(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
المحصول في شرح صفوة الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: المحصول في شرح صفوة الأصول
المؤلف: د. عبد العزيز بن ريس الريس
الناشر: دار البرازي (سوريا) - دار الإمام مسلم (المدينة المنورة)
الطبعة: الأولى، 1437 هـ
عدد الصفحات: 116
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 30 رمضان 1442
আল-মাহসুল ফি শারহি সাফওয়াতিল উসুল বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)
বই: আল-মাহসুল ফি শারহি সাফওয়াতিল উসুল
লেখক: ড. আব্দুল আজিজ বিন রাইস আল-রাইস
প্রকাশক: দার আল-বারাজি (সিরিয়া) - দার আল-ইমাম মুসলিম (মদিনা মুনাওয়ারা)
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ রমজান ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
سلام عليكم ورحمة الله وبركاته؛ أما بعد:
فقد منَّ الله بدرس أسبوعي في شرح متن (صفوة أصول الفقه) للعلَّامة عبد الرحمن بن سعدي رحمه الله، وقد كنت أُمليه، فقام أحد أخواننا الأفاضل بكتابته وتوثيق النقولات، فراجعته بعد ذلك على عُجالة، وأسميته:
المحصول في شرح صفوة الأصول
أسأل الله الذي لا إله إلا هو أن يجعله خالصًا لوجهه الكريم، وأن يتقبله وهو الرحمن الرحيم، وأن يغفر للإمام العلامة ابن سعدي رحمه الله.
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
د. عبدالعزيز بن ريس الريس.
16/ 11 / 1436 هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর:
আল্লাহ তাআলা আল্লামা আব্দুর রহমান বিন সাদি (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত ‘সাফওয়াতু উসুলিল ফিকহ’ নামক মূলপাঠের (متن) ব্যাখ্যা (شرح) প্রদানের একটি সাপ্তাহিক দরসের অনুগ্রহ দান করেছেন। আমি এটি শ্রুতলিপি হিসেবে প্রদান করছিলাম, অতঃপর আমাদের একজন সম্মানিত ভাই এটি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং উদ্ধৃতিসমূহের নির্ভরযোগ্যতা নিরূপণ (توثيق) করেছেন। এরপর আমি দ্রুততার সাথে এটি পুনরায় পর্যালোচনা করেছি এবং এর নামকরণ করেছি:
আল-মাহসুল ফি শারহি সাফওয়াতিল উসুল
আমি সেই আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যিনি ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি যেন এই কাজটিকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ (خالص) করেন এবং এটি কবুল করে নেন; আর তিনিই পরম করুণাময় ও অতিশয় মেহেরবান। আল্লাহ যেন ইমাম আল্লামা ইবনে সাদি (রহিমাহুল্লাহ)-কে ক্ষমা করেন।
আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
ড. আব্দুল আজিজ বিন রাইস আল-রাইস।
১৬/ ১১ / ১৪৩৬ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيد:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
أمَّا بعد:
فإنَّ علم أصول الفقه: علم مهم ومفيد وسهل، وحاجة المجتهد إليه ماسَّةٌ.
وقبل البدء بالتعليق على هذه الرسالة، أقدِّم بمقدِّمات:
المقدِّمة الأولى:
أهمُّ علوم الآلة على الإطلاق هو علم أصول الفقه، وهو الشَّرط الأساس لكلِّ مجتهد، ولا يُتَصَوَّر مجتهد ليس ذا علم بأصول الفقه، ذكر هذا أبو المظفر السمعاني
(1)، والرازي
(2)، والشوكاني
(3).
المقدِّمة الثانية:
علم أصول الفقه علمٌ سهل؛ لأنَّه علم عمليٌّ والذي صَعَّبه في الغالب ما يلي:
--------------------------------------------
ভূমিকা:সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) একটি গুরুত্বপূর্ণ, উপকারী ও সহজ শাস্ত্র; এবং একজন মুজতাহিদ (مجتهد)-এর জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
এই পুস্তিকাটির ওপর ব্যাখ্যা প্রদান শুরু করার আগে আমি কিছু প্রাথমিক আলোচনা পেশ করছি:
প্রথম ভূমিকা:
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিদ্যা (علوم الآلة) হলো ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه), যা প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد)-এর জন্য একটি মৌলিক শর্ত। ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ে জ্ঞান নেই এমন কোনো মুজতাহিদ (مجتهد)-এর অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। এ কথা উল্লেখ করেছেন আবু আল-মুজাফফর আল-সামআনি
(১), আল-রাজি
(২) এবং আল-শাওকানি
(৩)।
দ্বিতীয় ভূমিকা:
ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) একটি সহজ শাস্ত্র; কারণ এটি একটি প্রয়োগমুখী বিদ্যা। একে সাধারণত যা জটিল করে তুলেছে তা নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮)
الأمر الأول: أنَّه أصبح أرض معركة بين المتكلمين من المعتزلة والأشاعرة.
الأمر الثاني: أنَّه أُدخِل فيه كثير من المسائل النَّظرية التي لا يترتب عليها عمل.
الأمر الثالث: أنَّ بعض مَنْ كتب فيه كتب بأسلوب صَعْب، وكأنَّه كتَبَه مُسْوَدَّة، كابن قدامة في روضة النَّاظر، فإنَّه يكتب بعبارات مغلقة، وأحيانًا يُدخل مسألتين في مسألة.
المقدِّمة الثالثة:
ينبغي لدارس علم أصول الفقه أن يعتمد المسائل الأصولية بدليلها، وألَّا يتبنى المسائل تقليدًا؛ لأنَّ المسألة الأصولية الواحدة ينبني عليها مسائل فقهية كثيرة، ولأنَّ علم أصول الفقه أساسٌ لكلِّ مجتهد، فكيف يكون مجتهدًا وقد بنى اجتهاده على تقليد؟!.
المقدِّمة الرابعة:
أنَّ هناك فرقًا بين علم أصول الفقه، وعلم الفقه، وعلم القواعد الفقهية؛ فأصول الفقه هو الأساس وهو آلةُ معرفةِ الفقه، فمنه ينتج الفقه، فإذا كثرت المسائل الفقهية وأمكن جمعها في قاعدة بحيث ترجع هذه الأجزاء والمسائل الكثيرة إلى قاعدة كلية، فتُسمى هذه القاعدة حينئذٍ بالقواعد الفقهية، فالأصوليُّ يبحث في الأدلة الإجمالية فَيقرِّرُ أنَّ الأمر يقتضي الوجوب، ويذكر الدليل على ذلك، والفقيه يُطبِّق هذه المسائل الأصولية على المسائل الفقهية فردًا فردًا، فهو
প্রথমত: এটি মুতাজিলা ও আশাইরা সম্প্রদায়ের কালাম শাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) মধ্যে এক রণক্ষেত্রে পর্যবসিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: এতে এমন বহু তাত্ত্বিক মাসআলা (المسائل النَّظرية) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যার ওপর কোনো আমল বা ব্যবহারিক প্রয়োগ নির্ভর করে না।
তৃতীয়ত: এই বিষয়ে যারা লিখেছেন, তাদের কেউ কেউ অত্যন্ত জটিল শৈলীতে লিখেছেন; যেন তারা এটি একটি খসড়া হিসেবে লিখেছিলেন, যেমন রওজাতুন নাজির গ্রন্থে ইবনে কুদামা। তিনি অত্যন্ত দুর্বোধ্য শব্দপ্রয়োগে লিখেছেন এবং কখনো কখনো দুটি ভিন্ন মাসআলাকে একটির মধ্যে প্রবিষ্ট করেছেন।
তৃতীয় উপক্রমণিকা:
উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর উচিত দলিলসহ উসুলি মাসআলাগুলোর (المسائل الأصولية) ওপর নির্ভর করা এবং অন্ধ অনুকরণের (تقليدًا) ভিত্তিতে মাসআলাগুলো গ্রহণ না করা; কেননা একটি মাত্র উসুলি মাসআলার ওপর অনেক ফিকহি মাসআলা ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তাছাড়া উসুলুল ফিকহ হলো প্রত্যেক মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য মূল ভিত্তি। এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে মুজতাহিদ হতে পারেন যখন তিনি তার ইজতিহাদকে (اجتهاده) অনুকরণের (تقليد) ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন?!
চতুর্থ উপক্রমণিকা:
উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه), ইলমুল ফিকহ এবং ইলমুল কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ-র মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উসুলুল ফিকহ হলো মূল ভিত্তি এবং এটি ফিকহ অনুধাবনের একটি মাধ্যম (آلة); এ থেকেই ফিকহ উৎপন্ন হয়। যখন ফিকহি মাসআলাগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সেগুলোকে একটি মূলনীতির (قاعدة) অধীনে একত্রিত করা সম্ভব হয়, যাতে এই বহুসংখ্যক অংশ ও মাসআলা একটি সামষ্টিক মূলনীতির (قاعدة كلية) দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তখন সেই মূলনীতিকে ফিকহি মূলনীতি (القواعد الفقهية) বলা হয়। সুতরাং উসুলবিদ (الأصوليُّ) সামগ্রিক দলিলসমূহ (الأدلة الإجمالية) নিয়ে আলোচনা করেন এবং সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, আদেশ ওয়াজিব (الوجوب) হওয়াকে দাবি করে এবং এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেন। পক্ষান্তরে ফকিহ (الفقيه) এই উসুলি মাসআলাগুলোকে প্রতিটি ফিকহি মাসআলার ওপর এককভাবে প্রয়োগ করেন, ফলে তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৯)
محتاجٌ إلى الأدلة الإجمالية، وعلماء القواعد الفقهية يُلَخِّصُون هذه المسائل الكثيرة في قاعدة ترجِعُ إليها مسائل كثيرة، وتُسمَّى بالقاعدة الفقهية.
تنبيهان:
التنبيه الأول:
ينبغي لدارس القواعد الفقهية أن يُفرِّق بين القواعد المذهبية والقواعد التي ذُكرت بالنَّظر للدَّليل؛ فإنَّ كتب القواعد الفقهية المذهبية تَذْكُر القاعدة التي ترجع إليها مسائل المذهب، ولو لم يكن كاتبها مقتنعًا بهذه القاعدة من جهة الدليل.
التنبيه الثاني:
لا يصح أن تُرَدَّ الأدلة الشرعية بكلِّ ما يُدّعى أنَّها قاعدة فقهية، وكم رُدَّتْ الأدلَّة بمثل هذا، ذكر هذا ابن القيم
(1)، والشوكاني
(2).
لذا ينبغي لمن أراد أن يتبنَّى قاعدة؛ أن يتبناها بعد النَّظر في دليلها، وكم رَدَّ أهل البدع من الماضين والمعاصرين، من الحَرَكِيين وغيرهم الأدلة الشرعية؛ بحُجَّةِ أنَّ معهم قاعدة.
--------------------------------------------
সাধারণ দলিলসমূহের মুখাপেক্ষী; আর ফিকহী মূলনীতি (القواعد الفقهية) শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এই বহুবিধ মাসআলাগুলোকে এমন একটি মূলনীতিতে সংক্ষিপ্ত করেন যার অধীনে অনেক মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়, আর একে ফিকহী মূলনীতি (القاعدة الفقهية) বলা হয়।
দুটি সতর্কতা:
প্রথম সতর্কতা:
ফিকহী মূলনীতির শিক্ষার্থীর জন্য উচিত মাযহাব-ভিত্তিক মূলনীতি এবং দলিলের নিরিখে বর্ণিত মূলনীতিগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা; কেননা মাযহাব-ভিত্তিক ফিকহী মূলনীতির গ্রন্থসমূহ এমন সব মূলনীতি উল্লেখ করে যার দিকে সংশ্লিষ্ট মাযহাবের মাসআলাগুলো প্রত্যাবর্তন করে, যদিও সেই গ্রন্থের লেখক দলিলের বিচারে উক্ত মূলনীতির ব্যাপারে আশ্বস্ত না থাকেন।
দ্বিতীয় সতর্কতা:
ফিকহী মূলনীতি (قاعدة فقهية) বলে দাবি করা হয় এমন সবকিছুর মাধ্যমেই শরয়ী দলিলসমূহ প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়; অথচ এমন অজুহাতে কতই না দলিল প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে! এটি ইবনুল কায়্যিম
(১) এবং শাওকানী
(২) উল্লেখ করেছেন।
অতএব, যে ব্যক্তি কোনো মূলনীতি গ্রহণ করতে চায়, তার উচিত দলিলের পর্যালোচনার পরই তা গ্রহণ করা; অতীতে ও বর্তমানে অনেক বিদআতি সম্প্রদায়, রাজনৈতিক আন্দোলনকারী (الحركيين) এবং অন্যরা স্রেফ একটি মূলনীতি (قاعدة) থাকার অজুহাতে শরয়ী দলিলসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال المصنِّف رحمه الله:
«الحمد لله رب العالمين، حمدًا كثيرًا طيّبًا مباركًا فيه ..
اللهم صلَّ على محمد وعلى آله وأصحابه وأتباعه إلى يوم الدين، وسلم تسليمًا كثيرًا.
أمَّا بعد:
فإن أصول الفقه علم شريف مهم، يحصل بمعرفته لطالب العلم ملكة يقتدر بها على النظر الصحيح في أصول الأحكام، ويتمكن من الاستدلال على الحلال والحرام».
تقدم في المقدمة الأولى: أن علم أصول الفقه شرط أساس لكل مجتهد، ولا يصح أن يكون الرجل مجتهدًا إلا بعد دراسة علم أصول الفقه.
قَوْلُهُ: «ويستعين به على استنباط الأحكام الشرعية من الكتاب والسنة، ويَعْرِفُ بذلك كيفية ذلك كلِّه وطريقه».
علم أصول الفقه يقوم على أُسُسٍ ثلاثة:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
«সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা অগণিত, পবিত্র ও বরকতময়...
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের ওপর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই উসূলে ফিকহ (أصول الفقه) একটি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র। এর জ্ঞানের মাধ্যমে একজন ইলম অন্বেষণকারীর মাঝে এমন এক যোগ্যতা (ملكة) অর্জিত হয়, যার দ্বারা সে বিধানের মূলনীতিসমূহের (أصول الأحكام) ক্ষেত্রে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বনে সক্ষম হয় এবং হালাল ও হারামের বিষয়ে দলীল উপস্থাপনে পারদর্শিতা লাভ করে।»
প্রথম ভূমিকায় অতিবাহিত হয়েছে যে: উসূলে ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রটি প্রত্যেক মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য একটি মৌলিক শর্ত। আর উসূলে ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্র অধ্যয়ন করা ব্যতীত কোনো ব্যক্তির পক্ষে মুজতাহিদ (مجتهد) হওয়া সঠিক নয়।
তাঁর উক্তি: «এবং এর মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে শরয়ি বিধানাবলি (الأحكام الشرعية) আহরণ বা ইস্তিম্বাত (استنباط) করার ক্ষেত্রে সাহায্য লাভ করা যায় এবং এর দ্বারা এই সবকিছুর পদ্ধতি ও পন্থা সম্পর্কে জানা যায়।»
উসূলে ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রটি তিনটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত:
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأساس الأول: الأدلة الشرعية، والمراد بها الأدلة المُجْمَع عليها والمخْتَلَف فيها.
الأساس الثاني: كيفية التعامل مع هذه الأدلة، وذلك إذا تعارض عامٌّ وخاصٌّ فيقدَّمُ الخاصُّ .. وهكذا.
الأساس الثالث: حال المستفيد، وذلك بأن ينظر في شروط المجتهد، والمسائل التي يجتهد فيها، وينظر في حال المستفيد وغيره، ذكر هذه الأسس الثلاثة المرداوي
(1)، والسبكي
(2).
قَوْلُهُ: «وهذا مختصر انْتَقَيْتُهُ من كتب أصول الفقه، اقتصرت فيه على المهم المحتاج إليه، واجتهدت في توضيحه؛ لأن الحاجة إلى التوضيح والبيان أشد من الحاجة إلى الحذف والاختصار».
جمع المؤلف رحمه الله في هذا المتن بين أمرين:
الأول: الاقتصار على المهم المحتاج إليه.
الثاني: الاجتهاد في التوضيح والبيان، ولو ترتب على ذلك شيء من الإطالة، فإن التوضيح والبيان أهم من الاختصار والحذف.
--------------------------------------------
প্রথম ভিত্তি: শরয়ী দলিলসমূহ (الأدلة الشرعية), আর এর দ্বারা ঐকমত্যপূর্ণ (مجمع عليها) এবং মতভেদপূর্ণ (مختلف فيها) দলিলসমূহকে বোঝানো হয়েছে।
দ্বিতীয় ভিত্তি: এই দলিলসমূহ ব্যবহারের পদ্ধতি; আর তা হলো যখন কোনো সাধারণ (عام) এবং বিশেষ (خاص) দলিলের মধ্যে বৈপরীত্য (تعارض) দেখা দেয়, তখন বিশেষকে (خاص) প্রাধান্য দেওয়া হয়... এবং এভাবেই অন্যান্য বিষয়গুলোও পরিচালিত হয়।
তৃতীয় ভিত্তি: ফায়দা গ্রহণকারীর অবস্থা; আর তা হলো মুজতাহিদের (مجتهد) শর্তাবলি এবং যে সকল বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা হয় সেই মাসআলাগুলো পর্যবেক্ষণ করা, সেইসাথে ফায়দা গ্রহণকারী ও অন্যদের অবস্থা বিবেচনা করা। আল-মারদাভি
(১) এবং আস-সুবকি
(২) এই তিনটি ভিত্তির কথা উল্লেখ করেছেন।
তাঁর উক্তি: "এটি একটি সংক্ষিপ্ত সার (مختصر) যা আমি উসূলে ফিকহের (أصول الفقه) গ্রন্থসমূহ থেকে চয়ন করেছি। এতে আমি কেবল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়াবলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং তা স্পষ্টভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি; কেননা বর্জন ও সংক্ষেপণের চেয়ে স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।"
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এই মূল পাঠে (متن) দুটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন:
প্রথমত: কেবল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।
দ্বিতীয়ত: স্পষ্টীকরণ ও বিবৃতির ক্ষেত্রে সচেষ্ট হওয়া, যদিও এর ফলে লেখা কিছুটা দীর্ঘ হয়; কারণ সংক্ষেপণ ও বর্জনের চেয়ে স্পষ্টীকরণ ও বিশদ ব্যাখ্যা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قَوْلُهُ: «وأرجو الله تعالى الإعانة والسداد، وسلوك أقرب طريق يوصل إلى الهدى والرشاد بمنه وكرمه. آمين.».
هذا ما فَعَلَهُ المؤلِّف في هذه الرسالة النافعة، فإنَّها مع اختصارها قد جمعت مسائل كثيرةً عمليةً.
قَوْلُهُ: «اعلم أنَّ أصول الفقه هي: الأدلة المُوصِلة إليه، وأصلها الكتاب والسنة والإجماع والقياس».
سيذكر المصنف هذه الأدلة والمسائل المتعلقة بها.
واشتهر تعريف علم أصول الفقه بتعريفات ترجع إلى أنَّه: معرفة الأدلة الإجمالية، وكيفية الاستفادة منها، وحال المستفيد.
تنبيه:
ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية في رَدِّه على المناطقة أنَّ مما عند المناطقة من الأخطاء: أنَّهم يُغَالُون في الاشتِغَال بالتَّعاريف والحدود، ثُمَّ ذكر أنَّ كثيرًا من المتأخرين من الفقهاء وقَعُوا في هذا، واشتغلوا بالتَّعاريف، بخلاف الفقهاء الأولين، كمالك والشافعي وأحمد.
لذا من الخطأ أن يُشتغل بالتَّعاريف. هذا معنى كلامه
(1).
--------------------------------------------
তাঁর উক্তি: «আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য ও সঠিক পথপ্রাপ্তি এবং তাঁরই অনুগ্রহ ও বদান্যতায় হিদায়াত ও সঠিক পথের দিকে নিয়ে যায় এমন নিকটতম পথ অবলম্বনের আশা রাখি। আমিন।»
লেখক এই উপকারী পুস্তিকায় (الرسالة) তাই করেছেন; কেননা এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও অনেক ব্যবহারিক মাসআলা (مسائل) বা বিষয়বস্তু সংকলন করেছে।
তাঁর উক্তি: «জেনে রাখুন যে, ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ (أصول الفقه) হলো: যা এর দিকে পৌঁছে দেয় সেই প্রমাণসমূহ। আর এর মূল উৎস হলো কিতাব (الكتاب), সুন্নাহ (السنة), ঐক্যমত (الإجماع) এবং সাদৃশ্য-অনুমান (القياس)»।
গ্রন্থকার (المصنف) এই সকল দলিল এবং এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ বর্ণনা করবেন।
উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) বিজ্ঞানের সংজ্ঞা এমন সব সংজ্ঞার মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যা মূলত এই বিষয়টির দিকেই ফিরে যায় যে: এটি হলো সামগ্রিক প্রমাণসমূহ (الأدلة الإجمالية) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার পদ্ধতি এবং উপকার গ্রহণকারীর অবস্থা জানা।
সতর্কীকরণ:
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া যুক্তিবিদদের (المناطقة) খণ্ডন করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তিবিদদের অন্যতম ভুল হলো: তারা সংজ্ঞা (التعاريف) ও সংজ্ঞায়নের সীমা (الحدود) নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের মগ্ন থাকে। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ফকিহগণের (الفقهاء) মধ্যে পরবর্তীকালের (المتأخرين) অনেকেই এই ভুলের মধ্যে পড়েছেন এবং সংজ্ঞায়ন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন; যা মালেক, শাফেয়ী ও আহমদের মতো পূর্ববর্তী ফকিহগণের রীতির পরিপন্থী।
তাই সংজ্ঞায়ন নিয়ে মগ্ন থাকা একটি ভুল। এটিই তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ।
(1).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد يقال: إنَّه يصِحُّ الاجتهاد في التَّعاريف في حالة، وهو إذا كان التعريف ضابطًا وقاعدة، فليس الاجتهاد فيه؛ لأنَّه تعريفٌ وحَدٌّ، وإنَّما لأنَّه قاعدة.
قَوْلُهُ: «والأحكام الشرعية خمسة».
اشتهر تسمية هذه الأحكام الخمسة ب
الأحكام التكليفيَّة، وهذه التَّسمية فيها نَظَرٌ، وأصلها من المعتزلة، وقد أنكرها شيخ الإسلام ابن تيمية
(1)، وابن القيم
(2)، وسيأتي بيان هذا أكثر عند التعليق على رسالة ابن عثيمين رحمه الله في أصول الفقه.
والأصوليُّون يَجعلون الأحكام الشرعية قسْمَين:
الأوَّل: أحكام تكليفيَّة.
الثاني: أحكام وضعيَّة.
والأحكام التكليفية هي الأحكام الخمسة المشهورة.
قَوْلُهُ: «الواجب وهو: ما أُثيبَ فاعله وعوقب تاركه».
الذي ينبغي معرفته في الواجب: أنَّه ما طلبت الشريعة فعله، بحيث إذا لم يُفعل أثم صاحبه، ولا ينبغي أن يُشتغل ب
تعريف الواجب، وإنما يُكتفى بفهم معناه.
--------------------------------------------
কখনো কখনো বলা হয়ে থাকে যে, একটি বিশেষ ক্ষেত্রে সংজ্ঞাসমূহের ব্যাপারে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা সঠিক; আর তা হলো যখন সংজ্ঞাটি একটি মানদণ্ড (ضابط) এবং মূলনীতি (قاعدة) হয়। তখন এতে ইজতিহাদ (اجتهাদ) করা সংজ্ঞা বা সীমাবদ্ধকরণ (حد) হওয়ার কারণে নয়, বরং এটি একটি মূলনীতি (قاعدة) হওয়ার কারণেই করা হয়।
তাঁর বক্তব্য: «এবং শরয়ি বিধানসমূহ পাঁচটি»।
এই পাঁচটি বিধানকে
হুকমে তকলিফি (الأحكام التكليفية) হিসেবে নামকরণ করা প্রসিদ্ধ। তবে এই নামকরণের ক্ষেত্রে আপত্তি (نظر) রয়েছে এবং এর উৎস হলো মুতাজিলা সম্প্রদায়। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ
(১) এবং ইবনুল কাইয়্যিম
(২) এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উসুলুল ফিকহ বিষয়ক রিসালার ওপর ব্যাখ্যার সময় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
উসুলবিদগণ শরয়ি বিধানসমূহকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন:
প্রথম: হুকমে তকলিফি (أحكام تكليفية)।
দ্বিতীয়: হুকমে ওয়াদয়ি (أحكام وضعية)।
হুকমে তকলিফি (أحكام تكليفية) হলো সেই প্রসিদ্ধ পাঁচটি বিধান।
তাঁর বক্তব্য: «ওয়াজিব (الواجب) হলো তা-ই, যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তি পায়»।
ওয়াজিব (الواجب) সম্পর্কে যা জানা আবশ্যক তা হলো: শরিয়ত যা করার দাবি জানিয়েছে, এমনভাবে যে তা পালন না করলে ব্যক্তি গুনাহগার হবে।
ওয়াজিবের সংজ্ঞা (تعريف الواجب) নির্ধারণে মগ্ন হওয়া সমীচীন নয়, বরং এর অর্থ উপলব্ধি করাই যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأيضا - والله أعلم - لا ينبغي أن يُدَقَّق فيُقال في تعريفه: ما أثيب فاعله، أي: امتثالًا، وعوقب تاركه، أي: استحقاقًا؛ لأنَّ هذا تحصيل حاصل.
ثم إنَّ كلَّ ما يدلُّ على الواجب فهو من الدَّلائل الدَّالة على الوجوب، فكلُّ ما دلَّت الأدلة على أنَّ تركه إثم فهو واجب.
وذلك مثل قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ}، فالصلوات الخمس المفروضة واجبة.
قَوْلُهُ: «والحرام يقابِلُه».
أي: يقابل الواجب، فكلُّ ما دلَّت الشريعة على أنَّ فعلَه إثمٌ فهو مُحرَّم، وكلُّ ما دلَّ على ذلك من الدلائل والصيغ فهو مما يدُلُّ على المُحرَّم، وسيذكر المصنِّفُ شيئًا من ذلك كالنَّهي.
وذلك مثل قوله تعالى: {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا}، فالزنا مُحرَّم.
قَوْلُهُ: «والمسنون وهو ما أُثِيبَ فاعلُه ولم يُعاقَب تاركُه».
المسنُونُ: هو كلُّ ما أثابت الشريعة على فعله، ولو تُرِك لم يؤثم تاركه.
ويعرف المسنون: بكلِّ فعلٍ امْتَدَحَتْهُ الشريعة بأيِّ دلالة، ولو تُرِكَ هذا الفعل لم يأثم تاركه، كأن تَذْكُر فضلَ فِعلٍ، أو تَجعلَه مِن شعب الإيمان .. وهكذا.
আরও আল্লাহই ভালো জানেন—এর সংজ্ঞায় (تعريف) এমন সূক্ষ্মতা অবলম্বন করা উচিত নয় যেখানে বলা হয়: যার আমলকারীকে সওয়াব প্রদান করা হয় অর্থাৎ আনুগত্যস্বরূপ (امتثالًا), এবং বর্জনকারীকে শাস্তি দেওয়া হয় অর্থাৎ পাওনা হিসেবে (استحقاقًا); কারণ এটি ইতোমধ্যেই অর্জিত কোনো বিষয়কে পুনরায় অর্জনের (تحصيل حاصل) নামান্তর।
অতঃপর যা কিছু আবশ্যিকতার (الواجب) ওপর প্রমাণ পেশ করে, তা আবশ্যকতা (الوجوب) নির্দেশক প্রমাণাদির (الدلائل) অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে সকল প্রমাণের (الأدلة) মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয় যে তা বর্জন করা পাপ (إثم), তবে তা আবশ্যিক (واجب)।
আর এটি মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {আর তোমরা নামাজ কায়েম করো}। সুতরাং পাঁচ ওয়াক্ত ফরযকৃত (المفروضة) নামাজ আদায় করা আবশ্যিক (واجبة)।
লেখকের বক্তব্য: «আর নিষিদ্ধ (الحرام) এর বিপরীত»।
অর্থাৎ: এটি আবশ্যিকের (الواجب) বিপরীত। সুতরাং শরিয়ত (الشريعة) যা কিছু করার ওপর পাপের (إثم) নির্দেশ দিয়েছে, তা-ই নিষিদ্ধ (محرم)। আর যে সকল প্রমাণ (الدلائل) এবং শব্দাবলি (الصيغ) এর ওপর ইঙ্গিত করে, তা নিষিদ্ধ (المحرم) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। লেখক (المصنِّف) অচিরেই এর কিছু উদাহরণ যেমন—নিষেধাজ্ঞা (النهي) উল্লেখ করবেন।
আর এটি মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না}। সুতরাং ব্যভিচার হলো নিষিদ্ধ (محرم)।
লেখকের বক্তব্য: «আর সুন্নাত (المسنون) হলো তা, যার আমলকারীকে সওয়াব দেওয়া হয় কিন্তু বর্জনকারীকে শাস্তি দেওয়া হয় না»।
সুন্নাত (المسنون): তা হলো এমন প্রতিটি বিষয় যার সম্পাদনের ওপর শরিয়ত (الشريعة) সওয়াব প্রদান করে, কিন্তু তা বর্জন করলে বর্জনকারী পাপী (يؤثم) হবে না।
আর সুন্নাত (المسنون) চেনা যায় এমন প্রতিটি কাজের মাধ্যমে যা শরিয়ত (الشريعة) যেকোনো নির্দেশনার (دلالة) মাধ্যমে প্রশংসা করেছে, অথচ সেই কাজটি বর্জন করলে বর্জনকারী পাপী (يأثم) হবে না। যেমন কোনো কাজের ফযিলত (فضل) উল্লেখ করা, অথবা সেটিকে ইমানের শাখাগুলোর (شعب الإيمان) অন্তর্ভুক্ত করা—এরূপ আরও অনেক কিছু।
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وذلك مثل: صلاة السنن الرواتب؛ لما أخرج مسلم (728) عن أم حبيبة رضي الله عنها قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: «مَنْ صلَّى اثنتي عشرة ركعة في يومٍ وليلةٍ، بُني له بِهِنَّ بيتٌ في الجنة».
قَوْلُهُ: «وضِدُّه المكروه».
أي: ضِدُّ المسنون المكروه، وهو: كلُّ فعلٍ أَثابت الشريعة على تَرْكِه، ولو فعله المسلم المكلف لم يأثم، وكلُّ ما يدُلُّ على ذلك فهو مكروه.
وذلك مثل: الشرب قائمًا؛ لما أخرج مسلم (2024) عن أنس رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أنَّه نَهى أن يشرب الرجل قائمًا».
قَوْلُهُ: «والمباحُ ما لَا يتعلَّقُ بِهَ مدْحٌ ولا ذمٌّ».
أي: المباح وسط لم تطلب الشريعة فعله ولا تركه.
وذلك مثل النَّوم فإنَّه مباح.
وينبغي أن يُتنبه فيما يتعلق بالأحكام إلى أمور:
الأمر الأول: أنَّ العبادة هي: فعلُ ما يُحبُّه الله أو تركُ ما يُحبُّ الله تركه، وهذا معنى قول ابن تيمية أنَّها: «اسم جامعٌ لِكلِّ ما يُحبُّه الله ويرضاه من
যেমন: সুন্নাত-এ-রাওয়াতীব সালাত; যেহেতু ইমাম মুসলিম (৭২৮) উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি দিন ও রাতে বারো রাকাত সালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে»।
তাঁর উক্তি: «এবং এর বিপরীত হলো অপছন্দনীয় (المكروه)»।
অর্থাৎ: সুন্নত (المسنون)-এর বিপরীত হলো অপছন্দনীয় (المكروه)। এটি হলো: এমন প্রতিটি কাজ যা বর্জন করার ওপর শরিয়ত সওয়াব প্রদান করে, তবে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত (المكلف) মুসলিম তা সম্পাদন করলে সে গুনাহগার হবে না; আর যা কিছুই এর ওপর প্রমাণ পেশ করে তাই অপছন্দনীয় (المكروه)।
যেমন: দাঁড়িয়ে পান করা; যেহেতু ইমাম মুসলিম (২০২৪) আনাস (রা.) থেকে নবী (সা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: «তিনি কোনো ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন»।
তাঁর উক্তি: «এবং বৈধ (المباح) হলো এমন বিষয় যার সাথে কোনো প্রশংসা বা নিন্দা জড়িত নয়»।
অর্থাৎ: বৈধ (المباح) হলো একটি মধ্যবর্তী অবস্থা যা করার বা বর্জন করার জন্য শরিয়ত কোনো তলব বা দাবি জানায়নি।
যেমন: ঘুমানো, কেননা তা বৈধ (المباح)।
বিধানসমূহ (الأحكام) সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত:
প্রথম বিষয়: ইবাদত (العبادة) হলো—আল্লাহ যা পছন্দ করেন তা করা অথবা আল্লাহ যা বর্জন করা পছন্দ করেন তা বর্জন করা। আর ইবনে তাইমিয়ার উক্তির অর্থও এটিই যে, তা হলো: «আল্লাহ যা কিছু ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন, তার সবকিছুর একটি সমন্বিত নাম যা...»
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الأقوال والأعمال الباطنة والظاهرة»
(1)، وهو معنى قوله في قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة: «أنَّ العبادات لا تكون إلَّا واجبة أو مستحبة»
(2).
فعلى هذا
التعبُّدُ بالمباح لذاته بدعة، ذكر هذا شيخ الإسلام ابن تيمية
(3)، ولا يُتعبد بالمباح إلا إذا استُعِينَ به على طاعة الله، ذكر هذا ابن تيمية
(4)، وابن القيم
(5).
وقد جاء في صحيح البخاري (4341) عن معاذ رضي الله عنه قال: «أحتَسِبُ نَومَتي كما أحتسب قَوْمَتي».
الأمر الثاني: إنَّ من تحريف الكلِم أن تُفسّر الأدلة الشرعية بالاصطلاحات الحادثة، ذكر هذا شيخ الإسلام ابن تيمية
(6)، وابن القيم
(7)، وعلى هذا أمثلة:
--------------------------------------------
«অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কথা ও কাজ»
(১), আর এটিই 'কায়দা জালিলা ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওসিলা' গ্রন্থে তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ: «নিশ্চয়ই ইবাদত কেবল ওয়াজিব (واجبة) অথবা মুস্তাহাব (مستحبة) হয়ে থাকে»
(২)।
সুতরাং এই নিয়মানুযায়ী
স্বয়ং মুবাহ (مباح) বিষয়কে ইবাদত হিসেবে গণ্য করা বিদআত (بدعة), শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি উল্লেখ করেছেন
(৩)। আর কোনো মুবাহ (مباح) বিষয়কে ততক্ষণ পর্যন্ত ইবাদত হিসেবে গণ্য করা যাবে না, যতক্ষণ না এর মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যের কাজে সহায়তা গ্রহণ করা হয়; ইবনে তাইমিয়্যাহ
(৪) এবং ইবনুল কাইয়্যিম
(৫) এটি উল্লেখ করেছেন।
সহীহ বুখারী (৪৩৪১)-তে মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «আমি আমার ঘুমের মাধ্যমে সেভাবেই সওয়াবের আশা রাখি, যেভাবে আমি আমার কিয়াম বা জাগ্রত অবস্থার ইবাদতের মাধ্যমে সওয়াবের আশা রাখি»।
দ্বিতীয় বিষয়: শব্দের অর্থ বিকৃতি করার অন্যতম একটি দিক হলো শরয়ি দলীলসমূহকে পরবর্তীকালে উদ্ভাবিত পরিভাষার আলোকে ব্যাখ্যা করা; শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ
(৬) এবং ইবনুল কাইয়্যিম
(৭) এটি উল্লেখ করেছেন। এর কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المثال الأول: إنَّ معنى الواجب اصطلاحًا هو ما تقدَّم ذكره، أما شرعًا فيطلق على المعنى الاصطلاحي وعلى السنَّة المؤكدة، قال صلى الله عليه وسلم: «غسل يوم الجمعة واجبٌ على كلِّ مُحتلم». والمراد بالوجوب في هذا الحديث السنَّة المؤكدة، ذكر هذا ابن المنذر
(1)، وابن عبد البر
(2)، ويُطلق الواجب أيضا على المعنى الاصطلاحي، وذلك كما في صحيح مسلم (412) لما سُئل الرَّسول صلى الله عليه وسلم عن الحجِّ في كلِّ عامٍ؟ فقال صلى الله عليه وسلم: «لو قلت نعم لَوَجَبَت ولما استطعتم».
المثال الثاني: لفظ المكروه، له معنى اصطلاحي تقدَّم ذكره، أما شرعًا فيطلق بمعنى التحريم غالبًا، كقوله تعالى: {كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا}. قاله ابن القيم.
ويُطلق بمعنى الكراهة الاصطلاحية، وذلك كحديث المهاجر بن قنفذ رضي الله عنه أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «إنِّي كَرِهْتُ أن أذكرَ الله عز وجل إلَّا على طُهْرٍ. أو قال: على طَهَارة» أخرجه أبو داود (17).
المثال الثالث: الرُّخصة، لها معنى اصطلاحي سيأتي، لكن لابدَّ في المعنى الاصطلاحي للرخصة أن تكون مسبوقة بِحَظْرٍ، وهذا بخلاف المعنى الشرعي، فإنها بمعنى السُّهولة واليُسر، ولا يلزم أن تكون مسبوقة بحظرٍ.
--------------------------------------------
প্রথম উদাহরণ: পারিভাষিক অর্থে 'আবশ্যক' (الواجب)-এর অর্থ ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শরীয়তের পরিভাষায় এটি পারিভাষিক অর্থের পাশাপাশি 'সুন্নতে মুয়াক্কাদা' (السنة المؤكدة)-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জুমুআর দিনের গোসল প্রত্যেক সাবালকের জন্য আবশ্যক (واجب)»। এই হাদিসে 'ওয়াজিব' (الوجوب) বলতে 'সুন্নতে মুয়াক্কাদা' (السنة المؤكدة) বোঝানো হয়েছে; এটি ইবনে আল-মুনজির
(১) এবং ইবনে আবদিল বার
(২) উল্লেখ করেছেন। আবার 'ওয়াজিব' (الواجب) শব্দটি পারিভাষিক অর্থও প্রদান করে, যেমনটি সহীহ মুসলিম (৪১২)-এ বর্ণিত হয়েছে, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রতি বছর হজ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন: «আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তবে তা আবশ্যক (وجبت) হয়ে যেত এবং তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হতে না»।
দ্বিতীয় উদাহরণ: 'মাকরূহ' (المكروه) শব্দের একটি পারিভাষিক অর্থ রয়েছে যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শরীয়তের পরিভাষায় এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'হারাম' (التحريم) অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এসবের মধ্যে যা মন্দ, তা তোমার রবের নিকট অপছন্দনীয় (مكروها) (অর্থাৎ হারাম)}। এটি ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন।
আবার এটি পারিভাষিক 'অপছন্দনীয়' বা 'মাকরূহ' (الكراهة) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন মুহাজির বিন কানফুজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পবিত্রতা ব্যতিরেকে মহান আল্লাহর যিকির করাকে আমি অপছন্দ (كرهت) করেছি। অথবা তিনি বলেছেন: পবিত্র অবস্থায়»। এটি আবু দাউদ (১৭) বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয় উদাহরণ: 'রুখসত' বা সহজতা (الرخصة)-এর একটি পারিভাষিক অর্থ রয়েছে যা সামনে আসবে। তবে 'রুখসত'-এর পারিভাষিক অর্থের ক্ষেত্রে এর আগে অবশ্যই একটি 'নিষেধাজ্ঞা' (حظر) থাকতে হয়। এটি শরয়ী অর্থের বিপরীত; কারণ শরয়ী পরিভাষায় এটি 'সহজতা ও স্বাচ্ছন্দ্য' অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এর আগে 'নিষেধাজ্ঞা' (حظر) থাকা আবশ্যক নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال ابن القيم: «وقولُكم إنَّ الرُّخصة لا تكون إلا بعد النهي باطلٌ بنفس الحديث، فإنَّ فيه رَخَّصَ رسول الله في القبلة للصَّائم، ولم يتقدَّم منه نهي عنها، ولا قال أحد إنَّ هذا التَّرخِيص فيها ناسخ لمنعٍ تَقدَّم»
(1)، وبمثله قال الصنعاني
(2).
قَوْلُهُ: «وإذا وردَ الأمر في الكتاب والسنَّة فالأصل أنَّه للوجوب».
دلَّ على هذا الأدلة وإجماع الصحابة، أما الأدلة فقوله تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}، وأما إجماع الصحابة فقد حكاه أبو يعلى
(3)، وابن قدامة
(4)، والعلائي
(5).
وذلك مثل قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} فإنَّه أمر، والأصل في الأمر أنَّه يقتضي الوجوب، ولا صارف.
قَوْلُهُ: «إلا بقرينةٍ تصرِفُه إلى النَّدب».
وذلك مثل: صلاة الوتر فقد أمر بها الرسول صلى الله عليه وسلم، أخرج الخمسة عن علي رضي الله عنه أنَّ الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «أوتروا يا أهل القرآن؛ فإنَّ الله وتر يحبُّ الوتر»
(6).
--------------------------------------------
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: «তোমাদের এই বক্তব্য যে, অবকাশ (رخصة) কেবল নিষেধাজ্ঞার পরেই হয়ে থাকে—তা এই হাদিস দ্বারাই বাতিল সাব্যস্ত হয়। কেননা এতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা পালনকারীর জন্য চুম্বনের অনুমতি বা অবকাশ (رخصة) দিয়েছেন, অথচ এর পূর্বে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসেনি। আর কেউ এ কথাও বলেননি যে, এই অবকাশ (رخصة) প্রদানের বিষয়টি পূর্ববর্তী কোনো নিষেধাজ্ঞার রহিতকারী (ناسخ)»
(1), অনুরুপ কথা সানআনিও বলেছেন
(2).
তাঁর উক্তি: «যখন কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহতে কোনো আদেশ (أمر) আসে, তখন মূল নীতি হলো সেটি আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে»।
বিভিন্ন দলিল এবং সাহাবীগণের ঐকমত্য (إجماع) এর ওপর প্রমাণ বহন করে। দলিলের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হবে}, আর সাহাবীগণের ঐকমত্যের (إجماع) বিষয়টি আবু ইয়ালা
(3), ইবনে কুদামা
(4) এবং আল-আলায়ী
(5) বর্ণনা করেছেন।
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা নামাজ কায়েম করো}। এটি একটি আদেশ (أمر), আর আদেশের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো এটি আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে, এবং একে অন্য দিকে সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো পরিবর্তনকারী (صارف) নেই।
তাঁর উক্তি: «তবে এমন কোনো লক্ষণ (قرينة) ব্যতীত যা একে পছন্দনীয় বা মুস্তাহাব (ندب) হওয়ার দিকে সরিয়ে নেয়»।
যেমন: বিতর নামাজ; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ দিয়েছেন। পাঁচজন ইমাম আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে কুরআনের অনুসারীগণ! তোমরা বিতর নামাজ আদায় করো; কেননা আল্লাহ বিজোড়, তিনি বিজোড়কে পছন্দ করেন»
(6)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
فهذا أمر للاستحباب؛ لأنَّ له صارفًا، وهو ما أخرجه الشيخان
(1) عن ابن عباس رضي الله عنه في قصة إرسال الرسول صلى الله عليه وسلم معاذًا رضي الله عنه لليمن وفيه: «أنَّ الله افترض عليهم خمس صلوات في كلِّ يومٍ وليلة»، فكلُّ صلاة متعلقة باليوم والليلة غير الخمس المفروضات فهي للاستحباب ومنها صلاة الوتر.
قَوْلُهُ: «أو الإباحة إذا كان بعد الحظر غالبًا».
أي: أنَّ الأمر بعد الحظر يرجع إلى حكم الأمر قبل الحظر، عزا شيخ الإسلام ابن تيمية هذا إلى السلف والأئمة
(2)، ورجَّحه ابن كثير
(3)، وابن رجب
(4)، والشنقيطي
(5).
فقوله تعالى: {وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا} هذا أمر بعد حظر؛ وذلك أنَّ الاصطياد مباح، فلما أَحْرَم المسلم صار محرَّمًا، فلما تحلَّل أُمِر به، فرجع إلى حكمه إلى ما قبل الحظر، أي: قبل الإحرام وهو الإباحة، ولَعلَّ قول المصنف هنا: «غالبًا»: يريد أنَّه يرجع إلى حكمه قبل الحظر غالبًا، كما أشار لذلك في تعليقاته على هذه الرسالة.
--------------------------------------------
সুতরাং এটি মুস্তাহাব (استحباب)-এর জন্য একটি নির্দেশ (أمر); কারণ এতে একটি বিচ্যুতিমূলক প্রমাণ (صارف) রয়েছে, আর তা হলো যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)
(1) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামেনে পাঠানোর ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আবশ্যক (فرض) করেছেন’। সুতরাং দিন ও রাতের সাথে সংশ্লিষ্ট পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারিত ফরজ (فرض) সালাত ব্যতীত অন্য সকল সালাত মুস্তাহাব (استحباب)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং বিতর সালাতও এরই অন্তর্ভুক্ত।
তার কথা: ‘অথবা অনুমোদনীয়তা (إباحة) যখন তা সাধারণত (غالبًا) নিষেধাজ্ঞার (حظر) পরে আসে’।
অর্থাৎ: নিষেধাজ্ঞার (حظر) পরবর্তী নির্দেশ (أمر) তার নিষেধাজ্ঞার পূর্ববর্তী হুকুমে (حكم) ফিরে যায়; শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ একে সালাফ (سلف) ও ইমামগণের (أئمة) অভিমত বলে উল্লেখ করেছেন
(2) এবং ইবনে কাসির
(3), ইবনে রজব
(4) ও শানকিতি
(5) একে প্রাধান্য (ترجيح) দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যখন তোমরা ইহরামমুক্ত হবে তখন শিকার করো} এটি নিষেধাজ্ঞার (حظر) পরবর্তী একটি নির্দেশ (أمر); আর তা এজন্য যে, শিকার করা মূলত অনুমোদিত (مباح), কিন্তু যখন একজন মুসলিম ইহরাম (إحরাম) গ্রহণ করে তখন তা হারাম (حرام) হয়ে যায়। অতঃপর যখন সে ইহরামমুক্ত হয় তখন তাকে এর নির্দেশ দেওয়া হয়, ফলে তা নিষেধাজ্ঞার (حظر) পূর্বের হুকুমে (حكم) অর্থাৎ ইহরামের (إحরাম) পূর্বের অবস্থা যা হলো অনুমোদনীয়তা (إباحة)-তে ফিরে যায়। সম্ভবত এখানে গ্রন্থকারের ‘সাধারণত (غالبًا)’ কথাটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটি সাধারণত নিষেধাজ্ঞার (حظر) পূর্ববর্তী হুকুমে (حكم) ফিরে যায়, যেমনটি তিনি এই রিসালাহ’র ওপর তার টীকায় ইঙ্গিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
تنبيه:
قوله تعالى: {فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ} هذا على وجه التهديد لا على التخيير، وقد دَرَجَ على هذا العلماء والمفسرون، فمن استدل به على جواز ترك دين الاسلام إلى غيره فقد تزنَّدق؛ ويدلُّ لذلك سياق الآية، فإنَّه قال بعد ذلك {
… إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا} فهو سِياق تهديد.
قَوْلُهُ: «والنَّهي للتَّحريم إلا بقرينة تصرفه إلى الكراهة».
ومن القرائن أنَّه إذا نهى الرسول صلى الله عليه وسلم عن أمرٍ ثم خالفه وفعله، أو أَقَرَّ أحدًا خالفه، فإنَّ النَّهي ينتقل من التحريم إلى الكراهة، وذلك مثل نهي الرسول صلى الله عليه وسلم عن الشرب قائمًا، أخرجه مسلم (2024) عن أنس رضي الله عنه، ثُمَّ فعله وشرب من زمزم وهو قائم، أخرجه البخاري (5615) عن ابن عباس رضي الله عنه، فدلَّ هذا على أن النَّهي للكراهة لا للتَّحريم.
قَوْلُهُ: «ويتعين حمل الألفاظ على حقائقها دون ما قالوا أنَّه مجاز».
هذا مبنيٌّ على أنَّ في الكلام مجازًا، وتُفهَم هذه القاعدة بمعرفة معنى المجاز، وهو ما جمع أركانا أربعة:
الركن الأول: الوضع الأول، وهو الوضع الحقيقي.
الركن الثاني: الوضع الثاني، وهو الوضع المجازي.
সতর্কবার্তা:
আল্লাহ তায়ালার বাণী: {যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক, আর যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক}—এটি ধমক প্রদানের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ইচ্ছাধিকার প্রদানের জন্য নয়। আলেম ও মুফাসসিরগণ এই পথই অনুসরণ করেছেন। সুতরাং কেউ যদি এর মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করার বৈধতার সপক্ষে দলিল পেশ করে, তবে সে ধর্মদ্রোহী (تزندق) হয়ে গেল। আয়াতের প্রাসঙ্গিকতা এর প্রমাণ দেয়, কারণ এরপর মহান আল্লাহ বলেছেন {
… নিশ্চয়ই আমি জালিমদের জন্য অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি}। সুতরাং এটি ধমক প্রদানেরই এক প্রেক্ষাপট।
লেখকের বক্তব্য: «এবং নিষেধাজ্ঞা হারাম (التحريم) হওয়ার বিধান প্রদান করে, যতক্ষণ না এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় যা একে মাকরুহ (الكراهة) হওয়ার দিকে ফিরিয়ে নেয়।»
প্রমাণের অন্যতম দিক হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করেন এবং পরবর্তীতে তিনি নিজেই তার বিপরীতে আমল করেন অথবা কেউ তার বিপরীত কাজ করলে তিনি তাকে অনুমোদন (إقرار) প্রদান করেন, তবে সেক্ষেত্রে উক্ত নিষেধাজ্ঞা হারাম (التحريم) থেকে মাকরুহ (الكراهة) হওয়ার দিকে স্থানান্তরিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন, যা মুসলিম (২০২৪) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন; কিন্তু পরবর্তীতে তিনি দাঁড়িয়ে যমযমের পানি পান করেছেন, যা বুখারি (৫৬১৫) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, এই নিষেধাজ্ঞা মাকরুহ (الكراهة) হওয়ার জন্য, হারাম (التحريم) হওয়ার জন্য নয়।
লেখকের বক্তব্য: «এবং শব্দসমূহকে তাদের প্রকৃত (حقيقة) অর্থেই গ্রহণ করা আবশ্যক, যেটিকে তারা রূপক (مجاز) বলে দাবি করে তার ভিত্তিতে নয়।»
এই বিষয়টি বক্তব্যে রূপক (مجاز) বিদ্যমান থাকার ধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। রূপক (مجاز)-এর অর্থ জানার মাধ্যমেই এই নিয়মটি বোঝা সম্ভব। আর রূপক (مجاز) হলো যা চারটি রুকন বা স্তম্ভের সমষ্টি:
প্রথম রুকন: প্রথম ব্যবহার, যা হলো প্রকৃত ব্যবহার (الوضع الحقيقي)।
দ্বিতীয় রুকন: দ্বিতীয় ব্যবহার, যা হলো রূপক ব্যবহার (الوضع المجازي)।
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
الركن الثالث: القرينة، وهي التي منعت حمل الكلام على المعنى الحقيقي، وكانت سببًا لحمله على المعنى المجازي.
الركن الرابع: العلاقة بين الوضع الأول والوضع الثاني.
فإذا قال قائل: رأيت أسدًا على فرسٍ شاهرًا سيفه. فيُقال: الوضع الأول للأسد هو: الحيوان المعروف، والوضع الثاني للأسد هو: الرجل الشجاع، والقرينة التي منعت حمله على الوضع الأول، وأوجبت حمله على الوضع الثاني هي: أنه على فرسٍ شاهرٌ للسيف، وهذا لا يكون في الحيوان المفترس، فلا بدَّ أن يُحمل على الرجل الشجاع.
أما العلاقة: فهي القوة والإقدام؛ لذا أُطلِق على الرجل الشجاع أنَّه أسد، هذا خلاصة معنى المجاز.
وقد أجمع العلماء على أنه إذا لم يكن هناك قرينة توجِبُ حمل الكلام على المعنى المجازي، فإنَّ الكلام محمول على الوضع الأول وهو الحقيقي، حكاه إجماعًا ابن تيمية
(1) والرازي
(2)، وغيرهما.
إذا تبيَّنَ هذا فإنَّه إذا حصل تردد في كلام هل يراد به المعنى المجازي أو الحقيقي، فإنَّ هذا الكلام يُحمل على المعنى الحقيقي، ومن أمثلة ذلك ما أخرجه
--------------------------------------------
তৃতীয় রুকন: প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (القرينة), যা কথাকে প্রকৃত অর্থের (الحقيقي) ওপর প্রয়োগ করতে বাধা প্রদান করে এবং একে রূপক অর্থে (المجازي) গ্রহণ করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চতুর্থ রুকন: প্রথম প্রয়োগ এবং দ্বিতীয় প্রয়োগের মধ্যবর্তী সম্পর্ক (العلاقة)।
যদি কেউ বলে: ‘আমি ঘোড়ার পিঠে তলোয়ার হাতে একজন সিংহ দেখেছি’, তবে বলা হবে: ‘সিংহ’ শব্দের প্রথম প্রয়োগ হলো: সুপরিচিত প্রাণীটি; আর ‘সিংহ’ শব্দের দ্বিতীয় প্রয়োগ হলো: সাহসী ব্যক্তি। এখানে যে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (القرينة) শব্দটিকে প্রথম প্রয়োগের ওপর রাখা অসম্ভব করে তুলেছে এবং দ্বিতীয় প্রয়োগে গ্রহণ করা আবশ্যক করেছে তা হলো: ব্যক্তিটি ঘোড়ার পিঠে তলোয়ার উঁচিয়ে আছে—যা কোনো হিংস্র পশুর ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তাই অবশ্যই একে সাহসী ব্যক্তির ওপর প্রয়োগ করতে হবে।
আর সম্পর্ক (العلاقة) হলো: শক্তি ও সাহসিকতা; একারণেই সাহসী ব্যক্তিকে সিংহ বলা হয়। এটিই হলো রূপক অর্থের (المجاز) সংক্ষিপ্ত সারমর্ম।
আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যদি এমন কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (القرينة) না থাকে যা কথাকে রূপক অর্থে (المجازي) নিতে বাধ্য করে, তবে কথাটি তার প্রথম বা প্রকৃত অর্থের (الحقيقي) ওপরই প্রয়োগ করা হবে। ইবনে তাইমিয়্যাহ
(১), রাযী
(২) এবং আরও অনেকে এই ঐকমত্যের (إجماع) কথা বর্ণনা করেছেন।
যখন বিষয়টি স্পষ্ট হলো, তখন যদি কোনো বক্তব্যের ক্ষেত্রে সংশয় দেখা দেয় যে এর দ্বারা রূপক অর্থ (المجازي) উদ্দেশ্য নাকি প্রকৃত অর্থ (الحقيقي), তবে সেই বক্তব্যকে প্রকৃত অর্থের (الحقيقي) ওপরই প্রয়োগ করা হবে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো যা বর্ণনা করা হয়েছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الشيخان عن ابن عمر وحكيم بن حزام رضي الله عنهم أنَّ الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «البيِّعان بالخيار مالم يتفرقا»
(1).
قال بعضهم: المراد بالتفرق هنا: التفرق المجازي، وهو: التفرق بالكلام، وقال بعضهم: المراد بالتَّفرُّقِ هنا: التَّفرُّق الحقيقي، وهو التَّفرُّق بالأبدان، فيحمل هذا الحديث على التَّفَرُّق الحقيقي؛ لأنَّه الأصل، وهو التفرق بالأبدان.
قَوْلُهُ: «وعلى عمومها دون خصوصها».
أي: أنَّ الأصل في الكلام أن يُحمل على عمومه، ولا يُخَصَّصُ إلَّا بدليل، فقوله سبحانه: {إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ} هذا عامٌّ في كلِّ الإنسان، ولا يُخَصَّصُ منه أحدٌّ إلا بدليل.
وقول الرسول صلى الله عليه وسلم: «عُمرة في رمضان حجة». أخرجه البخاري عن ابن عباس رضي الله عنه (1782)، هذا لفظ عامٌّ باقٍ على عمومه؛ لأنَّ لفظ «عمرة» نكِرةٌ في سياق الامتنان فتفيد العموم.
قَوْلُهُ: «وعلى استقلاله دون إضماره».
أي أنَّ الكلام يُحمل على صورته الظاهرة من غير تقدير محذوف، ولا يُقدَّرُ محذوف إلا بدليلٍ أو قرينةٍ، فقوله تعالى: {وَجَاءَ رَبُّكَ}. محمولٌ على الاستِقْلال،
--------------------------------------------
দুই শায়খ (বুখারি ও মুসলিম) ইবনে উমর ও হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ পর্যন্ত পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের) ইখতিয়ার থাকে»
(১).
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এখানে বিচ্ছিন্ন হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রূপক বিচ্ছিন্নতা (التفرق المجازي), আর তা হলো কথার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হওয়া। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এখানে বিচ্ছিন্ন হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত বিচ্ছিন্নতা (التفرق الحقيقي), আর তা হলো শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া। সুতরাং এই হাদিসটিকে প্রকৃত বিচ্ছিন্নতার (التفرق الحقيقي) ওপর প্রয়োগ করা হবে; কারণ এটিই হলো মূলনীতি (الأصل), আর তা হলো শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া।
তাঁর বক্তব্য: «এবং এটি তার সাধারণ অর্থের (عمومها) ওপর প্রয়োগ করা হবে, বিশেষ অর্থের (خصوصها) ওপর নয়»।
অর্থাৎ: বক্তব্যের ক্ষেত্রে মূলনীতি (الأصل) হলো সেটিকে তার সাধারণ অর্থের (عمومه) ওপর প্রয়োগ করা হবে এবং কোনো প্রমাণ (دليل) ছাড়া সেটিকে নির্দিষ্ট (يخصَّصُ) করা যাবে না। মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত}, এটি সকল মানুষের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ (عام) বক্তব্য এবং কোনো প্রমাণ (دليل) ছাড়া এখান থেকে কাউকে নির্দিষ্ট (يخصَّصُ) করা যাবে না।
এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: «রমজান মাসে ওমরাহ করা হজের সমতুল্য»। বুখারি এটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (১৭৮২), এটি একটি সাধারণ শব্দ (لفظ عام) যা তার সাধারণ অর্থের (عمومه) ওপর বহাল রয়েছে; কারণ «ওমরাহ» শব্দটি অনুগ্রহ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكيرة) হিসেবে এসেছে, যা সাধারণ বা ব্যাপক অর্থ (العموم) প্রদান করে।
তাঁর বক্তব্য: «এবং এটি তার স্বতন্ত্র বা প্রকাশ্য অর্থের (استقلاله) ওপর প্রয়োগ হবে, উহ্য রাখার (إضماره) ওপর নয়»।
অর্থাৎ বক্তব্যকে তার প্রকাশ্য রূপের ওপর প্রয়োগ করা হবে কোনো কিছু উহ্য (محذوف) ধরে নেওয়া ছাড়াই। কোনো প্রমাণ (دليل) বা প্রাসঙ্গিক সংকেত (قرينة) ছাড়া কোনো কিছু উহ্য (محذوف) ধরা যাবে না। মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনার রব আগমন করবেন}। এটি স্বতন্ত্র বা প্রকাশ্য অর্থের (الاستقلال) ওপরই প্রয়োগ করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
دون تقدير محذوف أو إضمار، فمن قال: إنَّ المعنى: وجاء أمر ربك. فهذا خلاف الأصل، فلا يُعَوَّل عليه.
قَوْلُهُ: «وعلى إطلاقه دون تقييده».
الكلام فيه كالكلام في العموم، ومثاله: قوله تعالى: {فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} فإنَّ الأيام مطلقة، وكقوله تعالى: {فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ} فإنَّ الأيام مطلقة أيضًا؛ لأنَّها نكرة في سياق الإثبات.
قَوْلُهُ: «وعلى أنَّه مُؤَسِّسٌ للحكم لا مُؤّكِّد».
أي: إذا حصل تردد في لفظ، هل هو مؤكد لغيره، أو مبتدأ لحكم لمعنى جديد، فإنَّه يُحمل على التأسيس والابتداء لمعنىً جديد؛ لأنَّ
الأصل في كلِّ لفظ أنَّه دالٌّ على معنى جديد.
وذلك كقوله صلى الله عليه وسلم: «إنَّما الأعمال بالنِّية، وإنّما لكلِّ امرئ ما نوى»
(1)، فقد تنازع العلماء في قوله: «وإنّما لكلِّ امرئٍ ما نوى» هل هو مؤكِدٌ لمعنى «إنما الأعمال بالنية» أو مُؤَسِّسٌ لحكم جديد؟
على أصحِّ الأقوال: أنَّه مُؤَسِّسٌ لحكمٍ جديدٍ، وهو أنَّ معنى قوله: «إنَّما الأعمال بالنِّية» أي: أنَّ كلَّ عمل واقعٌ بإرادةٍ فهو بنيِّة، سواءٌ أَكان في أمور
--------------------------------------------
কোনো ঊহ্য (محذوف) বা অন্তর্নিহিত (إضمار) বিষয় কল্পনা করা ব্যতিরেকে। সুতরাং যারা বলেন যে, এর অর্থ হলো: ‘এবং আপনার রবের আদেশ আসবে’, তবে তা মূলনীতির (أصل) পরিপন্থী, তাই এর ওপর নির্ভর করা যাবে না।
তাঁর উক্তি: «এবং একে অনির্দিষ্ট রাখার (إطلاق) ওপর ভিত্তি করে, একে সীমাবদ্ধ করা (تقييد) ব্যতিরেকে»।
এ বিষয়ে আলোচনা ব্যাপকতা (عام) বিষয়ক আলোচনার মতোই। এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {অন্য দিনগুলোর সংখ্যা অনুযায়ী}, এখানে দিনসমূহ শব্দটি অনির্দিষ্ট (مطلق)। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তিন দিন রোজা রাখা}, এখানেও দিনসমূহ শব্দটি অনির্দিষ্ট (مطلق); কারণ এটি সদর্থক বাক্যে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة في سياق الإثبات)।
তাঁর উক্তি: «এবং একে বিধান প্রবর্তনকারী (مؤسس) হিসেবে গণ্য করা, সুদৃঢ়কারী (مؤكد) হিসেবে নয়»।
অর্থাৎ: যখন কোনো শব্দের ক্ষেত্রে দ্বিধা তৈরি হয় যে, এটি কি অন্য কোনো শব্দের সুদৃঢ়কারী (مؤكد), নাকি নতুন কোনো বিধানের সূচনাকারী, তখন তাকে বিধান প্রবর্তন (تأسيس) এবং নতুন অর্থের সূচনাকারী হিসেবে গণ্য করা হবে; কারণ
মূলনীতি (أصل) হলো প্রতিটি শব্দই নতুন অর্থ প্রদান করবে।
যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করে»
(১), আলেমগণ তাঁর এই বাণী—«আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করে»—সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেছেন যে, এটি কি «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল» এর সুদৃঢ়কারী (مؤكد), নাকি এটি নতুন কোনো বিধান প্রবর্তনকারী (مؤسس)?
বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী: এটি একটি নতুন বিধান প্রবর্তনকারী (مؤسس)। আর তাঁর বাণী «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল» এর অর্থ হলো: ইচ্ছাধীন সংঘটিত প্রতিটি কাজই নিয়তের মাধ্যমে হয়, চাই তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الدين أم الدنيا، وقوله: «وإنّما لكل امرئ ما نوى» مبيِّنٌ للحكم الشرعي، إن أراد خيرًا فخير، وإن شرًا فشر.
قَوْلُهُ: «وعلى أنَّه متباين لا مُترادف».
أي: إذا اختُلِف في لفظين، هل الثاني مرادِفٌ للأول أو مغاير له ومختَلِف؟
فالأصل أن يُقال: إنَّه مختلف ومغاير له؛ لأنّ الأصل في كل لفظ أنَّ له معنى.
وذلك مثل: ما أخرجه مسلم (432) عن أبي مسعود البدري رضي الله عنه أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «لِيَلِني منكم أُولوا الأحلام والنُّهى».
تنازع العلماء هل أولوا النُّهى هم أولوا الأحلام أم بينهما فرق؟
والأصحّ أنَّ بينهما فَرْقًا؛ لأنَّ الأصل التباين، وأن يقال: إنَّ معنى أولي الأحلام أي: البالغون، ومعنى أولي النُّهى أي: أهل العقول، ذكر هذا ابن علان
(1)، وأشار لذلك السيوطي
(2).
قَوْلُهُ: «وعلى بقائه دون نَسْخِه».
أي: إذا حصل تردُّد واختلاف: هل هذا الحكم منسوخ أم غير منسوخ، ومحمول على حال أخرى؟
--------------------------------------------
দ্বীন নাকি দুনিয়া, আর তাঁর বাণী: "প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে" এটি শারয়ী বিধানের বর্ণনাকারী; যদি সে কল্যাণ চায় তবে কল্যাণ পাবে, আর যদি অকল্যাণ চায় তবে অকল্যাণ পাবে।
তাঁর উক্তি: "এবং এটি ভিন্নতর (متباين), সমার্থক (مترادف) নয়।"
অর্থাৎ: যখন দুটি শব্দের ব্যাপারে মতভেদ হয় যে, দ্বিতীয় শব্দটি কি প্রথমটির সমার্থক (مرادف) নাকি তার বিপরীত ও ভিন্নতর?
মূল নীতি হলো এটি বলা যে, তা ভিন্নতর ও পৃথক; কারণ প্রতিটি শব্দের মূল বিধান হলো তার একটি (স্বতন্ত্র) অর্থ থাকবে।
এর উদাহরণ যেমন: মুসলিম (৪৩২) আবু মাসউদ আল-বাদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্য থেকে স্বপ্নদ্রষ্টা (প্রাপ্তবয়স্ক) ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে।"
আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, 'উলুন নুহা' কি 'উলুল আহলাম'-ই নাকি তাদের উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে?
বিশুদ্ধতর মত হলো তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কারণ মূল নীতি হলো ভিন্নতা (التباين)। আর বলা হয়ে থাকে যে: 'উলুল আহলাম'-এর অর্থ হলো প্রাপ্তবয়স্কগণ, এবং 'উলুন নুহা'-এর অর্থ হলো বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ। ইবনে আল্লান
(১) এটি উল্লেখ করেছেন এবং সুয়ূতী
(২) এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
তাঁর উক্তি: "এবং এর বহাল থাকার ওপর, রহিত (نسخ) না হওয়ার ওপর।"
অর্থাৎ: যখন দ্বিধা ও মতভেদ সৃষ্টি হয় যে: এই বিধানটি কি রহিত (منسوخ) নাকি রহিত নয় (غير منسوخ), এবং একে অন্য অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা হবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فالأصل أن يُحمل على حال أخرى، ولا يُقال بالنسخ.
وذلك مثل: آيات القتال والسَّيف مع آيات الصبر، فلا يقال: إنَّ آيات السيف نَسخت آيات الصبر، بل يُقال آيات السَّيف في حال القوة وآيات الصبر في حال الضعف، ذكر هذا ابن جرير في تفسيره
(1)، وابن تيمية
(2).
قَوْلُهُ: «إلَّا بدليل يدل على خلاف ما تقدم».
أي: إنَّه يُنتَقل إلى خلاف الأصل إذا وُجِد دليل أو قرينة.
قَوْلُهُ: «وعلى عُرف الشارع إن كان كلامًا للشارع».
المراد بالشارع: الله ورسوله، وَيُطلق الشارع على الله من باب الإخبار، ويُطلق على الرسول صلى الله عليه وسلم، وقد دَرَج العلماء على ذلك من الأصوليين وغيرهم، واستعمل ذلك ابن تيمية.
والمراد بهذه القاعدة: أنَّه إذا ورد لفظ في كلام الشارع فيُحمل المعنى على عُرف الشارع، فمثلًا لفظ الشارع «لا ينبغي» يدلُّ على التَّحريم، بخلاف ألفاظ الناس.
--------------------------------------------
মূল নীতি হলো ইহাকে অন্য কোনো অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা, এবং রহিতকরণ (نسخ) বলা যাবে না।
যেমন: ধৈর্য সংক্রান্ত আয়াতের সাথে যুদ্ধ ও তরবারি সংক্রান্ত আয়াতসমূহ। এক্ষেত্রে বলা যাবে না যে, তরবারি সংক্রান্ত আয়াতসমূহ ধৈর্য সংক্রান্ত আয়াতগুলোকে রহিত (نسخت) করেছে; বরং বলা হবে যে, তরবারি সংক্রান্ত আয়াত শক্তির অবস্থায় এবং ধৈর্য সংক্রান্ত আয়াত দুর্বলতার অবস্থায় প্রযোজ্য। ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে
(১) এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ
(২) এটি উল্লেখ করেছেন।
তাঁর উক্তি: «তবে এমন কোনো প্রমাণ (دليل) ছাড়া যা পূর্বে বর্ণিত বিষয়ের বিপরীত নির্দেশ করে»।
অর্থাৎ: যদি কোনো প্রমাণ (دليل) বা প্রাসঙ্গিক সংকেত (قرينة) পাওয়া যায়, তবে মূল নীতির পরিপন্থী দিকে ধাবিত হওয়া যাবে।
তাঁর উক্তি: «এবং শারঈ পরিভাষা (عرف الشارع) অনুযায়ী, যদি তা শরীয়তদাতার বক্তব্য হয়»।
শরীয়তদাতা (শারী) বলতে উদ্দেশ্য: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল। সংবাদ প্রদানের (ইখবার) ক্ষেত্র থেকে আল্লাহ তাআলার ওপর ‘শরীয়তদাতা’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপরও তা প্রয়োগ করা হয়। উসূলবিদ (الأصوليين) এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন এবং ইবনে তাইমিয়্যাহও এটি ব্যবহার করেছেন।
এই নীতির (قاعدة) উদ্দেশ্য হলো: যখন শরীয়তদাতার বক্তব্যে কোনো শব্দ আসবে, তখন তার অর্থ শারঈ পরিভাষার (عرف الشارع) ওপর প্রয়োগ করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, শরীয়তদাতার পরিভাষায় «লা ইয়ামবাগি» (উচিত নয়) শব্দটি হারাম হওয়া (التحريم) বুঝায়, যা সাধারণ মানুষের পরিভাষার বিপরীত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قَوْلُهُ: «وعلى عُرف المتكلم به في أمور العقود وتوابعها».
أي: أنَّه يُرجَع في معنى كلام الناس إلى أعرافهم، وهذا من أمثلة تغيُّر الفتوى بتغيُّر الزمان والمكان، فإذا كان في عُرف الناس إطلاق اللَّحم على لحم الغنم دون الدَّجاج فإِنَّه يُحمل على ذلك، فإذا باع رجل رجلًا لحمًا، فالمراد به لحم الإبل أو الغنم، ولا يصحُّ للمشتري أن يطالِب بلحم الدَّجاج أو السَّمك؛ لأنَّه عُرفًا لا يشمله.
قَوْلُهُ:
«الوسائل لها أحكام المقاصد».
هذه قاعدة مهمَّة وتندرج تحتها قواعد.
ومعنى هذه القاعدة: أنَّه إذا كانت الغاية محرَّمة كانت الوسيلة محرَّمة، وإذا كانت الغاية واجبة كانت الوسيلة واجبة، ومن أدلة هذه القاعدة {وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ}.
وجه الدَّلالة: أنَّ الشريعة حرمت هذه الوسيلة لأنَّ الغاية منها محرَّمة وهي إظهار الزينة.
ومما يتفرَّع على قاعدة الوسائل: أنَّ وسائل العبادةِ عبادةٌ، وأنَّ البدع تَدْخلُ في الوسائل كما تدخل في الغايات، وهذا هو الذي قرَّره السَّلف من هذه الأمة.
তাঁর কথা: «এবং চুক্তি ও এর আনুষঙ্গিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে কথা প্রদানকারীর প্রচলিত প্রথার (عرف) ওপর [ভিত্তি করা হবে]»।
অর্থাৎ: মানুষের কথাবার্তার অর্থের ক্ষেত্রে তাদের প্রথার (أعرافهم) দিকে প্রত্যাবর্তন করা হবে। এটি কাল ও পাত্রভেদে ফতোয়া (فتوى) পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ। যদি মানুষের প্রচলিত প্রথায় 'গোশত' বলতে মুরগি ব্যতীত কেবল ভেড়া বা ছাগলের গোশত বোঝায়, তবে তাকে সেই অর্থেই গ্রহণ করা হবে। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির নিকট গোশত বিক্রি করে, তবে তার দ্বারা উদ্দেশ্য হবে উট কিংবা ছাগল/ভেড়ার গোশত। ক্রেতার জন্য মুরগি বা মাছের গোশত দাবি করা সঠিক হবে না; কারণ প্রথাগতভাবে (عرفًا) তা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
তাঁর কথা:
«মাধ্যমসমূহ তার উদ্দেশ্যের বিধান অনুযায়ী গণ্য হবে»।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি (قاعدة) এবং এর অধীনে আরও অনেক মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই মূলনীতির অর্থ হলো: যদি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হারাম (محرمة) হয়, তবে তার মাধ্যমটিও হারাম (محرمة) হবে। আর যদি লক্ষ্যটি ওয়াজিব (واجبة) হয়, তবে মাধ্যমটিও ওয়াজিব (واجبة) হবে। এই মূলনীতির অন্যতম দলিল হলো— {আর তারা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে}।
দলিল প্রয়োগের দিক (وجه الدَّلالة): শরিয়ত এই মাধ্যমটিকে হারাম (حرمت) করেছে কারণ এর উদ্দেশ্যটি হারাম (محرمة), আর তা হলো সৌন্দর্য প্রকাশ করা।
মাধ্যমের মূলনীতি থেকে যে বিষয়গুলো শাখা হিসেবে নির্গত হয় তা হলো: ইবাদতের (عبادة) মাধ্যমও ইবাদত (عبادة), এবং বিদআতসমূহ (البدع) যেমন উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে ঘটে, তেমনি তা মাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রবেশ করে। এই উম্মতের পূর্বসূরিগণ (السلف) এটিই সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أخرج الدارمي (210) وابن وضاح
(1) عن ابن مسعود رضي الله عنه أنَّه أنكر على الذين كانوا حِلقًا يُسبِّحون بالحصى مائة، فدلَّ هذا على أنَّ البدع تدخل في الوسائل؛ لأنَّ هذا التَّحلُّق والتسبيح بالحصى من الوسائل، ومع هذا أنكره ابن مسعود رضي الله عنه وجَعَله مُحدَثًا، والقاعدة في التَّفريق بين الوسائل المحدثة وغيرها أن ينظر إلى المُقْتَضِي والمانع فإذا وُجِدَ المقتضي لفِعل عبادة، ولا مانع يمنع منها، ولم يفعلها الرسول صلى الله عليه وسلم ولا الصحابة رضي الله عنهم، ففعل هذه الوسيلة بدعة؛ لأنَّه لو كان خيرًا لسبقونا إليه، فقد يوجد المقتضي عند الرسول صلى الله عليه وسلم والصحابة رضي الله عنهم، ولا يفعلون هذه الوسيلة لمانع، ففعل هذه الوسيلة ليس بدعة، كمثل الأذان في مكبِّر الصوت وحفظ الدروس بالمسجِّلات الصَّوتية وغيرها، وقد يُوجد المقتضي في عهد الصحابة رضي الله عنهم، ولا يكون موجودًا في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، فلا تُعدُّ هذه الوسيلة محدثة وذلك مثل جمع القرآن من الصحابة، فإنَّهم ما جمعوه إلَّا لما خشوا ذهابه بعد مقتل كثير من القراء، أخرجه البخاري (7191)، فهذا المقتضي ليس موجودًا في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، فلمَّا لم يوجَد المقْتَضَى في عهدِ الرَّسول صلى الله عليه وسلم، ثم وُجد بعدُ، لم يكن إحداث هذا الفعل بدعة، وقَرَّر هذه القاعدة ابن تيمية
(2)، وهي فَيْصل في التَّفرِيق بين وسائل الدَّعوة، وبيان الفَرْق بين التَّوقيفي منها وغير التَّوقيفي، ذكر هذا كثيرًا الامام الألباني رحمه الله.
--------------------------------------------
আদ-দারিমী (২১০) এবং ইবন ওয়াদদাহ
(১) ইবন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ঐ সকল ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছেন যারা حلق (حلقًا) বা চক্রাকারে বসে কাঁকর দিয়ে একশত বার তাসবিহ পাঠ করছিল। এটি প্রমাণ করে যে, বিদআত (بدعة) মাধ্যমসমূহের (الوسائل) মধ্যেও প্রবেশ করে; কারণ এই চক্রাকারে বসা এবং কাঁকর দিয়ে তাসবিহ পাঠ করা ছিল মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তা সত্ত্বেও ইবন মাসউদ (রা.) এর প্রতিবাদ করেছেন এবং একে নব উদ্ভাবিত (محدث) হিসেবে গণ্য করেছেন। আর নব উদ্ভাবিত মাধ্যম এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্যের মূলনীতি হলো 'প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট' (المقتضي) এবং 'প্রতিবন্ধকতা' (المانع) এর দিকে লক্ষ্য করা। সুতরাং যদি কোনো ইবাদত পালনের 'প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট' (المقتضي) বিদ্যমান থাকে এবং তা পালনে কোনো 'প্রতিবন্ধকতা' (المانع) না থাকে, অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) কিংবা সাহাবায়ে কিরাম (রা.) তা করেননি, তবে সেই মাধ্যমটি গ্রহণ করা বিদআত (بدعة); কারণ যদি এটি কল্যাণকর হতো তবে তারা অবশ্যই আমাদের আগে তা করতেন। তবে কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কিরামের (রা.) যুগে 'প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট' (المقتضي) বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কোনো 'প্রতিবন্ধকতা' (المانع) থাকার কারণে তারা সেই মাধ্যমটি গ্রহণ করেননি; এমতাবস্থায় সেই মাধ্যমটি গ্রহণ করা বিদআত (بدعة) নয়। যেমন: লাউডস্পিকারে আজান দেওয়া এবং অডিও রেকর্ডারের মাধ্যমে দরস সংরক্ষণ করা ইত্যাদি। আবার কখনও সাহাবায়ে কিরামের (রা.) যুগে এমন 'প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট' (المقتضي) সৃষ্টি হয়েছে যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে বিদ্যমান ছিল না; এমতাবস্থায় এই মাধ্যমটিকে নব উদ্ভাবিত বলা যাবে না। যেমন: সাহাবায়ে কিরাম কর্তৃক কুরআন সংকলন করা। কেননা অনেক ক্বারী শহীদ হওয়ার পর তারা কুরআন বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন বলেই তা সংকলন করেছিলেন, যা বুখারি (৭১৯১) বর্ণনা করেছেন। এই 'প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট' (المقتضي) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ছিল না। যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এই 'প্রয়োজনীয় কারণ' (المقتضى) বিদ্যমান ছিল না এবং পরবর্তীতে তা সৃষ্টি হয়েছে, তাই এই বিষয়টি উদ্ভাবন করা বিদআত (بدعة) হবে না। ইবন তাইমিয়া
(২) এই মূলনীতিটি সাব্যস্ত করেছেন, যা দাওয়াতের মাধ্যমসমূহের মধ্যে পার্থক্য করার এবং কোনটি ওহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفي) আর কোনটি ওহি দ্বারা নির্ধারিত নয় (غير التوقيفي) তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি মানদণ্ড। ইমাম আলবানী (রহ.) এটি অনেকবার উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فبِهذا يُعرف أنَّ الأناشيد المُسمَّاة إسلامية بدعة؛ لأنَّ الرَّسول صلى الله عليه وسلم والصَّحابة رضي الله عنهم لم يفعلوها مع وُجُود المُقْتَضِي وانتفاء المانع، ولابُدَّ أن يُتَنَبَّه للفَرْقِ بين الإنشاد على وجه التَّسْلية، والإنشادِ على وجه الدعوة، وبهذا يتبين أنَّ التمثيل المُسمَّى إسلاميًا بدعة، زيادة على كَوْنِه كذبًا.
تنبيه:
ممَّا يَتَعلَّقُ بهذه القاعدة وهو من دقائقها: أنَّ ذنوبَ العباد ليست مُسَوِّغًا لإحداث الوسائل، بل العباد مأمورون بأن يرجعوا إلى الله، وأن يتوبوا، لا أن تُغَيَّر الشريعة من أجلهم، ذكر هذا ابن تيمية
(1).
قَوْلُهُ: «و
ما لا يَتمُّ الواجب إلَّا به فهو واجبٌ».
هذه القاعدة فرع عن قاعدة الوسائل المتَقدِّمة، ومن أمثلتها: لو أَنَّ رجلًا حَجَّ وهو بِمِنى لا يستطيع المشي، وفَقَدَ راحِلَته، وهو يستطيع أن يشتري راحلة لِمثْله، فيجِب عليه أن يشتري راحلة لمثله، ليذهب لِعَرَفة؛ لقاعدة: مالا يتمُّ الواجب إلا به فهو واجب.
--------------------------------------------
এর দ্বারা এটি পরিজ্ঞাত হয় যে, 'ইসলামি' নামে অভিহিত সংগীতসমূহ নবউদ্ভাবিত বিষয় (بدعة); কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এটি সম্পাদন করেননি, যদিও এর প্রেক্ষাপট বিদ্যমান ছিল এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। বিনোদনের উদ্দেশ্যে আবৃত্তি এবং দাওয়াতের উদ্দেশ্যে আবৃত্তির মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, 'ইসলামি' নামে অভিহিত নাটকও নবউদ্ভাবিত বিষয় (بدعة), তদুপরি এটি মিথ্যার নামান্তর।
সতর্কীকরণ:
এই মূলনীতির (قاعدة) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এর অন্যতম সূক্ষ্ম দিক হলো: বান্দাদের পাপাচার কোনো নতুন মাধ্যম (وسائل) উদ্ভাবনের যৌক্তিকতা দান করে না; বরং বান্দাদের প্রতি নির্দেশ হলো তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে এবং তাওবা করবে, তাদের জন্য শরিয়ত পরিবর্তন করা হবে না। ইবনে তাইমিয়্যাহ
(১) এটি উল্লেখ করেছেন।
তাঁর উক্তি: «
যা ব্যতীত কোনো ওয়াজিব (واجب) পূর্ণ হয় না, তাও ওয়াজিব (واجب)»।
এই মূলনীতিটি (قاعدة) পূর্বোক্ত উপকরণের মূলনীতির (قاعدة الوسائل) একটি শাখা। এর একটি উদাহরণ হলো: যদি কোনো ব্যক্তি হজে থাকা অবস্থায় মিনায় অবস্থানকালে হাঁটতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং তার বাহন হারিয়ে ফেলে, এমতাবস্থায় সে যদি তার অনুরূপ কোনো বাহন ক্রয় করতে সক্ষম হয়, তবে আরাফায় গমনের উদ্দেশ্যে বাহন ক্রয় করা তার জন্য আবশ্যক (واجب); কারণ এই মূলনীতি অনুযায়ী: যা ব্যতীত কোনো ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না, তাও ওয়াজিব (واجب)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قَوْلُهُ: «وما لا يتم الوجوب إلا به فليس بواجب».
هناك فرق بين الواجب والوجوب، فالمراد بالوجوب الخطاب الشرعي، فمثلًا: لا يجب أن نُغرِب الشمسِ ليدْخُل وقتُ صلاةِ المعرب، فهذا الوجوب ليس واجبًا، بِخلاف إذا دخل وقتُ المغربِ فقَدْ ثبت واجب صلاةِ المغرب على المكلَّف، ومِن أمثلة هذا: أنَّه لا يجب أن يحصل المال الذي يبلغ نصابًا ليزكى، لكن إذا حصل وَجَبَت زكاتُه.
قَوْلُهُ: «والصَّحِيحُ من العبادات والعقُود والمعاملات ما اجتَمَعت شروطها وفروضها وانتفت مفسداتها، والباطل والفاسد بالعكس».
والمراد بهذه القاعدة: أنَّه لا تتمُّ العبادات ولا العقود ولا المعاملات إلا بِتَوفُّرِ شروطها وفروضها، وانتفاء موانعها، فلو حصل البيع بلا تراضٍ، فإنَّه لا يصح؛ لأنَّه اختَلَّ شرطٌ من شروطه، فعلَى هذا لا تنتقل العين ملكًا من البائع إلى المشتري.
লেখকের বক্তব্য: «আর যার ব্যতিরেকে আবশ্যকতা (وجوب) পূর্ণ হয় না, তা অবশ্যকরণীয় (واجب) নয়»।
অবশ্যকরণীয় (واجب) এবং আবশ্যকতা (وجوب)-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আবশ্যকতা (وجوب) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শারয়ি সম্বোধন। উদাহরণস্বরূপ: মাগরিবের সালাতের ওয়াক্ত প্রবেশের জন্য সূর্যকে ডুবানো আমাদের জন্য আবশ্যক নয়; সুতরাং এই আবশ্যকতাটি (وجوب) নিজে অবশ্যকরণীয় (واجب) নয়। পক্ষান্তরে, যখন মাগরিবের ওয়াক্ত হয়ে যায়, তখন মুকাল্লাফের ওপর মাগরিবের সালাতের ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়। এর একটি উদাহরণ হলো: যাকাত প্রদানের জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ অর্জন করা আবশ্যক নয়, তবে যদি তা অর্জিত হয় তখন যাকাত প্রদান করা আবশ্যক হয়ে যায়।
লেখকের বক্তব্য: «ইবাদাত, চুক্তি এবং লেনদেনের মধ্যে সহিহ (صحيح) হলো তা-ই যার মধ্যে এর শর্ত ও ফরযসমূহ পূর্ণ হয়েছে এবং এর বিনাশকারী বিষয়সমূহ দূরীভূত হয়েছে। আর বাতিল (باطل) ও ফাসিদ (فاسد) হলো এর বিপরীত»।
এই নীতিটির উদ্দেশ্য হলো: ইবাদাত, চুক্তি ও লেনদেনসমূহ এর শর্ত ও ফরযসমূহের উপস্থিতি এবং এর প্রতিবন্ধকগুলোর অনুপস্থিতি ব্যতীত পূর্ণ হয় না। সুতরাং যদি পারস্পরিক সন্তুষ্টি ব্যতীত কোনো ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়, তবে তা সহিহ (يصح) হবে না; কারণ এর শর্তসমূহের মধ্য হতে একটি শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। এমতাবস্থায় পণ্যটির মালিকানা বিক্রেতা থেকে ক্রেতার নিকট স্থানান্তরিত হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قَوْلُهُ: «وما كان طلب الشارع له من كلِّ مكلَّف بالذَّات فهو فرض عين، وما كان القصد مجرَّد فعله والإتيان به، ويتبع ذلك مصلحة الفاعل فهو فرض كفاية، إذا فعله من يحصل به المقصود كفى عن غيره، وإن لم يفعله أحد أَثِم كلُّ من علمه وقدر عليه، وهو يصير فرض عين في حق من يعلم أنَّ غيره لا يقوم به عجزًا أو تهاونًا».
قَسَّم المصنِّف المفروضات قسمين:
الأول: فرض عين، وبين أنَّ المراد بفرض العين: المكلَّف، فما كان المراد من خطاب الشارع عين المكلف أن يوجد هذا الطلب فعلًا أو تركًا فهو فرض عين.
فمثلًا: أرادت الشَّريعة من المكلَّفِين أن يصلُّوا الصلوات الخمس فهذا فرض عين، وهو من الفعل، وأرادت الشريعة من المكلَّفين أن يتركوا الزنى، وهذا فرض عين، لكنَّه تَرْك.
الثاني: فرض كفاية، وهو ما كان الخطاب راجعًا إلى إيجاد الفعل، بدُون نَظَر إلى المكلَّفين، بمعنى أن المهمَّ أن يوجد الفعل، وذلك كمثل صلاة الجنازة وتغسيل الميت، فمثل هذا يسمى فرض كفاية، فإذا فَعلَه من يكفي سقط هذا الفرض، فإذا وُجِد مَنْ يكفي لتغسيل الميِّت سَقَط هذا الفرض، أمَّا إذا لم يفعل هذا الفرض فيأْثَم من اجتمع في حقه أمران:
الأمر الأول: أنَّه قادِر على فعل هذا الفرض.
তাঁর বক্তব্য: «শারী‘আহ প্রণেতা প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) নিকট থেকে ব্যক্তিগতভাবে যা দাবি করেছেন তা-ই ফরযে আইন (فرض عين)। আর যেখানে উদ্দেশ্য কেবল কাজটি সম্পন্ন হওয়া এবং এর সাথে সম্পাদনকারীর কল্যাণ জড়িত থাকে, তা ফরযে কিফায়াহ (فرض كفاية)। যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক তা সম্পাদন করে যার দ্বারা উদ্দেশ্য অর্জিত হয়, তবে তা অন্যদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যায়। আর যদি কেউ তা পালন না করে, তবে যারা এ সম্পর্কে জানে এবং এটি সম্পাদনে সক্ষম তারা প্রত্যেকেই গুনাহগার হবে। আর এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফরযে আইন (فرض عين) হয়ে যায় যে জানে যে অন্য কেউ অক্ষমতা বা অবহেলার কারণে এটি পালন করবে না।»
গ্রন্থকার ফরজসমূহকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:
প্রথম: ফরযে আইন (فرض عين)। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ফরযে আইনের উদ্দেশ্য হলো মুকাল্লাফ। সুতরাং শারী‘আহ প্রণেতার সম্বোধনের উদ্দেশ্য যদি প্রত্যেক নির্দিষ্ট মুকাল্লাফের মাধ্যমে কাজ বা বর্জনের মাধ্যমে এ দাবিটি বাস্তবায়ন করা হয়, তবে তা-ই ফরযে আইন (فرض عين)।
উদাহরণস্বরূপ: শরিয়ত মুকাল্লাফদের থেকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার দাবি করেছে, এটি হলো ফরযে আইন (فرض عين), যা একটি করণীয় কাজ। আবার শরিয়ত মুকাল্লাফদের থেকে ব্যভিচার বর্জন করা দাবি করেছে, এটিও ফরযে আইন (فرض عين), তবে তা বর্জনীয় কাজ।
দ্বিতীয়: ফরযে কিফায়াহ (فرض كفاية)। এটি এমন নির্দেশ যা মুকাল্লাফ বা ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য না করে সরাসরি কাজটি সম্পাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ, এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাজটি সংঘটিত হওয়া। যেমন জানাজার সালাত এবং মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া। এই জাতীয় বিষয়কে ফরযে কিফায়াহ (فرض كفاية) বলা হয়। সুতরাং পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক যদি তা পালন করে, তবে এই ফরজটি (অন্যদের ওপর থেকে) রহিত হয়ে যায়। যেমন মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার জন্য যদি যথেষ্ট লোক পাওয়া যায়, তবে এই ফরজটি রহিত হয়ে যায়। কিন্তু যদি এই ফরজটি কেউ পালন না করে, তবে ওই ব্যক্তি গুনাহগার হবে যার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় পাওয়া যাবে:
প্রথম বিষয়: সে এই ফরজটি পালনে সক্ষম।
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الأمر الثاني: أنَّه قد علم بهذا الفرض.
فإذا اجتمع هذان الأمران ولم يفعل هذا الفرض فكلُّ من اجتمع فيه هذان الأمران فهو آثِمٌ، فلو أنَّ رجلًا من المسلمين لم يُغسَّل وعَلِم به رجال وهم قادرون على تغسيله ولم يُغسِّلوه فهم آثمون، بخلاف من لم يعلم به، أو من علم به وهو عاجز غير قادر.
قَوْلُهُ: «وإذا تزاحمت مصلحتان قُدِّم أعلاهُما».
والمراد بقوله: «تزاحمت»، أي: تعارَضَت، فلا بُدَّ من العمل بأحد المصلحتين، ولا يمكن الجمع بينهما، فعند التعارض تُقَدَّم المصلحةُ الكبرى والأعلى وتُتْرك المصلحة الصُّغرى والأقل.
ومن أمثلة ذلك: أنَّ الجهاد المستحب يُترك لحاجة الوالدين، أخرج الشيخان عن عبدالله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أنَّ رجلًا استأذن الرسول صلى الله عليه وسلم في الجهاد، فقال: «أَحيٌّ والدك؟» قال: نعم، قال: «ففيهما فجاهد»
(1).
فمصلحة بِرِّه بوالديه بالنسبة إليه أكبر من مصلحة الجهاد؛ لأنَّ غيره يقوم به.
قَوْلُهُ: «أو مفسدتان لا بُدَّ من فعل إحداهما ارْتُكِب أخفُّهما مفسدة».
هذه المسألة كالمسألة السَّابقة، لكنَّها عند الاضطِّرار لفعل أحد المفسدتين فإنَّه يُفعل المفسدة الصغرى ويُترك المفسدة الكبرى.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: সে এই ফরজ (فرض) সম্পর্কে জানত।
সুতরাং যখন এই দুটি বিষয় একত্রিত হবে এবং সে এই ফরজ (فرض) পালন করবে না, তবে যার মধ্যেই এই দুটি বিষয় একত্রিত হবে সে গুনাহগার হবে। অতএব, যদি মুসলিমদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তিকে গোসল না করানো হয় এবং একদল লোক সে সম্পর্কে অবগত থাকে অথচ তারা তাকে গোসল করাতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তা না করে, তবে তারা গুনাহগার হবে। এর বিপরীত হলো সেই ব্যক্তি যে এ বিষয়ে জানত না, অথবা যে জানত কিন্তু সে ছিল অপারগ ও অক্ষম।
তাঁর উক্তি: «আর যখন দুটি মাসলাহাত (مصلحة) বা কল্যাণকর বিষয় পরস্পরের বিরোধী হয়, তখন সেগুলোর মধ্যে যেটি উচ্চতর তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে»।
তাঁর উক্তি «পরস্পরের বিরোধী হওয়া» (تزاحمت) এর অর্থ হলো: সাংঘর্ষিক হওয়া (تعارض)। এমতাবস্থায় দুটি মাসলাহাতের (مصلحة) যেকোনো একটি অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক এবং উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব নয়। সুতরাং সংঘাতের (تعارض) সময় বড় এবং উচ্চতর মাসলাহাতকে (مصلحة) অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং ছোট ও নিম্নতর মাসলাহাতকে (مصلحة) বর্জন করা হবে।
এর উদাহরণ হলো: পিতামাতার প্রয়োজনে মুস্তাহাব (مستحب) জিহাদ পরিত্যাগ করা। শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইল। তিনি বললেন: «তোমার পিতামাতা কি জীবিত আছেন?» সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «তবে তাদের সেবার মাধ্যমেই জিহাদ করো»
(১)。
সুতরাং তার ক্ষেত্রে পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার মাসলাহাতটি (مصلحة) জিহাদের মাসলাহাতের (مصلحة) চেয়ে বড়; কারণ অন্য কেউ জিহাদের দায়িত্ব পালন করছে।
তাঁর উক্তি: «অথবা যখন দুটি মাফাসাদাত (مفسدة) বা ক্ষতিকর বিষয় সামনে আসে যেগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি করা অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন দুটির মধ্যে যেটি লঘুতর বা কম ক্ষতিকর তা গ্রহণ করা হবে»।
এই মাসআলাটি পূর্ববর্তী মাসআলার মতোই। তবে এটি হলো দুটি মাফাসাদাত (مفسدة) বা অনিষ্টের যেকোনো একটি করতে বাধ্য হওয়ার সময়ের বিধান; এমতাবস্থায় ছোট অনিষ্টটি (مفسدة) গ্রহণ করা হবে এবং বড় অনিষ্টটি (مفسدة) বর্জন করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومن أمثلة ذلك:
- تَرْكُ الأعرابي يبُول في المسجد مع أنَّه مفسدة لِدَفْع مفسدة أكبر وهو أَنَّه لو أُنكِرَ عليه قَدْ يرتَدُّ، وأيضًا مع تحرُّكِه ينتشر بولُه في المسجد وفي بدنه وثيابه أكثر، أخرج الشيخان عن أنس بن مالك: أنَّ أعرابيًا بال في المسجد، فقاموا إليه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تَزْرِمُوه» ثُمَّ دعا بِدلْو من ماءٍ فصُبَّ عليه
(1).
- صُلْح الحديبية، فإنَّ الرَّسول صلى الله عليه وسلم قد أحرَم ولم يتم عمرته، وتَرك المستضعفين في مكة يُعذَّبون لدفع مفسدة أكبر، وحديث صلح الحديبية أخرجه الشيخان من حديث سهل والبراء رضي الله عنهم
(2)،
ومسلم من حديث أنس رضي الله عنه (1784).
قَوْلُهُ: «وإذا اشتبه المباح بالمحرَّم في غير الضَّرورة وجب الكفُّ عنهما».
وهذا فرع من قاعدة: مالا يتمُّ الواجب إلا به فهو واجب. ذكر هذا الشنقيطي
(3)، وذلك أنَّه عند الاشتباه فلو فعل فقد يقع في المحرَّم، وترك المحرم واجب؛ لذا مالا يتمُّ الواجب إلا به فهو واجب.
--------------------------------------------
এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- এক বেদুইন ব্যক্তিকে মসজিদে পেশাবরত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া, যদিও এটি একটি অনিষ্ট (مفسدة), কিন্তু তা করা হয়েছিল আরও বড় অনিষ্ট (مفسدة) প্রতিহত করার জন্য। আর তা হলো, তাকে বাধা দিলে সে (ভয়ে) পেশাব বন্ধ করে দিতে পারত (যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর), আবার তার নড়াচড়া করার ফলে পেশাব মসজিদে এবং তার শরীর ও পোশাকে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন: এক বেদুইন মসজিদে পেশাব করল, তখন লোকেরা তাকে বাধা দেওয়ার জন্য তার দিকে তেড়ে গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে পেশাব করা থেকে বাধা দিও না (لا تَزْرِمُوه)»। তারপর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং তা পেশাবের ওপর ঢেলে দেওয়া হলো
(১)。
- হুদাইবিয়ার সন্ধি; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বেঁধেছিলেন কিন্তু তাঁর উমরাহ সম্পন্ন করেননি, এবং মক্কায় দুর্বল ও নির্যাতিত মুসলিমদের (অত্যাচারিত হওয়ার জন্য) ছেড়ে দিয়েছিলেন আরও বড় অনিষ্ট (مفسدة) প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে। হুদাইবিয়ার সন্ধির হাদিসটি শাইখাইন সাহল ও বারা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেছেন
(২),
এবং মুসলিম আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস (১৭৮৪) থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাঁর উক্তি: «এবং যখন জরুরি প্রয়োজন (ضرورة) ব্যতীত বৈধ (مباح) বিষয় নিষিদ্ধ (محرم) বিষয়ের সাথে অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন উভয়টি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক (واجب) হয়ে পড়ে»।
এটি এই মূলনীতির (قاعدة) একটি শাখা: «যা ছাড়া কোনো আবশ্যক (واجب) কাজ সম্পন্ন হয় না, তাও আবশ্যক (واجب)»। আশ-শানকীতি এটি উল্লেখ করেছেন
(৩)। আর তা এই কারণে যে, অস্পষ্টতার সময় কেউ যদি তা করে তবে সে নিষিদ্ধ (محرم) কাজে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আর নিষিদ্ধ (محرم) বর্জন করা আবশ্যক (واجب); অতএব যা ছাড়া আবশ্যক (واجب) পূর্ণ হয় না তাও আবশ্যক (واجب)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ويذكر العلماء مثالًا على هذا: وهو أنَّه لو كان لرجل امرأة محرَّمة عليه برضاع، وكانت هذه المرأة في قرية وهو لا يعرِفها بعينها، فإنَّ جميع نساء هذه القرية محرَّمات عليه؛ لما تقدَّم ذكره.
ومن أمثلة ذلك: ما لو اشتبه على مضطَّر أكل لحم الخنزير بلحم غنم.
وقول المصنف: «في غير الضَّرورة» هذا من باب التأكيد، وإلَّا فهو معلوم؛ وذلك أنَّ جميع المحرَّمات ترتفع مع الضَّرورة، ومن ذلك المحرَّمات لذاتها، فالمحرَّمات لغيرِها من باب أولى.
قَوْلُهُ: «والأمر يقتضي الفورية».
أي: يقتضي المبادرة لتحصيل المأمور وإيجاده، ولو تأخَّر بِلا عذر فإنَّه آثِم؛ ويدُلُّ لذلك قوله تعالى: {وَسَارِعُوا}، وقوله تعالى: {سَابِقُوا}.
قَوْلُهُ: «والحكمة الشرعية، ويقال لها العلَّة: هي المعنى المناسب الذي شُرع الحكم لأجله».
العلَّة من حيث المعنى هي سبب الحكم، فبوجودها يُوجد الحكم وبزوالها يزولُ الحكم، وهذا معنى قول العلماء: «الحكم يدور مع العلة وجودًا وعدمًا».
وظاهر كلام العلامة بن سعدي أنَّه لا يُفرِّق بين العلَّة والحكمة.
উলামাগণ এর একটি উদাহরণ উল্লেখ করেছেন: তা হলো, যদি কোনো ব্যক্তির জন্য দুগ্ধপান সম্পর্কের (رضاع) কারণে কোনো নারী নিষিদ্ধ (محرمة) হয়ে থাকেন, এবং সেই নারী কোনো একটি গ্রামে অবস্থান করেন কিন্তু তিনি তাকে নির্দিষ্টভাবে না চেনেন, তবে পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী উক্ত গ্রামের সকল নারীই তার জন্য নিষিদ্ধ (محرمات) বলে গণ্য হবে।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো: যদি কোনো নিরুপায় (مضطر) ব্যক্তির নিকট শূকরের গোশত এবং ভেড়ার গোশতের মধ্যে সংশয় (اشتبه) দেখা দেয়।
গ্রন্থকারের উক্তি: «জরুরি প্রয়োজন (ضرورة) ব্যতিরেকে» - এটি গুরুত্ব প্রদানের জন্য বলা হয়েছে, নতুবা এটি স্বতঃসিদ্ধ; কেননা সকল নিষিদ্ধ (المحرمات) বিষয় জরুরি প্রয়োজনের (ضرورة) সময় রহিত হয়ে যায়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা সত্তাগতভাবে নিষিদ্ধ (المحرمات لذاتها), অতএব যা অন্য কারণে নিষিদ্ধ (المحرمات لغيرها) তা তো স্বাভাবিকভাবেই (জরুরি অবস্থায়) অনুমোদিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
তাঁর উক্তি: «আদেশ (الأمر) অবিলম্বে পালন (الفورية) করা দাবি করে»।
অর্থাৎ: আদিষ্ট (المأمور) বিষয়টি অর্জন ও সম্পাদনের জন্য দ্রুত তৎপর হওয়া দাবি করে। যদি ওজর (عذر) ব্যতীত বিলম্ব করা হয়, তবে সে গুনাহগার হবে; মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা দ্রুত ধাবিত হও}, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা প্রতিযোগিতা করো} এর স্বপক্ষে প্রমাণ প্রদান করে।
তাঁর উক্তি: «শরয়ী প্রজ্ঞা (الحكمة الشرعية), যাকে কার্যকারণ (العلة) বলা হয়: এটি এমন এক সঙ্গত অর্থ যার জন্য বিধান (الحكم) প্রবর্তন করা হয়েছে»।
অর্থের দিক থেকে কার্যকারণ (العلة) হলো বিধানের (الحكم) কারণ (سبب), সুতরাং এর উপস্থিতিতে বিধান (الحكم) কার্যকর হয় এবং এর অপসরণে বিধান (الحكم) বিলুপ্ত হয়। আর উলামাগণের এই উক্তির এটাই মর্ম: «বিধান (الحكم) তার কার্যকারণের (العلة) অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের সাথে আবর্তিত হয়»।
আল্লামা ইবনে সাদীর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কার্যকারণ (العلة) ও প্রজ্ঞার (الحكمة) মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাহসুল ফী শারহি সাফওয়াতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
والصواب: أنَّ بينهما فرقًا، وذلك أنَّ العلة ما تقدَّم ذكره، أما الحكمة فهي معنى من معاني الحُكم، لكن ليس الحُكم معلَّقًا بالحكمة، وذلك مثل السَّفر الطَّويل، فإنَّه علَّة لقصر الصلاة، فإذا انتفى السَّفر الطَّويل وجب إتمام الصلاة، وإذا وُجِد السَّفر الطَّويل استُحِبَّ قَصْر الصلاة، فصار القصر يدور مع السفر الطويل وجودًا وعدمًا، بخِلاف المشقة فإنَّها معنى من معاني قصر الصلاة في السَّفر، فهي حكمة، فلو انتفت المشقة في السفر الطويل فإنَّ الصلاة تقصر، ولو وُجِدَت المشقة في الحضر فإنَّ الصَّلاة لا تُقْصر، فإِذن هي حكمة وليست علَّة.
قَوْلُهُ: «و
يعمُّ الحكم بعمُوم علَّته».
معنى هذا: أنَّ اللَّفظ قد يكون خاصًّا، ومع ذلك يعمم؛ لأنَّ علَّته تُفيد العموم، ويُسمى هذا بالعموم المعنوي، وذلك مثل: حكم الشريعة على الهِرَّة بأنَّها طاهرة، بعلَّة وهي أنَّها من الطوَّافين علينا والطوافات
(1)، هذه العلَّة تُفيد أنَّ كلَّ ما هو غير مأكول اللحم من الطوافين فهو طاهِر، عُمِّم هذا لعموم العِلَّة.
ومن الأمثلة أيضًا: ما ثبت في الصحيحين من حديث أبي بكرة رضي الله عنه أنَّ الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «لا يَقْضِيَن حكم بين اثنين وهو غضبان»
(2)، هذا الحكم خاصٌّ بالغضبان من حيثُ الأصل، لكن لعموم العلة، وهو أنَّ الغضبان يكون
--------------------------------------------
সঠিক অভিমত হলো: এই দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; আর তা হলো, আইনগত কারণ (علَّة) সম্পর্কে ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে। পক্ষান্তরে অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা (حكمة) হলো বিধানের অন্তর্নিহিত একটি অর্থ, তবে বিধানটি সেই প্রজ্ঞার (حكمة) সাথে যুক্ত বা তার ওপর নির্ভরশীল নয়। এর উদাহরণ হলো দীর্ঘ সফর, যা সালাত কসর করার জন্য একটি আইনগত কারণ (علَّة)। সুতরাং যখন দীর্ঘ সফর থাকবে না, তখন পূর্ণ সালাত আদায় করা আবশ্যক হবে; আর যখন দীর্ঘ সফর বিদ্যমান থাকবে, তখন সালাত কসর করা মুস্তাহাব হবে। অতএব, কসর হওয়া বা না হওয়া দীর্ঘ সফরের থাকা বা না থাকার ওপর আবর্তিত হয়। এর বিপরীতে কষ্ট (مشقَّة) হলো সফরে সালাত কসর করার অন্তর্নিহিত একটি প্রজ্ঞা (حكمة)। সুতরাং দীর্ঘ সফরে যদি কোনো কষ্ট (مشقَّة) নাও থাকে, তবুও সালাত কসর করা হবে; আবার যদি নিজ বাসস্থানে অবস্থানকালে কষ্ট (مشقَّة) পাওয়া যায়, তবুও সালাত কসর করা হবে না। অতএব, এটি একটি প্রজ্ঞা (حكمة), আইনগত কারণ (علَّة) নয়।
তাঁর উক্তি: «
বিধানটি তার আইনগত কারণের (علَّة) ব্যাপকতার (عموم) কারণে ব্যাপক হয়ে থাকে»।
এর অর্থ হলো: শব্দ বা অভিব্যক্তিটি বিশেষ (خاص) হতে পারে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তা ব্যাপকতা (عموم) লাভ করে; কারণ তার আইনগত কারণটি (علَّة) ব্যাপক অর্থ প্রদান করে। একে অর্থগত ব্যাপকতা (العموم المعنوي) বলা হয়। যেমন: বিড়াল সম্পর্কে শরয়ি বিধান হলো সেটি পবিত্র (طاهرة), যার আইনগত কারণ (علَّة) হলো এটি আমাদের আশেপাশে বিচরণকারী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত। এই আইনগত কারণটি (علَّة) এই অর্থ প্রদান করে যে, যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া বৈধ নয় কিন্তু তারা মানুষের আশেপাশে বিচরণ করে, তারা সকলেই পবিত্র (طاهرة)। আইনগত কারণের (علَّة) ব্যাপকতার (عموم) কারণে এই বিধানটি ব্যাপকতা লাভ করেছে।
অন্যান্য উদাহরণের মধ্যে রয়েছে: যা সহিহাইন-এ আবু বাকরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোনো বিচারক যেন দুই ব্যক্তির মধ্যে রাগান্বিত অবস্থায় ফয়সালা না করেন», এই বিধানটি মূলত রাগান্বিত ব্যক্তির সাথে সুনির্দিষ্ট (خاص), কিন্তু এর আইনগত কারণের (علَّة) ব্যাপকতার কারণে, আর তা হলো রাগান্বিত ব্যক্তির অবস্থা...
--------------------------------------------