(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: -)
الانتصار في حجية قول الصحابة الأخيار القسم: أصول الفقه
الكتاب: الانتصار في حجية قول الصحابة الأخيار
المؤلف: د. عبد العزيز بن ريس الريس
الناشر: مركز سطور للبحث العلمي، دار الإمام مسلم للنشر والتوزيع- المدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1440 هـ
عدد الصفحات: 56
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 30 رمضان 1442
বরণীয় সাহাবীগণের (الصحابة) বক্তব্যের প্রামাণিকতা (حجية) প্রসঙ্গে বিজয় বিষয়: উসুলুল ফিকহ
বই: আল-ইন্তিসার ফি হুজজিয়াতি (حجية) কাওলি আস-সাহাবাহ (الصحابة) আল-আখইয়ার (বরণীয় সাহাবীগণের বক্তব্যের প্রামাণিকতা প্রসঙ্গে বিজয়)
লেখক: ড. আব্দুল আজিজ বিন রাইস আর-রাইস
প্রকাশক: মারকাজ সুতুর লিল-বাহাসিল ইলমি (গবেষণা কেন্দ্র)، দারুল ইমাম মুসলিম প্রকাশনী ও বিতরণ- মদীনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪০ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ রমজান ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
سلام عليكم ورحمة الله وبركاته
أما بعد:
فهذا تفريغ
(1) لدرس «حجية قول الصحابي»، الذي ألقيتُه ليلة التاسع والعشرين من الشهر الخامس لعام ثمان وثلاثين وأربعمائة وألف من هجرة النبي - صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم -.
وانطلاقًا من أهمية هذا الدليل الذي يحتاج إليه كثيرًا، قمت بمراجعة المادة المفرَّغة وتنقيحها وتوثيقها لتخرج في هذه الرسالة المكونة من مقدمة، وتمهيدٍ، وثلاثة فصول، وخاتمة وسميتها «الانتصار لحجية قول الصحابة الأخيار»، وهي على النحو التالي:
- المقدمة: وهي التي بين يديك الآن.
- التمهيد: تعريف الصحابي ومذهبه، أشياء أخرى.
- الفصل الأول: وهو خمسة مباحث:
- المبحث الأول: تحرير محل النزاع في حجية مذهب الصحابي.
- المبحث الثاني: أنواع مذهب الصحابي من حيث الجملة.
- المبحث الثالث: مقدمتان هامتان.
--------------------------------------------
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
এটি হলো «সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণ্যতা (حجية قول الصحابي)» শীর্ষক পাঠের একটি লিখিত অনুলিপি
(1), যা আমি নবী — তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক — এর হিজরতের চৌদ্দশ আটত্রিশ হিজরি সনের পঞ্চম মাসের ঊনত্রিশতম রাতে প্রদান করেছিলাম।
এই দলিল (دليل) এর গুরুত্বের কারণে, যার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত অধিক, আমি এই অনুলিপিটি পুনঃনিরীক্ষণ, পরিমার্জন এবং তথ্যসূত্র যাচাই (توثيق) করেছি যাতে এটি ভূমিকা, উপক্রমণিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার সম্বলিত এই পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়। আমি এর নাম দিয়েছি «আল-ইতিসার লি-হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার», যা নিম্নরূপ:
- ভূমিকা: যা বর্তমানে আপনার সম্মুখে রয়েছে।
- উপক্রমণিকা: সাহাবীর সংজ্ঞা, তাঁর অভিমত (مذهب) এবং অন্যান্য বিষয়াবলি।
- প্রথম অধ্যায়: যা পাঁচটি পরিচ্ছেদ (مباحث) সম্বলিত:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবীর অভিমতের (مذهب الصحابي) প্রামাণ্যতার (حجية) ক্ষেত্রে মতবিরোধের মূলবিন্দু চিহ্নিতকরণ।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে সাহাবীর অভিমতের (مذهب الصحابي) প্রকারভেদসমূহ (أنواع)।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৬)
- المبحث الرابع: الأدلة على حجية قول الصحابي.
- المبحث الخامس: أقوى ما يتمسك به القائلون بعدم حجية قول الصحابي.
- الفصل الثاني: مذهب الصحابي وأقسامه، وفيه ثلاثة مباحث:
- المبحث الأول: ابتداء الصحابي لحكمٍ شرعيٍّ.
- المبحث الثاني: تفسير الصحابي للنص، إما بتخصيص، أو تقييد، أو تبيين.
- المبحث الثالث: العمل عند اختلاف الصحابة.
- الفصل الثالث: تنبيهات مهمة، وفيه ثلاثة مباحث:
- المبحث الأول: الرد على من قال: قول الصحابي حجةٌ في تفسير النص،
لا في ابتداء الحكم.
- المبحث الثاني: تحقيق مناط مذهب الصحابي.
- المبحث الثالث: الذين ضيَّعوا الاحتجاج بمذهب الصحابي.
- الخاتمة.
والله أسأل أن يتقبل هذه الرسالة، وأن يجعلها نافعةً لخلقه، مقبولةً عنده سبحانه.
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
د. عبد العزيز بن ريس الريس
المشرف على موقع الإسلام العتيق
18/ 4/ 1439 هـ
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণিকতার (حجية) স্বপক্ষে দলিলসমূহ।
- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকারকারীদের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী যুক্তিগুলো।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: সাহাবীর মাজহাব (مذهب) এবং এর প্রকারভেদ; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবী কর্তৃক শরয়ী বিধানের (حكم شرعي) সূচনা।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নস-এর (نص) ব্যাখ্যায় সাহাবীর অবস্থান—তা হতে পারে নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) মাধ্যমে, অথবা শর্তযুক্ত করার (تقييد) মাধ্যমে, কিংবা স্পষ্টীকরণের (تبيين) মাধ্যমে।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবীদের মতভিন্নতার (اختلاف) ক্ষেত্রে আমল বা করণীয়।
- তৃতীয় অধ্যায়: গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবীর বক্তব্য নস-এর (نص) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে দলিল (حجة) হলেও বিধান (حكم) সূচনার ক্ষেত্রে নয়—এই মত পোষণকারীদের খণ্ডন (الرد)।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবীর মাজহাবের (مذهب) প্রয়োগস্থল যাচাই (تحقيق مناط)।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যারা সাহাবীর মাজহাব (مذهب) দ্বারা দলিল গ্রহণ (احتجاج) বর্জন করেছেন।
- উপসংহার।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই গবেষণাপত্রটি কবুল করেন এবং একে তাঁর সৃষ্টির জন্য উপকারী ও তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبولة) করে তোলেন।
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
ড. আব্দুল আজিজ বিন রাইস আল-রাইস
আল-ইসলাম আল-আতিক ওয়েবসাইটের তত্ত্বাবধায়ক
১৮/ ০৪/ ১৪৩৯ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيدينبغي أن يعلم أن الصحابي: هو كل من لقي النبي صلى الله عليه وسلم مؤمنًا به، ومات على ذلك، وإن تخلل ذلك رِدَّةٌ
(1).
والدليل على أنه يشترط في الصحابي أن يلقى النبي صلى الله عليه وسلم مؤمنًا به دليلان:
الدليل الأول: أخرج مسلم من حديث أبي هريرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا» قَالُوا: أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ؟ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: «أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ»
(2).
فالفرق بين أصحابه وإخوانه: أنه لقي أصحابه، ولم يلق إخوانه. فإذن كلاهما مؤمنٌ به، إلا أن أصحابه لقوه، دون إخوانه، وعليه فالصحابي من لقي النبي صلى الله عليه وسلم مؤمنًا به.
الدليل الثاني: إجماع أهل السنة الذي حكاه الإمام أحمد في «أصول السنة»
(3)، بل حكى الإمام أحمد أن من لقي النبي صلى الله عليه وسلم ولو ساعة، فهو صحابيٌّ، وما حكاه في «أصول السنة» الأصل أنه مجمعٌ عليه عند أهل السنة، وحكى مثل هذا الإمام علي
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা (تمهيد)এটি জানা থাকা আবশ্যক যে, সাহাবী (صحابي) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমান অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেই অবস্থার ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন, যদিও এর মাঝে ধর্মত্যাগ (ردة) ঘটে থাকে
(১)।
সাহাবী (صحابي) হওয়ার শর্ত হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ঈমান অবস্থায় সাক্ষাৎ করার যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তার সপক্ষে দুটি দলীল রয়েছে:
প্রথম দলীল: মুসলিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসে উদ্ধৃত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি আকাঙ্ক্ষা করি যে যদি আমরা আমাদের ভাইদের দেখতে পেতাম!» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন: «তোমরা হলে আমার সাহাবী (أصحابي), আর আমাদের ভাই তারা যারা এখনো আসেনি»
(২)।
সুতরাং তাঁর সাহাবী এবং তাঁর ভাইদের মধ্যে পার্থক্য হলো: তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, কিন্তু তাঁর ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ করেননি। অতএব উভয় পক্ষই তাঁর ওপর বিশ্বাসী (মুমিন), পার্থক্য শুধু এই যে, তাঁর সাহাবীরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন কিন্তু তাঁর ভাইয়েরা করেননি। সেই অনুযায়ী, সাহাবী (صحابي) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমান অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
দ্বিতীয় দলীল: আহলুস সুন্নাহর ঐকমত্য (إجماع), যা ইমাম আহমাদ ‘উসুলুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; বরং ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন যে, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সামান্য সময়ের জন্যও সাক্ষাৎ করেছেন, তিনিও একজন সাহাবী (صحابي)। আর ‘উসুলুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে তিনি যা বর্ণনা করেছেন, তা মূলত আহলুস সুন্নাহর নিকট সর্বসম্মত (مجمع عليه)। ইমাম আলীও অনুরুপ বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৮)
بن المديني ـ رحمه الله تعالى ـ في عقيدته التي رواها اللالكائي
(1).
إذا تبيَّن هذا، فستكون هذه الرسالة-بإذن الله- في بحث «حجية مذهب الصحابي»، وقد يعبَّر عنه بقولهم «حجية قول الصحابي»، والأمر سهل، إلا أن التعبير بـ «المذهب» أشمل؛ لأنه يدخل فيه القول والفعل والإقرار، ولعله اشتهر عند العلماء التعبير بقولهم: «قول الصحابي» من باب التغليب؛ لأن القول أكثر، والأمر في ذلك واسع.
* * *
--------------------------------------------
ইবনে আল-মাদিনী —আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— তাঁর আকিদাহ (عقيدة)-এ, যা আল-লালকাঈ বর্ণনা করেছেন
(1)।
যখন এটি স্পষ্ট হলো, তখন এই পুস্তিকাটি —আল্লাহর ইচ্ছায়— "সাহাবীর (صحابي) মাযহাব (مذهب)-এর প্রামাণ্যতা (حجية)" বিষয়ক গবেষণায় নিবদ্ধ হবে। কখনও একে "সাহাবীর (صحابي) বক্তব্য (قول)-এর প্রামাণ্যতা (حجية)" হিসেবেও ব্যক্ত করা হয়। বিষয়টি সহজসাধ্য, তবে "মাযহাব (مذهب)" শব্দটি ব্যবহার করাই অধিকতর ব্যাপক; কারণ এতে বক্তব্য (قول), কর্ম (فعل) এবং মৌনসম্মতি (إقرار) অন্তর্ভুক্ত হয়। সম্ভবত আলেমগণের নিকট "সাহাবীর (صحابي) বক্তব্য (قول)" পরিভাষাটি প্রাধান্যদানের (تغليب) ভিত্তিতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; কারণ বক্তব্যের প্রাচুর্যই বেশি, আর এই বিষয়টি বেশ প্রশস্ত।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل الأولوهو خمسة مباحث:
* المبحث الأول تحرير محل النزاع في حجية مذهب الصحابي
* المبحث الثاني أنواع مذهب الصحابي من حيث الجملة
* المبحث الثالث مقدمتان هامتان
* المبحث الرابع الأدلة على حجية قول الصحابي
* المبحث الخامس أقوى ما يتمسك به القائلون بعدم حجية قول الصحابي
প্রথম পরিচ্ছেদএটি পাঁচটি অনুচ্ছেদের (مباحث) সমন্বয়ে গঠিত:
* প্রথম অনুচ্ছেদ (المبحث الأول): সাহাবীর (صحابي) মাযহাব বা মতামতের প্রামাণিকতার (حجية) ক্ষেত্রে বিরোধপূর্ণ বিষয়ের স্বরূপ নির্ধারণ
* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المبحث الثاني): সামগ্রিক দিক থেকে সাহাবীর (صحابي) মাযহাবের প্রকারভেদ
* তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المبحث الثالث): দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
* চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المبحث الرابع): সাহাবীর (صحابي) বক্তব্যের প্রামাণিকতার (حجية) সপক্ষে দলিলসমূহ
* পঞ্চম অনুচ্ছেদ (المبحث الخامس): যারা সাহাবীর (صحابي) বক্তব্যের প্রামাণিকতাকে (حجية) অস্বীকার করেন, তাদের পেশকৃত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণাদি (الأدلة)
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الأول تحرير محل النزاع في حجية مذهب الصحابيوتحرير محل النزاع في حجية مذهب الصحابي في أمور أربعة:
الأمر الأول: ألا يخالف الصحابي نصا، فإذا خالف الصحابي نصا، فإن قوله مردودٌ، ذكر هذا شيخ الإسلام ابن تيمية في «مجموع الفتاوى»
(1)، وابن القيم في كتابه «إعلام الموقعين»
(2)، والعلائي في كتابه «إجمال الإصابة»
(3)، بل حكى الإمام الشافعي على ذلك الإجماع، حيث قال ـ رحمه الله تعالى ـ: «أجمع العلماء على أن من استبانت له سنة النبي صلى الله عليه وسلم، فليس له أن يدعها لقول أحد كائنا من كان»
(4).
الأمر الثاني: ألا يخالف الصحابي صحابيا آخر، فإذا خالف الصحابي صحابيا آخر، فليس قول أحدهم أولى من الآخر، إلا ما سيأتي في مبحث الخلفاء الراشدين ـ إن شاء الله ـ.
وعلى هذا إجماع أهل العلم، حكى الإجماع الآمدي
(5)، وشيخ الإسلام ابن تيمية كما في «مجموع الفتاوى»
(6)،، والعلائي في كتابه «إجمال الإصابة»
(7) وأصله ابن القيم في كتابه «إعلام الموقعين»
(8).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ সাহাবীর মাযহাবের প্রামাণিকতা বিষয়ে বিরোধপূর্ণ বিষয়ের বিশ্লেষণসাহাবীর মাযহাবের প্রামাণিকতা বিষয়ে বিরোধপূর্ণ বিষয়ের বিশ্লেষণ চারটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম বিষয়: সাহাবী যেন কোনো অকাট্য নসের (نص) বিরোধিতা না করেন। যদি সাহাবী কোনো অকাট্য নসের (نص) বিরোধিতা করেন, তবে তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود)। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি 'মাজমুউল ফাতাওয়া' গ্রন্থে, ইবনুল কায়্যিম তাঁর 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' গ্রন্থে এবং আল-আলাইয়ি তাঁর 'ইজমালুল ইসাবাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। বরং ইমাম শাফেয়ী এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— বলেছেন: "আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) সুস্পষ্ট হয়ে গেছে, অন্য কারও কথার কারণে তা বর্জন করা তার জন্য বৈধ নয়, তিনি যেই হোন না কেন।"
দ্বিতীয় বিষয়: সাহাবী যেন অন্য কোনো সাহাবীর বিরোধিতা না করেন। যদি একজন সাহাবী অন্য সাহাবীর বিরোধিতা করেন, তবে একজনের কথা অন্যজনের চেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য নয়; তবে খুলাফায়ে রাশেদীনের পরিচ্ছেদে যা আসবে—ইনশাআল্লাহ।
আর এর ওপর আহলে ইলমগণের ঐকমত্য (إجماع) রয়েছে। আল-আমিদী ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যেমনটি 'মাজমুউল ফাতাওয়া' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এবং আল-আলাইয়ি তাঁর 'ইজমালুল ইসাবাহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল কায়্যিম তাঁর 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' গ্রন্থে এর মূল ভিত্তি আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأمر الثالث: ألا يكون لقول الصحابي حكم الرفع، فقد يقول الصحابي قولا، أو يفعل فعلا، وله حكم الرفع، فما كان له حكم الرفع، فمثله حجةٌ؛ لأنه وَحْيٌ لا لأنه قول الصحابي، وقد بيَّن هذا الإمام ابن القيم ـ رحمه الله تعالى ـ في كتابه «إعلام الموقعين»
(1).
الأمر الرابع: ألا يكون قول الصحابي مهجورًا، بمعنى: أن يتابع الصحابيَ أهلُ العلم، فلو ذهب الصحابي إلى مذهب، وأجمع العلماء على عدم العمل بهذا القول، فإن هذا القول ليس حجة، ويجب أن يترك، بل لو أجمع العلماء على ترك حديث نبوي، فإنه لا يعمل بهذا الحديث؛ لأن هذا الإجماع إما يدل على ضعف هذا الحديث، أو على أن الحديث منسوخٌ، فقول الصحابي من باب أولى.
ومن أمثلة ذلك: ما روى البزار بإسناد صحيح، أن أبا طلحة الأنصاري رضي الله عنه أكل البرد، وهو صائم، وقال: ليس طعاما ولا شرابا
(2).
هذا الأثر وهو أن البرد لا يفسد صوم الصائم، قد أجمع العلماء على خلافه، حكى الإجماع ابن الصلاح في كتابه «شرح مشكل الوسيط»
(3)، والشاطبي في كتابه «الموافقات»
(4).
--------------------------------------------
তৃতীয় বিষয়: সাহাবীর বক্তব্যের ক্ষেত্রে 'মারফু হওয়ার বিধান' (حكم الرفع) যেন প্রযোজ্য না হয়। কেননা কোনো সাহাবী এমন কোনো কথা বলতে পারেন বা কাজ করতে পারেন যা 'মারফু হওয়ার বিধান' (حكم الرفع) রাখে। সুতরাং যা 'মারফু হওয়ার বিধান' (حكم الرفع) রাখে, তা দলিল বা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ তা ওহি বা ঐশী প্রত্যাদেশ হিসেবে বিবেচিত, কেবল সাহাবীর বক্তব্য হওয়ার কারণে নয়। ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন
(1).
চতুর্থ বিষয়: সাহাবীর বক্তব্যটি যেন পরিত্যক্ত (مهجور) না হয়; অর্থাৎ আলেমগণ যেন সেই সাহাবীর অনুসরণ করেন। যদি কোনো সাহাবী কোনো মত গ্রহণ করেন এবং উলামায়ে কেরাম সর্বসম্মতভাবে (إجماع) সেই মতের ওপর আমল না করার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেন, তবে সেই বক্তব্যটি দলিল বা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না এবং তা বর্জন করা আবশ্যক। এমনকি যদি আলেমগণ কোনো নববী হাদিস বর্জনের ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেন, তবে সেই হাদিসের ওপর আমল করা হয় না; কারণ এই ঐক্যমত (إجماع) হয় হাদিসটির দুর্বলতা (ضعف) নির্দেশ করে, অথবা হাদিসটি রহিত বা মানসুখ (منسوخ) হওয়ার প্রমাণ দেয়। সুতরাং সাহাবীর বক্তব্যের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য।
এর একটি উদাহরণ হলো: যা আল-বাত্তার সঠিক সনদে (إسناد صحيح) বর্ণনা করেছেন যে, আবু তালহা আল-আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রোজা অবস্থায় শিলাখণ্ড খেয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "এটি খাদ্যও নয় এবং পানীয়ও নয়"
(2).
এই বর্ণনাটি (أثر) যে শিলাখণ্ড রোজাদারের রোজা নষ্ট করে না—এর বিপরীতে উলামায়ে কেরাম ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন। ইবনুস সালাহ তাঁর 'শরহু মুশকিলিল ওয়াসিত' গ্রন্থে
(3) এবং শাতবি তাঁর 'আল-মুয়াফাকাত' গ্রন্থে
(4) এই ঐক্যমত (إجماع) উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فإذا أجمع العلماء على عدم العمل بمذهب الصحابي سواء كان قولا أو فعلا أو تقريرا، فإنه لا يعمل به على ما تقدَّم تقريره.
وبعد تحرير محل النزاع في حجية مذهب الصحابي يتضح: أن قول الصحابي حجة مطلقًا، فإذا تنازع العلماء في مسألة على قولين، وكان في أحد القولين قول الصحابة، فإن هذا القول يكون راجحًا؛ لأن الصحابي قد ذهب إلى هذا القول.
* * *
সুতরাং যখন সাহাবীর মতামত (مذهب الصحابي)—তা উক্তি (قول), কর্ম (فعل) বা মৌনসম্মতি (تقرير) যাই হোক না কেন—সেটির ওপর আমল না করার বিষয়ে আলেমগণ ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেন, তখন পূর্ববর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী তার ওপর আমল করা হবে না।
আর সাহাবীর মতামতের দলিলযোগ্যতা (حجية) নিয়ে বিরোধপূর্ণ বিষয়ের বিশ্লেষণের (تحرير محل النزاع) পর এটি স্পষ্ট হয় যে: সাহাবীর উক্তি (قول الصحابي) নিরঙ্কুশভাবে (مطلقا) দলিল (حجة)। ফলে, যদি আলেমগণ কোনো মাসআলায় দুটি মতের বিষয়ে মতভেদ করেন এবং সেই দুই মতের একটির পক্ষে সাহাবীদের উক্তি (قول الصحابة) বিদ্যমান থাকে, তবে সেই মতটিই প্রবলতর (راجح) হবে; কারণ সাহাবী সেই মতটিই গ্রহণ করেছিলেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثانيأنواع مذهب الصحابي من حيث الجملةإذا تبين هذا، فإن مذهب الصحابي من حيث الجملة نوعان:
النوع الأول: أن يكون قول الصحابي مشتهرا معروفًا، وذكر الإمام ابن القيم ـ رحمه الله تعالى ـ في كتابه «إعلام الموقعين»
(1) أنه إذا قال الصحابي قولا فاشتهر، فإن طائفةً ذهبت إلى أنه إجماعٌ، وأخرى قالت: إنه حجةٌ وليس إجماعًا، وذهبت شرذمة من الفقهاء المتكلمين والمتأخرين إلى أنه ليس إجماعا ولا حجة.
ثم ردَّ هذا الإمام ابن القيم ـ رحمه الله تعالى رحمة واسعة ـ، وسيأتي ما ذكره من الأدلة على حجية قول الصحابي في النوع الثاني، وهو دليل على أن النوع الأول حجةٌ من باب أولى.
النوع الثاني: ألا يشتهر قول الصحابي، أو لا يعلم هل اشتهر أم لا، فقرر الإمام ابن القيم أنه حجةٌ، قال: هذا قول أبي حنيفة ومالك وأحمد والشافعي في القديم والجديد
(2).
وقال بعد ذكر النقولات عن الشافعي: فهذا كلام الشافعي رحمه الله ورضي عنه- بنصه، ونحن نشهد باللَّه أنه لم يرجع عنه، بل كلامه في الجديد مطابق لهذا موافق له كما تقدم ذكر لفظه
(3).
لأن بعض أصحاب الشافعي خالفوا، وقالوا: ليس هذا قولا للشافعي في الجديد
(4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসাধারণভাবে সাহাবীর মতামতের (مذهب الصحابي) প্রকারভেদসমূহবিষয়টি যখন স্পষ্ট হলো, তখন সাধারণভাবে সাহাবীর মতামত (مذهب الصحابي) দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: সাহাবীর বক্তব্য প্রসিদ্ধ (مشتهر) ও পরিচিত হওয়া। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম —রহিমাহুল্লাহ তায়ালা— তাঁর গ্রন্থ 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন'-এ উল্লেখ করেছেন যে, যখন কোনো সাহাবী একটি কথা বলেন এবং সেটি প্রসিদ্ধি লাভ করে (اشتهر), তখন একদল আলিম মনে করেন এটি ঐক্যমত (إجماع)। অন্য একদল বলেন: এটি দলীল (حجة) কিন্তু ঐক্যমত (إجماع) নয়। ফুকাহা, মুতাকাল্লিমীন ও পরবর্তী যুগের এক ক্ষুদ্র দল মনে করেন এটি ঐক্যমত (إجماع) বা দলীল (حجة) কোনোটিই নয়।
অতঃপর ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম —রহিমাহুল্লাহ তায়ালা— এটি খণ্ডন করেছেন। দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণিকতার (حجية) স্বপক্ষে তিনি যেসব দলীল উল্লেখ করেছেন তা সামনে আসবে, যা প্রমাণ করে যে প্রথম প্রকারটি দলীল (حجة) হওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি অগ্রগণ্য।
দ্বিতীয় প্রকার: সাহাবীর বক্তব্য প্রসিদ্ধি লাভ না করা (لا يشتهر), অথবা সেটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে কি না তা জানা না থাকা। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এটি দলীল (حجة)। তিনি বলেন: এটি ইমাম আবু হানিফা, মালিক, আহমাদ এবং শাফিয়ীর প্রাচীন ও নতুন উভয় মত।
ইমাম শাফিয়ীর উদ্ধৃতিগুলো উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: এটিই ইমাম শাফিয়ীর —রহিমাহুল্লাহ— মূল বক্তব্য। আমরা আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি তা থেকে ফিরে আসেননি; বরং তাঁর নতুন মতের বক্তব্যও পূর্বোল্লিখিত শব্দের ন্যায় এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অভিন্ন।
কারণ শাফিয়ী মাযহাবের কোনো কোনো অনুসারী এর বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: ইমাম শাফিয়ীর নতুন মত অনুযায়ী এটি তাঁর বক্তব্য নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لكن العلائي في كتابه «إجمال الإصابة»
(1) ـ وهو من الشافعية ـ قرَّر أنه قول الشافعي في القديم والجديد.
وذكر البيهقي
(2) أن للشافعي كلاما يدل على قوله بحجية قول الصحابي في الجديد، فهو قوله في القديم والجديد، وذكر مثل هذا شيخ الإسلام ابن تيمية كما في «مجموع الفتاوى»
(3).
فإذن، هذا قول أئمة المذاهب الأربعة، وهو قول أبي عبيد القاسم بن سلام، وإسحاق بن راهويه
(4)، ثم ذكر الإمام ابن القيم رحمه الله ستة وأربعين دليلًا
(5) على حجية قول الصحابي، وأطال النفس في ذلك رحمه الله رحمة واسعة ـ.
وسأحاول في هذا الرسالة أن ألخص ما تيسَّر من الأمور المهمة التي أشار إليها ابن القيم رحمه الله؛ لأن أوسع وأحسن من بحث هذه المسألة هو الإمام ابن القيم رحمه الله في كتابه «إعلام الموقعين».
* * *
--------------------------------------------
কিন্তু আলায়ী তাঁর ‘ইজমালুল ইসাবাহ’
(১) গ্রন্থে—যিনি শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন—সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এটিই ইমাম শাফেয়ির প্রাচীন (قديم) এবং পরবর্তী (جديد) উভয় অভিমত।
আর বায়হাকি
(২) উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম শাফেয়ির এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে যা তাঁর পরবর্তী (جديد) মত অনুযায়ী সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণিকতার (حجية) স্বপক্ষে দলিল হিসেবে কাজ করে। সুতরাং এটিই তাঁর প্রাচীন (قديم) ও পরবর্তী (جديد) উভয় অভিমত। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহও ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’
(৩) গ্রন্থে অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন।
অতএব, এটিই চার মাজহাবের ইমামগণের অভিমত এবং এটি আবু উবায়েদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম ও ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ-এরও
(৪) অভিমত। অতঃপর ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণিকতার (حجية) বিষয়ে ছিচল্লিশটি দলিল
(৫) উল্লেখ করেছেন এবং এই বিষয়ে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন—আল্লাহ তাঁর ওপর প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।
আমি এই পুস্তিকাটিতে ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তা থেকে যতটুকু সম্ভব সংক্ষেপ করার চেষ্টা করব; কারণ এই মাসআলাটি নিয়ে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘ইলামুল মুয়াক্কিয়িন’ গ্রন্থে সবচেয়ে বিস্তৃত ও চমৎকার আলোচনা করেছেন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثالثمقدمتان هامتانوقبل أن أبدأ بذكر الأدلة على حجية قول الصحابي أقدِّم بمقدمتين هامتين للغاية، وهما - في ظني - مفتاح هذه المسألة:
المقدمة الأولى: ليس قول الصحابي حجة لذاته؛ فالصحابي في نفسه ليس معصومًا، بدليل أن الصحابة يختلفون على قولين، فإذن ليس قول الصحابي في نفسه حجة، وإنما هو حجة لما انضاف إليه، كما قاله الإمام ابن القيم رحمه الله
(1).
وبهذا يجاب على إشكال يردده الظاهرية وبعض المتكلمين ومن تأثر بهم من أهل السنة، يقولون: كيف يقال: إن قول الصحابي حجة، وهو ليس معصوما، وقد يخطئ؟
وجواب هذا الإشكال أن يقال: هذا صحيح، وهو ليس حجة في ذاته، وإنما حجة لما انضاف إليه؛ وذلك أنه بعبارة تقريبية من وجه: صورةٌ من صور نقل الإجماع، فالصحابي إذا قال قولا، ولم يخالف، فإن هذا إجماعٌ، فهو حجةٌ لما انضاف إليه وهو الإجماع.
المقدمة الثانية: قول الصحابي حجةٌ من باب الظن الغالب، وقد نصَّ على هذا ابن القيم في كتابه «إعلام الموقعين»
(2)؛ وذلك أن الإجماع الظني إجماع من باب الظن الغالب؛ لأن الإجماع نوعان: قطعي وظني، فما بني على نصٍّ ظاهر، كقوله تعالى: {أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ}، فهو إجماع قطعي، وما ليس كذلك فهو إجماع ظني، فالقول بحجية قول الصحابي هو من باب الظن الغالب.
* * *
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদদুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাসহাবির বক্তব্যের প্রামাণ্যতা (حجية) সম্পর্কিত দলীলসমূহ উল্লেখ করার পূর্বে আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ভূমিকা পেশ করছি, যা - আমার ধারণায় - এই মাসআলার চাবিকাঠি:
প্রথম ভূমিকা: সহাবির বক্তব্য স্বয়ং কোনো দলিল (حجة) নয়; কারণ সহাবি ব্যক্তিগতভাবে নিষ্পাপ (معصوم) নন। এর প্রমাণ হলো, সহাবিগণ কোনো বিষয়ে দুটি ভিন্ন মত পোষণ করেন। সুতরাং সহাবির বক্তব্য স্বতন্ত্রভাবে কোনো দলিল (حجة) নয়, বরং এটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয় এর সাথে অন্য কিছু যুক্ত হওয়ার কারণে, যেমনটি ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন
(1)।
এর মাধ্যমে জাহেরি মাযহাব অনুসারী, কিছু কালাম শাস্ত্রবিদ (متكلمين) এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত আহলে সুন্নাহর একদল লোক যে আপত্তির কথা বারবার বলেন, তার উত্তর দেওয়া যায়। তারা বলেন: কীভাবে বলা যায় যে সহাবির বক্তব্য দলিল (حجة), অথচ তিনি তো নিষ্পাপ (معصوم) নন এবং ভুল করতে পারেন?
এই আপত্তির উত্তর হলো: কথাটি সঠিক যে, তিনি স্বতন্ত্রভাবে দলিল (حجة) নন, বরং তাঁর বক্তব্য দলিল (حجة) হওয়ার কারণ হলো এর সাথে অন্য কিছু যুক্ত হওয়া। সহজভাবে বলতে গেলে: এটি ইজমা (إجماع) বর্ণনার একটি রূপ। কারণ কোনো সহাবি যখন কোনো কথা বলেন এবং তার কোনো বিরোধিতা না করা হয়, তবে তা ইজমা (إجماع) হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং এটি দলিল (حجة) হওয়ার কারণ হলো এর সাথে ইজমা (إجماع) যুক্ত হওয়া।
দ্বিতীয় ভূমিকা: সহাবির কথা দলিল (حجة) হওয়া হলো প্রবল ধারণার (الظن الغالب) পর্যায়ভুক্ত। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন’ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন
(2)। কারণ হলো, ধারণাপ্রসূত ইজমা (إجماع ظني) হলো প্রবল ধারণার (الظن الغالب) অন্তর্ভুক্ত। কেননা ইজমা (إجماع) দুই প্রকার: সুনিশ্চিত (قطعي) ও ধারণাপ্রসূত (ظني)। যা কোনো সুস্পষ্ট নসের (نص) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো}, তা হলো সুনিশ্চিত ইজমা (إجماع قطعي)। আর যা তেমন নয়, তা ধারণাপ্রসূত ইজমা (إجماع ظني)। সুতরাং সহাবির বক্তব্যের প্রামাণ্যতা (حجية) হলো প্রবল ধারণার (الظن الغالب) অন্তর্ভুক্ত।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الرابعالأدلة على حجية قول الصحابيبعد هاتين المقدمتين السابقتين فالأدلة على حجية قول الصحابي ما يلي:
الدليل الأول: كل دليل على حجية دليل الإجماع، فهو دليل على أن مذهب الصحابي حجة؛ وذلك أن الصحابي أو الصحابيين أو الثلاثة أو الأربعة
… إذا قالوا قولا، ولم يخالفوا، فإن هذا إجماعٌ، ولا يصح لأحد أن يقول: إن مثل هذا الإجماع لا يقبل، أو يقول ما شاع عند المتكلمين إن هذا إجماع سكوتي ثم يرده؛ وذلك أن مقتضى رد الإجماع السكوتي أنه لا إجماع؛ لأنه لا يوجد إجماع منطوق، بمعنى: أن كل عالم نطق بقول في هذه المسألة
(1).
بل لو أردت أن تثبت عن أهل بدر أنهم قالوا بوجوب الصلوات الخمس لما استطعت أن تثبت ذلك، فإذا لم تستطع ذلك في الصلوات الخمس، وفي مثل أهل بدر، فغيرها من المسائل من باب أولى، فالقول بأنه لا بد أن ينطق كل عالم، مقتضى هذا إسقاط دليل الإجماع، وقد ذكر هذا بمعناه ابن قدامة رحمه الله في كتابه «روضة الناظر»
(2).
إذن الدليل الأول: كل دليل يدل على حجية الإجماع يدل على حجية قول الصحابي، ومن ذلك: قوله تعالى: {وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا}.
إذا سئلت في مسألة يوجد فيها قولٌ للصحابة أو قولان أو ثلاثة أو أربعة: ما أعلى
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদসাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণিকতার (حجية) স্বপক্ষে দলিলসমূহপূর্বোক্ত দুটি ভূমিকার পর, সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণিকতার (حجية) স্বপক্ষে দলিলসমূহ নিম্নরূপ:
প্রথম দলিল: ইজমার (إجماع) প্রামাণিকতার (حجية) স্বপক্ষে যে সমস্ত দলিল রয়েছে, তা সাহাবীর মাজহাব (মতামত) যে একটি দলিল (حجة), তারই দলিল। কারণ, যখন একজন, দুইজন, তিনজন বা চারজন সাহাবী
… কোনো কথা বলেন এবং তাঁদের বিরোধিতা করা না হয়, তবে এটি একটি ইজমা (إجماع)। আর কারো জন্য এমন ইজমাকে (إجماع) অগ্রহণযোগ্য বলা অথবা ইলমে কালাম শাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) নিকট প্রচলিত পরিভাষা অনুযায়ী একে মৌন ইজমা (إجماع سكوتي) বলে প্রত্যাখ্যান করা সঠিক নয়। কেননা, মৌন ইজমা (إجماع سكوتي) প্রত্যাখ্যান করার অর্থ হলো মূলত কোনো ইজমারই (إجماع) অস্তিত্ব না থাকা; কারণ মৌখিক ইজমা (إجماع منطوق) বলে কিছু পাওয়া যায় না। অর্থাৎ, এমন কোনো মাসয়ালা নেই যেখানে প্রতিটি আলেম নিজ মুখে কোনো বক্তব্য প্রদান করেছেন
(১)।
এমনকি আপনি যদি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের (أهل بدر) পক্ষ থেকে এটি প্রমাণ করতে চান যে তাঁরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার কথা মুখে উচ্চারণ করেছেন, তবে আপনি তা প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন না। যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ক্ষেত্রে এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মতো মহান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আপনি তা প্রমাণ করতে না পারেন, তবে অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে তা প্রমাণ না করতে পারাটা আরও বেশি স্বাভাবিক। সুতরাং প্রত্যেক আলেমকে অবশ্যই মৌখিকভাবে বলতে হবে এমন শর্তারোপ করার অর্থ হলো ইজমার (إجماع) দলিলকে বাতিল করে দেওয়া। ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'রওজাতুন নাজির' গ্রন্থে এই কথাটিই এর মর্মার্থসহ উল্লেখ করেছেন
(২)।
অতএব প্রথম দলিল হলো: ইজমার (إجماع) প্রামাণিকতার (حجية) ওপর দালিলিক প্রমাণ বহনকারী প্রতিটি দলিলই সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণিকতার (حجية) ওপর দলিল হিসেবে গণ্য। তার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: "আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসুলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরে যেতে চায় এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব; আর তা অত্যন্ত মন্দ আবাস।"
যদি আপনাকে এমন কোনো মাসয়ালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যেখানে সাহাবীদের একটি, দুটি, তিনটি বা চারটি বক্তব্য বিদ্যমান রয়েছে: তবে সবচাইতে উচ্চতর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قول في هذه المسألة؟
الجواب: هو قول الصحابي، إذن هو سبيل المؤمنين في هذه المسألة فيما تعلم، ومن خالفهم بعد فهو محجوجٌ بهم، إلى غير ذلك من الأدلة على حجية الإجماع
(1).
الدليل الثاني: أدلةٌ خاصةٌ بالصحابة، وسأذكر دليلين: دليل نصي أثري، ودليل من جهة المعنى.
أما الأول النصي الأثري: قد أخرجه مسلم من حديث أبي موسى الأشعري، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ، فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومُ أَتَى السَّمَاءَ مَا تُوعَدُ، وَأَنَا أَمَنَةٌ لِأَصْحَابِي، فَإِذَا ذَهَبْتُ أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ، وَأَصْحَابِي أَمَنَةٌ لِأُمَّتِي، فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِي أَتَى أُمَّتِي مَا يُوعَدُونَ»
(2).
شبَّه النبي صلى الله عليه وسلم نفسه بالنجم، والنجم يهتدى به، وشبَّه الصحابة بذلك، فدَلَّ على أنهم حجةٌ، فمن اهتدى بهم سلك الصراط المستقيم، ومن سار على منهاجهم نجا، هذا دليلٌ واضحٌ على حجية قول الصحابي.
ومثل ذلك ما جاء في بعض الصحابة، كما أخرج الخمسة إلا النسائي، من حديث العرباض بن سارية رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي، وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ»
(3).
هذا صريحٌ في حجية قول بعض الصحابة، كالخلفاء الراشدين، ومن ذلك ما أخرج مسلم من حديث أبي قتادة، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إنْ يطع الناس أَبَا بَكْرٍ،
--------------------------------------------
এই মাসআলার ক্ষেত্রে বক্তব্য কী?
উত্তর: এটি হলো সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي); সুতরাং আপনার জানামতে এই মাসআলার ক্ষেত্রে এটিই মুমিনদের পথ। আর পরবর্তীতে যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে এটিই দলিল হিসেবে পেশ করা হবে। এ ছাড়াও ইজমার (الإجماع) প্রামাণ্যতার (حجية) সপক্ষে আরও অনেক দলিল রয়েছে
(১)।
দ্বিতীয় দলিল: সাহাবীদের সাথে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট কিছু দলিল। আমি এখানে দুটি দলিল উল্লেখ করব: একটি সরাসরি পাঠ্যগত বা বর্ণনাভিত্তিক (نصي) দলিল এবং অন্যটি অর্থগত বা যৌক্তিক দলিল।
প্রথমত বর্ণনাভিত্তিক (نصي) দলিল: ইমাম মুসলিম আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তারকারাজি আকাশের জন্য রক্ষাকবচ, যখন তারকারাজি বিলীন হয়ে যাবে তখন আকাশের ওপর তা আপতিত হবে যা তাকে প্রতিশ্রুত দেওয়া হয়েছে। আমি আমার সাহাবীদের জন্য রক্ষাকবচ, যখন আমি চলে যাব তখন আমার সাহাবীদের ওপর তা আপতিত হবে যা তাদেরকে প্রতিশ্রুত দেওয়া হয়েছে। আর আমার সাহাবীরা আমার উম্মতের জন্য রক্ষাকবচ, যখন আমার সাহাবীরা চলে যাবে তখন আমার উম্মতের ওপর তা আপতিত হবে যা তাদের প্রতিশ্রুত দেওয়া হয়েছে»
(২)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে নিজের তুলনা নক্ষত্রের সাথে দিয়েছেন, আর নক্ষত্র দ্বারা পথনির্দেশ লাভ করা হয়; তিনি সাহাবীদেরও অনুরূপ তুলনা দিয়েছেন। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তাঁরা হলেন দলিল বা প্রমাণ (حجة)। তাই যে ব্যক্তি তাঁদের দ্বারা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে, সে সরল পথ অবলম্বন করবে এবং যে ব্যক্তি তাঁদের মানহাজের (منهاج) ওপর অটল থাকবে, সে মুক্তি পাবে। সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণ্যতার (حجية) ক্ষেত্রে এটি একটি সুস্পষ্ট দলিল।
অনুরূপভাবে কোনো কোনো সাহাবীর ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে, যেমন ইমাম নাসায়ি ব্যতীত পাঁচজন হাদিস ইমাম ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাযিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের ওপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা। তোমরা একে দাঁত দিয়ে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো»
(৩)।
খুলাফায়ে রাশেদীনের মতো নির্দিষ্ট কিছু সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণ্যতার (حجية) ক্ষেত্রে এটি একটি স্পষ্ট দলিল। এই প্রসঙ্গে ইমাম মুসলিম আবু কাতাদাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «লোকেরা যদি আবু বকরের অনুসরণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَعُمَرَ يَرْشُدُوا»
(1)، وهذا في بعض الصحابة أيضًا.
أما الدليل الثاني الذي يرجع إلى المعنى: فهو ما ذكره ابن القيم رحمه الله، قال: «إننا والصحابة نشترك في مدارك، وينفصلون عنا بمدارك، والمدارك التي ينفصلون عنها كالتالي، وذلك أن الصحابي إذا قال قولا، يحتمل أنه سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم، ويحتمل أنه سمعه ممن سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم، ويحتمل أنه ينقل إجماعا في زمانهم، ويحتمل أنه فهمٌ ظهر له لم يظهر لنا، ويحتمل ـ هذا احتمال خامس ـ أنه أمْرٌ دلت عليه اللغة، وهم أئمة في باب اللغة، وعرفوه بالسياق واللغة وغير ذلك، وهذه الاحتمالات الخمسة تدل على أن قوله حجة.
قالوا: هناك احتمالٌ سادسٌ: أن يكون اجتهد الصحابي فأخطأ، لكن هذه الأمور الستة ـ وهي المدارك التي انفصلوا بها عنا ـ تدل على أن قولهم حجة من باب الظن الغالب، والظن الغالب حجةٌ في الشريعة. هذه مدارك انفصلوا بها عنا
(2).
وهناك مدارك اشتركنا نحن وإياهم فيها، لكن الفرق بينا وبينهم فيها كالفرق بين السماء والأرض، وذلك يُعرف بما ذكره ابن القيم ـ رحمه الله تعالى ـ،: أن الواحد منا إذا أراد أن يدرس اللغة، أخذ من ذهنه شعبة، أما الصحابي فهي سليقته التي نشأ عليها، والحديث أخذ من ذهنه شعبة، أما الصحابي يقول: رأيت محمدًا صلى الله عليه وسلم، وقال محمدٌ صلى الله عليه وسلم، وعلم الأصول أخذ من ذهنه شعبة، أما الصحابي لا يحتاج إلى ذلك، إلى أن قال بعد ذلك: ثم إذا انتهينا من هذا كله، وصلنا بأذهان قد كلَّت وتعبت، ومنا من يجدّ المسير، ومنا من لا يجدّ المسير، فهذا كله ليس عند الصحابي
(3).
--------------------------------------------
...এবং উমর, তবে তারা সঠিক পথ পাবে"
(১), আর এটি কিছু সাহাবীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
অর্থগত দিক থেকে দ্বিতীয় দলিলটি হলো তা-ই যা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আমরা এবং সাহাবীগণ জ্ঞানের কিছু উৎসের ক্ষেত্রে অংশীদার, আবার কিছু উৎসের ক্ষেত্রে তারা আমাদের থেকে স্বতন্ত্র। যেসকল উৎসের মাধ্যমে তারা স্বতন্ত্র তা নিম্নরূপ: আর তা হলো যখন কোনো সাহাবী কোনো কথা বলেন, তখন সম্ভাবনা থাকে যে তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন; আবার সম্ভাবনা থাকে যে তিনি এমন একজনের নিকট থেকে শুনেছেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন; আরও সম্ভাবনা থাকে যে তিনি তাদের সময়ের কোনো ঐক্যমত্য (إجماع) বর্ণনা করছেন; আরও সম্ভাবনা থাকে যে এটি এমন এক বোধ যা তাঁর নিকট স্পষ্ট হয়েছে কিন্তু আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়নি; এবং পঞ্চম একটি সম্ভাবনা এই যে—তা এমন একটি বিষয় যার প্রতি ভাষা ইঙ্গিত করে, আর তাঁরা হলেন ভাষাশাস্ত্রের ইমাম, এবং তাঁরা প্রসঙ্গের বিন্যাস, ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে তা বুঝতে পেরেছেন। এই পাঁচটি সম্ভাবনাই প্রমাণ করে যে, তাঁদের কথা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য।
তাঁরা বলেন: এখানে একটি ষষ্ঠ সম্ভাবনাও রয়েছে: তা হলো সাহাবী ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন এবং ভুল করেছেন। তবে এই ছয়টি বিষয়—যা সেই জ্ঞানের উৎস যার মাধ্যমে তাঁরা আমাদের থেকে স্বতন্ত্র হয়েছেন—তা প্রমাণ করে যে, তাঁদের কথা প্রবল ধারণার (الظن الغالب) ভিত্তিতে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য। আর শরয়ি বিধানে প্রবল ধারণা (الظن الغالب) একটি দলিল (حجة)। এগুলোই হলো সেই জ্ঞানের উৎস যাতে তাঁরা আমাদের থেকে স্বতন্ত্র হয়েছেন
(2)।
আবার এমন কিছু জ্ঞানের উৎস রয়েছে যাতে আমরা এবং তাঁরা অংশীদার, কিন্তু আমাদের এবং তাঁদের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা আসমান ও জমিনের পার্থক্যের ন্যায়। আর তা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে জানা যায়: আমাদের মধ্যে কেউ যখন ভাষা চর্চা করতে চায়, তখন তা তার মেধার একটি অংশ দখল করে নেয়, কিন্তু সাহাবীর ক্ষেত্রে এটি ছিল তাঁর স্বভাবজাত প্রবৃত্তি যার ওপর তিনি বেড়ে উঠেছেন। হাদিস (আমাদের ক্ষেত্রে) মেধার একটি অংশ দখল করে নেয়, কিন্তু সাহাবী বলেন: 'আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি' এবং 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'। উসুল শাস্ত্র মেধার একটি অংশ দখল করে নেয়, অথচ সাহাবীর সেটির প্রয়োজন ছিল না। এরপর তিনি আরও বলেন: অতঃপর যখন আমরা এই সব কিছু শেষ করি, তখন আমরা এমন মেধা নিয়ে পৌঁছাই যা ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ দ্রুত পথ চলে, আবার কেউ মন্থর গতিতে চলে; কিন্তু সাহাবীদের ক্ষেত্রে এসবের কিছুই ছিল না
(3)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২০)
إذن، هذا أمْرٌ اشتركنا نحن وإياهم فيه، إلا أن الفرق بيننا وبينهم عظيمٌ للغاية رضي الله عنهم أرضاهم ـ.
وخلاصة ما تقدم في شيئين:
الشيء الأول: أن كل دليل يدل على حجية الإجماع يدل على حجية قول الصحابي، فهذا ليس خاصًّا بهم.
والشيء الثاني: أن هناك أدلة خاصة بهم أو ببعضهم، ومنها ما سبق ذكره في المدارك المشتركة والمدارك المنفصلة.
* * *
সুতরাং, এটি এমন একটি বিষয় যাতে আমরা এবং তারা সকলেই অংশীদার, তবে আমাদের এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য অত্যন্ত বিশাল — আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাদেরকে সন্তুষ্ট করুন।
আর যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তার সারসংক্ষেপ দুটি বিষয়ের মধ্যে নিহিত:
প্রথম বিষয়টি হলো: প্রত্যেকটি দলীল যা সর্বসম্মত ঐকমত্যের (إجماع) প্রামাণিকতা (حجية)-এর ওপর নির্দেশ করে, তা সাহাবীর বক্তব্যের (قول الصحابي) প্রামাণিকতা (حجية)-এর ওপরও নির্দেশ করে। সুতরাং এটি কেবল তাদের সাথে নির্দিষ্ট নয়।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: সেখানে এমন কিছু দলীল রয়েছে যা কেবল তাদের সাথে বা তাদের মধ্য থেকে কারো কারো সাথে সুনির্দিষ্ট, যার মধ্যে ইতিপূর্বে উল্লিখিত যৌথ উৎসসমূহ (المدارك المشتركة) এবং স্বতন্ত্র উৎসসমূহ (المدارك المنفصلة) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الخامسأقوى ما يتمسك به القائلون بعدم حجية قول الصحابيوأقوى ما يتمسك به القائلون بأن قول الصحابي ليس حجة أمران:
الأمر الأول: أنه عند الخلاف يرجع إلى ما قال الله والرسول صلى الله عليه وسلم، قال سبحانه: {فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ}، إلى غير ذلك من الأدلة، قالوا: ولم يقل الله: فردوه إلى أبي بكر وعمر، ولا إلى الصحابة.
وهذا إذا نظرت في أول الأمر وبادئه، ظننته قويا، بيد أنَّه من أضعف الأدلة؛ وذلك أن مقتضى القول بحجية قول الصحابي أنه ردٌّ إلى الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، والذين قالوا إن قول الصحابي حجة ما قالوه إلا أن الأدلة دلت على ذلك، وقد تقدم ذكر بعضها، هذا أولا.
ثانيا: يلزم على هذا ألا يكون الإجماع حجةً، فبهذا نوافق المعتزلة؛ لأن أول من أنكر الإجماع هو النظَّام المعتزلي، كما ذكره ابن قدامة
(1)، وغيره من أهل العلم
(2).
فإذن مقتضى الرجوع إلى كتاب الله وسنة النبي صلى الله عليه وسلم هو القول بأن قول الصحابي حجة؛ لأن الشريعة دلت على هذا.
الأمر الثاني: أن الصحابة ليسوا معصومين، وقد يخطؤون، فكيف نرجع في معرفة الحق والباطل والحلال والحرام إلى أناس قد يخطؤون؟
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদসাহাবীর (صحابي) বক্তব্যের প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকারকারীদের সবচেয়ে শক্তিশালী দলিলসমূহযারা মনে করেন যে সাহাবীর (صحابي) বক্তব্য কোনো প্রমাণ (حجة) নয়, তাদের আঁকড়ে ধরা সবচেয়ে শক্তিশালী বিষয় দুটি:
প্রথম বিষয়: মতভেদের সময় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার দিকেই ফিরে যেতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও}, এছাড়াও অন্যান্য অনেক দলিল রয়েছে। তারা বলেন: আল্লাহ তো বলেননি যে—তোমরা তা আবু বকর ও উমরের দিকে ফিরিয়ে দাও, অথবা সাহাবীদের (صحابة) দিকে।
প্রথম দৃষ্টিতে দেখলে এটিকে শক্তিশালী মনে হতে পারে, কিন্তু এটি অত্যন্ত দুর্বল দলিলগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এর কারণ হলো, সাহাবীর (صحابي) বক্তব্যের প্রামাণিকতা (حجية) স্বীকার করার দাবিই হলো সেটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকেই ফিরিয়ে দেওয়া। যারা সাহাবীর (صحابي) বক্তব্যকে প্রমাণ (حجة) বলেছেন, তারা একারণেই বলেছেন যে—দলিলসমূহ সেদিকেই নির্দেশ করে। এর কিছু দলিল পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে; এটি প্রথমত।
দ্বিতীয়ত: এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, ইজমা (إجماع) কোনো প্রমাণ (حجة) হবে না। এর মাধ্যমে আমরা মুতাযিলাদের সাথে একমত হয়ে যাই; কারণ ইজমা (إجماع) প্রথম অস্বীকার করেছিলেন মুতাযিলা মতাদর্শের নায্যাম, যেমনটি ইবনে কুদামা
(১) এবং অন্যান্য আলেমগণ
(২) উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং, আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের দাবি হলো সাহাবীর (صحابي) বক্তব্যকে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গ্রহণ করা; কারণ শরিয়ত একথাই প্রমাণ করে।
দ্বিতীয় বিষয়: সাহাবীগণ (صحابة) মাসুম (معصوم) নন, তারা ভুল করতে পারেন। সুতরাং হক ও বাতিল এবং হালাল ও হারাম জানার ক্ষেত্রে আমরা এমন মানুষের দিকে কীভাবে ফিরে যাব যারা ভুল করতে পারেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقد تقدمت الإشارة إلى هذا، وأؤكد ذلك بما يلي: وهو أنه تقدَّم أن الحجة ليست في ذات الصحابي، والصحابي في ذاته ليس معصومًا، بل يخطئ ويصيب؛ لذا إذا اختلفوا على قولين، فالحق في أحد هذين القولين، وإنما الاحتجاج بقولهم من باب الظن الغالب، ثم هو ليس لذاته، وإنما لما انضاف إليه، وهو أنه صورةٌ من صور حكاية الإجماع.
فبهذا إذا قال الصحابي قولا، ولم يخالَف، فالمسألة إجماعٌ فتكون الحجية في عدم مخالفة غيره له لا في ذات الصحابي.
إذن، خلاصة الجواب أن يقال: إن الحجية ليست بذات الصحابي، وإنما لما انضاف إليه؛ وذلك أن الاحتجاج به من باب الظن الغالب، وهو صورةٌ من صور الإجماع.
* * *
ইতিপূর্বে এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং আমি নিম্নে উল্লিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে তা নিশ্চিত করছি: বিষয়টি হলো, পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে যে দলিল (الحجة) সাহাবীর সত্তার মধ্যে নিহিত নয়। সাহাবী নিজে নিষ্পাপ (معصوم) নন, বরং তিনি ভুলও করতে পারেন আবার সঠিকও হতে পারেন। তাই তারা যদি দুটি ভিন্ন মতে বিভক্ত হন, তবে সত্য এই দুই মতের কোনো একটির মধ্যেই থাকে। তাদের কথাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা মূলত প্রবল ধারণার (الظن الغالب) পর্যায়ভুক্ত। অধিকন্তু, এটি তার নিজস্ব সত্তার কারণে নয়, বরং এর সাথে যা যুক্ত হয়েছে তার কারণে; আর তা হলো এটি ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনার একটি রূপ।
সুতরাং, যখন কোনো সাহাবী একটি কথা বলেন এবং কেউ তার বিরোধিতা না করেন, তখন বিষয়টি ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে গণ্য হয়। এমতাবস্থায় দলিলযোগ্যতা (الحجية) অন্য কারো বিরোধিতা না করার মধ্যে নিহিত থাকে, সাহাবীর নিজস্ব সত্তার মধ্যে নয়।
অতএব, উত্তরের সারকথা হলো এই যে: দলিলযোগ্যতা (الحجية) সাহাবীর সত্তার কারণে নয়, বরং তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কারণে। আর তা হলো সাহাবীর বক্তব্য দলিল হিসেবে পেশ করা প্রবল ধারণার (الظن الغالب) অন্তর্ভুক্ত এবং তা ঐকমত্যের (إجماع) একটি রূপ।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الثانيمذهب الصحابي وأقسامهينقسم مذهب الصحابي إلى أقسام ثلاثة:
القسم الأول: ابتداء الصحابي لحكمٍ شرعيٍّ.
القسم الثاني: تفسير الصحابي للنص، إما بتخصيص، أو تقييد، أو تبيين.
القسم الثالث: العمل عند اختلاف الصحابة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসাহাবীর মাযহাব (مذهب الصحابي) ও এর প্রকারভেদসাহাবীর মাযহাব (مذهب الصحابي) তিনটি ভাগে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: কোনো শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) ক্ষেত্রে সাহাবীর প্রারম্ভিক অবতারণা।
দ্বিতীয় প্রকার: মূল পাঠের (النص) ক্ষেত্রে সাহাবীর ব্যাখ্যা; যা বিশেষায়িতকরণ (تخصيص), সীমাবদ্ধকরণ (تقييد) অথবা বিশদ বর্ণনার (تبيين) মাধ্যমে হতে পারে।
তৃতীয় প্রকার: সাহাবীদের মতভেদের ক্ষেত্রে কর্মপন্থা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الأولابتداء الصحابي لحكمٍ شرعيٍّهذا هو القسم الأول من أقسام مذهب الصحابي، ومن الأمثلة عليه ما يلي:
المثال الأول: الجلوس للتشهد في سجدتي السهو إذا كان السجود بعد السلام، فقد جاء بذلك أحاديث مرفوعة، لكن لا تصح، كما بين ذلك ابن تيمية
(1) وغيره، وإنما ثبت عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه فيما أخرجه ابن أبي شيبة
(2).
وإلى هذا ذهب أبو حنيفة
(3) وأحمد
(4) ـ رحمهما الله تعالى ـ ولم يخالَف ابن مسعود، فيكون هذا القول حجة؛ لأن الصحابي قد ابتدأ حكما جديدًا، ولم يخالَف.
المثال الثاني: الزكاة في عروض التجارة،
لم يصح فيه حديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما العمدة فيه على الآثار، وعلى الثبوت عن الصحابة، كابن عمر
(5) وغيره
(6) رضي الله عنهم وأرضاهم ـ.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদকোনো শরয়ি বিধান প্রবর্তনে সাহাবীর একক উদ্যোগএটি সাহাবীর মাযহাবের (মতামতের) প্রকারসমূহের মধ্যে প্রথম প্রকার এবং এর উদাহরণসমূহ নিম্নরূপ:
প্রথম উদাহরণ: সালামের পর সাহু সিজদা প্রদান করলে তাতে তাশাহহুদের জন্য বসা। এ সম্পর্কে মারফু (مرفوع) হাদিস বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলো সহিহ (صحيح) নয়, যেমনটি ইবনে তাইমিয়্যাহ
(1) এবং অন্যান্যরা স্পষ্ট করেছেন। বরং এটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত হয়েছে যা ইবনে আবি শায়বাহ
(2) বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবু হানিফা
(3) ও ইমাম আহমাদ
(4) (রাহিমাহুমাল্লাহ) এই মতই গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে মাসউদের কোনো বিরোধিতা করা হয়নি। সুতরাং এই বক্তব্যটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ সাহাবী এখানে একটি নতুন বিধান শুরু করেছেন এবং তাঁর কোনো বিরোধিতা করা হয়নি।
দ্বিতীয় উদাহরণ: ব্যবসায়িক পণ্যের জাকাত।
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত নেই। বরং এক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো আসার (الآثار) এবং সাহাবীদের থেকে এর সাব্যস্ত হওয়া, যেমন ইবনে উমর
(5) এবং অন্যান্যরা
(6) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وذهب إلى هذا جماهير أهل العلم؛ لأن الصحابي لم يخالَف في ذلك
(1).
المثال الثالث: رفع اليدين في تكبيرات الجنازة، ما عدا تكبيرة الإحرام، تنازع فيها أهل العلم، وأصح الأقوال: أن اليدين ترفع في جميع تكبيرات الجنازة، والدليل على ذلك أنه ثبت عن ابن عمر رضي الله عنهما فيما رواه ابن أبي شيبة
(2) وابن المنذر
(3)، فيكون رفع اليدين مستحبًا؛ لأنه قول صحابي لم يخالَف.
المثال الرابع: وجوب الوضوء من تغسيل الميت: جاء فيها أحاديث مرفوعة، لكنها لا تصح
(4) وإنما العمدة على ثبوته عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما عند عبد الرزاق
(5).
وإليه ذهب الإمام أحمد
(6)، وقال ابن قدامة: وليس بين الصحابة خلاف في ذلك
(7)، فيكون حجةً.
--------------------------------------------
এবং অধিকাংশ (جماهير) আলেম এই মত গ্রহণ করেছেন; কারণ এক্ষেত্রে উক্ত সাহাবীর কোনো বিরোধিতা করা হয়নি
(১).
তৃতীয় উদাহরণ: জানাজার তাকবীরগুলোতে হাত তোলা, তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত। আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন, তবে বক্তব্যগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) হলো: জানাজার সকল তাকবীরেই হাত তোলা হবে। এর দলিল হলো এটি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যা ইবনে আবি শাইবা
(২) এবং ইবনুল মুনযির
(৩) বর্ণনা করেছেন। সুতরাং হাত তোলা মুস্তাহাব (مستحب) হবে; কারণ এটি এমন একজন সাহাবীর বক্তব্য যার কোনো বিরোধিতা করা হয়নি।
চতুর্থ উদাহরণ: মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর কারণে অজু ওয়াজিব হওয়া: এ বিষয়ে মারফু (مرفوعة) হাদিসসমূহ এসেছে, কিন্তু সেগুলো সহিহ (تصح) নয়
(৪)। বরং এর মূল ভিত্তি হলো আব্দুর রাজ্জাকের বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এটি সাব্যস্ত (ثبوته) হওয়ার ওপর
(৫)।
ইমাম আহমাদও এই মত গ্রহণ করেছেন
(৬), এবং ইবনে কুদামা বলেন: সাহাবীদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই
(৭), সুতরাং এটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المثال الخامس: عدم انتقاض الطهارة بخروج الدم غير الفاحش: ثبت هذا عند عبد الرزاق عن ابن عمر
(1)، وعن غيره من الصحابة
(2)، وإلى هذا القول ذهب أبو حنيفة
(3) وأحمد
(4)، وقال ابن قدامة: ليس بين الصحابة خلاف في ذلك
(5).
إذن العمدة على قول صحابي أو صحابيين أو ثلاثة في المسائل المتقدمة أو غيرها، ولم يخالفهم غيرهم من الصحابة؛ فكل قول ابتدأه الصحابي، ولم يخالَف، فإنه يكون حجةً.
* * *
--------------------------------------------
পঞ্চম উদাহরণ: অতিরিক্ত নয় এমন রক্ত বের হওয়ার কারণে পবিত্রতা নষ্ট না হওয়া। এটি আবদুর রাজ্জাক ইবনে উমর
(১) এবং অন্যান্য সাহাবী
(২) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু হানিফা
(৩) ও ইমাম আহমাদ
(৪) এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। ইবনে কুদামা বলেন: এই বিষয়ে সাহাবীদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই
(৫)।
সুতরাং পূর্ববর্তী মাসআলাগুলো বা অন্যান্য বিষয়ে একজন, দুইজন বা তিনজন সাহাবীর বক্তব্যই নির্ভরতার ভিত্তি, যতক্ষণ না অন্য কোনো সাহাবী তাদের বিরোধিতা করেন। অতএব সাহাবী থেকে বর্ণিত প্রতিটি বক্তব্য, যার কোনো বিরোধিতা করা হয়নি, তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الثانيتفسير الصحابي للنص، إما بتخصيص، أو تقييد، أو تبيينهذا هو القسم الثاني وهو: أن يقول الصحابي قولا في تفسير نص، إما بتخصيص عام، أو تقييد مطلق، أو تبيين مجمل، وما كان كذلك، فإنه حجةٌ؛ لأن الأدلة دلَّت على حجية قول الصحابي ولم تفرِّق بين أن يكون ابتداء أو في تفسير نص.
وبعبارة أخرى: إذا جاء نصٌّ عامٌّ، والنص العام حجةٌ، وجاء قول صحابي خاص، وقول الصحابي حجةٌ على ما تقدَّم، فالعمل بالحجتين أولى من إهمال أحدهما؛ فلذا يُخص العام، ويُقيد المطلق، ويُبين المجمل في مثل هذا بقول الصحابي.
تنبيه: تنازع أهل العلم كثيرًا في أمثلة هذا القسم: هل هو من تفسير النص أو من مخالفة الصحابي للنص؟
فإذا كان من مخالفة الصحابي للنص فإنه يرد؛ لما تقدَّم في تحرير محل النزاع: أن قول الصحابي يرد إذا خالف النص بالإجماع، أما إذا كان تفسيرًا للنص، فإنه حجةٌ على ما تقدم تقريره.
والضابط في هذا ما قرره الإمام ابن القيم ـ رحمه الله تعالى ـ في كتابه «إعلام الموقعين»، قال رحمه الله ما مفاده: إذا خالف الصحابي النص، لا بد أن ينكر عليه صحابيٌّ آخر، فإذا لم ينكر عليه صحابيٌّ آخر، فليس هو من مخالفة النص، وإنما من تبيين النص
(1).
فلذا إذا شككت في قول صحابي هل هو مخالف للنص فيرد، أو مفسر له فيقبل؟ ينظر: هل خالفه صحابي آخر أم لا؟ فإذا لم يخالِفه صحابي آخر، فهو من تفسير النص وبيانه.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসাহাবী কর্তৃক পাঠ্যের (نص) ব্যাখ্যা: হয় নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) মাধ্যমে, অথবা সীমাবদ্ধকরণের (تقييد) মাধ্যমে, কিংবা বিশদ বর্ণনার (تبيين) মাধ্যমেএটি হলো দ্বিতীয় প্রকার, আর তা হলো: সাহাবী কর্তৃক কোনো পাঠ্যের (نص) ব্যাখ্যায় এমন কোনো বক্তব্য প্রদান করা যা কোনো সাধারণ (عام) বিষয়কে নির্দিষ্ট (تخصيص) করে, অথবা কোনো শর্তহীন (مطلق) বিষয়কে সীমাবদ্ধ (تقييد) করে, কিংবা কোনো সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়কে বিশদভাবে বর্ণনা (تبيين) করে। এরূপ ক্ষেত্রে তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য; কারণ প্রমাণাদি সাহাবীর বক্তব্যের প্রামাণিকতার (حجية) স্বপক্ষে প্রমাণ দেয় এবং এটি প্রারম্ভিক কোনো বক্তব্য নাকি পাঠ্যের (نص) ব্যাখ্যা—উভয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য করে না।
অন্য কথায়: যখন কোনো সাধারণ পাঠ্য (نص عام) পাওয়া যায়—আর সাধারণ পাঠ্য হলো একটি দলিল (حجة)—এবং সাহাবীর একটি বিশেষ বক্তব্য পাওয়া যায়—আর পূর্বোক্ত আলোচনা অনুযায়ী সাহাবীর বক্তব্যও একটি দলিল (حجة)—তখন একটিকে বর্জন করার চেয়ে উভয় দলিলের ওপর আমল করা অধিকতর উত্তম। এই কারণেই সাহাবীর বক্তব্যের মাধ্যমে এ জাতীয় ক্ষেত্রে সাধারণকে নির্দিষ্ট (تخصيص), শর্তহীনকে সীমাবদ্ধ (تقييد) এবং সংক্ষিপ্তকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা (تبيين) করা হয়।
সতর্কবার্তা: আহলে ইলমগণ এই প্রকারের উদাহরণগুলোর ক্ষেত্রে প্রচুর মতভেদ করেছেন যে, এটি কি পাঠ্যের (نص) ব্যাখ্যা নাকি পাঠ্যের (نص) সাথে সাহাবীর বিরোধিতা?
যদি এটি পাঠ্যের (نص) সাথে সাহাবীর বিরোধিতা হয় তবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে; যেমনটি বিবাদের ক্ষেত্র নির্ধারণের আলোচনায় ইতিপূর্বে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সর্বসম্মতভাবে (إجماع) সাহাবীর বক্তব্য যদি পাঠ্যের (نص) বিরোধী হয় তবে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পক্ষান্তরে যদি তা পাঠ্যের (نص) ব্যাখ্যা হয়, তবে পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে।
এই ক্ষেত্রে মূল মানদণ্ড হলো সেটি যা ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাঁর 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' গ্রন্থে স্থির করেছেন। তিনি যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো: যদি কোনো সাহাবী পাঠ্যের (نص) বিরোধিতা করেন, তবে অবশ্যই অন্য কোনো সাহাবী তাঁর প্রতিবাদ করবেন। সুতরাং যদি অন্য কোনো সাহাবী তাঁর প্রতিবাদ না করেন, তবে তা পাঠ্যের (نص) বিরোধিতা নয়, বরং তা পাঠ্যের (نص) বিশদ বর্ণনা (تبيين) মাত্র
(১)।
অতএব, কোনো সাহাবীর বক্তব্যের ক্ষেত্রে যদি আপনি সংশয়ে পড়েন যে, সেটি কি পাঠ্যের (نص) পরিপন্থী বিধায় বর্জনীয়, নাকি তাঁর ব্যাখ্যাকারী বিধায় গ্রহণযোগ্য? তবে দেখতে হবে: অন্য কোনো সাহাবী তাঁর বিরোধিতা করেছেন কি না? যদি অন্য কোনো সাহাবী তাঁর বিরোধিতা না করেন, তবে তা পাঠ্যের (نص) ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনা (بيان) হিসেবে গণ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والدليل على هذا: أن الله سبحانه قال: {كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ}، قال ابن القيم: والقول الخطأ منكرٌ من وجه، فلو كان هذا القول مرجوحًا عند هذا الصحابي، فلا بد أن ينكر عليه صحابي آخر، فلما لم ينكر عليه صحابي آخر، دل على أن قوله ليس مرجوحًا، ولا يمكن أن ينقل الله لنا القول المرجوح، ويدع القول الراجح؛ وهو أمرنا باتباع سبيل المؤمنين
(1).
وهذا الضابط إذا تأمَّله الناظر استطاع أن يميِّز بين القول الذي يُرَدُّ؛ لأنه مخالفٌ للنص، والقول الذي يُقبل؛ لأنه تفسيرٌ للنص، وما أكثر الاضطراب والاختلاف في مثل هذا، لكن إذا ضُبط هذا الضابط الذي ذكره ابن القيم اتضح الأمر جليا، و كان الدارس والناظر سائرا على خط مستقيم بلا اضطراب ولا تناقض.
وقبل ذكر الأمثلة، ليعلم أنه قد يُتنازع في بعض الأمثلة: هل هي من ابتداء الحكم: أي من القسم الأول، أو من القسم الثاني؟ وقد يحصل شيء من النزاع في الفهم، لكن من حيث الجملة، سواء كان من القسم الأول أو الثاني، فإنه على كلا الحالين حجة.
المثال الأول: أخرج الشيخان من حديث عائشة رضي الله عنها، قال النبي صلى الله عليه وسلم: «مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ»
(2).
فقد ثبت عند أبي داود عن ابن عباس، أنه خصه بصيام النذر
(3)، إذن هذا من باب تفسير النص؛ لأن ابن عباس لم يخالَف، فيُحمل هذا الحديث على صيام النذر.
--------------------------------------------
এর প্রমাণ হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদের মানবজাতির জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করো।" ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: ভুল বক্তব্য একদিক থেকে মুনকার (منكر); সুতরাং এই বক্তব্যটি যদি উক্ত সাহাবী (صحابي)-র নিকট অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (مرجوح) হতো, তবে অবশ্যই অন্য কোনো সাহাবী (صحابي) তা প্রত্যাখ্যান করতেন। যেহেতু অন্য কোনো সাহাবী (صحابي) তা প্রত্যাখ্যান করেননি, এটি প্রমাণ করে যে তাঁর বক্তব্যটি অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (مرجوح) নয়। আর আল্লাহ আমাদের নিকট কোনো অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (مرجوح) বক্তব্য পৌঁছাবেন এবং প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) বক্তব্যটি ছেড়ে দেবেন—এটি অসম্ভব; অথচ তিনি আমাদের মুমিনদের পথ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন
(১)।
পর্যবেক্ষক যদি এই মূলনীতিটি নিয়ে চিন্তা করেন, তবে তিনি সেই বক্তব্যের মাঝে পার্থক্য করতে সক্ষম হবেন যা দলিলের পরিপন্থী হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যাত হয় এবং যা দলিলের ব্যাখ্যা হওয়ার কারণে গৃহীত হয়। এই ধরণের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও মতপার্থক্য অনেক বেশি, তবে ইবনুল কাইয়্যিম বর্ণিত এই মূলনীতিটি যদি আত্মস্থ করা যায়, তবে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং গবেষক ও পর্যবেক্ষক কোনো বিশৃঙ্খলা বা বৈপরীত্য ছাড়াই সঠিক পথে চলতে পারেন।
উদাহরণ উল্লেখ করার আগে জেনে রাখা উচিত যে, কিছু উদাহরণের ক্ষেত্রে বিতর্ক হতে পারে: এটি কি মৌলিক বিধানের সূচনা—অর্থাৎ প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, নাকি দ্বিতীয় প্রকারের? এক্ষেত্রে বুঝার ক্ষেত্রে কিছু মতভেদ হতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে তা প্রথম বা দ্বিতীয় যে প্রকারেরই হোক না কেন, উভয় অবস্থাতেই তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য।
প্রথম উদাহরণ: শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদিস থেকে সংকলন করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি রোজা অনাদায়ী রেখে মারা গেল, তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক রোজা রাখবে"
(২)।
আবু দাউদে ইবনে আব্বাস থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি একে মানতের রোজার সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন
(৩); সুতরাং এটি দলিলের ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত; কারণ ইবনে আব্বাসের কোনো বিরোধিতা করা হয়নি, তাই এই হাদিসটিকে মানতের রোজার ওপর প্রয়োগ করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وإلى هذا ذهب الليث بن سعد
(1)، وأحمد في رواية
(2)، وهو اختيار ابن القيم
(3)، واختيار العلامة الألباني
(4) ـ رحم الله الجميع ـ.
المثال الثاني: الأخذ من اللحية مقدار القُبضة: جاءت الشريعة بالإعفاء والإرخاء إلى غير ذلك، ثم ثبت عند البخاري عن ابن عمر أنه كان يأخذ مقدار القبضة
(5).
وجاء عن جابر عند أبي داود، أنه قال: «كنا نعفي السبال إلا في حج أو عمرة»
(6).
وجاء أيضا عن أبي هريرة رضي الله عنه
(7).
وأخرج ابن جرير عن ابن عباس، قال: {ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ}، قال في تفسيره: أي يؤخذ من عارضيه
(8).
والمقصود: أنَّ الذي جاء عن الصحابة هو مطلق الأخذ، لكن ابن عمر فسَّر ذلك بأنه مقدار القبضة، وما كان دون ذلك فلا، فإن الإعفاء الذي جاءت به الشريعة هو ما كان مقدار القبضة، فإذن ما زاد على القبضة فيؤخذ استحبابًا؛ لأن ابن عمر فعله رضي الله عنهما.
وإلى هذا ذهب الإمام أحمد
(9) والشافعي
(10)، وكان أحمد يأخذ من طولها
--------------------------------------------
আর লাইস ইবনে সাদ
(১) এবং একটি বর্ণনায় ইমাম আহমাদ
(২) এই মত পোষণ করেছেন। এটি ইবনুল কায়্যিমের
(৩) পছন্দের অভিমত এবং আল্লামা আলবানীরও
(৪) চয়নকৃত মত — আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি রহম করুন।
দ্বিতীয় উদাহরণ: দাড়ি থেকে এক মুষ্টি পরিমাণ অংশ কাটা: শরীয়তে দাড়ি ছেড়ে দেওয়া ও লম্বা করার নির্দেশ এসেছে। অতঃপর বুখারীতে ইবনে উমর (রা.) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি এক মুষ্টি পরিমাণ [দাড়ি] গ্রহণ করতেন (অর্থাৎ কাটতেন)
(৫)।
আবু দাউদে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «আমরা হজ্জ বা উমরা ব্যতিরেকে দাড়ি ও মোচ ছেড়ে দিতাম»
(৬)।
এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে
(৭)।
ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি {অতঃপর তারা যেন তাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে} — এই আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ গালের দুই পার্শ্বের দাড়ি থেকে গ্রহণ করা (কাটা)
(৮)।
আর এর উদ্দেশ্য হলো: সাহাবীগণের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো সাধারণভাবে দাড়ি কাটা, তবে ইবনে উমর (রা.) সেটিকে এক মুষ্টি পরিমাণ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। আর এর চেয়ে কম হলে তা [কাটা] যাবে না। কেননা শরীয়তে দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার যে নির্দেশ এসেছে, তা হলো এক মুষ্টি পরিমাণ পর্যন্ত। অতএব, এক মুষ্টির অতিরিক্ত অংশ কাটা মুস্তাহাব (استحبابًا); কারণ ইবনে উমর (রা.) এটি করেছেন।
ইমাম আহমাদ
(৯) ও শাফিঈ
(১০) এই মত গ্রহণ করেছেন। আহমাদ দাড়ির দৈর্ঘ্য থেকে অংশবিশেষ কাটতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وعرضها
(1).
إلا أن العلماء اختلفوا: هل هذا في الحج والعمرة أو عام؟
وأظهر القولين: أنه عامٌّ كما هو قول أحمد؛ لأن ابن عمر كان إذا أفطر من رمضان، إن أراد الحج لم يأخذ
(2)، فمفهوم المخالفة: إن لم يرد الحج أخذ ـ تجمَّلًا للعيد ـ، إذن حدَّد ابن عمر الإعفاء بمقدار القبضة، وهذا قول صحابي، وقوله حجةٌ في تفسير النص، وهو قول الشافعي والإمام أحمد كما تقدَّم، ونصره كثيرا العلامة محمد ناصر الدين الألباني
(3) ـ رحم الله الجميع ـ.
المثال الثالث: قال سبحانه: {فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ}، فالشريعة جاءت بالقضاء مطلقا، وجاءت بصيام النفل مطلقا، ولم تشترط في النفل ألا يبقى عليه فرض، وإنما جاءت باستحباب الصيام مطلقا، لكن ثبت عن أبي هريرة رضي الله عنه عند عبد الرزاق، أنه قال: «ابدأ بما افترض الله عليك»
(4)، فدل هذا على أنه لا يصح لأحد أن يصوم نفلا وعليه فرضٌ.
وإلى هذا ذهب الإمام أحمد في رواية
(5)، والعمدة على أثر أبي هريرة رضي الله عنه.
المثال الرابع: المسح على الجبيرة: ثبت المسح على الجبيرة عن ابن عمر رضي الله عنه، خرَّجه البيهقي وغيره
(6).
--------------------------------------------
এবং এর প্রশস্ততা
(1)।
তবে আলেমগণ মতভেদ করেছেন যে, এটি কি হজ ও উমরার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাকি তা সাধারণ?
এবং দুটি মতের মধ্যে অধিক স্পষ্ট মতটি হলো: এটি সাধারণ, যেমনটি ইমাম আহমাদ-এর অভিমত; কারণ ইবনে উমর যখন রমজানের সিয়াম শেষ করতেন, তখন তিনি যদি হজের ইচ্ছা করতেন তবে (চুল বা দাড়ি) কাটতেন না
(2)। সুতরাং বিপরীত অর্থবোধকতা (مفهوم المخالفة) অনুযায়ী: যদি তিনি হজের ইচ্ছা না করতেন তবে ঈদের জন্য সৌন্দর্যমণ্ডিত হতে তা কাটতেন। অতএব, ইবনে উমর দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পরিমাণ এক মুষ্টি নির্ধারণ করেছেন। আর এটি একজন সাহাবীর বক্তব্য, এবং দলিলের ব্যাখ্যায় তাঁর বক্তব্য একটি প্রমাণ (حجة)। এটি ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমাদের অভিমত, যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
(3) এটিকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি দয়া করুন।
তৃতীয় উদাহরণ: মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে}। সুতরাং শরিয়ত সাধারণভাবে কাজা পালনের বিধান নিয়ে এসেছে এবং সাধারণভাবে নফল সিয়ামের বিধান নিয়ে এসেছে। নফলের ক্ষেত্রে এমন শর্তারোপ করা হয়নি যে তার ওপর কোনো ফরজ অবশিষ্ট থাকা চলবে না; বরং সাধারণভাবে সিয়ামের মুস্তাহাব হওয়ার কথা এসেছে। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাকের বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.) থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ তোমার ওপর যা ফরজ করেছেন তা দিয়ে শুরু করো»
(4)। এটি প্রমাণ করে যে, কারো ওপর ফরজ অবশিষ্ট থাকাবস্থায় তার জন্য নফল সিয়াম পালন করা শুদ্ধ নয়।
একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী ইমাম আহমাদ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন
(5), আর এর মূল ভিত্তি হলো আবু হুরায়রা (রা.)-এর আছার (أثر)।
চতুর্থ উদাহরণ: জাবীরাহ (ব্যান্ডেজ)-এর ওপর মাসেহ করা: ইবনে উমর (রা.) থেকে জাবীরার ওপর মাসেহ করা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, যা বাইহাকী ও অন্যান্যরা বর্ণনা (خرجه) করেছেন
(6)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وذهب إلى هذا أبو حنيفة
(1)، ومالك
(2)، وأحمد
(3)، والشافعي في قول له
(4)، والقول بالمسح على الجبيرة هو الصحيح؛ لأن ابن عمر لم يخالَف كما قاله ابن تيمية في شرح العمدة
(5)، وذكر البيهقي أنه لم يصح فيه حديث
(6).
إذن، صار المسح على الجبيرة مشروعًا، والعمدة في ذلك فعل ابن عمر رضي الله عنه، وهذا يحتمل أن يكون من تفسير النص، ويحتمل أن يكون من ابتداء حكم، والأمر سهلٌ في ذلك كما تقدَّم.
المثال الخامس: اشتراط مضي الحول في الزكاة، فإن الشريعة جاءت بالزكاة، ولولا ما جاء من الآثار في اشتراط مضي الحول لما قيل باشتراط مضي الحول. وهذا يحتمل أنه من تفسير النص، ويحتمل أنه من ابتداء حكم.
قال البيهقي: لم يصح في ذلك حديث، وإنما العمدة على الآثار، وثبت هذا عن عثمان وابن عمر رضي الله عنهما
(7).
وعليه المذاهب الأربعة
(8).
--------------------------------------------
আবু হানিফা
(১), মালিক
(২), আহমাদ
(৩) এবং শাফিঈ তাঁর একটি মতানুযায়ী
(৪) এই অভিমত পোষণ করেছেন। আর জাবীরাহ বা পট্টির ওপর মাসেহ করার কথাটিই হলো সহিহ (الصحيح); কারণ ইবনে উমর (রা.)-এর কোনো বিরোধিতা করা হয়নি, যেমনটি ইবনে তাইমিয়্যাহ শারহুল উমদাহ গ্রন্থে বলেছেন
(৫)। আর বায়হাকি উল্লেখ করেছেন যে, এ বিষয়ে কোনো হাদিস সহিহ (صح) হয়নি
(৬)।
সুতরাং, পট্টির ওপর মাসেহ করা শরিয়তসম্মত সাব্যস্ত হলো এবং এ ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো ইবনে উমর (রা.)-এর আমল। এটি হতে পারে কোনো নসের (النص) ব্যাখ্যা, অথবা হতে পারে নতুন কোনো বিধানের সূচনা; আর এ বিষয়টি পূর্বের আলোচনার ন্যায় সহজ।
পঞ্চম উদাহরণ: জাকাতের ক্ষেত্রে এক বছর পূর্ণ হওয়ার শর্তারোপ। কেননা শরিয়ত জাকাতের বিধান প্রদান করেছে, আর যদি এক বছর পূর্ণ হওয়ার শর্তের ব্যাপারে কোনো আছার (الآثار) না আসত, তবে এক বছর অতিবাহিত হওয়ার শর্তটি বলা হতো না। এটি হতে পারে কোনো নসের (النص) ব্যাখ্যা, অথবা হতে পারে নতুন কোনো বিধানের সূচনা।
বায়হাকি বলেন: এ বিষয়ে কোনো হাদিস সহিহ (صح) হয়নি, বরং এর মূল ভিত্তি হলো আছার (الآثار) বা বর্ণনাগুলোর ওপর। আর এটি উসমান ও ইবনে উমর (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে
(৭)।
চার মাজহাবের অবস্থানও এরই ওপর
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المثال السادس: ثبت عند ابن أبي شيبة وغيره عن ابن عباس أنهم كانوا يَردُّون من دخل الحرم بلا إحرام
(1)، فلا يدخل أحدٌ الحرم إلا محرما، حتى لو لم يُرِدِ الحج أو العمرة.
قال ابن تيمية في شرح العمدة: هذا قول ابن عباس، وليس له مخالف
(2).
فإن قيل: ماذا يقال في حديث ابن عباس فيما أخرج الشيخان عنه، لما ذكر المواقيت قال: «هن لهن ولمن أتى عليهن من غير أهلهن ممن أراد الحج والعمرة»
(3)، مفهوم المخالفة: أن مَن لم يُرد الحج أو العمرة فلا يُحرم؟
يقال: قوله: «ممن أراد الحج والعمرة» خرج مخرج الغالب، وما خرج مخرج الغالب فلا مفهوم له، وأيضا لو قدِّر أن هذا المفهوم على ظاهره، فقول ابن عباس منطوقٌ، والحجة المنطوقة مقدَّمةٌ على الحجة المفهومة.
وإلى هذا ذهب جمهور الحنفية
(4)، والمالكية
(5)، والحنابلة
(6)، وهو قول عند الشافعية
(7): أنه لا يدخل الحرم أحدٌ إلا محرما، ولو كان ممن لا يريد الحج أو العمرة.
--------------------------------------------
ষষ্ঠ উদাহরণ: ইবনে আবি শায়বা এবং অন্যদের নিকট ইবনে আব্বাস থেকে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, তারা ইহরাম ব্যতীত হারামে প্রবেশকারীকে ফিরিয়ে দিতেন
(১)। সুতরাং হজ বা উমরার ইচ্ছা না থাকলেও কেউ ইহরাম ব্যতীত হারামে প্রবেশ করতে পারত না।
ইবনে তাইমিয়া শারহুল উমদাহ-এ বলেন: এটি ইবনে আব্বাসের উক্তি এবং এর কোনো বিরোধী (مخالف) নেই
(২)।
যদি প্রশ্ন করা হয়: ইবনে আব্বাসের সেই হাদিস সম্পর্কে কী বলা হবে যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন? সেখানে যখন তিনি মিকাতসমূহের কথা উল্লেখ করেছিলেন তখন বলেছিলেন: «এগুলো তাদের জন্য এবং যারা তাদের অধিবাসী না হয়েও সেখান দিয়ে অতিক্রম করে তাদের জন্য, যারা হজ ও উমরার ইচ্ছা করে»
(৩), এখানে বিপরীত অর্থ (مفهوم المخالفة) হলো: যে ব্যক্তি হজ বা উমরার ইচ্ছা করে না, সে ইহরাম বাঁধবে না?
উত্তরে বলা হবে: তাঁর বাণী: «যারা হজ ও উমরার ইচ্ছা করে» এটি সাধারণ অবস্থার প্রেক্ষাপটে (خرج مخرج الغالب) বর্ণিত হয়েছে; আর যা সাধারণ অবস্থার প্রেক্ষাপটে (خرج مخرج الغالب) বর্ণিত হয় তার কোনো বিপরীত অর্থ (مفهوم) থাকে না। অধিকন্তু, যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এই বিপরীত অর্থটি (مفهوم) তার প্রকাশ্য অর্থের (ظاهره) ওপর বহাল, তবে ইবনে আব্বাসের উক্তিটি হলো সুস্পষ্ট ভাষ্য (منطوق); আর সুস্পষ্ট ভাষ্যগত প্রমাণ (الحجة المنطوقة) বিপরীত অর্থবোধক প্রমাণের (الحجة المفهومة) ওপর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
আর হানাফি
(৪), মালেকি
(৫) ও হাম্বলি
(৬) মাজহাবের অধিকাংশ (جمهور) ফকিহ এই মত গ্রহণ করেছেন এবং এটি শাফেয়ি
(৭) মাজহাবের একটি উক্তি: হজ বা উমরার ইচ্ছা না থাকলেও কেউ ইহরাম ব্যতীত হারামে প্রবেশ করবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المثال السابع: أمر الله بزكاة ما خرج من الأرض، وهذا عامٌّ، لكن ثبت عند ابن أبي شيبة عن أبي موسى الأشعري أنه خصَّص ذلك في أربع: لا زكاة إلا في الحنطة والشعير والزبيب والتمر
(1).
وجاء مرفوعًا، لكن لا يصح
(2)، وإنما الصواب أنه موقوفٌ على أبي موسى الأشعري رضي الله عنه، وهذا قول أحمد في رواية
(3)، فبقول أبي موسى الأشعري خُصِّص ذلك في هذه الأربع.
والأمثلة على هذا كثيرةٌ، لكن أؤكد على أنه قد يُتنازَع في بعض الأمثلة: هل هي من تفسير النص أو ابتداء الحكم؟ وعلى كلا الحالين لا إشكال في ذلك على ما تقدم بيانه.
* * *
--------------------------------------------
সপ্তম উদাহরণ: আল্লাহ ভূমি থেকে যা উৎপন্ন হয় তার যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটি একটি সাধারণ (عام) বিধান। তবে ইবনে আবি শাইবায় আবু মুসা আল-াশআরী (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি এটিকে চারটি শস্যের মধ্যে সুনির্দিষ্ট করেছেন: গম, যব, কিসমিস ও খেজুর ব্যতীত অন্য কোনো কিছুতে যাকাত নেই
(১)।
এটি মারফু (مرفوع) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, তবে তা সহিহ (صحيح) নয়। বরং সঠিক বিষয় হলো এটি আবু মুসা আল-াশআরী (রা.)-এর ওপর মাওকুফ (موقوف)। ইমাম আহমাদ (রহ.) থেকে একটি বর্ণনায় (رواية) এই অভিমত পাওয়া যায়। সুতরাং আবু মুসা আল-াশআরী (রা.)-এর উক্তির মাধ্যমে এই যাকাতের বিধানকে এই চারটি বস্তুর মধ্যে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে
(৩)।
এই সংক্রান্ত উদাহরণ অনেক রয়েছে, তবে আমি গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই যে, কিছু উদাহরণের ক্ষেত্রে মতভেদ হতে পারে: সেগুলো কি মূল পাঠের (نص) ব্যাখ্যা, নাকি নতুন কোনো বিধানের প্রবর্তন? উভয় অবস্থাতেই পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী এতে কোনো সমস্যা নেই।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফী হুজজিয়াতি কাওলিস সাহাবাতিল আখইয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
المبحث الثالثالعمل إذا اختلف الصحابةيكون الكلام في هذا المبحث عن القسم الثالث من مذهب الصحابي وهو: ماذا لو اختلف الصحابة رضي الله عنهم في مسألة ما؟
ويحسن التنبيه إلى أن الأصل أنه لا خلاف بين الصحابة؛ فلذا لابد أن يُحاول التوفيق بين أقوالهم، بحيث تكون أقوالهم قولا واحدًا، وقد فعل ذلك جمعٌ من أهل العلم، منهم ابن قدامة ـ رحمه الله تعالى ـ في «المغني» في مسألة تتعلق بسجود التلاوة
(1)، ومنهم شيخ الإسلام ابن تيمية في «شرح العمدة»
(2) لما أورد مسألة وأطال الكلام فيها، بيَّن رحمه الله أن الأصل أن أقوال الصحابة واحدةٌ، فوفَّق بين الأقوال، ورفع الخلاف في ذلك، وهذا حق، لأن الأصل في أقوال الصحابة أنها قولٌ واحدٌ، وأن الخلاف بينهم قليلٌ، وقُربهم من الوحي ومشاهدتهم رسول الله صلى الله عليه وسلم يُقلِّل الخلاف بينهم.
لكن بشرط إذا جُمع بين أقوال الصحابة فلا يُخرَج بقول مُحدَث جديد. فلو أن العلماء مختلفون في مسألة على أقوال ثلاثة، وحصل بين الصحابة خلاف، وجمع بين أقوالهم، فصارت النتيجة قولا رابعا محدثا فهذا خطأ.
وهذا القسم ـ وهو ما اختلف فيه الصحابة ـ على حالين:
الحال الأولى: أن يكون في المسألة دليلٌ: فإذا ظهر في المسألة دليل، فيجب العمل
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদসাহাবীগণের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে করণীয়সাহাবীর মাযহাব বা মতামতের তৃতীয় প্রকার নিয়ে এই পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হবে। তা হলো: যদি কোনো মাসআলায় সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মতপার্থক্য করেন, তবে সেক্ষেত্রে করণীয় কী?
এখানে এই বিষয়ে সতর্ক করা ভালো যে, মূলনীতি হলো সাহাবীগণের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই; তাই তাঁদের বক্তব্যগুলোর মধ্যে সমন্বয় (التوفيق) করার চেষ্টা করতে হবে, যাতে তাঁদের বক্তব্যগুলো একটি অভিন্ন বক্তব্যে পরিণত হয়। একদল আলিম এরূপ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ইবনু কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-মুগনি' গ্রন্থে তিলাওয়াতের সিজদাহ সংশ্লিষ্ট একটি মাসআলায় তা করেছেন
(১) এবং তাঁদের মধ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহও রয়েছেন। তিনি 'শারহুল উমদাহ'
(২) গ্রন্থে যখন একটি মাসআলা উল্লেখ করেছেন এবং দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, তখন তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) স্পষ্ট করেছেন যে, মূলনীতি হলো সাহাবীগণের কথা অভিন্ন। এরপর তিনি বক্তব্যগুলোর মধ্যে সমন্বয় (التوفيق) করেছেন এবং সেক্ষেত্রে বিদ্যমান মতপার্থক্য নিরসন করেছেন। এটিই সঠিক, কারণ সাহাবীগণের বক্তব্যের মূল হলো তা এক ও অভিন্ন হওয়া এবং তাঁদের মধ্যে মতভেদ খুবই নগণ্য। ওহীর (وحي) নৈকট্য এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রত্যক্ষ করা তাঁদের মধ্যে মতভেদকে কমিয়ে দেয়।
তবে শর্ত হলো, সাহাবীগণের বক্তব্যের মধ্যে যখন সমন্বয় করা হবে, তখন যেন নতুন কোনো উদ্ভাবিত (محدث) কথা বেরিয়ে না আসে। যেমন, আলিমগণ যদি কোনো মাসআলায় তিনটি মতে বিভক্ত হন এবং সাহাবীগণের মধ্যেও মতভেদ দেখা দেয়, এরপর তাঁদের বক্তব্যের সমন্বয় করতে গিয়ে চতুর্থ কোনো উদ্ভাবিত (محدث) মত প্রকাশ পায়, তবে তা ভুল হবে।
আর এই প্রকারটি—অর্থাৎ যাতে সাহাবীগণ মতভেদ করেছেন—তা দুটি অবস্থায় বিভক্ত:
প্রথম অবস্থা: মাসআলাটিতে কোনো দলিল (دليل) থাকা। সুতরাং যদি মাসআলায় কোনো দলিল (دليل) প্রকাশ পায়, তবে আমল করা আবশ্যক (يجب)
--------------------------------------------