(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: -)
مرويات الإمام الزهري في المغازي القسم: السيرة النبوية
الكتاب: مرويات الإمام الزهري في المغازي
المؤلف: محمد بن محمد العواجي
الناشر: -
الطبعة: الأولى 1425هـ/2004م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাগাযী বিষয়ে ইমাম যুহরীর বর্ণনাপুঞ্জ বিভাগ: সীরাতুন নবী (সা.)
গ্রন্থ: মাগাযী বিষয়ে ইমাম যুহরীর বর্ণনাপুঞ্জ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আওয়াজী
প্রকাশক: -
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৫ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৮)
المجلد الأول
مقدمة…2- الافتتاحية
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه ومن سار على نهجه واستن بسنته إلى يوم الدين، وبعد:
فإن في تاريخ كل أمة من الأمم غير الإسلامية قادة وزعماء تدرس حياتهم وسيرهم وتؤلف الكتب في إبراز معطياتهم لتكون نبراساً للأجيال المتعاقبة بعدهم، فتظل ذكرى أولئك محدودة؛ لأنه لم ينقل منها إلا جانبها المشرق الذي ظهر فيه نبوغهم، وبقيت الجوانب الأخرى في ظلام دامس، إما لأنها لا تستحق أن ترى النور لشذوذها أو انحرافها، فليست مما يشرف، وإما لضحالتها فلا تستحق الذكر1.
لكن الشخصية الوحيدة التي نقلت إلينا سيرتها بكل جزئياتها وأدق تفاصيلها هي شخصية نبينا محمد صلى الله عليه وسلم الذي أرسله الله إلى الثقلين جميعاً وختم به الرسالات قال تعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً} 2، وقال سبحانه: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা…২- প্রারম্ভিকা
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তি আনয়নকারী আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর পথে চলবে ও তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই অনৈসলামিক জাতিসমূহের প্রত্যেকের ইতিহাসেই এমন সব নেতা ও ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যাদের জীবন ও জীবনী অধ্যয়ন করা হয় এবং তাদের অবদানসমূহ ফুটিয়ে তোলার জন্য গ্রন্থ রচনা করা হয় যেন তা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকে। তবে তাদের সেই স্মৃতি সীমিতই থেকে যায়; কারণ তাদের জীবন থেকে কেবল সেই উজ্জ্বল দিকগুলোই বর্ণিত হয়েছে যাতে তাদের প্রতিভা প্রকাশ পেয়েছে, আর অবশিষ্ট দিকগুলো ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়ে গেছে; হয় তা তাদের অস্বাভাবিকতা বা বিচ্যুতির কারণে আলোর মুখ দেখার যোগ্য নয় বিধায় তা সম্মানজনক কিছু নয়, অথবা তুচ্ছ হওয়ার কারণে তা উল্লেখ করার মতো নয়।১
কিন্তু একমাত্র সেই ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবনী আমাদের কাছে তাঁর প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিবরণসহ পৌঁছেছে, তিনি হলেন আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যাঁকে আল্লাহ সকল জিন ও ইনসানের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং যাঁর মাধ্যমে সকল রিসালাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল।}২ এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন, তবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৯)
رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيماً} 1.
ويقول جل شأنه: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإسلام دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} 2.
من هنا كانت سيرته أعظم سيره يجب الاعتناء بها وحفظها واتخاذها قدوة ونبراساً نستضيء به في مسيرة الحياة إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها.
ولقد كانت حياة النبي صلى الله عليه وسلم مليئة بالأحداث خاصة في العهد المدني حيث فرض الله عليه الجهاد وغزا وقاتل حتى أتاه اليقين.
ولأهمية تلك الأحداث قام رجال من الصحابة نذروا أنفسهم لخدمة سيرة النبي صلى الله عليه وسلم فأولوها عناية خاصة وذلك لما اشتملت علية من مآثر وعظات وعبر، وكان على رأس هؤلاء الصحابي الجليل عبد الله بن عباس رضي الله عنهما (ت 78 هـ) ، فقد ذكر ابن سعد عنه أنه كان يخصص يوماً يجلس فيه لذكر المغازي3.
ثم جاء دور كبار التابعين وعلى رأسهم عروة بن الزبير (ت92هـ) وسعيد بن المسيب (ت94هـ) ، وأبان بن عثمان بن عفان (ت105هـ)
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল এবং নবীগণের সমাপ্তকারী আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।} ১.
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দীন তালাশ করবে, তবে তার থেকে তা কখনও কবুল করা হবে না এবং সে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} ২.
এ কারণেই তাঁর সীরাত (জীবনচরিত) হচ্ছে মহানতম সীরাত যার প্রতি যত্নবান হওয়া, যা সংরক্ষণ করা এবং যাকে আদর্শ ও আলোকবর্তিকা হিসেবে গ্রহণ করা অপরিহার্য; যার মাধ্যমে আমরা জীবন চলার পথে আলো গ্রহণ করব যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী এবং এর উপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ঘটনাবলীতে পরিপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে মাদানী যুগে যখন আল্লাহ তাঁর ওপর জিহাদ ফরজ করেছিলেন এবং তিনি যুদ্ধ ও লড়াই করেছেন যতক্ষণ না তাঁর নিকট মৃত্যু সমাগত হয়েছে।
আর সেই ঘটনাবলীর গুরুত্বের কারণে সাহাবীগণের মধ্য থেকে এমন কিছু ব্যক্তি আত্মনিয়োগ করেছিলেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের খিদমতে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁরা এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন কারণ এতে গৌরবময় কীর্তিগাথা, উপদেশ ও শিক্ষা নিহিত ছিল। আর এই সাহাবীগণের শীর্ষে ছিলেন মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা (ওফাত ৭৮ হি.), ইবনে সাদ তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একটি দিন যুদ্ধের ইতিহাস আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করে বসে থাকতেন। ৩.
এরপর বড় বড় তাবিঈগণের যুগ আসে, যাঁদের শীর্ষে ছিলেন উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর (ওফাত ৯২ হি.), সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (ওফাত ৯৪ হি.) এবং আবান ইবনে উসমান ইবনে আফফান (ওফাত ১০৫ হি.)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وغيرهم ممن اهتم بالسير والمغازي، يدل على ذلك تلك الروايات التي دونها كبار المحدثين عن هؤلاء. ولم ينقطع اهتمام المسلمين بدراسة السيرة والمغازي فقد جاء دور صغار التابعين وعلى رأسهم محمد بن مسلم بن شهاب الزهري الذي فاق أقرانه فاهتم بعلم السير والمغازي اهتماماً بالغاً، فقد روى الخطيب البغدادي عن محمد بن عبد الله بن مسلم الزهري قال: سمعت عمي الزهري يقول: "في علم المغازي علم الآخرة والدنيا"1.
ومما يدل على اعتناء السلف بالمغازي ما ذكره الخطيب- رحمه الله عن إسماعيل بن محمد بن سعد بن أبي وقاص قال: "كان أبي يعلمنا مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم ويعدها علينا وسراياه، ويقول: يا بني هذه مآثر آبائكم فلا تضيعوا ذكرها".
وروي أيضاً عن علي بن الحسين أنه كان يقول: "كنا نُعَلَّم مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم كما نُعَلَّم السورة من القرآن"2.
وقال ابن كثير وهذا الفن مما ينبغي الاعتناء به والاعتبار بأمره والتهيؤ له"3، وكلامهم هذا يدل على أهمية هذا الفن العظيم.
--------------------------------------------
এবং অন্যান্যরা যারা সীরাত ও মাগাযীর (যুদ্ধাভিযান) প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন, বড় বড় মুহাদ্দিসগণ তাদের থেকে যেসকল বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন তা একথাই প্রমাণ করে। সীরাত ও মাগাযী অধ্যয়নে মুসলমানদের আগ্রহ কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। এরপর ছোট তাবেয়ীদের যুগ আসে, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আয-যুহরী। তিনি তার সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং সীরাত ও মাগাযী শাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছিলেন। খতীব আল-বাগদাদী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুসলিম আয-যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার চাচা আয-যুহরীকে বলতে শুনেছি: "মাগাযী শাস্ত্রের মধ্যে আখিরাত এবং দুনিয়ার জ্ঞান রয়েছে"১।
সালাফে সালেহীন কর্তৃক মাগাযীর প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রমাণ হলো যা খতীব (রাহিমাহুল্লাহ) ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "আমার পিতা আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাগাযী (যুদ্ধসমূহ) এবং সারিয়াহ (ছোট অভিযানসমূহ) শিক্ষা দিতেন এবং সেগুলো আমাদের নিকট বর্ণনা করতেন। তিনি বলতেন: হে বৎস! এগুলো তোমাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবগাথা, সুতরাং এর আলোচনাকে তোমরা হারিয়ে ফেলো না।"
আলী বিন আল-হুসাইন থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলতেন: "আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাগাযী সেভাবে শেখানো হতো যেভাবে আমাদের কুরআনের সূরা শেখানো হতো"২।
ইবনে কাসীর বলেন: "এই শাস্ত্রটি এমন যার প্রতি যত্নবান হওয়া, এর বিষয়াবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং এর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা আবশ্যক"৩। তাদের এই বক্তব্যসমূহ এই মহান শাস্ত্রের গুরুত্ব নির্দেশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ১২)
مرويات الإمام الزهري في المغازي
تأليف: د. محمد بن محمد العواجي
المقدمة
1- شكر وتقدير
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله
وبعد:
فإن نعم الله علينا كثيرة تنزى، وإن من أجل تلك النعم وأعظمها؛ نعمة الهداية إلى الإسلام فالحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله. ثم إنه من باب الاعتراف بالحق لأهله لقوله عليه الصلاة والسلام: "لا يشكر الله من لا يشكر الناس"1 ولقوله صلى الله عليه وسلم: "
… ومن صنع إليكم معروفاً فكافئوه فإن لم تجدوا ما تكافئوه فادعوا له حتى تروا أنكم قد كافأتموه"2.
فإني أتقدم بالشكر الجزيل والعرفان الجميل للقائمين على هذا الصرح الشامخ الجامعة الإسلامية المحروسة إن شاء الله؛ الذين لا يألون جهداً في تذليل كل الصعوبات التي تقف حائلاً في وجه طلاب العلم، فجزاهم الله عني خيراً وأجزل لهم المثوبة في الدارين.
كما أشكر القائمين على قسم التاريخ الإسلامي بكلية الدعوة
--------------------------------------------
মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান বিষয়ক বর্ণনায় ইমাম যুহরী-এর বর্ণনাগুলো
রচনায়: ড. মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আওয়াজি
ভূমিকা
১- কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর
এরপর:
আমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত অজস্র ও অফুরন্ত। আর সেই নেয়ামতসমূহের মধ্যে অন্যতম ও শ্রেষ্ঠ হলো ইসলামের পথে হিদায়াতের নেয়ামত। অতএব সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথে পরিচালিত করেছেন। আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা কক্ষনো হিদায়াত পেতাম না। অতঃপর, যোগ্য ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য সম্মান প্রদানের অংশ হিসেবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর প্রেক্ষিতে: "যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না"১ এবং তাঁর এই বাণীর কারণে: "
… এবং যে তোমাদের প্রতি কোনো উপকার করে, তোমরা তাকে প্রতিদান দাও। যদি প্রতিদান দেওয়ার মতো কিছু না পাও, তবে তার জন্য দুআ করো—যতক্ষণ না তোমরা মনে করো যে তোমরা তাকে উপযুক্ত প্রতিদান দিতে পেরেছ"২।
আমি এই সুউচ্চ প্রতিষ্ঠান—ইনশাআল্লাহ সংরক্ষিত মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়—এর দায়িত্বশীলদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সশ্রদ্ধ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি; যারা জ্ঞানান্বেষীদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রতিটি অসুবিধা দূর করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেন না। আল্লাহ তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং উভয় জাহানে তাদের পুণ্যকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিন।
সেই সাথে আমি দাওয়াহ অনুষদের ইসলামি ইতিহাস বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وأصول الدين ممثلاً في رئيسه، الذين تفضلوا مشكورين بقبول هذا الموضوع ابتداءً فجزاهم الله عني خيراً، كما أشكر كل من أسدى إلي معروفاً في سبيل إبراز هذا البحث على الوجه المرضي وأخص بالذكر فضيلة عميد كلية الدعوة وأصول الدين فجزى الله الجميع خيراً.
ولا يفوتني هنا أن أنوه بجهد المشرف السابق فضيلة الأستاذ الدكتور أكرم ضياء العمري عمر الله قلبه بالإيمان فقد تفضل مشكوراً بالإشراف على هذه الرسالة لمدة تقارب سنتين إلا أن رحيله إلى خارج المملكة قد حال بينه وبين إتمام الإشراف على هذه الرسالة، فقد كان لتوجيهاته القيمة أكبر الأثر في نفسي، أسأل الله أن يمد له في عمره ويجزيه عنا خيراً.
ثم أتقدم بالشكر والامتنان لفضيلة الدكتور عبد الصمد بن بكر عابد الذي تفضل مشكوراً بالإشراف على هذه الرسالة بعد رحيل المشرف السابق، فكان خير خلف لخير سلف، حباني - حفظه الله - بتوجيهات قيمة وآراء سديدة كل ذلك من أجل الوصول بهذه الرسالة إلى مستوى يقرب من الكمال، والحق أن تلك التوجيهات وتلك الآراء كان كثير منها غائباً عن ذهني مما جعلني اعتز بها كثيراً لما لمسته فيها من لهجة صادقة، وقد صاحب ذلك حسن خلق وكرم وسعة صدر، قل أن تجتمع هذه الأوصاف في علماء هذا الزمن، فجزاه الله عني خيراً الجزاء وأطال في عمره ومتعه بالصحة والعافية، كما أسأله جل وعلا أن يختم لنا وله بالحسنى.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.
এবং উসুলুদ্দীন অনুষদের প্রধানের প্রতিনিধিত্বে সংশ্লিষ্ট সকলে, যারা অনুগ্রহপূর্বক শুরুতেই এই বিষয়টি গ্রহণ করেছেন, আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন। অনুরূপভাবে আমি প্রত্যেক সেই ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাই যারা এই গবেষণাটি সন্তোষজনকভাবে ফুটিয়ে তোলার পথে আমাকে সহায়তা করেছেন। বিশেষভাবে দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদের সম্মানিত ডিন মহোদয়ের নাম উল্লেখ করছি, আল্লাহ সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন।
এখানে পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সম্মানিত প্রফেসর ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারীর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা আমি বাদ দিতে পারি না—আল্লাহ তাঁর অন্তরকে ঈমান দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিন। তিনি অনুগ্রহপূর্বক প্রায় দুই বছর যাবত এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধান করেছেন। তবে রাজ্যের বাইরে তাঁর চলে যাওয়া এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধান সম্পন্ন করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনাগুলো আমার অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করে দিন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
এরপর আমি শ্রদ্ধেয় ডক্টর আব্দুস সামাদ বিন বকর আবিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া প্রকাশ করছি, যিনি পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়কের প্রস্থানের পর অনুগ্রহপূর্বক এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধান করেছেন। তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ পূর্বসূরির যোগ্যতম উত্তরসূরি। তিনি—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—আমাকে মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও সঠিক মতামত দিয়ে ধন্য করেছেন, যার সবটুকুই ছিল এই অভিসন্দর্ভটিকে পূর্ণতার কাছাকাছি স্তরে পৌঁছানোর লক্ষ্যে। সত্য তো এই যে, সেই সকল দিকনির্দেশনা ও মতামতের অনেক কিছুই আমার চিন্তা-চেতনার অগোচরে ছিল, যা আমাকে সেগুলোর প্রতি অত্যন্ত গর্বিত করেছে; কারণ আমি তাতে সততার সুর অনুভব করেছি। এর সাথে যুক্ত ছিল তাঁর উত্তম চরিত্র, মহানুভবতা ও প্রশস্ত হৃদয়। বর্তমান যুগের আলেমদের মাঝে এ জাতীয় গুণাবলির সমন্বয় খুব কমই দেখা যায়। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দিন, তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন এবং তাঁকে সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দান করুন। পাশাপাশি আমি মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ও তাঁর শেষ পরিণতি কল্যাণের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন।
আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর অজস্র সালাত ও অধিকহারে সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فرأيت خدمة لهذا الدين الحنيف جمع روايات الإمام الزهري في المغازي المتناثرة في بطون الكتب علَّ الله ينفع بها المسلمين، ولتكون حجة لي يوم القيامة إن شاء الله، يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.
তাই আমি এই হানীফ (নিষ্ঠাপূর্ণ) দ্বীনের খিদমত স্বরূপ বিভিন্ন কিতাবের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক ইমাম যুহরীর বর্ণনাগুলো সংকলন করা সমীচীন মনে করেছি; যেন আল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং ইনশাআল্লাহ কিয়ামতের দিন এটি আমার জন্য দলিল হয়—যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট নিষ্কলুষ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
3- سبب اختيار الموضوع
يلحظ المطالع لمؤلفات العلماء المسلمين في القرون الأولى في السير والمغازي سواء في كتب المحدثين الذين أدخلوها ضمن مؤلفاتهم الحديثة كأصحاب الكتب الستة وغيرهم، أم المؤرخين الذين أفردوها بمؤلفات خاصة كابن إسحاق وغيره، يلحظ تكرار وتردد اسم علم من أعلام المسلمين هو ابن شهاب الزهري في جل تلك الروايات التي تتحدث عن المغازي النبوية، ولما لهذا العالم من مكانة مرموقة بين المسلمين على مر العصور، لما يتمتع به من صدق في الحديث وقوة في الذاكرة وغزارة في العلم، ولكونه كما قال الطبري: مقدماً في العلم بمغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم1.
يضاف إلى ذلك عدم وقوفي على كتابٍ مؤلف يجمع مروياته في المغازي، كل ذلك كان دافعاً قوياً لي للكتابة عن مغازي هذا العالم الجليل.
--------------------------------------------
৩- বিষয় নির্বাচনের কারণ
প্রথম কয়েক শতাব্দীর সীরাত ও মাগাযী বিষয়ক মুসলিম মনীষীদের রচনাবলি—চাই তা সেই সমস্ত মুহাদ্দিসগণের গ্রন্থ হোক যারা এগুলোকে তাদের হাদীসগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেমন কুতুবে সিত্তাহর (ছয়টি প্রসিদ্ধ কিতাব) সংকলকগণ ও অন্যান্যরা, অথবা সেই সমস্ত ঐতিহাসিকগণের কিতাব হোক যারা এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন যেমন ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যরা—যে কেউ পাঠ করলে তিনি লক্ষ্য করবেন যে, নববী মাগাযী সংক্রান্ত অধিকাংশ বর্ণনাতেই মুসলিম উম্মাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ইবনে শিহাব আয-যুহরীর নাম বারবার ঘুরে ফিরে আসছে। যুগে যুগে মুসলিমদের কাছে এই মনীষীর এক অনন্য মর্যাদা বিদ্যমান; কারণ তিনি হাদীস বর্ণনায় সত্যবাদিতা, প্রখর স্মৃতিশক্তি ও ইলমের প্রাচুর্যের অধিকারী ছিলেন। তদুপরি ইমাম তাবারী যেমনটি বলেছেন: তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান বিষয়ক ইলমে অগ্রগণ্য।১
এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছে যে, মাগাযী বিষয়ে তাঁর বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলো একত্রিত করে লেখা কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ আমার নজরে পড়েনি। এই সবকিছুই এই মহান জ্ঞানীর বর্ণিত মাগাযী সম্পর্কে লেখার পেছনে আমার জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
4- أهمية الموضوع
تكمن أهمية موضوع مغازي الزهري في نقاط أهمها:
1- يعتبر ابن شهاب من صغار التابعين الذين رووا أخبار المغازي عن كبار التابعين من علماء المدينة، لأنهم أعلم الناس بمغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم.
2- أن الزهري- رحمه الله قد حمل معظم أخبار المغازي عن أربعة من بحور العلم: سعيد بن المسيب وعروة بن الزبير وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود وأبي سلمة بن عبد الرحمن، وهؤلاء من كبار التابعين الذين بدورهم تلقوا أخبار المغازي عن صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالإضافة إلى إدراكه لبعض الصحابة وأخذ بعض الروايات عنهم كأنس بن مالك رضي الله عنه وبهذا يكون سنده عالياً جداً مما يزيد رواياته قوة.
3- أن الزهري أسند القسم الأكبر من رواياته، والسبب في ذلك أن المغازي والسيرة كانتا في الأصل جزءاً من الحديث، وكان رواتها الأولون من المحدثين، فسلك الزهري نفسه هذا المسلك واستعمل الإسناد في أكثر رواياته، ولا غرابة في ذلك فالزهري نفسه يعتبر من كبار المحدثين بالإضافة إلى اهتمامه البالغ بالإسناد في الحديث.
৪- বিষয়ের গুরুত্ব
যুহরীর মাগাযী বিষয়ের গুরুত্ব নিম্নোক্ত প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে নিহিত রয়েছে:
১- ইবনে শিহাবকে সেই সকল ছোট তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় যারা মদীনার আলেমগণের মধ্য হতে বড় তাবিঈদের নিকট থেকে মাগাযীর সংবাদসমূহ বর্ণনা করেছেন। কারণ তাঁরাই ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাগাযী সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি।
২- ইমাম যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ) মাগাযীর অধিকাংশ বর্ণনা জ্ঞানের চারজন সমুদ্রতুল্য ব্যক্তির নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর, উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ ইবনু মাসউদ এবং আবু সালামাহ ইবনু আব্দুর রহমান। তাঁরা বড় তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাঁরা আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের নিকট থেকে মাগাযীর সংবাদসমূহ গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া তিনি কিছু সংখ্যক সাহাবীকে পেয়েছেন এবং তাঁদের থেকে কিছু বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, যেমন আনাস ইবনু মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। এর ফলে তাঁর সনদ অত্যন্ত উচ্চমানের হয়েছে, যা তাঁর বর্ণনাগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও শক্তি বৃদ্ধি করে।
৩- ইমাম যুহরী তাঁর বর্ণনার সিংহভাগ সনদসহ (মুসনাদ হিসেবে) উল্লেখ করেছেন। এর কারণ হলো, মাগাযী ও সীরাত মূলত হাদীস শাস্ত্রেরই অংশ ছিল এবং এর আদি বর্ণনাকারীগণ ছিলেন মুহাদ্দিস। যুহরী নিজেও এই পথ অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর অধিকাংশ বর্ণনায় সনদ ব্যবহার করেছেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ হাদীসের সনদের প্রতি গভীর মনোনিবেশের পাশাপাশি যুহরী নিজেও অন্যতম প্রধান মুহাদ্দিস হিসেবে বিবেচিত হন।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
5- منهجي في البحث
1- جمعت الروايات المتعلقة بالغزوات والسرايا من طريق الإمام الزهري فقط، دون ذكر الأحداث الأخرى، كالوفود ووفاة النبي صلى الله عليه وسلم.
2- حاولت عند جمع تلك الروايات من بطون الكتب الاستيعاب قدر الإمكان.
3- جعلت لكل رواية رقماً خاصاً بها.
4- رتبت المادة حسب التسلسل الزمني.
5- ترجمت لرجال السند في كل رواية، إلا إذا كانت الرواية في الصحيحين أو في أحدهما.
6-اعتمدت تقريب ابن حجر في الحكم على أحوال رجال السند، أما إذا كان الرواة من غير رجال التقريب فإني استعين بكتب الرجال الأخرى.
7- أذكر حكم العلماء على كل رواية من حيث الصحة والضعف، فإذا لم أجد كلاماً للعلماء في ذلك أحاول الحكم عليها مطبقا في ذلك ما أعرفه من قواعد المحدثين.
8- عند تخريجي للرواية أذكر المصادر مرتبة حسب الأقدمية قدر المستطاع.
9- إذا كانت الرواية طويلة أذكر الإحالة في أولها، وان كانت قصيرة أذكرها في آخرها.
৫- আমার গবেষণা পদ্ধতি
১- আমি শুধুমাত্র ইমাম যুহরী-এর সূত্রে বর্ণিত যুদ্ধ (গাযওয়া) ও সামরিক অভিযান (সারিয়্যা) সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করেছি; অন্যান্য ঘটনা, যেমন প্রতিনিধি দলসমূহের আগমন বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওফাত সংক্রান্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করিনি।
২- গ্রন্থসমূহের অভ্যন্তর থেকে উক্ত বর্ণনাগুলো সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমি যথাসম্ভব পূর্ণাঙ্গতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।
৩- আমি প্রতিটি বর্ণনার জন্য একটি স্বতন্ত্র নম্বর নির্ধারণ করেছি।
৪- আমি বিষয়বস্তুকে কালানুক্রমিক ধারা অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।
৫- আমি প্রতিটি বর্ণনার সনদভুক্ত বর্ণনাকারীদের জীবনী উল্লেখ করেছি, তবে বর্ণনাটি যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা এই দুটির কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে, তবে তা করিনি।
৬-সনদের বর্ণনাকারীদের অবস্থার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে আমি ইবনে হাজারের 'তাকরীব' গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি। তবে বর্ণনাকারী যদি 'তাকরীব'-এর অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে আমি অন্যান্য রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহের সাহায্য নিয়েছি।
৭- আমি প্রতিটি বর্ণনার বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে আলেমদের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেছি। যদি এ বিষয়ে আলেমদের কোনো বক্তব্য না পাই, তবে মুহাদ্দিসগণের মূলনীতিসমূহ প্রয়োগ করে আমি নিজেই সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদানের চেষ্টা করেছি।
৮- বর্ণনার তাখরীজ করার সময় আমি উৎসসমূহকে যথাসম্ভব তাদের প্রাচীনত্বের ক্রমানুসারে উল্লেখ করেছি।
৯- বর্ণনাটি দীর্ঘ হলে আমি শুরুতে এর উদ্ধৃতি প্রদান করেছি, আর সংক্ষিপ্ত হলে শেষে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
10- قارنت روايات الزهري مع غيرها من غير طريقه، وعند تعارضها أقدم الأقوى منها سواء كانت من طريق الزهري أَم من غيره.
11- لم أسق المرويات بأسلوبي وتعبيري، بل نقلتها كما رويت حفاظاً على لفظ الرواية.
12- شرحت الغريب وعرفت بالأماكن والبلدان في الحاشية.
13- اعتمدت على كتاب الإصابة لابن حجر في تراجم الصحابة غالباً.
14- اعتمدت على كتاب النهاية لابن الأثير في شرح الغريب غالباً.
15- اعتمدت على الكتب الحديثة في التعريف بالأماكن الجغرافية غالباً.
16- يلحظ أنني أسوق الإسناد من أوله إلى آخره مع تراجم موجزة لرجال الإسناد والحكم عليهم على طريقة المحدثين لروايات قد تكون الفائدة العلمية من هذه الروايات ليست كبيرة بحكم أنها ليست لها علاقة بالأحكام التشريعية والعقائد وبالتالي يتساهل في مثل هذه الروايات لكنه منهج اتبعته لنفسي.
১০- আমি যুহরীর বর্ণনাগুলোকে তাঁর সূত্র ব্যতিরেকে অন্য সূত্রে প্রাপ্ত বর্ণনার সাথে তুলনা করেছি। যখন এগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে, তখন আমি সেগুলোর মধ্যে যেটি অধিক শক্তিশালী সেটিকে প্রাধান্য দিয়েছি—তা যুহরীর সূত্রের হোক কিংবা অন্য সূত্রের।
১১- আমি বর্ণনাগুলোকে আমার নিজস্ব শৈলী ও অভিব্যক্তিতে বর্ণনা করিনি, বরং বর্ণনার শব্দশৈলী সংরক্ষণের নিমিত্তে সেগুলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই উদ্ধৃত করেছি।
১২- আমি পাদটীকায় দুরূহ শব্দসমূহের ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং বিভিন্ন স্থান ও জনপদের পরিচয় প্রদান করেছি।
১৩- সাহাবীদের জীবনীর ক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ সময় ইবনে হাজারের 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি।
১৪- দুরূহ শব্দসমূহের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ সময় ইবনে আসীরের 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি।
১৫- ভৌগোলিক স্থানসমূহের পরিচয়ের ক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ সময় আধুনিক গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি।
১৬- এটি লক্ষ্যণীয় যে, আমি বর্ণনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ সনদ উল্লেখ করেছি এবং সেই সাথে বর্ণনাকারীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী তাদের সম্পর্কে হুকুম বা সিদ্ধান্ত প্রদান করেছি এমন সব বর্ণনার ক্ষেত্রেও, যেগুলোর ইলমী ফায়দা হয়তো খুব একটা বেশি নয়—যেহেতু এগুলোর সাথে শরীয়তের বিধান বা আকিদার কোনো সম্পর্ক নেই এবং ফলশ্রুতিতে এই ধরণের বর্ণনার ক্ষেত্রে সাধারণত শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়; তবুও এটি এমন একটি পদ্ধতি যা আমি নিজের জন্য অনুসরণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
6- خطة البحث
بعد جمع المادة العلمية لهذا البحث جعلته في مقدمة وتمهيد وثلاثة أبواب وخاتمه ثم ثبت المصادر فالفهارس العامة.
تضمنت المقدمة ما يلي:
1- شكر وتقدير.
2- افتتاحية البحث.
3- سبب اختيار الموضوع.
4- أهميته.
5- منهج البحث.
6- الخطة.
وكان التمهيد في مقدمات عامة بين يدي البحث وفيه فصلان:
الفصل الأول: في فضل الجهاد ومدلول كلمتي "السير والمغازي عند المؤرخين".
الفصل الثاني: في الدراسات السابقة، ونبذة عن موارد الرسالة.
الباب الأول: في "ترجمة الإمام الزهري وفيه فصلان:
الفصل الأول: في حياة الزهري ومنزلته العلمية، وفيه ثمانية مباحث.
الفصل الثاني: في أثره في المغازي، وفيه ثلاثة مباحث.
الباب الثاني: في سرايا النبي صلى الله عليه وسلم وغزواته (من أول سرية إلى نهاية
৬- গবেষণার পরিকল্পনা
এই গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর আমি একে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি। এরপর রয়েছে উৎসগ্রন্থের তালিকা ও সাধারণ নির্ঘণ্টসমূহ।
ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ:
১- কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি।
২- গবেষণার প্রারম্ভিকা।
৩- বিষয় নির্বাচনের কারণ।
৪- এর গুরুত্ব।
৫- গবেষণা পদ্ধতি।
৬- রূপরেখা।
উপক্রমণিকাটি ছিল মূল গবেষণার প্রাক্কালে কিছু সাধারণ আলোচনার সমন্বয়ে এবং এতে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: জিহাদের ফজিলত এবং ঐতিহাসিকদের নিকট "সিয়ার ও মাগাজি" শব্দদ্বয়ের অর্থ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ এবং এই অভিসন্দর্ভের উৎসসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা প্রসঙ্গে।
প্রথম অধ্যায়: ইমাম যুহরীর জীবনী প্রসঙ্গে এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: যুহরীর জীবন ও তাঁর ইলমী মর্যাদা প্রসঙ্গে, এতে রয়েছে আটটি অনুচ্ছেদ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মাগাজি বা যুদ্ধাভিযান বর্ণনায় তাঁর প্রভাব প্রসঙ্গে, এতে রয়েছে তিনটি অনুচ্ছেদ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সারিয়্যা ও গাযওয়াসমূহ প্রসঙ্গে (প্রথম সারিয়্যা থেকে শেষ পর্যন্ত 📑⚖️☀️
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ২০)
أحداث بني قريظة) وفيه ستة فصول:
الفصل الأول: في الأحداث التي سبقت غزوة بدر الكبرى وفيه مبحثان.
الفصل الثاني: في غزوة بدر الكبرى، والأحداث التي أعقبتها وفيه واحد وعشرون مبحثاً.
الفصل الثالث: غزوة أحد والأحداث التي أعقبتها وفيه ثلاثة عشر مبحثاً.
الفصل الرابع: في الأحداث التي وقعت بعد غزوة أحد حتى بداية غزوة بني المصطلق وفيه ثمانية مباحث.
الفصل الخامس: في غزوة بني المصطلق من خزاعة وهي غزوة "المريسيع". وفيه ثمانية مباحث.
الفصل السادس: في غزوة الخندق والأحداث التي أعقبتها وفيه عشرة مباحث.
وقد جعلت أحداث غزوة بني قريظة نهاية الباب الأول، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: " الآن نغزوهم".
الباب الثالث: من غزوة الحديبية إلى نهاية غزوة تبوك والأحداث التي أعقبتها، وفيه خمسة فصول:
الفصل الأول: في غزوة الحديبية والسرايا التي أعقبتها وفيه ثمانية مباحث.
বনু কুরাইজার ঘটনাবলি) এবং এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মহা বদর যুদ্ধের পূর্ববর্তী ঘটনাবলি প্রসঙ্গে এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মহা বদর যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলি প্রসঙ্গে এবং এতে একুশটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলি এবং এতে তেরোটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধের পর থেকে বনু মুস্তালিক যুদ্ধের শুরু পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাবলি প্রসঙ্গে এবং এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: খুজাআ গোত্রের বনু মুস্তালিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে, যা "মুরাইসি" যুদ্ধ নামে পরিচিত। এবং এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: খন্দক যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলি প্রসঙ্গে এবং এতে দশটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
এবং আমি বনু কুরাইজা যুদ্ধের ঘটনাবলিকে প্রথম অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছি, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: "এখন আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করব।"
তৃতীয় অধ্যায়: হুদাইবিয়ার সন্ধি থেকে তাবুক যুদ্ধের সমাপ্তি এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলি পর্যন্ত, এবং এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: হুদাইবিয়ার যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী অভিযানসমূহ প্রসঙ্গে এবং এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفصل الثاني: في غزوة خيبر والسرايا التي أعقبتها، وفيه تسعة عشر مبحثاً.
الفصل الثالث: في غزوة فتح مكة والسرايا التي أعقبتها، وفيه تسعة مباحث.
الفصل الرابع: في غزوة حنين وحصار الطائف، وفيه عشرة مباحث.
الفصل الخامس: في غزوة تبوك والسرايا التي أعقبتها، وفيه ستة مباحث.
الخاتمة: وفيها أهم النتائج التي توصلت إليها.
ثبت المصادر والمراجع.
الفهارس العامة:
فهرس الآيات القرآنية.
فهرس الأحاديث النبوية.
فهرس الأعلام المترجم لهم.
فهرس الأماكن والبلدان.
فهرس الأمم والقبائل.
فهرس الأشعار.
فهرس الموضوعات.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খায়বার যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী অভিযানসমূহ প্রসঙ্গে, এবং এতে উনিশটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মক্কা বিজয় এবং এর পরবর্তী অভিযানসমূহ প্রসঙ্গে, এবং এতে নয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হুনাইন যুদ্ধ এবং তায়েফ অবরোধ প্রসঙ্গে, এবং এতে দশটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাবুক যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী অভিযানসমূহ প্রসঙ্গে, এবং এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
উপসংহার: এতে গবেষণালব্ধ প্রধান ফলাফলসমূহ আলোচিত হয়েছে।
উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা।
সাধারণ নির্ঘণ্টসমূহ:
কুরআনী আয়াতের নির্ঘণ্ট।
হাদীস সমূহের নির্ঘণ্ট।
জীবনী বর্ণিত ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
স্থান ও দেশসমূহের নির্ঘণ্ট।
জাতি ও গোত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।
কবিতাসমূহের নির্ঘণ্ট।
বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ال
تمهيد: في مقدمات عامة بين يدي البحث
وفيه فصلان:
الفصل الأول: في فضل الجهاد ومدلول كلمتي السير والمغازي.
الفصل الثاني: في الدراسات السابقة ونبذة عن موارد الرسالة.
الفصل الأول: فضل الجهاد ومدلول كلمتي السير والمغازي.
وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: في الإذن بالجهاد.
لما استقر الرسول صلى الله عليه وسلم بالمدينة، وأيده الله بنصره، بعباده المؤمنين الأنصار، وألف بين قلوبهم بعد العداوة والإحن التي كانت، فمنعته أنصار الله وكتيبة الإسلام من الأسود والأحمر، وبذلوا نفوسهم دونه وقدموا محبته على محبة الآباء والأبناء والأزواج، وكان أولى بهم من أنفسهم، رمتهم العرب واليهود عن قوس واحدة وشمروا لهم عن ساق العداوة والمحاربة، وصاحوا بهم من كل جانب، والله سبحانه يأمرهم بالصبر والعفو والصفح حتى قويت الشوكة واشتد الجناح، فأذن الله لهم حينئذٍ في القتال، ولم يفرضه عليهم1، فقال تعالى: {أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِير} 2، وقد رجح ابن القيم أن الآية نزلت بالمدينة بأدلة ذكرها في الزاد. وهذه الآية أول آية نزلت في القتال3، وتعتبر هذه المرحلة هي الأولى في تشريع الجهاد.
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা: গবেষণার প্রারম্ভে কিছু সাধারণ ভূমিকা
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: জিহাদের ফযীলত এবং ‘সিয়ার’ ও ‘মাগাযী’ শব্দদ্বয়ের অর্থ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ এবং অভিসন্দর্ভের উৎসসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: জিহাদের ফযীলত এবং ‘সিয়ার’ ও ‘মাগাযী’ শব্দদ্বয়ের অর্থ।
এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: জিহাদের অনুমতি প্রসঙ্গে।
যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় স্থিতু হলেন এবং আল্লাহ তাঁর সাহায্য ও তাঁর মুমিন বান্দা আনসারদের মাধ্যমে তাঁকে শক্তিশালী করলেন এবং তাদের অন্তরে বিদ্যমান শত্রুতা ও বিদ্বেষ দূর করে প্রীতি স্থাপন করে দিলেন, তখন আল্লাহর আনসারগণ এবং ইসলামের সেনাদল সকল বর্ণের মানুষের আক্রমণ থেকে তাঁকে রক্ষা করলেন। তারা তাঁর জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করলেন এবং পিতা, সন্তান ও স্ত্রীদের ভালোবাসার ঊর্ধ্বে তাঁর ভালোবাসাকে স্থান দিলেন। তিনি তাদের কাছে তাদের নিজেদের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয় ছিলেন। তখন আরব ও ইহুদিরা একযোগে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানালো এবং তাদের বিরুদ্ধে শত্রুতা ও যুদ্ধের জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়ল। তারা চারপাশ থেকে তাদের বিরুদ্ধে শোরগোল শুরু করল। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের ধৈর্য, ক্ষমা ও মার্জনা করার নির্দেশ দিচ্ছিলেন, যতক্ষণ না তাদের শক্তি বৃদ্ধি পেল এবং সামর্থ্য সুসংহত হলো। তখন আল্লাহ তাদের যুদ্ধের অনুমতি দিলেন, তবে তা তাদের ওপর ফরয করেননি১। মহান আল্লাহ বলেন: "যাদের সাথে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তারা নির্যাতিত। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।"২ ইবনুল কায়্যিম ‘যাদ’ গ্রন্থে উল্লেখিত দলীলসমূহের ভিত্তিতে এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, আয়াতটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। আর যুদ্ধ সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়া এটিই প্রথম আয়াত৩ এবং জিহাদ প্রবর্তনের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম পর্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم فرض عليهم القتال بعد ذلك لمن قاتلهم دون من لم يقاتلهم1 فقال: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلا تَعْتَدُوا} 2، وهذه تعتبر المرحلة الثانية.
ثم فرض عليهم قتال المشركين كافة3، قال تعالى: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كلُّه لِلَّهِ} 4، وقوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئاً وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئاً وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُون} 5، وقوله تعالى: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلا بِالْيَوْمِ الآخِرِ وَلا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} 6، وهذه الآية تشير إلى أنه لا بد من جهاد الكفار أينما كانوا حتى ينتشر الإسلام
--------------------------------------------
এরপর তাদের ওপর এমন লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ফরজ করা হলো যারা তাদের সাথে যুদ্ধ করে, তাদের বিপরীতে যারা যুদ্ধ করে না১। অতঃপর তিনি বললেন: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং তোমরা সীমা লঙ্ঘন করো না} ২, আর একে দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়।
তারপর সমস্ত মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করা তাদের ওপর ফরজ করা হলো৩, মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয় এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়} ৪। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে যদিও তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। আর হতে পারে তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। এবং হতে পারে তোমরা কোনো কিছু পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না} ৫। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে সেই সব লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান আনে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন অনুসরণ করে না; যতক্ষণ না তারা নত হয়ে স্বহস্তে জিজিয়া প্রদান করে} ৬। আর এই আয়াতটি ইঙ্গিত করে যে, ইসলাম ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত কাফেররা যেখানেই থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা অপরিহার্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
في الأرض دون أي عقبات تقف في وجهه، ويزيد ذلك وضوحاً قوله صلى الله عليه وسلم: "أُمرت أن أُقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله فإذا قالوها عصموا مني دمائهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله"1.
وحقها هو اعتناق الإسلام والمحافظة على عقيدته وشرائعه الكلية والجزئية وكان أول ما شرع الجهاد بعد هجرة النبي إلى المدينة.. اتفاقاً2.
--------------------------------------------
পৃথিবীতে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাঁর সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে দেয়: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। যখন তারা এটি বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন, আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট।"১।
আর এর হক বা অধিকার হলো ইসলাম গ্রহণ করা এবং এর আকীদা ও সামগ্রিক ও আংশিক বিধানসমূহ মেনে চলা। সর্বসম্মতিক্রমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদীনায় হিজরতের পরেই জিহাদ সর্বপ্রথম বিধিবদ্ধ হয়।২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المبحث الثاني: فضل الجهاد وما أعده الله للمجاهدين
وردت آيات كثيرة وأحاديث نبوية شريفة تبين منزلة المجاهد في سبيل الله عند ربه سبحانه وما أعد له من النعيم المقيم؛ من ذلك قوله جل شأنه: {فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالآخِرَةِ وَمَنْ يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْراً عَظِيماً} 1، وقوله سبحانه: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّهِ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} 2، وقوله عز وجل: {وَلا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَكِنْ لا تَشْعُرُونَ} 3، وقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْداً عَلَيْهِ حَقّاً فِي التَّوْرَاةِ والإنجيل وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} 4.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জিহাদের মর্যাদা এবং আল্লাহ মুজাহিদদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন
আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মর্যাদা তাঁর মহান প্রতিপালকের নিকট কতটুকু এবং তাঁর জন্য যে চিরস্থায়ী নিআমত প্রস্তুত রাখা হয়েছে, তা বর্ণনা করে অনেক আয়াত ও হাদিসে নববী বর্ণিত হয়েছে; তন্মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিক্রয় করে দেয়, তারা যেন আল্লাহর পথে লড়াই করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে লড়াই করবে, অতঃপর সে নিহত হবে কিংবা বিজয়ী হবে, তাকে আমি শীঘ্রই মহান প্রতিদান দান করব} ১, এবং তাঁর পবিত্র বাণী: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে ও আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারাই আল্লাহর রহমতের আশা করে। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} ২, এবং তাঁর মহান বাণী: {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা অনুভব করতে পারো না} ৩, এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন; তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, ফলে তারা মারে ও মরে। তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে এ বিষয়ে তাঁর ওপর সত্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আর আল্লাহর চেয়ে নিজ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অধিকতর বিশ্বস্ত আর কে আছে? সুতরাং তোমরা আল্লাহর সঙ্গে যে সওদা করেছ সেই সওদার জন্য আনন্দিত হও। আর এটাই হলো মহাসাফল্য} ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وأخرج البخاري رحمه الله من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: "سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت: يا رسول الله أي العمل أفضل؟ قال: الصلاة على ميقاتها. قلت: ثم أي؟ قال: بر الوالدين. قلت: ثم أي؟ قال: الجهاد في سبيل الله، فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو استزدته لزادني"1.
وأخرج من حديث أبى سعيد الخدري رضي الله عنه قال: "قيل يا رسول الله أي الناس أفضل؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مؤمن يجاهد في سبيل الله بنفسه وماله، قالوا: ثم من؟ قال: مؤمن في شعب من الشعاب يتقي الله ويدع الناس من شره"2.
وأخرج من حديث أنس رضي الله عنة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لغدوة في سبيل الله أو روحة خير من الدنيا وما فيها"3.
وأخرج من حديث أبى هريرة رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "والذي نفسي بيده لولا أن رجالا من المؤمنين لا تطيب أنفسهم أن يتخلفوا عني ولا أجد ما أحملهم عليه، ما تخلفت عن سرية تغدو في سبيل الله، والذي نفسي بيده لوددت أنى أقتل في سبيل الله ثم أحيا ثم أُقتل ثم أحيا ثم أُقتل ثم أحيا ثم أقتل"4.
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: হে আল্লাহর রাসুল! কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: সময়মতো সালাত আদায় করা। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: পিতামাতার প্রতি সদাচরণ। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদ। এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নীরব থাকলেন, আর আমি যদি তাঁর কাছে আরও জানতে চাইতাম তবে তিনি আমাকে আরও বলতেন"১।
তিনি আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সেই মুমিন যে তার জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে। তারা জিজ্ঞাসা করলেন: তারপর কে? তিনি বললেন: গিরিপথসমূহের কোনো একটিতে অবস্থানকারী এমন মুমিন যে আল্লাহকে ভয় করে এবং মানুষকে নিজের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখে"২।
তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর পথে এক সকাল অথবা এক সন্ধ্যা অতিবাহিত করা দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম"৩।
তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যদি মুমিনদের একটি দলের জন্য আমার পিছনে থাকা কষ্টকর না হতো এবং তাদের বহন করার মতো সওয়ারি আমার কাছে থাকত, তবে আমি আল্লাহর পথে গমনকারী কোনো ছোট যুদ্ধদল (সারিইয়াহ) থেকেও পিছনে থাকতাম না। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! আমার একান্ত আকাঙ্ক্ষা যে আমি আল্লাহর পথে শহীদ হই, তারপর পুনরায় জীবিত হই, তারপর শহীদ হই, তারপর পুনরায় জীবিত হই, তারপর শহীদ হই, তারপর পুনরায় জীবিত হই, অতঃপর পুনরায় শহীদ হই"৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأخرج من حديث أبى هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "والذي نفسي بيده لا يُكْلَمُ أحد في سبيل الله - والله أعلم بمن يُكْلَم في سبيله - إلا جاء يوم القيامة اللون لون الدم والريح ريح المسك"1.
--------------------------------------------
এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ—আর আল্লাহই ভালো জানেন কে তাঁর পথে জখম হয়—আল্লাহর পথে জখম হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আসবে যে, তার রঙ হবে রক্তের রঙের মতো এবং ঘ্রাণ হবে মিশকের সুগন্ধির মতো।" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
المبحث الثالث: مدلول كلمتي (السير والمغازي)
من خلال مطالعة القارئ للنصوص القديمة يلحظ أن العلماء كانوا يعبرون بكلمة السيرة ويقصدون بها كل ما يتصل بحياة النبي صلى الله عليه وسلم منذ ولادته حتى وفاته، يظهر من خلال النص الذي ذكره أبو الفرج الأصفهاني عن المدائني قال وأخبرني ابن شهاب قال: قال لي خالد بن عبد الله القسري: "أكتب لي النسب فبدأت بنسب مضر وما أتممته، فقال: اقطعه قطعه الله مع أصولهم، واكتب لي السيرة"1.
فيفهم من النص السابق أن المراد بـ (السيرة) سيرة النبي صلى الله عليه وسلم كاملة بما فيها العهد المكي، والناظر للكتب التي ألفت في السيرة، واتخذت من هذا الاسم عنواناً لها أنها تتحدث جميعها عن حياة النبي صلى الله عليه وسلم كلها، ومن تلك المؤلفات (سيرة ابن إسحاق.
أما كلمة (المغازي) فإذا أطلقت فلا يراد بها _ في الغالب _ إلا غزوات الرسول صلى الله عليه وسلم وسراياه، يعرف ذلك من خلال مطالعة النصوص التي تتحدث عن ذلك، فقد روي عن إسماعيل بن محمد بن سعد بن أبي وقاص قال: كان أبي يعملنا مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم ويعدها علينا وسراياه، ويقول: "هذه مآثر آبائكم فلا تضيعوها"2.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: 'সিরাত' এবং 'মাগাজি' শব্দদ্বয়ের অর্থ
প্রাচীন পাঠ্যসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, আলেমগণ 'সিরাত' শব্দটির মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে বুঝাতেন। এটি আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানি কর্তৃক আল-মাদায়েনী থেকে বর্ণিত একটি পাঠ্যের মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়, তিনি বলেন যে ইবনে শিহাব আমাকে জানিয়েছেন: খালিদ বিন আবদুল্লাহ আল-কাসরি আমাকে বলেছিলেন: "আমার জন্য বংশপরিচয় লিখে দিন। ফলে আমি মুদার গোত্রের বংশপরিচয় দিয়ে শুরু করলাম কিন্তু তা শেষ করিনি। তখন তিনি বললেন: একে বিচ্ছিন্ন করুন—আল্লাহ তাদের বংশমূলসহ তাদের বিচ্ছিন্ন করুন—এবং আমার জন্য 'সিরাত' লিখুন।"১
পূর্বোক্ত পাঠ্যটি থেকে বোঝা যায় যে, 'সিরাত' বলতে মক্কী জীবনসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ণাঙ্গ জীবন চরিত উদ্দেশ্য। যে ব্যক্তি সিরাত বিষয়ক রচিত গ্রন্থসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন—যেগুলো এই নামটিকে শিরোনাম হিসেবে গ্রহণ করেছে—তিনি দেখতে পাবেন যে এর সবগুলিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমগ্র জীবন নিয়ে আলোচনা করে। এ ধরণের রচনাবলির অন্যতম হলো 'সীরাতে ইবনে ইসহাক'।
পক্ষান্তরে 'মাগাজি' শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা সাধারণত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধসমূহ এবং তাঁর সামরিক অভিযানসমূহ ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য থাকে না। এ সম্পর্কে বর্ণিত পাঠ্যগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়। যেমনটি ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধসমূহ শেখাতেন এবং আমাদের সামনে তাঁর অভিযানসমূহ গণনা করতেন, এবং বলতেন: "এগুলো তোমাদের পূর্বপুরুষদের বীরত্বগাথা, সুতরাং এগুলো নষ্ট করো না।"২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وروي عن علي بن الحسين أنه كان يقول: "كنا نُعَلَّم مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم كما نُعَلَّم السورة من القرآن"1.
فهذه النصوص تدل بوضوح على أن المقصود بكلمة (المغازي) غزوات الرسول صلى الله عليه وسلم وسراياه.
فإذا أطلق اسم السيرة النبوية انصرف الذهن إلى أن هذه الكلمة تعني حياة النبي صلى الله عليه وسلم في العهد المكي والمدني.
ولا يعني هذا أن الكتب التي حملت عنوان (المغازي) لا تتحدث عن الفترة المكية، لكن الغالب أنها لا تذكر إلا حياة الرسول صلى الله عليه وسلم في الفترة المدنية.
فإذا أطلق لفظ (السيرة) وحده شمل حياة النبي صلى الله عليه وسلم في المرحلة المكية والمدنية، وإذا أطلق لفظ (المغازي) وحده شمل الفترة المدنية في الغالب، أما إذا قيل (السير والمغازي) فالمراد سيرة النبي صلى الله عليه وسلم كلها في مكة والمدينة والغزوات والسرايا والبعوث، والله أعلم.
--------------------------------------------
আলী ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ (মাগাজি) সেভাবেই শিখতাম যেভাবে কুরআনের সূরা শিখতাম।"১
সুতরাং এই উদ্ধৃতিসমূহ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, 'মাগাজি' শব্দ দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ এবং ছোট সেনাদলসমূহকে (সারিয়্যা) বুঝানো হয়েছে।
যখন 'সীরাতে নববী' নামটি ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা মক্কী এবং মাদানী উভয় যুগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনকেই বুঝানো হয়।
এর অর্থ এই নয় যে, 'মাগাজি' শিরোনামের বইগুলো মক্কী যুগ সম্পর্কে আলোচনা করে না, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলো কেবল মাদানী যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন সম্পর্কেই আলোচনা করে।
যদি কেবল 'সীরাত' শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মক্কী ও মাদানী উভয় পর্যায়ের জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর যদি 'মাগাজি' শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা সাধারণত মাদানী যুগকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু যদি 'আস-সিয়ার ওয়াল মাগাজি' বলা হয়, তবে এর দ্বারা মক্কা ও মদীনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্ণ সীরাত, যুদ্ধাভিযান, ক্ষুদ্র সেনাদল এবং প্রেরিত দলসমূহকে বুঝানো হয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المبحث الرابع: تعريف الغزوة، والسرية، والبعث، ومدلولها
وتحته مطلبان:
المطلب الأول: تعريفها لغة واصطلاحاً.
أولاً: تعريفها لغة:
أ - الغَزْوَةُ: المرّةُ من الغزوِ والاسم: الغَزَاة، وجمع الغازي: غُزاة وغُزَّى وغِزِيٌ وغُزَّاء.
والمغزاة: موضع الغزو1.
وقال صاحب اللسان: "غزاه غزواً، أراده وطلبه وقصده"2.
وقال صاحب القاموس: "الغزوة ما غزي وطلب"3.
وقال الحافظ ابن حجر: "المغازي جمع مغزى، يقال غزا يغزو غزواً
… وأصل الغزو القصد"4.
ب – السرية في اللغة: بفتح المهملة وكسر الراء وتشديد التحتية هي التي تخرج بالليل5، وهي فعيلة بمعنى فاعلة، سميت سرية لأنها تسري
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গাযওয়া, সারিয়্যা ও বা'স এর সংজ্ঞা এবং এগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য।
এর অধীনে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা।
প্রথমত: শাব্দিক সংজ্ঞা:
ক - গাযওয়া: এটি 'গায্উ' (যুদ্ধাভিযান) হতে একবার ঘটিত অর্থ প্রকাশ করে, আর এর বিশেষ্য হলো 'গাযাত'। 'গাযী' (যোদ্ধা) এর বহুবচন হলো: 'গুযাত', 'গুয্যা', 'গিযিয়্যুন' এবং 'গুয্যাউ'।
আর 'মাগযাহ' হলো যুদ্ধাভিযানের স্থান।১
লিসান (আল-আরব) প্রণেতা বলেন: "তিনি তাকে গাযওয়া করেছেন মানে হচ্ছে, তিনি তাকে ইচ্ছা করেছেন, খুঁজেছেন এবং তার সংকল্প করেছেন।"২
কামুস (আল-মুহিত) প্রণেতা বলেন: "গাযওয়া হলো যা কিছু আক্রমণ বা অন্বেষণ করা হয়েছে।"৩
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "মাগাযী হলো মাগযা-এর বহুবচন, বলা হয় গাযা-ইয়াগযূ-গাযওয়ান
… আর গাযউ-এর মূল অর্থ হলো ইচ্ছা বা সংকল্প করা।"৪
খ – সারিয়্যা শাব্দিক অর্থে: নুক্তাবিহীন বর্ণে (সীন) যবর, 'রা' বর্ণে যের এবং নিচের নুক্তাওয়ালা বর্ণে (ইয়া) তাশদীদ যোগে; এর অর্থ হলো সেই বাহিনী যা রাতে বের হয়।৫ এটি 'ফাঈলাহ' ওজনে 'ফায়িলাহ' এর অর্থ প্রদান করে। একে সারিয়্যা বলা হয় কারণ এটি রাতে ভ্রমণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
ليلاً في خفية لئلا ينذر بهم العدو فيحذروا ويمتنعوا1.
جـ - البعث في اللغة: يقال بَعَثَه يَبْعَثة بَعْثاً: أرسله وحده، وبعث به أرسله مع غيره، والبعث: الرسول، والجمع: بُعثان، والبعث: بَعْثُ الجند إلى الغزو، وقولهم: كنت في بعث فلان أي في جيشه الذي بعث معه، والبعوث الجيوش2.
ثانياً – تعريف هذه الألفاظ اصطلاحاً:
جمع الزرقاني تلك الألفاظ في تعريف واحد فقال: "كل عسكر حضره النبي صلى الله عليه وسلم بنفسه يسمى غزوة، وما لم يحضره بل أرسل بعضاَ من أصحابه إلى العدو يسمى سرية أو بعثاً"3.
فالزرقاني هنا لم يفرق بين السرية والبعث، بينما الحافظ ابن حجر ذكر تعريفاً محدداً بالنسبة للبعث فقال: "ما افترق من السرية يسمى بعثاً"4.
ولكن يبدو أن تعريف الزرقاني أدقُّ؛ لأن الأوائل لم يفرقوا بين
--------------------------------------------
রাতে সংগোপনে, যাতে শত্রু তাদের সম্পর্কে অবগত না হয় এবং সতর্ক হয়ে প্রতিরোধ করতে না পারে।১
গ - আভিধানিক অর্থে আল-বা'স: বলা হয় 'বা'আসাহু ইয়াব'আসুহু বা'সান' (সে তাকে পাঠাল): অর্থাৎ যখন তাকে একা পাঠানো হয়; আর 'বা'আসা বিহি' মানে তাকে অন্য কারো সাথে পাঠানো হয়েছে। 'আল-বা'স' অর্থ রাসূল বা বার্তাবাহক, যার বহুবচন হলো 'বু'সান'। 'আল-বা'স' বলতে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সৈন্য প্রেরণ করাকেও বোঝায়। যেমন তাদের উক্তি: 'আমি অমুকের প্রেরিত দলে ছিলাম' অর্থাৎ তার সাথে প্রেরিত বাহিনীতে ছিলাম। আর 'আল-বু'উস' মানে হলো সেনাবাহিনী।২
দ্বিতীয়ত – পারিভাষিক অর্থে এই শব্দগুলোর সংজ্ঞা:
যারকানী এই শব্দগুলোকে একটি সংজ্ঞার মধ্যে একত্রিত করে বলেছেন: "যেসব সামরিক অভিযানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন সেগুলোকে 'গাযওয়া' বলা হয়। আর যেগুলোতে তিনি উপস্থিত ছিলেন না, বরং তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যককে শত্রুর দিকে পাঠিয়েছেন, সেগুলোকে 'সারিয়্যাহ' বা 'বা'স' বলা হয়।"৩
এখানে যারকানী 'সারিয়্যাহ' এবং 'বা'স'-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। অন্যদিকে হাফেজ ইবনে হাজার 'বা'স'-এর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "সারিয়্যাহ থেকে যা পৃথক হয়ে যায় তাকে 'বা'স' বলা হয়।"৪
তবে মনে হয় যারকানীর সংজ্ঞাই অধিকতর নির্ভুল; কারণ পূর্বসূরিগণ এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
السرية والبعث كما سيأتي في المطلب الثاني.
ويدل على ذلك تعريف ابن الجوزي للسرية حيث يقول: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا لم يخرج بعث السرايا"1.
وقال ابن الأثير: "السرية الطائفة من الجيش يبلغ أقصاها أربعمائة تبعث إلى العدو، وجمعها السرايا، سموا بذلك لأنهم يكونون خلاصة العسكر وخيارهم من الشيء السري النفيس"2.
وكلام ابن الأثير في سبب تسمية السرية نفيس أيضاَ لا كما ذكر الحافظ ابن حجر، وصاحب اللسان، لأن السرية قد تخرج ليلاً وقد تخرج نهاراً. والله أعلم.
وقد تباينت أقوال العلماء في العدد الذي يمكن إطلاق مسمى السرية عليه، فذكر ابن الأثير– كما تقدم3 – أن السرية يبلغ أقصاها أربعمائة، وذكر ابن منظور4 والفيروز آبادي5 أن السرية مابين خمس أنفس إلى مائة، وذكر الحافظ ابن حجر6 أنها من مائة إلى خمسمائة.
وقد بحثت في كثير من المصادر فما وجدت سرية أكثر مما ذكره
--------------------------------------------
সারিয়াহ ও বা’স (অভিযান), যেমনটি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আসবে।
ইবনুল জাওযী প্রদত্ত সারিয়াহর সংজ্ঞা এর প্রমাণ বহন করে, যেখানে তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজে অভিযানে বের হতেন না, তখন তিনি সারিয়া (বাহিনী) পাঠাতেন।"১
ইবনুল আসীর বলেন: "সারিয়াহ হলো সৈন্যবাহিনীর এমন একটি দল যার সর্বোচ্চ সংখ্যা চারশ পর্যন্ত হয় এবং যাদেরকে শত্রুর অভিমুখে পাঠানো হয়। এর বহুবচন হলো 'সারায়া'। তাদেরকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা ছিল সৈন্যবাহিনীর নির্যাস ও সর্বোত্তম অংশ; যা 'সারিয়্যুন' শব্দ থেকে আগত যার অর্থ মূল্যবান ও উৎকৃষ্ট।"২
সারিয়াহ নামকরণের কারণ সম্পর্কে ইবনুল আসীরের বক্তব্যটিও অত্যন্ত চমৎকার, হাফেজ ইবন হাজার এবং লিসানুল আরবের লেখকের বর্ণনার মতো নয়। কারণ সারিয়াহ কখনও রাতে বের হয় আবার কখনও দিনে। আল্লাহই ভালো জানেন।
সারিয়াহ হিসেবে অভিহিত করা যায় এমন সদস্য সংখ্যার ব্যাপারে আলেমদের বিভিন্ন মত রয়েছে। ইবনুল আসীর উল্লেখ করেছেন—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে৩—যে সারিয়াহর সর্বোচ্চ সংখ্যা চারশ পর্যন্ত পৌঁছায়। ইবন মানযূর৪ ও আল-ফিরোযাবাদী৫ উল্লেখ করেছেন যে, সারিয়াহ হলো পাঁচ থেকে একশ জনের মধ্যবর্তী সংখ্যা। আর হাফেজ ইবন হাজার৬ উল্লেখ করেছেন যে, এটি একশ থেকে পাঁচশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
আমি অনেক উৎস অনুসন্ধান করেছি কিন্তু তাঁর উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে বড় কোনো সারিয়াহর কথা পাইনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
العلماء إلا سرية مؤتة؛ فإن عدد أفرادها كان ثلاثة آلاف رجل1، وأما ما ذكره بعضهم من تحديد السرية وأنها مابين خمسة إلى مائة أو من مائة إلى ثلاثمائة فربما كان قصدهم الغالب، وإلا فقد أرسل الرسول صلى الله عليه وسلم عبد الله بن أنيس سرية وحده إلى نبيح الهذلي بِعُرَنَة.2 وبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عمرو بن أميه الضمري وسلمة بن أسلم ابن حريس سرية وحدهما إلى أبي سفيان بن حرب بمكه3.
وأخرج البيهقي عن مجاهد قال: قد بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عبد الله بن مسعود وخباباً سرية، وبعث دحية سرية وحده4.
وعلى هذا يمكن القول: أن السرية لا يتجاوز عددها أكثر من ثلاثة آلاف رجل، كما في سرية مؤتة، وليس في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم سرية بلغ عددها أكثر من ذلك، كما أنه ليس في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم حد أدنى للسرية، فقد تتكون السرية من رجل واحد فقط كما مر.
--------------------------------------------
আলেমগণ মুতার অভিযান ব্যতীত (অন্য কোনো অভিযানের কথা উল্লেখ করেননি যার সদস্য সংখ্যা এত বেশি ছিল); কারণ এর সদস্য সংখ্যা ছিল তিন হাজার ব্যক্তি১, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ 'সারিয়্যাহ' (অভিযান)-এর যে সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করেছেন যে, এটি পাঁচ থেকে একশ অথবা একশ থেকে তিনশ জনের মধ্যে হবে, সম্ভবত তাদের উদ্দেশ্য ছিল এর সাধারণ অবস্থা নির্দেশ করা। অন্যথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উরানায় নুবায়হ আল-হুযালীর নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইসকে একাকী একটি সারিয়্যাহ হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।২ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের নিকট আমর ইবনে উমাইয়াহ আদ-দামরি এবং সালামাহ ইবনে আসলাম ইবনে হারিসকে কেবল দু'জনের একটি সারিয়্যাহ হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।৩
বায়হাকি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং খাব্বাবকে একটি সারিয়্যাহ হিসেবে এবং দিহিয়াকে একাকী একটি সারিয়্যাহ হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।৪
এর ওপর ভিত্তি করে বলা যেতে পারে যে: সারিয়্যাহর সংখ্যা তিন হাজার ব্যক্তির বেশি অতিক্রম করে না, যেমনটি মুতার অভিযানে দেখা গেছে; এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতে এমন কোনো সারিয়্যাহ নেই যার সংখ্যা এর চেয়ে বেশি পৌঁছেছে। তেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতে সারিয়্যাহর জন্য কোনো সর্বনিম্ন সীমা নেই; কারণ একটি সারিয়্যাহ কেবল একজন ব্যক্তিকে নিয়েও গঠিত হতে পারে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
والطلب، أي قصد العدو وطلبه، يدل على ذلك ما أخرجه الإمام مسلم من حديث بريدة رضي الله عنه قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أمَّر أميراً على جيش أو سرية أوصاه في خاصيته بتقوى الله ومن معه من المسلمين خيراً ثم قال: اغزوا بسم الله، في سبيل الله، قاتلوا من كفر بالله، اغزوا، ولا تغلوا، ولا تغدروا، ولا تمثلوا، ولا تقتلوا وليداً
… " الحديث1.
وما أخرجه البخاري من حديث يزيد بن أبي عبيد قال: سمعت سلمة ابن الأكوع يقول: "غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات، وخرجت فيما يبعث من البعوث تسع غزوات، مرة علينا أبو بكر، ومرة علينا أسامة"2.
وقال ابن إسحاق وكان جميع ما غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم بنفسه سبعاً وعشرين غزوة، منها غزوة ودّان.."3. ثم قال: "وكانت بعوثه صلى الله عليه وسلم وسراياه ثمانياً وثلاثين من بين بعث وسريّة: غزوة عبيدة بن الحارث أسفل من ثنية المَرْوَة، ثم غزوة حمزة بن عبد المطلب إلى ساحل البحر، من ناحية العيص، وغزوة سعد ابن أبي وقاص إلى الخَرار، وغزوة عبد الله بن جحش إلى نخلة، وغزوة زيد بن حارثة إلى القَرَدَة.."4.
--------------------------------------------
এবং অন্বেষণ করা, অর্থাৎ শত্রুর সংকল্প করা এবং তাকে অন্বেষণ করা; ইমাম মুসলিম বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা এর প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোনো বাহিনী বা ছোট সেনাদলের ওপর কাউকে আমির নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে বিশেষভাবে আল্লাহকে ভয় করার এবং তার সাথে থাকা মুসলিমদের সাথে কল্যাণকর আচরণের উপদেশ দিতেন। এরপর তিনি বলতেন: তোমরা আল্লাহর নামে, আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো। তোমরা যুদ্ধ করো, তবে (গনিমতের মালে) খিয়ানত করো না, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না, (মৃতদেহ) বিকৃত করো না এবং কোনো শিশুকে হত্যা করো না
..." হাদিস ১।
এবং ইমাম বুখারি ইয়াজিদ বিন আবু উবাইদ থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.)-কে বলতে শুনেছি: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং তাঁর প্রেরিত অন্যান্য বাহিনীর সাথে নয়টি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। একবার আমাদের আমির ছিলেন আবু বকর এবং একবার আমাদের আমির ছিলেন উসামা" ২।
ইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সশরীরে সাতাশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ওয়াদান যুদ্ধ অন্যতম... ৩। এরপর তিনি বলেন: "তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত ছোট-বড় মোট অভিযানের সংখ্যা ছিল আটত্রিশটি। এর মধ্যে রয়েছে: সানিয়াতুল মারওয়ার পাদদেশে উবাইদাহ ইবনুল হারিসের অভিযান, অতঃপর সমুদ্র উপকূলের আল-ঈস অভিমুখে হামজাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের অভিযান, আল-খাররার অভিমুখে সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের অভিযান, নাখলাহ অভিমুখে আব্দুল্লাহ ইবনে জাহশ-এর অভিযান এবং আল-ক্বারাদাহ অভিমুখে জায়েদ ইবনে হারিসার অভিযান..." ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ويلحظ هنا أنه ذكر الغزوة والبعث والسرية؛ وعبّر عنها جميعاً بالغزوة، مما يدل على أنهم كانوا يقصدون بذلك المعنى اللغوي للغزو، وهو: القصد والطلب، وقد استمر حتى عصر الطبري، فقد أطلق الواقدي في مغازيه على كثير من السرايا اسم الغزوة، فأطلق على سرية الرجيع غزوة1، وعلى سرية علي بن أبي طالب إلى فدك غزوة2، وعلى سرية زيد بن حارثة إلى أم قِرْفة غزوة3، وعلى سرية عبد الله بن رواحه إلى أسير بن رازم غزوة4، وغيرها كثير كما أطلق على البعض الآخر من السرايا سرية مثل: سرية محمد بن مسلمة إلى القرطاء5، وسرية عكاشة بن محصن إلى الغِمْر6، وسرية زيد بن حارثة إلى بني سُليم بالجَمُوم7.
وكذلك فعل البخاري في صحيحه حيث أطلق على سرية الرجيع بأنها غزوة8، وكذلك أطلق لفظ الغزوة على سرية زيد بن حارثة إلى
--------------------------------------------
এখানে লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি গাযওয়া (অভিযান), বা‘আছ (প্রেরণ) এবং সারিয়্যাহ (ক্ষুদ্র বাহিনী)—সবগুলোই উল্লেখ করেছেন; এবং এই সবগুলোকে ‘গাযওয়া’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন। এটি নির্দেশ করে যে, তারা এর দ্বারা গাযওয়ার শাব্দিক অর্থ তথা ‘সংকল্প করা ও অনুসন্ধান করা’ উদ্দেশ্য গ্রহণ করতেন। এটি ইমাম তাবারীর যুগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ওয়াকিদী তাঁর ‘মাগাযী’ গ্রন্থে অনেক সারিয়্যাহকে ‘গাযওয়া’ নামে অভিহিত করেছেন। যেমন—তিনি রাজী‘-এর সারিয়্যাহকে গাযওয়া ১, ফাদাকে আলী ইবনে আবি তালিবের সারিয়্যাহকে গাযওয়া ২, উম্মু কিরফার দিকে যায়িদ ইবনে হারিসার সারিয়্যাহকে গাযওয়া ৩, এবং আসীর ইবনে রাযিমের দিকে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার সারিয়্যাহকে গাযওয়া ৪ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ রকম আরও অনেক রয়েছে। একইভাবে তিনি অন্যান্য কিছু সারিয়্যাহকে সারিয়্যাহ হিসেবেই অভিহিত করেছেন, যেমন: কুরতায় মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামার সারিয়্যাহ ৫, গিমরে উকাশা ইবনে মিহসানের সারিয়্যাহ ৬ এবং জুমূমে বনু সুলাইমের দিকে যায়িদ ইবনে হারিসার সারিয়্যাহ ৭।
অনুরূপভাবে ইমাম বুখারীও তাঁর সহীহ গ্রন্থে রাজী‘-এর সারিয়্যাহকে গাযওয়া ৮ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইভাবে তিনি যায়িদ ইবনে হারিসার সারিয়্যাহর ক্ষেত্রেও গাযওয়া শব্দটি প্রয়োগ করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الشام1، وعلى سرية مؤتة2.
ونقل الطبري عن الواقدي قوله: "وفي جمادى الآخرة من هذه السنة كانت غزوة القَرَدَة، وكان أميرهم – فيما ذكر – زيد بن حارثة، قال: وهي أول سرية خرج فيها زيد بن حارثة أميراً"3.
وقد أطلق على كثير من السرايا اسم الغزوة4.
أما الزهري فقد عبر عن السرايا بقوله: "وبعث" فقد أخرج البيهقي في دلائل النبوة من طريق محمد بن فليح عن موسى بن عقبة عن ابن شهاب قالوا: - واللفظ متقارب -: هذه مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم التي قاتل فيها: يوم بدر في رمضان
… وكانت أول غزوة غزاها صلى الله عليه وسلم الأبواء، وغزوة العشيرة
… وغزوة تبوك، وهي آخر غزوة غزاها، وبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم بعوثاً فكان أول بعثٍ بعثَ رسول الله صلى الله عليه وسلم أن بعث عبيدة بن الحارث بن المطلب إلى قريش5
… ثم ذكر جميع سرايا رسول الله صلى الله عليه وسلم مستخدماً صيغة (وبعث) التي هي بمعنى (أرسل) ولا تدل على معنى غير الإرسال.
--------------------------------------------
সিরিয়া১, এবং মুতার অভিযানে২।
তাবারী ওয়াকিদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এই বছরের জুমাদাল আখিরাতে কারাদা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং তাদের আমীর ছিলেন—যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে—যায়েদ ইবনে হারিসা। তিনি বলেন: এটিই প্রথম অভিযান যাতে যায়েদ ইবনে হারিসা আমীর হিসেবে বের হয়েছিলেন"৩।
অনেকগুলো অভিযানের ক্ষেত্রে ‘গাজওয়া’ (যুদ্ধ) শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে৪।
আর যুহরী অভিযানের বর্ণনা দিতে ‘তিনি পাঠিয়েছেন’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। বায়হাকী তাঁর 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে ফুলাইহ্-এর সূত্রে মুসা ইবনে উকবা থেকে এবং তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন—তাদের শব্দমালা কাছাকাছি—তাঁরা বলেছেন: এগুলো হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধ যাতে তিনি লড়াই করেছিলেন: রমজান মাসে বদরের দিন
… এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম যে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তা ছিল আবওয়া যুদ্ধ, এবং উশাইরা যুদ্ধ
… এবং তাবুক যুদ্ধ, যা ছিল তাঁর শেষ যুদ্ধ। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক বাহিনী পাঠিয়েছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম যে বাহিনীটি পাঠিয়েছিলেন তা ছিল উবায়দা ইবনুল হারিস ইবনুল মুত্তালিবকে কুরাইশদের দিকে পাঠানো৫
… এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল অভিযানের কথা উল্লেখ করেছেন ‘তিনি পাঠিয়েছেন’ পরিভাষা ব্যবহার করে, যা ‘প্রেরণ করা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং প্রেরণ করা ছাড়া অন্য কোনো অর্থ নির্দেশ করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়্যাতুল ইমামিয যুহরী ফিল মাগাযী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وعليه فإن المراد بلفظ: الغزوة والسريّة عند المتقدمين من القرون الأولى المعنى اللغوي، وهو: القصد والطلب، ولم يفرقوا بين اللفظتين من حيث اللغة والاصطلاح.
أما المتأخرون فقد ذكروا تعريفاً اصطلاحياً فقط فرقوا فيه بين الغزوة والسرية فقالوا: إن الغزوة هي التي يحضرها النبي صلى الله عليه وسلم والسرية التي لم يحضرها النبي صلى الله عليه وسلم، كما سبق.
সেই অনুযায়ী, প্রথম কয়েক শতাব্দীর পূর্বসূরিদের নিকট 'গাযওয়া' (যুদ্ধাভিযান) এবং 'সারিয়্যাহ' (অভিযান) শব্দদ্বয় দ্বারা শাব্দিক অর্থই উদ্দেশ্য ছিল, আর তা হলো: কোনো কিছুর সংকল্প করা এবং অন্বেষণ করা। তাঁরা ভাষা ও পরিভাষার দিক থেকে এই শব্দ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না।
পক্ষান্তরে পরবর্তী যুগের আলিমগণ কেবল একটি পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যাতে তাঁরা গাযওয়া ও সারিয়্যাহর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তাঁরা বলেছেন: গাযওয়া হলো তা যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে উপস্থিত ছিলেন, আর সারিয়্যাহ হলো তা যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন না, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।