(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: -)
شرح نظم عقيدة السفاريني   (عبد الكريم الخضير)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح نظم عقيدة السفاريني

مؤلف الأصل: شمس الدين، أبو العون محمد بن أحمد بن سالم السفاريني الحنبلي (ت 1188هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432

আকীদা আস-সাফফারীনীয়্যাহ-এর কাব্যানুবাদের ব্যাখ্যা   (আব্দুল কারীম আল-খুদাইর)

বিভাগ: আকীদা


বই: আকীদা আস-সাফফারীনীয়্যাহ-এর কাব্যানুবাদের ব্যাখ্যা

মূল লেখক: শামসুদ্দীন، আবু আল-আউন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে সালিম আস-সাফফারিনী আল-হাম্বালী (ওফাত ১১৮৮ হিজরী)

ব্যাখ্যাকারী: আব্দুল কারীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হামাদ আল-খুদাইর

শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত অডিও পাঠের অনুলিপি

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে، খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ১০টি পাঠ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররাম ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح نظم عقيدة السفاريني]ـ

مؤلف الأصل: شمس الدين، أبو العون محمد بن أحمد بن سالم السفاريني الحنبلي (المتوفى: 1188هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]
—[সাফারিনি আকীদার কাব্যরূপের ব্যাখ্যা]—

মূল রচয়িতা: শামসুদ্দিন, আবু আল-আওন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন সালিম আস-সাফারিনি আল-হাম্বলি (মৃত্যু: ১১৮৮ হিজরি)

ব্যাখ্যাকারী: আব্দুল কারিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর

শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে অনুলিপিকৃত পাঠসমূহ

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ১০টি পাঠ]
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح نظم عقيدة السفاريني (1)

 

‌‌المقدمة

الشيخ/ عبد الكريم بن عبد الله الخضير

وهو شرح للدرة المضية مع طبعة، وهل هناك من ملاحظات على مختصر ابن سلوم، ومختصر الشطي، أفيدونا؟

أولا: الكتاب المنظومة الأصلية الدرة المضية للسفاريني مع شرحها لمؤلفها فيها ملاحظات يسيرة، هي الأصل أنها على عقد الفرقة المرضية التي هي السنة والجماعة، لكن لم تسلم من الشوائب التي خالف فيها الناظم ما يستعمله أهل السنة والجماعة من ألفاظ أو استعمال ما استعمله الخلف مما لا يوجد له دليل، وإن كانت المنظومة في الأصل على مذهب أهل السنة والجماعة، والناظم وهو الشارح في الوقت نفسه توسع في مفهوم السنة، وفي دائرة أهل السنة فقال: إن أهل السنة ينقسمون إلى ثلاث فرق:

الأثرية، وإمامهم الإمام أحمد بن حنبل.

والماتريدية، وإمامهم أبو منصور الماتريدي.

والأشعرية وإمامهم أبو الحسن الأشعري.

وتلقى هذا الكلام من اختصر الكتاب؛ لأنه يقول: وهل هناك من ملاحظات على مختصر ابن سلوم ومختصر الشطي؟
‌সাফ্ফারিনীর আকিদার কাব্যরূপের ব্যাখ্যা (১)

 

‌ভূমিকা

শাইখ/ আব্দুল করীম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর

এটি একটি সংস্করণসহ আদ-দুররাতুল মুদিইয়াহ-এর ব্যাখ্যা। ইবনে সাল্লুমের সারসংক্ষেপ এবং আশ-শাত্তির সারসংক্ষেপের ওপর কি কোনো পর্যবেক্ষণ আছে? আমাদের জানাবেন কি?

প্রথমত: সাফ্ফারিনীর মূল কাব্যগ্রন্থ 'আদ-দুররাতুল মুদিইয়াহ' এবং এর ওপর লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থটিতে সামান্য কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। মূলগতভাবে এটি 'আল-ফিরকাতুল মারদিয়্যাহ' (সন্তুষ্ট দল) তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার ওপর ভিত্তি করে রচিত। তবে এটি এমন কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত নয় যেখানে কাব্যকার আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ব্যবহৃত শব্দাবলীর পরিপন্থী শব্দ ব্যবহার করেছেন অথবা পরবর্তী যুগের আলেমদের (খালাফ) ব্যবহৃত এমন সব পরিভাষা ব্যবহার করেছেন যার কোনো দলীল নেই। যদিও কাব্যটি মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মাযহাবের ওপর ভিত্তি করেই রচিত, কিন্তু কাব্যকার—যিনি একই সাথে ব্যাখ্যাকারও—সুন্নাহর ধারণা এবং আহলুস সুন্নাহর পরিধিকে প্রশস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: আহলুস সুন্নাহ তিনটি উপদলে বিভক্ত:

আল-আসারিয়্যাহ, এবং তাদের ইমাম হলেন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল।

আল-মাতুরিদিয়্যাহ, এবং তাদের ইমাম হলেন আবু মানসুর আল-মাতুরিদী।

আল-আশআরিয়্যাহ, এবং তাদের ইমাম হলেন আবুল হাসান আল-আশআরী।

যারা গ্রন্থটির সারসংক্ষেপ করেছেন তারা এই কথাটি গ্রহণ করেছেন; কারণ তিনি (প্রশ্নকারী) বলছেন: "ইবনে সাল্লুমের সারসংক্ষেপ এবং আশ-শাত্তির সারসংক্ষেপের ওপর কি কোনো পর্যবেক্ষণ আছে?"
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ২)
هذان لم يغيرا من واقع الكتاب شيئا، ولم يعلقا على ما فيه مما يلاحظ، وطبع الكتاب بطبعته الأولى أعني الشرح باسم (لوامع الأنوار البهية) في مطبعة المنار منذ ما يقرب من ثمانين عاما، وهذه الطبعة نادرة لا توجد، ثم أعيد طبعه بمطابع الأصفهاني في جدة، وعلق عليه من قبل الشيخ عبد الله البطين، والشيخ سليمان بن سحمان، تولوا التعليق على هذه الملاحظات، وهي مطبوعة مع الكتاب، ثم صور مرارا بعد ذلك، وهذه المختصرات أعني مختصر ابن سلوم ومختصر الشطي أبقوا الكتاب كما هو، وأما بالنسبة للشيخ ابن مانع في مختصره فقد علق على بعض الأشياء وهذا الشطي يقول: إنه اختصره نعم يقول في مقدمة المختصر: الحمد الله، وسلام على عباده الذين اصطفى، وبعد: فإن الكتب المصنفة في العقائد السلفية لعلمائنا الحنابلة كثيرة بين كبير كشرح العقيدة للعلامة السفاريني، وصغير كعقيدة شيخ المذهب الموفق ابن قدامة، وكلاهما مطبوع معروف، ولم نطلع على كتاب متوسط يجمع المسائل الاعتقادية، خاليا من ذكر الخلاف الكثير والمناقشات الطويلة، وهذا ما دعا سيدنا الجد العلامة الكبير الشيخ حسن الشطي -رحمه الله تعالى- لاختصار شرح السفاريني المنوه به، فإنه جرد منه المسائل التوحيدية، والمباحث العلمية، وترك الخلاف، والمناقشات والإطناب قاصدا بذلك إفادة الطلاب، وقد انتشر هذا المختصر وانتفعت به الحنابلة في بلاد الشام ونابلس ومصر من حياة المؤلف حتى الآن، ولم يغني عنه طبع أصله المذكور للفائدة المذكورة، فإنه طبع بمصر سنة 1323هـ، -يعني منذ أكثر من مائة سنة-، طبعا حسنا في جزأين، وعليه ترجمة المؤلف وفهرس مفصل.

أما هذا المختصر فإنه في نحو الربع من الأصل، وهو اختصار بدون زيادة، خلافا للمختصر الذي وضعه الفاضل الشيخ محمد بن عبد العزيز بن مانع النجدي، وطبعه في الهند سنة 1336هـ، فإنه بالغ في الاختصار وأتى بزيادات لم تسلم له حتى عند ذويه النجديين -سامحه الله-.
এই দুইজন বইটির মূল পাঠ্যে কোনো পরিবর্তন করেননি এবং এতে লক্ষ্যণীয় কোনো বিষয়ে মন্তব্য করেননি। আর বইটি তার প্রথম সংস্করণে অর্থাৎ 'লাওয়ামি'উল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ' নামে ব্যাখ্যাগ্রন্থটি আজ থেকে প্রায় আশি বছর আগে আল-মানার প্রেসে মুদ্রিত হয়েছিল। এই সংস্করণটি এখন বিরল এবং পাওয়া যায় না। এরপর জেদ্দার আল-আস্ফাহানী প্রেসে এটি পুনরায় মুদ্রিত হয় এবং শায়খ আবদুল্লাহ আল-বুতাইন ও শায়খ সুলাইমান ইবনে সাহমান এতে টীকা প্রদান করেন; তাঁরা এই পর্যবেক্ষণগুলোর ওপর টীকা লেখার দায়িত্ব পালন করেছেন। এগুলো বইয়ের সাথেই মুদ্রিত হয়েছে। এরপর এটি বহুবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। আর এই সারসংক্ষেপগুলো অর্থাৎ ইবনে সাল্লুমের সারসংক্ষেপ এবং আশ-শাত্তির সারসংক্ষেপ—তাঁরা বইটিকে তার আদি রূপেই বজায় রেখেছেন। তবে শায়খ ইবনে মানি'র সারসংক্ষেপের কথা বলতে গেলে, তিনি কিছু বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। আর এই শাত্তি বলছেন যে তিনি এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন। হ্যাঁ, তিনি সারসংক্ষেপের ভূমিকায় বলছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর: নিশ্চয়ই আমাদের হাম্বলী আলেমদের সালাফী আকিদাহ বিষয়ক রচিত গ্রন্থসমূহ অনেক। এর মধ্যে যেমন বিশদ গ্রন্থ রয়েছে—আল্লামা সাফফারিনীর আকিদাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থের মতো, তেমনি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থও রয়েছে—মাযহাবের শায়খ আল-মুওয়াফফাক ইবনে কুদামার আকিদাহর মতো। আর উভয়টিই মুদ্রিত ও সুপরিচিত। তবে আমরা আকিদাহর মাসয়ালাসমূহকে একত্রিত করে এমন কোনো মাঝারি মানের বইয়ের সন্ধান পাইনি যা অধিক মতপার্থক্য এবং দীর্ঘ আলোচনা থেকে মুক্ত। আর এটাই আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় দাদা, মহান আল্লামা শায়খ হাসান আশ-শাত্তি (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা)-কে উল্লিখিত সাফফারিনীর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। কারণ তিনি এটি থেকে তাওহীদ বিষয়ক মাসয়ালা এবং জ্ঞানগত আলোচনাগুলো পৃথক করেছেন এবং মতপার্থক্য, বিতর্ক ও দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করেছেন; যার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের উপকৃত করার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। এই সারসংক্ষেপটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং সিরিয়া, নাবলুস ও মিশরের হাম্বলীগণ লেখকের জীবদ্দশা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। উল্লিখিত উপযোগিতার কারণে এর মূল গ্রন্থটির মুদ্রণও এর অভাব পূরণ করতে পারেনি। এটি ১৩২৩ হিজরিতে মিশরে মুদ্রিত হয়েছিল—অর্থাৎ একশ বছরেরও বেশি আগে—দুই খণ্ডে সুন্দরভাবে মুদ্রিত হয়েছিল। এর সাথে লেখকের জীবনী এবং বিস্তারিত সূচিপত্র রয়েছে।

আর এই সারসংক্ষেপটি মূল গ্রন্থের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং এটি কোনো রকম অতিরিক্ত সংযোজন ছাড়াই একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মানি' আন-নাজদী কর্তৃক প্রণীত সারসংক্ষেপের বিপরীত, যা তিনি ১৩৩৬ হিজরিতে ভারতে মুদ্রণ করেছিলেন। কারণ তিনি সংক্ষেপ করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছেন এবং এমন কিছু সংযোজন করেছেন যা এমনকি তাঁর স্বজাতীয় নজদীদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়নি—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৩)
أتى زيادات، ابن مانع معروف أنه على مذهب أهل السنة يقول: أتى بزيادات لم تسلم له حتى عند ذويه النجديين -سامحه الله-، ولما قلت نسخ المختصر المذكور، وكثر طلابه من الحنابلة وغيرهم، أحببت أن أبادر إلى طبعه، وتعميم نفعه، والله الهادي، وعليه اعتمادي.

هذه المختصر مطبوع سنة 1350هـ، يعني -نحو من ثمانين عاما- فهذا لم يزد فيه، وأبقى كل ما لوحظ على السفاريني أبقاه، وهنا حتى في مسألة التوسع في مفهوم أهل السنة قال: فائدة أهل السنة والجماعة ثلاث فرق:

الأثرية، وإمامهم الإمام أحمد -رضي الله تعالى عنه-.

والأشعرية، وإمامهم أبو الحسن الأشعري -رحمه الله تعالى-.

والماتريدية، وإمامهم أبو منصور الماتريدي.

وعلق على هامش الأصل وهو موجود مخطوط بهامش الأصل: هذا مصانعة من المؤلف رحمه الله في إدخال الأشعرية، والماتريدية في أهل السنة، كيف يكون من أهل السنة من لا يثبت علو الرب -سبحانه- فوق سماواته، واستواءه على عرشه؟ ويقول: حروف القرآن مخلوقة، وأن الله لا يتكلم بحرف ولا صوت إلى آخره، وسيأتي الكلام عليه في موضعه -إن شاء الله تعالى-.

المقصود أن الملاحظات على الأصل وجدت كما هي على المختصرين، أعني مختصر: ابن سلوم، ومختصر الشطي.

مختصر ابن مانع أضاف إليه إضافات، وجرده من بعض الملاحظات، وكذلك حاشية الشيخ عبد الرحمن بن قاسم أيضا مطبوعة قديمة سنة 64، أو 66، 1366هـ، ثم أعيد طبعها مرارا، ويبقى أن الأصل الذي هو الشرح، شرح المؤلف فيه فوائد وعلوم لا توجد في غيره؛ لأنه مطول.

هذه ترجمة السفاريني قد يقول قائل: ترجمتوا للشيخ حافظ، وتذكرون الآن ترجمة للسفاريني، ولم تترجموا للإمام المجدد، أنا أقول: الإمام المجدد ليس بحاجة إلى ترجمة، فترجمته بمثل هذه الطريقة لا تسمن ولا تغني من جوع، في ترجمته مؤلفات، وقد بحث -رحمة الله عليه- من جوانب متعددة، أقول: بحوث مطبوعة وموجودة، وهو أشهر من أن ينوه به في كلمات يسيرة.
তিনি কিছু সংযোজন নিয়ে এসেছেন। ইবনে মানি'র ব্যাপারে এটি সুপরিচিত যে তিনি আহলে সুন্নাতের মাযহাবের অনুসারী। তিনি বলেন: তিনি এমন কিছু সংযোজন নিয়ে এসেছেন যা এমনকি তাঁর নজদি স্বজনদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়নি—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। যখন উক্ত মুখতাসার বা সংক্ষিপ্তসারটির পাণ্ডুলিপি কমে গেল এবং হাম্বলি ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে এর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন আমি এর মুদ্রণ এবং এর উপকারিতা সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে চাইলাম। আল্লাহই পথপ্রদর্শক এবং তাঁর ওপরই আমার ভরসা।

এই মুখতাসারটি ১৩৫০ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে, অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় আশি বছর আগে। এতে কোনো কিছু বাড়ানো হয়নি এবং সাফারিনির ওপর যেসকল বিষয়ে আপত্তি বা পর্যবেক্ষণ ছিল তার সবই তিনি বহাল রেখেছেন। এমনকি এখানে আহলে সুন্নাতের ধারণাকে প্রশস্ত করার বিষয়ে তিনি বলেছেন: উপকারিতা: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত তিনটি দল:

আসারিয়্যাহ, এবং তাদের ইমাম হলেন ইমাম আহমাদ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন।

আশআরিয়্যাহ, এবং তাদের ইমাম হলেন আবু হাসান আল-আশআরী—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

মাতুরিদিয়্যাহ, এবং তাদের ইমাম হলেন আবু মানসুর আল-মাতুরিদি।

মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় একটি মন্তব্য করা হয়েছে এবং এটি মূলের মার্জিনে পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান রয়েছে: এটি আশআরিয়্যাহ ও মাতুরিদিয়্যাহদের আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে লেখকের—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—পক্ষ থেকে একটি আপস। যে ব্যক্তি মহান রবের তাঁর আসমানসমূহের উপরে সমুন্নত থাকা এবং তাঁর আরশের ওপর উঠাকে সাব্যস্ত করে না, সে কীভাবে আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে? তদুপরি সে বলে: কুরআনের হরফসমূহ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আল্লাহ কোনো হরফ বা শব্দের মাধ্যমে কথা বলেন না—ইত্যাদি। এ বিষয়ে ইনশাআল্লাহ তাআলা যথাস্থানে আলোচনা আসবে।

সারকথা হলো, মূল গ্রন্থের ওপর যেসকল পর্যবেক্ষণ ছিল সেগুলো উভয় মুখতাসারের মধ্যেই একইভাবে পাওয়া গেছে, অর্থাৎ ইবনে সাল্লুমের মুখতাসার এবং শাত্তির মুখতাসার।

ইবনে মানি'র মুখতাসারটিতে তিনি কিছু বিষয় যোগ করেছেন এবং কিছু পর্যবেক্ষণ থেকে একে মুক্ত করেছেন। একইভাবে শেখ আব্দুর রহমান বিন কাসিমের হাশিয়াও ১৩৬৪ বা ১৩৬৬ হিজরির দিকে প্রাচীনকালে মুদ্রিত হয়েছিল, এরপর তা বারবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। তবে মূল গ্রন্থটি যা মূলত একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তাতে এমন সব জ্ঞান ও উপকারিতা রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না; কারণ এটি বিস্তারিত।

এটি সাফারিনির জীবনী। কেউ হয়তো বলতে পারেন: আপনারা শেখ হাফিজের জীবনী বর্ণনা করেছেন, এখন সাফারিনির জীবনী উল্লেখ করছেন, অথচ ইমাম মুজাদ্দিদের জীবনী বর্ণনা করলেন না। আমি বলব: ইমাম মুজাদ্দিদ জীবনীর মুখাপেক্ষী নন। এভাবে তাঁর জীবনী আলোচনা করা কোনো কার্যকর উপকারে আসবে না। তাঁর জীবনী নিয়ে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁকে নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। আমি বলব: এ সংক্রান্ত গবেষণাগুলো মুদ্রিত ও বিদ্যমান রয়েছে। অল্প কথায় তাঁর কথা উল্লেখ করার চেয়ে তিনি অনেক বেশি সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৪)
يقول: جاء في سلك الدرر في تراجم رجال القرن الثاني عشر والثالث عشر، يقول: محمد بن أحمد بن سالم بن سليمان السفّاريني، الشهرة والمولد، النابلسي الحنبلي، الشيخ الإمام، والحبر البحر النحرير الكامل الهمام الأوحد العلامة … إلى آخره.

هذا الكتاب سلك الدرر للمراديفي فيه مبالغات، فيه مبالغات، وفيه أيضا إطراء وغلو لبعض المترجمين، إلى أن قال: فقد كان غرة عصره، وشامة مصره، لم يظهر في بلاده بعده مثله، وكان يدعى للملمات، ويقصد لتفريج المهمات، هذا الكلام غلو، هذا غلو ومبالغة اللهم إلا إذا كان يستعان به ويستفاد منه مما يقدر عليه في مقدوره إذا احتاج الإنسان إلى شيء، إلى مساعدة في شيء مما يقدر عليه لا مانع، أما ما لا يقدر عليه فهذا ليس من خصائصه، ذا رأي صائب وفهم ثاقب، جسورا على ردع الظالمين وزجر المفترين، إذا رأى منكرا أخذته رعدة، وعلا صوته من شدة الحدة، وإذا سكن غيظه وبرد قيظه يقطر رقة ولطافة وحلاوة وظرافة، وله الباع الطويل في علم التاريخ، وحفظ وقائع الملوك والأمراء والعلماء والأدباء، وما وقع في الأزمان السالفة، وكان يحفظ من أشعار العرب العرباء والمولدين شيئا كثيرا.

كونه يغار على محارم الله، ويغضب إذا انتهكت محارم الله هذا أمر شرعي، فقد كان النبي عليه الصلاة والسلام يغضب، لكن في مقابل فاعل المنكر.

جسورا على ردع الظالمين وزجر المفترين، إذا رأى منكرا أخذته رعدة، وعلا صوته من شدة الحدة، الحدة في هذه المواطن لا شك أنها قد تكون نابعة من شدة الغيرة، والزيادة في الغيرة، لكن مقابلة مرتكب المنكر بهذا الأسلوب ليس بشرعي، النبي عليه الصلاة والسلام قال: ((لا تزجروه، لا تزرموه، دعوه)) وهذا للذي بال في المسجد، كان النبي عليه الصلاة والسلام رفيقاً في مثل هؤلاء في تعليم الجاهل، اللهم إلا المعاند فله أسلوب آخر.
তিনি বলেন: ‘সিলকুদ দুরার ফী তারাজিমি রিজালিল করনিস সানি আশারা ওয়াস সালিস আশারা’ গ্রন্থে এসেছে। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সালিম ইবনে সুলাইমান আস-সাফফারিনি, খ্যাতি ও জন্মস্থানসূত্রে নাবলুসি হাম্বলি; তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, মহাজ্ঞানী, সমুদ্রসম গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী, পূর্ণতা লাভকারী, অদম্য সাহসী, অনন্য আল্লামা … ইত্যাদি পর্যন্ত।

মুরাদি রচিত এই ‘সিলকুদ দুরার’ গ্রন্থটিতে অতিরঞ্জন রয়েছে; এতে অতিরঞ্জন রয়েছে এবং কিছু জীবনী-প্রদত্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে অত্যধিক প্রশংসা ও বাড়াবাড়িও রয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি বলেন: ‘তিনি ছিলেন তাঁর যুগের ললাট-তিলক এবং তাঁর দেশের সৌন্দর্য; তাঁর দেশে তাঁর পরে তাঁর সমতুল্য কেউ আবির্ভূত হননি। কঠিন বিপদে তাঁকে আহ্বান করা হতো এবং গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁর নিকট গমন করা হতো।’—এই কথাগুলো বাড়াবাড়ি। এটি বাড়াবাড়ি ও অতিরঞ্জন। তবে হ্যাঁ, যদি এমন বিষয়ে তাঁর সাহায্য নেওয়া হয় বা তাঁর থেকে ফায়দা হাসিল করা হয় যা মানুষের সাধ্যায়ত্ত বা তাঁর সক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত, তবে তাতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু যা মানুষের সাধ্যাতীত, তা তাঁর বৈশিষ্ট্য নয়। ‘তিনি সঠিক মতামতের অধিকারী ও প্রখর বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ছিলেন। তিনি জালেমদের দমনে এবং মিথ্যাবাদীদের শাসনে সাহসী ছিলেন। যখনই কোনো গর্হিত কাজ দেখতেন, তিনি প্রকম্পিত হতেন এবং তাঁর কণ্ঠস্বর তীব্র উত্তেজনায় উচ্চকিত হয়ে উঠত। আবার যখন তাঁর ক্রোধ প্রশমিত হতো এবং উত্তাপ শীতল হতো, তখন তিনি কোমলতা, স্নিগ্ধতা, মিষ্টতা ও মাধুর্য ঝরিয়ে দিতেন। ইতিহাস বিজ্ঞানে তাঁর সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল; তিনি রাজা-বাদশাহ, আমির, উলামা ও সাহিত্যিকদের ঘটনাবলি এবং অতীত যুগে যা ঘটেছে তা মুখস্থ রাখতেন। তিনি বিশুদ্ধ আরব ও পরবর্তী যুগের কবিদের প্রচুর কবিতা মুখস্থ রাখতেন।’

আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করার ব্যাপারে তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ থাকা এবং আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ লঙ্ঘিত হলে তাঁর ক্রুদ্ধ হওয়া একটি শরয়ি বিষয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে তা অন্যায়কারীর কর্মকাণ্ডের বিপরীতে।

‘জালেমদের দমনে এবং মিথ্যাবাদীদের শাসনে সাহসী ছিলেন। যখনই কোনো গর্হিত কাজ দেখতেন, তিনি প্রকম্পিত হতেন এবং তাঁর কণ্ঠস্বর তীব্র উত্তেজনায় উচ্চকিত হয়ে উঠত’—এই ক্ষেত্রগুলোতে মেজাজের তীব্রতা বা উগ্রতা প্রকাশ পাওয়া নিঃসন্দেহে প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ এবং অতিরিক্ত গায়রাত বা ঈমানি তেজ থেকে উৎসারিত হতে পারে। তবে পাপাচারী বা ভুলকারীর সাথে এই পদ্ধতিতে মোকাবিলা করা শরয়ি পদ্ধতি নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তাকে ধমক দিও না, তার প্রস্রাব মাঝপথে বন্ধ করো না, তাকে ছেড়ে দাও।” এটি ছিল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে মসজিদে প্রস্রাব করেছিল। অজ্ঞ ব্যক্তিকে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ জাতীয় লোকদের প্রতি অত্যন্ত কোমল ও নম্র ছিলেন। তবে একগুঁয়ে অবাধ্য ব্যক্তির কথা ভিন্ন, তার ক্ষেত্রে পদ্ধতিও ভিন্ন।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৫)
يقول: كنيته أبو العون، ولد بقرية سفارين من قرى نابلس سنة أربع عشرة ومائة وألف، 1114هـ، ونشأ بها وتلا القرآن العظيم، رحل إلى دمشق لطلب العلم فأخذ بها عن الأستاذ الشيخ عبد الغني بن إسماعيل النابلسي، وشيخ الإسلام الشمس محمد بن عبد الرحمن الغزي، وأبي الفرج عبد الرحمن بن محيي الدين المجلد، وأبي المجد مصطفى بن مصطفى السواري، إلى آخره، وأخذ الفقه عن كذا، وحصل لصاحب الترجمة في طلب العلم ملاحظة ربانية حتى حصل في الزمن اليسير ما لم يحصله غيره في الزمن الكثيرـ ورجع إلى بلده ثم توطن نابلس.

الرجل لا شك أنه مكثر من التصنيف، له مصنفات كثيرة، وأيضا هو مكثر من جمع التصانيف، عنده مكتبة كبيرة، يعني يرجع في الكتاب الواحد من تصانيفه إلى خمسمائة مصنف، مراجع، قد يقول قائل: إن هذا ليس مما يمدح به المؤلف؛ لأنه قد يكون الكتاب كله مجموع، إذا كانت خمسمائة مؤلف، أخذ من هذا شيء، وأخذ من هذا شيء يصير مؤلف، والبراءة إنما تكون في قلة المراجع؛ لأنه يكون الاعتماد على ما في الذهن حينئذ، يعني هل من مناقب من محاسن التصنيف أن يرجع فيها إلى المؤلفات الكثيرة؟ ذكر في مقدمة شرح غذاء الألباب، شرح منظومة الآداب أنه رجع فيه إلى أكثر من ثلاثمائة كتاب، وهكذا نجد في الرسائل والمنصفات الحديثة نجدهم يرجعون إلى ثلاثمائة، إلى خمسمائة، إلى سبعمائة كتاب، هل نقول: إن هذه ميزة؟ كثرة التصانيف تدل على أن الرجل اهتم ببحثه وفوح في الكتب، يمين وشمال، وأغرب وأبعد، في كتب ما يكتب موضوع ما يكتبه في غيرها من الكتب، مما له علاقة قريبة أو بعيدة هذه مما يمدح بها أو نقول: إن هذا إنما أخذ علومه من هذه الكتب، ولم يبق لتحريراته وترجيحاته ومبتكراته شيء، مع أنه قد لا يكون هذا على حساب هذا، قد يأخذ من الكتب أشياء يسيرة وينطلق منها إلى التحرير والتنقيح، وقد يكون يأخذ من هذا الكتاب، ليناقش هذا المؤلف ويرد على ذاك، ويحصل منه فائدة، أما مجرد النقل، نقل جملة من هذا، وسطر من هذا، وصفحة من هذا، هذا ليس بتأليف، هذا ليس بتأليف على الحقيقة، وليس مما يمدح به المؤلف.
তিনি বলেন: তাঁর উপনাম আবু আল-আওন। তিনি ১১১৪ হিজরী সনে নাবলুসের গ্রামসমূহের অন্তর্গত সাফাফরিন নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি মহান কুরআন তিলাওয়াত করেন। ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তিনি দামেস্কে সফর করেন এবং সেখানে উস্তাদ শাইখ আবদুল গনি বিন ইসমাইল আন-নাবলুসি, শাইখুল ইসলাম আশ-শামস মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-গাজ্জি, আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন মুহিউদ্দিন আল-মুজাল্লিদ এবং আবুল মাজদ মুস্তফা বিন মুস্তফা আস-সাওয়ারি প্রমুখের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। আর তিনি ফিকহ অর্জন করেছেন অমুকের নিকট থেকে। ইলম অন্বেষণে এই জীবনীকারের প্রতি এক ঐশী অনুগ্রহ নিহিত ছিল, যার ফলে তিনি স্বল্প সময়ে এমন কিছু অর্জন করেছিলেন যা অন্য কেউ দীর্ঘ সময়েও অর্জন করতে পারেনি। অতঃপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন এবং নাবলুসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ব্যক্তি প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁর অসংখ্য সংকলন রয়েছে। পাশাপাশি তিনি কিতাব সংগ্রহের ক্ষেত্রেও অনন্য ছিলেন, তাঁর একটি বিশাল কুতুবখানা বা লাইব্রেরি ছিল। অর্থাৎ, তিনি তাঁর সংকলিত কোনো একটি কিতাবের ক্ষেত্রে প্রায় পাঁচশটি গ্রন্থ বা সূত্রের শরণাপন্ন হতেন। কেউ হয়তো বলতে পারেন: এটি এমন কিছু নয় যার জন্য কোনো লেখকের প্রশংসা করা যায়; কারণ পুরো বইটিই হয়তো একটি সংকলন মাত্র। যদি পাঁচশটি গ্রন্থ থাকে এবং তা থেকে কিছু কিছু অংশ গ্রহণ করা হয়, তবে একটি সংকলন তৈরি হয়ে যায়। আর প্রকৃত দক্ষতা তো হলো সূত্রের স্বল্পতার মাঝে; কারণ তখন নিজের মেধার ওপর নির্ভর করতে হয়। অর্থাৎ, গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে অসংখ্য গ্রন্থের শরণাপন্ন হওয়া কি প্রশংসনীয় কোনো গুণ? তিনি 'গিদাউল আলবাব শারহু মানজুমাতিল আদাব'-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, এটি রচনায় তিনি তিনশ’রও বেশি কিতাবের সাহায্য নিয়েছেন। একইভাবে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন গবেষণাপত্র ও সংকলনে আমরা দেখতে পাই যে, তারা তিনশ, পাঁচশ কিংবা সাতশ কিতাবের বরাত দিয়ে থাকেন। আমরা কি একে একটি বৈশিষ্ট্য বলতে পারি? অধিক কিতাবের ব্যবহার প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর গবেষণার বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং তিনি কিতাবসমূহের মাঝে ডানে-বামে, দূর-দূরান্তে গভীর অনুসন্ধান চালিয়েছেন। এমন সব কিতাবেও তিনি তথ্য খুঁজেছেন যেখানে হয়তো উক্ত বিষয়টি অন্য কোথাও আলোচিত হয়নি, যার সংশ্লিষ্টতা হোক তা নিকটবর্তী বা দূরবর্তী। এটি কি প্রশংসনীয় বিষয়, নাকি আমরা বলব যে তিনি কেবল এই কিতাবগুলো থেকেই তাঁর ইলম গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ, প্রাধান্য নির্ধারণ বা উদ্ভাবনী চিন্তার জন্য কিছুই অবশিষ্ট নেই? যদিও একটির কারণে অন্যটি বাধাগ্রস্ত না-ও হতে পারে। অনেক সময় কেউ কিতাব থেকে সামান্য কিছু গ্রহণ করে তা থেকে নিজস্ব বিশ্লেষণ ও পরিমার্জনের দিকে অগ্রসর হন। আবার কখনো কখনো এই কিতাব থেকে তথ্য নিয়ে ওই লেখকের সাথে আলোচনা করেন বা অন্য কারো জবাব দেন এবং এর মাধ্যমে উপকৃত হন। তবে কেবলই উদ্ধৃতি প্রদান করা—এখান থেকে একটি বাক্য, ওখান থেকে একটি লাইন বা অন্য কোথাও থেকে একটি পৃষ্ঠা নেওয়া—এটি প্রকৃত কোনো রচনা নয়। এটি প্রকৃত অর্থে কোনো সংকলন বা গ্রন্থ রচনা নয় এবং এর জন্য কোনো লেখকের প্রশংসা করা যায় না।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৬)
فمن تآليفه: شرح ثلاثيات المسند طبع في مجلدين كبيرين، ومجموعة ثلاثيات المسند تزيد على الثلاثمائة، شرح نونية الصرصري سماها: "معراج الأنوار في سيرة النبي المختار" في مجلدين، تحبير الوفاء في سيرة المصطفى، غذاء الألباب في شرح منظومة الآداب، هذا الكتاب وفي أصله الذي هو منظومة الآداب لابن عبد القوي فوائد جمة لا توجد في غيره، طالب العلم عليه أن يعنى بهما، على أن الشرح فيه لا يسلم من هنات، فيه أشياء مؤثرة في الاعتقاد، فيه طلاسم، وفيه رموز، وفيه أرقام، لا يدرى ما يعني بها، وهذه لا شك أنها خلل في الكتاب، وعلى كل حال الكتاب لو جرد من هذه لكان نفعه أكبر، منظومة الآداب أيضا لابن عبد القوي صاحب النظم، نظم الفقه نظم المقنع، طبعت مرارا وطبع معها منظومة الكبائر للحجاوي، ونسبت إلى ابن عبد القوي، حتى الطبعة الأولى لمنظومة الآداب مع ديوان ابن مشرف الذي طبعها ابن قاسم، الشيح عبد الرحمن بن قاسم في مطبعة أم القرى بمكة أدخل فيها منظومة الكبائر للحجاوي؛ لأنها على نفس الروي فظنت منها، وهي في الحقيقة ليست منها، فيها نقول عن بعض من تأخر عن الناظم، وزاد حفيد المجد أو جاء وعيده … إلى آخره شيخ الإسلام بعد ابن عبد القوي.

المقصود أن هذه المنظومة أدخل في المنظومة الكبائر وليست لابن عبد القوي، وهي للحجاوي.
তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘শারহু থুলাথিয়্যাতিল মুসনাদ’, যা দুটি বিশাল খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। ‘মুসনাদ’-এর থুলাথিয়্যাত (তিন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট হাদিস) সংকলনটি তিনশ’র অধিক। ‘নুনিয়্যাহ আস-সারসারী’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নামকরণ করেছেন: ‘মিরাজুল আনোয়ার ফি সিরাতিল নাবিয়্যিল মুখতার’, এটিও দুই খণ্ডে। ‘তাহবিরুল ওয়াফা ফি সিরাতিল মুস্তফা’, ‘গিজাউল আলবাব ফি শারহি মানজুমাতিল আদাব’। এই কিতাবটি এবং এর মূল যা ইবনে আবদিল ক্বাউয়ির ‘মানজুমাতুল আদাব’, এতে এমন অনেক উপকারিতা রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এই দুইটির প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা। তবে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ভুল-ভ্রান্তি থেকে মুক্ত নয়। এতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আকিদার ওপর প্রভাব ফেলে। এতে রয়েছে কিছু তিলসম (জাদু-মন্ত্র), কিছু রহস্যময় সংকেত এবং এমন কিছু সংখ্যা যার মর্ম জানা যায় না। এগুলো যে কিতাবটির ত্রুটি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যাই হোক, কিতাবটি যদি এ সব থেকে মুক্ত রাখা হতো তবে এর উপকারিতা আরও অনেক বেশি হতো। ‘মানজুমাতুল আদাব’-ও নাযেম (কাব্য রচয়িতা) ইবনে আবদিল ক্বাউয়ির। তিনি ফিকহ শাস্ত্রের ‘আল-মুকনি’ কিতাবটিও কাব্যরূপ দিয়েছিলেন। এটি বারবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এর সাথে হাজ্জাওয়ীর ‘মানজুমাতুল কাবায়ের’ মুদ্রিত হয়েছে এবং সেটিকে ইবনে আবদিল ক্বাউয়ির দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি ইবনে কাসিম অর্থাৎ শাইখ আব্দুর রহমান বিন কাসিম মক্কার উম্মুল কুরা প্রেসে ইবনে মুশরিফের দিওয়ানের সাথে ‘মানজুমাতুল আদাব’-এর যে প্রথম সংস্করণ ছেপেছেন, তাতেও হাজ্জাওয়ীর ‘মানজুমাতুল কাবায়ের’ অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন। কারণ এটি একই অন্ত্যমিলে রচিত হওয়ায় একে তারই অংশ মনে করা হয়েছিল। অথচ প্রকৃতপক্ষে এটি তার অংশ নয়। এতে এমন কিছু বর্ণনা রয়েছে যা মূল কাব্য রচয়িতার পরের লোকদের থেকে সংগৃহীত। আর হাফিদ আল-মাজদ বৃদ্ধি করেছেন অথবা তার ধমকি এসেছে … শেষ পর্যন্ত, ইবনে আবদিল ক্বাউয়ির পরে শাইখুল ইসলাম।

উদ্দেশ্য হলো, এই কাব্যটির ভেতরে ‘মানজুমাতুল কাবায়ের’ প্রবেশ করানো হয়েছে, অথচ এটি ইবনে আবদিল ক্বাউয়ির নয়, বরং এটি হাজ্জাওয়ীর।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৭)
البحور الزاخرة في علوم الآخرة، هذا كتاب مطبوع في الهند قديما في مجلدين، وحقق في رسائل علمية، وكشف اللثام في شرح عمدة الأحكام، من أنفس الشروح، وتأخر طبعه لنقص في أوائله يسير، ثم بعد ذلك طبع على نقصه، نتائج الأفكار في شرح حديث سيد الاستغفار، والجواب المحرر في الكشف عن حال الخضر والاسكندر، وعرف الزرنب في شرح السيدة زينب، القول العلي في شرح أثر أمير المؤمنين علي رضي الله عنه، شرح منظومة الكبائر الواقعة في الأقناع، شرح السفاريني منظومة الكبار للحجاوي شرحها السفاريني، نظم الخصائص الواقعة فيه أيضا، الدر المنظم في فضل شهر الله المحرم، قرع السياط في قمع أهل اللواط، المنظومة الغرامية في شرح منظومة ابن فرح اللامية، المنح المنح الغرامية، والتحقيق في بطلان التلفيق، ولواقح الأفكار السنية في شرح منظومة الإمام الحافظ أبي بكر بن أبي داود الحائية في مجلد، هذا طبع، تحفة النساك في فضل السواك، الدرة المضية في عقد أهل الفرقة المرضية وشرحها المسمى: لوامع الأنوار البهية وسواطع الأسرار الأثرية، تناضل العمال بشرح حديث فضائل الأعمال، الدرر المصنوعات في الأحاديث الموضوعات، رسالة في بيان الثلاثة والسبعين فرقة والكلام عليها، اللمعة في فضائل الجمعة، الأجوبة النجدية، الأجوبة الوهبية عن أسئلة الزعبية، شرح على دليل الطالب لم يكمل، تعزية اللبيب بأحب حبيب، إلى آخره، وله شعر أيضا، وكان وفاته في شوال سنة ثمان وثمانين ومائة وألف، مولود سنة كم؟ أربع عشرة ومائة وألف، فيكون عن أربع وسبعين سنة، -رحمه الله تعالى-.

سم.

بسم الله الرحمن الرحيم.

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله، وأصحابه أجمعين، أما بعد: وعلى آله وأصحابه أجمعين اللهم اغفر لنا، ولشيخنا، وللحاضرين، والمستمعين، برحمتك يا أرحم الراحمين.

أما بعد: فهذا متن الدرة المضية في عقد أهل الفرقة المرضية، للشيخ محمد بن أحمد بن سالم بن سليمان السفّاريني، المتوفى سنة تسع وثمانين ومائة وألف من الهجرة، قال -رحمه الله تعالى-:

الحمد لله القديم الباقي … مسبب الأسباب والأرزاق

مسبب وإلا مقدر؟

مسبب.

طالب:. . . . . . . . .
আখিরাতের ইলমসমূহে উত্তাল সমুদ্রসমূহ, এটি একটি কিতাব যা প্রাচীনকালে ভারতে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণাপত্র হিসেবে সম্পাদিত হয়েছে। আর 'উমদাতুল আহকাম'-এর ব্যাখ্যায় 'কাশফুল লিসাম', এটি অত্যন্ত মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর একটি; এর শুরুতে সামান্য কিছু ঘাটতি থাকার কারণে এটি মুদ্রণে বিলম্ব হয়েছে, এরপর সেই ঘাটতি সহই এটি মুদ্রিত হয়েছে। 'সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার' হাদিসের ব্যাখ্যায় 'নাতাইজুল আফকার', এবং খিজির ও আলেকজান্ডারের অবস্থা উন্মোচনে 'আল-জাওয়াবুল মুহাররার', এবং সায়্যিদা যয়নাবের (বর্ণিত হাদিস বা জীবনী) ব্যাখ্যায় 'আরফুয যারনাব', আমীরুল মুমিনীন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর আসারের ব্যাখ্যায় 'আল-কাওলুল আলী', 'আল-ইকনা' গ্রন্থে বর্ণিত কবিরা গুনাহের কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা, হিজ্জাবীর 'মানযুমা আল-কাবায়ির'-এর সাফফারিনী কৃত ব্যাখ্যা, তাতে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলোর কাব্যরূপ, আল্লাহর মাস মহররমের ফজিলত বিষয়ে 'আদ-দুররুল মুনায্যাম', লুত জাতির অপকর্মে লিপ্তদের দমনে 'কারউস সিয়াত', ইবনে ফারাহ-এর 'লামিয়া' কাব্যের ব্যাখ্যায় 'আল-মানযুমাতুল গারামিয়্যাহ', 'আল-মিনাহুল গারামিয়্যাহ', 'তালফীক' (মাযহাবের সংমিশ্রণ)-এর অসারতা প্রমাণের গবেষণা, এবং ইমাম হাফিয আবু বকর ইবনে আবি দাউদ-এর 'হাইয়্যাহ' কাব্যের ব্যাখ্যায় এক খণ্ডে 'লাওয়াকিহুল আফকারিস সানিইয়্যাহ'—এটি মুদ্রিত হয়েছে। মিসওয়াকের ফজিলত বিষয়ে 'তুহফাতুন নুসসাক', 'আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফী আকদি আহলিল ফিরকাতি মারদিয়্যাহ' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম: 'লাওয়ামিওল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ ওয়া সাওয়াতিউল আসরারিল আসারিয়্যাহ'। আমলসমূহের ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় 'তানাদুলুল উম্মাল', জাল হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে 'আদ-দুরারুল মাসনুয়াত', তিয়াত্তর দল ও তাদের আলোচনার বর্ণনায় একটি পুস্তিকা, জুমার দিনের ফজিলত বিষয়ে 'আল-লুমআহ', 'আল-আজউবাতুন নাজদিয়্যাহ', যুয়াবিয়্যাহদের প্রশ্নের উত্তরে 'আল-আজউবাতুল ওয়াহবিয়্যাহ', 'দালীলুত তালিব'-এর ব্যাখ্যা যা সমাপ্ত হয়নি, 'তাযিয়াতুল লাবীব' ইত্যাদি; এবং তাঁর কাব্যও রয়েছে। তাঁর মৃত্যু হয়েছে ১১৮৮ হিজরীর শাওয়াল মাসে। জন্ম কত সালে? ১১১৪ সালে, ফলে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

শুনুন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর: এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। হে আল্লাহ, আপনার রহমতের উসিলায় আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের শায়খকে ক্ষমা করুন, উপস্থিত ও শ্রোতা সকলকে ক্ষমা করুন, হে দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

অতঃপর: এটি হলো শায়খ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন সালিম বিন সুলাইমান আস-সাফফারিনীর রচিত 'আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফী আকদি আহলিল ফিরকাতি মারদিয়্যাহ' নামক মূল পাঠ, যিনি ১১৮৯ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন:

সকল প্রশংসা অনাদি ও চিরস্থায়ী আল্লাহর জন্য … যিনি উপায়-উপকরণ ও রিযিকের স্রষ্টা।

মুসাব্বিব (স্রষ্টা) নাকি মুকাদ্দির (নির্ধারণকারী)?

মুসাব্বিব।

ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৮)
وهنا مسبب، شرح الشطي مسبب الأسباب، وهنا مقدر الآجال، نعم.

الحمد لله القديم الباقي … مسبب الأسباب والأرزاق

حي عليم قادر موجود … قامت به الأشياء والوجود

دلت على وجوده الحوادث … سبحانه فهو الحكيم الوارث

ثم الصلاة والسلام سرمدا … على النبي المصطفى كنز الهدى

وآله وصحبه الأبرار … معادن التقوى مع الأسرار

وبعد فاعلم أن كل العلم … كالفرع للتوحيد فاسمع نظمي

لأنه العلم الذي لا ينبغي … لعاقل لفهمه لم يبتغ

فيعلم الواجب والمحالا … كجائز في حقه تعالى

وصار من عادة أهل العلم … أن يعتنوا في سبر ذا بالنظم

لأنه يسهل للحفظ كما … يروق للسمع ويشفي من ظما

فمن هنا نظمت لي عقيده … أرجوزة وجيزة مفيده

نظمتها في سلكها مقدمه … وست أبواب كذاك خاتمه

وسمتها بالدرة المضيه … في عقد أهل الفرقة المرضيه

على اعتقاد ذي السداد الحنبلي … إمام أهل الحق ذي القدر العلي

حبر الملا فرد العلى الرباني … رب الحجى ماحي الدجى الشيباني

فإنه إمام أهل الأثر … فمن نحا منحاه فهو الأثري

سقى ضريحا حله صوب … والعفو والغفران ما نجم أضا

الرضا وحله وسائر الأئمة … منازل الرضوان أعلى الجنة

يكفي، يكفي.

إيش التحقيق اللي معاك؟

طالب:. . . . . . . . .

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد، وعلى آله، وأصحابه أجمعين.

أما بعد: فيقول الناظم -رحمه الله تعالى- في مقدمة منظومته، هذه المنظومة الوجيزة المحررة المختصرة التي جمعت من أبواب العقيدة ما لم يجمعه مختصر في حجمها، افتتحها رحمه الله بالحمد، فقال -رحمه الله تعالى-:

الحمد لله القديم الباقي … . . . . . . . . .
এবং এখানে কারণের স্রষ্টা, আল-শাত্তির ব্যাখ্যায় উপকরণসমূহের স্রষ্টা বলা হয়েছে, আর এখানে রয়েছে আয়ু নির্ধারণকারী, হ্যাঁ।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি অনাদি ও চিরস্থায়ী … উপকরণ ও রিযিকের স্রষ্টা।

তিনি চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান ও বিদ্যমান … যার দ্বারা সকল বস্তু ও অস্তিত্ব টিকে আছে।

সৃষ্ট বস্তুসমূহ তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় … তিনি পবিত্র, তিনি প্রজ্ঞাময় ও সকল কিছুর উত্তরাধিকারী।

অতঃপর চিরকাল সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক … মনোনীত নবী হেদায়াতের ভাণ্ডারের ওপর।

এবং তাঁর বংশধর ও পুণ্যবান সাহাবীদের ওপর … যারা গোপন রহস্যসহ তাকওয়ার আধার।

অতঃপর জেনে রাখুন যে সকল জ্ঞান … তাওহীদের শাখার মতো, সুতরাং আমার কবিতাটি শ্রবণ করুন।

কারণ এটি এমন এক জ্ঞান যা অন্বেষণ না করা … কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য সংগত নয়।

ফলে জানা যায় আল্লাহর ক্ষেত্রে যা আবশ্যক এবং অসম্ভব … যেমন জানা যায় তাঁর ক্ষেত্রে যা সম্ভব।

আর এটি আলেমদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে … যে তারা জ্ঞান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কাব্য রচনার প্রতি গুরুত্ব দেন।

কারণ এটি মুখস্থ করা সহজ এবং যেমন … শ্রবণে তৃপ্তি দেয় এবং জ্ঞানের তৃষ্ণা মেটায়।

সেজন্য আমি আমার জন্য একটি আকিদা সংকলন করেছি … যা একটি সংক্ষিপ্ত ও উপকারী কবিতা।

আমি একে ধারাবাহিকভাবে সাজিয়েছি একটি ভূমিকা … এবং ছয়টি অধ্যায় ও একটি উপসংহার দিয়ে।

আমি এর নামকরণ করেছি 'আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ' … যা সন্তোষজনক দলের আকিদা বর্ণনায় রচিত।

এটি সত্যনিষ্ঠ হাম্বলী আকিদার ওপর ভিত্তি করে … যিনি সত্যপন্থীদের ইমাম ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী।

জনসাধারণের শ্রেষ্ঠ আলেম, সুউচ্চ মর্যাদার একক ব্যক্তিত্ব, রব্বানী … প্রজ্ঞাবান, অন্ধকার দূরকারী শাইবানী।

কেননা তিনি আহলে আসারের ইমাম … সুতরাং যে তাঁর পথ অনুসরণ করে সে-ই আসারি।

যে কবরে তিনি অবস্থান করছেন তা রহমতের বৃষ্টিতে সিক্ত হোক … আর ক্ষমা ও মার্জনা বর্ষিত হোক যতক্ষণ নক্ষত্র দীপ্তি দেয়।

আল্লাহর সন্তুষ্টি তাঁকে ও অন্যান্য সকল ইমামকে … জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরের সন্তুষ্টির আবাসে পৌঁছে দিক।

যথেষ্ট, যথেষ্ট।

তোমার কাছে কোন সম্পাদনাটি আছে?

ছাত্র: . . . . . . . . .

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের ওপর।

অতঃপর: কাব্যকার -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- তাঁর এই কবিতার ভূমিকায় বলেন, এই সংক্ষিপ্ত, পরিমার্জিত ও সারসংক্ষেপ কাব্যটি আকিদার অধ্যায়সমূহ থেকে যা একত্রিত করেছে তা এর সমআকারের অন্য কোনো সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে পাওয়া যায় না। তিনি রহিমাহুল্লাহ প্রশংসার মাধ্যমে এটি শুরু করেছেন, অতঃপর তিনি রহিমাহুল্লাহ বলেন:<

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি অনাদি ও চিরস্থায়ী … . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৯)
الحمد لله القديم الباقي، الحمد: وأل هذه للاستغراق، جميع أنواع المحامد لله -جل وعلا-، واللام في لله كما هي في مفتتح كتابه للاستحقاق، فالحمد كله مستحق لله -جل وعلا-، الحمد ذكر صفات المحمود ذكر صفات المحمود مع تعظيمه، مع تعظيمه، نعم، نعم وحبه، فكثير من أهل العلم يفسرون الحمد بالثناء بما في ذلك السفّاريني، يفسرون الحمد بالثناء، والمختصر يقول: الحمد لغة الثناء باللسان على الجميل الاختيار على جهة التعظيم والتبجيل، تفسير الحمد بالثناء كما قرر ابن القيم -رحمه الله تعالى- في الوابل الصيب يرده حديث أبي هريرة: ((قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين، فإذا قال العبد: الحمد لله رب العالمين، قال الله: حمدني عبدي، فإذا قال: الرحمن الرحيم، قال: أثنى علي عبدي)) فجعل الثناء هو التكرار لهذه المحامد، تكرار المحامد يقال له: ثناء.

يقول: الحمد عرفا، أولا لغة: الثناء باللسان على الجميل الاختيار على جهة التعظيم والتبجيل.

وعرفاً: فعل ينبئ عن تعظيم المنعم على الحامد وغيره، هم يضيفون في هذه المحامد، وهو ما يمكن أن يحمد عليها وما يمدح بها إنها لا بد أن تكون أوصاف جميلة؛ لأن الشيء لا يمدح بالقبيح، الذي ليس بجميل.

الأمر الثاني: أن يكون هذا الوصف الجميل اختياريا، فلا يمدح بما هو إجباري، كما أنه لا يذم بما جبل عليه وأرغم عليه وأجبر عليه.

يقولون: فلا مدح ببياض الخد، ولا بجمال القد، أو ما أشبه ذلك؛ لأن هذا ليس من صنعه، كما أنه لا ذم بضد ذلك، يعني ما يمدح الإنسان بجماله الإجباري الذي لا يد له فيه، لا يستطيع أن يتركه ويعدل عنه إلى غيره، كما أنه لا ذم بما كان هذا شأنه، الإنسان ولد طويل أو قصير، لكنه لا يمدح ولا يذم، {صنْع الله الّذي أتْقن كلّ شيْءٍ} [(88) سورة النمل]، خلق الإنسان في أحسن تقويم، فالجميل الاختياري هو الذي يمدح به، الأخلاق التي يمكن أن يتخلق بها، ويمكن له أن يتركها إلى غيرها.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনাদি ও চিরস্থায়ী। প্রশংসা: এখানে 'আল' (আলিফ-লাম) শব্দটি ব্যাপকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ সকল প্রকার প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। 'লিল্লাহ' (আল্লাহর জন্য) শব্দে 'লাম' বর্ণটি তাঁর কিতাবের প্রারম্ভিক আয়াতের ন্যায় যোগ্যতার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহরই প্রাপ্য। প্রশংসা হলো প্রশংসিত সত্তার গুণাবলী তাঁর মাহাত্ম্য, মহত্ত্ব এবং ভালোবাসার সাথে আলোচনা করা। হ্যাঁ, অনেক আলিম প্রশংসাকে গুণকীর্তন (সানা) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যাদের মধ্যে আল-সাফফারিনিও রয়েছেন। তারা প্রশংসাকে গুণকীর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। 'আল-মুখতাসার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আভিধানিক অর্থে প্রশংসা হলো মহত্ত্ব ও সম্মানের সাথে কারও স্বেচ্ছাধীন সুন্দর গুণের মৌখিক বর্ণনা করা। প্রশংসাকে গুণকীর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করাকে ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-ওয়াবিলুস সয়্যিব' গ্রন্থে খণ্ডন করেছেন। তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন: "আমি নামাযকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি। যখন বান্দা বলে: 'সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য', তখন আল্লাহ বলেন: 'আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে'। যখন সে বলে: 'পরম করুণাময়, অতি দয়ালু', তখন আল্লাহ বলেন: 'আমার বান্দা আমার গুণকীর্তন করেছে'।" এখানে প্রশংসার পুনরাবৃত্তিকে 'সানা' বা গুণকীর্তন হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রশংসার পুনরাবৃত্তিকেই গুণকীর্তন বলা হয়।

তিনি বলেন: পারিভাষিক অর্থে প্রশংসা, প্রথমত আভিধানিক অর্থে: মহত্ত্ব ও সম্মানের সাথে কোনো স্বেচ্ছাধীন সুন্দর গুণের মৌখিক প্রশংসা করা।

আর পারিভাষিক অর্থে: এমন কাজ যা প্রশংসাকারী বা অন্যের প্রতি নিয়ামতদাতার সম্মান প্রদর্শন করে। তারা এই প্রশংসার ক্ষেত্রে আরও যোগ করেন যে, যার প্রশংসা করা হচ্ছে এবং যা নিয়ে প্রশংসা করা হচ্ছে, তা অবশ্যই সুন্দর গুণ হতে হবে; কারণ কোনো কুৎসিত বা অসুন্দর বিষয়ের জন্য প্রশংসা করা যায় না।

দ্বিতীয় বিষয়: এই সুন্দর গুণটি স্বেচ্ছাধীন হতে হবে। সুতরাং কোনো অনিচ্ছাধীন (আবশ্যিক) বিষয়ের জন্য প্রশংসা করা হয় না, ঠিক যেমন কোনো সহজাত বা বাধ্যগত বিষয়ের জন্য কাউকে নিন্দা করা হয় না।

তারা বলেন: গালের শুভ্রতা বা শারীরিক সৌন্দর্যের জন্য কোনো প্রশংসা নেই, অথবা এই জাতীয় অন্য কিছুর জন্যও নয়; কারণ এটি তার নিজের সৃষ্টি নয়। একইভাবে এর বিপরীতের জন্যও কোনো নিন্দা নেই। অর্থাৎ, মানুষকে তার ওই অনিচ্ছাধীন সৌন্দর্যের জন্য প্রশংসা করা হয় না যাতে তার কোনো হাত নেই এবং যা সে বর্জন করতে পারে না বা পরিবর্তন করতে পারে না। ঠিক তেমনি নিন্দাও ওইসব বিষয়ে হয় না যা তার আয়ত্তে নেই। মানুষ দীর্ঘকায় বা খর্বকায় হয়ে জন্মাতে পারে, কিন্তু সে জন্য তাকে প্রশংসাও করা হয় না, নিন্দাও করা হয় না। "এটি আল্লাহরই কারিগরি, যিনি সবকিছু সুনিপুণভাবে সৃষ্টি করেছেন" [সূরা আন-নামল: ৮৮]। তিনি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং সেই সুন্দর গুণটিই প্রশংসার যোগ্য যা স্বেচ্ছাধীন; যেমন চরিত্র, যা কোনো ব্যক্তি অর্জন করতে পারে আবার চাইলে বর্জনও করতে পারে।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১০)
"الحمد لله القديم الباقي" "القديم" لم يرد في أسماءه الحسنى ما يدل على وصفه بهذا اللفظ، ولا على تسميته، يعني إذا كان الوصف أوسع من دائرة التسمية فإن الوصف لم يرد فضلا عن أن يسمى به، لم يرد ومفهومه في لغة العرب أنه المتقدم على غيره، ولو كان حادثاً، فلو اشتريت قلماً قبل عام وفي هذه السنة اشتريت قلماً، أنت اشتريت قبل الأول عشرات الأقلام، لكن العام الماضي اشتريت قلماً، وهذه السنة اشتريت قلماً آخراً، وعندك القلمين كلاهما، فهل يسوغ لك أن تقول لولدك أو لزوجتك: أعطيني القلم القديم؟ طيب قبله عشرات الأقلام، إذا كان الأمر كذلك لكان يطلق على المتقدم على غيره بغض النظر عن تقدمه المطلق، فإنه لا يسوغ إطلاقه على الله -جل وعلا-، كالعرجون القديم، العرجون القديم إذا وضع في الشمس، أخذ ما عليه من تمر ووضع في الشمس التوت أغصانه، وصار قديما بالنسبة للعذق الجديد الأخضر.

بعضهم ينفي هذا المحظور أو المحذور بإضافة أزلي، القديم الأزلي، يعني المتناهي في القدم، وإذا كان المعنى كذلك والأمر كذلك فمعناه صحيح، لكن يبقى أن استعمال الألفاظ التي جاءت بها النصوص هو الأولى، بل المتعين، فبدلا من أن نقول: القديم، أو نقول: القديم الأزلي، نقول: الأول، هو الأول والآخر، كما قال الله -جل وعلا- عن نفسه، وفسره نبيه عليه الصلاة والسلام، ((الأول الذي لا قبله أحد))، أو ((ليس قبله شيء)).

"الحمد لله القديم الباقي"،: "الباقي" مثل القديم، نعم جاء {ويبْقى وجْه ربّك} [(27) سورة الرحمن]، والبقاء بمعنى الدوام الذي لا نهاية له، هو معنى الآخر الذي لا شيء بعده، استعمال المؤلف لهذين اللفظين، عدول عن الأولى الذي هو استعمال ما دلت عليه النصوص.

هنا في هذه النسخة يقول:

. . . . . . . . . … مقدر الآجال والأرزاق

 

وأكثر النسخ بما فيها النسخ الأصلية التي مع الشرح يقول: مسبب الأسباب.

 

. . . . . . . . . … مسبب الأسباب والأرزاق

 

أيهما أولى مقدر الآجال والأرزاق، أو مسبب الأسباب والأرزاق؟

 

طالب:. . . . . . . . .

الآن ما نستطيع أن نقول: مسبب الأرزاق، أو مقدر الأرزاق؟

طالب:. . . . . . . . .
"সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনাদি ও চিরস্থায়ী।" "আল-কাদিম" (অনাদি) শব্দটি আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে এমনভাবে আসেনি যা এই শব্দ দ্বারা তাঁকে গুণান্বিত করা বা তাঁর নামকরণের প্রমাণ দেয়। অর্থাৎ, যদি গুণ বর্ণনা করার ক্ষেত্র নাম রাখার ক্ষেত্রের চেয়ে বিস্তৃতও হয়, তবুও এই গুণ বর্ণনা করার বিষয়টি (কাদিম হিসেবে) আসেনি, তাঁর নাম হওয়া তো দূরের কথা। এটি (শরীয়তে) আসেনি এবং আরবী ভাষায় এর অর্থ হলো এমন যা অন্যের আগে বিদ্যমান, এমনকি তা যদি নশ্বর বা সৃষ্টও হয়। যেমন ধরুন, আপনি এক বছর আগে একটি কলম কিনেছিলেন এবং এই বছর আরেকটি কলম কিনলেন; আপনি এর আগে কয়েক ডজন কলম কিনলেও গত বছর একটি এবং এই বছর আরেকটি কলম কিনেছেন এবং আপনার কাছে এখন দুটি কলমই আছে। এখন আপনি কি আপনার সন্তান বা স্ত্রীকে বলতে পারেন যে, "আমাকে পুরনো (কাদিম) কলমটি দাও"? হ্যাঁ, তার আগে কয়েক ডজন কলম ছিল; যদি বিষয়টি এমন হয় তবে "কাদিম" শব্দটি অন্যের তুলনায় অগ্রবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, তার সেই অগ্রবর্তিতা পরম কি না তা বিবেচনা না করেই। তাই এটি মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। যেমন: "পুরনো শুষ্ক খেজুর শাখার ন্যায়"; পুরনো শুষ্ক খেজুর শাখা যখন রোদে রাখা হয় এবং তা থেকে খেজুর নিয়ে নেওয়া হয়, তখন রোদে থাকা অবস্থায় এর ডালপালা কুঁচকে যায় এবং নতুন সবুজ খেজুরের ছড়ার তুলনায় তা পুরনো (কাদিম) হয়ে যায়।

কেউ কেউ এই ত্রুটি বা আপত্তির বিষয়টি এড়ানোর জন্য "আজালি" (অনাদি) শব্দটি যোগ করে বলেন, "আল-কাদিম আল-আজালি", অর্থাৎ যার প্রাচীনত্বের কোনো সীমা বা শুরু নেই। যদি অর্থ ও বিষয়টি এমনই হয় তবে এর অর্থ সঠিক; কিন্তু তবুও দলীলসমূহে যে শব্দগুলো এসেছে সেগুলো ব্যবহার করাই উত্তম, বরং তা অপরিহার্য। তাই "আল-কাদিম" বা "আল-কাদিম আল-আজালি" বলার পরিবর্তে আমরা বলব: "আল-আউয়াল" (প্রথম)। তিনি হলেন প্রথম এবং শেষ, যেমনটি মহান আল্লাহ নিজের সম্পর্কে বলেছেন এবং তাঁর নবী (সা.) এর ব্যাখ্যা করেছেন: "তিনি এমন প্রথম যার পূর্বে কেউ নেই" অথবা "যার পূর্বে কিছু নেই"।"সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনাদি ও চিরস্থায়ী": "আল-বাকি" (চিরস্থায়ী) শব্দটি "আল-কাদিম" শব্দের মতোই। হ্যাঁ, "এবং আপনার রবের চেহারা চিরস্থায়ী হবে" [সূরা আর-রাহমান: ২৭] আয়াতে স্থায়িত্বের বিষয়টি এসেছে। আর স্থায়িত্ব বা "বقاء" এর অর্থ হলো নিরবচ্ছিন্নতা যার কোনো শেষ নেই; এটি মূলত "আল-আখির" (সর্বশেষ) শব্দের অর্থ যার পরে আর কিছু নেই। গ্রন্থকারের এই দুটি শব্দ ব্যবহার করা উত্তম পন্থা থেকে বিচ্যুত হওয়া মাত্র; উত্তম পন্থা ছিল দলীলসমূহের নির্দেশিত শব্দগুলো ব্যবহার করা।

এখানে এই কপিতে বলা হয়েছে:

. . . . . . . . . … আয়ু ও রিজিক নির্ধারণকারী

 

আর অধিকাংশ কপিতে, যার মধ্যে শারহ বা ব্যাখ্যাসহ মূল পাণ্ডুলিপিও অন্তর্ভুক্ত, সেখানে বলা হয়েছে: সকল কারণের কারণ।

 

. . . . . . . . . … সকল কারণ ও রিজিকের কারণ

 

"আয়ু ও রিজিক নির্ধারণকারী" এবং "সকল কারণ ও রিজিকের কারণ"—এই দুটির মধ্যে কোনটি অধিক উত্তম?

 

ছাত্র: . . . . . . . . .

এখন আমরা কি বলতে পারি: রিজিকের কারণ, নাকি রিজিক নির্ধারণকারী?

ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১১)
الآن هذه النسخة معكم من النسخ المطبوعة ما يوافق مقدر الآجال؟ ها، مقدر الآجال؟

طالب:. . . . . . . . .

إيه طيب شوفوا لنا الصورة اللي عن الهندية الأصلية، مطبوعة، مع، مصورة، عندك.

طالب: ....

لا، لا قبل، قبل، الهندية، "مقدر الآجال والأرزاق"، مسبب الأسباب ماشي، لكن مسبب الأرزاق لا شك أنها قلقة، وأن الأولى أن يقال: مقدر، كل شيء بقدر، سواء كان من الآجال والأرزاق، وهي تكتب يؤمر الملك بكتابتها والجنين في بطن أمه، فهي مقدرة، الآجال مقدرة، حين يبعث الملك إلى الحمل الجنين وهو في بطن أمه، فيكتب أجله ورزقه وشقي أم سعيد، كل هذا يكتب وهو في بطن أمه، فهي مقدرة.

"مسبب الأسباب"، جاعل هذه الأسباب مؤثرة في مسبباتها، جاعل هذه الأسباب مؤثرة في مسبباتها، ولا شك أن الذي يجعل التأثير في الشيء هو الله -جل وعلا-، من عداه لا يستطيع أن يجعل الشيء سببا وهو في الحقيقة ليس بسبب لا شرعي ولا عادي، ويعدون هذا ضرب من الشرك، إذا تعلق بشيء يظن تأثيره ولم يثبت في النص ولا العادة المطردة تأثيره هذا شرك، فالمسبب للأسباب هو الله -جل وعلا-، كما أن المقدر للآجال هو الله -جل وعلا-، هو الذي ضرب هذه الآجال، فإذا جاءت هذه الآجال لا يتقدم الإنسان ولا يتأخر.

طالب:. . . . . . . . .

يقول هنا. . . . . . . . .

طالب:. . . . . . . . .

الشيخ ابن مانع، طيب.

يقول: "مسبب الأسباب" المتوصل بها إلى مسبباتها، هذا كلام الشيخ ابن مانع، وفي نسخة مقدر الآجال، وهو أولى لأمرين.

الأول: أن المقدم من صفات أفعاله المعبر عنها بالفواضل، وفي نسخة بدل الآجال الأقدار، وهي أهم.

والثاني: الدلالة على تقدير الآجال، جمع أجل محركة، غاية الوقت بالموت، وحلول الدين، ومدة الشيء قال تعالى: {فإذا جاء أجلهمْ لا يسْتأْخرون ساعة ولا يسْتقْدمون} [(34) سورة الأعراف].

"مقدر الأرزاق" جمع رزق إلى آخره، وهو ما ينتفع به من حلال أو حرام.

هذه المختصر هو مأخوذ من شرح المؤلف، في أحد معه شرح المؤلف: "لوامع الأنوار"؟
এখন আপনাদের কাছে থাকা মুদ্রিত সংস্করণগুলোর মধ্যে কোনটি আয়ু নির্ধারণকারীর (মুকাদিরুল আজাল) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? হ্যাঁ, আয়ু নির্ধারণকারী?

ছাত্র: . . . . . . . . .

আচ্ছা ঠিক আছে, মূল ভারতীয় পাণ্ডুলিপির যে চিত্রিত বা মুদ্রিত কপিটি আপনার কাছে আছে, সেটি আমাদের একটু দেখুন।

ছাত্র: ....

না, না আগে, আগেরটি, ভারতীয় কপিটি; "আয়ু ও রিযিক নির্ধারণকারী"। "উপকরণসমূহের কারণদাতা" (মুসাব্বিবুল আসবাব) কথাটি ঠিক আছে, কিন্তু "রিযিকসমূহের কারণদাতা" শব্দটিতে নিঃসন্দেহে কিছুটা জড়তা আছে। বরং "নির্ধারণকারী" (মুকাদির) বলাটাই উত্তম। সবকিছুই তকদীর বা পরিমাপ অনুযায়ী হয়, তা আয়ু হোক বা রিযিক। যখন ভ্রূণ তার মায়ের পেটে থাকে এবং ফেরেশতাকে তা লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়, তখনই তা লিখে দেওয়া হয়। সুতরাং এগুলো পূর্বনির্ধারিত। আয়ু নির্ধারিত হয় যখন ফেরেশতাকে জরায়ুর ভ্রূণের কাছে পাঠানো হয় এবং সে তার আয়ু, রিযিক, এবং সে কি হতভাগ্য নাকি সৌভাগ্যবান হবে তা লিখে দেয়। এই সবকিছুই সে তার মায়ের পেটে থাকাকালীন লেখা হয়, তাই এগুলো পূর্বনির্ধারিত।

"উপকরণসমূহের কারণদাতা", অর্থাৎ যিনি এই কারণগুলোকে তাদের ফলাফলের ওপর কার্যকর করেন। যিনি এই কারণগুলোকে তাদের ফলাফলের ওপর প্রভাববিস্তারী করেন। আর নিঃসন্দেহে কোনো কিছুর মাঝে প্রভাব সৃষ্টি করার বিষয়টি একমাত্র আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-র পক্ষ থেকেই হয়। তিনি ব্যতীত অন্য কেউ কোনো বস্তুকে এমনভাবে 'কারণ' হিসেবে সাব্যস্ত করতে পারে না যা শরীয়তসম্মত বা জাগতিক কোনোভাবেই কারণ নয়। ওলামায়ে কেরাম একে শিরকের একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেন; যদি কেউ এমন কোনো কিছুর সাথে অন্তরকে সম্পৃক্ত করে যার প্রভাব আছে বলে সে মনে করে, অথচ শরয়ী দলিল বা অকাট্য অভ্যাসের মাধ্যমে তার প্রভাব প্রমাণিত নয়, তবে তা শিরক। সুতরাং উপকরণের কারণদাতা হলেন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা, যেমন আয়ুর নির্ধারণকারীও হলেন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা। তিনিই এই আয়ুগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। সুতরাং যখন এই আয়ু বা নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসে, তখন মানুষ এক মুহূর্ত এগিয়ে যেতে পারে না এবং পিছিয়েও থাকতে পারে না।

ছাত্র: . . . . . . . . .

এখানে বলা হচ্ছে. . . . . . . . .

ছাত্র: . . . . . . . . .

শাইখ ইবনে মানি', আচ্ছা।

তিনি বলছেন: "উপকরণসমূহের কারণদাতা" যার মাধ্যমে ফলাফলে পৌঁছানো যায়—এটি শাইখ ইবনে মানি'-এর বক্তব্য। অন্য একটি কপিতে আছে "আয়ু নির্ধারণকারী", যা দুটি কারণে অধিকতর সঠিক।

প্রথমত: আল্লাহ তাআলার কর্মগত গুণাবলির বর্ণনা যা শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আর অন্য একটি কপিতে আয়ুর স্থলে "তকদীরসমূহ" রয়েছে, যা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত: আয়ু নির্ধারণের ওপর প্রমাণ পেশ করা। 'আজাল' শব্দটি জবরযুক্ত 'আজল'-এর বহুবচন, যার অর্থ মৃত্যুর মাধ্যমে সময়ের পরিসমাপ্তি, ঋণ পরিশোধের সময় এবং কোনো কিছুর মেয়াদকাল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যখন তাদের নির্ধারিত সময় আসবে, তখন তারা এক মুহূর্ত পিছিয়ে যেতে পারবে না এবং এগিয়েও আসতে পারবে না} [সূরা আল-আরাফ: ৩৪]।

"রিযিক নির্ধারণকারী"—রিযিক শব্দের বহুবচন ইত্যাদি; আর রিযিক হলো যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, তা হালাল হোক বা হারাম।

এই সংক্ষিপ্তসারটি মূলত লেখকের মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। আপনাদের কারো কাছে কি লেখকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ "লাওয়ামিউল আনোয়ার" আছে?
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১২)
هو مأخوذ بحروفه من شرح المؤلف، مسبب الأسباب والأرزاق، وهنا مقدر الآجال؛ لأن التسبيب لا يتسلط على المعطوف والمعطوف عليه، بينما التقدير يمكن تسليطه على المتعاطفين، ومعلوم أن العطف على نية تكرار العامل، مقدر الآجال ومقدر الأرزاق، لكن إذا قلنا: مسبب الأسباب صحيح، لكن هل نستطيع ومسبب الأرزاق؟ نستطيع نقول: مسبب الأرزاق؟ لا، العبارة مضطربة.

الشارح المختصر الشطي يقول: مسبب الأسباب المتوصل بها إلى مسبباتها، أي خالق الأسباب المتوصل بها إلى المطلوب، فإن قلت: هل من أسماءه تعالى المسبب؟ حتى أطلقه عليه مع أن الأسماء توقيفية، أم كيف الحكم؟ قلت: ذكر غير واحد من المحققين منهم الإمام المحقق في بدائع الفوائد أن ما يطلق عليه سبحانه وتعالى في باب الأسماء والصفات توقيفي، وما يطلق عليه في باب الأخبار لا يكون توقيفيا كالقديم، والشيء، والموجود، والقائم بنفسه، لا شك أن دائرة الإخبار أوسع، أوسع من دائرة الوصف، والوصف أوسع من التسمية، فالاسم يؤخذ منه صفة، والصفة يخبر بها عن الله -جل وعلا-، ولا عكس، ولا عكس.

طالب:. . . . . . . . .

هاه؟

طالب:. . . . . . . . .

يسمونه، لكن مثل هذا إذا كان عن طريق الإخبار لا بأس، لكن الآخر الذي ليس بعده شيء، وفي أيضا عندنا، {ويبْقى وجْه ربّك ذو الْجلال والْإكْرام} [(27) سورة الرحمن]، هو باق بلا شك، لكن التسمية لا بد لها من نص، الإخبار أمره واسع.
এটি আক্ষরিকভাবে লেখকের ব্যাখ্যা থেকে গৃহীত হয়েছে, 'উপকরণসমূহের কারণ এবং রিযিক প্রদানকারী', আর এখানে 'আয়ুর নির্ধারণকারী'; কারণ 'কারণ হওয়া' বা তাসবীব বিষয়টি 'মাতুফ' এবং 'মাতুফ আলাইহি' উভয়ের ওপর সমানভাবে কার্যকর হয় না, পক্ষান্তরে 'নির্ধারণ' বা তাকদীর বিষয়টি উভয়টির ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব। আর এটি সুবিদিত যে, ব্যাকরণগত সংযোগ বা আতিফ মূলত আমিল বা ক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে; যেমন: আয়ুর নির্ধারণকারী এবং রিযিকের নির্ধারণকারী। কিন্তু যদি আমরা বলি: 'উপকরণসমূহের কারণ' তবে তা সঠিক; কিন্তু আমরা কি 'রিযিকের কারণ' বলতে পারি? আমরা কি বলতে পারি: রিযিকের কারণ? না, এই বাক্যটি ভারসাম্যহীন।

সংক্ষিপ্ত ভাষ্যকার আশ-শাত্তি বলেন: উপকরণসমূহের কারণ যার মাধ্যমে সেগুলোর ফলাফলে পৌঁছানো যায়, অর্থাৎ সেই সব উপকরণের স্রষ্টা যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। এখন আপনি যদি বলেন: 'আল-মুসাব্বিব' কি মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত? যাতে আমি তাঁর ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করতে পারি, অথচ নামসমূহ তো তাওকিফিয়্যাহ বা শরীয়তের দলিলের ওপর নির্ভরশীল, নাকি এর বিধান অন্য কিছু? আমি বলব: ইমাম আল-মুহাক্কিক তাঁর বাদাইউল ফাওয়াইদ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা সহ একাধিক গবেষক আলেম উল্লেখ করেছেন যে, নাম ও গুণাবলির অধ্যায়ে মহান আল্লাহর জন্য যা প্রয়োগ করা হয় তা তাওকিফি বা দলিল নির্ভর, কিন্তু সংবাদ প্রদানের বা ইখবার-এর অধ্যায়ে যা আল্লাহর জন্য বলা হয় তা তাওকিফি হওয়া আবশ্যক নয়; যেমন: অনাদি, সত্তা, বিদ্যমান এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সংবাদ প্রদানের পরিধি বর্ণনার পরিধির চেয়েও বিস্তৃত, আর বর্ণনার পরিধি নামকরণের চেয়েও বিস্তৃত। সুতরাং নাম থেকে গুণ গ্রহণ করা হয় এবং গুণ থেকে আল্লাহর ব্যাপারে সংবাদ প্রদান করা হয়, কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়, বিপরীতটি সঠিক নয়।

ছাত্র: . . . . . . . . .

কী?

ছাত্র: . . . . . . . . .

তারা তাঁকে এই নামে ডাকে, তবে এই ধরনের বিষয় যদি সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে হয় তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু অন্যটি হলো এমন যাঁর পরে আর কিছুই নেই। এছাড়া আমাদের কাছে আরও রয়েছে: "এবং আপনার রবের চেহারা অবিনশ্বর, যিনি মহিমান্বিত ও মহানুভব" [সূরা আর-রহমান: ২৭]। তিনি নিঃসন্দেহে অবিনশ্বর, কিন্তু নামকরণের জন্য অবশ্যই দলিলের প্রয়োজন, তবে সংবাদ প্রদানের বিষয়টি প্রশস্ত।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وهنا يقول: وما يطلق عليه في باب الإخبار لا يجب أن يكون توقيفيا هذا كلام ابن القيم كالقديم، والشيء، والموجود، والقائم بنفسه، هذا لا يحتاج إلى نص، بمجرد الإخبار، حتى أنه في تفسير الشيخ ابن سعدي في سورة يس، {يا حسْرة على الْعباد} [(30) سورة يس]، يقول: ثم قال متحسرا على العباد، أو متوجعا قال: متوجعا، متوجعا على العباد، قائلا: {يا حسْرة على الْعباد}، التوجع بالنسبة إليه -جل وعلا- هذا ليس بوارد وفي بعض النسخ: مترحما، والصورة واحدة في الكتابة، قريبة جداً، متوجعاً ومترحماً، الصورة قريبة، لا سيما عند بعض الناس الذي لا يحقق الحروف، وأثبت في بعض النسخ هذا وأثبت هذا، والذي حقق الكتاب يدافع عما أثبته بقوله: متوجعا، إن هذا من باب الإخبار عن الله -جل وعلا-، لكن مسألة التوجع فيها شيء من النقص، التوجع فيه شيء من النقص، بينما الترحم لا، فلا شك أن الترحم أولى من التوجع.

طالب:. . . . . . . . .

ويش يقول.

الشيخ عبد الله بن بطين رحمه الله في حاشيته يقول: ليس في كلام المؤلف ما يدل صراحة على أن الباقي من أسماء الله الحسنى، ولم أجد حتى ساعتي هذه ما يدل على أنه من أسماء الله، وإن كان في القرآن قد أضيف البقاء إلى الله تعالى في قوله: {ويبْقى وجْه ربّك} [(27) سورة الرحمن]، لكن التعبير عن الصفة بالفعل لا يعني أن نشق له منها اسم، ولذلك لم يشتق لله اسم من نحو {اللهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ} [(15) سورة البقرة]، {وَيَمْكُرُ اللهُ} [(30) سورة الأنفال]، {وَأَكِيدُ كَيْدًا} [(16) سورة الطارق]، {وَالسَّمَاء بَنَيْنَاهَا} [(47) سورة الذاريات]، {وَالْأَرْضَ فَرَشْنَاهَ} [(48) سورة الذاريات]، وأمثال ذلك، لكن الباقي إن ثبت أنه من أسماء الله وجب إثباته، وإلا فلا نطلقه على الله، وإن كان الإخبار به عنه سائغا فباب الإخبار أوسع، وفي القرآن ما دل على هذا المعنى وزيادة، وهو قوله: "الآخر" فإن معناه الذي ليس بعده شيء، والله أعلم.

مثل ما قررناه كما سمعتم.
এখানে তিনি বলছেন: সংবাদ প্রদানের (ইখবার) ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর যা প্রয়োগ করা হয়, তা শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত (তাওকিফী) হওয়া আবশ্যক নয়—এটি ইবনুল কাইয়্যিমের কথা; যেমন: প্রাচীন (আল-কাদীম), বস্তু (আশ-শাই), বিদ্যমান (আল-মাওজুদ) এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ (আল-কায়িমু বিনাফসিহি)। এগুলোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট দলিলের (নস) প্রয়োজন নেই, কেবল সংবাদ প্রদানের উদ্দেশ্যেই তা ব্যবহৃত হয়। এমনকি শেখ ইবনে সা’দীর তাফসীরে সূরা ইয়াসিনের আয়াতে, {বান্দাদের জন্য আক্ষেপ!} [সূরা ইয়াসিন: ৩০], তিনি বলেছেন: তারপর তিনি বান্দাদের জন্য আক্ষেপ করে বা ব্যথিত হয়ে বললেন। তিনি বলেছেন: ব্যথিত হয়ে, বান্দাদের জন্য ব্যথিত হয়ে বলছেন: {বান্দাদের জন্য আক্ষেপ!}। মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এই 'ব্যথা অনুভব' (তওয়াজ্জু) করার বিষয়টি প্রমাণিত নয়। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'করুণাকারী' (মুতরাহহিমান) শব্দ রয়েছে। লেখার আকৃতিতে শব্দ দুটি প্রায় একই রকম এবং কাছাকাছি—'ব্যথিত হওয়া' (মুতওয়াজজি’আন) এবং 'করুণা করা' (মুতরাহহিমান)। বিশেষ করে যারা অক্ষর যথাযথভাবে চিহ্নিত করে না, তাদের কাছে রূপটি খুব কাছাকাছি মনে হয়। কোনো কোনো নুসখায় এটি সাব্যস্ত হয়েছে আবার কোনোটিতে ওটি। যারা কিতাবটি সম্পাদনা (তাহকীক) করেছেন, তারা 'ব্যথিত হওয়া' পাঠটিকে এই বলে সমর্থন করেন যে, এটি আল্লাহর ব্যাপারে সংবাদ প্রদানের (ইখবার) অন্তর্ভুক্ত। তবে 'ব্যথিত হওয়া'র বিষয়ের মধ্যে কিছুটা অপূর্ণতা রয়েছে, যেখানে 'করুণা করা'র মধ্যে তা নেই। তাই নিঃসন্দেহে 'ব্যথিত হওয়া'র চেয়ে 'করুণা করা' শব্দটির ব্যবহার অধিকতর উত্তম।

ছাত্র: . . . . . . . . .

তিনি কী বলছেন?

শেখ আব্দুল্লাহ বিন বুতাইন (রহিমাহুল্লাহ) তার টীকায় বলেছেন: লেখকের বক্তব্যে এমন কিছু নেই যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে 'আল-বাকী' (চিরস্থায়ী) আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি এখন পর্যন্ত আমি এমন কিছু পাইনি যা প্রমাণ করে যে এটি আল্লাহর নামসমূহের একটি। যদিও কুরআনে আল্লাহর জন্য 'স্থায়িত্ব' (বাকা) গুণটি সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে তাঁর এই বাণীতে: {আর আপনার রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে} [সূরা আর-রহমান: ২৭]। কিন্তু কোনো গুণকে ক্রিয়া পদের মাধ্যমে প্রকাশ করার অর্থ এই নয় যে, তা থেকে আল্লাহর জন্য একটি নাম বের করতে হবে। এই কারণেই {আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন} [সূরা আল-বাকারা: ১৫], {আর আল্লাহ কৌশল করেন} [সূরা আল-আনফাল: ৩০], {আর আমিও কৌশল করি} [সূরা আত-তারেক: ১৬], {আর আকাশকে আমি নির্মাণ করেছি} [সূরা আজ-যারিয়াত: ৪৭], {আর যমীনকে আমি বিছিয়েছি} [সূরা আজ-যারিয়াত: ৪৮]—এই জাতীয় আয়াতগুলো থেকে আল্লাহর কোনো নাম গ্রহণ করা হয়নি। তবে 'আল-বাকী' আল্লাহর নাম হিসেবে যদি প্রমাণিত হয় তবে তা সাব্যস্ত করা ওয়াজিব, অন্যথায় আমরা আল্লাহর ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করব না। যদিও সংবাদ প্রদানের (ইখবার) ক্ষেত্রে তা বলা বৈধ হতে পারে, কারণ সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রটি অনেক প্রশস্ত। আর কুরআনে এমন শব্দ রয়েছে যা এই অর্থ এবং তার চেয়েও বেশি অর্থ বহন করে, আর তা হলো তাঁর নাম: "আল-আখির" (সর্বশেষ), কেননা এর অর্থ হলো যাঁর পরে আর কিছুই নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।

যেমনটি আমরা নির্ধারণ করেছি যা আপনারা শুনলেন।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১৪)
الآجال التي ضربت للمخلوقات بحيث إذا جاءت لا يمكن أن يزاد فيها ولا ينقص، {إذا جاء أجلهمْ لا يسْتأْخرون ساعة ولا يسْتقْدمون} [(34) سورة الأعراف]، إذا جاء، وهل في هذا ما يمنع من الزيادة بسبب صلة الرحم؟ ((من سره أن يبسط له في رزقه وينسأ له في أثره)) هل يعارض هذا ما تقرر من تقدير الآجال؟ أما على قول أن الزيادة في الرزق والأجل زيادة معنوية، وهو أنه يبارك للبار في عمره وفي رزقه هذا ما فيه إشكال، يعني عمره ثلاثين أربعين خمسين، ما يزاد فيها، وقد يبارك فيها، فينتج فيها ما ينتجه من يعمر مائة سنة فأكثر، مثل ما سمعنا في ترجمة الشيخ حافظ، رحمه الله، وأنه ولد سنة اثنتين وأربعين، ومات سنة سبع وسبعين خمس ثلاثين سنة، وقد يعيش الإنسان ضعف أو ثلاثة أضعاف يزيد على المائة، ولا ينتج في هذا العمر شيء، وإن كان من ينتسب إلى العلم، وإن كانت لديه أهلية الإنتاج، لكن ما يبارك له في عمره، وأما بالنسبة للأرزاق فكم من إنسان حصل الأموال الطائلة، ولم يستفد منها، بل لم يستفد منها البتة، ومن الناس من يكون رزقه كفافا أو قريبا من الكفاف ومع ذلك يعيش سعيدا بهذا المال القليل؛ لأنه بورك له فيه، ومن أهل العلم من يرى أن الزيادة حقيقية، الزيادة حقيقية، وأن الإنسان قد يكتب له في الصحف التي بأيدي الملائكة عمر ستين سنة، ثم بعد ذلك يفعل السبب المقتضي للزيادة فيصل رحمه ثم يزاد عشرة سنين أو عشرين سنة، فالمتغير هو الذي بأيدي الملائكة، وأما ما في علم الله -جل وعلا- فإنه لا يتغير، {يمْحو الله ما يشاء ويثْبت وعنده أمّ الْكتاب} [(39) سورة الرعد]، عمر يقول: "اللهم إن كنت كتبتني شقيا فامحني، واكتبني سعيدا" فالذي بأيدي الملائكة هو الذي يتغير، والذي في علم الله -جل وعلا- هذا لا يمكن أن يتغير.

"مقدر الآجال" على هذا اللفظ مثل ما سمعنا أن الآجال محددة ومقدرة في اللوح المحفوظ، ولكنها قد تزيد بفعل بعض الأسباب، وأما ما عند الله فلا يتغير.
সৃষ্টির জন্য নির্ধারিত আয়ুষ্কাল এমন যে, যখন তা উপস্থিত হয়, তখন তাতে বৃদ্ধি বা হ্রাস করা সম্ভব নয়। "যখন তাদের নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হয়, তখন তারা এক মুহূর্ত দেরিও করতে পারে না এবং অগ্রিমও করতে পারে না।" [সূরা আল-আরাফ: ৩৪]। যখন তা আসবে (তখন কি আর বৃদ্ধি ঘটে?), আর আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার কারণে আয়ু বৃদ্ধির ব্যাপারে এতে কি কোনো বাধা আছে? "যে ব্যক্তি চায় যে তার রিযিক প্রশস্ত করা হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক (সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে)।" এটি কি আয়ু নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক? যদি বলা হয় যে রিযিক ও আয়ু বৃদ্ধি হওয়া মানে অর্থগত বা ভাবগত বৃদ্ধি, অর্থাৎ নেককার ব্যক্তির আয়ু ও রিযিকে বরকত দান করা হয়, তবে এতে কোনো সমস্যা নেই। এর অর্থ হলো, তার বয়স ত্রিশ, চল্লিশ বা পঞ্চাশ বছর হতে পারে, যা সংখ্যায় বাড়ে না, কিন্তু তাতে বরকত দেওয়া হয়। ফলে সে এই সময়ে এমন সব কাজ সম্পাদন করে যা হয়তো একশ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে থাকা ব্যক্তিও করতে পারে না। যেমনটি আমরা শাইখ হাফেজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনীতে শুনেছি যে, তিনি তেরশ বিয়াল্লিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তেরশ সাতাত্তর হিজরিতে ইন্তেকাল করেন; অর্থাৎ মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়স। অথচ একজন মানুষ এর দ্বিগুণ বা তিনগুণ তথা একশ বছরের বেশি বাঁচতে পারে, কিন্তু সেই দীর্ঘ জীবনে তেমন কোনো কাজই করতে পারে না, এমনকি যদি সে ইলমের সাথে সম্পৃক্ত হয় এবং তার কাজ করার যোগ্যতাও থাকে, তবুও তার আয়ুতে বরকত হয় না। আর রিযিকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কত মানুষ প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জন করে কিন্তু তা থেকে কোনো উপকার পায় না, বরং একেবারেই উপকৃত হতে পারে না। আবার কিছু মানুষের রিযিক হয় অতি সামান্য বা প্রয়োজনের কাছাকাছি, তবুও সে এই অল্প সম্পদে সুখে জীবন যাপন করে; কারণ তার সেই সম্পদে বরকত দেওয়া হয়েছে। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, এই বৃদ্ধি প্রকৃতপক্ষেই হয়ে থাকে। অর্থাৎ ফেরেশতাদের হাতে থাকা দফতরগুলোতে মানুষের বয়স হয়তো ষাট বছর লেখা থাকে, এরপর সে বয়স বৃদ্ধির কারণস্বরূপ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে, ফলে তার বয়স আরও দশ বা বিশ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং যা পরিবর্তিত হয় তা হলো ফেরেশতাদের কাছে থাকা লিপি। আর মহান আল্লাহর ইলমে যা আছে, তা কখনো পরিবর্তিত হয় না। "আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন, আর তাঁর কাছেই রয়েছে মূল কিতাব।" [সূরা আর-রাদ: ৩৯]। উমর বলেন: "হে আল্লাহ! যদি আপনি আমাকে দুর্ভাগা হিসেবে লিখে থাকেন তবে তা মুছে দিন এবং আমাকে সৌভাগ্যবান হিসেবে লিখে নিন।" সুতরাং ফেরেশতাদের হাতে যা আছে তাই পরিবর্তিত হয়, আর মহান আল্লাহর ইলমে যা আছে তা পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়।

"আয়ু নির্ধারণকারী" শব্দটির তাৎপর্য হলো—যেমনটি আমরা শুনলাম—আয়ুষ্কাল লওহে মাহফুজে সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত, তবে কিছু বিশেষ কারণে তা বৃদ্ধি পেতে পারে। আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা পরিবর্তিত হয় না।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১৫)
"مسبب الأسباب" جاعل التأثير في هذه الأسباب، ولا شك أن الأسباب لها أثر، بجعل الله -جل وعلا- هذا الأثر فيها، وأما كونها تؤثر بنفسها فلا، خلافاً للأشعرية الذين يقولون: هذه الأسباب لا تؤثر أصلا، ووجودها مثل عدمها، حتى قال القائل منهم: إن أعمى الصين يجوز أن يرى بَقة الأندلس، يعني العجب لا ينتهي من مثل هذا الكلام، يعني كبار، كبار جداً في عقولهم وذكائهم، يعني ما هو بهذيان هذا الكلام، لكنه بسبب ما أصلوه، وما قعدوه مما لم يرجعوا فيه إلى الكتاب والسنة، والعقل إذا لم يكن زمامه وخطامه وسائقه وحاديه نصوص الوحيين لا بد أن يضل، لا بد أن يضيع، أعمى الصين في أقصى المشرق يجوز أن يرى بقة الأندلس، لماذا؟ لأن البصر سبب، والسبب وجوده كعدمه، ويأتينا أن المؤلف على ما سيأتي بسطه إن أدركناه، نعم -إن شاء الله-، تأثر بمثل هذا الكلام وقال في خبر المتواتر: أن العلم يحصل عنده لا به، هذا كلام الأشاعرة، أن الشبع يحصل عند الأكل لا به، والري يحصل عند الشرب لا به، الإبصار يحصل عند الإبصار لا به، السمع يحصل عند، أو يحصل عند الاستماع أو الحاسة لا بها، هذا كلامهم، هاه.

طالب:. . . . . . . . .

هو كلام دقيق يحتاج إلى فهم، ومناسبة ذكر الأسباب أولا: المعتزلة يرون أن الأسباب مؤثرة بذاتها، وهذا لا شك أنه قدح في الشرع، قدح في الديانة، في ديانة الشخص، والأشعرية يرون أن الأسباب لا أثر لها، وهذا نقص في العقل، طيب، هذه الأسباب الأعمى ما يبصر شيئا، ما يرى شيئا، والمبصر يرى، إذن السبب الذي هو الحاسة السليمة صار لها أثر، وإلا ما لها أثر؟ لها أثر، لكن من الذي جعل فيها هذه الأثر؟ هو الله -جل وعلا- الذي يستطيع أن يسلب هذا الأثر، الذي وضعه ويستطيع أن يسلبه، طيب.

هم يقولون: لا، هذه، السبب لا أثر له، طيب كيف يشوف؟ كيف يبصر المبصر؟ يقولون: حصل الإبصار عنده لا به، وأهل السنة يقولون: حصل الإبصار به؛ لأنه سبب، لكن لا بذاته، لا بجعل التأثير له، الله -جل وعلا- جعله سبباً مؤثراً، فيقولون: عنده، ما دام وجد هذا وجد هذا، وإن كان تذكرون في مسألة الطيرة والتشاؤم إن كان ففي الدابة والدار والزوجة، إن كان الشؤم ففي ثلاثة.
"কারণসমূহের কারণ" হলেন এই কারণগুলোর মধ্যে প্রভাব সৃষ্টিকারী। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে কারণগুলোর প্রভাব রয়েছে, আল্লাহ—মহান ও সুউচ্চ—এগুলোর মধ্যে এই প্রভাব সৃষ্টি করার কারণে। তবে কারণগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা নিজে থেকে প্রভাব ফেলে—বিষয়টি এমন নয়। এটি আশআরিদের মতের পরিপন্থী, যারা বলে থাকে: এই কারণগুলোর আদতে কোনো প্রভাব নেই এবং এগুলোর থাকা আর না থাকা সমান। এমনকি তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এও বলেছেন যে: চীনের একজন অন্ধ ব্যক্তির পক্ষে আন্দালুসিয়ার একটি মশা দেখতে পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ, এই জাতীয় কথাবার্তা শুনলে বিস্ময়ের সীমা থাকে না। অথচ তারা তাদের মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তির দিক থেকে অনেক বড় মাপের মানুষ ছিলেন। মানে, এই কথাগুলো কোনো প্রলাপ নয়, বরং এটি তাদের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি ও নিয়মাবলির কারণে হয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে তারা কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করেননি। আর আকল বা বিবেক-বুদ্ধির লাগাম, রশি, চালক ও দিশারী যদি ওহীদ্বয়ের (কুরআন ও সুন্নাহর) নصوص (নস) বা পাঠসমূহ না হয়, তবে তা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে, অবশ্যই তা হারিয়ে যাবে। চীনের অন্ধ ব্যক্তি সুদূর প্রাচ্যে থেকে আন্দালুসিয়ার মশা দেখতে পাওয়া সম্ভব—কেন? কারণ দৃষ্টিশক্তি একটি উপায় বা কারণ মাত্র, আর তাদের মতে কারণের অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সমান। সামনে আসবে যে, লেখক—যদি আমরা সেই পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ—এই জাতীয় কথাবার্তা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন এবং মুতাওয়াতির সংবাদের ক্ষেত্রে বলেছেন: জ্ঞান তার "নিকটে" অর্জিত হয়, তার "দ্বারা" নয়। এটি আশআরিদের বক্তব্য যে, তৃপ্তি অর্জিত হয় আহারের "নিকটে", আহারের "দ্বারা" নয়; তৃষ্ণা নিবারণ হয় পান করার "নিকটে", পান করার "দ্বারা" নয়; দর্শন সংঘটিত হয় দৃষ্টিশক্তির "নিকটে", তার "দ্বারা" নয়; শ্রবণ সংঘটিত হয় শোনার বা ইন্দ্রিয়ের "নিকটে", তার "দ্বারা" নয়। এটিই তাদের বক্তব্য, বুঝেছেন।

ছাত্র: . . . . . . . . .

এটি একটি সূক্ষ্ম আলোচনা যা বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। প্রথমত কারণসমূহের আলোচনার প্রেক্ষাপট হলো: মুতাযিলাগণ মনে করে যে কারণসমূহ নিজস্ব সত্ত্বাগতভাবেই প্রভাবশালী; আর এটি নিঃসন্দেহে শরীয়তের প্রতি এবং ব্যক্তির দ্বীনদারীর প্রতি একটি আঘাত। অন্যদিকে আশআরিগণ মনে করে কারণসমূহের কোনো প্রভাব নেই; এটি হলো বিবেকের অসারতা। আচ্ছা, এই কারণগুলোর মধ্যে অন্ধ তো কিছুই দেখতে পায় না, আর যার দৃষ্টিশক্তি আছে সে দেখে। তাহলে কারণ—যা হলো সুস্থ ইন্দ্রিয়—তার কি প্রভাব নেই? অবশ্যই প্রভাব আছে। তবে এই প্রভাবটি এর মধ্যে কে দান করেছেন? তিনি হলেন আল্লাহ—মহান ও সুউচ্চ—যিনি এই প্রভাবটি সেখানে স্থাপন করেছেন এবং তিনি তা ছিনিয়ে নিতেও সক্ষম। ঠিক আছে।

তারা বলে: না, এই কারণের কোনো প্রভাব নেই। তাহলে সে দেখে কীভাবে? একজন দৃষ্টিমান ব্যক্তি কীভাবে দেখে? তারা বলে: দর্শন তার "নিকটে" অর্জিত হয়েছে, তার "দ্বারা" নয়। আর আহলুস সুন্নাহ বলেন: দর্শন তার "দ্বারা" অর্জিত হয়েছে; কারণ এটি একটি মাধ্যম বা কারণ, তবে তা নিজস্ব সত্ত্বাগতভাবে নয় এবং তার নিজস্ব ক্ষমতায় প্রভাব সৃষ্টির কারণেও নয়। বরং আল্লাহ—মহান ও সুউচ্চ—একে একটি প্রভাবশালী মাধ্যম বানিয়েছেন। সুতরাং তারা (আশআরিরা) বলে "নিকটে", অর্থাৎ যতক্ষণ এটি পাওয়া যাবে ততক্ষণ ওটিও পাওয়া যাবে। যদিও আপনাদের স্মরণে থাকার কথা যে, কুলক্ষণ বা অশুভ লক্ষণের মাসআলায়—যদি অশুভ কিছু থেকে থাকে তবে তা পশু, ঘর এবং স্ত্রীর মধ্যে থাকে; যদি অশুভ কিছু থেকে থাকে তবে তা এই তিনটির মধ্যেই থাকে।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأن ابن القيم رحمه الله في مفتاح دار السعادة قال: إن هذا الشؤم يحصل عندها لا بها، وقلنا: إن ابن القيم وقال غيرنا –يعني ممن تقدم-: أن ابن القيم تأثر بكلام الأشعرية، فلما تأملناه وجدنا كلامه صحيحاً دقيقاً، ويختلف عن كلام الأشاعرة؛ لأنه يريد أن يقرر أن هذه الدار لا أثر لها فيما حصل لساكنيها، لا أثر لها، هذا الشخص سكن هذه الدار، عشرين سنة هو في هذه المدة عشرين سنة تحصل له خسائر مادية، يحصل له أمراض، ويحصل له كذا، هل هو بسبب هذه الدار، أو عند سكناه هذه الدار، وهو مقدر عليه بحيث لو سكن دار غيرها حصل له ما حصل، ومثله لو اقتنى دابة غير هذه الدابة، أو زوجة غير هذه الزوجة، فليس الأثر للزوجة، الزوجة لا أثر لها فيما حصل له، الدار لا أثر لها، الدار يعني لو نظرنا إليها بعين البصيرة والواقع هل لها أثر؟ ليس لها أثر وليست بسبب، لكن حصل هذا الأثر عندها لا بها، وقلنا في أول مرة، قلنا: لعل ابن القيم تأثر نقل هذا الكلام ووجدناه في غاية الدقة؛ لأنه حينما يكون للسبب تأثير، يكون التأثير به لا عنده، وإذا لم يكن المقارن له لا أثر له البتة يكون عنده لا به، والأشعرية يطلبون كل الأسباب من هذا النوع، يعني مثل ما لو اشتريت دابة وحصل لك خسائر وكوارث وأمراض، نعم، يقولون: هذه الدابة لا تؤثر فيك كما أن الأسباب الأخرى التي جعل الله فيها تأثير لا أثر لها فيك.

এবং ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) 'মিফতাহু দারিস সা'আদাহ' গ্রন্থে বলেছেন: নিশ্চয়ই এই অমঙ্গল এর নিকট ঘটে, এর মাধ্যমে নয়। আমরা বলেছি—আর আমাদের আগে অন্যরাও বলেছেন—যে, ইবনুল কায়্যিম আশআরিদের কথা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। কিন্তু যখন আমরা এটি নিয়ে গভীর চিন্তা করলাম, তখন তার কথাটিকে সঠিক ও সূক্ষ্ম হিসেবে পেলাম এবং তা আশআরিদের কথা থেকে ভিন্ন; কারণ তিনি এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন যে, এই ঘরের বাসিন্দাদের সাথে যা ঘটে তাতে এই ঘরের কোনো প্রভাব নেই, এর কোনো প্রভাব নেই। এই ব্যক্তি এই ঘরে বিশ বছর বসবাস করেছে; এই বিশ বছর সময়ের মধ্যে তার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সে অসুস্থ হয়েছে এবং আরও অনেক কিছু হয়েছে। এটা কি এই ঘরের কারণে হয়েছে, নাকি এই ঘরে তার অবস্থানের সময়ে হয়েছে? অথচ এটা তার জন্য নির্ধারিত ছিল, ফলে সে যদি অন্য কোনো ঘরেও থাকত তবে তার সাথে তাই ঘটত যা ঘটেছে। অনুরূপভাবে সে যদি এই পশুর পরিবর্তে অন্য কোনো পশু গ্রহণ করত অথবা এই স্ত্রীর পরিবর্তে অন্য কাউকে বিয়ে করত। সুতরাং এর পেছনে স্ত্রীর কোনো প্রভাব নেই, তার সাথে যা ঘটেছে তাতে স্ত্রীর কোনো ভূমিকা নেই, ঘরেরও কোনো প্রভাব নেই। ঘর—অর্থাৎ যদি আমরা অন্তর্দৃষ্টি এবং বাস্তবতার আলোকে দেখি তবে এর কি কোনো প্রভাব আছে? এর কোনো প্রভাব নেই এবং এটি কোনো কারণও নয়, বরং এই ফলাফলটি এর নিকট ঘটেছে, এর মাধ্যমে নয়। আমরা প্রথমে বলেছিলাম যে, সম্ভবত ইবনুল কায়্যিম এই কথাটি উদ্ধৃত করে প্রভাবিত হয়েছেন, কিন্তু পরে আমরা এটিকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম হিসেবে পেয়েছি; কেননা যখন কোনো কারণের প্রভাব থাকে, তখন সেই প্রভাবটি তার মাধ্যমে হয়, তার নিকট নয়। আর যখন কোনো পারিপার্শ্বিক বিষয়ের বিন্দুমাত্র প্রভাব থাকে না, তখন তা তার নিকট ঘটে, তার মাধ্যমে নয়। আর আশআরিরা সকল কারণকেই এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত মনে করে। অর্থাৎ যেমন—আপনি যদি একটি পশু ক্রয় করেন এবং আপনার ক্ষতি, বিপর্যয় ও অসুখ-বিসুখ হয়, তবে তারা বলে: এই পশুটি আপনার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না, ঠিক যেমন অন্যান্য কারণসমূহ—যাতে আল্লাহ প্রভাব রেখেছেন—সেগুলোরও আপনার ওপর কোনো প্রভাব নেই।

(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১৭)
يقول المؤلف -رحمه الله تعالى-: مقدر الآجال: جمع أجل محركة، والأرزاق: جمع رزق وهو ما ينتفع به، الرزق ما ينتفع به، سواء كان من وجه شرعي أو من غيره، حلالاً كان أو حراماً، المعتزلة يقولون: لا يسمى رزقاً حتى يكون حلالاً، وأوردوا عليهم أن مولوداً ولد فسرقه لصوص، يعيشون على السرقات، وليس لهم أي مصدر دخل غير السرقات، وغذوه بهذه الأموال المسروقة، وهذه الأطعمة المسروقة، وعاش مدة طويلة عندهم لا مصدر له غير ذلك ثم مات، وعلى هذا يكون ما نال من رزقه شيء عندهم، عند هؤلاء المعتزلة الذين يقصرون الرزق على الحلال، ولا يسمون الحرام رزقا، طيب الله -جل وعلا- يقول: {وممّا رزقْناهمْ ينفقون} [(3) سورة البقرة]، {وممّا رزقْناهمْ ينفقون} والله -جل وعلا- طيب لا يقبل إلا طيبا، فهل في هذا ما ينفي أن يكون الحرام رزقاً؟ إذا قلنا: رزق، وأنفقوا منه، الحرام رزق، وأنفقوا منه، يدخلون في المدح بقوله: {وممّا رزقْناهمْ ينفقون}؟ أو نقول: إن الحرام ليس برزق؟ إذا قلنا: إن الحرام رزق، وهذا هو المعتمد وهو قول أهل السنة، إذا أنفق صاحب الحرام من هذا الرزق دخل في عموم: {وممّا رزقْناهمْ ينفقون} لكن هذا العموم مخصوص بنصوص أخرى، ((إن الله طيب لا يقبل إلا طيباً))، حي وإلا حيٍ؟ حي وإلا حيٍ؟

طالب:. . . . . . . . .

يجوز الوجهان، يعني إذا قلت: حيٍ أتبعته ما تقدم، نعم لكن المتعين هنا لا من حيث الجواز اللغوي لا، لكن في النظم مرفوع وإلا على شان إيش؟ على شان الوجود، قامت به الأشياء والوجود، لا بد أن تقول:

حي عليم قادر موجود … قامت به الأشياء والوجود

أهل العلم يقررون أن لفظ الجلالة الله، لا بد أن يكون متبوعا لا تابعا، يعني ما يمكن تقول: الحمد للقديم الله الباقي، أو تقول: بسم الرحمن الله الرحيم، لا بد أن يكون هذا اللفظ الاسم الذي قال بعضهم: إنه الاسم الأعظم، الله لا بد أن يكون متبوعا لا تابعا، وما جاء في صدر سورة إبراهيم صراط.

طالب:. . . . . . . . .

العزيز الحميد الله، هنا تابع وإلا متبوع؟

طالب:. . . . . . . . .
লেখক -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- বলেন: আয়ুষ্কাল নির্ধারণকারী: 'আউজাল' হলো 'আজাল' শব্দের বহুবচন যার জীম বর্ণে হরকত (যবর) রয়েছে। আর 'আরজাক' হলো 'রিজক' শব্দের বহুবচন, আর তা হলো এমন বস্তু যা দ্বারা উপকার লাভ করা যায়। রিজক হলো তাই যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, চাই তা শরয়ি পন্থায় হোক বা অন্য কোনো পন্থায়, তা হালাল হোক বা হারাম। মুতাজিলারা বলে: হালাল না হওয়া পর্যন্ত তাকে রিজক বলা যাবে না। তাদের বিপক্ষে এই আপত্তি তোলা হয়েছে যে, যদি কোনো নবজাতক জন্মগ্রহণ করে এবং তাকে চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়—যারা কেবল চুরির মাধ্যমেই জীবন নির্বাহ করে এবং চুরি ছাড়া তাদের আয়ের অন্য কোনো উৎস নেই—আর তারা তাকে এই চুরি করা অর্থ ও খাবার খাইয়ে লালন-পালন করে এবং সে তাদের কাছে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকে অথচ এই চুরি করা বস্তু ছাড়া তার আর কোনো আয়ের উৎস ছিল না, অতঃপর সে মারা যায়; তবে এমতাবস্থায় ঐ মুতাজিলাদের মতে—যারা রিজককে কেবল হালালের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে এবং হারামকে রিজক বলে গণ্য করে না—ঐ ব্যক্তি তার রিজক থেকে কিছুই পায়নি। আচ্ছা, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেন: {এবং আমি তাদেরকে যে রিজক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে} [সূরা আল-বাকারাহ: ৩]। আর আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। তাহলে কি এর মধ্যে এমন কিছু আছে যা হারাম বস্তু রিজক হওয়াকে অস্বীকার করে? যদি আমরা বলি: এটি রিজক, এবং তারা তা থেকে ব্যয় করেছে; অর্থাৎ হারামও রিজক এবং তারা তা থেকে ব্যয় করেছে—তবে কি তারা {এবং আমি তাদেরকে যে রিজক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে} এই বাণীর মাধ্যমে কৃত প্রশংসার অন্তর্ভুক্ত হবে? নাকি আমরা বলব যে হারাম রিজক নয়? যদি আমরা বলি যে হারামও রিজক—আর এটিই নির্ভরযোগ্য মত এবং আহলুস সুন্নাহর অভিমত—তবে যখন হারামের অধিকারী ব্যক্তি এই রিজক থেকে ব্যয় করবে, তখন সে এই আয়াতের সাধারণ অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে: {এবং আমি তাদেরকে যে রিজক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে}। কিন্তু এই সাধারণ অর্থটি অন্যান্য দলিল দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেমন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।" শব্দটি কি 'হাইয়্যুন' নাকি 'হাইয়্যিন'? 'হাইয়্যুন' নাকি 'হাইয়্যিন'?

ছাত্র: . . . . . . . . .

উভয় রূপই জায়েজ। অর্থাৎ যদি আপনি 'হাইয়্যিন' বলেন তবে তাকে পূর্ববর্তী শব্দের অনুবর্তী করলেন। হ্যাঁ, কিন্তু এখানে ভাষাগত বৈধতার দিক থেকে নয়, বরং কাব্যের ছন্দের কারণে এটি পেশযুক্ত হওয়া নির্ধারিত। এটি কিসের জন্য? অস্তিত্বের কারণে, তাঁর মাধ্যমেই সকল বস্তু এবং অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপনাকে অবশ্যই বলতে হবে:

জীবিত, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, বিদ্যমান … তাঁর মাধ্যমেই সকল বস্তু এবং অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠিত

আলেমগণ সুনিশ্চিতভাবে বলেন যে, মহান আল্লাহর নাম 'আল্লাহ' শব্দটিকে সর্বদা অগ্রবর্তী হতে হবে, অনুবর্তী নয়। অর্থাৎ আপনি বলতে পারবেন না: 'সকল প্রশংসা অনাদি আল্লাহর জন্য যিনি চিরস্থায়ী', অথবা বলতে পারবেন না: 'পরম করুণাময় আল্লাহর নামে যিনি পরম দয়ালু'। বরং এই নামটিকে—যাকে কেউ কেউ ইসমে আজম বলেছেন—অবশ্যই অগ্রবর্তী হতে হবে, অনুবর্তী নয়। আর সূরা ইবরাহিমের শুরুতে যা এসেছে, 'পথ'...

ছাত্র: . . . . . . . . .

মহা পরাক্রমশালী, চির প্রশংসিত আল্লাহর পথ। এখানে এটি কি অনুবর্তী নাকি অগ্রবর্তী?

ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১৮)
هذا يرد على كلام ابن القيم وغيره وإلا ما يرد؟ يعني هل رأيتم في نص غير هذا جاء لفظ الجلالة تابعاً؟ نعم؟ في جميع النصوص متبوعاً، لكن على كل حال هذا وارد على إطلاقه، والتابع والمتبوع، يعني التابع يشمل الوصف ويشمل البدل، ويشمل عطف البيان، في مثل هذا، لكنه ليس بتوكيد ولا عطف نسق، وهل يختلف الأمر إذا قلنا: إنه بدل أو بيان؟ أو وصف؟ كيف يختلف؟

طالب:. . . . . . . . .

لأنه أوضح من اللي قبله، يعني هو أوضح عند السامع ممن قبله، فيبين به من قبله، وإذا قلنا: بدل؟

طالب:. . . . . . . . .

بيان معناه عطف البيان عنده، وعندهم أن كل ما يصلح أن يكون بدلاً، يصلح أن يكون عطف بيان، إلا مسائل ثلاث، في أحد يعرفها؟

طالب:. . . . . . . . .

هاه؟

طالب:. . . . . . . . .

صالح لبدلية يرى … في غير نحو يا غلام يعمرا

يا الله هات الباقي؟

على كل حال ما جاء في صدر السورة وارد على كلام ابن القيم، ويقرره كثير من أهل العلم ينقلونه ولا يستحضرون ما يرد.

على كل حال ما من شخص إلا وله وعليه.

"حي"، حي من الأسماء الحسنى منصوص عليه في أعظم آية في كتاب الله، {الله لا إله إلاّ هو الْحيّ الْقيّوم} [(255) سورة البقرة] {آلم* الله لا إله إلاّ هو الْحيّ الْقيّوم} [(1 - 2) سورة آل عمران]، {وعنت الْوجوه للْحيّ الْقيّوم} [(111) سورة طه].

حي حياة كاملة لا يعتريها نقص بحال من الأحوال.

"عليم" فعيل صيغة مبالغة وعلام ويعلم، وصفة العلم ثابتة له -جل وعلا- والعليم من أسماءه الحسنى، وهناك فرق بين العلم والمعرفة الله -جل وعلا- يقال له: عليم، وهو السميع العليم، وصف نفسه بذلك، لكن هل يقال له: عارف؟ أو يعرف؟ أهل العلم يقولون: لا، لماذا؟ لأن المعرفة تستلزم سبق الجهل، بخلاف العلم، وماذا عن قوله في الحديث: ((تعرف على الله في الرخاء يعرفك في الشدة))؟

طالب: مقابلة.

نعم مقابلة هذه مقابلة.
এটি ইবনুল কাইয়্যিম এবং অন্যদের বক্তব্যের কি খণ্ডন করে, নাকি করে না? অর্থাৎ আপনারা কি এই উদ্ধৃতি ছাড়া অন্য কোথাও আল্লাহর পবিত্র নামকে ব্যাকরণগতভাবে 'অনুগামী' হিসেবে আসতে দেখেছেন? হ্যাঁ? সকল উদ্ধৃতিতে এটি 'অনুসৃত' হিসেবে এসেছে। তবে যা-ই হোক, এটি এর সাধারণ অর্থেই বর্ণিত হয়েছে। আর অনুগামী বলতে গুণ, বদল এবং আতফ আল-বায়ান সবই অন্তর্ভুক্ত; এ ধরনের ক্ষেত্রে, তবে এটি দৃঢ়তাসূচক শব্দ (তাকিদ) বা সংযোজক অব্যয় (আতফ নাসাক) নয়। আমরা যদি একে বদল বা বয়ান কিংবা গুণ বলি, তবে কি বিষয়ে কোনো পার্থক্য তৈরি হবে? এটি কীভাবে পৃথক হবে?

ছাত্র: . . . . . . . . .

কারণ এটি তার পূর্ববর্তী শব্দ অপেক্ষা অধিক স্পষ্ট। অর্থাৎ এটি শ্রোতার নিকট তার পূর্ববর্তী শব্দ অপেক্ষা অধিক সুস্পষ্ট, তাই এর মাধ্যমে পূর্বের শব্দটি ব্যাখ্যা করা হয়। আর যদি আমরা একে বদল বলি?

ছাত্র: . . . . . . . . .

বয়ান মানে তার নিকট 'আতফ আল-বায়ান'। তাদের নিকট যা কিছু বদল হওয়ার উপযোগী, তা আতফ আল-বায়ান হওয়ারও উপযোগী, কেবল তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া। কেউ কি তা জানেন?

ছাত্র: . . . . . . . . .

অ্যাঁ?

ছাত্র: . . . . . . . . .

বদল হওয়ার যোগ্যতা রাখে বলে মনে করা হয় … 'ইয়া গুলামু ইয়া আমরা' এর ন্যায় ক্ষেত্র ব্যতীত।

হে আল্লাহ, বাকিটুকু নিয়ে এসো দেখি?

যা-ই হোক, সূরার শুরুতে যা এসেছে তা ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনেক আলেম এটি বর্ণনা করেন এবং সমর্থন করেন, কিন্তু এর বিপরীতে যা আপত্তির উদ্রেক করে তা তারা খেয়াল করেন না।

যা-ই হোক, প্রত্যেক ব্যক্তিরই সঠিক এবং ভুল উভয় দিক রয়েছে।

"হাই" (চিরঞ্জীব); 'হাই' আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহর কিতাবের শ্রেষ্ঠ আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, বিশ্বচরাচরের ধারক" [সূরা আল-বাকারা: ২৫৫], "আলিফ-লাম-মীম। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, বিশ্বচরাচরের ধারক" [সূরা আল-ইমরান: ১-২], "এবং চিরঞ্জীব, বিশ্বচরাচরের ধারকের সামনে সকল মুখমণ্ডল অবনমিত হবে" [সূরা ত্বহা: ১১১]।

তিনি এমন পূর্ণ জীবনের অধিকারী যাতে কোনো অবস্থাতেই কোনো প্রকার ত্রুটি স্পর্শ করে না।

"আলিম" (সর্বজ্ঞ); এটি 'ফায়ীল' ছাঁচের একটি আধিক্যবোধক রূপ, যেমন 'আল্লাম' এবং 'ইয়ালাম'। ইলম বা জ্ঞানের গুণ তাঁর জন্য সাব্যস্ত—তিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—এবং 'আল-আলিম' তাঁর সুন্দর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। জ্ঞান (ইলম) এবং পরিচিতির (মারেফাত) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আল্লাহ তাআলাকে 'আলিম' বলা হয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ; তিনি নিজেকে এই গুণে বিশেষিত করেছেন। কিন্তু তাঁকে কি 'আরিফ' (পরিচিত/জ্ঞাতা) বলা যাবে? বা তিনি কি জানেন (ইয়ারিফু)? আলেমগণ বলেন: না। কেন? কারণ 'মারেফাত' বা পরিচিতি লাভের পূর্বে অজ্ঞতা থাকা আবশ্যক হয়, যা 'ইলম' বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাহলে হাদীসে বর্ণিত "সুসময়ে আল্লাহকে চেনো, তিনি তোমাকে দুঃসময়ে চিনবেন"—এই উক্তির ব্যাখ্যা কী?

ছাত্র: এটি পারস্পরিক বিনিময় বা মোকাবিলা।

হ্যাঁ, এটি বিনিময়; এটি মোকাবিলা স্বরূপ।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১৯)
"حي عليم قادر"، قادر وقدير ومن صفاته القدرة ومن أسماءه القدير موجود، موجود نعم أسماءه وصفاته تدل على أنه موجود، لكن هل ورد ما يدل على جواز التسمية بهذا اللفظ أو لا؟ يعني كون معناه صحيح، لا يعني أنه يجوز أن يسمى به، نعم يخبر عنه به، لكن التسمية تحتاج إلى نص يدل على أن هذا من الأسماء الحسنى.

"قامت به الأشياء والوجود" هو الحي القيوم، هو الحي القيوم، القائم بنفسه المقيم لغيره، ولذلك قال: قامت به الأشياء، يعني مقتضى كونه قيوم يعني أنه قام بنفسه فلا يحتاج إلى غيره، وقامت به الأشياء لمسيس حاجتها إليه، كما أنه قيوم كما في آية الكرسي أيضا هو قيّام وقيم كما جاء في الذكر، ذكر الاستيقاظ من النوم، قبل الصلاة، أو في افتتاحها ((اللهم أنت قيوم))، ((اللهم أنت قيام))، وفي بعض الروايات ((اللهم أنت قيم))، وهي ألفاظ صحيحة، معناها واحد.

"قامت به الأشياء والوجود"، بكامله الوجود بكامله قام بالله -جل وعلا-، فالله سبحانه وتعالى هو الذي أقامه، وبه قامت الأشياء كلها؛ لأنها لا تستطيع الاستقلال بنفسها، ولا شيء من هذه المخلوقات يستطيع أن يستقل بنفسه دون موجده، وهو الله سبحانه وتعالى.

دلت على وجوده الحوادث … سبحانه فهو الحكيم الوارث

دلت على وجوده، من الأدلة على وجود الله -جل وعلا- الحوادث؛ لأنه ما من حادث إلا وله محدث، ما من حادث إلا وله محدث، وما من فعل ومفعول إلا له فاعل، يستحيل أن يحدث الشيء نفسه، ويستحيل أن يحدث ويوجد من لا شيء، جبير بن مطعم لما جاء في فداء الأسرى وسمع النبي عليه الصلاة والسلام يقرأ في صلاة المغرب بسورة الطور تأثر، وكاد عقله أن يطير على ما قال، وذلك أول ما وقر الإيمان في قلبه، وفي هذه السورة {خلقوا منْ غيْر شيْءٍ أمْ هم الْخالقون} [(35) سورة الطور]، في شيء ثالث، نعم؟ هو الخالق -جل وعلا-، هو المتعين، يعني إذا نفي هذا، ونفي هذا تعين أن يكون هناك خالق، يعني لا يمكن أن يطلقوا أنفسهم، ولا يمكن أن يخلقوا من لا شيء، لا بد لهم من خالق وهو الله -جل وعلا-.

دلت على وجوده الحوادث … سبحانه. . . . . . . . .

تنزيه لله -جل علا- عن النقائص والعيوب التي تلحق هذه الحوادث، هو منزه عنها.
"চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান", তিনি কাদির (ক্ষমতাবান) এবং ক্বদির (সর্বশক্তিমান)। তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো কুদরত (ক্ষমতা) এবং তাঁর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো আল-ক্বদির (সর্বশক্তিমান)। তিনি বিদ্যমান; হ্যাঁ, তাঁর নামসমূহ এবং গুণাবলি প্রমাণ করে যে তিনি বিদ্যমান। কিন্তু এই শব্দ (মওজুদ) দ্বারা তাঁর নামকরণ করার বৈধতার সপক্ষে কোনো দলিল বর্ণিত হয়েছে কি না? অর্থাৎ, কোনো শব্দের অর্থ সঠিক হওয়ার অর্থ এই নয় যে, এর দ্বারা তাঁর নামকরণ করা জায়েজ হবে। হ্যাঁ, তাঁর সম্পর্কে এই সংবাদ দেওয়া যাবে (খবর হিসেবে বলা যাবে), কিন্তু নামকরণের ক্ষেত্রে এমন একটি সুনির্দিষ্ট দলিলের প্রয়োজন যা প্রমাণ করে যে এটি আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের (আসমাউল হুসনা) অন্তর্ভুক্ত।

"সমস্ত বস্তু এবং অস্তিত্ব তাঁর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত," তিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক (আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম)। তিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক, যিনি স্বয়ং প্রতিষ্ঠিত এবং অন্যকে প্রতিষ্ঠাকারী। একারণেই তিনি বলেছেন: 'সমস্ত বস্তু তাঁর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত', অর্থাৎ তাঁর 'কাইয়্যুম' হওয়ার দাবি হলো তিনি নিজে প্রতিষ্ঠিত এবং তিনি অন্যের মুখাপেক্ষী নন। আর সমস্ত বস্তু তাঁর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণ হলো তাঁর প্রতি সেগুলোর চরম মুখাপেক্ষিতা। যেমনটি আয়াতুল কুরসিতে তিনি 'কাইয়্যুম', তেমনিভাবে জিকিরের মধ্যেও 'কাইয়্যাম' এবং 'কাইয়্যিম' শব্দগুলো এসেছে, যা ঘুম থেকে জাগার পর, সালাতের আগে বা সালাত শুরুর প্রাক্কালে পঠিত হয়: ((হে আল্লাহ, আপনি কাইয়্যুম)), ((হে আল্লাহ, আপনি কাইয়্যাম)), এবং কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে ((হে আল্লাহ, আপনি কাইয়্যিম))। এগুলো সবই সহিহ শব্দ এবং এগুলোর অর্থ অভিন্ন।

"সমস্ত বস্তু এবং অস্তিত্ব তাঁর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত," সমগ্র অস্তিত্বই আল্লাহর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত—তিনি মহিমান্বিত ও উচ্চ। সুতরাং মহান আল্লাহই একে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই সকল বস্তু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; কারণ এগুলো নিজে নিজে স্বতন্ত্রভাবে টিকে থাকতে পারে না। এই সৃষ্টিকুলের কোনো কিছুই তার সৃষ্টিকর্তা তথা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ছাড়া নিজে নিজে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম নয়।

সৃষ্ট ঘটনাবলি তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় … তিনি পবিত্র, তিনি প্রজ্ঞাময় ও উত্তরাধিকারী।

তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়—আল্লাহ জল্লা ওয়া আলার অস্তিত্বের অন্যতম দলিল হলো সৃষ্ট ঘটনাবলি; কারণ প্রতিটি সৃষ্ট বিষয়েরই একজন উদ্ভাবক রয়েছে, প্রতিটি সৃষ্ট বিষয়েরই একজন উদ্ভাবক রয়েছে। প্রতিটি কর্ম ও কর্মফলের অবশ্যই একজন কর্তা রয়েছে। কোনো বস্তু নিজে নিজে সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব এবং শূন্য থেকে কোনো কিছু সৃষ্টি হওয়া বা অস্তিত্ব লাভ করা অসম্ভব। জুবায়ের ইবনে মুতয়িম যখন যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণের বিষয়ে এসেছিলেন এবং নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে মাগরিবের সালাতে সূরা আত-তূর পাঠ করতে শুনেছিলেন, তখন তিনি অভিভূত হয়েছিলেন এবং তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর জ্ঞান যেন উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আর তখনই তাঁর অন্তরে প্রথম ঈমান প্রবেশ করেছিল। এই সূরায় রয়েছে: {তারা কি কোনো স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা?} [(৩৫) সূরা আত-তূর]। এখানে কি তৃতীয় কোনো বিষয় আছে? হ্যাঁ, তিনি মহান স্রষ্টা—তিনিই সুনিশ্চিত। অর্থাৎ যদি এটিও নাকচ করা হয় এবং ওটিও নাকচ করা হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই একজন স্রষ্টা থাকা আবশ্যক। অর্থাৎ তারা নিজেরা নিজেদের সৃষ্টি করতে পারে না এবং তারা শূন্য থেকে সৃষ্টি হতে পারে না, সুতরাং অবশ্যই তাদের একজন স্রষ্টা প্রয়োজন এবং তিনি হলেন আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা।

সৃষ্ট ঘটনাবলি তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় … তিনি পবিত্র। . . . . . . . . .

আল্লাহ জল্লা ওয়া আলার পবিত্রতা ঘোষণা করা হচ্ছে সেই সকল ত্রুটি ও খুঁত থেকে যা এই সকল সৃষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; তিনি সেই সকল বিষয় থেকে পবিত্র।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ২০)
"فهو الحكيم" فعيل صيغة مبالغة من الحكمة وهي وضع الشيء في مواضعه، المحكم لمخلوقاته، الحاكم بينهم بالعدل، والقسط.

"الوارث" الذي يرث الأرض ومن عليها؛ لأنه هو الآخر الذي لا شيء بعده.

والله أعلم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين.
"তিনি হলেন আল-হাকীম" (প্রজ্ঞাময়) - 'ফায়ীল' হলো 'হিকমাহ' (প্রজ্ঞা) থেকে নির্গত একটি আধিক্যসূচক রূপ, আর হিকমাহ হলো কোনো বিষয়কে তার সঠিক স্থানে রাখা; তিনি তাঁর সৃষ্টিসমূহকে সুনিপুণকারী এবং তাদের মাঝে ইনসাফ ও ন্যায়ের সাথে ফয়সালাকারী।

"আল-ওয়ারিস" (উত্তরাধিকারী) - যিনি পৃথিবী এবং তার ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হবেন; কারণ তিনিই হলেন 'আল-আখির' (সর্বশেষ), যাঁর পরে আর কোনো কিছুই নেই।

আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।
(খণ্ড: ১) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: -)
شرح نظم عقيدة السفاريني   (عبد الكريم الخضير)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح نظم عقيدة السفاريني

مؤلف الأصل: شمس الدين، أبو العون محمد بن أحمد بن سالم السفاريني الحنبلي (ت 1188هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 10 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432

আকীদা আস-সাফফারীনীর কাব্যরূপের ব্যাখ্যা   (আবদুল কারীম আল-খুদাইর)

বিভাগ: আকীদা


বই: আকীদা আস-সাফফারীনীর কাব্যরূপের ব্যাখ্যা

মূল লেখক: শামসুদ্দিন, আবু আল-আউন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন সালিম আস-সাফফারীনী আল-হাম্বলী (মৃ. ১১৮৮ হি.)

ব্যাখ্যাকারক: আবদুল কারীম বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর

শেখ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে শ্রুতিলিপি করা পাঠসমূহ

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ১০টি পাঠ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররম ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح نظم عقيدة السفاريني (2)

 

‌‌مدخل إلى عقيدة السفاريني وأهمية التوحيد

الشيخ/ عبد الكريم بن عبد الله الخضير

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.

هذا يقول: في الدرس الماضي الشطر:

حي عليم قادر موجود … قامت به الأشياء والوجود

يقول: قلنا في الدرس الماضي: أنه يجوز النصب، فما وجهه؟

ما قلنا هذا، الأصل أنها كلها تابعة لله -جل وعلا-، كلها الأصل أنها مجرورة، لكن يجوز الرفع وهو الذي اعتمده، يعني أنه قطعها وأثبت مبتدأ مقدر هو حي عليم قادر موجود، بدليل أن الوجود في نهاية الشطر الثاني مرفوع، فلا بد أن تكون مرفوعة.

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين.

أما بعد:

فيقول المؤلف، الناظم السفاريني -رحمه الله تعالى- في البيت الرابع من مقدمة، أو من خطبة المتن يقول:

ثم الصلاة والسلام سرمدا … على النبي المصطفى كنز الهدى

ثم الصلاة يعني بعد الحمد، بعد البسملة والحمد يثلث بالصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام امتثالاً لقوله -جل وعلا-: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [(56) سورة الأحزاب]، ولذا قال: ثم الصلاة والسلام سرمدا، يعني دائما وأبدا، دائمان لا ينقطعان.

على النبي المصطفى النبي محمد عليه الصلاة والسلام، {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [(56) سورة الأحزاب] ولا يتم امتثال الأمر في الآية إلا بالجمع بين الصلاة والسلام، ولذا جمع بينهما الناظم ثم قال: قال:

ثم الصلاة والسلام سرمدا … على النبي المصطفى كنز الهدى

بهذا يتم الامتثال.

"الصلاة" هي: ذكر الله -جل علا- وثناءه على نبيه في الملأ الأعلى، ذكره وثناءه عليه في الملأ الأعلى كما علقه الإمام البخاري عن أبي العالية.

وجاء عن ابن عباس: إن الله وملائكته يصلون: يبركون، يبركون ولكن ما علقه البخاري عن العالية جازماً به هو المرجح عند أهل العلم، وهو أن الصلاة عليه هي الثناء عليه في الملأ الأعلى.
শারহু নাজমি আকিদাতুস সাফারিনি (২)

 

আস-সাফারিনির আকিদার ভূমিকা ও তাওহীদের গুরুত্ব

শেখ আব্দুল কারিম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর

আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।

একজন বলছেন: গত পাঠের এই চরণে:

চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, বিদ্যমান … তাঁর মাধ্যমেই সমস্ত বস্তু ও অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠিত

তিনি বলছেন: আমরা গত পাঠে বলেছি যে এটি মানসুব (যবরযুক্ত) হওয়া জায়েজ, তো তার কারণ কী?

আমরা এটা বলিনি, মূল কথা হলো এই শব্দগুলো আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার গুণবাচক নাম হিসেবে তাঁর অনুগামী, মূলত এগুলো সব মাজরুর (জেরযুক্ত) হওয়ার কথা, তবে একে মারফু (পেশযুক্ত) পড়া জায়েজ এবং এটিই তিনি (নাজিম) গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, তিনি এগুলোকে পূর্ববর্তী বাক্য থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন এবং একটি উহ্য মুবতাদা সাব্যস্ত করেছেন যে, 'তিনি' চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, বিদ্যমান। এর প্রমাণ হলো দ্বিতীয় চরণের শেষে 'আল-ওজুদ' শব্দটি মারফু (পেশযুক্ত), তাই ছন্দ মিলাতে এগুলোকেও অবশ্যই মারফু হতে হবে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আল্লাহর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর।

অতঃপর:

গ্রন্থকার, কবি আস-সাফারিনি -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- তাঁর মতনের মুখবন্ধ বা ভূমিকার চতুর্থ পংক্তিতে বলেছেন:

অতঃপর সালাত ও সালাম চিরকাল … মনোনীত নবী, হিদায়াতের ভাণ্ডারের ওপর

"অতঃপর সালাত" অর্থাৎ বিসমিল্লাহ ও হামদ বা আল্লাহর প্রশংসার পর, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সালাত পাঠের বিষয়টি তৃতীয় ক্রমে নিয়ে এসেছেন। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর নির্দেশ পালনার্থে: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা তাঁর প্রতি সালাত পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো} [(৫৬) সূরা আল-আহযাব]। একারণেই তিনি বলেছেন: "অতঃপর সালাত ও সালাম চিরকাল", অর্থাৎ সর্বদা এবং নিরন্তর, যা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না।

মনোনীত নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর। {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পাঠ করেন; হে ঈমানদারগণ! তোমরা তাঁর প্রতি সালাত পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো} [(৫৬) সূরা আল-আহযাব]। এই আয়াতের নির্দেশ পালন কেবল সালাত ও সালামকে একত্রে উল্লেখ করার মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়, একারণেই কবি উভয়কে একত্রে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন:

অতঃপর সালাত ও সালাম চিরকাল … মনোনীত নবী, হিদায়াতের ভাণ্ডারের ওপর

এর মাধ্যমেই আল্লাহর নির্দেশ পালন পূর্ণ হয়।

"সালাত" হলো: আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার পক্ষ থেকে উচ্চে অবস্থিত ফেরেশতাদের সমাবেশে (আল-মালাউল আ’লা) তাঁর নবীর আলোচনা ও তাঁর প্রশংসা করা। যেমনটি ইমাম বুখারী আবুল আলিয়াহ থেকে (তালিক হিসেবে) বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ সালাত পেশ করেন" অর্থাৎ তারা বরকত প্রার্থনা করেন। কিন্তু ইমাম বুখারী আবুল আলিয়াহ থেকে যা দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেছেন, সেটিই আলেমদের নিকট অগ্রগণ্য মত; আর তা হলো নবীর ওপর সালাত হওয়ার অর্থ হলো উচ্চে অবস্থিত ফেরেশতাদের সমাবেশে তাঁর প্রশংসা করা।
(খণ্ড: ২) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ২)
صلاة الله على نبيه ذكره له في ملأ، في خير ملأ وهم الملائكة والمقربون منهم، وفي هذا الحديث: ((من ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، ومن ذكرني في ملأ ذكرته في ملأ خير منهم)) فالذكر شأنه عظيم، قد يقول قائل: أذكر الله أكثر من أن أصلي على النبي صلى الله عليه وسلم، يعني قد يجول في النفس مثل هذا، أذكر الله ليذكرني، أذكر الله في المجالس ليذكرني الله -جل وعلا- في ملأ الأعلى، في ملأ خير من مجالسي فأكون بذلك مثل النبي عليه الصلاة والسلام، يعني ألا يجول في النفس هذا؟ يقول: إذا كانت الصلاة التي اختص بها النبي عليه الصلاة والسلام وأمرنا بها، إذا ذكرت الله -جل وعلا- في ملأ صرت مثل النبي يذكرنا الله في ملأ، نقول: يا أخي أنت واحد، وكم يصلي على النبي عليه الصلاة والسلام من وقته إلى قيام الساعة من أتباعه، كم؟ يعني بعض الناس تحصل عنده موازنات نعم يقول: التبكير إلى الجمعة ((من راح في الساعة الأولى كمن قرب بدنة)) طيب أروح الساعة الأولى، الآن الساعة خمسة ونصف ذهبت إلى صلاة الجمعة بعد ارتفاع الشمس في الساعة الأولى من ارتفاع النهار بدنه، وجلست أنتظر الخطيب سبع ساعات، أو ست ساعات ونصف بدنة، ومن ذهب وتعلم آية من كتاب الله كمن صنع إيش؟ تصدق بناقة كوماء، أو كمن حصل، نعم كمن حصل على ناقة كوماء، وآيتين ناقتين، وهكذا.
তাঁর নবীর ওপর আল্লাহর সালাত হলো এক মজলিসে তাঁর প্রশংসা করা, আর তা হলো ফেরেশতাবৃন্দ এবং তাঁদের মধ্য হতে নৈকট্যশীলগণের সমন্বয়ে গঠিত শ্রেষ্ঠতম এক মজলিস। এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি আমাকে তার মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর যে আমাকে কোনো মজলিসে স্মরণ করে, আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম এক মজলিসে স্মরণ করি।" সুতরাং জিকিরের গুরুত্ব অপরিসীম। কারো মনে হয়তো এমন প্রশ্ন জাগতে পারে: আমি নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর সালাত পাঠ করার চেয়ে আল্লাহর জিকিরই বেশি করব। অর্থাৎ তার মনে এমন চিন্তা আসতে পারে যে, আমি আল্লাহকে স্মরণ করি যেন তিনি আমাকে স্মরণ করেন; আমি মজলিসে আল্লাহকে স্মরণ করি যাতে মহান আল্লাহ আমাকে উচ্চতর মজলিসে এবং আমার মজলিসের চেয়েও উত্তম মজলিসে স্মরণ করেন। এর মাধ্যমে আমি নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) মতো হয়ে যাব—এমন চিন্তা কি মনে আসতে পারে না? তিনি বলছেন: যদি সেই সালাত—যা নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং যা পাঠ করতে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তার পরিবর্তে আমি যদি কোনো মজলিসে মহান আল্লাহকে স্মরণ করি, তবে কি আমি নবীর মতোই হয়ে গেলাম যাকে আল্লাহ এক মজলিসে স্মরণ করেন? আমরা বলব: হে ভাই, আপনি তো মাত্র একজন। আর কিয়ামত পর্যন্ত নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কত অসংখ্য অনুসারী তাঁর ওপর সালাত পাঠ করবে, তার কি কোনো ইয়ত্তা আছে? অর্থাৎ কিছু মানুষের মনে এমন তুলনামূলক বিচার কাজ করে; যেমন সে বলে: জুমার নামাজে সকাল সকাল যাওয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে— "যে ব্যক্তি প্রথম প্রহরে গেল, সে যেন একটি উট উৎসর্গ করল।" ঠিক আছে, আমি প্রথম প্রহরেই গেলাম। এখন সময় ভোর সাড়ে পাঁচটা, সূর্য ওঠার পর দিনের প্রথম প্রহরে আমি জুমার জন্য গেলাম—একটি উট। তারপর আমি খতিবের অপেক্ষায় সাত ঘণ্টা বা সাড়ে ছয় ঘণ্টা বসে থাকলাম—একটি উট। অথচ কেউ যদি গিয়ে আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত শেখে, তবে সে কী করল? সে যেন একটি স্থূলকায় উঁচু কুঁজবিশিষ্ট উট সদকা করল, অথবা যেন সেটি লাভ করল। আর দুটি আয়াত শিখলে দুটি উট—এভাবেই বিষয়টি চলতে থাকে।
(খণ্ড: ২) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৩)
يقول: أجلس في المسجد، أو أذهب إلى مسجد أتعلم أو أقرأ بدلا من أن أبكر جزء بربع ساعة، أو نصف ساعة أو أجزاء في ساعة، وكل آية بناقة كوماء بدلا من أن أذهب إلى المسجد لا سيما والناس في الظروف التي نعيشها، التبكير إلى الجمعة من أشق الأمور على النفوس، ليس بالأمر السهل، ولذلك مع هذه الوعود الصحيحة يندر من يطبق، يعني هذا يختلف من مكان إلى آخر، ومن بلد إلى آخر، أنا صليت الفجر يوم الجمعة في مسجد جامع في بلد من البلدان في الداخل في المملكة، وقبل أن تتم الساعة السادسة فإذا الصف الأول مكتمل، مكتمل فالناس فيهم خير، لكن أيضا وأتحدث عن نفسي وأقراني أقول: هذا الأمر من أشق الأمور على النفس، ومثل وضعنا الآن الواحد يجلس بعد صلاة الصبح إلى أن تنتشر الشمس بما في ذلك يوم الجمعة، وقد يقرأ خمسة أجزاء ستة أجزاء، وقد ينشط لعشرة مثلا، لكن يصعب عليه أن يذهب مبكراً إلى صلاة الجمعة، أيهما أفضل؟ هذا الذي قرأ، وتعلم، وراجع تفاسير على عشر أو عشرين آية أفضل وإلا الذي بكر إلى الجمعة؟

طالب:. . . . . . . . .

لماذا؟

طالب:. . . . . . . . .

إيه.

طالب:. . . . . . . . .

هاه؟

طالب:. . . . . . . . .

اللي إيش؟

طالب:. . . . . . . . .

لا أنا أقول: هذا جلس بعد صلاة الصبح يوم الجمعة في مسجده، وهو ما هو بجامع، يبي يجلس له ساعتين ويروح ينام إلى إحدى عشر، يبي يمكن يطلع من المسجد الساعة ست وينام إلى إحدى عشر، أفضل وإلا الذي يذهب لينام ساعتين بعد الصلاة ويذهب مبكرا إلى صلاة الجمعة، أنا أجيب هذا من أجل المقارنات، بعضهم يقول: أتعلم عشر آيات عشرين آية، وكل آية بناقة كوماء أفضل من أن أقدم بدنة واحدة،.

طالب:. . . . . . . . .
তিনি বলেন: আমি কি মসজিদে বসে থাকব, অথবা কোনো মসজিদে গিয়ে শিক্ষা অর্জন করব বা তিলাওয়াত করব—পনের মিনিট, আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার কিছু অংশ আগেভাগে যাওয়ার পরিবর্তে? আর প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে একটি করে বড় কুঁজবিশিষ্ট উটনী লাভ করব—মসজিদে আগেভাগে না যাওয়ার পরিবর্তে? বিশেষ করে আমরা বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, জুমার জন্য আগেভাগে যাওয়া নফসের ওপর অত্যন্ত কঠিন কাজগুলোর একটি; এটি কোনো সহজ বিষয় নয়। এই কারণেই, এই সকল সহিহ প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও খুব অল্প সংখ্যক মানুষই তা আমল করে। অর্থাৎ, এটি স্থানভেদে ও দেশভেদে ভিন্ন হয়। আমি সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ একটি শহরের এক জামে মসজিদে জুমার দিন ফজরের নামাজ আদায় করেছিলাম, সেখানে সকাল ছয়টা বাজার আগেই দেখি প্রথম কাতার পূর্ণ হয়ে গেছে। সুতরাং মানুষের মধ্যে কল্যাণ বিদ্যমান। তবে আমি আমার নিজের এবং আমার সমসাময়িকদের কথা বলছি: এই বিষয়টি নফসের জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজগুলোর একটি। যেমন আমাদের বর্তমান অবস্থা যে, একজন ব্যক্তি ফজরের নামাজের পর সূর্য উপরে ওঠা পর্যন্ত বসে থাকে, এমনকি জুমার দিনও; সে হয়তো পাঁচ পারা বা ছয় পারা তিলাওয়াত করে, এমনকি উদ্যম থাকলে দশ পারাও পড়তে পারে, কিন্তু জুমার নামাজের জন্য আগেভাগে যাওয়া তার কাছে কঠিন মনে হয়। কোনটি অধিক উত্তম? যে ব্যক্তি দশ বা বিশটি আয়াত পাঠ করল, শিখল এবং সেগুলোর তাফসির পর্যালোচনা করল সে উত্তম, নাকি যে জুমার জন্য আগেভাগে রওনা হলো?

ছাত্র: . . . . . . . . .

কেন?

ছাত্র: . . . . . . . . .

হ্যাঁ।

ছাত্র: . . . . . . . . .

অ্যাঁ?

ছাত্র: . . . . . . . . .

কোনটি?

ছাত্র: . . . . . . . . .

না, আমি বলছি: এই ব্যক্তি জুমার দিন ফজরের নামাজের পর তার নিজ মসজিদে বসে থাকল—যা কোনো জামে মসজিদ নয় (যেখানে জুমা হয় না)। সে সেখানে দুই ঘণ্টা বসবে এবং এরপর এগারোটা পর্যন্ত ঘুমাতে যাবে; হয়তো সকাল ছয়টায় মসজিদ থেকে বের হয়ে এগারোটা পর্যন্ত ঘুমাবে। এটি কি উত্তম, নাকি যে ব্যক্তি নামাজের পর দুই ঘণ্টা ঘুমিয়ে জুমার জন্য আগেভাগে যাবে সে উত্তম? আমি এই তুলনার খাতিরে এটি বলছি। কেউ কেউ বলে: আমি দশ বা বিশটি আয়াত শিখব, যেখানে প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে বড় কুঁজবিশিষ্ট একটি উটনীর সওয়াব পাওয়া একটি উট কোরবানি করার সওয়াব প্রদানের চেয়ে উত্তম।

ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ২) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৪)
لا ما هو باختلاف الأشخاص، باختلاف النوق، الآن هذا الذي تعلم الآيات كأنما كسب من حطام الدنيا ناقة كوماء، وهذا كمن أهدى مريدا بذلك تصدق بناقة، ببدنة، فرق بين من يكسب، الدنيا كلها لا تعدل شيئا، يعني الذي تعلم آية ينظر بأنه كأنه كسب من أمور الدنيا ناقة كوماء، وفرق بين أن تكسب وبين أن تنفق، هذا فرق فالمقارنات هنا ليست واردة، نعود إلى أصل المسألة وهي يحتاجها كثير من طلاب العلم، بعضهم ييسر له الجلوس وهو في المسجد يعني يملك نفسه أن يجلس ساعتين، لكن ما يملك ما يستطيع أن يقوم قبل صلاة الجمعة بساعتين، يصعب عليه هذا، ومع ذلك نقول: جاهد واحرص على أن تبكر للجمعة، فإذا لم تستطع فنقول: مثل الوتر، إذا لم تستطع القيام في آخر الليل فأوتر أول الليل، هذا الذي لا يستطيع؛ أنه يوجد ناس ما يستطيعون البتة، إذا نام ما أستطاع أن يقوم لا سيما مع قصر الليل، والمعوقات، المعوقات بعض الناس لا يعاني، يتمنى ويحترق في جوفه، لوعة وحرقة على أن يقوم الليل، أو يبكر لصلاة الجمعة ما يستطيع، نقول: عود، أوتر أول الليل واشتغل أول النهار ولما أنك عجزت تكون أديت شيئا مما عليك، لكن هناك معوقات، وموانع تمنع الشخص من القيام، وتمنعه من التبكير، فعليه أن يسعى في تحصيل الأسباب وانتفاء الموانع.

ثم الصلاة والسلام سرمداً … على النبي المصطفى. . . . . . . . .

على محمد عليه الصلاة والسلام.
না, এটি ব্যক্তিদের পার্থক্যের কারণে নয়, বরং উটের পার্থক্যের কারণে। এখন এই ব্যক্তি যে আয়াতসমূহ শিখল, সে যেন দুনিয়ার নশ্বর সম্পদ থেকে একটি বিশাল কুঁজবিশিষ্ট উট লাভ করল। আর এটি ঐ ব্যক্তির মতো যে এর মাধ্যমে সদকা করার নিয়তে একটি উট বা হৃষ্টপুষ্ট উট উপহার হিসেবে প্রদান করল। যে অর্জন করে আর যে ব্যয় করে—উভয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। সমগ্র দুনিয়া তো কোনো কিছুরই সমতুল্য নয়। অর্থাৎ, যে একটি আয়াত শিখল, সে বিষয়টিকে এভাবে দেখবে যে সে যেন দুনিয়াবি বিষয়াদির মধ্য থেকে একটি বিশাল কুঁজবিশিষ্ট উট অর্জন করল। আর কোনো কিছু অর্জন করা এবং ব্যয় করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; এটি একটি পার্থক্য, তাই এখানে এই তুলনাগুলো খাটবে না। আমরা মূল প্রসঙ্গের দিকে ফিরে যাই যার প্রয়োজনীয়তা অনেক ইলম অন্বেষণকারীর রয়েছে। তাদের কারো কারো জন্য মসজিদে বসে থাকা সহজ হয়, অর্থাৎ সে নিজেকে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার সামর্থ্য রাখে। কিন্তু জুমার সালাতের দুই ঘণ্টা আগে জাগ্রত হওয়ার সামর্থ্য তার থাকে না, এটি তার জন্য কঠিন হয়। তা সত্ত্বেও আমরা বলি: সাধনা করুন এবং জুমার জন্য দ্রুত যাওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকুন। যদি আপনি সক্ষম না হন, তবে আমরা বলি: বিতরের সালাতের মতো; যদি রাতের শেষাংশে জাগ্রত হতে সক্ষম না হন, তবে রাতের প্রথমাংশেই বিতর পড়ে নিন। এটি তাদের জন্য যারা সক্ষম হয় না; কেননা এমন কিছু মানুষ আছে যারা একেবারেই পারে না, বিশেষ করে রাত ছোট হলে এবং প্রতিকূলতা থাকলে তারা ঘুমানোর পর আর উঠতে পারে না। প্রতিকূলতার ক্ষেত্রে কিছু মানুষ কোনো সমস্যায় পড়ে না, কিন্তু কেউ কেউ মনে মনে তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে এবং তার অন্তরে ব্যাকুলতা ও দহন অনুভব করে যে সে যদি রাত জেগে ইবাদত করতে পারত অথবা জুমার সালাতে দ্রুত যেতে পারত, কিন্তু সে পারে না। আমরা বলি: নিজেকে অভ্যস্ত করুন, রাতের প্রথমাংশেই বিতর পড়ুন এবং দিনের প্রথমাংশে আমলে মশগুল থাকুন। যেহেতু আপনি অক্ষম ছিলেন, তাই আপনি আপনার ওপর অর্পিত কিছু তো পালন করলেন। তবে এমন কিছু বাধা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে যা ব্যক্তিকে শেষ রাতে জাগরণে এবং দ্রুত গমনে বাধা দেয়; সুতরাং তার উচিত লক্ষ্য অর্জনের উপায়সমূহ অন্বেষণ করা এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা।

অতঃপর চিরন্তন সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক … মনোনীত নবীর ওপর। . . . . . . . . .

মুহাম্মদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ওপর।
(খণ্ড: ২) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৫)
"كنز الهدى"، كنز، كنز الهدى هو مصدر هداية عليه الصلاة والسلام، وهداية دلالة وإرشاد، {وإنك لتهدي إلى صراط مستقيم} [(52) سورة الشورى]، لكنه ليس بدلالة توفيق ولا قبول {إنك لا تهدي من أحببت} [(56) سورة القصص] فالنبي عليه الصلاة والسلام بالمعنى الأول كنز من كنوز الهداية، وبإرساله حصل لأمته هذا الكنز العظيم، وتشبيه ما حصل على يديه من الهدى بالكنز، هذا من باب التقريب: ولا حول ولا قوة إلا بالله كنز من كنوز الجنة، كنز من كنوز الجنة، ولا يقابله أي كنز ولو كنزت الدنيا بحذافيرها وحصل عليها شخص ما قابل ما جاء به النبي عليه الصلاة والسلام من الهدى ولا قابل قول: لا حول ولا قوة إلا بالله؛ لأن كنز الجنة يختلف عن كنز الآخرة، يعني كنز الجنة إذا كان ترابها المسك فما كنزها؟ يعني شيء لا يخطر على البال، ولا خطر على قلب بشر.

وآله وصحبه الأبرار … معادن التقوى مع الأسرار

"وآله"، آل الرجل أهله، وذووه، وقرابته، وأتباعه، أتباعه، وبالمعنى الأعم يشمل جميع من تبع النبي عليه الصلاة والسلام وتبعه على دينه، فهو من آله، ويكون عطف الصحب من باب عطف الخاص على العام، وإذا قلنا: إن الآل خاص بقرابته من أزواجه وذريته قلنا: إن العطف، كعطف الصحب عطف مغاير نعم، وإذا ذكرنا الآل فلنذكر الصحب، ولو كان الآل بالمعنى الأعم يشمل الصحب وغير الصحب؛ لأن التنصيص على الصحب أمر لا بد منه، لما لهم من المنة على جميع من تبع هذه الملة إلى قيام الساعة؛ لأنهم هم الذين حملوا لنا الدين، وبهم حفظ الله الدين.

"وآله وصحبه" صحب جمع صاحب كركب جمع راكب، والمراد به من لقي النبي عليه الصلاة والسلام مؤمنا به، ومات على ذلك، يقول أهل العلم: ولو تخلل ذلك ردة، ولو تخلله ردة.

"وصحبه الأبرار"، الأبرار، عندنا أبرار، وعندنا مقربون أيهم أفضل؟

طالب:. . . . . . . . .
"হেদায়েতের ভাণ্ডার", ভাণ্ডার, হেদায়েতের ভাণ্ডার বলতে তাঁর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) হেদায়েতের উৎস হওয়াকে বোঝানো হয়েছে, আর এটি হলো পথনির্দেশনা ও দিকনির্দেশনামূলক হেদায়েত; যেমন আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে হেদায়েত দান করেন} [(৫২) সূরা আশ-শূরা], তবে এটি তাওফিক (সফলতা দান) বা গ্রহণের হেদায়েত নয়; যেমন আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত করতে পারবেন না} [(৫৬) সূরা আল-কাসাস]। সুতরাং প্রথম অর্থের বিবেচনায় নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) হেদায়েতের ভাণ্ডারসমূহের মধ্যে একটি ভাণ্ডার, আর তাঁর প্রেরণের মাধ্যমেই তাঁর উম্মত এই মহান ভাণ্ডার লাভ করেছে। তাঁর মাধ্যমে অর্জিত হেদায়েতকে ভাণ্ডারের সাথে তুলনা করা মূলত সহজভাবে বোঝানোর জন্য। আর "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" হলো জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের মধ্যে একটি ভাণ্ডার, জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের একটি ভাণ্ডার। দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ একত্র করলেও এবং কেউ তার মালিক হলেও তা নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যা নিয়ে এসেছেন সেই হেদায়েতের সমকক্ষ হবে না, কিংবা "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" বাণীরও সমকক্ষ হবে না; কারণ জান্নাতের ভাণ্ডার আখেরাতের ভাণ্ডার থেকে ভিন্নতর। অর্থাৎ জান্নাতের মাটিই যদি মেশক (কস্তুরী) হয়, তবে তার ভাণ্ডার কেমন হতে পারে? এটি এমন কিছু যা কল্পনাও করা যায় না এবং কোনো মানুষের অন্তরে কখনো উদিত হয়নি।

এবং তাঁর পুণ্যবান পরিবার ও সঙ্গীগণ … যারা রহস্যসহ তাকওয়ার আধারস্বরূপ

"এবং তাঁর পরিবার (আল)", কোনো ব্যক্তির 'আল' বলতে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং অনুসারীদের বোঝায়। আর ব্যাপক অর্থে এটি নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর অনুসরণকারী এবং তাঁর দ্বীনের ওপর অটল থাকা সকল ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর 'আলে'র অন্তর্ভুক্ত। তখন 'সাহাবী'র উল্লেখটি হবে সাধারণের পর বিশেষের উল্লেখের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি আমরা বলি 'আল' বলতে কেবল তাঁর পরিবার-পরিজন অর্থাৎ তাঁর স্ত্রী ও বংশধরদের বোঝায়, তবে 'সাহাবী'র উল্লেখটি হবে ভিন্ন এক সত্তার উল্লেখ। হ্যাঁ, আমরা যদি 'আল' উল্লেখ করি তবে যেন 'সাহাবী'দেরও উল্লেখ করি, যদিও ব্যাপক অর্থে 'আল' সাহাবী ও অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ সাহাবীগণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা অপরিহার্য, যেহেতু কিয়ামত পর্যন্ত এই দ্বীনের অনুসারী সকলের ওপর তাঁদের অবদান রয়েছে। কারণ তাঁরাই আমাদের কাছে দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমেই আল্লাহ দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন।

"এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীগণ (সাহব)", 'সাহব' শব্দটি 'সাহিব' এর বহুবচন যেমন 'রাকিব' এর বহুবচন 'রাকব'। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—যিনি নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সঙ্গে ঈমানদার অবস্থায় সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। আলেমগণ বলেন: যদিও এর মাঝে ধর্মত্যাগের (রিদ্দার) ঘটনা ঘটে থাকে (এবং পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে)।

"এবং তাঁর পুণ্যবান (আবরার) সঙ্গীগণ", আবরার বা পুণ্যবান। আমাদের মাঝে 'আবরার' আছে এবং 'মুকাররাবুন' (নৈকট্যপ্রাপ্ত) আছে; এদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কারা?

ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ২) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৬)
المقربون أفضل من الأبرار ولذا يقول أهل العلم: حسنات الأبرار سيئات المقربين، المقربون أفضل من الأبرار، فكيف يقول: الأبرار؟ الأبرار منهم من اقتصر على فعل الواجبات وترك المحرمات، لكن المقربون من تقرب إلى الله -جل وعلا- بقدر زائد على ذلك، وابن القيم -رحمه الله تعالى- شرح وبين المنهج الذي يسير عليه هؤلاء، والمنهج الذي يسير عليه هؤلاء في طريق الهجرتين، ووضح وبين بالأدلة أن الأبرار أفضل، وطبقة عليا تقصر دونها منزلة الأبرار، منزلة المقربين منزلة عليا، وهنا قال: وآله وصحبه الأبرار، إذا كان هؤلاء هم الأبرار فلمن تدخر منزلة المقربين؟

طالب:. . . . . . . . .

نعم، نعم إذا ذكر الأبرار والمقربون افترقا، إذا اجتمعا افترقا، مثل الفقير والمسكين، وإذا أفرد فيه أحدهما دخل فيه الآخر، دخل فيه الآخر.

وآله وصحبه الأبرار … معادن التقوى مع الأسرار

"معادن"، المعدن هو المكان الذي يستخرج منه المعدن، المعدن هو المكان، الموضع الذي يستخرج منه المعدن، والمعادن معروفة، نعم معادن التقوى، يعني هم مستودع التقوى، قلوبهم محتوية ومشتملة على التقوى، مع الأسرار، الأسرار.

طالب:. . . . . . . . .

تجي معدن ومعدن، نعم.

طالب:. . . . . . . . .

ويش هو؟

طالب:. . . . . . . . .

يقول: الأبرار جمع البر أي البار وهو الصادق، وكثير البر، والصدق في اليمين، وفي أسماءه الحسنى البر دون البار، وقال العلامة أبو بكر بن أبي داود في كتابه "تحفة العباد": البر هو العطوف على عباده المحسن عليهم، يعني باعتباره من أسماء الله، عم ببره جميع خلقه، فلم يبخل عليهم برزقه، وهو البر بأوليائه إذا خصهم بولايته واصطفاهم لعبادته، وهو البر للمحسن بمضاعفة الثواب له، وللمسيء بالصفح والتجاوز عنه.

والأبرار كثيرا ما يخص بالأولياء والزهاد، والعباد، والصحابة الكرام أفضل أولياء الأنام، وفي الآية الكريمة: {وتوفنا مع الأبرار} [(193) سورة آل عمران]، {وتوفنا مع الأبرار}.

هذا إذا أطلق بمفرده، أما إذا جمع مع منزلة المقربين فلا شك أن المقربين أفضل من الأبرار.

طالب: ....
মুকাররাবগণ (নৈকট্যপ্রাপ্তরা) আবরারদের (পুণ্যবানদের) চেয়ে উত্তম, আর এই কারণে ইলম অর্জনকারীগণ বলেন: "আবরারদের নেক আমলসমূহ মুকাররাবদের নিকট গুনাহের সমতুল্য"। মুকাররাবগণ আবরারদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তাহলে তিনি কেন 'আবরার' বললেন? আবরারদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছেন যারা কেবল ওয়াজিব পালনে এবং হারাম বর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকেন। কিন্তু মুকাররাব হলেন তারা, যারা আল্লাহর—যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—নৈকট্য লাভের জন্য এর চেয়েও অতিরিক্ত আমলের মাধ্যমে এগিয়ে যান। ইবনুল কায়্যিম—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর 'তারিকুল হিজরাতাইন' গ্রন্থে এই দুই দলের অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দলিলের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, মুকাররাবগণই শ্রেষ্ঠ এবং এটি একটি উচ্চতর স্তর যার নিচে আবরারদের অবস্থান। মুকাররাবদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। আর এখানে তিনি বললেন: "তাঁর পরিবার ও আবরার সাহাবীগণ"। যদি তারাই আবরার হন, তবে মুকাররাবদের মর্যাদা কাদের জন্য তুলে রাখা হয়েছে?

ছাত্র: . . . . . . . . .

হ্যাঁ, হ্যাঁ, যখন আবরার এবং মুকাররাব শব্দ দুটি একত্রে উল্লেখ করা হয়, তখন তাদের অর্থে ভিন্নতা তৈরি হয়। এটি 'ফকির' এবং 'মিসকিন' শব্দের মতো। আর যদি তাদের মধ্যে কেবল একটিকে এককভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে অন্যটি এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, অন্যটি এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাঁর পরিবার ও আবরার সাহাবীগণের প্রতি … যারা রহস্যসহ তাকওয়ার খনি

"খনিসমূহ", খনি হলো সেই স্থান যেখান থেকে খনিজ দ্রব্য উত্তোলন করা হয়। খনি হলো স্থান বা জায়গা যেখান থেকে খনিজ নিষ্কাশন করা হয়, আর খনিগুলো তো সুপরিচিত। হ্যাঁ, তাকওয়ার খনি; অর্থাৎ তারা তাকওয়ার আধার। তাদের অন্তরসমূহ তাকওয়াকে ধারণ করে আছে এবং তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাথে রহস্যসমূহ, রহস্যসমূহ।

ছাত্র: . . . . . . . . .

এটি 'মা'দান' এবং 'মা'দিন' উভয়ভাবেই উচ্চারিত হয়, হ্যাঁ।

ছাত্র: . . . . . . . . .

সেটি কী?

ছাত্র: . . . . . . . . .

তিনি বলছেন: 'আবরার' হলো 'বির' বা 'বার' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো সত্যবাদী এবং অত্যধিক পুণ্যবান। শপথের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা। আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে 'আল-বার' (পরম দাতা/পুণ্যকারী) রয়েছে, 'আল-বারর' নয়। আল্লামা আবু বকর ইবনে আবি দাউদ তাঁর 'তুহফাতুল ইবাদ' গ্রন্থে বলেছেন: 'আল-বার' হলেন তিনি যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহকারী। অর্থাৎ আল্লাহর নাম হিসেবে এর অর্থ হলো, তিনি তাঁর অনুগ্রহ দ্বারা সমস্ত সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন, ফলে তাদের রিজিক দানে কোনো কার্পণ্য করেননি। তিনি তাঁর বন্ধুদের (আউলিয়া) প্রতি অনুগ্রহকারী যখন তিনি তাদের স্বীয় বন্ধুত্ব দ্বারা বিশেষায়িত করেন এবং তাঁর ইবাদতের জন্য মনোনীত করেন। আর তিনি সৎকর্মশীলের প্রতি অনুগ্রহকারী তার সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে, এবং পাপাচারীর প্রতি অনুগ্রহকারী তাকে ক্ষমা ও মার্জনা করার মাধ্যমে।

আর 'আবরার' শব্দটি প্রায়শই আউলিয়া, সংসারবিরাগী এবং ইবাদতগুজারদের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। আর সম্মানিত সাহাবীগণ তো মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ওলি। পবিত্র আয়াতে এসেছে: {এবং আমাদের মৃত্যু দান করুন আবরারদের (পুণ্যবানদের) সাথে} [সূরা আল-ইমরান: ১৯৩], {এবং আমাদের মৃত্যু দান করুন আবরারদের সাথে}।

এটি তখন প্রযোজ্য যখন শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে যখন এটিকে মুকাররাবদের মর্যাদার সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করা হয়, তখন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মুকাররাবগণ আবরারদের চেয়ে উত্তম।

ছাত্র: ....
(খণ্ড: ২) শারহু নাযমি আকীদাতিস সাফারীনী (পৃষ্ঠা: ৭)
"معادن التقوى" يعني أن قلوبهم مستودعات للتقوى، والنبي عليه الصلاة والسلام يقول: ((التقوى هاهنا)) ويشير إلى قلبه، فهؤلاء صحابته وآله هم معادن التقوى، وإذا لم يكن كهم الأولياء وهم الأبرار، وهم المقربون، وهم الأتقياء، فمن القوم سواهم؟

"معادن التقوى مع الأسرار"، الأسرار: جمع سر، والمراد به الخوض أو الغوص على المعاني الدقيقة، معاني الكتاب والسنة، يعني هم أصحابها، وفي كل واحد منهم في قلبه سر يتعامل به مع ربه يخفيه عن غيره مما يقربه إلى الإخلاص.

"وبعد"، وبعد يقولون: الواو هذا قائمة مقام أما، يعني الزرقاني في شرح المواهب قال: إن الواو هذه تقوم مقام أما، والأصل أما بعد، والإتيان بها سنة، وثبتت في أكثر من ثلاثين حديثا النبي عليه الصلاة والسلام كان يستعملها في خطبه ورسائله، فالإتيان بها سنة للانتقال من موضوع إلى آخر، من موضوع إلى آخر، لكن هل تتأدى السنة بقولنا: وبعد؟ النبي عليه الصلاة والسلام قال: ((أما بعد)) الظاهر أن السنة لا تتأتى، وإن قامت الواو مقام أما، فلا بد أن نقول: أما بعد، وبعد كقبل، والجهات الست كلها إذا حذف المضاف إليه ونوي معناه، ونوي لفظه أو نوي فإنه حينئذ يبنى على الضم، حذف المضاف إليه مع نيته، يقتضي البناء على الضم، وبعد، أما بعد، {لله الأمر من قبل ومن بعد} [(4) سورة الروم]، لكن إذا ذكر المضاف إليه، أعرب، {قد خلت من قبلكم} [(137) سورة آل عمران] وإذا حذف المضاف إليه مع عدم نيته فإنه يعرب وينون،

فساغ لي الشراب وكنت قبلا … أكاد أغص بالماء الفرات

طالب:. . . . . . . . .

ما تجي أما قبل.

طالب:. . . . . . . . .

لا، لا قل: البعض يقول: ثم أما بعد، هذه نسمعها كثيرا، ثم أما بعد، هذه ثم لا داعي لها، إلا إذا احتيج لأما بعد مرة ثانية، أما في الموضع الأول تقول: أما بعد، في الموضع الثاني تقول: ثم أما بعد، إذا أردت أن تنتقل إلى موضوع آخر، وأظن في سلم الوصول احتاج الشيخ إلى أن يقول أما بعد ثانية:

وبعد إني باليقين أشهد … . . . . . . . . .

، ثم قال بعد ذلك:

. . . . . . . . . … وبعد هذا. . . . . . . . .

، لا، لا ما هو بهذا المقصود، وبعد.

طالب:. . . . . . . . .
"তাকওয়ার আধার" বলতে বোঝায় যে, তাঁদের অন্তরসমূহ তাকওয়ার আধার বা ভাণ্ডার। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "তাকওয়া এখানে" এবং তিনি তাঁর হৃদয়ের দিকে ইশারা করেন। সুতরাং এই সাহাবীগণ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনই হলেন তাকওয়ার আধার। যদি তাঁরাই আল্লাহর বন্ধু, পুণ্যবান, নৈকট্যশীল এবং মুত্তাকী না হন, তবে তাঁরা ছাড়া আর কারা হতে পারে?

"রহস্যসহ তাকওয়ার আধার", রহস্যসমূহ বলতে এখানে কিতাব ও সুন্নাহর সূক্ষ্ম অর্থসমূহের গভীরে অবগাহন করা বোঝানো হয়েছে; অর্থাৎ তাঁরাই হলেন এর অধিকারী। তাঁদের প্রত্যেকের হৃদয়ে এমন গোপন রহস্য রয়েছে যার মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের রবের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন, যা তাঁরা অন্যদের থেকে গোপন রাখেন এবং যা তাঁদেরকে ইখলাসের নিকটবর্তী করে।

"অতঃপর" (ওয়া বা’দু), ভাষাবিদগণ বলেন: এখানে 'ওয়াও' অক্ষরটি 'আম্মা' এর স্থলাভিষিক্ত। যুরকানী 'শারহুল মাওয়াহিব' গ্রন্থে বলেছেন: এই 'ওয়াও' 'আম্মা' এর স্থলাভিষিক্ত হয়, আর এর মূল রূপ হলো 'আম্মা বা'দু'। এটি বলা সুন্নত এবং এটি ত্রিশটিরও বেশি হাদীসে প্রমাণিত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ভাষণ ও চিঠিপত্রে এটি ব্যবহার করতেন। সুতরাং এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে যাওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করা সুন্নত। তবে 'ওয়া বা’দু' বললে কি সুন্নত আদায় হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আম্মা বা'দু' বলেছেন। বাহ্যত সুন্নত অর্জিত হয় না, যদিও 'ওয়াও' 'আম্মা' এর স্থলাভিষিক্ত হয়। তাই আমাদের 'আম্মা বা'দু' বলা আবশ্যক। আর 'বা'দু' শব্দটি 'কবলু' (পূর্বে) এর মতই। ছয়টি দিক (স্থান-কালবাচক শব্দ) যখন মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধ পদ) বিলুপ্ত করা হয় এবং এর অর্থ বা শব্দের সংকল্প করা হয়, তখন তা পেশযুক্ত হয়। মুদাফ ইলাইহি বিলুপ্ত করার সাথে সাথে এর অর্থ স্মরণে রাখলে তা পেশযুক্ত হওয়ার দাবি রাখে; যেমন: 'ওয়া বা’দু', 'আম্মা বা’দু', {পূর্ব ও পরের সব ফয়সালা আল্লাহরই} [সূরা রূম: ৪]। কিন্তু যদি মুদাফ ইলাইহি উল্লেখ করা হয়, তবে তা ই’রাব গ্রহণ করে; যেমন: {তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে} [সূরা আলে ইমরান: ১৩৭]। আর যখন মুদাফ ইলাইহি বিলুপ্ত করা হয় এবং তার কোনো সংকল্পও থাকে না, তখন তা ই’রাব গ্রহণ করে এবং তাতে তানভীন হয়,

অতঃপর পানীয় আমার জন্য সুস্বাদু হলো, অথচ আমি ইতিপূর্বে … পরিচ্ছন্ন মিঠা পানিতেও প্রায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম।

ছাত্র: . . . . . . . . .

'আম্মা কবলু' তো আসে না।

ছাত্র: . . . . . . . . .

না, না; কেউ কেউ বলে: 'সুম্মা আম্মা বা'দু'। এটি আমরা অনেক শুনি। এই 'সুম্মা' বলার কোনো প্রয়োজন নেই, যদি না দ্বিতীয়বার 'আম্মা বা'দু' বলার প্রয়োজন পড়ে। প্রথম স্থানে বলবেন 'আম্মা বা'দু', আর দ্বিতীয় স্থানে বলবেন 'সুম্মা আম্মা বা'দু', যদি আপনি অন্য বিষয়ে যেতে চান। আমার মনে হয় 'সুল্লামুল উসুল' গ্রন্থে শায়খ দ্বিতীয়বার 'আম্মা বা'দু' বলার প্রয়োজন বোধ করেছিলেন:

অতঃপর আমি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দিচ্ছি … . . . . . . . . .

, এরপর তিনি বললেন:

. . . . . . . . . … এবং এর পরে . . . . . . . . .

, না, না, এটি সেই অর্থে নয়। অতঃপর।

ছাত্র: . . . . . . . . .