(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: -)
غرر الفوائد المجموعة   (الرشيد العطار)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: الجزء الأول من غرر الفوائد المجموعة في بيان ما وقع في صحيح مسلم من الأحاديث المقطوعة

المؤلف: يحيى بن علي بن عبد الله بن علي بن مفرج، أبو الحسين، رشيد الدين القرشي الاموي النابلسي ثم المصري، المعروف بالرشيد العطار (ت 662هـ)

المحقق: محمد خرشافي

الناشر: مكتبة العلوم والحكم - المدينة المنورة

الطبعة: الأولى، 1417 هـ

عدد الصفحات: 342

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

গুরারুল ফাওয়াইদিল মাজমুআহ   (আর-রশীদ আল-আত্তার)

বিভাগ: ইল্লাত (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) এবং হাদীস বিষয়ক প্রশ্নাবলী


গ্রন্থ: সহীহ মুসলিমে বর্ণিত বিচ্ছিন্ন (মাকতু) হাদীসসমূহের বর্ণনায় 'গুরারুল ফাওয়াইদিল মাজমুআহ' এর প্রথম খণ্ড

লেখক: ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে মুফাররিজ, আবু আল-হুসাইন, রশীদ উদ্দীন আল-কুরাশী আল-উমাবী আন-নাবলুসী অতঃপর আল-মিসরী, যিনি আর-রশীদ আল-আত্তার নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৬২ হিজরী)

তাহকীককারী: মুহাম্মদ খুরশাফী

প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম - মদীনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১১৫)
‌‌مقدمة

الجزء الأول من غرر الفوائد المجموعة في بيان ما وقع في صحيح مسلم من الأحاديث المقطوعة جمع الإمام الحافظ رشيد الدين أبي الحسين يحيى بن علي بن عبد الله القرشي المصري العطار المالكي وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما كثيرا إلى يوم الدين ورضي الله عن أصحاب رسول الله أجمعين والحمد لله رب العالمين آمين بسم الله الرحمن الرحيم وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت الحمد لله حق حمده وصلواته وسلامه على محمد نبيه وعبده وعلى آله وصحبه من بعده وبعد فهذه أحاديث مخرجة من صحيح الإمام أبي الحسين مسلم بن الحجاج القشيري الحافظ رضي الله عنه وقعت شاذة عن رسمه فيه ذكرها الإمام أبو عبد الله محمد بن علي التميمي المازري رحمه الله في كتابه المسمى بالمعلم ونص على أنها وقت في كتاب مسلم مقطوعة الأسانيد
ভূমিকা

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত বিচ্ছিন্ন সনদধারী (মাকতু) হাদিসসমূহের বর্ণনায় সংকলিত 'গুরারুল ফাওয়াইদ আল-মাজমুআহ' এর প্রথম খণ্ড। এটি সংকলন করেছেন ইমাম হাফেজ রশিদউদ্দীন আবুল হুসাইন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন আবদুল্লাহ আল-কুরাশি আল-মিসরি আল-আত্তার আল-মালিকি। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত প্রচুর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন এবং রাসূলুল্লাহর সকল সাহাবীদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, আমীন। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমার সকল তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি। আল্লাহর সকল প্রশংসা তাঁর শান অনুযায়ী, আর তাঁর নবী ও বান্দা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরবর্তী পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর তাঁর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর, এগুলো ইমাম হাফেজ আবু হুসাইন মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল-কুশায়রি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর সহীহ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত হাদিসসমূহ, যা সেখানে তাঁর সাধারণ রীতির ব্যতিক্রম হিসেবে সংঘটিত হয়েছে। ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী আত-তামিমি আল-মাজেরি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-মু'লিম' নামক গ্রন্থে এগুলো উল্লেখ করেছেন এবং তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম মুসলিমের কিতাবে এগুলো বিচ্ছিন্ন সনদ (মাকতু) হিসেবে এসেছে।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১১৬)
وعدها أربعة عشر حديثا ونبه على أكثرها في مواضعها من كتابه إلا أنه لم يبين صفة انقطاعها ولا ذكر من وصلها كلها من أئمة الرواة فربما توهم الناظر في كتابه ممن ليس له عناية بالحديث ولا معرفة بجمع طرقه أنها من الأحاديث التي لا تتصل بوجه ولا يصح الاحتجاج بها لانقطاعها وقد رأيت غير واحد يلهج بذكرها ويظنها على هذه الصفة وليس الأمر كذلك بل هي متصلة كلها والحمد لله من الوجوه الثابتة التي نوردها فيما بعد إن شاء الله وهذا القول الذي قاله الإمام أبو عبد الله المازري إنما أخذه فيما قيل من كلام الحافظ أبي علي الغساني الأندلسي فإنه جمعها قبله وعدها كذلك أيضا إلا أنه نبه على اتصال بعضها ولم يستوعب ذلك في جميعها ولعل المازري رحمه الله إنما ترك التنبيه على اتصالها لاكتفائه بما ذكره أبو علي الحافظ على أنهما قد خولفا في إطلاق تسمية المقطوع على أحاديث منها ولم يسلم لهما ذلك فيها على ما يأتي بيانه في موضعه إن شاء الله وقد استخرت الله سبحانه وجمعتها في هذا الجزء لنفسي ولمن شاء الله أن ينتفع بها وأضفت إليها ما وقع لي في صحيح مسلم من جنسها مما لم يعده الحافظ أبو علي في جملتها وبينت وجوه اتصالها كلها وسميت من وصلها من الثقات المعتمد على قولهم في هذا الشأن ومن أخرجها في كتبه من أئمة الحديث مستعينا في ذلك كله بالله عز وجل ومستمدا هدايته وإرشاده وتوفيقه إلى الصواب وإسعاده وهو حسبي ونعم الوكيل

তিনি সেগুলোকে চৌদ্দটি হাদিস হিসেবে গণনা করেছেন এবং তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এগুলোর অধিকাংশের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তবে তিনি এগুলোর বিচ্ছিন্নতার ধরন বর্ণনা করেননি এবং বর্ণনাকারী ইমামগণের মধ্য থেকে যারা এগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সনদ বর্ণনা করেছেন, তাঁদের সকলের নামও উল্লেখ করেননি। ফলে তাঁর কিতাব পাঠকারী এমন ব্যক্তি, যার হাদিস শাস্ত্রের প্রতি বিশেষ মনোযোগ নেই এবং হাদিসের সূত্রগুলো একত্র করার বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে হয়তো ধারণা করতে পারে যে, এগুলো এমন হাদিস যা কোনোভাবেই নিরবচ্ছিন্ন নয় এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করা সঠিক হবে না। আমি একাধিক ব্যক্তিকে এগুলো নিয়ে আলোচনা করতে এবং এগুলোকে এই গুণসম্পন্ন মনে করতে দেখেছি। অথচ বিষয়টি এমন নয়; বরং আল্লাহর প্রশংসায় এই সব কটি হাদিসই সুসাব্যস্ত সূত্রগুলোর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে উল্লেখ করব। ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-মাযিরি যে কথাটি বলেছেন, তা মূলত হাফেজ আবু আলী আল-গাসসানি আল-আন্দালুসীর বক্তব্য থেকে নেওয়া হয়েছে বলে বর্ণিত আছে। কারণ তিনি তাঁর আগে এগুলো একত্র করেছেন এবং একইভাবে গণনা করেছেন; তবে তিনি এগুলোর কয়েকটির নিরবচ্ছিন্নতার কথা উল্লেখ করলেও সব কটির ক্ষেত্রে তা পূর্ণাঙ্গভাবে করেননি। সম্ভবত আল-মাযিরি (রাহিমাহুল্লাহ) এগুলোর নিরবচ্ছিন্নতার বিষয়টি উল্লেখ করা বর্জন করেছেন হাফেজ আবু আলীর বর্ণনার ওপর নির্ভর করার কারণে। তা ছাড়া, এই হাদিসগুলোর কয়েকটিকে বিচ্ছিন্ন নামকরণের ক্ষেত্রে তাঁদের উভয়ের বিরোধিতা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাঁদের দাবি গ্রহণ করা হয়নি, যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে বর্ণিত হবে। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে ইস্তিখারা করে এগুলোকে এই অংশে নিজের জন্য এবং যাদের আল্লাহ উপকার করার ইচ্ছা করবেন তাদের জন্য একত্র করেছি। সহীহ মুসলিমে এই জাতীয় আরও যে হাদিসগুলো আমার সামনে এসেছে, যা হাফেজ আবু আলী তাঁর তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেননি, সেগুলোকেও আমি এতে যুক্ত করেছি। আমি এগুলোর সব কটির নিরবচ্ছিন্নতার দিকগুলো বর্ণনা করেছি এবং এই বিষয়ে যাদের কথার ওপর নির্ভর করা হয়, সেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে যারা এগুলোকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন এবং হাদিসের ইমামদের মধ্য থেকে যারা এগুলোকে নিজ নিজ কিতাবে সংকলন করেছেন, তাঁদের নাম উল্লেখ করেছি। এই সব কিছুতে আমি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার সাহায্য কামনা করছি এবং সত্যের পথে তাঁর হিদায়াত, পথনির্দেশ, তাওফিক এবং সহায়তা প্রার্থনা করছি। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১১৭)
‌‌الحديث الأول

قال الإمام أبو الحسين مسلم بن الحجاج القشيري رحمه الله في كتاب الطهارة وروى الليث بن سعد عن جعفر بن ربيعة عن عبد الرحمن بن هرمز عن عمير مولى ابن عباس أنه سمعه يقول أقبلت أنا وعبد الرحمن بن يسار مولى ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم حتى دخلنا على أبي
প্রথম হাদীস

ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশায়রী (রাহিমাহুল্লাহ) কিতাবুত তাহারাহ (পবিত্রতা অধ্যায়)-এ বলেন: লায়স ইবনে সাদ জাফর ইবনে রাবিআ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্ত দাস উমায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে বলতে শুনেছেন: আমি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী মায়মুনার মুক্ত দাস আবদুর রহমান ইবনে ইয়াসার অগ্রসর হলাম, এমনকি আমরা আবুর নিকট প্রবেশ করলাম।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১১৮)
الجهم بن الحارث بن الصمة الأنصاري فقال أبو الجهم أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم من نحو بئر جمل فلقيه رجل فسلم عليه فلم يرد عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أقبل على الجدار فمسح وجهه ويديه ثم رد عليه قلت هكذا أخرجه مسلم في صحيحه مقطوعا وهو حديث صحيح ثابت متصل في كتاب البخاري وغيره من حديث الإمام أبي الحارث الليث بن سعد بن عبد الرحمن المصري الفقيه عن جعفر بن ربيعة بن شرحبيل المصري أخرجه الأئمة الثقات البخاري وأبو داود والنسائي في مصنفاتهم متصلا من حديثه فرواه البخاري عن يحيى بن عبد الله بن بكير المخزومي المصري عنه وابن بكير هذا من شرط مسلم فإنه احتج بحديثه وروى عن أبي زرعة الرازي وعن غير واحد
আল-জাহম ইবনে আল-হারিস ইবনে আস-সিম্মাহ আল-আনসারী। অতঃপর আবু জাহম বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বি’র-এ-জামাল-এর দিক থেকে আসছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে সালাম দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সালামের উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না তিনি একটি দেয়ালের অভিমুখী হলেন এবং তাঁর চেহারা ও দুই হাত মাসাহ করলেন, অতঃপর তিনি সালামের উত্তর দিলেন। আমি বলি: ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে এভাবেই হাদীসটি মাকতু (সূত্রবিচ্ছিন্ন) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অথচ এটি একটি সহীহ ও সাব্যস্ত হাদীস যা ইমাম বুখারী ও অন্যদের কিতাবে মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এটি বর্ণিত হয়েছে ইমাম আবু আল-হারিস আল-লাইস ইবনে সাদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মিসরী আল-ফকীহ-এর হাদীস থেকে, তিনি জা’ফর ইবনে রাবিআ ইবনে শুরাহবিল আল-মিসরী থেকে বর্ণনা করেছেন। নির্ভরযোগ্য ইমামগণ—বুখারী, আবু দাউদ এবং নাসাঈ—তাঁদের সংকলনসমূহে হাদীসটি মুত্তাসিল সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী এটি ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বুকাইর আল-মাখযূমী আল-মিসরীর সূত্রে তাঁর (লাইস) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই ইবনে বুকাইর ইমাম মুসলিমের শর্তভুক্ত বর্ণনাকারী, কেননা তিনি তাঁর হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং তিনি আবু জুরআ আর-রাযী ও আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১১৯)
عنه ورواه أبو داود عن عبد الملك بن شعيب بن الليث بن سعد عن أبيه عن جده وعبد الملك هذا من ثقات المصريين روى عنه مسلم في صحيحه عدة أحاديث من روايته عن أبيه عن جده ورواه النسائي عن الربيع بن سليمان عن شعيب بن الليث بن سعد عن أبيه والربيع بن سليمان هذا هو المرادي صاحب الإمام الشافعي رحمه الله مشهور من ثقات المصريين وأكابرهم وقد أخبرنا به من طريق البخاري الشيخ المحدث الثقة أبو القاسم هبة الله بن علي بن مسعود بن ثابت الأنصاري الخزرجي رحمه الله قراءة عليه في شهر رمضان سنة ثلاث وتسعين وخمس مائة بمصر أنا الشيخ أبو عبد الله محمد بن بركات بن هلال السعيدي النحوي قراءة
তাঁর থেকে এবং আবু দাউদ তা বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন শুআইব বিন আল-লাইস বিন সা'দ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে। এই আব্দুল মালিক মিশরীয় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত; মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে তাঁর সূত্রে তাঁর পিতা ও দাদার মাধ্যমে বর্ণিত বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন। আন-নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন রাবি বিন সুলাইমান থেকে, তিনি শুআইব বিন আল-লাইস বিন সা'দ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে। এই রাবি বিন সুলাইমান হলেন আল-মুরাদি, ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর শিষ্য, যিনি মিশরীয় নির্ভরযোগ্য ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে সুপরিচিত। নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস শায়খ আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আলী বিন মাসউদ বিন সাবিত আল-আনসারী আল-খাজরাজী (রহিমাহুল্লাহ) বুখারীর সূত্রে আমাদের এটি অবহিত করেছেন; পাঁচশ তিরানব্বই হিজরী সনের রমজান মাসে মিশরে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন বারাকাত বিন হিলাল আস-সাঈদী আন-নাহবী পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের অবহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২০)
عليه وأنا أسمع أخبرتنا الحرة الصالحة المجاورة أم الكرام كريمة بنت أحمد بن محمد بن حاتم المروزية بقراءتي عليها بمكة شرفها الله سنة ست وخمسين وأربع مائة أنا أبو الهيثم محمد بن مكي بن محمد الكشميهني الأديب أنا أبو عبد الله محمد بن يوسف بن مطر الفربري أنا الإمام الحافظ أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم الجعفي البخاري قراءة عليه وأنا أسمع غير مرة ثنا يحيى بن بكير ثنا الليث عن جعفر بن ربيعة عن الأعرج قال سمعت عميرا
তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি শুনছিলাম: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পুণ্যবতী ও নেককার মহীয়সী নারী, মক্কার হারামের প্রতিবেশী উম্মুল কিরাম কারীমা বিনতে আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাতিম আল-মারওয়াযিয়্যাহ; ৪৫৬ হিজরি সনে মক্কায়—আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন—তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাহিত্যিক আবু আল-হাইসাম মুহাম্মাদ বিন মাক্কি বিন মুহাম্মাদ আল-কুশমিহানি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন মাতার আল-ফিরিবরি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম হাফিয আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম আল-জু’ফী আল-বুখারী; একাধিকবার তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি শুনছিলাম। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন বুকাইর। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-লাইস, তিনি জা’ফর বিন রাবীআহ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমাইরকে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২১)
مولى ابن عباس قال أقبلت أنا وعبد الله بن يسار مولى ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم حتى دخلنا على أبي الجهيم بن الحارث بن الصمة الأنصاري فقال أبو الجهيم أقبل النبي صلى الله عليه وسلم من نحو بئر جمل فلقيه رجل فسلم عليه فلم يرد عليه النبي صلى الله عليه وسلم حتى أقبل على الجدار فمسح بوجهه ويديه ثم رد عليه السلام هكذا أورده البخاري في صحيحه فثبت اتصاله وصح الاحتجاج به ووقع في هذا الحديث وهم في صحيح مسلم وهو قوله أقبلت أنا وعبد الرحمن بن يسار وصوابه عبد الله بن يسار كما أوردناه من صحيح البخاري آنفا وكذلك هو في كتابي أبي داود والنسائي أيضا عبد الله بن يسار على الصواب وهو أخو
ইবনে আব্বাসের মুক্ত দাস বলেন: আমি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মায়মুনাহ-এর মুক্ত দাস আবদুল্লাহ বিন ইয়াসার অগ্রসর হলাম, পরিশেষে আমরা আবু আল-জুহায়ম বিন আল-হারিস বিন আস-সিম্মাহ আল-আনসারির নিকট উপস্থিত হলাম। আবু আল-জুহায়ম বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বি’রে জামাল নামক স্থানের দিক থেকে আসছিলেন, পথিমধ্যে এক ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল এবং তাঁকে সালাম দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের জবাব দিলেন না, যতক্ষণ না তিনি একটি দেয়ালের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করলেন, অতঃপর তিনি সালামের জবাব দিলেন। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এভাবেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, ফলে এর সনদের অবিচ্ছিন্নতা প্রমাণিত হয়েছে এবং এর দ্বারা দলিল গ্রহণ করা বিশুদ্ধ হয়েছে। এই হাদিসে সহীহ মুসলিমে একটি ভ্রম পরিলক্ষিত হয়, আর তা হলো তাঁর উক্তি: "আমি এবং আবদুর রহমান বিন ইয়াসার অগ্রসর হলাম", অথচ সঠিক হলো "আবদুল্লাহ বিন ইয়াসার", যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে সহীহ বুখারী থেকে বর্ণনা করেছি। একইভাবে আবু দাউদ ও নাসাঈর কিতাবদ্বয়েও সঠিকভাবে "আবদুল্লাহ বিন ইয়াসার" বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি হলেন ভাই...
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২২)
عطاء وسليمان وعبد الملك بني يسار مولى ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم وأبو جهيم هذا اسمه عبد الله بن الحارث بن الصمة الأنصاري قاله أبو مسعود الدمشقي وخلف بن محمد الواسطي الحافظان ولم يسمه الكلاباذي
আতা, সুলাইমান ও আব্দুল মালিক—তাঁরা ইয়াসারের পুত্র এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মায়মুনার মুক্ত দাস। আর এই আবু জুহাইম—তাঁর নাম হলো আব্দুল্লাহ বিন আল-হারিস বিন আস-সিম্মাহ আল-আনসারী; এটি দুই হাফিজ আবু মাসউদ আদ-দিমাশকী ও খালাফ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতী বর্ণনা করেছেন, তবে আল-কালাবাদি তাঁর নাম উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২৩)
ولا أبو عمر بن عبد البر وذكر الحافظ أبو الفضل المقدسي وغيره أنه يقال له أبو جهم أيضا والله عز وجل أعلم

 

‌‌الحديث الثاني

قال مسلم رحمه الله في كتاب الصلاة في إحدى الروايات عنه حدثنا صاحب لنا ثنا إسماعيل بن
এবং আবু উমর ইবনে আবদিল বারও নন। হাফিজ আবু আল-ফাদল আল-মাকদিসি এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে তাকে আবু জাহমও বলা হয়। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা অধিক পরিজ্ঞাত।

 

‌‌দ্বিতীয় হাদীস

ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) সালাত অধ্যায়ে তাঁর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় বলেছেন, আমাদের এক সাথী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসমাইল ইবনে... আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২৫)
زكرياء عن الأعمش وعن مسعر وعن مالك بن مغول عن
যাকারিয়্যা বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, মিসআর থেকে এবং মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি...
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২৬)
وعن مسعر وعن مالك بن مغول عن الحكم بهذا الإسناد مثله يعني
এবং মিস'আর থেকে এবং মালিক ইবন মিগওয়াল থেকে, হাকাম-এর সূত্রে এই সনদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, অর্থাৎ—
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২৭)
الحكم بن عتيبة قال سمعت ابن أبي ليلى قال لقيني كعب بن
আল-হাকাম বিন উতাইবাহ বলেন, আমি ইবনে আবি লায়লাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, কাব বিন... আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২৮)
عجرة فقال ألا أهدي لك هدية خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلنا قد عرفنا كيف نسلم عليك الحديث قلت وهذا الحديث مما اتفق الأئمة الحفاظ على صحته وثبوته وأخرجه البخاري ومسلم وأبو داود
উজরাহ, এরপর তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে একটি উপহার দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন, তখন আমরা বললাম: আমরা জেনেছি কীভাবে আপনাকে সালাম দিতে হয়— (সম্পূর্ণ) হাদিস। আমি বলছি: এই হাদিসটি এমন একটি বর্ণনা যার বিশুদ্ধতা ও প্রমাণের ব্যাপারে হাফেজ ইমামগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং ইমাম বুখারী, মুসলিম ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২৯)
والترمذي والنسائي وابن ماجه في كتبهم من طرق ثابتة عن الحكم بن عتيبة بإسناده المذكور متصلا وقول مسلم رحمه الله في بعض طرقه حدثنا صاحب لنا لا يسمى مقطوعا عند أكثر المحدثين لأن المقطوع في اصطلاحهم ما لم يتصل سنده وكان في رواته من دون التابعين من لم يسمعه ممن فوقه كرواية مالك بن أنس عن
এবং তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ তাঁদের কিতাবসমূহে হাকাম বিন উতাইবাহ থেকে সাব্যস্ত বিভিন্ন সূত্রে পূর্বোল্লিখিত নিরবচ্ছিন্ন সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিছু সূত্রে "আমাদের জনৈক সাথী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" বলে যার নাম উল্লেখ করেননি, তা অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট 'মাকতু' (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে গণ্য। কারণ তাঁদের পরিভাষায় 'মাকতু' হলো যার সনদ সংযুক্ত নয় এবং যার বর্ণনাকারীদের মধ্যে তাবিঈগণের পরবর্তী স্তরের এমন ব্যক্তি থাকে যে তার ঊর্ধ্বস্থ বর্ণনাকারীর নিকট থেকে তা সরাসরি শ্রবণ করেনি; যেমন মালেক বিন আনাসের বর্ণনা... থেকে।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩০)
عبد الله بن عمر ورواية الثوري عن جابر بن عبد الله ونحو ذلك وهو نوع من المرسل إلا أنهم قصروا المرسل على التابعين إذا أرسلوه عن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يذكروا فيه الصحابي وقول أبي علي إن ما تقدم ذكره يسمى مقطوعا هو قول الحاكم أبي عبد الله بن البيع النيسابوري والذي عليه الأكثر من علماء الرواية وأرباب النقل أن قول الراوي حدثنا صاحب لنا وحدثني غير واحد وحدثني من سمع فلانا وحدثت عن فلان ونحو ذلك معدود في المسند لأنه لم ينقطع له سند وإنما وقعت الجهالة في أحد رواته كما لو سمي ذلك الراوي وجهل حاله على أنه لم يقع كذلك في كتاب مسلم إلا من طريق أبي العلاء ابن ماهان عن أبي بكر الأشقر عن
আবদুল্লাহ বিন উমর এবং জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে আস-সাওরীর বর্ণনা এবং এই জাতীয় বিষয়াদি মুরসালের একটি প্রকার। তবে তাঁরা মুরসালকে কেবল তাবেয়ীনদের বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন যখন তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তা সরাসরি বর্ণনা করেন এবং তাতে সাহাবীর নাম উল্লেখ করেন না। আর আবু আলীর এই বক্তব্য যে—পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তাকে মাকতু বলা হয়—এটি আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ বিন আল-বায়্যি আন-নায়সাবুরীর উক্তি। তবে বর্ণনাশাস্ত্রের অধিকাংশ পণ্ডিত ও তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তরের বিশেষজ্ঞগণের অভিমত হলো, বর্ণনাকারীর উক্তি—'আমাদের একজন সাথী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন', 'একের অধিক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন', 'অমুকের নিকট থেকে শ্রবণকারী ব্যক্তি আমাকে বলেছেন' কিংবা 'অমুকের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে' এবং এই জাতীয় বর্ণনাগুলো মুসনাদ হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এর সনদ বিচ্ছিন্ন হয়নি, বরং এর একজন বর্ণনাকারী অজ্ঞাত রয়ে গেছেন মাত্র; যেমনটি কোনো বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করার পর যদি তাঁর অবস্থা অজ্ঞাত থাকে তবে যেমন হয়। তবে মুসলিমের কিতাবে এমনটি ঘটেনি, কেবল আবুল আলা ইবনে মাহানের সূত্রে আবু বকর আল-আশকার থেকে...
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩১)
القلانسي عن مسلم ووقع في روايتنا من طريق أبي أحمد الجلودي عن إبراهيم بن محمد بن سفيان عن مسلم مسمى غير مبهم ونحن نورده من صحيح مسلم كما رويناه ليتضح اتصاله أخبرنا به جماعة من شيوخنا قراءة عليهم قالوا أنا الشريف أبو المفاخر الماموني قراءة عليه ونحن نسمع أنا الإمام أبو عبد الله الفراوي ح وأخبرنا عاليا الشيخ أبو الحسن المؤيد بن محمد بن علي
আল-কালানিসি মুসলিম হতে বর্ণনা করেছেন। আবু আহমদ আল-জালুদির সূত্রে ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান হতে মুসলিমের বর্ণনায় আমাদের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় বরং নামসহ স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এর সনদের নিরবচ্ছিন্নতা স্পষ্ট করার নিমিত্তে আমরা যেভাবে এটি বর্ণনা করেছি, সেভাবেই সহিহ মুসলিম হতে উদ্ধৃত করছি। আমাদের একদল শিক্ষক তাঁদের নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের এটি অবহিত করেছেন। তাঁরা বলেছেন: আশ-শরিফ আবু আল-মাফাখির আল-মামুনি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেছেন: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাউই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এবং শায়খ আবু আল-হাসান আল-মুআইয়াদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি উচ্চতর সনদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩২)
الطوسي رحمه الله إذنا وكتابة من نيسابور أنا الإمام فقيه الحرم أبو عبد الله محمد بن الفضل الصاعدي الفراوي قراءة عليه وأنا أسمع أنا أبو الحسين عبد الغافر ابن محمد الفارسي أنا أبو أحمد محمد بن عيسى بن عمرويه الجلودي أنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان الزاهد ثنا الإمام الحافظ أبو الحسين مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري ثنا محمد بن مثنى ومحمد بن بشار واللفظ لابن مثنى قالا ثنا محمد بن جعفر ثنا شعبة عن الحكم قال سمعت ابن أبي ليلى قال لقيني كعب بن عجرة فقال ألا أهدي لك هدية خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلنا قد عرفنا كيف نسلم عليك

তূসী (রাহিমাহুল্লাহ) নিশাপুর থেকে অনুমতি ও লিখিতভাবে জানিয়েছেন: ইমাম, হারামাইনের ফকীহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আস-সাঈদী আল-ফারাভী তাঁর নিকট পঠিত পাঠানুসারে (আমি তা শ্রবণরত ছিলাম) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবুল হুসাইন আব্দুল গাফির ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আমরওয়াইহ আল-জালূদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু ইসহাক ইব্রাহীম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান আজ-জাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইমাম হাফিয আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নিসাবুরী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ বিন মুসান্না ও মুহাম্মদ বিন বাশশার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন—শব্দাবলি ইবনে মুসান্নার—তাঁরা উভয়ে বলেছেন: মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন: শু’বাহ আল-হাকাম থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবী লাইলাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: কাব বিন উজরাহ আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: আমি কি তোমাকে একটি উপহার প্রদান করব না? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন, তখন আমরা বললাম: আমরা তো অবগত হয়েছি কীভাবে আপনার প্রতি সালাম নিবেদন করতে হয়।

(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
فكيف نصلي عليك قال قولوا اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم إنك حميد مجيد اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد قال ثنا زهير بن حرب وأبو كريب قالا ثنا وكيع عن شعبة ومسعر عن الحكم بهذا الإسناد مثله وليس في حديث مسعر ألا أهدي لك هدية قال حدثنا محمد بن بكار قال ثنا إسماعيل بن زكرياء عن الأعمش

“তবে আমরা আপনার ওপর কীভাবে দরুদ পাঠ করব?” তিনি বললেন, “তোমরা বলো: হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহীমের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেভাবে আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহীমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।” তিনি বলেন, যুহাইর বিন হারব এবং আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন শু'বাহ ও মিসআর থেকে, তাঁরা হাকাম থেকে এই সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে মিসআরের হাদিসে “আমি কি তোমাকে একটি উপহার দেব না?” এই কথাটি নেই। তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসমাইল বিন যাকারিয়া আমাদের নিকট আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
وعن مسعر وعن مالك بن مغول كلهم عن الحكم بهذا الإسناد مثله واللفظ للماموني يقول قلت فهذه طرق هذا الحديث في صحيح مسلم متصلة كلها من الوجه الذي أوردناه عنه فثبت اتصاله من جميع طرقه في كتاب مسلم والحمد لله وقد قال الحاكم أبو عبد الله بن البيع الحافظ وقد يروى الحديث وفي إسناده رجل غير مسمى وليس بمنقطع يعني إذا روي ذلك الحديث من وجه آخر وسمي ذلك الرجل فيه كما وقع في إسناد هذا الحديث قال فهذا النوع من المنقطع الذي لا يقف عليه لا الحافظ الفهم المتبحر في الصنعة والله أعلم قلت وقد وقع لي هذا الحديث أعلى من طريق الصحيح بدرجتين كأني سمعته من عبد الغافر الفارسي رحمه الله وهو ما أخبرنا به أبو اليمن زيد بن الحسن بن زيد البغدادي بقراءتي في منزله بدمشق أخبركم أبو منصور
এবং মিসআর ও মালিক বিন মিগওয়াল থেকে বর্ণিত, তাঁরা সকলেই হাকামের মাধ্যমে এই সনদে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; আর শব্দাবলি মামুনীর। তিনি বলেন, আমি বলছি: সহীহ মুসলিমে এই হাদীসের এই সনদগুলো আমরা তাঁর থেকে যেভাবে উল্লেখ করেছি সে অনুযায়ী সবগুলোই নিরবচ্ছিন্ন। সুতরাং মুসলিমের কিতাবে এর সকল সূত্র থেকে এর নিরবচ্ছিন্নতা প্রমাণিত হলো, আলহামদুলিল্লাহ। হাফেজ হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-বাইয়্যি বলেছেন: কখনো কখনো হাদীস বর্ণিত হয় যার সনদে কোনো ব্যক্তি নামহীন থাকেন, তবে তা বিচ্ছিন্ন নয়। অর্থাৎ, যখন সেই হাদীসটি অন্য কোনো পন্থায় বর্ণিত হয় এবং সেখানে সেই ব্যক্তির নাম উল্লেখ থাকে, যেমনটি এই হাদীসের সনদে ঘটেছে। তিনি বলেন: এটি এমন এক ধরণের বিচ্ছিন্নতা যা কেবল হাদীস শাস্ত্রের প্রাজ্ঞ ও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হাফেজগণই অনুধাবন করতে পারেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন। আমি বলছি: এই হাদীসটি আমার নিকট ‘সহীহ’-এর সূত্রের চেয়েও দুই স্তর উচ্চ সনদে পৌঁছেছে, যেন আমি সরাসরি এটি আব্দুল গাফির আল-ফারিসী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে শুনেছি। আর তা হলো যা আমাকে আবুল ইয়ামান যায়েদ বিন আল-হাসান বিন যায়েদ আল-বাগদাদী দামেস্কে তাঁর নিজগৃহে আমার পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু মনসুর আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩৫)
عبد الرحمان بن محمد بن عبد الواحد الشيباني قراءة عليه وأنت تسمع ببغداد فأقر به ثنا القاضي الشريف أبو الحسين محمد بن علي بن محمد بن المهتدي بالله من لفظه وكتابه ثنا أبو حفص عمر بن إبراهيم بن أحمد إملاء ثنا أبو القاسم عبد الله بن محمد بن عبد العزيز البغوي ثنا علي يعني ابن الجعد أنا شعبة
আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আশ-শাইবানী, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আপনি বাগদাদে উপস্থিত থেকে তা শুনেছেন, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সম্মানিত বিচারক আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুহতাদী বিল্লাহ তাঁর নিজ উচ্চারণ ও কিতাব থেকে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আহমদ শ্রুতলিখনের মাধ্যমে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-বাগাওয়ী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী — অর্থাৎ ইবনুল জা’দ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু’বাহ।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
رجل عنها لا يدل عن الحكم قال سمعت ابن ليلى قال لقيني كعب بن عجرة فقال ألا أهدي لك هدية فذكر نحوه

 

‌‌الحديث الثالث

قال مسلم رحمه الله في كتاب الصلاة أيضا حدثت عن يحيى بن حسان ويونس بن محمد المؤدب وغيرهما قالوا
এক ব্যক্তি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যা বিধানের প্রতি নির্দেশনা দেয় না। তিনি বললেন, আমি ইবনে লাইলাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: কাব বিন উজরাহ আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন, ‘আমি কি তোমাকে একটি উপহার দেব না?’ অতঃপর তিনি অনুরূপ বিষয় উল্লেখ করলেন।

 

‌তৃতীয় হাদিস

ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) সালাত অধ্যায়ে আরও বলেছেন, আমার কাছে ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান, ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব এবং অন্যান্যদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা বলেছেন—
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
ثنا عبد الواحد حدثني عمارة عن أبي زرعة عن أبي هريرة كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا نهض من الركعة الثانية استفتح القراءة بالحمد لله رب العالمين ولم يسكت قلت وهذا أيضا لا يسمى مقطوعا عند جماعة من أرباب النقل وإنما هو مسند وقع الإبهام في أحد رواته كما بيناه ومع ذلك فهو حديث صحيح الإسناد متصل أخرجه الحافظ أبو بكر أحمد بن عمرو بن عبد الخالق البزار البصري في مسنده فرواه عن أبي الحسن محمد بن مسكين اليمامي نزيل
আবদুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আম্মারা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুরআ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন দ্বিতীয় রাকাত থেকে উঠতেন, তখন তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ পাঠের মাধ্যমে কিরাত শুরু করতেন এবং তিনি নীরবতা অবলম্বন করতেন না। আমি বলি, হাদীস বিশারদদের একটি দলের নিকট এটিও ‘মাকতু’ হিসেবে গণ্য নয়, বরং এটি একটি ‘মুসনাদ’ হাদীস যার একজন বর্ণনাকারীর পরিচয়ে অস্পষ্টতা ঘটেছে যেমনটি আমরা ব্যাখ্যা করেছি। তা সত্ত্বেও, এটি একটি সহীহ সনদের মুত্তাসিল হাদীস। হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আমর বিন আব্দুল খালিক আল-বাজার আল-বাসরী এটি তাঁর মুসনাদে সংকলন করেছেন; তিনি এটি আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন মিসকিন আল-ইয়ামামী থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি তথায় অবস্থান করতেন।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
البصرة عن يحيى بن حسان التنيسي بإسناده كذلك متصلا وأبو بكر البزار هذا من أكابر الحفاظ ومحله في هذا العلم وشهرته تغني عن الإطناب في ذكره وشيخه في هذا الحديث محمد بن مسكين من ثقات الرواة روى عنه البخاري ومسلم في صحيحيهما فثبت اتصاله والحمد لله وأخرجه أيضا الحافظ أبو نعيم أحمد بن عبد الله الأصبهاني وناهيك به جلالة ونبلا ومعرفة بهذا الشأن في كتابه المسمى بالمسند الصحيح المستخرج على كتاب مسلم وهو كتاب جليل كثير الفوائد ونحن نورده منه ليتضح اتصاله وأخبرناه أبو طاهر الفرشي مكاتبة عن أبي علي الحداد ح وأنبأنا الحافظ أبو محمد المقدسي قال أنا أبو موسى الحافظ
বসরা থেকে ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান আত-তিন্নিসি একইভাবে তার নিরবচ্ছিন্ন সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এই আবু বকর আল-বাযযার হলেন শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদগণের অন্যতম; এই শাস্ত্রে তার সুউচ্চ মর্যাদা ও প্রসিদ্ধি তার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রাখে না। এই হাদিসে তার উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে মিসকিন হলেন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এর নিরবচ্ছিন্নতা প্রমাণিত হলো এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। হাফেজ আবু নুআইম আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসফাহানিও তার ‘আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুস্তাখরাজ আলা কিতাবি মুসলিম’ নামক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন—আর এই শাস্ত্রে তার সুমহান মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রজ্ঞা আপনার জন্য যথেষ্ট। এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কিতাব যাতে প্রচুর ফায়দা রয়েছে। আমরা এটি সেখান থেকেই বর্ণনা করছি যাতে এর নিরবচ্ছিন্নতা স্পষ্ট হয়। আমাদের কাছে এটি পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আল-ফারশি, তিনি আবু আলি আল-হাদ্দাদ থেকে। (হা) আর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, তিনি বলেছেন, আমাদের খবর দিয়েছেন হাফেজ আবু মুসা।
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
المديني وأبو بكر محمد بن أحمد الجوزداني قراءة عليهما أنا أبو علي الحسن بن أحمد بن الحسن الحداد المقرئ أنا أبو نعيم أحمد بن عبد الله الحافظ ثنا أبو بكر الطلحي ثنا محمد بن عبد الله الحضرمي ثنا ابن عسكر ح قال أبو نعيم وحدثنا أبو محمد بن حيان ثنا أحمد بن عمر حدثنا محمد بن سهل بن عسكر ثنا يحيى بن حسان ثنا عبد الواحد بن زياد عن عمارة بن القعقاع عن أبي زرعة عن أبي هريرة قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام للركعة الثانية استفتح القراءة بالحمد لله رب العالمين ولم يسكت لفظهم سواء وهذا إسناد صحيح ومحمد بن سهل بن عسكر روى عنه مسلم في صحيحه والله أعلم

আল-মাদিনী এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-জাওযদানী, তাঁদের নিকট পাঠ করা হয়েছে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আহমদ বিন আল-হাসান আল-হাদ্দাদ আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর আত-তালহি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনে আসকার। (সনদ পরিবর্তন): আবু নুআইম বলেন, এবং আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন হাইয়ান, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমদ বিন উমর, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন সাহল বিন আসকার, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন হাসান, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ, তিনি উম্মারা বিন আল-কাকা থেকে, তিনি আবু যুরআহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াতেন, তখন ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ পাঠের মাধ্যমে কিরাত শুরু করতেন এবং তিনি কোনো নীরবতা অবলম্বন করতেন না। তাঁদের উভয়ের শব্দাবলী অভিন্ন। এটি একটি সহিহ সনদ এবং মুহাম্মদ বিন সাহল বিন আসকার থেকে ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪০)
‌‌الحديث الرابع

قال مسلم رحمه الله في كتاب الصلاة أيضا حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي أنا يحيى بن آدم ثنا الفضيل بن مرزوق عن شقيق بن عقبة عن البراء بن عازب قال نزلت هذه الآية حافظوا على الصلوات وصلاة العصر فقرأناها ما شاء الله ثم نسخها الله فنزلت حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قانتين وذكر
চতুর্থ হাদিস

ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) সালাত অধ্যায়ে আরও বলেছেন: ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ফুদ্বায়েল ইবনে মারজুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাকিক ইবনে উকবাহ থেকে, তিনি বারা ইবনে আজেব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল— ‘তোমরা সকল সালাতের এবং আসরের সালাতের হিফাযত করো’। আল্লাহ যা চাইলেন আমরা তা তিলাওয়াত করলাম, তারপর আল্লাহ তা রহিত করে দিলেন এবং নাযিল হলো— ‘তোমরা সকল সালাতের এবং মধ্যবর্তী সালাতের হিফাযত করো এবং আল্লাহর সামনে একনিষ্ঠভাবে দাড়াও’। এবং তিনি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪১)
باقي الحديث ثم قال عقيبة ورواه الأشجعي عن سفيان عن الأسود بن قيس عن شقيق بن عقبة عن البراء بن عازب قال قرأناها مع النبي صلى الله عليه وسلم زمانا بمثل حديث فضيل بن مرزوق قلت هكذا أورده مسلم في صحيحه وهو حديث صحيح متصل من حديث فضيل بن مرزوق بالإسناد المذكور انفرد به مسلم دون البخاري وقوله بعد إيراده ورواه الأشجعي عن سفيان إنما هو على وجه المتابعة وذكر متابعة الرواة بعضهم بعضا على رواية الحديث لا يقدح في اتصاله بل يقويه ويؤيده وفي صحيح البخاري من هذا النمط كثير والله ولي التوفيق والأشجعي هذا اسمه عبيد الله بن عبد الرحمن كوفي ثقة وهو ممن اتفق البخاري ومسلم على الاحتجاج بحديثه في صحيحيهما وقد وقع لي حديثه هذا الذي أشار إليه مسلم رحمه الله بالإسناد المتصل وهو ما أخبرنا المشايخ الثقات الحافظ أبو الحسن علي بن المفضل بن علي المقدسي الفقيه وأبو محمد عبد الله بن عبد الجبار العثماني وأبو

হাদিসের অবশিষ্টাংশ; এরপর তিনি এর পরপরই বলেছেন যে, আশজায়ি এটি সুফিয়ান থেকে, তিনি আসওয়াদ ইবনে কাইস থেকে, তিনি শাকিক ইবনে উকবা থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (বারা) বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দীর্ঘকাল এটি ফুযাইল ইবনে মারযুকের হাদিসের অনুরূপ তিলাওয়াত করেছি। আমি বলছি, ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এভাবেই এটি উদ্ধৃত করেছেন। এটি ফুযাইল ইবনে মারযুকের বর্ণনা থেকে উল্লিখিত সনদে একটি সহিহ ও নিরবচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল) হাদিস, যা ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন, ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেননি। হাদিসটি উল্লেখ করার পর তাঁর এই উক্তি—"আশজায়ি এটি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন"—মূলত মুতাবায়াত (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে এসেছে। হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের একে অপরের অনুকূলে বর্ণনা বা মুতাবায়াত উল্লেখ করা হাদিসের নিরবচ্ছিন্নতার ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, বরং তা হাদিসকে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করে। সহিহ বুখারিতে এই পদ্ধতির অনেক প্রয়োগ রয়েছে। আল্লাহই তাওফিক দানকারী। আর এই আশজায়ি-র নাম হলো উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান; তিনি কুফার অধিবাসী ও নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। তিনি এমন রাবিদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ব্যাপারে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে একমত হয়েছেন। ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) যে হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, সেটি আমি নিরবচ্ছিন্ন সনদে প্রাপ্ত হয়েছি। এটি সেই হাদিস যা আমাদের নিকট নির্ভরযোগ্য শায়খগণ বর্ণনা করেছেন: হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনে আল-মুফাযযাল ইবনে আলী আল-মাকদিসি আল-ফকিহ, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল জাব্বার আল-উসমানি এবং আবু...

(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪২)
صابر حامد بن أبي القاسم الأهوازي وغير واحد قراءة عليهم قالوا أنا أحمد بن محمد الحافظ أنا أبو عبد الله القاسم بن الفضل الثقفي بأصبهان أنا أبو زكرياء يحيى بن إبراهيم بن محمد المزكي أنا أحمد بن أبي محمد بن عبدوس الطرائفي ثنا عثمان بن سعيد ثنا إبراهيم بن أبي الليث وهو ابن نصر البغدادي ثنا الأشجعي عن سفيان عن الأسود بن
সাবির হামিদ ইবন আবিল কাসিম আল-আহওয়াযী এবং আরও অনেকে, তাঁদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তাঁরা বলেন: আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসফাহানের আবু আব্দুল্লাহ আল-কাসিম ইবনুল ফাযল আস-সাকাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবন ইবরাহিম ইবন মুহাম্মাদ আল-মুযাক্কী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবন আবু মুহাম্মাদ ইবন আবদুস আত-তারায়িফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসমান ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবন আবিল লাইস —যিনি ইবন নাসর আল-বাগদাদী— আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আশজাঈ সুফিয়ান থেকে, তিনি আল-আসওয়াদ ইবন থেকে...
(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
قيس عن شقيق بن عقبة عن البراء بن عازب قال قرأناها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم أياما حافظوا على الصلوات وصلوات العصر ثم قرأناها حفظوا على الصلوات والصلاة الوسطى وقوموا لله قانتين فلا أدري أهي هي أم لا قلت وهذا إسناد حسن متصل وليس لشقيق بن عقبة ذكر في صحيح مسلم إلا في هذا الحديث فيما علمت وأخرجه الحافظ أبو علي بن السكن المصري في جمعه حديث الثوري فرواه عن رجل عن عثمان بن سعيد الدرامي بهذا الإسناد وقال عقيبة لم يسند شقيق بن عقبة غير هذا الحديث والله عز وجل أعلم

কায়েস শাকিক ইবনে উকবাহ থেকে এবং তিনি আল-বারা ইবনে আজিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বেশ কিছু দিন (আয়াতটি) এভাবে পাঠ করতাম: ‘তোমরা সালাতসমূহের এবং আসরের সালাতের ব্যাপারে যত্নবান হও’। অতঃপর আমরা তা এভাবে পাঠ করেছি: ‘তোমরা সালাতসমূহের এবং মধ্যবর্তী সালাতের ব্যাপারে যত্নবান হও এবং আল্লাহর জন্য অনুগত হয়ে দাড়াও’। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি জানি না সেটি (মধ্যবর্তী সালাত) এটিই কি না। আমি (গ্রন্থকার) বলছি, এটি একটি হাসান (উত্তম) ও মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) সনদ। আমার জানামতে সহিহ মুসলিমে এই হাদিসটি ব্যতীত শাকিক ইবনে উকবাহর আর কোনো উল্লেখ নেই। হাফিজ আবু আলী ইবনুল সাকান আল-মিসরি সাওরির হাদিস সংকলনে এটি উদ্ধৃত করেছেন; তিনি এক ব্যক্তির বরাতে উসমান ইবনে সাইদ আদ-দারিমি থেকে এই সনদেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। উকইবাহ বলেন, শাকিক ইবনে উকবাহ এই হাদিসটি ব্যতীত অন্য কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি। আর মহান আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

(খণ্ড: ১) গুরারুল ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
‌‌الحديث الخامس

قال مسلم رحمه الله في كتاب الجنائز وحدثني هارون بن سعيد الأيلي ثنا عبد الله بن وهب أنا ابن جريج عن عبد الله بن كثير بن المطلب أنه سمع
পঞ্চম হাদিস

ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) জানাজা পর্বে বলেছেন: হারুন ইবনে সাঈদ আল-আইলী আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে কাসীর ইবনে আল-মুত্তালিব থেকে, তিনি শুনেছেন যে-