(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: -)
الأخبار الموفقيات للزبير بن بكار القسم: كتب السنة
الكتاب: الأخبار الموفقيات للزبير بن بكار
المؤلف: الزبير بن بكار بن عبد الله القرشي الأسدي المكي (ت 256هـ)
تحقيق: سامي مكي العاني
الناشر: عالم الكتب - بيروت
الطبعة: الثانية، 1416هـ-1996م
عدد الصفحات: 252
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়্যাত - যুবাইর বিন বাক্কার বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়্যাত - যুবাইর বিন বাক্কার
লেখক: যুবাইর বিন বাক্কার বিন আব্দুল্লাহ আল-কুরাইশি আল-আসাদি আল-মাক্কি (মৃত্যু ২৫৬ হি.)
তাহকিক: সামি মক্কি আল-আনি
প্রকাশক: আলামুল কুতুব - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৬ হি.-১৯৯৬ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫২
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١)
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ مَعْنِ بْنِ زَائِدَةَ: " كُنَّا فِي مَجْلِسٍ نَنْتَظِرُ الإِذْنَ فِيهِ عَلَى الْمَنْصُورِ، فَتَذَاكَرْنَا الْحَجَّاجَ، فَمِنَّا مَنْ حَمِدَهُ، وَمِنَّا مَنْ ذَمَّهُ، فَكَانَ مِمَّنْ حَمِدَهُ مَعْنُ بْنُ زَائِدَةَ، وَمِمَّنْ ذَمَّهُ الْحَسَنُ بْنُ زَيْدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلَيٍّ عليهم السلام، وَأُذِنَ لَنَا فَدَخَلْنَا عَلَى أَبِي جَعْفَرٍ، فَابْتَدَأَ الْحَسَنُ بْنِ زَيْدٍ، فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مَا كُنْتُ أَحْسَبُنِي أَبْقَى حَتَّى يُذْكَرَ الْحَجَّاجُ فِي دَارِكَ وَعَلَى بِسَاطِكَ، فَيُثْنَى عَلَيْهِ.
فَقَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَمَا تُنْكِرُ مِنْ ذَلِكَ؟ رَجُلٌ اسْتَكْفَاهُ قَوْمُهُ فَكَفَاهُمْ، وَاللَّهِ لَوَدَدْتُ أَنِّي وَجَدْتُ مِثْلَ الْحَجَّاجِ حَتَّى أَسْتَكْفِيَهُ أَمْرِي، وَأُنْزِلُهُ الْحَرَمَيْنِ حَتَّى يَأْتِيَنِي أَجَلِي.
قَالَ: فَقَالَ لَهُ مَعْنُ بْنُ زَائِدَةَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ لَكَ مِثْلَ الْحَجَّاجِ عَدَدًا مِنْ أَصْحَابِكَ لَوِ اسْتَكْفَيْتَهُمْ كَفَوْكَ.
قَالَ: وَمَنْ هُمْ؟ كَأَنَّكَ تُرِيدُ نَفْسَكَ.
قَالَ: وِإِنْ أَرَدْتُهَا فَمَهْ؟ قَالَ: كَلا لَسْتَ هُنَاكَ، إِنَّ الْحَجَّاجَ ائْتَمَنَهُ الْقَوْمُ فَأَدَّى إِلَيْهِمُ الأَمَانَةَ، وَائْتَمَنَّاكَ فَخُنْتَنَا
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: " قَدِمَ عَلَى مِزْيَدٍ مُخَنَّثٌ مِنْ مَكَّةَ، فَقَالَ لَهُ: بِأَبِي وَأُمِّي، دُلَّنِي عَلَى بَعْضِ مُخَنَّثِي الْمَدِينَةِ أَتَخَنَّثُ مَعَهُ.
فَأَتَى بِهَ دَارَ خُثَيْمٍ، وَهُوَ شُرْطِ الْمَدِينَةِ، قَالَ: دُونَكَ صَاحِبَ هَذَا الدَّارِ، فَدَخَلَ وخُثَيْمٌ يُصَلِّي، فَقَامَ فِي وَجْهِهِ، فَقَالَ لَهُ خُثَيْمٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ، فَقَالَ: سَبَّحَتَ بِأُمِّ الزِّنَا فِي جَامِعَةٍ قَمْلَةٍ، انْصَرِفِي، الْجَامِعَةُ: الْقَيْدُ، وَالْقَمْلُ: أَنْ يَطُولَ حَبْسُهُ فَيَقْمَلَ قَدُّهُ، حَتَّى أَتَحَدَّثَ مَعْكِ سَاعَةً، فَلَمَّا أَطَالَ خُثَيْمٌ، قَالَ: تَتَنَسَّكِينَ زِيَادَةً، فَانْصَرَفَ مِنْ صَلاتِهِ، فَأَمَرَ بِهِ فَجُلِدَ مِائَةَ جَلْدَةٍ، وَقَالَ: مَا شَأْنُكَ، فَأَخْبَرَهُ الْخَبَرَ، وَوَصَفَ لَهُ مَنْ دَلَّهُ، فَعَرِفَ أَنَّهُ مِزْيَدٌ، فَطَلَبَهُ فَلَمْ يَقْدِرْ عَلَيْهِ
حَدَّثَنِي الْمَدَائِنِيُّ، قَالَ: " كَانَ الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَقِيلٍ عَامِلا لِلْحَجَّاجِ عَلَى الْكُوفَةِ، وَكَانَ يُلَقَّبُ أَبَا صَفِيَّةَ، وَيَغْضَبُ مِنْهَا، فَاسْتَعْدَتِ امْرَأَةٌ عَلَى زَوْجِهَا، فَأَتَاهُ صَاحِبَ الدَّعْوى عِنْدَ الْمَسَاءِ.
قَالَ: نَعَمْ أَغْدُو مَعَكَ، فَبَاتَ الرَّجُلُ يَقُولُ لامْرَأَتِهِ: لَوْ قَدْ أَتَيْتُ الأَمِيرَ لَقُلْتُ: يَا أَبَا صَفِيَّةَ، إِنَّهَا تَفْعَلُ كَذَا وَكَذَا، فَيَأْمُرُ بِكِ مَنْ يُوجِعُكِ ضَرْبًا، وَجَعَلَ يُكَرِّرُ عَلَيْهَا: يَا أَبَا صَفِيَّةَ، فَحَفَظَتِ الْمَرْأَةُ الْكُنْيَةَ، وَظَنَّتْ أَنَّهَا كُنْيَةَ الأَمِيرِ، فَلَمَّا تَقَدَّمَتْ إِلَيْهِ، قَالَتْ: أَصْلَحَكَ اللَّهُ يَا أبَا صَفِيَّةَ، فَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عَافَاكِ اللَّهُ، فَأَعَادَتْ عَلَيْهِ، فَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: قَالَ: فَأَعَادَتْ، فَقَالَ لِزَوْجِهَا: خُذْ بِيَدِهَا فَإِنِّي أَظُنُّهَا ظَالِمَةً
আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাকে আবুল হাসান থেকে, তিনি সালিম ইবনে জিয়াদ থেকে এবং তিনি মা'ন ইবনে জায়িদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমরা একটি মজলিসে খলিফা আল-মনসুরের কাছে প্রবেশের অনুমতির অপেক্ষায় ছিলাম। সেখানে আমরা হাজ্জাজকে নিয়ে আলোচনা করলাম। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তার প্রশংসা করল এবং কেউ কেউ তার নিন্দা করল। মা'ন ইবনে জায়িদাহ তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তার প্রশংসা করেছিলেন, আর আল-হাসান ইবনে যাইদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আলী (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তার নিন্দা করেছিলেন। এরপর আমাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো এবং আমরা আবু জাফরের কাছে প্রবেশ করলাম। আল-হাসান ইবনে যাইদ কথা শুরু করলেন এবং বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমি কখনও ভাবিনি যে আমি এমন সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকব যখন আপনার দরবারে এবং আপনার গালিচায় বসে হাজ্জাজের আলোচনা করা হবে এবং তার প্রশংসা করা হবে।"
আবু জাফর বললেন: "এতে তুমি আপত্তির কী দেখছো? সে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার কাছে তার কওম দায়িত্ব অর্পণ করেছিল এবং সে তা যথাযথভাবে পালন করেছিল। আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই কামনা করি যে আমি যদি হাজ্জাজের মতো কাউকে পেতাম তবে তাকে আমার কার্যাবলীর দায়িত্ব দিতাম এবং আমার মৃত্যু আসা পর্যন্ত তাকে দুই হারামের দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতাম।"
বর্ণনাকারী বলেন: মা'ন ইবনে জায়িদাহ তাকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনার সঙ্গীদের মধ্যে হাজ্জাজের মতো অনেক লোক রয়েছে যাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করলে তারা তা পালন করবে।"
তিনি বললেন: "তারা কারা? মনে হচ্ছে তুমি নিজেকেই বুঝাতে চাচ্ছ।"
তিনি বললেন: "যদি আমি নিজেকেই বুঝিয়ে থাকি তবে তাতে কী?" তিনি বললেন: "কখনোই না, তুমি সেই স্তরের নও। হাজ্জাজের ওপর কওম আমানত রেখেছিল এবং সে সেই আমানত রক্ষা করেছিল, আর আমরা তোমার ওপর আমানত রেখেছি কিন্তু তুমি আমাদের সাথে খিয়ানত করেছ।"
আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মক্কা থেকে এক হিজড়া মিজয়াদের কাছে এলো এবং তাকে বলল: আমার মা-বাবা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমাকে মদিনার কোনো হিজড়ার সন্ধান দিন যার সাথে আমি সময় কাটাতে পারি।"
তখন সে তাকে খুসাইমের বাড়িতে নিয়ে গেল, যিনি ছিলেন মদিনার পুলিশ প্রধান। সে বলল: "এই নাও এই বাড়ির মালিক।" এরপর হিজড়াটি প্রবেশ করল যখন খুসাইম সালাত আদায় করছিলেন। সে তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। খুসাইম তাকে দেখে বললেন: "সুবহানাল্লাহ।" সে বলল: "তুমি ব্যভিচারিণীর গর্ভজাত হয়ে শেকলে বাঁধা ও উকুনে ভরা জীর্ণ অবস্থায় তাসবীহ পাঠ করছো? ফিরে এসো (সালাত শেষ করো)!"—এখানে জামিয়া অর্থ শেকল এবং কামল অর্থ দীর্ঘ বন্দিদশায় দেহে উকুন হওয়া—"যাতে আমি তোমার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারি।" যখন খুসাইম সালাত দীর্ঘ করলেন, সে বলল: "তুমি কি অতিরিক্ত ধার্মিকতা দেখাচ্ছো?" খুসাইম সালাত শেষ করে তাকে একশ দোররা মারার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: "তোমার বিষয় কী?" সে তখন পুরো ঘটনা খুলে বলল এবং তাকে যে পথ দেখিয়েছে তার বিবরণ দিল। তিনি বুঝতে পারলেন যে এটি মিজয়াদের কাজ। তিনি তাকে খুঁজলেন কিন্তু ধরতে পারলেন না।
মাদায়িনী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মুগীরা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আকীল কুফায় হাজ্জাজের গভর্নর ছিলেন। তাকে 'আবু সাফিয়্যাহ' উপনামে ডাকা হতো এবং তিনি এতে অত্যন্ত রাগান্বিত হতেন। এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এলো। বিবাদী স্বামী সন্ধ্যার সময় তার কাছে উপস্থিত হলো।"
সে বলল: "হ্যাঁ, আমি সকালে তোমার সাথে যাব।" রাতে লোকটি তার স্ত্রীকে বলতে লাগল: "আমি যখন আমিরের কাছে যাব তখন বলব—হে আবু সাফিয়্যাহ, এই নারী এমন এমন কাজ করে। তখন তিনি কাউকে নির্দেশ দেবেন যে তোমাকে প্রহার করে ব্যথিত করবে।" সে বারবার তার স্ত্রীর সামনে 'আবু সাফিয়্যাহ' বলতে লাগল। নারীটি সেই উপনাম মুখস্থ করে নিল এবং মনে করল এটিই আমিরের উপনাম। যখন সে আমিরের সামনে উপস্থিত হলো, তখন বলল: "হে আবু সাফিয়্যাহ, আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন।" তখন আবু আবদুল্লাহ (আমির) বললেন: "আল্লাহ তোমাকে সুস্থ করুন।" সে আবারও সেই নাম ধরে ডাকল। আবু আবদুল্লাহ পুনরায় উত্তর দিলেন। সে আবারও একই কাজ করল। তখন আমির তার স্বামীকে বললেন: "এর হাত ধরো (একে নিয়ে যাও), কারণ আমি মনে করি এই নারীই প্রকৃত অপরাধী।"
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢)
حَدَّثَنِي الْمَدَائِنِيُّ، قَالَ: قَالَ سَلْمُ بْنُ زِيَادٍ لِطَلَحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَلَفٍ الْخُزَاعِيِّ: " أُرِيدُ أَنْ أَصِلَ رَجُلا لَهُ حَقٌ عَلَيَّ وَصُحْبَةٌ بِأَلْفِ أَلْفِ دِرْهَمٍ، فَمَا تَرَى؟ قَالَ: أَرَى أَنْ تَجْعَلَ هَذِهِ الْعَشَرَةَ، قَالَ: فَأصِلُهُ بِخَمْسِ مِائَةِ أَلْفٍ، قَالَ: كَثِيرٌ.
فَلَمْ يَزَلْ بِهِ حَتَّى وَقَفَ عَلَى مِائَةِ أَلْفٍ، قَالَ: أَفَتَرَى مِائَةَ أَلْفٍ يُقْضَى بِهَا ذِمَامُ رَجُلٍ لَهُ انْقِطَاعٌ وَصُحْبَةٌ وَمَودَّةٌ وَحَقٌ وَاجِبٌ؟ ، قَالَ: نَعَمٌ، قَالَ: هِيَ لَكَ وَمَا أَرَدْتُ غَيْرَكَ.
قَالَ: أَقِلَّنِي، قَالَ: لا أَفْعَلْ وَاللَّهِ
حَدَّثَنِي مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ جَدِّي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُصْعَبٍ، قَالَ: " هَوَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الْجَعْدِيُّ بَصِيصَ جَارِيَةِ نَفِيسٍ، صَاحِبِ قَصْرِ نَفِيسٍ بِالْمَدِينَةَ.
فَبَلَغَهُ عَنْهَا شَيْءٌ أَنْكَرَهُ، فَغَابَ عَنْهَا زَمَانًا، ثُمَّ أَتَاهَا، فَقَالَ لَهَا: تُغَنِّينَ:
وَكُنْتُ أُحِبُّكُمْ فَسَلَوْتُ عَنْكُمْ
… عَلَيْكُمْ فِي دِيَارِكُمُ السَّلامُ
فَقَالَتْ: نَعَمْ، وأُغَنِّي:
تَحَمَّلَ أَهْلُهَا عَنْهَا فَبَانُوا
… عَلَى آثَارِ مَنْ ذَهَبَ الْعَفَاءُ
قَالَ: فَازْدَادَ بِهَا شَغَفًا وَكَلَفًا، وَأَقَامَ مَلِيًّا يُدِيمُ النَّظَرَ إِلَيْهَا، ثُمَّ قَالَ: تُغَنِّينَ:
وَأَخْضَعُ لِلْعُتْبَى إِذَا كُنْتُ ظَالِمًا
… وَإِنْ ظُلِمْتُ كُنْتُ الَّذِي أَتَنَصَّلُ
قَالَتْ: نَعَمْ، وَأُغَنِّي:
فَإِنْ تُقْبِلُوا نُقْبِلْ عَلَيْكُمْ بِوُدِّنَا
… وَنُنْزِلُكُمْ مِنَّا بِرَحْبِ الْمَنَازِلِ
قَالَ: فَتَقَاطَعَا فِي بَيْتَيْنِ، وَتَوَاصَلا فِي بَيْتَيْنِ، وَلَمْ يَفْطِنْ مِنَ الْقَوْمِ غَيْرِي
حَدَّثَنِي أَبُو الْحَسَنِ الْمَدَائِنِيُّ، قَالَ: قَالَ بَسِيلُ التُّرْجُمَانُ: كُنْتُ مَعَ الرَّشِيدِ فِي بَلادِ الرُّومِ، فَلَمَّا افْتَتَحَ أَنْقَرَةَ فَإِذَا بِحَجَرٍ عَظِيمٍ مَنْصُوبٍ عَلَى بَابِ الْحِصْنِ فِيهِ كِتَابٌ بِالْيُونَانِيَّةِ، وَهِيَ الرُّومِيَّةُ الْقَدِيمَةُ، وَكَانَ ذَوُ الْقَرْنَيْنِ مِنْ وَلَدِ يُونَنَ بْنِ يُونَانَ، فَجَعَلْتُ أَقْرَأُهُ وَأَنْقُلُهُ إِلَى الْعَرَبِيَّةِ، وَالرَّشِيدُ يَنْظُرُ فَإِذَا فِيهِ: " بِسْمِ اللَّهِ الْمَلِكِ الْحَقِّ الْمُبِينِ، يَا ابْنَ آدَمَ غَافِصِ الْفُرْصَةَ عِنْدَ إِمْكَانِهَا، وَكِّلِ الأُمُورَ إِلَى وَالِيهَا، وَلا يَحْمِلَنَّكَ إِفْرَاطُ السُّرُورِ عَلَى مَأْتَمٍ، ولا تَحْمِلَنَّ عَلَى نَفْسِكَ هَمَّ يَوْمٍ لَمْ يَأْتِكْ، فَإِنَّهُ إِنْ يَكُنْ مِنْ أَجَلِكْ يَأْتِكَ اللَّهُ فِيهِ بِرِزْقِكَ، لا تَكُنْ أَسْوأَ الْمَغْرُورِينَ فِي جَمْعِ الْمَالِ، فَكَمْ رَأَيْنَا مِنْ جَامِعٍ جَمَعَ مَالا لِبَعْلِ حَلِيلَتِهِ عَلَى أَنَّ تَقْتِيرَ الْمَرْءِ عَلَى نَفْسِهِ تَوْفِيرٌ مِنْهَ عَلَى خِزَانَةِ غَيْرِهِ يَنْبَغِي لِحُكَمَاءِ الْيُوَنَانِ أَنْ يَنْظُرُوا فِي هَذَا الْكِتَابِ كُلَّ يَوْمٍ، قَالَ: فَنَظَرْتُ فَإِذَا تَأْرِيخَهُ أَكْثَرَ مِنْ أَلْفَيْ سَنْةٍ
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: " كُنْتُ عِنْدَ الْمَأْمُونِ بِدِمَشْقَ، وَكَانَ قَدْ قَلَّ الْمَالُ عِنْدَهُ حَتَّى ضَاقَ، وَشَكَا ذَلِكَ إِلَى أَبِي إِسْحَاقَ الْمُعْتَصِمِ، فَقَالَ لَهُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، كَأَنَّكَ بِالْمَالِ وَقَدْ وَافَاكَ بَعْدَ جُمُعَةٍ، قَالَ: وَكَانَ قَدْ حَمَلَ إِلَيْهِ ثَلاثِينَ أَلْفَ دِرْهَمٍ مِنْ خَرَاجِ مَا كَانَ يَتَوَلاهُ أَبُو إِسْحَاقَ لَهُ.
মাদাইনি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালম ইবনে যিয়াদ তলাহা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খালাফ আল-খুযায়িকে বললেন: "আমি এমন এক ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ করতে চাই যার আমার উপর হক ও সাহচর্য রয়েছে, দশ লক্ষ দিরহাম দিয়ে। আপনার অভিমত কী?" তিনি বললেন: "আমার অভিমত হলো আপনি একে দশটি ভাগে বিভক্ত করুন।" তিনি বললেন: "তাহলে আমি তাকে পাঁচ লক্ষ দিরহাম দিচ্ছি।" তিনি বললেন: "এটিও অনেক বেশি।"
তিনি তার সাথে এভাবেই আলোচনা চালিয়ে যেতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি এক লক্ষে এসে থামলেন। তিনি বললেন: "আপনার কি মনে হয় এক লক্ষ দিরহাম দিয়ে এমন এক ব্যক্তির হক আদায় হবে যার পূর্ণ একাগ্রতা, সাহচর্য, ভালোবাসা এবং অবধারিত অধিকার রয়েছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তাহলে এটি আপনার জন্যই, আর আমি আপনি ব্যতীত অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করিনি।"
তিনি বললেন: "আমাকে অব্যাহতি দিন।" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি তা করব না।"
মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন তার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে মুসআব থেকে, তিনি বলেন: "মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-জাদি মদিনার কাসরে নাফিসের মালিক নাফিসের দাসী বসিসের প্রেমে পড়েছিলেন।
অতঃপর তার সম্পর্কে তিনি এমন কিছু সংবাদ পেলেন যা তিনি অপছন্দ করলেন, ফলে দীর্ঘকাল তার থেকে দূরে থাকলেন। এরপর তিনি তার কাছে আসলেন এবং তাকে বললেন: "তুমি কি এই গানটি গাইবে:
আমি তোমাদের ভালোবাসতাম, অতঃপর তোমাদের ভুলে গেছি
… তোমাদের গৃহসমূহে তোমাদের প্রতি সালাম।"
সে বলল: "হ্যাঁ, এবং আমি ইহাও গাইছি:
এর অধিবাসীরা এখান থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছে
… যারা চলে গেছে তাদের পদচিহ্নের ওপর এখন কেবল ধুলোবালিই অবশিষ্ট আছে।"
বর্ণনাকারী বলেন: এতে তার প্রতি তার আসক্তি ও অনুরাগ আরও বৃদ্ধি পেল এবং তিনি দীর্ঘক্ষণ তার দিকে অপলক তাকিয়ে রইলেন। এরপর বললেন: "তুমি কি এই গানটি গাইবে:
আমি যদি অন্যায়কারী হই তবে অভিযোগের সামনে মাথা নত করি
… আর যদি আমার ওপর জুলুম করা হয় তবে আমিই সেই যে ক্ষমা প্রার্থনা করে।"
সে বলল: "হ্যাঁ, এবং আমি ইহাও গাইছি:
যদি আপনারা এগিয়ে আসেন তবে আমরাও আমাদের ভালোবাসা নিয়ে আপনাদের দিকে এগিয়ে আসব
… এবং আপনাদেরকে আমাদের হৃদয়ের প্রশস্ত আবাসে স্থান দেব।"
তিনি বলেন: "তারা কবিতার দুটি চরণে একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল এবং অন্য দুটি চরণে পুনরায় মিলিত হল। সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেনি।"
আবুল হাসান আল-মাদাইনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাসিল অনুবাদক বলেছেন: "আমি রুম দেশে হারুনুর রশিদের সাথে ছিলাম। যখন তিনি আঙ্কারা জয় করলেন, তখন দুর্গের দরজায় স্থাপিত একটি বিশাল পাথর পাওয়া গেল যাতে গ্রিক ভাষায় (যা প্রাচীন রুমি ভাষা) কিছু লেখা ছিল—আর যুলকারনাইন ছিলেন ইউনান ইবনে ইউনানের বংশধর। আমি তা পড়তে শুরু করলাম এবং আরবিতে অনুবাদ করছিলাম আর রশিদ তা দেখছিলেন। তাতে লেখা ছিল: 'পরম সত্য ও সুস্পষ্ট অধিপতি আল্লাহর নামে। হে আদম সন্তান, সুযোগ পেলেই তার সদ্ব্যবহার করো। সকল বিষয় তার উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের ওপর অর্পণ করো। অতিরিক্ত আনন্দ যেন তোমাকে বিলাপের দিকে ঠেলে না দেয়। আর যে দিনটি এখনো আসেনি তার দুশ্চিন্তা নিজের ওপর চাপিয়ে দিও না; কারণ সেটি যদি তোমার আয়ুর অন্তর্ভুক্ত থাকে তবে আল্লাহ তাতেই তোমার রিযিক পৌঁছে দেবেন। সম্পদ পুঞ্জীভূত করার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তদের মধ্যে নিকৃষ্টতম হয়ো না; কারণ আমরা অনেক সংগ্রহকারীকে দেখেছি যে তার স্ত্রীর পরবর্তী স্বামীর জন্য সম্পদ জমা করে গেছে। বস্তুত নিজের ক্ষেত্রে মানুষের কার্পণ্য অন্য কারো ভাণ্ডারই সমৃদ্ধ করে। গ্রিক প্রজ্ঞাবানদের উচিত প্রতিদিন এই লেখাটির দিকে দৃষ্টিপাত করা।' তিনি বলেন: আমি লক্ষ্য করে দেখলাম এর বয়স দুই হাজার বছরেরও বেশি।"
ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি দামেস্কে আল-মামুনের কাছে ছিলাম। তখন তার কাছে অর্থের টান পড়েছিল এমনকি তিনি সংকটে পড়েছিলেন। তিনি আবু ইসহাক আল-মুতাসিমের নিকট এ বিষয়ে অভিযোগ করলেন। আল-মুতাসিম তাকে বললেন: 'হে আমিরুল মুমিনীন, মনে করুন যেন এক সপ্তাহ পরেই আপনার নিকট অর্থ পৌঁছে গেছে।' বর্ণনাকারী বলেন: আবু ইসহাকের তত্ত্বাবধানে থাকা অঞ্চল থেকে তখন খেরাজ বাবদ ত্রিশ হাজার দিরহাম তার কাছে আনা হয়েছিল।"
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٣)
فَلَمَّا وَرَدَ عَلَيْهِ ذَلِكَ الْمَالُ، قَالَ الْمَأْمُونُ لِيَحْيَى بْنِ أَكْثَمَ: اخْرُجْ بِنَا نَنْظُرُ هَذَا الْمَالَ، فَخَرَجَا حَتَّى أَصْحَرَا وَوَقَفَا يَنْظُرَانِ إِلَيْهِ، وَكَانَ قَدْ هُيِّئَ بِأَحْسَنِ هَيْئَةٍ، وَحُلِّيَتْ أَبَاعِرُهُ، وُأُلْبِسَتِ الإِحْلاسُ الْمُوَشَّاةُ، وَالْجِلالُ الْمَصْبُوغَةُ، وَقُلِّدَتِ الْعِهَنُ، وَجُعِلَتِ الْبِدُورُ مَنَ الْحَرِيرِ الأَحْمَرِ وَالأَخْضَرِ وَالأَصْفَرِ، وَأُبْدِيَتْ رُؤُوسُهَا، قَالَ: فَنَظَرَ الْمَأْمُونُ إِلَى شَيْءٍ حَسَنٍ، وَاسْتَكْثَرَ ذَلِكَ الْمَالَ، وَعَظُمَ فِي عَيْنِهِ، وَاسْتَشْرَفَهُ النَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ، وَيَعْجَبُونَ مِنَهُ، قَالَ: فَقَالَ الْمَأْمُونُ لِيَحْيَى: يَا أبَا مُحَمَّدٍ، يَنْصَرِفُ أَصْحَابُنَا هَؤُلاءِ الَّذِينَ تَرَاهُمْ إِلَى مَنَازِلِهِمْ خَائِبِينَ وَنَنْصَرِفُ نَحْنُ بِهَذِهِ الأَمْوَالِ قَدْ مَلَكْنَاهَا دُونَهَمْ! إِنَّا إِذًا لَلِئَامٌ، ثُمَّ دَعَا مُحَمَّدَ بْنَ يَزْدَادَ، فَقَالَ: وَقِّعْ لِفُلانٍ بِأَلْفِ أَلْفٍ، وَلِفُلانٍ بِمِثْلِهَا، وَلِفُلانٍ بِثَلاثِمِائَةِ أَلْفٍ، وَلِفُلانٍ بِمِثْلِهَا.
قَالَ: فَوَاللَّهِ إِنْ زَالَ كَذَلِكَ حَتَّى فَرَّقَ أَرْبَعَةً وَعِشْرِينَ أَلْفَ أَلْفِ دِرْهَمٍ، وَرِجْلُهُ فِي رِكَابِهِ.
ثُمَّ قَالَ: ادْفَعِ الْبَاقِيَ إِلَى الْمُعَلَّى لِعَطَاءِ جُنْدِنَا، قَالَ: فَقَالَ الْعَيْشِيُّ: فَجِئْتُ حَتَّى قُمْتُ نُصْبَ عَيْنَيْهِ فَلَمْ أَرُدَّ طَرْفِي عَنْهُ، فَجَعَلَ لا يَلْحَظُنِي إِلا رَآنِي بِتِلْكَ الْحَالِ.
فَقَالَ: يَا أبَا مُحَمَّدٍ، وَقِّعْ لِهَذَا بِخَمْسِينَ أَلَفَ دِرْهَمٍ مِنِ السِّتَّةِ الآلافِ أَلْفِ دِرْهَمٍ لا يَخْتَلِسُ نَاظِرِي.
قَالَ: فَلَمْ يَأْتِ عَلَيَّ لَيْلَتَانِ حَتَّى أَخَذْتُ الْمَالَ ".
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمِ: قَالَ: لمَّا سَارَ الْمَأْمُونُ إِلَى دِمَشْقَ ذَكَرُوا لَهُ أَبَا مُسْهِرٍ الدِّمَشْقِيَّ وَوَصَفُوهُ بِالْعِلْمِ وَالْفِقْهِ، فَوَجَّهَ مَنْ جَاءَ بِهِ، فَقَالَ: مَا تَقُولُ فِي الْقُرْآنِ؟ قَالَ: كَمْا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ} [التوبة: 6] قَالَ: أَمَخْلُوقٌ، أَمْ غَيْرُ مَخْلَوقٍ؟ قَالَ: مَا يَقُولُ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: يَقُولُ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهُ مَخْلُوقٌ.
قَالَ: بِخَبَرٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهِ عَلَيْهِ وَآلِهِ، أَوْ عَنِ الصَّحَابَةَ، أَوْ عَنِ التَّابِعِينَ، أَوْ عَنْ أَحَدٍ مِنَ الْفُقَهَاءِ؟ ، قَالَ: بِالنَّظَرِ، وَاحْتَجَّ عَلَيْهِ قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، نَحْنُ مَعَ الْجُمْهُورِ الأَعْظَمِ، أَقُولُ بِقَوْلِهِمُ، وَالْقُرْآنُ كَلامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ.
قَالَ: يَا شَيْخُ، أَخْبِرْنِي عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهِ عَلَيْهِ وَآلِهِ أَكَانَ يُشْهِدُ إِذَا تَزَوَّجَ؟ قَالَ: لا أَدْرِي.
قَالَ: اخْرُجْ، قَبَّحَكَ اللَّهُ، وَقَبَّحَ مَنْ قَلَّدَكَ دِينُهُ وَجَعَلَكْ قُدْوَةً
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الأَنْمَاطِيُّ، وَكَانَ أَحَدَ الْفُقَهَاءِ الْعَشَرَةِ، قَالَ: " تَغَدَّيْنَا فِي يَوْمِ عِيدٍ مَعَ الْمَأْمُونِ، فَأَظُنُّهُ قَدْ وَضَعَ عَلَى الْمَائِدَةَ بَيْنَ يَدَيْهِ أَكْثَرَ مِنْ ثَلاثِمِائَةِ لَوْنٍ.
যখন সেই সম্পদ তাঁর নিকট এসে পৌঁছাল, আল-মামুন ইয়াহইয়া ইবনে আকসামকে বললেন: আমাদের সাথে বের হোন যেন আমরা এই সম্পদ দেখতে পারি। অতঃপর তাঁরা উভয়ে বের হলেন এমনকি তাঁরা মরুভূমিতে পৌঁছালেন এবং দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকাতে লাগলেন। তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে সজ্জিত করা হয়েছিল, উটগুলোকে অলঙ্কৃত করা হয়েছিল, সেগুলোকে কারুকার্যখচিত চাদর ও রঙীন ঝালর পরানো হয়েছিল, পশমি মালা পরানো হয়েছিল এবং লাল, সবুজ ও হলুদ রেশমের পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, আর সেগুলোর মাথাগুলো অনাবৃত রাখা হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন: আল-মামুন এক চমৎকার দৃশ্য দেখলেন এবং সেই সম্পদের প্রাচুর্য লক্ষ্য করলেন, তাঁর দৃষ্টিতে তা বিশাল মনে হলো। মানুষ উঁকি দিয়ে সেদিকে তাকাচ্ছিল এবং তা দেখে বিস্মিত হচ্ছিল। তিনি বলেন: আল-মামুন ইয়াহইয়াকে বললেন: হে আবু মুহাম্মদ! আমাদের এই সঙ্গীরা যাদের আপনি দেখছেন, তারা কি তাদের ঘরে বঞ্চিত হয়ে ফিরে যাবে, আর আমরা এই সম্পদগুলো তাদের ছাড়াই নিজেদের অধিকারে নিয়ে ফিরে যাব? তাহলে তো আমরা অবশ্যই নীচ সাব্যস্ত হব। তারপর তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজদাদকে ডাকলেন এবং বললেন: অমুকের জন্য দশ লক্ষের বরাদ্দ লেখো, অমুকের জন্য সমপরিমাণ, অমুকের জন্য তিন লক্ষ এবং অমুকের জন্য সমপরিমাণ।
তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ, তিনি এভাবে দান করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি দুই কোটি চল্লিশ লক্ষ দিরহাম বণ্টন করে দিলেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর পা তখনও তাঁর রেকাবে ছিল।
অতঃপর তিনি বললেন: অবশিষ্টাংশ মুয়াল্লাকে দিয়ে দাও আমাদের সৈন্যদের বেতনের জন্য। বর্ণনাকারী আল-আইশি বলেন: আমি এসে তাঁর চোখের সামনে দাঁড়ালাম এবং তাঁর দিক থেকে আমার দৃষ্টি ফিরালাম না। তিনি যখনই আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন, আমাকে সেই অবস্থায় দেখতে পাচ্ছিলেন।
তিনি বললেন: হে আবু মুহাম্মদ, এই ব্যক্তির জন্য সেই ষাট লক্ষ দিরহাম থেকে পঞ্চাশ হাজার দিরহামের বরাদ্দ লেখো, যে আমার নজর এড়াচ্ছে না।
তিনি বলেন: দুই রাত অতিবাহিত হওয়ার আগেই আমি সেই সম্পদ গ্রহণ করলাম।
ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল-মামুন দামেস্কের দিকে যাত্রা করলেন, লোকেরা তাঁর কাছে আবু মুসহির আল-দামেস্কির কথা উল্লেখ করলেন এবং তাঁর জ্ঞান ও ফিকহ শাস্ত্রের প্রশংসা করলেন। তখন তিনি তাঁকে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠালেন। মামুন জিজ্ঞাসা করলেন: কুরআন সম্পর্কে আপনার মত কী? তিনি বললেন: মহান আল্লাহ যেমন বলেছেন: {আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি আপনার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দিন যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পায়} [আত-তাওবাহ: ৬]। মামুন বললেন: এটি কি সৃষ্ট নাকি অসৃষ্ট? তিনি বললেন: আমিরুল মুমিনীন কী বলেন? তিনি বললেন: আমিরুল মুমিনীন বলেন যে এটি সৃষ্ট।
তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো সংবাদের ভিত্তিতে, নাকি সাহাবায়ে কেরাম, নাকি তাবেঈগণ, নাকি কোনো ফকিহ বা আইনবিদের মতের ভিত্তিতে? মামুন বললেন: যুক্তির ভিত্তিতে, এবং তিনি তাঁর বিপক্ষে যুক্তি পেশ করলেন। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সাথে আছি, আমি তাদের মতেই মত দিই; আর কুরআন হলো আল্লাহর বাণী, তা সৃষ্ট নয়।
মামুন বললেন: হে শাইখ, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বলুন, তিনি যখন বিবাহ করতেন তখন কি কাউকে সাক্ষী রাখতেন? তিনি বললেন: আমি জানি না।
মামুন বললেন: বের হয়ে যাও, আল্লাহ তোমাকে কুৎসিত করুন এবং তাকেও কুৎসিত করুন যে দ্বীনের বিষয়ে তোমাকে অনুসরণ করেছে এবং তোমাকে আদর্শ বানিয়েছে।
মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-আনমাতি—যিনি দশজন ফকিহ বা আইনবিদের একজন ছিলেন—আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা এক ঈদের দিনে আল-মামুনের সাথে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম। আমার ধারণা, তিনি তাঁর সামনে দস্তরখানে তিনশটিরও বেশি পদের খাবার রেখেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٤)
قَالَ: فَكُلَّمَا وُضِعَ لَوْنٌ، نَظَرَ إِلَيْهِ الْمَأْمُونُ، وَقَالَ: هَذَا نَافِعٌ لِكَذَا ضَارٌ مِنْ كَذَا، فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ صَاحِبُ صَفْرَاءَ فَلْيَأْكُلْ مِنْ هَذَا، وَمَنْ غَلَبَتْ عَلَيْهِ السَّوْدَاءُ فَلا يَعْرِضْ لِهَذَا، وَمَنْ أَحَبَّ الزِّيَادَةَ فِي لَحْمِهِ فَلْيَأْكُلْ مِنْ هَذَا، وَمَنْ قَصْدُهُ قِلَّةُ الْغِذَاءِ فَلْيَقْتَصَرْ عَلَى هَذَا.
قَالَ: فَوَاللَّهِ إِنْ تَلِكَ حَالُهُ مِنْ كُلِّ لَونٍ يُقَدَّمُ، حَتَّى رُفِعَتِ الْمَوَائِدُ.
قَالَ: فَقَالَ لَهُ يَحْيَى بْنُ أَكْثَمَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنْ خُضْنَا فِي الطِّبِ كُنْتَ جَالِينُوسَ فِي مَعْرَفَتِهِ، أَوْ فِي النُّجُومِ كُنْتَ هِرْمِسَ فِي حِسَابِهِ، أَوْ فِي الْفِقْهِ كُنْتَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام فِي عِلْمِهِ، أَوْ فِي السَّخَاءِ فَأَنْتَ حَاتِمُ طَيِّء فِي جُودِهِ، أَوْ صِدْقِ الْحَدِيثِ فَأَنْتَ أَبُو ذَرٍّ فِي صِدْقِ لَهْجَتِهِ، أَوِ الْكَرَمِ، فَأَنْتَ كَعْبُ بْنُ مَامَةَ فِي إِيثَارِهِ عَلَى نَفْسَهِ.
قَالَ: فَسُرَّ بِذَلِكَ الْمَأْمُونُ، وَقَالَ: يَا أَبَا مُحَمَّدٍ، إِنَّ الإِنْسَانَ إِنَّمَا فُضِّلَ عَلَى غَيْرِهِ مِنَ الْهَوَامِّ بِفِعْلِهِ وَعَقْلِهِ وَتَمْيِيزِهِ، وَلَوْلا ذَلِكَ لَمْ يَكُنْ لَحْمٌ أَطْيَبَ مِنْ لَحْمٍ وَلا دَمٌ أَطْيَبَ مِنْ دَمٍ
حَدَّثَنِي عَمِّي مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، كَانَ الْمَأْمُونُ قَدْ هَمَّ بِلَعْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ: " فَفَثَأَهُ عَنْ ذَلِكَ يَحْيَى بْنُ أَكْثَمَ.
قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ الْعَامَةَ لا تَحْتَمَلُ هَذَا، وَسِيَّمَا أَهْلُ خُرَاسَانَ، وَلا تَأْمَنُ أَنْ تَكُونَ لَهُمْ نَفْرَةٌ، وإِذَا كَانَتْ لَمْ تَدْرِ مَا عَاقِبَتُهَا، وَالرَّأْيُ أَنْ تَدَعَ النَّاسَ عَلَى مَا هُمْ عَلَيْهِ، وَلا تُظْهِرْ لَهُمْ أَنَّكَ تَمِيلُ إِلَى فِرْقَةٍ مِنِ الْفِرَقِ، فَإِنَّ ذَلِكَ أَصْلَحُ فِي السِّياسَةِ، وَأَحْرَى فِي التَّدْبِيرِ، قَالَ: فَرَكَنَ الْمَأْمُونُ إِلَى قَوْلِهِ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ ثُمَامَةُ، قَالَ: يَا ثُمَامَةُ، قَدْ عَلِمْتَ مَا كُنَّا دَبَّرْنَاهُ فِي مُعَاوِيَةَ، وَقَدْ عَارَضَنَا رَأْيٌ أَصَلَحُ فِي تَدْبِيرِ الْمَمْلَكَةِ، وَأَبْقَى ذِكْرًا فِي الْعَامَّةِ.
ثُمَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ يَحْيَى بْنَ أَكْثَمَ خَوَّفَهُ إِيَّاهَا، وَأَخْبَرَهُ بِنُفُورِهِ عَنْ هَذَا الرَّأْيِ، فَقَالَ ثُمَامَةُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، وَالْعَامَّةُ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ الَّذِي وَضَعَهَا يَحْيَى، وَاللَّهِ لَوْ وَجَّهَتَ إِنْسَانًا عَلَى عَاتِقِهِ سَوَادٌ لَسَاقَ إِلَيْكَ بِعَصَاه عَشَرَةَ آلافٍ مِنْهَا.
وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مَا رَضِيَ اللُّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ، أَنْ سَوَّاهَا بِالأَنْعَامِ حَتَّى جَعَلَهُمْ أَضَلَّ مِنْهَا سَبِيلا.
وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، لَقَدْ مَرَرْتُ مُنْذُ أَيَّامٍ فِي شَارِعِ الْخُلْدِ وَأَنَا أُرِيدُ الدَّارَ، فَإِذَا إِنْسَانٌ قَدْ بَسَطَ كِسَاءَهُ وَأَلْقَى عَلَيْهِ أَدْوِيَةً، وَهُوَ قَائِمٌ يُنَادِي عَلَيْهَا: هَذَا الدَوَاءُ لِبَيَاضِ الْعَيْنِ وَالْغَشَاوَةِ، وَضَعْفِ الْبَصَرِ وَإِنَّ إِحْدَى عَيْنَيْهِ لَمَطْمُوسَةٌ، وَالأُخْرَى لَمُوشِكَةٌ.
তিনি বললেন: যখনই কোনো প্রকার খাবার রাখা হতো, আল-মামুন সেটির দিকে তাকাতেন এবং বলতেন: "এটি অমুক রোগের জন্য উপকারী এবং অমুক রোগের জন্য ক্ষতিকর। তোমাদের মধ্যে যার পিত্তাধিক্য রয়েছে সে যেন এটি ভক্ষণ করে, আর যার ওপর কৃষ্ণ পিত্ত প্রবল হয়েছে সে যেন এর ধারেকাছে না যায়। যে ব্যক্তি নিজ দেহে মাংস বৃদ্ধি করতে চায় সে যেন এটি খায়, আর যার উদ্দেশ্য হলো স্বল্প আহার করা সে যেন এতেই সীমাবদ্ধ থাকে।"
তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, দস্তরখান তুলে না নেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি খাবারের ক্ষেত্রেই তার অবস্থা এমনই ছিল।
তিনি বললেন: এরপর ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম তাকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, যদি আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করি তবে আপনি এর জ্ঞানে গ্যালেন (জালিনুস); যদি জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে আলোচনা করি তবে আপনি এর গণনায় হার্মিস; যদি ফিকহ নিয়ে আলোচনা করি তবে আপনি ইলমের ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবু তালিব (আলাইহিস সালাম); যদি দানশীলতার কথা আসে তবে আপনি দানে হাতিম তাঈ; যদি সত্যবাদিতার কথা আসে তবে আপনি সত্য কথনে আবু যার; আর যদি উদারতার কথা আসে তবে আপনি আত্মত্যাগের ক্ষেত্রে কাব ইবনে মামা।"
তিনি বললেন: এতে আল-মামুন আনন্দিত হলেন এবং বললেন: "হে আবু মুহাম্মদ, মানুষ তার কর্ম, বুদ্ধি এবং বিচারশক্তির মাধ্যমেই অন্যান্য প্রাণিকুল থেকে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। তা না হলে কোনো মাংসই অন্য মাংসের চেয়ে উৎকৃষ্ট হতো না এবং কোনো রক্তই অন্য রক্তের চেয়ে উত্তম হতো না।"
আমার চাচা মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আল-মামুন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানকে অভিশাপ দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন। তিনি বললেন: "অতঃপর ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম তাকে তা থেকে নিবৃত্ত করেন।"
তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, সাধারণ মানুষ এটি সহ্য করবে না, বিশেষ করে খোরাসানের অধিবাসীরা। আপনি তাদের বিরূপ হওয়া থেকে নিরাপদ নন; আর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে এর পরিণতি কী হবে তা আপনি জানেন না। বুদ্ধিমানের কাজ হলো মানুষকে যে অবস্থায় তারা আছে সেভাবেই ছেড়ে দেওয়া এবং তাদের সামনে এটি প্রকাশ না করা যে আপনি কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি ঝুঁকে আছেন। এটি রাজনীতির জন্য অধিক সংশোধনমূলক এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অধিক উপযুক্ত।" তিনি বলেন: আল-মামুন তার কথায় আশ্বস্ত হলেন। এরপর যখন সুমামাহ তার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি বললেন: "হে সুমামাহ, মুয়াবিয়ার ব্যাপারে আমরা যা পরিকল্পনা করেছিলাম তা তো তুমি জানো। তবে এখন আমাদের সামনে এমন এক মত প্রকাশ পেয়েছে যা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অধিক উপযোগী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখার ক্ষেত্রে উত্তম।"
অতঃপর তিনি তাকে জানালেন যে ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং এই মতের ব্যাপারে তার অনীহার কথা জানিয়েছেন। তখন সুমামাহ বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, সাধারণ মানুষ কি সেই অবস্থানে আছে যেখানে ইয়াহইয়া তাদের রেখেছেন? আল্লাহর কসম, আপনি যদি কাঁধে কালো কাপড় ঝোলানো কোনো সাধারণ মানুষকে পাঠান, তবে সে তার লাঠি দিয়েই দশ হাজার সাধারণ মানুষকে আপনার কাছে তাড়িয়ে নিয়ে আসবে।"
"আল্লাহর কসম, হে আমিরুল মুমিনীন, মহান আল্লাহ তাদের চতুষ্পদ জন্তুর সমান মনে করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি তাদের পশুর চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।"
"আল্লাহর কসম হে আমিরুল মুমিনীন, কয়েক দিন আগে আমি আল-খুলদ সড়ক দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। তখন দেখলাম এক ব্যক্তি তার চাদর বিছিয়ে তাতে কিছু ওষুধ রেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে ডাকছে: 'এই ওষুধ চোখের ছানি, ঝাপসা দেখা এবং দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতার জন্য,' অথচ তার নিজের এক চোখ ছিল অন্ধ এবং অন্যটি ছিল অন্ধপ্রায়।"
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٥)
وَالنَّاسُ قَدِ انْثَالُوا عَلَيْهِ، وَأَجْفَلُوا إِلَيْهِ يَسْتَوْصِفُونَهُ فَنَزَلْتُ عَنْ دَابَتِي، وَدَخَلْتُ فِي غِمَارِ تِلْكَ الْجَمَاعَةِ، فَقُلْتُ: يَا هَذَا، عَيْنَاكَ أَحْوَجُ مِنْ هَذَهِ الأَعْيُنِ إِلَى الْعِلاجِ، وَأَنَتَ تَصِفُ هَذَا الدَّواءَ، وَتُخْبِرُ أَنَّهُ شِفَاءٌ لِوَجِعِ الأَعْيُنِ، فَلِمَ لا تَسْتَعْمِلُهُ؟ فَقَالَ: أَنَا فِي هَذَا الْمَوْضِعِ مُنْذُ عِشْرِينَ سَنَةً، مَا مَرَّ بِي شَيخٌ أَجْهَلَ مِنْكَ.
قُلْتُ: وَكَيْفَ ذَاكَ؟ قَالَ: يَا جَاهُلُ، أَتَدْرِي أَيْنَ اشْتُكَّتْ عَيْنِي؟ قُلْتُ: لا.
قَالَ: بِمِصْرَ، قَالَ: فَأَقْبَلَتْ عَلَيَّ الْجَمَاعَةُ، فَقَالُوا: صَدَقَ الرَّجُلُ، أَنْتَ جَاهِلٌ، وَهَمُّوا بِي، فَقُلْتُ: لا وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ أَنَّ عَيْنَهُ اشْتُكَّتْ بِمِصْرَ.
قَالَ: فَمَا تَخَلَّصْتُ مِنْهُمْ إِلا بِهَذِهِ الْحُجَّةِ، قَالَ: فَضَحِكَ الْمَأْمُونُ، وَقَالَ: مَاذَا لَقِيَتَ الْعَامَّةُ مِنْكَ؟ قُلْتُ: الَّذِي لَقِيَتْ مِنَ اللَّهِ مِنْ سُوءِ الثَّنَاءِ وَقُبْحِ الذِّكْرِ أَكْثَرُ، قَالَ: أَجَلْ
حَدَّثَنِي بَعْضُ أَصْحَابِنَا، عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنِ السَّرِيِّ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: " قَالَ لِي شُرَيْحٌ الْقَاضِي: مَا غَلَبَنِي فِي الْجَوَابِ أَحَدٌ قَطُّ كَرَجُلٍ أَتَانِي يَوْمًا فِي مَجْلِسِ الْقَضَاءِ حِينَ صَلَّيْتُ الْغَدَاةَ وَمَعَهُ خَصْمٌ لَهُ، وَعَلَى الْفَتَى جُمَّةٌ لَهُ كَأَنَّهَا قَتَادَةٌ قُدِّرَ رَطَلُهَا، فَتَكَادُ تَقْطُرُ، فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ غَاظَنِي، فَقُلْتُ لَهُ: أَمَا كَانَ لَكَ هِمَّةٌ مُنْذُ أَصْبَحْتَ إِلا شَعْرَكَ هَذَا تُرَطِّلُهُ، فَقَالَ لِيَ الْفَتَى: لَيْسَ لِهَذَا جَلَسْنَا بَيْنَ يَدَيْكَ، إِنَّمَا جَلَسْنَا نَتَخَاصَمُ إِلَيْكَ، فَأَمَّا أَنْ تَكُونَ مُحْتَسِبًا عَلَى الشَّعْرِ فَلا، فَأَغْضَبَنِي.
فَقُلْتُ لَهُ: أَرَاكَ مُعْجَبًا بِنَفْسِكَ؟ قَالَ: أَنَا إِذَا زَهَدْتُ فِي نَفْسِي، فَمَنْ يُعْجَبُ فِيهَا؟ قَالَ شُرَيْحٌ: فَقُلْتُ لَهُ: أَرَاكَ تُكْثِرُ الْكَلامَ! فَقَالَ الْفَتَى: فَمَنْ يُعَبِّرُ حُجَّتِي إِذَا لَمْ أَتَكَلَّمْ؟ قَالَ شُرَيْحٌ: قُلْتُ لَهُ: إِنِّي أَرَاكَ ظَالِمًا.
قَالَ الْفَتَى: لَيْسَ عَلَى ظَنِّكَ تَقْضِي بَيْنَنَا، إِنَّمَا يَنْبَغِي أَنْ تَقْضِيَ بِالْحَقِّ الْوَاضِحِ، وَتَدَعَ الظَّنَّ.
قَالَ شُرَيْحٌ: فَأَقْبَلْتُ عَلَيْهِ أُمَازِحَهُ بَعْدَ هَذَا الْكَلامِ، فَقُلَتْ لَهُ: أَيَسُرُّكَ أَنَّكَ فِي مَجْلِسِي هَذَا عَلَى الْقَضَاءِ؟ فَقَالَ: أَمَّا وَأَنَا آخُذُ عَلَيْهِ الْكَرَاءَ مِثْلَكَ فَلا، وَلَكِنْ مُحْتَسِبًا لِلْمُسْلِمِينَ.
قَالَ شُرَيْحٌ: فَأَخْجَلَنِي وَاللَّهِ، فَقُلْتُ لَهُ: أَعَرَبِيٌّ أَنْتَ مُزَوِّجُهَا؟ فَقَالَ: اطْلُبْ.
قَالَ: مِنْ مَظَانِّهِ، يَعْنِي مِنْ قَبِيلِ النِّسَاءِ.
قَالَ شُرَيْحٌ: فَتَرَكْتُ مَجْلِسِي ذَلِكَ وَقُمْتُ، حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى بَابِ دَارِهِمُ، فَنَادَيْتُ فَخَرَجَتْ إِلَيَّ الْجَارِيَةُ، فَكَلَّمَتْنِي مِنْ وَرَاءِ الْبَابِ، فَقَالَتْ: مَنْ أَنْتَ؟ قُلْتُ: أَنَا شُرَيْحٌ.
فَقَالَتِ: الْقَاضِي؟ قُلْتُ: نَعَمْ.
قَالَتْ: حَيَّاكَ اللهُ يَا أَبَا أُمَيَّةَ، حَاجَتُكَ؟ قُلْتُ: أَرَدْتُ فُلانَةً، أَعْنِي أُمَّهَا.
قَالَتْ: هِيَ غَائِبَةٌ، وَأَنَا خَلِيفَتُهَا فِي الْمَنْزِلِ.
قُلْتُ: أَتَيْتُهَا خَاطِبًا فُلانَةً ابْنَتَهَا، فَاسْتَحْيَتْ مِنِّي وَتَسَتَّرَتْ مِنِّي، فَبَعَثْتُ إِلَى أُمِّهَا وَأَهْلِهَا فَجَمَعْتُهُمْ وَتَزَوَّجْتُهَا، وَبَعَثْتُ الْمَالَ، وَنَقَدْتُهُمْ مِنَ سَاعَتِي.
وَقُلْتُ لَهُمْ: أَقْسَمْتُ عَلَيْكُمْ إِنْ بَاتَتْ إِلا عِنْدِي.
মানুষ তাঁর ওপর ভিড় করছিল এবং তাঁর কাছে দৌড়ে আসছিল তাঁর গুণাবলি শুনতে। আমি আমার সওয়ারি থেকে নামলাম এবং সেই জনসমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করলাম। আমি বললাম: "হে লোক, তোমার নিজের চোখগুলো চিকিৎসার জন্য এই চোখগুলোর চেয়ে অধিক মুখাপেক্ষী, অথচ তুমি এই ওষুধের বর্ণনা দিচ্ছ এবং বলছ যে এটি চোখের ব্যথার নিরাময়; তবে তুমি নিজে কেন তা ব্যবহার করছ না?" সে বলল: "আমি বিশ বছর ধরে এই স্থানে আছি, তোমার চেয়ে অধিক মূর্খ কোনো বৃদ্ধ আমার পাশ দিয়ে কখনো অতিক্রম করেনি।"
আমি বললাম: "সেটি কীভাবে?" সে বলল: "হে মূর্খ, তুমি কি জানো আমার চোখ কোথায় অসুস্থ হয়েছিল?" আমি বললাম: "না।"
সে বলল: "মিসরে।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন জনতা আমার দিকে ধাবিত হলো এবং বলতে লাগল: "লোকটি সত্যই বলেছে, তুমি একজন মূর্খ।" তারা আমাকে আক্রমণ করার উপক্রম করল। আমি বললাম: "না, আল্লাহর কসম, আমি জানতাম না যে তার চোখ মিসরে অসুস্থ হয়েছিল।"
তিনি বলেন: এই যুক্তি দিয়েই আমি তাদের হাত থেকে মুক্তি পেলাম। তিনি বলেন: তখন আল-মামুন হাসলেন এবং বললেন: "সাধারণ মানুষ তোমার কাছ থেকে কী ভোগ করেছে?" আমি বললাম: "আল্লাহর পক্ষ থেকে তারা মন্দ প্রশংসা ও কুৎসিত আলোচনার যা ভোগ করেছে, তা আরও অধিক।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
আমাদের সঙ্গীদের কেউ কেউ হাইসাম ইবনে আদি থেকে, তিনি সারী ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি শাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কাযী শুরাইহ আমাকে বলেছেন: "জবাব দেওয়ায় আমার ওপর কেউই কখনো জয়ী হতে পারেনি সেই যুবকের মতো, যে একদিন ভোরে সালাত আদায়ের পর আমার বিচারসভায় এসেছিল এবং তার সাথে তার এক প্রতিপক্ষ ছিল। যুবকের মাথায় ছিল ঘন লম্বা চুল, যা যেন একটি কাঁটাগাছ যাকে তেল মেখে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে এবং তা থেকে যেন তেল চুঁইয়ে পড়ছিল। যখন আমি তা দেখলাম, তখন আমি বিরক্ত হলাম এবং তাকে বললাম: 'সকাল থেকে তোমার কি এই চুলগুলো তেল দিয়ে আঁচড়ানো ছাড়া আর কোনো চিন্তা ছিল না?' যুবকটি আমাকে বলল: 'আমরা আপনার সামনে এজন্য বসিনি; আমরা কেবল আপনার কাছে বিবাদ মীমাংসার জন্য বসেছি। আপনি যদি চুলের তদারককারী হতে চান, তবে তা চলবে না।' এটি আমাকে রাগান্বিত করল।
আমি তাকে বললাম: 'আমি দেখছি তুমি নিজেকে নিয়ে বেশ গর্বিত?' সে বলল: 'আমি যদি নিজেই নিজের প্রতি অনাসক্ত হই, তবে কে আমার প্রতি আকৃষ্ট হবে?' শুরাইহ বলেন: আমি তাকে বললাম: 'আমি দেখছি তুমি অনেক বেশি কথা বলছ!' যুবকটি বলল: 'আমি যদি কথা না বলি তবে কে আমার যুক্তি ব্যক্ত করবে?' শুরাইহ বলেন: আমি তাকে বললাম: 'আমি তোমাকে একজন জালেম হিসেবে দেখছি।'
যুবকটি বলল: 'আপনি আমাদের মাঝে আপনার ধারণার ওপর ভিত্তি করে বিচার করবেন না; বরং আপনার উচিত স্পষ্ট সত্যের ভিত্তিতে বিচার করা এবং ধারণা বর্জন করা।'
শুরাইহ বলেন: এই কথার পর আমি তার সাথে রসিকতা করার জন্য তার দিকে নিবিষ্ট হলাম এবং তাকে বললাম: 'তুমি কি এতে আনন্দিত হতে যে আমার এই বিচারকের আসনে তুমি আসীন থাকতে?' সে বলল: 'যদি আপনার মতো এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিতাম তবে নয়, তবে মুসলিমদের কল্যাণে তদারককারী হিসেবে হলে (হ্যাঁ)।'
শুরাইহ বলেন: আল্লাহর কসম, সে আমাকে লজ্জিত করল। আমি তাকে বললাম: 'তুমি কি কোনো আরব গোত্রে বিবাহ করেছ?' সে বলল: 'খুঁজে দেখুন।'
সে বলল: 'যথোপযুক্ত স্থান থেকে,' অর্থাৎ নারীদের পরিবার থেকে।
শুরাইহ বলেন: আমি সেই মজলিস ত্যাগ করে উঠে দাঁড়ালাম এবং তাদের বাড়ির দরজায় গিয়ে পৌঁছালাম। আমি ডাক দিলাম, তখন এক দাসী বেরিয়ে এল এবং দরজার আড়াল থেকে আমার সাথে কথা বলল। সে বলল: 'আপনি কে?' আমি বললাম: 'আমি শুরাইহ।'
সে বলল: 'কাযী?' আমি বললাম: 'হ্যাঁ।'
সে বলল: 'হে আবু উমাইয়া, আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। আপনার প্রয়োজন কী?' আমি বললাম: 'আমি অমুককে চাই,' অর্থাৎ তার মাকে।
সে বলল: 'তিনি অনুপস্থিত, আর আমি বাড়িতে তাঁর প্রতিনিধি।'
আমি বললাম: 'আমি তাঁর মেয়ে অমুককে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসেছি।' তখন সে আমার নিকট লজ্জা পেল এবং পর্দার আড়ালে চলে গেল। এরপর আমি তার মা ও পরিবারের কাছে সংবাদ পাঠালাম, তাদের একত্রিত করলাম এবং তাকে বিয়ে করলাম। আমি মোহরানা পাঠালাম এবং তৎক্ষণাৎ তা নগদ পরিশোধ করলাম।
এবং আমি তাদের বললাম: 'আমি আপনাদের শপথ দিচ্ছি যে, সে যেন আজ রাত আমার কাছেই কাটায়।'
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٦)
فَقَالُوا: اللَّهُمَّ اغْفِرْ، أَنَصْنَعُهَا لَكَ؟ قُلْتُ: حَسْبِي مَا رَأَيْتُ، فَهَيَّئُوهَا ثُمَّ زَفُّوهَا إِلَيَّ مِنْ لَيْلَتِهِمْ، فَأَقْبَلَتْ تُهْدِيهَا النِّسَاءُ، فَلَمَّا وَقَفَتْ بِبِابِ الْحُجْرَةِ سَلَّمَتْ فَاسْتَجْفَى ذَلِكَ النِّسَاءُ مِنْهَا.
ثُمَّ دَخَلَتِ الْبَيْتَ فَقُمْتُ إِلَيْهَا، فَقُلْتُ: أَيَتُهَا الْمَرْأَةُ، إِنَّ السُّنَّةَ إِذَا دَخَلَتِ الْمَرْأَةُ عَلَى زَوْجِهَا قَامَ فَصَلَّى وَتُصَلِّي خَلْفَهُ، وَيَسْأَلانِ اللَّهَ خَيْرَ لَيْلَتِهِمَا، وَيَتَعَوَّذَانِ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا.
قَالَ: فَتَقَدَّمْتُ لِلْصَلاةِ، فَإِذَا هِيَ خَلْفِي، فَصَلَّيْتُ، فَلَمَّا انْفَلَتُّ إِذَا هِيَ قَاعِدَةٌ عَلَى فِرَاشِهَا، فَأَخَذْتُ بِنَاصِيَتِهَا فَدَعَوْتُ وَبَرَّكْتُ، ثُمَّ مَدَدْتُ يَدِي، فَقَالَتْ: عَلَى رِسْلِكَ، فَقُلَتْ: إِحْدَى الدَّوَاهِي مُنِيتُ بِهَا وَاللَّهِ، فَقَالَتْ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، أَحْمَدُهُ وَأَسْتَعِينُهُ وَأُؤْمِنُ بِهِ وَأَتَوَكَّلُ عَلَيْهِ، وَصَلَى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ، أَمَّا بَعْدُ: فَإِنِّي امْرَأَةٌ غَرِيبَةٌ، لا وَاللَّهِ، مَا سِرْتُ مَسِيرًا قَطُّ هُوَ أَشَقُّ عَلَيَّ مِنْ مَسِيرِي إِلَيْكَ، وَأَنْتَ رَجُلٌ لا أَعْرِفُ أَخْلاقَكَ، فَحَدِّثْنِي بِمَا تُحِبُّ فَآتِيَهُ، وَمَا تَكْرَهُ فَأَنْزَجِرَ عَنْهُ، أَقُولُ قَوْلِي هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ.
قَالَ: فَقُلْتُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، أَمَّا بَعْدُ: فَقَدِمْتِ خَيْرَ مَقْدَمٍ عَلَى أَهْلِ زَوْجِكِ، سَيِّدِ رِجَالِهِمْ، وَأَنْتِ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ، سَيِّدَةُ نِسَائِهِمْ.
أُحِبُّ كَذَا، وَأَكْرَهُ كَذَا.
قَالَتْ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَخْتَانِكَ، أَتُحِبُّ أَنْ يَزُورُوكَ؟ فَقُلْتُ: إِنِّي رَجُلٌ قَاضٍ، وَأَكْرَهُ أَنْ يَمَلُّونِي.
قَالَ: فَبِتُّ بِأَعْيَشِ لَيْلَةٍ، ثُمَّ أَقَمْتُ عِنْدَهَا ثَلاثًا، ثُمَّ خَرَجْتُ إِلَى مَجْلِسِ الْقَضَاءِ، فَلَبَثْتُ فِيهِ حَوْلا لا أَرَى فِيهِ يَوْمًا إِلا وَهُوَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الَّذِي قَبْلَهُ، فَلَمَّا كَانَ عِنْدَ رَأْسِ السَّنَةِ انْصَرَفْتُ مِنْ مَجْلِسِ الْقَضَاءِ إِلَى مَنْزِلِي، فَإِذَا عَجُوزٌ تَأْمُرُ وَتَنْهَى، فَقَالَتْ: كَيْفَ أَنْتَ يَا أَبَا أُمَيَّةَ؟ قُلْتُ: يَا زَيْنَبُ مَنْ هَذِهِ؟ قَالَتْ: خَتَنَتُكَ فُلانَةُ، تَعْنِي أُمَّهَا.
قُلْتُ: حَيَّاكِ اللَّهُ بِالسَّلامِ، كَيْفَ أَنْتِ يَرْحَمُكِ اللَّهُ؟ قَالَتْ: كَيْفَ رَأَيْتَ صَاحِبَتَكَ؟ قُلْتُ: كَخَيْرِ امْرَأَةٍ.
قَالَتْ: إِنَّ الْمَرْأَةَ لا تَكُونُ فِي حَالٍ أَسْوَأَ خُلُقًا مِنْهَا فِي حَالَيْنِ: إِذَا حَظِيَتْ عِنْدَ زَوْجِهِا، وَإِذَا وَلَدَتْ غُلامًا، فَإِذَا رَابَكَ مِنْ أَهْلِكَ شَيْءٌ فَالسَّوْطَ، فَإِنَّ الرِّجَالَ، وَاللَّهِ، مَا حَازَتْ إِلَى بُيُوتِهَا شَيْئًا شَرًّا مِنَ الْوَرْهَاءِ الْحَمْقَاءِ الْمُدَلَّلَةِ.
قُلْتُ: أَشْهَدُ أَنَّهَا ابْنَتُكِ، قَدْ كَفَيْتِنَا الرِّيَاضَةَ، وَأَحْسَنْتِ الأَدَبَ.
قَالَ: وَكَانَتْ تَأْتِي فِي كِلِّ سَنَةٍ تُوصِينِي بِهَذِهِ الْوَصِيَّةِ، ثُمَّ تَنْصَرِفُ، فَِذَلِكَ حَيْثُ أَقُوْلُ:
إِذَا زَيْنَبٌ زَارَهَا أَهْلُهَا
… حَشَدْتُ وَأَكْرَمْتُ زُوَّارَهَا
وَإِنْ هِيَ زَارَتْهُمُ زُرْتُهَا
… وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لِي هَوًى دَارَهَا
তারা বললেন, "হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন, আমরা কি তাকে আপনার জন্য সজ্জিত করব?" আমি বললাম, "আমি যা দেখেছি তাই আমার জন্য যথেষ্ট।" অতঃপর তারা তার ব্যবস্থা করল এবং সেই রাতেই তাকে আমার নিকট পাঠিয়ে দিল। মহিলারা তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে এল। যখন সে কক্ষের দরজায় এসে দাঁড়াল, তখন সে সালাম দিল; মহিলারা তার এই আচরণকে রূঢ় মনে করল।
অতঃপর সে ঘরে প্রবেশ করল এবং আমি তার দিকে অগ্রসর হলাম। আমি বললাম, "হে নারী, সুন্নাহ হলো এই যে, যখন স্ত্রী তার স্বামীর নিকট আসে, তখন স্বামী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে এবং স্ত্রী তার পিছনে সালাত আদায় করে; এরপর তারা উভয়ে আল্লাহর নিকট সেই রাতের কল্যাণ প্রার্থনা করে এবং তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায়।"
তিনি বললেন, অতঃপর আমি সালাতের জন্য সামনে অগ্রসর হলাম এবং সে আমার পিছনে দাঁড়াল। আমি সালাত আদায় করলাম। যখন আমি সালাত শেষ করলাম, তখন সে তার বিছানায় বসা ছিল। আমি তার কপালের অগ্রভাগের চুল ধরলাম এবং দোয়া করলাম ও বরকতের প্রার্থনা করলাম। এরপর আমি হাত বাড়ালাম, তখন সে বলল, "একটু থামুন।" আমি মনে মনে বললাম, "আল্লাহর কসম, আমি এক বিপদে পতিত হয়েছি।" তখন সে বলল, "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর নিকট সাহায্য চাইছি, তাঁর ওপর ঈমান আনছি এবং তাঁর ওপর ভরসা করছি। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদের ওপর। অতঃপর, আমি এক অপরিচিত নারী। আল্লাহর কসম, আপনার কাছে আসার এই সফরের চেয়ে কষ্টকর কোনো সফর আমি আগে কখনো করিনি। আপনি এমন একজন পুরুষ যার স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে আমি অবগত নই। সুতরাং আপনার পছন্দনীয় বিষয়গুলো আমাকে বলুন যাতে আমি তা পালন করতে পারি, আর যা আপনার অপছন্দনীয় তা বলুন যাতে আমি তা থেকে বিরত থাকতে পারি। আমি আমার এই কথা বলছি এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"
তিনি বললেন, আমি বললাম, "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর। অতঃপর, তুমি তোমার স্বামীর পরিবারের কাছে উত্তম আগমনকারী হিসেবে এসেছ, যিনি তাদের পুরুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; আর তুমি ইনশাআল্লাহ তাদের নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হবে।
আমি অমুক অমুক বিষয় পছন্দ করি এবং অমুক অমুক বিষয় অপছন্দ করি।
সে বলল, "আপনার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কথা বলুন, আপনি কি পছন্দ করেন যে তারা আপনার কাছে আসুক?" আমি বললাম, "আমি একজন বিচারক মানুষ, আর আমি পছন্দ করি না যে তারা ঘন ঘন এসে আমাকে বিরক্ত করুক।"
তিনি বললেন, অতঃপর আমি অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যময় এক রাত অতিবাহিত করলাম। এরপর আমি তার কাছে তিন দিন অবস্থান করলাম। এরপর আমি বিচারালয়ের উদ্দেশ্যে বের হলাম। সেখানে আমি এক বছর অবস্থান করলাম, এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি দিনই আমার কাছে আগের দিনের চেয়ে বেশি প্রিয় মনে হতো। যখন বছরের শেষ হলো, আমি বিচারালয় থেকে বাড়ি ফিরলাম এবং দেখলাম একজন বৃদ্ধা নারী নানা আদেশ-নিষেধ করছেন। তিনি বললেন, "হে আবু উমাইয়া, আপনি কেমন আছেন?" আমি বললাম, "হে যায়নাব, ইনি কে?" সে বলল, "ইনি আপনার শাশুড়ি অমুক", অর্থাৎ তার মা।
আমি বললাম, "আল্লাহ আপনাকে সালামের সাথে দীর্ঘজীবী করুন। আপনি কেমন আছেন, আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন?" তিনি বললেন, "আপনার সঙ্গিনীকে কেমন পেলেন?" আমি বললাম, "উত্তম নারী হিসেবে।"
তিনি বললেন, "নারী দুটি অবস্থায় সবচেয়ে খারাপ চরিত্রের অধিকারী হয়: যখন সে তার স্বামীর কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠে এবং যখন সে পুত্রসন্তান জন্ম দেয়। সুতরাং তোমার স্ত্রীর পক্ষ থেকে যদি কোনো কিছু তোমাকে সন্দিহান করে, তবে চাবুক ব্যবহার করো। কারণ আল্লাহর কসম, পুরুষরা তাদের ঘরে আহাম্মক, নির্বোধ ও আদুরে মহিলার চেয়ে খারাপ আর কিছু নিয়ে আসেনি।"
আমি বললাম, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে সে আপনারই কন্যা। আপনি আমাদের পক্ষ থেকে তাকে প্রশিক্ষিত করার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাকে উত্তম শিষ্টাচার শিখিয়েছেন।"
তিনি বললেন, তিনি প্রতি বছর আসতেন এবং আমাকে এই উপদেশ দিতেন, অতঃপর চলে যেতেন। আর এ কারণেই আমি বলি:
যখন যায়নাবের পরিবারের সদস্যরা তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে
… আমি সাধ্যমতো আয়োজন করি এবং তার অভ্যাগতদের সম্মান করি
আর যদি সে তাদের কাছে যায় তবে আমিও যাই
… যদিও তাদের গৃহের প্রতি আমার কোনো অনুরাগ নেই
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٧)
قَالَ: فَأَقَامَتْ عِنْدِي عِشْرِينَ سَنَةً، فَمَا غَضِبْتُ عَلَيْهَا يَوْمًا، وَلا لَيْلَةً إِلا يَوْمًا كُنْتُ لَهَا ظَالِمًا، كُنْتُ إِمَامَ قَوْمِي، فَصَلَّيْتُ رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ، فَأَبْصَرْتُ عَقْرَبًا فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي رَكَعْتُ فِيهِ، وَأَقَامَ الْمُؤَذِّنُ فَعَجِلْتُ عَنْ قَتْلِهَا، فَأَكْفَأْتُ عَلَيْهَا إِنَاءً، فَلَمَّا كُنْتُ عِنْدَ الْبَابِ، قُلْتُ: يَا زَيْنَبُ، إِيَّاكِ وَالإِنَاءَ حَتَّى أَرْجِعَ.
فَعَجِلَتْ فَحَرَّكَتْهُ، فَجِئْتُ وَقَدْ ضَرَبَتْهَا الْعَقْرَبُ، فَلَوْ رَأَيْتَنِي وَأَنَا أَمْرُسُ إِصْبَعَهَا، وَأَقْرَأُ عَلَيْهَا فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ.
وَكَانَ لِي جَارٌ مِنْ كِنْدَةَ، يُقَالُ لَهُ: مَيْسَرَةُ، لا يَزَالُ يَقْرَعُ امْرَأَتَهُ، فَذَلِكَ حِينَ أَقُولُ:
رَأَيْتُ رِجَالا يَضْرِبُونَ نِسَاءَهُمْ
… فَشُلَّتْ يَمِينِي يَوْمَ أَضْرِبُ زَيْنَبَا
أَأَضْرِبُهَا فِي غَيْرِ جُرْمٍ أَتَتْ بِهِ
… إِلَيَّ فَمَا عُذْرِي إِذَا كُنْتُ مُذْنِبَا
فَتَاةٌ تَزِينُ الْحَلْيَ إِنْ هِيَ زُيِّنَتْ
… كَأنَّ بِفِيهَا الْمِسْكَ خَالَطَ مَحْلَبًا
فَلَوْ كُنْتَ يَا شَعْبِيُّ صَادَفْتَ مِثْلَهَا
… لَعِشْتَ زَمَانًا نَاعِمَ الْبَالِ مُخْصَبًا
وَكَانَتْ أَقَامَتْ مَعِي يَا شَعْبِيُّ عِشْرِينَ سَنَةً لَمْ أَغْضَبْ عَلَيْهَا، فَأَفْسَدَتْ عَلَيَّ النِّسَاءَ، لَمْ أَتَزَوَّجْ بَعْدَهَا، وَوَدِدْتُ يَا شَعْبِيُّ أَنِّي تَبِعْتُهَا، فَقَدْ أَبْغَضْتُ الْعَيْشَ بَعْدَهَا، فَعَلَيْكَ يَا شَعْبِيُّ بِنِساءِ بَنِي تَمِيمٍ
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ صَالِحٍ: " أَنَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ جَمَعَ بَنِيهِ ذَاتَ يَوْمٍ: الْوَلِيدَ، وَسُلَيْمَانَ، وَمَسْلَمَةَ، فَاسْتَقْرَأَهُمْ فَقَرَءُوا، وَاسْتَنْشَدَهُمْ فَأَنْشَدُوا لِكِلِّ شَاعِرٍ غَيْرِ الأَعْشَى، فَقَالَ لَهُمْ: قَرَأْتُمْ فَأَحْسَنْتُمْ، وَأَنْشَدْتُمْ فَأَحْسَنْتُمْ لِكُلِّ شَاعِرٍ غَيْرِ الأَعْشَى، فَمَا لَكُمْ تَهْجُرُونَهُ؟ فَقَدْ أَخَذَ فِي كِلِّ فَنٍّ فَأَحْسَنَ، وَمَا امْتَدَحَ رَجُلا قَطُّ إِلا جَعَلَهُ مَذْكُورًا.
هَذَا عَامِرُ بْنُ الطُّفَيْلِ وَعَلَقَمَةُ بْنُ عُلاثَةَ، وَهُمَا مِنْ بَيْتٍ وَاحِدٍ، هَجَا عَلْقَمَةَ فَأَخْمَلَهُ، وَكَانَ شَرِيفًا مَذْكُورًا، وَمَدَحَ عَامِرَ بْنَ الطُّفَيْلِ فَرَفَعَهُ، ثُمَّ قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: لِيُنْشِدْنِي كُلُّ رَجُلٍ مِنْكُمْ أَرَقَّ بَيْتٍ قَالَتْهُ الْعَرَبُ، وَلا يُفْحِشْ وَلا يَسْتَحِيَنَّ مِنْ إِنْشَادٍ، هَاتِ يَا وَلِيدُ، فَقَالَ الْوَلِيدُ:
مَا مَرْكَبٌ وَرُكُوبُ الْخَيْلِ يُعْجِبُنِي
… كَمَرْكَبٍ بَيْنَ دُمْلُوجٍ وَخَلْخَالِ
قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: وَهَلْ يَكُونُ فِي الشِّعْرِ أَرَفَثُ مِنْ هَذَا؟ هَاتِ يَا سُلَيْمَانُ، فَقَالَ:
حَبَّذَا رَجْعُهَا إِلَيْهَا يَدَيْهَا
… فِي ذُرَا دَرْعِهَا تَحُلُّ الإِزَارَا
قَالَ: لَمْ تُصِبْ، هَاتِ يَا مَسْلَمَةُ.
قَالَ مَسْلَمَةُ:
وَمَا ذَرَفَتْ عَيْنَاكِ إِلا لِتَضْرِبِي
… بِسَهْمَيْكِ فِي أَعْشَارِ قَلْبٍ مُقَتَّلِ
قَالَ: كِدْتَ وَلَمْ تُصِبْ إِذَا ذَرَفَتْ عَيْنَاهَا بِالْوَجْدِ فَمَا بَقِيَ إِلا اللِّقَاءُ، إِنَّمَا يَنْبَغِي لِلْعَاشِقِ أَنْ يَقْتَضِيَ مِنْهِا الْجَفَاءَ وَيَكْسُوَهَا الْمَوَدَةَ، أَنَا مُؤَجِّلُكُمْ فِي هَذَا الْبَيْتِ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ، عَلَى أَنْ لا تَسْأَلُوا عَنْهُ أَحَدًا، فَمَنْ أَتَانِي بِهِ فَلَهُ حِكْمَةٌ.
فَنَهَضُوا وَخَرَجُوا عَنْهُ، فَبَيْنَا سُلَيْمَانُ فِي مَوْكِبٍ لَهُ إِذَا هُوَ بِأَعْرَابِيٍّ يَسُوقُ إِبِلا وَهُوَ يَقُولُ:
তিনি বললেন: সে আমার নিকট বিশ বছর অবস্থান করেছিল। কোনোদিন বা কোনো রাতে আমি তার ওপর রাগান্বিত হইনি, কেবল একদিন ছাড়া যখন আমি তার প্রতি অবিচার করেছিলাম। আমি আমার সম্প্রদায়ের ইমাম ছিলাম। আমি ফযরের দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম, তখন যে মসজিদে আমি রুকু করেছিলাম সেখানে একটি বিচ্ছু দেখতে পেলাম। মুয়াজ্জিন ইকামত দিয়ে দিলেন, তাই আমি সেটি মারার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করলাম এবং তার ওপর একটি পাত্র উপুড় করে ঢেকে দিলাম। যখন আমি দরজার কাছে পৌঁছালাম, তখন বললাম: হে যয়নব, আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত এই পাত্রটি থেকে সাবধান থেকো।
কিন্তু সে তাড়াহুড়ো করে সেটি নাড়াচাড়া করল। আমি ফিরে এসে দেখলাম বিচ্ছুটি তাকে দংশন করেছে। আপনি যদি আমাকে দেখতেন যখন আমি তার আঙুল ডলছিলাম এবং তার ওপর সূরা ফাতিহা ও মুআউবিযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) পড়ে ফুঁ দিচ্ছিলাম।
কিন্দাহ গোত্রের আমার একজন প্রতিবেশী ছিল, যাকে মাইসারা বলা হতো। সে সর্বদা তার স্ত্রীকে প্রহার করত। তখনই আমি বলেছিলাম:
আমি এমন পুরুষদের দেখেছি যারা তাদের স্ত্রীদের প্রহার করে
… আমি যেদিন যয়নবকে প্রহার করব সেদিন যেন আমার ডান হাত অবশ হয়ে যায়
সে কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও কি আমি তাকে প্রহার করব?
… আমি যদি অপরাধী হই তবে আমার কী ওজিল বা অজুহাত থাকবে?
সে এমন এক তরুণী যাকে অলংকার পরানো হলে সে অলংকারকেই সুশোভিত করে
… মনে হয় তার মুখে মিশক ও মাহলাব মিশ্রিত সুবাস রয়েছে
হে শা'বী, আপনি যদি তার মতো কাউকে পেতেন
… তবে আপনি দীর্ঘকাল শান্তিতে ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন অতিবাহিত করতেন
হে শা'বী, সে আমার সাথে বিশ বছর অবস্থান করেছিল এবং আমি তার ওপর কখনো রাগান্বিত হইনি। সে অন্য নারীদের প্রতি আমার অনীহা সৃষ্টি করে দিয়েছিল। তার মৃত্যুর পর আমি আর বিয়ে করিনি। হে শা'বী, আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যদি আমি তার অনুগামী হতে পারতাম (তার সাথেই মৃত্যুবরণ করতাম)। তার বিদায়ের পর জীবন আমার কাছে অপছন্দনীয় হয়ে গেছে। হে শা'বী, আপনি বনু তামীম গোত্রের নারীদের গ্রহণ করুন।
আলী ইবনে সালিহ আমার কাছে আমির ইবনে সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন: একদা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তার পুত্রদের—ওয়ালীদ, সুলাইমান এবং মাসলামাহকে একত্রিত করলেন। তিনি তাদের পাঠ করতে বললেন এবং তারা পাঠ করল। তিনি তাদের কবিতা শোনাতে বললেন এবং তারা আল-আশা ব্যতীত প্রতিটি কবির কবিতা আবৃত্তি করল। তিনি তাদের বললেন: তোমরা পাঠ করেছ এবং চমৎকার করেছ, তোমরা আল-আশা ব্যতীত প্রতিটি কবির কবিতা আবৃত্তি করেছ এবং ভালো করেছ। কিন্তু তোমরা তাকে এড়িয়ে যাচ্ছ কেন? সে তো কবিতার প্রতিটি শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। সে কোনো ব্যক্তির প্রশংসা করলেই তাকে স্মরণীয় করে তুলেছে।
এই যে আমির ইবনে তুফাইল এবং আলকামাহ ইবনে উলাসাহ; তারা একই বংশের লোক। সে আলকামাহর নিন্দা করল এবং তাকে তুচ্ছ করে দিল, অথচ সে ছিল এক সম্মানিত ও বিখ্যাত ব্যক্তি। আর সে আমির ইবনে তুফাইলের প্রশংসা করল এবং তাকে উচ্চাসীন করল। এরপর আব্দুল মালিক বললেন: তোমাদের প্রত্যেকে আরবদের বলা সবচেয়ে কোমল কবিতাটি আবৃত্তি করো; তবে অশ্লীলতা করবে না এবং আবৃত্তি করতে লজ্জাও করবে না। হে ওয়ালীদ, বলো। ওয়ালীদ বলল:
কোনো বাহন বা ঘোড়সওয়ার হওয়া আমার কাছে ততটা আনন্দদায়ক নয়
… যতটা আনন্দদায়ক বাজুবন্দ ও নূপুরের মাঝখানের সেই বাহনটি
আব্দুল মালিক বললেন: কবিতায় কি এর চেয়ে বেশি অশ্লীল কিছু হতে পারে? হে সুলাইমান, তুমি বলো। সে বলল:
কতই না চমৎকার তার হাত দুটিকে নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয়া
… যখন সে তার পোশাকের আড়ালে নিম্নাংশের বস্ত্রের বন্ধন আলগা করে
তিনি বললেন: তুমি সঠিকটি বলতে পারোনি। হে মাসলামাহ, তুমি বলো।
মাসলামাহ বলল:
তোমার দুটি চোখ অশ্রু বিসর্জন দেয়নি বরং তুমি তোমার দুই তীরের মাধ্যমে
… আমার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের প্রতিটি অংশকে বিদ্ধ করার জন্যই তা করেছ
তিনি বললেন: তুমি কাছাকাছি গিয়েছিলে কিন্তু সফল হওনি। যখন তার চোখ প্রেমের আতিশয্যে অশ্রু ঝরায়, তখন কেবল মিলনই বাকি থাকে। প্রেমিকের তো উচিত তার থেকে পাওয়া রূঢ়তার প্রতিদান ভালোবাসার আবরণে ঢেকে দেওয়া। আমি তোমাদের এই কবিতার চরণের সন্ধানের জন্য তিন দিনের সময় দিলাম, শর্ত হলো তোমরা এ ব্যাপারে কাউকে জিজ্ঞাসা করবে না। যে আমাকে এটি এনে দিতে পারবে, তার জন্য পুরস্কার রয়েছে।
অতঃপর তারা উঠে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল। সুলাইমান যখন তার কাফেলার সাথে ছিল, হঠাৎ সে এক বেদুইনকে দেখল যে উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল এবং বলছিল:
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٨)
لَوْ حُزَّ بِالسَّيْفِ رَأْسِي فِي مَوَدَّتِهَا
… لَمَالَ يَهْوِي سَرِيعًا نَحْوَهَا رَأْسِي
فَقَالَ سُلَيْمَانُ: عَلَيَّ بِالأَعْرَابِيِّ، فَأُتِيَ بِهِ، فَوُكِّلَ بِهِ، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى عَبْدِ الْمَلِكِ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ، فَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: مَا وَرَاءُكَ يَا سُلَيْمَانُ؟ قَالَ: قَدْ أَجَبْتُكَ إِلَى مَا سَأَلْتَ عَنْهُ، وَجِئْتُكَ بِالْبَيْتِ.
قَالَ: هَاتِهِ، فَأَنْشَدَهُ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الْمَلِكِ: أَحْسَنْتَ، أَنَّى لَكَ هَذَا؟ فَقَصَّ عَلَيْهِ خَبَرَ الأَعْرَابِيِّ، فَقَالَ: حَاجَتُكَ وَلا تَنْسَ حَظَّ صَاحِبِكَ؟ قَالَ: حَاجَتِي يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ عَهْدَ الْعَهْدِ لَيْسَ بِمُقَرِّبٍ أَجَلا، وَلا تَرْكَهُ بِمُبَاعِدٍ حَتْفًا، وَقَدْ عَهِدَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ إِلَى الْوَلِيدِ، فَإِنْ رَأَى أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَنْ يَعْهَدَ إِلَيَّ بَعْدَهُ فَعَلَ.
قَالَ: نَعَمْ، فَأَقَامَ َالْحَجُّ لِلْنَاسِ بِمَكَّةَ وَوَصَلَهُ بِمِائَةِ أَلْفِ دِرْهَمٍ، فَجَعَلَهَا لِلأَعْرَابِيِّ، وَهِيَ سَنَةُ إِحْدَى وَثَمَانِينَ
حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، قَالَ: " بَيْنَمَا الْمَأْمُونُ فِي بَعَضِ مَغَازِيهِ يَسِيرُ مُنْفَرِدًا عَنْ أَصْحَابِهِ وَمَعَهُ عُجَيْفُ بْنُ عَنْبَسَةَ، إِذْ طَلَعَ رَجُلٌ مُتَخَبِّطٌ مُتَكَفِّنٌ، فَلَمَّا عَايَنَهُ الْمَأْمُونُ وَقَفَ، ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى عُجَيْفٍ، فَقَالَ: وَيْحَكَ، أَمَا تَرَى صَاحِبَ الْكَفَنِ مُقْبِلا يُرِيدُنِي؟ قَالَ عُجَيْفٌ: أُعِيذُكَ بِاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَمَا كَذَّبَ الرَّجُلُ أَنْ وَقَفَ عَلَى الْمَأْمُونِ، فَقَالَ لَهُ الْمَأْمُونُ: يَا صَاحِبَ الْكَفَنِ ، مَنْ أَنْتَ؟ وَإِلَى مَنْ قَصَدْتَ؟ قَالَ: إِيَّاكَ أَرَدْتُ، قَالَ: وَعَرَفْتَنِي؟ قَالَ: لَوْ لَمْ أَعْرِفْكَ مَا قَصَدْتُكَ، قَالَ: أَفَلا سَلَّمْتَ عَلَيَّ؟ قَالَ: لا أَرَى السَّلامَ عَلَيْكَ.
قَالَ: ولِمَ؟ قَالَ: لإِفْسَادِكَ الْغَزَاةَ عَلَيْنَا.
قَالَ عُجَيْفٌ: وَأَنَا أُلَيِّنُ مَتْنَ سَيْفِي لِئَلا يُبْطِئَ ضَرْبَ رَقَبَتِهِ، إِذِ الْتَفَتَ الْمَأْمُونُ، فَقَالَ: يَا عُجَيْفُ، إِنِّي جَائِعٌ وَلا رَأْيَ لَلْجَائِعِ، فَخُذْهُ إِلَيْكَ حَتَّى أَتَغَدَّى وَأَدْعُوَ بِهِ.
فَتَنَاوَلَهُ عُجَيْفٌ، فَوَضَعَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَلَمَّا صَارَ الْمَأْمُونُ إِلَى رَحْلِهِ دَعَا بِالطَّعَامِ، فَلَمَّا وُضِعَ بَيْنَ يَدَيْهِ أَمَرَ بِرَفْعِهِ، فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا أُسِيغُهُ حَتَّى أُنَاظِرَ خَصْمِي، يَا عُجَيْفُ عَلَيَّ بِصَاحِبِ الْكَفَنِ.
قَالَ: فَلَمَّا جَلَسَ بَيْنَ يَدَيْهِ، قَالَ: هِيهِ يَا صَاحِبَ الْكَفَنِ، مَاذَا قُلْتَ؟ قَالَ: قُلْتُ: لا أَرَى السَّلامَ عَلَيْكَ لإِفْسَادِكَ الْغَزَاةَ عَلَيْنَا.
قَالَ: بِمَاذَا أَفْسَدْتُهَا؟ قَالَ: بِإِطْلاقِكَ الْخَمْرَ يُبَاعُ فِي عَسْكَرِكَ، وَقَدْ حَرَّمَهَا اللَّهُ، فَابْدَأْ بِعَسْكَرِكَ فَنَظِّفْهُ، ثُمَّ اقْصِدِ الْغَزْوَ، وَبِمَ اسْتَحْلَلَتَ أَنْ تُبِيحَ شَيْئًا حَرَّمَهُ اللَّهُ كَهَيْئَةِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ؟ قَالَ: أَوَ قَدْ عَرَفْتَ أَنَّهَا تُبَاعُ ظَاهِرًا وَرَأَيْتَهَا؟ قَالَ: لَوْ لَمْ أَرَهَا وَتَصِحَّ عِنْدِي مَا وَقَفْتُ هَذَا الْمَوْقِفَ.
قَالَ: فَشَيْءٌ سِوَى الْخَمْرِ أَنْكَرْتَهُ؟ قَالَ: نَعَمْ، إِظْهَارَكَ الْجَوَارِي الْعَمَّارِيَّاتِ، وَكَشْفَهُنَّ الشُّعُورَ مِنْهُنَّ بَيْنَ أَيْدِينَا كَأَنَّهُنَّ الأَقْمَارُ.
তার ভালোবাসায় যদি তলোয়ার দিয়ে আমার মাথা কেটে ফেলা হয়
… তবে আমার মাথাটি দ্রুত তার দিকেই ঝুঁকে পড়বে।
অতঃপর সুলাইমান বললেন: ‘সেই বেদুইনকে আমার কাছে নিয়ে এসো।’ তাকে নিয়ে আসা হলো এবং তাকে প্রহরায় রাখা হলো। এরপর তিনি আব্দুল মালিকের কাছে ফিরে গেলেন এবং তাঁর দরবারে প্রবেশ করলেন। আব্দুল মালিক জিজ্ঞেস করলেন: ‘হে সুলাইমান, তোমার সংবাদ কী?’ তিনি বললেন: ‘আপনি যা জানতে চেয়েছিলেন আমি তার উত্তর নিয়ে এসেছি এবং আপনার জন্য সেই কবিতাটি নিয়ে এসেছি।’
তিনি বললেন: ‘তা পেশ করো।’ তখন তিনি তাঁকে তা পাঠ করে শোনালেন। আব্দুল মালিক তাকে বললেন: ‘চমৎকার! তুমি এটি কোথায় পেলে?’ অতঃপর তিনি তাঁকে বেদুইনের ঘটনা বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেন: ‘তোমার প্রার্থনা কী? আর তোমার সঙ্গীর প্রাপ্য অংশটির কথা ভুলে যেও না যেন?’ তিনি বললেন: ‘হে আমিরুল মুমিনিন, আমার আবেদন এই যে—নিশ্চয়ই উত্তরাধিকারের অঙ্গীকার আয়ু নিকটবর্তী করে না, আর তা বর্জন করা মৃত্যুকে দূরে সরিয়ে দেয় না। আমিরুল মুমিনিন ইতিপূর্বে ওয়ালিদের অনুকূলে অঙ্গীকার করেছেন; এখন আমিরুল মুমিনিন যদি সমীচীন মনে করেন যে তার পরে আমার অনুকূলে অঙ্গীকার করবেন, তবে তিনি তা করতে পারেন।’
তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ।’ এরপর তিনি মক্কায় মানুষের জন্য হজ্জ পরিচালনা করলেন এবং তাকে এক লক্ষ দিরহাম প্রদান করলেন, যা তিনি সেই বেদুইনকে দিয়ে দিলেন। এটি ছিল ৮১ হিজরির ঘটনা।
হাসান ইবনে আব্দুল জব্বার আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদা আল-মামুন তাঁর কোনো এক যুদ্ধ অভিযানে সঙ্গীদের থেকে আলাদা হয়ে একাকী পথ চলছিলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন উজাইফ ইবনে আনবাসাহ। এমন সময় বিভ্রান্তের ন্যায় কাফন পরিহিত এক ব্যক্তি উদয় হলো। যখন আল-মামুন তাকে দেখলেন, তখন তিনি থমকে দাঁড়ালেন। অতঃপর উজাইফের দিকে তাকিয়ে বললেন: ‘আফসোস তোমার জন্য! তুমি কি কাফন পরিহিত ঐ ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছ না যে আমার দিকেই আসছে?’ উজাইফ বললেন: ‘হে আমিরুল মুমিনিন, আমি আপনার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ লোকটি আল-মামুন পর্যন্ত পৌঁছাতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করল না। আল-মামুন তাকে বললেন: ‘হে কাফন পরিহিত ব্যক্তি, তুমি কে? আর কার উদ্দেশ্যে এসেছ?’ সে বলল: ‘আপনার উদ্দেশ্যেই এসেছি।’ তিনি বললেন: ‘তুমি কি আমাকে চেনো?’ সে বলল: ‘যদি আপনাকে না-ই চিনতাম, তবে আপনার কাছে আসতাম না।’ তিনি বললেন: ‘তুমি কি আমাকে সালাম দেবে না?’ সে বলল: ‘আমি আপনাকে সালাম দেওয়া সংগত মনে করি না।’
তিনি বললেন: ‘কেন?’ সে বলল: ‘আমাদের এই যুদ্ধ অভিযানটি আপনি কলুষিত করার কারণে।’
উজাইফ বললেন: ‘আমি আমার তলোয়ারের ধার পরখ করছিলাম যেন তার ঘাড় উড়িয়ে দিতে দেরি না হয়। এমন সময় আল-মামুন আমার দিকে তাকিয়ে বললেন: ‘হে উজাইফ, আমি ক্ষুধার্ত; আর ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কোনো সুচিন্তিত মত থাকে না। সুতরাং একে তোমার কাছে রাখো যতক্ষণ না আমি দুপুরের খাবার গ্রহণ করি এবং তাকে ডেকে পাঠাই।’
তখন উজাইফ তাকে পাকড়াও করলেন এবং নিজের সামনে বসিয়ে রাখলেন। আল-মামুন যখন তাঁর গন্তব্যে পৌঁছালেন, তখন খাবার আনালেন। যখন খাবার তাঁর সামনে রাখা হলো, তখন তিনি তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: ‘আল্লাহর কসম, আমার প্রতিপক্ষের সাথে বিতর্ক না করা পর্যন্ত আমি তা গলাধঃকরণ করব না। হে উজাইফ, কাফন পরিহিত ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।’
তিনি বললেন: যখন লোকটি তাঁর সামনে বসল, তখন তিনি বললেন: ‘বলো হে কাফন পরিহিত ব্যক্তি, তুমি কী বলেছিলে?’ সে বলল: ‘আমি বলেছিলাম—আমি আপনাকে সালাম দেওয়া সংগত মনে করি না, কারণ আপনি আমাদের এই যুদ্ধ অভিযানটি কলুষিত করেছেন।’
তিনি বললেন: ‘আমি কিসের মাধ্যমে একে কলুষিত করেছি?’ সে বলল: ‘আপনার বাহিনীতে মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে, অথচ আল্লাহ তা হারাম করেছেন। সুতরাং আপনার বাহিনী থেকে সংস্কার শুরু করুন এবং তা পবিত্র করুন, অতঃপর যুদ্ধের সংকল্প করুন। আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তা কি করে আল্লাহ যা হালাল করেছেন তার মতো আপনি বৈধ জ্ঞান করলেন?’ তিনি বললেন: ‘তুমি কি এটি প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখেছ এবং এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছ?’ সে বলল: ‘যদি আমি তা না দেখতাম এবং আমার নিকট তা নিশ্চিত না হতো, তবে আমি এই অবস্থানে দাঁড়াতাম না।’
তিনি বললেন: ‘মদ ছাড়া আর কি এমন কিছু আছে যা তুমি অপছন্দ করেছ?’ সে বলল: ‘হ্যাঁ, হাওদাজ আরোহী দাসীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং আমাদের সামনে তাদের চুল উন্মুক্ত রাখা, যেন তারা এক একটি উজ্জ্বল চাঁদ।’
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٩)
يَخْرُجُ الرَّجُلُ مِنَّا يُرِيدُ أَنْ يُهْرَاقَ دَمُهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَيَعْقِرَ جَوَادَهُ، قَاصِدًا أَعْدَاءَ اللَّهِ، فَإِذَا نَظَرَ إِلَيْهِنَّ أَفْسَدْنَ قَلْبَهُ وَرَكَنَ إِلَى الدُّنْيَا، وَانْصَاعَ إِلَيْهَا، فَبِمَ اسْتَحْلَلَتَ ذَلِكَ؟ قَالَ الْمَأْمُونُ: نَعَمْ، صَدَقْتَ قَدْ فَعَلْتُ ذَاكَ، وَسَأُخْبِرُكَ بِالْعُذْرِ فِيهِ، فَإِنْ كَانَ صَوَابًا، وَإِلا رَجَعْتُ إِلَى رَأْيِكَ، فَشَيْءٌ سِوَى هَذَا أَنْكَرْتَهُ؟ قَالَ: نَعَمْ، شَيْءٌ آمُرُ وَأَحُثُّ عَلَيْهِ، خَرَجَ نَاهِيكَ يَنْهَانَا عَنْهَ.
قَالَ: وَمَا هُوَ؟ قَالَ: الأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ، فَبِمَ اسْتَحْلَلَتَ أَنْ تَنْهَى عَمَّا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ؟ قَالَ: أَمَّا الَّذِي يُدْخِلُ الأَمْرَ بِالْمَعُروفِ فِي الْمُنْكَرِ، فَإِنِّي أَنْهَاهُ وَقَدْ نَهَيْتُهُ، وَأَمَّا الَّذِي يَأْمُرُ بَالْمَعْرُوفِ بَالْمَعْرِفَةِ، فَإِنِّي أَحُثُّهُ عَلَى ذَلِكَ وَأَحْدُوهُ عَلَيْهِ، فَشَيْءٌ سِوَى هَذِهِ الثَّلاثِ؟ قَالَ: لا.
قَالَ: يَا صَاحِبَ الْكَفَنِ، أَمَّا الْخَمْرُ لَعَمْرِي لَقَدْ حَرَّمَهَا اللَّهُ، وَلَكِنْ لا تُعْرَفُ إِلا بِثَلاثِ جَوَارِحَ: بِالنَّظَرِ وَالشَّمِّ وَالشُّرْبِ، أَفَتَشْتَرِيهَا أَنْتَ؟ قَالَ: مَعَاذَ اللَّهِ أَنْ أُنْكِرَ مَا أَشْرَبُ.
قَالَ: فَيُمْكِنُ فِي وَقْتِكَ هَذَا أَنْ تُوقِفَنَا عَلَى بَيْعِهَا حَتَّى نُوَجِّهَ مَعَكَ مَنْ يَشْتَرِي مِنْهَا؟ قَالَ: وَمَنْ يُظْهِرُهَا وَيَبِيعُنِيهَا، وَعَلَيَّ هَذَا الْكَفَنُ؟ قَالَ: صَدَقْتَ.
قَالَ: فَكَأَنَّكَ إِنَّمَا عَرَفْتَهَا بِهَاتَيْنِ الْجَارِحَتَيْنِ.
يَا عُجَيْفُ ، عَلَيَّ بِقَوَارِيرَ فِيهَا شَرَابٌ.
فَانْطَلَقَ عُجَيْفٌ فَأَتَاهُ بِعِشْرِينَ قَارُورَةً، فَوَضَعَهَا بَيْنَ يَدَيْهِ مَعَ عِشْرِينَ وَصِيفًا.
ثُمَّ قَالَ: يَا صَاحَبَ الْكَفَنِ، نُفِيتُ مِنْ آبَائِي الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ إِنْ لَمْ يَكُنِ الْخَمْرُ فِيهَا.
فَأَيُّهَا الْخَمْرُ؟ فَإِنِّكَ تَعْلَمُ أَنَّ الْخَمْرَ مِنْ سُنَنِ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ، وَلا يَجُوزُ لِي أَنْ أَحُدَّ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ إِلا بِعَلامَةٍ أَوْ شَاهِدَيْ عَدْلٍ أَوْ إِقْرَارٍ.
فَنَظَرَ صَاحَبُ الْكَفَنِ إِلَى الْقَوَارِيرِ، وَقَالَ عُجَيْفٌ: أَيُّهَا الرَّجُلُ وَالَّلهِ لَوْ كُنْتَ خَمَّارًا مَا عَرَفْتَ مَوْضِعَ الْخَمْرِ بِعَيْنِهَا مِنْ هَذِهِ الْقَوَارِيرِ.
فَوَضَعَ نَظَرَهُ عَلَى قَارُورَةٍ، فَقَالَ لَهُ: هَذِهِ الْخَمْرُ.
فَدَعَا الْمَأْمُونُ بِالْقَارُورَةِ، فَأُتِيَ بِهَا، فَذَاقَهَا فَقَطَّبَ، ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيْهِ، فَقَالَ: يَا صَاحَبَ الْكَفَنِ، انْظُرْ هَذِهِ الْخَمْرَ.
قَالَ: فَتَنَاوَلَ الرَّجُلُ الْقَارُورَةَ فَذَاقَهَا، فَإِذَا خَلٌّ ذَابِحٌ.
قَالَ: قَدْ خَرَجَتْ هَذِهِ مِنْ حَدِّ الْخَمْرِ.
قَالَ الْمَأْمُونُ: صَدَقْتَ، إِنَّ الْخَلَّ الْمَصْنُوعَ مِنَ الْخَمْرِ لا يَكُونُ خَلًّا حَتَّى يَكُونَ خَمْرًا أَوَّلا، وَاللَّهِ مَا كَانَتْ هَذِهِ خَمْرًا قَطُّ، وَمَا هُوَ إِلا مَاءُ رُمَّانٍ حَامِضٍ يُعْصَرُ لِي فَأَصْطَبِحُ بِهِ.
سَاعَتَهُ قَدْ سَقَطَتْ جَارِحَتَانِ وَبَقِيَ الشَّمُّ، يَا عُجَيْفُ صَيِّرْهَا فِي رَصَاصِيَّاتٍ وَائْتِ بِهَا.
قَالَ: فَفَعَلَ، فَعُرِضَتْ عَلَى صَاحِبِ الْكَفَنِ، فَشَمَّهَا، فَوَقَعَ مَشَمُّهُ عَلَى قَارُورَةِ مُبَخْتَجٍ، فَقَالَ: هَذِهِ.
فَأَخَذَهَا الْمَأْمُونُ فَصَبَّهَا بَيْنَ يَدَيْهِ، وَقَالَ: انْظُرْ إِلَيْهَا، قَدْ عَقَدَتْهَا النَّارُ كَأَنَّهَا طُلاءُ الإِبِلِ يُقْطَعُ بِالْسِكِّينِ.
وَقَدْ سَقَطَتْ إِحْدَى الثَّلاثِ الَّتِي أَنْكَرْتَ يَا صَاحَبَ الْكَفَنِ.
আমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় তার রক্ত ঝরানোর এবং আল্লাহর শত্রুদের লক্ষ্য করে তার ঘোড়াকে আহত করার উদ্দেশ্যে বের হয়; কিন্তু যখন সে তাদের (নারীদের) দিকে তাকায়, তখন তারা তার অন্তরকে কলুষিত করে দেয় এবং সে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ে ও তার অনুগত হয়ে যায়। তাহলে আপনি কিসের ভিত্তিতে একে বৈধ মনে করলেন? আল-মামুন বললেন: হ্যাঁ, তুমি সত্য বলেছ, আমি তা করেছি এবং আমি তোমাকে এর কারণ বলব। যদি তা সঠিক হয় তবে তো হলোই, অন্যথায় আমি তোমার মতের দিকেই ফিরে আসব। এ ছাড়া কি আর কিছু আছে যা তুমি অপছন্দ করেছ? সে বলল: হ্যাঁ, এমন এক বিষয় যা আমি আদেশ করি এবং যার প্রতি উৎসাহিত করি, অথচ আপনার কর্মকর্তা বের হয়ে আমাদের তা থেকে নিষেধ করেন।
তিনি বললেন: সেটি কী? সে বলল: সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ। তাহলে আপনি আল্লাহর নির্দেশিত বিষয় থেকে নিষেধ করাকে কীভাবে বৈধ মনে করলেন? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি সৎকাজের আদেশকে অসৎকাজের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে, আমি তাকে তা থেকে নিষেধ করি এবং ইতোমধ্যেই তাকে নিষেধ করেছি। আর যে ব্যক্তি জ্ঞানের সাথে সঠিকভাবে সৎকাজের আদেশ দেয়, আমি তাকে সে কাজে উৎসাহিত করি এবং প্রেরণা দিই। এই তিনটি ছাড়া কি আর কিছু আছে? সে বলল: না।
তিনি বললেন: হে কাফন পরিহিত ব্যক্তি! মদের ব্যাপারে আমার জীবনের কসম, আল্লাহ তা হারাম করেছেন। কিন্তু একে তিনটি ইন্দ্রিয় ব্যতীত চেনা যায় না: দৃষ্টি, ঘ্রাণ এবং পানের মাধ্যমে। তুমি কি তা ক্রয় করো? সে বলল: আমি যা পান করি তা অস্বীকার করা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।
তিনি বললেন: তাহলে কি এই মুহূর্তে আপনি আমাদের এর বিক্রয়স্থলে নিয়ে যেতে পারেন, যাতে আমরা আপনার সাথে এমন কাউকে পাঠাতে পারি যে তা ক্রয় করবে? সে বলল: আর কে-ই বা তা প্রকাশ করবে এবং আমার কাছে বিক্রি করবে, যখন আমার গায়ে এই কাফন রয়েছে? তিনি বললেন: তুমি সত্য বলেছ।
তিনি বললেন: মনে হচ্ছে তুমি কেবল এই দুটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমেই একে চিনেছ। হে উজাইফ, আমার কাছে পানীয় ভর্তি কিছু বোতল নিয়ে এসো।
অতঃপর উজাইফ গিয়ে বিশটি বোতল নিয়ে এলেন এবং সেগুলো বিশজন বালকের সাথে তার সামনে রাখলেন।
তারপর তিনি বললেন: হে কাফন পরিহিত ব্যক্তি! আমি আমার হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীন পূর্বপুরুষদের বংশধর হিসেবে গণ্য হব না যদি এতে মদ না থাকে।
তাহলে এর মধ্যে মদ কোনটি? নিশ্চয়ই তুমি জানো যে, মদ হারাম হওয়া বান্দাদের ওপর আল্লাহর বিধানসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর কোনো লক্ষণ বা দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষী অথবা স্বীকৃতি ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তির ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করা আমার জন্য বৈধ নয়।
তখন কাফন পরিহিত ব্যক্তি বোতলগুলোর দিকে তাকালেন। উজাইফ বললেন: হে লোক! আল্লাহর কসম, তুমি যদি মদ্য বিক্রেতাও হতে, তবুও এই বোতলগুলোর মধ্য থেকে নির্দিষ্টভাবে মদের অবস্থান চিনতে পারতে না।
তখন তিনি একটি বোতলের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন এবং তাকে বললেন: এটিই মদ।
তখন মামুন বোতলটি তলব করলেন, তা আনা হলো। তিনি সেটি আস্বাদন করলেন এবং কপাল কুঁচকালেন। অতঃপর তার দিকে ফিরে বললেন: হে কাফন পরিহিত ব্যক্তি, দেখো এই মদকে।
বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকটি বোতলটি নিলেন এবং সেটি আস্বাদন করলেন, দেখা গেল সেটি অত্যন্ত তীব্র সিরকা।
তিনি বললেন: এটি মদের সীমা থেকে বেরিয়ে গেছে।
আল-মামুন বললেন: তুমি সত্য বলেছ। নিশ্চয়ই মদ থেকে তৈরি সিরকা ততক্ষণ সিরকা হয় না যতক্ষণ না তা প্রথমে মদ থাকে। আল্লাহর কসম, এটি কখনোই মদ ছিল না; বরং এটি ছিল টক ডালিমের রস যা আমার জন্য নিংড়ানো হয় এবং আমি সকালে তা পান করি।
এই মুহূর্তে দুটি ইন্দ্রিয় অকেজো হয়ে গেল এবং কেবল ঘ্রাণ অবশিষ্ট রইল। হে উজাইফ, এগুলোকে সিসার পাত্রে রাখো এবং নিয়ে এসো।
বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাই করলেন। অতঃপর সেগুলো কাফন পরিহিত ব্যক্তির সামনে পেশ করা হলো। তিনি ঘ্রাণ নিলেন এবং তার ঘ্রাণেন্দ্রিয় 'মুবখতাজ' (এক প্রকার ঘন পানীয়) এর বোতলের ওপর গিয়ে স্থির হলো। তিনি বললেন: এটি।
তখন মামুন সেটি নিলেন এবং তার সামনে ঢাললেন। তিনি বললেন: এর দিকে তাকাও, আগুন একে এমনভাবে ঘন করেছে যে মনে হচ্ছে এটি উটের গায়ে লেপনকৃত প্রলেপের মতো যা ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
আর হে কাফন পরিহিত ব্যক্তি! তুমি যে তিনটি বিষয়কে অপছন্দ করেছিলে, তার মধ্যে একটির অবসান ঘটল।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ثُمَّ رَفَعَ الْمَأْمُونُ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ، ثُمَّ قَالَ: اللُّهُمَّ إِنِّي أَتَقَرَّبُ إِلَيْكَ بِنَهْيِ هَذَا وَنُظَرَائِهِ عَنِ الأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ فِي أَعْظَمِ الْمُنْكَرِ، شَنَّعْتَ عَلَى قَوْمٍ بَاعُوا مِنْ هَذَا الْخَمْرِ وَمِنْ هَذَا الْمُبَخْتَجِ الَّتِي شَمَمْتَ، فَبِمَ تَسْلَمُ فِيمَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ اللَّهِ؟ اسْتَغْفِرِ اللَّهَ ذَنْبَكَ هَذَا الْعَظِيمَ، وَتُبْ إِلَيْهِ.
مَا الثَّانِي الَّذِي أَنْكَرْتَهُ؟ َقَالَ: الْجَوَارِي.
قَالَ: صَدَقْتَ، أَخْرَجْتُهُنَّ إِبْقَاءً عَلَيْكَ وَعَلَى الْمُسْلِمِينَ كَرَاهَةَ أَنْ يَرَاهُنَّ الْعَدُوُّ وَالْعُيوُنُ وَالْجَوَاسِيسُ فِي الْعُمَارِيَّاتِ وَالْقِبَابِ، وَالْسُجُوفُ عَلَيْهِنَّ، فَيُتَوَهَّمُ أَنَّهُنَّ بَنَاتٌ وَأَخَوَاتٌ فَيَجِدُّوا فِي قِتَالِنَا، وَيَحْرِصُوا عَلَى الطَّلِبَةِ عَلَى مَا فِي أَيْدِينَا إِلَى أَنْ يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُنَّ إِمَاءٌ نَقِي بِهِنَّ حَوَافِرَ دَوَابِّنَا، لا قَدْرَ لَهُنَّ عِنْدَنَا، هَذَا تَدْبِيرٌ دَبَّرْتُهُ لِي وَلِلْمُسْلِمِينَ عَامَّةً، وَيَعُزُّ عَلَيَّ أَنْ تَرَى لِي حُرْمَةً، فَدَعْ فَلَيْسَ هُوَ شَأْنُكَ وَقَدْ صَحَّ عِنْدَكَ أَنِّي مُصِيبٌ فِي هَذَا، وَأَنَّكَ أَنْكَرْتَ بَاطِلا.
أَيُّ شَيْءٍ الثَّالِثَةُ؟ مَا الَّتِي أَنْكَرْتَ؟ قَالَ: الأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ.
قَالَ: هَذَا إِنَّكَ قَدْ أَمَرْتَ بِالْمَعْرُوفِ فَدَخَلْتَ فِي عَمَلِ الْمُنْكَرِ، فَدَعْ دِينَكَ هَذَا، وَنَسْأَلُكَ عَنْ مَسْأَلَةٍ، إِنْ أَجَبْتَ فِيهَا عَفَوْنَا عَنْكَ.
تُبْصِرُ الأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ؟ قَالَ: نَعَمْ ، أُبْصِرُهُ.
قَالَ: رَأَيْتُكَ لَوْ أَنَّكَ أَصَبْتَ فَتَاةً مَعَ فَتًى فِي هَذَا الْفَجِّ، قَدْ خَضَعَا عَلَى حَدِيثٍ لَهُمَا، مَا كُنْتَ صَانِعًا لَهُمَا؟ قَالَ: كُنْتُ أَسْأَلُهُمَا: مَنْ أَنْتُمَا؟ قَالَ: كُنْتَ تَسْأَلُ الرَّجُلَ، فَيَقُولُ: امْرَأَتِي، وَتَسْأَلُ الْمَرْأَةَ: فَتَقُولُ زَوْجِي، مَا كُنْتَ صَانِعًا بِهِمَا؟ قَالَ: كُنْتُ أَحُولُ بَيْنَهُمَا وَأَحْبِسُهُمَا.
قَالَ: حَتَّى يَكُونَ مَاذَا؟ قَالَ: حَتَّى أَسْأَلَ عَنْهُمَا.
قَالَ: وَمَنْ تَسْأَلُ؟ قَالَ: كُنْتُ أَسْأَلُهُمَا مِنْ أَيْنَ أَنْتُمَا؟ قَالَ: أَحْسَنْتَ، سَأَلْتُ الرَّجُلَ مِنْ أَيْنَ أَنْتَ؟ قَالَ: مِنْ أَسْبِيجَابَ، وَسَأَلْتَ الْمَرْأَةَ، قَالَتْ: مِنْ أَسْبِيجَابَ، ابْنُ عَمِّي تَزَوَّجْنَا وَجِئْنَا.
أَكُنْتَ حَابِسًا الرَّجُلَ وَالْمَرْأَةَ بِسُوءِ ظَنِّكَ الرَّدِيءِ وَتَوَهْمِكَ الْكَاذِبِ، إِلَى أَنْ يَرْجِعَ الرَّسُولُ مِنْ أَسْبِيجَابَ، مَاتَ الرَّسُولُ، أَوْ مَاتَا إِلَى أَنْ يَعُودَ رَسُولُكَ؟ قَالَ: كُنْتُ أَسْأَلُ فِي عَسْكَرِكَ؟ قَالَ: فَلَعَلَّكَ لا تُصَادِفُ فِي عَسْكَرِي مِنْ أَهْلِ أَسْبِيجَابَ إِلا رَجُلا أَوْ رَجُلَيْنِ، فَيَقُولانِ لَكَ: لا نَعْرِفُ.
عَلَى هَذَا لَبِسْتَ الْكَفَنَ يَا صَاحَبَ الْكَفَنِ؟ مَا أَحْسَبُكَ إِلا أَحَدَ رِجَالٍ: إِمَّا رَجُلٌ مَدْيُونٌ، وَإِمَّا رَجُلٌ مَظْلُومٌ، وَإِمَّا رَجُلٌ تَأَوَّلْتَ فِي حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ فِي خُطْبَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم، قَالَ: وَرَوَى لَهُ الحَدِيثُ عَنْ هُشَيْمٍ وَغَيْرِهِ، وَنَحْنُ نَسْمَعُ الْخُطْبَةَ إِلَى مُغَيْرِبَانِ الشَّمْسِ، إِلَى أَنْ بَلَغَ إِلَى قَوْلِهِ: «أَلا إِنَّ أَفْضَلَ الْجِهَادِ كَلِمَةُ حَقٍّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ» .
এরপর আল-মামুন আকাশের দিকে মাথা তুললেন, তারপর বললেন: হে আল্লাহ, আমি এই ব্যক্তি এবং তার ন্যায় ব্যক্তিদের সবচেয়ে বড় অন্যায়ের ক্ষেত্রে সৎকাজের আদেশ করা থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে তোমার নৈকট্য প্রার্থনা করছি। তুমি এমন এক জাতির নিন্দা করেছ যারা এই মদ এবং এই সুগন্ধি নির্যাস (মুবাখতাজ) বিক্রি করত যার ঘ্রাণ তুমি নিয়েছ। তবে তোমার এবং আল্লাহর মাঝে কিসের ভিত্তিতে তুমি মুক্তি পাবে? তোমার এই মহা পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তাঁর কাছে তওবা করো।
তুমি দ্বিতীয় কোন বিষয়টির প্রতিবাদ করেছ? সে বলল: দাসীদের।
তিনি বললেন: তুমি সত্য বলেছ। আমি তাদের বের করেছি তোমার এবং মুসলমানদের সুরক্ষার খাতিরে, যাতে শত্রু, গোয়েন্দা এবং গুপ্তচররা তাদের পালকি ও তাঁবুতে দেখে না ফেলে। তাদের ওপর পর্দা টাঙানো থাকে, ফলে ধারণা হতে পারে যে তারা হয়তো কন্যা বা বোন। এতে তারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আরও তৎপর হয়ে উঠবে এবং আমাদের হাতে যা আছে তা পাওয়ার লালসা করবে। যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে তারা স্রেফ দাসী, যাদের মাধ্যমে আমরা আমাদের পশুর খুর রক্ষা করি; আমাদের কাছে তাদের কোনো (বিশেষ) মর্যাদা নেই। এটি একটি কৌশল যা আমি আমার জন্য এবং সাধারণ মুসলমানদের জন্য নির্ধারণ করেছি। তোমার কাছে আমার কোনো সম্মান থাকা আমার জন্য কঠিন ঠেকছে। সুতরাং এটি ছেড়ে দাও, এটি তোমার বিষয় নয়। আর তোমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে আমিই সঠিক এবং তুমি অনর্থক প্রতিবাদ করেছ।
তৃতীয় বিষয়টি কী? তুমি কিসের প্রতিবাদ করেছ? সে বলল: সৎকাজের আদেশের।
তিনি বললেন: এই যে তুমি সৎকাজের আদেশ দিতে গিয়ে নিজেই অন্যায়ের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়েছ। সুতরাং তোমার এই বিশেষ পদ্ধতি ত্যাগ করো। আমরা তোমাকে একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি, যদি তুমি তার উত্তর দিতে পারো তবে আমরা তোমাকে ক্ষমা করে দেব।
তুমি কি সৎকাজের আদেশ সম্পর্কে বোঝো? সে বলল: হ্যাঁ, আমি তা বুঝি।
তিনি বললেন: বল তো, যদি তুমি এই গিরিপথে কোনো যুবকের সাথে কোনো যুবতীকে পাও এবং তারা নিজেদের কোনো বিষয়ে নিভৃতে কথা বলছে, তবে তুমি তাদের সাথে কী করতে? সে বলল: আমি তাদের জিজ্ঞাসা করতাম: তোমরা কে? তিনি বললেন: তুমি লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলে, সে বলল: আমার স্ত্রী; আর মহিলাটিকে জিজ্ঞাসা করলে, সে বলল: আমার স্বামী। তখন তুমি তাদের সাথে কী করতে? সে বলল: আমি তাদের মাঝে বাধা দিতাম এবং তাদের বন্দি করতাম।
তিনি বললেন: কতক্ষণ পর্যন্ত? সে বলল: যতক্ষণ না আমি তাদের সম্পর্কে তদন্ত করি।
তিনি বললেন: কাকে জিজ্ঞাসা করতে? সে বলল: আমি তাদের জিজ্ঞাসা করতাম তোমরা কোথা থেকে এসেছ? তিনি বললেন: ঠিক আছে। তুমি লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলে: তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বলল: আসবিযাব থেকে। আর মহিলাটিকে জিজ্ঞাসা করলে, সে বলল: আসবিযাব থেকে; আমরা চাচাতো ভাই-বোন, বিয়ে করে এসেছি।
তবে কি তুমি তোমার এই মন্দ কুধারণা এবং মিথ্যা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ওই পুরুষ ও মহিলাকে ততক্ষণ বন্দি করে রাখতে যতক্ষণ না তোমার বার্তাবাহক আসবিযাব থেকে ফিরে আসত? যদি বার্তাবাহক মারা যায় অথবা তার ফেরার আগেই তারা মারা যায় (তবে কী হতো)? সে বলল: আমি আপনার সেনাদলে খোঁজ নিতাম। তিনি বললেন: হতে পারে আমার সেনাদলে আসবিযাবের মাত্র একজন বা দুইজন লোক আছে এবং তারা বলছে: আমরা চিনি না।
হে কাফন পরিহিত ব্যক্তি! এই কি তোমার অবস্থা যার জন্য তুমি কাফন পরেছ? আমি তোমাকে এই কয়েক শ্রেণির মানুষের একজন ছাড়া আর কিছু মনে করি না: হয়তো তুমি একজন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, অথবা একজন মজলুম, অথবা এমন এক ব্যক্তি যে আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের খুতবা সম্পর্কিত হাদিসের অপব্যাখ্যা করেছ। বর্ণনাকারী বলেন: তার কাছে হুশাইম এবং অন্যদের সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করা হলো। আমরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত খুতবাটি শুনলাম, শেষ পর্যন্ত তিনি এই বাণীতে পৌঁছালেন: «জেনে রেখো, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ জিহাদ হলো অত্যাচারী শাসকের সামনে হকের কথা বলা।»
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١١)
فَجَعَلْتَنِي جَائِرًا وَأَنْتَ الْجَائِرُ، وَجَعَلْتَ نَفْسَكَ تَقُومُ مَقَامَ الآمِرِ بِالْمَعْرُوفِ وَقَدْ رَكِبْتَ مِنَ الْمُنْكَرِ مَا هُوَ أَعْظَمُ عَلَيْكَ، لا وَاللَّهِ ضَرَبْتُكَ سَوْطًا، وَلا زِدْتُ عَلَى تَخْرِيقِ كَفَنِكَ، وَنُفِيتُ مِنْ آبَائِي الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ لَئِنْ قَامَ أَحَدٌ مَقَامَكَ، لا يَقُومُ فِيهِ بِالْحُجَّةِ، لا نَقَصْتُهُ مِنْ أَلْفِ سَوْطٍ، وَأَمَرُتُ بِصَلْبِهِ فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي يَقُومُ فِيهِ، قَالَ: فَنَظَرْتُ إِلَى عُجَيْفٍ يَخْرِقُ كَفَنَ الرَّجُلِ وَيُلْقِي عَلَيْهِ ثِيَابًا بِيضًا
حَدَّثَنِي عَمِّي مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: " كُنَّا يَوْمًا عِنْدَ الْمَأْمُونِ وَالشُّعَرَاءُ عِنْدَهُ وَالنَّاسُ إِذْ ذَاكَ يَأْتُونَهُ فَيُكْثِرُونَ، فَأَنْشَدُوهُ وَقَامَ رَجُلٌ بَعْدَمَا فَرِغُوا، مُشَوَّهُ الْخَلْقِ، مَخْضُوبُ اللِّحْيَةِ، فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا قُلْتُمْ وَلا بَلَغْتُمُ الَّذِي الْمَأْمُونُ أَهْلُهُ، وَلَكِنِّي قُلْتُ:
مَا بَلَغَ الْمَدَّاحُ مَا فِيكَ كُلَّهُ
… وَلا الْعُشْرَ مِنْ عُشْرِ الْعَشِيرِ الْمُعَشَّرِ
ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ الْحَاسِبِ، فَقَالَ لَهُ: يَا إِبْرَاهِيمُ احْسِبْ هَذَا، فَانْظُرْ كَمْ هُوَ، ثُمَّ انْغَمَسَ فِي النَّاسِ فَذَهَبَ
حَدَّثَنِي عَمِّي مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: " لَقِيَ الْفَضْلُ بْنُ الْرَبِيعِ طَاهِرَ بْنَ الْحُسَيْنِ، فَثَنَى عِنَانَهُ مَعَهُ، فَقَالَ لَهُ الْفَضْلُ: يَا أَبَا الطَّيِّبِ، مَا ثَنَيْتُ عِنَانِي مَعَ أَحَدٍ قَطُّ إِلا مَعَ خَلِيفَةٍ، وَلِي حَاجَةٌ.
قَالَ: مَا هِيَ؟ قَالَ: تُكَلِّمْ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الرِّضَا عَنِّي، وَتُعَجِّلُ ذَاكَ.
فَمَضَى أَبُو الطَّيِّبِ مِنْ فَوْرِهِ ذَاكَ، فَكَلَّمَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فِيهِ، فَأَمَرَهُ بَإِدِخَالِ الْفَضْلِ عَلَيْهَ، وَقَالَ أَبُو الطَّيِّبِ: أَدْخَلْتُ الْفَضْلَ عَلَى الْمَأْمُونِ حَاسِرًا لا سِيفَ عَلَيْهِ وَلا طَيْلَسَانَ وَلا قَلَنْسُوَةَ.
فَلَمَّا رَآهُ الْمَأْمُونُ وَثَبَ عَلَى فَرْشِهِ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: أَتَدْرِي لِمَ صَلَّيْتُ يَا فَضْلُ؟ قَالَ: لا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ.
قَالَ: شُكْرًا لِلَّهِ إِذْ رَزَقَنِي الْعَفَوَ عَنْكَ، قَدْ كَلَّمَنِي أَبُو الطَّيِّبِ فِيكَ، وَقَدْ عَفَوْتُ عَنْكَ.
فَقَالَ الْفَضْلُ: لِي حَاجَةٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: وَمَا هِيَ؟ قَالَ: تَجْعَلُ لِي مَرْتَبَةً فِي الدَّارِ، قَالَ: عَجِلْتَ يَا فَضْلُ اخْرُجْ.
فَخَرَجَ
حَدَّثَنِي عَمِّي مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: " قِيلَ لِلْمَأْمُونِ: إِنَّ بَنِي عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ، صَاحِبِ الْمُصَلَّى مُجَّانٌ سُفَهَاءُ، وَقَدْ نَقَشَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ عَلَى خَاتَمِهِ مَا يَدُلُ عَلَى مَجَانَةٍ، فَقَالَ لَهُ الْمَأْمُونُ: يَا عَلِيُّ أَحْضِرْنِي أَوْلادَكَ الأَكَابِرَ وَالأَصَاغِرَ فَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُرَتِّبَهُمْ وَأُرَشِّحَهُمْ لِلأَمْرِ الَّذِي يَصْلُحُونَ لَهُ.
فَانْصَرَفَ فَأَخْبَرَ بَنِيهِ بِذَلِكَ، وَأَمَرَهُمْ بِالتَّهَيُّؤِ لِلرُّكُوبِ إِلَى الدَّارِ.
فَاسْتَعَدُّوا لِذَلِكَ بِأَحْسَنِ هَيْئَةٍ وَأَتَمِّ أَمْرٍ، وَاسْتَأْذَنْ لَهُمْ فَدَخَلُوا فَسَلَّمُوا قِيَامًا.
وَأَمَرَ الْمَأْمُونُ بِأَخْذِ خَوَاتِيمِهِمْ.
فَأُخِذَتْ جَمِيعًا، فَإِذَا فِي بَعْضِهَا: أأس مكنسة ااسه.
وَعَلَى الآخَرِ: «أَبِي يَغْلِبْ أَبُوكُمْ بِسَيْفِهِ وَرِمَاحِهِ» .
وَعَلَى الآخَرِ: «تَعِسَ الْهَنُ وَانْتَكَسَ، دَخَلَ الْهُنَّةَ وَاحْتَبَسَ» .
তুমি আমাকে অন্যায়কারী সাব্যস্ত করেছ অথচ তুমিই অন্যায়কারী। তুমি নিজেকে সৎকাজের আদেশদাতার স্থানে বসিয়েছ অথচ তুমি নিজেই তার চেয়েও বড় অসৎকাজে লিপ্ত হয়েছ। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে চাবুক মারিনি এবং তোমার কাফন ছিঁড়ে ফেলার অতিরিক্ত কিছুই করিনি। আমার সৎপথপ্রাপ্ত হিদায়াতপ্রাপ্ত পিতৃপুরুষগণ থেকে আমি বিচ্যুত হব যদি তোমার স্থলাভিষিক্ত কেউ কোনো প্রমাণ ব্যতিরেকে দাঁড়ায় এবং আমি তাকে এক হাজার চাবুক না মারি এবং যেখানে সে দাঁড়িয়েছে সেখানে তাকে শূলে চড়ানোর নির্দেশ না দিই। বর্ণনাকারী বলেন: আমি উজাইফের দিকে তাকালাম, সে লোকটির কাফন ছিঁড়ে ফেলছিল এবং তার ওপর সাদা কাপড় দিচ্ছিল।
আমার চাচা মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদিন আমরা আল-মামুনের নিকট ছিলাম এবং কবিরাও তাঁর কাছে ছিলেন। তখন মানুষ তাঁর কাছে প্রচুর সংখ্যায় আসছিল। তারা তাঁর উদ্দেশ্যে কবিতা পাঠ করল। তারা শেষ করার পর এক ব্যক্তি দাঁড়ালেন, যার অবয়ব ছিল বিকৃত এবং দাড়ি ছিল রঞ্জিত। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আপনারা যা বলেছেন তা আল-মামুন যে প্রশংসার যোগ্য তার ধারেকাছেও পৌঁছেনি। তবে আমি বলেছি:
প্রশংসাকারীরা আপনার মধ্যকার সমস্ত গুণে পৌঁছাতে পারেনি
… এমনকি দশমাংশের দশমাংশের দশমাংশের দশমাংশও নয়।
অতঃপর তিনি ইব্রাহিম হিসাবরক্ষকের দিকে তাকিয়ে বললেন: হে ইব্রাহিম, এটি হিসাব করো এবং দেখো এটি কত হয়। এরপর তিনি মানুষের ভিড়ে মিশে গেলেন এবং চলে গেলেন।
আমার চাচা মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ফজল ইবনে রবি' তাহির ইবনে হুসাইনের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তার সাথে নিজের ঘোড়ার লাগাম ঘুরিয়ে নিলেন। ফজল তাকে বললেন: হে আবু তৈয়ব, খলিফা ব্যতীত অন্য কারো জন্য আমি কখনো আমার ঘোড়ার লাগাম ঘুরাইনি, আর আমার একটি প্রয়োজন আছে।
তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আমার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আপনি আমিরুল মুমিনিনের সাথে কথা বলুন এবং এটি দ্রুত করুন।
আবু তৈয়ব তখনই চলে গেলেন এবং তাঁর ব্যাপারে আমিরুল মুমিনিনের সাথে কথা বললেন। তিনি ফজলকে তাঁর নিকট প্রবেশ করানোর নির্দেশ দিলেন। আবু তৈয়ব বলেন: আমি ফজলকে আল-মামুনের নিকট এমন অবস্থায় প্রবেশ করালাম যে তার মাথায় কিছু ছিল না এবং তার শরীরে কোনো তলোয়ার, চাদর বা টুপি ছিল না।
আল-মামুন যখন তাকে দেখলেন, তিনি তাঁর আসন থেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং দুই রাকাত নামাজ পড়লেন। এরপর তাকে সালাম দেওয়ার আগেই তাঁর দিকে ফিরে বললেন: হে ফজল, তুমি কি জানো আমি কেন নামাজ পড়লাম? তিনি বললেন: না, হে আমিরুল মুমিনিন।
তিনি বললেন: আল্লাহর শুকরিয়া আদায় স্বরূপ, যেহেতু তিনি আমাকে তোমাকে ক্ষমা করার সুযোগ দান করেছেন। তোমার ব্যাপারে আবু তৈয়ব আমার সাথে কথা বলেছে এবং আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
ফজল বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আমার একটি প্রয়োজন আছে। তিনি বললেন: সেটি কী? ফজল বললেন: আপনি রাজপ্রাসাদে আমার জন্য একটি পদমর্যাদা নির্ধারণ করে দিন। তিনি বললেন: হে ফজল, তুমি বড় তাড়াহুড়ো করলে, বেরিয়ে যাও।
তখন তিনি বেরিয়ে গেলেন।
আমার চাচা মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল-মামুনকে বলা হলো যে, ঈদগাহের অধিপতি আলী ইবনে সালেহের পুত্ররা নির্লজ্জ ও নির্বোধ এবং তাদের প্রত্যেকেই নিজের আংটিতে এমন কিছু খোদাই করেছে যা তাদের নির্লজ্জতার পরিচয় দেয়। তখন আল-মামুন তাকে বললেন: হে আলী, তোমার বড় ও ছোট সকল সন্তানকে আমার নিকট উপস্থিত করো, কারণ আমি তাদের বিন্যস্ত করতে চাই এবং যে কাজের তারা যোগ্য তার জন্য তাদের মনোনীত করতে চাই।
তিনি ফিরে গিয়ে তাঁর সন্তানদের এ বিষয়ে অবহিত করলেন এবং তাদের রাজপ্রাসাদে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিলেন।
তারা সর্বোত্তম বেশভূষায় ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি হলো। তিনি তাদের জন্য অনুমতি চাইলেন, তারা প্রবেশ করল এবং দাঁড়িয়ে সালাম দিল।
আল-মামুন তাদের আংটিগুলো নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন।
সবগুলোই নেওয়া হলো। দেখা গেল কোনোটিতে লেখা: 'আআস মাকনাসাহ আআসাহ'।
অন্যটিতে লেখা: «আমার পিতা তোমাদের পিতাকে তাঁর তরবারি ও বর্শা দিয়ে পরাজিত করবেন» ।
অন্যটিতে লেখা: «লিঙ্গটি ধ্বংস ও অধঃপতিত হোক, সে যোনিতে প্রবেশ করে আটকা পড়েছে» ।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وَعَلَى الآخَرِ: «. . . مِنْ قِيامٍ يُضْعِفُ الرُّكْبَتَيْنِ، فَلا تَسْتَعْمِلْهُ فِي الصَّيْفِ» .
فَقَالَ الْمَأْمُونُ: يَا سُفَهَاءُ، يَا مُجَّانُ، قَبَّحَكُمُ اللَّهُ صِغَارًا وَكِبَارًا، تَرَكْتُمُ الأَدَبَ، وَطَرَحْتُمُوهُ وَآثَرْتُمُ الْمُجُونَ وَالسَّفَهَ، هَذَا أَبُوكُمْ أَحَدُ الْفُقَهَاءِ وَالْعُلَمَاءِ، يُسْتَضَاءُ بِرَأْيِهِ وَيُحْمَدُ هَدْيُهُ.
ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ، فَقَالَ: أَمَّا عَلَيٌّ ذَاكَ، فَمَا الذَّنْبُ إِلا لَكَ إِذْ أَهْمَلْتَهُمْ فِي الْمُجُونِ، وَتَرَكُوا مَا كَانَ أَوْلَى بِكَ وَبِهِمْ أَنْ تَأَخُذَهُمْ بِهِ، فَقَالَ: أَطَالَ اللَّهُ بَقَاءَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، لا وَاللَّهِ إِنَّ لِي بِهِمْ قُوَّةٌ وَلا يَدٌ، سِيَّمَا هَذَا الأَكْبَرُ فِإِنَّهُ الَّذِي أَفْسَدَهُمْ وَهَتَكَهُمْ، وَزَيَّنَ لَهُمْ سُوءَ أَعْمَالِهِمْ، فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ.
فَأَطْرَقَ الأَكْبَرُ مَا يَتَزَمْزَمُ.
فَقَالَ لَهُ الْمَأْمُونُ: تَكَلَّمْ.
فَقَالَ: يَا سَيِّدِي بِلِسَانِي كُلِّهِ؟ أَوْ كَمَا يَتَكَلَّمُ الْعَبْدُ الذَّلِيلُ بَيْنَ يَدَيْ سَيِّدِهِ، حَتَّى يَتْرُكَ حُجَّتَهُ وَيَسْكُتَ عَنْ إِيضَاحِ جَوَابِهِ مَهَابةً لِمَوْلاهُ؟ فَقَالَ: تَكَلَّمْ بِمَا عِنْدَكَ.
فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ، هَلْ أَحْمَدْتَ رَأْيَ أَبِينَا إِذَ حَمِدْتَ فِقْهَهُ وَعِلْمَهُ؟ قَالَ: نَعَمْ.
قَالَ: فَاعْتِقْ مَا يَمْلِكُ، وَطَلِّقْ مَا يَطَأُ طَلاقَ الْحَرَجِ، وَصَدِّقْ بِمَا يَحْوِي، وَعَلَيْهِ ثَلاثُونَ حِجَّةً مَعْ ثَلاثِينَ نَذْرًا، يَبْلُغُ بِهَا الْكَعْبَةَ إِنْ لَمْ يَكُنْ أَبَوَهُ عَلَى طَلَبِ سُكَّرِ طَبَرْزَدَ، فَلَمْ يُوجَدْ فِي خِزَانَتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ، وَلَمْ يَكُنْ وَقْتًا يُوجَدُ فِيهِ السُّكَّرُ وَلا يُبَاعُ.
فَقَالَ لَهُ قَيِّمُ الْخِزَانَةِ: مَا عِنْدَنَا سُكَّرٌ.
فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلِّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَلا أَقُولُ: إِنَّا لَلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ وَإِنْ كَانَتِ الْمُصِيبَةُ، لأَنَّ ذَلِكَ إِنَّمَا يُقَالُ عِنْدَ الْمَصَائِبِ فِي الأَنْفُسِ، وَلَكِنْ أَحْمَدُهُ عَلَى السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ، فَإِنَّهُ حَدَّثَنَا أَصْحَابُنَا، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: «الْحَامِدُونَ الَّذِينَ يَحْمَدُونَ اللَّهَ عَلَى السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالشِّدَّةِ وَالرَّخَاءِ» ، وَأَنَا أَرَجُو أَنْ أَكُونَ مِنْهُمْ وَمَعَهُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ.
ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى الْخَازِنِ، فَقَالَ: ادْعُ لِيَ الْوَكِيلَ، فَدَعَاهُ، فَقَالَ: مَا مَنَعَكَ إِذْ فُنِيَ السُّكُّرُ أَنْ تَشْتَرِيَ سُكَّرًا؟ فَقَالَ: لَمْ يُعْلِمْنِي الْخَازِنُ.
فَقَالَ لِلْخَازِنِ: مَا مَنَعَكَ أَنْ تُعْلِمَهُ؟ قَالَ: كَنْتُ عَلَى إِعْلامِهِ.
فَقَالَ: مَا هُنَا شَيْءٌ أَبْلَغُ مِنْ عُقُوبَتِكُمَا مِنْ أَنْ أَقُومَ عَلَى إِحْدَى قَدَمَيَّ فَلا أَضَعَ الأُخْرَى، وَلا أُرَاوِحُ بَيْنَهُمَا حَتَّى يُحْضِرَانِي أَلْفًا مِنْ سُكَّرِ طَبَرْزَدَ، لَيْسَ بِمُضَرَّسٍ وَلا وَسَخٍ وَلا لَيِّنِ الْكَسْرِ، وَلا مُعْوَجِّ الْقَالَبِ.
এবং অন্যটির উপর: "...দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় যা হাঁটুদ্বয়কে দুর্বল করে দেয়, তাই গ্রীষ্মকালে তা ব্যবহার করো না।"
অতঃপর মামুন বললেন: ওহে নির্বোধরা, ওহে নির্লজ্জরা! শৈশবে ও বার্ধক্যে আল্লাহ তোমাদের কদর্য করুন। তোমরা আদব বর্জন করেছ, তা পরিত্যাগ করেছ এবং নির্লজ্জতা ও মূর্খতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছ। অথচ এই তোমাদের পিতা ফকিহ ও আলেমদের একজন, যার মতামতের মাধ্যমে আলোকবর্তিকা পাওয়া যায় এবং যার পথনির্দেশনা প্রশংসিত।
এরপর তিনি আলীর দিকে ফিরে বললেন: আর সেই আলীর কথা বলতে গেলে, অপরাধ তো কেবল তোমারই, যেহেতু তুমি তাদের নির্লজ্জতার মধ্যে অবহেলায় ছেড়ে দিয়েছ; আর তারা তা বর্জন করেছে যা তোমার ও তাদের জন্য গ্রহণ করা অধিকতর শ্রেয় ছিল। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ আমিরুল মুমিনীনকে দীর্ঘজীবী করুন। না, আল্লাহর শপথ! তাদের উপর আমার কোনো শক্তি বা হাত নেই (অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ নেই); বিশেষ করে এই বড় ছেলেটি, কারণ সেই তাদের নষ্ট করেছে ও তাদের মর্যাদা হরণ করেছে, তাদের মন্দ কাজগুলোকে তাদের নিকট সুশোভিত করেছে এবং তাদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে।
তখন বড় ছেলেটি মাথা নিচু করল এবং কোনো কথা বলল না।
মামুন তাকে বললেন: কথা বলো।
সে বলল: হে আমার মনিব! আমি কি আমার পূর্ণ জিহ্বা দিয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলব? নাকি একজন বিনীত দাস যেভাবে তার মনিবের সামনে কথা বলে—যাতে সে তার প্রভুর ভয়ে নিজের দলিল পরিত্যাগ করে এবং জবাব স্পষ্ট করা থেকে বিরত থাকে? তিনি বললেন: তোমার কাছে যা আছে তা বলো।
সে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। আপনি যখন আমাদের পিতার ফিকহ ও ইলমের প্রশংসা করলেন, তখন কি আপনি তার মতামতেরও প্রশংসা করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
সে বলল: তবে তিনি যা কিছুর মালিক তা যেন মুক্ত করে দেন, যার সাথে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্ক রয়েছে তাকে যেন চূড়ান্ত তালাক দিয়ে দেন এবং তার যা কিছু আছে তা যেন দান করে দেন; আর তার উপর ত্রিশটি হজ ও ত্রিশটি মানত আবশ্যক হোক যা পূর্ণ করতে তাকে কাবায় পৌঁছাতে হবে—যদি তার পিতা 'তাবারজাদ' চিনি অন্বেষণ না করে থাকেন এবং তার ভাণ্ডারে এর কিছুই পাওয়া না যায়, আর এমন সময় না হয়ে থাকে যখন চিনি পাওয়া যায় এবং বিক্রি করা হয়।
তখন ভাণ্ডারের তত্ত্বাবধায়ক তাকে বলল: আমাদের কাছে কোনো চিনি নেই।
তখন তিনি বললেন: সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আমি 'নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী' বলব না, যদিও এটি একটি বিপদ; কারণ তা কেবল জীবনের বিপদের সময় বলা হয়। বরং আমি সুখে ও দুঃখে তাঁরই প্রশংসা করছি। কেননা আমাদের সাথীরা আমাদের নিকট আবু ইসহাক থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "প্রশংসাকারী তারা, যারা সুখে ও দুঃখে এবং কঠিন ও সচ্ছল সময়ে আল্লাহর প্রশংসা করে।" আর আমি আশা করি যে, যদি আল্লাহ চান আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের সাথেই থাকব।
এরপর তিনি কোষাদক্ষের দিকে ফিরে বললেন: আমার কাছে প্রতিনিধিকে ডাকো। সে তাকে ডাকলে তিনি বললেন: চিনি শেষ হয়ে যাওয়ার পর তোমাকে চিনি ক্রয় করতে কিসে বাধা দিল? সে বলল: কোষাদক্ষ আমাকে জানায়নি।
তখন তিনি কোষাদক্ষকে বললেন: তাকে জানাতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? সে বলল: আমি তাকে জানানোর প্রস্তুতিতে ছিলাম।
তখন তিনি বললেন: তোমাদের উভয়ের শাস্তির জন্য এর চেয়ে অধিক কার্যকর আর কিছু নেই যে, আমি আমার একটি পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকব এবং অপরটি নিচে রাখব না, আর উভয়ের মধ্যে কোনো পরিবর্তন করব না যতক্ষণ না তারা আমার কাছে এক হাজার পরিমাণ তাবারজাদ চিনি উপস্থিত করবে—যা অমসৃণ হবে না, ময়লাযুক্ত হবে না, সহজে ভেঙে যাওয়ার মতো নরম হবে না এবং যার ছাঁচ বাঁকা হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ثُمَّ وَثَبَ ، فَقَالَ: {يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا} [الإنسان: 7] ، وَاللَّهِ مُؤَكَّدَةً لا أَزَالُ قَائِمًا حَتَّى أَفِيَ بِنَذْرِي، فَتَبَادَرَ غِلْمَانُهُ وَمَوَالِيهِ وَبَعْضُ وَلَدِهِ وَعَجَائِزُهُ نَحْوَ السُّوقِ، فَوَاحِدٌ يُنَبِّهُ حَارِسًا، وَآخَرُ يَفْتَحُ دَرْبًا، وَآخَرُ يَحُلُّ شَرِيجَةً، وَآخَرُ يُوقِظُ نَائِمًا، وَآخَرُ يَدْعُو بَائِعًا، وَآخَرُ يَرْمِي كَلْبًا، وَالْغِلْمَانُ وَالْجَوَارِي وَالْجِيرَانُ والْحُرَّاسُ وَالسُّوقَةُ وَالْبَاعَةُ فِي مِثْلِ صَيْحَةِ يَوْمِ الْقِيامَةِ.
ثُمَّ قَالَ: يَا قَوْمِي أَمَا لِي مِنْ أَهْلِي مُسَاعِدٌ؟ أَيْنَ الْبَنَاتُ الْعَوَاتِقُ الأَبْكَارُ، اللَّوَاتِي كُنْتُ أَغْذُوهُنَّ بِلَيِّنِ الطَّعَامِ وَلَيِّنِ اللِّبَاسِ، وَيَسْرَحْنَ فِيمَا أَرَعْنَ مِنْ خَفْضِ الْعَيْشِ وَغَضَارَةِ الدَّهْرِ، أَيْنَ أُمَّهَاتُ الأَولادِ اللَّوَاتِي اعْتَقَدْنَ الْعُقَدَ النَّفِيسَةَ، وَمَلَكْنَ الرَّغَائِبَ بَعْدَ الْحَالِ الْخَسِيسَةِ؟ أَيْنَ الأَوْلادُ الذُّكُورُ الَّذِينَ لَهُمْ نَسْعَدُ وَنَحْفَدُ، وَنَقُومُ وَنَقْعُدُ، وَلَهُمْ نَرُوحُ وَنَغْدُو؟ فَبَادَرَ إِلَيْهِ بَنُوهُ وَبَنَاتُهُ وَأُمَّهَاتُ أَوْلادِهِ.
قَالَ: فَقَامَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ عَلَى فَرْدِ رِجْلٍ.
فَقَالَ: أَحْسَنْتُمْ وَاللَّهِ، أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكُمْ وَجَزَاكُمْ خَيْرًا، لِمِثْلِهَا كُنْتُ أَحْسَبُ الْحُسْنَى.
قَالَ: وَلاحَظَ الْكُبْرَى مِنْ بَنَاتِهِ، وَآخَرَ مِنْ بَنِيهِ، وَهُمَا يُرَاوِحَانِ بَيْنَ قَدَمَيْهِمَا، فَقَالَ: يَا فُلانُ تُرَاوِحُ وَلا أُرَاوِحُ، يَا فُلانَةَ تُرَاوِحِينَ وَلا أُرَاوِحُ، صَدَقَ اللَّهُ وَبَلَّغَ رَسُولُهُ حِينَ يَقُولُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلادِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ} [التغابن: 14] .
حَذَارِ حَذَارِ مِنْكَ حَذَارِ.
ثُمَّ قَالَ: عَلِيُّ بْنُ صَالِحٍ لَيْسَ فِي خِزَانَتِهِ سُكَّرٌ طَبَرْزَدُ، وَجَائِزَتُهُ مِنْ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ أَعَزَّهُ اللَّهُ، أَلْفُ أَلْفِ دِرْهَمٍ، وَلَهُ ضَيْعَةٌ بِالنَّهْرَوَانِ، تُغِلُّ ثَلاثَمِائَةِ أَلْفِ دِرْهَمٍ إِذَا كَانَ السِّعْرُ بَيْنَ الْغَالِيِ وَالرَّخِيصِ، وَضَيْعَةٌ بِالزَّابِ تُغِلُّ مِائَةَ أَلْفِ أَلْفٍ، وَضَيْعَةٌ بِالْكُوفَةِ الْمَعْرُوفَةِ بِالْعَرَبَةِ مِنْ أَنْبَلِ ضَيْعَةٍ مَلَكَهَا أَحَدٌ، وَضَيْعَةٌ بِطَسُّوجِ الدَّسْكَرَةَ، وَلَوْلا أَنَّ سَعِيدًا السَّعْدِيَّ، أَرَاحَ اللَّهُ مِنْهُ، قَطَعَ شِرْبَهَا وَعَوَّرَ مَجْرَى مِيَاهِهَا حَتَّى انْدَفَنَتْ أَنْهَارُهَا، وَقَلَّتْ عِمَارَتُهَا إِضْرَارًا بِنَا، وَتَعَدِّيًا عَلَيْنَا مَا كَانَ لأَحَدٍ مِثْلُهَا، وَعَلَى أَنْ أَكَرَتَهَا وَمُزَارِعَهَا مِنْ أَخَابِثَ خَلْقِ اللَّهِ، وَلَوْ أَمْكَنَهُمْ أَنْ يَقْطَعُوا الْحَاصِلَ وَحَاصِلَ الْحَاصِلِ مَا أَعْطُوا شَيْئًا.
وَمَنْ أَخْبَرَكَ أَنَّ الضَّيْعَةَ لِرَبِّ الضَّيْعَةِ فَقُلْ لَهُ: كَذَبْتَ لا أُمٌّ لَكَ، الضَّيْعَةُ ثَلاثُ أَثْلاثٍ: فَثُلُثٍ لِلْسُلْطَانِ، وَثُلُثِ لِلْوَكِيلِ، وَثُلُثٍ لِلأَكَّارِ، وَإِنَّمَا يَأْتِي رَبُّ الضَّيْعَةِ مِنْ ضَيْعَتِهِ صُبَابَةٌ كَصُبَابَةِ الإِنَاءِ، وَمُخَّةٌ كَمُخَّةِ عُرْقُوبٍ، يَجِيءُ الأَكَّارُ وَقْتَ الدِّيَاسِ فَيَمُرُّ بِهِمُ الأَبَرْتَدُ، فَهَذَا يَذْبَحُ لَهُ، وَهَذَا يَخْبِزُ لَهُ، وَهَذَا يَسْقِيهِ، وَمَا نَبِيذُهُمْ إِلا الْعَكِرُ الأَسْودُ.
তারপর তিনি লাফিয়ে উঠলেন এবং বললেন: {তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে যার অশুভ হবে সুদূরপ্রসারী} [আল-ইনসান: ৭]। আল্লাহর কসম দিয়ে নিশ্চিতভাবে বলছি, আমি আমার মানত পূর্ণ না করা পর্যন্ত দাঁড়িয়েই থাকব। তখন তার দাসগণ, মুক্ত দাসগণ, তার কিছু সন্তান ও বৃদ্ধা পরিচারিকারা বাজারের দিকে ছুটে গেল। কেউ প্রহরীদের সতর্ক করছিল, কেউ ফটক খুলছিল, কেউ ঝুড়ির বাঁধন খুলছিল, কেউ ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে তুলছিল, কেউ বিক্রেতাকে ডাকছিল, আবার কেউ কুকুরকে তাড়াচ্ছিল। আর দাস, দাসী, প্রতিবেশী, প্রহরী এবং বাজারের সাধারণ মানুষ ও বিক্রেতারা সবাই মিলে কিয়ামত দিবসের হাহাকারের মতো এক অবস্থায় ছিল।
এরপর তিনি বললেন: হে আমার সম্প্রদায়! আমার পরিবারের মধ্যে কি আমার কোনো সাহায্যকারী নেই? কোথায় সেই কিশোরী কুমারী কন্যারা, যাদের আমি সুস্বাদু খাবার খাইয়েছি এবং কোমল পোশাক পরিয়েছি, আর যারা বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের মধ্যে বিচরণ করত? কোথায় সেই উম্মুল আওলাদগণ (সন্তানবতী দাসী), যারা মূল্যবান বন্ধন তৈরি করেছিল এবং হীন অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে কাম্য বস্তুর মালিক হয়েছিল? কোথায় সেই পুত্র সন্তানেরা, যাদের জন্য আমরা আনন্দিত হই ও সেবায় আত্মনিয়োগ করি, যাদের খাতিরে আমরা দাঁড়াই ও বসি এবং যাদের কল্যাণে আমাদের সকাল-সন্ধ্যা কাটে? তখন তার পুত্র, কন্যা ও সন্তানবতী দাসীরা তার দিকে ছুটে এল।
বর্ণনাকারী বলেন: তখন তাদের প্রত্যেকে এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে গেল।
তিনি বললেন: তোমরা চমৎকার করেছ, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তোমাদের কল্যাণ করুন এবং তোমাদের উত্তম প্রতিদান দিন। এমন সময়ের জন্যই আমি তোমাদের মঙ্গল কামনা করতাম।
বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তার কন্যাদের মধ্যে বড় মেয়ে এবং পুত্রদের মধ্যে ছোট ছেলের দিকে লক্ষ্য করলেন যে, তারা (ক্লান্ত হয়ে) তাদের দুই পায়ের ওপর ভার বদল করছে। তখন তিনি বললেন: হে অমুক! তুমি এক পা থেকে অন্য পায়ে ভার পরিবর্তন করছ অথচ আমি করছি না; হে অমুক মেয়ে! তুমি ভার পরিবর্তন করছ অথচ আমি করছি না। আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং তাঁর রাসূল তা পৌঁছে দিয়েছেন যখন মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু, অতএব তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো} [আত-তাগাবুন: ১৪]।
সাবধান! সাবধান! তোমার ব্যাপারে সাবধান!
তারপর তিনি বললেন: আলি ইবনে সালিহ-এর কোষাগারে কোনো মিছরি চিনি নেই, অথচ আমিরুল মুমিনীন—আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন—থেকে পাওয়া তাঁর পুরস্কার ছিল দশ লক্ষ দিরহাম। নাহরাওয়ানে তাঁর একটি ভূসম্পত্তি ছিল, যার আয় হতো তিন লক্ষ দিরহাম যখন বাজারমূল্য স্বাভাবিক থাকত। জাবে একটি ভূসম্পত্তি ছিল যা থেকে এক কোটি দিরহাম আয় হতো। কুফায় আরাবাহ নামে পরিচিত একটি ভূসম্পত্তি ছিল যা যে কারো মালিকানাধীন হওয়া সবচেয়ে উৎকৃষ্ট জমিগুলোর একটি। দাসকারাহ পরগনায় একটি জমি ছিল, যদি না সাঈদ আস-সাদি—আল্লাহ তার থেকে মুক্তি দিন—জমিটির পানি বন্ধ করত এবং পানির প্রবাহ নষ্ট করে দিত যাতে খালগুলো ভরাট হয়ে যায় এবং আমাদের ক্ষতি করতে ও আমাদের প্রতি অন্যায় করতে এর আবাদ কমে যায়, তবে এটি হতো অতুলনীয়। তাছাড়া এর কৃষকরা ছিল আল্লাহর নিকৃষ্টতম সৃষ্টি; যদি সম্ভব হতো তবে তারা মূল ফসল ও উদ্বৃত্ত ফসল সবই আত্মসাৎ করত, কিছুই দিত না।
কেউ যদি তোমাকে বলে যে ভূসম্পত্তি কেবল ভূস্বামীর জন্য, তবে তাকে বলো: তুমি মিথ্যা বলেছ, তোমার মা না থাক (তোমার নাশ হোক)। ভূসম্পত্তি আসলে তিন ভাগের: এক ভাগ শাসকের, এক ভাগ প্রতিনিধির এবং এক ভাগ কৃষকের। ভূস্বামী তার ভূসম্পত্তি থেকে কেবল পাত্রের তলানির মতো সামান্য কিছু পায়, কিংবা পায়ের গোড়ালির হাড়ের মজ্জার মতো নগণ্য অংশ লাভ করে। যখন মাড়াইয়ের সময় কৃষক আসে, তখন তাদের পাশ দিয়ে পরিদর্শক যায়; তখন কেউ তার জন্য পশু জবাই করে, কেউ রুটি বানায়, কেউ পানীয় পরিবেশন করে, অথচ তাদের পানীয় ঘোলা কালো তলানি ছাড়া আর কিছুই নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وَوَضَرُ الدِّبْسِ، وَمَاءُ الأُكْشُوثِ، قَبَّحَ اللَّهُ ذَلِكَ شَرَابًا، مَا أَثْقَلَهُ لِلْجَوْفِ، وَأَضَرَّهُ بِالأَعْلاقِ النَّفِيسَةِ، ثُمَّ يَأْتِي وَقْتُ الْكَيْلِ، فَمِنْ بَيْنَ رَقَّامٍ، رَقَّمَ اللَّهُ جِلْبَابَهُ بِالْمَذَلَّةِ وَالْهَوَانِ، وَمِنْ بَيْنَ كَيَّالٍ، جَعَلَ اللَّهُ لَهُ الْوَيْلَ، لِقَوْلِهِ جَلَّ وَعَزَّ: {وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ} [المطففين: 1] مَا يُبَالِي أَحَدُهُمْ عَلَى مَاذَا يُقْدِمُ.
وَلَقَدْ سَمِعْتُ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَهُوَ يَسْأَلُ قُضَاتَهُ، وَكُلُّهُمْ بِالْحَضْرَةِ، هَلْ عَدَّلْتُمْ كَيَّالا قَطُّ؟ فَكُلُّهُمْ قَالَ: لا.
فَإِنْ أُطْعِمُوا الْجِدَاءَ الرُّضَّعَ وَنِقْيَ الْخُبْزِ مِنْ دَسْتُمَيْسَانَ وَوُهِبَتْ لَهُمُ الدَّرَاهِمُ، ظَفَرَ الْمُكِيلُ بِحَاجَتِهِ.
وَوَيلٌ يَوْمَئِذٍ لِقُبَّةِ السُّلْطَانِ مِمَّا يُحْمَلُ إِلَيْهَا مَنَ الْقِشْبِ وَالْقَصَرِ، وَيُحْشَى مِنَ التِّبْنِ وَالدَّوْسَرِ.
ثُمَّ قَالَ: يَا قَوْمُ، لِمَ أَسْهَبْتُ فِي ذِكْرِ هَؤُلاءِ، وَمَا الَّذِي هَاجَ هَذَا فِي هَذِهِ السَّاعَةِ حَتَّى خُضْتُ فِيهِ؟ أَمَا كَفَانِي أَنِّي قَائِمٌ عَلَى إِحْدَى رِجْلَيَّ.
فَقَالُوا: هَذَا مِنْ أَجْلِ السُّكْرِ الَّذِي لَمْ يُوجَدْ فِي خِزَانَتِكَ.
قَالَ: أَجَلْ، وَاللَّهِ إِذَا كَانَ وَكِيلِي يَتَشَاغَلُ بِزَوْجَتِهِ وَبَنَاتِهِ، وَمَصَالِحِ حَالِهِمْ، مَتَى يُفْرِغُ النَّظَرَ إِلَى مَصَالِحِ خِزَانَتِي؟ وَاللَّهِ لَقَدْ حُدِّثْتُ أَنَّهُ حَلَّى بَنَاتَهُ بِأُلُوفِ الدَّنَانِيرِ، وَأَنَّهُ قَالَ لِزَوْجَتِهِ: أَخْرِجِي الأَعْيادَ، وَأَدْخِلِي الأَعْرَاسَ، وَسَلِي عَنِ الرِّجَالِ الْمَذْكُورِينَ، وَاطْلُبِي الْمَرَاضِعَ الْمَعْرُوفَةَ بِالأَنْسَابِ الرَّضِيَّةِ، وَالأَخْلاقِ الْجَمِيلَةِ لِبَنَاتِكْ، وَأَخْرِجِيهِنَّ فِي الْجُمُعَاتِ يَتَفَحَّصْنَ مَجَالِسَ الْعُزَّابِ وَيَخْتَرْنَ أُولِي الأَنْسَابِ، أَلَمْ يُرْوَ عَنِ الثِّقَاتِ أَنَّهُمْ كَرِهُوا خُرُوجَ الأَبْكَارِ فِي الْجُمُعَاتِ الَّتِي فَرَضَ اللَّهُ فِيهِنَ السَّعْيَ إِلَى ذِكْرِهِ؟ فَنَبَغَ قَوْمٌ مِنَ الْبِدَعِيَّةِ، خَارِجَةٌ خَرَجَتْ، وَمَارِقَةٌ مَرَقَتْ، وَرَافِضَةٌ رَفَضَتِ الدِّينَ وَأَهْلَ الدِّينِ، فَتَرَكُوا فَرْضَ اللَّهِ {قَاتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ {30} اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ} [التوبة: 30-31] وَقَدْ رُوِينَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيِهِ وَآلِهِ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ وَلا اثْنَيْنِ أَنَّهُ خَطَبَ النَّاسَ، فَقَالَ فِي خُطْبَتِهِ: «إِنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْكُمُ الْجُمُعَةَ فِي مَقَامِي هَذَا، فِي يَوْمِي هَذَا مِنْ عَامِي هَذَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَمَنْ تَرَكَهَا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهَا وَجُحُودًا لَهَا فَلا جَمَعَ اللَّهُ شَمْلَهُ، وَلا بَارَكَ لَهُ فِي أَهْلِهِ، وَلا حَجَّ لَهُ، وَلا جِهَادَ حَتَّى يَتُوبَ، فَمَنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ» .
ثُمَّ قَالَ: يَا قَوْمُ، مَا الَّذِي حَرَّكَنَا عَلَى هَذِهِ الْعِصَابَةِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ؟ قَالَوا: السُّكَّرُ الطَبَرْزَدُ.
قَالَ: أَجَلْ، وَاللَّهِ مَا أَحْضَرْتُمُونِي أَلْفًا مَنْ سُكَّرٍ إِلَى هَذِهِ الْغَايَةِ، أَيَا صُبْحُ، أَيَا فَتْحُ، أَيَا نَصْرُ، أَيَا نُجْحُ، بَادِرُوا إِلَى مَوْلاكُمْ فَإِنَّهُ قَدْ تَعِبَ وَنَصِبَ وَلَغَبَ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ وَاللَّهِ إِنِّي لأَحْسَبُ أَنَّ الثُّريَّا مُقَابِلَةٌ سَمْتَ رَأْسِي، ذَهَبَ وَاللَّهِ اللَّيْلُ وَجَاءِ الْوَيْلُ، وَيْلُكُمْ أَدْرِكُونِي فَإِنِّي أُرِيغُ نَوْمَةً وَلا بُدَّ مِنَ الْبُكُورِ نَحْوَ الدَّارِ.
ঝোলা গুড়ের গাদ এবং আকশুত (এক প্রকার লতা) এর পানি; আল্লাহ এই পানীয়কে কদর্য করুন। এটি পেটের জন্য কতই না ভারী এবং মূল্যবান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য কতই না ক্ষতিকর। অতঃপর পরিমাপের সময় আসে। তাদের মধ্যে একদল রয়েছে মূল্যতালিকায় কারচুপিকারী; আল্লাহ তাদের পোশাককে লাঞ্ছনা ও অপমানের চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করুন। আর একদল রয়েছে ওজনে কম দানকারী; আল্লাহ তাদের জন্য ধ্বংস নির্ধারণ করেছেন। কেননা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {পরিমাপে কম দানকারীদের জন্য ধ্বংস রয়েছে} [আল-মুতাফফিফিন: ১]। তাদের কেউ পরোয়া করে না তারা কিসের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আমি আমিরুল মুমিনীনকে তাঁর বিচারপতিদের জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি—যখন তারা সকলে উপস্থিত ছিলেন—আপনারা কি কখনও কোনো পরিমাপকারীকে ন্যায়নিষ্ঠ হিসেবে পেয়েছেন? তারা সকলে বললেন: না।
যদি তাদের দুগ্ধপোষ্য ছাগলছানা এবং দাস্তুমাইসানের পরিচ্ছন্ন রুটি খাওয়ানো হয় এবং তাদের দিরহাম উপহার দেওয়া হয়, তবে যার পণ্য মাপা হচ্ছে সে তার প্রয়োজন পূর্ণ করতে সফল হয়।
আর সেদিন সুলতানের প্রাসাদের গম্বুজের জন্য দুর্ভোগ, সেখানে যা কিছু বয়ে আনা হয় বিষাক্ত ও মন্দ বস্তু থেকে, আর যা পূর্ণ করা হয় খড়কুটো ও আগাছা দিয়ে।
অতঃপর তিনি বললেন: হে লোকসকল, আমি কেন এদের আলোচনায় এত দীর্ঘ করলাম? এই মুহূর্তে কিসে আমাকে এই বিষয়ে প্রবৃত্ত হতে প্ররোচিত করল যে আমি এতে গভীরভাবে নিমগ্ন হলাম? আমার জন্য কি এটাই যথেষ্ট নয় যে আমি আমার এক পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছি?
তারা বলল: এটি সেই চিনির কারণে যা আপনার কোষাগারে পাওয়া যায়নি।
তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! যখন আমার প্রতিনিধি তার স্ত্রী-সন্তান এবং তাদের সাংসারিক স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন সে কখন আমার কোষাগারের স্বার্থের দিকে নজর দেবে? আল্লাহর শপথ, আমাকে বলা হয়েছে যে সে তার কন্যাদের হাজার হাজার দিনার দিয়ে অলঙ্কৃত করেছে এবং সে তার স্ত্রীকে বলেছে: উৎসবের সাজে বের হও, বিবাহ অনুষ্ঠানে যাও, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের খোঁজ নাও এবং তোমার কন্যাদের জন্য সম্ভ্রান্ত বংশীয় ও সুন্দর চরিত্রের ধাত্রী সন্ধান করো; আর তাদের জুমার দিনে বের করো যাতে তারা অবিবাহিতদের মজলিসগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং উচ্চবংশীয়দের পছন্দ করতে পারে। নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকে কি বর্ণিত হয়নি যে, তারা কুমারীদের জুমার দিনে বের হওয়া অপছন্দ করতেন, যে দিনটিতে আল্লাহ তাঁর স্মরণের দিকে ধাবিত হওয়া ফরজ করেছেন? অতঃপর বিদআতিদের মধ্য থেকে এক কওমের আবির্ভাব ঘটল—যারা ধর্মত্যাগী হয়ে বেরিয়ে গেল, ধর্ম থেকে বিচ্যুত হলো এবং রাফেজিরা ধর্ম ও ধর্মপ্রাণ মানুষদের বর্জন করল। তারা আল্লাহর ফরজ বিধান ত্যাগ করল। {আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে। তারা আল্লাহর পরিবর্তে তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে} [আত-তাওবাহ: ৩০-৩১]। আর আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছি যে, তিনি মানুষের সামনে ভাষণ দিয়েছিলেন এবং তাঁর ভাষণে বলেছিলেন: «আল্লাহ তোমাদের ওপর এই স্থানে, আমার এই দিনে এবং আমার এই বছরে কিয়ামত পর্যন্ত জুমাহ ফরজ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি একে অবজ্ঞা করে বা অস্বীকার করে বর্জন করবে, আল্লাহ যেন তার বিচ্ছিন্নতাকে একত্রিত না করেন, তার পরিবারে বরকত না দেন, তার হজ কবুল না হয় এবং তার জিহাদ কবুল না হয় যতক্ষণ না সে তওবা করে। আর যে তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন»।
অতঃপর তিনি বললেন: হে লোকসকল, গভীর রাতে কোন জিনিসটি আমাদের এই দলের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করল? তারা বলল: তাবারজাদ চিনি।
তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ, তোমরা এই পর্যন্ত আমার কাছে এক হাজার চিনিও হাজির করতে পারোনি। হে সুবহ, হে ফাতহ, হে নাসর, হে নুজহ, তোমরা তোমাদের মনিবের দিকে দ্রুত ধাবিত হও; কেননা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলে তিনি ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়েছেন। আল্লাহর শপথ, আমি মনে করছি যে সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ আমার মাথার ঠিক উপরে অবস্থান করছে। আল্লাহর শপথ, রাত শেষ হয়ে গেছে এবং ধ্বংসের সময় ঘনিয়ে এসেছে; তোমাদের দুর্ভোগ, তোমরা আমাকে ধরে নাও, কেননা আমি একটু ঘুমাতে চাই আর ভোরেই প্রাসাদের দিকে রওনা হতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١٥)
قَالَ: فَبَادَرَ خَصْمُهُ الْخَاصَّةَ، فَفَتَحُوا أَبْوَابَ دَكَاكِينِ الْبَاعَةِ، وَنَبَّهُوا السُّوقَةَ، وَأَخَذُّوا مَا عِنْدَهُمْ عَلَى غَيْرِ سَوْمٍ وَجَاءُوا بِهِ، فَقَالَ: مَا هَذَا؟ قَالُوا: مَا أَمَرْتَ بِهِ.
قَالَ: هَلْ أَخَذْتُمُوهُ عَلَى الصِّفَةِ الَّتِي وَصَفْتُ لَكُمْ؟ قَالُوا: نَعَمْ.
قَالَ: فَهَلْ وَرَثْتُمُوهُ عَلَى الْبَاعَةِ، وَاسْتَوْجَبْتُمُوهُ؟ قَالُوا: لا.
قَالَ: يَا أَعْدَاءَ اللَّهِ ، أَرَدْتُمْ أَنْ تُوتِغُوا دِينِي، لا وَاللَّهِ مَا طَمَعٌ مِنِّي مَضْمَضَةٌ، وَاللَّهِ لا تَزَالُ هَذِهِ حَالِي حَتَّى تَأْخُذُوهُ بَيْعًا صَحِيحًا، لا شَرْطَ فِيهِ وَلا خَيَارَ، وَلا مَثْنَوِيَّةَ وَلا حَدَّ التَّلْجِئَةِ.
هَيْهَاتَ يَأْبَى اللَّهُ ذَاكَ.
فَرَجَعُوا فَسَاوَمُوا بِهِ الْبَاعَةَ، وَقَطَعُوا ثَمَنَهُ وَأَخْبَرُوهُ.
فَقَالَ: يُوزَنُ بَحَضْرَتِي، فَجَاءُوا بِالْقَبَّانِ، فَقَالَ: مَنْ فِيكُمْ يَزِنُ؟ قَالُوا: مَنْ أَمَرْتَهُ، قَالَ: زِنْ أَنْتَ يَا نَصَحُ، فَقَدْ دَنَا الصُّبْحُ، زِنْ فَأَرْجِحْ، فَإِنَّ النَّبيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ اشْتَرَى يَوْمًا، فَقَالَ لِلْوَازِنِ: «زِنْ فَأَرْجِحْ» وَاللَّهِ لَوْ لَمْ يَكُنْ فِي الرُّجْحَانِ إِلا تَحِلَّةَ الْقَسَمِ كَانَ فِي ذَلِكَ مَا يَدْعُو الْعُلَمَاءَ بِاللَّهِ، الْفُقَهَاءَ فِي دِينِ اللَّهِ إِلَى الْعَمَلِ بِهِ.
قَالَ: فَجَعَلَ الْغُلامُ يَزِنُهُ، وَيَقُولُ: وَيْلُكَ عَجِّلْ فِدَاكَ أَهْلُكَ، وَقَدْ دَنَا الصُّبْحُ، وَذَهَبَتْ نَفْسِي أَوْ كَادِتْ.
فلَمَّا اسْتَوْفَى الْوَزْنَ خَرَّ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ، لا يَدْرِي أَرْضًا تَوَسَّدَ أَمْ وِسَادًا، وَكَذَلِكَ حَالُ مَنْ كَانَ فِي مِثْلِ حَالِهِ مِنْ وَلَدِهِ وَعِيَالِهِ.
فَمَا انْتَبَهَ وَاحِدٌ مِنْهُمِ لِفِرِيضَةٍ أَوْ نَافِلَةٍ إِلا بِحَرِّ الشِّمْسِ.
فَهَذَهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ حَالُ مَنْ أَحْمَدْتَ فِقْهَهُ وَعَدْلَهُ وَرَأْيَهُ.
فَقَالَ الْمَأْمُونُ: قَاتَلَكَ اللَّهُ، مَا أَعْجَبَ حَالُكَ عَلَى كَلِّ حَالٍ، وَاللَّهِ لَئِنْ كُنْتَ كَذَبْتَ عَلَى أَبِيكَ فِي مَقَامِكَ هَذَا فَمَا لَكَ فِي الأَرْضِ نَظِيرٌ، وَلا فِي الدُّنْيَا شَبِيهٌ، وَلَئِنْ كُنْتَ حَكَيْتَ عَنْهُ عَيَانًا أَوْ كَفَافًا فَلَقَدْ أَجَدْتَ الْحِكَايَةَ وَأَحْسَنْتَ الْعِبَارَةَ، وَمَا لأَبِيكَ شَبِيهٌ، وِإِنَّكَ لَتَغْمُرُ مَسَاوِيَكَ بِمَحَاسِنِكَ، فَلا تَذْكُرَنَّ شَيْئًا بَعْدَ هَذَا الْمَجْلِسِ، فَإِنَّ عَيْبَهُ فِينَا أَقْدَحُ مِنْهُ فِي أَبِيكَ.
قَالَ: فَذَهَبَ عَلِيٌّ لِيَتَكَلَّمَ، فَقَالَ لَهُ: لا تَعَضَّ عَلَى لِسَانِكَ.
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: سَأَلْتُ عَمِّي مُصْعَبًا: هَلْ كُنْتَ حَاضِرًا لِهَذَا الْمَجْلِسِ، فَإِنَّ الصَّنْعَةَ عَلَيْهِ بَيِّنَةٌ؟ قَالَ: لا، وَلَكِنْ أَخْبَرَنِي مَنْ كَانَ حَاضِرًا بَعْدَ مَوْتِ الْمَأْمُونِ بِسَنَتَيْنِ
তিনি বললেন: অতঃপর তার বিরোধী পক্ষ তার বিশেষ অনুচরদের কাছে দ্রুত ছুটে গেল এবং তারা বিক্রেতাদের দোকানের দরজাগুলো খুলে ফেলল, বাজারীদের জাগিয়ে তুলল এবং কোনো দরাদরি ছাড়াই তাদের কাছে যা ছিল তা নিয়ে নিল এবং তা নিয়ে আসল। তিনি বললেন: এটি কী? তারা বলল: যা আপনি আদেশ করেছিলেন।
তিনি বললেন: আমি তোমাদের কাছে যে গুণের কথা বর্ণনা করেছিলাম, সেই অনুযায়ী কি তা নিয়েছ? তারা বলল: হ্যাঁ।
তিনি বললেন: তোমরা কি বিক্রেতাদের থেকে এটি ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রাপ্ত হয়েছ এবং এর হকদার হয়েছ? তারা বলল: না।
তিনি বললেন: হে আল্লাহর শত্রুরা, তোমরা কি আমার দ্বীনকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলে? না, আল্লাহর শপথ, আমার পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র লোভও নেই। আল্লাহর শপথ, আমার এই অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত বজায় থাকবে যতক্ষণ না তোমরা তা সঠিক বিক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করো, যাতে কোনো শর্ত থাকবে না, কোনো ইখতিয়ার (ফেরত দেওয়ার অধিকার) থাকবে না, কোনো দ্ব্যর্থবোধকতা থাকবে না এবং কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
অসম্ভব, আল্লাহ তা অস্বীকার করেন।
অতঃপর তারা ফিরে গেল এবং বিক্রেতাদের সাথে দরাদরি করল এবং এর মূল্য নির্ধারণ করল ও তাকে জানাল।
তিনি বললেন: এটি আমার সামনেই ওজন করা হবে। তারা পাল্লা নিয়ে আসল। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে কে ওজন করবে? তারা বলল: যাকে আপনি আদেশ করবেন। তিনি বললেন: হে নাসাহ, তুমিই ওজন করো, কেননা সকাল ঘনিয়ে এসেছে। ওজন করো এবং ওজনে কিছুটা বাড়িয়ে দাও। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি কোনো একদিন ক্রয় করেছিলেন এবং ওজনকারীকে বলেছিলেন: ‘ওজন করো এবং বাড়িয়ে দাও।’ আল্লাহর শপথ, যদি ওজনে বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে শপথের দায়মুক্তি ব্যতীত অন্য কিছু নাও থাকত, তবুও আল্লাহর মারেফতপ্রাপ্ত আলেমগণ এবং আল্লাহর দ্বীনের ফকিহগণের জন্য এর ওপর আমল করার যথেষ্ট কারণ থাকত।
বর্ণনাকারী বলেন: বালকটি তা ওজন করতে শুরু করল এবং তিনি বলতে লাগলেন: তোমার জন্য পরিতাপ! তাড়াতাড়ি করো, তোমার পরিবার তোমার জন্য উৎসর্গ হোক। সকাল ঘনিয়ে এসেছে এবং আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত অথবা প্রায় ওষ্ঠাগত।
যখন সে পূর্ণরূপে ওজন করল, তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে গেলেন। তিনি জানতেন না যে তিনি মাটির ওপর মাথা রেখেছেন নাকি বালিশের ওপর। আর তার সন্তান ও পরিবারের লোকজনের অবস্থাও অনুরূপ ছিল যারা তার মতো অবস্থায় ছিল।
তাদের কেউই কোনো ফরজ বা নফল ইবাদতের জন্য জাগ্রত হতে পারেনি সূর্যের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার আগে পর্যন্ত।
সুতরাং হে আমিরুল মুমিনিন, এটি সেই ব্যক্তির অবস্থা যার ফিকহ, ইনসাফ ও চিন্তাধারার আপনি প্রশংসা করেছেন।
তখন মামুন বললেন: আল্লাহ তোমাকে সংহার করুন, সকল অবস্থাতেই তোমার অবস্থা কতই না বিস্ময়কর! আল্লাহর শপথ, যদি তুমি এই মজলিসে তোমার বাবার ব্যাপারে মিথ্যা বলে থাকো, তবে জমিনে তোমার কোনো নজির নেই এবং দুনিয়ায় তোমার কোনো সদৃশ নেই। আর যদি তুমি তার থেকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করা বা কাছ থেকে দেখা কোনো ঘটনা বর্ণনা করে থাকো, তবে তুমি অতি চমৎকারভাবে গল্পটি বর্ণনা করেছ এবং সুন্দরভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছ; আর তোমার বাবার কোনো সদৃশ নেই। নিশ্চয়ই তুমি তোমার গুণাবলি দ্বারা তোমার দোষগুলোকে ঢেকে ফেলেছ। সুতরাং এই মজলিসের পর আর কিছুই উল্লেখ করো না, কেননা এর ত্রুটি তোমার পিতার চেয়ে আমাদের মধ্যেই বেশি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে।
বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আলী কথা বলতে উদ্যত হলেন, তখন মামুন তাকে বললেন: নিজের জিহ্বা কামড়াবেন না (অর্থাৎ আর কথা বলবেন না)।
আবু আবদুল্লাহ বলেন: আমি আমার চাচা মুসআবকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি এই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন? কারণ এর অলঙ্করণ স্পষ্ট। তিনি বললেন: না, তবে মামুনের মৃত্যুর দুই বছর পর যে ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন তিনি আমাকে এটি জানিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١٦)
حَدَّثَنِي عَمِّي مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ جَدِّي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُصْعَبٍ، قَالَ: " إِنَّ مَلِكَ الرُّومِ بَعَثَ رَسُولا دَاهِيَةً مُنَكَّرًا إِلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ أَبِي جَعْفَرِ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ، فَسَأَلَهُ عَنْ أَشْيَاءَ، وَأَتَاهُ بِهَدَايَا كَثِيرَةٍ وَأَلْطَافٍ وَطَرَائِفَ، فَأَمَرَ عُمَارَةَ بْنَ حَمْزَةَ أَنْ يَرْكَبَ مَعَهُ إِلَى الْمَهْدِيِّ بَالرُّصَافَةِ، فَخَرَجَ، حَتَّى إِذَا كَانَ عَلَى الْجِسْرِ نَظَرَ الرُّومِيُّ إِلَى زَمْنَى عَلَى الْجِسْرِ يَتَصَدَّقُونَ، فَقَالَ لِتَرْجُمَانِهِ: قُلْ لِهَذَا، يَعْنِي عِمَارَةَ: الَّذِي عِنْدَكُمْ زَمْنَى يَتَصَدَّقُونَ، وَكَانَ يَنْبَغِي لِصَاحِبِكَ أَنْ يَرْحَمَ هَؤُلاءِ مِنْ زَمَانَتِهِمْ، وَيَكْفِيهِمْ مَئُونَةَ أَنْفُسِهِمْ وَعِيَالاتِهِمْ، وَلا يَحْمِلُ عَلَيْهِمُ الْفَقْرَ وَالْحَاجَةَ مَعَ الزَّمَانَةِ.
فَقَالَ عُمَارَةُ: قُلْ لَهُ: إِنَّ الأَمْوَالَ لا تَسَعُهُمْ.
وَمَضَى إِلَى الْمَهْدِيِّ، فَأَخْبَرَهُ بِمَا قَالَ الرُّومِيُّ، وَرَدَّهُ عَلَيْهِ.
فَقَالَ: كَذَبْتَ لَيْسَ الأَمْرُ كَمَا ذَكَرْتَ، الأَمْوَالُ وَاسِعَةٌ لَهُمْ، وَلَكِنَّ عُذْرَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ مَا وَصَفْتَ.
ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى الرُّومِيِّ، فَقَالَ: قَدْ بَلَغَنِي مَقَالَتُكَ لِرَسُولِي، وَرَدُّهُ عَلَيْكَ، وَكَذَبَ، الأَمْوَالُ وَاسِعَةٌ تَسَعُهُمْ ، وَلَكِنْ كَرِهَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَنْ يَسْتَأْثِرَ عَلَى أَحَدٍ مِنْ رَعِيَّتِهِ وَأَهْلِ سُلْطَانِهِ بِشَيْءٍ مِنَ الْفَضْلِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، وَأَحَبَّ أَنْ يُشْرِكُوهُ فِي أُجُورِ الزَّمْنَى وَالْمَسَاكِينِ، وَأَنْ يُنِيلُوهُمْ مِنْ ذَاتِ أَيْدِيهِمْ وَمَا أَعْطَاهُمُ اللَّهُ مِنَ الرِّزْقِ، لِيَكُونَ ذَلِكَ نَجَاةً لَهُمْ فِي آخِرَتِهِمْ، وَسَعَةً عَلَيْهِمْ فِي دُنْيَاهُمْ، وَتَمْحِيصًا لِذُنُوبِهِمْ.
فَقَالَ الرُّومِيُّ بِيَدِهِ، وَعَقَدَ ثَلاثِينَ، وَطَأْطَأَ رَأْسَهُ، قَالَ: وَإِنَّ هَذَا، أَيْ: جَيِّدٌ، هَذَا هُوَ الْحَقُّ
حَدَّثَنِي عَمِّي مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: لَمَّا مَاتَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْعَلَوِيُّ، صَلَّى عَلَيْهِ الْمَأْمُونُ، وَكُنْتُ قَرِيبًا مِنْهُ، وَدَخَلَ قَبْرَهُ، وَعَلَيْهِ سَيْفُهُ وَقَلَنْسُوَتُهُ وَطَيْلَسَانُهُ، وَأَخَذَ بِرَأْسِهِ، فَأَعَانُوهُ حَتَّى وَضَعَهُ فِي لَحْدِهِ، وَرَأَيْتُ دُمُوعَهُ تَسِيلُ عَلَى خَدِّهِ، وَكَانَ مَعَهُ فِي الْقَبْرِ دَاوُدُ بْنُ أَبِي الْكِرَامِ الْجَعْفِيُّ، فَكَلَّمَهُ لَمَّا رَأَى مِنْ رِقَّتِهِ، وَذَكَرَ حَاجَتَهُمْ، فَغَضِبَ الْمَأْمُونُ، وَقَالَ: هَذَا مَوْضِعُ ذَا! وَانْقَطَعَ بُكَاؤُهُ، فَقَالَ: هَا هُنَا وُلِدَ الرَّشِيدُ وَوُلِدَ الْهَادِي وَوُلِدَ الْمَهْدِيُّ وَوُلِدَ الْمَنْصُورُ، فَإِذَا نَظَرْتُ فِي أَمْرِهِمْ، وَأَصْلَحْتُ شَأْنَهُمْ فَأَنْتَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَهُمْ أَوْلَى بِهَذَا مِنْكَ
حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعُتْبِيُّ، قَالَ: جَاءَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ الصَّنْعَةِ، فَقَالَ: اذْكُرْنِي لأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ فِي يَوْمٍ وَبَعْضِ يَوْمٍ آخَرَ.
আমার চাচা মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে মুসআব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রোমের সম্রাট আমিরুল মুমিনীন আবু জাফরের নিকট এক অত্যন্ত ধূর্ত ও চতুর দূত পাঠালেন। দূত তার নিকট উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করল এবং তার জন্য অনেক উপঢৌকন, অনুগ্রহ ও চমৎকার সব বস্তু নিয়ে আসল। অতপর আমিরুল মুমিনীন উমারা ইবনে হামজাকে আদেশ দিলেন যেন তিনি দূতের সাথে রুসাফায় আল-মাহদীর নিকট যান। তারা বেরিয়ে পড়লেন। যখন তারা ব্রিজের ওপর পৌঁছালেন, তখন রোমক দূত ব্রিজের ওপর কিছু অক্ষম ও রুগ্ন ব্যক্তিকে সদকা চাইতে দেখলেন। তখন সে তার দোভাষীকে বলল: একে (অর্থাৎ উমারাকে) বলো: তোমাদের নিকট যে সব অক্ষম ব্যক্তি সদকা চাচ্ছে, তোমাদের সঙ্গীর (নেতার) উচিত ছিল তাদের অক্ষমতার কারণে তাদের প্রতি দয়া করা এবং তাদের ও তাদের পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়ে তাদের অভাবমুক্ত করা, যাতে অক্ষমতার সাথে দারিদ্র্য ও অভাব তাদের ওপর চেপে না বসে।"
উমারা বললেন: তাকে বলো: রাষ্ট্রীয় সম্পদ তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
অতঃপর তিনি আল-মাহদীর নিকট গিয়ে রোমক দূতের কথা এবং তার উত্তর সম্পর্কে জানালেন।
আল-মাহদী বললেন: তুমি মিথ্যা বলেছ, বিষয়টি তেমন নয় যা তুমি উল্লেখ করেছ। সম্পদ তাদের জন্য যথেষ্ট ও প্রশস্ত, তবে আমিরুল মুমিনীনের ওজর তুমি যা বর্ণনা করেছ তা ছাড়া অন্য কিছু।
অতঃপর তিনি রোমক দূতের দিকে মনোনিবেশ করে বললেন: আমার দূতের সাথে তোমার কথোপকথন এবং তার উত্তর আমার নিকট পৌঁছেছে। সে মিথ্যা বলেছে। সম্পদ তাদের জন্য যথেষ্ট ও প্রশস্ত। কিন্তু আমিরুল মুমিনীন অপছন্দ করেছেন যে, তিনি দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো ফজিলতের ক্ষেত্রে তার প্রজাসাধারণ ও তাঁর শাসনভুক্ত লোকদের ওপর নিজেকে এককভাবে প্রাধান্য দেবেন। বরং তিনি চেয়েছেন যাতে তারা এই অক্ষম ও মিসকিনদেরকে সাহায্য করার সওয়াবে অংশীদার হতে পারে এবং তারা নিজেদের হাত থেকে ও আল্লাহ তাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে তাদের দান করতে পারে। যাতে তা তাদের পরকালের নাজাতের মাধ্যম হয়, তাদের দুনিয়াতে প্রশস্ততা দান করে এবং তাদের গুনাহসমূহ মোচনের উপায় হয়।
তখন রোমক দূত তার হাত দিয়ে ইশারা করল এবং তিরিশের সংখ্যা নির্দেশক মুদ্রা তৈরি করল এবং মাথা নত করল। সে বলল: অবশ্যই এটি উত্তম, এটাই ধ্রুব সত্য।
আমার চাচা মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আলাওয়ী ইন্তেকাল করলেন, তখন আল-মামুন তার জানাযার সালাত পড়ালেন। আমি তার কাছেই ছিলাম। তিনি কবরে নামলেন, তখন তার সাথে তার তলোয়ার, টুপি ও চাদর ছিল। তিনি লাশের মাথা ধরলেন এবং অন্যেরা তাকে সাহায্য করল যতক্ষণ না তিনি তাকে কবরে স্থাপন করলেন। আমি দেখলাম তার অশ্রু গাল বেয়ে পড়ছে। কবরে তার সাথে দাউদ ইবনে আবিল কিরাম আল-জাফীও ছিলেন। আল-মামুনের কোমলতা দেখে তিনি তাদের অভাব-অনটনের কথা উল্লেখ করলেন। তখন আল-মামুন রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: এটা কি সেই কথা বলার জায়গা! তার কান্না থেমে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: এখানেই রাশিদ জন্মেছেন, হাদী জন্মেছেন, মাহদী জন্মেছেন এবং মানসুর জন্মেছেন। সুতরাং যখন আমি তাদের বিষয়ে দৃষ্টি দেব এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করব, তখন তুমি তো কেবল মুসলমানদের মধ্য থেকে একজন সাধারণ মানুষ হবে, আর তারাই তোমার চেয়ে এর বেশি হকদার।
আবু আব্দুর রহমান আল-উতবী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক কারিগর আমার নিকট এসে বলল: আমিরুল মুমিনীনের কাছে কোনো একদিন এবং অন্য দিনের কিছু অংশে আমার কথা স্মরণ করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١٧)
فَقُلْتُ: يَا هَذَا، أَرِحْ نَفْسَكَ الْعَنَاءَ، وَاجْلِسْ فِي بَيْتِكَ، وَلا تَعِزَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مِنْكَ، قَالَ: فَالْحِلُّ عَلَيْهِ حَرَامٌ، يَعْنِي بِهِ الطَّلاقُ، وَمَالُهُ مِنْ قَلِيلٍ أَوْ كَثِيرٍ صَدَقَةٌ لِوَجْهِ اللَّهِ، وَكُلُّ مَمْلُوكٍ لَهُ حُرٌ إِنْ كَانَ كَذَبَكَ فِيمَا قَالَ لَكَ، وَاللَّهِ مَا آخُذُ مِنْكُمْ شَيْئًا عَاجِلا، وَقَدِ ادَّعَيْتُ أَمْرًا فَامْتَحِنُونِي فِيهِ، فَإِنْ جَاءَ كَمَا ادَّعَيْتُ، كَانَ الأَمُرُ فِيَّ لَكُمْ، وَإِنْ وَقَعَ بِخِلافِ ذَلِكَ انْصَرَفْتُ إِلَى مَنْزِلِي، فَأَخْبَرْتُ الْمَأْمُونَ بِمَا قَالَ: فَتَمَثَّلَ بِبَيْتِ الْفَرَزْدَقِ:
وَقَبْلُكَ مَا أَعْيَيْتُ كَاسِرَ عَيْنِهِ
… زِيَادًا فَلَمْ تَقْدِرْ عَلَيَّ حَبَائِلُهُ
ثُمَّ قَالَ: لَعَلَّ هَذَا أَرَادَ أَنْ يَصِلَ إِلَيْنَا فَاحْتَالَ بِهَذِهِ، وَلَيْسَ الرَّأْيُ أَنْ يَعْرِضَ عَلَيْنَا أَحَدٌ عِلْمًا فَنُظْهِرُ الزُّهْدَ فِيهِ، فَأَحْضِرْهُ.
قَالَ: فَجِئْتُ بِالرَّجُلِ، وَقَعَدَ لَهُ الْمَأْمُونُ، فَأَحَضَرْتُ أَدَاةَ الْعَمَلِ، فَإِذَا هُوَ بِحِلِّ الطَّلْقِ أَجْهَلُ مِنِّي بِمَا فِي السَّمَاءِ السَّابِعَةِ.
فَنَظَرَ إِلَيَّ الْمَأْمُونُ، وَقَالَ: أَتَزْعُمُ أَنَّهُ حَلِفَ بَالطَّلاقِ وَالْعِتَاقِ وَصَدَقَةِ مَا كَانَ يَمْلِكُ؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَ: فَقَدْ حَنَثَ.
فَقُلْتُ لِلْرَجُلِ، وَالْمَأْمُونُ يَسْمَعُ: أَلَمْ تَحْلِفْ بِالطَّلاقِ وَالْعِتَاقِ وَصَدَقَةِ مَا تَمِلُكُ؟ قَالَ: بَلَى، فَقَدْ حَنَثْتُ، قَالَ: لَيْسَتْ لِيَ امْرَأَةٌ.
قُلْتُ: فَالْعِتَاقُ؟ قَالَ: مَا أَمْلِكُ خَيْطًا وَلا مَخِيَطًا.
قُلْتُ: كَذَبَ، يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَهُ غُلامٌ وَدَابَةٌ.
قَالَ: هُمَا، وَحَقِّ رَأْسِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، عَارِيَةٌ.
قَالَ: فَتَبَسَّمَ الْمَأْمُونُ، وَقَالَ: هَذَا رَجُلٌ بِحِلِّ الدَّرَاهِمِ أَعْلَمُ مِنْهَ بِحِلِّ الطَّلْقِ.
ثُمَّ أَمَرَ أَنْ يُعْطَى لَهُ خَمْسَةُ آلافِ دِرْهَمٍ.
قَالَ: فَلَمَّا خَرَجَ قَالَ لِلْعُتْبِيُّ: رُدَّهُ، فَرَدَّهُ، قَالَ: زِيدُوهِ فِإِنَّهُ لا يَجِدُ فِي كِلِّ وَقْتٍ مَنْ يُمَخَرِقُ عَلَيْهِ.
فَقَالَ الرَّجُلُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عِنْدِي بَابٌ مِنَ الْحِمْلانِ لَيْسَ فِي الدُّنْيَا مِثْلُهُ.
قَالَ: احْمِلْهُ عَلَى هَذِهِ الدَرَاهِمِ، فَإِنْ كُنْتَ صَادِقًا صِرْتَ مَلِكًا فِي أَقَلِّ مِنْ شَهْرٍ
حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: سَأَلَ الْمَأْمُونُ أَحْمَدَ بْنَ أَبِي دُؤَادٍ عَنْ أَخْلاقِ أَبِي عَبَّادٍ، فَقَالَ: إِنَّهُ أَحَدُّ مِنْ سَيْفِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، وَأَنْزَقُ مِنْ مَجْنُونِ الْبَكَرَاتِ.
قَالَ: مَا أَتَبَيَّنُ ذَلِكَ فِيهِ.
قَالَ: لِمَوْضِعِ الْخِلافَةِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، وَعَلَى ذَلِكَ فَإِنْ حَرَّكْتَهُ تَحَرْكَ، فَأَرَادَ الْمَأْمُونُ أَنْ يَمْتَحِنَهُ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ يَوْمًا فَعَرَضَ مَا مَعَهُ مِنَ الْحَوَائِجِ، فَأَمَرَ أَنْ يُوَقِّعَ فِيهَا، ثُمَّ خَرَجَ، فَلَمَّا صَارَ بِالْبَابِ، قَالَ: رُدُّوهُ، فَرَجَعَ، فَقَالَ لَهُ الْمَأْمُونُ: افْعَلْ فِي أَمْرِ الأَهْوَازِ بِحَسْبِ مَا قُلْتُ لَكْ، وَلا تَعْرِضْ بِهِ مُؤَامَرَةً.
قَالَ: نَعَمْ.
আমি বললাম: হে ব্যক্তি, তুমি নিজেকে এই কষ্ট থেকে রেহাই দাও এবং নিজের ঘরে বসে থাকো। তোমার কারণে আমীরুল মুমিনীনকে লজ্জিত করো না। সে বলল: তবে তার উপর (স্ত্রী) হারাম হয়ে যাবে—অর্থাৎ এর দ্বারা সে তালাক উদ্দেশ্য করেছে—এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার সকল সম্পদ, তা কম হোক বা বেশি, সদকা হয়ে যাবে এবং তার সকল গোলাম স্বাধীন হয়ে যাবে যদি সে তোমার কাছে যা বলেছে তাতে মিথ্যা বলে থাকে। আল্লাহর কসম, আমি আপনাদের কাছ থেকে বর্তমানে কিছুই গ্রহণ করব না। আমি একটি বিষয়ের দাবি করেছি, সুতরাং আপনারা এ বিষয়ে আমাকে পরীক্ষা করুন। যদি বিষয়টি আমার দাবিমতো হয়, তবে তো বিষয়টি আপনাদের অনুকূলেই থাকবে, আর যদি এর ব্যতিক্রম ঘটে, তবে আমি আমার বাড়িতে ফিরে যাব। আমি আল-মা’মুনকে তার কথা অবহিত করলাম। তখন তিনি ফারাযদাকের একটি কবিতা আবৃত্তি করলেন:
আর তোমার পূর্বে আমি যিয়াদকে ক্লান্ত করেছি, যে তার চোখ বাঁকিয়ে রাখত
… অথচ তার কোনো ফাঁদই আমাকে পরাস্ত করতে পারেনি।
তারপর তিনি বললেন: সম্ভবত এই ব্যক্তি আমাদের সান্নিধ্য পেতে চেয়েছে এবং সে এই বাহানা অবলম্বন করেছে। আর বুদ্ধিমানের কাজ নয় যে, কেউ আমাদের কাছে কোনো জ্ঞান পেশ করবে আর আমরা তাতে অনাগ্রহ দেখাব। সুতরাং তাকে উপস্থিত করো।
বর্ণনাকারী বলেন: আমি লোকটিকে নিয়ে এলাম এবং আল-মা’মুন তার জন্য বসলেন। আমি কাজের সরঞ্জামাদি হাযির করলাম। দেখা গেল, সে ‘হিলে তালক’ (ধাতু পরিবর্তনের বিদ্যা) সম্পর্কে সপ্তম আসমানে যা আছে তা নিয়ে আমার চেয়েও বেশি অজ্ঞ।
আল-মা’মুন আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন: তুমি কি মনে করেছিলে যে সে তালাক, গোলাম আযাদ করা এবং তার মালিকানাধীন সবকিছুর সদকার শপথ করেছে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে তো সে শপথ ভঙ্গ করেছে।
আমি লোকটিকে বললাম—আর আল-মা’মুন শুনছিলেন: তুমি কি তালাক, গোলাম আযাদ এবং তোমার মালিকানাধীন সবকিছুর সদকার শপথ করোনি? সে বলল: হ্যাঁ, আমি শপথ ভঙ্গ করেছি। তবে আমার কোনো স্ত্রী নেই।
আমি বললাম: তবে গোলাম আযাদের বিষয়টি কী? সে বলল: আমার মালিকানায় কোনো সুঁই-সুতাও নেই।
আমি বললাম: সে মিথ্যা বলেছে হে আমীরুল মুমিনীন, তার একটি গোলাম এবং একটি সওয়ারি পশু আছে।
সে বলল: আমীরুল মুমিনীনের মাথার কসম, ওগুলো ধারের।
বর্ণনাকারী বলেন: আল-মা’মুন মৃদু হাসলেন এবং বললেন: এই ব্যক্তি দিরহাম হাসিল করার কৌশলে ‘হিলে তালক’ অপেক্ষা অধিক পারদর্শী।
তারপর তিনি তাকে পাঁচ হাজার দিরহাম প্রদানের আদেশ দিলেন।
বর্ণনাকারী বলেন: যখন সে বেরিয়ে গেল, তিনি উতবিকে বললেন: তাকে ফিরিয়ে আনো। তিনি তাকে ফিরিয়ে আনলেন। তিনি বললেন: তাকে আরও বাড়িয়ে দাও, কারণ সবসময় এমন ব্যক্তি পাওয়া যায় না যে তার সামনে এমন চাতুরি করবে।
তখন লোকটি বলল: হে আমীরুল মুমিনীন, আমার কাছে ভারবাহী পশুর এমন একটি প্রকার আছে যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে নেই।
তিনি বললেন: তুমি এই দিরহামগুলো দিয়ে তা সংগ্রহ করো। তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে এক মাসেরও কম সময়ে তুমি রাজা হয়ে যাবে।
আবু আবদুর রহমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মা’মুন আহমাদ ইবনে আবি দুয়াদকে আবু আব্বাদের চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন: তিনি সাঈদ ইবনুল আসের তলোয়ারের চেয়েও ধারালো এবং বাকরাতের পাগলের চেয়েও বেশি অস্থিরচিত্ত।
তিনি বললেন: আমি তো তার মধ্যে তেমন কিছু দেখতে পাচ্ছি না।
তিনি বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন, এটি খিলাফতের মর্যাদার কারণে। তা সত্ত্বেও যদি আপনি তাকে নাড়াচাড়া করেন তবে সে নড়ে উঠবে। তখন আল-মা’মুন তাকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। একদিন তিনি তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং তার সাথে থাকা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পেশ করলেন। তিনি তাতে স্বাক্ষর করার আদেশ দিলেন। তারপর তিনি বেরিয়ে গেলেন। যখন তিনি দরজার কাছে পৌঁছালেন, তখন বললেন: তাকে ফিরিয়ে আনো। সে ফিরে এল। তখন আল-মা’মুন তাকে বললেন: আহওয়াযের বিষয়ে আমি তোমাকে যা বলেছি সে অনুযায়ী কাজ করো এবং এ বিষয়ে কোনো নতুন পরামর্শ পেশ করো না।
সে বলল: জ্বি আচ্ছা।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ثُمَّ خَرَجَ، فَلَمَّا صَارَ بِالْبَابِ، قَالَ: رُدُّوهُ، فَرَجَعَ، فَقَالَ: قُلْ لِعَمْرِو بْنِ مَسْعَدَةَ: أَخِّرْ أَمْرَ أَبِي دُلْفٍ حَتَّى آمُرَكَ فِيهِ بِمَا أُرِيدُ، قَالَ: نَعَمْ، ثُمَّ خَرَجَ، فَلَمَّا صَارَ بِالْبَابِ، قَالَ: رُدُّوهُ، فَجَاءَ الرَّسُولُ، فَقَالَ: ارْجِعْ، فَتَنَاوَلَ الدَّوَاةَ مِنْ غُلامِهِ، وَقَالَ: السَّاعَةَ أَضْرِبُ وَجْهَكَ الْقَبِيحَ يَا ابْنَ الْخَبِيثَةِ، فَقَالَ الْغُلامُ: وَمَا ذَنْبِي أَبْقَاكَ اللَّهُ؟ قَالَ: ذَاكَ يَنْبَغِي أَنْ تَقُولَ قَدْ ذَهَبَ إِلَى النَّارِ.
فَرَجَعَ، فَقَالَ: ارْفَعْ غَدًا رُقْعَةَ الْهَاشِمِيِّينَ، قَالَ: نَعَمْ، وَضَحِكَ، ثُمَّ قَالَ: وَاللَّهِ لا أَرْجِعُ بَعْدَهَا حَتَّى أَسْتَطِيرَ.
قَالَ: امْضِ رَاشِدًا، وَلَهُ يَقُولُ دَعْبَلٌ:
أَوْلَى الأُمُورِ بِضَيْعَةٍ وَفَسَادٍ
… أَمْرٌ يُدَبِّرُهُ أَبُو عَبَّادٍ
خَرِقٌ عَلَى جُلَسَائِهِ بِدَوَاتِهِ
… فَمُرَمَّلٌ وَمَخَضَّبٌ بِمِدَادِ
وَكَأَنَّهُ مِنْ دِيرِ هِزْقَلَ مُفْلِتٌ
… حَرِدٌ يَجُرُّ سَلاسِلَ الأَقْيَادِ
فَاشْدُدْ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَثَاقَهُ
… فَأَصَحُّ مِنْهُ بَغِيَّةَ الْحَدَّادِ
حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعُتْبِيُّ، قَالَ: حَجَجْنَا سَنَةً فَنَزَلْنَا ضَرِيَّةَ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ، فَسَأَلْنَا عَنِ الْوَالِي، فَقِيلَ لَنَا: أَعْرَابِيٌّ عَمَّا قَلِيلٍ يَخْرُجُ إِلَيْكُمْ.
فَلمَا زَالَتِ الشَّمْسُ خَرَجَ عَلَيْنَا وَعَلَى رَأْسِهِ عِمَامَةٌ كَأَنَّهَا رُحًا، مُتَنَكِّبًا قَوْسًا عَرَبِيَّةً، فَصَعِدَ عَلَى كَثِيبٍ لَهُ مِنْ رَمْلٍ، ثُمَّ اسْتَقْبَلَنَا بِوَجْهِهِ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ الدُّنْيَا دَارُ مَمَرٍ، وَالآخِرَةَ دَارُ مَقَرٍّ، فَخُذُوا لِمَقَرِّكُمْ مِنْ مَمَرِّكُمْ، وَلا تَهْتِكُوا أَسْتَارَكُمْ عِنْدَ مَنْ يَعْلَمُ أَسْرَارَكُمْ، أَخْرِجِوا مِنَ الدُّنْيَا قُلُوبَكُمْ قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْهَا أَبْدَانُكُمْ، فَفِي الدُّنْيَا حَيِيتُمْ، وَلِلآخِرَةِ خُلِقْتُمْ، وَإِنَّمَا الدُّنْيَا بِمَنْزِلَةِ السُّمِّ النَّاقِعِ، يَأْكُلُهُ مَنْ لا يَعْرِفُهُ، أَقُولُ قَوْلِي هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، وَالْمَدْعُو لَهُ الْخَلِيفَةُ، ثُمَّ الأَمِيرُ جَعْفَرٌ، قُومُوا لِصَلاتِكُمْ، بَارَكَ اللَّهُ فِيكُمْ ".
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ قَرِيبٍ، قَالَ: كُنْتُ فِي مَجْلِسِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ الرَّشِيدِ، وَكَانَ فِيهِ أَبُو البَخْتَرِيِّ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ الأَصَمِّ، وَغَيْرُهُمَا مِنَ الصَّحَابَةِ، فَضَغَطَنِي الْبَوْلُ، فَلَمْ أَدْرِ كَيْفَ أَصْنَعُ.
فَالْتَفَتُّ إِلَى سُلَيْمَانَ بْنِ الأَصَمِّ فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ لِي: بِي مِثْلُ الَّذِي بِكَ، قَالَ: فَإِنِّي لَكَذَلِكَ إِذْ بَصَرَنِي أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ، فَقَالَ: يَا أَصْمَعِيُّ، قَالَ: قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: أَبِكَ بَوْلٌ؟ قُلْتُ: أَيْ هَاءَ اللَّهِ.
قَالَ: يَا رَجُلُ، قُمْ مَعَهُ حَتَّى يَبُولَ، فَقُمْتُ فَبُلْتُ وَرَجَعْتُ، فَلَمَّا رَآنِي، قَالَ: يَا أَصْمَعِيُّ هَاتِ بَيْتًا أَنْظُرُ فِي مَعْنَاهُ، فَقُلْتُ:
فَلا غَرْوَ إِلا جَارَتِي وَسُؤَالَهَا
… أَلا هَلْ لَنَا أَهْلٌ سُئِلَتْ كَذَلِكَا
فَجَعَلَ يُفَكِّرُ فِيهِ، وَهَمَّ أَنْ يَقُولَ، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، أَعِدْ نَظَرًا، فَقَالَ: وَكَيْفَ عَلِمْتَ.
قُلْتُ: رَأَيْتُ نَاظِرَيْكَ يَجُولانِ، وَقَدِ اسْتَقَرَّا، كَانَ أَوْضَحَ لإِصَابَتِكَ، فَضَحِكَ حَتَّى انْثَنَى ثُمَّ قَالَ: فَأَصَابَ.
তারপর তিনি বের হলেন, যখন তিনি দরজার কাছে পৌঁছালেন, বললেন: তাকে ফিরিয়ে আনো। তখন সে ফিরে এলে তিনি বললেন: আমর ইবনে মাসআদাহকে বলো: আবু দুলাফ-এর বিষয়টি পিছিয়ে দিতে যতক্ষণ না আমি তোমাকে এই বিষয়ে আমার ইচ্ছানুযায়ী নির্দেশ দিই। সে বলল: জ্বি আচ্ছা। তারপর তিনি বের হলেন, যখন তিনি দরজার কাছে পৌঁছালেন, বললেন: তাকে ফিরিয়ে আনো। তখন দূত এসে বলল: ফিরে চলো। এরপর তিনি তার গোলামের কাছ থেকে দোয়াতটি নিলেন এবং বললেন: এই মুহূর্তে আমি তোমার এই কুৎসিত চেহারায় আঘাত করব হে পাপিষ্ঠার পুত্র! গোলামটি বলল: আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন, আমার অপরাধ কী? তিনি বললেন: তোমার তো এটা বলা উচিত ছিল যে, সে (অর্থাৎ আমি) জাহান্নামে গিয়েছে।
তিনি ফিরে এলেন এবং বললেন: আগামীকাল হাশেমীদের আবেদনটি পেশ করো। সে বলল: জ্বি আচ্ছা, এবং সে হাসল। তারপর তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, এরপর আমি দ্রুত চলে না যাওয়া পর্যন্ত আর ফিরে আসব না।
তিনি বললেন: সঠিক পথে চলো। আর তার সম্পর্কে দা’বাল বলেন:
বিনষ্ট ও ধ্বংস হওয়ার উপযুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য হলো
… সেই বিষয় যা আবু আব্বাদ পরিচালনা করে।
সে তার দোয়াত নিয়ে তার সঙ্গীদের ওপর এমন ক্ষিপ্ত হয় যে
… কেউ কালিতে মাখামাখি হয় আর কেউ রঞ্জিত হয়।
সে যেন হিজকাল মঠ থেকে পালিয়ে আসা এক উন্মাদ
… যে রাগান্বিত অবস্থায় শিকল ও বেড়ি টেনে আনছে।
হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি তাকে শক্ত করে বেঁধে রাখুন
… কারণ কামারের কাম্য বস্তুর চেয়ে তার সুস্থ হওয়া বেশি প্রয়োজন।
আবু আব্দুর রহমান আল-উতবি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা এক বছর হজ্জ করলাম এবং জুমার দিনে দারিয়্যাহ নামক স্থানে অবস্থান করলাম। আমরা সেখানকার প্রশাসক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমাদের বলা হলো: একজন বেদুইন কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনাদের কাছে বের হয়ে আসবেন।
সূর্য ঢলে পড়লে তিনি আমাদের সামনে বের হয়ে এলেন, তার মাথায় একটি পাগড়ি ছিল যা দেখতে যেন একটি যাঁতাকল। তিনি একটি আরবীয় ধনুক কাঁধে ঝুলিয়েছিলেন। এরপর তিনি বালুর একটি টিলার ওপর উঠলেন, তারপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করলেন। এরপর তিনি বললেন: অতঃপর, নিশ্চয়ই দুনিয়া হলো ক্ষণস্থায়ী অতিক্রমণের ঘর, আর আখিরাত হলো চিরস্থায়ী অবস্থানের ঘর। সুতরাং তোমাদের চিরস্থায়ী অবস্থানের জন্য তোমাদের এই ক্ষণস্থায়ী পথ থেকে পাথেয় সংগ্রহ করো। আর তার সামনে তোমাদের পর্দা ছিন্ন করো না, যিনি তোমাদের গোপন বিষয়গুলো জানেন। তোমাদের দেহ দুনিয়া থেকে বের হওয়ার আগেই তোমাদের অন্তরকে দুনিয়া থেকে বের করে নাও। কেননা দুনিয়াতে তোমাদের জীবিত রাখা হয়েছে আর আখিরাতের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। নিশ্চয়ই দুনিয়া হলো তীব্র বিষের মতো, যা সেই ব্যক্তি খেয়ে ফেলে যে এটি চেনে না। আমি আমার এই কথা বলছি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এরপর খলিফার জন্য এবং তারপর আমীর জাফরের জন্য দু’আ করা হলো। (অতঃপর বললেন:) আপনাদের সালাতের জন্য দাঁড়ান, আল্লাহ আপনাদের মাঝে বরকত দান করুন।
আহমদ ইবনে সুলাইমান আমার কাছে আব্দুল মালিক ইবনে কারীব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমীরুল মুমিনীন হারুনুর রশীদের মজলিসে ছিলাম। সেখানে আবু আল-বাখতারী, সুলাইমান ইবনে আল-আসাম এবং অন্যান্য সঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন। তখন আমার প্রস্রাবের তীব্র বেগ হলো, আমি বুঝতে পারছিলাম না কী করব।
আমি সুলাইমান ইবনে আল-আসামের দিকে তাকিয়ে তাকে বিষয়টি জানালাম। সে আমাকে বলল: আমারও একই অবস্থা যা আপনার। তিনি বলেন: আমি এই অবস্থায় ছিলাম যখন আমীরুল মুমিনীন আমাকে লক্ষ্য করলেন। তিনি বললেন: হে আসমাঈ! আমি বললাম: আমি উপস্থিত হে আমীরুল মুমিনীন। তিনি বললেন: তোমার কি প্রস্রাবের বেগ হয়েছে? আমি বললাম: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম।
তিনি বললেন: হে লোক, তার সাথে যাও যাতে সে প্রস্রাব করতে পারে। আমি উঠলাম এবং প্রস্রাব করে ফিরে এলাম। যখন তিনি আমাকে দেখলেন, বললেন: হে আসমাঈ, একটি কবিতা শোনাও যার অর্থ আমি বিবেচনা করব। আমি বললাম:
আমার প্রতিবেশিনী এবং তার প্রশ্নের বিস্ময় ছাড়া আর কিছু নেই
… হায়! আমাদের কি এমন কোনো আপনজন আছে যাকে একইভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে?
তিনি এটি নিয়ে চিন্তা করতে লাগলেন এবং কিছু বলতে চাইলেন। আমি বললাম: হে আমীরুল মুমিনীন, পুনরায় বিবেচনা করুন। তিনি বললেন: তুমি কীভাবে বুঝলে (যে আমার পুনরায় চিন্তা করা প্রয়োজন)?
আমি বললাম: আমি দেখলাম আপনার চোখের মণি দুটি ঘুরছে, আর যখন তা স্থির হলো, তা আপনার সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য স্পষ্টতর হলো। এতে তিনি এতটাই হাসলেন যে নুয়ে পড়লেন, তারপর বললেন: সে সঠিক বলেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ١٩)
فَقُلْتُ: أَصَبْتَ وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَأَحْسَنْتَ.
قَالَ: فَسُرَّ بِإِصَابَتِهِ وَارْتَاحَ لَهَا، وَأَمَرَ لِي بِصِلَةٍ، ثُمَّ قَالَ: قُمْ يَا أَصْمَعِيُّ نَنْظُرُ إِلَى الْهِلالِ لِشَهْرِ رَمَضَانَ، فَأَخَذَ بِيَدِي، وَصَعِدَ بَابَ دَرَجِهِ، فَجَعَلْتُ أَتَّكِئُ عَلَيْهِ، فَقَالَ لِيَ الْخَادِمُ: أَتَتَّكِئُ عَلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ؟ فَقُلْتُ: لا، فَصَعِدْنَا فَرَأَيْنَاهُ ".
حَدَّثَنِي مُبَارُكٌ الَطَّبَرِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عُبَيْدٍ، يَقُولُ: " إِنَّ أَبَا جَعْفَرٍ الْمَنْصُورَ لَمَّا بُويِعَ بِالْخِلافَةِ دَخَلَ عَلَيْهِ أَهْلُ بَيْتِهِ وَجَمَاعَةٌ مِنَ الْقُوَّادِ فَهَنَّئُوهُ، فَحَمِدَ اللَّهَ سُبْحَانَهُ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: " إِنِّي وَاللَّهِ مَا أَنَا بِأَرْغَبِ النَّاسِ فِيهَا، وَلا أَحْرَصَهُمْ عَلَيْهَا، وَلَكِنِّي أُحِبُّ أَنْ لا يَكُونَ بَيْنِي وَبَيْنَ اللَّهِ سبحانه وتعالى سِتْرٌ، وَأَنْ أَتَقَرَّبَ إِلَيْهِ بِالْعَمَلِ بِطَاعَتِهِ وَبَثِّ سُنَّةِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ، رَاجِيًا الْعَدْلَ وِإِمَاتَةَ الْجَوْرِ، وَالأَخْذَ لِفَيْئِكُمْ مِنْ حَقِّهِ، وَوَضْعَهُ فِي مَوَاضِعِهِ الَّتِي جَرَتْ بِهَا السُّنَّةُ، وَنَزَلَ بِهَا الْكِتَابُ، وَمَنْعَهُ مِنْ بَاطِلِهِ، لِيُقَرِّبَنِي اللَّهُ بِذَلِكَ، وَيَزِيدَنِي فَضْلَهُ لَدَيْهِ، وَكَرَامَةً عِنْدَهُ مَعَ قَرَابَتِي مِنْ نَبِيِّهِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ، وَرَبُّنَا الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِمَّنْ خَالَفَ قَوْلَهُ َفِعْلَهُ، وَعِظَتَهُ وَعَمَلَهُ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَأُمُّ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرِ أُمُّ جَعْفَرٍ زَيْنَبُ بِنْتُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَأُمُّهَا فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمْ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنِ يَحْيَى الرَّبَعِيُّ، قَالَ: قَالَ ابْنُ شُبْرَمَةَ " دَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو حَنِيفَةَ عَلَى جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، فَسَلَّمْتُ، وَكُنْتُ لَهُ صَدِيقًا، ثُمَّ أَقْبَلْتُ عَلَى جَعْفَرٍ، فَقُلْتُ لَهُ: أَمْتَعَ اللَّهُ بِكَ، هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ، لَهُ فِقْهٌ وَعِلْمٌ.
فَقَالَ لِي جَعْفَرٌ: لَعَلَّهُ الَّذِي يَقِيسُ الدِّينَ بِرَأْيِهِ.
ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيَّ، فَقَالَ: هُوَ النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ؟ قَالَ: وَلَمْ أَعْرِفِ اسْمَهُ إِلا ذَلِكَ الْيَوْمَ.
قَالَ: فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: نَعَمْ، أَصْلَحَكَ اللَّهُ، فَقَالَ لَهُ جَعْفَرٌ: اتَّقِ اللَّهَ وَلا تَقِسِ الدِّينَ بِرَأْيِكَ، فَإِنَّ أَوَّلَ مَنْ قَاسَ إِبْلِيسُ، إِذْ أَمَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِالسِّجُودِ لآدَمَ، فَقَالَ: {أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} [الأعراف: 12 ٍ] ثُمَّ قَالَ لَهُ جَعْفَرٌ: هَلْ تُحْسِنُ أَنْ تَقِيسَ رَأْسَكَ مِنْ جَسَدِكَ؟ فَقَالَ: لا، فَقَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ الْمُلُوحَةِ فِي الْعَيْنَيْنِ، وَعَنِ الْمَرَارَةِ فِي الأُذُنَيْنِ، وَعَنِ الْمَاءِ فِي الْمِنْخَرَيْنِ، وَعَنِ الْعُذُوبَةِ فِي الشَّفَتَيْنِ لأَيِّ شَيْءٍ جُعِلَ ذَلِكَ؟ قَالَ: لا أَدْرِي.
আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, আল্লাহর কসম, আপনি সঠিক বলেছেন এবং উত্তম কাজ করেছেন।
তিনি বললেন: তিনি তাঁর সঠিকতায় আনন্দিত হলেন এবং তাতে প্রশান্তি অনুভব করলেন। তিনি আমাকে পুরস্কৃত করার নির্দেশ দিলেন। এরপর বললেন: হে আসমায়ি, ওঠো, আমরা রমজান মাসের চাঁদ দেখি। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং তাঁর সিঁড়ির দরজায় উঠলেন। আমি তাঁর ওপর ভর দিতে লাগলাম। তখন খাদেম আমাকে বলল: তুমি কি আমিরুল মুমিনিনের ওপর ভর দিচ্ছ? আমি বললাম: না। এরপর আমরা উপরে উঠলাম এবং চাঁদ দেখলাম।
মুবারক আত-তাবারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু উবাইদকে বলতে শুনেছি: আবু জাফর আল-মনসুর যখন খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করলেন, তখন তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং সেনাপতিদের একটি দল তাঁর কাছে প্রবেশ করে তাঁকে অভিনন্দন জানালেন। তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি এই পদের জন্য মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী নই এবং এর জন্য সবচেয়ে বেশি লালায়িতও নই। তবে আমি চাই যে আমার এবং মহান আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা না থাকুক এবং তাঁর আনুগত্যের কাজ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত প্রচারের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করতে। আমি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জুলুম বিনাশ, আপনাদের 'ফায়' (লব্ধ সম্পদ) এর হক আদায় এবং সুন্নাত ও কিতাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে তা ব্যয়ের আশা রাখি। অন্যায় থেকে একে রক্ষা করতে চাই, যেন আল্লাহ এর মাধ্যমে আমাকে নৈকট্য দান করেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আমার আত্মীয়তার পাশাপাশি তাঁর কাছে আমার মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করেন। তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে আমাদের রবের কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়। আর আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এমন ব্যক্তি হওয়া থেকে যার কথা তার কাজের বিপরীত এবং যার উপদেশ তার আমলের পরিপন্থী হয়।"
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুরাশি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে জাফর ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—এবং আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরের মা উম্মু জাফর জয়নব বিনতে আলী ইবনে আবি তালিব, যার মা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিম)-এর কন্যা ফাতিমা—তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-রাবাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে শুবরুমা বলেছেন: "আমি এবং আবু হানিফা জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলীর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি সালাম দিলাম এবং আমি তাঁর বন্ধু ছিলাম। অতঃপর আমি জাফরের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে বললাম: আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন, ইনি ইরাকবাসী একজন ব্যক্তি, যাঁর ফিকহ ও ইলম রয়েছে।"
জাফর আমাকে বললেন: সম্ভবত ইনিই তিনি, যিনি নিজের রায় দিয়ে দ্বীনের বিষয়ে কিয়াস করেন।
তারপর তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন: তিনি কি নুমান ইবনে সাবিত? বর্ণনাকারী বলেন: আমি সেদিনের আগে তাঁর নাম জানতাম না।
তিনি বলেন: তখন আবু হানিফা বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন। তখন জাফর তাঁকে বললেন: আল্লাহকে ভয় করুন এবং নিজের রায় দিয়ে দ্বীনের কিয়াস করবেন না। কেননা সর্বপ্রথম কিয়াস করেছিল ইবলিস, যখন আল্লাহ তাআলা তাকে আদমকে সিজদা করার আদেশ দিয়েছিলেন। সে বলেছিল: {আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন} [আল-আরাফ: ১২]। এরপর জাফর তাঁকে বললেন: আপনি কি আপনার দেহ থেকে আপনার মাথার কিয়াস করতে পারেন? তিনি বললেন: না। তখন তিনি বললেন: আমাকে চোখের লোনা পানি, কানের তিক্ততা, নাকের তরল এবং ঠোঁটের মিষ্টতা সম্পর্কে বলুন—কেন এগুলো এমন করা হয়েছে? তিনি বললেন: আমি জানি না।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
قَالَ لَهُ جَعْفَرٌ: إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى خَلَقَ الْعَيْنَيْنِ فَجَعَلَهُمَا شَحْمَتَيْنِ، وَجَعَلَ الْمُلُوحَةَ فِيهِمَا مَنًّا مِنْهُ عَلَى ابْنِ آدَمَ، وَلَولا ذَلِكَ لَذَابَتَا فَذَهَبَتَا، وَجَعَلَ الْمَرَارَةَ فِي الأُذُنَيْنِ مَنًّا مِنْهُ عَلَيْهِ، وَلَولا ذَلِكَ لَهَجَمَتِ الدَّوَابُّ فَأَكَلَتْ دِمَاغَهُ.
وَجَعَلَ الْمَاءَ فِي الْمِنْخَرَيْنِ لِيَصْعَدَ مِنْهُ النَفَسُ وَيَنْزِلَ، وَيَجِدَ مِنْهُ الرِّيحَ الطَّيِّبَةَ مِنَ الرِّيحِ الرَّدِيَّةِ.
وَجَعَلَ الْعُذُوبَةَ فِي الشَّفَتَيْنِ لِيَجِدَ ابْنُ آدَمَ لَذَّةَ مَطْعَمِهِ وَمَشْرَبِهِ.
ثُمَّ قَالَ لأَبِي حَنِيفَةَ: أَخْبِرْنِي عَنْ كَلِمَةٍ أَوَّلُهَا شِرْكٌ وَآخِرُهَا إِيمَانٌ مَا هِيَ؟ قَالَ: لا أَدْرِي.
قَالَ: قُوْلُ الرَّجُلِ «لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ» ، فَلَوْ قَالَ: «لا إِلَهَ» ، ثُمَّ أَمْسَكَ كَانَ مُشْرِكًا، فَهَذِهِ كَلِمَةٌ أَوَّلُهَا شِرْكٌ وَآخِرُهَا إِيمَانٌ.
ثُمَّ قَالَ: وَيْحَكَ أَيُّمَا أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى، قَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ أَمِ الزِّنَا؟ قَالَ: لا بَلْ قَتْلُ النَّفِسِ.
قَالَ لَهُ جَعْفَرٌ: إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ اسْمُهُ قَدْ رَضِيَ وَقَبِلَ فِي قَتْلِ النَّفْسِ بِشَاهِدَيْنِ، وَلَمْ يَقْبَلْ فِي الزِّنَا إِلا أَرْبَعَةً، فَكَيْفَ يَقُومُ لَكَ قِيَاسٌ؟ ثُمَّ قَالَ: أَيُّمَا أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ، الصَّوْمُ أَمِ الصَّلاةُ؟ قَالَ: لا بَلِ الصَّلاةُ.
قَالَ: فَمَا بَالُ الْمَرَّأَةِ إِذَا حَاضَتْ تَقْضِي الصِّيامَ وَلا تَقْضِي الصَّلاةَ؟ اتَّقِ اللَّهَ يَا عَبْدَ اللَّهِ وَلا تَقِسْ، نَقِفْ نَحْنُ غَدًا وَأَنْتَ وَمَنْ خَالَفَنَا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ عز وجل، فَنَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ، قَالَ اللَّهُ عز وجل، وَتَقُولُ أَنْتَ وَأَصْحَابُكَ: سَمِعْنَا وَرَأَيْنَا، فَيَعْمَلُ بِنَا وَبِكُمْ مَا يَشَاءُ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ، قَالَ: " خَرَجَ خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقَسْرِيُّ يَوْمًا يَتَصَيَّدُ وَهُوَ أَمِيرُ الْعِرَاقِ، قَدْ تَفَرَّدَ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَإِذَا هُوَ بِأَعْرَابِيٍّ عَلَى أَتَانٍ لَهُ هَزِيلٍ وَمَعَهُ عَجُوزٌ لَهُ.
فَقَالَ لَهُ خَالِدٌ: مِمَّنِ الرَّجُلُ؟ قَالَ: مِنْ أَهْلِ الْمَآثِرِ وَالْحَسَبِ، قَالَ: أَفَأَنْتَ إِذًا مِنْ مُضَرَ، فَمِنْ أَيِّهَا أَنْتَ؟ قَالَ: مَنَ الْمُطَاعِنِينَ عَلَى الْخُيُولِ، الْمُعَانِقِينَ عِنْدَ النُّزُولِ.
قَالَ: فَأَنْتَ إِذًا مِنْ عَامِرٍ، فَمِنْ أَيِّهَا أَنْتَ؟ قَالَ: مِنَ الطَّالِبِينَ الثَّارَ، وَالْمَانِعِينَ الْجَارَ.
قَالَ: فَأَنْتَ إِذًا مِنْ كِلابٍ، فَمِنْ أَيِّهَا أَنْتَ؟ قَالَ: مِنْ أَهْلِ الْوَفَادَةِ وَالرِّيَاسَةِ.
قَالَ: فَأَنْتَ إِذًا مِنْ جَعْفَرٍ، فَمِنْ أَيِّهَا أَنْتَ؟ قَالَ: مِنْ بَدْرِهَا وَشَمْسِهَا، وَلُيُوثِهَا وَخِيسِهَا.
قَالَ: فَأَنْتَ إِذًا مِنَ الْحَوْصِ، فَمَا أَقْدَمَكَ هَذِهِ الْبِلادَ؟ قَالَ: تَتَابُعُ السِّنِينَ وَقِلَّةُ رِفْدِ الرَّافِدِ.
قَالَ: فَمَنْ أَرَدْتَ بِهَا؟ قَالَ: أَمِيرَكُمُ الَّذِي رَفَعَتْهُ إِمْرَتُهُ، وَحَطَّتْهُ أُسْرَتُهُ.
قَالَ: فَمَا أَرَدْتَ مِنْهُ؟ قَالَ: كَثْرَةَ دَرَاهِمِهِ لا كَرَمَ آبَائِهِ.
قَالَ: مَا أَرَاكَ إِلا قُلْتَ فِيهِ شِعْرًا.
قَالَ: فَقَالَ: لامْرَأَتِهِ: أَنْشِدِيهِ.
قَالَتْ: كَمْ تَجَشَّمْنَا مَدَحَ اللَّئِيمِ مُنْذُ الْيَوْمِ، إِنَّ مَدَحَ اللَّئِيمِ ذُلٌّ.
قَالَ: فَأَنْشِدِيهِ، فَأَنْشَدَتْ تَقُولُ:
জাফর তাকে বললেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা চোখ দুটি সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে চর্বির দুটি টুকরো বানিয়েছেন। আর এগুলোর মধ্যে লোনাপানি দিয়েছেন যা আদমসন্তানের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ; যদি তা না হতো তবে চোখ দুটি গলে নিঃশেষ হয়ে যেত। আর তিনি কান দুটিতে তিক্ততা দিয়েছেন তাঁর পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহস্বরূপ; তা না হলে পোকামাকড় মস্তিষ্কে হানা দিয়ে তা খেয়ে ফেলত।
আর তিনি নাসারন্ধ্রে পানি দিয়েছেন যাতে শ্বাস-প্রশ্বাস যাতায়াত করতে পারে এবং এর মাধ্যমে সুগন্ধি ও দুর্গন্ধের পার্থক্য অনুভূত হয়।
আর তিনি ঠোঁট দুটিতে মিষ্টতা দিয়েছেন যাতে আদমসন্তান তার খাদ্য ও পানীয়ের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে।
তারপর তিনি আবু হানিফাকে বললেন: আমাকে এমন একটি বাক্য সম্পর্কে বলুন যার শুরু শিরক এবং শেষ ঈমান, সেটি কী? তিনি বললেন: আমি জানি না।
তিনি বললেন: সেটি হলো মানুষের এ কথা বলা— ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)। যদি সে শুধু ‘লা ইলাহা’ (কোনো উপাস্য নেই) বলে থেমে যায়, তবে সে মুশরিক হবে। সুতরাং এটি এমন এক বাক্য যার শুরু শিরক এবং শেষ ঈমান।
এরপর তিনি বললেন: আফসোস তোমার প্রতি! মহান আল্লাহর নিকট কোনটি অধিক গুরুতর— আল্লাহ যে প্রাণ হারাম করেছেন তাকে হত্যা করা নাকি জিনা করা? তিনি বললেন: বরং প্রাণ হত্যা করা।
জাফর তাকে বললেন: আল্লাহ—যাঁর নাম বরকতময়—তিনি প্রাণ হত্যার ক্ষেত্রে দুজন সাক্ষীতেই সন্তুষ্ট হয়েছেন ও গ্রহণ করেছেন, অথচ জিনার ক্ষেত্রে চারজন ছাড়া গ্রহণ করেননি। তাহলে তোমার কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) কীভাবে টিকে? এরপর তিনি বললেন: আল্লাহর নিকট কোনটি অধিক মহান— রোজা নাকি নামাজ? তিনি বললেন: অবশ্যই নামাজ।
তিনি বললেন: তবে ঋতুবতী মহিলার কী হলো যে, সে রোজা কাজা করে কিন্তু নামাজ কাজা করে না? হে আল্লাহর বান্দা, আল্লাহকে ভয় করো এবং কিয়াস করো না। আগামীকাল আমরা এবং যারা আমাদের বিরোধিতা করেছে, সবাই মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়াব। তখন আমরা বলব: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি বলেছেন’, ‘আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন’; আর তুমি ও তোমার সঙ্গীরা বলবে: ‘আমরা শুনেছি এবং আমরা দেখেছি’। তখন তিনি আমাদের ও তোমাদের সাথে যা ইচ্ছা তা-ই করবেন।
মুহাম্মদ ইবনে সালাম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক কুরাইশ ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইরাকের আমির থাকাকালীন খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাসরি একদিন শিকার করতে বের হলেন। তিনি তার সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ তিনি এক বেদুইনের দেখা পেলেন যে তার একটি কৃশকায় গাধার পিঠে ছিল এবং তার সাথে তার এক বৃদ্ধা স্ত্রী ছিল।
খালিদ তাকে জিজ্ঞেস করলেন: লোকটি কোন বংশের? সে বলল: গৌরবগাথা ও আভিজাত্যের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন: তবে কি তুমি মুদার গোত্রের? মুদারের কোন শাখার? সে বলল: যারা ঘোড়ায় চড়ে বর্শা যুদ্ধ করে এবং (যুদ্ধক্ষেত্রে) নামার সময় মল্লযুদ্ধ করে।
খালিদ বললেন: তবে কি তুমি আমির গোত্রের? আমিরের কোন শাখার? সে বলল: যারা প্রতিশোধ গ্রহণ করে এবং প্রতিবেশীকে সুরক্ষা দেয়।
খালিদ বললেন: তবে কি তুমি কিলাব গোত্রের? কিলাবের কোন শাখার? সে বলল: যারা প্রতিনিধি দল প্রেরণ ও নেতৃত্বের অধিকারী।
খালিদ বললেন: তবে কি তুমি জাফর গোত্রের? জাফরের কোন শাখার? সে বলল: তার পূর্ণিমা ও সূর্য, এবং তার সিংহ ও তার গহীন অরণ্য সদৃশ বীরদের মধ্য থেকে।
খালিদ বললেন: তবে তো তুমি আল-হাওস শাখার। এ দেশে তোমার আসার কারণ কী? সে বলল: ক্রমাগত দুর্ভিক্ষের বছর এবং সাহায্যকারীর সাহায্যের অভাব।
তিনি বললেন: তুমি কার কাছে যেতে চেয়েছিলে? সে বলল: তোমাদের সেই আমির, যার নেতৃত্ব তাকে উচ্চে তুলে ধরেছে এবং তার পরিবার তাকে নিচে নামিয়েছে।
তিনি বললেন: তার কাছ থেকে তুমি কী চাও? সে বলল: তার দিরহামের আধিক্য, তার পূর্বপুরুষদের বদান্যতা নয়।
তিনি বললেন: আমার মনে হয় তুমি তার সম্পর্কে কোনো কবিতা রচনা করেছ।
বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে তার স্ত্রীকে বলল: তাকে শোনাও।
স্ত্রী বলল: আজ থেকে এই কৃপণ ব্যক্তির প্রশংসা করতে আমাদের কতই না কষ্ট সইতে হয়েছে; নিশ্চয়ই কৃপণের প্রশংসা করা লাঞ্ছনাদায়ক।
সে বলল: তাকে শোনাও। তখন সে আবৃত্তি করতে লাগল:
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢١)
إِلَيْكَ ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ بِالْحَمْدِ أَرْقَلَتْ
… بِنَا الْبَيْدَ عِيسٌ كَالْقِسِيِّ سَوَاهِمُ
عَلَيْهَا كِرَامٌ مِنْ ذُؤَابَةِ عَامِرٍ
… أَضَرَّ بِهِمْ جَدْبُ السِّنِينَ الْعَوَارِمُ
يُرِدْنَ امْرَءًا يُعْطِي عَلَى الْحَمْدِ مَالَهُ
… وَهَانَتْ عَلَيْهِ فِي الثَّنَاءِ الدَّرَاهِمُ
فَإِنْ تُعْطِ مَا نَهْوَى فَهَذَا ثَنَاؤُنَا
… وَإِنْ تَكُنِ الأُخْرَى فَمَا لامَ لائِمُ
فَقَالَ لَهُ خَالِدٌ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، مَا أَعَجَبَكَ وَشِعْرَكَ، جِئْتَ عَلَى أَتَانٍ هَزِيلٍ وَتَزْعُمُ أَنَّكَ جِئْتَ عَلَى عِيسٍ، وَقَدْ ذَكَرْتَ الرَّجُلَ فِي شِعْرِكَ بِخِلافِ مَا ذَكَرْتَهُ فِي كَلامِكَ.
قَالَ: يَا ابْنَ أَخِي، مَا تَجَشُّمُنَا مِنْ مَدْحِ اللَّئِيمِ كَانَ أشدَّ مِنَ الْكَذِبِ فِي شِعْرِنَا.
فَقَالَ لَهُ خَالِدٌ: أَتَعْرِفُ خَالِدًا؟ قَالَ: لا.
فَقَالَ خَالِدٌ: أَنَا خَالِدٌ وَأَنَا مُعْطِيكَ وَغَيْرُ مُكَافِيكَ.
فَقَالَ: يَا أُمَّ جَحْشٍ، اصْرِفِي وَجْهَ أَتَانِكِ، وَمَضَى.
فَقَالَ لَهُ خَالِدٌ: لا تَفْعَلْ، وَقُمْ فَإِنِّي مُحْسِنٌ إِلَيْكَ.
فَقَالَ: وَاللَّهِ لا رَزَأْتَ لأَمْرِي دِرْهَمًا أَسْمَعْتَهُ، وَضَرَبَ وَجْهَ أَتَانِهِ وَمَضَى.
فَقَالَ خَالِدٌ: بِمِثْلِ هَذَا الصَّبْرِ نَالَ هَذَا وَأَبُوهُ مِنَ الشَّرَفِ مَا نَالُوهُ
حَدَّثَنِي أَبُو الْحَسَنِ الْمَدَائِنِيُّ، عَنْ حَفْصٍ التَّمِيمِيِّ، عَنْ حَرْبِ بْنِ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: انْصَرَفَ أَعْرَابِيٌّ عَنِ الْمَوْسِمِ مُتَوَجِّهًا إِلَى الْمَدِينَةِ، فَسَقَطَ بَعِيرُهُ فِي الطَّرِيقِ، فَأَقْبَلَ بِرَحْلِهِ يَحْمِلُهُ حَتَّى أَتَى بَابَ أَبَانِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، وَهُوَ يَوْمَئِذٍ عَلَى الْمَدِينَةِ، فَسَأَلَهُ فَحَرَمَهُ، فَأَتَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ، فَقَالَ لآذِنِهِ: إِنَّ مَعِي هَدِيَّةً فَأَعْلِمْهُ.
فَدَخَلَ إِلَى ابْنِ جَعْفَرٍ فَأَعْلَمَهُ، فَقَالَ قُلْ لَهُ: أَنْتَ تَحْمِلُ هَدِيَّتَكَ أَمْ يَحْمِلُهَا غَيْرُكَ؟ قَالَ: بَلْ أَحْمِلُهَا أَنَا، قَالَ: أَدْخِلْهُ، فَلَمَّا دَخَلَ، قَالَ: هَاتِ، فَأَنْشَدَهُ:
أَبُو جَعْفَرٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِ نُبُوَّةٍ
… صَلاتُهُمْ لِلْمُسْلِمِينَ طَهُورُ
أَبَا جَعْفَرٍ إِنَّ الْجِيَادَ تَوَاكَلَتْ
… فَأَدْرَكَهَا عِنْدَ الْحِضَارِ فُتُورُ
أَبَا جَعْفَرٍ يَا ابْنَ الشَّهِيدِ الَّذِي لَهُ
… جَنَاحَانِ فِي أَعَلَى الْجِنَانِ يَطِيرُ
أَبَا جَعْفَرٍ ضَنَّ الأَمِيرُ بِمَالِهِ
… وَأَنْتَ عَلَى مَا فِي يَدَيْكَ أَمِيرُ
أَبَا جَعْفَرٍ إِنَّ الْحَجِيجَ تَرَجَّلُوا
… وَلَيْسَ لِرَحْلِي فَاعْلَمَنَّ بَعِيرُ
فَقَالَ لَهُ: انْطَلِقْ إِلَى إِبِلِي فَاخْتَرْ أَفْضَلَ نَاقَةٍ فِيهَا أَوْ جَمَلٍ فَخُذْهُ.
فَمَضَى الأَعْرَابِيُّ إِلَى الإِبِلِ، وَكَانَ بِهَا بَصِيرًا، فَأَخَذَ نَاقَةً لابْنِ جَعْفَرٍ تَعْدِلُ رَحْلَهُ، فَأَبَى غُلامُ ابْنِ جَعْفَرٍ أَنْ يَدْفَعَهَا إِلَيْهِ، فَرَجَعَ الأَعْرَابِيُّ إِلَى ابْنِ جَعْفَرٍ فَأَعْلَمَهُ.
فَأَرْسَلَ مَعَهُ رَسُولا، وَقَالَ لَهُ: أَعْطِهِ الَّذِي طَلَبَ، وَالْعَبْدُ الَّذِي مَنَعَهُ فَأَعْطِهِ إِيَّاهُ أَيْضًا.
হে আব্দুল্লাহর পুত্র, আপনার অভিমুখে প্রশংসাসহ মরুপ্রান্তর দ্রুত পাড়ি দিয়েছে আমাদের শুভ্র উটগুলো, যা ধনুকের ন্যায় ক্ষীণকায় হয়ে পড়েছে।
… সেগুলোর পিঠে চড়ে এসেছে আমিরের উচ্চবংশীয় কিছু সম্মানিত লোক, দীর্ঘকালের প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ যাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তারা এমন এক ব্যক্তিকে খুঁজছে, যে প্রশংসার বিনিময়ে তার সম্পদ দান করে
… আর যার কাছে স্তুতির মূল্যে দিরহাম তুচ্ছ হয়ে যায়।
আপনি যদি আমাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু দান করেন তবে এই রইল আমাদের প্রশংসা,
… আর যদি অন্যথা হয় তবে কোনো নিন্দুক নিন্দা করবে না।
খালিদ তাকে বললেন: হে আব্দুল্লাহর বান্দা, তোমার এবং তোমার কবিতার কী অদ্ভুত কাণ্ড! তুমি এসেছ এক জীর্ণ গাধার পিঠে চড়ে, আর দাবি করছ যে তুমি তেজী শুভ্র উটের পিঠে চড়ে এসেছ। অথচ তুমি তোমার কবিতায় লোকটির সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করেছ যা তোমার মুখে বলা কথার বিপরীত।
তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, কোনো কৃপণ ব্যক্তির প্রশংসা করতে গিয়ে আমাদের যে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, তা আমাদের কবিতায় বলা মিথ্যার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন ছিল।
খালিদ তাকে বললেন: তুমি কি খালিদকে চেনো? তিনি বললেন: না।
খালিদ বললেন: আমিই খালিদ, আর আমি তোমাকে দান করব এবং তোমার (এই ব্যবহারের) কোনো প্রতিদান চাইব না।
তখন তিনি বললেন: হে উম্মে জাহশ (গাধার মা), তোমার গাধার মুখ ফিরিয়ে নাও, এবং তিনি চলে যেতে লাগলেন।
খালিদ তাকে বললেন: এমন করো না, দাঁড়াও, আমি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করব।
তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আপনি আমাকে যা শুনিয়েছেন তার বিনিময়ে আমি আপনার সম্পদ থেকে একটি দিরহামও গ্রহণ করব না। এরপর তিনি তার গাধার মুখে আঘাত করে চলে গেলেন।
খালিদ বললেন: এই ধরনের আত্মমর্যাদাবোধ ও ধৈর্যের মাধ্যমেই এই লোক এবং তার পিতা সেই মর্যাদা লাভ করেছেন যা তারা অর্জন করেছেন।
আবুল হাসান আল-মাদায়িনী হাফস আল-তামিমির সূত্রে, তিনি হারব ইবনে খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মুয়াবিয়ার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক বেদুইন হজ্জের মৌসুম শেষে মদিনার দিকে রওনা হলেন। পথিমধ্যে তার উটটি মারা গেল। তিনি তার আসবাবপত্র নিজেই পিঠে বহন করে নিয়ে আসলেন এবং আবান ইবনে উসমান ইবনে আফফানের দরজায় পৌঁছালেন, যিনি তখন মদিনার গভর্নর ছিলেন। তিনি তার কাছে সাহায্য চাইলেন কিন্তু আবান তাকে বঞ্চিত করলেন। অতঃপর তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরের কাছে আসলেন এবং তার দ্বাররক্ষীকে বললেন: আমার কাছে একটি উপহার আছে, তাকে সংবাদ দাও।
দ্বাররক্ষী ইবনে জাফরের কাছে গিয়ে তাকে সংবাদ দিলেন। তিনি বললেন: তাকে জিজ্ঞাসা করো, উপহারটি কি তুমি নিজে বহন করছ নাকি অন্য কেউ বহন করছে? সে বলল: বরং আমিই এটি বহন করছি। তিনি বললেন: তাকে ভেতরে নিয়ে আসো। যখন তিনি প্রবেশ করলেন, ইবনে জাফর বললেন: নিয়ে এসো কী এনেছ। তখন তিনি আবৃত্তি করলেন:
আবু জাফর নবুওয়াতের পরিবারভুক্ত এক সদস্য,
… তাদের দোয়া মুসলমানদের জন্য পবিত্রতা স্বরূপ।
হে আবু জাফর, তেজী ঘোড়াগুলো ক্লান্ত হয়ে একে অপরের ওপর ভরসা করছে,
… আর দৌড়ানোর সময় তাদের মাঝে অবসাদ চলে এসেছে।
হে আবু জাফর, হে সেই শহীদের পুত্র যার জন্য
… জান্নাতের সুউচ্চ স্থানে দুটি ডানা রয়েছে যার সাহায্যে তিনি উড়ে বেড়ান।
হে আবু জাফর, আমির তার সম্পদ দিতে কার্পণ্য করেছেন,
… অথচ আপনার হস্তগত সম্পদের ওপর আপনিই প্রকৃত আমির।
হে আবু জাফর, হজ্জযাত্রীরা সবাই সওয়ারিতে চড়েছে,
… কিন্তু জেনে রাখুন যে আমার আসবাবপত্রের জন্য কোনো উট নেই।
তখন তিনি তাকে বললেন: আমার উটের পালের কাছে যাও এবং সেখান থেকে সবচেয়ে উত্তম মাদি উট অথবা পুরুষ উটটি বেছে নাও।
বেদুইন উটের পালের কাছে গেলেন—তিনি উট চেনায় পারদর্শী ছিলেন—অতঃপর তিনি ইবনে জাফরের এমন একটি মাদি উট গ্রহণ করলেন যা তার আসবাবপত্রের ভার বহনে উপযুক্ত ছিল। কিন্তু ইবনে জাফরের গোলাম সেটি তাকে দিতে অস্বীকার করল। তখন বেদুইন ইবনে জাফরের কাছে ফিরে এসে তাকে বিষয়টি জানালেন।
তিনি তার সাথে একজন বার্তাবাহক পাঠালেন এবং তাকে বললেন: সে যা চেয়েছে তাকে তা দিয়ে দাও, এবং যে গোলাম তাকে বাধা দিয়েছে তাকেও তাকে দিয়ে দাও।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
فَدَفَعَهُمَا إِلَيْهِ، وَأَخَذَهُمَا الأَعْرَابِيُّ، وَرَجَعَ إِلَى ابْنِ جَعْفَرٍ يَتَشَكَّرُ لَهُ، فَقَالَ الْعَبْدُ لابْنِ جَعْفَرٍ: جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ، صُحْبَتِي؟ فَقَالَ: لِلأَعْرَابِيِّ: أَتَبِيعُهُ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: بِكَمْ؟ قَالَ: بِثَلاثِمِائَةِ دِينَارٍ، قَالَ: هِيَ لَكَ فَأَعْطَاهُ ثَلاثَمِائَةِ دِينَارٍ، وَأَعْطَاهُ سَيْفًا، وَقَالَ: لا تَخْدَعَنَّ عَنْهُ، فَإِنِّي أَخَذْتُهُ بِأَرْبَعِمِائَةِ دِينَارٍ، وَقَالَ لِلْعَبْدِ: إِنَّ لَكَ حَقًا وَإِنَّكَ لَطَوِيلُ الصُّحْبَةِ، فَأَعْتَقَهُ وَأَهْلَهُ وَوَلَدَهُ.
فَأَنْشَأَ الأَعْرَابِيُّ، يَقُولُ:
سَأُثْنِي بِمَا أَوْلَيْتَنِي يَا ابْنَ جَعْفَرٍ
… وَمَا شَاكِرٌ عُرْفًا كَمَنْ هُوَ كَافِرُهْ
فَيَا خَيْرَ خَلْقِ اللَّهِ نَفْسًا وَوَلَدًا
… وَأَكْرَمَهُمْ لِلْجَارِحِينَ يُجَاوِرُهْ
حَدَّثَنِي مُبَارَكٌ الطَّبَرِيُّ، قَالَ: " أَشَارَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عَلَى الْمَهْدِيِّ أَنْ يَنْزِلَ الرَّافِقَةَ، وَأَرَادَ أَنْ يُبْعِدَهُ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، فَكَتَبَ أَبُو دُلامَةَ إِلَى أَبِي جَعْفَرٍ: إِنَّ الْخَلِيفَةَ وَالْمَهْدِيَّ إِنْ قَرُبَا فَنَحْنُ فِي حِنْثٍ، لا مَاءٌ، وَلا شَجَرٌ، وَلا نَهَارٌ، وَلا لَيْلٌ يَطِيبُ لَنَا، وَلا يَطِيبُ لَنَا شَمْسٌ وَلا قَمَرٌ، اللَّهُ يَعْلَمُ أَنِّي نَاصِحٌ لَكُمْ فِيمَا أَقُولُ، وَإِنِّي حَيَّةٌ ذَكَرٌ أَرَى وَأَسْمَعُ مَا لا تَسْمَعَانِ بِهِ مِنَ الْحَسُودِ، وَفِي فِيَّ الْحَاسِدُ الْحَجَرُ.
فَرَدَّ أَبُو جَعْفَرٍ الْمَهْدِيَّ إِلَيْهِ، وَلَمْ يَأْذَنْ لَهُ فِي نُزُولِ الرَّافِقَةَ، وَلَمْ يُبَاعِدْهُ عَنْهُ
29 - حَدَّثَنِي الْمَدَائِنِيُّ، قَالَ: حَجَّ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ فَوَافَى طَاوُسًا بِمَكَّةَ، فَقِيلَ لِطَاوُسٍ: حَدِّثْ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَقَالَ طَاوُسٌ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ، قَالَ:
«أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ أَشْرَكَهُ اللَّهُ فِي سُلْطَانِهِ فَجَارَ فِي حُكْمِهِ» .قَالَ الْفَضْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ: فَرَأَيْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ قَدْ تَغَيَّرَ وَجْهُهُ
حَدَّثَنِي الْمَدَائِنِيُّ، عَنْ عَوَانَةَ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ لِعَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ: «إِنِّي أَرَاكَ ظَاهِرَ اللَّوْنِ لَيِّنَ الْبَشْرَةِ، فَلَيْتَ شِعْرِي مَا طَعَامُكَ؟» قَالَ: " لُبَابُ الْحِنْطَةِ، وَصِغَارُ الْمَاعِزِ، وَأَدِّهُنُ بِخَامِ الْبَنَفْسَجِ، وَأَلْبَسُ الْكِتَّانَ
حَدَّثَنِي عَمِّي مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: " جَاءَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ بُرَيْهَةَ إِلَى غَسَّانَ بْنِ عَبَّادٍ يَشْكُو إِلَيْهِ غَلَبَةَ الدَّيْنِ، وَضِيقَ الْحَالِ، وَيَسْأَلُهُ أَنْ يَرْفَعَ لَهُ رُقْعَةً إِلَى الْمَأْمُونِ فِي إِدْرَارِ أَرْزَاقِهِ وَقَضَاءِ دَيْنِهِ.
فَقَالَ: وَكَمْ دَيْنُكَ؟ قَالَ: ثَلاثُونَ وَمِائَةُ أَلْفِ دِرْهَمٍ.
قَالَ: هَاتِ رُقْعَتَكَ.
فَأَخْرَجَهَا مِنْ خُفِّهِ وَذَهَبَ لِيَقُومَ.
তিনি সেই দু’টি তাকে অর্পণ করলেন এবং বেদুইন তা গ্রহণ করল। সে ইবনে জা’ফরের কাছে ফিরে এসে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। অতঃপর গোলামটি ইবনে জা’ফরকে বলল: "আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, আমার সাহচর্যের কী হবে?" তিনি বেদুইনকে বললেন: "তুমি কি তাকে বিক্রি করবে?" সে বলল: "হ্যাঁ"। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কত দামে?" সে বলল: "তিনশ দীনারে"। তিনি বললেন: "এটি তোমার জন্য" এবং তাকে তিনশ দীনার দান করলেন। সাথে তাকে একটি তরবারি দিয়ে বললেন: "এটি দিয়ে যেন তুমি প্রতারিত না হও, কারণ আমি এটি চারশ দীনার দিয়ে ক্রয় করেছিলাম।" অতঃপর তিনি গোলামকে বললেন: "নিশ্চয়ই তোমার অধিকার রয়েছে এবং তুমি দীর্ঘকাল আমার সাহচর্যে ছিলে।" এরপর তিনি তাকে, তার পরিবার ও সন্তানকে মুক্ত করে দিলেন।
অতঃপর বেদুইন এই কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল:
হে ইবনে জা’ফর, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন আমি তার প্রশংসা করব
… আর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো নয় যে তা অস্বীকার করে।
হে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সত্তা ও সন্তানের দিক থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তি
… এবং যারা আশ্রয়প্রার্থী তাদের জন্য তাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত প্রতিবেশী।
মুবারক আত-তাবারী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আবু আব্দুল্লাহ আল-মাহদীকে আর-রাফিকাহ নামক স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিলেন এবং তিনি চাইলেন তাকে আবু জা’ফর থেকে দূরে সরিয়ে দিতে। তখন আবু দুলামাহ আবু জা’ফরের নিকট লিখলেন: 'যদি খলিফা এবং মাহদী কাছাকাছি থাকেন তবে আমরা কষ্টে থাকব; সেখানে পানি নেই, বৃক্ষ নেই, কোনো দিন বা রাত আমাদের জন্য মনোরম নয় এবং সূর্য বা চাঁদও আমাদের নিকট তৃপ্তিদায়ক নয়। আল্লাহ জানেন যে, আমি আপনাদের যা বলছি তাতে আমি একজন হিতাকাঙ্ক্ষী। আমি একজন সতর্ক ও বিচক্ষণ ব্যক্তি যে এমন কিছু দেখি ও শুনি যা আপনারা হিংসুকের পক্ষ থেকে শুনতে পান না; আর হিংসুকের মুখে পাথর বর্ষিত হোক।'
অতঃপর আবু জা’ফর আল-মাহদীকে তার কাছে ফিরিয়ে আনলেন এবং তাকে আর-রাফিকাহ-তে অবস্থান করার অনুমতি দিলেন না এবং তাকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিলেন না।
২৯ - আল-মাদায়িনী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক হজ সম্পাদন করলেন এবং মক্কায় তাউসের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। তাউসকে বলা হলো: 'আমীরুল মুমিনীনকে হাদিস শোনান।' তখন তাউস বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন আজাব হবে সেই ব্যক্তির, যাকে আল্লাহ তাঁর রাজত্বে অংশীদার করেছেন (অর্থাৎ ক্ষমতা দিয়েছেন), অতঃপর সে তার বিচারে জুলুম করেছে।» ।ফজল বিন সুলাইমান বলেন: আমি দেখলাম সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল।
আল-মাদায়িনী ‘আওয়ানা’ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান আমর বিন হুরাইসকে বললেন: «আমি তোমাকে উজ্জ্বল বর্ণের ও মসৃণ ত্বকের অধিকারী দেখছি, আমার যদি জানা থাকত তোমার খাদ্য কী?» তিনি বললেন: "গমের শাঁস, অল্প বয়সী ছাগলের মাংস, বনফশা ফুলের বিশুদ্ধ তেল ব্যবহার করি এবং লিনেন কাপড় পরিধান করি।"
আমার চাচা মুসআব বিন আব্দুল্লাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইব্রাহিম বিন বুরাইহা গাসসান বিন আব্বাদের কাছে ঋণের আধিক্য ও দুরবস্থার অভিযোগ নিয়ে এলেন। তিনি তাঁর কাছে অনুরোধ করলেন যেন আল-মামুনের কাছে তাঁর নিয়মিত ভাতা প্রদান এবং ঋণ পরিশোধের বিষয়ে একটি আবেদনপত্র পেশ করেন।
তখন তিনি বললেন: তোমার ঋণ কত? সে বলল: এক লক্ষ ত্রিশ হাজার দিরহাম।
তিনি বললেন: তোমার আবেদনপত্রটি দাও।
অতঃপর সে তার মোজা থেকে সেটি বের করল এবং প্রস্থানের জন্য উদ্যত হলো।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
فَقَالَ: مَكَانَكَ، ثُمَّ دَعَا بِالْغَدَاءِ، وَدَعَا بِوَكِيلِهِ، فَقَالَ: ادْنُ مِنِّي، فَسَارَّهُ، وَقَالَ: احْمِلِ السَّاعَةَ إِلَى مَنْزِلِ بُرَيْهَةَ مِائَةً وَثَلاثِينَ أَلْفَ دِرْهَمٍ، فَحُمِلَتْ قَبْلَ أَنْ يَتَغَدَّى فَلَمَا انْصَرَفَ وَجَدَهَا فِي مَنْزِلِهِ، وَرَكِبَ غَسَّانُ مِنَ الْغَدِ، فَكَلَّمَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فِي دَيْنِهِ وَعَرَضَ رُقْعَتَهُ، فَقَالَ لَهُ الْمَأْمُونُ: قَدْ بَلَغَنِي مَا فَعَلْتَ أَمْسَ، فَوَصَلَكَ اللَّهُ بِصِلَتِكَ، فَأَنْتَ وَاللَّهِ مِمَّنْ إِذَا تَكَلَّمْ نَفَعَ كَلامُهُ، وَإِذَا سَكَتَ حَسُنَ سُكُوتُهُ، ثُمَّ قَالَ: نَعَمْ وَكَرَامَةٌ، قَدْ أَمَرْنَا بِقَضَاءِ دَيْنِهِ وَالزِّيَادَةِ فِي أَرْزَاقِهِ، وَأَدْرَرْنَاهَا عَلَيْهِ.
فَدَعَا لَهُ غَسَّانُ وَانْصَرَفَ، فَلَمَّا وَلَّى أَتْبَعَهُ بَصَرَهُ.
فَقَالَ: لا تَزَالُ الْخِلافَةُ ذَاتَ بَهْجَةِ مَا حَضَرَ مَجْلِسَنَا مِثْلُ هَذَا، مَا اغْتَابَ عِنْدِي أَحَدًا قَطُّ، وَلا اعْتَرَضَ فِي كَلامِهِ، وَلا سَأَلَ حَاجَةً لِنَفْسِهِ، وِلا جَرَّبْنَا عَلَيْهِ كَذِبًا وَلا خِيَانَةً، وَلا سَبَقَهُ لِسَانُهُ بِلَفْظَةٍ اعْتَذَرَ مِنْهَا.
ثُمَّ كَانَ أَوَّلُ تَوْقِيعٍ بَعَدَ هَذَا خَرَجَ ثَلاثَةَ آلافِ دِرْهَمٍ لِغَسَّانَ بْنِ عَبَّادٍ النَّازِلِ مَا لا يَعْنِيهِ
حَدَّثَنِي مُبَارَكٌ الْمَطِيرِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: " قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ يَوْمًا لابْنِ خُرَيْمٍ، وَكَانَ آنِسًا بِهِ: إِنِّي وَاثِقٌ بِعِنَايَتِكَ، وَحِفْظِكَ وَأَمَانَتِكَ وَنَصِيحَتِكَ لأَمَانَتِكَ، وَلَيْسَ كُلُّ ذِي عَقْلٍ نَاصِحٍ يَجْتَمِعُ هَذَا فِيهِ، فَأَخْبِرْنِي عَمَّا يَعِيبُ النَّاسَ مِنْ أَمْرِي، وَيَكْرَهُونَ مْنَ سِيرَتِي.
فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مَا أَصْبَحَ النَّاسُ يُنْكِرُونَ مِنْ سِيرَتِكَ مُنْكَرًا، وَلا يَسْتَبْطُونَ خَبَرًا، إِلا أَنَّ أَهْلَ النَّصِيحَةِ لَكَ وَالإِبْقَاءِ عَلَيْكَ قَدْ غَاظَهُمْ مُبَاشَرَتُكَ أُمُورَكَ، وَتَوَلِّيكَ النَّظَرَ فِيمَا لَوْ وَكَّلْتَهُ إِلَى غَيْرِكَ كَفَاكَهُ، وَشَغَلَهُ مِنْ ذَلِكَ الصَّغِيرِ مِنَ الأُمُرِ، حَتَّى انْحَلَّ جِسْمُكَ مِنَ التَّهَنِّي بِمَا أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْكَ، فَلَوْ بَاشَرْتَ جَلائِلَ الأُمُورِ، وَوَكَّلْتَ خَسَائِسَهَا إِلَى أَعْوَانِكَ انْتَظَمْتَ الأَمْرَيْنِ جَمِيعًا.
ثُمَّ قُلْتُ لَهُ: إِنَّ مُوسَى عليه السلام شَكَا إِلَى رَبِّهِ عز وجل قِلَةَ أَعْوَانِهِ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: أَنْ تَكْتُبَ سَبْعِينَ عَهْدًا وَتَتْرُكَ مَوَاضِعَ أَسْمَاءَ الرِّجَالِ لَيُعْلِمَهُ اللَّهُ إِيَّاهُمْ فَيُسَمِّيهِمْ فِيهَا.
قَالَ الْمَنْصُورُ: هَذَا مُوسَى دَلَّهُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ، وَأَوْحَى اللَّهُ فِيهِمْ، وَأَخْبَارُ السَّمَاءِ لَيْسَ يَعْلَمُهَا إِلا مَلَكٌ مَقَرَّبٌ وَنبِيٌّ مُرْسَلٌ، فَأَنَا مَنْ يُخْبِرُنِي وَالنَّاسُ كَمَا قَدْ عَلِمْتَ فِي مَسَاوِئِهِمْ وَخُبْثِ نِيَّاتِهِمْ.
فَقُلْتُ لَهُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَأَيْنَ أَنْتَ عَنِ الرَّبِيعِ وَعَبْدِ الْمَلِكِ؟ فَوَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ مِنْ خَدَمِ الْمُلُوكِ مِثْلَهُمَا، وَكَانَ الَّذِي بَيْنِي وَبَيْنَهُمَا حَسَنًا، فَأَحْبَبْتُ أَنْ يَعْلَمَا كَلامِي إِيَّاهُ.
وَكَانَا خَلْفَ الْفُسْطَاطِ، فَرَأَى ظِلَّهُمَا، فَقَالَ الْفَاسِقَيْنِ الْمُخَنَّثَيْنِ، لَيْسَا لِذَلِكَ بِأَهْلٍ، وَإِنْ كَانَا يَسْمَعَانِ قَوْلِيَ الآنَ، ثُمَّ أَصْغَى إِلَيَّ فَقَالَ: مَعَ أَنَّهُمَا قَدْ ضَغَطَهُمَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فَقَدْ صَلُحَا، وَعَبْدُ الْمَلِكِ أَمِينٌ مُجْزٍ، وَالرَّبِيعُ ظَرِيفٌ نَاصِحٌ.
তিনি বললেন: "তুমি তোমার স্থানেই থাকো।" এরপর তিনি দুপুরের খাবার আনালেন এবং তাঁর প্রতিনিধিকে ডেকে বললেন: "আমার নিকটবর্তী হও।" অতঃপর তিনি তাঁর কানে কানে কিছু বললেন এবং নির্দেশ দিলেন: "এই মুহূর্তেই বুরাইহার বাসভবনে এক লক্ষ ত্রিশ হাজার দিরহাম পৌঁছে দাও।" দুপুরের খাবার গ্রহণের পূর্বেই তা নিয়ে যাওয়া হলো। যখন তিনি ফিরে গেলেন, তখন সেগুলো নিজের বাড়িতেই পেলেন। পরদিন গাসসান সওয়ার হয়ে আসলেন এবং আমিরুল মুমিনিনের নিকট তাঁর ঋণের বিষয়ে কথা বললেন ও নিজের আবেদনপত্র পেশ করলেন। তখন আল-মামুন তাঁকে বললেন: "গতকাল তুমি যা করেছ তা আমার নিকট পৌঁছেছে। তোমার এই সৌজন্যের কারণে আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আল্লাহর কসম, তুমি তো সেই ব্যক্তি যার কথা বললে তা উপকার দান করে, আর নীরব থাকলে তাঁর নীরবতাও সুন্দর দেখায়।" এরপর তিনি বললেন: "হ্যাঁ, পরম সম্মানের সাথে; আমরা তাঁর ঋণ পরিশোধের এবং তাঁর বৃত্তিতে প্রবৃদ্ধি ও তা নিরবচ্ছিন্ন করার আদেশ দিয়েছি।"
অতঃপর গাসসান তাঁর জন্য দোয়া করলেন এবং বিদায় নিলেন। যখন তিনি প্রস্থান করছিলেন, তখন তিনি (খলিফা) তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
তিনি বললেন: "খিলাফত ততক্ষণ পর্যন্ত সৌন্দর্যমণ্ডিত থাকবে, যতক্ষণ আমাদের মজলিসে এমন লোক উপস্থিত থাকবে। সে আমার নিকট কখনো কারো গিবত করেনি, কথাবার্তায় কোনো বিঘ্ন ঘটায়নি, নিজের জন্য কোনো প্রয়োজন পেশ করেনি, আমরা তাঁর মধ্যে কখনো কোনো মিথ্যা বা খেয়ানত পাইনি এবং তাঁর মুখ থেকে কখনো এমন কোনো শব্দ বের হয়নি যার জন্য তাঁকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়েছে।"
এরপর সর্বপ্রথম যে রাজকীয় স্বাক্ষরটি জারি হলো, তা ছিল গাসসান ইবনে আব্বাদের জন্য তিন হাজার দিরহামের, যিনি অনর্থক বিষয় ত্যাগকারী।
মুবারক আল-মুতাইরি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি যে, আবু জাফর (আল-মানসুর) একদিন ইবনে খুরাইমকে বললেন—যার সাথে তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন: "আমি তোমার যত্নশীলতা, রক্ষণাবেক্ষণ, বিশ্বস্ততা এবং তোমার অর্পিত আমানতের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষার ওপর পূর্ণ আস্থাশীল। প্রত্যেক বুদ্ধিমান ও হিতাকাঙ্ক্ষীর মধ্যে এই গুণগুলো একত্রে পাওয়া যায় না। সুতরাং আমাকে জানাও, মানুষ আমার কোন বিষয়গুলোতে ত্রুটি খুঁজে পায় এবং আমার কোন আচরণ তারা অপছন্দ করে?"
আমি বললাম: "হে আমিরুল মুমিনিন, মানুষ আপনার আচরণের কোনো কিছুকে মন্দ বলছে না এবং কোনো খবরের প্রত্যাশায় বিলম্ব করছে না। তবে আপনার একনিষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী ও আপনার কল্যাণকামীরা আপনার প্রতিটি কাজ সরাসরি তদারকি করা এবং এমন সব বিষয়ে নিজে নজর দেওয়া দেখে ব্যথিত হয়, যা আপনি অন্যের ওপর ন্যস্ত করলে তারাই আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হতো। এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় আপনাকে এতটাই ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে যে, আল্লাহ আপনাকে যে নেয়ামত দিয়েছেন তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করার মতো শক্তি আপনার শরীরে অবশিষ্ট নেই। যদি আপনি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিজে সম্পাদন করতেন এবং তুচ্ছ কাজগুলো আপনার সহকারীদের ওপর ছেড়ে দিতেন, তবে উভয় বিষয়ই সুশৃঙ্খল হতো।"
এরপর আমি তাঁকে বললাম: "নিশ্চয়ই মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর পালনকর্তা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সাহায্যকারীর স্বল্পতার অভিযোগ করেছিলেন। তখন আল্লাহ তাঁর নিকট ওহি প্রেরণ করলেন যে, আপনি সত্তরটি অঙ্গীকারনামা লিখুন এবং পুরুষদের নামের স্থানগুলো খালি রাখুন, যাতে আল্লাহ তাঁদের সম্পর্কে তাঁকে অবগত করেন এবং তিনি সেগুলোতে তাঁদের নাম লিপিবদ্ধ করতে পারেন।"
আল-মানসুর বললেন: "ইনি ছিলেন মূসা, আল্লাহ তাঁকে তাঁদের সন্ধান দিয়েছিলেন এবং তাঁদের বিষয়ে ওহি পাঠিয়েছিলেন। আর আকাশের সংবাদ তো কেবল নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা অথবা প্রেরিত নবী ব্যতীত কেউ জানে না। তাহলে আমাকে কে সংবাদ দেবে? অথচ মানুষ তো তেমনই, যেমনটা তুমি তাঁদের মন্দ স্বভাব এবং কদর্য নিয়ত সম্পর্কে অবগত আছো।"
আমি তাঁকে বললাম: "হে আমিরুল মুমিনিন, তবে রাবি এবং আব্দুল মালিকের ব্যাপারে আপনার কী অভিমত? আল্লাহর কসম, আমি সম্রাটদের সেবকদের মধ্যে তাঁদের মতো কাউকে দেখিনি।" আর আমার ও তাঁদের উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল, তাই আমি চেয়েছিলাম তাঁরা যেন আমার এই কথা জানতে পারে।
তাঁরা তাঁবুর পেছনে অবস্থান করছিলেন, খলিফা তাঁদের ছায়া দেখতে পেলেন এবং বললেন: "এই দুই পাপাচারী ও কাপুরুষ, তাঁরা এর যোগ্য নন, যদিও তাঁরা এখন আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন।" এরপর তিনি আমার দিকে ঝুঁকে বললেন: "আমিরুল মুমিনিন তাঁদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখা সত্ত্বেও তাঁরা সংশোধিত হয়েছেন। আব্দুল মালিক একজন বিশ্বস্ত ও কর্মঠ ব্যক্তি, আর রাবি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও হিতাকাঙ্ক্ষী।"
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
قَالَ ابْنُ خُرَيْمٍ: فَحَدَثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بَعْدَ ذَلِكَ أَنَّهُ دَعَاهُمَا، فَقَالَ: مَا سَمِعْتُ مِثْلَ كَلامِ ابْنِ خُرَيْمٍ أَوْ قَوْلِهِ، وَأَوْقَعَ عَلَى قَلْبِي مَعَ النَّصِيحَةِ وَشَدَّةِ الرَّأْيِ.
قَالَ: فَأَتَيْتُ أَنَا وَالرَّبِيعُ عَلَيْهِ، فَقَالَ: تَتَقَارَضَانِ الثَّنَاءَ عِنْديِ كَذَبْتُمَا، وَكُذِبَ فِيكُمَا، اخْرُجَا عَنِّي
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ قَرِيبٍ، قَالَ: " خَرَجْتُ ذَاتَ يَوْمٍ فِي الْبَادِيَةِ، فَإِذَا أَنَا بِامْرَأَةٍ إِلَى جَانِبِ قَبْرٍ، وَهِيَ تَسْتُرُ جِيدَهَا، فَقُلْتُ: يَنْبَغِي أَنْ تَكُونَ هَذِهِ الْمَرأَةُ تَنْدُبُ أَوْ تَرْثِي، فَدَنَوْتُ مِنْهَا وَهِيَ لا تَدْرِي، حَتَّى قَرُبْتُ مِنْهَا، فَإِذَا هِيَ تَقُولُ:
هَلْ خَبَّرَ الْقَبْرُ سَائِلِيهِ
… أَمْ قَرَّ عَيْنًا بِزَائِرِيهِ
أَمْ هَلْ تَرَاهُ أَحَاطَ عِلْمًا
… بِالْجَسَدِ الْمُسْتَكِنِّ فِيهِ
لَوْ يِعْلَمُ الْقَبْرُ مَنْ يَوَارِي
… تَاهَ عَلَى كُلِّ مَنْ يَلِيهِ
يَا مَوْتُ لَوْ تَقْبَلُ افْتِدَاءً
… كُنْتُ بِنَفْسِي سَأَفْتَدِيهِ
أَنْعَى يَزِيدًا لِمُجْتَدِيهِ
… أَنْعَى يَزِيدًا لِمُعْتَفِيهِ
أَنْعَى يَزِيدًا إِلَى حُرُوبٍ
… بِوَصْفِهِ نَدَبَ نَادِبِيهِ
يَا جَبَلا كَانَ ذَا امْتِنَاعٍ
… وَرُكْنَ عِزٍّ لآمِلِيهِ
يَا نَخْلَةً طَلْعُهَا نَضِيدٌ
… يَقْرُبُ مِنْ كَفِّ مُجْتَنِيهِ
تَحْلُو نِعَمٌ عِنْدَهُ سَمَاحًا
… وَلَمْ يَقُلْ قَطُّ لا بِفِيهِ
أَيَا صَبُورًا عَلَى بَلاءٍ
… كَانَ بِهِ اللَّهُ يَبْتَلِيهِ
قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ قَرِيبٍ: فَحَفِظْتُ مَا قَالَتْ، ثُمَّ دَنَوْتُ إِلَيْهَا، فَقُلْتُ لَهَا: أَعِيدِي لَفْظَكِ رَحِمَكِ اللَّهُ.
قَالَتْ: أَمَا وَاللَّهِ لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ تَسْمَعُنِي مَا قُلْتُ شَيْئًا مِنْهَا.
قَالَ: فَقُلْتُ لَهَا: فَاسْمَعِي مِنِّي مَا قُلْتِ: قَالَتْ: قُلْ.
فَأَنْشَدْتُهَا مَا قَالَتْ حَتَّى أَتَيْتُ عَلَى آخِرِهِ.
قَالَتْ: مَا كُنْتُ أَحْسَبُ أَنَّ أَحَدًا لَهُ مِثْلُ حِفْظِكَ، فَإِنْ كَانَ فِي بَلادِ الأَصْمَعِيِّ فَأَنْتَ هُوَ
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ قَرِيبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْ أَثِقُ بِهِ، " أَنَّ رَجُلا مِنَ الْعَرَبِ خَرَجَ فِي طَلِبِ إِبِلٍ لَهُ نَدَّتْ، فَوَرَدَ مَنْهَلا مِنْ مَنَاهِلِ الْعَرَبِ، فَإِذَا هُوَ بِامْرَأَةٍ حَسْنَاءَ جَمِيلَةٍ، لَهَا لِسَانٌ وَبَيَانٌ، فَدَنَا مِنْهَا فَسَلَّمَ عَلَيْهَا، فَرَدَّتِ السَّلامَ، ثُمَّ قَالَتْ لَهُ: مِمَّنِ الرَّجُلُ؟ فَانْتَسَبَ لَهَا.
فَقَالَتْ لَهُ: مَا أَقْدَمَكَ هَذِهِ الْبِلادَ؟ فَقَالَ الرَّجُلُ: خَرَجْتُ فِي طَلَبِ إِبِلٍ لِي نَدَّتْ عَنِّي، فَخَرَجْتُ فِي طَلَبِهَا، فَهَلْ أَحْسَسْتِ مِنْهَا شَيْئًا؟ قَالَتْ: لا وَاللَّهِ وَلَكِنِّي أَدُلُّكَ عَلَى مَنْ يَرُدُّهَا عَلَيْكَ.
قَالَ: افْعَلِي.
قَالَتْ: سَلِ الَّذِي أَعْطَاكَهَا، بِنِيَّةٍ صَادِقَةٍ، أَنْ يَرُدَهَا عَلَيْكَ، فَإِنَّهُ مَالِكُ كُلَّ شَيْءٍ.
قَالَ: مِمَّنِ الْمَرْأَةُ؟ قَالَتْ: مِنْ بَنِي عَامِرٍ.
قَالَ: أَلَكِ زَوْجٌ، وَتَأْمَنِينَ بَوَائِقَهُ؟ فَتَرَقْرَقَتْ عَيْنَاهَا، وَأَنْشَأَتْ تَقُولُ:
كُنَّا كَغُصْنَيْنِ فِي أَصْلٍ غِذَاؤُهُمَا
… مَاءُ الْجَدْوَلِ فِي رَوْضَاتِ جَنَّاتِ
فَاجْتُثَّ خَيْرَهُمَا عَنْ أَصْلِ صَاحِبِهِ
… دَهْرٌ يَكِرُّ بِعَوْلاتٍ وَتَرْحَاتِ
وَكَانَ عَاهَدَنِي إِنْ رَامَنِي زَمَنٌ
… أَنْ لا يُضَاجِعَ أُنْثَى بَعَدَ مَثْوَاتِي
وَكُنْتُ عَاهَدْتُهُ أَيْضًا فَغَادَرَهُ
… رَيْبُ الزَّمَانِ قَرِيبًا مُذْ سُنَيَّاتِ
ইবনে খুরাইম বলেন: এরপর আব্দুল মালিক আমাকে বর্ণনা করেন যে তিনি তাদের দুজনকে ডাকলেন এবং বললেন: আমি ইবনে খুরাইমের কথার মতো কোনো কথা বা বক্তব্য শুনিনি, যা উপদেশ এবং সুদৃঢ় মতামতের সাথে আমার অন্তরে রেখাপাত করেছে।
তিনি বললেন: আমি এবং রাবী’ তাঁর কাছে আসলাম, তখন তিনি বললেন: তোমরা কি আমার নিকট একে অপরের প্রশংসা বিনিময় করছ? তোমরা মিথ্যা বলেছ এবং তোমাদের ব্যাপারেও মিথ্যা বলা হয়েছে, আমার সামনে থেকে বিদায় হও।
আহমাদ ইবনে সুলাইমান আব্দুল মালিক ইবনে কারীব থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদিন আমি মরুভূমির পথে বের হলাম, হঠাৎ আমি একটি কবরের পাশে একজন মহিলাকে দেখতে পেলাম, যিনি তাঁর ঘাড় আবৃত করে রেখেছিলেন। আমি মনে মনে বললাম: এই মহিলাটি নিশ্চয়ই বিলাপ করছে বা শোকগাঁথা পাঠ করছে। আমি তাঁর অগোচরেই তাঁর নিকটবর্তী হলাম, এমনকি আমি তাঁর খুব কাছে চলে এলাম, তখন তিনি বলছিলেন:
কবর কি তাকে প্রশ্নকারীদের কোনো সংবাদ দিয়েছে
… নাকি সে তার যিয়ারতকারীদের দেখে চক্ষু শীতল করেছে
নাকি তুমি কি দেখছ যে সে অবগত হয়েছে
… তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা দেহ সম্পর্কে
কবর যদি জানত সে কাকে লুকিয়ে রেখেছে
… তবে সে তার পার্শ্ববর্তী সকলের ওপর গর্ব করত
হে মৃত্যু! যদি তুমি মুক্তিপণ গ্রহণ করতে
… তবে আমি নিজের জীবন দিয়ে তাঁর মুক্তিপণ দিতাম
আমি ইয়াজীদের মৃত্যু সংবাদ দিচ্ছি তার সাহায্যপ্রার্থীদের কাছে
… আমি ইয়াজীদের মৃত্যু সংবাদ দিচ্ছি তার কাছে আশ্রয়প্রার্থীদের কাছে
আমি যুদ্ধের ময়দানে ইয়াজীদের মৃত্যু সংবাদ দিচ্ছি
… বিলাপকারীদের বিলাপের বর্ণনায়
হে পাহাড়! যা ছিল সুউচ্চ ও দুর্ভেদ্য
… এবং আশাবাদীদের জন্য সম্মানের এক সুদৃঢ় স্তম্ভ
হে খেজুর গাছ! যার ফলসমূহ সুবিন্যস্ত
… যা ফল সংগ্রহকারীর হাতের নাগালে থাকে
উদারতায় তাঁর নিকট নেয়ামতসমূহ মিষ্ট লাগত
… এবং তিনি তাঁর মুখে কখনও 'না' শব্দটি উচ্চারণ করেননি
হে বিপদে ধৈর্যধারণকারী!
… আল্লাহ তাকে যার দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন
আব্দুল মালিক ইবনে কারীব বলেন: তিনি যা বলেছিলেন আমি তা মুখস্থ করে নিলাম, এরপর আমি তাঁর নিকটবর্তী হয়ে তাঁকে বললাম: আপনার কথাগুলো পুনরায় বলুন, আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন।
তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমি যদি জানতাম যে আপনি আমার কথা শুনছেন, তবে আমি এর কিছুই বলতাম না।
তিনি বললেন: আমি তাঁকে বললাম: তাহলে আপনি যা বলেছেন তা আমার থেকে শুনুন। তিনি বললেন: বলুন।
অতঃপর আমি তিনি যা বলেছিলেন তা পাঠ করে শোনালাম, এমনকি আমি এর শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম।
তিনি বললেন: আমি ধারণা করিনি যে কারও আপনার মতো মুখস্থ করার ক্ষমতা আছে; যদি আসমাঈর দেশে কেউ থেকে থাকে, তবে আপনিই সেই ব্যক্তি।
আহমাদ ইবনে সুলাইমান আব্দুল মালিক ইবনে কারীব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার কাছে এমন একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যাকে আমি বিশ্বাস করি, "আরবদের এক ব্যক্তি তার হারিয়ে যাওয়া উটের সন্ধানে বের হয়েছিল। সে আরবদের পানির ঘাটগুলোর একটিতে এসে পৌঁছাল। সেখানে সে একজন পরম রূপবতী ও সুন্দরী মহিলাকে দেখতে পেল, যার ভাষা ছিল অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সাবলীল। সে মহিলার নিকটবর্তী হয়ে তাঁকে সালাম দিল, তিনি সালামের উত্তর দিলেন। এরপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: লোকটির পরিচয় কী? তখন সে তাঁর কাছে নিজের বংশ পরিচয় দিল।
তিনি তাকে বললেন: আপনাকে এই অঞ্চলে কিসে নিয়ে এসেছে? লোকটি বলল: আমি আমার হারিয়ে যাওয়া উটের সন্ধানে বের হয়েছি, তাই আমি সেগুলোর খোঁজে এসেছি; আপনি কি তাদের কোনো হদিস পেয়েছেন? তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম! তবে আমি আপনাকে এমন একজনের কথা বলে দেব যিনি সেগুলো আপনার কাছে ফিরিয়ে দেবেন।
সে বলল: অবশ্যই বলুন।
তিনি বললেন: যিনি আপনাকে সেগুলো দান করেছিলেন, তাঁর কাছেই সত্য নিয়তে প্রার্থনা করুন যেন তিনি সেগুলো আপনাকে ফিরিয়ে দেন, কারণ তিনিই প্রতিটি জিনিসের মালিক।
সে বলল: মহিলার পরিচয় কী? তিনি বললেন: বনী আমির গোত্র থেকে।
সে জিজ্ঞেস করল: আপনার কি স্বামী আছে, এবং আপনি কি তাঁর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ? তখন তাঁর চোখ দুটি অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল এবং তিনি বলতে শুরু করলেন:
আমরা যেন এক কাণ্ডের দুটি শাখা ছিলাম, যাদের খাদ্য ছিল
… জান্নাতের বাগানসমূহের প্রবহমান ঝরনার পানি
অতঃপর কালচক্রের বিলাপ ও দুঃখের আঘাতে
… তাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠটিকে তার সঙ্গীর মূল থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে
তিনি আমার সাথে অঙ্গীকার করেছিলেন যে, কালচক্র যদি আমাকে কেড়ে নেয়
… তবে আমার মৃত্যুর পর তিনি অন্য কোনো নারীর শয্যাসঙ্গী হবেন না
আমিও তাঁর সাথে অনুরূপ অঙ্গীকার করেছিলাম, অতঃপর কয়েক বছর আগেই
… কালের বিপর্যয় তাঁকে ফেলে রেখে গেছে
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فَاكْفُفْ لِسَانَكَ عَمَّنْ لَيْسَ يَرْدَعُهُ
… عَنِ الْوَفَاءِ خَلابٌ بِالنَّحِيَّاتِ
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ بْنِ مَيْسَرَةَ بْنِ شُرَيْحٍ الْكِنْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي مُعَاوِيَةُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَبِيهِ مَيْسَرَةَ، عَنْ شُرَيْحٍ، قَالَ: تَقَدَّمَتْ إِلَيَّ امْرَأَةٌ، فَقَالَتْ: أَيُّهَا الْقَاضِي، إِنِّي جِئْتُكَ مُخَاصِمَةً.
قَالَ: وَأَيْنَ خَصْمُكِ؟ قَالَتْ: أَنْتَ أَيُّهَا الْقَاضِي.
فَأَخْلَى الْمَجْلِسَ، وَقَالَ لَهَا: تَكَلَّمِي.
قَالَتْ: إِنِّي امْرَأَةٌ وَلِي إِحْلِيلٌ، وَلِي فَرْجٌ.
فَقَالَ لَهَا: قَدْ كَانَ لأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيٍّ عليه السلام فِي هَذِهِ قَضِيَّةٌ وَرَّثَ مِنْ حَيْثُ جَاءَ الْبَوْلُ.
فَقَالَتْ: إِنَّهَ يَجِيءُ مِنْهُمَا.
فَقَالَ لَهَا: فَمِنْ أَيْنَ سَابَقُ الْبَوْلِ؟ قَالَتْ: لَيْسَ مِنْهُمَا، يَسْتَوْجِبَانِ فِي وَقْتٍ وَاحِدٍ، وَيَنْقَطِعَانِ فِي وَقْتٍ وَاحِدٍ.
فَقَالَ لَهَا: إِنَّكِ لَتُخْبِرِينِي بِعَجَبٍ.
قَالَتْ: وَأُخْبِرُكَ بِمَا هُوَ أَعْجَبُ مِنْ هَذَا، تَزَوَّجَنِي ابْنُ عَمٍّ لِي، وَأَخْدَمَنِي خَادِمَةً، فَوَطَئْتُهَا فَأَوْلَجْتُهَا، وَإِنَّمَا جِئْتُكَ لَمَّا وُلِدَ لِي لِتُفَرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَ زَوْجِي، فَقَامَ مِنْ مَجْلِسِ الْقَضَاءِ، فَدَخَلَ عَلِيٌّ عليه السلام فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ عَلِيٌّ: " عَلَيَّ بِالْمَرْأَةِ، فَأُدْخِلَتْ، فَقَالَ: " أَحَقٌّ مَا يَقُولُ الْقَاضِي؟ ، قَالَتْ: هُوَ كَمَا قَالَ.
قَالَ: فَدَعَا بِزَوْجِهَا، فَقَالَ: هَذِهِ امْرَأَتُكَ وَابْنَةُ عَمِّكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَعَلِمْتَ مَا كَانَ، قَالَ: نَعَمْ، أَخْدَمْتَهَا خَادِمَةً فَوَطِئَتْهَا فَأَوْلَدَتْهَا، ثُمَّ وَطِئْتَهَا أَنْتَ بَعْدُ؟ ، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: لأَنْتَ أَحْسَنُ مِنْ خَاصِي أَسَدٍ، عَلَيَّ بِدِينَارِ الْخَادِمِ وَامْرَأَتَيْنِ، فَجِئَ بِهِمْ، فَقَالَ: خُذُوا هَذِهِ الْمَرْأَةَ، إِنْ كَانَتِ امْرَأَةً، فَأَدْخِلُوهَا بَيْتًا وَأَلْبِسُوهَا ثِيَابًا، وَعُدُّوا أَضْلاعَ جَنْبَيْهَا، فَفَعَلُوا، فَقَالَ: عَدَدُ الأَيْمَنِ أَحَدَ عَشْرَ وَعَدَدُ الأَيْسَرِ اثْنَا عَشْرَ.
فَقَالَ عَلَيٌّ: اللَّهُ أَكَبْرُ.
فَأَمَرَ لَهَا بِرِدَاءٍ وَحَذَاءٍ وَأَلْحَقَهَا بِالرِّجَالِ.
فَقَالَ زَوْجُهَا: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، زَوْجَتِي وَابْنَةُ عَمِّي، فَرَّقْتَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا، فَأَلْحَقْتَهَا بِالرِّجَالِ، عَمَّنْ أَخَذْتَ هَذِهِ الْقِصَّةَ؟ ، قَالَ: إِنِّي أَخَذْتُهَا عَنْ أَبِي آدَمَ صلى الله عليه وسلم، إِنَّ اللَّهُ عز وجل، خَلَقَ حَوَّاءَ، ضِلْعًا مِنْ أَضْلاعِ آدَمَ، فَأَضْلاعُ الرِّجَالِ أَقَلُّ مِنْ أَضْلاعِ النِّسَاءِ بِضِلْعٍ "، ثُمَّ أَمَرَ بِهِمْ فَأُخْرِجُوا.
وَمِنْ عِنْدِنَا انْثَبَتَ، فَرَدُّوا الأَمْرَ إِلَى أَهْلِهِ يُصْدِرُوهُ كَمَا أَوْرَدَهُ.
قَالَ ثُمَّ رَجَعَ وَاللَّهِ إِلَى خُطْبَتِهِ كَأَنَّمَا يَقْرَؤُهَا مِنْ كَفِّهِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
حَدَّثَنِي الْمَدَائِنِيُّ، قَالَ: كَانَ يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ: " اتَّقُوا اللَّهَ، عِبَادَ اللَّهِ، فَكَمْ مُؤَمِّلٍ مَا لا يَبْلُغُهُ، وَطَاعِمٍ مَا لا يَأْكُلُهُ، وَمَانِعٍ عَمَّا سَوْفَ يَتْرُكُهُ، وَلَعَلَّهُ مِنْ بَاطِلٍ جَمَعَهُ، وَمِنْ حَقٍّ مَنَعَهُ، أَصَابَهُ حَرَامًا، وَأَوْرَثَهُ عَدُوًّا، فَاحْتَمَلَ إِصْرَهُ، وَبَاءَ بِوِزْرِهِ، وَوَرَدَ عَلَى رَبِّهِ، آسِفًا لاهِفًا، قَدْ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالآخَرَةَ، ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ
সুতরাং আপনার জিহ্বাকে তার থেকে সংযত রাখুন যাকে আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি থেকে কোনো প্রতারক ফিরিয়ে রাখে না
… আর আনুগত্যের ক্ষেত্রে সে কেবল ছলনাময় কথার ফুলঝুরি ছড়ায়।
আবদুল্লাহ ইবনে মুআবিয়া ইবনে মাইসারা ইবনে শুরাইহ আল-কিন্দি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা মুআবিয়া ইবনে মাইসারা তাঁর পিতা মাইসারা থেকে এবং তিনি শুরাইহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক নারী আমার কাছে উপস্থিত হয়ে বলল: হে বিচারক, আমি আপনার কাছে একজন বিবাদী হিসেবে এসেছি।
তিনি বললেন: তোমার প্রতিপক্ষ কোথায়? সে বলল: আপনিই, হে বিচারক।
অতঃপর তিনি মজলিস খালি করে দিলেন এবং তাকে বললেন: তোমার কথা বলো।
সে বলল: আমি একজন নারী, কিন্তু আমার পুরুষাঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ই রয়েছে।
তখন তিনি তাকে বললেন: এই বিষয়ে আমিরুল মুমিনিন আলী আলাইহিস সালামের একটি ফয়সালা ছিল; তিনি উত্তরাধিকার নির্ধারণ করতেন যে পথ দিয়ে প্রস্রাব নির্গত হয় তার ভিত্তিতে।
সে বলল: প্রস্রাব তো উভয় পথ দিয়েই নির্গত হয়।
তিনি তাকে বললেন: তবে কোন পথ দিয়ে আগে নির্গত হয়? সে বলল: কোনোটি দিয়েই আগে হয় না, বরং উভয় পথ দিয়েই একই সময়ে শুরু হয় এবং একই সময়ে শেষ হয়।
তিনি তাকে বললেন: তুমি তো আমাকে এক বিস্ময়কর সংবাদ দিচ্ছ।
সে বলল: আমি আপনাকে এর চেয়েও বিস্ময়কর কিছু বলব। আমার এক চাচাতো ভাই আমাকে বিয়ে করেছে এবং সে আমাকে একজন দাসী উপহার দিয়েছে। আমি সেই দাসীর সাথে সহবাস করেছি এবং তাকে গর্ভবতী করেছি। আমি আপনার কাছে এসেছি কারণ আমার একটি সন্তান হয়েছে, যাতে আপনি আমার ও আমার স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেন। অতঃপর তিনি বিচারকার্য থেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং আলী আলাইহিস সালামের কাছে গিয়ে তাঁকে বিষয়টি জানালেন। আলী (আ.) বললেন: "নারীকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" তাকে ভেতরে আনা হলো। তিনি বললেন: "বিচারক যা বলছেন তা কি সত্য?" সে বলল: তিনি যেমনটি বলেছেন বিষয়টি তেমনই।
তিনি তার স্বামীকে ডাকলেন এবং বললেন: এটি কি তোমার স্ত্রী এবং তোমার চাচাতো বোন? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: যা ঘটেছে তা কি তুমি জানো? তুমি তাকে একজন দাসী উপহার দিয়েছিলে, সে তার সাথে সহবাস করেছে এবং তাকে গর্ভবতী করেছে, অতঃপর তুমিও তার (স্ত্রীর) সাথে সহবাস করেছ? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি তো সিংহের অণ্ডকোষ কর্তনকারীর চেয়েও অধিক বিস্ময়কর। অতঃপর তিনি দিনার নামক খাদেম এবং দুইজন নারীকে ডাকলেন। তাঁদের নিয়ে আসা হলে তিনি বললেন: এই নারীকে নিয়ে যাও, যদি সে নারী হয়ে থাকে; তবে তাকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে নতুন পোশাক পরাও এবং তার দুই পার্শ্বের পাঁজরের হাড় গণনা করো। তারা তাই করল। অতঃপর তারা এসে বলল: ডান পাশের সংখ্যা এগারোটি এবং বাম পাশের সংখ্যা বারোটি।
তখন আলী (আ.) বললেন: আল্লাহু আকবর।
অতঃপর তিনি তার জন্য চাদর ও জুতার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পুরুষদের দলভুক্ত করে দিলেন।
তখন তার স্বামী বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, আমার স্ত্রী এবং আমার চাচাতো বোন, আপনি আমার ও তার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন এবং তাকে পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত করলেন! আপনি এই জ্ঞান কার কাছ থেকে পেয়েছেন? তিনি বললেন: "আমি এটি আমাদের পিতা আদম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে লাভ করেছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আদম (আ.)-এর পাঁজরের হাড় থেকে হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন। তাই পুরুষদের পাঁজরের হাড় নারীদের পাঁজরের হাড়ের চেয়ে একটি কম হয়।" অতঃপর তিনি তাঁদের সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন এবং তাঁদের বের করে দেওয়া হলো।
আর আমাদের পক্ষ থেকেই বিষয়টি সুসাব্যস্ত হলো। অতঃপর তাঁরা বিষয়টি এর উপযুক্ত অধিকারীর কাছেই ফিরিয়ে দিলেন, যাতে তিনি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল সেভাবেই এর সমাধান করতে পারেন।
বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম, এরপর তিনি পুনরায় তাঁর খুতবায় ফিরে গেলেন যেন তিনি তা তাঁর হাতের তালু থেকে পড়ছেন। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
আল-মাদাইনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে উমর তাঁর খুতবায় বলতেন: "হে আল্লাহর বান্দাগণ, আল্লাহকে ভয় করো। কত আশাবাদী ব্যক্তি এমন কিছুর আশা করে যা সে অর্জন করতে পারে না, কত আহারকারী এমন কিছু আহার করে যা সে হজম করতে পারে না, এবং কত সঞ্চয়কারী এমন কিছু আগলে রাখে যা সে অচিরেই ছেড়ে চলে যাবে। সম্ভবত সে তা বাতিল উপায়ে সংগ্রহ করেছে এবং হকদারকে দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। ফলে সে তা হারাম উপায়ে অর্জন করল এবং শত্রুর জন্য উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেল। আর সে নিজে এর বোঝা বহন করবে এবং এর পাপের ভার নিয়ে অত্যন্ত অনুতপ্ত ও শোকার্ত অবস্থায় তার রবের কাছে উপস্থিত হবে। সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারিয়েছে; আর এটিই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি।"
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
حَدَّثَنِي عَلَيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَوَانَةَ بْنَ الْحَكَمِ، قَالَ: " لَمَّا اشْتَدَّتْ شَوْكَةُ أَهْلِ الْعِرَاقِ، وَطَالَ تَوَثُّبُهُمْ بِالْوُلاةِ، يَحْصِبُونَهُمْ وَيُقَصِّرُونَ بِهِمْ، أَمَرَ عَبْدُ الْمَلِكِ مُنَادِيًا، فَنَادَى: الصَّلاةُ جَامِعَةٌ، فَاجْتَمَعَ النَّاسُ فَخَطَبَهُمْ، فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ الْعِرَاقَ قَدْ عَلا لَهَبُهَا، وَسَطَعَ وَمِيضُهَا، وَعَظُمَ الْخَطْبُ.
فَجَمْرُهَا ذَكِيٌّ، وَشِهَابُهَا وَرِيٌّ، فَهَلْ مِنْ رَجُلٍ يُنْتدَبُ لَهُمْ، ذِيِ سِلاحٍ عَتِيدٍ، وَقَلْبٍ شَدِيدٍ، فَيُخْمِدَ نِيرَانَهَا، وَيَبِيدَ شُبَّانَهَا؟ ، فَسَكَتَ النَّاسُ جَمِيعًا، وَوَثَبَ الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ، فَقَالَ: أَنَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ.
قَالَ: وَمَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ الْحَكَمِ بْنِ عَامِرِ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ مَسْعُودٍ صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ، وَعَظِيمُ الْقَرْيَتَيْنِ.
قَالَ لَهُ: اجْلِسْ، فَلَسْتَ هُنَاكَ.
ثُمَّ سَأَلَ عَبْدُ الْمَلِكِ: مَنْ لِلْعِرَاقِ؟ فَسَكَتَ النَّاسُ، وَوَثَبَ الْحَجَّاجُ.
فَقَالَ: أَنَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ.
قَالَ: وَمَنْ أَنْتَ.
قَالَ: أَنَا مِنْ قَوْمٍ رَغِبَتْ فِي مُنَاكَحَتِهِمْ قُرَيْشٌ وَلَمْ يَيْأَسُوا مِنْهُمْ، وَإِعَادَةُ الْكَلامِ مِمَّا يَنْسِبُ صَاحِبَهُ إِلَى الْعِيِّ، وَلَوْلا ذَلِكَ لأَعَدْتُ الْكَلامَ الأَوْلَ.
فَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: اجْلِسْ فَلَسْتَ هُنَاكَ، ثُمَّ أَطْرَقْ عَبْدُ الْمَلِكِ مَلِيًّا، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، وَقَالَ: مَنْ لَلْعِرَاقِ؟ فَسَكَتَ النَّاسُ، فَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: مَا لِي أَرَى اللُّيُوثَ قَدْ أَطْرَقَتْ، وَلا أَرَى أَسَدًا يَزْأَرُ نَحْوَ فَرِيسَتِهِ؟ فَسَكَتَ النَّاسُ، وَوَثَبَ الْحَجَّاجُ، وَقَالَ: أَنَا لِلْعِرَاقِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ.
قَالَ: وَمَا الَّذِي أَعْدَدْتَ لأَهْلِ الْعِرَاقِ؟ قَالَ: أَلْبَسُ جِلْدَ النَّمِرِ، ثُمَّ أَخُوضُ الْغَمَرَاتِ، وَأَتَّبِعُ الْهَلَكَاتِ، فَمَنْ نَازَعَنِي طَلَبْتُهُ، وَمَنْ لَحِقْتُهُ قَتَلْتُهُ بِشِدَّةٍ، وَعَجَلٍ وَرَيْثٍ، وَتَبَرٍّ وَازْوِرَارٍ، وَطَلاقَةٍ وَاكْفِهْرَارٍ، وَرِفْقٍ وَجَفَاءٍ، وَصِلَةٍ وَحِرْمَانٍ، فَإِنِ اسْتَقَامُوا كُنْتُ لَهُمْ وَالِيًا حَفِيًّا، وَإِنْ خَالَفُوا لَمْ أُبْقِ مِنْهُمْ طَوَيًّا، فَهَذَا مَا أَعَدَدْتُ لَهُمْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، وَلا عَلَيْكَ أَنْ تُجَرِّبَنِي، فَإِنْ كُنْتَ لِلَّطُلَى قَطَّاعًا، وَلِلأَرْوَاحِ نَزَّاعًا، وَلِلأَمْوَالِ جَمَّاعًا، وَإِلا فَاسْتَبْدِلَ بِي، فَإِنَّ الرِّجَالَ كَثِيرٌ.
فَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: أَنْتَ لَهَا.
ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى كَاتِبِهِ، فَقَالَ: اكْتُبْ عَهْدَهُ وَلا تُؤَخِّرْهُ، وَأْعِطِهِ مِنَ الرِّجَالِ وَالْكُرَاعِ وَالأَمْوَالِ.
আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আওয়ানা ইবনে আল-হাকাম থেকে, তিনি বলেন: "যখন ইরাকবাসীদের শক্তি প্রবল হলো এবং শাসকদের বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহ দীর্ঘায়িত হলো, তারা তাদের পাথর ছুড়ত এবং তাদের অবজ্ঞা করত, তখন আব্দুল মালিক একজন ঘোষককে আদেশ দিলেন। সে ঘোষণা করল: 'নামাজ সমবেত হওয়ার মাধ্যম', ফলে মানুষ সমবেত হলো এবং তিনি তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: হে লোকসকল, নিশ্চয়ই ইরাকের লেলিহান শিখা ঊর্ধ্বে উঠেছে, তার বিদ্যুৎ চমক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সংকট ঘনীভূত হয়েছে।
তার অঙ্গার প্রজ্জ্বলিত এবং তার উল্কা অগ্নিময়। সুতরাং এমন কোনো লোক কি আছে যে তাদের মোকাবিলায় এগিয়ে আসবে, যার নিকট থাকবে প্রস্তুত অস্ত্র এবং এক সুদৃঢ় হৃদয়, যে তার আগুন নিভিয়ে দেবে এবং তাদের যুবকদের ধ্বংস করবে? সকল মানুষ নীরব হয়ে গেল, আর হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল। সে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, আমি প্রস্তুত।
তিনি বললেন: তুমি কে? সে বলল: আমি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ইবনে আল-হাকাম ইবনে আমির ইবনে উরওয়াহ ইবনে মাসউদ (যিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম এর একজন সাহাবী এবং দুই জনপদের মহান ব্যক্তি) এর বংশধর।
তিনি তাকে বললেন: বসো, তুমি সেই যোগ্য নও।
এরপর আব্দুল মালিক পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: ইরাকের জন্য কে আছে? সবাই নীরব রইল এবং হাজ্জাজ লাফিয়ে উঠল।
সে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, আমি।
তিনি বললেন: তুমি কে?
সে বলল: আমি এমন এক কওমের লোক যাদের সাথে কুরাইশরা বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী ছিল এবং তারা তাদের ব্যাপারে নিরাশ হয়নি। আর কথার পুনরাবৃত্তি বক্তাকে বাচালতার দিকেই নিয়ে যায়; যদি তা না হতো, তবে আমি পূর্বের কথাগুলোই পুনরায় বলতাম।
তখন আব্দুল মালিক বললেন: বসো, তুমি সেই যোগ্য নও। এরপর আব্দুল মালিক দীর্ঘক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন, তারপর মাথা তুললেন এবং বললেন: ইরাকের জন্য কে আছে? মানুষ নীরব রইল। আব্দুল মালিক বললেন: কী হলো যে আমি সিংহদের মাথা নিচু করে থাকতে দেখছি, কিন্তু কোনো সিংহকে তার শিকারের প্রতি গর্জন করতে দেখছি না? মানুষ নীরব রইল, তখন হাজ্জাজ লাফিয়ে উঠল এবং বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, ইরাকের জন্য আমি আছি।
তিনি বললেন: তুমি ইরাকবাসীদের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? সে বলল: আমি চিতাবাঘের চামড়া পরিধান করব, তারপর বিপদসংকুল গভীরতায় ঝাঁপ দেব এবং ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি মোকাবিলা করব। যে আমার বিরোধিতা করবে আমি তাকে খুঁজে বের করব, আর যাকে নাগাল পাব তাকে কঠোরভাবে হত্যা করব; যা হবে ক্ষিপ্রতা ও ধীরতা, বর্জন ও বিমুখতা, হাস্যোজ্জ্বলতা ও রুক্ষতা, কোমলতা ও কঠোরতা এবং দান ও বঞ্চিত করার সংমিশ্রণ। যদি তারা সোজা পথে থাকে তবে আমি হব তাদের জন্য অত্যন্ত দয়ালু শাসক, আর যদি তারা বিরোধিতা করে তবে আমি তাদের কাউকেই অবশিষ্ট রাখব না। হে আমিরুল মুমিনীন, তাদের জন্য এটাই আমার প্রস্তুতি। আপনি আমাকে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন; যদি আমি গর্দান ছিন্নকারী, প্রাণ সংহারকারী এবং সম্পদ পুঞ্জীভূতকারী হতে পারি (তবেই আমি উপযুক্ত), অন্যথায় আমার পরিবর্তে অন্য কাউকে নিযুক্ত করুন, কেননা বীর পুরুষের অভাব নেই।
তখন আব্দুল মালিক বললেন: তুমিই এর যোগ্য।
এরপর তিনি তার লেখকের দিকে তাকিয়ে বললেন: তার নিয়োগপত্র লিখে ফেলো এবং দেরি করো না, আর তাকে প্রয়োজনীয় সৈন্যবল, ঘোড়া ও সম্পদ প্রদান করো।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ: فَبَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ فِي الْمِسْجِدِ الأَعْظَمِ إِذْ أَتَانَا آتٍ، فَقَالَ: هَذَا الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ قَدْ قَدِمَ أَمِيرًا عَلَى الْعِرَاقِ، فَاشْرَأَبَّ النَّاسُ نَحْوَهُ، ثُمَّ افْرَاجُّوا إِفْرَاجَّةً عَنْ صَحْنِ الْمَسْجِدِ، فَإِذَا نَحْنُ بَهِ يَتَبَهْنَسُ فِي مِشْيَتِهِ، عَلَيْهِ عِمَامَةٌ حَمْرَاءُ مُتَلَثِّمًا، بِهَا مُنْتَكِبًا قَوْسًا عَرَبِيَّةً، يَؤُمُّ الْمَنْبَرَ، فَمَا زِلْتُ أَرْمُقُهُ بِبَصَرِي حَتَّى صَعِدَ الْمَنْبَرَ، فَجَلَسَ عَلَيْهِ مَا يَحْدِرُ اللِّثَامَ، وَأَهْلُ الْكُوفَةِ يَوْمَئِذٍ لَهُمْ حَالٌ حَسَنٌ، وَهَيْئَةٌ جَمِيلَةٌ وَعِزٌّ وَمَنَعَةٌ وَيَسَارٌ، يَدْخُلُ الرَّجُلُ مِنْهُمُ الْمَسْجِدَ وَمَعَهُ عَشَرَةُ أَوْ عِشْرُونَ رَجُلا مِنْ مَوَالِيهِ وَأَتْبَاعِهِ، عَلَيْهِمُ الْخُزُونُ وَالْقُوهِيَّةُ، وَفِي الْمَسْجِدِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: عُمَيْرُ بْنُ ضَابِئٍ البُرْجُمِيُّ.
فَقَالَ لِمُحَمَّدِ بْنِ عُمَيْرِ بْنِ عُطَارِدَ التَّمِيمِيِّ: هَلْ لَكَ أَنْ أَحْصِبَهُ لَكَ؟ قَالَ: لا، حَتَّى أَسْمَعَ كَلامَهُ.
فَقَالَ: لَعَنَ اللَّهُ بَنِي أُمَيَّةَ حَيْثُ يَسْتَعْمِلُونَ عَلَيْنَا مِثَلَ هَذَا، وَلَقَدْ ضَبَّعَ اللَّهُ الْعِرَاقِ حَيْثُ يَكُونُ عَلَيْهَا مِثْلُ هَذَا أَمِيرًا، وَاللَّهِ لَوْ كَانَ هَذَا كُلُّهُ كَلامًا لَمْ يَكُنْ شَيْئًا.
وَالْحَجَّاجُ سَاكِتٌ يَنْظُرُ يُمْنَةً وَيُسْرَةً، حَتَّى غُصَّ الْمَسْجِدُ بِأَهْلِهِ، فَقَالَ: يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ، إِنَيِ لأَعْرِفُ قَدْرَ اجْتِمَاعِكُمِ.
أَجْتَمَعْتُمْ؟ فَقَالَ رَجُلٌ: قَدِ اجْتَمَعْنَا أَصْلَحَكَ اللَّهُ، فَسَكَتَ هُنَيْهَةً لا يَتَكَلَّمُ.
فَقَالُوا: مَا يَمْنَعَهُ مِنِ الْكَلامِ إِلا الْعِيُّ وَالْحَصْرُ.
فَقَامَ الْحَجَّاجُ، فَحَدَرَ لِثَامَهُ، ثُمَّ قَالَ: يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ، أَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ عَامِرِ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ مَسْعُودٍ.
أَنَا ابْنُ جَلا وَطَلاعُ الثَّنَايَا
… مَتَى أَضَعِ الْعِمَامَةَ تَعْرِفُونِي
صَلِيبُ الْعُودِ مِنْ سَلَفِي تُرَانُ
… كَنَصْلِ السَّيْفِ وَضَّاحِ الْجَبِينِ
وَمَاذَا يَدَّرِي الشُّعَرَاءُ مِنِّي
… وَقَدْ جَاوَزْتُ حَدَّ الأَرْبَعِينِ
أَخْو خَمْسِينَ مُجْتَمِعًا أَشُدِّي
… وَنَجَّذَنِي مُدَاوَرَةُ السِّنِينِ
وَإِنِّي لا أَعُودُ إِلَى مُرَبِّي
… غَدَاةَ الْغِبِّ إِلا أَيَّ حِينِ
وَاللَّهِ يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ إِنِّي لأَرَى رُءُوسًا قَدْ أَيْنَعَتْ وَحَانَ قِطَافُهَا، وَإِنِّي لَصَاحِبُهَا، وَاللَّهِ إِنِّي لأَنْظُرُ إِلَى الدِّمَاءِ بَيْنَ الْعَمَائِمِ وَاللِّحَى.
هَذَا أَوَانُ الشَّدِّ فَاشْتَدِّي زِيَمْ
… قَدْ لَفَّهَا اللَّيْلُ بِسَوَاقٍ حُطَمْ
لَيْسَ بَرَاعِي إِبِلٍ وَلا غَنَمْ
… لا بِجَزَّارٍ عَلَى ظَهْرٍ وَضَمْ
ثُمَّ قَالَ:
قَدْ لَفَّهَا اللَّيْلُ بَعَصْلَبِيِّ
… وَشَمَّرَتْ عَنْ سَاقٍ شَمِّرِي
أَرْوَعَ خَرَّاجٍ مِنَ الدَّوِيِّ
… مُهَاجِرٍ لَيْسَ بِأَعْرَابِيِّ
ثُمَّ قَالَ:
مَا عِلَّتِي وَأَنَا شَيخٌ إِدٌّ
… وَالْقَوْسُ فِيهَا وَتَرٌ عُرُدُّ
مِثْلُ ذِرَاعِ البَكْرِ أَوْ أَشَدُّ وَاللَّهِ يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ، لا يُغْمَزُ جَانِبِي كَتِغْمَازِ التِّينِ، وَلا يُقَعْقَعُ لِي بِالشَّنَانِ.
وَلَقَدْ فُرِرْتُ عَنْ ذَكَاءٍ، وَفُتِّشْتُ عَنْ تَجْرِبَةٍ، وَأَجْرَيْتُ عَنِ الْغَايَةِ، وَإِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ نَثَرَ كِنَانَتَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَعَجِمَ عِيدَانُهَا فَوَجَدَنِي أَمَرَّهَا سَهْمًا، وَأَشَدَّهَا مَكْسِرًا، فَوَجَّهَنِي إِلَيْكُمْ وَرَمَاكُمْ بِي.
عبد الملك ইবনে উমাইর বর্ণনা করেন: আমরা যখন প্রধান মসজিদে (মসজিদুল আজম) বসেছিলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে আমাদের খবর দিলেন যে, হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ইরাকের আমীর হিসেবে আগমন করেছেন। লোকেরা তার দিকে ঘাড় উঁচিয়ে তাকাতে লাগল। এরপর তারা মসজিদের চত্বর থেকে সরে গিয়ে পথ করে দিল। হঠাৎ আমরা তাকে দেখতে পেলাম, তিনি দোদুল্যমান চালে (অহংকারের সাথে) হেঁটে আসছেন। তার মাথায় একটি লাল পাগড়ি ছিল এবং তিনি তার মুখমণ্ডল কাপড় দিয়ে আবৃত করে রেখেছিলেন। তার কাঁধে ছিল একটি আরবীয় ধনুক এবং তিনি মিম্বরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আমি আমার দৃষ্টি দিয়ে তাকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলাম যতক্ষণ না তিনি মিম্বরে উঠলেন। এরপর তিনি সেখানে বসলেন, কিন্তু তখনো মুখমণ্ডল থেকে আবরণ সরালেন না। সে সময় কুফাবাসীদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ; তাদের বেশভুষা ছিল সুন্দর, তারা ছিল প্রভাব-প্রতিপত্তি ও বিত্ত-বৈভবের অধিকারী। তাদের একেকজন যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন, তখন তাদের সাথে দশ থেকে বিশজন অনুসারী ও খাদেম থাকত, যাদের পরনে থাকত রেশমি ও মূল্যবান পোশাক। মসজিদে উমাইর ইবনে দাবি আল-বুরজুমি নামক এক ব্যক্তি ছিলেন।
তিনি মুহাম্মদ ইবনে উমাইর ইবনে আতারিদ আত-তামিমিকে বললেন: আপনি কি চান আমি তাকে কঙ্করাঘাত করি (পাথর ছুঁড়ি)? তিনি বললেন: না, আগে আমি তার কথা শুনি।
তখন উমাইর ইবনে দাবি বললেন: আল্লাহ বনী উমাইয়াদের লানত দিন যে, তারা আমাদের ওপর এমন একজনকে শাসক নিযুক্ত করেছে! আল্লাহ ইরাককে অপদস্থ করেছেন যেহেতু এর ওপর এমন একজনকে আমীর করা হয়েছে। আল্লাহর কসম, যদি এর সবকিছুই শুধু আস্ফালন হয় (কাজে না থাকে), তবে এর কোনো মূল্য নেই।
হাজ্জাজ তখনো নীরব ছিলেন এবং ডানে-বামে তাকাচ্ছিলেন, যতক্ষণ না মসজিদ মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন: হে ইরাকবাসী, আমি তোমাদের এই সমাবেশের গুরুত্ব উপলব্ধি করি।
তোমরা কি সমবেত হয়েছ? তখন এক ব্যক্তি উত্তর দিলেন: আমরা সমবেত হয়েছি, আল্লাহ আপনার অবস্থার সংশোধন করুন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, কোনো কথা বললেন না।
লোকেরা বলাবলি করতে লাগল: তোতলামি বা বাকরুদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কিছুই তাকে কথা বলা থেকে বিরত রাখছে না।
তখন হাজ্জাজ উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের মুখের আবরণ সরালেন। এরপর বললেন: হে ইরাকবাসী, আমি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ইবনে আমির ইবনে উরওয়াহ ইবনে মাসউদ।
আমি প্রদীপ্ত সূর্যের পুত্র এবং সুউচ্চ সংকটের অভিযাত্রী
… যখন আমি পাগড়িটি খুলে রাখব, তখনই তোমরা আমাকে চিনতে পারবে।
আমার পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া আমার স্বভাবের কাষ্ঠ অত্যন্ত শক্ত
… যেমন তলোয়ারের উজ্জ্বল ফলা এবং প্রদীপ্ত কপাল।
কবিরা আমার সম্পর্কে আর কীইবা জানে
… যখন আমি চল্লিশের সীমা অতিক্রম করেছি।
আমি পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি যার শক্তি সংহত হয়েছে
… এবং বছরের পর বছরের অভিজ্ঞতা আমাকে ঘষে-মেজে পাকাপোক্ত করেছে।
আমি সেই পাত্রে ফিরে যাই না যা আমাকে প্রতিপালন করেছে
… সকালের দ্বিতীয় প্রহর ছাড়া অন্য কোনো সময়ে নয়।
আল্লাহর কসম, হে ইরাকবাসী! আমি এমন কতগুলো মাথা দেখতে পাচ্ছি যা পরিপক্ক হয়েছে এবং সেগুলো কাটার সময় হয়ে গেছে। আর আমিই সেগুলোর কর্তনকারী। আল্লাহর কসম! আমি পাগড়ি ও দাড়িগুলোর মাঝখানে রক্ত প্রবাহিত হতে দেখতে পাচ্ছি।
এখন শক্ত করে বাঁধার সময়, সুতরাং হে জিয়াম, শক্ত করে বাঁধো
… রাত একে এমন চালকের সাথে পেঁচিয়ে দিয়েছে যে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়।
তিনি কোনো উট বা মেষের রাখাল নন
… আর কসাইখানায় মাংস কাটার লোকও নন।
এরপর তিনি বললেন:
রাত একে কঠোর ও শক্তিশালী ব্যক্তির সাথে পেঁচিয়ে দিয়েছে
… যে তার পরিধেয় গুটিয়ে নিয়েছে এবং অত্যন্ত তৎপর।
তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সংকট থেকে সফলভাবে বেরিয়ে আসা এক পরিব্রাজক
… তিনি একজন হিজরতকারী, কোনো যাযাবর বেদুইন নন।
এরপর তিনি বললেন:
আমার কী দোষ? অথচ আমি একজন প্রবীণ ও শক্তিশালী ব্যক্তি
… আর ধনুকে রয়েছে অত্যন্ত শক্ত রশি।
যা সবল উষ্ট্রশাবকের বাহুর মতো বা তার চেয়েও শক্তিশালী। আল্লাহর কসম, হে ইরাকবাসী! ডুমুর ফলের মতো আমার পার্শ্বদেশ টিপে নরম করা যাবে না এবং শুকনো মশকের শব্দ দিয়ে আমাকে ভয় দেখানো যাবে না।
আমাকে বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে, অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথরে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আমাকে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করা হয়েছে। আমীরুল মুমিনীন তাঁর তূণীরটি তাঁর সামনে ঢেলে দিয়েছেন এবং এর প্রতিটি তীর পরীক্ষা করে দেখেছেন। তিনি আমাকে তীরের মধ্যে সবচেয়ে তিক্ত এবং সবচেয়ে শক্ত হিসেবে পেয়েছেন। তাই তিনি আমাকে তোমাদের দিকে পাঠিয়েছেন এবং তোমাদের লক্ষ্য করে আমাকে নিক্ষেপ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ، وَيَا أَهْلَ الشِّقَاقِ وَالنِّفَاقِ وَمَسَاوِئِ الأَخْلاقِ لأَنَّكُمْ طَالَمَا اضْطَجَعْتُمْ فِي مَنَامِ الضَّلالِ، وَأَوْضَعْتُمْ فِي أَوْدِيَةِ الْفِتْنَةِ، وَسَنَنْتُمْ سُنَنَ الْغَيِّ.
وايْمُ اللَّهِ لأَلْحُوَنَّكُمْ لَحْوَ الْعُودِ، وَلأَقْرَعَنَّكُمْ قَرْعَ الْمَرْوَةِ، وَلأَعْصِبَنَّكُمِ عَصْبَ السَّلَمَةِ، وَلأَضْرِبَنَّكُمْ ضَرْبَ غَرِيبَةِ الإِبِلِ.
فَإِيَّايَ وهَذِهِ الزَّرَافَاتِ وَالْجَمَاعَاتِ، وَقَالَ وَمَا يَقُولُ، وَكَانَ وَمَا يَكُونُ، مَا أَنْتُمْ وَذَاكَ؟ يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ، إِنَّمَا أَنْتُمِ لَكَأَهْلِ قَرْيَةٍ {كَانَتْ آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً يَأْتِيهَا رِزْقُهَا رَغَدًا مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتْ بِأَنْعُمِ اللَّهِ فَأَذَاقَهَا اللَّهُ لِبَاسَ الْجُوعِ وَالْخَوْفِ} [النحل: 112] .
فَاسْتَوْسِقُوا وَاعْتَدِلُوا وَلا تَمِيلُوا، وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا، وَشَايِعُوا وَبَايِعُوا، وَاعْلَمُوا أَنَّهُ لَيْسَ مِنِّي الإِكْثَارُ وَلا الإِهْذَارُ، وَلا مَعَ ذَلِكَ الْفِرَارُ وَالنِّفَارُ، إِنَّمَا هَوُ انَتْضَائِي هَذَا السَّيْفَ، ثُمَّ لا يُغْمَدُ الشِّتَاءَ وَلا الصَّيْفَ، حَتَّى يَظْهَرَ أَمْرُ اللَّهِ، وَحَتَّى يُذَلَّ صَعْبِكُمْ، وَيُقِيمَ مِنْ أَوَّدِكُمْ وَصَعَّرِّكُمْ.
ثُمَّ إِنِّي وَجَدْتُ الصِّدْقَ مَعَ الْبِرِّ وَوَجَدْتُ الْبِرَّ فِي الْجَنَّةِ، وَوَجَدْتُ الْكَذِبَ مَعَ الْفُجِورِ، وَوَجَدْتُ الْفُجُورَ فِي النَّارِ، وَإِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَمَرَنِي بِأَعْطَيَاتِكُمْ وَإِشْخَاصِكُمْ لِمُجَاهَدَةِ عَدُوِّكُمْ، وَقَدْ أَمَرْتُ لَكُمْ بِذَلِكَ، وَأَجَّلْتُكُمْ ثَلاثًا، وَأَعْطَيْتُ اللَّهَ عَهْدًا يَأْخُذُنِي بِهِ، وَيَسْتَوْفِيهِ مِنِّي، لَيْسَ يُخَلَّفُ أَحَدٌ مِنْكُمِ بَعْدَ قَبْضِ عَطَائِهِ يَوْمًا وَاحِدًا لأَضْرِبَنَّ عُنُقَهُ، وَلأَهَبَنَّ مَالَهُ.
يَا غُلامُ اقْرَأْ كِتَابَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ.
فَقَالَ الْكَاتِبُ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مِنْ عَبْدِ اللَّهِ عَبْدِ الْمَلِكِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، إِلَى مَنْ بِالْعِرَاقِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُؤْمِنينَ.
سَلامٌ عَلَيْكُمْ.
فَلَمْ يَرُدَّ أَحَدٌ السَّلامَ.
فَقَالَ الْحَجَّاجُ مِنَ الْمِنْبَرِ: اسْكُتْ يَا غُلامُ.
يَا أَهْلَ الْفُرْقَةِ، سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فَلَمْ تَرُدُّوا عَلَيْهِ، أَمَا وَاللَّهِ لَئِنْ بَقَيْتُ لَكُمْ لأُؤَدِّبَنَّكُمْ أَدَبًا سِوَى أَدَبِ ابْنِ أُذَيْنَةَ، أَوْ لَتَسْتَقِيمُنَّ لِي، وَلأَجْعَلَنَّ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْكُمْ شُغْلا فِي نَفْسِهِ.
يَا غُلامُ: اقْرَأْ كِتَابَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ.
فَقَالَ الكَاتِبُ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.
فَلَمَّا بَلَغَ السَّلامَ، قَالَ مَنْ فِي الْمَسْجِدِ: وَعَلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ السَّلامُ، وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ.
ثُمَّ نَزَلَ فَدَخَلَ دَارَ الإِمَارَةِ، فَحُجِبَ النَّاسُ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ، فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الرَّابِعِ أُذِنَ لِلْنَاسِ فَدَخَلُوا عَلَيْهِ، وَدَخَلَ عَلَيْهِ عُمَيْرُ بْنُ ضَابِئٍ، فِيمَنْ دَخَلَ، فَقَالَ: أَصْلَحَكَ اللَّهُ، إِنِّي شَيْخٌ كَبِيرٌ، وَقَدْ خَرَجَ اسْمِي فِي هَذَا الْبَعْثُ، وَلِيَ ابْنٌ، هُوَ عَلَى الْحَرْبِ وَالأَسْفَارِ أَقْوَى مِنِّي، وَأَشْجَعُ عِنْدَ اللِّقَاءِ، فَإِنْ رَأَى الأَمِيرُ أَنْ يَجْعَلَهُ مَكَانِي فَعَلَ.
فَقَالَ الحجّاجُ: أَيُّهَا الشَّيْخُ، رَاشِدًا، وَابْعَثِ ابْنَكَ بَدِيلا.
হে ইরাকবাসী, হে অনৈক্য, নিফাক ও কদাচারের অনুসারীগণ! কারণ তোমরা দীর্ঘকাল যাবত বিভ্রান্তির নিদ্রায় নিমগ্ন ছিলে, ফিতনার উপত্যকায় বিচরণ করেছ এবং বিপথগামিতার পথ অবলম্বন করেছ।
আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের গাছের ছালের মতো ছাড়িয়ে ফেলব, চকমকি পাথরের মতো চূর্ণবিচূর্ণ করব, কাঁটাযুক্ত গাছের ডালের মতো শক্ত করে বেঁধে ফেলব এবং দলছুট উটের মতো তোমাদের প্রহার করব।
সাবধান! এই সমস্ত জটলা ও দলবদ্ধ হওয়া, আর এটা-সেটা বলা এবং যা হচ্ছে বা হবে—এসব থেকে বিরত থাকো। তোমাদের এসবে কী কাজ? হে ইরাকবাসী, তোমাদের উদাহরণ তো সেই জনপদের মতো, {যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, যেখানে সবদিক থেকে পর্যাপ্ত জীবনোপকরণ আসত; কিন্তু তারা আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল, ফলে আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কারণে ক্ষুধা ও ভীতির স্বাদ আস্বাদন করালেন} [আন-নাহল: ১১২]।
সুতরাং তোমরা সুসংবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল হও এবং সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়ো না। শোনো ও আনুগত্য করো, একতাবদ্ধ হও এবং আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করো। জেনে রেখো, অনর্থক কথা বলা বা অসার প্রলাপ বকা আমার স্বভাব নয় এবং সেই সাথে পলায়ন ও অবাধ্যতাও সহ্য করা হবে না। আমি কেবল এই তলোয়ারখানি কোষমুক্ত করেছি, এরপর আল্লাহর নির্দেশ বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত এবং তোমাদের অবাধ্যতাকে বশীভূত না করা পর্যন্ত এবং তোমাদের বক্রতাকে সোজা না করা পর্যন্ত শীত বা গ্রীষ্মে এটি আর কোষবদ্ধ হবে না।
এরপর, আমি সত্যকে পেয়েছি পুণ্যের সাথে এবং পুণ্যকে পেয়েছি জান্নাতে; আর মিথ্যাকে পেয়েছি পাপাচারের সাথে এবং পাপাচারকে পেয়েছি জাহান্নামে। আমিরুল মুমিনীন আমাকে তোমাদের ভাতা প্রদান করতে এবং তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তোমাদের জন্য সেই নির্দেশ জারি করেছি এবং তোমাদের তিন দিনের সময় দিচ্ছি। আমি আল্লাহর সাথে ওয়াদা করেছি যার জন্য তিনি আমাকে পাকড়াও করবেন এবং আমার থেকে পূর্ণ হিসাব নেবেন; ভাতা গ্রহণের একদিন পর যদি তোমাদের কেউ পেছনে থেকে যায়, তবে অবশ্যই আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব এবং তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করব।
হে বালক! আমিরুল মুমিনীনের পত্র পাঠ করো।
লেখক বললেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর বান্দা আব্দুল মালিক, আমিরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে ইরাকে অবস্থানরত মুসলিম ও মুমিনদের প্রতি।
তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
কিন্তু কেউ সালামের উত্তর দিল না।
তখন হাজ্জাজ মিম্বর থেকে বললেন: হে বালক, থামো!
হে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল! আমিরুল মুমিনীন তোমাদের সালাম দিয়েছেন কিন্তু তোমরা তার উত্তর দিলে না। আল্লাহর কসম! যদি আমি তোমাদের মাঝে বেঁচে থাকি তবে অবশ্যই ইবনে উযাইনার শিক্ষার চেয়ে ভিন্ন এক শিক্ষা তোমাদের দেব, অন্যথায় তোমরা আমার জন্য সোজা হয়ে যাও; আমি তোমাদের প্রত্যেককে নিজেদের নিয়েই মহাব্যস্ত করে রাখব।
হে বালক: আমিরুল মুমিনীনের পত্রটি পাঠ করো।
লেখক বললেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
যখন তিনি সালামের অংশে পৌঁছালেন, তখন মসজিদে উপস্থিত সবাই বলল: এবং আমিরুল মুমিনীনের ওপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।
এরপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে প্রশাসনিক প্রাসাদে প্রবেশ করলেন এবং তিন দিন পর্যন্ত মানুষের সাথে সাক্ষাৎ বন্ধ রাখলেন। চতুর্থ দিন যখন সাধারণ মানুষের জন্য অনুমতি দেওয়া হলো, তখন তারা তাঁর নিকট প্রবেশ করল। তাদের মধ্যে উমাইর ইবনে দ্বাবিও প্রবেশ করে বললেন: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আমি একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ, আর এই বাহিনীতে আমার নাম এসেছে। আমার এক পুত্র আছে যে যুদ্ধ ও ভ্রমণে আমার চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং সম্মুখ সমরে অধিক সাহসী। যদি আমির সমীচীন মনে করেন যে তাকে আমার পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত করবেন, তবে তিনি যেন তা করেন।
হাজ্জাজ বললেন: হে বৃদ্ধ! তোমার সিদ্ধান্ত সঠিক, তোমার পুত্রকেই তোমার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে পাঠাও।
(খণ্ড: ১)
আল-আখবার আল-মুওয়াফফাকিয়াত লিয-যুবায়ের বিন বাক্কার
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
فَلَمَّا وَلَّى، قَالَ لَهُ عَنْبَسَةُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ: أَيُّهَا الأَمِيرُ، أَتَعْرِفُ هَذَا؟ قَالَ: لا وَاللَّهِ، قَالَ: هَذَا عُمَيْرُ بْنُ ضَابِئٍ، الَّذِي أَرَادَ أَبُوهُ أَنْ يَفْتِكَ بِأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ، وَلَمْ يَزَلْ مَحْبُوسًا فِي حَبْسِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ حَتَّى أَصَابَتْهُ الدُّبَيْلَةُ، ثُمَّ جَاءَ هَذَا فَوَطِئَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَهُوَ مَقْتُولٌ، وُكَسَرَ ضِلْعًا مِنْ أَضْلاعِهِ، وَأَبُوهُ الَّذِي يَقُولُ:
هَمَمْتُ وَلَمْ أَفْعَلْ وَكِدْتُ وَلَيْتَنِي
… فَعَلْتُ وَكَانَ الْمُعَوِّلاتُ حَلائِلَهُ
فَقَالَ الْحَجَّاجُ: رُدُّوا عَلَيَّ الشَّيْخَ.
فَلَمَّا أُدْخِلَ عَلَيْهِ، قَالَ: أَمَّا يَوْمُ الدَّارِ فَتَشْهَدُ بِنَفْسِكَ، وَأَمَّا فِي قِتَالِ الْخَوَارِجِ فَتَبْعَثُ بَدِيلا، أَمَا وَاللَّهِ أَيُّهَا الشَّيْخُ إِنَّ فِي قَتْلِكَ لَصَلاحٌ لأَهْلِ الْمِصْرَيْنِ بِأَحْسَنِ شَيْءٍ.
اضْرِبَا عُنُقَهُ.
وَسَمِعَ الْحَجَّاجُ صَوْتًا، فَقَالُوا: هَذِهِ الْبَرَاجِمُ، تَنْتَظُرُ عُمَيْرًا، قَالَ: ارْمُوا إِلَيْهِمْ بِرَأْسِهِ، فَرُمِيَ بِهِ إِلَيْهِمْ، فَوَلَّوْا هَارِبِينَ.
قَالَ: وَكَانَ ابْنُ عَمٍّ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ الأَسْدِيِّ قَدْ سَأَلَ أَنْ يَشْفَعَ لَهُ إِلَى الْحَجَّاجِ لِيَتَخَلَّفَ عَنِ الْجَيْشِ.
فَلَمَّا قُتِلَ عُمَيرًا بَادَرَ بِالْخُرُوجِ، وَلَمْ يَنْتَظِرِ الإِذْنَ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ:
أَقُولُ لإِبْرَاهِيمَ يَوْمَ لَقِيتُهُ
… أَرَى الأَمْرَ أَمْسَى مُفْضِعًا مُتَصَعِّبًا
تَجَهَّزْ فَإِمَّا أَنْ تَزُورَ ابْنَ ضَابِئٍ
… عُمَيرًا وَإِمَّا أَنْ تَزُورَ الْمُهَلَّبَا
هُمَا خِطَّتَا سَوْءٍ نَجَاؤُكَ مِنْهُمَا
… رُكُوبُكَ حَوْلِيًّا مِنَ الثَّلْجِ أَشْهَبَا
وَإِلا فَمَا الْحَجَّاجُ مُغْمِدُ سَيْفَهُ
… يَدَ الدَّهْرِ حَتَّى يَتْرُكَ الطِّفِلَ أَشْيَبَا
فَأَضْحَى وَلَوْ كَانَتْ خُرَاسَانُ دُونَهُ
… رَآهَا مَكَانَ السُّوقِ أَوْ هِيَ أَقْرَبَا
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: قَالَ مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ: " لَقَدْ سَمِعْتُ مِنَ الْحَجَّاجِ كَلِمَاتٍ وَقَذَتْنِي، فَقِيلَ: يَا أَبَا يَحْيَى، إِنَّ كَلامَ الْحَجَّاجِ لَيُقِذُكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، سَمِعُتُهُ عَلَى هَذِهِ الأَعْوَادِ، يَقُولُ: إِنَّ امْرَءًا ذَهَبَتْ سَاعَةٌ مِنْ عُمْرِهِ عَلَى غَيْرِ مَا خُلِقَ لَهُ لَحَرِيٌّ أَنْ تَطُولَ حَسْرَتُهُ.
وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: امْرُؤٌ زَوَّرَ نَفْسَهُ، امْرُؤٌ لَمْ يَأْتَمِنْ نَفْسَهُ عَلَى نَفْسِهِ، امْرُؤٌ حَاسَبَ نَفْسَهُ قَبْلَ أَنْ تَصِيرَ الْمُحَاسَبَةُ إِلَى غَيْرِهِ، امْرُؤٌ جَعَلَ لِنَفْسِهِ زِمَامًا وَلِجَامًا، فَقَادَهَا بِالزِّمَامِ إِلَى طَاعَةِ اللَّهِ، وَكَبَحَهَا بِاللِّجَامِ عَنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ: قَالَ خَالِدُ بْنُ صَفْوَانَ: دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَإِذَا الْحَجَّاجُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ، وَيَا أَهْلَ الشِّقَاقِ وَالنِّفَاقِ وَمَسَاوِئِ الأَخْلاقِ، يَا عَبِيدَ الْعَصَا، وَأَلأَمَ الْبَشَرِ، كَالْفَقْعِ بِالْقَرْقَرِ.
أَلَسْتُمْ أَصْحَابَ دُمْشُقًا، يَا ذَوُو أَصْحَابِ الزَّاوِيَةِ، وَمَسْكَنٍ وَدِيرِ الْجَمَاجِمِ حِينَ حَاكَمْنَاكُمْ إِلَى اللَّهِ فَقَضَى لَنَا عَلَيْكُمْ.
تَزْعُمُونَ أَنِّي أَعْلَمُ الْغَيْبَ، وَقَدْ قَالَ اللَّهُ عز وجل ثَنَاؤُهُ: {عَالِمُ الْغَيْبِ فَلا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا} [الجن: 26] .
যখন সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন আনবাসা ইবনে সাঈদ ইবনুল আস তাকে বললেন: হে আমির, আপনি কি একে চেনেন? তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম। তিনি বললেন: এ হলো উমায়ের ইবনে দ্বাবি', যার পিতা আমিরুল মুমিনীন উসমানের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করতে চেয়েছিল এবং সে আমিরুল মুমিনীনের কারাগারে বন্দি ছিল যতক্ষণ না সে মারাত্মক ফোঁড়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। অতঃপর এই ব্যক্তি এসেছিল এবং আমিরুল মুমিনীনকে নিহত অবস্থায় পদদলিত করেছিল এবং তার একটি পাঁজরের হাড় ভেঙে দিয়েছিল। আর তার পিতাই সেই ব্যক্তি যে বলেছিল:
আমি সংকল্প করেছিলাম কিন্তু করিনি, প্রায় করেই ফেলেছিলাম। হায়, আমি যদি তা করতাম তবে বিলাপকারী নারীরাই হতো তার সঙ্গিনী (অর্থাৎ সে মারা যেত)।
তখন হাজ্জাজ বললেন: বৃদ্ধ লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো।
যখন তাকে তার সামনে আনা হলো, তখন তিনি বললেন: ‘ইয়াউম আদ-দার’ (উসমানের গৃহ অবরোধের দিন) এর ব্যাপারে তো তুমি নিজেই নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ, আর যখন খাওয়ারিজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা এলো, তখন তুমি অন্য একজনকে বদলি পাঠাচ্ছ। আল্লাহর কসম হে বৃদ্ধ, তোমার হত্যার মাঝেই দুই শহরের অধিবাসীদের জন্য সর্বোত্তম কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
তোমরা দুজন তার শিরশ্ছেদ করো।
এরপর হাজ্জাজ একটি শোরগোল শুনতে পেলেন। লোকেরা বলল: এরা বারাজিম গোত্র, তারা উমায়েরের জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন: তাদের কাছে তার মাথাটি ছুড়ে দাও। তখন তাদের কাছে মাথাটি ছুড়ে দেওয়া হলো এবং তারা পালিয়ে গেল।
বর্ণনাকারী বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের আল-আসাদীর এক চাচাতো ভাই হাজ্জাজের কাছে তার জন্য সুপারিশ করতে চেয়েছিলেন যাতে সে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পায়।
কিন্তু যখন উমায়েরকে হত্যা করা হলো, তখন সে দ্রুত যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল এবং অনুমতির অপেক্ষা করল না। তখন আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের বললেন:
আমি ইব্রাহিমকে বললাম যেদিন তার সাথে আমার দেখা হলো
… আমি দেখছি পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রস্তুত হও, হয় তুমি ইবনে দ্বাবি'র অর্থাৎ উমায়েরের সাথে সাক্ষাৎ করবে
… আর না হয় মুহাল্লাবের সাথে (যুদ্ধে) যোগ দেবে।
এ দুটিই কঠিন পথ, এ থেকে তোমার বাঁচার উপায় হলো
… ধূসর বর্ণের শক্তিশালী ঘোড়ায় চড়ে দ্রুত প্রস্থান করা।
তা না হলে হাজ্জাজ তার তলোয়ার কোষবদ্ধ করবেন না
… মহাকালের হাত ধরে আজীবন, যতক্ষণ না তিনি শিশুদের বৃদ্ধ বানিয়ে ছাড়েন।
অতঃপর সে সকালে এমনভাবে রওনা হলো যে খোরাসান যদি তার সামনে থাকত
… তবে সে তাকে বাজারের জায়গার মতো বা তার চেয়েও নিকটবর্তী মনে করত।
আবু আবদুল্লাহ বলেন: মালিক ইবনে দিনার বলেছেন: "আমি হাজ্জাজের কাছ থেকে এমন কিছু কথা শুনেছি যা আমাকে অভিভূত করেছে। বলা হলো: হে আবু ইয়াহইয়া, হাজ্জাজের কথা কি আপনাকে অভিভূত করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি তাকে এই মিম্বারের কাষ্ঠখণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তির জীবনের একটি মুহূর্তও সেই উদ্দেশ্য ছাড়া অতিক্রান্ত হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তার আক্ষেপ দীর্ঘ হওয়াটাই স্বাভাবিক।"
এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি: "সেই ব্যক্তি যে নিজেকে সংশোধন করেছে, সেই ব্যক্তি যে নিজের জীবনের ব্যাপারে নিজেকে নিরাপদ ভাবেনি, সেই ব্যক্তি যে অন্যের কাছে হিসাব দেওয়ার আগেই নিজের হিসাব নিজে নিয়েছে, সেই ব্যক্তি যে নিজের জন্য লাগাম ও নিয়ন্ত্রণ তৈরি করেছে এবং সেই লাগাম দিয়ে নিজেকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে পরিচালিত করেছে এবং অবাধ্যতা থেকে নিজেকে কঠোরভাবে ফিরিয়ে রেখেছে।"
মুহাম্মদ ইবনে সালাম আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে সাফওয়ান বলেছেন: আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম হাজ্জাজ মিম্বারের ওপর খুতবা দিচ্ছেন। আমি তাকে বলতে শুনলাম: হে ইরাকবাসী, হে বিভেদ, মুনাফিকি ও দুশ্চরিত্রের অধিকারীরা, হে লাঠির গোলাম এবং নিকৃষ্টতম সৃষ্টি, যারা সমতল ভূমির ব্যাঙের ছাতার মতো হীন।
তোমরা কি দামেস্কের সেই লোক নও? হে জাবিয়া, মাসকান এবং দাইরুল জামাজিমের অধিপতিরা, যখন আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছিলাম এবং তিনি আমাদের পক্ষে ও তোমাদের বিপক্ষে ফয়সালা করেছিলেন।
তোমরা ধারণা করো যে আমি অদৃশ্যের খবর জানি, অথচ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যার প্রশংসা সুউচ্চ, তিনি বলেছেন: "তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারও কাছে প্রকাশ করেন না।" [জিন: ২৬]।