(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: -)
تعظيم الفتيا - ابن الجوزي   (ابن الجوزي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: تعظيم الفتيا

المؤلف: جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن محمد بن علي الشهير بـ ابن الجوزي (510 - 597 هـ)

المحقق: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان

الناشر: الدار الأثرية، عمان - الأردن

الطبعة: الثانية، 1427 هـ - 2006 م

عدد الصفحات: 133

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাজিমুল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযি   (ইবনুল জাওযি)

বিভাগ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


বই: তাজিমুল ফুতইয়া

লেখক: জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আলী, যিনি ইবনুল জাওযি নামে সুপরিচিত (৫১০ - ৫৯৭ হিজরি)

সম্পাদক: আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান

প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ, আম্মান - জর্ডান

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৩

শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতিতে: ইয়া বাগী আল-খাইর আকবিল

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: -)
تعظيم الفتيا

 

تأليف

الشيخ الإمام جمال الدين أبي الفرج عبد الرحمن بن محمد بن علي

الشهير بابن الجوزي

(510 - 597 هـ)

 

قرأه وعلق عليه ووثق نصوصه وخرج أحاديثه

أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان

 

الدار الأثرية

 

الطبعة الثانية

1427 هـ - 2006 م
ফতোয়া প্রদানের মহিমা

 

রচনায়

আল-শায়খ আল-ইমাম জামালুদ্দীন আবুল ফরাজ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আলী

ইবনুল জাওযী নামে প্রসিদ্ধ

(৫১০ - ৫৯৭ হিজরি)

 

পাঠ, টীকা প্রদান, মূল পাঠ্যের প্রামাণ্যতা (توثيق) যাচাই এবং হাদিসসমূহের তাখরীজ (تخريج) করেছেন

আবু উবায়দাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান

 

আদ-দার আল-আসারিয়্যাহ

 

দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي فضلنا على الأمم بغزارة العلوم، ورزقنا ما لم يرزقهم من قوة الفهوم، وصلى الله على نبينا محمدٍ البالغ من الشرف أقصى المبروم، وعلى أصحابه وأتباعه صلاة تدوم، أما بعد:

فان الله عز وجل من علينا بالقرآن وحفظه من تبديل وتحريف، وبالسنة التي أنشأ لها علماء يحرسونها عن تجزيف، وباستخراج الفقه منهما وهو العلم الشريف، غير أنه لا يحصل إلا لمن حفظ القرآن والسنة ورزق الفهم اللطيف، وقد كان علماء السلف لا ينصبون أنفسهم للفتوى إلا بعد استكمال شروطها، فكانوا يحفظون القرآن، ويعرفون ناسخه من منسوخه، ومحكمه من متشابهه، وخاصه من عامه، ويوغلون في علومه ويحفظون اللغة العربية والأحاديث المروية، وينظرون في عدالة نقلتها؛ فيميزون صحيحها من سقيمها، وناسخها من منسوخها، ويوغلون في علومٍ لا تلزم لخوف أن تتعلق بما يلزم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের প্রচুর ইলম দিয়ে অন্যান্য উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং আমাদের এমন প্রখর ধীশক্তি প্রদান করেছেন যা অন্যদের দান করেননি। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদের ওপরও অবারিত রহমত বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের ওপর কুরআনের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন এবং একে পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে রক্ষা করেছেন। অনুরূপভাবে সুন্নাহর মাধ্যমেও তিনি অনুগ্রহ করেছেন, যার হিফাজতের জন্য তিনি এমন একদল আলেম সৃষ্টি করেছেন যারা একে বিকৃতি ও মিথ্যার সংমিশ্রণ থেকে রক্ষা করেন। আর এই দুটি উৎস থেকে ফিকহ বা গভীর সমঝ আহরণ করাও তাঁর অন্যতম অনুগ্রহ, যা একটি সুমহান ইলম। তবে এ ইলম কেবল তারাই অর্জন করতে পারে যারা কুরআন ও সুন্নাহ হিফাজত করেছে এবং যাদেরকে সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধি দান করা হয়েছে। পূর্বসূরি আলেমগণ ফতোয়া প্রদানের শর্তাবলি পূর্ণ করার আগে নিজেদের সে পদে সমাসীন করতেন না। তাঁরা কুরআন হিফাজত করতেন এবং এর রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ), সুষ্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه), এবং বিশেষ (خاص) ও সাধারণ (عام) আয়াতসমূহ সম্পর্কে অবগত থাকতেন। তাঁরা কুরআনের বিভিন্ন জ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করতেন এবং আরবি ভাষা ও বর্ণিত হাদিসসমূহ মুখস্থ রাখতেন। তদুপরি তাঁরা বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিরূপণে সচেষ্ট হতেন; ফলে তাঁরা বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (سقيم) হাদিস থেকে পৃথক করতে পারতেন এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ) বর্ণনাগুলো চিহ্নিত করতে পারতেন। এমনকি তাঁরা এমন সব শাস্ত্রেও গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করতেন যা আপাতদৃষ্টিতে আবশ্যক নয়, কেবল এই আশঙ্কায় যে, পাছে তা কোনো আবশ্যক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৫১)
1- أخبرنا عبد الحق بن عبد الخالق، أنا محمد بن مرزوق الزعفراني، ⦗ص: 52⦘ أنا أبو بكر أحمد بن علي بن ثابتٍ الخطيب، أنا أحمد بن أبي جعفر القطيعي وعلي بن أبي علي البصري قالا: أنا علي بن عبد العزيز البرذعي، نا عبد الرحمن بن أبي حاتمٍ، نا أبي، قال: سمعت يونس بن عبد الأعلى قال: قال محمد بن إدريس الشافعي رحمه الله : ((الأصل: القرآن والسنة، فان لم يكن، فقياسٌ عليهما، وإذا اتصل الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وصح الإسناد منه: فهو سنة، والإجماع

⦗ص: 60⦘

أكبر من الخبر المنفرد، [والحديث على ظاهره، وإذا احتمل المعاني: فما أشبه منها ظاهر الأحاديث أولاها به] ، وإذا تكافأت الأحاديث، فأصحها ⦗ص: 61⦘ -إسناداً- أولاها، وليس المنقطع بشيءٍ ما عدا منقطع ابن المسيب.
১- আব্দুল হক বিন আব্দুল খালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন মারযূক আল-জাফরানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন আবু জাফর আল-কাতিয়ী এবং আলী বিন আবু আলী আল-বাসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তারা উভয়ে বলেছেন: আলী বিন আব্দুল আযীয আল-বারযাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহমান বিন আবু হাতিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইউনুস বিন আব্দুল আলা-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন ইদরীস আশ-শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মূল উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহ। যদি [সমাধান] না পাওয়া যায়, তবে এই দুইয়ের ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (قياس) করতে হবে। আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো হাদিস নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হয় এবং তার সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح) হয়, তবে তা-ই হলো সুন্নাহ। এবং ইজমা (إجماع)

⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘

একক সংবাদ (خبر منفرد)-এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী। [হাদিস তার বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রযোজ্য হবে। যদি তা একাধিক অর্থ বহন করে, তবে সেগুলোর মধ্যে যা হাদিসের অন্যান্য বাহ্যিক অর্থের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিই অগ্রাধিকার পাবে।] আর যখন হাদিসগুলো পরস্পর সমপর্যায়ের হবে, তখন ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ সনদ (إسناد)-এর দিক থেকে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) হাদিসটিই অগ্রাধিকার পাবে। এবং বিচ্ছিন্ন (منقطع) বর্ণনার কোনো গুরুত্ব নেই, ইবনুল মুসায়্যিব-এর বিচ্ছিন্ন (منقطع) বর্ণনা ব্যতীত।"
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
2- أخبرنا عبد الحق، نا ابن مرزوق، أنا أحمد بن علي، أنا إبراهيم بن عمر البرمكي، (ح) وأنبأنا محمد بن عبد الباقي، عن البرمكي، أنا محمد بن عبد الله بن خلف، نا عمر بن محمد الجوهري، نا أبو بكرٍ ⦗ص: 68⦘ الأثرم، قال: رأيت أبا عبد الله أحمد بن حنبل رضي الله عنه إذا كان في المسألة عن النبي صلى الله عليه وسلم حديث لم يأخذ فيها بقول أحدٍٍٍ من الصحابة [ولا من بعده خلافه] ، وإذا كان في المسألة عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قول مختلف تخير من أقاويلهم ولم يخرج عن أقاويلهم إلى [قول] من بعدهم، وإذا لم يكن [فيها عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن أصحابه قول] تخير من أقاويل التابعين، وربما كان الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم وفي إسناده شيء فيأخذ به إذا لم يجئ خلافه أثبت منه، مثل حديث عمرو بن شعيب و [مثل حديث] إبراهيم الهجري، وربما أخذ بـ[الحديث] المرسل ما لم يجئ خلافه.
২- আব্দুল হক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে মারজুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আলী আমাদের অবহিত করেছেন, ইবরাহিম বিন উমর আল-বারমাকি আমাদের অবহিত করেছেন, (ح) এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বারমাকি থেকে, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন খালাফ আমাদের অবহিত করেছেন, উমর বিন মুহাম্মদ আল-জাওহারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ আল-আছরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছি যে, যখন কোনো মাসআলায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো হাদিস বর্ণিত থাকত, তখন তিনি সেই মাসআলায় কোনো সাহাবীর বক্তব্য [কিংবা তাঁর বিপরীতে পরবর্তী কারো কথা] গ্রহণ করতেন না। আর যখন কোনো মাসআলায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের থেকে বিভিন্ন বক্তব্য থাকত, তখন তিনি তাঁদের বক্তব্যসমূহের মধ্য থেকে নির্বাচন করতেন এবং তাঁদের বক্তব্যের গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তী কারো [বক্তব্যের] দিকে যেতেন না। আর যখন [সেই মাসআলায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিংবা তাঁর সাহাবীদের থেকে কোনো বক্তব্য] থাকত না, তখন তিনি তাবিঈদের বক্তব্যসমূহ থেকে চয়ন করতেন। অনেক সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত কোনো হাদিসের সনদে (إسناد) কিছুটা দুর্বলতা থাকত, তবুও তিনি তা গ্রহণ করতেন যদি তার বিপরীতে অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أثبت) কোনো বর্ণনা না পাওয়া যেত; যেমন আমর বিন শুয়াইব এবং [যেমন] ইবরাহিম আল-হাজরির হাদিস। আর অনেক সময় তিনি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসও গ্রহণ করতেন, যতক্ষণ না এর বিপরীতে কোনো বর্ণনা পাওয়া যেত।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
3- أخبرنا عبد الحق، أنا ابن مرزوق، نا أحمد بن علي بن ثابت الخطيب رحمه الله، قال: أصول الأحكام في الشرع أربعة: الأول: العلم بكتاب الله عز وجل وما تضمنه من الأحكام محكماً ومتشابهاً، وعموماً وخصوصاً، ومجملاً ومفسراً، وناسخاً ومنسوخاً.

والثاني: العلم بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم الثابتة من أقواله وأفعاله، وطرقها في التواتر والآحاد، والصحة والفساد، وما كان منها على سببٍ وإطلاقٍ.

والثالث: العلم بأقاويل السلف فيما أجمعوا عليه واختلفوا فيه، ليتبع الإجماع ويجتهد في الرأي مع الاختلاف.

والرابع: العلم بالقياس الموجب لرد الفروع المسكوت عنها إلى الأصول المنطوق بها والمجمع عليها، حتى يجد المفتي طريقاً إلى العلم بأحكام النوازل وتمييز الحق من الباطل، فهذا ما لا مندوحة للمفتي عنه ولا يجوز له الإخلال بشيء منه.
৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল হক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে মারজুক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খাতিব (রহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: শরিয়তের বিধানসমূহের মূল উৎস চারটি: প্রথমটি: মহান আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং এতে অন্তর্ভুক্ত বিধানসমূহ; যা সুনিশ্চিত (محكم) ও রূপক (متشابه), সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص), সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও ব্যাখ্যাত (مفسر), এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয়টি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাব্যস্ত সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যা তাঁর কথা ও কাজ থেকে প্রমাণিত; এবং এর মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد) হওয়ার সূত্রসমূহ, এর শুদ্ধতা (صحة) ও অশুদ্ধতা (فساد), এবং যা কিছু বিশেষ কারণ বা নিঃশর্তভাবে (إطلاق) বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয়টি: সালাফ (سلف)-দের বক্তব্যসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা—যে বিষয়ে তাঁরা ঐক্যমত বা ইজমা (إجماع) পোষণ করেছেন এবং যে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ বা ইখতিলাফ (اختلاف) করেছেন; যেন ইজমা (إجماع)-এর অনুসরণ করা যায় এবং মতভেদের ক্ষেত্রে নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা যায়।

চতুর্থটি: কিয়াস (قياس) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, যা উহ্য থাকা শাখা (فروع) বিষয়গুলোকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত এবং ঐক্যমত বা ইজমা (إجماع) হওয়া মূলনীতি (أصول)-এর দিকে প্রত্যানয়ন করাকে আবশ্যক করে; যাতে একজন মুফতি (مفتي) সমসাময়িক সমস্যা (نوازل)-এর বিধান জানার পথ খুঁজে পান এবং সত্যকে মিথ্যা থেকে পৃথক করতে পারেন। সুতরাং এটি এমন বিষয় যা থেকে কোনো মুফতি (مفتي)-এর বিচ্যুত হওয়ার অবকাশ নেই এবং এর কোনো অংশ বাদ দেওয়া তার জন্য বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৬৯)
4- قال: وقد أخبرنا محمد بن عبد الوهاب الكاتب، أنا علي بن عمر بن محمد الحضرمي، نا حاتم بن الحسن الشاشي، نا علي بن خشرمٍ، أنا عيسى بن يونس، عن ابن عونٍ، عن ابن سيرين، قال حذيفة: لا يفتي الناس إلا ثلاثة: رجل قد عرف ناسخ القرآن ومنسوخه، أو أمير لا يجد بدًا، أو أحمق متكلفٌ.
4- তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-কাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন উমর বিন মুহাম্মাদ আল-হাদরামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাতিম বিন আল-হাসান আশ-শাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন খাশরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা বিন ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আউন থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হুযাইফা (রা.) বলেছেন: তিন ধরণের ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ লোকদের ফতোয়া (يفتي) প্রদান করবে না: এমন ব্যক্তি যে কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) বিষয় সম্পর্কে অবগত, অথবা এমন প্রশাসক যার জন্য এছাড়া কোনো উপায় নেই, অথবা এমন নির্বোধ যে অনধিকার চর্চাকারী (متكلف)।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭০)
5- قال: وأخبرنا أبو الموفق محمد بن محمد النيسابوري، نا أحمد بن محمد بن الأزهر، أنا أحمد بن مروان المالكي، نا عبد الله بن مسلمة القعنبي، نا سهيل قال: قال الشافعي رحمه الله : لا يحل لأحدٍ يفتي في دين الله عز وجل إلا رجلاً عارفاً بكتاب الله، بناسخه ومنسوخه، ومحكمه ومتشابهه، وتأويله وتنزيله، ومكيه ومدنيه، وما أريد به، وفيما أنزل، ثم يكون بعد ذلك بصيراً بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبالناسخ والمنسوخ، ويعرف من الحديث ما عرف من القرآن، ويكون بصيراً باللغة [بصيراً بالشعر] وما يحتاج إليه [للعلم والقرآن، ويستعمل مع هذه الإنصاف، وقلة الكلام] ويكون بعد هذا مشرفاً على اختلاف أهل الأمصار، ويكون له قريحة بعد هذا وإذا كان [هذا] هكذا فله أن يتكلم ويفتي في الحلال والحرام، وإذا لم يكن هكذا فـ[له أن يتكلم في العلم و] لا يفتي.
5- তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মুয়াফফাক মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-নিশাপুরী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-আজহার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মারওয়ান আল-মালিকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আল-কানাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুহাইল, তিনি বলেন: ইমাম শাফিয়ি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: মহান আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করা সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো জন্য বৈধ নয় যে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে বিজ্ঞ; তার রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه), এর ব্যাখ্যা (تأويل) ও অবতরণ (تنزيل), এবং মাক্কি (مكي) ও মাদানি (مدني) আয়াতসমূহ সম্পর্কে অবগত। সে জানবে আয়াতগুলো দ্বারা কী উদ্দেশ্য এবং কোন প্রেক্ষাপটে তা অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস এবং তার রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে। কুরআনের ক্ষেত্রে সে যা জানে, হাদিসের ক্ষেত্রেও তাকে তদ্রূপ জানতে হবে। তদুপরি তাকে ভাষা ও [কবিতা] সম্পর্কে পারদর্শী হতে হবে এবং [ইলম ও কুরআনের জন্য] যা প্রয়োজন সে সম্পর্কেও জ্ঞান রাখতে হবে। এর সাথে তাকে ন্যায়নিষ্ঠা ও স্বল্পভাষী হওয়ার গুণ অর্জন করতে হবে। এরপর তাকে বিভিন্ন জনপদের আলেমদের মতভেদ সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে হবে এবং তার একটি প্রখর মেধা বা সহজাত প্রতিভা (قريحة) থাকতে হবে। যখন এই বিষয়গুলো পূর্ণ হবে, তখন সে কথা বলতে এবং হালাল ও হারাম বিষয়ে ফতোয়া দিতে পারবে। আর যদি এমন না হয়, তবে [সে ইলম নিয়ে আলোচনা করতে পারলেও] ফতোয়া দিতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭০)
6- أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الباقي، عن إبراهيم بن عمر البرمكي ⦗ص: 71⦘ عن عبد العزيز بن جعفر، حدثنا أبو بكر الخلال، قال: أخبرني محمد بن علي، نا صالح بن أحمد بن حنبل، [عن أبيه أنه] قال: ينبغي للرجل إذا حمل نفسه على الفتيا أن يكون عالماً بالسنن عالماً بوجوه القرآن عالماً بالأسانيد الصحيحة، وإنما جاء خلاف من خالف لقلة معرفته بما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم في السنن، وقلة معرفتهم بصحيحها من سقيمها.
৬- আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকী আমাদের অবহিত করেছেন ইব্রাহিম বিন উমর আল-বারমাকী থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ তিনি আব্দুল আজীজ বিন জাফর থেকে, আবু বকর আল-খাল্লাল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আলী আমাকে অবহিত করেছেন, সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, [তার পিতা থেকে বর্ণিত যে তিনি] বলেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি নিজেকে ফতোয়া প্রদানের জন্য প্রস্তুত করে, তখন তার জন্য উচিত হলো সুন্নাহ সম্পর্কে পারদর্শী হওয়া, কুরআনের বিভিন্ন দিক (وجوه) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং সহিহ (صحيحة) সনদসমূহ (الأسانيد) সম্পর্কে অবগত থাকা। মূলত যারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন তাদের ভিন্নমতের কারণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সুন্নাহ সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের স্বল্পতা এবং বর্ণনার সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (سقيم) হওয়ার পার্থক্য নিরূপণে তাদের জ্ঞানের অভাব।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭১)
7- أخبرنا محمد بن ناصر، نا المبارك بن عبد الجبار، نا عبد العزيز بن علي الأزجي، قال: سمعت أبا بكر محمد بن أحمد المفيد يقول: نا الحسن بن إسماعيل الربعي، قال: قيل لأبي عبد الله أحمد بن حنبل رحمه الله وأنا أسمع: يا أبا عبد الله كم يكفي الرجل من الحديث حتى يمكنه أن يفتي؟ يكفيه مئة ألف؟ قال لا. قيل: مئتا ألف؟ قال: لا. قيل: ثلاث مئة ألف؟ قال: لا، قيل: أربع مئة ألف؟ قال: لا. قيل: خمس مئة ألف؟ قال: أرجو.
7- মুহাম্মাদ বিন নাসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার আমাদের বর্ণনা করেছেন (نا), আব্দুল আজিজ বিন আলী আল-আযদি আমাদের বর্ণনা করেছেন (نا); তিনি বলেন: আমি আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমদ আল-মুফিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল-হাসান বিন ইসমাইল আল-রিবঈ আমাদের বর্ণনা করেছেন (نا); তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আর আমি তা শুনছিলাম: "হে আবু আব্দুল্লাহ! একজন ব্যক্তির ফতোয়া প্রদানের সক্ষমতা অর্জনের জন্য কতটি হাদিস জানা যথেষ্ট? তার জন্য কি এক লক্ষ হাদিস যথেষ্ট?" তিনি বললেন: "না।" জিজ্ঞেস করা হলো: "দুই লক্ষ?" তিনি বললেন: "না।" জিজ্ঞেস করা হলো: "তিন লক্ষ?" তিনি বললেন: "না।" জিজ্ঞেস করা হলো: "চার লক্ষ?" তিনি বললেন: "না।" জিজ্ঞেস করা হলো: "পাঁচ লক্ষ?" তিনি বললেন: "আমি আশা করি।"
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭২)
‌‌فصل

وقد كان علماء السلف رضي الله عنهم مع أنهم قد جمعوا العلوم المشروطة في الفتيا، يمتنعون تورعاً
.

8- أخبرنا ابن عبد الخالق، أنا ابن مرزوقٍ، أنا أحمد بن علي الخطيب، أنا الحسن بن أبي بكر، أنا أبو علي محمد بن أحمد بن الحسن الصواف، نا عبد الله بن أحمد بن حنبلٍ، نا أبو معمرٍ، نا حكام الرازي، نا جراح الكندي، عن أبي إسحاق، عن البراء، قال: لقد رأيت ثلاث مئة من أهل بدرٍ ما منهم من أحدٍ إلا وهو يحب أن يكفيه صاحبه الفتوى.
পরিচ্ছেদ

সালাফ (السلف) উলামায়ে কেরাম—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—ফতোয়া (فتيا) প্রদানের জন্য আবশ্যকীয় সকল জ্ঞান অর্জন করা সত্ত্বেও কেবল পরহেজগারিবশত তা থেকে বিরত থাকতেন।

৮- ইবনে আব্দুল খালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ইবনে মারযূক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আহমদ ইবনে আলী আল-খতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), হাসান ইবনে আবি বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসান আস-সাওয়াফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু মা'মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), হাক্কাম আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), জাররাহ আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু ইসহাক থেকে (عن), বারা (রা.) থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তিনশত সাহাবীকে দেখেছি, তাঁদের প্রত্যেকের অবস্থা এমন ছিল যে, তিনি চাইতেন যেন তাঁর পরিবর্তে তাঁর অন্য কোনো সাথী ফতোয়া (الفتوى) প্রদানের বিষয়টি সমাধান করে দেন।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭২)
9- أخبرنا عبد الوهاب بن المبارك، أنا أبو محمد الصريفيني، أنا ⦗ص: 73⦘ عمر بن إبراهيم الكتاني، نا البغوي، نا زهير بن حرب، نا جرير، عن عطاء ابن السائب عن عبد الرحمن بن أبي ليلى، قال: أدركت عشرين ومئةً من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم من الأنصار، ما منهم رجل يسأل عن شيء إلا ود أن أخاه كفاه.
9- আবদুল ওয়াহাব বিন আল-মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু মুহাম্মদ আল-সারিফিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘ উমর বিন ইব্রাহিম আল-কাত্তানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আল-বাগাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), জুহাইর বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আতা ইবনে আল-সাইব থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবি লাইলা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আনসারদের মধ্য থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একশত বিশজন সাহাবী (أصحاب)-কে পেয়েছি; তাঁদের কাউকেও যখন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি কেবল এটাই কামনা করতেন যে তাঁর কোনো (মুসলিম) ভাই যেন তাঁর পক্ষ থেকে এর উত্তর দিয়ে দেন।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৩)
10- أخبرنا عبد الحق بن عبد الخالق اليوسفي، أنا محمد بن مرزوق، أنا أحمد بن علي بن ثابتٍ، نا ابن الفضل، نا ابن درستويه، نا يعقوب بن سفيان، نا الحميدي، حدثنا سفيان، نا عطاء بن السائب، عن عبد الرحمن بن أبي ليلى، قال: أدركت مئة وعشرين من الأنصار من ⦗ص: 74⦘ أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يسأل أحدهم عن المسألة، فيرد هذا إلى هذا، وهذا إلى هذا، حتى ترجع إلى الأول.
১০- আব্দুল হক বিন আব্দুল খালিক আল-ইউসুফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), মুহাম্মদ বিন মারজুক আমাদের জানিয়েছেন (أنا), আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আমাদের জানিয়েছেন (أنا), ইবনুল ফজল আমাদের জানিয়েছেন (نا), ইবনু দুরুস্তওয়াইহ আমাদের জানিয়েছেন (نا), ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আমাদের জানিয়েছেন (نا), আল-হুমাইদী আমাদের জানিয়েছেন (نا), সুফিয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (حدثنا), আতা বিন সাইব আমাদের জানিয়েছেন (نا), আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ⦗পৃষ্ঠা: ৭৪⦘ সাহাবীগণের (أصحاب) মধ্য থেকে একশত বিশজন আনসারীকে পেয়েছি। তাঁদের কাউকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা একজনের কাছে পাঠিয়ে দিতেন, তিনি আবার অন্যজনের কাছে, এভাবে বিষয়টি পুনরায় প্রথমজনের নিকট ফিরে আসত।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৪)
11- أخبرنا ابن ناصرٍ، أنا أبو سهل محمد بن إبراهيم، أنا أبو الفضل القرشي، نا أبو بكر بن مردويه، نا محمد بن أحمد بن إسحاق، نا أحمد بن النضر، نا عامر بن سيار، نا أبو الصباح عن عبد العزيز، عن أبيه -وكانت له صحبة- قال: قال لي أبي: يا بني: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه محزونين كأنهم قوم أغمار لا يحسنون شيئاً، فإذا سئلوا عن شيء أحال بعضهم على بعضٍ، فإياك -يا بني- أن تقول بغير علمٍ فتخرج من الدين.
11- ইবন নাসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাহল মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ফদল আল-কুরাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবন মারদুওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবন আন-নাদর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমির ইবন সাইয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-সাবাহ আবদুল আজিজ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন—যাঁর সাহচর্য (صحبة) লাভের মর্যাদা ছিল—তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বলেছিলেন: হে বৎস! আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের এমন বিষণ্ণ অবস্থায় দেখেছি যেন তাঁরা এক অনভিজ্ঞ সম্প্রদায় যাঁরা কোনো কিছুই জানেন না; যখনই তাঁদের কাছে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তাঁরা একে অপরকে উত্তর দেওয়ার জন্য পাঠিয়ে দিতেন। সুতরাং হে বৎস, জ্ঞানহীন অবস্থায় কথা বলা থেকে সাবধান থেকো, অন্যথায় তুমি দীন থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৪)
12- أخبرنا عبد الحق، أنا ابن مرزوق، أنا أبو بكرٍ الخطيب، أنا علي بن أحمد المقرئ، نا محمد بن الحسين الآجري، نا أبو العباس أحمد بن سهلٍ الأشناني، نا الحسين بن الأسود العجلي، نا يحيى بن آدم، نا حماد بن شعيب، عن حجاج، عن عمير بن سعد، قال: سألت علقمة عن مسئلة، فقال: ائت ⦗ص: 75⦘ عبيدة فسله، فأتيت عبيدة فقال: ائت علقمة، فقلت: علقمة أرسلني إليك. فقال: ائت مسروقاً فسله، فأتيت مسروقاً، فقال: ائت علقمة [فسله] ، فقلت: علقمة أرسلني إلى عبيدة، وعبيدة أرسلني إليك، قال: فأت عبد الرحمن بن أبي ليلى، فأتيته، فسألته، فكرهه، ثم رجعت إلى علقمة فأخبرته، فقال: كان يقال: أجرأ القوم على الفتوى أدناهم علماً.
12- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবদুল হক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) ইবন মারজুক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু বকর আল-খাতিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আলি ইবন আহমদ আল-মুকারি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুর্‌রি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবন সাহল আল-উশনানি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) আল-হুসাইন ইবনুল আসওয়াদ আল-ইজলি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) ইয়াহইয়া ইবন আদম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) হাম্মাদ ইবন শুআইব, হাজ্জাজ থেকে বর্ণিত, তিনি উমাইর ইবন সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলকামাহকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তুমি ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘ উবাইদাহর কাছে যাও এবং তাকে জিজ্ঞাসা করো। আমি উবাইদাহর কাছে গেলাম, তিনি বললেন: তুমি আলকামাহর কাছে যাও। আমি বললাম: আলকামাহই আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: তবে মাসরুকের কাছে যাও এবং তাকে জিজ্ঞাসা করো। আমি মাসরুকের কাছে গেলাম, তিনি বললেন: আলকামাহর কাছে যাও [এবং তাকে জিজ্ঞাসা করো]। আমি বললাম: আলকামাহ আমাকে উবাইদাহর কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং উবাইদাহ আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: তবে আবদুর রহমান ইবন আবি লায়লার কাছে যাও। আমি তার কাছে গেলাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি তা অপছন্দ করলেন। এরপর আমি আলকামাহর কাছে ফিরে এলাম এবং তাকে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন: এমনটি বলা হতো যে, লোকদের মধ্যে ফতোয়া (الفتوى) প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাহসী সেই ব্যক্তি, যার জ্ঞান সবচেয়ে কম।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৫)
13- وقال الآجري: أنا جعفر بن محمد الصندلي، نا محمد بن المثنى، قال: سمعت بشر بن الحارث يقول: سمعت المعافى بن عمران ⦗ص: 76⦘ يذكر عن سفيان، قال: أدركت الفقهاء وهم يكرهون أن يجيبوا في المسائل والفتيا [ولا يفتون] حتى لا يجدوا بدًّا من أن يفتوا، وقال المعافى: قال سفيان: أدركت [الناس ممن أدركت من] العلماء والفقهاء [وهم] يترادون المسائل يكرهون أن يجيبوا فيها، فإذا أعفوا [منها] كان [ذلك] أحب إليهم.
১৩- আল-আজুরি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সান্দালি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (نا) মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না, তিনি বলেন: আমি বিশর বিন আল-হারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুআফা বিন ইমরানকে ⦗পৃষ্ঠা: ৭৬⦘ সুফিয়ান থেকে উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি এমন ফকিহগণের (الفقهاء) সাক্ষাৎ পেয়েছি যারা মাসআলা ও ফতোয়া (الفتيا) প্রদানের বিষয়ে উত্তর দেওয়াকে অপছন্দ করতেন [এবং তারা ফতোয়া দিতেন না] যতক্ষণ না তারা ফতোয়া দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখতেন। মুআফা বলেন: সুফিয়ান বলেছেন: আমি যাদের সাক্ষাৎ পেয়েছি সেই সকল আলেম (العلماء) ও ফকিহগণ (الفقهاء) একে অপরের কাছে মাসআলা পাঠিয়ে দিতেন এবং উত্তর দিতে অপছন্দ করতেন। সুতরাং যদি তাদের এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতো, তবে সেটিই তাদের নিকট অধিক প্রিয় ছিল।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
14- أخبرنا عبد الحق، أنا ابن مرزوق، نا أبو بكر الخطيب، أخبرنا ⦗ص: 77⦘ البرقاني، قال: قرئ على عبد الله بن محمد بن زيادٍ -وأنا أسمع-: حدثكم محمد بن إسحاق بن خزيمة قال: سمعت يونس بن عبد الأعلى، قال: سمعت الشافعي رحمه الله يقول: ما رأيت أحداً جمع الله فيه من آلة الفتيا ما جمع في ابن عيينة أسكت عن الفتيا منه.
14- আব্দুল হক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ইবনে মারজুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু বকর আল-খতিব আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ⦗পৃষ্ঠা: ৭৭⦘ আল-বারকানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদের সামনে পাঠ করা হচ্ছিল—আর আমি তা শুনছিলাম—: মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইউনুস বিন আব্দুল আ'লাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: “আমি এমন কাউকে দেখিনি যার মধ্যে আল্লাহ ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা (آلة الفتيا) তেমনভাবে সমবেত করেছেন যেমনটি ইবনে উয়াইনার মধ্যে করেছেন, অথচ ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন তাঁর চেয়েও অধিক মৌন (أسكت) ব্যক্তি।”
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৭)
15- قال الخطيب: وحدثنا أبو نعيم الحافظ، أنا إبراهيم بن محمد بن يحيى، أنا أبو العباس السراج، قال: سمعت أبا عبد الله المروزي، قال: سمعت إسحاق ابن راهويه يقول: قال ابن عيينة: أعلم الناس بالفتوى أسكتهم فيها، وأجهل الناس بالفتوى أنطقهم فيها.
১৫- আল-খতিব বলেন: হাফিজ (الحافظ) আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-আব্বাস আস-সাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আল-মারওয়াজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনে উয়াইনা বলেছেন: ফতোয়া (الفتوى) বিষয়ে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী হলেন তিনি, যিনি এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি নীরব থাকেন; আর ফতোয়া (الفتوى) বিষয়ে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অজ্ঞ হলেন তিনি, যিনি এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৭)
16- أخبرنا عبد الحق، أنا ابن مرزوق، أنا أحمد بن علي بن ثابتٍ، نا ابن الفضل، أنا ابن درستويه، نا يعقوب بن سفيان، نا الحميدي، نا سفيان، عن عطاء بن السائب، قال: أدركت أقواماً إن كان أحدهم ليسأل عن الشيء فيتكلم وإنه ليرعد.
16- আবদুল হক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ইবনে মারযুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আহমাদ বিন আলী বিন সাবিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ইবনুল ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনে দুরুসতুওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আল-হুমাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আতা বিন আল-সাইব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এমন একদল লোককে পেয়েছি যে, তাঁদের কাউকেও যখন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো এবং তিনি (তার উত্তর দিতে) কথা বলতেন, তখন তিনি (আল্লাহর ভয়ে) কাঁপতেন।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৭)
17- قال يعقوب: ونا الفضل بن زياد نا أحمد نا محمد بن عبد الله الأنصاري، نا الأشعث عن محمد أنه كان إذا سئل عن شيء من الفقه الحلال والحرام تغير لونه وتبدل، حتى كأن ليس بالذي كان.
17- ইয়াকুব বলেন: আমাদের নিকট ফজল ইবনে যিয়াদ বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আমাদের নিকট আশ’আস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত যে, যখনই তাঁকে ফিকহ (الفقه) তথা হালাল (الحلال) ও হারাম (الحرام) সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তাঁর গায়ের রং পরিবর্তন হয়ে যেত এবং তিনি এমনভাবে বদলে যেতেন যে, মনে হতো যেন তিনি সেই ব্যক্তি নন যিনি কিছুক্ষণ পূর্বে ছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৮)
18- أخبرنا ابن عبد الخالق قال: أنا الزعفراني، أنا أبو بكر أحمد بن علي، أنا أبو حازم العبدوي، أنا محمد بن عبد الله بن إبراهيم نا إبراهيم بن علي الذهلي، نا أبو الصلت، قال: حدثني شيخ -بقرب المدينة- قال: والله إن كان مالك رضي الله عنه إذا سئل عن مسألةٍٍ كأنه واقفٌ بين الجنة والنار.
১৮- ইবনুল আবদুল খালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: যাফরানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আবু বকর আহমাদ বিন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), আবু হাযিম আল-আবদুওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহীম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا), ইব্রাহীম বিন আলী আয-যুহলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (نا), আবুস সালত আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (نا), তিনি বলেন: মদিনার নিকটবর্তী একজন শায়খ (شيخ) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন (حدثني), তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ! (ইমাম) মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে যখন কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন মনে হতো যেন তিনি জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৮)
19- أخبرنا أبو الحسين اليوسفي، أنا أبو الحسن الزعفراني، نا أحمد بن علي، أنا إبراهيم بن عمر البرمكي، (ح) وأنبأنا محمد بن عبد الباقي عن البرمكي، نا محمد بن عبد الله بن خلف، نا عمر بن محمدٍ الجوهري، نا أبو بكر الأثرم، قال: سمعت أبا عبد الله يقول: من عرض نفسه للفتيا فقد عرضها لأمر عظيم إلا أنه قد تجيء الضرورة، قال الحسن: إن تركناهم وكلناهم إلى عي شديد، فإنما تكلم القوم على هذا [كان قوم يرون أنهم أكثر من غيرهم فتكلموا] قيل لأبي عبد الله: فأيما أفضل، الكلام أو الإمساك؟ قال: الإمساك أحب إلي، لا شك، [الإمساك أسلم] قيل له: فإذا كانت الضرورة؟ فجعل يقول: الضرورة الضرورة.
১৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হুসাইন আল-ইউসুফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান আল-জাফরানি, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমদ বিন আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ইব্রাহিম বিন উমর আল-বারমাকি, (হ) বা রূপান্তর (تحويل); এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) মুহাম্মদ বিন আবদুল বাকি, তিনি আল-বারমাকি থেকে, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন খালাফ, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) উমর বিন মুহাম্মদ আল-জাওহারি, আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু বকর আল-আছরাম। তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "যে ব্যক্তি নিজেকে ফতোয়া (فتيا) প্রদানের জন্য পেশ করল, সে নিজেকে এক গুরুতর বিষয়ের সম্মুখীন করল; তবে কখনো কখনো অপরিহার্যতা (ضرورة) দেখা দিতে পারে।" হাসান বলেন: "যদি আমরা তাদের ছেড়ে দেই, তবে আমরা তাদের চরম অক্ষমতা বা বাকরুদ্ধতার (عي) দিকে ঠেলে দেব।" মূলত এই লক্ষ্যেই একদল লোক কথা বলেছেন [একদল লোক মনে করতেন যে তারা অন্যদের তুলনায় অধিক যোগ্য, তাই তারা কথা বলেছেন]। আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো: "কোনটি অধিক উত্তম—কথা বলা নাকি বিরত থাকা (إمساك)?" তিনি বললেন: "বিরত থাকা (إمساك) আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই।" [বিরত থাকাই অধিক নিরাপদ (أسلم)]। তাকে পুনরায় বলা হলো: "যদি অপরিহার্যতা (ضرورة) দেখা দেয়?" তখন তিনি বলতে লাগলেন: "অপরিহার্যতা (ضرورة), অপরিহার্যতা (ضرورة)।"
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৭৯)
‌‌فصل

وكان علماء السلف رضي الله عنهم لشدة ورعهم إذا سئلوا عن الشيء يقولون: أوقع هذا
؟ فإن لم يكن وقع، قالوا: دعونا حتى يقع.

20- وأخبرنا عبد الوهاب بن المبارك الحافظ، أخبرنا أبو محمد ⦗ص: 80⦘ الصريفيني، أخبرنا عمر بن إبراهيم الكتاني، نا البغوي، نا زهير بن حربٍ، نا عبد الرحمن، عن سفيان، عن عبد الملك بن أبجر، عن الشعبي، عن مسروقٍ، قال: سألت أبي بن كعبٍ عن شيء، فقال: إن كان بعد؟ قلت: لا، قال: فأجمنا حتى يكون، فإذا كان اجتهدنا لك رأينا.
পরিচ্ছেদ

সালাফ আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁদের তীব্র পরহেজগারির (ورع) কারণে যখন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতেন, তখন তাঁরা বলতেন: এটি কি সংঘটিত হয়েছে
? যদি তা না ঘটে থাকত, তবে তাঁরা বলতেন: এটি ঘটা পর্যন্ত আমাদের ছেড়ে দাও।

২০- হাফেজ (الحافظ) আবদুল ওয়াহাব বিন আল-মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ ⦗পৃষ্ঠা: ৮০⦘ আস-সারিফিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর বিন ইবরাহিম আল-কাত্তানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-বাগাওয়ি আমাদের বর্ণনা করেছেন, জুহাইর বিন হারব আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, আবদুল মালিক বিন আবজার থেকে বর্ণিত, আশ-শা'বি থেকে বর্ণিত, মাসরুক থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি উবাই বিন কাব-কে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন: "তা কি ইতিমধ্যে ঘটেছে?" আমি বললাম: "না।" তিনি বললেন: "তাহলে এটি ঘটা পর্যন্ত আমাদের অবকাশ দাও। যখন এটি ঘটবে, তখন আমরা তোমার জন্য আমাদের গবেষণালব্ধ রায় (اجتهاد) প্রদানের চেষ্টা করব।"
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৮০)
21- أخبرنا أبو الحسين بن عبد الخالق، أنا أبو الحسن الزعفراني، ⦗ص: 81⦘ أنا أحمد بن علي الحافظ، أنا أبو عمر بن مهدي، أنا ابن مخلد، نا طاهر بن خالد بن نزارٍ، قال: حدثني أبي: أنا عبد الرحمن بن أبي الزناد، عن أبيه، عن خارجة بن زيد، قال: كان زيد بن ثابتٍ إذا سئل عن الشيء، يقول: كان هذا؟ فإن قالوا: لا، قال: دعوه حتى يكون.
২১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হুসাইন বিন আব্দুল খালিক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু আল-হাসান আল-জাফরানি, ⦗পৃষ্ঠা: ৮১⦘ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আহমদ বিন আলী আল-হাফিয (الحافظ), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু উমর বিন মাহদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أনা) ইবনে মাখলাদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন (نا) তাহির বিন খালিদ বিন নিযার, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন (حدثني): আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আব্দুর রহমান বিন আবি আল-যিনাদ, তাঁর পিতার সূত্রে, খারিজাহ বিন যায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যায়েদ বিন সাবিত যখন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতেন, তখন তিনি বলতেন: এটি কি ঘটেছে? যদি তারা বলত: না, তখন তিনি বলতেন: তবে এটি ঘটা পর্যন্ত তা ছেড়ে দাও।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৮২)
‌‌فصل

وكانوا رضي الله عنهم يكثرون من قول: لا أدري
، كيف وقد قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم.

22- أخبرنا أبو الحسين اليوسفي، أنا أبو الحسين الزعفراني، أنا ⦗ص: 83⦘ أحمد بن علي بن ثابتٍ، أنا علي بن أحمد بن إبراهيم البصري، نا الحسن بن محمد بن عثمان، ثنا يعقوب بن سفيان، نا موسى بن مسعودٍٍ، حدثنا زهير، عن عبد الله بن محمد بن عقيل، عن محمد بن جبيرٍِ، عن أبيه، أن رجلاً أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! أي البلدان شر؟ قال: لا أدري. فلما أتاه جبريل، قال: أي البلدان شرٌ؟ قال: لا أدري. فانطلق جبريل، ثم جاء فقال: إني سألت ربي -تعالى- فقلت: أي البلدان شر؟ فقال: أسواقها.
পরিচ্ছেদ (فصل)

তাঁরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অধিকহারে ‘আমি জানি না’ কথাটি বলতেন
, কেনই বা নয়, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বয়ং তা বলেছেন।

২২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হুসাইন আল-ইউসুফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হুসাইন আজ-জাফরানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ⦗পৃষ্ঠা: ৮৩⦘ আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আলী ইবনে আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আল-বাসরি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) মুসা ইবনে মাসউদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) যুহাইর, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকিল হতে (عن), মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের হতে (عن), তিনি তাঁর পিতা হতে (عن) বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কোন জনপদ সবচাইতে মন্দ? তিনি বললেন: আমি জানি না। অতঃপর যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসলেন, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কোন জনপদ সবচাইতে মন্দ? তিনি বললেন: আমি জানি না। এরপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রস্থান করলেন এবং পুনরায় ফিরে এসে বললেন: আমি আমার রব্ব (তাআলা)-কে জিজ্ঞেস করেছি—কোন জনপদ সবচাইতে মন্দ? তিনি বললেন: এখানকার বাজারসমূহ।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৮৩)
23- أخبرنا محمد بن ناصر، أنا أبو سهل محمد بن إبراهيم، أنا ⦗ص: 84⦘ أبو الفضل القرشي، أنا أبو بكر بن مردويه، نا محمد بن أحمد بن الحسن، نا بشر بن موسى، نا يحيى بن إسحاق، حدثنا شريك عن عطاء بن السائب، عن أبي البختري، قال: قال علي بن أبي طالب عليه السلام: وابردها على الكبد! إذا سئل أحدكم عن ما لا يعلم، أن يقول: لا أعلم.
২৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ বিন নাসির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু সাহল মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) ⦗পৃষ্ঠা: ৮৪⦘ আবু ফদল আল-কুরাশি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবু বকর বিন মারদুওয়াইহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাসান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) বিশর বিন মুসা, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (نا) ইয়াহইয়া বিন ইসহাক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) শারিক, আতা বিন আল-সাইব থেকে, আবু আল-বাখতারি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী বিন আবি তালিব (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "কলিজার জন্য এটি কতই না শীতলদায়ক! যখন তোমাদের কাউকে এমন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যা সে জানে না, তখন সে যেন বলে: আমি জানি না।"
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৮৪)
24- قال ابن مردويه: وحدثنا دعلج، نا محمد بن علي بن زيد، أنا ⦗ص: 85⦘ أحمد بن شبيبٍ، نا أبي، عن يونس، عن ابن شهاب، عن خالد بن أسلم، قال: خرجنا مع ابن عمر فلحقنا أعرابي فقال: أنت ابن عمر؟ قال: نعم. قال: أترث العمة؟ فقال: لا أدري، اذهب إلى العلماء بالمدينة فسلهم، فلما أدبر قبل ابن عمر يديه ثم قال: نِعم ما قال أبو عبد الرحمن، سئل عما لا يدري فقال: لا أدري.
24- ইবনে মারদুওয়াইহ বলেন: দালাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ বিন আলী বিন যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ⦗পৃষ্ঠা: ৮৫⦘ আহমদ বিন শাবীব আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি খালিদ বিন আসলাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমরা ইবনে উমরের সাথে বের হলাম, এমতাবস্থায় এক বেদুইন আমাদের সাথে মিলিত হয়ে জিজ্ঞেস করল: আপনি কি ইবনে উমর? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: ফুফু কি উত্তরাধিকার পাবে? তিনি বললেন: আমি জানি না, তুমি মদিনার আলেমদের নিকট গিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসা করো। অতঃপর যখন লোকটি চলে গেল, ইবনে উমর নিজের হাত চুম্বন করলেন এবং বললেন: আবু আবদুর রহমান কতই না চমৎকার বলেছেন! তাঁকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা তিনি জানেন না, আর তিনি বললেন: আমি জানি না।
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৮৫)
25- قال ابن مردويه: وحدثنا محمد بن إبراهيم بن محمد، نا أبي، نا ⦗ص: 86⦘ أحمد بن سعيدٍ حدثنا ابن وهب، حدثنا حفص بن عمر، عن حيوة بن شريح، عن عقبة بن مسلم، قال: صحبت ابن عمر أربعةً وثلاثين شهراً، وكان كثيراً ما يسئل، فيقول: لا أدري، ثم يلتفت إلي فيقول: هل تدري ما يريد هؤلاء؟ يريدون أن يجعلوا ظهورنا جسراً إلى جهنم.
২৫- ইবনে মারদুওয়াই বলেন: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৮৬⦘ আহমদ বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফস বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাইওয়াহ বিন শুরাইহ থেকে বর্ণিত, উকবাহ বিন মুসলিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি চৌত্রিশ মাস ইবনে উমরের সাহচর্যে ছিলাম। তাকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি বলতেন: "আমি জানি না।" এরপর তিনি আমার দিকে ফিরে বলতেন: "তুমি কি জানো তারা কী চায়? তারা আমাদের পিঠকে জাহান্নামের সেতু বানাতে চায়।"
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৮৬)
26- أخبرنا عبد الحق اليوسفي، أنا الزعفراني، أنا أحمد بن علي الحافظ، أنا علي بن الحسين، أخبرنا علي بن الحسن الرازي، أخبرنا أبو علي الكوكبي، حدثنا أحمد بن عبيد، أنا الهيثم بن عدي، عن مجالدٍ، قال: سئل الشعبي عن شيء، فقال: لا أدري، فقيل له: أما أن تستحيي من قولك لا أدري وأنت فقيه أهل العراق؟ قال: لكن الملائكة لم تستحي حين قالت: {سبحانك لا علم لنا إلا ما علمتنا} .
২৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আব্দুল হক আল-ইউসুফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আয-যাফরানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আহমাদ বিন আলী আল-হাফিজ (الحافظ), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আলী বিন আল-হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আলী বিন আল-হাসান আর-রাজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আলী আল-কাওকাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমাদ বিন উবাইদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আল-হাইসাম বিন আদি, মুজালিদ হতে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: আশ-শাবি-কে কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "আমি জানি না।" তখন তাঁকে বলা হলো, "আপনি ইরাকের অধিবাসীদের ফকিহ (فقيه) হওয়া সত্ত্বেও 'আমি জানি না' বলতে কি আপনার লজ্জা হয় না?" তিনি বললেন, "কিন্তু ফেরেশতারা তো লজ্জা পাননি যখন তাঁরা বলেছিলেন: {পবিত্র আপনি! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই}।"
(খণ্ড: ১) তাযীমূল ফুতইয়া - ইবনুল জাওযী (পৃষ্ঠা: ৮৬)
27- قال أحمد بن علي: وأخبرنا محمد بن عبيد الله الحنائي، أنا أبو ⦗ص: 87⦘ بكرٍ النجاد، حدثنا أبو يحيى الناقد، نا خالد بن خداش، قال: سمعت مالك بن أنس رحمه الله قال: كنا جلوساً عند أيوب فسأله عمر بن نافع عن شيء، فلم يجبه [أيوب] ، فقال له عمر: لا أراك فهمت، قال: بلى، قال: فما لك لا تجبني؟ قال: لا أعلم. قال مالك -ونحن نتكلم-.
২৭- আহমদ বিন আলী বলেন: মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ আল-হিন্নাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৮৭⦘ বকর আন-নাজ্জাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), আবু ইয়াহইয়া আন-নাক্বিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), খালিদ বিন খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثনা), তিনি বলেন: আমি মালিক বিন আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা আইয়ুবের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, তখন উমর বিন নাফে' তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু [আইয়ুব] তাঁকে কোনো উত্তর দিলেন না। উমর তাঁকে বললেন: আমার মনে হয় না যে আপনি বুঝতে পেরেছেন। তিনি বললেন: অবশ্যই (বুঝেছি)। উমর বললেন: তবে আপনি আমাকে উত্তর দিচ্ছেন না কেন? তিনি বললেন: আমি জানি না। মালিক বলেন—এমতাবস্থায় আমরা কথা বলছিলাম।