(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: -)
جزء من حديث الكلابي القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء فيه من حديث أبي الحسين عبد الوهاب بن الحسن الكلابي عن شيوخه
المؤلف: أَبُو الحُسَيْنِ عَبْدُ الوَهَّابِ بنُ الحَسَنِ بنِ الوَلِيْدِ بنِ مُوْسَى الكِلَابِيُّ الدِّمَشْقِيُّ (ت 396هـ)
المحقق: مشهور بن حسن آل سلمان
الناشر: الدار الأثرية
الطبعة: الأولى 1427 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 92
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কিলাবি-র হাদিসের অংশ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আবু আল-হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-হাসান আল-কিলাবি কর্তৃক তাঁর শিক্ষকদের থেকে বর্ণিত হাদিস সম্বলিত একটি অংশ
লেখক: আবু আল-হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-হাসান বিন আল-ওয়ালিদ বিন মুসা আল-কিলাবি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৩৯৬ হিজরি)
সম্পাদক: মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
প্রকাশক: আদ-দার আল-আসারিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাহ-র জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খায়র আকবিল
শামেলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: -)
جزء فيه من حديث
أبي الحسين عبد الوهاب بن الحسن الكلابي
المعروف بأخي تبوك عن شيوخه
قدم له وخرج أحاديثه وآثاره
أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
الدار الأثرية
الطبعة الأولى
1427 هـ - 2006 م
হাদিস সম্বলিত একটি অংশ
আবু আল-হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুল হাসান আল-কিলাবি
যিনি তাঁর শায়খদের নিকট থেকে বর্ণনাকারী 'আখি তাবুক' নামে পরিচিত
ভূমিকা এবং এর হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ করেছেন
আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
আদ-দারুল আসারিয়্যাহ
প্রথম সংস্করণ
১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
جزء فيه من حديث أبي الحسين الكلابي عن شيوخه
رواية أبي الحسين محمد بن أحمد بن حسنون النرسي عنه
رواية القاضي أبي بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري عنه
رواية أبي حفص عمر بن أبي بكر بن طبرزذ عنه
بسم الله الرحمن الرحيم
أنبأ أبو حفص عمر بن محمد بن معمر بن طبرزذ قراءة عليه في جمادى الأولى سنة ثلاث وست مئة، أنبأ القاضي أبو بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري، أنبأ أبو الحسين محمد بن أحمد بن حسنون النرسي قراءة عليه وأنا أسمع في سنة تسع وأربعين وأربع مئة أنبأ أبو الحسين عبد الوهاب بن الحسن بن الوليد الكلابي قراءة عليه بدمشق في جمادى الآخرة سنة ثلاث وتسعين وثلاث مئة.
1- أنبأ أبو بكر محمد بن خريم بن محمد بن عبد الملك بن مروان
⦗ص: 34⦘ العقيلي، قراءة عليه وأنا حاضر أسمع، ثنا هشام بن عمار بن نصير بن ميسرة السلمي، ثنا مالك بن أنس الأصبحي المدني، ثنا ابن شهاب الزهري، عن أنس بن مالك، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل يوم الفتح مكة وعلى رأسه المغفر.
আবু আল-হুসাইন আল-কিলাবি কর্তৃক তাঁর শায়খদের সূত্রে বর্ণিত হাদিস সংকলনের অংশ
তাঁর থেকে আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসনুন আন-নারসির বর্ণনা
তাঁর থেকে কাজি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি আল-আনসারির বর্ণনা
তাঁর থেকে আবু হাফস উমর ইবনে আবি বকর ইবনে তাবারজাদের বর্ণনা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াম্মার ইবনে তাবারজাদ ৬০৩ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসে তাঁর সামনে পাঠকালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, কাজি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি আল-আনসারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসনুন আন-নারসি ৪৪৯ হিজরি সালে তাঁর নিকট পাঠকালে এবং আমার শ্রবণকালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আবু আল-হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আল-হাসান ইবনে আল-ওয়ালিদ আল-কিলাবি ৩৯৩ হিজরি সালের জুমাদাল আখিরা মাসে দামেস্কে তাঁর সামনে পাঠকালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
১- আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে খুরিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান
⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ আল-উকাইলি তাঁর উপস্থিতিতে পাঠকালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন, হিশাম ইবনে আম্মার ইবনে নাসির ইবনে মাইসারা আস-সুলামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, মালিক ইবনে আনাস আল-আসবাহি আল-মাদানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, ইবনে শিহাব আজ-জুহরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং তাঁর মস্তকে শিরস্ত্রাণ ছিল।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
2- وبإسناده قال حدثنا مالك بن أنس، حدثني الزهري، عن ⦗ص: 36⦘ أنس بن مالك أن النبي صلى الله عليه وسلم أتى بلبن قد شيب بماء، وعن يمينه أعرابي، وعن يساره أبو بكر، فشرب، ثم أعطى الأعرابي وقال: ((الأيمن فالأيمن)) .
২- এবং তাঁর সনদে তিনি বলেন, মালিক ইবনে আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পানি মিশ্রিত দুধ আনা হলো। তাঁর ডান দিকে জনৈক বেদুঈন এবং বাম দিকে আবু বকর বসা ছিলেন। তিনি পান করলেন, অতঃপর বেদুঈনকে দিলেন এবং বললেন: "ডানদিকের জন, অতঃপর তার ডানদিকের জন।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
3- وبإسناده حدثنا مالك بن أنس، حدثني الزهري، عن السائب ⦗ص: 39⦘ بن يزيد، أنه رأى عمر بن الخطاب رضي الله عنه يضرب المنكدر في الصلاة بعد العصر.
৩- এবং তাঁর সনদে আমাদের নিকট মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট জুহরী বর্ণনা করেছেন সায়িব ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে আসরের পর নামায পড়ার কারণে আল-মুনকাদিরকে প্রহার করতে দেখেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৪০)
4- وبإسناده حدثنا مالك بن أنس، حدثني الزهري، عن ⦗ص: 43⦘ أبي إدريس الخولاني، عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من توضأ فليستنثر، ومن استجمر فليوتر)) .
৪- এবং তাঁর সনদে মালিক বিন আনাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যুহরী আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ আবু ইদরীস আল-খাওলানী থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি ওযু করবে সে যেন নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়ে, এবং যে ব্যক্তি পাথরের মাধ্যমে শৌচকার্য সম্পাদন করবে সে যেন তা বেজোড় সংখ্যায় করে))।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
5- وبإسناده حدثنا مالك بن أنس، حدثني نافع، عن ابن عمر، ⦗ص: 44⦘ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من اشترى نخلاً قد أبرت فثمرتها للبائع، إلا أن يشترط المبتاع)) .
৫- এবং তাঁর সনদে আমাদের নিকট মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে নাফে' বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি পরাগায়ন করা হয়েছে এমন খেজুর গাছ ক্রয় করবে, তার ফল বিক্রেতার প্রাপ্য হবে, যদি না ক্রেতা শর্ত করে।"।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
6- وبإسناده حدثنا مالك بن أنس، حدثني نافع، أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه كتب إلى عماله: إن أهم أمركم إلي الصلاة، فمن ⦗ص: 46⦘ حفظها وحافظ عليها حفظ دينه، ومن ضيعها فهو لما سواها أضيع، ثم كتب: إن صلاة الظهر إذا كان الفيء ذراعين إلى أن يكون ظل كل ⦗ص: 47⦘ شيء مثله، والعصر والشمس بيضاء نقية قدر ما يسير الراكب فرسخين أو ثلاثة، والمغرب إذا غابت الشمس، والعشاء إذا غاب الشفق إلى ثلث الليل، فمن نام فلا نامتا عيناه، فمن نام فلا نامتا عيناه، فمن نام فلا نامتنا عيناه، والصبح والنجوم بادية مشتبكة.
6- এবং তাঁর সনদে আমাদের নিকট মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন, নাফি' আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কর্মচারীদের নিকট লিখেছেন: তোমাদের বিষয়াবলির মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সালাত। সুতরাং যে ব্যক্তি ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ একে সংরক্ষণ করল এবং এর প্রতি যত্নবান হলো, সে তার দ্বীনকে সংরক্ষণ করল। আর যে ব্যক্তি একে নষ্ট করল, সে অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর নষ্টকারী হবে। এরপর তিনি লিখলেন: যোহরের সালাত হলো যখন (সূর্য ঢলে পড়ার পর) ছায়া দুই হাত পরিমাণ হয়, যতক্ষণ না প্রত্যেক ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ বস্তুর ছায়া তার সমান হয়। আর আসর (তখন), যখন সূর্য উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকে, যে সময়ে একজন আরোহী দুই বা তিন ফরসাখ পথ চলতে পারে। আর মাগরিব যখন সূর্য ডুবে যায়। আর এশা যখন গোধূলির আভা অদৃশ্য হয়ে যায় রাত এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। সুতরাং যে (এশার আগে) ঘুমাল, তার দুই চোখ যেন না ঘুমায়; যে ঘুমাল, তার দুই চোখ যেন না ঘুমায়; যে ঘুমাল, তার দুই চোখ যেন না ঘুমায়। আর সুব্হ (ফজর) যখন নক্ষত্ররাজি প্রকাশ্য ও ঘন সন্নিবিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
7- وبإسناده حدثنا مالك بن أنس، حدثنا سمي مولى أبي بكر ⦗ص: 51⦘ بن هشام، عن أبي صالح، عن أبي هريرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((السفر قطعة من العذاب، يمنع أحدكم نومه وطعامه وشرابه، فإذا قضى أحدكم نهمته من سفره؛ فليعجل إلى أهله)) .
৭- এবং তাঁরই সনদ পরম্পরায় আমাদের নিকট মালিক বিন আনাস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর বিন হিশামের মুক্তদাস সুমায়্যি বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সফর হচ্ছে যন্ত্রণার একটি অংশ, যা তোমাদের কাউকে তার ঘুম, আহার ও পানীয় গ্রহণে বাধা প্রদান করে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন তার সফরের প্রয়োজন পূর্ণ করে ফেলে, তখন সে যেন দ্রুত তার পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যায়।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৫২)
8- وبه حدثنا مالك بن أنس، حدثنا إسحاق بن عبد الله بن أبي ⦗ص: 53⦘ طلحة، عن أنس بن مالك، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((الرؤيا الحسنة من الرجل الصالح جزءٌ من ستةٍ وأربعين جزءاً من النبوة)) .
৮- এবং এর মাধ্যমেই আমাদের নিকট মালেক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ তালহা বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((একজন নেককার ব্যক্তির উত্তম স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।)) ।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
9- وبه حدثنا مالك بن أنس، عن صفوان بن سليم، عن عطاء ⦗ص: 54⦘ بن يسار، أن رجلاً قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: أكذب أهلي؟ قال: ((لا خير في الكذب)) ، قال: أعِدُها يا رسول الله؟ قال: ((لا جناح عليك)) .
9- এবং এই সূত্রে মালিক বিন আনাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান বিন সুলাইম থেকে, তিনি আতা ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমি কি আমার স্ত্রীর সাথে মিথ্যা বলব? তিনি বললেন: ((মিথ্যায় কোনো কল্যাণ নেই))। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তাকে প্রতিশ্রুতি দেব? তিনি বললেন: ((এতে তোমার কোনো গুনাহ নেই))।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
10- وبه حدثنا مالك بن أنس، حدثني صفوان بن سليم، عن ⦗ص: 57⦘ سعيد بن سلمة من آل بني الأزرق، أن المغيرة بن أبي بردة، وهو من بني عبد الدار، حدثه أنه سمع أبا هريرة يقول: جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله؛ إنا نركب البحر، ونحمل معنا القليل من الماء، فإن توضأنا به عطشنا، أفنتوضأ من ماء البحر؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((هو الطهور ماؤه، الحل ميتته)) .
১০- এবং এর মাধ্যমেই মালিক ইবনে আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাফওয়ান ইবনে সুলায়ম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ বনী আল-আজরাক পরিবারের সাঈদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণিত যে, বনী আবদুদ দার গোত্রের আল-মুগীরা ইবনে আবি বুরদাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল; আমরা সমুদ্রে যাতায়াত করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি। যদি আমরা তা দিয়ে ওযু করি তবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব। আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত জীব হালাল।”
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
11- وبه حدثنا مالك بن أنس، حدثني أبو الزناد، عن الأعرج، ⦗ص: 59⦘ عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا اشتد الحر فأبردوا بالصلاة، فإن شدة الحر من فيح جهنم)) .
১১- এবং এই সনদেই মালিক ইবনে আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুয যিনাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ’রাজ থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যখন গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়, তখন সালাতকে ঠান্ডা করে (দেরিতে) আদায় করো; কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিশ্বাসের উত্তাপ থেকে আসে))।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
ومن حديثه عن سعيد بن العزيز، عن أبي نعيم الحلبي وغيره، أخبرنا عبد الوهاب الكلابي:
12- أنبأ أبو عثمان سعيد بن عبد العزيز الحلبي، قراءةً عليه، ثنا
⦗ص: 61⦘ أبو نعيم عبيد بن هشام الحلبي، ثنا مالك وسفيان بن عيينة، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((لا يغلق الرهن، له غنمه وعليه غرمه)) .
এবং সাঈদ বিন আল-আজিজ থেকে তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা আবু নুয়াইম আল-হালাবি ও অন্যদের থেকে বর্ণিত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব আল-কিলাবি:
১২- আবু উসমান সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ আল-হালাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ আবু নুয়াইম উবাইদ বিন হিশাম আল-হালাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনা, তাঁরা জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((বন্ধকী বস্তু বাজেয়াপ্ত হবে না; এর লাভ তার (মালিকের) জন্য এবং এর লোকসানও তারই ওপর।))।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৬১)
13- وبه حدثنا أبو نعيم قال: سألت مالكاً عن امرأةٍ وجب
⦗ص: 62⦘ عليها الحج، وليس يأذن لها زوجها؟
قال: ليس له أن يمنعها من فرائض الله عز وجل.
১৩- এবং এই সনদেই আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিককে এমন এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যার ওপর হজ
⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ ফরজ হয়েছে, অথচ তার স্বামী তাকে অনুমতি দিচ্ছেন না?
তিনি বললেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ বিধান পালন করা থেকে তাকে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার তার নেই।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৬২)
14- وبه حدثنا أبو نعيم قال: سألت مالكاً عن امرأة وجب
⦗ص: 64⦘ عليها الحج، وليس لها محرم؟
قال: تخرج مع النساء الصالحات.
১৪- এবং একই সনদে আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিককে এমন এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার ওপর
⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ হজ ফরজ হয়েছে, অথচ তার কোনো মাহরাম নেই?
তিনি বললেন: সে সৎকর্মপরায়ণ নারীদের সাথে বের হবে।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
15- وأخبرنا سعيد، ثنا محمد بن إبراهيم بن أبي سكينة، ثنا ⦗ص: 67⦘ مالك بن أنس، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب قال: قال رسول الله ⦗ص: 68⦘ صلى الله عليه وسلم: ((لا يغلق الرهن)) . قال محمد: قلت لمالك: ما تفسير لا يغلق الرهن؟ قال: هو الرجل يكون لرجل عليه حق، فيرهنه رهناً، فيقول: إن جئت بحقك إلى كذا وكذا، وإلا فهو لك بمالك علي، قال مالك: فهو الذي نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو الذي لا يجوز.
১৫- এবং সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন আবী সাকীনাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ মালিক বিন আনাস, যুহরী থেকে, সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((বন্ধক বা জিম্মাকৃত বস্তু বাজেয়াপ্ত হবে না))। মুহাম্মাদ বলেন: আমি মালিককে বললাম: 'বন্ধক বাজেয়াপ্ত হবে না' এর ব্যাখ্যা কী? তিনি বললেন: এটি হলো এমন এক ব্যক্তি যার কাছে অন্য এক ব্যক্তির পাওনা রয়েছে, অতঃপর সে তার কাছে কোনো বস্তু বন্ধক রাখে এবং বলে: 'যদি আমি অমুক অমুক সময়ের মধ্যে আপনার পাওনা পরিশোধ করি (তবে ভালো), অন্যথায় আমার নিকট আপনার যে পাওনা রয়েছে তার বিনিময়ে এটি আপনার হয়ে যাবে'। মালিক বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিই নিষেধ করেছেন এবং এটিই হচ্ছে তা যা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
16- وأخبرنا سعيد، ثنا محمد بن إبراهيم، ثنا شريك بن عبد الله، عن أبي إسحاق السبيعي قال: قال كعب: من لبس ثوباً بأربعة دراهم تواضعاً لله؛ أدخله الله الجنة.
১৬- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শারিক বিন আব্দুল্লাহ, আবু ইসহাক আস-সাবি‘ঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কাব বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিনয়বশত চার দিরহাম মূল্যের পোশাক পরিধান করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
17- وأخبرنا سعيد، ثنا محمد بن إبراهيم بن أبي سكينة، ثنا ⦗ص: 70⦘ ابن المبارك، عن يحيى بن عبيد الله، عن أبيه، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما ينتظر أحدكم إلا غنىً مطغياً، أو فقراً منسياً، أو هرماً مفنداً، أو مرضاً مفسداً، أو موتاً مجهزاً، أو الدجال، فشر غائبٍ ينتظر، أو الساعة، والساعة أدهى وأمر)) .
১৭- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহিম ইবন আবি সাকিনা, আমাদের বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ ইবনুল মুবারাক, ইয়াহইয়া ইবন উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তোমাদের প্রত্যেকে কিসের প্রতীক্ষা করছ? কেবল এমন প্রাচুর্যের যা মানুষকে অবাধ্য করে দেয়, অথবা এমন দারিদ্র্যের যা সব ভুলিয়ে দেয়, অথবা এমন বার্ধক্যের যা জ্ঞানবুদ্ধি বিলোপ করে দেয়, অথবা এমন অসুস্থতার যা স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়, অথবা এমন মৃত্যুর যা দ্রুত উপস্থিত হয়, অথবা দাজ্জালের—যা প্রতীক্ষিত অদৃশ্য অনিষ্টের মধ্যে নিকৃষ্টতম, অথবা কিয়ামতের—আর কিয়ামত তো অতি ভয়াবহ ও অতি তিক্ত।)) ।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৭০)
18- وأخبرنا سعيد، ثنا أبو نعيم عبيد بن هشام، ثنا إسماعيل ⦗ص: 71⦘ بن عياش ثنا شرحبيل بن مسلم الخولاني وأسد بن وداعة الكلبي ومحمد بن زياد الألهاني عن أبي أمامة الباهلي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ألا إنه لا نبي بعدي، ولا أمة بعدكم، ألا فصلوا خمسكم، وصوموا شهركم، وصلوا أرحامكم، وأدوا زكاة أموالكم، طيبةً بها أنفسكم؛ تدخلوا جنة ربكم)) .
১৮- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম উবাইদ ইবন হিশাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ ইবন আইয়াশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুরাহবিল ইবন মুসলিম আল-খাওলানি, আসাদ ইবন ওয়াদাআহ আল-কালবি এবং মুহাম্মাদ ইবন যিয়াদ আল-আলহানি আবু উমামাহ আল-বাহিলি থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আমার পরে আর কোনো নবী নেই এবং তোমাদের পরে আর কোনো উম্মত নেই। সাবধান! তোমরা তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করো, তোমাদের মাসের রোজা রাখো, তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো এবং সন্তুষ্ট চিত্তে তোমাদের সম্পদের জাকাত আদায় করো; তবেই তোমরা তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৭২)
19- وأخبرنا سعيد، ثنا أبو نعيم عبيد بن هشام، حدثنا ابن المبارك، عن مالك بن أنس، عن محمد بن المنكدر، عن أنس بن مالك، ⦗ص: 73⦘ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من قعد إلى قينةٍ ليستمع منها، صب في أذنيه الآنك يوم القيامة)) .
১৯- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম উবাইদ বিন হিশাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘ যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো গায়িকার কাছে তার গান শোনার জন্য বসবে, কিয়ামতের দিন তার কানে গলিত সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।))।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
20- وأخبرنا سعيد، ثنا محمد بن أبي سكينة، حدثنا ⦗ص: 76⦘ أبو الأحوص، عن أبي إسحاق، عن عمرو بن ميمون، عن معاذ بن جبل قال: كنت ردف رسول الله صلى الله عليه وسلم على حمار يقال له: عفير، فقال لي: ((يا معاذ، تدري ما حق الله على عباده وما حق العباد على الله؟ قال: قلت: الله ورسوله أعلم. قال: ((حق الله على عباده أن لا يشركوا به شيئاً، وحق العباد على الله أن لا يعذب من لم يشرك به شيئاً)) ، قال: قلت يا رسول الله، أفلا أبشر الناس؟ قال: ((لا تبشرهم؛ فيتكلوا)) .
২০- এবং সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবি সাকীনা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৭৬⦘ আবু আল-আহওয়াস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে ‘উফাইর’ নামক একটি গাধার পিঠে আরোহী ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: “হে মুয়াজ! তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক (অধিকার) কী এবং আল্লাহর নিকট বান্দাদের হক কী?” তিনি (মুয়াজ) বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি বললেন: “বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো তারা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর আল্লাহর নিকট বান্দাদের হক হলো তিনি এমন ব্যক্তিকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করেনি।” তিনি (মুয়াজ) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: “তাদের সুসংবাদ দিও না; অন্যথায় তারা (এর ওপরই) ভরসা করে বসে থাকবে।”
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
21- وأخبرنا سعيد قال: سمعت البسري يقول: الحلاوة تسكن القلوب.
২১- আর সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি আল-বুসরিকে বলতে শুনেছি যে, মাধুর্য হৃদয়ে প্রশান্তি দান করে।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
22- وأخبرنا سعيد، ثنا أحمد بن شيبان، ثنا سفيان بن عيينة، عن ⦗ص: 78⦘ الزهري، عن أنس بن مالك، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقطع في ربع دينار فصاعداً.
22- এবং আমাদেরকে সাঈদ সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে শায়বান হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৭৮⦘ যুহরী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক চতুর্থাংশ দিনার বা তার অধিক মূল্যের চুরির ক্ষেত্রে হাত কাটতেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
23- وأخبرنا سعيد قال: سعت قاسماً الجوعي يقول: سمعت ⦗ص: 79⦘ مسلم بن زيادٍ يقول: من سالم الناس سلم، ومن سالم الناس نجح، ومن طلب الفضل من غير أهله ندم.
২৩- এবং সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি কাসেম আল-জুয়ীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি ⦗পৃষ্ঠা: ৭৯⦘ মুসলিম বিন যিয়াদকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি মানুষের সাথে শান্তিতে থাকে সে নিরাপদ থাকে, আর যে ব্যক্তি মানুষের সাথে শান্তিতে থাকে সে সফল হয়, এবং যে ব্যক্তি অযোগ্য ব্যক্তির কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করে সে অনুতপ্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
24- وأخبرنا سعيد، ثنا قاسم بن عثمان الجوعي، ثنا عبد الله بن نافع المدني، ثنا مالك بن أنس، عن نافع، عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما بين قبري ومنبري روضة من رياض الجنة)) .
২৪- এবং সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাসেম ইবনে উসমান আল-জুয়ি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে নাফে আল-মাদানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে আনাস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার কবর এবং আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহ থেকে একটি বাগান।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
25- وأخبرنا سعيد قال: سمعت قاسماً الجوعي يقول: سمعت ⦗ص: 88⦘ المضاء بن عيسى يقول: من رجا شيئاً طلبه، ومن خاف شيئاً هرب منه، ومن أحب شيئاً آثره على غيره.
২৫- এবং সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি কাসিম আল-জুয়ীকে বলতে শুনেছি: আমি ⦗পৃষ্ঠা: ৮৮⦘ মাদা ইবনে ইসাকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি কোনো কিছুর আশা করে, সে তা অন্বেষণ করে; আর যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে ভয় পায়, সে তা থেকে পলায়ন করে; এবং যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে ভালোবাসে, সে তাকেই অন্য সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দেয়।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
26- وأخبرنا سعيد، ثنا أبو نعيم عبيد بن هشام، حدثنا سليمان ⦗ص: 90⦘ بن حيان، عن أبي همام قال: قال أنس: خدمت النبي صلى الله عليه وسلم وأنا ابن ثمان سنين، وقبض النبي صلى الله عليه وسلم وأنا ابن ثمان عشرة سنة، فما قال لي لشيء صنعته: لم صنعته؟ ولا قال لشيءٍ لم أصنعه: لم لم تصنعه؟ قال: وقال لي في مرضه: ((إني أوصيك بوصية فاحفظها؛ أكثر الوضوء يزد في عمرك، ولا تزل طاهراً، ولا تبيتن إلا على طهرٍ، فإن مت مت شهيداً، وأكثر صلاة الليل والنهار تحبك الحفظة، وصل صلاة الضحى؛ فإنها صلاة الأوابين، وإذا خرجت من بيتك فسلم على من لقيت من المسلمين، تزد في حسناتك، وإذا دخلت على أهلك فسلم عليهم، يزد في بركاتك، ووقر كبير المؤمنين، وارحم صغيرهم؛ تكن معي)) . وضم بين أصابعه.
২৬- সাঈদ আমাদের জানিয়েছেন, আবু নুয়াইম উবাইদ ইবনে হিশাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুলাইমান ⦗পৃষ্ঠা: ৯০⦘ ইবনে হাইয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হাম্মাম থেকে, তিনি বলেন: আনাস (রা.) বলেছেন: আমি যখন আট বছর বয়সের বালক তখন থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খেদমত করেছি এবং যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওফাত লাভ করেন তখন আমার বয়স ছিল আঠারো বছর। আমি কোনো কাজ করলে তিনি কখনো আমাকে বলেননি: কেন তুমি এটি করলে? আর কোনো কাজ না করলে তিনি কখনো বলেননি: কেন তুমি এটি করলে না? তিনি (আনাস) বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর অসুস্থতার সময় আমাকে বলেছিলেন: ((আমি তোমাকে একটি অসিয়ত করছি, তা মনে রেখো; অধিক পরিমাণে অজু করো, এতে তোমার আয়ু বৃদ্ধি পাবে। সর্বদা পবিত্র থেকো এবং পবিত্রতা ছাড়া রাত অতিবাহিত করো না; কারণ যদি তুমি (এই অবস্থায়) মারা যাও, তবে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে। দিনে ও রাতে বেশি বেশি সালাত আদায় করো, তবে সংরক্ষণকারী ফেরেশতারা তোমাকে ভালোবাসবে। আর চাশতের সালাত আদায় করো, কেননা এটি হলো আল্লাহ-অভিমুখীদের (আওয়াবিন) সালাত। যখন তুমি ঘর থেকে বের হবে, তখন তোমার সাক্ষাত হওয়া সকল মুসলিমকে সালাম দিবে, এতে তোমার নেকি বৃদ্ধি পাবে। আর যখন তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে প্রবেশ করবে, তখন তাদের সালাম দিবে, এতে তোমার বরকত বৃদ্ধি পাবে। মুমিনদের বড়দের সম্মান করো এবং ছোটদের প্রতি দয়া করো; তবেই তুমি আমার সাথে থাকবে))। আর তিনি তাঁর আঙুলগুলো একত্রিত করলেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৯১)
27- وأخبرنا سعيد قال: سمعت قاسماً الجوعي يقول: ثنا ابن أبي السائب، عن أبيه قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في المنام، فقلت: يا رسول الله، أبايعك على أن أدخل الجنة؟ قال: ((نعم)) ؛ فمد يده، فبايعته، فما رأيت بناناً قط أشد بياضاً ولا ألين من كف رسول الله صلى الله عليه وسلم.
২৭- এবং সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি কাসেম আল-জুঈকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনে আবিস সাইব আমাদের নিকট তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি জান্নাতে প্রবেশের শর্তে আপনার নিকট বাইআত গ্রহণ করতে পারি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"; অতঃপর তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন এবং আমি তাঁর নিকট বাইআত গ্রহণ করলাম। আর আমি কখনো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের তালুর চেয়ে অধিক শুভ্র কোনো আঙুল কিংবা এর চেয়ে অধিক কোমল কিছু দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
জুযউন মিন হাদিসিল কিলাবি
(পৃষ্ঠা: ৯১)
28- وأخبرنا سعيد قال: سمعت قاسماً الجوعي يقول: أصل الدين: الورع، وأفضل العبادة: مكابدة الليل، وأفضل طرق الجنة: سلامة الصدر.
২৮- এবং আমাদের নিকট সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কাসিম আল-জুয়ীকে বলতে শুনেছি: দ্বীনের মূল হলো পরহেযগারী, শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো রাতের কঠোর সাধনা এবং জান্নাতের সর্বোত্তম পথ হলো অন্তরের নিষ্কলুষতা।