(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: -)
التعليق الرشيق في التختم بالعقيق للناجي   (برهان الدين الناجي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: التعليق الرشيق في التختم بالعقيق

المؤلف: إبراهيم بن محمد بن محمود بن بدر، برهان الدين، أبو إسحاق الحلبي القبيباتي الشافعيّ الناجي (ت 900هـ)

المحقق: د. جمال عزون

الناشر: دار التوحيد [ضمن مجموع فيه أربعة أجزاء حديثية]

الطبعة: الأولى 1429 هـ - 2008 م

عدد الصفحات: 24

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকিক পাথরের আংটি পরিধান বিষয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা - আন-নাজি কৃত   (বুরহানউদ্দিন আন-নাজি)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


বই: আকিক পাথরের আংটি পরিধান বিষয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা (আত-তালিকুর রশিক ফি আত-তাখাত্তুমি বিল আকিক)

লেখক: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে বদর, বুরহানউদ্দিন, আবু ইসহাক আল-হালাবি আল-কুবায়বাতি আশ-শাফিঈ আন-নাজি (মৃত্যু ৯০০ হিজরি)

সম্পাদক: ড. জামাল আজজুন

প্রকাশক: দারুত তাওহীদ [চারটি হাদিস বিষয়ক অংশ সংবলিত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত]

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খাইর আকবিল

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: -)
-[التعليق الرشيق في التختم بالعقيق]-

تأليف: برهان الدين إبراهيم بن محمد بن محمود الشهير بالناجي

900 هـ

 

رسالة فيمن يدعي أن من ذرية العباس بن عبد المطلب رضي الله عنه حمزة الخلف

تأليف: برهان الدين إبراهيم بن محمد بن محمود الشهير بالناجي

900 هـ

 

جزء فيه مجلس

من حديث الإمام أبي الحسن علي بن إبراهيم بن داود بن العطار الشافعي

724 هـ

تخريج الإمام الحافظ أبي عبد الله محمد بن أحمد الذهبي

 

جزء فيه مجلس

من رواية أبي العباس أحمد بن عبد الله بن نصر بن بجير بن عبد الله بن صالح بن أسامة الذهلي

 

قرأها وعلق عليها

د. جمال عزون

 

دار التوحيد

الطبعة الأولى

1429 هـ - 2008 م
-[আকীক পাথরের আংটি পরিধান বিষয়ক মনোজ্ঞ মন্তব্য]-

রচনা: বুরহানুদ্দীন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ, যিনি আন-নাজী নামে পরিচিত

৯০০ হিজরি

 

আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুর বংশধরদের মধ্যে হামযাহ আল-খালাফ রয়েছে বলে যারা দাবি করে, তাদের বিষয়ে একটি পুস্তিকা

রচনা: বুরহানুদ্দীন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ, যিনি আন-নাজী নামে পরিচিত

৯০০ হিজরি

 

একটি অংশ, যাতে রয়েছে একটি মজলিস

ইমাম আবুল হাসান আলী বিন ইবরাহীম বিন দাউদ বিন আল-আত্তার আশ-শাফিয়ী এর হাদিস থেকে

৭২৪ হিজরি

ইমাম হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আয-যাহাবীর তাখরীজকৃত

 

একটি অংশ, যাতে রয়েছে একটি মজলিস

আবু আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নাসর বিন বুজাইর বিন আব্দুল্লাহ বিন সালিহ বিন উসামা আদ-দুহলী এর বর্ণনা থেকে

 

এটি পাঠ করেছেন এবং এর উপর টীকা প্রদান করেছেন

ড. জামাল আযযুন

 

দারুত তাওহীদ

প্রথম সংস্করণ

১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله ولي التوفيق، والصلاة والسلام على سيدنا محمدٍ إمام التحقيق، الهادي إلى أقوم طريق، وعلى آله وأصحابه وأتباعه من كل فريق.

وبعد:

فهذا تعليق رشيق، في التختم بالعقيق، ونحوه من الجوهر الأنيق، ما أظنه يوجد مجموعاً منقحاً هكذا، أمليته مستعجلاً مكتفياً فيه بالإشارة عن العبارة.

قال الشيخ محيي الدين النووي في ((شرح مسلم)) عند الحديث الذي رواه مسلم وغيره من طريق ابن وهب، عن يونس، عن ابن شهاب، عن أنس في الخاتم النبوي: ((كان من ورقٍ، وكان فصه حبشياً)) .

قلت:

ثم رواه مسلم أيضاً من طريق طلحة بن يحيى، عن يونس ولفظه: ((لبس خاتماً فضةً في يمينه فيه فص حبشيٌ، كان يجعل فصه مما يلي كفه)) .

ورواه أبو الشيخ الأصبهاني في كتابه ((الأخلاق النبوية)) أيضاً من طريق عزرة بن ثابت، عن ثمامة، عن أنس:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাওফিকের অধিপতি, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর যিনি সত্য অনুসন্ধানীগণের ইমাম এবং সঠিকতম পথের দিশারী; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং সকল স্তরের অনুসারীদের ওপর।

অতঃপর:

এটি আকিক ও এই জাতীয় চমৎকার মণি-মুক্তা খচিত আংটি পরিধান করা বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত টীকা। আমার মনে হয় না যে এটি এভাবে সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত আকারে কোথাও পাওয়া যাবে। আমি এটি দ্রুততার সাথে লিপিবদ্ধ করেছি এবং এতে বিস্তারিত বর্ণনার পরিবর্তে কেবল ইশারা-ইঙ্গিতের ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি।

শাইখ মহিউদ্দিন আন-নববী ‘শারহে মুসলিম’-এ ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যদের বর্ণিত সেই হাদিসের আলোচনায় বলেছেন যা ইবনে ওয়াহাব, ইউনুস, ইবনে শিহাব এবং আনাস (রা.)-এর সূত্রে নবীজির আংটি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: “তা ছিল রূপার তৈরি এবং তার পাথরটি ছিল আবিসিনীয়।”

আমি বলছি:

অতঃপর ইমাম মুসলিম এটি তালহা ইবনে ইয়াহইয়া ও ইউনুসের সূত্রেও বর্ণনা করেছেন যার শব্দমালা হলো: “তিনি তাঁর ডান হাতে একটি রূপার আংটি পরিধান করতেন যাতে একটি আবিসিনীয় পাথর ছিল এবং তিনি এর পাথরটি হাতের তালুর দিকে রাখতেন।”

আবুশ শাইখ আল-আসফাহানি তাঁর ‘আল-আখলাক আন-নাবাউয়্যাহ’ গ্রন্থে আযরা ইবনে সাবিত, সুমামা ও আনাস (রা.)-এর সূত্রেও এটি বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১০)
((كان فص خاتم رسول الله صلى الله عليه وسلم حبشياً، وكان مكتوبٌ عليه: محمد رسول الله، محمد سطر، ورسول سطرٌ، والله سطر)) .

وأول متنه بهذا السند غريبٌ.

فقال النووي: قال العلماء: يعني حجراً حبشياً أي فصاً من جزعٍ أو عقيقٍ، ومعدنهما بالحبشة واليمن.

قال: وقيل: لونه حبشيٌ أي أسود.

قال: وجاء في ((صحيح البخاري)) من رواية حميدٍ عن أنس أيضاً: ((فصه منه)) .

قال ابن عبد البر: هذا أصح.

وقال غيره: كلاهما صحيحٌ؛ فكان له صلى الله عليه وسلم في وقت خاتمٌ فصه حبشيٌ، وفي حديث آخر: فصه من عقيق.

انتهى كلام النووي.

وقد ورد التختم بالعقيق ونحوه من الأحجار في عدة آثار أشار إلى كثير منها ابن الجوزي في كتابه ((الموضوعات)) وقال: إنها كلها ليست بصحيحة، وبين حال رواتها مبرهناً على ذلك.
((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আংটির পাথরটি ছিল হাবশি, আর তাতে খোদাই করা ছিল: মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ; মুহাম্মদ এক লাইনে, রাসূল এক লাইনে এবং আল্লাহ এক লাইনে))।

এই সনদে এই মূল পাঠের শুরুটি গরীব।

ইমাম নববী বলেছেন: উলামায়ে কেরাম বলেছেন: অর্থাৎ হাবশি পাথর বলতে জাযআ বা আকিক পাথর বোঝানো হয়েছে, আর এ দুটির খনি আবিসিনিয়া ও ইয়ামেনে অবস্থিত।

তিনি বলেন: আবার বলা হয়েছে যে, এর রঙ ছিল হাবশি অর্থাৎ কালো।

তিনি বলেন: "সহীহ বুখারী"-তে হুমাইদের সূত্রে আনাস থেকেও বর্ণিত হয়েছে: ((এর পাথরটি এর মধ্য থেকেই ছিল))।

ইবনে আবদিল বার বলেন: এটিই অধিক বিশুদ্ধ।

অন্যান্যরা বলেছেন: উভয়টিই সঠিক; কোনো এক সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন একটি আংটি ছিল যার পাথর ছিল হাবশি, আর অন্য হাদীসে এসেছে: এর পাথর ছিল আকিকের।

ইমাম নববীর বক্তব্য সমাপ্ত।

আকিক ও এ জাতীয় পাথরের আংটি ব্যবহারের বিষয়ে বেশ কিছু বর্ণনা এসেছে, ইবনুল জাওজি তার "আল-মাওযুয়াত" গ্রন্থে এগুলোর অনেকগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং বলেছেন: এগুলোর সবকটিই সহীহ নয়, এবং তিনি বর্ণনাকারীদের অবস্থা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা সপ্রমাণ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১১)
وذكر عن أبي جعفر العقيلي الحافظ أنه لا يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا شيءٌ.

فمما جاء في العقيق حديث عائشة:

((تختموا بالعقيق فإنه مباركٌ)) .

رواه البيهقي وأسنده أبو منصور الديلمي في ((مسند كتاب والده الفردوس)) من طريق الحاكم، وعزاه إلى أبي بكر ابن لال.

وفي سنده يعقوب بن الوليد المدني من رجال الترمذي وابن ماجه.

قال فيه أحمد بن حنبل: كان من الكذابين الكبار، يضع الحديث.

وقد رواه عن هشام بن عروة، عن أبيه، عنها، ورواه عنه أبو كامل الجحدري.

وقال الحافظ ابن عدي هذا الحديث يعرف بيعقوب بن إبراهيم بن سعد الزهري ذاك العلم المشهور، رواه هذا المجهول عن هشام عن أبيه عن عائشة، وسرقه منه يعقوب بن الوليد، ورواه عن يعقوب
হাফেজ আবু জাফর আল-উকায়লী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কিছুই প্রমাণিত নেই।

আকীক পাথর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসটি হলো:

“তোমরা আকীক পাথরের আংটি পরিধান করো, কেননা তা বরকতময়।”

এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং আবু মানসুর আদ-দায়লামী তার পিতার কিতাব ‘মুসনাদুল ফিরদাউস’-এ হাকিমের সূত্রে এর সনদ উল্লেখ করেছেন এবং একে আবু বকর ইবনে লাল-এর প্রতি সম্বন্ধ করেছেন।

এর সনদে ইয়াকুব ইবনুল ওয়ালীদ আল-মাদানী রয়েছেন, যিনি তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ-র বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তার সম্পর্কে বলেছেন: সে বড় মিথ্যাবাদীদের একজন ছিল, যে হাদীস জাল করত।

তিনি এটি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন; আর তার থেকে বর্ণনা করেছেন আবু কামিল আল-জাহদারী।

হাফেজ ইবনে আদী বলেন: এই হাদীসটি সেই প্রখ্যাত আলেম ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাদ আল-জুহরীর মাধ্যমে পরিচিত। এই অপরিচিত ব্যক্তিটি এটি হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইয়াকুব ইবনুল ওয়ালীদ এটি তার থেকে চুরি করেছেন এবং ইয়াকুবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১২)
ابن إبراهيم الصلت بن مسعود.

وقال الطبراني في ((معجمه الأوسط)) .

حدثنا أحمد بن يحيى بن خالد، حدثنا زهير بن عباد، حدثنا أبو بكر بن شعيب، عن مالك بن أنس، عن الزهري، عن عمرو بن الشريد، عن فاطمة -يعني الزهراء- عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

((من تختم بالعقيق لم يزل يرى خيراً)) .

ثم قال الطبراني: لم يروه عن مالك إلا أبو بكر بن شعيب.

قلت:

وذكر ابن الجوزي في ((الموضوعات)) عن ابن حبان في ((الضعفاء)) أنه روى عن مالك ما ليس من حديثه لا يصح الاحتجاج به بحال انتهى.

وزهير بن عباد قال الذهبي في ((ميزانه)) هو ابن عم وكيع بن الجراح.

قال الدارقطني: مجهول.
ইবনে ইবরাহিম আস-সালত ইবনে মাসউদ।

এবং তাবারানি তাঁর ((আল-মু'জাম আল-আওসাত)) গ্রন্থে বলেছেন।

আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, যুহাইর ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে শুআইব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আমর ইবনে আশ-শারীদ থেকে, তিনি ফাতিমা —অর্থাৎ আয-যাহরা— থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

((যে ব্যক্তি আকিক পাথরের আংটি পরিধান করবে, সে সর্বদা কল্যাণ দেখতে পাবে।))

অতঃপর তাবারানি বলেন: আবু বকর ইবনে শুআইব ব্যতীত অন্য কেউ মালিক থেকে এটি বর্ণনা করেননি।

আমি বলছি:

ইবনুল জাওজি ((আল-মাওদুআত)) গ্রন্থে ইবনে হিব্বানের বরাতে ((আদ-দুআফা)) থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (আবু বকর ইবনে শুআইব) মালিকের সূত্রে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা তাঁর হাদিস নয়; কোনো অবস্থাতেই তা দিয়ে দলিল গ্রহণ করা সঠিক নয়। সমাপ্ত।

আর যুহাইর ইবনে আব্বাদ সম্পর্কে যাহাবি তাঁর ((মিযান)) গ্রন্থে বলেছেন যে, তিনি ওয়াকি ইবনুল জাররাহ-এর চাচাতো ভাই।

দারাকুতনি বলেন: তিনি মাজহুল (অপরিচিত)।
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وروى أبو نعيم الأصبهاني في ترجمة سلم الزاهد من كتابه ((الحلية)) عنه حدثنا القاسم بن معن، عن أخته أمينة، عن عائشة أم المؤمنين مرفوعاً: ((أكثر خرز أهل الجنة العقيق)) .

ثم قال: غريب من حديث القاسم لم نكتبه إلا من هذا الوجه انتهى.

لكنه أورده في ترجمة سلم بن ميمون الخواص الزاهد فوهم؛ إذ ليس بابن ميمون ولا هو سلم بن سالم الزاهد راوي تقديس العدس. نعم ذكر ابن الجوزي في ((الموضوعات)) أن هذا الثاني في طريق حديث عائشة الآخر: ((من تختم بالعقيق لم يقض له إلا بالذي هو أسعد)) ، وإنما راوي الذي قبله سلم بن عبد الله الزاهد كما ذكره ابن الجوزي في ((الضعفاء)) على الصواب وقال: يروي عن القاسم بن معن ما ليس من حديثه.

وقال ابن حبان: لا يحل ذكره إلا اعتباراً.

وكذا قال الذهبي في ((الميزان)) وهاه ابن حبان وقال:

حدثنا ابن قتيبة وحاتم بن نصر، ثم ساق الحديث إلى سلمٍ هذا عن القاسم بن معنٍ.
আবু নুআইম আল-আসফাহানি তার ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থের সালম আজ-জাহিদ-এর জীবনীতে তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের নিকট কাসিম ইবনে মা’ন বর্ণনা করেছেন, তিনি তার বোন আমীনাহ থেকে, তিনি মুমিনদের জননী আয়িশা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: “জান্নাতীদের অধিকাংশ পুঁতি হলো আকিক পাথরের।”

অতঃপর তিনি বলেছেন: কাসিমের হাদিস হিসেবে এটি গরিব (বিচিত্র), আমরা কেবল এই সূত্র থেকেই এটি লিখেছি। (সমাপ্ত)

তবে তিনি এটি সালম ইবনে মাইমুন আল-খাওওয়াস আজ-জাহিদ-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, যা একটি ভুল; কারণ তিনি ইবনে মাইমুন নন এবং তিনি সেই সালম ইবনে সালিম আজ-জাহিদও নন যিনি ‘মসুরের ডালের পবিত্রতা’ সংক্রান্ত হাদিসের বর্ণনাকারী। হ্যাঁ, ইবনুল জাওজি ‘আল-মাওদুআত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এই দ্বিতীয় ব্যক্তিটি আয়িশার বর্ণিত অন্য একটি হাদিসের সূত্রে রয়েছেন: “যে ব্যক্তি আকিক পাথরের আংটি পরিধান করবে, তার জন্য কেবল কল্যাণকর ফয়সালাই করা হবে।” মূলত পূর্বের হাদিসটির বর্ণনাকারী হলেন সালম ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-জাহিদ, যেমনটি ইবনুল জাওজি ‘আদ-দুয়াফা’ গ্রন্থে সঠিকভাবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সে কাসিম ইবনে মা’ন-এর সূত্রে এমন সব হাদিস বর্ণনা করে যা তার হাদিস নয়।

ইবনে হিব্বান বলেছেন: সতর্কতা ও যাচাইয়ের উদ্দেশ্য ছাড়া তার উল্লেখ করা বৈধ নয়।

আয-যাহাবি ‘আল-মিজান’ গ্রন্থে অনুরূপ কথা বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেছেন:

আমাদের নিকট ইবনে কুতাইবাহ ও হাতিম ইবনে নাসর বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি হাদিসটির সনদ এই সালম পর্যন্ত নিয়ে গেছেন যিনি কাসিম ইবনে মা’ন থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن بلاياه تحديثه عن القاسم بحديث جابر: ((قال رجل: يا رسول الله إني تركت الصلاة قال: فاقض. قال: كيف أقضي؟ قال: صل مع كل صلاة صلاةً)) .

أورده ابن الجوزي في ((الموضوعات)) لسلمٍ المذكور وقال: هو المتهم بوضعه، وكان من المتزهدين على طريقة العجائز، فإنهن يقلن: من فاتته صلاةٌ صلى مع كل صلاةٍ صلاةً، فسمع هذا فجعله حديثاً انتهى.

وروي من حديث عائشة أيضاً.

((أن بعض بني جعفر بن أبي طالب أتى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: بأبي أنت وأمي يا رسول الله أرسل معي من يشتري لي نعلاً وخاتماً، فدعا النبي صلى الله عليه وسلم بلالاً فقال: انطلق إلى السوق فاشتر له نعلاً واستجدها، ولا تكن سوداء، واشتر له خاتماً وليكن فصه عقيقاً)) .

فص الخاتم هنا: هو ما يركب فيه من غيره.. .. (1) ما جاء في

--------------------------------------------

(1) كلمة غير واضحة في الأصل.
তার বিপর্যয়সমূহের মধ্যে একটি হলো কাসেমের সূত্রে জাবের থেকে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করা: ((এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি সালাত ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বললেন: তবে তা কাযা কর। সে বলল: আমি কীভাবে কাযা করব? তিনি বললেন: প্রতিটি সালাতের সাথে একটি করে সালাত আদায় কর))।

ইবনুল জাওযী এটি উল্লিখিত সালাম নামক ব্যক্তির সূত্রে 'আল-মাওযুয়াত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সে এটি জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত। সে বৃদ্ধা মহিলাদের পদ্ধতিতে বৈরাগ্য প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল; কেননা তারা বলে থাকে: যার সালাত ছুটে গেছে সে যেন প্রতিটি সালাতের সাথে একটি করে সালাত আদায় করে। সে এটি শুনেছে এবং একে হাদীস বানিয়ে ফেলেছে। সমাপ্ত।

এটি আয়েশার হাদীস থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

((জাফর ইবনে আবি তালিবের বংশধরদের কেউ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক, আমার সাথে এমন কাউকে পাঠান যে আমার জন্য এক জোড়া জুতা এবং একটি আংটি কিনে দেবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে ডাকলেন এবং বললেন: বাজারে যাও এবং তার জন্য এক জোড়া জুতা ক্রয় কর এবং সেটি যেন উন্নত মানের হয়, আর তা যেন কালো না হয়। এবং তার জন্য একটি আংটি ক্রয় কর এবং তার পাথর যেন আকিক পাথরের হয়))।

এখানে আংটির পাথর (ফাস) বলতে বোঝায়: যা এর মধ্যে অন্য কোনো কিছু থেকে বসানো হয়... (১) যা এসেছে...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি অস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১৫)
سند هذا الحديث، غير أن النكارة ظاهرةٌ من لفظه.

وذكر ابن الجوزي حديث أنس: ((تختموا بالعقيق فإنه ينفي الفقر)) ، وأن فيه الحسين بن إبراهيم وهو مجهول.

وقال الذهبي في ((الميزان)) هو البابي حدث عن حميدٍ الطويل عن أنس بحديث موضوع وهو: ((تختموا بالعقيق فإنه ينفي الفقر، واليمين أحق بالزينة)) أي من اليسار بالتختم.

ثم قال: وحسين لا يدرى من هو فلعله من وضعه انتهى.

وذكر ابن الجوزي أيضاً حديث علي: ((من تختم بالعقيق ونقش عليه: وما توفيقي إلا بالله، وفقه الله لكل خير، وأحبه الملكان الموكلان به)) .

ثم قال: هذا من عمل الحسن بن علي العدوي.

قلت: وهو مجروح.

ومما وضعه: ((الورد خلق من عرق نبينا)) .
এই হাদিসের সনদ, তবে এর শব্দ থেকে এর অগ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট।

ইবনুল জাওজি আনাস (রা.)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "তোমরা আকিক পাথর ব্যবহার করো, কারণ এটি দারিদ্র্য দূর করে"; এবং এতে হুসাইন ইবনে ইব্রাহিম রয়েছে যে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।

যাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন যে, সে হলো আল-বাবি, যে হুমায়িদ আত-তবিল-এর সূত্রে আনাস (রা.) থেকে একটি জাল হাদিস বর্ণনা করেছে, যা হলো: "তোমরা আকিক পাথর ব্যবহার করো, কারণ এটি দারিদ্র্য দূর করে, আর ডান হাত সাজসজ্জার জন্য বেশি উপযোগী" অর্থাৎ বাম হাতের চেয়ে আংটি পরার ক্ষেত্রে।

এরপর তিনি বলেছেন: হুসাইন কে তা জানা যায় না, সম্ভবত সেই এটি জাল করেছে। সমাপ্ত।

ইবনুল জাওজি আলি (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসটিও উল্লেখ করেছেন: "যে ব্যক্তি আকিক পাথরের আংটি পরবে এবং তাতে খোদাই করবে: 'আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে', আল্লাহ তাকে সকল কল্যাণের তৌফিক দান করবেন এবং তার জন্য নিযুক্ত ফেরেশতাদ্বয় তাকে ভালোবাসবেন।"

এরপর তিনি বলেছেন: এটি হাসান ইবনে আলি আল-আদাবির কাজ।

আমি বলছি: সে একজন সমালোচিত ব্যক্তি।

তার জালকৃত বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হলো: "গোলাপ আমাদের নবীর ঘাম থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وجاء في التختم بغير العقيق آثارٌ منها:

حديث ابن عباس الذي أورده ابن الجوزي وغيره: ((تختموا بالياقوت فإنه ينفي الفقر)) ونحوه حديث أنس.

وذكر الذهبي في ((ميزانه)) في ترجمة أحمد بن عبد الله بن حكيم الفرياناني وهو منسوبٌ إلى قرية من قرى مرو، عن الحافظ أبي نعيم أنه مشهور بالوضع.

ومن ((الضعفاء)) لابن حبان: أخبرنا محمد بن معاذ، حدثنا الفرياناني، حدثنا أبو ضمرة، عن حميدٍ، عن أنس مرفوعاً: ((من تختم بفص ياقوت نفي عنه الفقر)) .

ثم قال الذهبي: ورواه ابن عدي عن الحسن بن سفيان عنه وهذا باطلٌ انتهى.

وقال في ((الموضوعات)) قال ابن حبان: هذا خبر باطل ما قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أنس.
আকীক ব্যতীত অন্য পাথর দিয়ে আংটি পরিধান করার বিষয়ে কিছু বর্ণনা এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস যা ইবনুল জাওযী এবং অন্যরা উল্লেখ করেছেন: ((তোমরা ইয়াকুত পাথরের আংটি পরিধান করো, কেননা তা দারিদ্র্য দূর করে)) এবং আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

আয-যাহাবী তাঁর 'মীযান' গ্রন্থে আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাকীম আল-ফারইয়ানানী—যিনি মার্ভের একটি গ্রামের অধিবাসী—এর জীবনীতে হাফেয আবু নুআইম থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাদীস জাল করার জন্য সুপরিচিত।

ইবনে হিব্বানের 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থ হতে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুআয, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-ফারইয়ানানী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দামরাহ, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন: ((যে ব্যক্তি ইয়াকুত পাথরের আংটি পরিধান করবে, তার থেকে দারিদ্র্য দূর হয়ে যাবে))।

অতঃপর আয-যাহাবী বলেন: ইবনে আদী এটি হাসান বিন সুফিয়ান থেকে, তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ এটি বাতিল। সমাপ্ত।

তিনি 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে বলেন, ইবনে হিব্বান বলেছেন: এটি একটি বাতিল সংবাদ, যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেননি এবং আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-ও বলেননি।
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وروى صاحب ((مسند الفردوس)) من حديثه أيضاً مرفوعاً: ((التختم بالزمرذ ينفي الفقر، واليمين أحق بالزينة)) .

والزمرذ بالذال المعجمة في آخره لا بالمهملة.

وقال المنبجي الحنبلي في ((مصنفه في الطاعون)) : وقد ادعى بعضهم أن له ما يرفعه فذكر بعض الأطباء في ((كتاب خواص الأحجار)) أن من تقلد بالياقوت أو تختم بشيء منه وكان في بلد وقع فيه الطاعون منع بقدرة الله تعالى انتهى.

قال المنبجي: وقد ورد في هذا آثار لا تثبت منها ما رواه ابن منجويه في ((كتاب الخواتيم)) بإسناد ضعيف عن علي رفعه: ((من تختم بالياقوت الأصفر منع من الطاعون)) .

قال: وروي أيضاً معناه في الزمرذ مرفوعاً من حديث ابن عباس وإسناده أضعف من الأول وقد يكون صحيحاً في نفس الأمر والله أعلم انتهى.

وذكر الدميري في الأواني من ((شرح المنهاج)) عن ((كامل بن
"মুসনাদুল ফিরদাউস"-এর গ্রন্থকার তাঁর বর্ণিত অন্য এক মারফু হাদিসে উল্লেখ করেছেন: "পান্নার আংটি পরিধান করা দারিদ্র্য বিমোচন করে এবং ডান হাত সুসজ্জিত হওয়ার অধিক যোগ্য।"

আর 'যুমুররুদ' শব্দটি শেষে নুকতাযুক্ত 'যাল' দিয়ে, নুকতাহীন 'দাল' দিয়ে নয়।

হাম্বলি আলেম আল-মানবাজি তাঁর প্লেগ বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন: কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এমন কিছু রয়েছে যা এটি (প্লেগ) দূর করে। জনৈক চিকিৎসক 'কিতাবু খাওয়াছিল আহজার' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি ইয়াকুত পাথরের হার পরবে বা এর কোনো আংটি পরিধান করবে এবং সে যদি এমন কোনো শহরে থাকে যেখানে প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছে, তবে আল্লাহর ক্ষমতায় সে নিরাপদ থাকবে। সমাপ্ত।

আল-মানবাজি বলেন: এ প্রসঙ্গে এমন কিছু বর্ণনা এসেছে যা প্রমাণিত নয়, যার মধ্যে ইবনে মানজুওয়াহ 'কিতাবুল খাওয়াতিম' গ্রন্থে দুর্বল সনদে আলীর সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি হলুদ ইয়াকুতের আংটি পরিধান করবে, সে প্লেগ থেকে রক্ষা পাবে।"

তিনি বলেন: অনুরূপ অর্থ পান্না সম্পর্কেও ইবনে আব্বাসের সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং এর সনদ প্রথমটির চেয়েও দুর্বল। তবে বিষয়টি বাস্তবে সঠিক হতে পারে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সমাপ্ত।

আদ-দামিরি 'শারহুল মিনহাজ'-এর পাত্র অধ্যায়ে 'কামিল ইবনে...' এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১৮)
عدي في الضعفاء)) حديث أنس المار: ((من اتخذ خاتماً فصه ياقوت نفي عنه الفقر)) .

ثم ذكر كلام ابن الأثير في كتابه ((نهاية غريب الحديث)) وعبارته: وفي التختم بالياقوت ينفي الفقر يريد أنه إذا ذهب ماله باع خاتمه فوجد فيه عنى.

قال: والأشبه إن صح الحديث يكون لخاصية فيه انتهى.

ثم زاد الدميري: كما أن النار لا تؤثر فيه ولا تغيره أن من تختم به أمن من الطاعون، وتيسرت له أمور المعاش، ويقوى قلبه، ويهابه الناس، ويسهل عليه قضاء الحوائج.

قال: والفيروزج حجر أخضر تشوبه زرقة يصفو لونه مع صفاء الجو، ويتكدر بتكدره، ومن خواصه أنه لم ير في يد قتيل خاتمٌ منه أبداً.

قال: والمرجان إذا علق على طفل امتنعت عنه أعين السوء من الجن والإنس.
ইবনে আদি ‘আদ-দুয়াফা’ গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: “যে ব্যক্তি এমন আংটি পরিধান করে যার পাথর ইয়াকুত (চুনি), তার থেকে দারিদ্র্য দূর করে দেওয়া হয়।”

অতঃপর তিনি ইবনুল আসিরের তার ‘নিহায়াহ গারিবুল হাদিস’ গ্রন্থে উল্লেখিত বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, যার শব্দরূপ হলো: “ইয়াকুত পাথরের আংটি পরিধান দারিদ্র্য দূর করে—এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, যদি তার সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে সে তার আংটিটি বিক্রি করে দেয় এবং এর মাধ্যমে সচ্ছলতা লাভ করে।”

তিনি বলেন: “হাদিসটি যদি সহিহ হয়ে থাকে, তবে এটি এই পাথরের বিশেষ কোনো গুণের কারণেই হওয়াটাই অধিক যুক্তিযুক্ত।” (সমাপ্ত)।

অতঃপর আদ-দামিরি আরও যোগ করেছেন: “যেমনভাবে আগুন একে প্রভাবিত করে না এবং এর কোনো পরিবর্তন ঘটায় না, তেমনি যে ব্যক্তি এটি পরিধান করবে সে প্লেগ বা মহামারি থেকে নিরাপদ থাকবে, তার জীবনযাত্রার বিষয়গুলো সহজ হবে, তার অন্তর শক্তিশালী হবে, মানুষ তাকে সমীহ করবে এবং তার প্রয়োজনসমূহ পূরণ হওয়া সহজ হবে।”

তিনি বলেন: “ফিরোজা হলো একটি সবুজ বর্ণের পাথর যাতে নীলাভ আভা রয়েছে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে এর রঙ স্বচ্ছ থাকে এবং আবহাওয়া মেঘলা হলে এর রঙও ঘোলাটে হয়ে যায়। এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, কোনো নিহত ব্যক্তির হাতে কখনোই ফিরোজার আংটি দেখা যায়নি।”

তিনি বলেন: “আর মারজান (প্রবাল) যদি কোনো শিশুর গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, তবে জিন ও মানুষের কুনজর থেকে সে রক্ষা পায়।”
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ১৯)
والبلور من علق عليه لم ير [عليه] سوء.

انتهى ما ذكره الدميري.

وذكر الحافظ الذهبي في ((كتاب الطب)) له حديث التختم بالعقيق بصيغة التمريض فقال: ويروى: ((تختموا بالعقيق فإنه ينفي الفقر)) . وذكر عن أرسطو أن من تختم به رد روعه إليه عند الخصام، وأن شربه يقطع نزف الدم.

وذكر بعض حنابلة زماننا في ((تصنيف له في خواص الأحجار والجواهر)) هذا في التختم بالعقيق الشديد الحمرة، المشرق اللون، الذي ليس فيه كدورةٌ ولا نكتةٌ، وهو خياره.

قال: ومن تختم بالرطبي الذي لونه كلون غسالة اللحم وفيه خطوط خفيفة قطع عنه نزف الدم، ومن أي موضع كان من الجسد لا سيما اللواتي تدوم استحاضتهم، وشربه مراراً كثيرة ينفع من الصرع.

قال: وزعموا أن الياقوت الأبيض إذا علق أو تختم به نفع من جمود
এবং স্ফটিক, যে ব্যক্তি এটি নিজের অঙ্গে ধারণ করে সে কোনো অনিষ্ট দেখে না।

আদ-দামিরি যা উল্লেখ করেছেন তা এখানেই সমাপ্ত।

হাফিজ আজ-জাহাবি তাঁর ‘কিতাবুত তিব’ গ্রন্থে আকিক পাথরের আংটি পরিধান সংক্রান্ত হাদিসটি দুর্বলতাসূচক শব্দে উল্লেখ করে বলেছেন: বর্ণিত আছে যে, “তোমরা আকিক পাথরের আংটি পরিধান করো, কারণ এটি দারিদ্র্য বিমোচন করে।” এবং তিনি এরিস্টটলের বরাতে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি এটি পরিধান করে বিবাদের সময় তার আতঙ্ক দূরীভূত হয়, এবং এর চূর্ণ পান করা রক্তপাত বন্ধ করে দেয়।

আমাদের সময়ের জনৈক হাম্বলি আলিম রত্ন ও মণি-মুক্তার বৈশিষ্ট্য বিষয়ক তাঁর এক রচনায় উজ্জ্বল ও গাঢ় লাল বর্ণের স্বচ্ছ আকিক পাথরের আংটি পরিধান সম্পর্কে এটি উল্লেখ করেছেন, যাতে কোনো ঘোলাটে ভাব বা দাগ নেই, আর এটিই হলো উৎকৃষ্ট মানের আকিক।

তিনি বলেছেন: আর যে ব্যক্তি ‘রাতবি’ (মাংস ধোয়া পানির মতো বর্ণবিশিষ্ট) আকিক পরিধান করবে—যাতে সূক্ষ্ম রেখা বিদ্যমান—তা শরীরের যেকোনো স্থান থেকেই হোক না কেন রক্তপাত বন্ধ করে দেয়, বিশেষ করে সেই নারীদের ক্ষেত্রে যাদের দীর্ঘস্থায়ী ইস্তিহাজা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) হয়; এবং এটি বারবার পান করা মৃগীরোগের ক্ষেত্রে ফলদায়ক।

তিনি বলেন: তারা মনে করেন যে, শ্বেত ইয়াকুত যদি লটকে রাখা হয় বা আংটি হিসেবে পরিধান করা হয়, তবে তা জড়তা থেকে মুক্তি দেয়।
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২০)
الدم ومن نزفه، ومن الطاعون والصرع، ومن علقه عليه اتسع رزقه وتصرفه في المعاش وحمل الأصفر منه والتختم به يمنع الاحتلام.

قال ومن تقلد بالزمرذ أو تختم ذهب عنه الصرع، وكان واقياً له من الأذى، جالباً له كل مسرة؛ من أجل ذلك يعلقه الملوك على أولادهم.

قال: ومن تقلد بالزبرجد أو تختم دفع عنه داء الصرع، لكن يكون ذلك قبل حدوث الداء وخواصه قريبة من خواص الزمرذ.

انتهى ما ذكره هذا الحنبلي ملخصاً.

تنبيه:

قال حمزة بن الحسن الأصبهاني -سامحه الله- في كتابه ((التنبيه على حدوث تصحيف الحديث)) :

كثير من رواة الحديث يروون أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((تختموا بالعقيق)) ، وإنما هو ((تخيموا بالعقيق)) أي بالياء التحتانية
রক্ত এবং রক্তক্ষরণ থেকে, এবং মহামারী ও মৃগীরোগ থেকে। যে ব্যক্তি এটি নিজের সাথে ঝুলাবে, তার রিযিক এবং জীবনযাত্রার উপায় প্রশস্ত হবে। আর এর হলুদ অংশটি বহন করা এবং এটি দ্বারা আংটি তৈরি করে পরা স্বপ্নদোষ প্রতিরোধ করে।

তিনি বলেন: যে ব্যক্তি পান্না গলায় ধারণ করবে অথবা এর আংটি পরিধান করবে, তার থেকে মৃগীরোগ দূর হয়ে যাবে। এটি তাকে অনিষ্ট থেকে রক্ষাকারী এবং তার জন্য সকল প্রকার আনন্দ বয়ে আনবে; এই কারণেই রাজারা তাদের সন্তানদের এটি পরিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন: যে ব্যক্তি জাবারজাদ গলায় ধারণ করবে অথবা এর আংটি পরিধান করবে, তা তাকে মৃগীরোগ থেকে রক্ষা করবে; তবে এটি রোগ আক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই হতে হবে। এর বৈশিষ্ট্যসমূহ পান্নার বৈশিষ্ট্যের কাছাকাছি।

এই হাম্বলি আলেম যা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন তা এখানেই শেষ হলো।

সতর্কতা:

হামযাহ ইবনে হাসান আল-আসবাহানি —আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন— তার 'আত-তামবিহু আলা হুদুছি তাসহিফিল হাদিস' নামক গ্রন্থে বলেছেন:

অনেক হাদীস বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আকীক পাথরের আংটি পরিধান করো।” অথচ এটি মূলত হলো: “তোমরা আকীক উপত্যকায় তাবু স্থাপন করো”, অর্থাৎ এটি নিচের নুকতাযুক্ত 'ইয়া' বর্ণ যোগে।
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২১)
يعني: اضربوا خيامكم بوادي العقيق -وهو معروف بظاهر المدينة النبوية- وانزلوا به.

قلت:

وقد يستأنس لذلك على نكارته وشذوذه بل وعدم تسليمه لفظاً وتأويلاً بحديث عمر بن الخطاب أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بوادي العقيق يقول:

((أتاني الليلة آتٍ من ربي فقال: صل في هذا الوادي المبارك وقل: عمرة في حجة)) . رواه البخاري وأبو داود وابن ماجه وغيرهم في كتاب الحج.

لكن دعوى حمزة هذه خلاف الظاهر المتبادر إلى الذهن من باقي ألفاظ التختم التي ذكرناها في لبس الخاتم، الصريحة التي لا تقبل التأويل بوجه، القاطعة بأن المراد لبس خاتم العقيق وهو الحجر المعروف المتخذ منه الفصوص والخواتيم وما في معناه من الجواهر في الأصبع، تزينا كالتختم بالفضة ونحوها، لا التخيم وهو ضرب الخيمة والنزول بوادي العقيق المشار إليه. فهي منه دعوى مردودةٌ لأنها عدولٌ عن الظاهر المتعين من غير حاجة، وانفرادٌ بما لم يقله سواه، ونسبةٌ لمن يروي الحديث على وجهه إلى التصحيف بغير مستند. ولا أدري ما أوقعه في ذلك مع أن ابن الجوزي قد كفانا هذه المؤنة في ((موضوعاته)) بعد أن ساق أحاديث التختم بالعقيق بألفاظ
অর্থাৎ: তোমরা আকীক উপত্যকায় তোমাদের তাঁবু স্থাপন করো—যা মদীনা নববীর উপকণ্ঠে সুপরিচিত—এবং সেখানে অবস্থান করো।

আমি বলি:

তার এই বক্তব্যের অসারতা ও বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও, এমনকি শব্দগত ও ব্যাখ্যাগতভাবে তা অগ্রহণযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর হাদীস দ্বারা এর সপক্ষে কিছুটা সমর্থন খোঁজার চেষ্টা করা যেতে পারে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকীক উপত্যকায় থাকাকালীন বলতে শুনেছেন:

((আজ রাতে আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার কাছে আসলেন এবং বললেন: আপনি এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলুন: হজ্জের সাথে উমরাহ))। এটি বুখারী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্যরা হজ্জ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু হামযার এই দাবিটি আংটি পরিধানের ব্যাপারে আমরা যে শব্দগুলো উল্লেখ করেছি, তার স্পষ্ট ও স্বাভাবিক অর্থের পরিপন্থী। সেই শব্দগুলো কোনোভাবেই ভিন্ন ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না এবং তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এর উদ্দেশ্য হলো আকীক পাথরের আংটি পরিধান করা—যা একটি সুপরিচিত পাথর যা থেকে আংটির পাথর ও আংটি তৈরি করা হয়—এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আঙুলে রূপা বা অনুরূপ আংটির মতো পরিধান করা হয়। এর অর্থ তাঁবু স্থাপন করা এবং উল্লিখিত আকীক উপত্যকায় অবস্থান করা নয়। সুতরাং এটি তার পক্ষ থেকে একটি প্রত্যাখ্যাত দাবি; কারণ এটি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই নির্ধারিত বাহ্যিক অর্থ থেকে বিচ্যুতি এবং এমন এক একক মত যা তিনি ছাড়া আর কেউ বলেননি। তদুপরি, এটি কোনো প্রমাণ ছাড়াই সেই ব্যক্তিদের দিকে শব্দ বিকৃতির (তাসহিফ) দায় চাপানো যারা হাদীসটিকে তার সঠিক শব্দে বর্ণনা করেছেন। আমি জানি না কী তাকে এই পথে চালিত করল, অথচ ইবনুল জাওযী তাঁর "মাওদুআত" গ্রন্থে আকীক পাথরের আংটি পরিধান সংক্রান্ত হাদীসগুলো বিভিন্ন শব্দে উদ্ধৃত করার পর আমাদের জন্য এই শ্রম লাঘব করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২২)
منها اللفظ المذكور، ثم ذكر عن حمزة ما قدمناه بحروفه، ثم تعقبه فقال: وهذا بعيد، وقائل هذا القول حق أن ينسب إليه التصحيف لما ذكرنا من طرق هذا انتهى كلامه.

بل قد نص جماعة من الحنابلة على التختم بالعقيق، وقطع ابن تميم وصاحب ((المستوعب)) و ((التلخيص)) منه باستحباب ذلك وعبارة ((الرعاية)) : يستحب التختم بعقيق أو بفضة دون مثقال في خنصر يد منهما. واحتج صاحب ((المستوعب)) بحديث: ((تختموا بالعقيق فإنه مبارك)) .

وقال أبو عبد الرحمن السلمي الصوفي آخر ((جزء)) له هو عشرون حديثاً:

أخبرنا أبو جعفر محمد بن أحمد بن سعيد الرازي، حدثنا أبو عبد الله محمد بن مسلم بن وارة، حدثنا محمد بن يوسف الفريابي، حدثنا سفيان الثوري، عن إسماعيل السدي، عن عبد خير قال:

((كان لعلي بن أبي طالب أربعة خواتيم يتختم بها: ياقوت لقلبه، فيروزجٌ لبصره، حديد صيني لقوته، عقيقٌ لحرزه. وكان نقش الياقوت: لا إله إلا الله الملك الحق المبين. ونقش الفيروزج: الله الملك. ونقش الحديد الصيني: العزة لله جميعاً. ونقش العقيق ثلاثة أسطر: ما شاء الله، لا قوة إلا بالله، أستغفر الله)) .
এর মধ্যে উল্লিখিত শব্দটিও রয়েছে। অতঃপর তিনি হামযা থেকে যা আমরা অবিকল পেশ করেছি তা উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি এর পর্যালোচনা করে বলেছেন: এটি দূরবর্তী বা অগ্রহণযোগ্য, এবং এই উক্তি প্রদানকারীকে তাসহিফ বা শব্দবিকৃতির অন্তর্ভুক্ত করা যথার্থ, কারণ আমরা এর যে সকল সূত্র উল্লেখ করেছি তার প্রেক্ষিতে। তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।

বরং হানবালি ফকিহদের একটি দল আকিক পাথরের আংটি পরিধান করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন। ইবন তামিমি এবং ‘আল-মুস্তাউবিব’ ও ‘আত-তালখিস’ গ্রন্থের লেখক একে মুস্তাহাব হিসেবে অকাট্যভাবে উল্লেখ করেছেন। ‘আর-রিআয়াহ’ গ্রন্থের ভাষ্য হলো: উভয় হাতের যেকোনো একটির কনিষ্ঠ আঙুলে আকিক পাথর অথবা এক মিসকালের কম ওজনের রূপার আংটি পরিধান করা মুস্তাহাব। ‘আল-মুস্তাউবিব’ গ্রন্থের লেখক এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: “তোমরা আকিক পাথরের আংটি পরিধান করো, কেননা তা বরকতময়।”

সুফি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি তাঁর বিশটি হাদিস সংবলিত একটি ‘জুয’ বা পুস্তিকার শেষে বলেছেন:

আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান আস-সাওরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইসমাইল আস-সুদ্দি থেকে, তিনি আবদ খাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

“আলী ইবনে আবি তালিবের চারটি আংটি ছিল যা তিনি পরিধান করতেন: হৃদয়ের জন্য ইয়াকুত, দৃষ্টিশক্তির জন্য ফিরোজা, শক্তির জন্য হাদিদ সিনি (চীনা লোহা) এবং সুরক্ষার জন্য আকিক। ইয়াকুত পাথরের খোদাই ছিল: আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, যিনি রাজাধিরাজ, পরম সত্য, সুপ্রকাশিত। ফিরোজার খোদাই ছিল: আল্লাহই রাজাধিরাজ। হাদিদ সিনির খোদাই ছিল: সমস্ত মর্যাদা ও ক্ষমতা আল্লাহরই জন্য। আর আকিক পাথরের খোদাই ছিল তিন লাইনে: আল্লাহ যা চেয়েছেন (তা-ই হয়), আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২৩)
سنده إلى عبد خير جيد ومتنه غريب منكر.

وهذا ما وقع الاختيار عليه في هذا الإملاء لكونه أمثل ما يستأنس به في الجملة، ودونه وأوهى منه أحاديث أوردها صاحب ((الفردوس)) وابنه وغيرهما منها حديث عمر: ((تختموا بالعقيق فإن جبريل أتاني به من الجنة وقال: يا محمد تختم بالعقيق وأمر أمتك أن تتختم به)) .

وحديث ابنه: ((من تختم بالعقيق كتب الله له كل يوم عشر حسنات، ومحا عنه عشر سيئات)) .

وحديث علي: ((تختموا بخواتيم العقيق فإنه لا يصيب أحدكم غم ما دام عليه)) .

وحديث: ((من تختم بالياقوت الأصفر لم يفتقر)) .

وحديثه أيضاً: ((تختموا بالزبرجد فإنه يسر لا عسر فيه)) .
আবদ খাইর পর্যন্ত এর সনদটি উত্তম, তবে এর মতন (মূল পাঠ) ‘গারীব’ ও ‘মুনকার’।

বর্তমান আলোচনায় এটিকেই গ্রহণ করা হয়েছে, কারণ এটিই মোটামুটিভাবে দলীল হিসেবে গ্রহণ করার মতো সবচাইতে উপযোগী বর্ণনা। এর চেয়ে নিম্নমানের এবং আরও দুর্বল কিছু হাদিস ‘আল-ফিরদাউস’ গ্রন্থের লেখক, তাঁর পুত্র এবং অন্যরা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো: “তোমরা আকীক পাথরের আংটি পরিধান করো; কেননা জিবরাঈল জান্নাত থেকে এটি আমার কাছে নিয়ে এসেছিলেন এবং বলেছিলেন: হে মুহাম্মদ, আপনি আকীকের আংটি পরুন এবং আপনার উম্মতকেও এটি পরিধানের নির্দেশ দিন।”

এবং তাঁর পুত্রের বর্ণিত হাদিস: “যে ব্যক্তি আকীকের আংটি পরিধান করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য প্রতিদিন দশটি নেকি লিখে দেবেন এবং তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন।”

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: “তোমরা আকীকের আংটি পরিধান করো, কারণ যতক্ষণ এটি তোমাদের সঙ্গে থাকবে, ততক্ষণ তোমাদের কাউকে কোনো দুঃখ-চিন্তা স্পর্শ করবে না।”

এবং হাদিস: “যে ব্যক্তি হলুদ ইয়াকুত পাথরের আংটি পরিধান করবে, সে অভাবগ্রস্ত হবে না।”

তাঁর বর্ণিত আরেকটি হাদিস: “তোমরা জাবারজাদ পাথরের আংটি পরিধান করো, কারণ এটি স্বাচ্ছন্দ্য আনয়নকারী এবং এতে কোনো কঠিনতা নেই।”
(খণ্ড: ১) আত-তালীকুর রাশীক ফীত তাখাত্তুমি বিল আকীক লিন নাজী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وهذا آخر تعليق هذا التعليق في التختم بالعقيق ونحوه من الجوهر الأنيق، والحمد لله على جميع نعمه أولاً وآخراً، وباطناً وظاهراً، وصلى الله على أكمل خلقه سيدنا محمد، وعلى آله وأزواجه وصحبه وتابعيهم، وسلم تسليماً كثيراً متواتراً.

علق هذا الجزء على حكم الاستعجال، وتقسم الخاطر والبال، وكثرة الأشغال أحمد ابن الحمصي، غفر الله ذنوبه، وستر في الدارين عيوبه، وذلك بتاريخ شهر شوال سنة أربعين وثمانمائة والحمد لله وحده، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.
এটিই আকীক পাথরের আংটি পরিধান করা এবং অনুরূপ মার্জিত রত্নরাজির বর্ণনাসংবলিত এই টীকাভাষ্যের সমাপ্তি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর সকল নিআমতের ওপর—শুরুতে ও শেষে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির পূর্ণতম সত্তা আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, পত্নীগণ, সাহাবীগণ ও তাঁদের অনুসারীদের ওপর; আর বর্ষিত হোক প্রচুর ও নিরবচ্ছিন্ন সালাম।

তাড়াহুড়োর আবহে, মন ও চিন্তার বিক্ষিপ্ততা এবং কর্মব্যস্ততার আধিক্যের মধ্যে এই অংশটি লিপিবদ্ধ করেছেন আহমাদ ইবনুল হিমসি; আল্লাহ তাঁর গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং উভয় জাহানে তাঁর দোষত্রুটি গোপন রাখুন। আর এটি সম্পন্ন হয়েছে ৮৪০ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর।