(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: -)
السنة ومكانتها من التشريع لعبد الحليم محمود القسم: علوم الحديث
الكتاب: السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي
المؤلف: عبد الحليم محمود (ت 1397هـ)
التاشر: المكتبة العصرية، صيدا - بيروت.
عدد الصفحات: 97
أعده للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع].
تاريخ النشر بالشاملة: 16 محرم 1433
সুন্নাহ এবং ইসলামি বিধানে এর গুরুত্ব - আব্দুল হালিম মাহমুদ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: সুন্নাহ এবং ইসলামি বিধানে এর গুরুত্ব
লেখক: আব্দুল হালিম মাহমুদ (মৃত্যু: ১৩৯৭ হিজরি)
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, সাইদা - বৈরুত.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৭
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, - আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন -.
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ].
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ মহররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ১)
السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي
تأليف الدكتور عبد الحليم محمود
منشورات المكتبة العصرية: صيدا - بيروت.
عدد الأجزاء: 1.
أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
সুন্নাহ এবং ইসলামী শরিয়তে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা
ডক্টর আব্দুল হালীম মাহমুদ-এর রচনা
আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ প্রকাশনী: সায়দা - বৈরুত।
খণ্ড সংখ্যা: ১।
আল-মাকতাবাতুশ শামিলা’র জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন তাওফীক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী —আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন—।
[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২)
السُنَّة ومكانتها في التشريع الإسلامي
تأليف الدكتور عبد الحليم محمود
منشورات المكتبة العصرَيَّةَ: صيدا - بيروت.
সুন্নাহ (السنة) এবং ইসলামী বিধানে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা
ডক্টর আব্দুল হালিম মাহমুদ প্রণীত
আল-মাকতাবাতুল আসরিয়াহ প্রকাশনী: সিদন - বৈরুত।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
من مراجع الكتاب:
1 - " صحيح البخاري ".
2 - " صحيح مسلم ".
3 - " سيرة ابن هشام ".
4 - " رياض الصالحين ".
5 - " الأنوار المحمدية " للنبهاني.
6 - " السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي " للمرحوم الأستاذ مصطفى السباعي.
7 - " السنة قبل التدوين " للأستاذ محمد عجاج الخطيب.
8 - " الرسالة " للإمام الشافعي.
9 - " رجال الفكر والدعوة " لأبي الحسن الندوي.
10 - " الرسالة المحمدية " للسيد سليمان الندوي.
11 - " الحديث والمحدثون " للشيخ محمد أبو زهو.
গ্রন্থের তথ্যসূত্রসমূহ:
1 - "সহিহ বুখারি"।
2 - "সহিহ মুসলিম"।
3 - "সিরাতে ইবনে হিশাম"।
4 - "রিয়াদুস সালিহিন"।
5 - "আল-আনোয়ারুল মুহাম্মাদিয়া" — আন-নাবহানি।
6 - "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরিইল ইসলামি" — মরহুম উস্তাদ মোস্তফা আস-সিবাঈ।
7 - "আস-সুন্নাহ ক্বাবলাত তাদউইন" — উস্তাদ মুহাম্মাদ আজজাজ আল-খাতিব।
8 - "আর-রিসালাহ" — ইমাম শাফিঈ।
9 - "রিজালুল ফিকর ওয়াদ দাওয়াহ" — আবুল হাসান নদভী।
10 - "আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়া" — সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী।
11 - "আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন" — শাইখ মুহাম্মাদ আবু জাহু।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مُقَدِّمَةٌ:بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين
يقول الله تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (1). ويقول سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (2).
ويقول: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (3).
وفي حديث صحيح يقول المقدام بن معدي كرب: «حَرَّمَ النبي صلى الله عليه وسلم أشياء يوم خيبر، منها الحمار الأهلي وغيره، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يُوشِكُ أَنْ يَقْعُدَ الرَّجُلُ مِنْكُمْ عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدِّثُ بِحَدِيثِى فَيَقُولُ بَيْنِى وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ، فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ حَلَالاً اسْتَحْلَلْنَاهُ، وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ حَرَامًا حَرَّمْنَاهُ، وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ كَمَا حَرَّمَ اللَّهُ».
وبعد:
فيحب القراء عادة أن يعرفوا شيئاً عن ظروف تأليف الكتب التي يقرءونها، لأنَّ ذلك يضعهم في جو يمهد لهم
--------------------------------------------
ভূমিকা (مُقَدِّمَةٌ):পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য
আল্লাহ তাআলা বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} (১)। এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (২)।
তিনি আরও বলেন: {না, আপনার প্রতিপালকের শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়; অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} (৩)।
এবং একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে মিকদাম ইবনে মাদি কারিব (রা.) বর্ণনা করেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বারের দিন কিছু বিষয় নিষিদ্ধ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে গৃহপালিত গাধা ও অন্যান্য। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং তার সামনে যখন আমার কোনো হাদিস বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে—আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট; তাতে আমরা যা হালাল পাব তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং যা হারাম পাব তা-ই হারাম হিসেবে গ্রহণ করব। অথচ জেনে রেখো, রাসূলুল্লাহ যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারাম করার মতোই»।
অতঃপর:
সাধারণত পাঠকরা তাদের পঠিত বইগুলোর রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কিছু জানতে পছন্দ করেন, কারণ তা তাদের জন্য এমন এক আবহ তৈরি করে যা তাদের বিষয়বস্তুর জন্য প্রস্তুত করে দেয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
تقدير الكتاب في صورة أعمق: حيث عرفوا الظروف والملابسات، ولأن ذلك يقرِّبُهُم من جو الكاتب النفسي، ويدخلهم، نوعاً ما، في محيطه الخاص، فتكون بينهم وبينه - على البعد - بعض أسباب الألفة. ومن أجل توضيح ذلك أكتب هذه المقدمة:
إنَّ السُنَّة: دعوة بالحسنى إلى الرقي الأخلاقي الذي تجري وراءه الإنسانية المهذبة، إنها دعوة إلى التاجر أنْ يكون صادقاً، فيحشر مع النَبِيِّينَ والصِدِّيقِينَ والشهداء، وإلى العامل أنْ يتقن عمله، لأنَّ الله يحب إذا عمل أحدكم عملاً أن يتقنه.
وإلى الصانع أن يؤدي العمل كما يجب، حيث أخذ الأجر، ومن أخذ الأجر حاسبه الله على العمل.
وهي دعوة إلى الأب، باعتباره أباً، وإلى الأم في وضعها كأم، وإلى الأخ في مهمته كأخ، وإلى غيرهم من أفراد المجتمع: أن يرعى كل منهم ما وكل إليه من أمر رعيته وكلكم راع وكلكم مسؤول عن رعيته.
وهي دعوة للناس إلى الأمانة، حيث أنه لا إيمان لمن لا أمانة له.
وإلى الصديق، وإنَّ الرجل ليصدق حتى يكتب عند الله صدِّيقاً.
وإلى الرحمة: الرحمة العامة الشاملة، وصلوات الله وسلامه على من قال:
গ্রন্থটির গভীরতর মূল্যায়ন: যেহেতু তারা প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন; আর যেহেতু এটি তাদেরকে লেখকের মনস্তাত্ত্বিক আবহের নিকটবর্তী করে এবং এক প্রকার তাঁর ব্যক্তিগত পরিমণ্ডলে প্রবেশ করায়, ফলে—দূরত্বের ব্যবধানেও—তাদের ও তাঁর মাঝে সখ্যতার কিছু যোগসূত্র তৈরি হয়। এই বিষয়টি স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যেই আমি এই ভূমিকাটি লিখছি:
নিশ্চয়ই সুন্নাহ হলো: সেই নৈতিক উৎকর্ষের পথে এক উত্তম আহ্বান যার পেছনে মার্জিত মানবতা ধাবমান। এটি ব্যবসায়ীর প্রতি সত্যবাদী হওয়ার আহ্বান, যাতে সে নবীগণ, পরম সত্যনিষ্ঠ (صديقين) এবং শহীদগণের সাথে হাশরের ময়দানে সমবেত হতে পারে। আর শ্রমিকের প্রতি তার কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করার আহ্বান, কেননা আল্লাহ পছন্দ করেন যে, তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজ করে, সে যেন তা নিখুঁতভাবে সম্পাদন করে।
এবং কারিগরের প্রতি আহ্বান যাতে সে যথাযথভাবে কাজ আঞ্জাম দেয়, যেহেতু সে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছে; আর যে ব্যক্তি পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছে, আল্লাহ তার কাজের হিসাব নেবেন।
এটি পিতার প্রতি পিতা হিসেবে, মাতার প্রতি তাঁর অবস্থানে মাতা হিসেবে, ভাইয়ের প্রতি ভাই হিসেবে তাঁর দায়িত্বে এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যের প্রতি এক আহ্বান: যাতে তাদের প্রত্যেকেই তার ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করে; "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।"
এটি মানুষের প্রতি আমানতদারিতার আহ্বান, যেহেতু যার আমানত নেই তার ইমান নেই।
এবং সত্যবাদিতার প্রতি আহ্বান; আর নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি সত্য বলতে থাকে যতক্ষণ না আল্লাহর নিকট তাকে পরম সত্যবাদী (صديق) হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
এবং দয়ার প্রতি আহ্বান: যা এক সাধারণ ও সর্বজনীন দয়া। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
«إنَّمَا أَنَا رَحْمَةٌ مُهْدَاةٌ».
ومن قال: «ارْحَمُوا مَنْ فِى الأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِى السَّمَاءِ».
وخذ أي خلق كريم تتمنى أن يسير عليه المجتمع: فستجد في السُنَّة دعوة إليه، بوسيلة أو بأخرى، وبثالثة.
وهي في هذه الدعوة تنبه دائماً إلى دور الأمَّة الإسلامية في الأخلاق العالمية: أنَّ دورها: إنما هو الرائدة الراعية وعلى الرائد دائماً أن يكون المثل الأعلى، والأسوة الكريمة، والقدوة الصالحة.
ولقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم: الصورة الحية الناطقة التي طبقت كمبادئ إنسانية ممكنة الخلق الذي رسمه الله وأحبه للإنسانية جمعاء، والذي عبرت عنه السُنَّة أجمل تعبير وأبلغه.
ومن أجل هذا التقدير الكريم للسنة الشريفة كان العلماء المستنيرون في كل عصر: يجاهدون من أجلها، ومن أجل مكارم الأخلاق التي تعبر عنها، وكان هؤلاء العلماء - علماء السُنَّة - يعرفون بسيماهم: فقد كانوا من الزهد في حطام الدنيا: بحيث لا ينازعون الناس في دنياهم: لقد كانوا مشغولين عن الجاه بغرس الخلق الصالح الكريم، وكانوا مشغولين عن السلطان بمن بيده السلطان يؤتيه من يشاء وينزعه ممن يشاء: مالك الملك ذي الجلال والإكرام.
«নিশ্চয়ই আমি উপহারস্বরূপ প্রেরিত রহমত।»
এবং যিনি বলেছেন: «তোমরা জমিনে বসবাসকারীদের প্রতি দয়া করো, তবে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।»
আপনি সমাজের জন্য কাম্য যে কোনো মহৎ চরিত্রের কথা বিবেচনা করুন না কেন, সুন্নাহর মধ্যে আপনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার প্রতি আহ্বান খুঁজে পাবেন।
এই আহ্বানের ক্ষেত্রে সুন্নাহ সর্বদা বিশ্বজনীন নৈতিকতার ধারক হিসেবে মুসলিম উম্মাহর ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাদের ভূমিকা হলো পথপ্রদর্শক ও অভিভাবকের; আর একজন পথপ্রদর্শককে সর্বদা সর্বোচ্চ আদর্শ, মহত্তম নমুনা এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হতে হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সেই জীবন্ত ও বাঙ্ময় প্রতিকৃতি, যিনি বাস্তবসম্মত মানবীয় নীতি হিসেবে সেই মহান চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন যা আল্লাহ স্বয়ং সমগ্র মানবজাতির জন্য নির্ধারণ করেছেন ও পছন্দ করেছেন; এবং সুন্নাহ যাকে অত্যন্ত চমৎকার ও প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যক্ত করেছে।
সুন্নাহর প্রতি এই উচ্চতর মূল্যায়নের কারণেই প্রতি যুগের প্রাজ্ঞ আলিমগণ সুন্নাহ এবং এর মাধ্যমে প্রকাশিত উন্নত চরিত্র রক্ষায় নিরন্তর সংগ্রাম করেছেন। সুন্নাহর এই আলিমগণ তাদের বিশেষ নিদর্শনের মাধ্যমেই পরিচিত ছিলেন। পার্থিব জৌলুসের প্রতি তাদের বিরাগ বা দুনিয়াবিমুখতা (زهد) এমন ছিল যে, তারা পার্থিব বিষয়ে মানুষের সাথে কোনো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন না। পদমর্যাদার মোহের পরিবর্তে তারা সৎ ও মহৎ চরিত্র বিকাশে নিমগ্ন ছিলেন। তারা পার্থিব ক্ষমতার মোহের পরিবর্তে সেই মহান সত্তার ইবাদতে মগ্ন ছিলেন যাঁর হাতে সমস্ত রাজত্ব, তিনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যাঁর থেকে ইচ্ছা তা ছিনিয়ে নেন; তিনি মহিমান্বিত ও পরম দয়ালু অধিপতি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكانوا صادقين، لقد كان الصدق دينهم وفطرتهم. وكانوا صابرين على الحياة، وصابرين على العمل: لقد أقاموا نهارهم، وأسهروا ليلهم عملاً على مرضاة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم.
والمثل الذي نحب أنْ نسُوقه - كصورة لهؤلاء القوم - هو: الإمام أحمد بن حنبل رضي الله عنه، أنه المُحَدِّثُ الذي حاول أنْ يكون صورة صادقة لما كان عليه الرسول صلى الله عليه وسلم، في الزاوية الأخلاقية.
وسيرة الإمام - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِ -: مَثَلٌ أعلى في التمسك بما يراه حقاً، وفي الصبر على ما يناله في سبيل التمسك بالحق.
على أنَّ كل من تشبع بالسُنَّة حقاً: إنما هو صورة، قريبة بقدر المستطاع، من الإمام أحمد.
لقد كان الإمام البخاري وغيره ممن أشربت نفوسهم حُبَّ السُنَّة: أمثلة كريمة للخلق الكريم.
والأمثلة الكريمة للخلق الكريم هدف دائماً لسهام النماذج الأثيمة التي استهواها الشيطان في قليل أو كثير: إنه النزاع الدائم بين الفضيلة واصحابها، وبين المُمَثِّلين لنزعات الهوى والضلال.
ولولا وجود هذه المثل العليا لمكارم الأخلاق في كل عصر لفقدت الإنسانية الثقة بنفسها، ولما اطمأن إنسان لإنسان، ولما وثق شخص آخر.
এবং তাঁরা ছিলেন সত্যনিষ্ঠ, সত্যবাদিতা ছিল তাঁদের ধর্ম ও স্বভাবজাত প্রকৃতি। তাঁরা জীবনসংগ্রামে ধৈর্যশীল ছিলেন এবং কর্মক্ষেত্রেও ধৈর্যশীল ছিলেন: তাঁরা তাঁদের দিনকে অতিবাহিত করেছেন এবং রাতকে বিনিদ্র রেখেছেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করার মাধ্যমে।
আর আমরা যে দৃষ্টান্তটি উপস্থাপন করতে চাই—এই মহান ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি হিসেবে—তা হলো: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রা.), তিনি ছিলেন এমন একজন হাদিস বিশারদ (المحدث), যিনি নৈতিকতার দিক থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের একটি সত্যনিষ্ঠ প্রতিচ্ছবি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
আর এই ইমামের—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—জীবনী হলো যা তিনি সত্য মনে করতেন তা আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে এবং সত্যের পথে অটল থাকতে গিয়ে যে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তাতে ধৈর্য ধারণ করার এক সুউচ্চ আদর্শ।
বস্তুত যে ব্যক্তিই যথাযথভাবে সুন্নাহ (السنة) দ্বারা নিজেকে সিক্ত করেছেন, তিনি মূলত ইমাম আহমাদেরই সাধ্যানুযায়ী একটি নিকটবর্তী প্রতিচ্ছবি।
নিশ্চয়ই ইমাম বুখারি এবং অন্যান্যরা, যাঁদের অন্তরে সুন্নাহর (السنة) প্রতি ভালোবাসা মিশে গিয়েছিল, তাঁরা ছিলেন মহৎ চরিত্রের অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আর উত্তম চরিত্রের এই মহান আদর্শগুলো সর্বদা সেই পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের তীরের লক্ষ্যবস্তু হয়, যাদের শয়তান অল্পবিস্তর প্রলুব্ধ করেছে: এটি আসলে সদ্গুণ ও তার অনুসারী এবং খেয়ালখুশি ও ভ্রষ্টতার প্রতিনিধিদের মধ্যে এক চিরন্তন দ্বন্দ্ব।
আর প্রতি যুগে মহৎ চরিত্রের এই উচ্চতর দৃষ্টান্তগুলো বিদ্যমান না থাকলে মানবতা নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলত এবং কোনো মানুষ অন্য মানুষের ওপর আশ্বস্ত হতে পারত না কিংবা একে অপরের ওপর ভরসা করতে পারত না।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
لقد ربت السُنَّة رجالاً، وخصائصها التي ربت بها الرجال موجودة فيها، لأنها من طبيعتها ومن ذاتها. ولقد شاهدت الإنسانية واعترفت بسمو هؤلاء الرجال، وأولتهم ثقتها وتقديرها.
إنَّ الإمام أحمد بن حنبل، وإنَّ الإمام البخاري، وإنَّ أمير المؤمنين في الحديث: الإمام سفيان الثوري، وأمثال هؤلاء رضي الله عنهم: منارات يَهتَدِي بهم عشاق المثل العليا.
لا بد إذن من العمل على نشر السُنَّة وإذاعتها، ومحاولة الإكثار من النفوس التي تتشربها وتحققها وتتمثلها وتحياها.
لا بد من نشرها وطنية.
ولا بد من نشرها إنسانية، لأنها تعبِّرُُ عن أرقى مستوى إنساني.
ولا بد من نشرها ديناً.
ولا بد من نشرها ذوقاً أدبياً.
ولا بد من نشرها للثروة اللغوية ..
وما من شك في أنَّ للسُنَّة جواً فكرياً: فالرسول صلى الله عليه وسلم: يتحدَّثُ عن عوامل الهدم، التي تعمل على تقويضه، وعن عوامل البناء التي تعمل على إقامته على قواعد سليمة، ويتحدَّثُ عن
সুন্নাহ একদল মহান ব্যক্তিত্বকে গড়ে তুলেছে এবং যে বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে এটি তাঁদের গড়ে তুলেছে তা সুন্নাহর মাঝেই বিদ্যমান; কারণ এটি এর প্রকৃতি ও সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানবজাতি এই ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রত্যক্ষ করেছে ও তা স্বীকার করে নিয়েছে এবং তাঁদের প্রতি নিজের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্পণ করেছে।
নিশ্চয়ই ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম বুখারি এবং হাদিসের আমিরুল মুমিনীন (أمير المؤمنين في الحديث) ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরি ও তাঁদের মতো ব্যক্তিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হলেন আলোকবর্তিকা, যাঁদের অনুসরণের মাধ্যমে উচ্চতর আদর্শের সন্ধানী ব্যক্তিরা সঠিক পথের দিশা পায়।
অতএব, সুন্নাহর প্রচার ও প্রসারে ব্রতী হওয়া এবং এমন একদল মানুষ তৈরির প্রচেষ্টা চালানো অপরিহার্য, যারা সুন্নাহকে মনে-প্রাণে ধারণ করবে, এর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে, একে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে এবং এর আলোকেই জীবন অতিবাহিত করবে।
একে জাতীয় সত্তা হিসেবে প্রচার করা অপরিহার্য।
একে মানবিক আদর্শ হিসেবে প্রচার করা অপরিহার্য, কারণ এটি মানবতার সর্বোচ্চ স্তরের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
একে দীন হিসেবে প্রচার করা অপরিহার্য।
একে সাহিত্যিক রুচি হিসেবে প্রচার করা অপরিহার্য।
একে ভাষাগত সমৃদ্ধির উৎস হিসেবে প্রচার করা অপরিহার্য...
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সুন্নাহর একটি তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডল রয়েছে; যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন সব ধ্বংসাত্মক উপাদান নিয়ে আলোচনা করেছেন যা সমাজ বা কাঠামোকে ধূলিসাৎ করে দেয় এবং এমন সব গঠনমূলক উপাদান নিয়ে আলোচনা করেছেন যা একে সুদৃঢ় ও সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে, এবং তিনি আলোচনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
النظم التي ينبغي أنْ تسود المجتمع الإنساني، وعن الأوضاع التي يجب أنْ تستقيم.
وللسُنَّة جو لغوي: فالرسول صلى الله عليه وسلم قد أوتي جوامع الكلم، وكلامه صلى الله عليه وسلم أبلغ الكلام البشري، ونشر السُنَّة عامل من أهل العوامل على ترقية اللغة التي يكتب بها الكتاب، وعلى وضع الناشئين والمُثقَّفين في وضع أدبي ممتاز، من حيث اللغة، ومن حيث الأسلوب.
وَلِلْسُنَّةِ جَوٌّ رُوحِيٌّ: إنها تهذيب للنفس، وتربية للروح وسمو بالأخلاق إلى درجة لا تجارى، - وصَلََّى اللهُ على من قال: «إِنَّمَا بُعِثْتُ لأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الأَخْلَاقِ».
ورحم الله شوقي إذ يقول:
إِنَّمَا الأُمَمُ الأَخْلَاقُ مَا بَقِيَتْ *
… *
… * فَإِنْ [هُمُ] ذَهَبَتْ أَخْلَاقُهُمْ ذَهَبُوا
ومن أجلِ ذلك كله كان نشر السُنَّةِ واجباً دينياً، وعملاً اجتماعياً كريماً، وواجباً وطنياً حتمياً، وإصلاحاً أخلاقياً سامياً.
وهو على كل حال ضرورة وطنية مُلِحَّةٌ في عصر تحاول الرذيلة فيه أنْ تعمِّم الانحلال الخلقي في كل أسرة وفي كل بيت، ويحاول الفساد أنْ يأتي على مقدسات الأُمَّة ومقوماتها من عرض وشرف وكرامة.
সেই সকল ব্যবস্থা যা মানব সমাজে প্রচলিত হওয়া উচিত এবং সেই সকল পরিস্থিতি যা সঠিক হওয়া আবশ্যক।
সুন্নাহর একটি ভাষাগত দিক রয়েছে: কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জাওয়ামিউল কালিম (جوامع الكلم) বা ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য দান করা হয়েছে। তাঁর বাণী মানবীয় বাণীর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম প্রাঞ্জল সাহিত্য। সুন্নাহর প্রচার লেখকদের লিখনশৈলী উন্নত করার এবং তরুণ ও শিক্ষিত সমাজকে ভাষা ও শৈলীর বিচারে একটি চমৎকার সাহিত্যিক মানে উন্নীত করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান প্রভাবক।
সুন্নাহর একটি আধ্যাত্মিক আবহ রয়েছে: এটি নফসের পরিশুদ্ধি, আত্মার লালন এবং চরিত্রকে এমন এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায় যার কোনো তুলনা চলে না। আর সেই মহান সত্তার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক যিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।”
আল্লাহ তাআলা কবি শওকির ওপর রহম করুন, যখন তিনি বলেন:
জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকে তাদের নৈতিকতার ওপর যতক্ষণ তা বিদ্যমান থাকে; *
… *
… * যদি তাদের নৈতিকতা বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে জাতিও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
এই সকল কারণেই সুন্নাহর প্রচার একটি ধর্মীয় আবশ্যকতা (واجب), একটি মহৎ সামাজিক কর্ম, একটি অনিবার্য জাতীয় দায়িত্ব এবং একটি সুউচ্চ নৈতিক সংস্কার।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি জরুরি জাতীয় প্রয়োজন; এমন এক যুগে যেখানে পাপাচার প্রতিটি পরিবার ও ঘরে চারিত্রিক অবক্ষয় ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট এবং দুর্নীতি উম্মাহর পবিত্র বিষয়সমূহ ও মৌলিক ভিত্তি তথা ইজ্জত, শৌর্য ও মর্যাদাকে ধ্বংস করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
لقد أحب الله للإنسانية مثالاً أخلاقياً كريماً رسمه سبحانه في القرآن الكريم قولاً، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم الصورة التطبيقية الكاملة للرسم الإلهي، وكان بذلك الإنسان الكامل.
لقد كان المثل الأعلى في الرحمة، والمثل الأعلى في الكفاح والمثل الأعلى في الصبر المجاهد المتفائل، والمثل الأعلى في الصدق، في الإخلاص، في الوفاء، في البر، في الكرم.
لقد وصفه الله سبحانه بقوله: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} (1).
ولا ريب في أنَّ الأُمَّة الإسلامية حينما تقتدي بالرسول صلى الله عليه وسلم: إنما تقتدي بأعظم البشر رجولة وإنسانية.
وتقتدي بمن أحب الله سبحانه أن تقتدي به.
{لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} (2).
وإنَّ العمل على نشر السُنَّة إنما هو توجيه للاقتداء بالرسول صلى الله عليه وسلم.
واللهَ أرجو أنْ يجعله عام النفع.
وأنْ يهدي به.
وأنْ يجعله ذخيرة، يوم لا ينفع مال ولا بنون إلَاّ من أتى الله بقلب سليم.
--------------------------------------------
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানবজাতির জন্য একটি সুমহান নৈতিক আদর্শ পছন্দ করেছেন যা তিনি পবিত্র কুরআনে বাচনিকভাবে চিত্রিত করেছেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সেই ঐশী রূপরেখার পূর্ণাঙ্গ প্রায়োগিক চিত্র, এবং এভাবেই তিনি ছিলেন পূর্ণাঙ্গ মানব (الإنسان الكامل)।
তিনি ছিলেন দয়ার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম আদর্শ, সংগ্রামের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম আদর্শ, ধৈর্যশীল-সংগ্রামী ও আশাবাদীর ক্ষেত্রে সর্বোত্তম আদর্শ এবং সত্যবাদিতা, একনিষ্ঠতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, সদাচার ও বদান্যতার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম আদর্শ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।} (১)।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিম উম্মাহ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করে, তখন তারা পৌরুষ ও মানবিকতায় শ্রেষ্ঠতম মানবেরই অনুসরণ করে।
এবং তারা তাঁরই অনুসরণ করে, যাঁর অনুসরণ করাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পছন্দ করেছেন।
{তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ (أسوة حسنة)} (২)।
আর সুন্নাহ (السنة) প্রচারের এই কর্মতৎপরতা মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুকরণেরই একটি দিকনির্দেশনা।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে সর্বজনীনভাবে উপকারী করেন।
এবং এর মাধ্যমে যেন তিনি হেদায়েত দান করেন।
এবং তিনি যেন একে সেই দিনের পাথেয় করেন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর (قلب سليم) নিয়ে উপস্থিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفَصْلُ الأَوَّلُ: الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم وَسُنَّتُهُ الشَّرِيفَةُ:بسم الله الرحمن الرحيم، والحمد لله رب العالمين.
{رَبَّنَا آتِنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا} (1)، {رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ} (2).
خاتم الأنبياء:
يقول الله تعالى لرسوله الكريم صلى الله عليه وسلم: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا} (3)، وما كانت هذه الرسالة العامة لأحد من الرسل من قبله، فموسى عليه السلام أرسل لبني إسرائيل خاصة، لقد اقتصرت دعوته على بني إسرائيل، لدرجة أنه حينما ذهب هو وهارون، عليهما السلام، إلى فرعون، قالا له: {إِنَّا رَسُولاً رَبِّكَ فَأَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ} (4).
فموسى ذهب إلى فرعون ليرسل معه بني إسرائيل. ولم يكافح سيدنا موسى الشعوب، أو الأمم في سبيل دعوته.
وعيسى عليه السلام، إنما أرسل إلى .. «خراف بني إسرائيل الضالة»، على حد تعبيرهم القديم، ولم
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সুন্নাহ (سنة):পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, এবং সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
{হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের বিষয়টিকে সঠিক পথে পরিচালনার অনুকূল করুন} (১), {হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি আমাদের হিদায়াত প্রদানের পর আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যবিচ্যুত করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা} (২)।
সর্বশেষ নবী (خاتم الأنبياء):
আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন: {আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি} (৩), আর এই সর্বজনীন রিসালাত (رسالة) তাঁর পূর্ববর্তী কোনো রাসূলের জন্য ছিল না। মূসা আলাইহিস সালাম বিশেষভাবে বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন; তাঁর দাওয়াত (دعوة) বনী ইসরাঈলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এমনকি যখন তিনি ও হারূন আলাইহিমাস সালাম ফিরআউনের নিকট গিয়েছিলেন, তখন তাঁরা তাকে বলেছিলেন: {নিশ্চয়ই আমরা আপনার প্রতিপালকের প্রেরিত রাসূল, সুতরাং আমাদের সাথে বনী ইসরাঈলকে যেতে দিন} (৪)।
সুতরাং মূসা আলাইহিস সালাম ফিরআউনের নিকট গিয়েছিলেন যাতে তিনি বনী ইসরাঈলকে তাঁর সাথে পাঠিয়ে দেন। আমাদের নেতা মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর দাওয়াতের (دعوة) পথে অন্য কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেননি।
এবং ঈসা আলাইহিস সালাম কেবল প্রেরিত হয়েছিলেন... তাদের প্রাচীন অভিব্যক্তি অনুযায়ী "বনী ইসরাঈলের পথভ্রষ্ট মেষপাল"-এর কাছে, এবং তিনি করেননি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يحاول سيدنا عيسى أن يُبشِّر بدعوته خارج فلسطين، ولم يحاول أنْ يجاهد من أجلها.
أما رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإنه أرسل إلى الناس جميعاً، أنه أرسل إلى الناس جميعاً من حيث المكان، وأرسل إليهم جميعاً من حيث الزمان، فهو الرسول الدائم زماناً ومكاناً.
{قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} (1).
وقد تكفل الله تعالى بحفظ الكتاب الذي أنزله على رسوله، صلى الله عليه وسلم ضماناً لهذا العموم في الزمان وفي المكان، وتحقيقاً له.
{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (2).
ومن أجل هذا الوعد بحفظ الوحي كاملاً غير منقوص، صحيحاً غير مزيف، كانت الحكمة الإلهية في أنَّ الإنسانية لا تحتاج إلى رسول بعد الرسول، ولا إلى نبي بعد النبي، إنه - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ -: خاتم الرسل، وخاتم الأنبياء.
ولقد امتزج رسول الله صلى الله عليه وسلم، برسالته الخالدة، فكان هو هي شرحاً وتفصيلاً.
وكانت هي هو بياناً لمعدنه وجوهره، وخلافة له، ونيابة عنه.
تقول السيدة عائشة رضي الله عنها: «لَقَدْ كَانَ خُلُقُهُ القُرْآنُ» وهذه الكلمة من السيدة عائشة، - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهَا - تحتاج إلى تحديد وبيان. ذلك أنَّ القرآن يُحَدِّدُ
--------------------------------------------
আমাদের নেতা সায়্যিদুনা ঈসা (আ.) ফিলিস্তিনের বাইরে তাঁর দাওয়াতের প্রচার করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি এর জন্য জিহাদ করার চেষ্টা করেননি।
পক্ষান্তরে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সমস্ত মানুষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে; তাঁকে স্থানের বিচারে সমস্ত মানুষের কাছে এবং সময়ের বিচারেও সবার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। সুতরাং তিনি কাল ও পাত্রভেদে চিরন্তন রাসূল।
"বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল।" (১)।
মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি অবতীর্ণ কিতাবটি সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যাতে সময় ও স্থানের এই ব্যাপকতা নিশ্চিত ও বাস্তবায়িত হয়।
"নিশ্চয়ই আমি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" (২)।
ওহীকে কোনো প্রকার ত্রুটি ব্যতীত পূর্ণাঙ্গরূপে এবং বিকৃতিমুক্ত ও বিশুদ্ধ (صحيح) অবস্থায় সংরক্ষণের এই ওয়াদার কারণেই মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা এটাই নির্ধারণ করেছে যে, মানবতার আর কোনো রাসূলের পর রাসূল কিংবা নবীর পর নবীর প্রয়োজন হবে না। তিনি - তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক - সর্বশেষ রাসূল ও সর্বশেষ নবী।
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর শাশ্বত রিসালাতের সাথে এমনভাবে একীভূত হয়েছিলেন যে, তিনিই ছিলেন এর ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণ।
আর সেই রিসালাতই ছিল তাঁর মহান সত্তা ও মূল প্রকৃতির বহিঃপ্রকাশ এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত ও প্রতিনিধি।
সায়্যিদা আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: «তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন»; সায়্যিদা আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-এর এই কথাটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যার দাবি রাখে। তা এই কারণে যে, কুরআন নির্ধারণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الخلق الكريم في حده الأدنى، ثم لا يقتصر على ذلك، إنما يرسم القمم من مكارم الأخلاق، ويوجِّهُ إلى السنام منها، ويقود إلى المشارف العليا من درجات المقرَّبين.
فهل تريد السيدة عائشة - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهَا -، حينما تصفه صلى الله عليه وسلم بِأَنَّ خُلُقُهُ القُرْآنُ: هل تريد الخلق الكريم في حده الأدنى، أم تريد في حده الأوسط، أم تريده في حده الأسمى؟
إنَّ القرآن الكريم يُحَدِّدُ الدرجة التي وصل إليها الرسول صلى الله عليه وسلم من الخُلُق القرآني فيقول سبحانه لرسول الله صلى الله عليه وسلم: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} (1).
هذه الآية القرآنية الكريمة تُحَدِّدُ درجة الأخلاق القرآنية التي وصل إليها الرسول صلى الله عليه وسلم، أنها ذروتها وسنامها.
أول المسلمين
ولقد قال - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ -: «إِنَّمَا بُعِثْتُ لأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الأَخْلَاقِ».
إنه صلى الله عليه وسلم، بعث لِيُتَمِّمَ المكارم الأخلاقية لِيُتَمِّمَهَا بذاته، بسلوكه، وَلِيُتَمِّمَهَا بقوله: برسالته.
إنه لم يبعث لينشر الأخلاق الكريمة فحسب، وإنما بعث ليتمم مكارمها.
ومكارم الأخلاق لم تكن - قبل الرسول - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - قد تمت. إنَّ أول المسلمين لم يكن قد
--------------------------------------------
উত্তম চরিত্র তার ন্যূনতম পর্যায়ে, এরপর এটি কেবল তাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি মহৎ চরিত্রের শিখরসমূহ চিত্রিত করে, এর সর্বোচ্চ চূড়ার দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করে এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের উচ্চ মর্যাদার সোপানের দিকে পরিচালিত করে।
তবে কি সাইয়িদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা), যখন তিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণনা দিচ্ছিলেন যে তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন—তখন কি তিনি উত্তম চরিত্রের ন্যূনতম পর্যায় বুঝাতে চেয়েছেন, নাকি মধ্যম পর্যায়, নাকি সর্বোচ্চ পর্যায়?
নিশ্চয়ই আল-কুরআনুল কারীম সেই মর্যাদা নির্ধারণ করে দিয়েছে যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনিক চরিত্রের মাধ্যমে উপনীত হয়েছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন: "আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।" (১)
এই কুরআনিক আয়াতটি সেই কুরআনিক চরিত্রের মান নির্ধারণ করে দিচ্ছে যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পৌঁছেছিলেন—যেটি হচ্ছে এর সর্বোচ্চ শিখর ও চূড়া।
প্রথম মুসলিম
আর তিনি (সালাওয়াতুল্লাহি ওয়া সালামুহু আলাইহি) বলেছেন: "আমি কেবল মহৎ চারিত্রিক গুণাবলির পূর্ণতা প্রদানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।"
নিশ্চয়ই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চারিত্রিক মহত্ত্বের পূর্ণতা দান করতে প্রেরিত হয়েছেন; তা স্বয়ং নিজের সত্তা ও আচরণের মাধ্যমে এবং নিজের কথা অর্থাৎ রিসালতের মাধ্যমে পূর্ণ করতে।
তিনি কেবল উত্তম চরিত্রের প্রচারের জন্যই প্রেরিত হননি, বরং এর উৎকর্ষের পূর্ণতা বিধানের জন্য প্রেরিত হয়েছেন।
আর চারিত্রিক উৎকর্ষ রাসূলুল্লাহ (সালাওয়াতুল্লাহি ওয়া সালামুহু আলাইহি)-এর আগমনের পূর্বে পূর্ণতা পায়নি। নিশ্চয়ই প্রথম মুসলিম তেমন ছিলেন না যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وجد بعد، وكانت بذلك مكارم الأخلاق ناقصة، كان ينقصها أكمل صفة لمكارم الأخلاق وهي إسلام الوجه لله إسلاماً تاماً. إنَّ الكائنات لم تكن قد وصلت - لا في نبي مرسل، ولا في ملك مقرب - إلى الذروة من إسلام الوجه لله، والذروة من إسلام الوجه لله، أو أول المسلمين - والتعبيران سواء - إنما هو الذروة من مكارم الأخلاق.
إنه الكائن الرباني: إنه أول المسلمين، أولهم بإطلاق، أولهم بالنسبة للملائكة، وأولهم بالنسبة لبني آدم، أولهم قديماً، وأولهم إلى الأبد .. إنَّ أول المسلمين لم يكن قد وجد بعد.
وكانت الإنسانية بذلك ناقصة، وكانت الكائنات كلها بذلك ناقصة.
كان الكون ناقصاً مادة ومعنى، كان ينقصه أنْ تتعطَّر أرضه بأزكى الأجساد، وأنْ يتعطَّرَ جوه بأزكى الأرواح، وكان لا بد من وجود كائن بهذه المثابة يكمل الله به الدين، ويتمُّ به النعمة، ويرضى رسالته ديناً عاماً خالداً للإنسانية جمعاء: هو إسلام الوجه لله.
وينزل القرآن مُحدِّداً إسلام الوجه لله وسائل، ومُحدِّداً إسلام الوجه لله غايات، مُحدِّداً إسلام الوجه طرقاً وأساليب، ومُحدِّداً له بواعث وأهدافاً. ومن هنا كان من يبتغي غير الإسلام ديناً لا يقبل منه. يقول الله تعالى:
তখনও তা অস্তিত্ব লাভ করেনি, আর এভাবেই সচ্চরিত্রের মহিমা অপূর্ণ ছিল। সচ্চরিত্রের পূর্ণতা অর্জনে শ্রেষ্ঠ একটি বৈশিষ্ট্যের অভাব ছিল, আর তা হলো আল্লাহর প্রতি নিজের অস্তিত্বকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করা। সমগ্র সৃষ্টিজগৎ—কোনো প্রেরিত (مرسل) নবী কিংবা কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা—আল্লাহর প্রতি এই আত্মনিবেদনের চরম শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের সেই চরম শিখর অথবা 'সর্বপ্রথম মুসলিম' হওয়া—উভয় অভিব্যক্তিই অভিন্ন—যা মূলত সচ্চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখর।
তিনি সেই রব্বানী সত্তা: তিনি হলেন সর্বপ্রথম মুসলিম, নিরঙ্কুশভাবে প্রথম, ফেরেশতাদের তুলনায় প্রথম, বনী আদমের তুলনায় প্রথম, অনাদিকাল থেকে প্রথম এবং অনন্তকাল পর্যন্ত প্রথম... সেই 'সর্বপ্রথম মুসলিম' তখনও অস্তিত্ব লাভ করেননি।
ফলে মানবতা ছিল অপূর্ণ, এবং এর মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টিজগৎও ছিল অপূর্ণ।
মহাবিশ্ব বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক—উভয় দিক থেকেই ছিল অপূর্ণ। অভাব ছিল এর জমিনকে পবিত্রতম দেহ দ্বারা সুবাসিত করার এবং এর পরিবেশকে পবিত্রতম রূহ দ্বারা সুগন্ধময় করার। এমন এক সত্তার উপস্থিতি অনিবার্য ছিল, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণ করবেন, তাঁর নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করবেন এবং যাঁর রিসালাতকে সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি বিশ্বজনীন ও শাশ্বত দ্বীন হিসেবে মনোনীত করবেন; আর তা হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ।
অতঃপর আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের মাধ্যমসমূহ, এর লক্ষ্যসমূহ, এর পথ ও পদ্ধতিসমূহ এবং এর প্রেরণা ও উদ্দেশ্যসমূহ সুনির্দিষ্ট করে কুরআন অবতীর্ণ হয়। এখান থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতিরেকে অন্য কোনো জীবনবিধান বা দ্বীন অন্বেষণ করবে, তার থেকে তা কবুল করা হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
{وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} (1).
وكيف يقبل منه ما يتنافى مع إسلام الوجه لله؟
إنَّ إسلام الوجه لله هو الذروة من مكارم الأخلاق، وهو جوهر التدين، إنه الدين القويم، إنه الدين الخالد. والنص الوحيد، النص الإلهي الفريد في العالم كله الذي يُبيِّنُ كيفية إسلام الوجه لله، إنما هو القرآن. وإذا ما وصل الإنسان إلى إسلام الوجه كان بذلك في ذروة الإنسانية. وفي الذروة من مكارم الأخلاق.
ويتفاوت الناس في إسلام وجوههم لله، ولا بد من أنْ يكون أحدهم أول المسلمين، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم، أولهم بإطلاق مطلق.
{قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} (2).
ولم يصف القرآن بأول المسلمين شخصاً آخر غير الرسول صلى الله عليه وسلم.
ومكارم الأخلاق لا يَحُدُّهَا - من حيث التبشير بها - مكان ولا يَحُدُّهَا زمان، بل ولا يَحُدُّهَا عالم من عوالم الله في الأرض أو السماء، ومن ذلك كانت رسالته، - صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَامُهُ -، رحمة للعالمين.
--------------------------------------------
{আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন অন্বেষণ করবে, তবে তার পক্ষ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না} (১)।
আর আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণের পরিপন্থী কোনো কিছু তার পক্ষ থেকে কীভাবে গ্রহণ করা হতে পারে?
নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণ হলো উচ্চতর নৈতিক চরিত্রের শীর্ষবিন্দু এবং এটিই ধার্মিকতার সারমর্ম; এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দীন এবং এটিই চিরন্তন দীন। আর সমগ্র বিশ্বে একমাত্র অনন্য ঐশ্বরিক পাঠ যা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণের পদ্ধতি বর্ণনা করে, তা হলো কেবল আল-কুরআন। আর মানুষ যখন আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণের পর্যায়ে উপনীত হয়, তখন সে মানবতার চরম শিখরে এবং উচ্চতর নৈতিক চরিত্রের শীর্ষবিন্দুতে অবস্থান করে।
আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে তারতম্য পরিলক্ষিত হয়, এবং এটি আবশ্যক যে তাঁদের মধ্যে কেউ একজন ‘প্রথম মুসলিম’ হবেন; আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন নিরঙ্কুশভাবে তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য।
{বলুন: নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই মুসলিমদের মধ্যে প্রথম} (২)।
আর কুরআন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে ‘প্রথম মুসলিম’ হিসেবে বিশেষায়িত করেনি।
আর উচ্চতর নৈতিক চরিত্রের প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে কোনো স্থান বা কাল একে সীমাবদ্ধ করতে পারে না, এমনকি আসমান ও জমিনের আল্লাহর সৃষ্টিজগতের কোনো জগতও একে সীমাবদ্ধ করতে পারে না। আর এই কারণেই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাত ছিল জগতসমূহের জন্য রহমত স্বরূপ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
من مكانة الرسول صلى الله عليه وسلم عند ربه:
ورسول الله صلى الله عليه وسلم لأنه يمثِّل الأخلاق القرآنية في ذروتها وسِنامها - جعل الله سبحانه وتعالى، له مكانة خاصة بين المسلمين، فهو، - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - لأنه تمثَّل القرآن وحقَّقه، وأصبح قرآناً، أصبح بذلك يمثِّل الحق بقوله، ويمثِّل الحق بعمله، فلا ينطق عن الهوى، ولا يعمل بالهوى.
ويقول الله تبارك وتعالى له، مُعبِّراً عن هذه الحقيقة أروع تعبير:
{وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، صِرَاطِ اللَّهِ
… } (1).
ويقول تعالى لرسوله صلى الله عليه وسلم:
{قُلْ إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ دِينًا قِيَمًا
… } (2).
بل إنَّ طريق الدعوة نفسه، كان، - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ -، يسير فيه معصوماً، وكل من يسير في الدعوة على نسقه، إنما يسير بعصمة الرسول، صلى الله عليه وسلم، التي منحها الله إياه:
{قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} (3).
ودعوته إذن وطريق دعوته: يسير فيهما على هُدى،
--------------------------------------------
তাঁর রবের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু কুরআনীয় চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখর ও চূড়ার প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলমানদের মাঝে তাঁকে এক বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। তিনি—তাঁর প্রতি আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—যেহেতু কুরআনকে ধারণ ও বাস্তবায়ন করেছেন এবং চলন্ত কুরআনে পরিণত হয়েছেন, সেহেতু তিনি তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে সত্যের মূর্তপ্রতীকে পরিণত হয়েছেন। ফলে তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না এবং প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কাজও করেন না।
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এই সত্যকে চমৎকারভাবে ব্যক্ত করে তাঁর উদ্দেশ্যে বলেন:
{আর আপনি অবশ্যই সরল পথের দিকে দিশা প্রদান করেন, যা আল্লাহর পথ
… } (১)।
মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরও বলেন:
{বলুন, নিশ্চয় আমার রব আমাকে সরল পথের দিকে হেদায়াত করেছেন, যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দীন
… } (২)।
বরং স্বয়ং দাওয়াতের পথেই তিনি—তাঁর প্রতি আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—নিষ্পাপ বা সংরক্ষিত (معصوم) হিসেবে পরিচালিত হতেন। আর যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে দাওয়াতের পথে চলেন, তাঁরা মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সুরক্ষা বা নিষ্পাপতার (عصمة) আলোকেই পথ চলেন যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন:
{বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি চাক্ষুষ প্রমাণ বা দূরদর্শিতার (بصيرة) ভিত্তিতে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা।} (৩)।
সুতরাং তাঁর দাওয়াত এবং তাঁর দাওয়াতের পথ: এই উভয় ক্ষেত্রেই তিনি হিদায়াতের উপর পরিচালিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعلى نور من ربه، ولذلك فإنَّ: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (1).
فيقول، سبحانه:
ويُعَمِّمُ الله، سبحانه، الحكم تعميماً، ويطلقه إطلاقاً، فيقول سبحانه:
{وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (2).
ويقول تعالى: {وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا} (3).
{قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ
… } (4).
إنَّ حب العبد لله لا يفيد ما لم يتَّخذ العبد الوسيلة الناجعة لذلك، وهذه الوسيلة هي: اتِّباع رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ولقد قال الله سبحانه وتعالى في حديث قُدْسيٍّ، رواهُ الإمام البخاري: «مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالحَرْبِ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ، فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ: كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ، وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ، وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا، وَإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ، وَلَئِنِ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيذَنَّهُ».
وهذه النوافل التي ذكرت في الحديث الشريف، والتي إذا أكثر الإنسان منها، بعد أداء الفرائض، أحبه الله: إنما هي سلوك رسول الله صلى الله عليه وسلم، إنها طريق رسمه، - صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَامُهُ - بقوله وبعمله. إنها
--------------------------------------------
এবং তাঁর রবের পক্ষ থেকে আগত এক জ্যোতি বা আলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত; আর সে কারণেই: {যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} (১)।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন:
এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এই বিধানকে সাধারণীকরণ করেছেন এবং একে নিঃশর্তভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন:
{রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (২)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হবে} (৩)।
{বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন…} (৪)।
আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা কোনো ফল প্রদান করবে না যতক্ষণ না বান্দা এর জন্য সঠিক ও কার্যকর মাধ্যম গ্রহণ করে। আর সেই মাধ্যমটি হলো: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা একটি পবিত্র হাদিস (حديث قدسي)-এ ইরশাদ করেছেন, যা ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন: «যে ব্যক্তি আমার কোনো অলির সাথে শত্রুতা করল, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম। আমার বান্দা নফল (نوافل) ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। অতঃপর যখন আমি তাকে ভালোবাসি: তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলে। সে যদি আমার কাছে প্রার্থনা করে তবে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি, আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে তবে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দান করি।»
আর এই নফল (نوافل) ইবাদতসমূহ যা এই হাদিস শরিফে উল্লেখিত হয়েছে—যা ফরজসমূহ আদায়ের পর কোনো মানুষ অধিক পরিমাণে করলে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন—তা মূলত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এরই আচরণ ও আদর্শ। এটি তাঁর প্রদর্শিত পথ, যা তিনি—তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন। এটি হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
سننه - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - التي سنَّها، لينال الإنسان بها محبَّةَ الله، سبحانه.
(من مكانة رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ربه أيضاً:)
وأحب الله، سبحانه، رسوله، صلى الله عليه وسلم وكان هذا الرسول بعبوديته لله سبحانه، حبيب الله وبلغ الرسول، - صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَامُهُ - بعُبوديته التامة درجة أول المسلمين، كما سبق أنْ ذكرنا.
ولما كان أول المسلمين. وكان حبيب الله، ونبيُّهُ، ورسوله: ميَّزهُ الله، سبحانه وتعالى على بقية البشر بكونه خيرهم، وهذا تمييز لا يخرجه، - صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَامُهُ - عن البشرَيَّةَ: فهو بشر وهو خير البشر: ومنتهى القول فيه أنه بشر، وأنه خير خلق الله كلهم، ولأنه خير البشر: يقول الله تعالى مُخاطباً المؤمنين: {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا} (1).
إنَّ الإنسان الذي خصَّهُ الله بالوحي، واجتباه لرسالته، واصطفاه ليكون - باسمه، سبحانه - بشيراً ونذيراً، إنّض هذا الإنسان الذي فضَّلهُ الله على العالمين: يجب أنْ نعرف له مكانته وننزله في الشرف الذي أنزله الله فيه. إنَّ هذا السراج المنير، إنَّ هذا الرؤوف الرحيم: ينبغي ألَاّ يدعى كما يدعى زيد وعمرو: «بمعنى لا تنادوه باسمه:
--------------------------------------------
তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রবর্তিত সুন্নাতসমূহ—যাতে মানুষ এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করতে পারে।
(তাঁর রবের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উচ্চমর্যাদার একটি দিক এটিও:)
মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবেসেছেন এবং এই রাসূল তাঁর দাসত্বের মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। আর রাসূল (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর পূর্ণাঙ্গ দাসত্বের মাধ্যমে ‘প্রথম মুসলিম’-এর স্তরে উপনীত হয়েছিলেন, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
যেহেতু তিনি প্রথম মুসলিম এবং আল্লাহর প্রিয়, নবী ও রাসূল ছিলেন, তাই মহান আল্লাহ তাঁকে অন্য সমস্ত মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য দান করেছেন। এই স্বাতন্ত্র্য তাঁকে (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) মানবসত্তার ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় না; কেননা তিনি একজন মানুষ এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁর সম্পর্কে বক্তব্যের শেষ কথা হলো—তিনি একজন মানুষ এবং তিনি আল্লাহর সকল সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আর তিনি যেহেতু শ্রেষ্ঠ মানুষ, তাই মহান আল্লাহ মুমিনদের সম্বোধন করে বলেন: {তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করো না} (১)।
নিশ্চয়ই সেই মানুষ, যাঁকে আল্লাহ ওহী (وحي) প্রদানের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, স্বীয় রিসালাতের (رسالة) জন্য মনোনীত করেছেন এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নির্বাচিত করেছেন; নিশ্চয়ই এই মানুষটি যাঁকে আল্লাহ বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, আমাদের উচিত তাঁর মর্যাদা অনুধাবন করা এবং আল্লাহ তাঁকে যে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন সেখানে তাঁকে রাখা। এই আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ, এই দয়াশীল ও করুণাময়কে যায়েদ ও আমরের মতো ডাকা সমীচীন নয়; অর্থাৎ—তাঁকে নাম ধরে সম্বোধন করো না:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
فتقولوا: يا محمد، ولا بكنيته فتقولوا: يا أبا القاسم، بل نادوه وخاطبوه بالتعظيم والتكريم، والتوقير بأنْ تقولوا: يا رسول الله، يا نبي الله، يا إمام المرسلين، يا رسول رب العالمين، يا خاتم النبيِّين وغير ذلك
… واستفيد من هذه الآية - كما يقول الشيخ الصاوي في " حاشيته على تفسير الجلالين " - إنه لا يجوز نداء النبي بغير ما يفيد التعظيم، لا في حياته، ولا بعد وفاته، فبهذا يعلم أنَّ من استخف بجنابه صلى الله عليه وسلم: فهو كافر ملعون في الدنيا والآخرة» اهـ.
ويقول الله سبحانه في أوائل سورة الحجرات: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} (1). أي لا تتقدموا بأمر من الأمور، قولاً كان أو فعلاً، إلَاّ إذا أذن الله ورسوله، وكل أمر: قولاً كان أو فعلاً: أتاه الإنسان بدون إذن الله ورسوله: فإنه لا يقع على السُنن المستقيم.
يقول الضحاك عن ذلك: «هو عام في القتال وشرائع الدين، أي لا تقطعوا أمراً دون الله ورسوله» {وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} (2).
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ} (3).
واحذروا إنْ فعلتم ذلك: {نْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ} (4).
--------------------------------------------
তোমরা বলবে: হে মুহাম্মদ, কিংবা তাঁর উপনামে ডেকে বলবে: হে আবুল কাসিম; বরং তোমরা তাঁকে সম্মান, মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সাথে সম্বোধন করো ও ডাকো এভাবে: হে আল্লাহর রাসূল, হে আল্লাহর নবী, হে রাসূলগণের ইমাম, হে বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের রাসূল, হে শেষ নবী এবং এই জাতীয় অন্যান্য সম্মানসূচক উপাধিতে
... এই আয়াত থেকে এটি চয়ন করা হয়েছে—যেমনটি শায়খ আস-সাউয়ি তাঁর ‘হাশিয়া আলা তাফসিরিল জালালাইন’-এ উল্লেখ করেছেন—যে নবীকে সম্মান প্রকাশ পায় না এমন কোনো শব্দে সম্বোধন করা বৈধ নয়, চাই তা তাঁর জীবদ্দশায় হোক কিংবা ওফাতের পরে। এর মাধ্যমে জানা যায় যে, যে ব্যক্তি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুমহান মর্যাদার অবমাননা করবে, সে দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত কাফির (كافر ملعون) হিসেবে গণ্য হবে। (সমাপ্ত)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আল-হুজুরাত-এর শুরুতে ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রগামী হয়ো না} (১)। অর্থাৎ তোমরা কোনো বিষয়েই—তা কথা হোক বা কাজ—ততক্ষণ অগ্রগামী হবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অনুমতি প্রদান করেন। আর যে কোনো বিষয়—তা কথা হোক বা কাজ—যা মানুষ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুমতি ব্যতিরেকে সম্পাদন করে, তবে তা সঠিক পদ্ধতির (السنن المستقيم) ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় না।
এ প্রসঙ্গে দাহহাক (রহ.) বলেন: «এটি যুদ্ধ এবং দ্বীনের শরীয়ত সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক, অর্থাৎ তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ ব্যতীত কোনো ফয়সালা করো না» {আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} (২)।
{হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের কণ্ঠস্বর নবীর কণ্ঠস্বরের চেয়ে উচ্চ করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো না} (৩)।
আর তোমরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকো যে, তোমরা যদি এমনটা করো: {তবে তোমাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে অথচ তোমরা টেরও পাবে না} (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
{إِنَّ الَّذِينَ يَغُضُّونَ أَصْوَاتَهُمْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ أُولَئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَى لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ} (1).
أما هؤلاء الذين أساءوا الأدب دون أنْ يقصدوا فأخذوا ينادونك من وراء الحجرات مناداة الأعراب الأجلاف، فإنَّ عقولهم - في الأغلب الأعم - ناقصة: {إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِنْ وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ، وَلَوْ أَنَّهُمْ صَبَرُوا حَتَّى تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (2).
على أنَّ مُجَرَّد الرغبة في الحديث، إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، يحتاج تنفيذها إلى تقديم صدقة، يقول الله تعالى في سورة المجادلة: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَاجَيْتُمُ الرَّسُولَ فَقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَةً ذَلِكَ خَيْرٌ لَكُمْ وَأَطْهَرُ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (3).
وتدل الآية الكريمة على أنَّ ترك تقديم الصدقة إثم، لأنَّ من لم يجد الصدقة فإنَّ موقف الله سبحانه منه - لعدم قدرته - المغفرة والرحمة، ولا تكون المغفرة والرحمة إلَاّ على إثم أتاه الإنسان.
وعدم توفر الاستطاعة سبب في مغفرة الله سبحانه: {أَأَشْفَقْتُمْ أَنْ تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَاتٍ} (4).
وإذا حملكم خوف الفقر على ألَاّ تفعلوا، وإذا قادكم الضعف الإنساني إلى ألَاّ تنفذوا ذلك، ثم ندمتم واستغفروا
--------------------------------------------
{নিশ্চয় যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করেছেন; তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।} (১)।
পক্ষান্তরে যারা উদ্দেশ্যহীনভাবে শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে এবং হুজরা বা কক্ষসমূহের পেছন থেকে রূঢ় বেদুঈনদের ন্যায় আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকতে শুরু করেছে, তাদের বুদ্ধি—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—ত্রুটিপূর্ণ: {নিশ্চয় যারা কক্ষসমূহের পেছন থেকে আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশেরই কাণ্ডজ্ঞান নেই। আর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করত যতক্ষণ না আপনি তাদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসতেন, তবে তা-ই তাদের জন্য উত্তম হতো। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (২)।
এমনকি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে কথা (হাদিস) বলার সাধারণ ইচ্ছা পোষণ করলেও তা বাস্তবায়নের জন্য সদকা পেশ করার প্রয়োজন ছিল। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মুজাদালায় বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন রাসূলের সাথে কানে কানে কথা বলতে চাও, তখন তোমাদের সেই আলোচনার পূর্বে সদকা পেশ করো। এটি তোমাদের জন্য অধিকতর শ্রেয় ও পবিত্র। অতঃপর যদি তোমরা তা না পাও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (৩)।
এই মহিমান্বিত আয়াতটি নির্দেশ করে যে, সদকা পেশ না করা একটি গুনাহ; কারণ যে ব্যক্তি সদকার সামর্থ্য রাখে না, তার প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অবস্থান হলো—অক্ষমতার কারণে—ক্ষমা ও দয়া। আর ক্ষমা ও দয়া কেবল মানুষের কৃত কোনো গুনাহের ওপরই হয়ে থাকে।
আর সামর্থ্যের অভাব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ক্ষমার কারণ: {তোমরা কি তোমাদের কানে কানে আলোচনার পূর্বে সদকা প্রদান করতে ভীত হয়ে পড়লে?} (৪)।
আর যদি দারিদ্র্যের ভয় তোমাদের তা করা থেকে বিরত রাখে এবং মানবিক দুর্বলতা তোমাদের এটি বাস্তবায়নে বাধা দেয়, অতঃপর তোমরা অনুতপ্ত হও এবং ক্ষমা প্রার্থনা করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فتداركوه حتى يتوب الله عليكم، وأثبتوا حسن نيَّتكم، وصفاء سريرتكم، بأنْ تقيموا الصلاة على الوجه الأكمل، وتؤتوا الزكاة طيبة بها نفوسكم، وتطيعوا الله ورسوله في الصغير والكبير، وما من ريب في أنَّ الله، سبحانه: خبير بكل ما تعملون.
يقول الله تعالى: {أَأَشْفَقْتُمْ أَنْ تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَاتٍ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا وَتَابَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} (1).
وبعد: فيقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا فَخْرَ».
ويقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا، وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيرًا} (2).
هذا جانب من مكانة الرسول صلى الله عليه وسلم التي أحبها الله له، والتي نَبَّهَ عليها سبحانه وتعالى، قد فرض طاعة رسوله، صلى الله عليه وسلم، مقرونة بطاعته، بل لقد ذكرها الله سبحانه وتعالى وحدها، باعتبارها فرضاً.
ويقول الله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا
--------------------------------------------
সুতরাং তোমরা তা সংশোধন করে নাও যাতে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন এবং তোমাদের নিয়তের বিশুদ্ধতা ও অন্তরের পরিচ্ছন্নতা প্রমাণ করো—পরিপূর্ণভাবে সালাত কায়েম করার মাধ্যমে, সানন্দ চিত্তে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে এবং ছোট-বড় সকল বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার মাধ্যমে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তোমাদের যাবতীয় কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা কি তোমাদের গোপন পরামর্শের আগে সদকা প্রদান করতে ভীত হয়ে পড়েছিলে? যেহেতু তোমরা তা করোনি এবং আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেছেন, তাই তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।} (১)।
অতপর: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন আমি হব আদম-সন্তানদের সরদার, আর এতে কোনো অহংকার নেই।»
আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে নবী! আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিশাল অনুগ্রহ।} (২)।
এটি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুউচ্চ মর্যাদার একটি দিক যা আল্লাহ তাঁর জন্য পছন্দ করেছেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যে বিষয়ে সচেতন করেছেন। তিনি তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্যকে স্বীয় আনুগত্যের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে আবশ্যিক করেছেন; বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা একে এককভাবেও আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সংগত নয় যে, যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُبِينًا} (1).
ويقول تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ} (2).
ويقول سبحانه: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ} (3).
وفي هذه الآية الكريمة إشارة إلى أنَّ الإعراض عن طاعة الله أو عن طاعة الرسول: كفر. وما من شك في أنه كفر، ذلك أنَّ الإيمان من أركانه: الإيمان برسول الله صلى الله عليه وسلم، وبأنَّ كل ما أتى به صدق، فالتولي عنه: استخفافاً، أو جُحُوداً وإنكاراً، أو عناداً ومُمَارَاةً.
ذلك كله: كفر يخرج به المعرض عن دائرة الإسلام.
يقول الله تعالى في طاعة الرسول - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ -، حينما يفرده بالحديث: {فَلَا وَرَبِّكَ لا َيُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (4).
ويقول تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (5).
ويجعل الله سبحانه وتعالى، طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم طاعته فيقول سبحانه: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (6).
--------------------------------------------
{আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ের ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়} (১)।
আর মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে, তখন তোমরা তাতে সাড়া দাও} (২)।
আর তিনি পবিত্র সত্তা বলেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের ভালোবাসেন না} (৩)।
এই মহিমান্বিত আয়াতে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহর আনুগত্য বা রাসূলের আনুগত্য থেকে বিমুখ হওয়া কুফরি। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি কুফরি। কারণ, ঈমানের অন্যতম রুকন হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনা এবং তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করা। অতএব, তুচ্ছজ্ঞান করে, কিংবা অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে, অথবা হঠকারিতা ও বিতণ্ডার বশবর্তী হয়ে তাঁর থেকে বিমুখ হওয়া (কুফরি)।
এ সবই হলো কুফরি, যার মাধ্যমে বিমুখ হওয়া ব্যক্তি ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা রাসূলের—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—আনুগত্য সম্পর্কে বলেন, যখন তিনি তাঁকে এককভাবে সম্বোধন করেন: {না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসংবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে বিচারক হিসেবে মান্য করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তারা তাদের মনে কোনো দ্বিধা অনুভব না করে এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} (৪)।
আর মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হতে পারে} (৫)।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যকে তাঁরই আনুগত্য হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويجعل بيعته - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - بيعة لله، فيقول سبحانه: {إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا} (1).
وطاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم إنما هي فيما افترضه الله، سبحانه أو سُنَّة، وفيما افترضه رسوله - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ - أو سُنَّةٌ.
وقد تابع الرسول صلى الله عليه وسلم، القرآن الكريم في بيانه لمنزلة السُنَّة. ووجوب اتِّباعه صلى الله عليه وسلم، فيما سَنَّهُ، فلقد حَثَّ فيما رواه أبو داود والترمذي عن زيد بن ثابت: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرُءًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَحَفِظَهَا وَوَعَاهَا، فَأَدَّاهَا كَمَا سَمِعَهَا، فَرُبَّ مُبَلِّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ».
وروي في معناه من طريق آخر: «رَحِمَ اللَّهُ امْرُءًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَأَدَّاهَا كَمَا سَمِعَهَا، فَرُبَّ مُبَلِّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ».
وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمر الصحابة أَنْ يُبَلِّغَ الشاهد منهم الغائب فيقول فيما رواه أبو بكر: «أَلَا فَلْيُبْلِغْ الشَّاهِدُ مِنْكُمْ الْغَائِبَ». «اَنْ يُبَلِّغَ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ».
ولقد روى الحاكم والبيهقي أَنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ) তাঁর (রাসূলুল্লাহর) - তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক - বায়াতকে আল্লাহরই বায়াত হিসেবে গণ্য করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় যারা আপনার নিকট বায়াত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহরই নিকট বায়াত গ্রহণ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর। অতএব যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, সে তো নিজেরই ক্ষতির জন্য তা ভঙ্গ করে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, আল্লাহ অচিরেই তাকে মহা পুরস্কার দান করবেন।" (১)।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য কেবল তা-ই যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ফরজ করেছেন কিংবা সুন্নাহ (سنة) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, এবং যা তাঁর রাসূল - তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক - ফরজ করেছেন কিংবা সুন্নাহ (سنة) হিসেবে প্রবর্তন করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহর (سنة) মর্যাদা বর্ণনায় পবিত্র কুরআনেরই অনুসরণ করেছেন। তিনি যা কিছু সুন্নাহ (سنه) হিসেবে প্রবর্তন করেছেন, তাতে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে আবু দাউদ ও তিরমিযী যায়িদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ করল এবং সংরক্ষণ করল, এরপর তা যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিল। কেননা অনেক সময় যার কাছে (বাণী) পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।"
একই অর্থে ভিন্ন সূত্রে বর্ণিত (روي) হয়েছে: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিল। কেননা অনেক সময় যার কাছে (বাণী) পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।"
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিতেন যেন তাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (বাণী) পৌঁছে দেয়। আবু বকর থেকে বর্ণিত (روى) একটি হাদিসে তিনি বলেন: "সাবধান! তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়।" "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়।"
হাকেম ও বায়হাকী বর্ণনা (روى) করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
«تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللهِ وَسُنَّتِي».
ويقول رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطبة الوداع: «إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ يَئِسَ أَنْ يُعْبَدَ بِأَرْضِكُمْ، وَلَكِنْ رَضِيَ أَنْ يُطَاعَ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مِمَّا تَحْقِرُونَ مِنْ [أَمْرِكُمْ] فَاحْذَرُوا، إِنِّي تَرَكْتُ مَا إِنِْ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تَضِلُّوا أَبَدًا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّتِي».
وَيُبَيِّنُ رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيما رواه البخاري عن أبي هريرة أَنَّ المسلمين سيدخلون الجنة إلَاّ من لا يرغب منهم في ذلك.
يقول صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَاّ مَنْ أَبَى»، قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَأْبَى؟ قَالَ: «مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى».
مَكَانَةُ السُنَّةِ مِنَ القُرْآنِ:وَسُنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم، لها مكانتها بالنسبة إلى القرآن ولها مكانتها بالنسبة إلى التشريع.
إنها المصدر الثاني للإسلام باعتباره عقيدة، والمصدر الثاني
«আমি তোমাদের মাঝে এমন দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি যে, তোমরা যদি এই দুটিকে আঁকড়ে ধরে থাকো তবে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ (سنة)»।
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেন: «নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের এই ভূখণ্ডে তার ইবাদত করা হবে—এ বিষয়ে নিরাশ হয়েছে, তবে সে এতেই সন্তুষ্ট যে, তোমরা তোমাদের কার্যাবলীর মধ্যে যেগুলোকে তুচ্ছ মনে করো, সেগুলোতে তার আনুগত্য করা হবে। অতএব তোমরা সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আমি এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা তোমরা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ (سنة)»।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণনা করেছেন—যা আবু হুরায়রা থেকে বুখারী বর্ণনা (رواه) করেছেন—যে মুসলমানরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে তাদের মধ্যে যারা জান্নাতে যেতে আগ্রহী হবে না তারা ব্যতিরেকে।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কেবল সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করেছে», তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: «যে আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই মূলত অস্বীকার করল»।
কুরআনের নিরিখে সুন্নাহর (سنة) মর্যাদা:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর (سنة) মর্যাদা কুরআনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিধান প্রণয়নের (تشريع) ক্ষেত্রে অনন্য।
আকিদাহ (عقيدة) হিসেবে এটি ইসলামের দ্বিতীয় উৎস এবং দ্বিতীয় উৎস...
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
للإسلام باعتباره تشريعًا، والمصدر الثاني للإسلام باعتباره أخلاقًا.
أما منزلتها بالنسبة إلى القرآن فإنها، حسبما يقول الإمام الشافعي: «وَسُنَنُ رَسُولِ اللََّهِ صلى الله عليه وسلم وَجْهَانِ:
- أَحَدُهُمَا: نَصُّ كِتَابٍ فَاتَّبَعَهُ رَسُولُ اللََّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا أَنْزَلَ اللََّهُ،
- وَالآخَرُ جُمْلَةً، بَيَّنَ رَسُولُ اللََّهِ فِيهِ عَنْ اللََّهِ مَعْنَى مَا أَرَادَ بِالجُمْلَةِ، وَأَوْضَحَ كَيْفَ فَرْضُهَا عَامًّا أَوْ خَاصًّا، وَكَيْفَ أَرَادَ أَنْ يَأْتِي بِهِ العِبَادُ وَكِلَاهُمَا اتَّبَعَ فِيهِ كِتَابَ اللِه».
وفي كلمة أخرى يُبَيِّنُ الإمام الشافعي الوجهين فيقول: «أَحَدُهُمَا: مَا أَنْزَلَ اللََّهُ فِيهِ نَصَّ كِتَابٍ، فَبَيَّنَ رَسُولُ اللََّهِ مِثْلَ مَا نَصَّ الكِتَابُ، وَالآخَرُ: مِمَّا أَنْزَلَ اللََّهُ فِيهِ جُمْلَةَ كِتَابٍ، فَبَيَّنَ عَنِ اللََّهِ مَعْنَى مَا أَرَادَ؛ وَهَذَانِ الوَجْهَانِ اللَّذَانِ لَمْ [يَخْتَلِفُوا] فِيهِمَا».
والوجه الأول بَيَّنَهُ بنفسه.
إنه من الواضح أَنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يُبَيِّنُ القرآن عقيدة وشريعة وأخلاقًا على وجوه شتى، وعلى أنحاء مختلفة، وعلى أساليب تختلف في الإيجاز والإسهاب، بحسب حالة المخاطب، يقول الله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (1).
--------------------------------------------
ইসলামের একটি বিধান (تشريع) হিসেবে এবং নৈতিকতা (أخلاق) হিসেবে ইসলামের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে।
আর কুরআনের তুলনায় এর মর্যাদার ব্যাপারে ইমাম শাফেয়ী যেমনটি বলেন: «আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ দুই প্রকার (وَجْهَانِ):
- এর একটি হলো: কিতাবের (কুরআনের) সুস্পষ্ট ভাষ্য (نَصّ), যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণ করেছেন ঠিক যেভাবে আল্লাহ নাযিল করেছেন,
- এবং অন্যটি হলো সংক্ষিপ্ত (جُمْلَةً), যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই সংক্ষিপ্ত বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর কাঙ্ক্ষিত অর্থ বর্ণনা করেছেন এবং এর বিধানটি কীভাবে সাধারণ (عَامّ) বা বিশেষ (خَاصّ) হবে তা স্পষ্ট করেছেন, এবং বান্দারা কীভাবে তা পালন করবে তাও বর্ণনা করেছেন। এ উভয় প্রকারেই তিনি আল্লাহর কিতাব অনুসরণ করেছেন।»
অন্য একটি উক্তিতে ইমাম শাফেয়ী এই দুই প্রকারের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন: «এর একটি হলো: যাতে আল্লাহ কিতাবের সুস্পষ্ট ভাষ্য (نَصّ) নাযিল করেছেন, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিতাবের সেই সুস্পষ্ট ভাষ্যের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; আর অন্যটি: আল্লাহ যাতে কিতাবে সংক্ষিপ্ত (جُمْلَةً) বর্ণনা নাযিল করেছেন, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত অর্থ স্পষ্ট করেছেন; আর এই দুই প্রকারে আলেমগণ মতভেদ করেননি।»
প্রথম প্রকারটি তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন।
এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের আকিদা (عَقِيدَة), শরীয়াহ (شَرِيعَة) ও নৈতিকতাকে (أخلاق) বিভিন্নভাবে এবং নানা পন্থায় ব্যাখ্যা করতেন। শ্রোতার অবস্থাভেদে তাঁর বর্ণনার ধরন কখনো সংক্ষিপ্ত (إيجاز) আবার কখনো বিস্তারিত (إسهاب) হতো। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার কাছে যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের কাছে তাদের জন্য যা নাযিল করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে দেন} (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والرسول صلى الله عليه وسلم كان يبين للناس ما نزل إليهم بسلوكه، وبقوله، وبإقراراته، يقول - صَلَوَاتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ -: «مَا تَرَكْتُ شَيْئاً مِمَّا أَمَرَكُمُ اللَّهُ بِهِ إِلَاّ وَقَدْ أَمَرْتُكُمْ بِهِ، وَلَا تَرَكْتُ شَيْئًا - مِمَّا نَهَاكُمُ اللَّهُ عَنْهُ - إِلَاّ وَقَدْ نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ».
ولكن بيان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يشتمل على بيان ما أجمل في كتاب الله، وهذا الوجه كثير في السُنَّة.
يقول الإمام الشافعي رضي الله عنه: «قال تبارك وتعالى: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا} (1).
وقال: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} (2).
وقال: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} (3).
ثم بَيَّنَ على لسان رسوله عدد ما فرض من الصلوات، ومواقيتها، وَسُنَنِهَا، وعدد ركعاتها، والزكاة ومواقيتها، وكيف عمل الحج والعمرة، وحيث يزول هذا ويثبت، وتختلف سُنَّتُهُ وتتفق، ولهذا أشباه كثيرة في القرآن والسُنَّةِ». اهـ.
وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم، يُبَيِّنُ كيفية الصلاة بقوله وعمله، كان يُبَيِّنُ أوقاتها، وأركانها، وعدد ركعاتها، وافتتاحها وترتيب حركتها بعد الافتتاح، ويقول صلى الله عليه وسلم: «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي»
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর আচরণ, কথা এবং তাঁর অনুমোদনের (إقرارات) মাধ্যমে মানুষের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা ব্যাখ্যা করতেন। তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলতেন: "আল্লাহ তোমাদের যা আদেশ করেছেন তার এমন কিছু আমি বাকি রাখিনি যা তোমাদের করতে নির্দেশ দেইনি, আর আল্লাহ তোমাদের যা নিষেধ করেছেন তার এমন কিছু আমি বাকি রাখিনি যা তোমাদের করতে বারণ করিনি।"
তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাখ্যা আল্লাহর কিতাবে যা সংক্ষেপে (مجمل) বর্ণিত হয়েছে তার বিশদ বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর সুন্নাহর ক্ষেত্রে এই দিকটি অত্যন্ত ব্যাপক।
ইমাম শাফেঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই মুমিনদের ওপর সালাত নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে} (১)।
তিনি আরও বলেছেন: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো} (২)।
তিনি আরও বলেছেন: {এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ করো} (৩)।
অতঃপর তিনি তাঁর রাসূলের জবানিতে ফরজ সালাতসমূহ এর সংখ্যা, সেগুলোর ওয়াক্তসমূহ, সুন্নাতসমূহ, রাকাত সংখ্যা, জাকাত ও তার সময়সীমা এবং হজ ও উমরা পালনের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। আর কোথায় এটি রহিত হবে এবং কোথায় বহাল থাকবে, কোথায় এর রীতি ভিন্ন হবে এবং কোথায় এক হবে—কুরআন ও সুন্নাহর মাঝে এর অনেক সদৃশ দৃষ্টান্ত রয়েছে।" সমাপ্ত।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে সালাতের পদ্ধতি বর্ণনা করতেন। তিনি সালাতের ওয়াক্তসমূহ, রুকনসমূহ (أركان), রাকাত সংখ্যা, সালাত শুরু করার পদ্ধতি এবং তা শুরুর পর ধারাবাহিকতাসমূহ ব্যাখ্যা করতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ويبين رسول الله صلى الله عليه وسلم مناسك الحج: أركانه، وواجباته، وَسُنَّتَهُ. يقول: «خُذُوا عَنِّى مَنَاسِكَكُمْ».
وفرض الله سبحانه وتعالى الزكاة ولم يبين مقادير لها، لم يذكر بالتفصيل الزروع والثمار والأموال التي تجب فيها الزكاة فَبَيَّنَ رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك كله وطبقه.
ولقد بَيَّنَتْ السُنَّةُ أن القاتل لا يرث، وأن الوصية لا تكون في أكثر من الثلث، وأن الدين يقدم على الوصية، هذا وكثير غيره مِمَّا بَيَّنَتْهُ السُنَّةُ.
عَنْ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ لِرَجُلٍ يريد أن يقتصر على القرآن دُونَ السُنَّةِ: «إِنَّكَ امْرُؤٌ أَحْمَقُ!! أَتَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا، لَا يُجْهَرُ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ؟» ثُمَّ عَدَّدَ عَلَيْهِ الصَّلَاةَ وَالزَّكَاةَ وَنَحْوِ هَذَا. ثُمَّ قَالَ: «أَتَجِدُ هَذَا فِي كِتَابِ اللهِ مُفَسَّرًا؟ إِنَّ كِتَابَ اللَّهِ أَبْهَمَ هَذَا وَإِنَّ السُنَّةَ تُفَسِّرُ ذَلِكَ» (1).
وَلَقَدْ قِيلَ لِمُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ: لَا تُحَدِّثُونَا إِلَاّ بِالْقُرْآنِ، فَقَالَ مُطَرِّفٌ: «وَاللَّهِ مَا [نُرِيدُ] بِالْقُرْآنِ بَدَلاً، وَلَكِنْ نُرِيدُ مَنْ هُوَ أَعْلَمُ بِالْقُرْآنِ مِنَّا» (2).
ويقول الإمام الشافعي رضي الله عنه: «وَمَنْ قَبِلَ عَنْ رَسُولِ اللهِ فَعَنْ اللهِ قَبِلَ، لِمَا افْتَرَضَ اللهُ مِنْ طَاعَتِهِ».
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের বিধিবিধান (مناسك): এর রুকনসমূহ, ওয়াজিবসমূহ এবং সুন্নাহ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের বিধানসমূহ (مناسك) গ্রহণ করো»।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জাকাত ফরজ করেছেন কিন্তু এর পরিমাপসমূহ বর্ণনা করেননি। শস্য, ফলমূল ও ধন-সম্পদ যেগুলোতে জাকাত ওয়াজিব হয়, সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ তিনি দেননি; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সব কিছু বর্ণনা করেছেন এবং তা প্রয়োগ করেছেন।
সুন্নাহ স্পষ্ট করেছে যে, হত্যাকারী উত্তরাধিকারী হয় না, অসিয়ত এক-তৃতীয়াংশের অধিক হতে পারে না এবং ঋণ অসিয়তের চেয়ে অগ্রগণ্য; সুন্নাহ কর্তৃক বর্ণিত এজাতীয় আরো অনেক বিষয় রয়েছে।
ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি এমন এক ব্যক্তিকে বললেন যে ব্যক্তি সুন্নাহ বাদ দিয়ে কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছিল: «নিশ্চয়ই তুমি একজন নির্বোধ ব্যক্তি!! তুমি কি আল্লাহর কিতাবে জোহরের সালাত চার রাকাত এবং তাতে কিরাত উচ্চস্বরে পড়তে হয় না—এমনটি পাও?» এরপর তিনি তার সামনে সালাত, জাকাত এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিধানগুলো একে একে উল্লেখ করলেন। তারপর বললেন: «তুমি কি আল্লাহর কিতাবে এগুলো ব্যাখ্যাসহ পাও? নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাব এগুলোকে অস্পষ্ট (أبهم) রেখেছে এবং সুন্নাহ সেগুলো ব্যাখ্যা করে» (১)।
মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখীরকে বলা হলো: আপনারা আমাদের কাছে কুরআন ব্যতীত অন্য কোনো হাদিস বর্ণনা করবেন না। তখন মুতাররিফ বললেন: «আল্লাহর শপথ! আমরা কুরআনের বিকল্প চাই না, বরং আমরা এমন সত্তার দিকনির্দেশনা চাই যিনি আমাদের চেয়ে কুরআন সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন» (২)।
ইমাম শাফেয়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: «যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিধান গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই তা গ্রহণ করল; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর আনুগত্য করা ফরজ করেছেন»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مَكَانَةُ السُنَّةِ مِنَ التَشْرِيعِ:ورسول الله صلى الله عليه وسلم يُشَرِّعُ عن الله تعالى فيما لا نص فيه من كتاب الله.
روى الإمام أحمد، وأبو داود، والترمذي وغيرهم: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، بَعَثَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ رضي الله عنه إِلَى اليَمَنِ فَقَالَ لَهُ:
«كَيْفَ تَقْضِي إِذَا عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ؟».
قَالَ: «أَقْضِي بِكِتَابِ اللهِ».
قَالَ: «فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللهِ؟».
قَالَ: «فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللهِ».
قَالَ: «فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللهِ؟».
قَالَ: «أَجْتَهِدُ رَأْيِيِ وَلَا آلُو».
فَضَرَبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَىَ صَدْرِهِ، وَقَالَ: «الحَمْدُ للهِ الذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللهِ لِمَا يُرْضِي رَسُولَ اللهِ».
وسيدنا عمر بن الخطاب رضي الله عنه في رسالته في القضاء إلى أبي موسى الأشعري رضي الله عنه والتي بدأها بقوله: «سَلَامٌ عَلَيْكَ، أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ القَضَاءَ فَرِيضَةٌ مُحْكَمَةٌ، وَسُنَّةٌ مُتَّبَعَةٌ».
يقول سيدنا عمر في هذه الرسالة: «الفَهْمَ الفَهْمَ فِيمَا تَلَجْلَجَ فِي صَدْرِكَ مِمَّا لَيْسَ فِي كِتَابٍ وَلَا سُنَّةٍ».
বিধান প্রণয়নে সুন্নাহর মর্যাদা:এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর কিতাবে যে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য (نص) নেই, সে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিধান প্রদান করেন।
ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তাকে বললেন:
«তোমার নিকট যখন কোনো বিচার্য বিষয় উপস্থিত হবে, তখন তুমি কীভাবে ফয়সালা করবে?»
তিনি বললেন: «আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব।»
তিনি বললেন: «যদি তা আল্লাহর কিতাবে না থাকে?»
তিনি বললেন: «তবে আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী।»
তিনি বললেন: «যদি তা আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহতেও না থাকে?»
তিনি বললেন: «আমি আমার বিচারবুদ্ধি দিয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করব এবং কোনো ত্রুটি করব না।»
তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার বক্ষে করাঘাত করলেন এবং বললেন: «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে এমন বিষয়ের তাওফিক দান করেছেন যা আল্লাহর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে।»
এবং আমাদের নেতা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু মুসা আল-াশআরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-র নিকট বিচার বিভাগ সংক্রান্ত যে পত্র লিখেছিলেন, যা তিনি এভাবে শুরু করেছিলেন: «আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর, বিচারকার্য পরিচালনা একটি সুদৃঢ় (محكمة) আবশ্যিক কর্তব্য (فريضة) এবং একটি অনুসৃত (متبعة) সুন্নাহ।»
এই পত্রে আমাদের নেতা উমর বলেন: «যে বিষয়টি আল্লাহর কিতাব বা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আপনার অন্তরে দ্বিধা সৃষ্টি করে, তা গভীরভাবে অনুধাবন (الفهم) করার চেষ্টা করুন।»
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরী লিয়াবদিল হালীম মাহমুদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فجعل سيدنا عمر السُنَّةَ مصدرًا من مصادر التشريع.
ولقد سئل سيدنا أبو بكر رضي الله عنه عن ميراث الجدة فقال: «مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ وَلَكِنْ أَسْأَلُ النَّاسَ»، فسألهم، فقام الْمُغِيرَةُ بْنُ شُُعْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَشَهِدَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهَا السُّدُسَ.
ولم يكن سيدنا عمر بن الخطاب رضي الله عنه يعلم سُنَّةَ الاستئذان حتى أخبره بها أبو موسى الأشعري رضي الله عنه (1).
ولم يكن يعلم أن المرأة ترث من دية زوجها حتى كتب إليه الضحاك بن سفيان، أمير رسول الله صلى الله عليه وسلم، على بعض البوادي يخبره أن رسول الله صلى الله عليه وسلم «وَرَّثَ امْرَأَةَ أَشْيَمَ الضِّبَابِيِّ مِنْ دِيَّةِ زَوْجِهَا».
ولم يكن يعلم حُكْمَ المجوس في الجزية حتى أخبره عبد الرحمن بن عوف: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: «سُنُّوا بِهِمْ سُنَّةَ أَهْلِ الْكِتَابِ».
وَلَمَّا قَدِمَ «سَرْغَ» وَبَلَغَهُ أَنَّ الطَّاعُونَ بِالشَّأْمِ، اسْتَشَارَ المُهَاجِرِينَ الأَوَّلِينَ الذِينَ مَعَهُ، ثُمَّ الأَنْصَارَ، ثُمَّ مُسْلِمَةَ الفَتْحِ فَشَارَ عَلَيْهِ كُلٌّ بِمَا رَأَى، وَلَمْ يُخْبِرْهُ أَحَدٌ بِسُنَّةٍ، حَتَّى قَدِمَ
--------------------------------------------
সুতরাং সাইয়্যিদিনা উমর সুন্নাহকে (سنة) বিধান প্রণয়নের অন্যতম উৎস হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।
সাইয়্যিদিনা আবু বকর (রা.)-এর নিকট দাদির মিরাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই নির্ধারিত নেই, তবে আমি লোকদের জিজ্ঞাসা করব।" অতঃপর তিনি তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করলেন। তখন মুগিরা ইবনে শুবা ও মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (রা.) দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলেন যে, নবী (সা.) তাকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছেন।
আর সাইয়্যিদিনা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) অনুমতি গ্রহণের সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, যতক্ষণ না আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) তাকে সে সম্পর্কে অবহিত করেন (১)।
তিনি জানতেন না যে, স্ত্রী তার স্বামীর রক্তপণ থেকে উত্তরাধিকার লাভ করেন, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কতিপয় মরুপল্লীর আমির দাহহাক ইবনে সুফিয়ান তাকে পত্র মারফত অবহিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আশয়াম আদ-দিবাবির স্ত্রীকে তার স্বামীর রক্তপণ হতে উত্তরাধিকার প্রদান করেছেন।
তিনি জিজিয়ার ক্ষেত্রে মাজুসদের বিধান সম্পর্কেও জানতেন না, যতক্ষণ না আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) তাকে অবহিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা তাদের সাথে আহলে কিতাবদের মতো আচরণ করো।"
আর যখন তিনি 'সারগ' নামক স্থানে পৌঁছালেন এবং সংবাদ পেলেন যে সিরিয়ায় মহামারী দেখা দিয়েছে, তখন তিনি তার সাথে থাকা প্রথম যুগের মুহাজিরদের সাথে পরামর্শ করলেন, অতঃপর আনসারদের সাথে এবং সবশেষে মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণকারীদের সাথে। তখন প্রত্যেকেই নিজ নিজ অভিমত ব্যক্ত করলেন, কিন্তু কেউই কোনো সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে তাকে অবহিত করতে পারলেন না, যতক্ষণ না আসলেন...
--------------------------------------------