(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: -)
فضل يوم عرفة لأبي بكر الوراق   (أبو بكر الوراق)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مجلس في فضل يوم عرفة

المؤلف: أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بنُ إِسْمَاعِيْلَ بنِ العَبَّاسِ البَغْدَادِيُّ المُسْتَمْلِي الوَرَّاقُ (ت 378هـ)

المحقق: عمار بن سعيد تمالت

الناشر: الدار الأثرية [طبع مع فضل عشر ذي الحجة للطبراني]

الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م

عدد الصفحات: 87

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

আবু বকর আল-ওয়াররাক রচিত আরাফাহ দিবসের মর্যাদা   (আবু বকর আল-ওয়াররাক)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আরাফাহ দিবসের মর্যাদা বিষয়ক মজলিস

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল-আব্বাস আল-বাগদাদি আল-মুস্তামলি আল-ওয়াররাক (মৃত্যু ৩৭৮ হি.)

গবেষক ও সম্পাদক: আম্মার বিন সাঈদ তামালত

প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ [তাবারানির 'ফজলে আশরে জিলহজ্জ' এর সাথে মুদ্রিত]

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হি. - ২০০৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: -)
مجلس في فضل يوم عرفة

 

إملاء الإمام الحافظ

أبي بكر محمد بن إسماعيل بن العباس الوراق

293 - 378 هـ

 

تحقيق

عمار بن سعيد تمالت

 

الدار الأثرية

 

الطبعة الأولى

1429 هـ - 2008 م

 

[طبع مع فضل عشر ذي الحجة للطبراني]
আরাফাহ দিবসের ফযীলত বিষয়ক একটি মজলিস

 

ইমাম আল-হাফিযের প্রদানকৃত দরস

আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনুল আব্বাস আল-ওয়াররাক

২৯৩ - ৩৭৮ হিজরী

 

তাহকীক

আম্মার বিন সাঈদ তামালত

 

আদ-দারুল আসারিয়্যাহ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৯ হিজরী - ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ

 

[তাবারানী রচিত যিলহজ্জের দশ দিনের ফযীলত-এর সাথে মুদ্রিত]
(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৮১)
بسم الله الرحمن الرحيم

1 - أنا أبو بكر محمد بن إسماعيل بن العباس بن محمد الوراق قال: حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله قَالَ: نا عَبْدُ الله بن محمدابن أيوب المخرمي قال: نا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ شَابُورَ، عَنْ أَبِي قَزَعَةَ، عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ أَبِي حَرْمَلَةَ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ يَبْلُغُ بِهِ النبي صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((صَوْمُ يَوْمِ عَرَفَةَ يَعْدِلُ سَنَةً وَالَّتِي تَلِيهَا، وَصَوْمُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ يَعْدِلُ سَنَةً)).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

১ - আমি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক বলছি, তিনি বলেন: আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আল-মাখরামি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, দাউদ ইবনে শাবুর থেকে, তিনি আবু কাযাআ থেকে, তিনি আবু খালীল থেকে, তিনি আবু হারমালাহ থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

((আরাফার দিনের রোজা এক বছর ও তার পরবর্তী বছরের সমান, আর আশুরার দিনের রোজা এক বছরের সমান।))
(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৮২)
2 - حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ: نا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى قَالَ: سَمِعْتُ عَطَاءً يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ حَرْمَلَةَ بْنِ إِيَاسٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ: أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((صَوْمُ يَوْمِ عَرَفَةَ يُكَفِّرُ سَنَةً قَبْلَهُ وَسَنَةً بَعْدَهُ، وَيَوْمُ عَاشُورَاءَ يُكَفِّرُ عَنْهُ سَنَةً)).
২ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ আর-রাকাশী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বিশর বিন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাম বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আতা-কে আবু আল-খলীল থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি হারমালাহ বিন ইয়াস থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

((আরাফার দিনের রোজা তার পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মোচন করে, আর আশুরার দিনের রোজা এক বছরের গুনাহ মোচন করে।))
(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৮২)
3 - حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله قَالَ: نا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نعيم الفضل بن دكين قال: نا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((إِنَّ اللَّهَ عز وجل يُبَاهِي مَلائِكَتَهُ بِعِبَادِهِ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ، يَقُولُ: انْظُرُوا إِلَى عِبَادِي، جَاءُونِي شُعْثًا غُبْرًا)).
৩ - আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ আর-রাকাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু নুআইম আল-ফাদল বিন দুকাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইউনুস বিন আবি ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

((নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরাফার সন্ধ্যায় তাঁর বান্দাদের নিয়ে তাঁর ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করেন, তিনি বলেন: তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা আমার নিকট এসেছে উস্কোখুস্কো চুলে ও ধূলিমলিন অবস্থায়।))
(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৮৩)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَبِي هَاشِمٍ النَّحْوِيُّ قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْكُوفِيُّ قَالَ: نا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بن بكار قال: حدثنا الْوَلِيدِ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: حَدَّثَنِي دَلْهَمُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مَسْرُوقٍ: أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ يَوْمَ عَرَفَةَ فَقَالَ: ((اسْقُونِي))، قالت عائشة: ((يا جارية اسقيه عسلاً، وما أَنْتَ يَا مَسْرُوقُ صَائِمٌ؟))، قَالَ: ((لا، أَخَافُ أَنْ يَكُونَ يَوْمَ أَضْحَى))، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: ((لَيْسَ كَذَلِكَ، يَوْمُ عَرَفَةَ يَوْمُ يَعْرِفُ الإِمَامُ، وَالنَّحْرِ يَوْمُ يَنْحَرُ الإِمَامُ، أوَ مَا سَمِعْتَ يَا مَسْرُوقُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كان يعدله بصوم ألف يوم؟)).
৪ - মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আবি হাশিম আন-নাহবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দালহাম ইবনে সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি আরাফাহর দিনে আয়েশার নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: "আমাকে পান করতে দিন।" আয়েশা বললেন: "হে পরিচারিকা, তাকে মধু পান করাও। আর হে মাসরুক, তুমি কি রোজা নও?" তিনি বললেন: "না, আমি ভয় করছি যে আজ হয়তো কোরবানির দিন।" তখন আয়েশা বললেন: "বিষয়টি তেমন নয়; আরাফাহর দিন হলো সেই দিন যেদিন ইমাম (নেতা) তা নির্ধারণ করেন, আর কোরবানির দিন হলো সেই দিন যেদিন ইমাম কোরবানি করেন। হে মাসরুক, তুমি কি শোননি যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে এক হাজার দিনের রোজার সমতুল্য মনে করতেন?"
(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৮৪)
5 - حدثنا يحيى بن محمد بن صاعد سنة عشرٍ وثلاثمائة قال: أنا الربيع بن سليمان قال: نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ: حَدَّثَنِيَ ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((مَنْ صَامَ يَوْمَ عَرَفَةَ غُفِرَ لَهُ سنةً أمامه وسنةً بعده)).
৫ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ তিনশ দশ হিজরি সনে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আর-রাবী ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়াহ, ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ফারওয়া থেকে, তিনি ইয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

((যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে))।
(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৮৪)
6 - حدثني يحيى قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ مُلاعِبِ بن حيان المخرمي قال: ثنا أحمد بن إسحاق الحضرمي قال: حدثنا عُزْرَةُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ: حَدَّثَتْنِي أُمُّ الْفَيْضِ قَالَتْ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، عَنِ النبي صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((مَنْ قَالَ هَؤُلاءِ الْعَشْرَ كَلِمَاتٍ لَيْلَةَ عرفة ألف مرةً لم يسأل اللَّهَ شَيْئًا إِلا أَعْطَاهُ إِلا قَطِيعَةَ رحمٍ أَوْ مأثمٍ: سُبْحَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ عَرْشُهُ، سبحان الذي في الأرض مَوْطِئُهُ، ⦗ص: 85⦘ سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْبَحْرِ سَبِيلُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي النَّارِ سُلْطَانُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْجَنَّةِ رَحْمَتُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ رِزْقُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي فِي الْقُبُورِ قَضَاؤُهُ، سُبْحَانَ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاءَ، سُبْحَانَ الَّذِي وَضَعَ الأَرْضَ، سُبْحَانَ الذي لا منجا مِنْهُ إِلا إِلَيْهَ)).
৬ - ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ফাদল আহমদ ইবনে মুলাইব ইবনে হাইয়ান আল-মাখরামি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে ইসহাক আল-হাদরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উজরা ইবনে কায়স আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উম্মুল ফায়দ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে তিনি বলেছেন:

((যে ব্যক্তি আরাফার রাতে এই দশটি বাক্য এক হাজার বার পাঠ করবে, সে আল্লাহর নিকট যা কিছু প্রার্থনা করবে তিনি তাকে তা দান করবেন, কেবল আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা অথবা পাপের কাজ ব্যতীত: পবিত্র সেই সত্তা যাঁর আরশ আসমানে, পবিত্র সেই সত্তা যাঁর পা রাখার স্থান জমিনে, ⦗পৃষ্ঠা: ৮৫⦘ পবিত্র সেই সত্তা যাঁর পথ সমুদ্রে, পবিত্র সেই সত্তা যাঁর কর্তৃত্ব আগুনের মধ্যে, পবিত্র সেই সত্তা যাঁর রহমত জান্নাতে, পবিত্র সেই সত্তা যাঁর রিজিক আসমানে, পবিত্র সেই সত্তা যাঁর ফয়সালা কবরে, পবিত্র সেই সত্তা যিনি আসমানকে সুউচ্চ করেছেন, পবিত্র সেই সত্তা যিনি জমিন স্থাপন করেছেন, পবিত্র সেই সত্তা যাঁর নিকট ব্যতীত যাঁর থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই।))
(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৮৫)
دعاء النبي صلى الله عليه وسلم لأمته عَشِيَّةَ عَرَفَةَ

7 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: نا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ سَيَّارٍ الرَّمَادِيُّ وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ وَمُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى بْنِ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ سَوْرَةَ التَّمِيمِيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ -وَاللَّفْظُ لِعَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مُحَمَّدٍ- قَالُوا: نا أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الطَّيَالِسِيُّ قَالَ: نا عبد القاهر بن السري السلمي قال: حدثني ابن لكنانة بْنُ عَبَّاسِ بْنِ مِرْدَاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ:

⦗ص: 86⦘

دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشِيَّةَ عَرَفَةَ لأُمَّتِهِ فَأَلَحَّ، فَنَادَاهُ رَبُّهُ عز وجل: إِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ إِلا الْمَظَالِمَ التي بينهم، فدعاه فلم يجبه تِلْكَ الْعَشِيَّةِ، فَلَمَّا كَانَ غَدَاةُ مُزْدَلِفَةَ دَعَاهُ فَأَجَابَهُ: إِنِّي قَدْ تَحَمَّلْتُ ظُلَمَاتِهِمْ فِيمَا بَيْنَهُمْ، قال: ثُمَّ تَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَاحِكًا، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ تَبَسَّمْتُ في ساعةٍ لم تكن تبتسم فِيهَا، قَالَ:

((إِنَّ عَدُوَّ اللَّهِ إِبْلِيسَ لَمَّا عَلِمَ أَنَّ اللَّهَ عز وجل قَدِ اسْتَجَابَ لي في أمتي، أهوى يحثو التُّرَابَ عَلَى رَأْسِهِ وَيَدْعُو بِالْوَيْلِ وَالثُّبُورِ)).
আরাফাতের সন্ধ্যায় স্বীয় উম্মতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুয়া

৭ - আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু বকর আহমদ ইবনে মনসুর ইবনে সাইয়্যার আল-রামাদি, আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আল-রাকাশি, মুয়াজ ইবনে আল-মুসান্না ইবনে মুয়াজ আল-আনবারি এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে সাওরা আত-তামিমি আবু আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন—এবং শব্দাবলী আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মদের—তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে আবুল ওয়ালিদ হিশাম ইবনে আবদুল মালিক আত-তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুল কাহের ইবনে আস-সিররি আস-সুলামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কিনা না ইবনে আব্বাস ইবনে মিরদাসের পুত্র তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

⦗পৃষ্ঠা: ৮৬⦘

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের সন্ধ্যায় তাঁর উম্মতের জন্য অত্যন্ত আকুল হয়ে দুয়া করলেন। তখন তাঁর রব মহান ও মহিয়ান তাঁকে ডেকে বললেন: "নিশ্চয়ই আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি, তবে তাদের নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক জুলুমসমূহ ব্যতীত।" তিনি পুনরায় তাঁর কাছে দুয়া করলেন, কিন্তু সেই সন্ধ্যায় তাঁকে সাড়া দেওয়া হলো না। অতঃপর যখন মুজদালিফার সকাল হলো, তিনি পুনরায় তাঁর কাছে দুয়া করলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে সাড়া দিয়ে বললেন: "নিশ্চয়ই আমি তাদের মধ্যকার পারস্পরিক জুলুমের ভার গ্রহণ করে নিলাম।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাস্যোজ্জ্বল মুখে মুচকি হাসলেন। তখন বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এমন এক সময়ে মুচকি হাসলেন যখন আপনি সাধারণত হাসেন না। তিনি বললেন:

((নিশ্চয়ই আল্লাহর শত্রু ইবলিস যখন জানতে পারল যে, আল্লাহ মহান ও মহিয়ান আমার উম্মতের বিষয়ে আমার দুয়া কবুল করেছেন, তখন সে নিজের মাথায় মাটি ছিটাতে ছিটাতে লুটিয়ে পড়ল এবং নিজের দুর্ভোগ ও ধ্বংস ডেকে চিৎকার করতে লাগল।))
(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৮৬)
8 - حدثني أبي قال: نا أحمد بن منصور الرمادي قال: نا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ: أنا سَلامُ بْنُ مِسْكِينٍ، عَنْ عَائِذِ اللَّهِ الْمُجَاشِعِيِّ، عَنْ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذِهِ الأَضَاحِي؟ قَالَ:

((سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام).

⦗ص: 87⦘

قَالَ: قُلْنَا: فما لنا فيها؟ قال:

((بكل شعرةٍ حسنةً)).

قلنا: فالصوف؟ قَالَ:

((بِكُلِّ شعرةٍ فِي الصُّوفِ حَسَنَةٌ)).
৮ - আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমাদ ইবনে মানসুর আল-রামাদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সালাম ইবনে মিসকিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আইযুল্লাহ আল-মুজাশিঈ থেকে, তিনি আবু দাউদ থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এই কোরবানিগুলো কী? তিনি বললেন:

“তোমাদের পিতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নাত।”

⦗পৃষ্ঠা: ৮৭⦘

তিনি বললেন: আমরা বললাম: এতে আমাদের জন্য কী (সওয়াব) রয়েছে? তিনি বললেন:

“প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি নেকি রয়েছে।”

আমরা বললাম: তবে পশম (ভেড়ার লোম) সম্পর্কে কী? তিনি বললেন:

“পশমের প্রতিটি রোমের বিনিময়েও একটি করে নেকি রয়েছে।”
(খণ্ড: ১) ফাদলু ইয়াওমি আরাফাহ লি-আবী বকর আল-ওয়াররাক (পৃষ্ঠা: ৮৭)
9 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: نا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ قَالَ: نا نَائِلُ بْنُ نَجِيحٍ قَالَ: نا عَمْرُو بْنُ شِمْرٍ، عَنْ جَابِرٍ الْجُعْفِيِّ، عَنْ أَبِي جَعْفَر وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى الصُّبْحَ غَدَاةَ عَرَفَةَ أَقْبَلَ عَلَى أصحابه، فقال:

((على مكانكم))، فيقول:

((اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ)).

⦗ص: 88⦘

فيكبر من غداة عرفة إلى صلاة العصر من آخر أيام التشريق.

والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد .. .. .. وسلامه.
৯ - আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ আর-রাকাশী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নায়েল বিন নাজীহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমর বিন শিমর বর্ণনা করেছেন, তিনি জাবির আল-জু'ফী থেকে, তিনি আবু জাফর এবং আব্দুর রহমান বিন সাবিত থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আরাফার দিনের সকালে ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের দিকে মুখ ফিরাতেন এবং বলতেন:

((তোমরা তোমাদের নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো)), অতঃপর তিনি বলতেন:

((আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য))।

⦗পৃষ্ঠা: ৮৮⦘

অতঃপর তিনি আরাফার দিন সকাল থেকে তাশরীকের দিনগুলোর শেষ দিনের আসর সালাত পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করতেন।

এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।