(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح مقدمة سنن ابن ماجه القسم: شروح الحديث
الكتاب: شرح مقدمة سنن ابن ماجه
مؤلف الأصل: ابن ماجة - وماجة اسم أبيه يزيد - أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني (ت 273هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 12 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
সুনান ইবনে মাজাহ-এর মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
বই: সুনান ইবনে মাজাহ-এর মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা
মূল লেখক: ইবনে মাজাহ - এবং মাজাহ হলো তাঁর পিতা ইয়াযীদের নাম - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ আল-কাযভীনি (মৃত্যু ২৭৩ হিজরি)
ব্যাখ্যাকারী: আবদুল কারীম বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে শ্রুতিলিপি করা পাঠসমূহ
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে، খণ্ড সংখ্যা মূলত পাঠ সংখ্যা - ১২টি পাঠ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মহররম ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح مقدمة سنن ابن ماجه]ـ
مؤلف الأصل: ابن ماجة - وماجة اسم أبيه يزيد - أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني (المتوفى: 273هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 12 درسا]
[সুনানে ইবনে মাজাহ-র মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা]
মূল গ্রন্থকার: ইবনে মাজাহ - আর মাজাহ হলো তাঁর পিতা ইয়াজিদের নাম - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-কাযভিনী (মৃত্যু: ২৭৩ হিজরি)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিলিপিকৃত পাঠসমূহ
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটিই পাঠের নম্বর - ১২টি পাঠ]
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
شرح: مقدمة سنن ابن ماجه (1)الشيخ: عبد الكريم بن عبد الله الخضير
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
ففي هذا الدرس الثالث من دروس هذه الدورة التي نرجو أن يكون العمل فيها خالصاً لوجه الله تعالى، نافعاً للمتكلم والسامع على حد سواء.
هذا الدرس في سنن ابن ماجه، محمد بن يزيد القزويني، وماجه لقب لوالده، أو لوالد أبيه، إما أن يقال: محمد بن يزيد أبو عبد الله بن ماجه ليكون لقباً للوالد، أو يقال: محمد بن يزيد بن ماجه.
وعلى كل حال ماجه هذه لفظ أعجمي، ملازم للهاء في الوقف والدرج، وليست تاء كما ينطقها أو يكتبها بعضهم، وإن قيل بذلك، لكن الأكثر على أنه بالهاء مثل: منده، ومثل: داسه، ابن منده معروف، وابن داسه أحد رواة سنن أبي داود أيضاً مشهور.
هذه السنن .. ، أولاً: أصحاب السنن الثلاثة أبو داود والترمذي وابن ماجه عاشوا في عصر واحد، وفاياتهم متقاربة، ابن ماجه توفي سنة ثلاث وسبعين ومائتين (273) وأبو داود توفي سنة خمس وسبعين ومائتين (275) والترمذي توفي سنة تسع وسبعين ومائتين (279) فهم متقاربون، قبلهم الإمام مسلم صاحب الصحيح، توفي سنة ست وخمسين ومائتين (261) وقبله الإمام البخاري توفي سنة ست وخمسين ومائتين (256) وقبلهم الإمام أحمد توفي سنة إحدى وأربعين ومائتين (241) وقبله جمع من أهل العلم من الحفاظ، من الأئمة، من سادات هذه الأمة وعلمائها، الشافعي سنة أربع ومائتين (204) ومالك سنة تسع وسبعين ومائة (179) وأبو حنيفة سنة خمسين ومائة (150) وإن كان بعضهم لا يذكره في هذا الباب مع الأئمة؛ لأنه ليس من أهل الحديث، وفي روايته أيضاً كلام عند أهل العلم، وليس هذا مقصوداً لنا في هذا الدرس.
المقصود أن ابن ماجه على ما ذكرنا .. ، وآخر أهل الكتب الستة وفاةً هو النسائي سنة ثلاث وثلاثمائة (303).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ব্যাখ্যা: সুনান ইবনে মাজাহ-র ভূমিকা (১)শায়খ: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর
আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর। অতঃপর:
এই কোর্সের পাঠগুলোর মধ্যে এটি তৃতীয় পাঠ। আমরা আশা করি এই আমলটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ হবে এবং বক্তা ও শ্রোতা উভয়ের জন্যই সমানভাবে উপকারী হবে।
এই পাঠটি সুনান ইবনে মাজাহ সম্পর্কে। (ইবনে মাজাহ হলেন) মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ আল-কাযভীনি। 'মাজাহ' তাঁর পিতার উপাধি (লকব), অথবা তাঁর পিতামহের। হয় বলা হবে: মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ আবু আব্দুল্লাহ বিন মাজাহ—যাতে এটি পিতার লকব হয়, অথবা বলা হবে: মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ বিন মাজাহ।
যাই হোক, এই 'মাজাহ' শব্দটি অনারব (আজমি) শব্দ। থামার সময় এবং মিলিয়ে পড়ার সময় সর্বাবস্থায় এটি 'হা' (হ) কারযুক্ত থাকে। এটি 'তা' (ত) নয়, যেমনটি কেউ কেউ উচ্চারণ করেন বা লেখেন। যদিও এমন কথা বলা হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশের মত হলো এটি 'হা' (হ) কারযুক্ত, যেমন: মানদাহ্ এবং দাসাহ্। ইবনে মানদাহ্ সুপরিচিত, এবং ইবনে দাসাহ্—যিনি সুনান আবু দাউদের অন্যতম বর্ণনাকারী—তিনিও প্রসিদ্ধ।
এই সুনানসমূহ... প্রথমত: তিন সুনান গ্রন্থের লেখক—আবু দাউদ, তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহ—একই যুগে বসবাস করেছেন। তাঁদের মৃত্যু সালগুলোও কাছাকাছি। ইবনে মাজাহ ইন্তেকাল করেছেন ২৭৩ হিজরীতে, আবু দাউদ ইন্তেকাল করেছেন ২৭৫ হিজরীতে এবং তিরমিযী ইন্তেকাল করেছেন ২৭৯ হিজরীতে। সুতরাং তাঁরা সমসাময়িক। তাঁদের পূর্বে ছিলেন 'সহীহ' গ্রন্থের সংকলক ইমাম মুসলিম, তিনি ইন্তেকাল করেছেন ২৬১ হিজরীতে। তাঁর আগে ইমাম বুখারী ইন্তেকাল করেছেন ২৫৬ হিজরীতে। তাঁদের আগে ইমাম আহমাদ ইন্তেকাল করেছেন ২৪১ হিজরীতে। তাঁদের আগে একদল ইলম অন্বেষী হাফেজ, ইমাম এবং এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও আলেমগণ ছিলেন। শাফেয়ী ২০৪ হিজরীতে, মালিক ১৭৯ হিজরীতে এবং আবু হানিফা ১৫০ হিজরীতে (ইন্তেকাল করেছেন)। যদিও কেউ কেউ ইমামদের এই তালিকার সাথে তাঁর (আবু হানিফা) নাম উল্লেখ করেন না; কারণ তিনি ইলমে হাদীসের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত নন এবং তাঁর বর্ণিত হাদীসের ব্যাপারেও আলেমদের মাঝে কথা (সমালোচনা) রয়েছে। তবে এই পাঠে আমাদের উদ্দেশ্য এটি নয়।
মূল কথা হলো ইবনে মাজাহ—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—এবং 'কুতুবে সিত্তাহ' বা ছয়টি কিতাবের সংকলকদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী হলেন নাসাঈ, ৩০৩ হিজরীতে।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
سنن ابن ماجه التي الحديث بصددها، بل في مقدمتها، والنية -إن شاء الله تعالى- إكمال الكتاب، سنن ابن ماجه هو سادس الكتب، الكتب الستة سادسها ابن ماجه، الأول: البخاري، والثاني: مسلم، والثالث: أبو داود، والرابع: الترمذي، والخامس: النسائي، والسادس: على هذا القول ابن ماجه، وأول من أدخله في الستة أبو الفضل بن طاهر في شروط الأئمة، وفي الأطراف، والخلاف معروف في السادس.
ولا شك أن إدخال سنن ابن ماجه وجعله سادساً له وجه وجيه لكثرة زوائده على الكتب الخمسة، وكثرة فوائده فهو نافع جداً للمتفقه، وتراجمه كثيرة جداً، وهي أحكام فقهية، وأبدع في كثير منها، بل في أكثرها إبداع، نعم لا يصل إلى ما وصل إليه الإمام البخاري -رحمه الله تعالى-، لكنه مبدع في هذا الباب، يعني من المبدعين في هذه التراجم، وفي الاستنباط من الأحاديث.
أدرجه أبو الفضل بن طاهر في الستة، فجعله السادس، يعني أضافه إلى الخمسة، وأما الخمسة فلا خلاف فيها أنها دواوين الإسلام المتفق عليها، لا المتفق على ما فيها كما قال بعضهم، ولا أن جميع ما فيها صحيح، نعم ما في الصحيحين لا إشكال فيه، ولا تردد في الحكم عليه بالصحة، لكن السنن فيها غير الصحيح، فيها الحسن، وفيها الضعيف، وأشدها ضعفاً لا سيما مما تفرد به سنن ابن ماجه، ولذا تردد بعض العلماء في إدخاله في الستة، فجعل بدله الموطأ لإمامة مؤلفه، ورجحان صحته على الضعف، وعلو أسانيده، وممن جعله السادس -أعني الموطأ- رزين العبدري في تجريد الأصول، وابن الأثير في جامع الأصول، ومنهم من جعل السادس الدارمي؛ لعلو أسانيده، فهو شيخ لأصحاب الكتب، أسانيده عالية، بل هي أنظف من أسانيد ابن ماجه، وفيه زوائد، لكن فيه آثار كثيرة، آثاره أكثر مما في سنن ابن ماجه، وعلى كل حال من أراد التفقه فسنن ابن ماجه أنفع له؛ لأن أحاديثه أكثر، وزوائده على الكتب الستة أكثر.
সুনানে ইবনে মাজাহ, যা নিয়ে আমাদের আলোচনা, বরং এর ভূমিকা নিয়ে; আর নিয়ত হলো—ইনশাআল্লাহ তাআলা—পুরো কিতাবটি সম্পন্ন করা। সুনানে ইবনে মাজাহ হলো কিতাবসমূহের মধ্যে ষষ্ঠ; কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি কিতাবের ষষ্ঠটি হলো ইবনে মাজাহ। প্রথমটি: বুখারি, দ্বিতীয়টি: মুসলিম, তৃতীয়টি: আবু দাউদ, চতুর্থটি: তিরমিজি, পঞ্চমটি: নাসাঈ এবং ষষ্ঠটি—এই অভিমত অনুযায়ী—ইবনে মাজাহ। আর একে ছয়টি কিতাবের অন্তর্ভুক্তকারী প্রথম ব্যক্তি হলেন আবু আল-ফজল বিন তাহির তাঁর 'শুরুতুল আইম্মাহ' এবং 'আল-আতরাফ' গ্রন্থে; আর ষষ্ঠ কিতাবটি নিয়ে মতভেদ সুবিদিত।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুনানে ইবনে মাজাহকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং একে ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে গণ্য করার পেছনে একটি শক্তিশালী যৌক্তিক কারণ রয়েছে; তা হলো অন্য পাঁচটি কিতাবের তুলনায় এতে থাকা অতিরিক্ত হাদিসের আধিক্য এবং এর প্রচুর উপকারিতা। তাই ফিকহ অন্বেষণকারীর জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। এর অধ্যায় বিন্যাস (তারাজিম) অনেক বেশি এবং সেগুলো হলো ফিকহি আহকাম; তিনি এগুলোর অনেকগুলোতে, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। হ্যাঁ, এটি ইমাম বুখারি—রহিমাহুল্লাহ তাআলা—যে স্তরে পৌঁছেছেন সেখানে পৌঁছাতে পারেনি, কিন্তু তিনি এই ক্ষেত্রে অনন্য প্রতিভার অধিকারী; অর্থাৎ এই অধ্যায় বিন্যাস এবং হাদিস থেকে মাসআলা উদ্ভাবনের (ইস্তিনবাত) ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব।
আবু আল-ফজল বিন তাহির একে ছয়টি কিতাবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং ষষ্ঠ স্থান দিয়েছেন; অর্থাৎ তিনি একে ওই পাঁচটির সাথে যুক্ত করেছেন। আর ওই পাঁচটি কিতাবের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই যে সেগুলো ইসলামের সর্বসম্মত মূল গ্রন্থ (দাওয়াইন); এর অর্থ এই নয় যে এর ভেতরকার সবকিছুর ওপর ঐক্যমত রয়েছে যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন, আর এমনও নয় যে এর মধ্যকার সব হাদিসই সহিহ। হ্যাঁ, সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ যা আছে তাতে কোনো সমস্যা নেই এবং সেগুলোর সহিহ হওয়ার হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা নেই। তবে 'সুনান' গ্রন্থগুলোতে সহিহ ছাড়াও অন্য হাদিস রয়েছে; তাতে হাসান হাদিস আছে, যঈফ হাদিসও আছে। আর এগুলোর মধ্যে অধিক যঈফ হাদিস হলো বিশেষ করে সেগুলো, যা কেবল সুনানে ইবনে মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছে। এই কারণেই কোনো কোনো আলেম একে ছয়টি কিতাবের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে দ্বিধাবোধ করেছেন; ফলে তাঁরা এর পরিবর্তে 'মুয়াত্তা'কে স্থান দিয়েছেন এর লেখকের ইমামত (নেতৃত্ব), যঈফের তুলনায় সহিহ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা এবং এর উচ্চমানের সনদসমূহের কারণে। আর যাঁরা মুয়াত্তাকে ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে গণ্য করেছেন—অর্থাৎ মুয়াত্তা মালিককে—তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজিন আল-আবদারি তাঁর 'তাজরিদুল উসুল' গ্রন্থে এবং ইবনুল আসির তাঁর 'জামিউল উসুল' গ্রন্থে। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ 'দারিমি'কে ষষ্ঠ কিতাব করেছেন এর সনদের উচ্চমানের কারণে; কারণ তিনি হলেন কিতাব সংকলকদের উস্তাদ। তাঁর সনদসমূহ অত্যন্ত উঁচু মানের, বরং সেগুলো ইবনে মাজাহর সনদের চেয়েও পরিচ্ছন্ন। আর এতে অতিরিক্ত হাদিস রয়েছে, তবে এতে প্রচুর 'আসার' (সাহাবি বা তাবেয়িদের বাণী) রয়েছে; এর আসারের সংখ্যা সুনানে ইবনে মাজাহর তুলনায় অনেক বেশি। যাই হোক, যে ব্যক্তি ফিকহ শিখতে চায়, তার জন্য সুনানে ইবনে মাজাহ অধিক উপকারী; কারণ এর হাদিস সংখ্যা বেশি এবং অন্য ছয়টি কিতাবের ওপর এর অতিরিক্ত হাদিসের পরিমাণও অনেক বেশি।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
هذا الكتاب اعتنى به أهل العلم قديماً وحديثاً، وشرح بشروح كثيرة، منها المتقدمة، ومنها المتأخرة، وروي بروايات متعددة إلا أنه لم يكتب البقاء إلا لرواية ابن القطان، رواية ابن القطان، وهو غير أبي الحسن بن القطان الفاسي المتأخر، وغير يحيى بن سعيد القطان، وهذا له زوائد على السنن، يرويها من غير طريق ابن ماجه، قد يقول قائل: كيف نعرف هذه الزوائد؟ إذا روى الحديث عن غير ابن ماجه عرفنا أنه من الزوائد، عرفنا أنه من الزوائد على الأصل كما هو الشأن في المسند، فيه زوائد لعبد الله بن الإمام أحمد، وفيه زوائد لأبي بكر القطيعي، كيف نعرف هذه الزوائد؟ إذا رويت من غير طريق المؤلف، فعلى هذا لا بد من ذكر الراوي، وذكر شيخ الراوي لنعرف الزوائد من غيرها، فالأصل أن يذكر الراوي كما هي طريقة المتقدمين في تصانيفهم، ولا يحذف كم يفعله بعض من يتصرف في الكتب لنعرف الأصل من الزائد، ولا يكفي أن نرمز للزائد بالزاي مثلاً، كما فعل الشيخ أحمد شاكر رحمه الله في المسند، بل يبقى الكتاب كما صنعه مؤلفه، والمتقدمون لهم طريقة في التأليف تختلف عن طريقة المتأخرين، المتأخر يستقل بكتابه، يكتبه بيده، أو يمليه على غيره، لكن الكتب عند المتقدمين إنما تروى عن مؤلفيها، ولذا يذكر الراوي عن المؤلف، قال عبد الله: حدثني أبي، أو حدثنا عبد الله قال: حدثني أبي، حدثنا يحيى بن يحيى قال: أخبرنا مالك، وقل مثل هذا في الكتب كلها، أعني الكتب المتقدمة.
نعم البخاري كتب كتابه بيده، ولذا لا يذكر الراوي عنه في سند الكتاب، ومسلم أيضاً كذلك، لكن الكتب التي فيها زوائد لا بد من بيان هذه الزوائد، ولا يمكن أن تتبين إلا إذا ذكر الراوي، الراوي عن المؤلف الذي زاد هذه الزوائد.
এই কিতাবটির প্রতি প্রাচীন এবং বর্তমানকালের আলেমগণ বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং এটি অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু প্রাচীন এবং কিছু পরবর্তীকালের। এটি একাধিক বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে, তবে ইবনুল কাত্তানের বর্ণনা ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনা টিকে থাকেনি। আর এই ইবনুল কাত্তান পরবর্তীকালের আবু আল-হাসান ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি নন এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানও নন। সুনান-এর ওপর তাঁর কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা (যাওয়ায়েদ) রয়েছে, যা তিনি ইবনে মাজাহর সূত্র ব্যতীত অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন: আমরা এই অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো কীভাবে চিনব? যখন কোনো হাদিস ইবনে মাজাহর সূত্র ব্যতীত অন্য কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়, তখন আমরা বুঝতে পারি যে এটি মূল কিতাবের ওপর একটি অতিরিক্ত অংশ; যেমনটি 'আল-মুসনাদ'-এর ক্ষেত্রে দেখা যায়। সেখানে ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহর কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা রয়েছে এবং আবু বকর আল-কাতী'য়ীরও কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা রয়েছে। আমরা এই অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো কীভাবে চিনব? যখন সেগুলো মূল লেখকের সূত্র ব্যতীত অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়। সুতরাং, অতিরিক্ত অংশগুলোকে অন্যদের থেকে আলাদা করার জন্য বর্ণনাকারী এবং বর্ণনাকারীর উস্তাদের নাম উল্লেখ করা আবশ্যক। মূল নিয়ম হলো বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা, যেমনটি প্রাচীন মনীষীগণ তাঁদের কিতাবসমূহে করতেন। বই নিয়ে কাজ করা বর্তমানকালের কিছু লোকের মতো সেটি বাদ দেওয়া যাবে না, যাতে মূল পাঠ এবং অতিরিক্ত অংশের মধ্যে পার্থক্য করা যায়। অতিরিক্ত অংশের জন্য কেবল 'যা' অক্ষরের মাধ্যমে চিহ্ন দেওয়া যথেষ্ট নয়, যেমনটি শেখ আহমদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-মুসনাদ'-এ করেছেন। বরং কিতাবটি তার লেখকের তৈরি করা মূল রূপেই বহাল রাখা উচিত। প্রাচীনদের গ্রন্থ রচনার পদ্ধতি পরবর্তীকালের লোকদের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন ছিল। পরবর্তীকালের লেখকেরা নিজের কিতাব স্বতন্ত্রভাবে নিজে লিখতেন অথবা অন্যকে দিয়ে লিখিয়ে নিতেন; কিন্তু প্রাচীনদের কিতাবসমূহ সাধারণত তাঁদের থেকে বর্ণনার (রেওয়ায়েতের) মাধ্যমে সংকলিত হতো। এই কারণেই লেখকের কাছ থেকে বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়। যেমন—আবদুল্লাহ বলেন: 'আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন' অথবা 'আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন', কিংবা 'ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালেক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন'। প্রাচীন সব কিতাবের ক্ষেত্রেই একই কথা প্রযোজ্য।
হ্যাঁ, ইমাম বুখারি তাঁর কিতাব নিজ হাতে লিখেছিলেন, তাই কিতাবের সনদে তাঁর কাছ থেকে বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয় না। ইমাম মুসলিমের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই। কিন্তু যে সকল কিতাবে অতিরিক্ত বর্ণনা (যাওয়ায়েদ) রয়েছে, সেগুলোতে এই অতিরিক্ত অংশগুলো স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা আবশ্যক। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব, যখন লেখকের কাছ থেকে সেই বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হবে যিনি এই অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো যোগ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ابن ماجه حظي من أهل العلم بالشرح والدرس والقراءة والإقراء فممن شرحه علاء الدين مغلطاي، وشرحه طُبع أخيراً، وحقق قسم منه في رسائل، وممن شرحه السندي، والسندي له حواشي على الكتب الستة، وشرحه أيضاً بشرح مختصر جداً السيوطي اسمه: (مصباح الزجاجة) ثم اختصر هذا الشرح على اختصاره الشرح في مجلد واحد، ثم اختصر هذا الشرح بمجلد صغير جداً اسمه: (نور مصباح الزجاجة) لمغربي يقال له: البجمعوي، شرح الكتب، أو اختصر شروح السيوطي على الكتب الستة.
والمختصرات مطبوعة منها: (وشي الديباج على صحيح مسلم بن الحجاج) ومنها: (روح التوشيح على الجامع الصحيح) ومنها: (درجات مرقاة الصعود) ومنها: (نور مصباح الزجاجة) ومنها للسيوطي شرح على النسائي اسمه: (زهر الربى) ومختصره اسمه إيش؟ هو في العادة يضيف كلمة على اسم المؤلف الأصلي، يضيف كلمة مثل: (التوشيح على الجامع الصحيح) سماه (روح التوشيح) الديباج سماه: (وشي الديباج) مرقاة الصعود سماه: (درجات مرقاة الصحيح) وقوت المغتذي على جامع الترمذي سماه: (نفع قوت المغتذي) فالنسائي أظن سماه: (عرف زهر الربى) عرف يعني رائحة (زهر الربى على المجتبى).
ইবনে মাজাহ্ বিদগ্ধ আলেমদের নিকট ব্যাখ্যা, পাঠদান, পঠন ও পাঠন-পদ্ধতির মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। যারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে আলাউদ্দীন মুগলতাই অন্যতম, এবং তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্প্রতি মুদ্রিত হয়েছে এবং এর কিছু অংশ গবেষণাপত্র হিসেবে সম্পাদিত হয়েছে। যারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে সিন্ধিও রয়েছেন, এবং কুতুবুস সিত্তাহ বা ছয়টি কিতাবের ওপর সিন্ধির টীকা রয়েছে। এবং আস-সুয়ূতীও এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন যার নাম: (মিসবাহুজ জুজাজাহ)। এরপর তিনি তাঁর এই সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাটিকে আরও সংক্ষেপ করে এক খণ্ডে নিয়ে আসেন। এরপর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে অত্যন্ত ছোট একটি খণ্ডে সংক্ষেপ করা হয় যার নাম: (নূরু মিসবাহিজ জুজাজাহ)। এটি আল-বাজমাওয়ী নামক জনৈক মাগরেবী আলেম সম্পন্ন করেছেন; তিনি কিতাবসমূহের ব্যাখ্যা করেছেন অথবা ছয়টি কিতাবের ওপর সুয়ূতীর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর সংক্ষেপায়ন করেছেন।
এবং এই সংক্ষেপিত সংস্করণগুলো মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: (ওয়াশিউদ দিবাজ আলা সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজ), (রুহুত তাওশীহ আলাল জামিউস সহীহ), (দারাজাতু মিরকাতুস সুউদ) এবং (নূরু মিসবাহিজ জুজাজাহ)। এর মধ্যে সুয়ূতীর নাসায়ীর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম: (যাহরুর রুবা)। আর এর সংক্ষেপিত সংস্করণের নাম কী? তিনি সাধারণত মূল নামের সাথে একটি শব্দ যোগ করেন, যেমন: (আত-তাওশীহ আলাল জামিউস সহীহ)-কে তিনি নাম দিয়েছেন (রুহুত তাওশীহ); আদ-দিবাজ-কে নাম দিয়েছেন (ওয়াশিউদ দিবাজ); মিরকাতুস সুউদ-কে নাম দিয়েছেন (দারাজাতু মিরকাতুস সহীহ) এবং জামে তিরমিযীর ওপর কুতুল মুগতাজী-কে নাম দিয়েছেন (নাফউ কুতিল মুগতাজী)। সুতরাং নাসায়ীর ক্ষেত্রে আমার ধারণা তিনি নাম দিয়েছেন: (আরফু যাহরির রুবা)। 'আরফ' অর্থ হলো সুগন্ধি— (যাহরুর রুবা আলাল মুজতবা)।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
هذه المختصرات بل المعتصرات اقتنائها من قبل طالب العلم للتكميل جيد، وقد تسعفه في وقت الضيق، وفي شروح السيوطي لطائف قد لا توجد في المطولات على اختصارها، يعني شرح الكتب الستة كل واحد في مجلد، مجلد واحد، وأحياناً يكون مجلداً صغيراً، ومع ذلك اختصرت هذه الشروح، ولم يبقَ منها إلا معاني مفردات يسيرة لبعض ما يشكل معناه، وطالب العلم يتردد كثيراً حينما يريد اقتناء مثل هذه الكتب، لا سيما إذا كان الكتاب له شروح متعددة، لكن مثل النسائي ومثل ابن ماجه لا مانع أن يشتري مثل هذه الكتب؛ لأن الشروح ليست كثيرة، ما هي مثل شروح البخاري، أو شروح مسلم، أو حتى شروح الترمذي، أو حتى شروح سنن أبي داود؛ لأنها شرحت بشروح مطولة مبسوطة، فماذا تغني هذه المعتصرات بجانب هذه المطولات؟ فطلاب العلم يترددون، لا شك أن الذي يريد التكميل -تكميل المكتبة- بتوفير الشروح كلها يقتني مثل هذه الكتب، أما الذي يريد أن يقتصر على بعض الشروح مما يستغني به عن بعضها الآخر ما يشتري هذه الكتب لأن نفعها قليل، قد يقول قائل: إن الاختصار وكون الشرح في مجلد صغير ينفع وأيسر في المراجعة، وأخف في الحمل، نقول: هذا أيضاً شأنك، لك أن تقدر مصلحتك، ولن تخلو من فائدة -إن شاء الله تعالى-، لكن الكلام في كون هذه الكتب مع كثرتها قد توجد حيرة عند طالب العلم، وقد تحول دون تحصيله للعلم لكثرتها، فالذي يريد مثلاً شرح واحد للبخاري يقال له: لو اقتنيت فتح الباري كفاك، مع أنه في الواقع لا يغني عن غيره، يعني في الكرماني ما ليس فيه، في القسطلاني ما ليس فيه، في العيني ما ليس فيه، لكن هذا شخص يقول: أنا أريد أقرب إلى الكمال في كتاب واحد، نقول: فتح الباري، لكن لا يمكن أن يستغني به عن عمدة القاري، أو عن إرشاد الساري، أو الكرماني أو غيرها من الشروح، كلها فيها فوائد ونفائس لا سيما شروح البخاري.
এই সংক্ষিপ্তসারগুলো, বরং নির্যাসসমূহ সংগ্রহ করা একজন ইলম অন্বেষীর জন্য পূর্ণতা অর্জনের ক্ষেত্রে উত্তম এবং সংকীর্ণ সময়ে এগুলো তাকে সাহায্য করতে পারে। সুয়ূতী-র ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে এমন কিছু সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিষয় রয়েছে যা কলেবরে সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও বড় বড় বিস্তারিত গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ, কুতুবুস সিত্তাহর প্রতিটি গ্রন্থের ব্যাখ্যা এক খণ্ডে সমাপ্ত, যা অনেক সময় ছোট আকারের একটি খণ্ড হয়ে থাকে। তা সত্ত্বেও এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং এতে দুরূহ শব্দগুলোর সামান্য কিছু শাব্দিক অর্থ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রাখা হয়নি। একজন ইলম অন্বেষী যখন এ জাতীয় গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ করতে চান তখন তিনি দ্বিধাবোধ করেন, বিশেষ করে যখন সেই গ্রন্থটির একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ বিদ্যমান থাকে। তবে নাসায়ী বা ইবনে মাজাহ-র মতো গ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রে এ জাতীয় কিতাব ক্রয় করতে কোনো বাধা নেই; কারণ এগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থ খুব বেশি নয়। এগুলোর অবস্থা বুখারী, মুসলিম কিংবা তিরমিযী বা সুনানে আবু দাউদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মতো নয়; কেননা সেগুলো অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় এই সুদীর্ঘ গ্রন্থগুলোর বিপরীতে এই নির্যাসসমূহ কী কাজে আসবে? তাই ইলম অন্বেষীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যিনি সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থ সংগ্রহের মাধ্যমে নিজ লাইব্রেরির পূর্ণতা অর্জন করতে চান, তিনি এ জাতীয় গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ করবেন। পক্ষান্তরে যিনি কিছু নির্দিষ্ট ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতে চান যা অন্যগুলোর অভাব পূরণ করে দেবে, তিনি এই গ্রন্থগুলো ক্রয় করবেন না; কারণ এগুলোর উপকারিতা সীমিত। কেউ হয়তো বলতে পারেন যে, সংক্ষিপ্ত হওয়া এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থটি এক খণ্ডে থাকা পর্যালোচনার জন্য অধিক উপকারী ও সহজতর এবং বহনের ক্ষেত্রেও সুবিধাজনক। আমরা বলব: এটি আপনার অভিরুচি, আপনি আপনার নিজের কল্যাণ নিজেই মূল্যায়ন করবেন, আর ইনশাআল্লাহ তাআলা এটিও উপকারশূন্য হবে না। তবে মূল কথা হলো, এই গ্রন্থসমূহ সংখ্যায় অধিক হওয়ার কারণে ইলম অন্বেষীর মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং এর আধিক্য তাকে ইলম অর্জন থেকে বিরত রাখতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যিনি বুখারীর একটি মাত্র ব্যাখ্যাগ্রন্থ চান তাকে বলা হয়: যদি আপনি 'ফাতহুল বারী' সংগ্রহ করেন তবে তা আপনার জন্য যথেষ্ট হবে, যদিও বাস্তবে তা অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি শেষ করে দেয় না। অর্থাৎ, 'কিরমানী'-তে এমন কিছু আছে যা এতে নেই, 'কাসতালানী'-তে এমন কিছু আছে যা এতে নেই এবং 'আইনী'-তে এমন কিছু আছে যা এতে নেই। তবে কেউ যদি বলে: 'আমি একটি মাত্র গ্রন্থের মাধ্যমে পূর্ণতার কাছাকাছি পৌঁছাতে চাই', তবে আমরা বলব: সেটি হলো 'ফাতহুল বারী'। তবে এর মাধ্যমে 'উমদাতুল ক্বারী', 'ইরশাদুস সারী', 'কিরমানী' বা অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের অভাব পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। এগুলোর প্রত্যেকটিতেই নানাবিধ উপকার ও মূল্যবান তথ্য রয়েছে, বিশেষ করে বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
من يريد أن يقتصر على كتاب واحد في شروح مسلم معروف السلسلة التي تركب بعضها على بعض كلها نافعة، بدءاً من (المعلم) للمازري، ثم تكميله للقاضي عياض (إكمال المعلم) ثم (إكمال الإكمال) للأبي، ثم (مكمل إكمال الإكمال) للسنوسي، وأيضاً شرح النووي لا يمكن أن يستغني عنه طالب علم، وكذلك شرح القرطبي على مختصره المسمى بـ (المفهم) كل هذه شروح نافعة، لا تستطيع أن تقتصر ببعضها دون بعض، الاقتصار على بعضها دون بعض يفوت على طالب العلم فائدة كبيرة، وإذا اجتمعت هذه الشروح المعلم وإكماله وإكمال إكماله ومكمل الإكمال والنووي والقرطبي، كل هذه الكتب لا تعادل فتح الباري في حجمها، يعني لو طبعت مثل طبع فتح الباري ما جاءت مثله، يعني فتح الباري مكنوز مضغوط، بينما هذه الكتب مفرودة، منفوشة، فلو طبعت الكتب هذه كلها .. ، ومسلم لا يزال فيه إعواز وحاجة ماسة إلى الشرح، ففي كثير من ألفاظه وسياقاته في الأسانيد والمتون ما فيه خفاء على المتعلمين، لا يحل كثير منها هذه الشروح، هو بحاجة إلى شرح مبسوط يجمع بين هذه الشروح، ويحل جميع الإشكالات، وللحافظ ابن حجر نكت على شرح النووي، لكن قد يقول طالب العلم: أنا لا أستطيع أن أشتت نفسي في هذه الشروح، بل أريد أن أقتصر على واحد، نقول: شرح النووي على اختصاره، فهو شرح مبارك، وفيه قواعد وضوابط يُعرف بها ما لم يذكر في الكتاب، يعني يستدل بها على ما لم يذكر، فالكتاب جيد، يُستفاد منه، لكنه قد يبقى إشكالات كثيرة لا تنحل مع وجوده، بل تنحل مع بقية الشروح، ويبقى أيضاً قدر زائد على ذلك مما لم يحل في الشروح.
وأبو داود أيضاً له شروح كثيرة للمتقدمين والمتأخرين من أولها وأنفسها شرح أبو سليمان الخطابي المسمى (معالم السنن) وتهذيب السنن للإمام ابن القيم، وعنايته بعلل سنن أبي داود لا نظير لها، يعني أبان عن قدم راسخة في تعليل الأحاديث، وإمامة في هذا الباب، يعني لا يستغني عنه طالب علم، وهناك أيضاً الشروح الأخرى مثل شرح ابن رسلان، وشرح شمس الحق العظيم آبادي (عون المعبود) وشرح السهرنفوري المسمى (بذل المجهود) وشروح كثيرة.
যারা সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে কেবল একটি গ্রন্থের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চান, তাদের জন্য সেই সুপরিচিত ধারাবাহিকতা রয়েছে যা একটির ওপর অন্যটি বিন্যস্ত এবং প্রতিটিই উপকারী। এর শুরু আল-মাযেরীর 'আল-মু'লিম' দিয়ে, এরপর কাযী আয়াযের এর পরিপূরক 'ইকমালুল মু'লিম', এরপর আল-উববীর 'ইকমালুল ইকমাল', তারপর আস-সানুসীর 'মুকাম্মিলু ইকমালিল ইকমাল'। একইভাবে ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি থেকেও কোনো ইলম অন্বেষণকারীর বিমুখ হওয়ার সুযোগ নেই। ঠিক তেমনিভাবে ইমাম কুরতুবীর তাঁর সংক্ষেপিত গ্রন্থের ওপর লেখা ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-মুফহিম'ও উপকারী। এই সবগুলোই অত্যন্ত ফলপ্রসূ ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আপনি একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে পারবেন না। কোনো বিশেষটির ওপর সীমাবদ্ধ থেকে অন্যগুলো ছেড়ে দিলে তালিবে ইলম এক বড় উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হবে। যদি এই সমস্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ—'আল-মু'লিম', এর পরিপূরকসমূহ, 'ইকমালুল ইকমাল', 'মুকাম্মিলু ইকমালিল ইকমাল', নববীর শারহ এবং কুরতুবীর শারহ—সব একত্র করা হয়, তবুও এগুলো কলেবরের দিক থেকে 'ফাতহুল বারী'র সমকক্ষ হবে না। অর্থাৎ যদি এগুলো 'ফাতহুল বারী'র মুদ্রণশৈলীতে ছাপা হয়, তবে তার সমান হবে না। কারণ 'ফাতহুল বারী' হলো এক ঘনীভূত ভাণ্ডার, পক্ষান্তরে এই কিতাবগুলো কিছুটা বিস্তারিত ও বিস্তৃত। তবে এই সব কিতাব ছাপা হলেও... সহীহ মুসলিমের ক্ষেত্রে এখনো ব্যাখ্যার বড় প্রয়োজন ও অভাব রয়ে গেছে। কারণ এর বহু শব্দ, সনদের বিন্যাস এবং মতন বা মূল পাঠের মধ্যে এমন কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের নিকট দুর্বোধ্য ঠেকে। বর্তমানের এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর অনেকগুলোই সেসব অস্পষ্টতা নিরসন করতে পারে না। এর জন্য এমন এক সুবিস্তৃত ব্যাখ্যার প্রয়োজন যা এই সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থের সারমর্ম একত্রিত করবে এবং সকল জটিলতার সমাধান দেবে। হাফেজ ইবনে হাজারের ইমাম নববীর ব্যাখ্যার ওপর কিছু টীকা রয়েছে। তবে কোনো তালিবে ইলম বলতে পারে: "আমি এই সমস্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভিড়ে নিজেকে বিক্ষিপ্ত করতে পারছি না, বরং আমি কেবল একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চাই।" আমরা বলব: সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অত্যন্ত বরকতময়। এতে এমন সব মূলনীতি ও নিয়মাবলি রয়েছে যার মাধ্যমে কিতাবে উল্লেখ নেই এমন বিষয়ও জানা যায়। অর্থাৎ, এর মাধ্যমে অনুল্লিখিত বিষয়াদির ওপর দলিল পেশ করা যায়। সুতরাং কিতাবটি উত্তম এবং এটি থেকে উপকৃত হওয়া যায়। তবে এটি থাকা সত্ত্বেও অনেক জটিলতা অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে যা অন্য ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর সাহায্যে সমাধান হয়। আবার এমন কিছু বিষয়ও অবশিষ্ট থেকে যায় যা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর কোনোটিতেই সমাধান হয়নি।
এবং আবু দাউদেরও পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের লেখা অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে মূল্যবান হলো আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবীর 'মা'আলিমুস সুনান' এবং ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের 'তাহযীবুস সুনান'। সুনানে আবু দাউদের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহের প্রতি তাঁর যত্ন অতুলনীয়। অর্থাৎ, হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সুদৃঢ় পদচারণা ও এই বিষয়ে তাঁর পারদর্শিতা প্রকাশ করেছেন; যা থেকে কোনো তালিবে ইলমের বিমুখ থাকার উপায় নেই। এছাড়াও আরও অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যেমন ইবনে রাসলানের ব্যাখ্যা, শামসুল হক আজিমাবাদীর 'আউনুল মাবুদ' এবং সাহারানপুরীর 'বাযলুল মাজহুদ'সহ আরও অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وكتاب أبي داود يفيد طالب العلم الذي يريد التفقه في الدين؛ لأنه متخصص في هذا الباب، وهذه ميزة كتب السنن، يعني جل عنايتها منصبة لأحاديث الأحكام، بخلاف الجوامع البخاري ومسلم والترمذي هذه جوامع فيها جميع أبواب الدين.
كذلك سنن الترمذي الجامع شرح بشروح كثيرة جداً من أنفعها وأنفسها شرح ابن سيد الناس مع تكملته للحافظ العراقي، وشرح ابن العربي شرح عنايته بالفقه، واللطائف المتنية، وإن كان له إشارات إلى الأسانيد لكنها قليلة، وأيضاً طبعته المتداولة سيئة جداً، تعوق دون الاستفادة منه، وتحفة الأحوذي للمباركفوري شرح نفيس على اختصاره، شرح طيب جداً على اختصاره، والنسائي أيضاً له شروح، والمفاضلة بين هذه الشروح أعني شروح الكتب الستة لها أشرطة تداولها الطلاب منذ سنين من سبع أو ثمان سنين، ويذكرون أنهم استفادوا منها، فمن أراد الموازنة بين هذه الشروح فليرجع إلى هذه الأشرطة، على أنها ليست كافية ولا وافية، لكنها فيها شيء مما يفيد الطالب -إن شاء الله تعالى-.
نأتي إلى سنن ابن ماجه:
আবু দাউদের কিতাব সেই ইলম অন্বেষণকারীর জন্য উপকারী যে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে চায়; কারণ এটি এই বিষয়ে বিশেষায়িত। আর এটিই হলো সুনান গ্রন্থসমূহের বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ এগুলোর অধিকাংশ মনোযোগ বিধান সংক্রান্ত হাদীসসমূহের ওপর নিবদ্ধ। জামে গ্রন্থসমূহ যেমন—বুখারী, মুসলিম এবং তিরমিযীর বিষয়টি ভিন্ন; এগুলো হলো জামে (সংকলন), যাতে দ্বীনের সকল অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একইভাবে জামে তিরমিযীর অনেকগুলো ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অত্যন্ত উপকারী ও মূল্যবান হলো হাফেজ আল-ইরাকির পরিশিষ্টসহ ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাসের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি। ইবনে আল-আরাবীর ব্যাখ্যাগ্রন্থটিও ফিকহ এবং মূল পাঠের সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি যত্নশীল, যদিও এতে সনদের দিকে কিছু ইঙ্গিত রয়েছে তবে তা সামান্য। তদুপরি, এর প্রচলিত মুদ্রণটি অত্যন্ত নিম্নমানের, যা এর থেকে উপকৃত হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মুবারকপুরীর তুহফাতুল আহওয়াযী একটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও চমৎকার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত উত্তম। নাসাঈরও বেশ কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। এই সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থ—অর্থাৎ কুতুবে সিত্তার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণের বিষয়ে কিছু অডিও রেকর্ড রয়েছে যা সাত-আট বছর ধরে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচলিত। তারা উল্লেখ করেন যে তারা এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। সুতরাং কেউ যদি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মাঝে তুলনামূলক বিচার করতে চায়, তবে সে যেন এই অডিও রেকর্ডগুলোর সাহায্য নেয়। যদিও সেগুলো পূর্ণাঙ্গ বা পর্যাপ্ত নয়, তবে তাতে শিক্ষার্থীর জন্য কিছু উপকারী বিষয় রয়েছে—ইনশাআল্লাহ তাআলা।
এবার আমরা সুনানে ইবনে মাজাহ প্রসঙ্গে আসি:
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ابن ماجه -رحمه الله تعالى- كتابه سنن، يعني يُعنى بأحاديث الأحكام، لكنه قدم للكتاب بمقدمة شاملة وافية في بيان السنة، وأهمية السنة، والرد على المبتدعة، ولأهميتها وغزارة ما فيها اخترناها في هذه الدورة على أن النية معقودة -إن شاء الله تعالى- على تكميل الكتاب، وشرح الأحاديث في هذه الدورة، والمقدمة: تشتمل على ستة وستين ومائتي حديث، تحتاج إلى أوقات طويلة لاستكمالها واستيعابها، ولعلنا نجمع بين الأطراف أطراف الأحاديث، ومتطلباتها فيتكلم عليها بكلام يحل إشكالها، ويبين ما فيها من فوائد على جهة الاختصار الشديد؛ لأن هذه الأحاديث كثيرة، ولعلنا إن أتينا على نصفها نكون قد أنجزنا إنجازاً كبيراً، لم يسبق له نظير، لكن لا يخفى عليكم أن أي شيء لا بد أن يكون على حساب غيره، فإن أردنا أن نكمل الجميع مائتين وستة وستين حديث لا شك أن هذا يكون على وجه غير مرضي ولا مفيد ولا مقنع، وإن أخذنا النصف بمعدل إحدى عشر حديث في اليوم كان أيضاً على جهة الاختصار، لكنه أسهل مما لو أخذنا أكثر من عشرين حديث في اليوم، ولو أخذنا في كل يوم حديث أو حديثين أو ثلاثة، وبسطنا القول فيها لكن هذا دونه خرط القتاد في مثل الدورات، يعني يصعب تحقيق مثل هذا في الدورات؛ لأن المقدمة تحتاج إلى عشر دورات، تحتاج على هذه الطريقة إلى عشر دورات، وهذا لا شك أن هذا يبعثر الجهود، ويفرق الطلاب؛ لأننا نعرف الطلاب كثير منهم لا يحتمل التفصيلات، وبعض الدروس التي فيها شيء من التفصيل تفرق عنها، بعض الطلاب لا سيما المبتدئين، أما من أخذ من العلم بحظ وأراد الإفادة بغض النظر عن النهاية هذا يثبت، ويرى أن الفائدة في البسط والاستطراد.
بقي الكلام عن طبعات الكتاب:
ইবনে মাজাহ -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- এর কিতাব হলো 'সুনান', অর্থাৎ এটি আহকাম বা বিধি-বিধান বিষয়ক হাদিস নিয়ে রচিত। তবে তিনি এই কিতাবের শুরুতে সুন্নাহর বর্ণনা, সুন্নাহর গুরুত্ব এবং বিদআতিদের খণ্ডন বিষয়ে একটি ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ ভূমিকা পেশ করেছেন। এর গুরুত্ব এবং এতে বিদ্যমান জ্ঞানের প্রাচুর্যের কারণে আমরা এই দাওরা বা কোর্সে এটি নির্বাচন করেছি; ইনশাআল্লাহ তাআলা আমাদের নিয়ত হলো এই দাওরাতেই হাদিসগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করে কিতাবটি সম্পন্ন করা। আর ভূমিকাটি দুইশত ছেষট্টিটি হাদিস সম্বলিত, যা সম্পন্ন করতে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। সম্ভবত আমরা হাদিসগুলোর মূল অংশ ও এর প্রয়োজনীয় বিষয়াবলিকে একত্রিত করব এবং অত্যন্ত সংক্ষেপে এমন আলোচনার মাধ্যমে কথা বলব যা এর অস্পষ্টতা দূর করে এবং এর শিক্ষা ও উপকারিতাগুলো বর্ণনা করে। কারণ এই হাদিসগুলো সংখ্যায় অনেক; আর যদি আমরা এর অর্ধেকও শেষ করতে পারি, তবে তা একটি বিশাল অর্জন হিসেবে গণ্য হবে, যার নজির আগে দেখা যায়নি। তবে আপনাদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, কোনো একটি বিষয় অর্জন করতে গেলে অন্য কোনো বিষয়ের ওপর তার প্রভাব পড়ে। তাই আমরা যদি দুইশত ছেষট্টিটি হাদিসের সবগুলোই শেষ করতে চাই, তবে নিঃসন্দেহে তা সন্তোষজনক, ফলপ্রসূ বা জোরালো হবে না। আর যদি আমরা অর্ধেক হাদিস গ্রহণ করি এবং দৈনিক গড়ে ১১টি হাদিস পড়ি, তবে তাও সংক্ষিপ্ত আকারে হবে; কিন্তু দৈনিক ২০টির বেশি হাদিস পড়ার চেয়ে তা অনেক সহজ হবে। আর যদি আমরা প্রতিদিন একটি, দুইটি বা তিনটি হাদিস নিতাম এবং সেগুলোর ওপর বিস্তারিত আলোচনা করতাম, তবে এই ধরনের দাওরার ক্ষেত্রে তা অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ হতো। অর্থাৎ, দাওরা বা স্বল্পকালীন কোর্সে এমনটি অর্জন করা কঠিন; কারণ এই পদ্ধতিতে ভূমিকাটি শেষ করতেই দশটি দাওরার প্রয়োজন হবে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি প্রচেষ্টাকে বিক্ষিপ্ত করবে এবং ছাত্রদের বিচ্ছিন্ন করে দিবে। কারণ আমরা জানি যে, অনেক ছাত্রই দীর্ঘ বিস্তারিত আলোচনা সহ্য করতে পারে না এবং যেসব পাঠে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা থাকে, সেখান থেকে কিছু ছাত্র—বিশেষ করে নতুনরা—সরে যায়। কিন্তু যারা ইলম বা জ্ঞান থেকে বড় অংশ হাসিল করেছে এবং শেষ করার কথা চিন্তা না করে কেবল উপকৃত হতে চায়, তারা অবিচল থাকে এবং মনে করে যে বিস্তারিত আলোচনা ও দীর্ঘ বর্ণনার মধ্যেই প্রকৃত ফায়দা নিহিত।
কিতাবের সংস্করণগুলো সম্পর্কে আলোচনা বাকি রয়ে গেল:
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
طبعات الكتاب، الكتاب طبع قديماً بمصر، ومعه حاشية السندي في مجلدين، ثم طبع بعد ذلك في مصر بالحاشية نفسها، وهاتان الطبعتان فيهما أخطاء لاعتمادهم على .. ، الثانية اعتمدت على الأولى، يعني ما كلفوا أنفسهم، والأولى اعتمدوا على نسخة ليست بسليمة، فيها أخطاء، وفيها تحريف، وتقديم وتأخير، وتصحيف، فالطبعة الأولى فيها أخطاء، والثانية أسوأ منها؛ لأنهم اعتمدوا على الطبعة الأولى، وزادوا ما عندهم من أخطاء، علماً بأن مطبوعات الذين طبعوه في الطبعة الثانية مطبعة يقال لها مطبعة: التازي والصاوي، يتعاقبون على طبع الكتب، وطبعوا ابن ماجه، وطبعوا أيضاً سنن أبي داود، وطبعوا عارضة الأحوذي، وعارضة الأحوذي وجامع الترمذي الذي مع العارضة ممسوخ مسخ لا يكاد يستفاد منه، وهو في بعض الأحاديث في شرح بعض الأحاديث كأنه كلام أعجمي لا يفهم؛ لأن الطبعة سيئة جداً، وتصرفوا في الأصل في المتن في جامع الترمذي، فاستعاروا نسخة الشيخ أحمد شاكر، وعلى حواشيها تخريجات له للأحاديث، وأدخلوها في كلام الترمذي، وأما الأخطاء في العارضة فحدث ولا حرج، يعني لا يكاد أن يستفيد منها إلا شخص يشم الكلام شماً، يعني إذا عرف كلمة كمل الباقي، وأما الذي لا يستطيع أن يكون بهذه المثابة لا يستفيد من الكتاب، وفيها أسقاط، وفيها تقديم وتأخير وتحريف وتصحيف، وفيها أمثلة لكل ما ذكره أهل العلم في كتب المصطلح من التحريف والتصحيف، والإساءة في الكتابة وغيرها، فليس فيها شيء من الآداب التي ذكرها أهل العلم للكتاب، فتجده يفصل بين المتضايفين بكلمة مقحمة، هذا في العارضة، مع أن العارضة فيها لطائف ونفائس لا توجد في غيرها، وفيها مواقف للمؤلف في غاية النفاسة، وفيها أيضاً على قاعدة المؤلف في تأويل الصفات هذا مما يؤخذ عليه، هذا مما يؤخذ على المؤلف أنه مؤول في باب الصفات، وعلى كل حال الكتاب نفيس ومفيد، ولعل الله -جل وعلا- أن ييسر له من يطبعه بطبعة صحيحة ليستفاد منه.
গ্রন্থটির বিভিন্ন মুদ্রণ সংস্করণ: কিতাবটি অতীতে মিশরে দুই খণ্ডে আল্লামা সিন্দি-র টীকাসহ মুদ্রিত হয়েছিল। এরপর মিশরে একই টীকাসহ এটি পুনরায় মুদ্রিত হয়। এই উভয় সংস্করণেই ভুলভ্রান্তি রয়েছে, কারণ তারা এমন একটি উৎসের ওপর নির্ভর করেছে যা...; প্রকৃতপক্ষে দ্বিতীয় সংস্করণটি প্রথমটির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, অর্থাৎ তারা নিজেরা কোনো পরিশ্রম করেনি। আর প্রথম সংস্করণটি এমন একটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছিল যা ত্রুটিমুক্ত ছিল না; তাতে ভুল, বিকৃতি, শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ হওয়া এবং বর্ণবিভ্রাট ছিল। সুতরাং প্রথম সংস্করণে ভুল আছে এবং দ্বিতীয়টি তার চেয়েও নিকৃষ্ট; কারণ তারা প্রথম সংস্করণের ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি নিজেদের পক্ষ থেকে আরও ভুল যুক্ত করেছে। উল্লেখ্য যে, যারা দ্বিতীয় সংস্করণটি প্রকাশ করেছেন তারা 'তাজি' ও 'সাভি' নামক ছাপাখানার অন্তর্ভুক্ত। তারা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কিতাব ছেপে থাকেন। তারা ইবনে মাজাহ ছেপেছেন, সুনানে আবু দাউদ ছেপেছেন এবং 'আরিদাতুল আহওয়াজি'ও ছেপেছেন। 'আরিদাতুল আহওয়াজি' এবং এর সাথে থাকা জামে তিরমিযী গ্রন্থটিকে এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছে যে তা থেকে প্রায় কোনো উপকারই লাভ করা যায় না। কিছু হাদিসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এর ভাষা এতটাই অস্পষ্ট যে মনে হবে যেন তা কোনো দুর্বোধ্য অনারব ভাষা; কারণ মুদ্রণটি অত্যন্ত নিম্নমানের। তারা জামে তিরমিযীর মূল পাঠেও হস্তক্ষেপ করেছে। তারা শেখ আহমদ শাকিরের কপিটি সংগ্রহ করে তার টীকাগুলোতে থাকা হাদিসের তাহকিকসমূহ ইমাম তিরমিযীর মূল বক্তব্যের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছে।
আর 'আরিদা' গ্রন্থের ভুলত্রুটির কথা তো বলে শেষ করা যাবে না। অর্থাৎ, এমন কোনো ব্যক্তি ছাড়া এটি থেকে উপকৃত হওয়া দুষ্কর যিনি বক্তব্যের ধরন দেখে মর্ম বুঝতে সক্ষম। অর্থাৎ যদি তিনি একটি শব্দ ধরতে পারেন তবে বাকি অংশ পূর্ণ করে নিতে পারেন। কিন্তু যে ব্যক্তি এই যোগ্যতাসম্পন্ন নন, তিনি এই কিতাব থেকে উপকৃত হতে পারবেন না। এতে বর্ণ বিলোপ, শব্দের আগে-পিছে হওয়া, বিকৃতি ও বর্ণবিভ্রাট রয়েছে। ইলমে মুস্তালাহ-এর কিতাবসমূহে উলামায়ে কেরাম বিকৃতি, বর্ণবিভ্রাট এবং লিখনশৈলীর ত্রুটি বিষয়ে যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তার প্রতিটি উদাহরণই এখানে বিদ্যমান। এতে কিতাব রচনার ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরাম বর্ণিত আদব বা শিষ্টাচারের লেশমাত্র নেই। এমনকি দেখা যায় তারা সম্বন্ধযুক্ত দুটি শব্দের মাঝে অপ্রাসঙ্গিক শব্দ ঢুকিয়ে দিয়েছে। এটি 'আরিদা' কিতাবের অবস্থা, যদিও এতে এমন কিছু সূক্ষ্ম ও মূল্যবান ইলমি বিষয় রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এতে লেখকের এমন কিছু অবস্থান ও বিশ্লেষণ রয়েছে যা অত্যন্ত উচ্চমানের। তবে আল্লাহর গুণাবলির অপব্যাখ্যার (তাবিল) ক্ষেত্রে লেখকের যে নিজস্ব মূলনীতি রয়েছে, তা তার একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য। আল্লাহর গুণাবলির অধ্যায়ে তিনি অপব্যাখ্যা করেন—এটিই তার সমালোচনা। সব মিলিয়ে কিতাবটি অত্যন্ত মূল্যবান ও উপকারী। আশা করা যায় আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা হয়তো এমন কাউকে সহজ করে দেবেন যিনি এটি একটি নির্ভুল ও সঠিক সংস্করণে ছাপবেন যাতে এটি থেকে যথাযথভাবে উপকৃত হওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
طبعوا أيضاً سنن أبي داود وفيها أيضاً أسقاط كثيرة، قد تصل إلى سطر أو سطرين، أحياناً حديث كامل، أحياناً راوٍ كامل، أحياناً ينسب الراوي إلى والد الراوي الذي يليه، فيحذف والده واسم الذي يليه، فيحصل بذلك الحيلولة دون الوقوف على الحقيقة، وعندنا نسخة من هذه الطبعة صححت، وقوبلت على نسخ خطية بقلم الشيخ عبد الظاهر أبي السمح إمام الحرم رحمه الله، وأما طبعتهم لسنن ابن ماجه فعلى عادتهم فيها أخطاء في المتن، وأخطاء في الحاشية حاشية السندي.
ثم جاء الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي واعتمد على الطبعة الأولى المصرية على ما فيها من الأخطاء، لكنه نكب جانباً عن الطبعة الثانية لعلمه أنهم يزيدون الأخطاء لا ينقصونها، ونسخة الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي من الطبعة الأولى المرقمة التي اعتمد عليها وعول عليها عندنا موجودة، أرقامه بيده، وطبعة الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي من الناحية الطباعية جميلة جداً، يعني فن الطباعة متوافر فيها، والذوق الطباعي موجود، فطبعة جميلة، وعلامات الترقيم متقنة ومضبوطة، وتنضيد الحروف وبدايات الأسطر أيضاً والترقيم رائع، لكنها فيها أخطاء؛ لأنه لم يضم إلى الطبعة الأولى نسخة خطية يُعتمد عليها، فيها أخطاء.
وأما طبعة الشيخ محمد مصطفى الأعظمي الدكتور، ففيها أيضاً من الأخطاء ما فيها ما في طبعة محمد فؤاد عبد الباقي؛ لأنه اعتمد على نسخة صحيح أنه عليها خطوط لبعض العلماء لكنها ليست أصح النسخ الموجودة، وآخر طبعات الكتاب طبعة الدكتور بشار عواد معروف، وحرص على جمع النسخ، واعتمد اعتماداً كلياً على تحفة الأشراف، وحسبك بالإمام المزي في ضبطه للأحاديث، واهتمامه بجمع النسخ، والمقابلة بينها، فأجاد الدكتور في اعتماده على تحفة الأشراف، فطبعته طيبة وجميلة وتخريجه جيد، لكنه قد يختلف في أحكامه على الأحاديث مع المتقدمين أو المتأخرين، وهذه مسألة اجتهادية، وكل يؤخذ من قوله ويرد، لكن إخراجه للكتاب طيب.
তারা 'সুনানে আবু দাউদ'-ও ছেপেছে এবং তাতেও অনেক বিচ্যুতি রয়েছে, যা কখনও এক বা দুই লাইন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কখনও পুরো হাদিস, কখনও পুরো বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে। কখনও কখনও একজন বর্ণনাকারীকে তার পরবর্তী বর্ণনাকারীর পিতার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, ফলে তার নিজের পিতার নাম এবং পরবর্তী বর্ণনাকারীর নাম মুছে গেছে; এর ফলে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের নিকট এই মুদ্রণের একটি কপি রয়েছে যা সংশোধন করা হয়েছে এবং হারামের ইমাম শেখ আব্দুল জাহির আবু সামহ (রহ.)-এর হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। আর 'সুনানে ইবনে মাজাহ'-র মুদ্রণের ক্ষেত্রে তাদের স্বভাবসুলভ অভ্যাস অনুযায়ী মূল পাঠে ভুল রয়েছে এবং সিন্দি-র টীকাতেও ভুল রয়ে গেছে।
এরপর শেখ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি আসলেন এবং তিনি প্রথম মিশরীয় মুদ্রণের ওপর নির্ভর করলেন, তাতে ভুল থাকা সত্ত্বেও। তিনি দ্বিতীয় মুদ্রণটি এড়িয়ে চললেন কারণ তিনি জানতেন যে তারা ভুল কমায় না বরং বাড়িয়ে দেয়। শেখ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি প্রথম মুদ্রণের যে সংখ্যায়িত কপির ওপর নির্ভর ও ভরসা করেছিলেন তা আমাদের নিকট বিদ্যমান, সেখানে তাঁর নিজ হাতের সংখ্যায়ন রয়েছে। মুদ্রণশৈলীর দিক থেকে শেখ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির সংস্করণটি অত্যন্ত চমৎকার। অর্থাৎ এতে মুদ্রণশিল্পের নিপুণতা এবং সুরুচি বিদ্যমান, এটি একটি সুন্দর মুদ্রণ। বিরামচিহ্নের ব্যবহার অত্যন্ত নিখুঁত ও সঠিক, হরফ বিন্যাস, লাইনের শুরু এবং সংখ্যায়নও চমৎকার। কিন্তু এতে ভুল রয়ে গেছে; কারণ তিনি প্রথম মুদ্রণের সাথে কোনো নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে দেখেননি, তাই এতে ভুল রয়ে গেছে।
আর ডক্টর শেখ মুহাম্মদ মোস্তফা আজমীর সংস্করণেও মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির সংস্করণের মতো ভুল রয়েছে। কারণ তিনি এমন একটি কপির ওপর নির্ভর করেছিলেন যেটির ওপর কিছু আলেমের টীকা ছিল ঠিকই, কিন্তু সেটি বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ছিল না। কিতাবটির সর্বশেষ সংস্করণ হলো ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফের মুদ্রণ। তিনি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং পূর্ণাঙ্গভাবে 'তুহফাতুল আশরাফ'-এর ওপর নির্ভর করেছেন। হাদিসের শব্দ বিন্যাস ও নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণ এবং পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ ও সেগুলোর পারস্পরিক তুলনার ক্ষেত্রে ইমাম মিযযী-ই যথেষ্ট। ডক্টর বাশার 'তুহফাতুল আশরাফ'-এর ওপর নির্ভর করে চমৎকার কাজ করেছেন। তাঁর সংস্করণটি উত্তম ও সুন্দর এবং হাদিসের উদ্ধৃতি (তাখরিজ) প্রদানও ভালো। তবে হাদিসের মানের ক্ষেত্রে তিনি পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আলেমদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন। এটি একটি ইজতিহাদী (গবেষণামূলক) বিষয়, আর প্রত্যেকের কথাই গ্রহণীয় বা বর্জনীয় হতে পারে। তবে কিতাবটি প্রকাশের মান অত্যন্ত চমৎকার।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
هناك كتب أو طبعات للكتب مضغوطة، يعني البخاري في مجلد، مسلم في مجلد، أبو داود في مجلد، النسائي
… إلى آخره، كل كتاب في مجلد، وهذه الفائدة من ذلك خفة الحمل، يعني حملها في الأسفار ممكن أن تجمع مكتبة في كرتون، كل ما تحتاج إليه، الكتب الستة في مجلد، وتفسير ابن كثير في مجلد، المغني في مجلدين، البداية والنهاية في مجلدين، بعض التفاسير الكبار مضغوطة في مجلد، زاد المسير في مجلد، فتح الباري في ثلاث مجلدات، النووي على مسلم في مجلد، المسند على سعته وطوله في مجلد، هذه في الأسفار يمكن طالب العلم يجعل له في كرتون ما يحتاج إليه من هذه الكتب، أما في السعة فلا، فهذه الطبعات ليست عملية، بل التعامل معها مقلق؛ لصغر الحروف، ورقة الورق، والتعامل معها فيه صعوبة وكلفة، فيقتني النسخ المتينة المجودة المتقنة في حال السعة، في دار إقامته، وأما في الأسفار فلا مانع أن يصطحب هذه الطبعات المضغوطة، وبعض الناس يقول: نكتفي بقرص يجمع لنا جميع الفنون، وفي حقيبة صغيرة المحمول معنا في كل مكان، ونصل إلى ما نريد، لا شك أن هذا ينفع في مثل الأسفار، لكنه لا يعول عليه، والكتب لا بديل لها ولا عوض عنها.
طالب:. . . . . . . . .
إيه هذه مأخوذة من الطبعة التي أشرف عليها الشيخ صالح -صالح آل الشيخ- في مجلد واحد، الكتب الستة في مجلد واحد، وكأنه يقتفي أثر الشيخ أحمد شاكر حينما وقف على نسخة من الكتب الستة في مجلد واحد في اليمن مخطوطة في مجلد واحد، هذا لا يستغرب؛ لأن جامع الأصول موجود مجلد واحد، تهذيب اللغة للأزهري موجود في مجلد واحد مخطوط، تهذيب الكمال في مجلد واحد، وفُرق في ثلاثة مجلدات، يعني على كبره خمسة وثلاثين مجلد كان مجلد واحد مضغوط، لكن الضغط هذا مشكل.
এমন কিছু কিতাব বা কিতাবের সংস্করণ রয়েছে যা সংকুচিত, অর্থাৎ বুখারী এক খণ্ডে, মুসলিম এক খণ্ডে, আবু দাউদ এক খণ্ডে, নাসায়ী
… ইত্যাদি, প্রতিটি কিতাব এক খণ্ডে। এর উপকারিতা হলো বহনে হালকা হওয়া, অর্থাৎ সফরের সময় এগুলো বহন করা সম্ভব যে, আপনি একটি কার্টনে আপনার প্রয়োজনীয় একটি পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরি জমা করতে পারেন। কুতুবে সিত্তা এক খণ্ডে, তাফসীরে ইবনে কাসীর এক খণ্ডে, আল-মুগনী দুই খণ্ডে, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া দুই খণ্ডে, কিছু বড় বড় তাফসীর সংকুচিত করে এক খণ্ডে আনা হয়েছে, যাদুল মাসীর এক খণ্ডে, ফাতহুল বারী তিন খণ্ডে, মুসলিমের ওপর নববীর শারহ এক খণ্ডে, মুসনাদ (আহমাদ) তার বিশালতা ও দৈর্ঘ্য সত্ত্বেও এক খণ্ডে। সফরের সময় ইলম অন্বেষণকারী তার প্রয়োজনীয় কিতাবগুলো একটি কার্টনে গুছিয়ে নিতে পারে। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় তা নয়, কারণ এই সংস্করণগুলো ব্যবহারিক নয়, বরং এগুলোর ব্যবহার কষ্টসাধ্য; অক্ষরের ক্ষুদ্রতা ও কাগজের পাতলা হওয়ার কারণে এবং এগুলো নাড়াচাড়া করা কঠিন ও শ্রমসাপেক্ষ। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় নিজ আবাসে থাকাকালীন মজবুত, মানসম্মত ও সুনিপুণ সংস্করণগুলোই সংগ্রহ করা উচিত। আর সফরের ক্ষেত্রে এই সংকুচিত সংস্করণগুলো সাথে রাখলে কোনো বাধা নেই। কেউ কেউ বলেন: আমরা একটি ডিস্ক দিয়েই সন্তুষ্ট যা আমাদের জন্য সমস্ত শাস্ত্র একত্র করে দেয়, আর একটি ছোট ব্যাগে ল্যাপটপ আমাদের সাথে সব জায়গায় থাকে এবং আমরা যা চাই তা পেয়ে যাই। নিঃসন্দেহে এটি সফরের মতো অবস্থায় উপকারে আসে, কিন্তু এর ওপর নির্ভর করা যায় না; আর কিতাবের কোনো বিকল্প বা বিনিময় নেই।
ছাত্র: . . . . . . . . .
হ্যাঁ, এটি সেই সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে যা শায়খ সালিহ -সালিহ আল-শায়খ- এর তত্ত্বাবধানে এক খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে; কুতুবে সিত্তা এক খণ্ডে। মনে হচ্ছে তিনি শায়খ আহমাদ শাকিরের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন যখন তিনি ইয়ামেনে কুতুবে সিত্তার এক খণ্ডের একটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান পেয়েছিলেন। এটি আশ্চর্যের কিছু নয়; কারণ জামেউল উসুল এক খণ্ডে বিদ্যমান, আজহারীর তাহযীবুল লুগাহ পাণ্ডুলিপি আকারে এক খণ্ডে বিদ্যমান, তাহযীবুল কামাল এক খণ্ডে ছিল এবং তা তিন খণ্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ তার বিশালতা সত্ত্বেও যা পঁয়ত্রিশ খণ্ডে বিভক্ত, তা এক খণ্ডে সংকুচিত ছিল। কিন্তু এই সংকোচন সমস্যাযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثم بعد ذلك طبعت طبعة ثانية التي أشرف عليها الشيخ صالح، فردت قليلاً، فُجعل كل كتاب في مجلد واحد، بدلاً من أن تكون الستة في مجلد واحد، وأما صحتها من عدمه فالمؤمل يعني وغلبة الظن تدل على أنها -إن شاء الله- تبعاً لمن أشرف عليها وهو الشيخ صالح، الشيخ صالح من أهل الدقة والتحري والعناية، لكن أيضاً أعماله وأشغاله والتكاليف التي أنيطت به لا تجعله يشرف على كل شيء بدقة، إنما يكون له الإشراف العام والتوجيه والمراجعة والاختبار، قد يختبر هذه الأعمال، وإن لم يتولاها بنفسه، وعلى كل حال هو من أهل التجويد والتحري والدقة، فالغالب أن الطبعات التي يشرف عليها جيدة، وأنا ما عانيتها ولا قرأت فيها.
طالب:. . . . . . . . .
هذه هي؟
طالب:. . . . . . . . .
اللي مع الإخوان الطبعة التي وزعت، وزعتها وزارة الشئون الإسلامية، إذاً النسخة التي وزعتها وزارة الشئون الإسلامية، وزارة الشئون الإسلامية وزعت على بعض الناس ستة كراتين أو سبعة فيها جل ما يحتاجه طالب العلم من التفاسير وكتب الحديث والفقه وغيرها، فأجادوا وأحسنوا في هذا، ولعل طبعة وزارة الشئون الإسلامية مصورة عن اللي معك، طبعة الحرس الوطني، وهي في الجملة مأخوذة من النشرة الأولى لكتب السنة في مجلد واحد.
طالب:. . . . . . . . .
والله أنا لا أعتمد على طبعات المتأخرين إلا إذا كان معروف بالتميز في فنه، وإلا الكتب الآن الكتاب يطبع في السنة الواحدة مراراً، وكل يدعي التحقيق، وفحص هذه الأعمال يحتاج إلى أوقات، وهذا الشخص الذي تشير إليه هذا طبع أيضاً مسلم وشرح النووي والنسائي وطبع كتب كثيرة.
سم.
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
اللهم اغفر لنا ولشيخنا وللسامعين، اللهم علمنا ما ينفعنا، وانفعنا بما علمتنا، وزدنا علماً يا رب العالمين.
قال الإمام الحافظ أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني المعروف بابن ماجه -رحمه الله تعالى-:
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله وسلم على سيدنا محمد وآله وصحبه ومحبيه.
كتاب: السنة
باب: إتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم-
ثم بعد ذلك طبعت طبعة ثانية التي أشرف عليها الشيخ صالح، فردت قليلاً، فُجعل كل كتاب في مجلد واحد، بدلاً من أن تكون الستة في مجلد واحد، وأما صحتها من عدمه فالمؤمل يعني وغلبة الظن تدل على أنها -إن شاء الله- تبعاً لمن أشرف عليها وهو الشيخ صالح، الشيخ صالح من أهل الدقة والتحري والعناية، لكن أيضاً أعماله وأشغاله والتكاليف التي أنيطت به لا تجعله يشرف على كل شيء بدقة، إنما يكون له الإشراف العام والتوجيه والمراجعة والاختبار، قد يختبر هذه الأعمال، وإن لم يتولاها بنفسه، وعلى كل حال هو من أهل التجويد والتحري والدقة، فالغالب أن الطبعات التي يشرف عليها جيدة، وأنا ما عانيتها ولا قرأت فيها।
তারপর এরপর দ্বিতীয় একটি সংস্করণ মুদ্রিত হয়েছে যা শেখ সালেহ তত্ত্বাবধান করেছেন, তিনি এতে সামান্য সংশোধন করেছেন, ফলে ছয়টি বই একটি খণ্ডে হওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি বইকে আলাদা একটি খণ্ডে বিন্যস্ত করা হয়েছে। আর এর বিশুদ্ধতা বা অশুদ্ধতার ব্যাপারে আশা করা যায় এবং প্রবল ধারণা এই যে—ইনশাআল্লাহ—এটি তার তত্ত্বাবধানকারী শেখ সালেহের অনুগামী হবে। শেখ সালেহ অত্যন্ত নিখুঁত, অনুসন্ধানকারী এবং যত্নশীল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তবে তার কাজ, ব্যস্ততা এবং তাকে অর্पित দায়িত্বসমূহ তাকে প্রতিটি জিনিসের পুঙ্খানুপুঙ্খ তত্ত্বাবধান করার সুযোগ দেয় না। বরং তার পক্ষ থেকে সাধারণ তত্ত্বাবধান, দিকনির্দেশনা, পর্যালোচনা এবং যাচাইকরণ হয়ে থাকে। তিনি হয়তো এই কাজগুলো যাচাই করেন, যদিও তিনি নিজে তা সম্পন্ন করেন না। যাই হোক, তিনি মানোন্নয়নকারী, অনুসন্ধানকারী এবং নিখুঁত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তাই সাধারণত যে সংস্করণগুলো তিনি তত্ত্বাবধান করেন সেগুলো উন্নত মানের হয়। তবে আমি নিজে এটি নিয়ে কাজ করিনি এবং এটি পড়িওনি।
طالب:. . . . . . . . .
ছাত্র: . . . . . . . . .
هذه هي؟
এটিই কি সেই সংস্করণ?
طالب:. . . . . . . . .
ছাত্র: . . . . . . . . .
اللي مع الإخوان الطبعة التي وزعت، وزعتها وزارة الشئون الإسلامية، إذاً النسخة التي وزعتها وزارة الشئون الإسلامية، وزارة الشئون الإسلامية وزعت على بعض الناس ستة كراتين أو سبعة فيها جل ما يحتاجه طالب العلم من التفاسير وكتب الحديث والفقه وغيرها، فأجادوا وأحسنوا في هذا، ولعل طبعة وزارة الشئون الإسلامية مصورة عن اللي معك، طبعة الحرس الوطني، وهي في الجملة مأخوذة من النشرة الأولى لكتب السنة في مجلد واحد.
ভাইদের কাছে যে সংস্করণটি আছে তা সেই সংস্করণ যা বিতরণ করা হয়েছে; এটি ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিতরণ করেছে। সুতরাং যে অনুলিপিটি ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিতরণ করেছে। ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কিছু মানুষকে ছয়টি বা সাতটি কার্টন বিতরণ করেছে যাতে একজন জ্ঞান অন্বেষণকারীর প্রয়োজনীয় তাফসির, হাদিসের কিতাব, ফিকহ এবং অন্যান্য কিতাবসমূহের অধিকাংশ বিদ্যমান রয়েছে। তারা এতে অত্যন্ত চমৎকার ও উত্তম কাজ করেছে। সম্ভবত ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংস্করণটি আপনার কাছে থাকা ন্যাশনাল গার্ডের সংস্করণেরই প্রতিচ্ছবি, এবং এটি সামগ্রিকভাবে এক খণ্ডে সুন্নাহর কিতাবসমূহের প্রথম প্রকাশনা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
طالب:. . . . . . . . .
ছাত্র: . . . . . . . . .
والله أنا لا أعتمد على طبعات المتأخرين إلا إذا كان معروف بالتميز في فنه، وإلا الكتب الآن الكتاب يطبع في السنة الواحدة مراراً، وكل يدعي التحقيق، وفحص هذه الأعمال يحتاج إلى أوقات، وهذا الشخص الذي تشير إليه هذا طبع أيضاً مسلم وشرح النووي والنسائي وطبع كتب كثيرة.
আল্লাহর কসম, আমি পরবর্তীকালের ব্যক্তিদের সংস্করণের ওপর নির্ভর করি না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার শিল্পে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরিচিত হন। অন্যথায় বর্তমানে একই বই বছরে বারবার মুদ্রিত হচ্ছে এবং প্রত্যেকেই তাহকিকের (গবেষণা ও সম্পাদনা) দাবি করছে। আর এই কাজগুলো পরীক্ষা করার জন্য সময়ের প্রয়োজন। আপনি যে ব্যক্তির দিকে ইশারা করছেন তিনি সহিহ মুসলিম, শরহে নববী এবং নাসায়ী সহ আরও অনেক কিতাব মুদ্রণ করেছেন।
سم.
শুরু করো।
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
اللهم اغفر لنا ولشيخنا وللسامعين، اللهم علمنا ما ينفعنا، وانفعنا بما علمتنا، وزدنا علماً يا رب العالمين.
হে আল্লাহ, আমাদের, আমাদের শায়খকে এবং শ্রবণকারীদের ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আমাদের এমন জ্ঞান দান করুন যা আমাদের উপকারে আসে এবং আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন এবং আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন, হে জগতসমূহের প্রতিপালক।
قال الإمام الحافظ أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني المعروف بابن ماجه -رحمه الله تعالى-:
ইমাম হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াজিদ আল-কাযউইনি, যিনি ইবনে মাজাহ নামে পরিচিত—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—বলেছেন:
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
وصلى الله وسلم على سيدنا محمد وآله وصحبه ومحبيه.
আমাদের সরদার মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সঙ্গী ও তাঁর অনুসারীদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
كتاب: السنة
কিতাব: আস-সুন্নাহ
باب: إتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم-
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণ।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، قال: حدثنا شريك عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما أمرتكم به فخذوه، وما نهيتكم عنه فانتهوا)).
حدثنا أبو عبد الله قال: حدثنا محمد بن الصباح قال: أنبأنا جرير عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ذروني ما تركتكم، فإنما هلك من كان قبلكم بسؤالهم واختلافهم على أنبيائهم، فإذا أمرتكم بشيء فخذوا منه ما استطعتم، وإذا نهيتكم عن شيء فانتهوا)).
حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة قال: حدثنا أبو معاوية ووكيع عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله)).
حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير قال: حدثنا بن عدي عن ابن المبارك عن محمد بن سوقة عن أبي جعفر قال: كان ابن عمر إذا سمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثاً لم يعده ولم يقصر دونه.
حدثنا هشام بن عمار الدمشقي قال: حدثنا محمد بن عيسى بن سميع قال: حدثنا إبراهيم بن سليمان الأفطس عن الوليد بن عبد الرحمن الجرشي عن جبير بن نفير عن أبي الدرداء قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نذكر الفقر ونتخوفه، فقال: ((آلفقر تخافون؟ والذي نفسي بيده لتصبن عليكم الدنيا صباً، حتى لا يزيغ قلب أحدكم إزاغة إلا هيه، وايم الله لقد تركتكم على مثل البيضاء ليلها ونهارها سواء)) قال أبو الدرداء: "صدق والله رسول الله صلى الله عليه وسلم تركنا والله على مثل البيضاء ليلها ونهارها سواء".
حدثنا محمد بن بشار قال: حدثنا محمد بن جعفر قال: حدثنا شعبة عن معاوية بن قرة عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تزال طائفة من أمتي منصورين لا يضرهم من خذلهم حتى تقوم الساعة)).
حدثنا أبو عبد الله قال: حدثنا هشام بن عمار قال: حدثنا يحيى بن حمزة قال: حدثنا أبو علقمة نصر بن علقمة عن عمير بن الأسود وكثير بن مرة الحضرمي عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تزال طائفة من أمتي قوامة على أمر الله لا يضرها من خالفها)).
আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুরাইক আমাদের নিকট আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি তোমাদের যা আদেশ করেছি তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেছি তা থেকে বিরত থাকো।”
আবু আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল সাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি যতক্ষণ তোমাদের কোনো বিষয়ে ছাড় দেই ততক্ষণ তোমরা আমাকে সে বিষয়ে ছেড়ে দাও (অধিক প্রশ্ন করো না)। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো কিছুর আদেশ দেই, তখন তোমরা সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো, আর যখন তোমাদের কোনো কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বিরত থাকো।”
আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুআবিয়াহ ও ওয়াকী আমাদের নিকট আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্য হলো।”
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আদী আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সূকাহ থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে উমর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস শুনতেন, তখন তিনি তার অতিরিক্ত কিছু করতেন না এবং তার চেয়ে কমও করতেন না।
হিশাম ইবনে আম্মার আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে সুলাইমান আল-আফতাস আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুরাশী থেকে, তিনি জুবায়ের ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন যখন আমরা দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছিলাম। তখন তিনি বললেন: “তোমরা কি দারিদ্র্যকে ভয় পাচ্ছ? সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের ওপর দুনিয়াকে অঝোর ধারায় ঢেলে দেওয়া হবে, এমনকি তোমাদের কারো অন্তরকে কেবল এই দুনিয়াই সত্য থেকে বিচ্যুত করবে। আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে যাচ্ছি যার রাত এবং দিন সমান।” আবু দারদা বলেন: “আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন; আল্লাহর কসম, তিনি আমাদের এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে গেছেন যার রাত এবং দিন সমান।”
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুবা আমাদের নিকট মুআবিয়াহ ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় তারা কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”
আবু আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আলকামাহ নাসর ইবনে আলকামাহ আমাদের নিকট উমাইর ইবনে আসওয়াদ এবং কাসীর ইবনে মুররাহ আল-হাদরামী থেকে, তারা আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অটল থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
حدثنا أبو عبد الله قال: حدثنا هشام بن عمار قال: حدثنا الجراح بن مليح قال: حدثنا بكر بن زرعة قال: سمعت أبا عنبة الخولاني، وكان قد صلى القبلتين مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لا يزال الله يغرس في هذا الدين غرساً يستعملهم في طاعته)).
حدثنا يعقوب بن حميد بن كاسب قال: حدثنا القاسم بن نافع قال: حدثنا الحجاج بن أرطأة عن عمرو بن شعيب عن أبيه قال: قام معاوية خطيباً فقال: أين علماؤكم؟ أين علماؤكم؟ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لا تقوم الساعة إلا وطائفة من أمتي ظاهرون على الناس، لا يبالون من خذلهم ولا من نصرهم)).
حدثنا هشام بن عمار قال: حدثنا محمد بن شعيب قال: حدثنا سعيد بن بشير عن قتادة عن أبي قلابة عن أبي أسماء الرحبي عن ثوبان أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا يزال طائفة من أمتي على الحق منصورين، لا يضرهم من خالفهم حتى يأتي أمر الله عز وجل)).
حدثنا أبو سعيد عبد الله بن سعيد قال: حدثنا أبو خالد الأحمر قال: سمعت مجالداً يذكر عن الشعبي عن جابر بن عبد الله قال: كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم فخط خطاً وخط خطين عن يمينه وخط خطين عن يساره، ثم وضع يده في الخط الأوسط، فقال: ((هذا سبيل الله)) ثم تلا هذه الآية: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُواْ السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ} [(153) سورة الأنعام].
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فيقول المؤلف -رحمه الله تعالى-:
بسم الله الرحمن الرحيم
আমাদের কাছে আবু আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হিশাম ইবনে আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আল-জাররাহ ইবনে মালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বকর ইবনে জুরাআ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আনাবা আল-খাওলানিকে বলতে শুনেছি—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দুই কিবলার দিকেই সালাত আদায় করেছিলেন—তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ এই দ্বীনের মধ্যে সর্বদা এমন কিছু চারা রোপণ করতে থাকবেন যাদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করবেন।"
আমাদের কাছে ইয়াকুব ইবনে হুমাইদ ইবনে কাসিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আল-কাসিম ইবনে নাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন এবং বললেন: তোমাদের আলেমগণ কোথায়? তোমাদের আলেমগণ কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের একটি দল মানুষের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদেরকে পরিত্যাগ করবে অথবা যারা তাদেরকে সাহায্য করবে—তাদের কোনো পরোয়া তারা করবে না।"
আমাদের কাছে হিশাম ইবনে আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে শুআইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সাঈদ ইবনে বাশির বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু আসমা আল-রাহবি থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ এসে পৌঁছে।"
আমাদের কাছে আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু খালিদ আল-আহমার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুজালিদকে বর্ণনা করতে শুনেছি আশ-শাবি থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি একটি রেখা টানলেন এবং তার ডানে দুটি রেখা ও বামে দুটি রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি মাঝখানের রেখাটির ওপর তাঁর হাত রাখলেন এবং বললেন: "এটিই আল্লাহর পথ।" এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে} [সূরা আল-আনআম: ১৫৩]।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
লেখক—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—বলেন:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ابتدأ كتابه بالبسملة اقتداءً بالقرآن، وعملاً بسنة سيد الأنام، حيث كان يكتبها في مكاتباته، وإن كان لا يقولها في خطبه، والكتب كما قرر أهل العلم بمنزلة الرسائل، تكتب فيها البسملة، لكن إن كانت لها مقدمات من كلام المؤلفين يشرحون فيها طرائقهم ومناهجهم فإنها حينئذٍ تأخذ حكم الخطبة، كما فعل الإمام مسلم، وهنا لم يفتتح الكتاب بخطبة كما صنع الإمام البخاري -رحمه الله تعالى- لأنه جرد الكتاب من كلامه، وإنما اقتصر فيه على كلام النبي عليه الصلاة والسلام.
بعد البسملة المقدمة، والمقدمة ليست من صنيعه، من صنيع المؤلف، لكنها ليست من كلامه، وإنما هي من كلام النبي عليه الصلاة والسلام، يعني ما افتتح الكتاب بخطبة يبين فيها منهجه وشرطه، كما فعل الإمام مسلم، إنما اقتصر على الأحاديث، وترجم وعنون لهذه الأحاديث بما يستنبطه منها على طريقة الإمام البخاري، والإمام مسلم لم يذكر تراجم، جرد الكتاب حتى من التراجم، وإنما اقتصر على الأحاديث.
قال رحمه الله:
باب: إتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم-
بعض النسخ فيها كتاب السنة، وبعضها المقدمة، ولا شك أن الأحاديث اللاحقة كلها عن السنة، وأهمية السنة، والاقتداء بالنبي عليه الصلاة والسلام، وطاعة النبي عليه الصلاة والسلام، والتحذير من مخالفته، والتحذير من البدع والمحدثات، فهي في السنة، ولذا قال:
باب: إتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم-
তিনি কুরআনের অনুসরণ করে এবং সৃষ্টির সরদারের সুন্নাহ অনুযায়ী 'বিসমিল্লাহ' দিয়ে তাঁর কিতাব শুরু করেছেন। কেননা রাসুলুল্লাহ (সালাইহি আস-সালাতু ওয়াস-সালাম) তাঁর চিঠিপত্রে এটি লিখতেন, যদিও তিনি তাঁর খুতবাগুলোতে এটি বলতেন না। আলেম সমাজ যেমনটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, কিতাবসমূহ চিঠিপত্র বা পত্রালির স্থলাভিষিক্ত, তাই তাতে 'বিসমিল্লাহ' লেখা হয়। তবে যদি তাতে লেখকের এমন কোনো ভূমিকা থাকে যেখানে তিনি তাঁর পদ্ধতি ও মানহাজ বর্ণনা করেন, তবে তা খুতবার বিধান লাভ করে; যেমনটি ইমাম মুসলিম করেছেন। এখানে লেখক ইমাম বুখারী -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- এর মতো কোনো খুতবা দিয়ে কিতাবটি শুরু করেননি, কারণ তিনি কিতাবটিকে নিজের বক্তব্য থেকে মুক্ত রেখেছেন এবং এতে কেবল নবী (সালাইহি আস-সালাতু ওয়াস-সালাম)-এর বাণীর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন।
বিসমিল্লাহর পর হলো ভূমিকা। আর এই ভূমিকাটি লেখকের নিজস্ব রচনা নয়—অর্থাৎ এটি গ্রন্থকারের কাজ হলেও তাঁর নিজস্ব বক্তব্য নয়, বরং তা নবী (সালাইহি আস-সালাতু ওয়াস-সালাম)-এর বাণী। অর্থাৎ তিনি ইমাম মুসলিমের মতো কোনো খুতবা দিয়ে কিতাবটি শুরু করেননি যেখানে তিনি তাঁর মানহাজ ও শর্তাবলি বর্ণনা করেছেন; বরং তিনি কেবল হাদিসসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তিনি ইমাম বুখারীর পদ্ধতিতে এই হাদিসগুলো থেকে যা উদ্ভাবন করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে পরিচ্ছেদ ও শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন। আর ইমাম মুসলিম কিতাবটিকে এমনকি শিরোনাম থেকেও মুক্ত রেখেছেন এবং কেবল হাদিসসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ-
কিছু পাণ্ডুলিপিতে এখানে 'কিতাবুস সুন্নাহ' (সুন্নাহ অধ্যায়) রয়েছে, আবার কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'আল-মুকাদ্দিমাহ' (ভূমিকা) রয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পরবর্তী সকল হাদিসই সুন্নাহ, সুন্নাহর গুরুত্ব, নবী (সালাইহি আস-সালাতু ওয়াস-সালাম)-এর অনুসরণ, তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর বিরোধিতা ও বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে সতর্ক করা সম্পর্কিত। সুতরাং এগুলো সুন্নাহরই অন্তর্ভুক্ত, এই কারণে তিনি বলেছেন:
অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ-
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولما كان الكتاب كله معقوداً لبيان سنة النبي عليه الصلاة والسلام ابتدأ باتباعه، بإتباع سنة الرسول عليه الصلاة والسلام لأنها حجة، فلا بد من إتباعه والاقتداء به {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ} [(21) سورة الأحزاب] وفي الأحاديث اللاحقة ما يدل على أن السنة أصل من أصول التشريع قائم بذاته، وأن السنة لا تحتاج إلى عرض على كتاب الله كما يقول بعضهم، وإنما هي أصل برأسه، وإن كانت في الأصل إنما جاءت لبيان ما في القرآن، وفيها من الأحكام الزائدة على ما في القرآن ما هو معروف في مضانه في أحكام كثيرة جداً، فلو نظرنا إلى أعظم أركان الإسلام بعد الدخول فيه بالشهادتين الصلاة، فما الذي في القرآن من أحكام الصلاة؟ الذي في القرآن عن الصلاة أمور مجملة، فيه الأمر بالصلاة والمحافظة عليها، وبيان بعض الأوقات على سبيل الإجمال لا على سبيل التفصيل، وكل هذا لا يمكن أن يستقل طالب العلم في التفقه منه، وإن كان هو الأصل الأصيل، وما عداه يدور في فلكه، لكن السنة لا يمكن أن يستغنى عنها.
قال:
باب: إتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم
السنة في الأصل: الطريقة، والمراد بها ما يضاف إلى النبي عليه الصلاة والسلام من قول أو فعل أو تقرير أو وصف.
قال رحمه الله: "حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة قال: حدثنا شريك" شريك بن عبد الله النخعي القاضي، فيه كلام لأهل العلم، والتوسط فيه أنه صدوق، ومع ذلك توبع عليه، فالحديث صحيح.
"حدثنا شريك عن الأعمش" والحديث مخرج في مسلم، يعني إذا كان الحديث في أحد الصحيحين هل نحتاج إلى أن نقول: صحيح؟ لا نحتاج إلى أن نقول: صحيح، فإذا كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما لا يحتاج لبيان درجته، هذا إن لم يكن من المعلقات في البخاري فنحتاج إلى أن نبين درجته.
قال: "حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة قال: حدثنا شريك عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما أمرتكم به فخذوه، وما نهيتكم عنه فانتهوا)) ".
যেহেতু সমগ্র গ্রন্থটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ বর্ণনার উদ্দেশ্যে সংকলিত, তাই এটি তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমেই এর সূচনা, কারণ সুন্নাহ একটি দলিল। সুতরাং তাঁর অনুসরণ এবং অনুকরণ করা অপরিহার্য। {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} [(২১) সূরা আল-আহযাব]। পরবর্তী হাদিসগুলোতে এমন সব প্রমাণ রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, সুন্নাহ হলো শরীয়ত প্রণয়নের এমন একটি মূল উৎস যা স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিছু লোক যেমন বলে থাকে যে সুন্নাহকে আল্লাহর কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে, বিষয়টি আসলে তেমন নয়; বরং এটি একটি স্বতন্ত্র উৎস। যদিও মূলত এটি কুরআনের বিষয়াবলি ব্যাখ্যা করার জন্যই এসেছে, তবুও এতে কুরআনের অতিরিক্ত এমন অনেক বিধান রয়েছে যা বহু বিধানের ক্ষেত্রে স্ব-স্ব উৎসে সুপরিচিত। যদি আমরা শাহাদাতাইনের মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশের পর ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ রুকন সালাতের দিকে তাকাই, তবে কুরআনে সালাতের কী কী বিধান রয়েছে? সালাত সম্পর্কে কুরআনে যা আছে তা হলো কিছু সংক্ষিপ্ত বিষয়। এতে সালাতের আদেশ দেওয়া হয়েছে, সালাতের হিফাজত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু সময়ের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে সংক্ষিপ্তভাবে, বিস্তারিতভাবে নয়। একজন ইলম অন্বেষণকারী কেবল কুরআন থেকে এ ব্যাপারে স্বতন্ত্রভাবে পূর্ণ ফিকহী জ্ঞান লাভে সক্ষম হতে পারেন না, যদিও কুরআনই হলো মূল ভিত্তি এবং অন্য সবকিছু একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। তবে সুন্নাহ থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তিনি বলেছেন:
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ
আভিধানিকভাবে সুন্নাহ অর্থ: পথ বা পদ্ধতি। আর সুন্নাহ বলতে এখানে উদ্দেশ্য হলো এমন বিষয় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ, মৌনসম্মতি বা বৈশিষ্ট্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আবু বকর বিন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।" শারীক বিন আব্দুল্লাহ আন-নাখায়ি আল-কাজী; তাঁর সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ মত হলো তিনি সত্যবাদী, আর তা সত্ত্বেও এই বর্ণনায় তাঁর সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে, সুতরাং হাদিসটি সহীহ।
"শারীক আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন" এবং হাদিসটি মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। এর অর্থ হলো, হাদিসটি যদি সহীহাইনের কোনো একটিতে থাকে, তবে আমাদের কি এটি 'সহীহ' বলার প্রয়োজন আছে? আমাদের 'সহীহ' বলার প্রয়োজন নেই। সুতরাং হাদিস যদি সহীহাইন বা তার কোনো একটিতে থাকে তবে তার মান বর্ণনার প্রয়োজন হয় না। তবে শর্ত হলো সেটি যেন ইমাম বুখারীর 'মুআল্লাক' (ঝুলন্ত সনদ) বর্ণনা না হয়; সেক্ষেত্রে আমাদের তার মান বর্ণনা করার প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেছেন: "আবু বকর বিন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমি তোমাদের যা আদেশ করি তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করি তা থেকে বিরত থাকো))।"
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
شريك مخرج له في الصحيح، ومع ذلك يقولون: حديثه حسن، ما خرج له في الصحيح لم يستقل به وإنما توبع عليه، والشيخان ينتقيان من أحاديث المتكلم فيهم ما ووفقوا عليه، وإلا فحديث شريك في الإسراء معروف في الصحيحين، ونص مسلم في صحيحه أنه زاد ونقص، وقدم وأخر، وأوهامه مبينة في زاد المعاد في فتح الباري، لا سيما في حديث الإسراء.
"حدثنا شريك عن الأعمش سليمان بن مهران الأعمش" إمام من أئمة المسلمين موصوف بالتدليس "عن أبي صالح عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما أمرتكم به فخذوه، وما نهيتكم عنه فانتهوا)) ".
وفي الحديث الذي يليه يقول: "حدثنا محمد بن الصباح قال: أنبأنا جرير عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ذروني ما تركتكم، فإنما أهلك من كان قبلكم بسؤالهم واختلافهم على أنبيائهم، فإذا أمرتكم بشيء فخذوا منه ما استطعتم، وإذا نهيتكم عن شيء فانتهوا)) ".
الحديث الأول عن أبي هريرة وعنه أبو صالح، وعنه الأعمش، والذي يليه كذلك الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة، والراوي عن الأعمش في الطريق الأول شريك، وفي الطريق الثاني جرير، وهذه متابعة من جرير لشريك، وهو بهذه المتابعة يرتقي إلى درجة الصحيح، وعرفنا أنه مخرج في مسلم، فلا نحتاج إلى مثل هذا، لكن من باب بيان مثل هذه الأمور يستفاد منها في غير الصحيحين.
الحديث الأول مختصر: ((ما أمرتكم به فخذوه، وما نهيتكم عنه فانتهوا عنه)) في الثاني يقول: ((ذروني ما تركتكم)) أتركوني ما تركتكم، فلا تسألوا عن أشياء يعني ما تركها الله -جل وعلا- نسياناً، وإنما تركها وسكت عنها رحمة بهم، ثم بعد ذلك بعض الناس ينبش ويسأل حتى يحرم المباح من أجله، ويكون حينئذٍ من شر الناس.
শারীক-এর হাদিস সহীহ গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে, তা সত্ত্বেও তারা বলেন: তার হাদিস হাসান। সহীহ গ্রন্থে তার যে হাদিসগুলো এসেছে সেগুলোতে তিনি একক নন, বরং সেগুলোতে অন্যদের সমর্থন (মুতাবায়াত) রয়েছে। শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) বিতর্কিত বর্ণনাকারীদের হাদিস থেকে কেবল সেগুলোই নির্বাচন করেন যেগুলোতে তারা সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছেন। অন্যথায়, ইসরা সংক্রান্ত শারীকের হাদিসটি সহীহায়নে সুপরিচিত, এবং মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এতে তিনি (শারীক) কিছু বাড়িয়েছেন ও কমিয়েছেন এবং আগে-পিছে করেছেন। তার ভুলগুলো ‘যাদুল মা’আদ’ এবং ‘ফাতহুল বারী’তে বর্ণিত হয়েছে, বিশেষ করে ইসরার হাদিসটির ক্ষেত্রে।
"আমাদের নিকট শারীক হাদিস বর্ণনা করেছেন আমাশ সুলায়মান বিন মিহরান আল-আমাশ থেকে।" তিনি মুসলিমদের একজন ইমাম কিন্তু তাকে তাদলীসের বিশেষণে বিশেষিত করা হয়। "আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((আমি তোমাদের যা আদেশ করেছি তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেছি তা থেকে বিরত থাকো))"।
এবং পরবর্তী হাদিসে তিনি বলেন: "মুহাম্মাদ বিন আস-সাব্বাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((আমি তোমাদের যতক্ষণ ছেড়ে রাখি (কিছু না বলি), তোমরাও আমাকে ততক্ষণ ছেড়ে রাখো। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছিল। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো বিষয়ে আদেশ করি, তখন সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো, আর যখন তোমাদের কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করি, তখন তা বর্জন করো))"।
প্রথম হাদিসটি আবু হুরায়রা থেকে, তার থেকে আবু সালিহ, এবং তার থেকে আমাশ বর্ণনা করেছেন। পরবর্তী হাদিসটিও অনুরূপভাবে আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে। প্রথম সূত্রে আমাশ থেকে বর্ণনাকারী হলেন শারীক এবং দ্বিতীয় সূত্রে জারীর। এটি জারীরের পক্ষ থেকে শারীকের জন্য একটি মুতাবায়াত (সমর্থন)। এই মুতাবায়াতের কারণে হাদিসটি সহীহ স্তরে উন্নীত হয়। আমরা জানি যে এটি মুসলিমে উদ্ধৃত হয়েছে, তাই আমাদের এ ধরনের বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই, তবে এই বিষয়গুলো বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো সহীহাইন ব্যতীত অন্য কিতাবের ক্ষেত্রে এগুলো থেকে উপকৃত হওয়া।
প্রথম হাদিসটি সংক্ষিপ্ত: ((আমি তোমাদের যা আদেশ করেছি তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেছি তা থেকে বিরত থাকো))। দ্বিতীয় হাদিসে বলা হয়েছে: ((আমি তোমাদের যতক্ষণ ছেড়ে রাখি, তোমরাও আমাকে ততক্ষণ ছেড়ে রাখো)) অর্থাৎ, আমি তোমাদের যে বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছু বলিনি সেগুলোতে আমাকে ছেড়ে দাও। এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা আল্লাহ -জল্লা ওয়া আলা- ভুলে গিয়ে ছেড়ে দেননি, বরং তিনি সে বিষয়ে নীরব থেকেছেন তাদের প্রতি দয়া স্বরূপ। এরপর কিছু লোক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করে, এমনকি তার প্রশ্নের কারণে একটি বৈধ বিষয় হারাম হয়ে যায়; এমতাবস্থায় সে নিকৃষ্টতম মানুষের অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
((ذروني ما تركتكم)) {لَا تَسْأَلُواْ عَنْ أَشْيَاء إِن تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} [(101) سورة المائدة] ((فإنما أهلك من كان قبلكم بسؤالهم واختلافهم على أنبيائهم)) سألوا وألحوا في السؤال، ثم بعد ذلك تركوا العمل فهلكوا، لو أن بني إسرائيل لما أمروا بذبح البقرة عمدوا إلى أدنى بقرة، أو أول بقرة وقفوا عليها فذبحوها برئوا من العهدة، وتكون حينئذٍ بأبخس الأثمان بقيمة معتادة، لكنهم سألوا ما هي؟ ما لونها؟ ما هي؟ إن البقر تشابه علينا، ثم بعد ذلك ضيق عليهم بسبب أسئلتهم، في النهاية {فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُواْ يَفْعَلُونَ} [(71) سورة البقرة] لأنه إذا حدد المطلوب قل من بين جنسه، لكن لم يحدد يكثر، أي شيء يكفي، فإذا حدد بأوصاف معينة فإنه حينئذٍ يقل بين جنسه، فترتفع قيمته حتى قالوا: إنهم اشتروها بملء مسكها، يعني بملء جلدها ذهباً، ولو عمدوا إلى أدنى بقرة امتثالاً ومبادرة بالامتثال لكنهم قوم هذه عادتهم وهذا ما جبلوا عليه، قوم لا يمتثلون إلا بكل كلفة ومشقة، وفرق بين امتثالهم بعد هذه الأسئلة {فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُواْ يَفْعَلُونَ} [(71) سورة البقرة] وبين من أمر بذبح ابنه فتله للجبين، ما تردد، وهذه بقرة وهذا ابن، ففرق بين امتثال وامتثال.
((আমি তোমাদের যে অবস্থায় ছেড়েছি, সেভাবেই আমাকে থাকতে দাও)) {তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তা তোমাদের কষ্ট দেবে} [(১০১) সূরা আল-মায়িদাহ] ((নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংস হয়েছে তাদের অত্যধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণে))। তারা প্রশ্ন করেছিল এবং প্রশ্নের ব্যাপারে পীড়াপীড়ি করেছিল, অতঃপর তারা আমল করা বর্জন করেছিল, ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বনী ইসরাঈলকে যখন গরু যবেহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন যদি তারা সাধারণ কোনো গরুর বা তাদের সামনে পড়া প্রথম গরুটির সংকল্প করত এবং তা যবেহ করত, তবেই তারা দায়মুক্ত হয়ে যেত। আর তখন তা হতো অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে ও স্বাভাবিক দামে। কিন্তু তারা প্রশ্ন করেছিল: সেটি কী? তার রঙ কী? সেটি কী? নিশ্চয়ই গরু আমাদের নিকট সদৃশ মনে হচ্ছে। অতঃপর তাদের প্রশ্নের আধিক্যের কারণে তাদের ওপর বিষয়টি কঠিন করে দেওয়া হয়েছিল। পরিশেষে {তারা তা যবেহ করল, যদিও তারা তা প্রায় করতে পারছিল না} [(৭১) সূরা আল-বাক্বারাহ]। কারণ যখন কোনো উদ্দিষ্ট বিষয়কে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়, তখন তার সমজাতীয়দের মধ্যে তার সংখ্যা কমে যায়; কিন্তু যখন নির্দিষ্ট করা হয় না, তখন তা প্রচুর থাকে এবং যেকোনো কিছুই যথেষ্ট হয়। সুতরাং যখন বিশেষ কিছু গুণের মাধ্যমে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ করা হয়, তখন তার সমজাতীয়দের মধ্যে সেটি বিরল হয়ে পড়ে এবং তার মূল্য বেড়ে যায়। এমনকি বলা হয়েছে যে, তারা সেটি তার চামড়া পূর্ণ করে, অর্থাৎ তার চামড়া ভর্তি স্বর্ণের বিনিময়ে ক্রয় করেছিল। যদি তারা কেবল নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে এবং দ্রুততার সাথে সাধারণ কোনো গরুর সংকল্প করত, তবে তা সহজ হতো; কিন্তু তারা ছিল এমন এক কওম যাদের স্বভাবই ছিল এটি এবং এভাবেই তারা গড়ে উঠেছিল। তারা এমন কওম যারা অনেক কষ্ট ও ক্লেশ ছাড়া আনুগত্য করে না। আর তাদের এই দীর্ঘ প্রশ্নের পরের আনুগত্য—{তারা তা যবেহ করল, যদিও তারা তা প্রায় করতে পারছিল না} [(৭১) সূরা আল-বাক্বারাহ]—এবং যাকে নিজের সন্তান যবেহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আর সে কোনো দ্বিধা ছাড়াই তাকে কপালে ভর দিয়ে শুইয়ে দিয়েছিল—এই দুইয়ের মাঝে কতই না পার্থক্য! এটি ছিল একটি গরু আর সেটি ছিল নিজ সন্তান; সুতরাং আনুগত্য ও আনুগত্যের মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
((ذروني ما تركتكم، فإنما أهلك من كان قبلكم بسؤالهم واختلافهم على أنبيائهم، فإذا أمرتكم بشيء فخذوا منه ما استطعتم)) وهناك: ((ما أمرتكم به فخذوه)) وهنا مقيد بالاستطاعة، ((وإذا نهيتكم عن شيء فانتهوا)) الأوامر مقيدة بالاستطاعة، والنواهي مجزوم بها، وقد جاء الخبر مقلوباً: ((إذا أمرتكم بأمر فخذوه، وإذا نهيتكم عن شيء فاتركوا منه ما استطعتم)) لكن هذا قلب، والصواب أن الاستطاعة مقرونة بالأمر، أما النهي فلا يُحتاج إلى استطاعة، الترك كل أحد يستطيعه، لكن الفعل ما كل أحد يستطيعه، قد يكون في الشخص ما يعوق ويحول دون فعله، ولذا قال: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [(16) سورة التغابن] وجاء في كتاب الله -جل وعلا-: {اتَّقُواْ اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ} [(102) سورة آل عمران] وجاء أيضاً مقيد بالاستطاعة، فمن أهل العلم من يقول: إن الآية المقيدة ناسخة للآية المطلقة {اتَّقُواْ اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ} [(102) سورة آل عمران] ومنهم من يقول: إنها مبينة وليست ناسخة، فحق التقوى هو المقدور عليه فتتفق الآيتان.
((إذا أمرتكم بشيء فخذوا منه ما استطعتم، وإذا نهيتكم عن شيء فانتهوا)) يعني تعليق الأمر بالاستطاعة، وإطلاق النهي وعدم تقييده بها يدل على أن المحظور لا ثنيا فيه، بل لا بد من تركه جزماً، والمأمور فيه التقييد بالاستطاعة، فأخذ من هذا جمهور العلماء على أن ارتكاب المحظور أعظم من ترك المأمور؛ لأن الشيء الذي فيه ثنيا، وفيه مرد إلى استطاعة الإنسان أمره أسهل مما جزم به من غير تقييد بالاستطاعة، فالنهي مجزوم به من غير ثنيا، والأمر مقرون بالاستطاعة، فملاحظ فيه التخفيف، ملاحظ فيه التيسير بخلاف النواهي فإنها مجزوم بها، هذا ما يراه الأكثر أخذاً من هذا الحديث، وشيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى- يرى العكس، يقول: ترك المأمور أعظم من فعل المحظور، ويستند في ذلك إلى أن معصية آدم بفعل محظور، ومعصية إبليس ترك مأمور، ولا شك أن معصية إبليس أعظم من معصية آدم، المأخذ معروف وإلا غير معروف، واضح وإلا ما هو بواضح؟
طالب:. . . . . . . . .
والأول؟
طالب:. . . . . . . . .
"আমি তোমাদের যতটুকু ছেড়ে রেখেছি তোমরা আমাকে ততটুকুই ছেড়ে দাও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের প্রতি অত্যাধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো কিছুর নির্দেশ দেই, তখন তা থেকে তোমাদের সাধ্যমতো পালন করো।" অন্য বর্ণনায় আছে: "আমি তোমাদের যা নির্দেশ করি তা গ্রহণ করো।" আর এখানে সামর্থ্যের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে। "এবং আমি যখন তোমাদের কোনো কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বিরত থাকো।" আদেশসমূহ সামর্থ্যের সাথে শর্তযুক্ত, আর নিষেধসমূহ সুনিশ্চিতভাবে বর্জনীয়। তবে একটি বর্ণনা উল্টোভাবে এসেছে: "যখন আমি তোমাদের কোনো কাজের নির্দেশ দেই তখন তা গ্রহণ করো, আর যখন তোমাদের কোনো কিছু থেকে নিষেধ করি তখন তা থেকে তোমাদের সাধ্যমতো বর্জন করো।" কিন্তু এটি শব্দগত উলটপালট। সঠিক হলো—সামর্থ্য আদেশের সাথে যুক্ত, আর নিষেধের ক্ষেত্রে সামর্থ্যের প্রয়োজন নেই। বর্জন করা প্রত্যেকের পক্ষেই সম্ভব, কিন্তু সম্পাদন করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। ব্যক্তির মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারে যা তার কাজ সম্পাদনে বাধা সৃষ্টি করে। এজন্য আল্লাহ বলেছেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো} [(১৬) সূরা আত-তাগাবুন]। মহান আল্লাহর কিতাবে আরও এসেছে: {তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো} [(১০২) সূরা আলে ইমরান]। এটিও সামর্থ্যের সাথে শর্তযুক্ত হয়ে এসেছে। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: শর্তযুক্ত আয়াতটি শর্তহীন আয়াত {তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো} [(১০২) সূরা আলে ইমরান]-কে রহিতকারী। আবার কেউ কেউ বলেন: এটি ব্যাখ্যাকারী, রহিতকারী নয়। কেননা যথাযথ তাকওয়া হলো যতটুকু সামর্থ্যের মধ্যে থাকে, ফলে আয়াত দুটির মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান হয়।
"যখন আমি তোমাদের কোনো কিছুর নির্দেশ দেই তখন তা থেকে তোমাদের সাধ্যমতো পালন করো, আর যখন আমি তোমাদের কোনো কিছু থেকে নিষেধ করি তখন তা থেকে বিরত থাকো।" অর্থাৎ আদেশকে সামর্থ্যের সাথে সম্পৃক্ত রাখা এবং নিষেধকে শর্তহীন রাখা প্রমাণ করে যে, নিষিদ্ধ বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই, বরং তা অবশ্যই সুনিশ্চিতভাবে বর্জন করতে হবে। আর আদিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে তা সামর্থ্যের সাথে শর্তযুক্ত। এ থেকে জুমহুর (অধিকাংশ) আলেম এই মত গ্রহণ করেছেন যে, নিষিদ্ধ কাজ করা আদিষ্ট কাজ পরিত্যাগ করার চেয়ে গুরুতর অপরাধ। কেননা যে বিষয়ে ছাড় রয়েছে এবং মানুষের সামর্থ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তার বিধান ঐ বিষয়ের চেয়ে সহজ যা সামর্থ্যের শর্ত ছাড়াই সুনিশ্চিতভাবে পালনীয়। সুতরাং নিষেধ কোনো ছাড় ছাড়াই সুনিশ্চিত, আর আদেশ সামর্থ্যের সাথে যুক্ত; তাই এখানে সহজীকরণের বিষয়টি লক্ষণীয়, বিপরীতে নিষেধসমূহ সুনিশ্চিতভাবে পালনীয়। এই হাদীস থেকে অধিকাংশ আলেম এটিই বুঝেছেন। তবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) এর বিপরীত মত পোষণ করেন। তিনি বলেন: আদিষ্ট বিষয় বর্জন করা নিষিদ্ধ কাজ করার চেয়ে গুরুতর। এর সপক্ষে তিনি এই যুক্তি দেন যে, আদমের অবাধ্যতা ছিল একটি নিষিদ্ধ কাজ করার মাধ্যমে, আর ইবলিসের অবাধ্যতা ছিল একটি আদিষ্ট বিষয় বর্জন করার মাধ্যমে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবলিসের অবাধ্যতা আদমের অবাধ্যতার চেয়ে গুরুতর। এই দলীল গ্রহণের উৎস কি জানা আছে নাকি নেই? এটি কি স্পষ্ট নাকি অস্পষ্ট?
ছাত্র: . . . . . . . . .
আর প্রথমটি?
ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأول واضح من الحديث، يعني قول الأكثر حقيقة واضح من الحديث؛ لأن تعليق الشيء على الاستطاعة يدل على أن في شيء من التخفيف، يعني فرق بين من يقول لك: اذهب فائت بكذا، وبين من يقول لك: إن كنت تقدر فأتني بكذا، كلها أوامر، كلها ائت بكذا، لكن فرق بين أن يقول: اذهب فأتني بكذا، وبين من يقول لك: إن كنت تقدر فأتني بكذا، في فرق وإلا ما في فرق؟ فرق واضح، فعلى هذا فعل المحظور أشنع وأعظم من ترك المأمور؛ لأن ترك المأمور مقيد بالاستطاعة، وفعل المحظور ما فيه ثنيا، فاجتنبوه، فانتهوا، وشيخ الإسلام يقرر العكس، وأن ترك المأمور أعظم من فعل المحظور؛ لأن ترك المأمور معصية إبليس، وفعل المحظور معصية آدم، ولا شك أن معصية إبليس أعظم من معصية آدم، هذا من حيث الإجمال، وإلا فالقول المتجه أنه لا يحكم في مثل هذا بحكم مطرد، ما نقول: ترك المأمور أعظم مطلقاً، ولا فعل المحظور أعظم مطلقاً، بل ننظر، يعني المسألة مفترضة في إيش؟ في فعل مأمور أو ترك محظور يتعارضان، إن ترك المحظور ترك معه المأمور، وإن فعل المحظور فعل عه المأمور، يعني عند التعارض لا بد من الترجيح، وننظر في المتعارضين، ننظر في المتروك، هل تركه جاء التشديد فيه من قبل الشرع؟ وننظر أيضاً في هذا المحظور هل هو من العظائم والموبقات والكبائر أو أن أمره أخف؟ فننظر بين كل أمرين، بين المأمور والمحظور، وميزان كل واحد منهما في الشرع، يعني لو قدرنا نعلم جميعاً أن صلاة الجماعة واجبة في المسجد حيث ينادى بها، نعلم هذا ونقرره، وهذا الذي نعتقده وندين الله به، لكن لو كان في طريقك إلى المسجد لأداء هذا الواجب منكر، فيه نساء متبرجات، أو شباب يلعبون في الطريق، وتأمرهم ولا يأتمرون، أو فيه بغي على بابها ظالم لا بد من الوقوع عليها، هل الأمور الثلاثة متساوية؟ يعني هل نترك صلاة الجماعة في المسجد؛ لأن في طريقنا شباب يلعبون ونأمرهم ولا يأتمرون؟ نعم هذا منكر بلا شك، ومشاهدة المنكر الأصل عدمها، هل نقول: إنه والله بدل ما نشاهد هؤلاء نصلي في البيت؟ نقول: هذا المحظور لا يقاوم ذلك المأمور، بينما لو كان في طريقك إلى المسجد بغي لا بد أن تقع عليها، عند بابها ظالم لا بد أن تقع عليها، نقول:
প্রথমটি হাদিস থেকে স্পষ্ট, অর্থাৎ অধিকাংশের মত প্রকৃতপক্ষে হাদিস থেকে স্পষ্ট; কারণ কোনো বিষয়কে সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল করা নির্দেশ করে যে সেখানে কিছুটা নমনীয়তা রয়েছে। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আপনাকে বলে: 'যাও এবং এটি নিয়ে এসো' আর যে আপনাকে বলে: 'যদি তুমি পার তবে এটি আমার কাছে নিয়ে এসো'—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উভয়ই নির্দেশ, উভয়ই 'নিয়ে এসো', কিন্তু 'যাও এবং এটি নিয়ে এসো' বলা এবং 'যদি তুমি পার তবে এটি আমার কাছে নিয়ে এসো' বলার মধ্যে কি পার্থক্য নেই? পার্থক্য স্পষ্ট। অতএব, এই ভিত্তিতে নিষিদ্ধ কাজ করা আদেশকৃত কাজ ত্যাগ করার চেয়ে অধিক জঘন্য ও গুরুতর; কারণ আদেশকৃত কাজ বর্জন করা সামর্থ্যের সাথে শর্তযুক্ত, কিন্তু নিষিদ্ধ কাজের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই, বরং বলা হয়েছে: 'তা থেকে দূরে থাকো', 'নিবৃত্ত হও'।
অন্যদিকে শাইখুল ইসলাম এর বিপরীতটি সাব্যস্ত করেছেন যে, আদেশকৃত কাজ ত্যাগ করা নিষিদ্ধ কাজ করার চেয়েও গুরুতর; কারণ আদেশকৃত কাজ ত্যাগ করা ছিল ইবলিসের অবাধ্যতা, আর নিষিদ্ধ কাজ করা ছিল আদমের অবাধ্যতা। আর নিঃসন্দেহে ইবলিসের অবাধ্যতা আদমের অবাধ্যতার চেয়ে গুরুতর। এটি সামগ্রিক আলোচনার দিক থেকে, অন্যথায় সঠিক অভিমত হলো—এই ধরণের ক্ষেত্রে কোনো ঢালাও বিধান দেওয়া যায় না। আমরা এটি বলব না যে, আদেশকৃত কাজ ত্যাগ করা সব ক্ষেত্রে গুরুতর, আবার নিষিদ্ধ কাজ করাও সব ক্ষেত্রে গুরুতর। বরং আমাদের দেখতে হবে যে, সমস্যাটি মূলত কোথায়? অর্থাৎ একটি আদেশ পালন এবং একটি নিষেধাজ্ঞা বর্জন যখন একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক হয়।
যদি কোনো নিষিদ্ধ কাজ বর্জন করতে গিয়ে আদেশকৃত কাজও বর্জিত হয়, অথবা নিষিদ্ধ কাজ করতে গিয়ে আদেশকৃত কাজও সম্পাদিত হয়—অর্থাৎ সংঘাতের সময় অবশ্যই অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে হবে। আমাদের এই পরস্পরবিরোধী বিষয় দুটির দিকে তাকাতে হবে; বর্জিত বিষয়টি দেখতে হবে—শারয়িভাবে সেটি বর্জনের ব্যাপারে কি কঠোরতা এসেছে? পাশাপাশি আমাদের সেই নিষিদ্ধ বিষয়ের দিকেও তাকাতে হবে—সেটি কি ধ্বংসাত্মক মহাপাপসমূহের অন্তর্ভুক্ত নাকি সেটির বিষয়টি তুলনামূলক হালকা? সুতরাং আমরা প্রতিটি বিষয়ের মাঝে—আদেশকৃত বিষয় এবং নিষিদ্ধ বিষয়ের মাঝে—শরিয়তে এগুলোর প্রত্যেকটির গুরুত্বের মানদণ্ড বিবেচনা করব।
উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আমরা সবাই জানি যে যেখানে আযান হয় সেখানে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়া ওয়াজিব। আমরা এটি জানি, স্বীকার করি এবং এটিই আমাদের আকিদা ও দ্বীন। কিন্তু এই ওয়াজিব পালনের জন্য মসজিদের পথে যদি কোনো গর্হিত কাজ সংঘটিত হতে দেখা যায়, যেমন সেখানে বেপর্দা নারী রয়েছে, অথবা রাস্তার মাঝে কিছু যুবক খেলাধুলা করছে যাদের আপনি আদেশ দিলেও তারা মানছে না, অথবা এমন কোনো ব্যভিচারিণী নারী যার দরজায় কোনো জালেম দাঁড়িয়ে আছে এবং সেখানে গেলে তার মুখোমুখি হওয়া অবধারিত—এই তিনটি বিষয় কি সমান? অর্থাৎ, পথে কিছু যুবক খেলাধুলা করছে আর আদেশ করা সত্ত্বেও তারা শুনছে না বলে কি আমরা জামাতে নামাজ ত্যাগ করব? হ্যাঁ, এটি নিঃসন্দেহে একটি গর্হিত কাজ এবং মূলত গর্হিত বিষয় দেখা বর্জনীয়। তবে আমরা কি বলব যে—আল্লাহর কসম, তাদের দেখার চেয়ে আমরা বাড়িতেই নামাজ পড়ব? আমরা বলব: এই নিষিদ্ধ বিষয়টি সেই আদেশকৃত বিষয়ের সমতুল্য নয়। পক্ষান্তরে, যদি মসজিদে যাওয়ার পথে এমন কোনো ব্যভিচারিণী নারী থাকে যার মুখোমুখি হওয়া অবধারিত হয়, যার দরজায় কোনো জালেম দাঁড়িয়ে আছে এবং যার সম্মুখীন হওয়া অনিবার্য, তখন আমরা বলব:
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
نعم صلِ في بيتك؛ لأن هذا المحظور أعظم من ذلك المأمور، وهكذا، فننظر في المتعارضين على حدة، ولا نصدر قاعدة مطردة أو عامة، وهذا الحديث من جوامع الكلم، ومن قواعد الشريعة، من جوامع الكلم، ومن قواعد الشريعة، ففي جميع المأمورات يؤتى منها بما يستطاع، فإن استطاع الإنسان الإتيان بها على الوجه المشروع كاملاً لزمه ذلك، وإن عجز عن بعضه سقط عنه، ولزمه ما قدر عليه، إذا كان بمفرده عبادة، شخص لا يستطيع القيام، وفي حديث عمران بن حصين رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((صلِ قائماً، فإن لم تستطع فقاعداً، فإن لم تستطع فعلى جنب)) يعني لا يستطيع القيام يصلي جالس، لكنه يستطيع القراءة، هل تسقط القراءة لسقوط القيام؟ يأتي منه ما استطاع، لا بد من القراءة، فإذا لم يستطع شيئاً يتركه، وإذا استطاع شيئاً لزمه وتعين عليه، فيأتي منه بالمستطاع، لكن قد يكون المستطاع لا يقصد لذاته، وإنما ثبوته تبعاً لغيره، فإذا سقط المتبوع سقط التابع، كرأس الأصلع في الحج
…النغمة هذه لا بد أن تغير، لا بد من تغييرها.
أقول: رأس الأصلع في الحج كيف يحلقه؟ قال بعضهم: يمر الموسى على رأسه؛ لأنه يستطيع إمرار الموسى، لكن إمرار الموسى ليس مقصوداً لذاته، وإنما هو مقصود لإزالة الشعر ولا شعر، شخص لا يستطيع القراءة ويستطيع تحريك لسانه وشفتيه، نقول: حرك لسانك وشفتيك مثل الذي يقرأ، واترك ما لا تستطيع؟ هذا التحريك إنما هو تبع للقراءة وليس مما يتعبد به على جهة الاستقلال فلا يؤتى به، بينما القراءة في الصلاة مطلوبة، ويتعبد بها، فلا تسقط بسقوط ركنها الذي هو القيام، وهكذا، وكلام أهل العلم في شرح الحديث طويل، فيه أيضاً في شرح ابن رجب رحمه الله على الأربعين فوائد، وفي الشروح أيضاً فوائد كثيرة متعلقة بهذا الحديث.
في الحديث الثالث يقول: "حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة قال: حدثنا أبو معاوية" واسمه؟ نعم؟
طالب:. . . . . . . . .
مدلس نعم.
طالب:. . . . . . . . .
إيه لكن الحديث مخرج في الصحيح، لو لم يكن الحديث مخرج في الصحيح لوقفنا عند تدليسه.
طالب:. . . . . . . . .
مؤثر خارج الصحيحين مؤثر، نعم.
হাঁ, আপনি আপনার ঘরে সালাত আদায় করুন; কারণ এই নিষিদ্ধ বিষয়টি সেই আদিষ্ট বিষয়ের চেয়েও গুরুতর। একইভাবে, আমরা দুটি বৈপরীত্যপূর্ণ বিষয়কে পৃথকভাবে বিবেচনা করি এবং কোনো ধ্রুব বা সাধারণ নিয়ম জারি করি না। এই হাদিসটি 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী) এবং শরিয়তের অন্যতম মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। এটি জাওয়ামিউল কালিম এবং শরিয়তের মূলনীতিসমূহের অন্যতম। সুতরাং সমস্ত আদেশকৃত বিষয়ের ক্ষেত্রে যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু পালন করতে হবে। যদি মানুষ তা পূর্ণাঙ্গভাবে শরিয়তসম্মত উপায়ে পালন করতে সক্ষম হয়, তবে তা তার জন্য আবশ্যক। আর যদি এর কিছু অংশ পালনে সে অক্ষম হয়, তবে তা তার ওপর থেকে রহিত হয়ে যাবে এবং যতটুকু পালনে সে সক্ষম হবে ততটুকু করা তার জন্য আবশ্যক হবে, যদি তা স্বতন্ত্রভাবে ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। জনৈক ব্যক্তি যে দাঁড়িয়ে থাকতে অক্ষম— ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তুমি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, যদি না পারো তবে বসে, আর যদি তাও না পারো তবে কাত হয়ে শুয়ে।" অর্থাৎ, যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকতে অক্ষম সে বসে সালাত আদায় করবে, কিন্তু সে তিলাওয়াত করতে সক্ষম। তবে কি কিয়াম (দাঁড়ানো) রহিত হওয়ার কারণে তিলাওয়াতও রহিত হয়ে যাবে? সে যতটুকু সামর্থ্য রাখে তা পালন করবে; তিলাওয়াত করা আবশ্যক। সুতরাং সে যা করতে অক্ষম তা ছেড়ে দেবে এবং যা করতে সক্ষম তা করা তার জন্য অবধারিত ও আবশ্যক। অতএব সে সামর্থ্য অনুযায়ী আমল করবে। তবে এমন হতে পারে যে, কোনো সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ নিজে উদ্দিষ্ট নয়, বরং অন্যের অনুগামী হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এমতাবস্থায় যদি মূল বিষয়টি রহিত হয়ে যায়, তবে তার অনুগামী বিষয়ও রহিত হয়ে যাবে; যেমন হজের ক্ষেত্রে ন্যাড়া ব্যক্তির মাথা
...এই সুরটি অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে, এটি পরিবর্তন করা জরুরি।
আমি বলছি: হজের সময় ন্যাড়া ব্যক্তি কীভাবে মাথা মুণ্ডন করবে? তাদের কেউ কেউ বলেছেন: সে তার মাথার ওপর খুর চালনা করবে; কারণ সে খুর চালনা করতে সক্ষম। কিন্তু খুর চালনা করা নিজে কোনো উদ্দিষ্ট কাজ নয়, বরং এটি চুল দূর করার উদ্দেশ্যে করা হয়, অথচ সেখানে কোনো চুল নেই। কোনো ব্যক্তি যে তিলাওয়াত করতে অক্ষম কিন্তু তার জিহ্বা ও ঠোঁট নাড়াতে সক্ষম, আমরা কি বলব: যে তিলাওয়াত করে তার মতো করে তোমার জিহ্বা ও ঠোঁট নাড়াও এবং যা পারো না তা ছেড়ে দাও? এই নাড়ানো তো তিলাওয়াতের অনুগামী মাত্র, এটি স্বতন্ত্রভাবে কোনো ইবাদত নয় যে তা পালন করতে হবে। পক্ষান্তরে, সালাতে তিলাওয়াত কাম্য এবং এটি একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, তাই এর রুকন অর্থাৎ কিয়াম বা দাঁড়ানো রহিত হওয়ার কারণে তিলাওয়াত রহিত হয় না। এভাবেই বিষয়টি বিবেচিত হবে। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বিজ্ঞ আলেমগণের আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ। আল-আরবাঈন (চল্লিশ হাদিস)-এর ওপর ইবনে রজব রাহিমাহুল্লাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থেও অনেক ফায়দা রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতেও এই হাদিস সংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা বিদ্যমান রয়েছে।
তৃতীয় হাদিসে তিনি বলেন: "আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন" এবং তার নাম? হ্যাঁ?
ছাত্র: . . . . . . . . .
মুদাল্লিস (তাদলিসকারী), হ্যাঁ।
ছাত্র: . . . . . . . . .
হ্যাঁ, তবে হাদিসটি সহিহ গ্রন্থে (সহিহাইন) বর্ণিত হয়েছে। যদি হাদিসটি সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত না হতো, তবে আমরা তার তাদলিসের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করতাম।
ছাত্র: . . . . . . . . .
সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বাইরে এটি প্রভাব বিস্তারকারী (অর্থাৎ গুরুত্ববহ), হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال: "حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة قال: حدثنا أبو معاوية" واسمه: محمد بن خازم الضرير "ووكيع عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله)) ".
وفي بعض الروايات: ((من أطاع أميري فقد أطاعني، ومن عصى أميري فقط عصاني، ومن أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله)) فطاعة الأمير الشرعي طاعة للرسول عليه الصلاة والسلام الذي أمر بتنصيبه ومبايعته، وطاعة الرسول صلى الله عليه وسلم طاعة لله -جل وعلا-: {مَّنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ} [(80) سورة النساء].
((من أطاعني فقد أطاع الله)) وهذا أيضاً منصوص عليه في القرآن ((ومن عصاني فقد عصى الله)) وهذا مفهوم من الجملة الأولى، فمنطوق الجملة الثانية مؤيد لمفهوم الجملة الأولى، مفهومها أن من لم يطع الرسول لم يطع الله، التي هي بمعنى من عصى الرسول فقد عصى الله.
((من أطاع أميري فقد أطاعني)) فالطاعة للأمير لا شك أنها من طاعة الرسول عليه الصلاة والسلام، وقد جاء الأمر بطاعة ولاة الأمر في نصوص القرآن والسنة، وجاء أيضاً التحذير من مخالفتهم والخروج عليهم، ولذا أورده أهل العلم في الجهاد وفي الإمارة، وفي غيرها من أبواب السنة {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ} [(59) سورة النساء] فلا بد من طاعة أولي الأمر، ولا تنتظم الأمور ولا تستقيم الأحوال إلا بطاعة ولاة الأمور.
তিনি বলেন: "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুআবিয়াহ" যার নাম হলো: মুহাম্মদ ইবনে খাযিম আদ-দরীর "এবং ওয়াকী‘, আ‘মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো))।"
আর কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: ((যে আমার আমীরের আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল; আর যে আমার আমীরের অবাধ্য হলো, সে আমারই অবাধ্য হলো। আর যে আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো))। সুতরাং শরঈ আমীরের আনুগত্য করা মূলত রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এরই আনুগত্য, যিনি তাকে নিযুক্ত করার এবং তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য হলো মহামহিমান্বিত আল্লাহর আনুগত্য: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল} [সূরা আন-নিসা: ৮০]।
((যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল)) এটি কুরআনেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ((আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো)) এবং এটি প্রথম বাক্য থেকেই বোধগম্য হয়। সুতরাং দ্বিতীয় বাক্যের ভাষ্য প্রথম বাক্যের মর্মার্থকে সমর্থন করছে; যার মর্মার্থ হলো এই যে, যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল না, সে আল্লাহরও আনুগত্য করল না—যা মূলত 'যে ব্যক্তি রাসূলের অবাধ্য হলো, সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো' এরই নামান্তর।
((যে আমার আমীরের আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল)) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমীরের আনুগত্য করা রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর আনুগত্যেরই অন্তর্ভুক্ত। কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহে উলুল আমর বা দায়িত্বশীলদের আনুগত্য করার নির্দেশ এসেছে। তদুপরি তাদের বিরোধিতা করা এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ব্যাপারেও সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। এই কারণেই আলেমগণ এটি জিহাদ, ইমারত (নেতৃত্ব) এবং সুন্নাহর অন্যান্য অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্য হতে উলুল আমরের (কর্তৃপক্ষের) আনুগত্য করো} [সূরা আন-নিসা: ৫৯]। সুতরাং উলুল আমরের আনুগত্য করা অপরিহার্য; কেননা দায়িত্বশীলদের আনুগত্য ব্যতীত কোনো বিষয় সুশৃঙ্খল হয় না এবং পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে না।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
((من أطاعني فقد أطاع الله)) الرجل يأتيه الأمر من أمر النبي عليه الصلاة والسلام فيقول: هذا لا يوجد في كتاب الله، وهذا خبر آحاد، لا يلزم قبوله، فتجد الرسول عليه الصلاة والسلام يأمره بالأمر الصريح الصحيح الثابت عنه عليه الصلاة والسلام، ثم يأتي من يأتي يقول: هذا خبر آحاد لا نعمل به، إنما نعمل بما جاء عن الله، وما ثبت مما تواتر عن النبي عليه الصلاة والسلام، والخوارج يقولون: بيننا وبينكم كتاب الله، فهل هؤلاء أطاعوا الله، وقد عصوا رسوله صلى الله عليه وسلم؟ لا، هؤلاء عصوا الله -جل وعلا- لأنهم عصوا رسوله عليه الصلاة والسلام ((من أطاعني فقد أطاع الله)) من عمل بسنتي ائتمر أوامري واجتنب النواهي فقد أطاع الله -جل وعلا-، ومن عصى وتمرد على الأوامر النبوية فقد عصى الله سبحانه وتعالى.
بعد هذا يقول: "حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير قال: حدثنا زكريا بن عدي".
الحديث السابق: ((من أطاعني فقد أطاع الله)) مخرج في الصحيح أيضاً، بل في الصحيحين.
((যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল)) কোনো ব্যক্তির কাছে যখন নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসে, তখন সে বলে: "এটি তো আল্লাহর কিতাবে নেই, আর এটি একক বর্ণনা (খবর-এ-আহাদ), তাই এটি গ্রহণ করা আবশ্যক নয়।" আপনি দেখবেন যে, রাসুল (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) তাকে তাঁর পক্ষ থেকে প্রমাণিত একটি স্পষ্ট ও সহিহ নির্দেশ দিচ্ছেন, অথচ এরপর কেউ এসে বলছে: "এটি একক বর্ণনা, আমরা এর ওপর আমল করব না; আমরা কেবল তা-ই মানব যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে এবং যা নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) থেকে মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।" খারেজিরাও বলে থাকে: "আমাদের ও তোমাদের মাঝে ফয়সালাকারী হলো আল্লাহর কিতাব।" এখন প্রশ্ন হলো, তারা কি আল্লাহর আনুগত্য করল, যেখানে তারা তাঁর রাসুলের অবাধ্য হয়েছে? না, বরং তারা মহান আল্লাহরই অবাধ্য হয়েছে, কারণ তারা তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করেছে। ((যে আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল)) যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করল, আমার আদেশসমূহ মেনে চলল এবং নিষেধসমূহ বর্জন করল, সে মহান আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে ব্যক্তি অবাধ্য হলো এবং নববী নির্দেশনাবলির বিরুদ্ধাচরণ করল, সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালারই অবাধ্য হলো।
এর পর তিনি বলেন: "মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: জাকারিয়া ইবনে আদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।"
পূর্বোক্ত হাদিসটি: ((যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল)) এটি 'সহিহ' গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে, বরং এটি বুখারি ও মুসলিম উভয় সহিহ গ্রন্থেই সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
"حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير قال: حدثنا زكريا بن عدي عن ابن المبارك عن محمد بن سوقة عن أبي جعفر" محمد بن علي بن الحسين المعروف بالباقر، وابنه جعفر المعروف بالصادق "عن أبي جعفر قال: "كان ابن عمر إذا سمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثاً لم يعده ولم يقصر دونه" وهذا من رواية أهل البيت عن الصحابة في مدح الصحابة، مما يدل على أن أهل البيت لا خلاف بينهم وبين الصحابة، أعني أهل البيت المتقدمون والباقر والصادق مخرج لهم في الصحاح، فهم عمدة عند أهل السنة، وأهل السنة أهل عدل وإنصاف؛ لما قدح الرافضة في الصحابة ما عمد أهل السنة إلى متبوعيهم ومقدميهم فطعنوا فيهم، أبداً، بل رووا عنهم؛ لأنهم أهل إنصاف، ومتقدموهم أهل إنصاف أيضاً، فهذا أبو جعفر الصادق محمد بن علي الباقر يمدح ابن عمر -رضي الله تعالى عنه- "قال: "كان ابن عمر إذا سمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يعده" يعني لم يتجاوزه لم يزد عليه "ولم يقصر دونه" وحينئذٍ يكون منهجه الوسط الذي هو سمة هذا الدين، لا إفراط ولا تفريط، لا زيادة ولا نقص؛ لأن دين الله بين الغالي والجافي، فلا غلو ولا جفاء من ابن عمر، وهو الصحابي المؤتسي المقتدي، وإذا كان هذا ابن عمر الذي يظن به من يقرأ في سيرته ويتتبع أحواله قد يرميه بشيء من التشديد والزيادة وأثر عنه شيء من ذلك، لكنه اجتهاد، ولم يصب فيه -رضي الله تعالى عنه وأرضاه-، بل كان يدخل الماء في عينيه حتى عمي، وكان يكفكف دابته لتقع مواطئ أقدامها على مواطئ أقدام دابة النبي عليه الصلاة والسلام، ويتتبع الآثار النبوية، ويجلس فيها، والصحابة بما فيهم كبارهم ممن هو أفضل من عبد الله بن عمر لا يفعل مثل هذا، فدل على أن عمله مرجوح؛ لأن الذي يقرأ في سيرة ابن عمر قد يرميه بشيء من الشدة لما أثر عنه من شيء من ذلك، لكنه هو الصحابي المقتدي المؤتسي حصل منه هفوات، حصل منه زلات، حصل تشديدات، لكن ليس هذا منهج وليس هذا ديدنه رضي الله عنه بشهادة الباقر "كان ابن عمر إذا سمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثاً لم يعده" ما تعدى الحديث، ((كن في الدنيا كأنك غريب أو عابر سبيل)) ما الذي حصل؟ قال ابن عمر: "إذا أصبحت
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যাকারিয়া বিন আদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন সূকাহ থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে — অর্থাৎ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন যিনি আল-বাকির নামে পরিচিত এবং তাঁর পুত্র জাফর যিনি আস-সাদিক নামে পরিচিত — আবু জাফর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ইবনে উমর যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদীস শুনতেন, তখন তিনি তা অতিক্রম করতেন না এবং তার থেকে কমও করতেন না।" এটি সাহাবীদের প্রশংসায় সাহাবীদের সম্পর্কে আহলে বায়তের বর্ণনা থেকে উদ্ধৃত, যা প্রমাণ করে যে আহলে বায়ত এবং সাহাবীদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। আমি বলতে চাচ্ছি সেই পূর্ববর্তী আহলে বায়ত তথা আল-বাকির ও আস-সাদিক যাদের বর্ণনা সিহাহ গ্রন্থসমূহে সংকলিত হয়েছে; তাঁরা আহলে সুন্নাতের নিকট নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ। আর আহলে সুন্নাত হলো ন্যায় ও ইনসাফের অনুসারী। রাফেযীরা যখন সাহাবীদের নিন্দা করল, তখন আহলে সুন্নাত কখনোই তাদের (আহলে বায়তের) অনুসৃত এবং অগ্রগামী ব্যক্তিদের দিকে লক্ষ্য করে তাঁদের নিন্দা বা সমালোচনা করেনি। বরং তাঁরা তাঁদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন; কারণ তাঁরা ন্যায়পরায়ণ এবং তাঁদের পূর্বসূরীরাও ন্যায়পরায়ণ ছিলেন। এই যে আবু জাফর সাদিক মুহাম্মাদ বিন আলী আল-বাকির ইবনে উমরের (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) প্রশংসা করে বলছেন: "ইবনে উমর যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো কিছু শুনতেন, তখন তিনি তা অতিক্রম করতেন না" অর্থাৎ তিনি তা ছাড়িয়ে যেতেন না বা তাতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করতেন না, "এবং তার থেকে কমও করতেন না।" আর এমতাবস্থায় তাঁর মানহাজ বা পদ্ধতি ছিল মধ্যপন্থা, যা এই দ্বীনের মূল বৈশিষ্ট্য। এতে কোনো অতিরঞ্জন নেই এবং শিথিলতা নেই; কোনো বৃদ্ধি নেই এবং কোনো ঘাটতি নেই। কারণ আল্লাহর দ্বীন হলো চরমপন্থা এবং অবহেলার মধ্যবর্তী অবস্থানে। ইবনে উমরের মাঝে কোনো চরমপন্থা বা অবহেলা ছিল না। তিনি ছিলেন এমন একজন সাহাবী যিনি নবীজির পূর্ণ অনুকরণ ও অনুসরণ করতেন। যদি এই ইবনে উমর সম্পর্কে কেউ তাঁর জীবনী পড়ে এবং তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ধারণা করে যে, তাঁর ওপর কঠোরতা বা আধিক্যের অভিযোগ আনা যেতে পারে এবং তাঁর থেকে এ জাতীয় কিছু বর্ণিতও হয়েছে; তবে মনে রাখতে হবে তা ছিল তাঁর ব্যক্তিগত ইজতিহাদ (গবেষণামূলক প্রচেষ্টা), যাতে তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি — আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন। এমনকি তিনি নিজের চোখের ভেতরে পানি প্রবেশ করাতেন যতক্ষণ না তিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর বাহনকেও নিয়ন্ত্রণ করতেন যাতে তার পায়ের ছাপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহনের পায়ের ছাপের ওপর হুবহু পড়ে। তিনি নববী নিদর্শনগুলো খুঁজে বেড়াতেন এবং সেখানে বসতেন। অথচ ইবনে উমরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদাবান বড় বড় সাহাবীগণ এমনটা করতেন না। এটি প্রমাণ করে যে, তাঁর এই ব্যক্তিগত কাজটি ছিল 'মারজুহ' বা দলিলগত দিক থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল। কেননা যারা ইবনে উমরের জীবনী পাঠ করে, তারা তাঁর থেকে বর্ণিত এ জাতীয় কিছু বিষয়ের কারণে তাঁর ওপর কঠোরতার অপবাদ দিতে পারে। তবে তিনি ছিলেন সেই সাহাবী যিনি নবীজির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ ও অনুকরণ করতেন। তাঁর থেকে কিছু বিচ্যুতি, ভুল বা কঠোরতা প্রকাশ পেলেও এটি তাঁর স্থায়ী মানহাজ বা অভ্যাস ছিল না — যেমনটি আল-বাকির সাক্ষ্য দিয়েছেন: "ইবনে উমর যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদীস শুনতেন, তিনি তা অতিক্রম করতেন না।" তিনি হাদীসের সীমা লঙ্ঘন করতেন না। যেমন হাদীস: "দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন অপরিচিত আগন্তুক বা মুসাফির।" এরপর কী ঘটল? ইবনে উমর বললেন: "যখন তোমার সকাল হবে..."
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فلا تنتظر المساء، وإذا أمسيت فلا تنتظر الصباح" هذا في الصحيح، هذه مبادرة، قال النبي عليه الصلاة والسلام: ((نعم الرجل عبد الله لو كان يقوم من الليل)) مباشرة كان لا ينام من الليل إلا قليلاً.
وفي حديث الوصية: ((ما من مسلم له شيء يوصي به يبيت ليلة أو ليلتين إلا ووصيته مكتوبة عند رأسه)) ما بات ابن عمر ولا ليلة يمتثل، فهو الصحابي المؤتسي المقتدي بالنبي عليه الصلاة والسلام، وإن أثر عنه من الأشياء اليسيرة التي ترى .. ، ما أثر عنه من هذه الأمور يعني ليست منهج ولا ديدن له، إنما أثر عنه بعض المسائل التي اجتهد فيها ولم يصب فيها رضي الله عنه وأرضاه-، بل قوله مرجوح، وهو على ذلك مأجور لأنه مجتهد، والله أعلم.
وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
“সুতরাং তুমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না, আর যখন তোমার সন্ধ্যা হবে, তখন সকালের অপেক্ষা করো না।” এটি সহীহ্ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এটি হলো দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ। নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: “আব্দুল্লাহ কতই না চমৎকার ব্যক্তি হতেন, যদি তিনি রাতে সালাত আদায় করতেন।” এরপর থেকে তিনি রাতে সামান্য সময় ব্যতীত ঘুমাতেন না।
আর অসিয়ত সংক্রান্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: “কোনো মুসলিমের নিকট যদি এমন কিছু থাকে যা অসিয়ত করার যোগ্য, তবে তার জন্য এক বা দুই রাতও এমনভাবে কাটানো উচিত নয় যে, তার নিকট তার অসিয়তনামা লিখিত অবস্থায় নেই।” ইবনে উমর (রা.) এটি পালন না করে একটি রাতও অতিবাহিত করেননি। তিনি ছিলেন নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর একনিষ্ঠ অনুসারী ও অনুকরণকারী সাহাবী। যদিও তাঁর থেকে নগণ্য কিছু বিষয় বর্ণিত হয়েছে যা দেখা যায়..., তাঁর থেকে বর্ণিত এই বিষয়গুলো তাঁর নিয়মিত আদর্শ বা অভ্যাস ছিল না; বরং তাঁর থেকে এমন কিছু মাসআলা বর্ণিত হয়েছে যাতে তিনি ইজতিহাদ করেছিলেন এবং তাতে তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন—বরং তাঁর সেই বক্তব্যটি ছিল অপ্রাধান্যযোগ্য (মারজুহ), তবে এর জন্য তিনি সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন কারণ তিনি একজন মুজতাহিদ ছিলেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
আর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح مقدمة سنن ابن ماجه القسم: شروح الحديث
الكتاب: شرح مقدمة سنن ابن ماجه
مؤلف الأصل: ابن ماجة - وماجة اسم أبيه يزيد - أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني (ت 273هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 12 درسا]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
সুনান ইবনে মাজাহ-র মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: সুনান ইবনে মাজাহ-র মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা
মূল লেখক: ইবনে মাজাহ - এবং মাজাহ হলো তাঁর পিতা ইয়াযীদের নাম - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ আল-কাযভীনি (মৃত্যু ২৭৩ হি.)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল করীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শায়খ খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে শ্রুতিলিখনকৃত পাঠসমূহ
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১২টি পাঠ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহররম ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
شرح: مقدمة سنن ابن ماجه (2) الشيخ: عبد الكريم بن عبد الله الخضير
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
هذه تقول: امتنعت عن الذهاب لبعض الاجتماعات العائلية لما فيها من المنكرات العظيمة من غيبة ومخالفات في اللباس من لبس للقصير لما فوق الركبة، فضلاً عن أجزاء الجسم الأخرى، ونمص وغيره فاتهمت بأنني قاطعة رحم، علماً بأني فعلت كل ما أستطيع من إنكار المنكر بالقول والشريط والكتاب حتى بدأت إحداهن بالجدال، ونسبة بعض الفتاوى التي لا أشك في كذبها لبعض المشايخ، وبدأت تضرب الفتاوى ببعضها، وتُلبس على من يسمع كلامها، وتتكلم بالعلماء حتى سار خلفها، واستساغ كلامها جاهلات من النساء، فبدأن يصنعن صنيعها، فلما وصل الأمر لهذا الحد، وحفظاً لأعذار العلماء تركت الذهاب.
حسناً صنعتِ، وهذا هو المطلوب، فعلى الإنسان الذي تحدثه نفسه بالحضور لهذه الاجتماعات التي جرت العادة بوجود هذه المخالفات فيها يحضر إليها بنية الإنكار، ويتابع الإنكار إن امتثل المنكر عليه وإلا فتجب العزلة عنه، ولا يجوز الذهاب إليه، ولو قيل ما قيل، وأما من تجب صلتهن، ويحرم القطيعة بهن فهؤلاء يمكن أن تكون الزيارة على جهة خاصة، يذهب إليهن منفردات، فالصلة قد تحصل بغير الاجتماعات.
هذا من المغرب يقول: هل الحسنات تتفاوت فيما بينها، يعني أنه إذا كان لدينا عبادتان إحداهما أشق من الأخرى، وثبت لهما نفس عدد الحسنات، فهل يؤجر عليها المسلم نفس الأجر أم على حسب المشقة؟
العبادة إذا ثبت أجرها المحدد من الشرع لا يزيد لذاتها، لكن قد يؤجر الإنسان بسبب ما يحتف بها من زيادة في إخلاص، أو لحوق المشقة بسببها، هذه قد تكون مما يزيد الحسنات أجراً زائداً على الأصل، فمثل المصائب، المصائب كفارات لمن صبر واحتسب، ومنهم من يقول: إن مجرد وقوع المصيبة كفارة، والصبر والاحتساب له قدر زائد من الأجر على أجر أصل المصيبة، وإن زاد على مجرد الصبر وعدم التشكي الرضا بالقدر زاد أجره، فزيادة الأجر لما يحتف بهذه العبادات.
هذا يقول: ما حكم التسمية بأسماء آيات القرآن أو السور أو بعض الكلمات الواردة في القرآن مثل طه وضحى؟
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ব্যাখ্যা: সুনানে ইবনে মাজাহর ভূমিকা (২) শাইখ: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর
আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।
এই বোনটি বলছেন: আমি কিছু পারিবারিক মজলিসে যাওয়া থেকে বিরত থাকছি, কারণ সেখানে গীবত এবং পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে শরীয়ত পরিপন্থী কাজ যেমন—হাঁটুর ওপর ছোট কাপড় পরাসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রদর্শন, ভ্রু উপড়ানো ইত্যাদি বড় ধরনের নাফরমানি হয়ে থাকে। ফলে আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অথচ আমি কথা, ক্যাসেট ও বইপত্রের মাধ্যমে সাধ্যমতো মন্দ কাজের প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছি। এমনকি তাদের একজন বিতর্ক শুরু করেছে এবং এমন কিছু ফতোয়া কিছু শাইখের দিকে সম্বন্ধ করে বলেছে যার মিথ্যা হওয়ার ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই। সে বিভিন্ন ফতোয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগাতে শুরু করেছে এবং যারা তার কথা শুনছে তাদের বিভ্রান্ত করছে। সে উলামায়ে কেরাম সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলছে, ফলে সাধারণ নারীরা তার পেছনে ছুটছে এবং তার কথা পছন্দ করছে ও তার মতোই আচরণ করতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি যখন এই পর্যায়ে পৌঁছালো, তখন উলামায়ে কেরামের সম্মান রক্ষার্থে আমি সেখানে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।
আপনি ঠিকই করেছেন এবং এটাই কাম্য। যে ব্যক্তির মন তাকে এমন মজলিসে উপস্থিত হতে প্ররোচিত করে যেখানে সাধারণত এই ধরণের শরীয়ত পরিপন্থী কাজ ঘটে, সে যেন সেখানে মন্দ কাজ প্রতিরোধের নিয়তে উপস্থিত হয়। যদি তারা কথা শোনে তবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে, অন্যথায় তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ওয়াজিব। সেখানে যাওয়া জায়েজ নয়, মানুষ যা-ই বলুক না কেন। আর যাদের সাথে আত্মীয়তা বজায় রাখা ওয়াজিব এবং সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম, তাদের সাথে একান্তে বা আলাদাভাবে দেখা করার মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব। সুতরাং বড় মজলিস ছাড়াও আত্মীয়তা রক্ষা করা যেতে পারে।
মরক্কো থেকে এই প্রশ্নকারী বলছেন: নেক আমলগুলোর সওয়াবের মধ্যে কি কম-বেশি হয়? অর্থাৎ আমাদের কাছে যদি দুটি ইবাদত থাকে যার একটি অন্যটির চেয়ে বেশি কষ্টসাধ্য, কিন্তু উভয়ের জন্য একই পরিমাণ সওয়াব নির্ধারিত থাকে, তবে কি মুসলিম ব্যক্তি উভয়ের জন্য সমান সওয়াব পাবে নাকি কষ্টের মাত্রা অনুযায়ী সওয়াব পাবে?
ইবাদতের সওয়াব যদি শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত থাকে তবে তার মূল সত্তার কারণে তা বাড়ে না। কিন্তু ইখলাসের আধিক্য অথবা আমলটি করার ক্ষেত্রে কষ্টের কারণে মানুষ অতিরিক্ত সওয়াব পেতে পারে। এগুলো মূল সওয়াবের ওপর অতিরিক্ত প্রতিদান হিসেবে গণ্য হতে পারে। যেমন বিপদ-আপদ; যারা সবর করে ও সওয়াবের আশা রাখে তাদের জন্য বিপদ-আপদ হলো গুনাহের কাফফারা। কেউ কেউ বলেন: শুধু বিপদে পড়াই কাফফারা, আর ধৈর্য ধারণ ও সওয়াবের আশা করার জন্য মূল বিপদের সওয়াবের চেয়েও অতিরিক্ত সওয়াব রয়েছে। যদি কেউ কেবল ধৈর্য ও অভিযোগ না করার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকে, তবে তার সওয়াব আরও বৃদ্ধি পায়। সুতরাং সওয়াব বৃদ্ধি পায় এই ইবাদতগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর কারণে।
এই প্রশ্নকারী বলছেন: কুরআনের আয়াতের নামে বা সূরার নামে অথবা কুরআনে বর্ণিত কিছু শব্দ যেমন—ত্বহা ও দুহা নামে নামকরণ করার বিধান কী?
(খণ্ড: ২)
শারহু মুকাদ্দিমাতি সুনানি ইবনি মাজাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
التسمية إذا خلا الاسم من التزكية، إذا خلا من تزكية النفس، وصار معناه صحيحاً، وليس من خواص الرب -جل وعلا- جاز التسمية به، إلا إذا كان سمي به أحد الكفار مثلاً، أو الظلمة وأراد بهذه التسمية الإعجاب بالمسمى به، كما يسمي فرعون مثلاً، هذا يمنع لأنه نابع عن إعجاب بهذا الشخص الظالم الباغي المعتدي الكافر، وأما التسمية بطه فلا بأس بها، التسمية بضحى لا بأس أيضاً.
هل يجوز للمتنقبة كشف وجهها في العمرة، وإن لم يجز فكيف تستره؟ وكيف تستر يديها؟
النقاب ممنوع بالنسبة للمرأة، وكذلك القفاز بالنسبة لليدين من محظورات الإحرام، إن لم تكن بحضرة أجانب فتكشف وجهها، وتكشف يديها، وإن كانت بحضرة أجانب فترخي جلبابها على وجهها، بمعنى أنها تغطي وجهها بغير نقاب، وتستر يديها بما تستر به بدنها.
هذه تقول: أحس بآلام الدورة قبل نزولها فهل أصلي مع علمي بأنها ستنزل؟
الأحكام معلقة على خروج الدم، فتصلي وتصوم إلا إذا رأت الدم.
هذا يقول: إنه يعاني من وسواس ويأتيه أفكار متكررة، ويحس بخروج شيء، ومن ثم أصبحت أغتسل قبل كل صلاة تقريباً؛ لأني أرى نفس ما يوجب الغسل، فكيف أتخلص من هذا الوسواس حيث أنني حتى في فترة بين الصلوات أعاني من نفس الأمر في تلاوة القرآن، فماذا أفعل؟ أرشدوني هل علي الاغتسال كل مرة؟ وماذا أفعل للخلاص؟
هذا الذي يظهر أنه من الشيطان ولا حقيقة له ولا واقع، يعني كونك تحس هذا من تلاعب الشيطان بك، وأنت استرسلت معه في أول الأمر فأطعته فيما يملي عليك، وزاد الأمر عندك، وإلا لو انصرفت عن هذه الوساوس، ولم تلتفت إليها، واستعذت بالله من الشيطان الرجيم، وأكثرت من الذكر والتلاوة انصرف عنك الشيطان، وعلى هذا إذا كان يخرج منه بالفعل ما يوجب الغسل وهو مستيقظ بلذة، لا بد أن يكون مع الدفق، أما إذا كان يخرج من غير لذة ولو خرج ورآه بعين رأسه فإنه لا يوجب الغسل، إنما يغسل ذكره وينضح فرجه ويتوضأ، أما إذا كان يخرج منه بالدفق مع اللذة فإنه يوجب الغسل، هذا إذا كان حقيقي بأن نظر في بدنه وسراويله ووجد شيئاً من ذلك، أما إذا كان مجرد وساوس بحيث إذا رأى ما وجد شيء هذا عليه أن ينصرف منه.
هذا يقول: أخت لي تسأل أن والدها توفي
…
নামকরণের ক্ষেত্রে যদি নামটি আত্ম-প্রশংসা মুক্ত হয়, যদি তাতে নিজের পবিত্রতা বর্ণনা না থাকে এবং তার অর্থ সঠিক হয়, আর তা যদি মহান রবের বিশেষ গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে সেই নামে নামকরণ করা বৈধ। তবে যদি কোনো কাফের বা জালিমের নামে নামকরণ করা হয় এবং এই নামকরণের উদ্দেশ্য হয় সেই ব্যক্তির প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করা, যেমন ফেরাউন নাম রাখা, তবে তা নিষিদ্ধ। কারণ এটি সেই জালিম, বিদ্রোহী, সীমালঙ্ঘনকারী এবং কাফের ব্যক্তির প্রতি মুগ্ধতা থেকে উদ্ভূত। আর ত্বহা নামে নামকরণ করায় কোনো সমস্যা নেই, দুহা নামে নামকরণ করাতেও কোনো অসুবিধা নেই।
নিকাব পরিধানকারী নারীর জন্য কি উমরার সময় মুখমণ্ডল খোলা রাখা জায়েজ? আর যদি জায়েজ না হয়, তবে তিনি কীভাবে তা আবৃত করবেন? এবং তিনি তাঁর হাত দুটি কীভাবে আবৃত করবেন?
নারীর জন্য নিকাব ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, তেমনিভাবে হাতের জন্য হাতমোজা ব্যবহার করাও ইহরামের নিষিদ্ধ কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত। যদি কোনো পরপুরুষ উপস্থিত না থাকে, তবে তিনি মুখমণ্ডল ও হাত উন্মুক্ত রাখবেন। আর যদি পরপুরুষের উপস্থিতি থাকে, তবে তিনি তাঁর জিলবাব (মাথার চাদর) চেহারার ওপর ঝুলিয়ে দেবেন; অর্থাৎ তিনি নিকাব ছাড়াই চেহারা আবৃত করবেন এবং শরীর যে কাপড় দিয়ে আবৃত করেছেন তা দিয়েই হাত ঢেকে রাখবেন।
জনৈক নারী বলছেন: আমি মাসিকের রক্ত স্রাব শুরু হওয়ার আগেই মাসিকের ব্যথা অনুভব করি, এমতাবস্থায় কি আমি সালাত আদায় করব, যদিও আমি জানি যে রক্ত স্রাব শুরু হবে?
বিধানসমূহ রক্ত নির্গত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অতএব, তিনি সালাত আদায় করবেন এবং সিয়াম পালন করবেন যতক্ষণ না তিনি রক্ত দেখেন।
জনৈক ব্যক্তি বলছেন: তিনি ওয়াসওয়াসা বা সংশয়ে ভুগছেন এবং তাঁর মনে বারবার বিভিন্ন চিন্তা আসে। তিনি অনুভব করেন যেন কিছু একটা নির্গত হচ্ছে, যার ফলে আমি প্রায় প্রতিটি সালাতের আগেই গোসল করি; কারণ আমি এমন কিছু দেখি যা গোসল ওয়াজিব করে। আমি কীভাবে এই ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি পাব? কারণ এমনকি দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে কুরআন তিলাওয়াতের সময়ও আমি একই সমস্যায় ভুগি। এমতাবস্থায় আমি কী করব? আমাকে নির্দেশনা দিন, আমাকে কি প্রতিবারই গোসল করতে হবে? আর এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?
যা প্রতীয়মান হচ্ছে তা হলো, এটি শয়তানের পক্ষ থেকে এবং এর কোনো বাস্তবতা নেই। অর্থাৎ, আপনার এমন অনুভব করাটা আপনার সাথে শয়তানের এক প্রকার খেলা মাত্র। আপনি প্রথম দিকে এর সাথে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন এবং সে আপনার মনে যা ঢেলে দিচ্ছিল আপনি তা মেনে নিয়েছিলেন, ফলে আপনার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেড়ে গেছে। নতুবা আপনি যদি এই ওয়াসওয়াসা থেকে বিমুখ হতেন, এর দিকে ভ্রুক্ষেপ না করতেন, বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং অধিক পরিমাণে জিকির ও তিলাওয়াত করতেন, তবে শয়তান আপনার থেকে দূরে সরে যেত। এমতাবস্থায়, যদি জাগ্রত অবস্থায় প্রকৃতপক্ষেই এমন কিছু নির্গত হয় যা গোসল ওয়াজিব করে এবং তা যদি উত্তেজনার সাথে হয়, তবে অবশ্যই তা সজোরে নির্গত হতে হবে। পক্ষান্তরে, যদি তা উত্তেজনা ছাড়াই নির্গত হয়, এমনকি তা যদি সচক্ষে দেখাও যায়, তবুও তা গোসল ওয়াজিব করে না। বরং এমতাবস্থায় তিনি কেবল তাঁর পুরুষাঙ্গ ধৌত করবেন, লজ্জাস্থানে পানি ছিটিয়ে দেবেন এবং অজু করবেন। তবে যদি সজোরে উত্তেজনার সাথে নির্গত হয়, তবে তা গোসল ওয়াজিব করবে। এটি তখনই প্রযোজ্য যখন বিষয়টি বাস্তব হবে, অর্থাৎ যদি তিনি শরীর ও কাপড়ে এমন কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে পান। কিন্তু যদি তা কেবলই ওয়াসওয়াসা হয় যে, দেখার পর কিছুই পাওয়া গেল না, তবে তার উচিত এ থেকে বিমুখ থাকা।
জনৈক ব্যক্তি বলছেন: আমার এক বোন জিজ্ঞাসা করেছেন যে তাঁর বাবা ইন্তেকাল করেছেন
…