(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: -)
المنثور من الحكايات والسؤالات لابن طاهر المقدسي   (ابن القيسراني محمد بن طاهر المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المنثور من الحكايات والسؤالات

المؤلف: أبو الفضل محمد بن طاهر بن علي بن أحمد المقدسي الشيباني، المعروف بابن القيسراني (ت 507هـ)

المحقق: د. جمال عزون

الناشر: مكتبة دار المنهاج

الطبعة: الأولى 1430 هـ

عدد الصفحات: 55

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবন তাহের আল-মাকদিসির আল-মানসুর মিনাল হিকায়াত ওয়াস সুআলাত (সংকলিত গল্প ও প্রশ্নাবলি)   (ইবনুল কাইসারানি মুহাম্মদ বিন তাহের আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-মানসুর মিনাল হিকায়াত ওয়াস সুআলাত (সংকলিত গল্প ও প্রশ্নাবলি)

লেখক: আবু ফজল মুহাম্মদ বিন তাহের বিন আলী বিন আহমদ আল-মাকদিসি আশ-শায়বানি, যিনি ইবনুল কাইসারানি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৫০৭ হিজরি)

গবেষক: ড. জামাল আজ্জুন

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের প্রত্যাশী, এগিয়ে এসো

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة منشورات مكتبة دار المنهاج للنشر والتوزيع بالرياض (61)

 

المنثور من الحكايات والسؤالات

 

من خلال مخطوط منتخب منه ونصوص عنه في كتب التراجم

 

تأليف

الحافظ الجوال الرحال

أبي الفضل محمد بن طاهر المقدسي

(408 - 507 هـ)

 

قرأه وعلق عليه

د. جمال عزون

 

مكتبة دار المنهاج

 

الطبعة الأولى

1430 هـ
রিয়াদের মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্রের প্রকাশনা সিরিজ (৬১)

 

আল-মানসুর মিনাল হিকায়াত ওয়াস সুআলাত (গল্প ও প্রশ্নোত্তর সংকলন)

 

এর থেকে নির্বাচিত পাণ্ডুলিপি এবং জীবনীগ্রন্থসমূহে প্রাপ্ত এর উদ্ধৃতিসমূহের আলোকে

 

গ্রন্থনায়

হাফিজ, পরিব্রাজক ও পর্যটক

আবু ফজল মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি

(৪০৮ - ৫০৭ হিজরি)

 

পাঠ পর্যালোচনা ও টীকা প্রদান

ড. জামাল আজ্জুন

 

মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩০ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم

هذه أشياء مختارة من ((المنثور من الحكايات والسؤالات)) لمحمد بن طاهر بن علي المقدسي من خطه.

1- عن صالح جزرة: الأحول في المنازل مباركٌ يرى الشيء شيئين!
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এটি মুহাম্মদ ইবনে তাহির ইবনে আলী আল-মাকদিসির স্বহস্তে লিখিত ‘আল-মানসুর মিনাল হিকায়াত ওয়াস সুয়ালাত’ (গল্প ও প্রশ্নাবলীর সংকলন) থেকে সংগৃহীত কিছু নির্বাচিত অংশ।

১- সালিহ জাযারাহ থেকে বর্ণিত: ঘরবাড়িতে টেরা চোখের মানুষ বরকতময়, সে এক জিনিসকে দুই দেখে!
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২১)
2- سمعت أبي أبا الحسن طاهر بن علي يقول: الأحول خفيف الروح، والأعور ثقيل الروح؛ وذلك أن الأحول يرى الشيء شيئين، والأعور يرى الشيئين شيئاً واحداً!
২- আমি আমার পিতা আবুল হাসান তাহির বিন আলীকে বলতে শুনেছি: ট্যারা ব্যক্তি প্রফুল্ল চিত্তের অধিকারী হয় এবং কানা ব্যক্তি নিরস চিত্তের অধিকারী হয়; আর এর কারণ হলো, ট্যারা ব্যক্তি একটি বস্তুকে দুটি দেখে এবং কানা ব্যক্তি দুটি বস্তুকে একটি দেখে!
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২১)
3- كان أبو القاسم عبيد الله بن محمد السقطي البغدادي ببغداد يدعو الله أن يرزقه الحج والإقامة بمكة أربع سنين، فحج وأقام بمكة مجاوراً أربعين سنة، فلما تمت الأربعون رأى رؤيا كأن قائلاً يقول له: يا أبا القاسم ⦗ص: 22⦘ طلبت أربعة وقد أعطيناك أربعين؛ لأن الحسنة بعشر أمثالها. ومات في تلك السنة. لم يذكره الخطيب في ((تاريخ بغداد)) .
৩- আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস-সাকতি আল-বাগদাদি বাগদাদে অবস্থানকালে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতেন যেন তিনি তাকে হজ্জ এবং মক্কায় চার বছর অবস্থানের তাওফিক দান করেন। অতঃপর তিনি হজ্জ করেন এবং মক্কায় প্রতিবেশী হিসেবে চল্লিশ বছর অবস্থান করেন। যখন চল্লিশ বছর পূর্ণ হলো, তখন তিনি স্বপ্নে দেখলেন যেন এক ঘোষক তাকে বলছেন: হে আবুল কাসিম! ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ তুমি চার বছর চেয়েছিলে, আর আমরা তোমাকে চল্লিশ বছর দিয়েছি; কারণ প্রতিটি নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ। এবং তিনি সেই বছরই মৃত্যুবরণ করেন। আল-খতিব তাকে 'তারিখু বাগদাদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২২)
4- سمعت عمر بن أحمد بن عمر السمسار بأصبهان يقول: سألت أبا نعيم الحافظ عن أبي عبد الله ابن منده فقال: جبل من الجبال.

أبو نعيم أحمد بن عبد الله الأصبهاني دخل بغداد وأقام بها مدة ولم يذكره أبو بكر الخطيب في ((التاريخ)) .
৪- আমি আসবাহানে উমর বিন আহমাদ বিন উমর আস-সিমসারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাফেজ আবু নুআইমকে আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: পাহাড়সমূহের মধ্যে একটি পাহাড় (অর্থাৎ এক মহান ব্যক্তিত্ব)।

আবু নুআইম আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানী বাগদাদে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন, তবে আবু বকর আল-খতিব তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২২)
5- وسألني أبو غالب الذهلي شجاع بن فارس عن السبب في تركه لذكره، فقلت له: لعله لم يحدث ببغداد. فقال: أقام بها مدة في زمن الحفاظ والأكابر، ولا بد أن يذكر عنه ما يجد به سبباً إلى ذكره لشهرته. وكره محبة الخطيب له. ورحلته إلى أصبهان كانت لأجلي خاصة. فقلت: إن أبا نعيم كان ينقم عليه أشياء:

⦗ص: 23⦘

منها: روايته لـ: ((جزء محمد بن عاصم)) ، والقصة فيه مشهورة.

ومنها: أنه كان يروي في كتبه أحاديث له بالإجازة ولا يبينها، والخطيب لو ذكره في ((التاريخ)) لم يكن له بد من ذكر حاله، ولا يؤثر أن يذكره بجرحٍ، فترك ذكره لهذا المعنى.

وحضر في هذا اليوم عبد الوهاب الأنماطي ونحن في هذه المجاراة فقال: وجدت بخط أبي بكر الخطيب: سألت أبا بكر (مستملي أبي نعيم) : كيف قرأت عليه ((جزء محمد بن عاصم)) ؟! فقال: ما أفعل؟! أخرج إلي الجزء [وقال: هو سماعي] فقرأته عليه.

وذكر الخطيب: أن أبا نعيم كان فيه تساهل، وذكر روايته الإجازة من غير أن يبينها.

⦗ص: 24⦘

وقد علقت هذه الحكاية بطولها في كتاب: ((تكملة الكامل)) ، وفي هذا الجزء -أيضاً- ذكرتها على الوجه.

قال لي الحافظ ابن الأنماطي:

شاهدت سماع أبي نعيم لـ: ((جزء محمد بن عاصم)) .
৫- আবু গালিব আল-জুহলি শুজা ইবনে ফারিস আমাকে তার (আবু নুয়াইমের) কথা উল্লেখ না করার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি তাকে বললাম: সম্ভবত তিনি বাগদাদে হাদিস বর্ণনা করেননি। তিনি বললেন: তিনি সেখানে হাফেজ এবং বড় আলেমদের যুগে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিলেন, আর তার প্রসিদ্ধির কারণে তাকে উল্লেখ করার কোনো না কোনো কারণ অবশ্যই পাওয়ার কথা ছিল। আর তিনি খতিব (আল-বাগদাদি)-এর প্রতি তার ভালোবাসাকে অপছন্দ করতেন। তার ইসফাহান সফর ছিল বিশেষ করে আমার জন্য। আমি বললাম: আবু নুয়াইম তার ওপর কিছু বিষয়ের কারণে অসন্তুষ্ট ছিলেন:

⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘

তার মধ্যে একটি হলো: 'জুজউ মুহাম্মদ বিন আসিম' এর বর্ণনা; আর এই সংক্রান্ত ঘটনাটি প্রসিদ্ধ।

আরেকটি হলো: তিনি তার কিতাবসমূহে নিজের ইজাজতপ্রাপ্ত হাদিসগুলো বর্ণনা করতেন এবং তা স্পষ্ট করে বলতেন না। আর খতিব যদি 'আত-তারিখ' গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করতেন, তবে তার অবস্থা বর্ণনা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকত না; অথচ তিনি তাকে দোষারোপের সাথে উল্লেখ করা পছন্দ করতেন না। তাই এই কারণেই তিনি তাকে উল্লেখ করা বর্জন করেছেন।

সেই মজলিসে আব্দুল ওয়াহহাব আল-আনমাতি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি বললেন: আমি আবু বকর আল-খতিবের হস্তাক্ষরে পেয়েছি: আমি আবু বকরকে (যিনি আবু নুয়াইমের মুস্তামলি ছিলেন) জিজ্ঞাসা করেছিলাম: আপনি তার কাছে 'জুজউ মুহাম্মদ বিন আসিম' কীভাবে পাঠ করেছিলেন?! তিনি বললেন: আমি কী করতে পারতাম?! তিনি আমার কাছে পাণ্ডুলিপিটি বের করে আনলেন [এবং বললেন: এটি আমার সরাসরি শোনা], তাই আমি তা তার কাছে পাঠ করলাম।

খতিব উল্লেখ করেছেন যে, আবু নুয়াইমের মধ্যে শিথিলতা ছিল, এবং তিনি স্পষ্ট না করেই ইজাজতের বর্ণনাগুলো উল্লেখ করতেন।

⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘

আমি এই ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে 'তাকমিলাতুল কামিল' গ্রন্থে লিখেছি, এবং এই অংশেও আমি তা যথাযথভাবে উল্লেখ করেছি।

হাফেজ ইবনুল আনমাতি আমাকে বলেছেন:

আমি 'জুজউ মুহাম্মদ বিন আসিম'-এর ক্ষেত্রে আবু নুয়াইমের সরাসরি শ্রুতির প্রমাণ দেখেছি।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২৪)
6- سألت الإمام أبا إسماعيل عبد الله بن محمد الأنصاري بهراة عن أبي عبد الله الحاكم النيسابوري، فقال: ثقة في الحديث، رافضي خبيث.

أبو عبد الله محمد بن عبد الله الحافظ المعروف بالحاكم صاحب ((تاريخ نيسابور)) أحد أركان الحديث والحفظ.
৬- আমি হেরাতে ইমাম আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারীকে আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আল-নিশাপুরী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য, তবে জঘন্য রাফেজি।

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, যিনি আল-হাকিম নামে পরিচিত এবং "তারিখে নিশাপুর"-এর রচয়িতা, তিনি হাদিসশাস্ত্র ও হিফজের (স্মৃতিশক্তির) অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২৫)
7- سألت الإمام أبا القاسم سعد بن علي الحافظ بمكة قلت له: أربعةٌ من الحفاظ تعاصروا أيهم كان أحفظ: الدارقطني ببغداد، وعبد الغني بمصر، وأبو عبد الله ابن منده بأصبهان، وأبو عبد الله الحاكم بنيسابور؟ فامتنع من الجواب، فألححت عليه، فقال: أما الدارقطني فأعلمهم بالعلل، وأما عبد الغني فأعلمهم بالأنساب، وأما أبو عبد الله ابن منده فأكثرهم حديثاً مع معرفة تامة به، وأما أبو عبد الله الحاكم فأحسنهم تصنيفاً.

قلت: كان الحاكم شديد التعصب للشيعة في الباطن، وكان يظهر التسنن في التقديم والخلافة، وكان منحرفاً غالياً عن معاوية وأهل بيته، يتظاهر به ولا يعتذر منه.
৭- আমি মক্কায় ইমাম আবুল কাসেম সা’দ বিন আলী আল-হাফিযকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি তাকে বললাম: সমসাময়িক চারজন হাফিযের মধ্যে কে সবচেয়ে বড় হাফিয ছিলেন: বাগদাদের আদ-দারা কুতনী, মিশরের আব্দুল গনি, আস্পাহানের আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহ, নাকি নিশাপুরের আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম? তিনি উত্তর দিতে বিরত থাকলেন, আমি তাকে পীড়াপীড়ি করলাম। তখন তিনি বললেন: আদ-দারা কুতনী তাদের মধ্যে ইল্লাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন; আব্দুল গনি তাদের মধ্যে বংশতত্ত্ব সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন; আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহর কাছে হাদিস ছিল সবচেয়ে বেশি এবং সে বিষয়ে তার পূর্ণ জ্ঞান ছিল; আর আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তাদের মধ্যে গ্রন্থ রচনায় শ্রেষ্ঠ ছিলেন।

আমি বললাম: আল-হাকিম গোপনে শিয়া মতবাদের প্রতি চরম গোঁড়া ছিলেন, যদিও তিনি খিলাফতের শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমে সুন্নি মত প্রকাশ করতেন। তিনি মুয়াবিয়া এবং তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি চরমভাবে বিচ্যুত ছিলেন; তিনি তা প্রকাশ করতেন এবং এ জন্য কোনো ওজর পেশ করতেন না।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২৫)
8- سمعت أبا الفتح المظفر بن حمزة الجرجاني ⦗ص: 26⦘ بها يقول: سمعت أبا سعد الماليني يقول: طالعت ((كتاب المستدرك على الشيخين)) الذي صنفه الحاكم من أوله إلى آخره، فلم أر فيه حديثاً على شرطهما.
৮- আমি আবুল ফাতহ মুজাফফর ইবন হামজা আল-জুরজানিকে ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ সেখানে বলতে শুনেছি: আমি আবু সা'দ আল-মালিনীকে বলতে শুনেছি: আমি হাকেম কর্তৃক সংকলিত "কিতাবুল মুস্তাদরাক আলাশ শাইখাইন" শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেছি, কিন্তু আমি তাতে তাঁদের শর্তানুযায়ী কোনো হাদিস দেখতে পাইনি।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২৬)
9- سمعت أبا إسحاق الحبال يقول: كنت يوماً عند أبي نصر، فدق الباب فقمت ففتحته، فرأيت امرأةً فقالت: أريد أن أسال الشيخ عن مسألة، فاستأذنته فأذن لها، فلما دخلت عليه أخرجت ألف دينار ووضعتها بين يدي الشيخ وقالت: هذا يكون بحكم الشيخ ينفقه كما يرى. فقال لها: المقصود ماذا؟ قالت: تتزوجني ولا حاجة لي في ⦗ص: 27⦘ الزوج ولكن رغبتي في خدمته. فأمرها بأخذه والانصراف. فلما انصرفت نظر إلي وقال: يا إبراهيم خرجت من سجستان بنية طلب العلم، ومتى تزوجت سقط عني هذا الاسم، وما أؤثر على ثواب طلب العلم عرض الدنيا أو كما قال.
৯- আমি আবু ইসহাক আল-হাব্বালকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি একদিন আবু নাসরের নিকট ছিলাম। তখন দরজায় করাঘাত করা হলো, আমি উঠে সেটি খুললাম। আমি এক নারীকে দেখলাম, সে বলল: আমি শাইখকে একটি বিষয় জিজ্ঞাসা করতে চাই। আমি তাঁর অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। যখন সে তাঁর নিকট প্রবেশ করল, তখন সে এক হাজার দিনার বের করে শাইখের সামনে রাখল এবং বলল: এটি শাইখের এখতিয়ারে থাকবে, তিনি যেভাবে সমীচীন মনে করেন সেভাবেই তা ব্যয় করবেন। তিনি তাকে বললেন: এর উদ্দেশ্য কী? সে বলল: আপনি আমাকে বিবাহ করবেন। স্বামীর প্রতি ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ আমার কোনো জাগতিক চাহিদা নেই, বরং আপনার খিদমত করাই আমার ইচ্ছা। তখন তিনি তাকে তা নিয়ে প্রস্থান করতে নির্দেশ দিলেন। সে যখন চলে গেল, তখন তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন: হে ইবরাহিম, আমি ইলম অন্বেষণের নিয়তে সিজিস্তান থেকে বের হয়েছি। যখনই আমি বিবাহ করব, তখনই আমার থেকে এই নাম (ইলম অন্বেষী হওয়া) ঘুচে যাবে। আমি ইলম অন্বেষণের সওয়াবের ওপর পার্থিব তুচ্ছ সম্পদকে প্রাধান্য দেব না—অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২৭)
10- سمعت الكيا يحيى بن الحسين يقول: سمعت أبا بكر الخطيب يقول: في الدارقطني تشيع.
১০- আমি আল-কিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আল-খাতিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আদ-দারা কুতনীর মাঝে শিয়া মতবাদের প্রভাব ছিল।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২৭)
11- سمعت القاضي أبا الحسن الخلعي بمصر يقول: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في النوم وفي حجري هذا القط -وأشار إلى قط بين يديه- فقلت: يا رسول الله أيغسل الإناء من ولوغ هذا؟ فقال لي: إنها من الطوافين عليكم والطوافات.
১১- আমি মিশরে কাযী আবুল হাসান আল-খিলায়ী-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি এবং আমার কোলে এই বিড়ালটি ছিল—তিনি তাঁর সামনে থাকা একটি বিড়ালের দিকে ইশারা করলেন—। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি মুখ দিলে কি পাত্র ধৌত করতে হবে? তিনি আমাকে বললেন: এরা তোমাদের আশেপাশে অধিক বিচরণকারী এবং বিচরণকারিণী।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২৮)
12- سمعت زوجي خديجة بنت أحمد العلوية الموسوية تقول: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام وهو مجتاز، فتبعته فالتفت إلي وقال: الحسب المال، والكرم التقوى.
১২- আমি আমার স্ত্রী খাদিজা বিনতে আহমাদ আল-আলাবিয়্যাহ আল-মুসাবিয়্যাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পথ অতিক্রম করতে দেখেছি, তখন আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। অতঃপর তিনি আমার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: সম্পদই হলো আভিজাত্য, আর তাকওয়াই হলো মহত্ত্ব।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২৮)
13- سمعت الفقيه أبا محمد هياج بن عبيد الله الحطيني بمكة -وكان فقيه الحرم ومفتيها بعد رافع الحمال- يقول: كان لرافع الحمال في الزهد قدمٌ.

وكان هياج قد بلغ من زهده أن يصوم ثلاثة أيام ويواصل، ولا يفطر إلا على ماء زمزم، وإذا كان في آخر اليوم الثالث من أتاه بشيء أكله ولا يسأل عنه، وكان قد نيف على الثمانين، وكان يعتمر في كل يوم ثلاثة عمرٍ على ⦗ص: 29⦘ رجليه، ويدرس عدة دروس لأصحابه، وكان يزور عبد الله بن عباس بالطائف كل سنة مرة، يأكل بمكة أكلة ويأكل بالطائف أخرى، وكان يزور رسول الله صلى الله عليه وسلم كل سنة مع أهل مكة، كان يتوقف إلى يوم الرحيل ثم يخرج، فأول من أخذ بيده كان في مؤنته إلى أن يرجع، وكان يمشي حافياً من مكة إلى المدينة ذاهباً وراجعاً.
১৩- আমি মক্কায় ফকিহ আবু মুহাম্মদ হাইয়াজ বিন উবাইদুল্লাহ আল-হিত্তিনিকে বলতে শুনেছি—যিনি রাফি আল-হাম্মালের পর হারামের ফকিহ ও মুফতি ছিলেন—তিনি বলতেন: যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার ক্ষেত্রে রাফি আল-হাম্মালের সুদৃঢ় অবস্থান ছিল।

আর হাইয়াজের দুনিয়াবিমুখতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তিনি একাধারে তিন দিন রোজা রাখতেন এবং বিরতিহীন রোজা পালন করতেন; তিনি জমজমের পানি ছাড়া ইফতার করতেন না। যখন তৃতীয় দিনের শেষ সময় আসত, তখন কেউ কিছু নিয়ে এলে তিনি তা খেতেন এবং সে সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করতেন না। তখন তাঁর বয়স আশির উপরে ছিল। তিনি প্রতিদিন ⦗পৃ: ২৯⦘ পায়ে হেঁটে তিনবার উমরাহ করতেন এবং তাঁর ছাত্রদের বেশ কিছু পাঠ দান করতেন। তিনি প্রতি বছর একবার তায়েফে আবদুল্লাহ বিন আব্বাসকে জিয়ারত করতেন; তিনি মক্কায় একবার আহার করতেন এবং তায়েফে অন্যবার আহার করতেন। তিনি প্রতি বছর মক্কাবাসীদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিয়ারত করতে যেতেন। তিনি যাত্রার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন এবং তারপর বের হতেন; অতঃপর প্রথম যে ব্যক্তি তাঁর হাত ধরত, ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি তাঁর তত্ত্বাবধানেই থাকতেন। তিনি মক্কা থেকে মদিনা পর্যন্ত যাওয়া এবং আসার পথে খালি পায়ে হাঁটতেন।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ২৯)
14- وسمعته يوماً -وقد شكا إليه بعض أصحابه أن نعله سرقت في الطواف- فقال: اتخذ نعلين لا يسرقهما أحدٌ. ورزق الشهادة في آخر عمره في وقعة وقعت لأهل السنة بمكة، وذلك أن بعض الروافض شكا إلى أمير مكة: أن أهل السنة ينالون منا ويبغضونا، فأنفذ، وأخذ الشيخ هياج وجماعةٌ من أصحابه مثل الشيخ أبي محمد ابن ⦗ص: 30⦘ الأنماطي المقرئ وأبي الفضل ابن قوام وغيرهما، وضربهم ضرباً شديداً، فمات الاثنان في الحال، وحمل الشيخ إلى مكة إلى زاويته، وبقي أياماً ومات من ذلك.
১৪- আমি একদিন তাঁকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁর জনৈক সাথী তাঁর নিকট অভিযোগ করলেন যে তাওয়াফের সময় তাঁর জুতোজোড়া চুরি হয়ে গেছে—তখন তিনি বললেন: এমন একজোড়া জুতো গ্রহণ করো যা কেউ চুরি করবে না। তিনি তাঁর জীবনের শেষভাগে মক্কায় আহলে সুন্নাতের ওপর ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনায় শাহাদাত লাভে ধন্য হন। ঘটনাটি ছিল এই যে, কতিপয় রাফেজি মক্কার আমিরের নিকট অভিযোগ করেছিল যে: আহলে সুন্নাতের লোকেরা আমাদের সমালোচনা করে এবং আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। অতঃপর তিনি (আমির) নির্দেশ কার্যকর করলেন এবং শায়খ হাইয়াজ ও তাঁর একদল সাথীকে পাকড়াও করলেন, যেমন শায়খ আবু মুহাম্মদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ আল-আনমাতি আল-মুকরি ও আবু আল-ফজল ইবনে কাওয়াম এবং অন্যান্যরা। তিনি তাঁদের অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রহার করলেন, ফলে দুইজন তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করলেন। শায়খকে মক্কায় তাঁর অবস্থানে (জাউইয়া) নিয়ে যাওয়া হলো এবং তিনি কয়েকদিন সেই অবস্থায় থাকার পর সেই আঘাতেই মৃত্যুবরণ করলেন।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩০)
15- سمعت أبا إسحاق الحبال بمصر يقول: لم يكن في الدنيا مثل أبي القاسم سعد بن علي الزنجاني في الفضل، وكان يحضر معنا المجالس، ويقرأ الخطأ بين يديه فلا يرد على أحد شيئاً، ولو قرئ بين يديه الكفر، إلا أن يسأل فإذا سئل عن شيء أجاب. وأرى اليوم بعض الصبيان يتبعون الأغلاط، ويبادرون بالرد على المقرئ، ولا يحسنون الأدب.
১৫- আমি মিশরে আবু ইসহাক আল-হাব্বালকে বলতে শুনেছি: শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে পৃথিবীতে আবুল কাসিম সা'দ ইবন আলী আজ-জানজানির মতো কেউ ছিল না। তিনি আমাদের সাথে মজলিসগুলোতে উপস্থিত হতেন, তাঁর সামনে ভুল পাঠ করা হতো কিন্তু তিনি কারও প্রতিবাদ করতেন না—এমনকি যদি তাঁর সামনে কুফরও পাঠ করা হতো—ততক্ষণ পর্যন্ত না তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হতো; আর যখন তাঁকে কোনো কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি উত্তর দিতেন। অথচ আজ আমি দেখছি কিছু বালক ভুল-ভ্রান্তি খুঁজে বেড়ায় এবং পাঠকারীর ভুল ধরিয়ে দিতে দ্রুত তৎপর হয়, আর তারা শিষ্টাচার বজায় রাখে না।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩০)
16- سمعت الفقيه أبا محمد هياج بن عبيد الحطيني (إمام الحرم ومفتيه) يقول:

يومٌ لا أرى فيه سعد بن علي الزنجاني لا أعتد أني عملت خيراً.

⦗ص: 31⦘

وكان هياج رحمه الله يعتمر كل يوم ثلاث عمرٍ، ويواصل الصوم ثلاثة أيام، ويدرس عدة دروس، ومع هذا كله كان يعتقد أن نظره إلى الشيخ سعد والجلوس بين يديه أجل من سائر عمله.
১৬- আমি ফকিহ আবু মুহাম্মদ হাইয়াজ বিন উবাইদ আল-হিত্তিনি (হারাম শরীফের ইমাম ও মুফতি)-কে বলতে শুনেছি:

যে দিন আমি সাদ বিন আলি আল-জানজানিকে দেখি না, সে দিন আমি মনে করি না যে আমি কোনো কল্যাণকর কাজ করেছি।

⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘

হাইয়াজ (রাহিমাহুল্লাহ) প্রতিদিন তিনটি উমরাহ করতেন, একটানা তিন দিন রোজা রাখতেন এবং বেশ কিছু পাঠদান করতেন। এতদসত্ত্বেও তিনি বিশ্বাস করতেন যে, শাইখ সাদের দিকে তাকানো এবং তাঁর সামনে বসা তাঁর অন্যান্য সমস্ত আমলের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩১)
17- سمعت أبا عبد الله محمد بن أحمد الكرجي يقول: لما عزم الشيخ سعد على الإقامة بالحرم والمجاورة به عزم على نفسه نيفاً وعشرين عزمةً أن يلزمها نفسه من المجاهدات والعبادات، ومات بعد ذلك بأربعين سنة ولم يحل منها عزمة واحدة رحمه الله.
১৭- আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-কারজিকে বলতে শুনেছি: যখন শায়খ সা'দ হারামে অবস্থান করার এবং এর সংলগ্ন প্রতিবেশী হয়ে থাকার সংকল্প করলেন, তখন তিনি নিজের ওপর বিশটিরও অধিক সংকল্প গ্রহণ করলেন যা তিনি আত্মসংগ্রাম ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছিলেন; এর চল্লিশ বছর পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং এর মধ্যে একটি সংকল্পও তিনি ভঙ্গ করেননি, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩১)
18- سمعت أبا إسحاق الحبال يمدح أبا نصر ابن ماكولا ويثني عليه ويقول: دخل مصر في زي المكتبة، فلم نرفع به رأساً، فلما عرفناه كان من العلماء بهذا الشأن.
১৮- আমি আবু ইসহাক আল-হাব্বালকে আবু নাসর ইবনে মাকুলার প্রশংসা ও স্তুতি করতে এবং বলতে শুনেছি: তিনি মিসরে গ্রন্থাগারিকের বেশভূষায় প্রবেশ করেছিলেন, ফলে আমরা তাঁকে কোনো বিশেষ গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু যখন আমরা তাঁকে চিনতে পারলাম, তখন দেখা গেল তিনি এই শাস্ত্রের বিজ্ঞ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩২)
19- سمعت أبا إسماعيل الأنصاري الحافظ يقول: رأيت في حضري وسفري حافظاً ونصف [حافظ] ، أما الحافظ فأبو بكر أحمد بن علي الأصبهاني، والآخر أبو الفضل الجارودي، وكان إذا حدث عن الجارودي يقول: حدثنا إمام المشرق.
১৯- আমি হাফেজ আবু ইসমাইল আল-আনসারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি আমার স্বদেশে এবং ভ্রমণে একজন হাফেজ এবং অর্ধেক [হাফেজ] দেখেছি। পূর্ণ হাফেজ হলেন আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-আসবাহানী এবং অপরজন হলেন আবুল ফজল আল-জারুদী। তিনি যখন আল-জারুদী থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: আমাদের কাছে প্রাচ্যের ইমাম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩২)
20- سمعت أبا إسماعيل عبد الله بن محمد الأنصاري يقول: سمعت أبا الفضل الجارودي يقول: رحلت إلى أبي القاسم الطبراني إلى أصبهان، فلما دخلت عليه قربني وأدناني، وكان يتعسر علي في الأخذ. فقلت له يوماً: أيها الشيخ لم تتعسر علي وتبذل للآخرين؟ فقال: لأنك تعرف قدر هذا الشأن وهؤلاء لا يعرفون قدره.
২০- আমি আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আল-ফজল আল-জারুদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইস্পাহানে আবু আল-কাসিম আত-তাবারানির নিকট সফর করেছিলাম। যখন আমি তাঁর কাছে পৌঁছালাম, তখন তিনি আমাকে নিকটবর্তী করলেন এবং তাঁর সান্নিধ্য দিলেন। তবে তিনি আমার নিকট হতে (হাদিস) গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছুটা কঠোরতা অবলম্বন করতেন। একদিন আমি তাঁকে বললাম: হে শাইখ! আপনি কেন আমার প্রতি কঠোরতা করছেন অথচ অন্যদের নিকট তা অবারিত করে দিচ্ছেন? তখন তিনি বললেন: কারণ তুমি এই বিষয়ের মর্যাদা জানো, আর তারা এর মর্যাদা বোঝে না।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
21- قال أبو محمد الحسن بن أحمد السمرقندي الحافظ: أحسن تصانيف الحاكم علوم الحديث.
২১- হাফেজ আবু মুহাম্মদ হাসান বিন আহমদ আস-সামারকান্দি বলেছেন: আল-হাকিমের রচনাগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো উলুমুল হাদিস।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
22- سمعت أبا بكر المزكي عبد الله بن الحسين التويي بهمذان يقول: سمعت أبي يقول: كنت عند أبي حامد الإسفراييني، فذكر له رجل يكتب مصحفاً في يوم، فاجتمع بالرجل فقال له: أنت تكتب مصحفاً في يوم، فقال: نعم، وما مسنا من لغوب! وأشار بثلاثة أصابعه، فجفت يده في الحال.
২২- আমি হামাদানে আবু বকর আল-মুযাক্কি আব্দুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আত-তুয়ী-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনীর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় তাঁর নিকট এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো যে একদিনে একটি মুসহাফ লিখে ফেলে। অতঃপর তিনি লোকটির সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাকে বললেন: আপনি কি একদিনে একটি মুসহাফ লেখেন? সে বলল: হ্যাঁ, আর আমাদের কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি! এ কথা বলে সে তার তিনটি আঙুল দিয়ে ইশারা করল, আর তৎক্ষণাৎ তার হাতটি শুকিয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
23- أنشد أبو الفرج محمد بن عبدوس لنفسه:

هبني ملكت بلاد الأرض قاطبةً … ونلت ما نال قارون وعملاق

وعشت ما عاش نوح في نبوته … أليس آخره موتٌ وإملاق
২৩- আবুল ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

মনে করো আমি পৃথিবীর সমস্ত ভূখণ্ডের নিরঙ্কুশ মালিক হয়ে গেলাম … এবং কারুন ও ইমলাক যা অর্জন করেছিল তা আমিও অর্জন করলাম

আর নূহ তাঁর নবুওয়াতের সময়কালে যতটুকু জীবন পেয়েছিলেন আমিও ততটুকু বেঁচে রইলাম … পরিশেষে কি মৃত্যু এবং নিঃস্বতাই অবধারিত নয়?
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
24- سمعت أبا القاسم منصور بن أحمد بن المفضل الإسفزاري يقول: سمعت أبا علي المقدسي ببغداد يقول: رأيت الشيخ أبا إسحاق الشيرازي في المنام، فسألته عن حاله فقال: طولبت بهذه البينة، ولولا أني ما أديت فيها من الفرض لكنت من الهلكى -يعني المدرسة النظامية-.
২৪- আমি আবুল কাসেম মানসুর ইবনে আহমদ ইবনে আল-মুফাযযাল আল-ইসফুযারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বাগদাদে আবু আলী আল-মাকদিসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে শাইখ আবু ইসহাক আল-শিরাজিকে দেখেছি। অতঃপর আমি তাঁকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: আমাকে এই নিদর্শনের (প্রতিষ্ঠানের) ব্যাপারে জবাবদিহিতার সম্মুখীন করা হয়েছিল; আমি যদি এতে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ পালন না করতাম, তবে আমি অবশ্যই ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতাম—অর্থাৎ নিযামিয়া মাদরাসা।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
25- سمعت أبا محمد هياجاً رحمه الله يقول: إنما تفقه أبو إسحاق الشيرازي وأبو يعلى ابن الفراء بمراعاة رافع الحمال لهما، كانوا يتفقهون وكان يكون معهما، ثم يخرج إلى السوق ويحمل على رأسه، ويحمل ما يجتمع من ذلك إلى كل واحد منهما، فكان ذلك الذي يتقوَّتان به.

كان أبو إسحاق إذا بقي مدة لا يأكل شيئاً صعد إلى النصرية -محلة في أعلى بغداد- وكان له فيها صديقٌ باقلاني، فكان يثرد له رغيفاً، ويشربه بماء الباقلاء، فربما صعد إليه يكون قد فرغ من بيع الباقلاء وأغلق الباب، فيقف أبو إسحاق ويقرأ: {تلك إذاً كرةٌ خاسرةٌ} ويرجع.
২৫- আমি আবু মুহাম্মদ হাইয়াজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: আবু ইসহাক আশ-শিরাজি এবং আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা ফিকহ শাস্ত্রের ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন মূলত রাফি আল-হাম্মালের (ভারবাহক) তাঁদের প্রতি বিশেষ তদারকির কারণে। তাঁরা ফিকহ অধ্যয়ন করতেন এবং তিনি তাঁদের সাথেই থাকতেন। এরপর তিনি বাজারে বেরিয়ে পড়তেন এবং মাথায় বোঝা বহন করতেন। সেখান থেকে যা উপার্জিত হতো, তা তিনি তাঁদের প্রত্যেকের নিকট পৌঁছে দিতেন; আর এটিই ছিল তাঁদের জীবনধারণের পাথেয়।

আবু ইসহাক যখন দীর্ঘ সময় কিছু না খেয়ে থাকতেন, তখন তিনি নাসরিয়াতে—যা উচ্চ বাগদাদের একটি মহল্লা—উপরে উঠতেন। সেখানে তাঁর জনৈক শিম বিক্রেতা বন্ধু ছিল। সে তাঁর জন্য রুটি টুকরো করে দিত এবং শিমের ঝোল দিয়ে তা ভিজিয়ে দিত। কখনো কখনো তিনি সেখানে পৌঁছে দেখতেন যে, সে শিম বিক্রি শেষ করে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। তখন আবু ইসহাক সেখানে দাঁড়িয়ে পাঠ করতেন: "তবে তো সেটি হবে এক লোকসানজনক প্রত্যাবর্তন" এবং তিনি ফিরে আসতেন।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
26- سمعت بعض الأعراب بنجد وقد جرى بينه وبين أصحابه كلامٌ فقال: من نظر في العواقب ذل.
২৬- আমি নাজদের জনৈক বেদুইনকে বলতে শুনেছি, যখন তার ও তার সাথীদের মধ্যে কিছু কথোপকথন চলছিল, তখন সে বলল: যে ব্যক্তি পরিণামের দিকে দৃষ্টি দেয়, সে লাঞ্ছিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
27- سمعت الإمام أبا إسماعيل عبد الله بن محمد الأنصاري بهراة يقول: عرضت على السيف خمس مرات لا يقال لي: ارجع عن مذهبك، لكن يقال لي: اسكت عمن خالفك، فأقول: لا أسكت.
২৭- আমি হেরাতে ইমাম আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে পাঁচবার তলোয়ারের মুখোমুখি করা হয়েছে; আমাকে এটি বলা হয়নি যে: আপনি আপনার মাযহাব (মতাদর্শ) থেকে ফিরে আসুন, বরং আমাকে বলা হয়েছে: যারা আপনার বিরোধিতা করে তাদের বিষয়ে চুপ থাকুন। তখন আমি বলি: আমি চুপ থাকব না।
(খণ্ড: ১) আল মানসুর মিনাল হিকায়াতি ওয়াস সুআলাতি লি ইবনি তাহির আল মাকদিসি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
28- سمعت الأنصاري يقول: إذا ذكرت التفسير فإنما أذكره من مائة وسبعة تفاسير.
২৮- আমি আল-আনসারীকে বলতে শুনেছি: আমি যখন তাফসির আলোচনা করি, তখন আমি তা একশত সাতটি তাফসিরের আলোকে উল্লেখ করি।