(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: -)
رسالة فيمن يدعي أن من ذرية العباس حمزة الخلف للناجي   (برهان الدين الناجي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: رسالة فيمن يدعي أن من ذرية العباس بن عبد المطلب رضي الله عنه حمزة الخلف

المؤلف: إبراهيم بن محمد بن محمود بن بدر، برهان الدين، أبو إسحاق الحلبي القبيباتي الشافعيّ الناجي (ت 900هـ)

المحقق: د. جمال عزون

الناشر: دار التوحيد [ضمن مجموع فيه أربعة أجزاء حديثية]

الطبعة: الأولى 1429 هـ - 2008 م

عدد الصفحات: 29

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আব্বাস (রা.)-এর বংশধরদের মধ্যে হামজা আল-খালাফ বিদ্যমান—এমন দাবিদারের বিষয়ে রিসালাহ   (বুরহান উদ্দিন আল-নাজি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.)-এর বংশধরদের মধ্যে হামজা আল-খালাফ বিদ্যমান—এমন দাবিদারের বিষয়ে রিসালাহ

লেখক: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে বদর, বুরহান উদ্দিন, আবু ইসহাক আল-হালাবি আল-কুবায়বাতি আশ-শাফিঈ আল-নাজি (মৃ. ৯০০ হি.)

মুহাক্কিক: ড. জামাল আজ্জুন

প্রকাশক: দারুত তাওহীদ [হাদিস বিষয়ক চারটি অংশ সম্বলিত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত]

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৯ হি. - ২০০৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগির খায়র আকবিল

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: -)
التعليق الرشيق في التختم بالعقيق

تأليف: برهان الدين إبراهيم بن محمد بن محمود الشهير بالناجي

900 هـ

 

-[رسالة فيمن يدعي أن من ذرية العباس بن عبد المطلب رضي الله عنه حمزة الخلف]-

تأليف: برهان الدين إبراهيم بن محمد بن محمود الشهير بالناجي

900 هـ

 

جزء فيه مجلس

من حديث الإمام أبي الحسن علي بن إبراهيم بن داود بن العطار الشافعي

724 هـ

تخريج الإمام الحافظ أبي عبد الله محمد بن أحمد الذهبي

 

جزء فيه مجلس

من رواية أبي العباس أحمد بن عبد الله بن نصر بن بجير بن عبد الله بن صالح بن أسامة الذهلي

 

قرأها وعلق عليها

د. جمال عزون

 

دار التوحيد

الطبعة الأولى

1429 هـ - 2008 م
আত-তালিকুর রশিক ফি আত-তাখাত্তুম বি-আল-আকিক (আকিক পাথরের আংটি পরিধান বিষয়ক মার্জিত ভাষ্য)

রচনা: বুরহান উদ্দিন ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন মাহমুদ, যিনি আন-নাজি নামে সুপরিচিত

৯০০ হিজরি

 

-[আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বংশধরদের মধ্যে হামজাহ আল-খালাফ রয়েছে বলে যারা দাবি করে, তাদের প্রসঙ্গে একটি পুস্তিকা]-

রচনা: বুরহান উদ্দিন ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন মাহমুদ, যিনি আন-নাজি নামে সুপরিচিত

৯০০ হিজরি

 

একটি খণ্ড, যাতে একটি মজলিস রয়েছে

ইমাম আবুল হাসান আলী ইবন ইব্রাহিম ইবন দাউদ ইবনুল আত্তার আশ-শাফিয়ীর হাদিস থেকে

৭২৪ হিজরি

ইমাম হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ আদ-ধাহাবীর চয়ন ও সংকলন

 

একটি খণ্ড, যাতে একটি মজলিস রয়েছে

আবু আব্বাস আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন নাসর ইবন বুজাইর ইবন আব্দুল্লাহ ইবন সালিহ ইবন উসামা আদ-ধুহালীর বর্ণনা থেকে

 

পঠন ও টীকা প্রদান করেছেন

ড. জামাল আজজুন

 

দারুত তাওহিদ

প্রথম প্রকাশ

১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين.

مسألة في جماعة يدعون أنهم شرفاء ويقولون: إنهم من ذرية حمزة الخلف بن العباس، فهل ثبت أن من أولاد العباس أو أولاد أولاده أحداً اسمه حمزة الخلف أم لا؟ أفتوني مأجورين.

الجواب:

اللهم اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم.

الحمد لله الذي جعل بعضنا لبعض فتنة، ونسأله التوفيق لاطراح الهوى واتباع الكتاب والسنة.

ليس هذا السؤال بالخافي كلا ولا بالهين، إذ قد علم بيقين أنه كان لسيدنا السيد المعظم العباس عم نبينا خير الناس صلى الله عليه وسلم وصنوا أبيه رضوان الله عليه عشرة بنين، وأنه لم يكن فيهم بل ولا في أعقابهم -وهم مسمون في كتب هذا الفن مذكورون- أحدٌ اسمه حمزة الخلف، هذا الطير الغريب المقحم المسؤول عنه، ولا وجود له بالكلية باتفاق علماء هذا الفن،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

একটি মাসআলা এমন একদল লোক সম্পর্কে যারা নিজেদেরকে শরীফ বলে দাবি করে এবং বলে যে, তারা হামজা আল-খালাফ ইবনে আব্বাসের বংশধর। সুতরাং আব্বাসের সন্তানদের মধ্যে কিংবা তাঁর সন্তানদের সন্তানদের মধ্যে 'হামজা আল-খালাফ' নামে কারো অস্তিত্ব কি প্রমাণিত হয়েছে নাকি হয়নি? সওয়াবের আশায় আমাকে ফতোয়া প্রদান করুন।

উত্তর:

হে আল্লাহ! যে সত্যের ব্যাপারে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সেই সত্যের দিকে পরিচালিত করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এককে অপরের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছেন। আমরা তাঁর নিকট প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়ার এবং কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক প্রার্থনা করছি।

এই প্রশ্নটি মোটেই অস্পষ্ট নয় এবং সাধারণও নয়। কারণ নিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে, আমাদের মহান সায়্যিদ, আমাদের নবী—যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)—এর চাচা এবং তাঁর পিতার প্রতিচ্ছবি আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দশজন পুত্র ছিল। এবং তাঁদের মধ্যে কিংবা তাঁদের বংশধরদের মধ্যে—যাঁদের নাম এই শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বর্ণিত রয়েছে—'হামজা আল-খালাফ' নামে কেউ ছিল না, যে অপরিচিত ও অনধিকারপ্রবেশকারী সম্পর্কে এখানে প্রশ্ন করা হয়েছে। এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের ঐকমত্য অনুযায়ী এর কোনো অস্তিত্বই নেই,
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২০)
ولا يعرف لمدعيه فيه سلفٌ، ولا يقدر أحدٌ أن ينقله عن عالم أو كتاب معتمدين، بل ولا سمع به في غير زماننا الذي كثر فيه الجهل وقل فيه العلم.

ولا يظن أن الجهل يبلغ بصاحبه إلى مثل هذا، {وتحسبونه هيناً وهو عند الله عظيمٌ} ، و ((لو يعطى الناس بدعواهم)) الحديث وفيه: ((البينة على المدعي)) وفي حديث اللعان المشهور: ((البينة أو حد في ظهرك)) .

فمدعي هذا الأمر المحال يلزمه إقامة البينة والبرهنة عليه، وإلا قوبل وترتب عليه ما يستحقه، وهيهات أن يزاد في شيء متفق عليه أو ينقص منه، {فماذا بعد الحق إلا الضلال} .

وقد قال القاسم بن محمد بن أبي بكر الصديق رضي الله عنهم: ((إن الله أعاننا على الكذابين بالنسيان)) .

وقال سفيان الثوري: ((ما ستر الله أحداً يكذب في الحديث)) .

وقال أيضاً: ((لما استعمل الرواة الكذب استعملنا لهم
এবং এর দাবিদারের পক্ষে কোনো পূর্বসূরির (সালাফ) কথা জানা নেই, আর কেউ কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম বা নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে এটি উদ্ধৃত করতে সক্ষম নয়; বরং আমাদের এই যুগ—যাতে মূর্খতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইলম কমে গিয়েছে—তা ছাড়া অন্য কোনো যুগে এর কথা শোনাও যায়নি।

আর এমনটা ভাবাও যায় না যে, মূর্খতা তার অধিকারীকে এ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে; {তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছ, অথচ আল্লাহর কাছে এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়}। আর হাদীস শরীফে এসেছে: ((যদি মানুষকে তাদের দাবির ওপর ভিত্তি করেই দিয়ে দেওয়া হতো...)), এবং তাতে রয়েছে: ((প্রমাণ পেশ করা দাবিদারের দায়িত্ব))। আর লিয়ানের প্রসিদ্ধ হাদীসে রয়েছে: ((হয় প্রমাণ পেশ কর, নতুবা তোমার পিঠে দণ্ড কার্যকর হবে))।

সুতরাং এই অসম্ভব বিষয়ের দাবিদারের জন্য এর ওপর দলিল ও প্রমাণ পেশ করা আবশ্যক; অন্যথায় তাকে প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং সে যার যোগ্য তা-ই তার ওপর আপতিত হবে। এটা কতই না অসম্ভব যে, কোনো সর্বসম্মত বিষয়ে কোনো কিছু বৃদ্ধি করা হবে কিংবা তা থেকে কোনো কিছু হ্রাস করা হবে! {সত্যের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকতে পারে?}

কাসিম ইবন মুহাম্মদ ইবন আবি বকর আস-সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বিস্মৃতির মাধ্যমে আমাদের মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন))।

সুফিয়ান আস-সাওরী বলেছেন: ((যে ব্যক্তি হাদীসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলে, আল্লাহ তার গোপনীয়তা রক্ষা করেন না))।

তিনি আরও বলেছেন: ((যখন বর্ণনাকারীরা মিথ্যার আশ্রয় নিল, তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করলাম...))
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২১)
التاريخ)) أو كما قال.

وقال حسان بن زيد: ((لم نستعن على الكذابين بمثل التاريخ)) .

وقيل لابن المبارك: ((هذه الأحاديث المصنوعة؟ فقال: تعيش لها الجهابذة)) .

{إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون} .

وروى مسلم في مقدمة ((صحيحه)) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: ((يكون في آخر الزمان دجالون كذابون يأتونكم من الأحاديث بما لم تسمعوا أنتم ولا آباؤكم، فإياكم وإياهم لا يضلونكم ولا يفتنونكم)) .

ورواه أحمد بن حنبل في ((مسنده)) وعنده:

((سيكون في أمتي دجالون كذابون يأتونكم ببدع من الحديث)) وذكر باقيه بنحوه.
ইতিহাস)] অথবা যেমনটি তিনি বলেছেন।

হাসসান ইবনে যাইদ বলেছেন: "মিথ্যাবাদীদের মোকাবিলায় আমরা ইতিহাসের মতো আর কিছুর সাহায্য গ্রহণ করিনি।"

ইবনুল মুবারককে বলা হলো: "এই জাল হাদিসগুলোর কী হবে? তিনি বললেন: এগুলো (যাচাই-বাছাই করার) জন্য বিশেষজ্ঞরাই বেঁচে আছেন।"

"নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।"

ইমাম মুসলিম তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "শেষ যুগে এমন কিছু মহামিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে, যারা তোমাদের কাছে এমন সব হাদিস নিয়ে আসবে যা তোমরা শোনোনি এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরাও শোনেনি। সুতরাং সাবধান! তোমরা তাদের থেকে দূরে থেকো এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রেখো, যেন তারা তোমাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে এবং ফিতনায় ফেলতে না পারে।"

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এটি তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বর্ণনায় রয়েছে:

"আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু চরম মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে, যারা তোমাদের কাছে হাদিসের নামে নব আবিষ্কৃত বিষয় (বিদআত) নিয়ে আসবে।" এবং তিনি বাকি অংশ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২২)
وفي مسلم أيضاً: ((كفى بالمرء كذباً -وعند أبي داود إثماً- أن يحدث بكل ما سمع)) .

والكذب: هو الإخبار عن الشيء بخلاف ما هو ولو كان سهواً فضلاً عن التعمد.

ومن أصر على هذه الدعوى الباطلة بعد تعريف العلماء له ببطلانها صار متعمداً آثماً فاسقاً مجروحاً، وأي سماء تظل، وأي أرض تقل، من تكلم في شيء بغير علم فضل وأضل، وزل وأزل، ولا شك أن ذلك حرامٌ ولو وافق الصواب باتفاق، كالحكم والإفتاء والتعبد بلا علم فضلاً عن هذا الكذب البين العجاب، والافتراء المختلق على النسب الشريف الذي تروح على بعضه الرقاب!

قال الله تعالى: {ليحملوا أوزارهم كاملةً يوم القيامة ومن أوزار الذين يضلونهم بغير علمٍ ألا ساء ما يزرون} .

وقال تعالى: {فسئلوا أهل الذكر إن كنتم لا تعلمون. بالبينات والزبر} .

وقال تعالى: {وفوق كل ذي علمٍ عليمٌ} .

وهذه الأمة المحمدية لا تجتمع على ضلالة، غير أن الجاهل إذا
এবং সহীহ মুসলিমে আরও বর্ণিত হয়েছে: ((একজন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট—আর আবু দাউদের বর্ণনায় এসেছে পাপী হওয়ার জন্য—যে সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।))

আর মিথ্যা হলো: কোনো বিষয় সম্পর্কে বাস্তবতা বহির্ভূত সংবাদ প্রদান করা, যদিও তা ভুলবশত হয়, স্বেচ্ছায় করার তো প্রশ্নই আসে না।

আর ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক এই দাবিটি বাতিল প্রমাণিত হওয়ার পর যে ব্যক্তি এই ভ্রান্ত দাবিতে অটল থাকে, সে স্বেচ্ছায় মিথ্যারোপকারী, পাপী, ফাসিক এবং সমালোচিত হিসেবে গণ্য হবে। কোন আকাশ তাকে ছায়া দেবে আর কোন জমিনই বা তাকে ধারণ করবে? যে ব্যক্তি ইলম বা জ্ঞান ছাড়া কোনো বিষয়ে কথা বলে, সে নিজে পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করে, সে নিজে পদস্খলিত হয় এবং অন্যকেও পদস্খলিত করে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম, যদিও তা ঘটনাক্রমে সঠিকও হয়ে যায়। যেমন ইলম ছাড়া বিচারকার্য পরিচালনা করা, ফতোয়া দেওয়া এবং ইবাদত করা; সুতরাং এই সুস্পষ্ট ও বিস্ময়কর মিথ্যা এবং সম্মানিত বংশধারার ওপর এই বানোয়াট অপবাদের বিষয়টি তো আরও গুরুতর, যার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গর্দানও চলে যায়!

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যাতে তারা কিয়ামতের দিন তাদের নিজেদের পাপের বোঝা পূর্ণমাত্রায় বহন করে এবং তাদের পাপের বোঝাও যাদেরকে তারা জ্ঞান ছাড়াই বিভ্রান্ত করে; দেখ, তারা যা বহন করবে তা কতই না নিকৃষ্ট।}

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো যদি তোমরা না জানো। সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও কিতাবসমূহ সহ।}

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই রয়েছেন সর্বজ্ঞানী।}

আর এই উম্মতে মুহাম্মদী কখনও পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না, তবে মূর্খ ব্যক্তি যখন...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২৩)
لزم غلطه واتبع هواه ذهبت دنياه وآخرته، واستفاد مقت الله وسخطه.

وذكر أبو عبد الرحمن السلمي في كتاب ((عيوب النفس)) عن مضر القارئ قال: ((لنحت الجبال بالأظافير أهون من مخالفة الهوى إذا تمكن في النفس)) .

وفي ((مسند الإمام أحمد)) وغيره من حديث أبي الدرداء مرفوعاً: ((إذا سمعتم بجبل زال عن مكانه فصدقوا، وإذا سمعتم برجل تغير عن خلقه فلا تصدقوا فإنه يرجع إلى ما طبع عليه)) .

وفي حديث أسماء بنت عميس الذي رواه الترمذي وغيره: ((بئس العبد عبدٌ يختل الدنيا بالدين، بئس العبد عبد يختل الدين بالشبهات، بئس العبد عبدٌ طمعٌ يقوده، بئس العبد عبدٌ هوى يضله، بئس العبد عبدٌ رغبٌ يذله)) .

وبالجملة فالرجوع إلى الحق خير من التمادي في الباطل، والله الموفق القائل، جل جلاله، وصدق مقاله: {وما جعل أدعياءكم أبناءكم ذلكم قولكم بأفواهكم} .

وهو القائل أيضاً: {وجعلناكم شعوباً وقبائل لتعارفوا} .
যে ব্যক্তি তার ভুলের ওপর অটল থাকে এবং নিজ কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার ইহকাল ও পরকাল উভয়ই ধ্বংস হয়ে যায় এবং সে আল্লাহর ঘৃণা ও ক্রোধ অর্জন করে।

আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী তাঁর ‘উয়ূবুন নাফস’ গ্রন্থে মুদার আল-কারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “নখ দিয়ে পাহাড় খোদাই করা কুপ্রবৃত্তির বিরোধিতা করার চেয়ে সহজ, যখন তা অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যায়।”

‘মুসনাদে ইমাম আহমাদ’ ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফূ হাদীসে এসেছে: “যদি তোমরা শোনো যে কোনো পাহাড় তার স্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তবে তা বিশ্বাস করো। কিন্তু যদি শোনো যে কোনো ব্যক্তির স্বভাব পরিবর্তন হয়ে গেছে, তবে তা বিশ্বাস করো না; কেননা সে তার মজ্জাগত স্বভাবের দিকেই ফিরে যায়।”

তিরমিযী ও অন্যান্য গ্রন্থে আসমা বিনতে উমাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: “সেই বান্দা কতই না নিকৃষ্ট যে দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া অন্বেষণ করে; সেই বান্দা কতই না নিকৃষ্ট যে সংশয়ের মাধ্যমে দ্বীনকে কলুষিত করে; সেই বান্দা কতই না নিকৃষ্ট যাকে লোভ পরিচালিত করে; সেই বান্দা কতই না নিকৃষ্ট যাকে কুপ্রবৃত্তি পথভ্রষ্ট করে; আর সেই বান্দা কতই না নিকৃষ্ট যাকে লালসা অপমানিত করে।”

সারকথা হলো, বাতিলের ওপর অটল থাকার চেয়ে সত্যের দিকে ফিরে আসা উত্তম। আল্লাহই তাওফীকদাতা এবং তিনিই প্রবক্তা—তাঁর মহিমা অতি মহান এবং তাঁর বাণী সত্য: {আর তিনি তোমাদের পালকপুত্রদের তোমাদের (প্রকৃত) পুত্র করেননি; এটি তোমাদের মুখের কথা মাত্র।}

তিনি আরও বলেছেন: {আর আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো।}
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وروى الترمذي وغيره من حديث أبي هريرة مرفوعاً: ((تعلموا من أنسابكم ما تصلون به أرحامكم)) .

وروى الترمذي أيضاً من حديث ابن عباس رضي الله عنهما عنه عليه الصلاة والسلام أنه قال:

((العباس مني وأنا منه)) .

وروى أيضاً عنه صلوات الله وسلامه عليه أنه قال: ((يا أيها الناس من آذى عمي فقد آذاني، فإنما عم الرجل صنو أبيه)) .

فمن ألحق بسيدنا العباس رضي الله عنه ولداً ليس منه أصلاً فقد دخل في هذا والعياذ بالله.

وقال البخاري في ((صحيحه)) :

باب من أحب أن لا يسب نسبه، ثم ذكر الحديث المشهور المتفق عليه أن شاعر الإسلام حسان بن ثابت استأذن رسول الله صلى الله عليه وسلم في هجاء المشركين من قريش فقال له: ((كيف بنسبي فيهم؟ قال: لأسلنك منهم كما تسل الشعرة من العجين)) .

وإذا كان نفي الانتساب ولو إلى عبد أسود أو ادعاؤه من أكبر
ইমাম তিরমিযী এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি মারফূ হাদীস বর্ণনা করেছেন: "তোমরা তোমাদের বংশধারা সম্পর্কে ততটুকু জ্ঞান অর্জন করো, যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারবে।"

ইমাম তিরমিযী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:

"আব্বাস আমার থেকে এবং আমি তাঁর থেকে।"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "হে লোকসকল, যে ব্যক্তি আমার চাচাকে কষ্ট দিল সে মূলত আমাকেই কষ্ট দিল; কেননা মানুষের চাচা তার পিতারই সমতুল্য।"

সুতরাং যে ব্যক্তি আমাদের নেতা আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে এমন কোনো সন্তানকে সম্বন্ধযুক্ত করবে যে আসলে তাঁর বংশোদ্ভূত নয়, সে মূলত এই অপরাধের অন্তর্ভুক্ত হবে; আল্লাহর কাছে আমরা এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

ইমাম বুখারী তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে বলেছেন:

পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তার বংশমর্যাদা যেন ক্ষুণ্ণ না করা হয়। অতঃপর তিনি সেই প্রসিদ্ধ ও সর্বসম্মত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যে, ইসলামের কবি হাসসান বিন সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কুরাইশ মুশরিকদের নিন্দা করে কবিতা রচনার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুমতি চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: "তাদের মাঝে আমার যে বংশধারা রয়েছে তার কী হবে?" তিনি (হাসসান) বললেন: "আমি আপনাকে তাদের মধ্য থেকে এমনভাবে বের করে আনব যেভাবে আটার খামির থেকে চুল টেনে বের করা হয়।"

আর যদি কোনো কৃষ্ণাঙ্গ দাসের ক্ষেত্রেও বংশীয় সম্বন্ধ অস্বীকার করা কিংবা মিথ্যা দাবি করা অন্যতম বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২৫)
الكبائر لما يترتب عليه من الأحكام، فما الظن بذلك إذا كان إلى النبي أشرف الأشراف الكرام، فإنه يزيد على ما قبله بالتقديم بالشرف في قسمة الفيء ونحوه، وفي الإمامة الكبرى والصغرى، والكفاءة في النكاح، وتحريم الزكاة وشبهها من الأشياء الواجبة. واستحقاق الفيء والغنيمة والقرن في الصلاة عليه به صلى الله عليه وسلم تبعاً، وغير ذلك مما هو مشهور، محررٌ مقررٌ في محله مذكور.

وقال الشيخ محيي الدين النووي في أول إملائه على حديث: ((الأعمال بالنيات)) -بعد أن ساق النسب المشهور المجمع عليه إلى عدنان ثم منه إلى آدم من سياق ابن إسحاق في أول السيرة-: ((ذهب كثيرون من العلماء إلى جواز رفع الأنساب إلى آدم في الأنبياء وغيرهم وذكره وهو الأظهر)) .

قال: ((ويترتب عليه فوائد لتعرف العرب من غيرهم وقريشٌ من غيرها، ففي الشرع أحكام كثيرة مبنية على ذلك كالكفارة والتقديم في قسمة الفيء، وفي إمامة الصلاة وغير ذلك، ويتعلق بمعرفة نسب غير العرب مقاصد معلومةٌ)) .

انتهى كلامه.

فمن لم يقطع بنفي هذا اللقيط الملحق عن النسب الهاشمي الزكي المستبين، وأصر على ذلك بعد التعريف والتبين ترتب عليه ما يستحقه.

وأنا أشهد بالله ولله بل وكل ناقد أن هذه الدعوى باطلةٌ كالشمس
কবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ হলো এর সাথে সংশ্লিষ্ট আহকাম বা বিধানসমূহ। তবে বিষয়টি যদি হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধর হওয়ার দাবি নিয়ে—যিনি শ্রেষ্ঠতম সম্মানিত ব্যক্তি—তবে বিষয়টি কতটা গুরুতর হতে পারে? কারণ এটি ফায় বণ্টন ও এই জাতীয় ক্ষেত্রে মর্যাদাগত অগ্রগণ্যতা, কুবরা ও সুগরা (বড় ও ছোট) ইমামত, বিবাহের ক্ষেত্রে সমতা (কাফায়াত), এবং জাকাত ও তদ্রূপ ওয়াজিব বিষয়াদি হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বিষয়ের তুলনায় অধিক গুরুত্ব বহন করে। এছাড়া ফায় ও গণিমতের অধিকার লাভ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুগামী হিসেবে তাঁর ওপর সালাত পাঠের সময় তাঁর সাথে যুক্ত হওয়া এবং অন্যান্য সুপ্রসিদ্ধ বিষয়াদি যা স্ব স্ব স্থানে সুচারুরূপে লিপিবদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

শায়খ মুহিউদ্দীন আন-নববী 'নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' হাদিসের ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে বলেছেন—সীরাতের শুরুতে ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুযায়ী আদনান পর্যন্ত এবং সেখান থেকে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত সর্বসম্মত ও সুপরিচিত বংশলতিকা উল্লেখ করার পর: "বহু আলেম নবীগণ এবং অন্যদের বংশধারা আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত উন্নীত করাকে বৈধ বলেছেন এবং তা উল্লেখ করেছেন, আর এটিই অধিকতর স্পষ্ট মত।"

তিনি বলেন: "এর ওপর অনেক উপকারিতা নির্ভর করে যাতে অনারবদের থেকে আরবদের এবং কুরাইশদের থেকে অন্যদের পৃথকভাবে চেনা যায়। কেননা শরীয়তের অনেক বিধান এর ওপর ভিত্তি করে রচিত, যেমন কাফফারা, ফায় বণ্টনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার, নামাজের ইমামতি এবং অন্যান্য বিষয়। তদ্রূপ অনারবদের বংশ পরিচয় জানার সাথেও কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য জড়িত রয়েছে।"

তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো।

সুতরাং, যে ব্যক্তি এই কুড়িয়ে পাওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তিকে পবিত্র ও সুস্পষ্ট হাশেমী বংশধারা থেকে খারিজ করার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে না এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও এই দাবির ওপর অটল থাকে, তবে তার ওপর উপযুক্ত ব্যবস্থা বা পরিণাম বর্তাবে।

আমি আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই সাক্ষ্য দিচ্ছি, বরং প্রত্যেক বিশেষজ্ঞ সমালোচকই সাক্ষ্য দেবেন যে, এই দাবিটি দিবালোকের ন্যায় মিথ্যা ও অসার।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২৬)
بيقين، وأن العباس لم يلد ولداً اسمه حمزة الخلف أبداً، ولا في أولاد أولاده أحدٌ اسمه حمزة بل هو مختلق دعي زنيم ملصق كما قال حسان بن ثابت رضوان الله عليه:

وأنت زنيمٌ نيط في آل هاشم … كما نيط خلف الراكب القدح الفرد

وقال غيره:

حمارٌ في الكتابة يدعيها … كدعوى آل حربٍ من زياد

وا إسلاماه، وا دنياه، وا مصيبتاه!

وقد كان عرض لزوجتي في العشر الآخر من شهر رمضان عارضٌ في عينها، فنامت نهاراً وأنا قاعدٌ ألحق بهذه الفتيا القديمة كلام النووي وما بعده إلى هنا، فرأت في منامها كأني أنا وهي في براز من الأرض لا سقف له ولا جدار، فمر عليها رجلٌ وقع في قلبها أنه رسول الله صلى الله عليه وسلم متوجهاً إلى جهة القبلة يمشي مترسلاً، فأرادت أن تبادر فتقوم إليه وتسلم عليه. فقيل لها من خلفها: ((اصبري هذا ابن عباس جاء)) .

فمكثت لتسلم عليه ثم تتبع المصطفى وإذا بسيدنا ابن عباس قد أقبل من جهة الغرب قاصدنا يهرول مبيضاً متبسماً تبدو أسنانه، فأيقظتها للصلاة وأنا لا أشعر برؤياها قبل أن تسلم عليهما،
সুনিশ্চিতভাবে, আব্বাস এমন কোনো সন্তান জন্ম দেননি যার নাম হামজাহ আল-খালাফ ছিল, এমনকি তাঁর সন্তানদের সন্তানদের মধ্যেও কেউ হামজাহ নামে ছিল না। বরং সে এক মিথ্যা উদ্ভাবক, অবৈধ দাবিদার ও সম্পর্কহীন ব্যক্তি, যেমনটি হাসসান ইবনে সাবিত (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছিলেন:

আর তুমি হলে এক অবৈধ সন্তান যাকে হাশেমী বংশের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে … যেমনটি আরোহীর পেছনে একটি স্বতন্ত্র পেয়ালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়

এবং অন্য একজন কবি বলেছেন:

সে রচনার ক্ষেত্রে গাধার ন্যায় যা সে দাবি করে … যেমনটি হারবের বংশধরদের পক্ষ থেকে জিয়াদের প্রতি দাবি করা হয়েছিল

হায় ইসলাম! হায় দুনিয়া! হায় মুসিবত!

রমজান মাসের শেষ দশকে আমার স্ত্রীর চোখে একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তিনি দিনে ঘুমাচ্ছিলেন আর আমি বসে এই পুরাতন ফতোয়ার সাথে ইমাম নববীর বক্তব্য এবং এর পরবর্তী কথাগুলো এখানে যুক্ত করছিলাম। তখন তিনি স্বপ্নে দেখলেন যেন আমি এবং তিনি এক উন্মুক্ত প্রান্তরে রয়েছি যার কোনো ছাদ বা দেয়াল নেই। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং তাঁর অন্তরে উদিত হলো যে তিনি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক), যিনি কেবলার দিকে ধীরস্থিরভাবে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তিনি দ্রুত উঠে গিয়ে তাঁকে সালাম দিতে চাইলেন। তখন তাঁর পেছন থেকে তাঁকে বলা হলো: "ধৈর্য ধরো, এই তো ইবনে আব্বাস আসছেন।"

ফলে তিনি তাঁকে সালাম দেওয়ার জন্য এবং এরপর মুস্তফাকে অনুসরণ করার জন্য অপেক্ষা করলেন। হঠাৎ দেখা গেল আমাদের নেতা ইবনে আব্বাস পশ্চিম দিক থেকে দ্রুতগতিতে আমাদের দিকে আসছেন, তাঁর চেহারা ছিল শ্বেতশুভ্র ও হাস্যোজ্জ্বল এবং তাঁর দাঁত দেখা যাচ্ছিল। এরপর তিনি তাঁদের দুজনকে সালাম দেওয়ার আগেই আমি তাঁকে নামাজের জন্য জাগিয়ে দিলাম, অথচ আমি তাঁর এই স্বপ্ন সম্পর্কে তখনো জানতাম না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২৭)
واستيقظت وقد سكنت عينها.

وإنما ضمنتها هذه الجملة ذبا عن سيدنا أبي الخلفاء أن يلحق بذريته الشرفاء -كثرهم الله وزكاهم ورضي عنهم- من هو مقحمٌ دخيلٌ فيهم وليس منهم، رجاء حصول بركته في الدارين بحول الله ومشيئته.

قال كعب الأحبار: ((ليس أحدٌ من أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم إلا وله شفاعةٌ يوم القيامة)) .

ذكره القاضي عياض في ((الشفا)) .

ويلٌ لمن شفعاؤه خصماؤه، والزيف في القيامة يكشف. ومعلومٌ أن الخلفاء العباسيين من عقب علي بن عبد الله بن العباس الذي كان يدعى السجاد، وكان يسكن الشراة -بفتح الشين المعجمة- وهي بالشام من أرض البلقاء، ونزل أيضاً دمشق وله بها دارٌ، مات سنة ثماني عشرة أو سبع عشرة ومائة من الهجرة.

وجميع ما ذكرته -بحمد الله- أوضح من فلق الصبح وضوء الشمس، لا خلاف فيه عند أئمة هذا الفن ولا لبس.
এবং সে জেগে উঠল এমতাবস্থায় যে তার চোখ শান্ত হয়েছিল।

আমি এই বাক্যটি কেবল আমাদের খলিফাদের পূর্বপুরুষের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করার জন্যই অন্তর্ভুক্ত করেছি, যাতে তাঁর সম্মানিত বংশধরদের সাথে—আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন, তাদের পবিত্র করুন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এমন কাউকে যুক্ত করা না হয় যে তাদের মধ্যে অনধিকার প্রবেশকারী ও বহিরাগত অথচ তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; আল্লাহর শক্তি ও ইচ্ছায় উভয় জগতে তাঁর বরকত লাভের আশায়।

কাব আল-আহবার বলেন: "মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশের অধিকার থাকবে না।"

আল-কাযী ইয়াদ এটি 'আশ-শিফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

ধ্বংস তার জন্য যার সুপারিশকারীরাই তার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবে, আর কিয়ামতের দিন মেকি সবকিছু উন্মোচিত হয়ে যাবে। এটি সুবিদিত যে, আব্বাসীয় খলিফাগণ আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের বংশধর, যাঁকে 'আস-সাজ্জাদ' বলা হতো। তিনি 'শারাতি' (শীন অক্ষরে ফাতহাহ যোগে) নামক স্থানে বসবাস করতেন, যা শামের বালকা অঞ্চলের একটি স্থান। তিনি দামেস্কেও অবস্থান করেছিলেন এবং সেখানে তাঁর একটি ঘর ছিল। তিনি হিজরি ১১৭ বা ১১৮ সনে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি যা কিছু উল্লেখ করেছি—আল্লাহর প্রশংসায়—তা সুবহে সাদিক ও সূর্যের আলোর চেয়েও অধিক স্পষ্ট। এই বিষয়ের ইমামগণের নিকট এতে কোনো মতভেদ নেই এবং কোনো অস্পষ্টতাও নেই।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وبعد هذه الفتيا جاءني المستفتي بشيء مكتوب في نسبة ذرية هذا الولد المنسوب إلى العباس نفسه المدعى المكذوب الذي لا وجود له، وسألني أن أكتب عليه شيئاً مستقلاً غير هذه الفتيا، فوجدت النسب المذكور عامياً طرقياً ملفقًا مفتعلاً متناقضاً ضحكة، فضمنته مقاصد هذه الفتيا، وذكرت فيه أشياء أخر ونقضته من أوله إلى آخره، وكشف زيف مفتعله الدجال الحمار الطرقي التعيس المعثر الضال المضل، وبينت جميع ما اشتمل عليه من اللحن والتصحيف، والغلط والتحريف، والافتراء والخطأ، والمجازفة والهذيان، والركاكة والتناقض، وقلة الصناعة واللباقة، وتوليد أولاد لم يخلقوا أبداً، واختراع أسماء ما أنزل الله بها من سلطان، وعدم العلم بالصحابة والتاريخ وغير ذلك مما لا يخفى على ناقد، فيتعين الوقوف عليه، واستفادته والارتحال إليه.

حرره وحبره داخل البيت في ليلة حارة مع الاستعجال وتقسم البال:

خادم السنة النبوية وناصرها شيخنا الشيخ إبراهيم بن محمد بن محمود الحلبي الأصل الدمشقي الشافعي الملقب بالناجي كان الله له
এই ফতোয়ার পর, ফতোয়া প্রার্থী আমার কাছে এমন একটি লিখিত নথি নিয়ে আসলেন যাতে ওই বানোয়াট ও অস্তিত্বহীন ছেলের বংশপরম্পরা বর্ণিত হয়েছে যাকে আব্বাসের (রা.) সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আমাকে এই ফতোয়া ব্যতিরেকে এ বিষয়ে স্বতন্ত্র কিছু লিখতে অনুরোধ করলেন। আমি উক্ত বংশলতিকাটিকে সাধারণ লোকজ, সুফিবাদী ঘরানার, কৃত্রিম, বানোয়াট, স্ববিরোধী এবং হাস্যকর হিসেবে দেখতে পেলাম। তাই আমি এই ফতোয়ার মূল বিষয়গুলো তাতে সন্নিবেশিত করলাম এবং সেখানে আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তা খণ্ডন করলাম। সেই সাথে এর জালিয়াতকারী দাজ্জাল, গাধা, হতভাগ্য, বিচ্যুত, পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তকারী সুফিবাদীর মিথ্যা উন্মোচন করলাম। আমি এতে বিদ্যমান সকল ভাষাগত ত্রুটি, বর্ণ বিভ্রাট, ভুল, বিকৃতি, অপবাদ, ভ্রান্তি, হঠকারিতা, প্রলাপ, দুর্বলতা, স্ববিরোধিতা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার অভাব, এমন সব সন্তানের জন্ম দেওয়া যাদের কখনো সৃষ্টিই করা হয়নি এবং এমন সব নাম আবিষ্কার করা যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি—তা স্পষ্ট করে দিয়েছি। এছাড়া সাহাবীগণ ও ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অন্যান্য বিষয় যা একজন বিজ্ঞ সমালোচকের দৃষ্টি এড়ায় না, তাও ফুটিয়ে তুলেছি। সুতরাং এটি পর্যালোচনা করা, তা থেকে উপকৃত হওয়া এবং এর প্রতি মনোনিবেশ করা আবশ্যক।

এটি ঘরের অভ্যন্তরে এক উষ্ণ রজনীতে দ্রুততার সাথে এবং বিক্ষিপ্ত মনে লিখিত ও সম্পাদিত হয়েছে:

সুন্নতে নববীর খাদেম ও সাহায্যকারী, আমাদের শাইখ, শাইখ ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ, আদি নিবাস হালব, দামেস্কি, শাফেয়ি, ‘নাজি’ উপাধিতে ভূষিত, আল্লাহ তাঁর সহায় হোন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফীমান ইয়াদদায়ী আন্না মিন জুররিয়াতিল আব্বাস হামযাহ আল-খালাফ লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২৯)
في الدارين وحقق له هذا اللقب، وجمع له ولأهله ومحبيه بين السعادة الدنيوية والأخروية، بجاه مخدومه ونبيه ووليه محمد سيد الكونين المرسل إلى الجن والإنس والعجم والعرب.

فرغ من نقله إبراهيم بن عثمان بن محمد غفر الله له ولوالديه وللمسلمين والمسلمات في نهار السبت المبارك في عاشر يوم في شوال سنة ثمان وسبعين وثمانمائة.
উভয় জগতে এবং তাঁর জন্য এই উপাধিটি বাস্তবায়ন করেছেন, এবং তাঁর জন্য, তাঁর পরিবার ও তাঁর প্রিয়জনদের জন্য ইহকালীন ও পরকালীন সৌভাগ্যকে একত্রিত করেছেন, তাঁর সেবিত সত্তা, নবী ও ওলী মুহাম্মাদ—যিনি উভয় জগতের সরদার এবং জিন, মানব, অনারব ও আরবদের প্রতি প্রেরিত—তাঁর মর্যাদার উসিলায়।

এটি অনুলিপি করার কাজ শেষ করেছেন ইব্রাহিম ইবনে উসমান ইবনে মুহাম্মদ—আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিম পুরুষ ও নারীকে ক্ষমা করুন—আটশ আঠাত্তর হিজরি সালের শাওয়াল মাসের দশম তারিখ বরকতময় শনিবার দিবসে।