(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
نكث الهميان في نكت العميان القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: نكث الهميان في نكت العميان
المؤلف: صلاح الدين خليل بن أيبك الصفدي (ت 764هـ)
علق عليه ووضع حواشيه: مصطفى عبد القادر عطا
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নাকসুল হিমইয়ান ফি নুকাতিল উমইয়ান বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: নাকসুল হিমইয়ান ফি নুকাতিল উমইয়ান
লেখক: সালাহউদ্দীন খলীল বিন আইবাক আস-সাফাদি (মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি)
টীকা ও পাদটীকা বিন্যাস: মুস্তফা আব্দুল কাদির আতা
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٦)
المقدمة
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله الذي لا تدركه الأبصار وهو يدرك الأبصار، ولا يحتاج في تدبير ملكه إلى المؤازرين ولا إلى الأنصار، ولا تسع عبارة عباده في معرفته غير الاعتراف بالإقصار عن كنه قدرها والإقصاء.
نحمده على نعمه التي نوّرت بصائرنا فرفعتنا إلى معالم الهدى، وفتّحت أبصارنا فجرّتنا عن مغارم العدى، وسلّمت أفكارنا من الوقوع في أشراك الشّرك ومهاوي المهالك وموارد الرّدى.
ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له: شهادةً ترقم حروفها على سرادق العرش، وتقوم بما يجب علينا في تقصير أعمالنا من الأرش، وتدغم سيئاتنا في حسناتنا كما ادغم أبو عمرو فيحصل لها تفخيم ورش.
ونشهد أن سيدنا محمداً عبده ورسوله الذي جعل رسالته إلى الخلق نعمى، ورمى بعه الباطل فأصاب شاكلته وأصمى، وأنزل عليه في محكم الذكر " عبس وتولى أن جاءه الأعمى ".
صلى الله عليه وعلى آل وصحبه الذين جبر فقرهم بالصلات والعوائد، وجلسوا من كرمه الجمّ بأعطاف موائد على تلك الموائد، واصبح كلّ منهم وله من نوره المبين قائد. صلاة يتضوّع منها الأرج، وترفع بها لهم الدرج، ما أفضى مضيق إلى فضاء الفرج، وسقط عن الأعمى ثقل الحرج. وسلّم تسليماً كثيراً إلى يوم الدين.
وبعد فإني لما وقفت على كتاب المعارف لابن قتيبة رحمه الله تعالى. وجدته قد ساق في آخره فصلاً في المكافيف. فعدّ فيهم أبا قحافة وهو والد أبي بكر الصديق رضي الله عنه، وأبا سفيان بن حرب، والبراء بن عازب، وجابر بن عبد الله، وكعب بن مالك الأنصاريّ، وحسّان بن ثابت الأنصاريّ، وعقيل بن أبي طالب، وأبا أسيد الساعديّ، وقتادة بن النّعمان، وأبا عبد الرحمن السّلميّ، وقتادة بن دعامة، والمغيرة بن مقسّم، وأبا بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، والقاسم بن محمد ابن أبي بكر الصديق
ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দৃষ্টিসমূহ যাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, অথচ তিনি সকল দৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে আছেন। আর তাঁর রাজত্ব পরিচালনায় তিনি কোনো সাহায্যকারী বা সহায়কের মুখাপেক্ষী নন। তাঁর পরিচয়ের ক্ষেত্রে তাঁর বান্দাদের কোনো বর্ণনাই তাঁর মাহাত্ম্যের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবনে নিজেদের অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা ছাড়া অন্য কিছুর অবকাশ রাখে না।
আমরা তাঁর ঐ সকল নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা করি যা আমাদের অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেছে এবং আমাদের হিদায়াতের নিশানার দিকে উন্নীত করেছে; আমাদের দৃষ্টি উন্মোচিত করেছে, ফলে তা আমাদের শত্রুদের অনিষ্ট থেকে দূরে সরিয়ে এনেছে; আর আমাদের চিন্তা-চেতনাকে শিরকের জাল, ধ্বংসের গহ্বর এবং বিনাশের পথ থেকে নিরাপদ রেখেছে।
আর আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন এক সাক্ষ্য, যার অক্ষরসমূহ আরশের শামিয়ানায় লিপিবদ্ধ হয় এবং যা আমাদের আমলের ত্রুটির ক্ষতিপূরণ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আর এটি আমাদের গুনাহসমূহকে নেক আমলের মধ্যে এমনভাবে বিলীন করে দেয় যেমনভাবে আবু আমর (কিরাত শাস্ত্রে) ইদগাম করেন, ফলে তার জন্য ওয়ারশের (কিরাতের) মতো গাম্ভীর্য অর্জিত হয়।
আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর রিসালাতকে তিনি সৃষ্টির জন্য নিআমত স্বরূপ নির্ধারণ করেছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি বাতিলের ওপর আঘাত হেনেছেন, যা লক্ষ্যভেদে সফল হয়েছে ও তাকে সমূলে বিনাশ করেছে। আর তাঁর ওপর তিনি সুসংহত বাণী নাযিল করেছেন: "সে ভ্রুকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, কারণ তার কাছে অন্ধ ব্যক্তিটি এসেছিল।"
আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর, যাঁদের অভাবকে তিনি দান ও অনুগ্রহের মাধ্যমে মোচন করেছেন এবং তাঁরা তাঁর অফুরন্ত দাক্ষিণ্যে নেয়ামতপূর্ণ দস্তরখানসমূহের সান্নিধ্যে উপবেশন করেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছেন যে, তাঁর সুস্পষ্ট নূর তাঁদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়েছে। এমন রহমত যা থেকে সুগন্ধি বিচ্ছুরিত হয় এবং যার মাধ্যমে তাঁদের মর্যাদা সুউচ্চ হয়; যতক্ষণ সংকীর্ণতা মুক্তির প্রশস্ততার দিকে ধাবিত হয় এবং অন্ধ ব্যক্তির ওপর থেকে সংকটের বোঝা দূরীভূত হয়। আর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর ওপর অনেক অনেক শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর, আমি যখন ইবনে কুতায়বাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর 'আল-মাআরিফ' গ্রন্থটি পাঠ করলাম, তখন দেখলাম তিনি এর শেষে দৃষ্টিহীনদের নিয়ে একটি পরিচ্ছেদ সংকলন করেছেন। সেখানে তিনি আবু কুহাফাকে গণ্য করেছেন, যিনি আবু বকর সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর পিতা। এছাড়া আবু সুফিয়ান বিন হারব, বারা বিন আযিব, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, কাব বিন মালিক আল-আনসারী, হাসান বিন সাবিত আল-আনসারী, আকীল বিন আবি তালিব, আবু আসিদ আস-সাঈদী, কাতাদা বিন নুমান, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী, কাতাদা বিন দিয়ামাহ, মুগীরা বিন মিকসাম, আবু বকর বিন আব্দুর রহমান বিন আল-হারিস বিন হিশাম এবং কাসিম বিন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর সিদ্দীক।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٧)
رضي الله عنه ذهب بصره آخر عمره، وعبيد الله ابن عبد الله بن عتبة بن مسعود، ومعاوية بن سبرة، وسعد بن أبي وقّاص ذهب بصره في آخر عمره، وعبد الله بن أبي أوفى ذهب بصره، وعليّ بن زيد من ولد عبد الله بن جدعان ولد وهو أعمى، وأبا هلال الراسبيّ وأبا يحيى بن محرز الضّبيّ.
وذكر بعد هؤلاء ثلاثة مكافيف في نسق: عبد الله بن العباس بن عبد المطلب، وأبوه العباس، وأبوه عبد المطلب.
هذا جملة من وقفت على ذكره في كتاب المعارف.
ثم رأيت الحافظ جمال الدين أبا الفرج عبد الرحمن بن عليّ بن الجوزيّ رحمه الله تعالى قد ساق فصلاً في آخر كتابه تلقيح فهوم أهل الأثر في تسمية العميان الأشراف.
قال: فمن الأنبياء عليهم السلام: إسحاق، ويعقوب، وشعيب، عليهم الصلاة والسلام.
ومن الأشراف: عبد المطّلب بن هاشم، أميّة بن عبد شمس، زهرة بن كلاب، كلاب بن مرّة، مطعم بن عديّ.
ومن الصحابة رضي الله عنهم: البراء بن عازب، جابر بن عبد الله، حسّان بن ثابت، الحكم بن أبي العاص، سعد بن أبي وقّاص، سعيد ابن يربوع، صخر بن حرب أبو سفيان، العباس بن عبد المطلب، عبد الله بن الأرقم، عبد الله بن عمر، عبد الله بن العبّاس، عبد الله بن عمير، عبد الله بن أبي أوفى، عتبان بن مالك، عتبة بن مسعود الهذلي، عثمان بن عامر، أبو قحافة، عقيل بن أبي طالب، عمرو بن أم مكتوم، قتادة بن النعمان، كعب بن مالك، مالك بن ربيعة، أبو أسيد الساعديّ، ومخرمة بن نوفل.
قال: ومن التابعين: عطاء بن أبي رياح، أبو بكر بن عبد الرحمن، قتادة بن دعامة، أبو عبد الرحمن السّلميّ، أبو هلال الراسبيّ. هذا صورة ما ذكره ابن الجوزيّ رحمه الله تعالى.
فما زاد على ابن قتيبة إلا بذكر الأنبياء الثلاثة صلى الله عليهم وسلم، ورتب الصحابة على حروف المعجم لا غير.
وكان يمكن ابن الجوزي رحمه الله تعالى الزيادة على ذلك بأضعاف مضاعفة، لتأخر زمانه ووفاته على زمان ابن قتيبة ووفاته رحمه الله تعالى. لأنّ ابن قتيبة توفّي في سنة سبع وستين ومائتين، رحمه الله تعالى، وابن الجوزي توفي في سنة سبع وتسعين وخمسمائة.
ولكن يمكن الاعتذار لكليهما بأنهما لم يضعا مصنفيهما لاستيعاب ذكر العميان، وإنما ذكرا أشراف من كان أعمى.
ورأيت أبا العباس أحمد بن علي بن بانة قد ذكر في كتابه رأس مال النديم أشراف
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন; জীবনের শেষভাগে তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল। আরও রয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ, মুয়াবিয়া ইবনে সাবরা এবং সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস—যাঁর দৃষ্টিশক্তি জীবনের শেষভাগে চলে গিয়েছিল; আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা, যাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল; আব্দুল্লাহ ইবনে জাদ’আনের বংশধর আলী ইবনে যাইদ, যিনি অন্ধ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন; আবু হিলাল আল-রাসিবি এবং আবু ইয়াহইয়া ইবনে মুহরিজ আদ-দব্বি।
এদের পরে তিনি পর্যায়ক্রমে তিনজন অন্ধ ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, তাঁর পিতা আব্বাস এবং তাঁর পিতা আব্দুল মুত্তালিব।
কিতাবুল মা’আরিফ-এ যাঁদের আলোচনা আমি পেয়েছি এটি তাঁদেরই সংক্ষিপ্ত সমষ্টি।
এরপর আমি দেখেছি যে, আল-হাফিজ জামালুদ্দীন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনুল জাওজি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর ‘তালকিহু ফুহুমি আহলিল আসার’ কিতাবের শেষে অন্ধ অভিজাত ব্যক্তিদের নামকরণের বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ নিয়ে এসেছেন।
তিনি বলেছেন: নবীদের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মধ্যে রয়েছেন: ইসহাক, ইয়াকুব এবং শুআইব (তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)।
অভিজাতদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম, উমাইয়াহ ইবনে আব্দু শামস, জুহরাহ ইবনে কিলাব, কিলাব ইবনে মুররাহ এবং মুতয়িম ইবনে আদি।
সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মধ্যে রয়েছেন: বারা ইবনে আযিব, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, হাসসান ইবনে সাবিত, আল-হাকাম ইবনে আবিল আস, সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, সা’ঈদ ইবনে ইয়ারবু’, সাখর ইবনে হারব আবু সুফিয়ান, আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, আব্দুল্লাহ ইবনে আরকাম, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে উমাইর, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা, ইতবান ইবনে মালিক, উতবা ইবনে মাসউদ আল-হুজালি, উসমান ইবনে আমির আবু কুহাফা, আকিল ইবনে আবি তালিব, আমর ইবনে উম্মে মাকতুম, কাতাদাহ ইবনে নু’মান, কা’ব ইবনে মালিক, মালিক ইবনে রবিআহ আবু আসাইদ আস-সা’ইদি এবং মাখরামাহ ইবনে নওফাল।
তিনি বলেন: তাবেয়ীদের মধ্যে রয়েছেন: আতা ইবনে আবি রাবাহ, আবু বকর ইবনে আব্দুর রহমান, কাতাদাহ ইবনে দি’আমাহ, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি, আবু হিলাল আল-রাসিবি। এটি ইবনুল জাওজি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ।
তিনি ইবনে কুতাইবার বর্ণনার ওপর কেবল তিনজন নবীর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক) নাম উল্লেখ করা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করেননি এবং সাহাবীদের নাম কেবল বর্ণানুক্রমিক ভাবে সাজিয়েছেন, অন্য কিছু নয়।
ইবনুল জাওজির (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) পক্ষে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বৃদ্ধি করা সম্ভব ছিল, কারণ তাঁর সময়কাল এবং মৃত্যু ইবনে কুতাইবার সময়কাল ও মৃত্যুর অনেক পরে। কারণ ইবনে কুতাইবা মৃত্যুবরণ করেছেন দুইশত সাতষট্টি হিজরীতে (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন), আর ইবনুল জাওজি মৃত্যুবরণ করেছেন পাঁচশত সাতানব্বই হিজরীতে।
তবে উভয়ের পক্ষেই এই ওজর পেশ করা যেতে পারে যে, তাঁরা তাঁদের কিতাবগুলো সমস্ত অন্ধদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রচনা করেননি, বরং তাঁরা কেবল অন্ধদের মধ্যে যারা অভিজাত ছিলেন তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন।
আর আমি দেখেছি আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আলী ইবনে বানাহ তাঁর ‘রা’সুল মাল আল-নাদিম’ কিতাবে অভিজাতদের উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٨)
العميان. فقال: شعيب وإسحاق صلوات الله وسلامه عليهما، وزهرة بن كلاب بن كعب بن مرّة، وعبد المطلب بن هاشم، والعباس بن عبد المطلب، وعبد الله بن عباس، وأميّة بن عبد شمس وكان أعور، والحكم بن العاص، وأبو سفيان بن حرب، والحارث بن عباس بن عبد المطلب، ومطعم بن عديّ بن نوفل بن عبد مناف، وأبو بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام بن المغيرة، وعتبة بن مسعود الهذليّ، وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، وأبو أحمد بن جحيش ابن مسعود الأسديّ، وجابر بن عبد الله الأنصاريّ، وعبد الله بن أرقم، والبراء بن عازب، وحسان بن ثابت، وقتادة بن النعمان، وأبو أسيد الساعديّ، وقتادة بن دعامة، ودريد بن الصّمّة الجشميّ شهد حنين أعمى فقتل يومئذ، ومخرمة بن نوفل الزّهريّ، والفاكه بن المغيرة المخزوميّ، وخزيمة بن خازم النّهشليّ.
هذا جملة من رأيته قد ذكره في كتابه، وأنت تقارب هذه الأسامي وعدتها بعضها من بعض.
وأرى أن السابق لذلك ابن قتيبة، ثم بعده هذا ابن بانة، ثم ابن الجوزيّ.
وللخطيب أبي بكر خطيب بغداد، جزء جمعه في العميان ولم أره إلى الآن.
وجرى يوماً في بعض اجتماعاتي بجماعة من الأفاضل ذكر فصل استطردت بذكره في شرح لامية العجم. ذكرت فيه جماعة من أشراف العميان، قال لي بعض من كان حاضراً: لو أفردت للعميان تصنيفاً تخصّهم فيه بالذكر، لكان ذلك حسناً.
فحداني ذلك الكلام، وهزّت عطفي نشوة هذه المدام، على إن عزمت على جمع هذه الأوراق، في ذكر من أمكن ذكره أو وقع إليّ خبره وسميته: نكت الهميان في نكت العميان وقد رتبته على مقدمات ونتيجة. أما
المقدمات، فأذكر في كلّ منها فوائد لا يستغني الفاضل عن ذكرها، ولا يسعه أن يفقد شيئاً من درهما.
দৃষ্টিহীনগণ। তিনি বললেন: শুয়াইব এবং ইসহাক (তাঁদের প্রতি আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক), এবং জুহরাহ বিন কিলাব বিন কাব বিন মুররাহ, এবং আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম, এবং আল-আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব, এবং আবদুল্লাহ বিন আব্বাস, এবং উমাইয়া বিন আবদু শামস—যিনি একচক্ষুহীন ছিলেন, এবং আল-হাকাম বিন আল-আস, এবং আবু সুফিয়ান বিন হারব, এবং আল-হারিস বিন আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব, এবং মুতইম বিন আদি বিন নাওফাল বিন আবদু মানাফ, এবং আবু বকর বিন আবদুর রহমান বিন আল-হারিস বিন হিশাম বিন আল-মুগীরাহ, এবং উতবাহ বিন মাসউদ আল-হুযালী, এবং উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবাহ বিন মাসউদ, এবং আবু আহমদ বিন জাহশ বিন মাসউদ আল-আসাদী, এবং জাবির বিন আবদুল্লাহ আল-আনসারী, এবং আবদুল্লাহ বিন আরকাম, এবং আল-বারা বিন আযিব, এবং হাসসান বিন সাবিত, এবং কাতাদাহ বিন আন-নুমান, এবং আবু উসাইদ আস-সাঈদী, এবং কাতাদাহ বিন দিআমাহ, এবং দুরাইদ বিন আস-সিম্মাহ আল-জুশামী—যিনি অন্ধ অবস্থায় হুনাইনের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং সেদিন নিহত হন, এবং মাখরামাহ বিন নাওফাল আয-যুহরী, এবং আল-ফাকিহ বিন আল-মুগীরাহ আল-মাখযুমী, এবং খুযাইমাহ বিন খাযিম আন-নাহশালী।
ইঁহারা হলেন সেই সমস্ত ব্যক্তি যাদেরকে আমি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করতে দেখেছি, আর আপনি এই নামসমূহ এবং তাদের সংখ্যা একে অপরের কাছাকাছি পাবেন।
আর আমি মনে করি যে, এ বিষয়ে অগ্রগামী ছিলেন ইবনে কুতাইবাহ, অতঃপর তাঁর পরে ইবনে বানাহ, তারপর ইবনুল জাওযী।
আর বাগদাদের খতীব আবু বকর আল-খতীবের একটি খণ্ড রয়েছে যা তিনি অন্ধদের বিষয়ে সংকলন করেছেন, তবে আমি তা এখন পর্যন্ত দেখিনি।
একদিন বিদগ্ধ ব্যক্তিদের এক মজলিসে আমার উপস্থিত থাকাকালীন একটি প্রসঙ্গের অবতারণা হলো যা আমি 'লামিয়াতুল আজম'-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে প্রাসঙ্গিকভাবে আলোচনা করেছিলাম। সেখানে আমি একদল সম্ভ্রান্ত অন্ধ ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছিলাম। তখন উপস্থিতদের মধ্যে একজন আমাকে বললেন: আপনি যদি অন্ধদের জন্য একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করতেন যেখানে বিশেষভাবে তাঁদের কথা উল্লেখ থাকতো, তবে তা অতি উত্তম হতো।
সেই কথা আমাকে উৎসাহিত করলো এবং এই বিষয়ের অনুপ্রেরণা আমাকে উদ্বেলিত করলো, ফলে আমি এই পাতাগুলো একত্রিত করার সংকল্প করলাম যাতে এমন ব্যক্তিদের উল্লেখ থাকবে যাদের কথা উল্লেখ করা সম্ভব হয়েছে অথবা যাদের সংবাদ আমার কাছে পৌঁছেছে। আর আমি এর নামকরণ করেছি: 'নুকাতুল হুমইয়ান ফি নুকাতিল উমইয়ান'। আমি একে কিছু ভূমিকা ও একটি উপসংহারের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছি। আর—
ভূমিকাগুলো, এগুলোর প্রত্যেকটিতে আমি এমন কিছু উপকারিতা উল্লেখ করবো যা একজন বিদগ্ধ ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য এবং এর কোনো একটি মুক্তা হারানোও তার পক্ষে সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٩)
المقدمة الأولىفيما يتعلق به من اللغة والاشتقاققد تتبعت أفراد وضع اللغة العربية، فرأيت العين المهملة والميم، كيفما وقعتا في الغالب وبعدهما حرف من حروف المعجم، لا يدّل المجموع إلا على ما فيه معنى الستر أو ذهاب الصواب على الرأي.
فمن ذلك: عمج عمج يعمج بالكسر، قلب معج. إذا أسرع في السير واعوجّ. وسهم عموج، إذا كان يتلوّى في ذهابه. وتعمّجت الحيّة، إذا تلوّت في سيرها، كأنها لا ترى الطريق الأقوم: قال الشاعر يصف زمام الناقة.
تلاعب مثنى حضرميّ كأنّه
… تعمّج شيطان بذي خروع قفر
والعومج الحيّة: وكذلك العمّج بالتشديد: قال الشاعر.
يتبعن مثل العمّج المنشوش
… أهوج يمشي مشية المالوش
وقال قطرب: هو العمج، على وزن السبب.
فأنت ترى مفهوم هذه الأوضاع كيف يدل على معنى الستر وذهاب الصواب.
ومن ذلك عمرّد العمرّد بتشديد الراء الفرس الطويل: قال الشاعر.
يصرّف سيداً في العنان عمرّدا
وكذلك طريق عمرّد: قال الشاعر.
خطّارة بالسّبسب العمرّد
ولا بدّ للفرس إذا طال، أن يكون فيه بعض التواء، وذهاب على غير استواء. وكذلك الطريق إذا طالت.
প্রথম ভূমিকাভাষা ও শব্দ-ব্যুৎপত্তি সংক্রান্ত আলোচনা প্রসঙ্গেআমি আরবি ভাষার শব্দগঠনের এককসমূহ অনুসন্ধান করেছি। আমি দেখেছি যে, বিন্দুহীন ‘আইন’ এবং ‘মিম’ বর্ণদ্বয় শব্দে যেভাবেই আসুক না কেন, সাধারণত তাদের পরে অভিধানের অন্য কোনো বর্ণ যুক্ত হলে, সেই শব্দসমষ্টি গোপন করা অথবা সঠিকতা বা বিচার-বুদ্ধি বিলুপ্ত হওয়া ব্যতিরেকে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে না।
উদাহরণস্বরূপ: ‘আ-মা-জা’ (আমাজ), যার বর্তমানকাল ‘ইয়া-মি-জু’ (ইয়ামিজু), এটি ‘মা-আ-জা’ শব্দের বিপরীত। এর অর্থ হলো যখন কেউ চলার পথে দ্রুতগতি অবলম্বন করে এবং আঁকাবাঁকা পথে চলে। আর ‘আমূজ’ তীর বলা হয় তখন, যখন সেটি তার গতিপথে দুলতে থাকে। সাপ যখন তার চলার পথে এঁকেবেঁকে চলে, তখন বলা হয় ‘তা-আম্মা-জাত আল-হাইয়্যাহ’, যেন সে সঠিক পথটি দেখতে পাচ্ছে না। জনৈক কবি উষ্ট্রীর লাগামের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:
হাদরামি চামড়ার তৈরি দ্বিগুণ রশিটি এমনভাবে খেলা করছে যেন তা
… জনমানবহীন মরুভূমির ক্যাস্টর ঝোপে কোনো শয়তানের আঁকাবাঁকা চলন।
‘আওমাজ’ অর্থ সাপ। অনুরূপভাবে ‘আম্মাজ’ শব্দটি (তাশদিদ সহকারে) একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। জনৈক কবি বলেছেন:
তারা যেন সেই চঞ্চল সাপের অনুসরণ করছে
… যে উন্মাদের ন্যায় আলুশদের ভঙ্গিতে হাঁটে।
কুতরুব বলেছেন: এটি হলো ‘আমাজ’, যা ‘সাবাব’ শব্দের ওজনে।
সুতরাং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, এই শব্দগঠনগুলোর অন্তর্নিহিত অর্থ কীভাবে গোপনীয়তা ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতির অর্থের দিকে নির্দেশ করছে।
এ জাতীয় আরেকটি শব্দ হলো ‘উমাররাদ’। ‘রা’ বর্ণে তাশদিদযুক্ত এই শব্দটি দীর্ঘদেহী ঘোড়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। জনৈক কবি বলেছেন:
সে লাগাম দিয়ে এক নেকড়েসদৃশ দীর্ঘদেহী ঘোড়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
অনুরূপভাবে দীর্ঘ পথকেও ‘উমাররাদ’ পথ বলা হয়। জনৈক কবি বলেছেন:
দীর্ঘ ও প্রশস্ত মরুপ্রান্তরে চঞ্চল চরণে বিচরণকারী।
ঘোড়া যখন দীর্ঘদেহী হয়, তখন অবধারিতভাবে তাতে কিছু বক্রতা সৃষ্টি হয় এবং সোজাভাবে ওঠার বিপরীত অবস্থা তৈরি হয়। অনুরূপভাবে পথ দীর্ঘ হলেও তাতে একই অবস্থা ঘটে।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ومن ذلك عمد: عمد البعير إذا انفضح داخل سنامه من الركوب، وظاهره صحيح. كّأن داءه ذاك مستور لا يرى. والعمد إنما يقام به ما مال واعوّج.
ومن ذلك: عمر عمر الرجل بالكسر يعمر عمراً وعمراً على غير قياس لأنّ قياس مصدره التحريك إذا عاش زماناً طويلاً ومن طال عمره التوت عليه سائر الأيام، ومشت به على غير استقامة: من حوادث الدهر وضعف الجوارح. والعمر بالتحريك واحد عمور الأسنان. وهو ما بينها من اللحم. قيل فيه ذلك لمّا كان يستتر فيها. واعتمر في الحجّ إذا اعتم بعمامة. قيل فيه ذلك لمّا كان يستر ما بدا من رأسه. والعمار الريحان تزيّن به مجالس الشراب. قيل فيه ذلك لمّا كان يستر به ما بدا من الأنماط أو غيرها، أو يستر بريحه الطّيبة ريح غيره الكريهة.
ومن ذلك: عمس العماس بالفتح الحرب الشديدة. ولا تكون شديدة إلا وقد عمي الأمر فيها وذهب الصواب على الفوارس. وكذلك داهية عماس أي شديدة. وليل عماس أي مظلم يعني سائر الأشخاص، وأمر عموس أي مظلم، وعماس أيضاً: لا يدري من أين يؤتى له. ومنه: جاءنا بأمور معمسّات أي مظلمة ملوّية عن جهتها. ورجل عموس إذا كان متعسفّاً لا يهتدي لصواب. وتعامس عن الشيء إذا تغافل عنه. وعمس الكتاب إذا درس، فلا يدرك منه حرف.
ومن ذلك: عمرّس مشدد الراء. هو السديد الرأي، القويّ من الرجال: قيل فيه ذلك كأنه يأخذ الأشياء قوة واعتسافاً، لا يفكّر في صوابها ولا خطائها.
ومن ذلك: عملّس مثل العمرّس. هو القويّ على السير: قال الشاعر
عملّس أسفار إذا استقبلت له
… سموم كحرّ النار لم يتلثّم
يعني يركب الأهوال، لا يهتدي فيها إلى صواب راحة.
ومن ذلك: عمش العمش في العين رؤيتها مع سيلان الدمعة منها. كأنّ المرئيات تستتر عنها بستور الدموع.
ومن ذلك: عملّص سير عمليص إذا كان سريعاً. قيل فيه ذلك لأنه لا يبالي فيه أين وضع القدم أو الخف أو الحافر.
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো 'আমাদ' (عمد): উটের কুঁজের ভেতরটা যখন সওয়ারির চাপের কারণে জখম হয়ে যায় অথচ ওপরটা সুস্থ দেখায়, তখন তাকে 'আমাদাল বাঈর' বলা হয়। মনে হয় যেন তার সেই রোগটি ঢাকা পড়ে আছে, দেখা যাচ্ছে না। আর 'আমাদ' (খুঁটি) তো কেবল তা-ই যা হেলে পড়া বা বাঁকা হওয়া বস্তুকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: 'উমর' (عمر): কোনো ব্যক্তি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকলে তাকে 'উমরার-রাজুল' বলা হয়। এটি নিয়মের বহির্ভূত শব্দ, কারণ এর ক্রিয়ামূল সচল বা হরকতযুক্ত হওয়ার কথা ছিল। যার বয়স দীর্ঘ হয়, সময়ের আবর্তন তার ওপর প্রতিকূলতা বয়ে আনে এবং তার জীবনকে ভারসাম্যহীন করে তোলে; যা কালের বিভিন্ন ঘটনা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দুর্বলতার কারণে ঘটে থাকে। আর 'আামার' (স্বরচিহ্নসহ) হলো দাঁতের মাড়ির একক, যা দাঁতের মধ্যবর্তী গোশতকে বোঝায়। একে এ কারণে 'আামার' বলা হয়েছে কারণ এটি দাঁতের মূলকে ঢেকে রাখে। হজের ক্ষেত্রে 'ইতামারা' (اعتمر) বলা হয় যখন কেউ পাগড়ি পরিধান করে। একে এটি বলা হয় কারণ তা মাথার উন্মুক্ত অংশকে ঢেকে রাখত। আর 'আম্মার' হলো সুগন্ধি উদ্ভিদ (রাইহান), যা পানের মজলিস সজ্জিত করতে ব্যবহৃত হতো। একে এ কারণে 'আম্মার' বলা হয় কারণ এটি কার্পেট বা অন্যান্য জিনিসের ত্রুটি ঢেকে রাখত, অথবা এর সুঘ্রাণ অন্যের দুর্গন্ধকে আড়াল করে দিত।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আামাস' (عمس): 'আল-আামাস' হলো ভয়াবহ যুদ্ধ। যুদ্ধ তখন-ই ভয়াবহ হয় যখন পরিস্থিতি অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং অশ্বারোহীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। অনুরূপভাবে 'দাহিয়াতুন আমাস' অর্থ কঠিন বিপদ। 'লাইলুন আমাস' মানে অন্ধকার রাত যা সব ব্যক্তিকে আড়াল করে দেয়। 'আমরুন আমুস' মানে অন্ধকার বা অস্পষ্ট বিষয়। আবার 'আামাস' তাকেও বলা হয় যার উৎস সম্পর্কে জানা যায় না। এরই প্রেক্ষিতে বলা হয়: আমাদের কাছে 'উমুরুন মুয়াম্মাসাত' এসেছে, অর্থাৎ এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন ও জটিল বিষয় যা তার সঠিক দিক থেকে বিচ্যুত। 'রাজুলুন আমুস' ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যে হঠকারী এবং সঠিক পথের সন্ধান পায় না। কোনো বিষয় থেকে উদাসীন থাকাকে বলা হয় 'তাআামাসা' (تعامس)। আর কিতাব যখন জীর্ণ হয়ে যায় এবং তার কোনো অক্ষর আর বোঝা যায় না, তখন তাকে 'আমাসাল কিতাব' বলা হয়।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: 'উমাররাস' (عمرّس) রা-বর্ণে তাশদীদসহ। এর অর্থ হলো সঠিক সিদ্ধান্তের অধিকারী শক্তিশালী পুরুষ। তাকে এ কারণে এটি বলা হয় কারণ সে যেন সব বিষয় শক্তি ও সাহসিকতার সাথে গ্রহণ করে, এর সঠিক বা ভুলের চিন্তা করে না।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আমাল্লাস' (عملّس), যা 'উমাররাস'-এর মতো। এর অর্থ হলো দীর্ঘ পথ চলতে সক্ষম শক্তিশালী ব্যক্তি। কবি বলেন:
সে সফরের ক্ষেত্রে একজন শক্তিশালী পথিক, যখন তার সামনে আগুনের উত্তাপের মতো লু-হাওয়া আসে
… তখনও সে মুখ ঢাকে না।
অর্থাৎ সে ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করে, সেখানে কোনো আরাম বা স্বস্তির সন্ধান করে না।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আমাশ' (عمش): চোখে অনবরত পানি ঝরা অবস্থায় কোনো কিছু দেখা। মনে হয় যেন দৃশ্যমান বস্তুগুলো চোখের পানির পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আমাল্লাস' (عملّص): 'সাইরুন আমাল্লিস' অর্থ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলা। একে এ কারণে এটি বলা হয়েছে কারণ গতির তীব্রতায় সে খেয়াল করে না যে কোথায় সে তার পা বা পশুর খুর রাখছে।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ١١)
ومن ذلك: عمط عمط النعمة عمطا بالسكون وعمطها بالكسر عمطاً بالفتح، إذا كفرها. قيل فيه ذلك لمّا سترها وغطّاها ولم يتحدث بها.
والكفر السّتر.
ومن ذلك: عمرط العمروط اللصّ والجمع العماريط. قيل فيه ذلك لأنه لا يجيء إلا مختفياً مستوراً في الليل. والعمرّط بتشديد الراء الخفيف.
وهو الذي لا يذهب على استقامة ولا استواء. والعملط بتشديد اللام الشديد وهو الذي لا يبالي على أي حاليه كان من صواب ومن خطأ.
ومن ذلك: عمق العمق بفتح العين وضمها قعر البئر والفج والوادي. قيل فيه ذلك لما واستتر عن العين. وتعمق في كلامه إذا مال عن جادة الفصيح من الكلام والتوى. والعمق أيضاً ما بعد من أطراف المفاوز. ومنه قول رؤبة:
وقاتم الأعماق خاوي المخترق
ومن ذلك: عملق العمالقة قوم كانوا في قديم الزمان. يذكر أنهم كانوا في غاية من الطول. منسوبون إلى عمليق بن لاوذ بن إرم بن سام بن نوح.
وقد تقدم أن كل من طال لابد أن يميل إلى اعوجاج. هذا إن قلنا بأن ذلك عربي، وإلا فلا مدخل لهذا الحرف في هذا الباب.
ومن ذلك: عمل اعتمل الرجل إذا اضطرب في العمل. قال الشاعر:
إن الكريم وأبيك يعتمل
… إن لم يجد يوماً على من يتكل
قيل فيه ذلك لأن الاضطراب حركة على غير استواء. ورجل عمل بالكسر إذا كان مطبوعاً على العمل. ورجل عمول أيضاً. قيل ذلك فيه: أي لا يبالي بما يلقى فيه من العمل. كأنه غير متبصر لرشده. وطريق معمل: أي لحب مسلوك. قيل فيه ذلك لما كثر ركوبه من كل أحد على غير تبصر لمواضع الأقدام. واليعملة الناقة النجيبة الصبورة على المشي.
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আমাতা; নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘মীম’ অক্ষরের সুকুনসহ ‘আম্ত’ এবং কাসরাসহ ‘আমিতা’ ও ফাতহাসহ ‘আম্তান’ বলা হয়। এটি তখন বলা হয় যখন কেউ নেয়ামতকে অস্বীকার করে। এ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ সে একে গোপন করেছে, ঢেকে রেখেছে এবং এ সম্পর্কে কোনো আলোচনা করেনি।
আর কুফর অর্থ হলো গোপন করা।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আমরাত; উমরুত অর্থ চোর এবং এর বহুবচন হলো আমারিত। তাকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ সে কেবল রাতেই আত্মগোপনকারী ও আবৃত অবস্থায় আসে। আর উমাররাত হলো ‘রা’ অক্ষরে তাশদীদসহ, যার অর্থ দ্রুতগামী ব্যক্তি।
সে এমন ব্যক্তি যে ঋজুতা বা সমতার সাথে চলে না। আর আমাল্লাত হলো ‘লাম’ অক্ষরে তাশদীদসহ শক্তিশালী ব্যক্তি, যে তার ভালো বা মন্দ কোনো অবস্থারই পরোয়া করে না।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আমক; ‘আইন’ অক্ষরের ফাতহা ও দম্মা সহ ‘আমক’ অর্থ হলো কূয়া, গিরিপথ এবং উপত্যকার গভীরদেশ। একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ তা দৃষ্টি থেকে দূরে ও গোপন থাকে। আর কেউ তার কথায় ‘তাআম্মুক’ (গভীরতা) অবলম্বন করেছে তখন বলা হয়, যখন সে কথার প্রাঞ্জল পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং জটিলতা তৈরি করে। এ ছাড়াও ‘আমক’ বলতে মরুভূমির দূরবর্তী প্রান্তরসমূহকে বুঝায়। এ প্রসঙ্গে রু’বার উক্তি হলো:
এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন গভীরদেশ যার পথগুলো জনশূন্য।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আমলাক; আমালেকা হলো প্রাচীনকালের এক জাতি। উল্লেখ করা হয় যে, তারা অত্যন্ত দীর্ঘকায় ছিল। তারা আমলিক বিন লাউয বিন ইরাম বিন সাম বিন নূহ-এর বংশধর।
আর ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তিই দীর্ঘকায় হয়, তার মধ্যে কিছুটা বক্রতা থাকা অনিবার্য। এটি তখন প্রযোজ্য হবে যখন আমরা শব্দটিকে আরবি বলব, অন্যথায় এই পরিচ্ছেদে এই বর্ণের কোনো স্থান নেই।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আমাল; যখন কোনো ব্যক্তি কাজের মধ্যে পরিশ্রম করে তখন তাকে ‘আইতামালা আর-রাজুলু’ বলা হয়। জনৈক কবি বলেছেন:
নিশ্চয়ই সম্মানিত ব্যক্তি—তোমার পিতার কসম—পরিশ্রম করে
… যদি সে কোনোদিন এমন কাউকে না পায় যার ওপর সে ভরসা করতে পারে।
একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ অস্থিরতা হলো সামঞ্জস্যহীন গতিবিধি। আর ‘আইন’ অক্ষরের কাসরাসহ ‘আমিল’ ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যে স্বভাবগতভাবেই কর্মঠ। এ ছাড়া ‘আমুল’ শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। তার সম্পর্কে এটি বলা হয় এই অর্থে যে: সে তার ওপর অর্পিত কাজের কোনো পরোয়া করে না; যেন সে তার সঠিক গন্তব্যের ব্যাপারে অসচেতন। আর ‘তারিকুন মু’মাল’ হলো সুপরিচিত ও ব্যবহৃত পথ। একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ পায়ের স্থানসমূহের প্রতি লক্ষ রাখা ছাড়াই প্রত্যেকের দ্বারা এতে চলাচলের আধিক্য ঘটে। আর ‘ইয়া’মালাহ’ হলো ঐ অভিজাত উটনী যা পথ চলায় অত্যন্ত ধৈর্যশীল।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ومن ذلك: عمم العمامة ما يوضع على الرأس، وهي تستره. واعتم النبت إذا اكتهل أي ستر الأرض. ويقال للشاب إذا طال: قد اعتم. وشيء عميم أي تام. ونخلة عميمة ونخل عم، يقال ذلك للطويل منه. قيل فيه ذلك لأنه لا يطول إلا وفيه خروج عن الاستقامة. والعامة خلاف الخاصة. قيل ذلك لما كانوا كثيرين لا يحيط بهم البصر، فهم في ستر عنه. وعم اللبن إذا علته الرغوة كالعمامة فسترته.
ومن ذلك: عمن عمن بالمكان إذا أقام به. كأنه استتر فيه عن غيره.
ومن ذلك: عمه العمه التحير والتردد. كأن الإنسان لا يرى دليلاً فيأخذ به. وأرض عمها، لا أعلام بها، أي لا يهتدي فيها إلى سبيل. وذهبت، إبله العمهى بتشديد الميم، إذا كانت لا يدرى مكانها. كأنها في ستر عن راعيها.
ومن ذلك: عمي هذه المادة عمود هذا الباب وقاعدته، وهي المطلوبة بالذات لما يتعلق بهذا الكتاب.
العمى ذهاب البصر وعدم الرؤية واستتار المرئيات عن الناظر. وقد عمي فهو أعمى وقوم عمي. وأعماه الله تعالى. وتعامى الرجل أرى من نفسه ذلك. وعمي عليه الأمر إذا التبس. ورجل عمي القلب أي جاهل، وامرأة عمية القلب بتخفيف الياء على وزن فعلة بفتح الفاء وكسر العين وفتح اللام. وقوم عمون، وفيهم عميهم بتشدي الياء، والأعميان السيل والجمل الهائج. وعمي الموج بالفتح يعمى عمى، رمى القذى والزبد. وعميت معنى البيت تعمية. ومنه المعمى من الشعر. وقرئ فعميت بضم العين وكسر الميم وتشديدها وفتح الياء. وتركناهم في عمى بضم العين وتشديد الميم وبعدها ألف مقصورة، إذا أشرفوا على الموت. والعماء ممدود السحاب. ويقال هو الذي يشبه الدخان ويركب رؤوس الجبال.
والمعامي من الأرضين الأغفال التي لا أعلام لها وليس بها اثر عمارة. وهي الأعماء أيضاً. ويقال أتيته صكة عمي بضم العين وفتح الميم وتشديد الياء أي وقت الهاجرة. وهو تصغير أعمى، مرخماً. وقيل هو اسم رجل من العمالقة أغار على قوم ظهراً فاستأصلهم فنسب الوقت إليه.
وقيل المراد به الظبي لأنه يسدر في الهواجر فيصطك بما يستقبله كاصطكاك الأعمى، ثم إنه صغر تصغير الترخيم، كما صغر وأسود وأزهر. فقالوا سويد وزهير.
فأنت ترى ما ورد في هذه المادة كيف يدور جميعه على الاستتار والاختفاء والله تعالى أعلم.
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আইন-মীম-মীম' মূল হতে 'আল-ইমামাহ' (পাগড়ি) যা মাথায় পরিধান করা হয় এবং তা মাথাকে আবৃত করে রাখে। উদ্ভিদ যখন পূর্ণতা পায় এবং ভূমিকে ঢেকে দেয়, তখন তাকে 'ইতাম্মান নাবতু' বলা হয়। কোনো যুবক দীর্ঘাকৃতির হলে বলা হয়: 'কাদ ইতাম্মা' (সে দীর্ঘ হয়েছে)। কোনো বস্তু পূর্ণাঙ্গ হলে তাকে 'আমীম' বলা হয়। দীর্ঘ খেজুর গাছকে 'আমীমাহ' এবং দীর্ঘ খেজুর বাগানকে 'আম্মুন' বলা হয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, এটি যখন অত্যধিক দীর্ঘ হয় তখন তা তার ঋজুতা বা সোজাভাব থেকে বিচ্যুত হয়। 'আল-আম্মাহ' (সাধারণ জনগণ) শব্দটি 'আল-খাসসাহ' (বিশিষ্টজন)-এর বিপরীত। তাদেরকে এ নামে ডাকার কারণ হলো তারা সংখ্যায় এত বেশি যে দৃষ্টি তাদের সবাইকে বেষ্টন করতে পারে না, ফলে তারা দৃষ্টির আড়ালে থাকে। দুধের উপর যখন পাগড়ির মতো ফেনা উঠে তাকে ঢেকে ফেলে, তখন তাকে 'আম্মাল লাবানু' বলা হয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আইন-মীম-নুন' মূল হতে 'আমানা', যখন কেউ কোনো স্থানে বসবাস বা অবস্থান করে। যেন সে সেখানে অন্যদের দৃষ্টি থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখল।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আইন-মীম-হা' মূল হতে 'আল-আমাহ' যার অর্থ বিভ্রান্তি ও দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া। যেন মানুষ কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছে না যা সে অনুসরণ করবে। 'আরদুন আমহা' এমন ভূমিকে বলা হয় যেখানে কোনো পথনির্দেশক চিহ্ন নেই, অর্থাৎ সেখানে কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় না। 'জাহাবাত ইবিলুহুল উম্মাহা' (মীম বর্ণে তাশদীদসহ) অর্থ তার উটগুলো এমন অবস্থায় চলে গেছে যে সেগুলোর অবস্থান জানা যাচ্ছে না। যেন সেগুলো রাখালের দৃষ্টি থেকে কোনো আড়ালে চলে গেছে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আইন-মীম-ইয়া' মূল, যা এই অধ্যায়ের প্রধান স্তম্ভ ও মূল ভিত্তি। এই গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য মূলত এরই সাথে সংশ্লিষ্ট।
'আল-আমা' অর্থ দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়া, দেখতে না পাওয়া এবং দর্শকের দৃষ্টি থেকে দ্রষ্টব্য বস্তুসমূহ আড়ালে থাকা। সে অন্ধ হয়েছে (আমিয়া), তাই সে অন্ধ (আ’মা), আর এর বহুবচন হলো 'উমিয়্যুন'। মহান আল্লাহ তাকে অন্ধ করেছেন। কোনো ব্যক্তি অন্ধ সেজে থাকলে তাকে 'তা’আমা' বলা হয়। বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে গেলে বলা হয় 'আমিয়া আলাইহিল আমর'। অন্তঃকরণে অন্ধ ব্যক্তি মানে অজ্ঞ ব্যক্তি। আর মহিলার ক্ষেত্রে 'আমিয়াতুল কলব' (ইয়া বর্ণে তাশদীদ ছাড়া, 'ফা-ই-লাহ' ওজনে)। একদল অন্ধ মানুষকে 'আমুন' বলা হয়। তাদের মধ্যে 'উমাইয়্যাহুম' (ইয়া বর্ণে তাশদীদসহ) ব্যবহৃত হয়। 'আল-আ’মায়ান' (দুই অন্ধ) বলতে প্রবল প্লাবন এবং ক্ষিপ্ত উটকে বোঝানো হয়। ঢেউ যখন ময়লা ও ফেনা ছুড়ে ফেলে তখন 'আমিয়াল মাওজু' বলা হয়। আমি কবিতার অর্থ অস্পষ্ট করেছি (আম্মাইতু)। এর থেকেই কবিতার 'মু’আম্মা' (ধাঁধা) শব্দটি এসেছে। একটি পাঠরীতিতে 'ফু’ম্মিয়াত' (আইন বর্ণে পেশ, মীম বর্ণে যের ও তাশদীদসহ) পড়া হয়েছে। আমরা তাদেরকে 'উম্মা' (মৃত্যুর নিকটবর্তী অবস্থা) অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছি (আইন বর্ণে পেশ ও মীম বর্ণে তাশদীদ এবং শেষে আলিফ মাকসুরাসহ), যখন তারা মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। 'আল-আমা' (দীর্ঘ আলিফসহ) অর্থ মেঘমালা। বলা হয়ে থাকে এটি দেখতে ধোঁয়ার মতো যা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করে।
'আল-মা’আমি' ঐ সকল পরিত্যক্ত ভূমিকে বলা হয় যার কোনো চিহ্ন নেই এবং সেখানে জনবসতির কোনো অস্তিত্ব নেই। এগুলোকে 'আল-আ’মা'ও বলা হয়। প্রখর দ্বিপ্রহরের সময় কারো কাছে আসলে বলা হয় 'আতাইতুহু সাক্কাতা উমাইয়িন' (আইন বর্ণে পেশ, মীম বর্ণে জবর ও ইয়া বর্ণে তাশদীদসহ)। এটি 'আ’মা' শব্দের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। কেউ কেউ বলেন, এটি আমালিকা বংশের এক ব্যক্তির নাম, যে ভরদুপুরে এক কওমের ওপর আক্রমণ করে তাদের সমূলে বিনাশ করেছিল, তাই ঐ সময়টিকে তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।
আবার বলা হয়, এর দ্বারা হরিণ উদ্দেশ্য; কারণ সে প্রখর রোদে দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং অন্ধের মতো সামনে যা পায় তার সাথেই ধাক্কা খায়। অতঃপর একে সংক্ষিপ্ত রূপ দেওয়া হয়েছে, যেমন 'আসওয়াদ' থেকে 'সুওয়াইদ' এবং 'আযহার' থেকে 'যুহাইর' বলা হয়।
সুতরাং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, এই মূলধাতুর অধীনে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবকিছুই আবরণ ও গোপন থাকাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। আর মহান আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
المقدمة الثانيةفيما يتعلق بذلكمن جهة التصريف والأعرابأعمى. لا ينصرف لما فيه من العلتين الفرعيتين: وهما الصفة ووزن الفعل. ويكتب بالياء لان مؤنثه عمياء.
والقاعدة عند أهل العربية أن لا يبنى أفعل تعجب ولا أفعل تفضيل من الألوان والعاهات. فلا يقال: هذا اسود من هذا، ولا هذا احمر من هذا في الألوان. ولا يقال: هذا أعور من هذا، ولا هذا أعرج من هذا. بل الصواب أن يقال فيه ذها أشد سواداً وأشد حمرةً، وهذا اشد عرجاً واشد عوراً.
وأورد على هذه القاعدة قوله تعالى ومن كان في هذه أعمى فهو في الآخرة أعمى وأضل سبيلاً. والجواب: أن هذا ليس من العاهات الظاهرة، بل هو من عمى البصيرة. قال الله تعالى فإنها لا تعمي الأبصار ولكن تعمي القلوب التي في الصدور. وقرأ أبو عمرو: ومن كان في هذه أعمى بالإمالة فهو في الآخرة أعمى بالتفخيم. طلباً للفرق بين ما هو اسم وبين ما هو أفعل منه: بالإمالة.
وعيب على أبي الطيب قوله في الشيب
إبعد بعدت بياضاً لا بياض له
… لأنت اسود في عيني من الظلم
وقال الناصر له: إن أسود هنا من قبيل الوصف المحض الذي تأنيثه سوداء وأخرجه عن حيز أفعل التفضيل. ويكون على هذا التأويل قد تم الكلام عند قوله لأنت اسود في عيني وتكون من التي في قوله من الظلم لبيان جنس السواد لا أنها صلة أسود.
مسألة لو قلت ما أسود زيداً، وما أسمر عمراً، وما أصفر هذا الطائر، وما أبيض هذه الحمامة، وما أحمر هذا الفرس. فسدت كل مسألة من وجه وصحت من وجه. ففساد جميعها، إذا أردت التعجب من الألوان. وتصحيح جميعها، إذا أردت التعجب من سودد، زيد ومن سمر عمرو. ومن صفير الطائر، ومن كثرة بيض الحمامة، ومن حمر الفرس، وهو نتن فيه من البشم وقول الشاعر:
দ্বিতীয় ভূমিকাতৎসংক্রান্ত শব্দরূপ (সরফ) ও বাক্যরীতি (এ’রাব)এর পরিপ্রেক্ষিত থেকেঅন্ধ। এটি শব্দরূপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অপূর্ণ রূপান্তরের অধিকারী (গাইরে মুনসারিফ), কারণ এতে দুটি শাখা-কারণ বিদ্যমান: গুণবাচক হওয়া এবং ক্রিয়ার ওজন। এটি 'ইয়া' (ى) দিয়ে লেখা হয়, কারণ এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'আমইয়া'।
আরবি ভাষাবিদদের নিকট নিয়ম হলো যে, রং এবং শারীরিক ত্রুটি থেকে বিস্ময়বোধক (আফ’য়ালু তাআজ্জুব) বা আতিশয্যবোধক (আফ’য়ালু তাফদীল) রূপ গঠন করা যায় না। তাই রঙের ক্ষেত্রে বলা হয় না: 'এটি এটি থেকে অধিক কালো', বা 'এটি এটি থেকে অধিক লাল'। তদ্রূপ ত্রুটির ক্ষেত্রেও বলা হয় না: 'এটি এটি থেকে অধিক কানা', বা 'এটি এটি থেকে অধিক ল্যাংড়া'। বরং এক্ষেত্রে সঠিক হলো এভাবে বলা যে, 'এটি কালো হওয়ার দিক থেকে অধিক তীব্র' এবং 'লাল হওয়ার দিক থেকে অধিক তীব্র', এবং 'এটি ল্যাংড়া হওয়ার দিক থেকে অধিক তীব্র' ও 'কানা হওয়ার দিক থেকে অধিক তীব্র'।
এই নিয়মের বিপরীতে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা আপত্তি উত্থাপন করা হয়: "যে ব্যক্তি ইহকালে অন্ধ ছিল, সে পরকালেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রষ্ট হবে।" এর উত্তর হলো: এটি কোনো প্রকাশ্য শারীরিক ত্রুটি নয়, বরং এটি হলো অন্তর্দৃষ্টির অন্ধত্ব। মহান আল্লাহ বলেন: "বস্তুত চোখ তো অন্ধ হয় না, কিন্তু অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয়।" আর আবু আমর কিরাআত পাঠ করেছেন: 'ইহকালে অন্ধ' অংশটি ইমালা (স্বরের ঝোঁক) সহযোগে এবং 'পরকালে অন্ধ' অংশটি তাফখীম (স্পষ্ট উচ্চারণ) সহযোগে। বিশেষ্য এবং যা তার থেকে আতিশয্যবোধক—তার মধ্যে পার্থক্য করার উদ্দেশ্যে ইমালার মাধ্যমে এটি করা হয়েছে।
আবু তাইয়্যেবের বার্ধক্যের শুভ্রতা সম্পর্কে বলা এই পংক্তির ওপর সমালোচনা করা হয়েছে:
দূর হও, তুমি শুভ্রতা হিসেবে দূরে যাও যার কোনো শুভ্রতা নেই
… তুমি তো আমার চোখে অন্ধকার থেকেও কালো।
তার পক্ষালম্বনকারী বলেছেন: এখানে 'কালো' (আসোয়াদ) শব্দটি নিছক গুণের পর্যায়ভুক্ত যার স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'সাওদা', এবং তিনি একে আতিশয্যবোধক গুণের ক্ষেত্র থেকে বের করে এনেছেন। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী কথাটি 'তুমি আমার চোখে কালো'—এখানেই পূর্ণ হবে। আর 'অন্ধকার থেকে' বাক্যাংশের 'থেকে' (মিন) শব্দটি কালো রঙের ধরন বর্ণনার জন্য এসেছে, এটি আতিশয্যবোধক শব্দের অনুবর্তী অব্যয় নয়।
একটি মাসআলা: যদি আপনি বলেন, যায়েদ কতই না কালো, আমর কতই না শ্যামল, এই পাখিটি কতই না হলুদ, এই কবুতরটি কতই না সাদা এবং এই ঘোড়াটি কতই না লাল। তবে প্রতিটি বাক্যই একদিক থেকে অশুদ্ধ এবং অন্যদিক থেকে শুদ্ধ। এগুলোর সবগুলোর অশুদ্ধ হওয়ার দিকটি হলো—যদি আপনি রঙের বিস্ময় প্রকাশ করতে চান। আর এগুলোর সবগুলোর শুদ্ধ হওয়ার দিকটি হলো—যদি আপনি যায়েদের নেতৃত্ব (সু’দুদ), আমরের নৈশ আড্ডা (সামার), পাখির শিস দেওয়া (সাফীর), কবুতরের ডিমের আধিক্য এবং ঘোড়ার 'হুমুর' (অতিরিক্ত আহারের ফলে পাকস্থলীতে সৃষ্ট দুর্গন্ধ) থেকে বিস্ময় প্রকাশ করতে চান। আর কবির উক্তি:
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
جارية في درعها الفضفاض
… ابيض من أخت بني بياض
قالوا فيه أن ابيض هنا ليس للتفضيل، بل صفة لموصوف محذوف تقديره: في درعها جسم أبيض أو شخص أبيض ومن في محل الرفع صفة لأبيض. على أن الكوفيين جوزوا: ما أسوده وما أبيضه في هذين اللونين خاصةً. قالوا لأنهما أصل الألوان. وهو ضعيف. لأن غالب أفعال اللوان لا تأتي إلا على أفعل وأفعال بتشديد اللام فيهما نحو أحمر وأحمار. وهما زائدان على الثلاثي. ولا تبنى أفعل التعجب وأفعل التفضيل إلا من الثلاثي المجرد من الزيادة. لأن أفعل في مثل ما أحسن زيداً الهمزة فيه زائدة ودخلت عليه لتنقل اللازم إلى التعدي، فيصير الفاعل مفعولاً. إذ أصله حسن زيد. فلما دخلت الهمزة على الفعل، صار الكلام تقديره شيء. حسن زيداً.
وشذ قولهم: ما أعطاه للدينار والدرهم! فتعجبوا بالرباعي. وأجازه سيبويه. وكذا: ما أولاه للمعروف وما أفقره! حمله على أنه ثلاثي والصحيح أنه رباعي فلذلك حكم بشذوذه.
مسأله وإنما قالوا في السكران: ما أشد سكره! ولم يقولوا: ما أسكره! وهو ثلاثي لأن فعله سكر وليس بخلق ولا لون ولا عيب ظاهر، فرقا بينه وبين قولهم: ما أسكره للنهر. وكذلك لم يقولوا: ما أقعده في الكان، فرقا بينه وبين ما أقعده في النسب. ولا يتعجب من الخلق أيضاً والمراد بالخلق الأعضاء كاليد والوجه والرجل. فلا تقل: ما أيداه! وما أرجله! وما أوجهه! فإن أردت ما أوجهه من الوجاهة وما أرجله من الشؤم على غيره جاز.
ويتعجب من العيوب الباطنة، كالحمق والرعونة فيقال: ما أحمقه! وما أرعنه! ومنه ما تقدم في قوله تعالى فهو في الآخرة أعمى. لأنه من عمى البصيرة.
تقول رجل أعمى وأعميان وأعمون بفتح الميم، في ذلك كله. وأعمون جمع سلامة. وأجاز الكوفيون ضم الميم في الجميع. وتقول في جمع التكسير: عميان. تقول عمي عمىً فهو عم من عمى القلب، وعمي يعمى فهو أعمى من عمى البصر. وجمع عم عمون. قال الله تعالى: بل هم منها عمون. وجمع أعمى عميان وعمي. قال الله تعالى لم يخروا عليها صماً وعمياناً.
وقال
একটি কিশোরী তার ঢিলেঢালা পোশাকে
… বনু বায়াদ গোত্রের বোনের চেয়েও সাদা।
তারা এ সম্পর্কে বলেছেন যে, এখানে ‘সাদা’ (আবইয়াদ) শব্দটি আতিশয্য বা শ্রেষ্ঠত্ব (তাফদিল) বোঝানোর জন্য আসেনি, বরং এটি একটি ঊহ্য বিশেষ্যের গুণ; যার সম্ভাব্য রূপ হলো: তার পোশাকের ভেতর একটি সাদা শরীর বা একজন সাদা ব্যক্তি রয়েছে। আর ‘মিন’ শব্দটি এখানে ‘আবইয়াদ’-এর গুণ হিসেবে ‘রাফ’ এর স্থলাভিষিক্ত। যদিও কুফাবাসীরা বিশেষ করে এই দুই রঙের ক্ষেত্রে ‘সে কতই না কালো!’ এবং ‘সে কতই না সাদা!’ বলা বৈধ মনে করেছেন। তারা বলেছেন, কারণ এই দুটি হলো রঙের মূল ভিত্তি। তবে এই মতটি দুর্বল। কেননা রঙের অধিকাংশ ক্রিয়াপদ ‘আফআল্লা’ এবং ‘আফআল্লা’ ওজনে লাম বর্ণে তাশদিদ সহকারে আসে, যেমন ‘লাল হওয়া’ (আহমাররা) এবং ‘আহমারা’। আর এই দুটি ওজনই তিন অক্ষরের মূল ধাতুর চেয়ে অতিরিক্ত। আর বিস্ময়সূচক ক্রিয়া এবং আতিশয্যসূচক বিশেষ্য কেবল অতিরিক্ত অক্ষরবিহীন তিন অক্ষরের মূল ধাতু থেকেই গঠিত হয়। কারণ ‘যায়েদ কতই না সুন্দর!’-এর মতো বাক্যে হামযাটি অতিরিক্ত এবং এটি অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করার জন্য যুক্ত হয়েছে, যার ফলে কর্তা কর্মে পরিণত হয়। কারণ এর মূল রূপ ছিল ‘যায়েদ সুন্দর হয়েছে’। যখন ক্রিয়াপদে হামযা যুক্ত হলো, তখন বাক্যটি এমন অর্থ প্রকাশ করল যেন কোনো একটি বিষয় যায়েদকে সুন্দর করেছে।
আর তাদের এই উক্তিটি বিরল: ‘সে কতই না দিনার ও দিরহাম দানকারী!’ এখানে তারা চার অক্ষরের শব্দ দ্বারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সিবওয়াইহি এটি জায়েয বলেছেন। একইভাবে: ‘সে কতই না কল্যাণের উপযুক্ত!’ এবং ‘সে কতই না মুখাপেক্ষী!’ তিনি এগুলোকে তিন অক্ষরের শব্দ হিসেবে গণ্য করেছেন, কিন্তু সঠিক হলো এগুলো চার অক্ষরের। এ কারণেই এগুলোকে বিরল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
মাসআলা: মাতাল ব্যক্তির ক্ষেত্রে তারা বলে থাকেন: ‘তার নেশা কতই না তীব্র!’, তারা ‘সে কতই না মাতাল!’ বলেন না। যদিও এটি তিন অক্ষরের শব্দ, কারণ এর ক্রিয়া হলো ‘সাকারা’ এবং এটি কোনো সৃষ্টিগত স্বভাব, রং কিংবা প্রকাশ্য দোষ নয়; মূলত তারা এটি করেছেন ‘সে নদীটিকে কতই না মত্ত (কানায় কানায় পূর্ণ) করেছে’ উক্তির সাথে পার্থক্য করার জন্য। একইভাবে তারা অবস্থানের ক্ষেত্রে ‘সে কতই না উপবিষ্ট’ বলেন না, বংশের আভিজাত্যের ক্ষেত্রে ‘আকআদ’ ব্যবহারের সাথে পার্থক্য করার জন্য। আর সৃষ্টিগত অবয়ব বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করা হয় না; অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বলতে যেমন হাত, মুখমণ্ডল এবং পা। তাই তুমি বলবে না: ‘তার হাত কতই না শক্তিশালী!’ বা ‘তার পা কতই না বড়!’ অথবা ‘তার চেহারা কতই না সুন্দর!’ (শারীরিক গঠন অর্থে)। তবে তুমি যদি এর দ্বারা তার মর্যাদা বা সম্মান বোঝাতে চাও কিংবা অন্যের ওপর তার অশুভ প্রভাব বা পুরুষত্ব বোঝাতে চাও, তবে তা বৈধ।
তবে অভ্যন্তরীণ দোষ-ত্রুটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা যায়, যেমন নির্বুদ্ধিতা ও চপলতা। তখন বলা হয়: ‘সে কতই না নির্বোধ!’ এবং ‘সে কতই না চপল!’ মহান আল্লাহর বাণীতে যে বিষয়টি এসেছে তাও এর অন্তর্ভুক্ত: “সে পরকালেও অন্ধ”। কারণ এটি হলো অন্তর্দৃষ্টির অন্ধত্ব।
তুমি বলবে একজন অন্ধ ব্যক্তি (আ’মা), দুজন অন্ধ (আ’মাইয়ান) এবং অনেক অন্ধ (আ’মাউনা)—সব ক্ষেত্রেই মীম বর্ণে যবর যোগে। আর ‘আ’মাউনা’ হলো নিয়মিত বহুবচন। তবে কুফাবাসীরা সব ক্ষেত্রেই মীম বর্ণে পেশ পড়া বৈধ বলেছেন। অনিয়মিত বহুবচনের ক্ষেত্রে তুমি বলবে: ‘উমইয়ান’। বলা হয় ‘সে অন্ধ হয়েছে’ অতঃপর সে ‘অন্ধ’—এটি হৃদয়ের অন্ধত্বের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর দৃষ্টিশক্তি হারানোর ফলে যখন কেউ অন্ধ হয়, তখন তাকেও ‘অন্ধ’ (আ’মা) বলা হয়। প্রথমোক্ত ‘অন্ধ’ শব্দের বহুবচন হলো ‘আমুন’। মহান আল্লাহ বলেন: “বরং তারা এ বিষয়ে অন্ধ।” আর ‘আ’মা’ শব্দের বহুবচন হলো ‘উমইয়ান’ এবং ‘উমি’। মহান আল্লাহ বলেন: “তারা তার ওপর বধির ও অন্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে না।”
এবং তিনি বলেছেন (বা বলা হয়েছে)
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
تعالى: صم بكم عمي. والنسبة إلى أعمى أعموي بفتح الهمزة وسكون العين وفتح الميم وكسر الواو. والنسبة إلى عم عموي بفتح العين والميم كما يقال في شج شجوي.
وفي المثل: ربما أصاب الأعمى رشده، وربما قيل فيه: بما أصاب: الأعمى رشدة فحذفوا الراء من ربما. قال حسان:
إن يكن غث من رقاش حديث
… فبما تأكل الحديث السمينا
قالوا: أراد ربما.
وقد يجوز أن تكون الباء للبدل. كما يقال: هذا بذاك.
وفي المثل: أعمى يقود شجعةً بالشين المعجمة المفتوحة والجيم المفتوحة والعين المهملة والشجعة الزمني. وقيل: الشجعة بسكون الجيم الضعيف.
وقولهم: صكة عمي بضم العين المهملة وفتح الميم وتشديد الياء: هو اشد ما يكون من الحر أي حين كاد الحر يعمي. وقيل: حين يقوم قائم الظهيرة. وقيل: إن عميا هو الحر بعينه. وأنشدوا:
وردت عميا والغزالة برنس
… بفتيان صدق فوق خوص عياهم
وقيل: عمي رجل من عدوان كان يفتي في الحج. فأقبل معتمراً ومعه ركب، حتى نزلوا بعض المنازل في يوم شديد الحر، فقال عمي: من جاءت عليه هذه الساعة من غدو هو حرام لم يقض عمرته وهو حرام إلى قابل. فوثب الناس في الظهيرة يضربون حتى وافوا البيت. وبينهم وبينه ليلتان، فضرب مثلاً يقال أتانا صكة عمي، إذا جاء في الهاجرة الحارة.
وفي المثل: تطرق أعمى والبصير جاهل. الطرق هو الضرب بالحصى. يضرب لمن يتصرف في أمر ولا يعلم مصالحه، فيخبره بالمصلحة غيره من خارج.
وفي المثل: إحذر الأعميين، الجمل الهائج والسيل: وفي أمثال العوام الأعمى يجري على السطح ويقول ما رآني أحد.
وفي المثل: أيضاً قد ضل من كانت العميان تهديه.
মহান আল্লাহ বলেন: বধির, বোবা ও অন্ধ। আর ‘আমা’ (অন্ধ) শব্দের নিসবত (সম্বন্ধ) হলো ‘আমাউয়ি’, হামযাহতে ফাতহাহ, আইনে সুকুন, মিমে ফাতহাহ এবং ওয়াওতে কাসরাহ যোগে। আর ‘আমি’ (অন্ধ হওয়া) শব্দের নিসবত হলো ‘আমাউয়ি’, আইন ও মিমে ফাতহাহ যোগে, যেমনটি ‘শাজিন’ থেকে ‘শাজাউয়ি’ বলা হয়।
একটি প্রবাদে আছে: কখনও কখনও অন্ধ সঠিক পথের সন্ধান পায়। একে কখনও এভাবেও বলা হয়: ‘বিমা আসাবা আল-আমা রুশদাহ’, যেখানে ‘রুব্বামা’ থেকে ‘রা’ অক্ষরটি বাদ দেওয়া হয়েছে। হাসসান ইবনে সাবিত (রা.) বলেছেন:
যদি রাকাশের কথাগুলো দুর্বলও হয়... তবে তা থেকে পুষ্টিকর কথাগুলো গ্রহণ করো
ভাষাবিদগণ বলেন: তিনি এখানে ‘রুব্বামা’ বুঝিয়েছেন।
এখানে ‘বা’ অক্ষরটি ‘বদল’ বা বিনিময়ের অর্থে ব্যবহৃত হওয়াও সম্ভব। যেমন বলা হয়: এটি ওটির বিনিময়ে।
একটি প্রবাদে আছে: এক অন্ধ এক পঙ্গু ব্যক্তিকে পথ দেখাচ্ছে। এখানে ‘শাজাহ’ শব্দটি শিন ও জিম-এ ফাতহাহ এবং বিন্দুবর্জিত আইনের মাধ্যমে গঠিত, যার অর্থ পঙ্গু। আবার বলা হয়েছে: জিম-এ সুকুন যোগে ‘শাজহ’ অর্থ দুর্বল।
তাদের উক্তি: ‘সাক্কাতু উমাইয়্যিন’ (বিন্দুবর্জিত আইনে যম্মাহ, মিমে ফাতহাহ এবং ইয়া-তে তাশদীদ সহ): এটি প্রচণ্ড গরমের সময়কে বোঝায়, অর্থাৎ যখন প্রচণ্ড তাপ অন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম করে। আবার বলা হয়েছে: এটি দ্বিপ্রহরের সময়। কেউ কেউ বলেন: ‘উমাইয়্যিন’ বলতে স্বয়ং উত্তাপকেই বোঝায়। তারা কবিতা আবৃত্তি করেন:
আমি তপ্ত রোদে উপনীত হয়েছি যখন সূর্য মধ্যগগনে... কিছু সত্যনিষ্ঠ যুবকের সাথে যারা ক্লান্ত উটগুলোর পিঠে সওয়ার ছিল
বলা হয়: ‘উমাই’ আদওয়ান গোত্রের একজন লোক ছিলেন যিনি হজের বিষয়ে ফতোয়া দিতেন। তিনি উমরাহ করার উদ্দেশ্যে একটি কাফেলার সাথে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে একদিন প্রচণ্ড গরমের সময় তারা এক স্থানে যাত্রাবিরতি করেন। তখন উমাই বললেন: যার ওপর প্রভাতের এই মুহূর্তটি আসবে এবং সে তার উমরাহ সম্পন্ন করেনি, সে আগামী বছর পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থেকে যাবে। তখন লোকেরা দ্বিপ্রহরের প্রচণ্ড তাপের মধ্যেই দ্রুতবেগে ছুটতে শুরু করল এবং শেষ পর্যন্ত কাবাগৃহে পৌঁছাল, যদিও তাদের মাঝে দুই রাতের দূরত্ব ছিল। ফলে এটি প্রবাদে পরিণত হলো; যখন কেউ প্রচণ্ড দুপুরের রোদে আসে, তখন বলা হয় ‘সে আমাদের কাছে সাক্কাতু উমাই এর সময় এসেছে’।
একটি প্রবাদে আছে: অন্ধের কঙ্কর নিক্ষেপ অথচ চক্ষুষ্মান ব্যক্তি অজ্ঞ। ‘তারক্ব’ বলতে কঙ্কর বা পাথর নিক্ষেপ করা বোঝায়। এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয় যে কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেয় কিন্তু তার কল্যাণ সম্পর্কে অবগত নয়, ফলে বাইরের অন্য কেউ তাকে কল্যাণের সংবাদ দেয়।
একটি প্রবাদে আছে: দুই অন্ধ থেকে সতর্ক থাকো—উত্তেজিত উট এবং বন্যার পানির প্রবল স্রোত। সাধারণ মানুষের প্রবাদে আছে: অন্ধ ব্যক্তি ছাদের ওপর দৌড়ায় আর বলে আমাকে কেউ দেখছে না।
আরও একটি প্রবাদে আছে: সেই ব্যক্তি নিশ্চিতভাবেই পথভ্রষ্ট হয়েছে যাকে অন্ধরা পথ দেখায়।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
المقدمة الثالثةحد العمىقيل في تعريفه: إنه عبارة عن عدم البصر عما من شأنه أن يبصر. وكذا الصمم عبارة عن عدم السمع عما من شأنه أن يسمع. فالعمى والصمم حينئذ معنيان وجوديان متضادان. وقد نازع الفلاسفة في هذا للمتكلمين نزاعاً شديداً. وقالوا إن تقابل السمع والصمم وتقابل العمى والبصر، تقابل العدم والملكة لا تقابل الضدين.
فصل من الناس من قال إن السمع أفضل من البصر. لأن الله تعالى حيث ذكرهما في كتابه العزيز، قدم السمع على البصر: حتى في قوله تعالى صم بكم عمي. فقدم متعلق السمع على متعلق العين، والتقدم دليل الفضيلة. ولأن السمع شرط في النبوة، بخلاف البصر. ولذلك لم يأت في الأنبياء صلى الله عليهم من كان أصم. وجاء فيهم من طرأ عليه العمى. وسيأتي الكلام على منع جواز العمى على الأنبياء صلى الله عليهم. قالوا وبالسمع تصل نتائج العقول. فالسمع كأنه سبب لاستكمال العقل بالمعارف والعلوم. وهو متصرف في الجهات الست، والبصر لا يتصرف إلا فيما يقابله من المرئيات. ولأن السمع أصل للنطق. ولهذا لا ترى الأخرس إلا أصم.
وقيل سبب خرسه أنه لم يسمع شيئاً ليحكيه. والبصر إذا بطل لم يبطل النطق. ومن قال إن البصر أفضل استدل بان قال: متعلق القوة الباصرة هو النور ومتعلق القوة السامعة هو الريح. والنور أفضل من الريح. قال صاحب الكشاف: البصر نور العين، كما أن البصيرة هي نور القلب. قلت: ولا شك أن أدلة فضيلة السمع أقوى من دليل فضيلة البصر.
وللشيخ تقي الدين أبي عباس أحمد بن تيمية رحمه الله تعالى كراسة في ذلك والله سبحانه وتعالى أعلم.
خاتمة الأعمى هل له حظ في الرؤيا أولاً.
بعض الناس قال: الأعمى يرى المنامات وبعضهم قال: لا يرى.
والصحيح أن المسألة ذات تفصيل. وهو أن الأعمى، إن كان قد طرأ عليه العمى بعد ما ميز الأشياء فهذا يرى. لأن القوة المتخيلة منه ارتسم فيها صور الأشياء من المرئيات، على اختلاف
তৃতীয় ভূমিকাঅন্ধত্বের সংজ্ঞাএর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: এটি এমন সত্তার দৃষ্টিশক্তির অনুপস্থিতি, যার স্বাভাবিকভাবেই দেখার সক্ষমতা রয়েছে। তদ্রূপ বধিরতা হলো এমন সত্তার শ্রবণশক্তির অনুপস্থিতি, যার স্বাভাবিকভাবেই শোনার সক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং অন্ধত্ব ও বধিরতা তখন দুটি অস্তিত্বশীল ও পরস্পরবিরোধী বিষয়। এ বিষয়ে দার্শনিকগণ কালামশাস্ত্রবিদদের সাথে তীব্র মতবিরোধ করেছেন। তারা বলেছেন যে, শ্রবণ ও বধিরতার বৈপরীত্য এবং অন্ধত্ব ও দৃষ্টির বৈপরীত্য হলো 'অভাব ও যোগ্যতার' (আদম ও মালাকা) বৈপরীত্য, পরস্পরবিরোধী দুটির (জিদ্দাইন) বৈপরীত্য নয়।
পরিচ্ছেদ: মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, শ্রবণের শ্রেষ্ঠত্ব দৃষ্টির চেয়ে বেশি। কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে যেখানেই এ দুটির উল্লেখ করেছেন, সেখানেই শ্রবণকে দৃষ্টির আগে রেখেছেন; এমনকি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতেও: "বধির, বোবা, অন্ধ"। এখানে শ্রবণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি চোখের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আগে আনা হয়েছে, আর আগে আসা শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। এবং যেহেতু শ্রবণশক্তি নবুওয়তের জন্য একটি শর্ত, যা দৃষ্টিশক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই কারণেই নবীদের (তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) মধ্যে কেউ বধির ছিলেন না, কিন্তু তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যিনি পরবর্তীতে অন্ধত্বের শিকার হয়েছিলেন। আর নবীদের (তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) ক্ষেত্রে অন্ধত্ব বৈধ না হওয়ার আলোচনার প্রসঙ্গ সামনে আসবে। তারা আরও বলেছেন, শ্রবণের মাধ্যমেই আকল বা বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তসমূহ অর্জিত হয়। সুতরাং শ্রবণ যেন জ্ঞান ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে আকলের পূর্ণতা লাভের কারণ। আর শ্রবণ ছয়টি দিক থেকেই সক্রিয় থাকে, কিন্তু দৃষ্টি কেবল তার সামনে থাকা দৃশ্যমান বস্তুর ক্ষেত্রেই কাজ করে। তদুপরি শ্রবণ হলো কথা বলার মূল ভিত্তি; এই কারণেই আপনি বোবা ব্যক্তিকে বধির হিসেবেই দেখতে পাবেন।
বলা হয়েছে, তার বোবা হওয়ার কারণ হলো সে অনুকরণ করার মতো কিছু শোনেনি। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি লোপ পেলে কথা বলার শক্তি লোপ পায় না। আর যারা দৃষ্টিকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন, তারা এই বলে দলিল পেশ করেছেন যে: দর্শন শক্তির সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো আলো এবং শ্রবণ শক্তির সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো বায়ু; আর আলো বায়ুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। 'কাশশাফ' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: দৃষ্টি হলো চোখের আলো, যেমন অন্তর্দৃষ্টি হলো হৃদয়ের আলো। আমি বলছি: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শ্রবণের শ্রেষ্ঠত্বের সপক্ষে প্রদত্ত দলিলসমূহ দৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের দলিলের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।
আর শায়খ তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা রয়েছে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন।
পরিশিষ্ট: অন্ধ ব্যক্তির স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগ আছে কি না।
কিছু লোক বলেছেন: অন্ধ ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে, আবার কেউ কেউ বলেছেন: সে দেখে না।
সঠিক মত হলো বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। তা হলো, অন্ধ ব্যক্তি যদি বস্তুসমূহ চেনার পর অন্ধত্বের শিকার হয়, তবে সে স্বপ্ন দেখে। কারণ তার কল্পনাশক্তি বা মুতাখায়্যিলাহ শক্তির মধ্যে দৃশ্যমান বস্তুসমূহের ছবিগুলো বিভিন্নভাবে অঙ্কিত হয়ে আছে।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
أجناسها وأنواعها. والقوة المخيلة قادرة على أفعالها في جميع الأحوال، إلا أنها لا تتصور الأشياء باختيارها، لأنها ليست قوة إرادية. وإن كان الأعمى قد ولد أكمة ولم ير الوجود ولا ما فيه من المرئيات فهذا يرى الأحوال التي يقابلها ويباشرها. كما أنه يرى أنه يأكل أو أنه يشرب أو أنه راكب على فرس أو حمار أو أنه يخاصم آخر، إلى غير ذلك من الأحوال التي يباشرها. وقد قال الرئيس ابن سينا: إن المولود يضحك بعد الأربعين يوماً، ويرى الرؤيا بعد أربعة اشهر.
قلت: الظاهر أنه ما يرى إلا انه يرضع ثدي أمه. فإنا نشاهد كثيراً من الأطفال يكون نائماً وهو يرضع، ولا ثدي في فمه. وكذلك نرى كثيراً من الخيل وهو واقف نائماً، ثم إنه في أثناء ذلك يصهل وهو نائم، كأنه يرى أنه بين خيل يألفها أو ما أشبه ذلك. وقال أرسطو في كتاب الحيوان: إن الكلاب ترى الأحلام في منامها. وأما أن الأعمى الذي ولد أكمة ولم ير العالم فإنه لا يرى في نومه شمساً ولا قمراً ولا نجوماً ولا سماءً ولا أشجاراً ولا بحاراً ولا غير ذلك مما لم ترسمه المخيلة منه فهذا هو وجه الصواب في هذه المسالة على ما فصلته والله أعلم.
علاوة قال العابرون: من رأى في منامه أنه عمي دلت رؤياه على الغنى وإن حلف يميناً لم يحنث، لقوله تعالى: ليس على الأعمى حرج.
ومن رأى أنه أعمى فإنه ينسى القرآن، لقوله تعالى: قال رب لم حشرتني أعمى وقد كنت بصيراً قال كذلك أتتك آياتنا فنسيتها وكذلك اليوم تنسى.
ومن رأى أن إنساناً أعماه فإنه يضله. وغن كان كافراً فرأى أن إنساناً أعماه فإنه يزيله عن رأيه.
قالوا: والأعمى رجل فقير يعمل أعمالاً لا تضر به في دينه لسبب فقره. فإن رأى كافراً أنه أعمى فإنه يصيب خسراناً أو غرماً أو هماً.
فإن رأى أنه أعمى ملفوف في ثياب جدد فإنه يموت.
قالوا: ومن رأى أنه أعمى فإن عليه غزوة أو حجة، لقوله تعالى: ولله على الناس حج البيت. فإن رأى أعمى أن ساقياً سقاه شراباً فإن الساقي يرشده إلى منافع تنزل به ويتوب ويتمول.
এর প্রকার ও শ্রেণীসমূহ। কল্পনাশক্তি সর্বাবস্থায় তার কার্যাবলি সম্পাদনে সক্ষম, তবে এটি স্বেচ্ছায় কোনো কিছুর কল্পনা করে না, কারণ এটি কোনো ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন শক্তি নয়। আর যদি কোনো ব্যক্তি জন্মান্ধ হয় এবং সে জগত বা জগতের কোনো দৃশ্যমান বস্তু না দেখে থাকে, তবে সে ঐ সকল অবস্থা দেখে যা সে মোকাবিলা করে এবং যা সে সরাসরি অনুভব করে। যেমন সে দেখে যে সে আহার করছে, অথবা পান করছে, কিংবা সে ঘোড়া বা গাধার ওপর আরোহণ করে আছে, অথবা সে অন্য কারো সাথে বিবাদে লিপ্ত হচ্ছে ইত্যাদি এমন সব অবস্থা যা সে বাস্তবে করে থাকে। শাইখুর রইস ইবনে সিনা বলেছেন: নবজাতক জন্মগ্রহণের চল্লিশ দিন পর হাসে এবং চার মাস পর স্বপ্ন দেখে।
আমি বলি: বাহ্যত শিশু এটাই দেখে যে সে তার মায়ের স্তন পান করছে। কারণ আমরা অনেক শিশুকে দেখি যে তারা ঘুমন্ত অবস্থায় চুষছে অথচ তার মুখে কোনো স্তন নেই। একইভাবে আমরা অনেক ঘোড়াকে দেখি যে দাঁড়িয়ে ঘুমাচ্ছে এবং সেই অবস্থায় সে হ্রেষা রব করছে, যেন সে দেখছে যে সে পরিচিত ঘোড়াগুলোর মাঝে আছে বা এই জাতীয় কিছু। এরিস্টটল 'কিতাবুল হাইওয়ান' গ্রন্থে বলেছেন: কুকুর ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে। আর যে জন্মান্ধ ব্যক্তি পৃথিবী দেখেনি, সে তার স্বপ্নে সূর্য, চাঁদ, নক্ষত্র, আসমান, বৃক্ষরাজি, সমুদ্র বা এমন কোনো কিছুই দেখে না যা তার কল্পনাশক্তি আগে থেকে চিত্রিত করেনি। এই মাসআলায় আমার বিস্তারিত বর্ণনা অনুযায়ী এটিই সঠিক মত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
তদুপরি স্বপ্ন বিশারদগণ বলেছেন: যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে অন্ধ হয়ে গেছে, তার এই স্বপ্ন ধনাঢ্য হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর যদি সে কোনো শপথ করে তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না, কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: "অন্ধের জন্য কোনো দোষ নেই।"
আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে নিজেকে অন্ধ দেখল, তবে সে কুরআন ভুলে যাবে। কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: "সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। তিনি বলবেন, এভাবেই তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; ঠিক তেমনি আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে।"
আর যে ব্যক্তি দেখল যে কোনো মানুষ তাকে অন্ধ করে দিয়েছে, তবে সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে। যদি কোনো কাফের স্বপ্নে দেখে যে কেউ তাকে অন্ধ করে দিয়েছে, তবে সে ব্যক্তি তাকে তার পূর্বের মতাদর্শ থেকে সরিয়ে দেবে।
তাঁরা বলেছেন: অন্ধ লোক হলো এমন এক দরিদ্র ব্যক্তি যে এমন সব কাজ করে যা তার দারিদ্র্যের কারণে তার দ্বীনের কোনো ক্ষতি করে না। যদি কোনো কাফের স্বপ্নে দেখে যে সে অন্ধ, তবে সে লোকসান, জরিমানা অথবা দুশ্চিন্তার সম্মুখীন হবে।
যদি কেউ দেখে যে সে অন্ধ এবং নতুন কাপড়ে আবৃত, তবে সে মৃত্যুবরণ করবে।
তাঁরা বলেন: যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে অন্ধ, তবে তার ওপর জিহাদ অথবা হজ পালন করা আবশ্যক, কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: "মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার জন্য আবশ্যক।" যদি কোনো অন্ধ ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে কোনো পানীয় পরিবেশনকারী তাকে পানীয় পান করাচ্ছে, তবে সেই পরিবেশনকারী তাকে এমন সব উপকারের পথ দেখাবে যা সে লাভ করবে এবং সে তওবা করবে ও সম্পদশালী হবে।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
قالوا: وإن رأى صحيح أنه أعمى فإنه يخمل ذكره ولا يؤبه له في قوله. وربما كان تأويله أنه ينال حكماً وعلماً لقصة إسحاق ويعقوب عليهما الصلاة والسلام.
فإن رأى أعمى أنه استدبر القبلة فهو في ضلالة.
وقالت النصارى: من رأى كأن عينه قد عميت، فإنه حل يهتك الستر بينه وبين الله تعالى.
وأما فقء العين. فمن رأى أن عينه فقئت فإنه يتقاضى أو يجازى بشيء كان منه، لقوله تعالى: العين بالعين. فإن فقئت كلتاهما فإنه ينقطع عنه ولد قرة عين، أو يرى فيما تقر به عينه من مال أو ولد أو دار أو شيء مما يملكه ما يكره من عنف وشدة.
قالوا: وأما العمى فهو ضلالة عن الدين، وهو أيضاً ميراث كبير من عصبة قد كان له في أجداده مكفوف. وقد كان يعطى كل مكفوف سهماً من ميراث من يموت من عصبته. وقال أرطاميذورس: رأى إنسان كأن آخر يقول له لا تخف، فإنك لا تموت ولا تقدر أن تعيش، فصار أعمى وكان ذلك بالواجب. فإنه لم يمت ولكن عدم ضوء بصره.
وقال العابرون أيضاً: من رأى أن عينيه ذهبتا، مات أولاده أو إخوته أو أقاربه. رأى الحجاج بن يوسف الثقفي كأن عينيه سقطتا في حجره فلما أصبح نعي أخيه محمد وولده محمد. فإن كان الرائي فقيراً أو محبوساً، فإنه يدل على أنه لا يعود يرى شيئاً مما هو فيه من الشر. فإن رأى ذلك من يريد السفر فإنه يدل على أنه لا يرجع إلى الوطن. لأن المكفوف لا يمكنه أن يرى الغربة ولا أن يرى وطنه.
ومن رأى كأن عينيه عيناً إنسان آخر، فإن ذلك يدل على ذهاب بصره وعلى أن غيره يهديه الطريق. فإن عرف الرائي ذلك الغريب، فإنه يتزوج ابنة ذلك الرجل أو قريبته أو يناله منه خير.
تتمة هل يبصر الأعمى ملك الموت بعينيه أولاً ذكر ابن أبي الدنيا رحمه الله عن بعض السلف أنه قال فيه: إن الأعمى يرى ملائكة ربه عند قبض روحه.
قلت: ما لهذا خصوصية بالأعمى فإنا رأينا جماعة ممن كانوا في
তারা বলেন: যদি কোনো সুস্থ ব্যক্তি দেখে যে সে অন্ধ হয়ে গেছে, তবে তার খ্যাতি বিলীন হয়ে যাবে এবং তার কথা গ্রাহ্য করা হবে না। সম্ভবত এর ব্যাখ্যা এমন যে, সে হিকমত বা প্রজ্ঞা এবং জ্ঞান লাভ করবে; যেমনটি ইসহাক ও ইয়াকুব আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামের কাহিনীতে রয়েছে।
যদি কোনো অন্ধ ব্যক্তি দেখে যে সে কিবলার দিকে পিঠ ফিরিয়ে আছে, তবে সে গোমরাহিতে লিপ্ত।
নাসারাগণ বলেন: যে ব্যক্তি দেখে যেন তার চোখ অন্ধ হয়ে গেছে, তবে সে তার এবং আল্লাহ তাআলার মাঝখানের পর্দা ছিন্ন করে দেয়।
আর চোখ উপড়ে ফেলা বা ফুঁড়ে যাওয়ার বিষয়ে: যে ব্যক্তি দেখে যে তার চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে, তবে তার কোনো পূর্ববর্তী কাজের কারণে তার থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে বা তাকে প্রতিদান দেওয়া হবে; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: চোখের বদলে চোখ। যদি উভয় চোখ উপড়ে ফেলা হয়, তবে তার চোখের মণি সদৃশ সন্তান তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, অথবা সে তার সম্পদ, সন্তান, বাড়ি কিংবা মালিকানাধীন কোনো জিনিসের ক্ষেত্রে এমন কঠোরতা ও কাঠিন্য দেখবে যা সে অপছন্দ করে।
তারা বলেন: অন্ধত্ব হলো দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়া। এটি কোনো রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় (আসাবা) থেকে প্রাপ্ত বড় কোনো উত্তরাধিকারও হতে পারে যার পূর্বপুরুষদের মধ্যে কেউ অন্ধ ছিল। আর তার মৃত আসাবাদের মীরাস বা উত্তরাধিকার থেকে প্রত্যেক অন্ধ ব্যক্তিকে একটি অংশ প্রদান করা হতো। আর্তামিদারুস বলেন: এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যেন অন্য কেউ তাকে বলছে যে, তুমি ভয় পেয়ো না, কারণ তুমি মরবেও না আবার বেঁচেও থাকতে পারবে না; এরপর সে অন্ধ হয়ে গেল এবং এটাই ঘটার ছিল। কারণ সে মারা যায়নি, কিন্তু তার চোখের আলো চলে গিয়েছিল।
স্বপ্ন বিশারদগণ আরও বলেন: যে ব্যক্তি দেখে যে তার উভয় চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, তবে তার সন্তানরা, ভাইয়েরা অথবা নিকটাত্মীয়রা মারা যাবে। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফী স্বপ্নে দেখেছিলেন যেন তার উভয় চোখ তার কোলে পড়ে গেছে; যখন সকাল হলো তখন তার ভাই মুহাম্মদ এবং তার পুত্র মুহাম্মদের মৃত্যুসংবাদ পাওয়া গেল। যদি স্বপ্নদ্রষ্টা দরিদ্র বা বন্দী হয়, তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে সে বর্তমানে যে অকল্যাণের মধ্যে আছে তা আর পুনরায় দেখবে না। যদি সফর করতে ইচ্ছুক কোনো ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখে, তবে তা ইঙ্গিত দেয় যে সে আর স্বদেশে ফিরবে না। কেননা অন্ধ ব্যক্তি প্রবাসও দেখতে পায় না, আবার স্বদেশকেও দেখতে পায় না।
আর যে ব্যক্তি দেখে যেন তার চোখ অন্য কোনো মানুষের চোখ হয়ে গেছে, তবে তা তার দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়ার এবং অন্য কেউ তাকে পথ দেখানোর দলিল। যদি স্বপ্নদ্রষ্টা সেই অপরিচিত ব্যক্তিকে চিনতে পারে, তবে সে সেই ব্যক্তির কন্যা বা নিকটাত্মীয়কে বিবাহ করবে অথবা তার থেকে কোনো কল্যাণ লাভ করবে।
পরিশিষ্ট: অন্ধ ব্যক্তি কি তার চোখে মৃত্যুর ফেরেশতাকে দেখতে পায়? ইবনে আবিদ দুনিয়া (রহিমাহুল্লাহ) জনৈক সালাফের সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এ বিষয়ে বলেছেন: অন্ধ ব্যক্তি তার জান কবজের সময় তার রবের ফেরেশতাদের দেখতে পায়।
আমি বলছি: এটি কেবল অন্ধের জন্য সুনির্দিষ্ট নয়, কারণ আমরা এমন অনেককে দেখেছি যারা...
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
السياق وهم يقولون السلام عليكم ويشيرون لمن يرونه ويخاطبونهم، ونحن لا نراهم. وهذا كثير مستفاض بين الناس.
فصل العميان أكثر الناس نكاحاً. وفي المثل: أنكح من أعمى. أورده الميداني في أمثاله. حكى ابن المرزبان في تاريخه عن الأصمعي أنه قال: هما طرفان ما ذهب من أحدهما زاد في الآخر.
قلت: ولهذا نرى الخدام وهم الخصيان يعمر الإنسان منهم وبصره قوي. والخادم إذا جب من أسفل لم تنبت له لحية. وكذا الإنسان إذا حصل له صداع في رأسه تحك رجلاه فيسكن الألم.
قيل إن بعض الخدام كان واقفاً على رأس سيده وهو في الفراش يشكو من وجع رأسه. فحضر الطبيب إليه فشكا ألمه. فقال: حك رجليلك يسكن الألم. فضحك الخادم وقال: سيدي يشكو أعلاه وأنت تداوي أسافله! فقال: أنت شاهدي على ذلك لأن خصيتك لما قطعت لم تنبت لك لحية.
فضل قال إبراهيم بن هانئ: من تمام آلة القصص أن يكون القاص أعمى، ويكون شيخاً بعيد مدى الصوت.
قلت: ومن شرط الأعمى، إذا كان سائلاً أن يكون يحفظ سورة يوسف عليه السلام.
قال أرسطو في كتاب الحيوان: الخطاطيف إذا عمين أكلن من شجرة يقال لها عين شمس، فيبصرن بعد العمى. وهذه الشجرة لها منفعة في العين التي لا تبصر والتي يخاف عليها من اجتماع الماء. قال: والحيات إذا ساخت في الأرض اظلم بصرها. فإذا خرجت إلى الأرض طلبت الرازيانج فمرت بعينها عليه فعند ذلك ينقى بصرها من الظلمة.
قلت: الرازيانج هو السمر وينبغي أن يغسل قبل أكله في أول دخوله لهذه العلة قال: والضب إذا خرج من جحره لا يبصر شيئاً إلى أن يستقبل الشمس ساعة، فحينئذ يرى.
وقال الرئيس أبو علي ابن سينا: وكل حيوان يلد حيواناً فله عينان إلا الخلد. ويشبه أن يكون له عينان لكنهما مغشيتان بجلد رقيق لضعفهما، وإنما يدركان الأظلال دون الألوان والأشكال والله أعلم.
পরিপ্রেক্ষিত হলো তারা বলে 'আসসালামু আলাইকুম' এবং তারা যাদের দেখে তাদের দিকে ইশারা করে ও তাদের সম্বোধন করে, অথচ আমরা তাদের দেখি না। মানুষের মধ্যে এই বিষয়টি বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ।
পরিচ্ছেদ: অন্ধ ব্যক্তিরা মানুষের মধ্যে অধিক বিবাহকারী হয়ে থাকে। প্রবাদে আছে: "অন্ধের চেয়েও অধিক বিবাহকারী"। আল-মায়দানি এটি তার প্রবাদগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবনুল মারজুবান তার ইতিহাসে আল-আসমাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "এগুলো হলো দুটি প্রান্ত; একটি থেকে যা চলে যায়, অন্যটিতে তা বৃদ্ধি পায়।"
আমি বলছি: এই কারণেই আমরা খাদেমদের (অর্থাৎ খোজা ব্যক্তিদের) দেখি যে, তারা দীর্ঘায়ু হয় এবং তাদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর থাকে। খাদেমের যখন নিম্নাংশ কেটে ফেলা হয়, তখন তার দাড়ি গজায় না। অনুরূপভাবে মানুষের মাথায় যখন ব্যথা হয়, তখন তার দুই পা চুলকালে ব্যথার উপশম হয়।
বলা হয়ে থাকে যে, জনৈক খাদেম তার মনিবের শিয়রে দাঁড়িয়ে ছিল যখন তিনি বিছানায় শুয়ে মাথাব্যথার অভিযোগ করছিলেন। চিকিৎসক আসার পর তিনি তার ব্যথার কথা জানালেন। চিকিৎসক বললেন: "আপনার দুই পা চুলকে দিন, ব্যথা কমে যাবে।" খাদেম হেসে বলল: "আমার মনিব অভিযোগ করছেন উপরের অংশের, আর আপনি চিকিৎসা করছেন নিচের অংশের!" তখন চিকিৎসক বললেন: "তুমিই এর সাক্ষী; কারণ যখন তোমার অণ্ডকোষ কর্তন করা হয়েছে, তখন তোমার দাড়ি গজায়নি।"
পরিচ্ছেদ: ইব্রাহিম বিন হানি বলেছেন: "গল্প বলার অনুষঙ্গ পূর্ণতা পায় তখন, যখন গল্পকথক অন্ধ হয় এবং সে এমন একজন বৃদ্ধ হয় যার কণ্ঠস্বর অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছায়।"
আমি বলছি: অন্ধ ব্যক্তি যদি সাহায্যপ্রার্থী হয়, তবে তার একটি শর্ত হলো সে যেন সূরা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) মুখস্থ রাখে।
এরিস্টটল তার 'প্রাণী বিষয়ক গ্রন্থে' বলেছেন: "আবাবিল পাখিরা যখন অন্ধ হয়ে যায়, তখন তারা 'আইনুশ শামস' নামক একটি গাছের ফল খায়, ফলে অন্ধত্বের পর তারা পুনরায় দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। এই গাছটি সেই চোখের জন্য উপকারী যা দেখতে পায় না এবং যাতে পানি জমার আশঙ্কা থাকে। তিনি আরও বলেন: সাপ যখন মাটির ভেতরে গর্তে থাকে, তখন তার দৃষ্টিশক্তি অন্ধকার হয়ে যায়। যখন সে মাটির উপরে আসে, তখন সে মৌরি অনুসন্ধান করে এবং তার উপর দিয়ে নিজের চোখ বুলিয়ে নেয়; তৎক্ষণাৎ তার দৃষ্টিশক্তি অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়।"
আমি বলছি: 'রাজিয়ানাজ' হলো মৌরি। এই কারণেই খাওয়ার আগে তা ধুয়ে নেওয়া উচিত। তিনি বলেন: 'দব্ব' (মরু-গিরগিটি) যখন তার গর্ত থেকে বের হয়, তখন সে ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু দেখতে পায় না যতক্ষণ না সে কিছুক্ষণ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে; তখন সে দেখতে পায়।
শায়খুর রইস আবু আলী ইবনে সিনা বলেছেন: "প্রত্যেক প্রাণী যা বাচ্চা প্রসব করে তার দুটি চোখ থাকে, তবে ছুঁচোর ব্যতিক্রম। মনে হয় যে তার দুটি চোখ আছে কিন্তু দুর্বলতার কারণে সেগুলো পাতলা চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে। তারা কেবল ছায়া অনুভব করতে পারে, রঙ বা আকৃতি নয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।"
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
المقدمة الرابعةقوله تعالى عبس وتولىأن جاءه الأعمى. هذا الأعمى هو ابن أم مكتوم. وسيأتي الخلاف في اسمه عند ذكر اسمه. ويأتي ذكر أمه وهو الذي صار مؤذناً للنبي صلى الله عليه وسلم. وكان قد جاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وعنده صناديد قريش: عتبة وشيبة ابنا ربيعة، وأبو جهل ابن هشام، والعباس بن عبد المطلب، وأمية بن خلف، والوليد بن المغيرة. ورسول الله صلى الله عليه وسلم يدعوهم إلى الإسلام. فقال ابن أم مكتوم أقرئني وعلمني مما علمك الله. وكرر ذلك. فكره رسول الله صلى الله عليه وسلم قطع كلامه وأعرض عنه. فنزلت هذه الآيات. وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكرمه بعد ذلك ويقول إذا رآه مرحباً بمن عاتبني فيه ربي ويقول: هل لك من حاجة؟ واستخلفه على المدينة مرتين. وأورد الإمام فخر الدين رحمه الله تعالى هنا سؤالات.
الأول إبن أم مكتوم كان يستحق التأديب والزجر، فكيف عاتب الله تعالى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه؟ واستحقاقه لوجوه: الأول: إنه وإن كان أعمى لا يرى القوم لكنه يسمع كلامهم وخطاب النبي صلى الله عليه وسلم لهم. وكان يعرف بواسطة كلامه لهم شدة اهتمامه بشأنهم وكان اعتراضه وإلقاء كلامه في الناس قبل تمام عرض النبي صلى الله عليه وسلم معصية.
قلت: يحتمل أن ابن أم مكتوم طلع عليهم دفعة واحدة ولم يسمع كلام النبي صلى الله عليه وسلم لهم ولا أحس بمن عنده من الصناديد. لأنه كان يعلم محل المذكورين فلا يقطع عليهم كلامه صلى الله عليه وسلم.
قال: والوجه الثاني. أن الأهم مقدم على المهم. وهو كان قد أسلم ويعلم ما يحتاج إليه من أمر الدين، وأولئك كانوا كفاراً وما أسلموا. وكان إسلامهم سبباً لإسلام جمع عظيم. فالقاء ابن أم مكتوم كلامه بين الناس سبب في قطع ذلك الخير العظيم.
চতুর্থ ভূমিকাআল্লাহ তাআলার বাণী: "তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন,যেহেতু তাঁর কাছে সেই অন্ধ লোকটি এল।" এই অন্ধ ব্যক্তিটি হলেন ইবনে উম্মে মাকতুম। তাঁর নামোল্লেখের সময় তাঁর নাম নিয়ে যে মতভেদ রয়েছে তা সামনে আসবে। আর তাঁর মায়ের পরিচয় বর্ণিত হবে; তিনি সেই ব্যক্তি যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুয়াজ্জিন হয়েছিলেন। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসেছিলেন, তখন তাঁর নিকট কুরাইশদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিল: উতবা ও শায়বা—রাবিয়ার দুই পুত্র, আবু জেহেল ইবনে হিশাম, আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, উমাইয়া ইবনে খালাফ এবং ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। তখন ইবনে উম্মে মাকতুম বললেন, "আমাকে তিলাওয়াত করে শুনান এবং আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিন।" তিনি এ কথার পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর (নিজের) কথা বাধাগ্রস্ত হওয়াকে অপছন্দ করলেন এবং তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। ফলে এই আয়াতসমূহ নাজিল হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পর থেকে তাঁকে বিশেষ সম্মান করতেন এবং তাঁকে দেখলে বলতেন, "স্বাগতম সেই ব্যক্তির প্রতি যার কারণে আমার রব আমাকে ভর্ৎসনা করেছেন" এবং তিনি জিজ্ঞেস করতেন, "তোমার কি কোনো প্রয়োজন আছে?" তিনি তাঁকে মদিনার প্রতিনিধি হিসেবে দুইবার স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। আর ইমাম ফখরুদ্দিন (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) এখানে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।প্রথমত: ইবনে উম্মে মাকতুম শাসন ও ধমক পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তবে আল্লাহ তাআলা কেন তাঁর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভর্ৎসনা করলেন? তাঁর এই যোগ্য হওয়ার কারণগুলো হলো: প্রথমত—তিনি যদিও অন্ধ ছিলেন এবং উপস্থিত লোকদের দেখতে পাচ্ছিলেন না, তবে তিনি তাঁদের কথাবার্তা এবং তাঁদের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্বোধন শুনতে পাচ্ছিলেন। তিনি নবীজির কথার মাধ্যমে তাঁদের বিষয়ে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন; এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা শেষ হওয়ার পূর্বেই তাঁর বাধা প্রদান করা এবং লোকজনের মাঝে কথা বলা একটি অবাধ্যতা ছিল।আমি (গ্রন্থকার) বলছি: সম্ভবত ইবনে উম্মে মাকতুম হঠাৎ তাঁদের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং তিনি তাঁদের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা শুনতে পাননি এবং সেখানে কুরাইশ নেতাদের উপস্থিতিও টের পাননি। কারণ তিনি যদি উক্ত ব্যক্তিদের অবস্থানের কথা জানতেন, তবে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথায় বাধা দিতেন না।তিনি (ইমাম রাযী) বলেন: দ্বিতীয় কারণ হলো—গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অগ্রাধিকারযোগ্য। তিনি (ইবনে উম্মে মাকতুম) তো ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং দ্বীনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানতেন, অথচ ওরা ছিল কাফের যারা তখনো ইসলাম গ্রহণ করেনি। আর তাঁদের ইসলাম গ্রহণ করা ছিল এক বিশাল জনগোষ্ঠীর ইসলাম গ্রহণের কারণ। সুতরাং লোকজনের মাঝে ইবনে উম্মে মাকতুমের কথা বলা সেই মহান কল্যাণটি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
قلت: هذا أيضاً مفرع على أن ابن أم مكتوم كان يعلم أن صناديد قريش كانوا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقد أبدينا الاحتمال فاندفع.
قال: الوجه الثالث. أنه تعالى قال: إن الذين ينادونك من وراء الحجرات أكثرهم لا يعقلون. فهذا النداء الذي صار كالصارف للكفار عن قبول الإيمان، وكالقاطع على الرسول أعظم وكان أولى أن يكون ذنباً ومعصيةً وأن الذي فعله الرسول كان واجباً.
قلت: ليس قول ابن أم مكتوم: يا رسول الله علمني مما علمك الله كالذي ينادونه من وراء الحجرات: يا محمد! أخرج إلينا. فإن الرسول لو ألقى إليه ذلك الوقت شيئاً مما علمه الله لكان خيراً لمن يسمعه.
قال: السؤال الثاني انه تعالى عاتبه على مجرد كونه عبس في وجهه، ويكون ذلك تعظيماً عظيماً لابن أم مكتوم وكيف يليق بمثل هذا التعظيم أن يذكر باسم الأعمى. وإذا ذكر الإنسان بهذا الوصف اقتضى ذلك تحقيره.
قال السؤال الثالث الظاهر أنه كان صلى الله عليه وسلم مأذوناً له أن يعامل أصحابه على حسب ما يراه مصلحة. وكان كثيراً ما يؤدب أصحابه ويزجرهم عن أشياء. وكيف لا يكون ذلك، وهو إنما بعث ليؤدبهم ويعلمهم محاسن الآداب، وإذا كان كذلك كان التعبيس داخلاً في تأديب أصحابه. فكيف وقعت المعاتبة؟ قال رحمه الله تعالى: والجواب عن السؤال الأول من وجهين.
الأول أن الأمر وإن كان على انه تكريم إلا أن ظاهر الواقعة يوهم تقديم الأغنياء على الفقراء وانكسار قلوب الفقراء. فلهذا خلصت المعاتبة. ونظيره قوله تعالى ولا تطرد الذين يدعون ربهم بالغداة والعشي.
قلت: ما هو من ظاهر الواقعة، بل هو من صريح القرآن، لقوله تعالى: أما من استغنى فأنت له تصدى.
قال: الوجه الثاني لعل هذا العتاب ما وقع على ما صدر من الرسول من الفعل الظاهر، بل على ما كان منه في قلبه. وهو أنه صلى الله عليه وسلم كان قد مال قلبه إليهم بسبب قرابتهم، وكان ينفر طبعه عن الأعمى بسبب عماه وعدم قرابته وقلة شرفه فلما وقع
আমি বললাম: এটিও এই বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল যে, ইবনে উম্মে মাকতুম জানতেন যে কুরাইশ নেতৃবৃন্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলেন। আমরা এই সম্ভাবনাটি পেশ করেছি এবং তা নিরসন হয়েছে।
তিনি বললেন: তৃতীয় দিক। মহান আল্লাহ বলেছেন: নিশ্চয় যারা আপনাকে হুজরাসমূহের পেছন থেকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই নির্বোধ। সুতরাং এই আহ্বান যা কাফেরদের ঈমান গ্রহণ থেকে বিমুখকারী এবং রাসূলের কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছিল, তা ছিল অনেক বড় বিষয় এবং সেটিই গুনাহ বা অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য হওয়ার বেশি উপযুক্ত ছিল। আর রাসূল যা করেছিলেন তা তো ছিল ওয়াজিব বা আবশ্যক।
আমি বললাম: ইবনে উম্মে মাকতুমের এই কথা— "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিন"—সেই ব্যক্তিদের মতো নয় যারা হুজরাসমূহের পেছন থেকে ডাকছিল— "হে মুহাম্মদ! আমাদের কাছে বেরিয়ে আসুন।" কেননা রাসূল যদি সেই সময়ে তাঁকে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান থেকে কিছু প্রদান করতেন, তবে তা শ্রবণকারীদের জন্য কল্যাণকরই হতো।
তিনি বললেন: দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁকে কেবল চেহারায় ভ্রুকুটি করার কারণে অনুযোগ করেছেন, অথচ এটি ইবনে উম্মে মাকতুমের জন্য এক বিরাট সম্মান প্রদর্শন। আর এমন সম্মানের স্থলে তাঁকে 'অন্ধ' হিসেবে উল্লেখ করা কীভাবে সঙ্গত হয়? সাধারণত মানুষকে এই বিশেষণে অভিহিত করা তাকে তুচ্ছ করার নামান্তর।
তিনি বললেন: তৃতীয় প্রশ্ন, স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে জনকল্যাণ অনুযায়ী আচরণ করার অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি প্রায়শই তাঁর সাহাবীদের শাসন করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে অনুশাসন প্রদান করতেন। আর তা হবেই না কেন, যেখানে তিনি প্রেরিতই হয়েছেন তাদের শিষ্টাচার শেখাতে এবং উত্তম চরিত্রের পাঠ দিতে। যদি তাই হয়, তবে ভ্রুকুটি করা সাহাবীদের শাসনেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাহলে অনুযোগ কেন করা হলো? তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বললেন: প্রথম প্রশ্নের উত্তর দুটি দিক থেকে।
প্রথমত, বিষয়টি যদিও সম্মান প্রদর্শনের জন্য ছিল, কিন্তু ঘটনার বাহ্যিক রূপটি দরিদ্রদের ওপর ধনীদের প্রাধান্য দেওয়ার একটি ধারণা তৈরি করে এবং দরিদ্রদের মনে কষ্টের উদ্রেক করে। এই কারণেই অনুযোগটি এসেছে। এর দৃষ্টান্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, আপনি তাদের বিতাড়িত করবেন না।"
আমি বললাম: এটি কেবল ঘটনার বাহ্যিক দিক নয়, বরং এটি কুরআনের স্পষ্ট বক্তব্য; মহান আল্লাহর বাণী: "পক্ষান্তরে যে নিজেকে অমুখাপেক্ষী মনে করে, আপনি তার প্রতিই মনোনিবেশ করেন।"
তিনি বললেন: দ্বিতীয় দিকটি হলো, সম্ভবত এই অনুযোগ রাসূলের কোনো বাহ্যিক কাজের ওপর ছিল না, বরং তাঁর অন্তরে যা উদিত হয়েছিল তার ওপর ছিল। আর তা হলো, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তর তাদের আত্মীয়তার কারণে তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়েছিল এবং অন্ধ ব্যক্তির অন্ধত্ব, আত্মীয়তার অভাব ও আভিজাত্যের অভাবের কারণে তাঁর প্রকৃতি তার প্রতি কিছুটা বিমুখ হয়েছিল। এমতাবস্থায় যখন...
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ذلك حصلت المعاتبة لا على التأديب بل على التأدب لهذا المعنى.
قلت: سبحان العليم بما كان في ذلك الوقت وهو خلاف ظاهر الواقعة.
قال والجواب عن السؤال الثاني أن ذكره بلفظ الأعمى ليس بتحقير له بل كأنه قيل: بسبب عماه استحق مزية الرفق له والرأفة فكيف يليق بك يا محمد أن تخصه بالغلظة؟ والجواب عن السؤال الثالث أنه صلى الله عليه وسلم كان مأذوناً له في تأديب أصحابه: لكن ههنا لما أوهم تقديم الأغنياء على الفقراء وكان ذلك ما يوهم ترجيح الدنيا على الدين، فلهذا السبب جاءت هذه المعاتبة.
قلت: ليس هذا مما فيه إيهام تقديم الدنيا على الدين لأن أولئك الكفار لو أسلموا لأسلم بإسلامهم جمع عظيم من أتباعهم وألزامهم وأزواجهم ومن يقول بقولهم. ولهذا المعنى رغب صلى الله عليه وسلم في إسلامهم وطمع فيه. وذلك غاية في الدين.
قال: المسئلة الثانية القائلون بصدور الذنب عن الأنبياء تمسكوا بهذه الآية. وقالوا: لما عاتبه في ذلك الفعل. دل على أن ذلك الفعل كان معصية، وهذا بعيد. فإنا قد بينا أن ذلك كان هو الواجب المتعين وهذا جار مجرى ترك الأفضل وترك الاحتياط. فلم يكن هذا ذنباً ألبتة.
وقوله تعالى: " وما يستوي الأعمى والبصير ولا الظلمات ولا النور ولا الظل ولا الحرور وما يستوي الأحياء ولا الأموات إن اله يسمع من يشاء وما أنت بمسمع من في القبور ". هذه أمثال ضربها الله تعالى في حق المؤمنين والكفار فقوله: الأعمى والبصير، أي العالم والجاهل والمؤمن والكافر، ولا الظلمات ولا النور، أي الكفر والإيمان، ولا الظل ولا الحرور، أي الجنة والنار أو ظل الليل وسموم النهار أو الحرور بمنزلة السموم وهي الريح الحارة ويكون ليلاً ونهاراً والسموم لا يكون إلا نهاراً. قال أبو عبيدة الحرور يكون في النهار مع الشمس. وما يستوي الأحياء ولا الأموات العلماء والجهال أو المؤمنون والكافرون.
فإن قلت ما فائدة تكثير الأمثلة ههنا وتكريرها. قلت: البصير وإن كان سليم العين بخلاف الأعمى فإنه لا يرى شيئاً ما لم يكن في
সেই কারণে এই অনুযোগ এসেছে, তা সংশোধন বা আদব দেওয়ার জন্য নয় বরং শিষ্টাচারের খাতিরে।
আমি বলি: তৎকালীন সময়ে যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে মহাজ্ঞানী আল্লাহ পবিত্র, আর এটি ঘটনার বাহ্যিক প্রেক্ষাপটের বিপরীত।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো তাকে 'অন্ধ' শব্দে উল্লেখ করা তাকে তুচ্ছ করার জন্য নয়, বরং বিষয়টি এমন যেন বলা হয়েছে: অন্ধত্বের কারণে সে কোমলতা ও মমত্ব পাওয়ার অধিক হকদার ছিল, সুতরাং হে মুহাম্মদ, আপনার জন্য তাকে রূঢ়ভাবে গ্রহণ করা কীভাবে সংগত হয়? আর তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের শিষ্টাচার শেখানোর অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন। কিন্তু এখানে যেহেতু ধনীদের দরিদ্রদের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার একটি সংশয় তৈরি হয়েছিল এবং বিষয়টি দীন অপেক্ষা দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা দিচ্ছিল, তাই এই কারণে এই অনুযোগ এসেছে।
আমি বলি: এটি দীন অপেক্ষা দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়ার সংশয়যুক্ত কোনো বিষয় নয়। কারণ সেই কাফিররা যদি ইসলাম গ্রহণ করত, তবে তাদের ইসলাম গ্রহণের ফলে তাদের অনুসারী, আত্মীয়-স্বজন, স্ত্রী এবং যারা তাদের মতাদর্শের অনুসারী এমন এক বিশাল গোষ্ঠী ইসলাম গ্রহণ করত। এই উদ্দেশ্যেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের ইসলাম গ্রহণের প্রতি আগ্রহী ও লালায়িত ছিলেন। আর এটি ছিল দীনেরই চরম উৎকর্ষ।
তিনি বলেন: দ্বিতীয় মাসআলা হলো—যারা নবীদের থেকে গুনাহ সংঘটিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন, তারা এই আয়াত দিয়ে দলিল পেশ করেছেন। তারা বলেন, যেহেতু আল্লাহ সেই কাজের জন্য তাঁকে অনুযোগ করেছেন, এটি প্রমাণ করে যে সেই কাজটি গুনাহ ছিল। কিন্তু এই মতটি সঠিক নয়। কেননা আমরা ইতিপূর্বে স্পষ্ট করেছি যে, সেটিই ছিল নির্ধারিত ওয়াজিব কাজ এবং এটি ছিল কেবল উত্তমটি বর্জন এবং অধিক সতর্কতা বর্জনের পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং এটি মোটেও কোনো গুনাহ ছিল না।
আর মহান আল্লাহর বাণী: "অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর না অন্ধকার ও আলো, আর না ছায়া ও উত্তপ্ত রোদ। আর জীবিত ও মৃতরা সমান নয়। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শোনান, আর আপনি কবরবাসীদের শোনাতে সক্ষম নন।" এই উপমাগুলো মহান আল্লাহ মুমিন ও কাফিরদের ক্ষেত্রে দিয়েছেন। আল্লাহর বাণী: 'অন্ধ ও চক্ষুষ্মান' অর্থাৎ আলেম ও জাহেল এবং মুমিন ও কাফির। 'অন্ধকার ও আলো' অর্থাৎ কুফর ও ঈমান। 'ছায়া ও উত্তপ্ত রোদ' অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নাম, অথবা রাতের ছায়া ও দিনের তপ্ত বাতাস; আর 'হারুর' (উত্তপ্ত রোদ) হলো 'সামুম' (তপ্ত লু হাওয়া)-এর মতো, যা তপ্ত বাতাস এবং এটি দিনে ও রাতে উভয় সময়ে হতে পারে, কিন্তু 'সামুম' কেবল দিনের বেলায় হয়। আবু উবাইদাহ বলেন, 'হারুর' দিনের বেলা সূর্যের উত্তাপের সাথে হয়। 'জীবিত ও মৃতরা সমান নয়' অর্থাৎ আলেম ও জাহেল অথবা মুমিন ও কাফির।
যদি আপনি বলেন, এখানে এত বেশি উদাহরণ ও তার পুনরাবৃত্তির সার্থকতা কী? আমি বলব: চক্ষুষ্মান ব্যক্তি যদিও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন, যা অন্ধ ব্যক্তির বিপরীত—কেননা অন্ধ ব্যক্তি কিছুই দেখতে পায় না যতক্ষণ না সে...
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
نور وضياء. فأتى بذكر النور لأجل البصير وهو الإيمان. فاستعان البصير وهو المؤمن بنور الإيمان على رؤية الهدى. وأتى بذكر الظلمات وهي الكفر لأجل الأعمى فكان الكافر في ظلمة البصر وظلمة الضلال. ثم قال: ولا الظل ولا الحرور فنبه على أن حالتي المؤمن والكافر متباينتان. لأن المؤمن بإيمانه في ظل وراحة والكافر في حرور وتعب.
ثم قال: وما يستوي الأحياء ولا الأموات. نبه على أن الأعمى يشارك البصير في بعض الادراكات فيكون في قرب ما من مساواته. لأن كلاً منهما حي متحرك حساس مدرك، وإن كان الأعمى أنقص إدراكاً من البصير. أما الحي والميت، فليس بينهما مساواة ولا مداناة بوجه ما في الإدراكات. فقال تعالى إن المؤمن لا يستوي مع الكافر، لأن المؤمن حي والكافر ميت فالبون بينهما بعيد، والفرق بينهما مبين. لأن الحي متحرك حساس مدرك والميت جماد عديم الحياة والحس الإدراك. فنافاه من كل وجه، وباينه في كل صفة.
فإن قلت كيف كرر حرف النفي في موضع دون موضع. قلت: التكرار إنما يؤتى به للتوكيد. وقد تقرر فيما تقدم أن الأعمى يشارك البصير في صفات كثيرة، وإنما باينه في الإحساس بالمرئيات. فما بينهما من التضاد والمنافاة كما بين النور والظلمة. وكما بين الظل والحرور، فالمنافاة في هذين الموضعين للذات، بخلاف الأعمى والبصير. لا سيما والمراد بهما المؤمن والكافر. فالكافر ليس بأعمى حقيقةً، وإنما استعير له ذلك لأنه لم ير الحق والصواب. ولذلك أتى بحرف النفي أيضاً بين الأحياء والأموات. لأن المنافاة متحققة هنا أيضاً.
فإن قلت: كيف أخر الأشرف في قوله تعالى والبصير وقوله تعالى ولا النور وقدم الأخس في قوله تعالى: الأعمى والظلمات. قلت: جاء به على أصل الواقع. لأن الكافر أعمى والكفار كانوا قبل البعثة. فلما بعث النبي صلى الله عليه وسلم آمن به من آمن. فانتقل من العمى إلى البصر. فكان الكفر متقدماً على الإيمان. فقدم ذكر الأعمى لذلك وعطف الظلمات على الأعمى وعطف النور على البصير.
فإن قلت: وهذا ينقض عليك بقية الآية وهو تقديم الأشرف على الأخس في مكانين وهو الظل والأحياء قدما على الحرور وعلى الأموات.
আলো এবং দীপ্তি। তিনি দৃষ্টিমান অর্থাৎ ঈমানের জন্য আলোর কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে দৃষ্টিমান অর্থাৎ মুমিন হেদায়াত প্রত্যক্ষ করার জন্য ঈমানের আলোর সাহায্য গ্রহণ করে। আর অন্ধ অর্থাৎ কুফরের জন্য অন্ধকারের কথা উল্লেখ করেছেন; ফলে কাফির দৃষ্টিহীনতার অন্ধকার এবং গোমরাহীর অন্ধকারের মধ্যে নিমজ্জিত। এরপর তিনি বলেছেন: "আর ছায়া ও তপ্ত রোদ সমান নয়।" এর মাধ্যমে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন যে, মুমিন ও কাফিরের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ মুমিন তার ঈমানের কারণে ছায়া ও শান্তিতে থাকে, আর কাফির থাকে তপ্ত রোদ ও ক্লান্তিতে।
এরপর তিনি বলেছেন: "আর জীবিত ও মৃত সমান নয়।" তিনি এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, অন্ধ ব্যক্তি কিছু উপলব্ধির ক্ষেত্রে দৃষ্টিমান ব্যক্তির সাথে অংশীদার হয়, ফলে সে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার সমপর্যায়ের কাছাকাছি থাকে। কারণ তাদের প্রত্যেকেই জীবিত, সচল, সংবেদনশীল ও উপলব্ধিকারী, যদিও অন্ধের উপলব্ধি দৃষ্টিমানের তুলনায় অসম্পূর্ণ। পক্ষান্তরে জীবিত ও মৃতের মাঝে উপলব্ধির ক্ষেত্রে কোনোভাবেই কোনো সমতা বা নৈকট্য নেই। তাই আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে, মুমিন ও কাফির সমান নয়; কারণ মুমিন জীবিত আর কাফির মৃত। ফলে তাদের উভয়ের মধ্যকার ব্যবধান অনেক বেশি এবং পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট। কেননা জীবিত ব্যক্তি সচল, সংবেদনশীল ও উপলব্ধিকারী, আর মৃত হলো প্রাণহীন জড়পদার্থ যার কোনো অনুভূতি বা উপলব্ধি নেই। এভাবে তিনি তাদের সব দিক থেকে পৃথক করেছেন এবং প্রতিটি বৈশিষ্ট্যে তাদের মাঝে বৈপরীত্য ফুটিয়ে তুলেছেন।
যদি আপনি প্রশ্ন করেন: কেন না-বোধক অব্যয়টি কোনো স্থানে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে আর কোনো স্থানে করা হয়নি? আমি বলব: মূলত গুরুত্ব প্রদানের (তাকীদ) জন্যই পুনরাবৃত্তি করা হয়। আর ইতিপূর্বে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, অন্ধ ব্যক্তি অনেক বৈশিষ্ট্যে দৃষ্টিমান ব্যক্তির সাথে অংশীদার হয়, সে কেবল দৃশ্যমান বস্তু অনুভবের ক্ষেত্রে তার থেকে ভিন্ন। সুতরাং তাদের উভয়ের মধ্যকার বৈপরীত্য ও ভিন্নতা তেমন নয় যেমনটি আলো ও অন্ধকারের মধ্যে বিদ্যমান। আবার যেমনটি ছায়া ও উত্তাপের মধ্যে বিদ্যমান; কেননা এই দুই ক্ষেত্রে বৈপরীত্য হলো সত্তাগত, যা অন্ধ ও দৃষ্টিমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে যখন এর দ্বারা মুমিন ও কাফির উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। কারণ কাফির প্রকৃতপক্ষে অন্ধ নয়, বরং এটি তার জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যেহেতু সে সত্য ও সঠিক পথ দেখতে পায়নি। আর এই কারণেই জীবিত ও মৃতদের মাঝেও না-বোধক অব্যয়টি পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এখানেও বৈপরীত্য সুনিশ্চিত।
যদি আপনি প্রশ্ন করেন: আল্লাহ তাআলার বাণী "দৃষ্টিমান" এবং "আলো" এর ক্ষেত্রে সম্মানিত বিষয়টিকে কেন পরে আনা হলো, আর "অন্ধ" ও "অন্ধকার" এর ক্ষেত্রে নিকৃষ্ট বিষয়টিকে কেন আগে আনা হলো? আমি বলব: এটি বাস্তব পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ কাফির হলো অন্ধ, আর নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বে তারা কাফির অবস্থায় ছিল। অতঃপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হলেন, তখন যারা ঈমান আনার তারা ঈমান আনল। ফলে তারা অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টির দিকে স্থানান্তরিত হলো। সুতরাং কুফর ঈমানের আগে বিদ্যমান ছিল। এই কারণেই অন্ধের আলোচনা আগে করা হয়েছে এবং অন্ধের সাথে অন্ধকারের সম্পর্ক যুক্ত করা হয়েছে, আর দৃষ্টিমানের সাথে আলোর সম্পর্ক যুক্ত করা হয়েছে।
যদি আপনি বলেন: এটি আয়াতের বাকি অংশের মাধ্যমে আপনার যুক্তিকে খণ্ডন করে, যেখানে দুটি স্থানে সম্মানিত বিষয়কে আগে আনা হয়েছে; অর্থাৎ "ছায়া" ও "জীবিতদের" কথা "তপ্ত রোদ" ও "মৃতদের" আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
قلت: قد تقدم أنه لما ضرب المثل للمؤمن والكافر بالأعمى والبصير وأكد ذلك بالظلمات والنور، لأنهما أمس بالأعمى والبصير من الظل والحرور، ومن الحياة ومن الموت، انتقل بعد ذلك إلى بيان حاليهما. فقال إن حاليهما متباينان، فأتى به على القاعدة في تقديم الأشرف على الأخس. فقدم الظل على الحر، والحياة على الموت. ومن قال: إنما أتى بذلك طلباً للمناسبة بين رؤوس الآي، ليناسب بين البصير والنور والحرور فليس في شيء. والذي ذكرته أدخل في أقسام البلاغة وأثبت على محل الإعجاز.
فإن قلت: كيف أفرد لفظ الأعمى والبصير والنور والظل وجمع لفظ الظلمات والحرور والأحياء والأموات؟ قلت: أما إفراد الأعمى فيلزم منه على مقتضى الفصاحة إفراد البصير، وهكذا جمع الأحياء يلزم منه جمع الأموات، عملاً بمقتضى الفصاحة. وأما إفراد الأولين وجمع الثانيين فإن الإفراد معناه القلة والجمع معناه الكثرة. فأتى بذلك على الأصل الواقع لأن المؤمنين كانوا قليلين. ولما نشر الله الدعوة ودخل الناس في دين الله أفواجاً حسن أن يضرب المثل لهم بالكثرة. ويؤيد ما قلته أن السورة مكية. وفي ذلك بشارة للنبي صلى الله عليه وسلم وأن أمر الإيمان والمؤمنين يؤول إلى الكثرة. وفي ذلك طمأنينة له صلى الله عليه وسلم وتثبيت ليعلم العاقبة من أمره. وأما إفراد النور، وجمع الظلمات. فقد تقرر أن هذه أمثلة ضربها الله تعالى للمؤمن والكافر. والمؤمن من اتبع الحق وآمن به. والحق هو شيء واحد وهو الإيمان بالله تعالى. وأما الكفر، فإنه جنس تحته أنواع متعددة الأباطيل: من عبادة الكواكب والإشراك بالله وعبادة الأصنام واعتقاد الدهريين إلى غير ذلك من المقالات الفاسدة التي يجمعها الكفر. فلذلك قال تعالى: ولا الظلمات ولا النور. أي لا يستوي أنواع الضلالات ونوع الهدى. هيهات! وقيل: النور لا يكون إلا باجتماع ثلاثة أشياء وهي المنور والنور نفسه والمستنير وهو الجسم الذي يقبل الاستنارة وعدم الحائل وكذلك الظلمة. فقد قابل الظلمات بشيء هو مجموع من هذه الأمور.
وهذا بعيد. والأول أولى.
وأما إفراد الظل وكون الحرور أتى بهذه الصيغة وهي فعول مثل قبول وطهور
আমি বলি: ইতিপূর্বে গত হয়েছে যে, যখন মুমিন ও কাফিরের উদাহরণ অন্ধ ও চক্ষুষ্মানের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে এবং তা অন্ধকার ও আলোর মাধ্যমে সুদৃঢ় করা হয়েছে; কেননা অন্ধকার ও আলো—ছায়া ও প্রখর তাপ এবং জীবন ও মৃত্যুর তুলনায় অন্ধ ও চক্ষুষ্মানের সাথে অধিকতর ঘনিষ্ঠ। এরপর তাদের উভয়ের অবস্থা বর্ণনার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে। অতঃপর বলা হয়েছে যে, তাদের উভয়ের অবস্থা পরস্পর ভিন্ন। আর তা নিকৃষ্টের ওপর শ্রেষ্ঠকে প্রাধান্য দেওয়ার নিয়মানুযায়ী আনা হয়েছে। তাই তাপের ওপর ছায়াকে এবং মৃত্যুর ওপর জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর যারা বলেন যে, এটি কেবল আয়াতের শেষাংশের মিল রক্ষার জন্য আনা হয়েছে—যাতে চক্ষুষ্মান, আলো ও প্রখর তাপের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে—তাদের কথা ধর্তব্য নয়। আমি যা উল্লেখ করেছি তা অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রকারভেদে অধিকতর অন্তর্ভুক্ত এবং অলৌকিকত্বের ক্ষেত্রে অধিকতর সুদৃঢ়।
আপনি যদি প্রশ্ন করেন: কীভাবে 'অন্ধ', 'চক্ষুষ্মান', 'আলো' এবং 'ছায়া' শব্দগুলোকে একবচনে এবং 'অন্ধকারসমূহ', 'প্রখর তাপ', 'জীবিতগণ' এবং 'মৃতগণ' শব্দগুলোকে বহুবচনে আনা হয়েছে? আমি উত্তরে বলব: প্রাঞ্জলতার দাবি অনুযায়ী 'অন্ধ' শব্দটিকে একবচনে আনার কারণে 'চক্ষুষ্মান' শব্দটিকেও একবচনে আনা আবশ্যক হয়েছে। তদ্রূপ 'জীবিতগণ' বহুবচনে হওয়ার কারণে প্রাঞ্জলতার দাবিতে 'মৃতগণ' শব্দটিকেও বহুবচনে আনা হয়েছে। আর প্রথম দুটির একবচন এবং পরবর্তী দুটির বহুবচন হওয়ার বিষয়টি এই যে, একবচন স্বল্পতা এবং বহুবচন আধিক্য প্রকাশ করে। এটি বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে আনা হয়েছে, কারণ মুমিনগণ সংখ্যায় অল্প ছিল। অতঃপর যখন আল্লাহ দাওয়াতকে ছড়িয়ে দিলেন এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল, তখন তাদের জন্য বহুবচনের মাধ্যমে উদাহরণ দেওয়া সুন্দর মনে হয়েছে। আমার এই বক্তব্যকে সমর্থন করে যে সূরাটি মক্কী। এর মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সুসংবাদ রয়েছে যে, ঈমান ও মুমিনদের বিষয়টি আধিক্যের দিকেই ধাবিত হবে। এতে তাঁর জন্য প্রশান্তি ও দৃঢ়তা রয়েছে যাতে তিনি তাঁর কাজের পরিণাম সম্পর্কে জানতে পারেন। আর 'আলো'র একবচন এবং 'অন্ধকারসমূহ'র বহুবচন হওয়ার বিষয়টি হলো—এটি সুনির্ধারিত যে এগুলো মহান আল্লাহ কর্তৃক মুমিন ও কাফিরের জন্য প্রদত্ত উদাহরণ। মুমিন হলো সে যে সত্যের অনুসরণ করে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে। আর সত্য কেবল একটিই, যা হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান। পক্ষান্তরে কুফর এমন একটি শ্রেণি যার অধীনে বহুমুখী বাতিল প্রকারভেদ রয়েছে: যেমন নক্ষত্র পূজা, আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা, মূর্তিপূজা এবং বস্তুবাদীদের আকিদা থেকে শুরু করে অন্যান্য ভ্রান্ত মতবাদসমূহ যা কুফরের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর অন্ধকারসমূহ ও আলো সমান নয়।" অর্থাৎ বিভিন্ন প্রকারের পথভ্রষ্টতা এবং হিদায়াতের পথ সমান নয়। অসম্ভব! আর বলা হয়েছে: আলো তিনটি জিনিসের সমন্বয় ছাড়া হয় না—তা হলো আলোদানকারী, আলো নিজে এবং আলো গ্রহণকারী বস্তু যা আলো গ্রহণের উপযোগী এবং সেখানে কোনো প্রতিবন্ধক নেই। অন্ধকারের বিষয়টির ক্ষেত্রেও তাই। সুতরাং তিনি অন্ধকারসমূহকে এমন কিছুর বিপরীতে এনেছেন যা এই বিষয়গুলোর সমষ্টি।
এটি দূরবর্তী সম্ভাবনা। প্রথম ব্যাখ্যাটিই অধিকতর উত্তম।
আর 'ছায়া'র একবচন হওয়া এবং 'প্রখর তাপ' শব্দটি এই রূপে আসা যা 'ফাউল' ওযনে, যেমন 'কবুল' ও 'তহুর'।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
للمبالغة. ولم يقل الظل ولا الحر لأن الظل هو شيء واحد يضاد أنواع الحر: من السموم، ومن حر النار، ومن تصاعد الأبخرة من الأرض الكبريتيه إلى غير ذلك مما يتوهج به الجو ويسخن به الهواء. فلذلك حسن إفراد الصيغة وتخصيص الحرور بهذه الصيغة.
فإن قلت: فقد قال تعالى تتفيأ ظلاله، فقد جمع الظل. قلت: إنما أراد هناك الجمع لأن الشمس إذا أشرقت ضرب ظل الشخص إلى جهة الغرب فكلما أخذت الشمس في الارتفاع أخذ الظل في التقلص شيئاً فشيئاً فصار كل قدر من الظل فرداً، ومجموع الأفراد من غاية الطول وهلم جراً إلى غاية القصر ظلال. وكذلك إذا جنحت الشمس ومالت عن الاستواء إلى جهة الغرب، برز الظل أقصر ما يكون، ثم تزايد شيئاً فشيئاً وتطاول إلى أن يبلغ الغاية في جهة المشرق. فثبت أن ظل الشرق وظل الغرب ظلال. والله الموفق للصواب.
وقوله تعالى ومن أعرض عن ذكري فإن له معيشة ضنكاً ونحشره يوم القيامة أعمى قال رب لم حشرتني أعمى وقد كنت بصيراً. قال مجاهد والضحاك ومقاتل أعمى عن الحجة. وهو رواية سعيد بن جبير عن ابن عباس. وقيل إن هذا القول ضعيف لأنهم في يوم القيامة لا بد وإن يعلمهم الله تعالى ببطلان ما كانوا عليه حتى يتميز الحق عن الباطل. ومن تكون هذه حاله لا يوصف بذلك إلا مجازاً. يراد أنه كان من قبل كذلك. وحينئذ لا يليق بهذا قوله وقد كنت بصيراً ولم يكن كذلك في الدنيا. قال الإمام فخر الدين الرازي رحمه الله تعالى: ومما يؤيد هذا الاعتراض أنه تعالى علل ذلك العمى بأن المكلف نسى الدلائل. فلو كان العمى الحاصل في الآخرة عين ذلك النسيان، لم يكن للمكلف بسبب ذلك ضرر في الآخرة، كما انه لم يكن به ضرر في الدنيا. قال: الأرواح الحاصلة في الدنيا التي تفارق أبدانها جاهلة بكون جهلها سبباً لأعظم الآلام الروحانية.
আতিশয্য প্রকাশের জন্য। তিনি 'ছায়া' কিংবা 'তাপ' শব্দটি ব্যবহার করেননি, কারণ ছায়া হলো এমন একটি বিষয় যা বিভিন্ন প্রকারের তাপের বিপরীত: যেমন লু হাওয়া, আগুনের তাপ, এবং গন্ধকযুক্ত ভূমি থেকে বাষ্পের উদগিরণ থেকে শুরু করে আরও এমন কিছু যার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় ও বাতাস গরম হয়ে যায়। এ কারণেই এখানে একবচন ব্যবহার করা এবং 'হারুর' (তীব্র উত্তাপ) শব্দের জন্য এই বিশেষ রূপটি নির্দিষ্ট করা চমৎকার হয়েছে।
যদি আপনি বলেন: মহান আল্লাহ তো বলেছেন "তার ছায়াগুলো ঢলে পড়ে", সেখানে তো তিনি ছায়া শব্দের বহুবচন ব্যবহার করেছেন। আমি বলব: সেখানে বহুবচন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—সূর্য যখন উদিত হয়, তখন কোনো ব্যক্তির ছায়া পশ্চিম দিকে পড়ে। এরপর সূর্য যতই উপরে উঠতে থাকে, ছায়া ততই ধীরে ধীরে সংকুচিত হতে থাকে। ফলে ছায়ার প্রতিটি পরিমাপ এক একটি এককে পরিণত হয়। আর অতি দীর্ঘ অবস্থা থেকে শুরু করে অতি সংক্ষিপ্ত হওয়া পর্যন্ত এই এককগুলোর সমষ্টিই হলো ছায়াগুলো। একইভাবে সূর্য যখন মধ্যগগন থেকে পশ্চিম দিকে হেলে যায়, তখন ছায়া সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ পায়, এরপর তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং দীর্ঘ হতে হতে পূর্ব দিকে চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায়। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, পূর্বের ছায়া ও পশ্চিমের ছায়া উভয়ই ছায়াগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।
আর মহান আল্লাহর বাণী: "আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, তার জন্য রয়েছে সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, হে আমার রব! কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন, অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম?" মুজাহিদ, যাহহাক এবং মুকাতিল বলেছেন: এর অর্থ হলো দলিল-প্রমাণের ক্ষেত্রে অন্ধ। সাঈদ ইবনে জুবায়ের ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, এই উক্তিটি দুর্বল; কারণ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের কৃতকর্মের অসারতা সম্পর্কে অবগত করবেন যাতে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য হয়ে যায়। আর যাদের অবস্থা এমন হবে, তাদের ক্ষেত্রে এই অন্ধত্বের বর্ণনা কেবল রূপক অর্থেই হতে পারে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে আগেও এমন ছিল। এমতাবস্থায় তার এই কথাটি "অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম" সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, যদি সে দুনিয়াতে তেমন (অন্ধ) না থেকে থাকে। ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এই আপত্তির সমর্থনে একটি বিষয় হলো—মহান আল্লাহ সেই অন্ধত্বের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, দায়বদ্ধ ব্যক্তিটি নিদর্শনসমূহ ভুলে গিয়েছিল। সুতরাং পরকালে প্রাপ্ত এই অন্ধত্ব যদি সেই বিস্মৃতিরই হুবহু রূপ হয়, তবে এর কারণে পরকালে ব্যক্তির কোনো কষ্ট হতো না, যেমনটি দুনিয়াতে তার কোনো কষ্ট হয়নি। তিনি বলেন: দুনিয়াতে বিদ্যমান যে আত্মাগুলো অজ্ঞ অবস্থায় দেহ ত্যাগ করে, তারা তাদের এই অজ্ঞতাকেই মহান আধ্যাত্মিক যন্ত্রণার কারণ হিসেবে জানতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
قلت: قد أغرب الإمام في هذا الجواب. ومال في هذا إلى القول بالمعاد الروحاني وأعرض عن المعاد الجسماني. والصواب أن يقال فيه: إن من اعرض عن ذكر الله تعالى في الدنيا وقد كان بصيراً يحشره الله تعالى وهو في حيرة لا يهتدي إلى طريق يسلكها إلى الخلاص من العذاب. كالأعمى الذي يقف متحيراً بلا قائد يرشده ويقوده إلى النجاة. ولهذا قال الله تعالى وكذلك أتتك آياتنا فنسيتها. أي فلم تعمل بها ولم يقل فلم ترها.
আমি বলি: ইমাম এই উত্তরে এক অদ্ভুত মত পোষণ করেছেন। তিনি এতে আধ্যাত্মিক পুনরুত্থানের দিকের মতের প্রতি ঝুঁকেছেন এবং শারীরিক পুনরুত্থান থেকে বিমুখ হয়েছেন। অথচ এ বিষয়ে সঠিক বক্তব্য হলো: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলার স্মরণ থেকে বিমুখ হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাকে হাশরের ময়দানে এমন এক বিভ্রান্ত অবস্থায় উঠাবেন যে সে আযাব থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ খুঁজে পাবে না। সে হবে সেই অন্ধ ব্যক্তির ন্যায় যে কোনো পথপ্রদর্শক ছাড়া কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, যে তাকে পথ দেখিয়ে নাজাতের দিকে নিয়ে যাবে। একারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অনুরূপভাবে তোমার নিকট আমার নিদর্শনসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে।" অর্থাৎ, তুমি সে অনুযায়ী আমল করোনি; তিনি এ কথা বলেননি যে, "তুমি সেগুলো দেখনি।"
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
المقدمة الخامسةفيما جاء في ذلك من الأخبار والآثارمن ذلك قصة الأقرع والأبرص والأعمى. وهي في صحيحي البخاري ومسلم رحمهما الله تعالى. أخبرني الإمام الحافظ الرحلة الشيخ فتح الدين أبو الفتح محمد بن محمد بن سيد الناس اليعمري، قراءة عليه وعلى أخيه الشيخ الغمام أبي القاسم محمد وأنا اسمع بالمدرسة الظاهرية بين القصرين من القاهرة المعزية في شهر رمضان المعظم سنة ثمان وعشرين وسبعمائة قالا: أخبرنا الشيخ المسند عز الدين عبد العزيز بن علي ابن نصر بن منصور الحراني المعروف بابن الصيقل أنا الحافظ أبو العباس أحمد بن يحيى بن هبة الله بن البيع ببغداد سنة ستمائة سماعاً، وأنبانا أبو علي الحسن بن إسحاق بن موهب بن أحمد بن محمد بن الخضر الجواليقي رحمه الله تعالى، وأبو عبد الله الحسين بن المبارك بن محمد بن يحيى بن الزبيدي، وأبو الحسن علي بن أبي بكر بن عبد الله بن روزبة قالوا ثلاثتهم: أخبرنا أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب بن إبراهيم بن إسحاق السجزي الصوفي قراءةً عليه ونحن نسمع قال: أخبرنا الإمام جمال الإسلام أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد بن المظفر بن محمد بن داود بن معاذ بن سهل الداودي، قال: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن أحمد بن حموية ابن أحمد ابن يوسف بن أعين السرخسي الحموي، قال: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن يوسف بن مطر بن صالح بن بشر الفربري البخاري، قال: أخبرنا الإمام أبو عبد الله محمد بن إسمعيل بن إبراهيم بن بردزبه البخاري رحمه الله تعالى قراءة عليه وأنا اسمع، عوداً على بدء، قال حدثنا أحمد بن إسحاق قال، حدثنا عمرو بن عاصم قال: حدثنا همام ح وأخبرني الشيخ الإمام المسند شمس الدين أبو الحسن علي بن الشيخ محب الدين محمد بن ممدود ابن جامع البندينجي رحمه الله تعالى قراءة عليه وعلى الشيخ الإمام الحافظ الرحلة الناقد فرد الزمان جمال الدين أبي الحجاج يوسف بن الزكي عبد الرحمن بن يوسف المزي رحمه الله تعالى بدار الحديث الأشرفية تحت قلعة دمشق المحروسة في شهر رجب الفرد سنة خمس وثلاثين وسبعمائة.
পঞ্চম ভূমিকাএর সপক্ষে বর্ণিত হাদীস ও আসারসমূহতার মধ্যে একটি হলো টাকমাথাওয়ালা, কুষ্ঠরোগী এবং অন্ধের কাহিনী। এটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর দুই সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইমাম হাফেজ পর্যটক শায়খ ফাতহুদ্দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাইয়্যেদুন নাস আল-ইয়া’মারী, তাঁর নিকট এবং তাঁর ভাই শায়খ আল-গামাম আবুল কাসিম মুহাম্মদের নিকট পঠনকালে এবং আমি কায়রো আল-মুয়িযযিয়ার বাইনাল কাসরাইন নামক স্থানে অবস্থিত মাদ্রাসা আল-জহিরিয়্যায় তা শুনছিলাম, যা ছিল সাতশত আটাশ হিজরী সনের মহান রমজান মাসে। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ মুসনিদ ইজ্জুদ্দীন আব্দুল আজীজ ইবনে আলী ইবনে নাসর ইবনে মনসুর আল-হাররানী, যিনি ইবনুস সাইকাল নামে পরিচিত। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনুল বাইয়্যি বাগদাদে ছয়শত হিজরী সনে শ্রবণের মাধ্যমে। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে ইসহাক ইবনে মাওহাব ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল খিজর আল-জাওয়ালিকী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন), এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনুল মুবারক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুয যুবাইদী, এবং আবুল হাসান আলী ইবনে আবি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রুজবা। তাঁরা তিনজনই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুয়াইব ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আস-সিজযী আস-সূফী, তাঁর নিকট পঠনকালে এবং আমরা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম জামালুল ইসলাম আবুল হাসান আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ ইবনে মুআয ইবনে সাহল আদ-দাউদী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হামওয়াইহ ইবনে আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আইউন আস-সারখাসী আল-হামাভী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার ইবনে সালিহ ইবনে বিশর আল-ফিরবরী আল-বুখারী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে বারদিযবাহ আল-বুখারী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন), তাঁর নিকট পঠনকালে এবং আমি শ্রবণ করছিলাম। তিনি পূর্বের সূত্রে ফিরে গিয়ে বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আসিম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম (হ)। এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম মুসনিদ শামসুদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে শায়খ মুহিব্বুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মামদুদ ইবনে জামি আল-বান্দিনিজী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন), তাঁর নিকট এবং শায়খ ইমাম হাফেজ পর্যটক সমালোচক যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব জামালুদ্দীন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনুয যাকী আব্দুর রহমান ইবনে ইউসুফ আল-মিযযীর (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) নিকট পঠনকালে, যা দামেস্ক দুর্গের পাদদেশে অবস্থিত দারুল হাদীস আল-আশরাফিয়্যাহতে সাতশত পঁয়ত্রিশ হিজরী সনের রজব মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
قال البندينجي المذكور: أنا الشيخ المسند أبو العباس احمد بن عمر بن عبد الكريم بن عبد العزيز الباذبيني المقري ببغداد سنة خمسين وستمائة. وقال الشيخ جمال الدين المزي: أنا الشيخ أمين الدين أبو محمد القاسم بن أبي بكر بن القاسم بن غنيمة الأربلي والباذبيني معاً. قالا أخبرنا الشيخ أبو الحسن المؤيد بن محمد بن علي الطوسي، قال: أخبرنا الإمام أبو عبد الله محمد بن الفضل بن أحمد الصاعدي الفراوي قراءة عليه وأنا أسمع، قال: أخبرنا أبو الحسين عبد الغافر بن محمد بن عبد الغافر الفارسي، قال: أخبرنا أبو أحمد محمد بن عيسى بن عمرويه الجلودي قال: أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان الفقيه الزاهد، قال: حدثنا الحافظ الإمام أبو الحسين مسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري النيسابوري رحمه الله تعالى. قال حدثنا شيبان بن فروخ. قال حدثنا همام، وعند همام اجتمع سند البخاري ومسلم رحمهما الله تعالى. قال همام حدثنا إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة. قال حدثني عبد الرحمن بن أبي عمرة أن أبا هريرة رضي الله عنه حدثه، أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن ثلاثة من بني إسرائيل أبرص وأقرع وأعمى أراد الله أن يبتليهم فبعث إليهم ملكاً فأتى الأبرص، قال أي شيء أحب إليك؟ قال لون حسن وجلد حسن ويذهب عني الذي قذرني الناس فمسحه فذهب عنه قذره وأعطي لوناً حسناً وجلداً حسناً، فقال أي المال احب إليك، قال الإبل، فأعطي ناقة عشراء وقال: بارك الله لك فيها. ثم أتى الأقرع فقال: أي شيء أحب إليك، قال شعر حسن ويذهب عني هذا الذي قذرني الناس، فمسحه فذهب عنه، وأعطي شعراً حسناً، قال فأي المال أحب إليك، قال البقر، فأعطي بقرة حاملاً وقال: بارك الله لك فيها، ثم أتى الأعمى، فقال أي شيء أحب إليك، قال أن يرد الله علي بصري فمسحه: فرد الله بصره، قال فأي المال احب إليك قال: الغنم فأعطي شاة ولوداً. فكان للأبرص واد من إبل، وللأقرع واد من البقر، وللأعمى واد من الغنم، ثم إنه أتى الأبرص في صورته وهيئته، فقال: رجل مسكين قد انقطعت به الحبال في سفره فلا بلاغ له اليوم إلا بالله ثم بك. أسألك بالله الذي أعطاك اللون الحسن والجلد الحسن والمال بعيراً أتبلغ به سفري. فقال: الحقوق كثيرة. فقال له: كأني أعرفك. ألم تكن أبرص
يقذرك الناس، فقيراً فأعطاك الله؟ قال: إنما ورثت هذا المال كابراً عن كابر. قال: إن كنت كاذباً صيرك الله كما كنت. وأتى الأقرع في صورته، فقال له مثل ما قال. ورد عليه مثل ما رد الأول. فقال: إن كنت كاذباً فصيرك الله كما كنت. ثم أتى الأعمى في صورته وهيئته فقال. له مثل ما قال. فقال: كنت أعمى فرد الله علي بصري. فخذ ما شئت ودع ما شئت. فوالله لا أجهدك اليوم بشيء أخذته لله. فقال: أمسك مالك فإنما ابتليتم فقد رضي عنك وسخط على صاحبيك. قال الوزير عون الدين يحيى بن محمد بن هبيرة رحمه الله تعالى، بعد ما أورد هذا الحديث في كتاب الإفصاح: البلاء إلى السلامة أقرب من العافية إليها. ألا ترى كيف هلك مع السلامة اثنان ونجا واحد. وقد دل هذا الحديث على أن الصبر على البلاء قد يكون خيراً للمبتلى فإنه بان بمعافاة الأقرع والأبرص أن المرض كان أصلح لهما، لأن العافية كانت سبباً لهلاكهما. وقد خذر هذا الحديث من كان في ضر فسأل زواله فلم ير الإجابة أن يتهم القدر فإن الله ينظر للعبد في الأصلح والعبد لا يعلم للعواقب. انتهى. الناس، فقيراً فأعطاك الله؟ قال: إنما ورثت هذا المال كابراً عن كابر. قال: إن كنت كاذباً صيرك الله كما كنت. وأتى الأقرع في صورته، فقال له مثل ما قال. ورد عليه مثل ما رد الأول. فقال: إن
উল্লিখিত বানদিনজি বলেছেন: আমাকে শাইখ আল-মুসনিদ আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে উমর ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাযবিনি বাগদাদে ৬৫০ হিজরি সালে সংবাদ দিয়েছেন। এবং শাইখ জামালুদ্দিন আল-মিযযি বলেছেন: আমাকে শাইখ আমিনুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে আবি বকর ইবনে আল-কাসিম ইবনে গানিমাহ আল-আরবিলি এবং আল-বাযবিনি একত্রে সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের শাইখ আবুল হাসান আল-মুয়াইয়্যাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আত-তুসি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ফাযল ইবনে আহমাদ আস-সায়িদি আল-ফারাওয়ি আমাদের নিকট পাঠ করেছেন এবং আমি তা শ্রবণ করেছি, তিনি বলেন: আমাদের আবু হুসাইন আব্দুল গাফির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল গাফির আল-ফারিসি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের আবু আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আমরওয়াইহ আল-জালুদি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান আল-ফকিহ আজ-জাহিদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ ইমাম আবু হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশায়রি আন-নিশাপুরি (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: শাইবান ইবনে ফাররুখ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: হাম্মাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আর হাম্মামের নিকট ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুমুল্লাহ তাআলা)-এর সনদ মিলিত হয়েছে। হাম্মাম বলেন: ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আবি আমরাহ আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন ব্যক্তি ছিল—একজন শ্বেতী রোগী, একজন টাকওয়ালা এবং একজন অন্ধ। আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করতে চাইলেন, তাই তিনি তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা শ্বেতী রোগীর কাছে এসে বললেন, তোমার কাছে কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি প্রিয়? সে বলল, সুন্দর রঙ এবং সুন্দর চামড়া, আর আমার থেকে যেন তা চলে যায় যার কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। তখন ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলালেন এবং তার রোগ দূর হয়ে গেল, আর তাকে সুন্দর রঙ ও সুন্দর চামড়া দান করা হলো। এরপর ফেরেশতা বললেন, তোমার কাছে কোন সম্পদ সবচেয়ে বেশি প্রিয়? সে বলল, উট। তখন তাকে একটি গැබিন উষ্ট্রী দেওয়া হলো এবং তিনি বললেন: আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দিন। এরপর তিনি টাকওয়ালার কাছে এসে বললেন: তোমার কাছে কোন জিনিসটি সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল, সুন্দর চুল এবং আমার থেকে যেন এটি চলে যায় যার কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। তখন তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন এবং তার টাক দূর হয়ে গেল, আর তাকে সুন্দর চুল দান করা হলো। ফেরেশতা বললেন: কোন সম্পদ তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল, গরু। তখন তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দেওয়া হলো এবং তিনি বললেন: আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দিন। এরপর তিনি অন্ধ ব্যক্তির কাছে এসে বললেন: তোমার কাছে কোন জিনিসটি সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল, আল্লাহ যেন আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। তখন তিনি তার চোখে হাত বুলালেন এবং আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: কোন সম্পদ তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল, ছাগল। তখন তাকে একটি বাচ্চা প্রসবকারী ছাগল দেওয়া হলো। এরপর শ্বেতী রোগীর উটের পালে, টাকওয়ালার গরুর পালে এবং অন্ধের ছাগলের পালে উপত্যকা ভরে গেল। অতঃপর সেই ফেরেশতা শ্বেতী রোগীর কাছে তার পূর্বের রূপে ও বেশে আসলেন এবং বললেন: আমি এক অভাবী মানুষ, সফরে আমার সব সম্বল শেষ হয়ে গেছে, আজ আল্লাহ ছাড়া এবং আপনার সাহায্য ছাড়া গন্তব্যে পৌঁছানোর আর কোনো উপায় নেই। আমি আপনার কাছে সেই আল্লাহর দোহাই দিয়ে একটি উট চাচ্ছি যিনি আপনাকে সুন্দর রঙ, সুন্দর চামড়া এবং সম্পদ দান করেছেন, যাতে আমি আমার সফরে পৌঁছাতে পারি। সে বলল: আমার অনেক দায়-দায়িত্ব আছে। তখন ফেরেশতা তাকে বললেন: আমি যেন তোমাকে চিনি! তুমি কি শ্বেতী রোগী ছিলে না
যাকে মানুষ ঘৃণা করত? তুমি কি দরিদ্র ছিলে না, অতঃপর আল্লাহ তোমাকে দান করেছেন? সে বলল: আমি তো এই সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পেয়েছি। ফেরেশতা বললেন: যদি তুমি মিথ্যা বলে থাকো, তবে আল্লাহ যেন তোমাকে তেমন করে দেন যেমন তুমি ছিলে। এরপর তিনি টাকওয়ালার কাছে তার রূপে আসলেন এবং তাকেও একই কথা বললেন যা তিনি প্রথমজনকে বলেছিলেন। সেও প্রথমজনের মতো উত্তর দিল। তখন তিনি বললেন: যদি তুমি মিথ্যা বলে থাকো, তবে আল্লাহ তোমাকে তেমন করে দেন যেমন তুমি ছিলে। এরপর তিনি অন্ধের কাছে তার রূপে ও বেশে আসলেন এবং তাকেও একই কথা বললেন। তখন সে বলল: আমি অন্ধ ছিলাম, আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতএব আপনি যা ইচ্ছা নিয়ে নিন আর যা ইচ্ছা রেখে দিন। আল্লাহর কসম! আজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপনি যা কিছু নেবেন তাতে আমি আপনাকে কোনো বাধা দেব না। তখন ফেরেশতা বললেন: তোমার সম্পদ তোমার কাছেই রাখো, তোমাদের কেবল পরীক্ষা করা হয়েছে। আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তোমার সঙ্গী দুজনের ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। উজির আউন আদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুবাইরা (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) 'আল-ইফসাহ' গ্রন্থে এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন: সুস্থতার চেয়ে বিপদের মাধ্যমে মুক্তির পথ অধিক নিকটবর্তী। তুমি কি দেখনি কীভাবে সুস্থতার সাথে দুইজন ধ্বংস হলো এবং একজন মুক্তি পেল? এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, বিপদের ওপর সবর করা অনেক সময় বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর হয়। কেননা টাকওয়ালা ও শ্বেতী রোগীর সুস্থ হওয়ার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, অসুস্থতাই তাদের জন্য অধিক সংশোধনমূলক ছিল, কারণ সুস্থতা তাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছিল। এই হাদিসটি তাকে সতর্ক করে যে কষ্টে আছে এবং তা দূর করার জন্য প্রার্থনা করে কিন্তু তার কবুলিয়াত দেখতে পায় না, সে যেন তাকদীরের ওপর অপবাদ না দেয়; কেননা আল্লাহ বান্দার জন্য যা সবচেয়ে বেশি সংশোধনমূলক তাই দেখেন, অথচ বান্দা পরিণাম সম্পর্কে জানে না। সমাপ্ত। মানুষ, দরিদ্র ছিলে অতঃপর আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন? সে বলল: আমি তো এই সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পেয়েছি। তিনি বললেন: যদি তুমি মিথ্যা বলে থাকো তবে আল্লাহ তোমাকে তেমন করে দিন যেমন তুমি ছিলে। তিনি টাকওয়ালার কাছে তার রূপে আসলেন এবং তাকেও সেরকম বললেন যা তিনি বলেছিলেন। সেও প্রথমজনের মতো উত্তর দিল। তখন তিনি বললেন: যদি
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
كنت كاذباً فصيرك الله كما كنت. ثم أتى الأعمى في صورته وهيئته فقال. له مثل ما قال. فقال: كنت أعمى فرد الله علي بصري. فخذ ما شئت ودع ما شئت. فوالله لا أجهدك اليوم بشيء أخذته لله. فقال: أمسك مالك فإنما ابتليتم فقد رضي عنك وسخط على صاحبيك. قال الوزير عون الدين يحيى بن محمد بن هبيرة رحمه الله تعالى، بعد ما أورد هذا الحديث في كتاب الإفصاح: البلاء إلى السلامة أقرب من العافية إليها. ألا ترى كيف هلك مع السلامة اثنان ونجا واحد. وقد دل هذا الحديث على أن الصبر على البلاء قد يكون خيراً للمبتلى فإنه بان بمعافاة الأقرع والأبرص أن المرض كان أصلح لهما، لأن العافية كانت سبباً لهلاكهما. وقد خذر هذا الحديث من كان في ضر فسأل زواله فلم ير الإجابة أن يتهم القدر فإن الله ينظر للعبد في الأصلح والعبد لا يعلم للعواقب. انتهى.
قلت: ليس هذا الكلام بمستقيم، لأنه لم يطابق الواقع. لأن الثلاثة كانوا في بلاء وسألوا بأجمعهم العافية وخار الله لأحدهم ولم يخر للباقيين. ولكن الصواب أن يسأل الله في العافية من البلاء والتوفيق إلى رضاه.
وأما كون الله تعالى نجى الأعمى وأهلك الأقرع والأبرص، فهذا أمر لا يعلل ولا يعقل. وهو من أسرار القدر، فسبحان الفاعل المختار، لا يعلم أسرار القضاء والقدر إلا هو. لا يسأل عما يفعل وهم يسئلون.
قد ينعم الله بالبلوى وإن عظمت
… ويبتلي الله بعض القوم بالنعم
وعن عمر بن عبد العزيز رضي الله تعالى عنه عمن حدثه: أن حبيب بن فورك خرج به أبوه إلى رسول الله صلى عليه وسلم وعيناه مبيضتان لا يبصر بهما شيئاً. فسأله رسول الله صلى الله عليه وسلم عما أصابه. فقال: إني كنت أمون جملاً لي فوضعت رجلي على بيض حية فابيضت عيناي. فنفث رسول الله صلى الله عليه وسلم في عينيه فأبصر. فلقد رأيته يدخل الخيط في الإبرة، وهو ابن ثمانين.
ويؤيد هذا الحديث الحديث المشهور في عين قتادة. أخبرنا الحافظ الرحلة الشيخ فتح الدين أبو الفتح محمد بن محمد بن محمد بن أحمد بن سيد الناس اليعمري رحمه الله
যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে তোমার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিন। অতঃপর তিনি সেই অন্ধ ব্যক্তির কাছে তার (পূর্বের) রূপ ও বেশে আসলেন এবং তাকে ঠিক তেমনই বললেন যেমন অন্যদের বলেছিলেন। সে (অন্ধ ব্যক্তি) বলল: আমি অন্ধ ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ আমাকে আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতএব, আপনি যা ইচ্ছা গ্রহণ করুন আর যা ইচ্ছা বর্জন করুন। আল্লাহর কসম, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আজ আপনি যা কিছু গ্রহণ করবেন, সে ব্যাপারে আমি আপনাকে কোনো কষ্ট দেব না। তখন তিনি (ফেরেশতা) বললেন: তোমার সম্পদ তোমার কাছেই রাখো, তোমাদের কেবল পরীক্ষা করা হয়েছে। আল্লাহ তোমার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তোমার অন্য দুই সঙ্গীর ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। উজির আউন আদ-দীন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন হুবাইরা (রহমাতুল্লাহি তাআলা), 'আল-ইফসাহ' কিতাবে এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: বিপদমুক্তির (পরকালীন মুক্তি) জন্য সুস্থতা বা সচ্ছলতার চেয়ে বিপদাপদ বেশি নিকটবর্তী। আপনি কি দেখছেন না, সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দুইজন ধ্বংস হলো এবং একজন মুক্তি পেল? এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, বিপদের ওপর ধৈর্য ধারণ করা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর হতে পারে; কেননা টেকো ও কুষ্ঠরোগীর সুস্থ হওয়ার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, অসুস্থতাই তাদের জন্য অধিক কল্যাণকর ছিল, কারণ সুস্থতা বা সচ্ছলতা তাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছিল। এই হাদিসটি ঐ ব্যক্তিকে সতর্ক করে, যে বিপদে পড়ে তা দূর করার জন্য দোয়া করে কিন্তু সাড়া না পেয়ে তকদিরের ওপর অপবাদ আরোপ করে। অথচ আল্লাহ বান্দার জন্য যা সবচেয়ে কল্যাণকর সেই দিকেই লক্ষ্য রাখেন, আর বান্দা পরিণাম সম্পর্কে জানে না। সমাপ্ত।
আমি বলি: এই কথাটি সঠিক নয়, কারণ এটি বাস্তবতার সাথে মেলে না। কেননা তারা তিনজনই বিপদের মধ্যে ছিল এবং তারা সকলেই সুস্থতা ও সচ্ছলতা প্রার্থনা করেছিল। আল্লাহ তাদের মধ্যে একজনের জন্য কল্যাণ পছন্দ করেছিলেন এবং বাকিদের জন্য করেননি। বরং সঠিক হলো আল্লাহর কাছে বিপদ থেকে মুক্তি ও সচ্ছলতা এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভের তাওফিক প্রার্থনা করা।
আর মহান আল্লাহ যে অন্ধ ব্যক্তিকে মুক্তি দিলেন এবং টেকো ও কুষ্ঠরোগীকে ধ্বংস করলেন, এটি এমন এক বিষয় যার কারণ দর্শানো বা বুদ্ধি দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। এটি তকদিরের রহস্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, সেই স্বাধীন ও ইচ্ছাময় কর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি; ফয়সালা ও তকদিরের রহস্য তিনি ছাড়া কেউ জানে না। তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা যাবে না, বরং তাদেরকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আল্লাহ কখনো বড় বিপদের মাধ্যমেও নেয়ামত দান করেন
… আবার কখনো নেয়ামত দিয়ে কোনো জাতিকে পরীক্ষা করেন।
উমর বিন আবদুল আজিজ (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তাকে কেউ একজন সংবাদ দিয়েছেন যে: হাবিব বিন ফুরাককে তার পিতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে আসলেন, তখন তার চোখ দুটি সাদা হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন তার কী হয়েছে। তিনি বললেন: আমি আমার একটি উটকে খাবার দিচ্ছিলাম, তখন আমি একটি সাপের ডিমের ওপর পা রাখলাম এবং এতে আমার চোখ দুটি সাদা হয়ে গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার দুই চোখে ফুঁ দিলেন এবং তিনি দৃষ্টি ফিরে পেলেন। আমি তাকে আশি বছর বয়সেও সুঁইয়ে সুতা পরাতে দেখেছি।
এই হাদিসটিকে কাতাদার চোখের সেই প্রসিদ্ধ হাদিসটি সমর্থন করে। ভ্রমণকারী হাফেজ শায়খ ফাতহুদ দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন সায়্যিদুন নাস আল-ইয়ামুরি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
تعالى قراءة عليه وهو يسمع بالقاهرة المعزية في سنة تسع وعشرين وسبعمائة قلت له: قرأت على أبي عبد الله محمد بن علي بن ساعد، أخبركم ابن خليل، أنا ابن أبي زيد، أنا محمود الصيرفي، أنا أبو الحسين بن قاذشاه، أنا الطبراني، ثنا الوليد بن حماد الرملي، ثنا عبد الله بن الفضل، حدثني أبي عن أبيه عاصم عن أبيه عمر عن أبيه قتادة بن النعمان، قال: أهدي إلى رسول الله صلى اله عليه وسلم قوس. فدفعها رسول الله صلى الله عليه وسلم إلي يوم أحد. فرميت بها بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اندقت عن سيتها ولم أزل عن مقامي نصب وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم ألقى السهام. وكلما مال سهم منها إلى وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم، بلا رمي أرميه. فكان آخرها سهماً ندرت منه حدقتي على خدي. وافترق الجمع فأخذت حدقتي بكفي. فسعيت بها في كفي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما رآها رسول الله صلى الله عليه وسلم في كفي دمعت عيناه، فقال: اللهم إن قتادة فدى وجه نبيك بوجهه! فاجعلها أحسن عينيه وأحدهما نظراً! فكانت أحسن عينيه وأحدهما نظراً.
قلت: ولا شك أن هذا أبلغ معجزاً من الحديث الأول. فإن الأول فيه أن عينين كانتا قد ابيضتا. فتفل فيهما رسول الله صلى الله عليه وسلم فأبصرتا. وهما أخف أمراً من عين سالت وصارت في كف صاحبها وبانت عن مستقرها. فيعيدها صلى الله عليه وسلم أحسن من أختها وأحد منها نظراً. لا شك أن هذا أبلغ. وقال الخرنق الأوسي:
ومنا الذي سالت على الخد عينه
… فردت بكف المصطفى أحسن الرد
فعادت كما كانت لأحسن حالها
… فيا طيب ما عين ويا طيب ما يد
وجاء في الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: لا تكرهوا الرمد، فإنه يقطع عروق العمى. أي أسبابه.
وقال إبراهيم التيمي: كفى بالمرء حسرة أن يفسح الله في بصره في الدنيا وله جار أعمى، فيأتي يوم القيامة أعمى وجاره بصيراً.
وسمعت عفيرة بنت الوليد البصرية العابدة رجلاً يقول: ما أشد العمى على من كان بصيراً! فقالت: يا عبد الله عمى القلب عن الله اشد من عمى العين عن
৭২৯ হিজরি সনে মুয়িজ্জিয়া কায়রোতে—মহান আল্লাহ তাঁকে উচ্চ মর্যাদা দান করুন—তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা শুনেছেন। আমি তাঁকে বললাম: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন সায়েদের নিকট পাঠ করেছি, ইবনুল খলীল আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আবি যায়িদ আমাকে জানিয়েছেন, মাহমুদ আস-সায়রাফি আমাকে জানিয়েছেন, আবুল হোসেন বিন কাযশাহ আমাকে জানিয়েছেন, তাবারানি আমাকে জানিয়েছেন, ওয়ালিদ বিন হাম্মাদ আর-রামলি আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন ফজল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা তাঁর পিতা আসেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা কাতাদা বিন নুমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি ধনুক উপহার দেওয়া হয়েছিল। উহুদের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটি আমাকে প্রদান করেন। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে দাঁড়িয়ে তা দিয়ে তীর নিক্ষেপ করতে থাকি, এমনকি ধনুকের অগ্রভাগ ভেঙে যায়। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার সামনে নিজ অবস্থানে অটল ছিলাম এবং তীরসমূহ প্রতিহত করছিলাম। যখনই কোনো তীর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার দিকে আসত, আমি কোনো তীর নিক্ষেপ করা ছাড়াই সেটি (নিজের দেহ দিয়ে) রুখে দিতাম। অবশেষে সর্বশেষ এমন একটি তীর আসল যার আঘাতে আমার চোখের মণি বের হয়ে আমার গালের ওপর ঝুলে পড়ল। লোকজন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আমি আমার চোখের মণিটি হাতের তালুতে নিলাম। আমি সেটি হাতের তালুতে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে ছুটে গেলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সেটি আমার হাতের তালুতে দেখলেন, তখন তাঁর দুই চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল এবং তিনি বললেন: হে আল্লাহ! কাতাদা তার নবীর চেহারাকে নিজের চেহারা দিয়ে রক্ষা করেছে! সুতরাং আপনি একে তার দুই চোখের মধ্যে অধিক সুন্দর এবং দৃষ্টিশক্তিতে অধিক প্রখর করে দিন! ফলে সেটিই ছিল তার দুই চোখের মধ্যে অধিক সুন্দর ও অধিক প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন।
আমি বলি: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই মুজিজাটি প্রথম হাদিসের তুলনায় অধিকতর অলৌকিক। কারণ প্রথম হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, দুই চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে থুথু প্রদান করলে তা দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। এটি সেই চোখের তুলনায় অনেক সহজ বিষয় যা গলে গিয়ে তার মালিকের হাতের তালুতে চলে এসেছে এবং তার কোটর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা পুনরায় স্থাপন করলেন এবং সেটি তার অপর চোখের চেয়েও সুন্দর ও প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে গেল। নিঃসন্দেহে এটি অধিকতর অলৌকিক। খিরনিক আল-আওসি বলেন:
আমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি রয়েছে যার চোখ গালের ওপর গড়িয়ে পড়েছিল … অতঃপর মোস্তফার হাতের ছোঁয়ায় তা সর্বোত্তমভাবে ফিরে এসেছে
তা তার পূর্বের ন্যায় সর্বোত্তম অবস্থায় ফিরে গেল … আহা! কতই না উত্তম সেই চোখ আর কতই না উত্তম সেই হাত
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: তোমরা চোখ ওঠাকে অপছন্দ করো না, কেননা এটি অন্ধত্বের শিরাসমূহকে, অর্থাৎ তার কারণসমূহকে কর্তন করে দেয়।
ইব্রাহিম আত-তাইমি বলেন: একজন ব্যক্তির অনুশোচনার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, আল্লাহ দুনিয়াতে তাকে দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন অথচ তার প্রতিবেশী ছিল অন্ধ, ফলে সে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উঠবে আর তার প্রতিবেশী আসবে দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন হয়ে।
আমি বসরার ইবাদতগুজার নারী উফাইরা বিনতে ওয়ালিদকে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তি বলছিল: যে ব্যক্তি ইতিপূর্বে দৃষ্টিবান ছিল তার জন্য অন্ধত্ব কতই না কঠিন! তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহর পরিচয় থেকে অন্তরের অন্ধত্ব চোখের অন্ধত্বের চেয়েও অনেক বেশি কঠিন।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الدنيا. والله لوددت أن الله وهب لي كنه محبته ولم يبق مني جارحة لا أخذها! قال رجل للقاسم بن محمد، وقد ذهب بصره: لقد سلبت أحسن وجهك. قال: صدقت غير أني منعت النظر إلى ما يلهى، وعوضت الفكرة في العمل فيما يجدي.
قال حكيم: إياك أن تحك بثرة وإن زعزعتك، واحفظ أسنانك من القار بعد الحار والحار بعد القار، وأن تطيل النظر في عين رمدة وبئر عادية، واحذر السجود على خصفة جديدة حتى تمسحها بيدك. فرب شظية حقيرة فقأت عيناً خطيرة.
أنس رضي الله عنه رفعه: من قاد أعمى أربعين خطوة لم تمسه النار.
كتب مبارك أخو سفيان الثوري إليه يشكو ذهاب بصره. فكتب إليه سفيان: أما بعد. فقد فهمت كتابك فيه شكاية ربك. فاذكر الموت يهن عليك ذهاب بصرك. والسلام.
ذكر الإمام فخر الدين رحمه الله تعالى في كتاب أسرار التنزيل عند ما ذكر الفتوة أن رجلاً تزوج امرأة. وقبل الدخول بها، ظهر بالمرأة جدري أذهب عينها. فقال: الرجل ظهر في عيني نوع ضعف وظلمه.
ثم قال: عميت. فزفت إليه المرأة. ثم إنها ماتت بعد عشرين سنة. ففتح الرجل عينيه. فقيل له في ذلك. فقال: ما عميت ولكن تعاميت حذراً أن تحزن المرأة. فقيل له سبقت الفتيان.
وقال حكي عن الشبلي أنه قال: خطر ببالي أني بخيل ولئيم فقلت أجرب نفسي: فنويت أن كلّ ما آخذه اليوم أهبه لأي شخص أراه أولاً. ثم إنه جاء خادم في الحال من دار الخلافة ووضع عندي صرة فيها خمسون ديناراً فأخذتها وخرجت فرأيت حجاماً يحلق رأس أعمى. فدفعتها إلى الأعمى. فقال الأعمى: ادفعها إلى هذا الحجام: فقال الحجام أنا نويت حلق رأس هذا الأعمى لله. فقلت: إنها ذهب. فقال الأعمى ما هذا البخل؟ ثم أخذها ودفعها إلى الحجام. فقال الحجام أنا نويت حلق رأس هذا الأعمى لله: ولا آخذ الذهب. والحاصل إن ذلك الذهب ما قبله الأعمى ولا الحجام.
ونقلت من بعض المجاميع: قال بعض السادة: كنا في جنازة وحضرها معنا الشيخ أبو بكر الضرير. وبين يدي الجنازة صبيان يبكون ويقولون: من لنا بعدك يا أبة فلما سمعهم أبو بكر يقولون ذلك قال الذي كان لأبي بكر الضرير. فسألته عن سبب ذلك. فقال: كان أبي من فقراء المسلمين وكان يبيع الخزف. وكانت لي أخت أسن مني
দুনিয়া। আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই কামনা করি যে, আল্লাহ যদি আমাকে তাঁর ভালোবাসার প্রকৃত স্বরূপ দান করতেন এবং আমার কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশিষ্ট না রাখতেন তবে তিনি যেন তা নিয়ে নিতেন! জনৈক ব্যক্তি কাসিম বিন মুহাম্মদকে বললেন, যখন তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল: আপনার চেহারার সবচেয়ে সুন্দর অংশটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: তুমি সত্য বলেছ, তবে আমি সেই জিনিসের দিকে তাকানো থেকে বিরত রয়েছি যা মানুষকে গাফেল করে দেয়, আর এর বিনিময়ে আমি সেই কাজে মনোনিবেশ করার সুযোগ পেয়েছি যা ফলদায়ক।
এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: কোনো ফোঁড়া চুলকানো থেকে বেঁচে থেকো যদিও তা তোমাকে অস্থির করে দেয়; আর গরমের পর ঠান্ডা এবং ঠান্ডার পর গরম থেকে তোমার দাঁত রক্ষা করো। পিচুটি পড়া চোখের দিকে বা কোনো প্রাচীন কূপের দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকা থেকে বিরত থেকো। আর নতুন খেজুর পাতার চাটাইয়ের ওপর সিজদাহ করার ব্যাপারে সতর্ক থাকো যতক্ষণ না তা হাত দিয়ে মুছে পরিষ্কার করো। কেননা, অনেক সময় তুচ্ছ কোনো কাঠের টুকরো মূল্যবান চোখকে অন্ধ করে দেয়।
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: যে ব্যক্তি কোনো অন্ধ ব্যক্তিকে চল্লিশ কদম পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।
সুফিয়ান সাওরির ভাই মুবারক তাঁর কাছে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার অভিযোগ করে চিঠি লিখলেন। সুফিয়ান তাঁকে লিখে পাঠালেন: আম্মা বাদ (অতঃপর)। আমি তোমার চিঠি পেয়েছি যাতে তুমি তোমার রবের ব্যাপারে অভিযোগ করেছ। অতএব, তুমি মৃত্যুকে স্মরণ করো, তবে তোমার দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়া তোমার কাছে সহজ মনে হবে। ওয়াসসালাম।
ইমাম ফখরুদ্দীন (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) তাঁর 'আসরারুত তানজিল' কিতাবে বীরত্ব বা উদারতার (ফুতুওয়াহ) বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, এক ব্যক্তি এক নারীকে বিবাহ করল। বাসর রাতের পূর্বেই সেই মহিলার বসন্ত রোগ দেখা দিল যা তার চোখ নষ্ট করে দিল। তখন সেই ব্যক্তি বলল: আমার চোখে এক ধরণের দুর্বলতা ও অন্ধকার দেখা দিয়েছে।
অতঃপর সে বলল: আমি অন্ধ হয়ে গেছি। তারপর সেই মহিলাকে কনে হিসেবে তার কাছে আনা হলো। বিশ বছর পর সেই মহিলা মারা গেল। তখন সেই ব্যক্তি নিজের চোখ খুলল। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল: আমি অন্ধ ছিলাম না, বরং অন্ধ সেজেছিলাম যাতে মহিলাটি দুঃখিত না হয়। তখন তাকে বলা হলো, তুমি বীরপুরুষদের ছাড়িয়ে গিয়েছ।
শিবলি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: আমার মনে হলো যে আমি কৃপণ ও নীচ। তাই আমি নিজেকে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলাম: আমি নিয়ত করলাম যে আজ আমি যা পাব তা-ই প্রথম দেখা ব্যক্তিকে দিয়ে দেব। তখনই খিলাফতের আবাসস্থল থেকে একজন খাদেম এল এবং আমার কাছে একটি থলি রাখল যাতে পঞ্চাশটি দিনার ছিল। আমি তা নিয়ে বের হলাম এবং দেখলাম একজন নাপিত একজন অন্ধ ব্যক্তির মাথা কামাচ্ছে। আমি তা অন্ধ ব্যক্তির হাতে দিলাম। অন্ধ ব্যক্তি বলল: এটি এই নাপিতকে দিয়ে দাও। নাপিত বলল: আমি এই অন্ধের মাথা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কামানোর নিয়ত করেছি। আমি বললাম: এগুলো তো স্বর্ণমুদ্রা! তখন অন্ধ ব্যক্তি বলল: এ কেমন কৃপণতা? অতঃপর সে তা নিয়ে নাপিতকে দিয়ে দিল। নাপিত বলল: আমি এই অন্ধের মাথা আল্লাহর জন্য কামানোর নিয়ত করেছি, আমি স্বর্ণমুদ্রা গ্রহণ করব না। সারকথা হলো, সেই স্বর্ণমুদ্রা অন্ধ ব্যক্তি কিংবা নাপিত কেউই গ্রহণ করেনি।
আমি কোনো কোনো সংকলন থেকে বর্ণনা করেছি: জনৈক বুজুর্গ বলেছেন: আমরা একটি জানাজায় ছিলাম এবং আমাদের সাথে শাইখ আবু বকর আয-যরির উপস্থিত ছিলেন। জানাজার সামনে কিছু শিশু কাঁদছিল এবং বলছিল: হে বাবা! আপনার পরে আমাদের জন্য কে আছে? আবু বকর যখন তাদের এই কথা বলতে শুনলেন, তখন আবু বকর আয-যরির সেই অবস্থা হলো যা হওয়ার ছিল। আমি তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমার পিতা মুসলমানদের মধ্যে দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি মাটির পাত্র বিক্রি করতেন। আমার একটি বড় বোন ছিল যে আমার চেয়ে বয়সে বড় ছিল...
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وكنت قد أتي علي في بصري. فانتبهت ليلة فسمعت أبي يقول لأمي: أنا شيخ كبير وأنت أيضاً قد كبرت وضعفت. وقد قرب منا ما بعد. ثم أنشد:
وإن أمراً قد سار خمسين حجة
… إلى منهل من ورده لقريب
وهذه الصبية تعيش بصحة جسمها وتخدم الناس. وهذا الصبي ضرير قطعة لحم. ليت شعري! ما يكون منه؟ ثم بكيا وداما على ذلك وقتاً طويلاً من الليل. فاحزنا قلبي. فأصبحت ومضيت إلى المكتب، على عادتي. فما لبثت إلا يسيراً إذ جاء غلام للخليفة، فقال للمعلم: السيدة تسلم عليك وتقول لك قد أقبل شهر رمضان وأريد منك صبياً دون البلوغ، حسن القراءة طيب الصوت يصلي بنا التراويح. فقال: عندي من هذه صفته. وهو مكفوف البصر، ثم أمرني بالقيام معه. فأخذ الرسول بيدي وسرنا حتى وصلنا الدار. فاستأذن علي. فأذنت السيدة لي بالدخول، فدخلت وسلمت. واستفتحت وقرأت، بسم الله الرحمن الرحيم. فبكت. واسترسلت في القراءة، فزاد بكاؤها. وقالت: ما سمعت قط مثل هذه التلاوة فرق قلبي، فبكيت. فسألتني عن سبب ذلك فأخبرتها بما سمعت من أبي. فقالت: يا بني! يكون ذلك من لم يكن في حساب أبيك. ثم أمرت لي بألف دينار. فقالت: هذه يتجر بها أبوك ويجهز أختك. وقد أمرت لك بإجراء ثلاثين ديناراً في كل شهر، إدراراً. وأمرت لي بكسوة وبغلة مسرجة ملجمة وسرج محلي. فهو سبب قولي جواباً للصبيان عند ما قالوا: من لنا بعدك يا أبه.
قيل إنه مكتوب في التوراة: إن الزاني لا يموت حتى يفتقر، والقواد لا يموت حتى يعمى.
ويقال في التجارب: الأعمى مكابر والأعور ظلوم والأحول تياه.
আমার দৃষ্টিশক্তি অপহৃত হয়েছিল। এক রাতে আমি জেগে উঠলাম এবং শুনলাম আমার পিতা আমার মাতাকে বলছেন: আমি একজন বৃদ্ধ লোক এবং তুমিও বৃদ্ধা ও দুর্বল হয়ে পড়েছ। যা দূরে ছিল তা আমাদের নিকটবর্তী হয়েছে। তারপর তিনি আবৃত্তি করলেন:
এবং যে ব্যক্তি পঞ্চাশ বছর পথ চলেছে
… তার পানীয়স্থলে পৌঁছানো তো অতি নিকটবর্তী।
এই মেয়েটি সুস্থ শরীরে বেঁচে আছে এবং মানুষের সেবা করছে। আর এই ছেলেটি অন্ধ, একখণ্ড গোশতপিণ্ড মাত্র। হায়! তার কী হবে? তারপর তারা উভয়ে কাঁদলেন এবং রাতের দীর্ঘ সময় এভাবেই অতিবাহিত করলেন। এতে আমার অন্তর ব্যথিত হলো। সকাল হলে আমি নিয়মমতো মক্তবে গেলাম। অল্প সময় পার হতেই খলীফার একজন ভৃত্য এসে শিক্ষককে বলল: সাইয়িদা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে, রমজান মাস ঘনিয়ে এসেছে, তাই আমি আপনার নিকট থেকে এমন একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক চাই, যার কিরাআত সুন্দর এবং কণ্ঠস্বর সুমধুর, যে আমাদের নিয়ে তারাবিহ সালাত আদায় করবে। তিনি বললেন: আমার কাছে এই গুণের অধিকারী একজন আছে, তবে সে দৃষ্টিহীন। তারপর তিনি আমাকে তার সাথে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। বার্তাবাহক আমার হাত ধরল এবং আমরা চলতে চলতে সেই বাড়িতে পৌঁছলাম। সে আমার জন্য অনুমতি চাইল। সাইয়িদা আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন, আমি প্রবেশ করলাম এবং সালাম দিলাম। আমি শুরু করলাম এবং তিলাওয়াত করলাম, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। তখন তিনি কাঁদলেন। আমি তিলাওয়াত চালিয়ে গেলাম এবং তাঁর কান্না আরও বেড়ে গেল। তিনি বললেন: আমি কখনও এমন তিলাওয়াত শুনিনি, আমার অন্তর বিগলিত হয়ে গেছে। তখন আমিও কাঁদলাম। তিনি আমাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে আমি আমার পিতার নিকট যা শুনেছিলাম তা তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন: হে বৎস! এমন কিছু হবে যা তোমার পিতার ভাবনায় ছিল না। তারপর তিনি আমার জন্য এক হাজার দীনার প্রদানের নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন: এটি দিয়ে তোমার পিতা ব্যবসা করবেন এবং তোমার বোনের বিয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুত করবেন। আর তিনি আমার জন্য নিয়মিত ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ত্রিশ দীনার বরাদ্দ করার নির্দেশ দিলেন। এছাড়া তিনি আমার জন্য পোশাক, জিন ও লাগামসহ একটি খচ্চর এবং একটি সুসজ্জিত জিনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেন। এটাই ছিল ছেলেদের প্রতি আমার সেই উত্তরের কারণ, যখন তারা বলেছিল: হে পিতা, আপনার পর আমাদের কে আছে?
বলা হয়ে থাকে যে তাওরাতে লিখিত আছে: ব্যভিচারী দারিদ্র্যে পতিত না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করে না, আর পাপাচারের মধ্যস্থতাকারী অন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করে না।
অভিজ্ঞতার আলোকে বলা হয়: অন্ধ ব্যক্তি হঠকারী হয়, একচক্ষু বিশিষ্ট ব্যক্তি অত্যধিক জুলুমকারী হয় এবং ট্যারা চোখ বিশিষ্ট ব্যক্তি পথভ্রষ্ট ও অহংকারী হয়।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
المقدمة السادسةقال حذاق الأصوليين إن العمى لا يجوز على الأنبياءلأن مقام النبوة اشرف من ذلك. ومنعوا من عمى شعيب وإسحاق. وقالوا لم يرد بذلك نص في القرآن العظيم، ليكون العلم بذلك قطعياً. وأورد عليهم قصة يعقوب عليه السلام. وابيضت عيناه من الحزن فهذا صريح. وقوله تعالى: فارتد بصيراً. وبياض العين لا يكون إلا بذهاب السواد. ومتى فقد السواد حصل العمى. والارتداد لا يكون إلا عوداً إلى الحالة الأولى. والحالة الأولى كان فيها بصيراً. فدل على أن الحالة التي ارتد عنها كان فيها أعمى. وأجاب المانعون بأن قوله ابيضت عيناه كناية عن غلبة البكاء وامتلاء العين بالدموع، كما قال الشاعر
وقفت كأني من وراء زجاجة
… إلى الدار من فرط الصبابة أنظر
فعيناي طوراً تغرقان من البكا
… فأغشى وطوراً يحسران فأبصر
فهذا الشاعر ادعى أن عينيه إذا غر قتامن البكاء صار أغشى فلا يرى بهما شيئاً وإذا غدرت الدموع عاد إلى الإبصار. وقوله: من وراء زجاجة كناية عن غلبة الدموع. لأن الدموع تكون بجمودها في عينه كالزجاجة التي تغطي بصره وهي متى كانت كذلك كانت بيضاء. فهذا مثل قوله تعالى: وابيضت عيناه من الحزن. فلا يدل ذلك على العمى قطعاً. وقوله تعالى: فارتد بصيراً، ذهب جماعة من المفسرين إلى أنه كان قد عمي بالكلية. وقالت جماعة: بل كان قد ضعف بصره من كثرة البكاء وكثرة الأحزان، فلما ألقوا القميص وبشروه بحياة يوسف عليه السلام، عظم فرحه وانشرح صدره وزالت أحزانه، فعند ذلك قوي ضوء بصره وزال النقصان عنه.
وهذا الذي يليق بجناب النبوة المعظمة. وهو أن يكون النبي سليم الأعضاء، صحيح الجوارح، كامل الخلق، برياً من العاهات، معتدل المزاج. ومن هنا قال الفقهاء: لا يجوز أن يكون الإمام أعمى. والصحيح من مذهب الشافعي رضي الله عنه أن القاضي لا يكون أعمى. وفي المذهب وجه في جوازه، مبني على أن عمى شعيب وغيره من الأنبياء صحيح قيل ومقام النبوة أشرف من مقام القضاء.
فصل.
ষষ্ঠ ভূমিকামূলনীতিবিদগণের (উসুলবিদ) প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেছেন যে, নবীদের ক্ষেত্রে অন্ধত্ব প্রযোজ্য হওয়া বৈধ নয়কারণ নবুয়তের মর্যাদা এর চেয়ে অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ। তাঁরা শোয়াইব ও ইসহাক (আলাইহিমুস সালাম)-এর অন্ধত্বকে অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে, এ বিষয়ে মহান কুরআনে কোনো সুস্পষ্ট পাঠ অবতীর্ণ হয়নি, যা দ্বারা বিষয়টি অকাট্যভাবে জানা যেতে পারে। তাঁদের বক্তব্যের বিপরীতে ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনী উপস্থাপন করা হয়েছে—"শোকে তাঁর চোখ দুটি সাদা হয়ে গিয়েছিল", যা অত্যন্ত স্পষ্ট। এছাড়া মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তিনি পুনরায় দৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে গেলেন"। চোখের শুভ্রতা কেবল চোখের কৃষ্ণবর্ণ অংশ অপসারিত হওয়ার মাধ্যমেই ঘটে। আর যখন কৃষ্ণবর্ণ হারিয়ে যায়, তখন অন্ধত্ব প্রকাশ পায়। আর "প্রত্যাবর্তন" বলতে কেবল পূর্বাবস্থায় ফিরে আসাকেই বোঝায়। তিনি পূর্বাবস্থায় দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন, যা প্রমাণ করে যে তিনি যে অবস্থা থেকে ফিরে এসেছেন সেই অবস্থায় অন্ধ ছিলেন। এর উত্তরে (অন্ধত্ব) অস্বীকারকারীরা বলেন যে, "তাঁর চোখ দুটি সাদা হয়ে গিয়েছিল"—এই উক্তিটি ক্রন্দন এবং চোখে অশ্রুর আধিক্য ঘটার প্রতি একটি রূপক (কিনায়া)। যেমনটি কবি বলেছেন:
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম যেন এক কাঁচের আড়াল থেকে
… চরম অনুরাগের আতিশয্যে গৃহের পানে তাকিয়ে আছি
আমার চোখ দুটি কখনো কান্নায় ডুবে যায়
… ফলে আমি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি, আবার কখনো অশ্রুমুক্ত হয় ফলে আমি দেখতে পাই
এই কবি দাবি করেছেন যে, যখন তাঁর চোখ দুটি কান্নায় ডুবে যায় তখন তিনি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন এবং তা দিয়ে কিছুই দেখতে পান না; আর যখন অশ্রু সরে যায় তখন তিনি পুনরায় দৃষ্টি ফিরে পান। তাঁর উক্তি "কাঁচের আড়াল থেকে" মূলত অশ্রুর আধিক্যের প্রতি রূপক। কারণ অশ্রু যখন চোখে স্থির হয়ে জমে যায়, তখন তা কাঁচের মতো হয়ে তাঁর দৃষ্টিকে আবৃত করে ফেলে এবং তা যখন এমন হয় তখন সাদা দেখায়। এটি মহান আল্লাহর বাণী "শোকে তাঁর চোখ দুটি সাদা হয়ে গিয়েছিল"-এর সদৃশ। সুতরাং এটি অকাট্যভাবে অন্ধত্ব প্রমাণ করে না। আর মহান আল্লাহর বাণী "অতঃপর তিনি পুনরায় দৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে গেলেন"—এ বিষয়ে একদল মুফাসসির মনে করেন যে, তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তবে অপর এক দল বলেন: বরং অতিরিক্ত ক্রন্দন ও শোকের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অতঃপর যখন তারা তাঁর নিকট জামাটি নিয়ে এল এবং তাঁকে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর জীবিত থাকার সুসংবাদ দিল, তখন তাঁর আনন্দ বহুগুণ বৃদ্ধি পেল, বক্ষ প্রশান্ত হলো এবং তাঁর শোক অপসারিত হলো; তখনই তাঁর দৃষ্টিজ্যোতি শক্তিশালী হলো এবং তাঁর ত্রুটি দূর হয়ে গেল।
আর এটিই মহান নবুয়তের মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ; অর্থাৎ নবী হবেন সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়বিশিষ্ট, শারীরিক অবয়বে পূর্ণাঙ্গ, শারীরিক ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত এবং ভারসাম্যপূর্ণ মেজাজের অধিকারী। এ কারণেই ফকিহগণ বলেছেন: ইমাম অন্ধ হওয়া বৈধ নয়। ইমাম শাফেয়ী (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর মাযহাবের সঠিক মতানুসারে বিচারক (কাজী) অন্ধ হতে পারেন না। তবে মাযহাবে এর বৈধতার পক্ষে একটি অভিমতও রয়েছে, যা শোয়াইব (আলাইহিস সালাম) ও অন্যান্য নবীদের অন্ধ হওয়ার বিষয়টি সঠিক হওয়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। বলা হয়ে থাকে যে, নবুয়তের মর্যাদা বিচারকার্যের মর্যাদার চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ।
পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১)
নাকাছুল হামইয়ান ফী নুকাতিল উমইয়ান
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
المقدمة السابعةفيما يتعلق بالأعمى من الأحكامفي الفروغ مما يخالف فيها البصراءوهي عدة أحكام على مذهب الإمام محمد بن إدريس الشافعي قدس الله روحه منها
الاجتهاد في الأوانيأصح القولين وجوبه عليه، لأنه يعرف باللمس اعوجاج الإناء واضطراب الغطاء وسائر العلامات. والأول لا يجب كما انه لا يجتهد في القبلة، بل يتقلد فيها. فلو اجتهد ولم يتبين له شيء، فالصحيح أنه يقلد لعدم قدرته على العلامات المقتضية لذلك. وإذا قلنا يقلد ولم يجد من يقلده. فالأصح أنه يتيم ويصلي ويعيد. والخلاف في الأواني جار في الثياب
مسألة من مفردات الإمام أحمدرضي الله تعالى عنهوهي إذا دخلت المرأة بالماء لا يجوز للرجل أن يتوضأ منه، لحديث عبد الله بن سرجس أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يغتسل بفضل وضوء المرأة. وبعد هذا فقد روى في مسنده عن ابن عباس رضي الله عنهما: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يغتسل بفضل ميمونة. وقد رواه مسلم أيضاً. وروى أحمد رضي الله عنه في مسنده أيضاً عن ابن عباس عن ميمونة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم توضأ بفضل غسلها من الجنابة. ورواه ابن ماجه أيضاً. وروى أحمد رضي الله تعالى عنه في مسنده أيضاً عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما قال: اغتسل بعض أزواج رسول الله صلى اله عليه وسلم في جفنة. فجاء النبي صلى الله عليه وسلم ليتوضأ منها ويغتسل فقالت له: يا رسول الله: إني كنت جنباً. قال: إن الماء لا يجنب ورواه
সপ্তম ভূমিকাঅন্ধ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ প্রসঙ্গেএমন কিছু শাখা মাসআলা সম্পর্কে যাতে তারা দৃষ্টিশক্তিসম্পন্নদের থেকে ভিন্নইমাম মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিয়ী (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন)-এর মাযহাব অনুযায়ী এগুলো কয়েকটি বিধান, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:
পাত্রের পবিত্রতা বিষয়ে ইজতিহাদদুটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটি তার উপর ওয়াজিব। কারণ সে স্পর্শের মাধ্যমে পাত্রের বক্রতা, ঢাকনির অস্থিরতা এবং অন্যান্য আলামত বা চিহ্ন চিনতে পারে। তবে প্রথম মতানুসারে এটি ওয়াজিব নয়, যেমন সে কিবলার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করে না বরং এক্ষেত্রে অন্যের অনুসরণ করে। যদি সে ইজতিহাদ করে এবং তার কাছে কোনো কিছু স্পষ্ট না হয়, তবে সঠিক মত হলো সে অন্যকে অনুসরণ (তাকলিদ) করবে, কারণ এ সংক্রান্ত চিহ্নগুলো নির্ণয়ের সক্ষমতা তার নেই। আর আমরা যখন বলি সে অনুসরণ করবে অথচ সে অনুসরণ করার মতো কাউকে পায় না, তখন অধিকতর সঠিক মত হলো সে তায়াম্মুম করবে, নামাজ পড়বে এবং পরবর্তীতে তা পুনরায় আদায় করবে। পাত্রের ক্ষেত্রে এই মতভেদ পোশাকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর একক অভিমতসমূহের একটি মাসআলাআর তা হলো যখন কোনো নারী নির্জনে পানি ব্যবহার করে, তখন পুরুষের জন্য সেই অবশিষ্ট পানি দিয়ে অজু করা বৈধ নয়। এর দলিল হলো আবদুল্লাহ বিন সারজিস বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীর অজুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করতে নিষেধ করেছেন। এর বিপরীতে তিনি তাঁর মুসনাদে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করতেন। ইমাম মুসলিমও এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মুসনাদে ইবনে আব্বাস থেকে মাইমুনার সূত্রে আরও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জানাবাতের গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে অজু করেছেন। ইবনে মাজাহও এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মুসনাদে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো এক স্ত্রী একটি গামলায় গোসল করেছিলেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখান থেকে অজু বা গোসল করতে আসলেন, তখন তিনি (স্ত্রী) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় ছিলাম। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই পানি অপবিত্র হয় না। এবং এটি বর্ণনা করেছেন...