(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: -)
الحج مما ليس في المدونة للعتبي   (العتبي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: كتاب الحج من المسائل المستخرجة من الأسمعة مما ليس في المدونة

المؤلف: محمد بن أحمد بن عبد العزيز العتبي (ت 255 هـ)

المحقق: ميكلوش موراني (جامعة بون - ألمانيا)

الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان

[طُبع بآخره كتاب «الحج من كتب ابن الماجشون»]

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 164

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-হজ্জ: যা আল-মুদাওওয়ানায় নেই - আল-উতবি কর্তৃক   (আল-উতবি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: কিতাবুল হজ্জ: যা শ্রবণকৃত মাসআলাসমূহ থেকে সংকলিত এবং যা আল-মুদাওওয়ানায় নেই

লেখক: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল আজিজ আল-উতবি (মৃত্যু ২৫৫ হিজরি)

সম্পাদক: মিকলোশ মোরানি (বন বিশ্ববিদ্যালয় - জার্মানি)

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম, বৈরুত - লেবানন

[এর শেষে «ইবনুল মাজিশুনের কিতাবসমূহ থেকে হজ্জ অধ্যায়» গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছে]

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৪

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: হে মঙ্গলাকামী, অগ্রসর হও

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: -)
كتاب الحج

-[من المسائل المتستخرجة من الأسمعة مما ليس في المدونة]-

لمحمد بن أحمد بن عبد العزيز العتبي

(255 هـ)

 

ويليه

كتاب الحج

من كتب عبد العزيز بن عبد الله بن أبي سلمة الماجشون

(164 هـ)

 

تحقيق وتعليق

ميكلوش موراني

جامعة، ألماني

 

دار ابن حزم

 

الطبعة الأولى

1428 هـ - 2007 م
হজ্জের কিতাব

-[আল-আসমিআ থেকে সংগৃহীত মাসআলাসমূহ যা আল-মুদাওওয়ানাহ-তে নেই]-

মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল আজিজ আল-উতবি কর্তৃক

(২৫৫ হিজরি)

 

এবং এর সাথে রয়েছে

হজ্জের কিতাব

আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন আবি সালামা আল-মাজিশুন-এর কিতাবসমূহ থেকে

(১৬৪ হিজরি)

 

তাহকিক ও তালীক

মিকলোশ মোরানি

ইউনিভার্সিটি, জার্মানি

 

দার ইবনে হাজম

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٤٧)
‌‌كتاب الحج من المسائل المستخرجة من الأسمعة مما ليس في المدونة

استخراج محمد بن أحمد العتبي

رواية يحيى بن عبد العزيز عنه مما عني بتبويبه وترسيمه

أبو محمد عبد الله بن أبي زيد الفقيه
হজ অধ্যায়: আল-মুদাওয়ানা গ্রন্থে নেই এমন শ্রুত বিষয়াবলি থেকে সংকলিত মাসআলাসমূহ

মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-উতবি কর্তৃক সংকলিত

তাঁর থেকে ইয়াহইয়া ইবনে আবদ আল-আজিজের বর্ণনা, যা বিন্যাস ও সুবিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে

আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবি যায়েদ আল-ফকিহ
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
بسم الله الرحمن الرحيم. كتاب الحج من المستخرجة

‌‌فريضة الحج واستطاعته وما في القرآن من ذكر شعائره، ويوم الحج الأكبر، وذكر الحج والنحر وذكر العمرة.

1- من سماع أشهب وابن نافع:

سئل مالك عن قول الله تبارك وتعالى: {ولله على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلاً} ، أذلك الزاد والراحلة.

فقال: لا، والله، وما ذلك إلا على قدر طاقة الناس: الرجل يجد الزاد والراحلة ولا يقدر على المسير، وآخر يقدر أن يمشي ⦗ص: 50⦘ على رجليه؛ ولا صفة في هذا أبين مما أنزل الله تبارك وتعالى:

{من استطاع إليه سبيلاً} .
পরম দয়ালু দয়াময় আল্লাহর নামে। আল-মুস্তাখরাজাহ থেকে সংগৃহীত হজের কিতাব।

‌‌হজের আবশ্যকতা, এর সামর্থ্য এবং কুরআনে বর্ণিত এর নিদর্শনসমূহ, হজ্জে আকবরের দিন, এবং হজ, কুরবানী ও উমরাহ সংক্রান্ত আলোচনা।

১- আশহাব ও ইবনে নাফে-এর শ্রবণ থেকে বর্ণিত:

ইমাম মালিককে মহান আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক।"—এখানে সামর্থ্য বলতে কি কেবল পাথেয় ও বাহন বোঝানো হয়েছে?

তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম। বরং তা মানুষের সক্ষমতা অনুযায়ী নির্ধারিত। কোনো ব্যক্তি পাথেয় ও বাহন পাওয়ার পরও ভ্রমণে অক্ষম হতে পারে, আবার অন্য কেউ ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ নিজের পায়ে হেঁটে যেতে সক্ষম হতে পারে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তার চেয়ে অধিক স্পষ্ট কোনো বর্ণনা আর হতে পারে না:

"যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে।"
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
2- ومن سماع عيسى بن دينار من ابن القاسم قال:

وقال مالك: إذا كان الرجل ممن يقوى على المشي، وإن كان لا يجد ما يتكارى به، وهو ممن يجد سبيلاً إلى الحج، فليحج.
২- ইবনে কাসেমের নিকট থেকে ঈসা ইবনে দীনারের শ্রবণকৃত বর্ণনা থেকে (তিনি) বলেন:

এবং মালিক বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি হাঁটার সামর্থ্য রাখে, যদিও সে সওয়ারি ভাড়া করার মতো সম্পদ না পায়, আর সে যদি হজ্জ করার কোনো পথ (উপায়) পায়, তবে সে যেন হজ্জ করে।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
3- ومن سماع محمد بن خالد من ابن القاسم:

وسئل ابن القاسم عن الذي يكون له قريةٌ ليس له غيرها، أيبيعها في حجة الإسلام ويترك أولاده لاشيء لهم يعيشون به؛ ⦗ص: 51⦘ فقال ابن القاسم: نعم، ذلك له، ويترك ولده في الصدقة.
৩- এবং মুহাম্মাদ ইবনু খালিদ ইবনুল কাসিম থেকে যা শুনেছেন:

ইবনুল কাসিমকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার একটি মাত্র গ্রাম (বা ভূসম্পত্তি) আছে এবং সেটি ব্যতীত তার আর কিছুই নেই; সে কি ইসলামের ফরয হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে তা বিক্রয় করবে এবং তার সন্তানদের এমন নিঃস্ব অবস্থায় ছেড়ে যাবে যে তাদের জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় থাকবে না? ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ উত্তরে ইবনুল কাসিম বললেন: হ্যাঁ, তা করার অধিকার তার আছে, যদিও সে তার সন্তানদের দান-সদকার (অর্থাৎ অন্যের মুখাপেক্ষিতার) ওপর ছেড়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥١)
4- ومن سماع ابن القاسم من مالك:

سئل مالك عن الرجل القرب يكون عنده ما يتزوج به، أيتزوج به أم يحج قال: بل يحج، وكيف نقص دين أحد ويترك دينه الذي عليه.
৪- এবং ইবনে আল-কাসিম কর্তৃক ইমাম মালেক থেকে শ্রবণকৃত বর্ণনাসমূহ থেকে:

ইমাম মালেককে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যার নিকট বিবাহের প্রয়োজনীয় অর্থ রয়েছে; সে কি তা দিয়ে বিবাহ করবে নাকি হজ করবে? তিনি বললেন: বরং সে হজ করবে। কোনো ব্যক্তির দ্বীন কীভাবে অপূর্ণ রাখা যায় অথচ সে তার ওপর অর্পিত দ্বীনি দায়িত্ব বর্জন করছে?
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥١)
5- وسئل عن العمرة: أواجبةٌ هي أم سنةٌ؛ قال: بل، سنة كالوتر وغيرها من السنن؛ اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فهي سنةٌ. قال مالك: الحج كله في كتاب الله عز وجل، والصلاة والزكاة ⦗ص: 52⦘ ليس لها في كتاب الله عز وجل تفسيرٌ، ورسول الله صلى الله عليه وسلم [بين] ذلك.
৫- উমরাহ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: তা কি ওয়াজিব নাকি সুন্নাহ? তিনি বললেন: বরং তা বিতর এবং অন্যান্য সুন্নাহর মতো একটি সুন্নাহ; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমরাহ করেছেন, তাই এটি সুন্নাহ। মালিক বলেন: হজ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় মহান আল্লাহর কিতাবে রয়েছে, আর সালাত ও জাকাতের ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ মহান আল্লাহর কিতাবে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা [স্পষ্ট] করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٢)
6- وسئل مالك عن قول الله تبارك: {وليوفوا نذورهم} ، قال: هو رمي الجمار؛ ومن كلام العرب أن يسموا العقل النذر، يريدون بذلك العدد.

قال سحنون: يريد بالعقل عقل الجراح.
৬- এবং ইমাম মালিককে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা যেন তাদের মানতসমূহ পূর্ণ করে} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন: এটি হলো জামারায় পাথর নিক্ষেপ করা; আর আরবদের বাচনভঙ্গির অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তারা রক্তপণকে 'নজর' নামে অভিহিত করে থাকে, এর মাধ্যমে তারা সংখ্যাকে উদ্দেশ্য করে থাকে।

সাহনুন বলেন: তিনি রক্তপণ দ্বারা জখমের ক্ষতিপূরণ বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٢)
7- قال: وقال مالك: قال الله تبارك وتعالى: {ومن يعظم شعائر الله فإنها من تقوى القلوب} ، عرفات والمزدلفة والصفا ⦗ص: 53⦘ والمروة، فمحمل الشعائر البيت [العتيق] .
৭- তিনি বলেন: এবং মালিক বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করে, তবে তা তো অন্তরের তাকওয়া থেকেই হয়}। আরাফাত, মুজদালিফা, সাফা ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ ও মারওয়া; সুতরাং নিদর্শনাবলির ক্ষেত্র হলো [প্রাচীন] ঘর।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٣)
8- وسئل مالك عن أول من أقام للناس الحج، فقال: أبو بكر الصديق، [فقيل له: في أي سنة] قال: في سنة تسع.
৮- এবং ইমাম মালিককে সর্বপ্রথম কে মানুষের জন্য হজ্জ পরিচালনা করেছিলেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: আবু বকর আস-সিদ্দীক, [তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: কোন বছরে?] তিনি বললেন: নবম হিজরীতে।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٣)
9- سئل مالك عن يوم الحج الأكبر، فقال: هو يوم النحر.
৯- মালিককে বড় হজের দিন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি বললেন: তা হলো কুরবানির দিন।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٣)
10- وسئل مالك عن حج النساء في البحر؛ قال: فكره ⦗ص: 54⦘ ذلك، وقال: لا أحب ذلك لهن أن يحججن في البحر، وأعابه عيباً شديداً.

في الإحرام، التلبية وإشعار البدن وتقليدها وتحليلها وشيءٌ من ذكر المواقيت.
১০- ইমাম মালিককে নারীদের সমুদ্রপথে হজ্জ করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ তা অপছন্দ করলেন এবং বললেন: আমি তাদের জন্য সমুদ্রপথে হজ্জ করা পছন্দ করি না, এবং তিনি বিষয়টির তীব্র নিন্দা করলেন।

ইহরাম প্রসঙ্গে: তালবিয়া পাঠ, কোরবানির পশুর শরীর চিহ্নিত করা ও তাতে মাল্যদান করা, ইহরাম থেকে হালাল হওয়া এবং মিকাতসমূহের বর্ণনার কিয়দাংশ।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٤)
11- من سماع ابن القاسم من مالك:

وسئل مالك عن التلبية: أيكثر فيها جداً أحب إليك؛ قال: قد جعل الله لكل شيء قدراً؛ فأما الذي لا يسكت فلا يعجبني، وأرى أنه خطأ ممن فعله.
১১- মালিকের নিকট থেকে ইবনে আল-কাসিমের শ্রুত বর্ণনা থেকে:

মালিককে তালবিয়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: এতে অত্যধিক আধিক্য করা কি আপনার নিকট বেশি পছন্দনীয়? তিনি বললেন: আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি পরিমাপ নির্ধারণ করে দিয়েছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি একেবারেই চুপ থাকে না, তা আমার কাছে পছন্দনীয় নয় এবং আমি মনে করি যে এটি করে সে ভুল করছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٤)
12- وسئل مالك عمن أحرم وخرج إلى مكة، فلما كان ⦗ص: 55⦘ ببعض الطريق أبق غلامه أو نسي شيئاً من متاعه في بعض المناهل، أيلبي راجعاً إذا رجع في طلب ذلك؛ قال: نعم لا بأس بذلك.
১২- ইমাম মালিককে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ইহরাম বেঁধে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে, অতপর যখন সে পথের ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ কোনো এক স্থানে পৌঁছাল তখন তার গোলাম পালিয়ে গেল অথবা সে তার আসবাবপত্রের কোনো কিছু কোনো এক বিশ্রামস্থলে ভুলে ফেলে এল; সে যখন তা খুঁজতে ফিরে যাবে তখন কি সে তালবিয়া পাঠ করতে করতে ফিরবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এতে কোনো অসুবিধা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٥)
13- قال مالك: كان رجلٌ من أهل العراق يحرم بالحج إذا قفل فلقيه مولى ابن عباس، أراه عكرمة، وكان مفوهاً، فقال له: لما فعلت هذا، إني أظنك رجل سوءٍ، يقول الله عز وجل: {وأذن في الناس بالحج يأتوك رجالاً} ، وأنت تلبي راجعاً.
১৩- মালিক বলেন: ইরাকবাসীদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল, যে ফিরে আসার সময় হজের ইহরাম বাঁধত। ইবনে আব্বাসের মুক্ত দাস—আমার ধারণা তিনি ইকরিমাহ—তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন; তিনি অত্যন্ত বাকপটু ছিলেন। তিনি তাকে বললেন: তুমি কেন এমনটি করলে? আমি তোমাকে একজন মন্দ লোক বলে মনে করি। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে}, অথচ তুমি ফিরে যাওয়ার সময় তালবিয়াহ পাঠ করছ।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٥)
14- قال مالك: والصواب فيمن أراد أن يقرن بين الحج والعمرة إذا أحرم بالتلبية أن يقول: لبيك بعمرةٍ وحجةٍ معاً، يبدأ بالعمرة قبل الحج، هذا وجه الصواب فيه.
১৪- মালিক বলেছেন: যে ব্যক্তি হজ্জ ও উমরাহ একত্রে আদায় করতে ইচ্ছুক, সে যখন তালবিয়াহ পাঠ করে ইহরাম বাঁধবে তখন তার জন্য সঠিক হলো এই বলা: ‘আমি উমরাহ ও হজ্জ একত্রে পালনের জন্য উপস্থিত’। সে হজ্জের পূর্বে উমরাহ দিয়ে শুরু করবে, এটাই এর সঠিক পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٦)
15- وسئل عن قول عروة: لا إله إلا أنت وأنت تحيي بعد ما أمت؛ قال: ليس عليه العمل، هذا أمرٌ قد ترك.
15- এবং উরওয়ার উক্তি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনিই মৃত্যুর পর জীবিত করেন"; তিনি বললেন: "এর ওপর আমল নেই, এটি এমন একটি বিষয় যা বর্জন করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٦)
16- وسئل عن التلبية على الصفا والمروة، قال: لا بأس بذلك في الحج، ولا يلبي أحدٌ عليهما في العمرة أحرم من ميقاته أو من التنعيم أو من الجعرانة، لأن التلبية تنقطع إذا أحرم من ميقاته إذا دخل الحرم، وتنقطع إذا لم يحرم من ميقاته إذا دخل المسجد.
১৬- আর সাফা ও মারওয়ার উপর তালবিয়া পাঠ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: হজের ক্ষেত্রে এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে উমরার ক্ষেত্রে কেউ এই দুই পাহাড়ের উপর তালবিয়া পাঠ করবে না, চাই সে তার মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধুক অথবা তানঈম বা জিরানা থেকে। কেননা, যদি মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা হয় তবে হারামে প্রবেশ করলে তালবিয়া পাঠ বন্ধ হয়ে যায়, আর যদি মিকাত থেকে ইহরাম না বাঁধা হয় তবে মসজিদে প্রবেশ করলে তা বন্ধ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٦)
17- وسئل مالك عن الجمال يأتي بالقوم إلى ذي الحليفة، فينيخ بهم عند غير المسجد فيقول لهم: اذهبوا فصلوا، وتعالوا أحملكم، فيقول الآخرون: بل تنيخ عند باب المسجد حتى ⦗ص: 57⦘ نصلي، ثم نركب ثم نهل؛ قال مالك: يجبر الجمال على أن ينيخ بهم عند باب المسجد حتى يصلوا، ثم يركبون ويهلون.
১৭- ইমাম মালিককে সেই উটচালক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে একদল লোককে যুল-হুলাইফাতে নিয়ে আসে, এরপর সে মসজিদের বাইরে অন্য কোনো স্থানে তাদের উটগুলো বসায় এবং তাদের বলে: "আপনারা গিয়ে সালাত আদায় করুন, তারপর ফিরে আসুন আমি আপনাদের বহন করে নিয়ে যাবো," বিপরীতে অন্যরা (যাত্রীরা) বলে: "বরং আপনি মসজিদের দরজার কাছেই উটগুলো বসাবেন যাতে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ আমরা সালাত আদায় করতে পারি, এরপর আমরা আরোহণ করবো এবং ইহরামের তালবিয়াহ পাঠ করবো;" মালিক (রহ.) বলেন: উটচালককে মসজিদের দরজায় উটগুলো বসাতে বাধ্য করা হবে যতক্ষণ না তারা সালাত আদায় করে, এরপর তারা আরোহণ করবে এবং ইহরামের তালবিয়াহ পাঠ করবে।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٧)
18- وحدثني سحنون عن ابن القاسم عن نافع بن أبي نعيم عن نافع مولى عبد الله بن عمر عن عبد الله بن عمر أنه كان يشعر بدنةً من الشقين جميعاً إذا كانت صعاباً مقربةً، يريد موقفة؛ إنما كان ابن عمر يفعل هذا ليذللها بذلك، وليس لأن ذلك سنة إشعارها. وإنما سنة إشعارها صعبةً كانت أم ذللا من الشق الأيسر.
১৮- এবং সাহনুন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি নাফে ইবনে আবু নুআইম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি কুরবানির উট যখন অবাধ্য ও নিয়ন্ত্রণহীন হতো তখন তার উভয় পার্শ্বে জখম করে চিহ্নিত (ইশআর) করতেন। ইবনে উমর মূলত এটি করতেন তাকে বশীভূত করার জন্য, এটি চিহ্নিতকরণের সুন্নাত হওয়ার কারণে নয়। বরং চিহ্নিতকরণের সুন্নাত হলো—উট অবাধ্য হোক বা শান্ত—তা বাম পার্শ্ব থেকে করা।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٨)
19- وسئل مالك عن البدنة متى تشعر؛ قال: تشعر وتقلد قبل أن يصلي الرجل بذي الحليفة، ثم يصلي ويحرم.
১৯- এবং ইমাম মালিককে কুরবানির উট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, কখন সেটিকে চিহ্নিত (ইশআর) করতে হবে; তিনি বলেন: ব্যক্তি যুল-হুলাইফাতে সালাত আদায়ের পূর্বেই সেটিকে চিহ্নিত করবে এবং গলায় মালা পরাবে, এরপর সে সালাত আদায় করবে এবং ইহরাম বাঁধবে।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٨)
20- وسئل مالك عن رجل من أهل الشأم أو أهل مصر يقلد ويشعر بذي الحليفة، ويؤخر إحرامه حتى يأتي الجحفة؛ قال: لا يفعل ذلك، وكرهه.
২০- ইমাম মালিককে সিরিয়া অথবা মিশরের জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে ব্যক্তি যুল-হুলাইফায় (কুরবানির পশুর গলায়) মালা পরিয়ে দেয় এবং চিহ্ন দেয়, কিন্তু তার ইহরাম বিলম্বিত করে যতক্ষণ না সে জুহফায় পৌঁছে। তিনি বললেন: সে যেন এমনটি না করে; এবং তিনি এটাকে অপছন্দ করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٨)
21- وسئل عن قول ابن شهاب في المرأة تقلد وتشعر؛ قال مالك: أراه خطأً، وقال: لا تقلد ولا تشعر إلا من ينحر، وإني لأستحب للمرء أن يتواضع لله عز وجل ويخضع له ويذل نفسه؛ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينحر بدنه، وإن ناساً كان يأمرون من يذبح ⦗ص: 59⦘ لهم، يريدون بذلك أهل الطول، ويعيب ذلك عليهم؛ فقيل له: يا أبا عبد الله، فلو أن امرأةً اضطرت إلى أن تأمر جاريتها تقلد وتشعر؛

قال مالك: إن اضطرت إلى ذلك رأيت ذلك مجزئاً عنها، ولا أرى للمرأة أن تقلد، ولا تشعر، وهي تجد رجلاً يقلد لها ويشعر.
২১- এবং তাকে ইবনে শিহাবের সেই বক্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যেখানে তিনি বলেছিলেন যে, একজন নারী কোরবানির পশুর গলায় মালা পরাবে এবং তাকে চিহ্নিত করবে; মালিক বলেন: আমি এটিকে ভুল মনে করি। তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি যবেহ করবে সে ছাড়া অন্য কেউ যেন পশুর গলায় মালা না পরায় এবং তাকে চিহ্নিত না করে। আর আমি পছন্দ করি যে, মানুষ মহান আল্লাহর সামনে বিনয়ী হবে, তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং নিজেকে তুচ্ছ মনে করবে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের কোরবানির উট নিজেই নহর করতেন। আর কিছু মানুষ ছিল যারা অন্যদেরকে তাদের পক্ষ থেকে যবেহ করার নির্দেশ দিত, এর মাধ্যমে তারা বিত্তবান ও প্রভাবশালী হিসেবে গণ্য হতে চাইত, তিনি (মালিক) তাদের এই কাজের সমালোচনা করতেন; তাকে বলা হলো: হে আবু আবদুল্লাহ, যদি কোনো নারী বাধ্য হয়ে তার দাসীকে পশুর গলায় মালা পরাতে এবং চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেয়? ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘

মালিক বলেন: যদি সে এতে বাধ্য হয়, তবে আমি মনে করি এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে। তবে আমি কোনো নারীর জন্য পশুর গলায় মালা পরানো এবং চিহ্নিত করা সমীচীন মনে করি না যতক্ষণ সে এমন কোনো পুরুষকে পায় যে তার পক্ষ থেকে মালা পরিয়ে দেবে এবং চিহ্নিত করে দেবে।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٩)
22- ومن سماع أشهب وابن نافع من مالك:

وسئل عن الذي يحرم بالحج من مكة، من أين يحرم؛ قال: من جوف المسجد الحرام أو عند باب المسجد الحرام؛: فقيل له: لا يحرم من بيته؛ قال: بل، يحرم من جوف المسجد الحرام؛ فقيل له: يحرم من عند باب المسجد؛ قال: لا، بل من جوف المسجد.
২২- এবং আশহাব ও ইবনে নাফে-এর বর্ণনা থেকে, যা তাঁরা ইমাম মালিক থেকে শুনেছেন:

এবং তাঁকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে মক্কা থেকে হজের ইহরাম বাঁধে, সে কোথা থেকে ইহরাম বাঁধবে; তিনি বললেন: মাসজিদুল হারামের অভ্যন্তর থেকে অথবা মাসজিদুল হারামের দরজার নিকট থেকে; তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: সে কি তার ঘর থেকে ইহরাম বাঁধবে না? তিনি বললেন: বরং সে মাসজিদুল হারামের অভ্যন্তর থেকেই ইহরাম বাঁধবে; তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো: সে কি মসজিদের দরজার নিকট থেকে ইহরাম বাঁধবে? তিনি বললেন: না, বরং মসজিদের অভ্যন্তর থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٥٩)
23- قال أشهب: قلت لمالك: أيرفع الصوت بالتلبية؛ ⦗ص: 60⦘ قال: نعم، يرفع صوته بالتلبية، ولا أرى أن يصيح جداً حتى يعقر حلقه، ووسط من ذلك إن شاء الله يجزيه.

وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أمرني جبريل أن آمر أصحابي ومن معي أن يرفعوا أصواتهم.
২৩- আশহাব বলেন: আমি মালিককে বললাম: তালবিয়া পাঠের সময় কি আওয়াজ উচ্চ করা হবে? ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ তিনি বললেন: হ্যাঁ, তালবিয়ার সাথে সে তার আওয়াজ উচ্চ করবে, তবে আমি মনে করি না যে সে অত্যধিক চিৎকার করবে যার ফলে তার গলা বসে যায়; বরং এর মাঝামাঝি পন্থাই ইনশাআল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হবে।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জিবরাঈল আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি আমার সাহাবীগণকে এবং যারা আমার সাথে আছেন তাদের আওয়াজ উচ্চ করার আদেশ দিই।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٦٠)
24- وسئل عن جلال البدن أحب إليك تشق عن الأسنمة ⦗ص: 61⦘ أم لا تشق؛ قال: إن ذلك لمن أمر البدن أن يشق الجلال عن أسنمتها، وذلك يحبسه عن أن يسقط، وما علمت أن أحداً كان يدع ذلك إلا عبد الله بن عمر، فإنه لم يكن يشق ولم يكن يجلل حتى يغدو من منىً إلى عرفات، فيجللها.

قال مالك: وذلك أنه كان يجلل الجلل المرتفعة، والأنماط المرتفعة.

قلت: وإنما كان يفعل ذلك استبقاءً للثياب؛ قال: نعم، إنه كان يدع ذلك استبقاءً للثياب عندي؛ فأحب إلي إذا كانت الأجلة مرتفعة أن يدع ذلك ولا يشق منها شيئاً، وإن كانت ثياباً دونا فشقها أحب إلي؛ وذلك من شأن البدن ومما تعرف به، وأرجو أن يكون في ذلك سعةٌ.
২৪- তাকে (ইমাম মালিককে) হজের পশুর ঝুলের (আচ্ছাদন) ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, কুঁজের অংশ থেকে সেটি চিরে দেওয়া কি আপনার কাছে অধিক পছন্দনীয় ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ নাকি চিরে না দেওয়া? তিনি বললেন: হজের পশুর নিয়মই হলো তার কুঁজের অংশ থেকে ঝুলটি চিরে দেওয়া, যা ঝুলটিকে পড়ে যাওয়া থেকে আটকে রাখে। আমি জানি না যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্জন করতেন কি না; তিনি (ঝুল) চিরতেন না এবং পশুকে ঝুল পরাতেন না যতক্ষণ না তিনি মিনা থেকে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতেন; তখন তিনি সেগুলোকে ঝুল পরাতেন।

মালিক বলেন: এর কারণ ছিল এই যে, তিনি অত্যন্ত মূল্যবান ঝুল এবং দামী গালিচা দিয়ে পশুকে আচ্ছাদিত করতেন।

আমি বললাম: তিনি কি কাপড়গুলো অক্ষত রাখার জন্য এমনটি করতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমার মতে তিনি কাপড়গুলো অক্ষত রাখার উদ্দেশ্যেই তা পরিহার করতেন। তাই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় হলো, যদি ঝুলগুলো মূল্যবান হয় তবে তা চিরে না দেওয়া, আর যদি সেগুলো সাধারণ মানের কাপড় হয় তবে তা চিরে দেওয়া আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। কারণ এটি হজের পশুর অন্যতম অনুষঙ্গ এবং এর মাধ্যমেই তা (কোরবানির পশু হিসেবে) চেনা যায়; আর আমি আশা করি এতে প্রশস্ততা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٦٢)
25- قال مالك: والبقر إذا لم يكن لها أسنمة: تقلد ولا تشعر في رأيي.
২৫- মালিক বলেন: গরুর যদি কুঁজ না থাকে, তবে আমার মতে সেগুলোকে গলহার পরানো হবে কিন্তু সেগুলোতে ইশআর (চিহ্নিত করার জন্য ক্ষত) করা হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٦٢)
26- ومن سماع ابن القاسم من مالك:

وسئل مالك عن الجحفة: هل سمعت في مساجدها بحد من المساجد: الأول أو من الآخر يحرم منه؛ قال: ما سمعت فيه شيئاً وإنما سمعت الحديث في الجحفة، وذلك واسع إن شاء الله.

وروى أشهب مثله وزاد: قيل له: فإذا صلى فيها أيهل من جوف المسجد إذا استوت به راحلته؛ فقال: لا يهل من جوف المسجد ولكن إذا استوت به راحلته.
২৬- এবং ইমাম মালিকের নিকট থেকে ইবনুল কাসিমের শ্রুত বর্ণনাসমূহ থেকে:

জুহফা সম্পর্কে ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনি কি এর মসজিদগুলোর কোনো নির্দিষ্ট সীমানা সম্পর্কে শুনেছেন যে, প্রথমটি নাকি শেষটি থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে? তিনি বললেন: আমি এ বিষয়ে কিছুই শুনিনি, বরং আমি কেবল জুহফা সংক্রান্ত হাদিস শুনেছি এবং ইনশাআল্লাহ এতে প্রশস্ততা রয়েছে।

আশহাবও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এতে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি যদি সেখানে সালাত আদায় করেন, তবে তার সওয়ারি তাকে নিয়ে উঠলে তিনি কি মসজিদের ভেতর থেকেই তালবিয়া পাঠ করবেন? তিনি বললেন: তিনি মসজিদের ভেতর থেকে তালবিয়া পাঠ করবেন না, বরং যখন তার সওয়ারি তাকে নিয়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১) আল-হাজ্জু মিম্মা লাইসা ফিল মুদাওওয়ানাতি লিল-উতবী (পৃষ্ঠা: ٦٣)
‌‌في حج ذات الزوج فرضاً أو تطوعاً، والأمة والمولى عليه

27- من سماع ابن القاسم من مالك:

قال مالك في الرجل يلبي بالحج وهو مولى عليه، والمرأة عند أبيها أو عند زوجها: إن ذلك من السفه ولا يجاز ذلك ولا يقضي لمن فعله، وليس على المرأة أن تقضيه إذا هلك زوجها أو أبوها.
বিবাহিতা নারীর ফরয বা নফল হজ্জ এবং দাসী ও যার উপর অভিভাবকত্ব রয়েছে তাদের প্রসঙ্গে

২৭- মালিক থেকে ইবনে কাসিমের শ্রবণ হতে:

ইমাম মালিক এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন যে হজ্জের তালবিয়া পাঠ করে অথচ সে অন্যের অভিভাবকত্বের অধীনে রয়েছে, এবং এমন নারী সম্পর্কে যে তার পিতা বা স্বামীর অধীনে রয়েছে: নিশ্চয়ই এটি নির্বুদ্ধিতার অন্তর্ভুক্ত, এটি অনুমোদিত হবে না এবং যে ব্যক্তি এটি করল তার ওপর এর কোনো কাযা নেই। আর স্বামীর অথবা পিতার মৃত্যুর পর সেই নারীর ওপর এটি কাযা করা আবশ্যক নয়।