(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: -)
الهواتف = هواتف الجنان لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: هواتف الجنان

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

المحقق: محمد الزغلي

الناشر: المكتب الإسلامي

الطبعة: الطبعة الأولى، 1416 هـ - 1995 مـ

عدد الصفحات: 140

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-হাওয়াতীফ = ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত হাওয়াতীফুল জিনান   (ইবনে আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: হাওয়াতীফুল জিনান

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদী আল-উমাবী আল-কুরাশী, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরী)

সম্পাদক: মুহাম্মদ আল-জাগলী

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ, ১৪১৬ হিজরী - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢١)
1 - قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ، الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُحَدِّثُ قَالَ: «بَيْنَا أَنَا أَمْشِي، إِذْ سَمِعْتُ صَوْتًا فِي السَّمَاءِ، فَرَفَعْتُ بَصَرِي فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءَ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ فَجُثِثْتُ مِنْهُ رُعْبًا، فَرَجَعْتُ فَقُلْتُ: زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي فَدَثَّرُونِي فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} [المدثر: 1] إِلَى قَوْلِهِ {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ» } [المدثر: 5] "
১ - আবু বকর বিন আবিদ দুনিয়া (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: আমাদের নিকট আবু খাইসামাহ বিন হারব হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন মুয়ায আস-সানআনি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মামার হাদিস বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি বলেন আমাকে আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কথা বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "একদা আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আমি আকাশে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। তখন আমি আমার দৃষ্টি উপরে তুললাম এবং দেখলাম সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার নিকট এসেছিলেন, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে একটি কুরসির উপর বসে আছেন। এতে আমি ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। অতঃপর আমি ফিরে এসে বললাম: আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো। এরপর তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা নাযিল করলেন: {হে বস্ত্রাবৃত!} [আল-মুদ্দাসসির: ১] তাঁর এই বাণী: {এবং অপবিত্রতা বর্জন করো} [আল-মুদ্দাসসির: ৫] পর্যন্ত।"
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
2 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَتَى عَلَيْكَ يَوْمٌ كَانَ أَشَدَّ عَلَيْكَ مِنْ يَوْمِ أُحُدٍ؟ قَالَ: «لَقَدْ لَقِيتُ مِنْ قَوْمِكِ وَكَانَ أَشَدُّ مَا لَقِيتُ مِنْهُمْ يَوْمَ الْعَقَبَةِ إِذْ عَرَضْتُ نَفْسِي عَلَى ابْنِ عَبْدِ يَالِيلَ فَلَمْ يُجِبْنِي فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا مَهْمُومٌ عَلَى وَجْهِي فَلَمَّا كُنْتُ بِمَوْضِعِ كَذَا رَفَعْتُ رَأْسِي فَإِذَا أَنَا قَدْ أَظَلَّتْنِي سَحَابَةٌ فَنَظَرْتُ فَإِذَا فِيهَا جِبْرِيلُ فَنَادَانِي فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْكَ مَلَكَ الْجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بِمَا شِئْتَ فِيهِمْ فَنَادَانِي مَلَكُ الْجِبَالِ فَسَلَّمَ عَلَيَّ ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللَّهَ عز وجل قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ وَأَنَا مَلَكُ الْجِبَالِ وَقَدْ بَعَثَنِي رَبُّكَ إِلَيْكَ لِتَأْمُرَنِي بِأَمْرِكَ فِيمَا شِئْتَ إِنْ شِئْتَ أُطْبِقْ عَلَيْهِمُ الْأَخْشَبَيْنِ» فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَرْجُو أَنْ يُخْرِجَ اللَّهُ مِنْ أَصْلَابِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ لَا شَرِيكَ لَهُ»
২ - আমাদের নিকট খালিদ বিন খিদাশ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহব বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে শিহাব থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার নিকট উরওয়াহ বিন যুবায়ের বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রী আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার ওপর কি ওহুদের দিনের চেয়েও অধিক কঠিন কোনো দিন এসেছিল? তিনি বললেন: «আমি তোমার কওমের পক্ষ থেকে অনেক কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি। তবে তাদের পক্ষ থেকে আমার পাওয়া সবচেয়ে কঠিন কষ্ট ছিল আকাবার দিন, যখন আমি নিজেকে ইবনে আবদ ইয়ালীলের নিকট পেশ করেছিলাম, কিন্তু সে আমার ডাকে সাড়া দেয়নি। ফলে আমি অত্যন্ত মনোকষ্ট নিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে চলতে থাকলাম। যখন আমি একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালাম, তখন মাথা তুললাম এবং দেখলাম যে একটি মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। আমি সেদিকে তাকালাম এবং দেখলাম তাতে জিবরীল রয়েছেন। তিনি আমাকে সম্বোধন করে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান আপনার কওম আপনাকে যা বলেছে এবং আপনার প্রতি তারা যে প্রত্যাখ্যান করেছে তা শুনেছেন। তিনি আপনার নিকট পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন, যেন আপনি তাদের ব্যাপারে যা ইচ্ছা তাকে নির্দেশ দিতে পারেন। এরপর পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। অতঃপর বললেন: হে মুহাম্মদ, নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান আপনার কওম আপনাকে যা বলেছে তা শুনেছেন। আমি পাহাড়ের ফেরেশতা, আপনার রব আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন যেন আপনি আমাকে আপনার ইচ্ছানুযায়ী নির্দেশ দেন। আপনি চাইলে আমি এই দুই পাহাড়কে তাদের ওপর চাপিয়ে দেব।» তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: «বরং আমি আশা করি আল্লাহ তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন লোক বের করবেন যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
3 - حَدَّثَنَا بُنْدَارُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيُّ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ عَلِمْتَ أَنَّكَ نَبِيٌّ؟ وَبِمَا عَلِمْتَ حَتَّى اسْتَيْقَنْتَ؟ فَقَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ أَتَانِي مَلَكَانِ وَأَنَا بِبَطْحَاءَ مَكَّةَ فَوَقَعَ أَحَدُهُمَا بِالْأَرْضِ وَكَانَ الْآخَرُ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: أَهُوَ هُوَ؟ قَالَ: هُوَ هُوَ قَالَ: فَزِنْهُ بِرَجُلٍ قَالَ: فَوَزَنَنِي بِرَجُلٍ فَرَجَحْتُهُ ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِعَشَرَةٍ فَوَزَنَنِي بِعَشَرَةٍ فَرَجَحْتُهُمْ ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِمِائَةٍ، فَوَزَنَنِي بِمِائَةٍ فَرَجَحْتُهُمْ حَتَّى جَعَلُوا يَنْتَثِرُونَ عَلَيَّ مِنْ كِفَّةِ الْمِيزَانِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: شُقَّ بَطْنَهُ فَشَقَّ بَطْنِي فَأَخْرَجَ قَلْبِي فَأَخْرَجَ مِنْهُ مَغْمَزَ الشَّيْطَانِ وَعَلَقَ الدَّمِ فَطَرَحَهُمَا فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: اغْسِلْ بَطْنَهُ غَسْلَ الْإِنَاءِ وَاغْسِلْ قَلْبَهُ غَسْلَ الْمُلَاءِ ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: خِطْ بَطْنَهُ فَخَاطَ بَطْنِي وَجَعَلَ الْخَاتَمَ بَيْنَ كَتِفَيَّ كَمَا هُوَ الْآنَ وَوَلَّيَا عَنِّي فَكَأَنِّي أُعَايِنُ الْأَمْرَ مُعَايَنَةً»
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বুন্দার ইবনে বাশশার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুরাশি, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উরওয়াহ ইবনে যুবাইর, তাঁর পিতা উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে, তিনি আবু যার আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কীভাবে জানতে পারলেন যে আপনি একজন নবী? এবং কিসের মাধ্যমে আপনি তা জানতে পারলেন যে আপনি নিশ্চিত হলেন? তিনি বললেন: «হে আবু যার, আমার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসলেন যখন আমি মক্কার বাতাহা উপত্যকায় ছিলাম। তাঁদের একজন জমিনে অবতরণ করলেন এবং অন্যজন আসমান ও জমিনের মাঝখানে ছিলেন। তাঁদের একজন তাঁর সাথীকে বললেন: ইনিই কি সেই ব্যক্তি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, ইনিই তিনি। তিনি বললেন: তাঁকে একজন মানুষের সাথে ওজন করো। তিনি আমাকে একজন মানুষের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁর চেয়ে ভারী হলাম। তারপর তিনি বললেন: তাঁকে দশজন মানুষের সাথে ওজন করো। তিনি আমাকে দশজনের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়েও ভারী হলাম। এরপর তিনি বললেন: তাঁকে একশ জনের সাথে ওজন করো। তিনি আমাকে একশ জনের সাথে ওজন করলেন এবং আমি তাঁদের চেয়েও ভারী হলাম, এমনকি তাঁরা পাল্লা থেকে আমার উপর উপচে পড়তে শুরু করলেন। তখন তাঁদের একজন তাঁর সাথীকে বললেন: তাঁর পেট বিদীর্ণ করো। তখন তিনি আমার পেট বিদীর্ণ করলেন এবং আমার হৃৎপিণ্ড বের করলেন। অতঃপর তা থেকে শয়তানের প্ররোচনার অংশ এবং জমাট রক্তপিণ্ড বের করে তা ফেলে দিলেন। তারপর তাঁদের একজন তাঁর সাথীকে বললেন: তাঁর পেট ধৌত করো যেভাবে পাত্র ধৌত করা হয় এবং তাঁর হৃৎপিণ্ড ধৌত করো যেভাবে পরিষ্কার কাপড় ধৌত করা হয়। এরপর তাঁদের একজন তাঁর সাথীকে বললেন: তাঁর পেট সেলাই করে দাও। তখন তিনি আমার পেট সেলাই করে দিলেন এবং আমার দুই কাঁধের মাঝখানে মোহর অঙ্কিত করে দিলেন যেমনটি বর্তমানে আছে। এরপর তাঁরা আমার নিকট থেকে প্রস্থান করলেন, তখন আমার মনে হচ্ছিল যেন আমি বিষয়টি সচক্ষে প্রত্যক্ষ করছি।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٤)
4 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهُ حَدَّثَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي غِفَارٍ قَالَ: أَقْبَلْتُ وَابْنُ عَمٍّ لِي حَتَّى صَعِدْنَا عَلَى جَبَلٍ يُشْرِفُ بِنَا عَلَى بَدْرٍ وَنَحْنُ مُشْرِكَانِ لِنَنْظُرَ لِلْوُفُودِ عَلَى مَنْ تَكُونُ الدَّائِرَةُ فَنَنْتَهِبَ مَعَ مَنْ يَنْتَهِبُ فَبَيْنَا نَحْنُ فِي الْجَبَلِ إِذْ دَانَتْ مِثْلُ السَّحَابَةِ فَسَمِعْنَا فِيهَا مِثْلَ حَمْحَمَةِ الْخَيْلِ، سَمِعْتُ قَائِلًا يَقُولُ: أَقْدِمْ حَيْزُومُ، فَأَمَّا ابْنُ عَمِّي فَانْكَشَفَ قِنَاعُ قَلْبِهِ فَمَاتَ وَأَمَّا أَنَا فَكِدْتُ أَهْلِكُ ثُمَّ تَمَاسَكْتُ
৪ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে সা’দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: বনু গিফার গোত্রের এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি এবং আমার এক চাচাতো ভাই অগ্রসর হলাম এবং একটি পাহাড়ে আরোহণ করলাম যা থেকে বদর প্রান্তর দেখা যাচ্ছিল। আমরা তখন মুশরিক ছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এটি দেখা যে যুদ্ধের ফলাফল কাদের বিপক্ষে যায়, যাতে বিজয়ীদের সাথে মিলে আমরাও লুণ্ঠন কাজে শরিক হতে পারি। আমরা যখন পাহাড়ে ছিলাম, তখন মেঘমালার ন্যায় একটি বস্তু আমাদের নিকটবর্তী হলো এবং আমরা তার ভেতর থেকে ঘোড়ার চিঁহি ডাকের ন্যায় শব্দ শুনতে পেলাম। আমি জনৈক ঘোষককে বলতে শুনলাম: 'সামনে অগ্রসর হও হাইযুম!' এতে আমার চাচাতো ভাইটির হৃদপিণ্ডের পর্দা ছিঁড়ে গেল এবং সে মারা গেল। আর আমি নিজেও প্রায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছিলাম, তবে পরবর্তীতে নিজেকে সামলে নিতে সক্ষম হই।
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٤)
5 - حَدَّثَنِي أَبِي، أَخْبَرَنَا عَمَّارٌ أَبُو الْيَقْظَانِ عَنْ سَعْدِ بْنِ طَرِيفٍ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: ⦗ص: 25⦘ نَادَى مُنَادٍ يَوْمَ بَدْرٍ يُقَالُ لَهُ رِضْوَانٌ، «لَا سَيْفَ إِلَّا ذُو الْفَقَارِ وَلَا فَتًى إِلَّا عَلِيٌّ»
৫ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আম্মার আবু আল-ইয়াকজান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাদ ইবনে তারিফ থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ বদরের দিন রিদওয়ান নামক একজন আহ্বানকারী ঘোষণা করেছিলেন, "জুলফিকার ছাড়া কোনো তলোয়ার নেই এবং আলী ছাড়া কোনো বীর নেই।"
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، ثنا السُّدِّيُّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: «كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ فَخَرَجْنَا فِي بَعْضِ نَوَاحِيهَا خَارِجًا مِنْ مَكَّةَ بَيْنَ الْجِبَالِ وَالشَّجَرِ فَلَمْ نَمُرَّ بِشَجَرٍ وَلَا جَبَلٍ ⦗ص: 26⦘ إِلَّا قَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ»
৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে আবি সাওর আল-হামদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আস-সুদ্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনে আবি ইয়াজিদ থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি মক্কায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। অতঃপর আমরা মক্কার এক পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বের হলাম যা পাহাড় ও বৃক্ষরাজির মাঝে মক্কার বাইরে অবস্থিত ছিল। তখন আমরা যে বৃক্ষ বা পাহাড়েরই পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ সেটিই বলছিল: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসূল।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
7 - حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «لَمَّا أَرَادُوا غُسْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اخْتَلَفُوا فِيهِ فَقَالَتْ: وَاللَّهِ مَا نَدْرِي أَنُجَرِّدُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ثِيَابِهِ أَوْ نُغَسِّلُهُ وَعَلَيْهِ ثِيَابُهُ فَلَمَّا اخْتَلَفُوا أَلْقَى اللَّهُ عز وجل عَلَيْهِمُ النَّوْمَ حَتَّى مَا فِيهِمْ رَجُلٌ إِلَّا وَذَقْنُهُ فِي صَدْرِهِ ثُمَّ كَلَّمَهُمْ مُكَلِّمٌ مِنْ نَاحِيَةِ الْبَيْتِ أَنِ اغْسِلُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ ثِيَابُهُ فَقَامُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَغَسَّلُوهُ وَعَلَيْهِ قَمِيصُهُ بِصُنْبُورِ الْمَاءِ فَوْقَ الْقَمِيصِ وَيُدَلِّكُونَهُ وَالْقَمِيصُ دُونَ أَيْدِيهِمْ وَكَانَتْ عَائِشَةُ تَقُولُ: لَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا غَسَّلَهُ إِلَّا نِسَاؤُهُ»
৭ - হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম বিন সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যখন তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গোসল করানোর ইচ্ছা করলেন, তখন এ বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল। তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ! আমরা বুঝতে পারছিলাম না যে, আমরা কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গায়ের কাপড় খুলে ফেলব নাকি কাপড় পরিহিত অবস্থাতেই তাঁকে গোসল দেব? অতঃপর যখন তারা মতভেদে লিপ্ত ছিলেন, তখন মহান আল্লাহ তাদের ওপর তন্দ্রা বা গভীর ঘুম চাপিয়ে দিলেন, যার ফলে তাদের মধ্যে এমন কেউ অবশিষ্ট ছিল না যার চিবুক তার বুকের ওপর নুয়ে পড়েনি। অতঃপর ঘরের এক পাশ থেকে কোনো একজন সম্বোধনকারী তাদের উদ্দেশ্যে বললেন যে, তোমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কাপড় পরিহিত অবস্থাতেই গোসল দাও। তখন তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর গায়ের জামা থাকা অবস্থাতেই তাঁকে গোসল করালেন। তারা জামার ওপর দিয়েই পানির ধারা ঢালছিলেন এবং জামার ওপর দিয়েই হাত দিয়ে তাঁকে মালিশ করছিলেন, আর জামাটি তাদের হাতের নিচে (আড়াল হিসেবে) ছিল। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলতেন: আমি যদি আমার বিষয়ের পরিণাম আগে জানতে পারতাম যা আমি পরে জেনেছি, তবে তাঁর স্ত্রীগণ ব্যতীত আর কেউ তাঁকে গোসল করাত না।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٧)
8 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ الْقُرَشِيُّ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: «لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَ آتٍ يُسْمَعُ حِسُّهُ وَلَا يُرَى شَخْصُهُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، إِنَّ فِي اللَّهِ عز وجل عِوَضًا عَنْ كُلِّ مُصِيبَةٍ وَخَلَفًا مِنْ كُلِّ هَالِكٍ ودَرَكًا مِنْ كُلِّ مَا فَاتَ فَبِاللَّهِ عز وجل فَثِقُوا وَإِيَّاهُ فَارْجُوا فَإِنَّ الْمَحْرُومَ مَنْ حُرِمَ الثَّوَابَ وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ»
৮ - মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-কুরাশি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আলী বিন হুসাইন থেকে, তিনি আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাত হলো, তখন জনৈক আগন্তুক এলেন যাঁর আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল কিন্তু তাঁর অবয়ব দেখা যাচ্ছিল না। তিনি বললেন: আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর কাছে প্রতিটি বিপদের বিনিময় রয়েছে, প্রতিটি ধ্বংস বা বিলীন হওয়া বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত রয়েছে এবং যা হারিয়ে গেছে তা ফিরে পাওয়ার উপায় রয়েছে। সুতরাং মহান আল্লাহর ওপরই ভরসা রাখুন এবং তাঁরই নিকট আশা পোষণ করুন। কেননা প্রকৃত বঞ্চিত তো সেই ব্যক্তি, যে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হলো। আর আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٧)
9 - حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى الدَّعَّاءُ جَارُ أَبِي هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا خَازِمُ بْنُ جَبَلَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ الْعَبْدِيِّ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ مُصْعَبٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: «لَمَّا قُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَسُجِّيَ بِثَوْبٍ هَتَفَ هَاتِفٌ مِنْ نَاحِيَةِ الْبَيْتِ يَسْمَعُونَ صَوْتًا وَلَا يَرَوْنَ شَخْصًا: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ فَرَدُّوا عَلَيْهِ ⦗ص: 28⦘ فَقَالَ {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ} [العنكبوت: 57] الْآيَةَ إِنَّ فِي اللَّهِ عز وجل خَلَفًا مِنْ كُلِّ هَالِكٍ وَعَزَاءً مِنْ كُلِّ مُصِيبَةٍ وَدَرَكًا مِنْ كُلِّ مَا فَاتَ فَبِاللَّهِ فَثِقُوا وَإِيَّاهُ فَارْجُوا فَإِنَّ الْمُصَابَ مَنْ حُرِمَ الثَّوَابَ»
৯ - আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া আদ-দা’আ—যিনি আবু হাম্মাম-এর প্রতিবেশী ছিলেন—তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, খাযিম ইবনে জাবালাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নাদরাত আল-আবদী হতে, তিনি খারিজাহ ইবনে মুসআব হতে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম হতে, তিনি সুয়াইদ ইবনে গাফালাহ হতে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাত হলো এবং তাঁকে একটি চাদর দ্বারা আবৃত করা হলো, তখন ঘরের এক পাশ থেকে এক অদৃশ্য ঘোষক উচ্চস্বরে বলে উঠলেন; তাঁরা আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছিলেন না: ‘আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক এবং হে আহলে বাইত! আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ তখন তাঁরা তাঁর সালামের উত্তর দিলেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ অতঃপর তিনি বললেন, {প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে} [সূরা আল-আনকাবুত: ৫৭]—এই আয়াতটি। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর কাছে প্রতিটি বিনাশপ্রাপ্ত জিনিসের বিকল্প রয়েছে, প্রতিটি বিপদের সান্ত্বনা রয়েছে এবং যা হারিয়ে গেছে তার ক্ষতিপূরণ রয়েছে। সুতরাং আল্লাহর ওপরই ভরসা রাখুন এবং কেবল তাঁরই নিকট আশা পোষণ করুন। কেননা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত সেই ব্যক্তিই, যে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
10 - حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ بَسَّامٍ، حَدَّثَنِي صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ الْمَدِينِيِّ، قَالَ: «لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْمُهَاجِرُونَ فَوْجًا فَوْجًا يُصَلُّونَ وَيَخْرُجُونَ ثُمَّ دَخَلَتِ الْأَنْصَارُ فَوْجًا فَوْجًا فَيُصَلُّونَ وَيَخْرُجُونَ ثُمَّ دَخَلَ أَهْلُ بَيْتِهِ حَتَّى إِذَا فَرَغَتِ الرِّجَالُ دَخَلْتِ النِّسَاءُ فَكَانَ فِيهِنَّ صَوْتٌ وجَزَعٌ كَبَعْضِ مَا يَكُونُ مِنْهُنَّ فَسَمِعْنَ هَدَّةً فِي الْبَيْتِ فَسَكَتْنَ فَسَمِعْنَ قَائِلًا يَقُولُ وَلَا يَرَيْنَ شَيْئًا: فِي اللَّهِ عَزَاءٌ مِنْ كُلِّ هَالِكٍ وَعِوَضٌ مِنْ كُلِّ مُصِيبَةٍ وَخَلَفٌ مِنْ كُلِّ مَا فَاتَ فَالْمَحْبُورُ مَنْ حَبَرَهُ الثَّوَابُ وَالْمُصَابُ مَنْ لَمْ يُحْبِرْهُ الثَّوَابُ»
১০ - আমাকে ইসমাইল ইবনে আবি মুহাম্মদ ইবনে বাসসাম হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাকে সালিহ আল-মুররি হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি আবু হাযিম আল-মাদিনি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাত হলো, তখন মুহাজিরগণ দলে দলে প্রবেশ করতে লাগলেন, তারা জানাজার সালাত আদায় করতেন এবং বেরিয়ে যেতেন। এরপর আনসারগণ দলে দলে প্রবেশ করলেন, তারা জানাজার সালাত আদায় করতেন এবং বেরিয়ে যেতেন। অতঃপর তাঁর আহলে বাইত (পরিবারবর্গ) প্রবেশ করলেন। যখন পুরুষদের কাজ শেষ হলো, তখন নারীরা প্রবেশ করলেন। তাঁদের মধ্যে কান্নার আওয়াজ ও অস্থিরতা প্রকাশ পেল, যেমনটা নারীদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তখন তারা ঘরের মধ্যে একটি গম্ভীর আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং তারা নীরব হয়ে গেলেন। তারা একজনকে বলতে শুনলেন অথচ কাউকে দেখতে পেলেন না: "আল্লাহর মধ্যেই রয়েছে প্রত্যেক বিদেহী প্রাণের জন্য সান্ত্বনা, প্রত্যেক বিপদের বিনিময় এবং যা কিছু হারিয়ে গেছে তার স্থলাভিষিক্ততা। সুতরাং প্রকৃত আনন্দিত সেই ব্যক্তি যাকে সওয়াব আনন্দিত করে, আর প্রকৃত বিপদগ্রস্ত সেই ব্যক্তি যে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়।"»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
11 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُخْتَارِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَرَّ بِي جَعْفَرٌ اللَّيْلَةَ يَطِيرُ مَعَ الْمَلَائِكَةِ لَهُ جَنَاحَانِ، أَبْيَضُ الْقَوَادِمِ مُضَرَّجٌ بِالدِّمَاءِ» حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْفُرَاتِ، بِإِسْنَادٍ لَهُ نَحْوَهُ وَزَادَ فِيهِ: «يُبَشِّرُونَ أَهْلَ بَيْتِهِ بِالْمَطَرِ»
১১ - আমাদের নিকট খালেদ ইবনে খিদাশ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুখতার থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আজ রাতে জাফর ফেরেশতাদের সাথে উড়ন্ত অবস্থায় আমার নিকট দিয়ে গমন করল, তার দুটি ডানা ছিল, যেগুলোর সম্মুখভাগের পালকগুলো সাদা এবং রক্তে রঞ্জিত ছিল।’ আমাদের নিকট খালেদ ইবনে খিদাশ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসহাক ইবনুল ফুরাত তার অনুরূপ একটি সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: «তারা তার পরিবারবর্গকে বৃষ্টির সুসংবাদ দিচ্ছিল।’
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
13 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ وَاصِلٍ، مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ، عَنْ لَقِيطٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: «خَرَجْنَا غَازِينَ فِي الْبَحْرِ فَبَيْنَمَا نَحْنُ وَالرِّيحُ لَنَا طَيِّبَةٌ وَالشِّرَاعُ لَنَا مَرْفُوعٌ إِذْ سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي يَا أَهْلَ السَّفِينَةِ قِفُوا ⦗ص: 30⦘ أُخْبِرْكُمْ حَتَّى وَالَى بَيْنَ سَبْعَةِ أَصْوَاتٍ قَالَ: فَقَامَ أَبُو مُوسَى عَلَى صَدْرِ السَّفِينَةِ فَقَالَ: مَنْ أَنْتَ؟ وَإِلَى أَيْنَ أَنْتَ؟ أَلَا تَرَى أَيْنَ نَحْنُ؟ وَهَلْ تَسْتَطِيعُ وُقُوفًا؟ فَأَجَابَهُ الصَّوْتُ فَقَالَ: أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِقَضَاءِ قَضَاهُ اللَّهِ عز وجل عَلَى نَفْسِهِ؟ فَقَالَ: بَلَى، قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل قَضَى عَلَى نَفْسِهِ أَنَّهُ مَنْ عَطَّشَ نَفْسَهُ لِلَّهِ عز وجل فِي يَوْمٍ حَارٍّ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عز وجل أَنْ يَرْوِيَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» قَالَ: فَكَانَ أَبُو مُوسَى يَتَوَخَّى الْيَوْمَ الشَّدِيدَ الْحَرِّ الَّذِي يَكَادُ الْإِنْسَانُ فِيهِ أَنْ يَنْسَلِخَ حَرًّا فَيَصُومُهُ
১৩ - খালিদ বিন খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাহদী বিন মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াসিল—যিনি আবু উয়াইনার মুক্তদাস—থেকে বর্ণিত, তিনি লাকিত থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমরা সমুদ্রপথে যুদ্ধাভিযানে বের হলাম। এমতাবস্থায় যখন আমাদের অনুকূলে সুন্দর বাতাস বইছিল এবং আমাদের পাল তোলা ছিল, হঠাৎ আমরা এক আহ্বানকারীকে ডাকতে শুনলাম, 'হে নৌকার আরোহীরা, থামো! ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ আমি তোমাদের সংবাদ দেব।' এভাবে সে একাধারে সাতবার চিৎকার করল। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন আবু মুসা নৌকার অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে বললেন: তুমি কে? এবং তুমি কোথায়? তুমি কি দেখছ না আমরা কোথায় আছি? আর আমাদের পক্ষে কি থামা সম্ভব? তখন সেই অদৃশ্য আওয়াজ তাকে উত্তর দিল: আমি কি তোমাদের মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এমন একটি সিদ্ধান্তের কথা জানাব না যা তিনি নিজের জন্য অবধারিত করেছেন? তিনি বললেন: অবশ্যই। সে বলল: নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ নিজের ওপর অবধারিত করেছেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো প্রচণ্ড গরমের দিনে নিজেকে তৃষ্ণার্ত রাখবে, কিয়ামতের দিন তাকে তৃপ্ত করা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য আবশ্যকীয় হয়ে যায়।» তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: এরপর থেকে আবু মুসা এমন প্রচণ্ড গরমের দিন খুঁজতেন যাতে উত্তাপে মানুষের চামড়া খসে পড়ার উপক্রম হতো এবং তিনি সেই দিন রোজা রাখতেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنِي فُهَيْرُ بْنُ زِيَادٍ الْأَسَدِيُّ، عَنْ مُوسَى بْنِ وَرْدَانَ، عَنِ الْكَلْبِيِّ، وَلَيْسَ بِصَاحِبِ التَّفْسِيرِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «كَانَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُكَنَّى أَبَا مِعْلَقٍ، وَكَانَ تَاجِرًا يَتَّجِرُ بِمَالِهِ وَلِغَيْرِهِ يَضْرِبُ بِهِ فِي الْآفَاقِ وَكَانَ يَزِنُ بِسَدَادٍ وَوَرَعٍ فَخَرَجَ مَرَّةً فَلَقِيَهُ لِصٌّ مُقَنَّعٌ فِي السِّلَاحِ فَقَالَ لَهُ: ضَعْ مَا مَعَكَ فَإِنِّي قَاتِلُكَ قَالَ: مَا تُرِيدُ إِلَى دَمِي؟ شَأْنَكَ بِالْمَالِ فَقَالَ: أَمَّا الْمَالُ فَلِي وَلَسْتُ أُرِيدُ إِلَّا دَمَكَ قَالَ: أَمَّا إِذَا أَبَيْتَ فَذَرْنِي أُصَلِّي أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ قَالَ: صَلِّ مَا بَدَا لَكَ قَالَ: فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَكَانَ مِنْ دُعَائِهِ فِي آخِرِ سَجْدَةٍ أَنْ قَالَ: يَا وَدُودُ، يَا ذَا الْعَرْشِ الْمَجِيدِ، يَا فَعَّالُ لِمَا يُرِيدُ، أَسْأَلُكَ بِعِزِّكَ الَّذِي لَا يُرَامُ وَمُلْكِكَ الَّذِي لَا يُضَامُ ⦗ص: 31⦘ وَبِنُورِكَ الَّذِي مَلَأَ أَرْكَانَ عَرْشِكَ أَنْ تَكْفِيَنِي شَرَّ هَذَا اللِّصِّ، يَا مُغِيثُ، أَغِثْنِي، يَا مُغِيثُ، أَغِثْنِي، ثَلَاثَ مِرَارٍ قَالَ: دَعَا بِهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَإِذَا هُوَ بِفَارِسٍ قَدْ أَقْبَلَ بِيَدِهِ حَرْبَةٌ وَاضِعُهَا بَيْنَ أُذُنَيْ فَرَسِهِ فَلَمَّا بَصُرَ بِهِ اللِّصُّ أَقْبَلَ نَحْوَهُ فَطَعَنَهُ فَقَتَلَهُ ثُمَّ أَقْبَلَ إِلَيْهِ فَقَالَ: قُمْ قَالَ: مَنْ أَنْتَ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي؟ فَقَدْ أَغَاثَنِي اللَّهُ بِكَ الْيَوْمَ قَالَ: أَنَا مَلَكٌ مِنْ أَهْلِ السَّمَاءِ الرَّابِعَةِ دَعَوْتَ بِدُعَائِكَ الْأَوَّلِ فَسَمِعْتُ لِأَبْوَابِ السَّمَاءِ قَعْقَعَةً ثُمَّ دَعَوْتَ بِدُعَائِكَ الثَّانِي فَسَمِعْتُ لِأَهْلِ السَّمَاءِ ضَجَّةً ثُمَّ دَعَوْتَ بِدُعَائِكَ الثَّالِثِ فَقِيلَ لِي: دُعَاءُ مَكْرُوبٍ فَسَأَلْتُ اللَّهَ تَعَالَى أَنْ يُوَلِّيَنِي قَتْلَهُ» قَالَ أَنَسٌ: فَاعْلَمْ أَنَّهُ مَنْ تَوَضَّأَ وَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَدَعَا ⦗ص: 32⦘ بِهَذَا الدُّعَاءِ اسْتُجِيبَ لَهُ مَكْرُوبًا كَانَ أَوْ غَيْرَ مَكْرُوبٍ
ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তামিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ফুহায়র ইবনে যিয়াদ আল-আসাদী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুসা ইবনে ওয়ারদান থেকে, তিনি কালবী থেকে—যিনি তাফসীরকারক নন—তিনি হাসান থেকে, আর তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে আবু মি'লাক উপনামে এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন যিনি নিজের এবং অন্যের অর্থ দিয়ে ব্যবসা করতেন এবং দূর-দূরান্তে যাতায়াত করতেন। তিনি সততা ও তাকওয়ার সাথে ওজন করতেন। একবার তিনি (ব্যবসার উদ্দেশ্যে) বের হলেন, তখন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এক মুখোশধারী চোরের সাথে তার দেখা হলো। সে তাকে বলল: "তোমার কাছে যা আছে তা রেখে দাও, কারণ আমি তোমাকে হত্যা করব।" তিনি বললেন: "তুমি আমার রক্ত কেন চাইছ? তোমার তো সম্পদ দরকার।" সে বলল: "সম্পদ তো আমার হবেই, তবে আমি তোমার রক্ত ছাড়া আর কিছুই চাই না।" তিনি বললেন: "যেহেতু তুমি আমাকে ছাড়বে না, তবে আমাকে চার রাকাত সালাত আদায় করতে দাও।" সে বলল: "তোমার যা ইচ্ছা সালাত আদায় করো।" তিনি ওযু করলেন এবং চার রাকাত সালাত আদায় করলেন। তার শেষ সিজদায় তিনি যে দুআটি করেছিলেন তা হলো: "হে প্রেমময়! হে মহান আরশের অধিপতি! হে যা ইচ্ছা তা সম্পাদনকারী! আমি তোমার সেই সম্মানের দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করছি যা কেউ পরাভূত করতে পারে না, এবং তোমার সেই রাজত্বের দোহাই দিয়ে যা কেউ গ্রাস করতে পারে না, ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ এবং তোমার সেই নূরের দোহাই দিয়ে যা তোমার আরশের কোণসমূহকে পরিপূর্ণ করে রেখেছে, তুমি আমাকে এই চোরের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করো। হে সাহায্যকারী, আমাকে সাহায্য করো! হে সাহায্যকারী, আমাকে সাহায্য করো!"—তিনি এটি তিনবার বললেন।» তিনি বলেন: «তিনি এটি তিনবার বললেন, অমনি একজন অশ্বারোহী উপস্থিত হলেন যার হাতে একটি বর্শা ছিল এবং তিনি সেটি তার ঘোড়ার দুই কানের মাঝখানে রেখেছিলেন। চোর যখন তাকে দেখল, তখন সে তার দিকে অগ্রসর হলো, আর অশ্বারোহী তাকে আঘাত করে হত্যা করলেন। এরপর তিনি তার দিকে এগিয়ে এসে বললেন: "দাঁড়াও।" তিনি বললেন: "আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনি কে? আজ আল্লাহ আপনার মাধ্যমে আমাকে উদ্ধার করেছেন।" তিনি বললেন: "আমি চতুর্থ আসমানের একজন ফেরেশতা। যখন তুমি প্রথমবার দুআ করেছিলে, আমি আসমানের দরজাসমূহের গগনবিদারী শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। এরপর যখন তুমি দ্বিতীয়বার দুআ করলে, আমি আসমানবাসীদের হাহাকার শুনতে পেলাম। এরপর যখন তুমি তৃতীয়বার দুআ করলে, আমাকে বলা হলো: 'এটি একজন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দুআ।' তখন আমি আল্লাহর কাছে আবেদন জানালাম যেন তিনি আমাকে তাকে হত্যা করার অনুমতি দেন।"» আনাস (রা.) বলেন: «জেনে রেখো, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং চার রাকাত সালাত আদায় করে ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ এই দুআটি করবে, তার দুআ কবুল করা হবে—সে বিপদগ্রস্ত হোক বা না হোক।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
15 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «بَيْنَا رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فِي أَرْضٍ يَشُقُّهَا إِذْ مَرَّتْ بِهِ عُثَانَةٌ فَسَمِعَ فِيهَا صَوْتًا: اذْهَبِي إِلَى أَرْضِ فُلَانٍ فَاسْقِيهِ فَخَرَجَ الرَّجُلُ يَمْشِي فِي ظِلِّهَا حَتَّى انْتَهَى إِلَى أَرْضِ الرَّجُلِ وَقَدْ تَفَقَّأَتْ فِي نَوَاحِيهَا وَهُوَ قَائِمٌ يَسِيلُ الْمَاءَ فِيهَا فَقَالَ لَهُ: أَيُّ شَيْءٍ تَصْنَعُ فِي أَرْضِكَ؟ قَالَ: إِذَا أَدْرَكَ الزَّرْعُ قَسَمْتُهُ ثَلَاثَةَ أَثْلَاثٍ فَرَدَدْتُ فِي الْأَرْضِ ثُلُثًا وَتَصَدَّقْتُ بِثُلُثٍ وَحَبَسْتُ لِعِيَالِي ثُلُثًا» ، قَالَ مَسْرُوقٌ: فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يُرْسِلُنِي عَلَى أَرْضِهِ كُلَّ عَامٍ بِرَاذَانَ فَأَصْنَعُ فِيهَا مِثْلَ هَذَا
১৫ - আমাদের নিকট আলী ইবনুল জা'দ বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আ'মাশ থেকে, তিনি শাকীক থেকে, তিনি মাসরূক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) বলেছেন, "তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি তার জমিতে কাজ করছিল, এমন সময় তার উপর দিয়ে একটি মেঘখণ্ড উড়ে যাচ্ছিল। তখন সে মেঘের ভেতর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেল: 'অমুকের জমিতে যাও এবং পানি সেচন করো'। অতঃপর লোকটি সেই মেঘের ছায়ায় চলতে শুরু করল যতক্ষণ না সে ওই ব্যক্তির জমিতে পৌঁছাল। ইতিমধ্যে মেঘটি জমির চারপাশ দিয়ে পানি বর্ষণ করল এবং ওই ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জমিতে পানি প্রবাহিত করছিলেন। তখন সে তাকে জিজ্ঞেস করল: আপনি আপনার জমিতে কী আমল করেন? তিনি বললেন: যখন ফসল কাটার সময় হয়, তখন আমি তাকে তিন ভাগে ভাগ করি; এক-তৃতীয়াংশ জমিতে (বিনিয়োগ হিসেবে) ফেরত দেই, এক-তৃতীয়াংশ সদকা করি এবং এক-তৃতীয়াংশ আমার পরিবারের জন্য রেখে দেই।" মাসরূক বলেন: আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) প্রতি বছর আমাকে রাযানে অবস্থিত তাঁর জমিতে পাঠাতেন এবং আমি সেখানে এরূপই করতাম।
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَفَّانَ، حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ مُسْلِمٍ الْحَلَبِيُّ، عَنِ الْعُمَرِيِّ، قَالَ خَوَّاتُ بْنُ جُبَيْرٍ: أَصَابَ النَّاسَ قَحْطٌ شَدِيدٌ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَخَرَجَ عُمَرُ بِالنَّاسِ يُصَلِّي بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ وَخَالَفَ بَيْنَ طَرَفَيْ ⦗ص: 33⦘ رِدَائِهِ جَعَلَ الْيَمِينَ عَلَى الْيَسَارِ وَالْيَسَارَ عَلَى الْيَمِينِ ثُمَّ بَسَطَ يَدَهُ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَغْفِرُكَ وَنَسْتَسْقِيكَ» قَالَ: فَمَا بَرِحَ مِنْ مَكَانِهِ حَتَّى مُطِرُوا فَبَيْنَا هُمْ كَذَلِكَ إِذَا أَعْرَابٌ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ فَأَتَوْا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَالُوا: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ بَيْنَا نَحْنُ بِوَادِينَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا، إِذْ أَظَلَّنَا غَمَامٌ وَسَمِعْنَا بِهَا صَوْتًا يُنَادِي أَتَاكَ الْغَوْثُ أَبَا حَفْصٍ أَتَاكَ الْغَوْثُ أَبَا حَفْصٍ
১৬ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আতা ইবনে মুসলিম আল-হালাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি উমারি থেকে বর্ণনা করেন যে, খাওয়ারত ইবনে জুবায়ের বলেছেন: উমর ইবনুল খাত্তাবের শাসনকালে মানুষের ওপর তীব্র অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তখন উমর মানুষকে নিয়ে বের হলেন এবং তাদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি তাঁর ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ চাদরের দুই প্রান্ত উল্টে দিলেন—ডান দিক বাম দিকে এবং বাম দিক ডান দিকে করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন এবং বললেন: «হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করছি।» বর্ণনাকারী বলেন: তিনি স্বীয় স্থান ত্যাগ করার পূর্বেই তারা বৃষ্টির দ্বারা সিক্ত হলেন। এমতাবস্থায় কিছু বেদুইন মদীনায় এসে পৌঁছাল। তারা উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট এসে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন! আমরা অমুক দিন আমাদের উপত্যকায় অবস্থান করছিলাম, এমতাবস্থায় একটি মেঘ আমাদের ওপর ছায়া দান করল এবং আমরা তাতে একজন আহ্বানকারীর শব্দ শুনতে পেলাম, যে বলছিল: «হে আবু হাফস! আপনার নিকট সাহায্য এসেছে; হে আবু হাফস! আপনার নিকট সাহায্য এসেছে।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
17 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَبِيبٍ الرَّمْلِيُّ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْأَزْهَرِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بَعَثَ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ عَلَى الْعِرَاقِ فَسَارَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِحُلْوَانَ أَدْرَكَتْهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ وَهُوَ فِي سَفْحِ جَبَلِهَا فَأَمَرَ مُؤَذِّنَهُ نَضْلَةَ فَنَادَى بِالْأَذَانِ فَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، فَأَجَابَهُ مُجِيبٌ مِنَ الْجَبَلِ كَبَّرْتَ يَا نَضْلَةُ كَبِيرًا. فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَ: كَلِمَةُ الْإِخْلَاصِ قَالَ: أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَ: بُعِثَ النَّبِيُّ قَالَ: حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ قَالَ: الْبَقَاءُ؛ لِأَنَّهُ مُحَمَّدٌ قَالَ: حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ قَالَ: كَلِمَةٌ مَقُولَةٌ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ قَالَ: كَبَّرْتَ كَبِيرًا ⦗ص: 34⦘ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَانْفَلقَ الْجَبَلُ فَإِذَا شَيْخٌ أَبْيَضُ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ هَامَتُهُ مِثْلُ الرَّحَى فَقَالَ لَهُ: مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا زُرَيْبُ بْنُ ثَرْمَلَا وَصِيُّ الْعَبْدِ الصَّالِحِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ، دَعَا رَبَّهُ عز وجل لِي بِطُولِ الْبَقَاءِ وَأَسْكَنَنِي هَذَا الْجَبَلَ عَلَى نُزُولِهِ مِنَ السَّمَاءِ فَيَكْسِرُ الصَّلِيبَ وَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ وَيَتَبَرَّأُ مِمَّا فَعَلَهُ النَّصَارَى، مَا فَعَلَ النَّبِيُّ؟ قُلْنَا: قُبِضَ فَبَكَى بُكَاءً شَدِيدًا حَتَّى خَضَّبَ لِحْيَتَهُ بِالدُّمُوعِ قَالَ: مَنْ قَامَ فِيكُمْ بَعْدَهُ قُلْنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: مَا فَعَلَ؟ قُلْنَا: قُبِضَ قَالَ: فَمَنْ قَامَ فِيكُمْ بَعْدَهُ؟ قُلْنَا عُمَرُ قَالَ: فَأَقْرِئُوهُ مِنِّي السَّلَامَ وَقُولُوا لَهُ: يَا عُمَرُ سَدِّدْ وَقَارِبْ فَإِنَّ الْأَمْرَ قَدْ تَقَارَبَ، خِصَالٌ إِذَا رَأَيْتَهَا فِي أُمَّةِ مُحَمَّدٍ فَالْهَرَبَ الْهَرَبَ، إِذَا اسْتَغْنَى الرِّجَالُ بِالرِّجَالِ وَالنِّسَاءُ بِالنِّسَاءِ وَكَانَ الْوَلَدُ غَيْظًا وَالْمَطَرُ قَيْظًا وَزُخْرِفَتِ الْمَسَاجِدُ وَزُوِّقَتِ الْمَسَاجِدُ وَتَعَلَّمَ عَالِمُهُمْ لِيَأْكُلَ بِهِ دُنْيَاهُمْ، وَخَرَجَ الْغَبِيُّ فَقَامَ لَهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ، وَكَانَ أَكْلُ الرِّبَا فِيهِمْ شَرَفًا، وَالْقَتْلُ فِيهِمْ عِزًّا فَالْهَرَبَ الْهَرَبَ، قَالَ: فَكَتَبَ بِهَا سَعْدٌ إِلَى عُمَرَ فَكَتَبَ عُمَرُ، صَدَقْتَ؛ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «فِي بَيْتِ الْجَبَلِ وَصِيُّ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ فَأَقْرِئْهُ مِنِّي السَّلَامَ» ⦗ص: 35⦘ فَأَقَامَ سَعْدٌ بِنَفْسِ الْمَكَانِ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا يُنَادِي يَا ثَرْمَلَا، فَلَا يُجَابُ
১৭ - মুহাম্মাদ ইবন উসমান আল-ইজলি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবন আহমাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন হাবীব আর-রামলি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন লাহীআহ থেকে, তিনি মালিক ইবনুল আযহার থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাসকে ইরাকের অভিযানে প্রেরণ করেন। তিনি সফর করতে করতে যখন হুলওয়ান নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন আসরের সালাতের ওয়াক্ত হলো। তিনি তখন সেই অঞ্চলের একটি পাহাড়ের পাদদেশে ছিলেন। তিনি তাঁর মুয়াজ্জিন নাযলাহকে আদেশ করলেন, আর তিনি আযান দিলেন। তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। তখন পাহাড় থেকে এক উত্তরদাতা উত্তর দিল: হে নাযলাহ! তুমি মহান সত্তার মহত্ত্ব ঘোষণা করেছ। তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। সে বলল: এটি ইখলাসের বাণী। তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। সে বলল: নবী প্রেরিত হয়েছেন। তিনি বললেন: সালাতের দিকে এসো। সে বলল: এটিই স্থায়িত্ব; কেননা তিনি মুহাম্মাদ। তিনি বললেন: কল্যাণের দিকে এসো। সে বলল: এটি একটি কথিত বাণী। তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। সে বলল: তুমি মহান সত্তার মহত্ত্ব ঘোষণা করেছ। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ তিনি বললেন: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। এরপর পাহাড় বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং সাদা চুল ও দাড়ি বিশিষ্ট এক বৃদ্ধ লোক বের হয়ে এলেন, যাঁর মাথা ছিল জাঁতাকলের মতো বড়। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কে? তিনি বললেন: আমি যুরাইব ইবন থারমালা, নেক বান্দা ঈসা ইবন মারইয়ামের ওসিয়তপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তিনি তাঁর মহান প্রতিপালকের কাছে আমার দীর্ঘায়ুর জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং আসমান থেকে তাঁর অবতরণ পর্যন্ত আমাকে এই পাহাড়ে বসবাস করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং খ্রিস্টানদের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করবেন। নবী (সা.) কী করেছেন? আমরা বললাম: তাঁর ইন্তেকাল হয়েছে। তখন তিনি প্রচণ্ড কান্নাকাটি করলেন, এমনকি চোখের পানিতে তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তাঁর পরে তোমাদের মধ্যে কে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন? আমরা বললাম: আবু বকর। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তিনি কী করেছেন? আমরা বললাম: তাঁর ইন্তেকাল হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তাঁর পর তোমাদের মধ্যে কে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন? আমরা বললাম: উমর। তিনি বললেন: তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে এবং তাঁকে বলবে: হে উমর! সঠিক পথে অবিচল থাকো এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, কেননা শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা যখন তোমরা মুহাম্মাদ (সা.)-এর উম্মতের মধ্যে দেখতে পাবে, তখন পলায়ন করবে, পলায়ন করবে; যখন পুরুষ পুরুষে এবং নারী নারীতে তুষ্ট থাকবে, সন্তান হবে রাগের কারণ, বৃষ্টি হবে উত্তাপের কারণ, মসজিদসমূহকে চাকচিক্যময় করা হবে এবং মসজিদসমূহকে সুসজ্জিত করা হবে, আর তাদের আলেমগণ দুনিয়া কামাই করার উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করবে, আর যখন নির্বোধ ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করবে এবং তার জন্য তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করবে, সুদের আদান-প্রদান তাদের কাছে গৌরবের বিষয় হবে এবং হত্যা করা তাদের কাছে মর্যাদার কারণ হবে, তখন পলায়ন করবে, পলায়ন করবে। বর্ণনাকারী বলেন: সাদ এটি উমরকে লিখে পাঠালেন। তখন উমর লিখলেন: তুমি সত্য বলেছ; আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "পাহাড়ের গুহায় ঈসা ইবন মারইয়ামের ওসিয়তপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি রয়েছেন, তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ এরপর সাদ সেই একই স্থানে চল্লিশ দিন অবস্থান করলেন এবং 'হে থারমালা' বলে ডাকতে থাকলেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া গেল না।
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
18 - حَدَّثَنَا الصَّلْتُ بْنُ مَسْعُودٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ: «لَمَّا ظَهَرَ سَعْدٌ عَلَى حُلْوَانَ الْعِرَاقِ بَعَثَ جَعْوَنَةَ بْنَ نَضْلَةَ فِي الطَّلَبِ قَالَ: فَأَتَيْنَا عَلَى غَارٍ أَوْ نَقْبٍ فَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ قَالَ: فَأَذَّنْتُ فَقُلْتُ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ فَأَجَابَنِي مُجِيبٌ مِنَ الْجَبَلِ كَبَّرْتَ كَبِيرًا قَالَ: فَاخْتَبَأْتُ جَزَعًا قَالَ: فَقُلْتُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَ: أَخْلَصْتَ فَالْتَفَتُّ يَمِينًا وَشِمَالًا فَلَمْ أَرَ أَحَدًا قَالَ: قُلْتُ: أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَ: نَبِيٌّ بُعِثَ، قُلْتُ: حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ قَالَ: فَرِيضَةٌ وُضِعَتْ قُلْتُ: حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ قَالَ: قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَجَابَهَا اسْتَجَابَ لَهَا كُلُّ مَلَكٍ يَقُولُ، فَالْتَفَتُّ فَلَمْ أَرَ أَحَدًا قَالَ: قُلْتُ: جِنِّيٌّ أَنْتَ أَمْ إِنْسِيٌّ؟ ائْتِ، فَأَشْرَفَ عَلَيَّ شَيْخٌ أَبْيَضُ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ ⦗ص: 36⦘ فَقَالَ: أَنَا زُرَيْبُ بْنُ ثَرْمَلَا مِنْ حَوَارِيِّي عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَأَنَّهُ الْحَقُّ وَأَنَّهُ جَاءَ بِالْحَقِّ مِنْ عِنْدِ الْحَقِّ وَقَدْ عَلِمْتُ مَكَانَهُ فَأَرَدْتُهُ فَحَالَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ كُفَّارُ فَارِسَ فَأَقْرِئْ صَاحِبَكَ السَّلَامَ فَكَتَبَ سَعْدٌ إِلَى عُمَرَ فَكَتَبَ عُمَرُ: ابْغُونِيهِ الرَّجُلَ فَطُلِبَ فَلَمْ يُوجَدْ»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালত বিন মাসউদ আল-জাহদারি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়িদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ বিন তালহা, তিনি আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «যখন সাদ ইরাকের হুলওয়ান জয় করলেন, তখন তিনি জা’ওয়ানা বিন নাযলাহ-কে অনুসন্ধানের জন্য পাঠালেন। তিনি বলেন: এরপর আমরা একটি গুহা বা গিরিপথের নিকট উপস্থিত হলাম এবং নামাজের সময় হয়ে গেল। তিনি বলেন: তখন আমি আজান দিলাম এবং বললাম: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। তখন পাহাড় থেকে এক উত্তরদাতা আমাকে উত্তর দিয়ে বলল: তুমি এক মহান সত্তার মহত্ব বর্ণনা করেছ। তিনি বলেন: তখন আমি ভয়ের কারণে আত্মগোপন করলাম। তিনি বলেন: এরপর আমি বললাম: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। সে বলল: তুমি একনিষ্ঠ হয়েছ। তখন আমি ডানে ও বামে তাকালাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। তিনি বলেন: আমি বললাম: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। সে বলল: একজন নবী প্রেরিত হয়েছেন। আমি বললাম: নামাজের দিকে এসো। সে বলল: একটি ফরজ বিধান নির্ধারিত হয়েছে। আমি বললাম: কল্যাণের দিকে এসো। সে বলল: সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে যে এর ডাকে সাড়া দিয়েছে; প্রতিটি ফেরেশতাই এ কথা বলছে। তখন আমি তাকালাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। তিনি বলেন: আমি বললাম: আপনি কি জিন নাকি মানুষ? সামনে আসুন। তখন আমার সামনে সাদা চুল ও দাড়িবিশিষ্ট এক বৃদ্ধ লোক প্রকাশিত হলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ এবং বললেন: আমি জুরাইব বিন সারমালা, ঈসা ইবনে মারিয়ামের হাওয়ারিদের (শিষ্যদের) একজন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, আর নিশ্চয়ই তিনি সত্য এবং তিনি মহাসত্যের নিকট থেকে সত্য নিয়ে এসেছেন। আমি তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জেনেছিলাম এবং তাঁর নিকট পৌঁছাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারস্যের কাফিররা আমার ও তাঁর মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অতএব আপনি আপনার সঙ্গীকে সালাম পৌঁছে দেবেন। এরপর সাদ উমর (রা.)-এর নিকট পত্র লিখলেন। তখন উমর (রা.) লিখে পাঠালেন: লোকটিকে আমার নিকট তালাশ করো। অতঃপর তাকে খোঁজা হলো কিন্তু পাওয়া গেল না।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٦)
19 - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ «أَنَّ رَجُلًا أَهَلَّ هِلَالًا بِفَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ فَسَمِعَ قَائِلًا يَقُولُ: اللَّهُمَّ أَهِلَّهَ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيمَانِ وَالسَّلَامِ وَالْإِسْلَامِ وَالْهُدَى وَالْمَغْفِرَةِ وَالتَّوْفِيقِ لِمَا تَرْضَى وَالْحِفْظِ لِمَا تَسْخَطُ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ، فَلَمْ يَزَلْ يُلَقِّنُهُنَّ حَتَّى حَفِظْتُهُنَّ وَلَمْ أَرَ أَحَدًا»
১৯ - আব্দুর রহমান ইবনে সালিহ আল-আজদি আমাকে বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে আলী আল-জুফী আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, আতা থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি কোনো এক বিজন প্রান্তরে নতুন চাঁদ দেখলেন, তখন তিনি এক অদৃশ্য বক্তাকে বলতে শুনলেন: "হে আল্লাহ! আমাদের ওপর এই চাঁদকে উদিত করুন নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি, ইসলাম, হিদায়াত, ক্ষমা এবং আপনি যা পছন্দ করেন তার তাওফিক ও যা অপছন্দ করেন তা থেকে হিফাজতের সাথে; আমার প্রতিপালক এবং তোমার প্রতিপালক হলেন আল্লাহ।" সেই অদৃশ্য বক্তা অনবরত বাক্যগুলো তাকে শেখাতে থাকলেন যতক্ষণ না আমি তা মুখস্থ করে নিলাম, অথচ আমি কাউকে দেখতে পাচ্ছিলাম না।
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٦)
20 - حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ هَاشِمٍ، حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا مُعَانُ بْنُ رِفَاعَةَ السَّلَامِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: «مَرَّ يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا عليهما السلام عَلَى قَبْرِ دَانِيَالَ فَسَمِعَ ⦗ص: 37⦘ صَوْتًا، وَالْقَبْرُ يَقُولُ: سُبْحَانَ مَنْ تَعَزَّزَ بِالْعِزَّةِ وَقَهَرَ الْعِبَادَ بِالْمَوْتِ، ثُمَّ مَضَى يَحْيَى فَإِذَا هُوَ بِصَوْتٍ مِنَ السَّمَاءِ يَقُولُ: أَنَا الَّذِي تَعَزَّزْتُ بِالْعِزَّةِ وَقَهَرْتُ الْعِبَادَ بِالْمَوْتِ، مَنْ قَالَهُنَّ اسْتَغْفَرَتْ لَهُ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرَضُونَ وَمَنْ فِيهِنَّ»
২০ - আল-কাসিম ইবনে হাশিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আদম ইবনে আবি ইয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআন ইবনে রিফায়া আস-সালামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি বলেন: «ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া (আলাইহিমাস সালাম) দানিয়ালের কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ একটি শব্দ শুনতে পেলেন, আর কবরটি বলছিল: পবিত্র সেই সত্তা যিনি সম্মানের দ্বারা মহিমান্বিত হয়েছেন এবং মৃত্যুকে দিয়ে বান্দাদের পরাভূত করেছেন। অতঃপর ইয়াহইয়া এগিয়ে চললেন, এমতাবস্থায় তিনি আকাশ থেকে একটি আওয়ায শুনতে পেলেন যা বলছিল: আমিই সেই সত্তা যে সম্মানের দ্বারা মহিমান্বিত হয়েছি এবং মৃত্যুকে দিয়ে বান্দাদের পরাভূত করেছি; যে ব্যক্তি এই কথাগুলো বলবে, আসমানসমূহ, জমিনসমূহ এবং তাদের মধ্যে যা কিছু আছে তারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٧)
21 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، وَعَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ السَّهْمِيُّ، وَغَيْرُهُمَا قَالُوا: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بنُ الْمُحَبَّرِ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: «أَقْبَلْنَا قَافِلِينَ مِنْ بِلَادِ الرُّومِ نُرِيدُ الْبَصْرَةَ حَتَّى إِذَا كُنَّا بَيْنَ الرَّصَافَةِ وحِمْصَ سَمِعْنَا صَائِحًا يَصِيحَ مِنْ تِلْكَ الرِّمَالِ سَمِعَتْهُ الْآذَانُ وَلَمْ تَرَهُ الْأَعْيُنُ يَقُولُ: يَا مَسْتُورُ يَا مَحْفُوظُ اعْقِلْ فِي سِتْرِ مَنْ أَنْتَ، فَإِذَا كُنْتَ لَا تَعْقِلُ فِي سِتْرِ مَنْ أَنْتَ فَاتَّقِ الدُّنْيَا فَإِنَّهَا جَمْرُ اللَّهِ عز وجل فَإِنْ كُنْتَ لَا تَتَّقيِهَا فَاجْعَلْهَا شَرَكًا ثُمَّ انْظُرْ أَيْنَ تَضَعُ قَدَمَيْكَ مِنْهَا»
২১ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, আলি ইবনে ইবরাহিম আস-সাহমি এবং অন্যরা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: দাউদ ইবনুল মুহাব্বার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমরা রোম দেশ থেকে কাফেলাসহ বসরা অভিমুখে ফিরছিলাম। যখন আমরা রাসাফা ও হিমসের মাঝামাঝি পৌঁছালাম, তখন সেই বালুকাস্তূপ থেকে আমরা এক আহ্বানকারীর উচ্চস্বর শুনতে পেলাম; যা কান শুনতে পাচ্ছিল কিন্তু চোখ তাকে দেখতে পাচ্ছিল না। সে বলছিল: হে আবৃত! হে সংরক্ষিত! তুমি কার আবরণে আছো তা অনুধাবন করো। যদি তুমি কার আবরণে আছো তা অনুধাবন করতে না পারো, তবে দুনিয়াকে ভয় করো, কেননা তা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রজ্বলিত অঙ্গার। আর যদি তুমি একে ভয় না করো, তবে একে একটি ফাঁদ হিসেবে গণ্য করো, অতঃপর লক্ষ্য করো তুমি এর ওপর তোমার পা দুটি কোথায় রাখছো।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٧)
22 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ، قَالَ وُهَيْبُ بْنُ الْوَرْدِ، قَالَ رَجُلٌ: «بَيْنَا أَسِيرُ فِي أَرْضِ الرُّومِ ذَاتَ يَوْمٍ سَمِعْتُ هَاتِفًا فَوْقَ رَأْسِ الْجَبَلِ وَهُوَ يَقُولُ: يَا رَبِّ عَجِبْتُ لِمَنْ يَعْرِفُكَ كَيْفَ يَرْجُو أَحَدًا غَيْرَكَ؟ ثُمَّ دَعَا الثَّانِيَةَ فَقَالَ: يَا رَبِّ عَجِبْتُ لِمَنْ يَعْرِفُكَ ⦗ص: 38⦘ كَيْفَ يَسْتَعِينُ عَلَى أَمْرِهِ غَيْرَكَ؟ ثُمَّ دَعَا الثَّالِثَةَ فَقَالَ: يَا رَبِّ، عَجِبْتُ لِمَنْ يَعْرِفُكَ كَيْفَ يَتَعَرَّضُ لِشَيْءٍ مِنْ غَضَبِكَ بِرِضَا غَيْرِكَ؟ قَالَ: فَنَادَيْتُهُ فَقُلْتُ: أَجِنِّيُّ أَنْتَ أَمْ إِنْسِيُّ؟ قَالَ: بَلْ إِنْسِيٌّ اشْغَلْ نَفْسَكَ بِمَا يَعْنِيكَ عَمَّا لَا يَعْنِيكَ»
২২ - সাঈদ ইবনে সুলাইমান ও হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে খুনাইস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উহাইব ইবনুল ওয়ারদ বলেছেন: জনৈক ব্যক্তি বলেছেন: একদা আমি রোম সাম্রাজ্যের ভূমিতে ভ্রমণ করছিলাম, এমন সময় পাহাড়ের চূড়ার উপর থেকে এক অদৃশ্য আহ্বানকারীর কণ্ঠ শুনতে পেলাম, সে বলছিল: হে প্রতিপালক! আমি ওই ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই যে আপনাকে চেনে, অথচ সে কীভাবে অন্য কারও কাছে আশা পোষণ করে? অতঃপর সে দ্বিতীয়বার আহ্বান করে বলল: হে প্রতিপালক! আমি ওই ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই যে আপনাকে চেনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ অথচ সে কীভাবে নিজের কাজে অন্য কারও সাহায্য প্রার্থনা করে? অতঃপর সে তৃতীয়বার আহ্বান করে বলল: হে প্রতিপালক! আমি ওই ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই যে আপনাকে চেনে, অথচ সে কীভাবে অন্য কারও সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ উদ্রেককারী কোনো বিষয়ের সম্মুখীন হয়? রাবী বলেন: তখন আমি তাকে ডেকে বললাম: আপনি কি জিন নাকি মানুষ? সে বলল: বরং আমি একজন মানুষ; তুমি অপ্রয়োজনীয় বিষয় ছেড়ে প্রয়োজনীয় বিষয়ে নিজেকে ব্যাপৃত রাখো।
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٨)
23 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ وُهَيْبِ بْنِ الْوَرْدِ، قَالَ: «بَيْنَمَا أَنَا فِي السُّوقِ، إِذْ أَخَذَ أَحَدٌ بِقَفَايَ فَقَالَ: يَا وُهَيْبُ خَفِ اللَّهَ عَلَى قُدْرَتِهِ عَلَيْكَ وَاسْتَحْيِ مِنَ اللَّهِ فِي قُرْبِهِ مِنْكَ فَالْتَفَتُّ فَلَمْ أَرَ أَحَدًا»
২৩ - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মাজিদ আত-তামিমি আমাকে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন উহাইব ইবনুল ওয়ারদ থেকে, তিনি বলেন: «একদা আমি যখন বাজারে ছিলাম, হঠাৎ কেউ একজন আমার ঘাড় ধরলেন এবং বললেন: হে উহাইব! তোমার ওপর আল্লাহর যে ক্ষমতা রয়েছে সে কারণে আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার প্রতি তাঁর যে নৈকট্য রয়েছে সেজন্য আল্লাহকে লজ্জা করো। অতঃপর আমি ফিরে তাকালাম, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٨)
24 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْحَارِثِ، قَالَا: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، حَدَّثَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، قَالَ: «إِنَّا لَوُقُوفٌ بِجَبَلِ عَرَفَاتٍ وَإِذَا شَابَّانِ عَلَيْهِمَا الْعَبَاءُ الْقَطَوَانِيُّ يُنَادِي أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ يَا حَبِيبُ، فَيَقُولُ الْآخَرُ: أَيْنَكَ أَيُّهَا الْمُحِبُّ، قَالَ: تَرَى الَّذِي تَحَابَبْنَا فِيهِ وَتَوَادَدْنَا لَهُ مُعَذِّبَنَا غَدًا فِي الْقَبْرِ؟ قَالَ: فَسَمِعْنَا مُنَادِيًا سَمِعَتْهُ الْآذَانُ وَلَمْ تَرَهُ الْأَعْيُنُ يَقُولُ: لَا لَيْسَ بِفَاعِلٍ» وَهَذَا لَفْظُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ
২৪ - মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস এবং ইসমাঈল ইবনু আবিল হারিস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: দাউদ ইবনুল মুহাব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুবারক ইবনু ফাদ্বালাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি বলেন: "আমরা আরাফাত পাহাড়ে অবস্থান করছিলাম, এমতাবস্থায় দুজন যুবককে দেখা গেল যাদের পরিধানে ছিল কাতওয়ানি চাদর। তাদের একজন তার সঙ্গীকে ডেকে বলল: হে প্রিয়! তখন অন্যজন বলল: হে প্রেমিক, তুমি কোথায়? সে বলল: তুমি কি মনে কর যে, যাঁর সন্তুষ্টির জন্য আমরা একে অপরকে ভালোবেসেছি এবং যাঁর জন্য একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্য পোষণ করেছি, তিনি কি আগামীকাল কবরে আমাদের শাস্তি দেবেন? তিনি (সাবিত) বলেন: তখন আমরা এক আহ্বানকারীর আওয়াজ শুনতে পেলাম যা কান শুনতে পেল কিন্তু চোখ তাকে দেখতে পেল না, সে বলছিল: না, তিনি এমনটি করবেন না।" এটি মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাসের শব্দবিন্যাস।
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
25 - حَدَّثَنِي مُشْرِفُ بْنُ أَبَانَ أَبُو ثَابِتٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبَانَ، وَلَيْسَ بِالْقُرَشِيِّ قَالَ: «كُنْتُ أُصَلِّي ذَاتَ لَيْلَةٍ أَوْ كُنْتُ نَائِمًا فَهَتَفَ بِي هَاتِفٌ: يَا عَبْدَ الْعَزِيزِ كَمْ مُنَظَّفِ الثَّوْبِ حَسَنِ الصُّورَةِ يَتَقَلَّبُ بَيْنَ الْجُبِّ وَجَهَنَّمَ غَدًا»
25 - আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুশরিফ বিন আবান আবু সাবিত, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন আবান—আর তিনি কুরাশি নন—তিনি বলেন: «এক রাতে আমি সালাত আদায় করছিলাম অথবা আমি ঘুমন্ত ছিলাম, এমতাবস্থায় এক অদৃশ্য আহ্বানকারী আমাকে ডেকে বললেন: হে আব্দুল আজিজ! কতই না পরিষ্কার পোশাকধারী ও সুন্দর রূপধারী ব্যক্তি রয়েছে, যারা আগামীকাল (কিয়ামতের দিন) অন্ধকূপ ও জাহান্নামের আগুনের মাঝে উলট-পালট খাবে।»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
26 - حَدَّثَنِي أَبُو ثَابِتٍ الْخَطَّابُ، حَدَّثَنِي رَجَاءُ بْنُ عِيسَى، قَالَ: قَالَ لِي عَمْرُو بْنُ جَرِيرٍ: «تَدْرِي أَيَّ شَيْءٍ كَانَ سَبَبَ تَوْبَتِي؟ خَرَجْتُ مَعَ أَحْدَاثٍ بِالْكُوفَةِ فَلَمَّا أَرَدْتُ أَنْ آتِيَ الْمَعْصِيَةَ هَتَفَ بِي هَاتِفٌ: {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ} [المدثر: 38] »
২৬ - আবু সাবিত আল-খাত্তাব আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, রাজা ইবনে ঈসা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে জারীর আমাকে বলেছেন, “তুমি কি জানো আমার তাওবার কারণ কী ছিল? আমি কুফার কিছু যুবকের সাথে বের হয়েছিলাম। অতঃপর যখন আমি পাপে লিপ্ত হওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন এক অদৃশ্য আহ্বানকারী আমাকে উচ্চস্বরে ডেকে বললেন: {প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ} [আল-মুদ্দাসসির: ৩৮]”
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْصُورِ بْنِ حَيَّانَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، «أَنَّ رَجُلًا دَخَلَ غَيْضَةً فَقَالَ: لَوْ خَلَوْتُ هَاهُنَا بِمَعْصِيَةٍ مَنْ كَانَ يَرَانِي فَسَمِعَ صَوْتًا يَمْلَأُ مَا بَيْنَ حَافَّتَيِ الْغَيْضَةِ {أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} [الملك: 14] »
আলী ইবনে হাসান ইবনে আবু মারইয়াম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক ইবনে মানসুর ইবনে হাইয়ান থেকে, মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আসমা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি একটি ঘন বনে প্রবেশ করল এবং বলল: "আমি যদি এখানে নির্জনে কোনো পাপে লিপ্ত হই, তবে কে আমাকে দেখবে?" তখন সে এমন এক শব্দ শুনতে পেল যা বনের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থানকে পূর্ণ করে দিল: "যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।" [সূরা মুলক: ১৪]
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٠)
28 - حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا الْمُسْتَلِمُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: «كَانَ رَجُلٌ بِأَرْضِ طَبَرِسْتَانَ قَالَ: وَصَلَ أَرْضًا أَشِبَةً كَثِيرَةَ الشَّجَرِ، قَالَ: فَبَيْنَمَا هُوَ يَسِيرُ إِذْ نَظَرَ إِلَى وَرَقِ الشَّجَرِ قَدْ جَفَّ فَتَسَاقَطَ وَتَرَاكَمَ بَعْضُهُ عَلَى بَعْضٍ فَجَعَلَ يُفَكِّرُ فِي نَفْسِهِ وَهُوَ يَسِيرُ أَتَرَى اللَّهَ عز وجل يُحْصِي هَذَا كُلَّهُ؟ فَسَمِعَ مُنَادِيًا يُنَادِي {أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} [الملك: 14] »
২৮ - আলী ইবনুল জাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আসিম থেকে, মুস্তালিম ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তাবারস্তান ভূখণ্ডে এক ব্যক্তি ছিল। বর্ণনাকারী বলেন: সে একটি নিবিড় ও ঘন গাছপালাপূর্ণ স্থানে পৌঁছাল। বর্ণনাকারী বলেন: সে যখন পথ চলছিল, তখন সে গাছের পাতার দিকে তাকাল যা শুকিয়ে ঝরে পড়েছিল এবং একে অপরের ওপর স্তূপ হয়ে জমা হয়েছিল। সে চলতে চলতে মনে মনে চিন্তা করতে লাগল—তুমি কি মনে কর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই সবকিছুর হিসাব রাখেন? তখন সে একজন আহ্বানকারীকে আহ্বান করতে শুনল: {যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।} [সূরা আল-মুলক: ১৪]"
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٠)
29 - حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ أَبُو فَاطِمَةَ، عَنْ مُزْرِعِ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلَائِيِّ، قَالَ: «بَيْنَمَا أَنَا أَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ إِذَا بِرَجُلٍ نَأَى عَنِ النَّاسِ، وَهُوَ يَقُولُ: مَنْ أَتَى الْجُمُعَةَ وَصَلَّى قَبْلَ الْإِمَامِ وَصَلَّى مَعَ الْإِمَامِ وَصَلَّى بَعْدَ الْإِمَامِ كُتِبَ مِنَ الْقَانِتِينَ، وَمَنْ أَتَى الْجُمُعَةَ فَلَمْ يُصَلِّ قَبْلَ الْإِمَامِ وَلَا مَعَ الْإِمَامِ وَلَا بَعْدَ الْإِمَامِ كُتِبَ مِنَ الْفَائِزِينَ ثُمَّ غَابَ فَلَمْ أَرَهُ فَلَمَّا كَانَ فِي الْجُمُعَةِ الثَّانِيَةِ رَأَيْتُهُ نَائِيًا مِنَ النَّاسِ وَهُوَ يَقُولُ مِثْلَ مَقَالَتِهِ ثُمَّ غَابَ فَلَمْ أَرَهُ فَدَخَلْتُ مِنْ بَابِ الصَّفَا فَطَلَبْتُهُ بِأَبْطُحِ مَكَّةَ فَلَمْ أَجِدْهُ فَسَأَلْتُ عَلَيْهِ أَصْحَابِي قَالَ: فَأَخْبَرْتُهُمْ فَقَالُوا: الْخَضِرُ قُلْتُ: الْخَضِرُ؟»
২৯ - আবু নাসর আত-তাম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মিসকিন আবু ফাতিমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুজরি' বিন মুসা থেকে বর্ণিত, তিনি আমর বিন কায়স আল-মুলাইয়ি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি যখন কাবার তাওয়াফ করছিলাম তখন হঠাৎ এমন এক ব্যক্তির দেখা পেলাম যিনি মানুষের থেকে পৃথক হয়ে দূরে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি বলছিলেন: যে ব্যক্তি জুমায় উপস্থিত হলো এবং ইমামের পূর্বে সালাত আদায় করল, ইমামের সাথে সালাত আদায় করল এবং ইমামের পরে সালাত আদায় করল, তাকে অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হলো। আর যে ব্যক্তি জুমায় উপস্থিত হলো কিন্তু ইমামের পূর্বে সালাত আদায় করল না, ইমামের সাথেও নয় এবং ইমামের পরেও নয়, তাকে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হলো। তারপর তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং আমি তাঁকে আর দেখতে পেলাম না। যখন দ্বিতীয় জুমা এলো, আমি তাঁকে মানুষের থেকে দূরে অবস্থানরত অবস্থায় দেখতে পেলাম এবং তিনি পূর্বের ন্যায় একই কথা বলছিলেন। এরপর তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং আমি তাঁকে দেখতে পেলাম না। অতঃপর আমি বাবুস সাফা দিয়ে প্রবেশ করলাম এবং মক্কার আবতাহ অঞ্চলে তাঁকে খুঁজলাম কিন্তু তাঁকে পেলাম না। আমি আমার সঙ্গীদের কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁদের নিকট বিষয়টি জানালে তাঁরা বললেন: খিদির। আমি বললাম: খিদির?»
(খণ্ড: ১) আল-হাওয়াতিফ = হাওয়াতিফুল জিনান লিইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ٤٠)
30 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنِي مُحْرِزُ بْنُ ⦗ص: 41⦘ أَبِي خَدِيجٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، قَالَ: «رَأَيْتُ رَجُلًا فِي الطَّوَافِ حَسَنَ الْوَجْهِ حَسَنَ الثِّيَابِ مُنِيفًا عَلَى النَّاسِ قَالَ: فَقُلْتُ فِي نَفْسِي: يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ عِنْدَ هَذَا عِلْمٌ قَالَ: فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ لَهُ: تُعَلِّمُنَا شَيْئًا فَقُلْ شَيْئًا، فَلَمْ يُكَلِّمُنِي حَتَّى فَرَغَ مِنْ طَوَافِهِ ثُمَّ أَتَى الْمَقَامَ فَصَلَّى خَلْفَهُ رَكْعَتَيْنِ خَفَّفَ فِيهِمَا ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ: أَتَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟ قُلْنَا: وَمَاذَا قَالَ رَبُّنَا؟ قَالَ الْهَاتِفُ أَسْمَعُهُ قَالَ: أَنَا اللَّهُ الْمَلِكُ الَّذِي لَا يَزُولُ فَهَلُمُّوا إِلَيَّ أَجْعَلْكُمْ مُلُوكًا لَا تَزُولُونَ ثُمَّ قَالَ: أَتَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟ قُلْنَا: وَمَاذَا قَالَ رَبُّنَا؟ قَالَ: أَنَا اللَّهُ الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ فَهَلُمُّوا إِلَيَّ أَجْعَلْكُمْ أَحْيَاءً لَا تَمُوتُونَ ثُمَّ قَالَ: أَتَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟ قُلْنَا: مَاذَا قَالَ رَبُّنَا؟ قَالَ: أَنَا اللَّهُ الْمَلِكُ الَّذِي إِذَا أَرَدْتُ أَمْرًا أَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ فَهَلُمُّوا إِلَيَّ أَجْعَلْكُمْ إِذَا أَرَدْتُمْ أَنْ تَقُولُوا لِلشَّيْءِ كُنْ فَيَكُونُ» ، قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ: فَذَكَرْتُهُ لِسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ فَقَالَ: كَانَ ذَلِكَ الْخَضِرَ وَلَكِنْ لَمْ تَعْقِلْ
৩০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আল-আবদী, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহরিজ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ আবু খাদীজ, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি বলেন: «আমি তাওয়াফ করার সময় সুন্দর চেহারা ও সুন্দর পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে দেখলাম, যিনি মানুষের মাঝে অত্যন্ত বিশিষ্ট ছিলেন। তিনি বলেন: তখন আমি মনে মনে বললাম, এই ব্যক্তির নিকট নিশ্চয়ই ইলম (জ্ঞান) রয়েছে। তিনি বলেন: এরপর আমি তাঁর নিকট এসে বললাম, আপনি আমাদের কিছু শেখান, কিছু বলুন। কিন্তু তিনি আমার সাথে কোনো কথা বললেন না যতক্ষণ না তিনি তাঁর তাওয়াফ শেষ করলেন। এরপর তিনি মাকামে (ইব্রাহিমে) আসলেন এবং তার পেছনে দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত নামাজ আদায় করলেন। তারপর তিনি আমাদের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: তোমরা কি জানো তোমাদের রব কী বলেছেন? আমরা বললাম: আমাদের রব কী বলেছেন? তিনি বললেন: এক অদৃশ্য আহ্বানকারী, যাঁর আওয়াজ আমি শুনতে পাচ্ছিলাম, তিনি বললেন: আমিই আল্লাহ, এমন এক রাজাধিরাজ যার রাজত্বের অবসান নেই; সুতরাং তোমরা আমার দিকে এসো, আমি তোমাদের এমন রাজা বানিয়ে দেব যাদের রাজত্বের কখনো অবসান হবে না। এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি জানো তোমাদের রব কী বলেছেন? আমরা বললাম: আমাদের রব কী বলেছেন? তিনি বললেন: আমিই আল্লাহ, সেই চিরঞ্জীব সত্তা যাঁর মৃত্যু নেই; সুতরাং তোমরা আমার দিকে এসো, আমি তোমাদের এমন জীবন দান করব যা কখনো শেষ হবে না। এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি জানো তোমাদের রব কী বলেছেন? আমরা বললেন: আমাদের রব কী বলেছেন? তিনি বললেন: আমিই আল্লাহ, সেই রাজাধিরাজ যখন আমি কোনো কিছুর ইচ্ছা করি তখন তাকে বলি—হও, আর অমনি তা হয়ে যায়; সুতরাং তোমরা আমার দিকে এসো, আমি তোমাদের এমন করে দেব যে, যখন তোমরা কোনো কিছুকে বলবে—হও, তখন তা হয়ে যাবে»। ইবনে উইয়াইনাহ বলেন: এরপর আমি বিষয়টি সুফিয়ান আস-সাওরীর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন: «তিনি ছিলেন খিজির, কিন্তু তুমি তা বুঝতে পারোনি»।