(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: -)
إدامة النظر في تحرير نخبة الفكر (عبد العزيز الريس)
القسم: علوم الحديث
الكتاب: إدامة النظر في تحرير نخبة الفكر
المؤلف: د. عبد العزيز بن ريس الريس
عدد الصفحات: 83
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 شوّال 1442
ইদামতুন নজর ফি তাহরির নুখবাতিল ফিকর (আবদুল আজিজ আল-রাইস)
বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান
বই: ইদামতুন নজর ফি তাহরির নুখবাতিল ফিকর
লেখক: ড. আবদুল আজিজ বিন রাইস আল-রাইস
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৩
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيمالسلام عليكم ورحمة الله وبركاتهأما بعد: فقد اطلعت على تفريغ لدورة علمية في شرح متن (نخبة الفكر) للحافظ ابن حجر العسقلاني -رحمه الله تعالى- قام بإعداده بعض الإخوة ووضعوا له فهرسًا، وأسميته: (إدامة النظر في تحرير نخبة الفكر) أسأل الله العظيم أن يتقبَّله وأن يجعله نافعًا لخلقه، إنه الرحمن الرحيم.والسلام عليكم ورحمه الله وبركاته د. عبد العزيز بن ريس الريس@dr_alraiesالمشرف على موقع الإسلام العتيق23/ 8 / 1441 هـ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেআপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোকঅতঃপর: আমি হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- রচিত ‘নুখবাতুল ফিকার’ এর মূলপাঠ (متن) ব্যাখ্যার একটি ইলমি কোর্সের অনুলিপি পর্যবেক্ষণ করেছি, যা কতিপয় ভাই প্রস্তুত করেছেন এবং এর একটি সূচিপত্র বিন্যাস করেছেন। আমি এর নামকরণ করেছি: ‘ইদামাতুন নাজর ফি তাহরিরি নুখবাতিল ফিকার’ আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন এটি কবুল করেন এবং তাঁর সৃষ্টির জন্য একে উপকারী করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু।আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক ড. আব্দুল আজিজ বিন রাইস আল-রাইস@dr_alraiesআল-ইসলাম আল-আতিক ওয়েবসাইটের তত্ত্বাবধায়ক২৩/ ০৮ / ১৪৪১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم مقدمة:من المعلوم أن هذا المتن في علم مصطلح الحديث، وهذا العلم كما لا يخفى هو من علوم الآلة الموصلة إلى معرفة الحديث صحةً وضعفًا.والطريقة في التعليق على هذا المتن -إن شاء الله- ما يلي:1 - بيان مراد الحافظ ابن حجر -رحمه الله تعالى-.2 - ذكر ما يهم في بعض المسائل إذا كان هناك ما يستدعي ذلك،3 - ذكر بعض الملاحظات على كلام الحافظ -إن وُجد-.أسأل الله أن يُعلمنا ما ينفعنا وأن ينفعنا بما علمنا إنه الرحمن الرحيم.وقبل البدء في التعليق على هذا المتن المفيد، أُقدم بمقدمات:المقدمة الأولى:ينبغي لطالب العلم أن يجتهد في الجمع بين علم الحديث وعلم الفقه، فإن من جمع بينهما قوي ساعده، وعظمت مكانته في العلم، لذا إذا نظرت في حال كثير من العلماء ممن عُرفوا بالعلم وشُهروا به تجد أنهم قد جمعوا بين هذين العلمين.ومن الكلمات العظيمة للإمام الشافعي -رحمه الله تعالى- أنه قال: من نظر في الحديث قويت حجته. وصدق -رحمه الله تعالى-، فإن الفقيه يحتاج إلى حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يستدل به، ولا يمكن أن يصح له الاستدلال إلا بعد أن يُثبت صحته، وهذا لا يكون إلا بمعرفة علم الحديث.وقد تكلم ابن حبان في كتابه (المجروحين) عن الجمع بين علم الحديث وعلم الفقه، بكلام نفيس للغاية، فلذا ينبغي أن نجتهد وأن نُجاهد أنفسنا في الجمع بين هذين العلمين، فإن علم الحديث يرجع إلى صحة المصدر الثاني وثبوته، أما علم الفقه فهو يرجع إلى فهم الحديث النبوي وإلى فهم غيره من الأدلة الشرعية.إلا أنه ينبغي أن يُعلم أنه قد يكون العالم مُقلدًا في علم الحديث، وهذا نقص، لكن لا يصح أن يكون العالم عالمًا في الحلال والحرام ويكون مُقلدًا في علم الفقه، كما أن المحدث قد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ভূমিকা:এটি সর্বজনবিদিত যে, এই মূল পাঠটি (متن) হাদিস পরিভাষা বিদ্যায় (علم مصطلح الحديث) রচিত। আর এই শাস্ত্রটি, যেমনটি কারো অজানা নয়, এমন এক সহায়ক শাস্ত্র যা হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং দুর্বলতা (ضعف) জানার পথ প্রশস্ত করে।আর এই মূল পাঠের (متن) ওপর ব্যাখ্যা প্রদানের পদ্ধতি—ইনশাআল্লাহ—নিম্নরূপ:১ - হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা।২ - কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ করা যদি তার প্রয়োজন অনুভূত হয়।৩ - হাফিজের বক্তব্যের ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ—যদি থাকে—তা উল্লেখ করা।আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের উপকারী জ্ঞান দান করেন এবং যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।এই উপকারী মূল পাঠটির (متن) ব্যাখ্যা শুরু করার আগে আমি কিছু প্রারম্ভিক কথা পেশ করছি:প্রথম ভূমিকা:একজন ইলম অন্বেষীর উচিত হাদিস শাস্ত্র ও ফিকহ শাস্ত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধনে সচেষ্ট হওয়া। কারণ যে ব্যক্তি এই দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, তার ভিত্তি শক্তিশালী হয় এবং ইলমের ময়দানে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এজন্য আপনি যদি অনেক আলেম—যারা ইলমের জন্য সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ—তাদের অবস্থার দিকে তাকান, তবে দেখবেন যে তারা এই উভয় শাস্ত্রকে একত্রিত করেছেন।ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি মহান উক্তি হলো, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি হাদিস নিয়ে চর্চা করে, তার দলিল শক্তিশালী হয়।" তিনি সত্যই বলেছেন, কারণ একজন ফকিহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের মুখাপেক্ষী হন দলিল হিসেবে গ্রহণ করার জন্য। আর বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণ করা ব্যতীত তার পক্ষে দলিল পেশ করা সঠিক হতে পারে না, যা হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান ছাড়া সম্ভব নয়।ইবনে হিব্বান তাঁর আল-মাজরুহিন গ্রন্থে হাদিস শাস্ত্র ও ফিকহ শাস্ত্রের সমন্বয় সম্পর্কে অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা করেছেন। তাই আমাদের উচিত এই উভয় শাস্ত্রকে একত্রিত করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করা এবং নিজেদের নফসের সাথে সংগ্রাম করা। কেননা হাদিস শাস্ত্রের লক্ষ্য হলো দ্বিতীয় উৎসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও তার প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করা, আর ফিকহ শাস্ত্রের লক্ষ্য হলো নববী হাদিস এবং অন্যান্য শারয়ি দলিল অনুধাবন করা।তবে এটি জানা আবশ্যক যে, কোনো আলেম হাদিস শাস্ত্রে মুকাল্লিদ হতে পারেন, যা একটি ত্রুটি; কিন্তু হালাল ও হারাম বিষয়ে আলেম হয়ে ফিকহ শাস্ত্রে মুকাল্লিদ হওয়া সঠিক নয়, যেমনটি একজন মুহাদ্দিস হতে পারেন...
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৩)
يكون محدثًا ولا يكون ذا رسوخ في علم الفقه، بأن يكون مجتهدًا في علم الحديث ويكون مقلدًا في علم الفقه.والكمال هو أن يُجمع بين الأمرين، بين علم الحديث وعلم الفقه، أسأل الله برحمته وفضله أن يمن علينا جميعًا بالعلم النافع والعمل الصالح، إنه الرحمن الرحيم.وقد منَّ الله علينا في هذا العصر بعالم مُجدد نادر، وهو العلامة محمد ناصر الدين الألباني -رحمه الله تعالى-، وهذا العالم مُجدد في أبواب كثيرة من الدين، لكن الذي يهمني ما يتعلق بعلم الحديث، فإنه من أدق العلماء المتأخرين في معرفة الحديث صحةً وضعفًا، وفي الإتقان والضبط، فإن كثيرًا من العلماء المتأخرين عنده أوهام في العزو وغير ذلك، أما العلامة الألباني -رحمه الله تعالى-فقلّ أن يوجد عنده مثل هذا.فهو عالم متبحر في علم الحديث، متمكن وصاحب إتقان ومعرفة وضبط، -رحمه الله تعالى-.حتى إن أحدهم كتب رسالة يتعقب فيها الشيخ ناصر الدين الألباني في بعض الأحاديث وفي عزوها إلى بعض المصادر … إلخ، فأشار الشيخ ناصر الدين الألباني في (السلسلة) للرد على هذا الذي كتب هذه الرسالة، ووصفه بأنه شاب، وقال: ولو كان ذا معرفة لما تعقَّب، فإني تركت عزوه إلى المصدر الفلاني، لأن هناك زيادة وهو حرف الواو، وهو مؤثر في لفظ الحديث، بخلاف ذاك الحديث … ، فتكلم بكلام نفيس -رحمه الله تعالى-.فالشيخ ناصر الدين الألباني له فضل كبير على أمة محمد صلى الله عليه وسلم في علم الحديث، فقد قرَّبه وسهَّله، وقد منَّ الله عليه بأن وقف على مراجع كثيرة لم يقف عليها كثيرون ممن عاصره -رحمه الله تعالى-.وقد جالست كثيرين ممن لهم عناية بعلم الحديث، وأطبقوا على أنهم ما عرفوا هذا العلم إلا بأن درسوا في أول أمرهم على الشيخ ناصر الدين الألباني، بل التقيت رجلين معروفين وللأسف بالطعن في الشيخ ناصر الدين الألباني، فلما جرى الكلام معهم قال أحدهم: والله ما عرفت هذا العلم إلا بقراءة كتب الشيخ ناصر الدين الألباني. حتى قال: لا أظن أن أحدًا في هذه الأزمان يستطيع أن يكون محدثًا ولم يتتلمذ على كتبه.وقال الآخر: في أول أمري كنت عاكفًا على كتبه وقراءته. ومع ذلك جحدوا فضله -رحمه الله تعالى-.
একজন ব্যক্তি হাদিস বিশারদ (محدث) হতে পারেন কিন্তু ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য না-ও থাকতে পারে; যেমন তিনি হাদিস শাস্ত্রে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম (مجتهد) কিন্তু ফিকহ শাস্ত্রে অনুসারী (مقلد)।আর পূর্ণতা হলো এই উভয় বিষয়ের সমন্বয় ঘটানো—হাদিস শাস্ত্র ও ফিকহ শাস্ত্রের মধ্যে। আমি আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহের উসিলায় তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলকে উপকারী জ্ঞান এবং নেক আমল দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু।আল্লাহ তাআলা এই যুগে আমাদের প্রতি এক বিরল সংস্কারক (مجدد) আলেমের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, তিনি হলেন আল্লামা মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। এই আলেম দ্বীনের অনেক অধ্যায়ে সংস্কারক (مجدد); তবে আমার কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো হাদিস শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। কেননা তিনি হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) নির্ণয়ে এবং এর নির্ভুলতা ও যথাযথ সংরক্ষণের (ضبط) ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে অন্যতম সূক্ষ্মদর্শী আলেম ছিলেন। অনেক পরবর্তী আলেমদের ক্ষেত্রে হাদিসের সূত্র নির্দেশ (عزو) ও অন্যান্য বিষয়ে কিছু ভুলভ্রান্তি (أوهام) পরিলক্ষিত হয়; কিন্তু আল্লামা আলবানি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর ক্ষেত্রে এমনটি খুব কমই পাওয়া যায়।তিনি ছিলেন হাদিস শাস্ত্রে এক অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেম, দক্ষ এবং সূক্ষ্মতা ও যথাযথ সংরক্ষণের (ضبط) গুণাবলীতে ভূষিত—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।এমনকি জনৈক ব্যক্তি একটি পুস্তিকা লিখেছিলেন যেখানে তিনি কিছু হাদিস এবং নির্দিষ্ট কিছু উৎসের দিকে সেগুলোর সূত্র নির্দেশের (عزو) বিষয়ে শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানিকে সমালোচনা করার চেষ্টা করেছিলেন … ইত্যাদি। শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানি তাঁর সিলসিলা গ্রন্থে সেই পুস্তিকা লেখকের প্রতিবাদ করেন এবং তাকে একজন যুবক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন: "যদি তার জ্ঞান থাকতো তবে সে এমন সমালোচনা করতো না; আমি অমুক উৎসের দিকে এর সূত্র নির্দেশ (عزو) পরিত্যাগ করেছি কারণ সেখানে 'ওয়াও' বর্ণের একটি অতিরিক্ত সংযোজন ছিল, যা হাদিসের শব্দের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, অন্য হাদিসের বিপরীত …"। এভাবে তিনি অত্যন্ত মূল্যবান কিছু কথা বলেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানির বিশাল অবদান রয়েছে। তিনি এই শাস্ত্রকে নিকটবর্তী ও সহজতর করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি এই অনুগ্রহ করেছিলেন যে, তিনি এমন অনেক উৎস ও কিতাব দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন যা তাঁর সমসাময়িক অনেকের ভাগ্যেই জোটেনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।আমি হাদিস শাস্ত্রের অনুরাগী এমন অনেকের সাথেই বসেছি, এবং তাঁরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, তাঁরা এই শাস্ত্র সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করেছেন মূলত শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানির কিতাবসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমেই। এমনকি আমি এমন দুজন ব্যক্তির সাথেও সাক্ষাৎ করেছি যারা দুর্ভাগ্যবশত শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানির সমালোচনায় লিপ্ত ছিলেন। যখন তাঁদের সাথে কথা হলো, তখন তাঁদের একজন বললেন: "আল্লাহর কসম! আমি শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানির কিতাবসমূহ পড়েই এই শাস্ত্র চিনতে পেরেছি।" এমনকি তিনি এও বলেন: "আমি মনে করি না যে বর্তমান সময়ে কেউ তাঁর কিতাবসমূহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে একজন হাদিস বিশারদ (محدث) হতে পারবে।"অন্যজন বলেছিলেন: "আমি আমার শুরুর সময়ে তাঁর কিতাবসমূহ গভীর মনোযোগের সাথে পাঠ করতাম।" তা সত্ত্বেও তারা তাঁর অবদানকে অস্বীকার করেছে—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৪)
وينبغي أن نعلم أنه لا تلازم بين تعظيم الرجل ومعرفة مكانته وبين أن يُخالف، فإن علماء الإسلام قد أمرونا باتباع الدليل ولو خالفناهم، فلطالب العلم الذي عنده آلة أن يُخالف من يُخالف من أهل العلم بقواعد أهل العلم، مع حفظ منزلتهم ومرتبتهم.وقد ابتلينا في هذه العصور بمن ينتقص العلامة الألباني ويُنزل من قدره، حتى قرأت لأحدهم يقول: محمد ناصر الدين الألباني ليس محدثًا!! يريد أن يُنكر الشمس في رائعة النهار، ولا أريد أن أطيل في مثل هذا، لكن من أراد أن يعرف هذا العلم فليستفد من كتب الشيخ ناصر الدين الألباني، لاسيما السلسلتان، وإرواء الغليل، وتخريج سنن أبي داود المطوَّل، فإن في هذه الكتب بسطًا وجمعًا للطرق، وذكرًا لبعض الفوائد والقواعد التي لا توجد بسهولة.أسأل الله أن يغفر له وجميع علماء المسلمين، وأن يجمعني وإياكم وإياه في الفردوس الأعلى إنه الرحمن الرحيم.المقدمة الثانية:ينبغي أن يُعلم أنّ الغاية من دراسة علم المصطلح أنه علم آلة ووسيلة لمعرفة اصطلاحات أهل العلم في الحديث، فإذا قال أئمة هذا الشأن وفرسانه: حديث غريب. أو حديث صحيح. إلى غير ذلك من الألفاظ، فالهدف - من علم المصطلح - هو معرفة معنى كلامهم.ومن الخطأ أن يُحدث بعض من كتب في المصطلح ممن ليس من أهل الحديث تعريفات لاصطلاحات ليست موجودة عند أئمة هذا الشأن وأئمة الحديث الأوائل وفرسانه، فيُعرِّفون بعض الاصطلاحات بتعريفات ليست موجودة عندهم، وهذا خطأ كبير، وسيتضح هذا في ثنايا قراءة كلام الحافظ ابن حجر -رحمه الله تعالى-.فيُعرِّفون المنكر، أو المحفوظ، أو غيرهما، بتعريفات ليست موجودة عند العلماء الأوائل، والمفترض في علم المصطلح أن يُبيِّنَ معنى استعمال العلماء للألفاظ في علم الحديث، لا أن يُحدث معاني لاصطلاحات استعملها أهل العلم أو أن يُحدث اصطلاحات جديدة لم يتكلم بها العلماء الأولون، كما سيأتي بيانه -إن شاء الله تعالى-.
আমাদের জানা উচিত যে, কোনো ব্যক্তিকে সম্মান করা এবং তাঁর উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হওয়ার সাথে তাঁর মতের বিরোধিতা করার কোনো আবশ্যিক সম্পর্ক নেই। কারণ ইসলামের উলামায়ে কেরাম আমাদেরকে দলীল অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও তা তাঁদের মতের পরিপন্থী হয়। সুতরাং যে ইলম অন্বেষণকারীর নিকট প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রয়েছে, তার জন্য উলামায়ে কেরামের মূলনীতিসমূহ অনুসরণ করে কোনো আলেমের মতের বিরোধিতা করার অবকাশ রয়েছে, তবে তা অবশ্যই তাঁদের মান-মর্যাদা ও অবস্থানের প্রতি সম্মান বজায় রেখে।বর্তমান যুগে আমরা এমন কিছু লোক দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছি যারা আল্লামা আলবানীকে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং তাঁর মর্যাদাহানি করে। এমনকি আমি কারো কারো লেখায় পড়েছি যে তারা বলে: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী কোনো হাদিস বিশারদ (محدث) নন!! সে যেন তপ্ত দুপুরের প্রখর সূর্যকে অস্বীকার করতে চায়। আমি এ জাতীয় বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে চাই না, তবে যারা এই ইলম শিখতে চায়, তাদের উচিত শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানীর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া, বিশেষ করে সিলসিলাতাইন (সিলসিলাতুস সহিহাহ ও জয়িফাহ), ইরওয়াউল গালিল এবং বিস্তারিত তাখরিজ সুনানে আবি দাউদ। কারণ এই কিতাবগুলোতে হাদিসের সূত্রসমূহের (طرق) বিস্তারিত বর্ণনা ও সংকলন রয়েছে এবং এমন কিছু তাত্ত্বিক উপকারিতা ও মূলনীতি (قواعد) উল্লেখ করা হয়েছে যা সচরাচর সহজে পাওয়া যায় না।আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে এবং সমস্ত মুসলিম উলামায়ে কেরামকে ক্ষমা করে দেন, আর আমাকে ও আপনাদেরকে তাঁর সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসে একত্রিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু।দ্বিতীয় ভূমিকা:এটি জানা আবশ্যক যে, পরিভাষা শাস্ত্র (علم المصطلح) অধ্যয়নের মূল লক্ষ্য হলো এটি হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের ব্যবহৃত পরিভাষাগুলো জানার একটি মাধ্যম বা উপকরণ। সুতরাং যখন এই শাস্ত্রের ইমাম ও দিকপালগণ বলেন: 'হাদিসটি অপরিচিত (غريب)' অথবা 'হাদিসটি সহিহ (صحيح)' ইত্যাদি শব্দাবলি ব্যবহার করেন, তখন পরিভাষা শাস্ত্রের উদ্দেশ্য হলো তাঁদের সেই কথার মর্মার্থ অনুধাবন করা।আর যারা হাদিস শাস্ত্রের লোক নন, এমন কিছু পরিভাষা বিষয়ক লেখকের ভুল হলো যে, তাঁরা এমন সব পরিভাষার সংজ্ঞা প্রদান করেন যা এই শাস্ত্রের ইমামগণ এবং প্রাচীন হাদিস বিশারদ ও দিকপালদের নিকট ছিল না। তাঁরা কিছু পরিভাষার এমন সংজ্ঞা দেন যা তাঁদের নিকট বিদ্যমান ছিল না; আর এটি একটি বড় ভুল। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য পাঠ করার সময় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।তাঁরা প্রত্যাখ্যাত (منكر) বা সংরক্ষিত (محفوظ) অথবা এ জাতীয় অন্যান্য পরিভাষাগুলোর এমন সংজ্ঞা প্রদান করেন যা পূর্ববর্তী আলেমদের নিকট ছিল না। পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) মূল কাজ হওয়া উচিত হাদিসশাস্ত্রে আলেমদের শব্দ ব্যবহারের পদ্ধতি স্পষ্ট করা; আলেমদের ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর জন্য এমন কোনো নতুন অর্থ তৈরি করা নয় অথবা এমন কোনো নতুন পরিভাষা উদ্ভাবন করা নয় যা পূর্ববর্তী আলেমগণ আলোচনা করেননি। ইনশাআল্লাহ সামনে এর বিস্তারিত বর্ণনা আসবে।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৫)
تنبيه: إن العلماء الأولين إذا تكلموا على الحديث فهم إلى المعنى اللغوي أقرب منه إلى المعنى الاصطلاحي، فأكثر عباراتهم ترجع إلى المعنى اللغوي، ولم يأتوا باصطلاح جديد، وإنما بمعانٍ عربية معروفة.المقدمة الثالثة:ما دخل علم الكلام علمًا إلا وأفسده، فإن المتكلمين ليسوا علماء بإجماع أهل العلم ولا فقهاء، ذكر الإجماع ابن عبد البر -رحمه الله تعالى- في كتابه (جامع بيان العلم وفضله)، وكلام أئمة أهل السنة كالإمام مالك والشافعي وأحمد وغيرهم في تحريم علم الكلام وذمه كثير مسطور مزبور، نقل طرفًا منه ابن عبد البر في كتابه (جامع بيان العلم وفضله)، وقوام السنة في كتابه (الحجة في بيان المحجة)، وألف الهروي كتابًا كاملًا بعنوان: (ذم الكلام وأهله)، ونقل فيه نقولات مفيدة عن أهل العلم، فإن العلماء متواردون على إنكار علم الكلام وأنه ضلالة وباطل ولا يجوز في الشريعة.ومن علم الكلام علم المنطق، فإنه محرم بإجماع أهل العلم، حكى الإجماع النووي، وابن الصلاح، وجماعة من أهل العلم، لذا يقول ابن القيم -رحمه الله تعالى-في كتابه (مفتاح دار السعادة): ما دخل علم المنطق علمًا إلا وأفسده. وهكذا علم الكلام الذي منه علم المنطق، ما دخل علمًا إلا وأفسده.وبعض الناس قد تكون عنده نُهمة، أو لا يكون عارفًا لحقيقة العلم، فيقول: لن أقتنع بفساد علم الكلام حتى أدرسه، وأقل ما في فعله هذا من المفاسد أنه يُضيع عمره فيما لا ينفع، والنبي صلى الله عليه وسلم كما في صحيح مسلم من حديث زيد بن أرقم كان يقول: «اللهم إني أعوذ بك من علم لا ينفع»، فما بالكم وفيه من المحرمات وما يُؤدي إلى الضلالات ما الله به عليم.وقد درس هذا العلم جماعات وندموا على دراسته، منهم من المتكلمين الرازي مثلًا، وبرع في هذا العلم وندم على دراسته، ومنهم من هو من أهل السنة ودرسه للرد على المتكلمين كما فعل شيخ الإسلام ابن تيمية، وبيَّن أنه لا فائدة من هذا العلم بل هو سبب للضلالة، ومنهم الشوكاني في شرح حديث: «الحلال بيِّن والحرام بيِّن» قال: أُنبئك عن رجل قد درس هذا العلم وأكمل دراسته حتى بلغ الغاية فيه. ثم بيَّن أنه لا فائدة من هذا العلم، وأن من يغتر بهذا العلم هو من لم يتعمَّق في دراسته، لذلك ما دخل علم الكلام علمًا إلا وأفسده، ومن ذلك علم الحديث.
সতর্কবার্তা: পূর্বসূরি আলেমগণ যখন হাদিস নিয়ে আলোচনা করতেন, তখন তাদের বক্তব্য পারিভাষিক (اصطلاحي) অর্থের চেয়ে আভিধানিক (لغوي) অর্থের অধিক নিকটবর্তী ছিল। তাদের অধিকাংশ উক্তিই আভিধানিক (لغوي) অর্থের দিকে ফিরে যায় এবং তারা কোনো নতুন পরিভাষা (اصطلاح) উদ্ভাবন করেননি, বরং সুপরিচিত আরবি অর্থসমূহ ব্যবহার করেছেন।তৃতীয় ভূমিকা:কালাম শাস্ত্র (علم الكلام) যে বিদ্যায় প্রবেশ করেছে তাকেই কলুষিত করেছে। কেননা ইলমুল কালামের চর্চাকারীরা (المتكلمين) আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী আলেম নন এবং তারা ফকিহও (فقهاء) নন। ইবনে আবদিল বার (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তার 'জামি বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' গ্রন্থে এই ঐকমত্য (إجماع) উল্লেখ করেছেন। আহলে সুন্নাহর ইমামগণ যেমন ইমাম মালিক, শাফেয়ি, আহমদ এবং অন্যদের পক্ষ থেকে কালাম শাস্ত্র (علم الكلام) হারাম হওয়া এবং এর নিন্দার বিষয়ে অসংখ্য বক্তব্য লিপিবদ্ধ ও সংকলিত রয়েছে। ইবনে আবদিল বার তার 'জামি বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' গ্রন্থে এর একাংশ বর্ণনা করেছেন এবং কাওয়ামুস সুন্নাহ তার 'আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। আল-হারবি 'যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি' শিরোনামে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সেখানে আলেমদের থেকে অনেক উপকারী উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। আলেমগণ কালাম শাস্ত্রের (علم الكلام) প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে একমত এবং এটি একটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) ও বাতিল বিষয় এবং শরিয়তে এটি জায়েজ নয়।কালাম শাস্ত্রের (علم الكلام) অন্তর্ভুক্ত হলো যুক্তিবিদ্যা (علم المنطق), যা আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী হারাম। ইমাম নববী, ইবনুস সালাহ এবং একদল আলেম এই ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন। এজন্য ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তার 'মিফতাহু দারিস সা'আদাহ' গ্রন্থে বলেন: "যুক্তিবিদ্যা (علم المنطق) যে বিদ্যায় প্রবেশ করেছে তাকেই কলুষিত করেছে।" অনুরূপভাবে কালাম শাস্ত্র (علم الكلام), যার অংশ হলো যুক্তিবিদ্যা (علم المنطق), যে বিদ্যায় প্রবেশ করেছে তাকেই কলুষিত করেছে।কিছু মানুষের এ বিষয়ে প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে অথবা তারা ইলমের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অবগত নয়, তাই তারা বলে: "যতক্ষণ না আমি কালাম শাস্ত্র (علم الكلام) অধ্যয়ন করব, ততক্ষণ এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আশ্বস্ত হব না।" তার এই কাজের মধ্যে সর্বনিন্ম ক্ষতি হলো সে তার জীবনকে এমন বিষয়ে নষ্ট করছে যা কোনো উপকারে আসে না। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহিহ মুসলিমের জায়েদ ইবনে আরকাম বর্ণিত হাদিসে বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এমন ইলম থেকে পানাহ চাই যা কোনো উপকারে আসে না।" সুতরাং যে বিষয়ে শরিয়ত বহির্ভূত হারাম উপাদান এবং ভ্রষ্টতার (ضلالات) দিকে ধাবিত করার মতো উপকরণ রয়েছে—যার প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন—সেটির পরিণাম কী হতে পারে!অনেকেই এই বিদ্যা অধ্যয়ন করেছেন এবং পরবর্তীতে অনুতপ্ত হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ কালাম শাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) মধ্যে আর-রাজি এই বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, কিন্তু পরে তিনি এটি অধ্যয়নের জন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন। আবার আহলে সুন্নাহর মধ্যে কেউ কেউ কালাম শাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) খণ্ডন করার জন্য এটি অধ্যয়ন করেছেন, যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এই বিদ্যার কোনো উপকারিতা নেই, বরং এটি ভ্রষ্টতার (ضلالة) কারণ। তাদের মধ্যে ইমাম আশ-শাওকানি "হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট" হাদিসটির ব্যাখ্যায় বলেছেন: "আমি তোমাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলছি যে এই বিদ্যা অধ্যয়ন করেছে এবং এর অধ্যয়ন সম্পন্ন করে এর চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে।" অতঃপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এই বিদ্যার কোনো উপকার নেই এবং যারা এই বিদ্যা দেখে বিভ্রান্ত হয় তারা মূলত এটি গভীরভাবে অধ্যয়ন করেনি। এজন্যই কালাম শাস্ত্র (علم الكلام) যে বিদ্যায় প্রবেশ করেছে তাকেই নষ্ট করেছে এবং এর অন্যতম উদাহরণ হলো হাদিস শাস্ত্র।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৬)
فقد تأثَّر الخطيب البغدادي في كتابه (الكفاية) في بعض المباحث بعلم الكلام، ومن بعده زاد التأثر بهذا بعلم الكلام أكثر، وقد نبَّه ابن رجب في شرح (العلل) على تأثر الخطيب بعلم الكلام، فقال: وقد تكلم الخطيب البغدادي في مبحث زيادة الثقة وأدخل في ذلك قول المتكلمين.المقدمة الرابعة:ينبغي أن يُفرَّق بين كلام أهل الحديث وكلام الفقهاء في علم الحديث ومصطلح الحديث، فهناك فرق بين كلام أهل الحديث وكلام الفقهاء، فإن العمدة والمرجع في كل فن لأهله، وقد نقل ابن أبي حاتم في كتابه (المراسيل) عن أبيه أبي حاتم أن إجماع أهل الحديث حجة، أي في الحديث، وذكر مثل هذا ابن تيمية كما في (مجموع الفتاوى) وابن القيم كما في (مختصر الصواعق)، أن إجماع أهل كل فن حجة في الفن نفسه.ومن الأخطاء أن يتكلم من ليس ذا تخصص ومعرفة بعلم الحديث في علم الحديث من الفقهاء، فإن من يفعل ذلك يُفسد هذا العلم، كما حصل لابن الصلاح -رحمه الله تعالى- أنه في مبحث زيادة الثقة أدخل كلام الفقهاء في هذا المبحث، وقد نبَّه على هذا البقاعي، فلذلك حصل عند ابن الصلاح خلط في هذا المبحث لأنه خلطه بكلام الفقهاء، والفقهاء ليسوا أهل معرفة في ذلك.وقد أشار لهذا المعنى ابن دقيق العيد في كتابه (المقترح) لما ذكر: "من غير شذوذ ولا علة" قال: الشذوذ علة اعتنى بها المحدثون وأهملها الفقهاء. فلذا ينبغي أن يُميَّز بين كلام أهل الفن وكلام غيرهم.وكلام الفقهاء دخل في علم الحديث، وحصل ما حصل فيه، ومن كلمات البلقيني العظيمة ونقلها السخاوي عنه أنه قال: لو توسَّعنا في التأويل لدفعنا كثيرًا من العلل التي كان يُعلل بها أئمة الحديث. فالتوسع في التأويل والجمع بين الأحاديث على طريقة الفقهاء ينتج منها نتيجة وهو أن تُرد كثير من العلل التي أتى بها المحدثون، ولعله يتيسر بيان شيء من هذا -إن شاء الله تعالى-.المقدمة الخامسة:إن لعلم الحديث فرسانًا وأئمة وهم العلماء الأوائل المتقدمون، كشعبة، والثوري، وأحمد، وابن المديني، ويحيى بن معين، والرازيين، وأمثالهم.
খতিব আল-বাগদাদি তার 'আল-কিফায়াহ' গ্রন্থে কিছু কিছু আলোচনায় ইলমুল কালাম (কালাম শাস্ত্র) দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন এবং তার পরবর্তী সময়ে ইলমুল কালামের এই প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইবনে রাজাব 'শারহুল ইলাল'-এ খতিব আল-বাগদাদির ইলমুল কালাম দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন: খতিব আল-বাগদাদি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং এতে কালাম শাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) মতামত অন্তর্ভুক্ত করেছেন।চতুর্থ ভূমিকা:হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث) এবং হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের বক্তব্য এবং ফকিহগণের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত। কেননা মুহাদ্দিসগণের কথা এবং ফকিহগণের কথার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। নিশ্চয়ই প্রতিটি শাস্ত্রের মূল ভিত্তি ও নির্ভরযোগ্য উৎস হলো সেই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ। ইবনে আবি হাতিম তার 'আল-মারাসিল' গ্রন্থে তার পিতা আবু হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হাদিস বিশারদগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) হলো দলিল (حجة); অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে। ইবনে তাইমিয়্যাহ 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-তে এবং ইবনে আল-কাইয়্যিম 'মুখতাসারুস সাওয়ায়িক'-এ অনুরূপ উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিটি শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) সেই শাস্ত্রের ক্ষেত্রে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য।এটি একটি ভুল যে, ফকিহদের মধ্য থেকে যাদের হাদিস বিজ্ঞানে (علم الحديث) বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য নেই, তারা হাদিস বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলেন। যে ব্যক্তি এমনটি করবে, সে এই শাস্ত্রকে কলুষিত করবে। যেমনটি ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে; তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) সংক্রান্ত আলোচনায় ফকিহদের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইমাম আল-বিকাঈ এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এ কারণে ইবনুস সালাহ-এর এই আলোচনায় কিছুটা বিভ্রান্তি বা সংমিশ্রণ ঘটেছে, কারণ তিনি এতে ফকিহদের বক্তব্য মিশিয়ে ফেলেছেন, অথচ ফকিহগণ এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন।ইবনে দাকীকুল ঈদ তার 'আল-মুকতারাহ' গ্রন্থে এই অর্থের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি উল্লেখ করেছেন: "বিচ্যুতি ও ত্রুটিমুক্ত (من غير شذوذ ولا علة)"। তিনি বলেছেন: বিচ্যুতি (شذوذ) এমন একটি সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) যার প্রতি মুহাদ্দিসগণ সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, কিন্তু ফকিহগণ একে উপেক্ষা করেছেন। অতএব, সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের পণ্ডিতদের বক্তব্য এবং অন্যদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য করা বাঞ্ছনীয়।ফকিহদের কথা হাদিস বিজ্ঞানে (علم الحديث) প্রবেশ করেছে এবং এর ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। ইমাম আল-বুলকিনির একটি মহান উক্তি ইমাম সাখাভি উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমরা যদি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে (التأويل) ব্যাপকতা অবলম্বন করতাম, তবে আমরা এমন অনেক সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) নিরসন করতে পারতাম যা হাদিসের ইমামগণ চিহ্নিত করেছেন।" সুতরাং ফকিহদের তরিকায় হাদিসের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে (التأويل) এবং হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনে ব্যাপকতা অবলম্বনের ফলাফল এই দাঁড়ায় যে, মুহাদ্দিসগণ যেসব সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) চিহ্নিত করেছেন তার অনেকগুলোই প্রত্যাখ্যাত হয়। ইনশাআল্লাহ, সামনে হয়তো এ বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করার সুযোগ হবে।পঞ্চম ভূমিকা:নিশ্চয়ই হাদিস বিজ্ঞানের (علم الحديث) কতিপয় নিপুণ পণ্ডিত ও ইমাম রয়েছেন এবং তারা হলেন পূর্বসূরি (المتقدمون) আলেমগণ, যেমন: শু'বাহ, সাওরি, আহমাদ, ইবনুল মাদিনি, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আবু জুরআ ও আবু হাতিম আর-রাজি এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৭)
وهؤلاء الأئمة هم المرجع في هذا العلم، وهم فرسانه وهم أئمته، ولا يصح لأحد أن يُخالفهم، ومن لطيف ما بيَّن ابن القيم -رحمه الله تعالى- في ثنايا كلامه على حديث أنس في تخليل اللحية في كتابه (تهذيب السنن)، لما نقل كلامًا لابن القطان الفاسي في تصحيح حديث قد ضعَّفه محمد بن يحيى الذهلي، قال ابن القيم: "وهذه التجويزات لا يلتفت إليها أئمة الحديث وأطباء علله ويعلمون أن الحديث معلول بإرسال الزبيدي له ولهم ذوق لا يحول بينه وبينهم فيه التجويزات والاحتمالات". وقد ذكر نحوًا من ذلك ابن رجب -رحمه الله تعالى- وقال: أئمة الحديث إذا قالوا قولًا فلا يصح لأحد أن يُخالفهم. ومثل ذلك ابن حجر في كتابه (النكت على ابن الصلاح) قال: إذا تكلم أئمة الحديث وفرسانه في هذا العلم ولم يُخالفوا لم يصح لأحد أن يُخالفهم.وهذا كله لرسوخهم في هذا العلم ومعرفتهم به، فهم القدوة فيه، وهم الأئمة المتبعون في معرفته.ثم ينبغي أن يُعلم أننا وإياهم لنا حالان:• الحال الأولى: أمور نشترك معهم فيها، وهم الأصل فيها ولا يصح أن ننازعهم، لأننا ما نستطيع أن نخرج بنتيجة في ضعف راوٍ أو ثقته إلا بالرجوع إلى كلامهم، وأحسن ما عند أحدنا أن يُحسن جمع كلامهم وأن يُحسن تلخيصه، فلذلك نحن عالة عليهم.هذا ليس أنا وأنت، وليس في قرننا ولا القرن السابق، بل حتى في وقت الخطيب البغدادي وابن عبد البر، فإن هؤلاء لا ينقدون بسبر حال الراوي، وإنما يعتمدون على كلام الأئمة الماضين، فكيف بي وبك؟• الحال الثانية: أمور انفصلوا بها عنا، وتمايزوا بها عمن بعدهم، فقد وقفوا على أمور لا يمكن لأحد بعدهم أن يقف على ذلك، ومن أمثلة ذلك: أن الإمام البخاري -رحمه الله تعالى- طلب من إسماعيل بن أبي أويس أن يُريه كتبه، فأراه كتبه، فانتقى منها الإمام البخاري -رحمه الله تعالى-. ذكر هذا ابن حجر في مقدمته على صحيح البخاري.ونحن لا نستطيع أن نصل إلى هذه الدرجة، وغاية ما عندنا أن نقرأ كلام العلماء في إسماعيل بن أبي أويس وننظر في الحديث، أما البخاري فقد وقف على كتبه ثم انتقى منها انتقاءً، وهذا لا يتيسر لمن بعدهم.
এই ইমামগণই হলেন এই ইলমের মূল নির্ভরযোগ্য উৎস, তাঁরাই এর বিচক্ষণ অশ্বারোহী ও ইমাম। তাঁদের বিরোধিতা করা কারো জন্যই সংগত নয়। আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) তাঁর 'তাহজিবুস সুনান' গ্রন্থে দাড়ির খিলাল সংক্রান্ত আনাস (রা.)-এর হাদিসের আলোচনায় একটি চমৎকার বিষয় ব্যক্ত করেছেন। সেখানে তিনি মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-দুহলি কর্তৃক দুর্বল সাব্যস্ত (تضعيف) করা একটি হাদিসকে বিশুদ্ধ সাব্যস্তকরণের (تصحيح) বিষয়ে ইবনুল কাত্তান আল-ফাসির একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেন: "হাদিসের ইমামগণ এবং এর সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) নির্ণয়কারী চিকিৎসকরা এই জাতীয় যৌক্তিক সম্ভাবনার দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না। তাঁরা জানেন যে, জুবাইদি কর্তৃক বর্ণিত হওয়ার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা (إرسال) থাকার কারণে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (معلول)। তাঁদের এমন এক সূক্ষ্ম রুচিবোধ রয়েছে যার সামনে এই জাতীয় সম্ভাবনা বা অনুমান কোনো অন্তরায় হতে পারে না।" অনুরূপ কথা ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-ও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "হাদিসের ইমামগণ যখন কোনো কথা বলেন, তখন কারো জন্য তাঁদের বিরোধিতা করা বৈধ নয়।" হাফেজ ইবনে হাজারও তাঁর 'আন-নুখাত আলা ইবনিস সালাহ' গ্রন্থে অনুরূপ বলেছেন: "যখন এই ইলমের ইমাম ও এর পুরোধা ব্যক্তিত্বগণ কোনো বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন এবং নিজেরা তাতে দ্বিমত না করেন, তখন অন্য কারো জন্য তাঁদের বিরোধিতা করা সংগত নয়।"এই সবই এই শাস্ত্রে তাঁদের গভীর পাণ্ডিত্য এবং প্রজ্ঞার কারণে; তাই তাঁরাই এই ক্ষেত্রে আদর্শ এবং এর জ্ঞান অর্জনে তাঁরাই অনুসরণীয় ইমাম।এরপর জেনে রাখা উচিত যে, তাঁদের সাথে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা রয়েছে:• প্রথম অবস্থা: এমন কিছু বিষয় যাতে আমরা তাঁদের সাথে অংশীদার, তবে তাঁরাই এর মূল ভিত্তি এবং সেখানে তাঁদের সাথে বিতর্ক করা আমাদের জন্য সমীচীন নয়। কারণ, তাঁদের বক্তব্যের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া কোনো রাবির দুর্বলতা (ضعف) বা তাঁর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষ ব্যক্তি তিনিই, যিনি তাঁদের বক্তব্যগুলো নিপুণভাবে সংকলন ও সংক্ষেপ করতে পারেন। সুতরাং, আমরা এ বিষয়ে তাঁদের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল।এটি কেবল আমার বা আপনার ক্ষেত্রে নয়, এমনকি আমাদের এই শতাব্দী বা পূর্ববর্তী শতাব্দীর ক্ষেত্রেও নয়; বরং খতিব আল-বাগদাদি এবং ইবনে আবদিল বার-এর সময়ের ক্ষেত্রেও এটি সত্য। কারণ, তাঁরাও রাবির অবস্থা গভীর পর্যবেক্ষণ (سبر)-এর মাধ্যমে যাচাই করেন না, বরং পূর্ববর্তী ইমামদের বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করেন। তাহলে আমার এবং আপনার অবস্থা কী হতে পারে?• দ্বিতীয় অবস্থা: এমন কিছু বিষয় যাতে তাঁরা আমাদের থেকে স্বতন্ত্র এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের মানুষের চেয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তাঁরা এমন সব বিষয় প্রত্যক্ষ করেছেন যা পরবর্তী কারো পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। এর একটি উদাহরণ হলো: ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) ইসমাইল বিন আবি উয়াইসের নিকট তাঁর পাণ্ডুলিপিগুলো দেখার অনুরোধ করেন। তিনি সেগুলো দেখালে ইমাম বুখারি সেখান থেকে প্রয়োজনীয় হাদিস নির্বাচন করেন। ইবনে হাজার তাঁর সহিহ বুখারি-র ভূমিকায় এটি উল্লেখ করেছেন।আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম নই। আমাদের দৌড় কেবল ইসমাইল বিন আবি উয়াইস সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্যগুলো পড়া এবং হাদিসটি পর্যবেক্ষণ করা পর্যন্ত। কিন্তু ইমাম বুখারি সরাসরি তাঁর পাণ্ডুলিপিগুলো প্রত্যক্ষ করেছেন এবং সেখান থেকে বেছে বেছে হাদিস গ্রহণ করেছেন। পরবর্তী যুগের কারো জন্য এ জাতীয় সুযোগ লাভ করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৮)
فلذلك ينبغي أن يُسلَّم للأئمة وألا يُعارضوا، هذا إذا لم يختلفوا، وإذا اختلفوا نستعمل قواعد أهل العلم التي تلقينها عنهم.المقدمة السادسة:ينبغي أن يُعلم أن للمتن تأثيرًا في صحة الحديث وضعفه، فمن المتون ما تستقل بحكم شرعي جديد فيُشدد فيها ما لا يُشدد في غيرها، ومن المتون ما لا تأتي بحكم جديد فيُسهَّل فيها ما لا يُسهَّل في غيرها، ومن أمثلة ذلك ما روى البخاري عن أُبيّ بن عباس بن سهل بن سعد الساعدي عن أبيه عن جده في ذكر خيل النبي صلى الله عليه وسلم وكانت في حائط لهم يُقال لها اللخيف.وأبي بن عباس ضعيف، وتابعه أخوه عبد المهيمن وهو أضعف منه، ومع ذلك أخرجه البخاري، قال ابن حجر في (النكت): تساهل البخاري في إخراجه لأنه ليس من أحاديث الأحكام ولا يترتب عليه شيء، فتسهَّل فيه البخاري -رحمه الله تعالى-.فلذلك هذا الإسناد لو وضعته على متن آخر في الأحكام لم يصح، لكن صح في مثل هذا، فإذن ينبغي أن يُدقق في نوع المتن، فإنه ينبني على معرفة نوع المتن التشديد في الإسناد أو التسهيل.لأجل هذا تساهل العلماء في أحاديث الترغيب والترهيب، قال النووي في كتابه (الأذكار): اتفق العلماء على التساهل في أحاديث الترغيب والترهيب. وكلام الإمام أحمد والرازي وغيرهم قالوا: إذا روينا في الحلال والحرام شددنا، وفي الترغيب والترهيب تساهلنا.ووجه ذلك كما يقول ابن تيمية كما في (مجموع الفتاوى) في المجلد الثامن عشر، وذكر نحوًا من ذلك الشاطبي في كتابه (الاعتصام)، والألباني في مقدمة (صحيح الترغيب والترهيب)، قالوا: المراد التساهل في أحاديث الترغيب والترهيب التي لا ينبني عليها أحكام، فيكون الحكم ثابتًا بأدلة صحيحة، فثبت استحبابه أو وجوبه، ثم يرد في حديث آخر ذكر فضل ما تضمنه هذا الحديث، فمثل هذا يُتساهل فيه، بشروط كأن لا يكون ضعفه شديدًا، وغير ذلك.
অতএব ইমামদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া উচিত এবং তাদের বিরোধিতা করা উচিত নয়; এটি তখন প্রযোজ্য যখন তারা মতভেদ করবেন না। আর যদি তারা মতভেদ করেন, তবে আমরা ইলম অর্জনকারীদের (আহলুল ইলম) সেই নিয়মাবলি প্রয়োগ করব যা আমরা তাদের থেকে গ্রহণ করেছি।ষষ্ঠ ভূমিকা:এটি জেনে রাখা উচিত যে, হাদিসের শুদ্ধতা (صحة) এবং দুর্বলতার (ضعف) ক্ষেত্রে মূল পাঠের (متن) একটি প্রভাব রয়েছে। পাঠগুলোর (متون) মধ্যে এমন কিছু আছে যা নতুন কোনো শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র, ফলে সেগুলোতে এমন কড়াকড়ি করা হয় যা অন্যগুলোতে করা হয় না। আবার এমন কিছু পাঠ রয়েছে যা নতুন কোনো বিধান নিয়ে আসে না, ফলে সেগুলোতে এমন শিথিলতা প্রদর্শন করা হয় যা অন্যগুলোতে করা হয় না। এর একটি উদাহরণ হলো যা বুখারি উবাই ইবনে আব্বাস ইবনে সাহল ইবনে সাদ আস-সায়িদি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন—নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘোড়ার বর্ণনায়; যা তাদের একটি বাগানে ছিল এবং সেটিকে আল-লাখিফ বলা হতো।আর উবাই ইবনে আব্বাস হলেন দুর্বল (ضعيف), এবং তার ভাই আব্দুল মুহাইমিন তার সমর্থনমূলক বর্ণনা (تابعه) করেছেন অথচ সে তার চেয়েও বেশি দুর্বল। তা সত্ত্বেও বুখারি এটি উদ্ধৃত করেছেন। ইবনে হাজার ‘আন-নুকাত’ গ্রন্থে বলেছেন: বুখারি এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন কারণ এটি বিধান সম্পর্কিত হাদিসগুলোর (أحاديث الأحكام) অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এর ওপর কোনো বিধান নির্ভর করে না। তাই বুখারি—রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা—এক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করেছেন।এজন্য এই সনদটি (إسناد) যদি বিধান সংক্রান্ত অন্য কোনো পাঠের (متن) ওপর প্রয়োগ করা হতো তবে তা সঠিক (صح) হতো না। কিন্তু এই জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে তা সঠিক (صح) হয়েছে। সুতরাং পাঠের (متن) প্রকারভেদের প্রতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি দেওয়া উচিত; কেননা পাঠের (متن) ধরন জানার ওপরই সনদের (إسناد) ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বা শিথিলতা নির্ভর করে।একারণে উলামায়ে কেরাম উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদিসগুলোর (أحاديث الترغيب والترهيب) ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। ইমাম নববী তার ‘আল-আযকার’ গ্রন্থে বলেছেন: উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদিসগুলোর (أحاديث الترغيب والترهيب) ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শনের ওপর উলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। ইমাম আহমাদ, রাজি এবং অন্যদের বক্তব্য হলো: যখন আমরা হালাল ও হারাম বিষয়ে বর্ণনা করি তখন কড়াকড়ি করি, আর যখন উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শন (الترغيب والترهيب) বিষয়ে বর্ণনা করি তখন শিথিলতা অবলম্বন করি।এর কারণ সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’র আঠারোতম খণ্ডে যা বলেছেন এবং অনুরূপ কথা শাতিবি তার ‘আল-ইতিসাম’ গ্রন্থে এবং আলবানি ‘সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব’-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন; তারা বলেছেন: এর উদ্দেশ্য হলো সেই সকল উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শনমূলক হাদিসের (أحاديث الترغيب والترهيب) ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করা যেগুলোর ওপর কোনো বিধান (أحكام) নির্ভর করে না। অর্থাৎ মূল বিধানটি ইতিমধ্যে সঠিক দলিলের (أدلة صحيحة) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়ে আছে, ফলে তার মুস্তাহাব হওয়া (استحبابه) বা ওয়াজিব হওয়া (وجوبه) প্রমাণিত। এরপর অন্য একটি হাদিসে উক্ত বিষয়ের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে; এই জাতীয় ক্ষেত্রে শিথিলতা করা হয়। তবে এর কিছু শর্ত রয়েছে, যেমন তার দুর্বলতা (ضعفه) যেন অত্যধিক না হয় এবং অন্যান্য শর্তাবলি।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৯)
وسبب التساهل فيه أن فضل الله واسع، وكم من عبادة نعملها ولا نعرف فضلها وقد يكون لها من الفضائل ما الله به عليم، ففضل الله واسع، ثم لا يترتب على ذلك حلال ولا حرام، فلذلك يُسهَّل فيه ما لا يُسهَّل في غيره.ويُخطئ كثيرون ويُصححون أحاديث في الترغيب والترهيب وأصل الحكم الذي دل عليها هذا الأحاديث ليس ثابتًا بطريق صحيح، فرجع تصحيحهم لهذا الحديث إلى أن صححوه في الأحكام، فمثل هذا ينبغي أن يُشدد فيه، ومن أمثلة ذلك: حديث فضل الذكر عند دخول السوق، والحديث ضعيف ضعفه ابن عدي وغيره، لكن لو أراد رجل أن يتساهل في هذا الحديث بحجة التسهيل في أحاديث الترغيب والترهيب، فيقال: تصحيح هذا الحديث ينتج منه استحباب هذا الذكر، فرجع إلى الأحكام؛ لأن ما دل على الاستحباب أو الوجوب أو الحرمة أو الكراهة فهو راجع إلى الأحكام، فإنه لم يصح حديث في استحباب هذا الذكر، ثم جاء حديث في بيان فضله، فلو صح حديث في استحباب هذا الذكر ثم جاء حديث في بيان فضله لتُسوهل في هذا الفضل، أما وأن يُبنى الأمر على تصحيح حديث في الفضل وينتج منه القول باستحبابه فإن مثل هذا لا يجوز.وهذا أمر ينبغي أن يُتفطن إليه وأن يُعرف وأن يُدرك.المقدمة السابعة:هذا العلم العظيم يُدرك بكثرة المِرَاس والتطبيقات، ليس بالشيء النظري، فإن بعض الناس تجده مُبرزًا في دراسة علم المصطلح نظريًا، لكنه في باب التطبيق والممارسة ضعيف وقليل التجربة، فمثل هذا لا يكون ذا معرفة بالأحاديث صحةً وضعفًا.وقد رأيت بعضهم متميزًا في دراسة علم المصطلح ومتوسعًا فيه، لكنه ضعيف للغاية في معرفة الأحاديث صحيحةً أو ضعيفة، وهذا خطأ كبير، فينبغي أن يكون طالب العلم ذا مِرَاس وتجربة وتطبيقات كثيرة حتى يشتد ساعده ويقوى، فإن هذا العلم لا يُدرك إلا بكثرة الممارسة، وقد ذكر هذا الخطيب البغدادي -رحمه الله تعالى-، وابن حجر في كتابه (النكت)، وابن رجب في شرحه على (العلل)، وابن الصلاح في بعض المباحث.فإن من أكثر التخريج وحاول أن يعرف كيف العلماء حكموا بالصحة والضعف، وتدرب كثيرًا اشتدَّ ساعده وقوي في هذا العلم، لذا أوصيك بأن تجتهد في ذلك وأن تستفيد من كتب الشيخ ناصر الدين الألباني -رحمه الله تعالى-، وألا تقف عندها، بل أوصيك أن تبتدئ بها وأن تتوسع بعد ذلك، وأن تعلوا وترتفع حتى ترجع إلى أئمة وفرسان هذا العلم.
আর এতে শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শনের কারণ হলো আল্লাহর অনুগ্রহ প্রশস্ত। এমন অনেক ইবাদত আমরা করি যেগুলোর ফজিলত আমরা জানি না, অথচ সেগুলোর এমন অনেক ফজিলত থাকতে পারে যা কেবল আল্লাহই জানেন। বস্তুত আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত প্রশস্ত। অধিকন্তু, এর ফলে কোনো হালাল (حلال) বা হারাম (حرام) সাব্যস্ত হয় না। এই কারণেই এতে এমনভাবে শিথিলতা (يُسهَّل) দেখানো হয় যা অন্য ক্ষেত্রে দেখানো হয় না।অনেকে ভুল করে উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন (الترغيب والترهيب) বিষয়ক এমন সব হাদিসকে সহিহ সাব্যস্ত করেন (يُصححون), অথচ সেসব হাদিস যে মূল বিধানের প্রতি নির্দেশ করে তা সঠিক (صحيح) সূত্রের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। ফলে তাদের এই হাদিসটিকে সহিহ হিসেবে গণ্য করার (تصحيحهم) বিষয়টি শরয়ি বিধানের (আহকাম) অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। এই ধরনের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করা উচিত। এর একটি উদাহরণ হলো: বাজারে প্রবেশের সময়ের জিকিরের ফজিলত সংক্রান্ত হাদিস। হাদিসটি দুর্বল (ضعيف), ইবনে আদি এবং অন্যরা এটিকে দুর্বল বলেছেন (ضعفه)। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন (الترغيب والترهيب) বিষয়ক হাদিসে শিথিলতার অজুহাতে এই হাদিসটির ব্যাপারে শিথিলতা (يتساهل) প্রদর্শন করতে চান, তবে বলা হবে: এই হাদিসটিকে সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) ফলাফল হলো এই জিকিরটিকে মুস্তাহাব (استحباب) হিসেবে গণ্য করা, যা শরয়ি বিধানের (আহকাম) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। কারণ যা কিছু মুস্তাহাব (الاستحباب), ওয়াজিব (الوجوب), হারাম (الحرمة) কিংবা মাকরূহ (الكراهة) হওয়ার প্রমাণ দেয়, তা শরয়ি বিধানেরই অন্তর্ভুক্ত। বস্তুত এই জিকিরের মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়ে কোনো হাদিস সহিহ (يصح) হিসেবে প্রমাণিত হয়নি, বরং কেবল এর ফজিলত বর্ণনায় একটি হাদিস এসেছে। যদি এই জিকিরের মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়ে কোনো হাদিস সহিহ (يصح) হিসেবে থাকত এবং এরপর এর ফজিলত বর্ণনায় কোনো হাদিস আসত, তবে সেই ফজিলতের বর্ণনায় শিথিলতা (تُسوهل) দেখানো যেত। কিন্তু বিষয়টি যদি ফজিলত বিষয়ক কোনো হাদিসকে সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) ওপর ভিত্তি করে হয় এবং তার ফলে তা মুস্তাহাব (استحبابه) হওয়ার কথা আসে, তবে তা জায়েজ নয়।এটি এমন একটি বিষয় যা গভীরভাবে অনুধাবন করা, জানা এবং উপলব্ধি করা প্রয়োজন।সপ্তম ভূমিকা:এই মহান ইলম প্রচুর অনুশীলন এবং প্রয়োগের মাধ্যমে অর্জিত হয়, এটি কেবল কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়। কারণ অনেককে দেখা যায় যারা পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) তাত্ত্বিক আলোচনায় পারদর্শী, কিন্তু প্রয়োগ এবং অনুশীলনের ক্ষেত্রে তারা দুর্বল (ضعيف) এবং তাদের অভিজ্ঞতাও সামান্য। এই ধরনের ব্যক্তি হাদিস সহিহ (صحة) ও জইফ (ضعفا) হওয়ার ব্যাপারে প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারী হতে পারে না।আমি অনেককে দেখেছি যারা পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) অধ্যয়নে অত্যন্ত দক্ষ এবং এতে তাদের গভীর জ্ঞান রয়েছে, কিন্তু হাদিস সহিহ (صحيحة) নাকি জইফ (ضعيفة) তা নির্ণয়ে তারা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف)। এটি একটি বড় ভুল। তাই ইলম অন্বেষণকারীর উচিত প্রচুর অনুশীলন, অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োগের সাথে যুক্ত থাকা যাতে তার দক্ষতা বৃদ্ধি পায় ও মজবুত হয়। কেননা এই জ্ঞান অধিক চর্চা ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়। খতিব বাগদাদী (রহিমাহুল্লাহ), ইবনে হাজার তাঁর আন-নুকাত গ্রন্থে, ইবনে রাজাব তাঁর শরহুল ইলাল গ্রন্থে এবং ইবনে সালাহ কিছু তাত্ত্বিক আলোচনায় এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে তাখরিজ (التخريج) করবে এবং উলামায়ে কেরাম কীভাবে হাদিস সহিহ (بالصحة) বা জইফ (الضعف) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন তা জানার চেষ্টা করবে এবং প্রচুর অনুশীলন করবে, এই শাস্ত্রে তার ভিত্তি মজবুত ও শক্তিশালী হবে। তাই আমি আপনাকে এ বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করার এবং শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তবে কেবল সেখানেই থেমে থাকবেন না, বরং আপনি সেগুলো দিয়ে শুরু করবেন এবং এরপর পরিধি আরও বিস্তৃত করবেন। এভাবে আপনি জ্ঞানচর্চায় অগ্রসর হতে থাকবেন যতক্ষণ না আপনি এই ইলমের ইমাম এবং দিকপালদের মূল উৎস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১০)
بعد هذا أبتدئ بالتعليق على هذا المتن المبارك، وأسأل الله أن يغفر لابن حجر -رحمه الله تعالى-.
এর পরে আমি এই বরকতময় মতন (متن) এর ওপর টীকা প্রদান শুরু করছি এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন ইবনে হাজারকে—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—ক্ষমা করেন।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১১)
قال الحافظ ابن حجر -رحمه الله تعالى-:بسم الله الرحمن الرحيمالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَزَلْ عَلِيمًا قَدِيرًا، وَصَلَّى اللهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ الَّذِي أَرْسَلَهُ إِلَى النَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا. أَمَّا بَعْدُ:فَإِنَّ التَّصَانِيفَ فِي اصْطِلَاحِ أَهْلِ الْحَدِيثِ قَدْ كَثُرَتْ، وَبُسِطَتْ وَاخْتُصِرَتْ، فَسَأَلَنِي بَعْضُ الْإِخْوَانِ أَنْ أُلَخِّصَ لَهُمُ الْمُهِمَّ مِنْ ذَلِكَ، فَأَجَبْتُهُ إِلَى سُؤَالِهِ؛ رَجَاءَ الِانْدِرَاجِ فِي تِلْكَ الْمَسَالِكِ.
سلك الحافظ ابن حجر -رحمه الله تعالى- طريقة المناطقة في الترتيب والتقسيم، وهي طريقة السبر والتقسيم، وفعل ذلك من باب التقريب والتسهيل، ومثل هذا لا يُقال إنه مُحدث، فإن طريقة السبر والتقسيم دل عليها القرآن، وسار عليها أهل العلم قبل هؤلاء المناطقة والمتكلمين.قوله: (فَسَأَلَنِي بَعْضُ الْإِخْوَانِ) سأله جماعة منهم الزركشي الشافعي، ذكر هذا السخاوي -رحمه الله تعالى- في كتابه: (الجواهر والدرر).
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন:পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বদা সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান। সালাত ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাকে তিনি মানবজাতির নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন, এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর। অতঃপর:হাদিস বিশারদগণের পরিভাষা (اصطلاح) সংক্রান্ত কিতাবসমূহ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিস্তারিত এবং সংক্ষেপে রচিত হয়েছে। তাই আমার কোনো কোনো দ্বীনি ভাই আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাদের জন্য এই শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে সংকলন করি। সুতরাং আমি তাঁর সেই অনুরোধ গ্রহণ করেছি; এই পথে শামিল হওয়ার আশায়।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বিন্যাস ও বিভাজনের ক্ষেত্রে যুক্তিবিদদের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যা পরীক্ষা ও বিভাজন (السبر والتقسيم) পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। তিনি বিষয়টি সহজবোধ্য ও সহজতর করার উদ্দেশ্যে এটি করেছেন। আর এই ধরনের পদ্ধতিকে নতুন উদ্ভাবিত (محدث) বলা যাবে না, কেননা পরীক্ষা ও বিভাজনের এই পদ্ধতির প্রমাণ কুরআনে বিদ্যমান এবং এই যুক্তিবিদ ও কালাম শাস্ত্রবিদদের আসার অনেক পূর্ব থেকেই আলেমগণ এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছেন।তাঁর উক্তি: (আমার কোনো কোনো দ্বীনি ভাই আমাকে অনুরোধ করেছেন) তাঁকে একদল আলেম অনুরোধ করেছিলেন যাদের মধ্যে যারকাশি শাফেয়ি অন্যতম। আল্লামা সাখাভি (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) তাঁর আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার নামক কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال الحافظ ابن حجر -رحمه الله تعالى-:فَأَقُولُ: الْخَبَرُ إِمَّا أَنْ يَكُونَ لَهُ: طُرُقٌ بِلَا عَدَدٍ مُعَيَّنٍ، أَوْ مَعَ حَصْرِ بِمَا فَوْقَ الِاثْنَيْنِ، أَوْ بِهِمَا، أَوْ بِوَاحِدٍ. فَالْأَوَّلُ: الْمُتَوَاتِرُ: الْمُفِيدُ لِلْعِلْمِ الْيَقِينِيِّ بِشُرُوطِهِ.وَالثَّانِي: الْمَشْهُورُ، وَهُوَ الْمُسْتَفِيضُ عَلَى رَأْيٍ.وَالثَّالِثُ الْعَزِيزُ، وَلَيْسَ شَرْطًا لِلصَّحِيحِ خِلَافًا لِمَنْ زَعَمَهُ.وَالرَّابِعُ: الْغَرِيبُ.وَكُلُّهَا - سِوَى الْأَوَّلِ - آحَادٌ. وَفِيهَا الْمَقْبُولُ وَالْمَرْدُودُ؛ لِتَوَقُّفِ الِاسْتِدْلَالِ بِهَا عَلَى الْبَحْثِ عَنْ أَحْوَالِ رُوَاتِهَا دُونَ الْأَوَّلِ. وَقَدْ يَقَعُ فِيهَا مَا يُفِيدُ الْعِلْمَ النَّظَرِيَّ بِالْقَرَائِنِ عَلَى الْمُخْتَارِ.
ذكر ابن حجر -رحمه الله تعالى- أن وصول الحديث والخبر إلينا له طريقان، والذي ذكر -رحمه الله تعالى- لفظ الخبر، وينبغي أن يُعلم أن لفظ (الحديث) و (الخبر) و (الأثر) كلها تُطلق على الحديث المرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم؛ لذلك ألَّف المجد ابن تيمية: (منتقى الأخبار) فسمى أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم بالأخبار، وأيضًا ألَّف الطحاوي: (شرح معاني الآثار) فسمى أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم بالآثار.فالخبر يُطلق على الحديث النبوي وعلى غيره، والأثر يُطلق على الحديث النبوي وعلى غيره، وقد ذكر النووي -رحمه الله تعالى- أن طريقة المحدثين أن الخبر يُطلق على الحديث، وأن بعض الخراسيين فرَّق بين الأثر والحديث، وقال: الأثر ما يُطلق على غير النبي صلى الله عليه وسلم، أما الحديث فهو ما يُطلق على النبي صلى الله عليه وسلم، والصواب أن يُقال: إن الخبر والأثر والحديث كلها تُطلق على أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وأقواله وأفعاله وتقريراته.فإذن وصول الخبر إلينا له حالان:• الحال الأولى: أن يبلغ مبلغ التواتر.• الحال الثانية: ألا يبلغ مبلغ التواتر وهو الآحاد.
হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:আমি বলছি: সংবাদের (الخبر) সূত্রসমূহ (طرق) হয় কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা ছাড়াই হবে, অথবা দুইয়ের অধিক সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ হবে, অথবা দুটির মধ্যে, অথবা একটির মধ্যে। প্রথম প্রকারটি হলো: মুতাওয়াতির (المتواتر), যা নির্দিষ্ট শর্তাবলি সাপেক্ষে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে।দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: মাশহুর (المشهور), যা কোনো কোনো মতে মুস্তাফিদ (المستفيض)।তৃতীয় প্রকারটি হলো: আজিজ (العزيز), এটি সহিহ (الصحيح) হওয়ার জন্য কোনো শর্ত নয়, যারা একে শর্ত হিসেবে দাবি করেছেন তাদের মতের বিপরীতে।চতুর্থ প্রকারটি হলো: গারিব (الغريب)।আর প্রথমটি ছাড়া বাকি সবগুলোই হলো আহাদ (آحاد)। এগুলোর মধ্যে গ্রহণযোগ্য (المقبول) এবং বর্জনীয় (المردود) উভয় প্রকার রয়েছে; কারণ প্রথম প্রকারের বিপরীতে এগুলোর দ্বারা দলিল গ্রহণের বিষয়টি এর বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল। আর অগ্রগণ্য মতানুসারে এগুলোর মধ্যে এমনটিও থাকতে পারে যা বিভিন্ন আলামতের (القرائن) মাধ্যমে তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) প্রদান করে।
ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, হাদিস ও সংবাদ (الخبر) আমাদের নিকট পৌঁছানোর দুটি পথ রয়েছে। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সংবাদ (الخبر) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, হাদিস, সংবাদ (الخبر) এবং আসার (الأثر) শব্দগুলোর প্রত্যেকটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত বা মারফু (المرفوع) হাদিসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এজন্যই মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ 'মুনতাকাল আখবার' রচনা করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহকে সংবাদ (الأخبار) নামে অভিহিত করেছেন। একইভাবে ইমাম তহাবী 'শারহু মাআনিল আসার' রচনা করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহকে আসার (الآثار) নামে অভিহিত করেছেন।সুতরাং সংবাদ (الخبر) শব্দটি যেমন নববী হাদিসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তেমনি অন্য সংবাদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আবার আসার (الأثر) শব্দটি নববী হাদিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আবার অন্যদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি হলো সংবাদ (الخبر) শব্দটি হাদিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা। তবে খোরাসানিদের কেউ কেউ আসার (الأثر) এবং হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তাঁরা বলেছেন: আসার (الأثر) শব্দটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর হাদিস শব্দটি কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে সঠিক কথা হলো: সংবাদ (الخبر), আসার (الأثر) এবং হাদিস—এই সবগুলোই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস এবং তাঁর কথা (أقوال), কাজ (أفعال) ও মৌনসম্মতির (تقريرات) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।অতএব, আমাদের নিকট সংবাদ (الخبر) পৌঁছানোর দুটি অবস্থা রয়েছে:• প্রথম অবস্থা: তা মুতাওয়াতির (التواتر) পর্যায়ে পৌঁছাবে।• দ্বিতীয় অবস্থা: তা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছাবে না, যা হলো আহাদ (الآحاد)।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فإذن كل ما ليس متواترًا فهو آحاد، والآحاد أقسامٌ ثلاثة:1 - غريب.2 - عزيز.3 - مشهور.وأبدأ ببيان معنى المتواتر؛ لأن ما ليس متواترًا فإنه آحاد، فالمتواتر عند علماء المصطلح كما بيَّنه الحافظ في شرحه على هذا المتن وهو نزهة النظر: ما رواه جمعٌ عن جمعٍ تُحيل العادة توافقهم وتواطؤهم على الكذب، من أول السند إلى منتهاه، ويكون مستندهم الحس.فإذن يُشترط في التواتر ما يلي:• الأمر الأول: أن يكون الرواة جماعةً.• الأمر الثاني: أن تُحيل العادة توافقهم وتواطؤهم على الكذب.• الأمر الثالث: أن يكون من أول السند إلى منتهاه.• الأمر الرابع: أن يكون مستندهم الحس، بأن يقول: سمعت، أو رأيت، ونحو ذلك.والفرق بين التواطؤ والتوافق: أن التواطؤ ما كان بتعمُّد، أي لو حاول هؤلاء الجماعة أن يتفقوا على الكذب لما استطاعوا، أما التوافق: أي أن يتفقوا على الكذب بلا تواطؤ. وقد ذكر هذا المناوي في تعليقاته على (نخبة الفكر).فكل حديث جمع هذه الشروط فهو حديث متواتر، وما لم يجمع هذه الشروط فإنه آحاد، والآحاد أقسم ثلاثة:القسم الأول: الغريب.وهو أن يكون في أحد طبقات الإسناد راوٍ واحد، فلو قدر أن حديثًا يرويه خمسة عن خمسة عن واحد عن خمسة، فهو غريب.القسم الثاني: العزيز.وهو أن يكون في أقل طبقات الإسناد راويان، فلو روى خمسة عن خمسة عن اثنين عن خمسة فهو حديث عزيز.
সুতরাং যা কিছু মুতাওয়াতির (متواتر) নয়, তা-ই আহাদ (آحاد); আর আহাদ (آحاد) তিন প্রকার:1 - গরিব (غريب)।2 - আজিজ (عزيز)।3 - মাশহুর (مشهور)।আমি মুতাওয়াতির (متواتر)-এর অর্থ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করছি; কারণ যা মুতাওয়াতির (متواتر) নয় তা মূলত আহাদ (آحاد)। পরিভাষা বিশেষজ্ঞদের (علماء المصطلح) নিকট মুতাওয়াতির (متواتر)-এর সংজ্ঞা যেমনটি হাফিজ (ইবনে হাজার) এই মূল পাঠের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'নুযহাতুন নাযার'-এ বর্ণনা করেছেন তা হলো: এমন বর্ণনা যা এক বিশাল জনসমষ্টি অপর এক বিশাল জনসমষ্টি থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের সাধারণ অভ্যাসের প্রেক্ষাপটে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া বা যোগসাজশ করা (تواطؤ) অসম্ভব, যা সনদের (السند) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে এবং তাদের সংবাদের ভিত্তি হয় ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান।অতএব, তাওয়াতুর (تواتر)-এর জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলি প্রয়োজন:• প্রথম বিষয়: বর্ণনাকারীগণ একটি জামাত বা বিশাল দল হতে হবে।• দ্বিতীয় বিষয়: স্বাভাবিক অভ্যাসের দৃষ্টিতে তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া বা যোগসাজশ করা (تواطؤ) অসম্ভব হতে হবে।• তৃতীয় বিষয়: এটি সনদের (السند) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে।• চতুর্থ বিষয়: তাদের সংবাদের ভিত্তি হতে হবে ইন্দ্রিয়লব্ধ বিষয়, যেমন- "আমি শুনেছি" বা "আমি দেখেছি" ইত্যাদি বলা।'তাওয়াতু' (تواطؤ) ও 'তাওয়াফুক' (توافق)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো: 'তাওয়াতু' হয় ইচ্ছাকৃতভাবে, অর্থাৎ যদি এই জনসমষ্টি মিথ্যার ওপর একমত হতে চায় তবুও তারা তা করতে পারবে না। আর 'তাওয়াফুক' হলো কোনো প্রকার পূর্বপরিকল্পনা বা যোগসাজশ ছাড়াই মিথ্যার ওপর একমত হওয়া। আল-মুনাউয়ি 'নুখবাতুল ফিকার'-এর টীকাগ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।সুতরাং যে হাদিস এই শর্তগুলো পূরণ করবে তা মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস, আর যা এই শর্তগুলো পূরণ করবে না তা আহাদ (آحاد)। আর আহাদ (آحاد) তিন প্রকার:প্রথম প্রকার: গরিব (غريب)।আর তা হলো ইসনাদের (الإسناد) কোনো একটি স্তরে একজন মাত্র বর্ণনাকারী থাকা। সুতরাং যদি ধরে নেওয়া হয় যে, কোনো হাদিস পাঁচজন বর্ণনাকারী অপর পাঁচজন থেকে, তারা একজন থেকে এবং তারা পুনরায় পাঁচজন থেকে বর্ণনা করেন, তবে সেটি গরিব (غريب)।দ্বিতীয় প্রকার: আজিজ (عزيز)।আর তা হলো ইসনাদের (الإسناد) স্তরগুলোর মধ্যে অন্তত একটি স্তরে বর্ণনাকারী সংখ্যা দুজন হওয়া। সুতরাং যদি পাঁচজন বর্ণনাকারী অপর পাঁচজন থেকে, তারা দুজন থেকে এবং তারা পুনরায় পাঁচজন থেকে বর্ণনা করেন, তবে সেটি আজিজ (عزيز) হাদিস।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
القسم الثالث: المشهور.وهو ما كان الرواة جماعة أكثر من اثنين ثلاثة فأكثر، لكن لم تنطبق عليهم شروط المتواتر، فكل جماعة عن جماعة … إلخ ولم ينطبق عليهم شروط التواتر فهو مشهور.وينبغي أن تُعلم قاعدة مهمة في علم المصطلح وهو: أن القلِّة تغلب الكثرة. فإذا أردت أن تحكم على الحديث هل هو متواتر أو آحاد، وهل هو غريب أو عزيز أو مشهور فانظر إلى أقل طبقة من رواة الإسناد، فالعبرة بالأقل.فلو روى ألف عن ألف عن ألف عن واحد عن ألف، فيُقال: إنه غريب، لأن النظر إلى الأقل، وكذلك لو روى ألف عن ألف عن ألف عن اثنين عن ألف، فالحديث عزيز، لأنه يُنظر إلى الأقل، وكذلك لو روى ألف عن ألف عن اثنين عن واحد عن ثلاثة فهو غريب، فالنظر إلى الأقل. كما بيَّن ذلك الحافظ في (النزهة).قوله: (فَأَقُولُ: الْخَبَرُ إِمَّا أَنْ يَكُونَ لَهُ: طُرُقٌ بِلَا عَدَدٍ مُعَيَّنٍ) قوله بلا عدد معين: هذا المتواتر، وهذا هو القسم الأول، والقسم الثاني قوله: (أَوْ مَعَ حَصْرِ بِمَا فَوْقَ الِاثْنَيْنِ، أَوْ بِهِمَا، أَوْ بِوَاحِدٍ) هذا الآحاد، وأشار إلى أن الآحاد أنواع ثلاثة، فقوله: (أَوْ مَعَ حَصْرِ بِمَا فَوْقَ الِاثْنَيْنِ) هذا المشهور، وقوله: (أَوْ بِهِمَا) أي برواية اثنين، وهذا هو العزيز، وقوله: (أَوْ بِوَاحِدٍ) وهذا هو الغريب.قوله: (فَالْأَوَّلُ: الْمُتَوَاتِرُ: الْمُفِيدُ لِلْعِلْمِ الْيَقِينِيِّ بِشُرُوطِهِ) جعل المتواتر مفيدًا للعلم اليقيني بشروطه، وتقدم ذكر شروط التواتر.وينبغي أن يُعلم أن العلم نوعان:• النوع الأول: علم ضروري ويقيني، وهو الذي لا يحتاج إلى نظر ولا استدلال ولا بحث.• النوع الثاني: علم نظري، وهو الذي يحتاج إلى نظر واستدلال.فقد جعل الحافظ ابن حجر المتواتر مفيدًا العلم الضروري اليقيني، أي بلا نظر واستدلال، وفي هذا نظر -والله أعلم-؛ وذلك أنه قد يروي الحديث الواحد كثيرون ويكون مرجع الكثرة إلى رجل كذاب، أو سُراق يسرق الأحاديث فيكثر الطرق كذبًا، فلذلك لابد من نظر واستدلال، وقد نبَّه على هذا العلامة الألباني -رحمه الله تعالى- في تعليقاته على
তৃতীয় বিভাগ: প্রসিদ্ধ (مشهور)।এটি হলো এমন বিষয় যেখানে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা দুইয়ের অধিক অর্থাৎ তিন বা ততোধিক হয়, কিন্তু তাদের ওপর মুতাওয়াতির (متواتر) এর শর্তাবলি প্রয়োগ করা যায় না। সুতরাং এক দল বর্ণনাকারী যখন অপর এক দল থেকে বর্ণনা করে... ইত্যাদি, কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে মুতাওয়াতির (متواتر) হওয়ার শর্তাবলি পূরণ হয় না, তাকে প্রসিদ্ধ (مشهور) বলা হয়।পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি জেনে রাখা প্রয়োজন, তা হলো: স্বল্পতা আধিক্যের ওপর প্রাধান্য পায়। সুতরাং আপনি যখন কোনো হাদিস মুতাওয়াতির (متواتر) নাকি আহাদ (آحاد), এবং সেটি গারিব (غريب) না আজিজ (عزيز) নাকি প্রসিদ্ধ (مشهور) সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান, তখন সনদের বর্ণনাকারীদের সর্বনিম্ন স্তরের (طبقة) দিকে লক্ষ করুন। কেননা সর্বনিম্ন সংখ্যাটিই বিবেচ্য।উদাহরণস্বরূপ, যদি এক হাজার জন থেকে এক হাজার জন, তাদের থেকে এক হাজার জন, তাদের থেকে একজন এবং তার থেকে পুনরায় এক হাজার জন বর্ণনা করেন, তবে তাকে গারিব (غريب) বলা হবে; কারণ দৃষ্টি দেওয়া হয় সর্বনিম্ন স্তরের দিকে। একইভাবে যদি এক হাজার জন থেকে এক হাজার জন, তাদের থেকে এক হাজার জন, তাদের থেকে দুইজন এবং তার থেকে এক হাজার জন বর্ণনা করেন, তবে হাদিসটি আজিজ (عزيز); যেহেতু সর্বনিম্ন স্তরের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়। তদ্রূপ যদি এক হাজার জন থেকে এক হাজার জন, তাদের থেকে দুইজন, তাদের থেকে একজন এবং তার থেকে তিনজন বর্ণনা করেন, তবে সেটি গারিব (غريب), কারণ সর্বনিম্ন স্তরই ধর্তব্য। হাফেজ ইবনে হাজার 'নুজহা' গ্রন্থে এটি স্পষ্ট করেছেন।গ্রন্থকারের উক্তি: (আমি বলি: খবরের হয় কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা ছাড়াই অনেকগুলো সূত্র বা পথ থাকবে) তার উক্তি 'নির্দিষ্ট সংখ্যা ব্যতিরেকে': এটি হলো মুতাওয়াতির (متواتر) এবং এটি প্রথম বিভাগ। দ্বিতীয় বিভাগ সম্পর্কে তার উক্তি: (অথবা দুইয়ের অধিক, কিংবা দুইজন, অথবা একজনের মাঝে সীমাবদ্ধ সংখ্যায় হবে) এটি হলো আহাদ (آحاد)। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, আহাদ (آحاد) তিন প্রকার। তার উক্তি: (অথবা দুইয়ের অধিক সংখ্যার মাঝে সীমাবদ্ধ) এটি প্রসিদ্ধ (مشهور)। তার উক্তি: (অথবা দুইজনের মাধ্যমে) অর্থাৎ দুইজন বর্ণনাকারীর বর্ণনা, এটি আজিজ (عزيز)। এবং তার উক্তি: (অথবা একজনের মাধ্যমে) এটি গারিব (غريب)।গ্রন্থকারের উক্তি: (প্রথমটি হলো মুতাওয়াতির: যা তার শর্তানুসারে অকাট্য জ্ঞান (العلم اليقيني) দান করে)। তিনি মুতাওয়াতিরকে (متواتر) তার শর্তানুসারে অকাট্য জ্ঞান (العلم اليقيني) দানকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। মুতাওয়াতির (متواتر) হওয়ার শর্তাবলি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।এটি জেনে রাখা উচিত যে, জ্ঞান দুই প্রকার:• প্রথম প্রকার: স্বতঃসিদ্ধ ও অকাট্য জ্ঞান (علم ضروري ويقيني), যা কোনো চিন্তা-ভাবনা, প্রমাণ উপস্থাপন বা গবেষণার মুখাপেক্ষী নয়।• দ্বিতীয় প্রকার: তাত্ত্বিক জ্ঞান (علم نظري), যা চিন্তা-ভাবনা ও প্রমাণ উপস্থাপনের মুখাপেক্ষী।হাফেজ ইবনে হাজার মুতাওয়াতিরকে (متواتر) স্বতঃসিদ্ধ অকাট্য জ্ঞান (العلم الضروري اليقيني) দানকারী হিসেবে গণ্য করেছেন, অর্থাৎ যা কোনো চিন্তা-ভাবনা বা প্রমাণ ছাড়াই অর্জিত হয়। তবে এই মতটি পর্যালোচনার দাবি রাখে—আল্লাহই ভালো জানেন। কারণ কখনও একটি হাদিস অনেকে বর্ণনা করতে পারেন কিন্তু সেই আধিক্যের মূলে হয়তো একজন মিথ্যাবাদী (كذاب) ব্যক্তি থাকে, অথবা এমন কেউ থাকে যে হাদিস চুরি (سراق) করে কৃত্রিমভাবে সনদের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ফলে এক্ষেত্রে অবশ্যই চিন্তা-ভাবনা ও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। আল্লামা আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) তার টীকাগুলোতে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন—
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(نخبة الفكر)، وصدق -رحمه الله تعالى-، وقد أشار لهذا المعلمي في تعليقاته على كتاب (الفوائد المجموعة) للشوكاني -رحمه الله تعالى-.قوله: (وَالثَّانِي: الْمَشْهُورُ، وَهُوَ الْمُسْتَفِيضُ عَلَى رَأْيٍ) أي الذي يرويه جماعة ولم يبلغ حد التواتر، قوله: (وَهُوَ الْمُسْتَفِيضُ عَلَى رَأْيٍ) أي أن من العلماء من يُسمي المشهور مستفيضًا ومنهم من يُغاير بين المشهور والمستفيض، وبيَّن ابن حجر أن البحث في المستفيض ليس من مباحث هذا الفن، كما بيَّنه في شرحه على (نخبة الفكر)، فمنهم من يقول إن الكثرة لابد أن تكون في أول السند ومنتهاه، أي أن تكون الكثرة في السند كله ابتداء وانتهاء وفيما بينهما، فمثل هذا يُسمى مستفيضًا وما عداه فيسمى مشهورًا، وذكر أقوالًا أخر ثم قال: وهذا ليس من مباحث هذا الفن. وصدق -رحمه الله تعالى-.قوله: (وَالثَّالِثُ الْعَزِيزُ، وَلَيْسَ شَرْطًا لِلصَّحِيحِ خِلَافًا لِمَنْ زَعَمَهُ) العزيز أن يرويه اثنان كما تقدم، ومثل هذا ليس شرطًا للحديث الصحيح، وقال: (خِلَافًا لِمَنْ زَعَمَهُ) والذي زعم ذلك المعتزلة، كالجبائي وغيره، وهؤلاء لا ينبغي أن يُذكر خلافهم فخلافهم غير معتبر ولا يُحتج به في الدين كله، فكيف بعلم الحديث؟وقد نُسب هذا إلى أبي عبد الله الحاكم في كتابه (معرفة علوم الحديث)، وفي هذه النسبة نظر، فقد صحح أحاديث كثيرة برواية راوٍ واحد، وإنما أراد الحاكم -رحمه الله تعالى- أنه لا تثبت صحبة الصحابي إلا بأن يروي عنه اثنان، على تفصيل عنده، والمهم أنه لا يشترط لصحة الحديث أن يرويه اثنان، لا أبو عبد الله الحاكم ولا غيره من أهل السنة ولا أئمة هذا الشأن من أهل الحديث.قوله: (وَالرَّابِعُ: الْغَرِيبُ) وقد تقدم أن الغريب ما رواه راوٍ واحد، فإنه يُسمى غريبًا، وأؤكد أن القلة في هذا الفن تغلب الكثرة، فيُنظر إلى أقل الطبقات روايةً، وبناءً عليه يُوصف الحديث هل هو متواتر أو آحاد، ثم يُنظر إلى أي أقسام الآحاد أهو الغريب أو العزيز أو المشهور؟.ثم ينبغي أن يُعلم أن لفظ (الغريب) له معنى عند العلماء الأوائل يختلف عن معناه عند المتأخرين، وذلك أنهم إذا قالوا: "حديث غريب" أي: يريدون به أنه حديث ضعيف. ومن ذلك صنيع الترمذي -رحمه الله تعالى-، فيقول: هذا حديث غريب. أي: ضعيف.
(নুখবাতুল ফিকর), আর তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সত্য বলেছেন। আল-মুয়াল্লিমি তাঁর আশ-শাওকানি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-রচিত 'আল-ফাওয়ায়িদুল মাজমুআহ' গ্রন্থের টিকায় এ বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন।তাঁর উক্তি: (এবং দ্বিতীয়টি হলো প্রসিদ্ধ (مشهور), আর একটি মতানুসারে এটিই ব্যাপ্ত (مستفيض)) অর্থাৎ যা একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন কিন্তু তা নিরবচ্ছিন্নতার (تواتر) সীমায় পৌঁছেনি। তাঁর উক্তি: (আর একটি মতানুসারে এটিই ব্যাপ্ত (مستفيض)) অর্থাৎ কোনো কোনো আলেম 'মাশহুর'-কে 'মুস্তাফিদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন, আবার তাঁদের কেউ কেউ 'মাশহুর' ও 'মুস্তাফিদ'-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। ইবন হাজার বর্ণনা করেছেন যে, 'মুস্তাফিদ' সংক্রান্ত আলোচনা এই শাস্ত্রের মূল আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমনটি তিনি 'নুখবাতুল ফিকর'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেন যে, আধিক্য অবশ্যই সনদের শুরুতে এবং শেষে থাকতে হবে, অর্থাৎ আধিক্যটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো সনদে এবং এর মধ্যবর্তী স্তরেও থাকতে হবে; এই ধরনের হাদিসকে ব্যাপ্ত (مستفيض) বলা হয় এবং এছাড়া বাকিগুলোকে প্রসিদ্ধ (مشهور) বলা হয়। তিনি আরও কিছু অভিমত উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: এটি এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সত্য বলেছেন।তাঁর উক্তি: (তৃতীয়টি হলো শক্তিশালী (عزيز), এবং যারা একে বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়ার জন্য শর্ত মনে করে তাদের দাবি সত্য নয়)। শক্তিশালী (عزيز) হাদিস হলো যা দুজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এ ধরনের হওয়া বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের জন্য কোনো শর্ত নয়। তিনি বলেছেন: (যারা একে শর্ত মনে করে তাদের বিপরীতে)। যারা এমনটি দাবি করেছেন তারা হলেন মুতাযিলা সম্প্রদায়, যেমন আল-জুব্বায়ী এবং অন্যান্যরা। তাদের মতবিরোধ উল্লেখ করা উচিত নয়, কারণ তাদের বিরোধিতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং দ্বীনের কোনো বিষয়েই তাদের দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না; তাহলে হাদিস বিজ্ঞানে তাদের অবস্থান কোথায়?এ বিষয়টি আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস' গ্রন্থের প্রতিও নিসবত করা হয়েছে। তবে এই নিসবতের বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে, কারণ তিনি একক বর্ণনাকারীর বর্ণনায় অনেক হাদিসকে বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আল-হাকিম (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মূলত এ কথা বোঝাতে চেয়েছেন যে, কোনো সাহাবির সাহাবিয়াত বা সাহাবি হওয়ার বিষয়টি ততক্ষণ সাব্যস্ত হয় না যতক্ষণ না তাঁর থেকে দুজন বর্ণনা করেন—এটি তাঁর নিজস্ব একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ মাত্র। সারকথা হলো, হাদিস বিশুদ্ধ (صحة) হওয়ার জন্য তা দুজন থেকে বর্ণিত হওয়া শর্ত নয়, যা আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম কিংবা আহলুস সুন্নাহর অন্য কেউ বা এই শাস্ত্রের ইমামগণ তথা আহলুল হাদিসগণ কেউই শর্ত করেননি।তাঁর উক্তি: (চতুর্থটি হলো একক (غريب))। পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, যা একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তাকেই একক (غريب) বলা হয়। আমি জোর দিয়ে বলছি যে, এই শাস্ত্রে স্বল্পতার বিষয়টিই আধিক্যের ওপর প্রাধান্য পায়। সুতরাং বর্ণনার স্তরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যা যেটিতে আছে সেটির দিকে লক্ষ্য রাখা হয়। এর ওপর ভিত্তি করেই হাদিসটি বর্ণিত হয় যে এটি নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) নাকি একক খবর (آحاد)। এরপর দেখা হয় এটি 'আহাদ'-এর কোন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত—তা কি একক (غريب), নাকি শক্তিশালী (عزيز), নাকি প্রসিদ্ধ (مشهور)?এরপর এটি জানা আবশ্যক যে, পূর্ববর্তী আলেমদের নিকট 'একক' (غريب) শব্দের অর্থ পরবর্তী আলেমদের নিকট এর অর্থের চেয়ে ভিন্ন। তা হলো, তাঁরা যখন বলেন: "এটি একক হাদিস (حديث غريب)", তখন এর দ্বারা তাঁরা মূলত বোঝাতে চান যে এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস। ইমাম তিরমিজি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর কর্মপদ্ধতিও এমনই, তিনি বলেন: "এই হাদিসটি একক (غريب)" অর্থাৎ দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال الإمام أحمد: إذا رأيت أهل الحديث يقولون: فائدة أو غريب، فاتركه. فبيَّن بهذا أنه حديث ضعيف، فالعلماء إذا قالوا: فوائد أبي تمام، فوائد كذا، أي أحاديثه الضعاف، وهذا اصطلاح درج عليه العلماء الأوائل رحمهم الله رحمة واسعة-.قوله: (وَكُلُّهَا - سِوَى الْأَوَّلِ - آحَادٌ. وَفِيهَا الْمَقْبُولُ وَالْمَرْدُودُ؛ لِتَوَقُّفِ الِاسْتِدْلَالِ بِهَا عَلَى الْبَحْثِ عَنْ أَحْوَالِ رُوَاتِهَا دُونَ الْأَوَّلِ) بيَّن -رحمه الله تعالى- أن الآحاد بأقسامه الثلاثة يحتاج إلى بحث واستدلال ونظر حتى يتبيَّن أهو صحيح أو ضعيف؟، وقوله: (- سِوَى الْأَوَّلِ -) الذي هو المتواتر، وقد تقدم أن في هذا نظرًا، وأن المتواتر يحتاج إلى بحث واستدلال.ثم بيَّن أن الآحاد فيه المقبول والمردود بخلاف المتواتر، والصواب أن في جميع الأحاديث سواء كان متواترًا أو آحادًا المقبول والمردود كما تقدم بيانه.قوله: (وَقَدْ يَقَعُ فِيهَا مَا يُفِيدُ الْعِلْمَ النَّظَرِيَّ بِالْقَرَائِنِ عَلَى الْمُخْتَارِ) هذا مبحث في أحاديث الآحاد وإفادتها لغلبة الظن أو العلم،وقد ذهب جماهير أهل العلم إلى أن أحاديث الآحاد تفيد غلبة الظن، وممن اختار هذا ابن تيمية في كتابه (منهاج السنة) وكما في (مجموع الفتاوى)، لكن بيَّن ابن تيمية -رحمه الله تعالى- في بحث مفيد في (مقدمة أصول التفسير) وفي (رد الاعتراضات المصرية على الفتوى الحموية) أن حديث الآحاد إذا احتفت به القرائن فإنه يفيد العلم، وعزا هذا إلى علماء المذاهب الأربعة، بل قال أبو إسحاق الإسفراييني: الحديث الذي يرويه البخاري ومسلم يفيد العلم بالإجماع. فهذه قرينة إلى أنه يفيد العلم، مع أن أبا إسحاق الإسفراييني من المتكلمين ومع ذلك ذكر أن الحديث إذا اتفق عليه البخاري ومسلم يُفيد العلم إجماعًا.لذلك خبر الآحاد إذا احتفَّت به القرائن فإنه ينتقل من غلبة الظن إلى العلم، ومن القرائن: أن تعمل الأمة به، أو أن يرويه البخاري ومسلم، أو أن تتلقاه الأمة بالقبول، إلى غير ذلك من القرائن الكثيرة.وقد ذهب بعض العلماء كابن القيم كما في (مختصر الصواعق) أن خبر الآحاد يُفيد العلم بمجرد صحته دون أن تحتف به القرائن، ونسب هذا إلى مالك وأحمد والشافعي وجماعة، ثم قال ابن القيم: وهذا العلم يتفاوت في قوته. فكأن خلاف ابن القيم مع من يقول إنه يفيد
ইমাম আহমাদ বলেন: আপনি যখন দেখবেন হাদিস বিশারদগণ বলছেন: ‘ফায়দা’ বা ‘গরিব (غريب)’, তখন তা বর্জন করুন। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস। কেননা আলেমরা যখন বলেন: আবু তাম্মামের ফাওয়াইদ বা অমুকের ফাওয়াইদ, এর অর্থ হলো তার দুর্বল (الضعاف) হাদিসসমূহ। এটি এমন একটি পরিভাষা যা পূর্বসূরি আলেমগণ (আল্লাহ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) ব্যবহার করতেন।তাঁর উক্তি: (প্রথমটি ব্যতীত সবকটিই হলো আহাদ (آحاد)। আর সেগুলোর মধ্যে গ্রহণযোগ্য (المقبول) এবং বর্জনীয় (المردود) উভয়ই রয়েছে; কেননা প্রথমটির মতো না হয়ে এগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়টি বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল।) তিনি (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) স্পষ্ট করেছেন যে, আহাদ (الآحاد) হাদিস তার তিনটি প্রকারসহ অনুসন্ধান, দলিল গ্রহণ এবং পর্যালোচনার মুখাপেক্ষী, যতক্ষণ না এটি স্পষ্ট হয় যে তা সহিহ (صحيح) নাকি দুর্বল (ضعيف)? আর তাঁর উক্তি: (- প্রথমটি ব্যতীত -) যা হলো মুতাওয়াতির (المتواتر), ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে এতে ভিন্নমত রয়েছে এবং মুতাওয়াতির (المتواتر) হাদিসও অনুসন্ধান ও দলিল গ্রহণের মুখাপেক্ষী হয়।এরপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আহাদ (الآحاد) হাদিসের মধ্যে গ্রহণযোগ্য (المقبول) ও বর্জনীয় (المردود) হাদিস রয়েছে, যা মুতাওয়াতির (المتواتر)-এর বিপরীত। তবে সঠিক মত হলো, সকল হাদিস চাই তা মুতাওয়াতির (متواترًا) হোক বা আহাদ (آحادًا), তার মধ্যে গ্রহণযোগ্য (المقبول) ও বর্জনীয় (المردود) রয়েছে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।তাঁর উক্তি: (পছন্দনীয় মতানুসারে পরিপার্শ্বিক আলামতের ভিত্তিতে এগুলোর মধ্যে এমন হাদিসও থাকতে পারে যা গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রদান করে।) এটি আহাদ (الآحاد) হাদিস এবং তা প্রবল ধারণা নাকি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে—সেই বিষয়ক আলোচনা।অধিকাংশ আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, আহাদ (الآحاد) হাদিস প্রবল ধারণা প্রদান করে। ইবনে তাইমিয়া তাঁর ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ এবং ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’-তে এই মতটিই বেছে নিয়েছেন। তবে ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) ‘মুকাদ্দিমা উসুলুত তাফসির’ এবং ‘রাদদুল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ আলাল ফাতাওয়াল হামাবিয়্যাহ’ নামক কিতাবে এক ফলপ্রসূ আলোচনায় স্পষ্ট করেছেন যে, আহাদ (الآحاد) হাদিসের সাথে যখন পরিপার্শ্বিক আলামত যুক্ত হয়, তখন তা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। তিনি এই মতটি চার মাযহাবের আলেমদের দিকে নিসবত করেছেন। বরং আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি বলেছেন: যে হাদিস বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তা সর্বসম্মতিক্রমে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। সুতরাং এটি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানের একটি আলামত, যদিও আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি একজন ইলমে কালাম শাস্ত্রবিদ হওয়ার সত্ত্বেও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বুখারি ও মুসলিম যে হাদিসের ওপর একমত হয়েছেন, তা সর্বসম্মতিক্রমে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে।একারণে আহাদ (الآحاد) সংবাদ যখন পরিপার্শ্বিক আলামত দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়, তখন তা প্রবল ধারণা থেকে নিশ্চিত জ্ঞানের স্তরে উন্নীত হয়। আর আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে: উম্মাহর সেটির ওপর আমল করা, অথবা বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সেটি বর্ণিত হওয়া, অথবা উম্মাহর সেটি কবুল করে নেওয়া, এছাড়াও আরও অনেক আলামত রয়েছে।কিছু আলেম যেমন ইবনুল কাইয়্যিম ‘মুখতাসারুস সাওয়াইক’ গ্রন্থে মত প্রকাশ করেছেন যে, আহাদ (الآحاد) সংবাদ পরিপার্শ্বিক আলামত ছাড়াই শুধুমাত্র বিশুদ্ধ (صحته) হওয়ার কারণেই নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। তিনি এই মতটিকে ইমাম মালিক, আহমাদ, শাফিয়ি এবং একদল আলেমের দিকে নিসবত করেছেন। অতঃপর ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: এই জ্ঞানের শক্তিমত্তায় তারতম্য হতে পারে। যেন ইবনুল কাইয়্যিমের সাথে তাঁদের মতবিরোধ যারা বলেন যে এটি প্রদান করে...
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
غلبة الظن خلاف قريب من اللفظي، لأنه اعترف أن هذا الذي يفيد العلم أيضًا يتفاوت في العلم الذي يُفيده، فالأمر فيه سهل، لكن ينبغي أن يُعلم ما يلي:• الأمر الأول: أن خبر الآحاد حجة في الفقه والعمل، وقد دلت على ذلك أدلة كثيرة، وقد ذكرها الشافعي -رحمه الله تعالى- في كتابه (الرسالة)، وبسطها الخطيب البغدادي في كتابه (الفقيه والمتفقه)، ثم حكى الإجماع على أن خبر الآحاد حجة في العمل به جماعة من أهل العلم منهم ابن القاص، نقله عنه الخطيب البغدادي في كتابه (الفقيه والمتفقه) وأقره الخطيب، ومنهم ابن عبد البر في أوائل كتابه (التمهيد)، ومنهم ابن تيمية في (دفع الاعتراضات المصرية)، ومنهم ابن القيم كما في (مختصر الصواعق).• الأمر الثاني: خبر الآحاد حجة في العقائد بالإجماع، وذلك للأدلة الكثيرة على قبول خبر الآحاد في العقائد، ومنها ما روى البخاري ومسلم عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم بعث معاذًا إلى اليمن وقال: «إنك تأتي قومًا أهل كتاب، فليكن أول ما تدعوهم إليه شهادة أن لا إله إلا لله» الحديث، فقد أقام الحجة بمعاذ رضي الله عنه ومن معه، وهؤلاء لم يبلغوا حد التواتر على ضابط التواتر عند المتكلمين.أما الإجماع على أن خبر الآحاد حجة في باب العقائد فقد حكاه جماعة منهم ابن عبد البر في أوائل كتابه (التمهيد) وابن تيمية في (دفع الاعتراضات المصرية).بعد هذا: إن ذكر التواتر في علم الحديث أمرٌ قد ذكره العلماء الماضون، وممن ذكر ذلك الإمام البخاري، فقد قال في حديث: «لا صلاة لمن لم يقرأ بأم القرآن»: حديث متواتر.لكن للتواتر معنًى عند أئمة وفرسان هذا الفن يختلف عن معناه عند علماء المصطلح، فما تقدم ذكره من شروط التواتر هو قول المتكلمين لا الفقهاء ولا أئمة السلف الأولين، وأول من ذكره في كتب مصطلح الحديث الخطيب البغدادي -رحمه الله تعالى-، وإلا أصله مأخوذ من المتكلمين.لذا ليس لهذه الشروط ذكر في كلام العلماء الماضين، لا تصريحًا ولا تلميحًا، بل لهم كلام يدل على خلاف ذلك، فإن للشافعي كلامًا يدل على نقد بعض شروط التواتر، ومثله الدارمي في رده على بشر المريسي.
প্রবল ধারণার (غلبة الظن) বিষয়টি একটি শাব্দিক মতভেদের নিকটবর্তী, কারণ তিনি স্বীকার করেছেন যে যা নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে, তা যে জ্ঞান প্রদান করে তার মধ্যেও তারতম্য থাকে; তাই বিষয়টি সহজ। তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন:• প্রথম বিষয়: ফিকহ ও আমলের ক্ষেত্রে একক সূত্রীয় বর্ণনা (خبر الآحاد) একটি দলিল (حجة); এবং এর স্বপক্ষে অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। ইমাম শাফেয়ী—রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা—তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং খতিব বাগদাদি তাঁর 'আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ' গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। অতঃপর একদল আলেম আমলের ক্ষেত্রে একক সূত্রীয় বর্ণনা (خبر الآحاد) দলিল (حجة) হওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) কথা বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে ইবনুল কাস অন্যতম। খতিব বাগদাদি তাঁর 'আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ' গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং খতিব এটি সমর্থন করেছেন। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন ইবনে আবদিল বার তাঁর 'আত-তামহিদ' গ্রন্থের শুরুতে, ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'দাফউল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ' গ্রন্থে এবং ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'মুখতাসারুস সাওয়াইক' গ্রন্থে।• দ্বিতীয় বিষয়: আকিদার ক্ষেত্রেও একক সূত্রীয় বর্ণনা (خبر الآحاد) সর্বসম্মতভাবে (إجماع) দলিল (حجة)। আকিদার ক্ষেত্রে একক সূত্রীয় বর্ণনা (خبر الآحاد) গ্রহণ করার স্বপক্ষে অনেক দলিল রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো যা বুখারি ও মুসলিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ (রা.)-কে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: «তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ যারা আহলে কিতাব, তাই তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত যেন হয় এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই...» (পুরো হাদিস)। এখানে তিনি মুয়াজ (রা.) ও তাঁর সাথীদের মাধ্যমে হুজ্জত বা দলিল (حجة) কায়েম করেছেন, অথচ তাঁরা কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمين) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী মুতাওয়াতির (تواتر)-এর পর্যায়ে পৌঁছাননি।আর আকিদার ক্ষেত্রে একক সূত্রীয় বর্ণনা (خبر الآحاد) দলিল (حجة) হওয়ার ব্যাপারে যে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) রয়েছে, তা একদল আলেম বর্ণনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে আবদিল বার তাঁর 'আত-তামহিদ' গ্রন্থের শুরুতে এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'দাফউল ইতিরাদাতিল মিসরিয়্যাহ' গ্রন্থে।এরপর: হাদিসশাস্ত্রে মুতাওয়াতির (تواتر) শব্দটির উল্লেখ পূর্ববর্তী আলেমগণ করেছেন। এটি যাঁরা উল্লেখ করেছেন তাঁদের মধ্যে ইমাম বুখারি অন্যতম। তিনি একটি হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: «যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করে না তার সালাত হয় না»—এটি একটি মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস।কিন্তু এই শাস্ত্রের ইমাম ও দিকপালদের নিকট মুতাওয়াতির (تواتر) শব্দের একটি অর্থ রয়েছে যা পরিভাষাবিদদের (علماء المصطلح) সংজ্ঞায়িত অর্থের চেয়ে ভিন্ন। মুতাওয়াতির (تواتر)-এর যে শর্তাবলি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে তা কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمين) অভিমত, ফকিহ বা পূর্বসূরি সালাফ (سلف) ইমামদের নয়। হাদিস শাস্ত্রের কিতাবসমূহে সর্বপ্রথম খতিব বাগদাদি—রাحিমাহুল্লাহ তায়ালা—এটি উল্লেখ করেন, নতুবা এর মূল উৎস কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمين) থেকে গৃহীত।তাই পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্যে এই শর্তাবলির কোনো উল্লেখ নেই, স্পষ্টতও নয় বা ইঙ্গিতেও নয়। বরং তাঁদের এমন বক্তব্য রয়েছে যা এর বিপরীত প্রমাণ করে। ইমাম শাফেয়ীর এমন বক্তব্য রয়েছে যা মুতাওয়াতির (تواتر)-এর কিছু শর্তের সমালোচনা নির্দেশ করে, অনুরূপভাবে দারেমি বিশর আল-মারিসির খণ্ডন করতে গিয়ে একই অবস্থান নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والتواتر بهذه الشروط لا وجود له في الأحاديث النبوية، وقد صرَّح بهذا ابن حبان في مقدمة صحيحه، وقال: السنة كلها آحاد. وصدق -رحمه الله تعالى-، فإنه على هذه الشروط لا يوجد له مثال، وذكر مثل هذا الحازمي -رحمه الله تعالى-، وابن النجار وهو من المتكلمين الأصوليين في شرح (الكوكب)، ثم ابن الصلاح في العبارة التي نقلها الحافظ في (النزهة) قال: إلا أن يُدَّعى في حديث: «من كذب عليَّ متعمدًا»، أيضًا أن يُدعى، أي لا يُجزم به.فإذن التواتر بهذا المعنى لا وجود له في الحديث النبوي، وقد تقدم أن علم مصطلح الحديث يدرس اصطلاحات أهل العلم، وهو علم وسيلة لا غاية لمعرفة الأحاديث النبوية صحة وضعفًا، فإذن القول بالتواتر بهذه المعنى لا وجود له.• تنبيه: قد عبر العلماء الماضون بالتواتر، لكن معنى المتواتر عندهم: أي المتكاثر، فإن عباراتهم كما سبق أقرب إلى المعنى اللغوي، والتواتر يختلف، فقد يروي حديثًا ثلاثة ويكون متواترًا، وقد يرويه عشرة ولا يكون متواترًا، قال ابن تيمية: وذلك باختلاف حال الرواة. ثم شبَّه هذا ابن تيمية بالطعام، قال: من الطعام ما إن أكلت منه قليلًا شبعت كاللحم، ومن الطعام ما إن أكلت منه كثيرًا لم تشبع. ونسب هذا إلى أهل الحديث.وصدق -رحمه الله تعالى- فقد يروي حديثًا ثلاثة من الرواة فيكون متواترًا، وقد يرويه خمسة فيكون متواترًا، وقد يرويه عشرة فلا يكون متواترًا، وذلك بالنظر إلى حال الرواة، فإذن التواتر موجود في كلامهم لكن على خلاف هذه الشروط التي أحدثها المتكلمون والتي لا وجود لها في الحديث النبوي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
এই শর্তানুযায়ী মুতাওয়াতির (التواتر)-এর কোনো অস্তিত্ব হাদিসে নেই। ইমাম ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থের ভূমিকায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "সুন্নাহর পুরোটাই আহাদ (آحاد)।" তিনি সত্যই বলেছেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—কেননা এই শর্তাবলি অনুযায়ী এর কোনো উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায় না। ইমাম আল-হাযিমি এবং উসুলবিদ কালামশাস্ত্রবিদদের অন্তর্ভুক্ত ইবনুন নাজ্জারও শারহুল কাওকাব গ্রন্থে অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর ইবনুস সালাহ সেই উক্তিতে যা আল-হাফিজ নুজহাহ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন, বলেছেন: "তবে 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করল' হাদিসটির ক্ষেত্রে দাবি করা যেতে পারে," অর্থাৎ এটিও কেবল দাবি করা যেতে পারে, সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় না।সুতরাং, এই অর্থে মুতাওয়াতির (التواتر)-এর কোনো অস্তিত্ব হাদিসে নেই। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইলমে মুসতালাহুল হাদিস মূলত আলিমগণের পরিভাষাগুলো নিয়ে আলোচনা করে। এটি একটি মাধ্যম-জ্ঞানী বিদ্যা, যা হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং দুর্বলতা (ضعفا) যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এটি কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ উদ্দেশ্য নয়। অতএব, এই সংজ্ঞায় মুতাওয়াতির (التواتر) সংক্রান্ত দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।• সতর্কতা: পূর্ববর্তী আলিমগণ মুতাওয়াতির (التواتر) শব্দটির প্রয়োগ করেছেন, তবে তাঁদের নিকট মুতাওয়াতির (المتواتر)-এর অর্থ ছিল: যা প্রচুর পরিমাণে বর্ণিত (المتكاثر)। কেননা ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, তাঁদের পরিভাষাগুলো আভিধানিক অর্থের অধিকতর নিকটবর্তী। আর মুতাওয়াতির (التواتر)-এর বিষয়টি ভিন্নতর হতে পারে; কখনো একটি হাদিস তিনজন বর্ণনা করলেও সেটি মুতাওয়াতির (متواترا) হতে পারে, আবার কখনো দশজন বর্ণনা করলেও সেটি মুতাওয়াতির (متواترا) না-ও হতে পারে। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এটি মূলত বর্ণনাকারীদের অবস্থার ভিন্নতার কারণে হয়ে থাকে। অতঃপর ইবনে তাইমিয়্যাহ একে খাদ্যের সাথে তুলনা করে বলেছেন: "খাদ্যের মধ্যে এমন কিছু আছে যা সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করলেই পেট ভরে যায়, যেমন মাংস; আবার কিছু খাদ্য এমন আছে যা প্রচুর পরিমাণে খেলেও পেট ভরে না।" তিনি এই মতটি হাদিসবিশারদগণের দিকে নিসবত করেছেন।তিনি সত্যই বলেছেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—কেননা কখনো তিনজন বর্ণনাকারী একটি হাদিস বর্ণনা করলেও সেটি মুতাওয়াতির (متواترا) হতে পারে, কখনো পাঁচজন বর্ণনা করলেও মুতাওয়াতির (متواترا) হতে পারে, আবার কখনো দশজন বর্ণনা করলেও সেটি মুতাওয়াতির (متواترا) না-ও হতে পারে। এটি বর্ণনাকারীদের অবস্থার পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল। অতএব, তাঁদের বক্তব্যে মুতাওয়াতির (التواتر) পরিভাষাটি বিদ্যমান থাকলেও তা কালামশাস্ত্রবিদদের উদ্ভাবিত সেই সকল শর্তাবলির পরিপন্থী, যেগুলোর কোনো অস্তিত্ব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে নেই।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال الحافظ ابن حجر -رحمه الله تعالى-:ثُمَّ الْغَرَابَةُ: إِمَّا أَنْ تَكُونَ فِي أَصْلِ السَّنَدِ، أَوْ لَا.فَالْأَوَّلُ: الْفَرْدُ الْمُطْلَقُ. وَالثَّانِي: الْفَرْدُ النِّسْبِيُّ، وَيَقِلُّ إِطْلَاقُ الْفَرْدِيَّةِ عَلَيْهِ.وَخَبَرُ الْآحَادِ بِنَقْلِ عَدْلٍ تَامِّ الضَّبْطِ، مُتَّصِلِ السَّنَدِ، غَيْرِ مُعَلَّلٍ وَلَا شَاذٍّ: هُوَ الصَّحِيحُ لِذَاتِهِ. وَتَتَفَاوَتُ رُتَبُهُ بِتَفَاوُتِ هَذِهِ الْأَوْصَافِ.وَمِنْ ثَمَّ قُدِّمَ صَحِيحُ الْبُخَارِيِّ، ثُمَّ مُسِلِمٍ، ثُمَّ شَرْطُهُمَا.فَإِنْ خَفَّ الضَّبْطُ: فَالْحَسَنُ لِذَاتِهِ، وَبِكَثْرَةِ طُرُقِهِ يُصَحَّحُ.فَإِنْ جُمِعَا فَلِلتَّرَدُّدِ فِي النَّاقِلِ حَيْثُ التَّفَرُّدُ، وَإِلَّا فَبِاعْتِبَارِ إِسْنَادَيْنِ.وَزِيَادَةُ رَاوِيهِمَا مَقْبُولَةٌ مَا لَمْ تَقَعْ مُنَافِيَةً لِمَنْ هُوَ أَوْثَقُ.فَإِنْ خُولِفَ بِأَرْجَحَ فَالرَّاجِحُ الْمَحْفُوظُ، وَمُقَابِلُهُ الشَّاذُّ. وَمَعَ الضَّعْفِ فَالرَّاجِحُ الْمَعْرُوفُ، وَمُقَابِلُهُ الْمُنْكَرُ.وَالْفَرْدُ النِّسْبِيُّ: إِنْ وَافَقَهُ غَيْرُهُ فَهُوَ الْمُتَابِعُ، وَإِنْ وُجِدَ مَتْنٌ يُشْبِهُهُ فَهُوَ الشَّاهِدُ.وَتَتَبُّعُ الطُّرُقِ لِذَلِكَ هُوَ الِاعْتِبَارُ.
قوله: (ثُمَّ الْغَرَابَةُ: إِمَّا أَنْ تَكُونَ فِي أَصْلِ السَّنَدِ، أَوْ لَا. فَالْأَوَّلُ: الْفَرْدُ الْمُطْلَقُ. وَالثَّانِي: الْفَرْدُ النِّسْبِيُّ، وَيَقِلُّ إِطْلَاقُ الْفَرْدِيَّةِ عَلَيْهِ) مراده بهذا أن الغرابة تكون في أصل الإسناد أي: من عند الصحابي أو لا، والنظر للغرابة ليس من عند الصحابي نفسه وإنما في الرواة عن الصحابة وهم التابعون، لأن في مثل هذا البحث يُنظر لمن بعد الصحابي لا يُنظر إلى الصحابة أنفسهم، فإذا روى عن الصحابي راوٍ واحد وكان التابعي واحدًا فإنه يكون غريبًا في أصل الإسناد، فيُقال: فردٌ مطلق.أما إذا كانت الغرابة في أحد طبقات الإسناد إما عن عالم معين كشعبة، فينفرد عن شبعة واحد، إلى غير ذلك، فهذه غرابة لكن يُقال عنها: فرد نسبي.
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:অতপর অনন্যতা (غرابة): তা হয় সনদের উৎসে (أصل السند) হবে, অথবা হবে না।প্রথমটি হলো চরম একক (الفرد المطلق)। আর দ্বিতীয়টি হলো আপেক্ষিক একক (الفرد النسبي), এবং এর ওপর একক অবস্থা (فردية) শব্দটির প্রয়োগ কম হয়ে থাকে।আর আহাদ সংবাদ (خبر الآحاد) যা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل), পূর্ণ মুখস্থশক্তিসম্পন্ন (تام الضبط) রাবি কর্তৃক বর্ণিত, যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (متصل السند) এবং যা ত্রুটিযুক্ত (معلل) বা শায বা বিরল (شاذ) নয়, তাকে সহিহ লি-যাতিহি (الصحيح لذاته) বলা হয়। এই গুণাবলির তারতম্যের কারণে এর স্তরেও তারতম্য ঘটে থাকে।এই কারণেই সহিহ বুখারিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, এরপর সহিহ মুসলিমকে, এরপর তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী বর্ণিত হাদিসকে।যদি মুখস্থশক্তি বা ধারণক্ষমতা (ضبط) কিছুটা কম হয়, তবে তা হাসান লি-যাতিহি (الحسن لذاته); আর সূত্রের আধিক্যের কারণে একে সহিহ স্তরে উন্নীত করা হয়।যদি উভয় পরিভাষা একত্রে ব্যবহার করা হয়, তবে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সংশয় থাকলে তা একক বর্ণনার ক্ষেত্রে হয়, অন্যথায় তা দুটি ভিন্ন সনদের বিবেচনায় হয়।আর এই দুই প্রকারের রাবির অতিরিক্ত অংশ (زيادة) গ্রহণযোগ্য (مقبولة), যতক্ষণ না তা অধিকতর নির্ভরযোগ্য কারো বর্ণনার পরিপন্থী হয়।যদি তা অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনার বিপরীত হয়, তবে অগ্রগণ্য বর্ণনাটি হলো মাহফুজ বা সংরক্ষিত (المحفوظ) এবং এর বিপরীতটি হলো শায বা বিরল (الشاذ)। আর দুর্বলতার (الضعف) সাথে যদি বৈপরীত্য ঘটে, তবে অগ্রগণ্য বর্ণনাটি হলো মারুফ বা পরিচিত (المعروف) এবং এর বিপরীতটি হলো মুনকার বা অগ্রহণযোগ্য (المنكر)।আর আপেক্ষিক একক (الفرد النسبي) বর্ণনার ক্ষেত্রে: যদি অন্য কেউ তার অনুরূপ বর্ণনা করে তবে তাকে মুতাবি বা অনুগামী (المتابع) বলা হয়, আর যদি এর সমার্থবোধক অন্য কোনো মতন পাওয়া যায় তবে তাকে শাহিদ বা সাক্ষ্যপ্রদানকারী (الشاهد) বলা হয়।আর এর জন্য বিভিন্ন সূত্র অনুসন্ধান করাকে ইতিবার বা পর্যালোচনা (الاعتبار) বলা হয়।
তাঁর উক্তি: (অতপর অনন্যতা (غرابة): তা হয় সনদের উৎসে (أصل السند) হবে, অথবা হবে না। প্রথমটি হলো চরম একক (الفرد المطلق)। আর দ্বিতীয়টি হলো আপেক্ষিক একক (الفرد النسبي), এবং এর ওপর একক অবস্থা (فردية) শব্দটির প্রয়োগ কম হয়ে থাকে) এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো এই যে, অনন্যতা (غرابة) সনদের উৎসে (أصل السند) হয়, অর্থাৎ সাহাবির নিকট থেকে অথবা হয় না। তবে অনন্যতার (غرابة) বিষয়টি সাহাবির নিজের থেকে বিবেচনা করা হয় না, বরং সাহাবি থেকে বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় যারা হলেন তাবেয়ি। কারণ এই ধরনের গবেষণায় সাহাবির পরবর্তী স্তরের দিকে লক্ষ করা হয়, স্বয়ং সাহাবিদের দিকে নয়। সুতরাং সাহাবি থেকে যদি মাত্র একজন রাবি বর্ণনা করেন এবং তাবেয়িও একজন হন, তবে তা সনদের উৎসে অনন্যতা (غرابة) হিসেবে গণ্য হবে এবং তাকে চরম একক (الفرد المطلق) বলা হবে।পক্ষান্তরে, অনন্যতা (غرابة) যদি সনদের কোনো একটি স্তরে হয়, যেমন নির্দিষ্ট কোনো ইমাম—যেমন শু'বাহ—থেকে যদি কেবল একজন বর্ণনা করেন, তবে এটিও অনন্যতা (غرابة), কিন্তু একে আপেক্ষিক একক (الفرد النسبي) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২০)
وجعل الحافظ -رحمه الله تعالى- الغريب قسمين، إما في أصل الإسناد أو ما بعد ذلك، ففي أصل الإسناد يُقال: الفرد المطلق، وما بعد ذلك يُقال الفرد النسبي، والنسبي كأن يتفرد عن شعبة، فمثل هذا يقل أن يُطلق عليه الفردية، وإنما يُقال: غريب من حديث كذا، أما التفرُّد فيُطلق إذا كان في أصل الإسناد، والذي يظهر -والله أعلم- من صنيع أئمة أهل الحديث أنهم لا يلحظون مثل هذا، فمتى ما رأوا تفردًا وكان لذكر التفرد فائدة سواء في أصل الإسناد أو غير ذلك قالوا: لم يروه عن فلان إلا فلان. ولا يُراعون مثل هذا -والله أعلم-.قوله: (وَخَبَرُ الْآحَادِ بِنَقْلِ عَدْلٍ تَامِّ الضَّبْطِ، مُتَّصِلِ السَّنَدِ، غَيْرِ مُعَلَّلٍ وَلَا شَاذٍّ: هُوَ الصَّحِيحُ لِذَاتِهِ) بدأ في بيان الأحاديث المقبولة والمردودة، وينبغي أن يُعلم أن الأحاديث من حيث الجملة نوعان:• النوع الأول: أحاديث مقبولة، وهي أقسام أربعة:o القسم الأول: الصحيح لذاته.o القسم الثاني: الصحيح لغيره.o القسم الثالث: الحسن لذاته.o القسم الرابع: الحسن لغيره.• النوع الثاني: أحاديث مردودة، وسيأتي الكلام عليه وعن أسباب رده -إن شاء الله تعالى-.فبدأ الحافظ ببيان تعريف الصحيح لذاته، وذكر له شروطًا خمسة، ثلاثة منها شروط إيجابية وشرطان سلبيان، ومن الشروط ما يتعلق بالسند فحسب ومنها ما يتعلق بالمتن أيضًا، فالشاذ والمعلّ يتعلق بالمتن أيضًا، أما رواه عدلٌ تام الضبط فهذا يتعلق بالسند، أما الشذوذ والعلة فإنها تتعلق بالسند والمتن.قوله: (بِنَقْلِ عَدْلٍ تَامِّ الضَّبْطِ … ) الشرط الأول/ أن يكون عدلًا، والشرط الثاني/ أن يكون تام الضبط، والشرط الثالث/ أن يكون متصل الإسناد، والشرط الرابع/ ألا يكون مُعلًا، والشرط الخامس/ألا يكون شاذًا.فإذا اجتمعت هذه الشروط الخمسة في حديث فإنه يكون صحيحًا، أما إذا اختلَّ شرط من هذه الشروط فإنه ينقص في صحته أو يكون حسنًا أو ضعيفًا، بحسب النقص في الشرط.
হাফেজ (আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) একক (الغريب) হাদিসকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন—হয় তা সনদের মূল অংশে অথবা পরবর্তী কোনো পর্যায়ে। যদি সনদের মূল অংশে (সাহাবীর স্তরে) একজন বর্ণনাকারী থাকেন, তবে তাকে নিরঙ্কুশ একক (الفرد المطلق) বলা হয়। আর এর পরবর্তী স্তরে হলে তাকে আপেক্ষিক একক (الفرد النسبي) বলা হয়। আপেক্ষিক একাকীত্ব হলো যেমন কোনো হাদিস বর্ণনায় কেবল শু'বাহ থেকে কেউ একক হয়ে যাওয়া; এ জাতীয় বর্ণনার ক্ষেত্রে সাধারণত একক (الفردية) পরিভাষাটি খুব কম ব্যবহার করা হয়। বরং বলা হয়: অমুক হাদিস থেকে এটি একক (غريب)। পক্ষান্তরে একাকীত্ব (التفرُّد) শব্দটি তখন ব্যবহার করা হয় যখন তা সনদের মূল অংশে থাকে। তবে হাদিস বিশারদ ইমামগণের কর্মপদ্ধতি থেকে যা স্পষ্ট হয়—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—তাহলো তাঁরা এমন পার্থক্য সূক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করেন না। বরং যখনই তাঁরা কোনো একক বর্ণনা দেখেন এবং সেই একাকীত্ব উল্লেখ করার মাঝে কোনো উপকারিতা থাকে, চাই তা সনদের মূল অংশে হোক বা অন্য কোথাও, তাঁরা বলেন: 'অমুক থেকে অমুক ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেনি'। তাঁরা এ জাতীয় (মুতলাক ও নিসবির) পার্থক্য রক্ষা করেন না—এবং আল্লাহই ভালো জানেন।তাঁর উক্তি: (আহাদ (الآحاد) সংবাদ যা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل), পূর্ণ স্মৃতিশক্তির (تام الضبط) অধিকারী ব্যক্তি বর্ণনা করেন এবং যার সনদটি অবিচ্ছিন্ন (متصل السند), দোষমুক্ত (غير معلل) ও ত্রুটিমুক্ত (ولا شاذ); সেটিই লিযাতিহি সহিহ (الصحيح لذاته))। তিনি এখানে গ্রহণযোগ্য এবং বর্জনীয় হাদিসসমূহের বিবরণ শুরু করেছেন। আর এটি জেনে রাখা উচিত যে, হাদিস সাধারণত দুই প্রকার:• প্রথম প্রকার: গ্রহণযোগ্য হাদিস, যা চার প্রকার:o প্রথম প্রকার: লিযাতিহি সহিহ (الصحيح لذاته)।o দ্বিতীয় প্রকার: লি-গাইরিহি সহিহ (الصحيح لغيره)।o তৃতীয় প্রকার: লিযাতিহি হাসান (الحسن لذاته)।o চতুর্থ প্রকার: লি-গাইরিহি হাসান (الحسن لغيره)।• দ্বিতীয় প্রকার: বর্জনীয় হাদিস, যার আলোচনা এবং এর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণসমূহ সামনে আসবে—ইনশাআল্লাহ তায়ালা।হাফেজ লিযাতিহি সহিহ এর সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং এর জন্য পাঁচটি শর্ত উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে তিনটি ইতিবাচক শর্ত এবং দুইটি নেতিবাচক শর্ত। শর্তগুলোর মধ্যে কোনটি কেবল সনদের সাথে সংশ্লিষ্ট, আবার কোনটি মতনের (المتن) সাথেও সংশ্লিষ্ট। সুতরাং ত্রুটিপূর্ণ (الشاذ) এবং দোষযুক্ত (المعلّ) হওয়া মতনের সাথেও সংশ্লিষ্ট। পক্ষান্তরে বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া সনদের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর ত্রুটি ও দোষ সনদ ও মতন উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে।তাঁর উক্তি: (ন্যায়পরায়ণ ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তির অধিকারীর বর্ণনায় … ) প্রথম শর্ত হলো: ন্যায়পরায়ণ (عدلًا) হওয়া। দ্বিতীয় শর্ত হলো: পূর্ণ স্মৃতিশক্তির (تام الضبط) অধিকারী হওয়া। তৃতীয় শর্ত হলো: অবিচ্ছিন্ন সনদবিশিষ্ট (متصل الإسناد) হওয়া। চতুর্থ শর্ত হলো: দোষমুক্ত (مُعلًا) হওয়া। পঞ্চম শর্ত হলো: ত্রুটিমুক্ত (شاذًا) হওয়া।যদি কোনো হাদিসে এই পাঁচটি শর্ত একত্রিত হয়, তবে তা সহিহ হয়। তবে যদি এই শর্তগুলোর কোনো একটিতে ঘাটতি দেখা দেয়, তবে তার বিশুদ্ধতার মান হ্রাস পায় এবং শর্তের সেই ঘাটতি অনুযায়ী তা হাসান (حسنًا) অথবা দুর্বল (ضعيفًا) পর্যায়ে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২১)
والعدل: أي أن يكون الراوي ذا تقوى ومروءة، ومن لم يكن كذلك فإن حديثه لا يكون صحيحًا، كأن يكون مبتدعًا أو فاسقًا، فإذا كان الراوي مبتدعًا أو فاسقًا فإن حديثه ضعيف؛ لأن هذا الشرط اطَّرده حتى في الحسن، فإذا اختلَّ هذا الشرط فإن الحديث ينتقل من أن يكون صحيحًا إلى أن يكون ضعيفًا.وهذا -والله أعلم- فيه نظر، أما الفسق فإنه لا يمنع قبول الرواية ولا ترى في كلام العلماء أئمة هذا الفن أنهم ردُّوا حديثًا عن رجل لأنه فاسق بما أنه صادق ضابط، ويُؤكد ذلك ما سيأتي وهو أن العلماء الماضين كالمجمعين على قبول رواية المبتدع الذي هو أشد من الفسق، ولو كان داعيةً، كما ذكر هذا الخطيب البغدادي في كتابه (الكفاية) ونقله عن جمع من أهل العلم وأطال النقل في ذلك، ولعله يأتي بيان هذا أكثر -إن شاء الله تعالى-.فإذن اشتراط أن يكون عدلًا بألا يكون فاسقًا ومن باب أولى ألا يكون مبتدعًا فيه نظر -والله أعلم-.وتمام الضبط في ظاهر العبارة: أي أن يبلغ من الضبط أعلاه، وبالتقديرات العصرية يُقال: مائة بالمائة، لأنه لما ذكر نقص هذا الشرط قال: الحسن ما خفَّ ضبطه، وهذا فيه نظر -والله أعلم-، وسيأتي بيانه أكثر في الكلام عن الحسن، وذلك أن من الثقات ما ينقص تمام ضبطه ولا يزال ثقة، حتى إن للذهبي كلمة مفادها أن ما من ثقة إلا وقد أخطأ، وهذا في الغالب.قوله: (مُتَّصِلِ السَّنَدِ، غَيْرِ مُعَلَّلٍ وَلَا شَاذٍّ) سيأتي الكلام عن الاتصال -إن شاء الله تعالى-.لكن يُقال: معلل، أو معلول، أو مُعلّ، ألفاظ مترادفة، ولفظ (مُعل) يوجد في كلام أهل اللغة من أثبته، ومثله لفظ (معلول)، أما لفظ (مُعلل) فقد أنكره كثير من أهل اللغة، والأمر في هذا سهل -إن شاء الله تعالى.والمقصود أن علماء المصطلح جعلوا العلة أمرًا خفيًا قادحًا في صحة الحديث، ومعنى هذا أن الأمر الظاهر لا يسمى علةً، وقد استدرك على هذا النووي، والعراقي، والسخاوي، وجماعة، وبيَّنوا أن العلة تُطلق على الأمر الخفي والأمر الظاهر، أي على القادح الخفي وعلى القادح الظاهر.وكتب أئمة العلل كالإمام علي بن المديني، والرازيين، والدارقطني، دالة على أنهم يذكرون فيها ما كان مُعلًا سواء كان بعلة ظاهرة أو خفية، وقد شاع عند علماء المصطلح
‘আদল’ বা ন্যায়পরায়ণতা (عدل): অর্থাৎ বর্ণনাকারীকে তাকওয়াসম্পন্ন ও বীরত্বপূর্ণ গুণাবলি (মুরুয়াত) সম্পন্ন হতে হবে। যে এমন হবে না, তার বর্ণিত হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) হবে না; যেমন সে বিদআতি (مبتدع) বা পাপাচারী (فاسق) হওয়া। যদি বর্ণনাকারী বিদআতি (مبتدع) বা পাপাচারী (فاسق) হয়, তবে তার হাদিস দুর্বল (ضعيف); কারণ এই শর্তটি হাসান (حسن) হাদিসের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং যদি এই শর্তটি লঙ্ঘিত হয়, তবে হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح) পর্যায় থেকে বিচ্যুত হয়ে দুর্বল (ضعيف) পর্যায়ে চলে যায়।আর এটি—আল্লাহই ভালো জানেন—পর্যালোচনার (نظر) দাবি রাখে। পাপাচার (فسق) কোনো বর্ণনা (رواية) কবুল করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। এই শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্যে আপনি এমনটি পাবেন না যে, তারা কোনো ব্যক্তির হাদিস শুধু এজন্য প্রত্যাখ্যান করেছেন যে সে পাপাচারী (فاسق), যদি সে সত্যবাদী (صادق) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হয়। এর সপক্ষে প্রমাণ সামনে আসবে যে, পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরাম বিদআতি (مبتدع) ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণের ব্যাপারে প্রায় একমত ছিলেন, যদিও পাপাচারের চেয়ে বিদআত গুরুতর এবং সে বিদআতের দিকে আহ্বানকারী হলেও। যেমনটি খতিব আল-বাগদাদি তাঁর কিতাব আল-কিফায়া-তে উল্লেখ করেছেন এবং একদল আলেম থেকে তা বর্ণনা করেছেন ও দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ সামনে এর আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে।সুতরাং, ন্যায়পরায়ণ (عدل) হওয়ার জন্য পাপাচারী (فاسق) না হওয়া এবং স্বাভাবিকভাবেই বিদআতি (مبتدع) না হওয়ার যে শর্তারোপ করা হয়েছে, তাতে আপত্তির (نظر) অবকাশ রয়েছে—আল্লাহই ভালো জানেন।আর শব্দের প্রকাশ্য অর্থ অনুযায়ী ‘স্মৃতিশক্তির পূর্ণতা’ (تمام الضبط): অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি বা নির্ভুল বর্ণনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো। আধুনিক পরিমাপে যাকে বলা হয় ‘শতভাগ’। কারণ যখন তিনি এই শর্তের ঘাটতি উল্লেখ করেছেন, তখন বলেছেন: হাসান (حسن) হলো যার স্মৃতিশক্তি সামান্য শিথিল (خف ضبطه)। এতেও পর্যালোচনার (نظر) অবকাশ রয়েছে—আল্লাহই ভালো জানেন। হাসান (حسن) সম্পর্কিত আলোচনায় এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে। আর বিষয়টি হলো, নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের মধ্যেও এমন কেউ থাকেন যাদের স্মৃতিশক্তির পূর্ণতায় কিছুটা ঘাটতি থাকে, তবুও তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবেই গণ্য হন। এমনকি ইমাম যাহাবির একটি উক্তি রয়েছে যার মর্মার্থ হলো: এমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী নেই যিনি ভুল করেননি; আর এটিই সাধারণত হয়ে থাকে।তাঁর কথা: “(নিরবচ্ছিন্ন সনদ (مُتَّصِلِ السَّنَدِ), ত্রুটিমুক্ত (غَيْرِ مُعَلَّلٍ) এবং বিচ্যুতিহীন (وَلَا شَاذٍّ))”। ইনশাআল্লাহ নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে।তবে বলা হয়ে থাকে: মুআল্লাল (معلل), বা মালুল (معلول), অথবা মুআল্ল (مُعلّ)—এগুলো সমার্থবোধক শব্দ। ভাষাবিদদের মধ্যে যাঁরা ‘মুআল্ল’ (مُعلّ) শব্দটিকে সঠিক মনে করেন তাঁদের কথায় এর প্রয়োগ পাওয়া যায়, অনুরূপ ‘মালুল’ (معلول) শব্দটিও। তবে ‘মুআল্লাল’ (معلل) শব্দটিকে অনেক ভাষাবিদই অস্বীকার করেছেন। ইনশাআল্লাহ এ বিষয়টি সহজ।উদ্দেশ্য হলো, পরিভাষা বিশেষজ্ঞগণ (علماء المصطلح) ‘ইল্লত’ বা সূক্ষ্ম ত্রুটিকে (العلة) এমন এক গোপন বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে (صحة) প্রশ্নবিদ্ধ করে। এর অর্থ হলো, প্রকাশ্য কোনো বিষয়কে ‘ইল্লত’ (علة) বলা হয় না। ইমাম নববী, ইমাম ইরাকি, ইমাম সাখাভি এবং একদল আলেম এ বিষয়ে আপত্তি করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, ‘ইল্লত’ (علة) শব্দটি গোপন এবং প্রকাশ্য উভয় প্রকার বিষয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ গোপন ক্ষতিকারক ত্রুটি এবং প্রকাশ্য ক্ষতিকারক ত্রুটি—উভয় ক্ষেত্রেই।‘ইল্লাল’ বা ত্রুটি বিষয়ক ইমামগণের (أئمة العلل) গ্রন্থসমূহ, যেমন ইমাম আলী ইবনুল মাদিনি, দুই রাযি (আবু হাতিম ও আবু যুরআ) এবং ইমাম দারাকুতনির কিতাবসমূহ একথার প্রমাণ দেয় যে, তারা সেখানে ত্রুটিযুক্ত (مُعلًا) হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন, তা প্রকাশ্য ত্রুটি (علة) হোক বা গোপন। আর পরিভাষা বিশেষজ্ঞদের (علماء المصطلح) নিকট এটি প্রসিদ্ধ লাভ করেছে যে...
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২২)
أنهم يحصرون العلة في الأمر الخفي، وقد تكلم بنحو من هذا أبو عبد الله الحاكم في (معرفة علوم الحديث)، لكن قد يُقال إن كلامه من باب الغالب، لأن كلام الأولين أبعد عن الحد والضبط عن كلام من بعدهم، فإن المتأخرين معتنون غاية الاعتناء بالحدود، وإذا عرَّفوا تعريفًا فيريدون كونه جامعًا مانعًا … إلخ.فالمقصود أن العلة في كلام العلماء الماضين تُطلق على الأمر القادح سواء كان خفيًا أو ظاهرًا.قوله: (وَلَا شَاذٍّ) عرَّف الشاذ -كما سيأتي- بمخالفة الثقة لمن هو أوثق، إما ضبطًا أو كثرةً وعددًا، فإذا خالف الواحد جمعًا من الثقات أو من هم أوثق منه فيُقال عنه: شاذ.والذي يظهر -والله أعلم- أن الشذوذ أشمل من هذا، وإن كان دالًا على هذا لكنه أشمل من هذا، وكل ما دلَّ لغةً على أنه شذَّ -أي انفرد انفرادًا لا يُقبل- فإنه يُقال عنه شاذ، سواء انفرد الثقة أو الضعيف، وسيأتي بيان هذا أكثر -إن شاء الله تعالى-.ثم ليُعلم أن تعبير العلماء بلفظ (الشاذ) في كتب العلل نادر أو لا يكاد يوجد، وقد قلَّبت ما يسر الله منها ولم أجدهم عبَّروا عن حديث بأنه شاذ، وإنما يقولون: منكر، وخطأ، وغير ذلك.إذن المُعوَّل على الرواة أن يكونوا ضابطين، وأن يكونوا صادقين، فيجمعوا بين الصدق والضبط، ثم ألا يكون السند منقطعًا بينه وبين شيخه، ثم ألا يكون في المتن ما يمنع من قبوله بأن يُخالف غيره مما هو أصح منه فيستوجب رده، فإذا اجتمعت هذه الأمور في حديث فإنه يكون حديثًا صحيحًا.أما أن يكون الراوي مُسلمًا فهذا شرط بالإجماع، فإن الكافر لا تُقبل روايته، حكى الإجماع النووي -رحمه الله تعالى-.قوله: (وَتَتَفَاوَتُ رُتَبُهُ بِتَفَاوُتِ هَذِهِ الْأَوْصَافِ) صدق -رحمه الله تعالى- وهذا يدل على أن قوله: (تَامِّ الضَّبْطِ) فيه نظر، فلا يشترط التمام، وإنما يبلغ في الضبط كمالًا لكن لا يشترط أن يكون تامًا -والله أعلم-.ثم ينبغي أن يُعلم أن الضبط عند العلماء نوعان: ضبط صدر، وضبط كتاب.
তারা সূক্ষ্ম ত্রুটিকে (العلة) শুধুমাত্র অপ্রকাশ্য বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম 'মারিফাতু উলুমিল হাদিস' গ্রন্থে এই ধরণের কথা বলেছেন। তবে বলা যেতে পারে যে, তাঁর এই বক্তব্যটি অধিকাংশ ক্ষেত্রের বিচারে; কারণ পূর্ববর্তীগণের বক্তব্য সংজ্ঞা ও শৃঙ্খলার দিক থেকে পরবর্তীগণের বক্তব্যের তুলনায় অধিক শিথিল ছিল। কেননা পরবর্তীগণ (المتأخرين) সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। যখন তাঁরা কোনো সংজ্ঞা প্রদান করেন, তখন তা পূর্ণাঙ্গ ও সুসংহত (جامعًا مانعًا) করার ইচ্ছা পোষণ করেন … ইত্যাদি।উদ্দেশ্য হলো, পূর্ববর্তী আলেমগণের পরিভাষায় সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة) শব্দটি এমন ত্রুটির (القادح) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো যা দোষযুক্তকারী, চাই তা অপ্রকাশ্য হোক বা প্রকাশ্য।তাঁর বক্তব্য: (وَلَا شَاذٍّ - এবং শায নয়)। তিনি শাযের (الشاذ) সংজ্ঞা দিয়েছেন—যেমন সামনে আসবে—যে, নির্ভরযোগ্য (الثقة) রাবির তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أوثق) রাবির বিরোধিতা করা, চাই তা হেফজ বা স্মৃতিশক্তির (ضبطًا) দিক থেকে হোক অথবা সংখ্যাধিক্যের দিক থেকে। সুতরাং যখন একজন ব্যক্তি একদল নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবির অথবা তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أوثق) রাবির বিরোধিতা করে, তখন তাকে শায (شاذ) বলা হয়।আর যা প্রতীয়মান হয়—আল্লাহই ভালো জানেন—তা হলো শায হওয়া (الشذوذ) বিষয়টি এর চেয়েও ব্যাপক। যদিও এটি এর ওপর প্রমাণবহ, তবে বিষয়টি আরও ব্যাপক। আভিধানিক অর্থে যা কিছু 'শায' হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়—অর্থাৎ এমন একক বর্ণনা (انفراد) যা গ্রহণযোগ্য নয়—তাকেই শায (شاذ) বলা হবে, চাই সেই একক বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (الثقة) হোক বা দুর্বল (الضعيف) হোক। ইনশাআল্লাহ সামনে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।এরপর জেনে রাখা উচিত যে, ত্রুটি বিষয়ক (العلل) গ্রন্থগুলোতে আলেমগণের 'শায' (الشاذ) শব্দটির ব্যবহার বিরল অথবা নেই বললেই চলে। আল্লাহ তাআলা এজাতীয় যেসব কিতাব দেখার তাওফিক দিয়েছেন, আমি সেখানে তাঁদের কোনো হাদিসকে 'শায' হিসেবে অভিহিত করতে দেখিনি। বরং তাঁরা বলেন: মুনকার (منكر), ভুল (خطأ) ইত্যাদি।সুতরাং মূল নির্ভরতা হলো রাবিদের ওপর, যাতে তাঁরা প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী (ضابطين) এবং সত্যবাদী (صادقين) হন। অর্থাৎ তাঁরা সত্যবাদিতা ও প্রখর স্মৃতিশক্তির সমন্বয় ঘটাবেন। এরপর তাঁর ও তাঁর উস্তাদের মাঝে যেন সনদটি বিচ্ছিন্ন (منقطعًا) না হয়। তারপর মতন বা মূল পাঠে যেন এমন কিছু না থাকে যা তা গ্রহণ করতে বাধা দেয়, যেমন অন্য কোনো বর্ণনার বিরোধিতা করা যা এর চেয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح), যার ফলে এটি প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। যখন একটি হাদিসে এই বিষয়গুলো একত্রিত হয়, তখন সেটি একটি সহিহ (صحيحًا) হাদিস হিসেবে গণ্য হয়।আর রাবিকে মুসলমান হওয়া তো সর্বসম্মতিক্রমে (الإجماع) শর্ত; কারণ কাফিরের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম নববী—রহিমাহুল্লাহু তাআলা—এই ঐক্যমতের (الإجماع) কথা বর্ণনা করেছেন।তাঁর বক্তব্য: (وَتَتَفَاوَتُ رُتَبُهُ بِتَفَاوُتِ هَذِهِ الْأَوْصَافِ - এবং এই গুণাবলির তারতম্য অনুযায়ী এর স্তরও ভিন্ন ভিন্ন হয়)। তিনি সত্য বলেছেন—রহিমাহুল্লাহু তাআলা—আর এটি একথারই প্রমাণ যে, তাঁর 'পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন' (تَامِّ الضَّبْطِ) কথাটিতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ 'পূর্ণতা' শর্ত নয়, বরং স্মৃতিশক্তির (الضبط) ক্ষেত্রে পূর্ণতায় পৌঁছানোই যথেষ্ট, তবে তা পুরোপুরি 'তাম' বা ত্রুটিহীন হওয়া শর্ত নয়—আল্লাহই ভালো জানেন।এরপর জেনে রাখা প্রয়োজন যে, আলেমগণের নিকট স্মৃতিশক্তি বা হেফজ (الضبط) দুই প্রকার: মুখস্থ স্মৃতিশক্তি (ضبط صدر) এবং লিখিত সংরক্ষণ (ضبط كتاب)।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قوله: (وَمِنْ ثَمَّ قُدِّمَ صَحِيحُ الْبُخَارِيِّ، ثُمَّ مُسِلِمٍ، ثُمَّ شَرْطُهُمَا) أي لأن رتب الصحيح تتفاوت فقُدم صحيح البخاري على صحيح مسلم، فأحاديث البخاري صحيحة وأحاديث مسلم صحيحة، لكن أحاديث البخاري أصح منه، فما كان على شرط البخاري ومسلم مُقدم على ما كان على شرط البخاري، وما كان على شرط البخاري مُقدم على ما كان على شرط مسلم.تنبيهات:التنبيه الأول: ما اتفق عليه الشيخان مقدم على غيره من حيث الجملة علمًا أن بين المحدثين والفقهاء خلافًا في اصطلاح المتفق عليه، فيشترط المحدثون أن يكون المتن والصحابي واحدًا في الصحيحين، أما الفقهاء فلو اختلف الصحابي جعلوه متفقًا عليه بما أن المتن في البخاري ومسلم، أفاده ابن حجر في النكت. فعلى هذا حديث:" إن من البيان لسحرًا" متفق عليه عند الفقهاء بخلاف المحدثين، لأن مسلمًا أخرجه عن عمار بن ياسر، والبخاري أخرجه عن ابن عمر.التنبيه الثاني: أحاديث صحيح البخاري مُقدمة في الصحة على أحاديث صحيح مسلم من حيث الجملة لا فردًا، كما بيَّن هذا الزركشي -رحمه الله تعالى-.التنبيه الثالث: حقق ابن حجر في كتابه (النكت) وفي (النزهة) -التي هي شرح (النخبة) - أنه لا يُعرف عن أحد من أهل العلم أنه فضَّل صحيح مسلم على صحيح البخاري، وقال: يُوجد في المغاربة من فضَّل صحيح مسلم على صحيح البخاري لكن أراد الترتيب والتنسيق ولم يُرد الصحة.قوله: (ثُمَّ شَرْطُهُمَا) ينبغي أن يُعلم معنى قول العلماء: على شرط البخاري، أو شرط مسلم، أصح الأقوال أن معنى قول العلماء: "على شرط البخاري" أو "على شرط مسلم" أي بأن يكون سند الحديث على صورة سند الحديث في صحيح البخاري، أو على صورة سند الحديث في صحيح مسلم، أو على صورة سند حديث في الصحيحين، لا أن المراد رجال البخاري ومسلم.وقد حقق هذا ابن دقيق العيد، والذهبي، وابن الصلاح، وابن حجر، والسخاوي، وجمع من أهل العلم.
তাঁর উক্তি: (আর এ কারণেই সহিহ বুখারিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, এরপর মুসলিম, এরপর তাঁদের উভয়ের শর্ত)। অর্থাৎ যেহেতু সহিহ (صحيح) এর স্তরসমূহ বিভিন্ন হয়ে থাকে, তাই সহিহ বুখারিকে সহিহ মুসলিমের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বুখারির হাদিসসমূহ যেমন সহিহ (صحيح), মুসলিমের হাদিসসমূহও তেমনি সহিহ (صحيح), কিন্তু বুখারির হাদিসসমূহ মুসলিমের হাদিসের তুলনায় অধিক সহিহ (أصح)। সুতরাং যা বুখারি ও মুসলিমের শর্তের (شرط) ওপর ভিত্তি করে বর্ণিত, তা কেবল বুখারির শর্তের (شرط) ওপর বর্ণিত হাদিসের চেয়ে অগ্রগণ্য; আবার যা কেবল বুখারির শর্তের (شرط) ওপর বর্ণিত, তা কেবল মুসলিমের শর্তের (شرط) ওপর বর্ণিত হাদিসের চেয়ে অগ্রগণ্য।সতর্কতাসমূহ:প্রথম সতর্কতা: দুই ইমাম যে হাদিসের ওপর ঐক্যমত (متفق عليه) পোষণ করেছেন, তা সামগ্রিকভাবে অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য। তবে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, মুহাদ্দিস ও ফকিহগণের মধ্যে ‘মুত্তাফাকুন আলাইহি’ বা ঐক্যমত (متفق عليه) পরিভাষাটির সংজ্ঞায় মতপার্থক্য রয়েছে। মুহাদ্দিসগণ শর্তারোপ করেন যে, সহিহ বুখারি ও মুসলিম—উভয় গ্রন্থে হাদিসের মূল পাঠ বা মতন (متن) এবং সাহাবি (صحابي) এক হতে হবে। পক্ষান্তরে ফকিহগণের মতে, সাহাবি ভিন্ন হলেও যদি হাদিসের মতন (متن) বুখারি ও মুসলিমে থাকে, তবে তাঁরা সেটিকে ঐক্যমত (متفق عليه) হিসেবে গণ্য করেন। ইবনে হাজার এটি ‘আন-নুকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, "নিশ্চয়ই কোনো কোনো বক্তব্য জাদুতুল্য" হাদিসটি ফকিহগণের নিকট ঐক্যমত (متفق عليه), কিন্তু মুহাদ্দিসগণের নিকট তা নয়। কারণ ইমাম মুসলিম এটি আম্মার বিন ইয়াসির থেকে বর্ণনা করেছেন, আর ইমাম বুখারি এটি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।দ্বিতীয় সতর্কতা: সহিহ বুখারির হাদিসসমূহ সামগ্রিক বিচারে সহিহ (صحيح) হওয়ার দিক থেকে সহিহ মুসলিমের হাদিসসমূহের চেয়ে অগ্রগণ্য, ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি একক হাদিসের বিচারে নয়; যেমনটি আল্লামা যারকাশি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) স্পষ্ট করেছেন।তৃতীয় সতর্কতা: ইবনে হাজার তাঁর ‘আন-নুকাত’ এবং ‘আন-নুজহা’ (যা ‘আন-নুখবা’র ব্যাখ্যাগ্রন্থ) গ্রন্থে এটি সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণ করেছেন যে, কোনো বিজ্ঞ আলেমের পক্ষ থেকে এটি জানা যায়নি যে তিনি সহিহ মুসলিমকে সহিহ বুখারির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন: মাগরিব তথা উত্তর আফ্রিকার আলেমদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি পাওয়া যায় যারা সহিহ মুসলিমকে সহিহ বুখারির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, তবে তাঁরা এর দ্বারা বিন্যাস ও সুশৃঙ্খলতা বুঝিয়েছেন, সহিহ (صحة) হওয়ার বিষয়টি নয়।তাঁর উক্তি: (এরপর তাঁদের উভয়ের শর্ত)। উলামায়ে কেরামের উক্তি—‘বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী’ অথবা ‘মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী’—এর অর্থ জেনে নেওয়া উচিত। সবচেয়ে সঠিক মত হলো, আলেমদের ‘বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী’ বা ‘মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী’ কথাটির অর্থ হলো হাদিসের সনদ (سند) বা সূত্রটি সহিহ বুখারির হাদিসের সনদের (سند) ন্যায় হওয়া, অথবা সহিহ মুসলিমের হাদিসের সনদের (سند) ন্যায় হওয়া, অথবা উভয় সহিহ গ্রন্থের সনদের (سند) ন্যায় হওয়া; এখানে কেবল বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারী বা রিজাল (رجال) উদ্দেশ্য নয়।এটি ইবনে দাকীকুল ঈদ, আয-যাহাবি, ইবনুস সালাহ, ইবনে হাজার, আস-সাখাভি এবং একদল আলেম সুনিশ্চিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فإذن من أراد أن يقول في حديث إنه على شرط البخاري أو مسلم لابد أن ينظر في إخراجهم لرواة الحديث على الصورة التي أخرجها البخاري أو مسلم أو كليهما.ثم بعد هذا يُقال: ينبغي أن يُعلم أن البخاري ومسلمًا لم ينصا على شرط، ذكر هذا أبو الفضل بن طاهر المقدسي في شروط الأئمة الستة، وإنما غاية من يتكلم في هذا يتكلم استنباطًا، فيقول: هذا على شرط البخاري، وهذا على شرط مسلم.الذي يظهر -والله أعلم- أنه عند التدقيق لا يصح أن يُقال في حديث إنه على شرط البخاري ولا على شرط مسلم ولا على شرطهما، وذلك لما يلي:• الأمر الأول: أن العلماء ينظرون للمتن والسند، قد يرضى البخاري لهذا السند على هذا المتن، ولا يرضى لهذا السند على متنٍ آخر، كما تقدم ذكره في المقدمة، فقد روى البخاري عن أبي بن عباس بن سهل بن سعد الساعدي عن أبيه عن جده في ذكر خيل النبي صلى الله عليه وسلم في حائط لهم يُقال لها اللخيف، فهذا السند لو كان على متن آخر في الأحكام لم يقبله البخاري، فلو أن أحدًا رأى هذا السند وأورده على متن آخر في الأحكام لصار ضعيفًا، فهل يصح أن يُقال ضعيف على شرط البخاري؟ هذا لا يصح بحال.فإذن العلماء الماضون يُراعون المتن مع السند، فالبخاري قد يتساهل في إسناد بالنظر إلى المتن، ولا يتساهل في هذا الإسناد بالنظر إلى متن آخر، ولهذا أمثلة ولعله يأتي ذكر بعضها في ثنايا الشرح -إن شاء الله تعالى-.• الأمر الثاني: أن الإمام البخاري والإمام مسلمًا ينتقون، وتقدم أن البخاري انتقى من أحاديث إسماعيل بن أبي أويس، فروى ما رآه منتقًى صحيحًا، فلا يصح لمن بعدهم أن يأتي لأي حديث في إسماعيل بن أبي أويس فيرويه فيقول: على شرط البخاري، على الصورة التي أخرجها البخاري، ثم يقول إنه على شرط البخاري.فإذن الذي يظهر -والله أعلم- أنه لا يصح أن يُقال في حديث إنه على شرط البخاري أو على شرط مسلم أو على شرطهما، لما تقدم ذكره، وأؤكد إنهما لم ينصا على شروطهما نصًا ظاهرًا، وإنما أشار مسلم في المقدمة إلى أنه يروي من الطبقة الأولى والثانية وينتقي من الثالثة، بخلاف البخاري فيروي من الأولى والثانية، والبخاري لم ينص على هذا أيضًا، وإنما استُنبط من فعله استنباطًا. وما تقدم ذكره قد يُستفاد من كلام ابن حجر -رحمه الله تعالى- في كتابه (النكت على ابن الصلاح).
সুতরাং, কেউ যদি কোনো হাদিস সম্পর্কে বলতে চায় যে এটি বুখারি বা মুসলিমের শর্তানুযায়ী (شرط), তবে তাকে অবশ্যই দেখতে হবে বুখারি বা মুসলিম অথবা উভয়ে সেই হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رواة) ঠিক সেই পন্থায় গ্রহণ করেছেন কি না, যেভাবে তারা তাদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।এরপর বলা হয়: এটি জানা উচিত যে, ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম স্পষ্টভাবে কোনো শর্ত (شرط) নির্ধারণ করে যাননি। আবু আল-ফজল বিন তাহির আল-মাকদিসি তাঁর 'শুরুত আল-আইম্মাহ আস-সিত্তাহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। যারা এই বিষয়ে কথা বলেন, তারা মূলত গবেষণালব্ধ অনুমানের (استنباط) ভিত্তিতেই বলেন; তারা বলেন: এটি বুখারির শর্তানুযায়ী (شرط), আর এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী (شرط)।যা প্রতীয়মান হয়—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—সূক্ষ্মভাবে বিচার করলে কোনো হাদিস সম্পর্কে এটি বলা সঠিক নয় যে, এটি বুখারির শর্তানুযায়ী (شرط), বা মুসলিমের শর্তানুযায়ী (شرط), অথবা উভয়ের শর্তানুযায়ী (شرط); আর তা নিম্নোক্ত কারণসমূহের জন্য:• প্রথম কারণ: আলেমরা মূলপাঠ (متن) এবং সনদের (سند) দিকে লক্ষ্য করেন। ইমাম বুখারি হয়তো একটি বিশেষ মূলপাঠের (متن) জন্য একটি নির্দিষ্ট সনদকে (سند) গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন, কিন্তু অন্য কোনো মূলপাঠের (متن) ক্ষেত্রে সেই সনদটি (سند) গ্রহণ নাও করতে পারেন। যেমনটি ভূমিকায় পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম বুখারি উবাই বিন আব্বাস বিন সাহল বিন সাদ আল-সাইদি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে নবী (সা.)-এর ঘোড়া সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, যা তাঁদের একটি বাগানে ছিল এবং সেটিকে 'আল-লাখিফ' বলা হতো। এই সনদটি (سند) যদি বিধি-বিধান সংক্রান্ত অন্য কোনো মূলপাঠের (متن) ক্ষেত্রে আসত, তবে বুখারি তা গ্রহণ করতেন না। এখন কেউ যদি এই সনদটি (سند) দেখে অন্য কোনো বিধি-বিধান সংক্রান্ত মূলপাঠের (متن) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে, তবে তা দুর্বল (ضعيف) হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় এটি বলা কি সঠিক হবে যে এটি 'বুখারির শর্তানুযায়ী (شرط) দুর্বল (ضعيف)'? এটি কোনোভাবেই সঠিক হতে পারে না।সুতরাং, পূর্বসূরি আলেমরা সনদের (سند) সাথে মূলপাঠকেও (متن) গুরুত্ব দিতেন। ইমাম বুখারি হয়তো মূলপাঠের (متن) প্রেক্ষিতে কোনো সনদের (إسناد) ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, আবার অন্য কোনো মূলপাঠের (متن) প্রেক্ষিতে সেই সনদের (إسناد) ব্যাপারে শিথিলতা দেখাননি। এর অনেক উদাহরণ রয়েছে এবং সম্ভবত মূল ব্যাখ্যার ভেতরে এর কিছু অংশ আলোচিত হবে—ইনশাআল্লাহ তাআলা।• দ্বিতীয় কারণ: ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম বর্ণনাসমূহ নির্বাচন করতেন। পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, ইমাম বুখারি ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস-এর হাদিসসমূহ থেকে বাছাই করেছেন এবং যেগুলোকে তিনি মনোনীত সঠিক (صحيح) মনে করেছেন সেগুলোই বর্ণনা করেছেন। সুতরাং পরবর্তী কারো জন্য এটি সঠিক নয় যে, ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস-এর যেকোনো হাদিস এনে বর্ণনা করে বলা যে, এটি বুখারির শর্তানুযায়ী (شرط), ঠিক সেই পদ্ধতিতে যেভাবে বুখারি বর্ণনা করেছেন। তারপর এটি দাবি করা যে এটি বুখারির শর্তানুযায়ী (شرط)।অতএব যা প্রতীয়মান হয়—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—ইতোপূর্বে আলোচিত কারণগুলোর প্রেক্ষিতে কোনো হাদিসকে বুখারির শর্তানুযায়ী (شرط) বা মুসলিমের শর্তানুযায়ী (شرط) অথবা উভয়ের শর্তানুযায়ী (شرط) বলা সঠিক নয়। আমি পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে বলছি যে, তাঁরা উভয়ে স্পষ্টভাবে তাঁদের শর্তাবলি (شرط) নির্দিষ্ট করে যাননি। তবে ইমাম মুসলিম তাঁর মুকাদ্দিমায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের (الطبقة) বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করেন এবং তৃতীয় স্তর (الطبقة) থেকে নির্বাচন করেন। ইমাম বুখারির বিষয়টি ভিন্ন, তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর (الطبقة) থেকে বর্ণনা করেন। তবে বুখারিও এটি স্পষ্টভাবে বলেননি, বরং তাঁর কর্মপদ্ধতি থেকে এটি গবেষণালব্ধ অনুমানের (استنباط) মাধ্যমে বের করা হয়েছে। উপরে যা কিছু আলোচিত হয়েছে তা ইবনে হাজার (রহ.)-এর 'আন-নুকাত আলা ইবনিস সালাহ' গ্রন্থ থেকেও অনুধাবন করা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قوله: (فَإِنْ خَفَّ الضَّبْطُ: فَالْحَسَنُ لِذَاتِهِ) جعل الفرق بين الصحيح لذاته والحسن لذاته خِفَّة الضبط، قد ذكر الذهبي في كتابه (الموقظة) قال: أنا على إياس أن يُوجد ضابط للحديث الحسن. أي يقول: أنا على يأس أن يُذكر للحديث الحسن ضابط، فظن بعضهم أن الحافظ ابن حجر لما قال: فإن خفَّ ضبطه فهو الحديث الحسن، أنه قد أتى بالضابط، وهذا فيه نظر، وقد بيَّن هذا الصنعاني في كتابه (نتائج الأفكار)، فقال -رحمه الله تعالى-: وما ضابط خفة الضبط؟فقد سبق أن الأحاديث الصحيحة يتفاوت رواته في ضبطه، ومن باب التقريب: من كان حفظه مائة بالمائة، يُقال صحيح، ومن كان حفظه تسعين بالمائة يُقال صحيح، ومن كان حفظه ثمانين بالمائة يُقال صحيح، ومن حفظه ثمانون بالمائة بالنسبة إلى مائة بالمائة قد خفَّ ضبطه، ومع ذلك يُقال صحيح، فإذن ما ضابط الخفة التي تجعل الحديث حسنًا؟بهذا يُعلم -والله أعلم- أنه ليس للحديث الحسن ضابطٌ يُجزم به، فلذا ينبغي ألا يُشدد في ضابط الحديث الحسن، والعلماء الأوائل كانوا يُدخلون الحديث الحسن في الحديث الصحيح، وقد ذكر ابن تيمية الإجماع على ذلك، قال: حتى أتى الترمذي وقسَّم الحديث إلى أقسام ثلاثة، نقله عنه السخاوي في كتابه (فتح المغيث).فكانت القسمة عند العلماء الأوائل صحيحًا وضعيفًا، فكل ما ليس ضعيفًا فهو صحيح، ويدخل في ذلك الحسن، وهذا أسهل وإن كان قد يقول عالم: هذا حديث حسن. ويُشير إلى أنه في أنزل مراتب الضبط، أي أنزل مراتب الصحة، لكن الحسن لا يخرج عن كونه صحيحًا.وتقدم ذكر بعض المسائل في الحديث الصحيح، أما مسائل الحديث الحسن فإن هناك عدة مسائل وقد تقدم ذكر بعضها في ثنايا الشرح، لكن من المسائل:• المسألة الأولى: أن العلماء الأولين يُدخلون الحديث الحسن في الحديث الصحيح، حكى هذا ابن تيمية إجماعًا فيما نقله السخاوي في كتابه (فتح المغيث)، فلذلك التقسيم عندهم ما بين صحيح وضعيف كما تقدم بيانه، وهذا أدق من التقسيم الثلاثي لما تقدم ذكره من أنه ليس هناك ضابط دقيق للحديث الحسن.• المسألة الثانية: الذي قسَّم الحديث من حيث القبول إلى حديث صحيح وحسن وضعيف هو الترمذي -رحمه الله تعالى-، فهو الذي اشتهر عنه تقسيم الحديث إلى
তাঁর উক্তি: (যদি ধারণক্ষমতার শিথিলতা থাকে, তবে তা স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته)): তিনি স্বকীয়ভাবে সহিহ (الصحيح لذاته) এবং স্বকীয়ভাবে হাসান (الحسن لذاته)-এর মধ্যে পার্থক্য হিসেবে ধারণক্ষমতার শিথিলতাকে (خفة الضبط) নির্ধারণ করেছেন। ইমাম যাহাবি তাঁর ‘আল-মুওকিজাহ’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: “আমি হাসান হাদিসের (الحديث الحسن) কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড (ضابط) খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ।” অর্থাৎ তিনি বলছেন: হাসান হাদিসের (الحديث الحسن) জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড (ضابط) উল্লেখ করার ব্যাপারে আমি নিরাশ। তাই কেউ কেউ মনে করেছেন যে, হাফিজ ইবনে হাজার যখন বলেছেন—যার ধারণক্ষমতায় শিথিলতা রয়েছে সেটিই হাসান হাদিস—তখন তিনি সম্ভবত একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড (ضابط) নিয়ে এসেছেন। তবে এ বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। ইমাম সানআনি তাঁর ‘নাতাইজুুল আফকার’ কিতাবে এটি স্পষ্ট করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ধারণক্ষমতার শিথিলতার (خفة الضبط) সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড (ضابط) কী?
ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারীদের ধারণক্ষমতার (ضبط) ক্ষেত্রেও তারতম্য হয়ে থাকে। বোঝানোর সুবিধার্থে বলা যায়: যার স্মৃতিশক্তি বা ধারণক্ষমতা (ضبط) ১০০%, তাকে সহিহ (صحيح) বলা হয়। যার ধারণক্ষমতা ৯০%, তাকেও সহিহ (صحيح) বলা হয়। আবার যার ধারণক্ষমতা ৮০%, তাকেও সহিহ (صحيح) বলা হয়। এখন ১০০%-এর তুলনায় যার ধারণক্ষমতা ৮০%, তার ধারণক্ষমতায় তো কিছুটা শিথিলতা (خف ضبطه) এসেছে। তা সত্ত্বেও তাকে সহিহ (صحيح) বলা হচ্ছে। তাহলে সেই শিথিলতার (خفة) মানদণ্ড কী, যা একটি হাদিসকে হাসান (حسن) করে দেয়?
এ থেকে বোঝা যায়—আল্লাহই ভালো জানেন—হাসান হাদিসের (الحديث الحسن) এমন কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড (ضابط) নেই যার ওপর অকাট্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। তাই হাসান হাদিসের (الحديث الحسن) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে খুব বেশি কঠোরতা করা উচিত নয়। পূর্ববর্তী উলামাগণ হাসান হাদিসকে (الحديث الحسن) সহিহ হাদিসের (الحديث الصحيح) অন্তর্ভুক্ত করতেন। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এ ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: ইমাম তিরমিজি এসে হাদিসকে তিন ভাগে বিভক্ত করার আগ পর্যন্ত এটিই ছিল নিয়ম। সাখাবি তাঁর ‘ফাতহুল মুগিস’ গ্রন্থে ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
সুতরাং পূর্ববর্তী উলামাদের নিকট বিভাজন ছিল সহিহ (صحيح) এবং দুর্বল (ضعيف)। যা দুর্বল নয়, তা-ই সহিহ; আর হাসান এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পদ্ধতিটিই বেশি সহজ, যদিও কোনো আলেম বলতে পারেন: “এটি হাসান (حسن) হাদিস।” এর মাধ্যমে তিনি হয়তো ইঙ্গিত করেন যে, এটি ধারণক্ষমতার (ضبط) সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে, অর্থাৎ সহিহ হওয়ার সর্বনিম্ন পর্যায়ে। তবে হাসান (حسن) শেষ পর্যন্ত সহিহ হওয়ার গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায় না।
সহিহ হাদিস সংক্রান্ত কিছু মাসআলা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। হাসান হাদিসের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু মাসআলা রয়েছে এবং আলোচনার মাঝখানে কিছু মাসআলা চলেও এসেছে। তবে মাসআলাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• প্রথম মাসআলা: পূর্ববর্তী উলামাগণ হাসান হাদিসকে (الحديث الحسن) সহিহ হাদিসের (الحديث الصحيح) অন্তর্ভুক্ত করতেন। হাফিজ সাখাবি তাঁর ‘ফাতহুল মুগিস’ গ্রন্থে ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماعًا) বর্ণনা করেছেন। তাই তাদের নিকট বিভাজনটি ছিল সহিহ (صحيح) ও দুর্বলের (ضعيف) মধ্যে, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের তিন প্রকারের বিভাজনের চেয়ে এটিই বেশি সূক্ষ্ম, কারণ হাসান হাদিসের (الحديث الحسن) কোনো নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা (ضابط) নেই।
• দ্বিতীয় মাসআলা: গ্রহণযোগ্যতার বিচারে হাদিসকে সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف) এই তিন ভাগে যিনি বিভক্ত করেছেন তিনি হলেন ইমাম তিরমিজি (রহিমাহুল্লাহ)। তাঁর মাধ্যমেই হাদিসকে এভাবে ভাগ করার বিষয়টি প্রসিদ্ধি লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
هذه الأقسام الثلاثة، وأراد بها من جهة الصحة والرد، كما بيَّن هذا شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى-، لذا قال: وأول من أفرد الحديث الحسن هو الترمذي.• المسألة الثالثة: يوجد في كلام العلماء الأولين إطلاق الحسن، ويريدون به معاني عدة، إما حُسن المتن أو حُسن ألفاظه أو غرابة المتن، لذا قال شعبة: من حُسنها فررت … إلى غير ذلك من المعاني، وقد نقل هذا ابن حجر -رحمه الله تعالى- في كتابه (النكت).• المسألة الرابعة: قال الإمام أحمد -رحمه الله تعالى-: الحديث الضعيف أحب إليَّ من الرأي. لا يريد الإمام أحمد -رحمه الله تعالى- الحديث الضعيف الذي يُقابل الصحيح -أي المردود- وذلك لأن العلماء مجمعون على أن الحديث الضعيف الذي يُرادف المردود والذي يُقابل الصحيح لا يُحتج به في الأحكام، حكى الإجماع ابن تيمية كما في (مجموع الفتاوى)، وإنما مراد الإمام أحمد: الحسن لغيره، أي الذي صار مقبولًا بشواهده، فإذا نظرت إليه من جهة ذاته صار ضعيفًا، وإذا نظرت إليه من جهة شواهده صار مقبولًا، أي حسنًا لغيره، وقد بيَّن هذا الإمام ابن تيمية كما في (مجموع الفتاوى) وابن القيم في (أعلام الموقعين) وابن رجب في شرحه على (العلل)، وذكر نحوًا من ذلك الشاطبي في كتابه (الاعتصام).فإذن قول الإمام أحمد: "الحديث الضعيف أحب إليَّ من الرأي" أي الحديث الذي ينجبر، أي الحسن لغيره، لذا قال ابن تيمية: وهو معنى قول الترمذي في الحديث الحسن: ما يُروى من غير وجه، وألا يكون شاذًا ولا مُعللًا. أي الذي يتقوى بأكثر من طريق وهو الحسن لغيره.• المسألة الخامسة: أؤكد أنه لا ضابط دقيق للحديث الحسن، وأن قول الحافظ ابن حجر: إن خفَّ ضبطه. ليس ضابطًا دقيقًا في التفريق بين الحديث الحسن من الحديث الضعيف.قوله: (وَبِكَثْرَةِ طُرُقِهِ يُصَحَّحُ) يدل هذا على أن الحديث يتقوَّى بمجموع طرقه، وسيأتي بحث هذا -إن شاء الله تعالى-، لكن تقوية الحديث بمجموع طرقه بأن يُقوى الحديث الضعيف إلى الحسن، والحسن إلى الصحيح، هذا مجمع عليه، حكى الإجماع ابن تيمية -رحمه الله تعالى- كما في كتابه (تلخيص الاستغاثة)، وأيضًا حكى الإجماع الألباني -رحمه الله تعالى- في (رسالة في تحريم آلات اللهو والطرب)، وقد نص على هذا الإمام
এই তিনটি প্রকারের মাধ্যমে তিনি বিশুদ্ধতা (صحة) এবং প্রত্যাখ্যানযোগ্যতার (رد) দিকটি বুঝাতে চেয়েছেন, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) ব্যাখ্যা করেছেন; এই কারণেই তিনি বলেছেন: সর্বপ্রথম যিনি হাসান (حسن) হাদিসকে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করেছেন তিনি হলেন তিরমিযী।• তৃতীয় মাসআলা: পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্যে হাসান (حسن) শব্দের প্রয়োগ পাওয়া যায়, এবং তাঁরা এর দ্বারা বিভিন্ন অর্থ উদ্দেশ্য নিতেন—হয়তো মতনের (متن) সৌন্দর্য, অথবা এর শব্দাবলির সৌন্দর্য, কিংবা মতনের (متن) দুর্লভতা (غرابة)। এই কারণেই শু'বাহ বলেছেন: "এর সৌন্দর্যের কারণেই আমি পলায়ন করেছি …" আরও অন্যান্য অর্থ। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) তাঁর কিতাব ‘আন-নুকাাত’-এ এটি উদ্ধৃত করেছেন।• চতুর্থ মাসআলা: ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: "দুর্বল (ضعيف) হাদিস আমার কাছে ব্যক্তিগত মতের চেয়ে অধিক প্রিয়।" ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এর দ্বারা সেই দুর্বল (ضعيف) হাদিস বুঝাতে চাননি যা সহিহ (صحيح) এর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়—অর্থাৎ যা প্রত্যাখ্যাত (مردود)। কেননা আলেমগণ এই বিষয়ে একমত (إجماع) যে, যে দুর্বল (ضعيف) হাদিস প্রত্যাখ্যাত (مردود) হওয়ার সমার্থক এবং সহিহ (صحيح) এর বিপরীত, তা বিধানের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে গ্রহণীয় (لا يُحتج به) নয়। ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে এই ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন। বরং ইমাম আহমাদের উদ্দেশ্য হলো: লি-গাইরিহি হাসান (الحسن لغيره), অর্থাৎ যা তার শাহেদ বা সাক্ষীর (شواهد) মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য (مقبول) স্তরে উন্নীত হয়েছে। সুতরাং আপনি যদি সেটিকে তার নিজস্ব সত্তার দিক থেকে দেখেন তবে তা দুর্বল (ضعيف) হিসেবে গণ্য হয়, আর যদি তার শাহেদ বা সাক্ষীগুলোর (شواهد) দিক থেকে দেখেন তবে তা গ্রহণযোগ্য (مقبول) অর্থাৎ লি-গাইরিহি হাসান (حسن لغيره) হিসেবে গণ্য হয়। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে, ইবনুল কায়্যিম ‘আলামুল মুওয়াক্কিয়ীন’ গ্রন্থে এবং ইবনে রাজাব ‘আল-ইলাল’-এর ব্যাখ্যায় এটি স্পষ্ট করেছেন। ইমাম শাতবিও তাঁর ‘আল-ইতিসাম’ গ্রন্থে অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন।সুতরাং ইমাম আহমাদের উক্তি: "দুর্বল (ضعيف) হাদিস আমার কাছে ব্যক্তিগত মতের চেয়ে অধিক প্রিয়"—এর অর্থ হলো সেই হাদিস যা জবর বা পূরণযোগ্য, অর্থাৎ লি-গাইরিহি হাসান (الحسن لغيره)। এই কারণেই ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: হাসান (حسن) হাদিস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযীর সংজ্ঞার অর্থও এটাই—যা একাধিক সূত্র থেকে বর্ণিত হয় এবং যা শায (شاذ) বা দোষযুক্ত (مُعلل) নয়। অর্থাৎ যা একাধিক পথের (طريق) মাধ্যমে শক্তিশালী হয় এবং তা হলো লি-গাইরিহি হাসান (الحسن لغيره)।• পঞ্চম মাসআলা: আমি জোর দিয়ে বলছি যে, হাসান (حسن) হাদিসের জন্য কোনো সূক্ষ্ম মানদণ্ড (ضابط) নেই। হাফেজ ইবনে হাজারের উক্তি—"যার মুখস্থ শক্তি বা হিফযের (ضبط) সামান্য ঘাটতি রয়েছে"—হাসান (حسن) হাদিসকে দুর্বল (ضعيف) হাদিস থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে কোনো সূক্ষ্ম মানদণ্ড (ضابط) নয়।তাঁর বক্তব্য: "এবং অধিক সূত্রের (طرق) কারণে তা সহিহ (يصحح) স্তরে উন্নীত হয়"—এটি প্রমাণ করে যে, হাদিস তার সকল সূত্রের (طرق) সমষ্টির মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। ইনশাআল্লাহ তায়ালা সামনে এই বিষয়ে আলোচনা আসবে। তবে সূত্রের সমষ্টির মাধ্যমে হাদিস শক্তিশালী হওয়া—অর্থাৎ দুর্বল (ضعيف) হাদিস হাসান (حسن) স্তরে এবং হাসান (حسن) হাদিস সহিহ (صحيح) স্তরে উন্নীত হওয়া—একটি সর্বসম্মত (مجمع عليه) বিষয়। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) তাঁর ‘তালখিসুল ইস্তিগাসা’ গ্রন্থে এই ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও আলবানী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) ‘রিসালাতু ফি তাহরিমি আলাতিল লাহওয়ি ওয়াত তারাব’ গ্রন্থে এই ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম...
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أحمد -رحمه الله تعالى-، أي نصَّ على أن الحديث يتقوى بمجموع طرقه، ويدل عليه القرآن، قال ابن تيمية كما في (مجموع الفتاوى): قال تعالى: {أَنْ تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى} [البقرة: 282] قال: هذا دليل على أن الحديث يتقوى بمجموع طرقه، وسيأتي البحث في هذا أكثر -إن شاء الله تعالى-.قوله: (فَإِنْ جُمِعَا فَلِلتَّرَدُّدِ فِي النَّاقِلِ حَيْثُ التَّفَرُّدُ، وَإِلَّا فَبِاعْتِبَارِ إِسْنَادَيْنِ) فقوله: (فَإِنْ جُمِعَا) أي إذا قيل في حديث: حسنٌ صحيح. يقول الحافظ هذا له حالان:• الحال الأولى: إما ألا يكون له إلا طريق واحد فيكون الجمع على وجه التردد، بحيث إن الناقد متردد هل هو حديث صحيح أو حديث حسن.• الحال الثانية: أن يكون له طريقان، فيكون أحد الطريقين حسنًا والآخر صحيحًا، هذا ما ذكره الحافظ، وهذا فيه نظر -والله أعلم- فإن صنيع العلماء على خلاف ذلك، لذا أكثر ما يقول فيه الترمذي: حديث حسن صحيح. فهو من أصح الصحيح، وهو ما اتفق عليه الشيخان، ذكر هذا ابن رجب -رحمه الله تعالى- في شرحه على (العلل)، وابن حجر في كتابه (النكت).فلذا قول الترمذي: حسنٌ صحيح. هو إشارة إلى أصح الصحيح في الغالب.• تنبيه: أكثر من يستعمل هذه الألفاظ الترمذي -رحمه الله تعالى- في جامعه، وقد عرَّف منها شيئًا واحدًا وهو الحسن، فذكر فيه ثلاثة شروط، قال: أن يُروى من غير وجه، وألا يكون شاذًا ولا مُعللًا، أما الغريب فصنيع العلماء على أنه بمعنى ضعيف كما تقدم.أما قول: حسن صحيح. فاستقراء ابن رجب وابن حجر أنه أصح الصحيح كما تقدم ذكره، أما قوله: لا يُروى إلا من هذا الوجه. هذا واضح أنه يعني به التفرُّد، إما التفرد المطلق أو النسبي، وتقدم أن العلماء لا يُدققون في هذا وأن استعمالاتهم إلى اللغة أكثر منها إلى الاصطلاح.• تنبيه: يكثر الاختلاف في نسخ الترمذي، ففي بعض النسخ: حديثٌ حسن. وفي بعض النسخ: حديث حسن صحيح. إلخ وأضبطها-والله أعلم- ما نقله المزي في كتابه (تحفة الأشراف)، فإذا شككت في النسخ التي بين أيدينا فراجع (تحفة
আহমাদ -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, হাদিস তার বিভিন্ন সূত্রের (طرق) সমষ্টির মাধ্যমে শক্তিশালী হয় এবং কুরআনও এর ওপর প্রমাণ পেশ করে। ইবনে তাইমিয়া 'মাজমুউল ফাতাওয়া' গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেন: "যেন তাদের একজন ভুল করলে অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়" [আল-বাকারা: ২৮২]। তিনি বলেছেন: এটি হাদিস তার বিভিন্ন সূত্রের (طرق) সমষ্টির মাধ্যমে শক্তিশালী হওয়ার প্রমাণ। ইনশাআল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।তাঁর উক্তি: (যদি উভয় পরিভাষাকে একত্রিত করা হয় তবে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সংশয়ের কারণে হবে যখন বর্ণনাটি একক (تفرد), অন্যথায় তা দুটি সনদের (إسنادين) বিবেচনায় হবে)। তাঁর কথা: (যদি উভয় পরিভাষাকে একত্রিত করা হয়) অর্থাৎ যখন কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে বলা হয়: হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)। হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন, এর দুটি অবস্থা রয়েছে:• প্রথম অবস্থা: হাদিসটির যদি একটি মাত্র সূত্র থাকে, তবে এখানে পরিভাষা দুটির একত্রিকরণ সংশয় বা দ্বিধার ভিত্তিতে হবে; অর্থাৎ সমালোচক (ناقد) সংশয়ে আছেন যে এটি সহিহ (صحيح) হাদিস নাকি হাসান (حسن) হাদিস।• দ্বিতীয় অবস্থা: হাদিসটির দুটি সূত্র থাকবে, যার একটি সূত্র হাসান (حسن) এবং অপরটি সহিহ (صحيح)। এটি হাফিজ উল্লেখ করেছেন, তবে এতে আপত্তির অবকাশ আছে—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—কারণ আলেমদের কর্মপন্থা এর বিপরীত। ইমাম তিরমিযী অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে হাদিসকে হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) বলেন, তা হলো সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح الصحيح) পর্যায়ের, এবং এটি সেই হাদিস যার ওপর শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) একমত হয়েছেন। ইবনে রাজাব -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- তাঁর 'শরহুল ইলাল' গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার তাঁর 'আন-নুয়াকাত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।তাই তিরমিযীর উক্তি: হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) সাধারণত সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح الصحيح) হাদিসের দিকেই ইঙ্গিত করে।• সতর্কীকরণ: ইমাম তিরমিযী -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- তাঁর জামি গ্রন্থে এই পরিভাষাগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন। তিনি এর মধ্য থেকে কেবল একটির সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং তা হলো হাসান (حسن)। তিনি এতে তিনটি শর্ত উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি একাধিক সূত্র (غير وجه) থেকে বর্ণিত হতে হবে, তা শায (شاذ) হবে না এবং মুআল্লাল (معلل) হবে না। আর গারিব (غريب) এর ক্ষেত্রে আলেমদের কর্মপন্থা হলো এটি দুর্বল (ضعيف) অর্থেই ব্যবহৃত হয়, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।আর "হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)" উক্তির ব্যাপারে ইবনে রাজাব ও ইবনে হাজরের বিশ্লেষণ হলো এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح الصحيح), যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাঁর কথা: (এটি এই সূত্র ছাড়া বর্ণিত হয়নি) দ্বারা স্পষ্টত একক বর্ণনা (تفرد) বোঝানো হয়েছে, চাই তা নিরঙ্কুশ একক বর্ণনা (تفرد مطلق) হোক কিংবা আপেক্ষিক (نسبي)। আর এটিও পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, আলেমগণ এক্ষেত্রে খুব বেশি সূক্ষ্মতা বিচার করেন না এবং তাঁদের ব্যবহার পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থের চেয়ে আভিধানিক অর্থের দিকেই বেশি ধাবিত।• সতর্কীকরণ: তিরমিযীর পাণ্ডুলিপিগুলোতে (نسخ) প্রচুর মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে (نسخ) রয়েছে: হাসান (حسن) হাদিস। আবার কোনো পাণ্ডুলিপিতে (نسخ) রয়েছে: হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস ইত্যাদি। এর মধ্যে সবচেয়ে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—তা হলো যা ইমাম মিযযী তাঁর 'তুহফাতুল আশরাফ' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। সুতরাং আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলো (نسخ) নিয়ে যদি আপনার সন্দেহ হয়, তবে 'তুহফাতুল আশরাফ' দেখুন।
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الأشراف) للمزي، فإنه عالم متميز ودقيق، فما يذكره هو أوثق من غيره -والله أعلم-.قوله: (وَزِيَادَةُ رَاوِيهِمَا مَقْبُولَةٌ مَا لَمْ تَقَعْ مُنَافِيَةً لِمَنْ هُوَ أَوْثَقُ) أي زيادة راوي الحديث الحسن، وزيادة راوي الحديث الصحيح، مقبولة ما لم تقع مُنافية لمن هو أوثق، وهذا تأصيل صحيح، فكل ثقة مقبول تُقبل روايته من حيث الأصل ما لم يُخالف من هو أوثق منه، وهذا تأصيل واضح وقد نص على هذا الإمام الشافعي -رحمه الله تعالى- قال: قد يكون بأن يكون أحفظ أو أكثر عددًا. وهذه المسألة هي المسماة بمسألة زيادة الثقة، وقبل الخوض في هذه المسألة ينبغي أن يُفهم تأصيل مهم ودقيق للغاية وهو: أن المخالفة عند علماء الحديث تُغاير وتختلف عن المخالفة عند علماء الفقه، فليس معنى المخالفة عند علماء الحديث عدم إمكان الجمع، فقد يروي الثقات حديثًا ثم ينفرد ثقة عنهم بزيادة يمكن أن يُجمع بين هذه الزيادة وبين أصل الحديث، لكن هذا عند علماء الحديث يُسمى مخالفة ولو أمكن الجمع بما أنه زاد أمرًا يترتب عليه حكم، بخلاف علماء الفقه.لذا قول ابن حجر هنا: (مَا لَمْ تَقَعْ مُنَافِيَةً) أي منافيةً على طريقة المحدثين لا على طريقة الفقهاء، كما نبَّه عليه في (هدي الساري) وفي شرحه على البخاري، قال: المُنافاة على طريقة المحدثين. وفرق بين المُنافاة على طريقة المحدثين والمنافاة على طريقة الفقهاء، فعند الفقهاء لو زاد أحد الرواة زيادة فيقولون هذا خاص وذاك عام، أو مُطلق ومُقيد، ويُحاولون الجمع بطرق الجمع الكثيرة، أما المحدثون إذا زاد ثقة عن غيره زيادةً يترتب عليها حكم -أي لها معنًى- فإنها تُعد زيادة وتُبحث بحث زيادة الثقة، ولو أمكن الجمع.وتقدم ما ذكر ابن القيم في تهذيب السنن تعقيبًا على ابن القطان لما ذكر حديث أنس في تخليل اللحية، قال: "وهذه التجويزات لا يلتفت إليها أئمة الحديث وأطباء علله ويعلمون أن الحديث معلول بإرسال الزبيدي له ولهم ذوق لا يحول بينه وبينهم فيه التجويزات والاحتمالات" فقد حاول ابن القطان أن يجمع على طريقة الفقهاء لكن رد عليه ابن القيم -رحمه الله تعالى-، وبمثل هذا قال ابن حجر لما قال: المُنافاة على طريقة المحدثين.إذن إذا قال المحدثون: خالف فلانٌ فلانًا. ليس معنى هذا أنه لا يمكن الجمع، بلى يمكن الجمع على طريقة الفقهاء، لكن زاد شيئًا يترتب عليه معنًى ولم يأت بها البقية، ومن
আল-মিযযি প্রণীত (তুহফাতুল আশরাফ); কেননা তিনি একজন অনন্য এবং সূক্ষ্ম গবেষক আলেম। তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা অন্যদের তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) - আল্লাহই সর্বজ্ঞ।লেখকের কথা: (উভয় প্রকারের বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য, যতক্ষণ না তা অধিক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির বর্ণনার পরিপন্থী হয়) অর্থাৎ হাসান (حسن) হাদিসের বর্ণনাকারী এবং সহিহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (যিয়াদাহ) গ্রহণযোগ্য (مقبولة), যতক্ষণ না তা অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিপরীত হয়। এটি একটি সঠিক মূলনীতি। মূলত প্রত্যেক গ্রহণযোগ্য (مقبول) নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর বর্ণনা মৌলিকভাবে গ্রহণ করা হবে, যতক্ষণ না তিনি তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) ব্যক্তির বিরোধিতা করেন। এটি একটি সুস্পষ্ট মূলনীতি এবং ইমাম শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি বর্ণনাকারীর অধিক মুখস্থশক্তি সম্পন্ন হওয়ার কারণে অথবা বর্ণনাকারীদের সংখ্যার আধিক্যের কারণে হতে পারে। এই মাসআলাটিই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) সংক্রান্ত মাসআলা নামে পরিচিত। এই মাসআলায় বিস্তারিত প্রবেশের পূর্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম একটি মূলনীতি বোঝা প্রয়োজন, আর তা হলো: হাদিস শাস্ত্রবিদদের নিকট 'বিরোধিতা (مخالفة)' ফিকহ শাস্ত্রবিদদের নিকট 'বিরোধিতা (مخالفة)' থেকে ভিন্ন। হাদিস শাস্ত্রবিদদের নিকট বিরোধিতার অর্থ এই নয় যে, উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব। অনেক সময় এমন হয় যে, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তাঁদের মধ্য থেকে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি এমন একটি অতিরিক্ত অংশ বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন যা মূল হাদিসের সাথে সমন্বয় করা সম্ভব। কিন্তু হাদিস শাস্ত্রবিদদের নিকট এটিকেও 'বিরোধিতা (مخالفة)' বলা হয় যদিও সমন্বয় করা সম্ভব হয়; যেহেতু তিনি এমন কিছু বৃদ্ধি করেছেন যার ওপর একটি বিধান (হুকুম) আবর্তিত হয়। ফিকহ শাস্ত্রবিদদের বিষয়টি এর বিপরীত।একারণেই ইবনে হাজার এখানে বলেছেন: (যতক্ষণ না তা বিরোধপূর্ণ হয়) অর্থাৎ মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ হওয়া, ফকিহদের পদ্ধতি অনুযায়ী নয়; যেমনটি তিনি হাদি আস-সারি এবং বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে সজাগ করেছেন। তিনি বলেছেন: এই বিরোধিতা মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী। মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ হওয়া এবং ফকিহদের পদ্ধতি অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফকিহদের নিকট যদি কোনো বর্ণনাকারী অতিরিক্ত কিছু বর্ণনা করেন, তবে তাঁরা বলেন এটি বিশেষ (خاص) আর অন্যটি সাধারণ (عام), অথবা এটি নিরবচ্ছিন্ন (مطلق) আর অন্যটি শর্তযুক্ত (مقيد); এবং তাঁরা সমন্বয়ের নানাবিধ পন্থায় তা সমন্বয় করার চেষ্টা করেন। পক্ষান্তরে মুহাদ্দিসগণ, যদি কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি অন্যদের তুলনায় এমন অতিরিক্ত কিছু বর্ণনা করেন যার ওপর কোনো বিধান নির্ভর করে—অর্থাৎ যার একটি স্বতন্ত্র অর্থ রয়েছে—তবে তা অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হয় এবং তা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) হিসেবে পর্যালোচিত হয়, যদিও সমন্বয় করা সম্ভব হয়।ইবনুল কায়্যিম 'তাহজিবুত সুনান'-এ ইবনুল কাত্তানের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে দাড়ি খিলাল করা সংক্রান্ত আনাস (রা.)-এর হাদিস সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেছেন: "এই সকল সম্ভাবনা ও ব্যাখ্যার প্রতি হাদিসের ইমামগণ এবং এর সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) বিশেষজ্ঞগণ ভ্রুক্ষেপ করেন না। তাঁরা জানেন যে, যুবাইদি কর্তৃক এটি বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করার (إرسال) কারণে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (معلول)। তাঁদের এমন এক বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে যার মাঝে এসকল সম্ভাবনা ও ব্যাখ্যার কোনো স্থান নেই।" এখানে ইবনুল কাত্তান ফকিহদের পদ্ধতিতে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রতিবাদ করেছেন। ইবনে হাজারও অনুরূপ কথা বলেছেন যখন তিনি বলেছেন: "বিরোধিতা মুহাদ্দিসদের পদ্ধতি অনুযায়ী"।সুতরাং মুহাদ্দিসগণ যখন বলেন: 'অমুক অমুকের বিরোধিতা করেছে', তখন এর অর্থ এই নয় যে সমন্বয় করা অসম্ভব। অবশ্যই ফকিহদের পদ্ধতি অনুযায়ী সমন্বয় করা সম্ভব, কিন্তু তিনি এমন কিছু বাড়িয়ে বলেছেন যা একটি অর্থ বহন করে অথচ অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ তা নিয়ে আসেননি, আর...
(খণ্ড: ১)
ইদামাতুন নাযার ফী তাহরীরি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هاهنا قال البلقيني فيما نقل السخاوي، قال: ولو توسعنا في التأويل لدفعنا كثيرًا من العلل التي علل بها أئمة الحديث. وصدق -رحمه الله تعالى-.ومن أمثلة ذلك: حديث أبي قيس الأودي عن هزيل بن شرحبيل، عن المغيرة بن شعبة. حديث المغيرة بن شعبة مشهور في الصحيحين وغيره، قال: «دعهما فإني أدخلتهما طاهرتين» ثم هوى فمسح عليهما صلى الله عليه وسلم، أي مسح على الخفين، زاد أبو قيس الأودي زيادةً وقال: مسح على الخفين والنعال، فزاد: "والنعال" هذه الزيادة على طريقة الفقهاء يُمكن أن يُجمع بينهما، فقد ذكر حكمًا لم يأتِ به غيره فلا يضر، لكن المحدثين قالوا: خالف أبو قيس الأودي الناس وأتى بلفظ "النعال" وغيره لم يأت بهذا اللفظ، وقال غيره: خالف هزيل الناس، ومن أولئك الإمام علي بن المديني، فقال: خالف أهل المدينة والبصرة والكوفة وأتى بلفظ "النعال" فلاحظ أنه جعلها مخالفةً، وبمثله ذكر يحيى بن معين، والإمام مسلم، وقد نقل هذه النقولات البيهقي في كتابه (السنن الكبرى)، فلاحظ أن المحدثين عبَّروا بالمخالفة.• تنبيه: إذا فُهم ما تقدم انفتح باب من أبواب العلل قد أغلقه كثيرون لأنهم ساروا على طريقة الفقهاء لا المحدثين، وظنوا أن معنى "منافاة الجمع" أو "المخالفة" أي على وجه لا يُمكن معه الجمع، وقد أخطئوا فليس الأمر كذلك.وبعد هذا فمبحث زيادة الثقة تتعلق به مسائل:• المسألة الأولى: صورة المسألة أن يكون الحديث واحدًا، وأن يرويه الثقات على وجه فيُشاركهم ثقة ويرويه على وجه آخر، إما وقفًا أو رفعًا، أو بذكر زيادة، فإذن مبحث زيادة الثقة يُشترط فيه أن يكون الحديث واحدًا، وأن يُشارك الثقة بقية الثقات وينفرد بشيء.وبعبارة أخرى: أن يكون مخرج الحديث واحدًا، أي أنه لابد أن يتحد المخرج، وقد ذكر هذا ابن رجب في شرح (العلل) وابن عبد الهادي في كتابه (الصارم المنكي)، ومسلم في كتابه (التمييز)، وابن حجر في (النكت)، فلابد أن يكون مخرج الحديث واحدًا.
আল-সাখাভি যা বর্ণনা করেছেন তাতে আল-বুলকিনি এখানে বলেছেন: "যদি আমরা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ব্যাপকতা অবলম্বন করি, তবে আমরা হাদিসের ইমামগণ যে অসংখ্য ত্রুটি (علل) চিহ্নিত করেছেন তা বাতিল করে দিতাম।" এবং তিনি -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- সত্য বলেছেন।এর একটি উদাহরণ হলো: হুজাইল ইবনে শুরাহবিল থেকে আবু কাইস আল-আওদির বর্ণিত হাদিস, যা তিনি মুগিরা ইবনে শু'বা থেকে বর্ণনা করেছেন। মুগিরা ইবনে শু'বার হাদিসটি সহিহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে প্রসিদ্ধ। তিনি বলেন: «সেগুলো থাকতে দাও, কারণ আমি সেগুলো পবিত্র অবস্থায় পরিধান করেছি» অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝুঁকলেন এবং সে দুটির ওপর মাসেহ করলেন, অর্থাৎ চামড়ার মোজার (خفين) ওপর। আবু কাইস আল-আওদি একটি অতিরিক্ত অংশ (زيادة) যোগ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি চামড়ার মোজা (خفين) এবং জুতার (نعال) ওপর মাসেহ করেছেন। তিনি "জুতা" (نعال) কথাটি বৃদ্ধি করেছেন। ফকিহগণের (فقهاء) পদ্ধতি অনুযায়ী এই অতিরিক্ত অংশটুকুর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব; কারণ তিনি এমন একটি বিধান উল্লেখ করেছেন যা অন্য কেউ আনেনি, তাই এটি ক্ষতিকর নয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ (محدثين) বলেছেন: আবু কাইস আল-আওদি লোকজনের বিরোধিতা (خالف) করেছেন এবং "জুতা" (نعال) শব্দটি নিয়ে এসেছেন যা অন্য কেউ আনেনি। অন্যরা বলেছেন: হুজাইল লোকজনের বিরোধিতা (خالف) করেছেন। তাদের মধ্যে ইমাম আলী ইবনে আল-মাদিনিও রয়েছেন। তিনি বলেছেন: তিনি মদিনা, বসরা ও কুফার অধিবাসীদের বিরোধিতা (خالف) করেছেন এবং "জুতা" (نعال) শব্দটি নিয়ে এসেছেন। লক্ষ্য করুন যে, তিনি একে বিরোধিতা (مخالفة) হিসেবে গণ্য করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং ইমাম মুসলিমও অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। বায়হাকি তাঁর সুনান আল-কুবরা গ্রন্থে এই বর্ণনাগুলো উদ্ধৃত করেছেন। সুতরাং লক্ষ্য করুন যে, মুহাদ্দিসগণ (محدثين) একে বিরোধিতা (مخالفة) শব্দে ব্যক্ত করেছেন।• সতর্কবার্তা: যা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে তা যদি বুঝা যায়, তবে ত্রুটি (علل) সংক্রান্ত জ্ঞানের এমন একটি দরজা খুলে যাবে যা অনেকে বন্ধ করে দিয়েছেন; কারণ তারা মুহাদ্দিসগণের (محدثين) পরিবর্তে ফকিহগণের (فقهاء) পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তারা মনে করেছিলেন যে "সমন্বয়ের পরিপন্থী" (منافاة الجمع) বা "বিরোধিতা" (مخالفة) এর অর্থ হলো এমনভাবে হওয়া যার সাথে কোনোভাবেই সমন্বয় করা সম্ভব নয়। তারা ভুল করেছেন, বিষয়টি তেমন নয়।এরপর, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) সংক্রান্ত আলোচনায় কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:• প্রথম মাসআলা: মাসআলার রূপটি হলো হাদিসটি একই হবে, এবং নির্ভরযোগ্য রাবিগণ (ثقات) তা একভাবে বর্ণনা করবেন, অতঃপর অপর একজন নির্ভরযোগ্য রাবি (ثقة) তাদের সাথে শরিক হবেন কিন্তু তিনি তা ভিন্নভাবে বর্ণনা করবেন; হয় সেটি মাওকুফ (وقفا) হিসেবে অথবা মারফু (رفعا) হিসেবে, কিংবা কোনো অতিরিক্ত অংশ (زيادة) উল্লেখ করার মাধ্যমে। সুতরাং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) সংক্রান্ত আলোচনার শর্ত হলো হাদিসটি এক হতে হবে এবং সেই নির্ভরযোগ্য রাবি (ثقة) অন্যান্য নির্ভরযোগ্য রাবিগণের (ثقات) সাথে বর্ণনায় অংশগ্রহণ করবেন কিন্তু কোনো একটি বিষয়ে একক হয়ে যাবেন (ينفرد)।অন্য কথায়: হাদিসের উৎস (مخرج) এক হতে হবে, অর্থাৎ উৎসের (مخرج) ক্ষেত্রে ঐক্য থাকা আবশ্যক। ইবনে রাজাব শারহুল ইলাল গ্রন্থে, ইবনে আব্দুল হাদি তাঁর আস-সারিমুল মুনকি গ্রন্থে, মুসলিম তাঁর আত-তাময়িজ গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার আন-নুকাতে এটি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং হাদিসের উৎস (مخرج) এক হওয়া অপরিহার্য।