(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: -)
شروط النصارى لابن زبر الربعي   (أبو محمد الربعي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزءٌ فيه شروط النصارى وبذيله أحاديث لأبي محمد عبد الوهاب بن أحمد الكلابي

المؤلف: عبد الله بن أحمد بن ربيعة بن زبر الربعي، أبو محمد (ت 329هـ)

المحقق: أنس بن عبد الرحمن بن عبد الله العقيل

الناشر: دار البشائر الإسلامية [ضمن سلسلة لقاء العشر الأواخر (94) ]

الطبعة: الأولى 1427 هـ - 2006 م

عدد الصفحات: 47

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে জাবর আল-রিবঈ-এর খ্রিস্টানদের শর্তসমূহ   (আবু মুহাম্মদ আল-রিবঈ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: একটি পুস্তিকা যাতে খ্রিস্টানদের শর্তসমূহ রয়েছে এবং এর পরিশিষ্টে আবু মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আহমদ আল-কিলাবি বর্ণিত হাদিসসমূহ রয়েছে

লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে রাবিআহ ইবনে জাবর আল-রিবঈ, আবু মুহাম্মদ (মৃত্যু ৩২৯ হিজরি)

গবেষক: আনাস ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ আল-আকীল

প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ [শেষ দশ দিনের সাক্ষাতকার সিরিজের অন্তর্ভুক্ত (৯৪) ]

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, এগিয়ে এসো

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (94)

 

جزءٌ فيه

شروط النصارى

للقاضي

أبي محمد عبد الله بن أحمد بن زبر الربعي

(255-329 هـ)

 

وبذيله أحاديثٌ

لأبي محمد عبد الوهاب بن أحمد الكلابي

(306-396 هـ)

رحمهما الله تعالى

 

تحقيق

أنس بن عبد الرحمن بن عبد الله العقيل

 

دار البشائر الإسلامية

 

الطبعة الأولى

1427 هـ - 2006 م
মসজিদুল হারামে শেষ দশকের সমাবেশ (৯৪)

 

একটি পুস্তিকা যাতে রয়েছে

খ্রিস্টানদের শর্তাবলি

কাজী

আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন জবর আর-রাবঈ-র

(২৫৫-৩২৯ হিজরি)

 

এবং এর পরিশিষ্টে রয়েছে কিছু হাদিস

আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব বিন আহমদ আল-কিলাবি-র

(৩০৬-৩৯৬ হিজরি)

আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন

 

সম্পাদনা ও টীকা

আনাস বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-আকিল

 

দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

أخبرنا الشيخان: الأجل الفقيه الأمين أبو محمد هبة الله بن أحمد بن محمد الأكفاني، وأبو محمد طاهر بن سهل بن بشر الإسفراييني، قالا: أخبرنا الشيخ أبو الحسن عبد الدائم بن الحسن بن عبيد الله الهلالي القطان، قال: أخبرنا أبو الحسين عبد الوهاب بن الحسن بن الوليد الكلابي، قال: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن أحمد بن زبر، قال:

1- أنا أحمد بن عبد الجبار العطاردي، قال: حدثني أبي، ثنا سعيد بن عبد الجبار، عن سعيد بن سنان، قال: ثنا أبو الزاهرية، عن كثير بن مرة الحضرمي، قال: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لا تبنى بيعةٌ في الإسلام، ولا يجدد ما خرب منها)) .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শায়খ: মহাসম্মানিত ফকিহ আমীন আবু মুহাম্মাদ হিবাতুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আকফানি এবং আবু মুহাম্মাদ তাহির বিন সাহল বিন বিশর আল-ইসফারাঈনি। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আল-হাসান আবুদ দায়িম বিন আল-হাসান বিন উবাইদুল্লাহ আল-হিলালি আল-কাত্তান। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-হাসান বিন আল-ওয়ালিদ আল-কিলাবি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন যাবর। তিনি বলেন:

১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আব্দুল জাব্বার আল-উতারিদি। তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আব্দুল জাব্বার, সাঈদ বিন সিনান থেকে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুয যাহিরিয়্যাহ, কাসীর বিন মুররাহ আল-হাদরামি থেকে। তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((ইসলামে কোনো গির্জা নির্মাণ করা হবে না এবং এগুলোর যা ধ্বংস হয়ে গেছে তার সংস্কারও করা হবে না))।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ১৯)
2- أنا عبد الدائم، أنا عبد الوهاب، أنا عبد الله، ثنا محمد بن غالب بن حرب، ومحمد بن يونس بن موسى، قالا: ثنا بكر بن محمد القرشي ⦗ص: 20⦘ بالبصرة، قال: سمعت سعيد بن عبد الجبار الزبيدي، يحدث عن سعيد بن سنان، عن أبي الزاهرية، عن كثير بن مرة الحضرمي، قال: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تبنى كنيسةٌ في الإسلام، ولا يجدد ما خرب منها)) .
২- আমি আবদুদ্দায়িম, আমি আবদুল ওয়াহহাব, আমি আবদুল্লাহ; আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন গালিব বিন হারব এবং মুহাম্মাদ বিন ইউনুস বিন মুসা হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বকর বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাশি ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ বসরায় হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ বিন আবদুল জব্বার আল-জুবাইদীকে সাঈদ বিন সিনান থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আবু জাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি কাসীর বিন মুররাহ আল-হাদরামি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((ইসলামে কোনো গির্জা নির্মাণ করা হবে না এবং এগুলোর যা কিছু ধ্বংস হয়েছে তা সংস্কার করা হবে না))।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২০)
3- أنا عبد الدائم، أنا عبد الوهاب، أنا عبد الله، ثنا علي بن داود بن يزيد التميمي، ثنا عمرو بن خالد، ثنا عبد الله بن لهيعة، عن يزيد بن أبي حبيب، عن أبي الخير قال: قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: ((لا كنيسة في الإسلام)) .
৩- আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল দায়েম, তিনি বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ থেকে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে দাউদ ইবনে ইয়াজিদ আত-তামীমী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে খালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবীব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি বলেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: ((ইসলামে কোনো গির্জা নেই))।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২০)
4- أنا عبد الدائم، أنا عبد الوهاب، أنا عبد الله، ثنا إبراهيم بن الهيثم البلداني، ثنا عبد الله بن صالح، حدثني الليث بن سعد، حدثني توبة بن نمر الحضرمي قاضي مصر، عن رجل أخبره: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا كنيسة في الإسلام)) .
4- আমি আব্দুল দায়িম, আমি আব্দুল ওয়াহহাব, আমি আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আল-হাইসাম আল-বালদানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন সালিহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস বিন সাদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মিশরের বিচারক তাওবা বিন নামির আল-হাদরামি, এক ব্যক্তি থেকে যিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইসলামে কোনো গির্জা নেই।"
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২০)
قال الليث: وحدثني يزيد بن أبي حبيب، عن أبي الخير، عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه مثل ذلك.

5- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، ثنا الحسن بن [عليل العنزي] ، ثنا أبو الربيع الزهراني، ثنا إسماعيل بن زكريا، عن مجالد بن سعيد، عن الشعبي: أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: ((لا كنيسة في الإسلام)) .
লাইস বলেন: এবং ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব আমার নিকট আবুল খায়েরের সূত্রে উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৫- আবদুদ্দায়িম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন [আলীল আল-আনাযী] আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু রাবী’ আয-যাহরানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল বিন যাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুজালিদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি আশ-শা’বী থেকে বর্ণনা করেছেন যে: উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: ((ইসলামে কোনো গির্জা নেই))।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২১)
6- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، [ثنا] علي بن داود، ثنا سعيد بن الحكم بن أبي مريم، أبنا يحيى بن أيوب، عن عبيد الله بن زحر، عن علي بن يزيد، عن القاسم أبي عبد الرحمن، عن أبي أمامة قال: قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: ((إياكم وأخلاق الأعاجم، ومجاورة الخنازير، وأن يرفع بين أظهركم الصليب)) .
৬- আমি আবদুদ দায়িম থেকে (বর্ণনা করছি), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, [আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন] আলী বিন দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন হাকাম বিন আবি মারিয়াম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব, উবাইদুল্লাহ বিন যাহর থেকে, আলী বিন ইয়াযিদ থেকে, কাসেম আবু আব্দুর রহমান থেকে, আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "তোমরা অনারবদের স্বভাব-প্রকৃতি, শুকরের সান্নিধ্য এবং তোমাদের মাঝে ক্রুশ উত্তোলন করা থেকে বেঁচে থাকো।"
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২১)
7- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، ثنا أحمد بن عبيد بن إسحاق، وأبو إسماعيل الترمذي، قالا: ثنا أبو نعيم الفضل بن دكين، ثنا شبل بن عباد، عن قيس بن سعد، عن طاوس، أنه سمعه يقول: ((لا ينبغي لبيت رحمة أن يكون عنده بيت عذاب)) .
৭- আমি আবদুল দায়িম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন উবায়েদ বিন ইসহাক এবং আবু ইসমাঈল আত-তিরমিযী, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম আল-ফাযল বিন দুকাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শিবল বিন আব্বাদ, কায়েস বিন সাদ থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাকে বলতে শুনেছেন: ((রহমতের ঘরের নিকট আযাবের ঘর থাকা সমীচীন নয়))।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২১)
8- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، [نا] أحمد بن يوسف التغلبي، ثنا أبو عبيد القاسم بن سلام، ثنا أبو نعيم بهذا الحديث.

قال أبو عبيد: يعني الكنائس والبيع وبيوت النيران، يقول: لا ينبغي أن يكون مع المساجد في أمصار المسلمين.
৮- আমি আবদুদ দাইম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, [আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন] আহমদ ইবনে ইউসুফ আত-তাগলিবি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উবায়েদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম, আবু নুআইম আমাদের নিকট এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আবু উবায়েদ বলেন: অর্থাৎ গির্জা, সিনাগগ এবং অগ্নি উপাসনালয়সমূহ; তিনি বলছেন: মুসলমানদের শহরগুলোতে মসজিদের সাথে এগুলোর অবস্থান থাকা সমীচীন নয়।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২১)
9- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، ثنا محمد بن إسحاق بن راهويه الحنظلي، ثنا أبي، ثنا بقية بن الوليد، عن عبد الحميد بن بهرام، ⦗ص: 22⦘ عن شهر بن حوشب، عن عبد الرحمن بن غنم: أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه كتب على النصارى حين صولحوا:

((بسم الله الرحمن الرحيم

هذا كتاب لعبد الله عمر أمير المؤمنين، من نصارى أرض الشام:

إنا سألناك الأمان لأنفسنا وأهلينا وأولادنا وأموالنا وأهل ملتنا، على أن نؤدي الجزية عن يد ونحن صاغرون، وعلى أن لا نمنع أحداً من المسلمين أن ينزلوا كنائسنا في الليل والنهار، ونضيفهم فيها ثلاثاً ونطعمهم فيها الطعام، ونوسع لهم أبوابها، ولا يضرب فيها بالنواقيس إلا ضرباً خفيفاً، ولا نرفع فيها أصواتنا بالقراءة، ولا نؤوي فيها -ولا في شيء من منازلنا- جاسوساً لعدوكم، ولا نحدث كنيسةً ولا ديراً ولا صومعة ولا قلاية، ولا نجدد ما خرب منها، ولا نقصد الاجتماع فيما كان منها في خطط المسلمين وبين ظهرانيهم، ولا نظهر شركاً ولا ندعو إليه، ولا نظهر صليباً على كنائسنا ولا في شيء من طرق المسلمين وأسواقهم، ولا نتعلم القرآن ولا نعلمه أولادنا، ولا نمنع أحداً من ذوي قرابتنا الدخول في الإسلام إن أرادوا ذلك.

وأن نجز مقاديم رؤوسنا ونشد الزنانير في أوساطنا ونلزم ديننا.

ولا نتشبه بالمسلمين في لباسهم ولا في هيئتهم ولا في سروجهم، ولا في نقش خواتيمهم فننقشها عربياً، ولا نكتني بكناهم. وأن نعظمهم ⦗ص: 23⦘ ونوقرهم ونقوم لهم في مجالسنا، ونرشدهم في سبلهم وطرقاتهم، ولا نطلع في منازلهم، ولا نتخذ سلاحاً ولا سيفاً، ولا نحمله في حضر ولا سفر في أرض المسلمين، ولا نبيع خمراً ولا نظهرها، ولا نظهر ناراً مع موتانا في طرق المسلمين، ولا نرفع أصواتنا مع جنائزهم ولا نجاور المسلمين بهم، ولا نضرب أحداً من المسلمين، ولا نتخذ من الرقيق شيئاً جرت عليه سهامهم.

شرطنا ذلك كله على أنفسنا وأهل ملتنا، فإن خالفناه فلا ذمة لنا ولا عهد، وقد حل لكم منا ما يحل لكم من أهل الشقاق والمعاندة)) .
৯- আমি আব্দুল দায়িম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ আল-হানজালি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ, আব্দুল হামিদ ইবনে বাহরাম থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, আব্দুর রহমান ইবনে গানাম থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন নাসারাদের সাথে সন্ধি করেন তখন তাদের ওপর এই শর্তাবলি লিখেছিলেন:

((পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এটি শাম (সিরিয়া) ভূখণ্ডের নাসারাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন উমরের প্রতি একটি অঙ্গীকারনামা:

নিশ্চয়ই আমরা আমাদের নিজেদের জন্য, আমাদের পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, ধন-সম্পদ এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের জন্য আপনার নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি এই শর্তে যে, আমরা অবনত হয়ে স্বহস্তে জিযিয়া প্রদান করব। আমরা কোনো মুসলিমকে দিন বা রাতে আমাদের গির্জাসমূহে অবস্থান করতে বাধা দেব না; সেখানে আমরা তাদের তিন দিন আতিথেয়তা প্রদান করব এবং তাদের খাবার খাওয়াব। আমরা তাদের জন্য গির্জার দরজাগুলো প্রশস্ত রাখব। সেখানে ঘণ্টা বাজানো হবে না, তবে তা খুব মৃদু শব্দে হতে পারে। সেখানে কিরাআত পাঠকালে আমাদের আওয়াজ উঁচু করব না। আমরা আমাদের গির্জাসমূহে কিংবা আমাদের ঘরবাড়ির কোথাও আপনাদের শত্রুদের কোনো গুপ্তচরকে আশ্রয় দেব না। আমরা নতুন কোনো গির্জা, মঠ, সাধু-আশ্রম বা নির্জন উপাসনালয় নির্মাণ করব না। এগুলোর মধ্যে যা ধ্বংস হয়ে গেছে তা সংস্কার করব না। মুসলিমদের জনপদে বা তাদের আবাসস্থলের মাঝে অবস্থিত গির্জাসমূহে সমাবেশের উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা একত্রিত হব না। আমরা শিরক প্রকাশ করব না এবং এর দিকে কাউকে আহ্বান করব না। আমাদের গির্জাসমূহের ওপর কিংবা মুসলিমদের কোনো রাস্তা বা বাজারে ক্রুশ প্রদর্শন করব না। আমরা কুরআন শিখব না এবং আমাদের সন্তানদেরও তা শেখাব না। আমাদের কোনো আত্মীয় যদি ইসলামে প্রবেশ করতে চায়, তবে আমরা তাকে বাধা দেব না।

আমরা আমাদের মাথার সামনের অংশের চুল ছেঁটে রাখব, কোমরে জুননার (কোমরবন্ধ) বাঁধব এবং নিজেদের ধর্মের ওপর অটল থাকব।

আমরা মুসলিমদের সাথে তাদের পোশাকে, তাদের আকৃতিতে, তাদের জিনের (ঘোড়ার সজ্জা) ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রাখব না। আমরা আমাদের আংটিতে আরবী খোদাই করব না এবং তাদের মতো উপনাম (কুনিয়াহ) গ্রহণ করব না। আমরা তাদের সম্মান করব ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ এবং তাদের মর্যাদা দেব। আমাদের মজলিসসমূহে তাদের জন্য দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করব। আমরা তাদের পথ ও রাস্তাগুলোতে পথপ্রদর্শন করব। তাদের ঘরবাড়ির ভেতর উঁকি দেব না। আমরা কোনো অস্ত্র বা তলোয়ার গ্রহণ করব না এবং মুসলিমদের ভূমিতে অবস্থানকালে বা সফরের সময় তা সাথে বহন করব না। আমরা মদ বিক্রি করব না এবং তা প্রকাশ্যে আনব না। মুসলিমদের চলাচলের রাস্তায় আমাদের মৃতদেহগুলোর সাথে আগুন প্রদর্শন করব না। তাদের জানাজার সময় আমাদের আওয়াজ উঁচু করব না। মুসলিমদের পাশে আমাদের মৃতদেহ দাফন করব না। আমরা কোনো মুসলিমকে প্রহার করব না এবং মুসলিমদের অধিকারভুক্ত কোনো দাসকে আমরা গ্রহণ করব না।

আমরা নিজেদের ওপর এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের ওপর এই সব শর্তারোপ করলাম। যদি আমরা এর বিরোধিতা করি, তবে আমাদের জন্য আর কোনো নিরাপত্তা বা অঙ্গীকার অবশিষ্ট থাকবে না; এবং বিদ্রোহী ও অবাধ্যদের ক্ষেত্রে যা করা আপনাদের জন্য বৈধ, আমাদের ক্ষেত্রেও তা বৈধ হয়ে যাবে।)) ।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২৩)
10- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، ثنا محمد بن هشام ابن البختري أبو جعفر المستملي، ثنا الربيع بن ثعلب الغنوي، ثنا يحيى بن عقبة [بن] أبي العيزار، عن سفيان الثوري والوليد بن نوح والسري بن مصرف، يذكرون عن طلحة بن مصرف، عن مسروق، عن عبد الرحمن بن غنم قال: كتبت لعمر بن الخطاب رضي الله عنه حين صالح نصارى أهل الشام:

((بسم الله الرحمن الرحيم

هذا كتاب لعبد الله عمر، أمير المؤمنين، من نصارى مدينة كذا وكذا:

⦗ص: 24⦘

إنكم لما قدمتم علينا سألناكم الأمان لأنفسنا وذرارينا وأموالنا وأهل ملتنا، وشرطنا لكم على أنفسنا:

أن لا نحدث في مدائننا ولا فيما حولها ديراً، ولا كنيسة ولا قلاية ولا صومعة راهب، ولا نجدد ما خرب منها، ولا نحيي ما كان منها في خطط المسلمين، وأن لا نمنع كنائسنا أن ينزلها أحدٌ من المسلمين في ليل ولا نهار، وأن نوسع أبوابها للمارة وابن السبيل، وأن ننزل من مر بنا من المسلمين ثلاثة أيام نطعمهم، ولا نؤوي في كنائسنا ولا منازلنا جاسوساً، ولا نعلم أولادنا القرآن، ولا نظهر شركاً ولا ندعو إليه أحداً، وأن لا نمنع أحداً من ذوي قراباتنا الدخول في الإسلام إن أرادوه.

وأن نوقر المسلمين، وأن نقوم لهم من مجالسنا إذا أرادوا الجلوس، ولا نتشبه بهم في شيء من لباسهم في قلنسوة ولا عمامة ولا نعلين ولا فرق شعر، ولا نتكلم بكلامهم، ولا نكتني بكناهم، ولا نركب السروج، ولا نتقلد السيوف، ولا نتخذ شيئاً من السلاح ولا نحمله معنا، ولا ننقش خواتيمنا بالعربية، ولا نبيع الخمور.

وأن نجز مقاديم رؤوسنا، وأن نلزم زينا حيثما كنا، وأن نشد الزنانير على أوساطنا، وأن لا نظهر الصليب على كنائسنا، وأن لا نظهر صليباً أو كتبنا في شيء من طرق المسلمين ولا أسواقهم، وأن لا نضرب بنواقيسنا في كنائسنا إلا ضرباً خفياً، وأن لا نرفع أصواتنا بالقراءة في كنائسنا في شيء من حضرة المسلمين، وأن لا نخرج شعانين ولا باعوثاً.

⦗ص: 25⦘

وأن لا نرفع أصواتنا مع موتانا، ولا نظهر النيران معهم في شيء من طرق المسلمين وأسواقهم، ولا نجاورهم بموتانا، ولا نتخذ من الرقيق ما جرى عليه سهام المسلمين.

وأن نرشد المسلمين، ولا نطلع في منازلهم -فلما أتيت عمر بالكتاب زاد فيه: ((ولا نضرب أحداً من المسلمين)) -.

شرطنا لكم ذاك على أنفسنا وأهل ملتنا، وقبلنا عليه الأمان، فإن نحن خالفنا عن شيء مما شرطناه لكم وضمناه على أنفسنا فلا ذمة لنا، وقد حل لكم منا ما يحل لكم من أهل المعاندة والشقاق)) .
১০- আমি আব্দুল দায়িম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হিশাম ইবনুল বাখতারি আবু জাফর আল-মুস্তামলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবী ইবনে সালাব আল-গানাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে উকবা [ইবনে] আবিল আয়জার, তিনি সুফিয়ান সাওরি, ওয়ালিদ ইবনে নূহ এবং সাররি ইবনে মাসরাফ থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা তালহা ইবনে মাসরাফ থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে গানম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট লিখেছিলাম যখন তিনি সিরিয়ার (শাম) নাসারাদের সাথে সন্ধি করেছিলেন:

((পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এটি আল্লাহর বান্দা ওমর, আমিরুল মুমিনিনের প্রতি অমুক অমুক শহরের নাসারাদের পক্ষ থেকে লিখিত পত্র:

⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘

আপনারা যখন আমাদের নিকট আসলেন, তখন আমরা আপনাদের নিকট আমাদের জীবনের, আমাদের সন্তানদের, আমাদের সম্পদের এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা প্রার্থনা করলাম এবং আমরা আমাদের নিজেদের জন্য এই শর্তসমূহ গ্রহণ করলাম:

আমরা আমাদের শহরগুলোতে বা এর আশেপাশে কোনো নতুন মঠ, গির্জা, ছোট গির্জা কিংবা সন্ন্যাসীর আশ্রম নির্মাণ করব না; এগুলোর মধ্যে যা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে তা সংস্কার করব না; মুসলিমদের মহল্লায় অবস্থিত এমন কোনো স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করব না। কোনো মুসলিমকে দিনে বা রাতে আমাদের গির্জায় অবস্থান করতে বাধা দেব না। পথচারী ও মুসাফিরদের জন্য গির্জার দ্বারগুলো উন্মুক্ত রাখব। আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রমকারী কোনো মুসলিমকে তিন দিন পর্যন্ত মেহমানদারি করব ও অন্ন দান করব। আমাদের গির্জা বা ঘরবাড়িতে কোনো গুপ্তচরকে আশ্রয় দেব না। আমাদের সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দেব না। আমরা শিরক প্রকাশ করব না এবং এর দিকে কাউকে আহ্বান করব না। আমাদের নিকটাত্মীয়দের কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে তাকে বাধা দেব না।

আমরা মুসলিমদের সম্মান করব। তারা বসতে চাইলে আমরা আমাদের আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তাদের বসার সুযোগ করে দেব। আমরা পোশাকে কোনোভাবেই তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করব না—চাই তা টুপি, পাগড়ি, জুতা কিংবা চুলের সিঁথির ক্ষেত্রে হোক না কেন। আমরা তাদের ভাষায় কথা বলব না এবং তাদের উপনামে (কুনিয়াত) আমাদের উপনাম রাখব না। আমরা জিনের পিঠে সওয়ার হব না, তলোয়ার গলায় ঝুলাব না এবং কোনো প্রকার অস্ত্র তৈরি বা বহন করব না। আমাদের আংটিতে আরবি হরফে কিছু খোদাই করব না এবং আমরা মদ বিক্রি করব না।

আমরা আমাদের মাথার সম্মুখভাগের চুল ছেঁটে রাখব। আমরা যেখানেই থাকি আমাদের নির্ধারিত পোশাক পরিধান করব এবং আমাদের কোমরে জুন্নান (বিশেষ কোমরবন্ধ) বেঁধে রাখব। আমাদের গির্জার উপর ক্রুশ প্রদর্শন করব না। মুসলিমদের চলাচলের পথে বা বাজারে আমাদের ক্রুশ কিংবা ধর্মীয় গ্রন্থসমূহ প্রকাশ করব না। গির্জায় অত্যন্ত মৃদু আওয়াজ ছাড়া ঘণ্টা বাজাব না। মুসলিমদের উপস্থিতিতে গির্জায় উচ্চস্বরে প্রার্থনা করব না। আমরা ‘শআনিন’ (পাম সানডে) বা ‘বাউসা’ এর মতো ধর্মীয় মিছিল বের করব না।

⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘

আমরা আমাদের মৃতদের নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে ক্রন্দন করব না। মুসলিমদের চলাচলের রাস্তায় বা বাজারে মৃতদের সাথে আগুন (মশাল) নিয়ে বের হব না। মুসলিমদের কবরের পাশে আমাদের মৃতদের সমাহিত করব না। মুসলিমদের অংশে পড়া যুদ্ধলব্ধ কোনো ক্রীতদাস আমরা গ্রহণ করব না।

আমরা মুসলিমদের সঠিক পথ প্রদর্শন করব এবং তাদের ঘরবাড়িতে উঁকি দেব না। (যখন আমি ওমরের নিকট এই পত্রটি নিয়ে আসলাম, তখন তিনি এতে আরও যোগ করলেন: “এবং আমরা কোনো মুসলিমকে প্রহার করব না”)।

আমরা আমাদের নিজেদের এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য এই শর্তসমূহ প্রদান করলাম এবং এর বিনিময়ে নিরাপত্তা গ্রহণ করলাম। যদি আমরা আমাদের কৃত শর্তসমূহ এবং যে বিষয়ের জিম্মাদার আমরা হয়েছি তার কোনো একটিও লঙ্ঘন করি, তবে আমাদের জন্য আর কোনো নিরাপত্তা (জিম্মা) থাকবে না। এমতাবস্থায় অবাধ্য ও বিদ্রোহী শত্রুদের সাথে যা করা আপনাদের জন্য বৈধ, আমাদের সাথেও তা করা বৈধ হবে।))।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২৫)
11- قال عبد الله: ووجدت هذا الحديث بالشام: رواه عبد الوهاب بن نجدة الحوطي، عن محمد بن حمير، عن عبد الملك بن حميد بن أبي غنية، عن السري بن مصرف وسفيان الثوري والوليد بن نوح، عن طلحة بن مصرف، عن مسروق بن الأجدع، عن عبد الرحمن بن غنم قال: كتبت لعمر بن الخطاب رضي الله عنه حين صالحه نصارى أهل الشام.. .. فذكر مثله سواء بطوله.

فعجبت من اتفاق ابن أبي غنية ويحيى بن عقبة على روايته عن هؤلاء الثلاثة بأعيانهم، حتى كأن أحدهم أخذ عن الآخر، فالله أعلم.
১১- আবদুল্লাহ বলেন: আমি সিরিয়ায় এই হাদিসটি পেয়েছি: এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব বিন নাজদাহ আল-হাওতি, মুহাম্মাদ বিন হিমইয়ার থেকে, তিনি আবদুল মালিক বিন হামিদ বিন আবি গানিয়াহ থেকে, তিনি আস-সাররি বিন মুসাররিফ, সুফিয়ান আস-সাওরি এবং ওয়ালিদ বিন নূহ থেকে, তারা তালহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি মাসরুক বিন আল-আজদা থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন গানাম থেকে, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট লিখেছিলাম যখন সিরিয়ার খ্রিস্টানরা তাঁর সাথে সন্ধি করেছিল... অতঃপর তিনি এর অনুরূপ দীর্ঘ বর্ণনা উল্লেখ করেন।

আমি ইবনে আবি গানিয়াহ এবং ইয়াহইয়া বিন উকবার এই তিন ব্যক্তির থেকে নির্দিষ্টভাবে এই বর্ণনার ক্ষেত্রে ঐকমত্য দেখে বিস্মিত হয়েছি, এমনকি মনে হচ্ছে যেন তাদের একজন অন্যজনের থেকে এটি গ্রহণ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২৬)
12- ورأيت هذا الحديث في كتاب رجل من أصحابنا بدمشق، ذكر أنه سمعه من محمد بن ميمون [بن] (1) معاوية الصوفي بطبرية بإسناد ليس بمشهور، ينتهي إلى إسماعيل بن مجالد بن سعيد قال: حدثني سفيان الثوري، عن طلحة بن مصرف، عن مسروق، عن عبد الرحمن بن غنم، فذكره بطوله.

وقال فيه عند ذكر الكنائس: ((ولا يأتي منها ما كان في خطط المسلمين.. ..)) . وزاد فيه: ((ولا يتشبه بهم في شيء من لباسهم في قلنسوة، ولا عمامة، ولا سراويل ذات خدمة، ولا نعلين ذات عدنة، ولا نمشي إلا بزنار من جلد، ولا يوجد في بيت أحدنا سلاح إلا انتهب)) . وما رأيت هذه الزيادة فيما وقع إلينا من عهود عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ووجدتها مروية عن عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه، وهي تأتي في هذا الجزء، وبالله التوفيق.

--------------------------------------------

(1) [[من تاريخ دمشق لابن عساكر، وليست في المطبوع]]
১২- এবং আমি এই হাদিসটি দামেস্কে আমাদের এক সঙ্গীর কিতাবে দেখেছি, তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি এটি তাবারিয়ার মুহাম্মাদ বিন মাইমুন [বিন] (১) মুয়াবিয়া আস-সুফি থেকে একটি অখ্যাত সনদে শুনেছেন, যা ইসমাঈল বিন মুজালিদ বিন সাঈদ পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরি আমাকে তালহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি মাসরুক থেকে এবং তিনি আবদুর রহমান বিন গানাম থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।

তাতে গির্জাগুলোর বর্ণনায় বলা হয়েছে: ((এবং মুসলমানদের সীমানার ভেতরে যা আছে তা তৈরি করা যাবে না.. ..))। এতে আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে: ((এবং পোশাকে তাদের সাথে কোনো কিছুতেই সাদৃশ্য রাখা যাবে না—না টুপিতে, না পাগড়িতে, না ঝালরযুক্ত পায়জামায়, আর না কারুকাজ করা জুতোতে। আমরা চামড়ার কোমরবন্ধ (জুন্নার) ছাড়া চলব না। আর আমাদের কারো ঘরে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেলে তা লুণ্ঠন করা হবে))। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর যে সমস্ত অঙ্গীকারনামা আমাদের নিকট পৌঁছেছে তাতে আমি এই অতিরিক্ত অংশটি দেখিনি। তবে আমি এটি উমর ইবনে আবদুল আজিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত পেয়েছি, যা এই অংশে আসবে। আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক প্রার্থনা করি।

--------------------------------------------

(১) [[ইবনে আসাকিরের তারিখু দিমাশক থেকে নেওয়া হয়েছে, তবে এটি মুদ্রিত সংস্করণে নেই]]
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২৬)
13- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، ثنا أبو الأحوص محمد بن الهيثم، ثنا محمد بن إسماعيل بن عياش، حدثني أبي، أن هذا كتاب من عياض بن غنم لذمة حمص:

((أنا حين قدمت بلادنا طلبنا إليك الأمان لأنفسنا وأهل ملتنا، فأمنتنا على أن شرطنا لك على أنفسنا: أن لا نحدث في مدينتنا ولا فيما حولها كنيسة، ولا ديراً ولا قلاية ولا صومعة راهب، ولا نجدد ما خرب من ⦗ص: 27⦘ كنائسنا، ولا نحيي ما كان منها في خطط المسلمين، ولا نمنع كنائسنا من المسلمين أن ينزلوها في الليل والنهار، وأن نوسع أبوابها للمارة وابن السبيل، ولا نؤوي فيها ولا في منازلنا جاسوساً، ولا نكتم أمراً من غش المسلمين، وأن لا نضرب بنواقيسنا إلا ضرباً خفياً في جوف كنائسنا، فيما كان في حضرة المسلمين. ولا نخرج صليباً ولا كتبنا في طريق المسلمين، ولا نخرج باعوثاً ولا شعانين، ولا نرفع أصواتنا مع موتانا، ولا نظهر النيران معهم في الأسواق، أسواق المسلمين، ولا نجاورهم بالخنازير، ولا نبيع الخمور، ولا نظهر شركاً في نادي المسلمين، ولا نرغب أحداً منهم في ديننا، ولا ندعو إليه أحداً، وعلى أن لا نتخذ شيئاً من الرقيق خرجت عليه سهام المسلمين -أو قال: جرت- ولا نمنع أحداً من أنسابنا أراد الدخول في الإسلام.

وأن نلزم زينا حيثما كنا، ولا نتشبه بالمسلمين في لباس قلنسوة، ولا عمامة، ولا نعلين، ولا فرق شعر، ولا مراكبهم، ولا نتكلم بكلامهم، ولا نكتني بكناهم، وأن نجز مقادم رؤوسنا، ونلف نواصينا، ونشد الزنانير على أوساطنا، ولا ننقش على خواتيمنا بالعربية، ولا نركب السروج، ولا نتخذ شيئاً من السلاح ولا نحمله ولا نتقلد السيوف. وأن نوقر المسلمين في مجالسهم، ونرشدهم السبل، ونقوم لهم من المجالس إذا أرادوا الجلوس، ولا نطلع عليهم في منازلهم، ولا نعلم أولادنا القرآن، ولا يشارك أحد منا مسلماً في تجارة، إلا أن يكون أمر التجارة إلى المسلم، وأن نضيف كل مسلم عابر سبيل ثلاثة أيام؛ نطعمه فيها من أوسط ما نجد.

ضمنا لك ذلك على أنفسنا وأهل ملتنا، وأعطيتنا الأمان بذلك على أنفسنا وذرارينا وأزواجنا ومساكننا، فإن نحن غيرنا أو خالفنا عما شرطنا على أنفسنا، وقد قبل بالأمان عليه؛ فلا ذمة لنا، ⦗ص: 28⦘ وقد حل لكم منا ما حل من أهل المعاندة والشقاق)) .

وزادهم عمر بن الخطاب رضي الله عنه، فكتب عمر في الكتاب: ((أن لا تشتروا من سبينا شيئاً، ومن ضرب مسلماً عمداً فقد خلع عهده)) .

قلت أنا: هكذا روى محمد بن إسماعيل بن عياش عن أبيه هذا الحديث.
১৩- আমি আব্দুল দায়িম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল আহওয়াস মুহাম্মদ বিন আল-হাইসাম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আইয়াশ, আমার কাছে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন যে, এটি হিমসের জিম্মিদের জন্য ইয়াদ বিন গনামের পক্ষ থেকে একটি পত্র:

((আমি যখন আমাদের ভূখণ্ডে আসলাম, তখন আমরা আপনার কাছে আমাদের নিজেদের এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করলাম। অতঃপর আপনি আমাদের নিরাপত্তা প্রদান করলেন এই শর্তে যে, আমরা আমাদের নিজেদের ওপর এই শর্তারোপ করছি: আমরা আমাদের শহরে বা এর আশেপাশে কোনো গির্জা, মঠ, সন্ন্যাসীর কুঠুরি বা নির্জন উপাসনালয় নির্মাণ করব না; আমাদের গির্জাগুলোর মধ্য থেকে যা ধ্বংস হয়ে গেছে ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ তা সংস্কার করব না; মুসলিমদের এলাকায় অবস্থিত এ জাতীয় কোনো উপাসনালয় পুনর্নির্মাণ করব না; আমরা মুসলিমদের আমাদের গির্জাগুলোতে দিবা-রাত্রি অবস্থান করতে বাধা দেব না; পথচারী ও মুসাফিরদের জন্য গির্জার দরজাগুলো প্রশস্ত রাখব; গির্জার ভেতরে বা আমাদের ঘরবাড়িতে কোনো গুপ্তচরকে আশ্রয় দেব না; মুসলিমদের প্রতি কোনো প্রতারণামূলক বিষয় গোপন করব না; মুসলিমদের উপস্থিতিতে আমাদের গির্জাগুলোর অভ্যন্তরে মৃদু আওয়াজ ব্যতীত আমাদের কাষ্ঠঘণ্টা বাজাব না; মুসলিমদের চলাচলের পথে কোনো ক্রুশ বা আমাদের কিতাবসমূহ বের করব না; কোনো ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা পাম সানডে বের করব না; আমাদের মৃতদের নিয়ে উচ্চস্বরে বিলাপ করব না; মুসলিমদের বাজারে তাদের সাথে আগুন প্রদর্শন করব না; তাদের আশেপাশে শূকর লালন-পালন করব না; মদ বিক্রি করব না; মুসলিমদের মজলিসে শিরক প্রকাশ করব না; তাদের কাউকে আমাদের ধর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করব না এবং কাউকে এর দিকে আহ্বান করব না; আর আমরা এমন কোনো দাস গ্রহণ করব না যার ওপর মুসলিমদের অংশ নির্ধারিত হয়েছে; এবং আমাদের আত্মীয়-স্বজনের মধ্য থেকে কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে তাকে বাধা দেব না।

আমরা যেখানেই থাকি না কেন আমাদের নির্ধারিত পোশাক পরিধান করব; টুপী, পাগড়ি, জুতো, চুলের সিঁথি বা যানবাহনের ক্ষেত্রে মুসলিমদের সদৃশ হব না; তাদের ভাষায় কথা বলব না; তাদের মতো উপনাম গ্রহণ করব না; আমাদের মাথার সামনের অংশ মুণ্ডন করব; আমাদের কপাল ও কানের ধারের চুল পেঁচিয়ে রাখব; আমাদের কোমরে জুননার (কোমরবন্ধনী) বেঁধে রাখব; আমাদের আংটিতে আরবিতে কিছু খোদাই করব না; জিনের পিঠে সওয়ার হব না; কোনো অস্ত্র গ্রহণ করব না, বহন করব না এবং তলোয়ার গলায় ঝুলাব না। আমরা মুসলিমদের তাদের মজলিসে সম্মান করব; তাদেরকে পথ দেখিয়ে দেব; তারা বসতে চাইলে আমরা আমাদের আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে যাব; তাদের ঘরবাড়ির ভেতরে উঁকি দেব না; আমাদের সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দেব না; আমাদের কেউ কোনো মুসলিমের সাথে ব্যবসায় অংশীদার হব না, যদি না ব্যবসার দায়িত্ব মুসলিমের হাতে থাকে; প্রত্যেক মুসাফির মুসলিমকে তিন দিন মেহমানদারি করব এবং আমাদের সামর্থ্যানুযায়ী মধ্যম মানের খাবার তাদের খাওয়াব।

আমরা আমাদের নিজেদের এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে আপনার জন্য এর নিশ্চয়তা দিচ্ছি; আর আপনি এর বিনিময়ে আমাদের প্রাণ, আমাদের সন্তান-সন্ততি, আমাদের স্ত্রী ও আমাদের বাসস্থানের নিরাপত্তা দান করেছেন। যদি আমরা আমাদের নিজেদের ওপর আরোপিত এই শর্তাবলি পরিবর্তন বা লঙ্ঘন করি, যার ওপর ভিত্তি করে এই নিরাপত্তা কবুল করা হয়েছে, তবে আমাদের জন্য আর কোনো নিরাপত্তা চুক্তি থাকবে না; ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ আর বিরুদ্ধাচরণকারী ও অবাধ্যদের ক্ষেত্রে যা বৈধ হয়, আমাদের ক্ষেত্রেও আপনাদের জন্য তা বৈধ হয়ে যাবে।))।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এতে আরও কিছু বৃদ্ধি করেন। উমর পত্রে লিখলেন: ((তোমরা আমাদের যুদ্ধবন্দীদের মধ্য থেকে কাউকে ক্রয় করবে না; আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুসলিমকে প্রহার করবে, সে তার চুক্তি ভঙ্গ করল।))।

আমি বলছি: এভাবেই মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আইয়াশ তার পিতার সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২৮)
14- ورأيته من حديث أبي المغيرة عبد القدوس بن حجاج، عن إسماعيل بن عياش، أن غير واحد أخبرهم: أن أهل الجزيرة كتبوا لعبد الرحمن بن غنم: ((إنك لما قدمت بلادنا طلبنا إليك الأمان.. ..)) .

كتبته بطوله، وهو عندي خطأ، والصواب ما رواه محمد بن إسماعيل؛ من جهات: منها: أن سليمان بن عبد الحميد البهراني حدث به عن محمد بن إسماعيل. وقال سليمان: وهكذا قرأته في أصل كتاب إسماعيل بن عياش بخطه. ومنها: قوله أن أهل الجزيرة كتبوا هذا الكتاب لعبد الرحمن بن غنم، وهذا غلط؛ لأن الذي افتتح الجزيرة وصالح أهلها هو عياض بن غنم، ما علمت في ذلك اختلافاً.
১৪- আমি এটি আবু আল-মুগীরা আব্দুল কুদ্দুস ইবনে হাজ্জাজের হাদীস থেকে দেখেছি, তিনি ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একাধিক ব্যক্তি তাঁদের অবহিত করেছেন: জাযীরার অধিবাসীরা আব্দুর রহমান ইবনে গানমকে লিখেছিল: ((আপনি যখন আমাদের দেশে আগমন করেছিলেন, তখন আমরা আপনার নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছিলাম...))।

আমি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে লিখেছি, তবে আমার নিকট এটি ভুল; আর সঠিক হলো মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈলের বর্ণিত রিওয়ায়েতটি; যা বেশ কিছু দিক থেকে প্রমাণিত: তার মধ্যে একটি হলো: সুলাইমান ইবনে আব্দুল হামিদ আল-বাহরানি এটি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান বলেছেন: আমি ইসমাঈল ইবনে আইয়াশের মূল কিতাবে তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে এভাবেই পাঠ করেছি। আরেকটি কারণ হলো: তাঁর এই বক্তব্য যে, জাযীরার অধিবাসীরা এই পত্রটি আব্দুর রহমান ইবনে গানমকে লিখেছিল, এটি ভুল; কারণ যিনি জাযীরা জয় করেছিলেন এবং এর অধিবাসীদের সাথে সন্ধি করেছিলেন তিনি হলেন ইয়াদ ইবনে গানম। এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২৮)
15- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، ثنا العباس بن محمد، ثنا كثير بن هشام، ثنا جعفر بن برقان، عن المعمر بن صالح، عن العلاء بن أبي عائشة، قال:

كتب إلي عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه: أن سل أهل الرها: هل عندهم صلح؟

⦗ص: 29⦘

فسألتهم، فأتاني أسقفهم بدرج أو حق فيه كتاب من عياض بن غنم، ومن معه من المسلمين لأهل الرها: ((إني أمنتهم على دمائهم وأموالهم وذراريهم ونسائهم ومدينتهم وطواحينهم، إذا أدوا الحق الذي عليهم، شهد الله وملائكته)) .

فأجازه لهم عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه.
১৫- আমি আবদুদ দাইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবনে হিশাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে বুরকান, মুয়াম্মার ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আলা ইবনে আবি আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

উমর ইবনে আবদুল আজিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার নিকট লিখে পাঠালেন: তুমি রুহার অধিবাসীদের নিকট জানতে চাও, তাদের কাছে কি কোনো সন্ধিপত্র আছে?

⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘

অতঃপর আমি তাদের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের বিশপ একটি পত্রের কুণ্ডলী অথবা পাত্র নিয়ে আমার নিকট আসলেন, যাতে ইয়াদ ইবনে গানাম ও তাঁর সাথে থাকা মুসলমানদের পক্ষ থেকে রুহার অধিবাসীদের জন্য একটি পত্র ছিল: ((নিশ্চয়ই আমি তাদের জান, মাল, সন্তান-সন্ততি, নারী, শহর এবং যাঁতাকলসমূহের নিরাপত্তা দান করলাম, যখন তারা তাদের ওপর অর্পিত পাওনা আদায় করবে; এ বিষয়ে আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ সাক্ষী রইলেন।))

অতঃপর উমর ইবনে আবদুল আজিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের জন্য এটি অনুমোদন করলেন।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২৯)
16- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، ثنا أحمد بن يوسف التغلبي، ثنا أبو عبيد القاسم بن سلام، ثنا كثير بن هشام، فذكر مثل هذا الحديث.

وقال أبو عبيد: وفي غير حديث كثير بن هشام: أن عياضاً لما صالح أهل الرها دخل سائر أهل الجزيرة فيما دخل فيه أهل الرها من الصلح.
১৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুদ দাইম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইউসুফ আল-তাগলিবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর বিন হিশাম, অতঃপর তিনি অনুরূপ একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন।

আবু উবাইদ বলেন: কাসীর বিন হিশামের হাদিস ব্যতীত অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, ইয়াজ যখন রুহা-বাসীদের সাথে সন্ধি করেন, তখন জাজিরার অবশিষ্ট সকল অধিবাসীও রুহা-বাসীদের করা সেই সন্ধিচুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ২৯)
17- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، ثنا أحمد بن حماد بن عبد السلام الواسطي، ثنا أبي، ثنا غياث بن إبراهيم، ثنا ثور بن يزيد، عن راشد بن سعد، أن عياض بن غنم افتتح الجزيرة وصالح أهل الرها، وكانت مدينة حصينة، وكتب لهم عياض كتاباً، فهو عندهم إلى اليوم، وصالح أهل مدينة حران وافتتحوا أبوابها، ومدينة الرقة بعثوا يطلبون الصلح فصالحهم وافتتح عياض الجزيرة كلها.

18- قال: وثنا غياث عن سعيد بن سنان بنحو ذلك.
১৭- আমি আব্দুল দাইম, আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহহাব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন হাম্মাদ বিন আব্দুস সালাম আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট গিয়াস বিন ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাওর বিন ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন রাশিদ বিন সাদ থেকে যে, আয়াদ বিন গানম আল-জাজিরা অঞ্চলটি বিজয় করেন এবং আর-রুহা নগরীর অধিবাসীদের সাথে সন্ধি করেন; আর তা ছিল একটি সুরক্ষিত শহর। আয়াদ তাদের জন্য একটি অঙ্গীকারনামা লিখে দেন, যা আজ অবধি তাদের নিকট সংরক্ষিত আছে। তিনি হাররান শহরের অধিবাসীদের সাথেও সন্ধি করেন এবং তারা শহরের প্রবেশদ্বারগুলো খুলে দেয়। আর রাক্কা নগরীর অধিবাসীরা সন্ধি প্রার্থনা করে প্রতিনিধি পাঠালে তিনি তাদের সাথে সন্ধি করেন এবং এভাবে আয়াদ সমগ্র আল-জাজিরা অঞ্চলটি বিজয় করেন।

১৮- তিনি বলেন: আমাদের নিকট গিয়াস সাঈদ বিন সিনান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৩০)
19- وقال: وثنا غياث، عن خصيف، عن زيد بن رفيع، أن عياض بن غنم صالح أهل الرها وأهل نصيبين.
১৯- তিনি বলেন: এবং গিয়াস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খাসিফ থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে রাফি থেকে বর্ণনা করেন যে, ইয়াদ ইবনে গানাম রুহা এবং নাসিবিনের অধিবাসীদের সাথে সন্ধি করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৩০)
20- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، وحدثني أحمد بن عبد الله بن سليمان، عن أبي الحسن المدائني، عن عوانة بن الحكم: أن الجزيرة افتتحها عياض بن غنم صلحاً.

وقد علمنا أن ذكر عبد الرحمن في هذا الموضع غلط.

ومنها: أن أبا عبيدة بن الجراح هو افتتح حمص لا شك في ذلك، فكان أول من وليها عياض بن غنم؛ ولاه إياها عمر بن الخطاب رضي الله عنه لما فتحت، فوصل إليها في رجب سنة ستة عشر، فأقام أميراً عليها ثلاث سنين ونصفاً.
২০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল দায়িম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, এবং আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান, আবু আল-হাসান আল-মাদায়িনী থেকে, তিনি আওয়ানাহ ইবনে আল-হাকাম থেকে বর্ণনা করেন যে: আল-জাজিরা অঞ্চলটি ইয়াদ ইবনে গানম সন্ধির মাধ্যমে জয় করেছিলেন।

এবং আমরা অবগত হয়েছি যে, এই স্থানে আবদুর রহমানের উল্লেখ করা একটি ভুল।

আর তার মধ্যে একটি হলো: আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ হিমস জয় করেছিলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই; অতঃপর ইয়াদ ইবনে গানম ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এর শাসনভার গ্রহণ করেন; উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এটি বিজিত হওয়ার পর তাকে সেখানে নিয়োগ দান করেন, ফলে তিনি ষোল হিজরি সালের রজব মাসে সেখানে পৌঁছান এবং সেখানে সাড়ে তিন বছর আমীর হিসেবে অবস্থান করেন।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৩০)
21- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، ثنا عبد الكريم بن الهيثم، حدثني محمد بن صالح، ثنا إسماعيل بن عياض، ثنا صفوان بن عمرو، عن سليمان بن عامر قال: خطب معاوية على منبر حمص، وهو أمير عليها وعلى الشام كلها، فقال: والله ما علمت يا أهل حمص أن الله تبارك وتعالى ليسعدكم بالأمراء الصالحين؛ أول من ولي عليكم عياض بن غنم فكان خيراً مني، ثم ولي عليكم سعيد بن عامر بن حذيم وكان خيراً مني، ثم ولي عليكم عمير بن سعد ولنعم العميري كان، ثم ها أنا قد وليتكم؛ فستعلمون.
২১- আমি আবদুদ দায়িম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল কারীম ইবনুল হাইসাম, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালিহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আইয়াদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবনে আমর, সুলাইমান ইবনে আমির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া হিমসের মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি সেখানকার এবং সমগ্র শাম অঞ্চলের আমীর ছিলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! হে হিমসবাসী, আমি জেনেছি যে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা অবশ্যই নেককার আমীরদের মাধ্যমে আপনাদের সৌভাগ্যবান করেছেন। আপনাদের ওপর যিনি সর্বপ্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি ছিলেন ইয়াদ ইবনে গানাম, আর তিনি আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। এরপর আপনাদের ওপর দায়িত্ব পালন করেছেন সাঈদ ইবনে আমির ইবনে হুযাইম, তিনিও আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। এরপর আপনাদের ওপর দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন উমাইর ইবনে সাদ, আর উমাইর কতই না চমৎকার ব্যক্তি ছিলেন। এরপর এই যে আমি আপনাদের দায়িত্ব গ্রহণ করলাম; শীঘ্রই আপনারা (আমার কর্মকাণ্ড) জানতে পারবেন।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৩১)
22- وذكر أحمد بن علي المصيصي المعروف بالحطيطي، ومسكنه بكفربيا، أن مخزوم بن حميد بن خالد حدثهم، عن أبيه حميد بن خالد، عن خالد بن عبد الرحمن، عن عبد السلام بن سلامة بن قيصر الحضرمي: كذلك كان في العهد الذي عهده عمر بن الخطاب رضي الله عنه إلى سلامة بن قيصر، في سنة ست من خلافة عمر:

هذا عهد عمر بن الخطاب رضي الله عنه الذي أودعه سلامة بن قيصر، على أنهم اشترطوا على أنفسهم بهذا الشرط:

طلبنا إليك في الأمان لأنفسنا وأهل ملتنا، على أنا شرطنا على أنفسنا: أن لا نحدث في مدينتا كنيسة، ولا فيما حولها، ولا ديراً ولا قلاية ولا صومعة راهب، ولا نجدد ما خرب من كنائسنا، ولا نحيي -أو كلمة نحوها- ما كان في خطط المسلمين، ولا نمنع كنائسنا من المسلمين أن ينزلوها في الليل والنهار، وأن نوسع أبوابها للمارة وأبناء السبيل، ولا نؤوي فيها ولا في منازلنا جاسوساً، ولا نكتم أمراً من غش المسلمين، وعلى أن لا نضرب نواقيسنا إلا ضرباً خفياً في جوف كنائسنا، ولا نظهر الصليب عليها، ولا نرفع أصواتنا بالصلاة والقراءة في كنائسنا فيما كان بحضرة المسلمين، ولا نخرج صليباً -إلا خفايا- في طرق المسلمين، ولا نخرج باعوثاً ولا شعانين، ولا نرفع أصواتنا مع أمواتنا، ولا نظهر النيران في أسواق المسلمين، ولا نجاورهم بخنازير، ولا نبيع الخمر في أسواق المسلمين، ولا في طرقهم، ولا نظهر شركاً في نادي المسلمين، ولا نرغب مسلماً في ديننا، ولا ندعو إليه أحداً، وعلى أن لا نتخذ شيئاً من الرقيق جرت عليه سهام المسلمين، ولا نمنع أحداً من قراباتنا أراد الدخول في الإسلام.

وأن نلزم زينا حيثما كنا، ولا نتشبه بالمسلمين في لباس قلنسوة ⦗ص: 32⦘ ولا عمامة ولا نعلين، ولا نتكلم بكلامهم، ولا نتكنى بكناهم، ونجز مقادم رؤوسنا، ونلف نواصينا، ونشد الزنانير على أوساطنا، ولا ننقش خواتيمنا بالعربية، ولا نركب السرج، ولا نتخذ شيئاً من السلاح، ونكشف وجوه أمواتنا، ولا نتقلد السيوف. وأن نوقر المسلمين في مجالسهم، ونرشدهم السبل، ونقوم لهم من المجالس، ولا نطلع عليهم في مجالسهم ولا منازلهم، ولا نعلم أولادنا القرآن، ولا يشارك أحد منا مسلماً في التجارة إلا أن يكون للمسلمين أمر التجارة، وأن نضيف كل عابر سبيل ثلاثة أيام؛ نطعمه مما يحل له من طعامنا، ذلك على أنفسنا وأهل ملتنا.

وأعطينا بذلك الأمان على أنفسنا وذرارينا وأزواجنا ومساكننا، فإن نحن غيرنا أو خالفنا عما شرطنا على أنفسنا وقبلنا الأمان عليه؛ فلا ذمة لنا، وقد حل لك من دمائنا وأموالنا ما قد حل لك من العاندين أهل الخلاف والشقاق، وبذلك شرطنا على أنفسنا)) .
২২- আহমদ বিন আলী আল-মাসসিসী, যিনি আল-হুত্বাইত্বী নামে পরিচিত এবং কাফরাবিয়ায় বসবাসকারী, উল্লেখ করেছেন যে, মাখজুম বিন হুমাইদ বিন খালিদ তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা হুমাইদ বিন খালিদ থেকে, তিনি খালিদ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি সালামা বিন কায়সার আল-হাদরামী থেকে: উমর বিন খাত্তাব (রা.) তাঁর খিলাফতের ষষ্ঠ বর্ষে সালামা বিন কায়সারের প্রতি যে অঙ্গীকারনামা প্রদান করেছিলেন তাতে এরূপ ছিল:

এটি উমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর অঙ্গীকারনামা যা তিনি সালামা বিন কায়সারকে অর্পণ করেছিলেন, এই শর্তে যে তারা নিজেদের ওপর এই অঙ্গীকারগুলো গ্রহণ করেছে:

আমরা আপনার কাছে আমাদের নিজেদের ও আমাদের ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছি এই শর্তে যে, আমরা আমাদের ওপর এই বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করছি: আমরা আমাদের শহরে বা এর আশেপাশে কোনো গির্জা, মঠ, নির্জন উপাসনালয় বা সন্ন্যাসীর আশ্রম নির্মাণ করব না, আমাদের গির্জাগুলোর যা কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে তা সংস্কার করব না, মুসলমানদের বসতি এলাকায় যা অবস্থিত (সেগুলো) পুনরায় চালু করব না। আমাদের গির্জাগুলোতে দিবা-রাত্রি কোনো সময় মুসলমানদের প্রবেশে বাধা দেব না, পথচারী ও মুসাফিরদের জন্য এর দরজাগুলো প্রশস্ত রাখব, সেগুলোতে বা আমাদের বাড়িগুলোতে কোনো গোয়েন্দাকে আশ্রয় দেব না, মুসলমানদের সাথে প্রতারণামূলক কোনো বিষয় গোপন করব না। আমাদের গির্জার অভ্যন্তরে মৃদু আওয়াজ ব্যতীত উচ্চস্বরে ঘণ্টা বাজাব না, সেগুলোর ওপর ক্রুশ প্রদর্শন করব না, মুসলমানদের উপস্থিতিতে গির্জার ভেতর আমাদের প্রার্থনা ও পাঠে আওয়াজ উঁচু করব না। মুসলমানদের রাস্তায় ক্রুশ বের করব না—একান্ত গোপনে ছাড়া—এবং কোনো ধর্মীয় মিছিল বা পাম সানডে-র অনুষ্ঠান বের করব না। আমাদের মৃতদের নিয়ে উচ্চস্বরে বিলাপ করব না, মুসলমানদের বাজারে আগুন প্রদর্শন করব না, তাদের প্রতিবেশী হিসেবে শুকর পালন করব না, মুসলমানদের বাজারে বা তাদের রাস্তায় মদ বিক্রি করব না, মুসলমানদের মজলিসে শির্ক প্রকাশ করব না, কোনো মুসলমানকে আমাদের ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করব না এবং কাউকে এর দাওয়াত দেব না। আর আমরা এমন কোনো দাস গ্রহণ করব না যারা মুসলমানদের গনীমতের অংশ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে এবং আমাদের আত্মীয়দের কেউ যদি ইসলাম গ্রহণ করতে চায় তবে তাকে বাধা দেব না।

আর আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের নিজস্ব পোশাক পরিধান করব। মুসলমানদের মতো টুপি ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ বা পাগড়ি বা জুতা পরিধান করে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করব না। তাদের ভাষার মতো কথা বলব না, তাদের উপনামে নিজেদের সম্বোধন করব না। আমরা আমাদের মাথার সামনের অংশের চুল ছেঁটে রাখব, আমাদের কপাল উন্মুক্ত রাখব এবং আমাদের কোমরে জুননার (কোমরবন্ধ) বেঁধে রাখব। আমাদের আংটিতে আরবী খোদাই করব না। জিনে চড়ে আরোহণ করব না, কোনো অস্ত্র গ্রহণ করব না। আমাদের মৃতদের মুখমণ্ডল অনাবৃত রাখব এবং তলোয়ার গলায় ঝুলাব না। মুসলমানদের তাদের মজলিসে সম্মান করব, তাদের পথ প্রদর্শন করব, মজলিসে তাদের সম্মানে উঠে দাঁড়াব। তাদের মজলিস বা ঘরবাড়িতে তাদের ওপর উঁকি দেব না। আমাদের সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দেব না। আমাদের কেউ মুসলমানদের সাথে ব্যবসায়িক অংশীদার হবে না, তবে ব্যবসার পরিচালনা মুসলমানদের হাতে থাকবে। প্রত্যেক পথচারীকে তিন দিন পর্যন্ত আতিথেয়তা দেব; আমাদের খাবার থেকে যা তাদের জন্য বৈধ তা তাদের খাওয়াব। এটি আমাদের নিজেদের এবং আমাদের ধর্মাবলম্বীদের ওপর বাধ্যতামূলক।

আর এর বিনিময়ে আমরা আমাদের জান, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী ও আবাসস্থলের নিরাপত্তা লাভ করলাম। যদি আমরা আমাদের নিজেদের ওপর আরোপিত শর্তের কোনো পরিবর্তন বা বিরোধিতা করি যার ভিত্তিতে আমরা নিরাপত্তা গ্রহণ করেছি, তবে আমাদের জন্য আর কোনো নিরাপত্তা (জিম্মা) অবশিষ্ট থাকবে না। সে অবস্থায় অবাধ্য ও বিদ্রোহী শত্রুদের রক্ত ও সম্পদ আপনার জন্য যেভাবে বৈধ হয়, আমাদের ক্ষেত্রেও তা বৈধ হয়ে যাবে। আমরা নিজেদের ওপর এই শর্তগুলো গ্রহণ করলাম।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৩২)
23- أخبرنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، أنا محمد بن عبد الرحمن بن يونس، ثنا أبو أيوب سليمان بن عبد الرحمن الدمشقي، ثنا [يسرة] بن صفوان، عن الحكم بن عمر الرعيني قال: كتب عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه إلى أمصار الشام:

لا يمشين نصراني إلا مفروق الناصية، ولا يلبس قباء، ولا يمشين إلا بزنار من جلد، ولا يلبسن طيلسان، ولا يلبس سراويلاً ذات خدمة، ⦗ص: 33⦘ ولا يلبس نعلاً ذات عدنة، ولا يركبن على سرج، ولا يوجد في بيته سلاح إلا انتهب.
২৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল দায়িম, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইউনুস, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আইয়ুব সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান আদ-দিমাশকি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াসরাহ ইবনে সাফওয়ান, হাকাম ইবনে উমর আর-রুয়াইনি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শামের শহরগুলোর প্রতি লিখেছিলেন:

কোনো খ্রিস্টান যেন তার কপালের চুল দ্বিধাবিভক্ত করা ছাড়া চলাফেরা না করে, সে যেন কাবা (এক প্রকার আলখেল্লা) পরিধান না করে, এবং সে যেন চামড়ার কোমরবন্ধনী ছাড়া চলাফেরা না করে। সে যেন তায়লাসান (মাথা বা কাঁধের চাদর) পরিধান না করে এবং কারুকার্যমন্ডিত পাজামা পরিধান না করে। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ সে যেন ফিতাযুক্ত বা অলঙ্কৃত জুতা পরিধান না করে, সে যেন জিনের ওপর আরোহণ না করে এবং তার ঘরে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেলে তা যেন লুটে নেওয়া হয় (অর্থাৎ বাজেয়াপ্ত করা হয়)।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
24- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب، ثنا عبد الله، ثنا العباس بن محمد، ثنا شبابة بن سوار، حدثنا إسرائيل بن يونس، عن سماك بن حرب، عن عياض الأشعري:

عن أبي موسى الأشعري، أنه قدم على عمر ومعه كاتبٌ له، فسأله عمر عما صنع في عمله، فقال: أنفقت كذا وكذا، فقال: إني لست أدري ما تقول، ولكن انطلق فاكتب فيما أنفقت.

فانطلق فكتب: أنفقت في كذا وكذا، وفي كذا وكذا.. .. ثم جاء به إلى عمر، فلما رآه أعجبه.

فقال: من كتب لك هذا؟ قال: كاتب لي. قال: فادعه حتى يقرأ لنا كتباً جاءتنا من الشام. فقال: يا أمير المؤمنين إنه لا يدخل المسجد. فقال: لم؟ أجنبٌ هو؟ قال: لا، ولكنه نصراني. فضرب على فخذي ضربةً كاد يكسرها، ثم قال: أما سمعت إلى الله تبارك وتعالى يقول: {يأيها الذين آمنوا لا تتخذوا اليهود والنصرى أولياء بعضهم أولياء بعض} ، أفلا اتخذت كاتباً حنيفاً يكتب لك؟ قال: يا أمير المؤمنين ما لي وله؟ له دينه ولي كتابته!

فقال عمر: لا تأمنهم إذ خونهم الله، ولا تكرمهم إذ أهانهم الله، ولا تدنهم إذ أقصاهم الله.
২৪- আমি আবদুদ দাইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাবাবা ইবনে সাওয়ার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল ইবনে ইউনুস, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, আর তিনি ইয়াদ আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেন:

আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণিত যে, তিনি ওমরের নিকট আসলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর একজন লেখক (মুন্সি) ছিল। ওমর তাঁকে তাঁর দায়িত্বাধীন কর্মসম্পাদন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমি অমুক অমুক খাতে ব্যয় করেছি। ওমর বললেন: তুমি কী বলছ আমি তা বুঝতে পারছি না, বরং তুমি গিয়ে যা ব্যয় করেছ তা লিখে আনো।

অতঃপর তিনি গিয়ে লিখলেন: আমি অমুক অমুক খাতে এবং অমুক অমুক খাতে ব্যয় করেছি... তারপর তিনি তা ওমরের কাছে নিয়ে আসলেন। ওমর যখন তা দেখলেন, সেটি তাঁর পছন্দ হলো।

ওমর বললেন: তোমার জন্য এটি কে লিখেছে? তিনি বললেন: আমার একজন লেখক। ওমর বললেন: তাকে ডাকো যাতে সে আমাদের কাছে সিরিয়া থেকে আসা পত্রগুলো পড়তে পারে। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, সে মসজিদে প্রবেশ করে না। ওমর বললেন: কেন? সে কি অপবিত্র (জুনুব)? তিনি বললেন: না, বরং সে একজন খ্রিষ্টান। তখন ওমর আমার উরুতে এমন এক জোরালো আঘাত করলেন যা প্রায় ভেঙে ফেলার উপক্রম হয়েছিল। এরপর তিনি বললেন: তুমি কি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণী শোনোনি: {হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু}। তুমি কেন একজন একনিষ্ঠ মুসলিম লেখক নিযুক্ত করলে না যে তোমার জন্য লিখে দেবে? তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আমার আর তার মধ্যে সম্পর্ক কী? তার ধর্ম তার কাছে, আর আমার জন্য তো কেবল তার লিখনী!

ওমর বললেন: তোমরা তাদের বিশ্বস্ত মনে করো না যেহেতু আল্লাহ তাদের বিশ্বাসঘাতক সাব্যস্ত করেছেন; তাদের সম্মানিত করো না যেহেতু আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করেছেন; এবং তাদের নিকটবর্তী করো না যেহেতু আল্লাহ তাদের দূরবর্তী করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
25- أبنا [.. ..] (1) ومن لا أحصي ممن حضر أمر أمير المؤمنين المتوكل على الله في النصارى، قالوا:

كان أول يوم أمر فيه بما أمر به فيهم يوم السبت، لثلاث عشرة خلت من شهر ربيع الأول، سنة خمس وثلاثين ومائتين، أنه أمر أن يغير النصارى وجميع أهل الذمة لباسهم فيلبسون الطيالسة العسلية، وأن لا يفارق أحداً منهم الزنانير، وأن يكون ركب سروجهم من خشب، وأن يجعل على قربوس السرج ومؤخرته أكرتان، ومن لبس منهم قلنسوة جعل في قلنسوته زراً كبيراً يخالف لونه لون القلنسوة، ومن لبس منهم العمائم كانت عمامته عسلية، أو ما أشبه ذلك بعد أن يكون مصبوغاً. وأمر أن يجعل لعبيدهم رقاعاً في ثيابهم من بين يديه دون صدره قليلاً، ومن خلفه في ظهره، وتكون الرقاع مدورة كقوارة الحربان، وتكون ملونة لوناً يخالف لون الثوب، إن كانت الرقعة عسلية، وإلا فما أشبهها.

وأمر أن يعمل على أبوابهم تماثيل شياطين من خشب، تسمر على أبوابهم، تعرف بها منازل الذمة من منازل المسلمين، ولا تخرج امرأة من نسائهم إلا في إزار عسلي. وأمر بأخذ عشور منازلهم، فإن كان ما يؤخذ من منزل أحدهم واسعاً بني مسجد، وإن كان ضيقاً جعل فضاء. وأمر أن لا يستعان بهم في شيء من أعمال السلطان التي يجري أمرهم فيها على المسلمين، ولا في ديوان من الدواوين. وأمر أن لا يطلق لهم أن يظهروا في ⦗ص: 35⦘ شيء من أعيادهم صليباً (ولا يستعملون) . وأمر أن يؤخذوا بتسوية قبورهم مع الأرض حتى لا تشبه قبور المسلمين، وهدمت كل بيعة لهم محدثة.

وكتب إلى العمال في آفاق الأرض يؤمرون فيهم بمثل ذلك.

وهذه نسخة الكتاب:

بسم الله الرحمن الرحيم

أما بعد:

فإن الله بعزته التي لا تحاول، وقدرته على ما يريد، اصطفى الإسلام فرضيه لنفسه، وأكرم به ملائكته، وبعث به رسله، وأيده بأوليائه، وحاطه بالنصر، وكنفه بالبر، وحرسه من العاهات، وأظهره على الأديان، وجعله مبرأً من الشبهات، معصوماً من الآفات، محبواً بمناقب الخيرات، مخصوصاً من الشرائع بأطهرها وأفضلها، ومن الفرائض بأزكاها وأشرفها، ومن الأحكام بأعدلها وأصوبها، ومن الأعمال بأحسنها وأقصدها، وأكرم أهله بما أحل لهم من حلاله وحرم عليهم من حرامه، وبين لهم من شرائعه وأعلامه، وحد لهم من حدوده ومنهاجه، وأعد لهم من سعة جزائه وثوابه، فقال في كتابه فيما أمر به ونهى، وفيما حضر عليه ووعظ عباده به: {إن الله يأمر بالعدل والإحسن.. ..} الآية.

وقال جل ثناؤه فيما حرم على أهل هذا الدين، مما غمط فيه الأديان من ذي المطعم والمشرب والمنكح؛ ليستن به أهل الإسلام وليفضلهم على ⦗ص: 36⦘ من خالف دينهم تفضيلاً: {حرمت عليكم الميتة والدم ولحم الخنزير وما أهل لغير الله به والمنخنقة} إلى قوله: {ذلكم فسقٌ} . ثم ختم ما حرم عليهم من ذلك في هذه الآية بحراسة دينه، وبإتمام نعمته على أهله الذين اصطفاهم به، فقال: {اليوم يئس الذين كفروا من دينكم فلا تخشوهم واخشون اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام ديناً} . وقال: {حرمت عليكم أمهتكم وبناتكم} إلى آخر الآية. وقال: {إنما الخمر والميسر والأنصاب والأزلم رجسٌ} إلى آخر الآية.

فحرم سبحانه على المسلمين مما أكل أهل الأديان أرجسها وأنجسها: {وما أهل لغير الله به} منها، ومن أشربتهم أدعاها إلى العداوة والبغضاء وأصدها عن ذكر الله وعن الصلاة، وعن مناكحة أعظمها عنده وزراً، وأولاها عند ذي الحجا والألباب تحريماً. ثم حباهم لمحاسن الأخلاق وفضائل الكرامات، فجعلهم أهل الإيمان والأمانة والفضل والتراحم واليقين والصدق، ولم يجعل في دينهم التقاطع ولا التدابر ولا الحمية، ولا التكبر ولا الخيانة ولا الغدر ولا التباغي ولا التظالم، بل أكرم بالأولى ونهى عن الآخرة، ووعد وتوعد عليهما جنته وناره وثوابه وعقابه؛ فالمسلمون -بما اختصهم الله من كرامته، وجعل لهم من الفضيلة بدينهم الذي اختارهم له- بائنون عن أهل ⦗ص: 37⦘ الأديان بشرائعهم الزاكية وأحكامهم المرضية وفرائضهم الظاهرة وبرهانهم المبين، وبتطهير الله دينهم لهم بما أحل وحرم فيه لهم وعليهم -قضى أمر الله في إعزاز دينه حتماً ومشيئةً منه في إظهار حقه ماضية، وإرادة له في إتمام نعمته على أهله نافذة؛ ليهلك من هلك عن بينة، ويحيى من حي عن بينة، وليجعل الله الفوز والعاقبة للمتقين والخزي في الدنيا والآخرة على الكافرين.

وقد رأى أمير المؤمنين، وبالله توفيقه وإرشاده، أن يجعل أهل الذمة جميعاً بحضرته، وفي نواحي أعماله أقربها وأبعدها، وأخصهم وأخسهم على تغيير طيالستهم التي يلبسها من لبسها من تجارهم وكتابهم وكبيرهم وصغيرهم، ملونة كألوان الثياب العسلية، لا يتجاوز ذلك متجاوزٌ منهم إلى غيره، ومن قصر عن هذه الطبقة من أتباعهم وأراذلهم، ومن تبعد به حاله عن لبس الطيالسة، أخذ بتركيب خرقتين صبغهما ذلك الصبغ. يكون استدارة كل واحدة منهما شبراً تاماً في مثله، على موضع أمام ثوبه الذي يلبسه تلقاء صدره، ومن وراء ظهره، وأن يؤخذ الجميع منهم في قلانسهم تركيب أزرة عليها، تخالف ألوانها ألوان القلانس، وترفع في أماكنها التي تقع بها منها لئلا يلصق بها فتستتر، ولا يكون ما يركب منها على اختيال فيخفى، وكذلك في سروجهم اتخاذ ركب خشب لها، ونصب أكر على قرابيسها تكون ناتئة عنها وموفية عليها، لا يرخص لهم في إزالتها عن أعلى قرابيسهم ⦗ص: 38⦘ ومواخير سروجهم إلى جوانبها، بل يتفقد ذلك منهم؛ ليقع ما وقع أمر الذي أمر أمير المؤمنين بحملهم عليه ظاهراً، يثبته الناظر من غير تأمل، وتأخذه الأعين عن غير طلب.

وأن يؤخذ من إمائهم وعبيدهم من يلبس المناطق من تلك الطبقة بشد الزنانير مكان المناطق التي كانت في أوساطهم.

وأن توعز إلى عمالك فيما أمر به أمير المؤمنين من ذلك، إيعازاً تحدوهم به على استقصاء ما تقدم فيه إليهم، وتحذرهم به ادهاناً أو ميلاً، وتتقدم إليهم في إنزال العقوبة بمن خالف ذلك من جميع أهل الذمة إلى غيره؛ ليقتصر الجميع منهم على طبقاتهم وأصنافهم، وسلوك السبيل إلى أمير المؤمنين يحملهم عليها، فأخذهم بها إن شاء الله تعالى، فاعلم ذلك من رأي أمير المؤمنين وأمره، وأنفذه إلى عمالك في نواحي عملك ما ورد عليك من كتاب أمير المؤمنين فيه، وقدم العناية بما يكون منهم في ذلك، واكتب إلى أمير المؤمنين ما تعمل به ليعرفه إن شاء الله تعالى.

وأمير المؤمنين يسأل ربه ووليه أن يصلي على محمد عبده ورسوله صلى الله عليه وملائكته، وأن يحفظه فيما استخلفه عليه من أمر دينه، ويتولى ما ولاه مما لا يبلغ حقه فيه إلا بعونه، حفظاً يحمل به عنه ما حمل، وولايةً يقضي بها عنه حقه، ويوجب له بها أكمل ثوابه وأفضل مزيده؛ إنه كريمٌ رحيم.

وكتب إبراهيم بن العباس في شوال سنة خمس وثلاثين ومائتين.

⦗ص: 39⦘

وهذه نسخة التوقيع إلى ولاة العهود في ترك الاستعانة بالنصارى.

بسم الله الرحمن الرحيم

أما بعد:

فإن الله اصطفى الإسلام وأظهره، وجعله ديناً قيماً عزيزاً منيعاً، لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، وارتضى للقيام بشرائعه وإحياء معالمه وسننه خلفاءه في أرضه وأمناءه على عباده، فاختارهم من خير أمة أخرجت للناس، وأعلى دعوتهم ومكن لهم في أرضه، وأظهر دينهم على كل دين ولو كره المشركون، ولم يجعل بهم ولا بأحد ممن قلده بسلسلة خلقه حاجةً ولا ضرورة إلى أحد من أهل الملل المخالفة للإسلام في شيء من أمور دينهم ودنياهم، بل حصل الحق والحزم في إقصائهم عن الأعمال وإبعادهم عن الاستيطان؛ إذ كان مقصد السلطان في الاختيار لأعماله أهل النصح والأمانة، وكانت الحالتان جميعاً معدومتين عند أهل الذمة.

فأما الأمانة: فليس أحدٌ منهم بمأمون على أموال الفيء وأمور المسلمين؛ لأنهم عداة الدين ونعاته. وأما النصيحة: فغير موجودة عند من كان مقامه بين ظهراني المسلمين على كل حال كره وقهر وذلة وصغار.

وقد نهى الله عز وجل في محكم كتابه عن موالاتهم، فقال: {يأيها الذين ءامنوا لا تتخذوا بطانةً من دونكم لا يألونكم خبالاً} الآية. وقال: {يأيها الذين ءامنوا لا تتخذوا اليهود والنصرى أولياء بعضهم أولياء بعض ومن يتولهم منكم فإنه منهم} . وقال وقوله الحق: {يأيها الذين ءامنوا لا تتخذوا الكفرين أولياء من ⦗ص: 40⦘ دون المؤمنين أتريدون أن تجعلوا لله عليكم سلطناً مبيناً} . مع آي كثير، وأخبار مأثورة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وعن صالحي السلف، فيما نهي عنه من الاستعانة في شيء من أعمال المسلمين.

وأمير المؤمنين أولى من ائتم بها، وبالله توفيقه، وعليه توكله، وهو حسبه ونعم الوكيل.

وقد رأى أمير المؤمنين -إذ كان في الاستعانة بأهل الذمة في أعمال المسلمين وأمورهم ضررٌ على أموال الفيء، فيما يعيثون فيه منها، وتطلق أيديهم فيما هم مستحلون خيانته واحتجابه من حقوقها وتقليدهم من جنايتها ما اختانوه منهم أوجب، مما عليهم من الجزية التي أمر الله بأخذها منهم عن يد وهم صاغرون، وعلى المسلمين فيما تبسط به ألسنتهم وأيديهم من امتهانهم واستذلالهم وتخوينهم، وما أوجب الله على أمير المؤمنين من تعظيم الدين وحياطته وصيانته، وإحياء كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وإعزاز الإسلام والملة -أن لا يستعان بأحد من أهل الذمة في شيء من أمور المسلمين، وأموالهم، وتدبير خراجهم، وجبايته منهم في دواوين العامة والخاصة بالحضرة والنواحي، وفي سائر أعمال الخراج والضياع؛ من الخزن، والجهبذة، والمعادن، والبريد، وسائر الأعمال الحاضرة والقاصية، خلا من كان متقلداً العمل من خاص أعمال أمير المؤمنين ونفقاته، ولا يد له ولا سلطان على أحد من المسلمين؛ فإن إقراره في ذلك العمل ريثما يؤخذ بما جرى على يده ويختار لمكانه غيره من المسلمين، ثم ⦗ص: 41⦘ يصرف عنه، وخلا من استعان به مستعينٌ في قهرمته، وخاص نفقات منزله وحشمه، وأن يوعز بذلك إلى ولاة الدواوين، وتخرج به الكتب إلى جميع عمال العامة والخاصة في النواحي ليمتثلوه ويقفوا عنده، ويؤمر أصحاب البرد والأخبار بتفقد ما يكون من الكتاب والعمال وعمالهم وأهل الذمة في ذلك، والكتاب إلى أمير المؤمنين وصدقه عنه، فمن خالف أمره أنزل به ما يتعظ به من سواه، وأن يحذروا جميعاً التورية عن أحد من أهل الذمة بتقليده عملاً ونسبه إلى غيره، فينال من يفعل ذلك مما أحل بنفسه من نكير أمير المؤمنين وغيره ما لا صلاح له بعده، ولا قبل له به إن شاء الله.

وكتب نجاح بن سلمة يوم الأحد لثلاث عشرة خلت من شوال سنة خمس وثلاثين ومائتين.

تم كتاب الشروط، ولله الحمد والمنة، وصلواته على سيد المرسلين محمد خاتم النبيين.

--------------------------------------------

(1) بياض بمقدار أربع كلمات.
২৫- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন [.. ..] (১) এবং তাদের মধ্য হতে যাদের আমি গণনা করতে পারব না যারা আমীরুল মুমিনীন আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহর খ্রিস্টানদের ব্যাপারে জারিকৃত আদেশের সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন:

খ্রিস্টানদের ব্যাপারে তিনি যা যা আদেশ করেছিলেন, তার প্রথম দিনটি ছিল শনিবার, দুইশ পঁয়ত্রিশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের তেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর। তিনি নির্দেশ দিলেন যে, খ্রিস্টান এবং সকল জিম্মি সম্প্রদায় যেন তাদের পোশাক পরিবর্তন করে এবং তারা যেন মধু-রঙা তৈলসান (এক প্রকার চাদর) পরিধান করে। তাদের কেউ যেন 'যুননার' (এক প্রকার কোমরবন্ধ) ত্যাগ না করে। তাদের জিন বা গদির রেকাব যেন কাঠের হয়। জিনের সামনের ও পেছনের অংশে যেন দুটি গোলক বা উঁচু অংশ রাখা হয়। তাদের মধ্যে যারা টুপি পরিধান করবে, তারা যেন টুপিতে একটি বড় বোতাম লাগায় যার রঙ টুপির রঙের বিপরীত হবে। তাদের মধ্যে যারা পাগড়ি পরিধান করবে, তাদের পাগড়ি মধু-রঙা অথবা এর সদৃশ কোনো রঙের হতে হবে এবং তা অবশ্যই রঞ্জিত হতে হবে। তিনি আরও নির্দেশ দিলেন যে, তাদের দাসদের পোশাকে যেন সামনে বুকের কিছুটা নিচে এবং পেছনে পিঠের দিকে তালি লাগানো হয়। এই তালিগুলো হবে বৃত্তাকার এবং এর রঙ কাপড়ের রঙের বিপরীত হবে। যদি তালি মধু-রঙা হয়, তবে কাপড় অন্য রঙের হবে, অথবা এর অনুরূপ হবে।

তিনি আরও নির্দেশ দিলেন যে, তাদের দরজায় যেন কাঠের শয়তানের মূর্তি লাগানো হয়, যা তাদের দরজায় পেরেক দিয়ে গেঁথে দেওয়া হবে; যাতে এর মাধ্যমে জিম্মিদের ঘর মুসলিমদের ঘর থেকে পৃথকভাবে চেনা যায়। তাদের নারীদের কেউ যেন মধু-রঙা চাদর (ইযার) ছাড়া বাইরে বের না হয়। তিনি তাদের বসতবাড়ির উশর (দশমাংশ কর) গ্রহণের নির্দেশ দিলেন; যদি কারো বাড়ি থেকে নেওয়া অংশটি প্রশস্ত হয় তবে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হবে, আর যদি তা সংকীর্ণ হয় তবে তা উন্মুক্ত স্থান হিসেবে রাখা হবে। তিনি নির্দেশ দিলেন যে, সুলতানি বা রাষ্ট্রীয় কোনো কাজে তাদের সাহায্য নেওয়া যাবে না যেখানে তাদের আদেশ মুসলিমদের ওপর কার্যকর হয়, এমনকি কোনো দপ্তরেও (দিওয়ান) নয়। তিনি নির্দেশ দিলেন যে, তাদের কোনো উৎসবে যেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ ক্রুশ প্রদর্শন না করা হয়। আরও নির্দেশ দিলেন যে, তাদের কবরগুলোকে মাটির সাথে সমান করে দিতে হবে যাতে তা মুসলিমদের কবরের সদৃশ না হয়। এছাড়া তাদের নবনির্মিত সকল গির্জা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন।

তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের কর্মকর্তাদের কাছে এই মর্মে পত্র লিখলেন যাতে তারা জিম্মিদের ব্যাপারে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

আর এটি হলো সেই পত্রের অনুলিপি:

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সেই প্রতাপের মাধ্যমে যাকে কেউ পরাভূত করতে পারে না এবং যা ইচ্ছা তা করার ক্ষমতার মাধ্যমে ইসলামকে মনোনীত করেছেন এবং নিজের জন্য তা পছন্দ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর ফেরেশতাদের সম্মানিত করেছেন, এর সাথে তাঁর রসূলদের পাঠিয়েছেন, তাঁর বন্ধুদের মাধ্যমে একে শক্তিশালী করেছেন, একে সাহায্যের মাধ্যমে পরিবেষ্টিত করেছেন, কল্যাণের মাধ্যমে একে ছায়াদান করেছেন, একে আপদ-বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন, একে অন্য সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেছেন এবং একে সকল প্রকার সন্দেহ থেকে মুক্ত, ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে সংরক্ষিত, কল্যাণকর গুণের অধিকারী করেছেন। তিনি একে শরিয়তসমূহের মধ্যে পবিত্রতম ও শ্রেষ্ঠতম করেছেন, ফরজ বিধানসমূহের মধ্যে পবিত্রতম ও মর্যাদাপূর্ণ করেছেন, বিধানসমূহের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত ও সঠিকতম করেছেন এবং আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম ও ভারসাম্যপূর্ণ করেছেন। তিনি ইসলামের অনুসারীদের যা হালাল করেছেন এবং যা হারাম করেছেন তার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। তাদের জন্য শরিয়তের বিধান ও নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছেন, তাদের জন্য সীমানা ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছেন এবং তাদের জন্য বিপুল পুরস্কার ও সওয়াব প্রস্তুত রেখেছেন। তিনি তাঁর কিতাবে যা আদেশ ও নিষেধ করেছেন এবং যার প্রতি তাঁর বান্দাদের উৎসাহিত করেছেন ও নসিহত করেছেন সে সম্পর্কে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ও সদাচরণের নির্দেশ দেন...} আয়াত শেষ পর্যন্ত।

মহান আল্লাহ এই দ্বীনের অনুসারীদের জন্য যা যা হারাম করেছেন সে সম্পর্কে বলেছেন, যার ফলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের খাবার, পানীয় ও বিবাহের ক্ষেত্রে তুচ্ছ জ্ঞান করা হয়েছে; যাতে মুসলিমরা তা অনুসরণ করে এবং আল্লাহ যেন তাদের ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ যারা দ্বীনের বিরোধিতা করে তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন: {তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জানোয়ার, রক্ত, শুকরের মাংস, যার ওপর আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, শ্বাসরোধে মৃত...} আল্লাহর বাণী: {তা হলো ফাসিকি} পর্যন্ত। অতঃপর আল্লাহ এই আয়াতে যা কিছু হারাম করেছেন তা শেষ করেছেন তাঁর দ্বীনকে রক্ষা করার ঘোষণা দিয়ে এবং তাঁর পছন্দকৃত বান্দাদের ওপর নেয়ামত পূর্ণ করার মাধ্যমে। তিনি বলেছেন: {আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে, সুতরাং তাদের ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম}। তিনি আরও বলেছেন: {তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা ও তোমাদের কন্যাদের...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তিনি আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ অপবিত্র...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অন্য ধর্মাবলম্বীদের খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে যা অত্যন্ত অপবিত্র ও নাপাক তা মুসলিমদের জন্য হারাম করেছেন: {যার ওপর আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য নাম উচ্চারণ করা হয়েছে} এবং তাদের পানীয়ের মধ্যে যা শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিমুখ করে তা হারাম করেছেন। এছাড়া এমন বিবাহ হারাম করেছেন যা তাঁর কাছে মহাপাপ এবং যা বিবেকবান ও বুদ্ধিমানদের কাছে অত্যন্ত গর্হিত। অতঃপর তিনি তাদের সুন্দর চরিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ গুণে ভূষিত করেছেন। তিনি তাদের ইমান, আমানতদারি, শ্রেষ্ঠত্ব, দয়া, দৃঢ় বিশ্বাস ও সত্যবাদিতার অধিকারী করেছেন। তিনি তাদের দ্বীনে সম্পর্ক ছিন্ন করা, একে অপরের প্রতি পিঠ ফিরিয়ে থাকা, জাহেলি অহমিকা, অহংকার, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, অবাধ্যতা ও পারস্পরিক জুলুম রাখেননি। বরং তিনি প্রথমোক্ত গুণগুলোর জন্য সম্মান দান করেছেন এবং শেষোক্ত বিষয়গুলো থেকে নিষেধ করেছেন। এই দুই বিষয়ের ওপর তিনি জান্নাত ও জাহান্নাম এবং পুরস্কার ও শাস্তির প্রতিশ্রুতি ও ধমকি দিয়েছেন। সুতরাং মুসলিমরা—আল্লাহ তাদের যে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন এবং তাদের দ্বীনের মাধ্যমে যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তার কারণে—অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ পৃথক তাদের পবিত্র শরিয়ত, সন্তোষজনক বিধান, প্রকাশ্য ফরজ কাজসমূহ এবং উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে। আল্লাহ তাদের জন্য যা হালাল ও হারাম করেছেন তার মাধ্যমে তাদের দ্বীনকে পবিত্র করার মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ অবধারিতভাবে তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করার ফয়সালা করেছে। তাঁর সত্যকে প্রকাশ করার ইচ্ছা অমোঘ এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর নেয়ামত পূর্ণ করার ইচ্ছা কার্যকরী; যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে যেন স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকার সে যেন স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে। আর আল্লাহ যেন মুত্তাকীদের জন্য সফলতা ও শেষ পরিণাম নির্ধারণ করেন এবং কাফেরদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে লাঞ্ছনা রাখেন।

আমীরুল মুমিনীন—আর আল্লাহর মাধ্যমেই তৌফিক ও সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ হয়—সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তাঁর দরবারে এবং তাঁর শাসনের নিকটবর্তী ও দূরবর্তী অঞ্চলের সকল জিম্মি সম্প্রদায়কে, বিশেষ করে তাদের ব্যবসায়ী, লেখক, ছোট-বড় নির্বিশেষে যারা তৈলসান পরিধান করে, তাদের সেই তৈলসানের রঙ পরিবর্তন করে মধু-রঙা কাপড়ের মতো করতে হবে। তাদের কেউ যেন এই সীমা অতিক্রম না করে। আর তাদের অনুসারী ও নিম্নস্তরের লোক যারা তৈলসান পরিধান করে না, তারা যেন তাদের পোশাকের ওপর ওই একই রঙে রঞ্জিত দুটি তালি বা তালিযুক্ত কাপড় ব্যবহার করে। প্রতিটি তালির পরিধি যেন এক বিঘত হয়। একটি তালি থাকবে পোশাকের সামনে বুকের ওপর এবং অন্যটি থাকবে পিঠের দিকে। তাদের সকলের টুপির ওপর এমন বোতাম লাগাতে হবে যার রঙ টুপির রঙের বিপরীত হবে এবং তা এমন স্থানে লাগাতে হবে যাতে তা টুপির সাথে মিশে না থাকে বা ঢাকা না পড়ে। এটি যেন লোকদেখানো বা লুকানোর মতো না হয়। একইভাবে তাদের জিনের রেকাব হতে হবে কাঠের এবং জিনের সামনের ও পেছনের উঁচু অংশে গোলক বা বোতাম সদৃশ বস্তু স্থাপন করতে হবে যা স্পষ্ট বোঝা যায়। তাদের জিনের ওপরের ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ বা পেছনের অংশ থেকে তা সরিয়ে পাশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। বরং এ ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ করা হবে; যাতে আমীরুল মুমিনীন তাদের যে বেশভূষা ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন তা যেন স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এবং যে কেউ তাকালেই যেন বিনা আয়াসে তা বুঝতে পারে।

তাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা কোমরবন্ধ (মানাতিক) পরিধান করত, তাদের সেই কোমরবন্ধের পরিবর্তে 'যুননার' বাঁধতে হবে।

আমীরুল মুমিনীন যে নির্দেশ দিয়েছেন সে বিষয়ে আপনি আপনার কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করুন যাতে তারা এ বিষয়ে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। আপনি তাদের হুঁশিয়ার করে দিন যেন এ ব্যাপারে কোনো শিথিলতা বা পক্ষপাতিত্ব না করা হয়। যারা এই আদেশের বিরোধিতা করবে তাদের শাস্তির মুখোমুখি করুন যাতে সকল জিম্মি তাদের নির্ধারিত সীমা ও শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ থাকে এবং আমীরুল মুমিনীনের বাতলে দেওয়া পথ অনুসরণ করে। আল্লাহ চাহেন তো তারা যেন এটি মেনে চলতে বাধ্য হয়। আমীরুল মুমিনীনের এই সিদ্ধান্ত ও আদেশ সম্পর্কে অবগত হোন এবং আপনার প্রশাসনিক এলাকার কর্মকর্তাদের কাছে আমীরুল মুমিনীনের এই পত্রটি পাঠিয়ে কার্যকর করুন। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং আমীরুল মুমিনীনের কাছে আপনার গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট পেশ করুন যাতে তিনি তা জানতে পারেন, ইনশাআল্লাহ।

আমীরুল মুমিনীন তাঁর প্রতিপালক ও অভিভাবকের কাছে প্রার্থনা করছেন যেন তিনি তাঁর বান্দা ও রসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ফেরেশতাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন। আর আল্লাহ যেন আমীরুল মুমিনীনকে দ্বীনের যে দায়িত্ব দিয়েছেন তাতে তাঁকে হেফাযত করেন এবং যে শাসনের দায়িত্ব দিয়েছেন তাতে অভিভাবকত্ব করেন, যার হক তাঁর সাহায্য ছাড়া আদায় করা সম্ভব নয়। এমনভাবে হেফাযত করুন যা তাঁকে তাঁর অর্পিত বোঝা বহনে সাহায্য করে এবং এমন অভিভাবকত্ব দান করুন যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর হক আদায় করতে পারেন এবং আল্লাহ তাঁকে পূর্ণতম সওয়াব ও শ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময়।

লিখেছেন ইব্রাহিম বিন আব্বাস, শাওয়াল মাস, দুইশ পঁয়ত্রিশ হিজরি।

⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘

আর এটি হলো উত্তরাধিকারী ও গভর্নরদের প্রতি খ্রিস্টানদের প্রশাসনিক কাজে নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়ে জারিকৃত নির্দেশের অনুলিপি।

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসলামকে মনোনীত করেছেন এবং একে বিজয়ী করেছেন। একে করেছেন এক সুপ্রতিষ্ঠিত, সম্মানিত ও অপরাজেয় দ্বীন। এর সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল আসতে পারে না। আল্লাহ তাঁর জমিনে তাঁর খলিফাদের এবং তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর বিশ্বস্ত প্রতিনিধিদের মনোনীত করেছেন যাতে তারা এর শরিয়ত কায়েম করে এবং এর নিদর্শন ও সুন্নতসমূহকে জীবিত রাখে। তিনি তাদের মানবজাতির মধ্য হতে শ্রেষ্ঠ উম্মত থেকে বেছে নিয়েছেন, তাদের দাওয়াতকে বুলন্দ করেছেন এবং তাদের জমিনে ক্ষমতা দান করেছেন। তিনি মুশরিকরা অপছন্দ করলেও তাদের দ্বীনকে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেছেন। তিনি তাদের জন্য বা তাঁর মাখলুকের ওপর যাদের তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের জন্য ইসলাম বিরোধী অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীদের কাছে কোনো ধর্মীয় বা পার্থিব প্রয়োজনে মুখাপেক্ষী বা বাধ্য হওয়ার কোনো সুযোগ রাখেননি। বরং সত্য এবং বিচক্ষণতা হলো তাদের প্রশাসনিক কাজ থেকে দূরে রাখা এবং তাদের স্থায়ী বসবাস থেকে সরিয়ে রাখা; যেহেতু সুলতানের উদ্দেশ্য হলো আমানতদার ও হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের কাজে নিয়োগ দেওয়া, আর জিম্মিদের মধ্যে এই দুটি গুণেরই অভাব রয়েছে।

আমানতদারির বিষয় হলো: ফাই বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং মুসলিমদের বিষয়ে তাদের কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না; কারণ তারা দ্বীনের শত্রু এবং এর ছিদ্রান্বেষী। আর হিতাকাঙ্ক্ষিতার বিষয় হলো: যারা মুসলিমদের মাঝে অনিচ্ছা, জবরদস্তি, লাঞ্ছনা ও হীনতার সাথে বসবাস করে, তাদের কাছে হিতাকাঙ্ক্ষিতা পাওয়া সম্ভব নয়।

আল্লাহ عز وجل তাঁর অকাট্য কিতাবে তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের ক্ষতি করতে ত্রুটি করবে না...} আয়াত শেষ পর্যন্ত। তিনি আরও বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের বন্ধু বানাবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত}। তিনি আরও বলেছেন এবং তাঁর কথাই সত্য: {হে মুমিনগণ! মুমিনদের পরিবর্তে ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ কাফেরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহর জন্য নিজেদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য দলিল দিতে চাও?}। এ সংক্রান্ত আরও অনেক আয়াত রয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফ) থেকে অনেক বর্ণনা রয়েছে যাতে মুসলিমদের কোনো কাজে তাদের সাহায্য নেওয়া নিষেধ করা হয়েছে।

আমীরুল মুমিনীন হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই নির্দেশগুলো অনুসরণের সবচেয়ে বেশি দাবিদার। আল্লাহর মাধ্যমেই তৌফিক লাভ হয় এবং তাঁর ওপরই তিনি তাওয়াক্কুল করেন। তিনি তাঁর জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক!

আমীরুল মুমিনীন লক্ষ্য করেছেন যে, মুসলিমদের রাষ্ট্রীয় কাজ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিম্মিদের সাহায্য নেওয়ার ফলে 'ফাই' বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, কারণ তারা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাদের হাতে এমন ক্ষমতা চলে যায় যার মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রীয় হকের খিয়ানত ও আত্মসাৎকে বৈধ মনে করে। তাদের এই অপরাধের বোঝা তাদের ওপর অর্পিত জিজিয়া করের চেয়েও ভারী হয়ে যায়, যে জিজিয়া আল্লাহ তাদের থেকে অপদস্থ অবস্থায় নিজ হাতে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে মুসলিমদের ওপর তারা তাদের জিহ্বা ও হাত প্রসারিত করে লাঞ্ছিত ও হেয় করার সুযোগ পায়। আমীরুল মুমিনীনের ওপর দ্বীনকে সম্মানিত করা, একে রক্ষা করা ও হেফাযত করা, আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে জীবিত করা এবং ইসলাম ও মিল্লাতকে শক্তিশালী করার যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে: মুসলিমদের কোনো বিষয়ে, তাদের ধন-সম্পদ পরিচালনায়, খরাজ আদায়ে বা সংগ্রহের কাজে—তা কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় সাধারণ ও বিশেষ দপ্তর হোক, খরাজ বা ভূ-সম্পত্তির যেকোনো কাজ হোক, কোষাগার, অর্থ বিনিময়, খনি, ডাক বিভাগ বা নিকটবর্তী ও দূরবর্তী যেকোনো প্রশাসনিক কাজ হোক—কোনো জিম্মিকে সাহায্যকারী হিসেবে রাখা যাবে না। তবে যারা আমীরুল মুমিনীনের একান্ত ব্যক্তিগত কাজ বা ব্যয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত এবং যাদের মুসলিমদের ওপর কোনো হাত বা কর্তৃত্ব নেই, তাদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যেতে পারে; তাদেরকে সেই কাজে ততটুকুই রাখা যাবে যতটুকু সময় পর্যন্ত তাদের পূর্বের কাজের হিসাব নেওয়া না হয় এবং তাদের জায়গায় অন্য কোনো মুসলিমকে নিযুক্ত না করা হয়, অতঃপর ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া কেউ যদি নিজের ব্যক্তিগত খরচ বা ঘরোয়া কাজে কাউকে নিযুক্ত করে তবে তা ভিন্ন কথা। দপ্তর প্রধানদের এ বিষয়ে নির্দেশ দিতে হবে এবং সকল স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে পত্র পাঠাতে হবে যাতে তারা এটি মেনে চলে এবং এর ওপর অটল থাকে। ডাক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন লেখক, কর্মকর্তা এবং জিম্মিদের এ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেন এবং আমীরুল মুমিনীনের কাছে সত্য রিপোর্ট পেশ করেন। যে ব্যক্তি এই আদেশের বিরোধিতা করবে, তাকে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে যাতে অন্যরা শিক্ষা গ্রহণ করে। তাদের সকলকে সাবধান করা হচ্ছে যেন তারা কোনো জিম্মিকে আড়াল করার জন্য অন্যের নামে কাজ বরাদ্দ না দেয়। যারা এমন কাজ করবে, তারা আমীরুল মুমিনীনের কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবে যা থেকে প্রতিকার পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না, ইনশাআল্লাহ।

লিখেছেন নাজাহ বিন সালামাহ, রবিবার, শাওয়াল মাসের তেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, দুইশ পঁয়ত্রিশ হিজরি।

শর্তাবলির কিতাব সমাপ্ত হলো, সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের সরদার, শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর।

--------------------------------------------

(১) প্রায় চারটি শব্দ পরিমাণ সাদা স্থান বা শূন্যস্থান।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌أحاديث ذيلها عبد الوهاب

بسم الله الرحمن الرحيم

من أحاديث عبد الوهاب الكلابي

1- أخبرنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب:

ثنا أبو هاشم عبد الغافر بن سلامة الحمصي، قدم علينا، ثنا أبو ثوبان مزداد بن جميل، ثنا أبو المغيرة عبد القدوس بن الحجاج، ثنا إسماعيل بن عياش، عن أبي بكر:

أن عمر بن عبد العزيز كتب إلى عمر بن قيس: أن لا تقاتلوا أحداً من حصون الروم حتى تدعوهم إلى الإسلام، فإن أبوا فالجزية، فإن أبوا فانبذ إليهم على سواء.

قال أبو بكر: وكانوا قبل عمر لا يدعون.
আবদুল ওয়াহাব কর্তৃক সংযোজিত হাদিসসমূহ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আবদুল ওয়াহাব আল-কিলাবির হাদিসসমূহ থেকে

১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল দায়িম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহাব:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাশিম আবদুল গাফির বিন সালামাহ আল-হিমসি, তিনি আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাওবান মিজদাদ বিন জামিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-মুগিরাহ আবদুল কুদ্দুস বিন আল-হাজ্জাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আইয়াশ, আবু বকর থেকে বর্ণিত:

নিশ্চয়ই উমর বিন আবদুল আজিজ উমর বিন কায়েসের নিকট লিখেছিলেন: তোমরা রোমীয়দের কোনো দুর্গের অধিবাসীদের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করো না যতক্ষণ না তাদের ইসলামের দাওয়াত দাও; যদি তারা তা অস্বীকার করে তবে জিজিয়া (চাও), আর যদি তারা তাও অস্বীকার করে তবে তাদের সাথে চুক্তি ছিন্ন করে সমভাবে যুদ্ধের ঘোষণা দাও।

আবু বকর বলেন: উমরের পূর্বে তারা দাওয়াত দিত না।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৪২)
2- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب،

ثنا أبو هاشم، ثنا أبو ثوبان، ثنا أبو المغيرة، ثنا إسماعيل بن عياش، عن عبد الله بن دينار وغيره:

⦗ص: 43⦘

أنهم وجدوا كتاب حبيب بن مسلمة عند أهل جرزان.

وقدمت أنا، فسألت أهلها فأخبروني بذلك وهو:

((بسم الله الرحمن الرحيم

من حبيب بن مسلمة إلى أهل طفليس وتسنيقوس من أرض الأرمن سلام أنتم.

فإني أحمد إليكم الله الذي لا إله إلا هو.

أما بعد:

فإن رسولكم تفلى قدم علي وعلى الذين آمنوا معي، فذكر عنكم:

أنا أمة ابتعثنا الله وأكرمنا لمن لم يكن فيما ترجون، وكذلك فعل الله بنا بعد قلة وذلة وجاهلية جهلاء؛ فالحمد لله رب العالمين الرحمن الرحيم، والسلام على رسول الله كما به هدانا.

وذكر عنكم تفلى: أن الله قذف في قلوب عدونا من الرعب وأنه لا حول ولا قوة إلا بالله.

وذكر عنكم تفلى: أنكم أحببتم سلمنا، فما كرهت ولا الذين آمنوا معي ذلك من أمركم.

وقدم علي تفلى بعذركم وهديتكم فقومتها، والذين آمنوا معي، عرضها ونقدها مائة دينار غير زائد عليكم.

وكتبت لكم كتاب شرطكم وأمانكم عن ملاء من المسلمين، وبعثت به ⦗ص: 44⦘ إليكم مع عبد الرحمن بن حسن الأسلمي، وهو ما علمنا من أهل الرأي والعلم بأمر الله وكتابه.

فإن أقررتم بما فيه دفعت إليكم، وإن توليتم أذنتم بحرب من الله ورسوله والذين آمنوا على سواء، إن الله لا يحب الخائنين:

بسم الله الرحمن الرحيم

هذا كتاب لطفليس وتسنيقوس بحلس الأرمن بالأمان على أنفسكم وأموالكم وأهليكم وذراريكم وصوامعكم وبيعكم، على إقرار إصغار الجزية على كل بيت أهل جزية دينار واف إلا ندبه أو قيمته، ليس لكم أن تجمعوا بين متفرق من الأهلات استقلالاً منها، ولا لنا أن نفرق بينهم استكباراً منها.

ولنا أمانكم وضلعكم على عدو الله ورسوله والذين آمنوا، وقرى المسلم المحتاج ليلة بالمعروف من حلال طعام أهل الكتاب وحلال شرابهم، وإرشاده الطريق في غير ما يضر بكم فيه ولا في غيره، وإن قطع بأحد من المسلمين في أرضكم فعليهم أداؤه إلى أدنى فئة هي للمؤمنين، إلا أن يحال دونهم.

وإن عرض للمؤمنين شغلٌ عنكم وقهركم عدوهم فغير مأخوذين، ولا ناقض ذلك عهدكم بعد أن تفوا إلى المؤمنين والمسلمين.

وإن تبتم وأقمتم الصلاة وآتيتم الزكاة فإخواننا في الدين، ومن تولى عن الإيمان والإسلام والجزية فعدو الله ورسوله والذين آمنوا، والله المستعان عليه.

هذا لكم وهذا عليكم، شهد الله وملائكته وكفى بالله شهيداً)) .
২- আমি আবদুদ দাইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব,

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাশিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাওবান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল মুগীরাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আইয়্যাশ, তিনি আবদুল্লাহ বিন দীনার ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেন:

⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘

তারা জুরযানের অধিবাসীদের নিকট হাবিব বিন মাসলামার একটি পত্র পান।

আমি আসলাম এবং তাদের নিকট সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, অতঃপর তারা আমাকে তা অবহিত করল। সেটি হলো:

((পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

হাবিব বিন মাসলামার পক্ষ থেকে আরমেনিয়া ভূমির তিফলিস ও তাসনিকুসের অধিবাসীদের প্রতি; তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

আমি তোমাদের নিকট সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।

অতঃপর:

তোমাদের দূত তাফলা আমার নিকট এবং আমার সাথে যারা ঈমান এনেছেন তাদের নিকট এসেছিলেন। তিনি তোমাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন:

আমরা এমন এক উম্মত যাদেরকে আল্লাহ পুনরুত্থিত করেছেন এবং আমাদেরকে সেই মর্যাদা দান করেছেন যা তোমরা আশা করতে না। আল্লাহ আমাদের সাথে এরূপ করেছেন আমাদের স্বল্পতা, লাঞ্ছনা এবং চরম মূর্খতার যুগের পর। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু। এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক যার মাধ্যমে তিনি আমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন।

তাফলা তোমাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন: আল্লাহ আমাদের শত্রুদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করেছেন এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।

তাফলা তোমাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন: তোমরা আমাদের সাথে সন্ধি করা পছন্দ করেছ। আমি বা আমার সাথে যারা ঈমান এনেছেন তারা তোমাদের এ বিষয়টি অপছন্দ করেননি।

তাফলা তোমাদের ওজর এবং উপহার নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হলেন। আমি এবং আমার সাথে যারা ঈমান এনেছেন তারা তার মূল্য নির্ধারণ করলাম; তার সামগ্রী ও মুদ্রার পরিমাণ ছিল একশ দিনার, যা তোমাদের ওপর অতিরিক্ত ধার্য করা হয়নি।

আমি মুসলমানদের এক জামায়াতের উপস্থিতিতে তোমাদের শর্ত ও নিরাপত্তার পত্রটি লিখেছি এবং তা ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ তোমাদের নিকট আবদুর রহমান বিন হাসান আল-আসলামীর মাধ্যমে প্রেরণ করেছি। তিনি আল্লাহর নির্দেশ এবং তাঁর কিতাব সম্পর্কে আমাদের জানামতে প্রাজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।

যদি তোমরা এতে যা আছে তা স্বীকার করে নাও, তবে আমি তোমাদের তা অর্পণ করব। আর যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের পক্ষ থেকে সমানভাবে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের পছন্দ করেন না:

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

এটি আরমেনিয়ার তিফলিস ও তাসনিকুসের অধিবাসীদের জন্য একটি নিরাপত্তা পত্র; তোমাদের জান, মাল, পরিবার, সন্তান-সন্ততি, মঠ এবং গির্জার নিরাপত্তার বিনিময়ে। তবে শর্ত হলো প্রত্যেক জিজিয়া প্রদানকারী পরিবার থেকে একটি পূর্ণ দিনার অথবা তার সমপরিমাণ মূল্যের জিজিয়া প্রদানের স্বীকৃতি দান। জিজিয়ার পরিমাণ কমানোর উদ্দেশ্যে কোনো পৃথক পরিবারকে একত্রে করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়, আবার তোমাদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে কোনো পরিবারকে পৃথক করাও আমাদের জন্য বৈধ নয়।

আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের শত্রুদের বিরুদ্ধে তোমাদের নিরাপত্তা ও একনিষ্ঠতা আমাদের প্রাপ্য। অভাবগ্রস্ত মুসলিমকে এক রাতের জন্য আহলে কিতাবদের হালাল খাবার ও পানীয় দ্বারা উত্তমভাবে আতিথেয়তা করা তোমাদের দায়িত্ব। তাকে পথ প্রদর্শন করবে যাতে তোমাদের বা অন্য কারো কোনো ক্ষতি না হয়। যদি তোমাদের ভূমিতে কোনো মুসলিম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তবে তাকে মুমিনদের নিকটবর্তী দলের নিকট পৌঁছে দেওয়া তোমাদের দায়িত্ব, যদি না তাদের মাঝে কোনো অন্তরায় সৃষ্টি হয়।

যদি মুমিনরা তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যস্ত থাকে এবং শত্রু তোমাদের ওপর পরাভূত হয়, তবে তোমাদের কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা মুমিন ও মুসলিমদের প্রতি অনুগত থাকবে ততক্ষণ এটি তোমাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে না।

যদি তোমরা তাওবা করো, সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো, তবে তোমরা দ্বীনি ভাই। আর যে ব্যক্তি ঈমান, ইসলাম ও জিজিয়া থেকে বিমুখ হবে, সে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের শত্রু। আর তার বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য কাম্য।

এটি তোমাদের প্রাপ্য এবং এটি তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব। আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ এর সাক্ষী, আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট))।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
3- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب:

ثنا أبو هاشم، ثنا أبو ثوبان، ثنا المغيرة، ثنا إسماعيل، عن الأوزاعي وغيره، أن أبا عبيدة بن الجراح كتب لأهل دير طايليا:

هذا الكتاب من أبي عبيدة بن الجراح لدير طايليا إني قد أمنتكم على دمائكم وأموالكم وكنائسكم أن تسكن أو تخرب؛ ما لم تحدثوا أو تؤوا محدثاً، فإن أحدثتم أو آويتم محدثاً مغيلة فبرأت منكم الذمة، وإن عليكم إنزال الضيف ثلاثة أيام، وإن ذمتنا بريئة من مغرة.

يشهد خالد بن الوليد، ويزيد بن أبي سفيان، وشرحبيل بن حسنة، وقضاعة بن عامر، وكتب.
৩- আমি আবুদ দায়িম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাশিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাওবান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুগীরাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, তিনি আওযাঈ ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ ‘দাইর তায়লিয়া’র অধিবাসীদের জন্য লিখেছিলেন:

এই পত্রটি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ-এর পক্ষ থেকে দাইর তায়লিয়া-র অধিবাসীদের প্রতি। আমি তোমাদের জান, মাল এবং গির্জাগুলোর নিরাপত্তা প্রদান করছি যে, সেগুলো (অন্যদের দ্বারা) দখল করা হবে না এবং ধ্বংস করা হবে না; যতক্ষণ না তোমরা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো অথবা কোনো অপরাধীকে আশ্রয় দাও। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো অথবা প্রতারণাপূর্বক কোনো অপরাধীকে আশ্রয় দাও, তবে তোমাদের প্রতি আমাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি (জিম্মাহ) বিলুপ্ত হবে। আর তোমাদের জন্য আবশ্যক হলো মেহমানকে তিন দিন পর্যন্ত মেহমানদারি করা। আর আমাদের জিম্মাহ ‘মাগরাহ’ থেকে মুক্ত।

সাক্ষী রয়েছেন খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, ইয়াযিদ ইবনে আবি সুফিয়ান, শারাহবিল ইবনে হাসানাহ এবং কুযাআহ ইবনে আমির, আর এটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শুরুতুন নাসারা লি ইবনি জাবরুর রাবায়ী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
4- أنا عبد الدائم، ثنا عبد الوهاب:

ثنا أبو هاشم، ثنا أبو ثوبان، ثنا أبو المغيرة، ثنا إسماعيل، عن موسى بن عقبة، عن أبي النضر مولى عمر بن عبيد الله:

أنه قرأ كتاباً كتبه عبد الله بن أبي أوفى الأسلمي صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عمر بن عبيد الله، يخبره فيه:

أن النبي صلى الله عليه وسلم في بعض مغازيه التي لقي فيها المشركين انتظر حتى إذا قالت الشمس قام في الناس فقال: ((يا أيها الناس، لا تتمنوا لقاء العدو؛ فإنكم لا تدرون لعلكم أن تبتلوا بهم، واسألوا الله العافية، فإن لقيتموهم فاصبروا، واعلموا أن الجنة تحت ظلال السيوف)) .

⦗ص: 46⦘

ثم دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((اللهم منزل الكتاب، ومنشئ السحاب، وهازم الأحزاب، اهزمهم وانصرنا عليهم)) .
৪- আমি আব্দুল দায়িম, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব:

আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাশিম, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু সাওবান, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল মুগীরাহ, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল, তিনি মূসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি উমর ইবনে উবাইদুল্লাহর মুক্তদাস আবু নাযর থেকে বর্ণনা করেন:

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আবি আউফা আল-আসলামী কর্তৃক উমর ইবনে উবাইদুল্লাহর নিকট লিখিত একটি পত্র পাঠ করেন, যাতে তিনি তাকে সংবাদ দিচ্ছিলেন যে:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো এক যুদ্ধে যেখানে তিনি মুশরিকদের মোকাবিলা করেছিলেন, সেখানে অপেক্ষা করলেন। অতঃপর যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তখন তিনি লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন: "হে লোকসকল, তোমরা শত্রুর মোকাবিলা করার আকাঙ্ক্ষা করো না; কারণ তোমরা জানো না যে হয়তো তোমরা তাদের দ্বারা পরীক্ষিত হবে। তোমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা (আফিয়াত) প্রার্থনা করো। আর যদি তোমরা তাদের মোকাবিলা করো, তবে ধৈর্য ধারণ করো এবং জেনে রাখো যে, জান্নাত তলোয়ারের ছায়ার নিচে।"

⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুয়া করলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘমালা সৃজনকারী এবং সম্মিলিত শত্রুবাহিনীকে পরাজিতকারী! আপনি তাদের পরাজিত করুন এবং তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।"