে, শরিয়ত বিরোধী কোনো সমাধির উদ্দেশ্যে সফর করা হতো না, আর এমন কোনো কারামতে বিশ্বাস করা হতো না যা দীন অস্বীকার করে; তিনি তাওহিদের জন্য এসেছিলেন শিরকের জন্য নয়, এবং সুস্থ বুদ্ধির জন্য এসেছিলেন বিভ্রান্তি ও কল্পনার জন্য নয়।

ইবনে তাইমিয়া তাঁর জীবনের শেষার্ধে ছিলেন এক প্রদীপ্ত প্রদীপ। তিনি তাঁর জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে বাহ্যিক চাকচিক্যধারী বিচারক ও আলেমদের খ্যাতিকে ম্লান করে দিয়েছিলেন। যখনই তিনি কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিষয়ে প্রবেশ করতেন, তিনিই হতেন অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব … " (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

সুতরাং, আলেমদের পক্ষে কীভাবে সমীচীন হতে পারে যে তাঁরা এই ইমামের কর্মসমূহ প্রচার ও মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে প্রকাশের ক্ষেত্রে সংস্কারকদের প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখবেন না? অথচ তাঁরা তা করেছেন। ইসলামের ইতিহাসে এমন কোনো আলেম সম্পর্কে আমার জানা নেই, যাঁর জীবনী রচনা, তাঁর রচনাপত্রের প্রচার এবং গবেষণালব্ধ পছন্দসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই ইমামের মতো এত সৌভাগ্য লাভ করেছেন। আর এই প্রকল্পটি এই বিশাল অট্টালিকা নির্মাণের একটি ইট মাত্র।

যদি প্রতিটি বই বা ইলমি প্রকল্পের একটি ভূমিকা থাকে, তবে এই কাজেরও কিছু প্রবেশদ্বার রয়েছে যা দিয়ে আমি এটি শুরু করা সমীচীন মনে করেছি:
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المدخل الأول موضوع هذا المشروع

يشمل موضوع هذا المشروع: آثار شيخ الإسلام ابن تيمية - رحمه الله تعالى- من كتبه ورسائله وفتاويه، وما لحقها من أَعمال من المختصرات والاختيارات ونحوها، وسيرته العطرة.

وينحصر هذا الموضوع في أَربعة أَقسام:

 

‌‌القسم الأول: طَبعْ ما لم يسبق طبعه:

من نِعَمِ الله علينا وعلى الناس أَجمعين، انتشار فهارس مكتبات العالم حتى جمع منها عدد كبير في نحو مائة وأَربعين مجلدًا، ثم سهولة الاتصالات لاسيما عبر الشبكات وتبادل المعلومات ومراكز البحث والدراسات، فمن خِلالها وغيرها من الوسائل كسهولة السفر من بلد إِلى آخر، ظهر من آثار الأسلاف ما تقر به عيون أَهل العلم وتبتهج به نفوسهم.

وكان منها أَن تم الوقوف في مطاوي الفهارس ومراسلة الخازنين على خبر كثير من كتب ورسائل وفتاوى هذا الإِمام وما لحقها من أَعمال مما لم يُنشر من قبل.

ومن آثار ذلك اشتغال عدد من الباحثين والمحققين بها.

فهذا هو القسم الأُم من هذا المشروع، وهو الجوهرة المفقودة
প্রথম প্রবেশিকা: এই প্রকল্পের বিষয়বস্তু

এই প্রকল্পের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হলো: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ -রাহিমাহুল্লাহ তাআলা- এর রচনাবলী; যার মধ্যে রয়েছে তাঁর বইসমূহ, পত্রাবলী ও ফতোয়াসমূহ, এবং এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট কাজসমূহ যেমন সংক্ষেপন, সংকলন ও অনুরূপ বিষয়াদি, এবং তাঁর সুগন্ধিময় জীবনী।

আর এই বিষয়টি চারটি ভাগে বিভক্ত:

 

‌প্রথম ভাগ: পূর্বে যা মুদ্রিত হয়নি তা মুদ্রণ করা:

আমাদের এবং সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো বিশ্বের লাইব্রেরিগুলোর ক্যাটালগের প্রসার, যা প্রায় একশত চল্লিশটি খণ্ডে সংগৃহীত হয়েছে। অতঃপর যোগাযোগের সহজলভ্যতা, বিশেষ করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্যের আদান-প্রদান এবং গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্রসমূহ। এগুলোর মাধ্যমে এবং অন্যান্য উপায়ে যেমন এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণের সহজলভ্যতা, পূর্বসূরিদের এমন সব কৃতিসমূহ প্রকাশ পেয়েছে যা দেখে জ্ঞানীদের চোখ জুড়িয়ে যায় এবং তাদের হৃদয় আনন্দিত হয়।

তারই অংশ হিসেবে এই ইমামের অনেক বই, পত্রাবলী ও ফতোয়া এবং তৎসংশ্লিষ্ট কার্যাবলীর সংবাদ তালিকার ভাঁজে ভাঁজে এবং সংরক্ষণকারীদের সাথে পত্রালাপের মাধ্যমে জানা গেছে যা আগে প্রকাশিত হয়নি।

এরই ফলশ্রুতিতে বেশ কিছু গবেষক ও পাণ্ডুলিপি বিশারদ এগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।

এটিই এই প্রকল্পের মূল ভিত্তি এবং এটিই সেই হারিয়ে যাওয়া রত্ন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والدرة المنشودة من هذا العِقد الثمين.

 

‌‌القسم الثاني: تحقيق بعض ما سبق طبعه:

منذ مائة وخمسين عامًا تقريبًا بدأت طباعة آثار شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى- من أُمَّهات كُتبه، ومجاميع رسائله وفتاويه، فانتشرت بين المسلمين، وتنافس الناس في طبعها ونشرها، وكان منها مَا قُرِّرَ درسه في المساجد وفي دور العلم ويتدارسه الناس في المجالس حتى إِن بعض رسائله لا تُحصى طبعاتها؛ لأن آثاره من الخير المبذول للمسلمين، مثل: "العقيدة الواسطية" وما لحقها في عصرنا من الشروح والتعليقات.

لكن منها ما طبع وفيه أغاليط طباعية غير قليلة، ومنها ما طُبع على نسخة ناقصة ومنها ما طبع على الراقمة في رسائل جامعية على نسخة فريدة ناقصة، مثل: "نقض التأسيس" وقد تم الوقوف على نسخة مكملة لما فيها من نقص -بحمد الله تعالى- وهكذا.

 

‌‌القسم الثالث: ما لحقها من أعمال:

اشتغل أَهل العلم قديمًا وحديثًا بآثار شيخ الإسلام ابن تيمية - رحمه الله تعالى- بمؤلفات مفردة على الوجوه الآتية:

1 - الاختصار والانتقاء والتهذيب، كما لتلميذه ابن عبد الهادي، وتلميذه الذهبي، وغيرهما مثل: البعلي، والسيوطي، وغيرهما، ومنها ما لم يُعرف اسم مختصِره كما في مختصر الرد على الإخنائي. وقد ذكر ابن قاسم -رحمه الله تعالى- في مقدمة "مجموع
এবং এই মূল্যবান হারের কাঙ্ক্ষিত মুক্তা।

 

‌‌দ্বিতীয় বিভাগ: ইতিপূর্বে মুদ্রিত কিছু রচনার তাহকীক:

প্রায় দেড়শ বছর আগে থেকে শাইখুল ইসলাম -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর রচনাবলী, তাঁর মৌলিক কিতাবসমূহ এবং তাঁর পত্রাবলী ও ফতোয়া সংকলন মুদ্রণ শুরু হয়েছে। ফলে এগুলো মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষ তা মুদ্রণ ও প্রকাশনায় প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু রচনা রয়েছে যা মসজিদে ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে এবং মানুষ মজলিসগুলোতে তা নিয়ে আলোচনা ও অধ্যয়ন করে। এমনকি তাঁর কিছু পত্রের মুদ্রণ সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়; কারণ তাঁর রচনাবলী মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত কল্যাণের আধার, যেমন: "আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ" এবং আমাদের যুগে এর সাথে যুক্ত হওয়া শরাহ (ব্যাখ্যা) ও টীকাগুলো।

কিন্তু এর মধ্যে এমন কিছু আছে যা মুদ্রিত হয়েছে এবং তাতে মুদ্রণজনিত ভুলের সংখ্যা কম নয়। আবার কিছু আছে যা অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে মুদ্রিত হয়েছে, আর কিছু আছে যা একক অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র হিসেবে টাইপ করা হয়েছে, যেমন: "নাকদুত তাসিস"; আল্লাহর শুকরিয়া যে, এর যে অংশটুকু অসম্পূর্ণ ছিল তার একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি পাওয়া সম্ভব হয়েছে—এভাবেই চলছে।

 

‌‌তৃতীয় বিভাগ: এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ:

প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেমগণ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর রচনাবলী নিয়ে নিম্নোক্ত পদ্ধতিসমূহে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে কাজ করেছেন:

১ - সারসংক্ষেপকরণ, সংকলন ও পরিমার্জন, যেমনটি করেছেন তাঁর ছাত্র ইবনে আব্দুল হাদী, তাঁর ছাত্র আয-যাহাবী এবং তাঁদের ব্যতীত অন্যান্যগণ যেমন: আল-বালি, আস-সুয়ূতী ও আরও অনেকে। আবার এমন কিছু সংক্ষেপিত গ্রন্থ রয়েছে যার সংক্ষেপকারীর নাম জানা যায়নি, যেমনটি 'আর-রদ্দু আলাল ইখনাই'-এর সারসংক্ষেপে দেখা যায়। ইবনে কাসেম -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- 'মাজমু'-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন-
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الفتاوى": أنه فتش عن مختصراتها وأدخل بعضها في مجموعه.

2 - اختياراته -رحمه الله تعالى-: أفردها بالتأليف: تلميذه ابن عبد الهادي، والبرهان ابن القيم، وابن اللحام البعلي، وذكر جملة منها في ترجمته: تلميذه ابن عبد الهادي في: "العقود الدرية"، وابن رجب في: "الذيل"، والعليمي في: "المنهج الأحمد" وابن العماد في: "شذرات الذهب" والنواب صديق في: "التاج المكلل". وللشيخ سليمان بن سحمان نظم لبعضها من أول الطهارة إلى باب الصداق، وله نظم آخر لتسع عشرة مسألة انفرد بها شيخ الإسلام كما في: "ملتقى الأنهار من منتقى الأشعار" لابنه الشيخ صالح -رحمهما الله تعالى-.

وقال تلميذه الحافظ ابن كثير -رحمه الله تعالى- في: "تاريخه: 14/ 69": "وله اختيارات كثيرة مجلدات عديدة أفتى فيها بما أدى إليه اجتهاده، واستدل على ذلك من الكتاب والسنة وأقوال الصحابة والسلف" انتهى.

3 - الشرح والتعليق: منها: "العَلَم الهَيِّب شرح الكلم الطيب" للبدر العيني، و"اللآلئ البهية شرح لامية شيخ الإسلام ابن تيمية" لأحمد بن عبد الله المرداوي، وذَكَر أن هذه اللامية منسوبة لابن تيمية، وهي في ستة عشر بيتًا؟ و"الدرة البهية شرح القصيدة التائية في حل المشكلة القدرية" لابن سعدي. وشروح متعددة في عصرنا لكتابه: "العقيدة الواسطية" وغيرها.

وإنما غابت أنظار العلماء عن الشرح لكتبه؛ لأنها ليست مؤلفة
"আল-ফাতাওয়া": তিনি এর সারসংক্ষেপগুলো অনুসন্ধান করেছেন এবং এর কিছু অংশ তাঁর সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২ - তাঁর ইখতিয়ারসমূহ (পছন্দকৃত ফতোয়াবলি) -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন-: এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন: তাঁর ছাত্র ইবনে আবদিল হাদী, আল-বুরহান ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনুল লাহহাম আল-বালি। তাঁর জীবনীতে এগুলোর একটি বড় অংশ উল্লেখ করেছেন: তাঁর ছাত্র ইবনে আবদিল হাদী 'আল-উকুদ আদ-দুররিয়্যাহ' গ্রন্থে, ইবনে রজব 'আয-যাইল' গ্রন্থে, আল-আলিমি 'আল-মানহাজুল আহমাদ' গ্রন্থে, ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে এবং নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান 'আত-তাজুল মুকাল্লাল' গ্রন্থে। শায়খ সুলাইমান বিন সাহমান পবিত্রতা অধ্যায়ের শুরু থেকে মোহরানা অধ্যায় পর্যন্ত এর কিছু অংশ কাব্যাকারে রচনা করেছেন। শাইখুল ইসলাম যেসব মাসআলায় একক মত পোষণ করেছেন, এমন উনিশটি মাসআলা নিয়ে তাঁর আরেকটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, যা তাঁর পুত্র শায়খ সালেহ -আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন- এর 'মুলতাক্বাল আনহার মিন মুনতাক্বাশ আশআর' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর ছাত্র হাফেজ ইবনে কাসির -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- তাঁর 'তারিখ' (ইতিহাস গ্রন্থ): ১৪/৬৯-এ বলেছেন: "তাঁর অনেক ইখতিয়ার (পছন্দকৃত ফতোয়া) রয়েছে যা বহু খণ্ডে সমাপ্ত। তিনি সেগুলোতে নিজের ইজতিহাদ অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন এবং এর সপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবী ও সালফে সালেহীনের বাণী থেকে দলীল পেশ করেছেন।" সমাপ্ত।

৩ - ব্যাখ্যা এবং টীকা: এর মধ্যে রয়েছে: বদর আল-আইনি রচিত 'আল-আলামুল হাইয়িব শারহু আল-কালিমিত তায়্যিব', আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মারদাউয়ি রচিত 'আল-লাআলিল বাহিয়্যাহ শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ'। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই লামিয়্যাহ (কবিতাটি) ইবনে তাইমিয়্যাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত এবং এটি ষোলোটি চরণের? এবং ইবনে সাদী রচিত 'আদ-দুররাতুল বাহিয়্যাহ শারহুল কাসিদাতিত তায়িয়্যাহ ফি হাল্লিল মুশকিলাতিল কাদরিয়্যাহ'। এছাড়াও বর্তমান যুগে তাঁর রচিত 'আল-আকিদাতুল ওয়াসিতিয়া' ও অন্যান্য গ্রন্থের বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।

আলেমদের দৃষ্টি তাঁর গ্রন্থসমূহের ব্যাখ্যা করার দিক থেকে বিমুখ ছিল; কারণ সেগুলো সেভাবে রচিত হয়নি...
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
على المتون كطريقة الماتنين من أَهل العلم؛ ولهذا لما كان كتابه: "الكلم الطيب" كالمتن تناوله العيني بالشرح، ولما كانت: "الواسطية" كذلك تناولها المعاصرون لنا بالشرح.

4 - الجمع الموضوعي: مثل جمع تلميذه ابن عبد الهادي للأحاديث الضعيفة التي في: "منهاج السنة"، وجمع محمد بن قاسم لمناقب أبي بكر وعمر رضي الله عنهما كذلك، وجَمَع آخرون تفسيره من كتبه المطبوعة.

5 - دراسة اجتهاداته في الفقه وغيره، وهذه سمة بارزة في كتابات المعاصرين.

 

‌‌القسم الرابع: سيرته المباركة:

إن سيرة هذا الإمام شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى- تستفاد من خمسة مصادر هي:

المصدر الأَول: كتب التراجم والسير العامة، وقد كفانا كتاب: "الجامع" من هذا المشروع المبارك، وقد حوى خمسًا وسبعين ترجمة من كتب التراجم العامة مخطوطها ومطبوعها.

المصدر الثاني: الكتب المفردة في ترجمته، وهي خمسة عشر كتابًا حتى نهاية عام 1300، كما في مقدمة "الجامع". وكما كانت ترجمته لتلميذه ابن عبد الهادي في كتابه: "مختصر طبقات علماء الحديث" هي أَوْفى التراجم، فإِن كتابه المفرد: "العقود الدرية … " ترجع إليه الكتب المفردة الأخرى، وأَرى إعادة تحقيق وطبع: "العقود الدرية … " ويضم إِليه ما زاد عليه من كتب التراجم
মূল পাঠের (মতন) উপর ভিত্তি করে আলেমদের পদ্ধতির অনুসরণ করা; এই কারণেই তাঁর গ্রন্থ: "আল-কালিমুত তায়্যিব" যখন মূল পাঠের ন্যায় বিবেচিত হলো, তখন আল-আইনী সেটির ব্যাখ্যা প্রদান করেন। একইভাবে যখন "আল-ওয়াসিতিয়্যাহ"ও সেরূপ হলো, তখন আমাদের সমসাময়িকগণ সেটির ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

৪ - বিষয়ভিত্তিক সংকলন: যেমন তাঁর ছাত্র ইবনে আবদিল হাদী কর্তৃক "মিনহাজুস সুন্নাহ" গ্রন্থে বিদ্যমান দুর্বল হাদিসসমূহ সংকলন করা। অনুরূপভাবে মুহাম্মাদ বিন কাসিম কর্তৃক আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর গুণাবলি সংকলন করা। এছাড়া অন্যান্যরা তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ থেকে তাঁর তাফসীর সংকলন করেছেন।

৫ - ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর ইজতিহাদসমূহ নিয়ে গবেষণা করা; এটি বর্তমান সময়ের লেখকদের রচনায় একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

 

‌‌চতুর্থ বিভাগ: তাঁর বরকতময় জীবনী:

এই ইমাম শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী পাঁচটি উৎস থেকে গ্রহণ করা যায়, সেগুলো হলো:

প্রথম উৎস: জীবনী এবং সাধারণ ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ। এই বরকতময় প্রকল্পের "আল-জামি" গ্রন্থটি আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছে, যাতে সাধারণ জীবনীগ্রন্থগুলোর পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির মধ্য হতে পঁচাত্তরটি জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় উৎস: তাঁর জীবনী নিয়ে লিখিত স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ। ১৩০০ হিজরি সাল পর্যন্ত এর সংখ্যা পনেরোটি, যেমনটি "আল-জামি" গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। যেভাবে তাঁর ছাত্র ইবনে আবদিল হাদীর "মুখতাসার তাবাকাত উলামাইল হাদিস" গ্রন্থে বর্ণিত তাঁর জীবনীটি ছিল সবচেয়ে পরিপূর্ণ জীবনী, তেমনি তাঁর স্বতন্ত্র গ্রন্থ: "আল-উকুুদুদ দুররিয়্যাহ..."-এর দিকে অন্যান্য স্বতন্ত্র গ্রন্থগুলো প্রত্যাবর্তন করে। আমি "আল-উকুুদুদ দুররিয়্যাহ..." গ্রন্থটি পুনরায় তাহকীক ও মুদ্রণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি, যেন এতে অন্যান্য জীবনীগ্রন্থ থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত তথ্যাবলিও সংযুক্ত করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
المفردة المذكورة تحشية في محلها المناسب من هذا الكتاب، حتى يغني عنها، وهو في دور الأعداد من المشتغلين بهذا المشروع.

المصدر الثالث: التقاط ترجمته الذاتية من خلال مؤلفاته، وقد انتدب لهذا العمل بعض أفاضل طلبة العلم، وهو في دور الترتيب بعد الاستقراء والجمع.

المصدر الرابع: تتبع ترجمته من كتب تلاميذه أَمثال ابن القيم، وابن عبد الهادي، وابن مفلح، والصفدي، وابن الوردي، وغيرهم.

المصدر الخامس: تتبع ترجمته من خلال تراجم أَنصاره وخصومه من تاريخ ولادته سنة 661 إِلى تاريخ وفاته سنة 728؛ بل إلى نهاية القرن الثامن.

وهذان المصدران -الرابع والخامس- بحاجة إلى من ينشط لاستخراجهما.

وبعد تكامل هذه المصادر الخمسة، سوف يُصاغ من مجموعها -بمشيئة الله تعالى- سيرة واحدة موثقة متسلسلة المعلومات، مستوعبة لجميع ما في هذه المصادر باسم: "السيرة الجامعة لشيخ الإِسلام ابن تيمية" -رحمه الله تعالى- وما ذلك على الله بعزيز.

* * *
উল্লিখিত একক বিষয়টি এই গ্রন্থের যথাযথ স্থানে একটি টীকা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে এটি স্বতন্ত্র প্রয়োজনের অবসান ঘটায়। এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমানে এটি প্রস্তুতির পর্যায়ে রেখেছেন।

তৃতীয় উৎস: তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি থেকে তাঁর আত্মজীবনী সংগ্রহ করা। এই কাজের জন্য ইলম অন্বেষণকারী একদল শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং তথ্য অনুসন্ধান ও সংগ্রহের পর বর্তমানে এটি বিন্যাস করার পর্যায়ে রয়েছে।

চতুর্থ উৎস: তাঁর ছাত্রদের গ্রন্থসমূহ থেকে তাঁর জীবনীর অনুসন্ধান করা, যেমন ইবনুল কায়্যিম, ইবনে আব্দুল হাদি, ইবনে মুফলিহ, সাফাদি, ইবনুল ওয়ারদি এবং অন্যান্যদের রচনাবলি।

পঞ্চম উৎস: ৬৬১ হিজরিতে তাঁর জন্ম থেকে ৭২৮ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত, বরং অষ্টম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুসারী ও বিরোধীদের জীবনীর আলোকে তাঁর জীবনীর অনুসন্ধান করা।

এই চতুর্থ ও পঞ্চম উৎস দুটি আহরণের জন্য একদল উদ্যমী মানুষের প্রয়োজন।

এই পাঁচটি উৎসের পূর্ণতা পাওয়ার পর, আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এগুলোর সমন্বয়ে একটি প্রামাণিক ও তথ্যনির্ভর ধারাবাহিক জীবনী সংকলন করা হবে, যা এই সকল উৎসের বিষয়বস্তুকে পূর্ণাঙ্গরূপে ধারণ করবে এবং এর নাম দেওয়া হবে: "আস-সিরাতুল জামিয়া লি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ" (শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পূর্ণাঙ্গ জীবনী) —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— আর এটি আল্লাহর জন্য মোটেও কঠিন নয়।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المدخل الثاني عن شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى-

هو شيخ الإسلام، الإمام الحجة، المجدد للمحجة، وارث علم النبوة، الناصر للسنة، القامع للبدعة، المجتهد المطلق، الشهير بشيخ الإِسلام، وبابن تيمية، وبهما، وبإِمام الدنيا في زمانه، أَحد أذكياء العالم وأَفراده في الحفظ والعلم والعمل، المُحَلَّى قبل بلوغه الثلاثين من عمره بما يبلغ الصفحات بجميل الأوصاف في علمه وعمله واجتهاده، وتجديده وجهاده، وإِيمانه وصبره، وتألهه، وزهده، وورعه، وشجاعته، وكرمه، وأَمره بالمعروف ونهيه عن المنكر، وتعظيمه لحرمات الله، الملقب بتقي الدِّين، والمكنى بأبي العباس، أحمد ابن الشيخ الإمام المفتي شهاب الدِّين أَبي المحاسن عبد الحليم، ابن الشيخ الإمام شيخ الإِسلام مجد الدين أَبي البركات عبد السلام ابن أَبي محمد عبد الله بن أَبي القاسم الخضر بن محمد بن تيمية بن الخضر بن علي بن عبد الله، النُّمَيْري نسبًا، الحَرَّاني مولدًا، ثم الدمشقي منشأ ومدفنًا، الحنبلي مذهبًا، ثم المجتهد آخرًا، المشتهر بابن تيمية المجدد. المولود في يوم الاثنين 10 ربيع الأول 661، المتوفى في ليلة الاثنين 20 ذي القعدة 728، عن سبعة وستين عامًا وثمانية أَشهر وعشرة أَيام -رحمة الله تعالى عليه-.

وقد ترجمه كثيرون تبعًا وإفرادًا، ومن النظر فيها تتبيّن الأُمور الآتية:
দ্বিতীয় ভূমিকা: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- সম্পর্কে

তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম, ইমামুল হুজ্জাহ (প্রমাণস্বরূপ ইমাম), সঠিক পথের সংস্কারক, নবুওয়াতের ইলমের উত্তরাধিকারী, সুন্নাহর সাহায্যকারী, বিদআতের মূলোৎপাটনকারী, মুজতাহিদে মুতলাক (স্বতন্ত্র ইজতিহাদকারী), যিনি শাইখুল ইসলাম ও ইবনে তাইমিয়্যাহ নামে এবং এ উভয় উপাধিতে ও তাঁর সমসাময়িক বিশ্বের ইমাম হিসেবে সুপরিচিত। তিনি স্মৃতিশক্তি, ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম মেধাবী ও অনন্য ব্যক্তিত্বদের একজন। ত্রিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তিনি তাঁর ইলম, আমল, ইজতিহাদ, সংস্কারমূলক কাজ, জিহাদ, ঈমান, ধৈর্য, একনিষ্ঠ ইবাদত, দুনিয়াবিমুখতা, তাকওয়া, সাহসিকতা, বদান্যতা, সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ এবং আল্লাহর পবিত্র বিধানাবলির প্রতি শ্রদ্ধাবোধের মতো এমন সব চমৎকার গুণে ভূষিত হয়েছিলেন যা বর্ণনা করতে গেলে বহু পৃষ্ঠা পূর্ণ হয়ে যাবে। তাঁর উপাধি তকিউদ্দীন এবং উপনাম (কুনিয়াত) আবুল আব্বাস; তিনি হলেন আহমদ ইবন আল-শাইখ আল-ইমাম আল-মুফতি শিহাবুদ্দীন আবিল মাহাসিন আব্দুল হালীম ইবন আল-শাইখ আল-ইমাম শাইখুল ইসলাম মাজদুদ্দীন আবিল বারাকাত আব্দুস সালাম ইবন আবী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবন আবিল কাসিম আল-খিদর ইবন মুহাম্মদ ইবন তাইমিয়্যাহ ইবন আল-খিদর ইবন আলী ইবন আব্দুল্লাহ। তিনি বংশীয় সূত্রে আল-নুমাইরী, জন্মসূত্রে আল-হাররানী, লালন-পালন ও সমাধিস্থ হওয়ার বিচারে আদ-দিমাশকী, মাযহাবের দিক থেকে আল-হাম্বলী এবং পরবর্তীতে তিনি ছিলেন একজন মুজতাহিদ। তিনি সংস্কারক ইবনে তাইমিয়্যাহ হিসেবে প্রসিদ্ধ। তিনি ৬৬১ হিজরির ১০ই রবিউল আউয়াল সোমবার জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২৮ হিজরির ২০শে যিলকদ সোমবার রাতে ৬৭ বছর ৮ মাস ১০ দিন বয়সে মৃত্যুবরণ করেন -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন-।

অনেক লেখক স্বতন্ত্রভাবে অথবা অন্য কোনো আলোচনার অধীনে তাঁর জীবনী রচনা করেছেন এবং সেই জীবনীগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الأمر الأول: الوقوف على المعلومات الجامدة، التي تُساق لأي مُتَرْجَم، وإِن تفاوت المترجِمون فيها، كُلٌ حسب ما وهبه الله له. ومما يحسن ذكره هنا:

1 - أن سياق نسبه ثمانية آباء هي من سياق تلميذه ابن عبد الهادي دون غيره.

2 - نسبته النميري من إفادات تلميذ تلامذته ابن ناصر الدِّين (842)، وتابعه عليها العدوي في: "الزيارات"، بل هذه النسبة منصوص عليها في بعض رسائل الشيخ المخطوطة على طرر النسخ وقد ذكر الشيخ ابن قاسم في مقدمة "النقض" رسالتين رآهما في الظاهرية كذلك ص 35 حاشية 1، وهي نسبة إلى بني نمير، وهم بطن من عامر بن صعصعة بن معاوية بن بكر بن هوازن العدنانية، وذكر القلقشندي في "نهاية الأرب. ص/ 433" نقلًا عن ابن خلدون: أن منازل بني نمير في الجزيرة الفراتية والشام، فشيخ الإسلام إذًا عربي صريح نسبًا ولسانًا.

3 - و"تيمية" لقب لجده محمد، وهو الخامس من آبائه، وفي تعليلها قولان مشهوران، وكان -رحمه الله تعالى- يستفتح بعض رسائله بقوله: "من أحمد بن تيمية"، ويذيل بعضها بقوله: "كتبه ابن تيمية" واشتهر بها دون أَهل بيته، وفي الشعر قول العباس بن الأحنف:

كنت مثل الكتاب أخفاه طي … فاستدلوا عليه بالعنوان

4 - و"الحراني" نسبة إلى بلدة مشهورة في الجزيرة بين الشام
প্রথম বিষয়: সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর অবগতি অর্জন করা, যা যেকোনো জীবনী সংবলিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়, যদিও জীবনীকারদের বর্ণনা এক্ষেত্রে আল্লাহ তাদের যা দান করেছেন সেই অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। এখানে যা উল্লেখ করা উত্তম তা হলো:

১ - তাঁর বংশপরম্পরার আটজন পিতৃপুরুষের ধারাবাহিকতা তাঁর ছাত্র ইবনে আব্দুল হাদি বর্ণনা করেছেন, অন্য কেউ নয়।

২ - তাঁর 'আন-নুমাইরি' নিসবতটি তাঁর ছাত্রের ছাত্র ইবনে নাসিরুদ্দিন (৮৪২ হি.) থেকে প্রাপ্ত তথ্য, এবং আল-আদাউয়ি 'আয-যিয়ারাত' গ্রন্থে তাঁর অনুসরণ করেছেন। বরং এই নিসবতটি শাইখের কিছু পাণ্ডুলিপির প্রান্তটীকায় স্পষ্টভাবে বিধৃত হয়েছে। শাইখ ইবনে কাসিম 'আন-নাক্বদ' এর ভূমিকায় ৩৫ পৃষ্ঠার ১ নম্বর টীকায় অনুরূপ দুটি পত্রের কথা উল্লেখ করেছেন যা তিনি জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে দেখেছেন। এটি বনু নুমাইর গোত্রের সাথে সম্পর্কিত, যারা আদনানি হাওয়াজিন গোত্রের বকর ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে সা'সা ইবনে আমিরের একটি শাখা। আল-ক্বলক্বাশান্দি 'নিহায়াতুল আরাব' (পৃষ্ঠা ৪৩৩)-এ ইবনে খালদুন থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে: বনু নুমাইরের আবাসস্থল ছিল আল-জাজিরাতুল ফুরাতিয়্যাহ ও শামে। সুতরাং শাইখুল ইসলাম বংশ ও ভাষার দিক থেকে একজন খাঁটি আরব।

৩ - এবং 'তাইমিয়া' হলো তাঁর দাদা মুহাম্মাদের উপাধি, যিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন পঞ্চম পুরুষ। এর নামকরণের কারণ সম্পর্কে দুটি প্রসিদ্ধ মত রয়েছে। তিনি -আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- তাঁর কিছু পত্র 'আহমাদ ইবনে তাইমিয়ার পক্ষ থেকে' বলে শুরু করতেন এবং কিছু পত্রের শেষে 'ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন' বলে সমাপ্ত করতেন। তিনি তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের চেয়ে এই নামেই সমধিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। কবিতায় আব্বাস ইবনে আল-আহনাফ বলেছেন:

আমি ছিলাম সেই ভাঁজ করা লুকানো কিতাবের মতো … শিরোনাম দেখে যার পরিচয় পাওয়া যায়।

৪ - এবং 'আল-হাররানি' হলো শাম অঞ্চলের মধ্যবর্তী জাজিরার একটি প্রসিদ্ধ শহরের সাথে সম্পৃক্ত উপাধি।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والعراق، ليست هي التي بقرب دمشق ولا التي في تركيا، ولا التي بقرب حلب.

5 - ونَعْتُهُ -رحمه الله تعالى-: كان أبيض البشرة، أسود الرأس واللحية قليل شيب اللحية، شعر رأسه إلى شحمة أُذنيه، رَبْعَة من الرجال، بعيد ما بين المنكبين، أبيض العينين، جَهْوَرِيَّ الصوت، فصيحًا، سريع القراءة، تعتريه حدة ثم يقهرها بحلم وصفح، كأَنّ عينيه لسانان ناطقان، إِذا أَخذ يتكلم ازدحمت العبارة في فمه.

6 - لم يرِث العلم عن كَلَالَةٍ، وإِنّما نشأَ في بيت برز أهله في حلائب العلم، منهم أَبوه الشهاب وجده المجد.

ويكفي في وصف جَدِّه قول ابن مالك النحوي صاحب الألفية -رحمه الله تعالى-: "أُلِيْنَ للمجد الفقه كما أُلين لداود الحديد". وأما أبوه الشهاب فهو شيخ حران وحاكمها وخطيبها ومفتيها الفارق بين الفرق فيها.

7 - والدته: الشيخة الصالحة ست النِّعم بنت عبد الرحمن بن علي ابن عبدوس الحرّانية المتوفاة بدمشق سنة 716. وقد ولد لها تسعة ذكور، ولم تُرزق بنتًا قطّ، منهم ثلاثة أَشقّاء شيخ الإسلام وهو أَكبرهم، وزين الدِّين عبد الرحمن، وشرف الدِّين عبد الله، ومن إخوته لأُمِّه بدر الدِّين قاسم بن محمد بن خالد المتوفى بدمشق سنة 717.

8 - تفرع آل تيمية إلى دوحتين: آل عبد الله، وآل محمد، وشيخ الإسلام من آل عبد الله، وقد أحصيت مُشَجَّرَهم في: "المدخل
এবং ইরাক, এটি সেই স্থান নয় যা দামেস্কের নিকটে, কিংবা যা তুরস্কে অবস্থিত, আর না সেই স্থান যা আলেপ্পোর নিকটে।

৫ - এবং তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ —রহিমাহুল্লাহ তায়ালা—: তিনি ছিলেন ফর্সা বর্ণের অধিকারী, মাথা ও দাড়ির চুল ছিল কালো, দাড়িতে সামান্য পাকা চুল ছিল, মাথার চুল তাঁর কানের লতি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, তিনি ছিলেন মধ্যম গড়নের মানুষ, প্রশস্ত কাঁধবিশিষ্ট, তাঁর চোখের সাদা অংশ ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল, উচ্চকণ্ঠস্বর সম্পন্ন, বাগ্মী, দ্রুত পাঠকারী; কখনো তাঁর মধ্যে তেজস্বিতা প্রকাশ পেত, কিন্তু তিনি তা ধৈর্য ও ক্ষমার মাধ্যমে দমন করতেন। তাঁর চোখ দুটি যেন দুটি কথা বলা জিহ্বা; যখন তিনি কথা বলা শুরু করতেন, তাঁর মুখে শব্দের প্রাচুর্য দেখা দিত।

৬ - তিনি এই ইলম কেবল দূরবর্তী কোনো আত্মীয়ের নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেননি, বরং তিনি এমন এক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন যার সদস্যরা ইলমের বিভিন্ন অঙ্গনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন, যাদের মধ্যে তাঁর পিতা শিহাব এবং দাদা মাজদ অন্যতম।

তাঁর দাদার বর্ণনায় আলফিয়ার রচয়িতা ব্যাকরণবিদ ইবনে মালিক —রহিমাহুল্লাহ তায়ালা— এর উক্তিই যথেষ্ট: "মাজদের জন্য ফিকহকে তেমন সহজ ও নরম করে দেওয়া হয়েছিল যেমন দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে নরম করা হয়েছিল।" আর তাঁর পিতা শিহাব ছিলেন হাররানের শাইখ, সেখানকার বিচারক, খতিব ও মুফতি এবং সেখানে বিভিন্ন মতাদর্শের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী ব্যক্তিত্ব।

৭ - তাঁর মাতা: নেককার শাইখা সিত্তুন নি’আম বিনতে আবদুর রহমান বিন আলী ইবনে আবদুস আল-হাররানিয়্যাহ, যিনি ৭১৬ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর নয়জন পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছিল এবং তিনি কখনোই কোনো কন্যাসন্তান প্রাপ্ত হননি। তাঁদের মধ্যে তিনজন ছিলেন শায়খুল ইসলামের আপন ভাই, যাঁদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়, আর অন্য দুজন হলেন যায়নুদ্দীন আবদুর রহমান এবং শরফুদ্দীন আবদুল্লাহ। তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইদের মধ্যে ছিলেন বদরুদ্দীন কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন খালিদ, যিনি ৭১৭ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।

৮ - তায়মিয়া পরিবার দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত হয়েছে: আবদুল্লাহর পরিবার এবং মুহাম্মদের পরিবার। শায়খুল ইসলাম ছিলেন আবদুল্লাহর বংশোদ্ভূত। আমি তাঁদের বংশলতিকা "আল-মাদখাল" গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
المفصّل 1/ 532 - 536" وبينت وجود آل تيمية إِلى أَواخر القرن الثالث عشر الهجري.

9 - تُجْمِع التراجم على أَن الشيخ هاجر مع والده وأَهل بيته من حران إِلى دمشق أَثناء سنة 667 والشيخ في السابعة من عمره، وذلك بسبب جور التتار.

10 - نشأ -رحمه الله تعالى- في تصوُّن تام وعفاف وتألُّه واقتصاد في المأكل والملبس، بَرًّا بوالديه تقيًّا ورعًا عابدًا ناسكًا صَوَّامًا قَوَّامًا.

11 - أَخذ عن أَكثر من مائتي شيخ، كلهم دماشقة، وجُلُّهم حنابلة، وكان أَول سماعه من ابن عبد الدايم بدمشق، وهو في السابعة من عمره، ومجموع من سُمي منهم ستة وثلاثون شيخًا -فيما وقع لي-.

12 - أَوائل في حياته تدل على النبوغ المبكر:

* حفظ القرآن وهو في الصِّغر، في سِنِّ تعلم الخط والحساب وهو في الكتاب.

* أَتقن العلوم من التفسير والحديث والفقه والأُصول والعربية والتاريخ والجبر والمقابلة والمنطق والهيئة وعلم أَهل الكتابين، والملل الأُخرى، وعلم أَهل البدع، وغيرها في سِنٍّ مُبَكِّر، حتى أَنّه حذق العربية في أَيام، وفهم كتاب سيبويه في أَيام، وفي الحديث سَمِع "المسند" مرات وما ضُبطت عليه لحنة متفق عليها، وكان إِقباله على التفسير إِقبالًا كليًّا منقطع النظير.
'আল-মুফাসসাল' ১/ ৫৩২ - ৫৩৬ এবং আমি ত্রয়োদশ হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত তায়মিয়াহ পরিবারের অস্তিত্ব বর্ণনা করেছি।

৯ - জীবনীগ্রন্থসমূহ এ বিষয়ে একমত যে, শায়খ ৬৬৭ হিজরি সালে তাঁর পিতা ও পরিবারের সাথে হাররান থেকে দামেস্কে হিজরত করেছিলেন, তখন শায়খের বয়স ছিল মাত্র সাত বছর; আর তা ছিল তাতারীদের অত্যাচারের কারণে।

১০ - তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দয়া করুন) পূর্ণ আত্মসংযম, পবিত্রতা, ইবাদত-বন্দেগি এবং আহার ও পোশাকে মিতব্যয়িতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন পিতামাতার প্রতি অনুগত, মুত্তাকী, পরহেজগার, ইবাদতকারী, সংসারবিরাগী এবং অধিক রোজা পালনকারী ও রাত জেগে নফল নামাজ আদায়কারী।

১১ - তিনি দুইশতেরও বেশি শায়খের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন, যাদের সকলেই ছিলেন দামেস্কের এবং অধিকাংশ ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী। সাত বছর বয়সে দামেস্কে ইবনে আবদুদ দায়িমের নিকট থেকে তিনি প্রথম হাদিস শ্রবণ করেন। আমার জানামতে তাঁদের মধ্যে নাম উল্লেখ করা হয়েছে এমন শায়খের মোট সংখ্যা ছত্রিশ জন।

১২ - তাঁর জীবনের প্রাথমিক কিছু বিষয় যা তাঁর শৈশবের প্রখর মেধার পরিচয় দেয়:

* শৈশবেই তিনি কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন, যখন সাধারণত লেখা ও গণিত শেখার বয়স এবং তিনি মকতব বা বিদ্যালয়ে পড়তেন।

* তিনি অল্প বয়সেই তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসুল, আরবি ভাষা, ইতিহাস, বীজগণিত, যুক্তিবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, আহলে কিতাবদ্বয়ের ইলম, অন্যান্য ধর্মাদর্শ এবং বিদআতিদের শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেন। এমনকি মাত্র কয়েক দিনেই তিনি আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং কয়েক দিনেই সিবওয়াইহ-এর কিতাব বুঝে ফেলেন। হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি বহুবার 'আল-মুসনাদ' শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর ক্ষেত্রে সর্বসম্মত কোনো ভুল ধরা পড়েনি। আর তাফসিরের প্রতি তাঁর মনোযোগ ছিল সম্পূর্ণ এবং নজিরবিহীন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وحقًّا إن التسلح بالعلم هو كما قال الباجي -رحمه الله تعالى- في وصيته لولديه: "والعلم ولاية لا يُعزل صاحبها، ولا يَعرى من جمالها لابسها".

* نَاظَرَ واستدل وهو دون البلوغ.

* أَفتى في سن السابعة عشرة من عمره أَي سنة 677.

* دَرَّس في الحادية والعشرين من عمره أَي سنة 681 بعد موت أَبيه في المدرسة السكرية، وتولى مشيختها يوم الاثنين 2/ محرم/ 683.

* بدأ درس التفسير بالجامع الأموي في 10/ صفر/ 691 أَي وهو ابن ثلاثين سنة، واستمر سنين طويلة.

* حَجَّ مرة واحدة سنة 692 أَي وعمره 31 سنة، وبعد عودته من الحجِّ آلت إِليه الإمامة في العلم والدِّين.

* نشر العلم في: دمشق، ومصر: في القاهرة، والإِسكندرية، وفي سجونها، وفي طريقه إلى مصر مَرَّ بغَزَّة، وعقد في جامعها مجلسًا علميًّا عظيمًا، فكان يومًا مشهَودًا.

* درس بالمدرسة الحنبلية في يوم الأربعاء 17/ شعبان/ 695.

* أول رحلاته إلى مصر في القاهرة والإسكندرية مرتان سنة 700، ثم عاد إلى دمشق، ثم رجع إلى مصر سنة 705، وكانت إقامته بها نحو سبع سنين وسبع جمع، أي إلى سنة 712 متنقلًا في جلها بين سجون القاهرة والإسكندرية.
প্রকৃতপক্ষে ইলম বা জ্ঞান দ্বারা সজ্জিত হওয়া হলো ঠিক তেমন, যেমন আল-বাজি -রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা- তার দুই পুত্রের প্রতি ওসিয়তে বলেছেন: "আর ইলম হলো এমন এক কর্তৃত্ব বা নেতৃত্ব যার অধিকারীকে কখনও পদচ্যুত করা যায় না এবং এর সৌন্দর্য থেকে পরিধানকারী কখনও বঞ্চিত হয় না।"

* তিনি সাবালক হওয়ার পূর্বেই বিতর্ক করেছেন এবং দলিল পেশ করেছেন।

* তিনি সতেরো বছর বয়সে অর্থাৎ ৬৭৭ হিজরি সনে ফতোয়া প্রদান করেছেন।

* তিনি একুশ বছর বয়সে অর্থাৎ ৬৮১ হিজরি সনে তার পিতার মৃত্যুর পর সুক্কারিয়্যাহ মাদরাসায় অধ্যাপনা শুরু করেন এবং ৬৮৩ হিজরি সনের ২রা মহররম সোমবার এর প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

* তিনি ৬৯১ হিজরি সনের ১০ই সফর উমাইয়া জামে মসজিদে তাফসিরের দরস শুরু করেন যখন তার বয়স ছিল ত্রিশ বছর এবং এটি দীর্ঘ বছর যাবৎ অব্যাহত থাকে।

* তিনি ৬৯২ হিজরি সনে অর্থাৎ ৩১ বছর বয়সে একবার হজ পালন করেন এবং হজ থেকে ফিরে আসার পর ইলম ও দ্বীনের ইমামত বা নেতৃত্ব তার ওপর অর্পিত হয়।

* তিনি দামেশক ও মিশরে ইলম প্রচার করেন: কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া এবং সেখানকার কারাগারসমূহে। মিশর যাওয়ার পথে তিনি গাজার ওপর দিয়ে অতিক্রম করেন এবং সেখানকার জামে মসজিদে একটি বিশাল ইলমি মজলিস পরিচালনা করেন, যা ছিল এক স্মরণীয় দিন।

* তিনি ৬৯৫ হিজরি সনের ১৭ই শাবান বুধবার হানবালিয়্যাহ মাদরাসায় দরস প্রদান করেন।

* ৭০০ হিজরি সনে মিশরের কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ায় তার প্রথম সফর ছিল দুইবার, এরপর তিনি দামেশকে ফিরে আসেন এবং ৭০৫ হিজরি সনে পুনরায় মিশরে গমন করেন। সেখানে তার অবস্থান ছিল প্রায় সাত বছর সাত সপ্তাহ অর্থাৎ ৭১২ হিজরি সন পর্যন্ত, যার অধিকাংশ সময় তিনি কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ার কারাগারগুলোর মাঝে স্থানান্তরিত অবস্থায় কাটিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
* بدأ في التأليف وهو ابن سبع عشرة سنة.

وهكذا من البدايات المبكرة، الدالة على نبوغه وتأهُّله للاجتهاد والتجديد والإمامة في العلم والدين.

 

‌‌الأمر الثاني: الوقوف على مواطن القوة في ترجمته:

في كتاب القدر من "صحيح مسلم" أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "المؤمن القوي خير وأحب إلى الله من المؤمن الضعيف، وفي كل خير، احرص على ما ينفعك واستعن بالله ولا تعجزن".

ومن نظر في ترجمة شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى- وجد أن الله -سبحانه- قد منحه أسباب القوة التي تُبْنَى عليها قُبَّةُ النصر وهي:

- الثبات، واللهج بذكر الله -تعالى-، وطاعة الله وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم والاتفاق مع أنصار الإسلام والسنة، والصبر، وقد قال الله - تعالى-: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (45) وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ (46)} [الأنفال: 45 - 46].

ومن مظاهر القوة في شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى-:

- ما رزقه الله من قوة البدن واعتداله، وقوة الأداء في صوته، فقد كان جَهْوريًّا، يستولي على قلوب سامعيه، وكان الناس يتعجبون من تأثير تكبيره في الصلاة على سامعيه كما ذكره تلميذه البزار في: "الأعلام العلية"، وكان يؤم الناس لصلاة التراويح فَيَعْلُوه عند القراءة خشوع ورِقَّة حاشية تأخذ بمجامع القلوب كما قاله تلميذه ابن الوردي في: "تتمة المختصر" وقال تلميذه الذهبي: "ويصلي
তিনি সতেরো বছর বয়সে লেখালেখি শুরু করেন।

আর এভাবেই এই প্রারম্ভিক সূচনাগুলো তাঁর মেধা এবং জ্ঞান ও দ্বীনের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ, সংস্কার এবং ইমামতের যোগ্যতার প্রমাণ দেয়।

 

‌‌দ্বিতীয় বিষয়: তাঁর জীবনীর শক্তিমত্তার ক্ষেত্রসমূহ পর্যবেক্ষণ করা:

"সহীহ মুসলিম"-এর কিতাবুল কদর-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও অধিক প্রিয়, তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। যা তোমার উপকারে আসবে তাতে যত্নশীল হও, আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো এবং হাল ছেড়ে দিও না।"

যে ব্যক্তি শায়খুল ইসলাম -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর জীবনীর দিকে দৃষ্টিপাত করবে, সে দেখতে পাবে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে শক্তির সেই উপকরণসমূহ দান করেছিলেন যার ওপর বিজয়ের গম্বুজ নির্মিত হয়, আর সেগুলো হলো:

- অবিচলতা, আল্লাহর যিকিরে নিমগ্ন থাকা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্য করা, ইসলাম ও সুন্নাহর সাহায্যকারীদের সাথে একাত্মতা এবং ধৈর্য। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোনো বাহিনীর মোকাবিলা করবে, তখন অবিচল থাকো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [আনফাল: ৪৫ - ৪৬]।

শায়খুল ইসলাম -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর শক্তিমত্তার বহিঃপ্রকাশগুলোর মধ্যে ছিল:

- আল্লাহ তাঁকে যে শারীরিক শক্তি ও সুঠাম দেহ এবং দরাজ কণ্ঠস্বর দান করেছিলেন। তাঁর কণ্ঠ ছিল গম্ভীর ও উচ্চকিত, যা শ্রোতাদের হৃদয় জয় করে নিত। মানুষ সালাতে তাঁর তাকবীরের প্রভাব দেখে আশ্চর্যান্বিত হতো, যেমনটি তাঁর ছাত্র আল-বাযযার "আল-আলামুল আলিয়্যাহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি তারাবিহর সালাতে মানুষের ইমামতি করতেন এবং তিলাওয়াতের সময় তাঁর ওপর এমন এক বিনয় ও কোমলতা আচ্ছন্ন হতো যা মানুষের অন্তরকে গভীরভাবে স্পর্শ করত, যেমনটি তাঁর ছাত্র ইবনুল ওয়ারদী "তাতিন্মাতুল মুখতাসার" গ্রন্থে বলেছেন। তাঁর ছাত্র আয-যাহাবী বলেছেন: "আর তিনি সালাত আদায় করতেন..."
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
بالناس صلاة لا يكون أطول من ركوعها وسجودها" انتهى من: "الذيل" لابن رجب.

- قوة الحفظ فقد بَهَرَ الفضلاء بذلك، وقَلَّما حفظ شيئًا فنسيه، وقد كان يحفظ "المحلى" لابن حزم ويستظهره، وكان أول محفوظاته في الحديث: "الجمع بين الصحيحين" للحميدي، وقَلَّ من يحفظ ما يحفظه من الحديث معزوًّا، مع شدة استحضاره له وقت الحاجة إلى الدليل. قال جمال الدين السُّرمري في "أماليه": "ومن عجائب ما وقع في الحفظ من أهل زماننا: أن ابن تيمية كان يمرُّ بالكتاب مطالعةً مرةً فينتقش في ذهنه وينقله في مصنفاته بلفظه ومعناه" كما في "الدرر الكامنة" لابن حجر.

- قوته في فرط ذكائه، وسيلان ذهنه، وسرعة إِدراكه؛ ولهذا قيل عنه: "كأن عَيْنيه لسانان ناطقان".

- تواريخ لها مدلولاتها على قوته ونبوغه المبكر.

* ناظر وهو دون البلوغ، وكان يحضر المدارس والمحافل في صغره، فيتكلم ويناظر ويُفْحِم الكبار ويأتي بما يتحير منه أعيان البلد في العلم، ولا يعرف أنه ناظر أحدًا انقطع معه.

* أفتى في سن السابعة عشرة من عمره، أي سنة 677، وكان الشرف أحمد بن نعمة المقدسي الحنبلي المتوفى سنة 694 هو الذي أذن له بالفتيا وكان يفتخر بذلك.

* بدأ التأليف وهو في سن السابعة عشرة من عمره أي سنة 677.
মানুষের সাথে এমন নামাজ পড়তেন যা রুকু এবং সিজদার চেয়ে দীর্ঘ হতো না।" ইবনে রজব কৃত "আয-যাইল" থেকে সমাপ্ত।

- মুখস্থ রাখার অসাধারণ ক্ষমতা: তিনি এর মাধ্যমে গুণীজনদের বিমোহিত করেছিলেন। তিনি কোনো কিছু মুখস্থ করার পর তা ভুলে যেতেন এমনটা খুব কমই হতো। তিনি ইবনে হাজমের "আল-মুহাল্লা" মুখস্থ রাখতেন এবং তা আয়ত্ত করেছিলেন। হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর প্রথম মুখস্থ করা গ্রন্থ ছিল হুমাইদীর "আল-জামাউ বাইনাস সাহিহাইন"। তাঁর মতো সূত্রসহ হাদিস মুখস্থ রাখা লোকের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য, সাথে ছিল দলিলের প্রয়োজনে তা উপস্থিত করার প্রবল সক্ষমতা। জামালুদ্দিন আস-সুরমারী তাঁর "আমালি" গ্রন্থে বলেছেন: "আমাদের সময়ের মানুষের স্মৃতিশক্তির এক বিস্ময়কর ঘটনা হলো এই যে, ইবনে তাইমিয়্যাহ কোনো কিতাব একবার পাঠ করলে তা তাঁর মনে অঙ্কিত হয়ে যেত এবং তিনি তা শব্দে ও অর্থে তাঁর সংকলনসমূহে উদ্ধৃত করতেন" যেমনটি ইবনে হাজার "আদ-দুরারুল কামিনাহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

- তাঁর তীব্র বুদ্ধিমত্তা, মেধার প্রখরতা এবং দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতার শক্তি; আর এ কারণেই তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: "যেন তাঁর চোখ দুটি কথা বলা দুটি জিহ্বা।"

- কিছু ঐতিহাসিক সময়কাল যা তাঁর শক্তি এবং শৈশবকাল থেকেই তাঁর অসাধারণ প্রতিভার ইঙ্গিত বহন করে।

* তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই বিতর্ক করতেন। তিনি ছোটবেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মজলিসে উপস্থিত হতেন, সেখানে বক্তব্য দিতেন ও বিতর্ক করতেন এবং বড় বড় আলেমদের নিরুত্তর করে দিতেন। তিনি এমন সব ইলমি বিষয় উপস্থাপন করতেন যা দেখে শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতেন। এমন কোনো ঘটনা জানা যায় না যে কেউ তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে তাঁকে পরাস্ত করতে পেরেছে।

* তিনি সতেরো বছর বয়সে অর্থাৎ ৬৭৭ হিজরিতে ফতোয়া প্রদান শুরু করেন। শরফ আহমদ ইবনে নিমাহ আল-মাকদিসি আল-হাম্বলী (মৃত ৬৯৪ হিজরি) তাঁকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তিনি এতে গর্ববোধ করতেন।

* তিনি সতেরো বছর বয়সে অর্থাৎ ৬৭৭ হিজরিতে গ্রন্থ রচনা শুরু করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
* دَرَّس وهو في الحادية والعشرين من عمره، أي سنة 681. وكان أول دروسه بعد وفاة أبيه في مدرسة الحديث السكرية، وتولى مشيختها في يوم الاثنين 2/ محرم/ 683.

* بدأ درس التفسير في 10/ صفر/ 691 أي وعمره ثلاثون سنة، واستمر مدة سنين متطاولة وقد انعقدت له الإمامة في التفسير وعلوم القرآن الكريم، وقد أَقبل عليه إِقبالًا كليًّا حتى حاز فيه قصب السبق، ويقال: إنه وضع تفسيرًا مطولًا أتى فيه بالغريب العجيب.

- قوته في الطلب والتلقي والأخذ عن الشيوخ، حتى دار في دمشق على أكثر من مائتي شيخ.

- قوته في البحث والقراءة والمطالعة، فلا تكاد نفسه تشبع من العلم، ولا تروى من المطالعة، ولا تمل من الاشتغال، ولا تكل من البحث.

- قوته في ضبط النفس والسيطرة عليها من ملاذ الدنيا، فلا لذة له أكبر من نشر العلم وتدوينه والعمل به، والدعوة إلى إقامة دين الله والوقوف أمام المفسدين في الأرض على اختلاف انحرافاتهم وفسقهم وفجورهم.

ولهذه القوة العلمية والعملية عند شيخ الإسلام مظاهر:

* رفضه للأُعطيات.

* قناعته بما له من المعلوم الذي يسدُّ حاجته على يد أخيه الشرف، وهو القائم بشؤونه ومصالحه.
* তিনি একুশ বছর বয়সে অধ্যাপনা শুরু করেন, অর্থাৎ ৬৮১ হিজরি সালে। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর 'সুক্কারিয়্যাহ' হাদিস মাদরাসায় তাঁর প্রথম পাঠদান শুরু হয় এবং তিনি ৬৮৩ হিজরির ২ মহররম, সোমবার এর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

* তিনি ১০ সফর ৬৯১ হিজরিতে তাফসিরের পাঠদান শুরু করেন, অর্থাৎ যখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশ বছর। এটি দীর্ঘ বছর ধরে অব্যাহত ছিল এবং তাফসির ও পবিত্র কুরআনের জ্ঞানসমূহে তাঁর ইমামত (নেতৃত্ব) সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি এই বিষয়ের প্রতি পূর্ণাঙ্গভাবে নিবিষ্ট হয়েছিলেন এমনকি তিনি এই ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। বলা হয় যে, তিনি একটি বিস্তারিত তাফসির রচনা করেছিলেন যাতে তিনি দুর্লভ ও বিস্ময়কর বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

- ইলম অন্বেষণ, গ্রহণ এবং শাইখদের নিকট থেকে শিক্ষা অর্জনে তাঁর দৃঢ়তা, এমনকি তিনি দামেস্কে দুইশতেরও অধিক শাইখের নিকট যাতায়াত করেছিলেন।

- গবেষণা, পঠন এবং অধ্যয়নে তাঁর দৃঢ়তা; ইলম অর্জনে তাঁর আত্মা তৃপ্ত হতো না, অধ্যয়নে তাঁর পিপাসা মিটত না, ইলমি কাজে তিনি ক্লান্ত হতেন না এবং গবেষণায় তিনি কখনো অবসাদগ্রস্ত হতেন না।

- আত্মসংযম এবং পার্থিব ভোগবিলাস থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে তাঁর দৃঢ়তা; ইলম প্রচার, সংকলন ও তদনুযায়ী আমল করা এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার দাওয়াত দেওয়া এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের বিচ্যুতি, পাপাচার ও ফাসেকির বিভিন্নতা সত্ত্বেও তাদের সামনে রুখে দাঁড়ানোর চেয়ে বড় কোনো আনন্দ তাঁর নিকট ছিল না।

শাইখুল ইসলামের এই ইলমি ও আমলি শক্তির কতিপয় বহিঃপ্রকাশ নিম্নরূপ:

* দান-অনুদান গ্রহণে তাঁর অস্বীকৃতি।

* তাঁর ভাই আশ-শারাফ, যিনি তাঁর যাবতীয় প্রয়োজন ও স্বার্থ দেখাশোনা করতেন, তাঁর মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্ধারিত ভাতায় তাঁর তুষ্ট থাকা যা তাঁর প্রয়োজন পূরণ করত।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ما تزوج ولا تسرَّى قط لا رغبة عن هذه السنة، ولكنه مثقل الظهر بهموم العلم والدعوة والجهاد.

- قوته في مواقفه الجهادية، والمغازي الإسلامية، وكسر شوكة الملاحدة والباطنية، كما في وقعة شقحب- قرية قبلة دمشق 37 كيلًا، والكسروان، وموقفه مع "قازان"، حتى وصفت شجاعته بأنّها "خالدية".

- قوته في حياته الجادة التي لا تعرف الهزل، فضلًا عن سافل الأخلاق من الغيبة والنميمة، فقد كان -رحمه الله تعالى- في غاية التنزه عنها، وما عرفت له عشرة في شيء من ذلك، وكانت مجالسه عامرة بالخير لا يجرؤ المغتابون على غشيانها.

- قوته في مواقفه مع الولاة، في النصح والأمر والنهي.

- قوته في تعبده، وتألهه، ومداومة الذكر، والأوراد، لا يشغله عن هذا شاغل ولا يصرفه صارف.

فأين من يظهر القوة في الحق وإذا حضرت العبادات تثاقلت أعضاؤه، وأصيب بالخمول، على حد ما ذكره الإِمام الشافعي رحمه الله تعالي- من العجائب التي شهدها وَعَدَّ منها: أنه رأى مغنيًا بالمدينة يُعَلِّم الجواري الغناء وعمره "90" عامًا وهو قائم فإذا حضر وقت الصلاة، صلى وهو جالس -نعوذ بالله من الحرمان-.

- قوته في تفجير دلالات النصوص، وشق الأنهار منها، واستخراج كنوزها، وهذه وحدها تعطي طالب العلم دفعة إِلى إدامة النظر في كتبه وقراءتها مرة بعد أخرى.
তিনি কখনো বিবাহ করেননি এবং কোনো দাসীও গ্রহণ করেননি; এই সুন্নাতের প্রতি বিমুখতার কারণে নয়, বরং ইলম, দাওয়াত এবং জিহাদের চিন্তায় তাঁর কাঁধ ভারাক্রান্ত ছিল।

- তাঁর শক্তি প্রকাশ পেয়েছিল তাঁর জিহাদী অবস্থানসমূহ, ইসলামি যুদ্ধাভিযান এবং নাস্তিক ও বাতেনী ফেরকাগুলোর দম্ভ চূর্ণ করার মাধ্যমে; যেমনটি দেখা গেছে শাকহাবের যুদ্ধে (দামেস্কের কিবলা অভিমুখে ৩৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম), কাসরাওয়ান অভিযানে এবং 'কাযান'-এর সাথে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবস্থানে; এমনকি তাঁর সাহসকে "খালিদীয়" বীরত্বের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

- তাঁর শক্তি পরিলক্ষিত হতো তাঁর গাম্ভীর্যপূর্ণ জীবনে যেখানে অসারতার কোনো স্থান ছিল না, গীবত ও চোগলখুরির মতো নীচ নৈতিকতা তো দূরের কথা। তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—এসব থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ছিলেন। তাঁর সান্নিধ্যে কখনো এমন কিছু জানা যায়নি। তাঁর মজলিসগুলো কল্যাণে ভরপুর থাকত, সেখানে গীবতকারীরা আসার সাহস পেত না।

- তাঁর শক্তি প্রকাশ পেত শাসকদের সাথে তাঁর অবস্থানে—নসীহত প্রদান এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে।

- তাঁর শক্তি ছিল তাঁর ইবাদত-বন্দেগিতে, একনিষ্ঠতায় এবং সার্বক্ষণিক যিকর ও ওজিফা পালনে। কোনো ব্যস্ততাই তাঁকে এ থেকে বিচ্যুত করতে পারত না এবং কোনো কিছুই তাঁকে এ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারত না।

সুতরাং সেই ব্যক্তি কোথায়, যে হকের ক্ষেত্রে শক্তি প্রদর্শন করে অথচ ইবাদতের সময় হলে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবসন্ন হয়ে যায় এবং সে অলসতায় আক্রান্ত হয়? এটি ইমাম শাফেঈ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—বর্ণিত সেই আশ্চর্যজনক বিষয়গুলোর মতো যা তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন: তিনি মদীনায় ৯০ বছর বয়সী এক গায়ককে দেখেছিলেন যে দাঁড়িয়ে দাসীদের গান শেখাচ্ছিল, কিন্তু যখন নামাযের সময় হলো, তখন সে বসে নামায আদায় করল—আমরা এ ধরনের বঞ্চনা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।

- তাঁর শক্তি ছিল দলীলসমূহের নিহিত অর্থ উন্মোচনে, তা থেকে জ্ঞানের নহর প্রবাহিত করতে এবং তার গুপ্তধন আহরণে। ইলম অন্বেষণকারীকে তাঁর কিতাবসমূহে গভীর অভিনিবেশ সহকারে বারবার নিবিষ্ট হতে অনুপ্রাণিত করার জন্য এটিই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
-قوته في التأليف: بدأ -رحمه الله تعالى- التأليف وهو ابن سبع عشرة سنة، وكان من أفراد الدهر في كثرة تآليفه، فلا يُعْلم في الإِسلام من صنَّف نحو ما صنف ولا قريبًا منه إلا أفرادًا قليلين، وقد قدرت مؤلفاته بخمسمائة مجلد، وبأربعة آلاف كراس أو أكثر، وقد بلغ ما يكتبه في اليوم والليلة أربع كراريس وكان يكتب جُلَّ مؤلفاته من حفظه، وكان ذا قلم سريع الكتابة إذا رقم "يكاد يسابق البرق إذا لمع" لكن كان خطه في غاية التعليق والإِغلاق. وكانت مؤلفاته في غاية الإبداع وقوة الحجاج وحسن التصنيف والترتيب، غير مشوبة بكَدَرٍ، بل خالصة من الشَّبه والشُّبه، وكثير منها لم يبيض له نسخَة أخرى، وله في غير مسألة مصنف مفردٌ أو أكثر.

ومن مؤلفاته ما ألفه في قَعْدة، مثل: "الحموية" ألفها بين الظهرين سنة 698 وعمره سبع وثلاثون سنة، وألَّف لأهل الآفاق عدة كتب، تَلْبيةً لطلبهم، منها: لأهل واسط: العقيدة الواسطية، والحموية لأهل حماة، والمراكشية لأهل مراكش، والتدمرية لأهل تدمر، وهكذا.

وأَلَّف بعض كتبه وهو في السجن، منها: في السجن بمصر: "الرد على البكري"، وألَّف "منهاج السنة النبوية" وهو في مصر، وأَلَّف ما لا يُحصى في السجن بالقلعة بدمشق، منها "الرد على الإخنائي".

وقد جرت له بسبب بعض مؤلفاته وفتاويه محن من السجن، والنيل من العرض بغير حق، كما جرى له بسبب "الحموية"، و"الواسطية"، وبسبب فتواه في الطلاق بالثلاث، وبالحلف بالطلاق،
গ্রন্থ রচনায় তাঁর সামর্থ্য: তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— সতেরো বছর বয়সে গ্রন্থ রচনা শুরু করেন। তিনি তাঁর রচনার আধিক্যের কারণে যুগের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে তাঁর মতো বা তাঁর কাছাকাছি পরিমাণ গ্রন্থ রচনা করেছেন এমন ব্যক্তি খুব সামান্যই জানা যায়। তাঁর রচনাবলিকে পাঁচশ খণ্ড এবং চার হাজার পুস্তিকা বা তার চেয়ে বেশি বলে অনুমান করা হয়েছে। দিন-রাতে তাঁর লেখার পরিমাণ চার পুস্তিকা পর্যন্ত পৌঁছাত। তিনি তাঁর অধিকাংশ রচনাই স্মৃতি থেকে লিখতেন। লেখার ক্ষেত্রে তাঁর কলম অত্যন্ত দ্রুতগামী ছিল; যখন তিনি লিখতেন তখন তা যেন "চমকানো বিজলীকেও ছাড়িয়ে যেতে চাইত"। তবে তাঁর হাতের লেখা অত্যন্ত জড়ানো ও অস্পষ্ট ছিল। তাঁর রচনাবলি ছিল অত্যন্ত সৃজনশীল, শক্তিশালী যুক্তিপূর্ণ এবং বিন্যাস ও বিন্যাসে চমৎকার, কোনো প্রকার মালিন্যমুক্ত, বরং সংশয় ও সন্দেহ থেকে পবিত্র। তাঁর অনেক রচনারই দ্বিতীয় কোনো পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়নি। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর একক বা একাধিক স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে কিছু আছে যা তিনি এক বৈঠকে লিখেছিলেন, যেমন: "আল-হামাউইয়্যাহ"; এটি তিনি ৬৯৮ হিজরিতে যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে লিখেছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল সাইত্রিশ বছর। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অনুরোধে সাড়া দিয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে: ওয়াসিতবাসীর জন্য "আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ", হামাহবাসীর জন্য "আল-হামাউইয়্যাহ", মাররাকেশবীর জন্য "আল-মাররাকিশিয়্যাহ", তাদমুরবাসীর জন্য "আল-তাদমুরিয়্যাহ" এবং এই জাতীয় আরও অনেক।

তিনি তাঁর কিছু গ্রন্থ কারাগারে থাকাবস্থায় রচনা করেছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে মিসরের কারাগারে লেখা "আর-রাদ্দ আলাল বাকরি"। তিনি মিসরে থাকাবস্থায় "মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ" রচনা করেন। এছাড়া দামেস্কের কেল্লার কারাগারে থাকাকালে তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে "আর-রাদ্দ আলাল ইখনায়ী" অন্যতম।

তাঁর কিছু গ্রন্থ ও ফতোয়ার কারণে তাঁকে কারাবরণ এবং অন্যায়ভাবে সম্মানহানির মতো পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। যেমনটি ঘটেছিল "আল-হামাউইয়্যাহ", "আল-ওয়াসিতিয়্যাহ" এবং তিন তালাক ও তালাকের শপথ সংক্রান্ত ফতোয়ার কারণে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفتوى الزيارة وشد الرحال، وغيرها.

هذا مع ما "حصل له في بعض سَجَنَاته من منع الدواة والقلم، وإِخراج ما عنده من الكتب والورق.

والحاصل أن شيخ الإسلام قد جمع بين الحسنيين: القوة العلمية والقوة العملية فصار له بذلك قدم صدق في الإسلام وانتفعت به الأمة في حياته وبعد مماته وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء … وكأن ابن القيم -رحمه الله تعالى- لما تكلم عن فضل اجتماع هاتين القوتين في كتاب: "طريق الهجرتين ص 233" قصد شيخ الإِسلام فقال: "فمن الناس من يكون له القوة العلمية الكاشفة عن الطريق ومنازلها وأعلامها وعوارضها ومعاثرها، وتكون هذه القوة أغلب القوتين عليه، ويكون ضعيفًا في القوة العملية يبصر الحقائق ولا يعمل بموجبها، ويرى المتالف والمخاوف والمعاطب ولا يتوقاها، فهو فقيه ما لم يحضر العمل، فإذا حضر العمل شارك الجهال في التخلف، وفارقهم في العلم، وهذا هو الغالب على أكثر النفوس المشتغلة بالعلم والمعصوم من عصمه الله ولا قوة إلا بالله، ومن الناس من تكون له القوة العملية الإرادية، وتكون أغلب القوتين عليه، وتقتضي هذه القوة السير والسلوك والزهد في الدنيا والرغبة في الآخرة، والجد والتشمير في العمل، ويكون أعمى البصر عند ورود الشبهات في العقائد والانحرافات في الأعمال والأقوال والمقامات، كما كان الأول ضعيف العقل عند ورود الشهوات، فداء هذا من جهله، وداء الأول من فساد إرادته وضعف عقله، وهذا حال أكثر أرباب الفقر والتصوف السالكين على غير طريق العلم؛ بل على طريق الذوق والوجد والعادة … فمن كانت
এবং যিয়ারত ও (সে উদ্দেশ্যে) সফরের ফতোয়া এবং অন্যান্য।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে তাঁর কিছু কারাবাসে দোয়াত ও কলম নিষিদ্ধ করা এবং তাঁর কাছে থাকা কিতাব ও কাগজ বের করে নেওয়ার ঘটনা।

সারকথা হলো, শায়খুল ইসলাম দুটি উত্তম গুণের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন: ইলমি শক্তি (জ্ঞানগত সামর্থ্য) এবং আমলি শক্তি (কর্মগত সামর্থ্য)। এর ফলে ইসলামে তাঁর জন্য এক সুদৃঢ় উচ্চমর্যাদা তৈরি হয়েছে এবং তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর উম্মাহ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন … মনে হয় ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) যখন তাঁর "তরিকুল হিজরাতাইন" কিতাবের ২৩৩ পৃষ্ঠায় এই দুটি শক্তির একত্র হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তখন তিনি শায়খুল ইসলামকেই বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন: "মানুষের মধ্যে কেউ এমন থাকে যার ইলমি শক্তি রয়েছে যা পথ, পথের স্তরসমূহ, এর নিদর্শনসমূহ এবং প্রতিবন্ধকতা ও বিপদসমূহকে উন্মোচিত করে। তার মাঝে এই শক্তিটিই অপর শক্তির চেয়ে প্রবল থাকে। কিন্তু সে আমলি শক্তিতে দুর্বল হয়; সে সত্য প্রত্যক্ষ করে কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করে না। সে ধ্বংসাত্মক স্থান, ভীতিপ্রদ বিষয় ও বিপদের জায়গাগুলো দেখে, কিন্তু সেগুলো থেকে বেঁচে থাকে না। সে ততক্ষণই ফকিহ যতক্ষণ আমলের সময় উপস্থিত না হয়। যখন আমলের সময় আসে, তখন সে পিছিয়ে থাকার ক্ষেত্রে অজ্ঞদের সাথে শামিল হয়ে যায়, আর তাদের থেকে কেবল ইলমের মাধ্যমেই পৃথক থাকে। ইলম চর্চায় নিয়োজিত অধিকাংশ মানুষের অবস্থা এমনই হয়ে থাকে। আর নিষ্পাপ সেই যাকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই। আর মানুষের মধ্যে কেউ এমন থাকে যার আমলি ও ইচ্ছাশক্তি রয়েছে, এবং তার মাঝে এই শক্তিটিই অপরটির চেয়ে প্রবল থাকে। এই শক্তি তাকে পথ চলা, আধ্যাত্মিক সাধনা, দুনিয়াবিমুখতা, আখেরাতের প্রতি আগ্রহ এবং আমলে নিরলস পরিশ্রম ও তৎপর হতে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু আকিদাগত সংশয় এবং কর্ম, কথা ও আধ্যাত্মিক স্তরের বিচ্যুতির সময় সে অন্ধ হয়ে যায়; যেমন প্রথম ব্যক্তি প্রবৃত্তির লালসার আগমনে বুদ্ধিহারা হয়ে পড়েছিল। এর ব্যাধি হলো তার অজ্ঞতা, আর প্রথম জনের ব্যাধি হলো তার সংকল্পের কলুষতা ও বুদ্ধির দুর্বলতা। এটিই অধিকাংশ দরবেশ ও সুফিদের অবস্থা যারা ইলমের পথ ছেড়ে বরং স্বাদ, ভাবোচ্ছ্বাস ও অভ্যাসের পথে চলেন … অতএব যার"
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
له هاتان القوتان: استقام له سيره إلى الله ورجي له النفوذ، وقوي على رد القواطع والموانع بحول الله وقوته، فإن القواطع كثيرة، شأنها شأن شديد، لا يخلص من حبائلها إلا الواحد بعد الواحد، ولولا القواطع والآفات لكان الطريق معمورة بالسالكين، ولو شاء الله لأزالها وذهب بها، ولكن الله يفعل ما يريد، والوقت كما قيل سيف فإن قطعته وإلا قطعك.

فإذا كان السير ضعيفًا، والهمة ضعيفة، والعلم بالطريق ضعيفًا، والقواطع الخارجة والداخلة كثيرة شديدة، فإنه جهد البلاء ودرك الشقاء، وشماتة الأعداء، إلا أن يتداركه الله برحمة منه من حيث لا يحتسب، فيأخذ بيده ويخلصه من أيدي القواطع والله ولي التوفيق" انتهى.

 

‌‌الأمر الثالث: مواطن الضعف في سيرته حسب ميول الناظرين؟!!

* ضعفه في نظر عشاق المناصب والولايات، فقد عرضت عليه مناصب علمية فأباها منها: "رآسة القضاء" -قاضي القضاة- و"رئيس المشيخة"، وقال: يقوم بها غيري، أما نشر العلم وتصحيح الاعتقاد، ورد الناس إلى الله ورسوله فالناس أحوج ما يكونون إليه.

فآلت ميزة خلَّدت ذكره في العالمين، وغاب أصحاب الولايات بأبهتهم بما لهم وما عليهم -مَنَّ الله على الجميع بعفوه ومغفرته-.

* ضعفه في نظر طلاب المادة، عُشَّاق الأصفر الرَّنّان، فقد عُرِضَت عليه المُرَتَّبَات، والأعطيات، فأباها ولم يتدنس بشيء من ذلك؛ لأنه -رحمه الله تعالى- يعلم أنه إذا أخذت اليد، ضعفت مقاومة الباطل، واهتز موقف الناصح. فليعتبر من يقول: "أنا لها".
যার এই দুটি শক্তি রয়েছে: আল্লাহর দিকে তার পথচলা সুদৃঢ় হয় এবং তার গন্তব্যে পৌঁছানোর আশা করা যায়। আল্লাহর সাহায্য ও শক্তির মাধ্যমে সে প্রতিবন্ধকতা ও বাধাগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। কারণ প্রতিবন্ধকতা অনেক এবং তা অত্যন্ত কঠিন; বিরল ব্যক্তি ছাড়া কেউ এর জাল থেকে মুক্তি পায় না। যদি এই প্রতিবন্ধকতা ও বিপদাপদ না থাকত, তবে পথটি পথচারীদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকত। আল্লাহ চাইলে এগুলো দূর করে দিতে পারতেন, কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন। আর সময় হচ্ছে তলোয়ারের মতো, যেমনটি বলা হয়ে থাকে; হয় তুমি একে কর্তন করবে, নয়তো এটি তোমাকে কর্তন করবে।

আর যদি পথচলা দুর্বল হয়, সংকল্প দুর্বল হয়, পথ সম্পর্কে জ্ঞান দুর্বল হয় এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রতিবন্ধকতাগুলো অধিক ও শক্তিশালী হয়, তবে তা চরম দুর্দশা, দুর্ভাগ্যের অতল গহ্বর এবং শত্রুদের উপহাসের কারণ। অবশ্য আল্লাহ যদি নিজের পক্ষ থেকে এমনভাবে রহমত দ্বারা তাকে সাহায্য করেন যা সে কল্পনাও করেনি, তবে আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে তাকে ধরেন এবং প্রতিবন্ধকতাগুলোর হাত থেকে তাকে উদ্ধার করেন। আর আল্লাহই তৌফিকদাতা। সমাপ্ত।

 

‌তৃতীয় বিষয়: দর্শকদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী তার জীবনীতে দুর্বলতার দিকসমূহ?!!

* পদমর্যাদা ও কর্তৃত্বের মোহগ্রস্তদের দৃষ্টিতে তার দুর্বলতা: তার কাছে বিভিন্ন ইলমি পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর মধ্যে ছিল: ‘প্রধান বিচারপতি’ এবং ‘প্রধান শায়খ’ পদ। তিনি বলতেন: এগুলো অন্য কেউ পালন করবে; কিন্তু ইলম প্রচার, আকিদা সংশোধন এবং মানুষকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে আনার কাজে মানুষ অনেক বেশি মুখাপেক্ষী।

ফলে এটি এমন এক বিশেষত্বে পরিণত হলো যা বিশ্ববাসীর কাছে তার স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রেখেছে। অথচ পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা তাদের জাঁকজমক এবং ভালো-মন্দের হিসাবসহ হারিয়ে গেছেন—আল্লাহ সকলের প্রতি ক্ষমা ও মাগফিরাত দান করুন।

* পার্থিব সম্পদের লোভী ও স্বর্ণমুদ্রার মোহগ্রস্তদের দৃষ্টিতে তার দুর্বলতা: তাকে বিভিন্ন বেতন ও উপঢৌকনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং এসবে নিজেকে কলুষিত করেননি। কারণ তিনি (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) জানতেন যে, যদি আল্লাহর হাত গ্রহণ করে, তবে বাতিলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি দুর্বল হয়ে যায় এবং উপদেশদাতার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি বলে: ‘আমি এর যোগ্য’, সে যেন এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
* ما تزوج -رحمه الله تعالى- ولا تسرى، وهذه لذة لا يفوِّتها عامة أهل الدنيا؛ ولهذا لم يعرف أنه يُتحدّث عنده في هذه الملاذ ونحوها؛ كما قال الأحنف بن قيس رضي الله عنه: "جنبوا مجالسنا ذكر النساء والطعام إني أبغض الرجل يكون وصَّافًا لِفَرجه وبطنه" انتهى. وهذا خلق رفيع وشرف في النفس.

 

‌‌الأمر الرابع: السَّبْق العلمي:

وهذا من أبرز المزايا في حياة شيخ الإسلام العلمية والعملية، فكان له سَبْق التجديد في تحقيق التوحيد بعد طول غياب، وحماية جنابه، وحماية حماه بدقائق أصبحت نورًا يَقْتَدِي به المصلحون.

وقابله الخصوم: بافتراآت على الشيخ من خلال دعاوي كاذبة، مثل: دعوى بغض النبي-صلى الله عليه وسلم وأين الإِثبات!؟ ودعوى أنه يمنع زيارة القبور وإنما منع البدعية لا الشرعية. ودعوى أنه يمنع من زيارة قبر النبي-صلى الله عليه وسلم-وإِنما منع شدَّ الرِّحال إِليه. ودعوى أَنّه يُوالي النصارى، وأَنَّى يكون ذلك وله "الجواب الصحيح لمن بدَّل دينَ المسيح"؟! وكانت هذه التهمة الباطلة أَلقى بها المغرضون في حياته فبين -رحمه الله تعالى- سببها كما في: "الفتاوى: 2/ 118" في رسالته: "حقيقة مذهب الاتحاديين".

وسَبْق التجديد في الفقهيات وهي لا تُحصى كثرة، وقابلها الخصوم بأَنّه خرق الإِجماع، وقد نافح عنه العلامة برهان الدِّين إبرإهيم ابن تلميذ شيخ الإِسلام ابن قيم الجوزية في رسالة محررة نافعة باسم: "اختيارات شيخ الإِسلام ابن تيمية".

وسَبْق التجديد في علوم المنطق والفلسفة، هدم من خلال
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বিয়ে করেননি এবং কোনো দাসীও গ্রহণ করেননি। এটি এমন এক স্বাদ যা দুনিয়াদার সাধারণ মানুষ হাতছাড়া করে না। এ কারণেই তাঁর মজলিসে এই জাতীয় ভোগ-বিলাস বা অনুরূপ বিষয়ে আলোচনা হতো বলে জানা যায় না। যেমনটি আহনাফ ইবনে কাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "তোমরা আমাদের মজলিসগুলোকে নারী ও খাদ্যের আলোচনা থেকে দূরে রাখো। নিশ্চয়ই আমি সেই ব্যক্তিকে ঘৃণা করি যে নিজের লজ্জাস্থান ও পেটের গুণাগুণ বর্ণনা করে।" সমাপ্ত। এটি একটি উচ্চতর চরিত্র এবং আত্মিক আভিজাত্য।

 

‌‌চতুর্থ বিষয়: ইলমি অগ্রগামিতা:

এটি শাইখুল ইসলামের ইলমি ও আমলি জীবনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর তাওহীদের প্রকৃত রূপ নিরূপণে এবং এর মর্যাদা ও এর সীমানা রক্ষায় সূক্ষ্ম গবেষণার মাধ্যমে তাঁর সংস্কারমূলক অগ্রগামিতা ছিল, যা বর্তমানে সংস্কারকদের জন্য একটি অনুসরণীয় আলোতে পরিণত হয়েছে।

বিপক্ষ শক্তি তাঁর মোকাবিলা করেছিল কিছু মিথ্যা দাবির মাধ্যমে তাঁর ওপর অপবাদ আরোপ করে। যেমন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণের দাবি, অথচ এর প্রমাণ কোথায়!? আরও দাবি করা হয় যে তিনি কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেন, অথচ তিনি কেবল বিদআতি জিয়ারত নিষেধ করেছেন, শরয়ি জিয়ারত নয়। দাবি করা হয় যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেন, অথচ তিনি কেবল সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সফর করা নিষেধ করেছেন। আরও দাবি করা হয় যে তিনি নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন, অথচ এটি কীভাবে সম্ভব যখন তাঁর রচিত "আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ" গ্রন্থটি বিদ্যমান রয়েছে?! এই মিথ্যা অপবাদটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর জীবদ্দশাতেই ছড়িয়ে দিয়েছিল, যার কারণ তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) "ফাতাওয়া: ২/১১৮"-এ তাঁর "হাকিকাতু মাযহাবিল ইত্তিহাদিয়্যীন" শীর্ষক পত্রে ব্যাখ্যা করেছেন।

ফিকহশাস্ত্রেও তাঁর সংস্কারমূলক অগ্রগামিতা অনস্বীকার্য যার সংখ্যা অগণিত। বিরোধীরা এর বিপরীতে দাবি করেছে যে তিনি ইজমা (ঐক্যমত) লঙ্ঘন করেছেন। অথচ শাইখুল ইসলামের ছাত্র ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর ছাত্র আল্লামা বুরহানুদ্দীন ইবরাহীম "ইখতিয়ারাতু শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ" নামক একটি সুলিখিত ও উপকারী রিসালায় তাঁর পক্ষ অবলম্বন করেছেন।

যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনশাস্ত্রেও তাঁর সংস্কারমূলক অগ্রগামিতা ছিল, যার মাধ্যমে তিনি ধূলিসাৎ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ردوده عليهم عددًا من أقوالهم وقواعدهم.

 

‌‌الأمر الخامس: استجلاء العِبَر والدروس:

يمكن استجلاء الآتي:

1 - ما نال شيخ الإِسلام -رحمه الله تعالى- منزلة الإِمامة في العلم والدِّين إلّا من آثار التقوى واليقين والصبر فى ذات الله تعالى على المكاره؛ ولهذا قال: "بالصبر واليقين تُنال الإِمامة في الدِّين".

2 - من أعظم أسباب الفوز والنصر، الزهد في المناصب والولايات، والكف عن زخرفها، وكما كان شيخ الإسلام كذلك، فقد كان أئمة الإسلام على هذه الجادة منهم الإمام أحمد بن حنبل -رحمه الله تعالى- ولهذا قيل في ترجمته: "أتته الدنيا فأباها، والولايات فقلاها".

فمسكين من يتطلع إليها ويقول: أنا لها، ومغبون -والله- من دفع ثمنها مُقّدمًا بالتنازل عن شيء من دينه، والملاينة على حساب علمه ويقينه، وكُلُّ امرئ حسيب نفسه.

3 - البذاذة من الإيمان، والاقتصاد في أُمور المعاش من وظائف أهل الإِسلام، وهكذا كان شيخ الإِسلام -رحمه الله تعالى- مجتنبًا التَّرَفُّه في المعاش، وتطلب الملاذ، فما أحلاه من أدب.

4 - إِنّها "العصامية لا العظامية".

ليس الفتى من يقول كان أبي … إن الفتى من يقول ها أنذا
তাদের প্রতি তাঁর উত্তরগুলো ছিল তাদের অসংখ্য বক্তব্য ও মূলনীতির খণ্ডনস্বরূপ।

 

‌‌পঞ্চম বিষয়: শিক্ষা ও পাঠসমূহ উন্মোচন:

নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উন্মোচন করা সম্ভব:

১ - শাইখুল ইসলাম -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- জ্ঞান ও দ্বীনের ক্ষেত্রে ইমামতের মর্যাদা লাভ করেননি বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে দুঃখ-কষ্টের মুখে তাকওয়া, দৃঢ় বিশ্বাস এবং ধৈর্যের ফলস্বরূপ; আর একারণেই তিনি বলেছেন: "ধৈর্য এবং সুদৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমেই দ্বীনের মধ্যে ইমামত অর্জিত হয়।"

২ - বিজয় ও সাফল্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কারণ হলো বিভিন্ন পদমর্যাদা ও নেতৃত্বের প্রতি অনাসক্তি এবং এর চাকচিক্য থেকে বিরত থাকা। শাইখুল ইসলাম যেমন এরূপ ছিলেন, তেমনি ইসলামের ইমামগণও এই পথেই চলেছেন, যাদের মধ্যে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- অন্যতম। এজন্যই তাঁর জীবনীতে বলা হয়েছে: "দুনিয়া তাঁর কাছে এসেছিল কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, আর নেতৃত্ব তাঁর সামনে এসেছিল কিন্তু তিনি তা তুচ্ছজ্ঞান করেছেন।"

সেই ব্যক্তি নিতান্তই অসহায় যে পদের আকাঙ্ক্ষা করে এবং বলে: "আমিই এর যোগ্য", আর আল্লাহর শপথ! সেই ব্যক্তি চরম ক্ষতিগ্রস্ত যে নিজের দ্বীনের কিছু অংশ বিসর্জন দিয়ে এর মূল্য অগ্রিম পরিশোধ করে এবং নিজের জ্ঞান ও বিশ্বাসের বিনিময়ে আপোষকামিতা প্রদর্শন করে। প্রতিটি মানুষই নিজের কর্মফলের জন্য দায়ী।

৩ - বাহ্যিক জাঁকজমকহীনতা ঈমানের অঙ্গ এবং জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা হলো মুসলিমদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শাইখুল ইসলাম -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- এভাবেই জীবনযাত্রায় বিলাসিতা ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অন্বেষণ পরিহার করতেন; কতই না চমৎকার এই শিষ্টাচার!

৪ - নিশ্চয়ই এটি হলো "স্বীয় পরিশ্রমে অর্জিত মহত্ত্ব, কেবল বংশীয় আভিজাত্য নয়।"

সেই যুবক প্রকৃত বীর নয় যে বলে আমার পিতা অমুক ছিলেন … বরং সেই প্রকৃত বীর যে বলে এই যে আমি।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فَسُحْقًا لعشاق: العصبية -الطبقية- الذين يتغنون بأَمجاد أَسلافهم وقد تسفلوا، ويستعلون على الناس بأهليهم وأذوائهم وقد تقذروا؛ ليُقال لهم: نعم الآباء ولكن بئس ما خلفوا، وإن افتخار المرء بوصف أَبيه، مثل افتخار الكوسج بلحية أخيه، أما من جمع بين الحسنيين، وفاز بالفضيلتين، فذلك فضل الله يؤتيه من يشاء.

وهكذا كان شيخ الإِسلام -رحمه الله تعالى- فلم يركن إلى الدنيا، وأخذ يتغنى بآبائه فيقول: والدي مفتي الحنابلة، وجدِّي المجد شيخ الإِسلام … بل سلك جادة العلم والإِيمان حتى صار زينة لأهل الإِسلام.

5 - لا تكاد نفسه تشبع من العلم، ولا تروى من المطالعة، ولا تمل من الاشتغال به، ولا تكل من البحث فيه، وقل أن يدخل في علم إلا ويفتح له فيه؛ ولهذا قال الذهبي: "ما رأيته إلا ببطن كتاب".

قال السخاوي في: "الجواهر والدرر: 1/ 117" بسنده عن الشمس بن الديري قال: "سمعت علاء الدين البسطامي ببيت المقدس يقول: وقد سأله هل رأيت الشيخ تقي الدين بن تيمية؟ فقال: نعم، قلت: فكيف كانت صفته؟ فقال. هل رأيت قبة الصخرة؟ قلت: نعم، قال: كان كقبة الصخرة مُلِيء كُتبًا ولها لسان يَنْطِق" انتهى.

هذا مع انصراف عن أُمور الدنيا انصرافًا كليًّا، إذْ ليس له من المعلوم إلا اليسير، وقد تكفّل أخوه شرف الدِّين بشؤونه.

وهذا يفيد الدرس الآتي: وهو عدم اجتماع الضدِّين فكما أن:
ধ্বংস হোক গোত্রবাদ ও শ্রেণিবাদের পূজারিদের জন্য—যারা তাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবগাথা গায় অথচ নিজেরা অধঃপতিত হয়েছে; যারা তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের দোহাই দিয়ে মানুষের ওপর অহংকার করে অথচ নিজেরা কলুষিত হয়েছে; যাতে তাদের সম্পর্কে বলা যায়: পিতারা কতই না উত্তম ছিলেন, কিন্তু তারা কতই না নিকৃষ্ট উত্তরসূরি রেখে গেছেন। নিশ্চয়ই পিতার গুণাবলি নিয়ে কোনো ব্যক্তির গর্ব করাটা দাড়িহীন ব্যক্তির তার ভাইয়ের দাড়ি নিয়ে গর্ব করার মতো। তবে যে ব্যক্তি উভয় কল্যাণের সমন্বয় ঘটিয়েছে এবং উভয় শ্রেষ্ঠত্বে বিজয়ী হয়েছে, তবে তা আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।

শায়খুল ইসলাম—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এমনই ছিলেন। তিনি দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েননি এবং তাঁর পিতৃপুরুষদের নিয়ে এমন গৌরবগাথা গাইতে থাকেননি যে: আমার পিতা হাম্বলি মাযহাবের মুফতি এবং আমার দাদা আল-মাজদ শায়খুল ইসলাম … বরং তিনি ইলম ও ঈমানের পথ অবলম্বন করেছিলেন, এমনকি তিনি ইসলামপন্থীদের ভূষণে পরিণত হয়েছিলেন।

৫ - তাঁর নফস ইলম বা জ্ঞান থেকে তৃপ্ত হতো না, অধ্যয়ন থেকে পিপাসা মিটত না, এর চর্চায় কোনো একঘেয়েমি আসত না এবং গবেষণায় কোনো ক্লান্তি আসত না। খুব কমই এমন হয়েছে যে তিনি কোনো বিদ্যায় প্রবেশ করেছেন অথচ সেখানে তাঁর জন্য (সাফল্যের) দ্বার উন্মোচিত হয়নি; এজন্যই যাহাবী বলেছেন: "আমি তাঁকে সবসময় কিতাবের মধ্যেই মগ্ন দেখেছি।"

সাখাভী 'আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার: ১/১১৭' গ্রন্থে তাঁর সনদে শামস বিন আদ-দাইরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি বায়তুল মাকদিসে আলাউদ্দিন আল-বিস্তামিকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি কি শায়খ তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়াহকে দেখেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: তাঁর বৈশিষ্ট্য কেমন ছিল? তিনি বললেন: তুমি কি কুব্বাতুস সাখরা দেখেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন কুব্বাতুস সাখরার মতো, যা কিতাব দিয়ে ভরপুর এবং তার রয়েছে একটি বাকপটু জিহ্বা।" সমাপ্ত।

এর সাথে সাথে পার্থিব বিষয়াবলি থেকে তাঁর বিমুখতা ছিল পূর্ণাঙ্গ; কারণ তাঁর জন্য নির্ধারিত বৈষয়িক সম্পদ ছিল অতি সামান্য, এবং তাঁর ভাই শরফুদ্দিন তাঁর যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।

আর এটি পরবর্তী শিক্ষাটি প্রদান করে: তা হলো দুটি বিপরীতমুখী জিনিসের একত্র না হওয়া, যেমনটি হলো:
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
حُبُّ الكتابِ وحبُّ ألحان الغنا … في قلب عبد ليس يجتمعان

فحب العلم وإشغال القلب والبدن بالمال وجمعه وتنميته، والمكاثرة فيه لا يجتمعان، فكلما منحت هذا من جهدك ووقتك ضاع من ذاك، فَلْنَبْكِ على حالنا؟.

6 - ولما سافر -رحمه الله تعالى- إلى مصر سنة 700 نزل عند عم تلميذه ابن فضل الله العمري، وكان سفره للحض على الجهاد، فَرُتِّبَ له مرتب، وأعطيات، فلم يقبل منها شيئًا.

فهل يعتبر من ابتلوا بالتسول على مستوى رفيع، ويتنمر الواحد منهم على معارفه وإِخوانه، والرفعاء منهم يعلمون أنه في الظاهر: مطاع متبوع، وهو في الباطن عبد مطيع تابع ذليل.

على أن الأرض لا تخلو من المتأسِّين بالصالحين، الذين تجردوا من هذه الحظوظ، ولم يتدنَّسوا بشيء منها.

7 - دروس وعبر مما ناله -رحمه الله تعالى- من الأذايا في ذات الله -تعالى-:

إِنّ عالمًا يفتح الله عليه بميراث علم النبوة، وينظر في واقع الحياة فيرى من ظلمات الإعراض عن الوحي والتنزيل ما الله به عليم: حلولية، اتحادية، طرقية بدعية، جهمية، معتزلة، أَشاعرة، مقلدة متعصبة، وكل يرى أن ما هو عليه هو الحق، ثم يأتي حامل الضياء، فيكاسر هؤلاء وهؤلاء، لاشك سيكون له خصوم وخصوم مما أدّى إلى سَجْنِه تارة، والترسيم عليه تارة، ومناظرته تارة، وإذايته بالمحن الأُخرى تارة أُخرى، وإِغراء السفهاء، وتسليط
কিতাবের প্রতি ভালোবাসা এবং গানের সুরের প্রতি ভালোবাসা … কোনো বান্দার হৃদয়ে একত্রিত হয় না।

সুতরাং ইলমের প্রতি ভালোবাসা এবং অন্তর ও শরীরকে সম্পদ অর্জন, তা সংগ্রহ, বৃদ্ধি এবং তার আধিক্যে ব্যস্ত রাখা—এগুলো একত্রিত হয় না। সুতরাং আপনি যখনই আপনার শ্রম ও সময়ের কোনো অংশ একে প্রদান করবেন, তখন তা থেকে (ইলম থেকে) ততটুকু হারিয়ে যাবে। অতএব, আমরা কি আমাদের অবস্থার জন্য ক্রন্দন করব না?

৬ - এবং যখন তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—৭০০ হিজরীতে মিসর সফর করেন, তখন তিনি তাঁর ছাত্র ইবন ফাদলুল্লাহ আল-উমারীর চাচার নিকট অবস্থান করেন। তাঁর এই সফর ছিল জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য। অতঃপর তাঁর জন্য মাসিক ভাতা ও দান-অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তার কিছুই গ্রহণ করেননি।

তবে কি তারা শিক্ষা গ্রহণ করবে না যারা উচ্চ পর্যায়ে যাচ্ঞা করার ব্যাধিতে আক্রান্ত, এবং যাদের কেউ কেউ তার পরিচিত ও ভাইদের ওপর প্রতাপ দেখায়? তাদের মধ্যে যারা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন তারা জানে যে, বাহ্যত সে মান্যবর ও অনুসরণীয়, অথচ গোপনে সে একজন অনুগত, পদাঙ্ক অনুসারী ও হীন দাস মাত্র।

তবুও পৃথিবী এমন ব্যক্তিবর্গ থেকে শূন্য নয় যারা নেককারদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, যারা এই সব পার্থিব স্বার্থ থেকে নিজেদের বিমুক্ত রেখেছেন এবং এগুলোর কোনো কিছু দ্বারা কলঙ্কিত হননি।

৭ - আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—যে কষ্ট ও যাতনা ভোগ করেছেন, তা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও উপদেশসমূহ:

নিশ্চয়ই যে আলিমের নিকট আল্লাহ নবুওয়াতের ইলমের উত্তরাধিকার উন্মুক্ত করে দেন এবং তিনি যখন যাপিত জীবনের বাস্তবতার দিকে দৃষ্টিপাত করেন, তখন ওহী ও প্রত্যাদেশ থেকে বিমুখ হওয়ার এমন অন্ধকার দেখতে পান যা সম্পর্কে আল্লাহই সম্যক অবগত: যেমন হুলুলিয়া, ইত্তিহাদিয়া, বিদআতি তরীকা-পন্থী, জাহমিয়া, মুতাজিলা, আশারিয়া ও গোঁড়া মুকাল্লিদ; এবং প্রত্যেকেই মনে করে যে তারা যে মতের ওপর আছে তাই সত্য—অতঃপর যখন আলোকবর্তিকা বহনকারী কেউ এসে এদের সবার মোকাবিলা করেন, তখন নিঃসন্দেহে তার জন্য বহু শত্রুর সৃষ্টি হয়। যার ফলে কখনো তাকে কারাবরণ করতে হয়, কখনো তার ওপর নজরদারি রাখা হয়, কখনো তাকে বিতর্কে লিপ্ত করা হয় এবং কখনো অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া হয় এবং নির্বোধদের তার বিরুদ্ধে উসকে দেওয়া হয় ও তাদের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الدهماء، وهكذا من صنوف الأذى، ومن كل ذلك قد نال شيخ الإِسلام -رحمه الله تعالى-.

ومن نظر في سِيَر المُصلحين وما أُلِّفَ من كتبٍ مُفردةٍ في إِذايتهم مثل كتاب "المحن" لأبي العرب وغيره لم يرَ عالمًا لحقه من صنوف الأذايا من سجن وغيره مثل شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى-.

وحسبي هنا أن استقرئ وقائع سجنه والترسيم عليه:

لما بلغ -رحمه الله تعالى- الثانية والثلاثين من عمره وبعد عودته من حجته، بدأ تعرضه -رحمه الله تعالى- لأخبئة السجون، وبلايا الاعتقال، والترسيم عليه: "الإِقامة الجبرية". خلال أَربعة وثلاثين عامًا، ابتداء من عام 693 إِلى يوم وفاته في سجن القلعة بدمشق يوم الاثنين 20 ذي القعدة 728 وكان سجنه سبع مرات: أربع بمصر بالقاهرة وبالإسكندرية، وثلاث مرات بدمشق، وجميعها نحو خمس سنين وجميعها كذلك باستعداء السلطة عليه من خصومه الذين نابذ ما هم عليه من الانحراف في الاعتقاد والسلوك والتمذهب، عسى أَن يفتر عنهم، وأَن يُقصر لسانه وقلمه عَمَّا هُم عليه، لكنّه لا يرجِع.

وهي مجملًا:

 

‌‌السَّجْنَة الأولى: بدمشق بسبب واقعة عساف النصراني الذي سب النبي صلى الله عليه وسلم وهي لمدة قليلة، وعلى أثرها ألف: "الصارم المسلول".

‌‌السَّجْنَة الثانية: بمصر بسبب مسائل في الصفات، لمدة سنة
জনসাধারণ, এবং এই ধরণের বিভিন্ন প্রকারের কষ্ট, যার সবটুকুই শাইখুল ইসলাম -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- ভোগ করেছেন।

এবং যে ব্যক্তি সংস্কারকদের জীবনী এবং তাঁদের নির্যাতনের বিষয়ে রচিত স্বতন্ত্র গ্রন্থাবলি পাঠ করবে—যেমন আবু আরবের 'আল-মিহান' এবং অন্যান্য গ্রন্থ—সে এমন কোনো আলেমকে দেখবে না, যাঁর ওপর কারাবরণ ও অন্যান্য কষ্টের এমন সব ধরণ আপতিত হয়েছে যা শাইখুল ইসলাম -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- এর ওপর হয়েছিল।

আর এখানে আমার জন্য তাঁর কারাবরণ এবং নজরবন্দি হওয়ার ঘটনাবলি অনুসন্ধান করাই যথেষ্ট:

যখন তিনি -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- বত্রিশ বছর বয়সে পদার্পণ করলেন এবং হজ্জ থেকে ফিরে আসলেন, তখন থেকেই তিনি -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, বন্দিত্বের পরীক্ষা এবং নজরবন্দি তথা 'গৃহবন্দিত্বের' সম্মুখীন হতে শুরু করেন। চৌত্রিশ বছর সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ৬৯৩ হিজরি থেকে শুরু করে ৭২৮ হিজরির ২০শে জিলকদ সোমবার দামেস্কের দুর্গের কারাগারে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি মোট সাতবার কারাবরণ করেন: চারবার মিশরের কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ায় এবং তিনবার দামেস্কে। এই সব মিলিয়ে মোট সময়কাল ছিল প্রায় পাঁচ বছর। আর এর সবকটিই ঘটেছিল তাঁর সেই সব বিরোধীদের দ্বারা কর্তৃপক্ষকে তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার কারণে, যাদের আকিদাগত বিচ্যুতি, আচরণ ও মাযহাবগত গোঁড়ামির তিনি বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল যে, হয়তো তিনি তাদের প্রতি নমনীয় হবেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁর জিহ্বা ও কলম থামিয়ে দেবেন, কিন্তু তিনি নিবৃত্ত হননি।

সংক্ষেপে সেগুলো হলো:

 

‌‌প্রথম কারাবরণ: দামেস্কে, খ্রিস্টান আসসাফের ঘটনার কারণে যে নবী -আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন- কে গালি দিয়েছিল। এটি ছিল অল্প সময়ের জন্য, আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি রচনা করেন: 'আস-সারিমুল মাসলুল'।

‌‌দ্বিতীয় কারাবরণ: মিশরে, আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের কারণে, এক বছর মেয়াদে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদাখিল ইলা আছারি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وستة شهور.

 

‌‌السَّجْنَة الثالثة: بمصر بسبب مسألة الاستغاثة والتوسل، أيامًا قليلة. وفيها ألف: "الرد على البكري".

‌‌السَّجْنَة الرابعة: بمصر وهي امتداد للثالثة، لمدة تزيد عن شهرين.

‌‌السَّجْنَة الخامسة: بمصر وهي امتداد للرابعة، لمدة سبعة شهور وأيام.

‌‌السَّجْنَة السادسة: بدمشق، بسبب مسألة الطلاق، لمدة خمسة شهور وثمانية وعشرين يومًا.

السَّجْنة السابعة: بدمشق بسبب مسألة الزيارة، لعامين وثلاثة أشهر وأربعة عشر يومًا. وفيها أَلْف جملة من الكتب منها: "الرد على الإخنائي".

 

وهذا‌‌ بيان سجناته وأسبابها وآثارها مع شيء من التفصيل:

‌‌السجنة الأولى: في دمشق عام 693 لمدة قليلة، بسبب واقعة عسّاف النصراني، الذي شهِدَ عليه جماعة أَنّه سَبَّ النبي صلى الله عليه وسلم فلما بلغ الخبر شيخ الإِسلام -رحمه الله تعالى- اجتمع هو والشيخ زين الدِّين الفارقي شيخ دار الحديث، فدخلا على نائب السلطان بدمشق، عز الدِّين أَيبك الحموي فطلب النائب إِحضاره، فحضر عسّاف ومعه مجيره "أَمير آل على" فضربهما الناس بالحجارة؛ لهذا طلب النائب الشيخين: ابن تيمية والفارقي، فضربهما بين يديه، ورَسَّمَ عليهما بالعذراوية ثم استدعاهما النائب وأَرضاهما،
এবং ছয় মাস।

 

‌‌তৃতীয় কারাবাস: ইস্তিগাসা ও তাওয়াসসুলের মাসআলার কারণে মিশরে, অল্প কিছু দিনের জন্য। এই সময়েই তিনি রচনা করেন: "আর-রাদ্দু আলাল বকরি"।

‌‌চতুর্থ কারাবাস: মিশরে, যা তৃতীয়টিরই ধারাবাহিকতা ছিল, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে।

‌‌পঞ্চম কারাবাস: মিশরে, যা চতুর্থটিরই ধারাবাহিকতা ছিল, সাত মাস কয়েক দিন ধরে।

‌‌ষষ্ঠ কারাবাস: দামেশকে, তালাক সংক্রান্ত মাসআলার কারণে, পাঁচ মাস আটাশ দিন ধরে।

সপ্তম কারাবাস: দামেশকে যিয়ারত সংক্রান্ত মাসআলার কারণে, দুই বছর তিন মাস চৌদ্দ দিন ধরে। এতে তিনি একগুচ্ছ কিতাব রচনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে: "আর-রাদ্দু আলাল ইখনায়ি"।

 

এটি তাঁর‌‌ কারাবাসসমূহ, সেগুলোর কারণ ও প্রভাবের বিস্তারিত বিবরণ:

‌‌প্রথম কারাবাস: ৬৯৩ হিজরিতে দামেশকে অল্প সময়ের জন্য, আসসাফ আন-নাসরানির ঘটনার কারণে, যার বিরুদ্ধে একদল লোক সাক্ষ্য দিয়েছিল যে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে গালি দিয়েছে। যখন এই সংবাদ শাইখুল ইসলাম -রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা- এর কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি এবং দারুল হাদিসের শাইখ যাইনুদ্দিন আল-ফারেকি একত্রিত হলেন। অতঃপর তাঁরা দামেশকে সুলতানের প্রতিনিধি ইযযুদ্দিন আইবাক আল-হামাভির নিকট প্রবেশ করলেন। তখন প্রতিনিধি তাকে উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। আসসাফ তার আশ্রয়দাতা "আমিরে আল আলী" সহ উপস্থিত হলে লোকেরা তাদের পাথর ছুড়ে মারল; এই কারণে প্রতিনিধি দুই শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আল-ফারেকিকে তলব করলেন এবং তাঁর সামনেই তাঁদের প্রহার করলেন ও আজরাউইয়্যাহতে তাঁদের কারাবন্দি করার নির্দেশ দিলেন। এরপর প্রতিনিধি তাঁদের পুনরায় ডেকে আনলেন এবং তাঁদের সন্তুষ্ট করলেন,