(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: -)
رسالة البيهقي للجويني   (أبو بكر البيهقي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: رسالة الإمام أبي بكر البيهقي إلى الإمام أبي محمد الجويني

المؤلف: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى الخُسْرَوْجِردي الخراساني، أبو بكر البيهقي (ت 458هـ)

المحقق: أبو عبيد الله فراس بن خليل مشعل

الناشر: دار البشائر الإسلامية

الطبعة: الأولى 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 105

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-জুয়াইনীকে লেখা আল-বাইহাকীর পত্র   (আবু বকর আল-বাইহাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ইমাম আবু বকর আল-বাইহাকী কর্তৃক ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-জুয়াইনীকে লেখা পত্র

লেখক: আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন মুসা আল-খুসরাওজিরদী আল-খুরাসানী, আবু বকর আল-বাইহাকী (মৃ. ৪৫৮ হিজরী)

সম্পাদক: আবু উবাইদুল্লাহ ফিরাস বিন খালীল মাশআল

প্রকাশক: দারুল বাশা’ইর আল-ইসলামিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ, ১৪২৮ হিজরী - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৫

[কিতাবটির পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের সন্ধানী, অগ্রসর হও

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: -)
رسالة الإمام أبي بكر البيهقي

 

إلى الإمام أبي محمد الجويني

 

تحوي مسائل في علم الحديث وغيره

برواية ولده شيخ القضاة أبي علي إسماعيل البيهقي

نفذها إليه مستدركا فيها عليه في تصنيف شرع فيه سماه المحيط

استدراكا فيما يتعلق بعلم الحديث وغيره

 

اعتنى بها

أبو عبيد الله فراس بن خليل مشعل

 

دار البشائر الإسلامية

 

الطبعة الأولى

1428 هـ - 2007 م
ইমাম আবু বকর আল-বায়হাকীর পত্র

 

ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনীর নিকট

 

ইলমুল হাদিস ও অন্যান্য বিষয়ের মাসআলা সম্বলিত

তাঁর পুত্র শাইখুল কুজাত আবু আলী ইসমাঈল আল-বায়হাকীর বর্ণনায়

তিনি এটি তাঁর প্রতি প্রেরণ করেছেন তাঁর শুরু করা 'আল-মুহিত' নামক কিতাবের ওপর সংশোধনী হিসেবে

ইলমুল হাদিস ও অন্যান্য বিষয়ের সংশোধনীসমূহ

 

সম্পাদনা ও প্রস্তুতি

আবু উবাইদুল্লাহ ফিরাস বিন খলিল মিশআল

 

দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

[وبه العون والتوفيق]

أخبرنا الشيخ الإمام الحافظ أبو بكر، محمد بن عبد الله بن أحمد بن حبيب البغدادي.

قال: حدثنا الإمام شيخ القضاة، أبو علي، إسماعيل بن أحمد البيهقي.

قال: حدثنا الإمام والدي، أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي. قال:
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

[এবং তাঁর নিকটই সাহায্য ও তাওফিক যাঞ্ছা করছি]

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, হাফিজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাবিব আল-বাগদাদি।

তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইমাম, বিচারপতিদের প্রধান, আবু আলী ইসমাইল ইবন আহমদ আল-বায়হাকি।

তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, ইমাম আবু বকর আহমদ ইবন আল-হুসাইন আল-বায়হাকি। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
سلام الله ورحمته على الشيخ الإمام، وإني أحمد إليه الله الذي لا إله إلا هو، وحده لا شريك له، وأصلي على رسوله محمد، وعلى آله، أما بعد -عصمنا الله تعالى بطاعته، وأكرمنا بالاعتصام بسنة خيرته من بريته، صلى الله عليه وسلم، وأعاننا على الاقتداء بالسلف الصالحين من أمته، وعافانا في ديننا ودنيانا، وكفانا كل هول دون الجنة، بفضله ورحمته، إنه واسع المغفرة والرحمة، وبه التوفيق والعصمة-: فقلبي للشيخ -أدام الله عصمته- وادٍ، وبأيامه معتد، ولساني له بالخير ذاكر، ولله تعالى على حسن توفيقه إياه شاكر، والله -جل ثناؤه- يزيده توفيقاً وتأييداً وتسديداً.

وقد علم الشيخ -أدام الله توفيقه- اشتغالي بالحديث، واجتهادي في طلبه. [و] معظم مقصودي منه في الابتداء: التمييز بين ما يصح الاحتجاج به من الأخبار، وبين ما لا يصح، حين رأيت المحدثين من أصحابنا يرسلونها في المسائل على ما يحضرهم من ألفاظها، من غير تمييز منهم بين صحيحها وسقيمها.

ثم إذا احتج عليهم بعض مخالفيهم بحديث يشق عليهم تأويله، أخذوا في تعليله، بما وجدوه في كتب المتقدمين من أصحابنا تقليداً.

ولو عرفوه معرفتهم، لميزوا صحيح ما يوافق أقوالهم من سقيمه، ولأمسكوا عن كثير مما يحتجون به، وإن كان يطابق آراءهم، ولاقتدوا في ترك الاحتجاج برواية الضعفاء والمجهولين بإمامهم فشرطه فيمن يقبل خبره عند من يعتني بمعرفته- مشهور، وهو بشرحه في كتاب «الرسالة» مسطور، وما ورد
শাইখ ইমামের ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। আমি তাঁর কাছে সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর দরূদ পাঠ করছি। অতঃপর—আল্লাহ তাআলা তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে আমাদের রক্ষা করুন, তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করুন, তাঁর উম্মতের নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফে সালেহীন) অনুসরণে আমাদের সহায়তা করুন, আমাদের দ্বীন ও দুনিয়ায় সুস্থতা দান করুন এবং জান্নাত লাভের আগ পর্যন্ত সকল ভয়াবহতা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। এটি তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায়; নিশ্চয়ই তিনি ব্যাপক ক্ষমা ও দয়ার অধিকারী। এবং তাঁর পক্ষ থেকেই তাওফিক ও সুরক্ষা লাভ হয়—শাইখের প্রতি আমার অন্তর—আল্লাহ তাঁর সুরক্ষা দীর্ঘায়িত করুন—ভালোবাসাপূর্ণ, তাঁর দিনগুলোর প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল, আমার জিহ্বা তাঁর কল্যাণের কথা স্মরণকারী এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে উত্তম তাওফিক দান করেছেন সে জন্য আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ—যার প্রশংসা সুমহান—তাঁর তাওফিক, সাহায্য ও সঠিক পথে অবিচলতা আরও বৃদ্ধি করে দিন।

শাইখ—আল্লাহ তাঁর তাওফিক অব্যাহত রাখুন—হাদিস শাস্ত্রে আমার একাগ্রতা এবং তা অন্বেষণে আমার পরিশ্রম সম্পর্কে অবগত আছেন। শুরুর দিকে এ বিষয়ে আমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল: বর্ণনাসমূহের মধ্যে কোনটি দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য আর কোনটি অযোগ্য, তা নিরূপণ করা। কেননা আমি আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে মুহাদ্দিসদের দেখেছি যে, তাঁরা বিভিন্ন মাসআলায় তাঁদের সামনে উপস্থিত শব্দাবলি সরাসরি বর্ণনা করে দেন, অথচ তাঁরা সহিহ ও দুর্বল বর্ণনার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না।

এরপর যখন তাঁদের বিরুদ্ধবাদীদের কেউ এমন কোনো হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে যার ব্যাখ্যা করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, তখন তাঁরা আমাদের পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহে যা পেয়েছেন তা অন্ধভাবে অনুকরণ করে সেই হাদিসের ত্রুটি খুঁজে বের করতে শুরু করেন।

যদি তাঁরা এটিকে যথাযথভাবে চিনতেন, তবে তাঁদের মতের স্বপক্ষে থাকা বর্ণনাসমূহের মধ্যেও সহিহ ও দুর্বলকে আলাদা করতে পারতেন এবং এমন অনেক হাদিস থেকে বিরত থাকতেন যা দিয়ে তাঁরা বর্তমানে দলিল পেশ করেন, যদিও তা তাঁদের মতের অনুকূলেই হয়ে থাকে। আর দুর্বল ও অজ্ঞাত পরিচয় রাবিদের বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের ইমামের অনুসরণ করতেন। কেননা যাঁর বর্ণনা গ্রহণ করা হবে তাঁর ব্যাপারে ইমামের শর্তাবলি—যারা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ তাঁদের নিকট—সুপ্রসিদ্ধ এবং তা 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর যা বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
من الأخبار بضعف رواته أو انقطاع إسناده كثير، والعلم به على من جاهد فيه سهل يسير.

‌‌وقد احتج في ترك الاحتجاج [برواية] المجهولين، بما:

1 - أخبرنا أبو عبد الله، محمد بن عبد الله، الحافظ، قال: حدثنا أبو العباس، محمد بن يعقوب، قال: حدثنا الربيع بن سليمان، قال: حدثنا الشافعي، قال: أخبرنا سفيان، عن محمد بن عمرو، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

«حدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج، وحدثوا عني، ولا تكذبوا علي».

قال الشافعي:

«أحاط العلم أن النبي صلى الله عليه وسلم لا يأمر أحداً بحالٍ أن يكذب على بني إسرائيل، ولا على غيرهم، فإذا أباح الحديث عن بني إسرائيل، فليس أن يقبلوا الحديث الكذب على بني إسرائيل .. .. .. لأنه يروى عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال:
বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা অথবা সনদের বিচ্ছিন্নতার কারণে বহু বর্ণনা রয়েছে এবং যারা এ বিষয়ে সাধনা করেন তাদের জন্য এর জ্ঞান লাভ করা সহজ ও সুগম।

‌‌অজ্ঞাত (মাজহুল) ব্যক্তিদের বর্ণনার মাধ্যমে দলিল গ্রহণ বর্জন করার স্বপক্ষে তিনি নিম্নোক্ত দলিলের মাধ্যমে যুক্তি পেশ করেছেন:

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবী বিন সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাফিঈ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, মুহাম্মদ বিন আমর থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

«তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই; এবং আমার থেকে বর্ণনা করো, তবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করো না।»

শাফিঈ (রহ.) বলেন:

«নিশ্চিত জ্ঞান এটিই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো অবস্থাতেই কাউকে বনী ইসরাঈল কিংবা অন্য কারো নামে মিথ্যা বলার নির্দেশ দেননি। সুতরাং তিনি যখন বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন, তার অর্থ এই নয় যে তারা বনী ইসরাঈলের নামে মিথ্যা বর্ণনা গ্রহণ করবে... কেননা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
«من حدث بحديثٍ وهو يراه كذباً، فهو أحد الكاذبين».

وإنما أباح قبول ذلك عمن حدث به ممن يجهل صدقه وكذبه».

قال: «وإذا فرق بين الحديث عنه، والحديث عن بني إسرائيل، فقال: «حدثوا عني، ولا تكذبوا علي».

فالعلم -إن شاء الله- يحيط: أن الكذب الذي نهاهم عنه: هو الكذب الخفي، وذلك: الحديث عمن لا يعرف صدقه».

ثم حكى الشافعي [مذهبه في ذلك، و] في رد حديث الضعفاء عن: ابنٍ [لابن] عمر، وعن عروة بن الزبير، وسعد بن إبراهيم.
«যে ব্যক্তি এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করে যে সম্পর্কে সে মনে করে যে তা মিথ্যা, তবে সে মিথ্যাবাদীদেরই একজন।»

আর কেবল তাদের নিকট থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা বৈধ করা হয়েছে যারা তা বর্ণনা করেন অথচ তাদের সত্যবাদিতা বা মিথ্যাবাদিতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই।

তিনি বলেন: «আর যখন তাঁর পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা এবং বনী ইসরাঈলের পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে, তখন তিনি বলেছেন: «তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, আর আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করো না»।

ইনশাআল্লাহ, এতে এ জ্ঞান পরিবেষ্টন করে যে: তিনি তাদের যে মিথ্যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা হলো সূক্ষ্ম মিথ্যা; আর তা হলো—এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করা যার সত্যবাদিতা জানা নেই।

অতঃপর শাফেয়ী [এ বিষয়ে এবং] দুর্বল বর্ণনাকারীদের হাদীস প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে ইবনে উমর-এর এক পৌত্র, উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর এবং সা’দ ইবনে ইবরাহীমের পক্ষ থেকে [নিজের মাযহাব] বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وحكاه في «كتاب العمرى» عن: عطاء بن أبي رباح، وطاوس، وابن سيرين، وإبراهيم النخعي.

ثم قال: «وما لقيت، ولا علمت أحداً من أهل العلم بالحديث، يخالف هذا المذهب».

قال الشيخ الفقيه أحمد رحمه الله:

‌‌وإنما يخالفه بعض من لا يعد من أهل الحديث، فيرى (قبول رواية المجهولين، ما لم يعلم ما يوجب رد خبرهم).

وقد قال الشافعي رحمه الله في أول «كتاب الطهارة» -حين ذكر ما تكون به الطهارة من الماء، واعتمد فيه على ظاهر القرآن-:

«وقد روي فيه عن النبي صلى الله عليه وسلم حديث -يوافق ظاهر القرآن- في إسناده من لا أعرفه».
এবং তিনি এটি «কিতাবুল উমরা» গ্রন্থে আতা ইবনে আবি রাবাহ, তাউস, ইবনে সিরিন এবং ইব্রাহিম আন-নাখায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন।

অতপর তিনি বলেন: «আমি এমন কাউকে পাইনি, এবং ইলমে হাদিসের পারদর্শী কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে আমার জানা নেই, যিনি এই মতাদর্শের বিরোধিতা করেন।»

শাইখ ফকিহ আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

‌‌«বরং এর বিরোধিতা করেছেন কেবল এমন কিছু ব্যক্তি যাদেরকে হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় না। তারা অভিমত পোষণ করেন যে, (অজ্ঞাতনামা বর্ণনাকারীদের বর্ণনা গ্রহণ করা হবে, যতক্ষণ না তাদের খবর প্রত্যাখ্যান করার মতো কোনো কারণ জানা যায়)»।

ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) «কিতাবুত তাহারাহ»-এর শুরুতে—যখন তিনি কোন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জিত হয় তা উল্লেখ করছিলেন এবং কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের ওপর নির্ভর করছিলেন—তখন বলেছেন:

«এই বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে—যা কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ—যার সনদে এমন একজন ব্যক্তি আছেন যাকে আমি চিনি না।»
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৫০)
ثم ذكر حديثه عن مالك، عن صفوان بن سليم، عن سعيد بن سلمة، عن المغيرة بن أبي بردة، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، في البحر.

وعسى لم يخطر ببال فقيه من فقهاء عصرنا ريب في صحة هذا الحديث، وإمامه يقول: «في إسناده من لا أعرفه»!

وإنما قال ذلك:

- لاختلافٍ وقع في اسم المغيرة بن أبي بردة.
এরপর তিনি সমুদ্র সংক্রান্ত বিষয়ে মালিক থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবন সুলাইম থেকে, তিনি সাঈদ ইবন সালামাহ থেকে, তিনি মুগীরা ইবন আবী বুরদাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, আর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত তাঁর হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

সম্ভবত আমাদের বর্তমান সময়ের কোনো ফকীহর মনে এই হাদীসটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ জাগেনি, অথচ তাঁদের ইমাম বলছেন: "এর সনদে এমন এক ব্যক্তি রয়েছে যাকে আমি চিনি না!"

আর তিনি এটি কেবলমাত্র এ জন্য বলেছেন:

- মুগীরা ইবন আবী বুরদাহ-র নামের ব্যাপারে সংঘটিত মতপার্থক্যের কারণে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৫১)
- ثم في وصله بذكر أبي هريرة.

مع إيداع مالك بن أنس إياه كتابه «الموطأ».
- অতঃপর আবু হুরায়রার বর্ণনার সাথে এটি সংযুক্ত করার বিষয়ে।

পাশাপাশি মালিক ইবনে আনাস তাঁর 'আল-মুওয়াত্ত্তা' গ্রন্থে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৫২)
ومشهور فيما بين الحفاظ، أنه لم يودعه رواية من يرغب عنه، إلا رواية: عبد الكريم أبي أمية، وعطاء الخراساني، فقد رغب عنهما غيره.

‌‌وتوقف الشافعي في (إيجاب الغسل من غسل الميت). واعتذر:

«بأن بعض الحفاظ أدخل بين أبي صالح، وبين أبي هريرة: إسحاق -مولى زائدة-، وأنه لا يعرفه، ولعله أن يكون ثقة».
হাফিজদের মধ্যে এটি প্রসিদ্ধ যে, তিনি এমন কোনো ব্যক্তির বর্ণনা এতে অন্তর্ভুক্ত করেননি যাকে উপেক্ষা করা হয়েছে, কেবল আব্দুল কারীম আবু উমাইয়্যাহ এবং আতা আল-খুরাসানীর বর্ণনা ব্যতীত, কেননা অন্য মুহাদ্দিসগণ তাদের উপেক্ষা করেছেন।

‌‌এবং ইমাম শাফিয়ী (মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর কারণে গোসল ওয়াজিব হওয়া) প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন। এবং তিনি কারণ দর্শিয়েছেন:

«এই কারণে যে, কতিপয় হাফিজ আবু সালিহ এবং আবু হুরাইরার মাঝে ইসহাককে—যিনি যায়েদাহর মুক্তদাস—অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর তিনি তাকে চেনেন না, হতে পারে সে নির্ভরযোগ্য হবে।»
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وتوقف في إثبات (الوقت الثاني لصلاة المغرب)، مع أحاديث صحاح رويت فيه بعد إمامة جبريل عليه السلام بالنبي صلى الله عليه وسلم؛ حين لم يثبت عنده من عدالة رواتها ما يوجب قبول خيرهم.
তিনি মাগরিবের সালাতের (দ্বিতীয় ওয়াক্ত) সাব্যস্ত করার বিষয়ে বিরত থেকেছেন, যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিবরাঈল আলাইহিস সালামের ইমামতি করার ঘটনার পর এ বিষয়ে সহীহ হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছে; যেহেতু তাঁর নিকট বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা এমন স্তরে প্রমাণিত হয়নি যা তাদের সংবাদ গ্রহণ করাকে আবশ্যক করে তোলে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
وكأنه وقع لمحمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله بعده ما وقع له؛ حتى لم يخرج شيئاً من تلك الأحاديث في «كتابه».

ووقف مسلم بن الحجاج رحمه الله على ما يوجب قبول خبرهم، ووثق بحفظ من رفع المختلف في رفعه منها، فقبله، وأخرجها في «الصحيح»، وهي: حديث أبي موسى، وبريدة، وعبد الله بن عمرو.

واحتج الشافعي رحمه الله في كتاب «أحكام القرآن» برواية عائشة في أن (زوج بريرة كان عبداً).

وإن بعض من تكلم معه قال له: هل تروون عن غير عائشة أنه كان عبداً؟

قال الشافعي:

«هي المعتقة، وهي أعلم به من غيرها!

وقد روي من وجهين، قد ثبَّتَّ أنت ما هو أضعف منهما، ونحن إنما نثبت ما هو أقوى منهما».
যেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ক্ষেত্রেও পরবর্তীতে তাঁর মতো একই ঘটনা ঘটেছিল; যার ফলে তিনি তাঁর ‘কিতাব’-এ সেই হাদিসগুলোর কিছুই সংকলন করেননি।

অন্যদিকে মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ (রাহিমাহুল্লাহ) তাদের বর্ণনা গ্রহণের আবশ্যকতা সম্পর্কে অবগত হন এবং সেই হাদিসগুলোর মধ্যে যেগুলো মারফু করার বিষয়ে মতভেদ ছিল, সেগুলোকে যারা মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাদের হিফজ বা মুখস্থশক্তির ওপর তিনি আস্থা রেখেছেন। ফলে তিনি সেগুলো গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে সংকলন করেছেন; আর সেগুলো হলো: আবু মুসা, বুরাইদাহ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের বর্ণিত হাদিস।

ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে, (বারিরার স্বামী একজন দাস ছিলেন)।

তাঁর সাথে আলোচনাকারীদের মধ্যে কেউ তাঁকে বললেন: আপনারা কি আয়েশা ছাড়া অন্য কারো সূত্রে বর্ণনা করেন যে তিনি একজন দাস ছিলেন?

ইমাম শাফেঈ বললেন:

“তিনিই (আয়েশা) তো তাকে মুক্ত করেছিলেন, তাই অন্যদের তুলনায় তিনি এই বিষয়ে অধিক অবগত!

আর এটি দুইটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে; আপনি তো এর চেয়ে দুর্বল বর্ণনাকেও সাব্যস্ত করেছেন, অথচ আমরা কেবল এর চেয়ে শক্তিশালী বর্ণনাটিকেই সাব্যস্ত করছি।”
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
فذكر:

- حديث عكرمة، عن ابن عباس.

- وحديث القاسم العمري، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر: «أن زوج بريرة كان عبداً».

و (حديث عكرمة) عن ابن عباس قد أخرجه البخاري في «الصحيح».

إلا أن عكرمة مختلفٌ في عدالته.

-كان مالك بن أنس -رحمنا الله وإياه- لا يرضاه.
অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন:

- ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত ইকরিমা’র হাদীস।

- এবং আব্দুল্লাহ বিন দীনার থেকে বর্ণিত আল-কাসিম আল-উমরীর হাদীস, যা তিনি ইবনু উমর থেকে বর্ণনা করেছেন: «বারীরার স্বামী একজন দাস ছিলেন»।

আর ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত (ইকরিমা’র হাদীসটি) ইমাম বুখারী তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

তবে ইকরিমা’র ন্যায়নিষ্ঠার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

- মালিক বিন আনাস —আল্লাহ আমাদের ও তাঁর প্রতি দয়া করুন— তাঁকে পছন্দ করতেন না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
- وتكلم فيه: سعيد بن المسيب، وعطاء، وجماعة من أهل العلم بالحديث.

- ولذلك ترك مسلم بن الحجاج الاحتجاج بروايته في «كتابه».

و (القاسم العمري): ضعيف عندهم.

فقال الشافعي لخصمه:

«نحن إنما نثبت ما هو أقوى منهما».

وقال في أثرين ذكرهما في «كتاب الحدود»:

«وهاتان الروايتان، وإن لم تخالفانا، غير معروفتين، ونحن نرجو أن لا نكون ممن تدعوه الحجة على من خالفه إلى قبول خبر من لا يثبت خبره بمعرفته عنده».

وله من هذا أشياء كثيرة، يكتفي بأقل من هذا من سلك سبيل النصفة.

فهذا مذهبه في قبول الأخبار، وهو مذهب القدماء من أهل الآثار.
- এবং তাঁর সমালোচনা করেছেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আতা এবং ইলমে হাদিসের একদল বিশেষজ্ঞ।

- আর এই কারণেই মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁর ‘কিতাব’-এ তাঁর বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ করা বর্জন করেছেন।

এবং (আল-কাসিম আল-উমারি): তাঁদের নিকট দুর্বল।

অতঃপর শাফিঈ তাঁর প্রতিপক্ষকে বললেন:

«আমরা কেবল তা-ই সাব্যস্ত করি যা এই দুইটির চেয়ে অধিক শক্তিশালী।»

এবং তিনি ‘কিতাবুল হুদুদ’-এ উল্লিখিত দুটি আসারের বিষয়ে বলেছেন:

«আর এই বর্ণনা দুটি যদিও আমাদের অবস্থানের পরিপন্থী নয়, তবুও তা সুপরিচিত নয়। আমরা আশা রাখি যে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হবো না যাদেরকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে দলিল উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা এমন ব্যক্তির খবর গ্রহণ করতে প্ররোচিত করে, যার খবর তার নিকট নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত নয়।»

এই বিষয়ে তাঁর আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে; আর যে ব্যক্তি ইনসাফের পথ অবলম্বন করে, তার জন্য এর চেয়ে অল্পই যথেষ্ট।

সংবাদ (হাদিস) গ্রহণের ক্ষেত্রে এটিই তাঁর মাযহাব, এবং এটিই আসরপন্থী (আহলুল আসার) পূর্বসূরিদের অনুসৃত মাযহাব।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
قال الفقيه رضي الله عنه:

‌‌وكنت أسمع رغبة الشيخ -أدام الله أيامه- في سماع الحديث، والنظر في كتب أهله، فأسكن إليه، وأشكر الله تعالى عليه، وأقول في نفسي، ثم فيما بين الناس:

قد جاء الله عز وجل بمن يرغب في الحديث، ويرغب فيه من بين الفقهاء، ويميز فيما يرويه ويحتج به الصحيح من السقيم من جملة العلماء.

وأرجو من الله تعالى: أن يحيي [به] سنة إمامنا المطلبي في قبول الآثار، حيث أماتها أكثر فقهاء الأمصار، بعد من مضى من الأئمة الكبار، الذين جمعوا بين نوعي علم الفقه والأخبار.

ثم لم يرض بعضهم بالجهل به، حتى رأيته حمل [على] العالم به بالوقوع فيه، والإزراء به، والضحك منه، وهو مع هذا يعظم صاحب مذهبه ويجله، ويزعم: أنه لا يفارق في منصوصاته قوله! ثم يدع في كيفية قبول الحديث ورده طريقته، ولا يسلك فيها سيرته؛ لقلة معرفته بما عرف، وكثرة غفلته عما عليه وقف.

هلا نظر في كتبه، ثم اعتبر باحتياطه في انتقاده لرواة خبره، واعتماد فيمن اشتبه عليه حاله على رواية غيره؟! فيرى سلوك مذهبه -مع دلالة
ফকিহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন:

‌‌আমি শায়খের—আল্লাহ তাঁর হায়াত দরাজ করুন—হাদিস শোনার প্রতি আগ্রহ এবং হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কিতাবসমূহ পর্যালোচনার কথা শুনতাম। ফলে আমি তাঁর প্রতি আশ্বস্ত বোধ করতাম এবং এর জন্য আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করতাম। আমি নিজের মনে এবং মানুষের মাঝে বলতাম:

নিশ্চয়ই আল্লাহ মহামহিমান্বিত এমন একজনকে নিয়ে এসেছেন যিনি ফকিহদের মধ্য থেকে হাদিসের প্রতি আগ্রহী এবং এর প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করেন। এছাড়া তিনি আলেমদের মধ্যে যা কিছু বর্ণনা করা হয় এবং যা দ্বারা দলিল পেশ করা হয়, তার মধ্য থেকে বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধের মাঝে পার্থক্য করেন।

আমি আল্লাহ তাআলার নিকট আশা করি যে, তিনি তাঁর মাধ্যমে আসার (হাদিস ও বর্ণনা) কবুল করার ক্ষেত্রে আমাদের ইমাম আল-মুত্তালিবির সুন্নতকে পুনরুজ্জীবিত করবেন, যা বিভিন্ন অঞ্চলের অধিকাংশ ফকিহগণ বিলুপ্ত করে ফেলেছেন; বিশেষ করে সেই বড় বড় ইমামদের পরবর্তী যুগে যারা ফিকহ এবং আখবার (হাদিস) উভয় প্রকার ইলমের সমন্বয় করেছিলেন।

অতঃপর তাদের কেউ কেউ কেবল এই বিষয়ে অজ্ঞতা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেনি, বরং আমি দেখেছি সে এই শাস্ত্রের আলেমকে আক্রমণ করছে, তাঁকে তুচ্ছজ্ঞান করছে এবং তাঁকে নিয়ে উপহাস করছে। অথচ সে তার মাযহাবের ইমামকে সম্মান করে এবং তাঁকে মহান মনে করে। সে দাবি করে যে, ইমামের সুনির্দিষ্ট বক্তব্যসমূহে সে তাঁর মতের বিরোধিতা করে না! অথচ এরপর সে হাদিস গ্রহণ ও বর্জনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে ইমামের পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এবং তাঁর পথ অনুসরণ করে না। এটি তার জ্ঞানের স্বল্পতা এবং যে বিষয়ের ওপর তিনি অটল ছিলেন সে সম্পর্কে অধিক উদাসীনতার কারণেই হয়ে থাকে।

সে কেন তাঁর কিতাবসমূহে দৃষ্টিপাত করল না, অতঃপর তিনি হাদিস বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যে সতর্কতা অবলম্বন করতেন এবং যার অবস্থা তাঁর কাছে সন্দেহজনক হতো তার পরিবর্তে অন্যের বর্ণনার ওপর যে নির্ভর করতেন, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করল না?! তবে সে তাঁর মাযহাবের অনুসরণ দেখতে পেত—নির্দেশনার সাথে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
العقل والسمع- واجباً على كل من انتصب للفتيا:

- فإما أن يجتهد في تعلمه

- أو يسكت عن الوقوع فيمن يعلمه.

فلا يجتمع عليه وزران، حيث فاته الأجران!

والله المستعان، وعليه التكلان.
বুদ্ধি ও শ্রুত প্রমাণ— ফতোয়া প্রদানের আসনে আসীন প্রত্যেকের জন্য এটি অপরিহার্য:

- হয় সে এটি শিক্ষা করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করবে

- অথবা যে ব্যক্তি এটি জানেন, তার সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকবে।

যাতে তার ওপর দুটি পাপ একত্রিত না হয়, যেহেতু সে ইতিপূর্বেই দুটি সওয়াব হারিয়েছে!

আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই সকল নির্ভরতা।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌ثم إن بعض أصحاب الشيخ -أدام الله عزه- وقع إلى هذه الناحية، فعرض علي أجزاء ثلاثة مما أملاه من كتابه المسمى بـ: «المحيط»، فسررت به، ورجوت أن يكون الأمر فيما يورده من الأخبار على طريقة من مضى من الأئمة الكبار، لائقاً بما خص به من علم الأصل والفرع، موافقاً لما ميز به من فضل العلم والورع، فإذا أول حديث وقع عليه بصري: الحديث المرفوع في (النهي عن الاغتسال بالماء المشمس)!

فقلت -في نفسي-: يورده، ثم يضعفه، أو يضجع القول فيه.

فرأيته قد أملى:

«والخبر فيه: ما روى مالك، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة»!

فقلت: هلا قال:

- روي عن عائشة؟

- أو: روي عن ابن وهب، عن مالك؟

- أو: روي عن إسماعيل بن عمر الكوفي، عن ابن وهب، عن مالك؟
অতঃপর শাইখের—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা দীর্ঘস্থায়ী করুন—জনৈক শিষ্য এই অঞ্চলে আসলেন এবং তাঁর 'আল-মুহিত' নামক কিতাব থেকে তাঁর শ্রুতিলিপি করা তিনটি খণ্ড আমাকে দেখালেন, এতে আমি আনন্দিত হলাম এবং আশা করলাম যে, তিনি যেসব বর্ণনা উল্লেখ করবেন তা যেন বিগত মহান ইমামগণের পন্থায় হয়, যা উসূল ও ফুরু সংক্রান্ত তাঁর বিশেষ জ্ঞানের উপযুক্ত হয় এবং যা তাঁর ইলম ও তাকওয়ার শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। এমতাবস্থায় প্রথমেই আমার দৃষ্টি যে হাদিসের ওপর পড়ল তা হলো: (রোদে গরম করা পানি দিয়ে গোসল করার নিষেধাজ্ঞা) সম্পর্কিত মারফূ' হাদিস!

আমি মনে মনে বললাম: তিনি এটি উল্লেখ করেছেন, এরপর হয়তো একে দুর্বল বলবেন অথবা এ বিষয়ে শিথিল বক্তব্য প্রদান করবেন।

কিন্তু আমি দেখলাম তিনি শ্রুতিলিপিতে লিখেছেন:

«আর এ বিষয়ক বর্ণনাটি হলো: যা মালিক বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে»!

আমি বললাম: তিনি কেন এমনটি বললেন না:

- আয়েশা থেকে বর্ণিত হয়েছে?

- অথবা: ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি মালিক থেকে?

- অথবা: ইসমাইল বিন উমর আল-কুফি থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি মালিক থেকে?
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৬০)
- أو: روى خالد بن إسماعيل، أو وهب بن وهب أبو البختري، عن هشام بن عروة؟

- أو: روى عمرو بن محمد الأعسم، عن فليح، عن الزهري، عن عروة؟
- অথবা: খালিদ ইবন ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, অথবা ওয়াহাব ইবন ওয়াহাব আবুল বাখতারি, হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে?

- অথবা: আমর ইবন মুহাম্মাদ আল-আসাম বর্ণনা করেছেন, ফুলায়হ থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে?
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৬১)
ليكون الحديث مضافاً إلى من يليق به مثل هذه الرواية، ولا يكون شاهداً على مالك بن أنس بما أظنه يبرأ إلى الله تعالى من روايته، ظناً مقروناً بعلم.

[والله أعلم].
যাতে হাদীসটি এমন ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় যার জন্য এই ধরনের বর্ণনা মানানসই, এবং এটি যেন মালিক বিন আনাস-এর বিরুদ্ধে এমন কিছুর সাক্ষ্য না হয় যা বর্ণনা করা থেকে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দায়মুক্ত বলে আমি মনে করি; আর এটি ইলম বা জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত একটি ধারণা।

[এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন]।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌ثم إني رأيته -أدام الله عصمته-: أوَّل (حديث التسمية)، وضعف ما روي عن ربيعة بن أبي عبد الرحمن في تأويله، بحديث شهد به على الأعمش أنه رواه عن شقيق بن سلمة، عن ابن مسعود، عن النبي صلى الله عليه وسلم: فيمن توضأ وسمى، وفيمن توضأ ولم يسم.

وهذا حديث تفرد به يحيى بن هاشم السمسار، عن الأعمش.

ولا يشك حديثي في ضعفه.

- ورواه أيضاً عبد الله بن حكيم، أبو بكر الداهري، عن عاصم بن محمد، عن نافع، عن ابن عمر مرفوعاً.

وأبو بكر الداهري: ضعيف، لا يحتج بخبره.

- وروي من وجه آخر مجهول، عن أبي هريرة.
অতঃপর আমি তাকে দেখেছি -আল্লাহ তাঁর সুরক্ষাকে দীর্ঘায়িত করুন-: তিনি (তাসমিয়াহ বা বিসমিল্লাহ বলার হাদিস) ব্যাখ্যা করেছেন, এবং এর ব্যাখ্যায় রাবিআহ বিন আবি আবদির রহমান থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাকে এমন একটি হাদিসের মাধ্যমে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন যা আল-আ'মাশের সূত্রে শাকিক বিন সালামাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে: যে ব্যক্তি অজু করার সময় আল্লাহর নাম নিল এবং যে ব্যক্তি অজু করল কিন্তু আল্লাহর নাম নিল না সে সম্পর্কে।

আর এটি এমন একটি হাদিস যা ইয়াহইয়া বিন হাশিম আস-সিমসার এককভাবে আল-আ'মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং কোনো হাদিস বিশারদ এর দুর্বলতার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন না।

- এবং এটি আবদুল্লাহ বিন হাকিম আবু বকর আদ-দাহিরিও বর্ণনা করেছেন আসিম বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি নাফি' থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু' হিসেবে।

আর আবু বকর আদ-দাহিরি হলেন দুর্বল, তাঁর বর্ণনা দলিল হিসেবে পেশ করা যায় না।

- এবং এটি আবু হুরায়রা থেকে অপর এক অজ্ঞাত সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
ولا يثبت.

وحديث التسمية قد روي من أوجهٍ، ما وجه من وجوهها إلا وهو أمثل إسناداً من أسانيد ما روي في مقابلته، ومع ذاك فأحمد بن حنبل رحمه الله يقول:

«لا أعلم فيه حديثاً ثابتاً».
এবং এটি প্রমাণিত নয়।

আর তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ বলা) সংক্রান্ত হাদিসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে; এর প্রতিটি সূত্রই এর বিপরীতে বর্ণিত হাদিসগুলোর সনদের তুলনায় অধিকতর গ্রহণযোগ্য, তা সত্ত্বেও আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

«এই বিষয়ে আমি কোনো প্রমাণিত হাদিস জানি না।»
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
فقلت -في نفسي-:

قد شرك الشيخ -حرس الله مهجته- القوم فيما أحدثوا من المساهلة في رواية الأحاديث.

‌‌وحسبته سلك هذه الطريقة فيما حكي لي عنه من مسحه وجهه بيديه في قنوت صلاة الصبح؛ وأحسن الظن برواية من روى: (مسح الوجه باليدين بعد الدعاء)، مع ما:

2 - أخبرنا أبو عبد الله الحافظ، قال: أخبرنا أبو بكر الجراحي، قال حدثنا [يحيى بن] ساسويه، حدثنا عبد الكريم السكري، قال: حدثنا وهب بن زمعة، قال: أخبرني علي الباشاني، قال:

«سألت عبد الله بن المبارك: عن الذي إذا دعا مسح وجهه.

فلم أجد [له ثبتاً]».
আমি মনে মনে বললাম:

শাইখ —আল্লাহ তাঁর জীবন রক্ষা করুন— হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বনের যে নতুন রীতি মানুষ উদ্ভাবন করেছে, তাতে তিনিও তাদের সাথে শরিক হয়েছেন।

আমি ধারণা করেছিলাম যে, ফজরের নামাজের কুনুতে তাঁর দুই হাত দিয়ে মুখমণ্ডল মাসাহ করার বিষয়ে আমার কাছে যা বর্ণিত হয়েছে, তাতে তিনি এই পথই অনুসরণ করেছেন; এবং দোয়ার পর দুই হাত দিয়ে মুখমণ্ডল মাসাহ করার বিষয়ে যারা বর্ণনা করেছেন, তাদের বর্ণনার প্রতি তিনি সুধারণা পোষণ করেছেন, অথচ এর বিপরীতে:

২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-জাররাহি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন [ইয়াহইয়া বিন] সাসাওয়াইহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল কারীম আস-সুক্কারী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব বিন যামআহ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আলী আল-বাশানী, তিনি বলেন:

«আমি আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারককে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যে দোয়া করার সময় মুখমণ্ডল মাসাহ করে।

তখন আমি এর স্বপক্ষে কোনো [নির্ভরযোগ্য দলিল] পাইনি।»
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
قال علي: «ولم أره يفعل ذلك».

قال علي: «وكان عبد الله يقنت بعد الركوع في الوتر، وكان يرفع يديه في القنوت».

3 - وأخبرنا أبو علي الروذباري، أخبرنا أبو بكر بن داسه، قال: قال أبو داود السجستاني:

«روي هذا الحديث من غير وجه، عن محمد بن كعب، كلها واهية، وهذا الطريق أمثلها، وهو ضعيف أيضاً».

يريد به: حديث عبد الله بن يعقوب، عمن حدثه، عن محمد بن كعب القرظي، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم:

« .. .. سلوا الله ببطون أكفكم، ولا تسألوه بظهورها، فإذا فرغتم؛ فامسحوا بها وجوهكم».
আলী বলেন: «আমি তাঁকে তা করতে দেখিনি।»

আলী বলেন: «আব্দুল্লাহ বিতর সালাতে রুকুর পরে কুনুত পড়তেন এবং তিনি কুনুতে তাঁর হাত উত্তোলন করতেন।»

৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আর-রূদবারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে দাসাহ, তিনি বলেন: আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী বলেছেন:

«এই হাদিসটি মুহাম্মাদ বিন কাব থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যার সবগুলোই অসার, আর এই সূত্রটি সেগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত উত্তম, তবে এটিও দুর্বল।»

এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন: আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকুবের হাদিসটি, তিনি যার থেকে বর্ণনা করেছেন তার সূত্রে, মুহাম্মাদ বিন কাব আল-কুরাযী থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন:

« .. .. তোমরা আল্লাহর নিকট তোমাদের হাতের তালু দিয়ে প্রার্থনা করো, এবং হাতের পিঠ দিয়ে প্রার্থনা করো না; অতঃপর যখন তোমরা অবসর হবে, তখন তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল মুছে নাও।»
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
وروي ذلك من أوجه أخر، كلها أضعف من رواية من رواها عن ابن عباس.

وكان أحمد بن حنبل ينكرها.

وحكي عنه أنه قال: «في الصلاة لا، ولا بأس به في غير الصلاة».

قال الفقيه:

وهذا لما في استعماله في الصلاة من إدخال عمل عليها لم يثبت به أثر.

وقد يدعو في آخر تشهده، ولا يرفع يديه، ولا يمسحهما بوجهه، إذ لم يرد بهما أثر؛ فكذا في دعاء القنوت، يرفع يديه؛ لورود الأثر به، ولا يمسح بهما وجهه؛ إذا لم يثبت فيه أثر.

وبالله التوفيق!
এটি আরও ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যার সবগুলোই ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনার চেয়ে দুর্বল।

আহমদ ইবনে হাম্বল এগুলোকে অস্বীকার করতেন।

তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "নামাজের মধ্যে নয়, তবে নামাজের বাইরে এতে কোনো দোষ নেই।"

ফকিহ বলেন:

আর এটি এ কারণে যে, নামাজের মধ্যে এর প্রয়োগ এমন এক আমল অন্তর্ভুক্ত করা যা কোনো বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত নয়।

একজন ব্যক্তি তার শেষ তাশাহহুদে দোয়া করে থাকে, অথচ সে হাত তোলে না এবং তা দিয়ে মুখও মুছে না, কারণ এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা বর্ণিত হয়নি; অনুরূপভাবে কুনুতের দোয়ার ক্ষেত্রেও সে হাত উত্তোলন করবে, যেহেতু এ বিষয়ে বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে, কিন্তু হাত দিয়ে মুখ মুছবে না, কারণ এ ব্যাপারে কোনো বর্ণনা সাব্যস্ত হয়নি।

আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
وعندي: أن (من سلك من الفقهاء هذه الطريقة في المساهلة، أنكر عليه قوله).

مع كثرة ما روي من الأحاديث في خلافه.

وإذ كان هذا اختياره، فسبيله -أدام الله توفيقه-: يملي في مثل هذه الأحاديث: «روي عن فلان، ولا يقول: «روى فلان»؛ لئلا يكون شاهداً على فلان بروايته من غير ثبتٍ.

وهو إن فعل ذلك وجد لفعله متبعاً؛ فقد:

4 - أخبرنا أبو عبد الله الحافظ، قال: سمعت أبا الوليد الفقيه، يقول:

«لما سمع أبو عثمان الحيري من أبي جعفر بن حمدان كتابه «المخرج على كتاب مسلم»، كان يديم النظر فيه، فكان إذا جلس للذكر:

- يقول في بعض ما يذكر من الحديث: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم.

- ويقول في بعضه: روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

قال: فنظرنا، فإذا إنه قد حفظ ما في الكتاب، حتى ميز بين صحيح الأخبار وسقيمها».

فأبو عثمان الحيري -رحمنا الله وإياه- يحتاط -هذا النوع من
আমার মতে: (ফকীহদের মধ্যে যারা শিথিলতার এই পথ অবলম্বন করেছেন, তাদের এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।)

যদিও এর বিপরীতে প্রচুর সংখ্যক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

যেহেতু এটাই তার পছন্দনীয় পথ, তাই তার পদ্ধতি হওয়া উচিত —আল্লাহ তার তাওফীক অব্যাহত রাখুন— এই ধরণের হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে তিনি এভাবে বর্ণনা করবেন: "অমুক থেকে বর্ণিত হয়েছে", এবং বলবেন না: "অমুক বর্ণনা করেছেন"; যাতে তিনি দৃঢ় নিশ্চয়তা ছাড়া কারো বর্ণনার ব্যাপারে সাক্ষী না হয়ে যান।

তিনি যদি এমনটি করেন, তবে তার এই কাজের স্বপক্ষে পূর্বসূরীদের অনুসৃত পথ খুঁজে পাবেন; কেননা:

৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমি আবুল ওয়ালীদ আল-ফকীহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন:

«যখন আবু উসমান আল-হীরী, আবু জাফর বিন হামদানের নিকট থেকে তার 'আল-মুখরাজ আলা কিতাবি মুসলিম' নামক গ্রন্থটি শ্রবণ করেন, তখন তিনি নিয়মিত তাতে নিবিষ্টভাবে দৃষ্টি দিতেন। যখন তিনি যিকিরের মজলিসে বসতেন:

- হাদীসের কিছু বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

- এবং কিছু বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে।

তিনি বলেন: আমরা লক্ষ্য করলাম যে, তিনি কিতাবে যা আছে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছেন, এমনকি তিনি সহীহ ও যয়ীফ বর্ণনার মাঝে পার্থক্যও নিরূপণ করেছেন»।

সুতরাং আবু উসমান আল-হীরী —আল্লাহ আমাদের ও তার ওপর রহম করুন— এই ধরণের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতেন-
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
الاحتياط- فيما يدير من الأخبار في المواعظ، وفي فضائل الأعمال، فالذي يديرها في الفرض والندب، ويحتج بها في الحرام والحلال، أولى بالاحتياط وأحوج إليه.

وبالله التوفيق!

قال الفقيه:

‌‌وقد رأيت بعض من أوردت عليه شيئاً من هذه الطريقة، (فزع في ردها إلى اختلاف الحفاظ في تصحيح الأخبار وتضعيفها).

ولو عرف حقيقة اختلافهم، لعلم أن لا فرج له في الاحتجاج به، كما لا فرج لمن خالفنا في أصول الديانات، في الاحتجاج علينا باختلافنا في المجتهدات.

واختلاف الحفاظ في ذلك لا يوجب رد الجميع، ولا قبول الجميع.

وكان من سبيله أن يعلم أن الأحاديث المروية على ثلاثة أنواع:

- نوع اتفق أهل العلم به على صحته.

- ونوع اتفقوا على ضعفه.

- ونوع اختلفوا في ثبوته، فبعضهم يضعف بعض رواته:

لجرح ظهر له، وخفي على غيره.
সতর্কতা— নসিহত এবং আমলের ফযিলতের ক্ষেত্রে যে সকল হাদিস প্রচলিত রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সুতরাং যে ব্যক্তি ফরজ ও মুস্তাহাব বিষয়ে হাদিস বর্ণনা করেন এবং হারাম ও হালাল বিষয়ে হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন, তার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা অধিকতর সমীচীন এবং তিনি এর মুখাপেক্ষী।

আর আল্লাহর সাহায্যেই তাওফিক লাভ হয়।

ফকিহ বলেছেন:

‌‌আমি এমন কিছু ব্যক্তিকে দেখেছি যাদের সামনে এই পদ্ধতির কিছু বিষয় পেশ করার পর তারা তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য হাদিস বিশারদদের হাদিস সহিহ বা জয়িফ সাব্যস্ত করার মতপার্থক্যের আশ্রয় নিয়েছে।

যদি সে তাদের মতপার্থক্যের প্রকৃত রূপ জানত, তবে সে বুঝতে পারত যে, এটি দলিল হিসেবে পেশ করার মধ্যে তার জন্য কোনো নিস্তার নেই; যেমনটি দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে আমাদের বিরোধীদের জন্য আমাদের ইজতিহাদগত বিষয়ের মতপার্থক্যকে আমাদের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে পেশ করার মধ্যে কোনো নিস্তার নেই।

আর এই বিষয়ে হাদিস বিশারদদের মতপার্থক্য সবটুকুকে প্রত্যাখ্যান করা কিংবা সবটুকুকে গ্রহণ করে নেওয়াকে আবশ্যক করে না।

তার জন্য এটি জানা আবশ্যক ছিল যে, বর্ণিত হাদিসসমূহ তিন প্রকার:

- এক প্রকার হলো এমন হাদিস, যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ইলম অর্জনকারীগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

- দ্বিতীয় প্রকার হলো এমন হাদিস, যার দুর্বলতার ব্যাপারে তারা একমত হয়েছেন।

- তৃতীয় প্রকার হলো এমন হাদিস, যার সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে তারা মতপার্থক্য করেছেন। ফলে তাদের কেউ কেউ এর কোনো কোনো রাবিকে দুর্বল বলেছেন:

এমন কোনো ত্রুটির কারণে যা তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, কিন্তু অন্যদের কাছে তা অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৬৯)
أو لم يظهر له من عدالته ما يوجب قبول خبره، وقد ظهر لغيره.

أو عرف منه معنىً يوجب عنده رد خبره، وذلك المعنى لا يوجبه عند غيره.

أو عرف أحدهما علة حديث ظهر بها: انقطاعه، أو انقطاع بعض ألفاظه، أو إدراج لفظ من ألفاظ من رواه في متنه، أو دخول إسناد حديث في إسناد [حديث] غيره، خفيت تلك العلة على غيره.

فإذا علم هذا، وعرف معنى رد من رد منهم خبراً، أو قبول من قبله منهم؛ هداه الوقوف عليه، والمعرفة به، إلى اختيار أصح القولين -إن شاء الله-.
অথবা তার বিশ্বস্ততা এমনভাবে তার কাছে স্পষ্ট হয়নি যা তার বর্ণনা গ্রহণ করা আবশ্যক করে, অথচ তা অন্যের নিকট স্পষ্ট হয়েছে।

অথবা তার সম্পর্কে এমন কোনো বিষয় তিনি জেনেছেন যা তার নিকট বর্ণনাটি প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক করে, অথচ সেই বিষয়টি অন্যের নিকট তা আবশ্যক করে না।

অথবা তাদের কেউ হাদীসের এমন কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি সম্পর্কে জেনেছেন যার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে: এর বিচ্ছিন্নতা, কিংবা এর কিছু শব্দের বিচ্ছিন্নতা, অথবা বর্ণনাকারীর কোনো শব্দ হাদীসের মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়া, কিংবা এক হাদীসের সনদ অন্য হাদীসের সনদে ঢুকে যাওয়া; অথচ সেই ত্রুটিটি অন্যের নিকট গোপন রয়ে গেছে।

সুতরাং যখন এটি জানা যাবে এবং তাদের মধ্যে যারা কোনো বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেছেন কিংবা যারা তা গ্রহণ করেছেন তাদের কারণটি বুঝা যাবে; তখন এ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং জ্ঞান লাভ করা তাকে—আল্লাহ চাহেন তো—দুটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধটি বেছে নিতে পরিচালিত করবে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৭০)
قال الفقيه رحمه الله:

وكنت -أدام الله عز الشيخ- أنظر في كتب بعض أصحابنا، وحكايات من حكي منهم عن الشافعي رضي الله عنه نصاً، وأبصر اختلافهم في بعضها، فيضيق قلبي بالاختلاف، مع كراهية الحكاية من غير ثبت، فحملني ذلك على نقل «مبسوط ما اختصره المزني رحمه الله على ترتيب «المختصر».

ثم نظرت في كتاب: «التقريب»، وكتاب
ফকিহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

আমি — আল্লাহ শায়খের মর্যাদা দীর্ঘস্থায়ী করুন — আমাদের কিছু সাথীদের কিতাবসমূহ এবং ইমাম শাফেঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তাঁদের বর্ণিত সরাসরি উদ্ধৃতিগুলো পর্যালোচনা করছিলাম। আমি সেগুলোর কয়েকটিতে তাঁদের মধ্যকার মতভেদ লক্ষ্য করছিলাম, যার ফলে এই মতভেদের কারণে আমার অন্তর সংকুচিত হয়ে আসছিল; এর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ব্যতীত কোনো কিছু বর্ণনা করার প্রতি আমার অপছন্দ কাজ করছিল। এই বিষয়টি আমাকে ইমাম মুযানী (রহিমাহুল্লাহ) যা সংক্ষেপ করেছেন তার বিস্তারিত অংশটি ‘মুখতাসার’-এর বিন্যাস অনুযায়ী সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

অতঃপর আমি ‘আত-তাকরীব’ নামক কিতাবটি এবং ... নামক কিতাবটি দেখলাম।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৭১)
«جمع الجوامع»، و «عيون المسائل»، وغيرها فلم أر أحداً منهم فيما حكاه
«জামউল জাওয়ামি’», এবং «উয়ুনুল মাসায়িল», এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহ; তবে তিনি যা বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে আমি তাদের মধ্যে কাউকে দেখিনি।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল বাইহাকী লিল জুওয়াইনী (পৃষ্ঠা: ৭২)
أوثق من صاحب «التقريب» -رحمنا الله وإياه-، وهو في النصف الأول من كتابه أكثر حكايةً لألفاظ الشافعي رحمه الله منه في النصف الآخر، وقد غفل في النصفين جميعاً -مع اجتماع الكتب له أو أكثرها، وذهاب بعضها في عصرنا- عن حكاية ألفاظ، لا بد لنا من معرفتها:

- لئلا نجترئ على تخطئة المزني في بعض ما نخطئه فيه، وهو عنه بريء.

- ولنتخلص بها عن كثير من تخريجات أصحابنا.

(ومثال ذلك):

من الأجزاء التي رأيتها من كتاب «المحيط» -من أوله إلى «مسألة التفريق» -:

‌‌أن أكثر أصحابنا، والشيخ -أدام الله عزه- معهم، يوركون الذنب (في تسمية البحر بالمالح) أبا إبراهيم المزني.

ويزعمون: (أنها لم توجد للشافعي رحمه الله)!
'আত-তাকরীব' গ্রন্থের লেখকের চেয়েও তিনি অধিক নির্ভরযোগ্য —আল্লাহ আমাদের ও তাঁর প্রতি দয়া করুন—। তিনি তাঁর গ্রন্থের প্রথমাংশে ইমাম শাফিঈর —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন— ভাষ্যসমূহ যতটা উদ্ধৃত করেছেন, শেষাংশে ততটা করেননি। আর উভয় অংশেই তিনি —তাঁর কাছে সমস্ত কিতাব বা তার অধিকাংশ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও, যার কিছু আমাদের যুগে হারিয়ে গেছে— এমন কিছু শব্দ ও ভাষ্য উদ্ধৃত করার ব্যাপারে অসতর্ক হয়েছেন, যা আমাদের জানা একান্ত প্রয়োজন:

—যাতে আমরা আল-মুযানীকে এমন কিছু বিষয়ে ভুল সাব্যস্ত করার দুঃসাহস না দেখাই যেগুলোতে আমরা তাঁকে ভুল মনে করি, অথচ তিনি সে বিষয়ে নির্দোষ।

—এবং এর মাধ্যমে যেন আমরা আমাদের সাথীদের অনেক 'তাখরীজ' (উদ্ভূত মাসআলা) থেকে নিষ্কৃতি পাই।

(তার একটি উদাহরণ):

'আল-মুহীত' কিতাবের যে অংশগুলো আমি দেখেছি —তার শুরু থেকে 'পৃথকীকরণ মাসআলা' পর্যন্ত—:

আমাদের অধিকাংশ সাথী এবং তাঁদের সাথে শাইখও —আল্লাহ তাঁর মর্যাদা স্থায়ী করুন— সমুদ্রকে 'নোনা' নামকরণের দায় আবু ইবরাহীম আল-মুযানীর ওপর চাপিয়ে দেন।

এবং তাঁরা দাবি করেন যে: (ইমাম শাফিঈ —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন— এর নিকট এমনটি পাওয়া যায়নি)!