(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: -)
هدية الأحياء إلى الأموات وما يصل إليهم للهكاري   (أبو الحسن الهكاري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: هدية الأحياء للأموات وما يصل إليهم من النفع والثواب على ممر الأوقات

المؤلف: أَبُو الحَسَنِ عَلِيُّ بنُ أَحْمَدَ بنِ يُوْسُفَ بن جَعْفَرِ الهَكَّارِي (ت 486هـ)

المحقق: أبو عبد الرحمن شوكت بن رفقي شحالتوغ

الناشر: الدار الأثرية [طبع ضمن مجموع فيه رسائل في حكم إهداء ثواب قراءة القرآن للأموات]

الطبعة: الأولى 1430 هـ - 2009 م

عدد الصفحات: 196

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মৃতদের প্রতি জীবিতদের উপহার এবং সময়ের আবর্তে তাদের কাছে যা পৌঁছে - আল-হাক্কারি   (আবু আল-হাসান আল-হাক্কারি)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


কিতাব: মৃতদের প্রতি জীবিতদের উপহার এবং সময়ের পরিক্রমায় তাদের কাছে যে উপকার ও সওয়াব পৌঁছে

লেখক: আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ বিন ইউসুফ বিন জাফর আল-হাক্কারি (মৃত্যু ৪৮৬ হিজরি)

তাহকীককারী: আবু আবদুর রহমান শাওকাত বিন রিফকি শাহালতুগ

প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ [মৃতদের প্রতি কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছানোর বিধান সংক্রান্ত রিসালাহসমূহের একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত]

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৬

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খায়ের আকবিল

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: -)
مجموع فيه رسائل في حكم

إهداء ثواب قراءة القرآن للأموات

 

-[الرسالة الأولى: هدية الأحياء للأموات وما يصل إليهم من النفع والثواب على ممر الأوقات]-

للإمام علي بن أحمد بن يوسف الهكاري 489 هـ

الرسالة الثانية: الكلام على وصول القراءة للميت

للإمام محمد بن إبراهيم بن عبد الواحد بن سرور المقدسي 676 هـ

الرسالة الثالثة: نفحات النسمات في وصول إهداء الثواب للأموات

للإمام أحمد بن إبراهيم بن عبد الغني السروجي 701 هـ

الرسالة الرابعة: القول بالإحسان العميم في انتفاع الميت بالقرآن العظيم

للإمام محمد بن علي بن محمد بن عمر القطان العسقلاني 813 هـ

 

اعتنى بها وعلق عليها

أبو عبد الرحمن شوكت بن رفقي شحالتوغ

 

الدار الأثرية

 

الطبعة الأولى

1430 هـ - 2009 م
একটি সংকলন যাতে বিধান সংক্রান্ত বেশ কিছু পুস্তিকা রয়েছে

মৃতদের নিকট কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছানো প্রসঙ্গে

 

-[প্রথম পুস্তিকা: মৃতদের জন্য জীবিতদের উপহার এবং সময়ের পরিক্রমায় তাদের কাছে যে উপকার ও সওয়াব পৌঁছে থাকে]-

ইমাম আলী বিন আহমাদ বিন ইউসুফ আল-হাক্কারী (৪৮৯ হিজরি)-এর রচিত

দ্বিতীয় পুস্তিকা: মৃতব্যক্তির নিকট তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছানো প্রসঙ্গে আলোচনা

ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন সুরূর আল-মাকদিসী (৬৭৬ হিজরি)-এর রচিত

তৃতীয় পুস্তিকা: মৃতদের নিকট সওয়াব পাঠানোর ক্ষেত্রে স্নিগ্ধ সমীরণের সুবাস

ইমাম আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল গনী আস-সারূজী (৭০১ হিজরি)-এর রচিত

চতুর্থ পুস্তিকা: মহান কুরআনের মাধ্যমে মৃতব্যক্তির উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনুগ্রহ সম্পর্কিত বক্তব্য

ইমাম মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন উমর আল-কাত্তান আল-আসকালানী (৮১৩ হিজরি)-এর রচিত

 

সম্পাদনা ও টীকা সংযোজন করেছেন

আবু আব্দুর রহমান শাওকাত বিন রিফকি শাহালতুগ

 

আদ-দারুল আসারিয়্যাহ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
كتاب

هدية الأحياء للأموات وما يصل إليهم من النفع والثواب على ممر الأوقات

تصنيف

الشيخ الإمام شيخ الإسلام علي بن أحمد بن يوسف القرشي

489 هـ
কিতাব

মৃতদের প্রতি জীবিতদের হাদিয়া এবং সময়ের পরিক্রমায় তাদের নিকট যা কিছু উপকার ও সওয়াব পৌঁছায়

সংকলনে

শাইখ, ইমাম, শাইখুল ইসলাম আলী বিন আহমাদ বিন ইউসুফ আল-কুরাশি

৪৮৯ হিজরি
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
بسم الله الرحمن الرحيم رب أعن بعونك

الحمد لله الذي في السماء عرشه، وفي الأرض سلطانه، وفي الجنة رحمته، وفي النار عذابه، وفي القبور قضاؤه.

أحمده حمداً يوافي نعمه، ويكافي مزيده كما هو أهله ومستحقه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له فيضاهيه، ولا نظير لها فيوازيه، وأشهد أن محمد عبده المرتضى، ورسوله المكي الطاهر الزكي التقي النقي، اختاره واصطفاه وقربه، ودناه وكلمه وناجاه،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব, আপনার সাহায্যের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করুন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমানে যাঁর আরশ, যমীনে যাঁর রাজত্ব, জান্নাতে যাঁর রহমত, জাহান্নামে যাঁর আযাব এবং কবরে যাঁর ফয়সালা।

আমি তাঁর এমন প্রশংসা করছি যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য এবং তাঁর উত্তরোত্তর অনুগ্রহের জন্য যথেষ্ট, ঠিক যেমনটি তিনি উপযুক্ত ও প্রাপ্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই যে তাঁর সমকক্ষ হবে, এবং তাঁর কোনো সদৃশ নেই যে তাঁর সমান হবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর মনোনীত বান্দা এবং তাঁর মক্কী রাসূল, যিনি পবিত্র, পরিশুদ্ধ, মুত্তাকী ও পরিচ্ছন্ন; আল্লাহ তাঁকে চয়ন করেছেন, মনোনীত করেছেন এবং নিকটবর্তী করেছেন; আর তাঁকে কাছে টেনেছেন, তাঁর সাথে কথা বলেছেন এবং তাঁর সাথে নিভৃতে আলাপ করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
وفي المعراج بنفسه وروحه رقاه، وبه أنظر إلى وجهه الكريم، ليلة أسري به أكرمه وحباه صلى الله عليه وسلم وعلى من قدمه للصلاة في
এবং মি’রাজে তিনি তাঁকে সশরীরে ও রূহসহ আরোহণ করিয়েছেন, এবং এর মাধ্যমে তাঁকে তাঁর মহান চেহারার দিকে দৃষ্টিপাত করিয়েছেন; যে রাতে তাঁকে নৈশভ্রমণ করানো হয়েছিল সেই রাতে তিনি তাঁকে সম্মানিত করেছেন ও দান করেছেন, তাঁর ওপর এবং যাঁর মাধ্যমে তিনি সালাতের সূচনা করেছিলেন তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক...
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
حياته، وفقاه واستخلفه بعده على أمة المسلمين وأكرمه برؤيته يوم لقاه، وعلى سائر أصحابه وأهل بيته وتابعي سنته بعده، وأسكنهم دار كرامته وتقاه.
তাঁর জীবনকালে, তাঁকে তাওফীক দান করেছেন এবং তাঁর পরে মুসলিম উম্মাহর ওপর তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনে তাঁকে তাঁর দর্শনের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন; এবং তাঁর সকল সাহাবী, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর পরবর্তী সুন্নাহর অনুসারীদের ওপরও, আর তিনি তাঁদেরকে তাঁর সম্মান ও তাকওয়ার আবাসে স্থান দান করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
أما بعد، فإني جمعت هذا الكتاب مشتملاً على الاعتقاد.

‌‌باب الصدقة والدعاء وقراءة القرآن والصلاة يصل من المسلم ثوابه إلى الموتى في قبورهم وهدية الأحياء للأموات واصلة إليهم ونافعة لهم بالدلالة الواضحة والحجج النيرة من الكتاب والسنة المنيرة، والله الموفق للصواب

1- حدثنا الشيخ أبو طالب محمد بن علي بن أحمد بن يوسف القرشي، قال لي الشيخ الأمام العارف شيخ الإسلام أبو الحسن علي بن أحمد يوسف القرشي قال: أخبرنا الشيخ الصالح الثقة أبو القاسم هبة الله بن علي بن عبد الرحمن بن شامة المعافري بمصر، وكان قد حج أربعين حجة على قدميه فرأى النبي صلى الله عليه وسلم، في المنام نيف وثمانين مرة، كل ذلك يعاهده على الشفاعة، قال: ثنا أبو إسحاق عبد الملك ⦗ص: 169⦘ ابن حيان، قال: ثنا محمد بن إبراهيم المصري، قال: ثنا أبو العباس العطار الأحدب بأنطاكية، ثنا الحسين بن حريث عن ليث عن مجاهد عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما الميت في قبره إلا شبه الغريق المتغوث ينتظر دعوة من أب أو أم أو أخ أو صديق ثقة أو ولد صالح، فإذا لحقه ذلك كانت أحب إليه من الدنيا وما فيها، وإن الله عز وجل يدخل على أهل القبور من دعاء أهل الدور أمثال الجبال، وإن ⦗ص: 170⦘ هدية الأحياء للأموات الاستغفار لهم)) .

وهذا دليل على أن الدعاء والاستغفار واصل إليهم وداخل عليهم ونافع لهم من الوالدين الأحياء.. الأمهات والصديق الولد.
অতঃপর, আমি আকিদা (বিশ্বাস) সংবলিত এই গ্রন্থটি সংকলন করেছি।

‌‌পরিচ্ছেদ: সদকা, দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত ও সালাতের সওয়াব একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে তাদের কবরে থাকা মৃতদের নিকট পৌঁছানো এবং জীবিতদের পক্ষ থেকে মৃতদের উদ্দেশ্যে প্রেরিত উপহার তাদের কাছে পৌঁছে এবং কিতাব ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট দলীল ও উজ্জ্বল প্রমাণের ভিত্তিতে তা তাদের উপকারে আসে। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।

১- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে ইউসুফ আল-কুরাশি, তিনি বলেন, শাইখ আল-ইমাম আল-আরিফ শাইখুল ইসলাম আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইউসুফ আল-কুরাশি আমাকে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মিশরের সৎ ও বিশ্বস্ত শাইখ আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আবদুর রহমান ইবনে শামাহ আল-মুআফিরি। তিনি পায়ে হেঁটে চল্লিশবার হজ সম্পন্ন করেছিলেন এবং স্বপ্নে আশি বারেরও বেশি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছিলেন, যেখানে প্রতিবারই তিনি তাঁর সাথে শাফায়াতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আব্দুল মালিক ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৯⦘ ইবনে হাইয়ান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-মিসরি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আনতাকিয়ায় বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আল-আত্তার আল-আহদাব। আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে হুরায়স বর্ণনা করেছেন লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “কবরে মৃত ব্যক্তির অবস্থা এমন এক ডুবন্ত ব্যক্তির মতো যে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে। সে তার পিতা, মাতা, ভাই, বিশ্বস্ত বন্ধু কিংবা নেক সন্তানের দোয়ার অপেক্ষা করতে থাকে। যখন তা তার নিকট পৌঁছে, তখন তা তার কাছে পৃথিবী ও এর মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হয়ে ওঠে। আর নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ দুনিয়াবাসীদের দোয়ার বরকতে কবরবাসীদের নিকট পাহাড়সম সওয়াব পৌঁছে দেন। আর ⦗পৃষ্ঠা: ১৭০⦘ মৃতদের জন্য জীবিতদের উপহার হলো তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।”

আর এটি এই বিষয়ের দলীল যে, দোয়া এবং ক্ষমা প্রার্থনা মৃতদের নিকট পৌঁছায়, তাদের কাছে প্রবেশ করে এবং জীবিত পিতামাতা, মা, বন্ধু এবং সন্তানের পক্ষ থেকে তা তাদের উপকারে আসে।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৭১)
‌‌باب الدليل على أن الصدقة واصلةٌ إلى الميت

2- حدثنا الشيخ الإمام أبو طالب محمد بن علي بن أحمد بن يوسف القرشي، قال: أنبأ الشيخ الإمام شيخ الإسلام أبو الحسن علي ابن أحمد بن يوسف القرشي، قال: أخبرنا أبو الفضل أحمد بن علي ابن أحمد الصفار المرصفي، ثنا أبو الحسين علي بن أحمد بن مزاحم الصواف، ثنا أبو إسحاق إبراهيم بن أحمد بن الحسن القرميسيني قال: ثنا الوليد بن حماد الرملي، ثنا محمد بن عبد الرحمن بن محمد الطبري قال: ثنا عبد الله بن سليمان، قال: ثنا إبراهيم بن هدبة عن أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنك لتصدق عن ميتك بصدقة فيجئ بها ملك من الملائكة في أطباق من نور فيقف على رأس القبر فينادي: يا صاحب القبر الغريب، إن أهلك قد أهدوك هذه الهدية فأقبلها، فيدخلها في قبره، فيقول: جزى الله أهلي عني خيراً، وأما القبر الذي يليه، فيقول: أما أنا فلم.. .. مالاً ولا ولداً ولا أحداً يذكرني بخير وهو مهموم حزين، والذي تصدق عنه فرح بالهدية)) .
মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর দলীল সংক্রান্ত অধ্যায়

২- শেখ ইমাম আবু তালিব মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আহমাদ বিন ইউসুফ আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শেখ ইমাম শাইখুল ইসলাম আবুল হাসান আলী ইবনে আহমাদ বিন ইউসুফ আল-কুরাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফজল আহমাদ বিন আলী ইবনে আহমাদ আস-সাফফার আল-মারসাফি আমাদের অবহিত করেছেন, আবুল হুসাইন আলী বিন আহমাদ বিন মুজাহিম আস-সাওয়াফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আল-কারমিসিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ বিন হাম্মাদ আর-রামলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আত-তাবারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন হুদবা আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই তুমি যখন তোমার মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো সাদকা প্রদান করো, তখন ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা নূরের থালায় করে তা নিয়ে আসে এবং কবরের শিয়রে দাঁড়িয়ে ডাক দিয়ে বলে: হে নিঃসঙ্গ কবরের অধিবাসী, তোমার পরিবার তোমার নিকট এই উপহার পাঠিয়েছে, সুতরাং তুমি তা গ্রহণ করো। তখন সে তা তার কবরে নিয়ে নেয় এবং বলে: আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে আমার পরিবারকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আর তার পার্শ্ববর্তী কবরের অধিবাসী বলে: হায়! আমার তো কোনো... সম্পদ নেই, কোনো সন্তান নেই এবং এমন কেউ নেই যে আমাকে কল্যাণের সাথে স্মরণ করবে; এমতাবস্থায় সে অত্যন্ত চিন্তিত ও দুঃখিত থাকে। আর যার পক্ষ থেকে সাদকা করা হয়েছে সে সেই উপহারের কারণে আনন্দিত হয়।))।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৭২)
‌‌باب النهي عن الجلوس على المقابر

3- أخبرنا الشيخ الإمام شيخ الإسلام أبو الحسن علي بن أحمد ابن يوسف القرشي، قال: أنبا الشيخ الإمام أبو الحسن أحمد بن فرغان، ثنا أبو الحسن علي بن عرابي بن محمد بن عبد الله بن المزوق، ثنا أبو عبد الرحمن عبد الله بن علي بن إبراهيم العمري، ثنا علي بن حرب، ثنا زيد بن أبي الورقاء عن ابن لهيعة عن بكر بن سوادة عن زياد بن نعيم عن عمارة بن حزم قال: رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلاً جالساً على قبر فقال: ((انزل عن القبر، لا تؤذي صاحب القبر)) .
কবরের ওপর বসা নিষেধ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

৩- শাইখুল ইমাম, শাইখুল ইসলাম আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে ইউসুফ আল-কুরাশি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: শাইখুল ইমাম আবুল হাসান আহমদ ইবনে ফারগান আমাদের জানিয়েছেন, আবুল হাসান আলী ইবনে উরাবি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুযাওওয়াক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে ইবরাহিম আল-উমারি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আলী ইবনে হারব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, যাইদ ইবনে আবিল ওয়ারকা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি বকর ইবনে সাওয়াদাহ থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে নুআইম থেকে, তিনি উমারাহ ইবনে হাযম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে কবরের ওপর বসে থাকতে দেখে বললেন: ((কবর থেকে নেমে যাও, কবরের অধিবাসীকে কষ্ট দিও না))।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
‌‌باب من صلى عليه مائة من المسلمين غفر له

4- حدثنا الشيخ الإمام، قال: أنبأ أبو عبد الرحمن محمد بن الحسين السليمي كتابةً قال: أنبا أبو العباس الأصم، أنبا أبو بكر محمد ابن الحسن بن محمود إجازةً قال: ثنا الحسن بن عبد الله اليشتري، قال: أنبأ أبو العباس محمد بن يعقوب الأصم، ثنا العباس بن محمد الدوري، قال: ثنا علي بن الحسين بن سفيان، قال: ثنا أبو حمزة السكوني عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من صلى عليه مائة من المسلمين غفر له)) ، وروي: ((أربعون رجلاً من أمتي)) .

فإذا اجتمع أربعون رجلاً فصلوا وأخلصوا له في الدعاء شفعهم الله فيها.
পরিচ্ছেদ: যার জানাজায় একশত জন মুসলিম সালাত আদায় করে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়

৪- শায়খ ইমাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আস-সুলামী আমাদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবুল আব্বাস আল-আসাম্ম আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে মাহমুদ অনুমতিসূত্রে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন: হাসান ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইয়াশতারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম্ম আমাদের জানিয়েছেন, আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দাওরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু হামজাহ আস-সাকুনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যার জানাজায় একশত জন মুসলিম সালাত আদায় করে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" এবং আরও বর্ণিত হয়েছে: "আমার উম্মতের চল্লিশজন ব্যক্তি।"

সুতরাং যখন চল্লিশজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে সালাত আদায় করে এবং তার জন্য নিষ্ঠার সাথে দুআ করে, তখন আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করেন।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
5- أخبرنا يوسف بن محمد بن القاسم المهدوي، قال: ثنا أبو الحسن عمر بن أحمد بن البراء، قال: ثنا أبو عمرو عثمان بن أحمد ⦗ص: 174⦘ الدقاق، قال: ثنا أبو بكر يحيى بن أبي طالب، قال: أخبرني أبي، قال: ثنا محمد بن الفضل عن زيد العمي عن يزيد القرشي عن أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما من عبد يقوم من الليل فيصلي ركعتين ويدعوا في سجوده لأربعين من إخوانه يسميهم بأسمائهم، إلا لم يسأل الله في تلك الساعة شيئاً إلا أعطاه)) .
৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-কাসিম আল-মাহদাভী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান উমর বিন আহমাদ বিন আল-বাররা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান বিন আহমাদ ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৪⦘ আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-ফদল, যায়েদ আল-আম্মী থেকে, তিনি ইয়াযিদ আল-কুরাশী থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((এমন কোনো বান্দা নেই যে রাতে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং তার সিজদাহর মধ্যে তার চল্লিশজন ভাইয়ের জন্য তাদের নাম ধরে দুআ করে, সে ওই সময়ে আল্লাহর কাছে যা-ই প্রার্থনা করবে তিনি তাকে তা দান করবেন।)) ।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
6- أخبرنا أبو عبد الرحمن محمد بن الحسين بن موسى السلمي كتابةً قال: ثنا أبو القاسم عبد الله بن محمد النيسابوري عن علي بن موسى البصري، عن ابن جريج، عن موسى بن وردان، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((اهدوا لموتاكم)) ، قلنا: وما نهدي يا رسول الله الموتى؟ قال: ((الصدقة والدعاء)) ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن أرواح المؤمنين يأتون كل جمعة إلى سماء الدنيا فيقفون بحذاء دورهم وبيوتهم فينادي كل واحد منهم بصوت حزين: يا أهلي وولدي وأهل بيتي وقراباتي، اعطفوا علينا بشيء، رحمكم الله، واذكرونا ولا تنسونا، وارحموا غربتنا، وقلة حيلتنا، وما نحن فيه، فإنا قد بقينا في سحيق وثيق، وغم طويل، ووهن شديد، فارحمونا رحمكم الله، ولا تبخلوا علينا بدعاء أو صدقة أو تسبيح، لعل الله يرحنا قبل أن تكونوا أمثالنا، فيا حسرتاه وانداماه يا عباد الله، اسمعوا كلامنا، ولا تنسونا، فأنتم تعلمون أن هذه الفضول التي في أيديكم كانت في أيدينا، وكنا لم ننفق في طاعة الله، ومنعناها عن الحق فصار وبالاً علينا ومنفعته لغيرنا، والحساب والعقاب علينا)) ، قال: ((فينادي كل واحد منهم ألف مرةٍ من الرجال والنساء، اعطفوا علينا بدرهم أو رغيف أو كسرة)) قال: فبكى رسول الله صلى الله عليه وسلم وبكينا معه، فلم نستطع أن نتكلم ثم قال: ((أولئك ⦗ص: 175⦘ إخوانكم كانوا في نعيم الدنيا، فصاروا رميماً بعد النعيم والسرور)) ، قال: ((ثم يبكون وينادون بالويل والثبور والنفير على أنفسهم يقولون: يا وليتنا لو أنفقنا ما كان في أيدينا ما احتجنا [.. ..] فيرجعون بحسرة وندامة، فينادون: ما أسرع ما تبكون أنتم على أنفسكم ثم لم ينفعكم فبادروا قبل أن تلحقوا بنا، فتكونوا أمثالنا، وقد نصحنا لكم، مهلاً مهلاً ثم ينادون بأجمعهم إن كنا أيسنا من أهالينا فإن الرحمن يذكرنا [.. ..] هو يرحمنا، فإن رحمته وسعت كل شيء)) ، فقالوا: يا نبي الله! صف لنا الصدقة للأموات فقال: ((إنك لتصدق عن ميتك بصدقة فيجيئه ملك من الملائكة بطبق من نور فيجعلها على الطبق ولها نور ساطع في سبع سماوات، فيقوم على شفير قبره فينادي: السلام عليك يا صاحب القبر الغريب إن أهلك أهدوا إليك بهدية فاقبلها)) ، قال: ((فيدخل الله في قبره وينور له في قبره، ويوسع عليه بها، من أعطى صدقة لميت فله عند الله من الثواب، مثل جبل أحد، ومثل جبل [..] وهو في ظل عرش الله يوم لا ظل إلا ظله، ولا حساب عليه، فتصدقوا رحمكم الله على موتاكم فانتم تنجون يوم القيامة من عذاب الله وتفرحون في جنة الله)) .
৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বিন মুসা আস-সুলামি লিখিতভাবে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আন-নিসাবুরি, আলী বিন মুসা আল-বাসরি থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি মুসা বিন ওয়ারদান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((তোমরা তোমাদের মৃতদের জন্য উপহার পাঠাও))। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা মৃতদের জন্য কী উপহার দেব? তিনি বললেন: ((সদকা ও দুআ))। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: ((নিশ্চয়ই মুমিনদের রূহগুলো প্রতি জুমুয়াহর দিনে দুনিয়ার আসমানে আসে এবং তারা তাদের নিজ নিজ ঘর ও বাড়িগুলোর সামনাসামনি দাঁড়িয়ে যায়। অতঃপর তাদের প্রত্যেকে করুণ স্বরে আর্তনাদ করে ডাক দিয়ে বলে: হে আমার পরিবার, আমার সন্তান, আমার পরিজন ও আত্মীয়-স্বজন! তোমরা আমাদের প্রতি কিছুটা মমতা দেখাও, আল্লাহ তোমাদের প্রতি রহম করুন। আমাদের স্মরণ করো, আমাদের ভুলে যেয়ো না। আমাদের এই পরবাসের একাকীত্ব, আমাদের উপায়ের স্বল্পতা এবং আমরা যে অবস্থার মধ্যে আছি তার ওপর করুণা করো। আমরা তো গভীর ও সুদৃঢ় সংকীর্ণতায়, দীর্ঘ বিষাদে এবং চরম দুর্বলতার মধ্যে নিপতিত আছি। অতএব আমাদের ওপর দয়া করো, আল্লাহ তোমাদের ওপর দয়া করবেন। আমাদের জন্য দুআ, সদকা কিংবা তাসবিহ প্রদানে কার্পণ্য করো না। সম্ভবত আল্লাহ আমাদের ওপর রহম করবেন তোমরা আমাদের মতো হওয়ার আগে। হায় আক্ষেপ! হায় অনুশোচনা! হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা আমাদের কথা শোনো এবং আমাদের ভুলে যেয়ো না। তোমরা তো জানো যে, তোমাদের হাতে থাকা এই অতিরিক্ত সম্পদগুলো একসময় আমাদের হাতেও ছিল। কিন্তু আমরা তা আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করিনি এবং হক আদায়ের ক্ষেত্রে তা আটকে রেখেছিলাম। ফলে তা আজ আমাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর এর উপকার ভোগ করছে অন্যরা; অথচ এর হিসাব ও শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের))। তিনি বললেন: ((তখন তাদের প্রত্যেকে—পুরুষ ও নারী—হাজার বার করে আর্তনাদ করে বলে: আমাদের প্রতি একটি দিরহাম, একটি রুটি কিংবা এক টুকরো খাবার দিয়ে দয়া করো))। বর্ণনাকারী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) কাঁদলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে কাঁদলাম, এমনকি আমরা কথা বলতেও পারছিলাম না। অতঃপর তিনি বললেন: ((ওরা ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৫⦘ তোমাদেরই ভাই ছিল, যারা দুনিয়ার নেয়ামতে ছিল; কিন্তু ভোগবিলাস ও আনন্দের পর আজ তারা জরাজীর্ণ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে))। তিনি বললেন: ((অতঃপর তারা ক্রন্দন করে এবং নিজেদের ওপর ধ্বংস, দুর্ভোগ ও অস্থিরতা ডেকে আর্তনাদ করে বলে: হায় আফসোস! আমাদের হাতে যা ছিল তা যদি আমরা ব্যয় করতাম, তবে আজ আমাদের এই প্রয়োজন হতো না [... ...]। এরপর তারা আক্ষেপ ও অনুশোচনা নিয়ে ফিরে যায়। তারা চিৎকার করে বলে: কত দ্রুতই না তোমরা নিজেদের জন্য কাঁদবে, অথচ তখন তা তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না! অতএব তোমরা আমাদের সাথে মিলিত হওয়ার এবং আমাদের মতো হওয়ার আগেই দ্রুত পা বাড়াও (নেক আমল করো)। আমরা তোমাদের নসিহত করলাম। থামো, একটু থামো। তারপর তারা সবাই মিলে সমস্বরে বলে: আমরা যদি আমাদের পরিজনদের থেকে নিরাশও হয়ে যাই, তবে রহমান আমাদের স্মরণ করবেন [... ...]; তিনিই আমাদের ওপর রহম করবেন, কেননা তাঁর রহমত প্রতিটি বস্তুকে বেষ্টন করে আছে))। অতঃপর তারা বলল: হে আল্লাহর নবী! মৃতদের জন্য সদকার বিষয়টি আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: ((নিশ্চয়ই তুমি যখন তোমার মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো সদকা করো, তখন ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা একটি নূরের থালা নিয়ে তার কাছে আসেন এবং সেই সদকাটি ওই থালায় রাখেন। সাত আসমান পর্যন্ত তার নূরের উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি কবরের কিনারায় দাঁড়িয়ে ডাক দিয়ে বলেন: হে নিঃসঙ্গ কবরের বাসিন্দা, তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; তোমার পরিবার তোমার নিকট একটি উপহার পাঠিয়েছে, তা গ্রহণ করো))। তিনি বললেন: ((অতঃপর আল্লাহ তার কবরে (সেই উপহার) প্রবেশ করান, তার কবরে আলো ছড়িয়ে দেন এবং এর মাধ্যমে তার কবরকে প্রশস্ত করে দেন। যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য সদকা দেয়, আল্লাহর নিকট তার জন্য উহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ এবং [..] পাহাড়ের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে। আর যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সে আল্লাহর আরশের ছায়ার নিচে অবস্থান করবে এবং তার ওপর কোনো হিসাব হবে না। অতএব, তোমরা তোমাদের মৃতদের জন্য সদকা করো, আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করবেন। এর মাধ্যমে তোমরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি পাবে এবং আল্লাহর জান্নাতে আনন্দিত হবে))।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
7- وقيل رأى شعبة بن الحجاج بعد موته في النوم وكان ⦗ص: 176⦘ مؤاخياً لمسعر بن كدام، فقيل له: ما فعل الله بك، فأنشأ يقول:

حباني إلهي في الجنة بقبةٍ لها … ألف باب من لجين وجوهر

ونقلي لثام الحور والله خصني … بقصر عقيق تربة القصر عنبر

وقد قال يا من قبل يا شعبة الذي … تبحر في جمع العلوم فأكثر

تنعم بقربي إنني عنك راضٍ … وعن عبدي القوام في الليل مسعر

كفى مسعرٌ فخراً بان يزورني … فاكشف عن وجهي وأدنيه ينظر

فهذا فعالي بالذين تنسكوا ولم … يألفوا في سائر الدهر منكر
৭- এবং বলা হয়েছে যে, শু'বাহ বিন আল-হাজ্জাজকে তাঁর মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখা গিয়েছিল, এবং তিনি ⦗পৃ: ১৭৬⦘ মিস'আর বিন কিদাম-এর ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধু ছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:

আমার ইলাহ জান্নাতে আমাকে একটি গম্বুজ দান করেছেন, যার রয়েছে … রূপা ও মণি-মুক্তার এক হাজারটি দরজা।

আর হুরদের অবগুণ্ঠন উন্মোচন করাই আমার কাজ, এবং আল্লাহ আমাকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন … আকিকের এক প্রাসাদ দিয়ে যার মাটি হলো আম্বর।

তিনি বলেছেন: হে কবুলযোগ্য ব্যক্তি, হে শু'বাহ, যে … ইলম সংগ্রহে অবগাহন করেছে এবং তা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।

আমার নৈকট্যে নেয়ামত ভোগ করো, নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট … এবং আমার সেই ইবাদতগুজার বান্দা মিস'আরের প্রতিও যে রাতে (সালাতে) দণ্ডায়মান থাকত।

মিস'আরের জন্য এ গৌরবই যথেষ্ট যে সে আমার যিয়ারত করবে, … অতঃপর আমি আমার চেহারা থেকে পর্দা উন্মোচন করব এবং তাকে কাছে টেনে নেব যাতে সে দেখতে পায়।

এটিই আমার কর্মপন্থা তাদের প্রতি যারা ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন ছিল এবং … সারা জীবনে কখনো কোনো অন্যায়ের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেনি।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
‌‌باب الدليل على أن ثواب قراءة القرآن والصلاة والصدقة والحج والدعاء والاستغفار والتسبيح واصل إلى الموتى ونافع لهم

8- حدثنا الشيخ الإمام أبو طالب محمد بن علي بن أحمد بن يوسف القرشي، قال: أخبرنا الشيخ الإمام العارف شيخ الإسلام أبو علي الحسن ابن أحمد بن عبد الله المقري ببغداد، قال: ثنا أبو الفتح محمد بن أحمد بن الفوارس الحافظ، قال: ثنا محمد بن عبد الله الشافعي، قال: ثنا الحسن بن سعيد الموصلي، قال: ثنا ابن حبان بن النجار، قال: ثنا حبان يعني أباه عن أبيه عن جده أنس بن مالك، قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم بأبي وأمي يا رسول الله، إنا لندعوا لموتانا ونتصدق ونحج عنهم فهل يصل ذلك إليهم؟ فقال: ((إنه يصل إليهم ويفرحون به كما يفرح أحدكم بالطبق إذا أهدي إليه)) .
কুরআন তিলাওয়াত, সালাত, সদকা, হজ, দুআ, ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাসবিহর সওয়াব মৃতদের নিকট পৌঁছায় এবং তাদের জন্য তা উপকারী হওয়ার প্রমাণের অধ্যায়

৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ ইমাম আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে ইউসুফ আল-কুরাশি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আরিফ শাইখুল ইসলাম আবু আলী হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুকরি বাগদাদে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল ফাওয়ারিস আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-শাফিঈ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে সাঈদ আল-মাওসিলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান ইবনুন নাজ্জার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিব্বান—অর্থাৎ তার পিতা—তার পিতা থেকে, তার দাদা আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম—হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক—আমরা আমাদের মৃতদের জন্য দুআ করি, দান-সদকা করি এবং তাদের পক্ষ থেকে হজ করি; তবে কি তা তাদের নিকট পৌঁছে? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তা তাদের নিকট পৌঁছে এবং তারা এতে আনন্দিত হয়, যেমন তোমাদের কেউ তার নিকট কোনো উপহারের থালা পাঠানো হলে আনন্দিত হয়।"
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
9- وأخبرنا الحسن بن أحمد، قال: ثنا عبد الرحيم بن عبيد الله، قال: ثنا حبيب بن الحسن القزاز، قال: ثنا أحمد بن عبد الرحيم بن مرزوق البزوري، قال: ثنا إسماعيل بن عبيد بن أبي كريمة الحراني، قال: ثنا محمد بن مسلمة، قال: ثنا عبد الرحمن بن زيد عن أبي أنيسة عن عبيد الله بن أبي قتادة عن أبيه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ((خير ما ⦗ص: 178⦘ يخلف الرجل من بعده ثلاثة: ولدٍ صالح يدعو له، وصدقةٍ تجري يبلغه أجرها، أو علم يعمل به من بعده)) .
৯- হাসান ইবনে আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহিম ইবনে উবাইদুল্লাহ, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাবিব ইবনে হাসান আল-কায্যায, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আব্দুর রহিম ইবনে মারযুক আল-বাযূরি, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে উবাইদ ইবনে আবি কারিমা আল-হাররানি, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে যাইদ, আবু আনিসা থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((একজন মানুষ তার মৃত্যুর পর যা ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৮⦘ রেখে যায়, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তিনটি: নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে, এমন সাদাকা যা চলমান থাকে এবং যার সওয়াব তার কাছে পৌঁছায়, অথবা এমন জ্ঞান যা তার পরবর্তী সময়ে অনুসৃত হয়))।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
10- أخبرنا الحسن بن أحمد قال: ثنا محمد بن أحمد الحافظ، قال: ثنا أبو بكر أحمد بن يوسف خلاد، ثنا الحارث بن محمد، ثنا روح بن عباد، ثنا زكريا بن إسحاق، قال: أخبرني عمرو بن دينار عن عكرمة عن ابن عباس أن رجلاً قال للنبي صلى الله عليه وسلم: إن أمه توفيت أينفعها أن تصدقت عنها؟ قال: ((نعم)) قال: فإن لي مخرفاً، فأشهدك أني قد تصدقت عنها.
১০- হাসান ইবনুল আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনুল আহমদ আল-হাফিজ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু বকর আহমদ ইবনু ইউসুফ খাল্লাদ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস ইবনু মুহাম্মদ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, রাওহ ইবনু উবাদাহ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাকারিয়া ইবনু ইসহাক আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমর ইবনু দিনার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে বললেন: নিশ্চয়ই আমার মা ইন্তেকাল করেছেন, আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে সাদাকা করি তবে কি তা তাঁর উপকারে আসবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। সে বলল: নিশ্চয়ই আমার একটি ফলের বাগান রয়েছে, আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি তা তাঁর পক্ষ থেকে সাদাকা করে দিলাম।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
قال أبو الفتح محمد بن أحمد بن أبي الفوارس الحافظ: هذا حديث صحيح أخرجه البخاري نازلاً عن محمد بن عبد الرحيم عن روح.

11- أخبرنا شيخنا أبو طاهر محمد بن نصر بن أحمد المعروف ⦗ص: 179⦘ بابن الغرابيلي، قال: ثنا أبو الفتح محمد بن أحمد بن أبي الفوارس الحافظ، ثنا مخلد بن جعفر، ثنا محمد بن جعفر الفريابي، ثنا أبو أيوب سليمان بن عبد الرحمن، ثنا الحكم بن يعلى، ثنا عمرو بن الحارث ويزيد بن أبي حبيب عن أبي الخير عن عقبة بن عامر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إن الصدقة لتطفئ عن أهلها حر القبور)) .
হাফেজ আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবুল ফাওয়ারিস বলেছেন: এটি একটি সহীহ হাদিস, যা ইমাম বুখারি মুহাম্মদ বিন আবদুর রহিম থেকে রুহ-এর সূত্রে নিম্ন সনদে বর্ণনা করেছেন।

১১- আমাদের শায়খ আবু তাহের মুহাম্মদ বিন নাসর বিন আহমদ, যিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৯⦘ ইবনুল গারাবিলি নামে পরিচিত, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: হাফেজ আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবুল ফাওয়ারিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মাখলাদ বিন জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন জাফর আল-ফিরইয়াবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আইয়ুব সুলাইমান বিন আবদুর রহমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাকাম বিন ইয়ালা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমর বিন হারিস ও ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব আবুল খায়েরের সূত্রে, তিনি উকবা বিন আমিরের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই সদকা তার প্রদানকারীদের কবরের উত্তাপ নিভিয়ে দেয়।"
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৮০)
‌‌باب استغفار الولد للوالد

12- أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن علي بن سلامة المقري، ثنا أبو سعد أحمد بن محمد المالكي، ثنا عبد الله بن حيان، ثنا محمد بن مسلمة، ثنا يزيد بن هارون عن رجاء بن مسلمة، عن أبي صالح عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الرجل ليرفع له الدرجة في الجنة فيقول: يا رب أنى لي هذا؟ فيقال له: لاستغفار ولدك لك)) .
পিতার জন্য সন্তানের ক্ষমা প্রার্থনার অধ্যায়

১২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে সালামাহ আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মালিকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে হাইয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, তিনি রাজা ইবনে মাসলামাহ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতে কোনো ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে, তখন সে বলবে: হে আমার রব! আমার জন্য এই মর্যাদা কোথা থেকে এল? তখন তাকে বলা হবে: তোমার জন্য তোমার সন্তানের ক্ষমা প্রার্থনার কারণে।"
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৮১)
‌‌باب في أن ثواب القرآن يصل إلى الموتى

13- أخبرنا أبو القاسم أحمد بن علي بن المظفر بن الطوسي المقرئ بالموصل، أنبأ نصر بن أحمد المرجي، ثنا أبو يعلى أحمد بن علي المثنى، ثنا أبو همام الوليد بن شجاع، ثنا الوليد بن وهب، قال: أنبأ أبو يحيى بن أيوب عن زياد بن فائد عن سهل بن معاذ عن أبيه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ((من قرأ القرآن وعمل بما فيه ألبس والداه بالذي عمل تاجاً يوم القيامة)) .
মৃত ব্যক্তিদের নিকট কুরআনের সওয়াব পৌঁছানো সংক্রান্ত অধ্যায়

১৩- আবুল কাসেম আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল মুজাফ্ফার ইবনে আত-তুসী আল-মুকরি আল-মাওসিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, নাসর ইবনে আহমাদ আল-মুরজি আমাদের জানিয়েছেন, আবু ইয়ালা আহমাদ ইবনে আলী আল-মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাম্মাম আল-ওয়ালিদ ইবনে শুজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব যিয়াদ ইবনে ফায়েদ থেকে, তিনি সাহল ইবনে মুয়ায থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল এবং তাতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করল, কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে একটি মুকুট পরিধান করানো হবে সেই আমলের কারণে যা সে সম্পাদন করেছে।”
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৮২)
‌‌باب في أن ثواب التسبيح والذكر واصلٌ إليهم

14- أخبرنا أبو الفرج علي بن عبد القاهر الموصلي، قال: أنبأ أبو بكر محمد بن مهنا الزبيدي، ثنا صدقة بن هبيرة، ثنا أبو يعلى أحمد بن علي المثنى، ثنا الحسن بن إبراهيم بن واصل العسقلاني، ثنا عبد الرحمن ميمون المصري، ثنا محمد بن روح، ثنا خالد بن عبد الرحمن عن الحسن وأبان عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من قال بعدما يصلي الجمعة يوم الجمعة: سبحان الله العظيم وبحمده مائة مرة غفر الله له مائة ذنب، وغفر لوالديه مائة ألف وأربع وعشرون ألف ذنب، ومن قالها في سائر الأيام كتب الله له مائة ألف حسنة، وأربع وعشرون ألف حسنة، ومحي عنه السيئات مثلها ورفع له من الدرجات مثلها)) .
তসবিহ ও জিকিরের সওয়াব তাদের নিকট পৌঁছানো বিষয়ক অনুচ্ছেদ

১৪- আবুল ফারাজ আলী বিন আব্দুল কাহের আল-মাওসিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ বিন মুহান্না আজ-জুবাইদি আমাদের অবহিত করেছেন, সাদাকাহ বিন হুবাইরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়ালা আহমাদ বিন আলী আল-মুসান্না আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন ইব্রাহিম বিন ওয়াসিল আল-আসকালানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান মাইমুন আল-মিসরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন রুহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন আব্দুর রহমান হাসান ও আবান থেকে, তারা আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জুমার দিনে জুমার সালাত আদায়ের পর একশত বার ‘মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁরই প্রশংসা করছি’ বলবে, আল্লাহ তার একশত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তার পিতামাতার এক লক্ষ চব্বিশ হাজার গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি অন্যান্য দিনে এটি বলবে, আল্লাহ তার জন্য এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পুণ্য লিখে দেবেন, তার থেকে সমপরিমাণ পাপ মুছে দেবেন এবং তার মর্যাদা সমপরিমাণ বৃদ্ধি করবেন।"
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
‌‌باب صلاة هدية الأحياء للأموات والدليل على أن ثواب الصلاة وقراءة القرآن يصل إلى الموتى من المؤمنين

15- أخبرنا أبو الفرج عبد الوهاب بن عمر بن برهان البغدادي بمصر قال: ثنا أبو إسحاق إبراهيم بن أحمد بن وهبان (..) بها، قال: أنبأ خالص بن مهذب أبو عمرو الضرير ببغداد، ثنا خليد بن أحمد البغدادي، قال: ثنا سيار بن حاتم عن جعفر بن سليمان عن مالك بن دينار قال: دخلت المقبرة ليلة الجمعة، فإذا بنور مشرق فيها فقلت: لا إله إلا الله، ترى أن الله عزوجل قد غفر لأهل المقابر، فإذا أنا بهاتف يهتف من البعد وهو يقول: يا مالك بن دينار هذه هدية المؤمنين إلى إخوانهم من أهل المقابر، فقلت: بالذي أنطقكم، ألا أخبرتني ما هو؟ قال: رجل من المؤمنين قام هذه من الليل فأسبغ الوضوء وصلى ركعتين فقرأ فيها فاتحة الكتاب، و {قل يأيها الكافرون} و {قل هو الله أحد} ، وقال: اللهم إني قد وهبت ثوابها لأهل المقابر من المؤمنين، فأدخل الله علينا الضياء والنور والفسحة والسرور في المشرق والمغرب.

قال مالك: فلم أزل أقرأها في كل جمعة، فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فيقول: ((يا مالك! غفر الله لك بعدد النور الذي أهديته إلى أمتي، ولك ثواب ذلك)) ، ثم قال لي: ((وبنى الله لك بيتاً في الجنة في قصر يقال له المنيف)) ، قلت: وما المنيف؟ قال: ((المطل على أهل الجنة)) .
জীবিতদের পক্ষ থেকে মৃতদের জন্য উপহারস্বরূপ সালাত এবং মুমিন মৃতদের নিকট সালাত ও কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছানোর দলীল সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ

১৫- আবু আল-ফারাজ আব্দুল ওয়াহহাব বিন উমর বিন বুরহান আল-বাগদাদী মিসরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আহমদ বিন ওয়াহবান (..) সেখানে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাগদাদে খালিস বিন মুহাযযাব আবু আমর আদ-দারীর আমাদের অবহিত করেছেন, খুলাইদ বিন আহমদ আল-বাগদাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাইয়্যার বিন হাতিম জা'ফর বিন সুলাইমান থেকে এবং তিনি মালিক বিন দীনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি জুমার রাতে কবরস্থানে প্রবেশ করলাম, হঠাৎ সেখানে এক উজ্জ্বল আলো দেখতে পেলাম। আমি বললাম: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মনে হয় মহান আল্লাহ কবরবাসীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় আমি দূর থেকে একজন অদৃশ্য আহ্বানকারীর শব্দ শুনতে পেলাম, সে বলছিল: হে মালিক বিন দীনার! এটি মুমিনদের পক্ষ থেকে তাদের কবরবাসী ভাইদের জন্য একটি উপহার। আমি বললাম: যিনি আপনাকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন তাঁর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি আমাকে জানাবেন না সেটি কী? তিনি বললেন: মুমিনদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এই রাতে দাঁড়িয়েছেন এবং উত্তমরূপে অজু সম্পাদন করে দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন। তাতে তিনি সূরা ফাতিহা, ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ এবং ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করেছেন এবং বলেছেন: "হে আল্লাহ! আমি এর সওয়াব মুমিন কবরবাসীদের জন্য উৎসর্গ করলাম।" ফলে আল্লাহ আমাদের ওপর পূর্ব ও পশ্চিমে দীপ্তি, আলো, প্রশস্ততা এবং আনন্দ প্রবেশ করিয়ে দিয়েছেন।

মালিক বলেন: এরপর থেকে আমি প্রতি জুমায় নিয়মিত তা পাঠ করতে থাকলাম। অতঃপর আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম, তিনি বলছিলেন: "হে মালিক! তুমি আমার উম্মতকে যে পরিমাণ আলো উপহার দিয়েছ, আল্লাহ তোমাকে সেই পরিমাণ ক্ষমা করে দিন এবং তোমার জন্য এর সওয়াব রয়েছে।" এরপর তিনি আমাকে বললেন: "এবং আল্লাহ জান্নাতে আল-মুনিফ নামক একটি প্রাসাদে তোমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেছেন।" আমি বললাম: আল-মুনিফ কী? তিনি বললেন: "যা জান্নাতবাসীদের ওপর উচ্চ স্থান থেকে দৃষ্টিগোচর হয়।"
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
16- أخبرنا أبو منصور محمد بن أحمد بن القاسم بثغر آمد، قال: أنبأ أبو بكر محمد بن عربي بن علي المنقري بالبصرة، قال: ثنا أبو أحمد إسحاق بن عبد الجبار، قال: ثنا عبد الله بن جعفر بن بركة الإسكندراني، قال ثنا إبراهيم بن نصر، ثنا شعبة عن داود بن أبي هند عن زرارة عن تميم الداري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما من مؤمن يقرأ آية الكرسي فيجعل ثوابها لأهل القبور إلا لم يبق على وجه الأرض قبراً إلا أدخل الله فيه معروفاً ووسع عليهم قبورهم مد البصر، وأعطاه الله بقراءتها ثواب ألف شهيد، ورفع له ألف درجة، وكتب له بكل كلمة ألف حجة، وألف عمرة، وخلق الله بكل حرف ملكين يسبحان الله عز وجل إلى يوم القيامة وكان ثوابهم له)) .
১৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-কাসিম আমিদ সীমান্তে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আরাবি বিন আলী আল-মুনকারি বসরাতে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ ইসহাক বিন আব্দুল জব্বার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন বারাকাহ আল-ইসকান্দারানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন নাসর, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ থেকে, তিনি দাউদ বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি যুরারাহ থেকে, তিনি তামীম আদ-দারি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((এমন কোনো মুমিন নেই যে আয়াতুল কুরসি পাঠ করে এবং তার সওয়াব কবরবাসীদের জন্য উৎসর্গ করে, তবে আল্লাহ জমিনের উপরিভাগে বিদ্যমান প্রতিটি কবরেই কল্যাণ প্রবেশ করান এবং তাদের কবরসমূহকে দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেন। আর আল্লাহ তাকে এটি পাঠ করার বিনিময়ে এক হাজার শহীদের সওয়াব দান করেন, তার জন্য এক হাজার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, তার জন্য প্রতিটি শব্দের বিনিময়ে এক হাজার হজ ও এক হাজার উমরাহ লিখে দেন এবং আল্লাহ প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দুইজন ফেরেশতা সৃষ্টি করেন যারা কিয়ামত পর্যন্ত মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করতে থাকে এবং তাদের সেই সওয়াব ওই ব্যক্তির জন্য সাব্যস্ত হবে।)) ।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
‌‌صلاةٌ أخرى هدية الأحياء للأموات

17- حدثنا أبو طاهر أحمد بن عاصم المرصفي، قال: ثنا أبو الموفق محمد بن محمد ابن بنت المهتدي بالله النيسابوري، قال: ثنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن أيوب الطرماخي، قال: ثنا أبو عبد الله محمد بن صاحب، قال: ثنا المأمون بن أحمد السلمي، قال: ثنا أحمد بن عبد الله، ثنا وكيع بن الجراح عن الربيع عن محمد بن سيرين عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا يأتي على الميت أشد من أول ليلة في قبره فارحموا موتاكم بشيء من الصدقة)) ، قيل: يا رسول الله! ليس كلنا يجد ما يتصدق به عن ميته، قال: ((فليركع ركعتين يقرأ في كل ركعة فاتحة الكتاب، وآية الكرسي مرة، وألهاكم، وقل هو الله أحد، عشر مرات، فإذا فرغ من صلاته يصلي على النبي صلى الله عليه وسلم سبعين مرة، ويهدي ثوابه لميته يبعث الله إلى ميته سبعين ملكاً مع كل ملك حلة وهدية من الجنة وينور له في قلبه، ويوسع له في لحده مد بصره)) .
জীবিতদের পক্ষ থেকে মৃতদের জন্য উপহার হিসেবে অপর একটি নামাজ

১৭- আবু তাহের আহমাদ ইবনে আসিম আল-মুরসাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল মুওয়াফফাক মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বিন্তিল মুহতাদি বিল্লাহ আন-নিশাপুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুব আত-তিরমাখি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে সাহিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মামুন ইবনে আহমাদ আস-সুলামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ রাবী' থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ((মৃত ব্যক্তির ওপর কবরের প্রথম রাতের চেয়ে কঠিন আর কোনো সময় আসে না, সুতরাং তোমরা সদকার মাধ্যমে তোমাদের মৃতদের প্রতি দয়া করো))। বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সবার কাছে তো এমন কিছু নেই যা দ্বারা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করব। তিনি বললেন: ((তাহলে সে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করে; প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা, একবার আয়াতুল কুরসি, একবার ‘আলহাকুমুত তাকাসুর’ এবং দশবার ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করবে। অতঃপর যখন নামাজ শেষ করবে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সত্তর বার দরুদ পাঠ করবে এবং এর সওয়াব তার মৃত ব্যক্তিকে উপহার হিসেবে দান করবে। তখন আল্লাহ তাআলা সেই মৃত ব্যক্তির নিকট সত্তর জন ফেরেশতা প্রেরণ করবেন, যাদের প্রত্যেকের সাথে থাকবে জান্নাতের একটি করে পোশাক ও উপহার। আর আল্লাহ তার অন্তরে নূর দান করবেন এবং তার কবরকে দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেবেন))।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
‌‌باب صلاة الوالدين في ليلة الخميس فيما بين العشاءين

18- حدثنا أبو القاسم جعفر بن محمد بن أحمد الدينوري قال: ثنا أبو القاسم سعد بن علي القبلاوي، قال: ثنا سعد بن الحسن بن محمد بن الحسن القصري، قال: حدثني الحسين بن عبد الله القاضي، قال: ثنا محمد بن الحسن البغدادي، قال: ثنا محمد بن الضرير بن صلصال بن المدلهمي، قال: ثنا أبي، قال ثنا الحسن بن محمد المدني عن سهيل بن أبي صالح عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من صلى ليلة الخميس بين المغرب والعشاء الآخرة ركعتين يقرأ في كل ركعة الحمد مرة، وآية الكرسي خمس مرات، وقل هو الله أحد خمس مرات، والمعوذتين خمساً خمساً، فإذا فرغ من الركعتين استغفر خمس عشرة مرة، وصلى على النبي صلى الله عليه وسلم خمس عشرة مرة، وجعل ثوابه لوالديه إن كانا مؤمنين فقد أدى به (..) حق والديه عليه، وأتم برهما، وأعطاه الله ما يعطي الصديقين والشهداء، فإذا مر على الصراط كان جبريل عليه السلام عن يمينه، وميكائيل عليه السلام عن شماله، والملائكة تشيعه من بين يديه ومن خلفه بالتهليل والتكبير حتى يدخله الجنة، فينزل في جوار إسماعيل وإسحاق عليهما السلام في قبة من درً أبيض فيه بيت من زبرجد أخضر سعة ذلك البيت مثل الدنيا سبع مرات في ذلك البيت سرير من نوم قوائم ذلك السرير من عنبر أشهب، على ذلك السرير ألف فراش من زعفران، على ذلك الفراش حوراء عليها ⦗ص: 187⦘ ألف حلة يرى مخ ساقيها من وراء ذلك، ويرى على رأسها ثلاثون ألف ذؤابة مكللة بالدر والياقوت والمرجان، على رأس كل ذؤابة عشرة آلاف جلجلةٍ حشوها المسك والعنبر إذا هي حركت رأسها سمع من تحت كل جلجلةٍ عشرة آلاف صوت لا يشبه بعض الأصوات بعضاً، وعلى رأسها ألف تاج مكلل بالياقوت والدر والمرجان، إذا ابتسمت مع زوجها خرجت من فيها نور فيتعجب من ذلك أهل الجنة، فيقولون: ما هذا النور فلعل الله يطلع علينا، فينادون من فوقهم: يا أهل الجنة تبسمت حوراء مع زوجها فخرج النور من فيها، وفي كل إصبع لها عشرة آلاف خاتم من ذهب، فيعطي الله هذا الثواب من صلى هذه الصلاة، وجعل ثوابها لأبويه، وله مثله من غير أن ينقص من أجره شيئاً)) .
বৃহস্পতিবার রাতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে মা-বাবার জন্য সালাত আদায়ের পরিচ্ছেদ

১৮- আবুল কাসিম জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আদ-দিনাওয়ারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম সা’দ বিন আলী আল-কিবলাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সা’দ বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-কাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-কাজী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন হাসান আল-বাগদাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আদ-দারির বিন সালসাল বিন আল-মুদালহামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাদানি সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি বৃহস্পতিবার রাতে মাগরিব ও শেষ এশার মধ্যবর্তী সময়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং প্রত্যেক রাকাতে একবার আল-হামদু (সূরা ফাতিহা), পাঁচবার আয়াতুল কুরসি, পাঁচবার 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা ইখলাস) এবং পাঁচবার করে মুআউওয়াযাতাইন (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পাঠ করবে; অতঃপর সালাত শেষ করার পর পনেরো বার ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করবে এবং নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওপর পনেরো বার দরুদ পাঠ করবে এবং এর সওয়াব তার মা-বাবার জন্য উৎসর্গ করবে—যদি তারা মুমিন হন—তবে সে যেন তাদের প্রতি তার মা-বাবার হক আদায় করল এবং তাদের প্রতি সদাচরণ পূর্ণ করল। আল্লাহ তাকে তা দান করবেন যা তিনি সিদ্দিকীন ও শহীদদের দান করেন। যখন সে পুলসিরাত অতিক্রম করবে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তার ডানে থাকবেন, মিকাইল আলাইহিস সালাম তার বামে থাকবেন এবং ফেরেশতারা তার সামনে ও পেছন থেকে তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে যতক্ষণ না তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। অতঃপর সে ইসমাইল ও ইসহাক আলাইহিমাস সালামের প্রতিবেশী হিসেবে শ্বেত মুক্তার একটি গম্বুজে অবস্থান করবে, যার ভেতরে সবুজ পান্নার একটি ঘর থাকবে যা প্রশস্ততায় দুনিয়ার সাত গুণের সমান। সেই ঘরের ভেতরে লাল বর্ণের একটি পালঙ্ক থাকবে যার পায়াগুলো হবে ধূসর আম্বরের। সেই পালঙ্কের ওপর জাফরানের এক হাজার বিছানা থাকবে। সেই বিছানার ওপর এক হুর থাকবে যার ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৭⦘ পায়ের নলার মজ্জা পোশাকের পেছন থেকেও দেখা যাবে। তার মাথায় ত্রিশ হাজার অলঙ্কৃত বেণী থাকবে যা মুক্তা, ইয়াকুত ও মারজান দিয়ে খচিত। প্রতিটি বেণীর মাথায় দশ হাজার ঘুঙুর থাকবে যা মিশক ও আম্বর দিয়ে পূর্ণ। যখন সে তার মাথা নাড়াবে, প্রতিটি ঘুঙুরের নিচ থেকে দশ হাজার প্রকারের ধ্বনি শোনা যাবে যার একটি অপরটির সাথে সদৃশ হবে না। তার মাথায় ইয়াকুত, মুক্তা ও মারজান খচিত এক হাজার মুকুট থাকবে। যখন সে তার স্বামীর সাথে মুচকি হাসবে, তার মুখ থেকে একটি নূর নির্গত হবে যা দেখে জান্নাতবাসীরা বিস্মিত হবে। তারা বলবে: এই নূর কীসের? সম্ভবত আল্লাহ আমাদের প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছেন। তখন তাদের ওপর থেকে সম্বোধন করে বলা হবে: হে জান্নাতবাসী! জনৈক হুর তার স্বামীর সাথে মুচকি হেসেছে, ফলে তার মুখ থেকে নূর নির্গত হয়েছে। তার প্রতিটি আঙুলে দশ হাজার সোনার আংটি থাকবে। যে ব্যক্তি এই সালাত আদায় করবে এবং এর সওয়াব তার মা-বাবার জন্য উৎসর্গ করবে, আল্লাহ তাকে এই প্রতিদান দান করবেন এবং তার জন্যও অনুরূপ সওয়াব থাকবে, তার নেকি থেকে কিছুই হ্রাস করা হবে না।"
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
19- حدثنا أبو الفضل أحمد بن علي الصفار الموصلي ببارت، ثنا أبو الحسن علي بن أحمد بن زنبور المكتب بالموصل، وقال: ثنا المظفر بن إسحاق، ثنا أحمد بن الحسن المصري، ثنا محمد بن أيوب العابد، ثنا إسحاق بن إبراهيم، ثنا عبد الله بن محمد، ثنا شعيب بن الضحاك، ثنا عبد الرحمن بن يحيى عن بشر بن الحسين عن الزبير بن عدي عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من قال: فلله الحمد رب السماوات ورب الأرض رب العالمين، وله الكبرياء في السماوات والأرض وهو العزيز الحكيم، لله الحمد رب السماوات ورب الأرض رب العالمين، وله العظمة في السماوات والأرض وهو العزيز الحكيم، لله الملك رب السماوات ورب الأرض رب العالمين، وله النور في السماوات والأرض وهو العزيز مرةً واحدة ثم قال: اللهم ⦗ص: 188⦘ اجعل ثوابها لوالدي لم يبق لوالديه حقاً إلا أداه الله إليهما)) .
১৯- আবু আল-ফজল আহমাদ বিন আলী আস-সাফফার আল-মাউসিলি বারত-এ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আল-হাসান আলী বিন আহমাদ বিন যানবুর আল-মুকাত্তিব মাউসিলে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেন: আল-মুজাফফর বিন ইসহাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আল-হাসান আল-মিসরি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আইয়ুব আল-আবিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব বিন আদ-দাহহাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া বিশর বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি যুবাইর বিন আদি থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি একবার বলবে: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, যিনি আসমানসমূহের প্রতিপালক, জমিনের প্রতিপালক এবং সকল জগতের প্রতিপালক; আসমানসমূহ ও জমিনে গরিমা কেবল তাঁরই, আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা, যিনি আসমানসমূহের প্রতিপালক, জমিনের প্রতিপালক এবং সকল জগতের প্রতিপালক; আসমানসমূহ ও জমিনে মহত্ত্ব কেবল তাঁরই, আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। সমস্ত রাজত্ব আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহের প্রতিপালক, জমিনের প্রতিপালক এবং সকল জগতের প্রতিপালক; আসমানসমূহ ও জমিনে নূর (জ্যোতি) কেবল তাঁরই, আর তিনি পরাক্রমশালী'—একবার বলার পর বলবে: হে আল্লাহ! ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৮⦘ আপনি এর সওয়াব আমার পিতামাতার জন্য নির্ধারণ করুন; তবে তার পিতামাতার পাওনা এমন কোনো অধিকার অবশিষ্ট থাকবে না যা আল্লাহ তাদের নিকট আদায় করে দেননি।))।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
‌‌باب ما يقول عند المقابر

20- أخبرنا القاضي أبو المظفر هناد بن إبراهيم بن نصر النسفي بمدينة قال: أنبأ أبو بكر محمد بن عمر بن كاباره بن عمرويه بن أحمد الفقيه الأبهري بها قال: ثنا أبو علي أحمد بن محمد بن مردين.. قال: ثنا.. ثنا سعدون بن محمد البندرجروي قال: ثنا علي بن يعقوب الزيات بمصر، ثنا يعقوب بن إسحاق الجرجاني، ثنا إبراهيم بن عبد الله الصغاني، ثنا عبد الرزاق، ثنا أبي عن مينا، عن سعد بن أبي الطريف عن الأصبغ بن نباتة، قال: كنت مع علي بن أبي طالب كرم الله وجهه فمر بالمقابر فقال: السلام على أهل لا إله إلا الله من أهل لا إله إلا الله، يا أهل لا إله إلا الله، كيف وجدتم قول لا إله إلا الله بحق لا إله إلا الله، لا إله إلا الله، اغفر لمن قال لا إله إلا الله، قال علي كرم الله وجهه: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((من قالها إذا مر بالمقابر غفر له ذنوب مائتي سنة)) ، قالوا: يا رسول [الله] من لم يكن له ذنوب خمسين سنة، قال: ((لوالديه ولقرابته ولجيرانه ولعامة المسلمين)) .
কবরস্থানের নিকট যা বলতে হয় সেই বিষয়ক অনুচ্ছেদ

২০- বিচারক আবু মুজাফফার হান্নাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে নাসর আন-নাসাফি শহরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে কাবারা ইবনে আমরওয়াইহ ইবনে আহমাদ আল-ফকিহ আল-আভারি সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলি আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মারদিন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন.. তিনি বলেন.. সা’দুন ইবনে মুহাম্মাদ আল-বান্দারজারউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিশরে আলি ইবনে ইয়াকুব আজ-জায়্যাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-জুরজানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাগানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা মিনা থেকে, তিনি সা’দ ইবনে আবি আল-তারিফ থেকে, তিনি আসবাগ ইবনে নুবাতাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলি ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন)-এর সাথে ছিলাম। তিনি কবরসমূহের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের প্রতি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের পক্ষ থেকে সালাম। হে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীরা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর হকের উসিলায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলাকে আপনারা কেমন পেয়েছেন? লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আপনি তাকে ক্ষমা করুন যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে। আলি (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((যে ব্যক্তি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এটি বলবে, তার দুইশত বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে))। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, যার পঞ্চাশ বছরেরও গুনাহ নেই (তার ক্ষেত্রে কী হবে)? তিনি বললেন: ((তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য))।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৯০)
21- وبإسناده عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أيما مسلم وقف على قبر مسلم فقال: الحمد لله الذي لا يبقى إلا وجهه ولا يدوم إلا ملكه، أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، إلهاً واحداً أحداً فرداً صمداً وتراً، لم يتخذ صاحبةً ولا ولداً، لم يلد ولم يولد، ولم يكن له كفواً أحد، إلا غفر الله لذلك الميت ذنب خمسين سنة، وكتب لقائلها خمس وأربعون ألف حسنة، ومحي عنه خمس وأربعون ألف سيئة، ورفع له خمس وأربعون ألف درجة)) .
২১- এবং তাঁর সনদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে কোনো মুসলিম যখন অন্য কোনো মুসলিমের কবরের পাশে দাঁড়ায় এবং বলে: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর চেহারা ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না এবং যাঁর রাজত্ব ব্যতীত আর কিছুই স্থায়ী হবে না; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি একমাত্র উপাস্য, অদ্বিতীয়, অনন্য, অমুখাপেক্ষী ও বেজোড়; তিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেননি, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই; তবে আল্লাহ সেই মৃত ব্যক্তির পঞ্চাশ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তা পাঠকারীর জন্য পঁয়তাল্লিশ হাজার নেকি লিখে দেবেন, তার পঁয়তাল্লিশ হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেবেন এবং তার জন্য পঁয়তাল্লিশ হাজার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন))।
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৯০)
22- روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من اجتاز بمقبرةٍ لأهل الذمة فشيع، ثم تلا هذه الآية: {زعم الذين كفروا أن لن يبعثوا قل بلى وربي لتبعثن ثم لتنبؤن بما عملتم وذلك على الله يسيرٌ} إلا رجع إليه من كل قبر عشر حسنات)) .
২২- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি জিম্মিদের কোনো কবরস্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল, এরপর এই আয়াতটি পাঠ করল: {কাফিররা ধারণা করে যে, তাদেরকে কখনোই পুনরুত্থিত করা হবে না। বলুন, অবশ্যই হ্যাঁ, আমার রবের কসম! তোমাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করা হবে, এরপর তোমরা যা আমল করেছ সে সম্পর্কে তোমাদেরকে অবশ্যই অবহিত করা হবে। আর এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ।} তবে সে প্রতিটি কবর হতে দশটি করে নেকি নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে।"
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৯১)
‌‌باب في السلام على أهل المقابر ورد الجواب

23- روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((إن الميت ليعلم بزائره ويستأنس به ما دام وهو عنده)) .
কবরবাসীদের সালাম প্রদান এবং উত্তর প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়

২৩- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি তার জিয়ারতকারী সম্পর্কে জানতে পারে এবং সে যতক্ষণ তার নিকট অবস্থান করে, ততক্ষণ সে তার মাধ্যমে স্বস্তি লাভ করে।)) .
(খণ্ড: ১) হাদিয়াতুল আহইয়া ইলাল আমওয়াত ওয়ামা ইয়াসিলু ইলাইহিম লিল-হাককারী (পৃষ্ঠা: ১৯১)
24- وروي عنه أيضاً: ((من زار قبر والديه أو أحدهما فقرأ عندهما (يس) غفر الله له بكل حرف من الذي قرأ سبعين مغفرة)) .
২৪- তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি তার পিতামাতার অথবা তাদের একজনের কবর জিয়ারত করল এবং সেখানে (সূরা) ইয়াসীন পাঠ করল, আল্লাহ তাআলা তার পাঠ করা প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে তাকে সত্তরটি ক্ষমা দান করবেন।"