(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: -)
الكلام على وصول القراءة للميت لابن سرور المقدسي القسم: كتب السنة
الكتاب: الكلام على وصول القراءة للميت
المؤلف: محمد بن إبراهيم بن عبد الواحد بن علي، أبو عبد الله شمس الدين ابن أبي السرور المقدسي الحنبلي (ت 676هـ)
المحقق: أبو عبد الرحمن شوكت بن رفقي شحالتوغ
الناشر: الدار الأثرية [طبع ضمن مجموع فيه رسائل في حكم إهداء ثواب قراءة القرآن للأموات]
الطبعة: الأولى 1430 هـ - 2009 م
عدد الصفحات: 242
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মৃত ব্যক্তির নিকট তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছানো সংক্রান্ত আলোচনা - ইবনু আবীস সুরূর আল-মাকদিসী বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মৃত ব্যক্তির নিকট তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছানো সংক্রান্ত আলোচনা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী, আবু আব্দুল্লাহ শামসুদ্দীন ইবনু আবীস সুরূর আল-মাকদিসী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৬৭৬ হিজরী)
তাহকীককারী: আবু আব্দুর রহমান শাওকাত বিন রিফকী শাহালতুগ
প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ [মৃত ব্যক্তিদের জন্য কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব উপহার দেওয়ার বিধান বিষয়ক একাধিক রিসালাহ সম্বলিত সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত]
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪৩০ হিজরী - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪২
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: ইয়া বাগী আল-খাইর আকবিল
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: -)
مجموع فيه رسائل في حكم
إهداء ثواب قراءة القرآن للأموات
الرسالة الأولى: هدية الأحياء للأموات وما يصل إليهم من النفع والثواب على ممر الأوقات
للإمام علي بن أحمد بن يوسف الهكاري 489 هـ
-[الرسالة الثانية: الكلام على وصول القراءة للميت]-
للإمام محمد بن إبراهيم بن عبد الواحد بن سرور المقدسي 676 هـ
الرسالة الثالثة: نفحات النسمات في وصول إهداء الثواب للأموات
للإمام أحمد بن إبراهيم بن عبد الغني السروجي 701 هـ
الرسالة الرابعة: القول بالإحسان العميم في انتفاع الميت بالقرآن العظيم
للإمام محمد بن علي بن محمد بن عمر القطان العسقلاني 813 هـ
اعتنى بها وعلق عليها
أبو عبد الرحمن شوكت بن رفقي شحالتوغ
الدار الأثرية
الطبعة الأولى
1430 هـ - 2009 م
মৃত ব্যক্তিদের জন্য কুরআন তিলাওয়াতের সাওয়াব উপহার দেওয়ার বিধান সংক্রান্ত রিসালাহসমূহের সংকলন
উপহার
প্রথম রিসালাহ: মৃতদের জন্য জীবিতদের উপহার এবং সময়ের আবর্তে তাদের নিকট যা কিছু উপকার ও সাওয়াব পৌঁছে
ইমাম আলী বিন আহমদ বিন ইউসুফ আল-হাক্কারী (৪৮৯ হি.)-এর রচিত
-[দ্বিতীয় রিসালাহ: মৃত ব্যক্তির নিকট তিলাওয়াত পৌঁছানো সংক্রান্ত আলোচনা]-
ইমাম মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন সুরুর আল-মাকদিসি (৬৭৬ হি.)-এর রচিত
তৃতীয় রিসালাহ: মৃতদের নিকট সাওয়াব পৌঁছানো সংক্রান্ত সুগন্ধিময় সমীরণ
ইমাম আহমদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল গনি আস-সারুজি (৭০১ হি.)-এর রচিত
চতুর্থ রিসালাহ: মহান কুরআনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির উপকৃত হওয়া প্রসঙ্গে ব্যাপক অনুগ্রহের বক্তব্য
ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-কাত্তান আল-আসকালানি (৮১৩ হি.)-এর রচিত
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন
আবু আব্দুর রহমান শাওকাত বিন রিফকি শাহালতুগ
আদ-দারুল আসারিয়্যাহ
প্রথম সংস্করণ
১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২০৩)
الرسالة الثانية
الكلام على وصول القراءة للميت
تأليف
أبي بكر محمد بن إبراهيم بن عبد الواحد بن سرور المقدسي
676 هـ
দ্বিতীয় রিসালাহ
মৃত ব্যক্তির নিকট পাঠের সওয়াব পৌঁছানো সংক্রান্ত আলোচনা
রচনায়
আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন সুরূর আল-মাকদিসী
৬৭৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الشيخ الإمام العالم الفاضل الورع الناسك الحبر البليغ المتقن المفيد المسند قاضي القضاة شيخ الشيوخ شمس الدين أبو عبد الله محمد ابن الشيح الإمام العالم عماد الدين أبي إسحاق إبراهيم بن عبد الواحد ابن علي بن سرور المقدسي الحنبلي، قدس الله روحه ونور ضريحه. سأل سائل عن قوله سبحانه وتعالى: {وأن ليس للإنسان إلا ما سعى} ، وما العذر عنها في عدم وصول ثواب القرآن إلى الميت؟
فأجبته: بأن العلماء اختلفوا فيها على ثمانية أقوال:
أحدها: أنها منسوخة بقوله تعالى: {والذين آمنوا واتبعتهم ذريتهم بإيمانٍ} أدخل الأبناء الجنة بصلاح الآباء، قاله ابن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শাইখ, ইমাম, আলেম, শ্রেষ্ঠ ফকীহ, পরহেজগার, ইবাদতগুজার, মহাজ্ঞানী, বাগ্মী, সুনিপুণ, উপকারী, মুসনিদ, প্রধান বিচারপতি, শাইখদের শাইখ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে শাইখ ইমাম আলেম ইমাদুদ্দীন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী ইবনে সুরূর আল-মাকদিসী আল-হানবালী বলেছেন—আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন—জনৈক প্রশ্নকারী মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন: "আর মানুষের জন্য তা-ই রয়েছে যার জন্য সে চেষ্টা করে", এবং মৃত ব্যক্তির নিকট কুরআনের সওয়াব না পৌঁছানোর বিষয়ে এর সপক্ষে কী ব্যাখ্যা বা ওজর রয়েছে?
আমি উত্তরে বলেছি: আলেমগণ এই বিষয়ে আটটি মতভেদে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথমত: এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত হয়ে গেছে: "আর যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানের সাথে তাদের অনুগামী হয়েছে"; এখানে পিতাদের নেক আমলের কারণে সন্তানদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এটি ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২১৬)
عباس. وإنما جاء نسخاً وإن كانت خبراً لجوازه إذا كان بمعنى الأمر والنهي على ما قيل.
আব্বাস। এটি মূলত রহিতকারী হিসেবেই এসেছে যদিও এটি একটি সংবাদ ছিল; কারণ এটি যখন আদেশ ও নিষেধের অর্থ প্রকাশ করে তখন তার রহিতকরণ বৈধ হওয়ার কারণে, যেমনটি বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২১৭)
القول الثاني: أنها خاصة بقوم إبراهيم وقوم موسى عليهما السلام، فأما هذه الأمة فلهم ما سعوا وما سعى لهم غيرهم، قاله عكرمة، واستدل بقول النبي صلى الله عليه وسلم للتي سألته أن أبي مات ولم يحج قال: ((حجي عنه)) .
দ্বিতীয় অভিমত: এটি ইবরাহিম ও মুসা আলাইহিমাস সালামের জাতির জন্য নির্দিষ্ট ছিল। পক্ষান্তরে এই উম্মতের জন্য রয়েছে তারা যা অর্জন করেছে এবং অন্যরা তাদের জন্য যা অর্জন করেছে। এটি ইকরিমাহ বলেছেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যা তিনি ওই নারীকে বলেছিলেন যে তাঁকে প্রশ্ন করেছিল: "আমার পিতা ইন্তেকাল করেছেন অথচ তিনি হজ করেননি।" তিনি বলেছিলেন: "তুমি তাঁর পক্ষ থেকে হজ সম্পাদন করো।"
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২১৮)
القول الثالث: أن المراد بالإنسان هاهنا الكافر، فأما المؤمن فله ما سعى وما سعي له، قاله الربيع بن أنس.
القول الرابع: ليس للإنسان إلا ما سعى من طريق العدل، أما من باب الفضل فجائز أن يزيده الله ما شاء، قاله الحسين بن الفضل.
القول الخامس: أن معنى {ما سعى} ما نوى، قاله أبو بكر الوراق ودل عليه بما روي في الحديث: ((إن الملائكة تصف كل
তৃতীয় মত: এখানে ‘মানুষ’ বলতে কাফির উদ্দেশ্য। আর মুমিনের জন্য রয়েছে যা সে নিজে অর্জন করেছে এবং যা তার জন্য করা হয়েছে। এটি রাবি ইবনে আনাস বলেছেন।
চতুর্থ মত: ন্যায়ের বিচারে মানুষের জন্য কেবল তাই রয়েছে যা সে নিজে অর্জন করেছে। তবে অনুগ্রহের দিক থেকে আল্লাহ তাকে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করে দিতে পারেন। এটি হুসাইন ইবনুল ফযল বলেছেন।
পঞ্চম মত: ‘যা সে অর্জন করেছে’ এর অর্থ হলো ‘যা সে নিয়ত করেছে’। এটি আবু বকর আল-ওয়াররাক বলেছেন এবং হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তা দিয়ে তিনি এর সপক্ষে প্রমাণ দিয়েছেন: “নিশ্চয়ই ফেরেশতারা প্রতিটি...
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২১৯)
يوم بعد العصر بكتبها في السماء الدنيا، فينادي الملك: الق تلك الصحيفة، فيقول: وعزتك ما كتبت إلا ما عمل، فيقول الله عز وجل: لم يرد به وجهي، وينادي الملك الثاني: اكتب لفلان كذا وكذا، فيقول الملك: وعزتك إنه لم يعمل ذلك، فيقول الله عز وجل: إنه نواه، إنه نواه)) .
القول السادس: إنه ليس للكافر من الخير إلا ما عمله في الدنيا فيثاب عليه فيها، حتى لا يبقى له في الآخرة خير، ذكره الثعلبي.
القول السابع: إن اللام في الإنسان بمعنى على، تقديره ليس على الإنسان إلا ما سعى.
القول الثامن: أن ليس له إلا سعيه، غير أن الأسباب مختلفة فتارة فيكون سعيه في تحصيل الشيء بنفسه، وتارة يكون سعيه في تحصيل سببه، مثل سعيه في تحصيل قراءته، وولدٍ يترحم عليه، وصديق يستغفر، وتارة يسعى في خدمة الدين والعبادة فيكتسب محبة أهل الدين
একদিন আসরের পর দুনিয়ার আসমানে তা লেখা হয়, অতঃপর ফেরেশতা ঘোষণা করেন: ঐ আমলনামাটি ফেলে দাও। তখন ফেরেশতা বলেন: আপনার ইজ্জতের কসম, সে যা আমল করেছে আমি কেবল তাই লিখেছি। তখন পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: সে এর দ্বারা আমার চেহারা উদ্দেশ্য করেনি। অতঃপর দ্বিতীয় ফেরেশতা ডেকে বলেন: অমুকের জন্য অমুক অমুক বিষয় লিখে নাও। ফেরেশতা বলেন: আপনার ইজ্জতের কসম, সে তো তা করেনি। তখন পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: সে এর নিয়ত করেছিল, সে এর নিয়ত করেছিল।
ষষ্ঠ অভিমত: কাফিরের জন্য পার্থিব জীবনে করা নেক কাজ ছাড়া আর কোনো কল্যাণ নেই, যার প্রতিদান তাকে দুনিয়াতেই দিয়ে দেওয়া হয়, যাতে আখেরাতে তার জন্য কোনো কল্যাণ অবশিষ্ট না থাকে। আস-সালাবি এটি উল্লেখ করেছেন।
সপ্তম অভিমত: 'আল-ইনসান' (মানুষ) শব্দে ব্যবহৃত 'লাম' অক্ষরটি 'আলা' (উপর) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; এর প্রাক্কলিত অর্থ হলো— মানুষের ওপর তার প্রচেষ্টার অতিরিক্ত কিছু নেই।
অষ্টম অভিমত: মানুষের জন্য তার প্রচেষ্টা ব্যতীত আর কিছু নেই, তবে এর মাধ্যমগুলো ভিন্ন ভিন্ন। কখনো তার প্রচেষ্টা থাকে কোনো বিষয় সরাসরি অর্জনের ক্ষেত্রে, আবার কখনো তার প্রচেষ্টা থাকে সেই বিষয়ের কারণ বা মাধ্যম অর্জনের ক্ষেত্রে। যেমন— তার তিলাওয়াত অর্জনের প্রচেষ্টা, অথবা এমন সন্তান লাভ যে তার জন্য রহমতের দোয়া করবে, কিংবা এমন বন্ধু যে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আবার কখনো সে দ্বীনের খিদমত ও ইবাদতে প্রচেষ্টা ব্যয় করে, যার ফলে সে দ্বীনদারদের ভালোবাসা লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২০)
فيكون ذلك سبباً حصل بسعيه. حكى هذين القولين الشيخ الإمام أبو الفرج ابن الجوزي عن شيخه علي بن الزاغواني رحمهما الله تعالى.
$فصل$
ومما أستدل به العلماء على وصول ذلك إلى الأموات أوجه:
أحدها: مما روى أبو بكر النجار في سننه بإسناده في كتاب الجنائز من حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! إن العاص بن وائل كان نذر في الجاهلية أن ينحر مائة بدنة، وإن هشام بن العاص نحر حصته من ذلك، خمسين بدنة أفتجزئ عنه؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن أباك لو كان آمن بالتوحيد فصمت عنه، أو تصدقت أو أعتقت عنه، بلغه ذلك)) .
فوجه الحجة أنه صلى الله عليه وسلم سوى بين الصوم والصدقة والعتق في الوصول إليه.
الدليل الثاني: روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أن رجلاً سأله فقال:
ফলে এটি এমন একটি কারণ হবে যা তার প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। শায়খ ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী তাঁর উস্তাদ আলী ইবনুল যাগওয়ানী (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে এই দুটি অভিমত বর্ণনা করেছেন।
$পরিচ্ছেদ$
মৃতব্যক্তিদের নিকট সওয়াব পৌঁছানোর বিষয়ে আলেমগণ যে সকল দলীল পেশ করেছেন তার কয়েকটি দিক নিম্নরূপ:
প্রথমত: আবু বকর আন-নাজ্জার তাঁর সুনান গ্রন্থের কিতাবুল জানায়েয-এ নিজ সনদে আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আস ইবনে ওয়াইল জাহেলিয়াতের যুগে একশত উট কুরবানী করার মানত করেছিল। হিশাম ইবনুল আস তার পক্ষ থেকে তার অংশ অর্থাৎ পঞ্চাশটি উট কুরবানী করেছে। এটা কি তার পক্ষ থেকে আদায় হবে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যদি তোমার পিতা তাওহীদে বিশ্বাসী হতেন এবং তুমি তাঁর পক্ষ থেকে রোজা রাখতে অথবা সদকা করতে কিংবা গোলাম আযাদ করতে, তবে তা তাঁর কাছে পৌঁছাতো।"
দলীলের প্রেক্ষাপট হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতব্যক্তির কাছে সওয়াব পৌঁছানোর ক্ষেত্রে রোজা, সদকা এবং গোলাম আযাদ করাকে সমান গণ্য করেছেন।
দ্বিতীয় দলীল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করে বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২১)
يا رسول الله! صلى الله عليك، كان لي أبوان وكنت أبرهما حال حياتهما، فكيف لي بالبر بعد موتهما؟ فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن من البر بعد البر، أن تصلي لهما مع صلاتك، وأن تصوم لهما مع صيامك، وأن تتصدق لهما مع صدقتك)) ، رواه الدارقطني.
الدليل الثالث: ما روى القاضي أبو يعلى بإسناده عن علي بن أبي طالب كرم الله وجهه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من مر على المقابر فقرأ: {قل هو الله أحد} إحدى عشر مرةً ثم وهب أجرها للأموات أعطي من الأجر بعدد الأموات)) ، رواه الدارقطني أيضاً.
হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, আমার পিতামাতা ছিলেন এবং তাদের জীবদ্দশায় আমি তাদের প্রতি সদাচার করতাম; তাদের মৃত্যুর পর আমি কীভাবে তাদের প্রতি সদাচার করব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: ((নিশ্চয়ই সদাচারের পর সদাচার হলো এই যে, তুমি তোমার সালাতের সাথে তাদের জন্য সালাত আদায় করবে, তোমার সিয়ামের সাথে তাদের জন্য সিয়াম পালন করবে এবং তোমার সদকার সাথে তাদের পক্ষ থেকে সদকা করবে)), এটি দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয় দলিল: যা কাজী আবু ইয়ালা তাঁর সনদে আলী ইবনে আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর মর্যদা বৃদ্ধি করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এগারো বার ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করে এবং এরপর তার সওয়াব মৃতদের উদ্দেশ্যে দান করে, তাকে মৃত ব্যক্তিদের সংখ্যার সমান নেকি প্রদান করা হবে)), এটিও দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২২)
الدليل الرابع: ما روى أبو بكر عبد العزيز صاحب الخلال بإسناده عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من دخل المقابر فقرأ سورة يس خفف الله عنهم يومئذ، وكان له بعدد من فيها حسنات)) .
وبإسناده أيضاً عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من زار قبر والديه أو أحدهما فقرأ عنده أو عندهما يس غفر الله له)) .
চতুর্থ দলিল: আল-খাল্লালের সহযোগী আবু বকর আব্দুল আজিজ স্বীয় সনদে আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কবরস্থানে প্রবেশ করে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে, আল্লাহ সেদিন তাদের আজাব লাঘব করবেন এবং সেখানে অবস্থানকারীদের সংখ্যা অনুযায়ী পাঠকারীর জন্য নেকি থাকবে।"
এবং তার সনদে আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা অথবা তাদের কোনো একজনের কবর যিয়ারত করল এবং সেখানে ইয়াসিন পাঠ করল, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২৩)
الدليل الخامس: ما روى أبو حفص بن شاهين بإسناده عن أنس بن مالك أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من قال الحمد لله رب السماوات ورب الأرض رب العالمين، وله الكبرياء في السماوات والأرض وهو العزيز الحكيم، لله الحمد رب السماوات ورب الأرض رب العالمين، وله العظمة في السماوات والأرض وهو العزيز الحكيم، لله الملك رب السماوات ورب الأرض رب العالمين، وله النور في السماوات والأرض وهو العزيز الحكيم، لله الحمد رب السماوات ورب الأرض وهو العزيز الحكيم، مرةً واحدة، ثم قال: اللهم اجعل ثوابها لوالدي لم يبق لوالديه حق إلا أداه إليهما)) .
وذكر القاضي الإمام أبو الحسن الفراء في كتابه بإسناده أن أنس بن مالك سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: بأبي أنت وأمي يا رسول الله! إنا نتصدق عن موتانا ونحج وندعوا لهم، فهل يصل ذلك إليهم؟ فقال: ((نعم إنه ليصل إليهم، ويفرحون به كما يفرح أحدكم بالطبق إذا أهدي إليه)) . رواه أبو حفص العكبري.
পঞ্চম দলিল: আবু হাফস ইবনে শাহীন তাঁর সনদে আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি একবার বলে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের প্রতিপালক এবং সকল জগতের প্রতিপালক; আসমানসমূহ ও জমিনে সকল শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাঁরই এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের প্রতিপালক এবং সকল জগতের প্রতিপালক; আসমানসমূহ ও জমিনে সকল মহিমা কেবল তাঁরই এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। রাজত্ব আল্লাহরই যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের প্রতিপালক এবং সকল জগতের প্রতিপালক; আসমানসমূহ ও জমিনে সকল জ্যোতি কেবল তাঁরই এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের প্রতিপালক এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" এরপর সে বলে: "হে আল্লাহ! এর সওয়াব আপনি আমার পিতা-মাতার জন্য সাব্যস্ত করুন"; তবে তার পিতা-মাতার এমন কোনো হক বাকি থাকে না যা সে তাদের নিকট আদায় করেনি))।
কাজী ইমাম আবুল হাসান আল-ফাররা তাঁর কিতাবে নিজ সনদে উল্লেখ করেছেন যে, আনাস ইবনে মালিক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন! আমরা আমাদের মৃতদের পক্ষ থেকে সদকা করি, হজ করি এবং তাদের জন্য দোয়া করি; তা কি তাদের নিকট পৌঁছায়? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তা তাদের নিকট পৌঁছায় এবং তারা এতে আনন্দিত হয় যেমন তোমাদের কেউ তাকে কোনো উপঢৌকনের পাত্র উপহার দেওয়া হলে আনন্দিত হয়))। এটি আবু হাফস আল-উকবরি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২৪)
وروي بإسناده عن سعد أنه قال: يا رسول الله! إن أمي توفيت أفأتصدق عنها؟ قال: ((تصدق عن أمك)) ، قال: فأي الصدقة أفضل؟ قال: ((سقي الماء)) .
وبإسناده عن عطاء بن أبي رباح أن رجلاً جاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: أن أبي مات أفأعتق عنه؟ قال: ((نعم)) .
وبإسناده عن أبي جعفر محمد بن علي أن الحسن والحسين عليهما السلام ((كانا يعتقان عن علي رضي الله عنه وأرضاه)) .
وروى مقاتل بن سليمان في أثناء تفسير الخمس مائة آية قال:
এবং তাঁর সনদে সা'দ (রা.) থেকে বর্ণিত যে তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আমার মা ইন্তেকাল করেছেন, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করব? তিনি বললেন: ((তোমার মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করো))। তিনি বললেন: কোন সদকাটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: ((পানি পান করানো))।
এবং তাঁর সনদে আতা বিন আবি রাবাহ থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: আমার পিতা মারা গেছেন, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে দাস মুক্ত করব? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ))।
এবং তাঁর সনদে আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আলি থেকে বর্ণিত যে, হাসান এবং হুসাইন (আলাইহিমাস সালাম) ((আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদাহু-এর পক্ষ থেকে দাস মুক্ত করতেন))।
এবং মুকাতিল বিন সুলাইমান পাঁচশত আয়াতের তাফসির করার সময় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২৫)
قال معاذ بن جبل: يا رسول الله! كان لأمي نصيب مما أعطي، تتصدق منه وتقدمه لنفسها وإنها ماتت ولم توصي، وقد كنت أعرف البركة فيها تعطي، وبكى معاذ بن جبل فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((لا يبلي الله عينيك يا معاذ، أتحب أن تؤجر أمك في قبرها)) ؟ قال: نعم يا رسول الله! قال: ((فانظر ما كنت تعطيها فامضه على الذي كانت تفعل، وقل: اللهم تقبل من أم معاذ، ومن جميع المسلمين عامة)) ، قال: قالوا يا رسول الله! فمن لم يكن منا ورقٌ يتصدق به عن أبويه أيحج عنهما؟ قال: ((نعم ويؤجرون عليه، وأن يصل رحم رحمه بأفضل من أن ينفعه بحجه في قبره، فإذا كان عند الإحرام، فليقل: لبيك عن فلان، وإذا كان في سائر المواقيت فليقل: اللهم تقبل من فلان، وأوفوا عنهم بالنذور والصيام، والصدقة أفضل وأحق من قضاء عن المرء والمرأة ذو الرحم إن كان)) .
وروى ابن النجار في كتابه الصحيح بإسناده عن ابن عباس رضي الله عنه أن رجلاً قال: يا رسول الله إن أمي توفيت، أينفعها إن تصدقت عنها؟ قال: ((نعم)) ، قال: فإن لي مخرافاً فأشهدك أني قد تصدقت به عنها.
মুয়াজ ইবনে জাবাল বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা’র জন্য আমি যা দিতাম সেখান থেকে একটি অংশ বরাদ্দ ছিল, তিনি তা থেকে দান-সদকা করতেন এবং নিজের পরকালের কল্যাণে তা অগ্রিম পেশ করতেন। এমতাবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিন্তু কোনো অসিয়ত করে যাননি। অথচ তিনি যা দান করতেন তাতে আমি বরকত লক্ষ্য করতাম। এরপর মুয়াজ ইবনে জাবাল কেঁদে ফেললেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে মুয়াজ! আল্লাহ তোমার চোখকে বিদীর্ণ না করুন (অর্থাৎ তুমি আর ক্রন্দন করো না)। তুমি কি চাও যে তোমার মা তার কবরে সওয়াব লাভ করুক?" তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তবে তুমি তাকে যা দিতে তা লক্ষ্য করো এবং তিনি যা করতেন সে অনুযায়ী তা অব্যাহত রাখো। আর বলো: হে আল্লাহ! মুয়াজের মায়ের পক্ষ থেকে এবং সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন।" তিনি বললেন: সাহাবীগণ আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে যার কাছে তার পিতামাতার পক্ষ থেকে সদকা করার মতো কোনো রৌপ্যমুদ্রা নেই, সে কি তাদের পক্ষ থেকে হজ করতে পারবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এবং তারা এর বিনিময়ে সওয়াব প্রাপ্ত হবেন। আর কোনো আত্মীয়ের সাথে রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়তা বজায় রাখা তার কবরে হজের মাধ্যমে উপকার করার চেয়েও উত্তম। সুতরাং যখন ইহরামের সময় হবে, তখন সে যেন বলে: অমুকের পক্ষ থেকে লাব্বাইক। আর অন্যান্য মিকাতসমূহে যেন বলে: হে আল্লাহ, অমুকের পক্ষ থেকে কবুল করুন। আর তোমরা তাদের পক্ষ থেকে মানত ও রোজাগুলো পূর্ণ করো। আর কোনো আত্মীয় পুরুষ বা মহিলার পক্ষ থেকে কাজা আদায়ের চেয়ে দান-সদকা করা অধিক উত্তম ও অধিক সংগত, যদি সম্ভব হয়।"
ইবনুন নাজ্জার তাঁর সহিহ গ্রন্থে নিজস্ব সনদে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা ইন্তেকাল করেছেন, আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে দান-সদকা করি তবে কি তা তাঁর উপকারে আসবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: আমার একটি ফলের বাগান রয়েছে, আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি তা তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করে দিলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২৬)
وروى الحافظ اللالكائي بإسناده في كتابه ((شرح السنة)) عن أبي أسيد وكان بدرياً قال: كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم فجاء رجل من الأنصار قال: هل بقي علي من بر والدي شيءٌ من بعدهما أبرهما به؟ قال: ((نعم الصلاة عليهما والاستغفار لهما، وإنفاذ عهدهما من بعدهما، وإكرام صديقهما، وصلة الرحم التي لا رحم لك إلا من قبلهما، فهذا الذي بقي عليك من برهما)) .
وروي أيضاً بإسناده عن أبي هريرة قال: ((يموت الرجل ويدع ولداً فترفع له درجة، قال فيقول: يا رب ما هذا؟ قال: فيقول استغفار ولدك لك)) .
وبإسناده عن معقل بن يسار قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((اقرؤوا
হাফেজ আল-লালকাঈ তাঁর ‘শারহুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে নিজের সনদে আবু উসাইদ (যিনি একজন বদরী সাহাবী ছিলেন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় আনসারদের একজন ব্যক্তি এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতামাতার মৃত্যুর পর কি তাঁদের প্রতি সদাচরণের আর কিছু অবশিষ্ট আছে যা আমি করতে পারি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তাঁদের জন্য দোয়া করা, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের ওসিয়ত বা অঙ্গীকার পূর্ণ করা, তাঁদের বন্ধুদের সম্মান করা এবং ওই আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা যা কেবল তাঁদের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। এগুলোই হলো তাঁদের প্রতি তোমার সদাচরণের সেই অংশ যা (তাঁদের মৃত্যুর পর) অবশিষ্ট রয়েছে।"
তিনি আরও স্বীয় সনদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন এবং সন্তান রেখে যান, তখন তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। তখন তিনি বলেন: হে আমার রব! এটি কেন? তিনি (আল্লাহ) বলেন: তোমার সন্তানের তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কারণে।"
এবং স্বীয় সনদে মা’কিল ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা পাঠ করো...
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২৭)
على موتاكم يعني يس)) .
وبإسناده عن عبد الرحمن بن العلاء بن اللجلاج عن أبيه أنه قال لولده: إذا مت فادخلتموني في اللحد فهيلوا علي التراب هيلاً، وقولوا: بسم الله وعلى ملة رسول الله، وسنوا علي التراب سناً، واقرؤوا عند رأسي بفاتحة سورة البقرة وخاتمتها، فإني سمعت عبد الله يستحب
...তোমাদের মৃতদের ওপর অর্থাৎ ইয়াসীন (পাঠ করো))।
এবং তাঁর সনদে আব্দুর রহমান ইবনুল আলা ইবনুল লাজলাজ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন: যখন আমি মারা যাব এবং তোমরা আমাকে কবরে প্রবেশ করাবে, তখন তোমরা আমার ওপর মাটি ঢেলে দিও এবং বলো: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের আদর্শের ওপর। আর আমার ওপর মাটি সমান করে দিও এবং আমার মাথার পাশে সূরা বাকারার প্রারম্ভিক অংশ ও শেষাংশ পাঠ করো। কেননা আমি আব্দুল্লাহকে এটি পছন্দ করতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২৮)
ذلك، يعني عبد الله بن عمر.
وأخرج الإمام أبو حاتم محمد بن حبان في كتابه ((المسند الصحيح)) بإسناده عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج يوماً فخرجنا معه حتى انتهينا إلى المقابر فأمرنا، فجلسنا ثم تخطى القبور حتى انتهى إلى قبر منها فجلس إليه فناجاه طويلاً ثم رجع رسول الله صلى الله عليه وسلم باكياً فبكينا لبكاء رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم أقبل علينا فتلقاه عمر رضي الله عنه وقال: ما الذي أبكاك يا رسول الله! فقد أبكيتنا وأفزعتنا، فأخذ بيد عمر ثم أقبل علينا فقال: ((أفزعكم بكائي)) ؟ قلنا: نعم، قال: ((إن القبر الذي رأيتموني أناجي، قبر آمنة بنت وهب، وإني سألت ربي عز وجل الاستغفار لها فلم يأذن لي فنزل علي: {ما كان للنبي والذين آمنوا أن يستغفروا للمشركين} الآية، فأخذني ما يأخذ الولد للوالد من الرقة فذاك الذي أبكاني، ألا وأني كنت نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها فإنها تزهد في الدنيا، وترغب في الآخرة)) .
সেটি অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন উমর।
ইমাম আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন হিব্বান তাঁর 'আল-মুসনাদ আস-সহীহ' গ্রন্থে স্বীয় সনদে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন বের হলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে বের হলাম, যতক্ষণ না আমরা কবরস্থানে পৌঁছলাম। তখন তিনি আমাদের নির্দেশ দিলেন এবং আমরা বসে পড়লাম। অতঃপর তিনি কবরগুলো অতিক্রম করে একটি কবরের নিকট গিয়ে পৌঁছলেন এবং সেখানে বসে দীর্ঘক্ষণ নিভৃতে কথা বললেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ক্রন্দনরত অবস্থায় ফিরে এলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কান্নার কারণে আমরাও কাঁদতে লাগলাম। অতঃপর তিনি আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন এবং উমর (রা.) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কিসে কাঁদাল? আপনি আমাদের কাঁদিয়েছেন এবং ভীত করে দিয়েছেন। তখন তিনি উমরের হাত ধরলেন এবং আমাদের দিকে ফিরে বললেন: "আমার কান্না কি তোমাদের ভীত করেছে?" আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তোমরা আমাকে যে কবরের পাশে নিভৃতে কথা বলতে দেখেছ, সেটি আমিনা বিনতে ওয়াহবের কবর। আমি আমার মহান রবের নিকট তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। তখন আমার প্রতি এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে...}। ফলে মাতা-পিতার প্রতি সন্তানের যে কোমলতা বা মমত্ববোধ কাজ করে, তা আমাকে আচ্ছন্ন করল এবং সেটিই আমাকে কাঁদিয়েছে। জেনে রেখো, আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম; এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো, কারণ এটি দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা তৈরি করে এবং আখিরাতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।"
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২২৯)
فدل على أن الاستغفار ينفع المؤمنين، وهو الدليل السادس
সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, ক্ষমা প্রার্থনা মুমিনদের উপকারে আসে এবং এটি হলো ষষ্ঠ দলীল।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩০)
وإليه الإشارة بقوله سبحانه وتعالى: {والذين جاءوا من بعدهم يقولون ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان ولا تجعل في قلوبنا غلاً للذين آمنوا إنك رءوفٌ رحيمٌ} .
وهو وإن كان دعاء، إلا أنه قرآن فيحصل ثوابه، وهذا الدليل يشمل على أدلة متعددة يمكن أن يستقل كل واحد منها بالغرض.
الدليل السابع: من حيث المعنى أنا نقول من إحدى العبادات فاشبهت الواجبات.
الدليل الثامن: أن المسلمين يجتمعون في كل مصر، ويقرؤون ويهدون لموتاهم ولم ينكره منكر، فكان إجماعاً، واستدل المخالف بالآية وقد سبق الكلام عليها بما يغني عن إعادته.
এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: "আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম করুণাময়।"
এটি যদিও দোয়া, তবে তা কুরআন হওয়ার কারণে এর সওয়াব অর্জিত হয়। আর এই দলিলটি এমন একাধিক প্রমাণের সমষ্টি, যার প্রতিটিই উদ্দেশ্য সাধনে স্বতন্ত্র দলিল হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
সপ্তম দলিল: অর্থগত দিক থেকে আমরা বলি যে, এটি ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি ইবাদত, ফলে এটি ওয়াজিব বা আবশ্যক বিষয়সমূহের সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে।
অষ্টম দলিল: মুসলমানগণ প্রতিটি জনপদে সমবেত হন এবং (কুরআন) পাঠ করে তাদের মৃতদের সওয়াব পৌঁছে দেন এবং কোনো প্রতিবাদকারী একে অস্বীকার করেননি, সুতরাং এটি একটি ইজমায় পরিণত হয়েছে। আর বিরোধী পক্ষ যে আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, তা নিয়ে ইতিপূর্বে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়েছে যা পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন রাখে না।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩১)
ومما استدلوا به أيضاً ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((ينقطع عمل ابن آدم إلا من ثلاث: ولد صالح يدعو له، وعلم ينتفع به من بعده، وصدقة داره)) .
তাদের উপস্থাপিত প্রমাণাদির মধ্যে আরও রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই হাদীসটি যে, তিনি বলেছেন: "আদম সন্তানের আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তিনটি বিষয় ব্যতীত: এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দুআ করে, এমন জ্ঞান যা দ্বারা তার পরবর্তী সময়ে উপকৃত হওয়া যায় এবং সদকায়ে জারিয়া (প্রবহমান দান)।"
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩২)
وروي: ((صدقة غرست، وبئر حفرت يشرب من مائها، ومصحف كتبه)) .
أجاب العلماء عنه بأن قالوا: النبي صلى الله عليه وسلم أخبرنا بانقطاع عمله من هذه الجهة الخاصة فلا يلزم انقطاعه من غيرها من الجهات، ولهذا
বর্ণিত হয়েছে: ((একটি সদকা যা রোপণ করা হয়েছে, একটি কূপ যা খনন করা হয়েছে যেখান থেকে পানি পান করা হয় এবং একটি মুসহাফ যা সে লিখেছে))।
উলামায়ে কেরাম এর উত্তর এই বলে দিয়েছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এই নির্দিষ্ট দিক থেকে আমল বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্পর্কে অবহিত করেছেন, সুতরাং এর মাধ্যমে অন্য সকল দিক থেকে আমল বিচ্ছিন্ন হওয়া আবশ্যক হয় না, আর এই কারণেই—
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩৩)
أجمعنا واتفقنا على وصول الحج إليه، وعلى قضاء الديون عنه، وقال عليه السلام في قضاء الدين عنه: ((الآن بردت جلدته)) ، وروي: ((الآن فككت رهانه)) .
قالوا: أجمعنا على وصول عبادات تدخلها النيابة في حال الحياة، والقراءات لا تدخلها النيابة.
আমরা ঐক্যমত পোষণ করেছি এবং একমত হয়েছি যে, হজ্জের সওয়াব তাঁর কাছে পৌঁছায় এবং তাঁর পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করা যায়; এবং ঋণ পরিশোধ করার বিষয়ে তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "এখন তাঁর চামড়া শীতল হলো", আর বর্ণিত হয়েছে: "এখন তাঁর বন্ধক মুক্ত হলো"।
তাঁরা বলেন: আমরা এমন সব ইবাদত পৌঁছানোর ব্যাপারে একমত হয়েছি যেগুলোতে জীবিত থাকাবস্থায় প্রতিনিধিত্বের অবকাশ রয়েছে, আর তিলাওয়াত এমন বিষয় নয় যাতে প্রতিনিধিত্ব চলে।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩৪)
قلنا: النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((صل لهما مع صلاتك، وصم لهما مع صومك)) ، وهما عبادات بدنيتان، ونص صلى الله عليه وسلم على قراءة يس.
আমরা বলি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমার সালাতের সাথে তাদের জন্য সালাত আদায় করো এবং তোমার সিয়ামের সাথে তাদের জন্য সিয়াম পালন করো)), আর এ দুটি হলো শারীরিক ইবাদত। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ইয়াসীন পাঠ করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩৫)
ثم إن حقيقة الثواب لا فرق في نقله بين أن يكون عن حج أو صدقة أو وقف أو صلاة أو استغفار أو قضاء دين. فقدرة الله سبحانه وتعالى صالحة للكل من غير فرق لمن أنصف.
وتطابق الأحاديث التي ذكرناها تدل دلالة ظاهرة على ذلك، نسأل الله حسن التوفيق لكل خير.
ومن العجب إنكار هذه المسألة، وقد روي في الصحيحين من حديث ابن عباس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر على قبرين فقال: ((إن صاحب هذين القبرين ليعذبان وما يعذبان في كبير، ثم قال: بلى إنه لكبير كان أحدهما لا يستتر من البول)) ، وروي: ((لا يستنزه من البول، وكان الآخر يمشي بالنميمة بين الناس ثم دعا بجريدة رطبة فشقها باثنين ثم غرز على قبر واحدة، فقال: إنه ليخفف عنهما ما لم ييبسا)) .
অতঃপর সাওয়াব পৌঁছানোর হাকীকত বা প্রকৃত বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই তা হজ, সদকা, ওয়াকফ, সালাত, ইস্তিগফার কিংবা ঋণ পরিশোধ—যা-ই হোক না কেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ন্যায়নিষ্ঠ, তার জন্য এটি স্পষ্ট যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ক্ষমতা কোনো পার্থক্য ছাড়াই সবকিছুর জন্যই কার্যকর।
এবং আমরা যে সকল হাদিস উল্লেখ করেছি সেগুলোর সামঞ্জস্যতা এর ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রতিটি কল্যাণের জন্য উত্তম তাওফিক প্রার্থনা করছি।
আর এই বিষয়টি অস্বীকার করা অত্যন্ত আশ্চর্যের, অথচ সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বললেন: “নিশ্চয়ই এই দুই কবরবাসীকে আজাব দেওয়া হচ্ছে, আর তাদের বড় কোনো কঠিন কারণে আজাব দেওয়া হচ্ছে না। এরপর তিনি বললেন: অবশ্যই তা বড় গুনাহ; তাদের একজন প্রস্রাব থেকে আড়াল হতো না।” এবং বর্ণিত হয়েছে: “প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না। আর অন্যজন মানুষের মাঝে চোগলখুরি করে বেড়াত। এরপর তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল আনালেন এবং তা দুই খণ্ড করলেন, অতঃপর প্রতিটি কবরের ওপর একটি করে গেঁথে দিলেন এবং বললেন: তাদের শাস্তি ততক্ষণ হালকা করা হবে যতক্ষণ এই দুটি শুকিয়ে না যায়।”
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩৬)
قال الإمام أبو سليمان الخطابي رحمه الله، وكان إماماً كبير الشأن
ইমাম আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন একজন ইমাম।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩৭)
في الفقه والحديث واللغة والأصول وغير ذلك من فنون العلم، وكان
ফিকহ, হাদিস, ভাষা, উসুল এবং ইলমের অন্যান্য শাখাসমূহে, এবং তিনি ছিলেন
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩৮)
شافعياً فقال: (هذا عند أهل العلم محمول على أن الأشياء ما دامت على أصل خلقتها أو خضرتها وطراوتها فأنها تسبح الله عز وجل حتى تخف رطوبتها أو تحول خضرتها أو تقطع من أصلها، فإذا خففت عن الميت بوضعه صلى الله عليه وسلم الجريدة على قبره فبطريق الأولى أن يكون ذلك بالقرآن الذي جاء به من عند الله سبحانه وتعالى .
শাফেঈ মতাবলম্বী একজন আলেম বলেন: (এটি আলেমদের নিকট এই মর্মে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, বস্তুসমূহ যতক্ষণ তাদের মূল সৃষ্টিগত অবস্থা অথবা তাদের সজীবতা ও সতেজতায় বিদ্যমান থাকে, ততক্ষণ তারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করতে থাকে, যতক্ষণ না তাদের আর্দ্রতা কমে যায় অথবা তাদের সজীবতা পরিবর্তিত হয় অথবা তাদের মূল থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। সুতরাং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কবরের ওপর খেজুরের ডাল রাখার মাধ্যমে যদি মৃত ব্যক্তির আযাব লাঘব করা হয়, তবে মহান ও পবিত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যে কুরআন নিয়ে এসেছেন, তার মাধ্যমে (আযাব লাঘব হওয়া) প্রাধিকার ভিত্তিতে অধিকতর সঙ্গত।
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৩৯)
وذكر الغزالي في ((إحياء علوم الدين)) ، وهو من أحسن تصانيفه:
এবং ইমাম আল-গাজালী ‘ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—আর এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনাসমূহের অন্যতম—:
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৪০)
ولا بأس بقراءة القرآن على القبر قال: وروي عن علي بن موسى الحداد قال كنت مع الإمام أحمد بن حنبل رضي الله عنه في جنازة، ومحمد بن قدامة الجوهري معنا، فلما دفن الميت جاء رجل ضرير فقرأ عند القبر فقال له أحمد: (يا هذا إن القرآن عند القبر بدعة) ، فلما خرجنا من المقابر قال محمد بن قدامة لأحمد بن حنبل: يا أبا عبد الله ما تقول في مبشر بن إسماعيل الحلبي؟ فقال: ثقة. فقال: هل كتبت عنه شيئاً؟ قال: أخبرني مبشر بن إسماعيل عن عبد الرحمن بن اللجلاج عن أبيه أنه أوصى إذا دفن أن يقرأ عند رأسه بفاتحة البقرة وخاتمتها وقال: سمعت ابن عمر يوصي بذلك، فقال: أحمد فارجع إلى الرجل فقل له يقرأ.
কবরের ওপর কুরআন পাঠ করাতে কোনো অসুবিধা নেই। বর্ণিত হয়েছে যে, আলী ইবনে মুসা আল-হাদ্দাদ বলেন: আমি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর সাথে এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম এবং মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা আল-জাওহারিও আমাদের সাথে ছিলেন। যখন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হলো, তখন এক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি এসে কবরের পাশে কুরআন পাঠ করতে লাগলেন। তখন আহমাদ তাকে বললেন: "হে ব্যক্তি! কবরের পাশে কুরআন পাঠ করা বিদআত।" এরপর যখন আমরা কবরস্থান থেকে বের হলাম, মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বললেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ! মুবাশশির ইবনে ইসমাইল আল-হালাবি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?" তিনি বললেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য।" মুহাম্মাদ বললেন: "আপনি কি তাঁর থেকে কিছু লিখেছেন?" তিনি বললেন: "মুবাশশির ইবনে ইসমাইল আমাকে আব্দুর রহমান ইবনে আল-লাজলাজ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁকে দাফন করার পর তাঁর মাথার কাছে সূরা বাকারার প্রারম্ভিক ও সমাপনী অংশ পাঠ করা হয়। এবং তিনি বলেছিলেন: আমি ইবনে উমরকে এরূপ অসিয়ত করতে শুনেছি।" তখন আহমাদ বললেন: "তুমি সেই লোকটির কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো যেন সে পাঠ করে।"
(খণ্ড: ১)
আল-কালামু আলা উসুলিল কিরাআতি লিল-মাইয়িতি লিবনি সুরূর আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ২৪১)
وعلى هذا كان الإمام الشافعي رضي الله عنه حتى أنه قال: إذا صح وكنت
এবং ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এই নীতির উপরেই ছিলেন, এমনকি তিনি বলেছিলেন: যখন (হাদিসটি) সহিহ প্রমাণিত হবে এবং আমি ছিলাম...