(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
شرح لامية شيخ الإسلام القسم: العقيدة
الكتاب: لامية شيخ الإسلام
مؤلف الأصل: تُنسب لشيخ الإسلام ابن تيمية (ت 728هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 3 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
শাইখুল ইসলামের লামিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা বিভাগ: আকিদাহ
কিতাব: শাইখুল ইসলামের লামিয়্যাহ
মূল লেখক: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর (মৃ. ৭২৮ হিজরী) প্রতি নিসবতকৃত
ব্যাখ্যাকার: আবদুল কারিম বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শাইখ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত অডিও পাঠের অনুলিপি
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, খণ্ড সংখ্যা মূলত পাঠ সংখ্যা - ৩টি পাঠ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহররম ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[لامية شيخ الإسلام]ـ
مؤلف الأصل: تُنسب لشيخ الإسلام ابن تيمية (المتوفى: 728هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 3 دروس]
—[শায়খুল ইসলামের লামিয়্যাহ]—
মূল লেখক: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত ও শ্রুতিলিখনকৃত পাঠসমূহ
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড সংখ্যা মূলত পাঠ সংখ্যাকে নির্দেশ করে - ৩টি পাঠ]
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
شرح
لامية شيخ الإسلام (1)الشيخ: عبد الكريم الخضير
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
ففي هذه الساعة المباركة، من هذا اليوم الطيب المبارك نلتقي بالإخوة من طلاب العلم، ونتدارس موضوعاً من أهم الموضوعات، وفناً من أعظم الفنون، وهو فن الاعتقاد والعقيدة، وإن كان الدين بجميع أبوابه في غاية الأهمية بالنسبة للعالم والمتعلم، فقد ثبت عن النبي عليه الصلاة والسلام من حديث معاوية -رضي الله تعالى عنه- أن النبي عليه الصلاة والسلام قال: ((من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين)) مفهومه أن الذي لا يتفقه في الدين الله -جل وعلا- لم يرد به خيراً، ولكن قد يقول قائل: إن عوام المسلمين وقد فتح لهم ما فتح من أبواب الخير، من لزوم صلاة وزكاة وصوم وحج وفعل للمأمورات وترك للمحذورات، لكنهم لم يتفقهوا في الدين، هل أراد الله بهم شراً؟ أو نكتفي بقولنا: إن الله -جل وعلا- لم يرد به خيراً؟
ولو افترضنا أن شخصاً من عوام المسلمين ممن لا يقرأ ولا يكتب، لكن الله -جل وعلا- منَّ عليه بالاستقامة، فلزم الصلوات، وأدى الزكوات، وقد يكون من أهل الأموال الطائلة، وسخر هذه الأموال لخدمة الدين، وأنفقها في تعليم الناس الخير، هل نقول: إن الله -جل وعلا- أراد بهذا شراً؛ لأنه لم يتفقه في الدين؟ أو نكتفي بقولنا: إن الله -جل وعلا- لم يرد به خيراً؟ الخير المرتب على الفقه في الدين، والله -جل وعلا- وإن لم يرد به خيراً؛ لأنه لم يتفقه في الدين إلا أن الله -جل وعلا- أراد به خيراً حيث ألزمه الاستقامة ((قل آمنت بالله ثم استقم)) {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا} [(30) سورة فصلت] فهذا استقام بفعل الأوامر، وترك المحذورات والنواهي، وبذل من نفسه وماله وجاهه لنصر الدين ما بذل، هذا أراد الله به خيراً، لكنه من أبواب أخرى لا من باب الفقه في الدين.
إذا عرفنا هذا فما المراد بالفقه في الدين؟ الفقه في الدين، أولاً: الفقه الذي هو الجزء الأول، والدين الذي هو الجزء الثاني.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শাইখুল ইসলামের
লামিয়্যাহর ব্যাখ্যা (১)শাইখ: আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
এই বরকতময় সময়ে, এই উত্তম ও বরকতময় দিনে আমরা তালিবে ইলম বা জ্ঞানান্বেষী ভাইদের সাথে মিলিত হয়েছি। আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং মহান শাস্ত্রসমূহের একটি নিয়ে পর্যালোচনা করব, আর তা হলো আকীদা বা বিশ্বাস শাস্ত্র। যদিও দ্বীনের সকল অধ্যায়ই আলেম ও তালিবে ইলমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তথাপি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু-এর বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) দান করেন।" এর মর্মার্থ হলো, যাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করা হয়নি, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তার জন্য (সেই বিশেষ) কল্যাণ চাননি। কিন্তু কেউ বলতে পারেন: সাধারণ মুসলিমদের জন্য তো কল্যাণের অনেক দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে, যেমন নিয়মিত সালাত, যাকাত, সিয়াম, হজ পালন করা এবং আদেশসমূহ পালন ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করা; কিন্তু তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেনি। আল্লাহ কি তাদের জন্য অমঙ্গল চেয়েছেন? নাকি আমরা শুধু এটুকুই বলব যে, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাদের জন্য (সেই বিশেষ) কল্যাণ চাননি?
আমরা যদি ধরে নিই যে, সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি আছেন যিনি পড়তে বা লিখতে জানেন না, কিন্তু আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাকে দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দিয়েছেন। ফলে তিনি নিয়মিত সালাত আদায় করেন, যাকাত প্রদান করেন; হতে পারে তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক এবং এই সম্পদ তিনি দ্বীনের সেবায় নিয়োজিত করেছেন এবং মানুষের কল্যাণে তা ব্যয় করেছেন। আমরা কি বলব যে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তার জন্য অমঙ্গল চেয়েছেন কারণ তিনি দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেননি? নাকি আমরা শুধু এটুকু বলব যে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তার জন্য কল্যাণ চাননি? সেই কল্যাণ যা দ্বীনের ফিকহ বা গভীর জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা যদিও তার জন্য দ্বীনের গভীর জ্ঞান না থাকার কারণে (সেই বিশেষ) কল্যাণটি চাননি, তবুও আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তার জন্য কল্যাণ চেয়েছেন যেহেতু তাকে ইস্তেকামাত বা অবিচল থাকার তাওফিক দিয়েছেন। (যেমন হাদিসে এসেছে:) "বলো, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি, অতঃপর অবিচল থাকো।" (আল্লাহ তাআলা বলেন:) "নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর তারা অবিচল থাকে" [সূরা ফুসসিলাত: ৩০]। এই ব্যক্তি আদেশসমূহ পালন এবং নিষিদ্ধ ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ ত্যাগের মাধ্যমে অবিচল থেকেছেন। আর দ্বীনকে সাহায্য করার জন্য নিজের জান, মাল ও প্রভাব-প্রতিপত্তি বিলিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ চেয়েছেন, তবে তা ফিকহ বা গভীর জ্ঞানের দরজা দিয়ে নয় বরং অন্য কোনো দরজা দিয়ে।
এটি জানার পর, দ্বীনের ফিকহ বা গভীর জ্ঞান বলতে কী বোঝায়? দ্বীনের ফিকহ; প্রথমত: 'ফিকহ' যা প্রথম অংশ, এবং 'দ্বীন' যা দ্বিতীয় অংশ।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২)
الفقه: يراد به الفهم عن الله وعن رسوله، ما جاء في كتابه وسنة نبيه عليه الصلاة والسلام، هذا الفقه، ولا يكون ذلك إلا بعد حفظ هذه النصوص.
والمراد بالدين: الدين بجميع أبوابه، كما جاء في حديث جبريل حينما سأل النبي عليه الصلاة والسلام عن الإسلام والإيمان والإحسان، وأجابه بالأجوبة المعروفة في الحديث المستفيض ذكره في دواوين الإسلام، قال النبي عليه الصلاة والسلام بعد ذلك: ((هذا جبريل أتاكم يعلمكم دينكم)) فدل على أن الدين شامل لجميع أبوابه، فيشمل العقائد، ويشمل الأحكام من العبادات والمعاملات والمناكحات والأحوال الشخصية والحدود والجنايات، ويشمل أيضاً المغازي والسير والأدب، ويشمل أيضاً الزهد والرقائق، ويشمل بقية أبواب الدين فجميع أبواب الدين داخلة في هذا الحديث.
وكون الفقهاء الذين اهتمامهم بالأحكام العملية يصدرون كتبهم بما يسمى ببراعة الاستهلال، الحمد لله الذي فقَّه ما شاء في الدين واختصه
… الخ.
الحمد لله الذي فقه من شاء بالدين، واختصه بالخير الوارد على لسان خير المرسلين، الخ، يقولون هذا الكلام، فمفهوم كلامهم أن الحديث الوارد فيه الترغيب في الفقه في الدين محصور على الأحكام، والأحكام باب من أبواب الدين، وإذا أردنا الحصر فالعقائد أهم وأولى أن تدخل من الأحكام؛ لأنها عند أهل العلم عُرفت بالفقه الأكبر، ويقابلها الفروع، فالأكبر هو الأصول، ولم يكن هذا التقسيم -يعني تقسيم الدين إلى أصول وفروع- معروف في عصر الصحابة والتابعين، وإنما عُرف بعدهم في تقسيم العلوم إلى تخصصات وفروع، عندهم أصول وفروع، وعندهم أيضاً وسائل، وعندهم غايات، فالمراد بالغايات معروف نصوص الوحيين، والوسائل ما يعين على فهم هذه النصوص.
ফিকহ: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে অনুধাবন করা, যা তাঁর কিতাব ও তাঁর নবী (সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহতে এসেছে; এটাই ফিকহ। আর এই ভাষ্যসমূহ মুখস্থ করা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।
আর দ্বীন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: দ্বীনের সকল অধ্যায়, যেমনটি জিবরাঈলের হাদীসে এসেছে যখন তিনি নবী (সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-কে ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তিনি তাঁকে সেই প্রসিদ্ধ উত্তরগুলো দিয়েছিলেন যা ইসলামের হাদীস গ্রন্থসমূহে ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে। নবী (সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) এরপর বলেছিলেন: "ইনি জিবরাঈল, তোমাদের নিকট তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।" এটি প্রমাণ করে যে, দ্বীন এর সকল অধ্যায়কে শামিল করে। সুতরাং এটি আকিদা (বিশ্বাস), ইবাদত সংক্রান্ত বিধানাবলী, লেনদেন, বিবাহ, ব্যক্তিগত আইন, দণ্ডবিধি ও অপরাধবিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়াও এটি যুদ্ধবিগ্রহের ইতিহাস, জীবনী ও শিষ্টাচার এবং দুনিয়াবিমুখতা ও হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা এবং দ্বীনের বাকি অধ্যায়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং দ্বীনের সকল অধ্যায়ই এই হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।
আর ফকীহগণ—যাঁদের মূল মনোযোগ হলো আমল সংক্রান্ত বিধানাবলীর দিকে—তাঁরা তাঁদের গ্রন্থসমূহ শুরু করেন যাকে বলা হয় 'সূচনাশৈলী' দিয়ে, যেমন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি দ্বীনের ব্যাপারে যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং তাঁকে বিশিষ্ট করেছেন
… ইত্যাদি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি দ্বীনের ব্যাপারে যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলের জবানিতে বর্ণিত কল্যাণের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন, ইত্যাদি। তাঁরা এই কথাগুলো বলেন; তাঁদের কথার মর্মার্থ হলো দ্বীনের জ্ঞান বা ফিকহ অর্জনের যে উৎসাহ হাদীসে এসেছে তা কেবল বিধানাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ বিধানাবলী দ্বীনের বহু অধ্যায়ের একটি অধ্যায় মাত্র। আর যদি আমরা সীমাবদ্ধই করতে চাই, তবে আকিদা বা বিশ্বাসসমূহ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বিধানাবলীর চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারযোগ্য; কারণ আলেমদের নিকট এটি 'আল-ফিকহুল আকবার' হিসেবে পরিচিত, যার বিপরীতে রয়েছে শাখা-প্রশাখা। সুতরাং 'আকবার' হলো মূলনীতি। আর এই বিভাজন—অর্থাৎ দ্বীনকে মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত করা—সাহাবী ও তাবেঈদের যুগে পরিচিত ছিল না। বরং তাঁদের পরে জ্ঞানকে বিভিন্ন বিশেষায়ন ও শাখায় বিভক্ত করার সময় এটি পরিচিতি পায়। তাঁদের নিকট মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা রয়েছে, আবার তাঁদের নিকট মাধ্যম ও উদ্দেশ্য রয়েছে। উদ্দেশ্য বলতে পরিচিত হলো ওহীর দুই ভাষ্য, আর মাধ্যম হলো যা এই ভাষ্যগুলো বুঝতে সাহায্য করে।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
وهناك ما يسمى عندهم بعلوم الآلة التي تعين على فهم الكتاب والسنة، يقسمون هذه التقاسيم، وبالإمكان لو اعتنى بارعاً بتفسير القرآن، وأدخل فيه جميع العلوم، هذا ممكن، وإذا نظرنا إلى التفاسير المتنوعة المتشعبة المطولة والمختصرة كل واحد منها يخدم جانب من هذه الجوانب، فتجد هذا يفسر القرآن بالأثر، ويحشد فيه من النصوص المرفوعة والموقوفة والآثار وغيرها ما يحشد، وهذه تفاسير الأئمة المعروفين كابن جرير وابن كثير والبغوي وابن أبي حاتم وغيرهم، تفسير بالأثر، وهذا أهم ما يفسر به القرآن الأثر، وتجد منهم من يجعل اهتمامه في تفسير القرآن لبيان الأحكام المستنبطة من الآيات، وألف في هذا كتب وأحكام القرآن.
এবং সেখানে এমন কিছু বিষয় আছে যা তাদের নিকট 'উলূমুল আলা' (সহায়ক শাস্ত্র) নামে পরিচিত, যা কিতাব ও সুন্নাহ অনুধাবনে সহায়তা করে। তারা এই প্রকারভেদগুলো করে থাকেন। আর যদি কোনো পারদর্শী ব্যক্তি কুরআনের তাফসিরের প্রতি যত্নবান হন এবং এতে সকল জ্ঞান-বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করেন, তবে তা সম্ভব। আমরা যদি বিভিন্ন প্রকারের বিস্তৃত, দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির গ্রন্থসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখা যায় সেগুলোর প্রত্যেকটিই এই দিকগুলোর কোনো না কোনো একটির খেদমত আঞ্জাম দেয়। আপনি কাউকে দেখবেন যিনি কুরআনকে 'আসার' (বর্ণনা) দ্বারা ব্যাখ্যা করছেন এবং এতে মারফু ও মাওকুফ নসসমূহ, আসার এবং অন্যান্য বর্ণনা যা প্রয়োজন তা একত্রিত করছেন। এগুলো ইবনে জারীর, ইবনে কাসীর, বাগভী, ইবনে আবি হাতিম এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ ইমামদের তাফসির, যা 'তাফসির বিল আসার' নামে পরিচিত। আর কুরআন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে 'আসার' হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আবার তাদের মধ্যে কাউকে এমন পাবেন যিনি কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে উদ্ভাবিত আহকাম বা বিধানসমূহ বর্ণনার প্রতি গভীর মনোনিবেশ করেছেন এবং এ বিষয়ে 'আহকামুল কুরআন' শিরোনামে গ্রন্থাবলী রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
الحنفية ألفوا من مؤلفاتهم: أحكام القرآن للجصاص، المالكية ألفوا أحكام القرآن لابن العربي، والجامع لأحكام القرآن للقرطبي، الشافعية ألفوا أحكام القرآن لإلكيا الطبري، والإكليل في استنباط التنزيل للسيوطي وغيرهم، فهذا يخدم جانب، والأول يخدم جانب، وهناك من يخدم القرآن من الناحية اللفظية، فتجده ينصب جل اهتمامه على الصناعة، صناعة اللفظ، وهنا أيضاً يتشعبون، منهم من يخدمه من ناحية النحو والصرف، ومنهم من يخدمه من ناحية المعاني والبيان وفنون البلاغة، ومنهم من يحشد في تفسيره علم الكلام، ويورد فيه جميع ما كتبه المتكلمون في مسائل المعتقدات، كالرازي مثلاً، ومنهم من يخدم القرآن بأسلوب أدبي سلس يقرأه الطالب ولا يمله، لكن تجد الفائدة في الجملة منه أقل، ومنهم من يعنى بتناسب الآيات والسور، وفي هذا كتاب برهان الدين البقاعي (نظم الدرر) في اثنين وعشرين مجلد، وإن كان الشوكاني -رحمه الله تعالى- أنكر عليه إنكاراً شديداً، بل جزم بأنه لا مناسبة بين الآيات والسور، تنزل الآية فيقول النبي عليه الصلاة والسلام: ضعوها في المكان المناسب فتوضع، وانتهى الإشكال، نعم هناك آيات لا شك أن التماس المناسبة بينها وبين ما قبلها فيه شيء من التكلف، لكن لا ينكر أن كثير مما يقوله البقاعي وغيره ظاهر وواضح، نعم، فخدمة القرآن لو اجتمعت هذه الخدمات في كتاب واحد فبينت العقائد وبسطت بحيث يستغنى بتفسير القرآن عن كتب العقائد، والأحكام أيضاً استنبطت، ويعول في ذلك على ما جاء عن الله وعن رسوله عليه الصلاة والسلام، ثم بعد ذلك بين في الصناعة اللفظية ما يخدم علم النحو والصرف والبيان والمعاني والبديع والاشتقاق والوضع بعد علم القراءات وغيرها، فهذا طيب، لو وجد كتاب يغني عن المجموع، ويمثل لنا حينئذٍ طريقة السلف في فهم القرآن، ما تجد السلف يقولون: هذا كتاب فقه، وهذا كتاب حديث، وهذا كتاب تفسير، وهذا … لا، لا يتجاوزون العشرة آيات حتى يتعلموا ما فيها من علم وعمل، ابن عمر مكث في سورة البقرة ثمان سنين يتعلم سورة البقرة، وعندنا الصبيان يحفظون سورة البقرة، ويتجاوزونها في أيام.
হানাফীগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহের মধ্যে রচনা করেছেন: জাসসাস-এর 'আহকামুল কুরআন', মালিকীগণ রচনা করেছেন ইবনুল আরাবীর 'আহকামুল কুরআন' এবং কুরতুবীর 'আল-জামি লি আহকামিল কুরআন', শাফিয়ীগণ রচনা করেছেন ইলকিয়া তাবারীর 'আহকামুল কুরআন' এবং সুয়ূতী ও অন্যদের 'আল-ইকলীল ফী ইস্তিনবাতিত তানযীল' ইত্যাদি। সুতরাং এটি একটি দিককে সেবা প্রদান করে এবং প্রথমটি আরেকটি দিককে সেবা প্রদান করে। আবার কেউ কেউ আছেন যারা শাব্দিক দিক থেকে কুরআনের সেবা করেন, ফলে আপনি দেখতে পাবেন যে তিনি শব্দশৈলী বা শাব্দিক গঠনের ওপর তাঁর অধিকাংশ মনোযোগ নিবদ্ধ করেন। আর এখানেও তাঁরা বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হন; তাঁদের মধ্যে কেউ নাহু (ব্যাকরণ) ও সারফ (রূপতত্ত্ব)-এর দিক থেকে এর সেবা করেন, আবার কেউ মাআনী, বয়ান ও বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)-এর বিভিন্ন শিল্পের দিক থেকে এর সেবা করেন। তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যিনি তাঁর তাফসীরে ইলমুল কালামকে (যুক্তিভিত্তিক ধর্মতত্ত্ব) পুঞ্জীভূত করেন এবং তাতে আকিদাহ সংক্রান্ত বিষয়াবলীতে মুতাকাল্লিমগণ যা কিছু লিখেছেন তার সবটুকু উল্লেখ করেন, যেমন উদাহরণস্বরূপ রাযী। আবার কেউ কুরআনকে সহজ-সরল সাহিত্যিক শৈলীতে সেবা করেন যা কোনো ছাত্র পড়লে একঘেয়েমিতে ভোগে না, কিন্তু সামগ্রিকভাবে এর থেকে ফায়দা বা উপকারিতা কম পাওয়া যায়। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ আয়াত ও সূরাসমূহের পারস্পরিক সামঞ্জস্য বা সম্পর্কের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে বুরহানুদ্দীন বিকার বাইশ খণ্ডে রচিত গ্রন্থ 'নাযমুদ দুরার' রয়েছে, যদিও শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন, এমনকি তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে আয়াত ও সূরাসমূহের মাঝে কোনো সামঞ্জস্য নেই। আয়াত নাযিল হতো আর নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলতেন: একে উপযুক্ত স্থানে রাখো, অতঃপর তা রাখা হতো, আর এর মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। হ্যাঁ, এমন কিছু আয়াত রয়েছে যেগুলোর সাথে পূর্ববর্তী আয়াতের সামঞ্জস্য খোঁজার মধ্যে কিছুটা কৃত্রিমতা রয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে বিকা ও অন্যান্যেরা যা বলেন তার অনেক কিছুই যে সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার তা অস্বীকার করা যায় না, হ্যাঁ। সুতরাং কুরআনের সেবার ক্ষেত্রে যদি এই সমস্ত বিষয়গুলো একটি কিতাবে একত্রিত হতো এবং আকিদাহসমূহকে এমনভাবে স্পষ্ট ও বিস্তারিত বর্ণনা করা হতো যাতে কুরআনের তাফসীরের মাধ্যমে আকিদাহর কিতাবসমূহ থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায়, আর আহকাম বা বিধিবিধানগুলোও ইস্তিনবাত (উৎপাদন) করা হতো এবং সে ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপরই নির্ভর করা হতো, অতঃপর ইলমে কিরাত ও অন্যান্য বিষয়ের পর শাব্দিক কারুকার্যে এমন কিছু বর্ণনা করা হতো যা নাহু, সারফ, বয়ান, মাআনী, বাদী, ইশতিকাক (শব্দমূল) এবং ওয়াদ-এর ইলমকে সেবা প্রদান করে, তবে তা বেশ উত্তম হতো। যদি এমন কোনো গ্রন্থ পাওয়া যেত যা সবকিছুর বিকল্প হতো এবং যা আমাদের নিকট কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে সালাফদের পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করতো। আপনি সালাফদের এ কথা বলতে পাবেন না যে: এটি ফিকহের কিতাব, এটি হাদীসের কিতাব, এটি তাফসীরের কিতাব, এটি … না, বরং তাঁরা দশটি আয়াত অতিক্রম করতেন না যতক্ষণ না তাতে থাকা ইলম ও আমল শিক্ষা করতেন। ইবনে উমর সূরা আল-বাকারাহ শিখতে আট বছর সময় ব্যয় করেছেন, অথচ আমাদের এখানকার বালকেরা সূরা আল-বাকারাহ মুখস্থ করে ফেলে এবং কয়েক দিনেই তা শেষ করে ফেলে।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقصود أن مثل هذا يعني خدمة أو الانطلاق في العلوم كلها من القرآن الكريم الذي هو أصل الأصول نافع جدًّا، لكن قد يقول قائل: إننا نحتاج في العقائد مثلاً أن ندخل في هذا التفسير مؤلفات شيخ الإسلام ابن تيمية بكاملها، فضلاً عن مؤلفات الأئمة المتقدمين فيمكن أن يكون هذا التفسير في من مئات من المجلدات، يعني لو أدخلنا منهاج السنة، ودرء التعارض بين العقل والنقل، وإلا أدخلنا الجواب الصحيح، وأدخلنا غير ذلك من كتب شيخ الإسلام ابن القيم والإمام أحمد ومن قبلهم، كتب السنة المعروفة عند أهل العلم في العقائد بالأسانيد تطول المسألة.
উদ্দেশ্য হলো, এই ধরণের খিদমত বা পবিত্র কুরআন থেকে সকল ইলমের সূচনা করা—যা সকল মূলের মূল—তা অত্যন্ত উপকারী; তবে কেউ বলতে পারেন যে, আকিদার ক্ষেত্রে উদাহরণস্বরূপ আমাদের এই তাফসিরের মধ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পূর্ণাঙ্গ রচনাবলী অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, পাশাপাশি পূর্ববর্তী ইমামগণের রচনাবলীও; ফলে এই তাফসিরটি শত শত খণ্ডে পর্যবসিত হতে পারে। অর্থাৎ, যদি আমরা 'মিনহাজুস সুন্নাহ', 'দারউ তাআরুদিল আকল ওয়ান নাকল' কিংবা 'আল-জাওয়াবুস সহীহ' অন্তর্ভুক্ত করি এবং শাইখুল ইসলাম ইবনুল কায়্যিম, ইমাম আহমাদ ও তাঁদের পূর্ববর্তীদের অন্যান্য কিতাবসমূহ এবং আকিদা বিষয়ে আলেমগণের নিকট পরিচিত সনদসহ সুন্নাহর কিতাবসমূহ অন্তর্ভুক্ত করি, তবে বিষয়টি অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
أقول: لو اعتنى بارع بتأليف تفسير على هذه الكيفية، وجعل المحور الذي يدور عليه والأصل الذي يمتلك منه هو القرآن، ولم يأت بهذه الكتب بكاملها، ما يلزم أن يأتي بهذه الكتب بكاملها، إنما يأتي بمقاصدها ما يحتاجه طالب العلم، وهذه الكتب فيها تكرار كثير، يستغنى عن كثير منها ببعضه، هذا يجعل طالب العلم يتحد قصده وهمه إلى كتاب الله -جل وعلا-، ولا تأتي مناسبة فيها حديث عن النبي عليه الصلاة والسلام إلا يورده، وأيضاً إذا كان هناك مجال لبيان إعرابي أو بلاغي، أو ما أشبه ذلك يورده، فطالب القرآن يكتفي به عن غيره، وهذا هو الأصل، مثل ما قلنا: لا تجد في عصر السلف كتاب تفسير يعني مستقل، كتاب عقيدة مستقل، كتاب فقه مستقل، لا، ينطلقون من نصوص الوحيين ويفهمونها؛ لأنهم عرب بالسليقة، والكتاب والسنة بلغة العرب، فلا يحتاجون إلى علوم تخدم لفهم الكتاب والسنة، هي مخدومة بالسليقة، لكن أهل العلم صنفوا في الفنون ونوعوها وحددوها تيسيراً على طلاب العلم، لكن مع هذا التيسير قد يحصل شيء من التشتيت، وقد يحصل الغفلة عن أهم المهمات، قد تجد طالب العلم يتخصص تبعاً لهذا التيسير وهذا التقسيم، تجده يتخصص في علم من العلوم، ويغفل عن ما عداه، فالذي يتخصص بالسنة قد يكون من أجهل الناس بكثير مما يتعلق بالقرآن والكريم، والعكس تجد من يتخصص بالتفسير يجهل علوم السنة، ومن يتخصص بالفقه تجد معوله على التعليلات، تبعاً لما صنف في هذا الفن، وكثير من استدلالات الفقهاء فيها ما فيها، لماذا؟ لأنه جرد الفقه عن الوحيين، لكن من تخصص في الفقه، وجعل معوله على الكتاب والسنة هذا طيب، من تخصص في الأصول وتعمق فيه واستغرق وقته في هذا التخصص تجده يغفل عن المهمات في العلوم الأخرى، وأما من تخصص في اللغة العربية، وضاع وقته في قراءة كتبها المطولة والمختصرة رغم أهميتها لا نقول: إن العربية لا نحتاج إليها، بل طالب العلم بأمس الحاجة إلى علم العربية، لكن هل كل طالب العلم يحتاج أن يقرأ شرح المفصل لابن يعيش في ثمانية أجزاء في عشرة أجزاء، ليس بحاجة فهو يبحث عن شرح سيبويه، أو يبحث عن كتب النحو المطولة، ليس بحاجة إلى هذا، يكفيه من ذلك البلغة، وكما قال أهل العلم:
আমি বলি: যদি কোনো দক্ষ ব্যক্তি এই পদ্ধতিতে একটি তাফসির রচনার যত্ন নিতেন এবং যে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এটি আবর্তিত হবে এবং যার ওপর ভিত্তি করে এটি প্রতিষ্ঠিত হবে তাকে কুরআন হিসেবে নির্ধারণ করতেন, এবং এই কিতাবগুলো পুরোপুরি নিয়ে না আসতেন—কারণ এই কিতাবগুলো পুরোপুরি নিয়ে আসার প্রয়োজন নেই, বরং কেবল এর উদ্দেশ্যগুলো এবং একজন শিক্ষার্থীর যা প্রয়োজন তা নিয়ে আসতেন—তবে ভালো হতো। এই কিতাবগুলোতে প্রচুর পুনরাবৃত্তি রয়েছে, যার কিছু অংশ পড়ার মাধ্যমে অন্য অনেক অংশ থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায়। এটি শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ও মনোযোগকে মহামহিমান্বিত আল্লাহর কিতাবের প্রতি নিবিষ্ট করে দেবে। সেখানে নবী—তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—এর কোনো হাদিস উল্লেখ করার সুযোগ আসলে তিনি তা নিয়ে আসবেন। আবার যদি সেখানে ব্যাকরণগত বা অলঙ্কারশাস্ত্রীয় অথবা এই জাতীয় কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ থাকে, তবে তাও উল্লেখ করবেন। ফলে কুরআনের শিক্ষার্থী এর মাধ্যমেই অন্য কিতাব থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যাবে; আর এটিই হলো মূল নীতি। যেমনটি আমরা বলেছি: সালাফদের যুগে আপনি স্বতন্ত্র কোনো তাফসির গ্রন্থ, স্বতন্ত্র আকিদা গ্রন্থ বা স্বতন্ত্র ফিকহ গ্রন্থ পাবেন না। না, বরং তারা ওহীর দুই উৎসের বর্ণনা থেকে শুরু করতেন এবং সেগুলো বুঝতেন; কারণ তারা জন্মগতভাবেই আরব ছিলেন। আর কিতাব ও সুন্নাহও আরবি ভাষায় অবতীর্ণ। তাই কিতাব ও সুন্নাহ বোঝার সেবায় নিয়োজিত শাস্ত্রসমূহের প্রয়োজন তাদের ছিল না, কারণ জন্মগতভাবেই তারা সে বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু আলেমগণ ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য সহজ করার লক্ষ্যে ইলমের শাখাগুলোকে বিন্যস্ত করেছেন, বৈচিত্র্যময় করেছেন এবং সেগুলোর সীমা নির্ধারণ করেছেন। তবে এই সহজীকরণের সাথে সাথে কিছুটা মনোযোগের বিক্ষিপ্ততাও তৈরি হতে পারে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে অসতর্কতা সৃষ্টি হতে পারে। আপনি হয়তো দেখবেন যে, এই সহজীকরণ ও বিভাজনের ফলে একজন শিক্ষার্থী কোনো একটি বিশেষ শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠছে এবং তা ছাড়া অন্য বিষয়গুলো থেকে গাফেল হয়ে যাচ্ছে। ফলে যে ব্যক্তি সুন্নাহ নিয়ে বিশেষজ্ঞ হয়, সে পবিত্র কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়ে সবচেয়ে অজ্ঞ হতে পারে। আবার এর বিপরীতে দেখা যায়, যে তাফসির নিয়ে বিশেষজ্ঞ সে সুন্নাহর শাস্ত্রসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞ। আর যে ফিকহ নিয়ে বিশেষজ্ঞ হয়, সে এই শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থসমূহের অনুসরণে কেবল যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফুকাহাদের অনেক দলিলের অবস্থা এমনই; কেন? কারণ তিনি ফিকহকে ওহীর দুই উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন। কিন্তু কেউ যদি ফিকহে বিশেষজ্ঞ হয় এবং তার নির্ভরতার মূল ভিত্তি কুরআন ও সুন্নাহকে বানায়, তবে তা উত্তম। আবার যে ব্যক্তি উসূলে (মূলনীতি শাস্ত্রে) বিশেষজ্ঞ হয় এবং এতে গভীর নিমগ্ন থাকে ও এই বিশেষজ্ঞতার পেছনেই তার সমস্ত সময় ব্যয় করে, তাকে আপনি অন্যান্য শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে গাফেল পাবেন। আর যে ব্যক্তি আরবি ভাষায় বিশেষজ্ঞ হয় এবং এর ছোট-বড় কিতাবগুলো পড়তেই সময় নষ্ট করে—যদিও এর গুরুত্ব রয়েছে, আমরা বলছি না যে আমাদের আরবির প্রয়োজন নেই, বরং ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আরবি শাস্ত্রের একান্ত প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কি ইবনুল ইয়াইশ-এর আট বা দশ খণ্ডের 'শারহুল মুফাসসাল' পড়ার প্রয়োজন আছে? তার এর প্রয়োজন নেই। সে সিবওয়াইহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ বা নাহুর বিস্তারিত কিতাবগুলো খুঁজে বেড়ায়, অথচ তার এগুলোর প্রয়োজন নেই। তার জন্য কেবল প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত জ্ঞানই যথেষ্ট। যেমনটি আলেমগণ বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
إن النحو بالنسبة للكلام مثل الملح للطعام، إذا زاد أفسده؛ فضلاً عن كونه تخصص بتاريخ أو أدب أو شيء من هذا، ويضيع عمره بذلك، ويغفل بهذا عن المقاصد، فعلى طالب العلم أن يعنى ويتفقه في الدين بجميع أبوابه؛ ليكون ممن أراد الله به خيراً، وتكون عنايته منصبة إلى الكتاب والسنة، وما يخدم علوم الكتاب والسنة.
تقسيم الدين إلى أصول وفروع، إلى فقه أكبر وفقه أصغر، لا شك أنه طارئ، شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى- ينكر هذا التقسيم، ورتبوا تبعاً لذلك أهمية علم العقائد، وأن الزلل فيه أعظم من الزلل والخطأ في غيره من العلوم، وإن كان مأخذها واحد، شيخ الإسلام لا يفرق، يقول: يجعلون الصلاة مع أنها الركن الثاني من الإسلام من الفروع، الصلاة من الفروع، ويجعلون الخلاف في رؤية النبي عليه الصلاة والسلام ربه من الأصول، ومقتضى ذلك أن هذه المسألة أهم مما يتعلق بالصلاة، شيخ الإسلام رحمه الله ينكر هذا أشد الإنكار، لا شك أن هناك أركان في الإسلام، وفيه أيضاً واجبات فرائض، وفيه مستحبات، فيه الأولويات، يعني لو تعارضت هذه المطلوبات من قبل الشارع، تعارضت، فالمفاضلة بين هذه الأمور أمر مطلوب فتبدأ بالأهم فالأهم.
طالب:. . . . . . . . .
هو كلام الشيخ الإسلام رحمه الله، يقول: إن العلماء لما جعلوا الدين أصول وفروع، وجعلوا الأصول هي الأهم، والفروع أقل أهمية أورد على ذلك مثل هذه المسائل، هل معنى هذا أن الخلاف في رؤية الرب -جل وعلا- باعتبارها من الأصول أهم من الصلاة باعتبارها من الفروع؟ لا، ما في أحد يقول بهذا، على كل حال مسائل الاعتقاد الخلاف فيها بين الصحابة نادر جداً، وأكثرها مما اتفق عليه بينهم، وأما مسائل الأحكام العملية فالخلاف فيها كثير بين الصحابة والتابعين، وهذا معروف، وتبعاً لذلك أن ما اتفق عليه الصحابة سواء كان من الأصول أو من الفروع لا مندوحة لأحد من القول به، سواء كان من الأصول أو من الفروع، وما اختلفوا فيه فلأهل النظر فيه سعة، يعني ما اختلف فيه الصحابة من سلف هذه الأمة سواء كان في مسائل الأصول أو الفروع، المتأهل له أن ينظر ويرجح ما يترجح عنده بالدليل، ويعمل بما يعتقد، ويدين الله به -جل وعلا-.
কথার ক্ষেত্রে ব্যাকরণ হচ্ছে খাবারের লবণের মতো; যদি তা বেড়ে যায়, তবে তা নষ্ট হয়ে যায়। অধিকন্তু কেউ যদি ইতিহাস, সাহিত্য বা এজাতীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে গিয়ে এতেই নিজের জীবন ব্যয় করে ফেলে, তবে সে এর মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্যসমূহ থেকে গাফেল হয়ে যায়। অতএব, ইলম অন্বেষণকারীর উচিত দ্বীনের সকল অধ্যায়ে মনোনিবেশ করা এবং ব্যুৎপত্তি অর্জন করা; যাতে সে ঐ সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যাদের জন্য আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেছেন। তার মনোযোগ যেন নিবদ্ধ থাকে কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি এবং যা কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে তার প্রতি।
দ্বীনকে মূলনীতি (উসূল) ও শাখা-প্রশাখা (ফুরু), কিংবা ফিকহে আকবর ও ফিকহে আসগর হিসেবে বিভক্ত করা নিঃসন্দেহে একটি পরবর্তী উদ্ভাবন। শায়খুল ইসলাম —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— এই বিভাজনকে অস্বীকার করেছেন। তারা এর ওপর ভিত্তি করে আকীদা শাস্ত্রের গুরুত্ব নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন যে, এতে পদস্খলন হওয়া অন্যান্য শাস্ত্রের ভুল বা পদস্খলনের চেয়ে গুরুতর, যদিও সবগুলোর উৎস এক। শায়খুল ইসলাম এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করেন না। তিনি বলেন: তারা নামাজকে ইসলামের দ্বিতীয় রুকন হওয়া সত্ত্বেও শাখা-প্রশাখার (ফুরু) অন্তর্ভুক্ত করে, আর নবী —তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— তাঁর রবকে দেখেছিলেন কি না, এই মতপার্থক্যকে মূলনীতির (উসূল) অন্তর্ভুক্ত করে। এর দাবি হলো এই বিষয়টি নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শায়খুল ইসলাম —আল্লাহ রহম করুন— একে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলামে কিছু রুকন বা স্তম্ভ রয়েছে, আবার কিছু ওয়াজিব বা ফরজ রয়েছে, কিছু মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজ রয়েছে এবং কিছু বিষয়ের অগ্রাধিকার রয়েছে। অর্থাৎ শারীআহ কর্তৃক নির্দেশিত এই বিষয়গুলোর মধ্যে যদি পারস্পরিক সংঘাত দেখা দেয়, তবে এগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয় করা একটি কাম্য বিষয়; সেক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করতে হবে।
ছাত্র: . . . . . . . . .
এটি শায়খুল ইসলাম —আল্লাহ রহম করুন— এর কথা। তিনি বলেন: উলামায়ে কেরাম যখন দ্বীনকে উসূল ও ফুরু হিসেবে ভাগ করেছেন এবং উসূলকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফুরুকে কম গুরুত্বপূর্ণ সাব্যস্ত করেছেন, তখন এজাতীয় মাসআলাগুলো এর ওপর আপতিত হয়। এর অর্থ কি এই যে, রবকে —যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ— দেখা সংক্রান্ত মতপার্থক্য যেহেতু উসূলের অন্তর্ভুক্ত, তাই তা ফুরু হিসেবে নামাজের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ? না, এমন কথা কেউ বলে না। যা-ই হোক, আকীদার মাসআলাগুলোতে সাহাবীগণের মধ্যে মতপার্থক্য অত্যন্ত বিরল, আর এর অধিকাংশ বিষয়ই তাদের মধ্যে সর্বসম্মত। পক্ষান্তরে ব্যবহারিক বিধিবিধানের মাসআলাগুলোতে সাহাবী এবং তাবেয়ীদের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে, যা সুবিদিত। এর অনুগামী বিষয় হলো, সাহাবীগণ যে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন —তা উসূল হোক বা ফুরু— তা মেনে নেওয়া ছাড়া কারো কোনো অবকাশ নেই। আর তারা যে বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন, সে ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য প্রশস্ততা রয়েছে। অর্থাৎ এই উম্মতের সালাফ তথা সাহাবীগণ যে বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন —তা উসূলের মাসআলা হোক বা ফুরুর— যারা এর উপযুক্ত তারা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করবেন এবং দলীল দ্বারা যা শক্তিশালী মনে হয় তা গ্রহণ করবেন এবং যা বিশ্বাস করেন সেই অনুযায়ী আমল করবেন এবং মহান আল্লাহর —যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ— আনুগত্য করবেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
هذه الأبيات الستة عشر التي تسمى (لامية) لأن أواخر الأبيات تنتهي بحرف اللام، ستة عشر بيتاً، وجدت بين رسائل لشيخ الإسلام ابن تيمية، يعني في المخطوطات يوجد قبلها رسالة لشيخ الإسلام وبعدها رسالة، وكتب على بعضها (عقيدة ابن تيمية) ولذا قالوا: "اللامية لشيخ الإسلام ابن تيمية" اللامية باعتبار أن حرف الروي فيها اللام، وباعتبار أنها وجدت بين بعض مصنفاته، وإلا ما فيها ما يدل على أنها لشيخ الإسلام ابن تيمية، وما ذكرت في مؤلفاته، يعني ما ذكرها ابن القيم -رحمه الله تعالى- في ضمن مؤلفات شيخ الإسلام، ولذا يقولون: المنسوبة لشيخ الإسلام ابن تيمية، لكن الكلام فيها، الموجود فيها حق، سواء كان لشيخ الإسلام أو لغيره -رحم الله الجميع-، وما دام الكلام حقاً فلطالب العلم أن يعنى بها، فهي منظومة طيبة على اختصارها حوت ما اُتفق عليه من مسائل الاعتقاد، فهي منظومة طيبة، وعلى طالب العلم أن يعنى بها ويحفظها، وينظر في شروحها، ولا أعرف لها شرحاً للمتقدمين.
طالب:. . . . . . . . .
قدم نسبي، هو بعد الألف الذي شرحها، بعد الألف وزيادة، أحمد المرداوي؛ لأنه ينقل عن السفاريني، فهو متأخر، لكنه ليس من المعاصرين، وشرحه هذا طبع قبل أربعين سنة في مطابع النور في الرياض، ثم طبع أخيراً في دار المسلم، وعليه تعليقات للشيخ صالح الفوزان، ثم رأيت شرحاً لمعاصر من طلاب العلم اسمه يوسف إيش؟
طالب: السالم.
يوسف السالم، شرح طيب في الجملة، أنا تصفحت بعض الصفحات الأولى منه، شرح طيب وموسع، يفاد منه، يستفيد منه طالب العلم مع شرح المرداوي.
يقول الناظم -رحمه الله تعالى-:
بسم الله الرحمن الرحيم
এই ষোলটি পঙ্ক্তি যাকে (লামিয়াহ) বলা হয় কারণ পঙ্ক্তিগুলোর শেষ অক্ষর 'লাম' দিয়ে শেষ হয়েছে। এই ষোলটি পঙ্ক্তি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রিসালাহসমূহের (ক্ষুদ্র গ্রন্থ) মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ পাণ্ডুলিপিগুলোতে এর আগে শাইখুল ইসলামের একটি রিসালাহ এবং পরে একটি রিসালাহ পাওয়া যায়। কোনো কোনোটির ওপর লেখা হয়েছে (ইবনে তাইমিয়্যাহর আকিদাহ), আর এই কারণেই তারা বলেছেন: "শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর লামিয়াহ"। এর অন্ত্যমিল বা ছন্দীয় অক্ষর 'লাম' হওয়ার কারণে একে লামিয়াহ বলা হয় এবং এটি তাঁর কিছু রচনার মধ্যে পাওয়া যাওয়ার কারণেও এমনটি বলা হয়। অন্যথায়, এর মধ্যে এমন কিছু নেই যা প্রমাণ করে যে এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর এবং তাঁর রচনাবলির মধ্যেও এটি উল্লিখিত হয়নি। অর্থাৎ ইবনুল কায়্যিম -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- শাইখুল ইসলামের রচনাবলির মধ্যে এটি উল্লেখ করেননি। এই কারণেই তারা বলেন: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত; তবে এর বক্তব্য সত্য, তা শাইখুল ইসলামের হোক বা অন্য কারো—আল্লাহ সবার ওপর রহম করুন। যেহেতু এর বক্তব্য সত্য, তাই ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা। এটি একটি চমৎকার কাব্য যা সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আকিদাহর সর্বসম্মত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সুতরাং এটি একটি উত্তম কাব্যগ্রন্থ, ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এর প্রতি যত্নশীল হওয়া, এটি মুখস্থ করা এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করা। প্রাচীন আলেমদের পক্ষ থেকে এর কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ আছে বলে আমার জানা নেই।
ছাত্র: . . . . . . . . .
তুলনামূলক প্রাচীন, তিনি হিজরি এক হাজারের পরের ব্যক্তি যিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন, এক হাজারেরও বেশি সময় পরের, আহমদ আল-মারদাভী; কারণ তিনি আস-সাফারিনি থেকে উদ্ধৃতি দেন, তাই তিনি পরবর্তী যুগের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, তবে তিনি সমকালীনদের মধ্যে নন। তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি চল্লিশ বছর আগে রিয়াদের মাতাবিউন নূর-এ ছাপা হয়েছিল, এরপর সম্প্রতি দারুল মুসলিম থেকে ছাপা হয়েছে এবং এতে শাইখ সালেহ আল-ফাওজানের টীকা রয়েছে। এরপর আমি ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে একজন সমকালীন ব্যক্তির একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ দেখেছি যার নাম ইউসুফ কী যেন?
ছাত্র: আস-সালিম।
ইউসুফ আস-সালিম; মোটের ওপর এটি একটি ভালো ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আমি এর প্রথম দিকের কিছু পৃষ্ঠা উল্টে দেখেছি, এটি একটি ভালো এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা, যা থেকে ফায়দা হাসিল করা যায়। ইলম অন্বেষণকারী মারদাভীর ব্যাখ্যার পাশাপাশি এটি থেকে উপকৃত হতে পারেন।
নাযিম (কাব্যকার) -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- বলেন:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
افتتح هذا النظم بالبسملة؛ اقتداء بالقرآن الكريم، لكنه لم يفتتح بالحمدلة، النظم لم يفتتح بالحمدلة، ولعله أجراها مجرى الرسائل، فالرسائل تفتتح بالبسملة فقط، وبعض أهل العلم يرى أن الكتب حكمها حكم الرسائل، لا حكم الخطب التي تفتتح بالحمدلة والصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام، ولذا صحيح البخاري -رحمه الله تعالى- ما فيه إلا البسملة، يعني مجرد عن الحمدلة والصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام؛ لأنه في حكم الرسالة التي بعثها لطلاب العلم، ومن أهل العلم من يفتتح بالكتب بالحمدلة اقتداء بالقرآن الذي افتتح بالبسملة والحمدلة.
وأما ما ورد من حديث: ((كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله فهو أبتر أجذم)) و ((كل أمر ذي بال)) يعني شأن يهتم به شرعاً ((لا يفتتح بالحمد فهو أجذم)) فالحديث ضعيف بجميع طرقه وألفاظه، وحسن ابن صلاح والنووي وجمع من أهل العلم لفظ الحمد فقط، وبعض الكتاب المعاصرين ألف كتاباً في العقيدة لما سمع أن الحديث بجميع طرقه وألفاظه ضعيف ما ذكر لا بسملة ولا حمدلة، يقول: لا يجوز العمل بالضعيف مطلقاً، وليته اقتصر على ذلك وسكت، بل افتتح الكتاب بقوله: كانت الكتب التقليدية تفتتح بالبسملة والحمدلة، الكلام مستقيم ولا غير مستقيم؟ يعني لو لم
… ، افترض أن الحديث ما ثبت، النبي عليه الصلاة والسلام كان يفتتح الرسائل بالبسملة، ويفتتح الخطب بالحمدلة، والقرآن أعظم مقروء، وأعظم مسموع، مفتتح بالبسملة والحمدلة، ويقول القائل: كانت الكتب التقليدية تفتتح والكتاب في العقيدة!
এই কাব্যগ্রন্থটি বিস্মিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে; পবিত্র কুরআনের অনুসরণ করে। তবে এটি হামদ বা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয়নি। কাব্যটি হামদ দ্বারা শুরু করা হয়নি, সম্ভবত তিনি একে চিঠিপত্রের রীতিতে পরিচালনা করেছেন। কারণ চিঠিপত্র কেবল বিস্মিল্লাহ দিয়েই শুরু করা হয়। কিছু আলেম মনে করেন যে, বইপুস্তকের বিধান চিঠিপত্রের বিধানের মতোই, এটি খুতবা বা ভাষণের বিধানের মতো নয় যা হামদ এবং নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ওপর দরূদ পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়। এই কারণে সহীহ বুখারী -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- তে বিস্মিল্লাহ ছাড়া আর কিছু নেই; অর্থাৎ এটি হামদ এবং নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ওপর দরূদ থেকে মুক্ত। কারণ এটি ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট প্রেরিত চিঠিপত্রের বিধানের অন্তর্ভুক্ত। আবার আলেমদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ আছেন যারা বইয়ের শুরুতে হামদ পাঠ করেন সেই কুরআনের অনুসরণে যা বিস্মিল্লাহ ও হামদ দ্বারা শুরু হয়েছে।
আর হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে: ((প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নাম দ্বারা শুরু করা হয় না তা বিচ্ছিন্ন বা অসম্পূর্ণ)) এবং ((প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ)) অর্থাৎ শরয়িভাবে গুরুত্ববহ বিষয় ((যা প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করা হয় না তা অসম্পূর্ণ)), এই হাদিসটি এর সকল সূত্র ও শব্দসহ দুর্বল। তবে ইবনুল সালাহ, নববী এবং একদল আলেম কেবল প্রশংসার শব্দ সম্বলিত বর্ণনাটিকে হাসান বলেছেন। জনৈক সমকালীন লেখক আকীদা বিষয়ে একটি বই লিখেছেন; যখন তিনি শুনলেন যে হাদিসটি তার সকল সূত্র ও শব্দসহ দুর্বল, তখন তিনি বিস্মিল্লাহ বা হামদ কোনোটিই উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন: কোনোভাবেই দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করা জায়েজ নয়। আফসোস, যদি তিনি এটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকতেন এবং চুপ থাকতেন! বরং তিনি বইটি এই বলে শুরু করেছেন: "ঐতিহ্যবাহী বইগুলো বিস্মিল্লাহ ও হামদ দ্বারা শুরু করা হতো।" এই কথাটি কি সঠিক নাকি সঠিক নয়? অর্থাৎ যদি না
... , ধরুন হাদিসটি প্রমাণিত নয়, তবুও নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) চিঠিপত্র বিস্মিল্লাহ দিয়ে শুরু করতেন এবং খুতবা বা ভাষণ হামদ দিয়ে শুরু করতেন। আর কুরআন হলো সর্বোত্তম পঠিত ও শ্রুত বিষয়, যা বিস্মিল্লাহ ও হামদ দিয়ে শুরু হয়েছে। অথচ বক্তা বলছেন: ঐতিহ্যবাহী বইগুলো এভাবে শুরু হতো, আর বইটি হচ্ছে আকীদার ওপর!
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
إن بعض الناس ما يستوعب بعض القضايا، يعني ذهنه ما يستوعب مثل هذه الأمور، خلاص سمع من يقول: إن الحديث الضعيف لا يعمل به مطلقاً، وقال: ليش نعمل بحديث ضعيف؟ يعني مثل ما سمع من بعضهم أنه ينهى عن الجلوس بعد صلاة الصبح في المسجد، يقول: لأن الحديث الوارد ضعيف، ينهى، وإذا رأى أحد جلس قال له: نريد أن نخرج، أو تجلس حتى تصلي صلاة العجائز، صلاة الإشراق، النبي عليه الصلاة والسلام ثبت في صحيح مسلم أنه كان يجلس حتى تنتشر الشمس، أما كون الركعتين بعد طلوع الشمس وانتشارها تصلى عملاً بهذا الحديث، أو تصلى لأنها صلاة الضحى، ولا كلام لأحد في صلاة الضحى؛ لأن النبي عليه الصلاة والسلام أوصى بها أصحابه، وفي حديث: ((يصبح على كل سلامى من أحدكم صدقة)) يعني المفاصل كل مفصل يحتاج إلى صدقة، فيصبح على كل مفصل ثلاث مائة وستون مفصل، كل واحد يحتاج إلى صدقة، قال: ((ويجزئ عن ذلك ركعتان تركعهما من الضحى)) فأنت افترض أن هذه صلاة الضحى إذا كنت لا ترى أن الخبر ثابت، وأثبته بعضهم.
فأقول: بعض الناس إذا سمع هذا الكلام وركب هذا على هذا قال: الحديث ضعيف، والضعيف لا يعمل به مطلقًا إذن ليش نجلس؟ والملائكة تصلي على أحدكم ما دام في مصلاه، نصوص كثيرة تحث على البقاء في المسجد، والرباط الرباط، الجلوس بين الصلاتين في المسجد، وانتظار الصلاة، والمرء ما دام ينتظر الصلاة فهو في صلاة، والملائكة تدعو له، وتصلي عليه ما دام في مصلاه، ثم يأتي من يقول مثل هذا الكلام! المقصود أن البداءة بالبسملة أمر مشروع في كل شيء، في الأكل والشرب، في الدخول والخروج، في النوم، في كل مجال يبدأ فيه بالبسملة، ولو لم يكن من ذلك إلا أن القرآن كلام الله افتتح بالبسملة.
وأما الحمدلة فأهل العلم يختلفون بالنسبة للكتب هل تجرى مجرى الرسائل فلا تفتتح بالحمدلة، أو تجرى مجرى الخطب فتفتتح بها، أما من جعل لكتابه خطبة كمسلم مثلاً هذه الخطبة تفتتح بالحمدلة، افتتح مسلم خطبة كتابه بالحمدلة، البخاري مجرد من الخطبة افتتحه بالبسملة؛ لأنه في حكم الرسالة، وهنا افتتحت هذه الأبيات بالبسملة.
يقول الناظم -رحمه الله تعالى-:
কিছু মানুষ নির্দিষ্ট কিছু বিষয় অনুধাবন করতে পারে না, অর্থাৎ তাদের মেধা এই ধরণের বিষয়গুলো ধারণ করতে পারে না। তারা কেবল শুনেছে যে, কেউ বলছে: দুর্বল হাদিসের ওপর মোটেও আমল করা যাবে না। তারা বলে: আমরা কেন দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করব? যেমন কিছু লোকের থেকে শোনা যায় যে, তারা ফজরের সালাতের পর মসজিদে বসে থাকতে নিষেধ করে। তারা বলে: কারণ এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসটি দুর্বল। সে মানুষকে নিষেধ করে, আর কাউকে বসে থাকতে দেখলে বলে: আমরা বের হতে চাই, অথবা আপনি বসে থাকুন যতক্ষণ না বৃদ্ধাদের সালাত অর্থাৎ ইশরাকের সালাতের সময় হয়। অথচ সহীহ মুসলিমে প্রমাণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। আর সূর্য ওঠার পর এবং তা ছড়িয়ে পড়ার পর দুই রাকাত সালাত পড়া এই হাদিসের ভিত্তিতে হোক অথবা দুহার সালাত হিসেবে হোক—আর দুহার সালাত নিয়ে তো কারো কোনো দ্বিমত নেই; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের এর উপদেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে: "তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি জোড়ার পক্ষ থেকে সাদাকা দেওয়া আবশ্যক।" অর্থাৎ শরীরের প্রতিটি হাড়ের জোড়ার জন্য সাদাকা প্রয়োজন। মানুষের শরীরে তিনশ ষাটটি জোড়া রয়েছে, যার প্রত্যেকটির জন্য সাদাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন: "চাশত বা দুহার দুই রাকাত সালাত আদায় করলে তা এই সবগুলোর পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।" সুতরাং আপনি যদি মনে করেন যে বর্ণনাটি প্রমাণিত নয়, তবুও একে দুহার সালাত হিসেবে ধরে নিন। যদিও কেউ কেউ একে সহীহ বলেছেন।
আমি বলতে চাই: কিছু মানুষ যখন এই কথাগুলো শোনে এবং একটির সাথে অন্যটি মিলিয়ে ফেলে তখন বলে: হাদিসটি দুর্বল, আর দুর্বল হাদিসের ওপর মোটেও আমল করা যাবে না, তাহলে আমরা কেন বসে থাকব? অথচ ফেরেশতারা তোমাদের কারো জন্য দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ সে তার সালাতের স্থানে থাকে। মসজিদে অবস্থান করা, ইবাদতে লিপ্ত থাকা, দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে মসজিদে বসে থাকা এবং সালাতের জন্য অপেক্ষা করার বিষয়ে অনেক দলিল উৎসাহিত করেছে। আর মানুষ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ সে সালাতেই থাকে এবং ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া ও রহমত কামনা করে যতক্ষণ সে তার সালাতের জায়গায় থাকে। এরপরও কেউ এসে এমন কথা বলে! উদ্দেশ্য হলো, সবকিছুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা শরিয়তসম্মত বিষয়—খাওয়া, পান করা, প্রবেশ করা, বের হওয়া, ঘুমানো এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা। আর যদি এর অন্য কোনো কারণ নাও থাকতো, তবুও কোরআন যা আল্লাহর কালাম, তা বিসমিল্লাহ দিয়েই শুরু হয়েছে।
আর হামদাহ (আলহামদুলিল্লাহ বলা) সম্পর্কে ইলম অন্বেষণকারীগণ কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন যে, এগুলো কি চিঠিপত্রের মতো গণ্য হবে তাই হামদাহ দিয়ে শুরু হবে না, নাকি খুতবার মতো গণ্য হবে তাই হামদাহ দিয়ে শুরু হবে। তবে যারা তাদের কিতাবের জন্য খুতবা বা ভূমিকা লিখেছেন, যেমন ইমাম মুসলিম, সেই খুতবা হামদাহ দিয়ে শুরু হয়েছে। ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবের ভূমিকা হামদাহ দিয়ে শুরু করেছেন। ইমাম বুখারী কোনো ভূমিকা ছাড়াই সরাসরি বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করেছেন, কারণ এটি চিঠিপত্রের বিধানের অন্তর্ভুক্ত। আর এখানে এই কবিতাগুলো বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা হয়েছে।
ছন্দকার —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— বলেন:
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
يا سائلي عن مذهبي وعقيدتي
… رزق الهدى من للهداية يسأل
"يا سائلي عن مذهبي وعقيدتي" يا نداء، والمنادى هو السائل، فهل المقصود حقيقة النداء، أو يقال: إنه لمجرد التنبيه؟ لأن السائل أحيانًا شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى- يُسأل، والسائل حاضر يمكن مناداته، وأحياناً يسأل والسائل غائب لا يمكن مناداته، وفي الرسالة الكيلانية التي كتبها شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى- في مائتي صفحة، قال: "كتبتها وصاحبها مستوفز يريدها" قدرة، جالس عندهم، يعني ما هو متربع، أو مضطجع ينتظرها، مستوفز، وشيخ الإسلام يكتب، والإنسان إذا أراد أن يحرر صفحة الآن يحتاج إلى وقت، بل قد يعرضها في الأوقات الخمسة، يكتبها بعد صلاة الصبح، ثم يراجعها بعد الظهر، ثم لعله يتبين له شيء، وشيخ الإسلام يكتب الكتاب في الساعة الواحدة، ما يحتاج الناس إلى قراءته في مدة طويلة، وكتب (الحموية) بين الظهر والعصر، والناس يدرسونها في سنة كاملة وما تنتهي، وكتابه (نقض التأسيس) كتبه في مدة يسيرة وحقق في ثمان رسائل، يعني في مدة أربعين سنة؛ كيف في مدة أربعين سنة؟ لأن كل واحد من هؤلاء الطلاب استغرق خمس سنوات في نصيبه، في الثُمن، الكتاب حقق في أربعين سنة، والله المستعان.
البركة، بركة الوقت والعلم والقلم السيال عند شيخ الإسلام شيء لا يخطر على بال، فكونه إن كان حاضراً لا مانع من أن يناديه، فيقول: يا سائلي هذا جوابك، وإن كان غائباً فلا يراد به حقيقة النداء.
والإخوان يقولون: إن المتن ما قرئ.
القارئ أين هو؟
تفضل.
بسم الله.
والحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن ولاه.
اللهم اغفر لنا ولشيخنا والحاضرين والمستمعين يا رب العالمين.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله ....
يا سائلي عن مذهبي وعقيدتي
… رزق الهدى من للهداية يسأل
اسمع كلام محقق في قوله
… لا ينثني عنه ولا يتبدل
حب الصحابة كلهم لي مذهب
… ومودة القربى بها أتوسل
ولكلهم قدر علا وفضائل
… لكنما الصديق منهم أفضل
نعم، يقول المؤلف -رحمه الله تعالى- الناظم سواء كان شيخ الإسلام إن صحت النسبة إليه أو غيره من أهل التحقيق في المعتقد، يقول:
হে আমার মাযহাব ও আকিদা সম্পর্কে প্রশ্নকারী!
… সেই ব্যক্তিই হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছে যে হেদায়েতের জন্য জিজ্ঞাসা করে।
"হে আমার মাযহাব ও আকিদা সম্পর্কে প্রশ্নকারী" - এখানে 'হে' (ইয়া) হলো সম্বোধনসূচক অব্যয়, আর যাকে সম্বোধন করা হয়েছে সে হলো প্রশ্নকারী। তো এখানে কি প্রকৃত সম্বোধন উদ্দেশ্য, নাকি বলা হবে যে এটি কেবল মনোযোগ আকর্ষণের জন্য? কারণ প্রশ্নকারী কখনো শায়খুল ইসলাম -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর সামনে উপস্থিত থাকেন যাকে সরাসরি সম্বোধন করা সম্ভব, আবার কখনো তিনি অনুপস্থিত থাকেন যাকে সরাসরি সম্বোধন করা সম্ভব নয়। শায়খুল ইসলাম -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- দুইশত পৃষ্ঠার যে 'রিসালাহ আল-কিলানিয়্যাহ' লিখেছিলেন, তাতে তিনি বলেছিলেন: "আমি এটি লিখেছি এমতাবস্থায় যে এর মালিক (প্রশ্নকারী) অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত হয়ে এটি পাওয়ার অপেক্ষায় বসে আছেন।" অর্থাৎ তিনি তাদের কাছেই বসা ছিলেন, তবে বাবু হয়ে কিংবা হেলান দিয়ে নয়, বরং ক্ষিপ্রতার সাথে অপেক্ষায় ছিলেন। আর শায়খুল ইসলাম লিখছিলেন। বর্তমানে একজন মানুষ যদি একটি পৃষ্ঠা পরিমার্জন করতে চায় তবে তার সময়ের প্রয়োজন হয়, এমনকি তিনি সেটি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়ের মধ্যেও পেশ করতে পারেন; হয়তো ফজরের পরে লিখলেন, জোহরের পরে তা সংশোধন করলেন, তারপর হয়তো নতুন কিছু তার সামনে স্পষ্ট হলো। কিন্তু শায়খুল ইসলাম একটি কিতাব এক ঘণ্টার মধ্যে লিখে ফেলতেন, যা পড়তে মানুষের দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। তিনি 'হামাভিয়্যাহ' লিখেছিলেন জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে, অথচ মানুষ এটি পুরো এক বছর ধরে পড়েও শেষ করতে পারে না। তাঁর কিতাব 'নাকদুত তأسিস' তিনি অত্যন্ত অল্প সময়ে লিখেছিলেন, যা আটটি গবেষণা গ্রন্থে সম্পাদিত হয়েছে, অর্থাৎ দীর্ঘ চল্লিশ বছরে। এটি কীভাবে চল্লিশ বছরে হলো? কারণ এই ছাত্রদের প্রত্যেকে তাঁদের নির্ধারিত আট ভাগের এক ভাগ সম্পন্ন করতে পাঁচ বছর সময় ব্যয় করেছেন। কিতাবটি সম্পাদিত হয়েছে চল্লিশ বছরে, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
বরকত—সময়ের বরকত, ইলমের বরকত এবং শায়খুল ইসলামের সাবলীল লেখনীর বরকত এমন এক বিষয় যা কল্পনাতীত। তিনি যদি উপস্থিত থাকেন তবে তাঁকে সম্বোধন করতে কোনো বাধা নেই, ফলে তিনি বলবেন: হে আমার প্রশ্নকারী, এটি তোমার জবাব। আর যদি তিনি অনুপস্থিত থাকেন তবে এর দ্বারা প্রকৃত সম্বোধন উদ্দেশ্য নয়।
ভাইয়েরা বলছেন যে মূল পাঠটি (মাতন) পড়া হয়নি।
পাঠক কোথায়?
শুরু করুন।
বিসমিল্লাহ।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর অনুসারীদের ওপর।
হে আল্লাহ! আমাদের, আমাদের শায়খকে এবং উপস্থিত ও শ্রবণকারীদের ক্ষমা করুন, হে রব্বুল আলামিন।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন....
হে আমার মাযহাব ও আকিদা সম্পর্কে প্রশ্নকারী!
… সেই ব্যক্তিই হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছে যে হেদায়েতের জন্য জিজ্ঞাসা করে।
কোনো গবেষকের কথা শ্রবণ করো তাঁর বাণীর ব্যাপারে
… যা থেকে তিনি বিচ্যুত হন না এবং যা পরিবর্তিত হয় না।
সকল সাহাবীর প্রতি ভালোবাসা আমার মাযহাব
… আর রাসূলের নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা আমার উসিলা।
তাঁদের প্রত্যেকেরই রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা ও ফযীলত
… তবে তাঁদের মধ্যে সিদ্দীক (আবু বকর) হলেন শ্রেষ্ঠ।
হ্যাঁ, লেখক -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- তথা নাযেম (কবিতা রচয়িতা) বলছেন—তাঁকে শায়খুল ইসলাম হিসেবে গণ্য করা সঠিক হোক বা আকিদা বিষয়ে অন্য কোনো গবেষক হোক—তিনি বলছেন:
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
"يا سائلي" والسؤال من قبل المتعلم مأمور به في قوله -جل وعلا-، {فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [(43) سورة النحل] والجواب من العالم مطلوب، والكتمان مع القدرة على الجواب لا يجوز، لا سيما إلا تعين؛ فالسائل المتعلم سواء كان عامياً أو في حكمه من آحاد المتعلمين مأمور به، فالله -جل وعلا- يقول: {فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْر} والمراد بأهل الذكر هم أهل القرآن وأهل العلم، وليس المراد بهم كما يقول بعض المتصوف الجهال الذين لا علم عندهم يقولون: المراد بأهل الذكر هم من يلزم الذكر ولو لم يكن عنده علم، ثم ما هذا الذكر الذي يلزمونه؟ أذكار مبتدعة مخترعة لا توجد في كتاب ولا سنة، ويريدون أن ينزلوا الآية عليهم، فاسألوا أهل هذه الأذكار الذين هم أشبه بالدراويش لا يدرون ما يقولون، ولكن المراد بالذكر القرآن، وأهل القرآن هم أهل العلم.
"يا سائلي" هذا بالنسبة للسائل لا بد أن يسأل ما يشكل عليه، يحتاج إلى الإيضاح والبيان، يسأل أهل العلم وأهل الذكر، والمسئول أيضاً إذا تعين عليه الجواب لا يجوز له أن يتردد في الجواب، نعم إذا وجد من يكفيه المئونة، ويجيب على أسئلة السائلين فالتدافع، تدافع الفتوى معروف ومأثور عن السلف، أما إذا تعين الجواب عليه بحيث لا يوجد من يحسن الجواب على هذا السؤال سواه لا يجوز له أن يكتم ((من سئل عن علم فكتمه ألجم يوم القيامة بلجام من نار)) وهذا الخبر لا يسلم من مقال، لكن له أصل بلا شك، يعني منهم من يحسنه، فإذا تعين لا بد من الجواب، أما إذا وجد من يكفيه المئونة فالصحابة تدافعوا الجواب، وقد جاء كما في كتاب المناسك في صحيح مسلم رجل يسأل ابن عمر -رضي الله تعالى وأرضاه- فدله على ابن عباس، قال: اذهب إلى ابن عباس، فقال له: أنا أريد جوابك؛ لأن ابن عباس قد مالت به الدنيا ومال بها، يعني أنه توسع في المباحات بخلاف ابن عمر، فزهده معروف، والعامة يحسنون الظن بالعالم الزاهد، العوام يحسنون الظن كثيراً بالعالم الزاهد، وهو محل إحسان الظن إذا كان لديه علم، أما العالم الذي عنده تعلق بالدنيا فإن العامة ينصرفون عنه في الغالب، وإن كان عنده علم.
"হে আমার প্রশ্নকারী" এবং শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা মহান আল্লাহর এই বাণীতে নির্দেশিত হয়েছে: "তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো" [সূরা আন-নাহল: ৪৩]। আর আলেমের পক্ষ থেকে উত্তর প্রদান কাম্য। উত্তর দিতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তা গোপন করা বৈধ নয়, বিশেষ করে যখন তা অনিবার্য হয়ে পড়ে। সুতরাং শিক্ষার্থী প্রশ্নকারী চাই সে সাধারণ মানুষ হোক কিংবা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত হোক, তাকে প্রশ্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেন: "তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো"। আর জ্ঞানীদের (আহলুয যিকর) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআন ও ইলমের অধিকারী আলেম সমাজ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য তারা নয়, যেমনটি কিছু মূর্খ সূফী দাবি করে যাদের কোনো ইলম নেই; তারা বলে: আহলুয যিকর বলতে তারা উদ্দেশ্য যারা সর্বদা যিকিরে লিপ্ত থাকে যদিও তাদের কোনো ইলম না থাকে। অতঃপর তারা কোন্ যিকিরে লিপ্ত থাকে? কিতাব ও সুন্নাহতে নেই এমন সব নব আবিষ্কৃত বিদআতী যিকির। তারা এই আয়াতটি নিজেদের ওপর প্রয়োগ করতে চায় যে, তোমরা এই যিকিরকারীদের জিজ্ঞাসা করো যারা দরবেশদের মতো এবং তারা কী বলছে তাও জানে না। কিন্তু যিকর বলতে কুরআন উদ্দেশ্য, আর আহলে কুরআনরাই হলেন প্রকৃত আলেম।
"হে আমার প্রশ্নকারী" - এটি প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে, যা তার কাছে অস্পষ্ট এবং যার ব্যাখ্যা ও বিবরণের প্রয়োজন তা অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে। সে আলেম ও জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করবে। আবার যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তার ওপর যদি উত্তর প্রদান অনিবার্য হয়ে পড়ে তবে উত্তর দিতে ইতস্তত করা তার জন্য বৈধ নয়। হ্যাঁ, যদি এমন কাউকে পাওয়া যায় যে তার পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট এবং প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেয়, তবে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব অন্যের ওপর ঠেলে দেওয়া সালাফদের থেকে সুপরিচিত ও বর্ণিত রয়েছে। কিন্তু যদি উত্তর প্রদান তার ওপরই নির্দিষ্ট হয়ে যায় এমনভাবে যে, তিনি ছাড়া আর কেউ এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে সক্ষম নয়, তবে তার জন্য তা গোপন করা বৈধ নয়। "যাকে কোনো ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় আর সে তা গোপন করে, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।" এই বর্ণনাটি সমালোচনা মুক্ত নয়, তবে নিঃসন্দেহে এর ভিত্তি রয়েছে; অর্থাৎ মুহাদ্দিসদের কেউ কেউ এটিকে হাসান বলেছেন। সুতরাং যখন উত্তর প্রদান নির্দিষ্ট হয়ে যাবে তখন উত্তর দেওয়া আবশ্যক। আর যদি দায়িত্ব পালনকারী অন্য কাউকে পাওয়া যায়, তবে সাহাবীগণ একে অপরের ওপর উত্তর প্রদানের ভার ছেড়ে দিতেন। যেমনটি সহীহ মুসলিমের কিতাবুল মানাসিকে এসেছে, এক ব্যক্তি ইবনে উমর -রাযিয়াল্লাহু আনহু- কে প্রশ্ন করলে তিনি তাকে ইবনে আব্বাসের কাছে পাঠিয়ে দেন। তিনি বললেন: "ইবনে আব্বাসের কাছে যাও।" লোকটি তাকে বলল: "আমি আপনার উত্তরই চাই; কারণ ইবনে আব্বাসের কাছে দুনিয়া এসেছে এবং তিনি দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকেছেন," অর্থাৎ তিনি ইবনে উমরের বিপরীতে বৈধ বিষয়গুলোতে প্রশস্ততা অবলম্বন করতেন। অন্যদিকে ইবনে উমরের যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা ছিল সুপরিচিত। আর সাধারণ মানুষ দুনিয়াবিমুখ আলেমের প্রতি সুধারণা পোষণ করে। সাধারণ মানুষ দুনিয়াবিমুখ আলেমের ব্যাপারে অনেক বেশি সুধারণা রাখে, আর তিনি যদি ইলমের অধিকারী হন তবে তিনি সুধারণারই পাত্র। পক্ষান্তরে যে আলেমের দুনিয়ার প্রতি আসক্তি রয়েছে, সাধারণ মানুষ সাধারণত তাদের থেকে বিমুখ থাকে, যদিও তার কাছে ইলম থাকে।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ابن عباس -رضي الله تعالى عنهما وأرضاه- توسع في أمور الدنيا أكثر من ابن عمر، وإلا فعلمه وزهده وورعه وتقواه وعبادته لا تحتاج إلى استدلال، لكنه بالنسبة إلى عبد الله بن عمر الذي لا ينام من الليل إلا قليلاً، ولا يكاد يفطر بالأيام إلا قليلاً، يعني الفرق بينهما واضح، فهذا همه -يعني ابن عمر- الآخرة، لما قال النبي عليه الصلاة والسلام: ((كن في الدنيا كأنك غريب أو عابر سبيل)) فكان عبد الله يقول كما في الصحيح: "إذا أصبحت فلا تنتظر المساء، وإذا أمسيت فلا تنتظر الصباح" مثل هذا العوام يثقون به بخلاف من توسع بالدنيا ولو عرف بالعلم، ولا شك أن الزهد مطلوب، والإنسان عموماً الجن والإنس إنما خلقوا لتحقيق العبودية لله -جل وعلا-، ومع ذلك على الإنسان أن لا ينسى نصيبه من الدنيا، وبون شاسع من أن يكون جل همه الدنيا، وبين أن يكون همه الآخرة.
ووجد في العصور المتأخرة مما ينتسب إلى العلم، ممن يزاحم في أمور الدنيا، وليس من ذلكم ابن عباس رضي الله عنهما وأرضاه- وإن قيل؛ لأن المسألة أمور نسبية، يعني إذا نسبنا ابن عباس إلى ابن عمر قلنا: العبادة عند ابن عمر أوضح، والاهتمام بالعلم عند ابن عباس أوضح، وكلاهما في عبادة، لكن العوام ينظرون إلى العبادات العملية، ما ينظرون إلى العبادات العلمية.
ইবনে আব্বাস —আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পিতার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন— পার্থিব বিষয়ে ইবনে উমরের চেয়ে বেশি প্রসারতা অবলম্বন করেছেন। নতুবা তাঁর জ্ঞান, দুনিয়াবিমুখতা, পরহেজগারি, তাকওয়া এবং ইবাদত কোনো প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয়। কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের তুলনায়—যিনি রাতের সামান্য অংশ ব্যতীত ঘুমাতেন না এবং দিনগুলোতে রোজা ভঙ্গ করতেন না বললেই চলে—তাদের উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট। অর্থাৎ ইবনে উমরের মূল লক্ষ্য ছিল আখিরাত। যেহেতু নবী —তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক— বলেছেন: "দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন মুসাফির বা পথচারী।" তাই আব্দুল্লাহ (ইবনে উমর) সহীহ বর্ণনামতে বলতেন: "যখন তোমার সকাল হবে তখন সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না, আর যখন সন্ধ্যা হবে তখন সকালের অপেক্ষা করো না।" সাধারণ মানুষ এ ধরনের ব্যক্তিদের প্রতি অধিক আস্থা রাখে, তাদের বিপরীতে যারা দুনিয়ার বিষয়ে প্রসারতা অবলম্বন করে—এমনকি তারা ইলমের জন্য পরিচিত হলেও। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা কাম্য, আর সামগ্রিকভাবে মানুষ ও জিন কেবল আল্লাহ —যিনি মহান ও উচ্চমর্যাদাবান— তাঁর দাসত্ব অর্জনের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। তা সত্ত্বেও মানুষের উচিত নয় দুনিয়া থেকে তার প্রাপ্য অংশকে ভুলে যাওয়া। তবে যার অধিকাংশ চিন্তা দুনিয়া কেন্দ্রিক এবং যার চিন্তা আখিরাত কেন্দ্রিক—এই দুইয়ের মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে।
পরবর্তী যুগের ইলমের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মাঝে এমন অনেককে পাওয়া যায় যারা পার্থিব বিষয়ে প্রতিযোগিতা করে। তবে ইবনে আব্বাস —আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পিতার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন— তাদের অন্তর্ভুক্ত নন, যদিও তেমনটি বলা হয়ে থাকে। কারণ বিষয়টি আপেক্ষিক। অর্থাৎ আমরা যদি ইবনে আব্বাসকে ইবনে উমরের সাথে তুলনা করি, তবে বলব: ইবনে উমরের ক্ষেত্রে ইবাদত অধিক সুস্পষ্ট এবং ইবনে আব্বাসের ক্ষেত্রে ইলমের প্রতি গুরুত্ব প্রদান অধিক স্পষ্ট। আর তাঁরা উভয়েই ইবাদতের মধ্যেই ছিলেন, তবে সাধারণ মানুষ বাহ্যিক আমলি ইবাদতের দিকে দৃষ্টিপাত করে, ইলমি ইবাদতের দিকে তারা লক্ষ করে না।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فقال له: ابن عباس مالت به الدنيا ومال بها، ولذا تجدون العامة الآن يحرصون على أن يستفتوا هذا النوع من الناس، وإن كان في العلم أقل؛ لأن ما في قلوب الناس من العلوم وفي أذهانهم أمور لا يطلع عليها العامة، إنما يظهر لهم عباداتهم العملية فيثقون بهم، ويتجهون إلى سؤالهم، ولذا ينبغي أو مما يتأكد في حق طالب العلم الاهتمام بالعمل، ولا يكون الهدف من أجل أن يتجه إليه العوام بالأسئلة نظراً لما مهدناه أبداً؛ لأن العمل مطلوب، والعلم يقتضي العمل، وعلم بلا عمل كشجر بلا ثمر، لا بد من الاهتمام بالعمل بالنسبة لطالب العلم؛ لأن الذي يثبت العلم هو العمل، والكلام في النوافل، وليس الكلام في الواجبات؛ لأن الواجبات ما عليها مساومة، لكن الكلام في الإكثار من النوافل، وخير ما يعين على تحصيل العلم العمل به، ولا يقول طالب العلم: أنا والله أنا مشغول بالطلب، مشغول بالحفظ، مشغول بالفهم، مشغول بالتردد على الدروس، وعلى المشايخ عن العمل، لا، العمل أمر لا بد منه، فالإكثار من النوافل مطلوب من المسلمين عموماً، وعلى أهل العلم وطلابه على وجه الخصوص.
তিনি তাকে বললেন: ইবনে আব্বাসের নিকট দুনিয়া এসেছে এবং তিনিও দুনিয়ার দিকে ঝুঁকেছেন; আর এই কারণেই আপনারা বর্তমানের সাধারণ মানুষকে দেখবেন যে, তারা এই ধরণের লোকদের কাছ থেকে ফতোয়া গ্রহণ করতে আগ্রহী থাকে, যদিও তাদের জ্ঞান তুলনামূলক কম হয়; কারণ মানুষের অন্তরে যে জ্ঞান থাকে এবং তাদের মেধায় যা থাকে তা সাধারণ মানুষের গোচরীভূত হয় না, বরং তাদের নিকট কেবল তাদের ব্যবহারিক ইবাদতসমূহ প্রকাশ পায়, ফলে তারা তাদের ওপর আস্থা রাখে এবং তাদের কাছে প্রশ্ন করতে উদ্যত হয়। তাই ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করা উচিত বা এটি অত্যন্ত তাকিদপূর্ণ বিষয়। তবে এর লক্ষ্য কখনোই এটি হওয়া উচিত নয় যে—আমাদের বর্ণিত কারণে—সাধারণ মানুষ তার দিকে প্রশ্নের জন্য অগ্রসর হবে; কেননা আমল কাম্য, আর ইলম আমলের দাবি রাখে। আমলহীন ইলম ফলহীন বৃক্ষের ন্যায়। ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আমলের ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য; কেননা আমলই ইলমকে স্থায়িত্ব দান করে। আর এখানে নফল বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, ওয়াজিব বা আবশ্যক বিষয় নিয়ে নয়; কারণ ওয়াজিবের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস নেই। বরং এই আলোচনা হলো অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত করা নিয়ে। আর ইলম অর্জনে সবচেয়ে উত্তম সাহায্যকারী হলো অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল করা। ইলম অন্বেষণকারী যেন এমনটি না বলে যে: ‘আল্লাহর কসম, আমি ইলম অন্বেষণে ব্যস্ত, মুখস্থ করায় ব্যস্ত, অনুধাবনে ব্যস্ত, দরসে যাতায়াত এবং শায়খদের সাহচর্যে ব্যস্ত থাকায় আমল করতে পারছি না’। না, আমল একটি অপরিহার্য বিষয়। সুতরাং সাধারণভাবে সকল মুসলিমের কাছ থেকে অধিক নফল আমল কাম্য, আর বিশেষভাবে আলেম সমাজ ও ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট তা আরও বেশি কাম্য।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
"يا سائلي" والسائل اسم فاعل مضاف إلى ياء المتكلم "عن مذهبي وعقيدتي" المذهب في الغالب يطلق على المذهب الفرعي، فيقال: هذا مذهب أبي حنيفة، وهذا مذهب مالك، وهذا مذهب الشافعي، وهذا مذهب أحمد، وهذا مذهب سفيان، وهذا مذهب الأوزاعي، وهذا مذهب الظاهرية، وهذا مذهب الزيدية
… إلى آخره، في الغالب يطلق على الفروع، ويدل عليه العطف، عطف العقيدة على المذهب "يا سائلي عن مذهبي وعقيدتي" فالمذهب في الفروع، والعقيدة في الأصول، هذا هو الذي يعنيه ظاهر اللفظ، لكن حقيقة النظم هل أجاب الناظم عن مذهبه الفرعي؟ لا، ما أجاب عن مذهبه الفرعي، وإنما أجاب عن عقيدته؛ فالمذهب هنا ما يُذهب إليه في مسائل الاعتقاد، ويقال به، ويصار إليه، ويكون عطف العقيدة على المذهب من باب عطف الشيء على نفسه؛ لاختلاف اللفظ، ومذهبه الفرعي في أول الأمر الحنبلي؛ فشيخ الإسلام -وهذا الكلام كله على سبيل التنزل- أن هذه الرسالة لشيخ الإسلام، وهذه المنظومة لشيخ الإسلام، وإلا فنسبتها إليه لا يدل عليها دليل قطعي، إنما هي مجرد قرائن، يعني وجودها بين رسالتين لشيخ الإسلام يعني في المخطوطات، المخطوطات التي وجدت لهذه المنظومة قبلها رسالة لشيخ الإسلام، وبعدها رسالة لشيخ الإسلام، فهي من بين مؤلفاته وجدت فنسبت إليه، وعلى كل حال الكلام الذي فيها حق.
إذا قلنا: إنها لشيخ الإسلام فمذهبه الفرعي هو مذهب الإمام أحمد في الأصل، وتفقه عليه، وتخرج على كتب أصحابه، ثم بعد ذلك اجتهد وخلع ربقة التقليد، فصار يعمل بالنصوص بالكتاب والسنة، ولذا تجد الفرق بين شرحه للعمدة وبين كلامه وفتاواه المتأخرة، فرق كبير يعني تقرأ في شرح العمدة لشيخ الإسلام كأنك تقرأ لفقهاء الحنابلة من بيان الروايات والوجوه والتعليلات، كأنك تقرأ للمتقدم، وأما مؤلفاته المتأخرة تجد كلاماً مستقلاً.
"হে আমার জিজ্ঞাসু" - এখানে জিজ্ঞাসু শব্দটি কর্তাবাচক বিশেষ্য যা উত্তম পুরুষের সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়েছে। "আমার মাজহাব ও আকিদা সম্পর্কে" - মাজহাব শব্দটি সাধারণত শাখা-প্রশাখাগত বিষয়ের মাজহাবের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়ে থাকে: এটি আবু হানিফার মাজহাব, এটি মালিকের মাজহাব, এটি শাফেয়ীর মাজহাব, এটি আহমদের মাজহাব, এটি সুফিয়ানের মাজহাব, এটি আওযায়ীর মাজহাব, এটি জাহিরি মাজহাব, এটি যায়দি মাজহাব
... ইত্যাদি। সাধারণত এটি শাখা-প্রশাখাগত বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর 'আকিদা' শব্দটিকে 'মাজহাব' শব্দের ওপর সংযোজন করাও এরই প্রমাণ বহন করে—"হে আমার মাজহাব ও আকিদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসু"। সুতরাং শব্দের বাহ্যিক রূপ অনুযায়ী 'মাজহাব' বলতে শাখা-প্রশাখাগত বিষয় এবং 'আকিদা' বলতে মূলনীতিসমূহ বোঝানো হয়েছে। কিন্তু কবিতার প্রকৃত বিষয়বস্তুর দিকে তাকালে দেখা যায়, কবি কি তার শাখা-প্রশাখাগত মাজহাব সম্পর্কে উত্তর দিয়েছেন? না, তিনি তার শাখা-প্রশাখাগত মাজহাব সম্পর্কে উত্তর দেননি, বরং তিনি তার আকিদা সম্পর্কে উত্তর দিয়েছেন। তাই এখানে 'মাজহাব' বলতে বিশ্বাসের বিষয়াবলীতে যে মতাদর্শ অনুসরণ করা হয় তাকেই বোঝানো হয়েছে। এখানে মাজহাবের ওপর আকিদাকে সংযোজন করা হয়েছে মূলত একই বিষয়কে ভিন্ন শব্দে পুনরুক্ত করার মাধ্যমে। শাইখুল ইসলামের প্রাথমিক জীবনের শাখা-প্রশাখাগত মাজহাব ছিল হাম্বলি। শাইখুল ইসলাম—আর এই পুরো কথাটি তর্কের খাতিরে বলা হচ্ছে—যে এই রিসালাটি শাইখুল ইসলামের এবং এই কবিতাটি শাইখুল ইসলামের। অন্যথায়, এটি যে তাঁরই রচনা তার কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই, বরং এগুলো কেবল কিছু আলামত মাত্র। অর্থাৎ পাণ্ডুলিপিগুলোতে শাইখুল ইসলামের দুটি রিসালার মাঝখানে এটি পাওয়া গেছে। এই কবিতার পাণ্ডুলিপিগুলোতে এর আগে শাইখুল ইসলামের একটি রিসালা এবং পরে শাইখুল ইসলামের আরেকটি রিসালা পাওয়া গেছে; এটি তাঁর রচনাবলির মাঝে পাওয়ায় তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। তবে যাই হোক, এর মধ্যকার বক্তব্যসমূহ সত্য।
যদি আমরা বলি যে এটি শাইখুল ইসলামের, তবে তাঁর শাখা-প্রশাখাগত মাজহাব মূলত ইমাম আহমদের মাজহাব। তিনি এর ওপর ফিকহ অর্জন করেছেন এবং তাঁর অনুসারীদের কিতাবাদি পড়ে ব্যুৎপত্তি লাভ করেছেন। এরপর তিনি ইজতিহাদ করেছেন এবং তাকলিদের শৃঙ্খল ছিন্ন করেছেন। ফলে তিনি কুরআন ও সুন্নাহর মূল পাঠ বা নস অনুযায়ী আমল করতে শুরু করেন। এই কারণেই তাঁর 'শরহুল উমদাহ' এবং তাঁর পরবর্তী সময়ের কথা ও ফতোয়ার মাঝে আপনি বিরাট পার্থক্য পাবেন। অর্থাৎ আপনি যখন শাইখুল ইসলামের 'শরহুল উমদাহ' পড়বেন, তখন আপনার কাছে মনে হবে আপনি কোনো প্রাচীন হাম্বলি ফকিহর রেওয়ায়েত, অভিমত ও কারণ অনুসন্ধানমূলক আলোচনা পড়ছেন। আর তাঁর পরবর্তী সময়ের রচনাগুলোতে আপনি স্বতন্ত্র বক্তব্য খুঁজে পাবেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
واختيارات شيخ الإسلام الفقهية قسمت إلى أقسام منها ما يوافق المذهب، ومنها ما يوافق رواية المذهب ويوافق إمام آخر من الأئمة الأربعة، ويخالف المشهور في المذهب، ومنها ما يخالف المذهب بالكلية، ويوافق مذهب من المذاهب الأخرى، ومنها ما يخالف فيه المذاهب الأربعة، وهذا كثير في كلامه رحمه الله، ومنها ما نسب فيه شيخ الإسلام إلى أنه خالف الإجماع، فاختياراته مقسمة إلى هذه الأقسام، منها ما يستقل به ويوافق فيه بعض السلف، ويخالف فيه الأئمة الأربعة، وهذا امتحن بسببه، وقيل: إنه خالف فيه الإجماع، ومنها ما يوافق فيه إمام من الأئمة الأربعة، ومنها ما يوافق أكثر من إمام ويخالف المذهب، ومنها ما يوافق رواية المذهب ليست هي المشهورة، ومنها ما يوافق المشهور في المذهب، ومعوله وعمدته على النص، معوله –رحمه الله على النص كما هو معروف، تفقه على كتب المذهب، وكتب الأصحاب، ثم بعد ذلك اطلع على المذاهب الأخرى ونظر في أدلتهم، ووازن بين هذه الأدلة ورجح واختار ما اختار، ووافق من وافق، وخالف من خالف، وهذه طريقة ينبغي أن يسلكها طلاب العلم، وذكرناها في مناسبات كثيرة بالنسبة لكيفية التفقه، كيف يتفقه طالب العلم؟ يعني هل يتفقه مباشرة وهو مبتدئ من الكتاب والسنة؟ لا يستطيع، تكليفه بمثل هذا؛ تضييع له، بل يتفقه على مذهب معين، وعلى كتاب معين من كتب أي مذهب من المذاهب المعتبرة الأربعة، وليس معنى هذا أنه يجعل هذا الكتاب دستوراً لا يحاد عنه من دون القرآن، لا، هذا من مؤلفات البشر، يبدأ بهذا المختصر، ويتصور المسائل إن حفظه بها ونعمت، وإن لم يحفظ يتصور هذه المسائل ويصورها، وينظر في شروح هذا الكتاب، وينظر في أدلة هذه المسائل، فهذه في العرضة الأولى، في العرضة الثانية ينظر من وافق المؤلف ومن خالفه، وينظر في أدلة الموافقين إن كان عندهم مزيد من الأدلة على ما عنده، وينظر في أدلة المخالفين، ويرجح حسب قواعد التعارض والترجيح عند أهل العلم، ثم يعمل بالراجح، إذا انتهى من هذا الكتاب في عرضته الأولى يكون عنده شيء من الفقه يعمل به، ويمشيه على هذا المذهب، وهو لا يزال مبتدئ مقلد، في العرضة الثانية والثالثة يبدأ بالاجتهاد، والأمر سهل ليس من
শাইখুল ইসলামের ফিকহী পছন্দসমূহ (ইখতিয়ারাত) কয়েক ভাগে বিভক্ত। তার মধ্যে কিছু মাযহাবের সাথে সংগতিপূর্ণ; কিছু মাযহাবের এমন একটি রেওয়ায়াতের (বর্ণনা) সাথে সংগতিপূর্ণ যা চার ইমামের অন্য কোনো ইমামের মতের সাথে মিলে যায় কিন্তু মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতের বিপরীত; কিছু মাযহাবের পুরোপুরি বিপরীত এবং অন্য কোনো মাযহাবের সাথে সংগতিপূর্ণ; আবার কিছু এমন যা চার মাযহাবেরই বিপরীত—এবং তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) বক্তব্যে এমনটি অনেক রয়েছে। তাঁর কোনো কোনো পছন্দের ব্যাপারে শাইখুল ইসলামকে এমনভাবে অভিহিত করা হয়েছে যে, তিনি ইজমা বা ঐকমত্য লঙ্ঘন করেছেন। সুতরাং তাঁর পছন্দসমূহ এভাবেই বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। কিছু বিষয়ে তিনি একক অবস্থান নিয়েছেন যেখানে তিনি পূর্ববর্তী সালাফদের কারো কারো সাথে একমত হয়েছেন কিন্তু চার ইমামের বিরোধিতা করেছেন; এ কারণে তাঁকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল যে তিনি ইজমা লঙ্ঘন করেছেন। আবার কিছু বিষয়ে তিনি চার ইমামের কোনো একজনের সাথে একমত হয়েছেন, কোনোটিতে একাধিক ইমামের সাথে একমত হয়ে মাযহাবের বিরোধিতা করেছেন, কোনোটিতে মাযহাবের এমন রেওয়ায়াতের সাথে একমত হয়েছেন যা প্রসিদ্ধ নয়, আবার কোনোটিতে মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতের সাথেই একমত হয়েছেন। তাঁর মূল ভিত্তি ও নির্ভরতা ছিল ‘নাস’ বা অকাট্য দলিলের ওপর। যেমনটি সুপরিচিত, তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) নাসের ওপরই নির্ভর করতেন। তিনি মাযহাবের কিতাবসমূহ এবং মাযহাবের অনুসারী আলিমদের কিতাবসমূহের ওপর ভিত্তি করে ফিকহ অর্জন করেছেন; এরপর তিনি অন্যান্য মাযহাব সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, তাদের দলিলসমূহ পর্যালোচনা করেছেন এবং দলিলসমূহের মধ্যে তুলনা করে যেটি অগ্রগণ্য মনে করেছেন সেটিই পছন্দ ও গ্রহণ করেছেন। তিনি কারো সাথে একমত হয়েছেন, কারো দ্বিমত করেছেন। জ্ঞানান্বেষী ছাত্রদের এই পদ্ধতিই অনুসরণ করা উচিত। ফিকহ অর্জনের পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা অনেকবার আলোচনা করেছি যে, একজন ছাত্র কীভাবে ফিকহ শিখবে? সে কি শুরুতেই সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জন করবে? সে তা পারবে না; তাকে এমন দায়িত্ব দেওয়া মানে তাকে পথভ্রষ্ট করা বা নষ্ট করা। বরং সে একটি নির্দিষ্ট মাযহাব এবং নির্ভরযোগ্য চার মাযহাবের যেকোনো একটির নির্দিষ্ট কিতাব অবলম্বনে ফিকহ শিখবে। এর অর্থ এই নয় যে, সে এই কিতাবকে কুরআন বাদ দিয়ে এমন এক অমোঘ সংবিধানে পরিণত করবে যা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না; না, এগুলো মানুষের লেখা। সে একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব (মুখতাসার) দিয়ে শুরু করবে এবং মাসআলাগুলো অনুধাবন করবে। যদি সে তা মুখস্থ করতে পারে তবে তো খুবই ভালো, আর মুখস্থ করতে না পারলে মাসআলাগুলো ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করবে এবং চিত্রায়ন করবে। সে এই কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো দেখবে এবং মাসআলাগুলোর দলিল নিয়ে ভাববে। এটি হবে প্রথম পর্যায়ের পাঠ। দ্বিতীয় পর্যায়ের পাঠে সে দেখবে কে লেখকের সাথে একমত হয়েছেন আর কে দ্বিমত করেছেন। যারা একমত হয়েছেন তাদের কাছে অতিরিক্ত কোনো দলিল আছে কি না তা দেখবে, আবার যারা দ্বিমত করেছেন তাদের দলিলগুলোও দেখবে। এরপর ইলমের ধারক-বাহকদের নিকট প্রচলিত ‘তাআরুদ’ (দলিলের বৈপরীত্য) ও ‘তারজীহ’ (প্রাধান্যদান)-এর মূলনীতি অনুযায়ী যেটি শক্তিশালী বা অগ্রগণ্য সেটি গ্রহণ করবে এবং সেই অনুযায়ী আমল করবে। প্রথম পাঠ শেষ করার পর তার মধ্যে ফিকহের এমন একটি ভিত্তি তৈরি হবে যা অনুযায়ী সে আমল করতে পারবে এবং সেই মাযহাব অনুযায়ী চলতে পারবে; তখনো সে একজন শিক্ষানবিশ ও মুকাল্লিদ (অনুসারী) হিসেবেই থাকবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পাঠে সে ইজতিহাদের দিকে অগ্রসর হবে। বিষয়টি সহজ, এটি কঠিন কিছু নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الصعوبة كما يتصوره كثير من طلاب العلم.
هذا ما يتعلق بمذهبه الفرعي، وقد ولد في أسرة حنبلية، فجده المجد ابن تيمية رحمه الله صاحب المحرر، وهو من العمد في المذهب بحيث إذا اتفق مع الموفق سار هو المذهب عند المتوسطين، وأبوه أيضاً حنبلي وأخوه، وكذا أسرته كلهم حنابلة، فتفقه على مذهب الحنابلة، ثم بعد ذلك اجتهد.
"عن مذهبي وعقيدتي" عرفنا أن عطف العقيدة على المذهب من خلال النظر في طبيعة هذه المنظومة، وأنه ليس فيها أحكام فرعية أن العقيدة هي المذهب، وهي مأخوذة من العقد والشد، وهي ما يعتقده الإنسان بقلبه فيعقد عليه قلبه كما يُعقد المتاع بالحبل بحيث لا يتفلت ولا يضيع منه شيء فيربطه ويعتقده بحزم وعزم وجد
"عن مذهبي وعقيدتي
… رزق الهدى" يدعو الناظم -رحمه الله تعالى- لمن يسأل عن الهداية.
. . . . . . . . .
… رزق الهدى من للهداية يسأل
هذا لفظه لفظ الخبر، والمراد منه الدعاء، أن الله -جل وعلا- يرزقه الهدى، والدعاء يأتي بلفظ الأمر، ويأتي بلفظ الخبر، كما أنه يأتي بلفظ النهي، يأتي بلفظ الخبر كما تقول: غفر الله لك، رحمك الله، رضي الله عنه، "رزق الهدى" ويأتي الدعاء بلفظ الأمر: اللهم اغفر لي، اللهم ارحمني، ويأتي بلفظ النهي: اللهم لا تؤاخذني، لا تعذبني
… إلى آخره، فإذا جاء الدعاء بلفظ الخبر جاز اقترانه بالمشيئة، وإذا جاء بلفظ الأمر لا يجوز اقترانه بالمشيئة، لا يقول أحدكم: اللهم اغفر لي إن شئت، لكن جاء عنه عليه الصلاة والسلام: ((طهور إن شاء الله)) يعني بلفظ الخبر، وجاء: ((ذهب الظمأ وثبت الأجر إن شاء الله)) دعاء بلفظ الخبر.
"رزق الهدى" الذي هو لزوم الصراط المستقيم والاستقامة على دين الله -جل وعلا-.
অনেক ইলম অন্বেষী যেমনটা ধারণা করেন, বিষয়টি তেমন কঠিন নয়।
এটি তাঁর শাখা সংক্রান্ত মাযহাবের (ফিকহী মাযহাব) বিষয়। তিনি একটি হাম্বলী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁর দাদা হলেন আল-মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ), যিনি 'আল-মুহাররার' গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি এই মাযহাবের এমন এক প্রধান স্তম্ভ যে, তিনি যদি আল-মুওয়াফফাক (ইবনে কুদামা)-এর সাথে একমত হন, তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের আলেমদের নিকট সেটিই মাযহাব হিসেবে গণ্য হয়। তাঁর পিতাও হাম্বলী ছিলেন এবং তাঁর ভাইও; অনুরূপভাবে তাঁর পুরো পরিবারই ছিল হাম্বলী। ফলে তিনি হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ অর্জন করেন, এরপর তিনি ইজতিহাদ করেন।
"আমার মাযহাব ও আকিদাহ সম্পর্কে" - এই কাব্যের প্রকৃতি পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, মাযহাবের সাথে আকিদাহর এই সংযোগটি এমন যে, এতে কোনো শাখা সংক্রান্ত বিধান (ফিকহী আহকাম) নেই। বরং আকিদাহই এখানে মাযহাব। আকিদাহ শব্দটি 'আকদ' এবং 'শাদ্দ' (বেঁধে ফেলা বা মজবুত করা) থেকে গৃহীত। এটি হলো এমন বিষয় যা মানুষ তার অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করে এবং তার ওপর স্বীয় অন্তরকে এমনভাবে বেঁধে নেয়, যেমন আসবাবপত্র রশি দিয়ে বাঁধা হয় যেন তা ফসকে না যায় বা তার কোনো অংশ হারিয়ে না যায়। ফলে সে একে দৃঢ়তা, সংকল্প ও ঐকান্তিকতার সাথে বেঁধে ফেলে এবং বিশ্বাস করে।
"আমার মাযহাব ও আকিদাহ সম্পর্কে
… হেদায়াতপ্রাপ্ত হোক" - নাযিম (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) এখানে সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করছেন যে হেদায়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে।
. . . . . . . . .
… হেদায়াতপ্রাপ্ত হোক সেই ব্যক্তি যে হেদায়াতের জন্য সওয়াল করে।
এটি শব্দগতভাবে বর্ণনামূলক বাক্য, কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দোয়া; অর্থাৎ মহান আল্লাহ তাকে হেদায়াত দান করুন। দোয়া কখনও আদেশের শব্দে আসে, কখনও বর্ণনামূলক শব্দে আসে, আবার কখনও নিষেধের শব্দেও আসে। বর্ণনামূলক শব্দে দোয়ার উদাহরণ হলো যেমন আপনি বলেন: আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন, "সে হেদায়াতপ্রাপ্ত হোক"। আর দোয়া আদেশের শব্দে আসে যেমন: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ, আমার প্রতি দয়া করুন। আর নিষেধের শব্দে আসে যেমন: হে আল্লাহ, আমাকে পাকড়াও করবেন না, আমাকে আজাব দেবেন না
… ইত্যাদি। যদি দোয়া বর্ণনামূলক শব্দে আসে, তবে তার সাথে আল্লাহর ইচ্ছার (মশিয়্যাত) সংশ্লিষ্টতা জায়েয। কিন্তু যখন আদেশের শব্দে আসে, তখন তার সাথে আল্লাহর ইচ্ছা যোগ করা জায়েয নয়। তোমাদের কেউ যেন না বলে: হে আল্লাহ, আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "পবিত্রতা অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ", যা বর্ণনামূলক শব্দে দোয়া। আবার বর্ণিত হয়েছে: "তৃষ্ণা দূরীভূত হয়েছে এবং সওয়াব সাব্যস্ত হয়েছে ইনশাআল্লাহ", এটিও বর্ণনামূলক শব্দে দোয়া।
"হেদায়াতপ্রাপ্ত হোক" - যা হলো সিরাতে মুস্তাকীমকে আঁকড়ে ধরা এবং মহান আল্লাহর দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
"من للهداية يسأل" لأنه مأمور بالسؤال، فإذا امتثل هذا الأمر وسأل أهل العلم عن ما يشكل عليه فإنه حينئذٍ يوفق للاستقامة، إذا سأل سؤال مسترشد طالب للحق لا متعنت، لا متعالم مظهر لعلمه؛ لأن بعض الناس يسأل وعنده جواب، إما أن يريد إعنات المسئول، أو يريد إظهار ما عنده من علم، مثل هذا لا يرزق الهدى في الغالب، ولا يرزق التوفيق ولا يوفق للعلم، أما من سأل سؤال طالب للهدى، وطالب لمعرفة الحق، فإن هذا يوفق؛ لأنه يمتثل ما أمر به، ولذا جاء النهي عن الأغلوطات، يعني الأسئلة المحرجة التي تبين إما فضل السائل أو عجز المسئول، فمثل هذا منهي عنه، أما من يسأل للاستفادة هذا مطلوب.
وفي عهده عليه الصلاة والسلام جاء النهي عن السؤال: ((ذروني ما تركتكم، فإنما أهلك من كان قبلكم كثرة سؤالهم، واختلافهم على أنبيائهم)) فكثرة الأسئلة لا شك أنها توقع في عنت، لا سيما في وقت التنزيل؛ لأنه قد يسأل عن شيء مباح ثم يحرم بسببه، أو يسأل عن شيء لا حكم له في الشرع إنما تستصحب فيه البراءة الأصلية ثم ينزل إيجابه، فلما سأل السائل عن الحج أكل عام يا رسول الله؟ سكت النبي عليه الصلاة والسلام، ثم قال: ((ذروني ما تركتكم)) لأنه لو قال: نعم لوجبت، ولو وجبت ما استطاعوا فهلكوا، فالذي يسأل إن كان يريد الحق ليعمل به، هذا لا شك أنه يوفق ويثاب على ذلك، وإن كان يريد إعنات المسئول، أو إظهار ما عنده من علم مثل هذا يحرم بركة العلم والعمل.
"যে হিদায়াতের জন্য জিজ্ঞাসা করে" কারণ তাকে জিজ্ঞাসা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং সে যখন এই আদেশ পালন করে এবং তার কাছে যা অস্পষ্ট তা সম্পর্কে ইলমের অধিকারীদের (আলেমদের) জিজ্ঞাসা করে, তখন তাকে সঠিক পথে অটল থাকার তাওফিক দেওয়া হয়; যদি সে সত্যের সন্ধানী পথপ্রত্যাশী হিসেবে প্রশ্ন করে, হঠকারী হিসেবে নয় এবং নিজের জ্ঞান জাহিরকারী মেকি পণ্ডিত হিসেবেও নয়। কারণ কিছু মানুষ প্রশ্ন করে অথচ তার কাছে উত্তর জানা থাকে; হয় সে উত্তরদাতাকে বিব্রত করতে চায়, অথবা নিজের কাছে যে ইলম আছে তা প্রকাশ করতে চায়। এ ধরণের ব্যক্তি অধিকাংশ ক্ষেত্রে হিদায়াত লাভে ধন্য হয় না, সে তাওফিক পায় না এবং ইলমের ক্ষেত্রেও সফল হয় না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি হিদায়াত কামনাকারী এবং সত্য জানার অন্বেষী হয়ে প্রশ্ন করে, সে তাওফিকপ্রাপ্ত হয়; কারণ সে যা আদিষ্ট হয়েছে তা পালন করে। এ কারণেই 'আগলুতাত' বা অসার ও জটিল প্রশ্ন থেকে নিষেধ করা হয়েছে, অর্থাৎ এমন সব বিব্রতকর প্রশ্ন যা হয় প্রশ্নকারীর শ্রেষ্ঠত্ব অথবা উত্তরদাতার অক্ষমতা প্রকাশ করে। এ জাতীয় প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ; আর যে উপকারের জন্য প্রশ্ন করে, তা কাম্য।
আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুগে প্রশ্ন করা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল: "আমি তোমাদেরকে যতক্ষণ যে অবস্থায় ছেড়ে রাখি তোমরা আমাকে সে অবস্থায় থাকতে দাও (অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করো না)। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে।" সুতরাং অধিক প্রশ্ন করা যে মানুষকে কষ্টের মুখে ঠেলে দেয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই, বিশেষ করে ওহী নাজিল হওয়ার সময়ে। কারণ হতে পারে এমন কোনো বৈধ বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা সেই প্রশ্নের কারণেই হারাম করে দেওয়া হলো, অথবা এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো শরীয়তে যার কোনো বিধান ছিল না বরং তাতে মূলগতভাবে দায়মুক্তি বা বৈধতা বহাল ছিল, এরপর সেই প্রশ্নের কারণে তার আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার বিধান নাজিল হলো। যেমন এক ব্যক্তি যখন হজ্জ সম্পর্কে প্রশ্ন করল: হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছর কি হজ্জ করতে হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ থাকলেন। এরপর বললেন: "আমি তোমাদের যে অবস্থায় রেখেছি সে অবস্থায় আমাকে থাকতে দাও।" কারণ তিনি যদি বলতেন 'হ্যাঁ', তবে তা প্রতি বছর ওয়াজিব হয়ে যেত; আর ওয়াজিব হয়ে গেলে তারা তা পালন করতে সক্ষম হতো না এবং ফলশ্রুতিতে ধ্বংস হয়ে যেত। সুতরাং যে ব্যক্তি প্রশ্ন করে সে যদি সত্য জানতে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে চায়, তবে নিঃসন্দেহে সে তাওফিকপ্রাপ্ত হবে এবং এর জন্য পুরস্কার লাভ করবে। আর যদি সে উত্তরদাতাকে বিব্রত করতে চায় অথবা নিজের ইলম জাহির করতে চায়, তবে এ জাতীয় ব্যক্তি ইলম ও আমলের বরকত থেকে বঞ্চিত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قد يسأل الشخص للاختبار، يسأل للامتحان، وهذا من وسائل التعليم، يسأل عن شيء يعرفه لا يريد بذلك إعنات المسئول، ولا إظهار علم السائل، وإنما يريد امتحان المسئول لينظر ما عنده من علم، والامتحان معروف عند أهل العلم، واختبار الإمام البخاري بقلب مائة حديث عليه في القصة المشهورة معروف، والمعلم يمتحن طلابه، وقد يلقي الدرس على طريق السؤال والجواب، وهذه طريقة ناجحة، طريقة التعليم على هيئة سؤال وجواب، والأصل فيها حديث جبريل عليه السلام لما سأل النبي عليه الصلاة والسلام الأسئلة الثلاثة المعروفة؛ لأن بعض الناس يقول: إن هذه الطريقة جاءتنا من وسائل التربية الحديثة الوافدة علينا، التعليم بطريقة الحوار والسؤال والجواب هذه يقول: طريقة مستحدثة اكتسبناها من المربين، سواء كانوا من المسلمين أو من غيرهم، نقول: لا، هذه طريقة شرعية.
. . . . . . . . .
… رزق الهدى من للهداية يسأل
يسأل للدلالة على الحق، الذي يسأل للدلالة على الحق فقط؛ هذا يرزق الهدى فيهديه الله -جل وعلا- إلى صراطه المستقيم، ويلزمه هذا الصراط والاستقامة على الدين.
اسمع كلام محقق في قوله
… . . . . . . . . .
(اسمع) أمر بالسمع، وهل المقصود السمع أو الاستماع؟ يعني هل المقصود اسمع وإلا استمع؟ نعم المقصود الاستماع، المراد هنا الاستماع، أما مجرد السمع فلا يكفي، والفرق بينهما أن السماع قد يكون عن غير قصد، فلا يستفيد السامع، وأما الاستماع المقصود للإفادة هذا هو الذي يفيد السامع، ولذا يقول أهل العلم: يسجد المستمع دون السامع، وقل مثل هذا أي بعكس هذا: يأثم المستمع دون السامع، كيف؟ إذا كان الكلام يعني بالمقابل فيه إثم، أغاني مثلاً أو موسيقى أو كلام بذيء أو فاحش الذي يستمع له يأثم، لكن الذي يسمعه وهو مار في الطريق، دائماً تسمعون بعض الناس في سيارته يشغل آلاته على الأغاني مثلاً، أنت وش بيدك تقدر تمنعه وإلا ترده؟ أنت تسمع لا تستمع، لكن إن استمعت، وأعجبك وأطربك أثمت، لكن مجرد السماع لا يضرك -إن شاء الله تعالى- لا سيما الإنكار القلبي إن لم يتيسر الإنكار بالقول.
একজন ব্যক্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করতে পারে, যাচাইয়ের জন্য জিজ্ঞাসা করতে পারে; আর এটি শিক্ষার অন্যতম একটি মাধ্যম। সে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করে যা সে নিজেই জানে, যার মাধ্যমে সে উত্তরদাতাকে সংকটে ফেলা কিংবা প্রশ্নকর্তার নিজের জ্ঞান জাহির করতে চায় না, বরং তার উদ্দেশ্য হলো উত্তরদাতাকে পরীক্ষা করা যাতে দেখা যায় তার কাছে কী পরিমাণ ইলম আছে। ইলমের অধিকারীদের (আহলুল ইলম) কাছে পরীক্ষা পদ্ধতিটি সুপরিচিত। প্রসিদ্ধ সেই ঘটনায় ইমাম বুখারীকে একশটি হাদীস উল্টেপাল্টে দিয়ে পরীক্ষা করার বিষয়টি সর্বজনবিদিত। শিক্ষক তার ছাত্রদের পরীক্ষা করেন। অনেক সময় তিনি প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে পাঠদান করেন, আর এটি একটি সফল পদ্ধতি; প্রশ্ন ও উত্তরের আকারে শিক্ষাদানের পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মূল ভিত্তি হলো জিবরীল আলাইহিস সালামের সেই হাদীস, যখন তিনি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে সেই সুপরিচিত তিনটি প্রশ্ন করেছিলেন। কারণ কিছু লোক বলে থাকে যে, এই পদ্ধতিটি আমাদের কাছে আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমগুলো থেকে এসেছে। সংলাপ, প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার এই পদ্ধতি সম্পর্কে তারা বলে যে, এটি একটি নব্য প্রবর্তিত পদ্ধতি যা আমরা মুসলিম বা অমুসলিম শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে অর্জন করেছি। আমরা বলি: না, বরং এটি একটি শরয়ী পদ্ধতি।
. . . . . . . . .
… যে হেদায়েতের জন্য প্রশ্ন করে, তাকে হেদায়েত দান করা হয়।
সে সত্যের দিকনির্দেশনা লাভের জন্য প্রশ্ন করে। যে ব্যক্তি কেবল সত্যের পথ পাওয়ার জন্য জিজ্ঞাসা করে, তাকে হেদায়েত দান করা হয়। ফলে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাকে তাঁর সরল পথ (সিরাতুম মুস্তাকিম)-এর দিকে পরিচালিত করেন এবং তাকে এই পথে অবিচল থাকা ও দ্বীনের ওপর সুদৃঢ় থাকার তৌফিক দান করেন।
তাঁর এই বাণীতে একজন গবেষকের কথা শোনো
… . . . . . . . . .
(শোনো) এটি শোনার একটি নির্দেশ। এখানে কি স্রেফ কানে আওয়াজ আসা উদ্দেশ্য নাকি মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা? অর্থাৎ উদ্দেশ্য কি কেবল শোনা নাকি শ্রবণ করা? হ্যাঁ, এখানে উদ্দেশ্য হলো মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা। কেবল কানে আওয়াজ আসা বা শোনা এখানে যথেষ্ট নয়। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো, সাধারণ শ্রবণ বা শোনা অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত হতে পারে, ফলে শ্রোতা তা থেকে উপকৃত হয় না। কিন্তু উপকারের উদ্দেশ্যে যে শ্রবণ করা হয়, তা-ই শ্রোতাকে উপকৃত করে। এই কারণেই ইলমের অধিকারীগণ বলেন: মনোযোগ দিয়ে শ্রবণকারীর (মুস্তামি‘) ওপর সিজদা আবশ্যক হয়, কেবল সাধারণ শ্রোতার (সামি‘) ওপর নয়। ঠিক একইভাবে এর বিপরীতটাও বলা যায়: মনোযোগ দিয়ে শ্রবণকারী গুনাহগার হবে, কেবল সাধারণ শ্রোতা নয়। কীভাবে? যদি কথাগুলো গুনাহর কাজ হয়, যেমন গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র অথবা অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কথা; তবে যে তা মনোযোগ দিয়ে শুনবে সে গুনাহগার হবে। কিন্তু যে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কেবল কানে আওয়াজ আসে—সাধারণত আপনি শুনে থাকেন যে কিছু লোক তাদের গাড়িতে গান-বাজনার যন্ত্র ছেড়ে রাখে—সেক্ষেত্রে আপনার হাতে কী করার আছে? আপনি কি তাকে আটকাতে পারবেন নাকি ফিরিয়ে দিতে পারবেন? আপনি কেবল শুনছেন, মনোযোগ দিচ্ছেন না। কিন্তু আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তা আপনাকে আনন্দিত বা আপ্লুত করে, তবে আপনি গুনাহগার হবেন। কিন্তু স্রেফ কানে আওয়াজ আসা আপনার কোনো ক্ষতি করবে না—ইনশাআল্লাহ তাআলা—বিশেষ করে যদি মুখে প্রতিবাদ করা সম্ভব না হওয়ার কারণে অন্তরে ঘৃণা পোষণ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
طيب إذا كان الشخص في مجلس وفيه محرم إما غناء أو غيبة، أو ما أشبه ذلك وهو جالس، يقول: أنا لا أستمع له، أنا في معزل عنه، أنا أنشغل بقراءة كتاب معي، وهم في شأنهم، يكفي وإلا ما يكفي؟ لا بد أن تنكر، إن زال المنكر وإلا عليك أن تغادر المكان.
"اسمع كلام محقق" الكلام عند النحويين اللفظ المركب المفيد بالوضع، اللفظ: أي الملفوظ به، المركب من كلمتين فأكثر، المفيد فائدة يحسن السكوت عليها، بالوضع العربي أو بالقصد على خلاف بينهم، وهو عند الفقهاء ما تركب من حرفين، ولو لم يفد عند الفقهاء يبطل الصلاة؛ لأنه كلام ولا يلزم أن يكون من كلمتين فأكثر كما يقول النحاة، وعلى كل حال الكلام له معاني كثيرة، لكن منها ما ذكرنا.
"اسمع كلام محقق" محقق متثبت معتمد على أصلٍ من كتابٍ أو سنةٍ، هذا هو التحقيق، فإذا قيل: فلان محقق معناه أنه يتثبت فيما يقول وفيما يكتب، ومعوله وعمدته على الكتاب والسنة.
বেশ, যদি কোনো ব্যক্তি এমন মজলিসে থাকে যেখানে কোনো নিষিদ্ধ কাজ হচ্ছে—তা গান হোক বা গীবত হোক কিংবা অনুরূপ কিছু—আর সে সেখানে বসে বলে: "আমি তো তা শুনছি না, আমি এসব থেকে বিচ্ছিন্ন আছি, আমি আমার সাথে থাকা একটি বই পড়ায় ব্যস্ত আছি আর তারা তাদের কাজে লিপ্ত", তবে কি তা যথেষ্ট হবে? না, যথেষ্ট নয়। আপনাকে অবশ্যই প্রতিবাদ করতে হবে; যদি সেই অপছন্দনীয় কাজ বন্ধ হয় তবে ভালো, অন্যথায় আপনাকে সেই স্থান ত্যাগ করতে হবে।
"একজন মুহাক্কিকের (গবেষকের) কথা শুনুন"; ব্যাকরণবিদদের মতে 'কালাম' বা কথা হলো এমন অর্থবোধক যৌগিক উচ্চারণ যা সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী গঠিত। উচ্চারণ: অর্থাৎ যা মুখ দিয়ে উচ্চারিত হয়েছে। যৌগিক: যা দুই বা ততোধিক শব্দ দ্বারা গঠিত। অর্থবোধক: যা এমন অর্থ প্রদান করে যার পর নীরব থাকা সঠিক হয়। এটি আরবি ভাষার সংস্থাপন অনুযায়ী বা বক্তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী হতে পারে—এ ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অন্যদিকে ফকিহদের নিকট যা দুটি বর্ণ দ্বারা গঠিত হয় তাকেই 'কালাম' বলা হয়, যদিও তা ব্যাকরণবিদদের ন্যায় কোনো পূর্ণ অর্থ প্রদান না করে। ফকিহদের মতে এটি সালাতকে বাতিল করে দেয়; কারণ এটি কথা হিসেবে গণ্য, আর এক্ষেত্রে নাহুবিদদের ন্যায় দুই বা ততোধিক শব্দ হওয়া শর্ত নয়। যাই হোক, 'কালাম' শব্দের অনেক অর্থ রয়েছে, তবে আমরা তার মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করলাম।
"একজন মুহাক্কিকের কথা শুনুন"; মুহাক্কিক হলেন তিনি যিনি সুনিশ্চিতভাবে যাচাইকারী এবং কিতাব ও সুন্নাহর মূল ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল। এটাই হলো প্রকৃত তাহকিক (গবেষণা)। সুতরাং যখন বলা হয়: "অমুক ব্যক্তি একজন মুহাক্কিক", তখন এর অর্থ দাঁড়ায় যে, তিনি যা বলেন এবং যা লেখেন তাতে তিনি তথ্য যাচাই ও নিশ্চিত করেন এবং তাঁর মূল ভরসা ও নির্ভরতা হলো কুরআন ও সুন্নাহ।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
محقق قد يكون قائل: هذه دعوى، ما الذي يشهد لها؟ نقول: يشهد لها واقع المنظومة ففيها تحقيق عقيدة السلف الصالح، ووصف عالم من العلماء بأنه المحقق، قال: فلان، قال: شيخنا الإمام المحقق، وأحياناً يقال: والتحقيق كذا، وصف العالم بالتحقيق لا شك أنها تحكي وجهة نظر الواصف، فقد تكون وجهة هذه النظر صحيحة لكون الموصوف ممن يعتمد على الكتاب والسنة، وقد تكون دعوى، وأحياناً إذا رجح قول من قبل بعض أهل العلم، يريد أن يرجح هذا القول لأنه راجح عنده، يقول: اختاره كثير من المحققين، هذه مجرد دعم لكلامه ولما يرجحه، ولا شك أن هذا الوصف إنما يحكي وجهة نظر المتكلم، وقد يكون محققًا من وجهة نظره؛ لأنه يوافقه في مذهبه الأصلي أو الفرعي، فتجد الأشعري يصف الرازي بأنه محقق مثلاً، وتجد الحنفي يصف إمام من أئمة الحنفية بأنه محقق، وتجد المالكي يصف فلان بأنه محقق، هذه كلها من وجهة نظر المتكلم، لكن هل تثبت هذه الدعوة عند التمحيص أو لا تثبت؟ هذا محل النظر، وكثير من الكتَّاب يدعمون أقوالهم بمثل هذا الكلام، وهي لا تؤثر على القارئ؛ لأن القارئ إن كان من أهل النظر فما يؤديه إليه اجتهاده هو التحقيق عنده، وافق قول هذا المحقق أو لم يوافقه، وعلى كل حال من يتثبت في أقواله وأفعاله محقق، من يعول على نصوص الوحيين محقق، أما من يخالف الكتاب والسنة مهما بلغ من المنزلة عند أتباعه فليس بمحقق.
اسمع كلام محقق في قوله
… . . . . . . . . .
"في قوله" في المسائل العلمية، فيما يقوله، فيما يلفظ به، وفيما يكتبه، وفيما يعمل به، فالقول يطلق على ما هو أعم من اللفظ، فيطلق على اللفظ فيما إذا كان الكلام بالقول باللسان، ويطلق على الكتابة، كما أنه يطلق على الإشارة، ويطلق أيضاً على الفعل "فقال بيديه هكذا" فالقول أعم من أن يكون ملفوظاً به.
اسمع كلام محقق في قوله
… لا ينثني عنه ولا يتبدل
গবেষক বা তত্ত্বানুসন্ধানী—কেউ হয়তো বলতে পারেন: এটি একটি দাবি মাত্র, এর স্বপক্ষে প্রমাণ কী? আমরা বলব: এই কাব্যগ্রন্থের বাস্তবতাই এর সাক্ষ্য দেয়, কারণ এতে সালাফে সালেহীনের আকিদা বা বিশ্বাসের যথাযথ বিশ্লেষণ রয়েছে। কোনো আলেমকে 'তত্ত্বানুসন্ধানী' হিসেবে বর্ণনা করা হয়; যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি বলেছেন, কিংবা আমাদের শাইখ তত্ত্বানুসন্ধানী ইমাম বলেছেন। আবার কখনো বলা হয়: 'গবেষণালব্ধ সঠিক তথ্য হলো এই'। কোনো আলেমকে 'তত্ত্বানুসন্ধানী' হিসেবে আখ্যায়িত করা নিঃসন্দেহে বর্ণনাকারীর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি কখনো সঠিক হতে পারে যদি বর্ণিত ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহর ওপর নির্ভরশীল হন, আবার কখনো এটি কেবল একটি দাবিও হতে পারে। অনেক সময় যখন কোনো আলেম একটি মতকে প্রাধান্য দিতে চান, কারণ তার কাছে সেটিই অগ্রগণ্য, তখন তিনি বলেন: 'অনেক তত্ত্বানুসন্ধানী আলেম এটিই পছন্দ করেছেন'। এটি কেবল তার বক্তব্য এবং তার পছন্দের মতটিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য একটি প্রয়াস মাত্র। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিশেষণটি কেবল বক্তার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রকাশ করে। তার দৃষ্টিতে সেই ব্যক্তি তত্ত্বানুসন্ধানী হতে পারেন; কারণ তিনি তার মৌলিক বা শাখা বিষয়ক মাযহাবের সাথে একমত পোষণ করেন। তাই আপনি দেখবেন, একজন আশআরি আলেম ইমাম রাজি-কে তত্ত্বানুসন্ধানী হিসেবে বর্ণনা করছেন, একজন হানাফি আলেম হানাফি মাযহাবের কোনো ইমামকে তত্ত্বানুসন্ধানী বলছেন, আবার একজন মালেকি আলেম অমুককে তত্ত্বানুসন্ধানী বলছেন। এই সবই বক্তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণের সময় এই দাবি কি টিকে থাকবে নাকি থাকবে না? সেটিই হলো দেখার বিষয়। অনেক লেখক তাদের বক্তব্যকে এ জাতীয় কথার মাধ্যমে সমর্থন করেন, যা পাঠকের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। কারণ পাঠক যদি বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন হন, তবে তার নিজস্ব ইজতিহাদ বা গবেষণা তাকে যে সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়, সেটিই তার কাছে প্রকৃত তত্ত্বানুসন্ধান বা তাহকীক, চাই তা এই বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের সাথে মিলুক বা না মিলুক। মোটকথা, যিনি তার কথা ও কাজে দৃঢ়তা অবলম্বন করেন এবং সত্য যাচাই করেন, তিনিই তত্ত্বানুসন্ধানী। যিনি ওহীর দুই উৎসের (কুরআন ও সুন্নাহ) দলীলসমূহের ওপর নির্ভর করেন, তিনিই প্রকৃত তত্ত্বানুসন্ধানী। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করে, তার অনুসারীদের কাছে তার মর্যাদা যতই হোক না কেন, সে তত্ত্বানুসন্ধানী নয়।
তার এই উক্তিতে একজন তত্ত্বানুস্থানীর কথা শোনো
… . . . . . . . . .
"তার উক্তিতে" বলতে ইলমি মাসআলাসমূহে, তিনি যা বলেন, যা উচ্চারণ করেন, যা লেখেন এবং যা অনুযায়ী আমল করেন। কারণ 'উক্তি' শব্দটি কেবল উচ্চারিত শব্দের চেয়েও ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি জিহ্বা দিয়ে উচ্চারিত শব্দের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আবার লেখার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। যেমন এটি ইশারার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এবং কাজের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: "তিনি তার দুই হাত দিয়ে এভাবে বললেন (অর্থাৎ কাজ করলেন)"। সুতরাং 'উক্তি' কেবল মুখে উচ্চারিত হওয়ার চেয়েও অনেক বেশি ব্যাপক।
তার এই উক্তিতে একজন তত্ত্বানুস্থানীর কথা শোনো
… যা থেকে তিনি বিচ্যুত হন না এবং যা পরিবর্তন হয় না।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
لا شك أن القول المبني على الكتاب والسنة يكتسب صفة الثبوت واللزوم وعدم التبدل والتبديل من ثبوت نصوص الكتاب والسنة "لا ينثني عنه" هذا يعتمد على الكتاب والسنة، والنصوص ثابتة، إذاً ما أخذ منها فهو ثابت، لا سيما في هذا الباب، باب الاعتقاد الذي اتفق عليه سلف هذه الأمة، هذا لا يحصل له تغيير ولا تبديل ولا تزعزع بإذن الله، اللهم إلا إذا كان الإنسان غير راسخ في هذا الباب، ويعرض نفسه للشبهات، فمثل هذا قد يطرأ عليه التغير والتبدل.
أما من رسخ في علمه، واطلع على نصوص الكتاب والسنة، وما اتفق عليه سلف هذه الأمة، فإنه لا يتزعزع ولا يتبدل ولا ينثني عن ذلك، وقلنا: إن بعض طلاب العلم حصل عندهم شيءٌ من الانثناء والتبدل، وذلكم لعدم رسوخهم في هذا الباب، وأيضاً لاستماعهم إلى الشبه، وفتح قلوبهم لها، فليحذر الإنسان كل الحذر أن تميل به الأهواء، ويسمع من فلان وفلان غير الثقات من أهل العلم، والآن المجال مفتوح لاستماع ما يقال عنه، كل وجهة نظر، والشبه الآن غزت البيوت، في بيوت عوام المسلمين، ونسمع أسئلة من عوام لا يقرؤون ولا يكتبون في أصول العقائد، وسبب ذلك كون الإنسان يستمع لكل ناعق.
والناظم يقول:
. . . . . . . . .
… لا ينثني عنه ولا يتبدل
لأنه رسخت قدمه في هذا الباب، واستمع إلى الشبه وفندها، ولذا يقال لطالب العلم: لا تستمع لهذه الشبه، وأنت ما عندك حصانة من رسوخ قدم في العلم، لا تستمع لهذه الشبهة، فضلاً على أن تكون عامياً أو في حكم العامي، وإذا تأهل لاستماع هذه الشبه، وتفنيد هذه الشبهة لا شك أن الرد على هذه الشبه باب من أعظم أبواب الجهاد.
وقد انبرى شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى- إلى شبه المبتدعة وفندها، الرازي يورد في تفسيره شبه لمبتدعة أعظم منه بدعة، أما بدعه التي يصوغها بأساليب بحيث تغزو القلوب هذا واضح، لكن كونه يورد شبه ويسميها شبهة ويحاول الإجابة عنها تجده في إيراده للشبه يجليها ويوضحها بحيث يجعلها مثل الشمس، ثم يرد عليها بردٍ ضعيف، فإذا التصقت وتمكنت من قلب القارئ ما وجد لها منازع، ولذا يحذر من قراءة تفسيره إلا لعالم متمكن راسخ لكي يرد عليه.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বক্তব্য স্থায়িত্ব, অপরিহার্যতা এবং অপরিবর্তনীয় হওয়ার বৈশিষ্ট্য অর্জন করে কিতাব ও সুন্নাহর নসসমূহের স্থায়িত্ব থেকে। "তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যায় না" — এটি কিতাব ও সুন্নাহর ওপর নির্ভরশীল, আর নসসমূহ স্থায়ী। সুতরাং যা কিছু তা থেকে গ্রহণ করা হয় তাও স্থায়ী, বিশেষ করে এই অধ্যায়ে অর্থাৎ আকিদার অধ্যায়ে যার ওপর এই উম্মতের সালাফগণ একমত হয়েছেন। আল্লাহর ইচ্ছায় এতে কোনো পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা বিচ্যুতি ঘটে না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি এই বিষয়ে সুদৃঢ় না হয় এবং নিজেকে সংশয়ের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়, তবে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও বিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে।
পক্ষান্তরে যার জ্ঞান সুদৃঢ় হয়েছে এবং যিনি কিতাব ও সুন্নাহর নসসমূহ এবং এই উম্মতের সালাফদের ঐকমত্যের বিষয়গুলো অবগত হয়েছেন, তিনি কখনও বিচ্যুত হন না, পরিবর্তিত হন না এবং তা থেকে ফিরে আসেন না। আমরা বলেছি যে, কিছু তালিবে ইলমের ক্ষেত্রে কিছুটা বিচ্যুতি ও পরিবর্তন ঘটেছে; আর তা হয়েছে এই বিষয়ে তাদের জ্ঞানের দৃঢ়তা না থাকার কারণে এবং সংশয়গুলো শোনার ও সেগুলোর জন্য নিজেদের অন্তর উন্মুক্ত করে দেওয়ার কারণে। সুতরাং মানুষের অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত যেন প্রবৃত্তি তাকে পথভ্রষ্ট না করে এবং সে যেন অনির্ভরযোগ্য আলেমদের কথা না শোনে। বর্তমানে সব ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি শোনার ক্ষেত্র উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং সংশয়গুলো এখন সাধারণ মুসলমানদের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। এমনকি আমরা আকিদার মূলনীতি বিষয়ে এমন সব সাধারণ মানুষের প্রশ্ন শুনি যারা পড়তে বা লিখতে জানে না। এর কারণ হলো মানুষ প্রতিটি আহ্বানকারীর কথাই কান পেতে শোনে।
আর নাযিম বলেন:
. . . . . . . . .
… তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যায় না এবং তা পরিবর্তিতও হয় না।
কারণ এই বিষয়ে তাঁর পা সুদৃঢ় হয়েছে এবং তিনি সংশয়গুলো শুনেছেন ও সেগুলোকে খণ্ডন করেছেন। এইজন্যই তালিবে ইলমদের বলা হয়: তুমি এই সংশয়গুলো শোনো না যখন তোমার জ্ঞানের ক্ষেত্রে পা সুদৃঢ় হয়নি। তুমি এই সংশয়গুলো শোনো না, বিশেষ করে যদি তুমি সাধারণ মানুষ বা সাধারণ মানুষের পর্যায়ের হও। আর যখন কেউ এই সংশয়গুলো শোনার এবং খণ্ডন করার যোগ্যতা অর্জন করে, তখন সন্দেহ নেই যে এই সংশয়গুলোর জবাব দেওয়া জিহাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
শায়খুল ইসলাম —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— বিদআতিদের সংশয়গুলোর মোকাবিলা করেছেন এবং সেগুলো খণ্ডন করেছেন। রাজি তাঁর তাফসিরে এমন সব বিদআতিদের সংশয় উল্লেখ করেছেন যারা তাঁর চেয়েও বড় বিদআতি। তিনি তাঁর বিদআতগুলোকে এমন শৈল্পিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেন যা হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলে, এটি স্পষ্ট। কিন্তু তিনি যখন কোনো সংশয় উল্লেখ করেন এবং তাকে সংশয় হিসেবে অভিহিত করে তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন দেখা যায় যে সংশয়টি উপস্থাপনের সময় তিনি সেটিকে এমনভাবে স্পষ্ট ও উজ্জ্বল করেন যে তা সূর্যের মতো মনে হয়। এরপর তিনি সেটির খুব দুর্বল জবাব দেন। ফলে যখন সেটি পাঠকের হৃদয়ে গেঁথে যায় এবং বদ্ধমূল হয়ে যায়, তখন সেটির কোনো প্রতিপক্ষ পাওয়া যায় না। এই কারণেই একজন দক্ষ ও সুদৃঢ় আলেম ছাড়া অন্যদের তাঁর তাফসির পড়তে নিষেধ করা হয় যাতে তিনি সেটির প্রতিবাদ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يقول بعض أهل العلم: إنه يورد الشبه نقد، ويرد عليها نسيئة، وكتابه مشحون بهذه الشبه، وتفسير الزمخشري فيه أيضًا من البدع والشبه ما لا يستطيع رده كثير من أهل العلم فضلاً عن طلاب العلم، ووجد من أهل العلم -ولله الحمد- من يبين هذه الشبه وهذه البدع وتتبعوها بالمناقيش كما قالوا.
قال رحمه الله بعد ذلك:
حب الصحابة كلهم لي مذهب
… ومودة القربى بها أتوسل
কিছু আলেম বলেন: নিশ্চয়ই তিনি সংশয়গুলো নগদ পেশ করেন, আর সেগুলোর উত্তর দেন বাকিতে; তাঁর কিতাব এই সংশয়সমূহে পরিপূর্ণ। যামাখশারীর তাফসীরেও এমন সব বিদআত ও সংশয় রয়েছে যা ইলম অন্বেষণকারীদের তো কথাই নেই, অনেক আলেমও খণ্ডন করতে সক্ষম নন। তবে আলেমদের মাঝে এমন লোক পাওয়া গেছেন—সকল প্রশংসা আল্লাহর—যারা এই সকল সংশয় ও বিদআতসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং যেমনটি বলা হয়, তারা এগুলোকে চিমটা দিয়ে খুঁটিয়ে বের করেছেন।
এরপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন:
সমস্ত সাহাবীর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করাই আমার মাযহাব
… আর (রাসূলের) নিকটাত্মীয়দের প্রতি মহব্বতকে আমি অসীলা হিসেবে গ্রহণ করি।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
حب الصحابة -رضوان الله عليهم- الذين نصر الله بهم الدين، وحملوه وبلغوه إلى من بعدهم، "كلهم" بدون استثناء ما دام ثبتت الصحبة يجب حبهم، وحبهم إيمان، وبغضهم نفاق، حب الصحابة إذا كان ثبت في الحديث أنه ((لا يؤمن أحدكم حتى يحب لأخيه ما يحب لنفسه)) أخيه من آحاد المسلمين، لا يؤمن حتى يحب لأخيه ما يحب لنفسه؛ فماذا عمن لهم المنة والفضل بعد الله -جل وعلا- ورسوله عليه الصلاة والسلام في تبليغنا الدين؟! أنت افترض أن أبا هريرة مثلاً ما وُجد، وقد روي عن طريقه نصف الدين، ماذا يكون وضعك؟ وماذا يكون حالك؟ وماذا يكون الحال بعد الصحابة لو لم يوجد مثل هذا الذي حمل لنا الدين؟ وقل مثله في بقية الصحابة -رضوان الله عليهم- الذين بلغونا هذا الدين، يبقى لنا دين لو لم يوجد هذا الجيل الذي تحمل الأمانة وبلغها امتثالاً لقوله عليه الصلاة والسلام: ((بلغوا عني ولو آية))؟! ((ليبلغ الشاهد منكم الغائب)) يعني لو لم يكن من الفضل إلا هذا، يعني كونهم نصروا الدين ونصروا النبي عليه الصلاة والسلام، وفدوه بأرواحهم ومهجهم، وبلغوه إلى شرق الأرض وغربها، وافتتحوا به الأقطار والأقاليم والأمصار، وانتشر الدين على أيديهم، إذًا حبهم مثل حب الإنسان العادي أو أكثر؟ لا أحد يقول: إن حب أبي هريرة مثل زيد من الناس أبداً، إلا إنسان لا يقيم لهذا الدين رأس، والنبي عليه الصلاة والسلام دعا لأبي هريرة أن يحب الخلق ويحبه الخلق، فصار محبوباً لدى الجميع، ولذا لا يبغضه إلا منافق، وتجد الحملات والقدح في أبي هريرة أكثر من غيره؛ لأن ليس المقصود ذات أبي هريرة، المقصود الدين والعلم الذي يحمله أبو هريرة، إذًا لماذا أبو هريرة على وجه الخصوص دون غيره؟ لأن القدح في أبي هريرة قدح في مروياته، والقدح في أكثر من خمسة آلاف حديث بسبب شخص واحد أيسر من القدح في مائة راوي يروون خمسة آلاف حديث، لذا لا تجدون من يقدح في المقلين من الصحابة، أبيض بن حمال ما وجد من المستشرقين يقدحون به، يروي حديث واحد، تحتاج إلى سنين من أجل أن تقدح بمقدار ما تقدح به من السنة إذا قدحت في أبي هريرة؛ فكونهم حملاتهم -أعني المستشرقين والمبتدعة- حملاتهم مسعورة على أبي هريرة على
সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা -আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন- যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ এই দ্বীনকে সাহায্য করেছেন এবং যাঁরা এটি বহন করেছেন ও তাঁদের পরবর্তীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সাহচর্য সাব্যস্ত হয়েছে এমন "প্রত্যেককে" কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই ভালোবাসা ওয়াজিব। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা হলো ঈমান এবং তাঁদের প্রতি ঘৃণা হলো নিফাক। সাহাবীদের ভালোবাসা সম্পর্কে যদি হাদীসে সাব্যস্ত হয়ে থাকে যে, "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে"—এখানে ভাই বলতে সাধারণ মুসলিমদের একজনকে বোঝানো হয়েছে—সে ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে; তাহলে দ্বীন পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আল্লাহ -যিনি মহান ও মহিমান্বিত- এবং তাঁর রাসূল -তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক- এর পর যাঁদের অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, তাঁদের ব্যাপারে কী বলা যায়?! আপনি ধরে নিন যে, আবু হুরায়রা (রা.) যদি না থাকতেন, অথচ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনের অর্ধেক অংশ বর্ণিত হয়েছে, তবে আপনার অবস্থা কী হতো? আপনার পরিস্থিতি কেমন হতো? আর সাহাবীদের পর যদি এমন কেউ না থাকতেন যিনি আমাদের জন্য দ্বীন বহন করে নিয়ে এসেছেন, তবে অবস্থা কী দাঁড়াত? অনুরূপ কথা অন্যান্য সাহাবীদের -আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন- ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যাঁরা আমাদের কাছে এই দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন। যদি এই প্রজন্ম না থাকত যাঁরা আমানত বহন করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে তা পৌঁছে দিয়েছেন যে: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও যদিও তা একটি আয়াত হয়", এবং "তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়"—তবে কি আমাদের জন্য কোনো দ্বীন অবশিষ্ট থাকত?! অর্থাৎ, যদি তাঁদের অন্য কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নাও থাকত কেবল এটি ছাড়া যে—তাঁরা দ্বীনকে সাহায্য করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করেছেন, নিজেদের জীবন ও প্রাণ দিয়ে তাঁর জন্য উৎসর্গিত ছিলেন, দ্বীনকে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন জনপদ, অঞ্চল ও শহর জয় করেছেন এবং তাঁদের হাতে দ্বীন প্রসারিত হয়েছে; তবে কি তাঁদের ভালোবাসা সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মতো হবে নাকি তার চেয়েও বেশি? কেউ কখনো বলবে না যে, আবু হুরায়রা (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসা সাধারণ কোনো মানুষের ভালোবাসার মতো; কেবল এমন ব্যক্তিই এটা বলতে পারে যার কাছে এই দ্বীনের কোনো গুরুত্ব নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা (রা.)-এর জন্য দুআ করেছিলেন যেন সৃষ্টিজগত তাঁকে ভালোবাসে এবং তিনিও সৃষ্টিজগতকে ভালোবাসেন। ফলে তিনি সবার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন, তাই কোনো মুনাফিক ছাড়া কেউ তাঁকে ঘৃণা করে না। আপনি দেখবেন যে, আবু হুরায়রা (রা.)-এর বিরুদ্ধে প্রচারণা ও কটূক্তি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি; কারণ এর উদ্দেশ্য আবু হুরায়রা (রা.)-এর সত্তা নয়, বরং এর উদ্দেশ্য হলো আবু হুরায়রা (রা.) যে দ্বীন ও ইলম বহন করছেন তা। তাহলে কেন অন্যদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে আবু হুরায়রা (রা.)-কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়? কারণ আবু হুরায়রা (রা.)-এর প্রতি কটূক্তি করা মানে তাঁর বর্ণিত হাদীসগুলোর প্রতি কটূক্তি করা। এক ব্যক্তির কারণে পাঁচ হাজারেরও বেশি হাদীসকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সেই একশ জন বর্ণনাকারীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেয়ে অনেক সহজ যারা পাঁচ হাজার হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই কারণেই আপনারা এমন কাউকে পাবেন না যে অল্প হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীদের নিয়ে কটূক্তি করে। যেমন—আবিয়াদ বিন হাম্মাল, প্রাচ্যবিদদের কাউকেই তাঁর সমালোচনা করতে দেখা যায় না, কারণ তিনি মাত্র একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.)-কে আক্রমণ করে আপনি সুন্নাহর যতটুকু ক্ষতি করতে পারবেন, অন্যভাবে তা করতে আপনার বছরের পর বছর সময় লেগে যাবে। এই কারণেই তাঁদের প্রচারণাগুলো—অর্থাৎ প্রাচ্যবিদ ও বিদআতিদের প্রচারণাগুলো—আবু হুরায়রা (রা.)-এর বিরুদ্ধে এত ক্ষিপ্ত বা উন্মত্ত...
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وجه الخصوص، لا لأنه أبو هريرة؛ بل لما يحمله من العلم والدين الذي بلغنا بواسطته، هذا هو السبب الذي يجعل أبا هريرة موضع لسهام الأعداء.
يقول: "حب الصحابة" الصحابة جمع صحابي، والصَحْبُ جمع صاحب، كركب جمع راكب، والصحابة جمع صحابي.
حبهم "كلهم" يعني بدون استثناء، والمراد بالصحابي: من رأى النبي عليه الصلاة والسلام مؤمناً به ومات على ذلك، مات على الإيمان، مؤمنًا ليخرج بذلك المنافق الذي رأى النبي عليه الصلاة والسلام، وهو لا يؤمن به، والمراد بالإيمان الإيمان القلبي، والدعوة المجرد باللسان لا تنفع ولا تفيد، ولذا صار حكم المنافقين في الدرك الأسفل من النار -نسأل الله السلامة والعافية-، ولو شهدوا أن لا إله إلا الله مع الناس، ولو صلوا مع الناس، ولو حضروا مجالس النبي عليه الصلاة والسلام.
حب الصحابة كلهم لي مذهب
… . . . . . . . . .
قدم الناظم الصحابة من باب الاعتراف بحقهم وفضلهم، وقلنا: أن لو تصورنا إن الصحابة ما وجدوا، أو ما وجد منهم من يحمل هذا العلم والدين كيف يكون حال مَن بعدهم؟ إذا كانت الأمة بِأَمَسِّ الحاجة إلى العلم وإلى أهل العلم في أواخر عصورها، فكيف بمن كان الواسطة بين الأمة وبين نبيها عليه الصلاة والسلام؟، تصور نفسك في بلد ليس فيه من تستفتيه إذا أشكل عليك شيء، أقول: تصور نفسك في بلد ليس فيه من يستفتى وأشكل عليك مشكلة في دينك؟
বিশেষ করে, তিনি আবু হুরায়রা হওয়ার কারণে নয়; বরং তিনি যে জ্ঞান ও দ্বীন বহন করেছেন, যা তাঁর মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে, সেই কারণে। এটিই সেই কারণ যা আবু হুরায়রাকে শত্রুদের তীরের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
তিনি বলছেন: "সাহাবীদের ভালোবাসা"। সাহাবা শব্দটি সাহাবী শব্দের বহুবচন। যেমন 'রাকিব' (আরোহী) এর বহুবচন 'রাক্বব', তেমনি 'সাহিব' এর বহুবচন 'সাহব', আর 'সাহাবী' এর বহুবচন হলো 'সাহাবা'।
তাদের "সকলকে" ভালোবাসা অর্থাৎ কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই। সাহাবী বলতে উদ্দেশ্য হলো: যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান আনয়নকারী অবস্থায় দেখেছেন এবং সেই ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। ঈমানদার কথাটির মাধ্যমে সেই মুনাফিককে বাদ দেওয়া হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিল অথচ তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি। আর ঈমান বলতে অন্তরের ঈমানকে বোঝানো হয়েছে, শুধু মুখে দাবি করা কোনো উপকারে আসে না। এই কারণেই মুনাফিকদের বিধান হয়েছে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি—যদিও তারা মানুষের সাথে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্য দিত, মানুষের সাথে সালাত আদায় করত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে উপস্থিত থাকত।
সকল সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা আমার আদর্শ
… . . . . . . . . .
রচয়িতা সাহাবীদের অধিকার ও মর্যাদার স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তাদের কথা আগে উল্লেখ করেছেন। আমরা বলেছিলাম: যদি আমরা কল্পনা করি যে সাহাবীদের অস্তিত্ব ছিল না, অথবা যারা এই জ্ঞান ও দ্বীন বহন করেছেন তাদের মধ্যে থেকে এমন কাউকে যদি পাওয়া না যেত, তবে তাদের পরবর্তী লোকদের অবস্থা কেমন হতো? উম্মাহ যদি তার শেষ যুগে জ্ঞান এবং আলেমদের প্রতি চরম মুখাপেক্ষী হয়, তবে উম্মাহ ও তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যবর্তী মাধ্যম যারা ছিলেন তাদের গুরুত্ব কতটা বেশি? আপনি নিজেকে এমন এক দেশে কল্পনা করুন যেখানে আপনার কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হলে ফতোয়া নেওয়ার মতো কেউ নেই। আমি বলছি: নিজেকে এমন এক দেশে কল্পনা করুন যেখানে ফতোয়া দেওয়ার মতো কেউ নেই এবং আপনার দ্বীনি বিষয়ে কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে?
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ذكر الآجري في أخلاق العلماء مثالاً يمثل به الحاجة الماسة إلى أهل العلم، قال: إن العلماء بمثابة المصابيح، فإذا تصورت أن قوماً في ليلة مظلمة في وادٍ موحش كله أشجار وهوام وسباع وحيات، والليلة شديدة الظلمة، والناس يمشون على غير هدى، ولا يدرون هل يذهبون يمين أو شمال، ثم جاءهم من بيده مصباح وتقدمهم وتبعوه هل له فضل عليهم أو ليس له فضل عليهم؟ له فضل كبير عليهم؛ مع أنهم لو حصل لهم أسوأ الاحتمالات أكلتهم الوحوش ماذا خسروا؟ خسروا الدنيا، والعالم الذي يأخذ بأيديهم إلى صراط الله المستقيم بعد أن كانوا يتيهون في مفازات الضلال، فقدانه لا شك أنه يفوت عليهم الدين، وأولئك ستفوتهم الدنيا، وهؤلاء يفوتهم الدين؛ فالحاجة إلى أهل العلم أشد من الحاجة إلى صاحب المصباح، هذا في العصور المتأخرة، وقد يكون غيره من أهل العلم من يقوم ببعض الشيء، فكيف إذا كان المفقود شخص واسطة بيننا وبين نبينا عليه الصلاة والسلام كأبي هريرة مثلاً؟ كيف يصل إلينا الدين عن طريق غيرهم؟ من هذه الحيثية جاءت محبتهم، ولذا قال -رحمه الله تعالى-:
حب الصحابة كلهم لي مذهب
… . . . . . . . . .
وانتدب طوائف من المبتدعة لعداء الصحابة وبغضهم وشتمهم وسبهم، بل وصلوا إلى تكفيرهم -نسأل الله السلامة والعافية-، وتكفير خيارهم بدلاً من أن يُحبَوا يذموا ويبغضوا ويشتموا ويسبوا، طيب أنت كفرت أبا هريرة من أين يصل إليك خمسة آلاف وثلاثمائة وسبعين حديث؟ إذا حرمت من الصراط المستقيم مالت بك الأهواء إلى الطرق المؤدية إلى الجحيم -نسأل الله السلامة والعافية-.
هذا يقول: كثير من الطلبة لا يعلمون تغيير بدء وقت الدرس من بعد العصر مباشرة، بدلاً من الساعة الخامسة، نرجو التنبيه.
আল-আজুরি তাঁর 'আখলাকুল উলামা' গ্রন্থে আলেমদের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে একটি উদাহরণ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আলেমগণ প্রদীপের মতো। আপনি যদি কল্পনা করেন যে, একদল লোক এক ঘোর অন্ধকার রাতে এমন এক জনশূন্য উপত্যকায় রয়েছে যা গাছপালা, বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ, হিংস্র প্রাণী ও সাপ-বিচ্ছুতে পূর্ণ। রাতটি ছিল অত্যন্ত অন্ধকার এবং লোকেরা কোনো পথপ্রদর্শক ছাড়াই পথ চলছিল। তারা জানত না যে ডানে যাবে নাকি বামে। তারপর এমন একজন ব্যক্তি তাদের নিকট আসলেন যার হাতে একটি প্রদীপ ছিল, তিনি তাদের সামনে চললেন এবং তারা তাঁকে অনুসরণ করল; তবে কি তাদের ওপর সেই ব্যক্তির কোনো শ্রেষ্ঠত্ব বা অনুগ্রহ থাকবে না? অবশ্যই তাদের ওপর তাঁর বিশাল অনুগ্রহ রয়েছে। যদিও তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ যা ঘটার সম্ভাবনা ছিল তা হলো হিংস্র প্রাণীরা তাদের খেয়ে ফেলত, এতে তারা কী হারাত? তারা কেবল দুনিয়া হারাত। কিন্তু সেই আলেম, যিনি পথভ্রষ্টতার মরুপ্রান্তরে বিভ্রান্ত হওয়ার পর মানুষের হাত ধরে আল্লাহর সরল পথের দিকে নিয়ে যান, তাঁকে হারানো মানে নিঃসন্দেহে দ্বীনকে হারানো। সেই অন্ধকার রাতের লোকদের কেবল দুনিয়া হাতছাড়া হতো, কিন্তু আলেমকে হারালে এদের দ্বীন হাতছাড়া হয়ে যাবে। সুতরাং আলেমদের প্রয়োজনীয়তা প্রদীপধারীর প্রয়োজনীয়তার চেয়েও অনেক বেশি। এটি পরবর্তী যুগের আলেমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে হয়তো কোনো একজন আলেমের অনুপস্থিতিতে অন্য কোনো আলেম কিছু দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কিন্তু যদি এমন কেউ অনুপস্থিত বা নিখোঁজ হন যিনি আমাদের এবং আমাদের নবী (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর মাঝে মাধ্যম ছিলেন, যেমন উদাহরণস্বরূপ আবু হুরায়রা; তবে তাঁদের ছাড়া অন্য কোনো পথে আমাদের কাছে দ্বীন কীভাবে পৌঁছাত? এই দৃষ্টিকোণ থেকেই তাঁদের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে। আর এই কারণেই তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন:
সমস্ত সাহাবীর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করাই আমার আদর্শ
… . . . . . . . . .
অথচ একদল বিদআতি সাহাবীদের সাথে শত্রুতা, বিদ্বেষ, গালিগালাজ এবং তাঁদের নিন্দা করার জন্য বদ্ধপরিকর হয়েছে। এমনকি তারা তাঁদের কাফের ঘোষণা করা পর্যন্ত পৌঁছেছে—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করছি। তাঁদের মহোত্তম ব্যক্তিদের ভালোবাসা ও সম্মান করার পরিবর্তে তারা তাঁদের নিন্দা করছে, ঘৃণা করছে এবং গালিগালাজ করছে। আচ্ছা, আপনি যদি আবু হুরায়রাকে কাফের বলেন, তবে আপনার কাছে পাঁচ হাজার তিনশত সত্তরটি হাদিস কীভাবে পৌঁছাবে? আপনি যদি সরল পথ থেকে বঞ্চিত হন, তবে প্রবৃত্তি আপনাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া পথগুলোর দিকে ধাবিত করবে—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি।
একজন বলছেন: অনেক ছাত্রই জানেন না যে পাঠদানের সময় পরিবর্তন করে বিকেল পাঁচটার পরিবর্তে আসরের পর সরাসরি নির্ধারণ করা হয়েছে, বিষয়টি ঘোষণা করার অনুরোধ রইল।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فانتدبوا إلى ذمهم وسبهم وتكفيرهم، والذي يغلب على الظن أن المراد بذلك كله -وإن أظهروا ما أظهروا- القدح في الدين نفسه، ولذا الإمام مالك -رحمه الله تعالى- في آخر آية من سورة الفتح: {مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاء عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاء بَيْنَهُمْ} إلى أن قال: {لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ} [(29) سورة الفتح] فالذي يغيظه صحابة محمد صلى الله عليه وسلم ماذا يكون؟ استدلالاً بهذه الآية، فذهب الإمام مالك إلى تكفير من يغيظه الصحابة.
وشيخ الإسلام استدل بقوله -جل وعلا-: {وَالَّذِينَ جَاؤُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ
… } [(10) سورة الحشر] بعد أن ذكر المهاجرين والأنصار قال: {وَالَّذِينَ جَاؤُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ} أن هذا الذي لا يترضى عن المهاجرين والأنصار أنه ليس له نصيب في الخُمس؛ ليس له نصيب في الخُمس، فالأمر خطير، فعلى الإنسان أن يتولى الصحابة، وأن يترضى عنهم، ويعرف لهم منازلهم وأقدارهم ومراتبهم، فأفضلهم على الإطلاق أبو بكر، وهو خير هذه الأمة بعد نبيها عليه الصلاة والسلام، ثم عمر، ثم عثمان، ثم علي -رضي الله تعالى عن الجميع-، ثم بقية العشرة:
سعيد وسعد وابن عوف وطلحة
… وعامر فهر والزبير الممدحُ
هؤلاء العشرة هم أفضل الصحابة، ثم بعد ذلك أهل بدر، وأهل الحديبية، والمهاجرون الأولون السابقون لهم فضل وسابقة، ثم بقية الصحابة -رضوان الله عليهم أجمعين-.
ومن الصحابة العشرة الذين ذكرناهم، ومنهم أزواجه عليه الصلاة والسلام، يدخلون في صحابته كما أنهم يدخلون في أهله وآله عليه الصلاة والسلام.
সুতরাং তারা তাদের নিন্দা, গালিগালাজ এবং কাফির সাব্যস্ত করার কাজে লিপ্ত হয়েছে। প্রবল ধারণা এই যে, এসবের মাধ্যমে তারা যা-ই প্রকাশ করুক না কেন, তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো স্বয়ং দ্বীনকে কলঙ্কিত করা। এই কারণেই ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) সূরা আল-ফাতহ-এর শেষ আয়াতের ভিত্তিতে— "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াময়..." যতক্ষণ না তিনি বলেন: "...যাতে তাদের মাধ্যমে তিনি কাফিরদের ক্রোধান্বিত করতে পারেন" [সূরা আল-ফাতহ: ২৯]। সুতরাং যার মনে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের প্রতি ক্রোধ সৃষ্টি হয়, সে কে? এই আয়াত থেকে দলীল গ্রহণ করে ইমাম মালিক সেই ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করার অভিমত পোষণ করেছেন, যার মনে সাহাবীদের প্রতি ক্রোধ রয়েছে।
আর শাইখুল ইসলাম মহান ও মহিয়ান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলীল প্রদান করেছেন: "আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে..." [সূরা আল-হাশর: ১০]। মুহাজির ও আনসারদের উল্লেখ করার পর তিনি বলেছেন: "আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে।" যে ব্যক্তি মুহাজির ও আনসারদের জন্য সন্তুষ্টির দুআ করে না, খুমুস বা যুদ্ধের প্রাপ্ত সম্পদের এক-পঞ্চমাংশে তার কোনো অংশ নেই; খুমুসে তার কোনো অংশ নেই। সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অতএব, মানুষের উচিত সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা, তাঁদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা এবং তাঁদের মর্যাদা, সম্মান ও স্তর সম্পর্কে অবগত থাকা। তাঁদের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর, এবং তিনি তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) পর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তারপর ওমর, তারপর উসমান, তারপর আলী—আল্লাহ তা'আলা তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—। অতঃপর অবশিষ্ট দশজন (আশারায়ে মুবাশশারা):
সাঈদ, সাদ, ইবন আউফ এবং তালহা
… আর আমির ফিহরি ও প্রশংসিত যুবাইর।
এই দশজন হলেন সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এরপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারীগণ, এবং প্রথম দিককার অগ্রবর্তী মুহাজিরগণ, যাঁদের বিশেষ মর্যাদা ও অগ্রাধিকার রয়েছে। এরপর অবশিষ্ট সকল সাহাবী—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—।
আমরা যে দশজন সাহাবীর কথা উল্লেখ করেছি তাঁরা, এবং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) পবিত্র স্ত্রীগণও তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত, ঠিক যেমন তাঁরা তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) পরিবার ও পরিজনের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أفضل الصحابة على الإطلاق أبو بكر وعمر ثم عثمان ثم علي، ثم بقية العشرة، ابن حزم له رأي في المسألة يقول: إن زوجات النبي عليه الصلاة والسلام أفضل من أبي بكر وعمر، دليله: أنهن -رضوان الله عليهن- معه في المنزلة في الجنة، يعني منزلة أبي بكر دون منزلة النبي عليه الصلاة والسلام في الجنة، وأزواجه عليه الصلاة والسلام معه في المنزلة، فدل على أنهن أفضل من أبي بكر وعمر فضلاً عن بقية العشرة، فضلاً عن بقية الصحابة، الاستدلال صحيح وإلا غير صحيح؟
طالب:. . . . . . . . .
نعم، غير صحيح، لماذا؟
طالب:. . . . . . . . .
نعم؟
طالب:. . . . . . . . .
والشهداء والصالحين، أنا أقول: استدلاله صحيح وإلا غير صحيح؟ نقول: غير صحيح، لماذا؟
طالب:. . . . . . . . .
نعم؟
طالب:. . . . . . . . .
إذاً يلزم عليه تفضيلهن على سائر الأنبياء.
طالب:. . . . . . . . .
نعم؟
طالب:. . . . . . . . .
نعم والولدان وغيرهم، نعم؟
طالب:. . . . . . . . .
أنت؟
طالب:. . . . . . . . .
أنا الآن أناقش حجته، حجته يقول: هن فوق أبي بكر وعمر في المنزلة في الجنة فهن خير، أفضل، أقول: يثبت تبعاً ما لا يثبت استقلالاً.
সাহাবীদের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর ও উমর, তারপর উসমান, তারপর আলী, এরপর আশারা মুবাশশারার বাকি সদস্যগণ। ইবনে হাজম এই বিষয়ে একটি অভিমত পোষণ করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীগণ আবু বকর ও উমর অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। তাঁর দলিল হলো: তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জান্নাতে তাঁর সাথে একই মর্যাদায় থাকবেন। অর্থাৎ, জান্নাতে আবু বকরের মর্যাদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার নিচে, অথচ তাঁর পত্নীগণ জান্নাতে তাঁর সাথে একই উচ্চতর মাকামে থাকবেন; সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে তাঁরা আবু বকর ও উমর অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, আর আশারা মুবাশশারার বাকি সদস্য এবং অন্যান্য সাধারণ সাহাবীদের শ্রেষ্ঠত্বের তো প্রশ্নই আসে না। এই যুক্তি প্রদান কি সঠিক নাকি বেঠিক?
ছাত্র: . . . . . . . . .
হ্যাঁ, এটি সঠিক নয়, কেন?
ছাত্র: . . . . . . . . .
হ্যাঁ?
ছাত্র: . . . . . . . . .
এবং শহীদ ও নেককারগণ। আমি বলছি: তাঁর যুক্তি প্রদান কি সঠিক নাকি বেঠিক? আমরা বলি: এটি সঠিক নয়, কেন?
ছাত্র: . . . . . . . . .
হ্যাঁ?
ছাত্র: . . . . . . . . .
তাহলে এর দ্বারা তো অন্য সকল নবীদের ওপর তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
ছাত্র: . . . . . . . . .
হ্যাঁ?
ছাত্র: . . . . . . . . .
হ্যাঁ, এবং জান্নাতের কিশোর ও অন্যান্যরাও। হ্যাঁ?
ছাত্র: . . . . . . . . .
তুমি?
ছাত্র: . . . . . . . . .
আমি এখন তাঁর যুক্তির ব্যবচ্ছেদ করছি; তাঁর যুক্তি বলছে: তাঁরা জান্নাতের মর্যাদার দিক থেকে আবু বকর ও উমরের ঊর্ধ্বে, তাই তাঁরা উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। আমি বলি: যা স্বতন্ত্রভাবে সাব্যস্ত করা যায় না, তা অনেক সময় অনুগামী হিসেবে সাব্যস্ত হতে পারে।