(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: -)
عوالي مسلم لابن حجر   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: عوالي مسلم: أربعون حديثا منتقاة من صحيح مسلم

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)

المحقق: كمال يوسف الحوت

الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية

الطبعة: الثانية 1408 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 172

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে হাজারের আত্তয়ালী মুসলিম   (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আত্তয়ালী মুসলিম: সহীহ মুসলিম থেকে সংগৃহীত চল্লিশটি হাদীস

লেখক: আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি)

সম্পাদক: কামাল ইউসুফ আল-হুত

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগী আল-খায়র আকবিল

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: -)
عوالي مسلم

أربعون حديثا منتقاة من صحيح مسلم

 

جمع وانتقاء

الحافظ أبي الفضل بن حجر العسقلاني

المتوفى سنة 852 هـ

 

تحقيق

كمال يوسف الحوت

 

تقديم

الشيخ محمد كنعان

قاضي بيروت الشرعي

 

مؤسسة الكتب الثقافية

 

الطبعة الثانية

1408 هـ - 1988 م
আওয়ালি মুসলিম

সহীহ মুসলিম থেকে নির্বাচিত চল্লিশটি হাদীস

 

সংকলন ও নির্বাচন

আল-হাফিজ আবুল ফজল ইবনে হাজার আল-আসকালানী

মৃত্যু ৮৫২ হিজরী

 

তাহকীক

কামাল ইউসুফ আল-হুত

 

উপস্থাপনা

শাইখ মুহাম্মদ কানআন

বৈরুতের শরয়ী কাজী

 

মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ

 

দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪০৮ হিজরী - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌مقدمة المصنف

الحمد لله، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

قال شيخنا شيخ الإسلام، حافظ العصر وحاكم الأنام، أبو الفضل شهاب الدين أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، الشافعي -رحمه الله تعالى-.

أما بعد حمد الله، والصلاة والسلام على رسول الله، ولا حول ولا قوة إلا بالله.

فهذه أربعون حديثاً انتقيتها من صحيح مسلم بن الحجاج هي من العزيز الذي علا مسلم البخاري برجلٍ في كل إسناد منها.

إما أن يروي مسلم عن رجل حديثاً ويكون البخاري قد روى ذلك الحديث بعينه عن ذلك الرجل [بعينه] بواسطة بينه وبينه.

وإما أن يتفق معه في الشيخ الثالث للبخاري، وهو الثاني له، أو يتفق معه في
গ্রন্থকারের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর বর্ষিত হোক।

আমাদের শাইখ, শাইখুল ইসলাম, যুগের হাফেজ এবং সৃষ্টিজগতের বিচারক, আবুল ফজল শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি আশ-শাফিঈ —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— বলেছেন:

অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর সালাত ও সালামের পর; আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।

এগুলো এমন চল্লিশটি হাদিস যা আমি মুসলিম ইবনে হাজ্জাজের সহিহ গ্রন্থ থেকে চয়ন করেছি; এগুলো সেই দুর্লভ উচ্চ সনদের অন্তর্ভুক্ত যেখানে মুসলিম প্রতিটি সনদে একজন ব্যক্তির মাধ্যমে বুখারির চেয়ে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন।

হয়ত মুসলিম জনৈক ব্যক্তি থেকে সরাসরি কোনো হাদিস বর্ণনা করেছেন, অথচ বুখারি সেই একই হাদিস সেই একই ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন নিজের এবং তাঁর মাঝে একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে।

অথবা বুখারির তৃতীয় উস্তাদের ক্ষেত্রে মুসলিম তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, যিনি মুসলিমের জন্য দ্বিতীয় উস্তাদ, অথবা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৬৬)
الرابع، وهو الثالث له.

وعلى نظير ذلك كله أكثر هذه الأربعين.

والله الموفق والمعين. وأسأله أن ينفعنا بذلك، وأن يتحفنا بالمطالب من انقاذنا من المهالك، إنه على كل شيء قدير.

أخبرنا أبو عبد الله محمد بن الفضل بن أحمد الصاعدي الفراوي فقيه الحرم أنا أبو الحسين عبد الغافر بن محمد الفارسي، أنا أبو أحمد محمد بن عيسى بن عمرويه الجلودي، أنا إبراهيم بن محمد بن سفيان، ثنا أبو الحسين مسلم بن الحجاج قال:
চতুর্থটি, এবং এটি তার জন্য তৃতীয়।

আর এই চল্লিশটির অধিকাংশ এর অনুরূপ।

আর আল্লাহই তাওফীকদাতা এবং সাহায্যকারী। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন এবং ধ্বংসাত্মক বিষয়গুলো থেকে আমাদের রক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যগুলো দ্বারা আমাদের ধন্য করেন; নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হারামের ফকিহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-ফাদল বিন আহমাদ আস-সাঈদী আল-ফারাউয়ি, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আব্দুল গাফির বিন মুহাম্মাদ আল-ফারিসি, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন আমরুওয়াইহ আল-জাল্লুদি, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌الحديث الأول

1- وحدثني أحمد بن حنبلٍ، ثنا معتمر بن سليمان، عن كهمسٍ، عن ابن بريدة، عن أبيه -رضي الله تعالى عنه- أنه ⦗ص: 68⦘ غزا مع رسول الله ستة عشر غزوةً.

أخرجه البخاري في المغازي من صحيحه: عن أحمد بن الحسن الترمذي، صاحب الإمام أحمد بن حنبل، عن أحمد. فوقع بدلاً. فكأنه سمعه من مسلمٍ.
প্রথম হাদিস

১- এবং আমাকে আহমাদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুতামির ইবনে সুলায়মান বর্ণনা করেছেন কাহ্মাস থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন— থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ আল্লাহর রাসূলের সাথে ষোলোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।

বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের সঙ্গী আহমাদ ইবনে হাসান আত-তিরমিজি থেকে, তিনি আহমাদ থেকে। ফলে এটি একটি ‘বাদাল’ (বিকল্প সনদ) হিসেবে গণ্য হয়েছে। যেন তিনি এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌الحديث الثاني

2- وبالإسناد إلى ابن سفيان، ثنا مسلم، وثنا داود بن رشيدٍ، ثنا الوليد بن مسلمٍ، عن محمد بن مطرف أبي غسان المدني، عن زيد بن أسلم، عن علي بن حسينٍ، عن سعيد بن مرجانة، ⦗ص: 70⦘ عن أبي هريرة -رضي الله تعالى عنه- عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من أعتق رقبةً أعتق الله بكل عضوٍ منها عضواً من أعضائه من النار حتى فرجه بفرجه)) .

أخرجه البخاري في الكفارات من صحيحه: عن محمد بن عبد الرحيم (المعروف بصاعقة) ، عن داود بن رشيد بهذا الإسناد. فكأنه سمعه من مسلم، [أخرجه في العتق] .
দ্বিতীয় হাদিস

২- এবং ইবনে সুফিয়ান পর্যন্ত সনদের মাধ্যমে বর্ণিত: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসলিম, এবং আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন দাউদ বিন রাশিদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ বিন মুসলিম, মুহাম্মদ বিন মুতাররিফ আবু গাসসান আল-মাদানি থেকে, তিনি যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আলী বিন হুসাইন থেকে, তিনি সাঈদ বিন মারজানাহ থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ তিনি আবু হুরায়রা —রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু— থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো দাস মুক্ত করবে, আল্লাহ সেই দাসের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে তার (মুক্তকারীর) প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন, এমনকি তার লজ্জাস্থানের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানকেও))।

বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের 'কাফফারা' অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহিম (যিনি সা'ইকাহ নামে পরিচিত) থেকে, তিনি দাউদ বিন রাশিদ থেকে এই সনদে। ফলে মনে হয় যেন তিনি এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন, [এটি 'দাস মুক্তি' অধ্যায়েও বর্ণিত হয়েছে]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌الحديث الثالث

3- وبه إلى مسلم حدثنا عبيد الله بن معاذٍ العنبري، أنا أبي، ثنا شعبة، عن سعد بن إبراهيم، عن محمد بن المنكدر قال: ⦗ص: 72⦘ رأيت جابر بن عبد الله -رضي الله تعالى عنهما- يحلف بالله أن ابن صائد الدجال، فقلت: تحلف بالله؟! قال: إني سمعت عمر يحلف على ذلك عند النبي صلى الله عليه وسلم فلم ينكره النبي صلى الله عليه وسلم.

أخرجه البخاري في الاعتصام من صحيحه: عن حماد بن حميدٍ، عن عبيد الله بن معاذٍ [به] .

⦗ص: 73⦘

[أخرجه في اليقين] . فكأنه سمعه من مسلم.
তৃতীয় হাদিস

৩- এবং একই সূত্রে ইমাম মুসলিম পর্যন্ত বর্ণিত: উবায়দুল্লাহ ইবনে মুআদ আল-আনবারি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘ আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন—আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে দেখেছি যে, ইবনে সাইদ-ই হলো দাজ্জাল। তখন আমি বললাম: আপনি আল্লাহর নামে শপথ করছেন?! তিনি বললেন: আমি উমরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এই মর্মে শপথ করতে শুনেছি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অস্বীকার করেননি।

ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের ‘আল-ইতিসাম’ অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন: হাম্মাদ ইবনে হুমাইদ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে মুআদ থেকে [একই সূত্রে]।

⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘

[এটি আল-ইয়াকিন গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে]। সুতরাং মনে হচ্ছে তিনি এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৭৪)
‌‌الحديث الرابع

4- وبه ثنا عبيد الله بن معاذٍ [العنبري] ثنا أبي، ثنا شعبة، عن عبد الحميد الزيادي أنه سمع أنس بن مالك -رضي الله تعالى عنه- يقول: قال أبو جهلٍ: ((اللهم إن كان هذا هو الحق من عندك [ {فأمطر علينا حجارةً من السماء أو ائتنا بعذابٍ أليم} ] ، [الآية] . فنزلت {وما كان الله ليعذبهم وأنت فيهم وما كان الله معذبهم وهم يستغفرون [وما لهم ألا يعذبهم الله وهم يصدون عن المسجد الحرام] } إلى آخر الآية.

أخرجه البخاري في التفسير من صحيحه: عن أحمد بن النضر ⦗ص: 75⦘ المروزي وأخيه محمد بن النضر، كلاهما: عن عبيد الله بن معاذٍ، بهذا الإسناد.

[أخرجه في ذكر المنافقين والكفار] . فكأنه سمعه من مسلم.
চতুর্থ হাদীস

৪- এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ বিন মুআয [আল-আনবারী] হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামীদ আয-যিয়াদী থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন— কে বলতে শুনেছেন: আবু জাহল বলেছিল: ((হে আল্লাহ! যদি এটি আপনার পক্ষ থেকে সত্য হয় [ {তবে আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন অথবা আমাদের কাছে কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিয়ে আসুন} ] , [আয়াতটি]। অতঃপর অবতীর্ণ হলো {আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় তাদের শাস্তি দেবেন এবং আল্লাহ তাদের শাস্তি দানকারী নন যখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে [আর তাদের কী হয়েছে যে, আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না যখন তারা মসজিদুল হারাম থেকে বাধা প্রদান করে] } আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের তাফসীর অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন: আহমদ বিন আন-নাদর ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘ আল-মারওয়াযী এবং তাঁর ভাই মুহাম্মদ বিন আন-নাদর থেকে, তাঁরা উভয়েই: উবাইদুল্লাহ বিন মুআয থেকে, এই সনদে।

[তিনি এটি মুনাফিক ও কাফিরদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন]। যেন তিনি এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৭৬)
‌‌الحديث الخامس

5- وبه حدثني أبو الربيع سيلمان بن داود العتكي، ثنا حماد (يعني ابن زيد) ، أنا ثابت عن أنس بن مالك -رضي الله تعالى عنه- قال: كنت ساقي القوم يوم حرمت الخمر في بيت أبي طلحة، وما شرابهم إلا الفضيخ، البسر والتمر؛ فإذا منادٍ ينادي فقال: اخرج فانظر، فخرجت فإذا منادٍ ينادي: ألا إن الخمر قد حرمت! قال: فجرت في سكك المدينة، فقال لي أبو طلحة: اخرج فأهرقها فهرقتها، فقالوا، أو ⦗ص: 77⦘ قال بعضهم: قتل فلانٌ قتل فلانٌ وهي في بطونهم. قال: فلا أدري هو من حديث أنسٍ؟ فأنزل الله عز وجل: {ليس على الذين آمنوا وعملوا الصالحات جناحٌ فيما طعموا إذا ما اتقوا وآمنوا وعملوا الصالحات} .

أخرجه البخاري عن محمد بن عبد الرحيم عن عفان عن حمادٍ [به] .

فكأنه سمعه من مسلم [أخرجه في الأشربة] .
পঞ্চম হাদীস

৫- এবং উক্ত সনদে আবুুর রাবী সুলাইমান ইবন দাউদ আল-আতাকী আমাকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ (অর্থাৎ ইবন যায়িদ) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাবিত আমাদের নিকট আনাস ইবন মালিক (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে দিন মদ হারাম করা হলো, সে দিন আমি আবু তালহার ঘরে লোকদের পানীয় পরিবেশনকারী ছিলাম, আর তাদের পানীয় বলতে কেবল ‘ফাযীখ’ অর্থাৎ কাঁচা ও শুকনো খেজুরের মিশ্রণে তৈরি পানীয়ই ছিল। এমতাবস্থায় একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিলেন। তখন আবু তালহা বললেন: বাইরে গিয়ে দেখো তো (কী ঘোষণা করা হচ্ছে)। আমি বের হলাম এবং দেখলাম একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করছেন: জেনে রেখো, নিশ্চয়ই মদ হারাম করা হয়েছে! তিনি (আনাস) বললেন: ফলে মদিনার অলিগলিতে তা প্রবাহিত হলো। তখন আবু তালহা আমাকে বললেন: বের হয়ে তা ঢেলে দাও। সুতরাং আমি তা ঢেলে দিলাম। তখন তারা বললেন, অথবা ⦗পৃষ্ঠা: ৭৭⦘ তাদের কেউ কেউ বললেন: অমুক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, অমুক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এমতাবস্থায় যে, তাদের পেটে মদ ছিল। বর্ণনাকারী বলেন: আমি জানি না এই কথাটুকু আনাসের হাদীসের অংশ কি না? অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে সে জন্য তাদের কোনো পাপ নেই, যদি তারা তাকওয়া অবলম্বন করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে}।

বুখারী হাদীসটি মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহীম থেকে, তিনি আফফান থেকে এবং তিনি হাম্মাদ থেকে [উক্ত সনদে] বর্ণনা করেছেন।

মনে হয় তিনি (গ্রন্থকার) এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন [যিনি এটি পানীয় অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৭৮)
‌‌الحديث السادس

6- وبه حدثنا عبد الله بن مسلمة بن قعنب؛ ثنا سليمان (يعني ابن بلالٍ) ، عن عبد المجيد بن سهيل بن عبد الرحمن، أنه سمع سعيد بن المسيب يحدث: أن أبا هريرة وأبا سعيد -رضي الله تعالى ⦗ص: 79⦘ عنهما- حدثاه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث أخا بني عدي الأنصاري فاستعمله على خيبر فقدم بتمرٍ جنيبٍ، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: أكل تمر خيبر هكذا؟ قال: لا والله يا رسول الله، إنا لنشتري الصاع بالصاعين من الجمع. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تفعلوا، ولكن مثلاً بمثلٍ أو بيعوا هذا واشتروا بثمنه من هذا، وكذلك الميزان.

أخرجه البخاري من طرق. منها من هذا الوجه: عن إسماعيل بن أبي أويسٍ، عن أخيه أبي بكرٍ، عن سليمان بن بلالٍ [به] .

⦗ص: 80⦘

فكأنه سمعه من مسلم [أخرجه في البيوع] .
ষষ্ঠ হাদীস

৬- এবং একই সনদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মাসলামা বিন কা'নব; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান (অর্থাৎ ইবনে বিলাল), আবদুল মাজিদ বিন সুহাইল বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিবকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে: আবু হুরায়রা এবং আবু সাঈদ -আল্লাহ তাআলা ⦗পৃ: ৭৯⦘ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন- তাকে বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু আদি আল-আনসারীর এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন এবং তাকে খায়বারের দায়িত্বে নিয়োজিত করেন। অতঃপর তিনি উন্নত মানের (জনিব) খেজুর নিয়ে আসলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "খায়বারের সকল খেজুরই কি এরূপ?" তিনি বললেন: "না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এক সা' (উন্নত মানের খেজুর) দুই সা' সাধারণ মিশ্রিত খেজুরের বিনিময়ে ক্রয় করি।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এমন করো না, বরং সমান সমান বিনিময় করো অথবা এটি বিক্রি করো এবং এর মূল্য দ্বারা ওটি ক্রয় করো। আর দাঁড়িপাল্লায় ওজনের বস্তুর ক্ষেত্রেও অনুরূপ নিয়ম।"

এটি ইমাম বুখারী বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো এই সূত্রে: ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস থেকে, তিনি তার ভাই আবু বকর থেকে, তিনি সুলাইমান বিন বিলাল থেকে [এই সনদে]।

⦗পৃ: ৮০⦘

যেন তিনি এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন [তিনি এটি ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৮১)
‌‌الحديث السابع

7- وبه ثنا شيبان بن فروخ، ثنا جرير بن حازمٍ، ثنا قتادة قال: قلت لأنس بن مالكٍ رضي الله عنه: كيف كان شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: كان شعراً رجلاً ليس بالجعد ولا بالسبط بين أذنيه وعاتقيه.

أخرجه البخاري في اللباس: عن عمرو بن علي، عن وهب بن جريرٍ، عن أبيه، به.

⦗ص: 82⦘

فكأنه سمعه من مسلمٍ [أخرجه في صفة النبي صلى الله عليه وسلم] .
সপ্তম হাদীস

৭- এবং তাঁর সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়বান বিন ফাররূখ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর বিন হাযিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ। তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর চুল কেমন ছিল? তিনি বললেন: তাঁর চুল ছিল ঢেউখেলানো, যা খুব কোঁকড়ানো ছিল না এবং একদম সোজাও ছিল না; তা ছিল তাঁর দুই কান ও দুই কাঁধের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

ইমাম বুখারী এটি ‘পোশাক’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: আমর বিন আলী থেকে, তিনি ওয়াহাব বিন জারীর থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ৮২⦘

মনে হচ্ছে যেন তিনি এটি ইমাম মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন [তিনি এটি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর গুণাবলি অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৮৩)
‌‌الحديث الثامن

8- وبه حدثنا يحيى بن يحيى، ثنا معاوية بن سلام (بن أبي سلام الدمشقي) ، عن يحيى بن أبي كثيرٍ، أن أبا قلابة أخبره أن ثابت بن الضحاك رضي الله عنه أخبره أنه بايع رسول الله صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 84⦘ تحت الشجرة [وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: من حلف على يمينٍ بملةٍ غير الإسلام كاذباً فهو كما قال. ومن قتل نفسه بشيءٍ عذب به يوم القيامة وليس على رجلٍ نذرٌ في شيء لا يملكه] .

أخرجه البخاري في المغازي: عن إسحاق، عن يحيى بن صالحٍ، عن معاوية بن سلامٍ، [به] .

فكأنه سمعه من مسلم [أخرجه في الفضائل] .
অষ্টম হাদীস

৮- এবং উক্ত সূত্রে আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়াহ ইবনে সাল্লাম (ইবনে আবি সাল্লাম আদ-দিমাশকি) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, আবু কিলাবাহ তাঁকে জানিয়েছেন যে, সাবিত ইবনে আদ-দাহহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ৮৪⦘ গাছের নিচে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন [এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করে, সে তা-ই যা সে বলেছে। আর যে ব্যক্তি কোনো বস্তু দ্বারা নিজেকে হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দিয়েই শাস্তি দেওয়া হবে। এবং কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন নয় এমন বিষয়ে তার কোনো মানত নেই]।

বুখারি এটি আল-মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায়ে উদ্ধৃত করেছেন: ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি মুআবিয়াহ ইবনে সাল্লাম থেকে [এর মাধ্যমে]।

যেন তিনি এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন [তিনি এটি আল-ফাদায়িল (মর্যাদা) অধ্যায়ে উদ্ধৃত করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৮৫)
‌‌الحديث التاسع

9- وبه حدثنا يحيى بن بشرٍ الحريري، ثنا معاوية [يعني ابن سلامٍ] ، عن يحيى بن أبي كثيرٍ: أن يعلى بن حكيمٍ أخبره: أن سعيد بن جبيرٍ أخبره: أنه سمع ابن عباس رضي الله عنهما قال: إذا حرم الرجل عليه امرأته فهي يمينٌ يكفرها. وقال: {لقد كان لكم في رسول الله أسوةٌ حسنةٌ} .

⦗ص: 86⦘

رواه البخاري في الطلاق من صحيحه: عن الحسن بن الصباح، عن الربيع بن نافعٍ، عن معاوية بن سلاٍمٍ، به. والمعنى متقارب.

فكأنه سمعه من مسلم [أخرجه في الطلاق] .
নবম হাদীস

৯- এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে বিশর আল-হারীরী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুআবিয়াহ [অর্থাৎ ইবনে সাল্লাম] বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর থেকে: ইয়ালা ইবনে হাকীম তাঁকে অবহিত করেছেন যে: সাঈদ ইবনে জুবায়ের তাঁকে অবহিত করেছেন যে: তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিজের জন্য নিষিদ্ধ (হারাম) করে নেয়, তবে সেটি একটি শপথ হিসেবে গণ্য হবে যার কাফফারা তাকে দিতে হবে। এবং তিনি বলেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ}।

⦗পৃষ্ঠা: ৮৬⦘

ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের তালাক অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন: আল-হাসান ইবনুল সাব্বাহ থেকে, আল-রাবী ইবনে নাফে থেকে, মুআবিয়াহ ইবনে সাল্লাম থেকে, এই একই সূত্রে। এবং এর অর্থ কাছাকাছি।

যেন তিনি এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন [তিনি এটি তালাক অধ্যায়ে উদ্ধৃত করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৮৭)
‌‌الحديث العاشر

10- وبه حدثنا يحيى بن يحيى التميمي، وعبد الله بن عون الهلالي، قال يحيى: أنا، وقال ابن عون: ثنا إبراهيم بن سعدٍ، عن أبيه، عن عبد الله بن جعفرٍ رضي الله عنهما قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يأكل القثاء بالرطب.

أخرجه البخاري عن جماعةٍ من أصحاب إبراهيم بن سعدٍ.

⦗ص: 88⦘

وأخرجه أيضاً عن محمد بن مقاتلٍ، عن عبد الله بن المبارك عن إبراهيم، به.

فكأنه من هذا الوجه سمعه من مسلم.
দশম হাদিস

১০- এবং এই সনদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আত-তামিমি এবং আবদুল্লাহ ইবনে আউন আল-হিলালি। ইয়াহইয়া বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং ইবনে আউন বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাদ, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাজা খেজুরের সাথে শসা খেতে দেখেছি।

ইমাম বুখারি এটি ইব্রাহিম ইবনে সাদের একদল সঙ্গীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ৮৮⦘

এবং তিনি এটি মুহাম্মাদ ইবনে মুকাতিল, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, এবং তিনি ইব্রাহিমের সূত্রেও বর্ণনা করেছেন।

মনে হয় যেন এই সূত্রের মাধ্যমেই তিনি এটি ইমাম মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৮৯)
‌‌الحديث الحادي عشر

11- وبه حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، ثنا أبو الأحوص سلام بن سليمٍ، عن أبي إسحاق، عن عمرو بن ميمونٍ، عن معاذ بن ⦗ص: 90⦘ جبلٍ رضي الله عنه قال: كنت ردف رسول الله صلى الله عليه وسلم على حمارٍ (يقال له: عفيرٌ) . قال: يا معاذ، أتدري ما حق الله على العباد؟ وما حق العباد على الله؟ قال: قلت: الله ورسوله أعلم. قال: فإن حق الله على العباد أن يعبدوا الله ولا يشركوا به شيئاً. وحق العباد على الله عز وجل أن لا يعذب من لا يشرك به (شيئاً) ؛ قال: قلت: يا رسول الله أفلا أبشر الناس؟ قال: لا تبشرهم فيتكلوا.

أخرجه البخاري في الجهاد من صحيحه: عن إسحاق بن ⦗ص: 91⦘ إبراهيم، عن يحيى بن آدم، عن (أبي) الأحوص، به.

فكأنه سمعه من مسلمٍ.
একাদশ হাদীস

১১- এবং এর মাধ্যমে আমাদের নিকট আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আল-আহওয়াস সাল্লাম ইবন সুলাইম থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবন মাইমুন থেকে, তিনি মু'আদ ইবন ⦗পৃষ্ঠা: ৯০⦘ জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি একটি গাধার (যাকে উফায়র বলা হতো) পিঠে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে বসা ছিলাম। তিনি বললেন: হে মু'আদ, তুমি কি জান বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী? এবং আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক কী? তিনি (মু'আদ) বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক না করে। আর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক হলো, যে তাঁর সাথে (কোনো কিছু) শরীক করে না, তাকে তিনি আযাব দেবেন না। তিনি (মু'আদ) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: তাদের সুসংবাদ দিও না, কারণ তারা কেবল এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে।

এটি বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: ইসহাক ইবন ⦗পৃষ্ঠা: ৯১⦘ ইবরাহীম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন আদম থেকে, তিনি (আবু) আল-আহওয়াস থেকে, এই একই সূত্রে।

ফলে মনে হচ্ছে যেন তিনি এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৯২)
‌‌الحديث الثاني عشر

12- وبه حدثني أبو الربيع سليمان بن داود، ثنا محمد بن حربٍ، حدثني محمد بن الوليد الزبيدي، عن الزهري، عن عروة بن ⦗ص: 93⦘ الزبير، عن زينب بنت أبي سلمة، عن أم سلمة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم[أن رسول الله صلى الله عليه وسلم] قال لجاريةٍ في بيت أم سلمة [زوج النبي صلى الله عليه وسلم] رأى بوجهها سفعةً فقال: بها نظرةٌ، فاسترقوا لها.

يعني بوجهها صفرةٌ.

أخرجه البخاري في الطب: عن محمد بن خالدٍ -يعني محمد بن يحيى بن عبد الله بن خالدٍ الذهلي- عن محمد بن وهب ⦗ص: 94⦘ ابن عطية الدمشقي، عن محمدٍ بن حربٍ، بهذا الإسناد.

فكأنه سمعه من مسلم [أخرجه في الطب] .
দ্বাদশ হাদীস

১২- এবং এই একই সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আর-রাবি সুলায়মান ইবনে দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হারব, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-ওয়ালিদ আজ-জুবাইদী, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৯৩⦘ আজ-যুবায়ের থেকে, তিনি যায়নাব বিনতে আবি সালামাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন [যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] উম্মে সালামাহর [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী] ঘরে অবস্থানরত এক বালিকা সম্পর্কে—যার চেহারায় তিনি একটি কালচে দাগ দেখতে পেয়েছিলেন—বললেন: "তার উপর বদনজর লেগেছে, সুতরাং তোমরা তার জন্য ঝাড়ফুঁকের (রুকইয়াহ) ব্যবস্থা করো।"

অর্থাৎ তার চেহারায় একটি ফ্যাকাসে ভাব ছিল।

এটি ইমাম বুখারী চিকিৎসা অধ্যায়ে উদ্ধৃত করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে খালিদ থেকে—অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদ আদ-যুহলী—তিনি মুহাম্মদ ইবনে ওয়াহাব ⦗পৃষ্ঠা: ৯৪⦘ ইবনে আতিয়্যাহ আদ-দিমাশকী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে হারব থেকে, এই সনদে বর্ণনা করেছেন।

মনে হচ্ছে যেন তিনি এটি ইমাম মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন [ইমাম মুসলিম এটি চিকিৎসা অধ্যায়ে উদ্ধৃত করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৯৫)
‌‌الحديث الثالث عشر

13- حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، ثنا أبو أسامة، ثنا شعبة، عن أبي التياح قال: سمعت أبا زرعة، عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يهلك أمتي هذا الحي من قريشٍ، قالوا: فما تأمرنا؟ قال: لو أن الناس اعتزلوهم.

أخرجه البخاري في علامات النبوة: عن محمد بن عبد الرحيم، ⦗ص: 96⦘ عن أبي معمر إسماعيل بن إبراهيم، عن أبي أسامة، [به] .

فكأنه سمعه من مسلم [أخرجه في الفتن] .
ত্রয়োদশ হাদীস

১৩- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু উসামাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আবু আত-তায়্যাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু যুর'আকে বলতে শুনেছি, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কুরাইশদের এই গোত্রটি আমার উম্মতকে ধ্বংস করবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: তবে আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: যদি মানুষ তাদের থেকে পৃথক থাকত (তবে তা ভালো হতো)।

এটি বুখারী 'আলামাতুন নুবুওয়াহ' (নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহিম থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৯৬⦘ তিনি আবু মু'আম্মার ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি আবু উসামাহ থেকে, [এর মাধ্যমে]।

যেন তিনি এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন [তিনি এটি ফিতনা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ৯৭)
‌‌الحديث الرابع عشر

14- حدثنا هناد بن السري، ثنا ابن المبارك، عن حيوة بن شريحٍ، قال: سمعت ربيعة بن يزيد الدمشقي يقول: أخبرني أبو إدريس عائذ الله الخولاني، قال: سمعت أبا ثعلبة الخشني رضي الله عنه يقول: أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: يا رسول الله إنا بأرض قومٍ ⦗ص: 98⦘ من أهل الكتاب نأكل في آنيتهم، وأرض صيدٍ أصيد بقوسي، وأصيد بكلبي المعلم، أو بكلبي الذي ليس بمعلمٍ فأخبرني ما الذي يحل لنا من ذلك؟ قال: ((أما ما ذكرت أنكم بأرض قومٍ من أهل الكتاب تأكلون في آنيتهم؛ فإن وجدتم غير آنيتهم فلا تأكلوا فيها، وإن لم تجدوا فاغسلوها ثم كلوا فيها. وأما ما ذكرت أنك بأرض صيدٍ فما أصبت بقوسك فاذكر اسم الله ثم كل، وما أصبت بكلبك المعلم فاذكر اسم الله ثم كل، وما أصبت بكلبك الذي ليس بمعلمٍ فأدركت ذكاته فكل)) .

أخرجه البخاري من طرقٍ، منها: عن أحمد بن أبي ⦗ص: 99⦘ رجاء، عن سلمة بن سليمان، عن ابن المبارك، به.

فكأنه سمعه من مسلم [أخرجه في الذبائح] .
চতুর্দশ হাদীস

১৪- হান্নাদ বিন আস-সারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি হায়ওয়াহ বিন শুরায়হ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাবীআ বিন ইয়াযীদ আদ-দিমাশকিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে আবু ইদরীস আইযুল্লাহ আল-খাওলানী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সালাবা আল-খুশানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আহলে কিতাব (কিতাবধারী) সম্প্রদায়ের এমন এক ভূখণ্ডে বসবাস করি ⦗পৃষ্ঠা: ৯৮⦘ যেখানে আমরা তাদের পাত্রে আহার করি। এছাড়া এটি একটি শিকারের অঞ্চল, আমি আমার ধনুক দিয়ে শিকার করি, আমার প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে শিকার করি এবং আমার এমন কুকুর দিয়েও শিকার করি যা প্রশিক্ষিত নয়। অতএব আমাকে জানান এগুলোর মধ্যে কোনটি আমাদের জন্য বৈধ? তিনি বললেন: "তুমি যে আহলে কিতাবদের ভূখণ্ডে থাকা এবং তাদের পাত্রে খাওয়ার কথা উল্লেখ করেছ; যদি তোমরা তাদের পাত্র ব্যতীত অন্য পাত্র পাও তবে সেগুলোতে খেয়ো না। আর যদি অন্য পাত্র না পাও, তবে সেগুলো ধুয়ে নাও এবং তারপর তাতে আহার করো। আর শিকারের ভূমিতে থাকার যে কথা বলেছ, তোমার ধনুক দিয়ে যা শিকার করেছ তাতে আল্লাহর নাম স্মরণ করো এবং আহার করো। তোমার প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে যা শিকার করেছ তাতে আল্লাহর নাম স্মরণ করো এবং আহার করো। আর তোমার অপ্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে যা শিকার করেছ, যদি তা যবেহ করার (জীবিত) অবস্থায় পাও তবে তা আহার করো।"

বুখারী এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আহমদ বিন আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৯৯⦘ রাজা থেকে, তিনি সালামাহ বিন সুলাইমান থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, এই সূত্রে।

যেন তিনি এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন [তিনি এটি যবেহ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১০০)
‌‌الحديث الخامس عشر

15- وبه، وحدثنا يحيى بن يحيى، أنا خالد بن عبد الله، عن خالد الحذاء، عن أبي قلابة قال: أخبرني أبو المليح [قال: دخلت مع أبيك] على عبد الله بن عمرو، فحدثنا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر له ⦗ص: 101⦘ صومي، فدخل علي، فألقيت له وسادةً من أدمٍ، حشوها ليفٌ، فجلس على الأرض، وصارت الوسادة بيني وبينه فقال لي: أما يكفيك من كل شهرٍ ثلاثة أيامٍ؟!. قلت: يا رسول الله، قال: خمساً، قلت: يا رسول الله. قال: سبعاً: قلت: يا رسول الله. قال: تسعاً، قلت: يا رسول الله، قال: أحد عشر، قلت: يا رسول الله، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لا صوم فوق صوم داود شطر الدهر صيام يومٍ وإفطار يومٍ.

أخرجه البخاري في الاستيذان: عن عبد الله بن محمدٍ، عن عمرو بن عونٍ، عن خالد بن عبد الله، عن خالد الحذاء، به.

⦗ص: 102⦘

فكأنه سمعه من مسلم [أخرجه في الصوم] .
পনেরোতম হাদিস

১৫- এবং তাঁরই সূত্রে, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনু আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ আল-হায্যাম থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি বলেন: আবু আল-মালিহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন [তিনি বলেন: আমি তোমার পিতার সাথে আব্দুল্লাহ ইবনু আমরের নিকট প্রবেশ করলাম], অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তাঁর ⦗পৃষ্ঠা: ১০১⦘ রোজা রাখার কথা উল্লেখ করা হলে তিনি আমার নিকট আসলেন। তখন আমি তাঁর বসার জন্য চামড়ার একটি বালিশ এগিয়ে দিলাম যার ভেতরে খেজুর গাছের আঁশ ছিল। কিন্তু তিনি জমিনের ওপর বসলেন এবং বালিশটি আমার ও তাঁর মাঝে রয়ে গেল। এরপর তিনি আমাকে বললেন: তোমার জন্য কি প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা যথেষ্ট নয়? আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন: পাঁচটি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন: সাতটি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন: নয়টি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন: এগারোটি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর রোজার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো রোজা নেই, যা বছরের অর্ধেক সময়; অর্থাৎ একদিন রোজা রাখা এবং একদিন বিরতি দেওয়া।

এটি ইমাম বুখারি 'অনুমতি প্রার্থনা' (আল-ইসতিযান) অধ্যায়ে আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ থেকে, তিনি আমর ইবনু আওন থেকে, তিনি খালিদ ইবনু আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি খালিদ আল-হায্যামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘

যেন তিনি এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন [তিনি এটি রোজার অধ্যায়ে উদ্ধৃত করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১০৩)
‌‌الحديث السادس عشر

16- وبه، حدثنا يحيى بن يحيى، وشيبان بن فروخ، كلاهما عن عبد الوارث، قال يحيى: أنا عبد الوارث بن سعيدٍ، عن أبي التياح الضبعي ثنا أنس بن مالكٍ رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قدم المدينة فنزل في علو المدينة في حي يقال لهم بنو عمرو بن عوفٍ، فأقام فيهم أربع عشرة ليلةً، ثم إنه أرسل ملإ بني النجار، فجاءوا متقلدين بسيوفهم قال: فكأني أنظر إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على راحلته وأبو بكرٍ ردفه، وملأ بني النجار حوله، حتى ألقى بفناء أبي أيوب، قال: فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي حيث أدركته الصلاة، ويصلي في مرابض الغنم. ثم إنه أمر بالمسجد. قال: فأرسل إلى ملإ بني النجار فجاؤوا، فقال: يا بني النجار، ثامنوني بحائطكم هذا، قالوا: لا، والله ⦗ص: 104⦘ لا نطلب ثمنه إلا إلى الله. قال أنس: فكان فيه ما أقول كان فيه نخلٌ وقبور المشركين وخربٌ، فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالنخل فقطع وبقبور المشركين فنبشت، وبالخرب فسويت. قال: فصفوا النخل قبلةً، وجعلوا عضادتيه حجارةً قال: فكانوا يرتجزون ورسول الله صلى الله عليه وسلم معهم، وهم يقولون:

اللهم إنه لا خير إلاخير الآخرة فانصر الأنصار والمهاجرة.

أخرجه البخاري بتمامه في الهجرة.

وأخرج بعضه في الوصايا: عن إسحاق بن منصور، عن عبد الصمد بن الوارث، عن أبيه، بهذا الإسناد.

⦗ص: 105⦘

فكأنه سمعه من مسلمٍ [أخرجه في الصلاة] .
ষোড়শ হাদীস

১৬- এবং উক্ত সনদে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া এবং শায়বান ইবনে ফাররুখ, তাঁরা উভয়েই আবদুল ওয়ারিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ, তিনি আবুত্তায়্যাহ আদ-দুবায়ী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় আগমন করলেন এবং মদীনার উচ্চাঞ্চলীয় এলাকায় ‘বানু আমর ইবনে আওফ’ নামক গোত্রে অবস্থান করলেন। তিনি সেখানে চৌদ্দ রাত অবস্থান করেন। এরপর তিনি বানু নাজ্জার গোত্রের প্রধানদের নিকট সংবাদ পাঠালেন। তাঁরা তরবারি ঝুলিয়ে উপস্থিত হলেন। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি যেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর সওয়ারির ওপর আসীন অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পেছনে বসা ছিলেন এবং বানু নাজ্জার গোত্রের প্রধানগণ তাঁর চারপাশে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আবু আইয়ুবের বাড়ির আঙিনায় গিয়ে অবতরণ করলেন। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেখানে নামাযের সময় হতো সেখানেই নামায পড়ে নিতেন এবং তিনি ছাগলের খোঁয়াড়েও নামায পড়তেন। এরপর তিনি মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন। তিনি বানু নাজ্জারের প্রধানদের ডেকে পাঠালেন এবং তাঁরা আসলে তিনি বললেন: হে বানু নাজ্জার! তোমাদের এই বাগানটি আমার কাছে মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করো। তাঁরা বলল: না, আল্লাহর শপথ, ⦗পৃষ্ঠা: ১০৪⦘ আমরা এর মূল্য কেবল আল্লাহর নিকটই প্রত্যাশা করি। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি যা বলছি সেই জায়গাটিতে তেমন কিছু ছিল; সেখানে খেজুর গাছ ছিল, মুশরিকদের কবর ছিল এবং ধ্বংসাবশেষ ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, মুশরিকদের কবরগুলো খুঁড়ে সরিয়ে ফেলা হলো এবং ধ্বংসাবশেষগুলো সমান করে দেওয়া হলো। তিনি (আনাস) বলেন: তাঁরা খেজুর গাছগুলোকে কিবলার দিকে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করলেন এবং এর দুই পাশের খুঁটি পাথর দিয়ে তৈরি করলেন। তিনি বলেন: তাঁরা ছন্দোবদ্ধ কবিতা পাঠ করছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)ও তাঁদের সাথে ছিলেন। তাঁরা বলছিলেন:

হে আল্লাহ! পরকালের কল্যাণ ব্যতীত আর কোনো কল্যাণ নেই, সুতরাং আপনি আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করুন।

ইমাম বুখারী হিজরত অধ্যায়ে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন।

এবং এর কিছু অংশ অসিয়ত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: ইসহাক ইবনে মানসূর থেকে, তিনি আবদুল সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে উক্ত সনদে।

⦗পৃষ্ঠা: ১০৫⦘

মনে হচ্ছে তিনি এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন [তিনি এটি নামায অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১০৬)
‌‌الحديث السابع عشر

17- وبه حدثنا شيبان بن فروخ، ثنا همام، ثنا إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة، حدثني عبد الرحمن بن أبي عمرة: أن أبا هريرة -رضي الله تعالى عنه- حدثه أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن ثلاثة في بني إسرائيل: أبرص وأقرع وأعمى فأراد الله أن يبتليهم، فبعث إليهم ملكاً.

فأتى الأبرص فقال: أي شيء أحب إليك؟ قال: لونٌ حسنٌ، وجلدٌ حسنٌ، ويذهب عني هذا الذي قد قذرني الناس عليه. قال: ⦗ص: 107⦘ فمسحه، فذهب عنه قذره، وأعطي لوناً حسناً، وجلداً حسناً. قال: فأي المال أحب إليك؟ قال: الإبل، أو قال البقر، شك إسحاق، إلا أن الأبرص أوالأقرع قال أحدهما: الإبل، وقال الآخر: البقر - قال فأعطي ناقةً عشراء. فقال: بارك الله لك فيها.

قال: فأتى الأقرع فقال: أي شيء أحب إليك؟ قال: شعرٌ حسنٌ، ويذهب عني هذا الذي قد قذرني الناس عليه. قال: فمسحه فذهب عنه. قال: وأعطي شعراً حسناً. قال: فأي المال أحب إليك؟ قال: البقر، فأعطي بقرةً حاملاً فقال: بارك الله لك فيها.

قال: فأتى الأعمى، فقال: أي شيء أحب إليك؟ قال: أن يرد الله إلي بصري فأبصر به الناس قال: فمسحه فرد الله إليه بصره.

قال: فأي المال أحب إليك؟ قال: الغنم، فأعطي شاةً والداً.

فأنتج هذان، وولد هذا. قال: فكان لهذا وادٍ من الإبل، ولهذا وادٍ من البقر، ولهذا وادٍ من الغنم.

قال: ثم إنه أتى الأبرص في صورته وهيئته، فقال: رجلٌ مسكينٌ، قد انقطعت بي الحبال في سفري، فلا بلاغ لي اليوم إلا بالله ثم ⦗ص: 108⦘ بك، أسألك بالذي أعطاك اللون الحسن، والجلد الحسن والمال، بعيراً أتبلغ عليه في سفري. فقال: الحقوق كثيرةٌ. فقال له: كأني أعرفك، ألم تكن أبرص يقذرك الناس، فقيراً، فأعطاك الله؟! فقال: إنما ورثت هذا كابراً عن كابرٍ. فقال: إن كنت كاذباً فصيرك الله إلى ما كنت.

قال: وأتى الأقرع في صورته، فقال له مثل ما قال لهذا، ورد عليه مثل ما رد على هذا، فقال: إن كنت كاذباً فصيرك الله إلى ما كنت.

قال: وأتى الأعمى في صورته وهيئته فقال: رجلٌ مسكينٌ، وابن سبيلٍ انقطعت بي الحبال في سفري فلا بلاغ لي اليوم إلا بالله ثم بك، أسألك، بالذي رد عليك بصرك، شاةً أتبلغ بها في سفري. فقال: قد كنت أعمى، فرد الله إلي بصري، فخذ ما شئت ودع ما شئت. فوالله لا أجهدك اليوم شيئاً أخذته لله. فقال: أمسك مالك، فإنما ابتليتم، فقد رضي عنك، وسخط على صاحبيك.

⦗ص: 109⦘

أخرجه البخاري في ذكر بني إسرائيل: عن أحمد بن إسحاق، عن عمرو بن عاصمٍ، عن همامٍ، به.

وكأنه سمعه من مسلمٍ [أخرجه في أواخر الكتاب] .
সপ্তদশ হাদিস

১৭- এবং উক্ত সূত্রে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শায়বান বিন ফাররুখ, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবি আমরা থেকে: যে আবু হুরায়রা -রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু- তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ((বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন ব্যক্তি ছিল: একজন কুষ্ঠরোগী, একজন টাকওয়ালা এবং একজন অন্ধ। আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করতে চাইলেন, তাই তিনি তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন।

অতঃপর তিনি কুষ্ঠরোগীর কাছে এসে বললেন: তোমার কাছে কোন জিনিসটি সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল: সুন্দর রং, সুন্দর চামড়া এবং আমার থেকে যেন এটি (রোগ) চলে যায় যার কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। তিনি বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১০৭⦘ এরপর তিনি তাকে স্পর্শ করলেন, ফলে তার সেই ঘৃণিত অবস্থা দূর হয়ে গেল এবং তাকে সুন্দর রং ও সুন্দর চামড়া দান করা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কাছে কোন প্রকারের সম্পদ সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল: উট, অথবা সে বলল গরু। (বর্ণনাকারী) ইসহাক সন্দেহ পোষণ করেছেন, তবে কুষ্ঠরোগী এবং টাকওয়ালার মধ্যে একজন বলেছিল উট এবং অন্যজন বলেছিল গরু। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী উটনী দেওয়া হলো। তিনি (ফেরেশতা) বললেন: আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দান করুন।

অতঃপর তিনি টাকওয়ালার কাছে আসলেন এবং বললেন: তোমার কাছে কোন জিনিসটি সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল: সুন্দর চুল এবং আমার থেকে যেন এটি চলে যায় যার কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন এবং তার টাক চলে গেল। তিনি বলেন: তাকে সুন্দর চুল দান করা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কাছে কোন সম্পদ সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল: গরু। তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দেওয়া হলো এবং তিনি বললেন: আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দান করুন।

এরপর তিনি অন্ধ ব্যক্তির কাছে আসলেন এবং বললেন: তোমার কাছে কোন জিনিসটি সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল: আল্লাহ যেন আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন যাতে আমি মানুষ দেখতে পাই। তিনি তার চোখে হাত বুলালেন এবং আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কাছে কোন সম্পদ সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল: ছাগল। তাকে একটি বাচ্চা প্রসবকারী বকরি দেওয়া হলো।

এরপর উট ও গরুর বাচ্চা হলো এবং বকরিরও বাচ্চা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর একজনের উটে মাঠ ভরে গেল, অন্যজনের গরুতে মাঠ ভরে গেল এবং অন্যজনের বকরির পালে মাঠ ভরে গেল।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সেই ফেরেশতা কুষ্ঠরোগীর কাছে তার (আগের) রূপ ও আকৃতিতে আসলেন এবং বললেন: আমি এক অভাবী মানুষ, আমার সফরে আমার সমস্ত উপায়-উপকরণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ আল্লাহ ব্যতীত এবং তারপর ⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘ আপনার সাহায্য ব্যতীত আমার গন্তব্যে পৌঁছানোর আর কোনো উপায় নেই। আমি আপনার কাছে সেই সত্তার দোহাই দিয়ে একটি উট চাচ্ছি যিনি আপনাকে সুন্দর রং, সুন্দর চামড়া এবং সম্পদ দান করেছেন, যাতে আমি আমার সফরে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি। সে বলল: (আমার কাছে) অনেক হক ও দায়িত্ব রয়েছে। তিনি তাকে বললেন: আমি যেন তোমাকে চিনি; তুমি কি কুষ্ঠরোগী ছিলে না যাকে মানুষ ঘৃণা করত? তুমি কি দরিদ্র ছিলে না, অতঃপর আল্লাহ তোমাকে দান করেছেন?! সে বলল: আমি তো এই সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে পূর্বপুরুষদের থেকে পেয়েছি। তিনি বললেন: যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিন।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি টাকওয়ালার কাছে তার আকৃতিতে আসলেন এবং তাকেও তেমনটি বললেন যেমনটি প্রথমজনকে বলেছিলেন। সেও প্রথমজনের মতো উত্তর দিল। তিনি বললেন: যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিন।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি অন্ধ ব্যক্তির কাছে তার রূপ ও আকৃতিতে আসলেন এবং বললেন: আমি এক অভাবী ও মুসাফির ব্যক্তি, আমার সফরে আমার সমস্ত উপায়-উপকরণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ আল্লাহ ব্যতীত এবং তারপর আপনার সাহায্য ব্যতীত আমার গন্তব্যে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই। আমি আপনার কাছে সেই সত্তার দোহাই দিয়ে একটি ছাগল চাচ্ছি যিনি আপনার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন, যাতে আমি আমার সফরে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি। সে বলল: আমি অন্ধ ছিলাম, আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং আপনি যা ইচ্ছা গ্রহণ করুন আর যা ইচ্ছা রেখে দিন। আল্লাহর শপথ, আজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপনি যা কিছুই গ্রহণ করবেন, তার জন্য আমি আপনার ওপর কোনো কড়াকড়ি করব না। তখন তিনি বললেন: তোমার সম্পদ তোমার কাছেই রাখো, তোমাদেরকে কেবল পরীক্ষা করা হয়েছে। আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তোমার দুই সঙ্গীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ১০৯⦘

এটি ইমাম বুখারী বনী ইসরাঈলের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন: আহমদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি আমর বিন আসিম থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে উক্ত সূত্রে।

এবং মনে হয় তিনি এটি ইমাম মুসলিমের থেকে শুনেছেন [তিনি এটি কিতাবের শেষের দিকে উদ্ধৃত করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১১০)
‌‌الحديث الثامن عشر

18- وبه حدثنا عمرو الناقد، ثنا عبد الله بن إدريس الأودي ثنا الأعمش، عن أبي سفيان، عن جابر -رضي الله تعالى عنه- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اهتز عرش الرحمن لموت سعد بن معاذٍ.

أخرجه البخاري في الفضائل والمناقب: عن محمد بن ⦗ص: 111⦘ المثنى، عن فضل بن مساورٍ، عن أبي عوانة، عن الأعمش، به.

فباعتبار العزو إلى الأعمش كأنه سمعه من مسلم. [أخرجه في الفضائل] .
‌আঠারোতম হাদীস

১৮- এবং উক্ত সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমরুন নাকিদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন ইদরিস আল-আওদি, তিনি বর্ণনা করেছেন আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সা’দ ইবন মুয়াযের মৃত্যুতে রাহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে।

ইমাম বুখারী এটি ফাদায়িল এবং মানাকিব অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ ইবন ⦗পৃষ্ঠা: ১১১⦘ আল-মুসান্না হতে, তিনি ফাযল ইবন মুসাওয়ির হতে, তিনি আবু আওয়ানা হতে, তিনি আল-আ’মাশ হতে এই সূত্রে।

সুতরাং আল-আ’মাশের দিকে সম্পৃক্ত করার বিবেচনায় মনে হয় যেন তিনি এটি ইমাম মুসলিমের নিকট হতে শুনেছেন। [তিনি এটি ফাদায়িল অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১১২)
‌‌الحديث التاسع عشر

19- وبه حدثنا محمد بن عبد الله بن نمير، وأبو كريب قالا: ثنا أبو معاوية. ح وحدثنا أبو بكرٍ بن أبي شيبة (واللفظ له) ، ثنا عبد الله بن نميرٍ، وأبو معاوية، عن الأعمش، عن شقيق، عن عبد الله ⦗ص: 113⦘ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا أحدٌ أغير من الله؛ ولذلك حرم الفواحش ما ظهر منها وما بطن. ولا أحدٌ أحب إليه المدح من الله.

أخرجه البخاري بمعناه في الأدب: عن مسدد، عن يحيى، عن سفيان، عن الأعمش، [به] .

⦗ص: 114⦘

فمن حيث العدد كأن البخاري سمعه من مسلم [أخرجه في التوبة] .
উনবিংশতম হাদিস

১৯- এবং এই সনদেই আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর ও আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন। (হ) এবং আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন (শব্দাবলি তাঁর), আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর ও আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি শাকীক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১১৩⦘ তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন কেউ নেই; আর সেই কারণেই তিনি প্রকাশ্য ও গোপন সকল অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন। আর আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রশংসা প্রিয় কেউ নেই।

ইমাম বুখারি এর মর্মার্থ ‘আদাব’ অধ্যায়ে মুসাদ্দাদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আমাশ থেকে [উক্ত সূত্রে] বর্ণনা করেছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ১১৪⦘

বর্ণনাকারীদের সংখ্যার দিক থেকে বিচার করলে মনে হয় যেন বুখারি এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন [তিনি এটি তওবা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১১৫)
‌‌الحديث العشرون

20- وبه، حدثنا أحمد بن عبد الله بن يونس، ثنا فضيل (يعني ابن عياضٍ) ، عن منصورٍ، عن إبراهيم، عن عبيدة (السلماني) ، ⦗ص: 116⦘ عن عبد الله بن مسعودٍ-رضي الله تعالى عنه- قال: جاء حبرٌ إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا محمد، أو يا أبا القاسم، إن الله يمسك السماوات يوم القيامة على أصبع، والأرضين على أصبع، والجبال والشجر على أصبعٍ، والماء والثرى على أصبعٍ، وسائر الخلق على أصبعٍ، ثم يهزهن، فيقول: أنا الملك! أنا الملك، فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم تعجباً مما قال الحبر، تصديقاً له. ثم قرأ: {وما قدروا الله حق قدره والأرض جميعاً قبضته يوم القيامة والسماوات مطويات بيمينه سبحانه وتعالى عما يشركون} .

أخرجه البخاري في التفسير: عن مسددٍ، عن يحيى، عن سفيان، عن منصور وسليمان، كلاهما عن إبراهيم، به.

⦗ص: 117⦘

فباعتبار العدد إلى منصورٍ كأن البخاري سمعه من مسلمٍ. [أخرجه في التوبة] .
বিশতম হাদিস

২০- এবং উক্ত সনদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউনুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুদাইল (অর্থাৎ ইবনে আইয়াদ), মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি উবাইদাহ (আস-সালমানি) থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘ তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন—থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একজন ইহুদি পণ্ডিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে মুহাম্মদ, অথবা হে আবুল কাসিম, নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন আসমানসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, জমিনসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, পাহাড় ও গাছপালাকে একটি আঙুলের ওপর, পানি ও মাটিকে একটি আঙুলের ওপর এবং অবশিষ্ট সৃষ্টিজগতকে একটি আঙুলের ওপর ধারণ করবেন। এরপর তিনি সেগুলোকে নাড়া দেবেন এবং বলবেন: আমিই রাজাধিরাজ! আমিই রাজাধিরাজ! তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদি পণ্ডিতের কথায় আশ্চর্যান্বিত হয়ে এবং তা সত্য বলে সমর্থন জানিয়ে হেসে দিলেন। এরপর তিনি পাঠ করলেন: {তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দান করেনি। কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অতি উচ্চ।}।

এটি বুখারি তাফসির অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: মুসাদ্দাদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মানসুর ও সুলাইমান থেকে, তাঁরা উভয়ে ইব্রাহিম থেকে, এই সূত্রে।

⦗পৃষ্ঠা: ১১৭⦘

সুতরাং মানসুর পর্যন্ত বর্ণনাকারীর সংখ্যার বিচারে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যেন বুখারি এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন। [তিনি এটি তাওবা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১১৮)
‌‌الحديث الحادي والعشرون

21- وبه، وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، ثنا وكيع ح وحدثنا ابن نميرٍ، ثنا أبو معاوية ووكيع.

ح وحدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، واللفظ له، أنا وكيعٌ، حدثنا الأعمش، عن أبي وائل، عن عبد الله -رضي الله تعالى عنه- عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من حلف على يمينٍ صبرٍ يقتطع بها مال امرئٍ مسلمٍ هو فيها فاجرٌ لقي الله وهو عليه غضبانٌ)) . قال: فدخل الأشعث بن قيسٍ، فقال: ما يحدثكم أبو عبد الرحمن؟ قالوا: كذا وكذا، قال: صدق أبو عبد الرحمن، في نزلت. كان بيني وبين رجلٍ أرضٌ باليمن، فخاصمته إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: هل لك بينةٌ؟ فقلت: لا قال: فيمينه، قلت: إذاً يحلف. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك: ((من ⦗ص: 119⦘ حلف على يمينٍ صبرٍ يقتطع بها مال امرئٍ مسلمٍ هو فيها فاجرٌ لقي الله وهو عليه غضبانٌ)) . فنزلت {إن الذين يشترون بعهد الله وأيمانهم ثمناً قليلاً.. ..} إلى آخر الآية.

أخرجه البخاري في الأشخاص: عن أنس بن خالدٍ، عن غندر، عن شعبة، عن الأعمش [به] .

فمن حيث العدد إلى الأعمش كأن البخاري سمعه من مسلم [أخرجه في الأيمان] .
একুশতম হাদীস

২১- এবং এই সনদে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন আবি শাইবাহ, তিনি ওকী থেকে। (হ) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন নুমাইর, তিনি আবু মুয়াবিয়া ও ওকী থেকে।

(হ) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবন ইবরাহীম আল-হানজালী—আর শব্দবিন্যাস তাঁরই—তিনি ওকী থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন— থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা শপথ করে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন।)) বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আশআস ইবন কায়স প্রবেশ করলেন এবং বললেন: আবু আব্দুর রহমান তোমাদের নিকট কী বর্ণনা করছেন? তারা বলল: এই এই বিষয়। তিনি বললেন: আবু আব্দুর রহমান সত্য বলেছেন, এটি আমার ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে। ইয়েমেনে আমার এবং এক ব্যক্তির মাঝে এক খণ্ড জমি নিয়ে বিরোধ ছিল, তখন আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি বললেন: তোমার কি কোনো প্রমাণ আছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে তার শপথই গ্রহণযোগ্য। আমি বললাম: তবে তো সে শপথ করে বসবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ((যে ⦗পৃষ্ঠা: ১১৯⦘ ব্যক্তি কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা শপথ করে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন।)) এরপর নাযিল হলো: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

এটি বুখারী ‘আল-আশখাস’ অধ্যায়ে আনাস ইবন খালিদ থেকে, তিনি গুন্দার থেকে, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে [এরই সূত্রে] বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং আল-আমাশ পর্যন্ত বর্ণনাকারীর সংখ্যার দিক থেকে ইমাম বুখারী যেন এটি ইমাম মুসলিমের নিকট থেকেই শুনেছেন [তিনি এটি ‘আল-আইমান’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১২০)
‌‌الحديث الثاني والعشرون

22- وبه، إلى أبي سفيان، عن مسلمٍ حدثنا أبو بكرٍ بن أبي شيبة، ومحمد بن العلاء، وإسحاق بن إبراهيم، جميعاً عن جعفر بن عمارة عن عبيد الله بن عمر، عن نافعٍ، عن ابن عمر -رضي ⦗ص: 121⦘ الله تعالى عنهما- أن عمر -رضي الله تعالى عنه- قال: يا رسول الله إني نذرت في الجاهلية أن أعتكف في المسجد. قال: أوف بنذرك.

أخرجه البخاري في الاعتكاف: عن إسماعيل بن أبي أويسٍ، عن أخيه أبي بكرٍ، عن سليمان بن بلالٍ، عن عبيد الله ⦗ص: 122⦘، [به] .

فباعتبار العدد كأن البخاري سمعه من مسلم [أخرجه في الأيمان والنذور] .
দ্বাবিংশতম হাদীস

২২- এবং উক্ত সনদে আবু সুফিয়ান পর্যন্ত, মুসলিম থেকে বর্ণিত: আবু বকর বিন আবি শায়বা, মুহাম্মাদ বিন আল-আলা এবং ইসহাক বিন ইব্রাহীম সবাই আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তাঁরা জাফর বিন উমারা থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নাফে' থেকে এবং তিনি ইবনে উমর —আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন— ⦗পৃষ্ঠা: ১২১⦘ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন— বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহেলিয়াতের যুগে মানত করেছিলাম যে আমি মসজিদে ইতিকাফ করব। তিনি বললেন: তোমার মানত পূর্ণ করো।

বুখারী এটি 'ইতিকাফ' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: ইসমাঈল বিন আবি উওয়াইস থেকে, তিনি তাঁর ভাই আবু বকর থেকে, তিনি সুলাইমান বিন বিলাল থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহর ⦗পৃষ্ঠা: ১২২⦘ সূত্রে [উক্ত সনদে]।

সুতরাং রাবীর সংখ্যার বিচারে এটি এমন যেন বুখারী এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন [তিনি এটি 'শপথ ও মানত' অধ্যায়েও বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১২৩)
‌‌الحديث الثالث والعشرون

23- وبه، وحدثنا أبو بكرٍ بن أبي شيبة، وأبو كريبٍ، جميعاً عن حفصٍ، قال أبو بكر: ثنا حفص بن غياثٍ، عن الأعمش، عن إبراهيم، عن عبيدة، عن عبد الله -رضي الله تعالى عنه- قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: اقرأ علي القرآن، قال: فقلت: يا رسول الله أقرأ عليك وعليك أنزل؟! قال: إني أشتهي أن أسمعه من غيري. فقرأت النساء حتى إذا بلغت {فكيف إذا جئنا من كل أمةٍ بشهيدٍ وجئنا بك على هؤلاء شهيداً} رفعت رأسي، أو غمزني رجلٌ إلى جنبي فرفعت رأسي فرأيت دموعه تسيل.

حدثنا هناد بن السري، ومنجاب بن الحارث التميمي ⦗ص: 124⦘ جميعاً عن علي بن مسهرٍ، عن الأعمش، بهذا الإسناد. وزاد هناد في روايته: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على المنبر: اقرأ علي.

أخرجه البخاري من طرقٍ، منها: عن مسددٍ، عن يحيى، عن سفيان، عن الأعمش، [به] .

فكأنه سمعه من مسلم [أخرجه في الصلاة] .
তেইশতম হাদিস

২৩- এবং তাঁর মাধ্যমেই, আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ এবং আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই হাফস থেকে, আবু বকর বলেছেন: হাফস ইবনে গিয়াস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন- থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: আমার কাছে কুরআন তিলাওয়াত করো। তিনি (আব্দুল্লাহ) বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার কাছে তিলাওয়াত করব, অথচ আপনার ওপরই তা অবতীর্ণ হয়েছে?! তিনি বললেন: আমি অন্যের কাছ থেকে তা শুনতে পছন্দ করি। তারপর আমি সূরা আন-নিসা তিলাওয়াত করলাম, এমনকি যখন আমি এই আয়াতে পৌঁছলাম: {তবে কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব?} তখন আমি আমার মাথা তুললাম, অথবা আমার পাশে থাকা এক ব্যক্তি আমাকে ইশারা করলেন, ফলে আমি আমার মাথা তুললাম এবং দেখলাম তাঁর দুচোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।

হান্নাদ ইবনে আস-সারী এবং মিনজাব ইবনে আল-হারিস আত-তামীমি ⦗পৃষ্ঠা: ১২৪⦘ উভয়েই আমাদের নিকট আলী ইবনে মুসহির থেকে, তিনি আমাশ থেকে এই সনদে বর্ণনা করেছেন। হান্নাদ তাঁর বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে থাকা অবস্থায় আমাকে বললেন: তুমি আমার কাছে তিলাওয়াত করো।

বুখারি এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: মুসাদ্দাদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আমাশ থেকে [এই সনদে]।

যেন তিনি এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন [তিনি এটি নামায অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১২৫)
‌‌الحديث الرابع والعشرون

24- وبه، حدثنا يحيى بن يحيى، ثنا بشر بن المفضل، عن غالبٍ القطان، عن بكر بن عبد الله (المزني) ، عن أنس بن مالك -رضي الله تعالى عنه- قال: كنا نصلي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في شدة الحر، فإذا لم يستطيع أحدنا أن يمكن جبهته على الأرض بسط ثوبه فسجد عليه.

أخرجه البخاري من طرق. منها: عن محمد بن مقاتلٍ، عن ⦗ص: 126⦘ عبد الله بن المبارك، عن خالدٍ بن عبد الرحمن، عن غالبٍ، به.

فكأن البخاري من حيث عدد الرجال إلى غالبٍ سمعه من مسلم. [أخرجه في الصلاة] .
চব্বিশতম হাদিস

২৪- এবং উক্ত সনদে, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনুল মুফায্যাল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, গালিব আল-কাত্তান থেকে, তিনি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ (আল-মুযানী) থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা তীব্র গরমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করতাম। যখন আমাদের মধ্যে কেউ জমিনের উপর স্বীয় কপাল স্থির করতে সক্ষম হতো না, তখন সে নিজের কাপড় বিছিয়ে দিত এবং তার ওপর সাজদাহ করত।

বুখারি এটি একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো: মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১২৬⦘ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি গালিব থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং গালিব পর্যন্ত রাবিদের সংখ্যার দিক থেকে বিষয়টি এমন যে, যেন বুখারি এটি মুসলিমের নিকট থেকে শুনেছেন। [সালাত অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১২৭)
‌‌الحديث الخامس والعشرون

25- وبه إلى الجلودي، أنا ابن سفيان، عن مسلمٍ، ونا قتيبة بن سعيدٍ، ثنا يعقوب، وهو ابن عبد الرحمن القاري. ح، وحدثنا قتيبة، ثنا حاتم، يعني ابن إسماعيل، كلاهما، عن موسى بن عقبة، ⦗ص: 128⦘ عن نافع، عن ابن عمر -رضي الله تعالى عنهما- أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حلق رأسه في حجة الوداع.

أخرجه البخاري في المغازي: عن عبيد الله بن سعيدٍ، عن محمد بن بكرٍ، عن ابن جريجٍ، عن موسى بن عقبة، به. فكأنه سمعه من مسلمٍ.
পঁচিশতম হাদিস

২৫- এবং একই সনদে আল-জুলুদি পর্যন্ত, ইবনু সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম থেকে, এবং কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব (যিনি ইবনু আবদুর রহমান আল-ক্বারী) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। (হ) এবং কুতাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাতিম (অর্থাৎ ইবনু ইসমাইল) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই মুসা ইবনু উকবাহ থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ১২৮⦘ তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনু উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জের সময় তাঁর মাথা মুণ্ডন করেছিলেন।

এটি ইমাম বুখারী আল-মাগাজি অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনু বকর থেকে, তিনি ইবনু জুরাইজ থেকে, তিনি মুসা ইবনু উকবাহ থেকে—এই সনদে। সুতরাং মনে হচ্ছে তিনি এটি মুসলিম থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আওয়ালি মুসলিম লি ইবনি হাজার (পৃষ্ঠা: ১২৯)
‌‌الحديث السادس والعشرون

26- وبه حدثني زهير بن حربٍ، ني يحيى، (يعني ابن سعيدٍ) .

وحدثنا أبو بكرٍ بن أبي شيبة، عن أبي أسامة.

ح وحدثنا محمد بن عبد الله بن نميرٍ، ثنا أبي، قالوا: ثنا عبيد الله بن عمر، عن عمر بن نافعٍ، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن القزع.

أخرجه البخاري: عن محمدٍ، عن مخلدٍ، عن ابن ⦗ص: 130⦘ جريج، عن عبيد الله [به] .

فباعتبار العدد إليه كأن البخاري سمعه من مسلم [أخرجه في اللباس] .
২৬তম হাদিস

২৬- এবং এই সনদেই আমার নিকট জুহাইর ইবনুল হারব বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট ইয়াহইয়া (অর্থাৎ ইবনে সাঈদ) বর্ণনা করেছেন।

এবং আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবু শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, আবু উসামাহ থেকে।

(হা) এবং আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে বলেন: আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে নাফে থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘কাযা’ (মাথার কিছু অংশের চুল মুণ্ডানো এবং কিছু অংশ রাখা) থেকে নিষেধ করেছেন।

ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ থেকে, তিনি মাখলাদ থেকে, তিনি ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১৩০⦘ জুরাইজ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহর সূত্রে [এটি বর্ণনা করেছেন]।

রাবিদের সংখ্যার বিচারে বিষয়টি এমন যে, যেন বুখারি এটি মুসলিমের কাছ থেকে শুনেছেন [পোশাক অধ্যায়ে এটি বর্ণিত হয়েছে]।