(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: -)
هواتف الجنان للخرائطي (الخرائطي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: هواتف الجنان
المؤلف: أبو بكر محمد بن جعفر بن محمد بن سهل بن شاكر الخرائطي (ت 327 هـ)
المحقق: إبراهيم صالح [ت 1443 هـ]
الناشر: دار البشائر للطباعة والنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 86
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-খারায়েতি প্রণীত হাওয়াতিফুল জানান (আল-খারায়েতি)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: হাওয়াতিফুল জানান
লেখক: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাহল ইবনে শাকির আল-খারায়েতি (মৃত্যু ৩২৭ হিজরি)
গবেষক: ইব্রাহিম সালেহ [মৃত্যু ১৪৪৩ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল বাশায়েত লিত-তিবাআতি ওয়ান-নাশর ওয়াত-তাওজি
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৬
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
بسم الله الرحمن الرحيم وصلَّى الله على سيدنا محمد وآله وسلَّمأخبرنا الشيخ الثقة أبو الطاهر بركات بن إبراهيم بن طاهر الفرشيّ الخشوعي رحمه الله قراءة عليه، وأنا أسمع في يوم اثنين تاسع عشرين من ذي القعدة سنة ثلاث وتسعين وخمسمئة، قال: أخبرنا الشيخ أبو الحسن علي بن المُسلَّم بن محمد بن الفتح السُّلمي الفقيه قراءة عليه، وأنا أسمع، في شوال سنة تسع عشرة وخمسمئة، قال: أخبرنا أبو الحسن أحمد بن عبد الواحد بن محمد بن أحمد بن أبي الحديد السُّلميّ، بقراءتي عليه، في ذي الحجّة سنة ست وستين وأربعمئة، قال: أنبأ جدّي أبو بكر محمد بن أحمد بن عثمان السُّلمي، قراءةً عليه، قال: أنبا أبو بكر محمد بن جعفر بن سهل السَّامرِّيِّ الخرائطيِّ، قال:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।নির্ভরযোগ্য শায়খ আবু তাহের বারাকাত বিন ইবরাহিম বিন তাহের আল-ফারশি আল-খুশুয়ী (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, আর আমি তা শ্রবণ করছিলাম পাঁচশত তেরানব্বই হিজরি সনের উনত্রিশে যিলকদ সোমবার দিনে; তিনি বলেন: ফকিহ শায়খ আবুল হাসান আলী বিন আল-মুসলিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাতহ আস-সুলামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, আর আমি তা শ্রবণ করছিলাম পাঁচশত উনিশ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে; তিনি বলেন: আবুল হাসান আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবি আল-হাদিদ আস-সুলামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পাঠ করার মাধ্যমে চারশত ছেষট্টি হিজরি সনের যিলহজ মাসে; তিনি বলেন: আমার দাদা আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আস-সুলামী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাফর বিন সাহল আস-সামারি আল-খারায়েতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
حدثنا إبراهيم بن هانئ النيسابوري، قال: ثنا عبد الله بن صالح، عن معاوية ابن صالح، عن أبي الزاهرية، عن جُبير بن نُفير، عن أبي ثعلبة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الجنُّ على ثلاثة أصناف: صنف لهم أجنحة يطيرون في الهواء، وصنف حيّات وكلاب، وصنف يحلُّون ويظعنون.
ইব্রাহিম ইবনে হানি আন-নিসাবুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে সলিহ বর্ণনা করেছেন মুআবিয়া ইবনে সলিহ থেকে, তিনি আবুয যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি জুবাইর ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি আবু সা’লাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেছেন: জিন তিন প্রকার: এক প্রকার যাদের ডানা আছে এবং তারা আকাশে উড়ে বেড়ায়, এক প্রকার হলো সাপ ও কুকুর, এবং এক প্রকার যারা এক স্থানে অবস্থান করে ও স্থান পরিবর্তন করে।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
حدثنا عبد الله بن محمد البلوي، قال: ثنا عمارة بن زيد، قال: حدثني أبو البَخْتَرَي وهب بن وهب، قال: حدثني محمد بن إسحاق، عن يحيى ابن عبد الله بن الحارث، عن أبيه، قال: حدثني سلمان الفارسي، قال: كُنَّا مع النبي صلى الله عليه وسلم في مسجده في يوم مطير، ذي سحائب ورياح، ونحن ملتفُّون حوله، فسمعنا صوتاً لا نرى شخصه، وهو يقول: السلامُ عليك يا رسول الله. فَرَّد عليك السلام، وقال: ردَّوا على أخيكم السلام قال: فرددنا عليه. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من أنت؟ قال: أنا عُرفُطة، أظهر لنا "رحمك الله" في صورتك.
আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বালভী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমারা ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল বাখতারী ওয়াহাব ইবনে ওয়াহাব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আমাকে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: সালমান আল-ফারসী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক মেঘাচ্ছন্ন ও ঝড়ো হাওয়াপূর্ণ বৃষ্টির দিনে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর মসজিদে ছিলাম। আমরা তাঁকে ঘিরে ছিলাম, এমতাবস্থায় আমরা একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম যার কোনো অবয়ব আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম না, সে বলছিল: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তখন তিনি (নবী) সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন: তোমাদের ভাইয়ের সালামের উত্তর দাও। সালমান (রা.) বলেন: অতঃপর আমরা তার সালামের উত্তর দিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি কে? সে বলল: আমি উরফুতাহ। (নবী বললেন:) আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন, আমাদের সামনে তোমার নিজ আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করো।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
قال سلمان: فظهر لنا شيخٌ أَزَبُّ أشعر، قد لبس وجهه شعر غليظ متكاثف قد واراه، وإذا عيناه مشقوقتان طولاً، وله فم في صدره، فيه أنياب بادية طوال، وإذا له في موضع الأظفار من يديه مخالب كمخالب السباع، فلما رأيناه اقشعرَّت جلودنا، ودنونا من النبيِّ صلى الله عليه وسلم.فقال الشيخ: يا نبيّ الله. أبعث معي من يدعوا جماعة قومي إلى الإسلام، وأنا أردُّهُ إليك سالما إن شاء الله.فقال رسول الله، صلى الله عليه وسلم لأصحابه، أيُّكم يقومُ فيبلِّغُ الجنَّ عنِّي وله عليَّ الجنَّة. فما قام أحد.وقال الثانية والثالثة، فما قام أحد.فقال عليٌّ كرم الله وجهه: أنا يا رسول الله.فالتفت النبيُّ صلى الله عليه وسلم إلى الشيخ، فقال: وافِني إلى الحرَّة، في هذه الليلة، أبعثُ معك رجلاً، يفصل بحكمي، وينطق بلساني، ويبلَّغ الجنّ عنّي. قال سلمان: فغاب الشيخ، وأقمنا يومنا، فلما صلَّى النبيُّ صلى الله عليه وسلم العشاء الآخرة، وانصرف الناس من المسجد، قال: يا سلمان سر معي. فخرجت معه، وعليٌّ بين يديه، حتى أتينا الحرَّة.فإذا الشيخ على بعير كالشاة، وإذا بعير آخر على ارتفاع الفرس، فحمل عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم عليّاً، وحملني خلفه، وشدَّ وسطي إلى وسطه بعمامة، وعصَّب عينيَّ؛ وقال: يا سلمان لا تفتحنَّ عينيك حتى تسمع عليّاً يؤذِّن، ولا يروعك ما تسمع، فإنك آمن إن شاء الله. ثم أوصى عليّاً بما أحبَّ أن يوصيه، ثم
সালমান বর্ণনা করেন: আমাদের সামনে এক দীর্ঘদেহী পশমযুক্ত বৃদ্ধ লোক আত্মপ্রকাশ করল, যার মুখমণ্ডল ঘন ও নিবিড় পশমে ঢাকা ছিল। তার চোখ দুটি ছিল লম্বালম্বিভাবে চেরা, আর তার বুকের ওপর একটি মুখ ছিল যেখান থেকে লম্বা দাঁতগুলো বেরিয়ে ছিল। তার হাতের নখের জায়গায় ছিল হিংস্র পশুর ন্যায় থাবা। যখন আমরা তাকে দেখলাম, আমাদের শরীর শিউরে উঠল এবং আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটবর্তী হলাম।তখন বৃদ্ধ লোকটি বলল: হে আল্লাহর নবী! আমার সাথে এমন একজনকে পাঠান যিনি আমার কওমের একদলকে ইসলামের দাওয়াত দেবেন; আর আমি তাকে ইনশাআল্লাহ আপনার কাছে সহিহ-সালামতে ফিরিয়ে আনব।তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্য করে বললেন: তোমাদের মধ্যে এমন কে আছো যে দাঁড়িয়ে আমার পক্ষ থেকে জিনদের কাছে দাওয়াত পৌঁছাবে? তার জন্য আমার পক্ষ থেকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি রইল। কিন্তু কেউ দাঁড়াল না।তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার একই কথা বললেন, তবুও কেউ দাঁড়াল না।তখন আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি (যাব)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃদ্ধের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: আজ রাতে হাররাহ এলাকায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করো; আমি তোমার সাথে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাব যে আমার ফয়সালা অনুযায়ী বিচার করবে, আমার ভাষায় কথা বলবে এবং জিনদের কাছে আমার দাওয়াত পৌঁছে দেবে। সালমান বললেন: এরপর বৃদ্ধটি অদৃশ্য হয়ে গেল এবং আমরা দিনটি অতিবাহিত করলাম। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এশার সালাত আদায় করলেন এবং লোকজন মসজিদ থেকে চলে গেল, তখন তিনি বললেন: হে সালমান! আমার সাথে চলো। আমি তাঁর সাথে বের হলাম এবং আলী তাঁর সামনে ছিলেন, যতক্ষণ না আমরা হাররাহ-তে পৌঁছালাম।সেখানে দেখলাম সেই বৃদ্ধটি বকরির মতো ছোট একটি উটের ওপর সওয়ার আছে, আর সেখানে ঘোড়ার ন্যায় উঁচু অন্য একটি উট রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলীকে সেটির ওপর সওয়ার করালেন এবং আমাকে তাঁর পেছনে বসালেন। তিনি একটি পাগড়ি দিয়ে আমার কোমর আলীর কোমরের সাথে বেঁধে দিলেন এবং আমার চোখ বেঁধে দিলেন। এরপর তিনি বললেন: হে সালমান! যতক্ষণ না আলীকে আজান দিতে শুনবে, ততক্ষণ চোখ খুলবে না; আর যা শুনবে তাতে আতঙ্কিত হয়ো না, কারণ ইনশাআল্লাহ তুমি নিরাপদ থাকবে। এরপর তিনি আলীকে যা অসিয়ত করার ছিল তা করলেন, এরপর...
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
قال: سيروا، ولا قوَّة إلَاّ بالله.فثار البعير سائراً يدفُّ كدفيف النعام، وعليٌّ يتلو القرآن؛ فسرنا ليلتنا حتى إذا طلع الفجر أذَّنَ عليٌّ، وأناخ البعير، وقال: انزل يا سلمان. فحللت عينيَّ ونزلت، فإذا أرض قوراء، لا ماء ولا شجر، ولا عود ولا حجر، فلمَّا بأن الفجر أقام عليٌّ الصلاة وتقدَّم وصلَّى بنا أنا والشيخ. ولا أزال أسمع الحسَّ حتى إذا سلَّم عليٌّ التفت، فإذا خلق عظيم، لا يُسمعهم إلَاّ الخطيب الصَّيِّت الجهير، فأقام عليٌّ يسبِّح ربَّه، حتى طلعت الشمس، ثم قام فيهم خطيباً، فخطبهم، فاعترضه منهم مَرَدَةٌ، فأقبل عليٌّ عليهم، فقال: أبالحقِّ تكذِّبون، وعن القرآن تصدفون، وبآيات الله تجحدون؟ ثم رفع طرفه إلى السماء فقال: بالكلمة العظمى، والأسماء الحسنى، والعزائم الكبرى، والحيِّ القيّوم، محيي الموتى، وربِّ الأرض والسماء؛ يا حَرَسَة الجنِّ، ورَصَدَة الشياطين، خُدَّام الله الشرهباليين، ذوي الأرواح الطاهرة.اهبطوا بالجمرة التي لا تطفأ، والشهاب الثاقب، والشواظ المحرق، والنحاس القاتل، بآلمص، والذاريات، وكهيعص، والطواسين، ويس، و (ن والقلم وما يسطرون) (والنجم إذا هوى) (والطور وكتاب مسطورٍ في رَقٍّ منشورٍ والبيت المعمور)
তিনি বললেন: চলুন, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।অতঃপর উটটি উটপাখির ডানার ঝাপটানির মতো দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করল, আর আলী কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন; আমরা সারা রাত পথ চললাম, অবশেষে যখন ফজর উদিত হলো, আলী আযান দিলেন এবং উটটিকে বসালেন, আর বললেন: হে সালমান, নামুন। আমি আমার চোখ উন্মোচন করলাম এবং নামলাম। হঠাৎ দেখলাম এক প্রশস্ত নির্জন ভূমি, যেখানে কোনো পানি নেই, গাছ নেই, কোনো কাঠ নেই এবং কোনো পাথরও নেই। যখন ফজর স্পষ্ট হলো, আলী সালাতের ইকামত দিলেন এবং সামনে এগিয়ে গিয়ে আমাদের নিয়ে—আমি ও সেই বৃদ্ধ—সালাত আদায় করলেন। আমি ক্রমাগত এক প্রকার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম, অবশেষে যখন আলী সালাম ফেরালেন এবং পেছনে ফিরলেন, তখন সেখানে এক বিশাল সৃষ্টি দেখতে পেলেন, যাদেরকে কেবল একজন উচ্চকণ্ঠ সুবক্তাই কথা শোনাতে পারে। আলী তাঁর রবের তাসবিহ পাঠ করতে থাকলেন যতক্ষণ না সূর্য উদিত হলো। অতঃপর তিনি তাদের মাঝে খতিব হিসেবে দাঁড়ালেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তখন তাদের মধ্য থেকে কিছু বিদ্রোহী তাঁর বিরোধিতা করল। আলী তাদের দিকে অগ্রসর হয়ে বললেন: তোমরা কি সত্যকে অস্বীকার করছ, কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ এবং আল্লাহর আয়াতসমূহকে প্রত্যাখ্যান করছ? তারপর তিনি আসমানের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করলেন এবং বললেন: মহান বাক্যের কসম, সুন্দর নামসমূহের কসম, সুমহান সংকল্পসমূহের কসম, এবং চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক, মৃতদের জীবনদানকারী এবং আসমান ও জমিনের রবের কসম; হে জিনের রক্ষীবাহিনী, শয়তানদের পর্যবেক্ষণকারীদল, আল্লাহর শারহাবালিয়্যিন খাদেমগণ, যারা পবিত্র আত্মার অধিকারী।তোমরা সেই জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে অবতরণ করো যা কখনো নির্বাপিত হয় না, এবং উজ্জ্বল উল্কাপিণ্ড, দহনকারী অগ্নিশিখা এবং প্রাণঘাতী গলিত তামা নিয়ে; আলিফ-লাম-মীম-সোয়াদ, যারিয়াত, কাফ-হা-ইয়া-আইন-সোয়াদ, ত্ব-সীনসমূহ, ইয়াসীন এবং (নূন, শপথ কলমের এবং তারা যা লিখে) (শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়) (শপথ তূর পর্বতের, এবং উন্মুক্ত পত্রে লিপিবদ্ধ কিতাবের, এবং আবাদকৃত ঘরের)।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
والأقسام والأحكام، ومواقع النجوم؛ لما أسرعتم الانحدار إلى المَرَدةِ المتولِّعين المتكبرين، الجاحدين لآيات ربِّ العالمين.قال سلمان: فحسستُ الأرض من تحتي ترتعد، ثم نزلت نار من السماء صَعِقَ لها كلُّ مَن رآها من الجن، وخرَّت على وجوهها مغشيّاً عليها، وخررتُ أنا على وجهي، ثم أفقت فإذا دخان يفور من الأرض يحول بيني وبين النظر إلى عَبَثَة المردة من الجن، فأقام الدخان طويلاً بالأرض.قال سلمان: فصاح بهم عليّ: ارفعوا رؤوسكم: فقد أهلك الله الظالمين، ثم عاد إلى خطبته، فقال: يا معشر الجنِّ والشياطين والغيلان، وبني شمراخ وآل نجاح، وسكان الآجام والرمال، والأقفار، وجميع شياطين البلدان: اعلموا أن الأرض قد مُلئت عدلاً، كما كانت مملوءة جوراً. هذا هو الحقُّ (فماذا بعد الحقِّ إلَاّ الضلال فأنى تُصرفون) .قال سلمان: فعجبت الجنُّ لعلمه، وانقادوا مذعنين له، وقالوا: أمنّا بالله وبرسوله، وبرسول رسوله، لا نكذِّب وأنت الصادق والمصدَّق.قال سلمان: فانصرفنا في الليل على البعير الذي كنّا عليه، وشدَّ علٌّ وسطي إلى وسطه، وقال: اعصب عينيك، واذكر الله في نفسك.وسرنا يدفُّ بنا البعير دفيفاً، والشيخ الذي قدم على رسول الله صلى الله عليه وسلم أمامنا،
এবং শপথসমূহ, বিধানাবলী এবং নক্ষত্ররাজির অবস্থানসমূহ; যেহেতু তোমরা সেই সব অবাধ্য, আসক্ত ও অহংকারীদের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়েছিলে যারা বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী অস্বীকারকারী।সালমান বলেন: আমি আমার নিচের যমীনকে প্রকম্পিত হতে অনুভব করলাম, তারপর আকাশ থেকে এক অগ্নি অবতীর্ণ হলো যা দেখে উপস্থিত সকল জীন জ্ঞান হারিয়ে ফেলল এবং তারা তাদের চেহারার ওপর সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেল। আমিও আমার চেহারার ওপর পড়ে গেলাম, অতঃপর যখন আমি সংবিত ফিরে পেলাম তখন দেখলাম যমীন থেকে ধোঁয়া উদগিরিত হচ্ছে যা আমার এবং জীনদের সেই অবাধ্যদের অনর্থক কর্মকাণ্ড দেখার মাঝে আড়াল তৈরি করেছিল। সেই ধোঁয়া দীর্ঘক্ষণ যমীনে অবস্থান করল।সালমান বলেন: তখন আলী তাদের উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বললেন: তোমরা তোমাদের মাথা তোলো, নিশ্চয়ই আল্লাহ যালিমদের ধ্বংস করেছেন। অতঃপর তিনি পুনরায় তাঁর খুতবায় ফিরে গেলেন এবং বললেন: হে জীন, শয়তান ও গীলান সম্প্রদায়, বনু শামরাখ ও আলে নাজাহ, এবং বন-জঙ্গল, মরুভূমি ও নির্জন প্রান্তরের অধিবাসীগণ, এবং দেশসমূহের সমস্ত শয়তানরা: জেনে রাখো যে, পৃথিবী এখন ন্যায়ে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে যেমন তা অন্যায়ে পরিপূর্ণ ছিল। এটাই সত্য (অতঃপর সত্যের পরে বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী আছে? সুতরাং তোমাদেরকে কোথায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে?)।সালমান বলেন: জীনরা তাঁর জ্ঞান দেখে আশ্চর্যান্বিত হলো এবং তাঁর প্রতি অনুগত হয়ে নতি স্বীকার করল। তারা বলল: আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর এবং তাঁর রাসূলের দূতের ওপর ঈমান আনলাম। আমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করব না, আর আপনি সত্যবাদী ও সত্যায়িত।সালমান বলেন: অতঃপর আমরা সেই রাতের বেলায় সেই উটে চড়ে ফিরে এলাম যাতে আমরা আরোহী ছিলাম। আলী আমার কোমর তাঁর কোমরের সাথে বেঁধে দিলেন এবং বললেন: তোমার চোখ বেঁধে নাও এবং মনে মনে আল্লাহর যিকির করো।আমরা চলতে লাগলাম, উটটি আমাদের নিয়ে দ্রুতগতিতে পথ চলছিল, আর সেই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি আমাদের সামনে ছিলেন যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
حتى قدمنا الحرَّة، وذلك قبل طلوع الفجر، فنزل عليٌّ ونزلت، وسَرَّح البعير فمضى، ودخلنا المدينة فصلينا الغداة مع النبيِّ صلى الله عليه وسلم، فلمَّا سلَّم رآنا، فقال لعليٍّ: كيف رأيت القوم؟ قال: أجابوا وأذعنوا.وقصَّ عليه خبرهم. فقال رسول الله: أما إنهم لا يزالون لك هائبين إلى يوم القيامة.حدثنا أبو موسى عمران بن موسى المؤذن، قال: ثنا محمد بن عمران "بن محمد بن عبد الرحمن" ابن أبي ليلى، قال: ثنا سعيد بن عبيد الله الوصافي، عن أبيه عن أبي جعفر محمد بن علي، قال:
আমরা হাররাহ নামক স্থানে পৌঁছালাম, আর তা ছিল ফজর উদিত হওয়ার আগে। এরপর আলী নামলেন এবং আমিও নামলাম। তিনি উটটি ছেড়ে দিলেন এবং সেটি চলে গেল। আমরা মদিনায় প্রবেশ করলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করলাম। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তিনি আমাদের দেখতে পেলেন। তখন তিনি আলীকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কওমকে কেমন দেখলে?" তিনি বললেন: "তারা সাড়া দিয়েছে এবং আনুগত্য প্রকাশ করেছে।"এবং তিনি তাঁর নিকট তাদের সংবাদ বর্ণনা করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল বললেন: "জেনে রেখো, তারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তোমার প্রতি ভীত থাকবে।"আমাদের নিকট আবু মুসা ইমরান বিন মুসা আল-মুআজ্জিন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইমরান "বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান" ইবনে আবি লায়লা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-ওয়াসাফি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
دخل سواد بن قارب السدوسي على عمر بن الخطاب، فقال: نشدتك بالله يا سواد بن قارب؛ هل تحسُّ اليوم من كهانتك شيئاً؟ فقال: سبحان الله يا أمير المؤمنين! ما استقبلت أحداً من جلسائك بمثل ما استقبلتني به. قال: سبحان الله يا سواد! ما كنّا عليه من شركنا أعظم ممّا كنت عليه من كهانتك، والله يا سواد لقد بلغني عنك حديث إنه لعجب من العجب.قال: أي والله يا أمير المؤمنين، إنه لعجب من العجب. قال: فحدثنيه. قال: كنت كاهناً في الجاهلية، فينا أنا ذات ليلة نائم إذ أتاني نجيّي، فضربني برجله، ثم قال: يا سواد! اسمع أقل لك. قلت: هات قال "من السريع":عجبتُ للجنِّ وإيجاسها … ورحلها العيس بأحلاسهاتهوي إلى مكة تبغي الهدى … ما مؤمنوها مثل أرجاسهافارحلْ إلى الصفوة من هاشمٍ … واسمُ بعينيك إلى رأسهاقال: فنمتُ، ولم أحفل بقوله شيئاً، فلما كانت الليلة الثانية، أتاني فضربني برجله، ثم قال: قم يا سواد اسمع أقُلْ لك. قلت: هات. قال "من السريع":عجبتُ للجنِّ وتطلابها … ورحلها العيسَ بأقتابهاتهوي إلى مكة تبغي الهدى … ما صادقو الجنّ ككذّابهافارحلْ إلى الصفوة من هاشم … ليس المقاديمُ كأذنابها
সাওয়াদ ইবনে কারিব আস-সাদূসী উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি বললেন: হে সাওয়াদ ইবনে কারিব, আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি; আজ কি তুমি তোমার সেই গণকবিদ্যার কোনো কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করছ? তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ, হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি আপনার মজলিসে উপস্থিত অন্য কারো সাথে এমন আচরণ করেননি যা আমার সাথে করলেন। তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ, হে সাওয়াদ! আমরা যে শিরকের ওপর ছিলাম তা তোমার গণকবিদ্যার চেয়েও গুরুতর ছিল। আল্লাহর কসম হে সাওয়াদ, তোমার সম্পর্কে আমার কাছে এমন একটি সংবাদ পৌঁছেছে যা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক।তিনি বললেন: হ্যাঁ আল্লাহর কসম, হে আমিরুল মুমিনিন, এটি অবশ্যই অত্যন্ত আশ্চর্যজনক। তিনি বললেন: তবে আমাকে তা বর্ণনা করো। তিনি বললেন: জাহেলি যুগে আমি একজন গণক ছিলাম। একদিন রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, এমন সময় আমার সহচর জিন আমার কাছে আসল এবং তার পা দিয়ে আমাকে আঘাত করল। এরপর সে বলল: হে সাওয়াদ! শোনো, আমি তোমাকে যা বলছি। আমি বললাম: বলো। সে সারী' ছন্দে বলল:আমি জিনের বিষয়ে এবং তাদের উৎকণ্ঠার বিষয়ে আশ্চর্য হয়েছি … এবং গদি আঁটা সাদা উটের পিঠে তাদের সফরের বিষয়েতারা হেদায়াতের অন্বেষণে মক্কার দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে … তাদের মুমিনরা তাদের অপবিত্রদের মতো নয়অতএব তুমি হাশেম বংশের মনোনীত ব্যক্তির পানে যাত্রা করো … এবং তোমার দৃষ্টিকে তাঁর উচ্চ মর্যাদার শিখরে উন্নীত করোতিনি বললেন: এরপর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম এবং তার কথায় কোনো ভ্রুক্ষেপ করলাম না। যখন দ্বিতীয় রাত আসল, সে আমার কাছে আসল এবং তার পা দিয়ে আমাকে আঘাত করল। এরপর বলল: ওঠো হে সাওয়াদ, শোনো আমি তোমাকে যা বলছি। আমি বললাম: বলো। সে সারী' ছন্দে বলল:আমি জিনের বিষয়ে এবং তাদের অনুসন্ধানের বিষয়ে আশ্চর্য হয়েছি … এবং সাদা উটের পিঠে হাওদাসহ তাদের সফরের বিষয়েতারা হেদায়াতের অন্বেষণে মক্কার দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে … জিনদের সত্যবাদীরা তাদের মিথ্যাবাদীদের মতো নয়অতএব তুমি হাশেম বংশের মনোনীত ব্যক্তির পানে যাত্রা করো … কেননা অগ্রগামীরা কখনো পশ্চাদপদদের মতো নয়
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
قال: فحرَّك قوله مني شيئاً، ونمت: فلما كانت الليلة الثالثة، أتاني فضربني برجله، ثم قال: يا سواد، أتعقل أم لا تعقل؟ قلت: وما ذاك؟ قال: قد ظهر بمكة نبيٌّ، يدعو إلأى عبادة ربه، فالحقْ به: اسمع أقلْ لك. قلت: هات. قال: "من السريع":عجبتُ للجنِّ وأخبارها … ورحلها العيسَ بأكوارهاتهوي إلى مكة تبغي الهدى … ما مؤمنوها مثل كفّارهافارحلْ إلى الصفوة من هاشمْ … بين روابيها وأحبارهاقال: فعلمتُ أن الله عز وجل قد أراد بي خيراً.فقمتُ إلى بُردة لي ففتقتُها، ولبستُها، ووضعتُ رجلي في غرز ركاب الناقة حتى انتهيت إلى النبيِّ صلى الله عليه وسلم، فعرض عليَّ الإسلام، فأسلمتُ وأخبرته الخبر. قال: إذا اجتمع المسلمون فأخبرهم.فلمّا اجتمع الناس قمتُ فقلتُ "من الطويل":أتاني نجيِّ بعد هَدءٍ ورَقدةٍ … ولم يكُ فيما قد بلوتُ بكاذبِثلاث ليالٍ قولُهُ كلَّ ليلةٍ … أتاكَ رسولٌ من لؤيّ بن غالبِفشمَّرتُ عن ذيلي الإزار ووسَّطت … بي الدُّعلبُ الوجناءُ غبر السَّباسبِوأعلمُ أنَّ اللهَ لا ربّض غيرُه … وأنك مأمونٌ على كلِّ غائبِوأنك أدنى المؤمنين وسيلةً … إلى الله يا بن الأكرمين الأطايبِفمرنا بما يأْتيكَ يا خيرَ مُرسلٍ … وإنْ كان فيما جاءَ شيبُ الذَّوائبِوكن لي شفيعاً يومَ لا ذو شفاعةٍ … سواك بمغنٍ عن سواد بن غاربِقال: فسُرَّ المسلمون بذلك.
তিনি বললেন: তার কথাগুলো আমার অন্তরে নাড়া দিল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। যখন তৃতীয় রাত এল, তিনি আমার কাছে আসলেন এবং তার পা দিয়ে আমাকে আঘাত করলেন, তারপর বললেন: হে সাওয়াদ, তুমি কি বুঝতে পারছ, নাকি পারছ না? আমি বললাম: সেটি কী? তিনি বললেন: মক্কায় একজন নবীর আবির্ভাব হয়েছে, যিনি তাঁর রবের ইবাদতের দিকে আহ্বান করছেন; সুতরাং তুমি তাঁর সাথে গিয়ে মিলিত হও। শোনো, আমি তোমাকে বলছি। আমি বললাম: বলুন। তিনি বললেন:আমি জিনদের অবস্থা ও তাদের খবরের জন্য বিস্মিত হলাম … এবং পালকি পিঠে নিয়ে তাদের দ্রুতগামী লালচে উটের সফরের জন্য।তারা হিদায়াতের অন্বেষণে মক্কার দিকে ধাবিত হচ্ছে … তাদের মুমিনরা তাদের কাফিরদের মতো নয়।সুতরাং তুমি বনু হাশেমের মনোনীত ব্যক্তির কাছে যাত্রা করো … তাদের উচ্চভূমি ও আলিমদের মাঝে।তিনি বললেন: তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমার মঙ্গল চেয়েছেন।আমি আমার একটি চাদরের কাছে গিয়ে সেটি প্রস্তুত করলাম এবং পরিধান করলাম। এরপর উটনীর জিনের রেকাবে আমার পা রাখলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পথ চললাম। তিনি আমার কাছে ইসলাম পেশ করলেন, ফলে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং তাঁকে সংবাদটি জানালাম। তিনি বললেন: যখন মুসলিমরা সমবেত হবে, তখন তুমি তাদের এটি জানিও।যখন মানুষ সমবেত হলো, আমি দাড়ালাম এবং বললাম:রাতের নিস্তব্ধতায় ও নিদ্রার পর আমার গোপন সংগী আমার কাছে এসেছিল … আর আমি যা পরীক্ষা করেছি তাতে সে মিথ্যাবাদী ছিল না।তিন রাত ধরে প্রতি রাতে তার কথা ছিল … লুআই ইবনে গালিবের বংশ থেকে একজন রসূল তোমার কাছে এসেছেন।তাই আমি আমার পরিধেয় বস্ত্র গুটিয়ে নিলাম এবং বলিষ্ঠ ও দ্রুতগামী উটনী … ধূলিময় মরুভূমির মাঝ দিয়ে আমাকে নিয়ে চলল।আর আমি জানি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো রব নেই … এবং আপনি প্রতিটি অদৃশ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আমানতদার।এবং আপনিই আল্লাহর নিকট পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মুমিনদের মধ্যে নিকটতম মাধ্যম … হে সম্মানিত ও পবিত্র পূর্বপুরুষদের সন্তান!আপনার কাছে যা ওহি আসে আমাদের তা পালনের আদেশ দিন, হে শ্রেষ্ঠ রসূল! … যদিও তার নির্দেশ পালনে চুল পেকে যাওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতি আসে।আর সেই দিন আপনি আমার জন্য সুপারিশকারী হোন, যেদিন অন্য কোনো সুপারিশকারী … আপনি ছাড়া সাওয়াদ ইবনে গারিবের কোনো উপকারে আসবে না।তিনি বললেন: এতে মুসলিমরা আনন্দিত হলো।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
فقال عمر: هل تحسُّ اليوم منها بشيء؟ قال: أمَّا مُذ علَّمني الله القرآن فلا.حدثنا عبد الله بن محمد البلويّ، بمصر، قال: ثنا عُمارة بن زيد، حدثني عيسى بن زيد، عن صالح بن كيسان، عَمَّن حدّثه، عن مرداس بن قيس الدَّوسيّ، قال: حضرتُ النّبي الله عليه وسلّم، وقد ذُكرت عنده الكناهة، وما كان من تعبيرها عند مخرجِهِ. فقلت: يا رسولَ الله، قد كان عندنا من ذلكَ شيءٌّ، أُخبرك أَنَّ جاريةً منّا يقال لها خلصَة، لم نعلمْ عليها إِلَاّ خيراً، إِذا جاءَتنا فقالت: يا معردوس، العَجَبَ العَجَب لِمَا أَصابني! هل علمتم إلاّ خيراً؟ قلنا: وما ذاك؟ قالت: إنّي لفي غنمي، إذا غشيتني ظلمةٌ، ووجدت كحسِّ الرجل مع المرأة، فقد خشيت أن أكون قد حبلت. حتى إذا دنت ولادتها، وضعت غلاماً أغضف له أذنان كأذني الكلب، فمكث فينا حتى إنه ليلعب مع الغلمان، إذا وثب وثبةً، وألقى إزاره، وصاح بأعلى
উমর বললেন: "আজ কি আপনি তা থেকে কিছু অনুভব করছেন?" তিনি বললেন: "না, আল্লাহ আমাকে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার পর থেকে আর না।"আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বালাউয়ী মিসরে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমারা বিন যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা বিন যায়েদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সালেহ বিন কাইসান থেকে, তিনি যার থেকে শুনেছেন তার সূত্রে মিরদাস বিন কাইস আদ-দাওসী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর নিকট গণকগিরি এবং তাঁর আবির্ভাবের সময় এর যে ব্যাখ্যা প্রচলিত ছিল তা আলোচিত হচ্ছিল। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের নিকট এ সম্পর্কিত কিছু বিষয় ছিল। আমি আপনাকে বলছি যে, আমাদের মাঝে খালসা নামে এক তরুণী ছিল, যার সম্পর্কে আমরা ভালো ছাড়া আর কিছু জানতাম না। সে আমাদের নিকট এসে বলল: হে মিরদাস, আমার সাথে যা ঘটেছে তাতে অতিশয় বিস্ময়! তোমরা কি আমার সম্পর্কে ভালো ছাড়া অন্য কিছু জানো? আমরা বললাম: সেটি কী? সে বলল: আমি আমার বকরি পালের মাঝে ছিলাম, এমতাবস্থায় অন্ধকার আমাকে আচ্ছন্ন করল এবং আমি পুরুষের সাথে নারীর মিলনের মতো অনুভূতি পেলাম। আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে আমি গর্ভবতী হয়ে পড়েছি। অবশেষে যখন তার প্রসবকাল ঘনিয়ে এল, সে একটি ঝুলে-পড়া কানবিশিষ্ট বালক প্রসব করল যার কান দুটি ছিল কুকুরের কানের মতো। সে আমাদের মাঝে অবস্থান করতে লাগল, এমনকি সে বালকদের সাথে খেলাধুলা করত। যখন সে সজোরে লাফ দিত, তখন তার পরিধেয় বস্ত্র ফেলে দিত এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করত...
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٣١)
صوته، وجعل يقول: يا ويله يا ويله، يا عوله يا عوله، يا ويل غنم، ويا ويل فهم، من قابس النار "من الرجز":الخيلُ واللهِ وراءَ العقبة … فيهنّ فتيانٌ حِسانٌ نَجَبَهقال: فركبنا وأخذنا الأداة، وقلنا: ويلك ما ترى؟ قال: هل من جاريةٍ طامث؟ قلنا: ومن لنا بها؟ فقال شيخٌ منّا: هي والله عندي، عفيفة الأمّ. فقلنا: فجعلها؛ وأتى بالجارية، وطلع الجبل، وقال للجارية: اطرحي ثوبك واخرجي في وجوههم.وقال للقوم: اتبعوا أثرها. وصاح برجل منّا يُقال له: أحمر بن حابس، فقال: يا أحمر بن حابس، عليك أول فارسٍ.فحمل أحمر فطحن أول فارس فصرعه، وانهزموا وغنمناهم. قال: فابتنيا عليه بيتاً وسميناه: ذا الخلصة. وكان لا يقول لنا شيئاً إلاّ كان كما يقول. حتى إذا كان مبعثك يا رسول الله، قال لنا يوماً: يا معشر دوس نزلت بنو الحارث بن كعب فاركبوا، فركبنا، فقال لنا: أكدسوا الخيل كدساً، واحشوا القوم رمساً، القوهم غُدَيَّة، واشربوا الخمر عشيَّة.قال: فلقيناهم فهزمونا وفضحونا، فرجعنا إليه فقلنا: ما حالك؟ وما الذي صنعت بنا؟ فنظرنا إليه وقد احمرت عيناه، وابيضَّت أُذناه، وانزمَّ غضباً، حتى كاد أن ينفطر، وقام. فركبنا واغتفرنا هذه له.ومكثنا بعد ذلك حيناً، ثم دعانا، فقال: هل لكم في غزوة تهب لكم عِزاً، وتجعل لكم حرزاً، وتكون في أيديكم كنزاً؟ قلنا: ما أحوجنا إلى ذلك.فقال: اركبوا، فركبنا، وقلنا: ما تقول؟ قال: بنو الحارث بن مسلمة، ثم
তার কণ্ঠস্বর, আর তিনি বলতে লাগলেন: হায় দুর্ভোগ! হায় দুর্ভোগ! হায় আক্ষেপ! হায় আক্ষেপ! হায় গানামের দুর্ভোগ, আর হায় ফাহমের দুর্ভোগ, আগুনের স্ফুলিঙ্গ থেকে 'রাজায ছন্দে':ঘোড়াগুলো, আল্লাহর শপথ, গিরিপথের ওপারে … সেগুলোর মাঝে রয়েছে সুন্দর ও অভিজাত যুবকেরা।তিনি বললেন: অতঃপর আমরা সওয়ার হলাম এবং সরঞ্জাম গ্রহণ করলাম। আমরা বললাম: তোমার দুর্ভোগ হোক, তুমি কী দেখছ? তিনি বললেন: ঋতুবতী কোনো কুমারী মেয়ে কি আছে? আমরা বললাম: আমরা এমন কাউকে কোথায় পাব? তখন আমাদের মধ্য থেকে এক বৃদ্ধ বললেন: আল্লাহর শপথ, সে আমার কাছে আছে, তার মা অতি সতী-সাধ্বী। আমরা বললাম: তাহলে তাকেই নিয়ে এসো। তিনি কুমারী মেয়েটিকে নিয়ে এলেন এবং পাহাড়ে আরোহণ করলেন। এরপর মেয়েটিকে বললেন: তোমার পোশাক খুলে ফেলো এবং তাদের সামনে বেরিয়ে যাও।আর লোকজনকে বললেন: তোমরা তার পদচিহ্ন অনুসরণ করো। এরপর তিনি আমাদের মধ্য থেকে আহমার ইবন হাবিস নামক এক ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ডেকে বললেন: হে আহমার ইবন হাবিস, প্রথম অশ্বারোহীর দায়িত্ব তোমার ওপর।অতঃপর আহমার আক্রমণ করলেন এবং প্রথম অশ্বারোহীকে চূর্ণ করে ধরাশায়ী করলেন। তারা পরাজিত হলো এবং আমরা তাদের সম্পদ গনিমত হিসেবে লাভ করলাম। তিনি বললেন: এরপর আমরা তার ওপর একটি ঘর নির্মাণ করলাম এবং তার নাম দিলাম 'যুল খালাসাহ'। তিনি আমাদের যা কিছু বলতেন তা ঠিক তেমনই হতো। অবশেষে যখন আপনার নবুয়তপ্রাপ্তির সময় হলো হে আল্লাহর রাসূল, তখন একদিন তিনি আমাদের বললেন: হে দাওস সম্প্রদায়, বনু হারিস ইবন কাব অবতীর্ণ হয়েছে, সুতরাং তোমরা সওয়ার হও। আমরা সওয়ার হলাম। তখন তিনি আমাদের বললেন: তোমরা ঘোড়াগুলোকে সারিবদ্ধ করো, আর শত্রুদলকে কবরে নিক্ষেপ করো। ভোরে তাদের সাথে লড়াই করো এবং সন্ধ্যায় মদ পান করো।তিনি বললেন: আমরা তাদের মুখোমুখি হলাম কিন্তু তারা আমাদের পরাজিত ও লাঞ্ছিত করল। আমরা তাঁর কাছে ফিরে এসে বললাম: আপনার অবস্থা কী? আর আপনি আমাদের সাথে একি করলেন? আমরা তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে তাঁর চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে, কান দুটো সাদা হয়ে গেছে এবং তিনি ক্রোধে রুদ্ধ হয়ে গেছেন, যেন ফেটে পড়বেন। তিনি উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর আমরা সওয়ার হলাম এবং তাঁর এই ত্রুটি ক্ষমা করে দিলাম।এরপর আমরা কিছুকাল অবস্থান করলাম। অতঃপর তিনি আমাদের আহ্বান করলেন এবং বললেন: তোমাদের কি এমন কোনো যুদ্ধের প্রয়োজন আছে যা তোমাদের সম্মান দান করবে, তোমাদের জন্য দুর্গ হয়ে থাকবে এবং তোমাদের হাতে সম্পদ হিসেবে থাকবে? আমরা বললাম: আমাদের এর খুব প্রয়োজন।তিনি বললেন: তোমরা সওয়ার হও। আমরা সওয়ার হলাম এবং বললাম: আপনি কী বলছেন? তিনি বললেন: বনু হারিস ইবন মাসলামাহ, এরপর...
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
قال: قفوا، فوقنا. ثم قال: عليكم بفهم، ثم قال: ليس لكم فيه دمٌ؛ عليكم بمضر، هم أرباب خيل ونعم. ثم قال: لا، زهط بن دريد الصِّمَّة. قليل العدَّة، وفيِّ الذِّمة، ثم قال: لا، ولكن عليك بكعب بن ربيعة، واشكرها صنيعة، عامر بن صعصعة، فلتكن بهم الوقيعة.قال: فلقيناه فهزمونا وفضحونا، فرجعنا وقلنا: ويلك! ما تصنعّ بنا؟ قال: ما أدري، كذبني الذي كان يصدقني؛ اسجنوني في بيتي ثلاثا ثم ائتوني ففعلنا به ذلك، ثم أتينا بد ثالثةٍ، ففتحنا عند فإذا هو كأنه جمرةٌ نار.فقال: يا معشر دوس حرست السماء، وخرج خير الأنبياء.قلنا: أين؟ قال: بمكة؛ وأنا ميت فادفنوني في رأس جبل فإني سوف اضطرم ناراً، وإن تركتموني كنت عليكم عاراً. فإذا رأيتم اضطرامي وتلهُّبي فاقذفوني بثلاثة أحجار، ثم قولوا من كل حجرٍ: باسمك اللهم. فإني أهدأ وأطفأ.قال: وإنه مات فاشتعل نارا، ففعلنا بعه ما أمر فقذفناه بثلاثة أحجار نقول مع كلّ حجر باسمك اللهم. فخمد وطفئ.وأقمنا حتى قدم علينا الحاجُّ فأخبرونا بمبعثك يا رسول الله.حدثنا عبد الله بن محمد البَلَويّ، قال: قال عُمارة ثنا عبد الله بن العلاء،
তিনি বললেন: তোমরা থামো, আমাদের উপরে। তারপর তিনি বললেন: তোমরা ফাহম গোত্রকে পাকড়াও করো। এরপর বললেন: তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য (প্রতিশোধ নেওয়ার মতো) কোনো রক্ত নেই; তোমরা মুদার গোত্রের প্রতি লক্ষ্য করো, তারা অশ্বরাজি ও গবাদি পশুর অধিপতি। এরপর তিনি বললেন: না, বরং দুরেয়দ ইবনে আস-সিম্মাহর বংশধরদের প্রতি; তাদের সংখ্যা অল্প, তবে তারা অঙ্গীকার রক্ষায় অত্যন্ত বিশ্বস্ত। পুনরায় তিনি বললেন: না, বরং তোমরা কা'ব ইবনে রাবি'আকে পাকড়াও করো, আর একে একটি কল্যাণকর কাজ হিসেবে কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করো; আমির ইবনে সা'সা'আহ—তাদের সাথেই যেন যুদ্ধ সঙ্ঘটিত হয়।তিনি বললেন: আমরা তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলাম, কিন্তু তারা আমাদের পরাজিত ও লাঞ্ছিত করল। আমরা ফিরে এসে বললাম: তোমার ধ্বংস হোক! তুমি আমাদের সাথে একি করলে? তিনি বললেন: আমি জানি না; যে সত্তা আমার কাছে সত্য সংবাদ নিয়ে আসত, সে আজ আমার কাছে মিথ্যা বলেছে। তোমরা আমাকে তিন দিনের জন্য আমার ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখো, তারপর আমার নিকট এসো। আমরা তার সাথে তাই করলাম। এরপর তৃতীয় দিনে আমরা তার নিকট আসলাম এবং দরজা উন্মোচন করলাম; হঠাৎ দেখা গেল তিনি যেন একটি জ্বলন্ত অঙ্গার।অতঃপর তিনি বললেন: হে দাওস সম্প্রদায়, আকাশকে সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।আমরা জিজ্ঞাসা করলাম: কোথায়? তিনি বললেন: মক্কায়। আমি মৃত্যুবরণ করছি, অতএব তোমরা আমাকে পাহাড়ের চূড়ায় সমাহিত করো; কেননা আমি শীঘ্রই অগ্নিশিখায় প্রজ্বলিত হব। আর তোমরা যদি আমাকে ত্যাগ করো, তবে আমি তোমাদের জন্য কলঙ্ক হয়ে থাকব। যখন তোমরা আমার প্রজ্বলন ও অগ্নিশিখা দেখবে, তখন আমার দিকে তিনটি পাথর নিক্ষেপ করবে এবং প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের সময় বলবে: 'হে আল্লাহ, আপনার নামে'। এতে আমি শান্ত হব এবং অগ্নি নির্বাপিত হবে।তিনি বললেন: এরপর তিনি মারা গেলেন এবং অগ্নিশিখায় জ্বলতে লাগলেন। তিনি আমাদের যা আদেশ করেছিলেন আমরা তা-ই করলাম; আমরা তার ওপর তিনটি পাথর নিক্ষেপ করলাম এবং প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের সময় বললাম 'হে আল্লাহ, আপনার নামে'। ফলে আগুন স্তিমিত ও নির্বাপিত হলো।আমরা অবস্থান করতে থাকলাম, অবশেষে হজ্জযাত্রীরা আমাদের নিকট আগমন করলেন এবং তারা আমাদের আপনার নবুওয়াত প্রাপ্তির সংবাদ প্রদান করলেন, হে আল্লাহর রাসূল।আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বালাওয়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: উমারা আমাদের বলেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আল-আলা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
عن الزهري، عن عبد الله بن الحارث بن عبد المطّلب، عن أبيه، عن ابن عباس، قال: لمّا توجَّه رسول الله صلى الله عليه وسلم يريد مكة في العام الذي رَدَّته قريش عن البيت، وهو عام الحديْبِيَة، فلما سار رسول الله صلى الله عليه وسلم مرحلتين أو ثلاثاً، قدم عليه بشر بن سفيان العتكي، فسلّم عليه. فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا بشر هل عندك علمٌ أنّ أهل مكة علموا بمسيري إليهم؟ فقال بشر: بأبي أنت وأمي يا رسول الله؛ أخبرك أني كنت أطوف بالبيت في ليلة كذا وكذا "وسمَّى الليلة التي أمر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابه بالسَّير فيها إلى مكة" وقريش في أنديتها حول البيت، إذا صرخ صارخٌ من أعلى جبل أبي قُبيس، بصوت أسمع أهل مكة بعيدهم وداينهم، وهو يقول "من البسيط":هبُّوا فساحركم منّا صحابتُه … سيروا إليه وكونوا معشراً كُرُما
যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন সেই বছর যাতে কুরাইশরা তাঁকে বায়তুল্লাহ থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিল—আর সেটি ছিল হুদায়বিয়ার বছর—তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই বা তিন মঞ্জিল পথ অতিক্রম করার পর বিশর ইবনে সুফিয়ান আল-আতাকি তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: হে বিশর, তোমার কাছে কি এমন কোনো খবর আছে যে মক্কাবাসীরা তাদের দিকে আমার এই যাত্রার সংবাদ পেয়েছে? বিশর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক; আমি আপনাকে সংবাদ দিচ্ছি যে, আমি অমুক অমুক রাতে বায়তুল্লাহ তওয়াফ করছিলাম—বর্ণনাকারী বলেন, বিশর সেই রাতের কথা উল্লেখ করেছিলেন যে রাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের মক্কার দিকে যাত্রার নির্দেশ দিয়েছিলেন—আর কুরাইশরা তখন বায়তুল্লাহর চারপাশে তাদের মজলিসগুলোতে উপবিষ্ট ছিল, হঠাৎ আবু কুবাইস পাহাড়ের চূড়া থেকে একজন চিৎকারকারী উচ্চস্বরে চিৎকার করে উঠল, যা মক্কার দূর ও নিকটবর্তী সকল মানুষ শুনতে পেল। সে 'বাসীত' ছন্দে বলছিল:জাগ্রত হও! তোমাদের সেই জাদুকর ও তার সঙ্গীরা আমাদের থেকে (রওয়ানা হয়েছে) … তাদের দিকে ধাবিত হও এবং একটি সম্মানিত দল হিসেবে আবির্ভূত হও।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
بعد الطوافِ وبعد السعي في مَهَلٍ … وأَن يحوزهمُ من مكة الحرماشاهت وجوهكمُ من معشرٍ نَكُلٍ … لا ينصرون "إِذا ما حاربوا" صَنَماقال: فما هو إلاّ أن سمع القوم ذلك حتى ارتجّت مكة، وقام أبو سفيان في جماعة من أشراف قريش، منهم عكرمة بن أبي جهل، وسهيل بن عمرو، وصفوان بن أُمية، في جماعة معهم، فاجتمعوا عند الكعبة وتحالفوا وتعاقدوا ألاّ تدخل عليهم مكة في عامهم هذا، وتركتهم يجمعون لك.فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أمّا الهاتف الذي سمعت فهو سلفع شيطان الأصنام، يوشك أن يقتله الله، إن شاء الله، فسر إلى مكة وانظر ما هم فاعلون ثم تعودُ إليَّ يكسبك الله بذلك أجراً.قال: فرجع بشر بن سفيان إلى مكة، فبينا هو يطوف بالبيت، إذا رأته قريش، فهتفت به فجاءهم، فقالوا: إيه يا بشر، هل عندك علم من محمد؟ أتراه يريد الدخول إلى مكة في عامه هذا؟ فقلت: إنما أنا كواحد منكم، ولقد سمعت الهاتف الذي هتف بكم يُؤْذنكم بذلك، وما رأى هذا حقاً.قالوا: بلى يا بشر إنه لكائن، هذا هُبَل حَرَّكَنا لنصرته، والمحاماة عليه،
তাওয়াফ এবং ধীরস্থিরভাবে সাঈ সম্পন্ন করার পর … এবং যেন তিনি তাদের মক্কার হারাম হতে বহিষ্কার করেন।হে পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী দল! তোমাদের চেহারা বিকৃত হোক … যখন তারা যুদ্ধ করে তখন তারা কোনো মূর্তিকে সাহায্য করে না।তিনি বললেন: লোকেরা তা শোবামাত্রই মক্কায় হুলস্থুল পড়ে গেল। আবু সুফিয়ান কুরাইশদের একদল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ দাঁড়িয়ে গেলেন, যাদের মধ্যে ইকরিমাহ ইবনে আবি জাহল, সুহাইল ইবনে আমর এবং সাফওয়ান ইবনে উমাইয়্যাহ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা কাবার নিকটে সমবেত হলেন এবং এই মর্মে পরস্পর শপথ ও অঙ্গীকার করলেন যে, এই বছরে তারা তাদের ওপর কাউকে মক্কায় প্রবেশ করতে দিবে না। আমি তাদেরকে আপনার বিরুদ্ধে সমবেত হওয়া অবস্থায় রেখে এসেছি।তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তুমি যে অদৃশ্য আহ্বানকারীর আওয়াজ শুনেছ তা হলো মূর্তিদের শয়তান ‘সালফা’। আল্লাহ শীঘ্রই তাকে ধ্বংস করবেন, ইনশাআল্লাহ। সুতরাং তুমি মক্কার দিকে যাত্রা করো এবং দেখ তারা কী করছে, তারপর আমার কাছে ফিরে আসো। আল্লাহ এর মাধ্যমে তোমাকে সওয়াব দান করবেন।তিনি বললেন: অতঃপর বিশর ইবনে সুফিয়ান মক্কায় ফিরে গেলেন। তিনি যখন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন, তখন কুরাইশরা তাকে দেখতে পেল এবং তাকে উচ্চস্বরে ডাকল। তিনি তাদের নিকটে গেলে তারা বলল: হে বিশর! তোমার কাছে কি মুহাম্মাদের কোনো খবর আছে? তুমি কি মনে করো সে এই বছর মক্কায় প্রবেশের ইচ্ছা রাখে? আমি বললাম: আমি তো তোমাদের মতোই একজন। তোমরা যে অদৃশ্য আহ্বানকারীর আওয়াজ শুনেছ যা তোমাদের এ বিষয়ে অবহিত করেছে, আমিও তা শুনেছি। আর সে একে সত্য মনে করেনি।তারা বলল: অবশ্যই হে বিশর! তা ঘটবেই। এই হুবাল-ই আমাদের তার সাহায্যের জন্য এবং তাকে রক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وما جَرَّبنا عليه كذباً قط؛ وليعلمنّ محمدٌ إن جاءنا أنها الفيصل فيما بيننا وبينه.قال: فبينما هم كذلك، إذ سمعوا من أعلى الجبل صوتاً وهو يقول "من البسيط":شاهت وجوهُ رجالٍ حالفوا صَنَماً … وخابَ سعيُهُم ما أَقصر الهِمَمَاما خيرَ في حجرٍ لا يستجيبُ لهم … إِذا دَعَوا حولهُ وَلَاّهُمُ صَمَمَاإِنّي قتلتُ عدوَّ الله سلفعةً … شيطانَ أَوثانكم، سحقاً لمن ظَلَمَاوقد أَتاكم رسول الله في نفرٍ … وكلُّهم محرمٌ لا يسفكون دَمَاحدثنا عليّ بن حرب، قال: سمعتُ أبا المنذر هشام بن محمد بن السائب الكلبي، عن عبد المجيد بن أبي عبس، عن أشياخه، قال: لمّا هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم، خفي على قريش خبره، فبينا قريش في أنديتها حول البيت، إذا سمعوا صوتاً من أبي قبيس، يقول "من الطويل":إِنْ يُسلم السَّعدان يصبحْ محمدٌ … بمكةَ لا يخشى خلافَ المخالفِفقالت قريش: أي السعود؟ سعد هذيم؟ سعد تميم؟ سعد مَذحج؟ فلما كانت القابلة سمعوا في ذلك الموضع صوتاً يقول "من الطويل":
এবং আমরা তাঁর কাছে কখনোই কোনো মিথ্যার অভিজ্ঞতা পাইনি; আর মুহাম্মদ অবশ্যই জেনে নেবেন যে, তিনি যদি আমাদের কাছে আসেন তবে এটিই হবে আমাদের ও তাঁর মধ্যে চূড়ান্ত ফয়সালা।তিনি বললেন: তাঁরা যখন এ অবস্থায় ছিলেন, হঠাৎ পাহাড়ের উপর থেকে একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন যা 'বাসীত' ছন্দে বলছিল:সেইসব লোকদের চেহারা কদাকার হোক যারা মূর্তির সাথে মিত্রতা করেছে … এবং তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, কতই না তুচ্ছ তাদের মনোবল!সেই পাথরের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই যা তাদের ডাকে সাড়া দেয় না … যখন তারা তার চারপাশে তাকে ডাকে, তখন সে তাদের প্রতি বধিরতা প্রদর্শন করে।নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর শত্রু সালফাআ-কে হত্যা করেছি … যে ছিল তোমাদের প্রতিমাগুলোর শয়তান; ধ্বংস হোক তাদের জন্য যারা জুলুম করেছে।আর তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল একদল লোক নিয়ে এসেছেন … যাদের সকলেই ইহরাম অবস্থায় আছেন, তাঁরা রক্তপাত করবেন না।আলী ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আল-মুনজির হিশাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-সায়িব আল-কালবীকে বলতে শুনেছি, তিনি আব্দুল মাজিদ ইবনে আবি আবস থেকে, তিনি তাঁর শিক্ষকগণের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরত করলেন, তখন কুরাইশদের কাছে তাঁর সংবাদ গোপন থাকল। কুরাইশরা যখন কাবার চারপাশের মজলিসগুলোতে ছিল, তখন হঠাৎ তারা আবু কুবাইস পাহাড় থেকে একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেল, যা 'তাবীল' ছন্দে বলছিল:যদি দুই 'সা’দ' ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে মুহাম্মদ মক্কায় এমন অবস্থায় সকাল করবেন যে, তিনি কোনো বিরোধীর বিরোধিতাকে ভয় করবেন না।তখন কুরাইশরা বলল: কোন সা’দ? সা’দ হুযাইম? সা’দ তামীম? নাকি সা’দ মাযহিজ? অতঃপর যখন পরবর্তী রাত এল, তারা সেই স্থান থেকে একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেল যা বলছিল:
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
يا سعدُ سعدَ الأَوسِ كن أَنت ناصراً … ويا سعدُ سعدَ الخزرجين الغطارفِأَجيبا إِلى داعي الهدى وتمنّيا … على الله في الفردوسِ منية عارفِقال عليّ بن حرب: وزادني فيه ابن زبّان عنه، فلما سألتُه لم يحفظه:فإِن ثوابَ اللهِ للطالب الهدى … جنانٌ من الفردوسِ ذاتُ رفارفِفعلمت قريش أَنّ ناصري النبي صلى الله عليه وسلم من الأوس والخزرج: سعد بن معاذ، وسعد بن عبادة.حدثنا عبد الله بن محمد البلويّ، بمصر، قال: ثنا عُمارة بن زيد، قال: حدثني عبد الله بن العلاء، قال: حدثني يحيى بن عروة، عن أبيه: أنّ نفراً من قريش منهم ورقة بن نوفل بن أسد بن عبد العزّى بن قُصيّ، وزيد بن عمرو بن نُفيل، وعبيد الله بن جحش بن رئاب، وعثمان بن الحويرث؛
হে সাদ, আউস গোত্রের সাদ! তুমি সাহায্যকারী হও … আর হে সাদ, মহান খাযরাজ গোত্রের সাদ!তোমরা হিদায়াতের আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং আল্লাহর নিকট … জান্নাতুল ফিরদাউসে একজন আরেফের আকাঙ্ক্ষা কামনা করো।আলী ইবনে হারব বলেন: ইবনে যাব্বান তার সূত্রে এটি আমার কাছে বর্ণনা করার সময় কিছু অংশ বাড়িয়ে বলেছিলেন, তবে যখন আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি, তিনি তা স্মরণ রাখতে পারেননি:নিশ্চয়ই হিদায়াত অন্বেষণকারীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হলো … ফিরদাউসের সুশোভিত জান্নাতসমূহ।কুরাইশরা জানতে পারল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহায্যকারীগণ হলেন আউস ও খাযরাজ গোত্রের দুই সাদ: সাদ ইবনে মুআয এবং সাদ ইবনে উবাদাহ।আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বালাউয়ী মিসরে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমারা ইবনে যাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আলা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে উরওয়া তাঁর পিতার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে: কুরাইশদের একটি দল, যাদের মধ্যে ছিলেন ওরাকা ইবনে নাওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই, যাইদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল, উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ ইবনে রিয়াব এবং উসমান ইবনে আল-হুওয়াইরিস;
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
كانوا عند صنم لهم يجتمعون إليه، وقد اتخذوا ذلك اليوم من كلِّ سنةٍ عيداً، وكانوا يعظمونه، وينحرون له الجزر، ثم يأكلون ويشربون الخمر، ويعكفون عليه. فدخلوا عليه في الليل فرأوه مكبوباً على وجهه، فأنكروا ذلك، فأخذوه فردُّوه إلى حاله فلم يلبث أن انقلب انقلاباً عنيفاً، فأخذوه فردُّوه إلى حاله. فانقلب الثالثة. فلمّا رأوه ذلك اغتمّوا له، واعظموا ذلك.فقال عثمان بن الحويرث: ما له قد اكثر التنكس؟ إنّ هذا لأمر قد حدث.وذلك في الليلة التي ولد فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم.فجعل عثمان يقول "من الطويل":أَيا صنمَ العيد الذي صُفَّ حولَهُ … صناديد وفدٍ من بعيدٍ ومن قربِتكوَّستَ مغلوباً فما ذاك قلْ لنا … أَذاك سفيةٌ أم تكوَّست لِلَّعْبِفإِن كان من ذنبٍ أَتينا فإِننا … نبوءُ بإِقرارٍ ونُولي على الذنبِوإِن كنتَ مغلوباً تكوَّست صاغراً … فما أَنت في الأَوثان بالسيّد الرَّبِّقال: وأخذوا الصنم فردُّوهُ إلى حاله، فما استوى هتف بهم هاتفٌ من الصنم بصوتٍ جهيرٍ، وهو يقول "من الطويل":تَرَدَّى لمولودٍ أَنارت بنورهِ … جميعُ فجاج الأَرض بالشرقِ والغربِوَخَرَّت لهُ الأَوثانُ طُرَّاً وأُرعدت … قلوبُ ملوكِ الأَرض طُرَّاً من الرعبِونارُ جميعُ الفرسِ باخت وأَظلمت … وقد باتَ شاهُ الفرسِ في أَعظم الكربِ
তারা তাদের এক মূর্তির কাছে ছিল যেখানে তারা সমবেত হতো। তারা প্রতি বছর এই দিনটিকে উৎসব হিসেবে পালন করত। তারা সেটিকে সম্মান করত এবং তার উদ্দেশ্যে উট জবাই করত। এরপর তারা আহার করত, মদ পান করত এবং মূর্তির সামনে অবস্থান করত। রাতে তারা সেখানে প্রবেশ করে দেখল যে সেটি উপুড় হয়ে মুখে ওপর পড়ে আছে। তারা বিষয়টি অপছন্দ করল এবং সেটিকে তুলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিল। কিন্তু অল্প সময় পরেই সেটি প্রচণ্ডভাবে উল্টে গেল। তারা পুনরায় সেটিকে সোজা করে রাখল, কিন্তু তৃতীয়বারও সেটি উল্টে গেল। যখন তারা এটি দেখল, তারা চিন্তিত হয়ে পড়ল এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে গণ্য করল।উসমান ইবনুল হুয়াইরিস বললেন: "তার কী হলো যে সে বারবার এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে? নিশ্চয়ই কোনো বড় ঘটনা ঘটেছে।"আর এটি ছিল সেই রাত যে রাতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন।তখন উসমান বলতে লাগলেন:হে উৎসবের মূর্তি! যার চারপাশে দূর ও নিকট থেকে আগত দলপতিরা কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। … তুমি পরাজিত হয়ে মুখ থুবড়ে পড়লে, আমাদের বলো এর কারণ কী? এটি কি কোনো নির্বুদ্ধিতা নাকি খেলার ছলে তুমি এমন করলে? … যদি আমাদের কোনো পাপের কারণে এটি ঘটে থাকে, তবে আমরা তা স্বীকার করছি এবং সেই পাপ থেকে ফিরে আসছি। … আর যদি তুমি লাঞ্ছিত হয়ে পরাজিত অবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকো, তবে মূর্তিদের মধ্যে তুমি কোনো মহান নেতা বা প্রভু নও। … বর্ণনাকারী বলেন: তারা মূর্তিটি ধরে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিল। সেটি যখনই ঠিকভাবে উঠল, অমনি মূর্তির ভেতর থেকে এক অদৃশ্য আহ্বানকারী উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলতে লাগল:সেটি ভূলুণ্ঠিত হয়েছে এমন এক নবজাতকের আগমনে যার নূরে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমের সকল পথ আলোকিত হয়ে উঠেছে। … তাঁর সম্মানে সকল মূর্তি লুটিয়ে পড়েছে এবং পৃথিবীর সকল রাজার অন্তর আতঙ্কে প্রকম্পিত হয়েছে। … পারস্যের সকল আগুন নিভে অন্ধকার হয়ে গেছে এবং পারস্যের সম্রাট চরম কষ্টের মধ্যে রাত অতিবাহিত করেছেন। …
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
وصُدَّت عن الكهّانِ بالغيبِ حِنُّها … فلا مخبرٌ عنهم بحقٍّ ولا كذِبِفيالَ قصيٍّ ارجعوا عن ضلالكم … وهبّوا إِلى الإِسلامِ والمنزلِ الرّحبِفلمّا سمعوا ذلك خلصوا نجيّاً، فقال بعضهم لبعض: تصادقوا، وليتكم بعض على بعض، فقالوا: أجل.فقال لهم ورقةُ بن نوفل: تعلمون والله ما قومكم على دين، ولقد أخطأوا المَحَجَّةَ، وتكوا دين إبراهيم؛ ما حجر تطيفون به لا يسمع ولا يبصر، ولا ينفع ولا يضرُّ، يا قوم التمسوا لأنفسكم الدين.قال: فخرجوا عند ذلك يضربون في الأرض، ويسألون عن الحنيفية، دين إبراهيم صلى الله عليه وسلم.وأمّا ورقة بن نوفل فتنصَّرَ، وقرأ الكتب حتى علم علماً.وأمّا عثمان بن الحويرث فصار إلى قيصر، فتنصَّرَ، وحسنت منزلته عنده. وأمّا زيد بن عمرو بن نُفيل فأراد الخروج فحبس، ثم إنه خرج بعد ذلك، فضرب في الأرض حتى بلغ الرَّقَّةَ من أرض الجزيرة، فلقي بها راهباً عالماً، فأخبره بالذي يطلب.فقال له الراهبُ: إِنك لتطلب ديناً ما تجد من يحملك عليه، ولكن قد أظلَّك زمان نبيُّ يخرج من بلدك يبعث بدين الحنيفية.فلما قال له ذلك، رجع يريد مكة، فثارت عليه لخم فقتلوه.
অদৃশ্য জ্ঞান থেকে গণকদের জন্য জিনের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে … তাই তাদের পক্ষ থেকে সত্য বা মিথ্যা কোনো সংবাদদাতা অবশিষ্ট নেই।হে কুসাই বংশধরগণ! তোমরা তোমাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরে এসো … এবং ইসলামের দিকে ও প্রশস্ত আবাসের দিকে ধাবিত হও।যখন তারা এটি শুনল, তারা একান্তে পরামর্শ করতে বসল। তারা একে অপরকে বলল: তোমরা সত্যবাদী হও এবং একে অপরের প্রতি অনুগত হও। তারা বলল: অবশ্যই।ওয়ারাঙ্কা ইবন নওফাল তাদের বললেন: আল্লাহর শপথ! তোমরা জানো যে তোমাদের কওম কোনো সঠিক দ্বীনের ওপর নেই। তারা সঠিক পথ হারিয়েছে এবং ইবরাহীমের দ্বীন বর্জন করেছে। এই পাথর—যাকে তোমরা প্রদক্ষিণ করছো—সে তো শোনে না, দেখে না এবং কোনো উপকার বা অপকারও করতে পারে না। হে আমার জাতি! তোমরা নিজেদের জন্য একটি দ্বীন তালাশ করো।বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তারা দেশভ্রমণে বের হলেন এবং হানিফিয়া তথা ইবরাহীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দ্বীন সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে লাগলেন।আর ওয়ারাঙ্কা ইবন নওফাল খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করলেন এবং কিতাবসমূহ পাঠ করলেন, ফলে তিনি প্রগাঢ় জ্ঞান অর্জন করলেন।আর উসমান ইবনুল হুয়াইরিস কায়সারের কাছে চলে গেলেন এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করলেন, আর তার কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পেল। আর যায়েদ ইবন আমর ইবন নুফাইল দেশত্যাগের ইচ্ছা করলেন কিন্তু তাকে বাধা দেওয়া হলো; এরপর তিনি বের হলেন এবং দেশভ্রমণ করতে করতে জাযীরা ভূখণ্ডের রাক্কাহ্ নামক স্থানে পৌঁছালেন। সেখানে তিনি এক জ্ঞানী পাদ্রীর দেখা পেলেন এবং তিনি যা খুঁজছিলেন তা তাকে জানালেন।তখন পাদ্রী তাকে বললেন: আপনি এমন একটি দ্বীন তালাশ করছেন যা আপনাকে শেখানোর মতো কাউকে এখন পাবেন না। তবে একজন নবীর আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে যিনি আপনার দেশ থেকেই বের হবেন এবং হানিফিয়া দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হবেন।যখন পাদ্রী তাকে এই কথা বললেন, তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। পথিমধ্যে লাখম গোত্র তার ওপর চড়াও হলো এবং তাকে হত্যা করল।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
وأمّا عبيد الله بن جحش فأقام بمكة حتى بعث النبيُّ صلى الله عليه وسلم، ثم خرج إلى أرض الحبشة، فلمّا صار فيها تنصَّرَ، وفارق الإسلام، وكان بها حتى هلك هنالك نصرانيّاً.حدثنا أحمد بن إسحاق بن صالح، أبو بكر الوّراق، قال: ثنا عمرو بن عثمان، قال: حدثني أبي، قال: حدثني عبد الله بن عبد العزيز، قال: حدثني محمد بن عبد العزيز، عن الزُّهري، عن عبد الرحمن بن أنس السُّلمي، عن العباس بن مرداس.انه كان يغير في لقاح له نصف النهار إذا طلعت عليه نعامة بيضاء عليها
আর উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহশ মক্কায় অবস্থান করছিলেন যতক্ষণ না নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত হলেন। অতঃপর তিনি হাবশা (আবিসিনিয়া) অভিমুখে হিজরত করলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং ইসলাম ত্যাগ করেন। তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত খ্রিস্টান হিসেবেই ছিলেন।আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে সালিহ আবু বকর আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল আজিজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আনাস আস-সুলামি থেকে, তিনি আব্বাস ইবনে মিরদাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি ভরদুপুরে তাঁর একদল দুগ্ধবতী উষ্ট্রীর তদারকি করছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর সামনে একটি সাদা উটপাখি আবির্ভূত হলো যার উপরে...
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
راكب، عليه ثياب بيض مثل اللبن، فقال: يا عباس بن مرداس، ألم تر أنّ السماء كُفَّتْ أحراسها، وأنّ الحرب جُرِّعت أنفاسها، ولأن الخيل وضعت أحلاسها، وأنّ الدين نزل بالبرّ والتقوى، يوم الاثنين ليلة الثلاثاء "مع" صاحب الناقة القصوى؟قال: فرجعت مرعوباً، قد راعني ما رأيت وسمعت حتى جئت وثناً لنا يُدعى الضِّماد وكنَّا نعبده، ونُكلَّمُ من جوفه؛ فكنست ما حوله، ثم تمسَّحتُ به، وقبَّلتُهُ، فإذا صائحٌ من جوفه يقول "من الكامل":قلْ للقبائل من سُلي كُلِّها … هلكَ الضِّمادُ، وفازَ أَهلُ المسجدِهلكَ الضِّمادُ كان يُعبدُ مَرَّةً … قبلَ الصَّلاةِ مع النبيّ محمدِإِنّ الذي جا بالنبوَّة والهدى … بعدَ ابن مريمَ من قريشٍ مهتدِقال: فخرجت مرعوباً حتى أتيت قومي. فقصصت عليه القصة وأخبرتهم الخبر، وخرجت في ثلاثمئة من قومي من بني حارثة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو بالمدينة فدخلنا المسجد. فلمّا رآني رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال لي: يا عباس، كيف كان إسلامك؟ فقصصت عليه القصة. قال: فسُرَّ بذلك، فأسلمت أنا وقومي.
একজন আরোহী, যার পরনে ছিল দুধের মতো সাদা পোশাক, সে বলল: হে আব্বাস ইবনে মিরদাস, তুমি কি দেখনি যে আসমানের প্রহরা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যুদ্ধের তীব্রতা স্তিমিত করা হয়েছে এবং ঘোড়াগুলো তাদের জিনের গদি নামিয়ে রেখেছে? আর দ্বীন বা ধর্ম পুণ্য ও তাকওয়া নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, সোমবার দিবাগত রাতে 'কাসওয়া' উটনীর মালিকের নিকট।তিনি বললেন: আমি অত্যন্ত ভীত হয়ে ফিরে এলাম, যা আমি দেখেছি এবং শুনেছি তা আমাকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। অবশেষে আমি আমাদের 'দিমাদ' নামক মূর্তির কাছে আসলাম যার আমরা উপাসনা করতাম এবং যার ভেতর থেকে আমাদের সাথে কথা বলা হতো। আমি এর চারপাশ পরিষ্কার করলাম, এরপর একে স্পর্শ করলাম ও চুম্বন করলাম। অমনি তার ভেতর থেকে একজন চিৎকারকারী বলে উঠল:সুলাইম গোত্রের সকলকে বলে দাও … দিমাদ ধ্বংস হয়েছে, আর মসজিদের অধিবাসীরা সফল হয়েছে।দিমাদ ধ্বংস হয়েছে যাকে এককালে পূজা করা হতো … নবী মুহাম্মাদের সাথে সালাত আদায়ের পূর্বে।নিশ্চয়ই যিনি মারইয়াম-তনয়ের পর নবুওয়াত ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন … তিনি কুরাইশ বংশের এক হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি।তিনি বললেন: আমি আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় বেরিয়ে আমার কওমের কাছে পৌঁছালাম। আমি তাদের কাছে এই কাহিনী সবিস্তারে বর্ণনা করলাম এবং সংবাদটি জানালাম। এরপর আমি বনু হারিসা গোত্রের আমার কওমের তিনশ জন লোক নিয়ে মদিনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট যাত্রা করলাম এবং আমরা মসজিদে প্রবেশ করলাম। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখলেন, তিনি আমাকে বললেন: হে আব্বাস, তোমার ইসলাম গ্রহণের প্রেক্ষাপটটি কেমন ছিল? আমি তাঁর নিকট পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। বর্ণনাকারী বলেন: এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং আমি ও আমার কওম ইসলাম গ্রহণ করলাম।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٤١)
حدثنا عبد الله بن محمد البَلَوي، بمصر قال: ثنا عُمارة بن زيد، قال: ثنا إسحاق بن بشر، وسَلَمة بن الفضل، عن محمد بن إسحاق، قال: حدثني شيخٌ من الأنصار يقال له: عبد الله بن محمود، من آل محمد بن مسلمة، قال: بلغني أن رجالاً من خثعم كانوا يقولون: إن مما دعانا من إلى الإسلام، أنّا كنّا قوماً نعبد الأوثان؛ فبينا نحن ذات يوم عند وثن لنا، إذ أقبل نفرٌ يتقاضون إليه، يرجون الفرج من عنده لشيء شجر بينهم، إذا هتف بهم هاتف من الصّنم فجعل يقول "من الرجز":يا أَيّها الناسُ ذوو الأَجسامِ … من بينِ أَشياخ إِلى غلامِما أَنتمُ وطائشَ الأحلامِ … ومسندَ الحكمِ إِلى الأَصنامِأَكلّكم في حيرةٍ نيام … أَم لا ترون ما أَرى أَماميمن ساطعٍ يجلو دجى الظلامِ … قد لاحَ للناظرِ من تهامِذاكَ نبيٌّ سيّدُ الأَنامِ … قد جاءَ بعد الكفرِ بالإِسلامِأَكرمهُ الرحمنُ من إِمامِ … ومن رسولٍ صادقِ الكلامِأَعدلَ ذي حكمٍ من الحكامِ … يأْمرُ بالصلاةِ والصِّيامِوالبرِّ والصِّلاتِ للأَرحامِ … ويزجرُ الناسَ عن الآثامِ
আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-বালাউয়ী মিসরে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমারা বিন যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক বিন বিশর ও সালামা বিন ফাদল মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনসারদের জনৈক শায়খ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যাকে আবদুল্লাহ বিন মাহমুদ বলা হয়, যিনি মুহাম্মাদ বিন মাসলামার বংশধর; তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, খাশআম গোত্রের কিছু লোক বলত: আমাদের ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এই যে, আমরা ছিলাম মূর্তিপূজারী এক জাতি। একদিন আমরা আমাদের এক মূর্তির নিকট অবস্থান করছিলাম, এমতাবস্থায় একদল লোক তাদের মধ্যকার এক বিবাদমান বিষয়ে সমাধানের আশায় মূর্তির নিকট উপস্থিত হলো। তখন মূর্তির ভেতর থেকে এক গায়েবী আহ্বানকারী 'রাজায' ছন্দে উচ্চস্বরে বলতে লাগল:হে দেহধারী মানুষ সকল! … প্রবীণ হতে কিশোর পর্যন্ত।তোমাদের কী হলো যে তোমাদের বুদ্ধি বিভ্রান্ত … আর তোমরা বিচারের ভার ন্যস্ত করেছ মূর্তিদের ওপর?তোমরা কি সবাই বিভ্রান্তির ঘুমে বিভোর … নাকি আমি আমার সামনে যা দেখছি তা তোমরা দেখতে পাচ্ছ না?এক উজ্জ্বল জ্যোতি যা অন্ধকারের কালিমা দূর করে দিচ্ছে … যা দর্শকদের জন্য তিহামাহ থেকে উদ্ভাসিত হয়েছে।তিনি একজন নবী, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ নেতা … যিনি কুফরের পর ইসলাম নিয়ে এসেছেন।রহমান তাকে ইমাম হিসেবে সম্মানিত করেছেন … এবং সত্যবাদী এক রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন।বিচারকদের মধ্যে তিনি ন্যায়পরায়ণতম বিচারক … তিনি সালাত ও সিয়ামের নির্দেশ দেন।পুণ্যকর্ম ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার আদেশ দেন … এবং পাপাচার থেকে মানুষকে বিরত রাখেন।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
والرِّجسِ والأَوثانِ والحرامِ … من هاشم في ذروةِ السنامِمستعلناً في البلد الحرامِقال: فلمّا سمعنا ذلك، تفرقنا عنه، وأتينا النبيَّ صلى الله عليه وسلم؛ فأسلمنا.حدثنا عبد الله، قال: ثنا عمارة، قال: حدثني عبد الله بن العلاء قال: ثنا محمد بن بُكير عن سعيد بن جُبير.أن رجلاً من بني تميم، يُقال له: رافع بن عُمير، وكان أهدى الناس لطريقٍ، وأسراهم بليلٍ، وأهجمهم على هولٍ، وكانت العرب تُسميه لذلك: دعموص العرب لهدايته وجرأته على السير.فذكر عن بدء إسلامه، قال: إني لأسير برمل عالجٍ ذات ليلة، إذ غلبني النَّوم، فنزلتُ عن راحلتي، وأنختها، وتوسَّدتُ ذراعها، ونمت؛ وقد تعوَّذتُ قبل نومي، فقلت: أعوذ بعظيم هذا الوادي من الجنِّ، من أن أُوذَى أو أًهاج.
এবং অপবিত্রতা, মূর্তিপূজা ও হারামের বিষয়াবলী … হাশিম বংশের পক্ষ থেকে কুঁজোর শিখরসম উচ্চতায়পবিত্র নগরীতে প্রকাশ্যে ঘোষণাকারী হিসেবে।তিনি বললেন: যখন আমরা তা শুনলাম, তখন আমরা তাঁর নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম; অতঃপর আমরা ইসলাম গ্রহণ করলাম।আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আম্মারাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ ইবনুল আলা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন।বনু তামীম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, যাকে রাফে ইবনে উমাইর বলা হতো; তিনি ছিলেন পথ চেনায় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পারদর্শী, রাতে ভ্রমণে সবচেয়ে অগ্রগামী এবং আতঙ্কের মুখে সবচেয়ে দুঃসাহসী। পথপ্রদর্শনে তার পারদর্শিতা এবং পথ চলায় তার সাহসিকতার কারণে আরবরা তাকে 'দা’মুসুল আরব' (আরবদের পথপ্রদর্শক) নামে ডাকত।তিনি তার ইসলাম গ্রহণের সূচনা সম্পর্কে উল্লেখ করে বললেন: আমি এক রাতে 'আলিজ' নামক বালুকাময় মরুভূমি দিয়ে পথ চলছিলাম, তখন আমার ওপর ঘুম প্রবল হলো। আমি আমার সওয়ারি থেকে নামলাম, তাকে বসালাম এবং তার বাহুকে বালিশ বানিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি ঘুমানোর আগে আশ্রয় প্রার্থনা করে বলেছিলাম: আমি এই উপত্যকার জিনদের মহান নেতার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন আমি কোনো ক্ষতি বা আতঙ্কের শিকার না হই।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
فرأيتُ في منامي رجلاً شاباً يرصد ناقتي وبيده حربة يريد أن يضعها في نحرها، فانتبهت لذلك فرعاً، فنظرتُ يميناً وشمالاً، فلم أرَ شيئاً. فقلتُ: هذا حُلم.ثم عُدتُ فغفوتُ، فرأيتُ في منامي مثل رؤياي الأولى، فانتبهتُ فدرتُ حول ناقتي، وإذا ناقتي ترعد.ثم غفوتُ فرأيتُ مثل ذلك، فانتبهتُ فرأيتُ ناقتي تضطرب، فالتفتُّ فإذا أنا برجلٍ شابٍّ، كالذي رأيته في المنام، بيده حربة، ورجل شيخ ممسك بيده يرُدُّه عنها، وهو يقول "من الكامل":يا مالكَ بنَ مهلهلَ بنَ أثارِ … مَهْلاً فدىً لكَ مئزري وإزاريعن ناقةِ الإنسيِّ لا تعرض لها … واخترْ بها ما شئتَ من أثواريولقد بدا لي منكَ ما لم أحتسبْ … إلَاّ رعيتَ قرابتي وذماريتسمو إليه بحربةٍ مسمومةٍ … تبّاً لفعلك يا أبن العقَّارِلولا الحياءُ وأنّ أهلكَ جيرةٌ … لعلمتَ ما كشَّفتَ عن أخباريقال: فأجابه الشاب وهو يقول "من الكامل":أأردتَ أن تعلو وتُخفَض ذكرنا … في غير مِرزِئَةٍ أبا العيزارِما كان فيكم سيِّدٌ فيما مضى … إنَّ الخيارَ همُ بنو الأخيارِفاقصدْ لقصدكَ يا مكيرُ إنما … كان المجيرُ مهلهل ابن أثارقال: فبينما هما يتنازعان إذ طلعت ثلاثة أثوار من الوحش، فقال الشيخ للفتى: قُم يا ابن أُختِ فخذ أيُّها شئت فداءً لناقة جاري الإنسيِّ.فقام الفتى فأخذ منها ثوراً، وانصرف. ثم التفت إليَّ الشيخ فقال: يا هذا إذا نزلتَ وادياً من الأودية، فخفتَ هوله، فقل: أعوذ بالله ربَّ محمدٍ من هول هذا
আমি স্বপ্নে দেখলাম এক যুবক আমার উটনীকে লক্ষ্য করছে, তার হাতে একটি বর্শা যা সে উটনীর নহরে বসাতে চাচ্ছে। আমি আতঙ্কে জেগে উঠলাম, ডানে-বামে তাকালাম, কিন্তু কিছুই দেখলাম না। আমি বললাম: এটি একটি স্বপ্ন।এরপর আমি আবার তন্দ্রাচ্ছন্ন হলাম এবং স্বপ্নে আগের মতোই দেখলাম। আমি জেগে উঠলাম এবং আমার উটনীর চারপাশে ঘুরলাম; দেখলাম আমার উটনী কাঁপছে।এরপর আমি আবারও তন্দ্রাচ্ছন্ন হলাম এবং একই দৃশ্য দেখলাম। জেগে উঠে দেখলাম আমার উটনী অস্থির হয়ে আছে। আমি তাকালাম এবং দেখলাম ঠিক সেই যুবকটিকেই যাকে আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম, তার হাতে বর্শা। আর একজন বৃদ্ধ লোক তার হাত ধরে তাকে উটনী থেকে সরিয়ে রাখছেন এবং তিনি "কামিল" ছন্দে বলছেন:হে মুহালহিল ইবনে আছারের পুত্র মালিক! … থামো, তোমার জন্য আমার পরিধেয় বস্ত্র উৎসর্গ হোক।এই মানবের উটনীর পথে বাধা দিয়ো না … এর বদলে আমার বৃষগুলোর মধ্য থেকে যা চাও বেছে নাও।তোমার থেকে এমন আচরণ প্রকাশ পেয়েছে যা আমি আশা করিনি … তুমি কি আমার আত্মীয়তা ও আমানতের খেয়াল রাখলে না?তুমি একটি বিষাক্ত বর্শা নিয়ে তার দিকে উদ্যত হচ্ছো … হে রক্তপাতকারীর পুত্র, তোমার কর্ম ধ্বংস হোক!যদি লজ্জা না থাকত এবং তোমার পরিবার আমার প্রতিবেশী না হতো … তবে আমার খবরের যে অংশ তুমি উদঘাটন করেছ তা অবশ্যই জানতে পারতে।তিনি বললেন: যুবকটি তাকে উত্তর দিয়ে "কামিল" ছন্দে বলছে:হে আবু আইযার! আপনি কি কোনো বিপর্যয় ছাড়াই নিজে উচ্চ হতে চান … এবং আমাদের মর্যাদাকে নিচু করতে চান?অতীতকালে তোমাদের মধ্যে কোনো সর্দার ছিল না … নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠজনরাই শ্রেষ্ঠদের সন্তান।হে ধূর্ত! আপনি আপনার গন্তব্যে যান; … নিশ্চয়ই আশ্রয়দাতা হলেন মুহালহিল ইবনে আছার।বর্ণনাকারী বলেন: তারা যখন বাদানুবাদ করছিল, তখন বনের তিনটি বৃষ বেরিয়ে এল। তখন বৃদ্ধ লোকটি যুবকটিকে বললেন: হে ভাগ্নে, ওঠো! আমার মানব প্রতিবেশীর উটনীর বিনিময় হিসেবে এগুলোর মধ্য থেকে যা চাও নিয়ে নাও।এরপর যুবকটি উঠল এবং তাদের মধ্য থেকে একটি বৃষ নিয়ে চলে গেল। অতঃপর বৃদ্ধ লোকটি আমার দিকে ফিরে বললেন: হে ব্যক্তি, যখন তুমি কোনো উপত্যকায় অবতরণ করবে এবং এর ভয়াবহতার আশঙ্কা করবে, তখন বলবে: আমি মুহাম্মদের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট এই স্থানের ভয়াবহতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
الوادي، ولا تعذ بأحدٍ من الجنِّ؛ فقد بطل أمرها.قال: فقلتُ له: ومن محمد هذا؟ قال: نبيٌّ، عربيٌّ، لا شرقيٍّ ولا غربيٍّ، بُعث يوم الاثنين. قلت فأين مسكنه؟ قال: يثرب ذات النخل.قال: فركبتُ راحلتي حين برق لي الصبح، وحدّدت السير، حتى تقحَّمتُ المدينة. فرآني رسول الله صلى الله عليه وسلم، فحدَّثني بحديثي قبل أن أذكر له منه شيئاً، ودعاني إلى الإسلام، فأسلمت.قال سعيد بن جُبير: وكنّا نرى أنه هو الذي أنزل الله فيه: (وأنه كان رجالٌ من الإنسِ يعوذون برجالٍ من الجنِّ فزادوهم رَهَقاً) .حدثنا أبو يوسف القُلُوسيّ، قال: ثنا إبراهيم بن المنذر الحزامي، قال: ثنا عبد العزيز بن عمران، عن إبراهيم بن إسماعيل بن أبي
উপত্যকা, আর জিনদের কারও নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো না; কেননা তাদের বিষয়াদি বাতিল হয়ে গেছে।তিনি বললেন: আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এই মুহাম্মাদ কে? তিনি বললেন: একজন নবী, আরবীয়, যিনি প্রাচ্যেরও নন এবং পাশ্চাত্যেরও নন, তাঁকে সোমবার দিনে প্রেরণ করা হয়েছে। আমি বললাম, তাঁর আবাসস্থল কোথায়? তিনি বললেন: খেজুর বাগান সমৃদ্ধ ইয়াসরিব।তিনি বললেন: যখন ভোর আমার সামনে উদ্ভাসিত হলো, আমি আমার বাহনে আরোহণ করলাম এবং দ্রুত গতিতে পথ চললাম, এমনকি আমি মদিনায় প্রবেশ করলাম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখলেন এবং আমি তাঁকে কিছু বলার আগেই তিনি আমার পুরো ঘটনা আমাকে শুনিয়ে দিলেন। তিনি আমাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম।সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: আমরা মনে করতাম যে, তাঁর ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেছেন: (আর মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোক জিনদের মধ্য থেকে কিছু লোকের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত, ফলে তারা তাদের অহংকার আরও বাড়িয়ে দিত)।আমাদের নিকট আবু ইউসুফ আল-কুলুসী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনুল মুনযির আল-হিযামী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ ইবনে ইমরান বর্ণনা করেছেন, তিনি ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল ইবনে আবি... থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
حبيبة، عن داود ابن الحصين، عن عكرمة، عن ابن عبّاس، عن عليّ بن أبي طالب رضي الله عنه، قال: إذا كنت في وادٍ تخاف فيه السبع، فقل: أعوذ بدانيال والجُبِّ من شرِّ الأسد.حدثنا عبد الله بن محمد البَلَويّ، قال: ثنا عُمارة بن زيد، قال: ثنا إبراهيم بن سعد، عن محمد بن إسحاق، قال: حدثني يحيى بن عبد الله بن الحارث، عن أبيه عن ابن عباس، قال:
হাবীবা, দাউদ ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যখন তুমি এমন কোনো উপত্যকায় থাকো যেখানে তুমি হিংস্র পশুর ভয় পাও, তখন বলো: আমি দানিয়াল এবং কূপের অসিলায় সিংহের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বালাওয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট উমারাহ বিন যাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন সাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি বলেছেন: আমার নিকট ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
لمّا توجه رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الحديبية إلى مكة، أصاب الناس عطش شديد، وحرٌّ شديد؛ فنزل رسول الله صلى الله عليه وسلم الجحفة متعطشاً والناس عطاش. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: مَن رجل يمضي في نفر من المسلمين معهم القِرَب، فيَردون البئر ذات العَلَم، ثم يعود، فيضمن له رسول الله صلى الله عليه وسلم الجنَّة؟ فقام رجل من القوم فقال: أنا يا رسول الله. فوجَّهه النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم، ووجَّه معه السُّقاة.فأخبرني سَلَمَة بن الأكوع، قال: كنتُ في السُّقاة. قال: فمضينا؛ حتى إذا دنونا من الشجر والبئر سمعنا في الشجر حسّاً وحركةً شديدةً، ورأينا نيراناً تتّقد بغير حطب، فأُرعب الرجل الذي كنّا معه، وأُرعبناً رُعباً شديداً حتى ما يملك أحد منا نفسه، فرجعنا ولم نطقْ أن نجاوز الشجر.فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما لَكَ رجعت؟ بأبي وأُمي يا رسول الله؛ إني لماض إلى الدَّغل والشجر إذ سمعنا حركةً شديدةً، ورأينا نيراناً تتقد بغير حطب، فأُرعبنا رعباً شديداً، فلم نقدر أن نجاوز موضعنا، فرجعنا إليك يا رسول الله.فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تلك عصابة من الجنِّ هوَّلت عليك. أما أنك لو مضيت لوجهك حيث أمرتك ما نالك منهم سوء، ولرأيت فيهم عبرةً وعجباً.قال: ثم دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلاً آخر من أصحابه، فوجَّه به، وقد سمع كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم للرجل الأول حيث قال: أما أنك لو مضيت لوجهك حيث أمرتك لما نالك مكروه.
যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার দিন মক্কার অভিমুখে রওনা হলেন, তখন লোকেরা তীব্র তৃষ্ণা এবং প্রচণ্ড গরমের শিকার হলো; তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিপাসার্ত অবস্থায় আল-জুহফায় অবতরণ করলেন এবং লোকেরাও তৃষ্ণাগ্রস্ত ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এমন কে আছে যে মুসলিমদের একটি দলের সাথে চামড়ার মশক নিয়ে অগ্রসর হবে, অতঃপর তারা চিহ্নযুক্ত কূপটিতে পৌঁছাবে এবং ফিরে আসবে, যার বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেবেন? তখন কওমের এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পাঠালেন এবং তার সাথে পানি সরবরাহকারীদেরও প্রেরণ করলেন।সালামা ইবনে আকওয়া (রা.) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি পানি সরবরাহকারীদের মধ্যে ছিলাম। তিনি বলেন: আমরা পথ চলতে থাকলাম; এমনকি যখন আমরা গাছপালা ও কূপটির নিকটবর্তী হলাম, তখন আমরা গাছের মধ্যে এক অদ্ভুত শব্দ ও প্রচণ্ড নড়াচড়া শুনতে পেলাম এবং আমরা লাকড়ি ছাড়াই আগুন জ্বলতে দেখলাম। এতে আমাদের সাথে থাকা ব্যক্তিটি আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন এবং আমরাও প্রচণ্ডভাবে ভীত হলাম, এমনকি আমাদের কেউ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। ফলে আমরা ফিরে আসলাম এবং গাছগুলো অতিক্রম করার সামর্থ্য আমাদের ছিল না।অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার কী হয়েছে যে তুমি ফিরে এলে? (সে বলল:) হে আল্লাহর রাসূল, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক; আমি যখন ঝোপঝাড় ও গাছের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম, তখন আমরা প্রচণ্ড নড়াচড়া শুনতে পেলাম এবং লাকড়ি ছাড়াই আগুন জ্বলতে দেখলাম। ফলে আমরা প্রচণ্ড আতঙ্কিত হলাম এবং আমাদের স্থান অতিক্রম করতে সক্ষম হলাম না। তাই হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার নিকট ফিরে এসেছি।অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ওটি ছিল জিনের একটি দল যারা তোমাকে ভয় দেখিয়েছিল। জেনে রেখো, তোমাকে যেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম সেদিকে যদি তুমি চলে যেতে, তবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো অনিষ্ট তোমাকে স্পর্শ করত না এবং তুমি তাদের মধ্যে শিক্ষণীয় ও আশ্চর্যজনক কিছু দেখতে পেতে।বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে অন্য এক ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং তাকে পাঠালেন। ওই ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তির প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই কথাটি শুনেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: জেনে রেখো, তোমাকে যেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম সেদিকে যদি তুমি চলে যেতে, তবে কোনো অপ্রীতিকর বিষয় তোমাকে স্পর্শ করত না।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
قال سلمة: ومضى الرجل ونحن معه نحو الماء وجعل يرتجز ويقول "من الرجز":أَمن عزيفِ الجنِّ في دَوْحِ السَّلَمْ … ينكلُ مَن وَجَّههُ خيرُ الأُممْمن قبلِ أن يبلغَ آبارَ العَلَمْ … فيستقي والليلُ مبسوطُ الظُّلَمْويأْمنُ الذَّمَّ وتوبيخَ الكَلِمْثم مضى، حتى إذا كان في ذلك الموضع، سمع وسمعنا من الشجر ذلك الحسَّ، وتلك الحركة؛ فذُعر ذعراً شديداً حتى ما يستطيع أحدنا أن يُكلِّم صاحبه. فرجع ورجعنا لا نملك أنفسنا.فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للرجل: ما حالك؟ فقال: يا رسول الله؛ والذي بعثك بالحقِّ لقد ذُعرت ذعراً شديداً ما ذُعرت مثله قط. وقلنا ذلك معه.فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تلك عصابة من الجنِّ هوَّلوا عليكم؛ ولو سرتَ حيث أمرتك لما رأيت إلَاّ خيراً، ولرأيت فيهم عبرة ولم ترَ سوءاً.قال: واشتدَّ العطش بالمسلمين، وكره رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يهجم بالمسلمين في الشجر والدَّغل ليلاً.فدعا عليّ بن أبي طالب رضوان الله عليه، فأقبل إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم، فقال له: سرْ مع هؤلاء السُّقاة حتى ترِد بئر العلم، فتسقي وتعود إن شاء الله. قال سلمة بن الأكوع: فخرج عليٌّ أمامنا ونحن في أثره، والقِرَبُ في أعناقنا، وسيوفنا بأيدينا؛ وعليٌّ يقدمنا، وإنّا لنحضر خلفه ما نلحقه، وهو يقول "من الرجز":أعوذُ بالرَّحمنِ أن أميلا … من عزفِ جِنٍّ أظهرت تهويلاوأوقدت نيرانها تعويلا … وقرّعت معْ عزفها الطبولاقال: فسار ونحن معه، نسمع تلك الحركة، وذلك الحسَّ، فدخلنا من الرُّعب مثل الذي كنّا نعرف. وظننَّا أن عليّاً سيرجع كما رجع صاحباه. فالتفت إلينا وقال: اتبعوا أثري، ولا يفزعنّكم ما ترون، فليس بضائركم إن شاء الله. ومرَّ
সালামা বলেন: সেই ব্যক্তি এগিয়ে গেলেন এবং আমরা তাঁর সাথে পানির দিকে চললাম। তিনি রাজাজ ছন্দে এই কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন:সালামের বিশাল বৃক্ষে কি জ্বিনদের বাঁশির শব্দ শোনা যায়? … সে পিছিয়ে পড়ছে যাকে উম্মতদের শ্রেষ্ঠজন পাঠিয়েছেন।আলামের কূপে পৌঁছার পূর্বেই … পানি সংগ্রহ করার জন্য যখন রাত তার অন্ধকার বিছিয়ে দিয়েছে।আর সে যেন নিন্দা ও তিরস্কারের বাণী থেকে নিরাপদ থাকে।তারপর তিনি এগিয়ে চললেন, অবশেষে যখন সেই স্থানে পৌঁছালেন, তিনি ও আমরা গাছের ভেতর থেকে সেই শব্দ ও নড়াচড়া শুনতে পেলাম; এতে তিনি এতটাই আতঙ্কিত হলেন যে আমাদের কেউ তার সঙ্গীর সাথে কথা বলতে পারছিল না। ফলে তিনি ফিরে এলেন এবং আমরাও ফিরে এলাম, আমরা নিজেদের সংবরণ করতে পারছিলাম না।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কী অবস্থা? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, আমি এমন তীব্রভাবে আতঙ্কিত হয়েছি যার মতো আর কখনো হইনি। আমরাও তাঁর সাথে একই কথা বললাম।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ওটা ছিল জ্বিনদের একটি দল যারা তোমাদের আতঙ্কিত করতে চেয়েছিল; আমি তোমাকে যেখানে আদেশ করেছিলাম যদি সেখানে যেতে তবে তুমি কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই দেখতে না, এবং তাদের মাঝে এক শিক্ষণীয় বিষয় দেখতে পেতে কিন্তু কোনো অনিষ্ট দেখতে পেতে না।তিনি বলেন: মুসলমানদের তৃষ্ণা তীব্র হয়ে উঠল, আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে মুসলমানদের নিয়ে গাছপালা ও ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করা অপছন্দ করলেন।অতঃপর তিনি আলী ইবনে আবি তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ডাকলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। তিনি তাঁকে বললেন: এই পানি বহনকারীদের নিয়ে এগিয়ে যাও যতক্ষণ না তুমি আলামের কূপে পৌঁছাও, এরপর পানি সংগ্রহ করে ফিরে আসো, ইনশাআল্লাহ। সালামা ইবনুল আকওয়া বলেন: আলী আমাদের সামনে বের হলেন এবং আমরা তাঁর পেছনে চললাম, আমাদের ঘাড়ে ছিল মশক আর হাতে ছিল আমাদের তলোয়ার; আলী আমাদের আগে আগে যাচ্ছিলেন, আর আমরা তাঁর পেছনে দ্রুত গতিতে চলছিলাম কিন্তু তাঁর নাগাল পাচ্ছিলাম না। তিনি রাজাজ ছন্দে বলছিলেন:আমি পরম করুণাময়ের নিকট আশ্রয় চাই বিচ্যুত হওয়া থেকে … জ্বিনদের সেই শব্দ থেকে যা আতঙ্ক প্রকাশ করেছে।যারা বিলাপের জন্য আগুন জ্বালিয়েছে … আর তাদের সেই শব্দের সাথে ঢোল বাজিয়েছে।তিনি বলেন: তিনি এগিয়ে চললেন এবং আমরা তাঁর সাথে ছিলাম, আমরা সেই নড়াচড়া ও শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ফলে আমাদের মনে সেই আগের মতোই ভীতি প্রবেশ করল। আমরা ভাবলাম আলীও ফিরে আসবেন যেমন তাঁর আগের দুই সাথী ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি আমাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন: আমার পদাঙ্ক অনুসরণ করো, আর তোমরা যা দেখছ তা যেন তোমাদের আতঙ্কিত না করে, কেননা ইনশাআল্লাহ তা তোমাদের কোনো ক্ষতি করবে না। এরপর তিনি অতিক্রম করে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
لا يلتفت على أحد حتى دخل بنا الشجر. فإذا نيران تضطرم بغير حطب. وإذا رؤوس قد قُطعت لها ضجَّة ولألسنتها لجلجة شديدة، وأصوات هائلة. فتا لقد أحسست برأسي قد انصرفت قشرته، ووقعت شعرته، ورجف قلبي حتى لا أملك نفسي. وعليٌّ يتخطَّى تلك الرؤوس، ويقول: اتبعوني ولا خوف عليكم، ولا يلتفت أحد منكم يميناً ولا شمالاً.فجعلنا نتلو أثره حتى جاوزنا الشجر ووردنا الماء، فاستقتِ السُّقاة، ومعنا دلو واحد، فأدلاه البراء بن مالك في البئر، فاستسقى دلواً أو دلوين، ثم انقطع الدَّلو فوقع في القليب. والقليب ضيِّق مظلم بعيد. فسمعنا في أسفل القليب قهقهة وضحكاً شديداً، فراعنا ذلك.فقال عليٌّ: مَن يرجع إلى عسكرنا فيأتينا بدلو أو دلوين؟ فقال أصحابه: ومن يستطيع أن يجاوز الشجر مع ما رأينا وسمعنا؟ قال عليٌّ: فإني نازل في القليب، فإذا نزلت فأدلوا إليَّ قِرَبكم.ثم اتزر بمئزر، ثم نزل في القليب. وما تزداد القهقهة إلَاّ علوّاً. فوالذي نفس محمد بيده إنه لينزل وما فينا أحد إلَاّ وعضداه يهتزَّان رعباً.وجعل ينحدر في مراقي القليب إذ زلَّت رجله فسقط في القليب، فسمعنا وجبة شديدة ازددنا لها رعباً. وجعلنا نسمع اضطراباً شديداً، وغطيطاً كغطيط المجنون.ثم نادى عليُّ: الله أكبر، الله أكبر؛ أنا عبد الله وأخو رسوله، هلمّوا قِرَبَكُم، فدلَّيناها إليه، فأفعمها وعصَّبها في القليب، ثم أصعد على عنقه شيئاً شَيئاً عن آخرها.ثم حمل قربتين وحملنا نحن قِربةً قِربةً، ومرَّ بين أيدينا لا يكلِّمنا، ولا
তিনি কাউকেই ভ্রুক্ষেপ করলেন না যতক্ষণ না আমাদের নিয়ে বনের ভেতরে প্রবেশ করলেন। সেখানে দেখা গেল কোনো জ্বালানি কাঠ ছাড়াই আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। আর সেখানে দেখা গেল কিছু বিচ্ছিন্ন মস্তক যেগুলোর মধ্য হতে শোরগোল আসছিল এবং তাদের জিহ্বাগুলো তীব্রভাবে জড়তাগ্রস্ত শব্দ করছিল, আর শোনা যাচ্ছিল ভয়ংকর সব আওয়াজ। আমি অনুভব করলাম যেন আমার মাথার চামড়া পৃথক হয়ে যাচ্ছে, চুল ঝরে পড়ছে এবং আমার হৃদয় এমনভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল যে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না। এমতাবস্থায় আলী সেই মস্তকগুলো ডিঙিয়ে যাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: আমাকে অনুসরণ করো, তোমাদের কোনো ভয় নেই; আর তোমাদের কেউ ডানে বা বামে তাকাবে না।আমরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে থাকলাম যতক্ষণ না আমরা বন অতিক্রম করলাম এবং পানির ঘাটে উপনীত হলাম। তখন পানি সংগ্রহকারীরা পানি সংগ্রহ করতে চাইল। আমাদের সাথে মাত্র একটি বালতি ছিল। বারা ইবন মালিক সেটি কূপে ফেললেন এবং এক বা দুই বালতি পানি তুললেন, এরপর বালতির দড়ি ছিঁড়ে সেটি কূপে পড়ে গেল। কূপটি ছিল সংকীর্ণ, অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং গভীর। আমরা কূপের তলদেশ থেকে বিকট অট্টহাসির শব্দ শুনতে পেলাম, যা আমাদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলল।আলী বললেন: কে আমাদের শিবিরের দিকে ফিরে যাবে এবং আমাদের জন্য একটি বা দুটি বালতি নিয়ে আসবে? তাঁর সঙ্গীরা বললেন: যা কিছু আমরা দেখলাম এবং শুনলাম তারপরে এই বন অতিক্রম করার সাধ্য কার আছে? আলী বললেন: তবে আমিই কূপে অবতরণ করছি। আমি যখন নিচে নামব, তখন তোমরা তোমাদের মশকগুলো আমার দিকে নামিয়ে দিও।অতঃপর তিনি একটি তহবন্দ পরিধান করলেন এবং কূপে নামলেন। এদিকে সেই অট্টহাসির আওয়াজ কেবল প্রবলতর হচ্ছিল। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! তিনি যখন নিচে নামছিলেন, তখন আমাদের প্রত্যেকের বাহু আতঙ্কে কাঁপছিল।তিনি যখন কূপের ধাপসমূহ বেয়ে নিচে নামছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর পা পিছলে গেল এবং তিনি কূপে পড়ে গেলেন। আমরা একটি বিকট পতনের শব্দ শুনতে পেলাম যা আমাদের আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিল। আমরা কূপের ভেতর তীব্র ধস্তাধস্তি এবং উন্মাদ ব্যক্তির ঘড়ঘড় শব্দের ন্যায় আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম।অতঃপর আলী উচ্চস্বরে আহ্বান করলেন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূলের ভাই। তোমাদের মশকগুলো নিয়ে এসো। আমরা সেগুলো তাঁর দিকে নামিয়ে দিলাম। তিনি সেগুলো পূর্ণ করলেন এবং কূপের ভেতরেই বেঁধে দিলেন, অতঃপর একে একে সবকটি নিজের কাঁধে তুলে উপরে নিয়ে আসলেন।অতঃপর তিনি দুটি মশক বহন করলেন এবং আমরা একটি একটি করে মশক বহন করলাম। তিনি আমাদের সম্মুখ দিয়ে পথ চলছিলেন, আমাদের সাথে কোনো কথা বলছিলেন না এবং...
(খণ্ড: ১)
হাওয়াতিফুল জিনান লিল-খরায়িতি
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
نُكلِّمه، ولا يذكر لنا شيئاً؛ إلَاّ أنَّن نسمع همهمةً.حتى إذا صرنا بموضع الشجر لم نَرَ مما رأينا شيئاً، ولا سمعنا ممّا كنّا نسمع حسّاً. حتى إذا كدنا أن نجاوز الشجر سمعنا صوتاً منقطعاً أبحَّ وهو يقول "من الرجز":أيّ فتى ليلٍ أخي رَوْعاتِ … وأيّ سَبَّاقٍ إلى الغاياتللهِ درُّ الغُررِ السّاداتِ … من هاشم الهاماتِ والقاماتِمثل رسول اللهِ ذي الآياتِ … وعمِّه المقتولِ ذي السبقاتِحمزةَ ذي الجنّاتِ والرَّوضاتِ … أو كعليٍ كاشف الكرباتِكذا يكونُ الموفيَ الحاجاتِ … والضرب للأبطالِ والهاماتِقال سَلَمَة بن الأكوع: وعلٌّ أمامنا يرتجز ويقول "من الرجز":الليلُ هولٌ يرهبُ المهيبا … ويُذهلُ المشجَّعَ اللبيبَاولستُ فيه أرهبُ الترهيبا … لأنني أهولُ منه ذيبَاولستُ أخشى الرَّوع والخطوبا … ولا أُبالي الهولَ والكروباإذا هززتُ الصَّارم القضيبا … أبصرتَ منه عجباً عجيباقال سَلَمَة: وانتهى عليٌّ إلى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، وله زجل.فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ماذا رأيت في طريقك يا عليُّ؟ فأخبره بما رأى. فقال: إنّ الذي رأيت مَثَل ضَرَبَه الله لي ولمن حضر معي في وجهي هذا. قال عليٌّ: بأبي وأمي يا رسول الله فاشرحه لي.قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أمَّا الرؤوس التي رأيت والنيران، والرؤوس ملجلجة بألسنتها لها أصوات هائلة، وضجة مفزعة: فذاك مثل أناس يشهدون معي، ويرون إحساني ويسمعون كتاب ربّي وحكمته، ولا تؤمن قلوبهم. والهاتف الذي هتف بك فذاك قاتل الحقِّ وهو سملقة بن عراني الذي قتل عدوَّ الله مِسْعراً شيطان
আমরা তাঁর সাথে কথা বলছিলাম, কিন্তু তিনি আমাদের কোনো উত্তর দিচ্ছিলেন না; তবে আমরা কেবল অস্ফুট গুনগুন শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।যতক্ষণ না আমরা বৃক্ষশোভিত স্থানে পৌঁছলাম, তখন আমরা যা দেখছিলাম তার কিছুই আর দেখতে পেলাম না এবং যা শুনছিলাম তার কোনো আওয়াজও আর শুনতে পেলাম না। পরিশেষে যখন আমরা প্রায় সেই বৃক্ষরাজি অতিক্রম করতে যাচ্ছিলাম, তখন এক ভগ্ন ও কর্কশ কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম যা রাজায ছন্দে বলছিল:রাতের কোন বীর যে ভীতিপ্রদ পরিস্থিতির সম্মুখীন … আর চরম লক্ষ্যের দিকে ধাবমান কোন অগ্রগামীআল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান থাকুক উজ্জ্বল মর্যাদাবান নেতাদের জন্য … হাশিম বংশের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও উচ্চ মর্যাদাবানদের জন্যআল্লাহর রাসূলের মতো যিনি অলৌকিক নিদর্শনে ভূষিত … এবং তাঁর সেই নিহত চাচার মতো যিনি অগ্রবর্তিতার অধিকারীহামযা, যিনি জান্নাত ও উদ্যানসমূহের অধিকারী … অথবা আলীর মতো যিনি বিপদ-আপদ দূরকারীএভাবেই প্রয়োজন পূরণকারী হওয়া উচিত … এবং বীরদের ও মস্তকসমূহে আঘাতকারী হতে হয়সালামাহ ইবনুল আকওয়া বলেন: আমাদের সামনে আলী রাজায পাঠ করছিলেন এবং বলছিলেন:রাত এক আতঙ্ক যা প্রভাবশালীদেরও ভীত করে … এবং সাহসী ও বুদ্ধিমানদেরও দিশেহারা করে দেয়কিন্তু আমি এতে মোটেও ভয় পাই না … কারণ আমি তার চেয়েও ভয়ঙ্কর এক নেকড়েআমি আতঙ্ক ও দুর্যোগকে ভয় করি না … আর বিভীষিকা ও দুঃখ-কষ্টের পরোয়া করি নাযখন আমি ধারালো তরবারি সঞ্চালন করি … তখন তুমি তাতে এক বিস্ময়কর ব্যাপার দেখতে পাবেসালামাহ বলেন: এরপর আলী উচ্চস্বরে আবৃত্তি করতে করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছলেন।তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন: হে আলী, তোমার পথে তুমি কী দেখেছ? তিনি যা দেখেছিলেন তা তাঁকে জানালেন। তখন নবীজি বললেন: তুমি যা দেখেছ তা একটি উদাহরণ, যা আল্লাহ আমার জন্য এবং আমার এই সফরে যারা আমার সাথে উপস্থিত আছে তাদের জন্য পেশ করেছেন। আলী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, আপনি এটি আমার কাছে ব্যাখ্যা করুন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি যে মস্তকগুলো এবং আগুন দেখেছ, আর মস্তকগুলো তাদের জিহ্বা দিয়ে বিড়বিড় করছিল যাদের বিকট শব্দ ও ভীতিপ্রদ শোরগোল ছিল: তা হলো সেইসব মানুষের উদাহরণ যারা আমার সাথে সাক্ষ্য দেয়, আমার অনুগ্রহ দেখে এবং আমার রবের কিতাব ও তাঁর হিকমত শোনে, অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনে না। আর যে অদৃশ্য আহ্বানকারী তোমাকে আহ্বান করেছিল, সে হলো সত্যের হন্তারক; সে হলো সামলাকাহ ইবনে ইরানি, যে আল্লাহর শত্রু মিসআর নামক শয়তানকে হত্যা করেছিল।