(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مشيخة ابن إمام الصخرة القسم: كتب السنة
الكتاب: مشيخة المسند محمد بن إبراهيم البياني المعروف بابن إمام الصخرة
المؤلف: محمد بن إبراهيم بن محمد بن أبي بكر الأنصاري الخزرجي الدمشقي شمس الدين أبو عبد الله المعروف بالبياني، ابن إمام الصخرة (ت 766هـ)
تخريج: الحافظ ابن رافع السلامي
المحقق: محمد بن ناصر العجمي
الناشر: دار البشائر الإسلامية
الطبعة: الأولى 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 81
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাশইয়াখা ইবনে ইমামুস সাখরা বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: মুসনিদ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-বায়ানি, যিনি ইবনে ইমামুস সাখরা নামে পরিচিত, তাঁর মাশইয়াখা
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-আনসারি আল-খাযরাজি আদ-দিমাশকি শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ, যিনি আল-বায়ানি ও ইবনে ইমামুস সাখরা নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭৬৬ হিজরি)
তাখরিজ: আল-হাফিজ ইবনে রাফে আস-সালামি
সম্পাদক: মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি
প্রকাশনী: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-র জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الكتب والأجزاء المقروءة في جوامع ودور الحديث بدمشق
دار الحديث النورية
مشيخة
المسند محمد بن إبراهيم البياني
المعروف بـ ((ابن إمام الصخرة))
(766 هـ)
تخريج
الحافظ ابن رافع السلامي
(704 - 774 هـ)
قابله بأصله وخرج أحاديثه
محمد بن ناصر العجمي
دار البشائر الإسلامية
الطبعة الأولى
1425 هـ - 2004 م
দামেস্কের জামে মসজিদ ও দারুল হাদিসসমূহে পঠিত গ্রন্থ ও অংশসমূহ
দারুল হাদিস আন-নূরিয়্যাহ
মাশয়াখা
আল-মুসনিদ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আল-বায়ানি
যিনি ((ইবন ইমাম আস-সাখরাহ)) নামে পরিচিত
(৭৬৬ হিজরি)
তাখরিজ
আল-হাফিজ ইবনে রাফে আল-সালামি
(৭০৪ - ৭৭৪ হিজরি)
মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা এবং হাদিসসমূহের তাখরিজ করেছেন
মুহাম্মাদ ইবনে নাসির আল-আজমি
দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ
প্রথম সংস্করণ
১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم صلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً
الشيخ الأول علي بن أحمد المقدسي، المعروف بابن البخاري1- أخبرنا الشيخ الإمام العالم المسند، ملحق الأصاغر بالأكابر، والأحفاد بالأجداد، أبو الحسن علي بن أحمد بن عبد الواحد بن أحمد بن عبد الرحمن المقدسي الحنبلي المعروف بابن البخاري، بقراءة الحافظ أبي الحجاج المزي عليه، وأنا حاضر أسمع، في شعبان، من سنة تسع وثمانين وستمئة، وهو أول حضوري عليه، قال:
أنا الإمام العلامة تاج الدين أبو اليمن زيد بن الحسن بن زيد الكندي، قراءةً عليه وأنا أسمع، في ربيع الأول سنة ست وستمئة، وهو
⦗ص: 32⦘ أول حديث سمعته منه في ذلك المجلس، قال: أنا القاضي أبو بكر محمد بن عبد الباقي بن محمد الأنصاري، وهو أول حديث سمعته منه، قال: حدثني القاضي المسند أبو الحسن علي بن الفرج بن عبد الرحمن الصقلي من لفظه بـ ((مكة)) في المسجد الحرام تجاه الكعبة، في بكرة يوم الخميس، تاسع عشر ذي الحجة، من سنة ثلاث وسبعين وأربعمئة، وهو أول حديث سمعته منه، قال:
حدثني الشيخ أبو نصر عبيد الله بن سعيد الحافظ، وهو أول حديث سمعته منه، قال: أنا أبو يعلى حمزة بن عبد العزيز المهلبي، وهو أول حديث سمعته منه، بقراءتي عليه، قال: ثنا أبو حامد أحمد بن محمد بن يحيى بن بلال البزاز، وهو أول حديث سمعته منه سنة ثلاث وثلاثين وثلاثمئة، قال: ثنا عبد الرحمن بن بشر بن الحكم، وهو أول حديث سمعته منه، قال: ثنا سفيان بن عيينة وهو أول حديث سمعته من سفيان بن عيينة، عن عمرو بن دينار، عن أبي قابوس مولى عبد الله بن عمرو بن العاص.
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((الراحمون يرحمهم الرحمن، ارحموا أهل الأرض يرحمكم من في السماء)) .
هذا حديث حسنٌ غريبٌ، تفرد به سفيان بن عيينة، عن عمرو بن دينار، ولم يروه غير عمرو بن دينار، عن أبي قابوس.
أخرجه أبو داود في ((سننه)) عن مسدد بن مسرهد، وأبي بكر بن
⦗ص: 33⦘ أبي شيبة، وأخرجه الترمذي في ((جامعه)) عن ابن عمرو، كلهم عن سفيان، وقال: حسن صحيح.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর অবারিত রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক।
প্রথম শায়খ আলি বিন আহমাদ আল-মাকদিসি, যিনি ইবনুল বুখারি নামে পরিচিত১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, আলিম, মুসনিদ, ছোটদের বড়দের সাথে এবং নাতিদের দাদাদের সাথে (সনদের দিক দিয়ে) সংযুক্তকারী, আবু আল-হাসান আলি বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনুল বুখারি নামে পরিচিত। হাফিজ আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিজ্জি এটি তাঁর সামনে পাঠ করেছেন এবং আমি সেখানে উপস্থিত থেকে শুনছিলাম; এটি ছিল ৬৮৯ হিজরি সালের শাবান মাস, এবং এটিই ছিল তাঁর নিকট আমার প্রথম উপস্থিতি। তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম, আল্লামা তাজউদ্দীন আবু আল-ইয়ামান জাইদ বিন আল-হাসান বিন জাইদ আল-কিন্দী, তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, ৬০৬ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে। এটিই ছিল
⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ সেই মজলিসে তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি, এটিই তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস। তিনি বলেন: বিচারক, মুসনিদ আবু আল-হাসান আলি বিন আল-ফারাজ বিন আব্দুর রহমান আস-সাকালি মক্কায় মসজিদুল হারামে কাবার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর নিজ মুখে এটি আমাকে শুনিয়েছেন, ৪৭৩ হিজরি সালের ১৯ জিলহজ বৃহস্পতিবার ভোরে। এটিই তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস। তিনি বলেন:
আমাকে শুনিয়েছেন শায়খ আবু নাসর উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ আল-হাফিজ, এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা হামজাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-মুহাল্লাবি, এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস, আমি নিজে তাঁর কাছে পাঠ করেছি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন বিলাল আল-বাজ্জাজ, ৩৩৩ হিজরি সালে এটিই তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন বিশর বিন আল-হাকাম, এটি তাঁর থেকে আমার শোনা প্রথম হাদিস। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ থেকে এটিই আমার শোনা প্রথম হাদিস, তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আসের আযাদকৃত গোলাম আবু কাবুস থেকে বর্ণনা করেছেন।
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((দয়াবানদের ওপর দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা জমিনবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।))
এটি একটি হাসান গারিব হাদিস। সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ এটি আমর বিন দিনার থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমর বিন দিনার ছাড়া আর কেউ আবু কাবুস থেকে এটি বর্ণনা করেননি।
আবু দাউদ তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ ও আবু বকর বিন
⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ আবি শায়বা থেকে এটি সংকলন করেছেন। ইমাম তিরমিজি তাঁর 'জামে' গ্রন্থে ইবনে আমর থেকে এটি সংকলন করেছেন, তাঁরা সকলেই সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: এটি হাসান সহিহ হাদিস।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
2- وبه قال الصقلي: حدثني أبو نصر، قال: ثنا أحمد بن محمد بن موسى إملاءً، قال: ثنا إبراهيم بن عبد الصمد الهاشمي، قال: ثنا أبو مصعب، عن مالك، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ((أن يسافر بالقرآن إلى أرض العدو)) .
صحيح، أخرجه البخاري عن القعنبي، وأخرجه مسلم عن يحيى بن يحيى، كلاهما عن مالك.
২- এবং এই সনদে আস-সাকালি বলেছেন: আবু নাসর আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসা শ্রুতলিপি হিসেবে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে আবদুস সামাদ আল-হাশেমি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুসআব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মালিক থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুভূমিতে কুরআন নিয়ে সফর করতে নিষেধ করেছেন।
সহীহ; বুখারী এটি আল-কা’নাবি থেকে এবং মুসলিম এটি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই মালিক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
3- وأخبرنا الإمام فخر الدين أبو الحسن علي بن أبي العباس البخاري، قراءةً عليه وأنا حاضر أسمع، قال: أنا أبو حفص عمر بن
⦗ص: 36⦘ محمد بن معمر بن طبرزذ البغدادي، قراءةً عليه ونحن نسمع، قال: أنا أبو القاسم إسماعيل بن أحمد بن عمر السمرقندي الحافظ، قال: أنا أبو محمد عبد الله بن محمد بن عبد الله بن المجمع الخطيب، قال: أنا أبو حفص عمر بن إبراهيم المقرئ الكتاني، قال: ثنا أبو القاسم عبد الله بن محمد بن عبد العزيز البغوي، قال: ثنا أبو خيثمة زهير بن حرب، قال: ثنا وكيع، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال:
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله لا يقبض العلم انتزاعاً ينتزعه من الناس، ولكن يقبض العلماء حتى إذا لم يبقى عالماً اتخذ الناس رؤوساً جهالاً، فسئلوا فأفتوا بغير علم، فضلوا وأضلوا))
هذا حديثٌ صحيح، انفرد به مسلم، فرواه في ((صحيحه)) ، عن أبي خيثمة زهير بن حرب، فوقع لنا موافقةً له، ولله الحمد والمنية.
৩- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম ফখরুদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আবিল আব্বাস আল-বুখারী, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি উপস্থিত থেকে তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবনে
⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ মুহাম্মদ ইবনে মুয়াম্মার ইবনে তাবারজাদ আল-বাগদাদী, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমরা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু কাসিম ইসমাইল ইবনে আহমদ ইবনে উমর আস-সামারকান্দী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুজাম্মি আল-খাতিব; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবনে ইবরাহিম আল-মুজরি আল-কাত্তানী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাবী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ জুহাইর ইবনে হারব; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন অকী, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের অন্তর থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞান উঠিয়ে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের উঠিয়ে নেওয়ার (মৃত্যুর) মাধ্যমে জ্ঞান উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।))
এটি একটি সহীহ হাদিস, ইমাম মুসলিম এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে আবু খাইসামাহ জুহাইর ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেছেন। এর ফলে আমাদের এই বর্ণনাটি তাঁর (ইমাম মুসলিমের) বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (মুওয়াফাকাহ) হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
4- وأخبرنا علي بن أحمد السعدي، قراءةً عليه وأنا محضر، في الثالثة، في سنة تسع وثمانين وستمئة، قال: أنا أبو حفص عمر بن محمد بن معمر الدارقزي، قال: أنا أبو القاسم إسماعيل بن أحمد الحافظ، قال: أنا علي بن أحمد بن محمد البندار، وعبد الله بن محمد بن هزارمرد الصريفيني، قالا: أنا محمد بن عبد الرحمن بن العباس الذهبي، قال: ثنا عبد الله بن محمد البغوي، قال: ثنا
⦗ص: 37⦘ محمد بن حسان السمتي، قال: ثنا محمد بن الحجاج اللخمي، عن مجالد، عن الشعبي، عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما قال:
قدم وفد عبد القيس على رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((أيكم يعرف القس بن ساعدة الإيادي؟)) ، قالوا: كلنا يا رسول الله نعرفه، قال صلى الله عليه وسلم: ((فما فعل؟)) ، قالوا: هلك، قال: ((فما أنساه بعكاظ على جمل أحمر، وهو يقول: أيها الناس اجتمعوا واستمعوا وعوا: من عاش مات، ومن مات فات، وكل ما هو آت آت، إن في السماء لخبراً، وإن في الأرض لعبراً، مهادٌ موضوعٌ، وسقف مرفوع، ونجومٌ تمور، وبحارٌ لا تغور، أقسم قسٌ قسماً حقاً، لئن كان في الأمر رضاً ليكونن سخطاً، إن لله لديناً هو أحب إليه من دينكم الذي أنتم عليه، ما لي أرى الناس يذهبون ولا يرجعون؟ أرضوا بالمقام فأقاموا؟ أم تركوا فناموا)) ، ثم قال صلى الله عليه وسلم: ((أيكم يروي شعره)) .
فأنشدوه:
في الذاهبين الأولين
… من القرون لنا بصائر
لما رأيت موارداً
… للموت ليس لها مصادر
ورأيت قومي نحوها
… يسعى الأصاغر والأكابر
لا يرجع الماضي إلي
… ولا من الباقين غابر
أيقنت أني لا محالة
… حيث صار القوم صائر
৪- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন আহমাদ আস-সাদি, তাঁর উপস্থিতিতে আমার কাছে পাঠ করা হয়েছে, তৃতীয় দফায়, ছয়শ ঊননব্বই হিজরি সালে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মা'মার আদ-দারাকযি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু কাসিম ইসমাইল বিন আহমাদ আল-হাফিজ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-বান্দার এবং আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হাযারমারদ আস-সারিফিনি। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আব্বাস আয-যাহাবি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ মুহাম্মদ বিন হাসসান আস-সামতি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হাজ্জাজ আল-লাখমি, মুজালিদ থেকে, তিনি আশ-শাবি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন:
আবদ আল-কায়স গোত্রের প্রতিনিধিদল রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন: ((তোমাদের মধ্যে কুস বিন সায়িদা আল-ইয়াদিকে কে চেনো?))। তারা বলল: হে আল্লাহর রসুল, আমরা সকলেই তাকে চিনি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((তার কী হয়েছে (সে এখন কোথায়)?))। তারা বলল: সে মারা গেছে। তিনি বললেন: ((উকাজ মেলায় লাল উটের ওপর আরোহিত অবস্থায় তাকে যা বলতে শুনেছিলাম তা আমি ভুলিনি। সে বলছিল: হে লোকসকল! একত্রিত হও, শ্রবণ করো এবং অনুধাবন করো: যে জীবিত আছে সে মারা যাবে, আর যে মারা গেছে সে গত হয়ে গেছে; আর যা কিছু আসার তা অবশ্যই আসবে। নিশ্চয়ই আসমানে সংবাদ রয়েছে এবং জমিনে রয়েছে শিক্ষা। বিছানো শয্যা, সুউচ্চ ছাদ, চলমান নক্ষত্ররাজি এবং শুকিয়ে না যাওয়া সমুদ্র। কুস একটি সত্য শপথ করছে, যদি কোনো বিষয়ে সন্তুষ্টি থাকে তবে তাতে অসন্তুষ্টিও থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট এমন এক দ্বীন রয়েছে যা তোমাদের বর্তমান দ্বীনের চেয়ে তাঁর নিকট অধিক প্রিয়। আমার কী হলো যে আমি দেখছি মানুষ চলে যাচ্ছে কিন্তু আর ফিরে আসছে না? তারা কি সেই স্থানে থাকতে পছন্দ করেছে বলে সেখানে অবস্থান করছে? নাকি তাদের সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তারা ঘুমিয়ে পড়েছে?))। এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((তোমাদের মধ্যে কে তার কবিতা বর্ণনা করতে পারবে?))।
অতঃপর তারা তা আবৃত্তি করল:
অতীত হয়ে যাওয়া পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর মাঝে
… আমাদের জন্য রয়েছে বিশেষ শিক্ষা।
যখন আমি মৃত্যুর এমন সব ঘাটের দেখা পেলাম
… যেখান থেকে ফিরে আসার কোনো পথ নেই।
এবং দেখলাম আমার স্বজাতির ছোট-বড় সবাই
… সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে।
অতীত আর আমার কাছে ফিরে আসে না
… আর অবশিষ্টদের মাঝেও কেউ চিরকাল থাকবে না।
আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, নিঃসন্দেহে
… জাতি যেখানে গিয়ে পৌঁছেছে, আমাকেও সেখানে পৌঁছাতে হবে।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
ولد شيخنا ابن البخاري في آخر سنة خمس وتسعين وخمسمئة، وسمع من ابن طبرزذ، والكندي، وحنبل وابن الزنف وخلقٌ بـ ((دمشق)) و ((بغداد)) و ((مصر)) و ((حلب)) .
وأجاز له أبو المكارم اللبان، وابن الجوزي، وابن المعطوش وأبو سعد الصفار، والصيدلاني، والخشوعي، وخلائق.
حضرت عليه في سنة تسع وثمانين وستمئة، وأنا في السنة الثالثة الجزء الأول من ((فوائد الصقلي)) ، وجزءٌ من ((فوائد ابن السمرقندي)) ، وكتاب ((حياة الأنبياء في قبورهم)) للبيهقي، وغير ذلك.
ومات رحمه الله في ربيع الآخر سنة تسعين وستمئة، ودفن بقاسيون.
আমাদের শায়খ ইবনুল বুখারী ৫৯৫ হিজরীর শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবনু তাবারযাদ, আল-কিন্দী, হাম্বল, ইবনুয যানাফ এবং দামেস্ক, বাগদাদ, মিসর ও আলেপ্পোর বহুসংখ্যক মনীষীর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
আবুল মাকারিম আল-লাব্বান, ইবনুল জাওযী, ইবনুল মাতুশ, আবু সাদ আস-সাফফার, আস-সাইদালানী, আল-খশুঈ এবং বহু আলিম তাঁকে ইজাযত প্রদান করেছেন।
আমি ৬৮৯ হিজরীতে তাঁর মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলাম যখন আমি তৃতীয় বর্ষে (তিন বছর বয়সে) ছিলাম। আমি সেখানে ‘ফাওয়াইদ আস-সাকালী’-এর প্রথম অংশ, ‘ফাওয়াইদ ইবনুস সামারকান্দি’-এর একটি অংশ, বায়হাকীর ‘হায়াতুল আম্বিয়া ফি কুবুরিহিম’ গ্রন্থ এবং আরও অন্যান্য কিতাব পাঠ শ্রবণ করেছি।
তিনি ৬৯০ হিজরীর রবিউল আখির মাসে ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—এবং তাঁকে কাসিয়ুনে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الشيخ الثاني يوسف بن يعقوب بن المجاور الشيباني5- أخبرنا الشيخ الجليل المسند الرحلة، نجم الدين أبو الفتح يوسف بن يعقوب بن المجاور الشيباني، قراءةً عليه وأنا حاضر أسمع، في ثاني شعبان المكرم، من سنة تسع وثمانين وستمئة، قال:
أنا الإمام العلامة أبو اليمن زيد بن الحسن بن زيد الكندي قراءةً عليه ونحن نسمع، قال: أنا أبو منصور عبد الرحمن بن محمد بن عبد الواحد القزاز الشيباني، قال: أنا الحافظ الخطيب أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت البغدادي، قال: أنا أبو عمر عبد الواحد بن محمد بن عبد الله بن مهدي، قال: ثنا القاضي أبو عبد الله الحسين بن إسماعيل المحاملي إملاءً، قال: نبأ أبو موسى محمد بن المثنى، قال: ثنا ابن عيينة، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة رضي الله عنها قالت: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم لما جاء إلى مكة دخلها من أعلاها وخرج من أسفلها)) .
⦗ص: 40⦘صحيح متفق عليه، أخرجه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي في كتبهم، عن أبي موسى محمد بن المثنى بن عبيد بن قيس البصري الزمن، فوقع لنا موافقةً عاليةً لهم.
দ্বিতীয় শাইখ ইউসুফ বিন ইয়াকুব বিন আল-মুজাওয়ির আল-শাইবানী৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান শাইখ, মুসনিদ, বিশ্বভ্রমণকারী নাজমুদ্দীন আবুল ফাতহ ইউসুফ বিন ইয়াকুব বিন আল-মুজাওয়ির আল-শাইবানী, তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম, ৬৯৯ হিজরী সালের সম্মানিত শাবান মাসের দুই তারিখে। তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আল্লামা আবুল ইয়ামন যায়েদ বিন আল-হাসান বিন যায়েদ আল-কিন্দি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমরা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-কাযযায আল-শাইবানী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ খতিব আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-বাগদাদী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাহদী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলী শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে উইয়ায়না, হিশাম বিন উরওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আসলেন, তিনি এর উচ্চভূমি দিয়ে প্রবেশ করলেন এবং এর নিম্নভূমি দিয়ে বের হলেন।))
⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘হাদীসটি সহীহ এবং মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)। ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসাঈ তাঁদের কিতাবসমূহে আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না বিন উবাইদ বিন কাইস আল-বাসরী আল-যামান-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে হাদীসটি তাঁদের সাথে আমাদের জন্য এক উচ্চ পর্যায়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ (মুওয়াফাকাত আলিয়া) সনদে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
6- وبه قال الخطيب: أنا محمد بن أحمد بن رزق، قال: ثنا محمد بن يحيى بن عمر بن علي بن حرب إملاءً، قال: ثنا أبو جدي علي بن حرب الطائي، قال: ثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن سالم، عن أبيه رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((لا حسد إلا في اثنتين: رجلٌ آتاه الله القرآن فهو يقوم به آناء الليل وآناء النهار، ورجلٌ أتاه الله مالاً فهو ينفقه آناء الليل وآناء النهار)) .
هذا حديث صحيح متفق على صحته من حديث سفيان بن عيينة الهلالي، عن محمد بن شهاب الزهري.
⦗ص: 41⦘أخرجه البخاري في التوحيد من ((صحيحه)) ، عن علي.
وأخرجه مسلم في الصلاة من ((صحيحه)) ، عن أبي بكر وزهير وعمرو الناقد.
وأخرجه النسائي في فضائل القرآن من ((سننه)) عن قتيبة.
وأخرجه ابن ماجه في ((الزهد)) ، عن يحيى بن حكيم المقوم، ومحمد بن عبد الله بن يزيد، كلهم عن سفيان بن عيينة، فوقع لنا بدلاً عالياً لهم.
৬- এবং তাঁর মাধ্যমে আল-খতিব বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিজক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন ওমর বিন আলী বিন হারব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার প্রপিতামহ আলী বিন হারব আত-তাঈ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ, আয-যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কেবল দুটি বিষয়ে ঈর্ষা করা বৈধ: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআনের জ্ঞান দান করেছেন, আর সে রাত-দিন তা নিয়ে ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকে; এবং অন্য এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, আর সে রাত-দিন তা (সৎপথে) ব্যয় করে।"
এটি একটি সহীহ হাদিস, সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ আল-হিলালী থেকে মুহাম্মদ বিন শিহাব আয-যুহরীর বর্ণনায় এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ইমাম বুখারী এটি তাঁর "সহীহ" গ্রন্থের তাওহীদ অধ্যায়ে আলীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মুসলিম এটি তাঁর "সহীহ" গ্রন্থের সালাত অধ্যায়ে আবু বকর, যুহাইর এবং আমর আন-নাকিদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম নাসাঈ এটি তাঁর "সুনান" গ্রন্থের ফাযায়িলুল কুরআন অধ্যায়ে কুতাইবাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং ইবনে মাজাহ এটি "যুহদ" গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন হাকিম আল-মুকাউওয়িম এবং মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সবাই সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি তাঁদের বিপরীতে আমাদের নিকট একটি উচ্চ পর্যায়ের "বাদাল" (বিকল্প উচ্চ সনদ) হিসেবে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
7- وبه قال الخطيب: أنا أبو الحسن أحمد بن محمد بن أحمد بن الصلت الأهوازي، قال: ثنا محمد بن مخلد العطار، قال: ثنا أبو بكر العطار قال: ثنا أبو بكر أحمد بن عبد الرحمن المروزي قال: سمعت بشراً -يعني ابن الحارث الحافي- رحمة الله عليه يقول: (إن الجوع يصفي الفؤاد، ويميت الهوى، ويورث العلم الدقيق) .
৭- এর মাধ্যমেই আল-খতিব বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আস-সালত আল-আহওয়াজি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-আত্তার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন আবদুর রহমান আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন: আমি বিশরকে—অর্থাৎ ইবনুল হারিস আল-হাফিকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)—বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই ক্ষুধা অন্তরকে স্বচ্ছ করে, প্রবৃত্তি নিস্তেজ করে এবং সূক্ষ্ম জ্ঞান দান করে।)
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
8- قال: وسمعت بشراً يقول: (طوبى لمن ترك شهوةً حاضرةً، لموعد غائب لم يره) .
৮- তিনি বলেন: এবং আমি বিশরকে বলতে শুনেছি: (সেই ব্যক্তির জন্য শুভ সংবাদ, যে ব্যক্তি একটি অদৃশ্য প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে—যা সে দেখেনি—বর্তমান প্রবৃত্তিকে ত্যাগ করে) ।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
9- وبه قال: أنشدني محمد بن الحسن بن أحمد الأهوازي، قال: أنشدنا القاضي أبو أحمد محمد بن محمد بن مكي الجرجاني لنفسه:
إذا المرء لم يحسن مع الناس عشرةً
… وكان بجهل منه بالمال معجبا
ولم تره يقضي الحقوق فإنه
… حقيقٌ بأن يقلى وأن يتجنبا
ولد شيخنا هذا ابن المجاور في سنة إحدى وستمئة، سمع أباه، والكندي، وابن مندويه وجماعة، وتفرد بأشياء، وسمع منه الحفاظ، حضرت عليه في الثالثة جزء فيه ((المستجاد في تاريخ بغداد)) بقراءة الحافظ المزي، وأجاز لي مروياته.
وتوفي في ذي العقدة، سنة تسعين وستمئة، رحمة الله تعالى عليه.
৯- এবং তিনি সেই সূত্রেই বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ আল-আহওয়াজি আমাকে কবিতা পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: বিচারক আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মক্কি আল-জুরজানি স্বরচিত কবিতা আমাদের পাঠ করে শুনিয়েছেন:
মানুষ যখন লোকসমাজে সুন্দর আচরণ করে না
… এবং অজ্ঞতাবশত নিজের ধন-সম্পদ নিয়ে আত্মঅহংকারে মত্ত থাকে
আর তাকে হকসমূহ আদায় করতে দেখা যায় না, তবে সে
… এর যোগ্য যে তাকে ঘৃণা করা হবে এবং বর্জন করা হবে
আমাদের এই শায়খ ইবনুল মুজাউয়ির ৬০১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতা, আল-কিন্দি, ইবনে মান্দুওয়াইহ এবং একদল আলিমের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বেশ কিছু বিষয়ে একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন এবং হাফেজগণ তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আমি তাঁর নিকট তৃতীয় অধিবেশনে হাফেজ আল-মিজ্জির পাঠের মাধ্যমে 'আল-মুস্তাজাদ ফি তারিখি বাগদাদ' সম্বলিত একটি জুজ (পুস্তিকা) শ্রবণ করেছি এবং তিনি আমাকে তাঁর বর্ণিত সকল রিওয়ায়াতের অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন।
এবং তিনি ৬৯০ হিজরি সনের জিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الشيخ الثالث أبو الفداء إسماعيل بن عبد الرحمن المعروف بابن المنادي10- أخبرنا الشيخ الجليل المسند، أبو الفداء إسماعيل بن عبد الرحمن بن عمرو الفراء المعروف بابن المنادي، وأبو الفضل أحمد بن هبة الله بن أحمد بن محمد بن عساكر قراءةً عليهما وأنا أسمع، في سنة خمس وتسعين وستمئة، قالا:
أنا أبو عبد الله الحسين بن المبارك بن محمد بن يحيى بن الزبيدي قراءةً عليه ونحن نسمع، قال: أنا أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي، قال: أنا أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد بن المظفر الداوودي، قال: أنا أبو محمد بن عبد الله بن أحمد بن حمويه السرخسي، قال: أنا أبو عبد الله محمد بن يوسف بن مطر الفربري، قال: ثنا الحافظ أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، قال: ثنا مكي بن إبراهيم، قال: ثنا يزيد بن أبي عبيد، عن سلمة بن الأكوع رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((من يقل علي ما لم أقل فليتبوأ مقعده من النار)) .
⦗ص: 44⦘انفرد به البخاري، فرواه في العلم من ((صحيحه)) كما أخرجناه، عن مكي بن إبراهيم، وهو معدود من الثلاثيات)) .
তৃতীয় শায়খ আবুল ফিদা ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান, যিনি ইবনুল মুনাদি নামে পরিচিত১০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান শায়খ, মুসনিদ আবুল ফিদা ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান বিন আমর আল-ফাররা, যিনি ইবনুল মুনাদি নামে পরিচিত, এবং আবুল ফজল আহমদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আসাকির; তাঁদের সামনে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম ৬৯৫ হিজরি সনে। তাঁরা উভয়ে বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-মুবারক বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া ইবনুল জুবাইদি; তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আওয়াল বিন ঈসা বিন শুআইব আস-সিজজি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফফর আদ-দাউদি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হামুওয়াইহ আস-সারখাসি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মাতার আল-ফারাবরি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাক্কি বিন ইব্রাহিম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন আবি উবাইদ, সালামা বিন আল-আকওয়া (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার ওপর এমন কিছু আরোপ করবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ইমাম বুখারি এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর "সহিহ" গ্রন্থের ইলম (জ্ঞান) অধ্যায়ে এটি মাক্কি বিন ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনিভাবে আমরা উদ্ধৃত করেছি। এটি "সুলাসিয়্যাত" (তিন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট উচ্চ সনদ)-এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
11- وبه قال البخاري: حدثنا مكي، عن يزيد بن أبي عبيد، عن سلمة رضي الله عنه قال: ((كنا نصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم المغرب إذا توارت بالحجاب)) .
وأخرجه مسلم، والترمذي عن قتيبة، عن حاتم بن إسماعيل، وأخرجه أبو داود بن عمرو بن علي، عن صفوان بن عيسى، كلاهما عن يزيد به.
ولد شيخنا هذا ابن المنادي في سنة عشر وستمئة، وروى الكثير عن ابن قدامة، وابن راجح، وابن البن، والقزويني وجماعة، وكان كثير التلاوة، حسن التواضع، سمع منه عدة من الحفاظ، سمعت منه ((صحيح البخاري)) .
ومات في جمادى الآخرة، سنة سبعمائة، بقاسيون.
১১- এবং এর মাধ্যমে ইমাম বুখারি বলেছেন: মাক্কি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে, তিনি সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ((আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম যখন সূর্য পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ত))।
আর এটি ইমাম মুসলিম এবং তিরমিজি কুতায়বাহ থেকে, তিনি হাতিম ইবনে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আমর ইবনে আলি থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে ঈসা থেকে; তারা উভয়ই ইয়াজিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
আমাদের এই শাইখ ইবনুল মুনাদি ছয়শত দশ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবনে কুদামা, ইবনে রাজিহ, ইবনুল বান্ন, কাজউইনি এবং একটি জামাত বা দলের কাছ থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি অত্যধিক তিলাওয়াতকারী ও অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। বেশ কয়েকজন হাফেজ তার থেকে হাদিস শুনেছেন এবং আমি তার নিকট থেকে "সহিহ বুখারি" শুনেছি।
তিনি সাতশত হিজরি সালের জুমাদাল আখিরা মাসে কাসিউনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الشيخ الرابع أبو حفص عمر بن عبد المنعم القواس12- أخبرنا الشيخ الجليل المسند المعمر، مسند الشام ناصر الدين أبو حفص عمر بن عبد المنعم بن عمر بن غدير بن القواس الطائي، قراءةً عليه وأنا أسمع، في جمادى الآخرة، من سنة سبع وتسعين وستمئة، قال:
أنا قاضي القضاة جمال الدين أبو القاسم عبد الصمد بن محمد بن أبي الفضل الأنصاري المعروف بابن الحرستاني قراءةً عليه وأنا حاضر في الرابعة، في سنة تسع وستمئة، قال: أنا جمال الإسلام أبو الحسن علي بن المسلم بن محمد السلمي، في سنة ثمان وعشرين وخمسمئة، قال: أنا أبو نصر الحسين بن محمد بن طلاب الخطيب، قال: أنا أبو الحسين محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن جميع الغساني سنة أربع وتسعين وثلاثمئة، قال: ثنا محمد بن الحسن أبو بكر البغدادي بالرملة، قال: ثنا محمد بن حسان الأزرق، قال: ثنا وكيع،
⦗ص: 46⦘ قال: ثنا هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((نعم الإدام الخل)) .
صحيح أخرجه مسلم في ((صحيحه)) . والترمذي في ((جامعه)) ، وابن ماجه في ((سننه)) ، من حديث سليمان بن بلال، فوقع لنا عالياً.
চতুর্থ শাইখ আবু হাফস উমর বিন আব্দুল মুনইম আল-কাওয়াস১২- মহিমান্বিত শাইখ, দীর্ঘজীবী মুসনিদ, শামের মুসনিদ নাসিরুদ্দিন আবু হাফস উমর বিন আব্দুল মুনইম বিন উমর বিন গাদির বিন আল-কাওয়াস আত-তাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল আর আমি তা শুনছিলাম—৬৯৭ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে। তিনি বলেন:
কাযিউল কুদাত (প্রধান বিচারপতি) জামালুদ্দিন আবু আল-কাসিম আব্দুল সামাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি আল-ফজল আল-আনসারী, যিনি ইবনুল হারাসতানী নামে পরিচিত, তাঁর নিকট ৬০৯ হিজরীতে আমার চতুর্থ বর্ষে উপস্থিত থাকাকালীন পাঠের মাধ্যমে তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: জামালুল ইসলাম আবু আল-হাসান আলী বিন আল-মুসলিম বিন মুহাম্মদ আস-সুলামী ৫২৮ হিজরীতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু নাসর আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন তুল্লাব আল-খতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জামি‘ আল-গাসসানী ৩৯৪ হিজরীতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আবু বকর আল-বাগদাদী রামলা শহরে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন হাসসান আল-আজরাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ওয়াকী‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,
⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ তিনি বলেন: হিশাম বিন উরওয়াহ তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সিরকা কতই না চমৎকার অনুষঙ্গ (তরকারি)।"
এটি সহীহ। ইমাম মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে, তিরমিযী তাঁর "জামে" গ্রন্থে এবং ইবনে মাজাহ তাঁর "সুনান" গ্রন্থে সুলাইমান বিন বিলালের হাদীস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চ সনদে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
13- وبه قال ابن جميع: حدثنا أبو علي محمد بن سعيد الحافظ بـ ((الرقة)) ، قال: ثنا أبو عمر عبد الحميد بن محمد بن المستام قال: سألت أبا عبد الرحمن عبد الله بن محمد فقلت: حدثني حديث مالك، فقال: خرجت حاجاً، فأتيت المدينة، فأتيت مالك بن أنس، فقلت له: يا أبا عبد الله إني خرجت أريد الحج، فاختلف علينا العلماء، فمنهم من يقول: أفرد، فقال مالك: حدثني عبد الرحمن بن القاسم عن أبيه، عن عائشة رضي الله عنها قالت: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم أفرد بالحج.
وأنبأنيه عالياً أبو الحسن علي بن البخاري، قال: أنا أبو حفص ابن طبرزذ، قال: أنا أبو القاسم ابن الحصين، قال: أنا أبو طالب بن غيلان، قال: أنا أبو بكر الشافعي، قال: حدثني إسحاق، قال: ثنا القعنبي، عن مالك به.
هذا حديث صحيح، أخرجه الترمذي وابن ماجه، عن أبي مصعب، وأخرجه أبو داود عن القعنبي، كلاهما عن مالك،
⦗ص: 47⦘ فوافقناهم بعلو.
১৩- আর তাঁর মাধ্যমে ইবন জামী‘ বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফিয আবু আলী মুহাম্মদ ইবন সাঈদ আর-রাক্কায়, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর আব্দুল হামীদ ইবন মুহাম্মদ ইবনুল মুস্তাম, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: আমাকে মালিকের হাদীসটি বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: আমি হাজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং মদীনায় আসলাম। এরপর আমি মালিক ইবন আনাসের নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ! আমি হাজ্জ করার সংকল্প নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু আলিমগণ এ বিষয়ে আমাদের মাঝে ভিন্নমত পোষণ করেছেন; তাঁদের কেউ কেউ বলেন: ‘ইফরাদ’ করো। তখন মালিক বললেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাজ্জে ইফরাদ করেছেন।
আর আমাকে উচ্চ সনদে এটি সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনুল বুখারী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস ইবন তাবারযাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব ইবন গায়লান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কা‘নাবী, তিনি মালিক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
এটি একটি সহীহ হাদীস। তিরমিযী এবং ইবন মাজাহ এটি আবু মুসআব থেকে বর্ণনা করেছেন, আর আবু দাউদ এটি আল-কা‘নাবী থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।
⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ ফলে আমরা উচ্চ সনদে তাঁদের সাথে একমত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
14- وبالإسناد الأول إلى ابن جميع، قال: ثنا محمد بن عثمان بـ ((صيدا)) ، قال: أنا العباس بن الوليد، قال أخبرني أبي، قال: ثنا عبد الوهاب بن هشام بن الغاز، عن أبيه هشام بن الغاز، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من كان وصلةً لأخيه المسلم إلى ذي سلطان في منفعة بر، أو تيسير عسر، أعين على إجازة الصراط يوم دحض الأقدام)) .
14- এবং ইবনে জামি'-এর নিকট পৌঁছানো প্রথম সনদের মাধ্যমে তিনি বলেন: সাঈদায় মুহাম্মাদ বিন উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহহাব বিন হিশাম বিন আল-গায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা হিশাম বিন আল-গায থেকে, তিনি নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের কোনো কল্যাণকর প্রয়োজনে কিংবা কোনো কাঠিন্য সহজ করার উদ্দেশ্যে কোনো ক্ষমতাশীলের নিকট মাধ্যম হবে, পা পিছলে যাওয়ার দিনে তাকে সিরাত পার হতে সাহায্য করা হবে।"
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
15- وبه قال: ثنا محمد بن يوسف، قال: سمعت جعفر الخلدي يقول: سمعت الجنيد يقول: سمعت السري السقطي يقول: (أشتهي أن لا أموت في بلدي، أفزع أن لا تقبلني الأرض
⦗ص: 48⦘ فأفتضح) .
ولد شيخنا أبو حفص بن القواس في سنة خمس وستمئة، ظناً، حضر في سنة تسع، في الرابعة على ابن الحرستاني، وفي سنة عشر على الشيخ أبي حمزة بن أبي نعمة، وسمع من جماعة، وأجاز له الكندي وابن ملاعب وخلائق، وسمع منه الحفاظ، وتفرد في زمانه بأشياء.
سمعت منه الجزء الأول من ((معجم ابن جميع)) ، وتوفي في ذي القعدة سنة ثمان وتسعين وستمئة رحمه الله.
১৫- আর তাঁর মাধ্যমে বর্ণিত: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জাফর আল-খুলদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জুনাইদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সারী আস-সাকাতীকে বলতে শুনেছি: (আমি আকাঙ্ক্ষা করি যেন আমার নিজ শহরে আমার মৃত্যু না হয়; আমার ভয় হয় যে, মাটি আমাকে গ্রহণ করবে না
⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ ফলে আমি অপদস্থ হয়ে পড়ব)।
আমাদের শাইখ আবু হাফস বিন আল-কাওয়াস আনুমানিক ৬০৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চার বছর বয়সে ৬০৯ হিজরি সনে ইবনে আল-হারাসতানির নিকট উপস্থিত হন এবং ৬১০ হিজরি সনে শাইখ আবু হামজাহ বিন আবু নি'মাহর নিকট উপস্থিত হন। তিনি একদল আলেমের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং আল-কিন্দি, ইবনে মুলায়িব ও বহু সংখ্যক আলেম তাঁকে অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন। হাফেযগণ তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তিনি তাঁর সময়ে কিছু বিষয়ে অনন্য ছিলেন।
আমি তাঁর নিকট ‘মু’জাম ইবনে জামি’-এর প্রথম খণ্ড শ্রবণ করেছি। তিনি ৬৯৮ হিজরি সনের যিলকদ মাসে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الشيخ الخامس كمال الدين عبد الله بن محمد بن نصر الرصافي16- أخبرنا الشيخ المسند كمال الدين أبو محمد عبد الله بن محمد بن نصر بن ناصر بن قوام الرصافي، وأبو الفضل أحمد بن هبة الله بن أحمد بن عساكر، وأبو الفداء إسماعيل بن عبد الرحمن بن عمرو الفراء، قراءةً عليهم وأنا أسمع، في سنة خمس وتسعين وستمائة، قالوا: أنا أبو عبد الله الحسين بن المبارك بن الزبيدي، قال: أنا أبو الوقت عبد الأول بن عيسى الصوفي، قال: أنا عبد الرحمن بن محمد الداوودي، قال: أنا عبد الله بن أحمد الحموي، قال: أنا أبو عبد الله محمد بن يوسف الفربري، قال: ثنا الحافظ أبو عبد الله البخاري، قال: ثنا مكي بن إبراهيم، قال: ثنا يزيد بن أبي عبيد، عن سلمة رضي الله عنه قال:
أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلاً من أسلم أن أذن في الناس، أن من كان
⦗ص: 50⦘ أكل، فليصم بقية يومه، ومن لم يكن أكل فليصم، فإن اليوم يوم عاشوراء.
ورواه مسلم في الصوم من ((صحيحه)) عن قتيبة، عن حاتم، ورواه النسائي فيه، عن محمد بن المثنى، عن يحيى القطان، كلاهما، عن يزيد به.
পঞ্চম শায়খ কামালুদ্দীন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন নাসর আর-রুসাফী১৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মুসনিদ শায়খ কামালুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন নাসর বিন নাসির বিন কাওয়াম আর-রুসাফী, এবং আবুল ফজল আহমদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ বিন আসাকির, এবং আবুল ফিদা ইসমাঈল বিন আবদুর রহমান বিন আমর আল-ফাররা; তাদের সামনে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম, ছয়শত পঁচানব্বই হিজরি সনে। তারা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-মুবারক বিন আজ-জুবায়দী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়াক্ত আবদুল আওয়াল বিন ঈসা আস-সূফী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আদ-দাউদী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-হামুয়ী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-ফারাবরী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাফেজ আবু আবদুল্লাহ আল-বুখারী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মক্কী বিন ইবরাহিম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন আবু উবায়েদ, সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যেন সে মানুষের মধ্যে এই ঘোষণা দেয় যে, যে ব্যক্তি
⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ খেয়ে ফেলেছে সে যেন দিনের অবশিষ্ট অংশ রোজা পালন করে, আর যে ব্যক্তি এখনও খায়নি সে যেন রোজা রাখে। কারণ আজকের দিনটি হলো আশুরার দিন।
ইমাম মুসলিম তার 'সহীহ' গ্রন্থের রোজা অধ্যায়ে এটি কুতাইবাহ থেকে, হাতেম সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এবং ইমাম নাসাঈ এটি মুহাম্মাদ বিন আল-মুসান্না থেকে, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই ইয়াযিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
17- وبه عن سلمة رضي الله عنه قال: كنا جلوساً عند النبي صلى الله عليه وسلم إذ أتي بجنازة، فقالوا: صل عليها، فقال: ((هل عليه دينٌ؟)) ، قالوا: لا، قال: ((فهل ترك شيئاً؟)) ، قالوا: لا، فصلى عليه، ثم أتي بجنازة أخرى، فقالوا: يا رسول الله صل عليها، قال: ((هل عليه دينٌ؟)) ، قيل: نعم، قال: ((فهل ترك شيئاً؟)) قالوا: ثلاثة دنانير، فصلى عليها، ثم أتي بالثالثة، فقالوا: صل عليها، قال: ((وهل ترك شيئاً؟)) قالوا: لا، قال: ((فهل عليه دينٌ؟)) ، قالوا: ثلاثة دنانير، قال: ((صلوا على صاحبكم)) .
قال أبو قتادة: صل عليه يا رسول الله وعلي دينه، فصلى عليه.
أخرجه هكذا في ((الحوالة)) ، ورواه النسائي في ((اليوم والليلة)) بمعناه عن قتيبة، عن حاتم بن إسماعيل، عن يزيد به.
১৭- এবং তাঁর মাধ্যমেই সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় একটি জানাযা আনা হলো। তারা বললেন: এর জানাযা পড়ান। তিনি বললেন: ((তার কি কোনো ঋণ আছে?)) তারা বললেন: না। তিনি বললেন: ((সে কি কিছু সম্পদ রেখে গেছে?)) তারা বললেন: না। অতঃপর তিনি তার জানাযা পড়ালেন। এরপর অন্য একটি জানাযা আনা হলো, তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এর জানাযা পড়ান। তিনি বললেন: ((তার কি কোনো ঋণ আছে?)) বলা হলো: হ্যাঁ। তিনি বললেন: ((সে কি কিছু রেখে গেছে?)) তারা বললেন: তিন দিনার। অতঃপর তিনি তার জানাযা পড়ালেন। এরপর তৃতীয় আরেকটি জানাযা আনা হলো, তারা বললেন: এর জানাযা পড়ান। তিনি বললেন: ((সে কি কিছু রেখে গেছে?)) তারা বললেন: না। তিনি বললেন: ((তার কি কোনো ঋণ আছে?)) তারা বললেন: তিন দিনার। তিনি বললেন: ((তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়ো))।
আবু কাতাদাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার জানাযা পড়ান, তার ঋণের দায়িত্ব আমার। অতঃপর তিনি তার জানাযা পড়ালেন।
এটি এভাবেই ‘আল-হাওয়ালাহ’ (হস্তান্তর) অধ্যায়ে উদ্ধৃত হয়েছে এবং ইমাম নাসাঈ ‘আল-ইয়াউম ওয়াল-লাইলাহ’ গ্রন্থে কুতাইবাহ থেকে, তিনি হাতেম বিন ইসমাঈল থেকে, তিনি ইয়াযীদ থেকে এর সমার্থবোধক বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
18- وبه قال البخاري: ثنا المكي بن إبراهيم، قال: ثنا يزيد، عن سلمة رضي الله عنه قال: بايعت النبي صلى الله عليه وسلم ثم عدلت إلى ظل شجرة، فلما خف الناس، قال: ((يا ابن الأكوع ألا تبايع؟)) ، قلت: قد بايعت يا رسول الله، قال: ((وأيضاً)) ، فبايعته الثانية، فقلت له: يا أبا مسلم، على أي شيء كنتم تبايعون يومئذ؟ قال: على الموت.
ورواه الترمذي والنسائي عن قتيبة، عن حاتم بن إسماعيل، عن يزيد به.
১৮- এবং ইমাম বুখারীও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন: মাক্কী ইবন ইবরাহীম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম, অতঃপর আমি একটি গাছের ছায়ার দিকে সরে গেলাম। যখন লোকজনের ভিড় কমে গেল, তখন তিনি বললেন: "হে ইবনুল আকওয়া, তুমি কি বায়আত গ্রহণ করবে না?" আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো বায়আত গ্রহণ করেছি।" তিনি বললেন: "পুনরায় করো।" ফলে আমি দ্বিতীয়বার তাঁর নিকট বায়আত হলাম। (রাবী ইয়াযীদ বলেন) আমি তাঁকে বললাম: "হে আবু মুসলিম, সেদিন আপনারা কিসের ওপর বায়আত হয়েছিলেন?" তিনি বললেন: "মৃত্যুর ওপর।"
আর ইমাম তিরমিযী ও ইমাম নাসাঈ হাদীসটি কুতায়বাহ থেকে, তিনি হাতিম ইবন ইসমাঈল থেকে, তিনি ইয়াযীদ থেকে উক্ত সূত্রেই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
19- وبه قال: ثنا خلاد بن يحيى، قال: ثنا عيسى بن طهمان، قال: سمعت أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: نزلت آية الحجاب في زينب بنت جحش، فأطعم عليها يومئذ خبزاً أو لحماً، وكانت تفخر على نساء النبي صلى الله عليه وسلم ، وكانت تقول: (إن الله قد أنكحني في السماء) .
أخرجه هكذا في التوحيد من ((صحيحه)) ، وهو أحد ثلاثياته.
ولد شيخنا هذا ابن قوام، في سنة خمس عشرة وستمئة، وسمع القزويني وابن الزبيدي، ووالده وغيرهم، سمعت منه ((صحيح البخاري)) ، وسمع منه البرزالي، والذهبي وخلق، مات ساجداً في ذي القعدة، سنة خمس وتسعين وستمئة رحمه الله تعالى.
১৯- এবং তাঁর সূত্রে বর্ণিত: আমাদের নিকট খাল্লাদ বিন ইয়াহইয়া হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ঈসা বিন তাহমান হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: যয়নব বিনতে জাহাশের ব্যাপারে পর্দার আয়াত নাযিল হয়েছিল, তাই সেদিন তিনি (নবীজী) রুটি বা গোশত খাইয়েছিলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যান্য স্ত্রীদের ওপর গর্ব করতেন এবং বলতেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানে আমার বিবাহ দিয়েছেন)।
তিনি একে এভাবে তাঁর 'সহীহ'-এর তাওহীদ অধ্যায়ে উদ্ধৃত করেছেন, এবং এটি তাঁর 'সুলাসিয়াত'-এর (তিনজন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট হাদীস) অন্যতম।
আমাদের এই শায়খ ইবনুল ক্বাওয়াম ৬১৫ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি আল-কাযওয়িনি, ইবনুয যুবায়দী, তাঁর পিতা ও অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন। আমি তাঁর নিকট 'সহীহুল বুখারী' শ্রবণ করেছি। তাঁর নিকট থেকে আল-বারযালি, আয-যাহাবী এবং এক বিরাট সৃষ্টি (বহু লোক) হাদীস শুনেছেন। তিনি ৬৯৫ হিজরী সনের যুল-ক্বাদাহ মাসে সাজদাবনত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
الشيخ السادس تاج الدين صالح بن تامر الجعبري20- أخبرنا الشيخ الجليل المسند، تاج الدين أبو محمد صالح بن تامر بن حامد الجعبري الشافعي، قراءةً عليه وأنا أسمع، في سنة ست وتسعين وستمئة، قال: أنا الحافظ صدر الدين أبو علي الحسن بن محمد بن محمد بن محمد البكري قراءةً عليه وأنا أسمع، قال: أنا الشيخ رضي الدين أبو الحسن المؤيد بن محمد بن علي الطوسي سماعاً عليه.
ح. وقرئ على الشيخ المسند شرف الدين أبي الفضل أحمد بن هبة الله بن عساكر وأنا أسمع، أخبرك المؤيد بن محمد الطوسي إجازةً، قال: أنا فقيه الحرم أبو عبد الله محمد بن الفضل بن أحمد الصاعدي الفراوي، قال: أنا أبو الحسين عبد الغفار بن محمد الفارسي، قال: أنا أبو أحمد محمد بن عيسى بن عمرويه الجلودي، قال: أنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان الفقيه، قال: ثنا مسلم بن الحجاج
⦗ص: 53⦘ القشيري، قال: ثنا أحمد بن عبد الله بن يونس، قال: ثنا عاصم بن محمد، عن أبيه قال: قال عبد الله رضي الله عنه: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا يزال هذا الأمر في قريش، ما بقي من الناس اثنان)) .
ষষ্ঠ শায়খ তাজউদ্দীন সালিহ ইবনে তামির আল-জা’বারি২০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান শায়খ, আল-মুসনিদ, তাজউদ্দীন আবু মুহাম্মদ সালিহ ইবনে তামির ইবনে হামিদ আল-জা’বারি আশ-শাফিয়ি, ৬৬৯ হিজরি সনে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: হাফিজ সদরুদ্দীন আবু আলি আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: শায়খ রাদিউদ্দীন আবুল হাসান আল-মুয়াইয়িদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আত-তুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা আমি তাঁর নিকট সরাসরি শ্রবণ করেছি।
(হা)। এবং আল-মুসনিদ শায়খ শরাফুদ্দীন আবুল ফজল আহমদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকিরের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, আল-মুয়াইয়িদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তুসি আপনাকে ইজাজাত সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: ফকিহুল হারাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আল-ফজল ইবনে আহমদ আস-সায়িদি আল-ফারাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন আব্দুল গাফফার ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আমরওয়াইহ আল-জালুদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ
⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ আল-কুশায়রি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আসিম ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "এই (খিলাফতের) বিষয়টি কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে দুইজন লোকও অবশিষ্ট থাকবে।"
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
21- وبه قال: ثنا قتيبة بن سعيد، قال: ثنا جرير، عن حصين، عن جابر بن سمرة رضي الله عنهما قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن هذا الأمر لا ينقضي حتى يمضي فيهم اثنا عشر خليفةً)) قال: ثم تكلم بكلام خفي علي، فقلت لأبي: ما قال؟ قال: ((كلهم من قريش)) .
ولد شيخنا هذا الجعبري في حدود سنة ثلاثين، وقيل: في سنة ثمان وعشرين وستمئة، وسمع من يوسف بن خليل الحافظ، ومحمد بن أبي القاسم القزويني، وأبي علي البكري وجماعة.
وكان إماماً، خيراً متواضعاً، حكم ببعلبك، ومات في الحكم بدمشق، ولي الخطابة، وأفتى ودرس ونظم، وتوفي في ربيع الأول سنة ست وسبعمائة.
২১- এবং তিনি উক্ত সনদে বলেছেন: কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই এই শাসন ব্যবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত শেষ হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে বারোজন খলিফা অতিবাহিত হবেন।" বর্ণনাকারী বলেন: অতপর তিনি নিচু স্বরে কিছু কথা বললেন যা আমার নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেল। তখন আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: তিনি কী বললেন? তিনি বললেন: "তারা সকলেই কুরাইশ বংশের হবে।"
আমাদের এই শায়খ আল-জাবারী আনুমানিক ছয়শ ত্রিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন, আর বলা হয়ে থাকে যে, ছয়শ আটাশ হিজরি সনে। তিনি ইউসুফ ইবনে খলীল আল-হাফিয, মুহাম্মদ ইবনে আবিল কাসিম আল-কাযভিনী, আবু আলী আল-বাকরী এবং একদল আলেমের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন।
তিনি ছিলেন একজন ইমাম, নেককার ও বিনয়ী। তিনি বালবাক-এ বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দামেস্কে বিচারকার্য পরিচালনাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন, পাঠদান করেছেন এবং কাব্য রচনা করেছেন। তিনি সাতশ ছয় হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
الشيخ السابع أبو العباس أحمد بن أبي طالب الحجار المعروف بابن الشحنة22- أخبرنا الشيخ الجليل المسند المعمر الرحلة، شهاب الدين أبو العباس أحمد بن أبي طالب بن أبي النعم نعمة بن الحسن بن علي بن بيان الحجار المعروف بابن الشحنة قراءةً عليه وأنا أسمع، في سنة ست وعشرين وسبعمائة بجميع ((صحيح البخاري)) قال: أنا الشيخ سراج الدين أبو عبد الله الحسين بن أبي بكر المبارك بن محمد بن يحيى بن الزبيدي سماعاً عليه في سنة ثلاثين وستمئة، وأبو الحسن محمد بن أحمد بن عمر بن القطيعي، وعلي بن أبي بكر بن روزبة القلانسي إجازةً، قالوا:
أنا أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي، قال: أنا أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد بن المظفر الداوودي، قال: أنا أبو محمد عبد الله بن أحمد بن حمويه السرخسي، قال: أنا أبو عبد الله محمد بن يوسف بن مطر الفربري، قال: ثنا الحافظ أبو عبد الله البخاري، قال: ثنا محمد بن عبد الله الأنصاري، قال: ثنا حميد، عن
⦗ص: 55⦘ أنس رضي الله عنه قال: إن ابنة النضر لطمت جاريةً فكسرت ثنيتها، فأتوا النبي صلى الله عليه وسلم، فأمر بالقصاص.
সপ্তম শায়খ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবু তালিব আল-হাজ্জার, যিনি ইবনে আশ-শুহনা নামে পরিচিত২২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান শায়খ, মুসনিদ, দীর্ঘজীবী পর্যটক, শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবু তালিব ইবনে আবিন নু'ম নি'মাহ ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে বায়ান আল-হাজ্জার, যিনি ইবনে আশ-শুহনা নামে পরিচিত; তাঁর সম্মুখে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করেছি সাতশত ছাব্বিশ হিজরি সনে সম্পূর্ণ সহীহ বুখারী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ সিরাজুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আবু বকর আল-মুবারক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আয-যুবাইদী; ছয়শত ত্রিশ হিজরি সনে তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে। এবং আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উমর ইবনুল ক্বাতীয়ী ও আলী ইবনে আবু বকর ইবনে রুযবাহ আল-কালানিসী ইজাযাহর (অনুমতি) মাধ্যমে। তাঁরা বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুআইব আস-সিজযী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফ্ফর আদ-দাউদী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হামুওয়াইহ আস-সারখাসি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার আল-ফিরাবরী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ,
⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নজর-এর কন্যা এক দাসীকে চড় মারলেন, ফলে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে গেল। তখন তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন, আর তিনি কিসাস (সম-প্রতিশোধ) গ্রহণের নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
23- وبه قال: ثنا الأنصاري، قال: ثنا حميد، عن أنس رضي الله عنه قال: إن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((كتاب الله القصاص)) .
২৩- এবং একই সনদে তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর কিতাব হলো কিসাস (প্রতিশোধ)।"
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
24- وبه قال: ثنا الأنصاري، قال: ثنا حميد، أن أنساً رضي الله عنه حدثهم أن الربيع -وهي ابنة النضر- كسرت ثنية جارية، فطلبوا الأرش، وطلبوا العفو، فأبوا، فأتوا النبي صلى الله عليه وسلم فأمرهم بالقصاص، فقال أنس بن النضر: أتكسر ثنية الربيع يا رسول الله؟ لا والذي بعثك بالحق لا تكسر ثنيتها. فقال: ((يا أنس كتاب الله القصاص)) ، فرضي القوم وعفوا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن من عباد الله، من لو أقسم على الله لأبره)) .
سئل شيخنا هذا ابن الشحنة في رجب سنة ست وسبعمئة عن مولده فقال: لي الآن اثنان وثمانون أو ثلاث وثمانون سنة، وتفرد بـ ((صحيح البخاري)) ، و ((جزء أبي الجهم)) و ((مسند عمر النجاد)) وغير ذلك، وأجاز له ابن بهروز، والأنجب،
⦗ص: 56⦘ وابن روزبة والقطيعي وجماعة، وسمع ابن الزبيدي وابن اللتي.
سمعت منه ((صحيح البخاري)) بكماله، وسمع منه المزي والبرزالي والذهبي وأممٌ لا يحصون، مات يوم الاثنين، خامس عشر من صفر، سنة ثلاثين وسبعمئة، ودفن بقاسيون رحمة الله تعالى عليه.
২৪- এবং তার মাধ্যমে তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুমাইদ বর্ণনা করেছেন যে, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাবী—যিনি আন-নাদরের কন্যা—এক মেয়ের সামনের দাঁত ভেঙে ফেলেন। অতঃপর তারা ক্ষতিপূরণ (আরশ) দাবি করল এবং ক্ষমা প্রার্থনা করল, কিন্তু তারা (আহত পক্ষ) তা অস্বীকার করল। এরপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং তিনি তাদের কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণের নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনে নাদর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! রাবীর সামনের দাঁত কি ভেঙে ফেলা হবে? না, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তার সামনের দাঁত ভাঙা হবে না। তখন তিনি (রাসূল) বললেন: "হে আনাস, আল্লাহর কিতাবের বিধান হলো কিসাস।" এরপর সেই কওম সন্তুষ্ট হলো এবং ক্ষমা করে দিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা যদি আল্লাহর নামে শপথ করে, তবে আল্লাহ তা অবশ্যই পূর্ণ করে দেন।"
আমাদের এই শাইখ ইবনে আশ-শুহনাকে ৭০৬ হিজরীর রজব মাসে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: বর্তমানে আমার বয়স বিরাশি বা তিরাশি বছর। তিনি 'সহীহ বুখারী', 'জুযউ আবি আল-জাহম', 'মুসনাদ উমর আন-নাজ্জাদ' এবং অন্যান্য কিতাব বর্ণনার ক্ষেত্রে একক উচ্চতর সনদ (তাফাররুদ) অর্জন করেন। তাঁকে ইবনে বাহরুজ, আল-আনজাব,
⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ ইবনে রুজবাহ, আল-কাতিয়ী এবং এক জামাত আলেম ইজাযত প্রদান করেছেন। তিনি ইবনে আয-যুবাইদী এবং ইবনে আল-লাত্তীর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
আমি তাঁর নিকট থেকে পূর্ণ 'সহীহ বুখারী' শুনেছি। এছাড়া তাঁর নিকট থেকে আল-মিযযী, আল-বিরযালী, আয-যাহাবী এবং অসংখ্য মানুষ শ্রবণ করেছেন। তিনি ৭৩০ হিজরীর ১৫ই সফর, সোমবার ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে কাসিউন পাহাড়ে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
الشيخ الثامن أحمد بن هبة الله بن عساكر25- أخبرنا الشيخ الجليل مسند الوقت، رحلة الشام، شرف الدين أبو الفضل أحمد بن هبة الله بن تاج الأمناء أبي الفضل أحمد بن أبي عبد الله محمد بن أبي محمد الحسن بن أبي الحسين هبة الله بن عبد الله بن الحسين بن عساكر الدمشقي قراءةً عليه وأنا أسمع، في صفر، من سنة سبع وتسعين وستمئة بجامع دمشق قال: أنا الشيخ رضي الدين أبو الحسن المؤيد بن محمد الطوسي إذناً، قال: أنا هبة الله بن سهل السيدي سماعاً، قال: أنا أبو عثمان سعيد بن أبي عمرو محمد البحيري، قال: أنا أبو علي زاهر بن أحمد السرخسي، قال: أنا أبو إسحاق إبراهيم بن عبد الصمد الهاشمي، قال: أنا أبو مصعب الزهري، قال: ثنا مالك، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
⦗ص: 62⦘((إن أحدكم إذا مات، عرض عليه مقعده بالغداة والعشي، فإذا كان من أهل الجنة، فمن أهل الجنة، وإن كان من أهل النار فمن أهل النار، يقال: هذا مقعدك حتى يبعثك الله يوم القيامة)) .
অষ্টম শায়খ আহমদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আসাকির২৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান শায়খ, সমকালের মুসনিদ, শামের শ্রেষ্ঠ পর্যটক, শরফ উদ্দিন আবুল ফজল আহমদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন তাজুল উমানা আবুল ফজল আহমদ বিন আবি আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আবি আল-হুসাইন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আসাকির আদ-দিমাশকি; তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম, ৬৯৭ হিজরি সনের সফর মাসে দামেস্কের জামে মসজিদে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ রাদি উদ্দিন আবুল হাসান আল-মুয়াইয়াদ বিন মুহাম্মদ আত-তুসি অনুমতির মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন সাহল আস-সাইয়িদি শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান সাঈদ বিন আবি আমর মুহাম্মদ আল-বুহাইরি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী জহির বিন আহমদ আস-সারখাসি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আব্দুল সামাদ আল-হাশেমি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসআব আজ-জুহরি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘((তোমাদের কেউ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন সকাল ও সন্ধ্যায় তার সামনে তার অবস্থানস্থলটি পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে জান্নাতবাসীদের স্থানসমূহের মধ্য থেকে (স্থান দেখানো হয়), আর যদি সে জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে জাহান্নামবাসীদের স্থানসমূহের মধ্য থেকে (স্থান দেখানো হয়)। তাকে বলা হয়: এটিই তোমার ঠিকানা, যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাকে কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করেন।))।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
26- وبه قال: ثنا مالك أنه بلغه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((نهى عن بيع وسلف)) .
২৬- এবং সেই একই সনদে তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্রয়-বিক্রয় এবং ঋণ প্রদান (একত্রে করতে) নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশইয়াতু ইবনি ইমামিস সাখরাহ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
27- وأخبرنا أبو الفضل بن تاج الأمناء الشافعي قراءةً عليه وأنا أسمع عن المؤيد بن محمد الطوسي، قال: أنا أبو عبد الله محمد بن الفضل الصاعدي، قال: أنا أبو الحسين بن محمد الفارسي، قال: أنا محمد بن عيسى أبو أحمد، قال: أنا إبراهيم بن محمد الزاهد، قال: ثنا الحافظ أبو الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري، قال: ثنا شيبان بن فروخ، قال: ثنا جرير بن حازم، قال: ثنا الحسن، قال: ثنا عبد الرحمن بن سمرة رضي الله عنه قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يا عبد الرحمن بن سمرة، لا تسأل الإمارة، فإنك إن أعطيتها عن مسألة وكلت إليها، وإن أعطيتها من غير مسألة أعنت عليها)) .
২৭- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল ইবনে তাজুল উমানা আশ-শাফিঈ, তাঁর নিকট পাঠকালে আমি তা শুনছিলাম, তিনি আল-মুআইয়িদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তুসি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আস-সাঈদী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আবু আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আজ-জাহিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাফেজ আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নিশাপুরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শাইবান ইবনে ফাররুখ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জারির ইবনে হাযিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু), তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন: ((হে আবদুর রহমান ইবনে সামুরা, তুমি নেতৃত্ব প্রার্থনা করো না। কারণ, যদি চাওয়ার কারণে তোমাকে তা প্রদান করা হয়, তবে তোমাকে সেটির জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে; আর যদি চাওয়া ছাড়াই তোমাকে তা প্রদান করা হয়, তবে সে ক্ষেত্রে তোমাকে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সাহায্য করা হবে।))।