(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: -)
سؤالات الترمذي للبخاري حول أحاديث في جامع الترمذي القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: سؤالات الترمذي للبخاري حول أحاديث في جامع الترمذي
المؤلف: يوسف بن محمد الدّخيل النجدي ثم المدني (ت 1431هـ)
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى 1424هـ/2003م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জামে তিরমিজীর হাদীসসমূহ সম্পর্কে বুখারীর প্রতি তিরমিজীর প্রশ্নাবলি বিভাগ: হাদীসের ত্রুটি এবং প্রশ্নাবলি
গ্রন্থ: জামে তিরমিজীর হাদীসসমূহ সম্পর্কে বুখারীর প্রতি তিরমিজীর প্রশ্নাবলি
লেখক: ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আদ-দাখিল আন-নাজদী অতঃপর আল-মাদানী (মৃত্যু ১৪৩১ হি.)
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৪ হি./২০০৩ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৮)
المجلد الأول
مقدمة…ترجمة وافية ومستوعبة للإمام الترمذي "رحمه الله تعالى" تشمل:
اسمه، ونسبه، ونسبته، وكنيته، ومولده، ونشأته، وطلبه للعلم، ورحلته، وصفاته الخلقية والخلقية، وشيوخه، وتلاميذه، وصلته بالإمام البخاري، ومكانته العلمية، وثناء الأئمة عليه، وآثاره، ووفاته.
نبذة يسيرة ومختصرة عن حياة الإمام البخاري "رحمه الله تعالى".
প্রথম খণ্ডভূমিকা…ইমাম তিরমিযী "রাহিমাহুল্লাহ তাআলা"-এর একটি বিস্তারিত এবং ব্যাপক জীবনী, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:
তাঁর নাম, বংশ পরিচয়, নিসবত, উপনাম, জন্ম, বেড়ে ওঠা, ইলম অন্বেষণ, সফর, শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রবৃন্দ, ইমাম বুখারীর সাথে তাঁর সম্পর্ক, তাঁর ইলমী মর্যাদা, তাঁর প্রতি ইমামগণের প্রশংসা, তাঁর রচনাবলী এবং মৃত্যু।
ইমাম বুখারী "রাহিমাহুল্লাহ তাআলা"-এর জীবন সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ আলোচনা।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১২)
المقدِّمَة
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}
--------------------------------------------
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১.
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের একটি প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট অধিকার দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য লাভ করল।}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أما بعد/
فإنه يسرني –وقد تهيأت لي المناسبة- أن أقدّم –في مجال السنة النبوية- هذا الجهد المتواضع الذي أرجو أن يفسح له من القارئ الكريم محل وأن يصادف لديه قبولا.
كما يسرني شرف الانتساب إلى خدمة السنّة المطهّرة وأن أسلك في عداد من أتيحت له فرصة الاتصال بها والاطلاع على بعض جوانبها المشرقة، والتمتع بشيء من أنفاسها العطرة، والارتشاف من معينها الصافي.
وإني إذ أحمد الله سبحانه وتعالى وأشكره على ذلك ليسعدني أن أبدأ فأقدّم للقارئ العزيز:
فكرة موجزة عن موضوع هذه الرسالة مع ذكر أسباب اختياره ومنهج البحث فيه.
كلمة في علم علل الحديث تبحث في:
أهميته، ومنزلته من علوم الحديث، وتعريف العلة لغة واصطلاحاً، وتعريف الحديث المعل، ومواطن العلة، وأنواعها، وكيف تدرك، والطرق الموصلة إليها، وأهم الكتب المؤلفة في علل الحديث، مع ذكر مؤلفيها ووفياتهم.
المؤلفات التي على هذا النمط "السؤالات والأجوبة عليها، في علم الحديث، الموجود منها والمفقود، مع تعريف موجز لكل من السائل والمجيب".
অতঃপর/
আমি আনন্দিত যে—উপযুক্ত সুযোগ লাভ করে—সুন্নাহর ময়দানে এই বিনম্র প্রচেষ্টা পেশ করছি। আমি আশা করি সম্মানিত পাঠক একে গ্রহণ করবেন এবং এটি তাঁর নিকট সমাদৃত হবে।
পবিত্র সুন্নাহর খিদমতে নিজেকে সম্পৃক্ত করার এবং সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ লাভে আমি সম্মানিত বোধ করছি, যাঁদের সুন্নাহর সংস্পর্শে আসার, এর কতিপয় উজ্জ্বল দিক দেখার, এর সুগন্ধিময় সুরভি উপভোগ করার এবং এর স্বচ্ছ প্রস্রবণ হতে সুধা পান করার সুযোগ হয়েছে।
আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আদায় করছি এবং প্রিয় পাঠকের নিকট নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পেশ করাকে সৌভাগ্যের বিষয় মনে করছি:
এই গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা, সাথে এটি নির্বাচনের কারণসমূহ এবং এতে অনুসৃত গবেষণা পদ্ধতি।
ইলমে ইলালুল হাদীস সম্পর্কে একটি আলোচনা, যা অনুসন্ধান করে:
এর গুরুত্ব, হাদীস বিজ্ঞানে এর মর্যাদা, আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ‘ইল্লাত’-এর সংজ্ঞা, ‘মুআল্লাল’ হাদীসের সংজ্ঞা, ইল্লাতের ক্ষেত্রসমূহ, এর প্রকারভেদ, এটি কীভাবে শনাক্ত করা যায় এবং এটি উদঘাটনের পন্থাগুলো; এছাড়া ইলালুল হাদীস বিষয়ে রচিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলি—সেগুলোর রচয়িতাদের নাম ও তাঁদের মৃত্যুসন উল্লেখসহ।
এই ধারার গ্রন্থসমূহ—যেমন: হাদীস বিজ্ঞানের ‘প্রশ্ন ও উত্তর’ বিষয়ক রচনাভলি, যার মধ্যে বিদ্যমান ও বিলুপ্ত উভয় প্রকারের উল্লেখ এবং সেই সাথে প্রত্যেক প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতার একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فكرة موجزة عن موضوع الرسالة
ربما يظن البعض أو يتصور من عنوان هذه الرسالة أنها مخطوطة، وللبيان فإنها ليست كذلك؛ إذ أن موضوع هذه الرسالة أحاديث في "جامع الترمذي" أدار الترمذي حولها سؤالات وجهها لشيخه البخاري ونقل إجابته عليها، وقد قمت بادئ ذي بدء بتتبعها والتقاطها من "جامع الترمذي" ومن ثَمّ جمعها وترتيبها والاشتغال فيها، حتى برزت بهذا الشكل، وهذه الصورة التي نرى.
والحقيقة: أن الله عز وجل هو الذي هداني إلى هذا الموضوع فلم يكن لي سابق علم به وبمضمونه، وما يحمله من مشاق وصعاب، ولم يذكره لي أحد، كما لم أر من نصّ عليه، أو ساقه ضمن مؤلفات الترمذي.
هذا والتزاماً مني بالسير على منهج البحث العلمي الصحيح؛ وأملا في الوصول إلى غاية منشودة ونتيجة حاسمة –حيث أخذت على عاتقي الكتابة في هذا الموضوع- قمت –فيما بعد- بالتأكد والتثبت فيما إذا كان هناك شيء مؤلف بهذا اللقب1 للإمام الترمذي أو لأحد غيره، فسألت بعض ذوي الاختصاص ولكن كانت الإجابة بنفي العلم وعدم الاطلاع.
--------------------------------------------
রিসালার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা
সম্ভবত কেউ কেউ এই রিসালার শিরোনাম দেখে ধারণা করতে পারেন যে এটি একটি পাণ্ডুলিপি, তবে স্পষ্টীকরণের জন্য বলছি যে এটি তেমন কিছু নয়; বরং এই রিসালার বিষয়বস্তু হলো 'জামি আত-তিরমিজি'-তে বর্ণিত কিছু হাদিস, যেগুলোকে কেন্দ্র করে তিরমিজি তাঁর উস্তাদ বুখারির নিকট কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন এবং সেগুলোর উত্তরও বর্ণনা করেছেন। আমি প্রথমত 'জামি আত-তিরমিজি' থেকে সেগুলো অনুসন্ধান ও সংগ্রহ করেছি, এরপর সেগুলোকে সংকলন ও বিন্যস্ত করেছি এবং এগুলোর ওপর কাজ করেছি, শেষ পর্যন্ত তা এই রূপে এবং এই অবয়বে প্রকাশিত হয়েছে যা আমরা দেখছি।
প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহই আমাকে এই বিষয়ের প্রতি পথপ্রদর্শন করেছেন, এ বিষয়ে এবং এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না, আর এটি কতটুকু পরিশ্রম ও কষ্টের কাজ হবে সে সম্পর্কেও ধারণা ছিল না। কেউ আমার কাছে এটি উল্লেখও করেনি, এমনকি ইমাম তিরমিজির রচনাবলির মধ্যেও কাউকে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করতে দেখিনি।
সঠিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আশায়—যেহেতু আমি এই বিষয়ে লেখার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি—পরবর্তীতে আমি বিষয়টি নিশ্চিত ও যাচাই করার চেষ্টা করেছি যে ইমাম তিরমিজি বা অন্য কারো এই শিরোনামে ১ কোনো রচনা আছে কি না। আমি এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু উত্তর ছিল যে এ সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান বা অবগতি নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
كما أني فتشت ونقبت في المظان من فهارس المخطوطات وفهارس كتب السنة ومعاجم المطبوعات، مما قُدِّر لي الاطلاع عليه لعل وعسى إلا أنني لم أقف على ذكر لذلك أو خبر، ومعنى هذا سيظل الباب مفتوحاً حتى نحصل على شيء بهذا الصدد.
وكتتمة لما سبق البدء به فإنه رغم ما شغلته هذه السؤالات وأجوبتها من مواضع في "جامع الترمذي" تربو على الثلاثين موضعاً لم يكتب لها من نبه عليها بخصوصها بصريح العبارة، هذا ما لم يقع لي الظفر به حتى هذه اللحظة.
فلعلها ضاعت في زحمة الأقوال التي يزخر بها الجامع ويشتمل عليها فلم تبرز ككل.
أو أن لتباعدها وتناثرها موزعة هنا وهناك على طول وعرض الكتاب أثره الفعّال في عدم تبيين معالمها وتمييزها وإعطاء الذهن تنبيها عنها.
نعم نوه الترمذي عنها وأشار إليها ضمناً فلم يقتصر على إيرادها فحسب وذلك حين قال في كتابه "العلل الصغير"1 الذي في آخر "الجامع":
--------------------------------------------
তদ্রূপ আমি পাণ্ডুলিপির তালিকা, সুন্নাহর কিতাবসমূহের নির্ঘণ্ট এবং মুদ্রিত কিতাবসমূহের অভিধানের সম্ভাব্য উৎসগুলোতে অনুসন্ধান ও তন্নতন্ন করে খুঁজেছি, যা দেখার সুযোগ আমার হয়েছে, এই আশায় যে—হয়তো কিছু পাওয়া যাবে; কিন্তু আমি এর কোনো উল্লেখ বা সংবাদ পাইনি। এর অর্থ হলো, এই বিষয়ে কোনো কিছু না পাওয়া পর্যন্ত এ সংক্রান্ত দ্বার উন্মুক্তই থাকবে।
পূর্বে যা শুরু করা হয়েছিল তার পরিশিষ্ট হিসেবে বলা যায় যে, এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো 'জামে তিরমিযী'-র ত্রিশটিরও বেশি স্থানে স্থান পেলেও, এগুলোর ওপর বিশেষভাবে স্পষ্ট ভাষায় দৃষ্টি আকর্ষণ করে কেউ কিছু লিখেছেন বলে এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমার নজরে আসেনি।
সম্ভবত 'জামে' যে অসংখ্য উক্তিতে পরিপূর্ণ এবং যা এটি ধারণ করে আছে, সেগুলোর ভিড়ে এগুলো হারিয়ে গেছে, ফলে তা সামগ্রিকভাবে ফুটে ওঠেনি।
অথবা কিতাবজুড়ে এখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং পরস্পরের মধ্যকার দূরত্বের একটি কার্যকর প্রভাব রয়েছে—এগুলোর বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট না হওয়া, এগুলোকে আলাদা করতে না পারা এবং এ সম্পর্কে মনকে সজাগ করতে না পারার পেছনে।
হ্যাঁ, তিরমিযী এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং পরোক্ষভাবে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন, তিনি শুধু তা উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; আর তা তিনি যখন তাঁর 'জামে'-র শেষে সংযোজিত 'আল-ইলালুস সাগীর'১ কিতাবে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
"وما كان فيه –يعني الجامع- من ذكر العلل في الأحاديث والرجال والتاريخ فهو ما استخرجته من كتاب "التاريخ1" وأكثر ذلك ما ناظرت به محمد بن إسماعيل ومنه ما ناظرت به عبد الله بن عبد الرحمن وأبا زرعة وأكثر ذلك عن محمد وأقل شيء فيه عن عبد الله وأبي زرعة" اه.
فإذا كان للترمذي أن يثبت رأي البخاري مثلا الذي جاء نتيجة المناظرة معه مجرداً من أي دلالة على ذلك، فإنه لا أصدق ولا أدلّ على المناظرة من هذه الأسئلة والأجوبة إذ المناظرة في الأصل المحاورة والمناقشة والمباحثة والمذاكرة وهذا ما تمثله هذه الأسئلة والأجوبة وتصوره تصويراً ظاهراً وحياً.
فلا يبقى إلا أن نهتدي من خلال كلام الترمذي ذلك إلى هذه الأسئلة والأجوبة التي يحويها "الجامع".
وإذا كنا بصدد إعطاء فكرة موجزة عن مختلف محتويات الأسئلة والأجوبة موضوع هذه الرسالة، فإنه بعد استعراض السؤالات وتقليب النظر فيها أمكن توزيعها على النحو الآتي:
القسم الأول: "أسئلة تختص بالرواة" وهي على أنواع:-
النوع الأوّل: يتعلق بطلب الكشف عن بعض الرواة ومعرفة
--------------------------------------------
"আর এতে—অর্থাৎ আল-জামি'-তে—হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইলাল), বর্ণনাবৃন্দ (রিজাল) এবং ইতিহাস সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ রয়েছে, তা আমি 'আত-তারিখ' (১) গ্রন্থ থেকে আহরণ করেছি। এর অধিকাংশই এমন যা নিয়ে আমি মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের সাথে আলোচনা ও বিতর্ক করেছি; আর কিছু অংশ এমন যা নিয়ে আমি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান এবং আবু যুরআর সাথে আলোচনা করেছি। এর সিংহভাগ মুহাম্মদ থেকে এবং অতি সামান্য অংশ আবদুল্লাহ ও আবু যুরআ থেকে এসেছে।" সমাপ্ত।
তিরমিযী যদি বুখারীর সেই মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করেন যা তাঁর সাথে আলোচনার ফলস্বরূপ এসেছে এবং সেখানে যদি এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উল্লেখ না থাকে, তবে এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলোর চেয়ে বড় কোনো সত্যতা বা দলিল সেই আলোচনার জন্য হতে পারে না। কেননা মূলত আলোচনা (মুনাজারা) হলো কথোপকথন, পর্যালোচনা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা (মুজাকারা); আর এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলোই সেই বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে এবং জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলে।
এখন কেবল ইমাম তিরমিযীর সেই বক্তব্যের সূত্র ধরে আমাদের সেই প্রশ্ন ও উত্তরগুলোর দিকে পথ খুঁজে নেওয়া বাকি থাকে যা "আল-জামি'" গ্রন্থটি ধারণ করে আছে।
আর আমরা যদি এই গবেষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু অর্থাৎ বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তরের উপাদান সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দিতে চাই, তবে প্রশ্নগুলো পর্যালোচনা ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের পর সেগুলোকে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করা সম্ভব:
প্রথম বিভাগ: "বর্ণনাকারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলি" এবং এগুলো কয়েক প্রকার:-
প্রথম প্রকার: কতিপয় বর্ণনাকারী সম্পর্কে তথ্য উন্মোচন এবং তাদের পরিচয় জানা সংক্রান্ত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أسمائهم، كأن يكون الراوي المسئول عنه مبهماً كما في الحديث الرابع والحديث التاسع والعشرين، أو مذكوراً بكنية ونسبته، كما في الحديث السابع والثامن.
النوع الثاني: يتعلق بمعرفة سماع بعض الرواة من بعض أو عدمه مما يتوقف عليه اتصال الحديث أو انقطاعه. وهذا كما في الحديث الخامس والحديث الحادي والثلاثين.
النوع الثالث: يتصل بمعرفة أحوال بعض الرواة جرحاً وتعديلاً (علم ميزان الرجال) . وهذا كما في الحديث التاسع والحديث السادس والعشرين والحديث الأخير.
القسم الثاني: "أسئلة حول الصناعة الحديثيّة" وهي على نوعين:
النوع الأوّل: يتناول ناحية معينة في الحديث بغية الوصول إلى إيجاد حل ومخرج لها.
وذلك كأن يكون الحديث مختلفاً فيه فيلتمس ما يرفع الاختلاف ويزيله.
وهذا كما في الأحاديث الأول والثاني والحادي عشر والثاني عشر والثامن عشر.
أو أن يكون الحديث ورد متصلا ومرسلا والهدف الوقوف على الراجح والصحيح من ذلك. وهذا كما في الحديث السادس.
তাদের নামসমূহ, যেমন যার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে সেই বর্ণনাকারী অস্পষ্ট হওয়া, যেমনটি চতুর্থ এবং ঊনত্রিশতম হাদিসে রয়েছে; অথবা তাকে কুনিয়াত (উপনাম) এবং নিসবাত (সম্পর্কিত নাম) দ্বারা উল্লেখ করা, যেমনটি সপ্তম এবং অষ্টম হাদিসে রয়েছে।
দ্বিতীয় প্রকার: কিছু বর্ণনাকারী কর্তৃক অন্য বর্ণনাকারীদের থেকে সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি জানা বা না জানা সংক্রান্ত, যার ওপর হাদিসের সংযোগ বা বিচ্ছেদ নির্ভর করে। আর এটি যেমন পঞ্চম হাদিস এবং একত্রিশতম হাদিসে রয়েছে।
তৃতীয় প্রকার: কিছু বর্ণনাকারীর অবস্থা জানা সংক্রান্ত অর্থাৎ জারহ এবং তা’দীল (ইলমে মিযানুর রিজাল)। আর এটি যেমন নবম হাদিস, ছাব্বিশতম হাদিস এবং সর্বশেষ হাদিসে রয়েছে।
দ্বিতীয় বিভাগ: "হাদিস শাস্ত্রীয় কলাকৌশল সংক্রান্ত প্রশ্নাবলী" এবং এটি দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: হাদিসের কোনো একটি নির্দিষ্ট দিক নিয়ে আলোচনা করা, যার উদ্দেশ্য হলো এর কোনো সমাধান এবং উত্তরণের পথ খুঁজে বের করা।
আর তা এমন যে, হাদিসটির বিষয়ে মতভেদ থাকতে পারে, ফলে এমন কিছু অন্বেষণ করা হয় যা সেই মতভেদ দূর করবে এবং তা নিরসন করবে।
আর এটি যেমন প্রথম, দ্বিতীয়, একাদশ, দ্বাদশ এবং অষ্টাদশ হাদিসসমূহে রয়েছে।
অথবা হাদিসটি সংযুক্ত (মুত্তাসিল) এবং বিচ্ছিন্ন (মুরসাল) উভয় ভাবে বর্ণিত হওয়া এবং এর লক্ষ্য হলো এর মধ্য থেকে অগ্রগণ্য এবং সঠিকটি চিহ্নিত করা। আর এটি যেমন ষষ্ঠ হাদিসে রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
النوع الثاني: على العكس من سابقه، ويمثل غالبية الأسئلة؛ إذ لا يحدد طلبا معيناً في الحديث، فنجد الترمذي يطلق السؤال عن حكم الحديث عموماً، فيقول مثلا: "وسألت محمداً عن هذا الحديث".
هذا وأما بالنسبة للأجوبة فإنها تتسم بالدقة والعمق والإيجاز الشديد الذي يعرف به البخاري، مما يحتاج معه إلى تأمل طويل، وتدبر قوي على أنها أحياناً اقتصرت على التلويح دون التصريح، كما هي عادة البخاري، قال المعلمي في مقدمة تحقيقه لكتاب "موضح أوهام الجمع والتفريق"1 للخطيب البغدادي: "وللبخاري رحمه الله ولع بالاجتراء بالتلويح عن التصريح كما جرى عليه في مواضع من "جامعه الصحيح" حرصاً منه على رياضة الطالب، واجتذاباً له إلى التنبيه، والتيقظ، والتفهم".
والحقيقة أن ذلك أتعبني جداً، وأخذ مني جهداً عظيماً ووقتاً كبيراً في فهمها، وفي معرفتها، وحلها، ومن ثَمّ بسطها، والكشف عن مراميها.
ولا أذيع سراً إذا قلت: إن البخاري كان موفقاً جداً في إجاباته، وعلى جانب عظيم من الورع، والتواضع، والحيطة،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় প্রকার: এটি পূর্বেরটির বিপরীত এবং এটিই অধিকাংশ প্রশ্নের প্রতিনিধিত্ব করে; কারণ এতে হাদিসের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো চাহিদা নির্ধারণ করা হয় না। আমরা দেখতে পাই যে, তিরমিজি হাদিসের হুকুম বা মান সম্পর্কে সাধারণভাবে প্রশ্ন করেন, উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন: "এবং আমি এই হাদিসটি সম্পর্কে মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করেছি।"
আর উত্তরের ক্ষেত্রে বলতে হয় যে, সেগুলো ইমাম বুখারির স্বভাবজাত সূক্ষ্মতা, গভীরতা এবং চরম সংক্ষিপ্ততার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যার জন্য দীর্ঘ চিন্তা ও প্রগাঢ় গবেষণার প্রয়োজন হয়। অধিকন্তু, এগুলো কখনও কখনও স্পষ্ট বর্ণনার পরিবর্তে কেবল ইশারা-ইঙ্গিতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যেমনটি বুখারির রীতি। খতিব বাগদাদীর 'মুদিহ আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরিক' গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকায় আল-মুয়াল্লিমি বলেছেন: "ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর স্পষ্ট বিবৃতির পরিবর্তে ইঙ্গিত প্রদানের মাধ্যমে সারসংক্ষেপ করার প্রতি এক ধরণের বিশেষ ঝোঁক ছিল, যেমনটি তাঁর 'জামে সহিহ'-এর বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে। এটি তিনি করেছেন ছাত্রের মেধা চর্চা করানো এবং তাকে সজাগ, সতর্ক ও গভীর অনুধাবনের প্রতি আকৃষ্ট করার তাগিদে।"
প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি আমাকে অত্যন্ত পরিশ্রান্ত করে দিয়েছে এবং এগুলো বুঝতে, চিনতে, সমাধান করতে এবং পরবর্তীতে তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে ও এর গূঢ় রহস্য উন্মোচন করতে আমার প্রচুর শ্রম ও দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে।
আমি কোনো গোপন বিষয় ফাঁস করছি না যদি বলি যে: ইমাম বুখারি তাঁর উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সঠিক ও সফল ছিলেন এবং তিনি পরহেজগারি, বিনয় ও চরম সতর্কতার এক অনন্য উচ্চতায় ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২০)
والتحري، والتحفظ بعيداً عن المجازفة والإسفاف في القول، والتهور والتسرع في إصدار الأحكام، مما يفيدنا نحن في التريث والتثبت حينما نريد أن نُقْدِم على إصدار حكم، أو إعطاء إجابة على شيء ما.
وليس هذا غريباً على البخاري المعروف بسداد الرأي، وقوة العلم، وخدمة السنّة النبويّة، لا سيما وهو في مستوى العالم العامل المجرب الذي منحه الله نفاذاً في البصر، ونوراً في البصيرة.
فمن أجل ذلك تراه يجيب في بعض الأحيان بالاحتمال أو التخمين من غير قطع أو جزم، فيقول: يحتمل كذا، وأرى كذا.
كما تراه يقف على بعض السؤالات ولا يتعاظم أن يقول بملء فيه: لا أدري عن كذا، أولا أعرف ذا، من غير أن ينقص ذلك من معارفه الواسعة أو يمس مقداره، وهذا هو شأن كثير من كبار المحدثين، فإنهم لم يدعوا الإحاطة والمعرفة بكل شيء، مما يعطي انطباعاً حسناً عن حال سلفنا الصالح في عدم تحمل الإجابة والإقدام عليها بغير علم، "وإنهم يريدون بعلمهم وجه الله تعالى؛ فإن من يريد غير وجه الله
এবং অনুসন্ধান, এবং ঝুঁকি ও অসার কথাবার্তা এবং রায় প্রদানে হঠকারিতা ও তাড়াহুড়ো থেকে দূরে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা; যা আমাদের ধৈর্য ধারণ এবং যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে উপকৃত করে যখন আমরা কোনো রায় দিতে বা কোনো বিষয়ে উত্তর দিতে চাই।
আর এটি ইমাম বুখারীর ক্ষেত্রে কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়, যিনি তাঁর সঠিক অভিমত, অগাধ পাণ্ডিত্য এবং সুন্নাহর সেবার জন্য সুপরিচিত; বিশেষ করে যখন তিনি একজন অভিজ্ঞ আমলকারী আলেমের স্তরে উন্নীত ছিলেন, যাকে আল্লাহ তায়ালা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং অন্তর্দৃষ্টির নূর দান করেছিলেন।
একারণেই আপনি তাঁকে দেখবেন যে, কখনো কখনো তিনি অকাট্য বা নিশ্চিতভাবে না বলে বরং সম্ভাবনা বা অনুমানের ভিত্তিতে উত্তর দেন, এবং বলেন: "এর সম্ভাবনা এমন" অথবা "আমি মনে করি এমন"।
তেমনি আপনি তাঁকে কিছু প্রশ্নের ক্ষেত্রে থমকে যেতে দেখবেন এবং তিনি পূর্ণ মুখে বলতে কুণ্ঠাবোধ করেন না যে: "এ বিষয়ে আমি জানি না" অথবা "এটি আমার জানা নেই"; এটি তাঁর বিস্তৃত জ্ঞানের কোনো ঘাটতি ঘটায় না কিংবা তাঁর মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ন করে না। আর এটিই ছিল বড় বড় মুহাদ্দিসগণের রীতি; তাঁরা সব বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান বা পরিবেষ্টনের দাবি করেননি। যা আমাদের সালাফে সালেহীনদের অবস্থা সম্পর্কে একটি সুন্দর ধারণা দেয় যে, তাঁরা জ্ঞান ছাড়া উত্তর দেওয়ার বোঝা বহন করতেন না এবং কোনো বিষয়ে অগ্রসর হতেন না। "আর তাঁরা তাঁদের ইলমের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি কামনা করতেন; কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছু চায়..."
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২১)
بعلمه لا تسمح نفسه بأن يقر على نفسه بأنه لا يدري"1
ولا ريب أن هذا يزيدنا تعلقاً بهم، واطمئناناً إلى أحكامهم، ووثوقاً بها، وأنهم بحق حماة الشريعة والقائمون عليها، الذين اختارهم الله للذود عنها، والذب عن كيانها.
ونحن إذا استعرضنا إجابات البخاري نجدها قد أغنت الرسالة بدسامة مادتها وأصالة جوهرها، وأمدت البحث بأشياء كثيرة فكشفت لنا عن أمور في غاية الأهمية اعتمد عليها البحث إلى حد بعيد، بل اعتمدت عليها كثير من المصادر الحديثيّة، كما ساعدت على حل بعض المشكلات العلمية إلى البت والجزم في بعض القضايا الحديثيّة، ولم تخل من إبداء آراء لها قيمتها وإضافة معلومات جديدة وضرورية يحتاج إليها المقام، وبدونها يبقى فراغ.
فمن ذلك أنها أوقفتنا على مكانة بعض رجال الحديث جرحاً وتعديلا مما يترتب عليه قبول الحديث أورده.
كما تناولت بالمقارنة والترجيح بعض الرواة الضعفاء، مما يفيدنا عند المعارضة.
--------------------------------------------
তাঁর পাণ্ডিত্যের কারণে তাঁর অন্তর স্বয়ং এটি স্বীকার করতে দেয় না যে, তিনি জানেন না।১
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি তাঁদের প্রতি আমাদের আসক্তি এবং তাঁদের সিদ্ধান্তসমূহের প্রতি আমাদের প্রশান্তি ও আস্থা বাড়িয়ে দেয়। আর তাঁরাই প্রকৃত অর্থে শরীয়তের রক্ষক ও এর অতন্দ্র প্রহরী, যাঁদেরকে আল্লাহ তা'আলা শরীয়তকে রক্ষা করার জন্য এবং এর অস্তিত্ব সুরক্ষার জন্য মনোনীত করেছেন।
আমরা যদি ইমাম বুখারীর উত্তরগুলো পর্যালোচনা করি, তবে দেখতে পাব যে তা এর উপাদানের গভীরতা এবং মৌলিকত্বের মাধ্যমে এই গবেষণাপত্রকে সমৃদ্ধ করেছে। এটি গবেষণাকে প্রভূত উপকরণ সরবরাহ করেছে এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এমন সব বিষয় আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছে, যার ওপর এই গবেষণা অনেকাংশেই নির্ভর করেছে। বরং হাদীসের অনেক উৎসগ্রন্থই এর ওপর নির্ভর করেছে। পাশাপাশি এটি কিছু ইলমী সমস্যার সমাধান করতে এবং হাদীস শাস্ত্রের কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। এটি মূল্যবান মতামত প্রদান এবং এই প্রসঙ্গের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন তথ্য যোগ করা থেকে মুক্ত ছিল না, যা ব্যতীত সেখানে একটি শূন্যতা বিরাজ করত।
এর মধ্যে একটি হলো, এটি আমাদের হাদীসের কিছু বর্ণনাকারীর জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা) সংক্রান্ত মর্তবা সম্পর্কে অবগত করেছে, যার ওপর ভিত্তি করে হাদীস গ্রহণ বা বর্জন নির্ভর করে।
অনুরূপভাবে, এটি কিছু দুর্বল বর্ণনাকারীর মধ্যে তুলনা ও প্রাধান্য নির্ধারণের বিষয়টিকে আলোচনা করেছে, যা বিরোধপূর্ণ বর্ণনার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য কল্যাণকর হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وعن لقيا الرواة وسماع بعضهم من بعض، فقد ساهمت باطلاعنا على جانب من ذلك، فعرفتنا الثابت منه وغير الثابت، مما يكشف لنا عن اتصال الحديث أو انقطاعه.
كما أوضحت أسماء رواة ذكروا بكناهم أو العكس.
وفيما يختص بالأحاديث والكلام عليها وبيان حالها، فقد اعتنت بذكر درجات بعض الأحاديث من الصحة أو الحسن كما حكمت على بعضها بالضعف أو النكارة.
وفي التعرف على مسلك البخاري الذي سلكه في هذه الأجوبة في تصحيح الأحاديث وتضعيفها.
فإنه أحياناً يعل الحديث بذكر طريق أخرى راجحة، تدل على موضع العلة في ذلك الحديث، وذلك كما في الحديث الثالث، والحديث الثالث عشر، والحديث السادس عشر.
وقد يعل الحديث المرفوع بالوقف؛ بأن يرويه موقوفاً، وأحياناً يكتفي بإعلاله بذلك من غير أن يسوق الطريق إلى الموقوف عليه، كما في الحديث السابع عشر والعشرين.
وفي مجال المقارنة النقديّة بين الروايات فإنه أحياناً يرجح رواية على أخرى مصرحاً بصحة الرواية الراجحة، وصوابها
বর্ণনাকারীদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ এবং একে অপরের থেকে শ্রবণের বিষয়টি সম্পর্কে এটি আমাদের অবগত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছে। এটি আমাদের নিকট কোনটি সাব্যস্ত আর কোনটি সাব্যস্ত নয় তা পরিচিত করেছে, যা হাদিসের সনদ নিরবচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা বিচ্ছিন্ন হওয়া আমাদের নিকট উন্মোচিত করে।
অনুরূপভাবে, এটি এমন সব বর্ণনাকারীর নাম স্পষ্ট করেছে যাদেরকে কেবল তাদের উপনামে উল্লেখ করা হয়েছিল অথবা এর বিপরীতটি করা হয়েছিল।
আর হাদিসসমূহ, সেগুলোর ওপর পর্যালোচনা এবং সেগুলোর অবস্থা বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি কিছু হাদিসের স্তর—যেমন সহিহ বা হাসান হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। তেমনিভাবে কোনো কোনো হাদিসের ওপর দুর্বলতা (যয়িফ) বা আপত্তিকর (মুনকার) হওয়ার হুকুম প্রদান করেছে।
ইমাম বুখারী হাদিস সহিহ বা যয়িফ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই উত্তরগুলোতে যে কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তা জানার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক।
তিনি কখনো কখনো অন্য একটি অগ্রগণ্য সূত্রের উল্লেখ করার মাধ্যমে হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেন, যা ওই হাদিসের ত্রুটির স্থানটিকে নির্দেশ করে। যেমনটি তৃতীয় হাদিস, ত্রয়োদশ হাদিস এবং ষোড়শ হাদিসের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
আবার কখনো তিনি মারফু’ হাদিসকে মাওকুফ সাব্যস্ত করার মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ ঘোষণা করেন; অর্থাৎ তিনি হাদিসটিকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেন। আবার কখনো কখনো মাওকুফ হওয়ার সূত্রের বর্ণনা উল্লেখ না করেই কেবল ত্রুটি বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন; যেমনটি সপ্তদশ ও বিংশতম হাদিসের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
আর বর্ণনাগুলোর মাঝে তুলনামূলক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তিনি কখনো কখনো একটি বর্ণনাকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেন এবং সেই অগ্রগণ্য বর্ণনাটির বিশুদ্ধতা ও সঠিক হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وخطأ وغلط الرواية المرجوحة، وأحياناً يكتفي في ذلك كله بالإشارة والتلميح، وهذا كما في الحديث الثاني عشر، والثاني والعشرين، والخامس والعشرين، والثاني والثلاثين. ويحصل أنه يجزم بترجيح رواية على روايات أخرى، ثم يعمد إلى محاولة يجمع فيها بين تلك الروايات كلها باحتمال يذكره، كما في الحديث الثامن عشر.
وقد يعل الحديث بالإرسال، معيناً من وقع منه الخطأ باتصاله ورفعه، كما في الحديث التاسع عشر.
وفي الاختلاف بين الوصل والانقطاع، فإنه يبين الراجح والصواب في ذلك مصحوباً بالدليل، وهذا كما في الحديث السادس.
এবং তিনি মারজুহ বা দুর্বল বর্ণনার ভুল ও ভ্রান্তি স্পষ্ট করেন। কখনও কখনও তিনি এই সব ক্ষেত্রে কেবল ইঙ্গিত বা ইশারার ওপর নির্ভর করেন; যেমনটি দ্বাদশ, দ্বাবিংশ, পঞ্চবিংশ এবং দ্বাত্রিংশ হাদীসের ক্ষেত্রে হয়েছে। কখনও এমন হয় যে, তিনি অন্য সব বর্ণনার বিপরীতে একটি বর্ণনাকে অগ্রগণ্য বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন, অতঃপর তিনি একটি সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করে সেই সমস্ত বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করার প্রয়াস পান; যেমনটি অষ্টাদশ হাদীসে দেখা যায়।
আবার কখনও কখনও তিনি হাদীসকে 'মুরসাল' হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেন এবং হাদীসটিকে 'মুত্তাসিল' ও 'মারফু' হিসেবে বর্ণনা করার মাধ্যমে কে ভুল করেছেন তা নির্দিষ্ট করে দেন; যেমনটি উনবিংশ হাদীসে রয়েছে।
আর সনদ সংযুক্ত হওয়া এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার মধ্যকার মতভেদের ক্ষেত্রে তিনি দলীলসহ সঠিক ও অগ্রগণ্য মতটি স্পষ্ট করেন; যেমনটি ষষ্ঠ হাদীসে দেখা যায়।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
اختيار الموضوع إذا كان كثير ممن يكتب في الرسائل الجامعية اعتاد أن يعطي في المقدمة جواب سؤال تقليدي وهو: "ما الداعي لاختيار هذا الموضوع؟ "
فإن سبب اختياري لهذا الموضوع: "سؤالات الترمذي للبخاري" والتصدي له بالكتابة والبحث فيه يتبدى في النقاط التالية:
أولاً: هو أنني رأيت أنه أولى الموضوعات التي فكرت فيها؛ لما يحمله من طابع الجدة حسب اعتقادي، وموطن الجدة فيه يكمن في حصر أسئلة الترمذي المتفرقة في "جامعه" وأجوبة شيخه البخاري عليها في مكان واحد ولأول مرة؛ إذ لم يسبق –فيما أعلم- أنها جمعت في مؤلف مستقل؛ ليتسنى للمطالع الوقوف عليها ككل، وبالتالي الرجوع إلى شيء منها وقت الحاجة.
وقبل هذا وذاك فإنه يمكن بعد تبين أمرها ألاّ تعدم مشتغلا في جانب منها آخر يراه ضرورياً وتدعو إليه الحاجة.
ولا يكفي وجودها مبثوثة في "جامع الترمذي"؛ لأن ذلك –في نظري- لا يؤلف وحدة متكاملة لها، كما لا استبعد أن مجيئها على ذلك النحو سبَّبَ ويسبِّبُ عدم التنبه لها.
বিষয় নির্বাচন: যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণাপত্র রচয়িতাদের অনেকেরই অভ্যাস হলো ভূমিকার মধ্যে একটি চিরাচরিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, আর সেটি হলো: "এই বিষয়টি নির্বাচনের কারণ কী?"
"বুখারীর প্রতি তিরমিযীর প্রশ্নসমূহ" নামক এই বিষয়টি নির্বাচন এবং এর ওপর লেখনী ধারণ ও গবেষণার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণগুলো নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
প্রথমত: আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমি যে বিষয়গুলো নিয়ে ভেবেছিলাম সেগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে অগ্রগণ্য; কারণ আমার বিশ্বাস মতে এতে নতুনত্বের ছাপ রয়েছে। আর এর নতুনত্ব নিহিত রয়েছে তাঁর "জামে" গ্রন্থে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তিরমিযীর প্রশ্নসমূহ এবং সেগুলোর বিপরীতে তাঁর উস্তাদ বুখারীর উত্তরগুলোকে প্রথমবারের মতো এক স্থানে একত্রিত করার মধ্যে; যেহেতু আমার জানামতে ইতিপূর্বে এগুলোকে স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থে সংকলন করা হয়নি; যাতে পাঠক সামগ্রিকভাবে এগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করতে পারেন এবং ফলস্বরূপ প্রয়োজনে এগুলোর কোনো একটির দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন।
আর এসবের আগে ও পরে কথা হলো, বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর এমন কোনো গবেষকের অভাব হবে না যিনি এর অন্য কোনো দিক নিয়ে কাজ করবেন যা তিনি প্রয়োজনীয় মনে করেন এবং যার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।
আর "জামে তিরমিযী"তে এগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকাই যথেষ্ট নয়; কারণ আমার দৃষ্টিতে এটি এগুলোর জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ সংহতি তৈরি করে না। তেমনিভাবে আমি এই সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছি না যে, এগুলোর এইভাবে উপস্থাপিত হওয়াটাই এগুলোর প্রতি মনোযোগ না দেওয়ার কারণ ছিল এবং বর্তমানেও তা-ই ঘটছে।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ثانياً: ما يراودني من الأمل في أن تقف هذه السؤالات وأجوبتها بجانب أخواتها آخذة مكانها الذي ينتظرها تذكر إذا ذكرت، فإنه آن الأوان لتبرز مستقلة تضارع مثيلاتها.
ولا شك أن نزع تلك السؤالات والأجوبة عليها من جامع الترمذي فكرة ضرورية، لا سيما أنها لإمام المحدثين، وأمير المؤمنين في الحديث أبي عبد الله البخاري، وتلميذه الترمذي.
وكم يصعب على النفس أن تذكر المؤلفات المماثلة ولا تجد بينها سؤالات الترمذي ورد شيخه البخاري عليها.
ثالثاً: ما يتسم به هذا الموضوع –في نظري- من طرافة، وما يحمله من مفاجآت علمية، وقضايا حديثيّة مهمة، سواء في الأسئلة أو في الأجوبة.
وحقاً إن موضوعاً كهذا قائم على الحوار، وعلى شبه المجاذبة والمناظرة بين طرفين لا بد من أن يستميل النفوس ويحظى بإقبالها عليه.
وأينا لا يستهويه أسلوب الحوار وهو أسلوب شيق، ومحبب إلى النفس يطرد الملل، ويدفع السأم، ويربط الذهن بدورة منتظمة، ويجعله أكثر تفتحاً وتجاوباً.
وإنك لتجد هذا التفاعل واضحاً هنا في ترقب كيفية سؤال
দ্বিতীয়ত: আমার হৃদয়ে এই আশা জাগ্রত হয় যে, এই প্রশ্নগুলো এবং এগুলোর উত্তরসমূহ তার সমজাতীয় কাজগুলোর পাশে স্থান করে নেবে এবং যখনই সেগুলোর কথা স্মরণ করা হবে, তখন এটিও স্মরণে আসবে। কেননা, এখন সময় এসেছে যে এটি স্বতন্ত্রভাবে আত্মপ্রকাশ করে তার সমপর্যায়ের কাজগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।
এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জামি আত-তিরমিযী থেকে এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলোকে পৃথক করে নেওয়া একটি প্রয়োজনীয় চিন্তা, বিশেষ করে যখন এগুলো মুহাদ্দিসগণের ইমাম এবং হাদীস শাস্ত্রের আমীরুল মুমিনীন আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী এবং তাঁর ছাত্র তিরমিযীর (জ্ঞানগর্ভ আলোচনার ফসল)।
আর মনের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টকর যে, যখন সমজাতীয় গ্রন্থগুলোর কথা আলোচনা করা হয়, অথচ সেখানে তিরমিযীর প্রশ্নসমূহ এবং সেগুলোর ওপর তাঁর শাইখ বুখারীর উত্তরগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না।
তৃতীয়ত: আমার দৃষ্টিতে এই বিষয়টি তার অভিনবত্বের কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং এটি যে বৈজ্ঞানিক চমক ও গুরুত্বপূর্ণ হাদীসতত্ত্বীয় মাসায়েল বহন করে—চাই তা প্রশ্নের ক্ষেত্রে হোক বা উত্তরের ক্ষেত্রে।
প্রকৃতপক্ষে, এমন একটি বিষয় যা সংলাপ এবং দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের যুক্তি-তর্ক ও বিতর্কের সদৃশ আবহের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা অবশ্যই মানুষের মনকে আকৃষ্ট করবে এবং সবার নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে।
আর আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যাকে সংলাপের পদ্ধতি বিমোহিত করে না? অথচ এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় পদ্ধতি এবং মনের কাছে অত্যন্ত প্রিয়, যা একঘেয়েমি দূর করে, অবসাদ অপসারিত করে এবং মস্তিষ্ককে একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করে একে আরও বেশি উন্মুক্ত ও সংবেদনশীল করে তোলে।
আর আপনি এখানে এই পারস্পরিক ক্রিয়াটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন, যখন প্রশ্নের ধরন কেমন হবে তা জানার প্রতীক্ষায়...
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الترمذي، وفي ترقب الجواب عنه، وفي تصور هذه الحركة الفكرية العلمية بين هذين الإمامين إذ يتقدم أحدهما من الآخر، ولا يضيره أن يخرج بمخرج التلميذ والمستفيد، ويجيبه الآخر ولا يتوانى في إفادته، والرد على استفساراته.
والحق يقال إن الترمذي بإثارته هذه الأسئلة شد انتباهنا وحرك أذهاننا وأكسبنا متابعته في كل الأحاديث التي سأل عنها، وأشركنا معه، وكأننا حاضرون نسمع سؤاله ونصغي جميعاً باحترام لجواب شيخه البخاري عليه.
رابعاً: أن هذا الموضوع يلتقي مع رغبة المشرف السابق فضيلة الدكتور محمد أمين المصري "رحمة الله تعالى" فإنه كان يوجه أنظارنا أثناء الدراسة التمهيدية إلى بذل الاعتناء بالسنن الأربعة أبي داود، والترمذي والنسائي، وابن ماجه، والانصراف إلى خدمتها وإعطائها الأولوية في الاشتغال بها لحاجتها.
لذلك وجدتني مقبلا عليه مائلا إليه لأنه يمثل جزءاً من العمل في "سنن الترمذي" وهو جزء –كما يبدو لي- مهم.
كل ذلك وغيره مما لم أذكره شجعني على الإقدام على هذا الموضوع والسير فيه، وشدني للمساهمة، وبذل الجهد والوقت واستفراغ الوسع؛ شعوراً بالمسؤولية، وخدمة للعلم، وسداً لباب وقفت عليه، وتقديراً لهذين الرجلين
তিরমিযী, এবং তাঁর থেকে উত্তরের অপেক্ষায় থাকা, এবং এই দুই ইমামের মধ্যবর্তী বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈজ্ঞানিক আন্দোলনের চিত্রায়ণে, যখন তাদের একজন অন্যজনের নিকট অগ্রসর হন, এবং এতে তাঁর কোনো ক্ষতি হয় না যে তিনি একজন ছাত্র ও উপকারভোগী হিসেবে আবির্ভূত হন, আর অপরজন তাঁকে উত্তর দেন এবং তাঁকে উপকৃত করতে ও তাঁর জিজ্ঞাসার জবাব দিতে কোনো দ্বিধা করেন না।
সত্য বলতে কি, ইমাম তিরমিযী এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করার মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং আমাদের মস্তিস্ককে সচল করেছেন। তিনি যে সকল হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন সেগুলোতে আমাদের তাঁর অনুগামী করেছেন এবং আমাদের তাঁর সাথে এমনভাবে শরিক করেছেন যেন আমরা সেখানে উপস্থিত রয়েছি, তাঁর প্রশ্ন শুনছি এবং তাঁর শায়খ ইমাম বুখারীর উত্তরের প্রতি আমরা সবাই শ্রদ্ধার সাথে কর্ণপাত করছি।
চতুর্থত: এই বিষয়টি প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক শ্রদ্ধেয় ডক্টর মুহাম্মদ আমিন আল-মিসরী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর ইচ্ছার সাথে সংগতিপূর্ণ। কেননা তিনি প্রাথমিক অধ্যয়নের সময় আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ—এই চারটি সুনান গ্রন্থের প্রতি যত্নবান হওয়ার এবং সেগুলোর প্রয়োজন হেতু সেগুলোর খিদমতে আত্মনিয়োগ ও সেগুলোর কাজে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন।
তাই আমি নিজেকে এর প্রতি অগ্রসর ও আগ্রহী পেয়েছি, কারণ এটি "সুনান আত-তিরমিযী"র ওপর কাজের একটি অংশ উপস্থাপন করে, যা আমার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
এসব কিছু এবং এ ছাড়া যা আমি উল্লেখ করিনি, তা আমাকে এই বিষয়টি গ্রহণ করতে এবং এতে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করেছে। এটি আমাকে অবদান রাখতে, শ্রম ও সময় ব্যয় করতে এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করতে অনুপ্রাণিত করেছে; যা দায়বদ্ধতার অনুভূতি থেকে, ইলমের খিদমতে, আমার সামনে উন্মোচিত একটি শূন্যস্থান পূরণে এবং এই মহৎ দুই ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
البخاري، والترمذي، واعترافاً بفضلهما وما قدماه لأمة محمد صلى الله عليه وسلم.
وعلى الرغم من صعوبته التي لا تخفى فإنه في "علل الحديث" أدقّ علم وأعوصه، الذي لا يجيده إلا الأفذاذ من العلماء الحفاظ ذوي الفهم الثاقب والنظر النافذ. ولا أدل على ذلك من إدخال المصنف معظم هذه الأحاديث في كتابه "العلل الكبير" وقد نبهت على هذا في مواضعه.
أضف إلى ذلك أن الترمذي إمام لا يَسْأل إلا عما هو مهم ومجدي، أو عما عسر عليه التوصل إلى البت في أمره، وأن البخاري شيخه الذي يتوجه بأسئلته إليه إمام أعظم منه، فلتوقفه في الإجابة وزن، ولمخالفته غيره في الرأي شأن، ولإجابته المحتملة سر.
فكون الموضوع في علل الحديث، وكونه يعزى للإمامين الكبيرين البخاري، والترمذي المعروفين بثقلهما في ميدان الحديث وعلومه، فهذا كله مؤذن بقوّته وصلابته وقيمته والله المستعان.
বুখারি ও তিরমিজি এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের জন্য তাঁরা যা পেশ করেছেন তার স্বীকৃতিস্বরূপ।
আর এর প্রকাশ্য কাঠিন্য সত্ত্বেও এটি 'ইলালুল হাদিস' (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ) শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত যা সূক্ষ্মতম ও জটিলতম জ্ঞান; প্রখর বোধশক্তি ও গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন অদ্বিতীয় হাফেজ আলেমগণ ছাড়া অন্য কেউ এতে পারদর্শী হতে পারেন না। এর বড় প্রমাণ হলো গ্রন্থকার এই হাদিসগুলোর অধিকাংশকেই তাঁর 'আল-ইলালুল কবির' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং আমি যথাস্থানে এ বিষয়ে নির্দেশ করেছি।
এর পাশাপাশি আরও লক্ষণীয় যে, তিরমিজি এমন একজন ইমাম যিনি কেবল গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বিষয় সম্পর্কে অথবা যে বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালায় পৌঁছানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে সে বিষয়েই প্রশ্ন করেন। আর বুখারি—যিনি তাঁর উস্তাদ এবং যাঁর প্রতি তিনি স্বীয় প্রশ্নসমূহ নিবেদন করেন—তিনি তাঁর চেয়েও মহান ইমাম; তাই কোনো উত্তরের ক্ষেত্রে তাঁর বিরত থাকার বিশেষ ওজন রয়েছে, অন্যের মতের সাথে তাঁর বিরোধের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং তাঁর সম্ভাব্য উত্তরের মাঝে রহস্য নিহিত আছে।
সুতরাং বিষয়টি যখন হাদিসের ত্রুটি (ইলল) সংক্রান্ত এবং তা বুখারি ও তিরমিজির মতো দুই মহান ইমামের সাথে সংশ্লিষ্ট—যাঁরা হাদিস ও হাদিসশাস্ত্রের ময়দানে নিজ নিজ পাণ্ডিত্যের জন্য সুপরিচিত—তখন এ সবই বিষয়টির শক্তি, দৃঢ়তা ও মূল্যের পরিচায়ক। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
كلمة في علل الحديث
لما كان موضوع هذه الرسالة أو معظمه في علل الحديث، رأيت تخصيص الكلمة الآتية للتحدث عن أهمية علم علل الحديث ومنزلته من علوم الحديث، وتعريف العلة، والحديث المعل، ومواطن العلة، وأنواعها، وكيف تدرك؟ والطرق الموصلة إليها مما أرشد إليه النقاد، وأهم الكتب المؤلفة في علل الحديث مع ذكر مؤلفيها ووفياتهم.
وذلك ليتمكن القارئ الكريم من متابعة بحوث هذه الرسالة بشكل جيد ومرضي، وليكون على ذكرى من هذا العلم العملاق والخطير، وما قام به أسلافنا الصالحون -رحمهم الله تعالى- من مجهودات ضخمة وعظيمة في هذا المضمار تفوق التصور والوصف، فيكفي أن نعلم أن الواحد منهم كان يقطع الفيافي والقفار –مع قلة الإمكانات وصعوبة وسائل المواصلات- ويسير المراحل الطويلة الواسعة ينتقل من مكان إلى مكان من أجل تصحيح حديث أو تضعيفه، وهذا بالفعل ما حصل لشعبة بن الحجاج رحمه الله حين رحل من الكوفة إلى مكة، ثم إلى المدينة، ثم إلى البصرة يتتبع حديثاً واحداً فقط هو حديث عقبة بن عامر: "من توضأ فأحسن الوضوء ثم دخل مسجداً فصلى ركعتين واستغفر الله غفر الله له". يريد
'ইলালুল হাদিস' সম্পর্কে একটি বক্তব্য
যেহেতু এই গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু বা এর অধিকাংশ 'ইলালুল হাদিস' (হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি) কেন্দ্রিক, তাই আমি মনে করেছি যে, হাদিস বিজ্ঞানে 'ইলমে ইলাল'-এর গুরুত্ব ও মর্যাদা, ইল্লাত ও মু'আল্লাল হাদিসের সংজ্ঞা, ইল্লাতের ক্ষেত্রসমূহ, এর প্রকারভেদ এবং তা নির্ণয়ের পদ্ধতিগুলো আলোচনা করার জন্য নিম্নোক্ত কথাগুলো নিবেদন করব। সেই সাথে সমালোচক ইমামগণের নির্দেশিত পথসমূহ এবং ইলালুল হাদিস বিষয়ে রচিত প্রধান গ্রন্থগুলোর সাথে তাদের রচয়িতাদের নাম ও মৃত্যুসন উল্লেখ করব।
যাতে সম্মানিত পাঠক এই গবেষণাপত্রের গবেষণাগুলো যথাযথ ও সন্তোষজনকভাবে অনুধাবন করতে পারেন এবং এই বিশাল ও অতীব গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। সেই সাথে আমাদের সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি রহম করুন) এই অঙ্গনে যে বিশাল ও মহান প্রচেষ্টা চালিয়েছেন—যা কল্পনা ও বর্ণনাতীত—সে বিষয়ে অবগত হতে পারেন। আমাদের কেবল এটুকু জানাই যথেষ্ট যে, তাদের একেকজন স্বল্প সুযোগ-সুবিধা ও যাতায়াত ব্যবস্থার কঠিন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিশাল মরুভূমি ও নির্জন প্রান্তর পাড়ি দিতেন। তারা দীর্ঘ ও বিস্তৃত পথ অতিক্রম করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতেন কেবল একটি হাদিসকে সহিহ কিংবা যইফ হিসেবে নিরূপণ করার জন্য। প্রকৃতপক্ষে শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ক্ষেত্রে এমনটিই ঘটেছিল, যখন তিনি কুফা থেকে মক্কায়, এরপর মদিনায়, অতঃপর বসরায় সফর করেছিলেন মাত্র একটি হাদিসের সন্ধানে। আর তা হলো উকবাহ ইবনে আমের (রা.)-এর হাদিস: "যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করল, অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করল এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।" তিনি চেয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أن يتثبت منه ويقف على حقيقته، وقد تم له ذلك1
فتأمل إلى أي مدى وصل بهم الجهد والحرص والحدب على سنة النبي صلى الله عليه وسلم والعناية بها، حتى أنهم أوقفوا حياتهم عليها، فاستحقوا أن يكونوا أمناء الله في أرضه، وأن يتناولهم الحديث المرفوع الذي يقول: "لا يزال الله يغرس في هذا الدين غرساً يستعملهم في طاعته"2.
وما ذلك إلا مثل واحد من عشرات بل مئات الأمثلة، فإذا شئت أن تقف عليها أو على بعضها فما عليك إلا أن تدنو من سير القوم وتنظر فيها، وهي مدونة –ولله الحمد- في كثير من كتب التراجم التي حفلت بهم؛ لترى العجب العجاب من مزايا ومحاسن وجهاد أولئك القوم مما يبعث على الاعتزاز والاقتداء بهم، والاعتراف بتقصيرنا وتأخرنا الشديد في عدم اللحوق بركابهم، فضلا عن الوصول إلى ما وصلوا إليه مع توفر كافة الإمكانات، وتيسير سبل العلم، وما هذا إلا بسبب فساد نياتنا ولا حول ولا قوة إلا بالله العليّ العظيم.
--------------------------------------------
যাতে তিনি এটি নিশ্চিত করতে পারেন এবং এর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন, আর তাঁর জন্য তা অর্জিত হয়েছে।১
অতএব লক্ষ্য করুন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর প্রতি তাঁদের প্রচেষ্টা, একাগ্রতা ও মমতা এবং এর প্রতি যত্নশীলতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, এমনকি তাঁরা তাঁদের জীবনকে এর জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। ফলে তাঁরা আল্লাহর জমিনে তাঁর আমানতদার হওয়ার যোগ্য হয়েছিলেন এবং তাঁরা সেই মারফু হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন যাতে বলা হয়েছে: "আল্লাহ সর্বদা এই দ্বীনের মধ্যে এমন চারাগাছ রোপণ করতে থাকবেন যাদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যে নিয়োজিত করবেন।"২
আর এটি তো দশ দশটি বরং শত শত উদাহরণের মধ্যে একটি মাত্র উদাহরণ। আপনি যদি সেগুলোর সব বা কিছু সম্পর্কে জানতে চান, তবে আপনার জন্য আবশ্যক হলো সেই মহান ব্যক্তিদের জীবনী পাঠ করা এবং তাতে দৃষ্টিপাত করা। আল্লাহর প্রশংসা যে, জীবনী বিষয়ক বহু গ্রন্থে তা লিপিবদ্ধ আছে যা তাঁদের বর্ণনায় পূর্ণ; যাতে আপনি সেই মহান ব্যক্তিদের গুণাবলি, সৌন্দর্য ও জিহাদের বিস্ময়কর বিষয়গুলো দেখতে পান, যা তাঁদের প্রতি গর্ববোধ ও তাঁদের অনুসরণের প্রেরণা জাগায় এবং তাঁদের কাফেলায় শামিল হতে না পারার ক্ষেত্রে আমাদের চরম অবহেলা ও পিছিয়ে থাকার কথা স্বীকার করতে বাধ্য করে। তদুপরি, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা এবং জ্ঞান অর্জনের পথ সহজ হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা যেখানে পৌঁছেছিলেন সেখানে পৌঁছাতে না পারা তো আমাদের নিয়তের কলুষতার কারণেই। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
علم علل الحديث
لا تنكر أهمية هذا العلم، ومكانته من علوم الحديث، فهو يأتي في مقدمتها وعلى رأسها، إذ هو أعظمها وأرفعها، به يتميز صحيح السنة من سقيمها، وسليمها من معلولها، وقويها من ضعيفها ومقبولها من مردودها.
وقد اهتم به العلماء اهتماً بالغاً وكبيراً حتى روى ابن أبي حاتم1 بإسناده إلى ابن مهدي أنه قال:
"لأن أعرف علة حديث واحد هو عندي أحب إليّ من أن أكتب عشرين حديثاً ليست عندي".
ولدقة مسلك هذا الفن وصعوبته وغموضه واعتماده على يقظة وفطنة، ومهارة ومجالسة ومذاكرة،وخبرة قوية، وذكاء متوقد، وممارسة ودربة طويلة، فإنه خفي على كثير من علماء الحديث ولم يتمكن منه ويخض غماره إلا نفر قليل من أكابر علماء هذا الشأن ذوي الاختصاص، ممن وهبه الله فهماً ثاقباً، ونظراً فاحصاً، وحفظاً واسعاً، واطلاعاً حاويا، ومعرفة تامة بمراتب الرواة، وملكة واعية بالأسانيد والمتون، كيحيى بن سعيد القطان وعبد الرحمن بن مهدي، ويحيى بن معين، وأحمد بن حنبل، وعلي بن المديني، ومحمد بن إسماعيل البخاري، ويعقوب بن شيبة، وأبي
--------------------------------------------
ইলমে ইলালুল হাদিস (হাদিসের ত্রুটিবিষয়ক জ্ঞান)
এই ইলম বা বিজ্ঞানের গুরুত্ব এবং হাদিস শাস্ত্রের শাখাগুলোর মধ্যে এর সুউচ্চ মর্যাদা অনস্বীকার্য। এটি হাদিস বিজ্ঞানের অগ্রভাগে এবং শীর্ষে অবস্থান করে; কেননা এটি এই শাস্ত্রের মহানতম ও সর্বোচ্চ শাখা। এর মাধ্যমেই সুন্নাহর বিশুদ্ধ (সহিহ) অংশকে ত্রুটিযুক্ত (সাকিম) থেকে, নিখুঁতকে (সালিম) সমস্যাযুক্ত (মালুল) থেকে, শক্তিশালীকে (কাবি) দুর্বল (জঈফ) থেকে এবং গ্রহণযোগ্যকে (মাকবুল) বর্জনীয় (মারদুদ) থেকে পৃথক করা হয়।
উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছেন, এমনকি ইবনে আবি হাতিম১ তাঁর সনদে ইবনে মাহদি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
"একটি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) সম্পর্কে জানতে পারা আমার নিকট এমন বিশটি হাদিস লিখে রাখার চেয়েও অধিক প্রিয়, যা আমার সংগ্রহে নেই।"
এই শাস্ত্রের কর্মপদ্ধতির সূক্ষ্মতা, কাঠিন্য ও অস্পষ্টতার কারণে এবং এটি সতর্কতা, তীক্ষ্ণ মেধা, দক্ষতা, দীর্ঘ সান্নিধ্য ও পর্যালোচনা, শক্তিশালী অভিজ্ঞতা, প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং দীর্ঘকালব্যাপী অনুশীলন ও চর্চার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ফলে হাদিস বিশারদদের অনেকের কাছেই এটি অস্পষ্ট থেকে গেছে। এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ একদল অল্পসংখ্যক বরেণ্য আলেম ব্যতীত আর কেউ এতে পারদর্শিতা অর্জন করতে বা এর গভীরে প্রবেশ করতে পারেননি। তারা এমন ব্যক্তিবর্গ যাদেরকে আল্লাহ তাআলা প্রখর বুঝশক্তি, সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, বিশাল মুখস্থ শক্তি, ব্যাপক পরিধি পরিব্যাপ্ত জ্ঞান, বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ অবগতি এবং সনদ ও মতন সম্পর্কে সচেতন প্রজ্ঞা দান করেছেন। যেমন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি, ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন, আহমাদ ইবনে হাম্বল, আলি ইবনুল মাদিনি, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি, ইয়াকুব ইবনে শাইবাহ এবং আবু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
حاتم، وأبي زرعة الرازيين، والترمذي، وابن عدي، والدارقطني. وغيرهم من المتقدمين والمتأخرين من أساطين هذا العلم والماهرين فيه الجهابذة، أهل النقد الذين أفنوا أعمارهم في خدمة السنة والاشتغال في علومها.
فلا تنكر جهود هؤلاء العلماء الأفذاذ التي بذلوها في حياطة الحديث وحراسة أسانيده، كما لا ينكر مدى حرصهم على تقويمه، ومبلغ عنايتهم في تنحية ما علق به من دخل وخلل أو وهم وخطأ وتنقية ما يشوب صفاءه من كدر، وأباطيل وترهات، وآفات.
فبينوا –رحمهم الله تعالى- علل أحاديث كثيرة ومحصوها، وحققوا القول فيها؛ أداء للأمانة، ونصحاً للمسلمين، وحفظاً لسنة النبي صلى الله عليه وسلم، وصيانة لها، ودفاعاً عنها.
وفي هذا حماية للشريعة؛ فإن السنة صنو القرآن مبينة له وشارحة له.
وأن آثارهم العظيمة التي خلفوها شاهدة لهم بذلك، ودالة على دقة منهجهم وسلامته، وشدة بحثهم وقوة ضبطهم، واحتياطهم وتحريهم.
আবু হাতিম, আবু যুরআ আর-রাযীদ্বয়, তিরমিযী, ইবনে আদি এবং দারা কুতনী। আর এই ইলমের স্তম্ভ এবং এতে দক্ষ বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকগণদের মধ্য থেকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ, যারা সুন্নাহর সেবা ও এর ইলমসমূহে ব্যতিব্যস্ত থেকে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেছেন।
সুতরাং হাদীসকে রক্ষা ও এর সনদসমূহকে পাহারাদারি করার ক্ষেত্রে এই অনন্য আলেমদের প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করা যায় না, যেমন অস্বীকার করা যায় না একে সুবিন্যস্ত করার প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহ এবং এর সাথে যুক্ত হওয়া বিচ্যুতি ও ত্রুটি অথবা বিভ্রান্তি ও ভুলকে দূর করার ক্ষেত্রে তাদের যত্নের মাত্রা এবং এর স্বচ্ছতাকে কলুষিতকারী পঙ্কিলতা, বাতিল ও অসার বিষয় এবং ত্রুটিসমূহ থেকে একে মুক্ত করার প্রয়াসকে।
ফলে তারা —আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন— অসংখ্য হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইলাল) বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করেছেন এবং সেগুলোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন; আমানত আদায়, মুসলিমদের কল্যাণ কামনা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর হিফাযত, একে সুরক্ষা প্রদান ও এর প্রতিরক্ষার খাতিরে।
আর এর মধ্যেই রয়েছে শরীয়তের সুরক্ষা; কেননা সুন্নাহ হলো কুরআনের সহোদর তুল্য যা একে সুস্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করে।
আর তাঁরা যে মহান কীর্তিসমূহ রেখে গেছেন তা তাঁদের জন্য এর সাক্ষী এবং তাঁদের মানহাজের নিখুঁত হওয়া ও সঠিকতার পরিচায়ক এবং তাঁদের গবেষণার গভীরতা, সংরক্ষণের দৃঢ়তা এবং সতর্কতা ও অনুসন্ধিৎসার প্রমাণস্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
تعريف العلة*
العلة في اللغة:
"العِلّة بالكسر، المرض علَّ الرجل يَعِلّ علاّ فهو عليل، واعتلّ
ইল্লতের সংজ্ঞা*
আভিধানিক অর্থে ইল্লত:
"‘আইন’ অক্ষরে কাসরা (জের) যোগে ‘আল-ইল্লাত’ শব্দের অর্থ হলো রোগ বা ব্যাধি। কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে বলা হয় সে অসুস্থ, সুতরাং সে রুগ্ন; সে ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
اعتلالا، وأعلّه الله أي أصابه بعلّة فهو معل وعليل. ولا تقل معلول".
والعلة في اصطلاح المحدثين:
عبارة عن سبب غامض خفي قادح في صحة الحديث.
فالحديث المعل1:
هو ما اطلع فيه على علة خفية قادحة في صحته مع أن ظاهره السلامة منها.
وقد تطلق العلة على غير معناها الاصطلاحي:
فتطلق على القوادح الظاهرة في الحديث ككذب الراوي
--------------------------------------------
...অসুস্থ হওয়া; আর আল্লাহ তাকে অসুস্থ করেছেন অর্থাৎ তাকে ব্যাধিতে আক্রান্ত করেছেন, ফলে সে হলো ‘মুআল’ এবং ‘আলীল’। আর ‘মালুল’ বলো না।"
আর মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ‘ইল্লাত’ বা ত্রুটি হলো:
এমন এক অস্পষ্ট ও সূক্ষ্ম কারণ যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ন করে।
সুতরাং ত্রুটিযুক্ত (মুআল) হাদিস১ হলো:
যার মধ্যে এমন এক সূক্ষ্ম ত্রুটি উদ্ঘাটিত হয়েছে যা তার বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ন করে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা ত্রুটিমুক্ত মনে হয়।
কখনো কখনো ‘ইল্লাত’ শব্দটি এর পারিভাষিক অর্থ ব্যতিরেকে অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হয়:
সেক্ষেত্রে এটি হাদিসের প্রকাশ্য দোষ-ত্রুটির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন বর্ণনাকারীর মিথ্যাচার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وفسقه وغفلته وسوء حفظه ونحو ذلك من أنواع الجرح. وهذا موجود بكثرة في كتب علل الحديث.
وأما الحاكم في كتابه "معرفة علوم الحديث" فإنه جعل معرفة علل الحديث علماً برأسه غير الصحيح والسقيم والجرح والتعديل حيث قال:
"وإنما يعلل الحديث من أوجه ليس للجرح فيها مدخل فإن حديث المجروح ساقط واه وعلة الحديث يكثر في أحاديث الثقات أن يحدثوا بحديث له علة فيخفى عليهم علمه فيصير الحديث معلولا
… "
قال: السخاوي: "قد يعِلّون -أي أهل الحديث- في كتبهم الحديث بكل قدح ظاهر كفسق وغفلة ونوع جرح ونحو ذلك من الأمور الوجودية التي يأباها كون العلة خفية ولذا صرّح الحاكم بامتناع الإعلال بالجرح ونحوه، فإن حديث المجروح ساقط واهٍ ولا يعل الحديث إلا بما ليس بالجرح فيه مدخل. قال السخاوي: على أنه يحتمل أن التعليل بذلك من الخفي لخفاء وجود طريق أخر ليخبر بها ما في هذا من ضعف، فكأن المعلِّل أشار إلى تفرده".
كما أطلقها أبو يعلى الخليلي في كتاب "الإرشاد" على ما ليس بقادح من وجوه الخلاف كإرسال ما وصله الثقة الضابط حتى قال: "من أقسام الصحيح: ما هو صحيح معلول" كما قال
এবং তার পাপাচার, অসতর্কতা, মুখস্থ রাখার দুর্বলতা এবং এই জাতীয় সমালোচনার প্রকারসমূহ। আর এটি হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক গ্রন্থসমূহে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান।
আর ইমাম হাকিম তাঁর "মা’রিফাতু উলূমিল হাদীস" গ্রন্থে হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি চিহ্নিত করার জ্ঞানকে বিশুদ্ধ, দুর্বল এবং বর্ণনাকারীর সমালোচনা ও গুণকীর্তন সংক্রান্ত জ্ঞান থেকে পৃথক একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে গণ্য করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:
"হাদীসের ত্রুটি কেবল এমন সব দিক থেকেই অন্বেষণ করা হয় যেখানে বর্ণনাকারীর সমালোচনার কোনো সুযোগ নেই। কেননা সমালোচিত ব্যক্তির হাদীস তো এমনিতেই বর্জনীয় ও অসার। আর হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি সাধারণত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদীসেই বেশি দেখা যায় যে, তারা এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেন যাতে একটি সূক্ষ্ম ত্রুটি থাকে যা তাদের নিকট অস্পষ্ট থেকে যায়, ফলে হাদীসটি ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে
… "
সাখাভী বলেন: "হাদীস বিশারদগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহে কখনো কখনো হাদীসকে প্রকাশ্য কোনো দোষের কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেন, যেমন পাপাচার, অসতর্কতা, কোনো প্রকারের সমালোচনা এবং এই জাতীয় প্রকাশ্য বিষয়সমূহ, যা ত্রুটি 'সূক্ষ্ম ও গোপন' হওয়ার সংজ্ঞার পরিপন্থী। এই কারণেই ইমাম হাকিম বর্ণনাকারীর সমালোচনা বা জারহের মাধ্যমে হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করার বিষয়টি নাকচ করেছেন। কেননা সমালোচিত ব্যক্তির হাদীস তো এমনিতেই বর্জনীয় ও অসার; আর হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি কেবল তখনই সাব্যস্ত করা হয় যখন সেখানে বর্ণনাকারীর সরাসরি সমালোচনার কোনো সুযোগ থাকে না। সাখাভী আরও বলেন: তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে, এর মাধ্যমে ত্রুটি বর্ণনা করাকে 'সূক্ষ্ম' পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অন্য কোনো সূত্রের অস্তিত্ব গোপন থাকার কারণে যার মাধ্যমে এই বর্ণনার দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়, যেন ত্রুটি চিহ্নিতকারী ব্যক্তি এর একক বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।"
যেমন আবু ইয়ালা আল-খালীলী "আল-ইরশাদ" গ্রন্থে মতভেদের এমন সব দিককেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা হাদীসের বিশুদ্ধতার জন্য ক্ষতিকর নয়, যেমন নির্ভরযোগ্য ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী যা সংযুক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন তাকে বিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করা। এমনকি তিনি বলেছেন: "বিশুদ্ধ হাদীসের একটি প্রকার হলো: যা বিশুদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ত্রুটিযুক্ত।" যেমনটি তিনি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
بعضهم1:"من الصحيح ما هو صحيح شاذ".
ونقل ابن الصلاح وتبعه غيره أن الترمذي سمّى النسخ علة من علل الحديث.
قال العراقي: "فإن أراد الترمذي أنه علة في العمل بالحديث (بمعنى أنه لا يعمل بالحديث المنسوخ) فهو كلام صحيح، وإن أراد أنه علة في صحة نقله فلا، لأن في الصحيح أحاديث كثيرة منسوخة" اه.
قال السخاوي: "بل وصحح الترمذي نفسه من ذلك جملة فتعيّن لذلك إرادته". ا?.
قال الشيخ أحمد شاكر: "والذي أجزم به أن الترمذي إنما يريد به أنه علة في العمل بالحديث فقط، ولا يمكن أن يريد أنه علة في صحته، لأنه قال في سننه2:
"إنما كان "الماء من الماء" في أول الإسلام ثم نسخ بعد ذلك" فلو كان النسخ عنده علة في صحة الحديث لصرح بذلك" اه.
مواطن العلة:
وأكثر ما تقع العلة في السند فتقدح فيه وفي المتن معاً وذلك
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কেউ কেউ১ বলেছেন: "সহীহ্ হাদিসের মধ্যে এমন কিছু আছে যা সহীহ্ শায (বিচ্ছিন্ন বা বিরল সহীহ্)।"
ইবনুল সালাহ বর্ণনা করেছেন এবং অন্যরাও তাকে অনুসরণ করেছেন যে, তিরমিযী নাসখকে (রহিতকরণ) হাদিসের ইল্লতসমূহের (ত্রুটিসমূহ) একটি ইল্লত হিসেবে নামকরণ করেছেন।
ইরাকী বলেছেন: "যদি তিরমিযী এর দ্বারা হাদিসের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে ইল্লত বা ত্রুটি বুঝিয়ে থাকেন (অর্থাৎ মানসূখ বা রহিত হাদিসের ওপর আমল করা যাবে না), তবে তা সঠিক কথা। আর যদি তিনি একে বর্ণনার বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে ইল্লত বুঝিয়ে থাকেন, তবে তা নয়; কারণ সহীহ্ হাদিসের মধ্যে অনেক মানসূখ বা রহিত হাদিস রয়েছে।" সমাপ্ত।
সাখাবী বলেছেন: "বরং তিরমিযী নিজেই এ জাতীয় একদল হাদিসকে সহীহ্ বলেছেন, তাই নিশ্চিতভাবে এটাই (আমলের ক্ষেত্রে ইল্লত) তার উদ্দেশ্য সাব্যস্ত হয়।" সমাপ্ত।
শেখ আহমদ শাকের বলেছেন: "আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, তিরমিযী এর মাধ্যমে কেবলমাত্র হাদিসের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে ইল্লত বুঝিয়েছেন, এবং এটি বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে ইল্লত হওয়া সম্ভব নয়। কারণ তিনি তার সুনানে২ উল্লেখ করেছেন: 'ইসলামের শুরুতে "পানি থেকেই পানি" (গোসল ওয়াজিব হওয়া) এর বিধান ছিল, এরপর তা রহিত হয়ে যায়।' যদি তার নিকট নাসখ হাদিসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে ইল্লত হতো, তবে তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতেন।" সমাপ্ত।
ইল্লতের স্থানসমূহ:
ইল্লত অধিকাংশ ক্ষেত্রে সনদের মধ্যে ঘটে থাকে, ফলে তা সনদ ও মতন (মূল পাঠ) উভয়কেই একসাথে ত্রুটিযুক্ত করে, আর তা হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
كالإعلال بالوقف1 أو الإرسال2 أو الانقطاع.
وقد تقدح في السند وحده إذا كان المتن مروياً بإسناد آخر صحيح3.
وتقع العلة في المتن ولكن قليلا، وهذه قد تستلزم القدح في السند وقد لا تستلزم بأن يقتصر أثرها على المتن فقط.
أنواع العلل:
قسم الحاكم أبو عبد الله النيسابوري في كتابه "معرفة علوم الحديث" أجناس العلل إلى عشرة أجناس وأورد لكل جنس مثالا، موضحاً العلة التي فيه، ثم قال عقب ذلك منبهاً على أن أجناس علل الحديث كثيرة غير محصورة في هذا العدد:
"وبقيت أجناس لم نذكرها، وإنما جعلتها مثالا لأحاديث كثيرة معلولة ليهتدي إليها المتبحِّر في هذا العلم، فإن معرفة علل الحديث من أجل هذه العلوم"
وقد اختصرها البلقيني في "محاسن الإصطلاح" ذاكراً قبل كل
--------------------------------------------
যেমন ওয়াকফ১ বা ইরসাল২ অথবা ইনকিতার (বিচ্ছিন্নতা) মাধ্যমে ত্রুটিযুক্ত হওয়া।
এবং এটি কখনো কখনো কেবল সনদের মাঝেই দোষ সৃষ্টি করে যখন মতনটি (মূল পাঠ) অন্য কোনো সহিহ সনদে বর্ণিত হয়ে থাকে৩।
আর ইলাল বা ত্রুটি মতনের মধ্যেও ঘটে থাকে তবে তা খুব সামান্য; এবং এটি কখনো সনদের মধ্যে দোষারোপের কারণ হয়, আবার কখনো হয় না যখন এর প্রভাব কেবল মতনের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে।
ইলাল বা ত্রুটির প্রকারভেদ:
হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরি তাঁর "মা'রিফাতু উলূমিল হাদিস" গ্রন্থে ইলালের প্রকারসমূহকে দশটি ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং প্রত্যেক প্রকারের জন্য উদাহরণ পেশ করেছেন, যেখানে বিদ্যমান ত্রুটিটি স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর তিনি এই সংখ্যার মধ্যেই হাদিসের ইলাল সীমাবদ্ধ নয় সে বিষয়ে সতর্ক করে এর পরপরই বলেছেন:
"এবং এমন আরও কিছু প্রকার রয়ে গেছে যা আমি উল্লেখ করিনি। আমি কেবল এগুলোকে অসংখ্য ত্রুটিযুক্ত (মা'লুল) হাদিসের উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছি যেন এই বিদ্যায় পারদর্শী ব্যক্তি এর দ্বারা সঠিক পথনির্দেশ লাভ করতে পারেন। কেননা হাদিসের ত্রুটি (ইলাল) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এই শাস্ত্রের অন্যতম মহান শাখা।"
আর আল-বুলকিনি তাঁর "মাহাসিনুল ইসতিলাহ" গ্রন্থে এগুলো সংক্ষেপ করেছেন এবং প্রত্যেকটির পূর্বে উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
مثال تعريف الجنس الذي أورد الحاكم ذلك المثال لأجله؛ وخوفاً من الإطالة فإنني أكتفي بسرد تعاريف الأجناس من غير ذكر الأمثلة، ومن أحبّ أن يقف على الأمثلة فليرجع إلى مصدرها المشار إليه آنفاً أو إلى محل اختصارها المذكور، هذا وإن من المؤسف جداً أن السيوطي في "تدريب الراوي" نسب صنيع البلقيني هذا لنفسه1؛ والذي حدث عقب ذلك أن من جاء بعد السيوطي ولم يحقق في الموضوع أضاف ذلك الصنيع له، باعتبار أنه صاحبه وهو للبلقيني كما عرفت؛ لذا رأيت التنبيه على ذلك والله المستعان ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
الأول: أن يكون السند ظاهره الصحة وفيه من لا يُعْرف بالسماع ممن روى عنه2.
الثاني: أن يكون الحديث مرسلا من وجه، رواه الثقات الحفاظ، ويسند من وجه ظاهره الصحة ولكن له علة تمنع من صحة السند.
الثالث: أن يكون الحديث محفوظاً عن صحابي، فيروى عن غيره لاختلاف بلاد رواته، كرواية المدنيين عن الكوفيين.
--------------------------------------------
জেনাস বা প্রকারের সংজ্ঞার উদাহরণ, যা হাকেম সেই বিশেষ কারণে উল্লেখ করেছেন; আর দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমি উদাহরণগুলো উল্লেখ না করে কেবল প্রকারগুলোর সংজ্ঞার ধারাবাহিক বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকছি। যারা উদাহরণগুলো দেখতে আগ্রহী, তারা যেন পূর্বে নির্দেশিত মূল উৎসের দিকে অথবা উল্লিখিত সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপের স্থানের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সুয়ূতী তাঁর "তাদরীবুর রাভী" গ্রন্থে বুলকীনীর এই কাজটিকে নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন; এর ফলে পরবর্তীকালে যারা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেননি, তাঁরা এই কাজটিকে সুয়ূতীরই কাজ বলে ধরে নিয়েছেন, অথচ আপনি যেমনটি জেনেছেন এটি আসলে বুলকীনীর কাজ। তাই আমি এ বিষয়ে সতর্ক করা আবশ্যক মনে করেছি। আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
প্রথম: সনদের বাহ্যিক দিক সহীহ হওয়া, কিন্তু তাতে এমন ব্যক্তি থাকা যার তাঁর উস্তাদ বা শায়খ থেকে শোনার বিষয়টি প্রমাণিত নয়।
দ্বিতীয়: হাদীসটি এক দিক থেকে "মুরসাল" হওয়া যা নির্ভরযোগ্য হাফেজরা বর্ণনা করেছেন এবং অন্য দিক থেকে তা এমন "মুসনাদ" হিসেবে বর্ণিত হওয়া যার বাহ্যিক দিক সহীহ, কিন্তু তাতে এমন কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লত) থাকা যা সনদের বিশুদ্ধতাকে প্রতিহত করে।
তৃতীয়: হাদীসটি কোনো সাহাবী থেকে "মাহফুয" (সংরক্ষিত) হওয়া, কিন্তু রাবীদের দেশ বা অঞ্চলের ভিন্নতার কারণে তা অন্য কারও থেকে বর্ণিত হওয়া, যেমন কূফাবাসীদের সূত্রে মদীনাবাসীদের বর্ণনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الرابع: أن يكون الحديث محفوظاً عن صحابي ويروى عن تابعي يقع الوهم بالتصريح بما يقتضي صحبته بل ولا يكون معروفاً من جهته، وربما وقع وهم آخر في إسناده.
الخامس: أن يكون الحديث روي بالعنعنة وسقط منه رجل دلّ عليه طريق أخرى محفوظة1.
السادس: أن يخْتلف على رجل بالإسناد وغيره، ويكون المحفوظ عنه ما قابل الإسناد فيكون ذلك علة في المسند.
السابع: الاختلاف على رجل في تسمية شيخه وتجهيله.
الثامن: أن يكون الراوي عن شخص أدركه وسمع منه ولكن لم يسمع منه أحاديث معينة، فإذا رواها عنه من غير ذكر واسطة تبينت علتها ببيان أنه لم يسمعها منه.
التاسع: أن تكون طريق معروفة يروي أحد رجالها حديثاً من غير تلك الطريق فيقع مَن رواه من تلك الطريق بناء على الجادة في الوهم.
العاشر: أن يروى الحديث مرفوعاً من وجه آخر2.
--------------------------------------------
চতুর্থ: হাদিসটি একজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হিসেবে সংরক্ষিত থাকা, কিন্তু তা এমন একজন তাবিঈ থেকে বর্ণিত হওয়া যার বর্ণনায় এমন কোনো শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যা ভ্রমবশত তার সাহাবী হওয়াকে আবশ্যক করে তোলে, অথচ বিষয়টি তার পক্ষ থেকে সুপরিচিত নয়; এবং সম্ভবত এর সনদে অন্য কোনো বিভ্রমও রয়েছে।
পঞ্চম: হাদিসটি 'আন-আনা' (ধারাবাহিক সূত্রে) বর্ণিত হওয়া এবং সেখান থেকে কোনো একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়া, যার অস্তিত্ব অন্য একটি সংরক্ষিত সূত্রের মাধ্যমে প্রতিভাত হয় ১।
ষষ্ঠ: একজন বর্ণনাকারীর বর্ণনায় সনদ বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা দেওয়া, এবং তার থেকে যা সংরক্ষিত আছে তা উক্ত সনদের বিপরীত হওয়া; ফলে সেটি মুসনাদ বর্ণনার জন্য একটি ত্রুটি (ইল্লাত) হিসেবে গণ্য হওয়া।
সপ্তম: কোনো একজন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে তার উস্তাদের নাম উল্লেখ করা বা তাকে অজ্ঞাত রাখার বিষয়ে মতভেদ হওয়া।
অষ্টম: বর্ণনাকারী এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করা যার সান্নিধ্য তিনি লাভ করেছেন এবং তার থেকে হাদিস শুনেছেন, কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু হাদিস তার থেকে সরাসরি শোনেননি; এমতাবস্থায় তিনি যখন কোনো মধ্যস্থতাকারীর উল্লেখ ছাড়াই তা বর্ণনা করেন, তখন তিনি উক্ত হাদিসটি সরাসরি শোনেননি—এ বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার মাধ্যমে হাদিসটির ত্রুটি প্রকাশিত হয়।
নবম: কোনো একটি সুপরিচিত সূত্র থাকা এবং উক্ত সূত্রের কোনো একজন বর্ণনাকারী সেই নির্দিষ্ট সূত্র ব্যতিরেকে অন্য কোনোভাবে একটি হাদিস বর্ণনা করা; এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি প্রচলিত নিয়মের ওপর ভিত্তি করে তা সেই সুপরিচিত সূত্রেই বর্ণনা করেন, তিনি বিভ্রমের শিকার হন।
দশম: হাদিসটি অন্য কোনোভাবে মারফূ হিসেবে বর্ণিত হওয়া ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وتدرك العلة:
بتفرد الراوي وبمخالفة غيره له ممن هو أحفظ واضبط أو أكثر عدداً مع قرائن تنضم إلى ذلك تنبه الناقد الحاذق البصير بهذا الفن على وهم وقع بإرسال في الموصول، أو وقف في المرفوع، أو وصل مرسل، أو رفع موقوف، أو دخول حديث في حديث، أو إبدال راو ضعيف بثقة أو غير ذلك من الأشياء القادحة بحيث يقع في نفسه أن الحديث معل، ويغلب على ظنه ذلك فيحكم بعدم صحة الحديث أو يتردد فيتوقف فيه.
وربما تقصر عبارته عن إقامة الحجّة على دعواه فيما ذهب إليه بأن يعلم أن في الحديث قصوراً لكن لا يقدر على بيانه كالصيرفي1 في نقد الدينار والدرهم إذ قد يصل إلى اكتشاف العلة بضرب من الإلهام.
قال عبد الرحمن بن مهدي: "معرفة الحديث إلهام2 فلو قلت للعالم بعلل الحديث: من أين قلت هذا؟ لم يكن له حجة".
قال السخاوي: "يعني يعبّر بها غالباً وإلا في نفسه حجج للقبول والرد" اه.
--------------------------------------------
ইল্লত (ত্রুটি) চেনা যায়:
বর্ণনাকারীর একাকী বর্ণনা এবং তার চেয়ে অধিক হিফয ও আত্মস্থকারী অথবা সংখ্যায় অধিক বর্ণনাকারীদের বিরোধিতার মাধ্যমে, যার সাথে এমন কিছু পারিপার্শ্বিক আলামত যুক্ত থাকে যা এই শিল্পে দক্ষ ও দূরদর্শী সমালোচককে এমন বিভ্রান্তি সম্পর্কে সজাগ করে দেয় যা কোনো মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হাদিসকে মুরসাল (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে বর্ণনা করা, মারফু (রাসূলের কথা) হাদিসকে মাওকুফ (সাহাবীর কথা) হিসেবে বর্ণনা করা, মুরসালকে মুত্তাসিল করা, মাওকুফকে মারফু করা, এক হাদিসকে অন্য হাদিসে ঢুকিয়ে দেওয়া, অথবা একজন দুর্বল বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী দ্বারা পরিবর্তন করা বা এ জাতীয় অন্যান্য দোষত্রুটির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। এর ফলে তার মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যে হাদিসটি ত্রুটিপূর্ণ, এবং তার ধারণা প্রবল হয়, ফলে তিনি হাদিসটি সহিহ না হওয়ার ফয়সালা দেন অথবা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বিরতি নেন।
কখনও কখনও তার দাবির সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনে তার ভাষা বা বর্ণনা অপূর্ণ থেকে যায়, যদিও তিনি জানেন যে হাদিসটিতে ত্রুটি রয়েছে কিন্তু তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন না; যেমনটি দিনার ও দিরহাম যাচাইকারী মুদ্রা বিশেষজ্ঞের (সয়রাফি)১ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, কারণ তিনি এক ধরণের ইলহামের (অন্তঃপ্রেরণা) মাধ্যমে ত্রুটি উদঘাটন পর্যন্ত পৌঁছে যান।
আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: "হাদিসের জ্ঞান হলো ইলহাম (অন্তঃপ্রেরণা)২। যদি তুমি হাদিসের ইল্লত (ত্রুটি) বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞাসা করো: আপনি এটা কোত্থেকে বললেন? তবে তার কাছে (বুঝিয়ে বলার মতো) কোনো প্রমাণ থাকবে না।"
সাখাবী বলেন: "অর্থাৎ তিনি সাধারণত এটি ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন না, নতুবা তার নিজের অন্তরে গ্রহণ বা বর্জনের সপক্ষে প্রমাণাদি বিদ্যমান থাকে।" সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুত তিরমিযী লিল বুখারী হাওলা আহাদীসা ফী জামিইত তিরমিযী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وقال ابن رجب في "شرح علل الترمذي": "قاعدة مهمة: حذاق النقاد من الحفاظ لكثرة ممارستهم للحديث ومعرفتهم بالرجال وأحاديث كل واحد منهم لهم فهم خاص يفهمون به أن هذا الحديث يشبه حديث فلان ولا يشبه حديث فلان، فيعللون الأحاديث بذلك. وهذا مما لا يعبّر عنه بعبارة تحضره، وإنما يرجع فيه أهله إلى مجرد الفهم والمعرفة التي خصوا بها عن سائر أهل العلم كما سبق ذكره في غير موضع فمن ذلك". ثم ساق بعض الأمثلة الموضحة لما ذكر.
وقال الشيخ طاهر الجزائري في كتابه "توجيه النظر إلى أصول الأثر": "وهذه المسألة ليست من المسائل الغامضة فإن كل من اشتغل بفن من الفنون وتفرغ له وسلك مسلك أهله وصرف عنايته إليه قد يحكم في مسائله بحكم لا يتيسر له إقامة الدليل الظاهر عليه، وإن كان له في نفس الأمر دليل ربما كان أقوى من الأدلة الظاهرة إلا أن العبارة تقصر عنه".
هذا وأسند ابن أبي حاتم إلى محمد بن عبد الله بن نمير قال: "قال ابن مهدي: "معرفة الحديث إلهام".
قال ابن نمير: "وصدق لو قلت له من أين قلت؟ لم يكن له جواب".
وقيل له أيضاً: "إنك تقول للشيء: هذا صحيح، وهذا لم يثبت فعمن تقول ذلك؟ فقال: أرأيت لو أتيت الناقد فأريته
এবং ইবনে রজব "শারহু ইলালিত তিরমিযী" গ্রন্থে বলেছেন: "একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি: হাফেজগণের মধ্য থেকে অভিজ্ঞ সমালোচকবৃন্দ হাদিস নিয়ে তাঁদের দীর্ঘ চর্চা এবং বর্ণনাকারী ও তাঁদের প্রত্যেকের বর্ণিত হাদিসসমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের কারণে এমন এক বিশেষ প্রজ্ঞা বা বোধ লাভ করেন, যার মাধ্যমে তাঁরা বুঝতে পারেন যে—এই হাদিসটি অমুকের হাদিসের মতো এবং ওই হাদিসটি অমুকের হাদিসের মতো নয়; ফলে তাঁরা এর মাধ্যমেই হাদিসসমূহের ত্রুটি (ইল্লত) চিহ্নিত করেন। এটি এমন এক বিষয় যা সুনির্দিষ্ট কোনো বাক্যের মাধ্যমে ব্যক্ত করা সম্ভব নয়, বরং এই শাস্ত্রের পারদর্শীগণ এক্ষেত্রে কেবলমাত্র সেই বিশেষ বোধ ও জ্ঞানের ওপর নির্ভর করেন যা অন্যান্য আলেমদের তুলনায় তাঁদেরই বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে, যেমনটি ইতিপূর্বে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে।" অতঃপর তিনি উল্লিখিত বিষয়ের সপক্ষে কিছু দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন।
এবং শায়খ তাহির আল-জাযাইরি তাঁর "তাওজিহুন নাযার ইলা উসুলিল আসার" গ্রন্থে বলেন: "এই বিষয়টি কোনো অস্পষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; কেননা যে ব্যক্তি কোনো শাস্ত্র নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকে, নিজেকে তাতে পূর্ণরূপে নিয়োজিত করে, সেই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের পথ অনুসরণ করে এবং তাতে স্বীয় মনোযোগ নিবদ্ধ করে, সে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করে যার স্বপক্ষে কোনো প্রকাশ্য দলিল উপস্থাপন করা তার পক্ষে সহজসাধ্য হয় না। যদিও প্রকৃতপ্রস্তাবে তার কাছে এমন দলিল বিদ্যমান থাকে যা হয়তো প্রকাশ্য দলিলসমূহের চেয়েও শক্তিশালী, কিন্তু ভাষা তা প্রকাশে সংকুচিত হয়ে পড়ে।"
ইবনে আবি হাতিম মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইবনে মাহদী বলেছেন: 'হাদিসের জ্ঞান হলো এক প্রকার ইলহাম (অনুপ্রেরণা)'।"
ইবনে নুমাইর বলেন: "তিনি সত্য বলেছেন; আপনি যদি তাঁকে জিজ্ঞেস করতেন যে আপনি এটি কোত্থেকে বললেন? তবে তাঁর কাছে কোনো উত্তর থাকত না।"
এবং তাঁকে আরও বলা হয়েছিল: "আপনি কোনো বিষয় সম্পর্কে বলেন—এটি সহিহ, আর এটি সাব্যস্ত হয়নি; তো আপনি কার পক্ষ থেকে বা কিসের ভিত্তিতে তা বলেন? তখন তিনি বললেন: আপনার কী অভিমত, আপনি যদি কোনো মুদ্রা পরীক্ষকের কাছে গিয়ে তাকে দেখান..."