(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: -)
جزء فيه شروط عمر بن الخطاب على النصارى، وحديث واصل الدمشقي ومناظرته لهم القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء فيه شروط أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه على النصارى، وفيه حديث واصل الدمشقي ومناظرته لهم رضي الله عنه - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (23)
المؤلف: عثمان بن أحمد بن عبيد الله بن يزيد، أبو عمرو الدقاق، ابن السَّمَّاك (ت 344 هـ)
اعتنى به: نظام محمد صالح يعقوبي
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 39
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1437
খ্রিস্টানদের ওপর উমর ইবনুল খাত্তাবের শর্তাবলী সম্বলিত পুস্তিকা, এবং ওয়াসিল আদ-দিমাশকির হাদিস ও তাদের সাথে তার বিতর্ক বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
বই: আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক খ্রিস্টানদের ওপর আরোপিত শর্তাবলী সম্বলিত পুস্তিকা, এবং এতে রয়েছে ওয়াসিল আদ-দিমাশকির হাদিস ও তাদের সাথে তার বিতর্ক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) - মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের বৈঠক সিরিজ (২৩)
লেখক: উসমান ইবনে আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ, আবু আমর আদ-দাক্কাক, ইবনে আস-সাম্মাক (মৃত্যু ৩৪৪ হিজরি)
সম্পাদনায়: নিজাম মুহাম্মাদ সালিহ ইয়াকুবি
প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (23)
جزء فيه شروط أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه على النصارى
وفيه حديث واصل الدمشقي ومناظرته لهم رضي الله عنه
رواية أبي عمرو عثمان بن أحمد السماك (ت 344 هـ)
اعتنى به
نظام محمد صالح يعقوبي
ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم
دار البشائر الإسلامية
মাসজিদুল হারামে শেষ দশকের মজলিস (২৩)
একটি পুস্তিকা, যাতে রয়েছে নাসারাদের ওপর আমীরুল মুমিনীন উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শর্তাবলি
এবং এতে রয়েছে ওয়াসিল আদ-দিমাশকির বর্ণনা ও তাদের সাথে তার বিতর্ক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
আবু আমর উসমান বিন আহমাদ আস-সাম্মাক (মৃত্যু ৩৪৪ হিজরী)-এর বর্ণনা
সম্পাদনায়
নিযাম মুহাম্মদ সালেহ ইয়াকুবি
হারামাইন শরিফাইন ও তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী কিছু পুণ্যবান ব্যক্তি এর মুদ্রণে অবদান রেখেছেন
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الأولى
1422 هـ - 2001 م
دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع
هاتف: 702857 - فاكس: 704963/ 009611
بيروت - لبنان ص ب: 5955/ 14
e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা
ফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১
বৈরুত - লেবানন, ডাকবক্স: ৫৯৫৫/ ১৪
ই-মেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدّمة المعتنيبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله حمدًا كثيرًا كما أَمَر، والصَّلاة والسَّلام على سيد الأنبياء والبشر، سيِّدنا محمَّد، وعلى آله وأصحابه، ومَن على دربهم سار واقتفى الأثر.
أمَّا بعد:
فهذا جزء حديثي نفيس من مرويات الإِمام المحدِّث أبي عمرو ابن السَمَّاك رحمه الله تعالى، أتشرَّف بتقديمه في سلسلة رسائل مجالس العشر الأواخر من رمضان التي نعقدها في المسجد الحرام.
أسأل الله تعالى أن ينفع به وبسائر الرسائل في هذه السلسلة الميمونة المباركة، وأن تحظى بقَبول أساتذتي ومشايخي وإخواني طلبة العلم، ملتمسًا منهم سَدَّ الخلل، وتقويم الزَّلل، مع الستر والمعذرة، والعفو عند المقدرة، والدعاء للفقير إلى الله في هذه الليالي المباركة العشرة.
সম্পাদকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, প্রচুর প্রশংসা যেমন তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও মানবকুলের সরদার, আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর এবং যারা তাঁদের পথে চলেছেন ও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর:
এটি ইমাম মুহাদ্দিস আবু আমর ইবনে আস-সাম্মাক (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণিত হাদীসসমূহের একটি মূল্যবান অংশ (জুয), যা আমি মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত রমাদানের শেষ দশ দিনের মজলিসের পুস্তিকা সিরিজের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পেশ করার সৌভাগ্য লাভ করছি।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এবং এই কল্যাণময় ও বরকতময় সিরিজের অন্যান্য সকল পুস্তিকার মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করেন। আর এটি যেন আমার শিক্ষকবৃন্দ, শায়খগণ এবং জ্ঞানান্বেষী ভাইদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পায়। আমি তাঁদের নিকট ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন ও ভুলগুলো শুধরে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি, সেই সাথে ভুলগুলো গোপন রাখা ও ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করার আবেদন করছি। আর এই বরকতময় দশ রাতে আল্লাহর মুখাপেক্ষী এই নিঃস্ব বান্দার জন্য দুআর দরখাস্ত করছি।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ৪)
والله الموفِّق وهو الهادي إلى سواء السَّبيل.
وصلى الله على سيدنا محمَّد وعلى آله وصحبه وسلَّم.
قاله وكتبه
خويدم العلم والعلماء بالبحرين
نظام محمد صالح يعقوبي
আল্লাহই তাওফীক দাতা এবং তিনিই সরল পথের দিশারী।
আর আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সহচরদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
এটি বলেছেন এবং লিখেছেন
বাহরাইনের ইলম ও উলামাদের ক্ষুদ্র খাদেম
নিজাম মুহাম্মদ সালেহ ইয়াকুবি
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة صاحب الجزء
اسمه ونسبه:هو الشَّيخُ الإِمام المحدِّثُ المُكْثِرُ الصَّادِقُ، مُسْنِدُ العراق، أبو عَمرو عثمانُ بنُ أحمدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْن يَزِيد البغداديُّ، الدَّقاقُ، ابنُ السَّمَّاك.
شيوخه:قال الإمام الذهبيُّ في "سِيَر أعلام النُّبلاء" (1):
سَمِع باعتناء والده من أبي جعفر محمَّد بن عُبيد اللهِ بن المنادي، وأحمد بن عبد الجبَّار العطاردي، وحَنْبَل بن إسحاق، والحسين بن محمد بن أبي مَعْشر، ومحمد بن الحسين الحُنَيْني، وعبد الرحمن بن محمَّد بن منصور الحارثي كُرْبُزَان، ويحيى بن أبي طالب، والحسن بن مُكْرم، وخلقٍ كثير (2).
--------------------------------------------
জুযের (অংশটির) সংকলকের জীবনীতাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, অধিক হাদিস বর্ণনাকারী মুহাদ্দিস, সত্যবাদী, ইরাকের মুসনিদ (সনদ সংগ্রাহক), আবু আমর উসমান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-বাগদাদী, আদ-দাক্কাক, ইবনুল সাম্মাক।
তাঁর শিক্ষকগণ:ইমাম যাহাবী ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (১)-এ বলেছেন:
তিনি তাঁর পিতার বিশেষ তত্ত্বাবধানে আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আল-মুনাদী, আহমদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-আত্তারদী, হানবাল ইবনে ইসহাক, আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি মা'শার, মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-হুনাইনি, আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মনসুর আল-হারিসি কুরবুজান, ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব, আল-হাসান ইবনে মুকরিম এবং আরও অনেকের (২) নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ৬)
بعض مَن حَدَّثَ عَنْه:حَدَّثَ عنهُ أَئِمَّةٌ أَجِلَّاء، وحفَّاظ نُبَلاء، منهم:
1 - الإِمام الدَّارقطني.
2 - ابنُ شاهين.
3 - الحافظ ابنُ مَنْده.
4 - الحافظ الحاكم النّيسابوري.
5 - أبو الحسين بن بِشْران.
6 - أبو علي بن شاذان.
وغيرهم (1).
ثناء العلماء عليه:• قال الإِمام الدارقطني: شيخنا أبو عمرو، كَتَبَ عن العُطارديّ ومَنْ بعده، وكتب المصنَّفات الطِّوال بخطّه، وكان من الثقات.
• وقال الحافظ الخطيب البغدادي: كان ابنُ السَّمَّاكِ ثقةً ثَبْتًا يسكن درب الضفادع.
كثرة جمعه وكتابته ونَسْخه:
• قال فيه الدارقطني:
… أكثر الكتاب، وكتب الكتب الطوال والمصنَّفات بخطّه.
• وقال أبو عبد الله ابنُ بكير: سمعتُ أبا عَمرو ابنَ السَّمَّاك يقول:
--------------------------------------------
যাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁদের কেউ কেউ:তাঁর থেকে বহু মর্যাদাবান ইমাম এবং মহান হাফেজগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - ইমাম আদ-দারা কুতনী।
২ - ইবনু শাহীন।
৩ - হাফেজ ইবনু মানদাহ।
৪ - হাফেজ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী।
৫ - আবুল হুসাইন বিন বিশরান।
৬ - আবু আলী বিন শাযান।
এবং আরও অনেকে (১)।
তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:• ইমাম আদ-দারা কুতনী বলেছেন: আমাদের শায়খ আবু আমর; তিনি আল-উতারদী এবং তাঁর পরবর্তীগণের নিকট থেকে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি দীর্ঘ সংকলনগুলো নিজ হাতে লিখেছেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
• হাফেজ আল-খাতীব আল-বাগদাদী বলেছেন: ইবনুস সাম্মাক নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী ছিলেন, তিনি দারবুল দাফাদিউ এলাকায় বসবাস করতেন।
তাঁর অধিক পরিমাণে হাদীস সংগ্রহ, লিখন ও অনুলিপি করার বিষয়:
• আদ-দারা কুতনী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: … তিনি প্রচুর পরিমাণে লিখতেন এবং দীর্ঘ কিতাবসমূহ ও সংকলনগুলো নিজ হাতে লিখেছেন।
• আবু আব্দুল্লাহ ইবনু বুকাইর বলেছেন: আমি আবু আমর ইবনুস সাম্মাককে বলতে শুনেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ৭)
"ما استكبتُ شيئًا قطُّ غير جزء واحد".
• قال الأزهري: وكان كل ما عنده بخطّه (1).
• وقال الإِمام الذهبي: جمع فأوعى، وكتب العالي والنازل، والسَّمينَ والهزيل (2).
وفاته:تُوُفِّي رحمه الله تعالى يوم الجمعة عصرًا لأربع بقين من ربيع الأول سنة 344 هـ، وأُخْرِج يوم السبت ودُفِن في مقابر باب الدير، وصَلَّى عليه ابنه محمد، وحُزر مَن حَضَر جنازته بخمسين ألف إنسان (3).
رَحِمَهُ الله تعالى رحمةً واسعة.
آثاره:1 - الدِّيباج (مخطوط) [لم أعرفه].
2 - الأمالي (مخطوط) [ذكرها الحافظ ابن حجر في "المجمع المؤسس"، 1/ 272؛ وهو في الظاهرية، مجموع (89)].
3 - وفيات الشيوخ (مخطوط) [وهو في الظاهرية ضمن مجموع (106)].
--------------------------------------------
"আমি একটি অংশ ব্যতীত অন্য কখনও কারো মাধ্যমে কিছু লিখিয়ে নেইনি।"
• আল-আযহারী বলেন: তাঁর নিকট যা কিছু ছিল সবই তাঁর নিজের হাতের লেখায় (১)।
• এবং ইমাম আয-যাহাবী বলেন: তিনি ইলম সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করেছেন, এবং তিনি উচ্চ ও নিম্ন মানের সনদ এবং সারগর্ভ ও অসার উভয় প্রকারের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন (২)।
মৃত্যু:তিনি রহিমানুল্লাহ তাআলা ৩৪৪ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাস শেষ হতে চার দিন বাকি থাকতে শুক্রবার আসরের সময় মৃত্যুবরণ করেন। শনিবার তাঁর জানাজা বের করা হয় এবং বাব আদ-দাইর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর পুত্র মুহাম্মদ তাঁর জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন, এবং তাঁর জানাজায় উপস্থিত ব্যক্তিদের সংখ্যা পঞ্চাশ হাজার বলে ধারণা করা হয় (৩)।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন।
রচনাবলী:১ - আদ-দীবায (পাণ্ডুলিপি) [আমি এটি সম্পর্কে অবগত নই]।
২ - আল-আমালী (পাণ্ডুলিপি) [হাফিয ইবনে হাজার 'আল-মাজমাউল মুআসসিস' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, ১/২৭২; এটি যাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে রয়েছে, মাজমু (৮৯)]।
৩ - ওফায়াতুশ শুয়ূখ (পাণ্ডুলিপি) [এটি যাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে মাজমু (১০৬) এর অন্তর্ভুক্ত]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ৮)
• الثلاثة ذكرها الزركلي في "الأعلام" (1) وقال: أجزاء منها في الظاهرية.
4 - هذا الجزء (سيأتي وصفه).
5 - حديثه (ذكره الحافظ ابن حجر في "المجمع المؤسس" (2)، وقال محقّقه الدكتور يوسف المرعشلي: إنَّ الحافظ رحمه الله ذكره في "المعجم المفهرس" باسم: "فوائد ابن السماك". وذكر الدكتور المرعشلي بعض أجزائه في الظاهرية).
6 - جزء فيه "الأسماء الحُسنى ومواضعها من الكتاب العزيز" (3).
7 - الفرائض المستخرجة من حديث سفيان بن سعيد الثوري، ويُعرف بـ "الثاني عشر من حديث ابن السَّمَّاك" (4) في بعض النسخ.
--------------------------------------------
• এই তিনটি (গ্রন্থের কথা) যিরিকলি "আল-আলাম" (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এর কিছু অংশ যাহিরিয়া (লাইব্রেরি)-তে রয়েছে।
৪ - এই অংশটি (এর বর্ণনা সামনে আসবে)।
৫ - তাঁর হাদিস (হাফিয ইবনে হাজার এটি "আল-মাজমাউল মুয়াসসাস" (২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এর মুহাক্কিক ডক্টর ইউসুফ আল-মার'আশলি বলেছেন: হাফিয (রাহিমাহুল্লাহ) এটি "আল-মু'জামুল মুফাহরাস" গ্রন্থে "ফাওয়াইদ ইবনুস সাম্মাক" নামে উল্লেখ করেছেন। ডক্টর মার'আশলি যাহিরিয়াতে এর কিছু অংশের কথা উল্লেখ করেছেন)।
৬ - একটি অংশ যাতে "আল-আসমাউল হুসনা ওয়া মাওয়াদি'উহা মিনাল কিতাবিল আযীয" (আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ এবং মহাগ্রন্থে সেগুলোর অবস্থান) (৩) রয়েছে।
৭ - সুফিয়ান বিন সাঈদ আস-সাওরির হাদিস থেকে সংকলিত ফারায়েদ (উত্তরাধিকার বিধান), যা কিছু পাণ্ডুলিপিতে "আস-সানি আশারা মিন হাদিসি ইবনুস সাম্মাক" (ইবনুস সাম্মাকের হাদিসের দ্বাদশ অংশ) (৪) নামে পরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - أصول السُّنَّة (1).
9 - جزء فيه حديث منكر ونكير، وحديث زريب وصي عيسى عليه السلام، وغير ذلك.
[في الظاهرية ضمن مجموع (86)] (2).
* * *
--------------------------------------------
৮ - সুন্নাহর মূলনীতিসমূহ (১)।
৯ - একটি পুস্তিকা যাতে মুনকার ও নাকীরের হাদিস, ঈসা আলাইহিস সালামের ওসী (প্রতিনিধি) যুরাইবের হাদিস এবং অন্যান্য বিষয় রয়েছে।
[জাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে সংকলন (৮৬)-এর অন্তর্ভুক্ত] (২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وصف النسخةوقعت على هذا الجزء ضمن مجموع برقم (951. OR)، أي المخطوطات الشرقية برقم 951 في مكتبة جامعة ليدن بهولندا. ويقع الجزء ضمن المجموع في الأوراق (21 p -25 p)، وهو ثاني كتاب ضمن المجموع.
ولم يرد في النسخة تاريخ ولا اسم الناسخ.
وعلى النسخة تملُّك على طرَّتها، هذا نصُّه:
(مِن نعم الفتَّاح، على عليٍّ الملّاح؛ سامحه المولى الأجلّ، إذا قضى منه الأجل. آمين).
• وقد ذكر هذا الجزء فورهوف (voorhoeve) في فهرسة لمخطوطات جامعة ليدن (1)، (ص 104).
* * *
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপির বিবরণআমি এই অংশটির সন্ধান পেয়েছি ৯৫১. ওআর (951. OR) নম্বরযুক্ত একটি সংকলনের মধ্যে, যা নেদারল্যান্ডসের লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের ৯৫১ নম্বর প্রাচ্য পাণ্ডুলিপি। এই অংশটি উক্ত সংকলনের ২১p থেকে ২৫p পৃষ্ঠার অন্তর্ভুক্ত এবং এটি ওই সংকলনের দ্বিতীয় কিতাব।
পাণ্ডুলিপিটিতে কোনো তারিখ কিংবা লিপিকারের নামের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
পাণ্ডুলিপিটির প্রচ্ছদে একটি মালিকানা সংক্রান্ত টীকা রয়েছে, যার ভাষ্য নিম্নরূপ:
(সবকিছুর দ্বার উন্মোচনকারী আল্লাহর অনুগ্রহ হতে, আলী আল-মাল্লাহর ওপর; মহান রব তাকে ক্ষমা করুন যখন তাঁর আয়ু সমাপ্ত হবে। আমিন।)
• ফুরহোভ (voorhoeve) লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি তালিকার (১) ১০৪ পৃষ্ঠায় এই অংশটি উল্লেখ করেছেন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ১১)
موضوع الجزءاقتصر الجزء على إسناد رواية عبد الرحمن بن غَنْم للشروط العمرية ورواية واصل الدمشقي وقصة أَسْره ومناظرته للنَّصارى، كما جاء في عنوان النسخة المخطوطة:
(جزء فيه شروط أمير المؤمنين عمر بن الحطَّاب رضي الله عنه على النصارى، وفيه حديث واصل الدمشقي ومناظرته لهم).
ولم يرد فيه غير هاتين الروايتين:
(1) أما الشروط العمرية (وتُعرف أيضًا بالعهد العمري):
فهي مشهورة جدًّا، حتى قال الحافظ ابن قيم الجوزية رحمه الله تعالى عنها: (وشهرة هذه الشروط تغني عن إسنادها، فإنَّ الأئمة تلقّوها بالقَبول، وذكروها في كتبهم واحتجَّوا بها، ولم يزل ذكر الشروط العمرية على ألسنتهم وفي كتبهم، وقد أنفذها بعده الخلفاء، وعملوا بموجبها) (1).
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তুএই অংশটি আবদুর রহমান বিন গানমের বর্ণিত উমরি শর্তাবলি (শুরুত উমরিয়্যাহ), ওয়াসিল আদ-দিমাশকির বর্ণনা, তার বন্দি হওয়ার ঘটনা এবং খ্রিস্টানদের সাথে তার বিতর্কের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যেমনটি পাণ্ডুলিপির শিরোনামে বর্ণিত হয়েছে:
(এমন একটি অংশ যাতে খ্রিস্টানদের ওপর আমিরুল মুমিনীন উমর বিন আল-খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর আরোপিত শর্তাবলি রয়েছে এবং এতে ওয়াসিল আদ-দিমাশকির বর্ণনা ও তাদের সাথে তার বিতর্ক বিদ্যমান)।
এতে এই দুটি বর্ণনা ব্যতীত অন্য কিছু উল্লেখ করা হয়নি:
(১) উমরি শর্তাবলি (যা উমরি চুক্তি নামেও পরিচিত):
এগুলো অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ, এমনকি হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এগুলো সম্পর্কে বলেছেন: (এই শর্তাবলির প্রসিদ্ধি এর সনদ বা সূত্র বর্ণনার আবশ্যকতা দূর করে দেয়, কেননা ইমামগণ এগুলোকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাদের কিতাবসমূহে এগুলো উল্লেখ করেছেন এবং এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। উমরি শর্তাবলির চর্চা সর্বদা তাঁদের মুখে মুখে এবং তাঁদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান ছিল। তাঁর পরবর্তী খলিফাগণ এগুলো কার্যকর করেছেন এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করেছেন) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد شرحها الحافظ ابن القيم في القسم الأخير من كتابه "أحكام أهل الذمَّة" شرحًا وافيًا مفصَّلًا، فكفّى ووفَّى جزاه الله خيرًا ورحمه رحمةً واسعةً.
• أقول: ولأبي محمَّد عبد الله بن أحمد بن زبر القاضي جزء في طرق رواياتها، وهو مطبوع بعنوان: "جزء فيه شروط النصارى".
قام بنشره وتحقيقه المستشرق الأمريكي اليهودي مارك كوهين (Mark Cohen) من جامعة برنستون بأمريكا، نشر الجزء مع دراسة قيِّمة باللغة الإِنجليزيَّة -ولا تخلو من مآخذ! - في مجلَّة القدس للدِّراسات العربية والإِسلامية (Juresalem Studies in Arabik and Islam)، في المجلَّد (23) لسنة 1999 (ص 100 - 157)، واعتمد في نشرته على مخطوطة دار الكتب المصرية (تاريخ تيمور رقم 2252)، أو (حديث 2219) (1)، ورقم المايكروفلم 48608، وحلَّل الشروط تحليلًا أدبيًّا ولغويًّا، فراجعه هناك.
(2) قصة واصل الدمشقي:
وأمَّا الرواية الثانية في جزئنا هذا فهي عن واصل الدِّمشقي، وقصَّة أسره، ومناظرته مع النَّصارى.
--------------------------------------------
হাফেয ইবনুল কায়্যিম তাঁর "আহকামু আহলিয যিম্মাহ" গ্রন্থের শেষ অংশে এর বিস্তারিত ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বিষয়টির পূর্ণ হক আদায় করেছেন এবং যথেষ্ট করেছেন; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।
• আমি বলছি: আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন জাবর আল-কাদীর একটি পুস্তিকা রয়েছে এর বর্ণনাশৈলী নিয়ে, যা "জুযুন ফিহি শুরূতুন নাসারা" (খ্রিস্টানদের শর্তাবলি সম্বলিত পুস্তিকা) শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে।
আমেরিকার প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কিন ইহুদি প্রাচ্যবিদ মার্ক কোহেন এটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন। তিনি ইংরেজি ভাষায় একটি মূল্যবান গবেষণাসহ এই পুস্তিকাটি প্রকাশ করেছেন - যদিও তা ত্রুটিমুক্ত নয়! - যা 'জেরুজালেম স্টাডিজ ইন অ্যারাবিক অ্যান্ড ইসলাম' সাময়িকীর ১৯৯৯ সালের ২৩তম খণ্ডে (পৃষ্ঠা ১০০-১৫৭) প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাঁর এই প্রকাশনায় মিসরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'র পাণ্ডুলিপির ওপর (তারিখ তায়মুর নং ২২২৫২ অথবা হাদিস নং ২২১৯) (১) এবং মাইক্রোফিল্ম নম্বর ৪৮৬০৮-এর ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি এই শর্তাবলির সাহিত্যিক ও ভাষাগত বিশ্লেষণ করেছেন, তাই সেখানে এটি দেখে নেওয়া যেতে পারে।
(২) ওয়াসিল আদ-দিমাশকির ঘটনা:
আমাদের এই পুস্তিকার দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো ওয়াসিল আদ-দিমাশকি, তাঁর বন্দী হওয়ার ঘটনা এবং খ্রিস্টানদের সাথে তাঁর বিতর্ক সম্পর্কে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد ذكر واصلًا هذا الحافظُ أبو القاسم، ابنُ عساكر، في "تاريخ دمشق" (1)، وقال في شأنه:
رجل من أهل دمشق، حكيت له مناظرة مع الروم، إن لم يكن الذي تقدَّم -أي المذكور قبله برقم (8109)، وهو واصل بن عبد الله السلام- فهو غيره.
ولم يذكر فيه -ولا في الذي قبله- شيئًا يُعرف به، فالله أعلم به وبحاله؛ ولكن القصة ظريفة طريفة يمكن أن تضاف إلى أدب المناظرات مع النصارى كقصة مناظرة القاضي الإِمام أبي بكر الباقلاني المشهورة معهم!
• وقد ساق الحافظ ابن عساكر القصَّة بطولها بسنده إلى ابن السَّمَّاك، فقال: أنبأنا أبو محمَّد بن الأكفاني، وعبد الكريم بن حمزة، وأبو الحسن علي بن بركات الخشوعي، قالوا: أخبرنا أبو بكر الخطيب، قال: أنا ابن رزقويه، أنا أبو عمرو بن السَّمَّاك، به.
وهذا دليل على وقوفه على هذا الجزء وروايته له.
* * *
--------------------------------------------
হাফিজ আবুল কাসিম ইবনে আসাকির তাঁর "তারিখে দিমাশক" (১) গ্রন্থে এই ওয়াসিল সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর ব্যাপারে বলেছেন:
দামেস্কের জনৈক ব্যক্তি, যাঁর সাথে রোমানদের একটি বিতর্ক বর্ণিত হয়েছে। যদি তিনি পূর্বোল্লিখিত ব্যক্তি না হন—অর্থাৎ যাঁর কথা তাঁর আগে ৮১০৯ নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে, তথা ওয়াসিল বিন আব্দুল্লাহ আস-সালাম—তবে তিনি অন্য কেউ হবেন।
তিনি তাঁর সম্পর্কে—কিংবা তাঁর আগের জনের সম্পর্কেও—পরিচয়মূলক বিশেষ কিছু উল্লেখ করেননি। তাই আল্লাহই তাঁর এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তবে ঘটনাটি বেশ চমৎকার ও অভিনব, যা খ্রিস্টানদের সাথে বিতর্কের আদব বা সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে; যেমনটি ইমাম কাযী আবু বকর আল-বাকিল্লানির তাদের সাথে করা প্রসিদ্ধ বিতর্কের ঘটনাটি!
• হাফিজ ইবনে আসাকির ইবনে আস-সাম্মাকের নিকট পর্যন্ত তাঁর সনদে ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন আল-আকফানি, আব্দুল কারিম বিন হামযা এবং আবুল হাসান আলী বিন বারাকাত আল-খুশুয়ী। তাঁরা বলেছেন: আমাদেরকে খবর দিয়েছেন আবু বকর আল-খতিব। তিনি বলেছেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে রিযকুয়াহ। তিনি বলেছেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর বিন আস-সাম্মাক, তাঁর থেকে।
এটি এই খণ্ডটি সম্পর্কে তাঁর অবগতি এবং এটি তাঁর কর্তৃক বর্ণিত হওয়ার প্রমাণ।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
سند الجزء• روى هذا الجزء عن ابن السَّمَّاك:
(1) علي بن محمَّد بن بشران:
وهو الشيخ العالم المعدِّل، المُسْنِدُ، أبو الحسين علي بن محمَّد بن عبد الله بن بِشْران، الأُمَوِيُّ البغداديُّ.
وُلِد سنة 328 هـ، وتُوفِّي سنة 415 هـ.
ترجمته في "سِيَر أعلام النبلاء"، للحافظ الذهبي (1).
وقال فيها: روى شيئًا كثيرًا على سدادٍ وصدقٌ وصحَّة رواية. كان عدلًا وقورًا.
• ورواه عنه:
(2) أبو علي الحسن بن غالب بن علي الحربي:
ترجم له الخطيب في "تاريخ بغداد" (2) وقال: يعرف بابن المبارك.
--------------------------------------------
অংশের সনদ• এই অংশটি ইবনুল সাম্মাক থেকে বর্ণিত হয়েছে:
(১) আলী বিন মুহাম্মদ bin বিশরান:
তিনি হলেন শাইখ, আলেম, মুআদ্দিল (বিশ্বস্ততা নিরূপণকারী), মুসনিদ, আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান, আল-উমাবী আল-বাগদাদী।
তিনি ৩২৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪১৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
হাফেজ আয-যাহাবীর "সিয়ারু আলামিন নুবালা" গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে (১)।
সেখানে তিনি বলেছেন: তিনি সঠিকতা, সত্যনিষ্ঠা এবং বর্ণনার বিশুদ্ধতার সাথে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ও গম্ভীর প্রকৃতির।
• এবং তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন:
(২) আবু আলী আল-হাসান বিন গালিব বিন আলী আল-হারবী:
আল-খতীব "তারিখে বাগদাদ" গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন (২) এবং বলেছেন: তিনি ইবনুল মুবারক নামে পরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قال الخطيب رحمه الله: كتبنا عنه وكان له سمت وهيبة، وظاهر وصلاح (1). وكا يقريء القرآن، فأقرأ بحروف خرق بها الإجماع، وادعى فيها رواية عن بعض الأئمة المتقدِّمين، وجعل لها أسانيد باطلة مستحيلة، فأنكر أهل العلم عليه ذلك إلى أن اسْتُتِيبَ منها
…وقال أيضًا: وادَّعى ابنُ غالب أشياء غير ما ذكرناه تبيَّن فيها كذبه وظهر فيها اختلاقُه.
قال الخطيب رحمه الله: سألت ابنَ غالبٍ عن مولده؟ فقال: في آخر سنة ست وستين وثلاثمائة. ومات في ليلة السبت العاشر من شهر رمضان سنة ثمان وخمسين وأربعمائة، ودُفِن صبيحة تلك الليلة عند قبر إبراهيم الحربي.
• ورواه عنه:
(3) أبو بكر محمَّد بن عبد الباقي بن محمَّد البزاز البغدادي، وهو المعروف بقاضي المَرَسْتان، الحنبليُّ:
قال فيه الذهبي: الشيخ الإِمام العالمُ المُتَفَنِّنُ، الفَرَضيُّ العدلُ، مُسْنِدُ العَصْرِ.
وُلِدَ سنة 442 هـ، وتُوُفِّي سنة 535 هـ.
وترجمته في "سِيَر أعلام النُّبلاء" (2) حافلة تدل على جلالة قدر، وغزارة علم، رحمه الله تعالى.
--------------------------------------------
খতিব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: আমরা তাঁর নিকট থেকে ইলম লিপিবদ্ধ করেছি এবং তাঁর মধ্যে গাম্ভীর্য ও মর্যাদা ছিল, এবং ছিল বাহ্যিক নেককারিতা ও শুদ্ধতা (১)। তিনি কুরআন পাঠ করাতেন, অতঃপর তিনি এমন কিছু কিরাত (অক্ষর) দিয়ে পাঠ করিয়েছেন যা দ্বারা তিনি ইজমা (ঐকমত্য) লঙ্ঘন করেছেন, এবং সে বিষয়ে তিনি পূর্ববর্তী কিছু ইমামের পক্ষ থেকে বর্ণনার দাবি করেছেন, আর সেগুলোর জন্য এমন সব সনদ তৈরি করেছেন যা বাতিল ও অসম্ভব। তাই উলামায়ে কেরাম তাঁর এই কাজের প্রতিবাদ করেছেন যতক্ষণ না তিনি তা থেকে তওবা করেছেন
…তিনি আরও বলেছেন: ইবনে গালিব আমাদের উল্লেখ করা বিষয়গুলো ছাড়াও এমন কিছু বিষয় দাবি করেছিলেন যাতে তাঁর মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং তাঁর জালিয়াত প্রকাশ পেয়েছে।
খতিব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: আমি ইবনে গালিবকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম? তিনি বললেন: তিনশ ছেষট্টি হিজরি সালের শেষ ভাগে। তিনি চারশ আটান্ন হিজরি সালের রমজান মাসের দশ তারিখ শনিবার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং সেই রাতেই ভোরবেলায় ইব্রাহিম হারবি-র কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
• এবং তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন:
(৩) আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি বিন মুহাম্মদ আল-বাজ্জাজ আল-বাগদাদি, যিনি মারিস্তানের কাজি হিসেবে পরিচিত, হাম্বলি:
যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, উত্তরাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ, ন্যায়পরায়ণ এবং সমকালের প্রধান বর্ণনাকারী।
জন্ম ৪৪২ হিজরি, এবং মৃত্যু ৫৩৫ হিজরি।
"সিয়ারু আলামিন নুবালা" (২) গ্রন্থে তাঁর জীবনী অত্যন্ত বিস্তারিত যা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং অগাধ ইলমের পরিচায়ক, আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن طريف ما ورد في ترجمته أنَّه وقع في أَسْرِ الروم -أثناء سفر له- وبقي سنةً ونصفًا، وقيَّدوه وغلُّوه، وأرادوهُ على كلمةِ الكُفْرِ، فأبى، وَتَعَلَّمَ منهم الخطَّ الرُّوميَّ.
وقال السمعاني: وقال لي: أَسَرَتنِي الرُّومُ، وكانوا يقولون لي: قل: المسيحُ ابنُ الله؛ حتَّى نَفْعَلَ ونَصْنَعَ في حَقِّكَ!. فما قُلْتُ!. وَتَعَلَّمْتُ الخَطَّ الرُّوميّ. ذكر ذلك كُلَّهُ الإِمامُ الذهبيُّ رحمه الله في "سِيَر أعلام النُّبلاء".
أقول: ولعلَّ هذا الأَسْر الرُّوميّ كان دافعًا له إلى رواية قصة واصلٍ الأسير الدمشقي عند الروم، والله أعلم!
• ورواه عنه:
(4) الإِمام الشَّيخ أبو حفص عمر بن محمَّد بن مُعَمَّر بن طَبَرْزذ: والطَّبَرْزذ بذال معجمة: هو السُّكر.
وهو الشيخ المسند الكبير الرحلةُ، مسند أهل زمانه، وقد تُكُلِّم فيه بكلام لم يثبت أكثره في حقّه، كما هو الظاهر من ترجمة الإِمام الذهبي له في "سِيَر أعلام النُّبلاء" (1)، وأكثر ما قيل فيه يمكن الردّ عليه والذبّ عنه.
قال الإِمام الذهبي في آخر ترجمته: وتُوُفِّي أبو حفص بن طَبَرْزَذ في تاسع رجب سنة سبع وست مئة (2)، ودُفِن بباب حرب،
--------------------------------------------
তাঁর জীবনীতে বর্ণিত চমৎকার বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো, তিনি কোনো এক সফরের সময় রোমানদের হাতে বন্দি হন এবং সেখানে দেড় বছর কাটান। তাঁরা তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে এবং তাঁকে কুফরি কথা বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করে, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন। বরং সেখানে তিনি তাঁদের কাছ থেকে রোমান লিপি শিখে নেন।
সামআনি বলেন: তিনি আমাকে বলেছেন: রোমানরা আমাকে বন্দি করেছিল এবং তারা আমাকে বলত: বলো, ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’; তাহলে আমরা তোমার প্রতি অনুগ্রহ করব এবং তোমার জন্য অনেক কিছু করব! কিন্তু আমি তা বলিনি! আর আমি রোমান লিপি শিখে নিয়েছি। ইমাম যাহাবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে এই সমস্ত বিষয় উল্লেখ করেছেন।
আমি বলছি: সম্ভবত রোমানদের এই বন্দিত্বই তাঁকে রোমানদের কাছে বন্দি থাকা দামেস্কের ওয়াসিলের গল্প বর্ণনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, আর আল্লাহই ভালো জানেন!
• এবং তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন:
(৪) ইমাম শায়খ আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াম্মার ইবনে তাবারজাদ: ‘তাবারজাদ’ শব্দটি নুক্তাযুক্ত ‘যাল’ দিয়ে, যার অর্থ হলো চিনি।
তিনি ছিলেন মহান শায়খ, মুসনিদ এবং বহু দেশ ভ্রমণকারী, তাঁর সমকালীনদের মধ্যে প্রধান মুসনিদ। তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু সমালোচনা করা হয়েছে যার অধিকাংশ তাঁর ক্ষেত্রে প্রমাণিত নয়, যেমনটি ইমাম যাহাবী তাঁর জীবনীতে ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে (১) স্পষ্ট করেছেন। তাঁর সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তার অধিকাংশেরই উত্তর দেওয়া এবং তা খণ্ডন করা সম্ভব।
ইমাম যাহাবী তাঁর জীবনীর শেষে বলেন: আবু হাফস ইবনে তাবারজাদ ৬০৭ হিজরির ৯ই রজব ইন্তেকাল করেন (২) এবং তাঁকে ‘বাবু হারব’ নামক স্থানে দাফন করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والله يسامحه، فمع ما أبدينا من ضعفه قد تكاثر عليه الطلبة، وانتشر حديثُه في الآفاق وفرح الحُفَّاظُ بعواليه، ثمَّ في الزَّمن الثاني تزاحموا على أصحابه، وحملوا عنه الكثير، وأحسنوا به الظن، والله الموعد، ووثَّقه ابن نقطة. اهـ.
* * *
আর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। আমরা তার যে দুর্বলতা প্রকাশ করেছি তা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা তার কাছে প্রচুর সংখ্যায় সমবেত হয়েছে এবং দিগন্তজুড়ে তার হাদিস ছড়িয়ে পড়েছে আর হাফেজগণ তার উচ্চসনদধারী হাদিসগুলো পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন। অতঃপর পরবর্তী সময়ে তারা তার ছাত্রদের নিকট ভিড় করেছেন এবং তার থেকে প্রচুর (হাদিস) গ্রহণ করেছেন এবং তার সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করেছেন। আর আল্লাহর নিকটই রয়েছে চূড়ান্ত ফয়সালা। ইবনে নুকতাহ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
صورة صفحة الغلاف
প্রচ্ছদ পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
صورة الورقة الأولى من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ২০)
صورة الورقة الأخيرة من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: -)
لقاءُ العشر الأواخر بالمسجد الحرام (23)
جزءٌ فيه شروط أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه على النصارى
وفيه حديثُ واصل الدمشقيِّ ومناظرته لهم رضي الله عنه
رِوَاية أَبي عَمْرو عُثْمَان بْن أَحمَد السَّمَّاك
رِوَاَية عَلِيّ بن محمَّد بن بِشْران عنه
روَاية أبي علي الحسن بن غالب بن علي الحربي عنه
رِوَاية أَبي بكر محمَّد بن عبد الباقي بن محمَّد البزاز البغدادي عنه
رِوَاية الشيخ الأجل أبي حفص عمر بن أحمد بن مُعَمَّر بن طَبَرْزَذ
رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى
اعتَنَى بِهِ
نظام محمد صالح يعقوبي
মসজিদ আল-হারামে শেষ দশ দিনের মজলিস (২৩)
একটি পুস্তিকা, যাতে খ্রিস্টানদের ওপর আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর আরোপিত শর্তাবলি রয়েছে
এবং এতে ওয়াসিল আদ-দিমাশকির বর্ণনা ও তাদের সাথে তাঁর বিতর্কের বিবরণ রয়েছে, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন
আবু আমর উসমান বিন আহমদ আস-সাম্মাকের বর্ণনা
তাঁর হতে আলী বিন মুহাম্মাদ বিন বিশরানের বর্ণনা
তাঁর হতে আবু আলী আল-হাসান বিন গালিব বিন আলী আল-হারবির বর্ণনা
তাঁর হতে আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকি বিন মুহাম্মাদ আল-বাযযায আল-বাগদাদির বর্ণনা
সুমহান শায়খ আবু হাফস উমর বিন আহমদ বিন মুয়াম্মার বিন তাবারযাদের বর্ণনা
আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন
সম্পাদনায়
নিজাম মুহাম্মাদ সালিহ ইয়াকুবি
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
لَا إلهَ إلا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، عُدَّة لِلِقَائِهِ وَأَمَانًا مِنْ عَذَابِهِ أخبرنا الشيخُ الأجل أبو حفص عمر بن محمَّد بن معمر بن طبرزذ أثابَهُ الله قراءةً عليه في مدرسةِ أصحابنا الصالحية -كَثَّرَهُم الله تَعَالَى- في يوم الاثنين سابع جمادى الآخرة من سنةِ ثلاثٍ وستمائة قال:
أخبرنا أبو بكر محمَّد بن عبد الباقي البزَّاز، قال:
أخبرنا أبو علي الحسن بن غالب بن علي الحربيُّ بقراءتي عليه، فَأقَرَّ به، في يوم الثلاثاء حادي عشر ذِي الحجة من سنة ستٍّ وخمسين وأربعمائة، قال:
أخبرنا أبو الحسين علي بن محمَّد بن عبد الله بن بِشْرَانَ السعْدِيُّ قراءةً عليه، في شَهْرِ ربيعٍ الأوَّل من سنة أربعمائة، فأقَرَّ بِهِ، قال:
أخبرنا أبو عَمرو (1) عثمان بن أحمد بن عبد الله، المعروف بابن
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এটি তাঁর সাথে সাক্ষাতের পাথেয় এবং তাঁর শাস্তি থেকে সুরক্ষাস্বরূপ। অতি মর্যাদাবান শাইখ আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মুয়াম্মার বিন তাবারযাদ—আল্লাহ তাঁকে পুরস্কৃত করুন—আমাদের কাছে তাঁর সামনে পঠিত হওয়ার মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করেছেন আমাদের সালিহিয়া মাদরাসায়—আল্লাহ তাআলা তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন—ছয়শত তিন হিজরি সনের সাতই জুমাদাল আখিরা, সোমবার দিনে, তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-বাযযার, তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন গালিব বিন আলী আল-হারবী আমার পড়ার মাধ্যমে, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন, চারশত ছাপ্পান্ন হিজরি সনের এগারোই জিলহজ, মঙ্গলবার দিনে, তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আস-সা'দী তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে, চারশত হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন, তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর (১) উসমান বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ, যিনি ইবনে... নামে পরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
السَّمَّاك، قراءةً عليه، فأقَرَّ بِهِ، في صَفَرَ سنة اثنتين (1) وأربعين وثلاثمائة:
1 - حدثنا أبو محمد عُبيد بن محمَّد بن خلف البزار صاحبُ أَبُو ثَوْرٍ (2)، حدثنا الربيع بن ثعلب أبو الفضل (3)، حدثنا يحيى بن عُقبةَ بن أبي العَيْزار (4)، عن سفيانَ الثَّوْريِّ (5)، والوليد بنِ نوحٍ (6)، والسَّرِيِّ بن مصرف (7)، يذكرون عن طلحة بن مصرف (8)، عن
--------------------------------------------
সাম্মাক, তাঁর নিকট পাঠকালে তিনি তা অনুমোদন করেছেন, সফর মাসে, তিনশত বিয়াল্লিশ (১) হিজরি সনে:
১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ উবাইদ বিন মুহাম্মাদ বিন খালাফ আল-বাযযার, যিনি আবু সাওর (২)-এর সাথী ছিলেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রাবী বিন সা'লাব আবু আল-ফাদল (৩); তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন উকবা বিন আবি আল-আইযার (৪), তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী (৫), আল-ওয়ালিদ বিন নূহ (৬) এবং আস-সাররী বিন মুসাররিফ (৭) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা তালহা বিন মুসাররিফ (৮) থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مسروق (1)، عن عبد الرحمن بن غَنْمٍ (2) قال:
"كَتَبْنَا لِعُمَرَ بنِ الخَطَّاب رضي الله عنه حينَ صالَحَ نَصَارَى أَهْلِ الشَّام:
بسم الله الرحمن الرحيم
هذا كتابٌ لعبدِ اللَّهِ عُمَرَ أميرِ المؤمنين، من نصارى مدينةِ كذا وكذا:
إِنَّكُمْ لَمَّا قَدِمْتُم علينا سَألْنَاكُمُ الأمانَ لأنْفُسِنا، وذرارينا، وأَمْوالنا، وأهلِ مِلَّتِنا، وشَرَطْنَا لكم على أَنْفُسِنا أن لا نُحْدِثَ في مدائِننا ولا فيما حَوْلنا دَيْرًا ولا كنيسةً ولا قِلَّايةً (3) ولا صومعةَ راهبٍ، ولا نُجَدِّدُ ما خَرِبَ منها، ولا نُحييَ ما كان مِنْهَا في خطط المسلمين.
ولا نمنعَ كنائسَنَا أن ينزلها أحدٌ من المسلمينَ في ليلٍ ولا نهار.
وأَنْ نُوَسِّعَ أبوابَها للمارَّةِ وابْنِ السَّبيل. وأن ننزلَ مَنْ نَزَلَها مِنَ المُسْلِمِينَ ثلاثَ لَيَالٍ نُطْعِمُهُمْ.
--------------------------------------------
মাসরূক (১), তিনি আব্দুর রহমান ইবনে গানম (২) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
"যখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ার খ্রিস্টানদের সাথে সন্ধি করেন, তখন আমরা তাঁর উদ্দেশ্যে লিখেছিলাম:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এটি আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন উমরের প্রতি অমুক অমুক শহরের খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে এক অঙ্গীকারনামা:
আপনারা যখন আমাদের নিকট আগমন করলেন, তখন আমরা আপনাদের কাছে আমাদের জীবন, আমাদের সন্তান-সন্ততি, আমাদের সম্পদ এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছিলাম। আর আমরা নিজেদের ওপর এই শর্ত আরোপ করেছি যে, আমরা আমাদের শহরে বা তার আশপাশে কোনো মঠ, গির্জা, উপাসনালয় (৩) অথবা সন্ন্যাসীদের কোনো আশ্রম নতুন করে নির্মাণ করব না। আর সেগুলোর মধ্য থেকে যা ধ্বংস হয়ে গেছে তা সংস্কার করব না এবং মুসলমানদের বসতি এলাকায় অবস্থিত সেগুলোর কোনোটি পুনর্নির্মাণ করব না।
আর আমরা আমাদের গির্জাগুলোতে কোনো মুসলমানকে দিন বা রাতে অবস্থান করা থেকে বাধা দেব না।
আমরা পথচারী ও মুসাফিরদের জন্য সেগুলোর দরজা প্রশস্ত রাখব। আর কোনো মুসলমান সেখানে অবতরণ করলে আমরা তাকে তিন রাত পর্যন্ত সেখানে থাকতে দেব এবং তাদের খাবার খাওয়াব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولا نُؤوي (1) في منازِلنا ولا كنائسنا جاسوسًا. ولا نكْتُمَ غِشًّا للمسلمين.
ولا نُعَلِّمَ أَوْلادَنا القرآنَ. ولا نُظْهِرَ شِرْكًا ولا ندعو إليه أحدًا. ولا نَمْنَعَ أحدًا من ذوي قَرَابَتِنَا الدُّخُولَ في الإِسلامِ إِنْ أرادُوه.
وأَنْ نُوَقِّرَ المسلمينَ ونقومَ لهم في مجالسنا إذا أرادُوا الجلوسَ. ولا نتشَبَّهَ بهم في شيءٍ من لباسهم: في قَلَنْسُوَةٍ ولا عِمامةٍ، ولا نَعْلَيْنِ، ولا فَرْقِ شَعَرٍ. ولا نتكلمَ بكلامهم، ولا نتكنَّى بكُناهم.
ولا نَرْكبَ السُّروجَ ولا نتَقَلَّدَ السيُوفَ، ولا نتَخِذَ شَيْئًا مِنَ السِّلاحِ ولا نَحْمِلَهُ معنا. ولا ننقشَ على خواتمنا بالعربيةِ. ولا نبيعَ الخمورَ. وأَنْ نَجُزَّ مَقادِمَ رُؤُوسِنا.
وأَنْ نَلْزَمَ زَيَّنَا (2) حيثُ ما كان (3). وأَنْ نَشُدَّ زنانيرنا على أَوْسَاطنا. وَأَنْ لا نُظْهِرَ الصَّليبَ عَلَى كَنَائِسِنا، وَلَا نُظْهِرَ صُلْبَاننا وَكُتبنَا في شَيْءٍ مِنْ طُرُقِ الْمُسْلِمِينَ وَلَا أَسْوَاقِهِم.
--------------------------------------------
আমরা আমাদের ঘরবাড়ি বা গির্জায় কোনো গুপ্তচরকে আশ্রয় দেব না। এবং মুসলিমদের প্রতি কোনো প্রকার প্রতারণা বা অনিষ্ট গোপন রাখব না।
আমরা আমাদের সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দেব না। আমরা শিরক প্রকাশ করব না এবং কাউকে এর প্রতি আহ্বান করব না। আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কেউ যদি ইসলামে প্রবেশ করতে চায়, তবে আমরা তাদের বাধা দেব না।
আমরা মুসলিমদের সম্মান করব এবং তারা যখন বসতে চাইবেন, তখন আমরা আমাদের মজলিসে তাদের সম্মানে দাঁড়িয়ে যাব। আমরা পোশাক-পরিচ্ছদের কোনো কিছুতে—যেমন টুপি, পাগড়ি, জুতো কিংবা চুলের সিঁথির বিন্যাসে—তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করব না। আমরা তাদের ভাষায় কথা বলব না এবং তাদের মতো উপনাম (কুনিয়াত) গ্রহণ করব না।
আমরা জিনের ওপর আরোহণ করব না, তলোয়ার ধারণ করব না এবং কোনো প্রকার অস্ত্র গ্রহণ করব না কিংবা তা সাথে বহন করব না। আমাদের আংটিতে আরবিতে কিছু খোদাই করব না। আমরা মদ্য বিক্রয় করব না। আমরা আমাদের মাথার সম্মুখভাগের চুল ছেঁটে রাখব।
আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে থাকব। আমরা আমাদের কোমরে জুননার (এক প্রকার কোমরবন্ধনী) বেঁধে রাখব। আমাদের গির্জাগুলোতে ক্রুশ প্রদর্শন করব না এবং মুসলিমদের চলাচলের পথ কিংবা বাজারগুলোতে আমাদের ক্রুশ ও ধর্মীয় কিতাব প্রকাশ করব না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَلَا نَضْرِبَ بنواقيسنا في كنائسنا إلَّا ضَرْبًا خَفيفًا. ولا نَرْفَعَ أصواتنَا بالقِراءَةِ في كنائسنا في شَيْءٍ مِن حَضْرَةِ المُسلمين.
ولا نُخْرِجَ شَعَانِينَنَا (1) ولا باعوثًا، ولا نَرْفَعَ أصواتنا مع مَوْتانا، ولا نُظْهِرَ النيرانَ مَعَهُمْ في شَيْءٍ مِنْ طُرُقِ المسلمين ولا أَسْواقهم، ولا نُجاوِرَهم بموتانا.
ولا نتَّخِذَ مِنَ الرَّقيقِ ما جَرَى عليه سهامُ المسلمين. ولا نَطَّلِعَ عليهم في منازلهم".
• فَلَمَّا أتيتُ عُمَرَ بْنَ الخَطَابِ رضي الله عنه بالكتابِ زادَ فيه:
"ولا نَضْرِبَ أَحَدًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ. شَرَطْنَا لَكُم ذلكَ على أَنْفُسِنَا وأَهْلِ مِلَّتِنَا وقَبِلْنَا عَلَيْهِ الأمانَ؛ فإِنْ نحنُ خالَفْنا في شَيءٍ ممَّا شَرَطْنَاهُ لَكُمْ وضَمِنَّاهُ على أَنْفُسِنَا فلا ذمَّةَ لنا وقد حلَّ لكم [منَّا] (2) ما يَحِلُّ مِن أهل المُعَانَدة والشِّقاقِ".
--------------------------------------------
আমরা আমাদের গির্জাগুলোতে মৃদু আঘাত ব্যতীত জোরে ঘণ্টা বাজাব না। মুসলমানদের উপস্থিতিতে আমাদের গির্জাগুলোতে কোনো কিছু পাঠকালে আমরা উচ্চৈঃস্বরে শব্দ করব না।
আমরা আমাদের শা'নিন (১) বা বাউস (ধর্মীয় উৎসবের মিছিল) বের করব না, আমাদের মৃতদের সাথে উচ্চৈঃস্বরে শব্দ করব না, মুসলমানদের কোনো রাস্তা বা বাজারে তাদের সাথে আগুন প্রদর্শন করব না এবং তাদের প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের মৃতদের দাফন করব না।
আমরা এমন কোনো দাস গ্রহণ করব না যাদের ওপর মুসলমানদের গনীমতের অংশ নির্ধারিত হয়ে গেছে। আমরা তাদের ঘরে উঁকি দেব না।"
• যখন আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এই লিখিত চুক্তিটি নিয়ে আসলাম, তখন তিনি তাতে আরও যোগ করলেন:
"এবং আমরা কোনো মুসলমানকে প্রহার করব না। আমরা আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য এসব শর্ত মেনে নিয়েছি এবং এর ভিত্তিতে নিরাপত্তা গ্রহণ করেছি। অতএব, আমরা যদি আপনাদের জন্য কৃত এবং আমাদের নিজেদের ওপর জিম্মাদারী নেওয়া কোনো বিষয়ে বিরোধিতা করি, তবে আমাদের জন্য আর কোনো নিরাপত্তা চুক্তি অবশিষ্ট থাকবে না এবং অবাধ্য ও হঠকারীদের ক্ষেত্রে আপনাদের জন্য যা [আমাদের পক্ষ থেকে] (২) বৈধ হয়, আমাদের ক্ষেত্রেও তা বৈধ হয়ে যাবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
2 - وبالإِسناد قال:
أخبرنا الشيخُ أبو الحسين علي بن محمَّد بن محمَّد بن عبد الله بن بشران السُّكَرِيُّ قال:
أخبرنا أبو عمرو عُثمان بن أحمد بن عبد الله بن السَّمَّاكِ، حدثنا عُبيدُ بن محمَّد بن خلف البزار، حدثنا الحسن بن الصبَّاح البزَّار (1)، حدثنا محمَّد بن كثير المصيصي الصنعاني (2)، عن مَخْلد بن الحسين (3)، عن واصلٍ (4) قال:
--------------------------------------------
২ - এবং সনদের মাধ্যমে তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল হুসাইন আলি ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বিশরান আস-সুকারি, তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুস সাম্মাক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উবাইদ ইবন মুহাম্মদ ইবন খালাফ আল-বাযযার, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান ইবন আস-সাব্বাহ আল-বাযযার (১), আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন কাসীর আল-মাসিসসি আস-সানআনি (২), মাখলাদ ইবনুল হুসাইন (৩) থেকে বর্ণিত, তিনি ওয়াসিল (৪) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
"أُسِرَ غُلامٌ من بني بطارقة الرُّومِ -وكان غُلامًا جميلًا- فلَمَّا صاروا إلى دار السَّلام وَقَعَ إلى الخليفة (1)، وذلك في ولايةِ بني أُمَيَّة؛ فَسَمَّاهُ بَشِيرًا، وأَمَرَ بِهِ إلى الكُتَّابِ؛ فَكَتَبَ وقَرَأَ الْقُرْآنَ وروى الشِّعْرَ وقاسَ وطَلَبَ الأحاديثَ وحَجَّ. فَلَمَّا بَلَغَ واجْتَمَعَ أَتَاهُ الشَّيْطانُ فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ وذَكَّرَهُ النَّصْرَانِيةَ دينَ آبائِهِ؛ فَهَرَب مُرْتَدًّا مِنْ دَارِ الإِسلامِ إلى أَرْضِ الرُّوم؛ لِلَّذي سَبقَ لَهُ في أُمِّ الكتاب. فَأتِيَ به مَلِكَ الطَّاغيةِ فَسَألهُ عَنْ حَالِهِ، وما كانَ فيهِ، وما الذي دعاهُ إلى الدخولِ في النَّصْرَانِيّة؟ فَأخْبَرَهُ برغْبَتِهِ فيه. فَعَظُمَ في عَيْنِ المَلَكِ؛ فَرَأسَهُ وصَيَّرَهُ بِطْرِيقًا مِن بَطَارِقَتِهِ وأَقْطَعَهُ قُرىً كثيرةً؛ فهي اليوم تُعْرَفُ بِهِ، يقالُ لها: قُرَى بشير.
وكانَ مِنْ قضاءِ الله وقَدرِهِ أَنهُ أُسِرَ ثلاثونَ رَجُلًا مِنَ المسلمين؛ فلما دَخَلُوا على بشيرٍ، سَائَلَهُم رَجُلًا رَجُلًا عن دينهم، وكانَ فيهم شَيْخٌ مِنْ أهلِ دِمَشْقَ يقالُ له: واصل؛ فَسَاءَلَهُ بَشِيرٌ؛ فأبى الشَيْخُ أَنْ يَرُدَّ عليه شَيْئًا؛ فقالَ بَشِيرٌ: ما لَكَ لَا تُجيبُني؟
قالَ الشَّيْخُ: لَسْتُ أُجِيبُكَ اليومَ بشيْءٍ!
قالَ بَشِيرٌ للشَّيْخِ: إني سائِلُكَ غَدًا فَأَعِدَّ جوابًا، وأَمَرَهُ بِالانْصِرافِ.
فَلَمَّا كَانَ مِنَ الغَدِ بَعَثَ بَشِيرٌ؛ فَأدْخِلَ الشَّيْخُ إِلَيْهِ،
فَقَالَ بَشِيرٌ: الحمدُ للهِ الَّذي كانَ قَبْلَ أن يكونَ شَيْءٌ، وخَلَقَ سبع سماواتٍ طِباقًا بلا عَوْنٍ كَانَ مَعَهُ مِنْ خَلْقِهِ؛ فَعَجبًا لكم معاشِرَ
--------------------------------------------
রোমান অভিজাত বংশের এক কিশোর বন্দী হলো - সে ছিল এক সুন্দর কিশোর। যখন তারা শান্তির আবাসে (দারুস সালামে) পৌঁছালো, তখন সে খলিফার হাতে গিয়ে পড়ল (১), আর তা ছিল উমাইয়া বংশের শাসনামলে। খলিফা তার নাম রাখলেন বশীর এবং তাকে মক্তবে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন। সে লিখতে শিখল, কুরআন পাঠ করল, কবিতা বর্ণনা করল, কিয়াস (আইনগত অনুমান) শিখল, হাদিস অন্বেষণ করল এবং হজ সম্পাদন করল। যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক ও পূর্ণ বিকশিত হলো, শয়তান তার কাছে এল এবং তাকে কুমন্ত্রণা দিল। তাকে তার পিতৃপুরুষদের ধর্ম খ্রিষ্টধর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দিল। ফলে সে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে ইসলামের আবাস (দারুল ইসলাম) থেকে রোমানদের ভূখণ্ডে পালিয়ে গেল; যা তার জন্য উম্মুল কিতাবে (তকদীরে) পূর্বনির্ধারিত ছিল। তাকে সেই স্বৈরাচারী রাজার কাছে নিয়ে আসা হলো। রাজা তার অবস্থা, তার অতীত জীবন এবং কী কারণে সে খ্রিষ্টধর্মে ফিরে এসেছে তা জানতে চাইলেন। সে রাজাকে তার এই ধর্মের প্রতি অনুরাগের কথা জানালো। রাজার চোখে সে তখন মহান হয়ে উঠল। রাজা তাকে প্রধান বানালেন এবং তাকে তার অভিজাতদের অন্তর্ভুক্ত করলেন। তাকে অনেকগুলো গ্রাম জায়গির হিসেবে প্রদান করলেন। আজ পর্যন্ত সেই গ্রামগুলো তার নামেই পরিচিত, সেগুলোকে বলা হয় 'বশীরের গ্রামসমূহ'।
আল্লাহর ফয়সালা ও তকদীরের লিখন এই ছিল যে, ত্রিশজন মুসলিম বন্দী হলেন। যখন তাদের বশীরের সামনে আনা হলো, সে একে একে তাদের সবার ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগল। তাদের মধ্যে দামেস্কের একজন বৃদ্ধ ছিলেন, যার নাম ছিল ওয়াসিল। বশীর তাকে প্রশ্ন করল, কিন্তু বৃদ্ধ তাকে কোনো উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালেন। বশীর বলল: আপনার কী হয়েছে যে আপনি আমাকে উত্তর দিচ্ছেন না?
বৃদ্ধ বললেন: আজ আমি আপনাকে কোনো উত্তর দেব না!
বশীর বৃদ্ধকে বলল: আমি আপনাকে আগামীকাল প্রশ্ন করব, তাই উত্তর প্রস্তুত রাখুন। এরপর সে তাকে বিদায় করার নির্দেশ দিল।
পরদিন যখন সকাল হলো, বশীর লোক পাঠালো এবং বৃদ্ধকে তার সামনে উপস্থিত করা হলো।
বশীর বলল: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো কিছু হওয়ার পূর্বেই বিদ্যমান ছিলেন এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির কারো সাহায্য ছাড়াই সুবিন্যস্তভাবে সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন। হে লোকসকল, তোমাদের ব্যাপারে বড়ই বিস্ময়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফীহি শুরূতু উমর ইবনিল খাত্তাব আলান নাসারা, ওয়া হাদীসু ওয়াসিল আদ-দিমাশকী ওয়া মুনাযারাতুহু লাহুম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
العَرَبِ حين تَقُولونَ: {إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (59)} (1)!.
فَسَكَتَ الشَّيْخُ؛ فقالَ لَهُ بَشِيرٌ:
مَا لَكَ لا تُجيبُني؟ فقالَ: كيفَ أُجِيبُكَ وَأنا أَسِيرٌ في يَدِكَ؛ فإنْ أَجَبْتُكَ بما تَهوى أسْخَطْتُ عَلَيَّ رَبِّي، وهَلَكْتُ في دِيني، وإنْ أَجَبْتُكَ بما لا تَهْوَى خِفْتُ عَلَى نَفْسي؟
فأَعْطني عَهْدَ اللهِ وَمِيثَاقَهُ وما أَخَذَ النَّبِيُّونَ على الأُمَمِ أَنكَ لَا تَغْدِر بي ولا تمْحل (2) بي ولا تَبْغِ بي باغِيةَ سُوءٍ، وأَنّكَ إذا سَمِعْتَ الحَقَّ تَنْقَادُ لَهُ.
فقال بشيرٌ: فَلَكَ عَلَيَّ عَهْدُ اللَّهِ وميثاقُهُ وما أَخَذَ الله عز وجل على النَّبِيِّينَ وما أَخَذَ النَّبِيُّونَ على الأُمَمِ: أني لا أَغْدِرُ بكَ ولا أمحل بكَ ولا أَبْغي بك باغيةَ سُوءٍ وأنِّي إذا سَمِعْتُ الحقَّ انْقَدْتُ إليهِ.
قال الشَّيخُ: أمَّا ما وَصَفْتَ مِنْ صِفَةِ الله عز وجل؛ فَقَدْ أَحْسَنْتَ الصِّفَةَ. وأَمَّا ما لم يبْلُغ عِلْمُكَ ولم يستحكمِ عليه رَأْيُكَ أكثرُ، والله أَعْظَمُ وأَكْبَرُ ممَّا وَصَفْتَ؛ فلا يَصِفُ الواصفُون صِفَتَهُ.
وأَمَّا ما ذَكَرْتَ مِن هذينِ الرَّجُلَيْنِ؛ فَقَدْ أَسَأتَ الصِّفَةَ! أَلمْ يَكونا يَأْكُلانِ الطَّعامَ ويَشْرَبَان ويُبَوِّلان ويَتَغَوَّطانِ وينامانِ ويَسْتَيْقِظَان ويَفْرَحَانِ ويَحْزَنَانِ؟
--------------------------------------------
আরবগণ, যখন তোমরা বল: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের সদৃশ। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন, অতঃপর তাকে বলেছিলেন, ‘হও’, ফলে সে হয়ে যায়। (৫৯)} (১)!
অতঃপর শায়খ চুপ হয়ে গেলেন; তখন বাশির তাকে বললেন:
আপনার কী হয়েছে যে আপনি আমাকে উত্তর দিচ্ছেন না? তিনি বললেন: আমি আপনাকে কীভাবে উত্তর দেব যখন আমি আপনার হাতে বন্দি? যদি আমি আপনাকে আপনার পছন্দমতো উত্তর দেই তবে আমি আমার প্রতিপালকের অসন্তুষ্টি অর্জন করব এবং আমার দ্বীন বিনষ্ট হবে। আর যদি আমি আপনাকে এমন উত্তর দেই যা আপনার অপছন্দনীয়, তবে আমি নিজের প্রাণের ব্যাপারে আশঙ্কা করি।
সুতরাং আপনি আমাকে আল্লাহর অঙ্গীকার ও তাঁর প্রতিশ্রুতি এবং নবীগণ উম্মতদের থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা দিন যে, আপনি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না, আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবেন না এবং আমার কোনো অনিষ্ট কামনা করবেন না; আর আপনি যখন সত্য শুনবেন তখন তার অনুগত হবেন।
বাশির বললেন: আপনার জন্য আমার ওপর আল্লাহর অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নবীগণের ওপর যা অর্পণ করেছেন এবং নবীগণ উম্মতদের থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা রইল যে: আমি আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না, আপনার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করব না এবং আপনার কোনো অনিষ্ট কামনা করব না; আর আমি যখন সত্য শুনব তখন তার অনুগত হব।
শায়খ বললেন: আপনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তা তো আপনি উত্তমভাবেই করেছেন। তবে আপনার জ্ঞান যে পর্যন্ত পৌঁছেনি এবং আপনার সিদ্ধান্ত যেখানে সুদৃঢ় হয়নি তা আরও অধিক। আল্লাহ আপনার বর্ণনার চেয়েও অনেক মহান ও বড়; বর্ণনাকারীরা তাঁর গুণের প্রকৃত বর্ণনা দিতে সক্ষম নয়।
আর এই দুই ব্যক্তির ব্যাপারে আপনি যা উল্লেখ করেছেন, সে ক্ষেত্রে আপনি বর্ণনায় ত্রুটি করেছেন! তারা কি খাবার গ্রহণ করত না, পান করত না, প্রস্রাব-পায়খানা করত না, ঘুমাত না, জাগ্রত হতো না এবং আনন্দিত ও দুঃখিত হতো না?
--------------------------------------------