(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
ديوان امرئ القيس ت المصطاوي القسم: الشعر ودواوينه
الكتاب: ديوان امرِئ القيس
المؤلف: امْرُؤُ القَيْس بن حجر بن الحارث الكندي، من بني آكل المرار (ت 545 م)
اعتنى به: عبد الرحمن المصطاوي
الناشر: دار المعرفة - بيروت
الطبعة: الثانية، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 165
أعده للشاملة: محمد العلوة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الآخر 1432
ইমরুল কায়েসের দিওয়ান (আল-মাসতাউয়ী কর্তৃক সম্পাদিত) বিভাগ: কবিতা ও কাব্যসংগ্রহ
বই: ইমরুল কায়েসের দিওয়ান
লেখক: ইমরুল কায়েস ইবনে হুজর ইবনুল হারিস আল-কিন্দী, বনু আকিল আল-মুরার গোত্রভুক্ত (মৃত্যু ৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দ)
সম্পাদনা: আবদুর রহমান আল-মাসতাউয়ী
প্রকাশক: দারুল মা'রিফাহ - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৫
শামেলা’র জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মদ আল-আলওয়াহ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা’তে প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউস সানি ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[ديوان امرِئ القيس]ـ
المؤلف: امْرُؤُ القَيْس بن حجر بن الحارث الكندي، من بني آكل المرار (المتوفى: 545 م)
اعتنى به: عبد الرحمن المصطاوي
الناشر: دار المعرفة - بيروت
الطبعة: الثانية، 1425 هـ - 2004 م
عدد الأجزاء: 1
أعده للشاملة/ محمد العلوة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[ইমরুল কায়েসের দেওয়ান]
লেখক: ইমরুল কায়েস বিন হুজর বিন আল-হারিস আল-কিন্দি, বনু আকিল আল-মুরার গোত্রীয় (মৃত্যু: ৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দ)
সম্পাদনায়: আব্দুর রহমান আল-মুস্তাবি
প্রকাশক: দার আল-মা'রিফাহ - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মদ আল-আলওয়াহ
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
بين يدي الديوانالحمد لله، والصلاة والسلام على خاتم رسل الله، وبعد:
فهذا ديوان فحل من فحول الشعراء في الجاهلية، بل رأس الطبقة الأولى في طبقات الشعراء؛ إنه (ديوان امرئ القيس)، الملك الضليل، الذي سبق شعراء العربية إلى أشياء استحسنها الشعراء من بعده، والفضل للسابق، ومن قدّمه؛ فلفضله بالسبق، ليس إلّا!.
ويروى أن النبي صلى الله عليه وسلم قال فيه: (ذاك رجل مذكور في الدنيا، شريف فيها، منسي في الآخرة، خامل فيها، يجيء يوم القيامة، ومعه لواء الشعراء إلى النار) (1).
وروي، أيضاً: (يتدهدى بهم في النار). ويروى: أن كلاً من لبيد وحسان قال: (ليت هذا المقال فيّ وأنا المدهدى في النار).
وروي عن ابن الكلبيّ أنه قال (2): أتى قوم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فسألوه عن أشعر الناس. قال: (ائتوا حسان). فقال (حسان): ذو القروح (يعنى امرأ القيس)، إلا أنه لم يعقب ولداً ذكراً، بل إناثاً، فرجعوا، فأخبروا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: (صدق. مرفع في الدنيا، حامل في الآخرة، شريف في الدنيا، وضيع في الآخرة، هو قائد الشعراء إلى النار).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দিওয়ানের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর সর্বশেষ রাসূলের ওপর। অতঃপর:
এটি জাহেলি যুগের শ্রেষ্ঠ কবিদের অন্যতম এক কবির কাব্যসংকলন; বরং কবিদের স্তরবিন্যাসে তিনি প্রথম স্তরের শীর্ষস্থানীয়। তিনি হলেন (ইমরুল কায়েসের দিওয়ান), সেই ভ্রান্ত রাজা, যিনি আরবি কবিদের মাঝে এমন কিছু বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন যা পরবর্তী কবিগণ চমৎকার মনে করেছেন। আর শ্রেষ্ঠত্ব অগ্রবর্তীদের জন্যই নির্ধারিত। যারা তাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তারা মূলত তার অগ্রবর্তী হওয়ার কারণেই তা করেছেন; অন্য কোনো কারণে নয়!
বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে বলেছেন: (সে এমন এক ব্যক্তি যে দুনিয়াতে সুপরিচিত এবং সেখানে সম্মানিত, কিন্তু আখিরাতে সে বিস্মৃত এবং সেখানে সে অবহেলিত। কিয়ামতের দিন সে উপস্থিত হবে এবং তার সাথে জাহান্নামের দিকে কবিদের ঝাণ্ডা থাকবে) (১)।
আরও বর্ণিত হয়েছে: (সে তাদের নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে)। আরও বর্ণিত আছে যে: লাবীদ এবং হাসসান উভয়েই বলেছেন: (হায়! যদি এই উক্তিটি আমার সম্পর্কে হতো আর আমাকেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতো)।
ইবনুল কালবী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন (২): একদল লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাঁকে শ্রেষ্ঠ কবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: (তোমরা হাসসানের কাছে যাও)। হাসসান বললেন: যুল কুরুহ (অর্থাৎ ইমরুল কায়েস), তবে তার কোনো পুত্র সন্তান ছিল না, ছিল কেবল কন্যা সন্তান। তারা ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা জানালেন। তখন তিনি বললেন: (সে সত্য বলেছে। দুনিয়াতে সুউচ্চ, আখিরাতে নিপতিত; দুনিয়াতে সম্মানিত, আখিরাতে হীন। সে কবিদের জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার অগ্রনায়ক)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومن الأمور التي يُلمز بها امرأ القيس ويُهمز، أنه كان مفرّكاً؛ لا تحبه النساء، ولا تكاد امرأة تصبر معه، وتزوج امرأة من طيئ -على زعم الرواة- فأبغضته من ليلتها، وقالت له مرّة: كرهتُ منك أنك خفيف العزلة، ثقيل الصدر، سريع الإراقة، بطيء الإفاقة (1).
وطرأ على سيرته وضع كثير من القصص من صنع القصاص في الأدب العربي، لعلّ لهل أساس من الصحة، ولكنها حبطت لما زيد فيها من أشياء من صنع الخيال الشعبي (غالباً).
عملي في (الديوان):
- قابلت بين عدة نسخٍ مطبوعة من الديوان، وأفدت منها كثيراً.
- كتبت (بين يدي الديوان) وفيه: ترجمة الشاعر امرئ القيس، ودراسة المعلّقة.
- شرحت المفردات اللغوية الغريبة، ووضعت علامات الترقيم، وضبطت الأبيات الشعرية ضبطاً يكاد يكون تاماً.
- وضعت عنوانات للقصائد والمقطوعات الشعرية، وأثبتّ أوزان البحور للقصائد في الديوان.
- صدّرت (الديوان) بـ (المعلقة)، نظراً لأهميتها وجماليتها الفنية ولقيمتها الأدبية.
وبعد، فهذا عملي، ولا أدّعي أني أتيت فيه بجديد .. وقد سبقني إلى
--------------------------------------------
ইমরুল কায়েসের প্রতি যেসব দোষারোপ ও বিদ্রূপ করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি ছিলেন নারীদের অপ্রিয় (মুফাররাক); নারীরা তাকে পছন্দ করত না এবং কোনো নারীই তার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারত না। বর্ণনাকারীদের দাবি অনুযায়ী, তিনি তায়্যি গোত্রের এক নারীকে বিবাহ করেন, কিন্তু সেই নারী প্রথম রাতেই তাকে ঘৃণা করতে শুরু করেন। একবার তিনি তাকে বলেছিলেন: "আমি আপনার মধ্যে কয়েকটি বিষয় অপছন্দ করি: আপনি মিলনে দ্রুত বিচ্ছিন্ন হন, বুকের ভরে গায়ে চেপে বসেন, দ্রুত বীর্যপাত করেন এবং পুনরায় সক্ষম হতে দেরি করেন" (১)।
আরবি সাহিত্যের গল্পকারদের রচিত অনেক কাহিনী তার জীবনীতে অনুপ্রবেশ করেছে। হয়তো এগুলোর কোনো ভিত্তি আছে, কিন্তু লৌকিক কল্পনার সংমিশ্রণে প্রচুর কিছু যোগ হওয়ায় সেগুলো তাদের মূল রূপ হারিয়েছে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে)।
(দিওয়ান) সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি:
- আমি দিওয়ানের বেশ কয়েকটি মুদ্রিত পাণ্ডুলিপির মধ্যে তুলনা করেছি এবং সেগুলো থেকে যথেষ্ট উপকৃত হয়েছি।
- আমি (দিওয়ান পরিচিতি) লিখেছি, যাতে রয়েছে: কবি ইমরুল কায়েসের জীবনী এবং মুআল্লাকার পর্যালোচনা।
- আমি অপরিচিত শব্দভাণ্ডারের ব্যাখ্যা দিয়েছি, বিরামচিহ্ন স্থাপন করেছি এবং কাব্যপঙ্ক্তিগুলোতে প্রায় পূর্ণাঙ্গভাবে স্বরচিহ্ন (হরকত) প্রদান করেছি।
- আমি কবিতা ও কাব্যখণ্ডগুলোর শিরোনাম নির্ধারণ করেছি এবং দিওয়ানের কবিতাগুলোর ছন্দ (বাহর) নিশ্চিত করেছি।
- গুরুত্ব, শৈল্পিক সৌন্দর্য এবং সাহিত্যিক মূল্যের বিবেচনায় আমি 'মুআল্লাকা' দিয়ে (দিওয়ান) শুরু করেছি।
পরিশেষে, এটিই আমার কাজ, আমি এতে নতুন কোনো উদ্ভাবনের দাবি করছি না.. আমার পূর্বেও অনেকেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৭)
شرح الديوان والمعلّقة كثيرون، وقد أفدت منهم الشيء الكثير، إنما هذه الطبعة تُظهر (الديوان) بحلّة قَشيبة، وشرحٍ ميسرٍ مبّسطٍ للألفاظ الغريبة.
وإني لأرجوا أن أكون قد أدّيت (شيئاً) نحو واجب لغتنا ومكتبتنا العربية علينا، فإن كان كذلك، فبتوفيقٍ من المولى سبحانه. إذ هو نعم المولى ونعم النصير.
كتبه
عبد الرحمن المصطاوي
দিওয়ান এবং মুয়াল্লাকা-র ব্যাখ্যাকার অনেকে রয়েছেন এবং আমি তাঁদের থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি। তবে এই সংস্করণটি (দিওয়ান)-কে একটি নতুন আঙ্গিকে এবং কঠিন শব্দাবলির সহজ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপন করছে।
আমি আশা করি যে, আমাদের ভাষা এবং আরবি জ্ঞানভাণ্ডারের প্রতি আমাদের যে কর্তব্য রয়েছে, তার (কিছুটা) আমি পালন করতে পেরেছি। যদি তা অর্জিত হয়ে থাকে, তবে তা মহান রবের পক্ষ থেকে তাওফিক বা অনুগ্রহ। কেননা তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
লিখেছেন
আবদুর রহমান আল-মাসতাওয়ী
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯)
ترجمة امرئ القيس (1)
(000 - 80 ق. ه = 000 - 565 م)
أ حياته:
اسمه حُنْدُج، وقيل: عَديْ، وقيل: مُلَيْكَة، ولُقِّب بذي القروح وبالملك الضليل، وبامرئ القيس، وطغى هذا اللقب على اسمه وعُرف به. وعُرف بثلاث كُنى هي: أبو وهب، وأبو زيد، وأبو الحارث.
أبو حُجُر ملك غطفان وأسد، وأمه فاطمة بنت ربية أخت المهَلهِل ويمكن تقسي حياته إلى مرحلتين: أولاهما مرحلة الشباب العابث، والثانية مرحلة السعي العائر إلى الملك، يفصل بينهما مصرع أبيه.
نشأ حُنْدج في نجد من أسرة توارثت الملك، ودانت لها قبائل العرب من ربيعة ومضر، ومضى يتردد بين أسرة أبيه وأسرة خاله المهَلهِل من تغلب، مزهواً بنفسه وبملك أبيه، غارقاً في لذائذ الدنيا.
إنْ مال إلى اللهو وجد بين الإماء والقيان طِلْبته، وإنْ طلب الطرد والقنص سار في ركابه فتيان مجّان، يبغون ما يبغي من نزو على الجياد، ومطاردة للفرائس.
وعندما تنادى امرؤ القيس في ضلاله طرده أبوه، فلم يزد الطرد مجانته إلا اطّراداً، وإلحاحاً على الغيّ، إذ راح ينفق عمره في الشهوات، ويعايش من شذّ وتصعلك، ومن غوى وفسق.
--------------------------------------------
ইমরুল কায়সের জীবনী (১)
(০০০ - ৮০ হিজরি পূর্ব = ০০০ - ৫৬৫ খ্রিস্টাব্দ)
ক. তাঁর জীবন:
তাঁর নাম হুন্দুজ; বলা হয়: আদি, আবার বলা হয়: মুলাইকা। তিনি ‘যুল-কুরুহ’, ‘আল-মালিকুয যালীল’ এবং ‘ইমরুল কায়স’ উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। এই উপাধিটিই তাঁর নামের ওপর প্রাধান্য পায় এবং তিনি এ নামেই পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর তিনটি কুনিয়াত (উপনাম) ছিল: আবু ওয়াহব, আবু যায়েদ এবং আবু আল-হারিস।
তাঁর পিতা হুজুর ছিলেন গাতাফান ও আসাদ গোত্রের রাজা। তাঁর মা ফাতিমা বিনতে রাবিয়াহ ছিলেন মুহালহিলের বোন। তাঁর জীবনকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়: প্রথমটি হলো উদ্দাম যৌবনের পর্যায় এবং দ্বিতীয়টি হলো রাজত্ব উদ্ধারের বিপ্লবী সংগ্রামের পর্যায়; এ দুইয়ের মাঝে ব্যবচ্ছেদকারী ঘটনা ছিল তাঁর পিতার হত্যাকাণ্ড।
হুন্দুজ নজদ অঞ্চলে এমন এক পরিবারে বেড়ে ওঠেন যারা উত্তরাধিকার সূত্রে রাজত্ব লাভ করেছিল এবং রবিয়াহ ও মুদার গোত্রের আরবরা যাদের অনুগত ছিল। তিনি তাঁর পিতার পরিবার এবং বনু তাগলিব গোত্রে তাঁর মামা মুহালহিলের পরিবারের মধ্যে যাতায়াত করতেন; নিজের আভিজাত্য ও পিতার রাজত্ব নিয়ে গর্বিত এবং জাগতিক ভোগবিলাসে নিমজ্জিত অবস্থায়।
তিনি যদি আমোদ-প্রমোদের প্রতি ঝুঁকে পড়তেন, তবে দাসী ও গায়িকাদের মাঝে তাঁর অভীষ্ট খুঁজে পেতেন। আর যদি শিকার ও পশ্চাদ্ধাবনের ইচ্ছা করতেন, তবে তাঁর সহচর হিসেবে একদল দুঃসাহসী যুবক বেরিয়ে পড়ত, যারা ঘোড়ায় চড়ে শিকারের পেছনে ছোটার ক্ষেত্রে তাঁর মতোই আগ্রহী ছিল।
যখন ইমরুল কায়স তাঁর বিপথগামিতায় সীমা লঙ্ঘন করলেন, তখন তাঁর পিতা তাঁকে তাড়িয়ে দিলেন। এই বহিষ্কার তাঁর বেপরোয়া আচরণ ও পাপাচারের জেদকে আরও বাড়িয়ে দিল। তিনি কামজ প্রবৃত্তির পেছনে জীবন অতিবাহিত করতে লাগলেন এবং সমাজচ্যুত, ভবঘুরে, পথভ্রষ্ট ও পাপাচারীদের সাথে বসবাস শুরু করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وبينما هو غارق في لذائذه، وقعت واقعة نقلته من المجون إلى الشجون، ومن الخمر والقمر، إلى الغمّ والهم.
فعندما وصله خبر أبيه قال: (ضيّعني صغيراً، وحمّلني دمه كبيراً لا صحو اليوم، ولا سكر غداً. اليوم خمرُ وغداً أمر). فآلى ألا يأكل لحماً، ولا يشرب خمراً، ولا يدهن، ولا يصيب امرأة، حتى يدرك ثأره.
فلبس امرؤ القيس لامة الحرب، وحاولت قبيلة أسد أن تترضاه، فلم يرضَ، فقاتلهم حتى كثرت الجراح والقتلى فيهم، وحجز الليل بينهم، وهربت بنو أسد.
لم تشف هذه المقتلة غلّ امرئ القيس، واستنصر بقَيْل يُدعى مرثد الخير بن ي جَدن الحِمْيريْ فنصره وأمّده بخمسمائة رجل من حِمير، ولكن هذا المدد لم يحقق النصر لامرئ القيس، فاضطر امرؤ القيس إلى التجول من أمير إلى أمير، وإلى تجرع الغصص غصّة بعد غصّة، فترك ماله وأسلحته لدى السموأل بن عادياء، ويممّ شطر قيصر فأحسن قيصر وفادته، لكنّه لم يعنه على استرداد ملكه.
ويقال: إنّه أصيب في عودته بالجدري، فمات، وقيل: إنه مات بسمّ سرى في جسمه من حلّةٍ مسمومة، خلعها عليه عظيم الروم.
هذه هي حياة الملك الضَّليل التي كادت أحداثها المثيرة أن تجعلها أسطورة ساخرة.
ب شعره وأغراضه:
كان شعر امرئ القيس في المرحلة الأولى من حياته غزلاً ووصفاً لمجالس الأنس والخمر، والحصان رفيقه في الصيد، ومطيته في ميادين القتال، وفي المرحلة الثانية غلب على شعره المدح والهجاء والفخر بالملك القديم ووصف الناقة وسيلته في قطع الفلوات.
তিনি যখন তাঁর ভোগ-বিলাসে মগ্ন ছিলেন, তখন এমন এক ঘটনা ঘটল যা তাঁকে আমোদ-প্রমোদ থেকে বিষাদে এবং মদ্যপান ও জ্যোৎস্নালোকিত রজনী থেকে দুঃখ ও দুশ্চিন্তায় নিপতিত করল।
যখন তাঁর পিতার মৃত্যুর সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: (তিনি আমাকে ছোটবেলায় অবহেলা করেছেন এবং বড়বেলায় তাঁর রক্তের প্রতিশোধের ভার আমার ওপর চাপিয়েছেন। আজ কোনো সুস্থতা নেই এবং কাল কোনো মত্ততা নেই। আজ মদ্যপান এবং কাল কর্মতৎপরতা)। অতঃপর তিনি শপথ নিলেন যে, যতক্ষণ না তিনি তাঁর প্রতিশোধ গ্রহণ করছেন, ততক্ষণ তিনি গোশত আহার করবেন না, মদ্যপান করবেন না, সুগন্ধি তেল ব্যবহার করবেন না এবং কোনো নারীর সান্নিধ্যে যাবেন না।
অতঃপর ইমরুল কায়েস যুদ্ধের বর্ম পরিধান করলেন। বনু আসাদ গোত্র তাঁকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করল, কিন্তু তিনি সম্মত হলেন না। তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না তাদের মধ্যে প্রচুর হতাহত হলো। রাত তাদের মধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল এবং বনু আসাদ পালিয়ে গেল।
এই ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ইমরুল কায়েসের হৃদয়ের ক্ষোভ নিবারণ করতে পারেনি। তিনি মারছাদ আল-খায়র ইবন জাদান আল-হিমইয়ারি নামক এক নেতার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলেন। তিনি তাঁকে সাহায্য করলেন এবং হিমইয়ারের পাঁচশত সৈন্য দিয়ে তাঁকে সহযোগিতা করলেন। কিন্তু এই সাহায্য ইমরুল কায়েসের বিজয় নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে ইমরুল কায়েস এক আমির থেকে অন্য আমিরের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে এবং একের পর এক দুঃখের তিক্ত ঢোক গিলতে বাধ্য হলেন। তিনি তাঁর সম্পদ ও অস্ত্রশস্ত্র সামাওয়াল ইবন আদিয়ার নিকট গচ্ছিত রাখলেন এবং কায়সারের (রোমান সম্রাট) উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। কায়সার তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করলেন, কিন্তু তাঁর হৃত রাজ্য পুনরুদ্ধারে তাঁকে কোনো সাহায্য করলেন না।
বলা হয়ে থাকে যে, ফেরার পথে তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। আবার কেউ কেউ বলেন যে, রোমান সম্রাট তাঁকে যে বিষাক্ত পোশাক উপহার দিয়েছিলেন, তা থেকে শরীরে ছড়িয়ে পড়া বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
এই ছিল 'পথভ্রষ্ট রাজা'র (আল-মালিক আদ-দালিল) জীবন, যার রোমাঞ্চকর ঘটনাবলী একে প্রায় এক বিদ্রূপাত্মক উপকথায় পরিণত করেছে।
খ. তাঁর কবিতা ও এর বিষয়বস্তু:
জীবনের প্রথম পর্যায়ে ইমরুল কায়েসের কবিতা ছিল প্রেমমূলক (গজল), আনন্দ ও মদ্যপানের আসরের বর্ণনা এবং শিকারের সঙ্গী ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাহন হিসেবে ঘোড়ার বর্ণনায় সমৃদ্ধ। আর জীবনের দ্বিতীয় পর্যায়ে তাঁর কবিতায় প্রশংসা, নিন্দা, প্রাচীন রাজত্বের গৌরব এবং মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার বাহন হিসেবে উটের বর্ণনা প্রাধান্য লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১১)
ومن حيث العواطف، كان شعره في المرحلة الأولى يتّفجر حيوية وتفاؤلاً وزهواً، واعتزازاً، فلما فُجع بأبيه، غرق في الشكوى والحزن والتذمّر من غدْر الناس والزمان.
وفي الأسلوب كانت ألفاظ الشاعر في المرحلة الأولى أقرب إلى العذوبة والوضوح، والانسياب، ولم يفارق أسلوبه هذه الخصائص في المرحلة الثانية لكن ألفاظه شابها المقت، وخالطتها الكآبة.
ج- منزلته:
هو من شعراء الطبقة الأولى في العصر الجاهلي، وهم زهير بن أبي سُلمى، والنابغة الذبياني، والأعشى ميمون، وامرؤ القيس. ثم اختلفوا في تقديم أحدهم على طبقته، وفضّل كثيرٌ من الأدباء شاعرنا أكثر من الذين فضّلوا سواه، ومن هؤلاء الأدباء ابن رشيق القيرواني الذي يقول: (ولكلّ واحد منهم طائفة تفضّله وتتعصّب له. وقلما يُجْتَمع على واحد إلا ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم في امرئ القيس: أنه أشعر الشعراء وقائدهم إلى النار).
ويروى أن عليّاً كرّم الله وجهه فضّله على شعراء الجاهلية (لأنه لم يقلْ لرغبةٍ ولا لرهبة). وأيضاً عمر بن الخطّاب رضي الله عنه والفرزدق، وابن سلّام الجُحميّ صاحب كتاب طبقات (فحولة الشعراء) كلهم شهدوا له بالسبق.
د- السمات الفنية لشعره:
لقد تميّز شعره بعدة سمات؛ كالوضوح الذي عُبّر عنه (بقرب الماخذ)، وجَوْدة التصوير، ورقّة الأسلوب في الغزل، وأمور جزئية كالبكاء على الديار و تشبيه النساء بالظباء مما لا يمكن القطع في أنع من اختراع حُنْدُج.
غير أن السّمات العامّة نفسها كوضوح المعاني وجمال التصوير ورقّة الأسلوب يمكن ردها إلى تأثره بالبيئة الحضرية. ومن أبرز هذه السمات:
1 - وفرة التشبيه، لوفرة الموارد الطبيعية والمصنوعة التي كانت تلامس
অনুভূতির দিক থেকে, তাঁর প্রথম পর্যায়ের কবিতা ছিল প্রাণচাঞ্চল্য, আশাবাদ, অহংকার ও গৌরবে ভরপুর। কিন্তু যখন তিনি তাঁর পিতার মৃত্যুর শোকে আক্রান্ত হলেন, তখন তিনি মানুষের ও সময়ের বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুঃখ ও অসন্তোষে নিমজ্জিত হলেন।
শৈলীর ক্ষেত্রে, প্রথম পর্যায়ে কবির শব্দাবলী ছিল মাধুর্য, স্পষ্টতা ও সাবলীলতার অধিক নিকটবর্তী। দ্বিতীয় পর্যায়েও তাঁর শৈলী এই বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে বিচ্যুত হয়নি, তবে তাঁর শব্দাবলীতে ঘৃণা ও বিষণ্ণতার সংমিশ্রণ ঘটেছিল।
গ- তাঁর মর্যাদা:
তিনি জাহেলি যুগের প্রথম সারির কবিদের অন্যতম; তাঁরা হলেন যুহাইর বিন আবি সুলমা, আন-নাবিগাহ আদ-যুবইয়ানি, আল-আশা মায়মুন এবং ইমরুল কায়েস। অতঃপর তাঁদের সমপর্যায়ের কবিদের মধ্যে কাউকে কারো ওপর প্রধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে মতভেদ তৈরি হয়েছে। অনেক সাহিত্যিক অন্যদের তুলনায় আমাদের এই কবিকে অধিক শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, আর এই সাহিত্যিকদের মধ্যে ইবনে রাশিক আল-কাইরাওয়ানি অন্যতম, যিনি বলেন: (তাঁদের প্রত্যেকেরই এমন একদল অনুসারী রয়েছে যারা তাঁকে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং তাঁর পক্ষাবলম্বন করে। খুব কমই কোনো একজনের ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে, কেবল ইমরুল কায়েস সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত: নিশ্চয়ই তিনি কবিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কবি এবং জাহান্নামের পথে তাদের নেতা)।
বর্ণিত আছে যে, আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু তাঁকে জাহেলি যুগের কবিদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন (কারণ তিনি কোনো লোভ বা ভয়ের বশবর্তী হয়ে কবিতা বলেননি)। এছাড়া উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু, ফারাজদাক এবং ‘তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা’ গ্রন্থের লেখক ইবনে সাল্লাম আল-জুমাহি—তাঁরা সকলেই তাঁর অগ্রগণ্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ঘ- তাঁর কবিতার শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:
তাঁর কবিতা বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য; যেমন স্পষ্টতা—যাকে ‘ভাবের সহজলভ্যতা’ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে, চমৎকার চিত্রায়ণ, গজল বা প্রেমকাব্যে শৈলীর কোমলতা এবং কিছু খুটিনাটি বিষয় যেমন ধ্বংসাবশেষ দেখে ক্রন্দন এবং নারীদেরকে হরিণীর সাথে তুলনা করা, যদিও এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে এগুলো হুন্দুজেরই উদ্ভাবন।
তবে এই সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো, যেমন অর্থের স্পষ্টতা, চিত্রায়ণের সৌন্দর্য এবং শৈলীর কোমলতা—নাগরিক পরিবেশের প্রভাবের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - উপমার প্রাচুর্য, সেই সব প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উৎসের প্রাচুর্যের কারণে যা স্পর্শ করত...
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১২)
حواسه وتتيح له أن يرسم منها الصور، فقد ألقت الحياة بين يديه ما لم تلق بين أيدي غيره، فحصانه يدور كخدروف الوليدـ وترائب صاحبته مصقولة كالسجنجل.
والطابع الحسي والواقعية من أهم خصائص التشبيه عنده لكنه كان في بعض التشبيهات يعرض للأشياء لمحاً، ويترك في تشبيهه جانباً خفياً غامضاً وله في ذلك ابتكارات كثيرة ملكت على الأقدمين ألبابهم يقول:
أيَقْتُلُني وَالمَشْرَفيُّ مُضَاجِعِي
… ومَسْنُونَةً زُرْقٌ كأنيابِ أَغْوَالِ
2 - عنايته بموسيقى الألفاظ ولعّله من أجل ذلك كان يكثر من التصريع، على نحو ما صنع في المعلّقة، وتتجلّى عناية الشاعر بالموسيقى في إخضاع الصوت للمعنى، كاختيار الأصوات الصاخّة للمعاني البدوية، واختيار الأصوات المهموسة والألفاظ المأنوسة للمعاني الحضرية، والمواقف الوجدانية كقوله:
مِكَرّ، ٍ مفرٍّ، مُقْبِلٍ، مُدْبِرٍ معاً
… ... كجُلْمُودِ صَخْرٍ حَطَّهُ السَّيْلُ مِنْ عَلِ
…فقد جعل لكل وضع من أوضاع الفرس لفظةً قائمة برأسها مفصولة عن جارتها.
ومع كل ذلك مجد في إيقاعه بعض الخلل سببه كثر الزحافات والعلل العَروضية كقوله:
أعِنّي على برقٍ أراهُ وميضِ
… يضيءُ حَبيّاً في شَمَاريخَ بيضِ
بلادٌ عريضةٌ، وأرض أَرِيضةٌ
… مَدَافِعُ عَيْثٍ في فضاءٍ عريضِ
فقد وازن، وصرّع، ورصّع؛ لكنه أساء إلى الموسيقى الخارجية أي إلى الوزن، فقلق الإيقاع لا يرتاح له السمع.
3 - سموّ الشاعر من أفق العاطفة الذاتية إلى أفق العاطفة الإنسانية.
তার ইন্দ্রিয়সমূহ তাকে চিত্র অঙ্কন করার সক্ষমতা দান করে। জীবন তার সামনে এমন কিছু উপস্থাপন করেছে যা অন্যদের সামনে করেনি। তার ঘোড়া শিশুর লাটিমের মতো ঘোরে এবং তার সঙ্গিনীর বক্ষদেশ দর্পণের মতো মসৃণ।
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বৈশিষ্ট্য এবং বাস্তবতা তার উপমার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে কিছু উপমায় তিনি বিষয়বস্তুকে কেবল আভাষে ইঙ্গিত করেন এবং তার উপমায় একটি লুকায়িত ও রহস্যময় দিক রেখে যান। এক্ষেত্রে তার অনেক উদ্ভাবন রয়েছে যা প্রাচীনদের জ্ঞান-বুদ্ধিকে মোহাচ্ছন্ন করেছিল। তিনি বলেন:
সে কি আমাকে হত্যা করবে যখন মাশরাফি তলোয়ার আমার শয্যাসঙ্গী
... এবং ধারালো নীল বর্শা যা দানবের দাঁতের মতো?
২ - শব্দের সঙ্গীতের প্রতি তার যত্ন: সম্ভবত এ কারণেই তিনি পদ্যের অন্ত্যমিল বা 'তাসরি'র প্রচুর ব্যবহার করতেন, যেমনটি তিনি তার মুয়াল্লাকায় করেছেন। ধ্বনিকে অর্থের অনুগত করার মাধ্যমে কবির সঙ্গীতের প্রতি যত্নশীলতা প্রকাশ পায়। যেমন মরুময় বেদুইন ভাবধারার জন্য উচ্চকিত ধ্বনি নির্বাচন এবং নাগরিক ভাবধারা ও আবেগীয় পরিস্থিতির জন্য মৃদু ধ্বনি ও পরিচিত শব্দ নির্বাচন। যেমন তার উক্তি:
আক্রমণকারী, পলায়নকারী, সামনে অগ্রসরমান এবং পিছু হটে আসা—সবই একত্রে
... যেন এক বিশাল প্রস্তরখণ্ড যাকে পাহাড়ি ঢল উপর থেকে নিচে নামিয়ে এনেছে।
...তিনি ঘোড়ার প্রতিটি অবস্থার জন্য একটি স্বতন্ত্র শব্দ নির্ধারণ করেছেন যা তার পার্শ্ববর্তী শব্দ থেকে পৃথক।
এতদসত্ত্বেও তার ছন্দে কিছু ত্রুটি পাওয়া যায় যার কারণ হলো প্রচুর পরিমাণে 'যিহাফ' এবং 'ইল্লাত' (ছন্দতাত্ত্বিক বিচ্যুতি)-এর ব্যবহার। যেমন তার উক্তি:
আমাকে সেই বিজলি দেখতে সাহায্য করো যার ঝিলিক আমি দেখছি
... যা সাদা মেঘমালার চূড়ায় আলো দিচ্ছে।
সুবিস্তৃত দেশ এবং সবুজ ভূমি
... প্রশস্ত প্রান্তরে ঢলের পানির প্রবাহ।
তিনি ভারসাম্য রক্ষা করেছেন, অন্ত্যমিল দিয়েছেন এবং অলঙ্কৃত করেছেন; কিন্তু তিনি বাহ্যিক সঙ্গীতের অর্থাৎ ছন্দের প্রতি অবিচার করেছেন, ফলে ছন্দের এই অস্থিরতা শ্রবণে স্বস্তি দেয় না।
৩ - কবির ব্যক্তিক আবেগের দিগন্ত থেকে মানবিক আবেগের দিগন্তে উত্তরণ।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ويظهر هذا السمو بعدة صور: أولاها أن فجيعته بأبيه وملكه أخرجت من قلبه الأثرة المفتونة بالذات، فهو ينسى مصابه، ويتأثر بما يصيب غيره ويقول:
أرى أمّ عمرٍو دَمْعُهَا قد تحدّرَا
… بُكَاءً على عَمرٍو، وَمَا كان أصْبَرَا
والثانية: أسفه على ما أصاب قومه من فُرقة، وما أصابه من غربة يقول:
ذكَرْتُ بها الحَيَّ الجَميعَ فَهَيّجَتْ
… عَقَابيلَ سُقْمٍ مِنْ ضَمِيرٍ وأَشْجَانِ
فَسَحّتْ دُموعي في الرِّداءِ كأنّهَا
… كُلىً ً من شَعِيبٍ ذاتِ سَحٍّ وَتَهْتانِ
وتظهر هذه العاطفة الإنسانية في إغاثة الملهوف، وإطلاق سراح الأسير، وتأثر الشاعر بالطبيعة الصامتة والحية، إذ يخلع عليها من مشاعره الفيّاضة حسّاً إنسانياً، فتغدو نفوس تفرح وتحزن، ويخامرها ما يخامر الشاعر من خلجات الألم والسرور والغضب والطرب.
এই শ্রেষ্ঠত্ব বেশ কয়েকটি রূপে প্রতিভাত হয়: প্রথমত, তাঁর পিতা এবং তাঁর রাজত্ব হারানোর বিয়োগান্তক ঘটনা তাঁর হৃদয় থেকে আত্মমুগ্ধ স্বার্থপরতা অপসারিত করেছে; ফলে তিনি স্বীয় দুঃখ বিস্মৃত হয়ে অন্যের বিপদে ব্যথিত হন এবং বলেন:
আমি উম্মে আমরকে দেখছি যে তার অশ্রুধারা বিগলিত হয়ে ঝরছে
… আমরের শোকে রোদন করছে, অথচ সে কতই না ধৈর্যশীল ছিল।
দ্বিতীয়ত: স্বজাতির বিভেদ এবং নিজের প্রবাস জীবনের নিঃসঙ্গতার প্রতি তাঁর আক্ষেপ, তিনি বলেন:
আমি এর মাধ্যমে সেই সমগ্র জনপদের কথা স্মরণ করেছি, যা আমার হৃদয়ের গহীন থেকে ব্যাধি ও শোকের দুঃসহ স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলেছে
…অতঃপর আমার চাদরের ওপর অশ্রু এমনভাবে ঝরতে লাগল যেন তা কোনো জীর্ণ চর্মপাত্র হতে নিসৃত অবিরাম বারিধারা
…এই মানবিক আবেগ আর্তের ত্রাণে, বন্দিমুক্তিতে এবং জড় ও জীবন্ত প্রকৃতির দ্বারা কবির প্রভাবিত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়; কেননা তিনি প্রকৃতির ওপর তাঁর উচ্ছ্বসিত আবেগ থেকে এক মানবিক অনুভূতি অর্পণ করেন, ফলে সেগুলো এমন সত্তায় পরিণত হয় যা আনন্দিত হয় ও বিষাদগ্রস্ত হয়, এবং কবির হৃদয়ে বেদনা, আনন্দ, ক্রোধ ও উল্লাসের যে অনুভূতিগুলো খেলা করে, তাদের মধ্যেও তা সঞ্চারিত হয়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
دراسة
المعلقة (1)
مهما طال الحديث عن شعر (الملك الضلّيل) يبقى ناقصاً ما لم يتناول معلّقته التي أولاها الأقدمون عناية بالغة، وجعلها الرواة فاتحة كتبهم، وعُني بها الدّارسون فترجموها إلى عدة لغات أجنبية.
فذهب بعضهم إلى أنّ الدافع الذي دفع امرأ القيس إلى نظم المعلّقة هو يوم دارة جلجل حيث التقى بعنيزة ابنة عمه تتنزه مع العذارى فذبح لها ناقته. ومطلعها:
قفا نبكِ من ذِكرى حبيبٍ ومنزلِ
… بسِقطِ اللِّوى بينَ الدَّخولِ فحَوْملِ
يقول ابن رشيق القيرواني في كتابه (العمدة): (وهو عندهم أفضل ابتداء صنعه شاعر؛ لأنه وقف واستوقف، وبكى واستبكى، وذكر الحبيب والمنزل في مصراع واحد).
فالمعلّقة قصيدة لامية على البحر الطويل، وقد اختلف الرواة في عدد أبياتها فهي برواية الأصمعي سبعة وسبعون بيتاً، وفي شرح المعلقات للزوزني واحد وثمانون بيتاً.
بإمكاننا أن نقّسم المعلّقة إلى سبعة أقسام، أطولها الغزل الذي يشغل نصف الأبيات.
- القسم الأول: وصف الأطلال: ويقع في ستة أبيات أولها:
قفا نبكِ من ذِكرى حبيبٍ ومنزلِ
… بسِقطِ اللِّوى بينَ الدَّخولِ فحَوْملِ
--------------------------------------------
মুআল্লাকার পর্যালোচনা (১)(আল-মালিক আদ-দাল্লিল) বা ভ্রাম্যমাণ রাজার কাব্য নিয়ে আলোচনা যতই দীর্ঘ হোক না কেন, তা ততক্ষণ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ থেকে যায় যতক্ষণ না তাঁর সেই মুআল্লাকাটি নিয়ে আলোচনা করা হয়, যাকে প্রাচীন পণ্ডিতগণ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন, বর্ণনাকারীগণ তাঁদের সংকলনসমূহের প্রারম্ভিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং গবেষকগণ এর প্রতি বিশেষ যত্নবান হয়ে একে একাধিক বিদেশি ভাষায় অনুবাদ করেছেন।
কারও কারও মতে, যে বিষয়টি ইমরুল কায়েসকে মুআল্লাকা রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল তা হলো 'দারাতু জুলজুল'-এর ঘটনা, যেখানে তিনি তাঁর চাচাতো বোন উনাইজার সাথে দেখা করেছিলেন যখন সে অন্যান্য তরুণীদের সাথে বনভোজন করছিল; তখন তিনি তাঁর উটটি তাদের জন্য জবাই করেছিলেন। কবিতাটির প্রারম্ভিক অংশ হলো:
থামো, চলো আমরা কাঁদি কোনো এক প্রিয়তমা এবং এক আবাসের স্মরণে
… সিকাতিল লিওয়ার বালুকাময় প্রান্তরে, যা আদ-দাখুল এবং হাওমালের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
ইবনে রাশিক আল-কায়রাওয়ানি তাঁর 'আল-উমদাহ' গ্রন্থে বলেন: (তাঁদের মতে এটি কোনো কবির করা সর্বশ্রেষ্ঠ সূচনা; কারণ তিনি নিজে থেমেছেন এবং অন্যকে থামিয়েছেন, নিজে কেঁদেছেন এবং অন্যকে কাঁদিয়েছেন এবং মাত্র একটি চরণে প্রিয়তমা ও আবাসের স্মৃতিচারণ করেছেন)।
মুআল্লাকাটি হলো 'লামিয়া' (লাম অন্ত্যমিলযুক্ত) কাসিদা যা 'বাহরে তবিল' বা দীর্ঘ ছন্দে রচিত। এর পঙক্তি সংখ্যা নিয়ে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; আসমায়ীর বর্ণনা অনুযায়ী এটি সাতাত্তর পঙক্তি বিশিষ্ট, আর আজ-জুযানি রচিত 'শারহুল মুআল্লাকাত' গ্রন্থে এটি একাশি পঙক্তি বিশিষ্ট।
আমরা এই মুআল্লাকাটিকে সাতটি অংশে বিভক্ত করতে পারি, যার মধ্যে দীর্ঘতম হলো 'গজল' (প্রেমগাথা) যা কবিতার প্রায় অর্ধেক পঙক্তি জুড়ে রয়েছে।
- প্রথম অংশ: ধ্বংসাবশেষের বর্ণনা: এটি ছয়টি পঙক্তি নিয়ে গঠিত যার প্রথমটি হলো:
থামো, চলো আমরা কাঁদি কোনো এক প্রিয়তমা এবং এক আবাসের স্মরণে
… সিকাতিল লিওয়ার বালুকাময় প্রান্তরে, যা আদ-দাখুল এবং হাওমালের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وفيها وقوف على أطلال الديار، وسرد مواضع المنازل، وآثار الظباء وحنين إلى الأحبة الذين فارقهم ويتنهي هذا القسم عند قوله:
وإنّ شِفائي عَبْرَةٌ مُهَرَاقَةٌ
… فهلْ عنْدَ رَسْمٍ دارِسٍ من مُعَوَّلِ
- القسم الثاني: الغزل الصريح، ووصف محاسن المرأة، وهو أطول الأقسام، وعدد أبياته سبعة وثلاثون بيتاً، أوله قوله:
وَبَيْضَةِ خِدرٍ لا يُرامُ خِباؤُهَا
… تَمَتَّعْتُ من لَهْوٍ بها غيرَ مُعْجَلِ
وفي هذا القسم يذكر أسماء محبوباته، فهو يعاتب (فاطمة) المدللة ذات النظرات السواحر ويتحدث عم امرأة مخدرة يكنف خباءها الحراس من كلّ جانب، غير أن الشاعر استطاع أن يخادع الرقيب، ويغشى صاحبته آخر الليل، وأن يخرجها من مخدعها، وفي هذا القسم وصف حسي للمرأة يكشف عن ذوق الشاعر المرهف، إذا يذكر ضمور الخصر والبطن، وامتلاء الساق، وصفاء البشرة، وبريق الترائب، وسحرة المقلة، وغزارة الشعر، ـ ولين البنان، واكتمال الجمال، ووفرة النعم وينتهي هذا القسم عند قوله،
ألا رُبّ خَصْمٍ فيكِ ألْوَى رَدَدتُه
… نصيحٍ على تَعذالهِ غيرِ مُؤْتَلِ
- القسم الثالث: وفيه يشكو الشاعر همه ويصف ليله الطويل الثقيل وهو أربعة أبيات يبدأ من قوله:
وَليلٍ كَمَوْجِ البَحرِ أرْخَى سُدولَهُ
… ... عَلَيَّ بأنواعِ الهمومِ ليَبْتَلي
وينتهي هذا القسم عند قوله:
فيا لكَ من لَيْلٍ كَأَنَّ نُجومَهُ
… بأمراسِ كتّانٍ إلى صُمّ جَندَلِ
- القسم الرابع: وفيه يفخر الشاعر باحتماله كَلَّ الصديق، وبتجشمه مخاطر الطريق ومقابلته الذئب ومقارنته بنفسه وبالتفرد وهو أربعة أبيات أيضاً ويبدأ من قوله:
এতে রয়েছে বসতভিটার ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা, আবাসস্থলগুলোর অবস্থান বর্ণনা করা, হরিণ শাবকদের পদচিহ্ন এবং যেসব প্রিয়জনদের থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন তাদের জন্য ব্যাকুলতা। এই অংশটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে শেষ হয়:
নিশ্চয়ই আমার আরোগ্য হলো বিগলিত অশ্রু
… তবে কি কোনো বিলীন হয়ে যাওয়া চিহ্নের কাছে বিলাপ করার কিছু আছে?
- দ্বিতীয় অংশ: সুস্পষ্ট প্রেমগাথা এবং নারীর সৌন্দর্যের বর্ণনা। এটি দীর্ঘতম অংশ এবং এর শ্লোক সংখ্যা সাঁইত্রিশটি। এর সূচনা হয়েছে এই চরণের মাধ্যমে:
কতই না অন্দরমহলের পর্দানশীন রূপসী যার তাঁবুতে প্রবেশের কল্পনাও করা যায় না
… আমি তার সাথে কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়াই আনন্দ উপভোগ করেছি।
এই অংশে তিনি তাঁর প্রিয়তমাদের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি মায়াবী দৃষ্টির অধিকারিণী আদুরে (ফাতিমা)-কে অনুযোগ করছেন এবং এমন এক অন্তঃপুরবাসিনী নারীর কথা বলছেন যার তাঁবুকে চারপাশ থেকে প্রহরীরা ঘিরে রেখেছে। তবুও কবি সেই পাহারাদারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিলেন, রাতের শেষ ভাগে তাঁর সঙ্গিনীর নিকট পৌঁছেছিলেন এবং তাকে তাঁর শয়নকক্ষ থেকে বের করে এনেছিলেন। এই অংশে নারীর এমন এক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বর্ণনা রয়েছে যা কবির সূক্ষ্ম রুচির পরিচয় দেয়; যেখানে তিনি ক্ষীণ কটি ও উদর, সুডৌল জঙ্ঘা, ত্বকের স্বচ্ছতা, বক্ষাস্থির ঔজ্জ্বল্য, চোখের মোহনীয়তা, চুলের ঘনত্ব, আঙুলের কোমলতা, সৌন্দর্যের পূর্ণতা এবং সচ্ছল জীবনের প্রাচুর্যের কথা বর্ণনা করেছেন। এই অংশটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে শেষ হয়:
জেনে রেখো, তোমার ব্যাপারে অনেক জেদী বিবাদীকে আমি ফিরিয়ে দিয়েছি
… যারা উপদেশদাতা হওয়া সত্ত্বেও তিরস্কারে কোনো ত্রুটি করেনি।
- তৃতীয় অংশ: এতে কবি তাঁর দুশ্চিন্তার অভিযোগ করছেন এবং তাঁর দীর্ঘ ও ভারাক্রান্ত রজনীর বর্ণনা দিচ্ছেন। এটি চারটি শ্লোক সম্বলিত যা তাঁর এই চরণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে:
আর কতই না এমন রাত যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো তার পর্দাগুলো ঝুলিয়ে দিয়েছে
… ... আমাকে পরীক্ষা করার জন্য নানা প্রকার দুশ্চিন্তাসহ আমার ওপর।
এই অংশটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে শেষ হয়:
হায়! কী অদ্ভুত সে রাত, যেন তার নক্ষত্রগুলো
… লিনেন সুতোর দড়ি দিয়ে শক্ত পাথরের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে।
- চতুর্থ অংশ: এতে কবি বন্ধুর কষ্ট বা বোঝা বহন করা, পথের ঝুঁকি গ্রহণ করা, নেকড়ের মুখোমুখি হওয়া এবং তার সাথে নিজের ও একাকীত্বের তুলনা করার মাধ্যমে গর্ব প্রকাশ করছেন। এটিও চারটি শ্লোক সম্বলিত এবং তা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে শুরু হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَقِرْبَةِ أَقوامٍ جَعَلْتُ عِصامَها
… على كاهلٍ منِّي ذَلُولٍ مُرَحَّلِ
وفي هذا القسم صعلكة لا تليق بأمير، ولذلك نسبها قوم إلى (تأبط شرّا) وينتهي هذا القسم عند قوله:
كِلانا إذا ما نالَ شيئًا أفاتَهُ
… ومَن يحترِث حَرْثي وحَرْثك يهزُلِ
- القسم الخامس: وفيه وصف دقيق للفرس، يذكر سرعته وحمرته ونشاطه، وضمور خصره، وعدوه ونزوه، وطول فخذيه، وذكاء قلبه، وقوة صلبه. وهذا القسم أحد عشر بيتاً أولها:
وَقَدْ أَغْتَدِي والطَّير في وُكنَاتِهَا
… بِمُنْجَردٍ قَيدِ الأوابِدِ هَيْكلِ
وتنتهي عند قوله:
كأنّ دِماءَ الهادِياتِ بنَحْرِهِ
… عُصَارَةُ حِنَّاءٍ بشَيبٍ مُرَجَّلِ
- القسم السادس: وهو الطردُ، إذْ يصف الشاعر البقر الوحشي وهو سبعة أبيات أولها:
فَعَنَّ لنا سِرْبٌ كأنّ نِعاجَه
… عَذارَى دَوارٍ في مُلاءٍ مُذَيَّلِ
فالبقر الوحشي أبيض مرقط ببعض السواد ويصف مشيه وطول أذنابه، وقدرة فرسه على إدراكه والإحاطة بالسرب. ويصف إعداد الطهاة للطعام، والعودة من رحلة الصيد وينتهي عند قوله:
فَباتَ عَلَيْهِ سَرْجُهُ وَلجامُهُ
… وباتَ بعَيني قائمًا غَيرَ مُرْسَلِ
- القسم السابع: وفيه يصف الطبيعة، يصف منها البرق وهو آخر الأقسام ويقع في اثني عشر بيتاً ويبدأ من قوله:
أصاحِ تَرَى برقًا أُريكَ ومَيضَهُ
… كَلَمْعِ اليَدَينِ في حَبيٍّ مكلَّلِ
আর কত কওমের পানিপাত্র যার ফিতা আমি স্থাপন করেছি
… আমার নিজের বিনীত ও অভিজ্ঞ কাঁধের ওপর।
আর এই অংশে এমন এক যাযাবরপনা বিদ্যমান যা একজন আমিরের জন্য শোভনীয় নয়, আর এ কারণেই একদল লোক একে (তাবোতা শাররা)-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। এই অংশটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে শেষ হয়েছে:
আমরা দুজনেই যখন কোনো কিছু লাভ করি তখন তা হাতছাড়া করি
… আর যে ব্যক্তি আমার এবং তোমার কর্মফল প্রত্যাশা করবে, সে কৃশ ও দুর্বল হয়ে যাবে।
- পঞ্চম অংশ: এতে ঘোড়ার সূক্ষ্ম বর্ণনা রয়েছে; তিনি এর দ্রুতগতি, লালিমা, চঞ্চলতা, কোমরের ক্ষীণতা, দৌড় ও লাফানো, ঊরুর দীর্ঘতা, হৃদপিণ্ডের ক্ষিপ্রতা এবং মেরুদণ্ডের দৃঢ়তা উল্লেখ করেছেন। এই অংশটি এগারোটি পঙক্তি বিশিষ্ট, যার প্রথমটি হলো:
নিশ্চয়ই আমি খুব ভোরে বেরিয়ে পড়ি যখন পাখিরা তাদের বাসায় থাকে
… এমন এক মসৃণদেহী ঘোড়ার পিঠে চড়ে যা বন্য প্রাণীদের জন্য এক মূর্তমান শিকল এবং বিশালকায় দেহবিশিষ্ট।
এবং এটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে শেষ হয়েছে:
মনে হয় যেন তার বুকের ওপর শিকারকৃত অগ্রবর্তী প্রাণীদের রক্ত
… আঁচড়ানো সাদা চুলে মেহেন্দির নির্যাসের মতো।
- ষষ্ঠ অংশ: এটি হলো শিকারের বর্ণনা, যেখানে কবি বন্য গরুর বর্ণনা দিচ্ছেন। এটি সাতটি পঙক্তি বিশিষ্ট, যার প্রথমটি হলো:
অতঃপর আমাদের সামনে এক পাল বন্য পশু দৃশ্যমান হলো, যার গাভীগুলো যেন
… দীর্ঘ ঝুলযুক্ত চাদর পরিহিত এবং দেবমূর্তিকে প্রদক্ষিণকারী কুমারীগণ।
বন্য গরুটি সাদা এবং কিছু কালো ছোপযুক্ত। তিনি এর চলন ও লেজের দীর্ঘতা এবং পালের নাগাল পেতে ও তাদের বেষ্টন করতে তাঁর ঘোড়ার সক্ষমতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বাবুর্চিদের খাদ্য প্রস্তুত করার এবং শিকার অভিযান থেকে ফিরে আসার বর্ণনাও দিয়েছেন। এটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে শেষ হয়েছে:
রাতভর তার ওপর জিন ও লাগাম সংলগ্ন রইল
… এবং সে সারারাত আমার চোখের সামনে দণ্ডায়মান রইল, তাকে বন্ধনমুক্ত করা হয়নি।
- সপ্তম অংশ: এতে তিনি প্রকৃতির বর্ণনা দিয়েছেন, তন্মধ্যে বিদ্যুতের চমকের বর্ণনা দিয়েছেন। এটি শেষ অংশ এবং বারোটি পঙক্তি বিশিষ্ট। এটি শুরু হয়েছে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে:
হে বন্ধু! তুমি কি সেই বিদ্যুৎ দেখতে পাচ্ছ যার চমক আমি তোমাকে দেখাচ্ছি
… যা মুকুট সদৃশ ঘন মেঘের মাঝে দুই হাতের ইশারার ন্যায় চমকাচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فهو يصف وميض البرق، وسرعة انتشاره، وتفجيره السحب، ثم يصف انهمار السيول، وجرفها الشجر، وذعر الحيوان، ويصف الجبل الذي تكنفه مياه السيل، وازدهار النبت، والسباع الغرقى وينتهي عند قوله:
كأنّ السِّباعَ فِيهِ غَرْقَي عَشِيّةً
… بِأَرْجَائِهِ القُصْوَى أنابيشُ عُنْصُلِ
وبهذا البيت تنتهي المعلقة. فانظر كيف ختمها، إذ لم بجعل لها قاعدة كما فعل غيره، وذلك عندما ينهون قصائدهم والنفس بها متعلقة وفيها راغبة مشتهية.
لقد كانت الواقعية التامّة، والعضوية في تناول الأغراض وعرضها، وعمق التجربة الشعورية التي يصوّرها الشاعر، وصبّها في جوّ نفسي واحد، ووضوح شخصية امرئ القيس، والسرد القصصي الذي يبهر السامع، وبث الحركة والحياة في أوصال النص من أهم سمات المعلّقة، أفلا ترى أنها أفضل المعلقات؟
তিনি বিজলির চমক, তার প্রসারণের গতি এবং মেঘমালাকে বিদীর্ণ করার বর্ণনা দিচ্ছেন; অতঃপর তিনি ঢলের প্রবল বর্ষণ, বৃক্ষরাজিকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া, পশুপাখির আতঙ্ক এবং বন্যার পানিতে পরিবেষ্টিত পাহাড়, উদ্ভিদের সতেজতা ও নিমজ্জিত হিংস্র প্রাণীদের বর্ণনা প্রদান করেন এবং তাঁর এই পঙ্ক্তিতে এসে সমাপ্তি টানেন:
যেন হিংস্র প্রাণীরা সন্ধ্যায় সেখানে নিমজ্জিত অবস্থায়
… তার দূরবর্তী প্রান্তসমূহে উপড়ানো বন্য পেঁয়াজের ন্যায় পড়ে রয়েছে।
এই পঙ্ক্তির মাধ্যমেই মুআল্লাকাটি সমাপ্ত হয়েছে। লক্ষ্য করুন তিনি কীভাবে এর ইতি টেনেছেন; কেননা তিনি অন্যদের মতো এর কোনো প্রথাগত পরিসমাপ্তি টানেননি, যা সাধারণত তারা করে থাকেন যখন কবিতা শেষ হলেও মন তার প্রতি আসক্ত থাকে এবং তাতে আকাঙ্ক্ষা ও ব্যাকুলতা অবশিষ্ট থাকে।
পূর্ণাঙ্গ বাস্তবতা, বিষয়বস্তু গ্রহণ ও উপস্থাপনায় আঙ্গিক সুষমা, কবির চিত্রিত অনুভূতিপ্রসূত অভিজ্ঞতার গভীরতা, সেটিকে একটি একক মনস্তাত্ত্বিক আবহে ঢেলে সাজানো, ইমরুল কায়েসের ব্যক্তিত্বের সুস্পষ্টতা, শ্রোতাকে বিমুগ্ধকারী বর্ণনাশৈলী এবং পাঠের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গতি ও প্রাণের সঞ্চার করাই ছিল এই মুআল্লাকাটির প্রধানতম বৈশিষ্ট্য; তবে আপনি কি দেখছেন না যে, এটিই শ্রেষ্ঠ মুআল্লাকা?
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২১)
المعلّقة [الطويل]
وهي المعلقة الأولى في (المعلقات السبع) للزوزني، و (المعلقات العشر) للشنقيطي
1 - قِفا نبكِ، من ذِكرى حبيبٍ، ومنزلِ
… بسِقطِ اللّوى بينَ الدَّخولِ، فَحَوْمَلِ
قيل: خاطب صاحبَيه، وقيل: يب خاطب واحداً، وأخرج الكلام محرج الخطاب مع الاثنين، لأن العرب من عادتهم إجراء خطاب الاثنين على الواحد والجمع، فمن ذلك قول الشاعر:
فإن تزجراني يا بن عفَّانَ أنزجِر ْ
… وإنْ ترعياني أَحْمِ عرضًا مُمنّعًا
خاطب الواحد خطاب الاثنين، وإنما فعلت العرب ذلك لأن الرجل يكون أدنى أعوانه اثنين: راعي إبله وراعي غنمه، وكذلك الرفقة أدنى ما تكون ثلاثة، فجرى خطاب الاثنين على الواحد لمرون ألسنتهم عليه، ويجوز أن يكون المراد به: قف قف، فإلحاق الألف أمارة دالة على أن المراد تكرير اللفظ كما قال أبو عثمان المازني في قوله تعالى: {قَالَ رَبِّ ارْجِعُون} [المؤمنون: 99] المراد منه: أرجعني أرجعني أرجعني، جعلت الواو علمًا مشعرًا بأن المعنى تكرير اللفظ مرارًا، وقيل: أراد قفن على جهة التأكيد فقلب النون ألفًا في حال الوصل؛ لأن هذه النون تقلب ألفًا في حال الوقف فحمل الوصف على الوقف، ألا ترى أنك لو وقفت على قوله تعالى: {لَنَسْفَعَا} [العلق: 15] قلت: لنسفعًا؟ ومنه قول الأعشى::
وصلِّ على حين العشياتِ والضّحَى
… ولا تَحْمَدِ المثرينَ، واللهَ، فاحْمدَا
আল-মুয়াল্লাকা [আত্ব-ত্বওয়ীল ছন্দ]
এটি যাওযানীর (সাত মুয়াল্লাকা) এবং শানকীতীর (দশ মুয়াল্লাকা) সংকলনের অন্তর্ভুক্ত প্রথম মুয়াল্লাকা।
১ - তোমরা দুজন থামো, এসো আমরা রোদন করি প্রিয়তমা এবং তাঁর আবাসস্থলের স্মৃতিচারণে... যা আদ-দাখুল ও হাওমালের মধ্যবর্তী সিকতুল লিওয়া নামক স্থানে অবস্থিত।
বলা হয়েছে: তিনি তাঁর দুই সঙ্গীকে সম্বোধন করেছেন। আবার বলা হয়েছে: তিনি মূলত একজনকে সম্বোধন করেছেন, কিন্তু কথাটি দ্বিবচনের সম্বোধনে ব্যক্ত করেছেন। কারণ আরবদের রীতি হলো একজনের ক্ষেত্রেও দ্বিবচন বা বহুবচনের সম্বোধন ব্যবহার করা। যেমন জনৈক কবির উক্তি:
হে আফফানের পুত্র, যদি তোমরা দুজন আমাকে নিবৃত্ত করো তবে আমি নিবৃত্ত হব... আর যদি তোমরা দুজন আমাকে রক্ষা করো তবে আমি আমার দুর্ভেদ্য সম্মানকে রক্ষা করব।
এখানে একজনকে দ্বিবচনের সম্বোধন করা হয়েছে। আরবরা এমনটি করত কারণ সাধারণত একজন মানুষের নিকটতম সাহায্যকারী দুজন থাকে: তার উটের রাখাল এবং তার ছাগলের রাখাল। তদ্রূপ কাফেলার সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যাও সাধারণত তিনজন হয়ে থাকে। ফলে তাদের জিহ্বায় দ্বিবচনের সম্বোধনটিই সহজ হয়ে গিয়েছিল। এটিও সম্ভব যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: থামো থামো। সেক্ষেত্রে আলিফ যুক্ত হওয়াটি একটি চিহ্ন যা নির্দেশ করে যে শব্দটির পুনরাবৃত্তিই লক্ষ্য, যেমনটি আবু উসমান আল-মাযিনী মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে বলেছেন: {হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আবার ফেরত পাঠান} [আল-মুমিনুন: ৯৯]। এখানে উদ্দেশ্য হলো: আমাকে ফেরত পাঠান, আমাকে ফেরত পাঠান, আমাকে ফেরত পাঠান। এখানে 'ওয়াও' বর্ণটিকে একটি আলামত করা হয়েছে যা অর্থের বারবার পুনরাবৃত্তিকে নির্দেশ করে। আবার বলা হয়েছে: তিনি মূলত তাকিদ বা দৃঢ়তার জন্য 'কিফান' বলতে চেয়েছিলেন, অতঃপর সন্ধি বা মিলনের অবস্থায় 'নুন' কে আলিফে পরিবর্তন করা হয়েছে; কারণ এই 'নুন' বিরতির অবস্থায় আলিফে রূপান্তরিত হয়, তাই সন্ধির অবস্থাকেও বিরতির অবস্থার ওপর কিয়াস করা হয়েছে। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যদি মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর বিরতি দেন: {আমরা অবশ্যই তাকে হেঁচড়ে নিয়ে যাব} [আল-আলাক: ১৫], তবে আপনি পড়বেন 'লানাসফাআ' (আলিফ সহকারে)? কবি আল-আ'শার উক্তিও অনুরূপ:
এবং তুমি সন্ধ্যা ও প্রত্যুষে সালাত আদায় করো, আর ধনীদের প্রশংসা করো না, বরং আল্লাহরই প্রশংসা করো।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২২)
أراد فاحمدن فقلب نون التأكيد ألفًا، يقال بكى يبكي بكاء وبُكىً، ممدودًا ومقصورًا، أنشد ابن الأنباري لحسان بن ثابت شاهدًا له:
بكتْ عيني، وحُقَّ لها بكاهَا
… وما يغني البكاءُ، ولا العويلُ!
فجمع بين اللغتين؛ السِّقْط: منقطع الرمل حيث يستدق من طرفه، والسقط أيضًا ما يتطاير من النار، والسقط أيضًا المولود لغير تمام، وفيه ثلاث لغات: سَقط وسِقط وسُقط في هذه المعاني الثلاثة. اللوى: رمل يعوج ويلتوي. الدَّخول وحَوْمَل: موضعان.
يقول: قفا وأسعداني وأعيناني، أو قف وأسعدني على البكاء عند تذكري حبيبًا فارقته ومنزلًا خرجت منه، وذلك المنزل أو ذلك الحبيب أو ذلك البكاء بمنقطع الرمل المعوج بين هذين الموضعين.
2 - فتُوضِحَ فالْمِقراةِ لم يَعْفُ رَسْمُها
… لما نَسَجَتْها من جنوبٍ وشَمْأَلِ
توضح والمقراة: موضعان، وسقط اللوي بين هذه المواضع الأربعة. قوله: لم يعف رسمه، أي لم يَنْمَحِ أثرها. الرسم ما لصق بالأرض من آثار الدار مثل البعر والرماد وغيرهما. والجمع أرسم ورسوم، قوله: وشمأل فيها ست لغات: شمال وشمأل وشأمل وشمول وشَمْل وشَمَل. نسج الريحين: اختلافهما عليها وستر إحداهما إياها بالتراب وكشف الأخرى التراب عنها.
يقول: لم ينمحِ ولم يذهب أثرها؛ لأنه إذا غطته إحدى الريحين بالتراب كشف الأخرى التراب عنها، وقيل: بل معناه لم يقتصر سبب محوها على نسج الريحين بل كان له أسباب منها هذا السبب ومر السنين وترادف الأمطار وغيرها، وقيل: بل معناه لم يعف رسم حبها من قلبي وإن نسجتها الريحان، والمعنيان الأولان أظهر من الثالث وقد ذكرها كلها أبو بكر ابن الأنباري.
3 - ترى بَعَرَ الأَرْآمِ في عَرَصاتِها
… وقيعانها كأنَّهُ حَبُّ فُلْفُلِ
তিনি 'ফাহমাদান' (প্রশংসা করো) বুঝিয়েছেন, তাই তাকিদ বা গুরুত্বজ্ঞাপক 'নুন'কে 'আলিফে' রূপান্তর করেছেন। বলা হয়, কান্না করা (বাকা-ইয়াবকি), এর মمدود (দীর্ঘ) ও مقصور (সংক্ষিপ্ত) উভয় রূপই রয়েছে। ইবনুল আনবারি হাসসান ইবনে সাবিতের একটি পঙ্ক্তি এর স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন:
আমার চোখ কাঁদছে, এবং এর কাঁদাটাই সঙ্গত
… কিন্তু কান্না বা বিলাপ কোনো কাজে আসে না!
এখানে তিনি উভয় ভাষা (দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত রূপ) একত্রিত করেছেন। 'সিকত' (السقط) হলো বালুকাময় মরুভূমির শেষ প্রান্ত যেখানে এটি সরু হয়ে মিশে গেছে। 'সিকত' বলতে আগুনের ফুলকিকেও বোঝায় এবং সময়ের আগে জন্ম নেওয়া মৃত শিশুকেও 'সিকত' বলা হয়। এই তিনটি অর্থেই শব্দটির তিনটি উচ্চারণ পদ্ধতি (সাকত, সিকত এবং সুকত) প্রচলিত। 'লিওয়া' (اللوى) হলো এমন বালিয়াড়ি যা আঁকাবাঁকা হয়ে থাকে। 'দাখুল' ও 'হাওমাল' হলো দুটি স্থানের নাম।
তিনি বলছেন: থামো এবং আমাকে কাঁদতে সাহায্য করো বা সহযোগিতা করো— অথবা (একবচন অর্থে) থামো এবং আমাকে কান্নায় সঙ্গ দাও— যখন আমি আমার বিচ্ছেদপ্রাপ্ত প্রিয়তমা এবং ছেড়ে আসা বসতির কথা স্মরণ করি। সেই বসতি বা সেই প্রিয়তমা বা সেই ক্রন্দনস্থল হলো এই দুই স্থানের মধ্যবর্তী বাঁকানো বালিয়াড়ির প্রান্তে।
২ - তৌদিহ ও মিকরাতের মাঝে; যার চিহ্ন মুছে যায়নি
… দক্ষিণ ও উত্তর বায়ুর বুননের কারণে।
'তৌদিহ' ও 'মিকরাত' হলো দুটি স্থান, আর 'সিকতুত লিওয়া' এই চারটি স্থানের মাঝখানে অবস্থিত। তাঁর উক্তি: 'লাম ইয়া'ফু রাসমুহা' এর অর্থ হলো—এর চিহ্ন মুছে যায়নি। 'রাসম' (الرسم) বলতে বসতির সেই সব চিহ্নকে বোঝায় যা মাটির সাথে লেগে থাকে, যেমন পশুর বিষ্ঠা, ছাই ইত্যাদি। এর বহুবচন হলো 'আরসুম' ও 'রুসুম'। 'শামআল' (উত্তর বায়ু) শব্দটিতে ছয়টি উচ্চারণরীতি আছে: শামাল, শামআল, শামাল, শুমুল, শামল এবং শামাল। 'দুই বায়ুর বুনন' (نسج الريحين) বলতে বোঝায় তাদের একটির পর অন্যটির প্রবাহিত হওয়া এবং একটি কর্তৃক ধুলো দিয়ে ঢেকে দেওয়া ও অন্যটি কর্তৃক সেই ধুলো সরিয়ে উন্মোচিত করা।
তিনি বলছেন: এর চিহ্ন মুছে যায়নি এবং বিলীন হয়নি; কারণ যখন এক বায়ু একে ধুলো দিয়ে ঢেকে দেয়, অন্য বায়ু সেই ধুলো সরিয়ে দেয়। কেউ কেউ বলেছেন, বরং এর অর্থ হলো—চিহ্ন মুছে না যাওয়ার কারণ কেবল বাতাসের বুননের ওপর সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর আরও অনেক কারণ ছিল যেমন বছরের পর বছর অতিবাহিত হওয়া, পর্যায়ক্রমিক বৃষ্টিপাত ইত্যাদি। আবার কেউ বলেছেন, এর অর্থ হলো—বাতাস সেখানে বুনন চালালেও আমার হৃদয় থেকে তার ভালোবাসার চিহ্ন মুছে যায়নি। প্রথম দুটি অর্থই তৃতীয়টির চেয়ে অধিক স্পষ্ট এবং আবু বকর ইবনুল আনবারি এই সবগুলোই উল্লেখ করেছেন।
৩ - তুমি এর আঙ্গিনায় এবং নিচু ভূমিগুলোতে হরিণের বিষ্ঠা দেখতে পাবে
… যেন সেগুলো গোলমরিচের দানা।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأرآم: الظباء البيض الخالصة البياض، واحدها رئم، بالكسر، وهي تسكن الرمل. عرصات في "المصباح": عرصة الدار ساحتها، وهي البقعة الواسعة التي ليس فيها بناء والجمع عراص مثل كلب وكلاب، وعرصات مثل سجدة وسجدات وعن الثعالبي كل بقعة ليس فيها بناء فهي عرصة، وفي "التهذيب": وسميت ساحة الدار عرصة؛ لأن الصبيان يعرصون فيها أي: يلعبون ويمرحون. قيعان جمع قاع وهو المستوي من الأرض، وقيعة مثل القاع، وبعضهم يقول: هو جمع، وقاعة الدار ساحتها. الفلفل قال في القاموس: كهدهد وزبرج، حب هندي. ونسب الصاغاني الكسر للعامة، وفي المصباح: الفلفل بضم الفاءين من الأبزار، قالوا: لا يجوز فيه الكسر.
يقول: انظر بعينيك تر هذه الديار التي كانت مأهولة مأنوسة بهم خصبة الأرض، كيف غادرها أهلها وأقفرت من بعدهم أرضها وسكنت رملها الظباء، ونثرت في ساحاتها بعرها حتى تراه كأنه حب الفلفل في مستوى رحباتها. "هذا الشرح ليس للزَّوزَني".
4 - كأني غَداةَ البَينِ يَوْمَ تَحَمَّلوا
… لدى سَمُراتِ الحيّ ناقِفُ حَنظلِ
غداة في "المصباح": والغداة الضحوة، وهي مؤنثة قال ابن الأنباري: ولم يسمع تذكيرها، ولو حملها حامل على معنى أول النهار جاز له التذكير، والجمع غدوات. البين: الفرقة وهو المراد هنا، وفي "القاموس": البين يكون فرقة ووصلًا، قال الشارح: بان يبين بينًا وبينونة، وهو من الأضداد. اليوم: معروف، مقداره، من طلوع الشمس إلى غروبها، وقد يراد باليوم الوقت مطلقًا، ومنه الحديث: "تلك أيام الهرج"، أي: وقته، ولا يختص بالنهار دون الليل. تحملوا واحتملوا بمعنى: أي ارتحلوا. لدى بمعنى عند. سمرات جمع سمرة، بضم الميم: من شجر الطلح. الحي: القبيلة من الأعراب، والجمع أحياء. نقف الحنظل: شقة عن الهبيد، وهو الحب، كالإنقاف والانتقاف، وهو، أي الحنظل، نقيف ومنقوف، وناقفهِ الذي يشقه.
আল-আরাম: ধবধবে সাদা হরিণ, এর একবচন হলো ‘রিম’, কাসরা (যের) সহযোগে, এগুলো বালুময় ভূমিতে বাস করে। ‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে ‘আরাসাত’ সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘আরসাহ’ হলো বাড়ির আঙিনা বা প্রাঙ্গণ, এটি এমন প্রশস্ত স্থান যেখানে কোনো দালানকোঠা নেই; এর বহুবচন হলো ‘ইরাস’ যেমন ‘কালব’ থেকে ‘কিলাব’, এবং ‘আরাসাত’ যেমন ‘সাজদাহ’ থেকে ‘সাজদাত’। আস-সাআলিবি থেকে বর্ণিত যে, দালানকোঠাহীন প্রতিটি স্থানই হলো ‘আরসাহ’। ‘আত-তাহজিব’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে: বাড়ির আঙিনাকে ‘আরসাহ’ বলা হয়, কারণ শিশুরা সেখানে ‘ইয়া’রাসুনা’ অর্থাৎ খেলাধুলা ও আনন্দ-উল্লাস করে। ‘ক্বিআন’ হলো ‘ক্বা’ এর বহুবচন, যা সমতল ভূমিকে বোঝায়। ‘ক্বিআহ’ শব্দটিও ‘ক্বা’ এর মতোই অর্থ দেয়; কেউ কেউ বলেন এটি বহুবচন। বাড়ির ‘ক্বা’আহ’ মানে হলো তার আঙিনা। গোলমরিচ সম্পর্কে ‘আল-ক্বামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি হুদহুদ বা জিবরিজ এর ওজনে হতে পারে, যা একটি ভারতীয় বীজ। আস-সাগানি এর কাসরাযুক্ত উচ্চারণকে সাধারণ মানুষের ভাষা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে আছে: ‘আল-ফুলফুল’ উভয় ‘ফা’ বর্ণে দম্মা (পেশ) সহযোগে এটি মসলার অন্তর্ভুক্ত; ভাষাবিদগণ বলেছেন যে এতে কাসরা (যের) ব্যবহার করা বৈধ নয়।
তিনি বলছেন: তুমি নিজের চোখে তাকাও এবং দেখ এই জনপদগুলো যা একসময় জনবহুল ও প্রানচঞ্চল ছিল এবং যেখানের মাটি ছিল উর্বর; কিভাবে এর অধিবাসীরা এটি ত্যাগ করে চলে গেছে এবং তাদের পরে এই ভূমি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এখন এর বালুময় স্থানে হরিণরা বাস করে এবং তারা আঙিনায় এমনভাবে বিষ্ঠা ছড়িয়ে রেখেছে যে, প্রাঙ্গণের সমতল ভূমিতে সেগুলোকে গোলমরিচের দানার মতো মনে হয়। “এই ব্যাখ্যাটি আজ-জাওজানির নয়।”
4 - বিরহের সকালে যেদিন তারা প্রস্থান করেছিল, গোত্রের বাবলা গাছগুলোর কাছে (দাঁড়িয়ে) আমি যেন ছিলাম ইন্দ্রায়ণের ফল বিদারণকারী।
‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে ‘গাদাত’ অর্থ হলো পূর্বাহ্ণ; এটি একটি স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ। ইবনুল আনবারি বলেন: এর পুংলিঙ্গ প্রয়োগ শোনা যায়নি, তবে কেউ যদি একে ‘দিনের শুরু’ অর্থে ব্যবহার করে তবে পুংলিঙ্গ হিসেবে প্রয়োগ করা জায়েজ। এর বহুবচন হলো ‘গাদাওয়াাত’। ‘বাইন’ অর্থ হলো বিচ্ছেদ; এখানে এই অর্থই উদ্দেশ্য। ‘আল-ক্বামুস’ গ্রন্থে আছে: ‘বাইন’ শব্দটির অর্থ বিচ্ছেদ এবং মিলন উভয়ই হতে পারে। ব্যাখ্যাকার বলেন: ‘বানা-ইয়াবিনু’ থেকে এর উৎপত্তি, এটি বিপরীতার্থক শব্দাবলির অন্তর্ভুক্ত। ‘ইয়াওম’ বা দিন সবার পরিচিত; সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এর সময়সীমা। কখনো ‘ইয়াওম’ দ্বারা সাধারণভাবে যেকোনো সময় বোঝানো হয়, যেমন হাদিসে এসেছে: “সেগুলো হলো হারজের (বিশৃঙ্খলা) দিনসমূহ” অর্থাৎ সেই সময়; এটি কেবল দিনের সাথে নির্দিষ্ট নয় বরং রাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে। ‘তাহাম্মালু’ এবং ‘ইহতাম্মালু’ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো যাত্রা করা বা প্রস্থান করা। ‘লাদা’ অর্থ হলো কাছে বা নিকটে। ‘সামুরাত’ হলো ‘সামুরাহ’ শব্দের বহুবচন, মীম বর্ণে পেশ সহযোগে; এটি এক প্রকার বাবলা জাতীয় গাছ। ‘আল-হায়্য’ অর্থ হলো আরব বেদুঈনদের গোত্র, এর বহুবচন হলো ‘আহয়া’। ‘নাক্বফ আল-হানজাল’ অর্থ হলো ইন্দ্রায়ণের ফলের দানা বের করার জন্য তা ফেঁড়ে ফেলা; ‘নাক্বিফ’ বা ‘মানক্বুফ’ হলো সেই ফল যা ফাড়া হয়েছে, আর ‘নাক্বিফ’ হলো সেই ব্যক্তি যে এটি ফাড়ছে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يقول: كأني عند سمرات الحي يوم رحيلهم ناقف حنظل، يريد وقف بعد رحيلهم في حيرة وقفة جاني الحنظلة ينقفها بظفره ليستخرج منها حبها، "هذا الشرح ليس للزَّوزَني".
5 - وُقوفًا بها صَحْبِي عَلَيّ مَطِيَّهُمْ
… يقولونَ لا تهلِكْ أسىً وتَجَمَّلِ
نصب وقوفًا على الحال، يريد قفا نبك في حال وقف أصحابي مطيهم علي، والوقوف جمع واقف بمنزلة الشهود والركوع في جمع شاهد وراكع، الصحب: جمع صاحب، ويجمع الصاحب على الأصحاب والصحب والصحاب والصحابة والصحبة والصحبان، ثم يجمع الأصحاب على الأصاحيب أيضًا ثم يخفف فيقال الأصاحب. المطي: المراكب، واحدتها مطية، وتجمع المطية على المطايا والمطي والمطيات، سميت مطية؛ لأنه يركب مطاها أي ظهرها، وقيل: بل هي مشتقة من المطو وهو المد في السير، يقال: مطاه يمطوه، فسميت به لأنها تمد في السير: نصب أسىً؛ لأنه مفعول له.
يقول: قد وقفوا عليّ أي: لأجلي أو على رأسي وأنا قاعد عند رواحلهم ومراكبهم، يقولون لي: لا تهلك من فرط الحزن وشدة الجزع وتجمل بالصبر، وتلخيص المعنى: أنهم وقفوا عليه رواحلهم يأمرونه بالصبر وينهونه عن الجزع.
6 - وإنَّ شِفائي عَبْرَةٌ مُهرَاقَةٌ
… فهلْ عندَ رَسمٍ دارِسٍ مِنْ مُعَوَّلِ
المهراق والمراق: المصبوب، وقد أرقت الماء وهرقته وأهرقته أي صببته: المعوّل: المبكى، وقد أعول الرجل وعوّل إذا بكى رافعًا صوته به، والمعول: المعتمد والمتكل عليه أيضًا. العبرة: الدمع، وجمعها عبرات، وحكى "ثعلب" في جمعها العِبَر مثل بدرة وبِدَر.
يقول: وإن برئي من دائي ومما أصابني وتخلصي مما دهمني يكون بدمع أصبّه ثم قال: وهل من معتمد ومفزع عند رسم قد درس، أو هل موضع بكاء
তিনি বলেন: তাদের প্রস্থানের দিন গোত্রীয় বাবলা গাছের নিকটে আমার অবস্থা ছিল ঠিক যেন আমি বুনো তরমুজ (হানযাল) বিদীর্ণকারী। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাদের প্রস্থানের পর তিনি বিভ্রান্ত হয়ে এমনভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন যেমন বুনো তরমুজ সংগ্রহকারী তার নখ দিয়ে তা বিদীর্ণ করে ভেতর থেকে বীজ বের করার জন্য দাঁড়ায়। "এই ব্যাখ্যাটি যাওযানি-র নয়।"
৫ - সেখানে আমার সঙ্গীরা তাদের সওয়ারিগুলো আমার জন্য থামিয়ে রেখেছিল … তারা বলছিল, শোকে মুহ্যমান হয়ে ধ্বংস হয়ো না এবং ধৈর্য ধারণ করো।
'উকুফান' শব্দটি 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে নসব হয়েছে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, 'এসো আমরা কাঁদি সেই অবস্থায় যখন আমার সঙ্গীরা আমার জন্য তাদের সওয়ারিগুলো থামিয়ে রেখেছিল'। 'উকুফ' শব্দটি 'ওয়াকিফ'-এর বহুবচন, যেমন 'শাহিদ' ও 'রাকি' শব্দের বহুবচন হিসেবে 'শুহুদ' ও 'রুকু' আসে। 'সাহব' শব্দটি 'সাহিব'-এর বহুবচন। 'সাহিব'-এর বহুবচন হিসেবে আসহাব, সাহব, সিহাব, সাহাবাহ, সুহবাহ এবং সুহবান শব্দগুলোও ব্যবহৃত হয়। এরপর 'আসহাব'-এর বহুবচন হিসেবে 'আসাহিইব' আসে, যা আবার সংক্ষিপ্ত করে 'আসাহিিব' বলা হয়। 'মাতিয়্য' অর্থ আরোহণের বাহন বা সওয়ারি, এর একবচন হলো 'মাতিয়্যাহ'। 'মাতিয়্যাহ'-এর বহুবচন হলো মাতাইয়া, মাতিয়্য এবং মাতিয়্যাত। একে 'মাতিয়্যাহ' বলা হয় কারণ এর পিঠে (মাতা) আরোহণ করা হয়। কেউ কেউ বলেছেন, এটি 'মাতউ' শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ চলার সময় শরীর প্রসারিত করা। বলা হয় 'মাতাহু ইয়ামতুহু', অর্থাৎ সেটিকে এই নাম দেওয়া হয়েছে কারণ এটি চলার সময় শরীর প্রসারিত করে। 'আসাঁ' শব্দটি নসব হয়েছে কারণ এটি 'মাফউল লাহু' (উদ্দেশ্যবাচক কর্ম)।
তিনি বলেন: তারা আমার জন্য অর্থাৎ আমার কারণে অথবা আমার মাথার কাছে দাঁড়িয়েছিল যখন আমি তাদের সওয়ারি ও বাহনগুলোর কাছে বসেছিলাম। তারা আমাকে বলছিল: অত্যধিক শোক ও তীব্র অস্থিরতায় নিজেকে ধ্বংস কোরো না এবং ধৈর্যের মাধ্যমে নিজেকে সংযত রাখো। সারসংক্ষেপ হলো: তারা তাদের সওয়ারিগুলো নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাকে ধৈর্যের আদেশ দিচ্ছিল এবং বিলাপ করতে নিষেধ করছিল।
৬ - নিশ্চয়ই আমার আরোগ্য হলো প্রবাহিত অশ্রু … তবে কি কোনো মুছে যাওয়া স্মৃতিচিহ্নের কাছে কান্নার বা আশ্রয়ের কোনো জায়গা আছে?
'মুহরাক' এবং 'মুরাক' অর্থ হলো প্রবাহিত বা ঢেলে দেওয়া। আমি পানি প্রবাহিত করেছি বা ঢেলেছি অর্থে 'আরকতুল মা-আ', 'হরাকতুহু' এবং 'আহরাকতুহু' ব্যবহৃত হয়। 'মুআউওয়াল' অর্থ হলো কান্নার স্থান। কোনো ব্যক্তি উচ্চস্বরে কাঁদলে বলা হয় 'আ'ওয়ালা' বা 'আউওয়ালা'। 'মুআউওয়াল' অর্থ নির্ভরযোগ্য বা যার ওপর নির্ভর করা হয়। 'ইবরাহ' অর্থ অশ্রু, এর বহুবচন হলো 'ইবরাত'। সা'লাব এর বহুবচন হিসেবে 'ইবার' উল্লেখ করেছেন, যেমন 'বাদরাহ'-এর বহুবচন 'বিদার'।
তিনি বলেন: আমার ব্যাধি ও বিপদ থেকে আরোগ্য এবং যা আমাকে আচ্ছন্ন করেছে তা থেকে মুক্তি কেবল সেই অশ্রুর মাধ্যমেই সম্ভব যা আমি বিসর্জন করি। এরপর তিনি বলেন: কোনো এক বিলীন হয়ে যাওয়া স্মৃতিচিহ্নের কাছে কি কোনো নির্ভরস্থল বা আশ্রয়স্থল আছে, অথবা কোনো কান্নার জায়গা আছে?
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عند رسم دارس؟ وهذا استفهام يتضمن معنى الإنكار، والمعنى عند التحقيق: ولا طائل في البكاء في هذا الموضع؛ لأنه لا يرد حبيبًا، ولا يجدي على صاحبه بخير، أو لا أحد يعول عليه ويفزع إليه في مثل هذا الموضع، وتلخيص المعنى: وإن مخلصي مما بي بكائي، ثم قال: ولا ينفع البكاء عند رسم دارس، أو ولا معتمد عند رسم دارس.
7 - كدأبكَ من أمِّ الْحُوَيْرِثِ قبْلها
… وجَارَتِها أم الرَّبابِ بِمَأسَلِ
الدأْبُ والدأَبُ، بتسكين الهمزة وفتحها: العادة، وأصلها متابعة العمل والجد في السعي، دأب يدأب دأبًا ودئابًا ودءوبًا، وأدأبت السير: تابعته. مأسَل، بفتح السين: جبل بعينه، ومأسِل، بكسر السين: ماء بعينه والرواية فتح السين.
يقول: عادتك في حب هذه كعادتك من تينك، أي: قلة حظك من وصال هذه ومعاناتك الوجد بها كقلة حظك من وصالهما، ومعاناتك الوجد بهما، قوله: قبلها أي: قبل هذه التي شغفت بها الآن.
8 - إذا قامَتا تَضَوّعَ الْمِسْكُ مِنْهُمَا
… نسيمَ الصَّبا جاءت برَيّا القَرَنْفُلِ
ضاع الطيب وتضوّع إذا انتشرت رائحته. الريّا: الرائحة الطيبة.
يقول: إذا قامت أم الحويرث وأم الرباب فاحت ريح المسك منهما كنسيم الصبا إذا جاءت بعرف القرنفل ونشره. شبه طيب رياهما بطيب نسيم هبّ على قرنفل وأتى بريّاه، ثم لما وصفهما بالجمال وطيب النشر وصف حاله بعد بعدهما.
9 - ففاضَتْ دُموعُ العَينِ مِنّي صَبَابَةً
… عَلَى النَّحرِ حتّى بلّ دمعيَ مِحْمَلي
الصبابة: رقة الشوق، وقد صبّ الرجل يصب صبابة فهو صَبٌّ، والأصل صبب فسكنت العين وأدغمت في اللام. المحمل: حمالة السيف، والجمع المحامل، والحمائل جمع الحمالة.
...একটি বিলীন চিহ্নের কাছে? এটি এমন একটি প্রশ্ন যা অস্বীকৃতি বা বিস্ময় জ্ঞাপন করে। সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের অর্থ হলো: এই স্থানে কান্নাকাটি করার কোনো সার্থকতা নেই; কারণ তা কোনো প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনে না এবং ক্রন্দনকারীর জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। অথবা এমন কোনো আশ্রয় নেই যার ওপর এই স্থানে ভরসা করা যায় বা বিপদে যার কাছে ছুটে যাওয়া যায়। সারকথা হলো: আমার বর্তমান অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো আমার কান্না। অতঃপর তিনি বললেন: বিলীন চিহ্নের সামনে কান্না কোনো উপকারে আসে না, কিংবা ধ্বংসাবশেষের কাছে কোনো অবলম্বন নেই।
৭ - তোমার সেই অভ্যাসের ন্যায়, যা ইতিপূর্বে উম্মুল হুয়াইরিস এবং মাসাল নামক স্থানে তার প্রতিবেশী উম্মুর রাবাবের ক্ষেত্রে ছিল...
'আদ-দাব' এবং 'আদ-দাবাউ'—হামজার সাকিন এবং ফাতাহ যোগে—এর অর্থ হলো: অভ্যাস। এর মূল উৎস হলো কোনো কাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং প্রচেষ্টায় একাগ্র হওয়া। 'দাবা', 'ইয়াদআবু', 'দাবান', 'দিয়াবান' ও 'দাউবান' এর অর্থ সে অভ্যস্ত হলো। 'আমি পথচলা নিরবচ্ছিন্ন করলাম' অর্থেও এটি ব্যবহৃত হয়। 'মাসাল', সীন বর্ণে ফাতাহ সহকারে: একটি নির্দিষ্ট পাহাড়ের নাম। আর 'মাসিল', সীন বর্ণে কাসরা সহকারে: একটি নির্দিষ্ট জলাধারের নাম। তবে বর্ণনা অনুযায়ী সীন বর্ণে ফাতাহ্-ই সঠিক।
তিনি বলছেন: এই রমণীর প্রতি তোমার ভালোবাসার ধরন ঐ দুজনের প্রতি তোমার ভালোবাসার অভ্যাসের মতোই; অর্থাৎ, এর সান্নিধ্য লাভে তোমার সামান্য প্রাপ্তি এবং বিরহ-বেদনা ঠিক ঐ দুজনের সান্নিধ্য লাভে ব্যর্থতা ও তাদের জন্য তোমার বিরহ-যাতনার মতোই। তাঁর উক্তি: 'তার পূর্বে' অর্থাৎ, বর্তমানে তুমি যার মোহে আচ্ছন্ন, তার আগে।
৮ - যখন তারা উভয়ে দণ্ডায়মান হতো, তখন তাদের থেকে কস্তুরীর সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত, যেমন পুবালি বাতাস লবঙ্গের সুঘ্রাণ নিয়ে বয়ে আসে।
সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়লে এবং আমেজ সৃষ্টি করলে তাকে 'দ্ব-আ' এবং 'তাদাউ-ওয়াআ' বলা হয়। 'আর-রাইয়া' অর্থ হলো সুগন্ধ।
তিনি বলছেন: উম্মুল হুয়াইরিস এবং উম্মুর রাবাব যখন দাঁড়াত, তখন তাদের দেহ থেকে কস্তুরীর সুবাস বিচ্ছুরিত হতো, ঠিক যেমন পূর্বদিকের মৃদু বাতাস লবঙ্গের সুঘ্রাণ ও আমেজ নিয়ে আসে। তিনি তাদের গায়ের সুগন্ধকে লবঙ্গের বাগানের ওপর দিয়ে বয়ে আসা সুগন্ধি বাতাসের সাথে তুলনা করেছেন। এরপর যখন তিনি তাদের সৌন্দর্য ও সুগন্ধের বর্ণনা দিলেন, তখন তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিজের অবস্থার বর্ণনা দিতে শুরু করলেন।
৯ - ফলে বিরহ-বেদনার আতিশয্যে আমার চোখের অশ্রু প্রবাহিত হয়ে বক্ষদেশ ছাপিয়ে গেল, এমনকি সেই অশ্রুধারা আমার তলোয়ারের বেল্টকেও ভিজিয়ে দিল।
'আস-সাবাবাহ' হলো অনুরাগের তীব্রতা বা ব্যাকুলতা। যখন কোনো ব্যক্তি প্রেমে অত্যন্ত ব্যাকুল হয়, তখন তাকে 'সাব্বুন' বলা হয়। এর মূল রূপ ছিল 'সাবাব', অতঃপর দ্বিতীয় বর্ণকে সাকিন করে তৃতীয়টির সাথে যুক্ত (ইদগাম) করা হয়েছে। 'আল-মিহমাল' অর্থ হলো তলোয়ার ঝোলানোর বেল্ট বা ফিতা, এর বহুবচন হলো 'মাহামিল'। আর 'হামাইল' হলো 'হামালাহ' শব্দের বহুবচন।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يقول: فسالت دموع عيني من فرط وجدي بهما وشدة حنيني إليهما حتى بلّ دمعي حمالة سيفي. ونصب صبابة على أنه مفعول له كقولك: زرتك طمعًا في برِّك، قال الله تعالى: {مِنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ} [البقرة: 19] أي: لحذر الموت، وكذلك زرتك للطمع في برِّك، وفاضت دموع العين مني للصبابة.
10 - ألا رُبّ يَومٍ لكَ مِنْهُنّ صَالِحٍ
… ولا سيَّمَا يومٍ بِدَارَةِ جُلْجُلِ
في ربّ لغات: وهي رُبَّ ورَبَّ ورُبْ ورُبَ ثم تلحق التاء فتقول ربّة وربّت، وربّ موضوع في كلام العرب للتقليل وكم موضوع للتكثير، ثم ربما حملت رُبّ على كم في المعنى فيراد بها التكثير، وربما حملت كم على رب في المعنى فيراد بها التقليل، ويروى: ألا رب يوم كان منهن صالح، والسيّ: المثل: يقال هما سيان أي مثلان. ويجوز في يوم الرفع والجر، فمن رفع جعل ما موصولة بمعنى الذي، والتقدير: ولا سي اليوم الذي هو بدارة جلجل، ومن خفض جعل ما زائدة، وخفضه بإضافة سيّ إليه فكأنه قال: ولا سي يوم أي ولا مثل يوم. دارة جلجل غدير بعينه. يقول: رب يوم فزت فيه بوصال النساء وظفرت بعيش صالح ناعم منهن ولا يوم من تلك الأيام مثل يوم دارة جلجل، يريد أن ذلك اليوم كان أحسن الأيام وأتمها، فأفادت لا سيما التفضيل والتخصيص.
11 - وَيَوْمَ عَقَرْتُ للعَذارى مَطيّتِي
… فيا عجبًا من كورِها الْمُتَحَمَّلِ
العذراء من النساء: البكر التي لم تفتض، والجمع العذارى. الكور: الرحل بأداته، والجمع الأكوار والكيران؛ ويروى: من رحلها المتحمل، المتحمل: الحمل. فتح يوم مع كونه معطوفًا على مجرور أو مرفوع وهو يومٌ أو يومٍ بدارة جلجل؛ لأنه بناه على الفتح لما أضافه إلى مبني وهو الفعل الماضي، وذلك قوله: عقرت، وقد يبنى المعرب إذا أضيف إلى مبني، ومنه قوله تعالى: {إِنَّهُ لَحَقٌّ مِثْلَ مَا أَنَّكُمْ تَنطِقُونَ} [الذاريات: 23]؛ فبنى مثل على
তিনি বলেন: তাদের প্রতি আমার চরম অনুরাগ এবং তাদের প্রতি আমার তীব্র আকুলতার কারণে আমার চোখের অশ্রু প্রবাহিত হলো, এমনকি আমার চোখের পানি আমার তলোয়ারের বেল্ট পর্যন্ত ভিজিয়ে দিল। আর 'সাবাবাহ' শব্দটি 'মাফউল লাহু' হিসেবে 'নাসব' (যবর) প্রাপ্ত হয়েছে, যেমনটি তোমার উক্তি: 'আমি তোমার সদাচরণের আশায় তোমার সাথে সাক্ষাৎ করেছি'। মহান আল্লাহ বলেন: {মৃত্যুভয়ে বজ্রপাতের কারণে} [আল-বাকারা: ১৯], অর্থাৎ মৃত্যুর ভয়ের কারণে। অনুরূপভাবে: 'আমি তোমার সদাচরণের আশায় তোমার সাথে সাক্ষাৎ করেছি', এবং অনুরাগের কারণে আমার চোখের অশ্রু উথলে উঠল।
১০ - আহা! তাদের নিকট থেকে তোমার কতই না কল্যাণময় দিন অতিক্রান্ত হয়েছে, বিশেষ করে দারাতে জুলজুলের সেই দিনটি।
'রুব্বা' শব্দটির বিভিন্ন রূপান্তর রয়েছে: রুব্বা, রাব্বা, রুব্ এবং রুবা। এরপর তাতে 'তা' যুক্ত হয়ে হয় রুব্বাতা এবং রাব্বাত। আরবদের কথাবার্তায় 'রুব্বা' শব্দটি স্বল্পতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং 'কাম' শব্দটি আধিক্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। তবে কখনো কখনো 'রুব্বা' শব্দটিকে অর্থের দিক থেকে 'কাম' এর স্থলাভিষিক্ত করা হয়, তখন তা আধিক্য বুঝায়। আবার কখনো 'কাম' শব্দটিকে 'রুব্বা' এর অর্থে ব্যবহার করা হয়, তখন তা স্বল্পতা বুঝায়। একটি পাঠভেদে বর্ণিত হয়েছে: 'আলা রুব্বা ইয়াওমিন কানা মিনহুন্না সালিহ'। 'সিই' অর্থ হলো উদাহরণ বা সদৃশ। বলা হয়ে থাকে 'হুমা সিয়ান' অর্থাৎ তারা দুইজন সমান বা সদৃশ। 'ইয়াওম' শব্দটিকে 'রাফা' (পেশ) এবং 'জার' (যের) উভয়টিই পড়া বৈধ। যে ব্যক্তি 'রাফা' পড়বে সে 'মা' শব্দটিকে 'মাওসুলা' (যিনি/যা) অর্থে ধরবে, তখন বাক্যটির মূল রূপ হবে: 'ওয়া লা সিয়্যুল ইয়াওমিল্লাজি হুয়া বিদারাতিল জুলজুল'। আর যে ব্যক্তি 'জার' পড়বে সে 'মা' শব্দটিকে অতিরিক্ত (যাইদা) ধরবে এবং 'সিই' শব্দের দিকে 'ইদাফাত' (সম্বন্ধ) করার কারণে তা 'জার' হবে। যেন সে বলল: 'ওয়া লা সিয়্যা ইয়াওমিন' অর্থাৎ 'কোনো দিনই সেই দিনের মতো নয়'। 'দারাতে জুলজুল' একটি নির্দিষ্ট জলাশয়ের নাম। কবি বলছেন: কত দিনই না আমি নারীদের সান্নিধ্য লাভে ধন্য হয়েছি এবং তাদের থেকে সুন্দর ও আনন্দময় জীবন পেয়েছি, কিন্তু সেই দিনগুলোর কোনোটিই দারাতে জুলজুলের দিনের মতো নয়। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, সেই দিনটি ছিল সবচেয়ে উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ। ফলে 'লা সিয়্যামা' শব্দটি এখানে শ্রেষ্ঠত্ব এবং বিশেষত্ব প্রকাশ করেছে।
১১ - এবং সেই দিনটির কথা স্মরণ করো, যেদিন আমি কুমারীদের জন্য আমার সওয়ারিটিকে জবাই করেছিলাম; হায়! তার সাজসজ্জা ও মালপত্রের ভার দেখে কতই না বিস্ময় লেগেছিল।
নারীদের মধ্যে 'আজরা' বলতে সেই কুমারীকে বুঝায় যার কুমারীত্ব হরণ করা হয়নি, এর বহুবচন হলো 'আজারা'। 'কাওর' হলো সরঞ্জমাদিসহ উটের পিঠের জীন, এর বহুবচন হলো 'আকওয়ার' এবং 'কিরান'। একটি পাঠভেদে রয়েছে: 'মিন রাহলিহাল মুতাহাম্মিল'। 'মুতাহাম্মিল' অর্থ হলো বোঝা বা ভার। 'ইয়াওমা' শব্দটি 'ফাতহা' (যবর) হয়েছে যদিও তা 'মাজরুর' (যেরযুক্ত) বা 'মারফু' (পেশযুক্ত) শব্দ অর্থাৎ 'ইয়াওমুন' বা 'ইয়াওমিন বিদারাতিল জুলজুল'-এর ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে; এর কারণ হলো একে একটি 'মাবনি' (অপরিবর্তনীয়) শব্দের দিকে ইদাফাত করার কারণে ফাতহার ওপর মাবনি করা হয়েছে, আর সেই মাবনি শব্দটি হলো 'ফেল মাজি' (অতীতকাল), যা হলো 'আকারতু' শব্দটি। কোনো মু'রাব শব্দ যদি মাবনি শব্দের দিকে ইদাফাত হয় তবে অনেক সময় তা মাবনি হয়ে যায়। এরই উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় এটি সত্য, যেমন তোমরা কথা বলে থাকো} [আদ-যারিয়াত: ২৩]; এখানে 'মিসলা' শব্দটিকে মাবনি করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفتح مع كونه نعتًا لمرفوع لما أضافه إلى ما وكانت مبنية، ومنه قراءة من قرأ: {وَمِنْ خِزْيِ يَوْمِئِذ} [هود: 66] بنى يوم على الفتح لما أضافه إلى إذ وهي مبنية وإن كان مضافًا إليه؛ ومثله قول النابغة الذبياني:
على حينَ عاتبتُ المشيبَ على الصّبا
… فَقُلْتُ ألما تَصْحُ، والشيبُ وازعُ
بنى حين على الفتح لما أضافه إلى الفعل الماضي؛ فضّلَ يوم دارة جلجل ويوم عقر مطيته للأبكار على سائر الأيام الصالحة التي فاز بها من حبائبه، ثم تعجب من حملهن رحل مطيته وأداته بعد عقرها واقتسامهن متاعه بعد ذلك. قوله: فيا عجبًا، الألف فيه بدل من ياء الإضافة، وكان الأصل فيا عجبي، وياء الإضافة يجوز قلبها ألفًا في النداء نحو يا غلامًا في يا غلامي، فإن قيل: كيف نادى العجب وليس مما يعقل؟ قيل في جوابه: إن المنادى محذوف، والتقدير: يا هؤلاء أو يا قوم اشهدوا عجبي من كورها المتحمل فتعجبوا منه، فإنه قد جاوز المدى والغاية القصوى؛ وقيل: بل نادى العجب اتساعًا ومجازًا، فكأنه قال: يا عجبي تعال واحضر فإن هذا أو إن إتيانك وحضورك.
12 - فظلَّ العذارى يرْتَمينَ بلحمها
… وشحمٍ كَهُدَّابِ الدَّمَقس الْمُفَتَّلِ
يقال: ظل زيد قائمًا إذا أتى عليه النهار وهو قائم، وبات زيد نائمًا إذا أتى عليه الليل وهو نائم، وطفق زيد يقرأ القرآن إذا أخذ فيه ليلًا ونهارًا. الْهُدَّاب والهدب: اسمان لما استرسل من الشيء نحو ما استرسل من الأشفار من الشعر ومن أطراف الأثواب، الواحدة هدابة وهدبة، ويجمع الهدب على الأهدب. الدمقس والمدقس: الإبريسم1، وقيل: هو الأبيض منه خاصة.
يقول: فجعلن يلقي بعضهن إلى بعض شواء المطية استطابة أو توسعًا فيه طول نهارهن؛ وشبه شحمها بالإبريسم الذي أجيد فتله وبولغ فيه، وقيل هو القز. الشحم: السمن.
13 - ويومَ دخلتُ الْخِدرَ خدرَ عُنَيزَةٍ
… فقالتْ: لكَ الوَيلاتُ إنَّك مُرْجِلي
ফাতাহ (যবর) সহকারে আসা সত্ত্বেও এটি মারফু (পেশযুক্ত) শব্দের সিফাত বা বিশেষণ হিসেবে এসেছে, কারণ একে একটি মাবনি (অপরিবর্তনীয়) শব্দের দিকে ইদাফত বা সম্বন্ধ করা হয়েছে। এর উদাহরণ হলো সেই ক্বিরাত যাতে পাঠ করা হয়েছে: {এবং সেদিনের লাঞ্ছনা হতে} [হূদ: ৬৬]। এখানে 'ইয়াউমা' শব্দটিকে ফাতাহ-এর ওপর ভিত্তি করে পড়া হয়েছে কারণ একে 'ইয' এর দিকে ইদাফত করা হয়েছে, যা একটি মাবনি শব্দ, যদিও এটি মুদাফ ইলাইহি ছিল। এর অনুরূপ হলো নাবিগাহ আল-জুবইয়ানির উক্তি:
এমন সময়ে যখন আমি বার্ধক্যকে যৌবনোচিত আচরণের জন্য তিরস্কার করলাম
… তখন আমি বললাম, তুমি কি এখনও সতর্ক হবে না, অথচ সাদা চুলই তো একজন বাধা দানকারী?
এখানে 'হীনা' শব্দটিকে ফাতাহ-এর ওপর ভিত্তি করে ব্যবহার করা হয়েছে কারণ একে একটি মাজি বা অতীতকালীন ক্রিয়ার দিকে ইদাফত করা হয়েছে। কবি 'দারাতে জুলজুল'-এর দিনকে এবং কুমারীদের জন্য নিজের উটটি জবাই করার দিনটিকে তাঁর প্রিয়তমাদের সাথে কাটানো অন্যান্য সকল সুখের দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এরপর তিনি আশ্চর্য প্রকাশ করেন যে, উটটি জবাই করার পর তারা সেটির পালান ও সরঞ্জাম বহন করছিল এবং এরপর তাঁর আসবাবপত্র ভাগ করে নিচ্ছিল। কবির উক্তি: 'ইয়া আজাবান', এখানে আলিফটি মূলত ইয়া-এ-ইদাফাত (সম্বন্ধসূচক ইয়া)-এর পরিবর্তে এসেছে। এর মূল রূপ ছিল 'ইয়া আজাবি'। নিদা বা সম্বোধনের ক্ষেত্রে ইয়া-এ-ইদাফাতকে আলিফে রূপান্তরিত করা বৈধ, যেমন 'ইয়া গুলামি' এর পরিবর্তে 'ইয়া গুলামা'। যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি বিস্ময়কে কীভাবে সম্বোধন করলেন অথচ তা কোনো বুদ্ধিমান সত্তা নয়? এর উত্তরে বলা হয়েছে: এখানে মুনাদা (যাকে সম্বোধন করা হয়) উহ্য রয়েছে। এর মূল রূপ হলো: হে লোকসকল অথবা হে আমার কওম! উটের হাওদা বহন করার বিষয়ে আমার বিস্ময়ের সাক্ষী হও এবং তোমরাও এতে বিস্মিত হও, কারণ এটি সীমা ও চরম পর্যায় অতিক্রম করেছে। আবার বলা হয়েছে: বরং তিনি রূপক অর্থে বিস্ময়কেই সম্বোধন করেছেন। যেন তিনি বলছেন: হে আমার বিস্ময়! এসো এবং উপস্থিত হও, কারণ এটি তোমার আসার ও উপস্থিত হওয়ার সঠিক সময়।
১২ - কুমারীরা তখন তার গোশত এবং সুকঠিনভাবে পাকানো রেশমি সুতার ঝালরের মতো চর্বি
… একে অপরের দিকে ছুড়ে মারতে লাগল।
বলা হয়: 'যাল্লা যাইদুন ক্ব-ইমান' তখন বলা হয় যখন সে দিনের বেলা দাঁড়িয়ে থাকে। আর 'বাতা যাইদুন না-ইমান' তখন বলা হয় যখন সে রাত কাটায় ঘুমন্ত অবস্থায়। আর 'তাফিকা যাইদুন ইয়াকরউল কুরআন' তখন বলা হয় যখন সে রাত-দিনব্যাপী তাতে লিপ্ত হয়। 'হুদদাব' এবং 'হুদব' হলো কোনো জিনিসের ঝুলে থাকা অংশকে বোঝাতে ব্যবহৃত নাম, যেমন চোখের পাপড়ির ঝুলে থাকা চুল অথবা কাপড়ের আঁচলের ঝুলে থাকা সুতা। এর একবচন হলো 'হুদাবাহ' এবং 'হুদবাহ'। 'হুদব'-এর বহুবচন হয় 'আহদাব'। 'দামকাস' এবং 'মাদাকাস' বলতে রেশম সুতা বোঝায়। কেউ কেউ বলেছেন, এটি বিশেষভাবে সাদা রেশমকে বোঝায়।
কবি বলছেন: তারা সারাদিন ধরে আমোদ-প্রমোদের ছলে অথবা প্রাচুর্যের কারণে সেই উটের ভাজা গোশত একে অপরের দিকে ছুড়ে মারতে লাগল। তিনি উটের চর্বিকে এমন রেশম সুতার সাথে তুলনা করেছেন যাকে অত্যন্ত নিপুণ ও দৃঢ়ভাবে পাকানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি হলো কাঁচা রেশম। 'শাহম' অর্থ চর্বি বা মেদ।
১৩ - আর সেই দিন, যেদিন আমি উনাইযার হাওদায় প্রবেশ করেছিলাম
… তখন সে বলেছিল: তোমার মরণ হোক, তুমি তো আমাকে পায়ে হাঁটতে বাধ্য করছ।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الخدر: الهودج، والجمع الخدور، ويستعار للستر والحجلة2 وغيرهما، ومنه قولهم: خدرت الجارية، وجارية مخدَّرة أي: مقصورة في خدرها لا تبرز منه، ومنه قولهم: خدر الأسد يخدر خدرًا وأخدر إخدارًا إذا لزم عرينه؛ ومنه قول ليلى الأخيلية:
فتى كان أحيا من فتاةِ حييّةٍ
… وأشجع من ليثٍ بخفان خَادِرُ
وقول الشاعر:
كالأسدِ الوَرْدِ غَدَا من مَخْدَرِه
والمراد بالخدر في البيت الهودج. عنيزة: اسم عشيقته وهي ابنة عمه، وقيل: هو لقب لها واسمها فاطمة، وقيل: بل اسمها عنيزة وفاطمة غيرها. قوله: فقالت لك الويلات، أكثر الناس على أن هذا دعاء منها عليه، والويلات: جمع ويلة، والويلة والويل: شدة العذاب، وزعم بعضهم أنه دعاء منها له في معرض الدعاء عليه، والعرب تفعل ذلك صرفًا لعين الكمال عن المدعو عليه. ومنه قولهم: قاتله الله ما أفصحه! ومنه قول جميل:
رمى الله في عيني بثنية بالقَذى
… وفي الغرّ من أنيابَها بالقَوَادحِ (1)
ويقال: رَجِلَ الرجُل يرجل رَجَلًا فهو راجل، وأرجلته أنا صيرته راجلًا. خدر عنيزة بدل من الخدر الأول، والمعنى: يوم دخلت خدر عنيزة، وهذا مثل قوله تعالى: {لَعَلِّي أَبْلُغُ الأَسْبَابَ، أَسْبَابَ السَّمَوَاتِ} [غافر: 36] ومنه قول الشاعر:
يا تيمَ تيمَ عَديٍ لا أبا لكمُو
… لا يلفينكمو في سَوْأَةٍ عُمَرُ (2)
--------------------------------------------
খিদর: হাওদা, এর বহুবচন হলো খুদুর। এটি পর্দা, বাসরঘর এবং অন্য কিছুর রূপক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এই থেকেই তাদের উক্তি: বালিকাটি পর্দাবৃত হয়েছে, এবং সেই বালিকাকে মাখদুদাহ বলা হয় যে তার পর্দার আড়ালে বা হাওদায় অবস্থান করে এবং সেখান থেকে বের হয় না। এই থেকেই তাদের উক্তি: সিংহ তার আবাসে অবস্থান করলে বলা হয় 'খাদারা আল-আসাদু' অথবা 'আখদারা', যখন সে তার গুহায় অবস্থান করে। এই মর্মেই লাইলা আল-আখিয়ালিয়্যাহ-র উক্তি:
এমন এক যুবক যে ছিল লজ্জাবতী কুমারীর চেয়েও লাজুক
… আর খাফফানের গুহাশায়ী সিংহের চেয়েও সাহসী
এবং অন্য এক কবির উক্তি:
লালচে সিংহের মতো যে সকালে তার গুহা থেকে বের হয়
কবিতার চরণে 'খিদর' বলতে হাওদা বোঝানো হয়েছে। উনাইজাহ: এটি তার প্রেমিকার নাম এবং সে তার চাচাতো বোন। বলা হয় যে এটি তার উপাধি এবং তার নাম ফাতিমা। আবার কেউ বলেছেন, তার নাম উনাইজাহ আর ফাতিমা অন্য কেউ। তার উক্তি: "তোমার সর্বনাশ হোক"; অধিকাংশ ব্যাখ্যাকার মনে করেন এটি তার প্রতি একটি বদদোয়া। ওয়াইলাত হলো ওয়াইলা-র বহুবচন। ওয়াইলা এবং ওয়াইল অর্থ হলো কঠোর শাস্তি। কেউ কেউ দাবি করেন যে এটি বাহ্যিকভাবে বদদোয়া মনে হলেও মূলত তা তার জন্য দুআ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; আর আরবরা মূলত প্রশংসিত ব্যক্তির ওপর থেকে বদনজর ফেরানোর জন্য এমনটা করে থাকে। এরই অংশ হলো তাদের উক্তি: "আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, সে কতই না বাগ্মী!" জামিল-এর উক্তিও অনুরূপ:
আল্লাহ বুসাইনার দুই চোখে ধূলিকণা নিক্ষেপ করুন
… এবং তার উজ্জ্বল সাদা দাঁতগুলোতে কালচে দাগ দিন (১)
বলা হয়: লোকটি পদচারী হয়েছে, তখন তাকে 'রাজিল' বলা হয়। আর আমি তাকে পদচারী বানিয়েছি। 'খিদর উনাইজাহ' হলো প্রথম 'খিদর'-এর জন্য বদল বা পরিপূরক। এর অর্থ: যেদিন আমি উনাইজাহর হাওদায় প্রবেশ করলাম। এটি মহান আল্লাহর বাণীর অনুরূপ: {যাতে আমি পৌঁছাতে পারি পথসমূহে, আসমানসমূহের পথসমূহে} [গাফির: ৩৬]। কবির উক্তিও এর মতো:
হে তাইম, আদীর বংশধর তাইম, তোমাদের কোনো পিতা নেই
… উমর যেন তোমাদের কোনো লজ্জাজনক কাজে লিপ্ত না দেখেন (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وصرف عنيزة لضرورة الشعر وهي لا تنصرف في غير الشعر للتأنيث والتعريف.
يقول: ويوم دخلت هودج عنيزة فدعت عليّ أو دعت لي في معرض الدعاء عليّ، وقالت: إنك تصيرني راجلة لعقرك ظهر بعيري، يريد أن هذا اليوم كان من محاسن الأيام الصالحة التي نلتها منهن أيضًا.
14 - تقولُ، وقد مال الغَبيطُ بنا معًا
… عَقَرْتَ بَعِيري يا امرَأَ القَيس، فانزِلِ
الغبيط: ضرب من الرِّحال، وقيل: بل ضرب من الهوادج، الباء في قوله: بنا للتعدية، وقد أمالنا الغبيط جميعًا. عقرت بعيري أي: أدبرت ظهره، من قولهم: سرج مُعْقِر وَعُقَر وعُقَرة يعقر الظهر. ومنه قولهم: كلب عقور، ولا يقال في ذي الروح إلا عقور.
يقول: كانت هذه المرأة تقول لي في حال إمالة الهودج أو الرحل إيانا: قد أدبرت ظهر بعيري فانزل عن البعير.
15 - فَقُلتُ لَهَا: سيري، وأرْخي زِمَامَه
… ولا تُبعديني من جنَاكِ الْمُعَلَّلِ
جعل العشيقة بمنزلة الشجرة، وجعل ما نال من عناقها وتقبيلها وشمها بمنزلة الثمرة لتناسب الكلام. المعلل: المكرر، من قولهم: علّه يعِلَه ويعلّه إذا كرر سقيه وعلله للتكثير والتكرير. المعلل: الملهي، من قولك: عللت الصبي بفاكهة أي ألهيته بها، وقد روي في البيت بكسر اللام وفتحها، والمعنى على ما ذكرنا.
يقول: فقلت للعشيقة بعد أمرها إياي بالنزول سيري وأرخي زمام البعير ولا تبعديني مما أنال من عناقك وشمك وتقبيلك الذي يلهيني أو الذي أكرره، ويقال لمن على الدابة سار يسير كما قال للماشي كذلك؛ قال: سيري وهي راكبة. الجنى: اسم لما يجتني من الشجر، والجني المصدر، يقال: جنيت الثمرة واجتنيتها.
16 - 17 -
কাব্যিক প্রয়োজনে 'উনাইজাহ' শব্দটিতে তানভীন যোগ করা হয়েছে, যদিও এটি কবিতা ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে স্ত্রীবাচক ও বিশেষ্য হওয়ার কারণে অপ্রকৃতিস্থ বা তানভীনহীন হয়।
তিনি বলছেন: এবং যেদিন আমি উনাইজাহর হাওদাজে (উটের পিঠের বসার আসন) প্রবেশ করলাম, তখন সে আমার বিরুদ্ধে বদদোয়া করল অথবা বদদোয়ার ছলে আমার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করল এবং বলল: তুমি আমার উটের পিঠ জখম করে ফেলার মাধ্যমে আমাকে পদব্রজে চলতে বাধ্য করছ। এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, এই দিনটিও ছিল সেসব চমৎকার দিনগুলোর একটি, যা তিনি তাদের কাছ থেকে লাভ করেছিলেন।
১৪ - সে বলছিল, যখন হাওদাজটি আমাদের নিয়ে কাত হয়ে পড়েছিল— হে ইমরুল কায়েস, তুমি তো আমার উটটিকে জখম করে ফেলেছ, সুতরাং তুমি নেমে যাও।
আল-গাবীত: এক প্রকার উটের জিন বা গদি; কেউ কেউ বলেছেন এটি উটের পিঠের এক ধরণের হাওদাজ। 'বিনা' শব্দে 'বা' অক্ষরটি কর্মবাচকতার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ হাওদাজ আমাদের উভয়কে হেলিয়ে দিয়েছিল। 'আক্বারতা বাইরি' মানে হলো: তুমি এর পিঠ জখম করেছ। এটি 'সারজুন মু’ক্বির' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ উটের পিঠ জখমকারী জিন। এখান থেকেই 'কালবুন আক্বুর' (হিংস্র কুকুর) কথাটি এসেছে। আর প্রাণীর ক্ষেত্রে কেবল 'আক্বুর' শব্দটিই ব্যবহৃত হয়।
তিনি বলছেন: হাওদাজ বা জিনটি আমাদের নিয়ে হেলে পড়ার সময় সেই নারী আমাকে বলছিল: তুমি আমার উটের পিঠ জখম করে ফেলেছ, তাই উট থেকে নেমে যাও।
১৫ - তখন আমি তাকে বললাম: তুমি চলতে থাকো এবং এর লাগাম ঢিল করে দাও; আর তোমার বারবার আহরিত সুধা হতে আমাকে বঞ্চিত করো না।
কবিতার লালিত্যের খাতিরে তিনি প্রিয়াকে একটি বৃক্ষের সাথে তুলনা করেছেন এবং তার আলিঙ্গন, চুম্বন ও ঘ্রাণ থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তিকে ফলের সাথে তুলনা করেছেন। আল-মু’আল্লাল: বারবার করা বা পুনরাবৃত্তি করা। এটি 'আল্লা' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ বারবার পান করানো; আধিক্য ও পুনরাবৃত্তি বুঝাতে 'আল্লালাহু' ব্যবহৃত হয়। মু’আল্লাল-এর অন্য অর্থ হলো 'বিনোদন প্রদানকারী' বা 'ভোলাবার উপকরণ'; যেমন বলা হয়: 'আমি শিশুটিকে ফল দিয়ে ভুলিয়ে রেখেছি'। এই শব্দটিকে লাম-এর নিচে যের এবং উপরে যবর উভয়ভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে এবং অর্থ উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা-ই।
তিনি বলছেন: আমাকে নেমে যাওয়ার আদেশ দেওয়ার পর আমি প্রিয়াকে বললাম, তুমি চলতে থাকো এবং উটের লাগাম আলগা করে দাও। তোমার আলিঙ্গন, ঘ্রাণ ও চুম্বন থেকে প্রাপ্ত আনন্দ যা আমাকে ভুলিয়ে রাখে অথবা যা আমি বারবার গ্রহণ করি, তা থেকে আমাকে বঞ্চিত করো না। বাহনের ওপর আরোহী ব্যক্তিকেও 'চলা' বলা হয়, যেমনটি পদব্রজে চলা ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয়; তাই সে আরোহী থাকা সত্ত্বেও তিনি তাকে 'চলতে থাকো' বলেছেন। 'আল-জানা' হলো গাছ থেকে যা আহরণ করা হয় তার নাম, আর 'আল-জানী' হলো ক্রিয়ামূল। বলা হয়: আমি ফল আহরণ করেছি।
১৬ - ১৭ -
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
18 - فمِثلِكِ حُبْلى قد طَرَقْتُ وَمُرْضعٍ
… فألْهَيتُها عن ذي تمائمَ مُحْوِلِ
خفض فمثلك بإضمار رُبّ، أراد فرب امرأة حبلى. الطروق: الإتيان ليلًا، والفعل طرق يطرق. المرضع: التي لها ولد رضيع، إذا بنيت على الفعل أنثت فقيل: أرضعت فهي مرضعة، وإذا حملوها على أنها بمعنى ذات إرضاع أو ذات رضيع لم تلحقها تاء التأنيث، ومثلها حائض وطالق وحامل، لا فصل بين هذه الأسماء فيما ذكرنا، وإذا حملت على أنها من المنسوبات لم تلحقها علامة التأنيث، وإذا حملت على الفعل لحقتها علامة التأنيث، ومعنى المنسوب في هذا الباب أن يكون الاسم بمعنى ذي كذا أو ذات كذا، والاسم إذا كان من هذا القبيل عَرَّته العرب من علامة التأنيث كما قالوا: امرأة لابن وتامر أي: ذات لبن وذات تمر، ورجل لابن تامر أي: ذو لبن وذو تمر، ومنه قوله تعالى: {السَّمَاءُ مُنْفَطِرٌ بِه} [المزمل: 18] نص الخليل على أن المعنى: السماء ذات انفطار به، لذلك تجرد منفطر عن علامة التأنيث. وقوله تعالى: {لا فَارِضٌ وَلا بِكْرٌ عَوَانٌ} [البقرة: 68] أي: لا ذات فرض، وتقول العرب: جمل ضامر وناقة ضامر، وجمل شائل (1) وناقة شائل، ومنه قول الاعشى:
عهدي بها في الحي قد سربلت
… بيضاء مثل المهرة الضامر
أي: ذات الضمور، وقول الآخر:
وغررتنِي وزعمتِ أنَّكِ
… لابن في الصيف تامر
أي: ذات لبن وذات تمر؛ وقول الآخر:
ورابَعَتني تحت ليل ضارب
… بساعد فَعْمٍ وكفٍّ خاضب (2)
--------------------------------------------
১৮ - তোমার মতো অনেক গর্ভবতী এবং স্তন্যদাত্রী নারীর কাছে আমি রাতে গিয়েছি... এবং তাকে তার এক বছর বয়সী তাবিযধারী সন্তান থেকে বিমুখ করেছি।
'ফামিসলিকি' (তোমার মতো) শব্দটি 'রুব্বা' উহ্য থাকার কারণে জেরবিশিষ্ট হয়েছে, কবি এখানে বুঝিয়েছেন 'তোমার মতো অনেক গর্ভবতী নারী'। 'তুরুক' অর্থ রাতে আসা, এর ক্রিয়া হলো 'তরাকা-ইয়াতরুকু'। 'মুরদি' হলো সেই নারী যার দুগ্ধপোষ্য সন্তান রয়েছে; যখন এটি ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয় তখন তা স্ত্রীলিঙ্গবাচক হয় এবং 'মুরদিআহ' বলা হয়। আর যখন একে 'দুগ্ধদানকারিণী' বা 'দুগ্ধপোষ্য সন্তানের অধিকারিণী' অর্থে গ্রহণ করা হয়, তখন তাতে স্ত্রীলিঙ্গ সূচক 'তা' যুক্ত হয় না। একইভাবে 'হায়েদ' (ঋতুবতী), 'তালেক' (তালাকপ্রাপ্তা) এবং 'হামেল' (গর্ভবতী) শব্দগুলোর ক্ষেত্রেও এই নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম নেই। যখন এগুলোকে সম্বন্ধীয় পদ (মানসুবাত) হিসেবে গণ্য করা হয়, তখন এগুলোতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্ন যুক্ত হয় না, আর যখন ক্রিয়াবাচক ধরা হয় তখন স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্ন যুক্ত হয়। এই অধ্যায়ে 'মানসুব' বা সম্বন্ধীয় পদের অর্থ হলো কোনো বিশেষ গুণের অধিকারী হওয়া। আর যখন কোনো বিশেষ্য এই পর্যায়ের হয়, তখন আরবরা তাকে স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্ন থেকে মুক্ত রাখে; যেমন তারা বলে: 'দুগ্ধ ও খেজুরের অধিকারিণী নারী', আবার পুরুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে বলে। মহান আল্লাহর বাণী: {আকাশ সেদিন বিদীর্ণ হবে} [সূরা মুয্যাম্মিল: ১৮] - এ প্রসঙ্গে খলীল উল্লেখ করেছেন যে, এর অর্থ হলো আকাশ বিদীর্ণ হওয়ার গুণপ্রাপ্ত হবে, এ কারণেই 'মুনফাতির' শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্ন থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে। মহান আল্লাহর অন্য বাণী: {তা বৃদ্ধাও নয় এবং কুমারীও নয়, বরং মাঝামাঝি} [সূরা বাকারা: ৬৮] অর্থাৎ বার্ধক্যের গুণধারী নয়। আরবরা বলে থাকে: 'শীর্ণকায় উট' এবং 'শীর্ণকায় উষ্ট্রী', আবার 'উত্থিত লেজবিশিষ্ট উট' এবং 'উত্থিত লেজবিশিষ্ট উষ্ট্রী'। এ প্রসঙ্গে আল-আ'শার উক্তি:
গোত্রের মধ্যে তার সাথে আমার সেই সময়ের কথা মনে পড়ে যখন সে ঢিলেঢালা পোশাক পরিহিত ছিল... শ্বেতবর্ণা এক ক্ষীণাঙ্গী ঘোটকীর ন্যায়।
অর্থাৎ: কৃশতা বা ক্ষীণতার অধিকারিণী। অপর এক কবির উক্তি:
তুমি আমাকে প্রতারিত করেছ এবং দাবি করেছ যে তুমি... গ্রীষ্মকালে প্রচুর দুগ্ধ ও খেজুরের অধিকারিণী ছিলে।
অর্থাৎ: দুগ্ধ ও খেজুর বিশিষ্ট। অন্য কবির উক্তি:
সে অন্ধকার রাতে সুপুষ্ট বাহু এবং মেহেদি রাঙানো হাতের তালু দিয়ে... আমার সাথে বোঝা উত্তোলনে সাহায্য করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أي: ذات خضاب، وقال أيضًا:
يا ليت أمّ العمر كانت صاحبي
… مكان مَن أمسى على الركائبِ
أي ذات صحبتي، وأنشد النحويون:
وقد تُخِذَتْ رجلي لدى جنب غرزها
… نسيفًا كأفحوصِ القطاةِ المطرقِ (1)
أي ذات الطريق، والمعول في هذا الباب على السماع إذ هو غير منقاد للقياس. لهيت عن الشيء ألهى عنه لهيًا إذا شغلت عنه وسلوت، وألهيته إلهاء إذا شغلته. التميمة: العوذة2، والجمع التمائم. يقال: أحول الصبي إذا تم له حول فهو محول؛ ويروى: عن ذي تمائم مُغْيِلِ؛ يقال: غالت المرأة ولدها تغيل غيلًا وأغالت تغيل إغيالًا إذا أرضعته وهي حبلى. ويروى: مرضع بالعطف على حبلى. ويروى: ومرضعًا على تقدير طرقتها. ومرضعًا تكون معطوفة على ضمير المفعول.
يقول: فربَّ امرأة حبلى قد أتيتها ليلًا وربّ امرأة ذات رضيع أتيتها ليلًا فشغلتها عن ولدها الذي علقت على العوذة وقد أتى عليه حول كامل، أو قد حبلت أمه بغيره فهي ترضعه على حبلها، وإنما خص الحبلى والمرضع؛ لأنهما أزهد النساء في الرجال وأقلهن شغفًا بهم وحرصًا عليهم، فقال: خدعت مثلهما مع اشتغالهما بأنفسهما فكيف تتخلصين مني؟ قوله: فمثلك، يريد به فرُبَّ امرأة مثل عنيزة في ميله إليها وحبه لها؛ لأن عنيزة في هذا الوقت كانت عذراء غير حبلى ولا مرضع.
19 - إذَا ما بكَى من خَلْفها انْصَرَفَتْ لهُ
… بشِقٍّ وتَحتي شِقُّها، لم يُحَوَّلِ
شقّ الشيء: نصفه. يقول: إذا ما بكى الصبي من خلف المرضع
--------------------------------------------
অর্থাৎ: কলপধারী, এবং তিনি আরও বলেছেন:
হায়! যদি উম্মুল উমর আমার সঙ্গিনী হতো
… সেই ব্যক্তির বদলে যে আরোহীদের ওপর অবস্থান করছে।
অর্থাৎ সঙ্গিনী হওয়ার অধিকারী, এবং ব্যাকরণবিদগণ আবৃত্তি করেছেন:
আর আমার পা তার জিনের পাদানির পাশে রাখা হয়েছে
… তিতির পাখির ডিম পাড়ার গর্তের ঘর্ষণের চিহ্নের মতো (১)
অর্থাৎ পথের অধিকারী; আর এই বিষয়ে মূল ভিত্তি হলো শ্রুতি বা বর্ণনা (সামা'), কারণ এটি নিয়মতান্ত্রিক অনুমানের (কিয়াস) অনুগামী নয়। কোনো কিছু থেকে বিমুখ হওয়া বা ভুলে যাওয়া অর্থে 'লাহিতু আনহুল শাই' ব্যবহৃত হয় যখন কেউ তা থেকে উদাসীন ও শান্ত থাকে, আর 'আলহাইতুহু' মানে আমি তাকে ব্যস্ত রেখেছি। তামি মাহ: কবজ বা তাবীজ, এর বহুবচন হলো তামাইম। বলা হয়: যখন শিশুটির এক বছর পূর্ণ হয় তখন সে 'মুহউইল'; আর বর্ণিত আছে: তাবীজধারী এমন শিশু যাকে তার মা গর্ভবতী অবস্থায় দুধ পান করাচ্ছে (মুগয়িল)। বলা হয়: নারী তার সন্তানকে 'গয়িল' করেছে যখন সে গর্ভবতী থাকা অবস্থায় তাকে দুধ পান করায়। আবার গর্ভবতী শব্দের সাথে অন্বয় করে 'মুরদি' (দুগ্ধদানকারিণী) পাঠ করা হয়েছে। আবার 'আমি তার কাছে রাতে এসেছি' ক্রিয়ার কর্ম হিসেবে 'মুরদিআন' পাঠ করা হয়েছে। আবার 'মুরদিআন' শব্দটি কর্মের সর্বনামের সাথে সংযুক্তও হতে পারে।
তিনি বলছেন: কতই না গর্ভবতী নারীর কাছে আমি রাতে এসেছি এবং কতই না দুগ্ধদানকারিণীর কাছে আমি রাতে এসেছি, অতঃপর তাকে তার সেই সন্তান থেকে বিমুখ করেছি যে গলায় তাবীজ ঝোলাতো এবং যার পূর্ণ এক বছর বয়স হয়েছে। অথবা যার মা পুনরায় গর্ভবতী হয়েছে এমতাবস্থায় সে তাকে দুধ পান করাচ্ছে। তিনি গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণীকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন; কারণ নারীরা এই অবস্থায় পুরুষদের প্রতি সবচেয়ে বেশি বিমুখ থাকে এবং তাদের প্রতি খুব সামান্যই আসক্তি ও আগ্রহ বোধ করে। তিনি বললেন: তারা নিজেদের অবস্থায় ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও আমি তাদের মন জয় করেছি, তবে তুমি আমার থেকে কীভাবে নিষ্কৃতি পাবে? তাঁর উক্তি: 'তোমার মতো', এর দ্বারা তিনি উনাইজার প্রতি তাঁর আসক্তি ও ভালোবাসার কারণে উনাইজার মতো কত নারীকে বুঝিয়েছেন; কারণ উনাইজা এই সময়ে কুমারী ছিলেন, গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারিণী ছিলেন না।
১৯ - যখনই তার পেছন থেকে শিশুটি কেঁদে উঠত, সে তার দিকে অর্ধেক শরীর নিয়ে ফিরত
… অথচ আমার নিচে তার বাকি অর্ধেক শরীর থাকত, যা স্থানচ্যুত হতো না।
কোনো কিছুর 'শিক' হলো তার অর্ধেক। তিনি বলছেন: যখন দুগ্ধদানকারিণীর পেছন থেকে শিশুটি কেঁদে ওঠে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
انصرفت إليه بنصفها الأعلى فأرضعته وأرضته وتحتي نصفها الأسفل لم تحوله عني، وصف غاية ميلها إليه وكلفها به حيث لم يشغلها عن مرامه ما يشغل الأمهات عن كل شيء.
20 - وَيومًا عَلَى ظَهرِ الكَثيبِ تَعَذّرَتْ
… عَلَيّ وآلَتْ حَلْفَةً لم تَحَلَّلِ
الكثيب: رمل كثير، والجمع أكثبة وكُثُب وكثبان. التعذر: التشدد والالتواء والإيلاء والائتلاء والتألّي: الحلف، يقال: آلى وائتلى وتأَلّى إذا حلف، واسم اليمين الأَلِيَّة والأَلوة والأُلوة معًا، والْحَلْف المصدر. والْحَلِف بكسر اللام. الاسم. الحلفة: المرة. التحلل في اليمين: الاستثناء. نصب حلفة لأنها حلت محل الإيلاء كأنه قال: وآلت إيلاء والفعل يعمل فيما وافق مصدره في المعنى كعمله في مصدر نحو قولهم: إني لأشنؤه1 بغضًا وإني لأبغضه كراهية. يقول: وقد تشددت العشيقة والْتَوت، وساءت عشرتها يومًا على ظهر الكثيب المعروف، وحلفت حلفًا لم تستثن فيه أنها تصارمني وتهاجرني، هذا، ويحتمل أن يكون صفة حال اتفقت له مع عنيزة، ويحتمل أنها اتفقت مع المرضع التي وصفها.
21 - أفاطِمَ مهلًا بعضَ هذا التَّدَلّلِ
… وَإن كنتِ قد أزمعتِ صَرْمي فأجملي
مهلًا: أي رفقًا. الإدلال والتدليل: أي يثق الإنسان بحب غيره إياه فيؤذيه على حسب ثقته به، والاسم الدّالة والدال والدلال. أزمعت الأمر وأزمعت عليه: وطّنت نفسي عليه.
يقول: يا فاطمة دعي بعض دلالك وإن كنت وطّنت نفسك على فراقي فأجملي في الهجران. نصب بعض؛ لأن مهلًا ينوب مناب دع. الصرم:
তিনি তার শরীরের উপরের অংশ দিয়ে তার দিকে ফিরলেন এবং তাকে স্তন্যপান করালেন ও তাকে সন্তুষ্ট করলেন, অথচ তার শরীরের নিচের অংশটি আমার নিচেই ছিল, তিনি তা আমার কাছ থেকে সরিয়ে নেননি। এখানে তার প্রতি তার চরম ঝোঁক ও অনুরাগের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মায়েদের যা কিছু অন্য সব কিছু থেকে বিচ্যুত করে রাখে, তা তাকে তার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
২০ - এবং একদিন বালুর ঢিবির পিঠে সে আমার সাথে কঠোর আচরণ করল... এবং এমন কসম খেল যা সে ভঙ্গ করেনি।
আল-কাথিব: প্রচুর বালু, এর বহুবচন হলো আকথিবাহ, কুথুব এবং কুথবান। আত-তাআজ্জুর: কঠোরতা ও বিমুখতা। আল-ঈলা, আল-ইতিলা এবং আত-তাআল্লি: কসম খাওয়া; বলা হয়: সে কসম খেয়েছে। কসমের নাম হলো আল-আলিয়্যাহ, আল-আলওয়াহ এবং আল-উলওয়াহ; আর আল-হালফ হলো মাসদার (ক্রিয়ামূল)। আর লাম বর্ণে কাসরাসহ আল-হালিফ হলো বিশেষ্য। আল-হালফাহ: একবার কসম খাওয়া। কসমের মধ্যে তাহাল্লুল: ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা) করা। 'হালফাহ' শব্দটিকে নসব (জবর) দেওয়া হয়েছে কারণ এটি 'ঈলা' এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যেন তিনি বলেছেন: সে একটি কসম খেয়েছে। ক্রিয়া সেই শব্দের ওপর আমল করে যা অর্থের দিক থেকে তার মাসদারের সাথে মিল রাখে, যেমনটি তাদের বক্তব্য: 'আমি তাকে ঘৃণা করার কারণে অপছন্দ করি' এবং 'আমি তাকে অপছন্দের কারণে ঘৃণা করি'। তিনি বলছেন: প্রেয়সী একদিন সেই পরিচিত বালুর ঢিবির পিঠে কঠোরতা ও বিমুখতা প্রদর্শন করেছে এবং তার আচরণ রূঢ় হয়ে উঠেছিল, আর সে এমন এক কসম খেয়েছিল যাতে কোনো ব্যতিক্রম রাখেনি যে, সে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং আমাকে ত্যাগ করবে। এটি হতে পারে উনাইজাহর সাথে তার ঘটে যাওয়া কোনো অবস্থার বর্ণনা, আবার হতে পারে এটি সেই স্তন্যদানকারী নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার বর্ণনা তিনি দিয়েছেন।
২১ - হে ফাতেমা! এই আদল-আবদারের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় হও... আর যদি তুমি আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকো, তবে তা সুন্দরভাবে করো।
মাহলান: অর্থাৎ নমনীয় হও। আল-ইদলাল ও আত-তাদলীল: অর্থাৎ মানুষ যখন অন্যের ভালোবাসার প্রতি আস্থাশীল হয়, তখন সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে তাকে কষ্ট দেয়; এর বিশেষ্য হলো আদ-দাল্লাহ, আদ-দাল এবং আদ-দালাল। আজমাতুল আমরা অথবা আজমাতু আলাইহি: আমি এ ব্যাপারে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলছেন: হে ফাতেমা, তোমার কিছু আদল-আবদার ত্যাগ করো, আর যদি তুমি আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য মনস্থির করে থাকো, তবে এই বিচ্ছেদে সৌন্দর্য বজায় রাখো। 'বাদ' (কিছুটা) শব্দটিকে নসব দেওয়া হয়েছে কারণ 'মাহলান' শব্দটি 'দা' (ছেড়ে দাও) ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আস-সরম: (সম্পর্কচ্ছেদ)।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المصدر، يقال: صرمت الرجل أصرمه صرمًا إذا قطعت كلامه، والصرم الاسم. فاطمة: اسم المرضع أو عنيزة، وعنيزة لقب لها فيما قيل.
22 - أغَرّكِ مني أنّ حبّكِ قاتِلي
… وَأنّكِ مهما تأمري القلبَ يَفْعَلِ
يقول: قد غرك مني كون حبك قاتلي وكون قلبي منقادًا لك بحيث مهما أمرته بشيء فعله. وألف الاستفهام دخلت على هذا القول للتقرير لا للاستفهام والاستخبار، ومنه قول جرير:
ألَسْتُم خَيرَ من رَكِبَ المطَايَا
… وأندَى العَالمين بطونَ راحِ؟!
يريد أنهم خير هؤلاء، وقيل: بل معناه قد غرك مني أنك علمت أن حبك مُذلّلي، والقتل التذليل، وأنك تملكين فؤادك فمهما أمرت قلبك بشيء أسرع مرادك فتحسبين أني أملك عنان قلبي كما ملكت عنان قلبك حتى يسهل علي فراقك كما سهل عليك فراقي، ومن الناس من حمله على مقتضى الظاهر وقال: معنى البيت: أتوهمت وحسبت أن حبك يقتلني أو أنك مهما أمرت قلبي بشيء فعله؟ قال: يريد أن الأمر ليس على ما خيل إليك فإني مالك زمام قلبي، والوجه الأمثل هو الوجه الأول وهذا القول أرذل الأقوال، لأن مثل هذا الكلام لا يستحسن في النسيب بالحبيب.
23 - وَإِنْ تَكُ قَدْ ساءَتكِ مني خَليقةٌ
… فَسُلّي ثيَابي من ثيابِكِ تَنْسُلِ
من الناس من جعل الثياب في هذا البيت بمعنى القلب، كما حملت الثياب على القلب في قول عنترة:
فشككتُ بالرُّمْحِ الأصَمِّ ثيابَهً
… ليسَ الكريمً على القنا بمحرَّمِ
وقد حملت الثياب في قوله تعالى: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّر} [المدثر: 4] على أن المراد به القلب، فالمعنى على هذا القول: إن ساءك خلق من أخلاقي وكرهت خصلة من خصالي فردي على قلبي أفارقك، ولا معنى على هذا القول:
মূল ধাতু, বলা হয়: ‘সরমতুর্ রাজুলা’ (আমি লোকটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি), আমি যখন তার সাথে কথা বলা বন্ধ করি তখন তাকে ‘সরমান’ বলা হয়, আর ‘আস-সরমু’ হলো বিশেষ্য। ফাতিমা: এটি তার দুধমাতা বা প্রেমিকার নাম অথবা ‘উনাইজাহ’, আর উনাইজাহ হলো তার উপাধি যা বলা হয়ে থাকে।
২২ - তুমি কি আমার ব্যাপারে এই ধোঁকায় আছ যে, তোমার ভালোবাসা আমাকে মেরে ফেলছে
… এবং তুমি আমার হৃদয়কে যা-ই আদেশ করো, সে তা-ই পালন করে?
তিনি বলছেন: তুমি আমার ব্যাপারে এই ধোঁকায় পড়েছ যে, তোমার ভালোবাসা আমাকে ধ্বংস করছে এবং আমার হৃদয় তোমার প্রতি এমনভাবে অনুগত যে, তুমি তাকে যা কিছু আদেশ করো সে তা-ই পালন করে। এখানে প্রশ্নবোধক ‘আলিফ’ বর্ণটি এসেছে কোনো বিষয়কে সাব্যস্ত বা স্বীকার করার (তাকরীর) জন্য, কোনো কিছু জিজ্ঞাসা বা সংবাদ জানার জন্য নয়। এরই অনুরূপ হলো কবি জারীরের উক্তি:
তোমরা কি সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নও যারা উটে সওয়ার হয়েছে
… এবং জগতের মানুষের মধ্যে যারা দানে সবচেয়ে বেশি মুক্তহস্ত?!
তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে তারা এদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আবার বলা হয়েছে: বরং এর অর্থ হলো, তুমি আমার ব্যাপারে এই ধোঁকায় পড়েছ যে তুমি জেনে গেছ তোমার ভালোবাসা আমাকে বশীভূত করে ফেলেছে; আর এখানে ‘হত্যা’ অর্থ হলো বশীভূত বা লাঞ্ছিত করা। আর তুমি তোমার হৃদয়ের মালিক, তাই তুমি তোমার হৃদয়কে যা আদেশ করো তোমার ইচ্ছাটি দ্রুত সম্পন্ন হয়, ফলে তুমি ধারণা করেছ যে আমি আমার হৃদয়ের লাগাম সেভাবেই নিয়ন্ত্রণ করি যেভাবে তুমি তোমার হৃদয়ের লাগাম নিয়ন্ত্রণ করো, যাতে তোমার বিচ্ছেদ আমার কাছে তেমনই সহজ হয়ে যায় যেমনটি আমার বিচ্ছেদ তোমার কাছে সহজ। আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ একে বাহ্যিক অর্থের ওপর গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: কবিতার চরণের অর্থ হলো— তুমি কি ধারণা করেছ এবং ভেবেছ যে তোমার ভালোবাসা আমাকে মেরে ফেলছে অথবা তুমি আমার হৃদয়কে যা আদেশ করবে তা-ই করবে? তিনি বলেন: কবি বোঝাতে চেয়েছেন বিষয়টি তেমন নয় যা তোমার কাছে কল্পিত হয়েছে, কেননা আমিই আমার হৃদয়ের লাগামের মালিক। তবে প্রথম ব্যাখ্যাটিই সর্বোত্তম এবং এই শেষোক্ত বক্তব্যটি নিকৃষ্টতম, কারণ প্রিয়জনের সাথে প্রেমের আলাপে এই ধরণের কথা শোভা পায় না।
২৩ - আর আমার কোনো আচরণ যদি তোমাকে কষ্ট দিয়ে থাকে
… তবে তোমার কাপড় থেকে আমার কাপড় সরিয়ে নাও, তা আলাদা হয়ে যাবে।
কিছু লোক এই চরণে ‘কাপড়’ (থিয়াব) শব্দটিকে হৃদয়ের অর্থে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি আনতারার এই উক্তিতে কাপড়কে হৃদয়ের অর্থে ধরা হয়েছে:
আমি নিরেট বর্শার আঘাতে তার হৃদয় বিদীর্ণ করলাম
… কেননা বর্শার আঘাতে কোনো সম্মানিত ব্যক্তিই সুরক্ষিত নয়।
মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন} [সূরা মুদ্দাস্সির: ৪]-এর ক্ষেত্রেও ‘পোশাক’ (থিয়াব) দ্বারা হৃদয় উদ্দেশ্য হওয়ার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সুতরাং এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী অর্থ দাঁড়ায়: যদি আমার কোনো স্বভাব তোমাকে কষ্ট দেয় এবং আমার কোনো চরিত্র তোমার অপছন্দ হয়, তবে আমার হৃদয় আমাকে ফিরিয়ে দাও, আমি তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব। আর এই বক্তব্য অনুযায়ী এর অর্থ হলো:
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
استخرجي قلبي من قلبك يفارقه. النسول: سقوط الريش والوبر والصوف والشعر، يقال: نسل ريش الطائر ينسل نسولًا، واسم ما سقط النسيل والنسال؛ ومنهم من رواه تنسلي وجعل الانسلاء بمعنى التسلي، والرواية الأولى أولاهما بالصواب، ومن الناس من حمل الثياب في البيت على الثياب الملبوسة وقال: كنّى بتباين الثياب وتباعدها عن تباعدهما، وقال: إن ساءك شيء من أخلاقي فاستخرجي ثيابي من ثيابك أي: ففارقيني وصارميني كما تحبين فإني لا أوثر إلا ما أثرت ولا أختار إلا ما اخترت لانقيادي لك وميلي إليك، فإذا آثرتِ فراقي آثرتُه وإن كان سبب هلاكي وجالب موتي.
24 - وَما ذَرَفَتْ عَيناكِ إلا لتَضْرِبِي
… بسَهمَيك في أعشارِ قَلبٍ مُقَتَّلِ
ذرف الدمع ذريفًا وذرفانًا وتذرافًا إذا سال، ثم يقال: ذرفت [عينه]، كما يقال: دمعت عينه، وللأئمة في البيت قولان، قال الأكثرون: استعار لِلَحْظِ عينيها ودمعهما اسم السهم لتأثيرهما في القلوب وجرحهما إياها كما أن السهام تجرح الأجسام وتؤثر فيها. والأعشار من قولهم: برمة أعشار إذا كانت قطعًا، ولا واحد لها من لفظها. المقتّل: المذلل غاية التذليل، والقتل في الكلام التذليل، ومنه قولهم: قتلت الشراب إذا قللت غرب سَوْرته (1) بالمزاج، ومنه قول الأخطل:
فقلت اقتلوها عنكم بمزاجها
… وحَبّ بها مقتولُة حين تُقْتَلُ
وقال حسان:
إنِّ التي نَاولتني فرددتها
… قُتِلَتْ قُتِلْتَ فَهَاتها لم تُقْتَلِ
ومنه: قتلت أرض جاهلها وقتل أرضًا عالمها، ومنه قوله تعالى: {وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينًا} [النساء: 157] عند أكثر الأئمة: أي ما ذللوا قولهم بالعلم اليقين.
--------------------------------------------
তোমার হৃদয় থেকে আমার হৃদয় বের করে নাও যাতে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 'আন-নাসুল' হলো পালক, পশম, পশমজাত সুতা এবং চুল ঝরে পড়া। বলা হয়: পাখির পালক ঝরে পড়ছে, আর যা ঝরে পড়ে তাকে 'নাসিল' বা 'নাসাল' বলা হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি 'তানসালি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর অর্থ করেছেন সান্ত্বনা লাভ করা বা ভুলে যাওয়া। তবে প্রথম বর্ণনাটিই অধিকতর সঠিক। কিছু ব্যাখ্যাকারী ঘরের পোশাক বলতে পরিহিত পোশাককে বুঝিয়েছেন এবং বলেছেন: তিনি পোশাকের ভিন্নতা ও দূরত্ব দ্বারা তাদের উভয়ের পারস্পরিক দূরত্বকে রূপক হিসেবে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন: যদি আমার কোনো স্বভাব তোমাকে কষ্ট দেয়, তবে তোমার পোশাক থেকে আমার পোশাক আলাদা করে নাও, অর্থাৎ: তুমি যেভাবে চাও আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও এবং সম্পর্ক ছিন্ন করো; কেননা তুমি যা পছন্দ করো আমি কেবল সেটিই অগ্রাধিকার দেই এবং তুমি যা বেছে নাও আমি কেবল সেটিই গ্রহণ করি, কারণ আমি তোমার প্রতি অনুগত এবং তোমার প্রতি আমার গভীর টান রয়েছে। সুতরাং তুমি যদি আমার বিচ্ছেদ কামনা করো, তবে আমি সেটিই বেছে নেব, যদিও তা আমার ধ্বংসের কারণ হয় এবং মৃত্যুকে ডেকে আনে।
২৪ - আর তোমার দুই চোখ কেবল অশ্রু বিসর্জন দেয়নি বরং তোমার দুই তীরের মাধ্যমে এক জখমপ্রাপ্ত হৃদয়ের টুকরোগুলোতে আঘাত হানার জন্যই তা করেছে।
অশ্রু প্রবাহিত হওয়াকে 'দারাফাত' বলা হয়। ইমামগণের এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ বলেছেন: তিনি তার দুই চোখের চাহনি এবং অশ্রুর জন্য 'তীর' শব্দটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, কারণ হৃদয়ের ওপর এগুলোর প্রভাব ও ক্ষত তৈরির ক্ষমতা রয়েছে, ঠিক যেমন তীর শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে এবং জখম করে। 'আল-আশার' শব্দটি তাদের প্রবাদ 'বুরমাতি আশার' (টুকরো হয়ে যাওয়া পাত্র) থেকে এসেছে, যার নিজস্ব কোনো একবচন নেই। 'আল-মুয়াত্তাল' অর্থ: চরমভাবে বশীভূত বা লাঞ্ছিত। কথ্য ভাষায় 'কাতল' (হত্যা) মানে হলো বশীভূত করা। এ থেকেই বলা হয়: 'আমি মদকে হত্যা করেছি' যখন পানি মিশিয়ে তার তীব্রতা কমানো হয়। এ থেকেই আল-আখতালের উক্তি:
আমি বললাম, একে পানি মিশিয়ে বশীভূত করো... আর এটি বশীভূত হওয়ার সময় কতই না প্রিয়।
হাসান বলেছেন:
নিশ্চয়ই তিনি যা আমাকে দিয়েছিলেন তা আমি ফিরিয়ে দিয়েছি... সেটি বশীভূত হয়েছে, আপনিও বশীভূত হয়েছেন, সুতরাং তা নিয়ে আসুন যা বশীভূত হয়নি।
এ থেকেই এসেছে: কোনো ভূমি তার অজ্ঞ ব্যক্তিকে হত্যা করেছে (বশীভূত করেছে) এবং কোনো ভূমি তার জ্ঞানী ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এ থেকেই আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তারা তাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করতে পারেনি} [আন-নিসা: ১৫৭], অধিকাংশ ইমামের মতে এর অর্থ হলো: তারা তাদের দাবিকে নিশ্চিত জ্ঞানের দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত বা বশীভূত করতে পারেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وتلخيص المعنى على هذا القول: وما دمعت عيناك وما بكيت إلا لتصيدي قلبي بسهمي دمع عينيك وتجرحي قطع قلبي الذي ذللته بعشقك غاية التذليل، أي نكايتهما في قلبي نكاية السهم في المرمى، وقال آخرون: أراد بالسهمين المعلّى والرقيب من سهام الميسر. والجزور (1) يقسم على عشرة أجزاء، فللمعلّى سبعة أجزاء وللرقيب ثلاثة أجزاء، فمن فاز بهذين القدحين فقد فاز بجميع الأجزاء وظفر بالجزور، وتلخيص المعنى على هذا القول: وما بكيت إلا لتملكي قلبي كله وتفوزي بجميع أعشاره وتذهبي بكله والأعشار على هذا القول جمع عشر؛ لأن أجزاء الجزور عشرة، والله أعلم.
25 - وَبَيْضَةِ خِدرٍ لا يُرامُ خِباؤُهَا
… تَمَتَّعْتُ من لَهْوٍ بها غيرَ مُعَجَّلِ
أي: ورب بيضة خدر، يعني: ورب امرأة لزمت خدرها، ثم شبهها بالبيض، والنساء يشبهن بالبيض من ثلاثة أوجه: أحدها بالصحة والسلامة عن الطمث، ومنه قول الفرزذق:
خَرَجْنَ إلَيّ لم يطمثْن قبلي
… وهن أصحّ من بيضِ النَّعامِ
ويروى: دفعن إلي، ويروى: برزن إِلَيّ؛ والثاني: في الصيانة والستر؛ لأن الطائر يصون بيضه ويحضنه، والثالث: في صفاء اللون ونقائه؛ لأن البيض يكون صافي اللون نقيه إذا كان تحت الطائر، وربما شبهت النساء ببيض النعام، وأريد أنهن بيض تشوب ألوانهن صفرة يسيرة وكذلك لون بيض النعام، ومنه قول ذي الرُّمَّة:
كأنها فضة قد مَسَّها الذهبُ
الرَّوم: الطلب والفعل منه يروم: الخباء: البيت إذا كان من قطن أو وبر
--------------------------------------------
এই মতানুসারে অর্থের সারসংক্ষেপ হলো: তোমার দুচোখ অশ্রুসজল হয়নি এবং তুমি রোদন করোনি কেবল তোমার চোখের পানির দুই তীরের মাধ্যমে আমার হৃদয় শিকার করার জন্য এবং আমার হৃদয়ের সেই অংশগুলোকে ক্ষতবিক্ষত করার জন্য যা তুমি তোমার ভালোবাসার মাধ্যমে চরমভাবে বশীভূত করেছো। অর্থাৎ, আমার হৃদয়ে তাদের আঘাত লক্ষ্যবস্তুতে তীরের আঘাতের মতো। অন্যান্যরা বলেছেন: তিনি 'দুই তীর' দ্বারা জুয়ার তীরগুলোর মধ্য থেকে 'মুআল্লা' ও 'রাকিব' তীর দুটিকে বুঝিয়েছেন। আর উটকে (১) দশটি অংশে ভাগ করা হয়, ফলে 'মুআল্লা'র জন্য সাতটি অংশ এবং 'রাকিব' এর জন্য তিনটি অংশ থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুটি তীরের মাধ্যমে বিজয়ী হয়, সে সমস্ত অংশের অধিকারী হয় এবং পুরো উটটি লাভ করে। এই মতানুসারে অর্থের সারসংক্ষেপ হলো: তুমি কেবল এই জন্যই কেঁদেছ যাতে তুমি আমার সমগ্র হৃদয়ের মালিক হতে পারো এবং এর দশটি অংশের সবকটি জয় করে সম্পূর্ণ হৃদয় হরণ করতে পারো। এই মত অনুযায়ী 'আশার' শব্দটি 'উশর' এর বহুবচন; কারণ উটের অংশ দশটি। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
২৫ - আর পর্দানশীন সেই নারী যার তাবুর নাগাল পাওয়া দুষ্কর, আমি কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়াই তার সাথে আমোদ-প্রমোদ উপভোগ করেছি।
অর্থাৎ: অনেক পর্দানশীন নারী। এর অর্থ হলো: এমন অনেক নারী যারা নিজ পর্দার অন্তরালে অবস্থান করে। এরপর তিনি তাকে ডিমের সাথে তুলনা করেছেন। নারীদের ডিমের সাথে তিনটি দিক থেকে তুলনা করা হয়: প্রথমত ঋতুস্রাব থেকে পবিত্রতা ও সুস্থতার দিক থেকে, আর এরই প্রেক্ষিতে ফারাযদাক বলেছেন:
তারা আমার কাছে বেরিয়ে এল এমন অবস্থায় যে ইতিপূর্বে কেউ তাদের স্পর্শ করেনি, আর তারা উটপাখির ডিমের চেয়েও বেশি নিখুঁত ও সুস্থ।
বর্ণিত আছে: 'তারা আমার দিকে ধাবিত হলো', আবার বর্ণিত আছে: 'তারা আমার সামনে প্রকাশিত হলো'। দ্বিতীয়ত: রক্ষণাবেক্ষণ ও আবরণের দিক থেকে; কারণ পাখি তার ডিমকে সুরক্ষিত রাখে এবং তাতে তা দেয়। তৃতীয়ত: গায়ের রঙের শুভ্রতা ও স্বচ্ছতার দিক থেকে; কারণ পাখি যখন ডিমের উপর অবস্থান করে তখন ডিমের রঙ অত্যন্ত স্বচ্ছ ও পরিষ্কার থাকে। অনেক সময় নারীদের উটপাখির ডিমের সাথেও তুলনা করা হয় এবং এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো এমন শুভ্রতা যার সাথে সামান্য হলদে ভাব মিশ্রিত থাকে, আর উটপাখির ডিমের রঙ এমনই হয়। এরই প্রেক্ষিতে যু-রুম্মাহ বলেছেন:
যেন তা স্বর্ণস্পৃষ্ট রৌপ্য।
'রওম' অর্থ হলো অন্বেষণ বা তলব করা, আর এর ক্রিয়াপদ হলো 'ইয়ারুমু'। 'খিবউ' অর্থ হলো তুলা বা পশম দ্বারা তৈরি ঘর বা তাবু।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইমরাউল কাইস ত আল-মুসতাওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
أو صوف أو شعر، والجمع الأخبية. التمتع: الانتفاع. وغير يروى بالنصب والجر فالجر على صفة لهو، والنصب على الحال من التاء في تمتعت.
ويقول: وربّ امرأة كالبيض في سلامتها من الافتضاض، أو في الصون والستر أو في صفاء اللون ونقائه، أو في بياضها المشوب بصفرة يسيرة ملازمة خدرها غير خرَّاجة ولَّاجة انتفعت باللهو بها على تمكث وتلبث لم أعجل عنها ولم أشغل عنها بغيرها.
26 - تجاوَزْتُ أحْراسًا إليها ومَعْشَرًا
… عليّ حِراصًا لو يُسرّونَ مقتَلي
الأحراس يجوز أن يكون جمع حارس بمنزلة صاحب وأصحاب وناصر وأنصار وشاهد وأشهاد، ويجوز أن يكون جمع حرس بمنزلة جبل وأجبال وحجر وأحجار، ثم يكون الحرّس جمع حارس بمنزلة خادم وخدّم وغائب وغيّب وطالب وطلّب وعابد وعبّد. والمعشر: القوم. والجمع المعاشر. الحراص: جمع حريص، مثل ظراف وكرام ولئام في جمع ظريف وكريم ولئيم. الإسرار: الإظهار والإضمار جميعًا؛ وهو من الأضداد، ويروى: لو يشرون مقتلي بالشين المعجمة وهو الإظهار لا غير.
يقول: تجاوزت في ذهابي إليها وزيارتي إياها أهوالًا كثيرةً وقومًا يحرسونها وقومًا حراصًا على قتلي لو قدروا عليه في خفية؛ لأنهم لا يجترئون على قتلي جهارًا، أو حراصًا على قتلي لو أمكنهم قتلي ظاهرًا لينزجر ويرتدع غيري عن مثل صنيعي؛ وحمله على الأول أولى؛ لأنه كان ملكًا والملوك لا يقدر على قتلهم علانية.
27 - إذَا مَا الثُّرَيَّا فِي السَّمَاءِ تَعَرَّضَتْ
… تَعَرُّضَ أثْنَاءِ الوِشَاحِ الْمُفَصَّلِ
التعرض: الاستقبال، والتعرض إبداء العرض، وهو الناحية، والتعرض الأخذ في الذهاب عرضًا. الأثناء: النواحي، والأثناء: الأوساط، واحدها ثَنَى
অথবা পশম বা চুল দিয়ে তৈরি; এর বহুবচন হলো 'আখবিয়াহ' (তাঁবু)। 'তামাত্তু' অর্থ হলো উপভোগ করা বা সুবিধা নেওয়া। 'গাইরু' শব্দটি নসব (জবর) এবং জর (জের) উভয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে; জর হওয়ার কারণ হলো এটি 'লাহউ' এর বিশেষণ হওয়া, আর নসব হওয়ার কারণ হলো এটি 'তামাত্তাতু' ক্রিয়ার 'তা' সর্বনাম থেকে অবস্থা (হাল) প্রকাশ করা।
তিনি বলেন: এমন অনেক নারী আছেন যারা কৌমার্য অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে, অথবা পর্দানশীন ও আবৃত থাকার ক্ষেত্রে, অথবা গাত্রবর্ণের স্বচ্ছতা ও নির্মলতার ক্ষেত্রে, কিংবা সামান্য হলদেটে আভার মিশ্রণযুক্ত শুভ্রতার ক্ষেত্রে ডিমের মতো। তারা নিজেদের কক্ষেই অবস্থান করে, অহেতুক বাইরে বের হয় না বা ভেতরে প্রবেশ করে না। আমি ধীরস্থিরভাবে তার সান্নিধ্য উপভোগ করেছি; আমি তার থেকে তাড়াহুড়ো করিনি এবং অন্য কোনো কাজে মগ্ন হয়ে তাকে অবহেলা করিনি।
২৬ - আমি তার কাছে পৌঁছানোর জন্য অনেক পহারাদার এবং একদল লোককে অতিক্রম করেছি, যারা আমাকে হত্যা করার জন্য অত্যন্ত ব্যগ্র ছিল, যদি তারা গোপনে তা করতে পারত।
'আহরাস' শব্দটি 'হারিস' (পাহারাদার) এর বহুবচন হতে পারে, যেমন 'সাহিব' থেকে 'আসহাব', 'নাসির' থেকে 'আনসার' এবং 'শাহিদ' থেকে 'আশহাদ' হয়। আবার এটি 'হারাস' এর বহুবচনও হতে পারে, যেমন 'জাবাল' থেকে 'আজিবাল' এবং 'হাজার' থেকে 'আহজার' হয়। পরবর্তীতে 'হারাস' শব্দটি 'হারিস' এর বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন 'খাদিম' থেকে 'খুদ্দাম', 'গায়িব' থেকে 'গুয়্যাব', 'তালিব' থেকে 'তুল্লাব' এবং 'আবিদ' থেকে 'উব্বাদ' হয়। 'মা'শার' অর্থ হলো কওম বা সম্প্রদায়; এর বহুবচন হলো 'মাআশির'। 'হিরাাস' হলো 'হারিস' (ব্যগ্র) এর বহুবচন, যেমন 'জারিফ', 'কারিম' ও 'লায়িম' এর বহুবচন হিসেবে যথাক্রমে 'জিরাফ', 'কিরাম' ও 'লিআম' আসে। 'ইসরার' শব্দটি প্রকাশ করা এবং গোপন করা—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়; এটি বিপরীতার্থক শব্দাবলির (আদদাদ) অন্তর্ভুক্ত। কোনো কোনো বর্ণনায় 'ইউশরুনা' (শিন বর্ণ যোগে) এসেছে, যার অর্থ কেবল প্রকাশ করা।
তিনি বলেন: তার কাছে যাওয়ার পথে এবং তার সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে আমি অনেক ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং এমন একদল লোককে অতিক্রম করেছি যারা তাকে পাহারা দিচ্ছিল। তারা আমাকে হত্যা করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল যদি গোপনে তা করার সামর্থ্য রাখত; কারণ প্রকাশ্যে আমাকে হত্যা করার সাহস তাদের ছিল না। অথবা তারা আমাকে প্রকাশ্যে হত্যা করার জন্য ব্যগ্র ছিল যাতে অন্য কেউ আমার মতো কাজ করা থেকে বিরত থাকে ও শিক্ষা গ্রহণ করে। তবে প্রথম অর্থটিই অধিক গ্রহণযোগ্য; কারণ তিনি একজন রাজা ছিলেন এবং রাজাদের প্রকাশ্যে হত্যা করা সাধারণত সম্ভব ছিল না।
২৭ - যখন আকাশে সুরাইয়া (কৃত্তিকা নক্ষত্রপুঞ্জ) আড়াআড়িভাবে উদিত হয়েছিল, যেমন মণি-মুক্তা খচিত কোমরবন্ধের ভাঁজগুলো আড়াআড়িভাবে বিন্যস্ত থাকে।
'তাআররুদ' অর্থ হলো সামনে আসা বা মুখামুখি হওয়া। এর অর্থ কোনো কিছুর পার্শ্বদেশ প্রকাশ করাও হয়। আবার কোনো কিছুর আড়াআড়িভাবে পথ চলাকেও 'তাআররুদ' বলা হয়। 'আসনা' অর্থ হলো পার্শ্ববর্তী দিকসমূহ অথবা মধ্যভাগ; এর একবচন হলো 'সানা'।