(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: -)
مذكرة أصول الفقه على روضة الناظر- ط عطاءات العلم القسم: أصول الفقه
الكتاب: مذكرة أصول الفقه على روضة الناظر
[آثار الشيخ العلامة محمد الأمين الشنقيطي (6)]
المؤلف: محمد الأمين بن محمد المختار الجكني الشنقيطي (1325 - 1393 هـ)
الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)
الطبعة: الخامسة، 1441 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)
عدد الصفحات: 531
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 شوّال 1442
রওদাতুন নাজিরের ওপর উসুলুল ফিকহ-এর নোট - আতাআত আল-ইলম সংস্করণ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: রওদাতুন নাজিরের ওপর উসুলুল ফিকহ-এর নোট
[শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শিনকিতির রচনাবলি (৬)]
লেখক: মুহাম্মদ আল-আমিন বিন মুহাম্মদ আল-মুখতার আল-জাকানি আশ-শিনকিতি (১৩২৫ - ১৩৯৩ হিজরি)
প্রকাশক: দার আতাআত আল-ইলম (রিয়াদ) - দার ইবন হাজম (বৈরুত)
সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ (দার ইবন হাজম-এর প্রথম সংস্করণ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩১
শামিলা লাইব্রেরিতে পেশ করেছে: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১)
آثار الشيخ العلامة محمد الأمين الشنقيطي (6)
مذكرة أصول الفقه على روضة الناظر
تأليف
الشيخ العلامة محمد الأمين بن محمد المختار الجكني الشنقيطي (1325 هـ - 1393 هـ)
إشراف
بكر بن عبد الله أبو زيد
دار عطاءات العلم - دار ابن حزم
শাইখ আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতীর রচনাবলি (৬)
রাওদাতুন নাজিরের ওপর উসুলুল ফিকহের টীকা
রচনা
শাইখ আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন বিন মুহাম্মাদ আল-মুখতার আল-জাকানি আশ-শানকিতী (১৩২৫ হি. - ১৩৯৩ হি.)
তত্ত্বাবধানে
বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ
দারু আতাআতিল ইলম - দারু ইবনে হাজম
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
حقيقة الحكم وأقسامهاعلم أنَّه رحمه الله ترجم هذه الترجمة التي لفظها (حقيقة الحكم وأقسامه) ولم يبين حقيقة الحكم ولا أقسامه، وإنَّما ذكر منها الأقسام الشرعية فقط، ونحن نبين كل ذلك إن شاء اللَّه تعالى.
اعلم أنَّ الحكم في اللغة: هو المنع. ومنه قيل للقضاء: حكم؛ لأنه يمنع من غير المَقْضِيِّ.
تقول: حَكَمَه كنَصَرَه، وأحكمه كأكرمه، وحكَّمه بالتضعيف بمعنى منعه. ومنه قول جرير:
أَبَنِي حنيفة أَحْكِمُوا سفهاءكم
… إني أخافُ عليكمُ أن أغضبا
وقول حسان بن ثابت رضي الله عنه:
لنا في كل يومٍ مِن مَعَدٍّ
… سبابٌ أو قتالٌ أو هجاءُ
فنحكم بالقوافي مَنْ هجانا
… ونضرب حين تختلط الدماءُ
ومن الحكم بمعنى المنع: حَكَمَةُ اللجام، وهي ما أحاط بحنكي الدابة، سُمِّيَتْ بذلك لأنَّها تمنَعها من الجري الشديد.
والحَكَمةُ أيضًا: حديدة في اللجام تكون على أنف الفرس وحنكه، تمنعه من مخالفة راكبه، وكانت العرب تتخذها من القِدِّ والأبق وهو القنب. ومنه قول زهير:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
হুকুমের হাকিকত ও এর প্রকারভেদজেনে রাখুন যে, তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই শিরোনামটি দিয়েছেন যার শব্দগুলো হলো (হুকুমের হাকিকত ও এর প্রকারভেদ), কিন্তু তিনি হুকুমের হাকিকত কিংবা এর প্রকারভেদসমূহ বর্ণনা করেননি। বরং তিনি কেবল এর শরয়ি প্রকারভেদসমূহ উল্লেখ করেছেন। আর আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা এ সব কিছুই বর্ণনা করব।
জেনে রাখুন, আভিধানিক অর্থে ‘হুকুম’ (الحكم) অর্থ হলো: বাধা প্রদান করা। আর এ অর্থ থেকেই বিচারকার্যকে ‘হুকুম’ (القضاء) বলা হয়; কারণ তা বিচারকৃত বিষয় ব্যতীত অন্য কিছু থেকে বাধা প্রদান করে।
আপনি বলবেন: সে তাকে বাধা দিয়েছে (হাকামাহু), যা ‘নাসারা’ এর ওজনে; সে তাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে (আহকামাহু), যা ‘আকরামা’ এর ওজনে; এবং সে তাকে কড়াভাবে শাসন করেছে (হাক্কামাহু), যা তাশদিদসহ ‘বাধা দেওয়া’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ অর্থেই কবি জারিরের উক্তি:
হে বনু হানিফা! তোমরা তোমাদের নির্বোধদের বাধা দাও
… নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর রাগান্বিত হওয়ার আশঙ্কা করছি।
এবং হাসসান ইবনে সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি:
মাআদ গোত্রের পক্ষ থেকে প্রতিদিন আমাদের জন্য রয়েছে
… গালিগালাজ, লড়াই কিংবা নিন্দা কাব্য।
যারা আমাদের নিন্দা করে, আমরা কবিতার ছন্দের মাধ্যমে তাদের প্রতিহত করি
… আর যখন রক্ত রঞ্জিত হয় তখন আমরা আঘাত করি।
বাধা প্রদান করা অর্থে ‘হুকুম’ শব্দ থেকে আরেকটি শব্দ হলো: লগামের হাকামাহ (حكمة اللجام), যা পশুর চোয়ালের চারপাশ বেষ্টন করে থাকে। একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি পশুকে অতি দ্রুত দৌড়ানো থেকে বাধা দেয়।
হাকামাহ আরও বলা হয়: লগামের অন্তর্ভুক্ত লোহার সেই অংশকে যা ঘোড়ার নাক ও চোয়ালের ওপর থাকে, যা তাকে আরোহীর অবাধ্য হতে বাধা দেয়। আর আরবরা তা কাঁচা চামড়া বা শণ দিয়ে তৈরি করত। এ অর্থেই কবি যুহাইরের উক্তি:
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৬)
القائد الخيل منكوبًا دوابرها
… قد أحكمت حكمات القِدِّ والأبقا
والحكم في الاصطلاح هو: إثبات أمر لأمر أو نفيه عنه. نحو: زيد قائم وعمرو ليس بقائم.
وهو ينقسم بدليل الاستقراء إلى ثلاثة أقسام:
1 - حكم عقلي: وهو ما يعرف فيه العقلُ النسبةَ إيجابًا أو سلبًا. نحو: الكل أكبر من الجزء إيجابًا. الجزء ليس أكبر من الكل سلبًا.
2 - حكم عادي: وهو ما عرفت فيه النسبة بالعادة. نحو: السيقمونيا مسهل للصفراء، والسكنجبين مسكن لها.
3 - حكم شرعي: وهو المقصود، وحَدَّه جماعة من أهل الأصول بأنه: خطاب اللَّه المتعلق بفعل المكلف من حيث إنه مكلف به.
فخرج بقوله: "خطاب اللَّه" خطاب غيره؛ لأنه لا حكم شرعيًّا إلا لله وحده جلَّ وعلا، فكل تشريع من غيره باطل، قال تعالى: {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ} [الأنعام/ 57]، {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ} [الشورى/ 10]، {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء/ 59].
وخرج بقوله: "المتعلق بفعل المكلف" ما تعلق بذات اللَّه تعالى، نحو: "لا إله إلا اللَّه"، وما تعلق بفعله نحو قوله تعالى: {خَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ} [الأنعام/ 102]، وما يتعلق بذوات المكلفين نحو: {وَلَقَدْ خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَاكُمْ} الآية [الأعراف/ 11]، وما تعلق بالجمادات نحو: {وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً} [الكهف/ 47].
ঘোড়াগুলোর পরিচালনাকারী যাদের ক্ষুরগুলো জখমপ্রাপ্ত
… চামড়া ও শণ দিয়ে তৈরি লাগামগুলো সেগুলোকে সুসংবদ্ধ করেছে।
পরিভাষায় হুকুম হলো: এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা অথবা তা থেকে কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা। যেমন: জায়েদ দণ্ডায়মান এবং আমর দণ্ডায়মান নয়।
আবেশনমূলক প্রমাণের ভিত্তিতে এটি তিন ভাগে বিভক্ত:
১ - আকলী (বুদ্ধিবৃত্তিক) হুকুম: এটি হলো এমন বিষয় যাতে বিবেক ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে কোনো সম্পর্কের অনুধাবন করে। যেমন: ইতিবাচকভাবে—সমগ্র অংশ অপেক্ষা বড়। নেতিবাচকভাবে—অংশ সমগ্র অপেক্ষা বড় নয়।
২ - আদাদী (অভ্যাসগত) হুকুম: এটি হলো এমন বিষয় যাতে অভ্যাসের মাধ্যমে কোনো সম্পর্কের জ্ঞান লাভ হয়। যেমন: স্ক্যামোনি পিত্তনিঃসারক এবং সেকাঞ্জাবিন পিত্ত প্রশমনকারী।
৩ - শরয়ী (শারিয়াতগত) হুকুম: আর এটিই এখানে উদ্দিষ্ট। উসুলবিদদের একটি দল এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে: মুকাল্লাফের (শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর বাণী, এ দিক থেকে যে ব্যক্তিটি তার দ্বারা আদিষ্ট বা দায়বদ্ধ।
সুতরাং "আল্লাহর বাণী" একথার মাধ্যমে অন্য কারও বাণী বহির্ভূত হয়ে গেছে; কারণ একমাত্র মহিয়ান ও গরিয়ান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও কোনো শরয়ী বিধান দেওয়ার অধিকার নেই। তাই অন্য কারও পক্ষ থেকে প্রণীত যেকোনো বিধান বাতিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বিধান তো কেবল আল্লাহরই} [আল-আনআম: ৫৭], {তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহরই কাছে} [আশ-শূরা: ১০], {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও} [আন-নিসা: ৫৯]।
আর "মুকাল্লাফের কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট" একথার মাধ্যমে আল্লাহর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বহির্ভূত হয়ে গেছে, যেমন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই"; এবং যা তাঁর কার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন আল্লাহর বাণী: {তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা} [আল-আনআম: ১০২]; এবং যা মুকাল্লাফদের সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন: {আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, এরপর তোমাদের রূপ দান করেছি} আয়াতটি [আল-আরাফ: ১১]; এবং যা জড় পদার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন: {সেদিন আমি পাহাড়সমূহকে চালিত করব এবং আপনি জমিনকে উন্মুক্ত দেখবেন} [আল-কাহফ: ৪৭]।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৭)
وخرج بقوله "من حيث أنه مكلف به" خطاب اللَّه تعالى المتعلق بفعل المكلَّف لا من حيث أنه مكلَّف به، كقوله تعالى: {يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ (12)} [الانفطار/ 12]، فإنه خطاب من اللَّه متعلق بفعل المكلف من حيث إن الحفظة يعلمونه، لا من حيث إنه مكلف به.
واعلم أنَّ عبارات الأصوليين اضطربت في تعريف الحكم الشرعي، وسبب اضطرابها أمران:
أحدهما: أنَّ بعضَ المكلفين غير موجود وقتَ الخطاب، والمعدوم ليس بشيء حتى يخاطب.
ثانيهما: زعمهم أنَّ الخطاب هو نفس المعنى الأزلي القائم بالذات المجردِ عن الصيغة.
وسنبين إن شاء اللَّه تعالى غلطهم الذي سبَّب لهم تلك الإشكالات في مبحث الأمر.
واعلم أنَّ الحكم الشرعيَّ قسمان:
أولهما: تكليفي، وهو خمسة أقسام: الواجب والمندوب والمباح والمكروه والحرام.
والثاني: خطاب الوضع، وهو أربعة أقسام: العلل والأسباب والشروط والموانع.
وأدخل بعضُهم فيه الصحةَ والفساد، والرخصةَ والعزيمة، وبعضُهم يجعل الصحة والفساد من خطاب التكليف.
তার "যেহেতু তা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে" উক্তিটির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সেই সম্বোধন বাদ পড়েছে যা মুকাল্লাফের (বিধান পালনে উপযুক্ত ব্যক্তি) কার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, কিন্তু তা পালনের নির্দেশের দিক থেকে নয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা জানে যা তোমরা করো (১২)} [আল-ইনফিতার: ১২]। কেননা এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সম্বোধন যা মুকাল্লাফের কার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট এই দিক থেকে যে সংরক্ষণকারী ফেরেশতারা তা জানেন, এই দিক থেকে নয় যে তাকে তা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেনে রাখুন যে, শরঈ বিধানের (হুকুম শরঈ) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে উসুলবিদগণের বক্তব্যসমূহে অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়, আর এই অস্থিরতার কারণ দুটি:
প্রথমটি: সম্বোধনের সময় মুকাল্লাফদের কেউ কেউ বিদ্যমান ছিল না, আর যা অস্তিত্বহীন তা এমন কিছু নয় যাকে সম্বোধন করা যায়।
দ্বিতীয়টি: তাদের এই দাবি যে, সম্বোধন হলো আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান সেই অনাদি অর্থ যা শব্দ বা রূপ (সিগাহ) থেকে মুক্ত।
আল্লাহ তাআলা চাইলে আদেশের (আমর) আলোচনায় আমরা তাদের সেই ভুলটি স্পষ্ট করব যা তাদের মাঝে এই জটিলতাগুলোর সৃষ্টি করেছে।
জেনে রাখুন যে, শরঈ বিধান দুই প্রকার:
প্রথমটি: তাকলিফি (পালনযোগ্য বিধান), যা পাঁচ প্রকার: ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ, মাকরুহ এবং হারাম।
দ্বিতীয়টি: ওয়াদয়ি সম্বোধন (নির্ধারক বিধান), যা চার প্রকার: ইল্লাত (প্রভাবক কারণ), আসবাব (কারণসমূহ), শুরুত (শর্তসমূহ) এবং মাওয়ানি (প্রতিবন্ধকসমূহ)।
তাদের কেউ কেউ এর মধ্যে সহিহ (সঠিকতা) ও ফাসাদ (অসারতা) এবং রুখসাত (ছাড়) ও আযিমতকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; আবার কেউ কেউ সহিহ ও ফাসাদকে হুকুম তাকলিফির অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৮)
إذا علمت ذلك فهذه تفاصيل الأحكام الشرعية.
قال المؤلف
(1) رحمه الله:
(أقسامُ أحكام التكليف خمسة: واجب ومندوب ومباح ومكروه ومحظور).
التكليف لغة: هو إلزام ما فيه كلفة، أي مشقة.
ومنه قول الخنساء:
يُكَلِّفُه القومُ ما نابهم
… وإنْ كان أصغرهم مولدًا
وقول علقمة بن عبدة التميمي:
تكلِّفني ليلى وقد شَطَّ وَلْيُها
… وعادت عوادٍ بيننا وخطوبُ
وحده في الاصطلاخ: قيل: "إلزام ما فيه مشقة".
وقيل: "طلب ما فيه مشقة".
فعلى الأول لا يدخل في حده إلا الواجب والحرام؛ إذْ لا إلزام بغيرهما، وعلى الثاني يدخل معهما المندوب والمكروه؛ لأنَّ الأربعة مطلوبة.
وأما الجائز فلا يدخل في تعريف من تعاريف التكليف؛ إذْ لا طلب به أصلاً، فعلا ولا تركًا، وإنَّما أدخلوه في أقسام التكليف مسامحةً
--------------------------------------------
আপনি যখন এটি জানলেন, তবে এগুলো শরয়ী বিধানের বিস্তারিত বিবরণ।
লেখক
(১) (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন:
(তাকলীফের বিধানের প্রকারসমূহ পাঁচটি: ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ, মাকরূহ এবং মাহযুর [নিষিদ্ধ])।
আভিধানিকভাবে তাকলীফ হলো: যাতে কষ্ট অর্থাৎ কাঠিন্য আছে তা বাধ্যতামূলক করা।
আর এর উদাহরণ আল-খানসার উক্তি:
কওম তাকে তাদের ওপর আপতিত বিপদে বাধ্য করে
… যদিও সে তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ জন্মগতভাবে
এবং আলকামা ইবনে আবদাহ আত-তামিমীর উক্তি:
লায়লা আমাকে কষ্টে ফেলছে অথচ তার সান্নিধ্য দূরে সরে গেছে
… এবং আমাদের মাঝে বহু বাধা ও বিপদরাজি ফিরে এসেছে
পরিভাষায় এর সংজ্ঞা: বলা হয়েছে: "কষ্টসাধ্য বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা"।
এবং বলা হয়েছে: "কষ্টসাধ্য বিষয় তলব করা বা চাওয়া"।
প্রথম সংজ্ঞানুযায়ী এর সীমানায় ওয়াজিব এবং হারাম ব্যতীত অন্য কিছু প্রবেশ করে না; কেননা এই দুটি ছাড়া অন্য কোনোটিতে বাধ্যবাধকতা নেই। আর দ্বিতীয় সংজ্ঞানুযায়ী এ দুটির সাথে মানদুব এবং মাকরূহও যুক্ত হয়; কারণ এই চারটিই তলবকৃত বা চাওয়া হয়েছে।
আর জায়েয (বৈধ) বিষয়টি তাকলীফের কোনো সংজ্ঞাতেই অন্তর্ভুক্ত হয় না; কারণ এতে করা বা না করার ব্যাপারে মূলত কোনো তলব বা চাহিদা নেই। তারা একে তাকলীফের প্রকারভেদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন কেবল সহজীকরণের খাতিরে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وتكميلًا للقسمة المشار إليها بقول المؤلف
(1): (وجه هذه القسمة أن خطاب الشرع إمَّا أنْ يَرِدَ باقتضاءِ الفعلِ أو التركِ أو التخيير بينهما، فالذي يَرِدُ باقتضاءِ الفعل أمرٌ، فإن اقترن به إشعارٌ بعدم العقاب على الترك فهو ندب، وإلا فيكون إيجابًا، والذي يَرِدُ باقتضاء التركِ نهيٌ، فإن أشعر بعدم العقاب على الفعل فكراهةٌ، وإلا فحظرٌ).
كلامه واضح.
الواجب
ثم قال
(2): (وحد الواجب: "ما تُوُعِّدَ بالعقاب على تركه".
وقيل: "ما يعاقب تاركه".
وقيل: "ما يلزم تاركه شرعًا العقاب").
اعلم أولًا: أنَّ الوجوب في اللغة هو سقوط الشيء لازمًا محلَّه، كسقوط الشخص ميتًا، فإنه يسقط لازمًا محلَّه لانقطاع حركته بالموت، ومنه قوله تعالى: {فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا} [الحج/ 36] أي سقطت ميتة لازمة محلَّها، وقوله صلى الله عليه وسلم في الميت: "فإذا وجب فلا تبكين باكية".
وقول قيس بن الخطيم:
أطاعت بنو عوفٍ أميرًا نهاهمُ
… عن السِّلْمِ حتى كان أول واجبِ
ويطلق الوجوب على اللزوم.
--------------------------------------------
লেখকের
(১) বক্তব্যের মাধ্যমে নির্দেশিত বিভাজনের পূর্ণতা দানে: (এই বিভাজনের স্বরূপ হলো, শরীয়তের সম্বোধন হয় কোনো কাজ সম্পাদন করার দাবি জানাবে, অথবা বর্জন করার দাবি জানাবে, অথবা উভয়ের মধ্যে স্বাধীনতা প্রদান করবে। যা কাজ করার দাবি নিয়ে আসে তা হলো নির্দেশ, যদি এর সাথে বর্জনের কারণে শাস্তি না হওয়ার ইঙ্গিত থাকে তবে তা পছন্দনীয় (মানদুব), অন্যথায় তা অবশ্যকরণীয় (ইজাব)। আর যা বর্জনের দাবি নিয়ে আসে তা হলো নিষেধ, যদি তাতে কাজটি করার কারণে শাস্তি না হওয়ার ইঙ্গিত থাকে তবে তা অপছন্দনীয় (কারাহাত), অন্যথায় তা নিষিদ্ধ (হাযর বা হারাম)।)।
তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট।
ওয়াজিব
অতপর তিনি বলেছেন
(২): (ওয়াজিবের সংজ্ঞা: "যার বর্জনের ওপর শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে।"
বলা হয়েছে: "যার বর্জনকারীকে শাস্তি দেওয়া হয়।"
আরও বলা হয়েছে: "শরীয়তগতভাবে যার বর্জনকারীর ওপর শাস্তি অবধারিত হয়।")
প্রথমেই জেনে রাখুন: আভিধানিক অর্থে 'অজুব' (ওয়াজিব হওয়া) হলো কোনো জিনিসের তার নিজ স্থানে দৃঢ়ভাবে পড়ে যাওয়া, যেমন কোনো ব্যক্তির মৃত অবস্থায় পড়ে যাওয়া; কেননা মৃত্যুর কারণে তার নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে তার স্থানে দৃঢ়ভাবে পড়ে থাকে। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন তাদের পার্শ্বদেশ (ভূমিতে) পড়ে যায়} [হজ: ৩৬], অর্থাৎ মৃত অবস্থায় নিজ স্থানে পড়ে যায়। এবং মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যখন সে ওয়াজিব হবে (অর্থাৎ মারা যাবে), তখন কোনো ক্রন্দনকারিণী যেন বিলাপ না করে।"
এবং কায়স ইবনুল খাতীমের কবিতা:
বনু আওফ এমন এক আমীরের আনুগত্য করল যে তাদের সন্ধি করতে বারণ করেছিল
… শেষ পর্যন্ত সে-ই প্রথম ভূপাতিত (নিহত) হলো।
এছাড়া 'অজুব' শব্দটি 'অপরিহার্যতা' অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وفي الاصطلاح عرَّفه المؤلف بأنه: "ما تُوُعِّدَ بالعقاب على تركه". والوعيد بالعقاب على تركه لا ينافي المغفرة، كما بيَّنه تعالى بقوله: {وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء/ 48].
وإن شئت قلت في حد الواجب: "ما أُمر به أمرًا جازمًا".
وضابطه: أن فاعله موعود بالثواب، وتاركه متوعد بالعقاب، كالصلاة والزكاة والصوم.
قال المؤلف
(1) رحمه الله:
(والفرض هو الواجب على إحدى الروايتين).
فحاصل كلامه أنَّ الفرض هو الواجب على إحدى الروايتين، وهو قول الشافعي ومالك، وعلى الرواية الأخرى فالفرض آكدُ من الواجب، فالفرضُ ما ثبت بدليل قطعيٍّ كالصلاة، والواجب ما ثبت بدليل ظنيٍّ كالعمرة عند من أوجبها، وهو قول أبي حنيفة.
وقيل: الفرضُ ما لا يسامَحُ بتركه عمدًا ولا سهوًا كأركان الصلاة، والواجب ما يسامَحُ فيه إن وقع من غير عمدٍ كالصلاة بالنجاسة عند من يقول بالمسامحة في ذلك.
واصطلح كثير من العلماء من مالكية وشافعية وحنابلة على إطلاق الواجب على السنة المؤكدة تأكيدًا قويًّا.
--------------------------------------------
পরিভাষায় লেখক একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "যার বর্জনে শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে"। বর্জনের কারণে শাস্তির হুমকি ক্ষমা পাওয়ার পরিপন্থী নয়, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে স্পষ্ট করেছেন: "এবং তিনি এ ছাড়া অন্য যা কিছু তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন" [আন-নিসা: ৪৮]।
আর আপনি চাইলে ওয়াজিবের সংজ্ঞায় বলতে পারেন: "যা পালনের জন্য সুনিশ্চিতভাবে আদেশ করা হয়েছে"।
এর মাপকাঠি হলো: এর সম্পাদনকারী সওয়াবের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত এবং এর বর্জনকারী শাস্তির হুমকিপ্ৰাপ্ত, যেমন সালাত, জাকাত ও সাওম।
লেখক
(১) রহিমাহুল্লাহ বলেন:
(এবং দুটি বর্ণনার একটি অনুযায়ী ফরজই হলো ওয়াজিব)।
তাঁর কথার সারসংক্ষেপ হলো, দুটি বর্ণনার একটি অনুযায়ী ফরজ ও ওয়াজিব অভিন্ন, আর এটি শাফিঈ ও মালিকের মত। অন্য বর্ণনা অনুযায়ী ফরজ ওয়াজিবের চেয়ে অধিক সুদৃঢ়; সুতরাং ফরজ হলো যা অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত, যেমন সালাত। আর ওয়াজিব হলো যা ধারণাপ্রসূত দলিল দ্বারা প্রমাণিত, যেমন ওমরাহ—যাঁরা একে ওয়াজিব বলেন তাঁদের নিকট। এটি আবু হানিফার অভিমত।
আরও বলা হয়েছে: ফরজ হলো তা যার বর্জন ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয়, যেমন সালাতের আরকানসমূহ। আর ওয়াজিব হলো তা যা অনিচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হলে মার্জনা করা হয়, যেমন নাপাকি অবস্থায় সালাত আদায় করা—যাঁরা এ ক্ষেত্রে মার্জনা করার কথা বলেন তাঁদের নিকট।
মালিকি, শাফিঈ এবং হাম্বলি মাযহাবের অনেক আলিম অত্যন্ত সুদৃঢ় তাকিদ বা গুরুত্ব বুঝাতে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহর ওপর ওয়াজিব শব্দের প্রয়োগ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১১)
فصل
قال المؤلف
(1) رحمه الله:
(والواجب ينقسم إلى معيَّن وإلى مبهم في أقسام محصورة. . .).
اعلم أن الواجب ينقسمُ ثلاثة تقسيمات:
1 - ينقسم باعتبار ذاته إلى واجب معيَّن لا يقومُ غيرُه مقامه، كالصوم والصلاة.
وإلى مبهم في أقسام محصورة، فهو واجبٌ لا بعينه، كواحدةٍ من خصال الكفارة في قوله تعالى: {فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ} [المائدة/ 89]، فالواجب واحد منها لا بعينه، فأي واحد فعله الحانث أجزأه.
وزَعْمُ المعتزلة أنَّ التخيير مطلقًا ينافي ذلك الوجوب باطلٌ؛ لأنَّه لم يخير بين الفعل والترك تخييرًا مطلقًا حتى ينافي ذلك الوجوب، بل لا يجوز ترك بعضها إلا مشروطًا بفعل بعضٍ آخر منها، فلو ترك جميعها لكان آثمًا، ولا خيار له في ترك الجميع، ولا يجب عليه فعل جميعها إجماعًا.
فتبين أن الواجب واحدٌ منها لا بعينه؛ لأن كل واحد منها يفي بالمقصود الشرعي، ولا يحصل دون واحد منها.
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ
লেখক
(১) (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন) বলেছেন:
(ওয়াজিব সীমাবদ্ধ প্রকারসমূহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট এবং অনির্ধারিত—এই দুই ভাগে বিভক্ত. . .)।
জেনে রাখুন যে, ওয়াজিব তিনটি ভাগে বিভক্ত:
১ - স্বীয় সত্তার বিচারে এটি এমন সুনির্দিষ্ট ওয়াজিব হিসেবে বিভক্ত হয় যার স্থলাভিষিক্ত অন্য কিছু হতে পারে না, যেমন রোজা ও নামাজ।
এবং সীমাবদ্ধ প্রকারসমূহের মধ্যে অনির্ধারিত ওয়াজিব হিসেবে বিভক্ত হয়, ফলে তা নির্দিষ্টভাবে কোনো একটি নয়, বরং মহান আল্লাহর বাণী: {এর কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে খাবার দান করা} [আল-মায়িদাহ/ ৮৯]—এ বর্ণিত কাফফারার প্রকারগুলোর যেকোনো একটির মতো। এক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো এগুলোর মধ্য থেকে অনির্দিষ্টভাবে কোনো একটি; সুতরাং শপথ ভঙ্গকারী ব্যক্তি এর যেকোনো একটি পালন করলে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।
আর মুতাজিলাদের এই দাবি বাতিল যে, কোনো কিছু বেছে নেওয়ার সুযোগ (তাকয়ীর) থাকা সেই ওয়াজিব হওয়ার পরিপন্থী; কারণ তাকে কাজ করা এবং না করার মধ্যে নিঃশর্তভাবে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি যা সেই ওয়াজিব হওয়ার পরিপন্থী হতে পারে। বরং এগুলোর কোনো একটি বর্জন করা বৈধ নয় অন্য কোনোটি পালন করার শর্ত ছাড়া। সুতরাং সে যদি সবগুলোই বর্জন করে তবে সে গুনাহগার হবে, আর সবগুলো বর্জন করার ব্যাপারে তার কোনো এখতিয়ার নেই। আবার সর্বসম্মতিক্রমে সবগুলো পালন করাও তার জন্য আবশ্যক নয়।
সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, ওয়াজিব হলো এগুলোর মধ্য থেকে অনির্দিষ্টভাবে যেকোনো একটি; কারণ এগুলোর প্রতিটিই শরিয়তের উদ্দেশ্য পূরণ করে এবং এগুলোর যেকোনো একটি পালন করা ছাড়া সেই উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১২)
وكذلك غير المحصورة، كإعتاق رقبة في الظهار أو اليمين، فإن الواجب في ذلك رقبة لا بعينها من غير حصر لما تجب منه.
ونظير ذلك تزويج المرأة الطالبة للنكاح من أحد الكفأين الخاطبين، وعقد الإمامة لأحد الرجلين الصالحين؛ فإن كل ذلك يجب في واحد لا بعينه، ولا يمكن أن يقال فيه بإيجاب الجميع ولا بسقوط إيجاب الجميع كما ترى.
2 - وينقسمُ الواجبُ -أيضًا- باعتبار وقته إلى مضيَّقٍ وموسَّع.
فالواجبُ المضيَّقٌ: هو ما وقتُه مضيَّق.
وضابطُ ما وقتُه مضيَّقٌ واجبًا كان أو غيره: هو ما لا يسع وقتُه أكثر من فعله، كصومِ رمضانَ في الواجب، وستة من شوال عند من يقول بأنَّها لابد أَن تكون متتابعة تلي يوم الفطر، وهو ظاهر حديث أبي أيوب، وحديث ثوبان، والأيام البيضِ في غير الواجب.
والواجبُ الموسَّعُ هو ما يسعُ وقتُه أكثر من فعله، كالصلوات الخمس. ومثالُه في غير الواجب: الوتر، وركعتا الفجر، والعيدان، والضحى.
والوقت في الاصطلاح: هو الزمن الذي قدَّره الشارع للعبادة.
وما زعمه بعضهم من أنَّ الواجب الموسع مستحيل، زاعمًا أنَّ التخيير في فعل العبادة ذات الوقت الموسع في أول الوقت ووسطه ينافي الوجوب، إذ الواجب حتمٌ، لا تخييرَ فيه، ولا يجوز تركه = فهو باطل -أي الزعم بأنَّ الواجب الموسع مستحيل-؛ لأن الواجب
অনুরূপভাবে অনির্ধারিত (ওয়াজিব), যেমন যিহার বা শপথের কাফফারায় একজন দাস মুক্ত করা। এক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি ছাড়াই একজন দাস, যা হতে ওয়াজিব আদায় হবে তার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
এর দৃষ্টান্ত হলো বিবাহপ্রার্থিনী কোনো নারীকে দুইজন উপযুক্ত পাণিপ্রার্থীর কোনো একজনের সাথে বিবাহ দেয়া, এবং দুইজন যোগ্য ব্যক্তির মধ্য থেকে কোনো একজনের জন্য ইমামতের (নেতৃত্বের) চুক্তি সম্পাদন করা। কারণ এর প্রতিটিই অনির্দিষ্ট একজনের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হয়। এক্ষেত্রে যেমনটা দেখছেন, সবগুলোকে ওয়াজিব বলাও সম্ভব নয়, আবার সবার উপর থেকে ওয়াজিবের আবশ্যকতা বাতিল হয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়।
২ - সময়ের বিবেচনায় ওয়াজিব পুনরায় দুই ভাগে বিভক্ত: সংকীর্ণ (মুদায়্যাক) ও প্রশস্ত (মুওয়াসসা)।
সংকীর্ণ ওয়াজিব হলো: যার সময় সংকীর্ণ।
সংকীর্ণ সময়ের সংজ্ঞা—তা ওয়াজিব হোক বা অন্য কিছু—হলো: যার সময় সেই আমলটি একবার করার অতিরিক্ত সময় সংকুলান করে না। যেমন ওয়াজিবের মধ্যে রমজানের রোজা, এবং শাওয়ালের ছয় রোজা তাদের মতে যারা বলেন যে তা ঈদুল ফিতরের পরের দিন থেকে ধারাবাহিকভাবে পালন করতে হবে—আর এটিই আবু আইয়ুব ও সাওবান বর্ণিত হাদিসের বাহ্যিক অর্থ—এবং নফল বা মুস্তাহাব আমলের মধ্যে 'আইয়ামে বিজ'-এর রোজা।
প্রশস্ত ওয়াজিব হলো: যার সময় সেই আমলটি একবার করার চেয়ে অধিক সময় সংকুলান করে, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। ওয়াজিব ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: বিতর, ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত), দুই ঈদ এবং চাশতের সালাত।
পারিভাষিক অর্থে 'ওয়াক্ত' বা সময় হলো: সেই সময়কাল যা শরিয়ত প্রণেতা কোনো ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
কেউ কেউ যে দাবি করেছেন যে, প্রশস্ত ওয়াজিব হওয়া অসম্ভব—এই দাবিতে যে, প্রশস্ত সময়ের শুরুতে বা মাঝখানে ইবাদত পালনের ইখতিয়ার থাকা ওয়াজিব হওয়ার পরিপন্থী, যেহেতু ওয়াজিব হলো অবধারিত বিষয় যাতে কোনো ইখতিয়ার নেই এবং যা বর্জন করা জায়েজ নয়—তাদের এই দাবি (অর্থাৎ প্রশস্ত ওয়াজিব অসম্ভব হওয়া) বাতিল। কারণ ওয়াজিব...
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الموسع من قبيل الواجب المبهم في واحد لا بعينه، كالصلاة يجب أن تؤدى في حصةٍ من حصص الوقت لا بعينها، كوجوب واحدةٍ من خصال الكفارة لا بعينها، فأي حصة من حصص الوقت من أوله أو وسطه أو آخره فعل فيها الصلاة أجزأته، كما أن أي واحدة من خصال الكفارة فعلها أجزأته.
وقد أجمع العلماءُ على أنَّ من أدى الصلاة في أول وقتها أنه يثاب ثواب الفرض، وتلزمه نية الفرض -محلُّ الاستدلال لزومُ نية الفرض مع جواز التأخير-؛ فدلَّ ذلك على بطلان قول من قال: إنه لو وجبت في أول الوقت لما جاز ترك أدائها إلى وسط الوقت أو آخره، وتبين أنها غير واجبة في أول الوقت، لأن التخيير في تركها في ذلك الوقت إلى ما بعده ينافي الوجوب، ولا شك أن ذلك كله باطل كما بينا.
3 - وينقسم الواجبُ -أيضًا- باعتبار فاعله إلى واجب عينيٍّ وواجب على الكفاية.
فالواجب العيني: هو ما يَنْظُرُ فيه الشارع إلى ذات الفاعل، كالصلاة والزكاة والصوم؛ لأن كل شخص تلزمه بعينه طاعة اللَّه عز وجل؛ لقوله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56)} [الذاريات/ 56].
وأمَّا الواجب على الكفاية فضابطه أنه ما يَنْظُرُ فيه الشارعُ إلى نفس الفعل، بقطع النظر عن فاعله، كدفن الميت، وإنقاذ الغريق، ونحو ذلك؛ فإنَّ الشارع لم ينظر إلى عين الشخص الذي يدفن الميت أو ينقذ الغريق، إذ لا فرق عنده في ذلك بين زيد وعمرو، وإنما ينظر إلى نفس
মুওয়াসসা' (প্রসারিত) ওয়াজিব হলো অনির্দিষ্ট একটি বিষয়ের মধ্যে অস্পষ্ট ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। যেমন সালাত ওয়াক্তের যে কোনো একটি অনির্দিষ্ট অংশে আদায় করা আবশ্যক; এটি কাফফারার প্রকারসমূহের মধ্য থেকে অনির্দিষ্ট একটি আদায় করার আবশ্যিকতার মতো। সুতরাং ওয়াক্তের শুরু, মধ্য বা শেষ—যেকোনো অংশে সালাত আদায় করলে তা যথেষ্ট হবে, ঠিক যেমন কাফফারার যে কোনো একটি প্রকার আদায় করলে যথেষ্ট হয়।
ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করবে, সে ফরযের সওয়াব পাবে এবং তার জন্য ফরযের নিয়ত করা আবশ্যক—এখানে প্রমাণের বিষয়টি হলো বিলম্ব করা জায়েজ হওয়া সত্ত্বেও ফরযের নিয়ত করা আবশ্যক হওয়া—। এটি সেই ব্যক্তির কথার অসারতা প্রমাণ করে যে বলেছিল: যদি এটি ওয়াক্তের শুরুতেই ওয়াজিব হতো, তবে মধ্যভাগ বা শেষ ভাগ পর্যন্ত এটি ছেড়ে দেওয়া জায়েজ হতো না। এবং এতে এটিও প্রকাশ পায় যে, এটি ওয়াক্তের শুরুতে ওয়াজিব নয়; কারণ সেই সময়ে তা বর্জন করে পরবর্তীতে আদায়ের এখতিয়ার থাকা 'ওয়াজিব' হওয়ার সংজ্ঞার পরিপন্থী। নিঃসন্দেহে আমরা যেমনটি ব্যাখ্যা করেছি, তার পুরোটাই বাতিল বা অসার।
৩ - পালনকারীর বিবেচনায় ওয়াজিব আবারও দুই ভাগে বিভক্ত: ওয়াজিবে আইনি এবং ওয়াজিবে কিফায়া।
ওয়াজিবে আইনি হলো: যাতে বিধানদাতা সরাসরি পালনকারীর সত্তার দিকে দৃষ্টি দেন, যেমন সালাত, জাকাত ও সিয়াম। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর ব্যক্তিগতভাবে মহান আল্লাহর আনুগত্য করা আবশ্যক; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি (৫৬)" [আয-যারিয়াত/ ৫৬]।
আর ওয়াজিবে কিফায়ার মানদণ্ড হলো: যাতে বিধানদাতা পালনকারীর দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে কেবল কাজের প্রতিই দৃষ্টি দেন, যেমন মৃতদেহ দাফন করা, ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা এবং এই জাতীয় কাজসমূহ। কেননা বিধানদাতা মৃতদেহ দাফনকারী বা ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধারকারী ব্যক্তির নির্দিষ্ট পরিচয়ের দিকে লক্ষ্য করেননি; কারণ তার কাছে এক্ষেত্রে জায়েদ ও আমরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বরং তিনি কেবল কাজের সত্তার প্রতিই দৃষ্টি দেন...
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفعل الذي هو الدفن والإنقاذ مثلًا، وستأتي مسألة فرضِ الكفاية في مباحث الأمر -إن شاء اللَّه تعالى-.
فصل
قال المؤلف
(1):
(إذا أخرَّ الواجب الموسَّع فمات في أثناء وقته قبل ضيقه لم يمت عاصيًا. . .) الخ.
خلاصة ما ذكره المؤلف في هذا الفصل أنَّ المكلف إذا مات في أول الوقت أو وسطه والحال أنه لم يؤدِّ الصلاة لم يمت عاصيًا؛ لأن الوقت موسع، والوقت الموسع يجوزُ للإنسان أن يأتي بالصلاة في أية حصة شاءها من حصصه، سواءً كانت من أوله أو وسطه أو آخره.
وأمَّا إن مات والحالُ أنه لم يبق من الوقت قدر ما يسع الصلاة، فإنه إذًا يموت غير عاصٍ فيما إذا لم يغلبْ على ظنه أنه يموت في أول الوقت أو وسطه، كالمحكوم عليه بالقتل مع تعيين وقت التنفيذ؛ لأن الوقت يضيق في حقِّه بسبب ظن الموت.
فلو تخلف الظن وسلم من الموت، وأدى الصلاة في آخر الوقت، فهل تكون صلاته أداء -وهو الظاهر؛ لوقوعها في الوقت- أو تكون قضاءً ولو وقعت في آخر الوقت، بناءً على أن الوقت ضاق في حقه بسبب ظن الموت، بدليل أنه لو مات في الوقت مع ظن الموت
--------------------------------------------
সেই কাজ যা যেমন দাফন করা এবং উদ্ধার করা; আর ফরজে কিফায়ার বিষয়টি সামনে আদেশের আলোচনায় আসবে - ইনশাআল্লাহ তা'আলা।
পরিচ্ছেদ
লেখক
(১) বলেছেন:
(যদি কেউ ওয়াজিবে মুওয়াসসা (প্রশস্ত সময়ের ওয়াজিব) বিলম্বিত করে এবং সময় সংকীর্ণ হওয়ার পূর্বেই সময়ের মাঝখানে মারা যায়, তবে সে গুনাহগার হয়ে মরবে না. . .) ইত্যাদি।
এই পরিচ্ছেদে লেখক যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো এই যে, মুকাল্লাফ ব্যক্তি যদি সময়ের শুরুতে বা মাঝখানে এমন অবস্থায় মারা যায় যে সে সালাত আদায় করেনি, তবে সে গুনাহগার হয়ে মরবে না; কারণ সময়টি প্রশস্ত (মুওয়াসসা)। আর প্রশস্ত সময়ে মানুষের জন্য এটি বৈধ যে সে সময়ের যে কোনো অংশে সালাত আদায় করবে, চাই তা সময়ের শুরুতে হোক, মাঝে হোক কিংবা শেষে হোক।
আর যদি সে এমন অবস্থায় মারা যায় যে সময়ের আর সালাত আদায়ের পরিমাণ অংশ অবশিষ্ট নেই, তখন সে গুনাহগার হবে না যদি তার মধ্যে এই প্রবল ধারণা না থাকে যে সে সময়ের শুরুতে বা মাঝখানে মারা যাবে—যেমন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি যার দণ্ড কার্যকরের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে; কারণ মৃত্যুর প্রবল ধারণার কারণে তার ক্ষেত্রে সময়টি সংকীর্ণ হয়ে যায়।
এখন যদি সেই ধারণাটি না ফলে এবং সে মৃত্যু থেকে রক্ষা পায় এবং শেষ সময়ে সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত কি ‘আদা’ হবে—আর এটিই প্রকাশ্যত সঠিক; যেহেতু তা সময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছে—নাকি তা ‘কাযা’ হবে যদিও তা শেষ সময়েই হয়েছে? এর ভিত্তি হলো এই যে, মৃত্যুর প্রবল ধারণার কারণে তার ক্ষেত্রে সময়টি সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, যার প্রমাণ হলো সে যদি মৃত্যুর প্রবল ধারণাসহ সময়ের মধ্যে মারা যেত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولم يبادر بالصلاة مات عاصيًا؟
فصل
قال المؤلف
(1):
(ما لا يتم الواجب إلا به ينقسم إلى ما ليس داخلًا تحت قدرة المكلف، كالقدرة واليد في الكتابة، وحضور الإمام والعدد في الجمعة، فلا يوصف بوجوب.
وإلى ما هو داخلٌ تحت قدرة العبد فيما يتعلقُ باختيار العبد، كالطهارة للصلاة، والسعي للجمعة، وغسل جزءٍ من الرأس، وإمساك جزءٍ من الليل مع النهار في الصوم، فهو واجب. . .) الخ.
حاصل معنى كلامه رحمه الله أنَّ ما لا يتم الواجب إلَّا به قسمان:
1 - قسم ليس تحت قدرة العبد، كزوال الشمس لوجوب الظهر، وككون مَنْ تعينت عليه الكتابةُ مقطوع اليدين، وكحضور الإمام والعدد الذي لا تصح الجمعة بدونه، فلا قدرة للمكلَّف على قهر الإمام والجماعة على الحضور إلى المسجد، فهذا النوعُ لا يوصف بوجوبٍ إلَّا على قول من جوَّز التكليف بما لا يُطاق، وهو مذهبٌ باطلٌ مردود.
2 - وقسمٌ تحت قدرة العبد، كالطهارة للصلاة، والسعي للجمعة، وغسل جزءٍ من الرأس، إذْ لا يتحققُ تعميمُ غسل الوجه إلا
--------------------------------------------
এবং সে কি সালাতের প্রতি দ্রুত অগ্রসর না হয়ে গুনাহগার হিসেবে মারা যাবে?
পরিচ্ছেদ
লেখক
(১) বলেছেন:
(যা ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না তা এমন ভাগে বিভক্ত যা মুকাল্লাফের সক্ষমতার আওতাধীন নয়, যেমন লেখার ক্ষেত্রে সক্ষমতা ও হাত থাকা, এবং জুমুআ’র ক্ষেত্রে ইমামের উপস্থিতি ও মুসল্লিদের সংখ্যা; সুতরাং একে ওয়াজিব বলে অভিহিত করা হবে না।
আর যা বান্দার সক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত এবং তার ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন সালাতের জন্য পবিত্রতা অর্জন, জুমুআ’র জন্য গমন করা, মাথার কিছু অংশ ধৌত করা এবং সিয়ামের ক্ষেত্রে দিনের সাথে রাতের কিছু অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকা, তা ওয়াজিব...) ইত্যাদি।
তাঁর (রহ.) বক্তব্যের সারকথা হলো, যা ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না তা দুই প্রকার:
১ - এমন প্রকার যা বান্দার সক্ষমতার বাইরে, যেমন যুহর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সূর্য ঢলে পড়া, যার ওপর লেখা নির্ধারিত হয়েছে তার উভয় হাত কাটা থাকা এবং ইমামের উপস্থিতি ও মুসল্লিদের সংখ্যা যা ছাড়া জুমুআ সহীহ হয় না। ইমাম ও জামাআতকে মসজিদে উপস্থিত হতে বাধ্য করার ব্যাপারে মুকাল্লাফের কোনো সক্ষমতা নেই। সুতরাং এই প্রকারটি ওয়াজিব হিসেবে অভিহিত হবে না, কেবল তাদের মত ব্যতীত যারা অসাধ্য সাধনের দায়িত্ব অর্পণকে (তাকলিফ মা লা ইউতাক) বৈধ মনে করেন, আর এটি একটি বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত মতবাদ।
২ - আর এমন প্রকার যা বান্দার সক্ষমতার অধীন, যেমন সালাতের জন্য পবিত্রতা অর্জন, জুমুআ’র জন্য গমন করা এবং মাথার কিছু অংশ ধৌত করা। কারণ মুখমণ্ডল ধৌত করার পূর্ণতা অর্জিত হয় না যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بغسل جزءٍ يسير من الرأس، وإمساك جزءٍ من الليل مع النهار، إذ لا يتحقق الإمساك في جميع نهار رمضان إلا بإِمساك جزء يسير من الليل، بناءً على أنَّ الغاية في قوله تعالى: {حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ} الآية [البقرة/ 187] خارجة، وهو الصحيح؛ لأنَّ من أخَّر الإمساك عن جميع أجزاء الليل بتمامها فهو متناولٌ للفطر قطعًا في نهار رمضان، إذ لا واسطة بين الليل والنهار، وما جاء من الأحاديث موهمًا جوازَ تناولِ المفطر بعد الصبح، فهو محمولٌ على أن المراد به أنَّه في آخر جزءٍ من الليل، لشدة قربه من النهار.
وهذا القسم الأخير أعني ما هو تحت قدرة المكلَّف، قال المؤلفُ: إنه واجب. هذا حاصلُ معنى كلامه رحمه الله.
قال مقيِّده -عفا اللَّه عنه-: وهذا التقسيمُ غيرُ جيد.
وحاصلُ تحرير المقام أن يقال: ما لا يتم الواجب إلَّا به ثلاثة أقسام:
1 - قسمٌ ليس تحت قدرة العبد، كما مثَّلنا له آنفًا.
2 - وقسمٌ تحت قدرة العبد عادةً إلا أنَّه لم يؤمر بتحصيله، كالنصاب لوجوب الزكاة، والاستطاعة لوجوب الحج، والإقامة لوجوب الصوم.
وهذان القسمان لا يجبان إجماعًا.
3 - القسمُ الثالث: ما هو تحت قدرة العبد مع أنَّه مأمورٌ به، كالطهارة للصلاة، والسعي للجمعة. . . الخ. وهذا واجب على
মাথার সামান্য অংশ ধৌত করার মাধ্যমে এবং দিনের সাথে রাতের সামান্য অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে; যেহেতু রমজানের পূর্ণ দিবসে পানাহার থেকে বিরত থাকা রাতের সামান্য অংশ বিরত থাকা ব্যতীত অর্জিত হয় না। এটি আল্লাহ তাআলার বাণী: "যতক্ষণ না তোমাদের নিকট সাদা সুতা স্পষ্ট হয়ে যায়" [আল-বাকারা: ১৮৭] আয়াতের প্রান্তসীমাটি (সিয়ামের) বহির্ভূত হওয়ার বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে, আর এটিই সঠিক। কারণ যে ব্যক্তি রাতের সকল অংশ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকাকে বিলম্বিত করবে, সে নিশ্চিতভাবেই রমজানের দিনের মধ্যে রোজা ভঙ্গকারী কিছু গ্রহণ করল। কেননা রাত ও দিনের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী সময় নেই। আর যেসব হাদিস সকাল হওয়ার পর রোজা ভঙ্গকারী কিছু গ্রহণের বৈধতার সংশয় তৈরি করে, সেগুলোকে রাতের শেষ অংশের ওপর প্রয়োগ করা হবে, দিনের সাথে তার প্রবল নৈকট্যের কারণে।
এই শেষোক্ত প্রকার, অর্থাৎ যা মুকাল্লাফের (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) সামর্থ্যের অধীন, সে সম্পর্কে লেখক বলেছেন: এটি ওয়াজিব। এটিই তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্যের সারমর্ম।
এর টীকাকার—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—বলেছেন: এই বিভাগটি যথাযথ নয়।
এই প্রসঙ্গের পর্যালোচনার সারকথা হলো এই যে, যা ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না তা তিন প্রকার:
১ - এমন প্রকার যা বান্দার সামর্থ্যের অধীন নয়, যেমনটি আমরা একটু আগে উদাহরণ দিয়েছি।
২ - এমন প্রকার যা সাধারণত বান্দার সামর্থ্যের অধীন, তবে তা অর্জন করার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যেমন: জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব, হজ ওয়াজিব হওয়ার জন্য সক্ষমতা এবং রোজা ওয়াজিব হওয়ার জন্য মুকিম হওয়া।
এই দুই প্রকার সর্বসম্মতভাবে ওয়াজিব নয়।
৩ - তৃতীয় প্রকার: যা বান্দার সামর্থ্যের অধীন হওয়ার পাশাপাশি তাকে তা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যেমন নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা, জুমার জন্য গমন করা... ইত্যাদি। আর এটি ওয়াজিব...
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التحقيق.
وإن شئت قلت: ما لا يتم الواجبُ المطلقُ إلا به فهو واجبٌ، كالطهارة للصلاة، وما لايتمُّ الواجب المعلَّق -أي المعلَّق على شرطٍ، كالزكاةِ معلقة على ملك النصاب، والحج على الاستطاعة- إلَّا به فليس بواجبٍ، كالنصاب للزكاة، والاستطاعة للحج.
وأوضح من هذا كلَّه أن تقول: مالا يتم الواجبُ إلا به فهو واجب، كالطهارة للصلاة، وما لا يتم الوجوب إلا به فليس بواجب، كالنصاب للزكاة.
تنبيه:
اعلم أنَّ الطهارة للصلاة واجبةٌ إجماعًا كما لا يخفى، وحينئذ فعلى أنَّ ما لا يتم الواجب المطلق إلَّا به واجب، فجميع النصوص الموجبة للصلاة توجب الطهارة؛ لأنها لا تتم إلَّا بها، وما لا يتم الواجب إلَّا به واجب، وإن كانت الطهارة واجبةً بأدلةٍ أخرى، إذْ لا مانع من تعدد الأدلة، وعلى العكس فالطهارة واجبةٌ بالنصوص الأخرى فقط دون النصوصِ الموجبة للصلاة.
فصل
قال المؤلف
(1) رحمه الله:
(وإذا اختلطت أختُه بأجنبيةٍ أو ميتةٌ بمذكاةٍ حرَّمنا الميتة بعلةِ
--------------------------------------------
বিশ্লেষণ।
আর আপনি চাইলে বলতে পারেন: যা ছাড়া নিরঙ্কুশ ওয়াজিব (আল-ওয়াজিব আল-মুতলাক) সম্পন্ন হয় না, সেই মাধ্যমটিও ওয়াজিব; যেমন নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন। আর যা ছাড়া স্থগিত ওয়াজিব (আল-ওয়াজিব আল-মুআল্লাক) —অর্থাৎ যা কোনো শর্তের ওপর স্থগিত, যেমন জাকাত নিসাব মালিকানার ওপর এবং হজ সামর্থ্যের ওপর স্থগিত— সম্পন্ন হয় না, সেই মাধ্যমটি ওয়াজিব নয়; যেমন জাকাতের জন্য নিসাব এবং হজের জন্য সামর্থ্য।
আর এই সবকিছুর চেয়েও স্পষ্টতর কথা হলো আপনি বলবেন: যা ছাড়া ওয়াজিব সম্পন্ন হয় না, তা ওয়াজিব; যেমন নামাজের জন্য পবিত্রতা। আর যা ছাড়া ওয়াজিব হওয়া (ওজুব) সাব্যস্ত হয় না, তা ওয়াজিব নয়; যেমন জাকাতের জন্য নিসাব।
সতর্কবার্তা:
জেনে রাখুন যে, নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব, যা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। এমতাবস্থায়, যা ছাড়া নিরঙ্কুশ ওয়াজিব সম্পন্ন হয় না তা ওয়াজিব হওয়ার মূলনীতি অনুযায়ী, নামাজকে ওয়াজিবকারী সকল নস (দলিল) পবিত্রতাকেও ওয়াজিব করে; কারণ পবিত্রতা ছাড়া নামাজ সম্পন্ন হয় না, আর যা ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না তা-ও ওয়াজিব। যদিও পবিত্রতা অন্যান্য দলিলের মাধ্যমেও ওয়াজিব, কেননা দলিলের আধিক্যে কোনো বাধা নেই। এর বিপরীতে, পবিত্রতা কেবল অন্যান্য নস বা দলিলের মাধ্যমেই ওয়াজিব হবে, নামাজ ওয়াজিবকারী নসসমূহের মাধ্যমে নয়।
পরিচ্ছেদ
লেখক
(১) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
(আর যখন কারো বোন কোনো অন্য নারীর সাথে মিশে যায়, অথবা মৃত পশু জবেহকৃত পশুর সাথে মিশে যায়, তখন আমরা মৃতটিকে হারাম করি এই কারণে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الموتِ والأخرى بعلة الاشتباه).
هذه المسألةُ يترجم لها علماءُ الأصول بقولهم: "ما لا يتم ترك الحرام إلا بتركه فتركه واجب".
فإن اختلطت ميتةٌ بمذكاة، أو أختُه بأجنبيةٍ، فلا يتم تركُ الحرام الذي هو أكلُ الميتة في الأول ونكاحُ الأُخت في الثاني إلا بترك الجميع، فتركُ الجميع واجب.
وقول المؤلف رحمه الله: حرَّمنا الميتة بعلة الموت والأخرى بعلة الاشتباه، فيه نظرٌ؛ لأنَّ الميتة غيرُ معروفة بعينها، فالجميع محرَّم؛ لأنه لا يتم ترك الحرام إلا بترك الجميع، فكل واحدة أكل منها احتمل أن تكون هي الميتة.
وقول من قال: إنَّ المذكَّاة حلال، لكن يجب الكف عنها، ظاهر التناقض، كما بينه المؤلف.
فصل
قال المؤلف
(1):
(الواجب الذي لا يتقيد بحدٍّ محدودٍ، كالطمأنينة في الركوع والسجود. . .) الخ.
اعلم أولًا أنَّ الزيادة على الواجب لها حالتان:
--------------------------------------------
মৃত্যু এবং অপরটি অস্পষ্টতার কারণে)।
উসুল শাস্ত্রের আলেমগণ এই মাসয়ালাটির শিরোনাম দেন এই বলে: "যে হারামের বর্জন তা বর্জন করা ব্যতীত সম্পন্ন হয় না, সেই বস্তু বর্জন করাও ওয়াজিব"।
সুতরাং যদি মৃত পশু যবেহকৃত পশুর সাথে মিশে যায়, অথবা নিজের বোন কোনো অপরিচিতা নারীর সাথে মিশে যায়, তবে প্রথম ক্ষেত্রে মৃত পশুর গোশত খাওয়া এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বোনকে বিবাহ করার মতো হারাম কাজ বর্জন করা সম্ভব হবে না সবগুলো বর্জন করা ব্যতীত; ফলে সবগুলো বর্জন করাই ওয়াজিব।
আর লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য: "আমরা মৃত পশুকে মৃত্যুর কারণে এবং অপরটিকে অস্পষ্টতার কারণে হারাম করেছি", এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে; কারণ মৃত পশুকে নির্দিষ্টভাবে চেনা যাচ্ছে না, তাই সবগুলোই হারাম; কেননা হারামের বর্জন সবগুলো বর্জন করা ছাড়া সম্ভব নয়। ফলে সেটির মধ্য থেকে যে কোনোটি খেলেই সেটি মৃত পশু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আর যারা বলেন: "যবেহকৃত পশুটি হালাল, তবে তা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব", তাদের এই বক্তব্য স্পষ্টতই স্ববিরোধী, যেমনটি লেখক বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদ
লেখক
(১) বলেছেন:
(এমন ওয়াজিব যা নির্দিষ্ট কোনো সীমার সাথে আবদ্ধ নয়, যেমন রুকু এবং সিজদাহর মধ্যে স্থিরতা...) ইত্যাদি।
প্রথমে জেনে নিন যে, ওয়াজিবের ওপর অতিরিক্ত হওয়ার দুটি অবস্থা রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأولى: أنْ تكون الزيادةُ على الواجب متميزةً عنه، كصلاة النافلة بالنسبة إلى الصلوات الخمس، وهذه الزيادة غيرُ واجبةٍ، كما هو واضح.
الثانية: أن تكون الزيادة غير متميزةٍ عن الواجب، كالزائد على قدر الفرض من الطمأنينة في الركوع والسجود ونحو ذلك، فقال قوم: الزيادة هنا واجبة؛ لأن الجميع امتثالٌ للأمر الواجب، ولم يتميزْ فيه واجب عن غيره، فالكلُّ واجب؛ لأنَّه امتثالٌ للواجب.
والحقُّ أنَّ الزائد غير واجب، والدليلُ على ذلك جوازُ تركه والاقتصار على ما يحصل به الفرض فقط من الطمأنينة من غير شرطٍ ولا بدلٍ.
المندوبقال المؤلف
(1): (الثاني: المندوب).
خلاصة ما ذكره المؤلف في هذا المبحث أنَّ المندوب هو ما في فعله الثواب، وليس في تركه عقاب.
وهذا أجود التعريفين اللذين ذكرهما المؤلف.
وإن شئت قلت: ما أُمِرَ به أمرًا غير جازم.
والتحقيق أنَّ المندوب مأمورٌ به؛ لأنَّ الأمر قسمان:
1 - أمر جازم، أي في تركه العقاب، وهو الواجب.
--------------------------------------------
প্রথমত: ওয়াজিবের অতিরিক্ত অংশটি ওয়াজিব থেকে পৃথক হওয়া, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের তুলনায় নফল সালাত। আর এই অতিরিক্ত অংশটি ওয়াজিব নয়, যেমনটি স্পষ্ট।
দ্বিতীয়ত: অতিরিক্ত অংশটি ওয়াজিব থেকে পৃথক না হওয়া, যেমন রুকু এবং সিজদায় স্থিরতার (তামানিনাহ) ফরয পরিমাণের অতিরিক্ত অংশ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। এমতাবস্থায় একদল আলিম বলেছেন: এখানে অতিরিক্ত অংশটিও ওয়াজিব; কারণ সম্পূর্ণটিই ওয়াজিব নির্দেশের বাস্তবায়ন, আর এতে ওয়াজিব থেকে অন্য কিছু পৃথক করা হয়নি। সুতরাং সম্পূর্ণটিই ওয়াজিব; কারণ এটি ওয়াজিবের অনুপালন।
সঠিক কথা হলো যে, অতিরিক্ত অংশটি ওয়াজিব নয়। এর প্রমাণ হলো—তা ছেড়ে দেওয়া এবং কোনো শর্ত বা বিনিময় ছাড়াই কেবল সেই পরিমাণ স্থিরতার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা বৈধ যার দ্বারা ফরয আদায় হয়ে যায়।
মানদুব (পছন্দনীয়)লেখক
(১) বলেন: (দ্বিতীয়ত: মানদুব)।
এই পরিচ্ছেদে লেখক যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো—মানদুব এমন কাজ যা করলে সওয়াব পাওয়া যায়, আর বর্জন করলে কোনো শাস্তি নেই।
আর এটি লেখকের উল্লেখ করা দুটি সংজ্ঞার মধ্যে অধিকতর উত্তম।
আপনি চাইলে বলতে পারেন: যা করার জন্য অটল বা চূড়ান্ত নয় এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সঠিক বিশ্লেষণ হলো যে, মানদুবও নির্দেশিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; কারণ নির্দেশ দুই প্রকার:
১ - অটল বা চূড়ান্ত নির্দেশ, অর্থাৎ যার বর্জনে শাস্তি রয়েছে, আর তা হলো ওয়াজিব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২০)
2 - وأمر غير جازم، أي لا عقاب في تركه، وهو المندوب.
والدليل على شمول الأمر للمندوب قوله تعالى: {وَافْعَلُوا الْخَيْرَ} [الحج/ 77]. أي ومنه المندوب.
{وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ} [لقمان/ 17] أي ومنه المندوب.
{إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى} [النحل/ 90] أي ومن الإحسان وإيتاء ذي القربى ما هو مندوب.
واحتجَّ من قال: إنَّ الندب غير مأمور به بقوله: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ (63)} [النور/ 63]، قالوا: في الآية التوعدُ على مخالفة الأمر بالفتنة والعذاب الأليم، والندبُ لا يستلزمُ تركه شيئًا من ذلك.
وبحديث: "لولا أنْ أشقَّ على أمتي لأمرتهم بالسواك عند كلَّ صلاة" مع أنه ندبهم إلى السواك، قالوا: فدلَّ ذلك على أنَّ الندب غير مأمور به.
والجوابُ أنَّ الأمر في الآية والحديث المذكورين يراد به الأمرُ الواجب، فلا ينافي أن يطلق الأمر -أيضًا- على غير الواجب، وقد قدَّمنا أنَّ الأمر يطلق على هذا وهذا.
وزعمُ من قال إنَّ الندب تخييرٌ؛ بدليل جواز تركه، والأمر استدعاءٌ وطلب، والتخيير والطلب متنافيان = زعمٌ غير صحيح؛ لأن الندب ليس تخييرًا مطلقًا؛ بدليل أن الفعل فيه أرجحُ من الترك؛ للثواب في فعله وعدم الثواب في تركه، ولأنَّ المندوب -أيضًا- مطلوبٌ إلا أنَّ
২ - এবং এমন নির্দেশ যা বাধ্যতামূলক নয়, অর্থাৎ যা বর্জনে কোনো শাস্তি নেই, আর তা হলো মানদুব।
নির্দেশ (আমর)-এর অন্তর্ভুক্ত মানদুব হওয়ার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা কল্যাণকর কাজ করো} [হজ/ ৭৭]। অর্থাৎ যার অন্তর্ভুক্ত হলো মানদুব।
{এবং তুমি সৎ কাজের নির্দেশ দাও} [লুকমান/ ১৭] অর্থাৎ যার অন্তর্ভুক্ত হলো মানদুব।
{নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, ইহসান এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন} [নাহল/ ৯০] অর্থাৎ ইহসান ও নিকটাত্মীয়দের দান করার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা মানদুব।
যারা বলেন যে, মানদুব আদিষ্ট বিষয় নয়, তারা এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে} [নূর/ ৬৩]। তারা বলেন: এই আয়াতে নির্দেশের বিরোধিতা করার কারণে ফিতনা ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে, অথচ মানদুব বর্জনের ক্ষেত্রে এগুলোর কোনোটিই আবশ্যক হয় না।
এবং এই হাদিসের মাধ্যমে (দলিল দেন): "আমি যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টসাধ্য মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" যদিও তিনি তাদের মেসওয়াক করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তারা বলেন: এটি প্রমাণ করে যে মানদুব আদিষ্ট বিষয় নয়।
এর উত্তর হলো, উল্লিখিত আয়াত ও হাদিসে 'নির্দেশ' (আমর) দ্বারা বাধ্যতামূলক নির্দেশ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটি 'নির্দেশ' শব্দটি অ-বাধ্যতামূলক বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হওয়াকে নাকচ করে না। আর আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, 'নির্দেশ' শব্দটি এই উভয় প্রকারের জন্যই ব্যবহৃত হয়।
যারা দাবি করেন যে মানদুব হলো ঐচ্ছিকতা; দলিল হিসেবে তারা বলেন যে এটি বর্জন করা বৈধ, আর নির্দেশ হলো কোনো কিছু আহ্বান ও তলব করা, আর ঐচ্ছিকতা ও তলব পরস্পর বিরোধী — তাদের এই দাবি সঠিক নয়; কারণ মানদুব নিঃশর্ত ঐচ্ছিকতা নয়; এর প্রমাণ হলো এতে কাজটি করা বর্জন করার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য; কারণ এটি করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় না। এছাড়া মানদুবও তলবকৃত বিষয়, তবে পার্থক্য হলো...
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২১)
طلبه غير جازم.
والندب في اللغة: الدعاءُ إلى الفعل. ومنه قوله:
لا يسألون أخاهم حين يندبهم
… في النائبات على ما قال برهانًا
والثواب في اللغة: الجزاء مطلقًا. ومنه قوله:
لكلِّ أخي مدحِ ثوابٌ علمته
… وليس لمدح الباهلي ثوابُ
أي جزاء.
وزَعْمُ أنَّ الثواب يختصُّ بجزاء الخير بالخير غيرُ صحيح، بل يطلق الثواب أيضًا على جزاء الشرِّ بالشرِّ في اللغة، ومنه قوله تعالى: {قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُمْ بِشَرٍّ مِنْ ذَلِكَ مَثُوبَةً عِنْدَ اللَّهِ مَنْ لَعَنَهُ اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ} الآية [المائدة/ 60]، وقوله تعالى: {هَلْ ثُوِّبَ الْكُفَّارُ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ (36)} [المطففين: 36].
والعقابُ في اللفة التنكيل على المعصية. ومنه قولُ النابغة الذبياني:
ومن عصاكَ فعاقِبْهُ معاقبةً
… تنهى الظلومَ ولا تقعد على ضَمَدِ
المباحقال المؤلف
(1) رحمه الله:
--------------------------------------------
এটি এমন যা চাওয়া হয়েছে অদৃঢ়ভাবে (বা বাধ্যতামূলক নয়)।
এবং আভিধানিক অর্থে ‘নদব’ হলো: কোনো কাজের প্রতি আহ্বান করা। কবির সেই উক্তিটিও এর অন্তর্ভুক্ত:
বিপদ-আপদে তিনি যখন তাদের আহ্বান করেন তখন তারা তাদের ভাইকে (প্রমাণের জন্য) প্রশ্ন করে না
… যা তিনি প্রামাণিক হিসেবে বলেছেন তার ওপর
এবং আভিধানিক অর্থে ‘সাওয়াব’ হলো: সাধারণভাবে যেকোনো প্রতিদান। কবির সেই উক্তিটিও এর অন্তর্ভুক্ত:
প্রত্যেক প্রশংসাকারীর জন্য তুমি জানো যে প্রতিদান রয়েছে
… কিন্তু বাহিলী বংশের প্রশংসার কোনো প্রতিদান নেই
অর্থাৎ কোনো বিনিময় নেই।
আর এই দাবি করা যে, ‘সাওয়াব’ কেবল কল্যাণের বিনিময়ে কল্যাণের জন্য নির্দিষ্ট, তা সঠিক নয়; বরং আভিধানিক অর্থে মন্দের বিনিময়ে মন্দ প্রদানের ক্ষেত্রেও ‘সাওয়াব’ শব্দের প্রয়োগ হয়। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট এর চেয়েও মন্দ পরিণাম (সাওয়াব) সম্পর্কে সংবাদ দেব? আল্লাহ যাকে লানত করেছেন এবং যার ওপর ক্রোধান্বিত হয়েছেন এবং যাদের মধ্য থেকে বানর ও শূকর বানিয়েছেন...} আয়াত [সূরা আল-মায়িদাহ: ৬০], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কাফিররা যা করত, তার প্রতিদান (সাওয়াব) কি তারা পেয়েছে?} [সূরা আল-মুতাফফিফীন: ৩৬]।
এবং আভিধানিক অর্থে ‘ইকাব’ হলো অবাধ্যতার কারণে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান। এ প্রসঙ্গে নাবিগাহ আদ-দুবইয়ানীর বক্তব্য:
আর যে তোমার অবাধ্য হবে তাকে এমন শাস্তি দাও
… যা জালিমকে বিরত রাখবে এবং তুমি ক্ষোভ বা অসন্তোষ নিয়ে বসে থেকো না
মুবাহলেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) বলেছেন:
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২২)
(القسمُ الثالث: المباح. وحدُّه: ما أذن اللَّه في فعله وتركه غير مقترن بذم فاعله وتاركه ولا مدحه، وهو من الشرع. . .) الخ كلامه.
اعلم أن الإباحة عند أهل الأصول قسمان:
1 - الأولى: إباحةٌ شرعية، أي عُرِفَتْ من قِبَل الشرع، كإباحة الجماع في ليالي رمضان المنصوص عليها بقوله: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ} [البقرة/ 187]، وتسمى هذه الإباحة: الإباحة الشرعية.
2 - الثانية: إباحةٌ عقلية، وهي تسمى في الاصطلاح: البراءة الأصلية، والإباحة العقلية، وهي بعينها استصحاب العدم الأصليِّ حتى يرد دليل ناقل عنه.
ومن فوائد الفرق بين الإباحتين المذكورتين أن رفع الإباحة الشرعية يُسمَّى نسخًا، كرفع إباحة الفطر في رمضان، وجعل الإطعام بدلًا عن الصوم المنصوص في قوله: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ} [البقرة/ 184]، فإنه منسوخ بقوله: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} [البقرة/ 185].
وأما الإباحةُ العقليةُ فليس رفعُها نسخًا؛ لأنَّها ليست حكمًا شرعيًّا، بل عقليًّا، ولذا لم يكن تحريم الربا ناسخًا لإباحته في أول الإسلام؛ لأنها إباحةٌ عقلية، وأمثال ذلك كثيرة جدَّا.
والمباح في اللغة: هو ما ليس دونه مانع يمنعه. ومنه قولُ عبيد بن الأبرص:
(তৃতীয় প্রকার: মুবাহ (বৈধ)। এর সংজ্ঞা হলো: আল্লাহ যার করা এবং না করার ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন এবং যার সম্পাদনকারী বা বর্জনকারীর জন্য কোনো নিন্দা বা প্রশংসা যুক্ত নেই, আর এটি শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত...) তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।
জেনে রাখুন যে, উসুলবিদদের মতে বৈধতা (ইবাহাত) দুই প্রকার:
১ - প্রথমটি: শরয়ী বৈধতা, অর্থাৎ যা শরীয়তের পক্ষ থেকে জানা গেছে। যেমন রমজানের রাতে স্ত্রী-সহবাসের বৈধতা, যা আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে নির্ধারিত: "সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে" [আল-বাকারা: ১৮৭]। এই বৈধতাকে বলা হয়: শরয়ী বৈধতা।
২ - দ্বিতীয়টি: আকলী (বুদ্ধিবৃত্তিক) বৈধতা, যা পরিভাষায় 'বারায়াতে আসলিয়্যাহ' (মৌলিক দায়মুক্তি) এবং 'ইবাহাতে আকলীয়্যাহ' নামে পরিচিত। আর এটি মূলত কোনো পরিবর্তনকারী দলিল না আসা পর্যন্ত মৌলিক অবিদ্যমানতাকে (ইস্তিসহাবুল আদামিল আসলি) আঁকড়ে থাকা।
উল্লেখিত দুই প্রকার বৈধতার মধ্যে পার্থক্যের একটি উপকারিতা হলো, শরয়ী বৈধতা তুলে নেওয়াকে 'নাসখ' (রহিতকরণ) বলা হয়। যেমন রমজানে রোজা না রাখার বৈধতা তুলে নেওয়া এবং রোজার পরিবর্তে খাদ্য প্রদানের বিধান যা আল্লাহর এই বাণীতে ছিল: "আর যাদের জন্য এটি (রোজা রাখা) অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, তাদের কর্তব্য হলো ফিদইয়া অর্থাৎ একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো" [আল-বাকারা: ১৮৪]। এটি আল্লাহর এই বাণীর দ্বারা রহিত হয়েছে: "সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে" [আল-বাকারা: ১৮৫]।
পক্ষান্তরে আকলী বৈধতা তুলে নেওয়া 'নাসখ' নয়; কারণ এটি কোনো শরয়ী বিধান নয়, বরং আকলী বিষয়। এই কারণেই ইসলামের প্রাথমিক যুগে সুদের বৈধতা রহিত হয়ে যখন তা হারাম করা হয়, তখন তাকে 'নাসখ' বলা হয়নি; কারণ তা ছিল আকলী বৈধতা। এ ধরনের উদাহরণ অনেক রয়েছে।
শাব্দিক অর্থে মুবাহ বলতে বোঝায়: যার সম্মুখে কোনো বাধা প্রদানকারী নেই। এর থেকেই ওবায়েদ বিন আল-আবরাসের উক্তি:
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ولقد أبحنا ما حَمَيْت
… ولا مبيح لما حَمَيْنَا
تنبيه:
قد دلَّت آيات من كتاب اللَّه على أنَّ استصحاب العدم الأصلي حجةٌ على عدم المؤاخذة بالفعل حتى يَرِدَ دليلٌ ناقل عن العدم الأصلي.
من ذلك أنهم كانوا يتعاملون بالربا، فلمَّا نزل تحريم الربا خافوا من أكل الأموال الحاصلة منه بأيديهم قبل تحريم الربا، فأنزل اللَّه في ذلك: {فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ} [البقرة/ 275]، فقوله تعالى: {فَلَهُ مَا سَلَفَ} يدلُّ على أن ما تعاملوا به من الرِّبا على حكم البراءة الأصلية قبل نزول التحريم لا مؤاخدة عليهم به.
ونظير ذلك قوله: {وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ} [النساء/ 22]، وقوله تعالى: {وَأَنْ تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ} [النساء/ 23]، فإنَّ قوله تعالى: {إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ} في الموضعين استثناء منقطع، أي لكن ما سلف قبل التحريم على حكم البراءة الأصلية، فهو عفو.
ونظائر هذا في القرآن الكريم كثيرة، ومن أصرح الآيات في ذلك قوله تعالى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّى يُبَيِّنَ لَهُمْ مَا يَتَّقُونَ} [التوبة/ 115] فإنهم لمَّا استغفروا لموتاهم المشركين، فنزل قوله تعالى: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى} [التوبة/ 113] ندموا على استغفارهم للمشركين،
আর আমরা বৈধ করেছি যা আপনি নিষিদ্ধ করেছিলেন
… এবং আমরা যা নিষিদ্ধ করেছি তার কোনো বৈধকারী নেই
সতর্কীকরণ:
আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ এই বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করেছে যে, মূলগত অবিদ্যমানতার (Adam al-Asli) অনুবৃত্তি এই বিষয়ের ওপর দলিল যে, মূলগত অবিদ্যমানতা থেকে বিচ্যুতকারী কোনো দলিল না আসা পর্যন্ত কৃতকর্মের জন্য কোনো জবাবদিহিতা থাকবে না।
এর উদাহরণ হলো, তারা সুদের কারবার করত। যখন সুদ হারাম হওয়ার বিধান অবতীর্ণ হলো, তখন তারা সুদ হারাম হওয়ার পূর্বে তাদের হাতে আসা উপার্জিত সম্পদ ভোগ করার বিষয়ে ভীত হলো। তখন আল্লাহ এ বিষয়ে অবতীর্ণ করলেন: {অতঃপর যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ পৌঁছাল এবং সে বিরত হলো, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই, আর তার বিষয় আল্লাহর নিকট সোপর্দ।} [আল-বাকারা/ ২৭৫]। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: {তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই} একথাই প্রমাণ করে যে, হারাম হওয়ার বিধান নাযিলের পূর্বে তারা সুদের মাধ্যমে যা লেনদেন করেছে তা মূলগত দায়মুক্তির বিধানের (Bara'ah al-Asliyyah) অন্তর্ভুক্ত, এর জন্য তাদের ওপর কোনো পাকড়াও বা জবাবদিহিতা নেই।
এর সদৃশ হলো তাঁর বাণী: {আর তোমাদের পিতারা যে নারীদের বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না, তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তার কথা ভিন্ন।} [আন-নিসা/ ২২] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করাও (নিষিদ্ধ), তবে যা অতীতে হয়ে গেছে।} [আন-নিসা/ ২৩]। কেননা মহান আল্লাহর বাণী: {তবে যা অতীতে হয়ে গেছে}—উভয় স্থানেই এটি বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম (Istithna Munqati), অর্থাৎ হারাম হওয়ার আগে যা গত হয়েছে তা মূলগত দায়মুক্তির বিধানের ওপর বহাল ছিল, সুতরাং তা ক্ষমাযোগ্য।
পবিত্র কুরআনে এর বহু সদৃশ উদাহরণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট আয়াত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করার পর পথভ্রষ্ট করেন না, যতক্ষণ না তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন যে কী থেকে তারা বেঁচে থাকবে।} [আত-তাওবাহ/ ১১৫]। কেননা যখন তারা তাদের মুশরিক মৃত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, তখন মহান আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হলো: {নবী ও ঈমানদারদের জন্য উচিত নয় যে তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়।} [আত-তাওবাহ/ ১১৩]। তখন তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হলেন,
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فأنزل اللَّه الآية مبينة أن ما فعلوه من الاستغفار لهم على حكم البراءة الأصلية قبل نزول التحريم، لا مؤاخذة عليهم به حتى يحصل بيان ما ينهى عنه.
فصل
قال المؤلف
(1) -رحمه اللَّه تعالى-:
(واختلف في الأفعال وفي
الأعيان المنتفع بها قبل ورود الشرع بحكمها. . .) الخ.
اعلم أنَّ خلاصة ما ذكره المؤلف -رحمه اللَّه تعالى- في هذا المبحث: أنَّ حكم الأفعال والأعيان -أي الذوات المنتفع بها- قبل أن يرد فيها حكمٌ من الشرع فيها ثلاثة مذاهب:
الأول: أنها على الإباحة، وهو الذي يميلُ إليه المؤلف. واستدل بقوله تعالى: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا} [البقرة/ 29]، فإنَّه تعالى امتنَّ على خلقه بما في الأرض جميعًا، ولا يمتن إلَّا بمباح، إذْ لا منَّة في محرَّم.
واستدلَّ لإباحتها أيضًا بصيغ الحصر في الآيات، كقوله: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ} [الأعراف/ 33]، وقوله تعالى: {قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ} الآية [الأنعام/ 145]، {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ
--------------------------------------------
আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে তাদের জন্য তারা যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল তা মৌলিক নির্দোষিতার বিধানের অন্তর্ভুক্ত ছিল; যতক্ষণ না যা নিষেধ করা হয়েছে তার স্পষ্ট বর্ণনা আসে, ততক্ষণ তাদের কোনো দায় বা পাকড়াও নেই।
পরিচ্ছেদ
লেখক
(১) -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- বলেছেন:
(শরিয়তের বিধান আসার পূর্বে মানুষের কার্যাবলি এবং ব্যবহারোপযোগী বস্তুসমূহের বিধান সম্পর্কে মতভেদ হয়েছে...) ইত্যাদি।
জেনে রাখুন যে, লেখক -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- এই আলোচনায় যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: শরিয়তের বিধান আসার পূর্বে মানুষের কার্যাবলি এবং বস্তুসমূহ—অর্থাৎ যেসব সত্তা বা জিনিস থেকে উপকৃত হওয়া যায়—সেগুলোর বিধানের ক্ষেত্রে তিনটি মত রয়েছে:
প্রথমত: এগুলো বৈধতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর লেখকের ঝোঁক এই মতের দিকেই। তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন} [আল-বাকারা: ২৯]। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি জমিনের সবকিছু দিয়ে অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আর অনুগ্রহ কেবল বৈধ বস্তুর মাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়; কারণ নিষিদ্ধ বস্তুর মধ্যে কোনো অনুগ্রহ নেই।
এগুলোর বৈধতার সপক্ষে তিনি আয়াতসমূহে সীমাবদ্ধকরণ বা নির্দিষ্টকরণের পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমেও দলিল দিয়েছেন, যেমন আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমার প্রতিপালক তো কেবল অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন} [আল-আরাফ: ৩৩]। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, আমার প্রতি ওহি করা বিষয়ের মধ্যে আমি ভক্ষণকারীর জন্য কোনো কিছু হারাম পাই না যা সে ভক্ষণ করে, তবে তা যদি মৃত প্রাণী হয় অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের মাংস হয়...} [আল-আনআম: ১৪৫]। {বলুন, তোমরা এসো, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তা পাঠ করি...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ} الآية [الأنعام/ 151].
واستدل لذلك أيضًا بحديث: "الحلال ما أحله اللَّه في كتابه، والحرام ما حرَّمه اللَّه في كتابه، وما سكت عنه فهو ممَّا عفا عنه".
المذهب الثاني: أنّ ذلك على التحريم حتى يرد دليل الإباحة. واستدل لهذا بأنَّ الأصل منع التصرف في ملك الغير بغير إذنه، وجميع الأشياء ملك للَّه جلَّ وعلا فلا يجوز التصرف فيها إلا بعد إذنه.
ونوقش هذا الاستدلالُ بأنَّ منع التصرف في ملك الغير إنَّما يَقْبُحُ عادةً في حقِّ من يتضرر بالتصرف في ملكه، وأنه يقبح عادةً المنع ممَّا لا ضرر فيه، كالاستظلالِ بظلِّ حائطِ إنسانٍ، والانتفاع بضوءِ ناره، والله جلَّ وعلا لا يلحقه ضرر من انتفاع مخلوقاته بالتصرف في ملكه.
المذهب الثالث: التوقف عنه حتى يرد دليلٌ مبيِّن للحكم فيه.
واعلم أن لعلماء الأصول في هذا المبحث تفصيلًا لم يذكره المؤلف، ولكنه أشار إليه إشارة خفية، وهو أنهم يقولون: الأعيان -مثلًا- لها ثلاث حالات:
1 - إمَّا أن يكون فيها ضررٌ محضٌ ولا نفع فيها البتة، كأكل الأعشاب السامة القاتلة.
2 - وإمَّا أن يكون فيها نفعٌ محض، ولا ضرر فيها أصلًا.
3 - وإمَّا أن يكون فيها نفع من جهةٍ وضرر من جهةٍ.
فإن كان فيها الضرر وحده ولا نفع فيها، أو كان ضررها أرجح من
তোমাদের রব তোমাদের ওপর।} আয়াত [আল-আন‘আম/ ১৫১]।
এর সপক্ষে এই হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করা হয়েছে: "হালাল হলো তা-ই যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে হালাল করেছেন, আর হারাম হলো তা-ই যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে হারাম করেছেন; আর যে বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন, তা সেই সবের অন্তর্ভুক্ত যা তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।"
দ্বিতীয় মত: তা হারামের অন্তর্ভুক্ত হবে যতক্ষণ না বৈধতার কোনো দলিল আসে। এর সপক্ষে দলিল দেওয়া হয়েছে যে, মূলনীতি হলো অনুমতি ব্যতীত অন্যের মালিকানাধীন বস্তুতে হস্তক্ষেপ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া; আর সমস্ত কিছু মহান আল্লাহর মালিকানাধীন, তাই তাঁর অনুমতি ব্যতীত সেগুলোতে হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়।
এই দলিলের পর্যালোচনা করা হয়েছে এভাবে যে, অন্যের মালিকানাধীন বস্তুতে হস্তক্ষেপ থেকে বাধা দেওয়া সাধারণত কেবল তখনই নিন্দনীয় হয় যখন মালিকের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে; আর যাতে কোনো ক্ষতি নেই তা থেকে বাধা দেওয়া সাধারণত নিন্দনীয়, যেমন কারো দেয়ালের ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া এবং তার আগুনের আলো থেকে উপকৃত হওয়া। অথচ মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির পক্ষ থেকে তাঁর মালিকানাধীন বস্তুর ব্যবহারে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হন না।
তৃতীয় মত: এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া থেকে বিরত থাকা (তাওয়াক্কুফ) যতক্ষণ না এর বিধান স্পষ্টকারী কোনো দলিল আসে।
জেনে রাখুন যে, উসুলবিদগণের এই পরিচ্ছেদে একটি বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে যা লেখক উল্লেখ করেননি, তবে তিনি সেদিকে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত করেছেন। তা হলো তারা বলেন: বস্তুসমূহ—উদাহরণস্বরূপ—তিন অবস্থার অধিকারী হতে পারে:
১ - হয় তাতে কেবল নিরবচ্ছিন্ন ক্ষতি থাকবে এবং তাতে বিন্দুমাত্র কোনো উপকার থাকবে না, যেমন প্রাণঘাতী বিষাক্ত লতাগুল্ম খাওয়া।
২ - অথবা তাতে কেবল নিরবচ্ছিন্ন উপকার থাকবে এবং আদতে কোনো ক্ষতি থাকবে না।
৩ - অথবা এক দিক থেকে তাতে উপকার থাকবে এবং অন্য দিক থেকে ক্ষতি থাকবে।
যদি তাতে কেবল ক্ষতিই থাকে এবং কোনো উপকার না থাকে, অথবা যদি তার ক্ষতির দিকটি বেশি হয়...
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
نفعها أو مساويًا له = فهي حرام؛ لقوله صلى الله عليه وسلم "لا ضرر ولا ضرار".
وإن كان نفعها خالصًا لا ضرر معه، أو معه ضرر خفيف والنفع أرجح منه = فأظهر الأقوال الجواز.
وقد أشار المؤلف إلى هذا التفصيل بقوله: (المنتفع بها)؛ فمفهومه أنَّ ما لا نفع فيه لا يدخلُ في كلامه.
قال المؤلف
(1) رحمه الله: (المباح غير مأمور به. .) الخ.
من المعلومِ أنَّ المباحَ لم يُؤْمَرْ به، لا تركًا ولا فعلًا، وقد قدَّمنا أنه لا يدخلُ في تعريف التكليف بوجهٍ من الوجوه، وإنَّما عدوه من أقسام الحكم التكليفي مسامحةً وتكميلًا للقسمة، كما تقدَّم.
المكروهقال المؤلف
(2) رحمه الله:
(القسم الرابع: المكروه، وهو ما تركُه خيرٌ من فعله، وقد يطلق ذلك على المحظور، وعلى ما نُهي عنه نهي تنزيه، فلا يتعلق بفعله عقاب. . .) الخ.
كلامه واضح.
والمكروه في اللغة: اسم مفعول كرهه، إذا أبغضه ولم يحبه، فكلُّ
--------------------------------------------
উপকারিতার সমান (ক্ষতি) হলে = তা হারাম; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই বাণীর কারণে: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না"।
আর যদি এর উপকারিতাটি নিরেট হয় এবং তাতে কোনো ক্ষতি না থাকে, অথবা সামান্য ক্ষতি থাকলেও উপকারিতাটি তার চেয়ে অধিক প্রবল হয় = তবে মতসমূহের মধ্যে অধিক স্পষ্ট মত হলো এর বৈধতা।
লেখক তাঁর (যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়) — এই বক্তব্যের মাধ্যমে এই বিস্তারিত বিশ্লেষণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন; সুতরাং এর সারমর্ম হলো, যাতে কোনো উপকারিতা নেই তা তাঁর আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়।
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (মুুবাহ কোনো আদিষ্ট বিষয় নয়...) ইত্যাদি।
এটি সুপরিজ্ঞাত যে, মুুবাহ বিষয় পালন বা বর্জন কোনো ক্ষেত্রেই আদিষ্ট নয়। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, এটি কোনোভাবেই শরয়ি দায়বদ্ধতার (তাকলিফ) সংজ্ঞার আওতাভুক্ত হয় না। ইতিপূর্বে যেমনটি অতিক্রান্ত হয়েছে, কেবল বিভাজনকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য এবং শিথিলতার ভিত্তিতে একে হুকমে তাকলিফি বা বিধিবদ্ধ বিধানের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মাকরূহলেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
(চতুর্থ প্রকার: মাকরূহ; আর তা হলো এমন বিষয় যা করার চেয়ে বর্জন করা উত্তম। কখনও কখনও শব্দটি নিষিদ্ধ (মাহযুর) এবং ঐ বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা থেকে তানজিহ বা মর্যাদাগতভাবে নিষেধ করা হয়েছে, সুতরাং তা করার সাথে কোনো শাস্তি সংশ্লিষ্ট নয়...) ইত্যাদি।
তাঁর বক্তব্য সুস্পষ্ট।
শাব্দিক অর্থে মাকরূহ শব্দটি 'কারাহা' থেকে উদ্গত কর্মবাচক বিশেষ্য (ইসম মাফউল), যখন কেউ কোনো কিছুকে অপছন্দ করে বা ঘৃণা করে; সুতরাং প্রত্যেক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بغيض إلى النفوس فهو مكروه في اللغة، ومنه قوله تعالى: {كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ
(1) عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا (38)} [الإسراء/ 38].
وقولُ عمرو بن الإطْنابة:
وإقدامي على المكروه نفسي
… وضربي هامة البطل المشيح
واعلم أن المكروه قد يطلق على الحرام؛ لأنه بغيض إلى النفوس العارفة، وذلك هو معنى قول المؤلف: (وقد يطلق ذلك على المحظور)، فالإشارة في قوله "ذلك" راجعة إلى المكروه والمحظور والحرام.
ومراده أن الكراهة قد تُطلق على كراهة التحريم وكراهة التنزيه، كما هو معروف في كلام العلماء.
وعرِّف المكروه في الاصطلاح بأنه: هو ما تركه خير من فعله.
وإن شئت قلت: هو ما نهي عنه نهيًا غير جازم.
فصل
قال المؤلف
(2) رحمه الله:
(و
الأمرُ المطلقُ لا يتناول المكروه؛ لأن الأمر استدعاء وطلب، والمكروه غير مستدعًى ولا مطلوب، ولأن الأمر ضد النهي، فيستحيل
--------------------------------------------
যা আত্মার কাছে ঘৃণিত, শাব্দিক অর্থে তা-ই মাকরূহ (অপছন্দনীয়)। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {এসবের মধ্যে যা মন্দ
(১), তা তোমার রবের কাছে অপছন্দনীয় (মাকরূহ) (৩৮)} [আল-ইসরা: ৩৮]।
এবং আমর ইবনে আল-ইতনাবার উক্তি:
অপ্রিয় বিষয়ের প্রতি আমার আত্মার দুঃসাহস
… এবং সতর্ক বীরের মস্তকে আমার আঘাত
জেনে রাখুন যে, মাকরূহ শব্দটি কখনো হারামের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; কারণ তা তত্ত্বজ্ঞানী ব্যক্তিদের আত্মার কাছে ঘৃণিত। আর এটিই হলো লেখকের বক্তব্যের মর্মার্থ: (কখনো কখনো তা নিষিদ্ধের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়), সুতরাং তাঁর বক্তব্যে "তা" শব্দটি দ্বারা মাকরূহ, নিষিদ্ধ এবং হারামকে বোঝানো হয়েছে।
তাঁর উদ্দেশ্য হলো, কারাহাত বা অপছন্দনীয়তা শব্দটি কখনো কারাহাতে তাহরিমি এবং কখনো কারাহাতে তানযিহি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি আলেমদের বক্তব্যে সুপরিচিত।
পারিভাষিক সংজ্ঞায় মাকরূহকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে যে: যার বর্জন তার করার চেয়ে উত্তম।
আপনি চাইলে বলতে পারেন: এটি এমন বিষয় যা থেকে অদৃঢ়ভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদ
লেখক
(২) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:
(এবং
সাধারণ আদেশ মাকরূহকে অন্তর্ভুক্ত করে না; কারণ আদেশ হলো কোনো কিছুর তলব বা আহ্বান করা, আর মাকরূহ কোনো তলবকৃত বা কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। তদুপরি আদেশ হলো নিষেধের বিপরীত, সুতরাং এটি অসম্ভব
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أنْ يكون الشيء مأمورًا به ومنهيًّا عنه، وإذا قلنا: إنَّ المباح ليس بمأمور فالنهي عنه أولى).
إيضاحُ معنى كلامه رحمه الله:
أن المأمور به إذا كان بعض جزئياته منهيًّا عنه نهي تنزيه أو تحريم لا يدخلُ ذلك المنهيٌّ عنه منها في المأمور به؛ لأنَّ النهي ضدُّ الأمر، والشيء لا يدخل في ضدِّه، خلافًا لبعض الحنفية القائلين بدخوله فيه، فتحيَّةُ المسجد مثلًا مأمور بها، فإذا دخل المسجد وقت نهي، فتلك الصلاة المنهي عنها لوقت النهي لم تدخل في الأمر للمضادة التي بين الأمر والنهي، وهكذا.
وقال الشافعي رحمه الله: إنَّ الصلوات ذوات الأسباب الخاصة لم يتناولها النهي، فهي داخلة في الأمر؛ لأنَّها لم تدخل في النهي.
الحرامقال المؤلف
(1) رحمه الله:
(القسم الخامس: الحرام ضد الواجب).
اعلم أنَّ الحرام صفةٌ مشبهةٌ باسم الفاعل، لأنه الوصف مِنْ حَرُمَ الشيءُ فهو حرام.
--------------------------------------------
কোনো বিষয় একইসাথে আদেশকৃত এবং নিষিদ্ধ হওয়া; আর যদি আমরা বলি যে, মুবাহ (বৈধ) বিষয় আদেশকৃত নয়, তবে তা নিষিদ্ধ হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত)।
তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) কথার অর্থের স্পষ্টীকরণ:
নিশ্চয়ই আদেশকৃত বিষয়ের কোনো কোনো অংশ যদি অপছন্দনীয় (তানজিহি) বা হারাম হিসেবে নিষিদ্ধ হয়, তবে সেই নিষিদ্ধ অংশটি আদিষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ নিষেধ হলো আদেশের বিপরীত, আর কোনো বস্তু তার বিপরীতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। এটি কিছু হানাফি ফকিহদের মতের বিপরীত, যারা মনে করেন যে তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে। উদাহরণস্বরূপ, তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায়ের আদেশ দেওয়া হয়েছে; এখন কেউ যদি নিষিদ্ধ সময়ে মসজিদে প্রবেশ করে, তবে নিষিদ্ধ সময়ের কারণে সেই নিষিদ্ধ সালাতটি আদেশের অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ আদেশ ও নিষেধের মধ্যে বৈপরীত্য বিদ্যমান। বিষয়টি এভাবেই চলবে।
ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: নিশ্চয়ই বিশেষ কারণ বিশিষ্ট সালাতসমূহ নিষেধের আওতাভুক্ত নয়, তাই সেগুলো আদেশের অন্তর্ভুক্ত; যেহেতু সেগুলো নিষেধের মধ্যে প্রবেশ করেনি।
হারামলেখক
(১) (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
(পঞ্চম প্রকার: হারাম হলো ওয়াজিবের বিপরীত)।
জেনে রাখুন যে, 'হারাম' শব্দটি ইসমুল ফায়িলের সদৃশ বিশেষণ (সিফাতে মুশাব্বাহা), কারণ এটি 'হারুমা' (নিষিদ্ধ হওয়া) ক্রিয়া হতে উদ্গত একটি গুণবাচক শব্দ; সুতরাং তা হারাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والحرام في اللغة: هو الممنوع. ومنه قول امرئ القيس:
جالت لتصرعني فقلتُ لها اقصري
… إني امرؤ صرعي عليك حرام
وقول الآخر:
حرامٌ على عينيَّ أن تطعما الكرى
… وأن تَرْقآ حتى ألاقيك يا هند
وقوله تعالى: {وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِنْ قَبْلُ} [القصص/ 12]، وقوله تعالى: {فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً} [المائدة/ 26]، وقوله تعالى: {وَحَرَامٌ عَلَى قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا} [الأنبياء/ 95] الآيات.
وقوله: "ضد الواجب" يعني أنَّ الحرام في الاصطلاح: هو ما في تركه الثواب وفي فعله العقاب.
وإن شئت قلت: ما نهي عنه نهيًا جازمًا.
وقول المؤلف
(1) رحمه الله:
(فيستحيل أنْ يكون الشيء الواحد واجبًا حرامًا، طاعة ومعصية، من وجهٍ واحد، إلا أن الواحد بالجنس ينقسم إلى واحد بالنوع، وإلى واحد بالعين، أي بالعدد. . .) الخ.
إيضاحُ معنى كلامه رحمه الله أنَّ الوحدة ثلاثة أقسام:
1 - وحدة بالجنس.
--------------------------------------------
আভিধানিক অর্থে হারাম হলো: নিষিদ্ধ। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইমরুল কায়সের উক্তি:
সে আমাকে ধরাশায়ী করার জন্য ঘুরে বেড়ালো, তখন আমি তাকে বললাম: বিরত থাকো
… আমি এমন এক ব্যক্তি যার ওপর তোমার বিজয় নিষিদ্ধ
এবং অন্য এক কবির উক্তি:
আমার চোখের জন্য ঘুম আস্বাদন করা
… এবং অশ্রু বন্ধ হওয়া নিষিদ্ধ, যতক্ষণ না আমি তোমার সাক্ষাৎ পাই হে হিন্দ
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি পূর্বেই তার জন্য ধাত্রীদের স্তন্যপান নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলাম} [কাসাস: ১২], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তা তাদের জন্য চল্লিশ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ} [মায়িদাহ: ২৬], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তার ওপর (প্রত্যাবর্তন) নিষিদ্ধ} [আম্বিয়া: ৯৫] ইত্যাদি আয়াতসমূহ।
এবং তাঁর কথা: "ওয়াজিবের বিপরীত" এর অর্থ হলো পরিভাষায় হারাম হলো: যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং যা লিপ্ত হলে শাস্তির উপযুক্ত হতে হয়।
আর আপনি চাইলে এভাবেও বলতে পারেন: যা থেকে অকাট্যভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
এবং লেখক
(১) রাহিমাহুল্লাহ-এর উক্তি:
(একই বস্তু একই দিক থেকে একই সাথে ওয়াজিব ও হারাম এবং আনুগত্য ও অবাধ্যতা হওয়া অসম্ভব; তবে শ্রেণিগতভাবে এক বিষয়টি প্রজাতিগতভাবে এক এবং সত্তা বা সংখ্যাগতভাবে এক হিসেবে বিভক্ত হয়. . .) ইত্যাদি।
তাঁর রাহিমাহুল্লাহ-এর বক্তব্যের মর্মার্থের ব্যাখ্যা হলো, একত্ব তিন প্রকার:
১ - শ্রেণিগত একত্ব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
2 - وحدة بالنوع.
3 - وحدة بالعين.
أما الوحدةُ بالجنس أو النوع فلا مانع من كون بعض أفراد الواحد بهما حرامًا وبعضها حلالًا، بخلاف الوحدة بالعين، فلا يمكن أن يكون فيها بعض الأفراد حرامًا وبعضُها حلالًا.
مثال الوحدة بالجنس: وحدة البعير والخنزير؛ لأنهما يشملُهما جنسٌ واحدٌ هو الحيوان، فكلاهما حيوان، فهما متحدان جنسًا، ولا إشكال في حرمة الخنزير وإباحة البعير.
ومثال الوحدة بالنوع: السجود؛ فإنه نوع واحد، فالسجود للَّه والسجود للصنم يدخلان في نوع واحدٍ هو اسم السجود، ولا إشكال في أن السجود للصنم كفر، وللَّه قربة، كما قال تعالى: {لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ (37)} [فصلت/ 37].
ومثال الوحدة بالعين عند المؤلف رحمه الله: الصلاة في الأرض المغصوبة، فلا يمكن عنده أن يكون بعض أفرادها حرامًا وبعضها مباحًا.
وإيضاحُ مراده: أن المصلي في الدار المغصوبة إذا قام إلى الصلاة شغل بجسمه الفراغ الذي هو كائن فيه، وشَغْلُه الفراغَ المملوك لغيره بجسمه تعدِّيًا غصبٌ، فهو حرامٌ، فهذا الركن الذي هو القيام غصبٌ، فهو حرامٌ، فإذا ركع شغل الفراغ الذي هو كائنٌ فيه في ركوعه، وإذا
২ - প্রকারগত ঐক্য।
৩ - সত্তাগত ঐক্য।
শ্রেণীগত বা প্রকারগত ঐক্যের ক্ষেত্রে, তার অন্তর্গত কিছু সদস্য হারাম এবং কিছু সদস্য হালাল হওয়ার ব্যাপারে কোনো বাধা নেই। তবে সত্তাগত ঐক্যের বিষয়টি এর বিপরীত; সেখানে একই বিষয়ের কিছু সদস্য হারাম এবং কিছু সদস্য হালাল হওয়া সম্ভব নয়।
শ্রেণীগত ঐক্যের উদাহরণ: উট ও শূকরের ঐক্য; কারণ এই উভয়কে একটি সাধারণ শ্রেণী অন্তর্ভুক্ত করে, আর তা হলো ‘প্রাণী’। সুতরাং উভয়েই প্রাণী এবং শ্রেণীগতভাবে তারা এক। শূকর হারাম হওয়া এবং উট হালাল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই।
প্রকারগত ঐক্যের উদাহরণ: সিজদাহ; কেননা এটি একই প্রকারের কাজ। সুতরাং আল্লাহর জন্য সিজদাহ এবং মূর্তির জন্য সিজদাহ উভয়ই ‘সিজদাহ’ নামক একই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। এতে কোনো সংশয় নেই যে, মূর্তিকে সিজদাহ করা কুফরি এবং আল্লাহর জন্য সিজদাহ করা নৈকট্য লাভের মাধ্যম, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা সূর্যকে সিজদাহ করো না এবং চন্দ্রকেও নয়; বরং আল্লাহকে সিজদাহ করো যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো। (৩৭)} [ফুসসিলাত/ ৩৭]।
আর লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট সত্তাগত ঐক্যের উদাহরণ হলো: জবরদখলকৃত জমিতে সালাত আদায় করা। তাঁর মতে, এর কোনো সদস্য হারাম এবং কোনো সদস্য বৈধ হওয়া সম্ভব নয়।
তাঁর উদ্দেশ্যের স্পষ্টীকরণ হলো: জবরদখলকৃত বাড়িতে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি যখন সালাতের জন্য দাঁড়ায়, তখন সে তার শরীর দিয়ে সেই শূন্যস্থান পূর্ণ করে যাতে সে অবস্থান করছে। আর অন্য কারো মালিকানাধীন শূন্যস্থান অন্যায়ভাবে নিজের শরীর দিয়ে পূর্ণ করা হলো জবরদখল, যা হারাম। সুতরাং এই রুকন অর্থাৎ ‘দাঁড়ানো’ হলো জবরদখল এবং তা হারাম। অতঃপর সে যখন রুকু করে, তখন সে তার রুকু অবস্থায় সেই শূন্যস্থান পূর্ণ করে যাতে সে অবস্থান করছে, এবং যখন...
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
سجد شغل الفراغ الذي هو كائن فيه في سجوده، وهكذا، وشَغْلُ الفراغ المملوك لغيره تعدِّيًا غصبٌ، فلا يمكن أنْ يكون قربة؛ لامتناع كون الواحد بالعين واجبًا حرامًا، قربةً معصيةً، لاستحالة اجتماع الضدَّين في شيءٍ واحدٍ من جهةٍ واحدة؛ فيلزم بطلان الصلاة المذكورة.
ومنع هذا القائلون بصحة الصلاة في الأرض المغصوبة، وهم الجمهور، قالوا: الصلاة في الأرض المغصوبة فعلٌ له جهتان، والواحد بالشخص يكون له جهتان هو طاعةٌ من إحداهما ومعصيةٌ من إحداهما، فالصلاة في الأرض المغصوبة من حيث هي صلاةٌ قربةٌ، ومن حيث هي غصبٌ معصيةٌ، فله صلاته وعليه غصبه.
فيقول من قال ببطلانها: الصلاة في المكان المغصوب ليست من أمرنا، فهي ردٌّ، للحديث الصحيح: "من أحدث في أمرنا ما ليس منه فهو رد".
فيقول خصمُه: الصلاةُ في نفسها من أمرنا، فليست بردٍّ، وإنَّما الغصبُ هو الذي ليس من أمرنا فهو ردٌّ.
واعلم أن حاصل أقوال العلماء في الصلاة في المكان المغصوب أربعة مذاهب:
الأول: أنها باطلة يجب قضاؤها، وهو أصح الروايتين عن الإمام أحمد رحمه الله.
الثاني: أنها باطلة ولا يجب قضاؤها؛ لأنَّ النهي يقتضي البطلان؛
সাজদাহ করার মাধ্যমে সে যে স্থানে রয়েছে সেই শূন্যস্থানটি সে দখল বা পূর্ণ করে, এবং এভাবেই চলতে থাকে। আর অন্যের মালিকানাধীন শূন্যস্থান অনধিকার দখল করা হলো জবরদখল, তাই এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হওয়া সম্ভব নয়; কারণ একই কাজ একই সাথে ওয়াজিব ও হারাম এবং ইবাদত ও পাপাচার হওয়া অসম্ভব। কেননা একই দৃষ্টিকোণ থেকে একই বস্তুতে দুটি বিপরীতমুখী গুণের সমাবেশ ঘটা অসম্ভব; ফলে উল্লিখিত সালাত বাতিল হওয়া অনিবার্য।
যারা জবরদখলকৃত জমিতে সালাত সহিহ হওয়ার মত পোষণ করেন—যাঁরা জমহুর (অধিকাংশ আলেম)—তাঁরা একে অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেছেন: জবরদখলকৃত জমিতে সালাত আদায় করা এমন একটি কাজ যার দুটি দিক রয়েছে। ব্যক্তিবিশেষের একটি কাজের দুটি দিক থাকতে পারে, যার একটি দিক থেকে তা আনুগত্য এবং অন্য দিক থেকে তা পাপাচার। সুতরাং জবরদখলকৃত জমিতে সালাত আদায়ের বিষয়টি সালাত হিসেবে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, আর জবরদখল হিসেবে তা পাপাচার। অতএব, সে তার সালাতের সওয়াব পাবে এবং জবরদখলের কারণে গুনাহগার হবে।
যারা সালাত বাতিল হওয়ার কথা বলেন তারা বলেন: জবরদখলকৃত স্থানে সালাত আমাদের শরীয়তের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই এটি প্রত্যাখ্যাত। কারণ সহিহ হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।"
তাদের প্রতিপক্ষ বলেন: সালাত স্বয়ং আমাদের শরীয়তের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি প্রত্যাখ্যাত নয়। বরং জবরদখলই হলো এমন বিষয় যা আমাদের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই সেটিই প্রত্যাখ্যাত।
জেনে রাখুন যে, জবরদখলকৃত স্থানে সালাত আদায়ের বিষয়ে আলেমদের মতামতের সারসংক্ষেপ হলো চারটি মাযহাব:
প্রথম: সালাত বাতিল এবং তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব। এটি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ।
দ্বিতীয়: সালাত বাতিল কিন্তু তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব নয়; কারণ নিষেধাজ্ঞা বাতিল হওয়াকেই সাব্যস্ত করে;
(খণ্ড: ১)
মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহি আলা রওদাতিন নাযির - তাবা আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ولأنَّ السلف لم يكونوا يأمرون بقضاء الصلاة في المكان المغصوب، وممن قال به الباقلاني، والرازي. ولا يخفى بُعْدُه.
الثالث: أنَّها صحيحة، وهي رواية أخرى عن أحمد، وعليه الجمهور منهم مالك والشافعي وأكثر أهل العلم، وأكثرهم على أنها صحيحة لا أجر فيها، كالزكاة إذا أخذت منه قهرًا.
والرابع: أنها صحيحة، وله أجر صلاته وعليه إثم غصبه. وهذا أقيس.
فصل
قال المؤلف
(1) -رحمه اللَّه تعالى-:
(مصححوا الصلاة في الدار المغصوبة قسَّموا النهي ثلاثة أقسام. . .) إلى آخره.
اعلم أنَّ حاصل كلام أهل الأصول في هذه المسألة أنَّ المنهي عنه إمَّا أن تكون جهة النهي فيه منفردةً، أعني أنه لم تكن له جهة أخرى مأمور به منها، كالشرك باللَّه والزنا، فإن النهي عنهما لم يخالطه أمر من جهة أخرى، وهذا النوع واضح لا إشكال في أنه باطل على كل حال.
وإمَّا أن يكون له جهتان: جهة مأمور به منها، وجهة منهي عنه منها. وهم يقولون في مثل هذا: إن انفكت جهة الأمر عن جهة النهي فالفعل صحيح، وإن لم تنفك عنها فالفعل باطل. لكنهم عند التطبيق
--------------------------------------------
কারণ সলফগণ জবরদখলকৃত স্থানে সালাত আদায় করার পর তা পুনরায় আদায় করার (কাজাহ) নির্দেশ দিতেন না। আর এটি বাকিল্লানি ও রাজি-ও বলেছেন। তবে এর দুর্বলতা গোপন নয়।
তৃতীয় মত: এটি সঠিক, যা আহমাদ থেকে বর্ণিত অপর একটি বর্ণনা। জমহুর উলামায়ে কেরাম এই মত পোষণ করেছেন, যাদের মধ্যে মালেক, শাফেয়ী এবং অধিকাংশ ইলম অন্বেষণকারী রয়েছেন। তাদের অধিকাংশের মতে, এটি সঠিক কিন্তু এতে কোনো সওয়াব নেই, যেমন জাকাত যখন কারো কাছ থেকে জোরপূর্বক নেওয়া হয়।
চতুর্থ মত: এটি সঠিক, এবং সে তার সালাতের সওয়াব পাবে এবং জবরদখলের কারণে গুনাহগার হবে। আর এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত।
পরিচ্ছেদ
লেখক
(১) —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— বলেছেন:
(জবরদখলকৃত বাড়িতে সালাতকে যারা শুদ্ধ বলেন, তারা নিষেধকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন...) শেষ পর্যন্ত।
জেনে রাখুন যে, এই মাসআলায় উসুলবিদদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো: যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, তাতে নিষেধের দিকটি হয় একক হবে—অর্থাৎ এমন কোনো দিক নেই যেখান থেকে তা আদিষ্ট হয়েছে—যেমন আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং ব্যভিচার। কারণ এই দুটির নিষেধের সাথে অন্য কোনো দিক থেকে আদেশের সংমিশ্রণ ঘটেনি। এই প্রকারটি স্পষ্ট এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি সর্বাবস্থায় বাতিল।
অথবা তার দুটি দিক থাকবে: একটি আদিষ্ট দিক এবং একটি নিষিদ্ধ দিক। তারা এই জাতীয় ক্ষেত্রে বলেন: যদি আদেশের দিকটি নিষেধের দিক থেকে পৃথক করা যায়, তবে কাজটি সঠিক। আর যদি তা পৃথক না করা যায়, তবে কাজটি বাতিল। কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা—
--------------------------------------------